Wednesday, September 16, 2026

‘দর্শক আবার ধারাবাহিক নিয়ে কথা বলছে’

প্রকাশ ২৭ নভেম্বর ২০২৫ঃ দীর্ঘ তিন বছর পর আবার ধারাবাহিক নাটকে ফিরলেন খায়রুল বাসার। নাটকটির নাম এটা আমাদেরই গল্প। শুরুতেই মিলেছে সাড়া। বাসার বলছেন, ‘প্রথম পর্ব প্রচারের পর থেকেই দর্শকদের দারুণ সাড়া পাচ্ছি। ভিউ হচ্ছে কয়েক মিলিয়ন। ধারাবাহিক নাটকে এটা খুব কমই দেখা যায়। পরের পর্ব কবে আসবে, সেটাও মানুষ জানতে চাইছে। এখন দর্শকদের কাছে আমি যেন পরিবারের ছোট ছেলে।’এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকটির সাতটি পর্ব প্রচারিত হয়েছে।

বাসার বলেন, ‘একসময় পাড়া–মহল্লা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতেও ধারাবাহিক নাটক নিয়ে আলোচনা হতো। আমি যখন অভিনয় শুরু করি, তখনো ধারাবাহিকের আলাদা গুরুত্ব ছিল।’

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই জায়গা কমে গেছে মনে করেন তিনি। বাসারের ভাষায়, ‘এখন মনে হয় ধারাবাহিক নাটকগুলো অনেকটা প্রাণ হারাচ্ছে।’ ভালো গল্প ছাড়া ধারাবাহিকে নাম লেখাতে চাননি তিনি। ‘ধারাবাহিক যদি দর্শক ধরে রাখতে না পারে, তাহলে সেটাকে ভালো সিদ্ধান্ত বলা যায় না।’ সে কারণেই ভালো গল্পের অপেক্ষায় ছিলেন।

ধারাবাহিকে নিয়মিত অভিনয়ে অনীহার আরেকটা কারণও বললেন এই অভিনেতা, ‘এখন একক নাটকই বেশি হচ্ছে। শিডিউল দিয়ে অনেক সময় কুলিয়ে উঠতে পারি না। ধারাবাহিক মানে দীর্ঘ সময় ধরে এনগেজ থাকা। সেখানে খণ্ডনাটকের শুটিং দু-চার দিনের মধ্যেই শেষ।’

বছরের মাঝামাঝি পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ তাঁকে একটি পারিবারিক গল্পের প্রস্তাব দেন। সেখানে পরিবারের ছোট ছেলের চরিত্র। গল্প শুনেই রাজি হন বাসার। তিনি বলেন, ‘চরিত্রটা আমার খুব ভালো লেগেছে। ছোট ছেলে মানেই একটু আদুরে। আবার তার ভেতরে বাউন্ডুলে স্বভাবও আছে।’ চরিত্রটি জীবনে কিছু করতে চায় না, আবার টাকা ছাড়াই উদ্যোক্তা হতে চায়—এটাই তাকে আলাদা করে বলে জানান বাসার।

নিজেও গল্পটি উপভোগ করছেন খায়রুল বাসার, ‘আমি ভুল সিদ্ধান্ত নিইনি। দর্শক বলছে, এটা সত্যিই আমাদের গল্প। আমার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রশংসা পাচ্ছি। সবচেয়ে ভালো লাগছে, দর্শক আবার ধারাবাহিক নাটক নিয়ে কথা বলছে।’

অনুরোধের চাপে এরই মধ্যে বাসারকে আরেকটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করতে হয়েছে। তিনি জানান, পারিবারিক গল্পের ধারাবাহিক টানাপোড়েন আগামী বছর প্রচারের সম্ভাবনা রয়েছে। বিস্তারিত আপাতত জানাতে চান না তিনি। টানাপোড়েন পরিচালনা করেছেন বাপ্পী খান।

খায়রুল বাসার। ছবি: ফেসবুক থেকে
খায়রুল বাসার। ছবি: ফেসবুক থেকে

পশ্চিমবঙ্গে ইসলামি অভিবাদন জানানোর জেরে বিতর্ক, নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে বদলি

একটি ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশা আল্লাহ’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’র মতো ইসলামি অভিবাদন ও শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে হিন্দুত্ববাদীদের তোপের মুখে পড়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এক নারী আইপিএস কর্মকর্তা। এ ঘটনার পরপরই তাঁকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এমন পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা এবং সাবেক আমলারা।

ভুক্তভোগী ওই কর্মকর্তার নাম বুশরা বানো। তিনি ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসের (আইপিএস) কর্মকর্তা। এর আগে তিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। পরে সুবিধাজনক চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে এসে দুইবার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি) পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হন। সম্প্রতি তিনি খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (এএসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় একটি ভিডিও চিত্রকে কেন্দ্র করে। সেখানে বুশরা বানোর ইসলামি শব্দগুচ্ছ ব্যবহারের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন হ্যান্ডল থেকে তাঁর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ তোলা হয়, তিনি বন্দে মাতরম বা জয় হিন্দের মতো আনুষ্ঠানিক জাতীয় স্লোগান ব্যবহার করেননি। এরপর ভারতের বিতর্কিত সম্প্রচারমাধ্যম ‘সুদর্শন নিউজ’ পুরো ঘটনাকে ‘ইউপিএসসি জিহাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রচার শুরু করে। পাশাপাশি হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড নামের একটি সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে। অভিযোগ জমা পড়ার পরদিনই সোমবার বুশরা বানোকে খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদ থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের (এসএপি) ডেপুটি কমান্ড্যান্ট হিসেবে বদলি করা হয়।

প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একদিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে ব্রিকস সম্মেলনে প্রার্থনাকক্ষ তৈরি করা হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের ভেতরে ‘গোদি মিডিয়া’র ছড়ানো বিদ্বেষের শিকার হয়ে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘জাজাকাল্লাহ’ বলার অপরাধে একজন মুসলিম নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি এ ঘটনায় ভারতের আইপিএস অ্যাসোসিয়েশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্বেষ ছড়ানোর ইতিহাস থাকা একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন ট্রলিংয়ের শিকার হলেন একজন নারী কর্মকর্তা। অথচ রাজ্য সরকার ওই অফিসারের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো তাঁকে বদলি করে দিল। তিনি উত্তর প্রদেশের পুলিশ কর্মকর্তা অনুজ চৌধুরীর প্রসঙ্গ টেনে আনেন; যিনি ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় হাতে গদা নিয়ে রথযাত্রায় অংশ নেওয়ার পরেও শাস্তি না পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।

ভারতের সাবেক আমলা আশিস জোশী বিষয়টিকে দেশটির ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের চেতনার’ পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, যিনি সৌদি আরবের চাকরি ছেড়ে এসে দু-দুবার ইউপিএসসি পাস করে দেশের সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন, তাঁর ব্যবহৃত শব্দগুলো কেবলই ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অংশ। এটি কোনোভাবেই দেশকে রক্ষা করার মানসিকতাকে খাটো করে না। ভারতের মতো বিশাল ও বৈচিত্র্যময় দেশে এই বহুত্ববাদ দুর্বলতা নয়; বরং গর্বের প্রতীক।

পশ্চিমবঙ্গের আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানো
পশ্চিমবঙ্গের আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানো। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া