Friday, October 11, 2024

টিকটক নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিচ্ছে বাংলাদেশ by কাজী সোহাগ

বাংলাদেশে একসময় জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ নিয়ে ঘোষণাও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকটক বন্ধ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ সরকার। টিকটকের অনেক কনটেন্ট নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)তে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ে। মূলত টিকটকের মাধ্যমে অশ্লীলতা ও দেশীয় কালচার নষ্ট হচ্ছে এমন অভিযোগ ওঠে।  বিভিন্ন সিনেমার জনপ্রিয় গানের একাংশ, ঠোঁট মিলিয়ে ভিডিওতে কোনো খারাপ উক্তি তৈরির এই অ্যাপ নিয়ে ইতিমধ্যে দেশে সমালোচনার ঝড় বইছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি উঠেছে ভারতে। তবে এবার টিকটকের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এরইমধ্যে টিকটকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী। মানবজমিনকে তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক হয়েছে। সামনে হয়তো আরও বৈঠক হবে। টিকটককে বাংলাদেশে তাদের ডাটা সেন্টার বসানোর কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে তাদের সার্ভার রয়েছে ভারতে। এদিকে বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, টিকটককে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ডাটা সেন্টারের পাশাপাশি এখানে একটি অফিস স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে। অফিস থাকলে সেখানে টিকটকের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কাজ করবেন। তখন বাংলাদেশ নিয়ে টিকটকের আপত্তিকর ভিডিও বা নানা ধরনের কনটেন্ট বন্ধ করা সহজে সম্ভব হবে। টিকটক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের এ ধরনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে। এর আগে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে টিকটককে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। ওই সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, শুধু টিকটক নয় দেশীয় সংস্কৃতির জন্য হুমকি রয়েছে এমন সব ধরনের সাইট আমরা বন্ধ করে দিতে চাই। তিনি বলেন, আমি ইন্টারনেটকে নিরাপদ করতে চাই। আমার দেশ ইউরোপ না আমেরিকা না আমার দেশে বাংলাদেশ। তাই এ দেশের মানুষ, সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না এমন কোনো কিছুকেই আমি রাখতে চাই না। এসব সাইট বন্ধ করলে আবার খোলা হয়, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খোলা হলে বন্ধ করে দেবো। যতবার খোলা হবে ততবার বন্ধ করে দেবো। মনুষের জীবন ও মান ও দেশের জন্য ক্ষতিকর এসব সাইট বন্ধে কতোটুকু সফল হবো জানি না। তবে আমি আমার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এই দায়িত্ব পালন করে যাবো। প্রযুক্তিবিদরা জানান, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট এরকম বেশকিছু অ্যাপের পর গত কয়েক বছর ধরে নতুন যে অ্যাপটি অনেকের আকর্ষণ কেড়েছে তা হলো চীনের অ্যাপ টিকটক। বাংলাদেশে টিকটক জুড়ে রয়েছে নানা ধরনের জনপ্রিয় গান, সিনেমার ডায়ালগ অথবা কোনো ভাইরাল হওয়া কোনো বক্তব্যের সঙ্গে ঠোঁট মিলিয়ে অভিনয়, নাচ দিয়ে মূলত হাস্যরসের ভিডিও। মোবাইল অপারেটরদের দেয়া তথ্যমতে, ভিডিও শেয়ারিংয়ের জনপ্রিয় প্ল্যাটফরম টিকটক ব্যবহার করেন ৫ কোটিরও বেশি বাংলাদেশি। বিশ্বব্যাপী অ্যাপ ডাউনলোড চার্টের শীর্ষের দিকে রয়েছে টিকটক। টিকটকের তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বব্যাপী আশি কোটি মানুষ এটি ব্যবহার করছে। ২০১৯ সালে জনপ্রিয় অ্যাপ ইন্সটাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটকে পেছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ ডাউনলোডকারী অ্যাপে পরিণত হয়েছে টিকটক। টিকটক ব্যবহারকারীরা জানান, এটা অনেকটা নেশার মতো হয়ে গেছে। কারণ টিকটক খুব সহজ। একটা টিকটক ভিডিও বানাতে সর্বোচ্চ সময় লাগছে এক মিনিট। ভিডিও আপলোড করার সঙ্গে সঙ্গে খুব সহজে মানুষকে রিচ করতে পারছেন এবং প্রতিক্রিয়া পেয়ে যাচ্ছেন। তারা বলেন, অনেক সহজে, অল্প পরিশ্রম করেই প্রতিক্রিয়া পাওয়া, মানুষের প্রশংসা পাওয়া সেটা একধরনের আত্মতৃপ্তির কাজ করে। এই আবেদনই বেশিরভাগ মানুষকে টিকটকের দিকে আগ্রহী করে তুলছে। ব্যবহারকারীদের অনেকে টিকটককে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, চারপাশে অনেক নেতিবাচক বিষয় ঘটছে এখন। সেগুলো মানুষের কানে আসে। সেসব বিষয়ে খবর পড়তে হয়। মানুষ খুব একঘেয়ে বোধ করছে এবং বিনোদনের উপায় খুঁজছে। টিকটক খুব সহজ একটা বিনোদন। টিকটকের ভিডিও দেখা যায় ফেসবুকে অথবা ইন্সটাগ্রামে। বাংলাদেশে মূলত হাসির ভিডিও তৈরির প্রবণতাই বেশি। অনেক জনপ্রিয় গান, সিনেমার ডায়ালগের ব্যবহারের অনুমোদন নিয়ে রেখেছে টিকটক। যা অন্য অ্যাপগুলোতে নেই। সেটাও এর জনপ্রিয়তার কারণ হতে পারে। ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন অনেকেই। টিকটকেও সেই সুযোগ রয়েছে। সেটা সম্ভব হতে হলে অবশ্য অনেক ফলোয়ার থাকতে হবে। ভিডিও’র মাধ্যমে কোনো পণ্যের বিক্রি বাড়াতে অনেক ব্র্যান্ড টিকটকে যাদের ফলোয়ার বেশি রয়েছে তাদের অর্থ দিয়ে থাকেন। অনেক সময় নতুন কোনো পণ্য বাজারে আনার আগে বিজ্ঞাপনদাতারা টিকটকে সেলিব্রিটিদের পণ্যের বিক্রি বাড়াতে কাজে লাগান। একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় ফলোয়ার থাকলে টিকটকে লাইভ করতে পারেন ব্যবহারকারীরা। তারাই মূলত পণ্যের বাজারজাতকরণে বেশি গুরুত্ব পান। টিকটকে এমনকি লাইভ চলাকালীন নিলামের নমুনাও রয়েছে। বাংলাদেশে এভাবে সেলিব্রিটিরা কতো অর্থ উপার্জন করছেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।
mzamin

তৈরি পোশাক রপ্তানি: যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, উল্টো প্রতিযোগীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২৪ সালের প্রথম আট মাস জানুয়ারি-আগস্টে বাজারটিতে বাংলাদেশসহ শীর্ষ পাঁচ রপ্তানিকারক দেশেরই রপ্তানি কমেছে। তবে অন্যদের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক বেশি কমেছে।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সব মিলিয়ে ৫ হাজার ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ১১ শতাংশ কম।

অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে মোট ৪৭১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ কম। গত বছর একই সময়ে দেশটিতে ৭২৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। বর্তমানে এই বাজারে বাংলাদেশ তৃতীয় সর্বোচ্চ পোশাক রপ্তানিকারক। তৈরি পোশাকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বাজার হিস্যা এখন ৯ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন। তাদের দখলে রয়েছে পোশাকের ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ বাজার হিস্যা। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১ হাজার ৬৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে দেশটি, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ কম।

মার্কিন বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারক ভিয়েতনাম। যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ পাঁচ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে ভিয়েতনামই দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তারা আলোচ্য জানুয়ারি–আগস্ট আট মাসে ৯৫৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৯৬৬ কোটি ডলারের রপ্তানির চেয়ে ১ শতাংশ কম।

অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে চতুর্থ ও পঞ্চম শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক যথাক্রমে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানিও কমেছে। গত জানুয়ারি–আগস্ট সময়ে ভারত রপ্তানি করেছে ৩২১ কোটি ডলারের পোশাক। তাদের রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। তাদের রপ্তানির পরিমাণ ২৬৮ কোটি ডলার।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গে ফেরা যাক। যুক্তরাষ্ট্রে গত ১০ বছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। ২০১৩ সালে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৬৫ কোটি ডলার। ওই বছরের এপ্রিলে সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর দেশটিতে পোশাক রপ্তানি কমে যায়। তবে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আবার অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বাড়তি শুল্ক থেকে বাঁচতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ক্রয়াদেশ স্থানান্তর করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। মাঝে করোনার ধাক্কার পর ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রেকর্ড ৯৭২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আবার রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এ বছরের কোটা সংস্কার আন্দোলন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, বন্যা ও শ্রম অসন্তোষের কারণে টানা তিন মাস পোশাক খাতের উৎপাদন ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার নিয়ে আশাবাদী পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা।

জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নিত্যপণ্য নয় এমন পণ্যের বিক্রি কমেছিল। তার প্রভাবে আমাদের রপ্তানি কমেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে অস্থিরতার কারণে বিদেশি ক্রেতারা কিছুটা শঙ্কার মধ্যে আছে। তবে সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে আমরা দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াব।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজার নিয়ে আশাবাদী। তাঁর মাধ্যমে আমরা যদি দেশটি থেকে কোনো ধরনের শুল্কসুবিধা নিতে পারি, তাহলে আমাদের রপ্তানি বাড়বে।’

তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকেরা
তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকেরা। ফাইল ছবি

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কেই বড় অগ্রাধিকার মস্কোর: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কই মস্কোর কাছে বড় অগ্রাধিকার। বিশ্বের চলমান নানা ঘটনা নিয়ে দুই দেশের অবস্থানও প্রায় একই রকম বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

তুর্কেমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর একটি সম্মেলন চলছে। আজ শুক্রবার সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা বলেন পুতিন।

রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের কাছে একটি বড় অগ্রাধিকারের বিষয়। তারা সফলভাবে উন্নতি করছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা একসঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আমাদের অবস্থানও বেশির ভাগ সময় এক রকম।’

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘আন্তরিক’ বলে বর্ণনা করে মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের অবস্থান একই।’ তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বেশ জটিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ চায় না মধ্যপ্রাচ্য স্থিতিশীল হয়ে উঠুক।’

ফিলিস্তিনের গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও বেসামরিক প্রাণহানির কঠোর নিন্দা জানান মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাশাপাশি ইসরায়েলের এই হত্যাযজ্ঞে ইসরায়েলকে অব্যাহত সমর্থন দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।

গাজায় এক বছরের বেশি সময় ধরে নির্বিচার হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। হামলায় গাজার ৪২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি লেবাননে স্থল ও বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলে দেশটির সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান–সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠন। এতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যেকোনো সময় যুদ্ধ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে নানা ঘটনায় দুই দেশের একই অবস্থানের কথা জানান।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়া ও ইরানের ওপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। দেশ দুটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মৈত্রীর সম্পর্ক। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরালো হয়েছে। ধারণা করা হয়, অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সাহায্য করছে তেহরান।

রাষ্ট্রায়ত্ত রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৈঠকে মাসুদ পেজেশকিয়ানকে মস্কো সফরের আমন্ত্রণ জানান ভ্লাদিমির পুতিন। আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। আগামী মাসের শেষে পেজেশকিয়ান মস্কো সফরে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (ডানে) ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আশখাবাত, তুর্কেমেনিস্তান, ১১ অক্টোবর, ২০২৪
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (ডানে) ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আশখাবাত, তুর্কেমেনিস্তান, ১১ অক্টোবর, ২০২৪ ছবি: এএফপি

গাজার গণহত্যাকে ‘মানবতার লজ্জা’ আখ্যা দিয়ে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান তুর্কি প্রেসিডেন্টের

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের গণহত্যাকে ‘মানবতার লজ্জা’ আখ্যা দিয়ে সেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েফ এরদোগান। সার্বিয়া সফরে যাওয়ার পথে বলকানে প্রথম যাত্রা বিরতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরব নিউজ। এতে বলা হয়, তুর্কি প্রেসিডেন্টের দাবি- গাজায় ইসরাইলের পদক্ষেপ ‘গণহত্যা’ সৃষ্টি করেছে। তিনি আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামের সাথে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ গণহত্যাকে ‘মানবতার লজ্জা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

এরদোগান আরও বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহ আমাদের সকলকে অবশ্যই অবিলম্বে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা এবং ইসরাইলের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, গত এক বছর ধরে গাজায় যে গণহত্যা চলছে তা সমগ্র মানবতার জন্য অভিন্ন লজ্জা।

ইসরাইলি পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা এএফপি’র হিসেব অনুযায়ী, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের আকস্মিক হামলার ফলে এক হাজার ২০৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। আর হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামাস-ইসরাইল সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজায় এ পর্যন্ত ৪২ হাজার ৬৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। জাতিসংঘও এ পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে অভিহিত করেছে।

এরদোগান ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘গাজার কসাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং তাকে নাৎসি জার্মানির অ্যাডলফ হিটলারের সাথে তুলনা করেছেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, নেতানিয়াহু সরকারের নেতৃত্বে আগ্রাসন এখন এই অঞ্চলের বাইরে বিশ্ব ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিনের শেষে এরদোগান আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামার সাথে তিরানার গ্রেট মসজিদ উদ্বোধন করেন। বলকানের বৃহত্তম এই মসজিদে একসঙ্গে ১০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। তুরস্কের অর্থায়নে এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩০ মিলিয়ন ইউরো। তুরস্ক আলবেনিয়ার প্রধান জনশক্তি নিয়োগকারী একটি দেশ। এরদোগান গত ফেব্রুয়ারিতে বলেছেন, ছয় শতাধিক তুর্কি কোম্পানি তার দেশে ১৫ হাজারেরও বেশি কর্মীকে চাকরি দিচ্ছে। তিনি বলেন, এটি আলবেনিয়ার পাঁচটি বৃহত্তম বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি। ন্যাটো সদস্য দুটি দেশের মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক। তুরস্ক তার বায়রাক্টার টিবি-২ ড্রোন তিরানায় সরবরাহ করে।

অন্যদিকে সার্বিয়ায় তুর্কি বিনিয়োগ গত এক দশকে এক মিলিয়ন থেকে ৪০০ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। তুর্কি-সার্বিয়া বিজনেস কাউন্সিল তুর্কির এ তথ্য আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে। সার্বিয়ান সরকারী পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশটিতে তুর্কি রপ্তানি ২০২২ সালে ছিল ২ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। যা ২০২০ সালে ছিল ১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন। তুর্কি পর্যটকরাও সার্বিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বসনিয়া থেকে আসা দর্শনার্থীদের সংখ্যার পরেই তুর্কিরা সার্বিয়ার পর্যটন খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা।

mzamin

পারমাণবিক উত্তেজনার মধ্যে নিউইয়র্কে মিলিত হচ্ছে রাশিয়া ও পশ্চিমা ব্লক

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে চরম উত্তেজনায় রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলো। এ নিয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এক জরুরি বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াকভকে উদ্ধৃত করে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাঁচটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের একটি দল আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নিউইয়র্কে একটি বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এতে বলা হয়,  বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বিশ্বের পাঁচটি দেশ। এগুলো হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স এবং বৃটেন। পারমাণবিক অস্ত্রধারী এসব দেশ একাধারে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। এই পাঁচটি দেশের সদস্যরা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। তবে এখনও কোনো নির্দিষ্ট দিন ঠিক করা হয়নি। এছাড়া এই বৈঠকে কোন পর্যায়ের কর্মকর্তারা যোগ দেবেন তাও নিশ্চিত করেনি রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমাদের সাথে মস্কোর পারমাণবিক উত্তেজনার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির ফলে সম্ভাব্য এই বৈঠকটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত মাসে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রনীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, মস্কো এমন পরিস্থিতির তালিকা প্রণয়ন করেছে যা যে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র মোকাবিলা করার কথা বিবেচনা করতে সক্ষম।

২০২২ সালের জানুয়ারীতে পুতিন তার সেনাবাহিনীকে ইউক্রেনে পাঠানোর কয়েক সপ্তাহ আগে পাঁচ দেশের এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছিলেন, পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধ এড়ানো এবং কৌশলগত ঝুঁকি হ্রাসকে নিজেদের অগ্রাধিকার বিষয় বলে বিবেচনা করছে মস্কো। সেসময় তিনি আরও বলেছিলেন, আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে- পারমাণবিক যুদ্ধে জয়ী হওয়া যায় না এবং কখনই যুদ্ধে জড়ানো উচিত নয়।

মূলত ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পারমাণবিক হুমকি ও সংঘাতের ভয় ছড়াচ্ছে রাশিয়া। যুদ্ধ শুরু হওয়ার অল্প সময় পরেই নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রবিষয়ক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এর পর থেকে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে তার বক্তৃতা কখনো কঠোর হয়েছে, কখনো নরম হয়েছে।

mzamin

চট্টগ্রামের পূজা মণ্ডপে ইসলামিক দলের গান পরিবেশনা নিয়ে যা জানা গেলো

চট্টগ্রামের একটি পূজা মণ্ডপে ‘ইসলামিক গান’ গাওয়া নিয়ে তীব্র আলোচনা তৈরি হয়েছে। সেই গানের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে নানা আলোচনায় মাতেন নেটিজেনরা। তবে এরমধ্যে জানা গেছে, নগর পূজা উদযাপন পরিষদের এক নেতার আহ্বানে ব্যক্তি পরিচালিত একটি দল এই গান পরিবেশন করে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরের জেএমসেন হলের পূজা মণ্ডপে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি নামের একটি ইসলামিক গানের দল ওই গান পরিবেশন করে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ওই গানের দলের ছয় সদস্য গান পরিবেশন করতে মঞ্চে ওঠে। সংগঠনটি শাহ্ আবদুল করিমের লেখা বিখ্যাত গান ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ এবং চৌধুরী আবদুল হালিমের লেখা ‘শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম, বিশ্ব মানুষের কল্যাণে স্রষ্টার এই বিধান’-শীর্ষক গান দুটি পরিবেশন করে। এর মধ্যে শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম, বিশ্ব মানুষের কল্যাণে স্রষ্টার এই বিধান-গানটির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই গান গাওয়া নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,পূজা উদযাপন কমিটির এক নেতার আমন্ত্রণে সংগঠনটি ওই পূজা মণ্ডপে গান করতে যায়। তবে গান গাওয়ার পরে সনাতন ধর্মের মানুষদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তারা ওই সংগঠনটিকে জামায়াত ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করছেন। যদিও জামায়াত জানিয়েছে, তারা এই গান করার বিষয়ে কিছুই জানে না, গানের দলটিও তাদের কোনো অঙ্গ সংগঠন নয়।

চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি-র সভাপতি সেলিম জামান গণমাধ্যমকে  বলেন, ‘পূজা উদযাপন পরিষদের সজল বাবু আমাদের দাওয়াত দিয়েছিলেন। তিনি ফোন করে বলেন ‘‘আপনারা একটু আসেন। আপনাদের একটু ফ্লোর (সুযোগ) দেব। কিছু দেশাত্মবোধাক গান গাইবেন।’’ সে আমন্ত্রণে গিয়ে আমাদের দলটি দুটি সম্প্রীতির গান করে। কিন্তু এটি নিয়ে একটা পক্ষ প্রচারণা চালাচ্ছে ষড়যন্ত্র করতেই আমরা গান করতে গিয়েছি। আমরা তো জোরপূর্বক কিছুই করিনি। দাওয়াত পেয়েই গিয়েছিলাম।’

চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি জামায়াতের কোনো গানের দল কিনা এমন প্রশ্নে সেলিম জামান বলেন, ‘এটি জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠন নয়। শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার উদ্দেশে ২০১৫ সালে আমাদের গানের দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।’

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, ‘আমাদের যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের অনুমতি নিয়ে ওই গানের দলটি পূজা মণ্ডপে এসে গান পরিবেশ করেছে বলে জেনেছি। তবে ওই সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।’ সংগঠনটি জামায়াতের কিনা এমন প্রশ্নে হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার জানা নেই।’

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও প্রচার বিভাগের পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী  বলেন,কয়েকটি ছেলে মণ্ডপে গিয়ে সম্পৃতির গান গেয়েছে শুনলাম। তবে এদের সাথে জামায়াত  বা শিবিরের কোন সম্পৃক্ততা নেই।।

এদিকে মণ্ডপে গান গাওয়া এই  তরুণদের বিরুদ্ধে  কোতোয়ালি থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এরমধ্যে তদেরকে গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশের বিশেষ একটি ইউনিট। এছাড়া তাদেরকে গানের দাওয়াত দেয়া সজল দত্তকে পূজা উদযাপন পরিষদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

mzamin

চিরকুমার রতন টাটার ৪ হাজার কোটি রুপির উত্তরসূরি হবেন কে?

ভারতীয় শিল্পপতি টাটা গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান রতন টাটা বিয়ে করেননি। সুতরাং তার কোনো সন্তানও নেই। মৃত্যুর আগে তিনি তার বিপুল সম্পদ দান করেও যাননি। ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে রতন টাটার রেখে যাওয়া কয়েক হাজার কোটি রুপির সম্পদের উত্তরসূরি হচ্ছেন কে?

বুধবার (০৯ অক্টোবর) রাতে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। মৃত্যুর আগে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি।

১৯৩৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর মুম্বাইয়ে পারসিক পরিবারে জন্ম হয় রতন টাটার। রতন টাটার যখন ১০ বছর বয়স, সেই সময় তার মা-বাবা আলাদা হয়ে যান। তার দাদি নওয়াজবাই টাটার কাছে বেড়ে ওঠেন তিনি। রতন টাটার এক ভাই জিমি টাটা, আরেকজন সৎভাই নোয়েল টাটা।

১৯৯১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান ছিলেন এই রতন টাটা। দীর্ঘদিন ধরে রাজত্য ধরে রাখা এই শিল্পপতি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করলেও সাধারণ মানুষের মনে সর্বদা একটি প্রশ্ন ছিল, কেন রতন টাটা অবিবাহিত? তবে মজার ব্যাপার হলো, একবার নয় দুবার নয়, রীতিমতো চারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, প্রায় তার বিয়ে হয়েই যাচ্ছিল। কিন্তু নানা কারণে বিয়ে করতে পারেননি। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে কাজ করার সময় তিনি প্রেমে পড়েছিলেন। কিন্তু ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের কারণে মেয়েটির বাবা-মা তাকে ভারতে পাঠানোর বিরোধিতা করেন। সে সময় তিনি দেশে ফিরে আসেন। এরপর আর বিয়ে করা হয়নি তার।

জানা গেছে, বর্তমানে টাটা গোষ্ঠীর বিভিন্ন উচ্চ পদে কিছু তরুণ ও প্রতিভাবান নেতৃত্বে রয়েছেন। তারাই রতন টাটার প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন বোর্ডের দায়িত্বে রয়েছেন। রতন টাটা সব এমনভাবে সাজিয়েছেন যাতে তার মৃত্যুর পরও শিল্প গোষ্ঠীটি মুখ থুবড়ে না পড়ে। এ হিসাবে টাটার সম্পত্তি একক কারও হস্তগত হচ্ছে না। বোর্ডের পরিচালকদের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ থাকবে।

সেসব উচ্চ পদে থাকা তরুণ ও প্রতিভাবানদের মধ্যে রয়েছেন নিশান্ত টাটা। যিনি টাটা মোটরসের পরিচালনায় যুক্ত। তার আধুনিক চিন্তাধারা এবং নতুন প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ টাটা গোষ্ঠীকে নতুন উচ্চতায় নিতে সক্ষম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বভাবতই টাটা মোটরসের অধীনে থাকা রতন টাটার সম্পদ তিনিই নিয়ন্ত্রণ করবেন।

রতন টাটার সৎ ভাই নাভাল টাটার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সন্তান নোয়েল টাটা। বর্তমানে তিনি টাটা গোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। উত্তরসূরী হিসেবে তার নামও থাকছে। ট্রেন্ট ও টাটা ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এবং টাইটান ও টাটা স্টিলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত নোয়েল টাটা।

নোয়েল টাটার ছোট ছেলে নেভিল টাটা। বয়স মাত্র ৩২, কিন্তু তিনি ইতোমধ্যেই টাটা গোষ্ঠীর অন্তর্গত ট্রেন্ট লিমিটেডের অধীনে স্টার বাজারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন। তারুণ্যের উদ্যম ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে টাটা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ একক নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রেখেছে বলে জানা গেছে।

নোয়েল টাটার মেয়ে লিয়া টাটা এই গ্রুপের হসপিটালিটি সেক্টরকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার নেতৃত্বে তাজ হোটেলের অভাবনীয় সাফল্য বয়ে আনাসহ হসপিটালিটি সেক্টরের প্রবল বিকাশ ঘটেছে। তিনিও তার অধীনে থাকা রতন টাটার সম্পদের অলিখিত উত্তরসূরি।

টাটা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে নোয়েল টাটার আরেক মেয়ে মায়া টাটার নামও। ৩৪ বছর বয়সী মায়া, টাটা গোষ্ঠীর ডিজিটাল সেক্টরে বিপ্লব এনেছেন, বিশেষ করে তার নেতৃত্বে লঞ্চ হওয়া টাটা নিউঅ্যাপ গ্রুপের ডিজিটাল সাফল্য এক বিরাট উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তার দক্ষতায় রতন টাটার রেখে যাওয়া সম্পদ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী মুনাফার আনুপাতিক হারে মায়া টাটার সম্পদও বাড়বে।

২০০০ সালে ‘পদ্মভূষণ’ ও ২০০৮ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মাননা পান রতন টাটা। তার মেধা ও কৌশল সর্বজনের কাছে প্রশংসনীয়। অনেকে বলছেন, রতন টাটা নিজেও জানতেন তার মৃত্যুর পর সুনির্দিষ্ট উত্তরসূরির প্রশ্ন বা বিতর্ক উঠতে পারে। অত্যান্ত বুদ্ধিমান রতন টাটা অন্য কোনো উপায়ে উত্তরসূরি নির্বাচনের হলফনামা রেখে যেতে পারেন। যদি এমনটি হয় তবে সব হিসাব-নিকাশ বদলে যাবে। 

রতন টাটা । ছবি : সংগৃহীত

তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বকে রক্ষার অঙ্গীকার

তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই। এ বছরের শুরুর দিকে তিনি দেশটির ক্ষমতায় আসেন। তারপর বৃহস্পতিবারই তিনি হাইপ্রোফাইল বক্তব্য রেখেছেন। সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ না করলেও দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের ওপর চীন যে সার্বভৌমত্বের দাবি করেছে, তার জবাবে উইলিয়াম লাই বলেন, তিনি সম্প্রসারণের (অর্থাৎ তাইওয়ানকে চীন দখল করে নেয়ার) বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি সমুন্নত রাখবেন। একইভাবে তার দেশকে দখল করে নেয়ার বিরুদ্ধে কাজ করবেন। উইলিয়াম লাই প্রতিশ্রুতি দেন তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার। জলবায়ু পরিবর্তন, সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে লড়াই এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বেইজিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

উইলিয়াম লাইয়ের বক্তব্যের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতার প্রশ্নে এর মধ্য দিয়ে লাইয়ের অস্থিরতা প্রকাশ পেয়েছে।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি তাদের ৭৫তম বার্ষিকী পালনের মাত্র ৯ দিন পরেই তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের স্মরণ অনুষ্ঠানে রাজধানী তাইপে জনতার উদ্দেশে ভাষণ রাখছিলেন উইলিয়াম লাই। প্রজাতান্ত্রিক চীন ও গণপ্রজাতান্ত্রিক চীন একে অন্যের অধীনস্ত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এক্ষেত্রে যথাক্রমে তাইপে ও বেইজিং সরকারকে বুঝিয়েছেন। উইলিয়াম লাই বলেন, এই দেশে (তাইওয়ান) গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতা সমৃদ্ধ হচ্ছে। তাইওয়ানের প্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকার নেই গণপ্রজাতন্ত্র চীনের। এর আগে লাই বলেছিলেন, জাতীয় দিবসের ভাষণে যোগ দেয়া লোকজন তার কথায় বিস্মিত হবেন না। তিনি তাদেরকে আশ্বস্ত করেন এই বলে যে, বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করে তোলার মতো কিছু করবেন না তিনি। প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই গত কয়েক মাসে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তাকে অনেকেই উস্কানিমুলক হিসেবে দেখেন। ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লেভ ন্যাচম্যান বলেছেন, সম্প্রতি লাই যেসব বক্তব্য দিয়েছেন বৃহস্পতিবারের বক্তব্য তার চেয়ে নমনীয়। তার চেয়ে কম উত্তেজনাপূর্ণ। ফলে তার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য খুব কমই রসদ পাবে চীন এর মধ্যে। তা সত্ত্বেও তার বক্তব্যকে ঘৃণা করার জন্য অনেক কারণ বের করে ফেলবে বেইজিং। লেভ ন্যাচম্যান মনে করেন, তার এই বক্তব্যের জবাবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বেইজিং অধিক পরিমাণে সামরিক মহড়া দেবে।

উইলিয়াম লাইয়ের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন এরই মধ্যে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেছেন, লাই স্বাধীনতার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য তিনি তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনা সৃষ্টির হেয় উদ্দেশ্য নিয়েছেন। মুখপাত্র মাও নিং বৃহস্পতিবার বলেছেন, লাই চিং-তে (উইলিয়াম লাইয়ের চীনা নাম)-এর প্রশাসন যা-ই বলুক বা যা-ই করুক না কেন তাতে কিছু এসে যায় না। তাইওয়ান প্রণালীর দুই পাশে যা আছে তা একই চীনের অধীভুক্ত। এই সত্যকে তারা বদলাতে পারবে না। চীন একীভূত হতে চায় এই ঐতিহাসিক প্রবণতাকে থামাতে পারবে না। এমনিতেই একীভূত হয়ে যাবে। তবে উইলিয়াম লাই বলেছেন, জন্মভূমি তাইওয়ানকে চীন তার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে না। এটা একেবারে অসম্ভব। কারণ, ১৯৪৯ সালে বর্তমান কমিউনিস্ট শাসিত চীনা শাসকগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর কয়েক দশক আগে ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাইওয়ান সরকার। পক্ষান্তরে প্রজাতান্ত্রিক চীন (তাইওয়ান) প্রকৃতপক্ষে ওইসব গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের নাগরিকদের জন্মভূমি হতে পারে, যাদের বয়স কমপক্ষে ৭৫ বছর।

mzamin

‘ভারত এখনও আমাকে হত্যার চেষ্টা করছে’: শিখ নেতা পান্নুন

খালিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী শিখ নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন দাবি করেছেন, এখনও তাকে হত্যার চেষ্টা করে যাচ্ছে ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী। তিনি বলেছেন, আমাকে এখনও দিল্লির গোয়েন্দা এজেন্টরা হত্যার চেষ্টা করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাইডেন প্রশাসনের যে কূটনৈতিক আলাপ হয়েছে তা শিখদের আন্তঃদেশীয় দমন-পীড়নের সুরাহা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন আমেরিকায় বসবাসকারী এই শিখ নেতা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। এতে বলা হয়, মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের সাথে এক সাক্ষাৎকারে পান্নুন বলেছেন- ঝুঁকি বাড়ছে। কেননা মোদি সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহায় পৌঁছায়নি। দিল্লিকে এখনও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি। যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে তারা কেন থেমে যাবে?

খালিস্তানপন্থী শিখস ফর জাস্টিসের প্রতিষ্ঠাতা পান্নুন মনে করেন, পাঞ্জাব ভারতের কোনো রাজ্য না। তাই তিনি এবং তার সংগঠন পাঞ্জাবকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি গত ১৭ই নভেম্বর নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে শিখ-গণভোটের আগে ব্লুমবার্গের সাথে কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ভারতের হত্যা প্রচেষ্টা আমাকে খালিস্তান আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। হয়ত ভারত আমাকে হত্যা করবে নয়ত আমি স্বাধীনতা দেখব।

পান্নুনকে হত্যাচেষ্টার ফলে গত বছরের শেষের দিকে প্রথম কূটনৈতিক উত্তেজনায় জড়িয়েছিল ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। সেসময় মার্কিন বিচার বিভাগ পান্নুন হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিখিল গুপ্ত নামের এক ভারতীয় নাগরিকের নাম প্রকাশ করে। যাকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর একজন এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সেসময় পান্নুনের দল ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে খালিস্তান গণভোটের আয়োজনে তৎপর ছিল।

এই ঘটনার কয়েক মাস আগে কানাডায়, হরদীপ সিং নিজ্জর নামে এক শিখ নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে এই হত্যার জন্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতকে দায়ী করেছিলেন। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পান্নুনকে হত্যার জন্য টার্গেট করা হয়েছিল, যদিও হত্যা প্রচেষ্টা সফল হয়নি। পরে এ বিষয়ে তদন্তের প্রতিবেদনে আবারও ভারতের দিকেই সন্দেহের আঙ্গুল ওঠে। অভিযোগ পত্রে বলা হয় যে, এসব এজেন্ট ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে তাদের কিলিং মিশন বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে।

উল্লেখ্য, পান্নুনকে হত্যা করার জন্য নিখিল যুক্তরাষ্ট্রের মাদক বিভাগের একজন ‘আন্ডার কাভার এজেন্ট’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে অভিযোগ পত্রে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। পরে ওই ব্যক্তিই নিখিলের সঙ্গে এক আততায়ীর পরিচয় করিয়ে দেন। হত্যাকাণ্ডটি বাস্তবায়ন করার জন্য ১ লাখ ডলারের চুক্তি হয়। আততায়ীকে অগ্রিম দেয়া হয়েছিল ১৫ হাজার ডলার।

mzamin

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ প্রসঙ্গে বাইডেন-নেতানিয়াহু ফোনালাপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গোটা মধ্যপ্রাচ্য সহ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ প্রসঙ্গে বাইডেনের সঙ্গে কথা বলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। তবে ইরানে সর্বাত্মক হামলার পক্ষে এখনও মত দেননি বাইডেন। তেহরান প্রসঙ্গ ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে প্রায় ৩০ মিনিট কথা বলেছেন বাইডেন ও নেতানিয়াহু। আগস্টের পর এটিই ছিল তাদের মধ্যকার প্রথম ফোনালাপ। হোয়াইট হাউস এই সংলাপটিকে ‘সরাসরি’ এবং ‘ফলপ্রসূ’ ফোনালাপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা জানিয়েছে আগামী দিনেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে বাইডেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসও তাদের ফোনালাপে যোগ দিয়েছিলেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, বাইডেন-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ শেষেই ইরানকে উদ্দেশ্য করে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট। তিনি বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের হামলা হবে ‘মারাত্মক, সুনির্দিষ্ট এবং সর্বোপরি বিস্ময়কর’। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সতর্কবার্তার পর ইসরাইল-ইরানের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের সম্ভাবনার আভাস আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ইরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পক্ষে না বাইডেন।

এ বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষই কাজ করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বাইডেন ইরানে পূর্ণাঙ্গ হামলার পক্ষে মত দেননি। এক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন, তেহরানের সঙ্গে তেল আবিবের সর্বাত্মক যুদ্ধ অপ্রয়োজনীয় এবং বিপজ্জনক হবে। অন্যদিকে ইসরাইলি পক্ষের মত হচ্ছে, তাদের চির শত্রু ইরানকে মোকাবিলা করার শক্তি তেল আবিবের রয়েছে। তারা বলছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের হামলা তেল আবিবকে উজ্জীবিত করেছে।

সম্প্রতি ইরান সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে ইসরাইলের সংঘর্ষ এক বছর অতিক্রম করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হামাসের সঙ্গে শুরু হওয়া সংঘাত এখন লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে লেবাননের যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরাল্লাহকে হত্যা করার পর ইসরাইলের ওপর ১লা অক্টোবর যখন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলো তার পর থেকে গোটা মধ্যপ্রাচ্যই গরম হয়ে উঠেছে। এরপর থেকেই ইরানকে পাল্টা জবাব দেয়ার পথ খুঁজছে ইসরাইল। তবে এখনও বাইডেনের সমর্থন না পাওয়ার সে পথে আগাতে পারছেনা তেল আবিব। বাইডেন বলেছেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে ইসরাইলের হামলাকে সমর্থন করেন না তিনি।

এদিকে ইসরাইলের সাথে এক বছর ধরে লড়াই করে মোটামুটি কাবু মধ্যপ্রাচ্যের ইরান সমর্থিত গ্রুপগুলো। হামাস-হিজবুল্লাহ ইতিমধ্যেই তাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনেক নেতাকে হারিয়েছে। সেক্ষেত্রে বর্তমানে নেতৃত্ব শূন্যতায়ও আছে তারা। গ্রুপগুলো ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় তাদের নেতাদের হত্যা করার অর্থ হচ্ছে ইরানকে সামরিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে দুর্বল করে ফেলা। কয়েক মাস আগে ইরানের ভিতরে এক গুপ্ত হামলায় নিহত হন হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া। সেসময় ওই হামলার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছিল হামাস ও ইরান।

সর্বশেষ হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান হাসান নাসরাল্লাহকে যখন হত্যা করে ইসরাইল এতে ইরানের ক্রোধ যেন বেড়ে যায় বহু গুন। মূলত এর ফলেই ১লা অক্টোবর ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ২০০ টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তেহরান। এতে তেহরানকে কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেল আবিব। তবে ইসরাইলের হামলার বিপরীতে ইরানের পাল্টা হামলা আরও ভয়াবহ এবং শক্তিশালী হবে বলে কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছে ইরান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মুহূর্তে ইরান-ইসরাইল সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের তেল আবিবের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না আর এতে দেশটির সামরিক ব্যয় বাড়বে বহু গুন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি আগ্রাসন চালালে ইরানের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সরব হতে পারে চীন ও রাশিয়া। যা গোটা দুনিয়াকে অস্থিতিশীল করে দিতে পারে।

mzamin

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার by আরিফুল ইসলাম

মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যের ইপোহ'র তেলুক ইন্তানের তামান লেজেন্ডার ফেজ থ্রি'র শেয়ার্ড হাউসের পেছনের জঙ্গল থেকে বাংলাদেশি এক নির্মাণ শ্রমিকের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে দেশটির স্থানীয় থানা (বালাই) পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজন বাংলাদেশি শ্রমিককে আটক করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে নিহত ঐ বাংলাদেশি এবং হত্যার এ ঘটনায় আটক তিনজনের নাম ঠিকানা প্রকাশ করেনি দেশটির পুলিশ প্রশাসন।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পেরাক পুলিশের প্রধান দাতুক আজিজি মাত আরিস দেশটির সরকারি নিউজ এজেন্সি বারনামা ও স্থানীয় নিউজ পোর্টাল দি ষ্টারকে বলেছেন, বৃহস্পতিবার ভোর-সকাল সাড়ে ৫টার সময় ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশী এক নির্মাণ শ্রমিকের লাশের খবর পায়। পরে লোকালদের পক্ষ থেকে একটি ফোন কল পেলে লাশটি উদ্ধার করে তারা।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দেশটির পুলিশ গত রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভিকটিমের তিন জন সঙ্গী নিখোঁজ থাকার খবরও দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তারা আরো জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি তার সহকর্মী বন্ধুদের সাথে গত রাত সাড়ে ৮টার সময় রাতের খাবার খেতে ও একসময় জামাতে নামাজ পড়তে দেখা গেছে তাদের। বৃহস্পতিবার পেরাক পুলিশ কন্টিনজেন্ট (আইপিকে) তাদের সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, পরিদর্শনে দেখা গেছে এই এলাকায় প্রায় ৩৪ জন বিদেশী পৃথক পৃথক ছোট ছোট রুমে বাস করতো।

তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতারকৃত (৩২-৩৯) বছর বয়সী তিন বাংলাদেশির তথ্য প্রকাশ করেনি মালয়েশিয়া পুলিশ এবং ঘটনার উদ্দেশ্য শনাক্ত করতে তারা তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে তারা।

এদিকে, তেলুক ইন্তান ম্যাজিস্ট্রেট নাইদাতুল আথিরাহ আজমানের আদালত তিন বাংলাদেশিকে তাদের স্বদেশীকে হত্যার তদন্তে সহায়তা করার জন্য সাত দিনের (১৬ অক্টোবর পর্যন্ত) রিমান্ডে রাখার অনুমতি দিয়েছে।

mzamin


এবার বাংলা গানে বৃটেনের প্রয়াত রানী এলিজাবেথ by আরিফ মাহফুজ

‘সবার প্রিয় রানী যে তুমি বিশাল তুমার মন’  শিরোনামের বাংলা গানে স্থান পেয়েছেন বৃটেনের প্রয়াত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। বিলেতে বাংলা সংস্কৃতির অঙ্গনের পরিচিত মুখ ড. আনোয়ারুল হক গানটির কথা লিখেছেন। সুর করেছেন কলকাতার বিশিষ্ট সুরকার ও সংগীত শিল্পী সৌমেন অধিকারী। গানের কথা ইংরেজিতে সাবলীলভাবে অনুবাদ করেছেন যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ড. নাজিয়া খানম ওবিই ডিএল। ইতিমধ্যে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কোম্পানি বিঠোফেন রেকর্ডস গানটির মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্য প্রবাসী ড. আনোয়ারুল হক রানির দীর্ঘ এই কীর্তিময় জীবনের সাফল্যগাঁথা বর্ণনা করেছেন তাঁকে নিয়ে লেখা একটি বাংলা গানের মাধ্যমে। রানীকে নিয়ে লেখা বাংলা গান সম্ভবত এটিই প্রথম। এ গানটি বাংলা গানের জগতে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা করা যায়। গানের কথায় রানির বর্ণময় জীবনের স্মৃতিচারণ করা হয়েছে।  

ড. আনোয়ারুল হক বলেন গানটি রচনা করার পর অনেকদিন এগুতে পারিনি। বছর খানেক আগে সৌমেন অধিকারীকে পেয়ে লেখাটি তার সঙ্গে শেয়ার করি। তিনি লেখাটি পড়েই ভীষণ উৎসাহিত বোধ করেন এবং গানটির সুর করার জন্যে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এভাবেই এই ঐতিহাসিক কাজটির যাত্রা শুরু হয় আর এর পূর্ণতা আসে বিঠোফেন রেকর্ডস কোম্পানির ততোধিক আগ্রহের কারণে। এই গানকে ইংলিশ শ্রোতাদের বোধগম্য করে তোলার জন্যে রানির দেয়া ওবিই খেতাব প্রাপ্ত ড. নাজিয়া খানম উচ্চমানের সাবটাইটেল করে গানের মাত্রাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে যারা আজ ইতিহাস সৃষ্টি করলেন তাঁদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি এ গান সবার ভালো লাগবে, জায়গা করে নেবে সবার হৃদয়ে।”

যুক্তরাজ্যের সার্বজনীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় যাবত ক্ষমতায় থাকা নারী রাষ্ট্রপ্রধান। অবশেষে ৯৬ বছর বয়সে ১৯২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চিরবিদায় নেয়ার মধ্য দিয়ে একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। 

mzamin

ছাত্র-জনতার আন্দোলন: জব্বারের চিকিৎসা হবে তো? by ফাহিমা আক্তার সুমি

২৩ বছর বয়সী আব্দুল জব্বার। নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়েন। গত ৫ই আগস্ট সোমবার বিকাল ৩টার দিকে আশুলিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন। পরে পাশে থাকা জব্বারের বন্ধুরা তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়। চিকিৎসক অপারেশনের মাধ্যমে তার মাথায় ও বুকে বিদ্ধ বুলেট বের করেন। তবে কোমরে বিদ্ধ হওয়া বুলেটটি বের করতে পারেননি। দুইদিন হাসপাতালে রাখার পরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয় জব্বারকে। দুই ভাইবোনের মধ্যে জব্বার বড়। তার মা প্রবাসে থাকেন। গ্রামের বাড়ি পাথরঘাটায়। আব্দুল জব্বার মানবজমিনকে বলেন, ঢাকা মেডিকেল ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানায় যে, যত দ্রুত সম্ভব গুলি বের করা না হলে আমার চিরদিনের জন্য পঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আমার এবং আমার পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। আর্থিক অবস্থার কারণে দুই মাসের অধিক হয়ে গেলেও আমার গুলি বের করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

ওইদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সেদিন সকালে আশুলিয়া থেকে শাহবাগে যেতে চেয়েছিলাম। পরে কিছুক্ষণ থেকে বাসায় চলে আসি। আবার বাসা থেকে ইপিজেডের সামনে যাই। সেখানে প্রচুর ছাত্র-জনতা জড়ো হচ্ছিলো। আমি তাদের সঙ্গে মিছিলে যাই। আশুলিয়া থানার সামনে যাওয়ার পরে দেখি পুলিশের গুলিতে অনেকে আহত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আক্রমণ করার চেষ্টা করছিল এ সময় পুলিশ সদস্যরা মসজিদের দিকে চলে যায়। তখন তারা আমাদের ওপরে কিছু করবে না বলে জানায়। আমরা এ সময় মিছিল নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকি। তখন পুলিশ আমাদের একদম কাছাকাছি। এ সময় তারা আমাদের থানার দিকে নেয়ার চেষ্টা করে এবং গুলি ছুড়তে থাকে। আমরা শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনতা মিশ্রিত হয়ে যাই। এ সময় তারা আতঙ্কিত হয়ে গুলি করতে থাকে। বেশির ভাগ গুলিগুলো ছুড়েছে ছাদ এবং টাওয়ারের উপর থেকে। আমরা কখনো বুঝতে পারিনি এভাবে গুলি করবে। জীবন বাঁচাতে সবাই এদিকে-সেদিকে ছোটাছুটি শুরু করেছে। এ সময় আমার শরীরে গুলিবিদ্ধ হয়। এরআগে অনেকগুলো রাবার বুলেট লেগেছিল সেগুলো ১৮ই জুলাইয়ের পরে ছিল। আহত হওয়ার পর আশুলিয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যায় সেখানে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নেই। ব্যথা কমলে পরের দিন সকালে আমাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায়। সেখানে দুইদিন রেখে আমাকে ১৪ দিন পরে আবার হাসপাতালে যেতে বলেন। ১৪ দিন পর হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক জানান এটা অপারেশন করার দরকার নেই, যেভাবে আছে এভাবে থাকুক। অপারেশন করলে অনেক ঝুঁকি হয়ে যাবে।
জব্বার বলেন, আমার পেছন থেকে কোমরের নিচের দিকে গুলি লাগে। এরপর পিজিতে ভর্তি হই। সেখানে প্রায় ১০-১১ দিনের মতো ভর্তি ছিলাম। সেখানে চিকিৎসকরা একটি বোর্ড গঠন করেছিলেন। তারা জানান আমার যদি অপারেশন হয় তাহলে প্যারালাইজড হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদি ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হয় তখন দেখা যাবে। তবে আমার ভয় হচ্ছে এখন এমন একটা সময় যেটা দ্রুত করা যাবে। এবং সবার সহযোগিতা বা ইচ্ছা থাকবে। পরবর্তীতে তো এই মানুষগুলোকে নাও পেতে পারি। শরীরের বুলেটটি বিদ্ধ থাকলে সেটি কতোটুকু ভালো হবে নিয়ে চিকিৎসকরা কথাও বলেছেন বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে। আমার এখন চলাফেরা করতে সমস্যা হয়। হাঁটাচলা বেশি করলে পায়ে অনেক ব্যথা হয়। গতকাল আমি মেডিকেল থেকে বাসায় এসেছি এতটুকুতেই আমার শরীর অনেক ব্যথা হয়েছে, জ্বর এসেছে। বর্তমানে আশুলিয়াতে ভাড়া বাসায় আছি। যদি বিদেশে যাওয়া লাগে তাহলে তো অনেক অর্থের প্রয়োজন। আর অপারেশনটি করলে যদি আরও খারাপ কিছু হয় সেজন্য চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। আমার যদি কিছু হয় তাহলে আমার মা-বোনকে দেখবে কে। দুই বছর ধরে ঢাকায় থাকি। আমরা দুই ভাইবোন। একমাত্র বোন স্বর্ণাকে নিয়ে আশুলিয়াতে থাকি। সে কলেজে ভর্তি হয়েছে। বাবা আবুল কালাম আজাদ ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন কোনো সম্পর্ক নেই। মা আরজু আক্তার খাদিজা আমাদের বড় করেছেন। মা এখন জর্ডানে থাকেন। আমার থার্ড সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা চলছে দিতে পারছি না। পড়াশোনায়ও অনেক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের ঠিকমতো মানুষ করার জন্য বিদেশে গেছে। সবকিছু আমার মা বহন করে। আমি আগে একটা টিউশনি করতাম সেটি বাদ দিয়েছি।
তিনি বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আমার আফসোস নেই, এর চেয়ে আরও বড় কিছু আমার হতে পারতো। মা-বোনকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। একসময় চিন্তা করতাম বিদেশ যাবো কিন্তু গত ৫ই আগস্টের পর থেকে মনে হচ্ছে দেশে থেকেই ভালো কিছু করবো। তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে হচ্ছে। মনের মধ্যে একটা দুশ্চিন্তা চলে আসে যে এই বুলেটটি শরীরে থাকলে ভবিষ্যতে বড় কোনো সমস্যা হবে কিনা। আগে একটা স্বাভাবিক শরীর নিয়ে চলাফেরা করেছি আর এখন ডিফারেন্ট। সবসময় মনে হয় আমার হিপ জয়েন্টের মধ্যে কিছু একটা আছে। আন্দোলনের শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলাম। আমার ইউনির্ভাসিটি থেকে কিছু সহযোগিতা করেছেন। তাছাড়া সমন্বয়কসহ অনেকে খোঁজখবর নিয়েছেন। তবে আর্থিকভাবে সহযোগিতা না পেলেও তারা পরামর্শ দিয়েছেন। আমি নিজেই এটা চাইনি যদি বিদেশে যেতে হয় তখন তারা আমাকে সহযোগিতাটুকু করুক। আমার বেশি কিছু চাওয়ার নেই শুধু একটু সুচিকিৎসা দরকার।

mzamin

ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে: মান্না

সবার সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিশিষ্ট আইনজীবী, রাজনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী নাগরিক ঐক্যে যোগদান উপলক্ষে’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যোগদান অনুষ্ঠানে বরিশাল, যশোর, পটুয়াখালীর বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা এবং কামরাঙ্গীরচরসহ ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠক দলটিতে যোগ দিয়েছেন। যোগদান করা নতুন নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে দলে স্বাগত জানান মাহমুদুর রহমান মান্না।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, সবার সঙ্গে কথা বলেই সংস্কার প্রস্তাবগুলো করতে হবে। আর সবার সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কার হবে। কমিশনের প্রধান নিজের মতো নিজে প্রস্তাব দিবেন, তা হবে না। সংস্কারে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হবে না তা নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সংস্কার প্রশ্নে যৌক্তিক সময় দিতে হবে। যে সময়টা লাগবে তা দিতে হবে। আমরা কী জানতাম এত বড় একটা অভ্যুত্থান হবে? আমরা জানতাম, দেড় মাস পুলিশ থাকবে না? পুলিশ সংস্কার ছাড়া কীভাবে নির্বাচন করবেন? নির্বাচন কমিশন সংস্কার মানে কী? পুরো নির্বাচন ব্যবস্থারই সংস্কার। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সময় দিতে হবে। তবে নির্বাচন আয়োজন ও সংস্কারের জন্য এই সরকারকে যৌক্তিক সময়ের বেশি নেবেন না। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধান উপদেষ্টা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন দিয়ে চলে যাবেন। অন্যদের মতো ক্ষমতা আঁকড়ে রাখবেন না।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হলে দেশও ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগণ পরিবর্তন আশা করলেও কাক্সিক্ষত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। গায়ের জোরে গুন্ডামি করে রাজনীতি হয় না, এটাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা। জনগণের রায়ের সঙ্গে যদি না যান, তাহলে কোনও আপস নয়। চাঁদাবাজি, দখলবাজি যারা শুরু করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেই হবে। বানানো মামলা দেয়া শুরু হয়ে গেছে, এগুলো বন্ধ করতে হবে।

মান্না বলেন, এখনো জিনিসপত্রের দাম কমেনি। সিন্ডিকেট কী এখনো আছে? সমন্বয়করাও সরকারকে দ্রব্যমূল্য নিয়ে প্রশ্ন করছে। এখনও কেন দাম কমছে না?
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জিল্লুর আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

mzamin

পিরোজপুরে প্রাইভেটকার খাদে: দুই পরিবারে নিহত ৮ সদস্য

পিরোজপুরে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খালে পড়ে নারী ও শিশুসহ দুই পরিবারের আটজন নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত তিনটার দিকে পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়কের কদমতলার নুরানী গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আটজনের মধ্যে পিরোজপুরের নাজিরপুরের একই পরিবারের চারজন ও শেরপুরের একই পরিবারের চারজন রয়েছেন।  নিহতরা হলেন, শাওন মৃধা (৩২) ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম (২৫), ছেলে আবদুল্লাহ (৩) ও শাহাদাৎ (১০)।

তাদের বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হোগলাবুনিয়া এলাকায়। এ ছাড়া নিহত অপর পরিবারের চারজন হলেন, মোতালেব (৪৫) ও তার স্ত্রী সাবিনা আক্তার (৩০), মেয়ে মুক্তা (১২) এবং ছেলে সোয়াইব (২)। তাদের বাড়ি শেরপুর জেলার খোলআচার পাড়ায়। রাতে প্রাইভেটকারে তারা পিরোজপুর শহর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন।

নিহত শাওনের খালাতো ভাই মুরাদ জানান, ছুটি কাটাতে শাওন ও তার বন্ধু পরিবার নিয়ে কুয়াকাটা গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গ্রামের বাড়ি নাজিরপুরের হোগলাবুনিয়া ফেরার পথে প্রাইভেটকারটি খালে পড়ে যায়। স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

জেলা হাসপাতালের আরএমও বলেন, প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ৮ জনকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

সদর থানার ওসি আব্দুস সোবাহান বলেন, খবর পেয়েই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেরপুরে শোকের মাতম
শেরপুর প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুরে প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে শেরপুরের একই পরিবারের ৪ জন ছিলেন। তাদের মৃত্যুতে ওই পরিবারসহ গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। নিহতরা হলেন- সেনাবাহিনীর বেসামরিক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের ভীমগঞ্জ রঘুনাথপুর গ্রামের নাজির উদ্দিনের ছেলে মো. মোতালেব হোসেন (৩৮), তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩০), মেয়ে মুক্তা (১২) ও ছেলে  সোয়াইব (৪)। জানা যায়, মোতালেব হোসেন সেনাবাহিনীতে চাকরির সুবাদে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন। দু’দিন আগে তিনি ও তার বন্ধু শাওন তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কুয়াকাটা বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনা ঘটে।

সরজমিন দেখা যায়, বাড়ির উঠানে বসে আহাজারি করছেন মোতালেবের বৃদ্ধ বাবা-মা ও একমাত্র বোন। তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন অন্য স্বজনরা। নিহতদের লাশ আনতে স্বজনরা গতকাল ভোরে পিরোজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। বাড়িতে নিহতদের ছবি নিয়েই আহাজারি করছেন বৃদ্ধ বাবা-মা ও বোনসহ স্বজনরা। স্থানীয়রা জানান, হতদরিদ্র নাজির উদ্দিনের (৮০) দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে মোতালেব ছোট। আগে আউটসোর্সিংয়ের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে ছিলেন তিনি। ৩ বছর আগে তার চাকরি সরকারি হয়। সামান্য বসতভিটার জমি ছাড়া তাদের আর কোনো সহায় সম্পত্তি নেই। মোতালেব সংসারের খরচ চালাতো। তার স্ত্রী-সন্তানসহ মৃত্যু হওয়ায় এখন পরিবারের খরচ চালানোই দায় হয়ে যাবে পরিবারটির। এখন মোতালেবের বৃদ্ধ বাবা-মাকে কে দেখবে তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‘শাওনের জন্য মাছ, মুরগি ও করলা ভাজি করে রেখেছি’
নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি জানান, নিহতদের মধ্যে চারজনের বাড়ি জেলার নাজিরপুর উপজেলার হোগলাবুনিয়া গ্রামে। এর মধ্যে নিহত শাওন মৃধা উপজেলার হোগলাবুনিয়া গ্রামের মৃত আসাদুজ্জামান মৃধার ছেলে। তারা পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করেন। শাওন ও তার বন্ধুর প?রিবারসহ কুয়াকাটা ভ্রমণ শেষে মামা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার মামাতো বোন রিমা আক্তার জানান, শাওন তাকে সন্ধ্যায় ফোন করে কুয়াকাটা থেকে আমাদের বাড়িতে আসার কথা বলে। তখন তার সঙ্গে ভাবী ও ভাইয়ার বন্ধুসহ ৮ জনের খাবার রান্না করার কথা বলে। আমরা খাবার রান্না করে রাত আড়াইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করি। আমার সঙ্গে তাদের রাত ১টায় কথা হয়। এরপর আর কথা হয়নি। সকালে ঢাকা থেকে বড় ভাই ফোন করে তাদের নিহতের কথা জানান। ছোট মামি রেবা জানান, শাওনের জন্য রুই মাছ, দেশি মুরগি ও করলা ভাজি করে রেখেছি। কিন্তু সকালে শুনতে পারি তার মৃত্যুর কথা। 

mzamin

সাবেক এমপি হাবিব ও তার পুত্রের সম্পদের পাহাড় by প্রতীক ওমর

হাবিবর রহমান। বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য। সরকারের নানা প্রকল্পে কাজ না করেই টাকা তুলেছেন টানা ১৫ বছর। ক্রমেই টাকার পাহাড় গড়ে তোলেন। এলাকার মানুষের চোখের সামনে রাষ্ট্রের টাকা, জনগণের টাকায় নিজের সম্পদ গড়ে তুললেন অথচ কেউ কোনো কথা বলার সাহস পায়নি। কথা বললেই মিথ্যে মামলায় জীবন ধ্বংস করে দিতো। হাবিব ও তার ছেলে আসিফ ইকবাল সনির দাপটে শেরপুর-ধুনটের কেউ কোনোকিছু করার সাহস পেতো না। হাবিব এক সময় পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন। পরে সংসদ সদস্য (এমপি) হন। গত ১৫ বছরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নামে-বেনামে হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন হাবিব। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। আর শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দুদকের। ২০০৯ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর রাতারাতি কোটিপতি বনে যান তিনি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংসদ সদস্য হওয়ার পর ছেলে আসিফ ইকবালকে সঙ্গে নিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েন হাবিবর রহমান। ধুনটে জালশুকায় আদি বাড়ির পাশে ৭০ বিঘা বিল-বাইশা দখল করে তার সঙ্গে দেড়শ’ বিঘা জমি নিয়ে গড়ে তোলেন বাবু পার্ক সিটি। এ ছাড়া, ধুনট শহরে ২১ শতাংশ জায়গার ওপর বাণিজ্যিক ভবন, শেরপুরের ছনকায় ৫০ বিঘা জমির আসিফ ব্রিক ফিল্ড, শেরপুর শহরের দুবলাগাড়িতে ৩০ বিঘার উপর নির্মাণ করেছেন বাগানবাড়ি ও হিমাগার। অভিযোগ উঠেছে, শত কোটি টাকার সম্পদের বাইরেও তার আছে দেশ-বিদেশে আরও হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ। এসব সম্পদের উৎস তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয়দের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বগুড়ার কথিত এক সাংবাদিক ছিলেন হাবিবের অবৈধ টাকা আয়ের আদায়কারী। বিভিন্ন দপ্তর থেকে নানাভাবে ওই সাংবাদিকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতো বাপ ও ছেলে। আদায়কৃত ঘুষের টাকার একটা অংশ পেতেন ওই কথিত সাংবাদিক। একটি টেলিভিশনের লোগো হাতে থাকতো ওই সাংবাদিকের। ফলে দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করা সহজ হতো। প্রতিমাসেই আদায় হতো কোটি টাকার উপরে। কথিত ওই সাংবাদিক ২০১৮ সালে তার স্ত্রীর বড় ভাইকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে ধুনটে বদলি করে এনে বসান। ধুনটের চর এবং প্রত্যন্ত এলকায় কাজ করার নামে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ এনে লুট করে নিয়েছে ২০১৮ সাল থেকে শুরু করে ৫ই আগস্টের আগ পর্যন্ত। ওই কর্মকর্তা এখন বহাল তবিয়তে আছেন। ২০১৮ সালের আগেও ওই দপ্তর থেকে টাকা হরিলুটের সঙ্গে জড়িত ছিল হাবিব এমপির খাস লোক ওই সাংবাদিক। তার হাত দিয়েই সেই টাকার মোটা অংশ চলে যেতো এমপি এবং তার ছেলের ড্রয়ারে। অনুসন্ধানে তাদের দুর্নীতির আরও তথ্য বেরিয়ে আসছে। হাবিব ২০০৯ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ধুনটের দশ ইউনিয়নে লক্ষাধিক বড় গাছ কেটে নিয়েছেন। ওই গাছগুলো বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনবসতি রক্ষার জন্য লাগনো হয়েছিল। ওই গাছগুলো কাটার পর ধুনটে বন্যা নিয়ন্ত্রণ নাগালের বাইরে চলে গেছে।
এমপিপুত্র সনি বেশির ভাগ সময় মাদকাসক্ত অবস্থায় থাকতো। একবার ধুনটে মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে রাস্তার পাশে একটি বাড়ির ভিতরে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। ওই ঘটনা বেশ আলোচিত হয়েছিল। পরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মীমাংসা করেছেন।
বগুড়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাবেক এমপি হাবিবের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে ঢাকা থেকে তদন্ত হচ্ছে। বড় বিষয় বিধায় আমাদের অফিসের কিছু করার নেই।
এদিকে ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে পরিবারসহ আত্মগোপনে অভিযুক্ত হাবিবর রহমান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও নিহতের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। মামলা হয়েছে ধুনটের আলোচিত জ্যোতি হত্যার ঘটনাতেও। বিএনপি’র সাবেক এমপি গোলাম মো. সিরাজকে হত্যাচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও বাপ-বেটার নামে সম্প্রতি মামলা হয়েছে।

mzamin

রিসেট বাটনে চাপ দেয়ার ব্যাখ্যা দিলো প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রিসেট বাটনে চাপ দেয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছে তার প্রেস উইং। গতকাল এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘রিসেট বাটন’ চাপ দেয়া কথাটি উল্লেখ করে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতি- যা বাংলাদেশের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে, অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে এবং কোটি মানুষের ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার হরণ করেছে, তা থেকে বের হয়ে এসে নতুনভাবে শুরু করার কথা বুঝিয়েছেন। তিনি কখনো বাংলাদেশের গর্বিত ইতিহাস মুছে ফেলার কথা বলেননি। এতে বলা হয়, সম্প্রতি ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের নতুন করে যাত্রা শুরু করা প্রসঙ্গে  ‘রিসেট বাটন’ শব্দের ব্যবহার করেন। এরপর কোনো কোনো মহল থেকে এ শব্দের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, কেউ যখন কোনো ডিভাইসে রিসেট বোতাম চাপেন, তখন তিনি নতুন করে ডিভাইসটি চালু করতে সফটওয়্যার সেট করেন। এতে হার্ডওয়্যার পরিবর্তন হয় না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের হার্ডওয়্যার। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত ৮ই আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতে ঢাকায় আসার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে জনগণ নেতৃত্ব দিয়েছে। এটি আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। প্রথম স্বাধীনতা ১৯৭১ সালে দেশের গৌরবময় স্বাধীনতা যুদ্ধ। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে প্রফেসর ইউনূস মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটির এসিসট্যান্ট প্রফেসর ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই তিনি বাংলাদেশ সিটিজেনস কমিটি গঠন করেন এবং বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন সরকারকে রাজি করানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী প্রচারণা শুরু করেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা সম্পর্কে বিশ্বকে অবহিত করার জন্য তিনি বাংলাদেশ নিউজলেটার প্রকাশ করেন।
mzamin

নিত্যপণ্যে নাভিশ্বাস দাম কমবে কবে? by মো. আল-আমিন

চাল, তেল, চিনি, ডিম, আলু, মাংস, সবজিসহ নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে মানুষকে স্বস্তি দেয়ার উপায় হিসেবে কয়েকটি পণ্যের শুল্ক ছাড় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় এক মাস পর গত ৫ই সেপ্টেম্বর প্রথমে আলু ও পিয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পণ্য দু’টির শুল্ক ছাড় দেয় সরকার। আলু আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে প্রযোজ্য ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে পিয়াজের ওপর প্রযোজ্য ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হয়। অথচ সেপ্টেম্বরে এসব পণ্যের দাম না কমে উল্টো আরও বেড়ে যায়। ৫ই সেপ্টেম্বরের আগে বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম ছিল ১০৫ থেকে ১২০ টাকা। শুল্ক কমানোর পর পিয়াজের দাম হয় ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অন্যদিকে শুল্ক ছাড়ের পর আলুর দামও কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। ফলে সরকার শুল্ক কমালেও তার সুফল ভোক্তার ভাগ্যে না জুটলেও ব্যবসায়ীরা তার সুফল তুলে নিয়েছে।

এদিকে একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ায় নাভিশ্বাস অবস্থা সাধারণ ক্রেতার। সম্প্রতি কাঁচা পণ্যের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় বাজারে মানুষের ভোগান্তি নতুন করে বাড়িয়েছে। বন্যা ও বৃষ্টির অজুহাতে শাক-সবজির দাম বেড়েছে অনেক। এ ছাড়া ডিমের বাজারেও চলছে তুঘলকি কারবার। এখন আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমদানি শুল্ক কমানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ওদিকে চিনির দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে আমদানি পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক অর্ধেক কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, অপরিশোধিত ও পরিশোধিত উভয় প্রকার চিনি আমদানির ওপর বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। তাই এবার প্রশ্ন উঠেছে, শুল্ক কমানোর সুফল ভোক্তার ভাগ্যে জুটবে কি-না। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার যদি শুল্ক কমিয়ে এবং দাম নির্ধারণ করেই হাত গুটিয়ে বসে থাকে তাহলে এর সুফল ভোক্তারা এবারো পাবেন না। এজন্য বাজার তদারকি করতে হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটা না করা গেলে এবারো ব্যবসায়ীরাই সুফল তুলে নেবে।  

এর আগেও শুল্ক কমার সুফল পায়নি ভোক্তারা: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চিনি, চাল, তেল ও খেজুরের শুল্ক কমিয়েছিল সরকার। কিন্তু তখন বাজারে এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। উল্টো দফায় দফায় এসব পণ্যের দাম বাড়তে দেখা গেছে। শুল্ক কমানোর পর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭০ থেকে ১৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। আর খোলা চিনির কেজি ১৪০ থেকে ১৪৫ এবং প্যাকেটজাত চিনি ১৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। এ ছাড়া সাধারণ মানের খেজুর বিক্রি হচ্ছিল ২৫০ থেকে ৮৫০ টাকা। অন্যদিকে শুল্ক কমানোর আগে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম একই ছিল। তবে কম ছিল চিনির দাম। শুল্ক কমার আগে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। আর প্রতি কেজি সাধারণ মানের খেজুরের দাম ছিল ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। এদিকে গত বছরের অক্টোবরেও অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে শুল্ক ৩ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করেছিল সরকার। আর পরিশোধিত চিনির শুল্ক ৬ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার টাকা করেছিল। সরকার তখন প্রতি কেজি খোলা চিনির মূল্য নির্ধারণ করে দেয় ১৩০ টাকা, আর প্যাকেটজাত চিনি ১৩৫ টাকা। অথচ শুল্ক কমানোর পর তখন কেজি প্রতি চিনির দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা হয়ে যায়। এর আগে সয়াবিন তেল ও পাম অয়েলেরও শুল্ক কমানো হয়। আগের বছর সয়াবিন ও পাম অয়েল স্থানীয় উৎপাদন পর্যায় এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করেছিল সরকার। এ ছাড়া আমদানি পর্যায়ে শুল্ক ১৫ থেকে ১০ শতাংশ কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। সব মিলিয়ে ভোজ্য তেলে ৩০ শতাংশ শুল্ক কমানো হয়েছিল। ফলে ভোক্তার মনে আশা জেগেছিল ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমবে। কিন্তু ৩০ শতাংশ শুল্ক কমানোর পরও লিটারে সয়াবিন তেলের দাম কমানো হয় মাত্র ৮ টাকা। ফলে শুল্ক কমানোর সুফল কখনোই পাচ্ছেন না ভোক্তারা।

এবার কী বাজারে শুল্ক ছাড়ের প্রভাব পড়বে: এবারো শুল্ক ছাড়ের সুবিধা ভোক্তারা পাবেন না বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সরকার পরিবর্তন হলেও আমলারা তাদের জায়গায় ঠিকই বসে আছেন। তারা আগের সরকারের আমলেও নানাভাবে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়েছেন এবং নিজেরাও সুবিধা নিয়েছেন। ভোক্তাদের কথা তারা কখনোই চিন্তা করে না। ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে গত মাসে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেশি করে নির্ধারণ করা হয় বলেও জানান বিশ্লেষকরা। এ বিষয়ে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন মানবজমিনকে বলেন, সরকার যদি শুল্ক কমিয়ে এবং দাম নির্ধারণ করেই বসে থাকে তাহলে এর সুফল ভোক্তারা এবারো পাবে না। প্রতিবারের মতো ব্যবসায়ীরাই লাভবান হবে। ২৯টি পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হলেও তার প্রভাব বাজারে দেখতে পারছি না। তিনি বলেন, শুল্ক কমার সুফল ভোক্তারা তখনই পাবেন, যখন সরকার মনে করবে তাদের দায়িত্ব শুধু শুল্ক কমানো আর দাম নির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। তাদের দায়িত্ব নিয়মিত বাজার তদারকি করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা। এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও আগে থেকে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়ে আসা আমলারা এখনো রয়ে গেছে। তারাও ব্যবসায়ীদের থেকে অনেক সুবিধা নিয়ে আসছে। সেহেতু আমলারা আগের জায়গা থেকে সরে আসতে পারছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ট্যারিফ কমিশন ব্যবসায়ীদের পক্ষে কাজ করে জিনিসের দাম বাড়িয়ে থাকে। প্রতিযোগিতা কমিশন নামে থাকলেও কাজে নেই। এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও ঠিকঠাক কাজ করতে পারছে না। এজন্য আগের মতোই নিয়ন্ত্রণহীন বাজার। 

mzamin

এলো ফারিণের ‘চক্র’

২০০৭ সালের ১১ই জুলাই ময়মনসিংহ পৌরসভার কাশর এলাকার ইটখলায় রেললাইনে এক পরিবারের ৯ জন ট্রেনের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করে। যে ঘটনায় গোটা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সেই পরিবারের সুইসাইডের ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিরিজ নির্মাণ করেছেন ভিকি জাহেদ। এর নাম ‘চক্র’, যা গতকাল মুক্তি পেয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফরম আইস্ক্রিনে। তবে সে রহস্যজনক ঘটনাকে পর্দায় আনার ঘোষণা দেন ভিকি জাহেদ তাও কয়েক বছর আগে। প্রস্তুতি নিয়ে শুটিংয়ে নেমেও বারবার পড়তে হয়েছে বাধার মুখে। নির্মাণ শেষে আবার বাধা সাবেক সেন্সর বোর্ডের। এসব পেরিয়ে অবশেষে মুক্তি পেয়েছে ‘চক্র’। এর অন্যতম চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ। এমন একটি রহস্যজনক ও সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে কাজ করতে পেরে আনন্দিত ফারিণ। রয়েছেন দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায়। এ অভিনেত্রী বলেন, ‘চক্র’ দারুণ একটি কাজ। এমন গল্পে কাজ করে তৃপ্তি আছে। আমরা সবাই তৃপ্তি নিয়েই কাজটি করেছি। তাছাড়া বাস্তব ঘটনার ছায়ায় কাজ করার অনুভূতি অন্যরকম। আমরা যখন শুটিং করেছি তখন সেই ভয়ানক অনুভূতিও হচ্ছিল আমাদের সবার মাঝে। আমার বিশ্বাস কাজটি ভালো লাগবে সবার। এদিকে ফারিণ ছাড়াও অন্যতম একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব। সিরিজটির নির্মাতা ভিকি জাহেদ বলেন, এটা সরাসরি আদম পরিবারের গল্প না। বলতে পারেন, তাদের মতোই হতভাগা আরেকটি পরিবারের গল্প। ঘটনাগুলো কেন ঘটেছিল সেই বিষয়টি অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছি। একটার পর একটা বাধা পাচ্ছিলাম, কোনো না কোনো সমস্যা হচ্ছিলই। এরপর নানা ধাপে যখন কাজটা শেষ করলাম, এরপর সেটাকে আটকে দেয় সেন্সর বোর্ড। যেহেতু খুব সেনসিটিভ একটা বিষয় নিয়ে সিরিজের গল্প, সেহেতু আমরা চেয়েছিলাম সেন্সর প্রসেসের মধ্য দিয়ে যেতে। এরপর তারা কিছু কারেকশন দিলেও পরে সেটি আটকে দেয়। অবশেষে অনেক দিন পর কাজটি এলো।
mzamin

অভিযোগ নাকি অজুহাত by ইশতিয়াক পারভেজ

টেস্ট, টি-টোয়েন্টি দুইটিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ হার! এই পরাজয়ে বের হয়ে এসেছে টাইগারদের ব্যাটিং ব্যর্থতার কঙ্কাল। যুগ পেরিয়ে গেলেও এই দুই ফরম্যাটে বাংলাদেশ এখনো খুঁজে পায়নি পায়ের তলায় মাটি। মাঝে মধ্যে জয় যেন স্বস্তি হয়ে আসে আবার তা মিলিয়ে যায় হারের বৃত্তে। ২০০০-এ টেস্ট অভিষেক আর ২০০৭ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ এখনো কেন ব্যাটিংয়ে ধুঁকছে! দলের সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অন্যতম সেরা পেসার তাসকিন আহমেদের কন্ঠে এখন একই অভিযোগ। তারা একই সুরে জানিয়েছেন, এই ব্যর্থতার নেপথ্যে দেশের উইকেট এবং ব্যাটারদের স্কিলে ঘাটতি। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দাবি উইকেটে পরিবর্তন এসেছে। আর স্কিলের জন্য তো নামিদামি কোচও দলের সঙ্গে থাকেন। তাহলে ক্রিকেটারদের অভিযোগ কি শুধুই অজুহাত? দলের ক্রমাগত ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘ওরা (ভারত) বিশ্বের সেরা দল। ওরা আমাদের চেয়ে অভিজ্ঞ। ওদের কন্ডিশনে তো ওরা ভালোই। উইকেট পড়লেও ওরা আমাদের বোলারদের বিপক্ষে চড়াও হয়েছে। বড় স্কোর হাওয়ায় মারতে গিয়ে আমরা দ্রুত উইকেট হারিয়েছি, ছন্দ হারিয়েছি। ওদের মতো শুয়ে-বসে খেলতে গেলে আমাদের দেশে হয়তো বল মুখে লাগবে। ওরা ছোট থেকেই ভালো উইকেটে খেলে এভাবে খেলার অভ্যাস করেছে। আমাদের স্কিলেও সে কারণেই বড় সমস্যা।’

হ্যাঁ, ভালো উইকেটের কথা বলতে গিয়ে প্রশ্ন তুলতে হয় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম নিয়ে। সেখানে যে উইকেট তাতে করে ১৩০ থেকে ১৫০ করেই যে কোনো দলকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। হাতে গোনা ম্যাচেই দেখা মিলে ২’শ বা তার কাছাকাছি রানের। এমনকি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) মতো গ্ল্যামারাস আসরগুলোও মিরপুর কেন্দ্রিক। যেই মিরপুরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ সেখানকার উইকেটই সবচেয়ে বেশি সমালোচিত। এই মাঠে রান তুলতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয় ব্যাটারদের। আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ রান এখন ডাল-ভাত। অথচ মিরপুরে দুইশোর্ধ্ব রানের ইনিংস দেখতে পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার! এ নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘এটা অবশ্যই একটা ব্যাপার। আইপিএলে বেশির ভাগ ম্যাচই হাই-স্কোরিং হয়। ওরা জানে কিভাবে হাই-স্কোরিং রান তাড়া করতে হয়, হাই-স্কোর কিভাবে করতে হয়। ওদের কাছে ১৮০-২০০ রান খুবই স্বাভাবিক। আমাদের জন্য যেটা ঘরের মাঠে ১৩০, ১৪০, ১৫০ রান। সুতরাং আমাদের এই অভ্যাসটা কিন্তু খুবই কম, এটা বাস্তবতা। এই জন্যই আইপিএলের সঙ্গে বিপিএলেরও একটা বড় পার্থক্য।’ নিজের অবসর ঘোষণার দিনে দলের সাবেক অধিনায়ক ও সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও একই কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, ২০০৭ এ যেখান থেকে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি শুরু করেছে সেখান থেকে এতো দিনে খুব বেশি এগোতে পারেনি দল। তিনি বলেছেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরে টি-টোয়েন্টি খেলছি। কিন্তু আমি বলবো যতটা উন্নতি করার কথা ছিল সেটা হয়নি। এই জন্য উইকেট দায়ী, আর আমাদের ব্যাটারদের স্কিলে সমস্যা তো আছেই। তবে এককভাবে ক্রিকেটারদের বা টিম ম্যানেজম্যান্টের দোষ দিয়ে লাভ নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকেও (বিসিবি) এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।’ অন্যদিকে অধিনায়ক শান্ত বলেছেন, ‘আমরা যে উইকেটে খেলি সেখানে কিভাবে ১৮০ রান করতে হয় তাই আমাদের জানা নেই অনেকের। এখানে উইকেট পরিবর্তন করা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের স্কিলেও সমস্যা আছে। সেটি নিয়েও কাজ করতে হবে।’ প্রায় প্রতিটি সিরিজ হারের পরই দেশের উইকেট নিয়ে হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। কিন্তু তাতে কী! দুই যুগ পার হলেও পরিবর্তন আসেনি। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের অভিযোগ এ নিয়ে আসলে কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। যে কারণে কথাই চলছে শুধু!

অন্যদিকে এই উইকেটে বেহালদশার জন্য যাকে সবসময় দায়ী করা হয় সেই কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা আছেন বহালতবিয়তে। তাকে বদলালেই মিরপুরের উইকেট ভালো হবে কিনা তা নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘হতেও পারে তাকে বদলালে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু এটা তো আমাদের হাতে নেই। আমরা বিসিবিকে জানিয়েছি। তারা সেটি নিয়ে ব্যবস্থা করবে। উইকেট বানানো তো আর আমাদের হাতে নেই। আমাদের কাজ শুধু খেলা।’
দিল্লিতে ভারতের ২২১/৯ স্কোরের জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৩৫/৯-এ।
ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ হেরেছে টানা দুই ম্যাচ। দিল্লি জয়ের যে একমাত্র সুখস্মৃতি ছিল সবশেষ হারে সেটিও হয়েছে মলিন। গতকাল বিকালে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি খেলতে হায়দরাবাদ পৌঁছেছে দল। শেষ ম্যাচে হারলেই হোয়াইটওয়াশ। তবে অধিনায়ক শান্ত বলেছেন, ‘আমরা বারবার একই ভুল করছি, যেটা দল হিসেবে ইতিবাচক কিছু নয়। আমাদের উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে। আর যদি টস জিতে বোলিং নেওয়ার কথা বলেন, তাহলে বলবো সেটা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত ছিল। আমরা প্রথম ৬-৭ ওভারে ভালো বোলিং করেছি। তবে, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছি। এরপর তারা (ভারত) ভালো ব্যাটিং করেছে। তবে নিজের ওপর ভরসা রাখাটা জরুরি। আপনি যদি দেখেন ৬-৭ ওভারের পর কিন্তু আমরা নিজেদের পরিকল্পনা সেভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। যেটা ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়।’

mzamin