Sunday, March 4, 2018

ত্রিপুরার নতুন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব!

ত্রিপুরায় পরিবর্তনের অন্যতম কান্ডারি রাজ্য বিজেপির সভাপতি তরুন বিপ্লব দেব। স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে কে হচ্ছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ? সূত্রের খবর, এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি বিপ্লব দেব। দিল্লির ৪৮ বছরের এই তরুণ নেতাকে ত্রিপুরার সভাপতি করে সব দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা। বিপ্লব  দেবের জন্ম দক্ষিণ ত্রিপুরার উয়দপুর মহকুমায়। দিল্লিতে তাঁর উচ্চশিক্ষা। জীবনের একটা বড় অংশ তিনি কাটিয়েছেন নাগপুরে আরএসএসের কার্যালয়ে।
এবারই প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। দলের সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব জানিয়েছেন, বিজেপির সংসদীয় পর্ষদের বৈঠকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিজেপির সংসদীয় পর্ষদে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, পরিবহণ মন্ত্রী নীতীন গড়গড়িসহ দলের অন্য শীর্ষ  নেতারা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিপ্লব দেবের নাম ঘোরাফেরা করছিল আগে থেকেই। ভোটগ্রহণের আগে জনমত সমীক্ষায় মানিক সরকারের থেকে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন বিপ্লব। দিল্লিতে থাকাকালীন বিপ্লব স্থানীয় জিম ইনস্ট্রাক্টরের কাজও করেছেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়মসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন বিপ্লব। আরএসএসে বিল্পবের প্রশিক্ষক ছিলেন সুনীল  দেওধর, যিনি ত্রিপুরায় বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ছিলেন। তার মেন্টর ছিলেন কে এন  গোবিন্দচার্য। ১৫ বছর পর তিনি ত্রিপুরায় ফিরে আসেন। ২০১৬ সালে সুধীন্দ্র দাশগুপ্তকে সরিয়ে তাঁকে রাজ্য সভাপতি করে বিজেপি। মাত্র ২ বছরেই ত্রিপুরায় দলের পারফরম্যান্সকে অপ্রত্যাশিত উচ্চতায় নিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব।

ত্রিপুরায় পাঁচ কারণে বিজেপি'র জয়

উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্য ত্রিপুরায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়ী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি ও আদিবাসীদের সংগঠন আই পি এফ টির জোট।
ত্রিপুরা বিধানসভার মোট ৬০টি আসনের ৫৯টিতে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে বিজেপি ৩৫টিতে, আইপিএফটি ৮টিতে এবং সিপিআইএম ১৩টিতে জয়ী হয়েছে। তিনটি আসনের ফল এখনো পাওয়া যায় নি, কিন্তু বিজেপি-আইিএফটি জোট মোট ৪৩টি আসনে জেতায় তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়ে গেছে।
রাজ্যে ২৫ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় থাকা বামফ্রন্ট পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে। তারা বলছে, "এই ফল অপ্রত্যাশিত"।
কিন্তু যে বিজেপি আজ এত বিপুল ভোট পেয়ে জয়ী হলো, সেই দলই ৫ বছর আগে ওই রাজ্যে প্রায় অস্তিত্বহীন ছিল।
তাহলে কীভাবে এল এই জয়? বিশ্লেষকরা যেসব কারণগুলি দিচ্ছেন, তা হল
১. প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া বা অ্যান্টি-ইনকামব্যান্সি ফ্যাক্টর: দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় রয়েছে বামপন্থীরা। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার নিজেই ২০ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী। তাই ক্ষমতাসীন সরকার-বিরোধী হাওয়া এবার ছিলই, তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিজেপি নিজেদের মূল স্লোগানও দিয়েছিল 'চলো পাল্টাই' - অর্থাৎ পরিবর্তন চাই।
বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতা রাম মাধব আজ আগরতলায় মন্তব্য করেছেন, "চলো পাল্টাই স্লোগানটাই যে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমর্থন পেয়েছে, সেটা তো দেখাই যাচ্ছে।"
"বহু মানুষ যে বিজেপিকে ভালবেসে ভোট দিয়েছে, তা মনে হয় না।
তারা বামফ্রন্ট সরকারকে পাল্টাতে চেয়েছে বলেই তাদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে," বলছিলেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক গৌতম চাকমা।
সি পি আই এমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ত্রিপুরার অন্যতম শীর্ষ নেতা গৌতম দাস অবশ্য বিবিসিকে বলছিলেন, "অ্যান্টি-ইনকামব্যান্সি ফ্যাক্টর কতটা কাজ করেছে, সেটা ফলের বিস্তারিত বিশ্লেষণ না করলে তো বোঝা সম্ভব নয়।।"
২. বেকারত্ব, দুর্নীতির অভিযোগ: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিজেপি তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশের ভোট পেয়েছে এবার - যাদের শিক্ষাদীক্ষা রয়েছে, কিন্তু হাতে কোনও কাজ নেই। অধ্যাপক গৌতম চাকমার কথায়, "শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা এ রাজ্যে প্রায় পাঁচ লক্ষ। তাদের ক্ষোভ তো থাকবেই।"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ত্রিপুরায় প্রচারে গিয়ে বারে বারে এই বিষয়টার ওপরে জোর দিয়েছিলেন, স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তরুণদের হাতে কাজ দেওয়ার। সেটা একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিজেপি-র পক্ষে, এবং বামফ্রন্টের বিপক্ষে।
"তবে ত্রিপুরাতে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ হয় নি, এটা কোনওমতেই মেনে নেওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও যেভাবে অনুন্নয়নের কথা বলে বিজেপি জিতল, এটা সত্যিই অভাবনীয়," - মন্তব্য সাংবাদিক আশিষ গুপ্তর।
৩. আদিবাসী ভোট এবার বিজেপি-র দিকে: ত্রিপুরার এক-তৃতীয়াংশ আসন আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত। সিপিআই এম নেতা গৌতম দাসের কথায়, "ওটাই ছিল আমাদের অন্যতম শক্ত জনভিত্তি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেখানে আমরা প্রায় কিছুই জিততে পারি নি। ওটাই আমাদের সবথেকে বড় ক্ষতি।"
আদিবাসী ভোট নিজেদের দিকে টানতে আঞ্চলিক দল আই পি এফ টির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিল বিজেপি। নয়টি আসনে আইপিএফটি লড়েছিল, যার মধ্যে আটটিতে তারা জিতেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক চাকমা অবশ্য বলছেন, "আই পি এফ টি-র ঘোষিত নীতি হল পৃথক তুইপ্রাল্যান্ডের দাবী। তা থেকে তারা সরবে না। কিন্তু বিজেপির পক্ষে সেই দাবী মেনে নেওয়া কঠিন। তাই এই দুই জোট সঙ্গীর মধ্যে সংঘাত বাঁধবেই অদূর ভবিষ্যতে।"
৪. তৃণমূল স্তরে সংগঠন গড়তে পেরেছে বিজেপি: বিগত নির্বাচনে যে দল কোনও শক্তি হিসাবেই পরিগণিত হত না, সেই দলই এবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হতে পারল - কারণ তারা গত প্রায় দুবছর ধরে জোর দিয়েছিল তৃণমূল স্তরে সংগঠন গড়ে তুলতে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের নেতা সুনীল দেওধর ওখানেই ঘাঁটি গেড়েছিলেন, সঙ্গে ছিলেন আরেক আর এস এস নেতা ও বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব।
খুব কাছ থেকে এবারের ত্রিপুরা নির্বাচন দেখেছেন, এমন একজন সাংবাদিক দিল্লিতে অসমীয় প্রতিদিন কাগজের প্রতিনিধি আশিস গুপ্ত। তিনি বলছিলেন, "একটা সময়ে বামপন্থীরা যেভাবে ভোট করাত তৃণমূল স্তরে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে, এবার বিজেপি সেটাই করেছে। ভোটার লিস্ট ধরে বুথভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছিল তারা অনেকদিন আগেই। বামপন্থীরা সংগঠনের গর্ব করে - কিন্তু সেই আগের মতো করে ভোট করানোর দিকে তাদের নজর ছিল না।"
কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়াও ত্রিপুরায় বিজেপির সংগঠন গড়ে তুলেছেন উত্তরপূর্বাঞ্চলে বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা। কংগ্রেস আমলে আসামের মন্ত্রী ছিলেন, তারপরে বিজেপির উত্তরপূর্ব জয়ের মূল কারিগর হয়ে উঠেছেন যিনি।
৫. কংগ্রেস থেকে তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতারা: বহু দিন ধরে কংগ্রেসই ছিল ত্রিপুরায় বামফ্রন্টের প্রধান বিরোধী শক্তি। কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে কংগ্রেসের একটা বড় অংশ যোগ দেয় তৃণমূল কংগ্রেসে - আর বছর কয়েক আগে সেই গোটা অংশটাই চলে আসে বিজেপিতে।
"তারপরেই বিজেপির চিত্রটা পাল্টে যায় আমূল," মন্তব্য অধ্যাপক গৌতম চাকমার।
নিজের অঞ্চলে তাদের সংগঠন আগে থেকেই মজবুত ছিল। সেটারই লাভ উঠিয়েছে বিজেপি।
সুত্রঃ বিবিসি

আঁখিকে ধর্ষণ-হত্যার পর কবর জিয়ারত করেছিলো রায়হান

ফুফাতো বোন আঁখি হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের থেকে শুরু করে সবকিছুতে সক্রিয় ছিলো তারিকুল ইসলাম রায়হান (৩৫)। লাশ উদ্ধারের পর তার কান্নাকাটি ছিলো চোখে পড়ার মতো। এমনকি আঁখির কবরও জিয়ারত করেছিলো। সেই রায়হানই আঁখির হত্যাকারী। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছে এক সন্তানের জনক রায়হান। ধর্ষণের পর হত্যা করেছিলো আঁখিকে।
লাশ গুম করতে নানা চেষ্টা করেছিলো সে।
হত্যার পর আঁখির গলার স্বর্ণের চেইন বিক্রি করে রায়হান। চেইন বিক্রির কিছু টাকা দিয়ে কিনে এনেছিলো একটি বড় ব্যাগ। ব্যাগ নিয়ে সকাল ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হয় রায়হান। চাচা রোকন খান সিঁড়ির নিচে দেখা পেয়ে জানতে চান, ‘ব্যাগে কী’? ‘জিন্সের প্যান্ট’ উত্তর দিয়েছিল রায়হান। প্যান্ট ব্যবসায়ী ভাতিজার কথায় সন্দেহ হয়নি চাচার। অটোরিকশায় করে ব্যাগ নিয়ে রেললাইনে। চালক সন্দেহ করতে পারে ভেবে রেললাইনে না ফেলে চলে যায় বিমানবন্দর রেলস্টেশনে।
আপন ফুফাতো বোন আঁখিকে ধর্ষণশেষে হত্যার পর এভাবেই অপরাধ লুকাতে চেয়েছিল রায়হান। হত্যার পর ‘নিখোঁজ’ আঁখিতে খুঁজেছে রায়হানও। লাশ উদ্ধারের পর কান্নাকাটি করেছে। এত কিছুর মধ্যেও পরিবারের কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে পাঁচ দিন স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়িয়েছে রায়হান। মা-বাবা, স্ত্রী কারোরই সন্দেহ হয়নি তাকে। মেয়ে হত্যার খবর পেয়ে বিদেশে (মরিশাস) থেকে আঁখির বাবা বেলায়েত হোসেন আরিফ দেশে ফিরে আসেন। তারও সন্দেহ হয়নি রায়হানকে। আঁখির বাবার সঙ্গে কবর জিয়ারত করতে মাদারীপুরের কালকিনির গ্রামের বাড়িতেও গিয়েছিলো সে।
লাশভর্তি ব্যাগ ফেলে যাওয়ার পরদিন গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি ভোরে বিমানবন্দর রেলস্টেশনের এলাকা থেকে কালো ব্যাগ থেকে আঁখির লাশ উদ্ধার পুলিশ। পরে রায়হানের মা-বাবা, স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে নেয় রেলওয়ে থানা পুলিশ। আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা আঁখির লাশের সঙ্গে থাকা একটি কাঁথা রায়হানের মা-বাবাকে দেখানো হয়। তারা পুলিশকে জানান, এটি আঁখির কাঁথা। ওই কাঁথা গায়ে দিয়ে আঁখি ঘুমাত। এরপরই পুলিশ অনেকটা নিশ্চিত হয় যে রায়হানই খুনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াসিন ফারুক জানান, শুক্রবার বিকেলে মাদারীপুরের কালকিনি থানার আন্ডারচর গ্রামের বাড়ি এলাকা থেকে রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার ঢাকা মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে।
ঘটনার দিন শনিবার সকালে রায়হানের স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবাসহ পরিবারের অন্যরা বাসার বাইরে ছিলেন। রায়হান বাসার ড্রয়িং রুমে টিভি দেখছিল। আঁখি ছিল নিজ রুমে। একপর্যায়ে আঁখির রুমে গিয়ে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয় রায়হান। এতে আঁখি চরমভাবে ক্ষিপ্ত হলে জোরপূর্বক আঁখিকে ধর্ষণ করে। আঁখি তখন ধর্ষণের কথা পরিবারের সবাইকে বলে দেওয়ার হুমকি দিলে গলাটিপে হত্যা করে তাকে। এরপর লাশ গুম করার চেষ্টায় পাতলা কাঁথা দিয়ে লাশ মুড়িয়ে ফেলে।
রায়হান স্বীকারোক্তিতে বলেছে, লাশ ফেলে এসে বাসায় ফিরে পরিবারের কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে। ঘটনার পর আঁখির স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোনও বিক্রি করে দেয় রায়হান।
আঁখির বড় মামা ও রায়হানের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, আঁখি তাদের বোনের মেয়ে। তার ছেলেই যে তার এই মেয়েকে হত্যা করতে পারে তা চিন্তুাও করতে পারিনি। মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার আন্ডারচর গ্রামের বেলায়েত হোসেন আরিফ ও মা হাসনাহেনার মেয়ে আঁখি। পাঁচ বছর আগে তার মা-বাবা চাকরি করার জন্য মরিশাস চলে যান।
আঁখি থাকতো মোজো মামা মোহাম্মদ রোকন ও মামি জেসমিনের সঙ্গে পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনের ই ব্লকের ৩৩ নম্বর রোডের ৩৮ নম্বর বাড়িতে থাকত। পাশের বাসায় থাকতেন আঁখির বড় মামা ও রায়হানের বাবা নুরুল ইসলাম।

সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর ওপর তুরস্কের গোলাবর্ষণ

সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আফরিন অঞ্চলে সরকারপন্থি বাহিনীর ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে তুরস্কের যুদ্ধবিমান। এতে কমপক্ষে ৩৬ জন সিরিয়ান সেনা নিহত হয়েছেন। পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের বরাতে এ খবর দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। খবরে বলা হয়, কুর্দি মিলিশিয়া বাহিনী ওয়াইপিজি’র সহায়তায় গত সপ্তাহে আফরিনে প্রবেশ করে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনী। জানুয়ারি থেকে কুর্দি ওয়াইপিজি বাহিনীর ওপর অভিযান শুরু করেছিল তুরস্ক ও দেশটির মিত্র সিরিয়ার বিদ্রোহী বাহিনী।
তুরস্কের চালানো বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল কাফর জিনা এলাকার একটি শিবির। এ নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিন বার তুরস্কের বিমানবাহিনী সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে।
কুর্দি-নেতৃত্বাধীন ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সিরিয়ার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তুরস্ক। ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত হামলা চলার কথাও বলা হয় ওই বিবৃতিতে।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, তার দেশের বাহিনী জঙ্গিদের হাত থেকে রাজো শহর দখলে নিয়েছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে, ওই শহরের ৭০ শতাংশ এখন তুরস্কের সেনাবাহিনীর দখলে। রাজো শহরের অবস্থান আফরিন থেকে ১৬ মাইল উত্তর-পশ্চিমে। সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস-এর বিবৃতিতে বলা হয়, তুর্কি ও মিত্র সিরিয়ান বিদ্রোহীদের একটি গ্রুপ রাজো শহরে অনুপ্রবেশ করেছে। সেখানে সংঘাত অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, তুরস্ক এই ওয়াইপিজি বাহিনীকে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির অংশ বলে মনে করে। কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি তুরস্কের বিরুদ্ধে তিন দশক ধরে বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও তুরস্ক এই বাহিনীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে। তবে ওয়াইপিজি বাহিনীকে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির অংশ মনে করে না যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ইসলামিক স্টেট জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে লড়েছে ওয়াইপিজি।

ইতালিতে যেমন আছেন বাংলাদেশীরা

উন্নত জীবনের প্রত্যাশ্যায় ইতালিতে অবস্থান করছেন এক লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশী। এর মধ্যে শুধু রোমেই আছেন ৩৬ হাজার বাংলাদেশী। ১৯৮০ ও ১৯৯০ এর দশকে সেখানে অভিবাসন আইন কিছুটা শিথিল হওয়ায় এর বেশির ভাগই পাড়ি জমিয়েছিলেন ইতালিতে। তখন তাদেরকে স্বাগত জানানো হলেও দৃশ্যপট পাল্টে গেছে এখন। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে ইউরোপমুখী অভিবাসীর ঢল নামার পর অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে ইতালি। এর ফলে সেখানে আর্থিক অস্থিরতা, ব্যাপক হারে বেকারত্ব দেখা দিচ্ছে।
ফলে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। মাঝে মাঝেই তারা দলবেঁধে প্রহার করছে বাংলাদেশীদের। অশালীন ভাষায় গালি দিচ্ছে। তারপরও এসব বাংলাদেশী দেশে ফিরতে রাজি নন। কারণ, দেশে ফিরলে তাদের উপার্জনের পথ নেই। গত ২৯ শে অক্টোবর এমনই প্রহারের শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশী কার্তিক চন্দ্র। তিনি রোমে একটি রেস্তোরাঁয় থালাবাসন ধোঁয়ার কাজ করেন। কার্তিক শুধু একাই নন, ২০১১ সালের পর ইতালির রাজনৈতিক দল ফরজা নুওভা’র আক্রমণের শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ৫৯ জন বাংলাদেশী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টিআরটি ওয়ার্ল্ড। এতে বলা হয়, অক্টোবরে হামলার আগে কার্তিক তার সহকর্মীদের সঙ্গে মাথা নিচু করে কাজ করছিলেন। অকস্মাৎ তার দিকে তেড়ে যায় একদল মানুষ। তারা তাকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে- নোংরা কালো আদমি, এখানে তুমি কি করছো? কিন্তু কার্তিক অতো ভাল ইতালিয়ান ভাসা জানতেন না। তাই তিনি ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেন নি যে, তাকে অবমাননাকর গালি দেয়া হয়েছে। এখানেই সব শেষ হয়ে যায় নি। তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হলো। তার ওপর বৃষ্টির মতো পড়তে লাগলো লাথি, ঘুষি। এতে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন কার্তিক। বেহুঁশ হয়ে মৃতের মতো মাটিতে পড়ে থাকেন ২৭ বছর বয়সী কার্তিক। রক্তে সয়লাব হয়ে যায় রেস্তোরাঁর মেঝে। তখন এপাড়ে বাংলাদেশে তার ফোনের আশায় বসে আছেন তার মা। ছেলের ফোন না পেয়ে কার্তিকের মা ঊষা রানি নিজেই ছেলের ফোনে ফোন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অন্যপাড়ে তখন ফোনের সুইট বন্ধ করা। বাধ্য হয়ে তিনি ফোন করেন কার্তিকের বন্ধুদের। তারাই তাকে জানান যে, কার্তিককে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। কারণ, তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। ঊষা রানি বলেন, এ কথা আমি বিশ্বাস করি নি। তিনি ছেলের মুখের কথা শোনার জন্য কাকুতি জানান। কিন্তু অন্যপাড়ে কার্তিক ব্যান্ডেজে মোড়া। তার কথা বলার মতো সামর্থ নেই। তবে তিনি তার বন্ধুদের অনুরোধ করেছিলেন প্রকৃত সত্যা তার মাকে না বলতে। এক সপ্তাহ পরে কার্তিক তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন দেশে আমার পরিবারের আটজন মানুষ। এ জন্যই আমি বন্ধুদেরকে প্রকৃত সত্য বলতে বারণ করি। ওদিকে তার পরিবারকে বন্ধুরা বিশ্বাস করায়, কার্তিক গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় ভয়াবহ যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছাড়ছে। তারা দেশ ছাড়ছে। একটু শান্তিতে বসবাসের আশায় সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছার চেষ্টা করতে থাকে ইউরোপে। এক্ষেত্রে ইতালি হয়ে ওঠে তাদের প্রধান আকর্ষণ। ইতালির সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ সালেই এক লাখ ৮১ হাজার অভিবাসী পৌঁছেছেন ইতালিতে। এরপর লিবিয়ার সঙ্গে ইতালির একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফলে ২০১৭ সালে এসব অভিবাসীর সংখ্যা নেমে আসে এক লাখ ১৯ হাজারে। গত মাসে মাসেরাতা শহরে উগ্র ডানপন্থি দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন এমন একজন ইতালিয়ান লুসা ট্রেইনি’কে গুলি করে ৬ আফ্রিকান অভিবাসী। এমনতরো অনেক অপরাধের ফলে ইতালিতে বেড়ে ওঠে অভিবাসী বিরোধী প্রচারণা। রোববারের নির্বাচনে তাই অভিবাসী ইস্যুটি বড় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ৫৯ ভাগ ইতালিয়ান অভিবাসীদের কারণে হুমকিতে আছেন বলে মনে করেন। ওদিকে মাসেরাটা শহরের হামলাকে প্রকাশ্যে শুধু সেলিব্রেট করেছে ফরজা নুভা (নিউ ফোর্স)। এই রাজনৈতিক দলটি বেনিতো মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট শাসনের নস্টালজিয়াকে ধারণ করে। এ দলটির একজন কর্মী গত নভেম্বরে ইতালির পত্রিকা লা রিপাবলিকা’কে বলেছিলেন, আপনি যখন একজন বাঙালিকে চূড়ান্তভাবে শাস্তি দেবেন তখনই আপনার বাংলা ট্যুর সম্পন্ন হবে। ওই রাজনৈতিক কর্মী আরো বলেছিলেন, কেন আমরা বাংলাদেশী লোকজনকে পছন্দ করি? কারণ, তারা ভদ্র, শান্ত। কোনো প্রতিক্রিয়া ছাড়া আমাদের ঘুষি হজম করে। কার্তিকের ওপর হামলা তদন্তে দেখা যায়, তার ওপর হামলাকারীরা ফরজা নুভা’র সমর্থক। বিচার বিভাগীয় তদন্তে দেখা যায়, ফরজা নুভার নেতাদের কাছ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে কার্তিক চন্দ্রের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। তোমরা কেন এভাবে হামলা করো? একজন মনোবিজ্ঞানীর এমন প্রশ্নের উত্তরে ফরজা নুভা’র একজন কর্মী স্বীকার করেছিলেন- ‘আমরা মজা করতে এমন হামলা করি। বিদেশীদেরকে ইতালিতে থাকা অথবা ইতালিতে আসা অনুৎসাহিত করার জন্য এমন হামলা চালাই আমরা। কিন্তু এমন অভিবাসী বিরোধী মনোভাবও কার্তিকের মতো বাংলাদেশীদের মনোভাব পরিবর্তন করতে পারে নি। তাদেরকে ইতালিছাড়া করতে পারে নি। ইতালিতে কার্তিকের কাজটি একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে এসেছে। কার্তিক এমন অত্যাচার সয়েও বলেছেন, কখনো আমি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবি না। কারণ, দেশে ফিরে আমার করে খাওয়ার মতো কোনো কাজ নেই। উল্লেখ্য, হামলায় আহত হওয়ার পর প্রায় ৫ মাস কেটে গেছে। কিন্তু এখনও তিনি ভালমতো দেখতে পান না। টিআরটি ওয়ার্ল্ড লিখেছে, কার্তিকের মতো এমন যুবকরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে একপেশে হয়ে গেলেও তাদেরকে কাজ দেয়ার মতো কিছু নেই বাংলাদেশের। বাংলাদেশ সরকার নতুন নতুন বিনিয়োগের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশকে বর্ণনা করা হচ্ছে নতুন এশিয়ান টাইগার। কিন্তু এর রাজধানী ঢাকায় গরিব মানুষে ভরা। অনেক মানুষকে দেখা যাবে রাস্থায় ভিক্ষা করছে। ঢাকা শহর সম্পর্কে ওই রিপোর্টে বলা হয়, এখানে একটির সঙ্গে গায়ে গায়ে লেগে দাঁড়িয়ে আছে দালান। বাতাসে মোটা একটি স্তর সৃষ্টি হয়েছে ধোয়ার। এতে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে জটিলতা সৃষ্টি করেছে। রাস্তায় কর্ণ বিদারণকারী গাড়ির হর্ন। ফুটপাত ব্যস্তায় ভরা। স্থান সংকুলান হচ্ছে না সেখানে। এখেেন ঘন্টায় ২০ সেন্ট হিসেবে যারা কাজ করতে চান তাদের জন্য কাজ আছে। অন্যদিকে গ্রাম এলাকার পরিবেশ আরো খারাপ। ঢাকা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে ছয়সুতি নামে একটি ছোট্ট গ্রামে বসবাস করেন কার্তিকের পরিবার। সেখানে পুকুরের পানি দূষিত। যে কূপ থেকে পানি তোলে গ্রামবাসী তাতে ২০ বছর ধরে আর্সেনিক সংক্রমণ। ঢাকা থেকে ছয়সুতিয়া যেতে সময় নেয় আট ঘন্টা। সেখানেই কার্তিকের ভাই পলাশ বলেন, পরিকল্পনা নিয়েছিলাম ভাইকে সাহায্য করতে রোমে যাবো। কিন্তু দুর্ভাগ্য। অভিবাসন বিষয়ক নীতিতে পরিবর্তনের কারণে আমার আর সে সুযোগ হয় নি। কর্মহীন হয়ে সারাদিন বাড়িতেই বসে কাটাতে হয় আমাকে। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের সাংবাদিক কার্তিকদের গ্রামে গিয়েছিলেন। কার্তিকের মার সঙ্গে দেখা হয়েছে তাদের। ঊষা রানি যখন তার ছেলের কথা বলছিলেন তখন তার চিবুক বেয়ে কান্না ঝরছিল। তিনি জানান, এক পর্যায়ে আমাদেরকে কার্তিকের পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয়। এ ছাড়া আমাদের হাতে আর কোনো বিকল্প ছিল না। শৈশব-কৈশোরের দিনগুলোতেই কার্তিক তার পিতার দোকানের জন্য কাঠ কাটা শুরু করেন। একদিন তাদের দোকানে যখন কাজ করছিলেন তখন কার্তিক শুনতে পান বিকট একটি শব্দ। তাকিয়ে দেভেন পিছনে পড়ে আছেন তার পিতা। তারপর থেকেই কার্তিকের পরিকল্পনায় চলে আসে ইতালি।

একজন পর্নো তারকা ও ইতালির জাতীয় নির্বাচন

ইতালিতে আজ জাতীয় নির্বাচন। কিন্তু বন্ধ করে দেয়া হয়েছে একজন পর্নো তারকার ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট। তিনি হলেন পাওলা সাউলিনো (২৮)। কিন্তু কেন? নির্বাচনের সঙ্গে একজন পর্নো তারকার কি সম্পর্ক? কি কারণে তার সামাজিক যোগাযোগের ঠিকানা বাতিল করে দেয়া হয়েছে? এমন অনেক প্রশ্ন সামনে এনেছে পশ্চিমা মিডিয়া। এর উত্তরও খোঁজার চেষ্টা করেছে তারা। এর আগে সাংবিধানিক সংস্কার প্রশ্নে গণভোট আহ্বান করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি।
তখন ওই পর্নো তারকা ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যারা গণভোটে ‘না’ ভোট দেবেন তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে তিনি ‘ওরাল সেক্সে’ মিলিত হবেন। সেই পাওলা সাউলিনো এবারও জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারেন এ ভয়ে সরকার তার ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। তার রয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার অনুসারী। তিনি যাতে এসব অনুসারীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখতে না পারেন, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে না পারেন সে জন্য তার ওই একাউন্ট বন্ধ করে তাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর ২৯ শে নভেম্বর ইতালিতে যে গণভোট হয় সেই তাতে ‘না’ ভোট বিজয়ী হয়েছিল। এর পক্ষে পড়েছিল শতকরা ৫৯ ভাগ ভোট। আর এই না ভোটকেই উৎসাহিত করেছিলেন পাওলা সাউলিন। আর এ জন্য প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে কয়েক শত পুরুষের মনোরঞ্জন করতে হয়। এমন পুরুষের সংখ্যা কমপক্ষে ৭০০। এখন তিনি একটি পত্রিকাকে বলেছেন, তাকে ভয় পান রাজনীতিকরা। কারণ, তিনিই নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে পারেন। তার ভাষায় ‘রাজনীতিকরা ভয়ে শঙ্কিত। কারণ এই জাতীয় নির্বাচনে আমি আরেকটি ‘পম্পা ট্যুর’ অভিযান চালাতে পারি। এটাই তাদের ভয়’। উল্লেখ্য, পম্পা ট্যুর হলো স্থানীয় ভাষায় ওরাল সেক্স। এর আগে তিনি এ বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা রক্ষা করেছেন অসুস্থ থাকার পরও। এক বন্ধুর কুকুরে তার মুখ কামড়ে দিয়েছিল। তাতে তিনি বেশ আহত হন। তা সত্ত্বেও তিনি ‘পম্পা ট্যুর’ মিশন চালান। কুকুরের কামড়ের ওই ক্ষত সারতে তার বেশ কয়েক সপ্তাহ সময় লেগেছিল। এর আগে তিনি লন্ডনের দ্য সান অনলাইনকে বলেছিলেন, ‘আমার পম্পা ট্যুর চলছেই। আমি আসলে বলতে চাই আমার প্রকৃত লাইফ স্টাইলই হলো পম্পা ট্যুর। এটাই আমার মুক্তির পথ। ডাক্তার আমাকে মুখের ক্ষত নিয়ে বড় কোনো ‘মিশনে’ না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।’ গত অক্টোবরে এক হ্যালোইন পার্টিতে তিনি যখন বন্ধুর কুকুরের পিঠে চড়ে বসেছিলেন, তখন তা তাকে কামড়ে দেয়। কেটে যায় নাক, মুখ, ঁেঠাট। তখন চিকিৎসকরা তাকে পরামর্শ দেন। তারা বলেন, তার মুখের ভিতরে ও বাইরের ক্ষত সারতে সময় লাগবে নয় মাস। কিন্তু তিনি পম্পা ট্যুর দিয়ে যাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তাদেরকে হতাশ করেন নি। তিনি এ জন্য ডিসেম্বরে ইতালির ১০টি শহর সফর করেন। এরপর ইন্সটাগ্রামে ছবি পোস্ট করেন নিজের। তাতে ক্যাপশনে লিখেছেন, পম্পা ট্যুরের প্রথম ধাপ সম্পন্ন। কিছুটা ক্লান্ত এখন। সবকিছুই ঠিক আছে। এটা হলো সম্ভবত চমৎকার সূচনা।
তিনি এ মিশনে সফর করেন রোম, ফ্লোরেন্স, বোলোগনা, ভেরোনা, মিলান, তুরিন, নেপলস, বারি, লেসি ও পালেরমো। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, যারা ‘না’ ভোট দিয়েছেন তারা ফরম ফিলআপ করুন। তবে কেউ কেউ এটাকে জাস্ট ভাওতাবাজি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেন। ইন্সটাগ্রামের অনেক ব্যবহারকারী তার এমন পম্পা ট্যুরের স্বপক্ষে প্রমাণ চান।

‘ফয়জুর জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী’ -প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষক ও জনপ্রিয় লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর হাসান ওরফে শফিকুর জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে র‌্যাব। আজ রোববার র‌্যাব-৯ এর সদরদপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান সিলেট র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ।
তিনি বলেন, ‘ফয়জুরের কাছ থেকে র‌্যাব বিভিন্ন ধরনের তথ্য পেয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি দল কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে র‌্যাব তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ ধরনের হামলা কেউ একা করতে পারে না।
তার সঙ্গে আরও কেউ ছিল বলে আমরা ধারণা করছি। তবে জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুর র্যা বকে জানিয়েছে, সে একাই এ হামলা চালিয়েছে।’
কর্নেল আলী হায়দার আরো বলেন, ‘ফয়জুর একসময় মাদ্রাসায় দাখিল পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। এরপর সে আর পড়েনি। বিভিন্ন সময়ে সে বিভিন্ন স্থানে কাজ করেছে। তার সঙ্গে আর কারা জড়িত; সেগুলো তদন্ত করে দেখছে র্যা ব। তাকে সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হবে। হামলার ঘটনার মূল বিষয়টি দেখবে পুলিশ। আর পুলিশের পাশাপাশি আলোচিত এ ঘটনার ছায়াতদন্ত করবে র‌্যাব।’
ব্রিফিংয়ে র‌্যাব জানায়, ‘ফয়জুরের পরিবারের কাউকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের সন্ধানে কাজ চলছে। জাফর ইকবালের প্রতি ফয়জুরের দীর্ঘদিনের আক্রোশ ছিল। তিনি নাকি ইসলামের শত্রু। এই আক্রোশের জের ধরেই তার ওপর হামলা চালায় ফয়জুর। কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ার বাড়ি থেকে র‌্যাব বিভিন্ন ধরনের ইসলামি বই ও বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। র‌্যাবের অপর একটি দল সেগুলো খতিয়ে দেখছে।’

আমি শুধু চাই, চারপাশের মানুষগুলো নিরাপদে থাকুন: নুহাশ

জনপ্রিয় লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে নুহাশ হুমায়ুন ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, সবার জীবনেই এমনটা ঘটে। একটি ফোনকল অথবা টেক্সট মেসেজ পেলেন। আপনার পরিচিত কেউ একজন ভাল নেই এবং আপনি পড়িমড়ি করে তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটলেন। এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে আপনাকে একটি দিন শুরু করতে হয়। স্বভাবত এটা হলো হার্টের রোগ অথবা স্ট্রোক অথবা ওই রকম কিছু। কিন্তু আজকের ঘটনাটা এমন ছিলো না। আমার পরিবারের একজনের ওপর হামলা হয়েছে।
তাকে জরুরি বিভাগে পড়িমরি করে নেয়া হচ্ছে এমন সরাসরি সম্প্রচার করেছে মিডিয়া। এই হামলাকে হলিউডি একশন ছবির মতো করে দেখানো হচ্ছে। আমার নিউজফিড এরইমধ্যে ভরে ওঠেছে বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবনা ও প্রার্থনায়।
দেখুন, আমি শুধু চাই এই দেশে আমার চারপাশের মানুষগুলো নিরাপদে থাকুন। কিন্তু বাস্তবতা এমন নয়। আমার কাছে, এটা কোনো রাজনীতি, নৈতিকতা বা কোনো আদর্শ নয়। এটা হলো পরিবার। আমি আপনাদেরকে বলবো, আমার পরিবার অবিশ্বাস্য রকমভাবে শক্তিশালী। তারা অবিশ্বাস্যরকমভাবে স্বাভাবিক, শান্ত।
বেদনা, সহিংসতা অথবা মৃত্য। যাই আসুক আমার পরিবার পৃথিবীকে বদলানোর প্রয়াস চালিয়ে যাবে। এ জন্য আপনি দিন গুনতে পারেন।

উন্নয়ন চাইলে নৌকায় ভোট দিন :প্রধানমন্ত্রী

by মামুন রেজা ও হাসান হিমালয়: উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার জন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
গতকাল শনিবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আপনারা গত নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়েছেন, উন্নয়ন হয়েছে। এ উন্নয়নের ধারা আপনারা কি বজায় রাখতে চান? যদি চান, তাহলে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে। আপনারা দুই হাত তুলে দেখান, নৌকায় ভোট দেবেন কি-না।' এ সময় উপস্থিত শ্রোতারা দুই হাত তুলে সাড়া দিলে তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ইনশাআল্লাহ নৌকার জয় হবে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। আমরা বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ করে সোনার বাংলা গড়ে তুলব।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেছেন, আদালত রায় দিয়েছেন। সে রায়ে তিনি কারাগারে। এখানে আওয়ামী লীগের কিছুই করার নেই। দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতেই হবে।
দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে মঞ্চে আসেন আওয়ামী লীগ  সভানেত্রী। এ সময় উপস্থিত জনতা বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর ২৪ মিনিটের ভাষণের বড় অংশজুড়ে ছিল সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য দেশের উন্নয়ন। আর সেই উন্নয়নের জন্য আমরা সব কাজ করে দিচ্ছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, 'আজকে আমি আপনাদের সামনে ১০০টি প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছি। এর মধ্যে ৪৮টি উদ্বোধন করেছি।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার সরকার গঠনের আগে খুলনার সার্বিক উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। প্রতিটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন তৈরি করেছি। প্রতিটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন তৈরি করেছি। বন্ধ কলকারখানা চালু করেছি।
শিক্ষায় উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, 'এখন বাবা-মাকে আর বই কিনতে হয় না। বই কেনার দায়িত্ব আমি নিয়েছি।' চলতি বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি বই তুলে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না বলে ঘোষণা দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, 'আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্প করেছি। একটি টিনের ঘর হলেও আমি করে দেবো। কেউ গৃহহীন থাকবে না। কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হচ্ছে। বিদেশে যেতে এখন আর ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি বিক্রি করতে হয় না। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে যেতে পারবে- সে ব্যবস্থা আমি করেছি।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একটা সুখবর দিতে চাই, ভোলায় অনেক গ্যাস পাওয়া গেছে। সেই গ্যাস পাইপলাইনে করে বরিশাল ও খুলনায় যাতে আসে, তার ব্যবস্থা আমরা করে দেবো। পদ্মা সেতু থেকে যশোর, খুলনা ও বাগেরহাট হয়ে মোংলা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ আমরা শুরু করে দিয়েছি।'
মিছিলের নগরী :এর আগে সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল সার্কিট হাউস মাঠে এসে জড়ো হতে থাকে। তাদের হাতে দলীয় প্রতীক নৌকাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি শোভা পাচ্ছিল। দুপুর ১২টার পর থেকে খুলনা হয়ে যায় মিছিলের নগরী। নগরীর সব রুট থেকে দলে দলে মানুষ সার্কিট হাউস মাঠে যেতে থাকে। দুপুর আড়াইটার আগেই সার্কিট হাউস মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে জায়গা না পেয়ে মানুষ আশপাশের সড়কগুলোতে দাঁড়িয়ে মাইকে বক্তৃতা শুনেছেন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ। বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, একসময়ের জনপ্রিয় ফুটবলার সালাম মুর্শেদী, দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রহমান ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, কেন্দ্রীয় নেত্রী মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার ও এস এম কামাল হোসেন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক এমপি, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, এইচ টি ইমাম, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রমুখ।
যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন :খুলনার জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০তলা বিশিষ্ট চতুর্থ একাডেমিক ভবন জয় বাংলা, ১০তলা বিশিষ্ট শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী আবাসিক ভবন, খুলনার আধুনিক রেলস্টেশন, জেলা স্টেডিয়াম পুনর্নির্মাণ, খুলনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, মহেশ্বরপাশা সরকারি শিশু পরিবার হোস্টেল ভবন, তেরখাদা ও কয়রা থানা ভবন, রূপসা ফায়ার স্টেশন ও রিভার ফায়ার স্টেশন ভবন, বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক অফিস ভবন, কেসিসির নগর মাতৃসদন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ভবন, কুয়েটের শহীদ মিনার, কয়রায় পাঁচতলা বিশিষ্ট ডাকবাংলো ভবনসহ মোট ৪৮টি প্রকল্প।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের শেখ রাসেল ইকো পার্ক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন সাঁই মিলনায়তন ও টিএসসি ভবন, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরী চিকিৎসাকেন্দ্র, সুলতানা কামাল জিমনেসিয়াম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আইইআর ভবন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা কারাগার, খুলনা সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ভবন, জেলা রেজিস্ট্রি অফিস ভবন, পাইকগাছা কৃষি কলেজসহ ৫২টি নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকৌশলীদের কনভেনশনে প্রধানমন্ত্রী :বেলা পৌনে ১১টায় হেলিকপ্টারে করে নৌবাহিনীর ঘাঁটি তিতুমীরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নগরীর খালিশপুর বায়তুল ফালাহ ঈদগাহ মাঠে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) ৫৮তম কনভেনশনের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রকৌশলীদের সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনাদের ওপরই বর্তায়। কাজেই উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আপনারা পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন।'
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই দেশের সব নির্মাণ কাজে যেন বাইরের থেকে প্রযুক্তি ধার করতে না হয়। আমাদের প্রকৌশলীরাই সবকিছুতে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। এরই মধ্যে আমাদের অনেক তরুণ ও মেধাবী প্রকৌশলী পৃথিবীর কোনো কোনো দেশের 'আইটি ভিলেজে' অনেক দক্ষতা ও সুনাম অর্জন করেছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। আইইবির সভাপতি কবির আহমেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর, আবদুল্লাহ সাদিক ও মনিরুজ্জামান পলাশ বক্তৃতা করেন।

অতিরিক্ত টাচ স্ক্রিন ব্যবহারে শিশুদের যে ক্ষতি হয়

এখনকার শিশুরা মোবাইল ফোন বা ট্যাবের টাচস্ক্রিনে ভিডিও গেমস খেলায় কাটায় অনেকটা সময়। প্রাপ্তবয়স্কদের থেকেও তারা অনেক বেশি প্রযুক্তি পারদর্শী। বাবা-মায়েরাও বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখার জন্য নিজের স্মার্টফোন তাদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে থাকেন। ফলে স্মার্টফোন ঘাটতে ঘাটতে শিশুরাও অ্যাডিক্টেড হয়ে পড়ছে।
আপনিও কি শিশুর হাতে স্মার্টফোন ধরিয়ে দিচ্ছেন? তাহলে জেনে নিন টাচস্ক্রিন স্মার্টফোন শিশুর কী কী ক্ষতি করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত টাচস্ক্রিন স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ভিডিও গেমের ব্যবহার শিশুর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শিশু ক্রমশ পেনসিল ধরতে অক্ষম হয়ে পড়তে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, টাচস্ক্রিন ফোন কিংবা ট্যাবলেট ব্যবহার করার সময়ে শিশুদের আঙুলের পেশি সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে বাধা পায়। আঙুলের জোর বাড়ে না। ফলে যখন তারা পেনসিল ধরতে গেলে আঙুলে জোর পায় না। আঙুল সঠিকভাবে নড়চড়াও করতে পারে না।
এই প্রসঙ্গে ইংল্যান্ড ফাউন্ডেশন এনএইচএস ট্রাস্টের প্রধান পেডিয়াট্রিক থেরাপিস্ট স্যালি পাইন জানান, বাচ্চাদের ঠিক মতো পেনসিল ধরার জন্য আঙুলের পেশির জোর ও পেশি সঠিকভাবে চলাচল করা দরকার। টাচস্ক্রিন ব্যবহারের ফলে এটা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এভাবে ঠিক মতো পেনসিল না ধরতে পারার ফলে হাতের লেখা খারাপ হচ্ছে। ফলে পরীক্ষায় নম্বরও কম পাচ্ছে। সূত্র: জিনিউজ

'পৃথিবী এগিয়েছে, নারীও এগিয়ে গেছে'

সাংবাদিকতা, সমাজকল্যাণ ও ব্যবসায় উদ্যোগে বিশেষ অবদানের জন্য তিন কৃতী নারী পেয়েছেন 'রাঁধুনী কীর্তিমতী সম্মাননা ২০১৭'।
তারা হলেন কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সম্পাদক হাসিনা ওহাব, প্রতিবন্ধী ও বঞ্চিত মানুষের পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে অবদানের জন্য পাবনার জাহানারা বেগম বিজলী এবং সাড়ে ৩০০ নারীকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলায় ময়মনসিংহের উদ্যোক্তা আইনুন্নাহার।
ভোগ্যপণ্য প্রস্তুতকারী স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের এ সম্মাননা এবার ১২ বছর পূর্ণ করল।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে গতকাল শনিবার রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে এক অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্তদের প্রত্যেকের হাতে ক্রেস্ট ও এক লাখ টাকার চেক তুলে দেন স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, ইনোভেশন ফর ওয়েলবিইং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মনিরা রহমান এবং বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান।
স্বাগত বক্তব্যে অঞ্জন চৌধুরী বলেন, পাবনায় তার প্রতিষ্ঠানে ৬০ শতাংশ নারী কর্মী রয়েছেন। বাকি ৪০ শতাংশ পুরুষ। এর একমাত্র কারণ নারীরা কাজে ফাঁকি দেন না। তারা তাদের কাজ দিয়ে নিজের জায়গায় পৌঁছে গেছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আনিসুল হক বলেন, এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য 'প্রেস ফর প্রোগ্রেস'। এর বাংলা হলো 'প্রগতিকে দাও গতি'। গতি এসেছে পরিবর্তন হয়েছে। রংপুরের এক বালিকা বড় হয়ে লিখলেন 'অবরোধবাসিনী'। তার সুফলই আমরা পেয়ে যাচ্ছি।
মুনিরা রহমান বলেন, নারীর যুদ্ধজয়ের পেছনে বড় বাধা  নারীর প্রতি সহিংসতা। এ সহিংসতাকে আমরা চিনতে পারিনি। শারীরিক সহিংসতাকে চেনা যায়; কিন্তু মানসিক সহিংসতা চেনা যায় না। তিনি বলেন, এসিড সন্ত্রাস কমে আসার প্রধান কারণ এসিডদগ্ধরা এগিয়ে এসেছে।
রুনা খান বলেন, পৃথিবী এগিয়েছে। নারী এগিয়ে গেছে। তবে এ সমাজ নারীকে মূল্যায়নে ব্যর্থ হচ্ছে। নারীর একক সফলতাকে ঘরে ঘরে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। নারী তার ভেতরের আগুন নিয়ে জ্বলে উঠবেন বলে আশা ব্যক্ত করেছেন বক্তারা।
কীর্তিমতী নারী নির্বাচনের এবারের বিচারক প্যানেলে ছিলেন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, উপসম্পাদক অজয় দাশগুপ্ত এবং জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাখশান্দ। সম্মাননা শেষে সঙ্গীত পরিবেশন করে 'চিরকুট' ব্যান্ডদল।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: দেখা করেন নি তিন মুসলিম অভিনেতা

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভারত সফর নানা কারণে ব্যাপক বিরোধিতা ও সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদিও প্রটোকল ভেঙ্গে বিমানবন্দরে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন কিন্তু সেদেশের জনগণ মোদির এ বাড়াবাড়িকে মেনে নেয়নি।
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে তাদের জন্য বিরাট সাফল্য হিসেবে দেখছে। কিন্তু নেতানিয়াহুর এ সফরের বিরুদ্ধে ভারতের জনগণের প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করেছে সরকার জনগণের ইচ্ছা ও মতামতকে উপেক্ষা করে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে ভারতের চলচ্চিত্র জগতের প্রখ্যাত তিন অভিনেতার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না করার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনাকে সবাই ইতিবাচক হিসেবেই দেখেছেন। এ থেকেই বোঝা যায়, নরেন্দ্র মোদি সরকার দখলদার ইসরাইলের ব্যাপারে ভারতীয় জনগণের চিন্তাচেতনার সঙ্গে এখনো পরিচিত হতে পারেনি।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞের প্রতিবাদে মোম্বাই নগরীর প্রখ্যাত তিন অভিনেতা সালমান খান, আমির খান ও শাহরুক খান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। ভারতের জনগণ বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর অসংখ্য মানুষ ওই তিন অভিনেতাকে সত্যিকারের বীর হিসেবে অভিহিত করে এ পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।
ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি'র নেতৃবৃন্দ মনে করেন তারাই হচ্ছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘাঁটি। তাদের ধারণা ছিল নির্বাচনের আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে নজিরবিহীন সংবর্ধনা জানিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে বিশেষ করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী আরএসএস ও শিবসেনাকে খুশী করা যাবে কারণ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এইসব গোষ্ঠীর ভালো সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করতে তিন চলচ্চিত্র অভিনেতার অস্বীকৃতি এবং তাদের এ পদক্ষেপের প্রতি অসংখ্য মানুষের সমর্থন থেকে বোঝা যায়, হিন্দু-মুসলমান সবাই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিরোধিতা করেছেন এবং এটাকে তারা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকারী পূর্বপুরুষদের জন্য অবমাননাকর বলে মনে করছেন। ভারতের রাজনৈতিক বিষয়ক বিশ্লেষক এমকে বাহাদুর কুমার মনে করেন, দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এতো ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য খুবই বিপদজনক।
ছয় মাস আগে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি ইসরাইল সফরে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভারতের সাবেক কর্মকর্তাদের ইসরাইল সফরের প্রথা ভেঙে সেবারই প্রথম তিনি রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করা থেকে বিরত থাকেন। তবে এবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর থেকে বোঝা যায়, দু'পক্ষই সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ভারতের অতি আগ্রহের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরো ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য দখলদার ইসরাইলকে সেতু হিসেবে ব্যবহার করতে চায় নয়াদিল্লি। দ্বিতীয়ত, ভারত ইসরাইলের সহযোগিতায় নিজের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে আরো সমৃদ্ধ করতে চায়। তৃতীয়ত, ভারতীয় কর্মকর্তাদের ধারণা ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হস্তগত করা যাবে। চতুর্থত, ফিলিস্তিনিদের দমনের জন্য ইসরাইল যেসব উপায় উপকরণ বা কৌশল ব্যবহার করে থাকে কাশ্মিরিদের বিরুদ্ধেও ভারত সরকার তা ব্যবহার করতে চাইছে।
তবে ভারত সরকার গত সাত দশক ধরে ইসরাইলের সঙ্গে গোপন কিংবা প্রকাশ্য সম্পর্ক বজায় রেখে চললেও বেসামরিক ক্ষেত্রে তাদের তেমন লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বরং ইসরাইল ব্যাপকভাবে লাভবান হয়েছে। ভারত ইসরাইলের কাছ থেকে বছরে ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র কিনে থাকে যা কিনা ইসরাইলের জন্য লোভনীয় বাজার। একই সাথে এ অঞ্চলের দেশগুলোতে প্রভাব বিস্তারের জন্য অস্ত্র বিক্রিকে হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করছে ইসরাইল। এ কারণে, নেতানিয়াহুর ভারত সফরের বিরুদ্ধে সেদেশের জনগণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের সম্পর্ক বিস্তারের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেছে। বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলের সঙ্গে এতো ঘনিষ্ঠতাকে ফিলিস্তিনি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করার শামিল বলে মনে করছেন। ভারত সরকার বায়তুল মোকাদ্দাসে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোট দিয়েছে। কিন্তু তারপরও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রটোকল ভেঙে যেভাবে নেতানিয়াহুকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন তাতে বোঝা যায়, বিজেপি সরকার দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সর্বাত্মক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিস্তারে বদ্ধ পরিকর।
ভারতে 'ইসরাইলকে বয়কট কর' আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী গিতা হরিহরণ মনে করেন, "ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নয়াদিল্লি সফর ভারতের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের দ্বিমুখী নীতির প্রকাশ। কারণ সরকার একদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ভোট দিচ্ছে অন্যদিকে দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করছে। কিন্তু ভারতের সচেতন হিন্দু সম্প্রদায় সরকারের এ ধরণের দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং তারা বলছে আমরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করব।"
রাজতন্ত্র শাসিত আরব সরকারগুলো ইসরাইলের সঙ্গে আপোশের নীতি গ্রহণ করায় এখন ভারতও ইসরাইলের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী হয়ে উঠেছে যা কিনা সারা বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীর আবেগ, অনুভূতি ও ইসরাইল বিরোধী চেতনার পরিপন্থী। কিন্তু ভারতের অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বায়তুল মোকাদ্দাস দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে নয়াদিল্লির সহযোগিতা বিস্তারের পথে জনগণ এখনো বড় বাধা। তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনমতকে উপেক্ষা করতে পারেন না।
ভারতের রাজনৈতিক বিষয়ক বিশ্লেষক তেলমিয আহমাদ মনে করেন, ইসরাইলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এখনো ব্যাপক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি ও তার সমর্থকরা ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষে প্রচার চালালেও বাস্তবতা হচ্ছে, ওই সম্পর্ক কখনই কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছবে না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় জনগণের সমর্থন লাভ ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য নয়াদিল্লীতে অবস্থিত ইসরাইলি দূতাবাসের পক্ষ থেকে দরিদ্রদেরকে অর্থ দেয়ার ঘটনা আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোও একই কৌশল অবলম্বন করে দরিদ্র মুসলমানদেরকে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের নিজ ধর্ম ত্যাগ করতে উৎসাহিত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে ইসরাইল আসলে উপমহাদেশে তার প্রভাব বিস্তার ও স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। তাদের লক্ষ্য ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা বিস্তারের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্কভুক্ত দেশগুলোর ওপরও প্রভাব বিস্তার করা। ইসরাইল আশা করছে এভাবে মহাসাগরে তারা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে।

ঝড়ে বউ ফেলেই ট্রাম্পের দৌড়!

ঝড় উঠতেই স্ত্রী মেলানিয়াকে ফেলেই বিমানে উঠে পড়লেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিমান থেকে নামার সময় তার পাল্টা জবাবও দিয়ে দিলেন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া। মান ভাঙাতে ট্রাম্প হাত ধরতে গেলে ঝটকা মেরে সরিয়ে দেন তিনি। নর্থ ক্যারোলিনার জনপ্রিয় প্রটেস্ট্যান্ট পুরোহিত বিলি গ্রাহামের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যাওয়ার সময় শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
ট্রাম্পের মুহূর্তের ওই অসচেতন ভুলটি ক্যামেরাবন্দি করে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দৃশ্যটির সচিত্র প্রতিবেদন তৈরি করে ফেলে মুখিয়ে থাকা মার্কিন গণমাধ্যমগুলো। রয়টার্স, এপি। সকাল থেকেই মেজাজ বিগড়ে ছিল আকাশের। ঝড়-বৃষ্টি হবে কি হবে না- এমন দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যেই ভার্জিনিয়ার ডুলাস বিমানবন্দরে পৌঁছান ট্রাম্প দম্পতি। রানওয়েতে অপেক্ষায় থাকা এয়ারফোর্স ওয়ানের কাছাকাছি আসতেই শুরু হয় ঝড়। এলোপাতাড়ি বাতাসের ভয়ঙ্কর গর্জন। ৭১ বছর বয়সী ট্রাম্প ভয়ে স্ত্রী মেলানিয়াকে (৪৭) ফেলেই দৌড়ে বিমানে উঠে যান। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে এক মূহূর্তও এদিক-ওদিক সময় নষ্ট করেননি ট্রাম্প। ঘাড়গুঁজে দৌড়। ঝড়ের কারণে বিমান থেকে নামার সময় ঠিকই তার শোধ তুললেন মেলানিয়া। স্বামী উঠে যাওয়ার পর একা একা উড়োজাহাজে ওঠেন মেলানিয়া। নর্থ ক্যারোলিনায় নামার সময় কয়েকবার মেলানিয়ার হাত ধরার চেষ্টা করেন ট্রাম্প। কিন্তু বারবারই ঝটকা মেরে তার হাত সরিয়ে দেন ফার্স্টলেডি। ট্রাম্পের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করতে সম্প্রতি আরেকবার দেখা গিয়েছিল ৪৭ বছর বয়সী ফার্স্টলেডিকে। এক প্লেবয় মডেলের সঙ্গে যৌনাচার লুকাতে ট্রাম্পের অর্থ ব্যয়ের খবর ফাঁস হওয়ার পর ট্রাম্পের প্রতি এ ধরনের শীতল প্রতিক্রিয়া দেখান মেলানিয়া। সাধারণত ফার্স্টলেডিদের কাছে কাছে রাখতেই পছন্দ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্টরা।

ট্রাম্প কি আজীবন প্রেসিডেন্ট থাকতে চান?

যুক্তরাষ্ট্রের সিএনএন টিভি নেটওয়ার্ক বলছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেদেশের প্রেসিডেন্টের সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার নিয়মটি তুলে দেবার যে পরিকল্পনা করছেন - তার প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনিও ‘কোন একদিন’ এরকম একটা উদ্যোগ নেবার চেষ্টা করবেন - বলছে সিএনএন।
সিএনএন বলছে, তাদের হাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন কিছু মন্তব্যের রেকর্ডিং রয়েছে যাতে তিনি এ কথা বলেছেন। শনিবার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির জন্য অর্থদাতাদের সাথে এক বৈঠক করার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ কথা বলেছেন - জানাচ্ছে সিএনএন। এতে বলা হয়, মি. ট্রাম্প বলেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট যে নিজেকে আজীবন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করতে পারছেন এটা একটা দারুণ ব্যাপার। এ কথার পর মি. ট্রাম্প যোগ করেন, ‘হয়তো আমরাও একদিন এরকম কিছু একটা করার চেষ্টা করবো।’ চীনে প্রেসিডেন্টের সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার সীমা তুলে দেবার ব্যাপারটি এ সপ্তাহেই পার্লামেন্টে নিশ্চিত করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রেও বর্তমানে একজন প্রেসিডেন্ট পর পর দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেন না।

ভারত মহাসাগরে চীন-ভারতের আধিপত্যের লড়াই : কে কতটা এগিয়ে

ভারত মহাসাগরে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় নেমেছে চীন ও ভারত। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আধিপত্য বাড়াতে সেখানে শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করার লড়াইয়ে নেমেছে দুই উদীয়মান পরাশক্তি। জিবুতিতে চীনের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পর এবার পাল্লা দিয়ে সিয়াচেলস, ওমান ও সিঙ্গাপুরে নিজের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে ভারত। চীন ও ভারত নিজেদের এসব উদ্যোগের নেপথ্যে অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা বললেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, এইসব উদ্যোগ প্রকৃতপক্ষে সামরিক উদ্দেশে ব্যবহৃত হবে। সিএনবিসির এক রিপোর্টে উঠে এসেছে ভারত-চীনের আধিপত্য বিস্তার প্রচেষ্টার এই চিত্র। ২০১৬ সালে চীন জানিয়েছিল, জিবুতিতে দেশটি তার প্রথম ‘বিদেশি ঘাঁটি’ স্থাপন করার কথা ভাবছে। তা ছাড়া চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তানজানিয়ায় বন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়েছে বেশ খানিকটা। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে তাকে অনেক বিশ্লেষক ‘স্ট্রিং অব পার্ল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এই ‘মুক্তার মালার’ কাজ হচ্ছে বিশাল এলাকাজুড়ে সারিবদ্ধ প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র স্থাপন করা যা চীনের স্বার্থ রক্ষা করবে। চীনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ভারতও। গত মাসে ওমান সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওমানের নৌবাহিনীর স্থাপনা ব্যবহারের একটি চুক্তি করেছেন। ওমানের নৌঘাঁটিটি হরমুজ প্রণালীর কাছে। প্রতিদিন সমুদ্রপথে রফতানি হওয়া তেলের ৩০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া আসা করে।
এ বছরের শুরুতে একটি বিমান ঘাঁটি ও একটি নৌঘাঁটি নির্মাণের বিষয়ে সিয়াচেলসের সঙ্গে ভারতের ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছে। আর গত বছরের নভেম্বরে, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভারত সরকার একটি চুক্তি করেছে যাতে ভারতে জন্য সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি নৌঘাঁটি ব্যবহারের পথ সুগম হবে। সিএনবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, চীনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় শঙ্কিত ভারত। ভারত মহাসাগরের সীমান্তজুড়ে থাকা আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার আওতায় রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ। এই সমুদ্রপথ বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য। সমুদ্র থেকে উত্তোলিত মোট তেলের ৪০ শতাংশই আসে ভারত মহাসাগর থেকে। ভারত মহাসাগর একই সঙ্গে মৎস্য সম্পদ ও খনিজ সম্পদেও ভরপুর। বিশ্লেষকদের বরাতে সিএনবিসি বলছে, কিন্তু প্রভাব বাড়ানোর এই চেষ্টা কেবল অর্থনৈতিক নয়, আবার কেবল সামরিকও নয়। বরং অর্থনৈতিক প্রচেষ্টাগুলোর মধ্যেই মিশে আছে সামরিক উদ্দেশ্য। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিনিয়ার রিসার্চ ফেলো ডেভিড ব্রিউস্টার বলেছেন, ‘ভারত মহাসাগরে আমরা ঘাঁটি নির্মাণের প্রতিযোগিতা দেখতে পাচ্ছি।’ গত জুলাই মাসে চীনের মার্চেন্টস পোর্ট হোল্ডিংস ৯৯ বছরের জন্য শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটায় বন্দর ইজারা নেয়। তখন থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে, চীনের নৌবাহিনী ওই বন্দর ব্যবহার করতে পারে। এর কয়েক মাস পরেই রয়টার্স জানিয়েছিল, ভারত হাম্বানটোটার বিমানবন্দর নিয়ে নিতে চাইছে। ভারতীয় বিশ্লেষক সংস্থা অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন তাদের অক্টোবর রিপোর্টে লিখেছে, ভারতীয় ও পশ্চিমা কূটনীতিবিদেরা মোটামুটি নিশ্চিত, ‘জিবুতির মতো হাম্বান্টোটাও চীনের জন্য আর একটি সেনা ও নৌঘাঁটি হয়ে উঠবে।’ মালদ্বীপ ও মিয়ানমার হচ্ছে এমন দু’টি দেশ, বিশাল বিনিয়োগের কারণে চীন যেখানে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করতে পারবে। বিপরীতে ইরানে চাবাহার গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে ভারত। ‘ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল’-এর এই উদ্যোগকে পাকিস্তানে থাকা চীনের গাদার বন্দরের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিউস্টার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আগামী দিনগুলোতে ভারত যে চাবাহার বন্দরকে সামরিক কাজে ব্যবহার করবে না তা বলে যায় না। ৮৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত চাবাহার গভীর সমুদ্র বন্দর পাকিস্তানের গাদার বন্দর থেকে মাত্র ৩৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভারত মহাসাগর যুদ্ধাস্ত্রের জন্যও বিশেষভাবে চিহ্নিত হচ্ছে ইদানীংকালে। চীন সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা চালু করতে চায়। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারত যে ড্রোন চেয়েছে তার মূল উদ্দেশ্য ভারত মহাসাগরে চীনের কার্যকলাপে নজরদারি করা।

উত্তর-পূর্ব রাজ্যের ভোট by গৌতম লাহিড়ী

'চলো পাল্টাই' স্লোগানে ত্রিপুরায় ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের রীতিমতো চমকপ্রদ ঘটনা ২৫ বছরের সিপিএম-লালদুর্গের পতন এবং গৈরিক বিজেপির ক্ষমতা দখল। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্বের অন্য দুই রাজ্যেও বিজেপির প্রভাব বিস্তার। এই তিনটি রাজ্যই প্রতিবেশী বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া। এই ফলে ভারতের বাংলাদেশ নীতির কোনো প্রভাব পড়ে কি-না তাও দেখার বিষয়। তবে বিজেপি আসামে যেমন বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে প্রচার করেছিল; এখানে তা করেনি। বরং বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে ত্রিপুরার আর্থিক উন্নয়নে সহযোগিতা করছেন- সেই প্রচার ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদির। ভারতের সব রাজ্যের মধ্যে অতি সাধারণ দরিদ্রতম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন মানিক সরকার। কিন্তু তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গেরুয়া-ঝড়ে দলের ধরাশায়ী হওয়াকে রুখতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান হয়েছে আগেই। এবার লালদুর্গ ত্রিপুরার পতন। একমাত্র কেরালায় সিপিএমের শাসন রয়েছে। তাও কেরালায় পাঁচ বছর অন্তর সরকার পরিবর্তন হয়ে থাকে। সার্বিকভাবে ভারতের রাজনীতিতে বাম রাজনীতির ক্ষয়িষুষ্ণ হয়ে যাওয়া এবং হিন্দুত্ববাদী বিজেপির রাজনীতির কেন্দ্রস্থলে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই এখন রাজনীতির ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো। ভারতের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি লক্ষ্য স্থির করেছিল উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলো। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি যেসব রাজ্য থেকে সর্বাধিক আসনে জয়ী হয়েছিল, সেখানে আগামী নির্বাচনে সাফল্য নাও পেতে পারে। তাই যেসব রাজ্যে বিজেপি কখনোই প্রভাব বিস্তার করেনি, সেসব রাজ্যকেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন মোদি-অমিত শাহ জুটি। সিকিমকে যোগ করলে উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যের মোট ২৫টি লোকসভা আসন রয়েছে। বিজেপি পাখির চোখ করেছে এসব রাজ্যে। টার্গেটে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ত্রিপুরার 'ভদ্র বাঙালি' যদি বিজেপিকে সাদরে গ্রহণ করে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গেও তার প্রভাব পড়তে পারে। এটা জানেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাই তিনি ভোটের ফল প্রকাশের আগে বিধানসভায় সিপিএম নেতাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, 'আপনারা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা করেন না। কিন্তু আমি চাই ত্রিপুরায় সিপিএম জিতুক। যদিও আপনারাই যাই যাই করছেন।' এই মুহূর্তে উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যের মধ্যে ছয়টিতেই বিজেপি সরাসরি অথবা স্থানীয় আঞ্চলিক দলের সহযোগিতায় সরকারে থাকছে। নাগাল্যান্ড- আঞ্চলিক ন্যাশনাল প্রোগ্রেসিভ ডেমোক্রেটিক পার্টির সহযোগিতায় সরকার গড়ছে। মেঘালয়ে শেষ পর্যন্ত বিজেপি শরিকদের সঙ্গে সরকার গড়তে পারে। একদিকে এই নির্বাচন যেমন বামদের অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছে, তেমনি একদা প্রভাবশালী কংগ্রেসকেও প্রভাবহীন করে দিয়েছে। গেরুয়া-ঝড়ে তেরঙ্গাও ম্লান। ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডে কংগ্রেসের ঝোলায় আসন সংখ্যা শূন্য।
একদা ত্রিপুরায় কংগ্রেসই বামপন্থিদের হারিয়েছিল। তারাই ছিল প্রধান বিরোধী দল। গত নির্বাচনেও যখন নরেন্দ্র মোদি গোটা ভারতে জয়-পতাকা উড়িয়েছিলেন, ত্রিপুরায় বামপন্থিদের দুর্গ ছিল অটুট; বিজেপি ভোট পেয়েছিল মাত্র দেড় শতাংশ। সেই বিজেপি ৫০ শতাংশ ভোট কুড়িয়ে নিল মাত্র চার বছরের মধ্যে। আদিবাসী সংগঠন নিয়ে আসন পেতে চলেছে দুই-তৃতীয়াংশ। ত্রিপুরার মতো রাজ্যে বাম ব্যতীত তৃণমূল কংগ্রেসকেও অপ্রাসঙ্গিক করে তোলা নিঃসন্দেহে বিজেপির উষ্ণীষে নয়া পালক বলতে হবে। ত্রিপুরায় বামপন্থিদের একটানা বাম শাসনের একটা একঘেয়েমি এসেছিল ঠিকই; একে সিপিএম ধরতে পারেনি। এ ছাড়া গত দু'বছর ধরে আরএসএস লাগাতার বুথ স্তরে সংগঠন তৈরির কাজ করেছে। দিল্লি থেকে আরএসএস নেতারা ঘাঁটি গেড়ে বসে ছিলেন আগরতলায়। এর সঙ্গে অমিত শাহর কুশলী সাংগঠনিক দক্ষতাকে অস্বীকার করা যায় না। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ত্রিপুরার আদিবাসী এলাকার অসন্তোষ। ইনডিজেনাস আদিবাসী ফ্রন্ট প্রথমে পৃথক রাজ্য গড়ার ডাক দিয়ে আদিবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল। একে সিপিএম-কংগ্রেস বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে আখ্যা দিলেও মোকাবেলা করতে পারেনি। বিজেপি যদিও বলেছিল, তারা পৃথক রাজ্যের দাবিকে সমর্থন করে না; কিন্তু প্রকারান্তরে সেই আন্দোলনকেই প্রশ্রয় দিয়েছিল। আদিবাসী ছাড়াও ত্রিপুরার সাধারণ চাকরিজীবীদের মন জয় করতে বিজেপি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের মতো বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাম প্রভাব খর্ব করতে পেরেছে। কেননা, ত্রিপুরায় সিপিএম সরকার এখনও চতুর্থ বেতন কমিশন অনুযায়ী বেতন দিচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের তিনটি রাজ্যই বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া। এখানে যেমন বাংাদেশের সঙ্গে সড়ক, বিদ্যুৎ ও রেল যোগাযোগ বাড়িয়েছে, তেমনি সীমান্ত হাট খুলে স্থায়ী বাণিজ্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেই নরেন্দ্র মোদি পূর্বের সরকারের 'লুক ইস্ট' নীতির পরিবর্তন করে 'অ্যাক্ট ইস্ট' নীতির বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের নীতি অনুযায়ী আসামের বিজেপি সরকার নাগরিক পঞ্জিকরণের নামে যেমন বিদেশি বলে মুসলিমদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে; ত্রিপুরার মতো রাজ্যে সেই নীতি রূপায়ণ করলে ফের অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হতে পারে। তাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিঘ্নিত হতে পারে। বিশেষ করে এই বছরের শেষে বাংলাদেশেও সাধারণ নির্বাচন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা শেখ হাসিনার সরকারকে বিব্রত করতে পারে। তবে একটা কথা বলে নেওয়া ভালো, উত্তর প্রদেশসহ হিন্দি বলয়ে বিজেপি যেভাবে উগ্র হিন্দুত্ববাদী আদর্শের প্রচার করেছে, সে ধরনের কোনো প্রচার এই তিন রাজ্যে করেনি। ত্রিপুরায় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অন্যতম স্টার প্রচারক ছিলেন। তার কারণ তার রাজ্যের গোরক্ষপুরে যে হিন্দু মঠ রয়েছে, তাদের প্রভাব রয়েছে ত্রিপুরাতেও। নাথ সম্প্রদায় একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এই নির্বাচনে। ফলে এখানে নরম হিন্দুত্ব প্রচার করেছে বিজেপি। তেমনি মেঘালয় ও নাগাল্যান্ডে খ্রিষ্ট ধর্মের প্রভাব থাকলেও বিজেপির প্রভাব বিস্তার করতে অসুবিধা হয়নি। এমনকি এখানে গোমাংস প্রধান  খাদ্য হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি নিষিদ্ধ  করার কোনো ডাক দেয়নি, বরং বিজেপি নেতারা বলেছেন- এখানে গোমাংস নিষিদ্ধ করা হবে না। ফলে যেখানে যেমন তেমন ভোটের রণনীতি প্রয়োগ করছে বিজেপি। এটা ঠিকই, উত্ত-পূর্ব ভারতে প্রভাব বিস্তার করায় বিজেপি এখন কেবল গো-বলয়ের পার্টি বলা যাবে না; তারা আসন্ন কর্ণাটকের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করছে। দক্ষিণ ভারত থেকে উত্তর-পূর্ব পর্যন্ত বিজেপির ব্যাপ্তি ব্যাপক। এসব রাজ্যে নিজেদের দলীয় নেতা না থাকলেও অন্য দল থেকে নেতাদের শামিল করে প্রভাব বিস্তার করছে। ভারতের কূটনীতিবিদদের বক্তব্য- উত্তর-পূর্ব ভারতে যোগাযোগ বিস্তার করার জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী রাষ্ট্র। এখানে নরেন্দ্র মোদির দল এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না, যাতে দুই দেশের সম্পর্ক বিনষ্ট হয়। এর দায় প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে। এই মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে অন্য প্রতিবেশীদের সম্পর্ক উন্নত নয়। কোনো কারণে বাংলাদেশের স্থিতাবস্থা বিনষ্ট হলে ভারতেরই বিপদ- এটা প্রধানমন্ত্রী বোঝেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য স্লোগান দেওয়া আর সরকার পরিচালনা করা পৃথক বিষয়।

মিয়ানমার সীমান্ত নীতির বরখেলাপ করেছে by এম হাফিজ উদ্দিন খান

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্তের ওপারে হঠাৎ ভারী অস্ত্র ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে মিয়ানমার। গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদে প্রকাশ, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) পোশাক পরে তাদের সেনা সদস্যরা সীমান্ত আইন ভেঙে সীমান্তের আশপাশ এলাকায় কৌশলে অবস্থান নেয়। আমরা অবশ্যই বলব, এমন কর্মকাণ্ড মিয়ানমারের স্পষ্টতই হঠকারিতা। মিয়ানমারের এ ধরনের হঠকারী ও উস্কানিমূলক আচরণে তমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা ও সীমান্তের এপারের মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সে দেশের রাষ্ট্রশক্তির বর্বরতা, নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা, পৈশাচিকতার শিকার হয়ে। তারা এক কথায় সর্বহারা। ভিটে-মাটি, স্বজন-সম্পদ- সব হারিয়েছে তারা। তাদের অস্তিত্ব বিনাশে মিয়ানমারের রাষ্ট্রশক্তি ইতিমধ্যে যেসব জঘন্য কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা সাম্প্রতিককালে বিশ্বের ঘৃণ্য নজির হয়ে আছে। নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু সীমান্তের ৩৪ ও ৩৫ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি এলাকায় সীমান্তের ১৫০ গজ অভ্যন্তরে মিয়ানমারের সৈন্য ও সমরাস্ত্র সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়কে নানা দিক থেকে দেখা যেতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের তরফে ইতিমধ্যে এ জন্য ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পতাকা বৈঠক হলেও সেনা সরানোর দিনক্ষণ জানায়নি মিয়ানমার। এর আগে গণমাধ্যম মারফতই জানা গিয়েছিল, বেশ কয়েক দিন ধরেই সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে না ঢুকে অন্য কোথাও চলে যেতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ বিপর্যস্ত রোহিঙ্গাদের জন্য দরজা খুলে দিয়ে সুদৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কিন্তু মিয়ানমারের নানামুখী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার কতটা শক্ত অবস্থান নিতে পেরেছে- এ নিয়ে নানা মহলে কথা আছে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে যেসব চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে মিয়ানমারেরই সুবিধা হয়েছে- এমন কথাও আছে। বিদ্যমান পরিস্থিতির আলোকে এ কথা সত্য যে, এসব ব্যাপারে বাংলাদেশকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তারা বাংলাদেশের মানবিকতা প্রদর্শনের জন্য প্রশংসা করার পাশাপাশি এ কথাও বলেছে, তারা বাংলাদেশের পাশে আছে। তবে এ কথাটি আবারও বলি যে, বাংলাদেশের অবস্থান মিয়ানমারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও শক্ত হতে হবে। সম্প্রতি নোবেলজয়ী তিন নারী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্ত পরিদর্শন করেছেন। সেখানকার নোম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে সেখানেও এই মহীয়সী নারীরা গিয়েছিলেন। এর পরই সেখানে থাকা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিতে মরিয়া হয়ে ওঠা মিয়ানমার সেনাদের হুমকি-ধমকিতে সীমান্তে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মিয়ানমার সীমান্তে ভারী অস্ত্র মোতায়েন ও সেনা সমাবেশ করে সীমান্ত নীতির স্পষ্ট বরখেলাপ করেছে।
আমাদের স্মরণে আছে, এর আগেও মিয়ানমার একাধিকবার ছোটখাটো ও তুচ্ছ ঘটনায় সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ ঘটানোসহ নানা ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল। সম্প্রতি নোবেলজয়ী তিন নারী সীমান্ত সফর করে মন্তব্য করেছেন, মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকেও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি করা উচিত। বিশ্ব সম্প্রদায় থেকেও মিয়ানমারের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের ব্যাপারে এমন মন্তব্য ইতিমধ্যে উচ্চারিত হয়েছে। হঠাৎ মিয়ানমারের তরফে সীমান্তে নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করায় বাংলাদেশও সীমান্তে অবস্থান শক্ত করেছে এবং পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে বলা হয়েছে। শূন্যরেখা থেকে প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণার পর মিয়ানমার যে ভূমিকা নিল তা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, এ ব্যাপারে আমাদের নতুন করে ভাবনার বিষয়ও দাঁড় করিয়েছে। মিয়ানমার আন্তর্জাতিক নীতি অমান্য করে আবারও প্রমাণ করেছে- তারা নানারকম অপকৌশলে এখনও লিপ্ত। সন্দেহ নেই, দেশটির সেনাপ্রধান ও সেনা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনরা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব জনমতের দৃঢ়তায় কিছুটা হলেও ভীত-সন্ত্রস্ত। এ ব্যাপারে তারা তাদের অন্য অবস্থান বোঝানোর জন্যও এমনটি করে থাকতে পারে। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের প্রশাসন যেসব চুক্তি করেছে, সেগুলো মেনে নিতে পারছে না মিয়ানমারের সেনা প্রশাসন- এমন কথাও রয়েছে। আমার মনে হয়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়টির দিক থেকে দৃষ্টি সরানোর পাশাপাশি তারা তাদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিতেই এমন কাজ করেছে। আবারও বলি, তাদের এ ধরনের পদক্ষেপ স্পষ্টত হঠকারিতা ভিন্ন কিছু নয়। তাদের এমন হঠকারিতার জবাব হলো আমাদের দৃঢ় অবস্থান। তাদের এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহল নিশ্চয়ই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এখন আরও জরুরি হয়ে পড়েছে, বাংলাদেশের তরফে বিশ্ব কূটনীতি আরও জোরদার করে বিশ্বদরবারে এ ব্যাপারে নতুন কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া। মিয়ানমার বারবার সীমান্তে সৈন্য ও ভারী সমরাস্ত্র বাড়িয়ে তাদের যে অবস্থান তুলে ধরছে- এর বিপরীতে বাংলাদেশেরও দৃঢ়তার পরিচয় দিতে হবে বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের সঙ্গে। এটা তো অনস্বীকার্য- রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট ভিন্ন এবং তা মিয়ানমারের অনুকূলে নয়। বরং এ ব্যাপারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের যথেষ্ট ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। বাংলাদেশকে এটুকু কাজে লাগাতে হবে। সীমান্তে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি মিয়ানমার বারবার করছে; এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় যে বাংলাদেশ অক্ষম নয়- তা আরও স্পষ্ট করে দিতে হবে। বাংলাদেশের শক্তি ও সক্ষমতার বিষয়টি আরও পরিস্কারভাবেই তুলে ধরা উচিত।
সার্বিক পরিস্থিতির দিকে আরও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী যেন অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হতে না পারে, এ জন্য থাকতে হবে সজাগ। কোনো উস্কানিতে বিচলিত না হয়ে বরং অতীতের মতো ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার সুচারুভাবে। রোহিঙ্গা সংকটের দায় মিয়ানমারের- এটা সচেতন বিশ্ববাসীর অজানা কোনো বিষয় নয়। রোহিঙ্গাদের পূর্ণ অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে সে দেশে প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান। এ অবস্থা থেকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি মিয়ানমার অন্যদিকে ফেরানোর যত চেষ্টাই করুক না কেন, তা সফল হবে বলে মনে হয় না। অস্ত্রের ভাষায় মিয়ানমার কথা বলার পুনর্বার যে হীন চেষ্টা করছে, তা ঘৃণ্য। রাখাইনে তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ইতিমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে পৈশাচিক শক্তি হিসেবে। সভ্যতা-মানবতার এমন দলন-পীড়ন ঘটিয়ে বর্তমান জামানায় কোনো রাষ্ট্রশক্তিই পার পেতে পারে না। মিয়ানমারের রাষ্ট্রশক্তি আর কত নিষ্ঠুরতা-বর্বরতা-পৈশাচিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে? তারা কি আধুনিক বিশ্বের কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করে না? তাদের যারা নানাভাবে ইন্ধন জোগাচ্ছে কিংবা প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদেরও ভাবনায় পরিবর্তন ঘটানো উচিত। শান্তির পথ মিয়ানমার আর যেন কণ্টকাকীর্ণ না করতে পারে- বিশ্ব সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। আমরা শান্তির পক্ষে। শান্তিপূর্ণ পন্থায় সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টাও আমাদের রয়েছে। কাজেই উস্কানির পথ মিয়ানমারের পরিহার করাই শ্রেয়। মিয়ানমার বলেছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে তমব্রু সীমান্তের ওপারে রাখাইনে তারা সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে; বাংলাদেশ তাদের লক্ষ্য নয়। এ যুক্তি ধোপে টেকে না। মিয়ানমারের নানা রকম অজুহাত সৃষ্টির পেছনে কোন হীন উদ্দেশ্য নিহিত, তা পর্যালোচনা করা দরকার। আন্তর্জাতিক সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে কোনো দেশের সেনা মোতায়েন বা সেনাবাহিনীর চলাচল হলে সে ক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী অন্য দেশকে অবহিত করতে হয়। সীমান্ত নিয়ে এই আন্তর্জাতিক সনদ বিষয়ে নিশ্চয়ই মিয়ানমার অজ্ঞাত নয়। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা বাস্তবায়ন না করে মিয়ানমার সীমান্তে যে উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ব্যাপারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাংলাদেশকে নতুন উদ্যোগ নিতে হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

নির্বাচনের বছর, তাই এডিপি কাটছাঁট নয়

নির্বাচন সামনে রেখে এবারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) কাটছাঁট করবে না সরকার। যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় চাচ্ছে এডিপির আকার কিছুটা কমাতে। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন তাতে আপত্তি জানিয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, নির্বাচনের বছরে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বেড়েছে।
রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ সারাদেশের উন্নয়ন কাজের চাহিদা বেড়েছে। এসব কারণে বরাদ্দ আরও বেশি দিতে হবে। ফলে এডিপির আকার কমানো যাবে না। অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, এবার রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধির হার গতবারের একই সময়ের তুলনায় কম। ফলে সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে এডিপি কিছুটা কমানোর পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়। সে মর্মে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, আগামী ৬ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এবারের বাজেটে মূল এডিপির আকার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, মূল এডিপি থেকে ৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বাড়তি অর্থ বরাদ্দের চাপ আছে।
তাই এবারের এডিপি কাটছাঁট করা যাবে না। বরাদ্দ কমালে উন্নয়ন কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৩ শতাংশ। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেড় থেকে দুই শতাংশ বেশি। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে কাজের গতি আরও বেড়েছে। গত অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। ব্যয় হয় ৮৭ হাজার কোটি টাকা বা ৮০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক কর্মকর্তা বর্তমানে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, নির্বাচনের বছরে খরচ বাড়ার প্রবণতা আমাদের দেশে পুরনো। তবে দেখতে হবে ব্যয় কোথায় হচ্ছে? এডিপির আকার বাড়ানোর চেয়ে মানসম্মত ব্যয়ের ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সংশোধিত বাজেট চূড়ান্ত :প্রতিবারের মতো এবারও চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট চূড়ান্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সূত্র জানায়, মূল বাজেট অপেক্ষা ৩৩ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বাজেট নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা। শতকরা হারে এটি মূল বাজেট অপেক্ষা ৯ শতাংশ কম। গত ১ জুন চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ঘোষিত মূল বাজেটের আকার ধরা হয় ৪ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, এবার রাজস্ব আয়ে বড় ঘাটতি আছে।
ফলে এনবিআরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনেক কমানো হয়েছে। এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। মূল বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, মূল্যস্ম্ফীতি এবং মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার অপরিবর্তিত রাখা হয়। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে বর্তমানে দেশে অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো। ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ অর্জিত হবে বলে আশাবাদী তিনি। সম্প্রতি সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুহিত। জানা গেছে, এনবিআর-বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও কমানো হয়েছে। মূল বাজেটে এনবিআরের বাইরের অন্যান্য খাত থেকে আয় ধরা হয় ৩১ হাজার কোটি টাকা। এখান থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে এনবিআর নন-এনবিআর মিলিয়ে মোট কমানো হয়েছে ২৩ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক সহায়তার উৎস থেকে কমানো হয়েছে। সব মিলে মূল বাজেট থেকে ৩৩ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বাজেট চূড়ান্ত করা হয়েছে। জানা যায়, গত অর্থবছরে মূল বাজেটের আকার ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয় তিন লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত খরচ হয় মাত্র ২ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

নিউইয়র্ক নগরের বিদ্যালয়ে নিরাপত্তা মহড়ার উদ্যোগ

নিউইয়র্ক নগরের সব সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের গোলাগুলির সময় বিদ্যালয় ভবনের শ্রেণিকক্ষ বিদ্যালয় অঙ্গনের অন্যান্য স্থাপনার নিরাপদে রাখার উদ্দেশ্যে নিরাপত্তামূলক অনুশীলন তথা মহড়া করতে হবে। ১৫ মার্চের মধ্যে সব স্কুলে এ মহড়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর আইনের দাবিতে অনুষ্ঠিত এক পদযাত্রার পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্ক নগরের মেয়র বিল ডি ব্ল্যাজিও এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। এ নির্দেশের ফলে নগরের এক হাজার ৮০০ বিদ্যালয়ের ১১ লাখ শিক্ষার্থীকে এ প্রশিক্ষণ নিতে হবে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডের মার্জরি স্টোনম্যান ডগলাস হাইস্কুলে অস্ত্রধারীর গুলিতে ১৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র এ নির্দেশ দেন। এর ফলে নিউইয়র্ক নগরের বিদ্যালয়গুলোর নীতিমালায় পরিবর্তন আসবে। প্রত্যেক বিদ্যালয়ে বছরে চারবার এ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার মহড়া বা অনুশীলন অনুষ্ঠিত হবে। ফ্লোরিডায় ভয়াবহ ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করেই মেয়র শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ঘোষণা দিয়েছেন। বিদ্যালয় অঙ্গনে এ ধরনের অনুশীলন তথা মহড়া করার উদ্দেশ্যে তারিখ ও সময় নির্ধারণ করতে মেয়রের নারী মুখপাত্র অলিভিয়া ল্যাপেইরোলি নগরের সব বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষদের প্রতি আহ্বান জানান। মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের অনুশীলনে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টির আড়ালে চলে যেতে হবে এবং সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করতে হবে। হলওয়েতে যেন কোনো শিক্ষার্থী না থাকে শিক্ষকেরা তা খতিয়ে দেখবেন। শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ করবেন এবং সবকিছু নিরাপদ লাউডস্পিকারে এমন ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষের বাতি নেভানো থাকবে। এরপর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নাম ডাকা হবে।
কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকলে তার নাম বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। একই দিন মেয়র বলেন, সব মাধ্যমিক ও উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বছরে কমপক্ষে একবার যখন-তখন অস্ত্র-শনাক্তকারী যন্ত্র (মেটাল ডিক্টেটর) দিয়ে যথেচ্ছ তল্লাশি করা হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র-শনাক্তকারী যন্ত্র নেই, সেসব যন্ত্র ওই সব বিদ্যালয়ে চক্রাকারে আনা হবে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর আইনের দাবিতে আমেরিকায় বিদ্যমান অস্ত্র আইনের প্রতিবাদে ডেমোক্রেটিক দলীয় মেয়র ১৪ মার্চ সকাল ১০টা থেকে ১৭ মিনিট জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। মেয়র পদযাত্রায় অংশ গ্রহণেচ্ছু শিক্ষার্থী এবং তাদের বাবা-মাকে বিদ্যালয়ে ফোন করে কিংবা লিখিতভাবে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। মেয়র বলেন, ‘এখন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকলে এ ধরনের পদযাত্রায় আমি অংশ নিতাম। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। আমাদের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।’ মেয়র বলেন, দেশজুড়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করার দাবি করছে। তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা জরুরি, যেন আমাদের তরুণ-তরুণীরা তাদের রক্ষা করতে পারে। তারা আইনের মৌলিক পরিবর্তন দেখতে চায়। মেয়র বলেন, শিক্ষার্থীদের পদযাত্রা একেবারেই শান্তিপূর্ণ হবে, এর জন্য কোনো ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে না। অন্যদিকে নিউইয়র্ক নগরের বোর্ড অব এডুকেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী মুখপাত্র বলেন, বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়া কেউ এ ধরনের পদযাত্রায় অংশ নিলে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাকে অনুপস্থিত বলে নথিভুক্ত করা হবে।

প্রতিচিন্তায় অক্টোবর বিপ্লব ও মুক্তিযুদ্ধ by খন্দকার সাখাওয়াত আলী

প্রতিচিন্তার ২১ তম সংখ্যাটি আমরা অক্টোবর বিপ্লব ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সাজিয়েছি। ১৯১৭ সালের ‘১৭’ উল্টিয়ে দিলে দাঁড়ায় ‘৭১ ’। সেদিক থেকে দুটি সালের মধ্যে একটি সংখ্যাগত সাযুজ্যও আছে। ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে রাশিয়ায় ক্ষমতাসীন জারের বিরুদ্ধে বলশেভিক বিপ্লব শুরু হয় এবং এর ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের গোড়াপত্তন ঘটে। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের নেতৃত্বে সেদিনের সেই বিপ্লব মানবজাতির ইতিহাসে এক অনবদ্য ঘটনা। এর প্রভাব হয়েছিল সুদূরপ্রসারী। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা ও দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে অক্টোবর বিপ্লবের গভীর অবদান রয়েছে।
আজও এর প্রভাব বিদ্যমান। সারা দুনিয়ার মতো ভারতবর্ষেও অক্টোবর বিপ্লবের প্রভাব প্রতীয়মান হয়েছিল। এর ঢেউ লাগে এখনকার রাজনীতি ও সামাজিক বিন্যাসে। বাংলাদেশের জন্মলগ্নেও অক্টোবর বিপ্লবের প্রভাব আমরা দেখতে পাই। নির্যাতিত মানুষের অধিকারের দাবিতে গঠিত সোভিয়েত ইউনিয়নের আদর্শ প্রতিফলিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাদের সমর্থনদানের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, তাই স্নায়ুযুদ্ধের বাস্তবতায় সোভিয়েত ইউনিয়ন তার প্রাথমিক রাজনৈতিক ফায়দা সমাজতন্ত্রপন্থী ভারতের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছিল। তার ওপর ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের সোভিয়েত অক্ষে প্রবেশের সম্ভাবনার মতো বাড়তি সুবিধা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথে ভারতের পাশে এসে সোভিয়েত ইউনিয়ন না দাঁড়ালে অনেক কিছুই বদলে যেতে পারত। এই সমর্থন প্রদান নিঃসন্দেহে ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের বাইরে ছিল না। কিন্তু রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির খতিয়ান করেও অন্যায়-নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারার ক্ষেত্রে শাসকশ্রেণির আদর্শ বড় ভূমিকা রাখে। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তা প্রদানে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা যেমন কাজ করেছিল, তেমনি নির্যাতিতের পাশে দাঁড়ানোর আদর্শও অবদান রেখেছিল। কারণ, প্রগতিশীলতা যেমন কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছে আদর্শ, তেমনি সাম্প্রদায়িকতাও অন্য কারও কাছে আদর্শ হতে পারে। দুই পক্ষই প্রাথমিক রাজনৈতিক ফায়দা নিজ নিজ আদর্শের মধ্যেই খোঁজার চেষ্টা করে। যদিও সেই আদর্শ চিরস্থায়ী হবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। এই সংখ্যায় অক্টোবর বিপ্লবের কোনো সামগ্রিক চিত্র বা পর্যালোচনা করার চেষ্টা করা হয়নি; বরং আমাদের উদ্যোগ ছিল অক্টোবর বিপ্লবের সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়া এবং এর যে প্রভাববলয় সৃষ্টি হয়েছিল, তা ব্যক্তি অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরা। ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে এর প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসের সংশ্লিষ্ট প্রসঙ্গ স্বাভাবিকভাবেই এসেছে। কিন্তু তার গভীরতর সাংস্কৃতিক প্রভাবটি আমাদের বিবেচনায় কোনো অংশে কম মূল্যবান নয়। লেখা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের এই পক্ষপাতের কথা বিনা দ্বিধায় কবুল করে নিচ্ছি। তাই এবারের সংখ্যায় লেখাগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বয়ানের পরিসরটি বড়। তবে অবশ্যই তা স্মৃতিচারণার গণ্ডিতে সীমিত নয়।
অভিজ্ঞতার বয়ানের ভাঁজে ভাঁজে প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ জায়গা করে নিয়েছে। ধরা পড়েছে অক্টোবর বিপ্লবের সামাজিক প্রতিক্রিয়ার প্রতিচ্ছায়া। বদরুল আলম খান মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার সঙ্গে অক্টোবর বিপ্লবের দেশ রাশিয়ায় তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে ‘তলস্তয়ের দেশে বলশেভিক বিপ্লব’ প্রবন্ধটি লিখেছেন। এখানে একাধারে মুক্তিযুদ্ধের ব্যক্তিগত বর্ণনার পাশাপাশি রয়েছে অক্টোবর বিপ্লব-পরবর্তী রাশিয়ার জীবনধারা এবং বর্তমান অবস্থার চিত্র। লেখক শুধু রাশিয়ার অভিজ্ঞতায় সীমাবদ্ধ থাকেননি; তাঁর বর্ণনায় ধরা পড়েছে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যান্য দেশেরও চিত্র। দ্বিতীয় লেখাটি বামপন্থী তাত্ত্বিক ও নিউ লেফট রিভিউ জার্নালের একজন সম্পাদক তারিক আলির একটি প্রবন্ধ। এই প্রবন্ধে রুশ বিপ্লবের নেতা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের জনক ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা কীভাবে রুশ বিপ্লবকে প্রভাবিত করেছিল, তার চিত্রায়ণ ঘটেছে। প্রবন্ধটি ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান থেকে অনুবাদ করেছেন খলিলউল্লাহ্। ইতালীয় বামপন্থী তাত্ত্বিক ও নেতা আন্তোনিও গ্রামসির লেখা সমকালীন মার্ক্সবাদের এক অপরিহার্য পাঠ। মার্ক্সবাদের তত্ত্বীয় কাঠামোয় রয়েছে তাঁর অনবদ্য অবদান। অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষ উপলক্ষে এই বিখ্যাত তাত্ত্বিকের নাতি আন্তোনিও গ্রামসি জুনিয়রের একটি লেখা আমরা প্রতিচিন্তার পাঠকদের জন্য ছাপছি। লেখাটি নিউ লেফট রিভিউ জার্নালে নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এখানে লেখক তাঁর দাদা সম্পর্কে অজানা অনেক তথ্য দিয়েছেন। লেখাটিতে গ্রামসির পারিবারিক সম্পর্কের অনেক ঘটনা যেমন পাওয়া যায়, তেমনি লেনিনের সঙ্গে গ্রামসির যোগাযোগ ও সম্পর্কের তথ্যাদিও পাওয়া যায়। ইংরেজি থেকে লেখাটি অনুবাদ করেছেন গোলাম মুস্তাফা। উপমহাদেশে অক্টোবর বিপ্লবের যে ঢেউ লেগেছিল, তার ফলাফল ছিল ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি। এই অঞ্চলে দুনিয়া-কাঁপানো সেই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টানতে হলে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির আলোচনা বাদ দিয়ে করা যায় না। তাই এই সংখ্যায় আমরা দুটি দলিলপত্র ছাপছি। এই প্রতিবেদনগুলো বর্তমান বাংলাদেশের গোলাম আম্বিয়া খান লুহানী কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে তৈরি করেছিলেন। লুহানী ছিলেন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে কাজ করা উপমহাদেশের অন্যতম নেতা। অক্টোবর বিপ্লবের পরপরই তিনি সেখানে যান। রাশিয়া থেকে উদ্ধার করা এসব দলিলপত্রে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সে সময়কার গঠনতন্ত্র, ইতিহাস ও কার্যক্রমের বর্ণনার পাশাপাশি ভারতে কমিউনিস্ট পার্টির উত্থানে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
দুটি দলিলপত্রই ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন খলিলউল্লাহ্। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রতিচিন্তার এবারের সংখ্যায় নিলয় রঞ্জন বিশ্বাসের একটি প্রবন্ধ ছাপা হলো। এতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দর্শন আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণগুলো কীভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দর্শন বিনির্মাণে অবদান রেখেছে, তা তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাসহ এই প্রবন্ধ থেকে আমরা জানতে পারব। বাঙালির জীবনে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তাই বিশাল ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধকে দেখার প্রয়াস নেওয়া জরুরি। কিন্তু অনেক সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা আমরা দেখেছি। এমনি একটি চেষ্টা আমরা দেখতে পাই ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী নেতা সুভাষ চন্দ্র বসুর নাতনি শর্মিলা বসুর ডেড রেকনিং বইয়ে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক নাঈম মোহায়মেন এই বইয়ের সমালোচনা করে দেখিয়েছেন, কেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বহুমুখী বয়ান এখনো আসেনি। বই সমালোচনার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরও অনেক বিষয় তুলে এনেছেন এই লেখক। সব শেষে রয়েছে বই আলোচনা। অক্টোবর বিপ্লবের শতবর্ষের প্রেক্ষাপটে চীনে পুঁজিবাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে চীনা গবেষক মিনঝিন পিয়ের চায়না’স ক্রোনি ক্যাপিটালিজম: দ্য ডাইনামিকস অব রেজিম ডিকোয় বইটি আলোচনা করেছেন প্রতীক বর্ধন। এই আলোচনায় ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের যে কদর্য রূপ ফুটে উঠেছে, তা অন্যান্য দেশের বাস্তবতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। আশা করি, প্রতিচিন্তার এই সংখ্যা অক্টোবর বিপ্লব ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
খন্দকার সাখাওয়াত আলী: সমাজতাত্ত্বিক ও গবেষক এবং প্রতিচিন্তার নির্বাহী সম্পাদক
shakhawat.bangladesh@gmail.com

ধনী দেশেও যানজটে বিপুল অপচয়

রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামে বসে থাকাটা সবার জন্যই বিরক্তিকর, আর সে কারণে অনেকেই এটাকে ‘পথের ক্রোধ’ বলে থাকেন। বস্তুত আধুনিক যুগে ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকার চেয়ে বেশি ক্লান্তিকর আর কিছু নেই। যানবাহন খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনরিক্সের নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাস্তায় এই ভিড়ের কারণে মানুষের যেমন ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি আবেগীয় ক্ষতির পরিমাণও নেহাত কম নয়। সংস্থাটি সম্প্রতি বিশ্বের ৩৮টি দেশের ১ হাজার ৩৬০টি শহরে যানবাহন ও যন্ত্রের ওপর জিপিএসের মাধ্যমে এই গবেষণা করেছে। জিপিএস দিয়ে তারা পর্যবেক্ষণ করেছে, এই শহরগুলোর কোথায় পাঁচ মাইল দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এরপর তারা এসব তথ্য-উপাত্ত ডলারে রূপান্তরিত করে তার অর্থনৈতিক প্রভাব পরিমাপ করেছে। এই প্রক্রিয়ায় তারা যেমন অপচিত সময় ও জ্বালানির মতো প্রত্যক্ষ কারণ বিবেচনা করেছে, তেমনি যানজটে আটকে থাকার কারণে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিজনিত পরোক্ষ প্রভাবও ধর্তব্যে নিয়েছে। ব্রিটেন, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র—এই তিন দেশে উল্লিখিত অপচয়ের পরিমাণ হিসাব করে তারা দেখিয়েছে, গত বছর এর পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাথাপিছু ৯৭৫ ডলার। ছোট এক পরীক্ষার মাধ্যমে ইনরিক্স সবচেয়ে বেশি যানজটের শহরের তালিকা করেছে। তাদের হিসাবে দেখা যায়, ২০১৭ সালে দিনের ব্যস্ততম সময়ে যানজটে গাড়িচালকদের সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে। এই শহরটির স্কোর ১০২। তবে এই হলিউড শহরের রাস্তা গড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শহরের রাস্তায় চেয়ে যে বেশি ভারাক্রান্ত থাকে, তা নয়।
বোস্টন শহরের রাস্তায় সময় নষ্ট হয় সবচেয়ে বেশি, যার পরিমাণ ১৪ শতাংশ। লস অ্যাঞ্জেলেস শহরটি ছড়ানো-ছিটানো, তাই সেখানকার মানুষের তুলনামূলকভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে বেশি দূরত্ব পেরোতে হয়। আর যানজটের সময় স্থির ধরা হলে দীর্ঘ দূরত্বের সড়কে সময় বেশি নষ্ট হয়। যুক্তরাষ্ট্রে যানজটে আক্রান্ত শহরগুলোর মধ্যে নিউইয়র্কের স্থান ২ নম্বরে। যদিও এই শহরটি মেট্রোব্যবস্থার জন্য বিখ্যাত, ব্যক্তিগত গাড়ি সংস্কৃতির জন্য নয়। এই শহরের ৪১ শতাংশ মানুষ গণপরিবহনে যাতায়াত করে। তা সত্ত্বেও সাবওয়ের ওপর এই শহরের নির্ভরতার কারণে বোঝা যায়, সেখানকার মানুষেরা এটাই পছন্দ করে। এটা প্রয়োজনীয়তাও বটে। প্রয়োজনীয় এ কারণে যে এই শহরের যানজট লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিসকোর চেয়ে ধীরে ছাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যানজটের পরোক্ষ প্রভাব অস্বাভাবিক রকম বেশি। কারণ, ব্যবসায়ীদের সড়কপথেই পণ্য আনা-নেওয়া করতে হয়। সামগ্রিকভাবে ইনরিক্স হিসাব করেছে, গত বছর এই যানজটের কারণে নিউইয়র্ক শহরের ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক পরিসরে দেখা গেছে, এই সমীক্ষায় যেসব দেশের অবস্থান একদম তলানিতে, তারা জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাপেক্ষে সড়ক ও গণপরিবহন ঢেলে সাজাতে পারেনি। থাইল্যান্ডের রাস্তায় ব্যস্ততম সময়ে চালকদের বছরে ৫৬ ঘণ্টা নষ্ট হয়। এরপর আছে ইন্দোনেশিয়া ও কলম্বিয়া, যেখানে এই পরিসংখ্যান যথাক্রমে ৫১ ও ৪৯ ঘণ্টা। অন্যদিকে ইউরোপের মধ্যে রাশিয়ার সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

নারী ও পুরুষ পোশাকশ্রমিকের মজুরিবৈষম্য কমছে

তৈরি পোশাকশিল্পে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের মজুরি বৈষম্য কমছে। বর্তমানে পোশাক খাতে কর্মরত পুরুষ শ্রমিকেরা গড়ে ৭ হাজার ২৭০ টাকা ও নারী শ্রমিকেরা ৭ হাজার ৫৮ টাকা মজুরি পান। নারী ও পুরুষ শ্রমিকের গত মজুরি ব্যবধান প্রায় ৩ শতাংশ। রানা প্লাজা ধসের পরও পোশাকশিল্পে নতুন বিনিয়োগ থেমে থাকেনি। বর্তমানে যেসব পোশাক কারখানা আছে, তার ১৮ শতাংশই ২০১৩-১৬ সালের মধ্যে স্থাপিত হয়েছে। এতে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। আবার ছোট ছোট অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন অনেক পোশাকশ্রমিক। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় আজ শনিবার গবেষণাটির প্রাথমিক তথ্য তুলে ধরে হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান, বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক শ্রমসচিব মিকাইল শিপার, শ্রমিকনেতা বাবুল আক্তার,
শামছুন্নাহার ভূঁইয়া প্রমুখ। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের ১৯৩টি পোশাক কারখানা ও ২ হাজার ২৭০ শ্রমিকের ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, ‘রানা প্লাজা ধসের পর পোশাকশিল্পে অর্থনৈতিক চেয়ে সামাজিক অগ্রায়ণ (অগ্রগতি) হয়েছে। পোশাকশিল্পকে টেকসই করতে হলে এই অসমতা দূর করতে হবে।’ সিপিডির গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৬ শতাংশ পোশাক কারখানায় বিদেশি কর্মকর্তা কাজ করেন। সংখ্যার হিসাবে প্রতি কারখানায় গড়ে ৪ জন। বিদেশি কর্মকর্তাদের ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ উৎপাদন পরিকল্পনা, ২০ দশমিক ১ শতাংশ মার্চেন্ডাইজিং, ১১ দশমিক ৯ শতাংশ মান নিশ্চিত এবং ৮ দশমিক ২ শতাংশ ওয়াশিং বিভাগে কাজ করেন। গবেষণা আরও উঠে এসেছে, ৯১ শতাংশ পোশাক কারখানাতেই ওয়ার্কার পার্টিসিপেশন কমিটি (ডব্লিউপিসি) আছে। অন্যদিকে ট্রেড ইউনিয়ন আছে মাত্র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কারখানায়। এ ছাড়া সাবকন্ট্রাক্টিং বা ঠিকা কাজ করা কারখানার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে প্রায় ১৭ শতাংশ কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি সাবকন্ট্রাক্টিং। অধ্যাপক রেহমান সোবাহান পোশাকশিল্পের মালিকদের উনিশ শতকের ধ্যানধারণা ছেড়ে একুশ শতকের মডেলে কারখানা পরিচালনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও ভালো মজুরি দিয়ে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ান। তাঁদের মুনাফার ভাগ দিন। সরাসরি সুফল পেলে শ্রমিকেরা কারখানাটিকে নিজের মনে করবেন। তখন টেকসই উন্নয়ন হবে।

আসছে সেই ‘সুখবর’

চলতি মার্চ মাসেই স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের সুখবর আসছে। যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টি মূল্যায়ন করে জানাবে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। ১২ থেকে ১৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সিডিপির ২০ তম অধিবেশন হবে। ওই অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে এলডিসিগুলোর গত তিন বছরে আর্থসামাজিক খাতের অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে-এমন ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সভায় বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। অবশ্য ৯ মার্চ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত সিডিপির সাব-গ্রুপ সভায় এলডিসি দেশগুলোর সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করলে ২২ মার্চের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এই সুখবর জানাবে। অবশ্য এর আগেই ওই প্রতিবেদনের মূল্যায়ন জানা যাবে। ইতিমধ্যে সরকার এই অর্জন উদ্যাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদি বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হওয়ার সুখবর পায়, তবে ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা দেওয়া হতে পারে। সেদিন আতশবাজি পোড়ানো হবে। রাজধানীর সড়কে জ্বলবে রংবেরঙের বাতি, সড়ক ও স্থাপনাগুলো সাজবে লাল-সবুজ পতাকায়। আর মন্ত্রণালয়ভিত্তিক নানা কর্মসূচিও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। যেমন টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তর রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। উন্নয়ন টেকসই করতে মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি সামাজিক বিষয়গুলো বিবেচনা করে সদস্যদেশগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করে জাতিসংঘের সিডিপি। স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল, উন্নত দেশ-তিন শ্রেণিতে ভাগ করে সিডিপি। বাংলাদেশসহ ৪৭টি দেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় আছে। প্রতি তিন বছর পর জাতিসংঘের সিডিপি এই তালিকায় থাকা দেশগুলোর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে থাকে। তিনটি সূচকের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা করা হয়। এগুলো হলো মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বা ভঙ্গুরতা সূচক। এলডিসি থেকে বের হতে কমপক্ষে দুটিতে নির্ধারিত মান অর্জন করতে হয়। অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে এবার বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই নির্ধারিত মান অর্জন করবে। গত অক্টোবর মাসে সিডিপির প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে অর্থনীতির হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত নিয়ে গেছে।
ওই সফরে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে উভয় পক্ষের দ্বিমতগুলো নিরসন করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সিডিপির হিসাবে ২০১৭ সালের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে বাংলাদেশ পেয়েছে ২৪ দশমিক ৯ পয়েন্ট। নিয়ম অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশ হতে হলে এ সূচকের মান ৩২ পয়েন্টের নিচে থাকতে হবে। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ বা এর বেশি পয়েন্ট পেতে হবে। এ সূচকে বাংলাদেশের অর্জন ৭২ দশমিক ৮ পয়েন্ট। অন্যদিকে মাথাপিছু আয় সূচকে ১ হাজার ২৪২ মার্কিন ডলার থাকতে হবে। ২০১৭ সালের হিসাবে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ২৭২ ডলার। জাতিসংঘ মাথাপিছু আয়ের হিসাবটি করেছে এটলাস পদ্ধতিতে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম বলেন, ‘সিডিপি আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে গেছে। প্রায় সব তথ্যের সঙ্গেই তারা একমত। আমরা এবার তিনটি সূচকেই নির্ধারিত মান অর্জন করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এলডিসি থেকে বের হওয়ার যোগ্যতা অর্জন হবে স্বাধীনতার পর অন্যতম বড় অর্জন। ২২ মার্চ এই চিঠি পাব বলে আশা করছি।’ শামসুল আলম আরও বলেন, এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর তা যেন টেকসই হয়, সে জন্য গভীর সমীক্ষার প্রয়োজন হবে। ২০২৭ সালের পর যখন শুল্কমুক্ত সুবিধা উঠে যাবে, তখন যেন বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে পারে। এ জন্য দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্য উৎপাদনের খরচ কমাতে হবে। ২০১৮ সালের পর্যালোচনায় যোগ্যতা অর্জন করলে পরের তিন বছর নির্ধারিত সূচকে ওই অবস্থা বজায় রাখতে হবে। এরপর উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ করবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল (ইকোসোক)। তিন বছর পর ২০২৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দেওয়া হবে। স্বল্পোন্নত দেশের সব বাণিজ্যসুবিধা ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের সর্বশেষ পর্যালোচনায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকেই শুধু নির্ধারিত মান অর্জন করেছিল। ২০১৫ সালের পর্যালোচনায় পাঁচটি দেশ যোগ্যতা অর্জন করেছিল। এসব দেশ এখন এলডিসি থেকে উত্তরণের পর্যায়ে আছে। দেশগুলো হলো মালদ্বীপ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, সামোয়া, বতসোয়ানা ও কেপ ভার্দে।

কেএম এটিএম হবেন না কাজী রকিব? by সোহরাব হাসান

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এখনই আমরা হতাশ হতে চাই না। প্রত্যাশা রাখতে চাই অতীতের ব্যর্থতা ও গ্লানি ঝেড়ে ফেলে বাংলাদেশ ২০১৮ সালে একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিতে সক্ষম হবে। আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে ১৯৭০ সালের অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথ ধরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এসেছে। পাকিস্তানি শাসকেরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি বলেই একাত্তরের এই মার্চে বাঙালি অস্ত্র হাতে নিয়েছিল।
তবে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আশার কথা বলার আগে লজ্জার কথাটি বলে নিতে হয়। প্রথম লজ্জাটি নিজের পেশার। ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১০ জন প্রার্থী। তাঁদের দাবি, নির্বাচনে জাল ভোট হয়েছে, হঠাৎ ভোটের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পরও এক ঘণ্টা ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। জাল ভোট দিতে এসে ৩০ জন হাতেনাতে ধরা পড়লেও নির্বাচন কমিশন রহস্যজনক কারণে তাঁদের ছেড়ে দিয়েছে ইত্যাদি। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ আগে শোনা যায়নি। সেদিন ভোট দিতে গিয়ে দেখলাম, প্রেসক্লাব অঙ্গন ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। শত শত লোক ভোটের প্রচারে ব্যস্ত (সবাই সাংবাদিক নন)। ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখে কয়েকজন সহকর্মী ভোট না দিয়েই ফিরে এসেছেন। একজন সাংবাদিক বন্ধু সখেদে বললেন, ‘ঢাকা শহরে এত সাংবাদিক আছেন তা জানা ছিল না।’ ১০ জন প্রার্থী পুনর্নির্বাচনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন। নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে কি হয়নি সেই বিতর্কে না গিয়েও বলব খবরটি পড়ে সংবাদকর্মী হিসেবে আমি লজ্জিত। দ্বিতীয় লজ্জার ঘটনা হলো আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতির কারণে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট গণনা স্থগিত হয়ে যাওয়া। সমিতির নির্বাচন হয় ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি। ১ মার্চ রাত ১১টা থেকে ভোট গণনা শুরু হলে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় একজন সভাপতি প্রার্থীসহ ২ জন আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য তাঁদের হাসপাতালে নিতে হয়েছে। অভিযোগ, ভোট গণনার সময় বহিরাগতরা এসে ঝামেলা পাকিয়েছিল। নির্বাচন নিয়ে লজ্জার ঘটনা আরও আছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোতে এখন সরাসরি নির্বাচন হয় না। পরোক্ষ ভোটে নেতা নির্বাচিত করা হয়।
অনেকটা আইয়ুব খানের ‘বেসিক ডেমোক্রেসির’ মতো। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, রিহ্যাবের কমিটি মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক কারা হবেন, তা আগেই ঠিক করে দেওয়া হয়। এরপর সরকারের পছন্দের একজনকে বেছে নেওয়া হয় এফবিসিসিআই সভাপতি হিসেবে। সব সরকারের আমলে এই ধারা চলছে। জেলা শহরগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বারের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হন। সম্ভবত জাতীয় নির্বাচনের কালো ছায়া পেশাজীবী সংগঠনগুলোর ওপর পড়তে শুরু করেছে। আবার জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে ফিরে আসি। এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সামনে যেই প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তা হলো আমরা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে পারব কি না? একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ যে কার্যকর হয় না, সেখানে বিরোধী দলের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না, তার প্রমাণ বর্তমান সংসদ। এত দিন গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজের প্রতনিধিরা কথাটি চিৎকার করে বললেও সংবিধানের রক্ষকেরা তা আমলে নেননি। এখন সেই সংসদের খোদ ‘বিরোধীদলীয় নেতা’ রওশন এরশাদ বলতে শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন, জাতীয় পার্টি পরিচয় সংকটে আছে। এটি শুধু দলের সংকট নয়, গণতন্ত্রেরও সংকট। যেকোনো নির্বাচনের অর্থই হলো প্রতিনিধি বাছাইয়ের অবাধ সুযোগ। আর সে জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকতে হবে। ‘ওরা নির্বাচনে না এলে আমাদের কিছু করার নেই’, এ কথা বলে দায়িত্ব এড়ানো যাবে না। কেন নির্বাচনে আসছে না, তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা আগেই জানিয়েছেন, বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না। তবে নির্বাচনটি শুধু অংশগ্রহণমূলক হওয়াই যথেষ্ট নয়, সেটি হতে হবে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য।
দেশবাসী এমন একটি নির্বাচন চায়, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন। তারা এমন নির্বাচন চায় যে নির্বাচনে আগের রাতে কেউ গিয়ে বলে আসবে না, ‘দাদা আপনি তো আমাদেরই ভোট দেবেন। কষ্ট করে আপনাকে কেন্দ্রে যেতে হবে না।’ সরকারের মনে যা-ই থাকুক না কেন, মন্ত্রী-নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে মনে হয় তাঁরাও একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের সঙ্গে আলোচনায় তাঁকে অনুরোধ করেছেন যেন বিএনপিকে নির্বাচনে আসার বিষয়ে তিনি সহায়তা করেন। একই ধরনের অনুরোধ করা হয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারকেও। (ইত্তেফাক, ২ মার্চ ২০১৮)। তোফায়েল আহমেদ অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে এবং সরকার সে সময়ে রুটিন কাজ করবে। নির্বাচনের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মাধ্যমে সম্ভবত তিনি এই নিশ্চয়তা দিতে চেয়েছেন যে নির্বাচনের সময় বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলেও তারা নির্বাচনের বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। বার্নিকাট মন্ত্রীর কথার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেননি। তিনি শুধু যোগ করেছেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের শর্তগুলো শুধু নির্বাচনের দিন নয়, সব সময়ের জন্যই মেনে চলা প্রয়োজন। অর্থাৎ সব দলকে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ দিতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের বিধান। নির্বাচন কমিশনের কাছে বিএনপি চিঠি দিয়ে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী যখন জনসভা করে নৌকায় ভোট চাইছেন, তখন বিএনপির নেতাদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে, কর্মীদের রাস্তায় নামতে দেওয়া হচ্ছে না। হয় নৌকার পক্ষে ভোটের প্রচার বন্ধ করতে হবে, নয় তো তাঁদেরও ধানের শীষের পক্ষে প্রচার চালাতে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন এই চিঠির কী জবাব দেয় সেটাই দেখার বিষয়।
কমিশনের সচিব কূটনৈতিক ভাষায় বলেছেন, ‘তাঁরা আইনগতভাবে এটি নিষ্পত্তি করবেন।’ আইনের ভাষার পাশাপাশি ইসি যেন মানুষের মনের ভাষা পড়ার চেষ্টা করে। কমিশনের পদাধিকারীদের উদ্দেশ্য যদি হয় একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন তাহলে এখন থেকেই সবার জন্য মাঠ সমতল করার কাজটি করতে হবে। বিএনপির যেসব নেতা দণ্ডিত হয়েছেন বা জেলে আছেন, তাঁদের বিষয়টি এখানে আনছি না। কিন্তু যাঁরা বাইরে আছেন, তাঁরা কেন শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করতে পারবেন না? ঢাকা শহরে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তারা কোনো দলকে চাওয়া মাত্র অনুমতি দেবে আর কোনো দল দিনের পর দিন ধরনা দিয়ে অনুমতি পাবে না, এটি হতে পারে না। বিষয়টি ইসিকে দেখতে হবে। তফসিলের দোহাই দিয়ে তারা নীরব থাকলে জনগণ ভাববে ইসি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে অপারগ এবং কারও নির্দেশে কাজ করে। তাঁরা পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত, শুধু তফসিলকালের জন্য নয়। নির্বাচনের এখনো আট-নয় মাস বাকি। তাই বর্তমান কমিশনের কাজকর্ম ও গতিবিধি সম্পর্কে চূড়ান্ত কথা বলার সময় আসেনি। আমরা দেখতে চাইব জাতীয় নির্বাচনের ওপর যে দীর্ঘ কালো ছায়াটি পড়েছে, সেটি সরিয়ে ফেলতে কে এম নুরুল হুদা কমিশন সক্ষম কি না। হুদা সাহেবের সামনে দুটো পথ খোলা আছে-একটি হলো এ টি এম শামসুল হুদার, আরেকটি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ রচিত। এখন তিনিই ঠিক করুন কোন পথে হাঁটবেন।
সোহরাব হাসান : প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি
sohrabhassan 55 @gmail. com