Wednesday, October 19, 2011

বিলাওয়াল জারদারিকে অপহরণের ষড়যন্ত্র হয়েছিল

পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারপারসন বিলাওয়াল জারদারিকে অপহরণের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদা ও পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক ই তালেবান (টিটিপি) পাকিস্তান এই ষড়যন্ত্র করে। গত সোমবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক এ তথ্য প্রকাশ করেন। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার রেহমান মালিক বলেছেন, পাকিস্তান সরকার তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে। তবে এর আগে তালেবানকে অস্ত্র ছেড়ে দিতে হবে।

নভেম্বর থেকে দেশি চিনিকলে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে by আবুল হাসনাত

লতি ২০১১-১২ আখ মাড়াই মৌসুমে দেশের ১৫টি চিনিকলে এক লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। আগামী ১১ নভেম্বর উত্তরবঙ্গের তিনটি চিনিকলে একযোগে আখ মাড়াই উদ্বোধনের মাধ্যমে এবারের মৌসুমের চিনি উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) সূত্রে জানা গেছে। তবে এবারে চিনি উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা গত মৌসুমের প্রকৃত উৎপাদনের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি।

পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের মাথাব্যথা রয়েছে: সালমান

পুঁজিবাজারে তারল্য-সংকটের চেয়ে আস্থার সংকটই প্রধান। এ-সংকট দূর করতে সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের মাথাব্যথা রয়েছে। আজ মঙ্গলবার ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি সালমান এফ রহমান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
সালমান বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) ও বিএপিএলসির পক্ষ থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু সব ব্যবসায়ী ও স্টেক হোল্ডারদের পাশাপাশি সরকারকেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট দূর করতে উদ্যোগ নিতে হবে।’
বাজারে ফোর্স সেল অব্যাহত রয়েছে। যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনছে তাদের কাছ থেকে এই চাপ আসছে বলে মনে করেন সালমান এফ রহমান। বাজার একটু বাড়লে এসব বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে বলেও জানান সালমান। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু একটা করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে প্রথমে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমানে মুদ্রাবাজারে তারল্য-সংকট বিরাজ করছে বলেও জানান সালমান এফ রহমান।

এক দিন পর আবার ব্যাপক দরপতন

সূচক এক দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর আজ মঙ্গলবার আবারও পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সূচক ১১৬ পয়েন্ট কমেছে। সঙ্গে কমেছে লেনদেন হওয়া দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। গতকাল ডিএসইর সূচক ৩৬ পয়েন্ট বাড়ে।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। ১০ মিনিটের দিকে সূচক ৩৮ পয়েন্ট বাড়ে। এরপর সূচক বাড়ার হার কমতে থাকে। ২৫ মিনিটের দিকে সূচক নয় পয়েন্ট কমে যায়। এরপর আবারও সূচক সামান্য বাড়তে থাকলেও প্রথম ঘণ্টার পর সূচক দ্রুত কমতে থাকে। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১১৬.৪৭ পয়েন্ট কমে ৫,৩০৭.৪৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
আজ ডিএসইতে মোট ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮টির, কমেছে ২৩৪টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ২০৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো, সামিট পাওয়ার, গ্রামীণফোন, কেয়া কসমেটিকস, এমআই সিমেন্ট, ওয়ান ব্যাংক, ইউসিবিএল, ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকো ফার্মা।

পুঁজিবাজারে চাই সমন্বিত পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের অনশন

অর্থনীতির বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হওয়ার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। পুলিশ গতকাল অনশনকারীদের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে থেকে তুলে দিলে তাঁরা প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। পুঁজিবাজার নিয়ে এ রকম আন্দোলন বাংলাদেশে নতুন।
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে বাজার স্থিতিশীল করার অর্থবহ আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তবে তাঁরা এও জানেন যে পুঁজিবাজার এমনই এক বিচিত্র জায়গা, যেখানে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার হাতে একে ঠিক করার সূত্র থাকতে পারে না। সরকার বা কোনো সংস্থার হুকুমে নয়, বরং পুঁজিবাজারের বাড়া বা কমার বিষয়টি নির্ভর করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিপ্রবাহের ওপর। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারও তার ব্যতিক্রম নয়।
তবে বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার আশা ছিল, সরকার শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে মনোযোগী হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কার্যত দু-একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলার মধ্যেই আইনগত কার্যক্রম সীমিত রয়েছে। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে এমন সব রাঘব বোয়ালের নাম শোনা গেছে, যারা দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই যুক্ত। বিনিয়োগকারীদের মধ্যেএসব নিয়ে হতাশাই অনশন কর্মসূচিতে প্রতিফলিত হয়েছে। এর আগে তাঁরা দফায় দফায় রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন। সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে, এমনটা প্রত্যাশিত নয়। কিন্তু বাজার স্থিতিশীল করার জন্য দফায় দফায় আশ্বাস দিয়ে তা বাস্তবায়ন করা হবে না কেন? তাহলে আশ্বাস দেওয়ার দরকার কী?
এদিকে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল অনশনরত বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে। বিএনপির নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান তাঁর দল ক্ষমতায় এলে শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠন করে বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ না করা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জাতীয় পার্টির প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও সংহতি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু মহাজোটের শরিক হিসেবে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। শেয়ারবাজারের বিষয়টি অর্থনৈতিক, এ নিয়ে রাজনীতি কাম্য নয়।
শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের আন্দোলন-অনশনের মুখে সরকার বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু কর রেয়াত প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা মনস্তাত্ত্বিকভাবে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়। এই সিদ্ধান্তের পর গতকাল বাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে, বাজার চাঙা করার তাৎক্ষণিক ও বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার চেয়ে মধ্য মেয়াদে একটি সুপরিকল্পিত নীতি-কাঠামোর আওতায় পুঁজিবাজারের সংস্কার ও উন্নয়ন ঘটানোর দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত। এরই অংশ হিসেবে শেয়ার কেলেঙ্কারির প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদান ও তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।

আত্মহত্যা করেননি ভ্যান গঘ

বিখ্যাত ডাচ শিল্পী ভ্যান গঘ আত্মহত্যা করেননি, দুর্ঘটনাক্রমে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছিলেন। দুটি বালকের ত্রুটিপূর্ণ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে বের হওয়া গুলির আঘাতে মারা যান তিনি। সম্প্রতি স্টিভেন নাইফে ও গ্রেগরি হোয়াইট স্মিথ নামের দুই লেখক এই দাবি করেছেন।
১০ বছর ধরে ভ্যান গঘের মৃত্যু নিয়ে গবেষণা করার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান লেখকেরা।
১৮৯০ সালে ফ্রান্সের অভার্স-সু-ওইসে শহরের একটি সরাইখানায় ৩৭ বছর বয়সে মারা যান ভ্যান গঘ। অনেক দিন ধরে মানুষের মধ্যে এই ধারণা বিদ্যমান যে ভ্যান গঘ আত্মহত্যা করেছেন।
লেখক স্টিভেন নাইফে বলেন, গত শতকের তিরিশের দশকে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ জন রিওয়াল্ড অভার্স সফর করেন। এ সময় তিনি ভ্যান গঘ সম্পর্কে পাওয়া তথ্যাবলি নথিভুক্ত করেন। এ ছাড়া অন্য যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোও গঘের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পাওয়া নতুন ধারণাকে সমর্থন করে।

ফুকুশিমায় তেজস্ক্রিয়া নির্গমনের পরিমাণ কমেছে: টেপকো

জাপানের ফুকুশিমায় দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয়া নির্গমনের পরিমাণ কমে এসেছে বলে দাবি করেছে এর নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার (টেপকো)।
সরকারের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি গতকাল সোমবার জানায়, ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয়া নির্গমনের পরিমাণ গত এক মাসে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে টেপকো আরও জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক চুল্লিগুলো চলতি বছরের শেষ নাগাদ বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হবে। ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পারমাণবিক চুল্লির তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে ছিল। চুল্লিগুলোকে পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে ওই অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে নিয়মিত পানি সরবরাহ পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে দেয়, আরেকটি বড় সুনামি হলে এ কাজ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে গত ১১ মার্চ ক্ষতিগ্রস্ত হয় দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

হেঁটে বিশ্বভ্রমণ শেষ করলেন জ্যঁ বেলিভিউ

ব্যবসায় দেউলিয়া হয়ে ঘর ছেড়েছিলেন কানাডার নাগরিক জ্যঁ বেলিভিউ। শুরু হয়েছিল পৃথিবীজুড়ে পরিভ্রমণ। গত রোববার মন্ট্রিয়লে পৌঁছে তিনি শেষ করেছেন টানা ১১ বছরের হেঁটে বিশ্বভ্রমণ।
মন্ট্রিয়ল পৌঁছার পর আইনপ্রণেতাসহ স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা বেলিভিউকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানান। এ সময় সিটি হলে তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁর নতুন লক্ষ্য হচ্ছে শান্তির সপক্ষে প্রচারণা। তিনি বলেন, এখন থেকে কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে ধরনা দেবেন ‘শান্তি মন্ত্রণালয়’ গঠনের জন্য।
বেলিভিউ বলেন, ‘আমরা সবাই পরস্পর আলাদা। আমাদের বর্ণ, বিশ্বাস, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভিন্ন ভিন্ন। এ জন্যই পৃথিবীতে জীবন সুন্দর। এসব আলাদা বৈশিষ্ট্য সংগীতের ভিন্ন ভিন্ন স্বরলিপি। এই স্বরলিপি থেকে অভিন্ন সুরে ঐক্যের গান সৃষ্টি করতে হবে।’
২০০০ সালের ১৮ আগস্ট ৪৫তম জন্মদিনে মন্ট্রিয়ল ছেড়ে পায়ে বেরিয়ে পড়েন বেলিভিউ। দেউলে হওয়ার দুঃখ ভুলতে তিনি বিশ্বভ্রমণ করেন।

সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হলেন ফ্রাঁসোয়া হল্যান্দি

ফ্রান্সের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সোশ্যালিস্ট পার্টি থেকে লড়বেন ফ্রাঁসোয়া হল্যান্দি। গত রোববার দলীয় প্রাইমারিতে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিন আউব্রির বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছেন। ২০১২ সালে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে হল্যান্দি বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির বিরুদ্ধে লড়বেন বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আদলে দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের জন্য এই প্রথম ফ্রান্সে প্রাইমারি অনুষ্ঠিত হলো। প্রাইমারিতে প্রায় ২৮ লাখ ভোটার ভোট দেন। বিজয়ী ঘোষণার পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় হল্যান্দি বলেছেন, এটা গণতন্ত্রের মহান বিজয়। যারা নিকোলা সারকোজির নীতিকে আর বহন করে চলতে পারছে না, তিনি তাদের বিজয়ী করবেন।
একটি প্রাথমিক জনমত জরিপ বলছে, প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজিকে পরাজিত করতে সক্ষম হবেন হল্যান্দি। অবশ্য আসন্ন নির্বাচনে সারকোজি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেননি তিনি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক প্রধান দমিনিক স্ত্রস-কান সোশ্যালিস্ট পার্টির অন্যতম ফেবারিট প্রার্থী ছিলেন। তবে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠার পর কান নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন। এতে প্রাইমারিতে জয়লাভের পথ সুগম হয় হল্যান্দির জন্য।

সবচেয়ে বয়স্ক ম্যারাথন দৌড়বিদ ফৌজা সিং

শতবর্ষী ব্রিটিশ নাগরিক ফৌজা সিং বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ম্যারাথন দৌড়বিদ হওয়ার খ্যাতি অর্জন করেছেন। গত রোববার কানাডার স্কশিয়া টরোন্টো ম্যারাথনে তিনি আট ঘণ্টা ২৫ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন।
পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডে ফৌজা সিংয়ের বাড়ি। ওই ম্যারাথনে দীর্ঘ ২৬ মাইল পথ দৌড়াতে হয়েছে তাঁকে। ২২ মাইল পথ পাড়ি দেওয়ার পর মনে হয়েছিল আর বুঝি তাঁর শরীরে কুলাবে না। কিন্তু অদম্য মনোবলের অধিকারী এই শতবর্ষী ঠিকই শেষ পর্যন্ত দৌড়ে যান। এ সময় তিনি পাঁচজন দৌড়বিদের সামনে ছিলেন।
১১ বছর আগে স্ত্রী ও ছেলের মৃত্যুর পর দৌড় শুরু করেন ফৌজা সিং। প্রতিদিন তিনি ১০ মাইল করে দৌড়ান। সুস্বাস্থ্যে অধিকারী ফৌজার শরীর ঠিক রাখার পেছনে আদার ঝোল ও চায়ের অবদান রয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগে ২০০৩ সালে টরোন্টো ম্যারাথনে অংশ নেওয়া ৯০ বছরের বেশি বয়সী দৌড়বিদদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পাঁচ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে দৌড় শেষ করে ফৌজা সিং রেকর্ড গড়েন।
ফৌজা সিং বলেন, ‘সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে দীর্ঘ জীবন কাটানোর মূলমন্ত্র হচ্ছে চাপমুক্ত থাকা। আর নিজের যা আছে, তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা। একই সঙ্গে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী মানুষ থেকে দূরে থাকতে হবে। থাকতে হবে হাসিখুশি। দৌড়টা চালিয়ে যেতে হবে।’

প্রতিকূলতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরণ ঘটবেই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘প্রতিকূলতা থেকে আমাদের উত্তরণ ঘটবেই। উৎকৃষ্ট ভবিষ্যৎ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।’
গত রোববার ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল মলের উদ্যানে নাগরিক-অধিকার আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা মার্টিন লুথার কিং স্মরণে আয়োজিত এক বিশাল সভায় ওবামা এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে হাজার হাজার মানুষ সভায় যোগ দেয়।
একই দিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ন্যাশনাল মলের উন্মুক্ত উদ্যানে কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের ২৮ ফুট উঁচু গ্রানাইটের বিশাল ভাস্কর্য উন্মোচন করেন। এই ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে জনতা সামাজিক বৈষম্য এবং অনাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে শপথ নেয়। ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট এই উদ্যানেই প্রয়াত মার্টিন লুথার কিং তাঁর বিখ্যাত ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ শীর্ষক বক্তব্য দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘৫০ বছর আগে এবং মানব ইতিহাসজুড়ে যে সত্য প্রতিধ্বনিত হয়েছে, তা হলো ক্ষমতায় থাকা ও সুবিধাবাদী ব্যক্তিরা পরিবর্তনের ডাককে কখনো কখনো ‘বিভেদকারী’ হিসেবে আখ্যা দেবে। চলমান ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জ করার কোনো বিষয় তারা অবিবেচনাপ্রসূত ও অস্থিতিশীল বলবে।’
ওবামা জনতাকে মনে করিয়ে দেন, নাগরিক অধিকার আইন এবং ভোটাধিকার আইন আদায়ের মধ্য দিয়ে মার্টিন লুথার কিং থেমে থাকেননি। দারিদ্র্য ও বৈষম্য অবসানের জন্য তিনি সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছিলেন। এ জন্য তিনি অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় লুথার কিংয়ের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার জন্য জনতার প্রতি আহ্বান জানান।
‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলনের উল্লেখ করে স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, চলমান বৈষম্যের অবসানের মধ্য দিয়ে লুথার কিংয়ের স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে হবে। বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন বেকারত্বের হার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, মানুষ কর্মহীন, জনগণ স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের সমস্যায় জর্জরিত। মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
জাতিসংঘের দূত অ্যান্ড্রু ইয়াং বলেন, মার্কিন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও পুঁজিবাজার লোভের পেছনে ছুটছে। নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম নেতা বেঞ্জামিন জিয়েলাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বৃহত্তর আন্দোলনের ক্রান্তিকাল চলছে। মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য উন্মুখ হয়ে উঠেছে, মানুষ তার আত্মমর্যাদা নিয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
মার্টিন লুথার কিংয়ের মেয়ে বার্নিস কিং বলেন, ‘আজকের স্মরণসভা থেকে জনগণ আবার সহানুভূতির বার্তা নিয়ে ফিরবে। বিভেদহীন সমাজ বিনির্মাণে আমরা আবার ব্রতী হব।’
মার্টিন লুথার কিংয়ের বড় বোন ক্রিস্টিন কিং (৮৪) বলেন, ‘বিশেষ এবং মহৎ কাজের জন্য বেড়ে ওঠা লুথার কিংকে আমি দীর্ঘদিন কাছ থেকে দেখেছি। অবিসংবাদিত এ নেতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ আমরা আরেক ধাপ প্রত্যয়ী হই।’

মধ্য আমেরিকায় প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধসে নিহত ৮০

মধ্য আমেরিকায় প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেখানকার বিভিন্ন দেশে গত রোববার পর্যন্ত ৮০ জন নিহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে এল সালভাদরে। সেখানের ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে দুজন।
দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে। টানা পাঁচ দিনের প্রবল বৃষ্টিতে মহাসড়কগুলো ভেসে গেছে, গ্রামগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বাড়িঘর ও ফসল হারিয়ে বিপদে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। জাতিসংঘ বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে ওই এলাকায়।
এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট মরিসিও ফানেস জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, তাঁর দেশ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্গত এলাকা থেকে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দেশটির পরিবেশমন্ত্রী হারমান রোসা চাভেজ বলেন, ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ১৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধস শুরু হয়।
মানবিক সাহায্যের জন্য দেশটির সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানিয়েছে। স্পেন ইতিমধ্যে ২০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে।
এদিকে গুয়াতেমালায় টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আলভারো কোলোম দেশে ‘বিপর্যয়কর অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন।
সর্বশেষ একটি ঘটনায় পাহাড়ধসে একই পরিবারের পাঁচজন মাটিচাপা পড়ে নিহত হয়। গুয়াতেমালা সিটি থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে ভিলা কানালেসের বোকা ডেল মন্টে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে হন্ডুরাস সরকার দেশটিতে এ পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। রাজধানী তেগুচিগালপার জনবহুল পার্বত্য উপত্যকায় রাতভর বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢলে এ বিপর্যয় ঘটে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট প্রফিরিও লোবো।
এ ছাড়া নিকারাগুয়ায় সরকারি মুখপাত্র ও ফার্স্ট লেডি রোসারিও মুরিলো বলেন, প্রবল বর্ষণে এ পর্যন্ত দেশটিতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। দেশটির কাস্তিয়া আগ্নেয়গিরি-সংলগ্ন ঢালু এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ১৯৯৮ সালে একটি ঘূর্ণিঝড়ে সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

যন্ত্রণাকাতর শিশুটির দিকে কেউ তাকায়নি

প্রথমে একটি সাদা ছোট যান এসে ধাক্কা দিল দুই বছরের মেয়ে শিশু ইউ ইউকে। এরপর একটি ট্রাক এসে আঘাত করল। গত বৃহস্পতিবার চীনের গুয়াংদং প্রদেশের শিল্পনগর ফশানের একটি পাইকারি বাজারে, শিশুটির পারিবারিক দোকানের অদূরে এক রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ কথা জানায়।
না, এর পরও মারা যায়নি শিশুটি। রাস্তার পাশে তার রক্তাক্ত এইটুকুন শরীরটা ছটফট করছিল নরক-যন্ত্রণায়। কণ্ঠ চিরে বেরোচ্ছিল যন্ত্রণাকাতর ধ্বনি। তার পাশ দিয়ে তখন একের পর এক যাতায়াত করছে পথচারী। কিন্তু কেউ তার দিকে ফিরে তাকায়নি। কারও মন গলেনি কচিকণ্ঠের আর্তনাদে।
পর্যবেক্ষণ ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যে দেখা যায়, কমপক্ষে ১৮ জন পথচারী আহত শিশুটির পাশ দিয়ে গেছে, কিন্তু কেউ ফিরে তাকায়নি। শেষে যিনি শিশুটিকে উদ্ধার করলেন, তিনি ৫৮ বছর বয়সী এক ছিন্নমূল, এখানে-সেখানে আবর্জনা ঘাঁটাই যাঁর কাজ।
তাঁর নাম চেন জিয়ানমেই। শিশুটিকে দেখামাত্র হাতের ব্যাগ ফেলে তিনি ছুটে যান শিশুটির কাছে। তার প্রাণ তখন যায় যায়। পরে তিনি শিশুটির মাকে খুঁজে বের করেন। মা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
শিশুটি এখন গুয়াংঝু শহরের একটি সামরিক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা বলেছেন, কোনো অস্ত্রোপচারেই তাকে বাঁচিয়ে তোলা সম্ভব হবে না। সে কোমায় আছে। ভেন্টিলেটরের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে সে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে চীনা মাইক্রো ব্লগিং সাইট ওয়েইবোতে অনেক মন্তব্য এসেছে। তাঁরা বলেছেন, এই সমাজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কুকুর বা বিড়ালকেও এভাবে হূদয়হীনভাবে অবজ্ঞা করা উচিত নয়। ঘটনাটি বিবেকবান মানুষকে নাড়া দেওয়া উচিত।

এনটিসি বাহিনীর দখলে বনি ওয়ালিদ

লিবিয়ার বনি ওয়ালিদ শহর দখলে নিয়েছে জাতীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের (এনটিসি) যোদ্ধারা। এত দিন ওই শহর ক্ষমতাচ্যুত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের দখলে ছিল।
গাদ্দাফির সমর্থকদের শেষ ঘাঁটিগুলোর একটি ছিল এই শহরে। গতকাল যোদ্ধারা ওই শহরে নতুন সরকারের পতাকা উড়িয়েছে। সারতে শহরে এখনো দুই পক্ষের লড়াই চলছে। গাদ্দাফির ছোট ছেলে খামিস গাদ্দাফির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে গাদ্দাফিপন্থী একটি টিভি চ্যানেল।
রাজধানী ত্রিপোলিতে গাদ্দাফির বাব আল-আজিজিয়া কম্পাউন্ডের ভবনগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, স্বৈরশাসনের সব স্মৃতিচিহ্ন মুছে ফেলার এখনই উপযুক্ত সময়।
এনটিসির জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা আহমেদ ঘারগরি বলেন, বাব আল-আজিজিয়া এলাকাকে সরকারি পার্কে রূপান্তরিত করা হবে।
এনটিসির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা বলেন, বনি ওয়ালিদে গাদ্দাফির সমর্থক যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে তাঁদের যোদ্ধারা। তবে শহরে প্রবেশের সময় তারা তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে।
গত রোববার বনি ওয়ালিদে গাদ্দাফিপন্থী যোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ্য করে উপর্যুপরি কামানের গোলা ছোড়া হয়। এরপর এনটিসি যোদ্ধারা উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে এগিয়ে যায়। তবে এনটিসির যোদ্ধারা কতটা এগোতে পেরেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এনটিসি কমান্ডার জামাল সালেম বলেন, ‘আমরা আজ (রোববার) সকালে শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা দিয়ে অভিযান চালাই। আমাদের যোদ্ধারা শহরে ঢুকে পড়েছে। তবে তারা গাদ্দাফি অনুগত যোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।’ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, এনটিসির যোদ্ধারা শহরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছেছে।
বনি ওয়ালিদ শহরটি বেশ কিছুদিন ধরেই ঘিরে রেখেছে এনটিসির যোদ্ধারা। তবে তারা শহরের ভেতরে ঢুকতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, শহরটিতে প্রায় এক হাজার ৫০০ গাদ্দাফিপন্থী যোদ্ধা রয়েছে।
জয়িয়াহ শহরের একজন কমান্ডার জানান, সংঘর্ষে সেখানে তিনজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গাদ্দাফির জন্মস্থান সারতে শহরেও লড়াই চলছে বলে জানা গেছে। সেখানে ব্যাপক লুটতরাজ চলছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।
অন্যদিকে গাদ্দাফিপন্থী অ্যারাই টেলিভিশন চ্যানেল খামিস গাদ্দাফির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সিরিয়া-ভিত্তিক টিভি চ্যানেলটি গত রোববার বলেছে, ত্রিপোলি থেকে ৫০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে তারহৌনা শহরে এনটিসি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গত আগস্টের শেষ দিকে খামিস নিহত হন। ওই যুদ্ধে গাদ্দাফির গোয়েন্দাপ্রধান মোহাম্মদ আবদুুল্লাহ আল-সেনৌসিও নিহত হন বলে টিভি চ্যানেলটি জানায়।
এর আগে অন্তত দুবার খামিস গাদ্দাফির নিহত হওয়ার খবর রটে। তবে এই প্রথম কোনো গাদ্দাফিপন্থী গণমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হলো।

নিউজিল্যান্ডের জয়

আরেকটি টি-টোয়েন্টি, আরেকটি ম্যাককালাম-গাপটিল ঝড়, জিম্বাবুয়ের আরেকটি পরাজয়। কাল হারারেতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ম্যাককালাম (৩৭ বলে ৬৪) ও গাপটিলের (৪৬ বলে ৬৭) উদ্বোধনী জুটি মাত্র ১১.১ ওভারে ১২০ রান করলে ১৮ ওভারের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ১৮৭/৩। এরপর ১৬.৫ ওভারে ১৫৪ রানে অলআউট হয়ে ৩৪ রানে ম্যাচ হারে জিম্বাবুয়ে। শেষ পাঁচ বলে চার উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা।

মধুর সমস্যায় রিয়াল

চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর পথে আরও এক পা এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে আজ তাঁর দলের প্রতিপক্ষ অলিম্পিক লিওঁ। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনহো বড় সমস্যায় আছেন। অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন, লিওঁ নামটিই তাঁর সমস্যা। ফরাসি এই ক্লাবটির বিপক্ষে সর্বশেষ আটটি লড়াইয়ের ৩টিতেই হেরেছে রিয়াল, পেয়েছে একটি মাত্র জয়।
বার্নাব্যুতে আজকের লড়াইয়ের আগে এই পরিসংখ্যান একটু মনস্তাত্ত্বিক বাধা ছাড়া কিছু নয়। কারণ এমনিতে রোনালদো, কাকা, বেনজেমা, হিগুয়েইন, ডি মারিয়া, ওজিল—তারকা খেলোয়াড়েরা সবাই দারুণ ফর্মে। উল্টো দিকে লিওঁই বরং ফর্মহীনতায় ভুগছে।
তাহলে মরিনহোর সমস্যা কী? সবার ফর্মে থাকাই কোচের সমস্যা। কাকে রেখে কাকে খেলাবেন? মৌসুমের শুরু থেকেই অসাধারণ খেলছেন বেনজেমা। হিগুয়েইন আবার সর্বশেষ চার ম্যাচে করেছেন তিনটি হ্যাটট্রিক। হিগুয়েইন, না বেনজেমা—আজ কাকে রাখবেন শুরুর একাদশে? মরিনহোর সমস্যা এটাই।
স্বরূপে ফেরা কাকাও মধুর সমস্যায় ফেলেছেন মরিনহোকে। ডি মারিয়া আর ওজিল রয়েছেন তাঁদের সেরা ফর্মে। একাদশ বাছতে গিয়ে মরিনহোর যেন ভাবনার অন্ত থাকবে না আজ! গত মৌসুমে শেষ ষোলোর দুই ম্যাচের একটিতে জিতে লিওঁ-কুফা কিছুটা কাটিয়েছে রিয়াল। এবার তো মনে হয় আকাশেই উড়িয়ে দেবে!
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসনের সমস্যাটা অবশ্য বাস্তব। গত কয়েক ম্যাচ থেকেই কেমন যেন ফর্মহীনতায় ভুগছেন ম্যানইউ খেলোয়াড়েরা। আর আক্রমণভাগের মূল ভরসা ওয়েইন রুনি ইংল্যান্ডের হয়ে লাল কার্ড দেখে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। মানসিক স্বস্তিতে আছেন বলে মনে হয়নি লিভারপুলের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে বদলি হিসেবে নামা রুনিকে। এরই মধ্যে লিগেও শীর্ষস্থান হারাতে হয়েছে ফার্গুসনের দলকে। চ্যাম্পিয়নস লিগেও ‘সি’ গ্রুপে তৃতীয় স্থানে তারা। ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট করে নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে বাসেল ও বেনফিকা। ২ ম্যাচে ম্যানইউর পয়েন্ট ২। তবে ম্যানইউর আজ একটাই স্বস্তি—প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল রোমানিয়ার ক্লাব গালাতি। ২ ম্যাচ খেলে যারা পয়েন্টশূন্য।
ম্যানচেস্টারের আরেক ক্লাব ম্যান সিটির অবশ্য খেলোয়াড়দের ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। তবে প্রথম দুই ম্যাচে একটি ড্র থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে তারা। আজকের প্রতিপক্ষও তাদের অতটা দুর্বল নয়, স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়াল।
ইন্টার মিলানের সমস্যাটা ম্যানইউর মতো—মৌসুমের শুরু থেকেই দলটি অনুজ্জ্বল। সিরি ‘আ’র সর্বশেষ ম্যাচে কাতানিয়ার কাছে হেরে আত্মবিশ্বাস নেমে গেছে তলানিতে। আজ লিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিই কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে তাদের জন্য।
তবে মানসিকভাবে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে সম্ভবত বায়ার্ন মিউনিখ। লিগ-চ্যাম্পিয়নস লিগ—সব জায়গাতেই তারা দুর্দম্য। বায়ার্নের প্রতিপক্ষ আজ ইতালির নাপোলি। আত্মবিশ্বাসী বায়ার্ন কোচ ইয়াড হেইঙ্কসের কথা, ‘এ মুহূর্তে বায়ার্ন যেমন খেলছে, এমন খেলা আপনি রোজ দেখতে পাবেন না। পুরো দলই সেরা পারফরম্যান্স করছে।’

প্রথম দিনটি পাকিস্তানের

তরুণ বাঁ-হাতি পেসার জুনায়েদ খানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে আবুধাবি টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৭ রানে গুঁটিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। একমাত্র অ্যাঙ্গেলো ম্যাথিউ ছাড়া আর কোনো লঙ্কান ব্যাটসম্যানই আশানুরূপ পারফরমেন্স দেখাতে পারেননি। ম্যাথিউস শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৫২ রানে। পাকিস্তানের পক্ষে মাত্র ৩৮ রানের বিনিময়ে পাঁচটি উইকেট শিকার করেছেন জুনাইদ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়েই ২৭ রান সংগ্রহ করে আজ প্রথম দিন শেষ করেছে পাকিস্তান।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে প্রায় ২৬ ওভার ব্যাট করার পর ৪৮ রান যোগ করে ভালো সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দুই লঙ্কান ওপেনার থারাঙ্গা পারানাভিতানা (৩৭) ও লাহিরু থিরিমানে (২০)। কিন্তু ৪৮ রানের মাথায় থিরিমানে সাঈদ আজমলের শিকারে পরিণত হওয়ার পর শুরু হয় শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং বিপর্যয়। দুই ওভার পরেই সাজঘরে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা। এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। তৃতীয় ও চতুর্থ উইকেটে পারানাভিতানা ও দিলশানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি যোগ করেছিলেন ২৮ ও ৩৩ রান। কিন্তু এরপর খুব দ্রুতই আউট হয়ে যান দিলশান, মাহেলা জয়াবর্ধনে, প্রসানা জয়াবর্ধনে ও রঙ্গনা হেরাথ। শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় সাত উইকেটে ১১৪ রান। অষ্টম উইকেটে ৫৮ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কাকে কিছুটা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যান অ্যাঙ্গেলা ম্যাথিউ (৫২*) ও সুরাঙ্গা লাকমাল (১৮)। শেষ পর্যায়ে টানা দুই ওভারে চানাকা ওয়েলেগেদারা ও নুয়ান প্রদীপের উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৯৭ রানেই গুটিয়ে দেন জুনায়েদ।

মাহমুদুর রহমানের মন্তব্য প্রতিবেদনঃ চুরি করলে ইজ্জত যায় না!

দিন তিনেক আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর গলায় বলেছেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করলেও তাতে দেশের ভাবমূর্তি নাকি মোটেও ক্ষুণ্ন হয়নি। দেশবাসীর কাছে প্রায় অচেনা দীপু মনির বর্তমান সরকারে পর-রাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রাপ্তিতে দেশের অধিকাংশ মানুষ চমকিত হলেও সুশীল (?) সমাজভুক্তরা অত্যন্ত প্রীত হয়েছিলেন। মন্ত্রী হওয়ার আগে মিজ দীপু মনির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রধানত সুশীল (?) সমাজ ও বাংলাদেশের বিদেশি দূতাবাসসমূহ ঘিরেই যে আবর্তিত হতো, এই তথ্য এ দেশের মিডিয়া জগতের মোটামুটি জানা। এহেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দুর্নীতি প্রীতিতে সুশীল (?)

গোষ্ঠী এবং তার বিদেশি সমর্থককুল কতখানি প্রীত হচ্ছেন, সেটা জানার অপেক্ষায় রইলাম। মহাজোট সরকারের দুর্নীতি প্রসঙ্গে পাঠককে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, ২০০৯ সালের ডিসেম্বরের ১৭ তারিখে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে বিনা টেন্ডারে কাজ বণ্টন সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের একটি সংবাদ আমার দেশ পত্রিকায় ছাপিয়ে ক্ষমতাসীনদের ভয়ানক ক্ষুব্ধ করে তুলেছিলাম। তখনও প্রথম বছরের সরকারের সঙ্গে জনগণের মধুচন্দ্রিমার উষ্ণতা একেবারে উবে যায়নি। ফল যা হওয়ার, তাই হয়েছিল। শীর্ষ থেকে নির্দেশ এলো, ব্যাটার বড় বাড় বেড়েছে, জন্মের মতো শায়েস্তা করতে হবে। আমি রিমান্ড ও জেলে গেলাম, আমার দেশ বন্ধ হলো, আইনি লড়াই এবং দেশ-বিদেশে সমালোচনা ও আন্দোলনের মুখে পত্রিকা আবার চালু হলো, আমিও এক সময় মুক্তি পেলাম, এসব কাহিনী পাঠক জানেন। শায়েস্তা করার অর্থ যদি কাউকে রিমান্ডে নিয়ে কিঞ্চিত্ পুলিশি থেরাপি প্রয়োগ এবং বছরখানেক জেলের ঘানি টানানো হয়ে থাকে, তাহলে সরকার তার মিশনে সফল হয়েছে। তবে নীতিনির্ধারকদের টার্গেট আমার কলম অথবা মুখ বন্ধ করা হয়ে থাকলে জনগণ দেখতেই পাচ্ছেন যে, তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। যে আদর্শ ধারণ করার অপরাধে আমি গ্রেফতার হয়েছিলাম, জেল জীবনের নিগ্রহ ও আমার মুক্তির জন্য দেশপ্রেমিক নাগরিকদের দীর্ঘ, স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন সেই আদর্শকে অধিকতর শাণিত করেছে। সন্তোষের বিষয় হলো, রাষ্ট্র পরিচালনায় দুর্নীতি উন্মোচনে ২০০৯ সালে আমার দেশ একাকী থাকলেও এখন কিন্তু অনেক পত্রিকাতেই দুর্নীতির সংবাদ ছাপা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের তিন বছরের মাথায় ক্ষমতাসীন মহলের দুর্নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের ক্রমেই সোচ্চার হয়ে ওঠা এবং দীপু মনির দুর্নীতিবিষয়ক নতুন থিওরির প্রেক্ষিতেই এই ক্ষুদ্র ভূমিকাটি লিখতে হলো।
আমাদের সদা হাস্যময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরে যে কতটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেটি সরকারে পাঁচ বছর কাটানোর অভিজ্ঞতায় বেশ আন্দাজ করতে পারছি। বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা যখন তার মুখের ওপর দুর্নীতির দলিলপত্র তুলে ধরেছিলেন, ধারণা করছি তখন জনাব মুহিতের পক্ষেও তার সুবিখ্যাত হাসি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বিপর্যয় এবং অপমানের মুখে হাসতে পারা এক বিরাট গুণ। ঘটনাচক্রে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মুহিত এবং যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন, উভয়েই এই বিশেষ গুণটি চমত্কার রপ্ত করেছেন। যাই হোক, অর্থমন্ত্রীর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রওয়ানা হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েও জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বিরাট মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছিল উন্নয়ন সহযোগীদের মন পাওয়ার মরিয়া চেষ্টায়।
আমি সাকুল্যে ষোল মাস জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম। সাইফুর রহমানের মতো বিশাল ব্যক্তিত্বের মানুষ তখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সেই সময়ও অর্থমন্ত্রীর বিদেশে যাওয়ার সময় হলেই আমি দুরু দুরু বক্ষে অপেক্ষা করতাম। এই বুঝি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তেলের দাম বাড়ানোর চাপ আসে। বাধ্য হয়ে দাম বাড়ালে ভোক্তাদের গালাগাল আমাকেই সহ্য করতে হবে। আমার সেই বিপদের সময় একাধিকবার স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মধ্যস্থতা করতে হয়েছে। তবে বিদেশিদের কাছ থেকে কোনো রকম দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি শোনার অভিজ্ঞতা কখনও হয়নি। অবশ্য আমার একটা সুবিধাও ছিল। আমি কেবল জ্বালানি মন্ত্রণালয়েরই দায়িত্বে ছিলাম। কাজেই বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয় নিয়ে দুর্নীতিবিষয়ক যেসব গল্প-গাঁথা সেই সময় বাজারে চাউর ছিল, তার দায়দায়িত্ব সঙ্গত কারণেই আমাকে নিতে হয়নি।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে আমার সহকর্মীদেরও প্রশাসনে সততার যথেষ্ট সুনাম ছিল। মন্ত্রণালয়ে লোক বাছাইয়ের ব্যাপারে আমি অবশ্য ভীষণ রকম খুঁতখুঁতে ছিলাম। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হয় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে ঠাঁই দেইনি, নয়তো তাদের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে রেখেছিলাম, যাতে দুর্নীতির সুযোগ না পায়। বর্তমান সরকারের কাছে সততার যে কোনো মূল্য নেই এবং তারা যে কেবল দলীয়করণেই বিশ্বাসী তার প্রমাণস্বরূপ আমার জ্বালানি উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালীন তিন সিনিয়র কর্মকর্তার এই আমলে পরিণতি দেখলেই চলবে। আমি তিনজন অতিশয় সত্ কর্মকর্তার নাম এখানে উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করব। তখন জ্বালানি সচিব ছিলেন মো. নাসির উদ্দিন। অত্যন্ত সত্ ও ধার্মিক এই সচিবের মধ্যে মুখ্য সচিব অথবা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব হওয়ার মতো সততা ও যোগ্যতা থাকলেও তাকে শেষ পর্যন্ত ওএসডি অবস্থায় এলপিআরে (LPR) যেতে হয়েছে। তার অপরাধ বোধহয় তিনি একেবারেই অরাজনৈতিক মানুষ। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো শেখ পরিবারের গুণকীর্তনে অন্যান্য সচিবের মতো ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেননি। সেই সময় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম সচিবদের অন্যতম ছিলেন ড. শেখ আব্দুর রশীদ। আমার পাঁচ বছরের সরকারি চাকরি জীবনে আব্দুর রশীদের চেয়ে মেধাবী, দক্ষ, সত্ এবং সম্পূর্ণভাবে অরাজনৈতিক অফিসারের দেখা আমি অন্তত পাইনি। যতদূর জানি তার ব্যাচে (বিসিএস ১৯৮১) তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। জরুরি সরকারের সময় আবদুর রশীদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন একজন দক্ষ অফিসারকে এই দুর্নীতিপরায়ণ সরকার তার প্রাপ্য পদোন্নতি না দিয়ে প্রায় তিন বছর ওএসডি করে রেখে এখন নাকি চাকরিচ্যুত করার অপকর্মেও লিপ্ত হয়েছে।
তৃতীয় যে সত্ কর্মকর্তাটিকে আমি বিশেষ পছন্দ করতাম, তার নাম মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে আমিই তাকে ওই পদে রীতিমত তদবির করে নিয়ে এনেছিলাম। সেই সময় আমাকে কানে কানে বলা হয়েছিল মোশাররফ হোসেন ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী শামস কিবরিয়ার একান্ত সচিব ছিলেন। এ কথার মর্মার্থ, সেই ‘অপরাধে’ বিএনপি আমলে তাকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া যায় না। বলাই বাহুল্য, শুভানুধ্যায়ীদের এই পরামর্শ আমার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। সেই মো. মোশাররফ হোসেন সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় আমি যুগপত্ বিস্মিত ও আনন্দিত হয়েছি। মোশাররফ হোসেন ভূইয়ার গায়ে আওয়ামী লীগের খানিক গন্ধ থাকাতেই বোধহয় তার ভাগ্য খুলেছে। তবে আমার প্রশংসার পর বেচারা বিপদে পড়লে আমি আশ্চর্য হব না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভরসা দিয়ে জানিয়ে রাখছি, মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে আগেও চিনতাম না এবং সরকারি দায়িত্ব ত্যাগের পর তার সঙ্গে আমার আর কখনও সাক্ষাতও হয়নি। সাবেক জ্বালানি সচিব মো. নাসিরউদ্দিন এবং শেখ আবদুর রশিদের প্রতি সরকারের অন্যায় জিঘাংসা আমাকে ভয়ানক পীড়া দেয়। এদের সততা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন না করা আমাদের সিস্টেমেরই ব্যর্থতা।
এসব কর্মকর্তার সমন্বয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে যথাসম্ভব দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রশাসন আমরা ষোল মাসের জন্য অন্তত গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলাম। বর্তমান সরকারের আমলে সেই একই জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির দুর্গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। দীপু মনির ভাষ্য অনুযায়ী তাতে অবশ্য সরকারের কিংবা দেশের ইজ্জতের কোনো রকম হানি হচ্ছে না। কতটা অপকর্ম করলে ইজ্জত যাবে, তা তিনিই ভালো জানেন। মানির মান তো আবার সহজে যায় না!
যোগাযোগ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির গল্পের চর্চা আন্তর্জাতিক অঙ্গন পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় সে বিষয়ে আমার লেখার প্রয়োজন ফুরিয়েছে।
আমি আজ প্রধানত বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয় নিয়েই লিখতে চাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুযোগ পেলেই যথেষ্ট গর্ব সহকারে দাবি করে থাকেন যে, গত তিন বছরে তার সরকার নাকি প্রায় ২২০০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুত্ উত্পাদনে সক্ষম হয়েছে। প্রথমত, তার এই বক্তব্য অর্ধসত্য। কারণ, ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ নতুন রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো থেকে উত্পন্ন হলেও সরকারি খাতের পুরনো কেন্দ্র থেকে কত উত্পাদন কমে গেছে, তার কোনো পরিসংখ্যান তিনি কিন্তু দেশবাসীকে দিচ্ছেন না। আমার হিসেবে সেই কমার পরিমাণ ১০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাত্ বিদ্যুতের জন্য আমরা ক্রমেই বিপজ্জনকভাবে বেসরকারি খাত নির্ভর হয়ে পড়ছি। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত বিদ্যুত্ উত্পাদনের অছিলায় সরকারে এখন দুর্নীতির মহোত্সব চলছে। পাঠক জ্ঞাত আছেন যে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বত্সরাধিককাল বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে তারা কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি।
বিদ্যুত্ সঙ্কটে জনগণের যখন নাভিশ্বাস উঠে গেছে, সেই সুযোগে বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয় কোনো রকম দরপত্র আহ্বান না করেই বেসরকারি খাতের দলীয় লোকজনের সঙ্গে কুইক রেন্টালের নামে একের পর এক বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তি সম্পাদন শুরু করে। সীমাহীন বিদ্যুত্ সঙ্কটকে পুঁজি করে তারা ৬ টাকার বিদ্যুত্ ১৪ টাকা প্রতি ইউনিট দরে কুইক রেন্টাল সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কেনার চুক্তি করে। উপরন্তু, চুক্তিপত্রে বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ১৪ টাকা উল্লেখ থাকলেও জ্বালানির ভর্তুকি যোগ করলে এই বিদ্যুতের মূল্য ১৮ টাকার নিচে হবে না। অর্থাত্ প্রতি ইউনিটে গড়ে প্রায় ১২ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে লুটে নেয়া হচ্ছে। ফলে জাতীয় অর্থনীতি আজ ভয়াবহ সঙ্কটে পতিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বিদ্যুতের অতিরিক্ত মূল্য প্রদান বাবদ জাতীয় বাজেট থেকে দশ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই এই অংক প্রতি বছর অন্তত বিশ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা ভাগাভাগি হবে বিদেশের বিভিন্ন শহরে। ফলে এই দেশ থেকে মুদ্রা পাচারের পরিমাণও যে আগের সব রেকর্ড ভঙ্গ করবে, তা আগাম বলে দেয়া যায়। মুদ্রা বাজারে ডলারের চাহিদা ও মূল্যবৃদ্ধি থেকেও লুটপাটের মাত্রা জনগণ হয়তো খানিকটা টের পাচ্ছেন। নীতিনির্ধারকরা ভালোভাবেই অবগত আছেন যে, কুইক রেন্টালের নামে তারা প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির বাজার খুলে বসেছেন। এই বিশেষ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মন্ত্রী, এমপি এবং তাদের পরিবার ও কাছের লোকজন। ভবিষ্যতে যাতে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে এই গোষ্ঠীকে কারাগারে যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে যে কুইক রেন্টাল নিয়ে আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না। যুগে যুগে দুর্নীতিবাজরা এভাবেই পিঠ বাঁচাতে চেয়েছে। কিন্তু, দুর্নীতি করলে শেষ পর্যন্ত যে পার পাওয়া যায় না, এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।
শেখ হাসিনা এবং জেনারেল মইন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে তাদের দাবি অনুযায়ী বিদ্যুত্ খাত থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের জন্য বিএনপি সরকারকে বহুবার অভিযুক্ত করেছেন। আমার একাধিক লেখায় উল্লেখ করেছি যে, ওই পাঁচ বছরে বিদ্যুত্ খাতে মোট বাজেটই ছিল সাড়ে তের হাজার কোটি টাকা। ১৩ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার বাজেট থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা লুট করা যে সম্ভব নয়, এই সামান্য বিষয়টি ক্লাস ওয়ানে পাঠরত একজন শিশু বুঝলেও আওয়ামী মিডিয়ায় এসব প্রচারণা থেমে থাকেনি। চারদলীয় জোট সরকারের বিদ্যুত্ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাধ্য হয়ে জেনারেল মইনের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন, যেটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। শেখ হাসিনা বিএনপি’র পাঁচ বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ করলেও এ দেশের ষোল কোটি নাগরিকের দুর্ভাগ্য, এখন তারই আমলে সেই বিদ্যুত্ খাত থেকেই প্রতি বছর ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের সম্পদ লুটে নেয়ার বিনিময়ে বিদ্যুত্ সমস্যা সমাধানের সরকারি বাগাড়ম্বরে জনগণ আদৌ কোনো রকম আস্থা স্থাপন করছেন কিনা, সেই প্রশ্নের জবাব আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচনেই পেয়ে যাবে। অবশ্য, সেই নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েও তো আবার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতদিন দাবি করতেন যে, তার মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে নাকি এখন পর্যন্ত দুর্নীতির কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দাবিকে অসাড় প্রমাণিত করেছে। সারা দুনিয়া এখন জেনে গেছে, বাংলাদেশের প্রশাসন এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত যে, এই দেশে উন্নয়ন খাতেও আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী সংস্থাসমূহ আর বিনিয়োগে আগ্রহী নয়। এই সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী ও তার পারিষদবর্গ আদৌ বিব্রত হয়েছেন কিনা জানি না, তবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের নাক কাটা গেছে। তিনি অবশ্য এখনও বলে চলেছেন অভিযোগ যথেষ্ট নয়, জনগণকেই দুর্নীতির প্রমাণ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে, যোগাযোগমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে সরকারের সঙ্গে একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ে এ বছরের ১৫ মে তারিখে আমার দেশ পত্রিকায় তথ্যপ্রমাণসহকারে লিড নিউজ ছাপা হয়েছিল, ‘বিদ্যুত্ এক মন্ত্রীর রাস্তা সেতু অন্যজনের’।
শেয়ারবাজার থেকে মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি দলের চাঁইদের লুটপাটের কাহিনীও আমাদের পত্রিকায় বহুবার তুলে ধরেছি। কিন্তু, কেউ জেগে ঘুমালে তাকে ঘুম থেকে ওঠানোর সাধ্য কার? টিআইবি’র জরিপে এক সময় বিশ্বে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের কুখ্যাতি ছিল। পর পর চারবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০০৪ সাল থেকে অবস্থার যত্সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির সর্বব্যাপী বিস্তার ও মন্ত্রীদের ঔদ্ধত্যে আশঙ্কা হচ্ছে, আবারও না আমাদের দুর্নীতির শীর্ষ স্থানে ফিরে যেতে হয়। শেয়ারবাজার থেকে লক্ষ কোটি টাকা লুণ্ঠিত হয়েছে। অতিরিক্ত মূল্যে বিদ্যুত্ কেনার বোঝা সাধারণ ভোক্তার কাঁধে চাপানো হয়েছে। একদিকে তাদের করের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে, এখন আবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বাড়িয়ে দ্বিতীয়বার জনগণের পকেট কাটার ব্যবস্থা হচ্ছে। বাংলাদেশে সব আমলেই দুর্নীতি করে শাসকশ্রেণী স্ফীত হচ্ছে, আর দেশের অসহায় জনগণ সেই বোঝার ভার বহন করছে।
২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যেসব আকাশ-কুসুম প্রতিশ্রুতির পসরা নিয়ে ভোটারের সামনে হাজির হয়েছিল, তার মধ্যে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুদককে প্রকৃত স্বাধীনতা দিয়ে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও স্থান পেয়েছিল। সরকারের প্রায় তিন বছর অন্তে দেখা যাচ্ছে, এমন একটি মন্ত্রণালয়ও আজ খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে দুর্নীতি ও লুটপাট হচ্ছে না। এখন আর শুধু আমার দেশ পত্রিকা নয়, আওয়ামী ও ভারতপন্থী হিসেবে চিহ্নিত পত্রিকা সমূহেও প্রায় প্রতিদিন মন্ত্রী, এমপিদের দুর্নীতির অভিযোগ সংবলিত সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। সরকার প্রধানের সদিচ্ছা থাকলে তিনি এসব সংবাদ দ্বারা উপকৃত হতে পারতেন। কিন্তু, শেখ হাসিনা উল্টো সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন। তথ্যপ্রমাণসহ দুর্নীতির সুস্পষ্ট অভিযোগ করার পর বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে এই সরকার কবে মামলা দায়ের করবে, সেটি দেখার অপেক্ষাতেই এখন আছি। লন্ডনের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দি ইকনোমিস্ট’য়ের বিরুদ্ধেও কিছুদিন আগে সরকারি মহল থেকে মামলা করার হুঙ্কার শুনতে পেয়েছিলাম। দুর্নীতি প্রতিরোধের পরিবর্তে মহাজোট সরকারের মিডিয়া বিদ্বেষের কাহিনী এখন দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন গত সপ্তাহেই দীপু মনিকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
আর দুদকের কথা যত কম বলা যায়, ততই ভালো। বিএনপি আমলে দুদকের নিষ্ক্রিয়তায় বিরক্ত হয়ে তত্কালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি ‘রসিকতা’ (Joke) বলে উল্লেখ করেছিলাম। আমার সেই মন্তব্যটি সম্প্রতি উইকিলিক্স-এ ফাঁসও হয়েছে। বর্তমানে দুদকের কর্তা ব্যক্তিদের লাজলজ্জাহীনভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লেজুড়বৃত্তি করতে দেখে তাদের মনুষ্যপদবাচ্য বিবেচনা করতেও আমার ঘৃণাবোধ হয়। দেশব্যাপী দুর্নীতির মহোত্সব চলছে, অথচ দুদক ব্যস্ত সরকারের হুকুম অনুযায়ী ভিন্ন মতাবলম্বীদের মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় ফাঁসানোর আয়োজনে। সরকারি কেনা-বেচায় বৃহত্ মাপের দুর্নীতি তো অকাতরে চলছেই।
পথে-ঘাটে চাঁদাবাজি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তার একটি উদাহরণ দেই। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত ক’দিন আগে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে চট্টগ্রাম বন্দরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চাঁদাবাজি বন্ধে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একটি মালয়েশীয় কোম্পানি চট্টগ্রাম বন্দরের নাব্য রক্ষায় ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজে নিয়োজিত ছিল। সরকারি চাঁদাবাজদের দাপটে তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রদূত জামালউদ্দিন বিন সাবে নৌমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। একজন সরকারি এমপি কর্তৃক মালয়েশিয়াতেই আদম পাচারের কাহিনী আমার দেশ পত্রিকায় প্রমাণ সহকারে ছাপা হওয়ার পরও অভিযুক্ত এমপি’র বিরুদ্ধে সরকার কিংবা দুদক কোনো ব্যবস্থা আমার জানা মতে নেয়নি। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগে স্থাপিত বাংলাদেশে একটি প্রতিষ্ঠানের সরকারের কাছের লোকজনের দখল করে নেয়ার গুজবও বেশ কিছুদিন ধরে বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করে থাকেন যে, তার আমলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নাকি বৃদ্ধি পেয়েছে। দীপু মনি বলছেন, চুরি করলেও সম্মান ক্ষুণ্ন হয় না। বিশ্বে মাথা হেট করা দুর্নীতির বেশুমার গল্প পত্র-পল্লবে বিকশিত হওয়া সত্ত্বেও তারা যদি এ জাতীয় আত্মশ্লাঘায় ভোগেন, তাহলে জনগণের কপালে করাঘাত ছাড়া আর কী করার আছে?
এই শতকের গোড়ার দিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বলা হচ্ছিল, বাংলাদেশের ঋণনির্ভরতা থেকে ক্রমেই বাণিজ্য নির্ভরতায় উত্তরণ ঘটছে। গোল্ডম্যান স্যাকস বাংলাদেশকে বিশ্বে এগারটি দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে বিকাশমান রাষ্ট্রের একটি বিবেচনা করেছিল। সেসব আশাবাদ এখন কর্পূরের মতো উবে গেছে। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি আমাদের ললাট লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দাবি করতে পারি, কোনো মন্ত্রী নিজে যদি দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকেন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি সরকার প্রধানের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে মন্ত্রণালয় থেকে দুর্নীতি দূর করা অবশ্যই সম্ভব। তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ, সহিংসতা এবং দুর্নীতিকে উপলক্ষ্য করেই এক এগারোর কুশীলবরা ২০০৬ সালে বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদী পড়শি ভারতের আশ্রিত রাজ্যে পরিণত করার নীলনকশা প্রণয়ন করতে পেরেছে, যেটি বর্তমান সরকার ভারতের সহায়তায় ক্ষমতায় আসার প্রতিদানে ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করছে। এক এগারোর এত বড় সর্বনাশের মধ্যেও আশা করেছিলাম, রাজনীতিবিদরা অন্তত দুর্নীতির বিষয়ে কিছুটা শিক্ষা গ্রহণ করবেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের তিন বছরে প্রমাণিত হয়েছে, তারা কোনো রকম শিক্ষা গ্রহণ না করে বরঞ্চ, দুর্নীতির মাত্রাই বৃদ্ধি করেছেন। কোটি টাকা দুর্নীতির পরিবর্তে কোটি ডলারের দুর্নীতি জনগণকে সহ্য করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার আমাদের চরমভাবে আশাহত করেছে। এবার আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বিরোধীদল বাংলাদেশে একটি সত্ ও দক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করবে কিনা, সেটা দেখার জন্য জনগণকে তাদের ক্ষমতায় আসা অবধি অপেক্ষা করতে হবে।

গল্প- শত সহস্র ছুরি by আবু হেনা মোস্তাফা এনাম

নিজের ভেতর এক নিদারুণ অস্থিরতা বেওয়ারিশ কুকুরের মতো হন্যে হয়ে তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। বসলেও অস্থিরতা, না বসলেও তা-ই। বসলে মনের মধ্যে রাজ্যের দুশ্চিন্তা চড়ুই পাখির মতো পথের পাশের বৃষ্টির চুঁয়ানো পানি ডুব দিয়ে ডুব দিয়ে ঘোলা করে তোলে। আর হেঁটে বেড়ালে তার কথা বলা চায়ই চায়। তার মনের অতল অন্ধকার থেকে উঠে আসে কথার নক্ষত্রবীথি। কথা না বলে কি বাঁচা যায়? কথাই যেন পৃথিবীর সব সভ্যতার একেকটা নিস্তব্ধ ও নিরবচ্ছিন্ন রূপ, তার বাইরে আর সব ফানুস, সব শূন্য; সবই সীমাহীন আলস্যে নিষ্কর্মা দিনযাপন। কথা আছে তো তুমি আছ, কথা আছে তো তোমার অস্তিত্ব আছে, তুমি বেঁচে আছ; কথা নেই তো তোমার স্বপ্ন নেই, থাকলেও তার প্রকাশ নেই, উচ্চারণ নেই, অনুরণন নেই; তুমি জড়পিণ্ড। তার চলন নেই, ঠাঁট নেই, রূপ নেই, ঘ্রাণ নেই, কোমলতা নেই—কেবল রুক্ষ, আদিম জন্তুর ভয়ংকর ছায়া। আর সে কথা পেটের মধ্যে পুরে চুপ মেরে বসে থাকা যায়?

রবীন্দ্রনাথের ছবির নিলাম by মাহবুব আলম

বীন্দ্রনাথ কম বয়স থেকেই নানা বিষয়ে সৃষ্টিশীল হলেও পরিপূর্ণভাবে ছবি আঁকায় হাত দেন অনেক পরে। ১৮৯৩ সালে এক চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘ঐ যে চিত্রবিদ্যা বলে একটা বিদ্যা আছে, তার প্রতিও আমি সর্বদা হতাশ প্রণয়ের লুব্ধ দৃষ্টিপাত করে থাকি। কিন্তু পাবার আশা নেই, সাধনা করার বয়স চলে গেছে।’ তাঁর বয়স তখন ৩২। সত্যিকারের ছবি আঁকা শুরু করেন জীবনের পড়তি বেলায়, ৬৭ বছর বয়সে। জীবনের শেষ ১৫ বছর তিনি কম করেও প্রায় আড়াই হাজার ছবি এঁকেছিলেন।