Tuesday, May 27, 2014
‘নীল বিড়াল’-এর খোঁজে by মিজানুর রহমান খান

বাহাত্তরের সংবিধানপ্রণেতারা পাকিস্তানি অভিজ্ঞতা স্মরণ রেখে ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর হাতে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন। তার চেয়েও বড় কথা, সংবিধানপ্রণেতারা জানতেন ব্রিটিশ ধাঁচে সংসদীয় গণতন্ত্র ধারণ করলেও তাঁরা জ্ঞাতসারে বিচ্যুতি ঘটিয়েছেন৷ পাকিস্তানি ভীতিই ছিল না, বঙ্গবন্ধু–বিবেচনাও ছিল। প্রথমটা স্বীকার করা হয়, পরেরটা হয় না। বিচারকসহ অনেক সাংবিধানিক সংস্থার নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী একচ্ছত্র ক্ষমতা ভোগ করেন। অথচ তিনি চাইলেই এসব ক্ষেত্রে তাঁর কর্তৃত্ব হ্রাস করে আইন করতে পারেন। যে প্রধানমন্ত্রী এসপি-ডিসির বদলি মুঠোবন্দী রাখেন, তিনি তা করবেন না। ব্রিটেন ও ভারতে কেবিনেট কমিটি সরকারের অনেক কিছু চালায়। বাংলাদেশেও কয়েকটি কেবিনেট কমিটি আছে। তা প্রধানত প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাপূরণের হাতিয়ার। তাই যুগ্ম সচিব কিংবা জমির সার্ভেয়ারে আমরা সরকারের রূপ খুঁজে পেতেই পারি।
তবে আজ আমরা সরকার বুঝব বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ের আলোকে। ত্রয়োদশ সংশোধনীতে তিনি লিখেন, ‘সরকার সরকার হয়ে উঠবে যখন তা কতিপয়ের অঙ্গুলি হেলনে চলবে না, চলবে আইনে। কেউ আইনের উপরে নেই। ক্ষমতা জনগণের হাতে, কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে নয়।’ কোনো ঘটনায় নীরবতা, কোনো ঘটনায় গ্রেপ্তারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা ওই ‘অঙ্গুলি হেলন’ দেখি। তিনি আরও লিখেছেন, ‘১৬৮৫ সালে জন লক হবসের লেভিয়াথান নাকচ করেছিলেন। লক বলেছেন, জনগণই সার্বভৌম, কে তাদের শাসন করবে সেটাই কেবল তারা ঠিক করবে না, সরকারের তরিকা কী হবে, তাও তারা বাতলাবে।’
সরকার কী করে চলবে, সে বিষয়ে চার পণ্ডিত স্মরণীয়৷ থমাস হবস (১৫৮৮–১৬৭৯), জন লক (১৬৩২–১৭০৪), চাল৴স মঁতেস্কু (১৬৮৯–১৭৫৫) ও জাঁ জ্যাক রুশো (১৭১২–১৭৭৮)৷ লেভিয়াথান –এর রচনা ইংলিশ গৃহযুদ্ধের (১৬৪২–১৬৫১) পটভূমিতে৷ ওই সময়ের ইংল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কিছু মিল আমরা পাই৷ সংসদ গঠন ও সরকার কী উপায়ে চলবে, তা নিয়েই ছিল ওই যুদ্ধ৷ ইংল্যান্ড এ সময়টাতেই রাজতন্ত্র হটিয়ে প্রজাতন্ত্রের উত্থান, সামরিক শাসন ও গণতন্ত্রে উত্তরণ প্রত্যক্ষ করে৷ প্রথম চার্লস, যাঁর শিরশ্ছেদ ঘটেছিল, তাঁকে মনে পড়ে৷ সংসদ চেয়ো না, সুশাসন নাও—এমনই বুলি ছিল তাঁর৷ সংসদ ডাকলেন না ১০ বছর৷ ইতিহাসে তাঁর শাসন ‘১১ বছরের জুলুমশাহি’ হিসেবেও খ্যাত৷ নাগরিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী থেকেও হবস তত্ত্ব দিয়েছিলেন, ‘রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার অধিকার জনগণের নেই৷ রাজার সার্বভৌমত্ব নিরঙ্কুশ৷’ লক সেটাই নাকচ করলেন৷ জেফারসন লককে নিলেন৷ বঙ্গবন্ধুও নিলেন৷ তবে লক বলেছিলেন, ‘একটি রাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ ও নিষ্ঠুর ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে হলে শক্তিশালী অবিভক্ত সরকার দরকার৷ তবে সরকারের শাসন হতে হবে মৃদু৷’ বাংলাদেশ মৃদু শাসন দেখে না৷ দেখে ‘মৃদু লাঠিপেটা’–এর শাসন৷
২০১৪ সালের বাংলাদেশে আমরা তো হবস দেখি। ব্যক্তির সার্বভৌমত্ব দেখি৷ লক দেখি না। মঁতেস্কু ও রুশো আরও গণমুখী৷ ক্ষমতার পৃথক্করণ, বিচার বিভাগ পৃথক্করণ ওঁদেরই মন্ত্র৷ মাসদার হোসেনের রায় মঁতেস্কুর ওপর দাঁড়িয়ে৷ আমাদের সরকারগুলো তা চোখ বুজে নাকচ করে চলেছে৷ সংবিধানের শুরুতেই ‘আমরা বাংলাদেশের জনগণ’– কথাটি রুশো থেকে নিয়েছি৷ কিন্তু রুশো প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন, সেটা নিইনি৷ গণভোট হয়তো তাঁরই দর্শন৷ কারণ, রুশো বলেছেন, ‘জনগণের অভিপ্রায় কী, সে বিষয়ে তাদের দ্বারা নির্বাচিতরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না৷’ বাংলাদেশের বর্তমান টেকনিক্যাল গণতন্ত্র দেখলে রুশো নিশ্চয় মূর্ছা যেতেন৷ বিচারপতি খায়রুল হক যথার্থ লিখেছেন, ‘সরকার মূলগতভাবে একটি মোরাল ট্রাস্ট। সেটা ট্রাস্টি (সরকার) যদি রক্ষা করতে না পারে তাহলে ওই ট্রাস্ট বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।’ বাংলাদেশের সরকারগুলো হামেশা ওই বাজেয়াপ্তের সংজ্ঞায় পড়ে।
বিচারপতি খায়রুল হককে সমর্থন করতে আমরা একেবারেই নিরুপায় হয়ে পড়ি, যখন তিনি মন্তব্য করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতোই বাংলাদেশ সংবিধান রাষ্ট্রীয় তিন স্তম্ভের সকল ক্ষমতা ও কার্যাবলির সন্দেহাতীত উৎস।’ এটা উৎস, কিন্তু তা সরকারের নিজের মতো করে। ওই দুটি দেশের সঙ্গে কিছুতেই তা তুলনীয় নয়। দুই দেশেই নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে৷
ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ের ১১৭৯ অনুচ্ছেদে তিনি লিখেছেন, ‘প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত।’ এটা তাঁর সৃজনশীল ব্যাখ্যা৷ আমরা সমর্থন করি৷ কিন্তু সংবিধানে তা লেখা নেই৷ এবং আমাদের কাছে উপযুক্ত দলিল আছে যেখানে আমরা দেখি, বাহাত্তরে এটা সুচিন্তিতভাবে বর্জন করা হয়েছিল৷ সংবিধানপ্রণেতারা নির্বাহী ক্ষমতাটা একা প্রধানমন্ত্রীর কবজায় দিতে চাননি৷ বুঝতে পারি কিংবা বুঝতে চাই যে, বিচারপতি খায়রুল প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকে ব্যক্তিনির্ভর নয়, সমষ্টিগত করার প্রশংসনীয় অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। তবে সরকার কেবল তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের অংশটুকু পড়েই তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছে৷ অথচ এটাও তার অবশ্যপাঠ্য৷ এর আলোকে সংবিধান শোধরাতে হবে।
সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা ২০১০ সালে দেওয়া ওই রায়ের আগে ও পরে একই থাকার কথা নয়। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার যে সংকোচন ঘটেছে, সেটা মানতে হবে৷ আলোচনা করতে হবে। তবে সংবিধানের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ একটি সমাজের রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগপত্রটা হাতে নিলেন৷ রাষ্ট্রপতিকে সার্কনেতাদের আমন্ত্রণ পরিকল্পনা খুলে বললেন৷ রাষ্ট্রপতি মুগ্ধ৷ কারণ, তিনি জানলেন এ নিয়ে মোদি কংগ্রেস সরকারের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছেন৷ এসব সংবিধানে লেখা থাকবে না৷
বিচারপতি খায়রুল হক লিখেছেন, ‘একটি সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় ভূমিকায় থাকেন।...মন্ত্রিসভা হচ্ছে একটি সংসদীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রী যার প্রধান, আর তারাই চূড়ান্ত নীতিনির্ধারণী এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়ামক।...সুতরাং এই সংসদীয় গণতন্ত্র সংবিধানের একটি মৌলিক কাঠামো, যা সংসদ সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যও হ্রাস বা পরিবর্তন করতে পারে না।’ এই যুক্তিতেই ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিলোপ ঘটল। এত সব কাণ্ড ঘটল। কিন্তু তার বিনিময়ে কী পেলাম। যে সংসদীয় গণতন্ত্র ‘মৌলিক কাঠামো’, সেটা কোথায়? কোথায় খুঁজি তারে।
সুতরাং মানছি তাঁকেই, একটি মন্ত্রিসভা সরকার পরিচালনার নিয়ামক শক্তি হয়ে উঠলে তবে বাংলাদেশ বিচারপতি খায়রুল হক বর্ণিত মৌলিক কাঠামোতে উন্নীত হবে। এখন এটা পোকায় খাওয়া। তাঁরই বাতলানো পথে আমরা হাঁটব: ‘আমাদের সংবিধান এমন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রতিষ্ঠা করেছে যে, যা কিনা একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সরকার নিশ্চিত করেছে। আর সেটা মৌলিক ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা দিচ্ছে। ক্ষমতাকে বিভক্ত ও পৃথক করেছে। যাতে করে কোন ব্যক্তি কিংবা বিশেষ পদাধিকারী যথেষ্ট শক্তিশালী না হয়ে ওঠে।’
বাস্তবে এটা আমরা অর্জন করিনি, করতে হবে৷ ওই ব্যক্তিই শক্তিমান, প্রধানমন্ত্রী সর্বত্র বিরাজমান। তাই বলি, এ দেশে প্রধানমন্ত্রীই সরকার। তবে বিচারপতি খায়রুল হকের কথা দিয়েই শেষ করি। গত ২৫ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের পুনর্মিলনীতে তিনি একটি চমৎকার সুলিখিত ভাষণ দিয়েছেন। বলেছেন, প্রায় ৫০ বছর আগে অধ্যাপক সাইদুর রহমান তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমরা অন্ধকারে একটি নীল বিড়াল খুঁজে বেড়াচ্ছি।’ ৫০ বছর পরে তিনি সেখানে জুতসই সংশোধনী এনেছেন যে ‘আমরা সকলেই অন্ধকারে নীল বিড়াল খুঁজি, তবে কথা হলো বিড়ালটা সেখানে নেই।’
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট- ডানে বামে আসন ভাগাভাগি by সরাফ আহমেদ
ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোয় এই দলগুলোর সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তি ইউরোপের রাজনীতিতে তাদের ক্রমাগত উত্থান হিসেবে দেখা দিলেও, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে সর্বোচ্চসংখ্যক ২১১টি আসন পেয়েছে ক্রিশ্চিয়ান গণতান্ত্রিক ধারার জোট এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯৩টি আসন পেয়েছে সামাজিক গণতান্ত্রিকদের জোট।

২০০৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল ইউরোপীয় ক্রিশ্চিয়ান গণতান্ত্রিক জোট আর দ্বিতীয় হয়েছিল সামাজিক গণতান্ত্রিক জোট; পাঁচ বছর পর ২০১৪ সালের নির্বাচনে সেই ফলাফলেরই পুনরাবৃত্তি ঘটল। ২২ থেকে ২৫ মে টানা চার দিনে নিজ নিজ দেশগুলোর জনসংখ্যার ভিত্তিতে বণ্টিত দেশগুলোর নির্ধারিত আসনে, সর্বমোট ৭৫১ আসনবিশিষ্ট ইউরোপীয় পার্লামেন্টভুক্ত নানা দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের নির্বাচিত করলেন ২৮টি দেশের চার কোটি মানুষ। ইউরোপ মহাদেশের ৪৭টি দেশের সবাই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অন্তর্ভুক্ত না হলেও নানা ভিন্ন জাতিসত্তার একই ছাদের িনচে পার্লামেন্টে বসা একটি বিরল দৃষ্টান্ত। ১৯৫৭ সাল থেকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কার্যক্রম শুরু হলেও সরাসরি জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন শুরু হয় ১৯৭৯ সাল থেকে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর ইউরোপীয় রাজনীতিকদের মধ্যে সংশয় ও অবিশ্বাস কাটিয়ে অভিন্ন ইউরোপ গড়ার যে প্রবণতা, তারই ফসল আজকের এই ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। তবে যে উদ্দেশ্য নিয়ে ইউরোপীয় রাজনীতিকেরা এই ঐক্যবদ্ধতাকে আরও এগিয়ে নিতে চাইছিলেন, তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাম্প্রতিক কালের ইউক্রেন সমস্যা। অবশ্য এর আগেও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সাবেক যুগোস্লাভিয়া ও ইরাকের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে নানা মতপার্থক্য দেখা দিলেও তা সংকটে পরিণত হয়নি, প্রতিকূলতা থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার প্রবণতা রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর সাত দশক ধরে ইউরোপীয় রাজনীতি মূলত চারটি ধারায় পরিচালিত হচ্ছে। ধারাগুলো ক্রিশ্চিয়ান গণতান্ত্রিক ধারা, সামাজিক গণতান্ত্রিক ধারা, লিবারেল গণতান্ত্রিক ধারা এবং বাম রাজনৈতিক ধারা৷ এই মূল রাজনৈতিক ধারার বাইরে পরিবেশবাদী সবুজ দলও বেশ এগিয়ে যাচ্ছে। নব্বই দশকে দুই পরাশক্তির ঠান্ডা যুদ্ধের অবসান তথা সোভিয়েত রাষ্ট্রের ভাঙনের পর থেকে বাম রাজনীতির ধারা বেশ পিছিয়ে গেলে বা হোঁচট খেলেও একদম শেষ হয়ে যায়নি। আর এই চারটি ধারার জোটই ইউরোপীয় রাজনীতিতে এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রভাব বিস্তার করছে। তবে এবারের নির্বাচনে সম্মিলিত ইউরোপীয় দৃষ্টিভঙ্গিবিরোধী বর্ণবাদী কট্টর দক্ষিণপন্থী দলগুলোর ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ব্রিটেন, অস্ট্রিয়ার মতো দেশগুলোয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং ভোটপ্রাপ্তি সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।
পূর্ব ইউরোপে সমাজতান্ত্রিক ধারার বিলোপ আর অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিস্তারের পর থেকে ইউরোপীয় রাজনৈতিক ধারায় মূলত দক্ষিণপন্থী ক্রিশ্চিয়ান গণতান্ত্রিক দল ও সামাজিক গণতান্ত্রিক দল দুটিই ঘুরেফিরে বিভিন্ন দেশের ক্ষমতায় আসীন হচ্ছে। কোনো কোনো সময় এই দল দুটির সঙ্গে অন্যান্য ধারার ছোট দলগুলোও শরিক হচ্ছে। তবে ইউরোপের নানা দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ইউরোপ ঐক্যবিরোধী, কট্টর জাতীয়তাবাদী বা নব্য নাৎসি দলগুলো স্থান বিশেষে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং এবারের নির্বাচনে ফ্রান্স, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড এই দলগুলোর সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তি ইউরোপের রাজনীতিতে তাদের ক্রমাগত উত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদের পুঁজি কৌশলী সস্তা স্লোগান, অভিবাসীবিদ্বেষী আস্ফালন তথা ইসলামবিদ্বেষ আর ইদানীং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইউরোপীয় ঐক্যের বিরোধিতা। এই কৌশল অবলম্বন করে এরা ফ্রান্স, হল্যান্ড, জার্মািন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, গ্রিস, ইতালি প্রভৃতি দেশগুলোয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং স্থানীয় শহর জেলা বা প্রাদেশিক পার্লামেন্ট নির্বাচনগুলোয় মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ক্ষমতার অংশীদারি করতে চাইছে বা করছে। তবে জাতীয় নির্বাচন বা রাজনীতিতে এরা এখনো তেমন সুবিধা করতে পারেনি।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় সমস্যাকে পুঁজি করে এই দলগুলো দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও আশার কথা, সব জায়গায় রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে এরা প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে। অবশ্য ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে এ ধরনের উগ্র জাতীয়তাবাদী দলগুলোর, পার্লামেন্টে জোট বাঁধতে ২৮টি সদস্যদেশের ৭৫১ জন সদস্যবিশিষ্ট ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক-চতুর্থাংশ দেশ, অর্থাৎ সাতটি দেশের ন্যূনতম ২৫ জন সংসদ সদস্যের প্রয়োজন।
সেই ১৯৫৭ সালে নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কয়লা আর ইস্পাত বিনিময়ের মাধ্যমে ছয়টি ইউরোপীয় দেশ যে অর্থনৈতিক সমঝোতা করেছিল, তা পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নামে, যা ২৮টি জাতির জাতিগত সমন্বয় আর সমঝোতার বিশ্বজনীন উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, ইউরো মুদ্রা চালু, ভিসামুক্ত যাতায়াতব্যবস্থাসহ নানা রকম শিক্ষা, সাংস্কৃতিক গবেষণামূলক কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ভোক্তানীতি, মানবাধিকার, বিশ্ব নিরাপত্তা ও শান্তি এবং দরিদ্র দেশগুলোর উন্নয়ন–সহযোগিতার কর্মসূচি ও পরিকল্পনা—সব বিষয়েই আলোচনা ও প্রস্তাবগুলো গৃহীত ও আইনে রূপান্তরিত হচ্ছে এই বহুজাতিক পার্লামেন্টের অধিবেশনগুলোতেই।
ইউরোপীয় রাজনীতিকেরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ইউরোপে যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কৃতি তথা মহাদেশীয় পার্লামেন্টারি প্রথা গড়ে তুলেছে, তা বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হয়েই থাকবে।
সরাফ আহমেদ: প্রথম আলোর হ্যানোভার (জার্মানি) প্রতিনিধি৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চারপাশের উত্তাপে ওষ্ঠাগত জীবন by মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার
মুনাফাখোর ও মূল্যসন্ত্রাসী সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার প্রতিশ্র“তি দিয়ে মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু পাঁচ বছরে ওই সরকার সে কাজটি করতে পারেনি। বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় মহাজোট সরকার ব্যর্থ হয়েছিল। আর ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত নড়বড়ে সরকার যে ওই কঠিন কাজটি করতে পারবে এমনটি বিশ্বাস করা কঠিন। কারণ এ সরকার তার নৈতিক বৈধতা নির্মাণে বেশি মনোযোগ দিতে গিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের কাজে মনোযোগ দিতে পারবে না। ফলে বাজারের উত্তাপ সহজে কমবে না। আর কিছুদিন পরই আসছে মুসলমানদের পবিত্র মাহে রমজান মাস। আর এ রমজানকে লক্ষ্য করে মূল্যসন্ত্রাসী সিন্ডিকেটবাজরা এখন থেকে ছোলা, পেঁয়াজু, রসুন, আদা, চিনি প্রভৃতি পণ্য টার্গেট করে অবৈধ মুনাফা করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
মূল্যসন্ত্রাসী সিন্ডিকেটবাজদের মুনাফা করার নানা কৌশল আছে। এর একটি হল- রোজা শুরু হওয়ার আগেই এরা একবার মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে রাখে। পরে রোজা শুরু হলে আরেক দফা স্বল্প মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে দাবি করে, এবার রোজায় খুব বেশি মূল্যবৃদ্ধি ঘটেনি। এ পুরনো কৌশল অবলম্বন করে এখনই বাজারে একদফা মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। এ কৌশলের অংশ হিসেবে চাল, আদা ও পেঁয়াজের দাম এখনই বেশ কিছুটা বাড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এক কেজি চায়না আদার দাম এখন ২০০ থেকে ২২৫ টাকা। সরু চালের দামও বেড়েছে কেজিতে দু-তিন টাকা করে। বাজারের উত্তাপ এমনই যা সবাইকে স্পর্শ করে। সাধারণ মানুষ এ নড়বড়ে সরকারের অধীনে রোজা আসার আগেই বাজারের উত্তাপে নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েছেন। আর রোজা আসার পর যে নিত্যপণ্যের মূূল্য আরেকটি লাফ দেবে এবং সিন্ডিকেটবাজরা রোজাদারদের পকেট কেটে ফুলে-ফেঁপে উঠবে তা বলা যায়। পরিস্থিতি বিচার করে বলা যায়, বাজারের উত্তাপ কমাতে সরকার সুবিধা করতে পারবে না।

প্রাকৃতিক উত্তাপ না কমলে সে দায় সরকারকে দেয়া যায় না। কারণ এ ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় নেই। বিশ্বব্যাপী উষ্ণায়ন বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। জলবায়ুর আমূল পরিবর্তনে ঋতুবৈচিত্র্যে এসেছে নতুনত্ব। এখন আর আগের মতো শীত পড়ে না। হয় না আগের মতো অধিক হারে বৃষ্টিপাতও। বার্ষিক সার্বিক বৃষ্টিপাত হ্রাস পাওয়ায় মানব আচরণে এবং প্রকৃতির চরিত্রেও তার প্রভাব পড়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে দায়ী না করা গেলেও সরকারের উচিত নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে দেশবাসী যাতে মানিয়ে নিয়ে সম্পৃক্ত হতে পারেন, তেমনভাবে তাদের উদ্বুদ্ধ করা। ষড়ঋতুর দেশে এখন গ্রীষ্মের প্রভাবই যেন সবচেয়ে বেশি। জীবন-সংগ্রামে নিয়োজিত সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষণস্থায়ী বসন্ত কখন আসে বা যায়, তা খুব একটা স্পষ্ট হয় না। হেমন্ত আর বসন্তের অস্তিত্ব জনসাধারণের জীবন থেকে হারিয়ে যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
রাজনীতির উত্তাপ নিয়ে অনেক কিছু বলার আছে। এ উত্তাপের হ্রাস-বৃদ্ধিতে সরকারের, বিরোধী দলের এবং সর্বোপরি জনগণের করণীয় আছে। দেশে রাজনৈতিক উত্তাপ-উত্তেজনা বেশি হলে সে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে না। এজন্য দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনীতির স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন। আর এ স্থিতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা জরুরি। তবে যে কোনো সরকারই কিন্তু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে একই রকম ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে না। অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের পক্ষে এ কাজ করা যতটা সহজ, জনগণের ম্যান্ডেট না নিয়ে সংকট ধামাচাপা দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে সচেষ্ট সরকারের পক্ষে সে কাজ করা ততটা সহজ নয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে রাজনীতির উত্তাপ কমানোর কাজটি কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সরকার যদি সত্যিই রাজনৈতিক উত্তাপ কমাতে চায়, তাহলে তাকে বিরোধী দলের সঙ্গে সহমর্মিতা ও সমঝোতা সৃষ্টির পথে অগ্রসর হতে হবে। এছাড়া একতরফাভাবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো বিকল্প পথ নেই। কিন্তু সরকারি কাজে সমঝোতা সৃষ্টির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সমালোচনা ও বিরোধিতা দমিয়ে রেখে বা হামলা-মামলা এবং গ্রেফতার, খুন-গুম ও আতংক সৃষ্টি করে রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা যায় না।
বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতির দিকে লক্ষ্য করলে স্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্যোগ চোখে পড়ে না। রাজনৈতিক সমঝোতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের খুন, গুম ও অপহরণের নৈমিত্তিক খবর দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে রাজনৈতিক পরিচয়ধারীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় চলমান রাজনীতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার যদি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করত, তাহলে দ্রুতই রাজনৈতিক উত্তাপ হ্রাস পেত। এ কাজ করার পরিবর্তে সরকার বিরোধী দলকে দুর্বল করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার উপায় খুঁজতে ব্যস্ত। এ লক্ষ্যে সরকারপ্রধান বিরোধী দলকে এর অন্যতম মিত্র জামায়াত থেকে দূরে রাখার পরিকল্পনায় অনেকটা এগিয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। দশম সংসদ নির্বাচনপরবর্তী সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার ‘ধীরগতি’ এবং দেশের কতিপয় অঞ্চলে জামায়াত নেতাদের জোট বেঁধে আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনায় সাধারণ মানুষ মনে করছেন, সরকার বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার লক্ষ্যে বিএনপি থেকে জামায়াতকে সরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় অনেকটাই সফল হতে যাচ্ছে। উপজেলা নির্বাচনের সময় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা অনেক উপজেলায় টেবিলকাস্ট, ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরা ও ভোট কাটাকাটি করতে পারলেও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলেকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভে বাধা দেয়নি।
বিএনপির আরেক মিত্র হেফাজতে ইসলামকেও সরকার কাছে টানতে পেরেছে বলে আপাতত প্রতীয়মান হচ্ছে। উল্লেখ্য, হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে এ সংগঠনটির সরকার ঘনিষ্ঠতা প্রকাশিত হয়ে পড়ছে। হেফাজতের প্রতি সরকারের ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের নির্দয় আচরণের বর্ষপূর্তিতে এ বছর সংগঠনটি কোনো বড় রকমের কর্মসূচি না দিয়ে যতদূর জানা যায়, তাদের কর্মসূচি নীরব ও শান্তিপূর্ণ এবং দোয়া মাহফিলে সীমাবদ্ধ রেখেছে। হেফাজতের আমীরের সঙ্গে এ বছর ১৭ মার্চ সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সাক্ষাৎ করেন। ২২ এপ্রিল বৈঠক করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এবং ১১ ও ১২ এপ্রিল চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে শানে রেসালত সম্মেলনের একদিন আগে এক ঘণ্টার বৈঠক করেন সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। মন্ত্রী মহোদয়ের উল্লিখিত বৈঠকের পরদিন লালদীঘির সম্মেলনে মাওলানা আহমদ শফী আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে বক্তব্য দেন। হেফাজতের এ আচরণে অনেক হেফাজত অনুসারী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে একে ‘তৌহিদি জনতার রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বিবেচনা করেন।
খেলাফত আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক ৫ মে’র বর্ষপূর্তিতে হেফাজতের নীরবতা ও ম্রিয়মাণ কর্মসূচির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সেদিনের মর্মান্তিকতাকে ভুলতে পারছি না। ভুলতে পারবও না। তারা কিভাবে ভুলে থাকত পারেন তা বোধগম্য নয়।’ তবে রাজনৈতিক কূটকৌশলে অনভিজ্ঞ হেফাজতে ইসলামকে এখনই বিশ্বাসঘাতক মনে করা যথার্থ হবে না। ৫ মে’র সমাবেশ চলাকালে যে বিএনপি চেয়ারপারসন ঢাকাবাসীকে তাদের পাশে এসে দাঁড়াতে বলেছিলেন, সে দলটির সঙ্গে না থেকে নিজ ক্ষতস্থানে সরকার কিছু সান্ত্বনা ও প্রলোভনের মলম লাগালেই যে হেফাজত বিএনপির বিরুদ্ধে গিয়ে স্থায়ীভাবে সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে পড়বে এমনটি বিশ্বাস্য নয়। মামলা ও সরকারি হুমকি-নিপীড়নের চাপে হয়তো সংগঠনটি এখন সরকারের শেখানো সুরে বক্তব্য দিতে বাধ্য হচ্ছে, কিন্তু সময় এলে হয়তো এরাই আবার ভিন্ন সুরে বক্তব্য প্রদানে দ্বিধাগ্রস্ত হবে না।
সরকারের মনে রাখা ভালো, বিভিন্ন রাজনৈতিক কূটকৌশলের খেলার মধ্য দিয়ে প্রতিশ্র“ত মধ্যবর্তী একাদশ সংসদ নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার বিষয়টি জনসাধারণ মোটেও ভালো চোখে দেখছেন না। এর ফলে সরকারের কট্টর সমর্থক নাগরিকরা বাদে বাকি সবাই সরকারের সমালোচনা করছেন এবং ক্রমান্বয়ে সরকারের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছেন। সরকারের উচিত ছিল বেশি চালাকি না করে জনসেবামূলক কাজ বাড়িয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে ভাসমান ভোটারদের নিজ পক্ষে রাখার চেষ্টা করা। এ পথে এগোলে একদিকে সরকার নিজের পক্ষের সমর্থক হারাতো না এবং অন্যদিকে দেশে প্রবহমান রাজনৈতিক উত্তাপ কমে আসত। সরকার কিছু না করলেও আর মাসখানেকের মধ্যে নিয়মিত বৃষ্টিপাত শুরু হলে প্রাকৃতিক উত্তাপ কমে আসবে। কিন্তু বাজার আর রাজনীতির উত্তাপ কমাতে সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে। সরকারের উচিত হবে এ ক্ষেত্রে জনগণের সঙ্গে বেশি রাজনীতি করে এবং তাদের বোকা মনে করে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা না করে গঠনমূলক পথে অগ্রসর হওয়া। তা না হলে বিরোধী দল ও জনগণের বিরাগভাজন হয়ে এককভাবে সরকারের পক্ষে চলমান রাজনৈতিক উত্তাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।
ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
akhtermy@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রক্ত ও রাজনীতি by সৈয়দ আবুল মকসুদ
রাজনীতির সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক চিরকালের। শুধু আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির শাসনামলে নয়, আওরঙ্গজেবের দুটি হাতেই রক্ত ছিল। তাঁর তিন ভাই ছিলেন—দারা শিকোহ, সুজা ও মুরাদ। আওরঙ্গজেবের হাত যদি তিনটি থাকত, তা হলে তিন হাতেই থাকত রক্ত। তাঁর টুপি সেলাই ও কোরআন নকল করে বিক্রির গল্প আমরা স্কুলে পড়েছি। তঁার সততা চ্যালেঞ্জ করার সাহস নেই। কিন্তু ভাইদের ও অন্যদের রক্ত যে তাঁর হাতে লেগে ছিল অামৃত্যু, তাতে সন্দেহ পোষণ করি না।
সিরাজউদ্দৌলা ও তাঁর সেনাদের রক্ত ছাড়া ক্লাইভ ও তাঁর লোকেরা ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য বিস্তার করতে পারতেন না। ইংরেজরা খুব অল্পস্বল্প রক্তখোর ছিল না। যারাই স্বদেশের স্বাধীনতা চাইত তাদেরই রক্ত খেতে চাইত। ১৮৫৭-তে তারা দিল্লির লালকেল্লা থেকে ঢাকা সদরঘাটের বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত রক্তের বন্যা বইয়ে দেয়। িততুমীর, ক্ষুদিরাম, সূর্য সেনদের রক্ত দিতে হয়। তাঁরা চেয়েছিলেন তাঁদের দেশের মাটি থেকে বিদেশিদের তাড়াতে। তার নাম স্বাধীনতা। স্বাধীনতা একটি রাজনৈতিক বিষয়। চরমপন্থী নেতারা বলতেন, তোমরা যখন এ দেশের মানুষের রক্ত নিচ্ছ, রক্ত দিয়ে হলেও আমরা স্বাধীনতা আনব। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বললেন, ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।’
গান্ধীজি ছিলেন অন্য রকম নেতা। রক্ত পছন্দ করতেন না। প্রাণী হত্যা হবে বলে ডিম পর্যন্ত খেতেন না। প্রাণিজ প্রোটিনের মধ্যে ছাগলের দুধ। স্বাধীনতা তিনিও খুবই চান, কিন্তু রক্তপাত ছাড়া। অহিংস পথে। কিন্তু তিনি চাইলেই যে রাজনীতি অহিংস থাকবে তার নিশ্চয়তা কী? তাঁর দলেরই অন্য নেতারা চান না। তাঁদের লোকেরা জ্বালিয়ে দিলেন চৌরিচৌরা থানা। থানার সব পুলিশ শুধু নয়, একটি শিশুও মারা যায়। শোকে স্তব্ধ হয়ে যান গান্ধীজি। আন্দোলনই বন্ধ করে দিলেন।
তঁার নেতৃত্বে ভারত স্বাধীন হলো। হিন্দুধর্মকে তিনি ভালোবাসতেন তাঁর প্রাণের চেয়ে বেশি। স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ মাস পরে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতেই তাঁর প্রাণ গেল। বিড়লা হাউসের মেঝে ভেসে গেল তাঁর পবিত্র রক্তে। অখ্যাত নাথুরাম গডসের ঠাঁই হলো ইতিহাসে। পৃথিবীর ঘৃণ্য ঘাতকের তালিকায় উঠল তাঁর নাম।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রক্তের ওপর দিয়ে। কলকাতা, নোয়াখালী, বিহারে রক্তের স্রোত বইল। পাঞ্জাবে যে রক্তবন্যা প্রবাহিত হয়, তার তুলনা সমগ্র মানবজাতির ইতিহাসে বিরল। জিন্নাহকে যক্ষ্মা বাঁচিয়ে দিয়েছিল। ক্ষয়রোগে মারা না গেলে তাঁর ভাগ্যও গান্ধীর মতো হতো। তিনি প্রাণ দিতেন মুসলিম মৌলবাদীদের হাতে। কারণ, তিনি চাইছিলেন মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও পাকিস্তান হবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। তাঁর ভাষায় ‘রিলিজিয়ন শুড নট বি অ্যালাউড টু কাম ইনটু পলিটিকস’—ধর্মকে রাজনীতিতে টেনে আনা উচিত নয়। যে রক্তের রাজনীতির ভেতর দিয়ে পাকিস্তানের জন্ম—রক্ত তাকে ছাড়বে কেন? রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতার স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান রক্তপিপাসুদের হাত থেকে বাঁচতে পারলেন না।
২৪ বছর রক্তের রাজনীতি অব্যাহত থাকল। বাংলার মানুষকে দাবিয়ে রাখতে হবে। বাংলার মানুষ মুক্তি চায়। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ।’ কিন্তু যা অনুমান করা গিয়েছিল, রক্ত দেওয়ার পরিমাণটা তার চেয়ে হাজার গুণ বা ১০ হাজার গুণ বেশি হলো। স্বাধীনতা এল, রক্তপাত থামল না। রক্তপাতের রাজনীতিই বহাল রইল। সাধারণ মানুষেরও মুক্তি এল না।
রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা-রাষ্ট্রপতি ১৫ আগস্ট সপরিবারে রক্তের রাজনীতির শিকার হলেন। অভাবনীয় মর্মান্তিক ঘটনা। সাধারণ মানুষের তাতে কোনো ভূমিকা ছিল না। রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী ও তাঁরই দলের—অন্য কোনো দলের নয়—একশ্রেণির রক্তপ্রিয় নেতাই ঘটনা ঘটান। তবে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতার অপঘাতে মৃত্যুর মধ্য দিয়েই যে রক্তের রাজনীতি থেমে যায় তা নয়। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় যাঁরা প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন, কারাগারের কড়া নিরাপত্তার ভেতরেও তাঁদের চারজনের জীবন যায় ঘাতকের হাতে।
রক্তের রাজনীতি বন্ধ হলো না। চট্টগ্রাম পুরোনো সার্কিট হাউসের বারান্দা ভেসে গেল রক্তে। রাষ্ট্রপতির এককালের সহকর্মী-বন্ধুরাই ঘাতকের দায়িত্ব পালন করেন। জনগণের যে ওই রক্তপাতে কোনো ভূমিকা ছিল না, তা তারা জানিয়ে দিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজায় অংশ নিয়ে।
বাংলার মাটিতে রক্ত ও রাজনীতি সমার্থক। উগ্র বামপন্থীরা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব করবেন, তাঁদের প্রয়োজন রক্তের। শ্রেণিশত্রু খতম শুরু হলো। ইসলািম মৌলবাদীরা আল্লাহর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। ছুরি নিয়ে নেমে পড়লেন রাস্তায় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে। প্রগতিবাদীদের কল্লা ও হাত-পায়ের রগ কাটা শুরু হলো। রাজনীতি যখন করেন তখন পাতিবুর্জোয়ারা বসে থাকতে পারেন না সুফিদের মতো। প্রতিপক্ষদের সরিয়ে না দিলে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা যায় না। এ দেশে কারও হাতে মুজিবের রক্ত, কারও হাতে সিরাজ সিকদারের রক্ত, কারও জামায় জিয়ার রক্ত, কারও জামাকাপড়ে তাহেরের রক্ত, কারও হাতে ডাক্তার মিলনের রক্ত। গণতান্ত্রিক শাসনামলের কারও হাতই রক্তমুক্ত নয়।
রক্তের রাজনীতি ছাত্ররাজনীতিতে সংক্রমিত না হয়ে পারে না। মুহসীন হলের চত্বর ভেসে গেল সাত ছাত্রনেতার রক্তে। সেই যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদের লাশ পড়া শুরু হলো, আজও তা থামেনি। মাত্র কয়েক দিন আগেই ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রক্তে লাল হলো। সে রক্ত রাজনীতিবহির্ভূত রক্ত নয়। ক্ষমতার জন্য রক্তপাত।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেই রক্তের চড়া দাম। নেপালে মাওবাদী ও অ-মাওবাদীরা লড়াই করে রক্তবন্যা বইয়ে দিলেন। হাজার হাজার জীবন গেল, সমাজতন্ত্র এল না। রাজপ্রাসাদে নাশতার টেবিলে গোটা রাজপরিবার শেষ হয়ে গেল মুহূর্তে। শ্রীলঙ্কায় বন্দরনায়েক থেকে শুরু। কতজন নেতা প্রাণ হারালেন। স্বাধীন তামিল রাষ্ট্রের জন্য আন্দোলনে দুই পক্ষেরই হাজার হাজার লোক নিহত হন। ভারতে দুজন জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী আততায়ীর হাতে জীবন দিলেন। তার জের ধরে প্রাণ গেল হাজার হাজার মানুষের। মিয়ানমারের রাজনীতিতে রক্তপাতের শুরু সু চির বাবার থেকে।
এই উপমহাদেশে রক্ত ছাড়া রাজনীতি অচল। ভারতের মতো সুপ্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেও রক্তের চড়া দাম। মাওবাদীদের সঙ্গে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ লেগেই আছে। এক অবিস্মরণীয় নির্বাচন হয়ে গেল। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর পাকিস্তানে ডনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রখ্যাত লেখিকা অরুন্ধতী রায় বলেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদিকে বেছে নেওয়া হয়েছে কারণ তিনি এমন ব্যক্তি, যিনি রক্তপাতের মুখেও—শুধু মুসলমানদের নয়, যেকোনো রক্তপাতে—থমকে যান না।...উন্নয়নের এই মডেলের সঙ্গে রক্তপাতের সহজাত সম্পর্ক রয়েছে।’ [ডন নিউজ]
রাজনীতিতে শীর্ষ পর্যায়ের রক্তপাত এক জিনিস, সেটা আওরঙ্গজেবের সময়ও ছিল, কিন্তু স্থানীয় রাজনীতিতে রক্তপাত হাল আমলের ব্যাপার। তবে স্থানীয় নেতারা সাহস পান উচ্চপর্যায়ের প্রশ্রয়ে। ঘাতক নেতারা জানেন তাঁদের কিছুই হবে না। খুব বেশি হলে কয়েকবার থানা ও কোর্টে হাজিরা দেওয়া লাগতে পারে। কাগজে কয়েক দিন লেখালেখি হবে, তারপর মানুষ দিব্যি ভুলে যাবে। সাংসদ শাওনের গাড়িতে তাঁরই পিস্তলের গুলিতে যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম নিহত হলেন। সে মামলার কী হলো কেউ জানে না। নরসিংদীর মেয়র লোকমান মারা গেলেন আততায়ীর গুলিতে। মুহূর্তে দেরি না করে ঢাকা থেকে বিএনপির এক নেতাকে পিঠমোড়া করে হ্যান্ডকাফ লাগানো হলো। পরে দেখা গেল, আসামিরা নিজেদেরই লোক। বেচারা বিশ্বজিৎকে দিনদুপুরে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। সবাই দেখল কারা মারছে, বলা হলো বিরোধী দলের কথা। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের পর কালবিলম্ব না করে ঘোষিত হলো স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক চক্রের কর্ম। সরকারি দলের প্রবীণ নেতা সুরঞ্জিৎ সেনগুপ্ত বলতে বাধ্য হলেন, সব ব্যাপারে জামায়াত-বিএনপির ঘাড়ে দোষ দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। রক্তপাতের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক গভীরতর থাকলে প্রশাসনের পক্ষে স্বাধীনভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। তবে সে অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তারা স্বাধীন অন্যভাবে। নিজেদের স্বার্থে যা-খুশি-করার স্বাধীনতা তাঁরা পান।
শনিবার এক আলোচনা সভায় মাননীয় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেছেন, ‘প্রথম আলোর মিজানুর রহমান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নাকি সরকার। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, প্রশাসনের যুগ্ম সচিব কিংবা জমির সার্ভেয়ার হলো সরকার। আসলে এ দেশে কে সরকার, সেটাই বুঝতে পারি না।’ শুধু জমির সার্ভেয়ার বা তহশিল অফিসের কেরানি নন, সরকার হলো ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা। রাষ্ট্রযন্ত্রের কাজ হলো তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও নিরাপত্তা দেওয়া। আর আসল সরকার হলো ক্যাডারদের ধর্মবাবারা, যাঁদেরকে অনেকে সম্বোধন করেন, ‘ভাই, আপনে আমার বাপ লাগেন।’ বাপ মানে ফাদার। গড-ফাদার যথার্থ শব্দ। একই সঙ্গে ভাই ও বাবার ভূমিকা পালন করা শুধু রাজনৈতিক গড-ফাদারদের পক্ষেই সম্ভব।
বিরোধী দলকে স্বাভাবিক সভা-সমাবেশ করতে না দিলে সরকারি দলের মধ্যেই স্বার্থান্বেষী বিরোধী উপদল তৈরি হয়। তারা বিরোধী দলের মতো নিয়মতান্ত্রিক সভা-সমাবেশ করে না—সন্ত্রাস করে। দিনদুপুরে রক্তপাত ঘটায়। নষ্ট রাজনীতিতে রক্তের প্রয়োজন—যুক্তি ও বিতর্ক নয়। উদার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি না থাকলে উগ্র রাজনীতির জন্ম নেয়। তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সরকারি দলের—বিরোধী দলের নয়।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মন্দির, মোদি এবং মধুর ভান্ডারকর by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

আমরা যারা সাংবাদিকতা করি, অনেকেই সবজান্তা মনে করেন৷ ভোটের সময় তাই তাঁদের অবধারিত প্রশ্ন শুনতে হয়, আচ্ছা, কী হতে চলেছে বলুন তো? এবার সেই প্রশ্ন দিনে অন্তত দশবার শুনতে হয়েছে৷ তিন দফায় ‘মিনি ইন্ডিয়া’ উত্তর প্রদেশ ঘুরেছি৷ যখনই কেউ জানতে চেয়েছেন কী হতে চলেছে, আমি বলেছি, ভোট তো চুকেবুকে গেছে, এখন শুধু ফল ঘোষণা বাকি৷ শুনে অধিকাংশই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন৷ কেউ কেউ ঝগড়া করেছেন৷ আমার অতি ঘনিষ্ঠ মুসলমান বন্ধুরা বলেছেন, এবার সারা দেশেই মুসলমানেরা এক প্যাটার্নে ভোট দেবে৷ বিজেপি প্রার্থীকে যে যেখানে হারাতে পারবে, সেখানে তারা তাকেই ভোট দেবে৷ উদ্দেশ্য একটাই, মোদিকে ঠেকাও৷ আমি সেই বন্ধুদের বলতাম, মোদির উত্তরণের রহস্যটাও এই মনোভাবেই লুকিয়ে থাকছে৷ এবারের ভোটের থিম সং যদি শেষ পর্যন্ত ওটাই হয়, তাহলে শতভাগ নিশ্চিত, ভোটটা হবে মোদির নামে এবং তিনিই জিতবেন৷ কারণ, মুসলমান ভোটের মেরুকরণ হিন্দু ভোটেও মেরুকরণ ঘটাবে৷ বিজেপিও তা-ই চায়৷ কেন চায় সেটাও সহজবোধ্য৷ ভারতে হিন্দুরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ৷ ঠিক এ কথাটাই লক্ষ্ণৌয়ে মুসলিম পার্সোনেল ল বোর্ডের সদস্য সমাজবাদী পার্টির ঘনিষ্ঠ জাফরইয়াব গিলানিকে বলতে তিনি যুক্তি ও বাস্তবতা মেনে বলেছিলেন, সেটা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি৷ কিন্তু তবু ওই মেরুকরণ ছাড়া মুসলমানদের নাকি উপায় নেই৷ গিলানি হিসাব করে বলেছিলেন, ৩৫ থেকে ৪০টার বেশি আসন বিজেপি উত্তর প্রদেশে পাবে না৷ আমার তখনই মনে হয়েছিল, ওঁর হিসাবেই যদি এত, বাস্তবে তাহলে ৪০-৪৫ তো হবেই! শেষমেশ বিজেপি পেল ৮০-র মধ্যে ৭১, দুটি আসন তার জোটসঙ্গী ‘আপনা দল’৷
এই বিপুল মেরুকরণের রহস্য কী? আশির দশকের শেষ ও নব্বইয়ের দশকের প্রথম ভাগ ভারতের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে তিনটি ‘ম’ উপহার দিয়েছে৷ মন্দির, মণ্ডল ও মার্কেট৷ রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্ক ঘিরে বিজেপির মন্দিরের রাজনীতি, তা ঠেকাতে মণ্ডল কমিশনকে হাতিয়ার করে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংয়ের ‘মণ্ডল রাজনীতি’ এবং প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাও ও মনমোহন সিংয়ের হাত ধরে বাজার অর্থনীতির বিকাশ—তিনটিরই আবির্ভাব প্রায় একই সময়ে৷ বিজেপি মন্দিরের রাজনীতি করেও লোকসভায় ১৮২টির বেশি আসন পায়নি৷ মণ্ডলের রাজনীতি মুলায়ম, মায়াবতী, লালু, নিতীশদের চারধারে গণ্ডি কেটে দিয়েছে, যার বাইরে বেরোনোর ক্ষমতা তাঁরা অর্জন করতে পারেননি৷ তাঁরা সবাই একেকটা জনগোষ্ঠীর নেতা হয়েই থাকলেন৷ বিজেপি এত দিন যা পারেনি, মোদি কিন্তু তা পারলেন৷ মন্দির ও মণ্ডলের সঙ্গে মিশেল দিলেন মার্কেটের৷ গুজরাটিরা জন্মগত ব্যবসায়ী৷ তাদের ডিএনএতেই অর্থনীতি লেপ্টে রয়েছে৷ এই সহজাত বিষয়টিই মোদির উন্নয়নের তাগিদ৷ এটাই তাঁর বহুচর্চিত ‘গুজরাট মডেল’৷ বাজারের ওপর ভর করে মোদি সেটাই হাতিয়ার করলেন প্রশাসনিক অঙ্গ হিসেবে৷
তাহলে কী দাঁড়াল? একেবারে নির্ভেজাল ইচ্ছাপূরণের কাহিনি নিয়ে সিনেমা৷ মোদিকে চমৎকারভাবে তুলে ধরা হলো ‘চা-ওয়ালার ছেলে’ হিসেবে৷ গুজরাটি সমাজে মোদিরা অনগ্রসর জাতির প্রতিনিধি৷ কট্টর হিন্দু হিসেবে তাঁর পরিচিতিও সেই গোধরাকাণ্ডের সময় থেকেই৷ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও তিনি কঠোর ও কঠিন এবং উন্নয়নমুখী ও বাস্তববাদী৷ ফলে কট্টর হিন্দুত্বের সঙ্গে অনগ্রসরতার মিশেল ও উন্নয়নের সোনালি স্বপ্ন দেখিয়ে ‘মার্কেট ফ্রেন্ডলি’ ইমেজ আদায়, ঠিক যেন অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে মনমোহন দেশাইয়ের মারমার কাটকাট অমর আকবর অ্যান্টনি৷ শুধু মন্দির আঁকড়ে বিজেপি যেমন, তেমনই স্রেফ জাত আঁকড়ে মুলায়ম, মায়াবতী, লালু, নিতীশরাও আঞ্চলিক রাজনীতিতে মহিরুহ হয়ে উঠলেও জাতীয় রাজনীতিতে বনসাই হয়ে রইলেন৷ তুলনায় মোদি হয়ে গেলেন একমেবাদ্বিতীয়ম্৷ মায়াবতী-মুলায়মেরা দলিত ও অনগ্রসরদের সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতে পারেননি৷ কিন্তু মোদি সেই বিশ্বাসটা গেঁথে দিতে পেরেছেন৷ রাজনীতিতে ‘পারসেপশন’-ই প্রথম ও শেষ কথা৷ মোদির ক্ষেত্রে একদিকে সেটা যেমন দাঙ্গাবাজ, অন্যদিকে তেমন সুপ্রশাসক, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী উন্নয়নকামী বলিষ্ঠ নেতার৷ দেশের মানুষ অন্যদের বিশ্বাস করেনি৷ মোদিকে তারা বিশ্বাস করেছে৷ ভরসাও৷
মোদি মানুষটা কেমন? যাঁরা তাঁকে জানেন-চেনেন, তাঁরা বলেন, মোদি হলেন একবগ্গা, জেিদ, কাজপাগল, নিষ্ঠুর এবং পিছুটানহীন একজন একলা মানুষ৷ দল বা সংঘ কাউকেই তিনি বিশেষ একটা তোয়াজ কখনো করেননি৷ সরকারে তিনিই ছিলেন এক থেকে এক শ৷ যার ফলে গুজরাটে মোদির মন্ত্রিসভায় বাকি যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সবাই প্রায় অজ্ঞাতকুলশীল৷ প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় পরও তাঁর চরিত্রের যে বিশেষ বদল ঘটবে, তা মনে করা ভুল হবে৷ বিজেপির অন্যরা তো বটেই, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘও (আরএসএস) এ বিষয়ে যথেষ্ট সংশয়ী৷ তাঁর জমানায় আরএসএস ক্রমেই তার প্রাসঙ্গিকতা হারাতে পারে বলে কোনো কোনো মহলের ধারণা৷ দল ও সরকারে প্রবীণদেরও তিনি যে ক্রমে কোণঠাসা করে দেবেন, সে ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে৷ তাঁর সরকার একমাত্র তাঁরই৷ সেই সরকারকে সফল করতে তিনি চেষ্টায় খামতি রাখবেন না নিশ্চিত৷ পাঁচ বছর পরে রিপোর্ট কার্ড দেবেন বলে নিজেই যে কথা জানিয়েছেন, সেটাই নিজের কাছে তাঁর চ্যালেঞ্জ৷
মোদির নিন্দুকেরা বলেন, তিনি নাকি প্রতিহিংসাপরায়ণ৷ অপমানের জ্বালা তিনি নাকি ভোলেন না৷ মনস্তত্ত্ববিদেরা মনে করেন, কোনো রকমের তকমা এঁটে যাওয়া মানুষেরা আপ্রাণ চেষ্টা করেন সেই তকমা ঝেড়ে ফেলার৷ কেউ সফল হন, কেউ হন না৷ মোদির তকমাটা হলো দাঙ্গার৷ গোধরার খলনায়ক গুজরাটকে দাঙ্গাহীন রাজ্যে পরিণত করেও ১২ বছরে দাঙ্গাবাজের তকমা কপাল থেকে খুলতে পারেননি৷ এ জন্য তিনি মনস্তাপে ভুগছেন, এমন কথাও অবশ্য কেউ বলে না৷ দাঙ্গার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা বা দুঃখ প্রকাশও আজ পর্যন্ত সেভাবে তিনি করেননি৷ কিন্তু দেশের প্রশাসক হয়ে দাঙ্গাকে কড়া হাতে দমনের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে দাঙ্গাবাজের তকমা ঝেড়ে ফেলার সুযোগটা তিনি পাবেন৷ এটাই তাঁর মূল চ্যালেঞ্জ৷ সুশাসনের সঙ্গে উন্নয়ন ও প্রগতি তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হলে দেশে শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখা খুবই জরুরি৷ গুজরাটি হয়ে তিনি নিশ্চয় তা অনুধাবন করবেন৷ পাঁচ বছর পরে রিপোর্ট কার্ড মেলানোর সময় লোকে কিন্তু ওই দিকটাই আতশ কাচের তলায় রাখবে৷
মধুর ভান্ডারকরের সিনেমায় কোন নরেন্দ্র মোদিকে দেখা যাবে, সেই আগ্রহ গুজরাটি প্রধানমন্ত্রীরও নিশ্চয় রয়েছে৷ আশা করি, তাঁর জানা আছে, কলিঙ্গ যুদ্ধের পর চণ্ডাশোকও ধীরে ধীরে ধর্মাশোকে রূপান্তরিত হয়েছিলেন৷
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রথম আলোর নয়াদিিল্ল প্রতিনিধি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মন্দির, মোদি এবং মধুর ভান্ডারকর
আমরা যারা সাংবাদিকতা করি, অনেকেই সবজান্তা মনে করেন৷ ভোটের সময় তাই তাঁদের অবধারিত প্রশ্ন শুনতে হয়, আচ্ছা, কী হতে চলেছে বলুন তো? এবার সেই প্রশ্ন দিনে অন্তত দশবার শুনতে হয়েছে৷ তিন দফায় ‘মিনি ইন্ডিয়া’ উত্তর প্রদেশ ঘুরেছি৷ যখনই কেউ জানতে চেয়েছেন কী হতে চলেছে, আমি বলেছি, ভোট তো চুকেবুকে গেছে, এখন শুধু ফল ঘোষণা বাকি৷ শুনে অধিকাংশই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন৷ কেউ কেউ ঝগড়া করেছেন৷ আমার অতি ঘনিষ্ঠ মুসলমান বন্ধুরা বলেছেন, এবার সারা দেশেই মুসলমানেরা এক প্যাটার্নে ভোট দেবে৷ বিজেপি প্রার্থীকে যে যেখানে হারাতে পারবে, সেখানে তারা তাকেই ভোট দেবে৷ উদ্দেশ্য একটাই, মোদিকে ঠেকাও৷ আমি সেই বন্ধুদের বলতাম, মোদির উত্তরণের রহস্যটাও এই মনোভাবেই লুকিয়ে থাকছে৷ এবারের ভোটের থিম সং যদি শেষ পর্যন্ত ওটাই হয়, তাহলে শতভাগ নিশ্চিত, ভোটটা হবে মোদির নামে এবং তিনিই জিতবেন৷ কারণ, মুসলমান ভোটের মেরুকরণ হিন্দু ভোটেও মেরুকরণ ঘটাবে৷ বিজেপিও তা-ই চায়৷ কেন চায় সেটাও সহজবোধ্য৷ ভারতে হিন্দুরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ৷ ঠিক এ কথাটাই লক্ষ্ণৌয়ে মুসলিম পার্সোনেল ল বোর্ডের সদস্য সমাজবাদী পার্টির ঘনিষ্ঠ জাফরইয়াব গিলানিকে বলতে তিনি যুক্তি ও বাস্তবতা মেনে বলেছিলেন, সেটা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি৷ কিন্তু তবু ওই মেরুকরণ ছাড়া মুসলমানদের নাকি উপায় নেই৷ গিলানি হিসাব করে বলেছিলেন, ৩৫ থেকে ৪০টার বেশি আসন বিজেপি উত্তর প্রদেশে পাবে না৷ আমার তখনই মনে হয়েছিল, ওঁর হিসাবেই যদি এত, বাস্তবে তাহলে ৪০-৪৫ তো হবেই! শেষমেশ বিজেপি পেল ৮০-র মধ্যে ৭১, দুটি আসন তার জোটসঙ্গী ‘আপনা দল’৷
এই বিপুল মেরুকরণের রহস্য কী? আশির দশকের শেষ ও নব্বইয়ের দশকের প্রথম ভাগ ভারতের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে তিনটি ‘ম’ উপহার দিয়েছে৷ মন্দির, মণ্ডল ও মার্কেট৷ রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্ক ঘিরে বিজেপির মন্দিরের রাজনীতি, তা ঠেকাতে মণ্ডল কমিশনকে হাতিয়ার করে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংয়ের ‘মণ্ডল রাজনীতি’ এবং প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাও ও মনমোহন সিংয়ের হাত ধরে বাজার অর্থনীতির বিকাশ—তিনটিরই আবির্ভাব প্রায় একই সময়ে৷ বিজেপি মন্দিরের রাজনীতি করেও লোকসভায় ১৮২টির বেশি আসন পায়নি৷ মণ্ডলের রাজনীতি মুলায়ম, মায়াবতী, লালু, নিতীশদের চারধারে গণ্ডি কেটে দিয়েছে, যার বাইরে বেরোনোর ক্ষমতা তাঁরা অর্জন করতে পারেননি৷ তাঁরা সবাই একেকটা জনগোষ্ঠীর নেতা হয়েই থাকলেন৷ বিজেপি এত দিন যা পারেনি, মোদি কিন্তু তা পারলেন৷ মন্দির ও মণ্ডলের সঙ্গে মিশেল দিলেন মার্কেটের৷ গুজরাটিরা জন্মগত ব্যবসায়ী৷ তাদের ডিএনএতেই অর্থনীতি লেপ্টে রয়েছে৷ এই সহজাত বিষয়টিই মোদির উন্নয়নের তাগিদ৷ এটাই তাঁর বহুচর্চিত ‘গুজরাট মডেল’৷ বাজারের ওপর ভর করে মোদি সেটাই হাতিয়ার করলেন প্রশাসনিক অঙ্গ হিসেবে৷
তাহলে কী দাঁড়াল? একেবারে নির্ভেজাল ইচ্ছাপূরণের কাহিনি নিয়ে সিনেমা৷ মোদিকে চমৎকারভাবে তুলে ধরা হলো ‘চা-ওয়ালার ছেলে’ হিসেবে৷ গুজরাটি সমাজে মোদিরা অনগ্রসর জাতির প্রতিনিধি৷ কট্টর হিন্দু হিসেবে তাঁর পরিচিতিও সেই গোধরাকাণ্ডের সময় থেকেই৷ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও তিনি কঠোর ও কঠিন এবং উন্নয়নমুখী ও বাস্তববাদী৷ ফলে কট্টর হিন্দুত্বের সঙ্গে অনগ্রসরতার মিশেল ও উন্নয়নের সোনালি স্বপ্ন দেখিয়ে ‘মার্কেট ফ্রেন্ডলি’ ইমেজ আদায়, ঠিক যেন অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে মনমোহন দেশাইয়ের মারমার কাটকাট অমর আকবর অ্যান্টনি৷ শুধু মন্দির আঁকড়ে বিজেপি যেমন, তেমনই স্রেফ জাত আঁকড়ে মুলায়ম, মায়াবতী, লালু, নিতীশরাও আঞ্চলিক রাজনীতিতে মহিরুহ হয়ে উঠলেও জাতীয় রাজনীতিতে বনসাই হয়ে রইলেন৷ তুলনায় মোদি হয়ে গেলেন একমেবাদ্বিতীয়ম্৷ মায়াবতী-মুলায়মেরা দলিত ও অনগ্রসরদের সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতে পারেননি৷ কিন্তু মোদি সেই বিশ্বাসটা গেঁথে দিতে পেরেছেন৷ রাজনীতিতে ‘পারসেপশন’-ই প্রথম ও শেষ কথা৷ মোদির ক্ষেত্রে একদিকে সেটা যেমন দাঙ্গাবাজ, অন্যদিকে তেমন সুপ্রশাসক, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী উন্নয়নকামী বলিষ্ঠ নেতার৷ দেশের মানুষ অন্যদের বিশ্বাস করেনি৷ মোদিকে তারা বিশ্বাস করেছে৷ ভরসাও৷
মোদি মানুষটা কেমন? যাঁরা তাঁকে জানেন-চেনেন, তাঁরা বলেন, মোদি হলেন একবগ্গা, জেিদ, কাজপাগল, নিষ্ঠুর এবং পিছুটানহীন একজন একলা মানুষ৷ দল বা সংঘ কাউকেই তিনি বিশেষ একটা তোয়াজ কখনো করেননি৷ সরকারে তিনিই ছিলেন এক থেকে এক শ৷ যার ফলে গুজরাটে মোদির মন্ত্রিসভায় বাকি যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সবাই প্রায় অজ্ঞাতকুলশীল৷ প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় পরও তাঁর চরিত্রের যে বিশেষ বদল ঘটবে, তা মনে করা ভুল হবে৷ বিজেপির অন্যরা তো বটেই, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘও (আরএসএস) এ বিষয়ে যথেষ্ট সংশয়ী৷ তাঁর জমানায় আরএসএস ক্রমেই তার প্রাসঙ্গিকতা হারাতে পারে বলে কোনো কোনো মহলের ধারণা৷ দল ও সরকারে প্রবীণদেরও তিনি যে ক্রমে কোণঠাসা করে দেবেন, সে ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে৷ তাঁর সরকার একমাত্র তাঁরই৷ সেই সরকারকে সফল করতে তিনি চেষ্টায় খামতি রাখবেন না নিশ্চিত৷ পাঁচ বছর পরে রিপোর্ট কার্ড দেবেন বলে নিজেই যে কথা জানিয়েছেন, সেটাই নিজের কাছে তাঁর চ্যালেঞ্জ৷
মোদির নিন্দুকেরা বলেন, তিনি নাকি প্রতিহিংসাপরায়ণ৷ অপমানের জ্বালা তিনি নাকি ভোলেন না৷ মনস্তত্ত্ববিদেরা মনে করেন, কোনো রকমের তকমা এঁটে যাওয়া মানুষেরা আপ্রাণ চেষ্টা করেন সেই তকমা ঝেড়ে ফেলার৷ কেউ সফল হন, কেউ হন না৷ মোদির তকমাটা হলো দাঙ্গার৷ গোধরার খলনায়ক গুজরাটকে দাঙ্গাহীন রাজ্যে পরিণত করেও ১২ বছরে দাঙ্গাবাজের তকমা কপাল থেকে খুলতে পারেননি৷ এ জন্য তিনি মনস্তাপে ভুগছেন, এমন কথাও অবশ্য কেউ বলে না৷ দাঙ্গার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা বা দুঃখ প্রকাশও আজ পর্যন্ত সেভাবে তিনি করেননি৷ কিন্তু দেশের প্রশাসক হয়ে দাঙ্গাকে কড়া হাতে দমনের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে দাঙ্গাবাজের তকমা ঝেড়ে ফেলার সুযোগটা তিনি পাবেন৷ এটাই তাঁর মূল চ্যালেঞ্জ৷ সুশাসনের সঙ্গে উন্নয়ন ও প্রগতি তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হলে দেশে শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখা খুবই জরুরি৷ গুজরাটি হয়ে তিনি নিশ্চয় তা অনুধাবন করবেন৷ পাঁচ বছর পরে রিপোর্ট কার্ড মেলানোর সময় লোকে কিন্তু ওই দিকটাই আতশ কাচের তলায় রাখবে৷ মধুর ভান্ডারকরের সিনেমায় কোন নরেন্দ্র মোদিকে দেখা যাবে, সেই আগ্রহ গুজরাটি প্রধানমন্ত্রীরও নিশ্চয় রয়েছে৷ আশা করি, তাঁর জানা আছে, কলিঙ্গ যুদ্ধের পর চণ্ডাশোকও ধীরে ধীরে ধর্মাশোকে রূপান্তরিত হয়েছিলেন৷
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রথম আলোর নয়াদিিল্ল প্রতিনিধি।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রক্ত ও রাজনীতি
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডানে বামে আসন ভাগাভাগি
সরাফ আহমেদ: প্রথম আলোর হ্যানোভার (জার্মানি) প্রতিনিধি৷
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফের তৃণমূলে যাচ্ছেন খালেদা by কাজী সুমন

আসন্ন সফরে দেশব্যাপী অব্যাহত গুম-খুনের পাশাপাশি সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের দুর্নীতি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মের চিত্র তুলে ধরবেন খালেদা জিয়া। এছাড়া তৃণমূল নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার পাশাপাশি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জনমত গড়ে তুলবেন। সংগঠন গোছানো, মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলনে নতুন মাত্রা পাবে খালেদা জিয়ার এ সফর। তাই রমজানের আগ পর্যন্ত ইস্যুভিত্তিক ‘শান্তিপূর্ণ’ কর্মসূচি দিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত রাখতে চায় দলটি।
এদিকে গতকাল নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, আগামী ২৮শে মে মুন্সীগঞ্জ যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শহরের লঞ্চঘাটে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। রিজভী আহমেদ বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই আমাকে জানিয়েছেন, জেলা কর্তৃপক্ষ থেকে জনসভার করার অনুমতি পাওয়া গেছে। বিকাল ২টায় সমাবেশ শুরু হবে। খালেদা জিয়া সমাবেশস্থলে উপস্থিত হবেন বিকাল ৩টায়। ইতিমধ্যে জনসভার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে স্থানীয় বিএনপি। এর আগে ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর সর্বশেষ গত ১লা মার্চ রাজবাড়ীতে ১৯ দল আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন খালেদা জিয়া।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিজামের যোগসূত্র সবখানে by কাফি কামাল
গতকাল দিনভর ফেনীতে নিজাম হাজারীর এমপি পদ বাতিল ও দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হতে পারে এমন গুঞ্জন শোনা গেছে। এদিকে নিজামের জেল-জালিয়াতির যে প্রতিবেদনকে কেন্দ্র হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার অভিযোগ তোলা হয়েছে সেটি এখন ডিপ ফ্রিজে। এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন উদ্যোগ নেয়নি।

অর্থ যোগানদাতা একাধিক!
হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে অর্থের যোগানদাতা হিসেবে প্রথমেই আলোচনায় উঠে আসে একরামের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিএনপি নেতা মাহতাবউদ্দিন মিনার চৌধুরীর নাম। ঘটনার দিন তাকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু দিন দিন বেরিয়ে আসছে নতুন তথ্য। অর্থের যোগানদাতা হিসেবে উঠে এসেছে আরও দু’টি নাম। হ্যাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ ও ফেনী সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল। একরামের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন শেখ আবদুল্লাহ। একরাম এমপি নির্বাচন করলে শূন্য আসনে তিনি উপজেলা নির্বাচনের জন্য নানামুখী তদবির-তৎপরতা চালান। এদিকে একরামের মৃত্যুর এক সপ্তাহ না পেরোলেও একরামের শূন্য আসনে উপনির্বাচনে তাকে সমর্থন দেয়ার ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগে আলোচনা হয়েছে। ফেনী সমিতির সভাপতি ও ফেনী-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোস্তাফিজুর রহমান দুলালের গাড়িবহরে হামলা করেছিল একরাম সমর্থকরা। সে সময় থেকে একরাম-দুলালের মধ্যে তৈরি হয় বিরোধ। অর্থের যোগানদাতা হিসেবে মিনার চৌধুরী বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হলেও একরাম ঘনিষ্ঠরা বলছেন, শেখ আবদুল্লাহ ও মোস্তাফিজুর রহমান দুলালের কথাও তারা নানা সূত্রে জানতে পেরেছেন। এদিকে ঢাকায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মিনার চৌধুরীর ভাইপো অনিক। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ফের জোরেশোরে আলোচনায় উঠে এসেছে মিনার চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা। সেই সঙ্গে বিএনপি সমর্থিত এক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ছেলেও গ্রেপ্তার হওয়ায় কেউ কেউ একরাম হত্যাকাণ্ডকে বহুরৈখিক মিশন বলেও মন্তব্য করছেন।
রিমান্ডে জামাই আদর!
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমাণ্ডে নিয়েছে পুলিশ। প্রথম দিন কোন অগ্রগতির কথা প্রকাশ করা হয়নি পুলিশের তরফে। তবে ফেনী পুলিশের অধীনে রিমান্ড এবং মামলার তদন্ত নিয়ে আস্থা নেই বেশির ভাগ মানুষের। সদর আসনের এমপি নিজাম হাজারী, গ্রেপ্তারকৃত কমিশনার শিবলু ও আওয়ামী লীগ নেতা জেহাদ চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের দহরম-মহরম সম্পর্ক রয়েছে ফেনী পুলিশের। এছাড়া থানার ১০০ গজের মধ্যেই নিজের অপকর্মস্থল থেকে মডেল থানা নিয়ন্ত্রণ করতো জেহাদ চৌধুরী। সে সম্পর্ক ভুলে পুলিশের পক্ষে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে তথ্য আদায় কতটুকু সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে সন্দিহান সবাই। অভিযোগ উঠেছে নিজাম হাজারীর কলকাঠিতেই খুনের ব্যাপারে আগাম তথ্য জানতো স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু একরামকে রক্ষায় কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। হত্যাকাণ্ডের পর একরামের এলাকা ফুলগাজীর লোকজন যাতে শহরে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে না পারে সে জন্য এমপি নিজামের নির্দেশে সদর হাসপাতাল মোড়ে পাঠানো হয়েছিল পুলিশের একটি দল। তাদের কাছে একরামের গাড়িচালক সাহায্য চাইলেও হত্যাকাণ্ডের সময় তারা স্পটের দিকে আসেনি- এমন অভিযোগ উঠলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি ফেনী পুলিশের বিরুদ্ধে। এদিকে গ্রেপ্তারের প্রথম দিন কমিশনার শিবলুকে ওসির রুমে রাত কাটাতে দেয়া, হোটেল থেকে দামি খাবার এনে দেয়ার ঘটনায় সে সন্দেহ আরও বেড়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে রোববার উপজেলা চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশনের নেতারা গ্রেপ্তারকৃতদের অন্য কারাগারে ও মামলার তদন্তভার সিআইডির কাছে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। জেলা আওয়ামী লীগের একরাম ঘনিষ্ঠ নেতারা জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমাণ্ডে মুখ না খোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে উপর মহল থেকে। পরিকল্পনাকারীদের ব্যাপারে মুখ খুললে ক্রসফায়ারের ভয় ও অন্যথায় দ্রুত জামিনে বের করার টোপ দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা মামলাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে জোরেশোরে।
আদেলের যত কীর্তি
ফেনী আওয়ামী লীগের বুদ্ধিদাতা হিসেবে খ্যাত জেলা যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আদেল। দুই হাজারীর আমলেই তিনি ছিলেন সেকেন্ড ইন কমান্ড। জয়নাল হাজারীর দোর্দণ্ড প্রতাপের সময় তার পাশে ছিলেন আদেল। পরে নিজামের সঙ্গে ভিড়েন। আদেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। জেলার সকল রাজনৈতিক খুন-খারাবির পরিকল্পক হিসেবে রয়েছে তার কুখ্যাতি। রাজাঝির দীঘির উত্তরপাড়ে সড়ক ও জনপথের ডাকবাংলোর একটি কক্ষকে নিজের অফিস বানিয়েছিলেন আদেল। সেখানে বসেই রাজনৈতিক গুটিবাজি, চাঁদাবাজি, জমির দালালি, দখল-বেদখল বাণিজ্য, শালিস বাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম চালাতেন। একরাম কিলিং স্পটের কাছেই স্টেডিয়ামে ছিল তার আরেকটি অফিস। সেখানে বসতো সন্ত্রাসীদের মজমা। শহরের পূর্ব উকিলপাড়ায় তার বাড়িটি দখলকৃত। সেটি দাগনভূঁইয়া জনৈক সরকারি কর্মকর্তা মরহুম মোজাম্মেল হকের বাড়ি। মোজাম্মেল হকের ছেলেরা সরকারি চাকরিজীবী ও ঢাকায় অবস্থান করতেন। ফেনীর বাড়িতে থাকতেন এক ছেলে খুরশিদ হাসান ফিস। উচ্চশিক্ষিত চিরকুমার খুরশিদ হাসানকে মানসিকভাবে অসুস্থ প্রতিপন্ন করে তার বাড়িটি দখল করে নেয় আদেল। বাড়ি দখলের পর আবার ভাল মানুষের মতো শহরের একটি হোটেলে খুরশিদকে তিন বেলা ভাল-মন্দ খাবার ব্যবস্থাও করে দেন। ব্যক্তিগতভাবে অবিবাহিত আদেলের লাম্পট্য জীবনাচারের কথা ফেনীবাসীর মুখে মুখে। বিয়ে না করলেও তিনি একাধিক রক্ষিতা রেখেছেন।
ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
একরাম হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে ফেনী জেলা ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল। সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন রিন্টু দাবি করেন গ্রেপ্তারকৃত আবিদ ও অনিক ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অনিক বিএনপি নেতা মিনার চৌধুরী বড় ভাই দিদার চৌধুরীর ছেলে, সৈকত বিএনপি সমর্থিত পরশুরাম উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাছিমার ছেলে এবং কাজী শাহনান যুবদল নেতা কাজী জাহিদের ছোট ভাই। অন্যদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সম্পর্ক নেই। ওদিকে ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলনে একরাম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে জেলা সভাপতি আমানউদ্দিন কায়সার সাব্বির ও সম্পাদক নঈমউল্লাহ চৌধুরী বরাত বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কথা উল্লেখ করে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জড়িতদের সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতি করে। তাদের এখন ছাত্রদল কর্মী বলে প্রচার করে উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বেলালের বাড়িতে আগুন, মোমবাতি প্রজ্বলন
এদিকে রোববার রাতে গ্রেপ্তারকৃত কিলিং মিশনের মূল বাস্তবায়নকারী জেহাদ চৌধুরীকে গতকাল ৮ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল আমিনের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করে। ওদিকে আনন্দপুর ইউপি মেম্বার ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বেলালের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে একরাম সমর্থকরা। নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারীসহ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে দাবিতে এখন সোচ্চার ফুলগাজী আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষ। এছাড়া একরাম হত্যার বিচার দাবি করে ফুলগাজীতে সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্বলন করেছে তার সমর্থকরা।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘মুক্ত’ মোদির রাজনৈতিক পরীক্ষা
![]() |
| নরেন্দ্র মোদি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোদির মতোই নিরাপত্তা পাবেন যশোদাবেন?
![]() |
| লোকসভা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যশোদাবেন মোদি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সবচেয়ে কম বয়সী মেয়ের এভারেস্ট জয়
![]() |
| পূর্ণা |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
May
(496)
-
▼
May 27
(13)
- ‘নীল বিড়াল’-এর খোঁজে by মিজানুর রহমান খান
- ইউরোপীয় পার্লামেন্ট- ডানে বামে আসন ভাগাভাগি by সর...
- চারপাশের উত্তাপে ওষ্ঠাগত জীবন by মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া...
- রক্ত ও রাজনীতি by সৈয়দ আবুল মকসুদ
- মন্দির, মোদি এবং মধুর ভান্ডারকর by সৌম্য বন্দ্যে...
- মন্দির, মোদি এবং মধুর ভান্ডারকর
- রক্ত ও রাজনীতি
- ডানে বামে আসন ভাগাভাগি
- ফের তৃণমূলে যাচ্ছেন খালেদা by কাজী সুমন
- নিজামের যোগসূত্র সবখানে by কাফি কামাল
- ‘মুক্ত’ মোদির রাজনৈতিক পরীক্ষা
- মোদির মতোই নিরাপত্তা পাবেন যশোদাবেন?
- সবচেয়ে কম বয়সী মেয়ের এভারেস্ট জয়
-
▼
May 27
(13)
-
▼
May
(496)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


