Thursday, October 2, 2014

ঝাড়ু হাতে ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানের সূচনা মোদির

মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিবসে ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানের সূচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ বুধবার দিল্লির বাল্মিকী মন্দির মার্গ এলাকায় রাস্তায় ঝাড়ু লাগিয়ে প্রতীকী সূচনা করেন তিনি। দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানের উদ্দেশ্য হলো বাসস্থান, রাস্তাঘাট, পার্কে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। মহাত্মা গান্ধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এই ডাক দিয়েছিলেন। তার পর গঙ্গা দিয়ে অনেক পানি গড়ালেও ভারত একটি ‘অপরিচ্ছন’ দেশই রয়ে গেছে। এই ছবিটাই বদলাতে চান নরেন্দ্র মোদি।

তিনি বলেন, “বাপু ‘কুইট ইন্ডিয়া’-র পাশাপাশি ‘কিন ইন্ডিয়া’ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন। তার স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আমরা সামান্য খরচে মঙ্গলে পৌঁছে গিয়েছি। তা হলে নিজের পাড়ার গলি, শহরের রাস্তা পরিষ্কার রাখতে পারব না কেন?’’

নবীন প্রজন্মকে এই অভিযানে শামিল করতে চান প্রধানমন্ত্রী। তাই সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করতে চান মাধ্যম হিসেবে। তিনি বলেছেন, ‘প্রথমে কোনো একটি নোংরা স্থানের ভিডিও আপলোড করুন। তার পর সেই জায়গাকে পরিষ্কার করে তার ভিডিও আপলোড করুন। এই অভিযানকে রাজনীতির সঙ্গে এক করে দেখবেন না। বরং এটি রাষ্ট্রনীতি দ্বারা উৎসাহিত একটি অভিযান।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দেশকে পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব শুধু সরকারি অফিসার, নেতা, সাফাইওয়ালাদের নয়। প্রতিটা নাগরিককে এই কর্তব্য পালন করতে হবে।

এ দিন ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযান সূচনার আগে তিনি যান রাজঘাটে। মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানাতে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রীরও আজ জন্মদিবস। সে কথা মাথায় রেখে বিজয়ঘাটে গিয়ে তার স্মৃতিসসৌধেও পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র : ওয়েবসাইট।

লতিফ সিদ্দিকীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ যত কথা ও আচরণ

বিভিন্ন ধরনের বেফাঁস মন্তব্য আর উদ্ভট ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ সব কর্মকাণ্ড করে বিভিন্ন সময়ে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। গত সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আর কখনো নির্বাচন করবেন না জানিয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নেন বিতর্কিত এ ব্যক্তি। কিন্তু সেই অঙ্গীকারেও তিনি অটল থাকতে পারেননি। ক্ষমতার লোভে এবারো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনে দলের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে গত সরকারের সময় পাওয়া পাট মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় এবার তাকে সরিয়ে স্থানান্তর করা হয় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে। সব কিছুকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা যেন ছিল এ মন্ত্রীর নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। তার লাগামহীন এসব কর্মকাণ্ড শুধু বিরোধী মতেরই নয়, নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও বিব্রত করেছে বারবার।

তবে এবার শেষ রা হলো না আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর। রোববার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হজ, হজরত মুহাম্মদ সা:, জামায়াতে ইসলামী ও তাবলিগ জামাতকে নিয়ে কটূক্তির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়েও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ফেঁসে গেলেন তিনি। তার অশালীন ও চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য মন্ত্রিসভা থেকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম থেকেও বহিষ্কার হতে পারেন প্রভাবশালী এ সদস্য।
এর আগে গত বছর ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে এক সভায় লতিফ সিদ্দিকী জামায়াতের হরতালে দলীয় নেতাকর্মীদের তৎপর না থাকায় ােভ প্রকাশ করে বলেন, আর বসে থাকার সময় নেই। আর কেউ হরতাল করলে তাদের বাড়িতে ঢুকে হত্যা করতে হবে। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াত হরতাল করে। আর রাস্তায় শুধু পুলিশ থাকে। আমাদের নেতাকর্মীরা নেতার হুকুমের অপোয় বসে থাকেন। তিনি বলেন, সব কিছুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ লাগবে কেন? যখন বাড়ি-গাড়ি করেন তখন কোথায় থাকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। আমি বলছি, এটিই আমার শেষ বক্তৃতা।
ওই মাসের শেষ সপ্তাহে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে মন্তব্য করেছেন তা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। আমি যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতাম, তাহলে এত দিন তাকে (ড. ইউনূস) কারাগারে থাকতে হতো।
গত ২৮ মার্চ টাঙ্গাইলে নিজ বাড়িতে পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী পুনয় চন্দ্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে গাজীপুরের হাইটেক পার্কের উপসহকারী প্রকৌশলীকে পানিতে ভিজিয়ে শাস্তি দেন এ বিতর্কিত মতাধর মন্ত্রী। চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর মন্ত্রী হাইটেক পার্কে প্রবেশের সময় ফোয়ারা অপরিষ্কার দেখেন। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য গাজীপুর হাইটেক পার্কের সামনে ফোয়ারা তৈরি করা হলেও তা অপরিষ্কার থাকায় প্রকৌশলীকে পানিতে নামান মন্ত্রী। পরে ফোয়ারার পানিতে তাকে ভিজিয়ে শাস্তি দেন তিনি।
২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর যথাযথ মর্যাদা না দেয়ার অভিযোগ তুলে পাট নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আয়োজকদের কঠোর সমালোচনা করেন তখনকার বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে লতিফ সিদ্দিকী ােভ প্রকাশ করে বলেন, অর্থমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা। আর আমি কি উড়ে এসেছি?
এর কিছু দিন পরই খামারবাড়িতে এক অনুষ্ঠানে কুরআন ও আজানের সমালোচনা করে বিতর্কিত এ মন্ত্রী বলেন, আজানের সময় মাইক বন্ধ রাখতে হবে কেন? আর কোনো অনুষ্ঠান কুরআন তিলাওয়াত দিয়ে শুরু করতে হবে কেন? কুরআন তিলাওয়াতের সাথে গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটকও পাঠ করতে হবে।
গত বছর ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় দাঁড়িয়ে লতিফ সিদ্দিকী বলেছিলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাচনী রাজনীতিতে আর অংশ নেবো না। তবে দলীয় রাজনীতিতে শেখ হাসিনা যে নির্দেশ দেবেন, তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।
২০০৯ সালের ১২ অক্টোবর সংসদে দেয়া এক বক্তব্যে তৎকালীন স্পিকার আবদুল হামিদের সমালোচনা করে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, স্পিকার হচ্ছেন সংসদের সেবক। তিনি প্রভু নন। আবদুল হামিদকে উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেনÑ প্রতিভা ও প্রগল্ভতা এক নয়।
তবে গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ‘চিনতে না পারলেও’ গত ১১ মার্চ ঢাকায় জয়ের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী জয়কে নিজের মাস্টার হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে জয় কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, তা পথপ্রদর্শক হবে। কারণ তিনি যার (শেখ হাসিনা) উপদেষ্টা, তার সৃষ্টি মননশীল।
গত ৩১ আগস্ট সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের বক্তব্যে উষ্মা প্রকাশ করে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে যে কথাবার্তা হচ্ছে, তা শুনলে আমি হাসি। আমি একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তিনি পড়েছেন কি না। তিনি কিন্তু পড়েননি। কেবল নীতিমালা পড়লেই হবে না, টেলিভিশনগুলো যেসব শর্তে লাইসেন্স পেয়েছে, সেগুলোও জানা থাকতে হবে। ওরা কী কী শর্তে দস্তখত করে লাইসেন্স নিয়েছে সেই শর্তটা একবার বের করে দেখুন। ওই কাবিননামায় দস্তখত করেই কিন্তু লাইসেন্স পেয়েছে।
চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে অংশ নিয়ে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমার স্বভাব খারাপ, এ জন্য মাঝে মধ্যে একটু লাঠিপেটা করি। সাপকে যদি মারতে হয়, তাহলে লাঠিপেটা করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। সাংবাদিকেরা আমার বিরুদ্ধে লাগে উক্তি করে সমালোচিত এই মন্ত্রী বলেন, এ দেশের ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট মিডিয়া, ব্যবসায়ী, কথিত সুশীলসমাজের সদস্যরা বেতনভুক ক্রীতদাস।
গত ২০ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবীণ নেতা সংগঠনকে গতিশীল ও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন। তাদের থামিয়ে দিয়ে প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, সংগঠন-টংগঠন দিয়ে কিছু হবে না নেত্রী। আপনি (শেখ হাসিনা) বেঁচে থাকলে সব ঠিক থাকবে। দল দিয়ে কিছু হয় না। আপনিই আমাদের সব।
এ সময় তিনি দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদকে উদ্দেশ করে বলেন, তারা বিভিন্ন সময় দলের নেতাদের চ্যালেঞ্জ করে বক্তব্য দিয়ে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি ছড়ান। এটি মেনে নেয়া যায় না। কারণ তারা এত দিন সাইড লাইনে ছিলেন। নেত্রী (হাসিনা) পাঁচ বছর পর আবার তাদের মূল স্রোতে নিয়ে এসে মন্ত্রী বানিয়েছেন। তাদের সেটি মনে রাখা উচিত। একই সাথে এ থেকে আমাদের অপেক্ষাকৃত জুনিয়র নেতাদেরও শিক্ষা নিতে হবে।
এ বছরের ২৯ মে রাজধানীর শিল্পকলায় যুবলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে আমরা কী করব? নবম জাতীয় সংসদে মোট সাতটি দল ছিল। দশম সংসদেও সাতটি দল আছে। দল তো কমে নেই। ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়নি। প্রার্থীবিহীন নির্বাচন হয়েছে।
এর আগে ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ ও লালপুর উপজেলার দাঁইড়পাড়া এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এক হাতে পিস্তল উঁচিয়ে ও অন্য হাতে দা নিয়ে সড়কে অবরোধকারীদের ফেলে রাখা গাছের ডালপালা কেটে গাছ সরান।

কালকাতা সংবর্ধনা (ফটো এ্যালবাম)















বহুমুখী পাটপণ্য কেন্দ্র- কোনো নিয়ম মানতে দেননি লতিফ সিদ্দিকী by ইফতেখার মাহমুদ

বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা জুট ডাইভারসিফিকেশন সেন্টারে (জেডিপিসি) নির্বাহী পরিচালকসহ ১৮ জন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিজের সিদ্ধান্তে নিয়োগ দিয়েছিলেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এ ক্ষেত্রে নিয়োগবিধি মানা হয়নি।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন এই জেডিপিসি এবং ইন্টারন্যাশনাল জুট স্টাডি গ্রুপ নামের দুটি সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই দুটি প্রতিষ্ঠানই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে জানিয়ে গত বছর জেডিপিসির বার্ষিক সভায় হতাশা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গত জুনে হতাশাজনক কর্মদক্ষতার কারণে ইন্টারন্যাশনাল জুট স্টাডি গ্রুপ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে।
জেডিপিসির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান টাঙ্গাইল জেলা কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খন্দকার মোখলেসুর রহমান। এ পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য তাঁর ন্যূনতম যোগ্যতাও ছিল না। আবেদনপত্রের সঙ্গে দেওয়া জীবনবৃত্তান্তে তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিশদ বর্ণনা দেন।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধানের জবাবে গত ১২ জুন জেডিপিসির পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্বাহী পরিচালক মোখলেসুর রহমানও কম যান না। তিনিও শুধু ‘মৌখিক পরীক্ষার’ ভিত্তিতে ১৪ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন সংস্থাটিতে। এর মধ্যে তাঁর ভাই খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে রংপুর কেন্দ্রের ইনচার্জ, আরেক ভাইয়ের ছেলে খন্দকার মুনতাসীর রহমানকে একটি প্রকল্পের হিসাবরক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির মোট জনবল এখন ৪৬। এর মধ্যে ৪০ জনের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী লতিফ সিদ্দিকী ও মোখলেসুর রহমানের নিজ জেলা টাঙ্গাইলের বলে সংস্থাটির সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর মোখলেসুর রহমান ১৪টি দেশ সফর করেছেন। তিনি পাঁচ বছরে মোট ১৭ বার বিদেশে গেছেন। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর তিনি তিনজন সফরসঙ্গী নিয়ে ইতালি ঘুরে এসেছেন। তাঁর সফরের তালিকায় রয়েছে কেনিয়া, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া, চীন, ব্রাজিল, এল সালভাদর, তুরস্ক, ভারত, ওমান, কাতার, আরব আমিরাত, ফ্রান্স, শ্রীলঙ্কা ও ইতালি। দেশ-বিদেশে তাঁর সফর বাবদ এ পর্যন্ত কোটি খানেক টাকা ব্যয় হয়েছে।
জানতে চাইলে মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাকে কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং কোন কোন দেশ সফর করেছি, তার বিস্তারিত তথ্য আমি ইতিমধ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। তারা আমাদের ব্যাপারে যা সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা তা মেনে নেব।’ ভাই এবং ভাইয়ের ছেলেকে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে না জানিয়ে আমার মায়ের অনুরোধে লতিফ সিদ্দিকী তাঁদের নিয়োগ দিয়েছেন। আমি মানা করা সত্ত্বেও তিনি তা শোনেননি।’
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রয়োজন নেই!: জেডিপিসির নির্বাহী পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। এতে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল, পাট খাতে ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা, সঙ্গে পিএইচডি বা সমমানের ডিগ্রি অথবা ন্যূনতম স্নাতকোত্তর। দায়িত্ব হিসেবে বলা হয়েছিল, বহুমুখী পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও উদ্যোক্তা তৈরি করা।
কিন্তু পাট খাত দূরে থাক, মোখলেসুর রহমানের শিল্প খাতেই কোনো কাজের অভিজ্ঞতাই নেই। ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে কয়েক বছর কাজ করেছেন তিনি। তাঁর মূল পরিচয় রাজনীতিবিদ।
মোখলেসুর রহমানের নিয়োগের বিষয়ে ওই মন্ত্রণালয়ের তখনকার মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী ২০১০-এর ৩১ মার্চ নিয়োগ কমিটিকে লেখেন—‘নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কোনোই প্রয়োজন নেই, খন্দকার মোখলেসুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হোক।’
জেডিপিসি গত ১২ জুন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর নির্দেশে কোনো নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই সীমা বোসকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই পদের জন্য পাট খাতে ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা এবং পাট খাতের ওপরে মাস্টার্স বা পিএইচডি ডিগ্রি থাকার শর্ত ছিল। নির্বাহী পরিচালকের পর প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ পরিচালক (বিপণন)।
জানতে চাইলে সীমা বোস প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি পাট খাতে কাজ না করলেও একটি মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানিতে সাড়ে ছয় বছর মার্কেটিং বিভাগে কাজ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ করে ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেছি।’ পাট খাতের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতার দরকার নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কী পণ্য বাজারজাত হবে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কীভাবে হবে। সেটি আমার জানা আছে।’
লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ: ২০০২ সালে জেডিপিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ১২ বছরে প্রতিষ্ঠানটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। গত বছর জেডিপিসির বার্ষিক সভায় এর কার্যক্রম নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন হতাশা প্রকাশ করেছে।
জানতে চাইলে খন্দকার মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘কীভাবে নিয়োগ হলো, সেটা বড় কথা নয়, আমরা কী কাজ করছি, সেটাই বড় কথা।’ জেডিপিসি বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহযোগিতা পাচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, সংস্থাটিকে শক্তিশালী করতে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি হলে জেডিপিসি আরও ভালোমতো কাজ করতে পারবে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব ফণীভূষণ মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘জেডিপিসির নিয়োগে অনিয়ম ও অন্যান্য বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করেছি। তবে তাদের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

তাঁবুর শহর মিনায় হজযাত্রীরা by ফেরদৌস ফয়সাল

ভিড় এড়ানোর জন্য মোয়ালেম গাড়িতে করে গতকাল বুধবার আমাদের মিনায় নিয়ে এসেছেন। অন্য সময় গাড়িতে মিনায় পৌঁছাতে ২০ মিনিট লাগে। গতকাল লাগল দুই ঘণ্টা। রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম। তবে হজযাত্রীদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই। এখানে সবাই সার্বক্ষণিক ইবাদত-বন্দিগির মধ্যে থাকেন। বাসের হজযাত্রীদের মুখেও ছিল তালবিয়া ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল্মুল্ক্ লা শারিকা লাকা।’ কেউ কেউ দোয়ার বই পড়ছিলেন। আর যাঁরা অপেক্ষা করতে চাননি, তাঁরা হেঁটেই রওনা হচ্ছেন। কাঁধে ছোট ঝোলা। অনেক বৃদ্ধকে হুইল চেয়ারে যেতে দেখা গেল।

মিনা এখন যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। পবিত্র হজের অংশ হিসেবে হজযাত্রীরা মিনায় এসে পৌঁছেছেন। চৌচালা ঘরের মতো এসব তাঁবুতে থাকবেন তাঁরা। এ সময় মিনায় আগুন জ্বালানো নিষেধ। কারণ, এতে তাঁবুতে আগুন লেগে যেতে পারে। ফলে এত লোকের খাবারও বাইরে থেকে রান্না করে নিয়ে আসতে হয়।
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এসব তাঁবুতে বাতি আছে। আছে বাথরুম। কিছুদূর পর পর আছে খাবারের দোকান। এই দোকানগুলো বছরে পাঁচ দিনের জন্য খোলা থাকে। মোয়ালেমের কাছ থেকে দরপত্রের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা দোকান নেন। অল্প সময়ের দোকান বলে জিনিসপত্রের দামও কয়েক গুণ বেশি। বেশির ভাগ দোকানদার ভারতীয় ও পাকিস্তানি। ইয়েমেনি কিছু লোক আছেন, তাঁদের দেখতে অনেকটা বাংলাদেশিদের মতো।
সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি আরেকজন বাংলাদেশিকে দেখলে দেশি বলে সম্বোধন করেন। আমি এমনি একজনকে দেশি বলাতে তিনি জবাবে বললেন ইয়েমেনি।
মিনায় মোট সাতটি জোন রয়েছে। ২, ৫, ৬ নম্বর জোনে বাংলাদেশিদের তাঁবু। আমাদের তাঁবু ২ নম্বর জোনে, তাঁবু নম্বর ৬ থেকে ৫৬। নওগাঁর মিঠু প্রামাণিক জানালেন, এখানে কোনো গাড়ি চলে না, শুধু পুলিশের গাড়ি আর অ্যাম্বুলেন্স চলে।
হজের এই পাঁচ দিন ছাড়া মিনার পুরো এলাকা খালি পড়ে থাকে। চারপাশের প্রবেশদ্বারও তখন বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় বৈদ্যুতিক সংযোগ, পানির লাইন, টেলিফোন সংযোগ। হজের দুই দিন আগে মিনা এলাকার ফটক খোলা হয়। হজের দুই দিন পর আবার সব বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন দিন-রাত হেলিকপ্টারে টহল দেওয়া হয়, কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না আল্লাহর মেহমানদের।
তাঁবুগুলো দেখতে একই রকম হওয়ায় অনেক হাজির পক্ষে পথঘাট ঠিক রেখে নিজের তাঁবুতে যাতায়াত কঠিন হয়। এর জন্য এখানে আছে স্কাউট, হজগাইড। বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে হজযাত্রীদের সহায়ক আরাফাত, মিনার তাঁবু নম্বর-সংবলিত মানচিত্র বিতরণ করা হয়েছে।
মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা মিনার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছেন।
মিনার কাছেই সৌদি বাদশাহর বাড়ি, রাজকীয় অতিথি ভবন। হজযাত্রীরা মোয়াচ্ছাসা (হজের সার্বিক বিষয় দেখাশোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ) কার্যালয়, নতুন চালু হওয়া রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখছেন।
ঢাকার নয়াটোলার মধুবাগ থেকে হজ করতে এসেছেন নুরুল হুদা ও শিউলি পারভিন দম্পতি। জানালেন, ‘মিনার একমাত্র মসজিদ মসজিদে খায়েফের সামনে গিয়ে বেশ ভালো লাগল। কারণ সেখানে বাংলায় লেখা মসজিদে খায়েফ। আরও কয়েকটি ভাষায়ও মসজিদের নাম লেখা আছে।’
মসজিদে খায়েফ ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন হজযাত্রী সিরাজুল ইসলাম। বললেন, ‘স্ত্রীকে ছেড়ে ঈদ করব, একটু খারাপ লাগছে। তবে পবিত্র হজ পালন করতে এসেছি, এটাই সুখের কথা।’
মিনায় আরও একটা মসজিদ আছে, নাম কুয়েতি মসজিদ। মসজিদের কাছে কথা হলো ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারীর আশরাফুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ‘হজে এসেছি, এটাই বড় শান্তি। কষ্ট মনে করলে কষ্ট না মনে করলে কিছু না।’
প্রথমবার হজে আসা শফিকুল ইসলাম বললেন, ‘হজে আসতে পেরেছি, এর জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই।’
সামান্য এই ঘোরাফেরার বাইরে হাজিরা সারা দিন নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ ইবাদত-বন্দিগি করছেন।
১০ জিলহজ হাজিরা মিনায় বড় শয়তানকে পাথর মারবেন, কোরবানি দেবেন, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছেঁটে মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। তাওয়াফ, সায়ি শেষে আবার মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান করবেন। সেখানে প্রতিদিন তিনটি শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন তাঁরা। প্রত্যেক শয়তানকে সাতটি করে পাথর মারতে হয়।
মসজিদে খায়েফ থেকে মক্কার দিকে আসার সময় প্রথমে জামারায় সগির বা ছোট শয়তান, তারপর জামারায় ওস্তা বা মেজ শয়তান, এরপর জামারায় আকাবা বা বড় শয়তান।
জনশ্রুতি আছে, হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ সন্তান ইসমাইলকে (আ.)কে কোরবানি করার জন্য মিনায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। জামারায় পৌঁছালে শয়তান তাঁকে ধোঁকা দেয়। তখন শয়তানকে লক্ষ্য করে তিনি পাথর নিক্ষেপ করেন।
তিন শয়তানকে তাকবিরসহ পাথর নিক্ষেপ করা হজের অপরিহার্য অংশ। শয়তানের প্রতি ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই পাথর নিক্ষেপ করা হয়।
হাজিরা যাতে নির্বিঘ্নে শয়তানকে পাথর মারতে পারেন, সে জন্য কয়েক বছর ধরে ওই জায়গা সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সৌদি গ্রাম ও পৌরবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব হাবিব জয়নাল আবেদিন জানান, জামারাকে পর্যায়ক্রমে ১২ তলা করা হবে। প্রতি তলার দৈর্ঘ্য হবে ৯৫০ মিটার আর প্রস্থ ৮০ মিটার। এবার এখানে প্রতি ঘণ্টায় তিন লাখ হাজি পাথর নিক্ষেপ করতে পারবেন বলে জানান মন্ত্রী।
জামারা কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত, এখানে তাপমাত্রা থাকে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য জামারার ভেতরে একাধিক ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা আছে। রয়েছে পর্যাপ্ত টয়লেট, খাবারের দোকান ও সেলুন। জরুরি প্রয়োজনে হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য রয়েছে হেলিপ্যাডও।
পাথর নিক্ষেপের সুবিধার্থে মিনার পূর্ব দিক থেকে আসা হাজিরা আসবেন নিচতলা ও দোতলায়, মক্কা থেকে আসা হাজিরা তৃতীয় তলায়, উত্তর দিক ও মোয়াইসিম থেকে আসা হাজিরা চতুর্থ তলায় এবং আজিজিয়া থেকে আসা হাজিরা পঞ্চম তলায় উঠে পাথর নিক্ষেপ করবেন। ১২টি করে ঢোকার ও বের হওয়ার পথ আছে এখানে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, মিনায় পুরো কমপ্লেক্স চালু হলে একসঙ্গে ৫০ লাখ হাজি পাথর নিক্ষেপ করতে পারবেন। এখন হাজিদের পাথর মারার নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া আছে। মোয়ালেম নম্বর অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে পাথর মারতে হয়।
সৌদি মোয়াচ্ছাসা ১০ জিলহজ সকাল ছয়টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এবং ১১ থেকে ১৩ জিলহজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পাথর মারতে না যেতে হাজিদের অনুরোধ করেছেন।

টারজান কন্যা সানি লিওন

সফলতা ও জনপ্রিয়তার বিচারে অন্য অনেক বলিউড অভিনেত্রীর চাইতে এগিয়ে রয়েছেন সানি লিওন। পর্নো জগত থেকে এসে বলিউডের এত অভিনেত্রীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একটা অবস্থান তৈরি করাটাও বেশ বড় ব্যাপার। সেদিক থেকে সানি লিওন সার্থক। একাধিক ছবি নিয়ে এখন সামনের দিকে এগুচ্ছেন এই অভিনেত্রী। নিজের সেক্সসিম্বল ইমেজ দিয়ে বলিউড তারকাদের মধ্যে ইন্টারনেট সার্চে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। ‘হেট স্টোরি-২’ এর পর এরই মধ্যে এর তিন নাম্বার সিকুয়্যালের জন্যও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন সানি। তবে নতুন খবর হলো এবার ‘টারজান‘ ছবির নায়িকা হিসেবে পাওয়া যাবে তাকে। বিষয়টি ইতিমধ্যে পাকাপাকি হয়েছে। টারজান কন্যা হিসেবে এ ছবিতে চুক্তিবদ্ধও হয়েছেন তিনি। ‘টারজান’ ছবিটি নির্মাণ করছেন সোহাম শাহ। মূলত ১৯৮৫ সালের বলিউডে নির্মিত ‘টারজান’ ছবির রিমেক হিসেবেই এটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেই ছবিতে তখন টারজানের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন হেমান্ত বিরজি। আর টারজান কন্যা হয়েছিলেন কিমি কাটকার। ব্যবসায়িক দিক দিয়ে ভাল সফলতা অর্জন করেছিল ছবিটি। এবার সে ছবির ‘জেনি’ চরিত্রে দেখা যাবে সানি লিওনকে। ছবিতে রগরগে সানিকেই দর্শকরা আবিষ্কার করতে পারবেন। অনেকটা নগ্ন হয়েই এখানে ক্যামেরাবন্দি হবেন তিনি। এ বিষয়ে সানি লিওন বলেন, ‘টারজান’ একটি ব্যাপক দর্শকপ্রিয় চরিত্র। আমি নিজেও টারজান ভক্ত। এবার নিজে টারজান কন্যা হিসেবে অভিনয় করতে যাচ্ছি, তাই বেশ ভাল লাগছে। তবে টারজান হিসেবে এখানে কাকে পাবো সেটি ঠিক হয়নি। আমি মনে করি আগের ‘টারজান’কে আমরা ছাপিয়ে যেতে পারবো। এখানে বরাবরের মতো সুপারহট সানিকেই দেখা যাবে। আশা করছি ভাল লাগবে সবার।

নিউ ইয়র্কে ড. ইউনূসের ব্যস্ত সময়

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনসহ প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে সামাজিক বাণিজ্য, দারিদ্র্য দূরীকরণ বিষয়ে ব্যস্ত সময় কাটালেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী একমাত্র বাংলাদেশী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর মধ্যে তিনি নিউ ইয়র্ক সিটিতে ১০ম বার্ষিক ক্লিনটন গ্লোবাল মিটিংয়ে যোগ দেন। সেখানে হিলারি ক্লিনটন, আঁদ্রে জাং ও ড. ইউনূস জনাকীর্ণ এক হলে গ্রামীণ আমেরিকার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন যৌথভাবে। বলা হয়, নিউ ইয়র্ক সিটির হারলেম বরোতে ৭ হাজারেরও বেশি নারীর মালিকানাধীন বাণিজ্যে ৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে গ্রামীণ আমেরিকা। এই হারলেম বরোতে ২৫শে সেপ্টেম্বর গ্রামীণ আমেরিকা ইনকরপোরেশনের নতুন শাখা উদ্বোধন করেন ড. ইউনূস। এ নিয়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে এর ৭ম শাখা উদ্বোধন হলো। এছাড়া জ্যাকসন হাইটস, কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রোঙ্কস ও ম্যানহাটানে রয়েছে শাখা। যুক্তরাষ্ট্রের ৮টি শহরে বর্তমানে ১৯টি শাখা কাজ করছে গ্রামীণ আমেরিকার। তাদের উদ্দেশ্য স্বল্প আয়ের নারীদের শিক্ষিত করে তোলা। হারলেম শাখা উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ আমেরিকা ইনকরপোরেশনের প্রধান নির্বাহী আঁদ্রে জাং, অন্য সিনিয়র ম্যানেজার, কর্মকর্তা। প্রফেসর ড. ইউনূস নিউ ইয়র্কে ২০ থেকে ২৯শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করেন ১০ম বার্ষিক ক্লিনটন গ্লোবাল মিটিং ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ক এডভোকেসি গ্রুপ মিটিংয়ে অংশ নিতে। এ সব বৈঠকে ব্যবসায়, বিভিন্ন সংগঠন, এনজিও, সরকারি কর্মকর্তারা যোগ দেন। সেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সমাধান, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সফরের সময় তিনি সরকারি, ব্যবসায়ী, এনজিও নেতাদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। ২২ থেকে ২৮শে সেপ্টেম্বর ক্লাইমেট গ্রুপ আয়োজিত ৬ষ্ঠ ক্লাইমেট উইক-এ অংশগ্রহণ করেন ড. ইউনূস। হাইতিতে ইউনূস সামাজিক বাণিজ্য চালু করা নিয়ে আলোচনা করতে নিউ ইয়র্কে ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী লরা লামোথি। এ সময় লামোথি তার দেশকে আন্তর্জাতিক সাহায্যমুক্ত করতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির আগ্রহ দেখান। এছাড়া, ড. ইউনূস জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন ও জার্মান উন্নয়ন মন্ত্রী ড. গার্ড মুয়েলারের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করে ক্ষুদ্র ঋণ ও সামাজিক বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করেন।

কুয়েতের শ্রমবাজারে আর অ্যামনেস্টি নয়

আগামী বছরের গোড়ায় কুয়েতের শ্রমের বাজার বাংলাদেশ সহ বিদেশী রাষ্ট্রের জন্য খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বছরে আর অবৈধ শ্রমিকদের জন্য কোন সুখবর মিলছে না। সেখানে ধরপাকড় চলছে। অ্যামনেস্টি দেয়ার সম্ভাবনা নির্দিষ্টভাবে নাকচ করা হয়েছে। প্রায় ১ লাখ অবৈধ শ্রমিকের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক বাংলাদেশী বলে সন্দেহ করা হয়ে থাকে। এ বছরে গত ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত ১৫ হাজার বিদেশী শ্রমিক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আরও ১ হাজার ডিটেনশন কেন্দ্রে আছেন। গতকাল কুয়েত টাইমস এ খবর দিয়েছে। ওই পত্রিকার প্রতিবেদন মতে, আগামী বছরের গোড়ায় কুয়েতে চাকরি পেতে হলে সম্পূর্ণ নতুন বিধান অনুসরণ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চলমান স্পন্সর সিস্টেম কুয়েত বিলোপ করতে চাইছে। তবে ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য বেতনের সিলিং বৃদ্ধির গুজব নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ফর সিটিজেনশিপ অ্যান্ড পাসপোর্ট মেজর জেনারেল শেখ মাজেন জারা আল সাবাহ। গতকাল তিনি বলেছেন, যে সব প্রবাসীর বেতন ন্যূনতম ৬৭,৩৫২ টাকা (২৫০ দিনার) তারা এখনও তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য স্পন্সর হতে পারবেন। আর সব দেশের নাগরিকের জন্যই ভিজিট ভিসা চালু থাকবে। তবে কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কঠোরতা আনা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থে এটা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কুয়েত বাংলাদেশী শ্রমিকদের অন্যতম সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যের অন্যতম। এক দিনার ভাঙালে প্রায় ২৮০ টাকা পাওয়া যায়। ৪০ লাখ মানুষের দেশ কুয়েতের মোট জনসংখ্যার ৭০ ভাগ মানে ২৮ লাখই প্রবাসী। এর মধ্যে জনশক্তি ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৭৬ থেকে কুয়েতে প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশী গেছেন। ২০০৭ সালে জনশক্তি রপ্তানি দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে কুয়েত সরকার বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। গত জানুয়ারিতে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস ঘোষণা দিয়েছিল, বাংলাদেশের জন্য বন্ধ শ্রমের বাজার খুলে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তা সত্য প্রমাণিত হয়নি। অবশ্য কুয়েতের শ্রমের দুয়ার সব বিদেশী রাষ্ট্রের জন্য নিষিদ্ধ রয়েছে। কয়েক দিন ধরে কুয়েতি মিডিয়ায় বলাবলি হচ্ছে, সরকার প্রবাসী শ্রমিকদের স্ত্রী ও সন্তানদের কুয়েতে আনতে বিদ্যমান মাসিক বেতন ২৫০ দিনারের সিলিং বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে। এটা ২৫০ দিনার থেকে বাড়িয়ে সোয়া এক লাখ টাকা (৪৫০ দিনার) করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাংলাদেশী শ্রমিকদের জীবনে এর বিরাট নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ স্বল্প বেতনভোগী বাংলাদেশীরা তখন আর তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য স্পন্সর ভিসা জারি করতে অপারগ থাকবে। কুয়েত টাইমস গতকাল বিদেশী শ্রমিকদের ওপরে দু’টি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরে তারা আর কোন বিদেশী শ্রমিকদের চাকরি দেবে না। তবে বিদেশী শ্রমিকদের জন্য যে সব নতুন নিয়ম-কানুন প্রচলনের কাজ তারা হাতে নিয়েছে সেটা এ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করবে। আল আনবা পত্রিকার বরাতে কুয়েত টাইমস আরও জানায়, শেখ মাজেন বলেছেন, অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিতে আরও একবার সুযোগ দেয়া হবে বলে যে ধরনের জল্পনা-কল্পনা বাজারে রয়েছে, তার কোন ভিত্তি নেই। আর কোন অ্যামনেস্টি দেয়া হবে না। কারণ সরকারের জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব রেসিডেন্ট অ্যাফায়ার্স এ ধরনের প্রস্তাব তৈরি করে থাকে। তারা এ বছরে কোন প্রস্তাব তৈরি করেনি। ২০১১ সালে চার মাসের জন্য সবশেষ অ্যামনেস্টি দেয়া হয়েছিল। ওই সময় ৪২ হাজার অবৈধ শ্রমিক এর সুবিধা গ্রহণ করেছিল। আরবি দৈনিক আল কাবাসের বরাতে পত্রিকাটি আরও জানায়, কুয়েতি শ্রমমন্ত্রী হিন্দ আল সুবিয়া ভিসা ট্রাফিকিংয়ের দায়ে চারটি কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। এ কোম্পানিগুলো ৬০০ বিদেশী শ্রমিককে নিয়োগ দিয়েছিল। এদের নামধাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে আরও রিক্রুটিং কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলার বিষয় প্রক্রিয়াধীন। তবে সেটা করা হবে ওই চারটিকে দোষী সাব্যস্ত করার পর। এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ মালিককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তারা আর শ্রমিক আমদানি করতে পারবে না। এ ছাড়া ভিসা ট্রাফিকিংয়ে সন্দেহভাজন ৪০০ কোম্পানিকে স্পন্সরশিপ ব্লকের আওতায় আনা হয়েছে। এসব কারণকে প্রচলিত কাফেলা পদ্ধতিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আজকে আমরা ভয়াবহ জায়গায় চলে এসেছি -ড. কামাল হোসেন

৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের তীব্র সমালোচনা করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জনের নির্বাচিত হওয়াকে ‘অসাধারণ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, আগামীতে ৩০০ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেন হতে পারবে না? গত নির্বাচনে ২০ শতাংশেরও কম ভোট দিয়েছে মানুষ। বাকি ৮০ শতাংশ শুধু বিএনপি- জামায়াত নয়, আমি, আপনি সাধারণ মানুষ। আজকে আমরা ভয়াবহ জায়গায় চলে এসেছি। অপ্রিয় কথা বললেও এর জন্য আমিসহ সকলেই দায়ী। আমরা যার বিরুদ্ধে লড়াই করি, বড় বড় বুলি ছুড়ি, ক্ষমতায় গেলে সে কাজটাই করি। বরং তা আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে। আমরা সবাই আসলে মুনাফেকের পরিচয় দিচ্ছি। এরমধ্যে আমিও রয়েছি। বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের ইআরসি সেমিনার হলে ‘বিচারপতিদের অভিশংসন-ন্যায় বিচার-সুশাসন’ শীর্ষক গোলটেবিল  বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। গুড গভর্নেন্স ফোরাম নামের একটি সংগঠন এ গোলটেবিল  বৈঠকের আয়োজন করে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদকে ধ্বংস করছে। যেভাবে এটা প্রয়োগ হয়েছে, এতে সংসদকে ধ্বংস করছে। ষোড়শ সংশোধনী সুপারসনিক গতিতে কেন হবে? বিচার কিভাবে হবে, সে বিষয়ে তিন মাসের মধ্যে আইন করার কথা বলা হয়েছে। এর আগেই সংবিধান সংশোধন করা হলো। খসড়া আইন ও খসড়া সংশোধনী হতে পারতো। এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারতো। ড. কামাল হোসেন বলেন, আগে রাজনীতি ছিল মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য জীবন উৎসর্গ করা। সম্পত্তি করা, ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ গড়া এর মধ্যে ছিল না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন,  যোগ্যতা নেই, মেধা নেই, পিওর আনুগত্য পায়ের ধুলা নেয়াই একটা  যোগ্যতা। আদিষ্ট হয়ে সবকিছু করবো। কি বিচার বিভাগ, কি নির্বাহী পরিষদ, গণতান্ত্রিক সরকারে এটা হওয়ার কথা নয়। আইনানুগভাবে আদিষ্ট হতে হবে। আদিষ্ট হয়ে কাউকে খুন করা যায় না। পেট কাটা যায় না। যে কোন সভ্য সমাজে,  যেখানে আইনের শাসন আছে, সেখানে এটা অকল্পনীয়। ২০০৭ সালের বিতর্কিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের উদাহরণ টেনে ড. কামাল হোসেন বলেন, ইয়াজ উদ্দিনের অধীনে যাতে সাজানো নির্বাচন না হতে পারে  সে জন্য আওয়ামী লীগ আন্দোলন করেছে রাজপথে, আর আমরা আদালতে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিএনপির চেয়ে ন্যক্কারজনকভাবে একতরফা নির্বাচন করলো।

ছাত্র রাজনীতির বর্তমান অবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ষাটের দশকে আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম তখন বুঝতামই না যে চাঁদাবাজি বা  টেন্ডারবাজি কী! এ দুটো শব্দ আমাদের কাছে অপরিচিত ছিল। কিন্তু এখনকার ছাত্রনেতারা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে টেন্ডারবাজি করে। সেই ছবি আবার পত্রিকায়ও আসে। কর্মকাণ্ডের দিক থেকে তিনি ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে কোন পার্থক্য দেখতে পান না বলেও মন্তব্য করেন। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন হয়নি, ভণ্ডামি হয়েছে, শঠতা হয়েছে। এই সরকার নির্বাচিত সরকার নয়। পুরো বিচার ব্যবস্থা টিউটর করছে সরকার। অথচ সরকারই যেখানে আইনসম্মত নয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিচারপতি সিকদার মকবুল হক। প্রধান আলোচক ছিলেন ড. মিজানুর রহমান শেলী। ম?ূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইকতেদার আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, মানবাধিকার নেত্রী এডভোকেট সিগমা হুদা, সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

আটক ‘জঙ্গি’ সামিউনের সাক্ষাৎ চেয়েছে বৃটিশ হাইকমিশন by মিজানুর রহমান

জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে আটক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক সামিউন রহমান ইবনে হামদানের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়েছে বৃটিশ হাই কমিশন। তাকে আটকের বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তরফে (গত ২৯শে সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘন্টার মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আটক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ সংক্রান্ত (কনস্যুলার একসেস) কূটনৈতিক পত্র পাঠায় হাইকমিশন। ভিয়েনা কনভেনশন মতে ওই কনস্যুলার একসেস চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে গতকাল বলেন, অনুরোধপত্রে বৃটিশ সরকারের পক্ষ থেকে দু’জন কর্মকর্তার নাম দেয়া হয়েছে। মনোনীত কূটনীতিকদ্বয় আটক বৃটিশ নাগরিক হামদানের সঙ্গে সাক্ষাৎসহ কনসুল্যার সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন। অনুরোধপত্রটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গ্রহণ করলেও এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফরওয়ার্ড করা হয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারাধীন। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইন-কানুন, বিধি-বিধান বিবেচনায় সাক্ষাতের সময়সহ অন্যান্য বিষয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই ঠিক করবে বলে জানান ওই কূটনীতিক। এদিকে বৃটিশ হাই কমিশন সূত্র জানিয়েছে, চিঠি পাঠানো ছাড়াও কয়েক দফা পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখনও কোন আপডেট পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত ‘জঙ্গি’ হামদানের সঙ্গে বৃটিশ কূটনীতিকদের সাক্ষাতের অনুরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমদ গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মতে যে কোন নাগরিক ভিন দেশে আটক হলে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা মনোনীত এক বা একাধিক কর্মকর্তা তাকে সঙ্গে সাক্ষাৎ চাইতে পারেন। এটি যে কেউ পেতে পারেন, তবে এ জন্য কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। আটক বৃটিশ নাগরিকের বিষয়েও তা প্রযোজ্য হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অনুরোধ সংক্রান্ত কাগজপত্র এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাগজপত্র তার দপ্তরে পৌছায়নি কিংবা এখনও এ নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তরফে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- গত ২৮শে সেপ্টেম্বর (রোববার) রাত সোয়া ১১টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে হামদানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। জঙ্গি সন্দেহে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, সিরিয়ায় নুসরা বিগ্রেডের সদস্য হয়ে আইএস-এর কথিত জিহাদে অংশ নিয়েছিল হামদান। আইএস’র জিহাদে অংশ নিতে বৃটেন থেকে এক বন্ধুসহ তুরস্ক হয়ে সিরিয়ারও যায় সে।  গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সিরিয়ায় অবস্থান করে কথিত জিহাদে অংশ নেয়। পরে আইএস ও নুসরা বিগ্রেডের সদস্য সংগ্রহ করতে মৌরতানিয়া ও মরক্কোতে যায় বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ওই ব্রিটিশ নাগরিক। তার পাসপোর্ট থেকে বিভিন্ন দেশে অবস্থানের সত্যতা পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। এদিকে সামিউন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছে। বলেছে, সে আইএসের সঙ্গে জড়িত না। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের পাল্টা অভিযোগও করেছে সে। আটকের পর সামিউন রহমান ইবনে হামদানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এরপরই তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সামিউল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রতিমায় দামি সোনা ও হীরার অলঙ্কার লাগানো নিয়ে বিতর্ক by পরিতোষ পাল

বনেদি বাড়ির পুজোতে দেবী দুর্গাকে সাজানো হয় স্বর্ণালঙ্কারে। এ রীতি প্রায় কলকাতার সব বনেদি বাড়িতেই। আর এই গহনা সারা বছর তুলে রাখা থাকে লকারের অন্ধকার কুঠুরিতে। কিন্তু কলকাতার সর্বজনীন পুজোতেও কোটি কোটি রুপির স্বর্নালঙ্কার দিয়ে প্রতিমা সজ্জার রেওয়াজ গত বছর থেকে চালু হযেছে। আর এই নতুন ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাতেই শৃুরু হয়েছে বিতর্ক। বিতর্কটা শুরু হয়েছে নিরাপত্তার প্রশ্নে রাজ্য প্রশাসনের ব্যাপক ব্যবস্থাপনা নিয়ে। এ বছরই দমদম বিমানবন্দর থেকে কলকাতায় আসার পথে লেক টাউনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিধায়কের পুজোতে প্রতিমা সজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে ১০ কোটি রুপির হীরা। হীরের দ্যুতিতে পুজো মন্ডপ ঝলমল করলেও এই হীরের সুরক্ষা দিতে পুলিশ কর্তাদের নাজেহাল অবস্থা। গত বছরও এরাই ১৪ কোটি রুপির স্বর্ণালঙ্কার দেবীর গায়ে ও মন্ডপ সজ্জায় ব্যবহার করে চমক দিয়েছিল। ভারতের একটি নামী স্বর্নালঙ্কার সংস্থা তাদের প্রচারের স্বার্থে ধার দিয়েছিলেন এই স্বর্ণালঙ্কার। এবার কলকাতার এক বিখ্যাত স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারক সংস্থা হীরের গহনা উজাড় করে দিয়েছেন প্রতিমা সজ্জার জন্য। সেই হীরের গহনার সুরক্ষায় প্রায় হাজার খানেক নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করেছে পুজো কমিটি। কিন্তু বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীদের উপর ভরসা রেখে বসে থাকতে রাজি নয় পুলিশ প্রশাসন। কোনও অঘটন ঘটে গেলে দায়টা পড়বে তাদের উপরই। আর তাই এই একটি পুজোতে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযোগ করা হযেছে একজন ডেপুটি কমিশনার ও একজন অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার পদমর্যাদার অফিসারকে। এছাড়াও এএসআই থেকে এসিপি পদমর্যাদার ৩০ জন অফিসার থাকছেন প্রতিদিন। থাকছে মহিলা পুলিশ, অ্যান্টি রাউডি স্কোযাডের সদস্যরাও। একই অবস্থা কলকাতার আরেকটি পুজো কমিটিরও। রাজ্য মন্ত্রিসভার এক প্রবীন মন্ত্রী পৃষ্ঠপোষনায় পরিচালিত এই পুজোয় ভারতের একটি বিখ্যাত স্বর্ণালঙ্কার প্রস্তুতকারী সংস্থার ১৮ কেজির স্বর্ণালঙ্কারে সাজানো হয়েছে দেবী প্রতিমাকে। সেখানেও নিরাপত্তার বিশাল বহর। তাই প্রশ্ন উঠেছে, পুজো কমিটি বিশাল অঙ্কে পুজোর আযোজন করছে, এমনকি নিরাপত্তা রক্ষীও রাখছে অর্থ খরচ করে সেখানে পুলিশের জন্য অর্থ বরাদ্দ করায় কুণ্ঠা কেন ? তবে পুলিশের এক কর্তার মতে, কলকাতাসহ গোটা রাজ্যেই মন্ডপে ভিড় টানতে নতুন নতুন উপায় নিচ্ছে পুজো কমিটিগুলি। ফলে এ নিযে পুলিশকে ভাবতে হচ্ছে। পুলিশের আরেক মাঝারি কর্তা সরকারিভাবে কিছু না বলতে চাইলেও নাম না প্রকাশের সুত্রে জানিয়েছেন, যে ভাবে সর্বজনীন পুজোয় প্রতিমাকে দামি গহনা পরানোর চল শুরু হযেছে তাতে আগামী দিনে এই ট্রেন্ড বাড়বে। তাই পুজো কমিটিগুলির ভিড় টানার লড়াইয়ের দায় আর কতদিন পুলিশ নেবে তা ভাবার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন। এই একই ভাবনা সমাজের অন্য স্তরের মানুষেরও।

অভিনব ছিনতাইয়ে নারী

রাত প্রায় ৯টা। রিকশায় ওঠার পর রফিকুলের শরীর ঘেঁষে বসে তরুণী। রফিকুল তা উপভোগ করছিলেন। অল্প সময়েই শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে যায় তরুণী। রিকশাটি সোবহানবাগের মসজিদের পাশে যেতেই রফিকুলের মানিব্যাগ হাতিয়ে নিয়ে নেমে যায় সে। রফিকুল এগিয়ে গেলে সে হুমকি দেয়, চিৎকার করবে, আপনি আমার শরীরে হাত দিয়েছেন। বলেই সে মুহূর্তের মধ্যে উধাও হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার। ফার্মগেট থেকে ধানমন্ডি যেতে রিকশায় উঠেছিলেন রফিকুল ইসলাম। সঙ্গে সঙ্গে ওই তরুণী তাকে ভাইয়া সম্বোধন করে জানায়, সে-ও ধানমন্ডি যাবে। তাকে সঙ্গে নেয়া যাবে কিনা জানতে চায় সে। চেহারা-পোশাক দেখে তরুণীকে বেশ ভালই মনে হয় তার। সাত-পাঁচ না ভেবেই রফিকুল সম্মতি জানান। তারপরেই ঘটে এই ঘটনা। তবে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করতে চাননি একটি টেলিকম কোম্পানিতে কর্মরত রফিকুল।
সূত্রে জানা গেছে, প্রায়ই এরকম ঘটনা ঘটছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। ঈদকে সামনে রেখে নানা কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে ছিনতাইকারীরা। ছিনতাইয়ের অভিনব পন্থা হিসেবেই মাঠে নেমেছে নারী ছিনতাইকারী চক্র। রিকশা আরোহী ছাড়াও নানাভাবে পুরুষদের প্রলুব্ধ করে তারা লুটে নেয় সর্বস্ব। এমনকি নারীদের ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ কায়দায় ছিনতাই করে থাকে। গতকাল গুলিস্তান থেকে নারী ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা স্বীকার করেছে, শহরের বিভিন্ন স্থানেই তারা ছিনতাই করে থাকে। নারী হিসেবে বিশেষ কৌশলে ছিনতাই করা যায় বলে জানায় তারা। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুর্শেদ আলম জানান, পুরুষদের ক্ষেত্রে যৌন সুড়সুড়ি সৃষ্টি করে সবকিছু লুটে নেয় এই চক্র। এক্ষেত্রে প্রথমে টার্গেটকৃত পুরুষকে তাদের যে কোন একজন অনুসরণ করে। পরে ওই পুরুষের রিকশায় ওঠার চেষ্টা করে। উঠতে পারলে সুযোগ বুঝে টাকা বা ব্যাগ হাতিয়ে নেয়। ছিনতাইকারী নারী হওয়ার কারণে ছিনতাইয়ের শিকার পুরুষ সেভাবে অভিযোগ করতে পারেন না। অনেক সময় নারী ছিনতাইকারী চক্রে পুরুষ সদস্যরাও থাকে। তারা সাধারণ মানুষ হিসেবে ওই ছিনতাইকারী নারীর পক্ষে অবস্থান নেয়।
আটককৃত নারী ছিনতাইকারীরা জানিয়েছে, বিভিন্ন শপিং মল, নিরিবিলি সড়ক, বিয়ে অনুষ্ঠান, পার্টিই তাদের ছিনতাইয়ে মূল কেন্দ্রস্থল। এছাড়া ফোনে প্রেমের ফাঁদ পেতে নির্জন ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয় এই চক্রের সদস্যরা।
ভিড়ের মধ্যে শপিং মলগুলোতে নারী ক্রেতাদের সঙ্গে তারা মিশে যায়। সুযোগ বুঝে ভ্যানিটি ব্যাগ, মালপত্র হাতিয়ে নেয়। গণপরিবহনগুলোতেও এই চক্র সক্রিয় বলে স্বীকার করে তারা। কিন্তু ছিনতাইয়ের শিকার অনেক ব্যক্তি ঝামেলা এড়াতে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করতে চান না। গতকাল গুলিস্তান থেকে আটককৃত নারী ছিনতাইকারীরা হচ্ছে- নাজমা (২৬), তাসলিমা (২৩), দিলারা (২৪), কুলসুমা (৩৪) ও নিলময় (৩৫)। তারা সবাই হাজারীবাগের বেড়িবাঁধ এলাকার সুমনের বস্তির বাসিন্দা। দীর্ঘদিন থেকেই তারা ছিনতাইয়ে লিপ্ত। একাধিকবার পুলিশ তাদের আটক করেছে বলে জানা গেছে।
শান্তিনগর মোড় থেকে ইস্টার্ন প্লাজা মার্কেট, মালিবাগের এসবি অফিসের সামনে থেকে কাকরাইল মোড়, রাজারবাগ থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের আগে পীরজঙ্গি মাজার, মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর থেকে  টেকনিক্যাল মোড়, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে গুলশান শ্যুটিং ক্লাব, মহাখালী কাঁচাবাজার, পান্থপথ মোড় থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট থেকে সোবহানবাগ, সংসদ ভবন এলাকা, আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে কাজলার পাড়, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে জনপথ মোড় হয়ে ধলপুর সিটি, মেরুল বাড্ডা থেকে রামপুরা ব্রিজ, মৌচাক থেকে মগবাজার মোড়, গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া ও বাবুবাজার স্পটে নারী ছিনতাইকারীরা সক্রিয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানিয়েছেন, নারী ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর রয়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধ ও ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা পুলিশের চারটি স্পেশাল টিম ও ১৬টি জোনাল টিম কাজ করছে।

ঢাকার কাঁধে নতুন বোঝা রোহিঙ্গারা- ‘বাংলাদেশী’ হলে বর্মী নাগরিকত্ব!

ঢাকার কাঁধে ইয়াঙ্গুন নতুন বোঝা চাপালো। কারণ জাতিসংঘে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী হওয়ার ফর্মুলা দিয়েছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গারা তাদের জাতিসত্তা বিসর্জন দিয়ে নিজেদের  “বাংলাদেশী” বলে পরিচয় দিতে রাজি হলে তারা এর বিনিময়ে বর্মী নাগরিকত্ব পাবে। জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গাদের জাতিসত্তা বিসর্জনের এই প্রস্তাবে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, এটা রোহিঙ্গাদের নতুন করে বহিষ্কার এবং পাইকারি গ্রেপ্তারের পূর্ব লক্ষণ। মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রশ্নে জাতিসংঘে ওই ভয়ানক মনোভাব প্রকাশ করলেও বাংলাদেশ এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দেখাতে নীরবতা পালন করছে। বর্মী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন ইঙ্গিতও করেছেন যে, যারা ‘বাংলাদেশী’ হতে চাইবে না তারা তাদেরকে বিদেশে কোথাও বসতি স্থাপন করে দিতে উদ্বাস্তু হাইকমিশনকে অনুরোধ জানাবে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বহু বছরের জল্পনা-কল্পনা, এমনকি নোবেল বিজয়ী গণতন্ত্রের কন্যা অং সান সু চির দীর্ঘ নীরবতার প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার অবশেষে রোহিঙ্গা প্রশ্নে তাঁর ভয়ানক গোপন মনোভাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। গত ৩০শে সেপ্টেম্বর মিয়ানমার জাতিসংঘকে লিখিতভাবে জানিয়েছে, রোহিঙ্গারা যদি নিজেদের জাতিসত্তা পরিবর্তন করতে রাজি হয়, যদি তারা নিজেদের বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বলে স্বীকার করে, তাহলে তারা তাদেরকে বর্মী নাগরিকত্ব দেবে। ইয়াঙ্গুন থেকে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমার বলেছে, এ বিষয়ে তারা তাদের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। সে কারণে বিষয়টি তারা জাতিসংঘকেও নিশ্চিত করেছে।  তবে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, বর্মী সরকারের এই নতুন অবস্থানের কারণে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিক্ষেপ করা হতে পারে।
গত সোমবার জাতিসংঘে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ান্নামংলিউন ওই পরিকল্পনা প্রকাশ করে তা বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সহায়তা কামনা করেন। রয়টার্স বলেছে, ১১ লাখ রোহিঙ্গার বেশির ভাগই রাষ্ট্রহীন অবস্থায় আছে। প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা স্থানচ্যুত আছে। বিতর্কিত ওই কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে মিয়ানমার এই প্রথম জনসমক্ষে স্বীকার করলো। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক ফিল রবার্টসন সতর্ক করেছেন, এই ঘোষণার পর রোহিঙ্গাদের জোর করে ডিটেনশন ক্যাম্পে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাখার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

কুমারী পূজা আজ

শারদীয় দুর্গাপূজার আজ মহাষ্টমী। মহাষ্টমীর মূল আকর্ষণ  কুমারী পূজা পালন হবে আজ। গতকাল বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে পালিত হয়েছে মহাসপ্তমী। ভোরে নবপত্রিকা স্নান দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুুর্গোৎসবের সপ্তমীর দিন। এরপর ছিল স্থাপন ও সপ্তাদি কল্পারম্ভ, চণ্ডী ও মন্ত্রপাঠ, দেবীর পায়ে ভক্তদের পুষপাঞ্জলি প্রদান, ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার  চক্ষুদানসহ নানা আয়োজন। মহাসপ্তমী শেষে শারদীয় দুর্গাপূজার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিন আজ। দেবীর সন্ধিপূজা আর রামকৃষ্ণ মিশনগুলোতে কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে পালন হবে দিনটি। কুমারী বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ চিন্তা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করবে ভক্তরা। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে।  ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১১টায় দেশের সব রামকৃষ্ণ মিশনে পালন হবে কুমারী পূজা। এছাড়াও মিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন নারায়ণগঞ্জ ও দিনাজপুরসহ কয়েকটি মঠ এবং কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপেও কুমারী পূজা হবে। কুমারী পূজা কেন করা হয়- এ প্রশ্নের জবাবে শ্রীরামকৃষ্ণের কথামৃতে বলা হয়েছে, সব স্ত্রীলোক ভগবতীর এক স্বরূপ। শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর বেশি প্রকাশ। সকল নারীতে মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার প্রধান লক্ষ্য। বয়সভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন। শাস্ত্রমতে; এক বছর বয়সে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কালিকা, পাঁচে সুভগা, ছয়ে উমা, সাতে মালিনী, আটে কুব্জিকা, নয়ে অপরাজিতা, দশে কালসন্ধর্ভা, এগারোয় রুদ্রাণী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরোয়  ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোল বছরে অম্বিকা বলা হয়ে থাকে। কুমারী পূজার দিন নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। হাতে দেয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুরের তিলক ও পায়ে আলতা। সঠিক সময়ে কুমারীকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়। চারদিক মুখরিত হয় শঙ্খ, ঢাকের আওয়াজ, উলুধ্বনি আর মায়ের স্তুতিতে। আজ মহাষ্টমীতে রাজধানীসহ সারা দেশের প্রতিটি মণ্ডপে উদযাপিত হবে মহাষ্টমী। আজ পূজার্চনার পাশাপাশি অন্যান্য আয়োজনের সঙ্গে থাকছে আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভক্তিমূলক সংগীতসহ নানা আয়োজন।

উৎসবের আমেজে মহাসপ্তমী উদযাপিত: এদিকে গতকাল বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে মহাসপ্তমী উদযাপিত হয়েছে সারা দেশে। ভোরে পূজা শুরু হয় নবপত্রিকা স্নান দিয়ে। ঘাটে ঘাটে তখন ভিড় কলাবউ স্নানের জন্য। দেবীকে নয়টি রূপে কল্পনা করে স্থাপন করা হয় নবপত্রিকা। একে একে চক্ষুদান ও প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপরই শুরু হয় মহাসপ্তমীর পূজা। মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে অর্থাৎ ষোলটি উপাদানে দেবীর পূজা করা হয়। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হয়। দেবীকে আসন, বস্ত্র,  নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করেন তার ভক্তরা। দিনব্যাপী এই কার্যক্রম চলে। সপ্তমী পূজা উপলক্ষে সন্ধ্যায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তিমূলক সংগীত, রামায়ণ পালা, আরতিসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আর মাত্র তিনটি দিবানিশি পেরুলেই মা ‘উমা’ ফিরবেন  কৈলাশে। বছরান্তে আশ্বিন-কার্তিকের পঞ্চমী থেকে দশমী তিথির পাঁচটি দিবস ‘জগজ্জননী’ উমা দেবীর পিতৃগৃহ ঘুরে যাওয়া। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বোলে তাই যেন ধ্বনিত হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সমাজের হৃদয়তন্ত্রীতে বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ার। নানা আচার অনুষ্ঠান সেরে সকালে শুরু হয় তা। গতকাল রাজধানীর ঢাকেশ্বরী, রামকৃষ্ণ আশ্রম, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজারসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষ দল বেঁধে পূজা দেখতে আসছেন। উৎসবপ্রিয় বাঙালি মেতে উঠেছে পূজার আনন্দে। বিকাল থেকেই পূজামণ্ডপগুলোয় দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বাহারী পোশাক আর অঙ্গসজ্জায় নিজেদের সাজিয়ে রাঙিয়ে উৎসব-আনন্দে মেতে উঠেছে শিশু-কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরাও। হিন্দু সমপ্রদায়ের অনুসারীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষেরাও ব্যাপক ভিড় করেন সুকমলা দেবী দুর্গার মায়াকাড়া মুখ দর্শনের জন্য।

আমি ও আমার স্ত্রী বাংলাকে দেখেছি, চিনেছি, অনেক কিছু শিখেছি-

বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা সফরের সফল পরিসমাপ্তি উদযাপন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। বুধবার সন্ধ্যায় এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ড্যান মজীনা বলেন, আমি বাংলাকে দেখেছি, চিনেছি ও এ থেকে অনেক শিখেছি। কি চমৎকার, অপরূপ এ বাংলার সৌন্দর্য দেখে আমি ও আমার স্ত্রী আনন্দিত-অভিভূত। ধানমন্ডিতে ইএসকে সেন্টারে ওই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। তিন বছর আগে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেয়ার পর দেশের ৬৪ জেলা সফর শুরু করেন ড্যান মজিনা। গতকালের আয়োজনে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন জেলা সফরকালে আয়োজিত কর্মকান্ডের উপর আলোকচিত্র নিয়ে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন অতিথি। আমেরিকান সেন্টারের পরিচালক অ্যান ব্যাবোস ম্যাক্কনেল ইএমকে সেন্টারের পরিচালক এমকে আরেফ ও ট্রাস্টি আক্কু চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে আপ্লুত ড্যান মজীনা বলেন, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, সিলেট থেকে সাতক্ষীরা, কুমিল্লা থেকে মেহেরপুর বাংলার বিস্তীর্ণ জনপদ আমি ঘুরে দেখেছি। এদেশের মানুষের কর্মক্ষমতা, সৃজনশীলতা আমি দেখেছি। ব্যবসায়ী, কৃষক, ছাত্র, শিক্ষকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সঙ্গে মিশেছি। এদেশ একদিন আরও অনেক বেশি উন্নত হবে। ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মরহুম জিল্লুর রহমানের কাছে পরিচয়পত্র জমা দেয়ার দিনকে স্মরণ করে মজিনা বলেন, সে দিন দেশের ৬৪ জেলা ঘুরে দেখার স্বপ্নের কথা আমি প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছিলাম তিনি খুশি হয়েছিলেন। আজ আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশের জনগণ, স্থানীয় প্রশাসন সর্বোপরি সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।

অবশেষে আফগান–মার্কিন নিরাপত্তা চুক্তি সই

আফগানিস্তানের নতুন সরকার গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ বিলম্বিত একটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। এর মাধ্যমে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর কিছু সেনা আগামী বছরও আফগানিস্তানে থাকার ব্যবস্থা হবে। খবর এএফপি ও বিবিসির। নতুন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি এই দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত হলেও ওই চুক্তিতে রাজি হননি। তিনি বলেছিলেন, চুক্তিটি সই করলে মার্কিন বোমায় আফগান নাগরিকের মৃত্যুর দায় তাঁর ওপরই পড়বে। কারজাইয়ের আপত্তির ফলে চুক্তিটি বিলম্বিত হয় এবং এতে আফগান-মার্কিন সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে চুক্তিতে আফগানিস্তানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হানিফ আতমার ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাবুলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জিম কানিংহাম। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জিম কানিংহাম বলেন, চুক্তিটি আফগানিস্তানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়।
নতুন এ চুক্তি অনুযায়ী বিশেষ বিদেশি সেনারা ‘সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতার’ জন্য আফগানিস্তানে রয়ে যাবে এবং বাকিরা স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেবে। আর ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ ওই সেনাদের সংখ্যা কমিয়ে অর্ধেকে নিয়ে আসা হবে। আর ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। আফগানিস্তানে ২০০১ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে তালেবান সরকার উৎখাতের পর থেকে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী দেশটিতে অবস্থান নেয়। এক দশকের বেশি সময় পর ন্যাটোর অধিকাংশ সেনাকে চলতি বছরের মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নয় হাজার ৮০০ এবং ইতালি ও জার্মানির কিছুসংখ্যক সেনাসহ আফগানিস্তানে আগামী বছরের শুরুতে থেকে যাওয়া বিদেশি সেনার সংখ্যা হবে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার। ন্যাটোর পৃথক একটি চুক্তি অনুযায়ী, জার্মানি, তুরস্ক ও ইতালি থেকে ন্যাটোর আরও তিন হাজার সেনা আফগানিস্তানে নিরাপত্তা কার্যক্রমে যোগ দেবে। কারজাইয়ের পদত্যাগের পর গত সোমবার আফগানিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন গনি। গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশটিতে ছয় মাসব্যাপী অচলাবস্থার অবসান হয়।

কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের অঙ্গীকার

হোয়াইট হাউসে নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত
জানাচ্ছেন বারাক ওবামা। এএফপি
দুই দেশের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার ও বিস্তৃত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই নেতা বলেছেন, তাঁরা শুধু নিজ দেশের স্বার্থেই নয়, বরং সারা বিশ্বের উন্নয়নের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করবেন। বিশ্বের জন্য নজির সৃষ্টি করবেন। খবর রয়টার্স ও এএফপির। হোয়াইট হাউসে গত সোমবার নৈশভোজকালীন সাক্ষাতের পর ‘ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাবিষয়ক যৌথ বিবৃতিতে’ দুই নেতা ওই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়া মোদির সঙ্গে সেটাই ছিল ওবামার প্রথম সাক্ষাৎ। তাঁরা বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁদের দুই দেশ সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারসহ বৈশ্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের বহুবিধ দায়দায়িত্ব রয়েছে বলেও একমত হন তাঁরা। ওবামা ও মোদি বিবৃতিতে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায়ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
তাঁরা বলেন, ‘একুশ শতকের স্বচ্ছ ও বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে কাজ করার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের। তাঁদের এই অংশীদারত্ব সারা দুনিয়ার জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’ দুই নেতা আরও বলেন, তাঁদের দেশ অর্থনৈতিক উন্নতি ও জনগণের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করে যাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানা কারণে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি হয়। কিন্তু এশিয়ায় চীনের প্রভাব সীমিত রাখতে ভারত ও জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা ছাড়া বিকল্প কৌশল ওয়াশিংটনের হাতে নেই বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। নরেন্দ্র মোদি গত মে মাসে ভারতের ক্ষমতায় আসেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তো বটেই, ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার পর এটিই তাঁর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া মোদিকে যুক্তরাষ্ট্রে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। অথচ গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে রাজ্যটিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ভূমিকার প্রেক্ষাপটে এত দিন তাঁকে ভিসা পর্যন্ত দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। বিজেপির নেতা মোদি গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছার পর থেকে নানা কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত।
বছরের এ সময় হিন্দু রীতি অনুযায়ী উপোস করেন তিনি। এ কারণে হোয়াইট হাউসের নৈশভোজে যোগ দিলেও কোনো খাবার খাননি। শুধু সামান্য গরম পানি পান করেছেন। ওভাল অফিসে বৈঠক: প্রেসিডেন্ট ওবামা ও প্রধানমন্ত্রী মোদি গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকও করেছেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ দুই নেতা জানান, তাঁদের মধ্যে বৈঠকে বাণিজ্য ইস্যু, জলবায়ু পরিবর্তন ও ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই—এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। মোদি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশাধিকার সহজ করার বিষয়ে ওবামার সহায়তা চেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে গত বছর সই হওয়া বাণিজ্য চুক্তি ‘টিফা’ নিয়েও তাঁদের খোলামেলা কথা হয়।

আবার অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ স্থগিত

জাপানে মাউন্ট ওনতাকে আগ্নেয়গিরিতে আবারও অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কায় উদ্ধারকাজ গতকাল মঙ্গলবার স্থগিত রাখা হয়। দুর্যোগকবলিত পর্বতটিতে অন্তত ২৪ জন অভিযাত্রীর প্রাণহীন দেহ এখনো পড়ে আছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর এএফপি ও বিবিসির। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গতকাল সারা দিন ওনতাকে পর্বতের নিচেই অবস্থান করেন। হেলিকপ্টারগুলোও উদ্ধারকাজে অংশ নেয়নি। জ্বালামুখের কাছাকাছি এলাকায় বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হওয়ার কারণে গত সোমবার থেকে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হয়। 
নাগানো প্রশাসনিক এলাকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাস্থলে কম্পনের মাত্রা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির খবর পেয়ে বিজ্ঞানীদের পরামর্শে উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হয়। ১০ হাজার ১২১ ফুট উঁচু মাউন্ট ওনতাকে আগ্নেয়গিরিতে অপ্রত্যাশিতভাবে গত শনিবার উদ্‌গিরণ হয়। বেশ কয়েক মাইল দীর্ঘ লাভার স্রোত নেমে আসে। ধূসর ছাইয়ে ঢেকে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ভ্রমণকারীসহ অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকাজ এবং দুর্যোগ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। রাজধানী টোকিওর পার্লামেন্টে তিনি বলেন, মাউন্ট ওনতাকেতে এখনো অনেকে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। আগ্নেয়গিরি সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও সেখানকার উদ্ধারকর্মীরা সব ধরনের চেষ্টা করছেন।