Wednesday, April 28, 2010

অলিচের হ্যাটট্রিকে ফাইনালে বায়ার্ন

ইভিচা অলিচ নন, বায়ার্ন মিউনিখের বড় নাম আরিয়েন রোবেন। জার্মানির পত্রপত্রিকায় বন্দনা রোবেনকে ঘিরেই। কেউ কেউ তো তাঁকে অ্যাখ্যা দিয়েছেন বায়ার্নের ‘মেসিয়া (ত্রানকর্তা)’ বলে। তবে কাল আসল কাজটি কিন্তু করে দিয়েছেন ইভিচা অলিচই। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে হ্যাটট্রিক করলেন । তাঁর সেই হ্যাটট্রিকে লিওঁকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠে গেছে বায়ার্ন। আগামী ২২ মে রিয়াল মাদ্রিদের স্টেডিয়াম সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ফাইনালে বায়ার্নের প্রতিপক্ষ হবে বার্সেলোনা বা ইন্টার মিলানের একটি।
বায়ার্নের মাঠ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনা থেকে ০-১ গোলে হেরে আসা লিওঁ কাল নিজেদের মাঠে নেমেছিল কঠিন প্রত্যয় নিয়ে। কোচ ক্লদ পুয়েল হুমকিই দিয়ে রেখেছিলেন—প্রশ্ন যখন জয়ের, লিওঁ তখন বুক চিতিয়ে লড়তে জানে; প্রতিপক্ষ যত বড় নামই হোক না কেন। বুক চিতিয়ে লড়াই করার এই প্রতিশ্রতিতটা মাত্র মিনিট দুই-ই রাখতে পেরেছে পুয়েলের দল। শুরুর ওই মিনিট দুই বাদ দিলে লিওঁর মাঠে প্রায় পুরোটা সময় দাপিয়ে বেড়িয়েছে পরাক্রমশালী বায়ার্ন। চারবারের ইউরোপ সেরারা প্রথম গোল পায় ২৬ মিনিটে। গোলদাতা ইভিচা অলিচ। গত কয়েক ম্যাচ ধরে যিনি হয়ে গেছেন বায়ার্নের ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার প্রতীক। কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে দুই লেগেই গোল করেছেন তিনি। গোল করেছেন বুন্দেসলিগায় বায়ার্নের সর্বশেষ ম্যাচেও। প্রথমার্ধের প্রায় পুরোটা সময় নিয়ন্ত্রণ করলেও আর গোল পায়নি বায়ার্ন। ৬৭ মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন অলিচ। আর হ্যাটট্রিক গোলটি করেন এর ঠিক ১১ মিনিট পর।

বাঘের গ্রামে ঢোকা ঠেকানোর এখনই সময় by খসরু চৌধুরী

দীর্ঘদিন সুন্দরবনের বাঘের পিছু লেগে একটি বিষয় লক্ষ করেছি, গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড দাবদাহের কালে সুন্দরবনের বাঘ জঙ্গল ছেড়ে গ্রামে ঢুকে গরু, মহিষ, কুকুর মারে; নিজেরাও গ্রামবাসীর পিটুনিতে মারা যায়।
সুন্দরবন, বিশেষ করে চাঁদপাই রেঞ্জের জয়মণি থেকে নাংলী পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা একেবারে বনসংলগ্ন। এলাকার খালগুলো শুকনো। গ্রামবাসী গরু-মহিষ জঙ্গলে ঢোকায়। কিছু শূকর ছাড়া বাঘের স্বাভাবিক খাদ্য নেই বললেই চলে। জঙ্গলের ভেতরে বড় গাছ কম, কিন্তু জঙ্গল বলা, কেয়াকাঁটা, আসামিলতা, হরগেজা, লতাসুন্দরী, কুটুমলতায় আকীর্ণ। বাতাসহীন তীব্র দাবদাহে তলার জঙ্গলের আবহাওয়া অসহনীয় গরম।
এই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানিক বাঘ বিকেলের দিকে একটু ঠান্ডা হাওয়ার আশায় জঙ্গলের সীমানার ফাঁকা এলাকায় চলে আসে। এই বাঘ গ্রামবাসী, বিশেষ করে গরুর রাখালদের চোখে প্রায়ই পড়ে। বাঘ জঙ্গলের সীমানায় হাঁটাচলা করার সময় লোকালয়ের গরু-মহিষের খাটাল দেখে খাদ্যের খোঁজে হামলা চালায়।
এ অবস্থায় করণীয় হচ্ছে, বাঘ বনের ধারে দিনের বেলা দেখা গেলেই গ্রামবাসীর উচিত বন বিভাগের কর্মীদের সহায়তায় ঢোল, পটকা ব্যবহার করে হইহুল্লোড় করে বাঘকে গভীর জঙ্গলে ঢুকিয়ে দেওয়া। গ্রামের তরুণদের দিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা। গরু-মহিষের খাটালগুলো শক্ত করে তৈরি করা। বাঘ একবার গ্রামে ঢুকে গরু-মহিষ মারতে পারলে তাকে ঠেকানো প্রায় অসম্ভব। এ অবস্থায় পৌঁছানোর আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাতে মানুষ ও বাঘ—দুয়েরই উপকার হবে
খসরু চৌধুরী: বন বিশেষজ্ঞ।

দুর্বিনীত ছাত্রলীগ

ছাত্রলীগের সঙ্গে সরকারের সংস্রব ত্যাগ করার আহ্বানসংবলিত দেশের খ্যাতনামা পাঁচজন বুদ্ধিজীবীর যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পর আশা করা গিয়েছিল, সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কিছুটা হলেও সংযত হবেন। কিন্তু ছাত্রলীগের রাশ কোনোভাবেই টেনে ধরা যাচ্ছে না। তাদের বেআইনি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দিন দিন বেড়ে চলেছে। কোনো নিন্দা, প্রতিবাদ কিংবা ধিক্কার সংগঠনের নেতা-কর্মীদের গায়ে লাগছে না।
এত দিন ছাত্রলীগ প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করে দিয়ে নিজেদের বাহাদুরি দেখিয়ে আসছিল। ইদানীং মারধরের জন্য বাইরের কাউকে দরকার হচ্ছে না, নিজেরাই আত্মঘাতী সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। রোববার বগুড়ার আযিযুল হক কলেজে পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে যে সংঘর্ষ হয়, তাতে ছয়জন শিক্ষার্থী আহত হন। সব কাগজেই তাদের সশস্ত্র মহড়ার ছবি ছাপা হয়েছে। ক্যাম্পাসে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে পারে না। যারা প্রতিপক্ষের ছাত্রাবাস ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রলীগের এক পক্ষ অন্য পক্ষের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা শুধু উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, শিক্ষকদের বাসেও কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। অবরোধের নামে এসব ছাত্র নামধারী বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে রেখেছে। তাদের সন্ত্রাসী হামলায় দুজন শিক্ষকও আহত হয়েছেন। যে ছাত্ররা শিক্ষকদের বহনকারী বাসে হামলা চালানোর মতো কাজ করতে পারে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার নেই। অবিলম্বে হামলাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও আযিযুল হক কলেজে যারা মারধর করেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারে সোপর্দ করা হোক। অপরাধ করে শাস্তি না হওয়ার কারণেই ছাত্রলীগের কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
তাঁদের কারণে যে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, ক্ষমতাসীনদেরও তা অনুধাবন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সহযোগী ছাত্রসংগঠনের ব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের হাতে শিক্ষাঙ্গনকে জিম্মি রাখা কিংবা শিক্ষার সর্বনাশ ঘটতে দেওয়া যায় না। শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থানুকূল না হলে ছাত্ররাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিও কাম্য নয়। দেশের পাঁচ শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীর বিবৃতিতেও অনুরূপ বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের বোধোদয় ঘটলে দেশ ও জাতি রক্ষা পাবে।

আল-কায়েদাবিরোধী অভিযানে নেমেছে ইরাকি বাহিনী

আল-কায়েদা এবং অন্যান্য জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে ইরাকি বাহিনী। সেনাবাহিনী এবং পুলিশের প্রায় ২৬ হাজার সদস্য এ অভিযান চালাচ্ছেন।
আল-আনবার প্রদেশের পুলিশ-প্রধান জেনারেল বাহাই হুসেইন আল-কারখি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে পারে এমন সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নস্যাত্ করতে এ অভিযান চালানো হচ্ছে ।

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল ফিডেসজ পার্টি

হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে মধ্য-ডানপন্থী ফিডেসজ পার্টি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর ফলে দলটি সরকার গঠন করে ব্যাপক সংস্কার ও ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষমতা অর্জন করল।হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে গত রোববার দ্বিতীয় দফায় ভোট নেওয়া হয়। ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ভিক্টর ওরবানের নেতৃত্বাধীন ফিডেসজ পার্টি ২৬৩টি আসন পেয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য ২৫৮টি আসন পেলেই চলে।

ইয়েমেনে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত

ইয়েমেনে নিযুক্ত ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত টিমোথি একিলি টোরলট আত্মঘাতী বোমা হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। গতকাল সোমবার রাজধানী সানায় ব্রিটিশ দূতাবাসের কাছে তাঁর গাড়িবহর লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে আত্মঘাতীর দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেও রাষ্ট্রদূত ও তাঁর সঙ্গে থাকা কেউ আহত হননি। খবর বিবিসি অনলাইনের।
কর্মকর্তারা বলেছেন, রাষ্ট্রদূত বাইরে থেকে গাড়িবহর নিয়ে দূতাবাসের কার্যালয়ে ফিরছিলেন। কার্যালয়ের খুব কাছাকাছি আসার পর আত্মঘাতী হামলাকারী তার শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, হামলাকারী ধীরগতিতে আসার কারণে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ফলে সে নিজেই উড়ে যায়। এ সময় পাশে থাকা দুজন আহত হন। এর আগের খবরে বলা হয়েছিল, হামলাকারীর সঙ্গে তার এক সহযোগীও নিহত হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা আত্মঘাতী একাই মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন।
ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা সাময়িকভাবে ইয়েমেনের দূতাবাস সাধারণের জন্য বন্ধ রাখতে যাচ্ছে।

২০ বছর পর বাগদাদ লন্ডন বিমান চলাচল শুরু

দীর্ঘ ২০ বছর পর বাগদাদ ও লন্ডনের মধ্যে আবার বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। বাগদাদ থেকে ছেড়ে আসা ফ্লাইট আইএ-২৩৭ সুইডেনের ম্যালমো বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি শেষে গত রোববার স্থানীয় সময় রাত ১১টা আট মিনিটে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। গত ১৬ এপ্রিল ফ্লাইট চালুর কথা থাকলেও আইসল্যান্ডের আগ্নেয়গিরির কারণে তা পিছিয়ে যায়। গ্যাটউইক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরাকের বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগের পরিচালক আদনান ব্লেবিল বলেন, বাগদাদ-লন্ডন ফ্লাইট শুরু হওয়ায় তিনি খুশি। তবে পশ্চিমা দেশের বিমান কোম্পানিগুলো আরও সহযোগিতামূলক মনোভাব দেখালে কয়েক বছর আগেই এটা শুরু করা যেত। তিনি জানান, এখন থেকে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট বাগদাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাবে।
গত রোববারের ফ্লাইটে পরিবহনমন্ত্রী আমের আবদুল জব্বার ইসমাইল এবং ইরাকি এয়ারওয়েজের প্রধান কিফাহ্ হাসানসহ মোট ৩০ জন ইরাকি ও বিদেশী যাত্রী ছিলেন।
১৯৯০ সালে সাদ্দাম সরকার কুয়েত দখল করার পর জাতিসংঘ ইরাকের ওপর অবরোধ আরোপ করায় এতদিন এ ফ্লাইট বন্ধ ছিল

নেপালে মাওবাদীদের মোকাবিলায় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী

নেপালে সরকার উত্খাতের লক্ষ্যে আগামী ১ মে থেকে চূড়ান্ত যুদ্ধের ডাক দিয়েছে সে দেশের মাওবাদীরা। তাদের এই কর্মসূচি মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করতে গতকাল সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপালের বাসভবনে বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকে ক্ষমতাসীন ১০টি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বিষ্ণু রিজাল এক বিবৃতিতে জানান, বৈঠকে মাওবাদীদের পূর্বঘোষিত আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপরও যদি মাওবাদীরা আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যায়, তাহলে সে সময় দেশটির শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারকে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
ক্ষমতাসীন দলের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মাওবাদীরা হাজার হাজার তরুণকে ‘সামরিক প্রশিক্ষণ’ দিচ্ছে। আন্দোলন কর্মসূচির সময় ওই সব তরুণকে মাঠে নামাবে মাওবাদীরা। তারা আন্দোলনের নামে দেশে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইউসিপিএন (মাওবাদী) যদি সহিংস পথ পরিহার করে একটি বেসামরিক পার্টি গঠন করে, তাহলে সরকার মাওবাদীদের সঙ্গে সব ধরনের আলাপ-আলোচনা করতে রাজি আছে। ক্ষমতাসীন দলগুলোর নেতারা বলেছেন, মাধব কুমার নেপালের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যতদিন না মাওবাদীরা সহিংসতার সময় দখল করা জমি ফিরিয়ে দেয় এবং মাওবাদী গেরিলা সংগঠনটির আধাসামরিক আদলে গড়া যুববাহিনী (ইউসিএল) বিলুপ্ত ঘোষণা না করাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করে। ততদিন কোনো অবস্থাতেই মাওবাদীদের হাতে দেশের ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে না।
এদিকে মাওবাদি নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচন্ড গতকাল বর্তমান সরকারকে উত্খাতের জন্য দেশজুড়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

তালেবানের ফাঁদে পা না দিতে কারজাইকে মনমোহনের সতর্কতা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গতকাল সোমবার সফররত আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় তথাকথিত উদারপন্থী তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের প্রস্তাবিত আলোচনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মনমোহন।
দুই দিনের সফরে গতকাল সকালে নয়াদিল্লি পৌঁছান হামিদ কারজাই। এরপর রেস কোর্স রোডে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। এ সময় আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়।
মনমোহন জানান, আফগানিস্তানের পুনর্গঠনকাজে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আফগানিস্তানে কর্মরত সাড়ে তিন হাজার ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয় নিয়েও তিনি আফগান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেন।
তবে আফগানিস্তানে তথাকথিত উদারপন্থী তালেবানদের রাজনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসতে তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মনমোহন। দুই সপ্তাহ আগে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠকের সময়ও মনমোহন বিষয়টি তুলেছিলেন।
ভারত আশঙ্কা করছে, তালেবানের সঙ্গে আফগান সরকারের ক্ষমতা ভাগাভাগি হলে আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। এ কারণে ভারতের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামীকাল মঙ্গলবার ভারত থেকে ভুটানে যাবেন কারজাই

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ by ইব্রাহীম চৌধুরী

অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে প্রণীত অভিবাসনবিরোধী কালো আইনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে।
গত রোববার অ্যারিজোনার ফিনিক্স নগরে অভিবাসীদের বিশাল বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। রাজ্য ভবনের সামনে হাজার হাজার জনতার বিক্ষোভ সমাবেশটি ছিল শান্তিপূর্ণ।
সমাবেশে অংশ নেওয়া ডেমোক্রেটদলীয় কংগ্রেসম্যান এবং বিশিষ্ট মানবাধিকার সংগঠক রাউল গ্রিজালভা বলেছেন, ‘বৈষম্যমূলক অভিবাসন আইনের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াব।’ তিনি অভিবাসনবিরোধী এ আইনটি বাতিলের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। সুদূর টেক্সাসসহ অন্য অঙ্গরাজ্যথেকে লোকজন এসে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়েছে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা, নিউজার্সিসহ বেশ কয়েকটি স্থানে অভিবাসীরা অভিবাসনবিরোধী আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে।
নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সমাবেশে মানবাধিকার সংগঠক আল শার্পটন বলেছেন, ‘১৯৬০ সালের মানবাধিকার আন্দোলনের মতো সংগ্রামে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ব।’ অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে প্রণীত আইনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করার ঘোষণা দেন আল শার্পটন। অভিবাসনবিরোধী আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ পদযাত্রার কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য সরকারের প্রণয়ন করা আইনকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। অভিবাসনবিষয়ক আইনটি সংবিধান সম্মত কি না, যাচাই করার জন্য বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার অ্যারিজোনার গভর্নর অভিবাসনবিরোধী আইনের অনুমোদন দিয়েছেন। গভর্নর জেন ব্রিউয়ার বলেছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা সংরক্ষণের স্বার্থেই আইনটির প্রয়োগ হবে। নতুন আইনে রাজ্য পুলিশ সন্দেহজনকভাবে যেকোনো ব্যক্তিকে তল্লাশি করতে পারবে। পুলিশ যেকোনো ব্যক্তির গ্রিনকার্ড পরীক্ষা করতে পারবে। গ্রিনকার্ড প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং বহিষ্কারের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশকে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী এমন আইন নেই। অ্যারিজোনার পর অভিবাসনবিরোধী এ ধরনের আইন অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও প্রণীত হতে পারে—এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভেঙে পড়া অভিবাসনব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিচ্ছে রক্ষণশীল অভিবাসনবিরোধীরা। সম্প্রতি রক্ষণশীলদের ব্যবস্থাপনায় ‘টি-পার্টি’ আন্দোলনে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে রক্ষণশীলদের উচ্চকণ্ঠ হতে দেখা যাচ্ছে।
কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত প্রভাবশালী ডেমোক্রেটদলীয় কংগ্রেসম্যান ক্রিসটোফার ডড বলেছেন, অভিবাসন সংস্কার নিয়ে কেন্দ্রীয় আইনপ্রণেতাদের দ্রুত সক্রিয় হতে হবে। অন্যথায় অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও অভিবাসনবিরোধী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ক্রিসটোফার ডড এনবিসি টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের অভাবে রাজ্য সরকারগুলো নিজেদের মতো আইন প্রণয়নের সুযোগ গ্রহণ করছে।
এদিকে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান দলীয় নেতা সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘অভিবাসন নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত সময় এখন নয়। দেশে যখন বেকারত্বের হার ১০ শতাংশ, তখন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা সিনেটর হেরি রিড অবশ্য অভিবাসন সংস্কার নিয়ে দ্রুত তৎপর হওয়ার জন্য নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের তাগিদ দিয়েছেন।

বড়দের প্রতি আফগান-হুমকি

আইসিসির স্বীকৃতি পেয়েছে তারা ২০০১ সালে। দুই বছরও হয়নি, ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগ ডিভিশন ফাইভে জার্মানি, নরওয়ে, ভানুয়াতুর মতো দেশগুলোর সঙ্গে খেলত। সেই আফগানিস্তানই এখন প্রস্তুত হচ্ছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য। মাঠে নামা মানে স্রেফ অভিজ্ঞতা অর্জন নয়। প্রতিষ্ঠিত দুই শক্তিকে চমকে দেওয়ার বাসনা নিয়েই তারা যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।
ক্রিকেট এখন আফগানিস্তানে বিশাল এক উন্মাদনার নাম। ২০০৮ সালেও ডিভিশন ফাইভে খেলা দেশটি ডিভিশন ফোর, থ্রি হয়ে তরতর করে এগিয়ে গেছে। অল্পের জন্য ২০১১ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগটা হাতছাড়া করেছে, তবে আয়ারল্যান্ড, আরব আমিরাতের মতো দেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে। উন্মাদনার শুরু মূলত বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পর থেকেই। রাইফেল, মেশিনগান আর গেরিলা পোশাক ছেড়ে ব্যাট-বল হাতে ক্রিকেটের পোশাকে কোচদের কাছে ছুটছে তরুণেরা। দলের সাফল্য আর এই উন্মাদনা দেখে ক্রিকেটের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকারও। জাতীয় দলের জন্য বছরে ৫ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়, মাসে ৩০০ ডলার বেতন পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। একটি ক্রিকেট একাডেমিও হয়েছে, যেখানে আছে শ-খানেক ছাত্র।
এই উন্মাদনাই আরও প্রেরণা জোগাচ্ছে আফগান ক্রিকেটারদের। কোনো রাখঢাক না রেখেই ভারতকে হারানোর লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন দলের কোচ, সাবেক পাকিস্তানি পেসার কবির খান, ‘ভারতের বিপক্ষে খেলা নিয়ে আমরা রোমাঞ্চিত। ওদের জন্য কাজটা আমরা কঠিন করে তুলব। আশা করছি, অঘটনও ঘটাতে পারব।’ প্রত্যাশার চাপ না থাকাটাকেই নিজেদের বড় শক্তি বলে মনে করেন দলের অলরাউন্ডার আসগর স্টানিকজাই।

টেন্ডুলকার নন ধোনি

যাঁরা বলছেন আইপিএলের ফাইনালে সেরা দলটা জিতল না, তাঁদের সঙ্গে মহেন্দ্র সিং ধোনিও আছেন। শিরোপা জেতার পরও চেন্নাই সুপার কিংস অধিনায়ককে পরশু অতৃপ্ত লাগল, ‘আমরা আরও ভালো খেলতে পারতাম।’ কিন্তু আসলে অতৃপ্ত তাঁর প্রতিপক্ষ অধিনায়ক শচীন টেন্ডুলকার। দুর্দান্তভাবে মুম্বাইকে ফাইনালে তুলে এলেও ঘরের মাঠে শেষ বাধাটা পেরোতে পারলেন না ভারতের ‘ব্যাটিং দেবতা’।
ফাইনালে দলের ব্যাটিং দেখেই অতৃপ্ত ধোনি। সুরেশ রায়নার ফিফটির সৌজন্যে ৫ উইকেটে মাত্র ১৬৮ রানের লক্ষ্য দেওয়া গিয়েছিল শচীন টেন্ডুলকারের মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের সামনে। ধোনির অতৃপ্ত থাকারই কথা। শেষ পর্যন্ত বোলারদের সাফল্যে সে অতৃপ্তি কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। অধিনায়ক টেন্ডুলকার ৪৮ রান করে গেলেও মুম্বাইয়ের বাকি সব ব্যাটসম্যান মিলে করলেন ৯৮! মুম্বাইয়ের ডি ওয়াই পাতিল স্পোর্টস একাডেমি মাঠের ফাইনালটা ২২ রানে জিতে উৎসবে ভাসল ধোনির দল চেন্নাই সুপার কিংসই। এই সাফল্যের পর এ পর্যন্ত হওয়া আইপিএলের তিন আসরেরই সেরা দল বলতে পারেন চেন্নাইকে। প্রথমবার ফাইনালে উঠেও তারা হেরে গিয়েছিল শেন ওয়ার্নের রাজস্থান রয়্যালসের কাছে, পরেরবারও উঠেছিল সেমিফাইনালে, এবার তো চ্যাম্পিয়নই।
বোলারদের সৌজন্যেই শিরোপা জিতেছে চেন্নাই, আবার এই বোলারদের নিয়ে সামান্য একটু হতাশাও আছে ধোনির, ‘আমাদের ঘরোয়া পেসাররা ভালো বল করতে পারেনি।’ তবে নতুন বলে অস্ট্রেলিয়ান পেসার ডগ বলিঞ্জারের সঙ্গী অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন আশ্বিনকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন ধোনি, ‘পেসারের কাজটা সে-ই করে দিয়েছে। তার বোলিংটা খুবই কার্যকর, ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করা সেই ক্যারম বলটা তার হাতে আছে।’
তবে শিরোপা জয়ের পেছনে ধোনি টিম স্পিরিটের অবদানটাই বেশি দেখছেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রস্তুতির জন্য আমরা মাত্র ১০ দিন হাতে পেয়েছিলাম। বেশ কিছু ইনজুরির সমস্যাও ছিল। কাজেই দ্রুত একটা দল হয়ে ওঠাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জন্য।’
ধোনির জন্য আইপিএল জেতাটা অন্য কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই সাফল্য ভারত অধিনায়ককে অনুপ্রেরণা জোগাবে সন্দেহ নেই। এমনকি তাঁর বিশ্বাস, আইপিএল তাঁর খেলোয়াড়দের জন্য ক্লান্তির কারণও হবে না, ‘ক্লান্তি দূর করার খুব বেশি সুযোগ পাওয়া না গেলেও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই আমরা বিশ্বকাপে যাচ্ছি

কারাতে দলের সাফল্য

গোজো রিউ কারাতের একক কাতা ও কুমিতে তিনটি সোনা জিতেছে বাংলাদেশ। ২২-২৩ এপ্রিল ভারতের ঝাড়খন্ডে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্টে ছেলেদের ৭০ কেজি ওজন শ্রেণীতে সৈয়দ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মেয়েদের ৬০ কেজি ওজন শ্রেণীতে কামরুন নাহার (সাথী) ও ৭০ কেজি ওজন শ্রেণীতে শাহনেওয়াজ বেগম সোনা জিতেছেন।

লিওঁর মাঠ আর বায়ার্নের ইতিহাস

বায়ার্ন মিউনিখ চারবারের চ্যাম্পিয়ন, ফাইনাল খেলেছে আরও তিনটি। অলিম্পিক লিওঁর অপেক্ষা ক্লাবের ইতিহাসে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ফাইনাল খেলার। বায়ার্ন-লিওঁর লড়াইটাকে অসমই বলতে হবে। আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে দুই দলের এই অসম লড়াই।
গত সপ্তাহে বায়ার্নের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় প্রথম লেগের লড়াইয়েও দুই দলের ব্যবধানটা খুব করে চোখে পড়েছে। প্রথম লেগে বায়ার্নের জয়টা ১-০ গোলের। তবে ৩৭ মিনিটেই ১০ জনের হয়ে পড়া বায়ার্ন লিওঁকে উড়িয়েই দিয়েছিল সেই দিন।
প্রথম লেগে পিছিয়ে থাকা তো আছেই। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর পারফরম্যান্সের দিক থেকেও পিছিয়ে লিওঁ। এ সবই জানেন ফরাসি ক্লাব লিওঁর কোচ ক্লদ পুয়েল। সবকিছু জেনেও বায়ার্নকে একটা হুমকি দিয়ে রেখেছেন তিনি—বুক চিতিয়ে লড়তে জানে লিওঁ, আর জয় যখন একান্তই প্রয়োজন তখন আমরা ঠিকই সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে জানি।
সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার ম্যাচে অন্তত একটি বিষয় নিজেদের দিকে পাচ্ছে লিওঁ—আজকের ম্যাচটি হচ্ছে লিওঁর নিজেদের মাঠে। নিজেদের মাঠে, নিজেদের দর্শকদের সামনে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ক্লদ পুয়েলের দলের। তবে পরিকল্পনায় বাস্তবতার রং চড়াতে হলে আগের ম্যাচের ভুলগুলো করলে চলবে না, ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের এই উপদেশই দিচ্ছেন পুয়েল, ‘দলের মানসিকতায় অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা গত বুধবারের ম্যাচে বল দখলে ভালোই করেছি। তবে বল পেয়েও তা ধরে রাখতে পারিনি। নিজেদের অর্ধে বেশি সময় কাটিয়েছি। এই কৌশলটা শুদ্ধ করতে হবে আমাদের।’
লিওঁর ভাবনা যখন কৌশলে শুদ্ধতা আনা নিয়ে, বায়ার্ন ভাবছে চোট নিয়ে। প্রত্যয়ী লিওঁর সামনে পুরো শক্তির দল নিয়ে আজ হয়তো নামতে পারছে না জার্মান পরাশক্তি বায়ার্ন। বুন্দেসলিগার সর্বশেষ ম্যাচে পায়ের ইনজুরিতে পড়েছেন দলের দুই সেন্টার ব্যাক ড্যানিয়েল ফন বাউতেন ও মার্টিন ডেমিচেলিস। আজকের ম্যাচে এ দুজনের খেলার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায়।
বায়ার্ন মিউনিখের ডাচ কোচ লুইস ফন গল আর কী বলবেন! অন্তত একজন যেন আজকের ম্যাচের আগে ফিট হয়ে ওঠেন—এই প্রার্থনাই করছেন তিনি, ‘আশা করি, একজন সেন্টার ব্যাক অন্তত ফিট হয়ে উঠবে। যে ফিট থাকবে তার সঙ্গে হলগার বাডস্টুবারকে নামিয়ে দেব।’ চোট-হতাশা যেমন আছে, বায়ার্নে আছে একটি খুশির খবরও। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঝমাঠে ফিরছেন অধিনায়ক মার্কো ফন বোমেল। তবে ফন গলের আনন্দে বিষাদ ঢালতে প্রস্তুত পুয়েল। পুয়েলের কথা, ‘তারা কোয়ার্টার ফাইনালে যে দলটিকে (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড) হারিয়েছে আমরা তাদের চেয়ে বেশি ভালো নই। তবে এই দল নিয়ে আমরা বড় দলকে হারাতে পারি।’

রানীর প্রথম জয়

আরলিন ডেভেলপার জাতীয় মহিলা দাবার তৃতীয় ম্যাচে এসে জয়ের দেখা পেলেন আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে কাল রানী হামিদ সাদা ঘুঁটি নিয়ে ৩৫ চালের মাথায় হারিয়ে দেন ফিদে মাস্টার জাকিয়া সুলতানাকে। তৃতীয় রাউন্ডে জিতেছেন শারমিন সুলতানা (শিরীন), শামীমা আক্তার (লিজা), নাজরানা খান (ইভা) ও রোকসানা তিতলী। কাল শারমিন ইয়ন সরকারকে, শামীমা মাহমুদা হককে, নাজরানা প্রতিভা তালুকদারকে এবং রোকসানা দিলারা জাহানকে হারিয়েছেন। মাসুদা বেগম ড্র করেছেন জাহানারা হকের সঙ্গে। তৃতীয় রাউন্ড শেষে ৩ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে সবার ওপরে শারমিন, শামীমা ও নাজরানা।

ভালোবাসার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ‘শোয়েনিয়া’

ভারত থেকে পাকিস্তান পৌঁছে মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে অভিভূত হয়েছিলেন শোয়েব-সানিয়া। তবে মাত্রাতিরিক্ত ‘ভালোবাসা’র বিড়ম্বনাটা টের পেতে শুরু করেন এর পর থেকেই। দিন দুয়েক আগে শোনা গিয়েছিল উৎসাহী মানুষের ভিড়ে সানিয়া নাকি কেঁদেই ফেলেছিলেন। অত্যুৎসাহীদের যন্ত্রণায় এবার পণ্ড হতে বসেছিল শিয়ালকোট হকি স্টেডিয়ামে হওয়া শোয়েব-সানিয়া বৌভাত অনুষ্ঠানও। ঝামেলার শেষ নেই এখানেই, প্রাদেশিক সরকারের আইন ভঙ্গের অভিযোগে শোয়েবের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই লোক।
কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য গত বছর থেকেই বিয়েতে খাবারের একটির বেশি পদ পরিবেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পাঞ্জাব সরকার। তা ছাড়া এ ধরনের অনুষ্ঠান রাত ১০টার মধ্যেই শেষ করতে বলা হয়েছে। দুটি আইনই ভঙ্গ করার অভিযোগে লাহোর হাইকোর্টে পিটিশন করেছেন হাসান শেরাজ নামের একজন। শেরাজের দ্বিতীয় অভিযোগ, বিদ্যুৎ-সমস্যার জন্য রাজ্য সরকার যখন সবাইকে মিতব্যয়ী হতে বলেছে তখন শোয়েবের বিয়েতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জাও করা হয়েছে। আরেকটি অভিযোগ তো আরও বিব্রতকর। শোয়েবের এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে ১৫ হাজার রুপি দিয়ে বিয়ের নিমন্ত্রণ কার্ড কিনেও অনুষ্ঠানে যেতে না পারায় লাহোরের দেওয়ানি আদালতে মামলা ঠুকেছেন সফদার আলী নামের এক ব্যক্তি। ৫ থেকে ১০ হাজার রুপিতে বিয়ের কার্ড অনেকের কাছেই বিক্রি করেছেন শোয়েবের আত্মীয়রা, এমন অভিযোগও শোনা যাচ্ছে।
বিয়েতে নিরাপত্তারক্ষী ছিল প্রচুর, কিন্তু দাওয়াত না পাওয়ায় এত লোক ভিড় করেছিল যে নিরাপত্তারক্ষীদের হিমশিম খেতে হয়। অব্যবস্থাপনায় সানিয়ার বাবা-মা বিরক্ত হয়ে অনুষ্ঠান ছেড়ে আগেই নাকি লাহোরের উদ্দেশে রওনা দেন, যেখানে আজ হওয়ার কথা শোয়েনিয়া জুটির ‘ওয়ালিমা’ সংবর্ধনা। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হলে শোয়েব-সানিয়াও হকি স্টেডিয়াম ছেড়ে যান অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই। তারকা হওয়ার যন্ত্রণাটা এবার নিশ্চয়ই ভালোই টের পাচ্ছেন দুজন!

সাকিবদের প্রস্তুতি ম্যাচ আজ বারবাডোজে

প্রায় ২৭ ঘণ্টার দীর্ঘ বিমানভ্রমণ শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বারবাডোজে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। দলের ম্যানেজার তানজীব আহসান বিসিবিকে জানিয়েছেন নিরাপদে পৌঁছানোর খবর।
বাংলাদেশ দল ২৪ এপ্রিল রাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে দেশ ছাড়লেও উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম পরীক্ষার কারণে দলের সঙ্গী হতে পারেননি সেদিন। পরদিন রওনা দিয়ে তাঁর বারবাডোজ পৌঁছানোর কথা কাল রাতে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১ মে, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। তবে তাদের মাঠে নেমে যেতে হচ্ছে আজই। বারবাডোজের বিপক্ষে সাকিব আল হাসানের দল আজ প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটি খেলবে কেনসিংটন ওভালে। একই মাঠে আগামীকাল বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

সফরকারী-আয়োজক দুপক্ষই খুশি

এই সফর নিয়ে দুই পক্ষই খুব খুশি। এক পক্ষের খুশির কারণটা বোঝাই যায়—তারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটিতে ভ্রমণ করতে পেরেছে। আরেক পক্ষ অর্থাৎ যারা সফরটা আয়োজন করেছে তারা খুশি, সফরটা ‘খুব সফল হয়েছে’।
বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের ১২ সদস্যের ফুটবল দলের আমেরিকা সফরকে এভাবেই দেখছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও ঢাকায় আমেরিকান দূতাবাস। আমেরিকার স্টেট বিভাগের সংস্কৃতি বিনিয়ম কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ছিল ১২ দিনের এই সফর। যা শেষ করে পরশু ঢাকা ফিরেছে বাংলাদেশের সৌভাগ্যবান দলটি।
কাল বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরল দুই পক্ষ। তাতে জানা গেল, সফরে যাওয়া বাংলাদেশ দলের কাছে ওই কয়েকটা দিন ছিল স্বপ্নের মতো। ওয়াশিংটন ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে। নেওয়া হয়েছে ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ড রাজ্যেও। ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্ট, হোয়াইট হাউস, বিভিন্ন স্কুল, ওখানকার সেরা ৫ মহিলা ফুটবলারের সঙ্গে অনুশীলন, দর্শনীয় স্থান দেখানোসহ পেশাদার ফুটবল লিগে শিকাগো আর ডিসি ইউনাইটেডের ম্যাচ দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের দলটিকে।
সফরে ছিল অনূর্ধ্ব-১৬ বছর বয়সী ছয় ছেলে ও ছয় মেয়ে। তাদেরই দুজন ওমর ফারুক ও আঞ্জুমান খন্দকার (শান্ত) জানাল, তাদের কাছে অনেক ভালো লেগেছে এই সফর। সঙ্গে যাওয়া কর্মকর্তা সত্যজিৎ দাস (রুপু) সফর নিয়ে অভিভূত, ‘যেখানেই গিয়েছি আমরা সবার প্রশংসা পেয়েছি। আমরা ওদের মন জয় করে এসেছি।’ আরেক সফরসঙ্গী কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তারের (কিরণ) কথা, ‘ওরা উষ্ণ আতিথেয়তা দিয়েছে আমাদের। আমাদের ছেলেমেয়েরা এই সফর থেকে অনেক কিছু শিখেছে।’
ভবিষ্যতেও এমন সফর অব্যাহত রাখতে চান ঢাকায় আমেরিকান দূতাবাসের তথ্য বিভাগের প্রধান মেরিনা ইয়াসমিন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, ‘স্টেট ডিপার্টমেন্ট খুবই খুশি এই সফর নিয়ে। বাংলাদেশের এই সফরটা সবার মনেই দাগ কটেছে বলে জেনেছি। এমন সফর ভবিষ্যতেও করতে চাইব আমরা।’ দূতাবাসের সংবাদ ও তথ্য কর্মকর্তা হার্ভি ডব্লু সারনোভিেজর কথা, ‘এই সফরে দু দেশের মানুষ আরও কাছকাছি এল।’
বাফুফে কর্মকর্তা কাজী নাবিল আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম (বাচ্চু) ধন্যবাদ জানান সফর আয়োজকদের।

কাকার ‘দেশপ্রেমে’ অন্য গন্ধ

২০০৭ সালে কোপা আমেরিকায় খেলতে যাননি ইউরোপিয়ান ফুটবল খেলার ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে না পারায়। সে সময় ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ নিয়েই প্রশ্ন তুলে ফেলেছিল সংবাদমাধ্যম। বলেছিল, কাকা ক্লাবের, ব্রাজিলের নয়।
হায় রে নিয়তি! তিন বছর পর সেই কাকাকে আজ শুনতে হচ্ছে, ‘কাকা ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য ক্লাবের খেলায় ফাঁকি দিচ্ছেন।’ বিশ্বকাপে নিজেকে ফিট রাখতে তিনি নাকি কুঁচকির ইনজুরির ‘অজুহাত’ দিয়ে মাঠের বাইরে ছিলেন।
আলোচনাটা কিছুদিন ধরেই চলছিল। কুঁচকির ইনজুরি নিয়ে কাকা মাঠের বাইরে যাওয়ার পর থেকেই বলা হচ্ছিল, তিনি রিয়ালকে ফাঁকি দিচ্ছেন। বিশেষত স্পেনের সংবাদমাধ্যমই বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল, কাকা অস্ত্রোপচার করাতে রাজি না হওয়ায়। বলা হলো, কাকা ‘এভানজেলিকাল খ্রিষ্টান’ বলে ধর্মীয় কারণে অস্ত্রোপচার করাচ্ছেন না।
এই কথায় বিশ্বাস করল না স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম। তারা সমানে কাকার প্রতি সন্দেহের তীর ছুড়ে গেল। অবশেষে ৪৩ দিন পর মাঠে নামলেন কাকা। মাঠেই শুধু নামলেন না, ফিরেই নিজেকে প্রমাণ করলেন। জারাগোজার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচ এবং লিগ শিরোপা-স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা গোলটা করলেন।
প্রায় দুই মাস পর পাওয়া তাঁর প্রথম গোল রিয়ালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে সংবাদমাধ্যম চুপ থাকতে পারত। কিন্তু এবার তারা আরও আক্রমণাত্মক। আরও বেশি করে তারা ষড়যন্ত্র খুঁজে পাচ্ছে। মাদ্রিদভিত্তিক ক্রীড়া দৈনিক এএস লিখেছে, ‘যিশুর পুনরুত্থানে তিন দিন সময় লেগেছিল। আর তার অনুসারী কাকার সময় লাগল ৪৩ দিন!’ বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হতে পারেন, মাদ্রিদ কিন্তু কাকাকে এই ইনজুরির কারণে ভালোবাসতে পারেনি। সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য, মানুষ তোমাকে যত কম সন্দেহ করবে, তোমার জনপ্রিয়তা ঠিক ততটাই বেশি।
চুক্তির হিসাবে রোনালদোর পর এই গ্রহের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় কাকাকে প্রচ্ছন্নভাবে মিথ্যাবাদী বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য নিজেকে আগলে রাখছেন কাকা। কিন্তু কাকা নিজে কী বলছেন?
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের এই আচরণে যারপরনাই বিরক্ত ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার, ‘অনেক দিন ধরে ফুটবলে আছি। কিন্তু মানুষ যখন আমার ইনজুরির ব্যাপকতা নিয়ে সন্দেহ করে, তখন জঘন্য লাগে। আমি সমর্থকদের বলি, যখন আমি ব্যথা পাই, তখন অন্তত সন্দেহ করবেন না।’
বললেই কি আর লোকে শোনে? মানুষের কাজই যে এমন সন্দেহ করা। তবু এই সন্দেহের অন্য একটা দিক ভাবতে পারেন কাকা। তাঁর যে ব্রাজিল-প্রেম নিয়ে একদিন সন্দেহ তোলা হয়েছিল, আজ এই সন্দেহে সেই প্রেমটা উল্টো প্রতিষ্ঠা পেল।
কাকা তাহলে ব্রাজিলকে আরেকটা বিশ্বকাপ এনে দিয়ে দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন!

শেষ পর্যন্ত ইনিংস পরাজয়ই

লক্ষ্য ছিল একটাই—ইনিংস পরাজয় এড়ানো। বাংলাদেশ ‘এ’ দল ব্যর্থ সেখানেই। নাজিমউদ্দিন, ফয়সাল হোসেন আর সগীর হোসেনের লড়াইয়ের পরও শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের কাছে ইনিংস ও ৪ রানের ব্যবধানে হেরেছে তারা।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল শেষ দিনে আর ১৮৩ রান করলেই ইনিংস পরাজয় এড়াতে পারত বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ফয়সাল-নাজিম মিলে সেই সম্ভাবনা জাগিয়েও ছিলেন। আগের দিন ৯৪ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর চতুর্থ উইকেটে ১১৫ রানের জুটি গড়েছেন দুজন, কিন্তু লাঞ্চের আগেই শাবালালার বলে এলবিডব্লু হয়ে ফয়সালের বিদায়ে সেটা আর হয়নি। লাঞ্চের পর আর ১১৭ রান তুলতেই বাকি ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
১৫৩ বল খেলে ১২টি চার আর দুটি ছক্কায় নাজিমউদ্দিনের করা ৮২ রানই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস স্বাগতিকদের। এক ছক্কা আর চার চারে ফয়সালের ৫১ রান এসেছে ১০৯ বলে। এ ছাড়া সগীর হোসেন ৯৯ বলে ৪৪ রান করেছেন। বাঁহাতি স্পিনে ৬৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের সবচেয়ে সফল বোলার ডিন এলগার।
বিকেএসপিতে দুই দলের দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচটি শুরু হবে আগামী পরশু।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’: ৬৭৬/৯ ডিক্লে.। বাংলাদেশ ‘এ’: ৩৪৬ ও ৩২৬ (নাজিমউদ্দিন ৮২, ফয়সাল ৫১, সগীর ৪৪, নূর হোসেন ১৭, শাহাদাত ৪, এনামুল জুনিয়র ৮, রবিউল ৪*; এলগার ৩/৬৮, ফিলান্ডার ২/৭৭, শাবালালা ২/৮১, তোতসবে ১/৩০, ফন ডার ওয়াথ ১/৫১)। ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ ইনিংস ও ৪ রানে জয়ী।