Thursday, April 5, 2018

কাতারে সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করে ডিক্রি জারি

কাতারে প্রত্যেক পুরুষ নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটির আমির শেইখ তামিম বিন হামাদ আলে সানি এক ডিক্রি জারি করে বলেছেন, ১৮ বছর পূর্ণ হলে অথবা কলেজ জীবন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যেক ছেলে সন্তানকে সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠাতে হবে।
আমিরের নির্দেশে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের মেয়াদ হবে এক বছর। এর মধ্যে চার মাস সরাসরি সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং বাকি আট মাস যেকোনো একটি সরকারি অফিসে কাজ করতে হবে।
কাতারের বিরুদ্ধে নানা ধরণের হুমকি বেড়ে যাওয়ায় এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমিরের নির্দেশে বলা হয়েছে, যারা সামরিক প্রশিক্ষণ নেবে না তারা সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পাবে না।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক পুরুষ নাগরিক ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত দেশের সৈনিক হিসেবে গণ্য হবে এবং যুদ্ধের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে তাকে সেখানে অংশ নিতে হবে।
বর্তমানে কাতারে ২২ লাখ লোক বাস করে। এর মধ্যে মাত্র প্রায় সাড়ে তিন লাখ অধিবাসী দেশটির নাগরিক।

চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে বছরে সর্বস্বান্ত ৬৪ লাখ মানুষ, বীমা পলিসি বাস্তবায়নের আহ্বান

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৭টি উদ্দেশ্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা...
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে দেশের ৪০ ভাগ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা হলেও ৫০ ভাগ মানুষ এখনো ভালোমানের স্বাস্থ্যসেবা পায় না। অপরদিকে, দেশে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যয় দিনকে দিন বাড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে  জানিয়েছে,  কেবলমাত্র  চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশে  প্রতিবছর ৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হচ্ছে। ১৫ শতাংশ পরিবার অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউনিভার্সেল হেলথ কভারেজ) বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর  আগে,  গত ১৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত ‘ট্র্যাকিং ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ :২০১৭ গ্লোবাল মনিটরিং প্রতিবেদনে’ বলা হয়েছে-জীবনযাত্রার মান নির্বিশেষে প্রত্যেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা পাবে। আর এ স্বাস্থ্যসেবা পেতে গিয়ে আর্থিক দীনতায় পড়তে হবে না কাউকেই। ইউএইচসির ঘোষণায় এমনটি বলা হলেও বাংলাদেশে অনেক মানুষকে আর্থিক বিপর্যয়ে পড়তে হচ্ছে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য ব্যয়ের কারণে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্ট’ (এএনএইচএ) এর তথ্যে জানা যায়, স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে জনপ্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৬৭ টাকাই রোগীর পকেট থেকে ব্যয় করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য সেবায় সরকার ব্যয় করছে জনপ্রতি ২৩ টাকা, দাতা সংস্থাগুলো ৭ টাকা ও অন্যান্য সংস্থা ৩ টাকা
এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ডক্তার ফায়েজুল হাকিম রেডিও তেহরানকে বলেন, দেশের নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সাথে চিকিতসা ব্যয় ও বেড়েছে। এখন সরকারী হাসপাতালেও রোগীদের নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সেবা কিনতে হয়। এর ফলে দরিদ্র মানুষেরা আরো দরিদ্র হয়ে পড়ছেন। এ ক্ষেত্রে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে; সরকারী হাসপাতালের ইউজার ফী বাতিল করতে হবে; বাজেট বাড়াতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুরের জেলা থেকে কোনো রোগী এসে সহজে ঢাকায় বিশেষাইত হাস্পাতালে চিকিত্সা নিতে পারেন না, কারণ আমাদের দেশে রেফারেল সিস্টেম ভালো নয়। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কার্যকর না থাকা, চিকিত্সকদের ইচ্ছামাফিক ফি-নির্ধারণ, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধের দাম বৃদ্ধি, দালালদের অপতৎপরতা-এসব বিভিন্ন কারণে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়। চিকিত্সা ব্যয় বাড়ায় অতিদরিদ্র মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেছেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারণায় ২০৩০ সালের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে ও সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুসারে নিজের পকেট থেকে চিকিৎসা ব্যয় ৩০ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে পারলে তা সহনীয় পর্যায়ে আসবে। এর জন্য বীমা পলিসি সহায়তা করতে পারে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য এবং স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন জাতীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব বলেছেন বলেন, দরিদ্ররা পয়সা দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা কিনতে গিয়ে গরিব হয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের  স্বাস্থ্য সেবার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

কুন্দুজের মাদ্রাসায় বিমান হামলা; প্রতিশোধ নেবে তালেবান

আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুন্দুজ প্রদেশের একটি মাদ্রাসায় দেশটির সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালানোর পর ‘ভয়াবহ প্রতিশোধ’ নেয়ার হুমকি দিয়েছে তালেবান। সোমবারের বিমান হামলায় শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছে।
গতকাল (বুধবার) শেষ বেলায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তালেবান বিমান হামলার কঠোর নিন্দা করে একে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি বিমান হামলার চরম প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছে।
বিমান হামলার পর প্রাথমিকভাবে আফগান সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার কথা অস্বীকার করে। আফগান সরকারও দাবি করেছে, বিমান হামলায় শুধুমাত্র তালেবান কমান্ডাররা মারা গেছে; এতে কোনো বেসামরিক ব্যক্তি হতাহত হয় নি। কিন্তু হামলার পরদিন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণির দপ্তর থেকে বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিমান হামলার বিষয়ে তদন্তের আশ্বাস দেয়া হয়।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, মাদ্রাসার ওপর বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়ে বিব্রতকর খবর তারা তদন্ত করে দেখছে। স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, মাদ্রাসাটির ওপর হেলিকপ্টার থেকে হামলা চালানো হয়। হামলার সময় মাদ্রাসাটিতে শিক্ষা-সমাপনী অনুষ্ঠান চলছিল।

পরবর্তী বৈঠকের স্বাগতিক তেহরান: যোগ দেবে তুরস্ক ও রাশিয়া

তুরস্কের রাজধানী আংকারায় বৈঠক করেন ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট
সিরিয়া ইস্যুতে পরবর্তী ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের স্বাগতিক হবে তেহরান। গতকাল তুরস্কের রাজধানী আংকারায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মধ্যে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত হয়।
তেহরানে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ বৈঠকের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয় নি তবে ত্রিপক্ষীয় সংবাদ সম্মেলনে এ বৈঠক দ্রুত অনুষ্ঠানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
গতকালের বৈঠকে তিন দেশের প্রেসিডেন্ট সিরিয়ার ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনা করেন এবং আস্তানায় সই হওয়া চুক্তি ও সোচি বৈঠকের সমঝোতা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আংকারায় ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে যে চূড়ান্ত বিবৃতি প্রকাশ করা হয় তাতে বলা হয়েছে, সিরিয়া সমস্যার কোনো সামরিক সমাধান নেই। বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ও তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের নভেম্বর মাসে রাশিয়ার সোচি শহরে সিরিয়া ইস্যুতে তিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

মধ্যপ্রদেশে ৫ হিন্দু ধর্মগুরুকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিল বিজেপি, কংগ্রেসের সমালোচনা

এই পাঁচ হিন্দু ধর্মগুরুকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিল বিজেপি
ভারতে বিজেপিশাসিত মধ্য প্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাঁচ হিন্দু ধর্মগুরুকে মন্ত্রীর মর্যাদা দেয়ায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল (বুধবার) মধ্য প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নর্মদানন্দ মহারাজ, হরিহরানন্দ মহারাজ, কম্পিউটার বাবা, ভায়ু মহারাজ এবং পণ্ডিত যোগেন্দ্র মহন্তকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাজ বব্বর সরকারি ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘বিজেপি নির্বাচনে জয়ের জন্য গেরুয়াধারীদের ব্যবহার করতে চাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশে গেরুয়াধারীকে মুখ্যমন্ত্রী করে কী হাল হয়েছে, তার থেকে ওদের শিক্ষা নেয়া উচিত।’
কংগ্রেসের বক্তব্য, মধ্য প্রদেশে তোষণের রাজনীতি করছে বিজেপি। কংগ্রেসের মুখপাত্র পঙ্কজ চতুর্বেদী বলেন, ‘এটা চটকদারি রাজনীতি ছাড়া আর কিছু নয়। মুখ্যমন্ত্রী  ভাবছেন, এ ভাবে তিনি সমস্ত পাপ ধুয়ে ফেলবেন। নর্মদা নদীর তীরে পোঁতা চারাগাছ কোথায় গেল, সেটি যেন সাধুরা তদন্ত করে দেখেন।’
কংগ্রেসের কটাক্ষ, ওই সাধুদের এবার সন্ন্যাসীর মতো ভূমিকা ও আশ্রম ত্যাগ করে এবার পারিবারিক জীবনে ফিরে আসা উচিত!
কিন্তু মধ্যপ্রদেশ বিজেপি’র মুখপাত্র রজনীশ আগরওয়ালের দাবি, সরকার নিয়ম মেনেই কাজ করছে। পাঁচ সাধু নর্মদা সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করবেন। তাই তাদের মন্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোনো রাজনীতি নেই।
বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে আচমকা ওই ঘোষণার পিছনে ধর্মীয় কারণের পাশাপাশি নর্মদা নদী নিয়ে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন দমন করাও উদ্দেশ্য বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। কারণ, সম্প্রতি যোগেন্দ্র মহন্তকে সঙ্গে নিয়ে ‘নর্মদা ঘোটালা (দুর্নীতি) রথযাত্রা’র ঘোষণা করেছিলেন কম্পিউটার বাবা। তিনি দাবি করেছিলেন, নর্মদা নদী সংরক্ষণ নিয়ে বিরাট দুর্নীতি হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তারা আন্দোলনে নামবেন। নর্মদার তীরে ৬ কোটি চারাগাছ পোঁতা নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার ডাক দিয়েছিলেন ওই সাধুরা। চারাগাছ দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং নর্মদার তীরে অবৈধ বালি খাদান বন্ধের দাবিতে ১ এপ্রিল থেকে ১৫ মে’র মধ্যে রাজ্যে প্রত্যেক জেলা থেকে ‘নর্মদা ঘোটালা রথযাত্রা’ বের করার কথা ঘোষণা করেছিলেন কম্পিউটার বাবা। ওই আন্দোলনের আহ্বায়ক ছিলেন যোগেন্দ্র মহন্ত। 
অবশেষে মন্ত্রীর মর্যাদা পেয়ে আপাতত রণভঙ্গ করেছেন সাধু বাবারা। কম্পিউটার বাবা ঘোষণা করেছেন, তিনি নর্মদা ঘোটালা রথযাত্রা বাতিল করেছেন। কারণ, নর্মদা নদী রক্ষা নিয়ে তাদের দাবি মেটানো হয়েছে। গত ৩১ মার্চ ওই পাঁচ ধর্মগুরুকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘জনজাগৃতি অভিযান সমিতি’।

রহস্যময় বৈঠক by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন রোকেয়া বেগম। তাই বাসা ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে চেয়েছিলেন অন্য কোথাও। বাসা পাল্টানোর আগেই যে সন্দেহটা তিনি করছিলেন সেটাই সত্যি হয়ে যায়। যেদিন বাসা ছাড়ার কথা ছিল সেদিনই বাসা থেকে তার ও তার ছেলে রোকনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বাসা ছাড়ার আগেই ঘাতকের ছুরি তার ও তার ছেলের জীবনটাই কেড়ে নেয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ক’দিন ধরেই আতঙ্কের মাঝে ছিলেন রোকেয়া বেগম। স্থানীয়দের তার সে আতঙ্কের কথা জানিয়েও ছিলেন। বৈঠকও হয় এ নিয়ে। সেখানেই বাসা ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয় রোকেয়া বেগমকে। সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাসার মালিক সালমান আহমদ, ওই এলাকার বাসিন্দা ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুর রহমান জামিল, খাঁপাড়া সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কমিটির সদস্য আলী হায়দারসহ স্থানীয় মুরব্বিরা।
স্থানীয় কিছু উচ্ছৃঙ্খল তরুণ বাসায় ঢুকে রোকেয়া বেগমকে মারধর করে মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর এ বৈঠক বসেছিলো। বাসায় হামলাকারী হিসেবে উঠে আসে তিন তরুণের নাম। এরা হলো- তানিম, শিপলু ও সুমন। এর মধ্যে তানিম হচ্ছে রোকেয়া বেগমের বাসার গৃহকর্মী তানিয়ার ভাই। মোবাইল চুরির অভিযোগে সপ্তাহ দুয়েক আগে তানিয়াকে বিদায় দিয়েছিলেন রোকেয়া বেগম। এর জেরেই তার বাসায় হামলা হয় বলে জানা গেছে। তানিম, শিপলু, সুমনের কিছুদিন আগেও ছাত্রদলের ক্যাডার হিসেবে পরিচয় থাকলেও এখন তারা ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে চলছে। একটি সূত্র বলছে, এদের মাথার উপর ছাতা হয়ে আছেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহমান জামিল। সে সূত্রেই আবদুর রহমান জামিল রোকেয়া বেগমের বাসায় বৈঠকে গিয়েছিলেন বলে ওই সূত্রটি বলছে।
তবে আরেকটি সূত্র বলছে তানিম, শিপলু, সুমনের মাথায় ছায়া হয়ে আছেন তাদের মতোই নব্য এক যুবলীগ নেতা। যিনি কিছুদিন আগেও স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী হিসেবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিলেন। তবে পরে নিজের সুবিধার কথা বিবেচনা করে হঠাৎই তিনি যুবলীগ নেতা বনে যান। অর্থমন্ত্রীর ছবি জুড়ে দিয়ে যুবলীগের পরিচয়ে তিনি বিভিন্ন উৎসবে-পার্বণে নগরীতে তোরণও নির্মাণ করেছেন। নতুন এ পরিচয়ে যুবলীগ নেতা জমশেদ সিরাজের সবচেয়ে বড় অবলম্বন হচ্ছেন তার বড় ভাই সিলেট নগরীর ১৯ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ সিরাজ। সিলেট নগরীর রায়নগর এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব রায় ওরফে বিকুল হত্যা মামলায়ও আলোচনায় উঠে এসেছিল এই জমসেদ সিরাজের নাম। আবদুর রহমান জামিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বারবারই বন্ধ পাওয়া যায়। তবে পুলিশ ঠিকই ইতিমধ্যে এ বিষয়ে তার সঙ্গে আলাপ সেরে নিয়েছে। গত রোববার নগরীর মিরাবাজার খাঁপাড়া মিতালি ১৫/জি বাসার ভেতর থেকে বিউটিশিয়ান রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী রবিউল ইসলাম রোকনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় রোকেয়া বেগমের শিশুকন্যা রাইসাকে। ঘটনার পর থেকেই খোঁজ মিলছে না রোকেয়া বেগমের গৃহকর্মী তানিয়ার। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নাজমুল হাসান নামের এক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রেমিককে নিয়ে খুন করে স্ত্রী, দুই মাস ধরে পরিকল্পনা

দুই মাস আগে পরিকল্পনা করা হয় হত্যার। এরপর ঘটনার দিন রাতে ভাত ও দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে। স্ত্রীর পরকীয়ায় এভাবেই বলি হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা, রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক। রথীশের স্ত্রী স্নিগ্ধার মুখে হত্যার নির্মম বর্ণনা শুনে স্তব্ধ রংপুরবাসী। পরকীয়া প্রেমিক স্নিগ্ধার  সহকর্মী কামরুল ইসলামসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিখোঁজের ৫ দিন পর মঙ্গলবার রাত ১২টায় সন্দেহের তালিকায় আসা রথীশের স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিককে র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে স্বামী অ্যাড. রথীশের হত্যার কথা স্বীকার করে। এরই ভিত্তিতে বাবুপাড়া বাসভবন থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে মোল্লাপাড়ার তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কথিত প্রেমিক কামরুল ইসলামের বড় ভাই খাদিমুল ইসলাম জাফরীর নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে গর্তে থাকা লাশ উদ্ধার করে র‌্যাব। রংপুর র‌্যাব-১৩ অধিনায়ক মেজর আরমিন রাব্বীর নেতৃত্বে মধ্য রাত থেকে ভোর পর্যন্ত র‌্যাব ওই এলাকার চারপাশ ঘিরে ফেলে। শুরু করা হয় লাশ উদ্ধারের প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে অ্যাড. বাবু সোনার লাশ উদ্ধারের খবর। গভীর রাতে ওই স্থানে ছুটে যায় রংপুরে কর্মরত বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গলিত লাশ উদ্ধারে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। লাশ উদ্ধার করে শনাক্তের জন্য সেখানে আনা হয় নিহতের ভাই সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিক সুবলকে। তিনি তার ভাইয়ের পায়ের জুতা দেখে নিশ্চিত হন যে, নিহত ব্যক্তি তার ভাই অ্যাড. রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা। আলোচিত এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের খবর পেয়ে বেলা ১১টায় র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ হেলিকপ্টারযোগে রংপুরে ছুটে আসেন। বেলা ১২টায় তিনি পাউবো সংলগ্ন র‌্যাব-১৩ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, গত ৩০শে মার্চ বিশিষ্ট আইনজীবী রংপুর বিশেষ জজ আদালতের পিপি জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও ও মাজার খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার সরকারি কৌঁসুলি, যুদ্ধাপরাধী এটিএম আজহারুল ইসলামের মামলার সাক্ষী রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, রংপুর জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি, রংপুর জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা নিখোঁজের পর থেকে র‌্যাব অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এ রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালায়। অ্যাড. রথীশ নিখোঁজের ঘটনায় ৩১শে মার্চ রংপুর কোতোয়ালি থানায় জিডি করা হয়। জিডির ভিত্তিতে র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। এর জন্য ঢাকা থেকে একটি বিশেষ দল ৫ দিন ধরে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়েছে। পরবর্তীতে অ্যাড. রথীশের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক ১লা এপ্রিল রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। পরিবারের সকল সদস্যের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তের ক্লু বের হয়ে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় বিস্তারিত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে স্নিগ্ধা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে মৃতদেহের অবস্থান সম্পর্কে র‌্যাবকে জানায়। স্নিগ্ধা ভৌমিক জানায়, পরিবারিক কলহ, সন্দেহ ও অশান্তির কারণে সে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং তাকে এ কাজে সহায়তা করে তার কথিত প্রেমিক কামরুল মাস্টার। হত্যার বিবরণ বিষয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও তার স্ত্রীর দেয়া স্বীকারোক্তি মতে, দুই মাস আগেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ২৬শে মার্চ রাতে তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বাবু সোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিকের সহকর্মী ও পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলামের নির্দেশে মাত্র তিনশ’ টাকার বিনিময়ে তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সবুজ ইসলাম ও রোকনুজ্জামান তাজহাট মোল্লাপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের খোলা রুমের বালু খুঁড়ে রাখে। কামরুল মাস্টার তাদের শিক্ষক হওয়ায় তারা এ আদেশ পালন করে। এরপর ২৯শে মার্চ রাত ১০টায় অ্যাড. বাবু সোনাকে ভাত ও দুধের সঙ্গে ১০টি ঘুমের বড়ি খাওয়ানো হয়। এরপর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে স্নিগ্ধা ও কামরুল মিলে রথীশকে হত্যা করে। হত্যার পর রাতে মৃতদেহ শয়ন কক্ষেই রেখে দেয়। কি ধরনের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেডিকেল পরীক্ষার মাধ্যমে পরে জানা যাবে। এখন আমরা প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে যা পেয়েছি তাই বলছি। ৩০শে মার্চ ভোর ৫টায় আলমারিতে লাশ ঢুকিয়ে কৌশলে আলমারি পরিবর্তনের নাটক সাজিয়ে কামরুল বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে যায়। এরপর সকাল ৯টায় কামরুল ভ্যান নিয়ে আসে। লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে নিহতের স্ত্রী তার প্রেমিকের সহায়তায় আলমারি পরিবর্তনের নামে ভ্যানে করে বাড়ির অদূরে তাজহাট মোল্লাপাড়ার সেই নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। যেখানে আগে থেকেই গর্ত করে রাখা হয়েছিলো। পরে সেই গর্তেই লাশ পুঁতে ফেলে তারা। এ ঘটনায় র‌্যাব হত্যাকারী স্নিগ্ধা ভৌমিক, তার প্রেমিক কামরুল ইসলাম, তাদের দু’ছাত্র সবুজ ইসলাম ও রোকনুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে।
র?্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, আমরা অ্যাড. রথীশের স্ত্রী, কথিত প্রেমিক এবং দুই ছাত্রকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছি। এদিকে নিহত রথীশের লাশ উদ্ধারের পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে আইনজীবী সমিতির কোর্ট চত্বরে, পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে টাউন হল চত্বরে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রিয় মানুষ অ্যাড. রথীশকে এক নজর দেখার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় এ প্রিয় মানুষকে। সেখান থেকে সন্ধ্যায় লাশ দখিগঞ্জ শ্মশানে দাহ করা হয়। এ সময় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদের নেতা বনমালী পাল তার প্রতিক্রিয়ায় মানবজমিনকে বলেন, ঘটনাটি এমন হয়ে যাবে আমরা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি।
উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর বাবুপাড়ার বাড়ি থেকে গত শুক্রবার ভোরে নিখোঁজ হন আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক। নিখোঁজ রথীশের সন্ধানে মাঠে নামে র‌্যাব, পুলিশ, পিবিআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে আইনজীবীর স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক এবং তার সহকর্মী স্কুলশিক্ষক কামরুল ইসলামকে সন্দেহের তালিকায় রাখে। এদিকে আইনজীবী রথীশের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তপ্ত হয়ে উঠে রংপুর। রথীশের সন্ধানের দাবিতে আওয়ামী লীগ, আইনজীবী সমিতি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ, ক্ষত্রিয় সমিতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন আন্দোলনে নামে। সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন, গণঅনশন থেকে শুরু করে সব ধরনের আন্দোলনে তোলপাড় শুরু হয় প্রশাসনে। উত্তেজনা দেখা দেয় সর্বস্তরে। বিক্ষোভ সমাবেশে রথীশ নিখোঁজ ঘটনার জন্য জঙ্গি, জামায়াত-শিবির ও বিএনপিকে দায়ী করা হয়। রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অ্যাড. রথীশের বাসায় ছুটে যান। দেন তাদের পরিবারকে সান্ত্বনা। সেই সঙ্গে তদন্ত উদ্ঘাটন ও নিখোঁজের রহস্য বের করতে মাঠে নামে প্রশাসন। সকল জল্পনাকল্পনা শেষে অ্যাড. রথীশের লাশ উদ্ধার করে এ নিখোঁজ সংবাদের অবসান ঘটান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ওদিকে এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন রথীশ চন্দ্র ভৌমিক। সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে শিক্ষক কামরুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান, মিলন মহান্তদের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠে। এর আগেও মতিয়ার রহমানের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা শোনা যায়। পরবর্তীতে কঠিনভাবে পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে কামরুল ইসলামের সঙ্গে। এনিয়ে তাদের পরিবারে দেখা দেয় অশান্তি। এই অশান্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং কামরুলকে নিয়ে নতুন ঘর বাঁধার স্বপ্ন পূরণ করতে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়।

গুপ্তচর ইস্যুতে বাংলাদেশকে পাশে চায় পশ্চিমা দুনিয়া: পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে মার্কিন দূতের সাক্ষাৎ

সাবেক রুশ গুপ্তচর ও তার মেয়েকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মস্কোর বিরুদ্ধে  পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জুয়েল রিফম্যান গতকাল পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ সমর্থন কামনা করেন। এর আগে বৃটেনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সমর্থন চাওয়া হয়েছে। বৃটেনের অন্য মিত্ররাও নানাভাবে ঢাকার সমর্থন চেয়েছেন। ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা-ওপিসিডব্লিউতে রাশিয়ার অনুরোধে নেদারল্যান্ডে বুধবার এক বিশেষ অধিবেশন হয়েছে। দ্য হেগে নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহাম্মদ বেলালের সভাপতিত্বে ওই অধিবেশন চলাকালে মার্কিন দূত ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওপিসিডব্লিউ’র বর্তমান চেয়ারম্যান বাংলাদেশ।
বুধবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র সচিবের গুপ্তচর হত্যা চেষ্টা ইস্যুতে জরুরি বৈঠক করেন ঢাকাস্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জুয়েল রিফম্যান। তিনি এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ব্যাখ্যা এবং তাদের পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশকে অবহিত করেন। সচিবের সঙ্গে মার্কিন দূতের বৈঠকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের আসন্ন কক্সবাজার ও রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনের বিষয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আগ্রহী মিয়ানমারের মন্ত্রীর আগামী ১১ থেকে ১২ই এপ্রিলের সফর নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। বৈঠক শেষে ওপিসিডব্লিউ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জুয়েল রিফম্যান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। রাশিয়ার কার্যকলাপে উদ্বিগ্ন আমরা। দেশটি আন্তর্জাতিক সব আইন ভঙ্গ করেছে। আমাদের উদ্বেগের কথা এখানকার কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। আমরা এ নিয়ে আবারো কথা বলবো।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস প্রয়োগে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও রাশিয়ার মধ্যে রীতিমত প্রক্সি ওয়ার চলছে। সেখানে বাংলাদেশ কারও পক্ষ না নেয়ার নীতি নিয়েছেন। যদি এ ইস্যুতে জাতিসংঘ বা কোনো বৈশ্বিক ফোরামে ভোটাভুটি হয় তাতে বাংলাদেশের এবসটেইন বা ভোটদান থেকে বিরত থাকার নীতি নেবে বলে আভাস দেন সেগুনবাগিচার কূটনীতিকরা।
উল্লেখ্য, বৃটেনের স্যালিসবুরিতে গত ৪ঠা মার্চ স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস প্রয়োগে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় প্রায় ১৫০ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অন্তত ২৪টি দেশ। ঘটনাটি নিয়ে বিশ্বাঙ্গনে তোলপাড় চলছে। রাশিয়ার তরফে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ‘তথাকথিত’ স্ক্রিপালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনীতিকদের বহিষ্কারের নিন্দা করেছে ক্রেমলিন। গত সপ্তাহে ৬০ জন মার্কিন কূটনীতিককে বহিষ্কার এবং রাশিয়ায় মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
রুশগুপ্তচরকে কি ধরনের গ্যাস ব্যবহার করে হত্যার চেষ্টা হয়েছে তাই তদন্ত করছে বৈশ্বিক রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক সংস্থা ওপিসিডব্লিউ। ওই সংস্থার বর্তমান চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে।
রাশিয়ার চাওয়া: এ নিয়ে রাশিয়াও তাদের অবস্থান জানিয়ে বাংলাদেশের কাছে গত ২২শে মার্চ একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়েছে। মস্কোর বক্তব্য হচ্ছে- এ ঘটনার সঙ্গে রাশিয়া কোনোভাবেই যুক্ত নয়। এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দুনিয়ার ‘অন্যায্য’ যে কোনো পদক্ষেপেই যেন ঢাকা সায় না দেয় সেটাই চাইছে মস্কো। উল্লেখ্য, এ অবস্থার মধ্যে মস্কো সফর করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে গত ২রা এপ্রিল মাহমুদ আলীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। সেখানে অন্যান্য ইস্যুর সঙ্গে এ বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে এ বিষয়ে কি আলোচনা হয়েছে তা জানানো হয়নি।
ওপিসিডব্লিউ’র অধিবেশনেও পাল্টাপাল্টি
এদিকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অনুষ্ঠিত ওপিসিডব্লিউ বিশেষ অধিবেশনে গুপ্তচর হত্যাচেষ্টার অভিযোগের যৌথ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। কিন্তু বৃটেন রাশিয়ার এ প্রস্তাবকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়েছে। রাশিয়ার অনুরোধে ডাকা জরুরি ওই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বৃটিশ প্রতিনিধি দল এই মন্তব্য করেন। এর আগে গুপ্তচর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বৃটেনের কাছে থাকা তথ্য-প্রমাণ হস্তান্তরের আহ্বান জানায় রাশিয়া। এর জবাবে বৃটেন বলেছে, গুপ্তচরের ওপর হামলার ঘটনায় রাশিয়াই দায়ী। তবে রাশিয়া বৃটেনের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। মস্কোর প্রতিনিধিরা বলেছেন, গুপ্তচর হত্যার ঘটনায় রাশিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

৩ মাসে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪৬: আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য by রুদ্র মিজান

বন্দুকযুদ্ধে, পুলিশ ও কারা হেফাজতে মৃত্যু থামছে না কিছুতেই। সম্প্রতি রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহিংস না হলেও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের অপরাধীরা নিহত হচ্ছে বন্দুকযুদ্ধ ও কারা হেফাজতে। গত তিন মাসে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৪৬ জন। কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। সবেচেয় বেশি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে পুলিশের সঙ্গে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। গ্রেপ্তারের আগেই তিন মাসে বন্দুকযুদ্ধে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত নিহত হয়েছে ১৪ ও পুলিশের সঙ্গে ১০ জন। এ ছাড়াও ডিবি পুলিশের সঙ্গে তিন, নৌ-পুলিশের সঙ্গে এক ও বিজিবি’র সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন একজন। গ্রেপ্তারের পরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই, পুলিশের সঙ্গে ১১ ও ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে দুই জন। পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে একজন।
সুস্থ মানুষ। রিমান্ডে নেয়ার আগে কোর্টে কথাও বলেছি। কিন্তু রিমান্ড থেকে কারাগারে পাঠানোর সময় সে আর সুস্থ নেই। কেঁদে কেঁদে বলেছে, ভাইরে আমারে অনেক টর্চার করছে। তারপর দিন সকালে খবর পেলাম সে আর নেই। তাকে ওরা রিমান্ডে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। কথাগুলো বলছিলেন রিমান্ড শেষে কারাগারে নিহত ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের স্বজন নিয়ামত। সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত এই মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে গত ১২ই মার্চ। তিন দিন রিমান্ডের পর কারাগারে মারা যান ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলন। রাজনৈতিক সহিংসতা না থাকলেও এই ছাত্রনেতার মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়। ২৩শে মার্চ রাজধানীর মিরপুরের ভাঙ্গাব্রিজ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন হাসান। এই যুবক পীরেরবাগে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ডিবি’র পরিদর্শক জালাল উদ্দিন হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি। পুলিশ জানিয়েছে, জালাল হত্যার আসামি হাসানকে গ্রেপ্তারের জন্য ওই এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। গুলিবর্ষণের একপর্যায়ে একজনকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
সম্প্রতি সমাজে উদ্বেগ দেখা দিয়েছি ধর্ষণ নিয়ে। একের পর এক ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা। এক শ্রেণির লম্পটের লালসার শিকার হচ্ছে শিশু-কিশোরীরা। গত ৩১শে মার্চ দিবাগত রাতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় র?্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ধর্ষণ মামলার আসামি রহিম উদ্দিন। তার আগে গত ২০শে ফেব্রুয়ারি চকরিয়া উপজেলার বদরখালীতে র?্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় ধর্ষণ মামলার আরেক আসামি আনু মিয়া।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন উজ্জ্বল মিয়া নামে এক ব্যক্তি। রাতেই ময়মনসিংহের সাহেব কাচারি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত উজ্জ্বল পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামি।
জানা গেছে, উজ্জ্বল রিকশা চালাতেন। এর মধ্যেই গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত হয়ে যান তিনি। মাদকসেবী উজ্জ্বলের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে গৌরিপুর থানায় একটি জিডি করেছিলেন তার ছোট ভাই কাঞ্চন। গত ২৭শে মার্চ ওই জিডির তদন্ত করতে তাদের গৌরিপুরের জেলখানা রোডের বাড়িতে যান এসআই আসাদুজ্জামান। পুলিশ অভিযোগ করেছে, ওই সময়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এসআই আসাদুজ্জামানকে আঘাত করেন উজ্জ্বল। গুরুতর আহত অবস্থায় আসাদুজ্জামানকে প্রথমে ময়মনসিংহে বর্তমানে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, উজ্জ্বল মিয়া পলাতক ছিলেন। তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সাহেব কাচারি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় উজ্জ্বল ও তার সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য গুলি ছুঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। পরে সেখানে উজ্জ্বলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এভাবে প্রায়ই প্রাণহানি ঘটছে বন্দুকযুদ্ধে। বিচারের আগেই লাশ হচ্ছে অপরাধী। এই মৃত্যু থামছে না কিছুতেই।
এসব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞানী তৌহিদুল হক বলেন, রাষ্ট্রকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আইনের প্রতি মানুষের আস্থা থাকতে হবে। আইনের প্রতি আস্থা থাকলে, আইনানুগ বিচার হলে বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড কমে যাবে। কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাও কমে যাবে। মানুষ অপরাধ করতে ভয় পাবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত আসামিকে নিরাপদে আদালতে সোপর্দ করা। তাকে সুরক্ষা দেয়া। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বিচার পাওয়া আসামির অধিকার। মনে রাখতে হবে, অন্যায়কে অন্যায় দিয়ে প্রতিহত করা যায় না। বরং আরেকটি অন্যায়ের জন্ম হয়। আমরা কোনোভাবেই ধর্ষণ, জঙ্গি তৎপরতা, সহিংসতা সমর্থন করি না। একইভাবে অপরাধীদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যাও সমর্থন করতে পারি না। স্বাধীন, সভ্য রাষ্ট্রে এটি চলতে পারে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

মৃত্যুকূপ সীতাকুণ্ড শিপইয়ার্ড তিন মাসে নিহত ১২

সীতাকুণ্ডে সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত জাহাজ ভাঙা শিল্পে তিন মাসে দুর্ঘটনায় ১২ শ্রমিক নিহত ও আহত হয়েছে প্রায় ২৬ জন শ্রমিক। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, গত ৩ মাসে সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙা শিল্পের (শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড) বিভিন্ন ইয়ার্ডে মোট ১২ শ্রমিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। তবে এসব মৃত্যুর ঘটনায় সীতাকুণ্ড মডেল থানায় সবগুলো অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়। বিভিন্ন সময়ে এঘটনায় আহত হয়েছে প্রায় ২৬ জন ইয়ার্ড শ্রমিক। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। কারণ ইয়ার্ডে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ লাশ ও আহত শ্রমিকদের নিয়ে লুকোচুরি খেলা শুরু করে বলে পাহাড় সমান অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও থানাকে অবহিত না করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই অনেক সময় লুকোচুরিভাবে নিহত শ্রমিকের লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাছাড়া শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সাংবাদিকদের ইয়ার্ডের ভিতরে প্রবেশে বাধা দেয়ায় তথ্য সংগ্রহে বিলম্ব ঘটে। আবার অনেক সময় ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের নিকট শ্রমিক নিহতের ঘটনায় বক্তব্য নিতে গেলে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্নভাবে নিষেধ করেন। স্থানীয় ও ইয়ার্ড শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষগুলো একটু সুখের আশায় জীবনের তাগিদে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙা শিল্পে কর্মে নিয়োজিত হয়। কিন্তু কোন দুর্ঘটনার শিকার হলে হতদরিদ্র মানুষগুলো পায় না উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ। তারা অভিযোগ করেন, সরকারি ছুটি ও রাতে কাজ করার নিষেধ থাকলেও প্রায় ইয়ার্ডেই রাতে ও সরকারি ছুটির দিনে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করে। তাছাড়া ইয়ার্ডগুলোতে নেই শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম। জাহাজ ভাঙা শিল্পে দুর্ঘটনার বিষয় জানতে বিএসবিআরএ সভাপতি মো. আবু তাহেরকে ফোন করলে তিনি কোন মন্তব্য না করে মিটিংয়ে আছেন বলে পরে ফোন করার কথা বলেই লাইন কেটে দেন। এদিকে সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ইফতেখার হাসান পিপিএম বার জানান, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে শ্রমিক নিহত হলে থানায় অপমৃত্যুর মামলা হওয়ার পর লেবার কোর্টের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়াও অনেক ইয়ার্ড মালিক নিহত শ্রমিকের পরিবারকে লাখ দুই লাখ টাকা আর্থিকভাবে সাহায্য করেন। তবে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টি কোর্টে রিট হলেও এখনো কার্যকর হয়নি বলে তিনি জানান।

সরকার নিজেরাই মারামারি করে নিঃশেষ হয়ে যাবে: এমাজউদ্দীন

বিএনপি কীভাবে চলবে তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার পেছনে জনগণের যে সমর্থন আছে তাতেই সরকার ভীত। জনসাধারণ এরশাদের পতনের সময়ও এক হয়েছিল, এখনও হবে। এজন্য সময় লাগবে। জনগণকে সচেতনতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। লক্ষ্য একটাই। সরকার নিজেরাই নিজেদের মধ্যে হানাহানি-মারামারি করে নিঃশেষ হয়ে যাবে। ‘গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়া ও আইনজীবী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ সব রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে’ গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত এক যুব সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এমাজউদ্দীন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে নিয়েও অনেকে সন্দিহান। এদিকে মহাসচিব অসুস্থ, তাহলে বিএনপির সামনের দিনগুলো কীভাবে চলবে? এমন প্রশ্ন অনেকেই আমাকে করেন। কিন্তু এ দল তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। দলটি এক অর্থে সাধারণের দল। এর গঠনতন্ত্রে দল পরিচালনার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেয়া আছে। প্রথম থেকে দশম পর্যন্ত কার কী ভূমিকা, কে কী করবেন? গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যার যা দায়িত্ব তা পালন করলেই চলবে। বিএনপিকে নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। তিনি বলেন, কারাগারে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া বলে গেছেন মাথানত করার জন্য তার জন্ম হয়নি। দল কীভাবে চলবে সে কথাও তিনি বলে গেছেন। প্রবীণ এ শিক্ষাবিদ বলেন, রাজনীতির স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনীতির স্থিতিশীলতা দীর্ঘায়িত হয় না। অর্থনৈতিক উন্নয়নের আগে সরকারকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। এটা আগেই প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বেশি দিন টিকবে না। দেশের মালিক জনগণ তাই যে সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সে সরকারের স্থায়িত্ব বেশি দিন হয় না। এমাজউদ্দিন বলেছেন, খালেদা জিয়ার কষ্ট হয়তো একটু হচ্ছে। তবে নেতাকর্মীদের মনেপ্রাণে সংকল্পবদ্ধ হয়ে নয় মাসের সংগ্রামের মাধ্যমে যুদ্ধ জয়ের পরিস্থিতির মতো একটা পরিস্থিতি আসবে। যুদ্ধ করার সময় আসতে পারে। যে যুদ্ধের জন্য তৈরি হতে হবে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ওয়ান ইলেভেনে শেখ হাসিনা যখন আমেরিকায় চলে গেল সেদিন খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠাতে চাইলেও পারেনি। খালেদা জিয়া গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য বিদেশ যায়নি। তখন আমরাও জেলে গিয়েছি। তবে তখন রাষ্ট্রদ্রোহীর মামলায় গ্রেপ্তার করা হতো। পটপরিবর্তন হলে সব ঠিক হয়ে যেত। এখন ক্রিমিনাল ল’ দিয়ে যেভাবে রাজনীতিকদের বিচার করা হচ্ছে, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে একনায়ক আয়ুব খান ও বাংলাদেশ আমলে স্বৈরাচার এরশাদ বহুবার উন্নয়নের জিগির তুলেছেন। বর্তমানে শেখ হাসিনাও তাই বলছেন। কিন্তু এদেশের মানুষ শুধু উন্নয়ন চায় না, গণতন্ত্রও চায়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, একজন মন্ত্রী বললেন তিনি অসুস্থ। তারপর মেডিকেল বোর্ড দেখে বললো তিনি অসুস্থ। আমরা সরকারের আনুকূল্য চাই না। আমরা চাই খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা করা হোক। আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা আলহাজ এম এ বাশারের সভাপতিত্বে ও মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন ও বিএনপি নেতা আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বক্তব্য দেন।

হাত নেই, এখন কীভাবে চাকরির পরীক্ষা দেবেন রাজিব

মা-বাবা হারিয়ে ছোট দুই ভাইকে নিয়ে ভালোভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিতুমীর কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজিব হোসেন। কম্পিউটারের দোকানে খণ্ডকালীন চাকরি করে নিজের এবং দুই ভাইয়ের খরচ জোগাতেন। স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তির পর থেকেই   বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করে আসছেন। চাকরির পরীক্ষা দিয়েছেন। সামনে আরো কয়েকটি পরীক্ষা আছে। বেপরোয়া দুই বাসের চাপায় ডান হাত হারানো রাজীব এখন কিভাবে সেই পরীক্ষা দেবেন। আর পরীক্ষা দিলেও হাত ছাড়া কিভাবে চাকরি করবেন এমন প্রশ্ন তার স্বজনদের। এখন তার চিকিৎসা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। মঙ্গলবার কাওরান বাজার এলাকায় দুই বাসের চাপায় ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজিবের। সেখান থেকে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যান। বেসরকারি ওই হাসপাতালে এক রাত থাকার পর বুধবার সকালে জানানো হয় তার চিকিৎসায় খরচ হয়েছে এক লাখ ২৬ হাজার টাকা। বিপুল এ খরচ বহন করতে না পারায় স্বজনরা সকালেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে চান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত রোগী না ছাড়ার কথা জানায়। পরে সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হলে ৭৫ হাজার টাকা পরে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
হাসপাতালে রাজিবের খালা খাদিজা বেগম জানান, তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রাজিব। বাবা মা ছোট বেলায় মারা যাওয়ার পর বড় খালার বাসায় থেকে পড়াশোনা করেছেন তিনি। ছোট দুই ভাই যাত্রাবাড়ীর তামিরুল মিল্লাত মাদরাসায় ৭ম ও ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। রাজিব মতিঝিল কোস্টাল হাইস্কুল থেকে মেট্রিক ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন।
রাজিবের আরেক খালা জাহানারা বেগম জানান, বাবা-মা মারা যাওয়ার পর ছেলেটা একটু সুখের মুখ দেখতে পারলো না। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে ছেলেকে দিয়ে আমি চাকরির দরখাস্ত করাতাম। তিনি বলেন, গত মাসেও ১০ থেকে ১২টা চাকরির দরখাস্ত করেছে ও। মঙ্গলবারও আমার রাজিবের একটি চাকরির লিখিত পরীক্ষার কার্ড আসছে। যখন খবর পেলাম আমার বাবা যে ডান হাত দিয়ে লিখিত পরীক্ষা দিবে সেই হাতটিই নেই, তখন আর কার্ডের খাম খুলে কি হবে। রাজিবকে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, রাজিবকে আপনারা সাহায্য করেন। ওতো আর কোনোদিন কাজ করে খেতে পারবে না।
রাজিবের ছোট মামা মিরাজ জানায়, ঘটনার পরপরই পথচারীরা রাজীবকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাজীবের ডানহাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রাজিবের অপারেশন বাবদ মোট বিল আসছে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা। মেডিসিন বাবদ ২০ হাজার ও অপারেশন বিল ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ৭৫ হাজার টাকা বাকি রেখে গতকাল দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
কলেজ বন্ধ থাকায় তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে কলেজের শিক্ষক ডা. সেলিম ও মো. আব্দুল হামিদ প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার টাকা দিয়ে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। এদিকে ঘটনার পরপরই রাজিব নিজেই বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেছেন।
শমরিতার আইসিইউ এর মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজিবের হাতের অপারেশন হয়েছে। তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়াতে শরীর অনেকটা দুর্বল রয়েছে। তবে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। এদিকে বাস দুর্ঘটনায় রাজীবের হাত ‘বিচ্ছিন্নকারী’ দুই বাস বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ ও স্বজন বাসের চালক মো. খোরশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার এক বার্তায় ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন নয়: হাইকোর্ট
এদিকে হাত হারানো কলেজ শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের চিকিৎসা ব্যয় ওই দুই বাস মালিককে বহন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আহত রাজীব হোসেনকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হক’র সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়। পরে রুহুল কুদ্দুস কাজল মানবজমিনকে বলেন, বিদ্যমান আইন কার্যকরের মা্যধমে যাত্রী সাধারণের চলাচলে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করা এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ, প্রয়োজনে নতুন আইন ও বিধি প্রণয়ন, সংযোজন করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না-তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপি কমিশনারসহ আট বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আদেশে। তিনি বলেন, রাজীবের হাত প্রতিস্থাপন সম্ভব হলে সেই ব্যয়ভার বহন করতে বাস মালিকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডাবল মার্ডারের আসামি ১০ বছরের শিশু

মিঠামইন ঢাকী ইউনিয়নের চারিগ্রাম এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ মিয়া। স্থানীয় মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির  ছাত্র সে। ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম সনদ অনুসারে তার জন্ম ২০০৮ সালের পহেলা মে। সে হিসেবে তার বয়স দশ বছরেরও কিছু কম। কিন্তু এই শিশুর বয়স ২২ বছর দেখিয়ে তাকে আসামি করা হয়েছে একটি জোড়া হত্যা মামলার। বুধবার শিশুটি তার মায়ের সাথে কিশোরগঞ্জের আদালতে এসেছিল আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে। আমল গ্রহণকারী আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আনিসুল ইসলাম আব্দুল্লাহকে শিশু আদালতে পাঠান। পরে শিশু আদালতের বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবীর পুলিশ রিপোর্ট না দেয়া পর্যন্ত শিশুটির জামিন মঞ্জুর করেন।
গত বছরের ৯ই নভেম্বর দুপুরে খালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে মিঠামইনের চারিগ্রামে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে তিন সহোদরসহ উভয় পক্ষে পাঁচ জন নিহত হন। নিহত তিন সহোদর হলেন, খাসসিংহা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে ফরদিস মিয়া (৫০), মাখন মিয়া (৪০) ও মাসুম মিয়া (৩৫)। আর অপর পক্ষে নিহত হন পার্শ্ববর্তী পশ্চিম হাটি গ্রামের সুজন মিয়ার ছেলে রাজিব (২৫) ও মৃত আইয়ুব রেজার ছেলে মুকুল (২৫)। এই পাঁচ খুনের মধ্যে রাজিব ও মুকুল হত্যার ঘটনায় রাজিবের বাবা সুজন মিয়া বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ৮৬ জনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় ১৫ই নভেম্বর হত্যা মামলা করেন। এতে শিশু আব্দুল্লাহর বয়স ২২ বছর দেখিয়ে তাকে ৭৫ নম্বর আসামি করা হয়। তার বড়ভাই বাশারুল মিয়া (৩২)-ও এই মামলার আসামি। বুধবার শিশুটি প্রথমে মামলার অপর ৬ আসামি বড়ভাই বাশারুল মিয়া, তৈয়ব মিয়া (৫০), হাসান মিয়া (২৪), মো. মুতাব্বীর (৪৮), মস্তু মিয়া (৪০) ও ইব্রাহিম মিয়া (৩৫)-র সঙ্গে আমল গ্রহণকারী আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আনিসুল ইসলাম আব্দুল্লাহকে শিশু আদালতে পাঠিয়ে অপর ৬ আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। শিশু আদালত আব্দুল্লাহর জামিন মঞ্জুর করেন।

সিলেটে জোড়া খুন: নাজমুলের বিয়েতে বাধা ছিলেন রোকেয়া by ওয়েছ খছরু

সিলেটের বারুতখানার বাসিন্দা দুলালের সঙ্গে নিহত রোকেয়া বেগমের বিয়ে বৈধ ছিল না। রক্ষিতা হিসেবেই দুলাল রোকেয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন । সেই সম্পর্কেও ফাটল ধরে। এরপর থেকে রোকেয়া রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী শহরতলীর মুক্তির চকের নাজমুলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন। প্রায় ১০ মাস রোকেয়া ও নাজমুল মিরাবাজারের খারপাড়া ওই বাসায় বসবাস করছেন। নাজমুল প্রায় প্রতিদিন আসতেন রোকেয়ার বাসায়। রোকেয়াও নাজমুলকে মনেপ্রাণে ভালোবাসেন। সেই ভালোবাসা থেকে তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করেছেন। সেটি জানতেন রোকেয়ার স্বজনরাও। তবে- নাজমুল নিহত রোকেয়াকে রক্ষিতা হিসেবেই ব্যবহার করেছেন। সম্প্রতি সময়ে লন্ডনি মেয়ের সঙ্গে নাজমুলের বিয়ের কথা-বার্তা চলছিল। বিয়েও প্রায় ঠিকঠাক। এই সময়ে বাধা হয়ে দাঁড়ান প্রেমিকা রোকেয়া। কোনোভাবে তিনি নাজমুলের সঙ্গ ছাড়তে চাচ্ছিলেন না। সেই আক্রোশ থেকে খুন করা হয়েছে রোকেয়া বেগমকে। সঙ্গে তার এসএসসি পরীক্ষা দেয়া ছেলে রবিউল ইসলাম রূপমকে।
সিলেটের কোতোয়ালি থানায় গতকাল সাংবাদিকদের সামনে গ্রেপ্তার হওয়া নাজমুলকে হাজির করে পুলিশ তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে- রোকেয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল হাই প্রোপাইল আরো কয়েকজন ব্যক্তির। যারা সব সময় রোকেয়ার বাসায় যাওয়া-আসা করতেন। পুলিশ তাদের দিকেও নজর রাখছে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে এসব কিছু পেলেও গ্রেপ্তার হওয়া নাজমুল খুনের ঘটনা সম্পর্কে এখনো মুখ খুলেনি। সাংবাদিকদের সামনেও বলেছে- ‘আমি ঘটনার কিছুই জানি না।’ তবে রোকেয়ার সঙ্গে তার সম্পর্কে কথা স্বীকার করেছে। রোববার দুপুরে সিলেট নগরীর মিরাবাজারের খারপাড়ার ১৫-জে, বাসার নিচতলার ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রূপমের লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার সময় বেঁচে যাওয়া রোকেয়া বেগমের ৫ বছরের সন্তান রাইসাকেও পুলিশ আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। খুনের ঘটনা সম্পর্কে রাইসা পুলিশকে জানিয়েছে তার মা রোকেয়া বেগমকে খুন করেছে নাজমুল ও ভাইকে খুন করেছে তানিয়া। এরপর থেকে পুলিশ ওই দুইজনকে খুঁজছিলো। এর মধ্যে পুলিশ প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান শুরু করে।
প্রযুক্তির অনুসন্ধানে দেখা গেছে- রোকেয়া বেগমের মোবাইল ফোনে নাজমুলের যোগাযোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া, নাজমুলের মোবাইল ফোনেরও প্রায় সময় অবস্থান ছিল নাজমুলের বাসায়। খুনের ঘটনার সময় নাজমুলের অবস্থান ছিল ওই বাসায়। ফলে পুলিশ নাজমুলকে খুঁজতে শুরু করে। কিন্তু লাশ উদ্ধারের দিন দুপুর থেকে হঠাৎ করে নাজমুলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে সে সব যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। নাজমুলের বাড়ি সিলেটের শাহ্‌পরান থানার নিকটবর্তী গ্রাম মুক্তিরচকে। তার পিতা করিম মেম্বার। পুলিশ টানা দুইদিন অভিযান চালিয়ে সিলেট শহরতলীর বটেশ্বর এলাকা থেকে মঙ্গলবার গভীর রাতে নাজমুলকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ সিলেটের কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে থাকা রাইসাকে নাজমুলের ছবি দেখালে রাইসা নাজমুলকে শনাক্ত করে। তবে- মুখ খোলেনি নাজমুল। কোতোয়ালি থানার এসি সাদেক কাওছার দস্তগীর থানায় প্রেস ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- ‘মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা নাজমুলকে শনাক্ত করি। পাশাপাশি রাইসার মুখ থেকেও ওই নামটি আমরা পেয়েছি।
খুনের ঘটনার পরও সে সিলেট শহরেই ছিল। আর লাশ উদ্ধারের পর থেকে সে আত্মগোপনে চলে যায়। এ কারণে নাজমুলের প্রতি সন্দেহ ছিল বেশি। তবে- নাজমুল এখনো খুনের ঘটনা স্বীকার করেনি। তবে- রোকেয়া বেগমের সঙ্গে তার গভীর প্রেম ও দৈহিক সম্পর্কের কথা কিছুটা স্বীকার করেছে।’ বিকেলে সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি গৌসুল হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- তারা বিকেলে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে হাজির করে নাজমুলের ৭ দিনের রিমান্ড চান। আদালত তার ৭ দিনেরই রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এখন তাকে কোতোয়ালি থানাতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেটের কোতোয়ালি থানার এসআই রোকেয়া খানম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- বেঁচে যাওয়া রাইসা তার মা ও ভাইকে খুঁজে ফিরছে। তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। তার এক আত্মীয় সঙ্গে রয়েছেন। রাইসা এখনো অসুস্থ। তার চিকিৎসা চলছে বলে জানান তিনি। তিনি জানান- পুরুষ দেখলেই ভয় পায় রাইসা। একা সে দরোজার সামনে পর্যন্ত যায় না। রোকেয়া ও তার ছেলে রূপম হত্যার পর পুলিশ নিহত রোকেয়া সম্পর্কে অনেক তথ্যই পেয়েছে। রোকেয়া বেগম সিলেট শহরতলীর দক্ষিণ সুরমার নৈখাই এলাকায় ভাইদের সঙ্গে জমি কিনেছেন। সেখানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করে তিনি বাসা তৈরীর করছেন।
এছাড়া সিলেট নগরীর মিরাবাজারে যে বাসায় বসবাস করতেন সে বাসার ভাড়া ছিল ১৫ হাজার টাকা। সেই বাসা আধুনিক ফার্নিচারে সুসজ্জিত ছিল। পুলিশ রোকেয়া বেগমের কললিস্ট পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে তার সঙ্গে সিলেট নগরীর বহু মানুষের যোগাযোগ ছিল। সিলেটের হাই-প্রোপাইল কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। ঘটনার এক-দুইদিন আগেও ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে। এমনকি রোকেয়া বেগমের বাসাতেও ওই ব্যক্তিদের যাতায়াত ছিল। এরই মধ্যে পুলিশ দুইজনকে শনাক্ত করেছে। তাদের বিষয়েও তদন্ত চলছে। কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে- রোকেয়া বেগমের বাসায় ঘটনার দিন বেশকিছু আলামত উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ছিল বেনসন সিগারেটের প্যাকেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি, কয়েকটি কনডমের প্যাকেট। পুলিশ জানায়- রোকেয়া বেগমের বাসা ছিল ওয়ানস্টপ সেক্সুয়াল সার্ভিসের ঠিকানা। তার ওখানে অনেকেই যেতো। এবং তারা নিরাপদে সেক্স করার সুযোগ পেতো। পাশাপাশি মাদকও পাওয়া যেতো। আর এটিই ছিল রোকেয়ার আয়ের অন্যতম উৎস। তানিয়া নামের ওই যুবতী রোকেয়ার বাসার কাজের মেয়ে ছিল না। তানিয়াও ছিল  সেক্সকর্মী। সে পুরুষদের নিয়ে ওই বাসাতে যেতো। এবং সেখানে পুরুষদের সঙ্গে মিলিত হতো। তানিয়া নামে ওই মহিলার আসল নাম তানিয়া কী না সেটি নিয়ে পুলিশ সন্ধিহান। তানিয়া ওই মহিলার ছদ্মনাম হতে পারে।
তানিয়া গতকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানান ওসি কোতোয়ালি। তানিয়ার সঙ্গে কয়েক দিন আগে বিরোধ লেগেছিল নিহত রোকেয়ার। সেটি ভাগ-বাটেয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে তানিয়াই বাসায় নিয়ে এসেছিলো এলাকার যুবক কাঞ্চা সুমনসহ কয়েকজনকে। এরপর থেকে কাঞ্চা সুমন ও তার বন্ধুরা প্রায় সময় গিয়ে আমোদ-ফুর্তি করতো। খুনের ঘটনার আগেও তানিয়া নামের ওই মহিলা নিহত রোকেয়ার বাসাতে গিয়েছিলো।
পুলিশ জানায়- নিহত রোকেয়ার বাসা থেকে যে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলো প্রায় ৪০ জন নারীর ছবি পাওয়া গেছে। এসব ছবির মধ্যে কোনো কোনো নারীর ছবি অর্ধনগ্ন আবার কোনো কোনোটি ছিল পুরো নগ্ন। এসব দেখে পুলিশ ধারণা করে- যেসব নারীর ছবি তার ল্যাপটপে পাওয়া গেছে তারা তানিয়ার বাসায় যেতো। এবং সেখানে তারা খদ্দেরদের সঙ্গে মনোরঞ্জন করতো। এসব নারীদের সন্ধানও পুলিশ করছে। এলাকা সূত্র জানিয়েছে- এলাকার অনেকেই নিহত রোকেয়ার পরিবার নিয়ে সন্দেহে ছিলেন। তার বাসায় মানুষের অবাধ যাতায়াত এলাকার মানুষকে বিব্রত করতো। আর রোকেয়ার বেপরোয়া আচরণের বিষয়টি এলাকার যুবকদের কাছে ধরা পড়ে যায়। এ কারণে রোকেয়া নিজেই ওই এলাকায় বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছিল।

চিলমারীতে গমের শীষে সোনালি মাঠ by মো. সাওরাত হোসেন সোহেল

মাঠে মাঠে গমের সোনালি শীষ দোল খাচ্ছে বাতাসে আর আশায় বুক ভরছে কৃষকের। আর সেই হাসিমাখা মুখ নিয়ে ব্যস্ত এখন কৃষক। কুড়িগ্রামের চিলমারীতে এবারে গমের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। ঘরে ঘরে বইছে আনন্দের বন্যা। এ অঞ্চলের মানুষ সাধারণত রবিশস্যের ওপর নির্ভরশীল। সরজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় বিস্তৃত কৃষকের মাঠে মাঠে চোখ জুড়ানো হলুদ আর সোনালি মাঠ রঙের সমারোহ। যেন চারদিকে গমের সেই সোনালি রঙে নয়ন জুড়ানো দৃশ্য মেতে উঠেছে ফসলের মাঠে। হলুদ-সোনালি রঙে সাজিয়ে তুলেছে প্রকৃতির রূপকে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে গত বছরের চেয়ে গমের ভালো ফলন হয়েছে। গমের বাম্পার ফলন হওয়ায় প্রতিটি কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সরাসরি কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে। পাশাপাশি সরকারপাড়া, বেলেরভিটাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় কৃষকদের গম খেত দেখে বিভিন্ন পরামর্শ দিতে দেখা গেছে উপসহকারী কৃষি অফিসার কবিরুল ইসলামকে। তবে অনেক এলাকায় কৃষি বিভাগের লোকজনকে পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিছু দিনের মধ্যেই কৃষকরা গমের ফসল ঘরে তুলবেন। গমের বাম্পার ফলন দেখা দেওয়ায় কৃষকরা ভালো দামের স্বপ্ন দেখছেন। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ মণ হারে ফলন হতে পারে বলে জানান কৃষি অফিস ও প্রান্তিক কৃষকরা।
উপজেলার রমনা ইউনিয়নের সরকার পাড়া এলাকার মহসিন আলী, দেলাবর হোসেন জানান কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উন্নতমানের গম বীজ ফলানো হয়েছে। বিঘাপ্রতি চার থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং এ বছর গমের বাম্পার ফলন দেখা দিয়েছে। তবে গমের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। চলতি মৌসুমে যদি গমের ভালো দাম না হয় কৃষকরা গম চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. খালেদুর রহমান জানান, এ বছর উপজেলার ৭০৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ করা হয়েছে। এবারে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল গম বীজ দিয়ে কৃষকরা ফসল ফলিয়েছে। বিভিন্ন কারণে ও সঠিক দাম না পাওয়ায় গত বছরের চেয়ে এ বছর গমের আবাদ কিছুটা কমেছে। তবে কৃষকরা এ বছর ভালো দাম পেলেই আগামী বছরের আবারও গমের ফলন বাড়বে বলে আশা করছি।

কুমিল্লায় কলেজছাত্রকে গলা কেটে হত্যা

কুমিল্লায় সাগর দত্ত নামে এক কলেজছাত্রকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এসময় একই কক্ষে সজীব সাহা নামে আরো এক ছাত্রকে গুলিতে আহত করা হয়। আহত সজীবকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার শেষ রাতে কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকার পান্থপথ গলির বিএইচ ভূঁইয়া হাউজ ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে পুলিশ নিহতের লাশ এবং একটি পিস্তল ও একটি ছুরি উদ্ধার করে। ঘটনার পরই পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা আহত সজীবের প্রেমিকা ও তার ভাইকে আটক করতে অভিযান শুরু করে। নিহত সাগর দত্ত কুমিল্লা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ও জেলার চান্দিনা উপজেলার চিলোরা গ্রামের শংকর দত্তের ছেলে এবং গুলিবিদ্ধ সজীব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর গ্রামের রাখাল সাহার ছেলে ও ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ডিগ্রির ছাত্র। 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর রেইসকোর্স এলাকার ভূঁইয়া হাউজ নামের তিন তলা ভবনের নিচতলার ৩টি কক্ষের একটি কক্ষে থাকতো কলেজ ছাত্র সাগর দত্ত (১৮) ও সজিব সাহা (২০) এবং অপর দুই কক্ষে তাদের আরও ৪ সহপাঠী ভাড়ায় থাকতো। ভাড়াটিয়াদের মধ্যে একজনের বোনের সঙ্গে সজীবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। শেষ রাতে পাশের কক্ষের দুই সহপাঠী সজিব-সাগরের কক্ষে প্রবেশ করে সজীবকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এসময় সজিবকে রক্ষার জন্য তার রুমমিট কলেজ ছাত্র সাগর এগিয়ে এলে তার গলায় ছুরি ধরে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয় এবং সজিবকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে সজিবকে গুলি করার সময় তাকে বাঁচাতে সাগর ধস্তাধস্তি শুরু করে। এসময় তারা সাগরকে গলা কেটে হত্যা করে এবং সজিবের বুকের বাম পাশে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সজীবকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনার পর ওই ফ্লোরের অন্যান্য কক্ষের ভাড়াটিয়ারা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব ও পিবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থার পৃথক টিম ঘটনাস্থলে যায়। এদিকে নিহত সাগরের মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আবু ছালাম মিয়া জানান, প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ের জের ধরে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের ৩টি টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের বারান্দায় ক্লাস

নাসিরনগর উপজেলার  প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা! ২৫টি অতি পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত বিদ্যালয়ের ভেতরে বারান্দায় চলছে ক্লাস। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সম্প্রতি বেনীপাড়া, চিতনা, শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অত্র উপজেলায় মোট ১২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ ২৫টি বিদ্যালয়কে অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মাঝে পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ৮টি বিদ্যালয়কে। এ বিদ্যালয়গুলোতেই চলছে পাঠদান। অতি পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর, বাড়ৈচিড়া, পূর্ববালিখোলা, কুটুই, বালিখোলা দক্ষিণ, দাঁতমণ্ডল, আন্দ্রাবহ, উড়িয়াইন, চিতনা, গুনিয়াউক, চাতলপাড়, ভিটাডুবী, ফেদিয়ারকান্দি, চটিপাড়া, সূচীউড়া শ্যামপুর, জেঠাগ্রাম, নূরপুর, বেনীপাড়া, ভাটপাড়া, সিংহগ্রাম উত্তর, ফান্দাউক পূর্ব, ফান্দাউক পশ্চিম, বেলুয়া, কোয়রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পরিত্যক্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে দুর্গাপুর, বেনীপাড়া, চিতনা, শ্যামপুর, খাগালিয়া, কুটুই, বাঘি, বাড়ৈচিড়া, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা  উম্মে সালমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ১২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২০ জন  প্রধান শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৬৪ জন। ৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে। সহকারী শিক্ষক ৬১৫ জন থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ৫৬৬টি জন। সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৪৯টি। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ছয়জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র দুজন। পদ শূন্য রয়েছে ৪টি। তিনি বলেন যে সমস্ত বিদ্যালয় নতুন জাতীয়করণ হয়েছে এ বিদ্যালয়গুলোতেই বেশির ভাগ প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। উম্মে সালমা আরো জানান, অতি পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত  বিদ্যালয়গুলোর ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার লিখলেও  কোনোরূপ  ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে  দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে নতুন করে ভবন নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রেমের টানে বাংলাদেশে: ভারত যেতে চান না ফাতিমা

ধর্ম পরিবর্তন করে বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করে দেশ ছেড়েছিলেন ভারতীয় তরুণী মৌসুমী দাস (২১)। নাম পরিবর্তন করে হয়েছেন ফাতিমা জান্নাত। অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক ফাতিমাকে ফিরিয়ে নিতে চায় আসাম রাজ্য সরকার। তবে ফাতিমা স্বামীকে ছেড়ে যেতে চান না। তিনি বাংলাদেশ থাকার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে আসামের কাছার জেলার শিলচরে বাণিজ্য মেলায় অংশ নেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নুমান বাদশা। সেখানেই তার পরিচয় হয় করিমগেঞ্জর রবীন্দ্র সদন গার্লস কলেজের তৃতীয় বর্ষের নারী শিক্ষার্থী মৌসুমীর সঙ্গে। দুজনের পরিচয় পরিণত হয় ভালোবাসায়। বাদশার হাত ধরে ভারত ত্যাগ করেন মৌসুমী। গত ১২ই মার্চ বাসা ছাড়েন মৌসুমী। ওইদিনই করিমগঞ্জ পুলিশ থানায় মৌসুমীর পরিবার অভিযোগ দায়ের করে। ১৩ই মার্চ অপহরণের মামলা করে করিমগঞ্জ পুলিশ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই বাদশার বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার জারি করা হয় যাতে তিনি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আসতে না পারেন। সেটি কার্যকর হওয়ার আগেই বাংলাদেশে ফিরেন বাদশা। বিষয়টি প্রেম ঘটিত- তা পরিষ্কার হওয়ার পরই বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনারের সেক্রেটারি রমাকান্ত গুপ্তর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর ফাতিমাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। ফাতিমা পুলিশকে জানিয়েছেন, যে তিনি নিজের ইচ্ছাতেই বাংলাদেশে এসেছেন এবং তাকে কেউ অপহরণ করেনি। তিনি বলেন, এখানে আমি আমার স্বামীর সঙ্গে থাকতে চাই। তিনি বলেন, আমি মুসলিম হয়েছি এবং ঢাকায় সুখে আছি। ফাতিমার বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, কোনো রকম বৈধ পাসপোর্ট বা নথি ছাড়াই আগরতলা দিয়ে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এদিকে ফাতিমাকে ফিরিয়ে নিতে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে বলে আসাম রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

সিরিয়ায় মার্কিন সেনাদের খরচ দিতে হবে সৌদি আরবকে: ট্রাম্প

সিরিয়া থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সৌদি আরবের চাওয়া অনুযায়ী যদি মার্কিন সেনাদের সিরিয়ায় থাকতে হয়, তাহলে তার সকল খরচ সৌদি আরবকেই বহন করতে হবে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার বাল্টিক অঞ্চলের তিন দেশ এস্তোনিয়া, লিথুনিয়া ও লাটভিয়ার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিরিয়ায় আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। দ্রুতই আমরা সিরিয়া ত্যাগ করবো। তবে সৌদি আরব আমাদের বিষয়ে খুবই আগ্রহী। আমি বলতে চাই, যদি সৌদি আরব চায় যে আমরা আরো কিছুদিন সেখানে অবস্থান করি, তাহলে দেশটিকে তার খরচ বহন করতে হবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনাদের জন্য সরকারকে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘১৭ বছরে ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। অথচ মৃত্যু ও ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আমরা কিছুই পাইনি। এটা মারাত্মক একটি বিষয়। আমরা আইএস-বিরোধী যুদ্ধে পুরোপুরি সফল। ভবিষ্যতেও যে কারো সঙ্গে সামরিক যুদ্ধে সফল হবো। কিন্তু এখন ঘরে ফেরার সময় হয়েছে। আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।’
এর আগে সোমবার সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে টেলিফোনে আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকট নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। তাদের মধ্যে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি আলোচনাসহ সৌদি-আমেরিকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে দুই সরকার প্রধানের ফোনালাপে সিরিয়ায় মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনাদের অর্থায়নের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।
গত বছর সিরিয়ায় মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ওহিয়োতে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, আমি সিরিয়া ত্যাগ করার পক্ষে। আমাদের সেনাদের ফিরিয়ে নিতে চাই। সেখানে আমরা অনেক কিছুই করেছি। তার অনেক কারণও রয়েছে। কিন্তু এখন সেখানে সেনা মোতায়েন রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অন্যরা বেশি লাভবান হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে সিরিয়ায় আইএস-বিরোধী যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

পণ্যের সঙ্গে বাজার সম্প্রসারণের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্ব বাজারে কুটির শিল্পের ব্র্যান্ডিং করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নকশি কাঁথা ও সিলেটের শীতল পাটি ইতিমধ্যে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-তালিকায় স্থান পেয়েছে। তাই উদ্যোক্তাদের এ সকল পণ্যের ব্র্যান্ডিং এর পাশাপাশি বাজার সমপ্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় এসএমই মেলা ২০১৮’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পণ্যের বাজার অনুসন্ধান এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন করতে হবে। মুষ্টিমেয় কয়েকটি পণ্যের ওপর রপ্তানি নির্ভরশীলতা কমিয়ে আমাদের এখন রপ্তানি বহুমুখীকরণের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেয়াসহ বিভিন্ন প্রণোদনা এবং দেশে শিল্প বিকাশে সরকারের নেয়া বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, উদ্যোক্তাগণ ব্যবসা স্থাপন থেকে শুরু করে ব্যবসা সমপ্রসারণ, ব্যবসায়িক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা, পরামর্শক সেবা ইত্যাদি এই ওয়ানস্টপ সেন্টার থেকে গ্রহণ করতে পারবে। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া এসএমইর বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, নারী উদ্যোক্তার সৃষ্টি হবে- সেটাই সরকারের প্রত্যাশা বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তার সরকারের গৃহীত কর্মসূচির ফলে দেশব্যাপী টেকসই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের দ্রুত প্রসার ঘটছে। উদ্যোক্তাবান্ধব নীতির কারণে প্রতিনিয়ত নারীরা ব্যবসায়ে মনোনিবেশ করছে। ফলে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির অনেক সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।
উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশীয় কাঁচামালনির্ভর শিল্পায়নের পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক কাঁচামালের সহজলভ্যতা বিবেচনা করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা প্রদান করবে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিভিন্ন দেশের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্তকরণ এবং পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। ৫ দিনব্যাপী ষষ্ঠ জাতীয় এসএমই মেলায় সারা দেশ থেকে আসা ২৬৭টি এসএমই প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করবে। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশই নারী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে ‘ঠাণ্ডা লেগে’ প্রধানমন্ত্রীর গলা বসে যাওয়ার কথা বলেন উপস্থাপিকা। ফলে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ প্রদান করেননি। এর পরিবর্তে তার ভাষণের লিখিত কপি অনুষ্ঠানে বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কেএম হাবিব উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সফল এসএমই উদ্যোক্তাদের মাঝে পুরস্কারও বিতরণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

বাঘের সাথে লড়াই করেও ছাগল বাঁচাতে পারলেন না রুপালি

যে ছাগলের জন্য জীবন বাজি রেখে বাঘের সাথে লড়াই করলেন, নিজে বাঁচলেও সেই ছাগলকেই রক্ষা করতে পারলেন না রুপালি। দশ দিন আগের কথা, রুপালি মেশরাম নামের ২৩ বছর বয়সী সাহসী ওই তরুণী যখন ঘর থেকে তার ছাগলের চিৎকার শুনলেন, তখন একটি লাঠি হাতে বের হলেন। গিয়ে দেখলেন, তার ছাগলকে বাঘে ধরেছে। ছাগল বাঁচাতে লাঠি দিয়ে বাঘের ওপর আঘাত করলেন।
এরপর বাঘ তার ওপর হামলে পড়ল। বাঘ-মনুষ্য লড়াইয়ের এক পর্যায়ে রুপালির মা জিজাভাই সেখানে গিয়ে হাজির হলেন। মেয়েকে টেনে ঘরে তুললেন। ততক্ষণে রক্তাক্ত হয়ে গেছেন রুপালি। বিষয়টি দেখে আতঙ্কিত হলেন তার মা, অথচ তিনিও অসুস্থ। তবে তাদের অবস্থা খুব বেশি খারাপ নয়। ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে তাদের রিলিজ দেওয়া হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে। চিকিৎসক রুপালির সাহসের প্রশংসা করেছেন। তবে এও বলেছেন, কপাল ভালো যে, বাঘটি তাকে (রুপালি) কামড়ে ধরেনি।
মা-মেয়ে বিবিসিকে বলেছেন, তারা ওই সময় একজন বনরক্ষককে ডাক দেন, কিন্তু বাঘ চলে যাওয়ার আধা ঘণ্টা তিনি আসেন।
যাই হোক, যে ছাগলের জন্য বাঘের সাথে মা-মেয়ের লড়াই, সেই ছাগলকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে, সেখান থেকে বন্যপ্রাণী পার্ক খুব কাছে থাকায় প্রায়ই বাঘ লোকালয়ে চলে আসে।