Friday, January 31, 2025
ট্রাম্পের গাজা ‘সাফ’ করার মতলব সফল হবে না
চার বছর পর দেখা গেল, আসলে ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ ছিল কুশনারের নতুন তহবিলের জন্য সৌদি আরব থেকে পাওয়া দুই শ কোটি ডলারের বিনিয়োগ।
এখন ট্রাম্প গাজার ফিলিস্তিনিদের অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন। তিনি আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন জায়গায় বাড়ি তৈরি করে, যেখানে তারা শান্তিতে বসবাস করতে পারে। ট্রাম্প প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে উচ্ছেদ করতে চাইছেন। এই সংখ্যা ১৯৪৮ সালের নাকবার সময় ভিটেছাড়া হওয়া এবং এখন গাজায় বসবাসকারী শরণার্থীদের সংখ্যার কাছাকাছি।
আমি ট্রাম্পের ‘শান্তিতে বসবাসের’ ধারণার সঙ্গে একমত। তবে তাঁর প্রস্তাবকে একটু পরিবর্তন করা দরকার। ১৫ লাখ ফিলিস্তিনিকে অন্য কোথাও পাঠানোর বদলে ১৬ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের আসল বাড়িতে, অর্থাৎ ১৯৪৮ সালে তাঁদের জোরপূর্বক যেখান থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল, সেখানে ফেরত পাঠানো হোক। মিসর বা জর্ডানে নয়, বরং এখন যে জায়গাটিকে ইসরায়েল বলা হয়, সে জায়গাটিই তাদের আদি বাড়ি এবং সেখানেই তাদের ফিরে যেতে দেওয়া উচিত।
ট্রাম্প এখন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু আসলে তাঁর কথা বলা উচিত নেতানিয়াহুর সঙ্গে। গাজার পূর্ব-পশ্চিম দিকে তাকানোর বদলে তাঁকে দখলদার ইসরায়েলের দিকেই নজর দিতে হবে এবং নেতানিয়াহুকে বাধ্য করতে হবে, যাতে তিনি ফিলিস্তিনিদের তাদের আসল গ্রাম ও শহরে ফিরতে দেন (যেমনটি জাতিসংঘের প্রস্তাব ১৯৪-এ বলা হয়েছে)।
তথাকথিত ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ এবং এখনকার ‘গাজা পুরোপুরি সাফ করে ফেলা’র মতো প্রস্তাব আসলে একই ধারার। এটি আদতেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি গভীরভাবে বর্ণবাদী জায়নবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ।
ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রকৃত অর্থে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির সেই বর্ণবাদী নীতিরই পুনরাবৃত্তি, যার মূল লক্ষ্য হলো ‘নদী থেকে সাগর পর্যন্ত’ (পূর্ব দিকের জর্ডান নদী থেকে পশ্চিমের ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ড—যার মধ্যে এখনকার ইসরায়েল, পশ্চিম তীর এবং গাজা অন্তর্ভুক্ত) একটি ইহুদি জাতিবাদী রাষ্ট্র কায়েম করা। এটি ন্যায়বিচারের এমন এক ভয়ংকর বিপরীত রূপ, যেখানে নির্যাতিতরা আরও বেশি শাস্তি পায় আর দখলদার আরও শক্তিশালী ও পুরস্কৃত হয়।
ট্রাম্পের এই বর্ণবাদী প্রস্তাবের সবচেয়ে স্পষ্ট ও তীব্র জবাব এসেছে সেই লাখো ফিলিস্তিনির কাছ থেকে যারা প্রচণ্ড কষ্ট করে ঠান্ডার মধ্যে উত্তর গাজায় নিজেদের ঘরে ফেরা শুরু করেছে। ইসরায়েল তাদের বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার পরও তারা ফিরে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাদের এই দৃঢ় মনোবল ও সংকল্প দেখিয়ে দিচ্ছে, নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে তারা জীবন দিতে রাজি আছেন।
এই অবিচল প্রতিজ্ঞা প্রমাণ করে, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে তাদের মাতৃভূমির সম্পর্ক ভাঙার নয়। যতই ধ্বংস আর দুঃখ-দুর্দশা আসুক, তারা তাদের ভূমির প্রতি ভালোবাসা ধরে রেখেছে। তাদের জন্য বাড়িঘর শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়। এটি তাদের পরিচয়, ইতিহাস ও ভূমির সঙ্গে গভীর সম্পর্কের প্রতীক।
ট্রাম্পের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ প্রস্তাব আসলে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের বর্ণবাদী নীতিরই ধারাবাহিকতা। এটি ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এবং মিথ্যা সহানুভূতির আড়ালে দমন-পীড়ন ও উচ্ছেদকে আরও শক্তিশালী করে। সে কারণেই ট্রাম্পের প্রস্তাবকে প্রথম ইসরায়েলের কট্টরপন্থী বর্ণবাদী মন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ ও ইতামার বেন গভিরকে স্বাগত জানাতে দেখে আমরা মোটেও অবাক হইনি।
এই ইহুদিবাদী নেতাদের মতো ট্রাম্পও মনে করেন, ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বই শান্তির পথে বাধা। এই দৃষ্টিভঙ্গি সেই নাৎসি মতাদর্শের সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে তারা ইউরোপীয় ইহুদিদের উপস্থিতিকে সমস্যা হিসেবে দেখত। কিন্তু ভয়াবহ হলোকাস্টের ঘটনা ঘটিয়েও সেই মতাদর্শ সফল হয়নি।
একইভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ড্রেসডেন, হামবুর্গ ও লন্ডনে ফেলা মোট বোমার চেয়ে বেশি বোমা ফেলে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের মুছে ফেলার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।
আসলে ভুক্তভোগীদের দোষারোপ করা মানে আসল অপরাধীকে আড়াল করা এবং দখলদারকে দায় এড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া। এই বিকৃত দৃষ্টিভঙ্গি ইসরায়েলকে তার দমনমূলক নীতিগুলো অব্যাহত রাখতে সাহায্য করে। এতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকৃত জবাবদিহি ও তদন্ত এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
১৫ মাসের গণহত্যামূলক যুদ্ধে গাজার ৬৬ শতাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং জনসংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি নিহত বা আহত হয়েছে। এরপরও ফিলিস্তিনিদের মনোবল ভাঙেনি। এখন নতুনভাবে ‘নরম কৌশলে’ তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা আসলে ১৯৪৮ সালের নাকবার পুনরাবৃত্তি। তখন লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল, যাতে ইউরোপের নাৎসি নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা ইহুদিদের জন্য জায়গা তৈরি করা যায়।
যদি বাস্তবিকই স্থানান্তরের কোনো যৌক্তিকতা থাকে, তাহলে তা ইসরায়েলের নেতাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যেমন নেতানিয়াহু, স্মোতরিচ ও বেন গভির—যাঁদের পূর্বপুরুষেরা পোল্যান্ড, ইউক্রেন ও ইরাকের মতো জায়গায় বসবাস করতেন। ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ না করে বরং তাঁদের পূর্বপুরুষদের দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবা উচিত।
ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের যে কোনো পরিকল্পনা (প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে) চতুর্থ জেনেভা কনভেনশনের গুরুতর লঙ্ঘন। এটি ইসরায়েলের কট্টরপন্থী নীতিগুলোকে আরও শক্তিশালী করে। এটি ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিরুদ্ধে যায়।
তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ, তার প্রশাসনের অনেকে প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের ডানপন্থী এজেন্ডার সঙ্গে একমত। আসলে তাঁদের অনেকের কাছে ইহুদিবাদী স্বার্থ রক্ষা করা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পকে বুঝতেই হবে, ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’র মতো যেকোনো অন্যায় পরিকল্পনা ঘৃণার চক্রকে আরও গভীর করে এবং অনন্ত সংঘাতের বীজ রুয়ে দেয়। তাঁকে বুঝতে হবে, গাজার মানুষের প্রয়োজন ন্যায়বিচার, অবমাননা নয়। তাঁদের প্রাপ্য হলো মর্যাদা, জাতিগত উচ্ছেদ নয়।
*জামাল কানজ ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লেখক ও বিশ্লেষক
*মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ফিলিস্তিনিরা নিজেদের বসতিতে ফিরছেন। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছাত্ররা দল গঠন করবে: ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে অধ্যাপক ইউনূস
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোস সফর করেন প্রধান উপদেষ্টা। সে সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রধান বৈদেশিক বিষয়ক ভাষ্যকার গিডেয়েন রাখমানের উপস্থাপনায় একটি পডকাস্টে কথা বলেন তিনি। ‘রাখমান রিভিউ’ নামের ওই পডকাস্ট অনুষ্ঠানে কথোপকথন লিখিত আকারে আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে।
পডকাস্টে বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, তিনি নির্বাচনের সম্ভাব্য যে দুটি সময়ের কথা বলেছেন, তা ভালো সময়। কারণ, তিনি জাতীয় ঐক্য ধরে রাখছেন। তিনি এটা থেকে বিচ্যুত হতে চান না।
এ প্রসঙ্গে আলোচনায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘একটি সম্ভাবনা হলো, ছাত্ররা নিজেরাই একটি দল গঠন করবে। শুরুতে যখন তারা উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করছে, তখন আমি তিনজন ছাত্রকে আমার উপদেষ্টা পরিষদে নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, যদি তারা দেশকে “প্রাণ” দিতে পারে, তাহলে তারা উপদেষ্টা পরিষদে বসতে পারে এবং প্রাণ দেওয়ার জন্য কী করছে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা ভালো কাজ করছে।’
এখন ছাত্ররা বলছে, কেন নিজস্ব দল গঠন করা হচ্ছে না, তাঁরা একটা সুযোগ নেবে– একথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তারা বলছে, তাঁদের (ছাত্রদের) কোনো সুযোগ নেই, এমনকি সংসদে তাঁদের একটিও আসন থাকবে না। কেন? কারণ, কেউ তাঁদেরকে চেনে না। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘আমি তাদের বললাম, পুরো জাতি তাদেরকে চেনে। তারা যা করতে চায়, সে বিষয়ে তাদেরকে একটা সুযোগ দিই। সুতরাং, তারা এটা করবে।’
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘দল গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যে হয়তো তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এটাও একটা বিপদ। কারণ, রাজনীতি শুরু করলে সব ধরনের রাজনীতিবিদ তাদের সঙ্গে মিশে যাবে। তাই আমরা জানি না তারা আমাদের দেশে যে রাজনীতি, তা থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারবে কি না। এ ধরনের সুযোগ আছে, যা আমাদের নিতে হবে। তবে ছাত্ররা প্রস্তুত। তারা প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা দেশজুড়ে লোকজনকে সংগঠিত করছে।’
পডকাস্টে উপস্থাপক এ পর্যায়ে প্রশ্নে বলেন, ভারতীয়রা যেসব বিষয় বলছেন, তার একটি বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। তারা বলছে, বাংলাদেশের অবস্থা খুবই নাজুক। অধ্যাপক ইউনূস হয়তো না–ও ঠিক থাকতে পারেন। কিন্তু সেখানে ইসলামিস্টরা রয়েছে, যারা দেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?
তখন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা এমন লক্ষণ দেখি না। অন্তত আমি এখন কোনো লক্ষণ দেখি না। তরুণেরা সত্যিই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের খারাপ কোনো কিছুর সঙ্গে সংস্পর্শ নেই বা নিজেদের রাজনৈতিক আখের গোছানোর ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নেই। তারা এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল গঠন করছে বা রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছে। এটা দরকার। কারণ, রক্ত দিয়ে তারা যেগুলো অর্জন করেছে, সেগুলো তাদেরকে রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় সেগুলো সেই সব ব্যক্তি নিয়ে যাবে, যারা বিগত প্রশাসন ও অন্যান্যের মতো সব কিছুর পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ খুঁজছে। এটাই বাংলাদেশে আমাদের রাজনৈতিক পরিবেশ। সুতরাং তারা এটা রক্ষা করার চেষ্টা করছে। তাই আমি বলব, ছাত্রদের স্বচ্ছ অভিপ্রায় থাকবে।’
![]() |
| প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওয়াশিংটনের আকাশে বিমান-হেলিকপ্টার ভয়াবহ সংঘর্ষ
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, বিমানে ৬০ জন যাত্রী ছিলেন এবং দুইজন পাইলট ও দুইজন ক্রু সদস্য। এ ছাড়া সামরিক হেলিকপ্টারে ছিলেন তিনজন সেনা। দেশটির ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বুধবার বলেছে, হোয়াইট হাউস থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে পিএসএ এয়ারলাইন্স বোম্বারডিয়ার সিআরজে-৭০০ যাত্রীবাহী জেটের সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ হয়। ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিগ্যান বিমানবন্দরের কোলঘেঁষা পোটোম্যাক নদীতে উদ্ধারকাজ পরিচালনায় একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এই দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আপাতত সকল উড্ডয়ন এবং অবতরণ বন্ধ রেখেছে।
বিবিসি’র লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে বিমান দুই ভাগ হয়েছে। অন্যদিকে হেলিকপ্টারের উপরের অংশ নিচে পড়েছে। দুর্ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ঈশ্বর তাদের আত্মাকে শান্তি দিন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘ভয়াবহ’ ওই বিমান দুর্ঘটনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই জরুরিভিত্তিতে কাজ করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, তিনি দুর্ঘটনার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। দুর্ঘটনার কবলে পড়া যাত্রীদের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে দেশটির নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, পেন্টাগন সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, পুলিশ ও ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মীরা তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। সিএনএন বলছে, উদ্ধার অভিযান চালাতে মার্কিন কোস্ট গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর মোমবাতির ঝলকানির মতো কিছু একটা আকাশে দেখেছিলেন তিনি। বিবিসিকে সাক্ষাৎকার দেয়া ওই প্রত্যক্ষদর্শীর নাম অ্যারি শুলম্যান। জর্জ ওয়াশিংটন পার্কওয়ে ধরে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। রিগ্যান বিমানবন্দরের পাশ দিয়ে গেছে এই রাস্তা। গাড়ি চালিয়ে সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়ই বিমানের ওঠানামা দেখেন তিনি।
শুলম্যান বলেন, দেখে সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। বিমানটি ঠিকমতো নেমে আসছিল, কোনো ত্রুটি ছিল না। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই পেছনে ফিরে হতবাক হয়ে যান তিনি। শুলম্যান বলেন, আমি পেছনে ফিরে দেখি কিছুই আর ঠিকঠাক নেই। বিমানটি দেখে মনে হচ্ছিল সেটি ডানদিকে বেঁকে যাচ্ছে। সম্ভবত ৯০ ডিগ্রি। আমি বিমানের নিচের অংশ দেখতে পাচ্ছিলাম। বাইরে খুবই অন্ধকার ছিল। তাই বিমানের নিচের অংশ ভালোমতো দেখতে পাওয়ার কথা না। তিনি আরও বলেন- বিমানটির নিচের অংশে উজ্জ্বল হলুদ আলো দেখা যাচ্ছিল। নিচ থেকে স্ফুলিঙ্গ বেরিয়ে আসছিল।
বিমান দুর্ঘটনায় ষড়যন্ত্র দেখছেন ট্রাম্প
মাঝ আকাশে যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে সেনা হেলিকপ্টারের ধাক্কা, ওয়াশিংটনে ভয়ঙ্কর এই দুর্ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সর্বত্র। আর সেই আবহে মুখ খুললেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের অনতিদূরে, পোটোম্যাক নদীতে দু’টুকরো হয়ে ভেঙে পড়েছে বিমানটি। উল্টো হয়ে নদীতে পড়েছে সেনার কপ্টারটিও। বিমানে ৬৪ জন এবং কপ্টারে চার যাত্রী ছিলেন এমন তথ্য এসেছে। সেই নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘একেবারে সঠিক পথে এগোচ্ছিল বিমানটি। বিমানবন্দরে নামার রাস্তা ধরেই এগোচ্ছিল। অনেকটা সময় ধরে সটান বিমানটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল হেলিকপ্টারটিই। রাতের আকাশ পরিষ্কার ছিল। জ্বলজ্বল করছিল বিমানের আলো। হেলিকপ্টারটি উপরে উঠে গেল না কেন, নীচেই বা নেমে গেল না কেন? বিমানটিকে দেখতে পাচ্ছে কি না জানতে চেয়ে কেন কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে হেলিকপ্টারটিকে নির্দেশ দেয়া হলো না’? সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথে এমন লিখেছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে এমন ঘটনায় ষড়যন্ত্রের শঙ্কা মার্কিন প্রেসিডেন্টের। তার কথায়, ‘খুব খারাপ অবস্থা। দেখে মনে হচ্ছে এটা আটকানো যেত। ঠিক হয়নি’। সেনার কন্ট্রোল টাওয়ারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প।
৬৪ জন যাত্রী নিয়ে ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রিগান বিমানবন্দরে অবতরণের সময়ে চপারে ধাক্কা খায় আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ৫৩৪২ বিমান। চপারের সঙ্গে বিমানটিও পোটোম্যাক নদীতে ভেঙে পড়েছে। উল্টো দিক থেকে সেনার চপারটি একই উচ্চতায় চলে এসেছিল বলেই এই দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকার সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, চপারে পাইলট-সহ তিন জন ছিলেন। তাদের প্রশিক্ষণ চলছিল। এ পর্যন্ত ১৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছে পুলিশ কর্মকর্তা। বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
সূত্র : এনডিটিভি

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুসলিমদের ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানো যুবককে গুলি করে হত্যা সুইডেনে
পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, তাকে হত্যার পর বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে সন্দেহজনকভাবে ৫ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। উল্লেখ্য, সালওয়ান মোমিকা একজন ইরাকি। সে বসবাস করে সুইডেনে। তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে চারটি ঘটনায় একটি জাতিগত গ্রুপের বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দেয়। এ কারণে অন্য একজনের সঙ্গে অভিযুক্ত হয় সে। এই ঘটনার রায় দেয়ার কথা আজ বৃহস্পতিবার। কিন্তু স্টকহোম ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট বলেছে, দুই আসামীর মধ্যে একজন নিহত হওয়ার ফলে রায় ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে। বিবিসি লিখেছে, সালওয়ান মোমিকা ইসলামবিরোধী ধারাবাহিক প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে। এতে বহু মুসলিমের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত দেশে বিক্ষোভ। বাগদাদে সুইডিশ দূতাবাসে দু’বার প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরাকের সঙ্গে সুইডেনের কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ফলে বাগদাদ থেকে বহিষ্কার করা হয় সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে।
এখানে উল্লেখ্য, যে প্রতিবাদ বিক্ষোভে সালওয়ান মোমিকা মুসলিমদের ধর্মীয় গ্রন্থে অগ্নিসংযোগ করেছে, তার অনুমতি দিয়েছিল সুইডিশ সরকার। তাদের দাবি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক আইন অনুযায়ী এই অনুমতি দেয়া হয়েছিল। পরে তারা কোনো ধর্মীয় পুস্তক পোড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিবাদবিক্ষোভের বিষয়ে আইন পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নতুন বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক উত্তরণে সংকট
এতে বলা হয়েছে, সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছে। তারা বলেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে হবে এই নির্বাচন। এই সরকারের নেতৃত্বে আছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার নেতৃত্বাধীন সরকার এবং এর সমর্থকরা আশা করেন, এই নির্বাচন শুধুই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্বাচন হবে না। একই সঙ্গে ১৫ বছর ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী এবং নিষ্পেষণকারী শাসনের পরে দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন যুগের উদয় হবে। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ দলীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল বেশির ভাগ রাষ্ট্রীয় যন্ত্র। সংবিধান, নির্বাচনী ব্যবস্থা, প্রশাসন ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সংস্কারের সুযোগ করে দিয়েছে এর মধ্যদিয়ে। হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার যে একচেটিয়া সমর্থন পেয়েছিল, তা আস্তে আস্তে ক্ষয়ে যেতে শুরু করেছে। ড. ইউনূস এখন সুদৃঢ় ফলাফল দেয়ার চাপ মোকাবিলা করছেন। অন্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ফাটল মেরামতের জন্যই শুধু তার সরকার চেষ্টা করছে না। একই সঙ্গে দিনের পর দিন ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনগণের সমালোচনাও মোকাবিলা করছে। আগামী বছর এই চ্যালেঞ্জ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ, বিরোধী দলগুলো, ছাত্রনেতারা, ইসলামপন্থি গ্রুপগুলো এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ নির্বাচনে সুবিধা নিতে চাইছে। বিশাল প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। এর কারণ, শেখ হাসিনার রেজিমের শেষ পর্যন্ত তাদের দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়েছে। সেটা স্থিতিশীলতার জন্য আরও বড় বাধা হয়ে উঠেছে। উপরন্তু কমপক্ষে ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর ব্যবস্থাপনা ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের সঙ্গে অস্থিতিশীল সীমান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বোঝা হয়ে আছে। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ইউরোপকে বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে বাংলাদেশ। তা হলো বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারকে সমর্থন করা। এটা এ অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব। বাংলাদেশকে সমর্থন করতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো কি কি সহযোগিতা করতে পারে তার কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে উচ্চ পর্যায়ের সফর করতে হবে। ড. ইউনূসের সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে জোরালো সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে। এটা করতে হবে এ জন্য যে, তাতে দেশের ভেতরে ইউনূস প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে এবং যেসব শক্তি তাকে খর্ব করার চেষ্টা করছে তাদের শক্তি দুর্বল হবে। একই সঙ্গে একটি নতুন পার্টনারশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন এগ্রিমেন্টের বিষয়ে অব্যাহতভাবে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া উচিত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের। অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সমর্থন দেয়া উচিত। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন সহযোগিতা করতে পারে। এর মধ্যে আছে মূল প্রতিষ্ঠাগুলোকে শক্তিশালী করা, সুশাসনকে উন্নত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত রাখা। নির্বাচন মনিটরিং করতে একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী মিশন পাঠানো উচিত হবে। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে অধিক পরিমাণ আর্থিক সমর্থন দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউরোপ তার প্রভাব ব্যবহার করে জাতীয় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করায় অবদান রাখতে পারে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। এ জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অধিক আকর্ষণীয় পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করতে পারে ইউরোপ- যেটা হতে পারে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি অগ্রাধিকার। তৈরি পোশাক খাত থেকে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে আরও অনেক উদ্যোগে সহায়তা করা যেতে পারে। দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিবর্গ এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন সব সম্পদ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। একই সঙ্গে ২০২৯ সালের পরেও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক সুযোগ বিস্তৃত করতে ঢাকার সঙ্গে অব্যাহতভাবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া উচিত।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশে সংস্কারে আরও বেশি সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে উত্তেজনাকে সীমিত করার কাজ করা উচিত। এক্ষেত্রে ২০২৫ সালে পরিকল্পিত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে তা করা যেতে পারে। ভালো সম্পর্কের জন্য পরস্পরের মধ্যে অনাস্থা ও সম্পর্ক পরিবর্তনে নিজের প্রভাব ব্যবহার করা উচিত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদেরকে আশ্রয়দানকারী বাংলাদেশ- উভয়কে মানবিক সহযোগিতা হিসেবে অর্থের যোগান দেয়া উচিত। এটা করা উচিত এমন এক সময়ে, যখন রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের কনফারেন্স হওয়ার কথা- তাতে সমর্থন দেয়া উচিত। এর জন্য ঢাকা এরই মধ্যে তদবির করেছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার সীমান্ত জুড়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারকে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা উচিত।
ওই রিপোর্টে ক্রাইসিস গ্রুপ আরও লিখেছে, আগস্টের শুরুতে লাখো বিক্ষোভকারী পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবনের খুব কাছে চলে যাওয়ায় তিনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছেন। মোটামুটি এক মাস আগে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকারি চাকরিক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থাকে সামনে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন, বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের আন্দোলনকে নৃশংসতা ব্যবহার করে দমন করার চেষ্টা করেছেন হাসিনা। তার শাসন নিয়ে ভয়াবহ অসন্তোষের মধ্যে এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়, যার করণে তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। তার পতন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু তাতে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। কারণ, দেশটিতে আছে বিভক্তি, অনেক সময় রাজনৈতিক সহিংসতা হয়। সেনাবাহিনী, ছাত্র নেতৃত্ব এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রফেসর ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে। এতে আছেন ছাত্র, নাগরিক সমাজের ব্যক্তিত্ব, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তা। অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেশে এবং বিদেশে ড. ইউনূসের কমান্ডকে দেখা হয় অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে। তিনি রাজনৈতিক সংস্কারের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন পান। মূল রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তিনি ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু একসময় হাসিনার উৎখাতে ড. ইউনূসের প্রশাসনের প্রতি ব্যাপক সমর্থন দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এখন সেই ‘হানিমুন’ শেষ। শুধু সংস্কার করার জন্য নয়, একই সঙ্গে দিন দিন সুশাসন উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চাপে সরকার। নতুন জাতীয় নির্বাচন এখন একটি বার্নিং ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র পক্ষ থেকে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য ক্রমবর্ধমান চাপে পড়ে অন্তর্বর্তী সরকার। এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে সংবিধান অনুযায়ী গণতন্ত্রে ফেরার কথা বাংলাদেশের। ১৬ই ডিসেম্বর ড. ইউনূস বলেছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। এর অর্থ তার প্রশাসন দুই বছরের কিছু কম সময় ক্ষমতায় থাকবে। পুরোপুরি না হলেও অনেক সমালোচক এই ঘোষণায় নীরব হয়ে গেছেন। কিন্তু নির্বাচন, যদি তা দূরেও হয়, তবু তা নিয়ে বিএনপি, অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এবং ছাত্রনেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাত্রনেতারা এখন একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা করছেন। ওই তারিখের বাইরেও নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনপরবর্তী সময়ের বিভিন্ন ইস্যু এখনো অনিশ্চিত হয়ে আছে। উচ্চাকাঙ্ক্ষী একটি সংস্কার এজেন্ডার অংশ হিসেবে ড. ইউনূস কমপক্ষে এক ডজন কমিশন গঠন করেছেন। তাদের কাজ সংবিধান সংশোধন থেকে শুরু করে নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার। এর মধ্যে চারটি কমিশন মধ্য জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তাতে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রফেসর ইউনূস আরেকটি কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি প্রথম সারির রাজনৈতিক দলগুলো ও সামাজিক শক্তির সঙ্গে সংলাপ করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য এই প্রক্রিয়ার সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রিপোর্টে আরও বলা হয়, হাসিনার আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে অনুপস্থিত। তাদের নেতারা নির্বাসনে। দেশে থাকা তাদের নেতাকর্মীরা আত্মগোপন করে আছেন। ফলে দেশে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি এখন বিএনপি। অতীতে যখন, বিশেষ করে ২০০০-এর দশকের শুরুতে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তারাও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের মতো একইরকম একনায়কতন্ত্রের প্রবণতা প্রদর্শন করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ও তার সমর্থকদের কাছে এটা এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। মনে করা হচ্ছে সংস্কারের ফলে দেশকে আবার কর্তৃত্ববাদী শাসনে ফিরে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে।
জনসাধারণের মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কারের যে গভীর আকাঙ্ক্ষা তা ড. ইউনূসকে সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক উত্তেজনায় অন্তর্বর্তী সরকার অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তার অর্থনীতিতে অব্যবস্থাপনা। এর মধ্যে আছে আর্থিক খাতে ভয়াবহ দুর্নীতি ও তার ঘনিষ্ঠদের লুটপাট। এর ফলে কমপক্ষে ১০টি ব্যাংক ‘টেকনিক্যালি ঋণখেলাপি’ হয়েছে। ড. ইউনূস দায়িত্ব নেয়ার সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ক্রমহ্রাসমান। খাদ্যে মূল্যস্ফীতি শতকরা কমপক্ষে ১৫ ভাগে উঠে যায়। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পলিসি তৈরি এবং আস্থা পুনরুদ্ধারে মন্ত্রীদের নিয়োগকে দেখা হয়- অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ হিসেবে। তারপরও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তার ফলে এখনো অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত। একরোখা মুদ্রাস্ফীতি থেকে বাংলাদেশিরা অব্যাহতভাবে দুর্ভোগে। এ সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার স্বল্পতার ফলে বিদ্যুৎ কর্তনে অবদান রেখেছে। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল আইএমএফ আশা করছে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। মুদ্রাস্ফীতি অর্ধেকে নেমে আসবে।
এই রিপোর্টে ভুয়া তথ্য এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে উত্তেজনার বিষয় তুলে ধরা হয়। এক্ষেত্রে ভারত ও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ তোলা হয়। এতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে উৎখাতের ফলে ইসলামপন্থি দলগুলো প্রভাব বিস্তার করছে। এসব অভিযোগ এসেছে আওয়ামী লীগের সমর্থক ও ভারত থেকে, যারা আওয়ামী লীগকে এবং হাসিনাকে দীর্ঘ সময় ধরে সমর্থন দিয়ে এসেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে তাদের আকর্ষণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে সমালোচকরা বলছেন, তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের মতোই টালমাটাল পরিস্থিতিতে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। তবে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে হিন্দুদের ওপর বিক্ষিপ্ত হামলা হয়েছে। এ সময়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করেনি। যারা হামলায় ভিকটিম হয়েছেন তারা ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থক। কিন্তু তা নিয়ে ভারতে অনেকে, মিডিয়া এবং আওয়ামী লীগ মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছে। মানবাধিকার বিষয়ক একটি গ্রুপ ২০২৪ সালে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ১২৭টি ঘটনা ডকুমেন্ট হিসেবে ধারণ করেছে। ২০২১ সালের তুলনায় তা অনেক কম। একইভাবে অভিযোগ আছে, ইসলামপন্থিরা বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ছিল এবং তারা এখন সরকারকে বিভ্রান্ত করতে বড় রকমের প্রভাব রাখছে। বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের মিডিয়া এবং রাজনীতিকরা মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। এমন সব ঘটনা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রতি নয়াদিল্লির সমর্থন বাংলাদেশিদের কাছে গভীরভাবে অপছন্দের। একই সঙ্গে যখনই এমন ধারণা জন্মেছে যে, ড. ইউনূসের সরকারকে হেয় করার চেষ্টা করছে ভারত এবং আওয়ামী লীগকে ফেরাতে চেষ্টা করছে, তখন বাংলাদেশে ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট বাড়ছে। নির্বাসনে শেখ হাসিনাকে ভারত শুধু আশ্রয় দিয়েছে এমন নয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশিদের ভারতীয় ভিসা পাওয়াকে কঠিন করে তুলেছে। সর্বোপরি ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ধর্মীয় অধিকার নিয়ে ঢাকাকে নিয়ে তারা নিয়মিতভাবে সমালোচনা করছে। ওদিকে পাওনা পরিশোধ না করায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কমিয়ে দেয়। ফলে ব্যাপক বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয়। উত্তেজনার সঙ্গে যোগ হয়েছে সীমান্তে বেড়া নির্মাণ নিয়ে বিরোধ। আঞ্চলিক সুপারপাওয়ারকে মোকাবিলা করা ঢাকার জন্য কঠিন। কিন্তু তারা দেশের ভেতরে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করতে পারে না। সেপ্টেম্বরে পূজাকে সামনে রেখে ইলিশ রপ্তানি স্থগিতের অস্থায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তারপর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ বাতিল করে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতে বাংলাদেশি হত্যার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এই বিষয়টি হাসিনার সরকার উপেক্ষা করে এসেছে।
এর প্রেক্ষিতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কী করতে পারে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয় রিপোর্টে। এতে বলা হয়, হাসিনার পতনের ফলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ব্যবস্থা নতুন রূপ দেয়ার, অধিক অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিতামূলক করার এক বিরল সুযোগ এসেছে। এসব সংস্কারের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে যতটা সম্ভব, সমর্থন দেয়া উচিত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের। অন্তর্বর্তী সরকারে সংস্কারকে সমর্থন দেয়ার ফলে বাংলাদেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ভাবমূর্তি। ইউরোপিয়ান কিছু কূটনীতিক প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ রেজিমের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন- এখন উচিত হবে দেশের রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে তাদের বিস্তৃত যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। এর মধ্যে আছে ছাত্র নেতৃত্ব ও ইসলামপন্থি গ্রুপগুলো। কারণ, তারা এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ বিষয়ে ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার ও বাংলাদেশ-বিষয়ক সিনিয়র কনসালট্যান্ট থমাস কিয়ান বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্র্বর্তী সরকারের মধুচন্দ্রিমা এখন পুরোপুরি শেষ। রাজনৈতিক দলগুলো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ সংস্কার নিয়ে দরকষাকষি করায় এবং নির্বাচনী সুবিধার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠায় এই বছর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো বাড়তে পারে। জিনিসপত্রের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির কারণেও অন্তর্র্বর্তী সরকার চাপের মধ্যে রয়েছে যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যবস্থাপনার উত্তরাধিকার হিসেবে তারা পেয়েছে। আর অর্থনীতিকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চলমান প্রচেষ্টার সুফল বাংলাদেশের জনগণের বাস্তবে পেতে আরও সময় লাগবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে এখনো টানাপড়েন রয়েছে আর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অদূর ভবিষ্যতে যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এরপরও আগামী বছর বাংলাদেশের সামনে দেশটির জাতীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং এটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক করার একটি বিরল সুযোগ রয়েছে। এই লক্ষ্যে সংস্কার কমিশনগুলো কয়েকশ’ প্রস্তাব সংবলিত প্রতিবেদন জমা দিতে শুরু করেছে। এদিকে নির্বাচনী রাজনীতিতে বাংলাদেশের জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। সংস্কার প্রক্রিয়ার সমর্থনে এবং অন্তর্র্বর্তী সরকার যাতে বাংলাদেশকে একটি জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয় তা নিশ্চিতে কথাবার্তার মাধ্যমে, কারিগরি ও আর্থিকভাবে বিদেশি অংশীদারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে ইইউ’র সামনে গণতান্ত্রিক উত্তরণকে সমর্থন দেয়ার এবং অত্যন্ত ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের একটি অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ এক বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কোন্নয়নের সুযোগ এনে দিয়েছে বাংলাদেশ।”

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জন্মনিবন্ধনে ভোগান্তির শেষ নেই by আফজাল হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান
শুধু হাসান নন, জন্মনিবন্ধন পেতে এভাবে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। সরজমিন ঢাকা সিটির বিভিন্ন জোন ঘুরে এমন দুর্ভোগের চিত্র চোখে পড়ে।
জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে গুলশানের ৩৯ নং ওয়ার্ড নূরের চালা থেকে এসেছেন হাসিব ও সাজ্জাদ। দু’জন শিক্ষার্থী। একজনের পিতা-মাতার জন্মস্থান ঢাকার বাহিরে কিন্তু তিনি নিজে ঢাকায় জন্ম নেয়া। অন্যজনের মাতার জন্মস্থান ঢাকায় বাবার জন্মস্থান ঢাকার বাহিরে। সাজ্জাদ ও হাসিব বলেন, দেখেন নিয়ম অনুযায়ী আমাদের জন্মসনদটা হয়ে যাওয়ার কথা, এখন তারা অযথাই হয়রানি করাচ্ছে। এই জন্মসনদ ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারছি না। তারা সরাসরি বলে দিয়েছে এখানে হবেই না। আমরা অনলাইনে আবেদন করেই আসছি, কথা ছিল এখানে জমা দিলেই হয়ে যাবে। তারা বললো জন্মস্থান যে জায়গায় দেয়া সেখানেই করতে হবে। এখন আমরা জন্মনিবন্ধন ছাড়া কিছুই করতে পারছি না। তারা যদি চায় এক হাজার টাকা দেন তবুও করতে হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩ এর কার্যালয়ের নিবন্ধক সহকারী আব্দুল মান্নান জানান, জন্মস্থান এখানে (উত্তর সিটি) হলে, জন্মস্থান এখানে বা স্থায়ী ঠিকানা এখানে হলে আমি সনদের ব্যবস্থা করতে পারি। সেবাগ্রাহীতারা বাহির থেকে অনলাইনে আবেদন করে কাগজপত্রসহ এখানে এলে আমরা করে দেই। এখানে কোনো হয়রানি নাই। কাগজপত্র দিয়ে গেলে আমি ডেট দিয়ে দেই। ১৫ দিন সময় লাগে হয়তো। জন্মনিবন্ধন কার্ড রেডি হলে মেসেজ যায়। মেসেজ গেলেই একদিন পর এসে নিয়ে যেতে পারে।
দুপুর ১২টা। রেগে গিয়ে চিৎকার করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয় ৫ থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলেন মানিক নগর মিয়াজান লেনের বাসিন্দা শরীফ। জন্মনিবন্ধনে তার বাবার নাম সংশোধন করার জন্য ১০ দিন ধরে এই কার্যালয়ে ঘুরছেন কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। একদিন গেলে বলে হোল্ডিং ট্যাক্স এর ফটোকপি লাগবে, আরেকদিন বলে বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন এভাবে দিনের পর দিন কাগজপত্র নিয়ে ঘুরছেন এই আঞ্চলিক অফিসে। বৃহসপতিবার এই অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা তার আবেদনটি গ্রহণ করেননি, তারা বলছেন নতুন করে জন্মনিবন্ধন আবেদন করতে। তাই রাগে অভিমানে চিৎকার করে বের হয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন- আমার আবেদন যদি গ্রহণ না করে তাহলে আমাকে কেন এতদিন ধরে বিভিন্ন কার্যালয়ে ঘুরালো। আমি তো বাবার নাম সংশোধন করার জন্য আবেদন করেছি তাহলে আমার আবেদন গ্রহণ করবে না কেন। এইখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ফাজলামি করা হচ্ছে আর কিছুই না। আমার সব কিছুই ঠিক আছে শুধু বাবার নাম এর শেষে আলম বসবে এইটার জন্য আমার এই জন্মনিবন্ধন বাদ দিয়ে নতুন করে জন্মনিবন্ধন করতে হবে এইটা ফাজলামো ছাড়া আর কিছুই না। শুধু তিনি নন, শরীফ ছাড়া এমন অনেক বাসিন্দা জন্মনিবন্ধন সংশোধন করতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। সরজমিন ঢাকা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয় গিয়ে দেখা মিলেছে এইসব দৃশ্যের। সরকার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করায় নাগরিকরা জাতীয় পরিচয়পত্র করার জন্য জন্মনিবন্ধন সংশোধন সহ নতুন করে জন্মনিবন্ধন করতে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া প্রতিটি স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্কুলে ভর্তির সময় শিশুদের জন্মসনদ চাওয়া হয় স্কুল থেকে। সময়মতো জন্মনিবন্ধন পেতে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে অভিভাবকদের। উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ছোটখাট সংশোধনের জন্য তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে দিনের পর দিন ঘোরানোর কারণে সময় অপচয়, প্রয়োজনীয় কাজে জন্মনিবন্ধন জমা দেয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পিতামাতার জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে নামের মিল নেই জাতীয় পরিচয়পত্রের। এক্ষেত্রে শিশুর জন্মনিবন্ধন করতে প্রথম ধাপে সংশোধন করতে হয় পিতামাতার নাম। ভোগান্তিটা এখান থেকেই শুরু। অন্যদিকে শিশুর পিতা প্রবাসে থাকায় পাসপোর্টের নামের সঙ্গে অনেকের মিলছে না জন্মনিবন্ধনের নাম। এতে অভিভাবকদের আরেক ধাপ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া জন্মনিবন্ধন সংশোধনসহ নতুন জন্মনিবন্ধন করার জন্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা নাগরিকদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন।
বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ক্লান্ত চেহারায় হেঁটে যাচ্ছিলেন যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা হৃদয়। তিনি বলেন, আজকে ৫ দিন ধরে এই অফিসে ঘুরছি এনআইডি কার্ড করার জন্য জন্মনিবন্ধন করতে এসেছিলাম এখানে। একবার স্কুল সার্টিফিকেট লাগবে আবার তাদের কাছে গেলে বলে হোল্ডিং ট্যাক্স এর ফটোকপি লাগবে। সর্বশেষ বলছে আমার বাবা-মা’র জন্মনিবন্ধনের অনলাইন কপি লাগবে নাহলে হবে না। আজকে বাবা-মা’র জন্মনিবন্ধন নিয়ে এসেছি এখন বলছে- ডিসি অফিসে গিয়ে আবেদন কনফার্ম করে এই অফিসে আসতে। আমাদের সাধারণ মানুষকে নিয়ে তারা খেলছেন আর কিছুই না। আমার অফিস আছে অফিসে কয়দিন ছুটি নেয়া যায় দুইদিনের কাজ আজকে দশদিন লেগে যাচ্ছে।
সরকার নতুন করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করছে এখনো এনআইডি কার্ড করেনি মানিক নগর এলাকার বাসিন্দা সাদেক হোসেনের। এনআইডি কার্ড করার জন্য জন্মনিবন্ধন লাগবে। তিনি বলেন, আমি এখানে এসেছি জন্মনিবন্ধন করার জন্য আসার পর সবকিছু কাগজপত্র জমা দিয়েছি। চারদিন ধরে এইখানে ঘুরছি একদিন এক কাগজ চায় তারা। আজকে সব কাগজ জমা দিয়েছি এখন বলছে ডিসি অফিসে যেতে হবে ওইখানে সার্ভার থেকে আবেদন নিশ্চিত করে এখানে পাঠাতে হবে। এক কর্মকর্তা আমাকে অফার দিয়েছে যদি তাকে ৫০০ টাকা দেই তাহলে অফিসে যেতে হবে না উনারা এখান থেকে সব করে দেবেন। হয়রানি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে ৫০০ টাকা দিয়ে এসেছি।
সত্তুর বছরের বৃদ্ধা হালিমা ক্লান্ত হয়ে বসে পড়েছেন এই অফিসের ১০৯ নম্বর রুমের সামনে। অফিস আর দোকান ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন। তার মেয়ের জন্মনিবন্ধন সংশোধন করার জন্য এসেছিলেন এই কার্যালয়ে। আবেদনপত্র নিয়ে যাওয়ার পর দায়িত্বরত কর্মকর্তা এক একবার এক এক কাগজ চাচ্ছেন। একবার চাচ্ছেন বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি, একবার চাচ্ছেন পানির বিলের ফটোকপি দুই ঘণ্টা এই অফিস আর দোকানে আসা যাওয়া করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন আমি বৃদ্ধ মানুষ এই বয়সে কী এত হাঁটাহাঁটি করতে পারি উনারা একবারে বলে না কি কি লাগবে। সবকিছু দেয়ার পর এখন বলছে আসল জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি লাগবে একবারে বলে দিলেই তো হতো এই বয়সে এত বার কি দৌড়াদৌড়ি করা যায়।
ন্যাশনাল কলেজের শিক্ষার্থী তারেক এসেছেন জন্মনিবন্ধন সংশোধন করার জন্য। তিনি বলেন, আজকে তিনবার পর্যন্ত এই আঞ্চলিক কার্যালয় আর ফটোকপির দোকানে আসা-যাওয়া করছি। উনারা একেকবার একেক কাগজপত্রের জন্য পাঠায়। এখানে আসার পর আমাকে বললো যে, বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি লাগবে আর গ্যাস বিলের ফটোকপি লাগবে, কিন্তু আমি বিদ্যুৎ বিল এবং গ্যাস বিলের ফটোকপি আনার পরে বলছে হোল্ডিং ট্যাক্সের ফটোকপি লাগবে। সবকিছু জমা দেয়ার পর এখন বলছে- হলফনামা লাগবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অন্য দলের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন ছাত্ররা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতন নিশ্চিত করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের বিষয় সামনে এনেছেন ছাত্ররা। উদ্দেশ্য- পুরনো বন্দোবস্তকে বিদায় দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা। তারুণ্য নির্ভর দল গঠন করে সব মত-পথের মানুষকে ঠাঁই দিতে চায় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। নেতাদের দাবি- মধ্য পন্থার এ নতুন রাজনৈতিক দল হবে গণমানুষের দল। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত।
দল ঘোষণাকে সামনে রেখে পর্যায়ক্রমে পদত্যাগ করবেন সরকারে থাকা ছাত্রদের তিন প্রতিনিধি। যাদের একজন নতুন দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে পারেন। জানা গেছে, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন সরকারের আইসিটি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা নাহিদ ইসলাম। যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নম্বর সমন্বয়ক ছিলেন। শোনা যাচ্ছে, নাহিদকে সামনে রেখে দল ঘোষণা হতে পারে। নাহিদের পর উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করবেন আরেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। যিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। নাহিদের পদত্যাগের পরের ধাপে আসিফ পদত্যাগ করতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে। আরেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে অথবা অক্টোবরের শেষে পদত্যাগ করতে পারেন। তবে পদত্যাগ ইস্যুতে গতকাল নাহিদ ইসলাম বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। যদি হয় তাহলে আমরা নিজেরাই বলবো। রাজনৈতিক দলে অংশগ্রহণের পরিস্থিতি হলে, আমরা সরকার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলে সেটা আনুষ্ঠানিকভাবেই বলবো।
এদিকে, নিজেদের নতুন দলে পরিচিত একজন রাজনৈতিক মুখকে নিয়ে আসতে চাচ্ছেন ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। সে লক্ষ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে। এ তালিকায় রয়েছে বিএনপিসহ অন্যান্য ছোট দলের নেতারা। যেখানে বিএনপি’র হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এমন ব্যক্তিও রয়েছেন। এ ছাড়াও দলটির তরুণ কয়েকজন নেতাকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চলমান রয়েছে। বিএনপি ছাড়াও দলটির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে নতুন দলে যোগ দেয়ার। এ ছাড়াও বিএনপি’র সঙ্গে জোটে থেকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা ব্যক্তিও রয়েছেন এ তালিকায়। তবে এদের কেউই দলে যোগদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি। কেউ কেউ নিজেদের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন। সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন কয়েকজন। এ ছাড়াও সুশীল সমাজের কয়েকজন ব্যক্তিকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করছেন ছাত্ররা।
ছাত্রদের নতুন দলের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নাম চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আগামী সপ্তাহে অনলাইন ও অফলাইনে গণমানুষের মত নেয়া হবে। মানুষের দেয়া নাম ও নিজেদের প্রস্তাবনা থেকে দলের নাম চূড়ান্ত করা হবে। এক্ষেত্রে নতুন দলের নামেও জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের প্রতিফলন রাখতে চান ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এ ছাড়া গঠনতন্ত্রের বিষয়টিও শেষ দিকে রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে এটি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রেও জুলাই-আগস্টের স্প্রিট রাখতে চান তারা। আজ জনমত তৈরির লক্ষ্যে দেশব্যাপী বিভিন্ন সভা করছেন তারা। আনুষ্ঠানিকভাবে দলের ঘোষণা দেয়ার আগে রংপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে, দল গঠনের আগে দেশব্যাপী নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই একাধিক উপজেলা কমিটি গঠন করে দল গোছানোর চেষ্টায় রয়েছেন তারা। কমিটিগুলো নিজ নিজ এলাকায় দল গঠনের বিষয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে করা হচ্ছে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ।
দল গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনেকটা ক্লোজডোর আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। নাগরিক কমিটির অভ্যন্তরীণ সভাগুলোতে আলোচনা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসে ক্লোজডোর আলোচনায়। উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এ প্রক্রিয়ার নেপথ্যে কাজ করছেন। এ ছাড়াও উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, মুখপাত্র সামান্তা শারমিনও রয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। অন্যদিকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠন সারজিস আলম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সদস্য সচিব আরিফ সোহেল ও মুখ্য সংগঠন আব্দুল হান্নান মাসউদ রয়েছেন। এদিকে ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক ব্যক্তির একটি গোপন বৈঠক নিয়ে আলোচনা রয়েছে নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অভ্যন্তরে। সূত্রের দাবি, জানুয়ারির মাঝামাঝিতে ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটি রিসোর্টে এ বৈঠক হয়। যেখানে সাত ছাত্রনেতা ছাড়াও উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে এ ধরনের কোনো বৈঠকের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কিছু প্রকাশ করেননি।
জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, আমরা দল গঠনের আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গেই যোগাযোগ করছি। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোও রয়েছে। বিষয়টা এমন না যে তাদেরকে দলে ভেড়াতে এ উদ্যোগ। তিনি বলেন, আমাদের নতুন দলে সব জাতি, ধর্ম, বর্ণের অংশগ্রহণ থাকবে। মধ্যপন্থার দল হবে। নেতৃত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতারাই নেতৃত্বে থাকবে। আর দলের নামের ক্ষেত্রে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের যেন প্রতিফলন ঘটে এমন একটি নামই আমরা চূড়ান্ত করবো।
ছাত্ররা নতুন দল গঠন করবে, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ড. ইউনূস: এদিকে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন ছাত্ররা দল গঠন করবে। এ লক্ষ্যে তারা দেশ জুড়ে লোকজনকে সংগঠিত করছে। একটি সম্ভাবনা হলো, ছাত্ররা নিজেরাই একটি দল গঠন করবে। শুরুতে যখন তারা উপদেষ্টা পরিষদ সভা গঠন করছে, তখন আমি তিনজন ছাত্রকে আমার উপদেষ্টা পরিষদে নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, যদি তারা দেশকে “জীবন” দিতে পারে, তাহলে তারা উপদেষ্টা পরিষদে বসতে পারে এবং জীবন দেয়ার জন্য কী করছে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা ভালো কাজ করছে। এখন ছাত্ররা বলছে, কেন আপনি আপনার-আমাদের নিজস্ব দল গঠন করেন না, আমরা একটা সুযোগ নেবো। তারা বলেছে, আপনার কোনো সুযোগ নেই, এমনকি সংসদে আপনার একটি আসনও থাকবে না। কেন? কারণ, কেউ আপনাকে চেনে না। আমি তাদের বললাম, পুরো জাতি তাদেরকে চেনে। তারা যা করতে চায়, সে বিষয়ে তাদেরকে একটা সুযোগ দিই। সুতরাং, তারা এটা করবে। তিনি বলেন, এটা দরকার। কারণ, রক্ত দিয়ে তারা যেগুলো অর্জন করেছে, সেগুলো তাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় সেগুলো সেই সব ব্যক্তি নিয়ে যাবে, যারা বিগত প্রশাসন ও অন্যান্যের মতো সব কিছুর পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ খুঁজছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দল গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যে হয়তো তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এটাও একটা বিপদ। কারণ, রাজনীতি শুরু করলে সব ধরনের রাজনীতিবিদ তাদের সঙ্গে মিশে যাবে। তাই আমরা জানি না তারা আমাদের দেশে যে রাজনীতি, তা থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারবে কি না। এ ধরনের সুযোগ আছে, যা আমাদের নিতে হবে। তবে ছাত্ররা প্রস্তুত। তারা প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা দেশ জুড়ে লোকজনকে সংগঠিত করছে। তিনি বলেন, তরুণরা সত্যিই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের খারাপ কোনো কিছুর সংস্পর্শে নেই বা নিজেদের রাজনৈতিক আখের গোছানোর ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নেই। তারা এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দল গঠন করছে বা রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছে। এটাই বাংলাদেশে আমাদের রাজনৈতিক পরিবেশ। সুতরাং তারা এটা রক্ষা করার চেষ্টা করছে। তাই আমি বলবো, ছাত্রদের স্বচ্ছ অভিপ্রায় থাকবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Thursday, January 30, 2025
‘বাপু, নমস্কার’ বলেই মহাত্মা গান্ধীকে তিনটি গুলি করেন খুনি by সাইফুল সামিন
খুবই সাদামাটা, অথচ অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনীতিক, আধ্যাত্মিক এই মানুষটির নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। তিনি ‘মহাত্মা গান্ধী’ নামেই বহুল পরিচিত। এই নামের অর্থ ‘মহান আত্মা’। সম্মান করে অনেকে তাঁকে ‘বাপু’ (বাবা) বলেও ডাকতেন।
ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামের অন্যতম অগ্রনায়ক মহাত্মা গান্ধী। তবে ভারতের স্বাধীনতার ছয় মাসের কম সময়ের ব্যবধানে নৃশংস গুপ্তহত্যার শিকার হন এই শান্তিকামী নেতা।
ধর্মীয় পরিবারে জন্ম
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জন্ম ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর, ব্রিটিশশাসিত ভারতের পোরবন্দরের একটি অভিজাত হিন্দু পরিবারে। তাঁর জন্মস্থান এলাকাটি এখনকার ভারতের গুজরাট রাজ্যের অন্তর্গত।
বাবা করমচাঁদ উত্তমচাঁদ গান্ধী। তিনি ছিলেন পোরবন্দরের রাজদেওয়ান (মুখ্যমন্ত্রী)। মা পুতলিবাই গান্ধী। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক ছিলেন। ছেলের মধ্যে তিনি ধর্মীয় নীতি-নৈতিকতার সঞ্চার ঘটিয়েছিলেন। নিরামিষ ভোজন, ধর্মীয় সহনশীলতা, সহজ-সাধারণ জীবনযাপন, অহিংসার ওপর জোর দিয়েছিলেন তিনি।
মহাত্মা গান্ধী ১৩ বছর বয়সে মা–বাবার পছন্দে ১৪ বছর বয়সী কস্তুরবা মাখাঞ্জিকে বিয়ে করেন। ১৮ বছর বয়সে ১৮৮৮ সালে আইনশাস্ত্র পড়তে মহাত্মা গান্ধী লন্ডন যান। ১৮৯১ সাল পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করেন।
লন্ডনে পড়া শেষে মহাত্মা গান্ধী ভারতে ফিরে আসেন। আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। প্রথম মামলাতেই তিনি হেরে যান। তিনি অপমানিত হন। একপর্যায়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ভারতীয় ফার্মে কাজের প্রস্তাব পান তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সংগ্রাম
১৮৯৩ সালে মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে ভারত ছাড়েন। পরবর্তী ২১ বছর তাঁর দক্ষিণ আফ্রিকাতেই কাটে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয় ও কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি সাধারণভাবে প্রচলিত বৈষম্যের শিকার হন মহাত্মা গান্ধী। এই আচরণে তিনি হতবাক হন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয় অভিবাসীদের অধিকার আদায়ে মহাত্মা গান্ধী সোচ্চার হন। ভারতীয়দের অধিকার আদায়ে ১৮৯৪ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিষ্ঠা করেন নাটাল ভারতীয় কংগ্রেস। দক্ষিণ আফ্রিকায় মহাত্মা গান্ধীর হাত ধরে বিকশিত হয় অহিংস আন্দোলন ‘সত্যাগ্রহ’।
অহিংস আন্দোলন করতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় মহাত্মা গান্ধী একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালেই তাঁর পরিচিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থানকালে ১৯০৬ সালে ব্রহ্মচর্য গ্রহণ করেন মহাত্মা গান্ধী। এর পর থেকে তিনি ব্রহ্মচর্য পালনে আরও কঠোর হতে শুরু করেন।
ভারতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ
১৯১৫ সালের জানুয়ারিতে ভারতে ফিরে আসেন মহাত্মা গান্ধী। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের আগে তিনি তিনটি আঞ্চলিক সত্যাগ্রহ—চম্পারণ (১৯১৭), খেদা ও আহমেদাবাদ (১৯১৮) পরিচালনা করেন। কৃষক-শ্রমিকদের সমস্যা-অধিকার নিয়ে করা পৃথক এই সত্যাগ্রহের মাধ্যমে তিনি ভারতজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারতীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। এর মধ্যে ১৯১৯ সালের গোড়ার দিকে দমনমূলক রাওলাট আইন পাস করে ব্রিটিশ সরকার। এই আইন ব্রিটিশ সরকারকে বিনা কারণে যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও বিনা বিচারে কারারুদ্ধ করার ক্ষমতা দেয়।
মহাত্মা গান্ধী এই আইনকে ‘কালো আইন’ বলে অভিহিত করেন। তিনি এই আইনের বিরুদ্ধে অহিংস সত্যাগ্রহের ডাক দেন। এই আইনের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর আন্দোলন তাঁকে ভারতীয় স্বাধীনতাসংগ্রামের মূলধারায় নিয়ে আসে। ভারতীয় রাজনীতিতে মহাত্মা গান্ধী যুগের সূচনা হয়।
অসহযোগ আন্দোলন
রাওলাট আইন ও স্থানীয় দুই জনপ্রিয় রাজনীতিককে (সাইফুদ্দিন কিচলু ও সত্যপল) গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের অমৃতসর শহরের জালিয়ানওয়ালাবাগে অনেক মানুষ জড়ো হন। সেদিন পাঞ্জাবের অন্যতম বৃহৎ উৎসব বৈশাখীর দিন ছিল।
ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে বিক্ষোভরত নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচার গুলি চালানো হয়। গুলিতে কয়েক শ মানুষ নিহত হন। আহত হন হাজারো মানুষ। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইটহুড’ উপাধি পরিত্যাগ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৯১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতীয় মুসলমানরা খেলাফত আন্দোলন (১৯১৯-২৪) শুরু করেন। অন্যদিকে রাওলাট আইন থেকে শুরু করে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-২২)।
১৯২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে খেলাফত আন্দোলনের প্রতি মহাত্মা গান্ধী সমর্থন দেন। বিনিময়ে খেলাফত আন্দোলনের নেতারা মহাত্মা গান্ধীর অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
এভাবে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায় একটি সম্মিলিত ফ্রন্ট গড়ে ওঠে। ব্যাপক সহিংসতাসহ বেশ কিছু বড় ঘটনার জেরে ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মহাত্মা গান্ধী তাঁর অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ১৯২২ সালের ১০ মার্চ মহাত্মা গান্ধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার–সংক্রান্ত স্বাস্থ্যগত কারণে ১৯২৪ সালে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
আইন অমান্য আন্দোলন
ভারতের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন ও তা চূড়ান্তকরণে ১৯২৭ সালে ব্রিটিশ সরকার সাইমন কমিশন গঠন করে। ব্রিটিশ সংসদীয় এই কমিশনকে পুরোপুরি ‘শ্বেতাঙ্গ কমিশন’ অভিহিত করে তা বর্জন করেন ভারতের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতারা।
পাল্টা হিসেবে ১৯২৮ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা মতিলাল নেহরুর নেতৃত্বে ভারতের জন্য একটি খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়। ব্রিটিশ সরকারকে ‘নেহরু রিপোর্ট’ পুরোপুরিভাবে গ্রহণ করতে চাপ দেয় কংগ্রেস।
ব্রিটিশ সরকার ১৯২৯ সালে ঘোষণা দেয়, শিগগিরই ভারতকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে ডোমিনিয়নের মর্যাদা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সুভাষচন্দ্র বসু ও জওহরলাল নেহরুর মতো কংগ্রেসের তরুণ নেতারা দাবি করেন, তাঁদের সংগ্রামের লক্ষ্য ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতা।
এমন প্রেক্ষাপটে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। মহাত্মা গান্ধীকে এই আন্দোলন পরিচালনার নেতৃত্ব গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। তিনি অহিংস পন্থায় এই আন্দোলন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৩০ সালে তাঁর নেতৃত্বে শুরু হয় আইন অমান্য আন্দোলন। শিগগির এই আন্দোলন গণ-আন্দোলনের রূপ নেয়। মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরুসহ অন্যান্য নেতাকে কারারুদ্ধ করা হয়। মহাত্মা গান্ধীসহ কংগ্রেসের নেতাদের ১৯৩১ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি দেওয়া হয়।
১৯৩১ সালের মার্চ মাসে মহাত্মা গান্ধী ও ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড আরউইনের মধ্যে চুক্তি (গান্ধী-আরউইন চুক্তি) হয়। গান্ধী আইন অমান্য আন্দোলনে বিরতি দেন।
ভারতের স্বাধীনতার বিষয়ে আলোচনা করতে কংগ্রেসের একক প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৩১ সালের সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বরে লন্ডনের গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন মহাত্মা গান্ধী। কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হয়।
সরকারের দমননীতির জেরে ১৯৩২ সালের জানুয়ারিতে আবার আইন অমান্য আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নেন মহাত্মা গান্ধী। ১৯৩৪ সালের এপ্রিলে এই আন্দোলন বন্ধ হয়ে যায়।
১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে মুসলিম লীগের সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর দ্বিজাতিতত্ত্বের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। জিন্নাহর ব্যাখ্যার ভিত্তিতে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক মুসলিম লীগের অধিবেশনে উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রসমূহ (স্টেটস) গঠনের রূপরেখার একটি প্রস্তাব (লাহোর প্রস্তাব) উত্থাপন করেন। পরে প্রবল উৎসাহে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
ভারত ছাড় আন্দোলন
ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের দাবিতে ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রস্তাব পাস হয়। এরপরই অহিংস পথে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত আন্দোলন আর অহিংস থাকেনি। আন্দোলন একপর্যায়ে পরিণত হয় বিদ্রোহে। ভারত ছাড় আন্দোলনকে ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগোর ১৮৫৭ সালের ভারতীয় মহাবিদ্রোহের সঙ্গে তুলনা করেন।
ভারত ছাড় আন্দোলন স্বাধীনতার দাবিকে মৌলিক দাবিতে পরিণত করে। এই আন্দোলনের পর মহাত্মা গান্ধীসহ ভারতীয় স্বাধীনতাসংগ্রামীদের আর পেছনে ফেরার কোনো পথ ছিল না।
ভারতের স্বাধীনতা
১৯৪৫ সাল নাগাদ ব্রিটিশরা বুঝে যায়, ভারত ছাড়তে হবে। ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট অ্যাটলি ভারতত্যাগের বিষয়ে একটা ঘোষণা দেন। তিনি ১৯৪৮ সালের জুন মাস নাগাদ ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগ করার অভিপ্রায়ের কথা জানান। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালের ১৫ জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রণীত হয় ভারতের স্বাধীনতা আইন।
১৯৪৭ সালের ২ জুন রাতে কংগ্রেস, মুসলিম লীগসহ ভারতীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন। তিনি ১৯৪৭ সালের ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা এবং ভারত বিভাজনের ঘোষণা দেন। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সরকারের কাছে এবং ১৫ আগস্ট ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।
দেশ বিভাজনের পর আরও সহিংসতা, আরও দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে অনশন করে কলকাতাকে দাঙ্গার আগুন থেকে রক্ষা করেন মহাত্মা গান্ধী। পরে তিনি কলকাতা থেকে দিল্লিতে ছুটে যান। মুসলমানদের নিরাপত্তা, অধিকারসহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি অনশন শুরু করেন। ১৯৪৮ সালের ১৩ থেকে ১৮ জানুয়ারি দিল্লিতে এটা ছিল তাঁর জীবনের শেষ অনশন।
অহিংসার পূজারি সহিংসতার শিকার
মহাত্মা গান্ধী দিল্লির বিড়লা হাউসে অবস্থান করছিলেন। তাঁর অনশনভঙ্গের দুই দিন পর বিড়লা হাউসে একটি বোমা হামলা হয়। তবে এই হামলায় তাঁর কোনো ক্ষতি হয়নি।
বিড়লা হাউসে সকাল ও সন্ধ্যায় প্রার্থনাসভা করতেন মহাত্মা গান্ধী। সভায় সব ধর্মের কথা বলা হতো। সভায় প্রতিদিন অংশ নিতেন কয়েক শ মানুষ।
১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি বিকেল ৫টার কিছু পর দুই আত্মীয় আভা ও মানুর কাঁধে হাত রেখে প্রার্থনাসভায় যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এগোতে থাকেন মহাত্মা গান্ধী। হঠাৎ তাঁর সামনে এসে দাঁড়ান নাথুরাম গডসে নামের এক ব্যক্তি।
নাথুরাম তাঁর হাতজোড় করে মহাত্মা গান্ধীকে বলেন, ‘বাপু, নমস্কার।’ তখন নাথুরামকে সরে যেতে বলেন মানু। মানুকে ধাক্কা দেন নাথুরাম। এরপরই তিনি মহাত্মা গান্ধীর দিকে পিস্তল তাক করে চোখের নিমেষে পরপর তিনটি গুলি চালান। মহাত্মা গান্ধী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে বিড়লা হাউসে তাঁর ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
মহাত্মা গান্ধীর মরদেহ বিড়লা হাউসে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। পরে সেখানে পৌঁছান তাঁর ছোট ছেলে দেবদাস গান্ধী। তিনি মহাত্মা গান্ধীর শরীর থেকে কাপড়টি সরিয়ে দেন। সবার উদ্দেশে বলেন, ‘অহিংসার পূজারির সঙ্গে হওয়া হিংসার ঘটনা দুনিয়া দেখুক।’
নাথুরামের ফাঁসি
নাথুরাম কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল হিন্দু মহাসভার সদস্য ছিলেন। হিন্দু মহাসভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি আরেক কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদস্য ছিলেন।
মহাত্মা গান্ধীর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন নাথুরাম। তাঁর অভিযোগ ছিল, দেশভাগের জন্য মহাত্মা গান্ধীই দায়ী। মুসলিম সম্প্রদায় ও পাকিস্তানের প্রতি মহাত্মা গান্ধীর মনোভাব ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ ও নমনীয়।
মহাত্মা গান্ধী হত্যা মামলার বিচার চলাকালে আদালতে নাথুরাম বলেছিলেন, ‘গান্ধীজি দেশের জন্য যা করেছেন, এর জন্য আমি তাঁকে সম্মান করি। গুলি চালানোর আগে তাই আমি মাথা নিচু করে তাঁকে প্রণামও করেছিলাম। কিন্তু সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিকে ভাগ করার অধিকার কারও নেই, তিনি যত বড়ই মহাত্মা হোন না কেন। আর এর বিচার করবে—এমন কোনো আইন-আদালত নেই। সে জন্যই আমি গান্ধীকে গুলি করেছিলাম।’
মহাত্মা গান্ধী হত্যা মামলায় নাথুরাম ও তাঁর সহযোগী নারায়ণ আপ্তের ফাঁসির আদেশ হয়। নাথুরামের ভাই গোপাল গডসেসহ ছয়জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ১৯৪৯ সালের ১৫ নভেম্বর নাথুরাম ও নারায়ণের ফাঁসি কার্যকর হয়।
২০০৭ সালের ১৫ জুন জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ২ অক্টোবরকে (মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন) ‘আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, বিবিসি, এমকেগান্ধী ডট ওআরজি।
![]() |
| ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামের অন্যতম অগ্রনায়ক মহাত্মা গান্ধী। ছবি: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৩৫ বছর পর যে কলেজে প্রকাশ্যে এল শিবির by ফাহিম আল সামাদ
কলেজটির নাম চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ। চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত এই কলেজ প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৪৭ সালে। তখন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম ছিল ‘চট্টগ্রাম কলেজ অব কমার্স’। গত সোমবার কলেজটিতে শেষ হয়েছে শিবিরের আয়োজন করা দুই দিনের প্রকাশনা উৎসব।
১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরব দেখা গেছে এই কলেজের শিক্ষার্থীদের। কলেজটির ছাত্র সংসদে নেতৃত্ব দিয়েছেন—এমন অনেকেই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। নেতৃত্ব দিয়েছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়েরও। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে কলেজটিতে সব ছাত্রসংগঠনের অংশগ্রহণে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার রীতি ছিল। তবে সেই দৃশ্যপট পাল্টে যায় নব্বইয়ের দশকে।
কলেজটির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন—এমন নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮৮ ও ১৯৮৯ সালের দিকে কলেজে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে। এতে প্রাণ হারান তিন ছাত্র। এরপর কলেজটি পুরোপুরি ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। একসময় প্রকাশ্যে রাজনীতি করা ছাত্রশিবিরের কার্যক্রমও কলেজে বন্ধ হয়ে পড়ে।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কলেজের রাজনৈতিক দৃশ্যপট আবারও পাল্টে গেছে। কলেজটিতে আবারও প্রকাশ্যে রাজনীতি শুরু করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। গত বছরের নভেম্বরে প্রথম প্রকাশ্যে আসে সংগঠনের কলেজ শাখার কমিটিও। গত রোববার থেকে গত সোমবার পর্যন্ত এই কলেজে আয়োজন করা হয় ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা উৎসব। আয়োজক ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম নগর দক্ষিণ শাখা।
গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের ফটকের উল্টো দিকে সড়কের পাশে বসানো হয়েছে তিনটি স্টল। পাশে ‘রিডিং কর্নার’। বইয়ের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের ছবিযুক্ত ক্যালেন্ডারও প্রদর্শন করা হচ্ছে এসব স্টলে। এ ছাড়া পাশে একটি বুথে ছাত্রশিবিরের সমর্থক ফরম পূরণের সুযোগ রাখা হয়েছে। জানতে চাইলে মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শিবির নিয়ে মানুষের ব্যাপারে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। এই বিভ্রান্তি দূর করতেই সংগঠনের প্রকাশনা নিয়ে উৎসবের আয়োজন।
ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা জানান, কলেজটিতে দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে শিবিরের রাজনীতি না থাকলেও সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ ছিল না। সাংগঠনিক থানা হিসেবে প্রতিবছর কমিটিও করা হয়।
শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে কমার্স কলেজের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের। এরপর সেখানে গত সেপ্টেম্বর মাসের দিকে আহ্বায়ক কমিটি দেয় ছাত্রদল। গত ২৩ নভেম্বর কলেজের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিবির। সেখানে প্রথম প্রকাশ্যে আসেন কমার্স কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম। এরপর গত ডিসেম্বর মাসে বিজয় শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়। এ বছর কমার্স কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সাদনান ফাহিম।
কমার্স কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি সাদনান ফাহিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁদের জন্য কাজ করতে চাই। ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে যে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের, আমরা সেটি দূর করতে চাই। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজে শিবিরের কার্যক্রম চলছে।’
কলেজ ছাত্রলীগের নেতাদের অধিকাংশই বর্তমানে আত্মগোপনে। তাই তাঁদের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক সহাবস্থানে থাকতে চাই। আমরা চাই, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়। পাশাপাশি শিবিরকেও গুপ্ত রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে রাজনীতি করার আহ্বান জানাই’
---প্রথম আলো
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরানো হচ্ছে মোনালিসাকে, রাখা হবে বিশেষভাবে নির্মিত কক্ষে
ল্যুভর কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, মোনালিসাকে তার বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে একটি পৃথক বিশেষভাবে নির্মিত কক্ষে রাখা হবে। এই ঘোষণা দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জাদুঘর সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মোনালিসাকে এবার সরানো হবে। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমের কারণে জাদুঘরের অন্য শিল্পকর্মের প্রতি মনোযোগ দেয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ বলে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ের ফলে জাদুঘরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং শিল্পকর্ম সংরক্ষণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
ল্যুভর কর্তৃপক্ষের মতে, এই স্থানান্তরের ফলে দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা উন্নত হবে, পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পকর্মও তাদের প্রাপ্য গুরুত্ব পাবে। ২০৩১ সালের মধ্যে এ সংস্কার কাজ শেষ হবে বলে ঘোষণা দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। পরবর্তীতে এ ছবিটি দেখতে হলে দর্শনার্থীদের আলাদা করে টিকিট কেটেই এ চিত্রকর্ম দেখতে হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে প্রবেশমূল্যের পরিবর্তন আনা হবে। এখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের দর্শনার্থীদের বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের পর্যটকদেরও ল্যুভর জাদুঘর পরিদর্শনের জন্য বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
ল্যুভর পরিচালক লরেন্স দে কার সতর্ক করে বলেছে, জাদুঘরটিতে ভিড় আগে থেকে অনেক বেশি বেড়ে গেছে এবং এ কারণে অবকাঠামোগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন জাদুঘরে আসা ৩০ হাজার দর্শনার্থীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশই লিওনার্দো দা ভিঞ্চির এই চিত্রকর্ম দেখতে আসেন। তবে এটি যেন ধৈর্যের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন ভিড় সামলাতে দর্শনার্থীদের সাল দে জেতা হলের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সেখানে দর্শকরা গড়ে মাত্র ৫০ সেকেন্ডের জন্য তারা ছবিটি পর্যবেক্ষণ ও ছবি তোলার সুযোগ পান।
ম্যাডাম দে কার্স তার চিঠিতে লিখেছেন, জনসাধারণ কোনোভাবেই শিল্পীর কাজকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারছে না, যা আমাদের পুরো জনসেবামূলক মিশনকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, মোনালিসা শুধু একটি চিত্রকর্ম নয়, এটি ল্যুভর প্রতীক এবং একে আলাদা কক্ষে সরানো এই জাদুঘরের ঐতিহ্যের পরিপন্থী।
শিল্পবিশ্বের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ শিল্পের গভীর ঐতিহ্যকে গুরুত্ব না দিয়ে আধুনিকীকরণের নামে একটি কৃত্রিম অভিজ্ঞতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। সূত্র: বিবিসি

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন এই দাবির মিছিল?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নরমে-গরমে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই সরকারের কাজ। স্বৈরাচারী না হয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হয়। নতুবা রাষ্ট্রের অস্তিত্ব মানুষ অনুভব করতে পারে না। প্রয়োজনে রাষ্ট্রকে শক্ত ভূমিকা নিতে হয়। আবার কখনো সহানুভূতিশীল হতে হয়। এক্ষেত্রে একটা ভারসাম্য থাকতে হবে। আবার জনগণকেও তার রাষ্ট্রের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। ইচ্ছা হলেই রাষ্ট্রের কাছে অযৌক্তিক দাবি চাপিয়ে দেয়া যাবে না। পশ্চিমা ধাঁচে বাংলাদেশ পরিচালনা করা যাবে এই চিন্তাও অমূলক। অনেকে বলছেন, বছরের পর বছর নিজেদের দাবি নিয়ে কথা না বলা মানুষদের এখন হঠাৎ সরব হওয়ার পেছনে কোনো পক্ষের ইন্ধন এবং আর্থিক বিনিয়োগ থাকতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে কর্মপন্থা ঠিক করতে হবে।
জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি মানুষের যে বিশাল প্রত্যাশা ছিল দাবি-দাওয়ার আন্দোলনের কারণে তা অনেকটা ম্লান হয়ে আসছে। দাবি পার্টি একের পর এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে চলেছে। এতে সরকার স্বাভাবিক কাজকর্ম চালাতে পারছে না।
এ পর্যন্ত শতাধিক দাবি-দাওয়ার আন্দোলন মোকাবিলা করতে হয়েছে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে। ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সক্রিয় হয়েছে বিভিন্ন গোষ্ঠী। যারা বিগত সাড়ে ১৫ বছর নিজেদের বঞ্চিত বলে দাবি করছেন। সচিবালয় থেকে মাঠ প্রশাসন সব জায়গায় নানা দাবি নিয়ে হাজির হয়েছে বিভিন্ন গোষ্ঠী। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বাদ যাচ্ছে না। সময়ে সময়ে নতুন নতুন দাবি নিয়ে হাজির হচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কল-কারখানাগুলোতেও চলছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার আন্দোলন। শিক্ষক-চিকিৎসক-শ্রমিক শ্রেণি সবাই দাবি-দাওয়ার আন্দোলনে রয়েছে। শিক্ষার্থীরাও সময়ে অসময়ে যৌক্তিক-অযৌক্তিক দাবি নিয়ে হাজির হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরকারকে এইচএসসি পরীক্ষার সব বিষয়ে পরীক্ষা না নিয়ে ফলাফল দিতে হয়েছে। সচিবালয়ে সময়ে সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা আন্দোলনের মাধ্যমে শুরু থেকেই সরকারকে জিম্মি করে রেখেছিল। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে চলছে দাবি- দাওয়ার আন্দোলন।
অনেকে দাবি-দাওয়া নিয়ে নেমে আসছেন রাস্তায়। বিশেষ করে শাহবাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কিছুদিন পরপর অবরোধ করছেন এসব গোষ্ঠী। যাদের মধ্যে চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর পাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি, বারডেম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মতো চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান থাকায় বিষয়টি আরও উদ্বেগের। প্রতিনিয়ত এ পথে রোগী ও স্বজনদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। সর্বশেষ এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা শাহবাগে অবস্থান নেয়। যেখান থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অভিমুখে রওয়ানা হলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে। এ ছাড়াও সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিন রাজধানীর বেশ কয়েকটি সড়কে আন্দোলন করছেন। এদের মধ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি অন্যতম। ওদিকে গুচ্ছ পরীক্ষার দাবিতে একদল শিক্ষার্থী তালা দিয়েছে ইউজিসিতে।
মঙ্গলবার থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফরা মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন এবং আনুতোষিক সুবিধা দেয়ার দাবিতে কর্মবিরতিতে গিয়েছে। রাত ১২টার পর শিডিউলে থাকা ট্রেনগুলোতে উঠেননি রানিং স্টাফরা। ফলে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে কোনো ট্রেন ছেড়ে যায়নি। রানিং স্টাফের মধ্যে রয়েছেন ট্রেনচালক, গার্ড ও টিকিট চেকার পদধারীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েন রেলের যাত্রীরা। নিরুপায় হয়ে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা রাখে। সর্বশেষ কয়েক মাসে বিভিন্ন দাবিতে রাজপথে আরও সক্রিয় ছিল ইন্টার্ন চিকিৎসক, প্রাথমিক শিক্ষক, ম্যাটস শিক্ষার্থী, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক, গার্মেন্টস শ্রমিক, ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিক, বন্দর শ্রমিক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি, ইএফটি, বিডিআর পরিবারসহ আরও অনেকে। এ ছাড়াও দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে সরকারকে আনসার ও সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন আন্দোলন মোকাবিলা করতে হয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের প্রত্যাশা অনেক। কিন্তু ধৈর্য অনেক কম। কয়েকটা মাসে আমরা পাগল হয়ে গেছি। সরকার অনেক ভুল করছে ঠিক আছে কিন্তু তাকে তো সময় দিতে হবে। প্রতিদিন দাবি-দাওয়া নিয়ে নেমে পড়ছে। এতদিন কোথায় ছিলেন। তখন তো একটা কথা বলারও সাহস পাননি। এখন যেহেতু একটি সুযোগ তৈরি হচ্ছে তখন সবাই রাস্তায় নেমে পড়ছেন। এতে লাভ কার। এ দেশের সমাজের, রাষ্ট্রের কোনো লাভ হবে। অনেক ত্রুটি আছে। একটা জঞ্জালের মধ্যে সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। যখন খবর নিয়েছি তখন অবাক হয়ে গেছি। এত দুর্নীতি অনিয়ম।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. জিন্নাত আরা নাজনীন মানবজমিনকে বলেন, ৫ই আগস্টের পর মানুষের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা বেড়ে গেছে। সরকারকে স্টেবল হতে না দিয়ে সবাই নিজ নিজ দাবি আদায়ে ব্যস্ত। সময়ে অসময়ে মাঠে নেমে আসছে। একজনের দাবি আদায় হলে আরেকজন মাঠে নেমে যাচ্ছে। এ মেন্টালিটি খারাপ। যেটি আমাদের এখানকার মানুষ বুঝছে না। এক্ষেত্রে সরকার শক্ত হলে সমালোচনা হবে, আবার নরম হলে রাষ্ট্র পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সরকারকে একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে। যেন নিজে আবার স্বৈরাচারী না হয়ে উঠে। এ ছাড়াও মানুষকে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে পারে সরকার। সেক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতারা ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রচারণা চালাতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নুরুল আমিন বেপারি বলেন, কোয়ের্সিভ পাওয়ার (দমনমূলক শক্তি) না থাকলে একটি স্টেটের মূল্য থাকে না। স্টেটের বিভিন্ন ফাংশান থাকে। সেখানে সোসাইটি (সমাজ) হচ্ছে মাদার (মা) আর স্টেট (রাষ্ট্র) হচ্ছে ফাদার (পিতা)। প্রফেসর ইউনূসের বড় ভুল তিনি শুরু থেকে এ দেশটি পশ্চিমা স্টাইলে পরিচালনার নীতি নিয়েছেন। কিন্তু আমাদের দেশের সব মানুষ তো পশ্চিমা ক্যারেক্টারের না। রাষ্ট্রের যে শক্তি আছে সেদিকে তিনি যাননি। স্টেটের পাওয়ার না থাকলে মানুষের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা থাকে না। ১/১১ সময় সেনাবাহিনীকে ম্যাজেস্ট্রিসি পাওয়ার দেয়া হয়েছিল। তারা সেভাবে কাজ করায় তখন এ রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কিন্তু এবার সেটি দেয়া হয়েছে দেরিতে। আবার তারাও আগের মতো কাজ করছে না। তাই বিভিন্ন গোষ্ঠী এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। আর পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের লোকজন এখানে ইন্ধন যোগাচ্ছে। সুযোগ নিচ্ছে। এসব আন্দোলনের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ শক্তি কাজ করছে যেন ইউনূস সরকার ব্যর্থ হয়। ড. ইউনূসকে মনে রাখতে হবে এনজিও’র মতো করে সরকার চালানো যায় না। স্টেটের রোল হতে হবে শাসন ও মমতা দুটোর সমন্বয়ে। তাহলে স্টেট সফল হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্যাতনে চার দাঁত হারানো গৃহকর্মী কল্পনা এবার হাসিমুখে বাড়ি ফিরবে
অথচ আজ থেকে ৩ মাস ১১ দিন আগে কল্পনার চেহারা দেখে যে কেউ আঁতকে উঠতেন। কল্পনার সামনের চারটি দাঁত ভাঙা ছিল। হাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছিল ছ্যাঁকার ক্ষত। কোনো কোনো ক্ষত ছিল দগদগে। বুক, পিঠসহ সারা শরীরে মারের চিহ্ন। রক্তশূন্যতার পাশাপাশি মানসিক ট্রমা তো ছিলই।
কল্পনা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনের অধীনে চিকিৎসাধীন। এই চিকিৎসক জানান, দুই–এক দিনের মধ্যেই কল্পনা হাসিমুখে বাড়িতে ফিরবে। কল্পনার শরীরে অনেকগুলো অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কৃত্রিমভাবে চারটি দাঁত লাগানো হয়েছে। দাঁতগুলো স্থায়ীভাবে লাগানোর প্রক্রিয়া চলছে। নিচের ঠোঁটেও ছোট একটি অস্ত্রোপচার লাগবে। সব মিলিয়ে তাকে ফলোআপে রাখা হবে।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় সাড়ে চার বছর গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত কল্পনা। সেখানেই সে চরম নির্যাতনের শিকার হতে থাকে।
বেসরকারি চ্যানেল ৭১ টেলিভিশনের সাংবাদিক ইশতিয়াক ইমন একটি ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে কল্পনার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তাঁর মাধ্যমে ভাটারা থানার পুলিশের সহায়তায় ১৯ অক্টোবর রাতে বসুন্ধরার ওই বাসা থেকে কল্পনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কল্পনা প্রথম আলোকে জানিয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে তাকে মারধর করার পাশাপাশি দিনে এক বেলা খাবার দেওয়া হতো। চুল সোজা করার যন্ত্র দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া, লম্বা বেত দিয়ে মারধর করা এবং বন্দী করে রাখা হয়েছিল। মা ফোন করলেও ফোনের সামনে বাড়ির মালিক দিনাত জাহান থাকতেন বলে কল্পনা মাকেও নির্যাতনের কথা বলতে পারত না।
কল্পনারা পাঁচ বোন ও এক ভাই। কল্পনার বাবা শরিফ মিয়া সিলেটের হবিগঞ্জে কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। তবে মেয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তিনি ও তাঁর স্ত্রী আফিয়া বেগম তিন মাসের বেশি সময় ধরে হাসপাতালেই ছিলেন।
মেয়েকে মারধরের অভিযোগে আফিয়া বেগম বাদী হয়ে বাড়ির মালিক দিনাত জাহানের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) অনুযায়ী মামলা করেন। দিনাত জাহান ও তাঁর এক ভাই বর্তমানে কারাগারে আছেন।
আজ বুধবার মুঠোফোনে কল্পনার মা আফিয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাইয়াডারে কামে দিয়া সব্বনাশ হইছে। মাইয়ারে আর কামে দিমু না। বাড়িত নিয়া ইস্কুলে ভর্তি করামু।’
পরে মায়ের মুঠোফোনেই কল্পনার সঙ্গে কথা হয়। শুরুতেই কেমন আছো, জানতে চাইলে কল্পনা জানায়, সে ভালো আছে। নিজে থেকেই প্রতিবেদককে ‘আপনি কেমন আছেন’ তা–ও জানতে চায়।
টুকটুকে লাল লিপস্টিক দেওয়া কল্পনার হাসিমুখের ছবিটি খুব সুন্দর হয়েছে বললে সে হাসতে থাকে। জানায়, লিপস্টিকটি বড় বোন রত্না কিনে দিয়েছেন। বাড়িতে ফিরে স্কুলে ভর্তি হবে এবং পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হবে বলেও জানিয়ে দিল সে। সে নির্যাতনকারী দিনাত জাহানের ফাঁসি চায়।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল কল্পনাকে দেখতে গিয়েছিল। এ ছাড়া সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ কল্পনাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তাঁর সুচিকিৎসার পাশাপাশি অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছিলেন।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মেয়েটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার আসামি হিসেবে দিনাত জাহান এবং সহযোগী অপরাধী হিসেবে তাঁর এক ভাই বর্তমানে কারাগারে আছেন। মেয়েটির মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর মামলার নিষ্পত্তি করা হবে।
কল্পনার চিকিৎসক বার্ন ইউনিটের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন আজ সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কল্পনা হাসিমুখে বাড়িতে ফিরছে, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।’ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পরে উপদেষ্টার সঙ্গে সরাসরি দেখা করে কল্পনার সার্বিক অবস্থার কথা জানানো হয়েছে। উপদেষ্টা তাঁর মন্ত্রণালয়কে কল্পনার পড়াশোনাসহ পুনর্বাসনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
হাসপাতালে ভর্তির পর ক্ষত জায়গার সংক্রমণ এড়াতে কল্পনার শরীর ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়েছিল। মানুষের ভিড় থেকে দূরে রাখতে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) রাখতে হয়েছিল তাকে। তার শরীরের অনেকগুলো অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় চামড়া লাগাতে হয়েছে। হাসপাতালের দন্ত বিভাগ, মানসিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে কল্পনার চিকিৎসা চলে। সরকারি খরচে তার চিকিৎসা হয়েছে।
মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন জানান, কল্পনার শরীরে এখন শুধু অস্ত্রোপচারের দাগ আছে। আগে যে ট্রমা ছিল, তা এখন নেই বললেই চলে। কল্পনাও টেলিফোনে প্রথম আলোকে বলে, সে এখন আর মানুষ দেখে ভয় পায় না।
গত ২০ অক্টোবর প্রথম আলো অনলাইনে ‘নির্যাতনে গৃহকর্মী শিশুটির চারটি দাঁত ভেঙেছে, শরীরে মারধর ও ছ্যাঁকার ক্ষত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
নির্যাতনে গৃহকর্মী শিশুটির চারটি দাঁত ভেঙেছে, শরীরে মারধর ও ছ্যাঁকার ক্ষত by মানসুরা হোসাইন
১৩ বছর বয়সী কল্পনার সামনের চারটি দাঁত ভাঙা। হাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছ্যাঁকার ক্ষত। কোনো কোনো ক্ষত শুকিয়ে টান ধরেছে। কোনো কোনো ক্ষত এখনো দগদগে। বুক, পিঠসহ সারা শরীরে মারের চিহ্ন। একদিকে মারধর, অন্যদিকে রক্তশূন্যতা। শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মানসিক ট্রমা তো আছেই।
কল্পনা রাজধানীতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এক বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। সাড়ে চার বছর ধরে সে এই বাসায় কাজ করত। বর্তমানে কল্পনা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।
আজ রোববার কল্পনার শারীরিক ও মানসিক ট্রমার কথা এভাবেই বর্ণনা করলেন বার্ন ইউনিটের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন। শনিবার থেকে এই চিকিৎসকের অধীনেই ভর্তি আছে কল্পনা।
নাসির উদ্দীন জানালেন, মেয়েটির সারা শরীরে ক্ষত। তাই সংক্রমণ এড়াতে ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়েছে। শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলে মঙ্গলবার প্রাথমিকভাবে একটি অস্ত্রোপচার করার সম্ভাবনা আছে। এরপর আরও অস্ত্রোপচার লাগবে। মানুষের ভিড় থেকে দূরে রাখতে এবং চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের দন্ত বিভাগ, মানসিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেয়েটির চিকিৎসা করতে হবে।
বেসরকারি চ্যানেল ৭১ টেলিভিশন একটি ভিডিও ফুটেজ থেকে কল্পনার বিষয়টি জানতে পারে। পরে চ্যানেলটির সাংবাদিক ইশতিয়াক ইমনের মাধ্যমে ভাটারা থানার পুলিশের সহায়তায় গতকাল শনিবার রাতে বসুন্ধরার ওই বাসা থেকে কল্পনাকে উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় বাসার মালিক তরুণী দিনাত জাহানকে।
৭১ টেলিভিশনের প্রতিবেদনে কল্পনা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাকে মারধর করার পাশাপাশি দিনে এক বেলা খাবার দেওয়া হতো। চুল সোজা করার যন্ত্র দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো তাকে। লম্বা বেত দিয়ে মারধর করা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দেওয়া এবং বন্দী করে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছে কল্পনা।
কল্পনারা পাঁচ বোন ও এক ভাই। আজ মুঠোফোনে কথা হয় কল্পনার মা আফিয়া বেগমের সঙ্গে। তাঁর স্বামী শরিফ মিয়া কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। তাঁরা থাকেন সিলেটের হবিগঞ্জে। মেয়েকে মারধরের অভিযোগে আফিয়া আজ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর অধীনে ভাটারা থানায় দিনাত জাহানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
আফিয়া বেগম প্রথম আলোকে বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে মেয়েকে ওই বাসায় কাজে দিয়েছিলেন। দিনাত জাহানের মা–বাবার সঙ্গে কথা বলেই মেয়েকে কাজে দেন। এক মাস আগে দিনাত জাহানকে ফোন দিলে তিনি বসুন্ধরা না, গুলশানে থাকেন (একা) বলে জানান। বাসায় গিয়ে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে দিনাত জাহান বাসায় যাওয়া যাবে না এবং মেয়ে ভালো আছে বলেও জানান। মেয়েও ভয়ে টেলিফোনে নির্যাতনের কথা বলতে পারেনি।
এই মা বললেন, ‘এক মাস আগেই মনে হয় দাঁত ভাইঙ্গা দিছিল। তাই মাইয়্যা কথাও কইতে পারতেছিল না। এখন দেখি মাইয়্যারে সারা শরীরে ছ্যাঁকাও দিছে। আমার কলিজাডা ফাইট্যা যাইতেছে। এইটা কোনো কারবার হইছে? আমি উপযুক্ত বিচার চাই।’
কল্পনার বোনের স্বামী হৃদয় ইসলাম গাজীপুরের চন্দ্রায় অটোরিকশা চালান। হাসপাতালে কল্পনাকে দেখতে এসেছেন। বললেন, ‘কল্পনার অবস্থা তো খুবই গুরুতর। চারটি দাঁত নাই। ওরে দেইখ্যা নিজেদেরই কষ্ট লাগতেছে।’
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মেয়েটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিকে রিমান্ডে চাওয়া হয়েছে।
এদিকে কল্পনার সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে আজ দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। এ ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কমিশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন চেয়ারম্যান। তিনি জানান, মানবাধিকার কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, শিশুটির চিকিৎসায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।
![]() |
| শিশুটির সারা শরীরে ক্ষত। তাই সংক্রমণ এড়াতে ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত |
![]() |
| নির্যাতনে চারটি দাঁত ভেঙে গেছে শিশুটির। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Wednesday, January 29, 2025
বিশ্লেষণ: বায়ুদূষণের ভয়াবহতা বনাম আমাদের অপারগতা by খলিলউল্লাহ্
বায়ুমানের স্কোর ৩০০ পার হলে সেটাকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ ধরা হয়। কিন্তু ৫ জানুয়ারি সকালে ঢাকার স্কোর ৪৯৩ পর্যন্ত উঠেছিল। হরহামেশাই এখন ঢাকায় বায়ুর মানের স্কোর ৩০০ পার হচ্ছে। সারা বিশ্বের মধ্যে বায়ুদূষণে আমরা ঘুরেফিরেই শীর্ষে উঠে আসছি। বিগত ৯ বছরের ডিসেম্বর মাসগুলোর মধ্যে সর্বশেষ ডিসেম্বর ছিল ঢাকায় সবচেয়ে দূষিত মাস। তা ছাড়া ২০১৬-২৪ সময়ের মধ্যে গত বছর ছিল সবচেয়ে দূষিত বছর।
বায়ুদূষণের ভয়াবহতা
বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল বলছে, কতটা ভয়ানক হুমকির মুখে আমরা রয়েছি। এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, ১৯৮০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে ১৩ কোটি মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছে বায়ুদূষণের কারণে। আবহাওয়ার ধরনের কারণে স্ট্রোক, হৃদ্রোগ ও ফুসফুসের রোগের সঙ্গে ক্যানসারজনিত মৃত্যু ১৪ শতাংশ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণায়।
অন্যদিকে স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার তাদের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বব্যাপী শুধু ২০২১ সালেই ৮০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বায়ুদূষণের কারণে। আর বাংলাদেশে এই মৃত্যুর সংখ্যা ২ লাখ ৩৫ হাজার। অথচ করোনার মতো অতিমারিতেও বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ২৯ হাজার ৪৯৯। একটা দেশের এত বিপুল মানুষের মৃত্যু যদি হয় বায়ুদূষণের কারণে, তাহলে এটাকে জরুরি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে ঘোষণা করে আশু পদক্ষেপ কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না?
সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো, বায়ুদূষণে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। পৃথিবীতে কেবল ২০২১ সালেই বায়ুদূষণে ৫ বছরের কম বয়সী ৭ লাখ শিশু মারা গেছে। মানবশিশুর জন্য সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থান হলো মায়ের গর্ভ। কিন্তু শিশুদের জন্য বায়ুদূষণ এতটাই ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে যে মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থাতেও তারা আক্রান্ত হচ্ছে, যার প্রভাব সারা জীবন এসব শিশুকে বয়ে বেড়াতে হতে পারে।
তা ছাড়া সাধারণত শিশুরা বড়দের চেয়ে বেশি দূষণের শিকার হয়। কারণ, তাদের শরীর, ফুসফুস ও মস্তিষ্ক যখন গঠিত হতে থাকে, তখন তাদের বড়দের চেয়ে বেশি বায়ু গ্রহণ করতে হয়। ফলে বায়ু যদি দূষিত হয়, তাহলে দূষিত উপাদানও তারা বেশি গ্রহণ করে; অর্থাৎ আমরা শুরুতেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামর্থ্য নষ্ট করে দিচ্ছি।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্সের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের অবস্থা এতটাই নাজুক যে এ কারণে মানুষের গড় আয়ু কমেছে ৬ দশমিক ৯ বছর। অথচ তামাকদ্রব্যের কারণে আয়ু কমেছে এর চেয়েও কম, ১ দশমিক ৬ বছর। বায়ুদূষণের অন্যতম উপাদান পিএম ২ দশমিক ৫ আয়তনে মানুষের চুলের চেয়ে ৩০ গুণ ছোট। তাই সহজেই এগুলো মানুষের ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহের মধ্যে ঢুকে পড়ে। আর এটাই ভয়াবহতার অন্যতম কারণ।
বায়ুদূষণ কি নতুন
এটা ঠিক যে বায়ুদূষণ নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রাচীন মিসর, পেরু ও গ্রেট ব্রিটেনে মানবদেহের মমি থেকে দূষণে কালো হয়ে যাওয়া টিস্যুর প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রায় দুই হাজার বছর আগে প্রাচীন রোমের বাসিন্দারা বায়ুদূষণের শিকার হয়েছিলেন বলে ধারণা করা যায়। তৎকালীন রোমের বিচারক অ্যারিস্টো এক রায়ে চিজের দোকানের ধোঁয়া ভবনের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছিলেন।
মধ্যযুগে বায়ুদূষণের মূল উৎস ছিল ধাতু গলিয়ে অস্ত্র ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি তৈরি। কিন্তু সব রেকর্ড ভেঙে শিল্পবিপ্লবের পর দূষণের নতুন যুগে প্রবেশ করে পৃথিবী, বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। বিখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ কার্ল পোলানি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত দ্য গ্রেট ট্রান্সফরমেশন: দ্য পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক অরিজিনস অব আওয়ার টাইম গ্রন্থে দেখিয়েছেন, শিল্পবিপ্লবের ফলে সৃষ্ট বাজার অর্থনীতি কীভাবে আমাদের সমাজ ও পরিবেশ—দুটিরই অস্বাভাবিক ধ্বংস করেছে। এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মানুষের জীবনসহ অমূল্য সব বনজঙ্গল, উদ্ভিদ, প্রাণী ইত্যাদি প্রাকৃতিক পরিবেশের সবকিছুকে পণ্যে রূপান্তর করা হয়। মুনাফার লক্ষ্যে চলে এসবের যথেচ্ছ ব্যবহার। আর এটিই হলো আমাদের সময়ের সামাজিক ও পরিবেশগত দুর্যোগের মূল কারণ।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া হিসেবে বায়ুদূষণ বিশ্বব্যাপী দুর্যোগের মাত্রা অতিক্রম করে গেছে। উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের একটা দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক আছে, সন্দেহ নেই। আর তাই এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য আনার জন্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের মতো ধারণা এসেছে। ভুটানের মতো দেশ তো প্রবৃদ্ধির ধারণা থেকেই বের হয়ে এসেছে।
তা ছাড়া জিডিপির ধারণার বাইরে মানব উন্নয়ন সূচক ব্যবহারের পক্ষেও মতো জোরালো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো সামগ্রিক কল্যাণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মতো দেশে পরিবেশগত মূল্যায়ন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দায়সারাভাবে করা হয়। জিডিপির বিকল্প ভাবনাগুলো নিয়েও জোরালো কোনো আলাপ নেই।
দূষণের উৎস বন্ধে অগ্রগতি নেই
ঢাকার বায়ুদূষণের ৫৮ শতাংশের জন্য দায়ী শহরের আশপাশের ইটভাটাগুলো। পরিবেশ অধিদপ্তর অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানালেও বহু ইটাভাটা অনুমোদনবিহীনভাবে চলছে। তা ছাড়া পরিবেশবান্ধব ইটের ব্যবহার নিয়ে নানা আলাপ-আলোচনা হলেও এর প্রচলন নেই বললেই চলে। অথচ সরকার চাইলে সরকারি প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব ইটের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে পারে। দেশে নির্মাণকাজের বেশির ভাগই সরকারি প্রকল্প। নির্মাণকাজে বায়ুদূষণের সরকারি হিস্যাও তাই বেশি। পরিবেশবান্ধব ইট যদি সরকারি প্রকল্পে ব্যবহার শুরু হতো, তাহলে বেসরকারিভাবেও এর প্রচলন বাড়ত।
২০১৫ সালে গৃহীত সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইট তৈরিতে মাটির ব্যবহার ২০২০ সালের মধ্যে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার পাঁচ বছর পার হলেও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ে না। ইটভাটায় মাটির উপরিভাগ কেটে পোড়ানো হচ্ছে। মাটির পুষ্টি উপাদানের কারণেই ফসল উৎপাদন হয়। আর পুষ্টি থাকে এই উপরিভাগেই, যা গঠনে হাজার বছর সময়ও লাগতে পারে। অথচ কি অবলীলায় নিমেষেই আমরা মাটির উপরিভাগ নষ্ট করছি ইটভাটার চুল্লিতে পুড়িয়ে! জাতিসংঘের হিসাবমতে, বর্তমান হারে মাটির উপরিভাগ ধ্বংস হতে থাকলে আর ৪৫ থেকে ৬০ বছর পর তা শেষ হয়ে যাবে; অর্থাৎ আমরা আর ফসল ফলাতে পারব না।
অথচ বালু-সিমেন্ট দিয়ে তৈরি ব্লক ইটের বিস্তার ঘটাতে পারলে কৃষিজমি যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি বায়ুদূষণও কমবে। অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে নদী থেকে বালু তুলে এসব ইট বানালে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে। অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও উত্তোলিত বালু ব্যবহার করা যাবে। এই পদ্ধতির প্রচলন ঘটাতে পারলে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাবে। অবৈধ বালু উত্তোলনে বর্তমানে নদীর প্রতিবেশ নষ্ট হয়ে জলজ প্রাণীরা যেমন হুমকির মুখে, তেমনি নদীভাঙনের শিকার হয়ে অসংখ্য মানুষ হচ্ছে বাস্তুহারা।
অন্যদিকে ফিটনেসবিহীন গাড়ির কালো ধোঁয়া শহরে বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। কিন্তু এই সমস্যা সমাধানে আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখছি না। শহর এলাকার বায়ুদূষণ রোধে মেক্সিকো আর চীনের যানবাহন নিয়ন্ত্রণপদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। এ পদ্ধতিতে যানবাহনের লাইসেন্সের নম্বর অনুযায়ী এক দিন পরপর এগুলোকে রাস্তায় নামার অনুমতি দিয়ে বায়ুদূষণ কমানো হয়। এর অর্থনৈতিক ক্ষতি আছে সন্দেহ নেই, কিন্তু মানুষের জীবনের চেয়ে তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না।
প্রতিদিন চলতে-ফিরতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে পড়ে আছে নির্মাণকাজের ইট-বালু-সুরকির স্তূপ। সেগুলো গড়িয়ে পড়ছে রাস্তার ওপর। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও স্তূপ করে রাখা মাটিও বায়ুদূষণের বড় উৎস। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত, ওয়াসা, পরিবেশ অধিদপ্তর ইত্যাদি সরকারি সংস্থাগুলো যদি সমন্বয় করে কাজ করত, তাহলে শহরের রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ির কারণে জনদুর্ভোগ যেমন কমত, তেমনি এসব উৎস থেকে দূষণ কমানোও সম্ভব হতো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব ক্ষেত্রে কাউকেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা করতে দেখা যায় না। আইন প্রয়োগের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে কোনো উদ্যোগ পর্যন্ত নেওয়া হয় না।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় বায়ুমান ব্যবস্থাপনা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। উদ্দেশ্য ছিল দূষণের উৎসগুলো বন্ধ করে বায়ুমানের উন্নতির পাশাপাশি তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা। বায়ুদূষণ রোধে একটি সমন্বিত টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক মাস গত হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। এদিকে বায়ুদূষণজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর বা সিটি করপোরেশনের মতো সংস্থা, যারা বায়ুদূষণের উৎসগুলো ঠেকানোর দায়িত্বে রয়েছে, তারা বিভিন্ন সময় বলেছে যে তাদের যথেষ্ট জনবল নেই। এত বড় একটা জনস্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান যদি জনবলের ঘাটতির কারণে আটকে থাকে, তাহলে জনবল কেন বাড়ানো হচ্ছে না? প্রয়োজনে বছরের যে মাসগুলোয় বায়ুদূষণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে, সে সময়ে অস্থায়ী ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দিয়েও এর সমাধান করা যায়।
আইন-আদালতের দুর্বলতা
পরিবেশ রক্ষায় দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদ। এ ছাড়া ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনসহ অন্য যেসব আইন ও বিধিমালা রয়েছে, সেগুলো আবার জাতীয় স্বার্থে ‘বরখেলাপ’ করা যায়। যেমন পাহাড় কাটা, জলাশয় ভরাট বা রাস্তা বানাতে হাজার হাজার গাছ কাটা হয়ে থাকে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আইনে দেওয়া হয়নি। ফলে গোড়াতেই একটা গলদ রয়ে গেছে। তা ছাড়া যা-ও আইন আছে, তা প্রয়োগের ঘাটতি তো রয়েছেই। জাতিসংঘের পরিবেশ–সংক্রান্ত সংস্থা ইউএনইপির হিসাব (২০১৯) অনুযায়ী, পরিবেশ বিষয়ে অনেক আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই যেসব দেশে, বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম।
পরিবেশ আদালত আইন ২০১০ অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা সদরে পরিবেশ আদালত প্রতিষ্ঠা করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বাইরে পরিবেশ আদালত নেই। তা ছাড়া এই আইনের সীমাবদ্ধতা হলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সরাসরি এই আইনে মামলা করতে পারেন না, পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে করতে হয়। আবার এসব আদালতে পরিবেশ–সংক্রান্ত মামলার চেয়ে অন্যান্য মামলাই বেশি।
২০২১ সালের এক হিসাবে দেখা যায়, ঢাকার পরিবেশ আদালতে মোট মামলার মাত্র ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ ছিল পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায়। চট্টগ্রামে এই হার কিছুটা বেশি, ১৩ শতাংশ। এর ব্যাখ্যায় দায়িত্বরত ব্যক্তিরা বলে থাকেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। তাই পরিবেশ আদালতে মামলা কম যায়।
২০২১ সালের ১৩ মার্চ প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, পরিবেশ আদালত এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত—দুটিতেই অপরাধীদের কারাদণ্ডের চেয়ে অর্থদণ্ড বেশি দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলোর সেই অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১০ বছরে নিষ্পন্ন হওয়া ২০০ মামলার মধ্যে ১৪৭টি মামলায় পরিবেশ আদালত অর্থদণ্ড দিয়েছেন। আর পরিবেশ অধিদপ্তর পাঁচ বছরে ৪ হাজার ৪৪০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাত্র ১৬৬ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছে। কিন্তু দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই আপিল করে ছাড়াও পেয়ে যান। বাংলাদেশ আইন কমিশনের একটি প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ৯৮ শতাংশ মামলার রায় আপিল আদালতে বাতিল হয়ে যায়।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির সৃষ্টি না হলে পরিবেশ ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ড থামবে না। প্রায় দুই হাজার বছর আগে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল প্রশ্ন রেখেছিলেন, শহরের কতজন ছিঁচকে চোর ধর্ম বা নৈতিকতার ভয়ে চুরি থেকে বিরত থাকে আর কতজন রাষ্ট্রের ডান্ডাবাড়ি খাওয়ার ভয়ে বিরত থাকে?
আমাদের মতো দেশের আরেকটা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ দেশে আইন-বিচার-রাষ্ট্রকাঠামোর দুর্বলতা যেমন আছে, তেমনি অপরাধের বিরুদ্ধে একধরনের সামাজিক প্রতিরোধও আছে। সাধারণ মানুষই সম্মিলিতভাবে অনেক অপরাধ ঠেকিয়ে দেন। মানুষের ভূমিকার কারণে অপরাধীদের বিরত থাকার অনেক নজিরও আছে। কিন্তু পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা কম থাকায় এ-সংক্রান্ত অপরাধ ঠেকাতে সামাজিক এমন প্রতিরোধ জোরালোভাবে কাজ করে না। পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হবে এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা।
-খলিলউল্লাহ্ প্রথম আলোর জলবায়ু প্রকল্প ব্যবস্থাপক
![]() |
| বায়ুদূষণ। অলংকরণ: আরাফাত করিম |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাস্তুহীন হিটলার যেভাবে জার্মানির সর্বোচ্চ নেতা হলেন by মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলেন, হিটলারের উত্থানের পেছনে ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তির চাপিয়ে দেওয়া এক অসম ও নিপীড়কমূলক চুক্তি। আর ওই চুক্তিই হিটলারকে জার্মানির চ্যান্সেলর হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনে। হিটলার ১৯৩৩ সালের ৩০ জানুয়ারি জার্মানির চ্যান্সেলর হয়েছিলেন।
চিত্রশিল্পী থেকে যোদ্ধা
অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ শহরে ১৮৮৯ শহরে জন্মগ্রহণ করেন অ্যাডলফ হিটলার। তিনি হতে চেয়েছিলেন চিত্রশিল্পী। ভিয়েনার আর্ট কলেজে ভর্তি হতে দুবার আবেদন করেও ব্যর্থ হন। জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে তাঁকে হিমশিম খেতে হয়। আশ্রয় নিয়েছিলেন বাস্তুহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়কেন্দ্রে। আয়ের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন মানুষের ছবি আঁকা।
হিটলার ১৯১৩ সালে জার্মানির মিউনিখে চলে যান। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে জার্মান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। এ যুদ্ধে দুবার আহত হন হিটলার। কৃতিত্বের জন্য একাধিক পদকও পান। ১৯১৮ সালের অক্টোবরে ‘মাস্টার্ড গ্যাসে’ আক্রান্ত হয়ে কিছু সময়ের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারান। হাসপাতালের থাকতেই জার্মানির আত্মসমর্পণের খবর শোনেন। পরে হিটলার দাবি করেন, এ খবর শুনে তিনি অনেক কেঁদেছেন। তিনি খুবই ক্ষুব্ধ হন। তাঁর মনে হয়েছিল, সরকার জার্মান সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।
যে চুক্তির কারণে হিটলারের উত্থান
জার্মানির নেতৃত্বাধীন অক্ষশক্তি অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্য ও ওসমানী খেলাফতের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছিল। পরাজিত জার্মানির ওপর বিজয়ী মিত্রশক্তি প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে শান্তিচুক্তি চাপিয়ে দেওয়া হয়। চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে জার্মানিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাদের সামনে দুটি বিকল্প দেওয়া হয়—হয় চুক্তিতে সই করো, না হয় জার্মানিতে আগ্রাসন মেনে নাও। বিগত কয়েক বছরের রক্তপাতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৯১৯ সালের জুনে ‘ভার্সাই চুক্তি’ নামে মিত্রশক্তির চাপিয়ে দেওয়া শর্ত মেনে নিতে রাজি হয় জার্মানি।
কিন্তু শুরু থেকেই চুক্তির শর্তগুলো জার্মান সমাজে ক্রোধ, ঘৃণা ও বিদ্রোহের সৃষ্টি করে। ভার্সাই চুক্তিকে আরোপিত শান্তিচুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই চুক্তির অধীনে জার্মান সাম্রাজ্য ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে যায়, সামরিক বাহিনীর মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয় এবং বিপুল পরিমাণের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।
এই চুক্তি নবগঠিত ভাইমার প্রজাতন্ত্রকে আরও চাপে ফেলে দেয়, যদিও ১৯৩০ সাল পর্যন্ত তা ঠিকে ছিল। ইউরোপীয় ইতিহাসবিদ রবার্ট ওয়াইল্ড বলেন, ভার্সাই চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা যে হিটলারের উত্থানে অবদান রেখেছে, তা বলা যায়।
কয়েকটি কারণে এই চুক্তির শর্তগুলো ছিল জার্মানি জন্য অবমাননাকর ও ক্ষতিকর। এই চুক্তির মাধ্যমে জার্মানির ভূখণ্ড কেড়ে নেওয়া হয়। দেশটিকে প্রয়োজনীয় শিল্প আয় থেকে বঞ্চিত করা হয়। চুক্তির ‘ওয়ার গিল্ট ক্লজের’ মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর দায় জার্মানির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা অনেক জার্মান অবমাননাকর মনে করেন এবং ক্ষুব্ধ হন।
চুক্তির সময় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্দিষ্ট করা হয়নি। পরে মিত্রশক্তি নিজেদের মতো করে একটি অঙ্ক চাপিয়ে দেয়। জার্মানিকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তৎকালীন সময়ে ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলার পরিশোধ করতে বলা হয়। এই পরিমাণ অর্থ শোধ করতে না পারায় পরে তা কমিয়ে ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে নামিয়ে আনা হয়। এই ক্ষতিপূরণ চাপিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল জার্মানির অর্থনীতি যাতে আর ঘুরে দাঁড়াতে না পারে।
চুক্তির কারণে জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর আকার অনেক ছোট করে ফেলতে হয়। বলে দেওয়া হয়, কোনো বিমানবাহিনী রাখা যাবে না। নৌবাহিনীর আকারও ছোট করতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীতে সর্বোচ্চ ১ লাখ সেনা রাখা যাবে।
ভার্সাই চুক্তির মারাত্মক প্রভাব পড়ে ভাইমার সরকারের ওপর। এই চুক্তিতে রাজি হওয়ার কারণে জার্মান জাতীয়তাবাদীরা সরকারকে ‘নভেম্বর ক্রিমিনাল’ আখ্যা দেয় এবং এটাকে ‘পিঠে ছুরি মারা’ তথা বিশ্বাসঘাতকতা সঙ্গে সঙ্গে তুলনা করে। ভাইমার সরকারকে কোণঠাসা করতে হিটলার সভা-সমাবেশে প্রায়ই এ ভাষায় আক্রমণ করতেন।
সুবক্তা থেকে চ্যান্সেলর
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর উদীয়মান রাজনৈতিক দল হিসেবে আলোচনায় আসে ‘জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি’। দলটির ওপর নজরদারি করতে হিটলারকে মিউনিখে পাঠিয়েছিল সেনাবাহিনী। হিটলার দলটির কিছু সভায় অংশ নেন এবং তাদের অনেক চিন্তাভাবনার সঙ্গে একমত হন। ১৯১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি দলটিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
হিটলার সুবক্তা ছিলেন। তিনি ছোট দলটির সমর্থক বাড়াতে সাহায্য করেন। ১৯২০ সালে দলের নাম পরিবর্তন করে ‘ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি’ করা হয়, যা পরে নাৎসি পার্টি নামে পরিচিতি পায়। ১৯২১ সালে নাৎসি পার্টির নেতৃত্ব নেন হিটলার এবং ২৫ দফা ঘোষণা করেন। এসব দফার মধ্যে অন্যতম ছিল ভার্সাই চুক্তি বাতিল করা।
১৯২৩ সাল নাগাদ নাৎসি পার্টির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এ সময় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা এবং ভার্সাই চুক্তির চাপিয়ে দেওয়া শর্তের চাপ কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছিল জার্মানি। হিটলার মনে করলেন, এ অবস্থায় অভ্যুত্থানের ডাক দিলে জনগণ তাতে সায় দেবে এবং সরকারের পতন ঘটাবে।
মিউনিখের একটি বিয়ার হলে ১৯২৩ সালের ৮ নভেম্বর বাভারিয়া অঙ্গরাজ্যের নেতা গুস্তাভ কারের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হচ্ছিল। হিটলারের সেখানে ঢুকে পড়েন। তাঁর প্রতি জার্মান যুদ্ধের বীর জেনারেল লুডেনডর্ফের সমর্থন ছিল এবং তাঁকে অভ্যুত্থানে সমর্থন দিতে গুস্তাভকে প্ররোচিত করেন হিটলার। এটি ‘মিউনিখ অভ্যুত্থান’ বা ‘বিয়ার হল অভ্যুত্থান’ হিসেবে পরিচিত।
পরদিন সমর্থকদের নিয়ে বার্লিনের রাস্তায় মার্চ শুরু করেন হিটলার। খবর পেয়ে পুলিশ চড়াও হলে পালিয়ে যান তিনি। ১১ নভেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিটলারের পাঁচ বছরের সাজা হয়। অবশ্য ৯ মাস পরেই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। কারাগারে থাকতেই হিটলার লিখেন তাঁর আলোচিত বই ‘মাইন কাম্ফ (আমার সংগ্রাম)’।
হিটলার মুক্তি পেলেও নাৎসি পার্টি ধুঁকতে থাকে। নির্বাচনে বাজে ফল করে। দলটির চিন্তাধারা জনগণের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। এর মধ্যে ১৯২৯ সালের মহামন্দা বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিকে ধসিয়ে দেয়। এতে হিটলারের সামনে সুযোগ চলে আসে। জার্মানিতে ওই সময় ছিল ৬০ লাখ বেকার। এ জন্য তিনি সরকারকে দায়ী করেন এবং ভার্সাই চুক্তি ও বিদেশি শক্তিগুলোকে দুষতে থাকেন।
নাৎসি পার্টির এই প্রচার কৌশল জনপ্রিয়তা পায়। দলটি জার্মান পার্লামেন্টে আসনও পেতে থাকে। হিটলার এই প্রচারের গুরুত্ব অনুধাবন করেন। তিনি একের পর সভা-সমাবেশে বক্তৃতা দিতে থাকেন এবং সারা দেশে সফর করেন। তিনি জার্মানির জনগণের সঙ্গে মিশতে থাকেন এবং তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে জনগণের দুঃখ-দুর্দশা তিনি বোঝেন।
১৯৩২ সালের গ্রীষ্ম নাগাদ নাৎসি পার্টি জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। এমন প্রেক্ষাপটে জার্মানির প্রেসিডেন্ট পল ফন হিন্ডেনবার্গ হিটলারকে চ্যান্সেলরের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যদিও তিনি হিটলারকে অতটা পছন্দ করতেন না। হিন্ডেনবার্গ এই ভেবে ভুল করেছিলেন যে হিটলারকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। আর হিটলারকে ক্ষমতায় দেখে তাঁর চিন্তা-ভাবনার জন্য জার্মান জনগণ শেষ পর্যন্ত তাঁকে মেনে নেবে না। ১৯৩৩ সালের ৩০ জানুয়ারি চ্যান্সেলর হন হিটলার।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও একনায়ক হিটলারের পতন
চ্যান্সেলর হয়ে পার্লামেন্টে জোর করে আইন পাস করিয়ে নিজের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করে নেন হিটলার। ১৯৩৪ সালের আগস্টে প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গ মারা যান। এর পর থেকে চ্যান্সেলর ও প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব একাই পালন করতে শুরু করেন হিটলার। নিজেকে জার্মানির ‘ফুয়েরার বা সর্বোচ্চ নেতা’ ঘোষণা করেন। এভাবে চ্যান্সেলর থেকে একনায়ক হয়ে ওঠেন হিটলার।
নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিশ্চিত হওয়ার পর হিটলার তাঁর সাম্রাজ্যবাদী খায়েশ পূরণে একের পর পদক্ষেপ নিতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ড আক্রমণ করে জার্মান বাহিনী। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ব্রিটেন ও ফ্রান্স। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় ইতালি, জাপান, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত এই বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা চলেছিল।
যুদ্ধের শেষ দিকে একের পর এক এলাকা থেকে জার্মান বাহিনীর পরাজয়ের খবর আসতে থাকে। শেষরক্ষা হচ্ছে না বুঝতে পেরে আত্মহত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন হিটলার। ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল বাংকারে নিজের কপালের ডান পাশে গুলি করে আত্মহত্যা করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ইভা ব্রাউনও বিষ পান করে মৃত্যুকে বেছে নেন।
হিটলারের মৃত্যুর আট দিন পর ১৯৪৫ সালের ৮ মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সব ফ্রন্টে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে জার্মানির নাৎসি বাহিনী। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির আনুষ্ঠানিক পরাজয় ঘটে। শেষ হয় ইতিহাসের চরম রক্তাক্ত এক অধ্যায়ের।
কিছু বিশ্লেষকের মতে, ভার্সাই চুক্তিতেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণ নিহিত ছিল। ওই চুক্তি সই হওয়ার সময় বিজয়ী পক্ষের কেউ কেউ চুক্তিটির সমালোচনা করেছিলেন। তাঁদের একজন অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কিনস। তখন কেউ কেউ দাবি করেছিল, ওই চুক্তি কেবল কয়েক দশকের জন্য যুদ্ধটা পিছিয়ে দেবে। হিটলার চ্যান্সেলর হয়ে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে যান, তাঁদের ওই ভবিষ্যদ্বাণীই ফলে যায়।
সূত্র: বিবিসি, থটকো ডটকম ও ইজে–সোশ্যাল
![]() |
| নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলার। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রথমে হজ, পরে দুনিয়া দেখার নেশা ঘরছাড়া করেছিল ইবনে বতুতাকে by ওয়ালিদ বদরান
প্রায় তিন দশক ধরে তিনি বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেছেন। উত্তর আফ্রিকার বিস্তৃত এলাকা থেকে চীন পর্যন্ত ঘুরেছেন তিনি। তার পর্যটনের অভিজ্ঞতা শুধু ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাই দখল করে নেই, বিশেষ করে চতুর্দশ শতাব্দিতে মধ্যযুগীয় বিশ্ব কেমন ছিল তা বুঝতেও সহায়তা করেছে।
তিনি এক লাখ ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছেন এবং একটা বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনীও লিখেছেন। প্রায় সব মুসলিমপ্রধান দেশও ভ্রমণ করেছেন তিনি। মধ্যযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম অভিযাত্রী বলা হয় তাকে।
ভ্রমণের সূচনা
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্যমতে, ১৩০৪ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি মরক্কোর উপকূলীয় শহর তানজেরে জন্ম ইবনে বতুতার। তার পরিবারের সদস্যরা ইসলাম ধর্মীয় পণ্ডিত হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তবে ঘরবন্দি জীবন তাকে টানতো না। কৌতুহল তাকে তাড়া করে ফিরতো।
জীবনের অর্থ খুঁজে পেতে মরিয়া ইবনে বতুতা হজ করার সংকল্প করেন। ২১ বছর বয়সে হজ পালনের উদ্দেশ্যে তানজের ছেড়ে যান।
তখনও তিনি জানতেন না তার জীবন ভ্রমণ করেই কাটবে।
তার প্রাথমিক গন্তব্য ছিল পবিত্র নগরী মক্কা। কিন্তু তার ধর্মীয় ভক্তি, বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ এবং ভ্রমণের নেশা তাকে আরো বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যায়।
ভ্রমণের শুরুতেই বিপদের মুখে পড়েন ইবনে বতুতা। উত্তর আফ্রিকার মরুভূমির প্রখর উত্তাপ ও বিপদশঙ্কুল পরিবেশ এবং ডাকাত দলের হামলা মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।
আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। আলজেরিয়ার তেমসেন ও বেজাইয়া, তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিস এবং লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিও ছিল এই তলিকায়।
মিশরে পৌঁছে ইবনে বতুতা কায়রো শহরের জাঁকজমক দেখে হতবাক হয়ে যান। মধ্যযুগের অন্যতম বড় ও প্রাণচঞ্চল শহর ছিল কায়রো।
সেখানে তিনি মামলুক সাম্রাজ্যের বিখ্যাত মসজিদ, ব্যস্ত বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়াতেও যান।
ইবনে বতুতার প্রথম লক্ষ্য ছিল হজ পালন। এরপর মিশর, সিরিয়া ও হেজাজের (বর্তমানে সৌদি আরবের অন্তর্গত) ধর্মীয় বিশারদ ও সুফি সাধকদের কাছ থেকে দীক্ষা নিতে চেয়েছিলেন।
এই জ্ঞান তাকে বিচারিক পদের জন্য যোগ্য করে তোলে। এছাড়াও তিনি ইসলামের নানা বিষয়ে একজন প্রাজ্ঞ ছাত্র হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছিলেন। এগুলো অনেক শাসকের দরবারে তাকে সম্মানিত অতিথি হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।
মিশরে থাকা অবস্থায়ই তিনি ভ্রমণের জন্য আরো তৃষ্ণার্ত হয়ে ওঠেন। বিশ্বের যত বেশি জায়গা সম্ভব ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তার সঙ্গীরা সেখানে বাণিজ্য, তীর্থযাত্রী অথবা শিক্ষার উদ্দেশ্যেই সচরাচর ভ্রমণ করতেন, কিন্তু ইবনে বতুতার নতুন দেশ এবং নতুন মানুষ সম্পর্কে জানার আগ্রহ ছিল।
অনেক সুলতান, শাসক ও গভর্নর তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন এবং সাহায্য করেছিলেন, যে কারণে ভ্রমণ চালিয়ে যেতে পেরেছিলেন তিনি।
বং সাহায্য করেছিলেন। যে কারণে তিনি তার ভ্রমণ অভিযান চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।
হজের পরের যাত্রা
কায়রো থেকে ফেরার পর ইবনে বতুতা মিশরের অন্যান্য অঞ্চলে পরিভ্রমণ করেন এবং পরে লোহিত সাগর থেকে সিরিয়ায় ফিরে আসেন। সেখানে তিনি মক্কার একটি কাফেলার সঙ্গে যোগ দেন।
১৩২৬ সালে হজ পালনের পর তিনি উত্তর ইরাকে যান। সেখানে তিনি আব্বাসীয় খিলাফতের সাবেক রাজধানী বাগদাদ পরিদর্শন করেন।
ইরানে তিনি 'মোঙ্গল' বংশের শেষ শাসক (যারা 'খান' হিসেবে পরিচিত ছিলেন) আবু সাঈদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। ইবন বতুতা ইস্ফাহান ও সিরাজ শহর পরিদর্শন করে সেগুলোর সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতায় ভীষণভাবে প্রভাবিত হন।
১৩২৭ থেকে ১৩৩০ সাল পর্যন্ত ইবনে বতুতা মক্কা ও মদিনায় ধর্মীয় নিষ্ঠাপূর্ণ জীবনযাপন করেন। কিন্তু কোনো এক জায়গায় এতোদিন অবস্থান তার বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যাচ্ছিলো না।
হজ তার জন্য আধ্যাত্মিক সফর ছিল। এই সময়ে তিনি ইসলামি বিশ্বের নানা সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে পরিচিত হন যা তাকে পর্যটনের প্রতি আরো আগ্রহী করে তোলে।
জেদ্দা থেকে একটি জাহাজে ওঠেন তিনি। লোহিত সাগরের পথ ধরে ইয়েমেন সফর করেন। দেশটি ঘুরে দেখে এডেন বন্দর থেকে আবারও যাত্রা শুরু করেন।
তিনি আফ্রিকার পূর্ব উপকূল ধরে যেতে থাকেন। কিলওয়ারের (তানজানিয়া) মতো বাণিজ্যিক নগরী ছাড়াও আরব উপত্যাকার দক্ষিণাঞ্চল, ওমান, হরমুজ, পারস্যের দক্ষিণ অংশ ঘুরে ১৩৩২ সালে তাকে মক্কায় ফিরে যান।
ভারত সফর
মক্কায় পৌঁছার পর নতুন পরিকল্পনা আসে ইবনে বতুতার মাথায়। দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক (যিনি ক্ষমতা ছিলেন ১৩২৫ থেকে ১৩৫১ সাল পর্যন্ত) এবং মুসলিম পণ্ডিতদের প্রতি তার উদারতার কথা শুনে তিনি এই দরবারে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন।
অপ্রচলিত একটি পথ নিয়ে উত্তরের দিকে যাত্রা করেন ইবনে বতুতা। পথে মিশর ও সিরিয়া অতিক্রম করেন। আবার একটি জাহাজ নিয়ে এশিয়া মাইনরের (আনাতোলিয়া) দিকে যান।
ইতিহাসের বইগুলিতে সেলজুক সাম্রাজ্যের পতন এবং অটোমান সাম্রাজ্যের উত্থানের নির্ভরযোগ্য সূত্র হয়ে ওঠে ইবনে বতুতার সেই সময়কার পরিস্থিতির বর্ণনা।
তুরস্ক তখন ছোট ছোট অনেক রাজত্বে বিভক্ত। তবে সেখানকার সব রাজ্যের শাসকরাই ইবনে বতুতাকে উদারভাবে স্বাগত জানান।
এরপর তিনি কৃষ্ণ সাগর হয়ে ক্রিমিয়া, উত্তর ককেশাস, ভলগার ভাটি অঞ্চল, উজবেকিস্তানের রাজধানী ভ্রমণ করেন। এক বাইজেনটাইন রানীর আতিথেয়তায় তিনি কনস্টানটিনোপলেও (যা বর্তমানে ইস্তানবুল নামে পরিচিত) কিছুদিন অবস্থান করেন।
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে, বাইজেন্টাইন রাজধানী (কনস্টানটিনোপল) নিয়ে ইবনে বতুতার রেফারেন্স খুবই স্বচ্ছ ও সঠিক। তিনি এটিকে 'দ্বিতীয় রোম' হিসেবে বর্ণনা করেন। অমুসলিমদের মতামতের প্রতি সহনশীলতা দেখালেও তিনি মূলত মুসলিম বিশ্বে বসবাস করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।
কনস্টান্টিনোপল থেকে ফিরে তিনি তার ভারত অভিমুখে যাত্রা অব্যাহত রাখেন।
একটি কাফেলার সাথে তিনি মধ্য এশিয়া সফর করেন। যেখানে তিনি বুখারা, সামারখন্দ ও বাল্খের মতো প্রাচীন নগরী পরিদর্শন করেন। সবগুলো শহরই মোঙ্গলদের আক্রমণের ক্ষত বহন করছিল।
খোরাসান ও আফগানিস্তানের মধ্য দিয়ে জটিল পথ ধরে তারা হিন্দুকুশ পর্বতমালা অতিক্রম করে দিল্লির সাম্রাজ্যে পৌঁছান তিনি।
সেখানে তিনি সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সঙ্গে সেখা করেন এবং তিনি তাকে কাজী হিসেবে নিয়োগ দেন। ইবনে বতুতা ভারতে বেশ কয়েক বছর কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি সেখানকার সমাজের জটিলতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় বিভিন্ন ঐতিহ্যের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করেন।
তবে ইবনে বতুতা উপলব্ধি করলেন, ভারতে তার অবস্থান নিরাপদ নয়। উদারতা ও নিষ্ঠুরতার এক অসাধারণ মিশেলে ভারতে সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক মুসলিম ও হিন্দুদের ওপর একই রকম কঠোর শাসন চালাতেন।
সুলতান ও তার শাসনের সব গৌরব ও ব্যর্থতার সাক্ষী হন ইবনে বতুতা। অনেকে মিত্রকে নৃশংসতার শিকার হতে দেখে প্রতিদিনই নিজের জীবন নিয়েও শঙ্কিত হতেন তিনি।
ইবনে বতুতা যেভাবে সুলতান মুহাম্মদ ইবনে তুঘলকের চরিত্রের চিত্রায়ন করেছেন সেটি মনস্তাত্ত্বিক অন্তর্দৃষ্টির একটি অসাধারণ উদাহরণ। যাতে তার ভয় ও করুণা উভয়ই প্রতীয়মান ছিল। ১৩৪২ সালে সুলতান ইবনে বতুতাকে চীনা শাসকের কাছে তার দূত হিসেবে নিয়োগ দেন।
ইবনে বতুতা কোনো অনুতাপ ছাড়াই দিল্লি ত্যাগ করেন। কিন্তু তার এ যাত্রা ছিল আরো বিপদশঙ্কুল।
এরই মধ্যে হিন্দু বিদ্রোহীরা তার দূতাবাস আক্রমণ করে। কোনোমতে জীবন নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
সেখান থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতের মালাবার উপকূলে গিয়ে স্থানীয় যুদ্ধের মধ্যে পড়ে যান ইবনে বতুতা।
কালিকটের (বর্তমান কোঝিকোড) কাছে তার জাহাজটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। চীনের সম্রাটকে দেয়ার জন্য সঙ্গে আনা মূল্যবান সামগ্রী ও উপহার হারিয়ে ফেলেন তিনি। সুলতানের ক্রোধানল থেকে বাঁচার জন্য ইবনে বতুতা মালদ্বীপ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে তিনি বিচারক হিসেবে দুই বছর কাজ করেছেন।
মালদ্বীপ থেকে তিনি শ্রীলঙ্কা অভিমুখে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শন করেন।
যাত্রাপথে দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের করোমানদেল উপকূলে তার জাহাজ ধ্বংস হওয়ার পর আবার তিনি মালদ্বীপে যান।
এরপর বাংলা ও আসামে যান ইবনে বতুতা। সেই সময় তিনি চীনে তার মিশন আবার শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন এবং সুমাত্রা অভিমুখে যাত্রা করেন।
সুমাত্রার মুসলিম সুলতান তাকে নতুন একটি জাহাজ দিলে তিনি চীনের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
ইবনে বতুতা যেখানেই গিয়েছেন, তিনি সেখানকার বিভিন্ন স্থান, জনগণ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত রেকর্ড করে রেখেছেন।
চীন সফর এবং ফেরা
পর্যটক হিসেবে ইবনে বতুতার অভিযানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পর্যায় তার চীন সফর। ১৩৪৫ সালে তিনি চীনের ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র কোয়ানঝোও-এ গিয়ে পৌঁছান।
ইউরোপীয় বা আরবরা দেখেননি, চীন সম্পর্কে এমন অনেক অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন ইবনে বতুতা।
বেইজিং এর জাঁকজমকপূর্ণ রাজকীয় আদালত, পরিশীলিত চীনা সভ্যতা এবং শাসনের ধরন দেখে তিনি চমৎকৃত হন। তিনি চীন থেকে বিস্তৃত বাণিজ্যের বিস্তারিত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তার লেখায় বর্ণনা করেছেন।
চীনের সমাজের অনবদ্য জীবনযাপন পদ্ধতি ও রীতিনীতি নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ লিখে রাখেন তিনি।
ইবনে বতুতার চীন সফর মধ্যযুগের বাণিজ্য ও কূটনীতির মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে মানুষকে জানার সুযোগ করে দেয়।
দূর প্রাচ্যে তার লম্বা সফর শেষে ইবনে বতুতা ১৩৪৬ সালে সুমাত্রা, মালাবার ও পারস্য উপকূল পার হয়ে, বাগদাদ ও সিরিয়া হয়ে মরক্বো ফিরে যান।
১৩৪৮ সালে তিনি আবারও সিরিয়া সফরে গেলে প্লেগ রোগের মহামারি চাক্ষুষ করেন। এই সফরে তিনি মিশরের অনেক শহরেও যান।
একই বছর তিনি মক্কায় যান এবং তার শেষ হজ করেন। সেখান থেকে মিশর যান, পরে আলেকজান্দ্রিয়া, তিউনিসিয়া, সারদিনিয়া ও আলজেরিয়া যান। ১৩৪৯ সালের নভেম্বরে মরক্কোর ফেজে পৌঁছান তিনি।
সেখানে এমন দুটি মুসলিম শাসিত রাজ্য ছিল যার সম্পর্কে এর আগে জানতেন না ইবনে বতুতা। স্পেনে মুর শাসনামলের সর্বশেষ চিহ্ন গ্রানাডায় যান তিনি, দুই বছর পর ১৯৫২ সালে পশ্চিম সুদান সফর করেন।
জীবনের শেষ সফরটি স্বেচ্ছায় করেননি ইবনে বতুতা। সাহারা মরুভূমি অতিক্রম করার পর তিনি মালিতে এক বছরের মতো ছিলেন।
মালিতে তখন চলছে মানসা সুলায়মানের রাজত্ব। সাম্রাজ্যটি তখন ক্ষমতার শীর্ষে ছিল। তার লেখায় মানসা সুলাইমানের সময়কালকে আফিকা অঞ্চলের ওই সময়কার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল বিবেচনা করা হয়।
১৩৫৩ সালের শেষে ইবনে বতুতা মরক্কো ফিরে আসেন। সেখানকার সুলতানের অনুরোধে তিনি তার সফরের স্মৃতিকথা লেখক ইবনে জুঝির হাতে তুলে দেন, যিনি ইবনে বতুতার সহজভাবে লেখা গল্পকে কাব্যিক ঢঙয়ে রূপান্তর করেন।
এরপর ইবনে বতুতা একরকম দৃষ্টির আন্তরালে চলে যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মরক্কোর একটি শহরে কাজী হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে জানা যায়।
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্যমতে, সম্ভবত ১৩৬৮, ১৩৬৯ অথবা ১৩৭৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এবং নিজের শহর তানজেরে তাকে সমাহিত করা হয়।
বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি
ইবনে বতুতা আনুমানিক এক লাখ ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা ভ্রমণ করেছিলেন। এই হিসাবে তিনি খ্যাতনামা ইতালিয়ান অভিযাত্রী মার্কো পোলোকে ছাড়িয়ে গেছেন।
তার বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ এবং বর্ণনা ১৪ শতকের বিশ্ব সম্পর্কে একটা অনন্য ধারণা দেয়। এতে বিভিন্ন অঞ্চলের ভূগোল, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
তার লেখায় মধ্যযুগের ইসলামিক বিশ্বের স্বর্ণযুগের বর্ণনা রয়েছে।
এতে বিস্তৃত বাণিজ্য নেটওয়ার্ক, বুদ্ধিবৃত্তিক আদান-প্রদান এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগের বিশেষ তথ্য রয়েছে।
ইবনে বতুতার মতে, হজ এমন একটি তৎপর্যপূর্ণ বিষয় যা বিশ্বের মুসলিমদের একত্রিত করে এবং তারা এর মধ্য দিয়ে একাত্মতা অনুভব করে।
ইবনে বতুতার ভ্রমণযাত্রা ভূগোল, ইতিহাস এবং নৃ-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখেছিল। কারণ তিনি পশ্চিমের কাছে অজানা বিভিন্ন স্থান এবং সংস্কৃতির বর্ণনা করেছিলেন। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের জন্য অনেক তথ্য তুলে ধরেছিলেন।
তার বই অনেক ভাষায় অনুদিত হয়েছে। এখনও পুরো বিশ্বের গবেষকরা বইটি পড়েন এবং রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিভিন্ন এলাকা ভ্রমণের সময় অন্তত ৬০ জন শাসক, অনেক মন্ত্রী, গভর্নর ছাড়াও নানা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন ইবনে বতুতা।
তিনি তার বইয়ে দুই হাজারের বেশি লোকের নাম উল্লেখ করেছেন যাদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন অথবা কবর পরিদর্শন করেছিলেন। স্বাধীন উৎস থেকে এসব ব্যক্তিদের বেশিরভাগকেই চিহ্নিত করা যেতে পারে।
তবে আশ্চর্যজনক হলো ইবনে বতুতার লেখায় এসব ব্যক্তিদের কারো কারো নাম অথবা ঘটনার দিন-তারিখে অল্প কিছু ভুল চিহ্নিত হয়েছে।
বইয়ের আরো একটি চমকপ্রদ বিষয় ইবনে বতুতা নিজেই প্রকাশ করেছেন। পড়ার আগে পাঠকের মনে হতে পারে, বইটিতে তারা শরিয়া ও সুফিবাদের মধ্যে দোদুল্যমান মধ্যবিত্ত এক মুসলমানের বয়ান পড়বেন।
কিন্তু দেখা যায়, ইবনে বতুতা বইয়ে গভীর কোনো দর্শন প্রকাশ করেননি, বরং জীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতাকেই তিনি মেনে নিয়েছেন।
বর্ণনোর মধ্য দিয়ে নিজের ব্যক্তিত্ব এবং পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কের কাছে স্বচ্ছ একটি ধারণা তুলে ধরেছেন তিনি।
জ্ঞানের তৃষ্ণা একজন মানুষকে যে কোন জায়গায় নিয়ে যেতে পারে তা ইবনে বতুতার অসাধারণ ভ্রমণই প্রমাণ করে। শুধু ব্যক্তিগত বিনোদন তার ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছিল না। বরং এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।
ইবনে বতুতাকে আজও একজন মহান অভিযাত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয় যিনি তার ভ্রমণের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছেন, মানব সভ্যতার নানাবিধ দিক নিয়ে ভাবতে অনেককেই প্রভাবিত করেছেন।
![]() |
| শিল্পীর তুলিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ইবনে বতুতার অবয়ব |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1355)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
January
(191)
-
▼
Jan 31
(7)
- ট্রাম্পের গাজা ‘সাফ’ করার মতলব সফল হবে না
- ছাত্ররা দল গঠন করবে: ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে অধ্যাপক...
- ওয়াশিংটনের আকাশে বিমান-হেলিকপ্টার ভয়াবহ সংঘর্ষ
- মুসলিমদের ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানো যুবককে গুলি করে হত্...
- নতুন বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক উত্তরণে সংকট
- জন্মনিবন্ধনে ভোগান্তির শেষ নেই by আফজাল হোসেন ও মো...
- অন্য দলের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন ছাত্ররা
-
▼
Jan 31
(7)
-
▼
January
(191)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







