Monday, September 10, 2018

ইভিএম প্রযুক্তি একটি বিতর্কিত বিষয় by আলী রিয়াজ

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গোটা দেশকে একটি অপ্রয়োজনীয় এবং অর্থহীন বিতর্কে লিপ্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তার নাম ইভিএম। যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই বলেছেন ‘জাতীয় নির্বাচনে কোথাও কোনো অনিয়ম হবে না-এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই’ এবং তিনটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন কার্যত তাঁদের ব্যর্থতার দলিলে পরিণত হয়েছে সেখানে আসন্ন নির্বাচন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার ব্যাপারে ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টার বদলে এই নতুন বিতর্ক দৃষ্টি অন্য দিকে ফেরানোর চেষ্টা ছাড়া আর কোনোভাবে বিবেচনা করার কারণ দেখিনা। নির্বাচনের আগে আর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন হবে না বলার পরও এখন এই নিয়ে তড়িঘড়ি উদ্যোগ নিশ্চয় প্রশ্ন তৈরি করে। যেখানে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এবং অংশীজন এর বিরোধিতা করেছে সেখানে এই প্রশ্ন এখন উত্থাপিত হচ্ছে কেন?
ইভিএম প্রযুক্তি একটি বিতর্কিত বিষয় এবং বিভিন্ন দেশে তা যে পরিত্যাজ্য হয়েছে সেটা ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজি করলেই পাওয়া যায়, কমিশন চাইলেই যারা বাতিল করেছেন সেই সব দেশের কাছে তথ্য চাইতে পারতেন। এমনকি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ঐতিহ্য অনুযায়ী কর্মকর্তারা ঐ সব দেশে ‘শিক্ষা সফরে’ও যেতে পারতেন। কিন্ত তার বদলে তাঁরা এই নিয়ে বিতর্কের সূচনা করেছেন। বৃহস্পতিবারের সভার পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এখনও নেননি তারা। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়নি, কিন্ত ‘গত জুলাই থেকে ইভিএম আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ জন্য ঋণপত্র খুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদন নিয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক। চীন, হংকংসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে ইভিএম ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি এনে বিএমটিএফ তা নির্বাচন কমিশনকে সরবরাহ করবে বলে নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে। ইতিমধ্যে ৭৯৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার ঋণপত্র খোলা হয়েছে। যন্ত্রপাতি আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা (প্রথম আলো ওয়েব সাইট, ৩০ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫৪)।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী তাঁরা কেবল ‘প্রস্ততি নিচ্ছেন’; কিন্ত যদি ব্যবহারই না হবে তবে এই অর্থনাশের দায়িত্ব কে নেবে? কিন্ত যে দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা নিমিষে লোপাট হচ্ছে নিয়মিতভাবে সেখানে হয়তো ২ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা ‘কিছুই না’। কিন্ত আসল প্রশ্ন হচ্ছে, এখন এই প্রশ্ন কেন? সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে যখন পাহাড়-সমান সব বাধা উপস্থিত, নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা যেখানে প্রায় নেই-ই সেখানে ইভিএমের আলোচনা হচ্ছে আসল বিষয় নিয়ে আলোচনা না করা। যারা মনে করছেন বা বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে প্রযুক্তি হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্যারান্টি, ফলে ইভিএমের ব্যবস্থা করলেই সবাই সোৎসাহে রাজি হবেন তাঁরা নিশ্চয় জানেন যে সমস্যা রাজনৈতিক তা প্রযুক্তির চমকে সমাধান হয় না। ইভিএম-বিষয়ক আপত্তিকে যারা আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করা না করার বিষয়ে হিসেবে দেখেছেন, প্রগতির বিষয় বলে ভাবছেন তাঁরা নিশ্চয় অন্য দেশের অভিজ্ঞতাগুলো বিষয়ে অনুসন্ধান করবেন।
আগস্ট ৩০, ২০১৮
লেখক: সম্মানীয় অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র
(ফেসবুক থেকে নেয়া)

দেশে ইউনানী চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

দেশে হারবাল ও ইউনানী চিকিৎসার নামে চলছে ব্যাপক প্রতারণা। একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি, হাকিম, কবিরাজ ও ডাক্তার সর্ব রোগের চিকিৎসক সেজে দীর্ঘদিন থেকেই সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে আসছে। চটকদার বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হয়ে ভেষজ ওষুধের নামে নকল ও ভেজাল ওষুধ সেবন করে মানুষ আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন প্রায় সময়ে। এক রোগ সারাতে গিয়ে তারা নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু হাজারও অভিযোগ সত্ত্বেও মানুষকে প্রতারণা করা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পদক্ষেপ নামমাত্র।
নিউ মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ীদের ছুটির দিনে (মঙ্গলবারে) লতাপাতা নিয়ে ক্যানভাস করে ওষুধ বিক্রি করেন মোবারক। তারই তৈরি করা সুলভ মূল্যে ওষুধ কিনে প্রতারিত হয়েছেন মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। তিনি জানান, কবিরাজ বলেছিল তার তৈরি ওষুধ খাইলে যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, পুরনো ব্যথা কমে যাবে। জসিম বলেন, তার দীর্ঘদিনের যৌন রোগী তো সারেনি বরং আগের চেয়ে আরো খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এসব ওষুধ ভুয়া। মানুষকে প্রতারণা করা ছাড়া আর কিছুই নেই।
জনবহুল এলাকাগুলোয় ভেষজ ওষুধের নামে অসাধু ব্যবসায়ী ও তথাকথিত চিকিৎসকেরা ফুটপাথ ও দোকানে ব্যবসা জমিয়েছেন। ফার্মগেট, গুলিস্তান, গাবতলী, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, কাওরানবাজার, মিরপুর, পল্লবীতে ফুটপাথে ১০ টাকা থেকে ১০০ টাকা দামের এমন ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। মূলত দরিদ্ররা এসব ওষুধের ক্রেতা। অপরদিকে কলিকাতা, দিল্লি হারবাল ইত্যাদি নামের দোকানে ভেষজ নাম দিয়ে ৯০০ থেকে ২০০০ টাকায় ওষুধ বিক্রি হয়। এসব প্রতিষ্ঠান রাস্তায় প্রচারপত্র, অপারেটরদের মাধ্যমে, স্থানীয় ডিস চ্যানেল বেসরকারি কিছু টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেয়। শনির আখড়া, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা, মেরুল বাড্ডা, মালিবাগ, মগবাজার, কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড অননুমোদিত এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, বাংলাদেশে অননুমোদিত হারবাল প্রতিষ্ঠানের জনক ‘মঘা ঔষধালয়’।
সরকার মঘার বিরুদ্ধে একটির পর একটি মামলা করলে একপর্যায়ে তারা ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। তবে কয়েকটি সূত্রের অভিযোগ, অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর সঙ্গে ‘মঘা’র লোকজনের সম্পৃক্ততা আছে। বাংলাদেশ ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, হারবাল ওষুধ হরহামেশাই ব্যবহার হলেও জনমনে এ ওষুধ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে নানা কারণে। প্রথমত, হারবাল ওষুধটি যারা প্রস্তুত করে থাকেন তাদের কাজের মান ও বিশ্বস্ততা নিয়ে। দ্বিতীয়ত- হারবাল ওষুধ নিয়ে অপেক্ষাকৃত কম প্রচারণা। দেশে বৈধ হারবাল ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অবৈধভাবে চোরাই পথে ওষুধ সরবরাহ হয় অধিকহারে বলেও এই কর্মকর্তা দাবি করেন। বর্তমানে দেশে মোট ২৯৭টি ইউনানী এবং ১৯২টি আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ওষুধের মান যথাযথ নয় বলে সাধারণ ধারণা প্রচলিত রয়েছে।
চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে যৌনোদ্দীপক ওষুধ বিক্রির প্রচারণা আমরা রাস্তাঘাটে অহরহ দেখতে পাই। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচারণার অভিযোগ পাওয়া যায়। ভুয়া কবিরাজ বা ভেষজ চিকিৎসকের প্রতারণায় গ্রামগঞ্জের ভেষজ চিকিৎসা কলুষিত হচ্ছে। গত দুই মাস আগে ভুয়া কবিরাজি চিকিৎসায় চাঁদপুরে এক রোগী মারা যাওয়ার খবর এসেছে পত্রিকায়। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) দীর্ঘদিন ধরে ঔষধি উদ্ভিদ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করে আসছে। সংস্থাটির বিজ্ঞানীদের গবেষণালব্ধ সফল উদ্ভাবন হারবাল এন্টি ডায়াবেটিক টি‘ডায়াবিনো’। যা জারুল গাছের পাতা থেকে তৈরি এক প্রকার চা।
এই গবেষণা পরিষদ আরো  বেশ কিছু ঔষধি উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করছে যেমন-অর্জুন, বাসক, নিম, যষ্ঠিমধু, শতমূলী, অশোক প্রভৃতি। বর্তমানে বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী তৈরিতে যেমন- বডি লোশন, সাবান, শ্যাম্পু, চুলের কলপ, শেভিং ক্রিম ইত্যাদি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রেও ব্যাপকহারে ঘৃতকুমারী ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এক কর্মকর্তা বলেন, ইউনানী ও আয়ূর্বেদিক শিল্প নিয়ে প্রতারক ওষুধ প্রস্তুতকারক ও ভুয়া কবিরাজদের শাস্তির বিধান ও তা কার্যকর করতে হবে। যানবাহন ও রাস্তাঘাটে এ ধরনের ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ভেষজ ওষুধ প্রস্তুতকারকদের বিজ্ঞানসম্মত ওষুধ তৈরির দক্ষতা অর্জনে এবং আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভেষজ ওষুধ সংক্রামক ও দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) রোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু এই ওষুধের নামে বিশ্বব্যাপী নিম্নমানের, নকল ও ভেজাল ওষুধ রোগীদের জীবন বিপন্ন করে তুলছে। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের হিসাবে দেশের ওষুধের বাজারের ২৫ শতাংশ ভেষজ ওষুধের নিয়ন্ত্রণে। দেশে আয়ুর্বেদ-ইউনানী ও হারবাল ওষুধ উৎপাদনকারী অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান আছে ৫শ’ উপরে। কিন্তু বিভিন্ন সূত্রের হিসাবে, এগুলোর বাইরে অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান আছে কয়েক হাজার। হাঁপানি, চর্ম ও যৌন রোগ, বাত-ব্যথা, রং ফরসা করা ও মোটা হওয়ার জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষ ভেষজ ওষুধ সেবন করে। এরই সুযোগ নেয় তথাকথিত হারবাল চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানুষ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদু্‌ল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার পাশাপাশি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি বা অল্টারনেটিভ মেডিসিন বিশ্বের সর্বত্রই স্বীকৃত। গাছগাছড়ার ভেষজ চিকিৎসা থেকে শুরু করে আকুপাংচার, হাইড্রোথেরাপি, অ্যারোমাথেরাপি ইত্যাদি ব্যতিক্রমী চিকিৎসা বিভিন্ন দেশে চালু আছে। হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ কিংবা ইউনানী পদ্ধতিতে চিকিৎসা তো অনেক দেশে সরকারিভাবে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেই দেয়া হয়।
চিকিৎসার মূল লক্ষ্য রোগীকে সুস্থ করা। তা সম্ভব না হলে উপসর্গগুলো কমানো এবং অবশ্যই কোনো ক্ষতি না করা। তাই যে পদ্ধতিতেই চিকিৎসা দেয়া হোক না কেন, তার পেছনে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি। ভেষজ চিকিৎসা হলেও তা যথাযথ হতে হবে। এর পেছনে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। মনগড়া যা খুশি তাই করার সুযোগ কারও নেই। আমাদের দেশেও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি চালু আছে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে একই সঙ্গে চালু আছে অপচিকিৎসা। বিশেষ করে ভেষজ বা হারবাল চিকিৎসার নামেই এসব অপচিকিৎসা করা হয় বেশি। রাস্তার ফুটপাথ থেকে শুরু করে অলিগলিতে গজিয়ে ওঠা এক-দুই রুমের ‘চেম্বার’ থেকে এসব চিকিৎসা দেয়া হয়। ফুটপাথের ক্যানভাসাররা মানুষকে বোকা সাজিয়ে প্রতারণা করছে। জনগণকে এ ব্যাপারে  সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
বাংলাদেশ আয়ুর্বেদিক শিল্প সমিতির সদস্যরা বলেন, আয়ুর্বেদিক, ইউনানী ও ভেষজ ওষুধের বাজারের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ভুঁইফোড় ও অসাধু প্রতিষ্ঠান। তারা বিপুল অঙ্কের করও ফাঁকি দিচ্ছে। বাংলাদেশ ইউনানী মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হাকিম ফেরদৌস ওয়াহিদ বুদু মানবজমিনকে বলেন, রাস্তা-ঘাটে ওষুধ বিক্রি করা বেআইনি। প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেউ ওষুধ খাবেন না। ভেজাল ওষুধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু তেমন কাজ হয়নি। রাস্তায় যারা ওষুধ বিক্রি করে তারা শক্তিশালী। না হলে তারা কিভাবে পুলিশ প্রশাসনের সামনে এই কাজ করছে। যদি ইউনানী ওষুধে কেউ প্রতারিত হন, তথ্য প্রমাণসহ আমাদের কাছে জমা দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, ইউনানী চিকিৎসা পদ্ধতির সূত্রপাত প্রাচীন গ্রিসে আজ থেকে প্রায় ৩ হাজার বছর আগে। গ্রিক মনীষী হিপোক্রেটিস, যাকে চিকিৎসা শাস্ত্রের জনক বলা হয়-তিনিই মূলত এ পদ্ধতির প্রসার ঘটান। দক্ষিণ এশিয়ায় এ চিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভব পাঁচ হাজার বছর আগে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে ভয়ঙ্কর প্রতারণা by মিজানুর রহমান ও ইমরান আলী

ওয়ার্ক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির লোভ দেখিয়ে ফেসবুকে ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে ভিনদেশি এক দম্পতি। তারা নিজেদের আমেরিকান বলে পরিচয় দিচ্ছে। বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের আকৃষ্ট করতে ওই দম্পতি একটি ভিডিও প্রচার করেছে। যাতে দেখানো হয়েছে তারা বাংলাদেশকে ভালোবাসে- এজন্য এখানে এসেছে মাত্র ৬ মাসের জন্য। ওই সময়ের মধ্যে তারা কিছু লোকের ভিসা প্রসেস করবে এবং ওয়ার্ক পারমিট দিয়ে আমেরিকায় পাঠাবে!
ভিডিওটিতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম বিটিভি ওয়ার্ল্ড এবং পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। ‘সোনালী রোদ্দুর’ নামের একটি ফেসবুক পেইজ থেকে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে। যার শিরোনাম দেয়া হয়েছে, ডাইরেক্ট ওয়ার্ক ভিসায় আমেরিকা! প্রতারণামূলক ওই ভিডিও প্রচার বন্ধ করতে এবং বিদেশি প্রতারকদ্বয়কে ধরতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাগুলো সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা বলছেন- ওয়ার্ক পারমিটসহ আমেরিকান ভিসা পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতারক চক্র যে ভিডিওটি প্রচার করছে তাতে অনুমতি ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনভিপ্রেত। এ ছাড়াও ওই ভিডিও’র স্ক্রল মেসেজে প্রচারিত কিছু ফোন, ফ্যাক্স ও মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানা যোগাযোগের জন্য শেয়ার করা হয়েছে। যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বলে দাবি করা হয়েছে তা মোটেও সঠিক নয়। প্রচারিত প্রতারণামূলক ও বানোয়াট ভিডিও’র ব্যাপারে সতর্ক থাকতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধও জানিয়েছে সরকার। প্রচারিত ওই ভিডিও’র একটি কপি মানবজমিনের হাতে রয়েছে।
ভিডিওটি পর্যালোচনায় বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে মানবজমিনের আইটি টিম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারক দম্পতি ঢাকা শহরেই রয়েছে। তবে তারা কোন এলাকায় বসবাস করছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওটি বিশ্বাসযোগ্য করতে সেখানে পররাষ্ট্র সচিবের একটি ভুয়া মেইলও ব্যবহার করা হয়েছে। ভিডিওটির সূচনা এবং সমাপনীতে জনস্বার্থে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় লেখা হয়েছে। এ ছাড়া দু’টি শিশুকেও সেখানে প্রদর্শন করা হয়েছে। ভিডিওটি দেখেছেন এমন কর্মকর্তারা বলছেন, ভিনদেশি ধূর্ত ওই প্রতারক দম্পতিকে যত দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা যাবে ততই মঙ্গল। বাংলা হরফে লেখা ‘সোনালী রোদ্দুর’ নামের ফেসবুক পেইজে বাংলায় ‘ডাইরেক্ট ওয়ার্ক ভিসায় আমেরিকা’ শিরোনামে একটি পোস্টও দেয়া রয়েছে।
যাতে ফার্স্ট ব্র্যাকেটের মধ্যে লেখা হয়েছে- ‘বাংলাদেশিদের জন্য এই কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।’ পোস্ট-এ লেখা হয়েছে- আমেরিকার বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানি মেরী ম্যাক্সাস গ্রুপের সিইও মিস্টার জেসন এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মিসেস মেরিনী বর্তমানে বাংলাদেশ সফর করছেন। বাংলাদেশিদের প্রতি মুগ্ধ এই আমেরিকান দম্পতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ থেকে ডাইরেক্ট ভিসা দিয়ে বেশকিছু বাংলাদেশিকে তাদের সঙ্গে করে আমেরিকায় নিয়ে যাবেন। এই ডাইরেক্ট ওয়ার্ক পারমিট প্রসেস করার জন্য তারা আগামী ছয় মাস বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। ডাইরেক্ট ওয়ার্ক ভিসায় আমেরিকা যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি বিশেষ করে প্রবাসীদের সরাসরি যোগাযোগ এবং দ্রুত রেজিস্ট্রেশনের অনুরোধ জানিয়ে কয়েকটি নাম্বার দিয়ে বলা হয়েছে- প্রদত্ত নাম্বারগুলোতে আপনারা সরাসরি কথা বলে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।
আগ্রহীদের যোগাযোগের জন্য দুটি মোবাইল ফোন নাম্বার বিশেষ চিহ্ন দিয়ে প্রদর্শন করা হয়েছে। যার একটি নাম্বার মিস্টার জেসনের এবং অপরটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বলে প্রচার করা হয়েছে। নাম্বার দুটি হলো- ০১৮৬৯৫৫২৫৯২ (মি. জেসন) এবং ০১৭৪৫১৫৯৭১১ (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)। পোস্টটি বিশ্বাসযোগ্য করতে সূত্র হিসাবে ফেসবুক পোস্টে বিবিসি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ড-এর নামও জুড়ে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, ভিডিওটিকে গ্রহণযোগ্য করতে এক্সক্লুসিভ লিখে ওয়াটার মার্কও দেয়া হয়। অনুসন্ধান বলছে- ২৫শে আগস্ট শনিবার রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে ৫৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিও আপলোড করা হয়। যার সূচনাতে একজন পুরুষ কথা বলেন। সঙ্গে একটি শিশু। ভিডিও’র ফ্রেমে ওই ব্যক্তির অ্যাসটন বা পরিচিতি স্থানে ডক্টর জেসন মেনডিরিন পিএইচডি, সিইও ম্যারি ম্যাক্সাস গ্রুপ, ইউনাইটেড স্টেট অব অ্যামেরিকা, ইউএসএ লেখা রয়েছে। সেখানে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি তার সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থানে আপ্লুত বলেই জানাচ্ছিলেন। ভিডিও’র সমাপনীতে এক নারী কথা বলেন।
যা অ্যাসটন বা পরিচিতি স্থানে লেখা রয়েছে- মারিনি মার্গারসন এমবিএ, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (হিউম্যান রিসোর্স), ম্যারি ম্যাক্সাস গ্রুপ, ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকা, ইউএসএ। ভিডিও’র স্ক্রলে যে লাইনটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল তা হলো- অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের এবং ইমার্জেন্সি সার্ভিসের জন্য যোগাযোগ করুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। যোগাযোগের জন্য একটি ল্যান্ড ফোন নাম্বার, একটি ফ্যাক্স নাম্বার এবং দুটি ভিন্ন মোবাইল ফোন নাম্বার দেয়া ছিল। অনুসন্ধানে দেখা যায় নাম্বারগুলো না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের না প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ নিয়ে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন। ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের যে পরিচয় দেয়া হয়েছে মানবজমিনের টিম নিশ্চিত হয়েছে যে, ওই দুটি পরিচয়ই ভুয়া। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ম্যারি ম্যাক্স নামে কোনো গ্রুপ নেই। ওয়েব সাইটে এর কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোনালী রোদ্দুর নামে যে ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছে তার আইডি সম্পর্ককে খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে মালয়েশিয়ার একটি নাম্বার দেয়া রয়েছে। আইডিতে যারা কমেন্ট বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তাদের বেশিরভাগই মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি। এমনই একজন ফেসবুক ইউজার সাইদুল ইসলাম নাহিদ। তিনি তার কমেন্টে লিখেন- আমি মিস্টার জেসন প্রদত্ত একটি নাম্বারে কল দিয়েছিলাম। মাহমুদ নামের একজন ফোনটি রিসিভ করলেন।
তিনি নিজেকে জেসনের সেক্রেটারি হিসেবে পরিচয় দেন। মাহমুদ বলেন, তিনি নাকি ইউএস অ্যাম্বাসিতে রিক্রুটেড হয়েছেন। মোহাম্মদ বশির নামে একজন লিখেন- আমি মি. জেসনকে কল দিয়েছিলাম। অনেক কথা হলো তার সঙ্গে। আমার পাসপোর্ট নাম্বার নিলো, ভিসা নাম্বারও নিলো এবং বললো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে নাম্বার দেয়া হয়েছে রেজিস্ট্রেশনের জন্য তাতে কল করতে এবং ৯৫০০ টাকা দিতে। তখনই আমি বুঝে গেছি এটা বাটপারি! পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, জেসন দম্পতির প্রচারিত ফোন, ফ্যাক্স ও মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল ঠিকানায় যোগাযোগকারীদের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অভিযোগ আসছে। এই ধরনের কোনো উদ্যোগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বা সংশ্লিষ্টতা নেই। বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতারণাপূর্ণ, মিথ্যা ও বানোয়াট প্রচারণার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ ধরনের ভ্রান্ত প্রচারণায় প্রতারিত না হওয়ার ব্যাপারে সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে এবং কেউ প্রতারণার শিকার হলে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া যাচ্ছে। অবশ্য ওই ভিডিও’র পক্ষেও প্রচারণা রয়েছে। যারা পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে তারা ওই চক্রের অংশ কি-না তা নিশ্চিত হতে সরকারের সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- আরিফ পাটওয়ারি নামে একজন বেশ জোরালো ভাবেই প্রতারক দম্পতি এবং তাদের প্রচারিত পোস্টের পক্ষে সাফাই গাইছেন। তার ভাষ্য হচ্ছে- “সোনালী  রোদ্দুর সম্পর্কে আমি জানি, বিষয়টা সত্য, কিন্তু কিছু আবালকে এটা বুঝানো অসম্ভব! যদি বলেন- ড্রাগন গ্যাপস দিয়ে যাওয়া, সেটা বিশ্বাস করবে। এরই নাম বাঙালী!” ওই ব্যক্তি এ-ও লিখেন- কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। ওয়ার্ক ভিসার যোগ্যতা কি তা জানতে চাই। বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো। মানবজমিন অনুসন্ধানি টিম জেসন প্রদত্ত নাম্বারে কথা বলার চেষ্টা করে। একবার একজন ফোনটি রিসিভ করেন। তবে তিনি নিজের পরিচয় না দিয়ে বাংলায় ‘একটু ব্যস্ত আছি পরে কথা বলুন’ বলে লাইনটি কেটে দেন।
পরে বহুবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে আর কথা বলা সম্ভব হয়নি। এক সময় ফোনটি বন্ধ করে দেয়া হয়। উল্লেখ্য, সোনালী রোদ্দুর পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় চার হাজারের কাছাকাছি। পেজটির লোকেশন ঢাকা দেয়া থাকলেও যোগাযোগের নম্বর হিসেবে দেয়া হয়েছে +৬০ ১৭-২১৫ ০০৮৩। এটি নিশ্চিতভাবে মালয়েশিয়ার নাম্বার। ওই ভিডিওটি ইউটিউবেও প্রচার করেছেন ভিন্ন এক ব্যক্তি। ভিডিওটির নির্মাতা প্রতারক চক্রের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আরডি রুপন নামের এক ব্যক্তি একজন  ইউটিউবার। তার চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১৬২৫।

যেভাবে রাজনীতিতে জড়ালেন ডা. হাবিবে মিল্লাত by মো. জহুরুল ইসলাম জহির

ডা. হাবিবে মিল্লাত। একাধারে চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ। দায়িত্ব পালন করছেন সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সংসদ সদস্যের। চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চ ডিগ্রিধারী এই কার্ডিয়াক সার্জন রাজনীতিতে নেমেই সবার নজর কাড়েন। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলস। নদীভাঙন-পীড়িত সিরাজগঞ্জবাসীর দুঃখ ঘুচাতে বাস্তবায়ন করছেন মেগা প্রকল্প। তার নির্বাচনী এলাকার প্রায় সব ভাঙাচোরা রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নতুন করে তৈরি করেছেন। শিক্ষার মানোন্নয়নে নির্মাণ করেছেন স্কুল-কলেজ-মাদরাসা। তরুণ এই চিকিৎসক ১৯৬৬ সালের ১৫ই জানুয়ারি সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ভর্তি হন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। ওই কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে রয়েল কলেজ অব সার্জন্স অব (এডিনবরা) থেকে এফআরসিএস ডিগ্রি নেন।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জারির ওপর দীর্ঘ ১২ বছর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে কর্মজীবন শুরু করেন। যোগ দেন কার্ডিওথোরাসিক সার্জন হিসেবে। ওয়ান-ইলেভেনের সেনাসমর্থিত মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের শাসনামলে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে কিছুদিন স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ওই সময় বর্তমান এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসক টিমের সর্বকনিষ্ট সদস্য ছিলেন হাবিবে মিল্লাত। একসময় মেধাবী এই চিকিৎসক প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হয়ে উঠেন। তখনই তাকে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রাজনীতিতে নেমে মানুষের সেবা করার পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তিনিও রাজি হয়ে যান। তখন থেকেই তিনি অবহেলিত সিরাজগঞ্জবাসীর জন্য কাজ শুরু করেন। এরপর বারডেমে কিছুদিন চিকিৎসাসেবা দেন।
পরে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠেন। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পেয়েই ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১০৪১ একর জমির ওপর ইকোনোমিক জোন-১ নির্মাণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেন। এছাড়া ৪০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্প পার্ক নির্মাণে ৬২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। সেখানে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পাল্টে যাবে সিরাজগঞ্জের দৃশ্য। সিরাজগঞ্জকে নদীভাঙন থেকে রক্ষা করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। ভাঙনরোধে তৈরি করা হয়েছে ২৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রানীগ্রাম, চরমালশাপাড়া ও পাইকপাড়া ক্রসবার। এছাড়া ১১শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাপিটাল পাইলট ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় নদী খনন করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। ৫০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রসবার-৩ ও ক্রসবার-৪ এর মাথা সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
সবচেয়ে অবহেলিত ছিল কামারখন্দ উপজেলা। এই উপজেলাটির রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের পাশাপাশি শতভাগ বিদ্যুতায়ন করেছেন তিনি। কড্ডা থেকে জামতৈল সড়ক, কোনাবাড়ী-পাইকোশা বাজার রাস্তা মেরামত, নান্দিনামধু-জারিলা রাস্তা, কামালিয়া-মুগবেলাই, পাইকোশা-বালিয়াকান্দাপাড়া রাস্তা, জামতৈল-কালীবাড়ী কুটিয়া চর, ভদ্রঘাট ইউজিআর ভায়া নান্দিনা কামালিয়া রাস্তা, দোগাছী-কালিবাড়ীহাট, সাঈদকান্দি-দোগাছি রাস্তা, কোনাবাড়ী-জামতৈল উল্লাপাড়া ইউজিআর, জামতৈল জিসি বলরামপুর জিসি ভায়া কর্ণসূতী, কালিয়া কান্দাপাড়া-কামারখন্দ-উল্লাপাড়া জিসি ভায়া বরধুল হাট পর্যন্ত, আলোকদিয়ার নিশিপাড়া-পাকুরিয়া রাস্তাসহ অসংখ্য ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন পুনঃনির্মাণ এবং মেরিন একাডেমি স্থাপনের মাধ্যমে জেলার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
কৃষকের দুর্ভোগ কমাতে উপজেলা পর্যায়ে ৪৮,৫০০ জন কৃষককে ৫৯৭০ টন কৃষি সার বিতরণ, সহজ শর্তে কৃষকের ঋণ সুবিধা, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় ঋণ সুবিধা এবং মৎস্যচাষে উদ্বুদ্ধকরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন তিনি। সিরাজগঞ্জ জেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা ত্বরান্বিত করতে শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও ৩৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ ও সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং যমুনা পাড়ের ৩৩ লাখ মানুষ ও উত্তরবঙ্গের বিশাল জনগোষ্ঠীর হৃদরোগ চিকিৎসা সুবিধার জন্য সিরাজগঞ্জ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল স্থাপন করেন। তিনি নিয়োজিত রয়েছেন বিভিন্ন সেবামূলক কাজেও। বাংলাদেশ  রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরি সদস্য তিনি। এছাড়া লায়ন্স ক্লাব অব ভেরিতাসের সভাপতি এবং ভেরিতাস ফার্মাসিউটিক্যালস লি.র চেয়ারম্যান।
তিনি ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের শুভেচ্ছা দূত, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বাংলাদেশ চিকিৎসা পরিষদ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব  রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মরহুম পিতা ডা. ছানাউল্লাহ আনছারীর স্মরণে দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘আনছারী ফাউন্ডেশন’ গঠন করেন। সেখান থেকে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়া দেশি-বিদেশি অসংখ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি জড়িত। ব্যক্তিগত জীবনে এলজিআরডিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কন্যা মিসেস শারিতা মিল্লাতের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনিও ভেরিতাস ফার্মাসিউটিক্যাল লি.র ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাদের দুই সন্তান শাহরিয়ান এবং ফেবিয়ান যুক্তরাজ্যে অধ্যয়নরত।

সৌদিতে যৌন নিগ্রহের শিকার এক শেফালির বয়ান

শত শত বাংলাদেশি গৃহপরিচারিকা সৌদি আরবে শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জার্মান বেতার ডয়েচে ভেলের ইংলিশ বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
শেফালির বয়স ২৫ বছর। তার কথায়, দেশে ফিরে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছে ২০ দিন। এমনকি আমি হাঁটতে পর্যন্ত পারতাম না। তাঁরা আমাকে প্রহার করতে মোটা তার ও বেত ব্যবহার করেছে। আমার উরুতে নির্যাতনের চিহ্ন লেপটে আছে।
ডয়েচে ভেলের রিপোর্টে বলা হয়, এরকম শত শেফালির কান্না বাতাসে ভাসছে। শেফালিকে তাঁর গৃহকর্তা দিনে একবার খাবার দিয়েছে। খাবার চাইলে তাকে নির্দয়ভাবে পেটানো হয়েছে।
মানিকগেঞ্জর মেয়ে শেফালি। গ্রামের এক দালালের মাধ্যমে তার সৌদি আরবে যাওয়া স্থির হয়েছিল। তবে তার ভাগ্য ভালো যে, মাত্র তিন মাস তাকে অত্যাচার সহ্য করত হয়েছিল। এরপর তার পক্ষে পালানো সম্ভব হয়। তার বর্ণনায়, যেদিন মালিকের বাড়িতে তার শেষদিন ছিল, সেদিন তাকে নির্মমভাবে পিটানো হয়েছিল। এমনকি মালিকের মেয়ে আমার হাতের আঙুল ভেঙে দিয়েছিল। আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি।  আমার মালিকের পরিবার আমাকে হুমকি দিয়েছিল যে, আমি যদি তাদের দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার খবর প্রকাশ করি, তাহলে আমার জিহ্বা তারা কেটে ফেলবে। আমাকে হত্যা করবে। তারা আমাকে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা পর্যন্ত বলতে দিত না। শেফালি আরো দাবি করেছে, এই পরিবারটি এমনকি তার মজুরি পরিশোধ করেনি।
২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রায় পালিয়ে আসা অন্তত সাড়ে ছয় হাজার গৃহপরিচারিকার একজন হলেন শেফালি। এই তথ্য দিয়েছে ব্রাক। বেসরকারি এই এনজিওটি জানায়, ১৯৯১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ৩২ হাজার ৩১৭ জন গৃহপরিচারিকা চাকরি নিয়ে সৌদি আরবে গেছেন। কিন্তু সংখ্যাটি হু হু করে বাড়তে শুরু করে যখন ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব গৃহপরিচারিকা পাঠাতে একটি সমঝোতা স্মারক সই করার পর। গত সাড়ে তিন বছরে ২১৮,১৩১ জন গৃহপরিচারিকা সৌদিতে গেছেন। ব্রাকের একজন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান। তিনি বলেছেন, সৌদিতে বাংলাদেশী গৃহপরিচারিকারা নানা ধরনের নিগ্রহের শিকার। তারা খাবার ও মজুরি বঞ্চনার শিকার। তারা নানাভাবে শারিরীক ও যৌন নির্যাতন সহ্য করতে বাধ্য হয়েছে।
‘আমাদেরকে কাছে এমন নজির আছে, যেখানে মেয়েরা তাদের পুরুষ মালিকের লালসার শিকার হয়েছে। তারা গর্ভবতী অবস্থায় বাংলাদেশ ফিরে এসেছে। মাসের পর মাস বেতন না দেওয়া এবং ঠিকমতো খাবার খেতে না দেওয়ার কাহিনীর কোনো কমতি নেই।
ডয়েচে ভেলের রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, অধিকার কর্মীদের অনেকের দাবি, নির্যাতিত নারীদের অনেককেই পর্দার আড়ালে কঠোর গোপনীয়তায় রাখা হয়, যাতে বাইরের বিশ্ব এ বিষয়ে জানতে না পারে।
জনাব হাসান বলেছেন, অনেকেই বাইরের কারো সঙ্গে কোনো প্রকারের যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে না। একমাত্র উপায় হলো পালানো। পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা কিংবা বাংলাদেশী কোনো ভাই বা বোনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার চেষ্টা করা। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কোনো একটি জায়গা থেকে রেহাই পাওয়ার পর তারা পুণরায় নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। কারণ নতুন যে মালিকের হাতে তারা পড়ে সেখানেও একই ধরনের তিক্ত অভজ্ঞিতার মুখোমুখি হয়। মুক্তির একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়ায় যদি তারা পালিয়ে বাংলাদেশ ফিরে আসতে পারে। ভাগ্য ভালো হলে তারা রিয়াদ বা জেদ্দার কোনো নিরাপদ আশ্রয়স্থলেও কখনো তারা ঠাঁই পেতে পারে। সেখান থেকে তারা কখনও বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ফিরতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশে ফিরেও তারা নিরাপদ সমর্থন পায় না। ওয়েজ আর্নারস ওয়েলফেয়ার বোর্ডের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন প্রত্যাগতদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু তাদের পুনর্বাসনের জন্য কোনো কর্মসূচি এখনও নেওয়া সম্ভব হয়নি। অবশ্য এই সমস্যা মোকাবেলায় তারা উদাসীন এমন অভিযোগ নাকচ করতেই তারা আগ্রহী।
বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব নমিতা হালদার ডয়েচে ভেলেকে বলেছেন, তারা এই সমস্যা প্রতিরোধে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ– আলোচনা করছেন। সচিবের কথায়, ‘‘সৌদি রেগুলেশনের কারণে আমাদের দূতাবাস বা রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সৌদি বাড়িঘর যখানে আমাদের মেয়েরা কাজ করে, সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। তবে সৌদি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সেই প্রবেশাধিকার আছে। এ বিষয়ে আমরা সৌদি কর্তৃপক্ষকে বারংবার বলেছি। তিনি অবশ্য বাংলাদেশী নারীদের সেখানে অন্যতম দুর্ভোগের কারণ হিসেবে ভাষাগত বাধাকে চিহ্নিত করেন। এজন্য আমরা ভাষা শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছি, যাতে তারা ভালোভাবে ভাব আদান–প্রদান করতে পারে।”
যদিও অনেকে বলেন যে, সৌদি যত বেশি সংখ্যক নারী কর্মরত আছে, সে তুলনায় নিগ্রহের হার বেশি নয়। এই ধারণার সঙ্গে ভিন্নমত দেন ব্রাকের অভিবাসী বিশেষজ্ঞ হাসান। তাঁর যুক্তি: যদি একজন বাংলাদেশী নারীও যৌন নির্যাতন বা শারিরীক হয়রানির শিকার হন, তাহলে সেটা আমাদের জন্য লজ্জার।
বাংলাদেশে ফিরেও শেফালির সামনে অন্ধকার।
শেফালি বলেন, “আমার সন্তানের ব্রেইন টিউমার। আমার স্বামীর দোকান পুড়ে গেছে। আমরা সর্বস্বান্ত।এই অবস্থায় ভাগ্যের চাকা বদলাতে সৌদি আরবে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার পরিবারের সেটা একটা বিপর্যয় ডেকে এনেছে।”
সূত্রঃ DW

ইলেক্ট্রনিক নয়, ব্যালট পেপারে ভোটের সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রে

ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটভিত্তিক প্রযুক্তি নিরাপদ, সুরক্ষিত ও নির্ভরশীল নয়। এর পরিবর্তে কাগজের ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ অধিকমাত্রায় নিরাপদ। তাই সব রকমের নির্বাচনে ব্যালট পেপার ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমিস অব সায়েন্সেস, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেডিসিনস।
এ প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ প্যানেল যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সততা নিশ্চিত করতে মৌলিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে। বলা হয়েছে, এ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রয়েছে মান্ধাতা আমলের প্রযুক্তির ব্যবহার। তা ছাড়া বিদেশীরা নির্বাচনী যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। ওই সংস্থাটি এ রিপোর্ট প্রকাশ করে ৬ই সেপ্টেম্বর। এতে ২০২০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব কেন্দ্রীয়, রাজ্যের ও স্থানীয় নির্বাচন ব্যালট পেপারে করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে তাতে কি পরিমাণ খরচ হবে তা ওই প্যানেল উল্লেখ করে নি।
নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ব্রেনান সেন্টারের হিসাব মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পুরনো ভোটিং মেশিন পরিবর্তন করতে গেলে তাতে ১০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ হতে পারে। প্যানেলের কো-চেয়ার ও কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট লি বোলিঙ্গার বৃহস্পতিবার রিপোর্ট প্রকাশ করে বলেছেন, বিদেশীরা ভবিষ্যত নির্বাচনগুলোতে ব্যতিক্রমী হুমকি হতে পারে।
এ বিষয়টি আমাদেরকে পরে যাচাই করে দেখতেই হবে। আবার তা গুরুতরভাবে যাচাই করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোকে নিরাপদ রাখতে ভূমিকা রাখতে হবে।
‘সিকিউরিং দ্য ভোট: প্রোটেকটিং আমেরিকান ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক ১৫৬ পৃষ্ঠার রিপোর্টে ভোট গ্রহণে অনিরাপদ যন্ত্রপাতি ও সফটওয়ার ব্যবহার নিয়ে আক্ষেপ করা হয়। বলা হয়, এসব যন্ত্রপাতি ও সফটওয়ার এক দশকেরও আগে ভলনারেবল বা কাজে ব্যবহারের অনুপযোগী বলে প্রকাশ পেয়েছে।
তারপরও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সামান্য প্রশিক্ষণ আছে এমন কর্মকর্তারা তা ব্যবহার করেন। নির্বাচনী নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা যেসব মত প্রকাশ করেছেন তার প্রতিফলন ঘটেছে এই রিপোর্টের মূল সুপারিশগুলোতে। এসব বিষয়ে অনেক রাজ্য ও কংগ্রেসে রিপাবলিকান নেতারা আপত্তি জানিয়েছে। এ বিষয়ে জুনে প্রস্তাব তুলেছিলেন অরিগন রাজ্যের রন ওয়েডেন এবং ডেমোক্রেট দলের অন্য চারজন সিনেটর।
ওই রিপোর্টের প্যানেল বলেছে, তারা একবারের জন্য ব্যালটে ভোট নেয়ার কথা বলছেন না। তারা বছরে পর বছর ব্যালটে ভোট নেয়ার দাবি জানান। এক্ষেত্রে কংগ্রেস থেকে নিয়মিত অর্থায়ণ করতে হবে। রিপোর্টে যেসব মূল সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম- ২০২০ সাল নাগাদ সব নির্বাচনে মানুষ পড়তে পারে এমন কাগজের ব্যালটে ভোট গ্রহণ করতে হবে। এ পদ্ধতিতে ভোটার নিশ্চিত হতে পারবেন যে তার ভোটটি যথাযথভাবে রেকর্ড করা হয়েছে।
২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পাঁচজন ভোটারের মধ্যে একজন ইলেক্ট্রনিক মেশিনে ভোট দেন। তবে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো কোনো রাজ্যে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি যারা তৈরি করেছেন তাদের একজন হচ্ছেন ক¤িপউটার বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু অ্যাপেল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলোর প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এখন দেশের বেশিরভাগ নাগরিক ব্যালটের মাধ্যমেই ভোট দিচ্ছে। তাই যদি কম্পিউটার প্রতারণা করেও থাকে তাহলে আমরা সেটা বুঝতে পারব। তবে আমাদের করার মত আরো অনেক কিছু রয়েছে।
এ বছর নির্বাচনে নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের অনুমতি দিয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু সেখানে উল্লেখ করা হয়নি, ঠিক কিভাবে এ অর্থ ব্যয় করতে হবে কিংবা নির্দিষ্ট কোন খাতে উন্নয়ন করতে হবে। মূলত বহিঃশত্র“ কর্তৃক নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে রাজ্যগুলোকে বলা হয়েছে, ভোটারদের তথ্য হালনাগাদের যে পদ্ধতি তাতে কোনো অনিয়ম চোখে পরলে তা দ্রুততার সঙ্গে ফেডারেল সরকারকে অবহিত করতে হবে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৫ লাখ ভোটারের তথ্য রাশিয়ার গোয়েন্দারা হস্তগত করেছিল বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল কাউন্সিল।

বাংলাদেশ থেকে ৫০০ যুবতীকে মুম্বইয়ে পাচারকারী সাইদুল গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ থেকে কমপক্ষে ৫০০ যুবতীকে মুম্বইয়ে পাচার করে তাদেরকে দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগে মোহাম্মদ সাইদুল শেখ (৩৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে আগে থেকেই। সেও একজন বাংলাদেশি। তার বিরুদ্ধে আরো তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইন্ডিয়া টুডে। এতে বলা হয়, সাইদুল শেখ প্রতিজন যুবতীকে ভারতের মুম্বইয়ে নিয়ে বিক্রি করে কমিশন পেতো ৪০০০ রুপি করে। এই পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭ জনকে।
খবরে বলা হয় মুম্বইয়ের থানে জেলার দোবিভালি এলাকায় মানপাড়া থেকে পালগড় পুলিশ গ্রেপ্তার করে সাইদুল শেখকে। পুলিশের ইন্সপেক্টর জিতেন্দ্র ভেঙ্কুট্টি বলেছেন, অভিযুক্ত সাইদুল বাংলাদেশ থেকে যুবতীদের পাচার করে নিয়ে যেতো মুম্বইয়ে। সেখানে তাদেরকে দেহব্যবসায় বিক্রি করে দিতো। বিনিময়ে প্রতিজন যুবতীর জন্য সে পেতো ৪০০০ থেকে ৫০০০ রুপি কমিশন। তারপর প্রতি মাসে এ অংক বাড়তে থাকতো। অর্থাৎ আরো বেশি কমিশন পেতো। এ ছাড়া সে বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যুবতী ও নারীদের ভারতে নিয়ে যেতো। তারপর তাদেরকে বিক্রি করে দিতো। এ জন্য প্রতিটি কাস্টমারের কাছ থেকে পেত এক লাখ রুপি করে।
সে ও তার চক্র এসব যুবতী বা নারীকে ভাল বেতনের উন্নতমানের চাকরির প্রলোভন দিতো। পুলিশ বলেছে, সাইদুলের বাংলাদেশী কিছু এজেন্ট এ কাজে তাকে সহায়তা করতো। তারা সংশ্লিষ্ট যুবতীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করতো। তারপর প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদেরকে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে যেতো। প্রায় এক বছর আগে এ বিষয়ে গোপন খবর পায় পুলিশ। ওই সময়ে দেহব্যবসা থেকে উদ্ধার করা হয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চার যুবতীকে। কিভাবে তারা ভারতে গিয়েছে এবং কিভাবে তাদেরকে দিয়ে দেহব্যবসা করানো হচ্ছিল তার সবিস্তারে বর্ণনা দেয় তারা। তারাই পুলিশের কাছে প্রকাশ করে দেয় সাইদুল শেখের নাম। এ ছাড়া পুলিশের গোয়েন্দা শাখা জানতে পেরেছে এই সাইদুল সীমান্ত এলাকায় অবৈধ হাওলা পদ্ধতিতে অর্থ বিনিয়োগে জড়িত। পুলিশ জানতে পেরেছে এই সাইদুল শেখও একজন বাংলাদেশি।
২০১০ সাল থেকে সে ভারতে তার অবৈধ এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে পুলিশ তার অবস্থান চিহ্নিত করে  সোর্সের মাধ্যমে। তারপর তাকে গ্রেপ্তার করে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় আরো সাতজনকে পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে সাইদুলকে স্থানীয় একটি আদালতে তোলা হয়েছে। আদালত তাকে আরো তদন্তের জন্য রিমান্ডে দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, যেসব বাংলাদেশি যুবতীকে ভারতে নেয়া হয়েছে তাদেরকে বানিয়ে দেয়া হয়েছে বৈধ সব ডকুমেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে আধার কার্ডও। এসব ডকুমেন্ট ভারতে কিভাবে তৈরি করা হয়েছে, এর সঙ্গে আর কে কে জড়িত তা জানার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধ বিষয়ক গোয়েন্দারা।