Friday, February 27, 2026

ইরানেও কি ইরাকের মতো ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সিএনএনঃ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানকে একের পর এক হুমকি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। চলতি শতকের শুরুর দিকে ইরাকে হামলার আগে অস্ত্র নিয়ে একই ধরনের কথা বলেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। যদিও পরে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ইরাক অভিযান–পরবর্তী সময়টাও হিসাব–নিকাশ অনুযায়ী চলেনি। এখন ট্রাম্পও ইরান ঘিরে একই ধরনের ফাঁদের দিকে এগোচ্ছেন কি না, তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন সিএনএনের প্রতিবেদক স্টিফেন কলিনসন। প্রথম আলো পাঠকদের জন্য লেখাটি কিছুটা সংক্ষেপিত আকারে বাংলা করে প্রকাশ করা হলো।

ইরাক যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের মধ্যে একধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। ভেঙে পড়েছিল দেশটির প্রতিষ্ঠিত নেতাদের প্রতি মানুষের আস্থা। এমনটি না হলে হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না।

বিষয়টি এখন একটি পরিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিহাস বলা হচ্ছে, কারণ ট্রাম্প এখন এমন কিছু বক্তব্য দিচ্ছেন এবং এমন কিছু কৌশলগত ভুল করতে পারেন, যে ধরনের ভুল ২০০৩ সালের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাবে কি না, তার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেননি ট্রাম্প। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর বিপুল সমাবেশ ঘটিয়েছেন তিনি। ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মার্কিন অভিযানের পর এটিই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ।

বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যে আলোচনা শুরু হয়েছে, সেখানে তেহরানকে কিছুটা পিছু হটতে চাপ হিসেবে কাজ করতে পারে এই সেনা সমাবেশ। তবে শেষ পর্যন্ত যদি কূটনৈতিকভাবে বড় কোনো সাফল্য না আসে, আর গুলি চালানো বাদেই এই সেনা সমাবেশ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নিতে হয়, তাহলে তা হবে ট্রাম্পের জন্য সম্মানহানিকর।

ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনের ভিত্তি হলো ‘মাগা’ বা ‘আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলুন’ শীর্ষক আন্দোলন। এ আন্দোলন বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে। যুদ্ধের ক্ষেত্রে একটি সমস্যা রয়েছে। সেটি হলো, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীন মার্কিন বাহিনী হয়তো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে দেশের মানুষ এর জন্য প্রস্তুত নন।

ইরাকে হামলা শুরুর আগে বুশ কয়েক মাস ধরে যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। তবে সেগুলো ছিল ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে। ইরানে হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পও অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর যুক্তি দেখাচ্ছেন। যদিও মঙ্গলবার রাতে স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে নিজের অবস্থান কিছুটা স্পষ্ট করেছেন তিনি। তবে এর মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে আরও কোণঠাসা করে ফেলতে পারেন।

যেমন আগের মতোই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক বোমা বানাতে দেওয়া হবে না। তাঁর এ বক্তব্য কিছু প্রশ্ন সামনে আনে। একটি হলো, তিনি আগেই দাবি করেছেন যে গত বছর হামলা চালিয়ে ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাকে শত শত মার্কিন সেনার মৃত্যুর জন্য ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো দায়ী বলেও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।

ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বাড়িয়ে বলা

ইরাক হামলার দিনগুলোর প্রতিধ্বনি সবচেয়ে জোরালো হয়ে ওঠে, যখন ট্রাম্প ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আলাপ শুরু করেন। তিনি বলেন, তারা এরই মধ্যে এমন সব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে ফেলেছে, যেগুলো ইউরোপকে এবং বিদেশে থাকা আমাদের ঘাঁটিগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। আর তারা এমন ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কাজ করছে, যেগুলো শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে যাবে।

ট্রাম্প হয়তো ইরানের সক্ষমতাকে বাড়িয়ে বলছেন। তবে হুমকিটা যখন তিনি নিজের দেশের ওপর টেনে আনছেন, তখন তিনি সেই বিতর্কিত পথই বেছে নিচ্ছেন, যা ইরাক যুদ্ধের বৈধতা দেওয়ার জন্য বুশের প্রশাসন এবং যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সরকার ব্যবহার করেছিল।

বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, নিজেদের কাছে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়াচ্ছে তারা। আর তারা যে পথের দিকে এগোচ্ছে, তাতে স্পষ্টতই এক দিন এমন অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে যাবে। তাদের কাছে এখন এমন অস্ত্র আছে, যেগুলো ইউরোপের বেশির ভাগ জায়গায় পৌঁছাতে পারে।’

কথাগুলো পরিচিত। ২০০২ সালে বুশ বলেছিলেন, সৌদি আরব, ইসরায়েল, তুরস্ক ও অন্যান্য দেশে মার্কিন নাগরিকেরা ইরাকের ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ–ও দাবি করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রে রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র ছড়িয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজছে বাগদাদ। একই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে হুমকি দিচ্ছে ইরাক।

বুশ প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতাগুলোর একটি ছিল ইরাকের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি পরিকল্পনায় অবহেলা। ফলে দেশটিতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছিল। ইরাকের চেয়ে ইরান শক্তিশালী দেশ। কিন্তু মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে কী হতে পারে, তা নিয়ে ট্রাম্প এখনো মার্কিনদের খোলাখুলি কিছু বলেননি।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানে শাসন পরিবর্তনের ফলে কী হবে, তার আভাস দিতে পারছেন না যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। আর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ক্ষমতার এ শূন্যতা পূরণে সবচেয়ে সম্ভাব্য শক্তি হতে পারে বিপ্লবী গার্ড কোর। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী একটি শক্তির জায়গায় একই ধরনের আরেকটি শক্তি আসতে পারে।

ভিন দেশে শাসক পরিবর্তন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের। এ বছরেই তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। মাদুরোর পতনের পর দেশটিতে ক্ষমতায় বসা দেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ উদ্ধারে নেমে পড়েছেন। তবে ইরানে সরকার পতন হলে দেলসির মতো যুক্তরাষ্ট্র কাউকে খুঁজে পাবে—এমন সম্ভাবনা অনেক কম বলেই মনে হচ্ছে।

প্রতিপক্ষ কীভাবে আচরণ করবে, তা নিয়ে ভুল ধারণার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি অনেক সময় ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনও একই ধরনের ভুল–বোঝাবুঝির মধ্যে রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যদিও গত বছরে সৌদি আরবে গিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরাক যুদ্ধের সময় যাঁরা হামলা চালিয়েছিলেন তাঁরা এমন জটিল সব সমাজের ওপর সেটা করেছিলেন, যে সমাজকে তাঁরা নিজেরাই বুঝতেন না।

চলতি মাসে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, ট্রাম্প বুঝতে পারছেন না কেন ইরান তাঁর চাপে নতি স্বীকার করছে না। এই বক্তব্যের পেছনে একটি কারণ থাকতে পারে। সেটি হলো ইরান দেখেছে, লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির মতো যেসব স্বৈরশাসকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ছিল না, তাঁদের কীভাবে পতন হয়েছে। তাই শাসন টিকিয়ে রাখতে তেহরান অস্ত্র রাখতে চাইবে।

তবে ২০০৩ সালের মতোই এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বড় ঝুঁকি হলো অহংকার। ইরাকের ক্ষেত্রে শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, কম সময়েই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। দেশটিতে মার্কিন সেনাদের মুক্তিদাতা হিসেবে স্বাগত জানানো হবে। ২০ বছরের বেশি সময় পর ট্রাম্পও মনে করছেন, ইরানে সহজ জয় পাবে মার্কিন বাহিনী। এ ক্ষেত্রে পুরোনো দিনের কথাগুলো মনে রাখা দরকার।

কী ধরনের চুক্তি ট্রাম্প মেনে নিতে পারেন

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য কূটনীতি এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আজকেও (বৃহস্পতিবার) জেনেভায় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে এই আলোচনার সাফল্য নির্ভর করবে ট্রাম্পকে ইরান কোনো ছাড় দিতে রাজি হয় কি না, তার ওপর। এই ছাড়কে নিজের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এরই মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আপসের ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান; কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে সমঝোতা কঠিন হতে পারে। ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তিনি এমন কোনো চুক্তি মেনে নিতে পারবেন না, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের পারমাণবিক চুক্তির মতো দেখায়। ওই চুক্তি তিনি নিজেই বাতিল করেছিলেন।

এ কারণে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ ট্রাম্পের কাছে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। যদিও এতে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। আর ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখনই সঠিক সময় হতে পারে। কারণ, ইসরায়েলের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরানের ভেতরেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে।

এখন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে পারে, তাহলে দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারবেন ট্রাম্প। চীনের প্রভাববলয় থেকে একটি দেশকে বের করেও আনতে পারবেন। তাই চলতি শতকের শুরুর দিকে ইরাকে মার্কিন সামরিক বিপর্যয়ের মতো সতর্কবার্তা থাকলেও ট্রাম্প হয়তো সুযোগটি কাজে লাগাতে চাইবেন।

আদালতে বিচার চলাকালে ইরাকের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন
আদালতে বিচার চলাকালে ইরাকের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। ফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের ‘সবচেয়ে একাকী ভেড়া’ জন্ম দিল যমজ বাচ্চার

প্রকাশ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ একসময় যাকে বলা হতো ‘যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে একাকী ভেড়া’, সেই ফিওনা এখন আর একা নয়। স্কটল্যান্ডের একটি খাড়া গিরিখাতে টানা দুই বছর নিঃসঙ্গ বন্দিজীবন কাটানো আলোচিত ভেড়াটি প্রথমবারের মতো যমজ দুই বাচ্চার জন্ম দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে স্কটল্যান্ডের ডামফ্রিসের ডালসকোন খামারে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার প্রসববেদনা সয়ে একটি পুরুষ ও একটি মেয়ে বাচ্চার জন্ম দেয় ফিওনা। খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মা ও দুই বাচ্চাই বর্তমানে সুস্থ আছে।

২০২১ সালে স্কটিশ হাইল্যান্ডসের ক্রোমার্টি ফার্থের এক দুর্গম উপকূলীয় গিরিখাতের নিচে আটকা পড়া অবস্থায় প্রথম দেখা মিলেছিল ফিওনার। কায়াকিং করতে যাওয়া জিল টার্নার এটিকে প্রথম দেখেন।

দুই বছর পর আবারও ফিওনাকে একই অবস্থায় একা দেখে জিল বুঝতে পারেন, দুর্গম পাহাড় থেকে নামতে না পেরে অসহায়ভাবে দিন কাটছে প্রাণীটির। এরপরই গণমাধ্যমে তাকে ‘যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে একাকী ভেড়া’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে একদল দুঃসাহসিক উদ্ধারকর্মী দড়ি ব্যবহার করে খাড়া পাহাড় থেকে ভেড়াটিকে উদ্ধার করেন।

উদ্ধারের পর ফিওনাকে ডালসকোন খামারে রাখা হয়। তবে খামারের অন্যান্য ভেড়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে ফিওনার কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। খামার ব্যবস্থাপক বেন বেস্ট জানান, ফিওনার নিঃসঙ্গতা কাটাতে এবং তাকে একটি স্থায়ী সঙ্গী দিতেই ভেড়াটিকে মা হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বেন ব্রেস্ট বলেন, ‘সারা বিশ্বের নজর ছিল তার ওপর। তাই গত পাঁচ মাস আমাদের প্রচণ্ড চাপের মধ্যে কেটেছে। কিন্তু এখন আমরা স্বস্তিতে। ফিওনা এখন “বিশ্বের সেরা মা” হওয়ার পথে।’

বিখ্যাত অ্যানিমেটেড সিনেমা ‘শ্রেক’-এর রাজকুমারী ফিওনার নামানুসারে এই ভেড়ার নাম রাখা হয়েছিল। সিনেমায় শ্রেক ও ফিওনার সন্তানদের নাম ছিল ফারগাস, ফার্কেল ও ফেলিসিয়া।

খামার কর্তৃপক্ষ এখন ভাবছে, নতুন দুই বাচ্চার নাম সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে ফারগাস ও ফেলিসিয়া রাখা হবে, নাকি ফিওনার উদ্ধারের জায়গার সঙ্গে মিল রেখে ক্লিফ ও ব্রোরা রাখা হবে। দীর্ঘ নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে ফিওনার এই নতুন মাতৃত্বের গল্প এখন বিশ্বজুড়ে পশুপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছে।

দুই বাচ্চার সঙ্গে ফিওনা নামের ভেড়াটি
দুই বাচ্চার সঙ্গে ফিওনা নামের ভেড়াটি। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

কখনো বরফ, কখনো ঝুম বৃষ্টি, কখনো মিষ্টি রোদ—দেখুন একই জায়গার ১২ মাসের ১২ রূপ

দেশ থেকে কানাডায় আসার পর খুব মন খারাপ থাকত সাখাওয়াত হোসেনের। ম্যানিটোবা অঙ্গরাজ্যের উইনিপেগে তাঁর বাসার পাশ ঘেঁষেই বয়ে গেছে সেইন নামের ছোট্ট এক নদী। মন খারাপ হলেই সেই নদীর ধারে গিয়ে বসতেন। এমনই একদিন একটা গাছের সঙ্গে সাক্ষাৎ তাঁর। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রকৃতি পরিবর্তনের সময়ই এই গাছের বদলে যাওয়া রূপ চোখে পড়ল সাফাত নামে পরিচিত এই তরুণ আলোকচিত্রীর। হুট করে মনে হলো, বছরচক্রে এই গাছের সঙ্গে প্রকৃতির নানা রূপের বদলে যাওয়া ছবি তুলে রাখলে কেমন হয়? সেই ভাবনা থেকেই শুরু করলেন গাছের বছরচক্রের ছবি তোলার। ১২ মাসের ১২ ছবিতে দেখুন সেই গল্পই।

এপ্রিল

প্রথম ছবিটা তোলা এপ্রিল মাসে। উদ্দেশ্যহীন হাঁটাহাঁটির একপর্যায়ে দেখলাম, বরফ সব গলে গেছে, কানাডা গুজ বা কানাডা রাজহংসী ফিরে এসে নদীতে মনের আনন্দে সাঁতার কাটছে। হুট করেই দৃশ্যটা ভালো লাগে, কিন্তু পরেরবার হাঁটতে গিয়ে কী আবিষ্কার করব, সেটা তখনো আমার ভাবনায় আসেনি
প্রথম ছবিটা তোলা এপ্রিল মাসে। উদ্দেশ্যহীন হাঁটাহাঁটির একপর্যায়ে দেখলাম, বরফ সব গলে গেছে, কানাডা গুজ বা কানাডা রাজহংসী ফিরে এসে নদীতে মনের আনন্দে সাঁতার কাটছে। হুট করেই দৃশ্যটা ভালো লাগে, কিন্তু পরেরবার হাঁটতে গিয়ে কী আবিষ্কার করব, সেটা তখনো আমার ভাবনায় আসেনি
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

মে

খুব সম্ভবত মে মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে তোলা ছবি এটা। ধূসর-মরা গাছ ভেদ করে সবুজ ঘাস নিজেদের রাজত্ব করে নিচ্ছে সদর্পে, গাছটাও সবুজে ভরে উঠেছে, সামনে নদীর জল ছুঁইছুঁই গাছেও দেখা দিয়েছে সবুজ পাতা। হঠাৎ করে দেখলে সত্যিই বোঝার উপায় থাকে না যে প্রকৃতির রূপের পরিবর্তন সবকিছু এত বদলে দিতে পারে। এই সময়ই জায়গাটার বছরচক্র শুরু করার ভূত মাথায় চাপে
খুব সম্ভবত মে মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে তোলা ছবি এটা। ধূসর-মরা গাছ ভেদ করে সবুজ ঘাস নিজেদের রাজত্ব করে নিচ্ছে সদর্পে, গাছটাও সবুজে ভরে উঠেছে, সামনে নদীর জল ছুঁইছুঁই গাছেও দেখা দিয়েছে সবুজ পাতা। হঠাৎ করে দেখলে সত্যিই বোঝার উপায় থাকে না যে প্রকৃতির রূপের পরিবর্তন সবকিছু এত বদলে দিতে পারে। এই সময়ই জায়গাটার বছরচক্র শুরু করার ভূত মাথায় চাপে
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

জুন

জুন, বছরের সবচেয়ে বড় দিন। উইনিপেগে এই সময় সূর্যাস্ত হয় প্রায় রাত ১০টায়। সূর্যালোক বেশিক্ষণ পেয়েই কি চারদিকে এত প্রাণের সঞ্চার হয়? নদীর ধার ঘেঁষে জংলা বাড়তে থাকে, গাছগুলোও তরতরিয়ে বড় হতে থাকে। এই সময়টায় সত্যিই বিশ্বাস করা কঠিন যে এই জায়গাটাই একসময় বরফের সাদা চাদরে ঢাকা ছিল
জুন, বছরের সবচেয়ে বড় দিন। উইনিপেগে এই সময় সূর্যাস্ত হয় প্রায় রাত ১০টায়। সূর্যালোক বেশিক্ষণ পেয়েই কি চারদিকে এত প্রাণের সঞ্চার হয়? নদীর ধার ঘেঁষে জংলা বাড়তে থাকে, গাছগুলোও তরতরিয়ে বড় হতে থাকে। এই সময়টায় সত্যিই বিশ্বাস করা কঠিন যে এই জায়গাটাই একসময় বরফের সাদা চাদরে ঢাকা ছিল
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

জুলাই

বৃষ্টি এখানে ঠিক বাংলাদেশের মতো ঝমঝমিয়ে আসে না। কেন যেন এখানে বৃষ্টি এলেই আমার স্ত্রী শিখা আর আমি খুঁজতে বসি যে আজকের বৃষ্টিটা বাংলাদেশের মতো। তেমনই এক ঝুম বৃষ্টির দিন ছাতা মাথায় চলে গেলাম ছবি তুলতে। জুলাই মাস আবার বাংলাদেশের শ্রাবণ মাসের শুরু। মিল খুঁজছিলাম বলেই কি না জানি না, জুলাইয়ের জন্য প্রিয় বৃষ্টির ছবিটাই পেয়ে গেলাম
বৃষ্টি এখানে ঠিক বাংলাদেশের মতো ঝমঝমিয়ে আসে না। কেন যেন এখানে বৃষ্টি এলেই আমার স্ত্রী শিখা আর আমি খুঁজতে বসি যে আজকের বৃষ্টিটা বাংলাদেশের মতো। তেমনই এক ঝুম বৃষ্টির দিন ছাতা মাথায় চলে গেলাম ছবি তুলতে। জুলাই মাস আবার বাংলাদেশের শ্রাবণ মাসের শুরু। মিল খুঁজছিলাম বলেই কি না জানি না, জুলাইয়ের জন্য প্রিয় বৃষ্টির ছবিটাই পেয়ে গেলাম
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

আগস্ট

আগস্ট। সামারের শেষ কটা দিন, যতটা প্রাণভরে সবুজ দেখা যায়, যতটা সময়টা উপভোগ করা যায়—সেই বার্তাটাই মনে আসে তখন বারবার। সবুজের শেষ কটা দিনের একদিনই তুলে রাখলাম আমার বছরচক্রের ডায়েরিতে
আগস্ট। সামারের শেষ কটা দিন, যতটা প্রাণভরে সবুজ দেখা যায়, যতটা সময়টা উপভোগ করা যায়—সেই বার্তাটাই মনে আসে তখন বারবার। সবুজের শেষ কটা দিনের একদিনই তুলে রাখলাম আমার বছরচক্রের ডায়েরিতে
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

সেপ্টেম্বর

সামনের পাতা ঝরে যাওয়া গাছটা দেখেই সেপ্টেম্বরের ছবি তুলতে গিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল। পেছনের গাছটাও হলুদ হতে শুরু করেছে একটু একটু করে। মে মাসে যেমন সবুজ পাতা নিজেদের রাজত্ব গড়ে নিচ্ছিল, এবার যেন সেই রাজত্ব আবার ধূসর ঘাসের হাতে তুলে দেওয়ার পালা
সামনের পাতা ঝরে যাওয়া গাছটা দেখেই সেপ্টেম্বরের ছবি তুলতে গিয়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল। পেছনের গাছটাও হলুদ হতে শুরু করেছে একটু একটু করে। মে মাসে যেমন সবুজ পাতা নিজেদের রাজত্ব গড়ে নিচ্ছিল, এবার যেন সেই রাজত্ব আবার ধূসর ঘাসের হাতে তুলে দেওয়ার পালা
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

অক্টোবর

প্রকৃতি পরিবর্তনের ধাক্কাটা ঠিক মে মাসের মতো অক্টোবরে এসেও খুব ভালোভাবে লাগল। গত মাসের সবুজ-হলুদ গাছটা পুরোটাই হলুদে রূপ নিয়েছে তখন। সবুজ ঘাসের সংখ্যাও যেন হাতে গোনার মতো। শীত আসি আসি করছে...
প্রকৃতি পরিবর্তনের ধাক্কাটা ঠিক মে মাসের মতো অক্টোবরে এসেও খুব ভালোভাবে লাগল। গত মাসের সবুজ-হলুদ গাছটা পুরোটাই হলুদে রূপ নিয়েছে তখন। সবুজ ঘাসের সংখ্যাও যেন হাতে গোনার মতো। শীত আসি আসি করছে...
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

নভেম্বর

তুষারপাত শুরু হয়ে গেল নভেম্বরে। এখানে যে একটি নদী কিংবা পানির অস্তিত্ব আছে, সেটা ভুলিয়ে দিতেই পুরো নদীই যেন শুভ্র-সাদা চাদরে ঢাকা পরছে। ছবিতে ঠিক বোঝা যাচ্ছে কি না জানি না, কিন্তু যখন এই ছবি তুলছিলাম, তখন একটু একটু করে ঘাসগুলো বরফে ঢেকে পরেছে, দেখতে কেমন যেন এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছিল
তুষারপাত শুরু হয়ে গেল নভেম্বরে। এখানে যে একটি নদী কিংবা পানির অস্তিত্ব আছে, সেটা ভুলিয়ে দিতেই পুরো নদীই যেন শুভ্র-সাদা চাদরে ঢাকা পরছে। ছবিতে ঠিক বোঝা যাচ্ছে কি না জানি না, কিন্তু যখন এই ছবি তুলছিলাম, তখন একটু একটু করে ঘাসগুলো বরফে ঢেকে পরেছে, দেখতে কেমন যেন এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছিল
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

ডিসেম্বর

ডিসেম্বরের তীব্র ঠান্ডায় যেন গাছটাও কাবু হয়ে গেছে। বরফ জমা হতে হতে ধূসর ঘাসও ঢাকা পরে যাচ্ছে। গাছের ডালপালা, পাতায় সাদা বরফ জায়গা করে নিয়েছে
ডিসেম্বরের তীব্র ঠান্ডায় যেন গাছটাও কাবু হয়ে গেছে। বরফ জমা হতে হতে ধূসর ঘাসও ঢাকা পরে যাচ্ছে। গাছের ডালপালা, পাতায় সাদা বরফ জায়গা করে নিয়েছে
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন

জানুয়ারি

বরফের যেন আর শেষ নেই। সবকিছু বরফের চাদরে মুড়িয়ে দিয়ে আগামী কয়েক মাস শুভ্রসাদা বরফই হবে সবকিছুর রাজা, জানুয়ারির ছবি আর তাপমাত্রা দুটোই এই কথাই বলে
বরফের যেন আর শেষ নেই। সবকিছু বরফের চাদরে মুড়িয়ে দিয়ে আগামী কয়েক মাস শুভ্রসাদা বরফই হবে সবকিছুর রাজা, জানুয়ারির ছবি আর তাপমাত্রা দুটোই এই কথাই বলে
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন
১১

ফেব্রুয়ারি

বরফের স্তূপ জমা হতে হতে এতটাই শক্ত হয়ে গেছে যে হেঁটে নদী পার হওয়া কোনো ব্যাপারই না। ফেব্রুয়ারির ছবি তুলতে গিয়ে জুতার ছাপগুলো যেন সেই কথাই বারবার মনে করিয়ে দেয়। এই সময়টার মজার একটা স্মৃতি হলো, গাড়ি কেনার পর প্রথম গাড়ি নিয়ে গেলাম নদীর ধারে। কিন্তু সেই খুশি খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; কারণ, সেখান থেকে আসার পরপরই ঠান্ডায় গাড়ির ব্যাটারি বসে গিয়েছিল
বরফের স্তূপ জমা হতে হতে এতটাই শক্ত হয়ে গেছে যে হেঁটে নদী পার হওয়া কোনো ব্যাপারই না। ফেব্রুয়ারির ছবি তুলতে গিয়ে জুতার ছাপগুলো যেন সেই কথাই বারবার মনে করিয়ে দেয়। এই সময়টার মজার একটা স্মৃতি হলো, গাড়ি কেনার পর প্রথম গাড়ি নিয়ে গেলাম নদীর ধারে। কিন্তু সেই খুশি খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; কারণ, সেখান থেকে আসার পরপরই ঠান্ডায় গাড়ির ব্যাটারি বসে গিয়েছিল
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন
১২

মার্চ

মার্চ মাস, তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়তে থাকা আর বরফ একটু একটু করে গলার সময়। দুটোই চলতে থাকে সমানতালে। পাখিরাও ফিরে আসছে বসন্তের আগমনী ঘ্রাণ পেয়ে
মার্চ মাস, তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়তে থাকা আর বরফ একটু একটু করে গলার সময়। দুটোই চলতে থাকে সমানতালে। পাখিরাও ফিরে আসছে বসন্তের আগমনী ঘ্রাণ পেয়ে
ছবি: সাখাওয়াত হোসেন