Friday, July 19, 2013

নীরবেই কাটল ম্যান্ডেলা-ম্যাশেলের বিবাহবার্ষিকী

অন্তরঙ্গ মুহূর্তে নেলসন ম্যান্ডেলা ও গ্রাসা ম্যাশেল
বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তিতুল্য নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার ৯৫তম জন্মদিন পালিত হলো গতকাল বৃহস্পতিবার। একই দিন ছিল গ্রাসা ম্যাশেলের সঙ্গে তাঁর বিয়ের ১৫তম বার্ষিকী। দিনটি নীরবেই উদ্যাপন করলেন এ দম্পতি। একই সঙ্গে জন্মদিন আর বিবাহবার্ষিকীর মতো আনন্দের দিনটি ম্যান্ডেলার কেটেছে হাসপাতালের শয্যায়। কিন্তু খুব খারাপ কাটেনি। কারণ প্রিয়তমা স্ত্রী গ্রাসা ম্যাশেল গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গ দিয়েছেন তাঁকে। ছয় সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই ম্যান্ডেলার পাশে রয়েছেন ম্যাশেল। এ সময়ে তিনি ম্যান্ডেলার অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত কোনো কর্মসূচিতেও যোগ দেননি। জোহানেসবার্গের বাসায় পর্যন্ত যাননি। ম্যান্ডেলার চেয়ে বয়সে ২৭ বছরের ছোট মোজাম্বিকের মেয়ে ম্যাশেল। তাঁদের বিয়ে হয় ১৯৯৮ সালের ১৮ জুলাই ম্যান্ডেলার জন্মদিনে। ম্যাশেলেরও এর আগে বিয়ে হয়েছিল। তাঁর প্রথম স্বামী মোজাম্বিকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সামোরা ম্যাশেল রহস্যজনক বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। সে দুঃখজনক ঘটনার ১২ বছর পর ম্যান্ডেলাকে বিয়ে করেন ম্যাশেল। অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্ত্রী উইনি ম্যান্ডেলার সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর ম্যান্ডেলা একা কাটিয়েছিলেন দুটি বছর। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ম্যান্ডেলা ২০০৭ সালে ম্যাশেলকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘যখন আমি একা থাকি, তখন নিজেকে খুব দুর্বল লাগে।’ এ জন্যই হয়তো ম্যাশেল-ম্যান্ডেলার বিবাহবার্ষিকীর আগ মুহূর্তে তাঁদের নিয়ে ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আইনজীবী জর্জ বিজোসের মন্তব্য: ‘তারা এক প্রেমিক দম্পতি।’ এএফপিকে তিনি বলেন, ‘ম্যান্ডেলা ও ম্যাশেল একত্রে থাকতে পেরে খুবই সুখী। ম্যাশেল স্বামীর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।’ এ জুটির বিয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার আর্চবিশপ শান্তিতে নোবেলজয়ী ডেসমন্ড টুটু বলেছিলেন, ম্যান্ডেলার জন্য ম্যাশেল যে আনন্দ বয়ে এনেছেন, সে জন্য তাঁর কাছে দক্ষিণ আফ্রিকাবাসী চিরঋণী। এএফপি।

গান্ধীর খোঁজে আফ্রিকার মহাত্মা

মহাত্মা গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলা
৯৫ বছর আগে ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই জন্ম নেলসন ম্যান্ডেলার। এরও প্রায় তিন বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে নিজ দেশ ভারতে চলে আসেন মহাত্মা গান্ধী। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ আকৃষ্ট করেছে পরিণত বয়সের ম্যান্ডেলাকে। সেই ভক্তির প্রমাণ দিতে ভারত সফরে এসে তাই আহমেদাবাদে যেতে ভোলেননি দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি। নেলসন ম্যান্ডেলা তাঁর দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ভারত সফরে আসেন ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে। সে বছরের ২৭ জানুয়ারি তিনি গান্ধীর স্মৃতিবিজড়িত আহমেদাবাদে যান। পরিদর্শন করেন গান্ধীর সবরমতি আশ্রম। সেদিন আহমেদাবাদে যাঁরা ম্যান্ডেলার সংস্পর্শে এসেছিলেন তাঁরা বলেছেন, ওই দিন একজন মহাত্মাকেই তাঁরা পেয়েছিলেন। ‘ম্যান্ডেলাকে দেখার পর অনুভব করলাম, মহাত্মা গান্ধীকে কাছে পাওয়ার পর মানুষের কেমন অনুভূতি হতো,’ এ কথা বলেছেন ইলা ভাট। ভারতের সেল্ফ এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। এ ছাড়া বিশ্বে শান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০০৭ সালে ম্যান্ডেলার গড়া প্রতিষ্ঠান ‘এলডারস’-এর একমাত্র ভারতীয় সদস্য ইলা ভাট। ১৯৯০ সালে ম্যান্ডেলার প্রথম ভারত সফরের সময়ও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল ইলা ভাটের। তিনি বলেন, ‘সেই মুখ আর তা থেকে ঝরে পড়া মমতা আমি কখনোই ভুলব না।’ সবরমতি আশ্রম পরিদর্শনের সময় ম্যান্ডেলা মহাত্মা গান্ধীর কক্ষ এবং তাঁর স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধীর রান্নাঘর ঘুরে দেখেন। তাঁদের অনাড়ম্বর জীবন যাপনের চিত্র দেখে বিস্মিত হন দক্ষিণ আফ্রিকার নেতা। পরিদর্শন বইতে তিনি লেখেন, ‘এই আশ্রম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের হূদয় ভরে ওঠে ভালো লাগার এক অপূর্ব অনুভূতিতে।’ টাইমস অব ইন্ডিয়া।

আত্মসাতের দায়ে পুতিনবিরোধী নেতা নাভালনির কারাদণ্ড

রাশিয়ার একটি আদালত গতকাল বৃহস্পতিবার সে দেশের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সুপরিচিত নেতা আলেক্সেই নাভালনিকে অর্থ আত্মসাতের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ সাজার কারণে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে কট্টর সমালোচকদের অন্যতম নাভালনি রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হতে পারেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, নাভালনি এক কাঠ বিক্রির ঘটনা থেকে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বিচারক সের্গেই ব্লিনোভ রায়ে বলেন, কাঠ বিক্রিবিষয়ক ওই চুক্তি থেকে নাভালনি পাঁচ লাখ ডলারের সমপরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। উত্তর রাশিয়ার কিরোভ অঞ্চলে ওই চুক্তির সময় নাভালনি স্থানীয় সরকারের অবৈতনিক উপদেষ্টা ছিলেন।
নাভালনি (৩৭) পুতিনের কট্টর সমালোচক এবং পুতিনবিরোধী আন্দোলনের সোচ্চার কণ্ঠ। মস্কোর আগামী মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। মামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে নাভালনি বলেছেন, রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে। মেয়র নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে নাভালনি তাঁর সমর্থকদের ভোট বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই অপরাধে নাভালনির সহযোগী পিওতর অফিতসেরোভকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর নাভালনি তাঁর স্ত্রী ও মাকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর বাবার সঙ্গে করমর্দন করেন। পরে তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়া হয়। পুতিনবিরোধী আন্দোলনের কর্মীরা এই রায়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। নাভালনিকে রাজনৈতিক উদ্দেশে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। রায় ঘোষণার আগে থেকেই নাভালনির সমর্থকেরা কিরোভ শহরের আদালতের বাইরে ‘পুলিশি শাসন নিপাত যাক’ বলে স্লোগান দেন। বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীর পরনে ছিল ‘পুতিন চোর’ লেখা টি-শার্ট। কিরোভ মস্কো থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। এএফপি ও বিবিসি।

তোপের মুখে তৃণমূল নেতা

দলের লোকদের পুলিশকে বোমা মারার পরামর্শ দিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। অনুব্রত গত বুধবার বোলপুরের কসবা পঞ্চায়েত এলাকায় এক জনসভায় নির্দলীয় প্রার্থীদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘কসবাতে যদি কোনো নির্দল প্রার্থী কারও বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয়, তার বাড়িটা ভেঙে জ্বালিয়ে দিন। ...আর যদি কোনো প্রশাসন ভাবে নির্দলকে সমর্থন করবে, সেই প্রশাসনের পুলিশের ওপর বোমা মারুন। আমি বলছি বোমা মারতে।’ অনুব্রত মন্ডলের এই বক্তব্য গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতার সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপিসহ সব বিরোধী দলের নেতারাই একবাক্যে দাবি তুলেছেন, এই বক্তব্যের জন্য অনুব্রত মন্ডলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। ইতিমধ্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এর আগেও বীরভূম জেলার এই নেতা পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় রামপুরহাটে এক জনসভায় বলেছিলেন, ‘কংগ্রেস-সিপিএম আমাদের শত্রু। কাউকে মনোনয়ন জমা দিতে দেবেন না। দরকার হলে আমাকে ডাকবেন। আমি আপনাদের পাশে থাকব।’

নীরবতা ভাঙল উত্তর কোরিয়া আটক জাহাজ ফেরতের দাবি

পানামায় নিজেদের জাহাজ আটক করার বিষয়ে নীরবতা ভেঙেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি আটক জাহাজটি ফেরত দেওয়ার জন্য পানামার কাছে দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে পানামা জাহাজটিতে পরিদর্শন চালাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার মিত্র কিউবা ইতিমধ্যে বলেছে, ওই জাহাজে তাদের কিছু সেকেলে অস্ত্র মেরামতের জন্য এশীয় দেশটিতে পাঠানো হয়েছিল। উত্তর কোরিয়ার বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির প্রকাশ করা (কেসিএনএন) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ওই কার্গো পুরোনো কিছু অস্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। একটি বৈধ চুক্তির আওতায় ওই অস্ত্রগুলো মেরামতের পর কিউবায় ফেরত পাঠানোর কথা ছিল।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আটক জাহাজটি এবং এর নাবিকদের কোনো প্রকার বিলম্ব না করে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে পানামার কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, জাহাজটির ওই চালান কিউবার সঙ্গে সম্পাদিত একটি বৈধ চুক্তির আওতাভুক্ত। এর আগে কিউবা বলেছিল, চোং চোন গ্যাং নামের জাহাজটিতে পরিবহন করা মূল চালান চিনির সঙ্গে থাকা সামরিক অস্ত্র-সরঞ্জামগুলো সোভিয়েত আমলে তৈরি। ‘সেকেলে’ ওই ক্ষেপণাস্ত্র এবং যন্ত্রপাতিগুলো উত্তর কোরিয়ায় মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছিল। উত্তর কোরিয়াও এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছে। পানামা গত সোমবার প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে সংযোগকারী পানামা খাল পার হয়ে কিউবার দিকে অগ্রসর হতে থাকা জাহাজটি আটক করে। মাদকদ্রব্যের চালান রয়েছে, এমন সন্দেহে তাতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র পাওয়ার তথ্য প্রকাশ করে দেশটি। এ ঘটনার সময় জাহাজটির ক্যাপ্টেন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছিলেন পানামার প্রেসিডেন্ট রিকার্ডো মার্টিনেইলি। জাহাজে থাকা মালামালের ব্যাপারে এর ৩৫ জন নাবিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে পানামার মাদকবিরোধী আদালতের অভিযোক্তা হাভিয়ার কারাবালো বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন। পুলিশ জাহাজটির চিনির বস্তাগুলো খালাস করছে। তারা আরও অস্ত্র লুকানো আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এদিকে পানামার কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা আটক জাহাজটিতে অনুসন্ধান চালাতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী হোসে রাউল মুলিনো বলেন, ‘বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের হাতে হস্তান্তর করা হচ্ছে। কী করতে হবে সে ব্যাপারে তারাই সিদ্ধান্ত নেবে।’ জাহাজটির সব মালামাল নামানো শেষ হলে আগস্ট মাসের শুরুর দিকে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচজন তদন্তকারী পানামায় পৌঁছাবেন বলে দেশটির সরকার আশা করছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন পানামার পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিষদের অবরোধ কমিটি বিষয়টিকে দ্রুততার সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপরে জাতিসংঘের যে অবরোধ বলবৎ রয়েছে, তার আওতায় দেশটি ক্ষুদ্র অস্ত্র ছাড়া কোনো প্রকার অস্ত্র আমদানি বা রপ্তানি করতে পারে না। ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আগেও বিভিন্ন সময়ে দেশটির সন্দেহভাজন জাহাজে তল্লাশি করা হয়েছে। রয়টার্স ও এএফপি।

জন কেরির পরিকল্পনায় পরিবর্তন চায় ফিলিস্তিন

পশ্চিম তীরে গতকাল ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে
হাস্যোজ্জ্বল প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ষ এএফপি
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার ব্যাপারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির পরিকল্পনা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি নেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরের রামাল্লায় এক জরুরি বৈঠক শেষে নেতারা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। জন কেরির পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ চলতে থাকলেও দুই পক্ষের আলোচনা শুরু করতে হবে। এ বিষয়টি মানতে নারাজ ফিলিস্তিনিরা। তাঁদের মূল দাবি, শান্তি আলোচনা শুরু হলে অবশ্যই বসতি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। ফিলিস্তিনের ক্ষমতাসীন ফাতাহ মুভমেন্টের রেভল্যুশনারি কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল আমিন মকবুল বলেন, ফাতাহ কেরির পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন চায়... মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে পরিকল্পনা পেশ করেছেন, তা ফিলিস্তিনের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক নয়। এর আগে ফিলিস্তিনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেরির উদ্যোগে আলোচনা শুরুর প্রস্তাবে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের কাজ বন্ধের বিষয়টি নেই।’ তিনি বলেন, ইসরায়েল যদি বসতি সম্প্রসারণের কাজ চালিয়ে যায়, তাহলে ফিলিস্তিন আবারও আন্তর্জাতিক সংস্থায় বিষয়টি তুলে ধরবে এবং এ ব্যাপারে ইহুদি রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাবে। চলতি সপ্তাহে জর্ডানে মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেন জন কেরি। ওই বৈঠকে তিনি শান্তি আলোচনা আবার শুরুর প্রস্তাব দেন। কেরির প্রস্তাবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ভোটের কথা বিবেচনা করেন আব্বাস। তবে ফিলিস্তিনিরা এখনো আগের অবস্থানেই অনড়। আলোচনা শুরুর আগে অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। এদিকে আরব লিগের প্রধান নাবিল আল-আরাবি ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা কেরির শান্তির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। জর্ডানে অবস্থানরত জন কেরি গত বুধবার বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ছয়বার মধ্যপ্রাচ্য সফর করেছেন। তাঁর এই সফর ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে। নেতানিয়াহুর মন্তব্য প্রত্যাহার: এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের আগের সীমানা মেনে নিতে রাজি বলে যে কথা বলেছিলেন, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নেতানিয়াহুর মুখপাত্র মার্ক রেগেভ বলেন, যে প্রতিবেদনে ওই মন্তব্য করা হয়েছে তা ‘অসত্য’। এএফপি ও রয়টার্স।

খাবারে কীটনাশক ছিল: চিকিৎসক

পূর্ব ভারতের বিহারে টিফিন খেয়ে মৃত্যুবরণ করা শিশুদের ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, খাদ্যে বা রান্নার তেলে কীটনাশক ছিল। একজন চিকিৎসক গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন। এদিকে এতগুলো শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে পূর্ব ভারতের দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর হাজার হাজার শিশু আর বিনা মূল্যের টিফিন খেতে চাচ্ছে না। পাটনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অমরকান্ত ঝা বলেন, বিদ্যালয় থেকে উদ্ধার করা আলামতগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। তবে যেসব শিশু মারা গেছে, তাদের খাদ্যে বা খাদ্য তৈরির জন্য তেলে কীটনাশকের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত। বিস্তারিত জানতে কর্তৃপক্ষ এখন রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে। মঙ্গলবারের মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুমৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩। ২৫টি শিশু ও বিদ্যালয়ের বাবুর্চি এখনো হাসপাতালে। অমর বলেন, চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে ওই বিষাক্ত খাদ্যের প্রভাব আর পড়বে না। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর এসব শিশুর শরীরের কোষগুলো বিষমুক্ত হয়ে যাবে। এদিকে এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় পূর্ব ভারতে হাজার হাজার শিশু স্কুলশিক্ষার্থী বিনা মূল্যের টিফিন খেতে চাইছে না। ভীতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ওইসব শিশু ও তাদের অভিভাবকদের বোঝানোর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। এই শোকাবহ ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু বিহারের সারণ জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকাকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। বিহারের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, সব খানে শিশুরা তাদের বিদ্যালয় থেকে দেওয়া টিফিন ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছে। তারা এমনকি ওই খাবার স্পর্শও করতে চাইছে না। এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে শিক্ষকেরা আশ্বাস দিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এএফপি, এপি ও রয়টার্স।

জনগণের ওপর নজরদারি ‘সঠিক পথে ছিল না’

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের ওপর প্রশাসনের নজরদারি ‘সঠিক পথে ছিল না’ বলে মত দিয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। জনগণের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের কঠোর সমালোচনা করেছেন তাঁরা। এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণ সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মস্কো যাবেন কি না, তা নিশ্চিত করেনি হোয়াইট হাউস। মার্কিন কংগ্রেসের জুডিশিয়ারি কমিটিতে গত বুধবার শুনানিতে অংশ নেন ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টির নেতারা। শুনানিতে তাঁরা মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করে জনগণের ওপর নজরদারি করতে ফোন রেকর্ড সংগ্রহ করার কঠোর সমালোচনা করেন। এভাবে নজরদারি করায় প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনাও করেন আইনপ্রণেতারা। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত আইনপ্রণেতা জো লফগ্রেন বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে মনে করি, জনগণের ওপর নজরদারির বিষয়টি সঠিক পথে ছিল না।’ মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন জনগণের অনলাইন তৎপরতা ও ফোন রেকর্ডের ওপর প্রশাসনের ওই নজরদারির খবর ফাঁস করে দেন। স্নোডেন গত ২৩ জুন থেকে রাশিয়ার শেরেমেয়িতেভো বিমানবন্দরের ট্র্যানজিট এলাকায় অবস্থান করছেন। নজরদারি তথ্য ফাঁস করায় স্নোডেনের বিরুদ্ধে" মামলা করেছে মার্কিন বিচারবিভাগ। মামলার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে হংকং যান স্নোডেন। সেখান থেকে রাশিয়া পৌঁছান তিনি। মার্কিন বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, ফোন রেকর্ড বা অনলাইন বার্তা সংগ্রহের পর গোপন আদালতের মাধ্যমে আইনি দিক খতিয়ে দেখা হয়। এরপর জঙ্গি হামলা ঠেকাতে আইনের আওতায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস কোল হাউস জুডিশিয়ারি কমিটিকে বলেন, ‘আমাদের এই প্রকল্প ও অন্যান্য গোয়েন্দা কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই পরিচালনা করা হয়।’ এর জবাবে আইনপ্রণেতারা বলেন, নাইন-ইলেভেনের পর প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টের (দেশপ্রেমবিষয়ক আইন) আওতায় খুব সামান্য পরিসরে নজরদারিকে বৈধতা দেওয়া হয়। তা-ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা হুমকির ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জন কনিয়ার্স বলেন, মার্কিন গোয়েন্দাদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছে। এটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। শুনানিতে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নজরদারির মাধ্যমে কয়েকটি সন্ত্রাসবাদী হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেওয়ার উদাহরণ তুলে ধরেন। এদিকে ওবামার মস্কো সফর নিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনি গত বুধবার বলেন, ‘নতুন করে কোনো ঘোষণা নেই। সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্টের রাশিয়া সফরের কথা রয়েছে।’ সেপ্টেম্বরে রাশিয়ায় জি-২০ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তবে ওই সম্মেলনের আগেই মুখোমুখি আলোচনার জন্য একবার মস্কো সফরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন পুতিন। গত ১৭ জুন ওই আমন্ত্রণে সাড়াও দিয়েছিল হোয়াইট হাউস। কিন্তু স্নোডেনকে নিয়ে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন পরিস্থিতি সেপ্টেম্বরের আগে ওবামার রাশিয়া সফর নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করেছে। আর এ ব্যাপারে জে কারনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। এএফপি ও রয়টার্স।

মুরসিকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানাল ইইউ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে মিসরের সেনাবাহিনী গৃহযুদ্ধ থেকে দেশকে রক্ষা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। মিসরে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইইউ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। এ সংকট নিয়ে আলোচনা করতে ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন এখন কায়রোতে অবস্থান করছেন। বুধবার তিনি মিসরের নতুন নেতা, মুরসিবিরোধী আন্দোলন তামারোদের তৃণমূল পর্যায়ের সদস্য এবং মুরসির সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির (এফজেপি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ইইউর এই শীর্ষ কূটনীতিক ক্ষমতাচ্যুত মুরসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হননি। সেনাবাহিনী তাঁকে ৩ জুলাই ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখেছে। ক্যাথেরিন অ্যাস্টন বুধবার কায়রোতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে মুরসিকে মুক্তি দেওয়া হবে। আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে তিনি ভালো আছেন। আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম।’ গত সোমবার কায়রো সফরকারী মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি ব্রাদারহুডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। তামারোদের নেতারাও তাঁর সঙ্গে বৈঠক প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। অ্যাস্টনের সঙ্গে বুধবারের বৈঠক প্রসঙ্গে এফজেপির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমর দারাগ দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মিনাকে বলেন, তাঁদের প্রতিনিধিরা ইইউকে আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে যাননি। অ্যাস্টনের অনুরোধেই ওই বৈঠক হয়েছে। অ্যাস্টনের কায়রো সফরের মধ্যেই মুরসিপন্থী হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বুধবার কায়রোর রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন। নতুন অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভা গঠনের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ব্রাদারহুড। সংগঠনটি নতুন মন্ত্রিসভাকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছে। কয়েক হাজার মুরসিপন্থী বিক্ষোভকারী মন্ত্রিসভার সদর দপ্তরের বাইরে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। তাঁরা কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যান। বিক্ষোভকারীরা হাতে ‘শহীদের জন্য প্রতিশোধ’, ‘সামরিক শাসন নিপাত যাক’ ইত্যাদি লেখাসংবলিত ব্যানার বহন করলেও বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। এদিকে মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে জর্ডান সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বুধবার বলেছেন, মিসর একটি গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। সামরিক বাহিনী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর আরব দেশটিকে মার্কিন সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি একটি বড় বিবেচ্য বিষয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে মুসলিম ব্রাদারহুড অভিযোগ করেছে, সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ক্যাথেরিন অ্যাস্টন কায়রোতে ইসলামপন্থীদের সঙ্গে বৈঠক করার পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার এই অভিযোগ করে সংগঠনটি। এএফপি ও রয়টার্স।

মাদিবার জন্মদিনে সহস্র শুভকামনা

নেলসন ম্যান্ডেলার সদ্য ইস্যু করা জাতীয় পরিচয়পত্র
হাতে মেয়ে জিন্দজি ষ ছবি: এএফপি
স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে—এ সুখবরের মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালের শয্যায় ৯৫তম জন্মদিন পার করেছেন নেলসন ম্যান্ডেলা। সারা দেশে প্রার্থনা ও স্বেচ্ছায় ৬৭ মিনিট জনসেবামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করা হলো এই কিংবদন্তির জন্মদিন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে গতকাল বলা হয়, চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন, মাদিবার (ম্যান্ডেলার গোত্র নাম) শারীরিক অবস্থার ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। ম্যান্ডেলার নাতনি এন্ডিলেকা ম্যান্ডেলা জানিয়েছেন, মাদিবা এখন অনেক বেশি সাড়া দিচ্ছেন। ডাকলে চোখ মেলে তাকাচ্ছেন। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টের সম্মানে ঘোষিত আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেলা দিবসও উদ্যাপন করা হয়। নোবেল বিজয়ী এ রাষ্ট্রনায়কের সম্মানে ২০১০ সালে তাঁর জন্মদিনটিকে আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেলা দিবস ঘোষণা করে জাতিসংঘ। ফুসফুসে মারাত্মক সংক্রমণের শিকার ম্যান্ডেলা প্রিটোরিয়ার মেডি ক্লিনিক হার্ট হাসপাতালে ভর্তির পর গতকাল ৪১ দিন পার করেছেন। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল হাসপাতালের বাইরে হাজারো ভক্ত জড়ো হয়। মাদিবার আরোগ্য কামনা করে প্রার্থনায় যোগ দেয় তারা। সেখানে অ্যাজনেস শিলোওয়ানে নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজ টাটা (বাবা) আমাদের মাঝে রয়েছেন। আবারও প্রমাণ করেছেন, তিনি কত বড় বীর।’ শান্তিতে নোবেলজয়ী ম্যান্ডেলাকে তাঁর দেশের অনেকেই শ্রদ্ধাভরে টাটা বলে ডাকেন।
হাসপাতালের বাইরে ভক্তদের রেখে যাওয়া ফুল সাজিয়ে এভাবেই ৯৫তম
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয় ম্যান্ডেলাকে ষ ছবি: এএফপি
হাসপাতালের বাইরে সমবেত হয় বিভিন্ন স্কুলের হাজারো শিক্ষার্থী। তারা কবিতা আবৃত্তি করে। সেবিকাদের হাতে তুলে দেয় মাদিবাকে লেখা শুভেচ্ছাবার্তা। সারা বিশ্ব থেকেও আসে শুভেচ্ছাবার্তা। এমনকি মহাকাশে থাকা আন্তর্জাতিক গবেষণাকেন্দ্র থেকেও নভোচারীরা তাঁকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিজ দেশের নাগরিকদের গতকাল ম্যান্ডেলার জন্মদিন উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করার আহ্বান জানান। এক বার্তায় ওবামা বলেন, ‘আমরা চিরকাল তাঁর (ম্যান্ডেলার) কাছ থেকে নৈতিক সাহসিকতা, দয়া ও মানবিকতার অনুপ্রেরণা পাব।’ তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাই লামা, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তাঁর স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, মার্কিন অভিনেতা মরগ্যান ফ্রিম্যান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ক প্রমুখও শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। শান্তিতে ম্যান্ডেলার সঙ্গে যৌথভাবে নোবেলজয়ী ডি ক্লার্ক এক বার্তায় বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে ম্যান্ডেলার স্থান চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। মাদিবার দুঃসাহস, অধ্যবসায় ও মহানুভবতা সারা বিশ্বের মানুষকে যুগ যুগ ধরে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে। ম্যান্ডেলা তাঁর জীবনের ৬৭ বছর সক্রিয়ভাবে দেশের সেবা করে গেছেন। তাই গতকাল তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ৬৭ মিনিট স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের আহ্বান জানানো হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে মানুষ এতে সাড়া দেয়। প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা বলেন, ‘উন্নততর মানবসমাজ গঠনের লক্ষ্যে নিঃস্বার্থ কাজের মধ্য দিয়ে আমরা যেন আমাদের প্রিয় মাদিবার আত্মত্যাগ ও অবদানকে স্মরণ করি।’ গতকাল ম্যান্ডেলার তৃতীয় স্ত্রী গ্রাসা ম্যাশেলসহ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালেই মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। এএফপি।

ধর্ম মাহে রমজানে দান-সাদকা করুন by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মাহে রমজানে রোজা পালন মানুষকে দানশীলতা, বদান্যতা, উদারতা ও মহত্ত্বের শিক্ষা দেয়। কোনো প্রকার অপচয় না করে রোজার মাসে মানুষের সেবায় দান-সাদকা করলে অভাবক্লিষ্ট মানুষের কল্যাণ হয় এবং মানবতা উপকৃত হয়।

মন্ত্রী-সাংসদদের সুপারিশ-ব্যবস্থা বাতিল হোক ঘাট ইজারা



তাঁরা ছাপোষা আমলা নন, রীতিমতো মন্ত্রী ও সাংসদ। সমাজপতিদের পতি। তাঁদেরই সুপারিশে ৩৬২টির মধ্যে ১৪৩ ঘাট নিজেদের লোকদের ইজারা-সংক্রান্ত অনিয়মের সংবাদটি তাই খুবই হতাশাব্যঞ্জক।

বাস্তবায়নই সরকারের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ সংশোধিত শ্রম আইন

তাজরীন ও রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা বাতিলের পটভূমিতে অবশেষে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০১৩ পাস হলো। শ্রমিক, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক ক্রেতামহলের প্রধান দাবি শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার এই আইনে স্বীকার করা হয়েছে, যদিও সে ক্ষেত্রে বিধিনিষেধও কম নয়।

কলকাতার চিঠি লাল আতঙ্ক তাড়া করছে মমতাকে by অমর সাহা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন লাল আতঙ্কে ভুগছেন। তাড়া করছে লাল আতঙ্ক। যেখানেই যান সেখানেই তিনি দেখতে পান সিপিএম আর মাওবাদীদের লাল ঝান্ডা।

সাক্ষাৎকার এটা সামরিক অভ্যুত্থান নয় by এল বারাদি

মিসরের অন্তর্বর্তী সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার কয়েক দিন আগে জার্মান সাময়িকী ডের স্পিগেলকে একটি সাক্ষাৎকার দেন উদারপন্থী রাজনীতিক এল বারাদি। তার উল্লেখযোগ্য অংশ:

৭ দিন

১০ জুলাই
 চীনের সিচুয়ান প্রদেশে ভূমি ধসে ৪০ জনের মৃত্যু।
 পাকিস্তানে বোমা হামলায় প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত।

নাটকের মূল চরিত্ররা নতুন ঘূর্ণাবর্তে মিসর by শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া

আবার রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে পড়ল মিসর। অশান্তির নতুন ঘূর্ণাবর্তে খাবি খাচ্ছে শান্তিকামী সাধারণ মানুষ। তারা জানে না, স্থিতিশীলতার সেই সোনার হরিণ কত দূর। কীভাবেই বা ফিরবে বিধ্বস্ত অর্থনীতির সুদিন।

ইংরেজি শেখার সফটওয়্যার by হাসান ইমাম

অনেক শিক্ষার্থী ঠিকমতো বুঝতে পারে না বলেই ইংরেজিকে ভয় পায়। আর তাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এ কারণে অনেকেই পিছিয়ে পড়ে।
এসব শিক্ষার্থীর জন্য এসেছে নতুন একটি সফটওয়্যার; যেখানে তারা অ্যানিমেশনের মাধ্যমে শিখতে পারবে ইংরেজি ব্যাকরণ।

অ্যাপস কর্নার স্পিডটেস্ট ডট নেট

মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট গতি বেশি হলে অভিজ্ঞতাটা ভালো হয়। অনেকেই মোবাইল সংযোগের নানা প্যাকেজ নিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। আপলোড ও ডাউনলোড গতির বিস্তারিত জানা যাবে স্পিডটেস্ট ডট নেট অ্যাপ থেকে।

আড্ডায় শিশুরা জানল প্রোগ্রামিং by আছিব চৌধুরী

আচ্ছা স্যার, প্রোগ্রাম ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য কী? প্রোগ্রামিং দিয়ে কী হয়? কীভাবে আমরা প্রোগ্রামিং শুরু করব? কীভাবে আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় যোগ দেব? গুগুলে চাকরি পেতে কী করতে হবে?’ এমন নানা প্রশ্ন শিশু-কিশোরদের।

অভিমত লক্ষ্য এক বিলিয়ন by রাসেল টি আহমেদ

তারুণ্য আর তথ্যপ্রযুক্তি শব্দ দুটি আজ সমার্থক। কম্পিউটার সফটওয়্যারের পথিকৃৎ বিল গেটস থেকে শুরু করে হালের মার্ক জাকারবার্গ—সবাই তাঁদের তারুণ্যেই নিজ নিজ উদ্ভাবন দিয়ে বিশ্ব জয় করেছেন।

গুগল মানচিত্রে ঢাকার অপরাধ by নুরুন্নবী চৌধুরী

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির নানা ব্যবহার আমাদের দেশেও হচ্ছে। মূলত সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই সেবা পেতে পারে, তার জন্যই প্রযুক্তিনির্ভর নানা কার্যক্রম। এবার এ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

শৌখিনদার হুমায়ূন by সালেহ চৌধুরী

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে আমাদের এই আয়োজন।

হুমায়ূন আহমেদ চলে যাওয়ার পর বছর ঘুরে এল।

চারুশিল্প নিঃশব্দ হুইসেল by মোবাশ্বির আলম মজুমদার

শিল্পীর অনুভবে থাকা বিষয়কে শিল্পকর্মে প্রকাশ করাই শিল্পীর সাফল্য বলে বিবেচিত। এ প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘হুইসেল’-এ ছয়জন তরুণশিল্পীর গড়া গোষ্ঠী ‘জংশন’। তাঁরা দর্শকদের মধ্যে নিজেদের অভিজ্ঞতার বিনিময় করতে চান শিল্পকর্ম দিয়ে।

সুপ্রভাত by ইমতিয়াজ মাহমুদ

যদি থুতু ছিটাতে ভালো লাগে তো ছিটাও
ওই থুতুও ফুল হয়ে ফুটে উঠতে পারে!
রক্ত
বেয়ে
বেয়ে
ওঠা যায় যেমন
হাড়-কলজের পাহাড়ে!
তবু কেউ ঠায় বসে থাকে
আর ডাকে ‘জাগো জাগো’
আমি থুতুতে ফুল ফুটিয়ে
ঘুমহারা কণ্ঠে বলি,
ভাগো—
ভাগো হে লুম্পেন সুরকার
জেগে উঠবার জন্য
আমার ঘুমিয়ে পড়া দরকার!

কবিতা কান্না, কিংবা চোখের অসুখ by বদরে মুনীর

বিষণ্ন গাছের সামনে নিজেকে তোমার কেন বোকা বোকা লাগে,
অশেষ পাতকী মনে হয়?

হুমায়ূন by আন্দালিব রাশদী

লেখকদের মধ্যে আমার অপছন্দের শীর্ষের স্থায়ী আসনটি হুমায়ূন আহমেদের। অপছন্দের আরও কেউ কেউ আছেন, কিন্তু তাঁদের নাম শুনলেই মেজাজ খারাপ হয় না।

অন্য দুনিয়া প্রতীকের জগৎ

চিত্রকর্মে আঁকা থাকে কত শত জিনিস। শিল্পী ও শিল্পসমালোচকদের মতে, একটি চিত্রকর্মের প্রতিটি উপাদানেরই আছে ভিন্ন ভিন্ন মানে। একেকটি উপাদান একেক বিষয়ের ইঙ্গিত বহন করে।

কীভাবে এল ভিজিটিং কার্ড

একটা জায়গায় চাকরি করেন আর আপনার পকেটে কোনো ভিজিটিং কার্ড নেই, ব্যাপারটা একটু বিব্রতকরই। কথায় কথায় কেউ ভিজিটিং কার্ড চেয়ে বসার পর তা দেখাতে না পারলে বেশ লজ্জার মধ্যেই পড়ে যেতে হয়।

প্রিয় চলচ্চিত্র প্রথম বাংলা সিনেমা দেখেছি লুকিয়ে! by শাহদীন মালিক

চোখে সমস্যা হওয়ার পর থেকে সিনেমা দেখার নেশাটা কমে গেছে। আসলে কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। কলেজজীবনের অনেক কম পয়সায় সিনেমা দেখতে পারতাম। আক্ষরিক অর্থেই পয়সা। কারণ, শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখালেই অর্ধেক টাকায় টিকিট কাটা যেত।

শুভ জন্মদিন, গ্যাংনাম স্টাইল! by রাজীব হাসান

বিশ্বটাকে জয় করতে নাকি ১১ বছর সময় লেগেছিল মহাবীর আলেকজান্ডারের। পুরো বিশ্ব ঘুরে আসতে ৮০ দিন সময় নিয়েছিলেন ফিলিয়াস ফগ। সাইয়ের সময় লেগেছে চার মিনিট ১৩ সেকেন্ড!

সপ্তাহের নায়ক জুলেখা বেগম, বেসরকারি প্রসবকর্মী

দুই বছরের চুক্তিতে বিনা বেতনে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ভোগতেরা কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজ করছেন জুলেখা। ‘নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস-২০১৩’ উপলক্ষে ২০ জুন ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুলেখাকে পুরস্কৃত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঈদকার্ডের নকশা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের অভিনন্দন

‘হরলিক্স-গোল্লাছুট ঈদকার্ডের নকশা প্রতিযোগিতা’ শুরু হয়েছিল ৪ জুলাই। ১৬ জুলাই পর্যন্ত এ প্রতিযোগিতার জন্য ঈদকার্ডের নকশা পাঠিয়েছিল প্রায় এক হাজার আট শ প্রতিযোগী। এর মধ্য থেকে দুই বিভাগে মোট ১১ জন বিজয়ী হয়েছে।

বাবুইয়ের দোতলা বাস ভ্রমণ by ফারুখ আহমেদ

বাবুই অনেক দিন কোথাও যায় না। যাবে কী করে! বাবার একদম সময় নেই। এ জন্য টিপটিপ আপু আর টাপুরেরও মন খারাপ। বাবাটা কী বোঝে এসব! ভাবে বাবুই। মাঝেমধ্যে মন চায় বাবাটাকে বলে আমাদের বেড়াতে নিয়ে চলো।

এসো জাদু শিখি ঈদ মোবারক by রাজীব বসাক

ঈদ কিন্তু চলে এল প্রায়! মনের আঙিনায় জমে থাকা হাজারো খুশিকে আমরা ভাগ করে নেব অন্য সবার সঙ্গে। সেই সঙ্গে থাকবে জাদু। চলো ঈদের জন্য একটা জাদু শিখে নেই।

দুটি ছড়া by আখতার হুসেন

বাড়ি কোথায়?
বাড়ি কোথায়? মির্জাপুরের
বাইপাস,

বড় মামা তুমি কোথায় গেলে by অপলা হায়দার

ছোটবেলায় একটা রচনা পড়তাম ‘সময়ের মূল্য’ নামে। প্রচণ্ড বোরিং এই রচনার একটি লাইন ছিল ‘সময় নদীর স্রোতের মতো বয়ে যায়।’ এই লাইনটি পড়লেই আমার রাগ উঠে যেত।

শাহরি রমজানতারাবি নামাজ ও কিয়ামুল লাইল by মাওলানা সালেহ আহমদ রাজু

তখন হজরত উমর ফারুক (রা.) ছিলেন মুসলিম বিশ্বের খলিফা। তিনি মুসলমানদের সব সুখ-দুঃখের অংশীদার। মুসলমানদের উন্নতি-অগ্রগতির কথা ভাবেন। রাতের বেলায় ঘুরে বেড়ান লোকালয়ে। দুর্বল, অসহায় ও অনাথদের খোঁজে ঘুরে বেড়ান তাঁবুতে তাঁবুতে, পাড়ায় পাড়ায়।

আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্ট-ঢাকায় ক্ষমতা বদলে দিলি্ল চিন্তিত নয়

নিরাপত্তা থেকে বাণিজ্য। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর নয়াদিলি্ল ও ঢাকার মধ্যে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বেড়েছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক মঞ্চে সে কথা অকপটে জানিয়েছে ভারতীয় নেতৃত্ব।

ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটরের ভাষ্য-৩ ইস্যুতে জনসমর্থন হারাচ্ছে আ. লীগ

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পরস্পর বিপরীত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে।

কোটা নিয়ে ভাঙচুরকারীরা চাকরি পাবে না : হাসিনা-আ. লীগ ক্ষমতায় না এলে চাকরি হারাবে লাখ লাখ গার্মেন্টকর্মী

বিসিএস পরীক্ষায় কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের নামে ভাঙচুরকারীদের সব ধরনের চাকরিতে অযোগ্য করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা প্রথা নিয়ে আন্দোলনের নামে যারা ভাঙচুর করেছে, তাদের ছবি সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে।

নির্বাচনে নিষিদ্ধ হচ্ছেন ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতরা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশ্লিষ্ট একটি ধারা সংশোধনের প্রস্তাব রেখেছে।

হাসপাতালে গোলাম আযমের বিলাসী বসবাস

গ্রেপ্তারের পর থেকে হাসপাতালেই আছেন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে দাঁড়ানো অপশক্তির শিরোমণি গোলাম আযম। গত বছর ১১ জানুয়ারি গ্রেপ্তারের পর থেকে অসুস্থতার অজুহাতে তাঁকে রাখা হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় চিকিৎসালয়ে।

ছায়া সুনিবিড় হুমায়ূনতীর্থ by নওশাদ জামিল

'ওই যে দেখছেন তিনটা লিচুগাছ- ওই জায়গাটাই স্যারের খুব প্রিয় ছিল।' কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল। তিনি জানান, নুহাশপল্লীতে এলে হুমায়ূন আহমেদ প্রথমেই খোঁজ নিতেন গাছপালার।

আমার বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদ by মুহম্মদ জাফর ইকবাল

হুমায়ূন আহমেদ আমার বড় ভাই; তাকে নিয়ে নৈর্ব্যক্তিকভাবে কিছু লেখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, যেটাই লিখি, তার মধ্যে ব্যক্তিগত কথা চলে আসবে, আশা করছি, পাঠকরা সে জন্য আমাকে ক্ষমা করবেন।

সাহিত্যের রাজপুত্রের প্রয়াণবার্ষিকী আজ

সাহিত্যের রাজপুত্র হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকী আজ শুক্রবার। বাংলা সাহিত্যের এই জনপ্রিয় লেখক যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছর ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্মানে ইফতার-নতুন ধারার সরকার করবে বিএনপি : খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, আগামী দিনে ক্ষমতায় আসার সুযোগ পেলে বিএনপি নতুন ধারার সরকার গঠন করবে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে চলমান আন্দোলন ঈদের পর জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়ে তাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

যুগ্ম সচিব হলেন ৩২৬ বঞ্চনাও সমানতালে by আশরাফুল হক রাজীব

মেয়াদের শেষ সময়ে এসে সরকার ৩৪৫ জন উপসচিবকে পদোন্নতি দিয়ে যুগ্ম সচিব করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁদের মধ্যে ৩২৬ জনের নামে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এই পদোন্নতি মূলত ১৯৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তাদের জন্য।

মেসিকে কিনবে পিএসজি!

থিয়াগো সিলভা খেলতে চান বার্সেলোনায়। তাঁকে নিতে আগ্রহের কমতি নেই বার্সারও। তবে বাদ সেধেছে থিয়াগোর ক্লাব প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)।
শুধু বাদ সাধা নয়, থিয়াগো ইস্যুতে বার্সাকে রীতিমতো হুমকি দিয়েছে পিএসজি।

ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ

ছিনতাইকারীদের একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে ধরতে গিয়ে নিজের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পুলিশের এক কনস্টেবল। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর রমনা থানাধীন সবজিবাগান রোডে টিঅ্যান্ডটি অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড

গাজীপুর সদর উপজেলার কোনাবাড়ি এলাকায় এম এম নিটওয়্যার নামের পোশাক তৈরির একটি কারখানায় আজ শুক্রবার সকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় আজ কারখানাটি বন্ধ ছিল। এ কারণে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

গার্ডিয়ানকে অমর্ত্য সেন চমকে দেওয়ার মতো সাফল্য আছে বাংলাদেশের

নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন মনে করেন, ভারতীয় অর্থনীতি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। কিন্তু এর পরও কিছু কিছু বিষয়ে ভারতের চেয়ে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার বুদ্ধিজীবীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে শেষ বক্তৃতা দেন মুজাহিদ by কুন্তল রায়

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যখন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন ঢাকার আরেক প্রান্তে আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ আলবদরদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আলবদর সদস্যদের উদ্দেশে তাঁর শেষ বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।

বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার বুদ্ধিজীবীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে শেষ বক্তৃতা দেন মুজাহিদ by কুন্তল রায়

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যখন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন ঢাকার আরেক প্রান্তে আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ আলবদরদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আলবদর সদস্যদের উদ্দেশে তাঁর শেষ বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।

আজহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে রংপুর অঞ্চলে এক হাজার ২২৫ ব্যক্তিকে গণহত্যা, চারজনকে হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণসহ ছয়টি অভিযোগে আন্তর্জাতিক

অপরাধী সংগঠনের প্রতিকার করবে কে? by এম বদি-উজ-জামান

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া একের পর এক রায়ে জামায়াতে ইসলামীকে একটি অপরাধী সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যা, হত্যা,

নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন উপলক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে নানা কর্মসূচি

নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুল, কার্ড হাতে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমায় প্রিটোরিয়ার মেডিক্লিনিক হার্ট হাসপাতালের সামনে। প্রিটোরিয়া থেকে

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-পাকিস্তানে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু করেছে। ইসির এক কর্মকর্তা গত বুধবার এ কথা জানান। ইসির প্রধান কার্যালয়, প্রাদেশিক নির্বাচন কমিশনার ও হাইকোর্টে রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে ১০০ রুপির বিনিময়ে মনোনয়নপত্র পাওয়া যাবে।

ওবামাকে রঙিন মোজা উপহার সিনিয়র বুশের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে একটি ব্যতিক্রমী উপহার দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে ওবামাকে এক জোড়া রঙিন মোজা উপহার দেন তিনি।

মার্কিন সেনা ঘাঁটির ৮ আফগান কর্মীকে গুলি করে হত্যা

আফগানিস্তানের একটি মার্কিন সেনাঘাঁটির বেসামরিক আট আফগানকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে তালেবান। পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের 'ক্যাম্প শাঙ্ক'-এ কর্মরত এসব ব্যক্তিকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

বিএসএফের গুলিতে কাশ্মীরে সাত বিক্ষোভকারী নিহত

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে সাত বিক্ষোভকারী মারা গেছে। আহত হয়েছে ৩০ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজ্যের রম্বন জেলার গুল এলাকায় বিএসএফ ক্যাম্পের বাইরে এ ঘটনা ঘটে।

ধূমপানে বছরে ৬০ লাখ লোক মারা যায় : ডাব্লিউএইচও

ধূমপানজনিত কারণে প্রতিবছর প্রায় ৬০ লাখ লোক মারা যায়। এদের বেশির ভাগই নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) সম্প্রতি এ কথা বলেছে। তাদের মতে, একটু সচেতন হলেই এই মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।

মালালাকে তালেবানের চিঠি-দেশে ফিরে মাদ্রাসায় ভর্তির আহবান

শিক্ষার পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য নয়, বরং কথা, কাজ ও লেখনী দিয়ে তালেবানবিরোধী প্রচার চালানোয় মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর হামলা হয়েছে। মালালাকে লেখা চিঠিতে এমনটাই দাবি করেছেন তালেবান নেতা আদনান রশীদ।

ড্রোন নিয়ে সমঝোতা দরকার যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তানের

ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন করে সমঝোতায় যাওয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের। নওয়াজ শরিফের সরকার এই মুহূর্তে ড্রোনের বিপক্ষে যতটা কঠোর ততটা ভবিষ্যতে হয়তো থাকবে না।

ভারতে নতুন আইন হচ্ছে-তালাকের পর স্বামীর সব সম্পদের ভাগ পাবে স্ত্রী

তালাকের পর স্বামীর উত্তরাধিকাসূত্রে পাওয়া সম্পদে স্ত্রীর অধিকার রেখে বিবাহ আইনের সংশোধনী অনুমোদন করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। তবে এ ধরনের সম্পত্তিতে স্ত্রী কত অংশ ভাগ পাবে তা নির্ধারণের বিষয়টি আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কেরির উদ্যোগে আরব লীগের সমর্থন

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে থেমে থাকা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে নেওয়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছে আরব লীগ। গত বুধবার জর্দানের রাজধানী আম্মানে কেরির সঙ্গে বৈঠকে এ সমর্থন দেন আরব লীগের প্রতিনিধিরা।

বিহারে ২৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু-খাবারে কীটনাশক ছিলভারতজুড়ে আতঙ্ক, স্কুলের খাবার খাচ্ছে না শিশুরা

ভারতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্কুলে বিনা মূল্যে দেওয়া দুপুরের খাবার খেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বিহারে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

পাহাড়ে অপহরণ-নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই

পার্বত্য শান্তিচুক্তি হয়েছে, কিনমশং অশান্ত পাহাড়ে শান্তি ফেরেনি। দূর হয়নি পাহাড়ের অশান্তি। বিবদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে যেমন গোলযোগ লেগে আছে, তেমনি সেখানে কাজ করতে যাওয়া বিভিন্ন সংস্থার কর্মীদেরও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়।

কেন এই হরতাল?একই অপরাধ করছে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতা গোলাম আযম ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের রায়কে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবির আহূত হরতালের গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল চতুর্থ দিন।

'৭১-কে মনে করিয়ে দেয়

পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব বাংলার গ্রামাঞ্চলে যে গণহত্যা শুরু করেছিল তা নিয়ে ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন লিখেছিলেন, পাকিস্তানিদের ভাষায় 'বিশ্বাসঘাতকদের খুঁজে বের করতে গোটা গ্রাম ধ্বংস করা হয়েছে।'

সাদাকালো-রায়, সহিংসতা ও গোলাম আযম সমাচার by আহমদ রফিক

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম বাংলাদেশের গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষের কাছে একাত্তরের 'ঘাতক শিরোমণি' হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করেছে। বলতে গেলে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সবাই একাত্তরে নরনারী-শিশুহত্যাসহ নারী

নিঃশব্দ হুইসেল by মোবাশ্বির আলম মজুমদার

শিল্পীর অনুভবে থাকা বিষয়কে শিল্পকর্মে প্রকাশ করাই শিল্পীর সাফল্য বলে বিবেচিত। এ প্রদর্শনীর শিরোনাম ‘হুইসেল’  -এ ছয়জন তরুণশিল্পীর গড়া গোষ্ঠী ‘জংশন’। তাঁরা দর্শকদের মধ্যে নিজেদের অভিজ্ঞতার বিনিময় করতে চান শিল্পকর্ম দিয়ে। ছয়জন শিল্পীর ৩৪টি কাজের মাধ্যম হলো সিরামিকস, পোড়ামাটি, ছাপচিত্র, তেলরং ও অ্যাক্রিলিক। গত দুইদশকে আমাদের শিল্পকলায় প্রথাগত মাধ্যম ও নির্মাণ-প্রক্রিয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। একে আমরা উত্তরণ বলতে পারি। সৃষ্টিকর্মের ধারণা, মাধ্যম ও ভাষার গতি পরিবর্তনের কারণে শিল্পকর্মে সৃজনশীল আচরণ স্পষ্ট হয়। শিল্পী প্রতিনিয়ত সৃজনভাবনার মধ্য দিয়েই সময় পার করেন। আধুনিক শিল্পকলার সব সংজ্ঞাকে পেছনে ফেলে বিশ্বশিল্পে স্থান করে নিয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর মাধ্যম। মনঃসমীক্ষণের রূপকল্প প্রকাশের সঙ্গে মানুষের জীবনাচরণের প্রতি মুহূর্ত শিল্পরচনার বিষয় হয়েছে। জংশন বা জংশন প্লাটফর্মে কাজ করা হয় শিল্পীর শিল্পকর্মে নতুন ভাবনা আছে। উপস্থাপনের মধ্যে চিন্তাশৈলী স্পষ্ট। আমজাদ আকাশ, উম্মে সোহাগ, ইকবাল বাহার চৌধুরী, তপন হালদার, ফাতেমা মুন্নী, আনিকা মারিয়াম আহমেদ প্রত্যেকেই এই শতকের প্রথম দশকে শিল্পকলায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করেছেন। মাধ্যমগত পরিবর্তন সৃষ্টিকর্মের মধ্যেও নতুন সুর তৈরি করে। জংশনের এটি দ্বিতীয় প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর শিল্পী আমজাদ আকাশ ছবিতে কখনো ব্যাকরণ মানেন। আবার কোনো কোনো কাজে এর বাইরে গিয়ে সাদা-কালো রেখা প্রয়োগ করে রেখার ছায়া লেপ্টে দেন আশপাশে।
এতে নির্মাণে এক নতুন রূপের খোঁজ দেয়। কালো-সাদা রেখায় আঁকা কাজের মাধ্যম কাগজে অয়েল প্যাস্টেল, বাস্তবধর্মী ফুলের সঙ্গে চৌচির করা তলের উপস্থিতি দৃষ্টিতে বিভ্রম তৈরি করে। এ ছবির মাধ্যম অ্যাক্রিলিক। আমজাদ আকাশের মানুষের অবয়ব একটি যন্ত্র বা সিলিন্ডার আকৃতি ধারণ করে। কখনো ওই ফাঁপা গোলক আকৃতির মানুষেরাই হয়ে ওঠে ছবির চরিত্র। মনোভাবনায় লালিত পুষ্পিত সৌরভের সঙ্গে আলোচনায় রূপের মোহ আকাশের কাজে বোঝা যায়। শুধু প্রদর্শনীর জন্য শিল্প সৃষ্টি নয়, এ দলের কাজে স্বভাবজাত সৃষ্টির খোঁজ মেলে। কয়েকটি কাজে চিন্তার স্থূল প্রকাশ স্পষ্ট হলেও প্রদর্শনীর অন্য সব কাজের ভিড়ে দুর্বল কাজগুলো উতরে যায়। আনিকা মারিয়াম আহমেদ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে। তাঁর পাঁচটি কাজের মধ্যে তিনটি অ্যাক্রিলিক রঙে আঁকা পোস্টারের নকশা। অন্য দুটি অতিচেনা বিষয় ‘অ্যা জার্নি বাই বাস’ ও ‘দি আন বিয়েরেবল হেভিনেস অব রিং’ পার্কের আলোকসজ্জার সঙ্গে ঘূর্ণমান খেলনার মুহূর্ত এঁকেছেন তিনি। এর সামনে দাঁড়িয়ে আছে নারীর অবয়ব। উজ্জ্বল রং, যেমন গাঢ় হলুদ, কমলা ও সিঁদুর লালের ব্যবহারে ছবিটি একটি মুহূর্তের ঘোষণা দেয়। আনিকা জার্নি বাই বাস ছবিতে স্যাটায়ার করেছেন। শহর এলাকায় মানুষে ঠাসা লোকাল বাসের অভ্যন্তরীণ অবস্থাকে তুলে ধরেছেন। এ ছবিতে শিল্পী নিজেও হয়ে যান ওই যানবাহনের একজন যাত্রী। উজ্জ্বল বর্ণ ব্যবহার  আনিকা মারিয়ামের স্বভাব। নন্দন পরিকল্পনা প্রসূত ক্যানভাস তিনি হয়তো নির্মাণে পারদর্শী।
কিন্তু ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের মাধ্যমে সামাজিক ক্ষত নিরাময়ে তিনি স্বস্তি পান। ইকবাল বাহার চৌধুরী ছাপচিত্র নিয়ে হাজির হয়েছেন এ প্রদর্শনীতে। কোনো কাজের শিরোনাম রিলেশন, কোনোটি জার্নি বিফোর ডেসটিনেশন। কাজের কৌশলে মিল আছে। ছবির মানুষের অবয়বে প্রিমিটিভ প্যাটার্ন বা প্রাগৈতিহাসিক যুগের আঁকা ছবির সংযোগ পাওয়া যায়। ইকবালের কাজের ক্যানভাসে গাঢ় রঙের সঙ্গে বিপরীত রং রেখে দেন সাদা কাগজের রংকে। ফাতিমা মুন্নী অ্যাক্রিলিক ও মিশ্র মাধ্যমে দেহভঙ্গি তৈরি করেন। নারী তাঁর অবস্থানে নিজেকে স্থির ও বোধ বিবেচনায় সমৃদ্ধ থাকেন। কিন্তু নীরবতা নারীকে নিরাপত্তা দেয় না। সেটিকে মুন্নী ছবির ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। নারীর অবয়বের সৌকর্যের পাশাপাশি তীব্র গহনের কথা তিনি বলেছেন। তপন হালদার ছাপচিত্র মাধ্যমে বুদ্ধ ও রাজার আলংকারিক প্রতিকৃতি হাজির করেছেন এ প্রদর্শনীতে। সিরামিকস মাধ্যমে নিরীক্ষাধর্মী পোড়ামাটির ফলক ও গ্লেজ সিরামিকসে প্রকৃতির নির্দিষ্ট বৃত্তাকার পাত্রের মধ্যে ‘রুটস’ বা শিকড়ের আকৃতি উপস্থাপন করেছেন। তরুণ শিল্পীদের দলগত আয়োজনে নতুন নিরীক্ষার সন্ধান মেলে। এ প্রদর্শনী আমাদের সে কথাই বলে দেয়। প্রদর্শনীটি রাজধানীর শিল্পাঙ্গন গ্যালারিতে ৫ থেকে ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হয়।

শৌখিনদার হুমায়ূন by সালেহ চৌধুরী

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে আমাদের এই আয়োজন। হুমায়ূন আহমেদ চলে যাওয়ার পর বছর ঘুরে এল। এই পুরো সময়টাই হুমায়ূন আছেন আমার কাছাকাছি। যখনই ইচ্ছে করে, আমি তাঁকে খুঁজে নিই। কখনো খুঁজি তাঁর বিচিত্র সৃষ্টির পরতে পরতে, কখনো উঁকি দিই স্মৃতির কুঠরিতে। আমি তাঁর আনন্দময় রূপই অবলোকন করি। কে না জানে, সৃষ্টির সঙ্গে বেদনা জড়িয়ে থাকলেও সৃষ্টিশীলতার জগৎ আনন্দের ধাম। আর হুমায়ূন ছিলেন সে জগতেরই বাসিন্দা। হুমায়ূন বেশ কিছু আঞ্চলিক শব্দকে সাহিত্যে স্থায়ী ঠাঁই করে দিয়ে গেছেন, যার একটি শৌখিনদার। শৌখিনদার মানে বাংলার শৌখিন। তা আনন্দের সঙ্গে শখ-শৌখিনতার একটি যোগ তো আছেই। হয়তো সেই সুবাদেই হুমায়ূন আমার দেখা সেরা শৌখিনদার। তাঁর সৃষ্টিরাজির অনেক কিছুই শৌখিনতার ফসল বললে খুব একটা ভুল হবে না বলেই মনে হয়। এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল,
শামসুর রাহমান কিংবা শরৎচন্দ্র-বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম স্মরণ করা যেতে পারে। শৌখিনদারিতে ওঁরাও কম যেতেন না। ভ্রমণ নিয়ে বিস্তর লিখেছেন। যদিও ভ্রমণোপাখ্যান মাত্রেরই শুরুতে ঘুরে বেড়ানোর ব্যাপারে তাঁর তীব্র অনীহার কথা জানিয়ে দিতে ভুলতেন না। তবু তাঁর জীবনে এমন বছর খুঁজে পাওয়া মুশকিল, যখন তিনি একাধিকবার দেশে কিংবা বিদেশে এদিক-ওদিক পা না বাড়িয়েছেন। তাঁর লেখাগুলো পড়লেই বোঝা যায়, নিজেকে বারবার ঘরকুনো বলে জাহির  করা মানুষটি এই ঘুরে বেড়ানোকে কেমন উপভোগ করতেন। এতে তাঁর শৌখিনদারি এমনই প্রবল ছিল যে পরিবার-পরিজন তো বটেaই, বন্ধুবান্ধবকে সঙ্গে না টানতে পারলে তৃপ্তি পেতেন না। এমনই শৌখিনদারির জের টানতে গিয়েই সেন্ট মার্টিনে যাওয়া। এরই ফলে সমুদ্রবিলাসের গড়ে ওঠা। সেন্ট মার্টিনের হয়ে ওঠা দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। নিরিবিলিতে ছবি তোলার একটা জায়গার খোঁজে পিরুজালি গ্রামে যাওয়া আর ‘নন্দন কানন’ অভিধায় চিহ্নিত নুহাশপল্লীর গড়ে ওঠা।
যে উদ্যানের প্রতিটি গাছ-পাতায় জড়িয়ে আছে শৌখিনদার হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্ন। বন্ধু-স্বজনদের নিয়ে আনন্দের হাট বসানো, আপ্যায়নের চমক লাগানো উপায় উদ্ভাবন আর এসব খাতে ঢালাও ব্যয়ের জোগান দেওয়ার বর্ণনায় আমি যাব না। এ দিক নিয়ে অনেকেই লিখেছেন। আমি কেবল বলব, বড় মাপের শৌখিনদার ছাড়া অন্য কারও পক্ষে এমনটা কল্পনা করাও সম্ভব নয়। বাইরের এই উদ্দামতা বাদ দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন-চর্যার দিকে চোখ ফেরালেও দেখা যাবে, ঢিলেঢালা ভেকের আড়ালে একজন শৌখিনদার বিচরণ করে গেছেন। তাঁর শৌখিনতায় লোকদেখানো আড়ম্বরের ছাপ ছিল না। চলাফেরায় ছিল অনেকটা আলাভোলা ভাব। তবে বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও পোশাকের ব্যাপারে ছিলেন খুবই শৌখিন। জামা-পাতলুন যা পরতেন, সবই হতো, বিদেশে যাকে বলে ব্র্যান্ডেড আইটেম, তাই। দেশি পাজামা-পাঞ্জাবিও হতো সযত্নে বাছাই করা। যাঁরা তাঁকে জানতেন বা ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন, সবাই তা স্বীকার করবেন। শখ জাগল তো কোনো কিছুতেই পিছপা হতে রাজি ছিলেন না। সীতাকুণ্ড পাহাড়ের আগাছায় ছাওয়া পথ ধরে উঠতে গিয়ে দিনের বেলাতেই ছুটে সাপ মারতে হলো। এর দিন কয়েক পর এক রাতে মনে হলো, পাহাড়ে চড়ে জোছনা দেখতে হবে। অতএব চলো সবাই। মধ্যরাতের সেই চাঁদ দেখা অভিযানে দেড়-দুই বছরের নুহাশকেও সঙ্গী করে নিলেন কোলে করে। ভয়ংকর বলে খ্যাত শনির হাওর দেখতে গিয়ে শখ জাগল মধ্য হাওরে সাঁতার কাটবেন। নামলেন পানিতে। খুদে নুহাশই বা এখন অভিজ্ঞতা থেকে বাদ যাবে কেন? অতএব তাকেও নামিয়ে নিলেন অথই পানিতে। শৌখিনদার হুমায়ূনের শখের ফিরিস্তি বলে শেষ করার নয়। এককালের শখের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ আমাদের কথাসাহিত্য,
নাটক আর সিনেমাতে বিচিত্র রসের যে ভিয়েন দিয়ে জাদুকরি আকর্ষণে ঋদ্ধ করতে পেরেছেন, তার অনেক রসদেরই জোগান দিয়েছে এই শৌখিনদারি। হুমায়ূনকে মনে রেখে তাঁর লেখাগুলো পড়লেই এ বক্তব্যের অর্থ স্পষ্ট হতে পারে। শৌখিনদার হুমায়ূন একটি ক্ষেত্রে কিন্তু তেমন সফল হতে পারেননি। তা হচ্ছে, কুকুর পালন। আজ সে গল্পই বলি। হুমায়ূন কুকুর ভালোবাসতেন। আমারও কিছু আগ্রহ ছিল কুকুর নিয়ে। মাঝেমধ্যেই কুকুর নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হতো। কুকুর নিয়ে একাত্তরে আমার এক অভিজ্ঞতায় হুমায়ূন এমনই অভিভূত হন যে, কয়েকবারই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন—এ গল্পটা যদি আমি না লিখি তিনিই লিখবেন। আমি লেখার ইচ্ছে প্রকাশ করায় এ নিয়ে তাঁর আর কিছু করা হয়নি। তবে কুকুর নিয়ে মত্ত হওয়ার একটা সুযোগ পাওয়া গেল। দৈনিক বাংলায় আমার সহকর্মী জহিরুল হকও (প্রয়াত) ছিলেন একজন শৌখিনদার মানুষ। তাঁর বিচিত্র শখের একটি ছিল কুকুর পোষা। এক জোড়া বড় আর এক জোড়া ছোট (ল্যাপ ডগ) কুকুর জহির তাঁর বাসায় পুষতেন। জহির একদিন জানালেন, ল্যাপ ডগের বাচ্চা হয়েছে। আমি তাঁকে ধরে বসলাম, একটা বাচ্চা আমাকে দিতে হবে। সজ্জন জহির আমাকে পছন্দ করতেন। বয়সের সুবাদে হয়তো কিছু শ্রদ্ধাও। আমার অনুরোধ তাই ঠেলতে পারলেন না। আমাকে একটা বাচ্চা দেবেন বলে কথা দিলেন। বিকেলে দেখা হতেই আমার এ আনন্দসংবাদ হুমায়ূনকে জানালাম। শুনেই হুমায়ূন লাফিয়ে উঠলেন। ল্যাপ ডগের একটা ছানা তাঁরও চাই। থাকতেন তখন শহীদুল্লাহ হলে। আমি চেষ্টা করব বলেও তাঁকে শান্ত করতে পারলাম না। তখনই ছুটতে হলো জহিরের বাসায়। মাস দেড়েক পর দুটি বাচ্চা নিয়ে গেলাম হুমায়ূনের বাসায়। একটি তুষারধবল, অপরটি ধূসর। হুমায়ূনের আনন্দের সীমা   রইল না।
হুমায়ূন আর তাঁর তিন কন্যা নোভা-শীলা-বিপাশা সাদা বাচ্চাটাই বেছে নিলেন। নাম রাখলেন উইন্ডি। ছোট কুকুরের বিরক্তিকর উৎপাত সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বাসায় ফিরলাম। সপ্তাহ খানেক যেতে না-যেতেই হুমায়ূন বাসায় ডাকলেন। গিয়ে দেখি, তাঁর মুখ বেশ গম্ভীর। বললেন, কুকুরছানাটা ফিরিয়ে নিয়ে যান। আমি এটা রাখতে পারছি না। ব্যাপার কী জানতে চেয়ে শুনলাম, আগের রাতে এই দুষ্টু টিংকুর (গুলতেকিন খান) দুই জোড়া নতুন স্যান্ডেল চিবিয়ে বরবাদ করে দিয়েছে। বুঝলাম, বাচ্চা কুকুর জুতা-স্যান্ডেল নষ্ট করতে পারে বলে সাবধান করে এলেও ওঁরা অসতর্ক ছিলেন। কুকুরছানা তার স্বভাব মেনে গৃহকর্ত্রীর বিরাগভাজন হয়েছে। এমনটা আরও ঘটতে পারে বলায় হুমায়ূন বললেন, এ ঝামেলায় আর কাজ নেই। ওটা নিয়ে যান। বছর কয়েক পরের কথা। সেন্ট মার্টিন থেকে হুমায়ূন ঘুরে আসার পর প্রায়ই তাঁকে ওখানকার কুকুর নিয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠতে দেখতাম। বিশাল আকারের কুকুর। প্রধান বৈশিষ্ট্য চামরের মতো ছড়ানো লেজ। একদিন বললাম, অতই যখন পছন্দ, একটা বাচ্চা নিয়ে এলেই পারো। হুমায়ূন বললেন, তিনিও ও কথা ভেবেছিলেন। তবে খবর নিয়ে জেনেছেন, দ্বীপ থেকে মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই বাচ্চাগুলো মরে যায়। এর কারণ নিয়ে হুমায়ূন ভাবিত। আমিও ভাবতে থাকলাম। সেন্ট মার্টিন আর বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এমন কিছু তফাত তো নেই যে কুকুরগুলো মূল ভূখণ্ডে এলেই মরে যাবে। আমি এ নিয়ে ভাবতে থাকলাম। একসময় কুকুর নিয়ে কিছু পড়াশোনা করা ছিল। সেই সূত্র ধরে ভাবতে গিয়ে খাদ্যাভ্যাসের কথা মাথায় এল। সেন্ট মার্টিনের এই কুকুরগুলো কী খেয়ে বেঁচে আছে, জানতে চাইলে হুমায়ূন বললেন, ওখানে কী আর খাবে, জেলেদের ফেলে দেওয়া ফালতু মাছই ওদের প্রধান নির্ভর। তা ছাড়া জোয়ারের ঠেলায় দ্বীপের কিনারায় চলে আসা মাছ ধরেও ওদের খেতে
দেখা যায়। আমি জবাব পেয়ে গেলাম। বললাম, আমরা তো কুকুরকে রাতিব (গোশতের ছাঁট) আর ভাত খেতে দিই। যুগের পর যুগ ধরে সামুদ্রিক মাছ খেয়ে বেঁচে থাকা কুকুরের পেটে এ খাবার সয় না বলেই ওরা মরে যায়। সামুদ্রিক মাছ খাইয়ে বড় করার ফাঁকে ফাঁকে আমাদের প্রচলিত খাদ্যে অভ্যস্ত করে তুললে বাচ্চাগুলো এভাবে মরবে না। আমার যুক্তি তাঁর মনে ধরল। পরের বার সেন্ট মার্টিন থেকে ফেরার সময় চমৎকার একটা কুকুরছানা নিয়ে এলেন। ওর নাম দিলেন ডিংগো। সময় প্রকাশনীর ফরিদ আহমদ তখন অনেক কিছুর জন্যই ছিলেন হুমায়ূননির্ভর। তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হলো, সামুদ্রিক মাছ একটু হলুদ আর লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে খাইয়ে ওকে রান্না করা খাবারে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। পরে এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে একমুঠো চাল। আরও বড় হলে রাতিব বা গোশত দেওয়া যাবে। ফরিদ পরম যত্নে ডিংগোকে বড় করে তোলেন। ওঁর বাসা ছিল তখন আজিমপুর, চায়না বিল্ডিংয়ের গলিতে। আমাকে মাঝেমধ্যে ওখানে গিয়ে দেখে আসতে হতো। কুকুরটা খুবই দ্রুত এবং সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে। এমন বিশাল আকার নেয়, যা সেন্ট মার্টিনেও বড় একটা দেখা যায় না। ধানমন্ডির বাসায় (গুলতেকিন) উঠে আসার পর হুমায়ূন ডিংগোকে নিজের কাছে নিয়ে এলেন। প্রাকৃতিক কারণেই বড় জাতের কুকুরকে বেশ ছোটাছুটি করতে হয়। পরিচারকদের ঘুরিয়ে আনায় হয়তো ওর চাহিদা মিটত না। ডিংগো তাই অনেক সময় উঁচু দেয়াল লাফিয়ে বাইরে ছুটে যেত। তার ভয়াল আকৃতি পাড়ার লোককে করে তুলত সন্ত্রস্ত।
একদিন এক প্রতিবেশী নালিশ নিয়ে হুমায়ূনের কাছে আসেন। তাঁর বক্তব্য ছিল শালীনতাবর্জিত। হুমায়ূনও তাই ক্ষুব্ধ হন। তবে ক্ষিপ্ত প্রতিবেশীকে কিছু না বলে ডিংগোকেই করেন বাড়িছাড়া। দিয়ে দেন দূরের এক বন্ধুকে। পরে তো হুমায়ূন হলেন দখিন হাওয়ায় ফ্ল্যাটবাসী। ফ্ল্যাটে বড় কুকুর পোষার উপায় নেই। বার কয়েক উচ্চ দাম দিয়ে নিয়ে আসেন ল্যাপ ডগ। কুকুর পোষার ঝক্কি সামলানোর মতো সময় তাঁর ছিল না। তাই সম্ভব হতো না আগ্রহ ধরে রাখা। কিছুদিন পরই কুকুর চালান হতো নুহাশপল্লীতে। নুহাশপল্লীতে একদঙ্গল দেশি কুকুর বহাল তবিয়তে থাকলেও অপটু পরিচারকদের হাতে পড়ে এদের অবস্থা হতো হতশ্রী এবং একসময় শিকার হতো আধিব্যাধির। হুমায়ূনের কুকুরের শখ কিন্তু মিলিয়ে যায়নি। পরে দেখলাম, আরও চড়া দাম দিয়ে নিয়ে এসেছেন পুতুল পুতুল চেহারার খুদে কুকুরের ছানা। যাদের অনেকে বলেন পকেট ডগ। ওদের ভাগ্যও যে খুব প্রসন্ন হতো, তা মনে হয় না। শৌখিনদার হুমায়ূন ওদের ঘরে এনেই শখ মেটাতেন। যত্নআত্তি করার সময় তাঁর ছিল না বলেই ওগুলোও একইভাবে মারা যেত কিংবা চালান হতো অন্য কোথাও। অনেক কিছুতেই ছিল তাঁর দুর্বার শখ। অকল্পনীয়ভাবে তিনি তা মিটিয়েও গেছেন। তবে আমার মনে হয়, শৌখিনদার হুমায়ূন আহমেদের কুকুরপ্রীতি অপূর্ণই থেকে গেছে!