Wednesday, January 8, 2025
প্রশ্নটা বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছেই by শামীমুল হক
অন্তরের আপা, আমার হাসু আপা, তখন আমার লালনের একটি গানের কলি মনে পড়েছে। ‘সে কি চিনে মানুষ রতন/দরগাতলায় মন মজেছে/শিরনি খাওয়ার লোভ জাগাতে...’। সত্যি আপা আপনি মানুষ চিনেন নি। যারা আপনার দরগায় মন-প্রাণ ঢেলে দিয়েছে তাদের প্রত্যেকের ছিল শিরনি খাওয়ার লোভ। তারা শিরনি খেয়েছে। আপনার বারটা বাজিয়ে ছেড়েছে। আর তা না হলে গোটা দেশটাকে বঙ্গবন্ধুময় করে তুলতেন না আপনি। আকাশ থেকে পাতাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু। আকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আর পাতালে বঙ্গবন্ধু টানেল। ভাস্কর্য থেকে শুরু করে স্কুল, মাদ্রাসা, সড়ক, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান, স্মারক পদও রয়েছে। তাছাড়া অনেক কিছু করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নামে। যে প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে সেটা কী জরুরি ছিল? বঙ্গবন্ধুকে চেনাতে? বঙ্গবন্ধু তো বঙ্গবন্ধুই। তার সঙ্গে কারও তুলনা হতে পারে? আপনিই বলুন। এতক্ষণে হয়তো আপনি বলবেন কি এমন করেছি? তাহলে একটু নমুনা তুলে ধরি আপনার সামনে। বঙ্গবন্ধুর নামে কি করেছেন। আর এই নামকরণ করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর জন্য কাল। আচ্ছা সড়ক দিয়েই শুরু করি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিস যে পাড়ায় সে পাড়ার নাম বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। এ সড়কের নাম অবশ্য আপনি দেননি। বাংলাদেশ হওয়ার পর জিন্নাহ এভিনিউ বাদ দিয়ে এ নামটি হয়েছে। এরপর দেখুন ফরিদপুরে রয়েছে বাংলাদেশ মুুুুজিব সড়ক। সাভারে রয়েছে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু সড়ক। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে রয়েছে বাংলাদেশ শেখ মুজিব সড়ক। সিরাজগঞ্জে রয়েছে বাংলাদেশ শেখ মুজিব সড়ক। এ নামকরণ থেকে পাহাড়ও বাদ যায়নি। তাই তো বান্দরবানে করা হয়েছে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সড়ক। নারায়ণগঞ্জে রয়েছে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু সড়ক। যশোরে রয়েছে বাংলাদেশ মুজিব সড়ক। গোপালগঞ্জে রয়েছে মুজিব সড়ক। ঠাকুরগাঁওয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু সড়ক। দেশে এত সড়ক বঙ্গবন্ধুর নামে হওয়ার পরও শখ মেটেনি। দেশের বাইরে রয়েছে শিকাগোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেখ মুজিব ওয়ে। কলকাতায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরণি। নয়াদিল্লিতে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সড়ক। তুরস্কের আঙ্কারায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বুলবার্ড। এবার একটু দেখা যাক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কতো বার ব্যবহার হয়েছেন। ভাসানী নভোথিয়েটার থেকে ভাসানী বাদ দিয়ে করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার। চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল। ঢাকার কুর্মিটোলায় করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার। গাজীপুরে করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি। খুলনার রূপসায় করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। টাঙ্গাইলে রয়েছে বঙ্গবন্ধু সেনানিবাস। রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ফ্রিগেট বানৌজা বঙ্গবন্ধু। নভো-উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১। স্মারক পদ হিসেবে রয়েছে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে বঙ্গবন্ধু চেয়ার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্-এ রয়েছে বঙ্গবন্ধু চেয়ার। ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু চেয়ার। থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে বঙ্গবন্ধু চেয়ার। ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে রয়েছে বঙ্গবন্ধু চেয়ার। কানাডার সাস্কাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু চেয়ার। পোল্যান্ডের ইয়াগোলোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু সেন্টার। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু সেন্টার। এবার দৃষ্টি দেয়া যাক সেতুর নামকরণের দিকে। প্রথমেই আসি যমুনা সেতুর দিকে। যমুনা সেতু নামটি বাদ দিয়ে আপনি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু সেতু। অবশ্য বর্তমান সময়ে আবার সেতুটি তার পূর্বের নাম ফিরে পেয়েছে। দেশের পুরনো স্টেডিয়াম যেটা গুলিস্তানে অবস্থিত সেটার নামও দিলেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। সবই যখন দিলেন দ্বীপ কেন বাদ যাবে? দিলেন বঙ্গবন্ধু দ্বীপ। এবার ভবনের দিকে তাকালে কী দেখতে পাই? চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রকে নাম দিলেন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র। যেটা আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত। আবার পূর্বাচলে নামকরণ করলেন বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র। ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে রয়েছে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর। ঢাকায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু চত্বর স্মৃতিস্তম্ভ, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার। ফরিদপুরে রয়েছে বঙ্গবন্ধু স্কোয়ার। এবার কিছুটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে দেখি সেখানকার কী অবস্থা। শুরুতেই পিজি হাসপাতালের নাম বদলে করলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া ঢাকায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি। গাজীপুরে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়। গোপালগঞ্জে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। নারায়ণগঞ্জে রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। লালমনিরহাটে বয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়। কিশোরগঞ্জে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়। পিরোজপুরে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। মেহেরপুরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয়। নওগাঁয় রয়েছে বঙ্গবন্ধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। টাঙ্গাইলে রয়েছে বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। ঢাকায় রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজ। গাজীপুরে রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কলেজ। চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জে রয়েছে ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ। কুমিল্লায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু কলেজ। খুলনায় বঙ্গবন্ধু কলেজ। মাদারীপুরে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজ। সাতক্ষীরার কলারোয়ায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ। রাজশাহীতে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ। নীলফামারীতে রয়েছে শিমুলবাড়ী বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ। গোপালগঞ্জে রয়েছে সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ। গোপালগঞ্জে আরও একটি রয়েছে সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। জামালপুরে সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ। পঞ্চগড়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব-ইন্দিরা মহাবিদ্যালয়। চট্টগ্রামে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ল’ টেম্পল। নীলফামারীতে রয়েছে আম্বরি বঙ্গবন্ধু বিদ্যালয়। নারায়ণগঞ্জে রয়েছে সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়। চট্টগ্রামে রয়েছে কৈবল্যধাম হাউজিং এসেস্ট বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়। গোপালগঞ্জ সদরে রয়েছে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়। পটুয়াখালীর গলাচিপায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সাতক্ষীরার আশাশুনিতে রয়েছে কাকবাসিয়া বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়। নোয়াখালীর কবিরহাটে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রয়েছে হেঞ্চি বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়। চট্টগ্রামে রয়েছে পোমরা বঙ্গবন্ধু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এত যখন হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর নাম বাদ যাবে কেন? সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল হল। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু হল, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু হল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বঙ্গবন্ধু হল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে রয়েছে বঙ্গবন্ধু হল।
প্রিয় হাসু আপা, এত কিছুর পরও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ’ নামে একটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করে। এ ছাড়া মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২০২০ সাল থেকে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগকে (বিপিএল) বঙ্গবন্ধু বিপিএল নামে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে শেখ মুজিবের নামে ২০২০ সালে বাংলাদেশ গেমসের ৯ম আসরের নামকরণ ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস’ করা হয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন গেমস স্থগিত ঘোষণা করে। পার্ক ও উদ্যানেও বঙ্গবন্ধু! গাজীপুরে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, কক্সবাজারে ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, ফরিদপুরে রয়েছে মুজিব উদ্যান। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে প্রধানত বাংলা ও পাশাপাশি অন্যান্য ভাষায় বিপুল সংখ্যক রচনা, বই, পুস্তিকা রচিত হয়েছে। বাংলাদেশের বহু প্রতিষ্ঠান ও বিষয়বস্তুর নামকরণ শেখ মুজিবুর রহমানের নামানুসারে করা হয়েছে। তার জীবনের উপর বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রের মধ্যে রয়েছে- ১৯৭২: হি ইজ্ ব্যাক। যা ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র। ১৯৭২: বাংলাদেশ, শেখ মুজিবুর রহমানের দেশ গঠনের কর্মকাণ্ডের উপর যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি টিভি কর্তৃক নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র। ১৯৭২: ডেভিড ফ্রস্ট প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ- শেখ মুজিবুর রহমানের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র। বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্ট বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের উপর ভিত্তি করে এটি নির্মাণ করেন। ১৯৭৩: শেখ মুজিবুর রহমান, দ্যা ফাদার অফ বেঙ্গল-জাপানি পরিচালক নাগাসি ওশিমা পরিচালিত শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত জীবন, তার প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড ও পরবর্তী পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র। ১৯৭৩: ‘ওয়েলকাম বঙ্গবন্ধু’- জাপানে শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রীয় সফরের উপর ভিত্তি করে জাপানের মাইনিচি প্রডাকশনস-এর প্রযোজনায় নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র। ২০২২ সালে জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশে অবস্থিত জাপানের দূতাবাস, ‘বঙ্গবন্ধুর জাপান সফর’ শিরোনামে বাংলা অডিও এবং জাপানি সাবটাইটেল সহ প্রামাণ্যচিত্রটির ডিজিটালি রিমাস্টার করা সংস্করণ প্রকাশ করে। ১৯৯৬: চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু- শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র। ১০ই আগস্ট বি এম সালাউদ্দিনের প্রযোজনায় এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৫ই আগস্ট প্রচারিত হয়। চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে প্রামাণ্যচিত্রটি ডিজিটাল ফিল্মে পুনঃনির্মিত হয়। সেই অন্ধকার, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবৃতিতে শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ, বিশ্বজিত সাহা ও শ্যামল দত্ত পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র। ২০১০: দ্যা স্পিচ- শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণের বিশ্লেষণ নিয়ে ফাখরুল আরেফিন খান পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র। সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই প্রামাণ্যচিত্রে উঠে এসেছে ভাষণ রেকর্ডিংয়ের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে সংরক্ষণের ঘটনাসমূহ। ২০১২: অসমাপ্ত মহাকাব্য- শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীর’ উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র। ২০১৪: মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রযোজনায় শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র। ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’ তথ্যচিত্রে শেখ হাসিনা নিজ ভাষ্যে তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড বিবৃত করেন। ২০১৯: বঙ্গবন্ধু থেকে বিশ্ববন্ধু, মুজিববর্ষ উপলক্ষে শেখ মুজিবুর রহমানের উপর নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র। ২০২১: বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়, সৈয়দ সাবাব আলী আরজু পরিচালিত শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র। এটি ‘শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র’ শাখায় ৪৫তম আসরে বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। ২০২৩: দ্য অ্যাসাসিন নেক্সট ডোর, কানাডিয়ান ডকুমেন্টারি সিরিজ দ্য ফিফথ এস্টেট-এর একটি পর্ব, শেখ মুজিবুর রহমানের ঘাতক নূর চৌধুরীর উপর প্রকাশিত হয়েছিল। চলচ্চিত্রও হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। ১৯৭৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘সংগ্রাম’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন শেখ মুজিবুর রহমান। চলচ্চিত্রটিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের যুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাদের অবদানকে দেখানো হয়েছে। ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত পরিচালিত ‘যুদ্ধশিশু’ নামক ভারতীয় বাংলা-হিন্দি চলচ্চিত্রে প্রদীপ গঙ্গোপাধ্যায় শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০২১: ‘তারুণ্যের আলোক শিখা’, শেখ মুজিবুর রহমানের উপর নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ চলচ্চিত্রে শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনা দেখানো হয়। ২০২০ সালে ‘আগস্ট ১৯৭৫’ নামে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড পরবর্তী ঘটনা নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। যা ১৫ই আগস্ট ২০২০ সালে মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও করোনা মহামারিজনিত জটিলতার কারণে এর মুক্তির তারিখ পিছিয়ে যায়। ২০২১ সালের ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। ২০২১ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী অবলম্বনে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ নির্মাণ করা হয়। এটি ২০২১ সালের ৩১শে ডিসেম্বর মুক্তি পায়। ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে নির্মিত ছবিটিতে শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত চিত্রিত হয়। ২০২৩: ‘বঙ্গমাতা’, শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জীবনের উপর নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটিতে শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনির আহমেদ শাকিল। ২০২৩: ‘দুঃসাহসী খোকা’ মুশফিকুর রহমান গুলজারের পরিচালনায় সরকারি অনুদানে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম থেকে কৈশোর ও যৌবনের সময়কে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩: ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ নির্মাতা শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি বাংলা, হিন্দি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। ২০২৪: ‘৫৭০’, শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড পরবর্তী দাফন পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টার ঘটনাবলী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র। ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি’, বঙ্গবন্ধুর উপর নির্মিত চিত্রপরিচালক এখলাস আবেদিন পরিচালিত চলচ্চিত্র। এ ছাড়া শেখ হাসিনার লেখা বই ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য দ্বিমাত্রিক (টু-ডি) অ্যানিমেশন ‘মুজিব আমার পিতা’ চলচ্চিত্রটি। এটি পরিচালনা করেছেন সোহেল মোহাম্মদ রানা। ১৯৯৬: নিশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি, কায়েস চৌধুরী পরিচালিত শেখ মুজিবুর রহমানের উপর নির্মিত প্রথম নাটকভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র। ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রামাণ্যচিত্রটি প্রচারিত হয়। শেখ মুজিব রিসার্চ সেন্টার লন্ডনের অর্থায়নে লেখক ও সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী তার স্বলিখিত রাজনৈতিক উপন্যাস “পলাশী থেকে ধানমণ্ডি” অবলম্বনে ২০০৭ সালে একই নামে একটি টেলিভিশন চলচ্চিত্র তৈরি করেন, যেখানে শেখ মুজিব চরিত্রে অভিনয় করেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১: ২৮৮ দিন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে শেখ মুজিবুর রহমানের কারাবন্দি জীবনের উপর নির্মিত মঞ্চনাট্য। ২০২১: অভিশপ্ত আগস্ট, শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের উপর নির্মিত বাংলাদেশ পুলিশ নাট্যদলের মঞ্চায়ন। মঞ্চনাট্যটির পরিকল্পনা, গবেষণা ও তথ্য সংকলন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের এডিশনাল আইজি হাবিবুর রহমান। রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহিদুর রহমান। এ ছাড়া একাধিক অ্যানিমেশন, গান, সাহিত্য, মুদ্রা ও স্ট্যাম্প, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংবলিত একশত টাকার ব্যাংকনোট।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এভাবে মেতে ওঠাও ছিল একটি ভুল। এতে করে বঙ্গবন্ধু বরং ছোট হয়েছেন। যার পরিণতিতে দেখা গেল ৫ই আগস্ট।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা দখলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র?
উল্লেখ্য, উত্তর আমেরিকা থেকে ইউরোপ সফরের সবচেয়ে কম দূরত্বের রুটে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড। ফলে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কৌশলগত দিক দিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া এ দ্বীপে আছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিষয়ক একটি বিশাল স্থাপনা। ট্রাম্পের বড় ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাকে বিভিন্ন র্যালিতে ঘন ঘন দেখা যায়। নির্বাচনে বড় দায়িত্ব পালন করলেও তিনি গ্রিনল্যান্ডে তার পিতার পরিকল্পনার পক্ষে সফর করবেন না বলে জানিয়েছে ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বিবিসিকে বলেছে, ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র গ্রিনল্যান্ড সফরে আসার পরিকল্পনা সম্পর্কে আমরা জানি। এটা মার্কিন কর্মকর্তা হিসেবে কোনো আনুষ্ঠানিক সফর নয়। এ জন্য তা নিয়ে বাড়তি কোনো মন্তব্য করবে না মন্ত্রণালয়। ওদিকে গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের সর্বশেষ হস্তক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা পরেই ডেনমার্ক সরকার দ্বীপটির প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে। ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোয়েল লান্ড পলসেন এই ব্যয় বৃদ্ধির সময়কে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বলে উল্লেখ করেছেন। সোমবার ডেনমার্কের রাজা দশম ফ্রেডেরিক রয়েল কোট অব আর্মস পরিবর্তন করে গ্রিনল্যান্ড ও ফারো আইল্যান্ডের বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরেছেন। ট্রাম্পের ঘোষণাকে অনেকে তিরস্কার হিসেবেও দেখছেন। কিন্তু এটা হতে পারে গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিতর্কিত ইস্যু। নতুন বছরের ভাষণে রাজা ফ্রেডেরিক গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিউট এগেদে নববর্ষের ভাষণে ডেনমার্ক থেকে গ্রিনল্যান্ডকে স্বাধীন করার দিকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই দ্বীপকে অবশ্যই ঔপনিবেশিকতার শেকলমুক্ত করতে হবে।
এখানে উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডকে কিনতে চাওয়া প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পই নন। প্রথমে এই ধারণা ১৮৬০-এর দশকে মাথায় আসে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭তম প্রেসিডেন্ট অ্যানড্রু জনসনের। ওদিকে আলাদা এক বক্তব্যে ট্রাম্প সম্প্রতি বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ পানামা ক্যানালকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগ করেছেন, এই খাল ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি নেয়া হচ্ছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এইচএমপিভি কতোটা আতঙ্কের by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস কতোটুকুও আতঙ্কের- এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, এই ভাইরাস নতুন কিছু নয়। তবে মহামারি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই সতর্ক দৃষ্টি আছে। এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, আমাদের সক্ষমতার ঘাটতি আছে। তথ্য প্রকাশ করতে দ্বিধা করি। লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করি। বরং লুকিয়ে রাখলে মানুষ ভ্রান্তিতে ভোগে। অজানা আতঙ্কে থাকেন। তিনি বলেন, এখন দেশে বহু মানুষ শ্বাসনালির সমস্যায় আছেন। তাদের শনাক্ত করা কঠিন কিছুই না। করোনার সময় তো আমরা করেছি। এটা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ নিতে হবে। সার্ভিলেন্স চালু করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে বোঝা যাবে এই রোগী কোন ভাইরাসে ভুগছেন। ভাইরাসটি নিয়ে একটু উদ্বেগের মধ্যে আছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
দেশের খ্যাতিমান ভাইরোলজিস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম এ ব্যাপারে মানবজমিনকে বলেন, দেশে নানা ভাইরাস আছে। হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি) করোনার মতোই ছড়ায়। এগুলো নাক, মুখ, হাত দিয়ে ছড়ায়। তাই আমাদেরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে। এই ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। এসব ভাইরাস চীনে যেভাবে ছড়ায় অন্যদেশে সেভাবে ছড়ায় না। কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির অন্যতম এই সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম পরামর্শ দিয়ে বলেন, করোনার মতোই আমাদেরকে মাস্ক পরতে হবে।
করোনায় মৃত্যু-আক্রান্ত-আতঙ্ক ছড়িয়েছিল প্রায় সব দেশেই। সেই মহামারি কাটিয়ে স্বাভাবিক হয়েছে বিশ্ব। এর মধ্যেই আবারো হুমকি হয়ে উঠছে নতুন মহামারি। সামনের দিনগুলোতে আবারো এমন মহামারি বা সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ভাইরোলজিস্টরা। এ অবস্থায় চীন-জাপানে নতুন আতঙ্ক দ্য হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাসের (এইচএমপিভি) প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। চীন-জাপান ছাড়িয়ে মালয়েশিয়া ও ভারতেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটা নতুন কোনো রোগ নয়। এর ভয়াবহতার ঝুঁকিও কম। এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এটি পুরনো রোগ, নতুন কিছু না বলেও জানিয়েছেন তারা।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন এ ব্যাপারে মানবজমিনকে বলেন, এইচএমপিভি ভাইরাস এর আগেও বাংলাদেশে পাওয়া গেছে। এটি নতুন কোনো ভাইরাস নয়। মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে এবছর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।
দেশের ভাইরোলজিস্টরা বলেন, এ ভাইরাস নিয়ে অতিরিক্ত ভয়ের কিছু নেই। এতে বড় ধরনের হুমকি নেই। এর আগেও দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এই ভাইরাসে আক্রান্তদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ও করোনা ভাইরাসের মতোই সিম্পটম (উপসর্গ) দেখা দিতে পারে। তবে এতে বড় সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এই রোগের আলাদা ভ্যাকসিন নেই। তবে প্রচলিত চিকিৎসায় এই রোগ ভালো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা সূত্র জানায়, ২০১৭ সাল থেকেই আমাদের দেশে এইচএমপিভি ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়ে আসছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চীনের কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালগুলোতে করোনা ভাইরাসের সময়ের মতোই ভিড়। এ ছাড়া জাপানেও একই অবস্থা দেখা যায়। দেশগুলোতে এই রোগ নিয়ে সতর্ক অবস্থানেও যেতে দেখা যাচ্ছে। তবে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়লেও এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কিংবা দেশগুলোর সরকার সতর্কতা জারি করেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের তথ্যে জানা যায়, চীনে এই রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। বিশেষ করে আগে যাদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল, তারা নতুন এই ভাইরাসের আক্রমণে নাজুক অবস্থায় আছেন। এইচএমপিভি ভাইরাস নিয়ে বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য বলেছে চীন। তারা জানায়, এটি মৌসুমি অর্থাৎ শীতকালীন সংক্রমণ মাত্র। চীন, জাপান ও মালয়েশিয়ার পর ভারতেও শনাক্ত হলো হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি)। ৬ই জানুয়ারি দেশটির কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে দুটি শিশুর শরীরে এইচএমপিভি শনাক্ত হয়।
প্রায় দুই দশক আগে প্রথমবারের মতো এইচএমপিভি’র উপস্থিতি জানান দিলেও এখন পর্যন্ত এর টিকা আবিষ্কার হয়নি। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা মোকাবিলায় যেসব সতর্কতা নেয়া হয়েছিল, একই পদক্ষেপে এই ভাইরাসও প্রতিরোধ করা সম্ভব। টানা ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া, অপরিষ্কার হাতে নাক-মুখ স্পর্শ না করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার মধ্যদিয়ে এইচএমপিভি থেকে নিরাপদ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
যেকোনো বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থানের আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি প্রদানে ঘোষণাপত্র উপস্থাপিত করতে হয়। এতে করে গণহত্যাকারী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের যেকোনো লড়াই-সংগ্রাম সাংবিধানিকভাবে বৈধ এবং জনগণের সম্মতিপ্রাপ্ত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের জুলাই বিপ্লবের প্রোক্লেমেশন বা ঘোষণাপত্র প্রকাশের অভিপ্রায়ের পর, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। এই উদ্যোগ ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল শক্তিকে একদিকে সংহত করবে, অন্যদিকে গণ-অভ্যুত্থানের দার্শনিকভিত্তি ও অভিপ্রায় নিয়ে ঐকমত্য সৃষ্টি করবে।
যেহেতু গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনসহ অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দল ও পক্ষের মতামত গ্রহণ করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে, সেহেতু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্রে সংযুক্ত বা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমার প্রস্তাবনা হাজির করছি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র: যেহেতু, পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি স্বাধীনতার মর্মবস্তুকে উপেক্ষা করে এই পূর্ব-বাংলার মানুষের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করে এবং পরিশেষে জনগণের রায়কে বানচাল করে দিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে একটি অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় এবং গণহত্যা সংঘটিত করে, সেহেতু এর প্রেক্ষিতে এ দেশের জনগণ বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী উদ্দীপনায় সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রাম এবং একসাগর রক্তের বিনিময়ে ’৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে স্বাধীন ও সার্বভৌম ভূখণ্ডের সৃষ্টি করে। এ ভূখণ্ডের উপর কার্যকর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পরও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ‘সাম্য’ ‘মানবিক-মর্যাদা’ এবং ‘সামাজিক-সুবিচার’ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করে ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণীত হয়। যার মাধ্যমে মূলত রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন রুদ্ধ হয়ে পড়ে।
এবং যেহেতু ‘জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম’ অসমাপ্ত থেকে যাওয়ার ফলে অব্যাহত রাজনৈতিক সংকটে দলীয়শাসনের ব্যর্থতায় পৌনঃপুনিক সামরিক শাসন ও রাজনৈতিক স্বার্থে সংবিধান সংশোধনীতে রাষ্ট্র ক্রমাগত ফ্যাসিবাদী বৈশিষ্ট্য লাভ করে
এবং
যেহেতু, দলীয় এবং সামরিক শাসনের ঘূর্ণাবর্তে আবর্তিত হয়েও বাংলাদেশে সুশাসন, জবাবদিহিতা বা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়নি
এবং
যেহেতু, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে, বাইরের হস্তক্ষেপে গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া থেকে জনগণকে অনুপস্থিত রেখে সকল সাংবিধানিক পথ রুদ্ধ করে
এবং
যেহেতু, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ক্ষমতার দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে শেখ হাসিনার অবৈধ ক্ষমতা ও আধিপত্যের পথ তৈরি করে
এবং
যেহেতু, রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে সিভিল ও পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগ অন্ধ আনুগত্য ও ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে ফ্যাসিবাদীব্যবস্থার রক্ষক বা হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে
এবং
যেহেতু, গত ১৫ বছরে বিরোধী দল ও ছাত্রদের নিরাপদ সড়ক-আন্দোলন স্তব্ধ করতে গিয়ে নজিরবিহীন নির্যাতন, হত্যা, গ্রেপ্তার, রিমান্ড, গোপন বন্দিশালা, আয়নাঘর, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রকে কসাইখানায় পরিণত করে
এবং
যেহেতু, রাষ্ট্রীয়ভাবে পিলখানায় কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিপর্যস্ত করার নীল-নকশা বাস্তবায়ন করে
এবং
যেহেতু, ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসহ সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে ফ্যাসিবাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে
এবং
যেহেতু, ন্যায়সঙ্গত অধিকারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদের এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী জাগ্রত জনতাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে
এবং
যেহেতু, উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রীয়-সম্পদ লুণ্ঠন ও পাচারে নতুন অলিগার্কির মাধ্যমে জাতীয় সম্পদ আত্মসাৎ এবং ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভূলুণ্ঠিত করে
এবং
যেহেতু, জাতীয় সংসদের তিনটি ধারাবাহিক নির্বাচনে প্রতারণাপূর্ণ ও জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করে
এবং
যেহেতু, সমাজ বিকাশের ধারায় বিকশিত সমাজশক্তির রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে অংশীদারিত্ব বা অন্তর্ভুক্তির অনিবার্যতা উপেক্ষা করে
এবং
যেহেতু, প্রজাতন্ত্রের কর্ম লাভ করার ন্যায়সঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং বৈষম্য সৃষ্টি করে
এবং
যেহেতু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের নিরস্ত্র লড়াইকে রাষ্ট্রযন্ত্রের সশস্ত্র শক্তির হামলা, আক্রমণ, অভিযান ও নির্মম বল প্রয়োগ করে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী-জনতাকে নির্বিচারে হত্যা, হাজার হাজার মানুষকে আহত এবং অগণিত মানুষের দৃষ্টিশক্তিহরণ করে
এবং
যেহেতু, শিক্ষার্থীদের ৯ দফা ঘোষণার পর সরকার ইন্টারনেট বন্ধ রেখে কারফিউ এবং শিক্ষার্থী ও এই দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ব্লকরেইড ঘোষণা করে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত হয়ে পড়ে
এবং
যেহেতু, ফ্যাসিবাদী সরকার এবং ফ্যাসিস্টের সহযোগী দ্বারা বর্বর-নৃশংস ‘গণহত্যা’ সংঘটিত করে
এবং
যেহেতু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতন ও ফ্যাসিবাদীব্যবস্থা বিলোপের একদফার চূড়ান্ত কর্মসূচি- ‘মার্চ টু ঢাকা’ আহ্বান করে
এবং
যেহেতু, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ, সংস্কৃতি ও শ্রেণি নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিত ও সুমহান ঐক্যের মাধ্যমে আত্মবলিদানের অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে
এবং
যেহেতু, রাষ্ট্রের দেশপ্রেমিক প্রতিরক্ষা বাহিনী ফ্যাসিবাদী সরকারের আরও রক্তপাতের নির্দেশনা অগ্রাহ্য করে জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বপক্ষে নৈতিক অবস্থান গ্রহণে ঐতিহাসিক কর্তব্য সম্পাদন করে
সেহেতু আমরা, ফ্যাসিবাদী সরকার উৎখাত করে ৫ই আগস্ট জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করি।
আমরা, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতি এবং ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়ভিত্তিক বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ তথা- ‘সাম্য’, ‘মানবিক-মর্যাদা’ ও ‘সামাজিক-সুবিচার’র দর্শনগত নির্দেশনায় রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার ঘোষণা করছি।
আমরা আরও দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করছি- বাংলাদেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদের উত্থান, জনগণের মালিকানা ছিনতাই এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বেচা-কেনার সামগ্রী হতে দেবো না।
আমরা আরও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি- ‘জনগণের সার্বভৌমত্ব’ এবং ‘আইনগত সার্বভৌমত্ব’ ন্যায়সংগত বণ্টনের জন্য ফ্যাসিবাদের বৈশিষ্ট্য অপসারণ করে ’৭২ সালের সংবিধান সংস্কার করার মাধ্যমে বিকশিত সামাজিক শক্তিসহ জনগণের অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করবো। আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী অভ্যুত্থানকারী শক্তি তথা জনগণের সম্মতি ও সমর্থনের ভিত্তিতে ডক্টর ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করছি। এই সরকারের প্রধানতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে-
এক)
ফ্যাসিবাদের উৎস এবং সৃষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত ও ঔপনিবেশিক সকল আইন, শাসনের অবসান করা।
দুই)
মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ গণহত্যায় জড়িতদের এবং জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা।
তিন)
জনগণের ক্ষমতায়ন অর্থাৎ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের উপর জনগণের ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও মালিকানা প্রতিষ্ঠার উপযোগী সাংবিধানিক ব্যবস্থা উদ্ভাবন করা।
চার)
গণবিরোধী শাসন পদ্ধতির বিপরীতে স্থানীয় স্ব-শাসনসহ গণমুখী বিকেন্দ্রীকৃত শাসন পদ্ধতির প্রচলন করা।
পাঁচ)
ফ্যাসিবাদী অপশাসনের শিকার বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি নিশ্চিত করা।
ছয়)
রাষ্ট্রীয় রাজনীতির প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার ও জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা প্রণয়ন করা।
আমরা ঘোষণা করছি যে- ‘সাম্য’, ‘মানবিক-মর্যাদা’ ও ‘সামাজিক-সুবিচার’র নির্দেশনায় দেশজ ইতিহাস-ঐতিহ্যকেন্দ্রিক গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন প্রজাতন্ত্র বিনির্মাণে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় জাতীয় ঐক্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করবো। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, মানবিক ও জ্ঞাননির্ভর, বৈষম্যহীন একটি সমাজ বিনির্মাণ হবে- আমাদের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু।
আমরা আরও ঘোষণা করছি যে- ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আইনগত ও নৈতিকভিত্তির অনুমোদনপ্রাপ্ত এই ঘোষণাপত্রটি ৫ই আগস্ট ২০২৪ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।
লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
faraizees@gmail.com

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ▼ 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...