Thursday, March 2, 2017

‘মুসলিমদেরও দাহ করা উচিত’

কবরস্তান বা গোরস্তান বানানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই ভারতে। তাই কবরস্তান সৃষ্টি বন্ধের জন্য একটি আইন করা উচিত। একই সঙ্গে মুসলিমরা মারা গেলে তাদেরকে দাফন না করে দাহ করার প্রস্তাব করেছেন ভাতীয় জনতা পার্টির এমপি সাক্ষী মহারাজ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ। এতে বলা হয়, সাক্ষী মহারাজা উস্কানিমুলক বক্তব্য দেয়ার জন্য বহুল বিতর্কিত। তিনি সোমবার উত্তর প্রদেশের উন্নাও-এ এক র‌্যালিতে বক্তব্য রাখার সময় বলেন, করবস্তান বা শ্মশান যা-ই হোক না কেন- কাউকে সমাহিত করা উচিত নয়। ভারতে ২ থেকে আড়াই কোটি হিন্দু সন্যাসী আছেন। তারা মারা যাওয়ার পর তাদের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে হবে। এ জন্য জমির প্রয়োজন হবে। এখানে ২০ কোটি মুসলিম আছে। তাদেরকে কবরে দাফন করতে হবে। হিন্দুস্তানে এত জমি বা জায়গা কোথায়?
তার এমন বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। মঙ্গলবার তারা বলেছে সাক্ষী মহারাজার বিতর্কিত ‘কবরস্তান’ বিতর্ক সাম্প্রদায়িকতা। উত্তর প্রদেশে গুরুত্বপূর্ন নির্বাচন চলছে। তাতে সুবিধা পাওয়ার জন্য তারা এমন মন্তব্য করছেন। কংগ্রেসের নেতা সন্দীপ দীক্ষিত বলেছেন, প্রতিটি ধর্মের নিজস্ব রীতি সেই ধর্মের মানুষ অনুসরণ করে। যদি কবরস্তানের প্রয়োজন হয় তাহলে তা নির্মাণ করা হবে। একইভাবে যদি শ্মশানের প্রয়োজন হয় তাহলে শ্মশান নির্মাণ করা হবে। কোনো নেতা বা সন্যাসীর বিতর্কিত মন্তব্যে এতে কোনো প্রভাব পড়বে না। একই রকম মত দিয়েছে সমাজবাদী পার্টি। দলের নেতা নরেশ আগরওয়াল বলেছেন, সাক্ষী মহারাজার বিবৃতি সম্প্রদায়িকতা চড়িয়ে ড়েবে। এতে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে ব্যবধান আরো বাড়বে। তাদের এমন কথাবার্তায় বোঝা যায় বিজেপি কতটা হতাশাজনক অবস্থায়। আলোচনার জন্য তাদের কাছে কোনো ইস্যুই নেই। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফতেহপুরে এক র‌্যালিতে ভাষণ দেন। সেখানে তিনিও কবরস্তান ও শ্মশান ইস্যু তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দু’পক্ষের জন্যই জমি বরাদ্দে কোনো বৈষম্য রাখা উচিত হবে না। যদি কোনো গ্রামে কবরস্তান সৃষ্টির প্রয়োজন হয় তাহলে একইসঙ্গে একটি শ্মশানও সেখানে সৃষ্টি করা উচিত। যদি রমজান মাসে বিদ্যুতে বিঘ্ন না ঘটে তাহলে দিওয়ালি উৎসবের সময়ও বিঘ্ন ঘটা উচিত হবে না। এক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য রাখা উচিত হবে না।

রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী গ্রেপ্তার

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. এমদাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এমদাদুলকে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দুদকের জনসংযোগ বিভাগ নিশ্চিত করেছে। দুদক সূত্র জানায়, ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ৮৭ লাখ টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এমদাদুলের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
দুদকের উপসহকারী পরিচালক সাইদুজ্জামান রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন। মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে সংস্থার একটি দল আজ সকালে এমদাদুলকে গ্রেপ্তার করে। দুদক সূত্র জানায়, এমদাদুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের যোগসাজশ নিয়ে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ-বিষয়ক অভিযোগ তদন্তে সম্মত হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসনাল কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার বিবিসির খবরে জানানো হয়, কমিটির সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন যে হাউসের ইনটেলিজেন্স প্যানেল ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার এবং মস্কোর মধ্যেকার যোগসাজশের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবে। নির্বাচনী প্রচারে এ ধরনের অসমীচীন আচরণের কথা হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নিশ্চিতভাবে বলছে, নির্বাচনী প্রচারকালে নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপ করেছিলেন। নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগও তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) ও সিনেটের তদন্ত কমিটি। এর আগে রাশিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আসুন, সবাই একযোগে স্বপ্ন পূরণে কাজ করি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিবাদের সময় এখন নয়। ক্ষুদ্র চিন্তায় সন্তুষ্ট থাকারও সময় এটা নয়। এখন দরকার যে স্বপ্ন আমাদের হৃদয়ে রয়েছে, তা সবার সঙ্গে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়া। এখন চাই যে আশা আমাদের হৃদয়ে রয়েছে তা প্রকাশের সাহস এবং আশা ও স্বপ্নের বাস্তবায়নের জন্য আস্থা।’ গত মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান উভয় দলের সদস্যদের প্রতি স্বপ্নপূরণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ সপ্তাহ পর দেওয়া এ ভাষণ ছিল ট্রাম্পের আগের সব ভাষণ ও টুইটার মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। অভিষেক ভাষণে ট্রাম্প এক ভগ্নপ্রায় ও দুর্দশাগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র এঁকেছিলেন, যে দেশের রাস্তায় রাস্তায় ‘হত্যালীলা’ এক নৈমিত্তিক ব্যাপার।
সে ভাষণের জন্য ট্রাম্প সমালোচিত হয়েছিলেন। বস্তুত তখন থেকেই তিনি নিজে ‘ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র’ বিষয় নিয়ে বিবাদ করেছেন। মঙ্গলবার সোয়া ঘণ্টা স্থায়ী ভাষণে ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি প্রশ্নে তাঁর প্রস্তাবিত কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তবে অনেক নরম ও কম বিভেদাত্মক স্বরে বক্তব্য পেশ করলেও মৌলিক অবস্থান থেকে খুব একটা সরে আসেননি। এদিন দুপুরে আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প অভিবাসন প্রশ্নে তাঁর অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত করেন। সিএনএন জানায়, বিভিন্ন টিভি নেটওয়ার্কের উপস্থাপকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, অবৈধ অভিবাসীদের ঢালাও বহিষ্কারের বদলে অধিকাংশকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে তিনি আগ্রহী। কোনো অপরাধ না করে থাকলে ও বকেয়া কর শোধ করলে তাঁদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার দেওয়া যেতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রিপাবলিকান পার্টির অতিরক্ষণশীল সদস্যদের আপত্তির কারণে তিনি ভাষণে সে কথা তোলেননি। অভিবাসন সংস্কার প্রশ্নে ট্রাম্প ভাষণে বলেন, তিনি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো ‘গুণাগুণের ভিত্তিতে’ অভিবাসী গ্রহণে আগ্রহী। মেক্সিকোর সঙ্গে দেয়াল নির্মাণের ব্যাপারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেও নির্মাণ খরচ মেক্সিকোকে বহন করতে হবে—এমন দাবি এদিন আর তোলেননি ট্রাম্প।
আবার ক্ষমতা গ্রহণের দিনই ওবামার স্বাক্ষরিত স্বাস্থ্যবিমা আইন বাতিল করার ঘোষণা অতীতে দিলেও মঙ্গলবারের ভাষণে উভয় দলের সদস্যদের কাছে এ প্রশ্নে যৌথভাবে কাজ করার আবেদন রাখেন তিনি। ট্রাম্প এ সময় একবারও রাশিয়া বা ভ্লাদিমির পুতিনের নাম উল্লেখ করেননি। তবে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় বিশ্বের বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে নতুন আঁতাত গড়ে তোলার পক্ষে মত দেন। মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার কথিত হস্তক্ষেপ ও পুতিনের সঙ্গে তাঁর গোপন যোগাযোগের অভিযোগ এখনো ট্রাম্পকে তাড়া করে ফিরছে। গত পাঁচ সপ্তাহে ট্রাম্প একের পর এক মিথ্যাচার করেছেন। কংগ্রেসে মঙ্গলবারের ভাষণ সেদিক থেকে কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী। তবে আদৌ কোনো মিথ্যাচার ছিল না, তা বলা যাবে না। নিউইয়র্ক টাইমস-এর হিসাবে, অন্তত ১৩টি ক্ষেত্রে ট্রাম্প হয় খুঁতযুক্ত কিংবা সত্যের অপলাপ হয় এমন তথ্য উপস্থিত করেন। এদিকে জরিপ বলছে, ডেমোক্রেটিক পার্টির সমালোচনা সত্ত্বেও ট্রাম্পের ভাষণ যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষের কাছে ভালো লেগেছে। সিএনএনের নেওয়া এক জরিপ অনুসারে প্রতি ১০ জনের ৭ জনই এ ভাষণে সন্তুষ্ট।

‘শাহি’ সফরে সৌদি বাদশাহ

বিশাল আয়োজনে এক মাসের এশিয়া সফরে বেরিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। আলাদা কার্গো বিমানে তাঁর সঙ্গে থাকছে দুটি বিলাসবহুল মার্সিডিস লিমুজিন গাড়ি ও দুটি বৈদ্যুতিক লিফটসহ সব মিলিয়ে ৪৬০ টন মালামাল। পরিবহন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এয়ারফ্রাইট নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সফরে বাদশাহর সঙ্গে আছেন প্রায় এক হাজার লোক। এর মধ্যে অনেকে আছেন মালামাল বহনের জন্য। এ ছাড়া সফরসঙ্গী হয়েছেন ২৫ জন সৌদি যুবরাজ এবং ১০ জন মন্ত্রী। গতকাল ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছান বাদশাহ সালমান। এর আগে তিনি মালয়েশিয়ায় ছিলেন। এক মাসের সফরে ব্রুনেই, জাপান, চীন এবং মালদ্বীপেও যাবেন তিনি। মোট ২৭টি ফ্লাইটে করে গতকাল জাকার্তায় পৌঁছান বাদশাহ সালমান ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। জাকার্তা বিমানবন্দরে বাদশাহকে স্বাগত জানান ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো এবং জাকার্তার গভর্নর বাসুকি তাজাহাজা পুরনামা। বিমান থেকে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে নামেননি বাদশাহ।
তাঁর নামার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এস্কেলেটর বা চলন্ত সিঁড়ি ছিল। বিবিসি জানিয়েছে, ৬৩ টন মালামাল নামানো হয় জাকার্তায়। বাকি ৩৯৬ টন নিয়ে যাওয়া হয় বালি দ্বীপে। বালি দ্বীপে অবকাশ যাপন করবেন বাদশাহ। ৪৭ বছরের মধ্যে কোনো সৌদি বাদশাহ ইন্দোনেশিয়া সফর করছেন। ১৯৭০ সালে বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ জার্কাতা সফরে গিয়েছিলেন। এত বিপুল মালামাল এবং সফরসঙ্গী নিয়ে ভ্রমণ করা সৌদি বাদশাহদের জন্য স্বাভাবিক বিষয় হলেও ইন্দোনেশিয়ার মানুষের কাছে এটি বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে। জাকার্তায় তিন দিন থাকবেন সালমান। আরও কয়েক দিন থাকবেন বালিতে। জাকার্তা সফরের সময় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্ট অধিবেশনে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা। সেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় মসজিদ পরিদর্শনেও যাবেন তিনি। হজে আরও বেশি লোক পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার জন্য বাদশাহকে অনুরোধ করবে ইন্দোনেশিয়া। জাকার্তা থেকে বালি দ্বীপে গিয়ে সেখানে একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রে কিছুদিন অবস্থান করবেন বাদশাহ। সেখানে তিনি ও তাঁর সঙ্গে যাওয়া ব্যক্তিরা থাকবেন পাঁচটি বিলাসবহুল হোটেলে।

পর্যটকদের চাঁদের কাছে নেবে স্পেসএক্স

দুই ব্যক্তি নিজ খরচে বেড়াতে যাবেন। এখানে-সেখানে নয়, একেবারে চাঁদের কাছে। এ জন্য ট্রাভেল এজেন্সি হিসেবে তাঁরা মার্কিন প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সকে বেছে নিয়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরই এই ভ্রমণ সম্পন্ন হবে। স্পেসএক্স কর্তৃপক্ষ গত সোমবার বলেছে, গভীর মহাশূন্যের সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে এটাই হবে কোনো মানুষের প্রথম পর্যটন। ওই দুই পর্যটক ইতিমধ্যে তাঁদের ভ্রমণ খরচের একটি বড় অংশ জমা দিয়েছেন। চলতি বছরই তাঁদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ শুরু হবে। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহে নাসার অ্যাপোলো অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো নভোচারীকে সেখানে পাঠায়নি। স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এলন মাস্ক বলেন, তাঁরা বেসরকারি উদ্যোগে দুই ব্যক্তিকে চাঁদে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। আগামী বছরের শেষ দিকে ওই দুজন যাত্রা করবেন। এটা ৪৫ বছরের মধ্যে গভীর মহাশূন্যে কোনো মানুষের ফিরে যাওয়ার একটা সুযোগ। আর ওই দুই অভিযাত্রী তাঁদের যেকোনো পূর্বসূরির চেয়ে দ্রুত এবং সৌরজগতের অনেক বেশি গভীরে পৌঁছাতে পারবেন।
দুই পর্যটকের নাম অপ্রকাশিত রেখে মাস্ক বলেন, আরও অনেকে চন্দ্র ভ্রমণের জোরালো আগ্রহ জানিয়েছেন। স্পেসএক্স পর্যায়ক্রমে এ রকম আরও ভ্রমণ আয়োজন করতে চায়। প্রথম দুজনের স্বাস্থ্য ও অন্যান্য যোগ্যতার পরীক্ষা শেষে তাঁদের সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তী তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। আলোচিত দুই পর্যটক ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্রু ড্রাগনের একটি ক্যাপসুলে চড়ে যাবেন। চলতি বছরের শেষ দিকে এটি প্রথম মানববিহীন যাত্রার পরীক্ষা চালাবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) মালপত্র পরিবহনের উপযোগী করে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। পরে সেটির উন্নত সংস্করণ করে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ক্যাপসুলটি স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি নামের রকেটের মাথায় যুক্ত থাকবে। এবারের গ্রীষ্মেই রকেটটির প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হবে। মাস্ক বলেন, স্যাটার্ন ফাইভ নামের রকেটের পর ফ্যালকন হেভিই হবে কক্ষপথগামী সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট।

মসুলে বাধার মুখে ইরাকি বাহিনী

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নিয়ন্ত্রণাধীন ইরাকের মসুল শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দখলের লড়াইয়ে তীব্র বাধার মুখে পড়েছে দেশটির বিশেষ বাহিনী। এ বাহিনীর একজন কমান্ডার গতকাল বুধবার এ তথ্য জানান। আইএসের কাছ থেকে মসুলের পশ্চিমাঞ্চল পুনর্দখল করার লক্ষ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বড় রকমের অভিযান শুরু করেছে ইরাকি বাহিনী। ইতিমধ্যে এই বাহিনীর সদস্যরা মসুল বিমানবন্দর দখল করে নিয়েছেন। এখন তাঁরা শহরের দক্ষিণ দিক থেকে আইএস নিয়ন্ত্রিত বাকি এলাকাগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছেন।  ইরাকি বাহিনীর স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুলগনি আল-আসাদি এএফপিকে বলেন, এ মুহূর্তে মামুন ফ্ল্যাট এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে ইরাকের সন্ত্রাস দমন সার্ভিসের সদস্যরা লড়ছেন। বাগদাদ সড়ক ও এর আশপাশের এলাকার নিয়ন্ত্রণ পেতে এ স্থানের দখল নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। সন্ত্রাস দমন সার্ভিসের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার আল-আসাদি আরও বলেন,
‘মসুল দখলের লড়াইয়ে শক্ত ও সহিংস প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের। কেননা, এখন যেখানে লড়াই হচ্ছে, সেই স্থান আমাদের মতে আইএসের প্রধান সরবরাহ লাইন।’ গণমাধ্যমগুলো জানায়, দুই পক্ষের লড়াইয়ে মামুন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে অনেক বাড়িঘর; ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু সড়ক ও যানবাহন।  ২০১৪ সাল থেকে মসুল আইএসের দখলে। সে বছর থেকেই রাজধানী বাগদাদের উত্তর ও পশ্চিমের এক বিশাল অংশও দখল করে রেখেছে তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন বাহিনীর বিমান হামলা ও অন্যান্য সহায়তায় ইরাকি বাহিনী এখানকার হারানো অনেক এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে।  ইরাকের মসুল শহরকে দেশটিতে আইএসের সর্বশেষ ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়। এ শহরের নিয়ন্ত্রণ লাভে গত বছরের ১৭ অক্টোবর থেকে সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে ইরাকি বাহিনী।
পালিয়েছে ২৬ হাজার লোক
দুই পক্ষের রক্তাক্ত লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে প্রাণ বাঁচাতে মসুল থেকে গত ১০ দিনে ২৬ হাজার ইরাকি পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী। গতকাল এক বিবৃতিতে জাসেম মোহাম্মদ আল-জাফ এ তথ্য জানান।

মেলানিয়ার পোশাক ‘যথাযথ’ নয়!

মেলানিয়া ট্রাম্প ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে না থেকেও প্রায় সময়ই খবরের শিরোনামে থাকেন। তার পোশাক, তার কথা সবকিছুই আলোচনার জন্ম দেয়। যেমন মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবারের মতো ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত মেলানিয়ার পোশাকের ব্যাপারটি অনেকেরই দৃষ্টি এড়ায়নি। কেউ কেউ বলছেন এই পোশাক না কি ‘যথাযথ’ নয়। ওই একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইভানকা ট্রাম্পের লাল পোশাক নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা।সিএনএন, ইয়াহুর নিউজ এবং ইউএস টুডের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও। ভাষণে ট্রাম্প অভিবাসন, ইসলাম, বাণিজ্যনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে গুরুগম্ভীর কথা বলেন।
এরপরও অনুষ্ঠানে মেলানিয়ার পোশাকটি দৃষ্টি এড়ায়নি অনেকের। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নকশাকার মাইকেল কোরের নকশা করা কালো ভেলভেটের জ্যাকেট পরেছিলেন মেলানিয়া। এর সঙ্গে মিলিয়ে কালো একটি স্কার্ট পরে ওই অনুষ্ঠানে আসেন নিউইয়র্কের বসবাসকারী মেলানিয়া। সঙ্গে ছিল কালো রঙের একটি বেল্ট। মার্কিন সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, মেলানিয়ার চুমকি খচিত ওই পোশাকের দাম নয় হাজার ৫৯০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রা টাকায় এর মূল্য হয় প্রায় আট লাখ টাকার মতো। বেশ দামি কালো ওই পোশাক পরে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে মেলানিয়া উপস্থিতি নিয়ে অনলাইনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা সমালোচনা চলছে। অনেকেই বলেছেন, মেলানিয়ার এ পোশাক এ ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য ‘যথাযথ’ নয়।

ধর্মঘটের কারণে জ্বালানি ছিল না পেট্রলপাম্পে

গত মঙ্গলবার থেকে পরিবহনশ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে রাজধানীতে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করতে পারেনি। এর ফলে গতকাল বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পেট্রলপাম্পে জ্বালানির সংকট দেখা দেয়। একাধিক পাম্পে গিয়েও প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন অনেকে। রাজারবাগ, মগবাজার, তেজগাঁও, বিজয় সরণি এলাকার পেট্রলপাম্প ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি না থাকায় কয়েকটি পেট্রলপাম্পের প্রবেশপথ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। অনেকেই জ্বালানি নিতে এসে না পাওয়ায় ফিরে যান। কাজ না থাকায় পেট্রলপাম্পের কর্মচারীরাও বসে ছিলেন। তিন পাম্পে ঘুরেও জ্বালানি না পাওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘বাস না চলায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। পাম্পে জ্বালানি না থাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক ও মোটরসাইকেলের চালকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এমন হঠাৎ ধর্মঘট সাধারণ মানুষের দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে।’ নাম না প্রকাশের শর্তে পেট্রলপাম্পের একজন মালিক বলেন, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে তেলবাহী ট্যাংকারগুলো রাজধানীতে ঢুকতে না পারায় কোনা কোনো পাম্পে সংকট দেখা দিয়েছে। ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) সকালের মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে। সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের প্রাণহানির মামলায় বাসের চালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাভারে ট্রাকচাপায় এক নারীকে হত্যার দায়ে ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে সোমবার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে ধর্মঘট আহ্বান করেন পরিবহনশ্রমিকেরা। গতকাল বুধবার বিকেলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন শ্রমিকেরা।

সুন্দরবনে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্দেহভাজন বনদস্যু নিহত: র‍্যাব

সুন্দরবনে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৮) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্দেহভাজন এক বনদস্যু নিহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সুখপাড়ার চর এলাকায় কথিত এই বন্দুকযুদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭৭টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‍্যাবের ভাষ্য। র‍্যাবের তথ অনুযায়ী,
বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তির নাম বেল্লাল মীর ওরফে কানা বেল্লাল। তিনি বনদস্যু শামসু বাহিনীর সদস্য ছিলেন। র‍্যাব-৮-এর উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবিরের ভাষ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুন্দরবনের ওই এলাকায় অভিযানে যায় র‍্যাব। অভিযানের একপর্যায়ে বনদস্যুদের সঙ্গে র‍্যাবের বন্দুকযুদ্ধ হয়। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এই বন্দুকযুদ্ধ চলে। বন্দুকযুদ্ধে এক বনদস্যু নিহত হয়। স্থানীয় জেলেরা নিহত ব্যক্তিকে লাশ শনাক্ত করেন।

বিজিএমইএ ভবন বিষয়ে রিভিউ শুনানি মুলতবি

বিজিএমইএ ভবন অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) করা আবেদনের ওপর শুনানি মুলতবি হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য ছিল। এদিন রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময়ের আবেদন করেন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, ‘নট টুডে।’ আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বিজিএমইএর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। পরে আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম বলেন, শুনানি এক দিনের জন্য মুলতবি হয়েছে। আগামী রোববার শুনানি হবে। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের পূর্ব পাশে অবস্থিত পোশাকশিল্প প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ১৬ তলা ভবনটি অবিলম্বে সংগঠনের নিজ খরচায় ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় গত বছরের ৮ নভেম্বর প্রকাশিত হয়।
৮ ডিসেম্বর রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএর সভাপতি। সূত্র জানায়, এই আবেদনে আপিলের রায় স্থগিতের পাশাপাশি অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য তিন বছরের সময় চাওয়া হয়। বিষয়টি গত সোমবার আদালতে উঠলে ২ মার্চ শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ। পাঁচ বছর আগে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ে ওই ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। এই লিভ টু আপিল খারিজ করে গত বছরের ২ জুন রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘বেগুনবাড়ি খাল’ ও ‘হাতিরঝিল’ জলাভূমিতে অবস্থিত ‘বিজিএমইএ কমপ্লেক্স’ নামের ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ক্ষেত্রে ভবন ভাঙার খরচা আবেদনকারীর (বিজিএমইএ) কাছ থেকে আদায় করবে তারা। এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ।

রংপুরের পীরগঞ্জে বাস খাদে, নিহত ৩

রংপুরের পীরগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১৯ জন। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলা সদরের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাছে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পীরগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে দুই নারী নিহত হন। তাঁদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পরে হাসপাতালে মারা যান এক যুবক।
পীরগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান বলেন, রূপসী পরিবহনের বাসটি ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছিল। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে হতাহত হওয়ার এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্র জানায়, হাসপাতালে আহত অবস্থায় ২০ জনকে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন মারা যায়।

মতিঝিল ও দিলকুশায় অবৈধ পার্কিং

সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর হলো। এই সময়ে রাজধানীর অনেক স্থানেই লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। আবার কোথাও এখনো কোনো কাজই হয়নি। নির্বাচিত কাউন্সিলররাই বা কী করছেন? আবার নতুন করে যেসব এলাকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় হাতই দেয়নি দুটি করপোরেশন। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আছে নানা ক্ষোভ-আক্ষেপ। এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা, অভাব-অভিযোগ, সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে নিয়মিত প্রকাশিত হবে ওয়ার্ডের চালচিত্র মতিঝিল, দিলকুশা, ফকিরাপুল ও আরামবাগের অধিকাংশ সড়ক এবং ফুটপাত দখল করে রাখা হচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়ি। এসব অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না৷ এই এলাকাগুলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন। ওয়ার্ডে সরকারি কাঁচাবাজার, কমিউনিটি সেন্টার, ব্যায়ামাগার, পাঠাগার, পার্ক ও খেলার মাঠ কোনোটিই নেই। মশার উপদ্রব ও ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। তবে আছেন নিরাপত্তাকর্মী, লাগানো হয়েছে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ও প্রায় ৫০০ এলইডি বাতি। গতকাল বুধবার এসব এলাকা ঘুরে ও স্থানীয় বাসিন্দা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র দেখা যায়। বঙ্গভবন, কমিশনার গলি ও বাজার রোড, পানির ট্যাংক গলি, মগার গলি, ডালাস গলি, কিউট গলি, কোমর গলি, সরদার গলি, গরম পানি গলি, পেপসি গলি, ফকিরাপুল ১ নম্বর গলি, ঝিলপাড়, সাফায়াত উল্লাহ লেন, শুক্কুর পাগলা লেন, মধুমিতা গলি ও কালভার্ট রোড এলাকা নিয়ে ডিএসসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। ওয়ার্ডে লক্ষাধিক লোকের বসবাস। দেখা যায়, দৈনিক বাংলা মোড়, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা ও শাপলা চত্বর, দিলকুশা এবং বঙ্গভবন এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে দুই শতাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি ও পিকআপ পার্কিং করে রাখা হয়েছে। একইভাবে ফকিরাপুল পানির ট্যাংক, আরামবাগ, নটর ডেম কলেজ ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের আশপাশের বিভিন্ন সড়ক এবং ফুটপাতে রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক গাড়ি। গলিগুলোতে গড়ে উঠেছে চা-পানসহ হরেক রকমের অর্ধশতাধিক দোকানপাট। এতে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফুটপাতে পথচারীদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আরামবাগের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, মতিঝিল রাজধানীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা। অথচ যত্রতত্র ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়।
এলাকায় অবৈধ গাড়ি পার্কিং বন্ধ করতে হলে সিটি করপোরেশন ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে৷ এই ওয়ার্ডে সিটি করপোরেশনের কমিউনিটি সেন্টার, পাঠাগার ও ব্যায়ামাগার নেই। ফলে বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টারে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে হয়। এতে নাগরিকদের বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। গরম পানির গলির বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ২০১৫ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে ওয়ার্ডে একটি আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডিএসসিসির মেয়র মো. সাঈদ খোকন ও কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ। নির্বাচিত হওয়ার প্রায় দুই বছর পরও কোনো উদ্যোগ তাঁরা নেননি। অথচ এই এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টার ও গ্রন্থাগার এবং ব্যায়ামাগার অনেক জরুরি। ওই ওয়ার্ডে কাঁচাবাজার না থাকায় অলিগলিতে গড়ে উঠেছে শাকসবজি ও মাছের ভ্রাম্যমাণ দোকান। দেখা যায়, গরম পানি গলি, পেপসি গলি, কিউট গলি, সরদার গলির বিভিন্ন স্থানে মুদি দোকান ও ভ্যানগাড়িতে শাকসবজি বিক্রি হচ্ছে। দরদাম করে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। গলিগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে রয়েছে। কিউট গলিতে একটি ভ্যান থেকে শাকসবজি কিনছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনাস। তিনি বলেন, বাসায় বেশি বাজার দরকার হলে অন্যান্য এলাকার বড় কোনো বাজার থেকে কেনাকাটা করেন৷ এতে সময় ও শ্রম বেশি লাগে। এর মাঝে অল্প কেনাকাটা দরকার হলে মহল্লার দোকান থেকেই কেনেন তিনি। মহল্লায় একটি স্থায়ী কাঁচাবাজার দরকার৷ মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য পৃথক কোনো খেলার মাঠ নেই। আরামবাগের বাসিন্দা মো. সুজন বলেন, আগে আরামবাগ বালুর মাঠে খেলাধুলা করত মহল্লার শিশু-কিশোরেরা। বর্তমানে এই মাঠটি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অধীনে রয়েছে। এখন এই মাঠে ফুটবল ছাড়া অন্যান্য খেলাধুলা করা নিষেধ রয়েছে। এতে ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাধুলা থেকে তারা বঞ্চিত। অথচ শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। ডিএসসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় সব এলাকায় মশার উপদ্রব রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফকিরাপুল বাজার রোডের বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, এই এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হয় না। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাসিন্দারা।
অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করা হবে
২০১৫ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ডিএসসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ। এলাকার বিভিন্ন বিষয়ে তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। সড়ক ও ফুটপাতে পার্কিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, গত জানুয়ারি থেকে মতিঝিল ও আশপাশের এলাকার সড়ক এবং ফুটপাতে টানা অভিযান চালিয়ে হকার উচ্ছেদ করেছে ডিএসসিসি। এভাবে অবৈধ গাড়ি পার্কিং উচ্ছেদ করা হবে। এতে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে সহযোগিতা করতে হবে। মমিনুল হক বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য মহল্লায় ১০২টি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। প্রায় প্রতিটি গলিতে নিরাপত্তাকর্মী ও ফটক লাগানো হয়েছে। পৃথক ১৫টি স্থানে বিনা মূল্যে ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি অলিগলিতে এলইডি বাতি লাগানো হয়েছে। কাউন্সিলর বলেন, এই ওয়ার্ডে কাঁচাবাজার নির্মাণের মতো সরকারি জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে থেকে কোনো একটা জায়গায় তা নির্মাণে শিগগিরই ডিএসসিসির মেয়রের কাছে আবেদন করা হবে। মশার উপদ্রবের বিষয়ে তিনি বলেন, তার ওয়ার্ডে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হয়।

শেরপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক জঙ্গি নিহত

বগুড়ার শেরপুরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ বলেছে, নিহত আমিজুল ইসলাম ওরফে আলামিন ওরফে রনি (২৩) নিষিদ্ধ সংগঠন নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক শাখার প্রধান কমান্ডার ছিলেন। আমিজুলের বাড়ি রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার বুজরুপ রাজারামপুর গ্রামে। পুলিশ বলেছে, আমিজুল ইসলাম শেরপুরে জোয়ানপুরে বোমা বিস্ফোরণের মামলার সন্দিগ্ধ আসামি। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত তিনটায় শেরপুরের সীমাবাড়ী-রানীরহাট আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের জামনগর কালভার্টের পাশে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, তিনটি গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. এরফান বলেন,
গত মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত নয়টায় শেরপুর থানার পুলিশ ও বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আমিজুলকে তাঁর নিজ গ্রামে থেকে আটক করে। এ সময় আমিজুলের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরতর জখম হন বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশের কনস্টেবল আবদুস সালাম পিপিএম ও ইসমাইল হোসেন। আহত দুই কনস্টেবলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওসি আরও বলেন, আটকের পর আমিজুলকে নিয়ে শেরপুর থানার পুলিশ ও বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন স্থানে নব্য জেএমবির অন্য সদস্যদের আটকে অভিযান চালায়। মঙ্গলবার রাতে আমিজুল পুলিশকে তাঁর গ্রামের বাড়িতে অস্ত্রের কারখানা রয়েছে বলে সন্ধান দেন। এই খবরে ওই সড়ক দিয়ে গাড়িযোগে যাওয়ার সময় উপজেলার জামনগর কালভার্টের কাছে পৌঁছালে নব্য জেএমবির আমিজুলের সহযোগীরা ডিবি পুলিশের গাড়িতে আক্রমণ করে আমিজুলকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। তখন আমিজুল পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া অস্ত্র ছিল নব্য জেএমবিদের। কয়েকজন জেএমবির সদস্য পুলিশের গাড়িতে আক্রমণ করেছিল। পুলিশ ও জেএমবির মধ্যে গোলাগুলির সময় আক্রমণকারী অন্য জেএমবির সদস্যরা পালিয়ে যায়।

আট মাস ধরে পয়োলাইন ফাটা

বৃষ্টি হয়নি, অথচ রাস্তায় জমে আছে পানি। পথচারীরা হাঁটতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই নাকে হাতচাপা দিচ্ছে। পুরান ঢাকার জিন্দাবাহার এলাকায় ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পয়োলাইনের পাইপ ফেটে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আট মাসেরও বেশি সময় ধরে এমন অবস্থা, তারপরও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। গতকাল বুধবার সরেজমিনে এ অবস্থার কথা জানা যায়। ইতিপূর্বে প্রথম আলোয় ওয়াসার পানির লাইনে ময়লা ও দুর্গন্ধ সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু কী কারণে তা জানা যায়নি। গতকাল এলাকায় গেলে বাসিন্দা ও দোকানিরা পয়োলাইন ফেটে রাস্তায় পানি জমার কথা জানান। তাঁদের ধারণা, পয়োলাইনের ফাটা পাইপে আসা ময়লা পানি খাওয়ার পানির লাইনে মিশে বাসাবাড়িতে সরবরাহ হচ্ছে। দেখা যায়, জিন্দাবাহার দ্বিতীয় গলি এলাকায় জাহাঙ্গীর স্টোরের সামনে রাস্তার নিচ থেকে ময়লা পানি বেরোচ্ছে। সেই পানি সেখানে জমে আছে, আবার বাইরেও ছড়িয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী বলেন, শীত-বর্ষা নির্বিশেষে সার্বক্ষণিকভাবেই এখানে পানি জমে থাকে। প্রায় আট মাস ধরে এই অবস্থা। সিটি করপোরেশনকে বললে ওয়াসাকে দেখায়, ওয়াসা দোষ দেয় সিটি করপোরেশনের। এই ঠেলাঠেলিতে পিষ্ট হচ্ছেন তাঁরা। জিন্দাবাহারের ফাটা পয়োলাইনের কারণে ওয়াসার সরবরাহ করা পানিতে ময়লা আর দুর্গন্ধ শুধু সেখানে নয়, পার্শ্ববর্তী কসাইটুলী, নয়াবাজারের কিছু এলাকায়ও। জিন্দাবাহারের বিভিন্ন গলিতে ওই পানি দিয়ে রান্নাবান্না দূরে থাক, হাত ধোয়ার কাজ করাও দুস্কর বলে জানান এলাকাবাসী। দ্বিতীয় গলির বাসিন্দা মো. ইয়াকুব আগেও এলাকায় ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধের অভিযোগ করেছিলেন। গতকাল তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, পয়োলাইন ফেটে ময়লা পানি বেরোচ্ছে। সম্ভবত পানির লাইনও কোথাও ফাটা আছে। পয়োলাইনের তরল ময়লা খাওয়ার পানির লাইনে মিশে যাচ্ছে। কল খুললে সেই পানি আসছে। এলাকার আরও অন্তত তিনজন অভিযোগ করেন, ওয়াসার একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে তাঁরা বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তিনি কোনো সমাধান না করে বলেছেন, ফাটা লাইন খুঁজে বের করতে হলে রাস্তা কাটতে হবে। এ জন্য সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
সিটি করপোরেশনের একজন পরিদর্শককে বিষয়টি বলার পর তিনি দায় এড়িয়ে বলেছেন, এলাকার ড্রেনেজ লাইন ও পয়োলাইন সবই ওয়াসার। যা করার তারাই করবে। রাস্তা কাটা ওদের কাছে কোনো বিষয়ই না। কসাইটুলী এলাকার বাসিন্দা নয়াবাজারে একটি কাগজের পাইকারি দোকানের কর্মচারী আবদুল হাই বলেন, তাঁদের এলাকায়ও অনেক দিন থেকে ওয়াসার পানিতে গন্ধ। নয়াবাজারেও অনেক বাড়িতে দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসছে বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা। এসব এলাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন। যোগাযোগ করা হলে কাউন্সিলর মো. বিল্লাল শাহ্ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, এলাকায় পানিতে দুর্গন্ধ কী কারণে তিনি জানতেন না। জিন্দাবাহার এলাকায় নর্দমার পাইপ ফেটে রাস্তায় ময়লা পানি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দেখতে তিনি শিগগির লোক পাঠাবেন। এ বিষয়ে তিনি ওয়াসার সঙ্গেও কথা বলে সমাধানের অনুরোধ করবেন বলে জানান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এমনিতেই বছরের বেশির ভাগ সময় এসব এলাকার পানিতে বুড়িগঙ্গা নদীর পানির দুর্গন্ধ থাকে। বুড়িগঙ্গা নদীর পানির দূষণ এত বেশি মাত্রার যে শোধনাগারে শোধন হয় না। চাঁদনীঘাটে পরিশোধিত হয়েও দুর্গন্ধযুক্ত পানি প্রথমেই যেসব এলাকায় সরবরাহ হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে জিন্দাবাহার ও আশপাশের এলাকা। এখন এই পানির সঙ্গে যোগ হয়েছে পয়োবর্জ্যের তরল পানি। ওয়াসার দায়িত্বশীল সূত্রও স্বীকার করেছে যে ওয়াসার গভীর নলকূপের পানি ও শোধনাগার থেকে আসা পানি একই পাইপলাইনে যুক্ত হয়ে গ্রাহকদের বাসাবাড়িতে যায়। অনেক স্থানে পাইপ ফেটে গেছে। সরবরাহ করা পানির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নর্দমা ও পয়োলাইনের পানি। ম্যানহোল পথেও ময়লা পানি বের হয়।

যাত্রীছাউনিগুলো যাত্রীদের জন্য নয়

রাজধানীর যাত্রীছাউনিগুলোর অধিকাংশই ব্যবহারযোগ্য নয়। দোকানপাট, ভাঙাচোরা, নোংরা ও ভবঘুরেদের দখলে থাকায় জনসাধারণের ব্যবহারের সুযোগ নেই। ধানমন্ডি ২ নম্বরের যাত্রীছাউনিতে চা-পান-সিগারেট ও শিঙাড়া-ডালপুরির দোকান। ছাউনি যে আছে তা বোঝার উপায় নেই। সাতমসজিদ সড়ক ধরে এগোলে এমন দৃশ্য আরও চোখে পড়বে। শংকরের ছাউনিতে বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলের একটি স্থায়ী দোকান বানানো হয়েছে। দোকানি বলেন, অনেক দিন থেকেই তিনি ব্যবসা করছেন। এখানে কেউ দাঁড়ায় না। ধানমন্ডি ২৭ (নতুন ১৬/এ) নম্বর যেতে মোড়ের ছাউনির বসার জায়গাগুলো ভাঙাচোরা। এর পেছনেই চায়ের দোকান। গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের পাশের ছাউনিতে একটি ড্রাইভিং শেখার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। একটু সামনেই আছে একটি ফাস্ট ফুডের দোকান। ধানমন্ডিসহ গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, ছাউনিগুলোর দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের পাশের ছাউনিটি নোংরা ও ভবঘুরেদের আড্ডাস্থল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিল্লাল প্রথম আলোকে বলেন, ২০টির বেশি ছাউনি ও বাস বের করা হবে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ডিজিটাল সড়ক করা হবে রাপা প্লাজা থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত। এর সঙ্গে আধুনিক ছাউনিও হবে। বাকি ছাউনিগুলোও ধরা হবে। তিনি আরও বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বছরের মধ্যেই কাজ ধরতে পারবেন। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের ছাউনি ও বসার জায়গা ভাঙা। আবর্জনা ভরা।
এর মধ্যেই দোকান চলছে। যাত্রীরা দাঁড়িয়ে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করেন ফুটপাত বা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রিমা আক্তার বলেন, ‘বাসস্ট্যান্ডে যে ছাউনি আছে তা-ই তো জানতাম না।’ আসাদগেটের ছাউনিতেও স্থায়ী একটি দোকান বসানো। দোকানের কর্মচারী রাসেল বলেন, তিনি কিছু জানেন না। তবে বললেন, মালিক হয়তো ‘ম্যানেজ’ করেই বসেন। শ্যামলীর শিশুমেলার সামনের ছাউনি গত বছরের আগস্টে ভেঙে দেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ফুটপাতে সংস্কারকাজ চলছে। কিছুদিন আগেও সেখানকার ছাউনিতে একটি ওষুধের দোকান ছিল। দোকানটি এখন নেই। শিশুমেলা থেকে আগারগাঁওয়ে যাওয়ার সড়কে বেশ কিছু যাত্রীছাউনি আছে। বেশির ভাগই ফুলের দোকান, খাবার হোটেলসহ হকারদের দখলে। যাত্রীছাউনিগুলো দুই সিটি করপোরেশন ছাড়া বিআরটিসিরও কিছু আছে। ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন অনেক বাসস্ট্যান্ড হবে। পরবর্তী সময়ে তাঁরা আধুনিকায়নের কাজ শুরু করবেন। ফার্মগেটে হলিক্রস স্কুলের সামনের ছাউনিতে বসার কোনো জায়গা নেই। এখানেও হকারদের দৌরাত্ম্য। মো. আমিন মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এই সবের ব্যবহারই মানুষ বোঝে না। একটু জায়গা পাইলেই দখলে নিয়া নেয়।’ কারওয়ান বাজারের সামনের ছাউনিটি ভবঘুরেদের দখলেই থাকে। গতকাল দেখা যায়, দুজন সেখানে ঘুমাচ্ছেন। মিরপুর, কল্যাণপুর, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানের যাত্রী ছাউনিও দখলকৃত।

পরিবহন সংকটে চরম ভোগান্তি

পরিবহনশ্রমিকদের ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বুধবার গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শ্রমিকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। ফলে কিছু যানবাহন রাস্তায় বের হলেও বাধার কারণে তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়। সকালে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ বেকায়দায় পড়ে। সকালে চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস মোড়, টঙ্গী, কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড় ও মাওনা চৌরাস্তা মোড়ে শ্রমিকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা ট্রাক এলোপাতাড়ি করে রেখে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া পেয়ারা বাগান এলাকা থেকে রংপুরে অসুস্থ মাকে দেখতে যাওয়ার জন্য মঙ্গলবার রাত থেকে ভোগড়া বাইপাস মোড় ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছিলেন আকলিমা খাতুন। তিনি গার্মেন্টস থেকে চার দিনের ছুটি নিয়েছেন। কিন্তু গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত তিনি কোনো যানবাহন পাননি। গাজীপুর আদালতে যাওয়ার উদ্দেশে কালিয়াকৈর থেকে গাজীপুরে আসেন বিচারপ্রার্থী আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, অবরোধের কথা শুনে ভোর পাঁচটায় কালিয়াকৈরের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন। বহু কষ্টে বেলা ১১টায় তিনি চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত আসেন।
এতে তাঁর সাড়ে তিন শ টাকার মতো খরচ হয়েছে। এখন চান্দনা চৌরাস্তা থেকে গাজীপুর আদালত পর্যন্ত যেতে আরও ১০০ টাকা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সকাল আটটা থেকে বিপুলসংখ্যক পরিবহন শ্রমিকেরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড ও শিমরাইলের কয়েকটি পয়েন্টে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। মহাসড়ক দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখলেই বাধা দেয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে ২১টি রুটের যানবাহন চলাচল করলেও তা বন্ধ ছিল। শ্রমিকেরা রোগী পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও বাধা সৃষ্টি করেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা. সরাফত উল্লাহ বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের বাধার কারণে মহাসড়কে যান চলাচল করেনি। তাঁরা কয়েকটি স্থানে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়। এদিকে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। রেলওয়ে নারায়ণগঞ্জ স্টেশনের স্টেশন মাস্টার গোলাম মোস্তফা বলেন, যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ট্রেনের যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে।

সরকারি খাল ভরাট করার অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার উত্তর ষোলপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি খাল দখল করে ভরাট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে জানা যায়, সোনারগাঁ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ষোলপাড়া এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একটি খাল। স্থানীয় আবুল হাসেমের ছেলে গাজী জুয়েল ওই খাল দখল করে ভরাট করছেন। এভাবে খাল ভরাট করা হলে এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন লোকজন।
ষোলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান, সিরাজুল ইসলামসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রথম আলোকে বলেন, এ খাল দিয়ে বর্ষার পানি নিষ্কাশন হয়। সরকারি এ খালটি দখল হলে বর্ষা মৌসুমে এই এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ৩ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর ষোলপাড়া গ্রামের ছানোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, জুয়েল মিয়া সরকারি খাল দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে জুয়েল মিয়ার দাবি, তিনি কোনো খাল দখল করেননি। খালের সামান্য অংশ ভরাট হয়েছে। এতে পানিনিষ্কাশনের কোনো সমস্যা হবে না। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, ‘সরকারি খাল দখল করে ভরাট করার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। শিগগিরই খাল ভরাটের কাজ বন্ধ করার জন্য নোটিশ দেওয়া হবে।’

কাজ করছি ঘরে ঘরে আলো জ্বালানোর লক্ষ্যে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার ঘরে ঘরে আলো জ্বালানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নতুন ট্রান্সমিশন ও বিতরণ লাইন উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘরে ঘরে আলো জ্বালব—সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের একটি ঘরও আর অন্ধকারে থাকবে না।’ পাশাপাশি তিনি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন সবাইকে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে সদ্য নির্মিত আটটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, একটি সাবস্টেশন এবং একটি সঞ্চালন লাইন রয়েছে।
নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মোট ১ হাজার ৩৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। প্রকল্পগুলো চালু হলে বিভিন্ন জেলার ১০টি উপজেলা এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানের একটি উপজেলায় বিদ্যুতের শতভাগ সরবরাহ নিশ্চিত হবে। সদ্য নির্মিত ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র হলো শাহজীবাজার ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, খুলনা ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, মানিকগঞ্জ ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, নবাবগঞ্জ ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, জামালপুর ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, বরিশাল ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মদনগঞ্জের ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে বিদ্যুৎ নিয়ে হাহাকার ছিল। সততা ও দক্ষতার সাহায্যে উৎপাদন বাড়িয়ে বর্তমানে ১৫ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উপস্থাপনা
এর আগে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকার প্রস্তাবিত বর্ধিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর একটি উপস্থাপনা দেখেন। সেনাবাহিনীর প্রধান প্রকৌশলী মেজর জেনারেল মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান এটি উপস্থাপন করেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন এতে আলোচনায় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী বিজয় সরণির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্বাচ্ছন্দ্য আনতে কিছু পরামর্শ দেন।

বিচারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা চেয়ে ২১ বিশিষ্ট ব্যক্তির বিবৃতি

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার বিচারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা চেয়ে দেশের ২১ বিশিষ্ট ব্যক্তি বিবৃতি দিয়েছেন। গতকাল বুধবার তাঁরা এ বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তাঁরা উল্লেখ করেন, ‘নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে হত্যা করা হয় ৬ মার্চ ২০১৩। এ হত্যাকাণ্ডের ৪ বছরেও মামলার অভিযোগপত্র না দেয়ায় আমরা ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। সংবাদমাধ্যমে আমরা জেনেছি এ হত্যার সাথে জড়িত একাধিক ঘাতক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির মাধ্যমে হত্যা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। গত ৩ বছর আগে এ হত্যা মামলার তদন্তকারী সংস্থা র্যা ব সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হত্যার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের একটি খসড়া অভিযোগপত্র প্রদান করেছেন। কিন্তু অদ্যাবধি সে অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা হয় নাই। আমরা দ্রুত অভিযোগপত্র প্রদানের জন্য ও এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করার জন্য প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশ প্রদানের জন্য আবেদন জানাচ্ছি।’ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন, আহমদ রফিক, ড. আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,
ড. সন্জীদা খাতুন, কামাল লোহানী, অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক যতীন সরকার, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ, অধ্যাপক শান্তনু কায়সার, ড. সফিউদ্দিন আহমদ, ডা. সারোয়ার আলী, ড. মালেকা বেগম, অধ্যাপক শফি আহমেদ, মামুনুর রশীদ, আয়শা খানম, মফিদুল হক, অধ্যাপক এম এম আকাশ ও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী নগরের শায়েস্তা খান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। দুদিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে ত্বকীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়। ত্বকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সুলতান শওকত ওরফে ভ্রমর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাতে তিনি স্বীকার করেন, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে কলেজ রোড এলাকায় তাঁর টর্চার সেলে নির্যাতন চালিয়ে ত্বকীকে হত্যা করা হয়।

রাজধানীতে বন্ধুদের হাতে কিশোর খুন

রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় কিশোরদের হাতে এক কিশোর খুন হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে বন্ধুদের আড্ডায় কথা-কাটাকাটির সময় মো. সজীব মিয়া (১৪) নামের ওই কিশোরকে চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর গতকাল বুধবার সকালে সে মারা যায়। পুলিশ বলেছে, বন্ধুদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে সজীব খুন হয়েছে। সে পশ্চিম শেওড়াপাড়ার হলি ক্রিসেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ছিল। এ বছর সে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হলেও ভর্তি হয়নি। সে ভগ্নিপতি আল মাহমুদের সঙ্গে পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ভাড়া বাসায় থাকত। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেছেন, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সজীব বাসার ১৫-২০ গজ দূরে গলিতে পাঁচ-ছয়জন বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় সজীবকে এক বন্ধু জাপটে ধরে রাখে এবং আরেক বন্ধু চাপাতি দিয়ে তার ঘাড়ে ও পিঠে কোপ দেয়। স্থানীয় লোকজন হামলাকারী সন্দেহে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। রক্তাক্ত অবস্থায় সজীবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর গতকাল সকাল আটটার দিকে সে মারা যায়। দুপুরে সজীবের ভগ্নিপতির বাসায় গিয়ে স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। সজীবের বড় বোন সুমি আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, সজীব মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে নিচতলায় ঘুমানোর কথা বলে বেরিয়ে যায়। কোপানোর খবর শুনে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, সজীবের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। তিনি অভিযোগ করেন, সজীবকে একজন জাপটে ধরলে আরেকজন চাপাতি দিয়ে কোপায়। যে জাপটে ধরেছিল তাকে স্থানীয় লোকজন আটক করলেও যে কুপিয়েছে সে পালিয়ে গেছে। সুমি আক্তার বিলাপ করে বলেন, ‘ওরা আমার ভাইকে কুপিয়ে মেরেছে। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়া হোক।’
নিহত সজীবের ভগ্নিপতি আল মাহমুদ ডিশ সংযোগ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি বলেন, সজীবের চার মাস বয়সে তাঁর শাশুড়ি মারা গেছেন। শ্বশুর আরেকটি বিয়ে করেছেন। এ কারণে নয় বছর বয়স থেকে সজীবকে তিনি নিজের বাসায় রেখে পড়াশোনা করাতেন। সুমি ও তাঁর স্বামী বলেন, কী কারণে সজীবকে খুন করা হলো, তা তাঁরা জানেন না। যে সজীবকে কুপিয়েছে, সে এক স্বজনের সঙ্গে পশ্চিম শেওড়াপাড়ায়ই থাকত। তাকে নিয়ে স্বজনেরা সকালে বাসায় তালা মেরে পালিয়েছেন। তাঁরা ধরা পড়লে হত্যার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে। ঘটনাস্থলের পাশের একটি বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক প্রথম আলোকে বলেন, সকাল, সন্ধ্যা ও রাতে সজীব পাঁচ-ছয়জন বন্ধুকে নিয়ে আড্ডা দিত। ঘটনার সময় তিনি খাচ্ছিলেন। চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখেন সজীবের সারা শরীর রক্ত মেখে গেছে। গতকাল ঘটনাস্থলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর থানার উপপরিদর্শক মো. রেজাউল করিম বলেন, আটক কিশোর হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। তার দাবি, সে বাঁচাতে চেষ্টা করেছে। পুলিশ বলেছে, আটক কিশোর জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেছে, তারা একসঙ্গে আড্ডা দিত। যে কিশোর কুপিয়েছে সে কয়েক দিন আগে সজীবের ভাগনেকে গাঁজা এনে দিতে বলেছিল। এতে রাজি না হওয়ায় ওই কিশোর ভাগনেকে চড় মারে। এ নিয়ে মঙ্গলবার রাতে সজীবের সঙ্গে ওই কিশোর ও তার সঙ্গীদের কথা-কাটাকাটির সময় কোপানোর ঘটনা ঘটে। সজীবের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দরবারপুরে। তার বাবার নাম আবদুর রশীদ। তিন বোন, দুই ভাইয়ের মধ্যে সজীব সবার ছোট।

বাবুলের সাবেক গাড়ি চালক ও দেহরক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ

মাহমুদা খানমকে কারা, কী কারণে খুন করেছে, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই বাবুল আক্তারের সঙ্গে একসময় ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা দুই পুলিশ সদস্যের। এই হত্যা মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন কামরুল সিকদার ওরফে মুছা (পলাতক) ও এহতেশামুল হক ওরফে ভোলাকে (হত্যার জন্য অস্ত্র সরবরাহকারী, এখন কারাগারে) চেনেন না বলে তাঁরা তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেছেন। মুছা ও ভোলা চট্টগ্রামে বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। দুই পুলিশ সদস্য হলেন কনস্টেবল আবু তাহের ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফয়সাল উদ্দিন। গতকাল বুধবার দুপুরে মাহমুদা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কামরুজ্জামান তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনারের দায়িত্ব পালনের সময় বাবুল আক্তারের সরকারি গাড়ির চালকের দায়িত্ব পালন করেন তাহের। আর বাবুলের দেহরক্ষীর দায়িত্বে ছিলেন ফয়সাল। তখন কনস্টেবল পদে ছিলেন তিনি। গতকাল দুপুরে দুজন চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। তাহের বর্তমানে নগর গোয়েন্দা পুলিশে এবং ফয়সাল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামে কর্মরত আছেন। গত বছরের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় ছুরিকাঘাত ও গুলি করে হত্যা করা হয় মাহমুদাকে। এই ঘটনায় তাঁর স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, বাবুল ও মাহমুদার দাম্পত্য সম্পর্ক কেমন ছিল, কী কারণে মাহমুদা খুন হতে পারেন এসব বিষয় দুই পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন।
ঘটনার পরও তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তঁরা কিছু তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে কনস্টেবল আবু তাহের প্রথম আলোকে বলেন, মাহমুদা হত্যাকাণ্ডের তিন দিন আগে (২ জুন) তিনি আর বাবুল আক্তারের গাড়ি চালাতেন না। পদোন্নতি পেয়ে এসপি (পুলিশ সুপার) হিসেবে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে বাবুল আক্তার যোগ দেওয়ায় তিনি অন্য পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ি চালাতেন। তবে খুনের ঘটনা শোনার পর তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি বলেন, মাহমুদা কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন না। বাবুল আক্তারের সোর্স ভোলা ও মুছাকে চিনতেন না দাবি করে আবু তাহের বলেন, বাবুলের সঙ্গে তাঁদের কখনো দেখেননি তিনি। মাহমুদা হত্যার আট মাস আগে বাবুল আক্তারের দেহরক্ষীর দায়িত্ব পালন করেন ফয়সাল উদ্দিন। তিনিও প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ভোলা ও মুছাকে চিনতেন না। বাবুল আক্তারের সঙ্গে তাঁদের কখনো দেখেননি তিনি। মাহমুদা হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামী বাবুল আক্তার জড়িত বলে গত রোববার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন মাহমুদার বাবা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন ও মা শাহেদা মোশাররফ। সেদিন তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর মেরাদিয়ার ভূঁইয়াপাড়ায় মাহমুদার বাবার বাসায় যান। পরদিন বাবুল আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই তাঁকে খুনি বানানো হচ্ছে।

এক ঘণ্টায় ঘুরে আসা যাবে বগা লেক

বান্দরবানের রুমা উপজেলা সদর থেকে বগা লেক আসা-যাওয়ায় এখন সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা। তার ওপর উঁচু-নিচু ভাঙা রাস্তা। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। এবার সেই দিন ফুরাচ্ছে। নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে রুমা-বগা লেক সড়ক। সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হলে বগা লেক ঘুরে আসা যাবে এক ঘণ্টায়। কমবে পথের ঝুঁকিও। সেনাবাহিনীর ১৯ প্রকৌশল নির্মাণ ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) সড়কটির নির্মাণকাজ করছে। সড়কটির ১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হলে রুমা উপজেলা সদর থেকে সহজেই ঘুরে আসা সম্ভব হবে সমতল থেকে ১ হাজার ৭৩ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত দেশের অন্যতম পর্যটন স্থান বগা লেক। সরেজমিনে দেখা যায়, রুমার থানাপাড়া থেকে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়ে রুমা খালের মুখ পর্যন্ত কাজ চলছে। শ্রমিকেরা কেউ পিচঢালাইয়ের কাজ করছেন, কেউ কংকর-বালু ফেলছেন। মুনলাইপাড়া এলাকায় খননযন্ত্র দিয়ে কাটা হচ্ছে মাটি। কর্মরত শ্রমিকেরা বলেন, প্রায় এক মাস আগে কাজ শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর ১৯ ইসিবির কর্মকর্তারা বলেন, রুমা উপজেলা সদর থেকে বগা লেক হয়ে কেওক্রাডং প্রায় ৩২ কিলোমিটার সড়কের প্রথম ধাপে বগা লেক পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। কেওক্রাডং পর্যন্ত নির্মাণকাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০ কোটি টাকা।
সড়কটিতে আগে বগা লেকের কাছাকাছি পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ইট বিছানোর কাজ করলেও বর্তমানে সম্পূর্ণ নতুনভাবে করতে হবে। এ জন্য বগা লেক পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক আগামী বছর (২০১৮) নাগাদ শেষ হতে পারে। সড়কটি নির্মাণে এলাকাবাসীও উচ্ছ্বসিত। পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের সঙ্গে বগালেক, কেওক্রাডং, সাইকতপাড়াসহ আশপাশে বসবাসকারী মানুষের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে সুবিধা হবে। বগা লেক–সংলগ্ন কোলাদি মৌজার হেডম্যান শৈ সিং থুই মারমা বলেন, এটি উন্নয়ন বোর্ডের সড়ক ছিল। কিন্তু মানসম্মত না হওয়ায় যানবাহন চলাচল ছিল মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সড়ক নির্মাণকাজ কেওক্রাডং পর্যন্ত শেষ হলে পর্যটকদের যাওয়া-আসা বেড়ে যাবে এবং পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এ ছাড়া উৎপাদিত ফসল খুব সহজে বাজারজাত করা সম্ভব হলে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা দ্রুত পরিবর্তন হবে। বগা লেকের বাসিন্দা সিয়াম বম বলেন, বগা লেক ও কেওক্রাডংয়ে এখনো গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু ভয়ংকর সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ যায়। নির্মাণকাজ শেষ হলে সড়কটি ঝুঁকিমুক্ত হবে। যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হলে এবং কম সময়ে আসা-যাওয়া করা গেলে পর্যটকদের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে সেনাবাহিনী ১৯ ইসিবির উপ–অধিনায়ক মেজর ফয়সল চৌধুরী বলেন, কাজের মানের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী কোনো রকম ছাড় দেয় না। সড়কের যেখানে উঁচু বেশি সেই অংশগুলো আরও নিচু করে নিরাপদ করা হবে।

ছড়া-ঝিরিতেও ঘোলা পানি, বেড়েছে দুর্ভোগ

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার সদর ইউনিয়নের তিন গ্রাম—ব্যাঙছড়ি, দিগোলছড়ি ও ঢেবাছড়ি। শুষ্ক মৌসুমে খাওয়া ও ব্যবহারের পানির জন্য তিন গ্রামের মানুষের ভরসা ছড়া-ঝিরির পানি। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি। ছড়া-ঝিরি শুকিয়ে পানি এখন তলানিতে। বেশির ভাগ সময় পানি থাকছে ঘোলা। বাধ্য হয়ে ঘোলা পানিই ব্যবহার করছে গ্রামবাসী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৬০ সাল থেকে সদর ইউনিয়নের ব্যাঙছড়ি, দিগোলছড়ি ও ঢেবাছড়ি গ্রামে বসতি স্থাপন করা হয়। তখন থেকে ওই তিন গ্রামের মানুষ পাহাড়ি ছড়া ও ঝিরির পানি ব্যবহার করে আসছেন। কয়েক বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে ছড়া ও ঝিরিগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। পানিসংকট মেটাতে দুই বছর আগে ব্যাঙছড়ি গ্রামের ব্যাঙছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি রিংওয়েল (পাতকুয়া) বসানো হলেও বর্ষার আগে সেটিতে ঠিকমতো পানি ওঠে না। এখন পানির জন্য দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত যেতে হচ্ছে। তা–ও এসব পানি ব্যবহারের অনুপযোগী। কাপ্তাই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, তিন গ্রামে ছয় শতাধিক পরিবারের বসবাস। উপজেলা সদর থেকে দুই–তিন কিলোমিটার দূরত্বে গ্রাম তিনটি। পানির স্তর না থাকায় রিংওয়েল বসালেও বর্ষা মৌসুমের আগে পানি পাওয়া যায় না। এ ছাড়া ওই সব এলাকায় ২০ থেকে ৪০ ফুট নিচে পাথর থাকায় নলকূপও বসানো যায় না। ফলে শুষ্ক মৌসুমে ছড়া ও ঝিরিতে জমে থাকা পানির ওপর নির্ভরশীল গ্রামের মানুষ। এদিকে গ্রামগুলোর আশপাশে বন উজাড় হওয়ায় পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে রিংওয়েল বসানো হলেও কোনো কাজে আসছে না। সরেজমিনে ব্যাঙছড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যাঙছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের রিংওয়েলটিতে পানি উঠছে সামান্য। সেখানে পানি সংগ্রহের জন্য কাউকে দেখা যায়নি।
পাশের ব্যাঙছড়ি ছড়ায় জমে থাকা পানি সংগ্রহ করছেন গ্রামবাসী। ছড়ার যেখানে বেশি পানি জমে আছে, সেখানে শিশু, কিশোর-কিশোরীরা গোসল ও হঁাড়ি-পাতিল ধোয়ার জন্য ভিড় করছে। ব্যাঙছড়ি গ্রামের উচ্চ মারমা ও ঢেবাছড়ি গ্রামের বিল্টু চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে ছড়া ও ঝিরিগুলো শুকিয়ে যায়। দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে গিয়েও পানি পাওয়া যায় না। অনেক সময় পানি না পেয়ে ছড়া ও ঝিরিতে জমে থাকা ময়লা পানি ব্যবহার করতে হয়। এসব পানি ব্যবহার করলে পেটের পীড়া দেখা দেয়। কাপ্তাই সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আবদুল লতিফ বলেন, ‘আমরা ব্যাঙছড়ি গ্রামে রিংওয়েল বসিয়ে দিয়েছি। কিন্তু পানির স্তর না থাকায় শুধু বর্ষা মৌসুমে পানি পাওয়া যায়। ব্যাঙছড়িসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে গভীর নলকূপ বসানো হলে সারা বছর পানি পাওয়া যাবে। বর্তমানে আমরা যেসব রিংওয়েল বরাদ্দ পাই, সেগুলো ৫০ থেকে ৬০ ফুটের বেশি নয়। সেখানে গভীর নলকূপ বরাদ্দ দিলে পানির সমস্যা দূর হবে।’ কাপ্তাই উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় রিংওয়েল কিংবা নলকূপ বসানো যায় না। সে ক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু থাকে না। ওই সব এলাকার বাসিন্দারা ছড়া ও ঝিরির পানি ব্যবহার করেন। এলাকার বন উজাড় হওয়ায় এখন শুষ্ক মৌসুমে ছড়া ও ঝিরিগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।’

‘ভুবন মাঝির’ টানে এই শহরে

সময়টা সত্তরের শেষ দিকে। গ্রামের ছেলে নহির কলেজে পড়তে আসে কুষ্টিয়া শহরে। একেবারে সাদাসিধে জীবন তার। খানিকটা ভিতুও। গান-বাজনা, থিয়েটার আর ভালোবাসার মানুষ ফরিদাকে ঘিরেই তার গণ্ডি। একসময় সেই শান্ত ছেলেটিই হয়ে ওঠে যোদ্ধা। হাতে নেয় অস্ত্র। আর নহিরের মনে দ্রোহের আগুন জ্বালায় ফরিদা, যে নারী প্রিয়জনকে আঁচলে না বেঁধে ঠেলে দেয় যুদ্ধের ময়দানে। এমন কাহিনির চিত্রায়ণ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ভুবন মাঝিতে। ১৯৭১–এর সঙ্গে এই চলচ্চিত্রে যুক্ত হয়েছে ২০১৩ সালও। এ যেন দুই যুদ্ধের আখ্যান। সরকারি অনুদানে নির্মিত ছবিটির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ফাখরুল আবেদীন খান। ছবিটি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে মুক্তি পাচ্ছে ৩ মার্চ। তবে চট্টগ্রামের দর্শকেরা দেখতে পাবেন ৬ মার্চ থেকে। নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ১১ মার্চ পর্যন্ত ছবির প্রদর্শনী চলবে। প্রতিদিন থাকবে চারটি প্রদর্শনী। ছবির প্রচারে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে আসে ভুবন মাঝির দল। এই দলে ছিলেন ছবির পরিচালক ফাখরুল আবেদীন খান, অভিনয়শিল্পী অপর্ণা ঘোষ ও মাজনুন মিজান। তাঁরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখোমুখি হন তরুণদের। আহ্বান জানান হলে গিয়ে ছবি দেখার। এ সময় তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তাঁরা। চারুকলা ইনস্টিটিউটে কথা হয় ফাখরুল আবেদীন খানের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই গল্পে মুক্তিযুদ্ধকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা হয়েছে। নহিরের ভেতরের মানুষটা একজন নারীর ছোঁয়ায় বেরিয়ে আসে।
নহির হয়ে ওঠে প্রতিবাদী। এ ছাড়া কাহিনির নানা বাঁক তরুণদের ভালো লাগবে। কারণ তরুণ-তরুণীদের ঘিরেই গল্প। গানগুলো খুব ভালো হয়েছে। এ জন্য তরুণ-তরুণীদের এই ছবি দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।’ িতনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে এসে ভালো সাড়া পেয়েছেন। আশা করছেন ছবিটি দেখতে সবাই হলে যাবেন। চলচ্চিত্রে নহিরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কলকাতার অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও ফরিদা চরিত্রটি করেছেন অপর্ণা ঘোষ। মৃত্তিকার মায়া, সুতপার ঠিকানা ও মেঘমল্লার—তিন চলচ্চিত্রে নতুনরূপে অর্পণা। মৃত্তিকার মায়ার জন্য পেয়েছেন সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (২০১৩)। এবারও কী চরিত্রে নতুন কিছু? অপর্ণার উত্তর, ‘চরিত্রে পরিবর্তন আছে। আলাদারূপে দেখা যাবে। সবচেয়ে বড় কথা সত্য ঘটনার গল্প, যা দর্শকদের চলচ্চিত্রের সঙ্গে দ্রুত যুক্ত করবে। সেই ফরিদাও এখনো বেঁচে আছেন।’ তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমরা এত দিন মুক্তিযুদ্ধকে দেখেছি একভাবে। ঢাকাসহ কয়েকটি শহর কিংবা রণাঙ্গনের চিত্র। কিন্তু একাত্তরের ২৫ মার্চ সেই রাতে কুষ্টিয়া শহরে একটি বাড়িতে কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। একেবারে সাদামাটা জীবনের মানুষগুলো কীভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে যায় তা দেখা যাবে।’ ছবির নমুনা খণ্ড চিত্রে (ট্রেলার) দেখা যায়, একজন নারী ভালোবাসার মানুষটিকে যুদ্ধে যেতে প্রেরণা জোগান। রেললাইনের ওপর বসা তরুণের প্রতি ভালোবাসার মানুষটির আহ্বান, ‘দেশের এমন অবস্থায় বীরেরা যদি এ রকম রেললাইনের ওপর বসে থাকেন, তাহলে চলবে?’ সেই আহ্বানে তরুণের মন বাঁক নেয় যুদ্ধের পথে। এরপর কী হলো? সেই তরুণ কী ফিরে আসবে?

রাজশাহীতে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় নাট্যোৎসব শুরু

রাজশাহীতে গতকাল বুধবার পাঁচ দিনব্যাপী ‘অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় নাট্যোৎসব’ শুরু হয়েছে। রাজশাহী থিয়েটার এই উৎসবের আয়োজন করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় নগরের পদ্মা মঞ্চে প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। প্রথম দিনে ভারতীয় একটি নাট্যদলের নাটক মঞ্চস্থ হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যজন মলয় ভৌমিক, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কচিপাতা থিয়েটারের সভাপতি তাজুল ইসলাম। সভায় বক্তারা বলেন, রাজশাহীকে উত্তরবঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার করার জন্য অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করেছেন। তিনি একাধারে আইনজীবী, সমাজকর্মী, খ্যাতনামা ঐতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ববিদ ছিলেন। রাজশাহীর নাট্যান্দোলনে তাঁর ভূমিকা স্মরণযোগ্য।
১৮৯৭ সালে রানি ভিক্টোরিয়ার ‘ডায়মন্ড জুবিলি’ অনুষ্ঠান উদ্যাপন উপলক্ষে তিনি ‘শকুন্তলা নাট্য সমিতি’ গড়ে তোলেন। তিনি রাজশাহীতে শিল্প-বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি সেখানে পাঁচ বছর অধ্যাপনা ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পাণ্ডিত্যপূর্ণ গবেষণার মাধ্যমে ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন ছিল তাঁর অন্যতম কাজ, যার মাধ্যমে তিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিষ্কলঙ্ক প্রতিপন্ন করেছিলেন। তাঁর গড়ে তোলা বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতিই পরে বরেন্দ্র জাদুঘর হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। ১৮৬১ সালের ১ মার্চ তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছর রাজশাহী থিয়েটার এই উৎসবের আয়োজন করবে। এর মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রাজশাহী থিয়েটারের সভাপতি কামার উল্লাহ সরকার। অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ভারতীয় নাট্যদল ‘রবীন্দ্রনগর নাট্যায়ুধ’-এর নাটক রাস্তা মঞ্চস্থ হয়। আজ বৃহস্পতিবার একই দলের নাটক চৌ ম্যাকবেথ মঞ্চস্থ হবে।

সকাল থেকে সীমাহীন দুর্ভোগ মানুষের

সারা দেশে পরিবহনশ্রমিকদের ধর্মঘট চলাকালে গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ধর্মঘটীদের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়ে শাহ আলম নামের এক পরিবহনশ্রমিক সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। এদিকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত গতকালও সকাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষকে পরিবহন-সংকটে সীমাহীন ​দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ পথের কোনো বাস চলেনি। রাজধানীতে চলেছে শুধু বিআরটিসির বাস। রিকশা, অটোরিকশা, লেগুনা, পিকআপ ভ্যান ও রিকশা ভ্যানে বাড়তি ভাড়া গুনে নগরবাসীকে চলাচল করতে হয়েছে। ধর্মঘটে গতকালও চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ, এসএসসি পরীক্ষার্থী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। যানবাহন না পাওয়ায় অনেকে অনেক দূর হেঁটে গেছেন। কর্মস্থল বা গন্তব্যে পৌঁছেছেন বিলম্বে।
কোথাও কোথাও পরিবহনশ্রমিকেরা যান চলাচলে বাধাও দিয়েছেন। মানিকগঞ্জে তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের মৃত্যুর মামলায় এক বাসচালকের যাবজ্জীবন ও ঢাকার সাভারে ট্রাকচাপা দিয়ে এক নারীকে হত্যার দায়ে ট্রাকচালকের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় গত মঙ্গলবার সকাল থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেন পরিবহনশ্রমিকেরা। এতে সারা দেশের সড়কযোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। দুর্ভোগ শুরু হয় মানুষের। গাবতলীতে গতকালের সংঘর্ষ সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের সহকারী কমিশনার সৈয়দ মামুন মোস্তফা বলেন, মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষের পর গতকাল সকালে পরিবহনশ্রমিকেরা টার্মিনালের সামনের সড়কে ভাঙচুর শুরু করেন। তাঁরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দেন এবং যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। তাঁরা ট্রাফিক পুলিশ বক্স ও একটি ট্রাক ভাঙচুর করেন। ট্রাকটিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ছিল। তারা প্রবেশপত্র দেখালেও শ্রমিকেরা ট্রাকটি আটকে দেন এবং পরীক্ষার্থীদের নামিয়ে দিয়ে ট্রাক ভাঙচুর করেন। এসব ঘটনার পর পুলিশ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে বৈশাখী পরিবহনের চালক শাহ আলম আহত হন। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে ১০-১২ জনকে আটক করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ব্লকের আবাসিক সার্জন জেসমিন নাহার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শাহ আলমকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, শাহ আলমের বুকে ও পেটে অনেক ছররা গুলির জখম ছিল, শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। গতকাল গাবতলী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙা ইটের টুকরা পড়ে আছে। কোনো যানবাহন চলছে না। অসংখ্য মানুষ হেঁটে চলেছে। হেঁটে গন্তব্যমুখী মো. আরিফ বলেন, তাঁর বাড়ি ধামরাইয়ের কালামপুরে। তিনি যাবেন ধানমন্ডি। ভেঙে ভেঙে রিকশাভ্যান ও রিকশায় আমিনবাজার সেতুর গোড়া পর্যন্ত এসেছেন। ২০ মাইলের মতো পথ আসতে ৪০০ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। বাকি পথ কীভাবে যাবেন জানেন না। সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় মঙ্গলবারের তুলনায় গতকাল অপেক্ষমাণ যাত্রী কম দেখা গেছে। যদি বাস ছাড়ে এমন আশায় কিছু মানুষ এসেছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে তারা আবার বাসায় ফিরেছে। এই টার্মিনালের পরিবহনশ্রমিকেরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মিছিল করেছেন। সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে গুলিস্তানের দিকে হাঁটতে থাকা মোহাম্মদ আলী বলেন, জরুরি কাজে মঙ্গলবার ভোরে তিনি কুমিল্লা থেকে এসেছিলেন। এখন আর যেতে পারছেন না। রাতে গুলিস্তানের একটি আবাসিক হোটেলে ছিলেন। বাস ছাড়ে কি না দেখতে টার্মিনালে এসেছিলেন। বাস না পেয়ে তিনি আবার হোটেলে ফিরছেন। সকালে বিভিন্ন সড়কে ছিল হেঁটে কর্মস্থলমুখী মানুষের স্রোত। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে সব বাসের টিকিট কাউন্টার বন্ধ পাওয়া গেছে।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ছিল সতর্ক পাহারায়। বাস চলছে না—এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় মহাখালীতেও যাত্রী ছিল কম। এদিকে রাজধানীর ভেতরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিআরটিসির বাস ছাড়া অন্য কোনো বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। বিআরটিসির বাসগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বেলা তিনটার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের খবর প্রচারিত হলেও বেসরকারি বাস তেমন চলাচল শুরু হয়নি। ওই সময় শাহবাগ মোড়ে যানবাহনের অপেক্ষায় ছিলেন শ খানেক মানুষ। তাঁদের একজন বলেন, এক স্বজনকে দেখতে মঙ্গলবার ভোরে তিনি টঙ্গী থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন। দুই ঘণ্টা আগে চিকিৎসক তাঁর স্বজনকে ছাড়পত্র দিয়েছেন। মেডিকেল থেকে বেরিয়ে হেঁটে এখানে এসেছেন। এখন বাড়ি ফেরার কোনো যানবাহন পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে বিআরটিসির একটি বাস এলেও ভিড়ের কারণে উঠতে পারেননি। বিকেলের দিকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বেসরকারি বাস চলাচল বাড়তে থাকে। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।

বাড়ছে খেলাপি ঋণ, দুর্বল হয়ে পড়ছে ব্যাংকগুলো

জনগণের আমানত গ্রহণ করলেও তার সুরক্ষা দিতে পারছে না ব্যাংক। ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করায় ব্যাংকগুলোতে প্রতিনিয়ত খেলাপি ঋণ বাড়ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমানত ও সুদের হারে। দুর্বল হয়ে পড়ছে ব্যাংকগুলোর স্বাস্থ্য। ২০১৬ সাল শেষে দেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৬২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। ২০১৫ সাল শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। যদিও ২০১৫ সালে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল মাত্র ১ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর বাইরে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে এসব মন্দ ঋণ আর্থিক প্রতিবেদন থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। এ ঋণ হিসাবে এলে খেলাপি ঋণ হতো ১ লাখ কোটি টাকার বেশি। ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বছরের শেষে আর্থিক হিসাব ভালো রাখতে ব্যাংকগুলো ঋণ পুনঃ তফসিল করেছে। মূলত শেয়ারধারীদের বেশি হারে লভ্যাংশ দিতেই খেলাপি কমানো হয়েছে। এ কারণে খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ পায়নি। ফলে গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে। গত সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৬৫ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, যেসব ঋণ দেওয়া হয়েছে তা আদায়ে উদ্যোগের বড় অভাব আছে। বড় ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যাংকগুলো অর্থ আদায় করতে পারছে না। ঋণ পরিশোধ না করলেও তাদের কিছু করা যাচ্ছে না। তারা আবারও ঋণ সুবিধা পাচ্ছে। এর মধ্যে একটা দুষ্টচক্র গড়ে উঠেছে। কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে খেলাপি ঋণ আদায় করতে না পারলে অন্যরাও ঋণ পরিশোধে আগ্রহ হারাবে। খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকায় ব্যাংকগুলো ব্যয় সমন্বয় করতে আমানতের সুদের হার কমিয়ে আনছে। ঋণের সুদের হার কমানোর চাপ সামলাতেই আমানতের সুদ হার কমানো হচ্ছে। অথচ ৫ বছর আগেও এই সুদের হার ছিল ১২-১৪ শতাংশ।
বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৫ শতাংশে। খাদ্যপণ্যের বর্তমান মূল্যস্ফীতিও এর চেয়ে বেশি, ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন সুদ আয়নির্ভর অল্প আয়ের গ্রাহকেরা। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আমানতের সুদ হার আর না কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঋণের সুদের হার কমাতে খেলাপি ঋণ কমানোসহ ব্যবস্থাপনা দক্ষতা কমিয়ে আনতে বলা হয়েছে ওই নির্দেশনায়। এ অবস্থায় সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকের মূলধনের ওপর আঘাত আসছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদের হার কমিয়ে দিচ্ছে। অনেক ব্যাংক নতুন নতুন মাশুল আদায় করে আয় সমন্বয়ের চেষ্টা করছে। নতুন গ্রাহকেরাও ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমানত ও ঋণ উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে খেলাপি ঋণ। যার প্রভাব পড়ছে পুরো অর্থনীতিতে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২০১৬ সাল শেষে হয়েছে ৩১ হাজার ২৫ কোটি টাকা। ২০১৫ সালের শেষে ব্যাংক ৬টির খেলাপি ঋণ ছিল ২৩ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। ২০১৫ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৮ হাজার ১০০ কোটি টাকা, গত বছর শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। জনতার খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ২২৪ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা। বেসরকারি খাতের ৩৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ গত বছর শেষে হয়েছে ২৩ হাজার ৫৭ কোটি।
২০১৫ সাল শেষে তা ছিল ২০ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। বিদেশি ৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা, ২০১৫ সাল শেষে যা ছিল ১ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা। বিশেষায়িত ২ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এখন ৫ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা। ২০১৫ সাল শেষে তা ছিল ৪ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বছরের শেষ সময়ে সব ব্যাংকই খেলাপি ঋণ নিয়মিত করেছে। এ সময়ে নগদ আদায়ও ভালো হয়েছে। ফলে খেলাপি ঋণ সেপ্টেম্বরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, পুনর্গঠন ও পুনঃ তফসিল করা ঋণ আবারও খেলাপি হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া নতুন করে নেওয়া ঋণও আদায় করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে এখনো অনিয়ম চলছে। এ ছাড়া বিশেষ ব্যবস্থায় পুনর্গঠন করা ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের কয়েকটি খেলাপি হয়ে পড়েছে। এ কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এ বিষয়ে বলেন, ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন। বর্তমানে খেলাপি ঋণের ধাক্কা সামলিয়ে ব্যাংকের পক্ষে ওপরে ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে।

যেভাবে ট্রাকচাপায় হত্যা করা হয় খোদেজাকে

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ঝাউচর গ্রাম। সাভার উপজেলার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের এই গ্রামে চামড়া শিল্পনগরের পাশেই নুরু গাজীর বাড়ি। বাড়ির পাশেই পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা তাঁদের পারিবারিক রাস্তা। এই রাস্তার ওপরই ট্রাকচাপা দিয়ে খোদেজা বেগমকে হত্যা করেন মীর হোসেন, যে ঘটনায় গত সোমবার আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ের পরপরই পরিবহন শ্রমিকেরা দেশজুড়ে আন্দোলনের নামে মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলেন। টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি একধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলার পর গতকাল বুধবার তা প্রত্যাহার করেন শ্রমিকেরা। স্থানীয় লোকজন এবং ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা গতকাল প্রথম আলোকে বলেছেন, বসতবাড়ি ঘেঁষা রাস্তায় বালুবোঝাই ট্রাক চলাচলে সমস্যা হওয়ায় বালু পরিবহনে বাধা দেওয়ার কারণেই নুরু গাজী ও তাঁর স্ত্রী খোদেজার ওপর ট্রাক চালিয়ে দেন মীর হোসেন। এ সময় নুরু গাজী লাফ দিয়ে বাঁচলেও প্রাণ হারান খোদেজা। স্থানীয় ব্যক্তিদের অভিযোগ, মীর হোসেন মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তিনি আরেকটি হত্যার এজাহারভুক্ত আসামি। অবশ্য মীর হোসেনের পরিবারের দাবি, তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি মাদকাসক্তও ছিলেন না। ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে  ২০০৩ সাল। তখনো গড়ে ওঠেনি সাভারের চামড়া শিল্পনগর। এলাকার প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তি তখন নদী থেকে বালু কেটে বিক্রি করতেন। মীর হোসেন ট্রাকে করে ওই বালু পৌঁছে দিতেন ক্রেতাদের বাড়ি ও জমিতে। এ জন্য মীর হোসেন নিয়মিত নুরু গাজী ও তাঁর পরিবারের ব্যক্তিগত রাস্তা ব্যবহার করতেন। বসতবাড়ি ঘেঁষা ওই রাস্তায় বালুবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে নুরু গাজী ও তাঁর প্রতিবেশীদের সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে শুরু থেকেই তাঁরা বালু পরিবহনে বাধা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু মীর হোসেন বাধা মানেননি। নুরু গাজীর ছেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, বালু পরিবহনে বাধা দেওয়ায় মীর হোসেন তাঁদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
সেদিন যা হয়েছিল নুরু গাজী বলেন, তাঁদের পারিবারিক রাস্তা ব্যবহার করায় তিনি ও তাঁর প্রতিবেশী সলিম মিয়াসহ অন্যরা ট্রাক চলাচলে বাধা দেন। মীর হোসেন এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সলিম মিয়ার ছোট মেয়ে লিপি আক্তারকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেন। বিষয়টি জানার পর ২০০৩ সালের ২০ জুলাই বালুবোঝাই ট্রাক নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ও তাঁর স্ত্রী খোদেজা বেগম ট্রাকের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বাধা দেন। এ সময় তাঁরা মীর হোসেনের কাছে বাধা উপেক্ষা করে ট্রাকে বালু পরিবহন করা ও লিপিকে তুলে নেওয়ার হুমকির কারণ জানতে চান। এ নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মীর হোসেন তাঁদের ওপর দিয়ে ট্রাক তুলে দেন। তিনি লাফ দিয়ে রাস্তার দক্ষিণ পাশে যেতে পারলেও তাঁর স্ত্রী ওই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মারা যান। একই ধরনের বর্ণনা দিলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সলিম মিয়া। তিনি বলেন, ওই সময় তিনি ও নুরু গাজী আর স্থানীয় লোকজন ট্রাকসহ মীর হোসেনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ঝাউচর গ্রামের শাহাবুদ্দিন মাস্টার অভিযোগ করেন, মীর হোসেন ছিলেন মাদকাসক্ত। বেশির ভাগ সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতেন। তাঁর আচরণও ছিল উচ্ছৃঙ্খল। একই গ্রামের মুজাহারুল ইসলাম বলেন, নার্গিস আক্তার নামে এক গৃহবধূ হত্যার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন মীর হোসেন। নার্গিসের মা শাহানাজ বেগম অভিযোগ করেন, পারিবারিক কলহের জেরে ১৯৯৭ সালে মীর হোসেন, নার্গিসের স্বামী ওসমান গণিসহ কয়েকজন মিলে তাঁর মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ওই মামলায় ওসমান গনির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও সাক্ষীর অভাবে অন্যরা খালাস পেয়ে যান।
মীর হোসেনের পরিবার যা বলল ঘটনার দিন ট্রাকে শ্রমিকের কাজ করছিলেন মীর হোসেনের ভাই ইনতাজ আলী। তিনি বলেন, নুরু গাজী ও তাঁর স্ত্রী খোদেজা বেগম ট্রাকের সামনে দাঁড়িয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে তাঁর ভাই মীর হোসেনের সঙ্গে তাঁদের তর্কবিতর্ক হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দিলে নুরু গাজী ও তাঁর স্ত্রী ট্রাক ছেড়ে দিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়ান। এরপর তাঁর ভাই ট্রাক চালিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ খোদেজা পা পিছলে রাস্তার ওপর পড়ে যান। এ সময় ট্রাকের পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি মারা যান। মীর হোসেনের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী খোদেজা বেগমকে হত্যা করেননি। মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি মাদকাসক্তও ছিলেন না।’

রাজারবাগ থেকে লাশ সরানো হয় ট্রাকে ট্রাকে

একাত্তরে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী দেশজুড়ে বহু নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছে। স্বাধীনতার মাসে আজকের পর্বে থাকল ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের গণহত্যার কথা ‘বেইজ ফর অল স্টেশনস, ভেরি ইম​েপার্ট্যান্ট মেসেজ। প্লিজ কিপ নোট।...উই আর অলরেডি অ্যাটাক্টড বাই পাক আর্মি। ট্রাই টু সেভ ইয়োরসেলফ। ওভার অ্যান্ড আউট।’ ২৫ মার্চ মধ্যরাতের আগে পুলিশ স্টেশনের ওয়্যারলেসে এই বার্তা প্রচার করেছিলেন পুলিশ সদস্য শাহজাহান মিয়া। শাহজাহান মিয়ার এই বার্তা ছাড়া আরও কয়েকটি সূত্রে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের সদস্যরা জেনে গিয়েছিলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সেখানে আক্রমণ চালাতে যাচ্ছে। ফলে ১১টার দিকে পাকিস্তানি সেনারা পুলিশ লাইনস ঘিরে ফেললে রাত ১২টা থেকে থ্রি নট থ্রি রাইফেল দিয়ে প্রতিরোধযুদ্ধ শুরু করে দেন পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু ট্যাংক, মর্টার আর মেশিনগানের সঙ্গে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি তাঁরা। শতাধিক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। ‘সকাল হওয়ার আগেই সেনাবাহিনীর আট-দশটা ট্রাকে করে লাশ সরিয়ে ফেলা হয়। আর আমরা যারা রাজারবাগ থেকে পালাতে পারিনি, তাদের দেড় শ জনকে বন্দী করা হলো,’ বলছিলেন মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্য শাহজাহান মিয়া। গতকাল বুধবার প্রথম আলোর কাছে স্মৃতিচারণা করছিলেন তিনি। ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট নামে যে সামরিক অভিযানে পরিকল্পিত গণহত্যা চালানো হয় রাজধানী ঢাকাজুড়ে, তার তিনটি লক্ষ্যবস্তুর একটি ছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইনস।
তবে এখানে প্রথম প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয় পাকিস্তানি বাহিনীকে। ওই হত্যাযজ্ঞের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া আরও তিন মুক্তিযোদ্ধা আবু শামা, আবদুল মালেক খান ও আবদুল মতিন তরফদার প্রথম আলোকে জানান, এই প্রতিরোধযুদ্ধ ক্ষুব্ধ করেছিল পাকিস্তানি বাহিনীকে। ফলে ওই রাতে তারা রাজারবাগের পুলিশ ব্যারাকগুলোতে আগুন ধরিয়ে নির্বিচারে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করতে থাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ দলিলপত্র-এর অষ্টম খণ্ড এবং পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা ও মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গ্রন্থেও এসব কথা উঠে এসেছে। শহীদ পুলিশের রক্তের ঋণ বইয়ে বলা হয়েছে, ‘সেদিন আট শ পাক সেনা পুলিশ লাইনস আক্রমণ করে। রাজারবাগে পুলিশেরা প্রতিরোধযুদ্ধ শুরু করে থ্রি নট থ্রি দিয়ে। এ সময় পাকবাহিনী একটু থমকে গেলেও ট্যাংক, মর্টার ও হেভি মেশিনগান নিয়ে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ সদস্যদের হত্যা করতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের গুলি শেষ হয়ে গেলে জীবিত পুলিশ সদস্যরা যে যেভাবে পারে পালিয়ে যায়।’ অভিযান শেষে পরদিন ভোরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণকক্ষ যখন ওয়্যারলেস বার্তায় রাজারবাগে পুলিশের মৃতের সংখ্যা জানতে চাইছিল, তখন বলা হয়, এখনো গোনা শেষ হয়নি। তবে সংখ্যা অনেক। মুক্তিযুদ্ধকালীন সাবসেক্টর অধিনায়ক এবং মুক্তিযুদ্ধ গবেষক এ এস এম সামছুল আরেফিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাঙালি পুলিশ যে প্রতিরোধ করতে পারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আসলে সেটা ভাবেনি। তাই ২৫ মার্চের পুলিশ প্রতিরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে পাক বাহিনী কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্যাংক নিয়ে এসে সেখানে ভয়াবহ হামলা চালায়। এখানে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে। এদের লাশ সেনাবাহিনীর ট্রাকে করে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়া হয়।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য
পুলিশ লাইনসের ওই সময়কার বেতার অপারেটর শাহজাহান মিয়া গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা আভাস পাই, ২৫ মার্চ রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে আক্রমণ হতে পারে। আমি তখন ওয়্যারলেস বেইজ স্টেশনের দায়িত্বে। তেজগাঁও পেট্রলপাম্প থেকে রাত ১০টার দিকে একটি মেসেজ আসে, “পাকিস্তানি সেনাভর্তি ৩৭টি ট্রাক নগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।” আমরা তখুনি প্রতিরোধযুদ্ধের প্রস্তুতি নিই। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাকবাহিনী রাজারবাগ ঘিরে ফেলে। এ সময় আমি সারা বাংলাদেশে ওয়্যারলেসে আক্রমণের এই খবর জানিয়ে আত্মরক্ষার জন্য তৈরি হতে বলি।’ শাহজাহান বলেন, ‘পাকিস্তানিরা বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছিল। জেনারেটর চালু করতে গিয়েও পারলাম না। প্রচণ্ড গোলাগুলিতে রাজারবাগে আগুনের ফুলকি উড়তে লাগল। আমি চারতলার ছাদে আশ্রয় নিয়েছিলাম। একটা থ্রি নট থ্রি নিয়ে লড়াই করে চলেছি। ফজরের আজান পর্যন্ত আমিসহ ১০০ জনের মতো পুলিশ টিকে ছিলাম। ভোর পাঁচটার দিকে আমাদের ঘিরে ফেলে বন্দী করে আর্মি।’ সেদিন কত পুলিশ সদস্য মারা গিয়েছিলেন জানতে চাইলে শাহজাহান বলেন, ‘ভোরের দিকে পাকিস্তানিরা আট-দশটি ট্রাকে করে লাশ বের করে নিয়ে যায়। আমার ধারণা, অন্তত দেড় শ পুলিশ শহীদ হয়েছিল। আমরা দেড় শ জনের মতো বন্দী হলাম।’ রাজারবাগে নিহত পুলিশ সদস্যদের লাশ কোথায় নেওয়া হয়েছিল, জানতে চাইলে শাহজাহান বলেন, ‘আমরা ধারণা করি, এসব লাশ হয়তো নদীতে বা অন্য কোথাও ফেলা হয়েছিল।
২৯ মার্চ আমি যখন মিলব্যারাক পুলিশ লাইনসে যাওয়ার জন্য লোহারপুলে আসি, তখন ওই খালে আর বুড়িগঙ্গায় শত শত লাশ দেখেছিলাম।’ সেদিনকার প্রতিরোধকারী মুক্তিযোদ্ধা আবু শামা প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজারবাগে সেদিন ইস্ট পাকিস্তান প্রভিনসিয়াল রিজার্ভ ফোর্সের (ইপিপিআরএফ) সাড়ে তিন শ এবং আমাদের স্পেশাল আর্মড ফোর্সের (এসএএফ) পাঁচ থেকে ছয় শ পুলিশ ছিল। আমরা রাত থেকেই প্রতিরোধযুদ্ধ শুরু করি। পাকবাহিনী তখন ইপিপিআরএফের চারটি টিনশেড ব্যারাক আগুনে পুড়িয়ে দেয়। মূল ভবনটিও গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিল। ভারী অস্ত্রের কাছে আমরা টিকতে পারলাম না। ভোরে গ্রেপ্তার হলাম। আমার মনে আছে, ফজরের নামাজের পর পাকিস্তানি সেনারা আট-দশটা ট্রাকে করে নিহত পুলিশ সদস্যদের লাশ নিয়ে গিয়েছিল।’ ওই সময় ঢাকা পৌরসভার সুইপার পরিদর্শক সাজেব আলী তাঁর স্মৃতিকথায় লিখেছেন, ২৬ মার্চ সকালে বাবুবাজার পুলিশ ফাঁড়ির প্রবেশপথে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা দশটি লাশ পড়ে থাকতে দেখি। ফাঁড়ির চারদিকে দেয়াল গুলির আঘাতে ঝাঁজরা হয়ে আছে। আমি একটি ঠেলাগাড়িতে করে সব লাশ ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে রেখে আসি। ২৮ মার্চ সকালে সব সরকারি কর্মচারীকে কাজে যোগদানের নির্দেশ দিলে আমি ঢাকা পৌরসভায় যাই। আমাদের ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে লাশ পরিষ্কার করতে বলা হয়। ২৯ মার্চ আমরা দুই ট্রাক লাশ তুলি। এগুলো ছিল পুলিশ, আনসারের। খাকি পোশাক পরা লাশ। আমরা অনেক মেয়ের ক্ষতবিক্ষত লাশ তুলেছি।’ রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে সম্প্রতি পুলিশের একটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তৈরি করা হয়েছে। এতে ২৫ মার্চের ওই গণহত্যার নানা স্মৃতিচিহ্নসহ মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অবদানের স্মারক স্থান পেয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) আবিদা সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত ৩৩ হাজার ৯৯৫ জন পুলিশের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার সদস্য কর্মস্থল ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন ১১শ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য। পুলিশের জাদুঘরে আমরা গর্বের সাথে এই ইতিহাস সংরক্ষণ করেছি।’

মানের সঙ্গে কোনো আপস নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, মেডিকেল শিক্ষার সঙ্গে মানুষের জীবন-মরণের সম্পর্ক। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মান বজায় রাখতে হবে। নিম্নমানের কলেজ থেকে বের হয়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সম্প্রতি চারটি কলেজে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উচ্চ ফি আদায়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ওইসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ডেকে আলোচনা করা হবে। সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে অবেদনবিদ (অ্যানেসথেসিস্ট) সংকট রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, অবেদনবিদ দরকার ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ জন, কিন্তু আছেন ৫০০ জনের মতো। তবে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তাঁরা আশা করছেন, এক-দেড় বছরের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হবে। চিকিৎসাশাস্ত্রের মৌলিক বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে এক রোগীর স্বজনদের অপ্রীতিকর ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসচিব সিরাজুল ইসলামসহ একাধিক কর্মকর্তা বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ। বাসস জানায়, বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান ও সংগীত শিল্পী লাকী আখন্দকে দেখতে যান। তিনি তাঁদের শয্যা পাশে বসেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। মন্ত্রী তাঁদের চিকিৎসায় যেন কোনোরকম ত্রুটি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নির্দেশ দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এবিএম আব্দুল হান্নান উপস্থিত ছিলেন।

খাবারে বিশ্ব ভ্রমণ!

খাবার পাতে কখনো ভারতীয় বোম্বে পটেটো কিংবা চিকেন রেশমি কাবাব। কখনো বা আরবের মুত্তাবল কিংবা এশিয়ান থাই-চায়নিজের চিকেন িগ্রন কারি। চাইলেই পাওয়া যাবে জাপানিজ খাবার সুশি কিংবা সাশিমি। মিলবে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের খাবার মেডোলি িবফ। আবার উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার হাম বার্গার ও বাফেলো উইংস তো রয়েছেই। বাদ পড়েনি বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় খাবারের পদগুলোও। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এ ধরনের নানা পদের খাবারের খোঁজ মিলবে দ্য এক্সচেঞ্জ রেস্তোরাঁয়। নগরের পাঁচ তারকা হোটেল র্যা ডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউর তৃতীয় তলায় এই রেস্তোরাঁটির অবস্থান। রেস্তোরাঁয় এখন চলছে নতুন অফার—‘৯০ দিনে বিশ্ব ঘুরে আসুন’। রাতে বিশেষ ধরনের বুফে খাবারের এ আয়োজনে সপ্তাহের একেক দিন একেক দেশের খাবার খেতে পারবেন ভোজনরসিকেরা। মে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। এতে প্রতি শনিবার রাতে মিলবে এশিয়ান খাবার। থাকবে অথেনটিক থাই ও চায়নিজ খাবারের প্রাধান্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিফ রেড কারি, চিকেন গ্রিন কারি, বিফ সিজলার, চিলি প্রন, িবফ রেংডাং ও চিকেন পিনাট কোকোনাট কারি িক্রম।
প্রতি রোববার রাতে পাওয়া যাবে ফার ইস্ট বুফে। এতে মূলত জাপানের বিভিন্ন ধরনের খাবারের প্রাধান্য থাকবে। পাওয়া যাবে চিকেন শর্মা, সুশি, সাশিমি, মাটন উইথ বাটন মাশরুম, ড্রাই িবফ চিলিস উইথ ক্যাপসিকাম, িবফ সালামি, িশ্রম্পস ককটেল, স্পাইসি চিকেন, স্পাইসি ফিশসহ নানা স্বাদের জাপানিজ খাবার। প্রতি সোমবার রাতে ভোজনরসিকেরা খেতে পারবেন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের (মেডিটেরানিয়ান) খাবার। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে ফিশ টেরিন, মেডোলি িবফ, সি ফুড পায়েলা, মেডিটেরানিয়ান সি ফুড, স্পাইসি ফিশ কিমাসহ নানা পদ। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার জনপ্রিয় খাবারের পদগুলো এ রেস্তোঁরায় পাওয়া যাবে প্রতি মঙ্গলবার রাতে। ব্যুফে খাবারের এ আয়োজনে ভোজনরসিকেরা চেখে দেখতে পারবেন চিজ বার্গার, হাম বার্গার, বাফেলো উইংস, হট ডগ, স্টেক উইথ বেয়ারনাইস সস, িবফ রিবস, কটেজ পাই, জ্যাকেট পটেটো ও স্পাইসি ফিশ কেক। প্রতি বুধবার রাতে ভারতীয় খাবারের আয়োজন থাকবে এই রেস্তোরাঁয়। এতে থাকবে িগ্রন হারবোরা, ল্যাম্ব মাদ্রাজ, বোম্বে পটেটো, জালালি জিংগা, শাবনাম কে মতি, বিফ কড়াই গোস্ত, হায়দ্রাবাদি চিকেন বিরিয়ানি, মাটন রগানজোশ, ফিশ মায়া আচারি টিক্কাসহ নানা পদ। প্রতি বৃহস্পতিবার রাতের আয়োজনে তুলে ধরা হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার খাবারের বৈচিত্র্য। এতে থাকবে ভেটকি মাছের টিক্কা, ডেভিলড িবফ, ব্ল্যাক চিকেন কারি, প্রন মালাই কারি, মাটন রেজালা, বিফ ভুনা, ডাল চচ্চড়িসহ নানা পদের বাংলাদেশি ও শ্রীলঙ্কান খাবারের সমাহার। প্রতি শুক্রবার রাতে খাবার ভর্তি প্লেটগুলো সাজানো থাকবে আরব দেশের বিভিন্ন পদের খাবার দিয়ে। আরবের নানা পদের খাবারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মুত্তাবল, বাবা গানুস, হামুস, চিকেন মাকবুস, সামাক হারা, ল্যাম্ব কোফতা, খেবসা রাইস ও অ্যারাবিক মিক্সড িগ্রল। খেতে খেতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করার এই আয়োজনের পূর্ণতা দিতে প্রতিদিন রাতের খাবারের সময় এই রেস্তোরাঁয় বড় পর্দায় তুলে ধরা হবে সংশ্লিষ্ট দেশের সংস্কৃতি। একেক দিন একেক দেশের খাবারের আয়োজন থাকলেও প্রতিদিন রাতেই বিশেষ কিছু খাবারের পদ থাকবে যাতে সবাই বুফে খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারেন। খেতে খেতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করার এই আয়োজনে অংশ নিতে চাইলে জনপ্রতি ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জসহ গুনতে হবে ২ হাজার ৯৫০ টাকা। র্যা ডিসন ব্লুর সহকারী ব্যবস্থাপক (বিপণন ও যোগাযোগ) তাখরীন খান বলেন, ‘আমরা সবকিছুতেই নতুনত্ব আনতে চাই।
আর ভোজনরসিকেরা যাতে খাবারের মধ্যে নতুনত্ব পেতে পারেন সে কারণেই ৯০ দিনে খাবারের মাধ্যমে বিশ্ব ঘুরে আসার এই আয়োজন।’ র্যা ডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউর মূল রেস্তোরাঁ হলো ‘দ্য এক্সচেঞ্জ’। সুপরিসর জায়গায় নান্দনিক পরিবেশে একসঙ্গে ২০০ জনের বেশি লোক খেতে পারে এ রেস্তোরাঁয়। রেস্তোরাঁ প্রতিদিন খোলা থাকে সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকালে রেস্তোরাঁয় ৯০টিরও বেশি পদের খাবার দিয়ে সকালের নাশতা সারতে পারবেন ভোজনরসিকেরা। প্রতিদিন দুপুরে চার পদের খাবার দিয়ে তৈরি সেট মেন্যু মিলবে এ রেস্তোরাঁয়।  এই সেট মেন্যু দিয়ে জনপ্রতি দুপুরের খাবার খেতে গুনতে হবে ১ হাজার ১৫০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ। এই রেস্তোরাঁয় রয়েছে ‘লাইভ স্টেশন’ ও ‘সালাদ স্টেশন’। এখানকার লাইভ স্টেশনে ভোজনরসিকদের পছন্দমতো তাঁর সামনেই িগ্রল চিকেন, গ্রিল স্ন্যাপার, িবফ স্টেইক, িগ্রল প্রন, কিং মাছ ও শর্মা তৈরি করে দেওয়া হয়। সালাদ স্টেশন থেকে নিজের পছন্দসই উপকরণ দিয়ে নিজের মনের মতো সালাদ তৈরি করে নেওয়া যায়। এই রেস্তোরাঁর খাবারের মান প্রসঙ্গে র্যা ডিসন ব্লুর শেফ ইনচার্জ ইরফান হোসাইন বলেন, ‘আমরা সব সময় খাবারের গুণগত মানের ওপর প্রাধান্য দিয়ে থাকি। আমাদের সব খাবার হালাল ও স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়।’

মামলা মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর

সিলেটের কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম হত্যাচেষ্টা মামলার আদালত পরিবর্তন করা হয়েছে। মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালত থেকে মামলাটি গতকাল বুধবার মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। সরকারপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদেশে মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। এ আদালতে গত রোববার মামলার ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে খাদিজার সাক্ষ্য গ্রহণের পর গতকাল যুক্তিতর্কের তারিখ ধার্য করা হয়েছিল। মামলা স্থানান্তর হওয়ায় যুক্তিতর্কও পেছাল। মহানগর দায়রা জজ আদালতে ৫ মার্চ মামলার যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল যুক্তিতর্ক শুরুর প্রাক্কালে সরকারপক্ষের আইনজীবীরা মামলার একমাত্র আসামির সর্বোচ্চ সাজা হওয়ার পক্ষে মত দিয়ে যাবতীয় প্রমাণ উপস্থাপন করেন।
বিচারক এ বিষয়টি আমলে নিলে সরকারপক্ষের আইনজীবীরা আসামির সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করার আবেদন করেন। এ নিয়ে শুনানি শেষে বিচারক স্থানান্তরের আদেশ দেন। এর আগে মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে যুক্তিতর্কের জন্য মামলার একমাত্র আসামি বদরুল আলমকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। মামলা স্থানান্তরিত হওয়ায় বদরুলকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। সরকারপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে আসামির সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার এখতিয়ার না থাকায় উচ্চ আদালতে মামলা স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় এটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন এ আদালতে আগামী রোববার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন আইনজীবীরা। যুক্তিতর্ক শেষ হলে ওই দিনই রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য হতে পারে।

টার্মিনালে আটকে ছিল একটি পরিবার

গাবতলী বাস টার্মিনালের কাউন্টারগুলোতে বুধবার ছিল সুনসান নীরবতা। যাত্রী নেই, নেই হইচই। তবে দিগন্ত বাস কাউন্টারের সামনে টমেটো দিয়ে মুড়ি মাখাচ্ছিলেন এক নারী। অপলক তা দেখছিল ছোট দুটি ছেলে। কাছে গিয়ে জানা গেল, ওই নারীর নাম রোকসানা। রায়হান আর হাসান নামের ছেলে দুটির খালা তিনি।
দুপুরে ভাতের বদলে মুড়ি কেন?
এই প্রশ্নের জবাবে রোকসানা বলেন, ‘পাশের হোটেল সব বন্ধ। ভাত পাব কোথায়?’
পাশে বসা মাঝ বয়সী একজন তাজ মো. কবির বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘ভাই, যাব কোথায়? দুই দিন ধরে এখানে আছি। পরিবার নিয়ে এত দিন ঢাকায় থাকতাম। এখন আর ঢাকায় থাকব না। বাড়িভাড়া মিটিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে একেবারে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে চলে যাচ্ছিলাম। সঙ্গে বউ রওশন আরা, দুই ছেলে রায়হান ও হাসান। আরও আছেন বাচ্চাদের খালা রোকসানা ও তাঁর স্বামী।’ কবিরের ভাষ্যমতে, মিরপুর ১২ নম্বরে ভাড়া বাসায় থাকতেন তাঁরা। ওখানে কারচুপির কাজ করতেন। ঢাকায় আয় কমে যাওয়ায় সাতক্ষীরায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কবির। বাসা ছেড়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গাবতলী বাস টার্মিনালে যান তাঁরা। সঙ্গে হাঁড়িপাতিল আর কাপড়ের ছয়টি বস্তা। কিন্তু পরিবহনশ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটের কারণে দুর্ভোগে পড়েন তাঁরা। ঢাকায়ও থাকার জায়গা নেই, আবার সাতক্ষীরাও যেতে পারছেন না।
অগত্যা বাস কাউন্টারেই আশ্রয় নেয় পুরো পরিবার। প্রথম দুই দিন ভাত খেলেও গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে টার্মিনালের হোটেলগুলো বন্ধ। সে কারণে হাতের কাছে যা ছিল তা খেয়েই কেটেছে পরিবারটির দিন। গতকাল শ্রমিকদের কর্মবিরত প্রত্যাহারের পর যানবাহন চালু হয়। এরপর সন্ধ্যায় পরিবারটি ঢাকা ছেড়ে যায়। টার্মিনাল ছেড়ে যাওয়ার আগে রওশন আরা বলেন, ‘ভাই, বাথরুম করতেই ২০০ টাকা গেছে। তবে কষ্ট হচ্ছে বাচ্চা দুটোর। আর কোনো দিন ঢাকায় আসব না।’ আবার ফিরে যাওয়ার সময় আতিথেয়তা করলেন কবিরও। মুড়ির থালা এগিয়ে বললেন, ‘আমাগের সাথি দুটো মুড়ি খান।’