Friday, September 16, 2011

আইনি-প্রক্রিয়া সঠিক পথে এগিয়ে চলুক-পুলিশি নিষ্ঠুরতার বিচার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আবদুল কাদের ন্যায়বিচার পাবেন—এমন প্রত্যাশা জোরালো হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তিনটি মামলার তদন্তের শেষ পর্যায়ে মামলাগুলোর তদন্ত তদারক কর্মকর্তা মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেছেন, যেসব অভিযোগে আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে মামলাগুলো করা হয়েছে, সেসব অপরাধের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ এখনো মেলেনি। এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তের জন্য গঠিত পুলিশের তদন্ত কমিটিও কাদেরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পায়নি।
আবদুল কাদেরের ওপর খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) হেলাল উদ্দিনের নিষ্ঠুরতার বিবরণ রোমহর্ষক। গত ১৫ জুলাই রাত দেড়টার দিকে সেগুনবাগিচার দুদক কার্যালয়ের সামনে থেকে সাদা পোশাকে পুলিশের তিন সদস্য তাঁকে প্রথমে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন, তারপর আটক করে খিলগাঁও থানায় নিয়ে যান। কাদেরের বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিন সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ওসি হেলাল উদ্দিন তাঁকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন, প্রহার করেন; একপর্যায়ে চাপাতি দিয়ে তাঁর বাঁ পায়ে কোপ দেন। শুধু তা-ই নয়, ডাকাতির প্রস্তুতি ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ এনে কাদেরের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে পুলিশ এবং মোহাম্মদপুরে একটি গাড়ি ছিনতাইয়ের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায়। অর্থাৎ গ্রেপ্তার ও শারীরিক নির্যাতনের পর কাদেরের ওপর শুরু হয় আইনি নিপীড়ন। অথচ সেই রাতে তিনি ইস্কাটন গার্ডেন রোডের খালার বাসা থেকে হেঁটে ফিরে যাচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের দিকে, যেখানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র হিসেবে বাস করেন।
আবদুল কাদের পুলিশের সদস্যদের বলেছিলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পুলিশের সদস্যরা তখন নাকি এই কথা বলে তাঁকে আরও মেরেছিলেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই তো ছিনতাই-ডাকাতি করে!
এ ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সমাজে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়, হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। পুলিশ বিভাগ চার সদস্যের একটি এবং আইন মন্ত্রণালয় একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওসি হেলাল উদ্দিনসহ খিলগাঁও থানার তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। মামলাগুলোর তদন্ত-প্রক্রিয়া যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তাতে বিশ্বাস জন্মে যে কাদের নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। প্রমাণিত হবে, খিলগাঁও থানার তিন পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর অন্যায় করেছেন। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইনি-প্রক্রিয়াটি শেষ পর্যন্ত সঠিক পথেই চলবে—এটা নিশ্চিত করা। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের নিজের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টিও এর সঙ্গে জড়িত। পুলিশের সদস্যদের মধ্যে কেউ অন্যায় অপরাধ করলে সাধারণত তাঁর তদন্ত সঠিকভাবে হয় না, তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটেনি—এটা নিশ্চয়ই স্বস্তির কথা। এখন প্রয়োজন চূড়ান্তভাবে এই অপরাধের বিচার করে অপরাধী ওই কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। সে দায়িত্বও বহুলাংশে পুলিশেরই।

টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সোয়ান

আপাতত টি-টোয়েন্টিতে ফেরা হলো না অ্যালিস্টার কুকের। অধিনায়ক হয়ে ফেরার পর ওয়ানডেতে কুকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আর স্টুয়ার্ট ব্রডের ইনজুরি মিলিয়ে মনে করা হচ্ছিল টি-টোয়েন্টিতে ফেরানো হতে পারে কুককে। কিন্তু সত্যি হলো না গুঞ্জনটা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের জন্য অধিনায়ক মনোনীত হয়েছেন গ্রায়েম সোয়ান। ২৩ ও ২৫ সেপ্টেম্বর ম্যাচ দুটি হবে ওভালে।
ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে কাঁধে চোট পেয়েছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ব্রড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ তো বটেই, অক্টোবরের ভারত সফরেও যেতে পারবেন না এই পেসার। ব্রডের সহকারী এউইন মরগান তো ছিটকে পড়েছেন আগেই। কাঁধের চোটের কারণে তাঁকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে জানুয়ারি পর্যন্ত। ১৪ সদস্যের দলে একদম নতুন মুখ দুটি—ইয়র্কশায়ার ব্যাটসম্যান জোনাথন বেয়ারস্টো ও হ্যাম্পশায়ারের বাঁহাতি স্পিনার ড্যানি ব্রিগস। প্রথম জন বাইশ ছুঁই ছুঁই, পরের জন সদ্য বিশ পেরিয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি যাঁরা খেলেছেন, তাঁদের মধ্যে টিকে গেছেন ওপেনার অ্যালেক্স হেলস ও লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার স্কট বর্টউইকে। প্রায় দুই বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন জেমস অ্যান্ডারসন।
জাতীয় দলে থাকায় সমারসেটের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টিতে খেলতে পারবেন না ক্রেইগ কিসওয়েটার ও জস বাটলার। দুজনই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান। সমারসেট তাই ডেকে পাঠিয়েছে মাইনর কাউন্টিতে ব্যস্ত থাকা স্টিভ স্নেলকে। ওয়েবসাইট।
ইংল্যান্ড দল: গ্রায়েম সোয়ান (অধিনায়ক), জেমস অ্যান্ডারসন, জোনাথন বেয়ারস্টো, রবি বোপারা, স্কট বর্টউইক, টিম ব্রেসনান, ড্যানি ব্রিগস, জস বাটলার, জেড ডার্নব্যাখ, স্টিভেন ফিন, অ্যালেক্স হেলস, ক্রেইগ কিসওয়েটার, সমিত প্যাটেল, বেন স্টোকস।

সারকোজির বিরুদ্ধে অপপ্রচার মামলায় ভিলেপাঁর অব্যাহতি

ফ্রান্সের ২০০৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিকোলা সারকোজির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চেষ্টা মামলায় গতকাল বুধবার অব্যাহতি পেয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী দমিনিক দে ভিলেপাঁ।
একটি আপিল আদালতে ভিলেপাঁ অব্যাহতি পাওয়ায় তাঁর জন্য আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট সারকোজির বিরুদ্ধে অংশ নেওয়ার পথ সুগম হলো।
লুক্সেমবার্গভিত্তিক সিকিউরিটিজ ক্লিয়ারিং হাউস ‘ক্লিয়ারস্ট্রিম’ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এই মামলা ‘ক্লিয়ারস্ট্রিম ঘটনা’ নামে পরিচিতি পায়।
সারকোজির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী ভিলেপাঁকে মামলায় ১৫ মাসের স্থগিত দণ্ডাদেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি।
মামলার রায়কে স্বাগত জানিয়ে ভিলেপাঁ বলেন, ‘রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে রায় দেওয়ায় দেশের স্বাধীন বিচার পদ্ধতিকে আমি অভিবাদন জানাতে চাই। আমার বিশ্বাস, এই রায় দেশে গুজব ও অপবাদ রটনা কমাতে সাহায্য করবে।’
এর আগে ভিলেপাঁ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাককে আফ্রিকার নেতারা দুই কোটি মার্কিন ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনারও তদন্ত চলছে। তবে তাঁরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভিলেপাঁ দাবি করেছেন, আসছে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এসব ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে।
২০০৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে একটি জাল নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়, যাতে লুক্সেমবার্গের একটি গোপন ব্যাংক হিসাবের দুর্নীতির সঙ্গে সারকোজির নাম জড়ানো হয়। ওই নামের তালিকাটি ভুয়া ছিল, তা জেনেও সে সময় প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাকের অধীনে প্রধানমন্ত্রী থাকা ভিলেপাঁ অপপ্রচার বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।

নাইজেরিয়ার ইসলামি গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালাতে পারে

নাইজেরিয়া সাম্প্রতিক একাধিক বোমা হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ইসলামি গোষ্ঠীটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালাতে পারে। সে দেশের পুলিশ গতকাল বুধবার এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
গত জুনে আবুজায় পুলিশ সদর দপ্তরে বোমা হামলা এবং গত মাসে জাতিসংঘ ভবনে বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘বোকো হারাম’—নামের ওই ইসলামি গোষ্ঠীটি। এ ছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একের পর এক ঘটতে থাকা বোমা হামলার জন্যও তাদের দায়ী করা হচ্ছে। দেশে ইসলামি শরিয়া বিধান আরও ব্যাপকভাবে চালু করতে চায় এ গোষ্ঠীটি।

ভারতে আগামী নির্বাচনে রাহুল ও মোদির প্রতিযোগিতা হতে পারে

ভারতে আগামী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, তখন ভারতবিষয়ক এক মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও গুজরাটের বিতর্কিত মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেসের দ্বিদলীয় এবং স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শক্ত প্রার্থী হতে পারেন। পাশাপাশি ওই নির্বাচনে রাহুল গান্ধীও একই পদে কংগ্রেসের প্রার্থী হতে পারেন।
তবে প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি, ২০১৪ সালের লড়াইটা সরাসরি মোদি বনাম রাহুলই হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তরুণ রাহুল গান্ধীর জন্য ২০০৯ সালের নির্বাচন ছিল রাজনীতিতে অভিষেক অনুষ্ঠানের মতো। অনেকেই মনে করেন, ২০১৪ সালে ভারতে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস থেকে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে।’
১ সেপ্টেম্বর দেওয়া সিআরএসের এই প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার প্রকাশ করে ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্ট। সাধারণত, সিআরএসের প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের জন্য তৈরি করা হয়। জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। তবে অনেকবারই কয়েকটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ও এনজিওর পদক্ষেপের কারণে প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে।
সিআরএস অবশ্য প্রতিবেদনে বলেছে, নির্বাচনী প্রচারণার কৌশলপ্রণেতা হিসেবে মিশ্র ধরনের রেকর্ড, জনসমক্ষে গিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ ও অসতর্ক উক্তি করার কারণে কংগ্রেস দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে রাহুলের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এতে আরও বলা হয়েছে, জোটের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় কংগ্রেস নেত্রী ও সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
সিআরএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি বংশোদ্ভূত হওয়াটা সোনিয়ার জন্য একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে। ২০০৪ সালে সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ প্রত্যাখ্যান করার পেছনে এটা সম্ভবত একটি বড় কারণ ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজেপি থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন নরেন্দ্র মোদি। গুজরাটে উন্নয়নকাজের জন্য মোদি বেশ জনপ্রিয়। মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাবের জন্য বদনাম সত্ত্বেও ২০১৪ সালে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মোদির নাম ভাবা যায়।

কাবুলে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ১৪ জনের প্রাণহানি

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তালেবান জঙ্গিদের হামলার ঘটনা গতকাল বুধবার ১৪ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে তালেবান জঙ্গিরা বোমা ও ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কাবুলে ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) সদর দপ্তর, মার্কিন দূতাবাস ও আফগান গোয়েন্দা সংস্থায় সমন্বিত হামলা শুরু করে।
আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিদ্দিক সিদ্দিকি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ১৯ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর শেষ হামলাকারীকে হত্যা করা হয়েছে এবং লড়াইয়ের অবসান হয়েছে। তিনি বলেন, হামলায় ছয় জঙ্গি অংশ নিয়েছিল। তাদের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। সিদ্দিকি বলেন, হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২৮ জনের মতো মানুষ আহত হন। তাঁদের অধিকাংশই বেসামরিক লোক।
আইএসএএফের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিমি কামিংস বলেন, হামলায় তিন শিশুসহ ১১ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ছয় বিদেশি সেনা আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কাবুলে পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে কয়েকটি হামলার ধারাবাহিকতায় তালেবান জঙ্গিরা মঙ্গলবার থেকে প্রায় দুই দিন শহরটিকে কার্যত জিম্মি করে রাখে। এসব ঘটনায় তালেবান জঙ্গিদের মনোবল আরও চাঙ্গা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।
গত মাসে কাবুলে যুক্তরাজ্যের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আত্মঘাতী হামলা হয়। গত জুনে বিলাসবহুল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলেও হামলা চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার চালানো হামলায় কাবুলের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছে, বিশ্লেষকেরা এমন আভাসই দিচ্ছেন। তবে কাবুলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রায়ান ক্রোকার বিষয়টি মানতে নারাজ। যদিও ব্রিটিশ দূতাবাসে রকেটচালিত ছয়টি গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে।
গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎ কারে ক্রোকার বলেন, ব্রিটিশ দূতাবাসে হামলা খুব বড় ঘটনা নয়। তবে সেটা দূতাবাস ও আমার কর্মকর্তাদের জন্য একটি কঠিন দিন ছিল। ওই হামলার জন্য ক্রোকার তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত গোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্ককে দোষারোপ করেছেন।
মঙ্গলবার বেলা দেড়টার পরপরই তালেবান জঙ্গিরা আত্মঘাতী সরঞ্জাম ও রকেটচালিত গ্রেনেড নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং গুলি ছোড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় এক দোকানি বলেন, ‘আমি তখন দোকানে বসেছিলাম। হঠাৎ পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। এরপরই লোকজন সড়কে ছোটাছুটি শুরু করে।

ইউরোজোনে বিনিয়োগ আরও বাড়াবে চীন

চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও বলেছেন, কোনো দেশই বিচ্ছিন্ন থেকে উন্নতি লাভ করতে পারে না। চীন নিজ দেশ ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির উন্নয়নে চেষ্টা করবে। ইউরোজোনে বিনিয়োগ আরও বাড়াবে।
গতকাল বুধবার চীনের বন্দরনগর দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন অধিবেশন উদ্বোধন উপলক্ষে এসব কথা বলেন জিয়াবাও। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ চলমান অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠবে।’
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের অর্থনৈতিক নীতির ব্যাপারে নানা সমালোচনা রয়েছে। এ নিয়ে প্রকাশ্যে চীনের কঠোর সমালোচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
জিয়াবাও বলেন, চীন এখন নিজ দেশের চাহিদা পূরণ করছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার আস্থা আছে যে চীনের অর্থনীতি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে নতুন, টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
চীন দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ বাজার অর্থনীতির মর্যাদার স্বীকৃতি পেতে দাবি জানিয়ে আসছে। এ দাবি পূরণ হলে ইউরোপে চীনের রপ্তানি ও বিনিয়োগের ওপর আর বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
চীন বৈদেশিক মুদ্রা তহবিলের একটা বিরাট অংশ ইউরোপে বিনিয়োগ করছে। এ বিষয়ে জিয়াবাও বলেন, ইউরোপে এ বিনিয়োগ আরও বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপের প্রধান দেশগুলোর নেতাদেরও অবশ্যই চীনের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককে সাহসিকতার সঙ্গে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করতে হবে। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মধ্যে চীন পূর্ণাঙ্গ বাজার অর্থনীতির দেশের স্বীকৃতি পাবে। যদি ইউরোপীয় দেশগুলো কয়েক বছর আগেই তাঁদের আন্তরিকতার পরিচয় দেয়, তাহলে দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বন্ধুত্বের প্রতিফলন ঘটবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা এর আগে বলে আসছিলেন, প্রয়োজনীয় শর্ত এখনো পূরণ করতে পারেনি চীন। চীনের বড় বড় কোম্পানি রাষ্ট্রায়ত্ত। সরকারই এসব কোম্পানির কর্তাব্যক্তিদের নির্বাচন করে।
জিয়াবাও বলেন, তাঁর দেশের সরকার সব ধরনের শর্ত পূরণ করবে। নিজের ঘর ঠিক রাখবে চীন।

তিন গোয়েন্দা হত্যা

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বান্নু এলাকায় গতকাল বুধবার সন্দেহভাজন তালেবান জঙ্গিরা সামরিক বাহিনীর তিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গতকাল উপজাতি অধ্যুষিত বান্নু এলাকায় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি গাড়িতে কয়েকজন জঙ্গি হঠাৎ গুলি ছোড়ে।

সরকার তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে গুলিতে সাত ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় বিরোধীদের দাবির জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা। তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণার পর সরকার একতরফা কিছুই করতে পারে না। সরকার কমিটির সুপারিশ পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।
সিপিআই-এমসহ অন্যান্য বিরোধী দল পরমাকাদিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে।
বিধানসভার অধিবেশনে জয়ললিতা বলেন, তিনি প্রথমে ডিআরও তদন্তের নির্দেশ দিলেও পরে বিরোধী দলগুলোর দাবির কারণেই বিচার বিভাগীয় তদন্তের অনুমতি দিয়েছেন। সরকার হাইকোর্টের সাবেক একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়ার ফলে এখন তাদের সুপারিশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কারণ কোনো কমিটি গঠনের ঘোষণা হয়ে গেলে শাস্তির সুপারিশ করার এখতিয়ার সেই কমিটির হাতেই চলে যায়। তিনি বলেন, কমিটি কারও বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করলে সরকার অবশ্যই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
তামিলনাড়ুর পরমাকাদিতে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে সাত ব্যক্তি নিহত হয়। ওই হত্যার ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বরখাস্তের দাবিতে সিপি-এম ১৭ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা করে।

ইরানে সাজাপ্রাপ্ত দুই মার্কিন শিগগির মুক্তি পাচ্ছেন না

অবৈধভাবে ইরানে ঢুকে গোয়েন্দাগিরির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত দুই মার্কিনকে শিগগির মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। ইরানের বিচার বিভাগ গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তাঁদের কয়েক দিনের মধ্যেই মুক্তি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ইরানের বিচার বিভাগের একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল দেশটির ইংরেজি ভাষার প্রেস টিভি জানায়, শন বয়্যার ও জশ ফ্যাটাল নামের ওই দুই মার্কিনের শিগগির মুক্তির খবরটি সত্য নয়। তাঁদের আরও বেশ কিছুদিন কারাগারে থাকতে হচ্ছে।
এই দুই মার্কিনের জামিনে মুক্তির বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনাধীন উল্লেখ করে দেশটির বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুজনের পক্ষে আইনজীবীদের করা জামিনের আবেদন আদালতে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগই এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশের একমাত্র কর্তৃপক্ষ। অন্য যেকোনো পক্ষ থেকে প্রচারিত খবরই ভিত্তিহীন।
এর আগে জাতিসংঘের বৈঠকে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার প্রাক্কালে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে বলেছিলেন, মানবিক কারণে তাঁদের ক্ষমা করা হয়েছে। শিগগির তাঁদের মুক্তি দেওয়া হবে।
শন বয়্যার, জশ ফ্যাটালসহ তিন মার্কিনকে ২০০৯ সালের জুলাই মাসে ইরানের সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যজন হলেন সারাহ শোর্ড।
বয়্যার ও ফ্যাটালকে গত মাসে দোষী সাব্যস্ত করে আট বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের রাজধানী তেহরানের এভিন কারাগারে রাখা হয়েছে। তবে মানবিক ও স্বাস্থ্যগত কারণে সারাহকে পাঁচ লাখ ডলার জামানতের বিনিময়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মুক্তি দেওয়া হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দাগিরির দায়ে সাজা দিলেও দুজনের পরিবারই দাবি করছে, উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকায় ঘুরতে গিয়ে ভুলে তাঁরা ইরানে ঢুকে পড়েছিলেন। একই দাবি ওয়াশিংটনেরও।

উত্তর কোরিয়ার ১১০০ কোটি ডলার ঋণ মাফ করতে পারে রাশিয়া

দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক-সহায়তা গড়ে তুলতে উত্তর কোরিয়ার সোভিয়েত আমলের প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ মওকুফ করার আভাস দিয়েছে রাশিয়া।
গতকাল বুধবার দেশটির ইজভেস্তিয়া সংবাদপত্রের খবরে এ কথা বলা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইল গত মাসে পূর্ব সাইবেরিয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে বৈঠকের সময় দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি-সহযোগিতা এবং ওই অপরিশোধিত ঋণ নিয়ে আলোচনা করেন।
রাশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী সের্গেই স্তোরচাক সে সময় বলেছিলেন, পিয়ংইয়ং স্বীকার করেছে যে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পর এখন এই ঋণের অর্থ পাওয়ার দাবিদার রাশিয়া। এই ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ইজভেস্তিয়া জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই ওই ঋণ মওকুফ করতে রাজি ছিল।
কারণ, উত্তর কোরিয়ার ওই ঋণ পরিশোধের সাধ্য নেই। আর ওই ঋণই দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পথে বড় প্রতিবন্ধকতা।
রাশিয়ার ওই সংবাদপত্রটির মতে, রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে ওই ঋণের ৯০ শতাংশ মওকুফ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের কথা প্রস্তাব করে। বাকি ১০ শতাংশ উত্তর কোরিয়ায় দুই দেশের যৌথ প্রকল্পগুলোতে ব্যয় করার প্রস্তাব করা হয়। এতে সম্মতি দিয়েছে দেশটি।

বাস্তবসম্মত সংস্কারের জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান

প্রকৃত ও বাস্তবসম্মত’ সংস্কারের জন্য মিয়ানমারের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন দূত ডেরেক মিচেল। ইয়াঙ্গুন সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
গত মাসে মিয়ানমার-বিষয়ক মার্কিন সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ পান মিচেল। এরপর এটাই তাঁর প্রথম মিয়ানমার সফর। এতে মিয়ানমারের নামমাত্র বেসামরিক সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
সফর শেষে ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারের উচিত রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া এবং জাতিগত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো। তিনি বলেন, মিয়ানমার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রকৃত ও বাস্তবসম্মত সংস্কার করলে যুক্তরাষ্ট্র ‘সহানুভূতিশীল’ হিসেবে সাড়া দেবে।
নারী-শিশুসহ অন্তত দুই হাজার জনকে বন্দী করে রেখেছে মিয়ানমার সরকার। জাতিগত সংখ্যালঘু অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টির অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন নোদা

চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিকো নোদা। গতকাল বুধবার রাজধানী টোকিওতে পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশটিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে আচরণ করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী নোদা বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী জাপান। আগামী বছর চীন-জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্ণ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো স্বচ্ছতা ছাড়াই চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধিতে আমি উদ্বিগ্ন। উদ্বিগ্ন সাগরে তাদের নৌ-তৎ পরতা নিয়ে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে চীন যথাযথ ভূমিকা পালন করবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।’
গত মাসে প্রকাশিত জাপানের প্রতিরক্ষাবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে জাপানের জলসীমার কাছে ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চীনের নৌশক্তি বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বেইজিংয়ের ক্রমাগত সামরিক বাজেট বৃদ্ধিকেও ‘রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য করা হয়।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নকে সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ বলে দাবি করা হয়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে চীন তার সামরিক বরাদ্দ ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িয়ে নয় হাজার ১৭০ কোটি ডলার করার ঘোষণা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৩ সালের পর দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটিতে এখন প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। গত বছর দেশটিতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় চার কোটি ৬২ লাখে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত তথ্য থেকে এ কথা জানা যায়।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১০ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ১ শতাংশ। ১৯৯৩ সালের পর দেশটিতে দারিদ্র্যের হার এটাই সর্বোচ্চ। ২০০৯ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। স্বাস্থ্যবিমার আওতার বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় চার কোটি ৯৯ লাখে। দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা টানা চার বছর ধরে বেড়েছে।
চারজনের পরিবারের বার্ষিক আয় ২২ হাজার ৩১৪ ডলার বা তার কম হলে কোনো পরিবারকে এবং কোনো ব্যক্তির বার্ষিক আয় ১১ হাজার ১৩৯ ডলার বা তার কম হলে তাঁকে দরিদ্র হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সীদের দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়ায় ২২ শতাংশে। ২০০৯ সালে যা ছিল ২০ দশমিক ৭ শতাংশ।
অ্যাডভোকেসি গ্রুপ দ্য চিলড্রেনস লিডারশিপ কাউন্সিল শিশুদের দারিদ্র্যের এ হারকে ‘আমেরিকায় অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা বর্তমানে শিশু দারিদ্র্যের জন্য মূল্য দিচ্ছি। সামনের দশকগুলোতেও আমাদের এ জন্য মূল্য দিতে হবে।’
২০১০ সালের হিসাবে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ। সেখানকার ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। আর দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যবিমা ছিল না।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশের এক কোটি চার লাখের বেশি মানুষ এখন বেকার।
সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখানে এশীয় বংশোদ্ভূত লোকজনের দারিদ্র্যের হার কমে ১২ দশমিক ১-এ পৌঁছেছে। এক বছর আগে এ হার ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
গত এক দশককে অর্থনৈতিক তৎ পরতা হারানোর দশক হিসেবে উল্লেখ করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক লরেন্স কাইজ। তিনি বলেন, ইতিহাসে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্ম আগের প্রজন্মের চেয়ে বরাবরই ভালো করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্তের অবস্থা আরও নাজুক হয়েছে।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ব্রুকিং ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী দশকের মধ্যভাগে আরও এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে।
ব্যাপক কর্মহীনতা ও অর্থনৈতিক মন্দাকে যুক্তরাষ্ট্রের দারিদ্র্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী করা হচ্ছে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ এক দিনের জন্যও কাজ করার সুযোগ পায়নি।

‘রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেতে ফিলিস্তিনি চেষ্টার ফল ভালো হবে না’

স্থায়ী রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিন জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলে তার ফল ভালো হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন ইসরায়েলের কট্টরপন্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান। গতকাল বুধবার কৃষিবিষয়ক এক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে সৃষ্ট কূটনৈতিক জটিলতা নিরসনে সাধারণ বুদ্ধিরই জয় হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি গণকূটনৈতিক মন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিবারম্যান ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টোনের সঙ্গে নির্ধারিত এক বৈঠকে বসার আগে কৃষি সম্মেলনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘে পদ পেতে চেষ্টা না চালাতে হুঁশিয়ার করেন। তবে এ ধরনের চেষ্টা করা হলে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি তিনি। পরিণতি সম্পর্কে লিবারম্যান বলেন, কী ঘটবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলার সময় এখনো আসেনি।
এদিকে গণকূটনৈতিক মন্ত্রী ইউলি এডেল স্টেইন গতকাল সরকারি বেতারে বলেন, ‘তুরস্কের পক্ষ থেকে তিক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও আমরা ধৈর্য ধারণ করে আছি। সাধারণ বোধ-বুদ্ধি উদয়ের আশায় আমরা আগুনে ঘি ঢালছি না।’
গত বছর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি নৌবাহিনীর ছয়টি জাহাজ ঢুকে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে তুরস্ক থেকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা হয়।

নাইজারে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে সাদি গাদ্দাফি

লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাদি গাদ্দাফি প্রতিবেশী দেশ নাইজারে রয়েছেন। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ‘হেফাজতে’ আছেন তিনি। তবে কর্নেল গাদ্দাফির অবস্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্বব্যাংক লিবিয়ার বিদ্রোহীদের গঠিত ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে (এনটিসি) আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। ব্যাংকটি যুদ্ধ-পরবর্তী লিবিয়া পুনর্গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালনেরও অঙ্গীকার করেছে।
গাদ্দাফির সাত ছেলের মধ্যে তৃতীয় সাদি। ৩৮ বছর বয়সী সাদি চলতি মাসেই ৩২ জন কর্মকর্তাসহ প্রতিবেশী দেশ নাইজারে পালিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় তিনজন জেনারেলও আছেন। নাইজারের কর্মকর্তারা জানান, গত মঙ্গলবার তিনি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর আগাডেজ ছেড়ে রাজধানী নিয়ামের দিকে যান।
যুক্তরাষ্ট্র নাইজার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়, সাদি গাদ্দাফি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড জানান, সাদিকে নাইজারের রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় রাখা হয়েছে।
তবে গাদ্দাফি কোথায় আছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি সামরিক জোট ন্যাটো। গাদ্দাফিবিরোধী অভিযানে বিদ্রোহীদের সহায়তা দেওয়া ন্যাটো জানায়, তারা লিবিয়ায় গাদ্দাফির সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাবে। তাদের হামলার লক্ষ্য গাদ্দাফি নয়।
গত ২৫ আগস্ট গাদ্দাফির প্রধান আশ্রয়স্থল ত্রিপোলির বাব আল-আজিজিয়ার পতনের পর থেকে পলাতক গাদ্দাফি। তবে প্রায়ই সিরিয়াভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আরাই ওরুবায় অডিও বার্তা পাঠিয়ে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুগত সেনাদের উদ্বুদ্ধ করছেন তিনি। কোনো কোনো অডিও বার্তায় তিনি লিবিয়াতেই আছেন বলে দাবি করেন।
লিবিয়া অভিযানবিষয়ক ন্যাটোর মুখপাত্র কর্নেল রোনাল্ড লভোই বলেন, বিভিন্ন সূত্র ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী গাদ্দাফি এখনো লিবিয়ায় আছেন। কিন্তু ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, তা এখনো জানা যায়নি। গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথাও বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, গাদ্দাফি লিবিয়া ছেড়ে পালিয়েছেন কি না, আমরাও তা জানি না।’
বিশ্বব্যাংক গত মঙ্গলবার লিবিয়া পুনর্গঠনে কাজ করার অঙ্গীকার করে। বিশ্বব্যাংক জানায়, এনটিসি এরই মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো পুনর্গঠনে কাজ করতে তাদের কাছে আবেদন করেছে। বাজেট ও ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনে আইএমএফকে সঙ্গে নিয়ে এনটিসিকে সহায়তা করা হবে বলেও জানায় বিশ্বব্যাংক।
ত্রিপোলিতে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী: মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেফরি ফেল্টম্যান গতকাল বুধবার লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে এনটিসির প্রধান মুস্তাফা আবদেল জলিলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত মাসে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর ওবামা প্রশাসনের কোনো সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ত্রিপোলি সফরের ঘটনা এটাই প্রথম। তবে তিনি কবে ত্রিপোলি পৌঁছান, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিতুন কুন্ডুর দ্বিতীয় সংস্করণ হয় না

পরম, তোমার পরম সৌভাগ্য, তুমি শিল্পী নিতুন কুন্ডুর নাতি। যত বড় হবে, ততই তোমার গর্ব হবে এই জেনে যে তুমি এ দেশের একজন মেধাবী, পরিশ্রমী, সৃজনশীল ‘সেলফ মেইড’ মানুষের উত্তর-প্রজন্ম।
যে মানুষটি আর্ট স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য ১০ টাকা পকেটে নিয়ে গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। জীবনধারণের জন্য সিনেমার ব্যানার এঁকেছেন প্রতি বর্গফুট এক আনায়। সেই মানুষটিই ছাত্রজীবনে হলেন প্রথম শ্রেণীতে প্রথম। আর সেই মানুষটিই হলেন ‘অটবি’র প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মেধায়, তাঁর মমতায় অটবি শুধু একটু একটু করে বড়ই হয়নি, হয়েছে বিশাল। নিতুন কুন্ডু স্মারকগ্রন্থে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী লিখেছেন, ‘একজন শিল্পী যতই বাণিজ্যিক সফলতা অর্জন করুক, তার মধ্যে নান্দনিকতার ছাপ অবশ্যি থাকবে। নিতুনের প্রতিষ্ঠান সেই নান্দনিকতা দিয়ে একটা রুচি গড়ে দিয়েছে।’
আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগে (১৫ সেপ্টেম্বর, ২০০৬) সকালবেলায় বারডেমের কার্ডিয়াক ইউনিটের সামনে। নিতুন কুন্ডু চলে যাওয়ার খবর পেয়ে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ অটবিতে কর্মরত শত শত মানুষের ঢল আর চোখের জল দেখে বুঝতে অসুবিধা হয়নি, নিতুন কুন্ডু বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃষ্টি আর কাজের মধ্যেই। নাটকের সেট থেকে একুশের সংকলন, মেডেল-ট্রফি, প্যাভিলিয়ন থেকে আসবাব-নকশা, লোগো থেকে চিত্রকলা—কোথায় নেই তিনি?
এই তো সেদিন, ঢাকায় এলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। রাষ্ট্রীয় অতিথির আগমনে ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলের সামনে অবস্থিত সার্ক ফোয়ারায় দেখা গেল আলোর ঝিলিক আর পানির নাচন। পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম; বারবার কাকুর (নিতুন কুন্ডুকে ‘কাকু’ ডাকতাম) কথা মনে হচ্ছিল। এই ফোয়ারা যখন তিনি তৈরি করেন, তখন এক দিন বেশ রাতে গেলাম কাকুর কর্মযজ্ঞ দেখতে। ঘুরে ঘুরে তিনি দেখাচ্ছিলেন আর বোঝাচ্ছিলেন তাঁর কাজের বিস্তৃতি। তা দেখে যে কারও মনে প্রশ্ন জাগবে—মানুষটা কি আসলে চারুকলার শিল্পী, নাকি স্থপতি! নাকি প্রকৌশলী! এই কাজ করতে গিয়েই তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়। কিন্তু অসম্ভব প্রাণশক্তির মানুষটি সুস্থ হয়ে আবার ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন কাজে। যে মানুষটি মুক্তিযুদ্ধের সময় পোস্টার এঁকে মনে সাহস জাগিয়েছিলেন, ‘সদা জাগ্রত বাংলার মুক্তিবাহিনী’। স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে সে মানুষটির সৃষ্টি থাকবে না, তা কি হয়? রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ তাই ভাস্কর নিতুন কুন্ডুর সৃষ্টিনিদর্শন।
নিতুন কুন্ডুর দুই সন্তান। অমিতি কুন্ডু ও অনিমেষ কুন্ডু। কন্যা অমিতির সন্তান পরম। পরমের সৌভাগ্যের কথা বলেছিলাম শুরুতেই। তবে পরমের জন্য বড় ‘না পাওয়া’ হয়ে থাকল দাদুর আদর। শিশুদের অসম্ভব ভালোবাসতেন। সেই ভালোবাসার যে কী টান আর কী শক্তি, তা বুঝতে পারে শিল্পী দেবদাস চক্রবর্তীর দুই সন্তান গৌতম ও রুশো। কাকুময় শৈশব তাদের। নিতুন কুন্ডু স্মারকগ্রন্থে গৌতম লিখেছিল, ‘নিতুন কুন্ডুকে আমি এবং রুশো আবাল্য “কাকু” বলে ডেকেছি। এর কোনো দ্বিতীয় সংস্করণ আমার জীবনে নেই।’
আসলেই নিতুন কুন্ডুর দ্বিতীয় সংস্করণ হওয়া কঠিন। সৃজনশীল কর্মী এই মানুষটির জীবন-অভিধানে ‘ইমপসিবল’ বলে কোনো শব্দ ছিল না। কাকুর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললেই কর্মশক্তি বেড়ে যেত।
পাঁচ বছর আগে বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক ইউনিটে অনেকেই জড়ো হয়েছিলেন, কারও নিতুন, কারও বা নিতুনদা...। সবাই বিমর্ষ। একটা ম্যাজিকের অপেক্ষায় যেন। যদি সব আগের মতো হয়ে যেত! যদি মেদহীন শরীরটা নিয়ে বিছানা থেকে উঠে পড়তেন! চেইন লাগানো বন্ধ কালো জুতাটা পায়ে গলিয়ে যদি এখনই ছুটে যেতেন শ্যামপুরের কারখানায়!
সবাই অপেক্ষা করছেন। সিঙ্গাপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হচ্ছে। শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী বলেছিলেন, ‘এই অপেক্ষা নিতুন মানত না। বলত, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স? কী আর এমন হাতি-ঘোড়া? একে ডাক, ওকে ডাক, একটা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সই বানাব...।’
ইশ্! কাকু যদি আরও কয়েকটা বছর থাকতেন!
সুমনা শারমীন

মুদ্রাস্ফীতি বনাম মূল্যস্ফীতি by ফারুক মঈনউদ্দীন

দেশের সার্বিক অর্থনীতি বিষয়ে সাধারণ শিক্ষিত মানুষ, অর্থনীতিবিদ, ভোক্তাসাধারণ—সবার আলোচনায় যে কথাগুলো ঘুরেফিরে আসে, তা হচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বা মূল্যস্ফীতি ইত্যাদি। এই দুটি ধারণার সাধারণীকৃত ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে সামান্য বিভ্রান্তি। আমরা যখন মুদ্রাস্ফীতি কথাটা ব্যবহার করি, তার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ধারণাকে এক করে ফেলি। অবশ্য এই বিভ্রান্তির কারণও আছে। মুদ্রাস্ফীতি বলতে অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধিকেই বোঝানো হয়। অর্থনীতিতে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গেলে এবং পণ্য ও সেবার সরবরাহ অপরিবর্তিত থাকলে মূল্যস্ফীতি ঘটে। কারণ অনেক বেশি টাকা সীমিত পণ্য ও সেবার পেছনে ধাওয়া করে। এতে চাহিদা ও মূল্যস্তর—দুটিই বেড়ে যায়। শাস্ত্রীয় ও আভিধানিক অর্থেও মুদ্রাস্ফীতির অর্থ সব ধরনের পণ্য ও সেবামূল্যের ক্রমাগত বৃদ্ধি, যা সাধারণত ঘটে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের কারণে, যাতে অর্থের মূল্য হ্রাস পায়। বলা হয়, ‘মুদ্রাস্ফীতিতে সবকিছু মহার্ঘ হয়ে যায় কেবলমাত্র অর্থের মূল্য ছাড়া।’ সাধারণ অর্থে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে মূল্যস্ফীতির এটিই সহজবোধ্য সম্পর্ক এবং মুদ্রাস্ফীতির স্বাভাবিক ধর্মটিও এ রকম। কিন্তু একে সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা যায় না।
প্রকৃতপক্ষে মূল্যস্তর কমলেও মুদ্রাস্ফীতি বিরাজ করতে পারে; আবার মুদ্রাস্ফীতি না থাকলেও মূল্যস্তর বাড়তে পারে। এককথায়, মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে অর্থনীতিতে এর একটা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং এর প্রবণতা কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করে একাধিক নিয়ামকের ওপর। যেমন, বর্তমান যুগে প্রযুক্তির উৎ কর্ষের সঙ্গে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী কিংবা মোবাইল ফোন সেটের দাম কমে আসছে এবং সেটা ঘটতে পারে মুদ্রাস্ফীতি বিরাজমান অর্থনীতিতেও। আবার একটা মন্দাক্রান্ত অর্থনীতিতে কোনো বিশেষ পণ্য বা সেবার মূল্য বাড়তে পারে, যদি এর চাহিদা কারণবশত হঠাৎ বেড়ে যায়। যেমন আমাদের দেশে মুদ্রাস্ফীতির বিপরীত অবস্থা অর্থাৎ মন্দাভাবও যদি বিরাজ করে, তবু ভূসম্পত্তি কিংবা অ্যাপার্টমেন্টের মূল্যস্ফীতি থেমে থাকবে না। কারণ, এর রয়েছে বিশাল চাহিদা, সীমিত সরবরাহ এবং অর্থায়ন প্রাপ্তির সুবিধা।
মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে আরেকটি বিষয় গুলিয়ে ফেলা হয়। সেটা হচ্ছে ভোক্তা মূল্যসূচক। এটি মূলত মূল্যহার পরিবর্তনের হিসাব, যা দিয়ে মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপ করা হয়। এই হিসাবের জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট বছরকে ভিত্তি বছর হিসেবে ধরা হয়। তারপর সেই ভিত্তি বছরকে বিবেচনায় রেখে একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের মূল্যস্তর পর্যবেক্ষণ করে রেকর্ড রাখা হয়। ধরা যাক, মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয়ের জন্য কেবল একটি পণ্যের মূল্যের ওপর ভোক্তা মূল্যসূচক নির্ধারণ করা হয়। এবং ভিত্তি বছর ২০০০ সালে সেই পণ্যটির দাম ছিল এক টাকা এবং এর মূল্যসূচক ১০০। পরের বছর (২০০১) সেই পণ্যটির দাম যদি বেড়ে দাঁড়ায় এক টাকা ২০ পয়সায়, তাহলে মূল্যসূচক হবে ১২০। এখন আমরা ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যদি মুদ্রাস্ফীতি নির্ণয় করতে চাই এবং ২০১১ সালে সেই পণ্যটির মূল্যসূচক যদি হয় ১৫০, তাহলে এই ১০ বছরে মুদ্রাস্ফীতির হার হবে (১৫০-১২০)—১২০ = ০.২৫, অর্থাৎ শতকরা হিসাবে ২৫ শতাংশ। এ রকম কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভোক্তা মূল্যসূচক ব্যবহার করে মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট বা একক পণ্যের তুলনামূলক মূল্যবৃদ্ধিকে মুদ্রাস্ফীতি বলা যায় না, যদিও একে সাধারণ মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে এক করে দেখা হয়। কোনো একক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটে সেই পণ্যের বাড়তি চাহিদা কিংবা সরবরাহ ঘাটতির কারণে। অথচ সাধারণ মূল্যস্ফীতি তথা মুদ্রাস্ফীতি চাহিদা সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। এটি নির্ভর করে অর্থনীতির ভাষায় ‘সামগ্রিক চাহিদা’র ওপর। সামগ্রিক চাহিদা বলতে বোঝায়, একটি অর্থনীতিতে পণ্য ও সেবার ওপর সব ভোক্তার মোট ব্যয়, মোট বিনিয়োগ ব্যয়, মোট সরকারি ব্যয় এবং নিট রপ্তানি আয় (আমদানি ব্যয় বাদ দিয়ে)—সবকিছুর সমষ্টি। আর এই সামগ্রিক চাহিদা প্রভাবিত হয় মুদ্রা সরবরাহ দ্বারা। অতএব, মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে একটি মুদ্রানৈতিক বিষয় এবং এর পেছনে কোনো একক পণ্যের সরবরাহ ঘাটতির কোনো সম্পর্ক নেই। বরং সেই পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধির পরও মূল্যস্ফীতি না ঘটে মুদ্রাস্ফীতি বিরাজ করতে পারে কিংবা উভয়ই ঘটতে পারে। যেমন, কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে ব্যাপক হারে বেড়েছে মুরগি ও ডিমের উৎ পাদন। কিন্তু এতে কি মূল্য কমেছে? নাকি বেড়েছে? সুতরাং, কোনো একক পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি করে মূল্যস্ফীতি কিংবা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সঠিক সংজ্ঞার মুদ্রাস্ফীতিই কেবল সঠিক মুদ্রানীতি দিয়ে নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং সেটি যদি হয় চাহিদাজাত মূল্যস্ফীতি। তাহলে মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে আরেকটি প্রসঙ্গ স্বাভাবিকভাবেই চলে আসছে। সেটি হচ্ছে দেশের মুদ্রানীতি, যা নিয়ন্ত্রণ করে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মুদ্রানীতি হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে অর্থনীতির গতি ও প্রবৃদ্ধিকে ঠিক পথে চালানোর জন্য মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা মূলত করা হয় অর্থ সরবরাহ এবং সুদের হারের মাধ্যমে।
অন্যভাবে বলতে গেলে, মুদ্রানীতি দিয়ে অর্থনীতির মোট চাহিদার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটিয়ে চাহিদাজাত মুদ্রাস্ফীতিকে বাগে আনার চেষ্টা করা যায়। চাহিদা ব্যবস্থাপনার এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মূল্যস্তর ও বিনিয়োগ স্থিতিশীল রাখা। মুদ্রানীতির এই কৌশল প্রয়োগ করা হয় সুদের হার এবং অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামগ্রিক চাহিদাকে বশে রাখার জন্য। অর্থ সরবরাহ এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণ করলে মুদ্রাবাজারে স্বল্প মেয়াদে সুদ বেড়ে যায় এবং ব্যাংকের বাড়তি তহবিল সংগ্রহের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে আমানত এবং ঋণের ওপর সুদ বেড়ে যায়। এতে বিনিয়োগ কমে যায়। আর এ কারণে অর্থনীতিতে হ্রাস পায় সামগ্রিক চাহিদা। হ্রাসকৃত বিনিয়োগের জন্য মানুষের ভোগও কমে যায়, যা আবার প্রভাব ফেলে সামগ্রিক চাহিদার ওপর। এতে দেখা যায়, ঋণ সংকোচন করে বিনিয়োগ, মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমানো যায়, যে প্রক্রিয়ায় একসময় বশে আসে মুদ্রাস্ফীতি।
তবে আজকাল মুদ্রানীতির এই উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকাররা নতুনভাবে আলোকপাত করছেন। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ওয়াই ভি রেড্ডি লেখেন, ‘মুদ্রানীতির উদ্দেশ্য এখন আর মূল্যস্তর স্থিতিশীল রাখায় সীমাবদ্ধ নেই...। এর উদ্দেশ্য এখন আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা পর্যন্ত বিস্তৃত।’
আটলান্টা ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট ডেনিস লকহার্ট বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি সবকিছুর মূল্য বাড়ায়। এটা কোনো একক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি কিংবা কোনো বিশেষ শ্রেণীর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নয়।’
তাঁর মতে, নির্দিষ্ট বাজারে পণ্যমূল্যকে নিয়মানুগভাবে প্রভাবিত করতে অক্ষম মুদ্রানীতি একটা ভোঁতা অস্ত্র। তাঁর মতে, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওঠানামা এবং কোনো একক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে অক্ষম। আমরা তেল উৎ পাদন করি না। খাদ্যও ফলাই না। কিংবা দিই না স্বাস্থ্যসেবা। যেসব ঘটনা কোনো কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং আপনাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ঘটায়। যেমন, তেলের অনাগত ধাক্কা কিংবা খরা অথবা ধর্মঘট—এসব আমরা ঠেকাতে পারি না।’
‘অতএব বাজারধর্মে ঘটা পণ্যের তুলনামূলক মূল্য সংশোধন ঠেকানো মুদ্রানীতির কাজ নয়। এর কাজ হচ্ছে অর্থনীতিতে সব মূল্য পরিবর্তনের সামগ্রিক লক্ষ্য ও গতিকে নিয়ন্ত্রণ করা।’ সে কারণেই আমরা দেখতে পাই, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন সুদের হার কিংবা ব্যাংকগুলোর নগদ জমা ও তারল্য হার বাড়ায়, সেটা বাজারের কোনো পণ্যের দাম কমাতে পারে না। তাহলে প্রশ্ন করা যায়, মুদ্রানীতি যদি জীবনযাত্রার ব্যয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে এই নীতির দরকার কী? লকহার্ট এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, দরকারটি হচ্ছে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থিরতা আনা, যা সম্ভব আর্থবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষার মাধ্যমে।
আমাদের দেশেও যখন ষাণ্মাষিক মুদ্রানীতি ঘোষিত হয়, তখন বিভিন্ন মহল থেকে আশা করা হয়, এটি দিয়ে অর্থনীতির সব সমস্যা, যেমন শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে দ্রব্যমূল্য, বিদেশি বিনিয়োগ থেকে শুরু করে টাকার সঙ্গে ডলারের বিনিময়মূল্য—সবকিছুর সমাধান করে ফেলা যাবে। মুদ্রানীতির কর্মক্ষেত্র যেহেতু চাহিদা ব্যবস্থাপনা, এটি অর্থনীতির সরবরাহ ক্ষমতার ওপর কার্যকর নয়। এটি দিয়ে সামগ্রিক চাহিদাকে প্রভাবিত করে এর হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটানো যায়, আর এটি করা হয় সুদের হারের তারতম্য ঘটিয়ে।
এই সত্য থেকে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় তা হচ্ছে, কেবল চাহিদাজাত মূল্যস্ফীতিকে মুদ্রানীতি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু যে মূল্যস্ফীতি ব্যয়বৃদ্ধিজনিত, সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে মুদ্রানীতি অক্ষম। যেমন আমাদের অর্থনীতিতে খাদ্যমূল্যস্ফীতি কিংবা মুদ্রাস্ফীতি—যা-ই বলা হোক না কেন, ঘটে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে, কখনোই চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়, যদিও জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে চাহিদা প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। সুতরাং মুদ্রানীতি দিয়ে চাহিদা ব্যবস্থাপনা করে খাদ্য কিংবা কোনো একক পণ্যমূল্য কমানো সম্ভব নয়। এর আরও একটি কারণ হচ্ছে, খাদ্যের অস্থিতিস্থাপক চাহিদা। অর্থাৎ খাদ্যের দাম যা-ই হোক না কেন, মানুষকে তার মৌলিক চাহিদার প্রধানতমটি, অর্থাৎ খাদ্যচাহিদা মেটাতে হবে। কিন্তু খাদ্য ছাড়া অন্য পণ্যের মূল্যস্ফীতি কম থাকলেও সার্বিক মূল্যস্ফীতি নির্ভর করে খাদ্যমূল্যের ওপর। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যমূল্যের প্রবণতার ওপর নির্ভর করবে অভ্যন্তরীণ খাদ্যমূল্য এবং তা ঊর্ধ্বমুখী থাকার সম্ভাবনাই বেশি। আমাদের দেশে কিংবা ভারতে বিগত বছরগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বাগে রাখার জন্য ক্রমাগত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এর কোনো সুফল পাওয়া যায়নি, যা প্রমাণ করে যে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
তাহলে শেষ পর্যন্ত যে কথাটি বোঝা যাচ্ছে, দেশের মুদ্রানীতি যা-ই হোক না কেন, খাদ্যপণ্যের অভ্যন্তরীণ মূল্য নির্ধারিত হবে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও চাহিদার স্থিতিস্থাপকতার ওপর, অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর নয়। অতএব, মূল্যসূচক নির্ধারণের জন্য খাদ্যপণ্য প্রধানতম সামগ্রী হলেও এর মূল্য দিয়ে মুদ্রাস্ফীতি নির্ণয় করলে এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।
ফারুক মঈনউদ্দীন: লেখক ও ব্যাংকার।
fmainuddin@hotmail.com

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেব, বললেন অর্থমন্ত্রী

পদ্মা সেতু নির্মাণে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগে সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা অভিযুক্ত এক প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি বেশ হাস্যকর। এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশই দেওয়া হয়নি। দুর্নীতির কোনো কাগজপত্রও নেই। তার পরও ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নালিশ হয়েছে। নালিশ যখন হয়েছেই, বাদ দিয়ে দেব। আরও চারটি প্রতিষ্ঠান তো থাকবে।’
পরিকল্পনা কমিশন ও বিশ্বব্যাংকের আয়োজনে ‘সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে অর্থমন্ত্রী গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও জানান, বর্তমান সরকারের আড়াই বছরে বিশ্বব্যাংক মাত্র একটি দুর্নীতির অভিযোগ এনেছে। কিন্তু এর আগে আরও চারটি দুর্নীতির অভিযোগ করেছিল বিশ্বব্যাংক, যা বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিএনপি সরকারের আমলে সংঘটিত হয়। সেসব দুর্নীতির কারণে এখনো বর্তমান সরকারকে ভুগতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার, পরিকল্পনাসচিব মনজুর হোসেন, বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর তাহসিন সাইদ প্রমুখ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি বিনিয়োগ এখনো মোট দেশজ উৎ পাদনের মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশ। এই হার ৬ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ জন্য মানসম্পন্ন সরকারি বিনিয়োগ করতে হবে। আর বেসরকারি বিনিয়োগের পথ সুগম করতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।
তিনটি কারণে সরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয় বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এগুলো হলো অর্থের অব্যবস্থাপনা, প্রকল্পের অব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব।
আবুল মাল আবদুল মুহিত আরও বলেন, বিদেশি সহায়তা এ দেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। তবে বাংলাদেশের তা কমে আসছে। এখনো মোট বিনিয়োগ কমর্সূচির ২ শতাংশেরও কম হলো বিদেশি সহায়তা।
পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ দরকার। বর্তমান সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের ৭৭ দশমিক ২ শতাংশই আসছে বেসরকারি বিনিয়োগ থেকে। আর এই বেসরকারি বিনিয়োগ উৎ সাহিত করতে মানসম্পন্ন সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
পরিকল্পনাসচিব মনজুর হোসেন জানান, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বিদেশি সহায়তার ব্যবহার একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর অর্থসংকটের কারণে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর তাহসিন সাইদ বলেন, এবারই প্রথমবারের মতো অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তারা উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে ভারত, তুরস্ক, ভিয়েতনাম, কোরিয়া ও ফিলিপাইনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। গতকালের বিভিন্ন কর্ম-অধিবেশনে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম, বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ জুংহান চু, সরকারি বিনিয়োগসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ মুরে পেত্রি, পরিকল্পনাসচিব মনজুর হোসেন প্রমুখ।

মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে বিধি অনুযায়ী বিনিয়োগের নির্দেশ

মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে বিধি অনুযায়ী বিনিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
বিভিন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে গতকাল বুধবার এসইসি এ নির্দেশ দেয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, এ সময় মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর বিনিয়োগের তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলো নিয়মানুযায়ী বাজারে বিনিয়োগ করছে না। বিধি অনুযায়ী মিউচুয়াল ফান্ডের মোট তহবিলের ৭৫ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের কথা। কিন্তু অনেক মিউচুয়াল ফান্ড ওই পরিমাণ বিনিয়োগ না করে ব্যাংকে টাকা গচ্ছিত রাখছে। এতে বাজারে নতুন নতুন মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দেওয়ার আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এসইসি।
এর জবাবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার কিছু বিধিনিষেধের কারণে তাদের বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা চাইলেও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার পঞ্চম তফসিলের কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ১০ শতাংশ ও একক খাতে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করতে পারে না। এ কারণে অনেক সময় অলস টাকা থাকলেও তাদের পক্ষে বিনিয়োগ করা সম্ভব হয় না। এ যুক্তিতে সংশ্লিষ্ট ধারাটি স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলো।
একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরের বাজেটে মিউচুয়াল ফান্ডের আয়ের ওপর নতুনভাবে কর আরোপের বিধানটিও প্রত্যাহারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এসইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর নির্বাহীরা। তাঁরা বলেন, বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো ত্রিমুখী করের চাপে রয়েছে। করের বোঝা কমানো না গেলে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো লাভজনকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হবে।
এ ব্যাপারে এসইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এখতিয়ারভুক্ত। তার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলা হবে। একই সঙ্গে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোকে সম্মিলিতভাবে বিষয়টি নিয়ে এনবিআরের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছে এসইসি।
বৈঠক শেষে এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড নীতিমালার পঞ্চম তফসিলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির পক্ষ থেকে ওই বিধিনিষেধ স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশন তাদের এ বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।
সাইফুর রহমান বলেন, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এ বিষয়টি শিথিল করা হয়েছিল। এবারও এটা শিথিল করা হলে মিউচুয়াল ফান্ডের কিছু অলস টাকা বাজারে আসবে। এতে কিছুটা হলেও বাজারে তারল্যসংকট কমবে।
সাইফুর রহমান আরও বলেন, ‘পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এসইসি। এরই ধারাবাহিকতায় সম্পদ ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমরা সবাই একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার আশা করছি।’
সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এইমস অব বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াওয়ার সায়ীদ সাংবাদিকদের বলেন, চলতি বাজেটে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ওপর কর আরোপ করা হয়েছে। এতে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। নতুন কর আরোপের ফলে তাঁদের লভ্যাংশ ঘোষণার সক্ষমতা ভবিষ্যতে অনেকাংশে কমে যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর সুদ ও মাশুল মওকুফ

দরপতনে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সুদ ও সেবা মাশুল মওকুফের সুপারিশ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। একই সঙ্গে সংস্থাটি লেনদেন নিষ্পত্তির সময় এক দিন কমিয়ে আনা ও শেয়ারের অভিন্ন মার্কেট লট করার সুপারিশ করেছে। গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।
ডিএসই বলছে, এসব সুপারিশ লিখিতভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) জমা দেওয়া হবে। কমিশনই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
যোগাযোগ করা হলে ডিএসই সভাপতি শাকিল রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে দরপতনের কারণে অনেক বিনিয়োগকারী আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যাঁরা ঋণ করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন, তাঁদের ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। সেসব বিনিয়োগকারী যাতে কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেন, সে জন্য আমরা ঋণের সুদ ও সেবা মাশুল মওকুফের সুপারিশ করেছি। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট একটি সময়ের সুদ ও সেবা মাশুল মওকুফের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এ ধরনের সুদ মওকুফের ব্যবস্থা চালু আছে।’
এ ছাড়া ডিএসইর সভায় ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১০০ টাকার শেয়ার নিয়ে অভিন্ন মার্কেট লট করা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির সময় তিন দিনে নামিয়ে আনার ব্যাপারে একমত পোষণ করা হয়। বর্তমান শেয়ারবাজারে লেনদেন নিষ্পন্ন হতে ন্যূনতম চার কার্যদিবস সময় লাগে। পাশাপাশি বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে টাকার আর্থিক সমন্বয় (নেটিং) সুবিধা চালু ও লেনদেনের করহার কমাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ডিএসই লিখিত সুপারিশ করবে বলে জানা গেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড নীতিমালার দুটি শর্ত শিথিল

মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০০১-এর ৫৬ বিধির পঞ্চম তফসিলের ২ ও ৫ নম্বর দফা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ বৃহস্পতিবার এসইসির নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা শেষে এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ বিধিমালায় কিছু বিধি-নিষেধ রয়েছে। সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর সুপারিশে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিধি নিষেধগুলো স্থগিত করা হয়েছে।
জানা যায়, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার পঞ্চম তফসিলের ২ ও ৫ নম্বর দফা অনুযায়ী মিউচুয়াল ফান্ডগুলো একক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে মোট মূলধনের ১০ শতাংশ ও একক খাতে মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারত। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিষয়টি শিথিল করা হয়েছিল। এবারও গতকাল এসইসির সঙ্গে বৈঠকে এটা শিথিল করার সুপারিশ করা হয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির পক্ষ থেকে।

১৫০ কোটি টাকার দুটি মিউচুয়াল ফান্ড অনুমোদন

১৫০ কোটি টাকার দুটি মেয়াদহীন (ওপেন এন্ড) মিউচুয়াল ফান্ড অনুমোদন করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কমিশনের এক সভায় এই ফান্ড দুটি অনুমোদিত হয়। মিউচুয়াল ফান্ড দুটির মধ্যে একটি ১০০ কোটি টাকার এমটিবি ইউনিট ফান্ডের ট্রাস্ট ডিড এবং অন্যটি ৫০ কোটি টাকার সন্ধানী লাইফ ইউনিট ফান্ডের প্রসপেক্টাস।
এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান জানান, এমটিবি ইউনিট ফান্ডের আকার হবে ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড ২০ কোটি টাকা জোগান দেবে। বাকি ৮০ কোটি টাকা ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। ফান্ডটির সম্পদ-ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে অ্যালায়েন্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।
সাইফুর রহমান আরও জানান, সন্ধানী লাইফ ইউনিট ফান্ডের প্রাথমিক আকার ৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ১০ কোটি টাকা দেবে। বাকি ৪০ কোটি টাকা প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এই ফান্ডে সম্পদ ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছে আলিফ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং ট্রাস্টি হিসেবে থাকবে বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি।

প্রিমিয়ার লিজিংয়ের ১:১ রাইট অনুমোদন

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স লিমিটেডের ১:১ রাইট শেয়ার অনুমোদন করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ বৃহস্পতিবার এসইসির নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স লিমিটেড বর্তমানে ৫২ লাখ নয় হাজার ২৮২টি শেয়ারের বিপরীতে একই সংখ্যক শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ৫২ কোটি নয় লাখ ২৮ হাজার ২০০ টাকা সংগ্রহ করবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্য অর্থাত্ ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাইফুর রহমান আরও জানান, সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ১৫৬.০৭ (এনএভি) টাকা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১৫১.০১ টাকা।

নাইজেরিয়ার ইসলামি গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালাতে পারে

নাইজেরিয়া সাম্প্রতিক একাধিক বোমা হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ইসলামি গোষ্ঠীটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালাতে পারে। সে দেশের পুলিশ গতকাল বুধবার এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
গত জুনে আবুজায় পুলিশ সদর দপ্তরে বোমা হামলা এবং গত মাসে জাতিসংঘ ভবনে বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘বোকো হারাম’—নামের ওই ইসলামি গোষ্ঠীটি। এ ছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একের পর এক ঘটতে থাকা বোমা হামলার জন্যও তাদের দায়ী করা হচ্ছে। দেশে ইসলামি শরিয়া বিধান আরও ব্যাপকভাবে চালু করতে চায় এ গোষ্ঠীটি।

‘আমি তোমার সঙ্গেই মরতে চাই’

‘যাই ঘটুক, আমরা সবাই একসঙ্গে থাকব। আমি শুধু তোমার সঙ্গে থাকতে চাই। তোমার সঙ্গেই মরতে চাই।’
১৯৬২ সালে কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র-সংকট চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও তৎ কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিকে এ কথা বলেছিলেন তাঁর স্ত্রী জ্যাকুলিন কেনেডি। এক সাক্ষাৎ কারে এ কথা জানান এই সাবেক ফার্স্টলেডি। গত মঙ্গলবার এবিসি নিউজে তাঁর রেকর্ড করা সেই সাক্ষাৎ কার প্রচার করা হয়।
১৯৯৪ সালে মারা যান জ্যাকুলিন ওরফে জ্যাকি। তাঁর মৃত্যুর পর এই প্রথম সাক্ষাৎ কারটি প্রচার করা হয়। এতে মার্কিন নাগরিক আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং একজন ‘ভয়ঙ্কর ব্যক্তি’ এবং ভারতের নেত্রী ইন্দিরা গান্ধী ‘ভয়ানক এক নারী’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গলকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ মানুষ’ বলে আখ্যা দেন।
বিশ্ব গণমাধ্যমে তাঁর এই সাক্ষাৎ কারে প্রচারিত হয়। ওই সাক্ষাৎ কার নিয়ে জ্যাকুলিন কেনেডি: হিস্টোরিক কনভারসেশন অন লাইফ উইথ জন এফ কেনেডি শিরোনামে গতকাল বুধবার একটি বইও প্রকাশ করা হয়। জন এফ কেনেডি ও জ্যাকুলিন কেনেডির মেয়ে ক্যারোলিন কেনেডি বাবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার ৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বইটি প্রকাশ করেন।
১৯৬৩ সালে জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস পর মার্কিন ইতিহাসবিদ আর্থার শ্লেসিঙ্গার সাক্ষাৎ কার নেন জ্যাকুলিনের। তাঁর মৃত্যুর আগে এই সাক্ষাৎ কার প্রকাশ করা হবে না—এই শর্তে সাক্ষাৎ কার দিতে রাজি হন জ্যাকুলিন। আট ঘণ্টার এই সাক্ষাৎ কারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দফায় কিউবা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা চালায়। স্নায়ুযুদ্ধের সময় বিষয়টি নিয়ে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়। ১৯৬২ সালের অক্টোবরে কিউবা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন গোপনে কিউবায় মাঝারি পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাঁটি তৈরির কাজ শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন পারমাণবিক যুদ্ধের খুব কাছাকাছি চলে আসে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তা স্ত্রীকে দূরে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু জ্যাকুলিন স্বামী এফ কেনেডির সঙ্গেই থাকার ইচ্ছা পোষণ করেন। হোয়াইট হাউসে হামলা চালানো হলে নিরাপদ কোনো কক্ষ না থাকা সত্ত্বেও সেখানেই থাকতে চেয়েছিলেন জ্যাকুলিন।

সারকোজির বিরুদ্ধে অপপ্রচার মামলায় ভিলেপাঁর অব্যাহতি

ফ্রান্সের ২০০৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিকোলা সারকোজির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চেষ্টা মামলায় গতকাল বুধবার অব্যাহতি পেয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী দমিনিক দে ভিলেপাঁ।
একটি আপিল আদালতে ভিলেপাঁ অব্যাহতি পাওয়ায় তাঁর জন্য আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট সারকোজির বিরুদ্ধে অংশ নেওয়ার পথ সুগম হলো।
লুক্সেমবার্গভিত্তিক সিকিউরিটিজ ক্লিয়ারিং হাউস ‘ক্লিয়ারস্ট্রিম’ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এই মামলা ‘ক্লিয়ারস্ট্রিম ঘটনা’ নামে পরিচিতি পায়।
সারকোজির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী ভিলেপাঁকে মামলায় ১৫ মাসের স্থগিত দণ্ডাদেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি।
মামলার রায়কে স্বাগত জানিয়ে ভিলেপাঁ বলেন, ‘রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে উঠে রায় দেওয়ায় দেশের স্বাধীন বিচার পদ্ধতিকে আমি অভিবাদন জানাতে চাই। আমার বিশ্বাস, এই রায় দেশে গুজব ও অপবাদ রটনা কমাতে সাহায্য করবে।’
এর আগে ভিলেপাঁ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাককে আফ্রিকার নেতারা দুই কোটি মার্কিন ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনারও তদন্ত চলছে। তবে তাঁরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ভিলেপাঁ দাবি করেছেন, আসছে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এসব ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে।
২০০৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে একটি জাল নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়, যাতে লুক্সেমবার্গের একটি গোপন ব্যাংক হিসাবের দুর্নীতির সঙ্গে সারকোজির নাম জড়ানো হয়। ওই নামের তালিকাটি ভুয়া ছিল, তা জেনেও সে সময় প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাকের অধীনে প্রধানমন্ত্রী থাকা ভিলেপাঁ অপপ্রচার বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।

ভারতে আগামী নির্বাচনে রাহুল ও মোদির প্রতিযোগিতা হতে পারে

ভারতে আগামী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে যখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, তখন ভারতবিষয়ক এক মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও গুজরাটের বিতর্কিত মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেসের দ্বিদলীয় এবং স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শক্ত প্রার্থী হতে পারেন। পাশাপাশি ওই নির্বাচনে রাহুল গান্ধীও একই পদে কংগ্রেসের প্রার্থী হতে পারেন।
তবে প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি, ২০১৪ সালের লড়াইটা সরাসরি মোদি বনাম রাহুলই হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘তরুণ রাহুল গান্ধীর জন্য ২০০৯ সালের নির্বাচন ছিল রাজনীতিতে অভিষেক অনুষ্ঠানের মতো। অনেকেই মনে করেন, ২০১৪ সালে ভারতে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস থেকে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে।’
১ সেপ্টেম্বর দেওয়া সিআরএসের এই প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার প্রকাশ করে ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্ট। সাধারণত, সিআরএসের প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের জন্য তৈরি করা হয়। জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। তবে অনেকবারই কয়েকটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ও এনজিওর পদক্ষেপের কারণে প্রতিবেদনটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে।
সিআরএস অবশ্য প্রতিবেদনে বলেছে, নির্বাচনী প্রচারণার কৌশলপ্রণেতা হিসেবে মিশ্র ধরনের রেকর্ড, জনসমক্ষে গিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ ও অসতর্ক উক্তি করার কারণে কংগ্রেস দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে রাহুলের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এতে আরও বলা হয়েছে, জোটের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় কংগ্রেস নেত্রী ও সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
সিআরএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি বংশোদ্ভূত হওয়াটা সোনিয়ার জন্য একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে। ২০০৪ সালে সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ প্রত্যাখ্যান করার পেছনে এটা সম্ভবত একটি বড় কারণ ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজেপি থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন নরেন্দ্র মোদি। গুজরাটে উন্নয়নকাজের জন্য মোদি বেশ জনপ্রিয়। মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাবের জন্য বদনাম সত্ত্বেও ২০১৪ সালে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মোদির নাম ভাবা যায়।

কাবুলে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ১৪ জনের প্রাণহানি

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তালেবান জঙ্গিদের হামলার ঘটনা গতকাল বুধবার ১৪ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে তালেবান জঙ্গিরা বোমা ও ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কাবুলে ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) সদর দপ্তর, মার্কিন দূতাবাস ও আফগান গোয়েন্দা সংস্থায় সমন্বিত হামলা শুরু করে।
আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিদ্দিক সিদ্দিকি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ১৯ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর শেষ হামলাকারীকে হত্যা করা হয়েছে এবং লড়াইয়ের অবসান হয়েছে। তিনি বলেন, হামলায় ছয় জঙ্গি অংশ নিয়েছিল। তাদের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। সিদ্দিকি বলেন, হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২৮ জনের মতো মানুষ আহত হন। তাঁদের অধিকাংশই বেসামরিক লোক।
আইএসএএফের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিমি কামিংস বলেন, হামলায় তিন শিশুসহ ১১ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ছয় বিদেশি সেনা আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কাবুলে পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে কয়েকটি হামলার ধারাবাহিকতায় তালেবান জঙ্গিরা মঙ্গলবার থেকে প্রায় দুই দিন শহরটিকে কার্যত জিম্মি করে রাখে। এসব ঘটনায় তালেবান জঙ্গিদের মনোবল আরও চাঙ্গা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।
গত মাসে কাবুলে যুক্তরাজ্যের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আত্মঘাতী হামলা হয়। গত জুনে বিলাসবহুল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলেও হামলা চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার চালানো হামলায় কাবুলের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছে, বিশ্লেষকেরা এমন আভাসই দিচ্ছেন। তবে কাবুলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রায়ান ক্রোকার বিষয়টি মানতে নারাজ। যদিও ব্রিটিশ দূতাবাসে রকেটচালিত ছয়টি গ্রেনেড ছোড়া হয়েছে।
গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎ কারে ক্রোকার বলেন, ব্রিটিশ দূতাবাসে হামলা খুব বড় ঘটনা নয়। তবে সেটা দূতাবাস ও আমার কর্মকর্তাদের জন্য একটি কঠিন দিন ছিল। ওই হামলার জন্য ক্রোকার তালেবানের সঙ্গে সম্পৃক্ত গোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্ককে দোষারোপ করেছেন।
মঙ্গলবার বেলা দেড়টার পরপরই তালেবান জঙ্গিরা আত্মঘাতী সরঞ্জাম ও রকেটচালিত গ্রেনেড নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং গুলি ছোড়ে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় এক দোকানি বলেন, ‘আমি তখন দোকানে বসেছিলাম। হঠাৎ পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। এরপরই লোকজন সড়কে ছোটাছুটি শুরু করে।’

তিন গোয়েন্দা হত্যা

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বান্নু এলাকায় গতকাল বুধবার সন্দেহভাজন তালেবান জঙ্গিরা সামরিক বাহিনীর তিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গতকাল উপজাতি অধ্যুষিত বান্নু এলাকায় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি গাড়িতে কয়েকজন জঙ্গি হঠাৎ গুলি ছোড়ে।

বাস্তবসম্মত সংস্কারের জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান

‘প্রকৃত ও বাস্তবসম্মত’ সংস্কারের জন্য মিয়ানমারের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন দূত ডেরেক মিচেল। ইয়াঙ্গুন সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
গত মাসে মিয়ানমার-বিষয়ক মার্কিন সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ পান মিচেল। এরপর এটাই তাঁর প্রথম মিয়ানমার সফর। এতে মিয়ানমারের নামমাত্র বেসামরিক সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
সফর শেষে ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারের উচিত রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া এবং জাতিগত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো। তিনি বলেন, মিয়ানমার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রকৃত ও বাস্তবসম্মত সংস্কার করলে যুক্তরাষ্ট্র ‘সহানুভূতিশীল’ হিসেবে সাড়া দেবে।
নারী-শিশুসহ অন্তত দুই হাজার জনকে বন্দী করে রেখেছে মিয়ানমার সরকার। জাতিগত সংখ্যালঘু অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টির অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

ইরানে সাজাপ্রাপ্ত দুই মার্কিন শিগগির মুক্তি পাচ্ছেন না

অবৈধভাবে ইরানে ঢুকে গোয়েন্দাগিরির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত দুই মার্কিনকে শিগগির মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। ইরানের বিচার বিভাগ গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তাঁদের কয়েক দিনের মধ্যেই মুক্তি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ইরানের বিচার বিভাগের একজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল দেশটির ইংরেজি ভাষার প্রেস টিভি জানায়, শন বয়্যার ও জশ ফ্যাটাল নামের ওই দুই মার্কিনের শিগগির মুক্তির খবরটি সত্য নয়। তাঁদের আরও বেশ কিছুদিন কারাগারে থাকতে হচ্ছে।
এই দুই মার্কিনের জামিনে মুক্তির বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনাধীন উল্লেখ করে দেশটির বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুজনের পক্ষে আইনজীবীদের করা জামিনের আবেদন আদালতে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিচার বিভাগই এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশের একমাত্র কর্তৃপক্ষ। অন্য যেকোনো পক্ষ থেকে প্রচারিত খবরই ভিত্তিহীন।
এর আগে জাতিসংঘের বৈঠকে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার প্রাক্কালে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে বলেছিলেন, মানবিক কারণে তাঁদের ক্ষমা করা হয়েছে। শিগগির তাঁদের মুক্তি দেওয়া হবে।
শন বয়্যার, জশ ফ্যাটালসহ তিন মার্কিনকে ২০০৯ সালের জুলাই মাসে ইরানের সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যজন হলেন সারাহ শোর্ড।
বয়্যার ও ফ্যাটালকে গত মাসে দোষী সাব্যস্ত করে আট বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের রাজধানী তেহরানের এভিন কারাগারে রাখা হয়েছে। তবে মানবিক ও স্বাস্থ্যগত কারণে সারাহকে পাঁচ লাখ ডলার জামানতের বিনিময়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মুক্তি দেওয়া হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ গোয়েন্দাগিরির দায়ে সাজা দিলেও দুজনের পরিবারই দাবি করছে, উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকায় ঘুরতে গিয়ে ভুলে তাঁরা ইরানে ঢুকে পড়েছিলেন। একই দাবি ওয়াশিংটনেরও।

উত্তর কোরিয়ার ১১০০ কোটি ডলার ঋণ মাফ করতে পারে রাশিয়া

দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক-সহায়তা গড়ে তুলতে উত্তর কোরিয়ার সোভিয়েত আমলের প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ মওকুফ করার আভাস দিয়েছে রাশিয়া।
গতকাল বুধবার দেশটির ইজভেস্তিয়া সংবাদপত্রের খবরে এ কথা বলা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইল গত মাসে পূর্ব সাইবেরিয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে বৈঠকের সময় দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি-সহযোগিতা এবং ওই অপরিশোধিত ঋণ নিয়ে আলোচনা করেন।
রাশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী সের্গেই স্তোরচাক সে সময় বলেছিলেন, পিয়ংইয়ং স্বীকার করেছে যে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পর এখন এই ঋণের অর্থ পাওয়ার দাবিদার রাশিয়া। এই ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ইজভেস্তিয়া জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের পূর্বশর্ত ছাড়াই ওই ঋণ মওকুফ করতে রাজি ছিল।
কারণ, উত্তর কোরিয়ার ওই ঋণ পরিশোধের সাধ্য নেই। আর ওই ঋণই দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পথে বড় প্রতিবন্ধকতা।
রাশিয়ার ওই সংবাদপত্রটির মতে, রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে ওই ঋণের ৯০ শতাংশ মওকুফ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের কথা প্রস্তাব করে। বাকি ১০ শতাংশ উত্তর কোরিয়ায় দুই দেশের যৌথ প্রকল্পগুলোতে ব্যয় করার প্রস্তাব করা হয়। এতে সম্মতি দিয়েছে দেশটি।

‘রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেতে ফিলিস্তিনি চেষ্টার ফল ভালো হবে না’

স্থায়ী রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিন জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলে তার ফল ভালো হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন ইসরায়েলের কট্টরপন্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান। গতকাল বুধবার কৃষিবিষয়ক এক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এদিকে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে সৃষ্ট কূটনৈতিক জটিলতা নিরসনে সাধারণ বুদ্ধিরই জয় হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি গণকূটনৈতিক মন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিবারম্যান ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টোনের সঙ্গে নির্ধারিত এক বৈঠকে বসার আগে কৃষি সম্মেলনে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘে পদ পেতে চেষ্টা না চালাতে হুঁশিয়ার করেন। তবে এ ধরনের চেষ্টা করা হলে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি তিনি। পরিণতি সম্পর্কে লিবারম্যান বলেন, কী ঘটবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলার সময় এখনো আসেনি।
এদিকে গণকূটনৈতিক মন্ত্রী ইউলি এডেল স্টেইন গতকাল সরকারি বেতারে বলেন, ‘তুরস্কের পক্ষ থেকে তিক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও আমরা ধৈর্য ধারণ করে আছি। সাধারণ বোধ-বুদ্ধি উদয়ের আশায় আমরা আগুনে ঘি ঢালছি না।’
গত বছর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি নৌবাহিনীর ছয়টি জাহাজ ঢুকে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে তুরস্ক থেকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে

যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৩ সালের পর দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটিতে এখন প্রতি ছয়জনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। গত বছর দেশটিতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় চার কোটি ৬২ লাখে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত তথ্য থেকে এ কথা জানা যায়।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১০ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ দশমিক ১ শতাংশ। ১৯৯৩ সালের পর দেশটিতে দারিদ্র্যের হার এটাই সর্বোচ্চ। ২০০৯ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। স্বাস্থ্যবিমার আওতার বাইরে থাকা মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় চার কোটি ৯৯ লাখে। দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা টানা চার বছর ধরে বেড়েছে।
চারজনের পরিবারের বার্ষিক আয় ২২ হাজার ৩১৪ ডলার বা তার কম হলে কোনো পরিবারকে এবং কোনো ব্যক্তির বার্ষিক আয় ১১ হাজার ১৩৯ ডলার বা তার কম হলে তাঁকে দরিদ্র হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সীদের দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়ায় ২২ শতাংশে। ২০০৯ সালে যা ছিল ২০ দশমিক ৭ শতাংশ।
অ্যাডভোকেসি গ্রুপ দ্য চিলড্রেনস লিডারশিপ কাউন্সিল শিশুদের দারিদ্র্যের এ হারকে ‘আমেরিকায় অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা বর্তমানে শিশু দারিদ্র্যের জন্য মূল্য দিচ্ছি। সামনের দশকগুলোতেও আমাদের এ জন্য মূল্য দিতে হবে।’
২০১০ সালের হিসাবে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ। সেখানকার ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। আর দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যবিমা ছিল না।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশের এক কোটি চার লাখের বেশি মানুষ এখন বেকার।
সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখানে এশীয় বংশোদ্ভূত লোকজনের দারিদ্র্যের হার কমে ১২ দশমিক ১-এ পৌঁছেছে। এক বছর আগে এ হার ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
গত এক দশককে অর্থনৈতিক তৎ পরতা হারানোর দশক হিসেবে উল্লেখ করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক লরেন্স কাইজ। তিনি বলেন, ইতিহাসে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্ম আগের প্রজন্মের চেয়ে বরাবরই ভালো করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবিত্তের অবস্থা আরও নাজুক হয়েছে।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ব্রুকিং ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী দশকের মধ্যভাগে আরও এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে।
ব্যাপক কর্মহীনতা ও অর্থনৈতিক মন্দাকে যুক্তরাষ্ট্রের দারিদ্র্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী করা হচ্ছে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ এক দিনের জন্যও কাজ করার সুযোগ পায়নি।

নাইজারে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে সাদি গাদ্দাফি

লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাদি গাদ্দাফি প্রতিবেশী দেশ নাইজারে রয়েছেন। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ‘হেফাজতে’ আছেন তিনি। তবে কর্নেল গাদ্দাফির অবস্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্বব্যাংক লিবিয়ার বিদ্রোহীদের গঠিত ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে (এনটিসি) আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে। ব্যাংকটি যুদ্ধ-পরবর্তী লিবিয়া পুনর্গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালনেরও অঙ্গীকার করেছে।
গাদ্দাফির সাত ছেলের মধ্যে তৃতীয় সাদি। ৩৮ বছর বয়সী সাদি চলতি মাসেই ৩২ জন কর্মকর্তাসহ প্রতিবেশী দেশ নাইজারে পালিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় তিনজন জেনারেলও আছেন। নাইজারের কর্মকর্তারা জানান, গত মঙ্গলবার তিনি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর আগাডেজ ছেড়ে রাজধানী নিয়ামের দিকে যান।
যুক্তরাষ্ট্র নাইজার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়, সাদি গাদ্দাফি দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড জানান, সাদিকে নাইজারের রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় রাখা হয়েছে।
তবে গাদ্দাফি কোথায় আছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি সামরিক জোট ন্যাটো। গাদ্দাফিবিরোধী অভিযানে বিদ্রোহীদের সহায়তা দেওয়া ন্যাটো জানায়, তারা লিবিয়ায় গাদ্দাফির সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাবে। তাদের হামলার লক্ষ্য গাদ্দাফি নয়।
গত ২৫ আগস্ট গাদ্দাফির প্রধান আশ্রয়স্থল ত্রিপোলির বাব আল-আজিজিয়ার পতনের পর থেকে পলাতক গাদ্দাফি। তবে প্রায়ই সিরিয়াভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আরাই ওরুবায় অডিও বার্তা পাঠিয়ে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুগত সেনাদের উদ্বুদ্ধ করছেন তিনি। কোনো কোনো অডিও বার্তায় তিনি লিবিয়াতেই আছেন বলে দাবি করেন।
লিবিয়া অভিযানবিষয়ক ন্যাটোর মুখপাত্র কর্নেল রোনাল্ড লভোই বলেন, বিভিন্ন সূত্র ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী গাদ্দাফি এখনো লিবিয়ায় আছেন। কিন্তু ঠিক কোথায় অবস্থান করছেন, তা এখনো জানা যায়নি। গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথাও বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, গাদ্দাফি লিবিয়া ছেড়ে পালিয়েছেন কি না, আমরাও তা জানি না।’
বিশ্বব্যাংক গত মঙ্গলবার লিবিয়া পুনর্গঠনে কাজ করার অঙ্গীকার করে। বিশ্বব্যাংক জানায়, এনটিসি এরই মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো পুনর্গঠনে কাজ করতে তাদের কাছে আবেদন করেছে। বাজেট ও ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনে আইএমএফকে সঙ্গে নিয়ে এনটিসিকে সহায়তা করা হবে বলেও জানায় বিশ্বব্যাংক।
ত্রিপোলিতে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী: মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেফরি ফেল্টম্যান গতকাল বুধবার লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে এনটিসির প্রধান মুস্তাফা আবদেল জলিলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত মাসে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর ওবামা প্রশাসনের কোনো সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ত্রিপোলি সফরের ঘটনা এটাই প্রথম। তবে তিনি কবে ত্রিপোলি পৌঁছান, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ড্র করেই খুশি আর্সেনাল

আর্সেনালের জার্মানি সফরটা কেমন হলো? বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র। আর্সেনালের জন্য ফলটা ভালো, না খারাপ?
আগের সেই দিন নেই আর্সেনালের। সেস ফ্যাব্রিগাস আর সামির নাসরিকে হারিয়ে অনেকটাই ডানাভাঙা পাখির মতো উড়তে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে ‘গানার’রা। এটা মাথায় রেখেই হয়তো আর্সেনাল-শিবির ডর্টমুন্ডের সঙ্গে ড্র করতে পেরেই খুশি।
আর্সেনালের ফরাসি ডিফেন্ডার ব্যাকারি সানিয়া যেমন বললেন, ‘আমি এই এক পয়েন্ট পাওয়াকে ভালোই বলব। ডর্টমুন্ড ভালো দল। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম, এখানে কঠিন ম্যাচ হবে।’ সানিয়ার কথার প্রতিধ্বনি ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আসা দলের সহকারী কোচ প্যাট রাইসের কণ্ঠেও, ‘আমার মনে হয় না এখানে এসে খুব বেশি দল পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারে।’
আর্সেনাল শিবিরে খুশির আরেকটা কারণ, ম্যাচে আর্সেনালের চেয়ে ডর্টমুন্ডই ছিল শ্রেয়তর দল। ৪২ মিনিটে আর্সেনালকে এগিয়ে দেওয়া অধিনায়ক রবিন ফন পার্সির গোলটিও ছিল খেলার ধারার বিপরীতে। তবে ভালো খেলেও ড্র করে ডর্টমুন্ড অখুশি নয়। দুর্দান্ত এক ভলি থেকে বদলি খেলোয়াড় পেরিসিকের সমতাসূচক গোলটির কথা বলতে গিয়ে ডর্টমুন্ড কোচ ইয়ুর্গেন ক্লুপ বলেছেন, ‘আমার চোখে এই গোলটি আমাদের জন্য পুরস্কার।’
শেষ মুহূর্তে (৮৮ মিনিট) পাওয়া গোলটিকে পুরস্কার ভাবার কারণও আছে ক্লুপের, ‘কখনো কখনো ফুটবলে অনেক ভালো খেলেও গোল পাওয়া যায় না। কিন্তু এক গোলে পিছিয়ে থেকেও আমরা ধৈর্য ধরে ছিলাম। আর শেষে এর পুরস্কার পেয়েছি।’
ইংল্যান্ডের আরেক ক্লাব চেলসি নিজেদের মাঠে জার্মানির বেয়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে জয়ের আনন্দেই ভেসেছে। আন্দ্রে ভিলাস-বোয়াস চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষিক্ত হলেন ২-০ গোলের জয় দিয়ে।
ম্যাচের আগে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ফার্নান্দো তোরেসকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলেন ভিলাস-বোয়াস, গোল করতে হবে! গোল তোরেস পরশু পাননি, তবু কোচের প্রশংসা পেয়েছেন। কারণ, দ্বিতীয়ার্ধে ডেভিড লুইজ ও হুয়ান মাতার করা দুটি গোলেরই উৎস তিনি।
এদিকে ভিলাস-বোয়াসের ছেড়ে আসা ক্লাব পোর্তোকে ২-১ গোলে জিতিয়েছেন দুই ব্রাজিলীয় হাল্ক ও ক্লেবার।

নিষিদ্ধ কারভালহো

অবসর নিয়েও শাস্তি এড়াতে পারলেন না রিকার্ডো কারভালহো! কোনো কারণ উল্লেখ না করেই জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে আসার অপরাধে জাতীয় দলে এই ডিফেন্ডারকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করল পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। সঙ্গে ২০১২ ইউরোর সম্ভাব্য চূড়ান্ত পর্বের জন্যও তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে এফপিএফ। মানে, বাছাইপর্ব পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে গেলেও রিয়াল মাদ্রিদের এই ডিফেন্ডার পোল্যান্ড-ইউক্রেন ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে গর্তুগালের হয়ে খেলতে পারবেন না।
২০১২ ইউরোতে তাঁর খেলার প্রশ্ন আসছেও না; কারণ, এই নিষেধাজ্ঞার আগেই ৩৩ বছর বয়সী কারভালহো জাতীয় দলকে ‘বিদায়’ জানিয়ে দিয়েছেন। বাছাইপর্বে সাইপ্রাসের বিপক্ষে তাঁকে দলে না নেওয়াতেই যে অসম্মানিত ও ব্যথিত বোধ করেছেন, সেটি জানিয়েই গত ৩১ আগস্ট জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে আসেন গর্তুগালের হয়ে ৭৫টি ম্যাচ খেলা কারভালহো। পরে জানিয়ে দেন অবসর নেওয়ার কথা।
অপরাধ বিবেচনায় নিষিদ্ধ হওয়ার কথা ২৪ মাসের জন্য। কিন্তু কারভালহোর অতীত অবদানের কথা বিবেচনা করে শাস্তিটা কমিয়ে এক বছর করেছে এফপিএফ।
অবসরের পর নিষেধাজ্ঞার খড়্গ, কারভালহোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দুয়ারে মজবুত তালাই ঝুলে গেল! প্রথমে পোর্তো, পরে চেলসি আর এখন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা এই ডিফেন্ডারের জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে ২০০৩ সালে, ব্রাজিলীয় কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারির অধীনে। পর্তুগালের হয়ে খেলেছেন দুটি ইউরো (২০০৪ ও ২০০৮) এবং দুটি বিশ্বকাপ (২০০৬ ও ২০১০)।

মুনীরের থাপড় প্রতিরোধ ভাবনা

১৪টি দল নিয়ে আজ ঢাকার কাবাডি স্টেডিয়ামে শুরু হবে রানার গ্রুপ ১৩তম প্রিমিয়ার ডিভিশন কাবাডি লিগ। দলগুলোকে ভাগ করা হয়েছে চারটি গ্রুপে। প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল নিয়ে সুপার লিগ। সর্বনিম্ন চারটি দল খেলবে অবনমন বিভাগে।
প্রতিটি দলকে প্রতি ম্যাচে এক হাজার টাকা করে দেওয়া হবে, ফেডারেশনের ভাষায় যেটি ‘অনুদান’। এই টাকা দিয়েই ফেডারেশন বেশ খুশি।
গতকাল এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছে কাবাডি ফেডারেশন, যাতে লিগ আয়োজনের চেয়ে গত এশিয়াডের ব্যর্থতা নিয়েই বেশি কথা হয়েছে। এই প্রথম বাংলাদেশ কাবাডি দল এশিয়াড থেকে ফিরছে শূন্য হাতে। এত দিন কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুনীর হোসেন বলে এসেছেন, প্রস্তুতির ঘাটতি এবং পাইপলাইনে খেলোয়াড় না থাকায় এশিয়াডে ভরাডুবি ছিল।
কাল দিলেন নতুন তথ্য, ‘বিডিআরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে অনেক খেলোয়াড় পাওয়া যায়নি। এই জন্যই আমরা এশিয়াডে থাপড় খেয়ে এসেছি। এই থাপড় যাতে আর না খেতে হয়, তার জন্য স্কুল টুর্নামেন্ট এবং বিভিন্ন বিকল্প দল তৈরি করে রাখছি।’

ডিএফএ যেন ঠুঁটো জগন্নাথ!

জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফএ) শুধু নামেই আছে, কাজে নেই!
সব ডিএফএ অবশ্য সারা বছর হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকে না। তার পরও মোটের ওপর বিশ্লেষণটা এমনই দাঁড়ায়। ডিএফএর স্থবিরতায় সারা দেশের ফুটবলের চাকাও অচল। ডিএফএ গঠনের আসল উদ্দেশ্যই মাঠে মারা যাচ্ছে।
ডিএফএ গঠন-প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বাফুফের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে সহসভাপতি মনজুর হোসেন খুবই হতাশ, ‘ডিএফএর কার্যক্রম না থাকার জন্য বাফুফে যতটা দায়ী তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী সরকার। কারণ, সরকার মাঠ দিচ্ছে না। এছাড়া বাফুফে থেকে ডিএফএর কার্যক্রম মনিটর করা হয়নি। এ জন্য ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি সালাম মুর্শেদীর নেতৃত্বে একটা কমিটি করা হয়েছিল, কিন্তু সালাম কোনো পদক্ষেপ নেননি। ডিএফএ এখন কোমর ভাঙা একটা প্রতিষ্ঠান।’
ঠাকুরগাঁও ডিএফএর সভাপতি মমিনুল হক তীর্যকভাবে বলেন, ‘ডিএফএ করার সময় বাফুফের প্রতিশ্রুতি ছিল সারা দেশের ফুটবল উজ্জীবিত করা হবে। কিন্তু উল্টো অবনতি হয়েছে। কী বলব, ভাষা নেই। ফেডারেশনের নির্বাচন হয়ে গেছে, ব্যস ওই পর্যন্তই। ফেডারেশন কোনো সহযোগিতা করে না। ডিএফএর বসার একটু জায়গা পর্যন্ত হলো না। জেলা পর্যায়ে ফেডারেশন কিছুই করল না। নির্বাচনের জন্যই এটা করা হয়েছে।’
২০০৮ সালের এপ্রিলে বাফুফের নির্বাচনের আগে ফিফার নির্দেশে গঠিত হয়েছিল ডিএফএ। সারা বিশ্বেই ফুটবলের এমন বিকেন্দ্রীকরণ আছে। বাংলাদেশে ডিএফএ গঠনের পক্ষে-বিপক্ষে মত ছিল। শেষ পর্যন্ত সময়ের চাহিদায় ডিএফএ গঠন করতেই হয়েছে।
সাড়ে তিন বছর বয়সী ডিএফএ নিয়ে এখন হিসাব করার সময়। কেননা, একটা সময় ঢাকার ফুটবল নিয়মিত আয়োজনই ছিল ফুটবল অঙ্গনের সবচেয়ে বড় চাওয়া। এখন ঢাকার ফুটবল মোটামুটি নিয়মিত। মেসিরা খেলে গেছেন কয়েক দিন আগে। বলা হচ্ছে, ঢাকায় আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচের পর সারা দেশে ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে। এখন ঢাকার বাইরের ফুটবলটা চালু করার ওপরই জোর দিচ্ছেন সবাই। কিন্তু ডিএফএ কতটা প্রস্তুত?
বাফুফের সহসভাপতি বাদল রায় বলছেন, ‘ডিএফএকে আমরা দুর্বল করে ফেলেছি। এটিকে শক্তিশালী করতে হবে। ডিসি-এসপিকে ডিএফএতে সম্পৃক্ত করা দরকার। জেলা পর্যায়ে তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া কিছু করা সম্ভব নয়। ডিএফএ একটা নতুন শিশু, এই শিশুর পরিচর্যা হয়নি। তাই এটি বিকলাঙ্গ হয়ে আছে।’
মজার ব্যাপার, বাফুফে জানে না কোন ডিএফএ কী করছে! তারা শুধু জানে, গাজীপুর ও সিলেট বাদে ৬২টি ডিএফএ আছে, ঢাকা ও সিলেট বাদে আছে চারটি বিভাগীয় ডিএফএ।
এটা ঘটনা যে, জেলার ক্রীড়াঙ্গন চালায় স্থানীয় জেলা ক্রীড়া সংস্থা। ডিএফএ হওয়ার আগে জেলা ও বিভাগের ফুটবল চালাত ডিএসএ। পদাধিকার বলে ডিএসএর প্রধান স্থানীয় জেলা প্রশাসক। এখন ডিএসএ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নাকি ডিএসএ মাঠ দেয় না ফুটবলকে। আর্থিক সংকট। তাই এটি ঠুঁটো জগন্নাথ!
নতুন ধারণা চালু করতে গেলে কিছু সমস্যা হতেই পারে। কিন্তু সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ কই? সালাম মুর্শেদীর উত্তর, ‘আমরা তো ডিএফএর খোঁজখবর নিচ্ছি। হয়তো আগে বেশি পারিনি। তবে এখন প্রতিদিনই কথা হয়। কারও হয়তো মাঠ নেই, কারও টাকার অভাব। এগুলো নিয়ে কী করা যায় দেখছি।’
মাঠপর্যায়ে ছবিটা অবশ্য ভিন্ন। হবিগঞ্জ ডিএসএর সভাপতি শফিকুল বারী কাল ফোনে বলছিলেন, ‘তিন বছর ধরে ডিএফএ চালাচ্ছি। মোটামুটি চালিয়ে নিচ্ছি। তবে এর দিকে কারও নজর নেই। হাজারো সমস্যা। মাঠ পেলে টাকা নেই, টাকা পেলে মাঠ নেই।’
বরিশাল ডিএসএর সভাপতি আলমগীর খানের কথা, ‘কী আর বলব, ডিএফএর খোঁজ কেউ রাখে না। নিজেরা যা পারছি করছি, কিন্তু এভাবে চলে না।’
বাগেরহাট ডিএফএর সভাপতি হাবিবুর রহমান বলছেন, ‘ঢাকায় কোটি টাকার টুর্নামেন্ট না করে ফেডারেশনের উচিত প্রতিটি ডিএফএকে টাকা দেওয়া। ফুটবলার তুলে আনতে জেলা লিগ দরকার। লিগের জন্য স্পনসর লাগে। স্পনসর পাই না।’
বাফুফের আগামী এপ্রিলের নির্বাচনে ডিএফএ ইস্যু বড় হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ওটা বড় ভোট ব্যাংক। এই ভোট ব্যাংক কাছে টানার নানা তৎপরতা শুরু হয়েছে। মেসিদের ম্যাচের দুটি করে টিকিট দেওয়া হয়েছে প্রতিটি ডিএফএকে। এতে তারা খুশি নয়। তারা চায় ডিএফএকে সক্রিয় করার উদ্যোগ, সঙ্গে কাউন্সিল।
কী ভাবছেন সালাউদ্দিন? কাল বললেন, ‘১৫-২০ দিনের মধ্যে ডিএফএগুলোকে ডাকব, তাদের কথা শুনব। ঢাকার ফুটবল নিয়মিত মাঠে রাখা নিশ্চিত করেছি। এখন জেলার দিকে আরও বেশি নজর দেব।’
তবে ‘নজর’টা অতি শিগগির না দিলে দেশের ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়ন হবে না।

পর্বতারোহী ক্রিকেটার

বব ক্রিস্প জন্মেছিলেন কলকাতায়, বেড়ে ওঠেন জিম্বাবুয়েতে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছেন উস্টারশায়ার ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সে। নয়টি টেস্ট খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে। ১৯৯৪ সালে পৃথিবীর মায়া কাটানো ফাস্ট বোলার স্মরণীয় আরেকটি কারণে, দুবার কিলিমানজারো জয়ী একমাত্র ক্রিকেটার তিনিই!

পেলেকে পেয়ে গেছেন ফার্গি!

চার ম্যাচে ৮ গোল, এর মধ্যে দুটো আবার হ্যাটট্রিক! এবার মৌসুমের শুরুতে দুর্দান্ত এই ফর্ম অনেককেই মনে করিয়ে দিচ্ছে গত মৌসুমে কী উত্থান-পতন-উত্থানই না গেছে ওয়েইন রুনির ক্যারিয়ারে। গতবার লিগের মাঝপথে, ১৮ ম্যাচ শেষে তাঁর নামের পাশে ছিল একটি মাত্র গোল। ফর্মের এই দুর্দশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন, পতিতা-কেলেঙ্কারি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়তে রুনির ব্যাকুল হয়ে ওঠা।
সেই রুনি লিগের শেষ ১৮ ম্যাচে করেছেন ১০ গোল। শেষার্ধে এসেই বুঝি পরের মৌসুমের জন্য নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছিলেন। তাই মৌসুম শুরু হতেই এবার গোলের পর গোল!
রুনির এই দুর্দান্ত ফর্ম স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে মনে করিয়ে দিচ্ছে পেলের কথা! রুনিকে ব্রাজিল কিংবদন্তির সঙ্গে তুলনা করলেন ম্যানইউ কোচ, ‘উদাহরণ হিসেবে আপনি পেলের কথা বলতে পারেন। পেলেও ছিল দারুণ আক্রমণাত্মক, আবার একই সঙ্গে যে নিজের ভালো-মন্দটাও বুঝত। রুনিও তা-ই। এই দুজনের মধ্যে শক্তি, গতি আর দৃঢ়প্রতিজ্ঞার দিক দিয়ে দারুণ মিল আছে।’
পেলের সঙ্গে রুনির এই মিল খুঁজতে ফার্গুসনকে উসকে দিয়েছেন আসলে বেনফিকা কোচ হোর্হে জেসাস। গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগে মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল। এর আগে জেসাস রুনিকে পরিয়েছেন প্রশংসার মালা, ‘রুনিকে দেখে মনে হয় না ও ব্রিটিশ খেলোয়াড়। মনে হয় ও যেন ব্রাজিল নয় তো আর্জেন্টিনার।’
পেলের সঙ্গে তুলনা করায় মনে হতে পারে ফার্গুসন হয়তো জেসাসের কথা মেনে নিয়েছেন। তবে স্যার ফার্গির ব্যাখ্যাটি কিন্তু ভিন্ন, ‘এখানে আমি ভিন্নমত জানাই। ও আসলে প্রথাগত ব্রিটিশ খেলোয়াড়ই। তবে যুগে যুগে এমন অনেক ব্রিটিশ খেলোয়াড় এসেছে, যাদের মধ্যে ওই ধরনের (ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো) খেলার গুণাগুণ ছিল। পল গ্যাসকোয়েন, জর্জ বেস্ট, ববি চার্লটন, ডেনিস ল যেমন ছিলেন। মিলগুলো হলো, এই ছেলেটার বুকে প্রচণ্ড সাহস। ও সব সময়ই খেলতে চায়, ওর আছে অবিশ্বাস্য প্রাণশক্তি। এসব ওর প্রতিভায় বাড়তি কিছু যোগ করেছে।’
রুনি আগের চেয়ে অনেক পরিণতও হয়েছেন বলে মন্তব্য ফার্গুসনের, ‘বিশের ঘরের মাঝামাঝি বয়সটায় আপনার মধ্যে অনেক পরিণতিবোধ আসবে। খেলাটার ওপর কর্তৃত্ব বাড়বে, টাইমিং অনেক ভালো হবে, খেলাটাকেও আপনি আগের চেয়ে অনেক ভালো বুঝবেন।

হোয়াইটওয়াশই হলো জিম্বাবুয়ে

ব্যাট হাতে দারুণ একটি ইনিংস তো খেলেছেনই। ফিল্ডিংয়েও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিলেন অসাধারণ এক ক্যাচ। ওয়ানডে দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে প্রায়ই। কিন্তু ব্যাটে আর ফিল্ডিংয়ে কাল ইউনুস খান জানিয়ে দিলেন, ৩৪ ছুঁইছুঁই বয়সেও দলে তাঁর বিকল্প নেই। প্রথম ওয়ানডের মতো আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত তাদের ২৮ রানে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ ৩-০-তে জিতে নিয়েছে পাকিস্তান।
বলতে হবে আইজাজ চিমার কথাও। ৩২ বছর বয়সে অভিষেক পাকিস্তানে এমনিতেই বিরল, তার ওপর আবার পেসার। চিমা হয়তো বুঝতে পেরেছেন সময় খুব বেশি পাবেন না। তাই অভিষেক সিরিজেই আলো ছড়িয়েছেন। একমাত্র টেস্টে নিয়েছেন ৮ উইকেট। আগের দুই ওয়ানডেতে ৪ উইকেট নেওয়ার পর কাল নিলেন আরও ৪ উইকেট। জিম্বাবুয়ের সম্ভাবনা যেটুকু ছিল, শেষ হয়ে গেছে ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে চিমার দুর্দান্ত বোলিংয়েই।
সিবান্দা ও চিবাবা উদ্বোধনী জুটিতেই দলকে এনে দিয়েছিলেন ১১০ রান। তবে যথারীতি ফিফটিকে তিন অঙ্কে নিতে পারেননি দুজনের কেউ। এর পরও দাঁড়াতে পারেননি আর কেউ। টাটেন্ডা টাইবু হুমকি হয়ে উঠছিলেন, কিন্তু তাঁর ২৬ বলে ২৭ রানের ইনিংসটা শেষ হয়েছে ইউনুসের দুর্দান্ত ক্যাচে।
তৃতীয় উইকেটে আসাদ শফিক ও ইউনুসের ৯৭ রানের জুটি পাকিস্তান ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। মনে হচ্ছিল, ৩০০ ছুঁবে পাকিস্তানের রান। কিন্তু শেষের ওভারগুলোতে রানের গতিটা ধরে রাখতে পারেননি মিসবাহ ও আদনান আকমল। শেষ ১০ ওভারে এসেছে মাত্র ৫৭ রান। ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ২৭০/৫ (হাফিজ ২৩, ফারহাত ৩৭, শফিক ৫১, ইউনুস ৮১, মালিক ১৪, মিসবাহ ২৯*, আদনান ২৪*; চিগুম্বুরা ২/৩৬, প্রাইস ১/৪৮, জারভিস ১/৫৫, ভিটরি ১/৬২)। জিম্বাবুয়ে: ২৪২/৯ (সিবান্দা ৫৯, চিবাবা ৬২, টেলর ৬, মাসাকাদজা ২১, টাইবু ২৭, ওয়ালার ১৯, চিগুম্বুরা ৯, উতসেয়া ১৫*, প্রাইস ১০, জারভিস ৬, ভিটরি ৩*; চিমা ৪/৪৩, ইয়াসির ২/৫১, মালিক ১/২১, সোহেল ১/৩৬, হাফিজ ১/৩৭)।

শুরু আর শেষে মিলান মাঝে বার্সা

শুরুর দৃশ্য: ম্যাচ শুরুর বাঁশি। ঘড়ির কাঁটায় তখন মাত্র ২০ সেকেন্ড পেরিয়েছে। সেন্টার সার্কেলের একটু ওপরে বল পেলেন পাতো। তাঁর দিকে ধেয়ে আসা সার্জিও বুসকেটসের পাশ দিয়ে ঠেলে দিলেন বল। এরপর নিজেই অবিশ্বাস্য দ্রুততায় পেরিয়ে গেলেন বুসকেটসকে। মিলান স্ট্রাইকারের সামনে শেষ বাধা কেবল গোলরক্ষক ভিক্টর ভালদেস। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ভালদেসের পায়ের নিচ নিয়ে বলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলেন পাতো। ২৪ সেকেন্ডেই প্রথম গোল! চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের পঞ্চম দ্রুততম।
শেষের দৃশ্য: শুরুর ধাক্কা সামলে ভালোমতোই ম্যাচে ফিরেছে বার্সেলোনা। পেদ্রো আর ডেভিড ভিয়ার গোলে ২-১-এ এগিয়ে। ন্যু ক্যাম্প তখন ম্যাচ শেষের বাঁশি শোনার অপেক্ষায়। ৯০ মিনিট পেরিয়ে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিট চলছে। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো কর্নার দিলেন আবিদাল। সেই কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে থিয়াগো সিলভার গোল!
ম্যাচের একদম শুরু আর শেষে এই দুই নাটকীয় গোল শেষ পর্যন্ত জিততে দিল না বার্সেলোনাকে। ৭৫ শতাংশ বলের দখল, ১১টি কর্নার, ২২টি শট (যার সাতটিই লক্ষ্যে) আর ম্যাচে একতরফা দাপট দেখিয়েও একটা শিক্ষা পেল পেপ গার্দিওলার দল। ফুটবল শেষ পর্যন্ত গোলের খেলা।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বার্সার শুরুটা অবশ্য মন্দ হয়নি। শুরুতেই ব্রাজিল তারকা পাতোর সেই দুর্দান্ত গোলের ধাক্কা দ্রুতই সামলে নিয়েছে বার্সা। ছন্দটা তুলে নিয়েছে নিজেদের পায়ে। পাসের পর পাস। যদিও পাতোর গোলটি শোধ করতে ৩৬ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। বক্সের ডান প্রান্তে বল নিয়ে ঢুকেছেন লিওনেল মেসি। তিন-চার ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে একেবারে শেষ লাইন থেকে বল ঠেলে দিয়েছেন পেদ্রোর দিকে। ফাঁকা পোস্টে সহজ গোলটি করতে ভুল করেননি পেদ্রো।
এই গোলের খানিক পরেই অবশ্য চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন ইনিয়েস্তা। তাঁর জায়গায় সেস ফ্যাব্রিগাস নামলেও ইনিয়েস্তার অনুপস্থিতি ভালোই বুঝেছে বার্সা। তবে বার্সা ভুগেছে আলেসান্দ্রো নেস্তার নেতৃত্বাধীন মিলানের অটুট রক্ষণের কাছে। ইতালির ঐতিহ্যবাহী রক্ষণের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে মিলান। এই ৩৫ বছর বয়সেও জীবনের সেরা ফর্মে থাকা ২৪ বছর বয়সী মেসিকেও বারবার আটকে দিয়েছেন নেস্তা।
দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি পায় বার্সা। দুর্দান্ত ফ্রিকিকে বাঁকানো শটে গোলপোস্টের বাঁয়ের কোনায় বল ঢুকিয়ে দিয়েছেন ভিয়া। বার্সেলোনা আরও কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও মিলানের রক্ষণপ্রাচীরে তা প্রতিহত হয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তের ওই ভুলে শেষ পর্যন্ত দুটো পয়েন্টের জলাঞ্জলি।
সেই হতাশা ছিল গার্দিওলার কণ্ঠে। তবে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিলান এদিন বেশি রক্ষণাত্মক খেলেছে বলেও অনুযোগ করেছেন এই সময়ের সফলতম কোচ, ‘প্রতিপক্ষ আটজন ডিফেন্ডার নিয়ে খেললে তো তাদের পেনাল্টি বক্সে আতঙ্ক তৈরি করা অসম্ভব।’ আর সৌভাগ্যক্রমে এক পয়েন্ট পেয়ে ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের কথা মনে করিয়ে দিলেন মিলান কোচ অ্যালেগ্রি, ‘বার্সা এখনো বিশ্বের সেরা দল, তবে তারাও মাঝেমধ্যে ড্র করে। ফুটবলের মজাটা এখানেই। কখনো কখনো আপনি জেতার যোগ্য হলেও হেরে যাবেন, কখনো হার প্রাপ্য হলেও জিতবেন।’