Wednesday, April 26, 2017

ইইউর রুলিং, হিজাব ও মুসলিম নারী by নিহাদ আল আবেদী

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) ঊর্ধ্বতন আদালত ১৪ মার্চ এই মর্মে রুলিং দিয়েছেন যে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ তাদের স্টাফের ‘দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক ধারণ’ করাকে নিষিদ্ধ করার অধিকার রাখেন। কেউ কেউ বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত কর্মস্থলে হিজাব পরিহিত নারীর ওপর একটি প্রত্যক্ষ হামলা। অপর দিকে ‘ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস’ বলেছেন, যদি কোনো কোম্পানির নিজস্ব নিয়ম মোতাবেক, কোনো রাজনৈতিক, আদর্শিক বা ধর্মীয় চিহ্ন ধারণ করা নিষিদ্ধ থাকে, তাকে ‘প্রত্যক্ষ বৈষম্য’ বলা যায় না।
আদালত ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে দু’জন নারীর মামলায় রায় দিয়েছেন। হিজাব বা মাথার স্কার্ফ সরাতে অস্বীকার করায় তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অনেক মুসলিম মহিলাই এটা পরিধান করে থাকেন এবং তারা এটাকে তাদের ধর্মের অঙ্গ বলে বিশ্বাস করেন। আলজাজিরা টিভি চ্যানেল এই রায় বা রুলিং সম্পর্কে চারজন মহিলার বক্তব্য নিয়েছে।
নাদিয়া খেদাশি বলেছেন, এই রায়ের অর্থ, কিভাবে পোশাক পরব, সে অধিকার এবং আমার কাজ পাওয়ার অধিকার, এই দুটোর মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে। ২৫ বছরের খেদাশি ফ্রান্স এবং ইইউর মধ্যে বৈষম্য নিরসনের প্রকল্পগুলোতে সম্পৃক্ত। তিনি ফোরাম অব ইউরোপিয়ান মুসলিম ইয়ুথ অ্যান্ড স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের স্বেচ্ছাসেবী এবং ফ্রান্সের মুসলিম শিক্ষার্থী সংগঠনের সদস্যা।
তিনি বলেন, ফ্রান্সের মানুষের মন দখল করে আছে হিজাব ইস্যু। আদালতের রায় থেকে দেখা যায়Ñ অন্তর্ভুক্তিমূলক নারীবাদ ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠার জন্য এখনো কাজ করা বাকি, যাতে সব নারীর স্বার্থ রক্ষা করা যায়। দেশটি স্বাধীনতা আর নারীবাদকে ভালোবাসার জন্য সুপরিচিত। মুসলমান হিসেবে অনুভব করছি, আদালতের এই রুলিং আমার অধিকার রক্ষা ও নিশ্চিত করার বদলে প্রাত্যহিক জীবনকে আরো কঠিন করে তুলবে। নিজ দেশে আমার নিজের কল্যাণের প্রতি এই রুলিং সরাসরি হুমকি। বর্তমানে ফ্রান্সে কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রকাশ্য স্থানে মাথায় স্কার্ফ দেয়া নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে। এই পরিস্থিতিতে আদালতের এমন সিদ্ধান্তের অর্থ, এটা অগ্রযাত্রার পথে কোনো পদক্ষেপ নয়। বরং ঘৃণা ও হিংসা ছড়ানো বক্তব্য বাড়বে যার টার্গেট নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা। বাড়বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধ।
তিনি আরো বলেছেন, আমি একজন ফরাসি নাগরিক। সবেমাত্র পড়াশোনা শেষ করে চাকরি খুঁজছি। আমার দুই বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি রয়েছে। তবে আরো অনেকের মতো আমিও অন্য কোনো দেশে স্থায়ীভাবে থাকার কথা ভাবছি। কারণ, ফ্রান্সে তো থাকার অনুকূল পরিবেশ নেই। আসলেই যদি কখনো কোনো ফরাসি কোম্পানিতে চাকরির ইন্টারভিউতে আমাকে ডাকা হয়, আমি জানিÑ মাথার স্কার্ফ নিয়ে প্রশ্ন করা হবে। তখন আমাকে তা মাথা থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে, নতুবা চাকরিটা পাওয়ার সুযোগ হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে। আমাদের জীবন আরো সমস্যাকীর্ণ হয়ে উঠেছে। অথচ তা হওয়ার কথা ছিল না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, ‘নিজ দেশে পরবাসী’ হয়ে গেছি।
নাদিয়া খেদাশির ভাষায়, আমরা মুসলমানরা খুবই সুসংহত। এ কারণে আমাদের মনে করা হয় ‘একটা সমস্যা’। অতীতে এটা আশা করা হতো না যে, মুসলমানরা ইউনিভার্সিটিতে যাবে; এমনকি, তাদের প্রকাশ্যে দেখা যাওয়াটা পর্যন্ত প্রত্যাশিত ছিল না। আদালত (হিজাব নিয়ে) যে রায় দিলেন, তা বিদ্যমান বৈষম্য বাড়িয়ে দেবে এবং এই বৈষম্যকে আইনগত মদদ জোগাবে। এ ক্ষেত্রে বড় যে ব্যাপার, তা হলোÑ মুসলিম নারীদের এখানে সেখানে চোখে পড়া। প্রশ্ন দাঁড়ায়, তাহলে কি আমাদের দৃশ্যমান হওয়ার অনুমোদন নেই? এই দৃশ্যমানতা কি অপরাধ?
কোনো কাজের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার দাবি হলো, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী সব গ্রাহককে একই সেবা দেবেন। গ্রাহক কে কিংবা তার পোশাক কেমন, তা মোটেই বিবেচনা করা যায় না। এ ক্ষেত্রে ‘নিরপেক্ষতা’ মানে, সেই অভিন্ন সুযোগ যেখানে নাস্তিক, সংশয়বাদী কিংবা বিশ্বাসী পরস্পরের ভিন্নতা সত্ত্বেও সহাবস্থান করেন। এই নিরপেক্ষতা বজায় রাখা প্রয়োজন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, নিরপেক্ষতা বলতে কী বোঝায়? এর আওতা কত দূর পর্যন্ত? যদি নিরপেক্ষতার নামে আমার আমিত্বকে বাধা দেয়া হয়, তা হলে একসাথে থাকা এবং পারস্পরিক মর্যাদাবোধের সাথে এটা কি সঙ্গতিপূর্ণ? পোশাকের কারণে নারীর কাজ করার অধিকার অস্বীকার করা গণতন্ত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমরা ইউরোপে সবার অন্তর্ভুক্তিমূলক যে সমাজ চাই, তার সাথেও এটা বেমানান। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ও স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে, যে বাগাড়ম্বর বিধিনিষেধ আরোপ করে, তা দিয়ে নারী দেহের মুক্তি আনা কিংবা এর দাবি করা সম্ভব নয়। বর্ণবাদী কুযুক্তি মুক্তি আনতে পারে না। বরং এটা শেখায় নতি স্বীকার করতে। ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস নাগরিকদের বদলে কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষা করাকে পছন্দ করছেন।
ওয়ার্দা আল কাদ্দুরি বেলজিয়ামে জাতিসঙ্ঘের যুব প্রতিনিধি ছিলেন ২০১৫ ও ২০১৬তে। তিনি বলেছেন, আমার ছোট বোন ১৮ বছর বয়সে হিজাব পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তখন আমার মা-বাবা শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাদের ভয় ছিল, হিজাব পরিধান করলে তাদের সন্তান সমাজে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং হিজাব পছন্দ করার বিষয়টি তার জন্য বোঝা হয়ে দেখা দেবে। তাদের আশঙ্কার কারণ, হিজাবের কারণে শিক্ষা ও পেশার ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা হারাতে হবে। এমনকি প্রকাশ্যে মৌখিকভাবে অপদস্থ কিংবা দৈহিকভাবে আক্রান্ত হতে হবে। বাস্তবেও সেটা ঘটেছে।
ওয়ার্দা বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ বলতে বুঝি, নিজের শরীর সম্পর্কে নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা। আজকাল মনে হয়, নারীর শুধু কম পোশাক পরিধানের স্বাধীনতা আছে। অপরদিকে, যে নারী বেশি পোশাক পরিধানকে পছন্দ করে, তার স্বাধীনতা নেই। যদি হিজাব পরার প্রশ্ন আসে, আমি তা করতে চাই চাকরি হারানোর ভীতি ছাড়াই। মাথায় শিফন কাপড়ের একটি টুকরা পরিধান করলে আমার সামর্থ্য ও মেধার রদবদল হবে না।
তিনি বলেছেন, আমি দেখেছিÑ নারী হিজাব পরলে ইন্টার্নশিপ কিংবা চাকরির বেলায় তাকে প্রত্যাখ্যানের পর প্রত্যাখ্যানের শিকার হতে হয়। দেখেছি, এমন অবস্থায় কিভাবে তারা ধীরে ধীরে উৎসাহ হারিয়ে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন; এমনকি বিষণœতায় ভোগেন। সমাজে অংশ নিতে হলে নারীকে তার কিছু একটা খুলে ফেলতে হবেÑ এমন দাবি কিভাবে করা চলে?
তিনি বলেন, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং একাত্মতার জন্য কাজ করার সুযোগ পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের দু’টি দুর্বল অংশ হলো নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু আর নারী। শ্রমবাজারে তাদের প্রবেশের পথ সুগম করে দেয়া উচিত। তা না করে পর্দানশিন মুসলিম মহিলাদের পথে আরো বাধা তৈরি করা হচ্ছে। সমান সুযোগ পেতে কেন একজন নারীকে তার হিজাব খুলতে হবে?
কাজের ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ওয়ার্দা আল কাদ্দুরি প্রচার চালিয়েছেন জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে।
তাঁর ভাষায়, নিরপেক্ষতার মূলনীতি বলতে কী বুঝায়, তা একেক দেশে একক রকম। একজন শিখ ব্রিটেনে পুলিশের চাকরিতে তার ইউনিফর্মের অংশ হিসেবে পাগড়ি পরতে পারেন। ফ্রান্সের সেক্যুলার সমাজে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে মুসলিম নারীর হিজাব পরিধানের অধিকার নেই। বেলজিয়াম এই দুই মডেলের মাঝামাঝি অবস্থানে। কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় প্রতীকরূপী পোশাক পরলেই তার মানে এটা নয় যে, রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা ক্ষুণœ হলো। সরকারি কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের বিধিবিধান মোতাবেক দায়িত্ব পালন করে থাকেন। আমি এমনকি এ কথাও বলব, দৃশ্যমান ধর্মীয় বৈচিত্র্য আসলে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতার সুফল। জোর করে হিজাবের মতো ধর্মীয় প্রতীককে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেয়া নিরপেক্ষতা নয়। তবুও দক্ষিণপন্থী দলগুলো এমন দাবি জানাচ্ছে। বেলজিয়ামও চরম ডানপন্থী, লোকরঞ্জনবাদী ও জাতীয়তাবাদী দল থেকে মুক্ত নয়। রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবীসহ যারা জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন, তারা বর্ণবিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য দিচ্ছেন, যা তাদের অজ্ঞতা থেকে উৎসারিত। এটাই যেন ইউরোপে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার আদালতের আলোচ্য রায় আগে থেকেই বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর করল। যেমন, বেলজিয়ামে স্কুল ও সিটি হলের মতো প্রকাশ্য স্থানে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই রায় পেয়ে চরম দক্ষিণপন্থী দলগুলো তাদের প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাওয়াকে সঠিক বলে বিশ্বাস করছে।
ওয়ার্দা আল কাদ্দুরি আরো বলেন, যেসব মুসলিম মহিলা হিজাব পরিধান করে আসছেন, তারা আগে থেকেই জানেনÑ তাদের চাকরির সুযোগ সীমিত। অভিবাসী মহিলা, যারা হিজাব পরিধান করেন, সামাজিকভাবে তাদের চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ আর কেউ আছেন বলে মনে হয় না। কারণ তারা নৃতাত্ত্বিক পরিচয়, জেন্ডার এবং দৃশ্যমান ধর্মের কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আদালতের সর্বশেষ রুলিং কোম্পানিগুলোকে আইনি সুযোগ দিয়েছে হিজাব থেকে ‘মুক্ত’ হওয়ার জন্য। ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস নাগরিকদের নয়, কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করছে।
তিনি আরো বলেছেন, ইউরোপের মুসলমানদের ওপর বর্তমান পরিস্থিতি যে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলেছে, তার অবমূল্যায়ন করা চলে না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন বেশি থেকে আরো বেশি প্রতিকূল হয়ে উঠছে আমাদের জন্য। এই অবস্থায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্তম্ভতুল্য বিচার বিভাগের ওপর আমার মনের শান্তি নির্ভর করেছিল। অশ্বেতাঙ্গ হিসেবে ধারণা ছিল, অভিবাসীদের প্রতি চরম বিদ্বেষের মাঝেও আমার মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার জন্য আইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারব। এখন আর সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছি না। একই শঙ্কা দেখতে পাচ্ছি আমার পরিবার, সহকর্মী ও বন্ধুবান্ধবসহ অন্যান্য মুসলমানের মাঝেও।
নেদারল্যান্ডসের নাগরিক আইয়া সাবি (২১) একজন লেখক, কলামিস্ট। তিনি বলেছেন, ‘নিরপেক্ষতা’ একটা ভ্রান্তির নাম। যদিও উল্লিখিত রুলিং সব ধর্মের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, এর সূচনা মুসলিম নারীদের মাথার স্কার্ফের সাথে সংশ্লিষ্ট, এমন এক ঘটনার মধ্য দিয়ে। বাস্তবেও আমরা দেখছি, স্কার্ফ পরিহিতা মুসলিম নারী এবং শিখ সম্প্রদায়ের লোকজন এই আইন দ্বারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকের মাথায় মুসলিম ও ইসলাম সম্পর্কে এমন ইমেজ রয়েছে যা এক কথায় ভয়ঙ্কর। তাই মাথার স্কার্ফ তাদের কাছে একটা সমস্যা। এ দিকে কোম্পানিমালিকেরা আশঙ্কা করছেন, তারা গ্রাহক হারাবেন। অনেকের মধ্যে স্কার্ফভীতি সঞ্চারিত হয়েছে। ‘নিরপেক্ষতা’র প্রয়োগ চলছে এভাবেই। আসলে ‘নিরপেক্ষ’ মানে ‘স্বাভাবিক’। এ জন্যই নিরপেক্ষতা গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে। অন্য অর্থ বোঝালে ‘নিরপেক্ষতা’ গ্রহণীয় নয়। আদালত রুলিং দিয়ে বলতে চাইছেন, মুসলমানরা স্বাভাবিক নয়, তারা এখানকার নয়; তাই তাদের গ্রহণ করা যায় না।
আইয়া সাবি বলেছেন, যদি স্কার্ফ পরিহিত কোনো নারী কাউন্টারে থাকে, আপনার সাথে কাজ করে, অথবা শিক্ষা দেয় আপনাকে, সে যে কাজই করুক না কেন, সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় হলোÑ সে তার নিজের শরীরের বিষয়ে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ কারণে স্কার্ফ দিয়ে চুল ঢেকে রেখেছে। এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। তাই তাকে স্কার্ফ পরতে নিষেধ করার তো প্রশ্নই ওঠে না, এমনকি এ নিয়ে তাকে প্রশ্ন করার অধিকারও কারো নেই। মুসলমান মহিলাদের জন্য মাথার হিজাব নিছক অনুষঙ্গ নয়, এটা তাদের বিশ্বাসের অংশ।
ইলক নূর কুজুম (৩৮) তুর্কি বংশোদ্ভূত লেখিকা। তিনি বলেছেন, আমার ১১ বছরের মেয়ে আমাকে একদিন বলল, আম্মু, স্কার্ফ মাথায় দিয়ে লেখাপড়া করার জন্য আমাকে কি জার্মানি ছেড়ে যেতে হবে, যেভাবে একদিন পড়াশোনার উদ্দেশ্যে তোমাকে স্বদেশ ছাড়তে হয়েছিল? বললাম, ‘মা তোমাকে তা করতে হবে না। মাথায় স্কার্ফ পরেই তুমি জার্মানিতে পড়াশোনা ও কাজ করতে পারবে। চিন্তা করো না।’ কিন্তু এখন আমি নিশ্চিত নই, সে এ দেশে এটা করতে পারবে কি না। ২০ বছর আগে তুরস্কে মাথার স্কার্ফকে সমস্যা মনে করা হতো। তাই স্কার্ফ পরিধান করে পড়াশোনার জন্য আমাকে তুরস্ক ছেড়ে আসতে হয়েছিল। ধর্মবিশ্বাসের কারণে যাদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে, আমি তাদের একজন। এবার ইউরোপের কোর্ট অব জাস্টিস যে রায় দিলেন, তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যখন নেদারল্যান্ডর ফ্রান্স আর জার্মানিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মওসুম, তখন এই রায় এসেছে।
জার্মান প্রবাসী এই মহিলা বলেন, সাম্প্রতিককালে চরম দক্ষিণপন্থী ‘পাশ্চাত্যের ইসলামীকরণের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক ইউরোপিয়ান’ বা ‘পেজিডা’ সংগঠনের সাথে জার্মানির অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) পার্টিও ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চরমপন্থী দল বা আন্দোলনের উত্থান থামানো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে কোর্টের ওই রুলিং যতটা আইনগত, এর চেয়ে বেশি রাজনৈতিক।
তিনি বলেছেন, মুসলিম নারীর কাছে হিজাব হলো বিশ্বাসের অঙ্গ। তাই মানুষের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের মতো এটাও বদলানো যায় না। এর ওপর নিষেধাজ্ঞা তাদের চাকরি ও ব্যবসা থেকে বঞ্চিত করবে। জার্মানিতে যারা হিজাব নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী, তাদের বেশির ভাগের ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে তেমন জ্ঞান নেই। একটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরছি। আমার কয়েকজন জার্মান প্রতিবেশী ছিলেন যারা কোনো দিন কোনো মুসলমানের বাসায় যাননি। যখন তাদের ঘনিষ্ঠ হলাম, তারা আমাকে ইসলাম ও মুসলিম নারী সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন করলেন। কিছুক্ষণ পর বললেন, ‘স্বীকার করছি, আমরা এত দিন মুসলমানদের সম্পর্কে জানতাম না।’
দুর্ভাগ্য হলো, হিজাবের নিষেধাজ্ঞা জার্মানির চার মিলিয়নেরও বেশি মুসলমানের বিরুদ্ধে বৈষম্য বাড়াবে।
ভাষান্তর : মীযানুল করীম

নিজেদের তৈরি রণতরি ভাসাল চীন

নিজেদের তৈরি প্রথম বিমানবাহী রণতরি পানিতে ভাসিয়েছে চীন। ওই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটি নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আনলো। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রণতরিটির এখনো নামকরণ হয়নি। তবে বুধবারই দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দালিয়ান ডক থেকে রণতরিটি পানিতে ভাসানো হয়েছে। এটি চীনের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি।
এর আগে রাশিয়া থেকে লায়োনিং নামের একটি রণতরি সংগ্রহ করেছিল চীন। সেটিও সম্প্রতি সংস্কার করা হয়। চীনের সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি জানায়, গত ২০১৩ সালে বিমানবাহী রণতরিটির নির্মাণ শুরু হয়। রণতরিটি পানিতে ভাসানোর সময় দেশটির কেন্দ্রীয় মিলিটারি কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্যান চেংলং উপস্থিত ছিলেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, চীন গভীর সমুদ্রে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে তৎপর। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেশীয় নকশা ও পদ্ধতিতে বিমানবাহী রণতরিটি বানিয়েছে।

জরায়ুর কাজ করতে আসছে কৃত্রিম গর্ভ

হবু মায়েদের জরায়ুকে সহায়তা করার জন্য কৃত্রিম গর্ভ তৈরি করতে পেরেছেন একদল মার্কিন বিজ্ঞানী। এসব কৃত্রিম গর্ভে প্রিম্যাচিউর বা অকালে জন্ম নেয়া শিশুদের বাঁচিয়ে রাখা যাবে। এই কৃত্রিম গর্ভ যেটিকে 'অতিরিক্ত-জরায়ু সহায়তা' যন্ত্র নাম দেয়া হয়েছে। এটিকে ভেড়ার উপর পরীক্ষা করে সাফল্য পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, তাদের উদ্দেশ্য হলো প্রিম্যাচিউর শিশুদের ফুসফুস এবং অন্যান্য প্রত্যঙ্গ যাতে সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে সেটা নিশ্চিত করা। এই যন্ত্রটি মূলত একটি প্লাস্টিক ব্যাগ, যার ভেতরে রয়েছে কৃত্রিম অ্যামনিওটিক ফ্লুইড। এটার ভেতরের পরিবেশ অনেকটা জরায়ুর ভেতরের পরিবেশের মতো। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, আর তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে মানবদেহে পরীক্ষা করে দেখার জন্য প্রস্তুত করা যাবে যন্ত্রটিকে।

ফেসবুক লাইভে শিশুকন্যাকে হত্যার পর আত্মহত্যা

এবার শিশুকন্যাকে নিজ হাতে খুন করার পর আত্মহত্যার ভিডিও ফেসবুকে লাইভ করল এক থাই যুবক। সোমবার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার এক ঘণ্টা পর ফুকেতের একটি ফাঁকা হোটেলে ২১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তার মেয়েকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। এরপর নিজের সম্পর্কে কিছু কথা বলার পর আত্মহত্যা করে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ফেসবুকে ভিডিওটি দেখা যাচ্ছিল।
এতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি ছাদ থেকে ফেলে দেয়ার আগে তার মেয়ের গলায় দড়ির গিঁট দেয়ার চেষ্টা করছে। তার এক আত্মীয় এ মর্মান্তিক ফুটেজটি দেখামাত্রই পুলিশকে জানান। কিন্তু ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে দেখে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ঘটনাটিকে থাই গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সবাই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাচ্চাটির মা এবং স্বজনরা হাসপাতাল থেকে দু’জনের মৃতদেহ নিয়ে এসেছে। এর আগে ক্লিভল্যান্ডে ৭৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে হত্যা, জুনে শিকাগোর এক ব্যক্তিকে ঘাড়ে ও মাথায় গুলি করে হত্যা, জুলাইয়ে পুলিশের গুলিতে এক মেয়ের প্রেমিকের মারা যাওয়ার ভিডিও ফেসবুক লাইভে দেখানো হয়।

ওজন কমানো নিয়ে মুম্বাইয়ের চিকিৎসকদের মিথ্যাচার

ভারতে মুম্বাইয়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিশ্বের সবচেয়ে স্থুলকায় নারী ইমান আহমেদকে নিয়ে ‘মিথ্যাচার’ করেছেন চিকিৎসকরা। ইমানের বোন শাইমা সেলিম ইমান জানিয়েছেন, তার বোনের ওজন কমেনি। খবর এনডিটিভির। মুম্বাইয়ের সাইফি হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল- অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ইমানের ওজন ‘২৫০ কেজি’ কমিয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ১৪ এপ্রিল হাসপাতালের ভেতরে ধারণকৃত এক ভিডিও ফুটেজে তার বোন শাইমা জানান, এসবই হচ্ছে চিকিৎসকদের বানোয়াট কথা। ভিডিওটি তিনি তার ফেসবুকে পোস্ট করেন। শাইমা বলেন, ‘সবকিছুই ছিল মিথ্যা। তারা যা করেছে, সেজন্য আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন। ইমানের মোটেও ওজন কমেনি।’ গত ফেব্রুয়ারিতে ৩৬ বছর বয়সী ইমানকে মিসর থেকে চিকিৎসার জন্য ভারতে আনা হয়। তখন তার ওজন ছিল ৫০০ কেজি। মুম্বাইয়ের সাইফি হাসপাতালের প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. মুফাজ্জল লাকদাওয়ালার নেতৃত্বে চলছে তার চিকিৎসা। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই চিকিৎসকরা জানিয়ে আসছেন,
দ্রুত ওজন কমতে শুরু করেছে ইমানের। এদিকে পুরো চিকিৎসা না দিয়ে ইমানকে মিসরে পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে- এমন অভিযোগ ছিল আগে থেকেই। এলিফ্যান্টিয়াসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সারা শরীর ফুলতে শুরু করে তার। ১১ বছর বয়স থেকেই বেশি ওজনের কারণে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন না মিসরীয় এই নারী। বাড়িতে হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করতে হতো। এরপর ব্রেনস্ট্রোকের কারণে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। স্কুলেও যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে শাইমা জানান, তার বোন খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। সাইফি হাসপাতালে ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘ও কথা বলতে পারছে না, নড়াচড়া করতে পারছে না, কেমন নীলচে হয়ে গেছে। কোনো উন্নতিই হয়নি।’

মমতা ব্যানার্জিকে উৎখাতের ডাক বিজেপির

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি থেকে মমতা ব্যানার্জি ও তার দল তৃণমূল কংগ্রেসকে উৎখাতের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। বিজেপির সভাপতি অমিত শাহের রাজ্য সফরের প্রাক্কালে এ ঘোষণা দিলেন দলের আঞ্চলিক নেতা দিলীপ ঘোষ। পশ্চিমবঙ্গে তিন দিনের সফরে গিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। সফরের আগে তিনি ঘোষণা দেন, বাংলায় পঞ্চায়েত ভোটকে সামনে রেখেই ‘লং জাম্প’ দিতে হবে। মঙ্গলবার নকশালবাড়িতে অমিত শাহ ‘বুথ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে তিনি বাগডোগরায় পৌঁছেন। এরপর শিলিগুড়ি থেকে রওনা দেন নকশালবাড়ির উদ্দেশে। নকশালবাড়ি পঞ্চায়েতে বিজেপির একমাত্র পঞ্চায়েত সদস্য সাধনা মণ্ডলের তিনতলা বাড়িতে ওঠেন অমিত শাহ। কথা বলেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে। সেখানেই মধ্যাহ্নভোজ সারেন তিনি। এরপর ইনডোর স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে নৈশভোজ সেরে পদাতিক এক্সপ্রেস ধরে রওনা দেন কলকাতার উদ্দেশে। অমিত শাহের নেতৃত্বে মহামিছিল হবে রাজ্যজুড়ে। গত ১১ এপ্রিল একটি ধর্মীয় সংগঠনের ডাকা হনুমান জয়ন্তীর মিছিলে পুলিশের লাঠি চালানোর প্রতিবাদে সোমবার সিউড়িতে মিছিল করে বিজেপি। এ দিনের মিছিলে লোক এসেছিল গোটা জেলা থেকেই। মিছিলে বিজেপির স্থানীয় নেতা কৈলাস বলেন, ‘দিদির তো অর্ধেকের বেশি মন্ত্রী জেলে যাবেন! বিজেপি রাজ্য থেকে তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করবে।’
এক ধাপ এগিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ হুঙ্কার ছাড়েন, ‘আমরা গুণ্ডাগিরির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। তার জন্য যদি তলোয়ার ধরতে হয়, গলা ধরতে হয়, বন্দুক ধরতে হয় তা-ই ধরব! তবে এসব হুঙ্কার উড়িয়ে দেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত। তিনি পাল্টা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বাইরে থেকে এসে অনেকে অনেক কথা বলেন। মাঠে নেমে করে দেখান!’ তিনি আরও বলেন, ‘কার পিঠের ক’টা চামড়া ওরা তুলেছেন, জানি না। নিজেদের পিঠের চামড়া থাকবে কিনা, দেখুন!’ আর দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘গর্জন করাই সার! বাংলায় বিজেপির কোনো ভবিষ্যৎ নেই।’ অন্যদিকে, কুচবিহারে কেপিপির সভায় বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, তার কাছে ধর্ম মানে ভালোবাসা, ধর্ম মানে শান্তি। বিজেপি দাঙ্গাবাজ পার্টি । ধর্মের মাধ্যমে তারা হিংসা ছড়ায়। গরুর জন্য পরিচয়পত্র নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করেন মমতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘গরুর আইডি কার্ড কি হিংসা ছড়ানোর জন্য?’

আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের পুনর্বাসনে সহায়তা করবে সরকার

সুন্দরবনের আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের অর্থনৈতিক ও আইনি সহায়তা দিয়ে সরকার পুনর্বাসন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য জানান। গত কয়েক মাসে যমুনা টেলিভিশনের মধ্যস্থতায় সুন্দরবনের মাস্টার বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী, মজনু বাহিনী, ইলিয়াস বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর শতাধিক দস্যু সদস্য আত্মসমর্পণ করে। এদের কাছ থেকে দুই শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০ সহস্রাধিক রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, র‌্যাব সদস্যরা সুন্দরবনের এই দস্যুদের আত্মসমর্পণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। শুধু আত্মসমর্পণ করিয়েই সরকারের কাজ শেষ হবে না। তাদর পুনর্বাসনের জন্য অর্থনৈতিক ও আইনি সহায়তা যা যা লাগে তা দেবে সরকার।

'কোনো দেশের প্রধান বিচারপতিরা এত উষ্মা প্রকাশ করেন না'

পৃথিবীর কোনো দেশের প্রধান বিচারপতিরা জনসম্মুখে এত উষ্মা প্রকাশ করেন না বলে দাবি করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। বুধবার সচিবালয়ের নিজ দফতরে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন মন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ বার লাইব্রেরির দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করুক তা প্রশাসন কখনও চায়নি বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের সঙ্গে সব সময় বিমাতাসুলভ আচরণ চলে আসছে।
এটি আজকে নয়, এ সরকার নয় শুধু, সব সরকারের আমলেই করা হয়। প্রশাসন কোনোদিনই চায়নি বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করুক। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশের প্রধান বিচারপতিরা জনসম্মুখে এত উষ্মা প্রকাশ করেন না। তার যদি কোনো ক্ষোভ-দুঃখ থাকে, তাহলে সেটা আমাদের কাছে বললেই পারেন। তিনি বলেন, এ সরকার বিচার বিভাগের উপর কখনো কোনো রকম হস্তক্ষেপ করে না, করবেও না। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ নানা বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

বাঘায় প্রতিবন্ধীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

রাজশাহীর বাঘায় মানসিক প্রতিবন্ধী জামিল বাবুর (২০) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে বাঘা থানা পুলিশ এই লাশ উদ্ধার করে। বাবু উপজেলার রুস্তমপুর হেমন্তপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে। বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ আলী মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, জামিল বাবু মানসিক প্রতিবন্ধী। সে মাথার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় প্রতিবন্ধী বাবুর পিতা শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন।

১৫ লাখ দিয়েও ছেলের চাকরি হয়নি শুনে জ্ঞান হারালেন বাবা

সত্তর বছর বয়সী ওসমান আলী ছেলের চাকরির আশায় সরকার দলীয় দুই নেতার হাতে তুলে দিয়েছিলেন ১৫ লাখ টাকা। দরিদ্র ওসমান জমি বিক্রি করেই এ টাকা জোগাড় করেন। কিন্তু এ সংক্রান্ত নিয়োগ বোর্ড শেষ হওয়ার পর ওসমান জানতে পারেন তার ছেলের চাকরি হচ্ছে না। এ কথা  শোনামাত্রই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সোমবার রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ওসমানের স্বাস্থ্যের অবনতি হলে মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এখনও তিনি চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তমা বসাক যুগান্তরকে জানান, হয়তো কোনো দুঃসংবাদে ওসমান আলী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। শারিরীকভাবেও তিনি খুব দুর্বল। তবে আশংকামুক্ত এবং বিপি ঠিক আছে। ওসমানের ছোট ছেলে আনোয়ার হোসেন জানান, ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার বড় ভাই আতাউর রহমানকে দফতরি কাম প্রহরী পদে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জাহানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন ও শ্রমিক লীগের সভাপতি হাসেম আলী। কিন্তু চাকরির জন্য তাদের কাছে নগদ টাকা ছিল না। পরে পানের বরজ ও ফসলী জমি বিক্রি করে তাদের দু'জনকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা দেয়া হয়। গত সোমবার দফতরি কাম প্রহরী পদে নিয়োগ বোর্ডে  বসে।
বোর্ড শেষে আতাউরের চাকরি হয়নি বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর শোনামাত্রই বৃদ্ধ বাবা জ্ঞান হারিয়ে  মাটিতে পড়ে যান বলে জানান আনোয়ার হোসেন। চাকরি প্রার্থী আতাউর রহমানের অভিযোগ, হাসেম আলী ও আবুল হোসেন তাদের দেয়া ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি আক্ষেপ করেন জানান, এখন ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে বেড়ানো ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। প্রতারণার কারণে বৃদ্ধ বাবা-মাও মরতে বসেছেন। এ ঘটনায় হাসেম ও আবুল হোসেনের বিচার দাবি করেন আতাউর রহমান। নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর কবির জানান, এ উপজেলার ২২টি স্কুলের নিয়োগ বোর্ড শেষ হয়েছে। আতাউর  রহমান চাকরি পেয়েছেন কিনা তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে যারা বিবেচিত হয়েছেন, তাদের বরাবর চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে জাহানাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, 'আমি তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। এমপি সাহেব (আয়েন উদ্দিন) বিদেশে আছেন। তিনি ফিরলে বসে বিষয়টি ঠিক করা হবে।' শ্রমিক লীগ নেতা হাসেম আলীও টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি জানান, এ রকম একটি ঘটনায় ওসমান আলী হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে শুনেছেন।

‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে চাঁপাইয়ে বাড়ি ঘেরাও

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ত্রিমহোনী এলাকায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তারা বাড়িটির চারপাশ ঘিরে রাখে। এর কিছুক্ষণ পর ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার তৌহিদ।
তার ধারণা, ভেতরে ৭/৮ জন লোক আছে। বাড়িটির আশপাশে পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।  ওই এলাকার রাস্তার যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান জানান, ঢাকা থেকে সোয়াতের একটি দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। তারা আসলে পুরোপুরি অভিযান শুরু হবে।

চলনবিলে আত্রাই নদীর পানি: আতঙ্কিত কৃষক

টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে আত্রাই এবং গুড় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার চলনবিলে বর্ষার পানি ঢুকছে। উপজেলার নূরপুর, ভাগনাগরকান্দিসহ বেশ কিছু এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে বোরো ধান। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এই অঞ্চলের চাষীরা। শ্রমিক সংকট থাকায় পাকা ধান বাড়িতে তুলতে পারছেন না কৃষক। চোখের সামনে পানি বেড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকার ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিতায় দিন কাটছে চলনবিলের কৃষকদের। এদিকে পাকা ধান কেটে জরুরি ভিত্তিতে ঘরে তুলতে এলাকায় মাইকিং করেছে উপজেলা প্রশাসন। এলাকাবাসী জানান, টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে সিংড়া উপজেলার আত্রাই এবং গুড় নদীর পানি বেড়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি বাড়ছে। এতে জোড় মল্লিকা, নিংগইন এবং পাটকোল ব্রিজের নিচ দিয়ে চলনবিলের ফসলি জমিতে প্রতিনিয়ত পানি ঢুকছে। এতে নিংগইন, বালুভরা, হাঁসপুকুরিয়া, শেরকোল, তেলীগ্রাম, ভাগনাগরকান্দি, কালিনগর, বিলদহর মাঠের বোরো ধান ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নিংগইন এলাকার কৃষক আশকান আলী জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি জোড়মল্লিকা বিলে ১৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। হঠাৎ নদীর পানি বিলে প্রবেশ করায় তিনিসহ শতাধিক কৃষক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
এখন তাদের চোখে ঘুম নেই। এদিকে সোমবার থেকে জোড়মল্লিকা, নিংগইন এবং পাটকোল এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। চলছে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে সতর্কতা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, আত্রাই নদীতে ঢলের পানি উপচে চলনবিলে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। কিন্তু বাঁধ দেয়ায় এখন আর ঢুকতে পারছে না। তবে ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকলে চলনবিলে পানি ঢুকে ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, টানা বর্ষণের নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় চলনবিল এলাকায় পানি ঢুকছিল। পানি যাতে আর না ঢুকতে পারে সেজন্য দুটি স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের সতর্ক করে মাইকিং করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আগামী তিন-চার দিন আবহাওয়া ভালো থাকলে নদীর পানি কমে যাবে। তখন ফসলের আর কোনো ক্ষতি হবে না।

কানসাটের 'জঙ্গি আস্তানা' জেন্টু হাজির বাড়ি, ১৪৪ ধারা জারি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটের শিবনগর গ্রামের ত্রিমহোনী এলাকায় 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। ওই বাড়িটির মালিক জনৈক জেন্টু হাজি। বাড়িটিতে জেন্টু হাজি ও তার পরিবারের কোনো সদস্য থাকেন না। তিনি তার মালিকানধীন পাশেরই একটি বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকেন। পুলিশ জঙ্গি আস্তানা হিসেবে যে বাড়িটি ঘিরে রেখেছেন সেখানে একই গ্রামের আরশাদ আলীর ছেলে মশলা ব্যবসায়ী আবু ও তার স্ত্রী দু' সন্তানসহ বেশ ক'মাস ধরে বসবাস করছেন। বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়িটির চারপাশ ঘিরে অবস্থান নেয় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার তৌহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাদের ধারণা- বাড়িটিতে ৭/৮ জন অবস্থান করছেন।
বাড়িটির ভেতর থেকে বিস্ফোরক ও গুলির শব্দ শুনা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান জানান, ঢাকা থেকে সোয়াতের একটি দল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। তারা আসলে পুরোপুরি অভিযান শুরু হবে। তিনি বলেন, ওই আস্তানার চারপাশে পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।  আশেপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের। এদিকে পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত শিবনগর গ্রামে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের বরাত দিয়ে বেলা সাড়ে ১০টার পর থেকে ওই গ্রামে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি মাইকিং করে জানানো হয়। জঙ্গি আস্তানায় অভিযান ও ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণায় কানসাটের শিবনগর গ্রামজুড়ে মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

নম্বর কম পাওয়ার ভয়ে নিরুপায় শিক্ষার্থী

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার ৭৩ নং কর্ণগোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও সভাপতি শহিদুল ইসলাম বিদ্যুতের যোগসাজশে চলছে বেপোরোয়া কোচিং বাণিজ্য। শিক্ষক আমিনুলের কাছে এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বাংলাদেশ সরকার নিয়ম করেছে ক্লাস শিক্ষার্থীদের কোনো শ্রেণীকক্ষে কোচিং করানো যাবে না।
অথচ নিয়মের তোয়াক্কা না করেই শিক্ষক আমিনুল ইসলাম স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীদের কোচিং করাচ্ছেন। অভিভাবকদের অভিযোগ, আমিনুল ইসলাম সকাল ৭টা থেকে শুরু করে ক্লাস শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আবার স্কুল ছুটির পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোচিং করাচ্ছেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে কোচিং ফি নিচ্ছেন তিনি। এছাড়া তার কাছে যদি কোনো শিক্ষার্থী কোচিং না করে তাহলে ওই শিক্ষার্থীকে নাম্বার কম বা ফেল করিয়ে দেবে বলে হুমকি-ধামকি প্রদান করেন। ফলে নিরুপায় শিক্ষার্থীরা।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও আফগানিস্তান ডেস্কের পরিচালক ওয়েন জেন কিনস। মঙ্গলবার রাত ৭টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঘণ্টাব্যাপী এ সাক্ষাৎ হয়। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য রিয়াজ রহমান ও দলের পররাষ্ট্র উইংয়ের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান রিপন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর কোনো পক্ষই সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।

আন্দোলন-নির্বাচনের জন্য তৃণমূলকে প্রস্তুতের নির্দেশনা

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে চলমান আন্দোলন ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির দৃষ্টি এখন নেতাকর্মীদের দিকে। দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তৃণমূলকে উজ্জীবিত ও সক্রিয় করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ৫১ টিম প্রধানের সঙ্গে বৈঠককালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাইকমান্ডের এ নির্দেশনার কথা জানান। একই সঙ্গে বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে সফর শেষ করে প্রতিবেদন দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি। এ ছাড়া টিম প্রধানদের পরিবর্তন করে ১৫ মে থেকে দ্বিতীয় দফা তৃণমূল সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে সারা দেশে দলের সাংগঠনিক অবস্থা ও টিম প্রধানদের করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে টিম প্রধানদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, জয়নুল আবদিন ফারুক, মিজানুর রহমান মিনু, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, মজিবর রহমান সারোয়ার, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কর্নেল (অব.) আনোয়ারুল আজীম, মাহবুবুর রহমান শামীম, শামা ওবায়েদ, বিলকিস জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান ও তাইফুল ইসলাম টিপু উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, মাঠপর্যায়ে দলের বর্তমান অবস্থা, আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং করণীয় নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে টিম প্রধানরা ঘরোয়া আলোচনা করবেন। কোনো এলাকায় বিরোধ থাকলে সে ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য নিতে হবে। জেলা সফর শেষে বর্তমান টিম প্রধানরা একটি সাংগঠনিক প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দেবেন।
এরপর ১৫ মে থেকে দ্বিতীয় ধাপে জেলা সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ ক্ষেত্রে শুধু টিম প্রধান পরিবর্তন হবে। তারাও কেন্দ্রে একটি প্রতিবেদন জমা দেবেন। উভয় প্রতিবেদনই হাইকমান্ডে জমা দেয়া হবে। তা পর্যালোচনা শেষে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেয়া হবে। সরকারের নির্যাতনের শিকার, গুম, খুন ও কারাবন্দি নেতাকর্মীদের পরিবারের খোঁজ নেয়া, মামলা ও তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থাসহ সার্বিক বিষয় নজরে আনা উচিত বলে বৈঠকে একাধিক নেতা সুপারিশ করেন। জেলা সফরকালে ২০ দলীয় জোট বিশেষ করে জামায়াত প্রসঙ্গে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি- এমন বক্তব্য দিতে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার দাবিটি জোরালোভাবে তুলে ধরতে তৃণমূল নেতাদের আহ্বান জানাতে বলা হয়েছে। আন্দোলনসহ যে কোনো পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে এমন বার্তাও দিতে হবে টিম প্রধানদের। বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ৫১টি দল সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় যাবেন। সেখানে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ও অনানুষ্ঠানিকভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলিত হবেন। আন্দোলন, নির্বাচনসহ সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে। ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি শেষ হবে ৭ মে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ সফরে দলের শক্তি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবেন।

দশ হাজার কোটি রুপির কার্যাদেশ পেল ভারতীয় কোম্পানি

বহুল আলোচিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১০ হাজার কোটি রুপির কার্যাদেশ পেয়েছে ভারতীয় কোম্পানি ‘ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যাল লিমিটেড (ভেল)’। সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নিয়ে ‘ভেল’ এ কার্যাদেশ পায়। বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) এ দরপত্র প্রদান করে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও ভারতের এনটিপিসি যৌথভাবে বিআইএফপিসিএল গঠন করেছে। বিআইএফপিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ভেল ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে এ অর্থ জোগান দেবে। এ নিয়ে ভেল ও এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে ভারতীয় কোম্পানিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশে যন্ত্রপাতি আনা শুরু করবে। এ জন্য তারা এলসি খোলাসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। জানা গেছে, আগামী ৪১ মাসের মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট (৬৬০ মেগাওয়াট) নির্মাণ করবে ভারতীয় কোম্পানি ভেল। এরপর ৪৮ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরের সময় গত ১০ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে এ নিয়ে এক চুক্তিপত্র বিনিময় হয়। ১৬০ কোটি ডলারের এ চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটির অর্থ সংস্থানের বিষয় (ফাইন্যান্সিয়াল ক্লোজার) নিশ্চিত হয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রামপাল প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী ‘বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)’-এর সঙ্গে প্রকল্পের ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সই হওয়া চূড়ান্ত চুক্তিপত্র ওই দিনই (১০ এপ্রিল) দু’পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিময় করা হয়। দিল্লিতে শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে সেই অনুষ্ঠানে বিআইএফপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য এবং এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড রাসকিনহা চুক্তিপত্র বিনিময় করেন। এ সময় ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, ভারতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন সিআইআইয়ের চেয়ারম্যান আদি গোদরেজ, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সচিব ও বিআইএফপিসিএলের চেয়ারম্যান আহমেদ কায়কাউস এবং উভয় পক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বছরের ১২ জুলাই ঢাকায় প্রকল্পের নির্মাণ ঠিকাদার ‘ভারত হেভি ইলেকট্রিক লিমিটেড (বিএইচইএল বা ভেল)’ ও বিআইএফপিসিএলের মধ্যে রামপাল প্রকল্পের নির্মাণ চুক্তি সই হয়। তারপর আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে শুধু অবশিষ্ট ছিল ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর। ইতিমধ্যে নির্মাণকাজ প্রাথমিকভাবে শুরু হয়ে গেছে বলেও প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিট নির্মাণে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে নির্মাণ ঠিকাদারের কাজে ব্যয় হবে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা (প্রায় ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার)।

রাজস্ব ঘাটতির জেরে বাজেট কাটছাঁট সাড়ে ২৩ হাজার কোটি টাকা

বড় অংকের রাজস্ব ঘাটতির মুখে বাজেটের লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। এ অবস্থায় চলতি বাজেট থেকে ২৩ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা কাটছাঁট করা হয়েছে। এতে বাজেটের সংশোধিত আকার দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে ৩২ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র যুগান্তরকে বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি- এই আট মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫২ শতাংশ। বাকি ৪ মাসে কোনোভাবেই ৪৮ শতাংশ রাজস্ব সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এনবিআরের আদায় কমে যাওয়া এবং রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে ২৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এ ছাড়া নন-এনবিআর ৭৫০ কোটি টাকা, কর বহির্ভূত রাজস্ব ৮ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। মূলত রাজস্ব আয় কাটছাঁট করতে গিয়েই পুরো বাজেট সংশোধন করতে হয়েছে। জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) জালাল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কিছুটা কমবে। যে কারণে বাজেট সংশোধন করা হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করছেন। তিনি বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে সংশোধিত বাজেটের পুরো অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে না।
২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত কোনো বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। বাজেটের টাকা খরচের অনুপাত ২০১২ সালে ছিল ৯৩ শতাংশ। ২০১৬ অর্থবছরে কমে তা ৭৮ শতাংশে এসেছে। তার ধারণা চলতি বাজেটের অর্থ ব্যয় সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৭২ শতাংশ হবে; এর বেশি নয়। এর ফলে সংশোধিত বাজেটের পুরো অর্থও ব্যয় হবে না। এতে বাজেট বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটের আকার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। কাটছাঁট করে সংশোধিত ব্যয়ের যে আকার দাঁড়িয়েছে তা জিডিপির ১৬ দশমিক ১ শতাংশ। চলতি বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। এখন সংশোধিত বাজেটে তা ২ লাখ ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে এনবিআর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর রাজস্ব ৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা থেকে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা এবং করবহির্ভূত রাজস্ব আয় ৩২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা থেকে কাটছাঁট করে ২৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে অনুন্নয়ন খাতের ব্যয়ও কমানো হয়েছে। এর মধ্যে অনুন্নয়ন রাজস্ব ব্যয় ১১ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা হ্রাস করা হয়। পাশাপাশি ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে ২ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা এবং মূলধনী ব্যয় হ্রাস করা হয় ১১ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় হ্রাস করা হয় ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা। তবে অনুন্নয়ন ব্যয়ে সরবরাহ ও সেবা খাতে ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা বেড়েছে। সম্পদ সংগ্রহ ও পূর্ত কাজে ১ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে বলে জানা গেছে। বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা।
সংশোধনী বাজেটে এ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২ লাখ ৬ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সরকারি বরাদ্দে কোনো কাটছাঁট করা হয়নি। ফলে ১ লাখ ১০ হাজার ৭শ’ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে বৈদেশিক সহায়তা কমানো হয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা। ফলে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নের ৮ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকাসহ মোট সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়াবে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। সূত্রে জানা গেছে, চলতি বাজেট কাটছাঁট করার ফলে সংশোধিত ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে। শুরুতে ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা ঘাটতি বাজেট ছিল। এখন এই ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা হয়েছে। ঘাটতি অর্থায়ন পূরণ করতে বৈদেশিক উৎস থেকে ৩৬ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। সংশোধিত বাজেটে এ খাতে কাটছাঁট করে ২৮ হাজার ৭৭১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা থেকে বাড়িয়ে ৭৭ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বগুড়ার আকাশে উড়ল শাদাবের ড্রোন

এবার বগুড়ার আকাশে ড্রোন উড়াল কলেজছাত্র শাদাব মোস্তফা। সোমবার অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান প্রযুক্তি মেলায় নিজের তৈরি ড্রোন উড়িয়ে তাক লাগিয়েছেন ওই ছাত্র। শাদাব মোস্তফার আবিষ্কৃত ড্রোন দেখতে মেলায় ভিড় করছেন দর্শক। বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকার বাসিন্দা ধুনট উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সানাউল মোস্তফা ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাহিনা পারভীন শিরিনের ছোট ছেলে শাদাব মোস্তফা শহরের আযিযুল হক কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র শাদাব তার আবিষ্কৃত ড্রোন সম্পর্কে জানান, ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু আবিষ্কারের ঝোঁক ছিল তার। বাবা, মা ও বড় ভাই বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির লেকচারার সাকিব মোস্তফার অনুপ্রেরণায় প্রায় ৪ মাস আগে ড্রোনটি তৈরি করেন তিনি।
২ কেজি ভার বহনযোগ্য ড্রোনটি তৈরি করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ২ কিলোমিটার পর্যন্ত চলাচল করতে সক্ষম ড্রোনটির যন্ত্রাংশ। এদিকে লালমনিরহাটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় প্রদর্শিত হয়েছে নবম শ্রেণীর ছাত্রের বানানো ড্রোন (চালকবিহীন আকাশ যান বা বিমান)। ড্রোন তৈরিকারী সাইয়েদুল মোস্তায়িন তরঙ্গ। হাতীবান্ধা এসএস মডেল হাইস্কুলের ছাত্র। বাড়ি উপজেলা সদরের দক্ষিণ সিন্দুর্ণা গ্রামে। তার বাবা শরফুল ইসলাম আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক। তিন ভাইয়ের মধ্যে তরঙ্গ ছোট। কিছুদিন আগে বাড়ির পাশেই থাকা কলেজ মাঠে নিজের তৈরি ড্রোন আকাশে উড়িয়ে সফল হয় এ শিক্ষার্থী। হাতীবান্ধা এসএস মডেল হাইস্কুলে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মেলার শেষ দিন মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায়, তরঙ্গ তার বানানো ড্রোন নিয়ে দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে।

ঠাণ্ডা গরমে মাথা ভার হলে

এখন মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে ভিজে ঠাণ্ডা লাগা, নাক বন্ধ বা সর্দি হওয়া, জ্বর জ্বর ভাব থাকা সমস্যা নিয়ে অনেকে ভুগছেন। যাদের সারা বছর হাঁচি, নাক বন্ধ থাকে তাদের এ সময়ে সমস্যা বেড়ে যায়।
কেন হয় : উপরের সমস্যাগুলো নাকে অ্যালার্জি বা সাইনাসে প্রদাহ থেকে সাধারণত হয়। নাক ও চোখের চারপাশে হাড়ের ভেতর কিছু বায়ুকোষ বা কুটুরি থাকে, যাকে সাইনাস বলে তা এ সিজনে অ্যালার্জি দিয়ে আক্রান্ত হলে সাইনাসে প্রদাহ বা সাইনুসাইটিস হয়। ভাইরাসজনিত সংক্রমণই প্রধান কারণ, অ্যালার্জি বা নাকের কাঠামোয় কোনো সমস্যা থাকলেও এমনটি হতে পারে।
প্রতিরোধ
- ঠাণ্ডা, ধোঁয়া, ধুলা থেকে দূরে থাকতে হবে।
- কুসুম গরম লবণ পানি দিয়ে নাক কয়েকবার পরিষ্কার করতে হবে বা গরম ভাপ নিতে হবে।
- নাকের ভেতর কোনো কেমিক্যাল যেমন- মেনথল, বেনজিন ব্যবহার না করা।
পরীক্ষা : নাক, কান, গলার সঠিক পরীক্ষা করাতে হবে। প্রয়োজনে সাইনাসের এক্স-রে করা যেতে পারে।
চিকিৎসা
- চিকিৎসকের পরামর্শে টপিক্যাল নেসাল স্টেরয়েড ব্যবহার করা যায়।
- নাকের ভিকনজেসটেন্ট ড্রপ স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করা যায়।
- নিদ্রাকারক নয় এমন এন্টিভিটামিন উপসর্গ নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করা হয়।
নাক, কান, গলারোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন
ইমপালস হাসপাতাল, তেজগাঁও, ঢাকা
মোবাইল ০১৭১৫০১৬৭২৭

যে খাবার মন ভালো রাখে!

মাঝে মাঝে মনটা অনেক খারাপ হয়ে যায়। তখন কিছুতেই প্রাণ খুলে হাসা যায় না। মানসিকভাবে সুস্থ না থাকলে সাধারণত আমাদের মন ভালো থাকে না। আর মন ভালো না থাকলে মুখে হাসি ফুটবে কী করে বলুন! তাই তো মনকে চাঙ্গা রাখাটা খুব জরুরি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একাধিক পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখেছেন, গত কয়েক দশকে সাধারণ মানুষের ওপর মানসিক চাপের নেতিবাচক প্রভাব কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আর এ অবস্থা যে কেবল আমাদের দেশেই, তা নয়। সারা বিশ্বের অবস্থা প্রায় একই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এমন কিছু খাবার আছে, যা নিমেষে আপনার মন ভালো করে দিতে পারে। এখন নিশ্চয় প্রশ্ন করবেন খাবারের সঙ্গে মনের সম্পর্ক কী? আমাদের শরীরে ডেপোমিন অথবা সেরোটোনিন হরমোনের ঘাটতি দেখা দিলে মন খারাপ হতে শুরু করে। আর এ ঘটতি মেটাতে বিশেষ কিছু খাবার আপনাকে দারুন সাহায্য করে। তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক, কী কী খাবার আপনার মনকে চাঙ্গা রাখতে সহযোগিতা করে;
মাছ: এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ডোপেমিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দিয়ে চোখের পলকে মনকে একেবারে চাঙ্গা করে তোলে।
তিসি বীজ: মাছের মতোই তিসি বীজেও রয়েছে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এ উপাদানটি ডোপেমিনের পাশপাশি সেরাটোনিনের উৎপাদনও বাড়িয়ে দেয়। ফলে মন খারাপ দূরে পালায়।
মাশরুম: এতে রয়েছে ভিটামিন বি-৬, যা ডিপ্রেশন দূর করতে বিশেষভাবে কাজে আসে। তাই এবার থেকে যখনই মন খারাপ হবে, তখনই মাশরুমের নানা পদ বানিয়ে নিজেও খাবেন, পরিবারের বাকি সদস্যদেরও খাওয়াবেন।
মসুর ডাল: শরীরে সেরোটোনিন হরমোনের ঘাটতি দূর করতে ফলিক অ্যাসিড বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই উপাদানটি প্রচুর মাত্রায় রয়েছে মসুর ডালে। তাই তো চটজলদি মন ভালো করতে এর কোনো বিকল্প নেই।
কাজুবাদাম: এ বাদামে বিপুল পরিমাণে জিঙ্ক রয়েছে। এ খনিজটি মন ভালো করতে নানাভাবে সাহায্য করে।
কলা: সেরোটনিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়াতে পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম দারুন ভাবে সাহায্য করে। এ দুটি খনিজ রয়েছে কলায়। তাই তো মন ভালো করতে বেশি করে কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ছোলা: ছোলায় উপস্থিত প্রোটিন ব্রেন সেলের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে নিমেষে মন চাঙ্গা হয়ে ওঠে। ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদের চিকিৎসাতেও এই খাবারটি দারুন কাজে আসে। তাই এবার থেকে মন ভালো না থাকলেই উল্লেখিত খাবারগুলো খাবেন। দেখবেন অল্প সময়েই মনের কালো মেঘ কেটে যাবে।