Showing posts with label শেষ পাতা. Show all posts
Showing posts with label শেষ পাতা. Show all posts

Wednesday, March 21, 2018

দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার

প্রবৃদ্ধি হলেও সেই তুলনায় দেশে বাড়ছে না কর্মসংস্থান। ফলে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। এর মধ্যে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার। আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ। এক্ষেত্রে এক বছরে বেকার বেড়েছে ৮০ হাজার। উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পরিচালিত সর্বশেষ ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর পরিসংখ্যান ভবনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শ্রমশক্তি জপির প্রকাশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম, আইএমইডি সচিব মো. মফিজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মো. আমীর হোসেন। অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক কবির উদ্দিন আহমদ। জরিপে দেখা যায়, জাতীয় বেকারত্বের গড় হার অপরিবর্তিত রয়েছে। এ হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। অর্থাৎ মোট বেকারত্বের ১১ দশমিক ২ শতাংশ উচ্চ শিক্ষিত। বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান। এছাড়া অর্থনীতির রূপান্তরের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেশের কৃষি খাতে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা কমেছে, বিপরীতে বাড়ছে শিল্প ও সেবা খাতের শ্রম শক্তির সংখ্যা। দেশের মোট শ্রমশক্তির ৫৬ শতাংশ কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে নিয়োজিত রয়েছে, যা সংখ্যায় ৬ কোটি ৮০ লাখ। শ্রম শক্তির বাইরে রয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত এক বছরে দেশে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে ৩৭ লাখ। এর মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ১৩ লাখ। মজুরি ছাড়াই কাজ করতেন (আনপেইড) এমন ১৪ লাখ মানুষ মজুরিভিত্তিক (পেইড) কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন। আর প্রবাসের শ্রমবাজারে যোগ দিয়েছেন ১০ লাখ মানুষ। তার আগের অর্থবছরে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছিল ১৪ লাখ। এ হিসেবে গত বছরে কর্মসংস্থান কমেছে ১ লাখ।’ এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘কর্মসংস্থান কমার কোনো কারণ নেই। তবে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ স্থবির রয়েছে। কিন্তু তার পরও তো কিছুটা বিনিয়োগ হচ্ছে। কিন্তু বেকার সংখ্যা বাড়াটা স্বাভাবিক। কেননা প্রতিবছর ২০ লাখ মানুষ কর্মের বাজারে প্রবেশ করছে। সে তুলনায় কর্মসংস্থান হচ্ছে না।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘৬ কোটি ৩৬ লাখ শ্রমশক্তির মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৩৫ লাখ। আর নারীর সংখ্যা ২ কোটির মতো। ২০১৫-১৬ সালের জরিপে ৬ কোটি ২১ লাখ শ্রমশক্তির মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৩১ লাখ। আর নারীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯১ লাখ। এ হিসেবে ২ বছরে শ্রমশক্তিতে নারীর হার বেড়েছে প্রায় ৯ লাখ। আর শ্রম বাজারে নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। ২০১৩ সালে ছিল ১ কোটি ৮২ লাখ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেড়ে ১ কোটি ৯১ লাখ হয়। গত অর্থবছরে সেটি আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটিতে।’ জরিপে দেখা যায়, ধীরে ধীরে শ্রমের রূপান্তর ঘটছে। এক সময় কৃষিনির্ভরতা থেকে বর্তমানে সেবা ও শিল্পের দিকে যাচ্ছে কর্মসংস্থান।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে নিয়োজিত ছিল ২ কোটি ৫৪ লাখ মানুষ। সেখান থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কমে গিয়ে শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৭ লাখ। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সেবা খাতে। গত অর্থবছরে সেবা খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে ২ কোটি ৩৭ লাখ। তার আগের অর্থবছর এ সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ। এছাড়া শিল্প খাতে গত অর্থবছরে নিয়োজিত ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ, তার আগের অর্থবছরে এর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২২ লাখ। প্রতিবেদন বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে. মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, ‘যে হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে সেই হারে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এজন্য শুধু প্রবৃদ্ধি বাড়ালেই হবে না। কর্মসংস্থানের দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। যাতে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংযোগ ঘটে।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘দেশে মোট কর্মসংস্থানের ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের। প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের সংখ্যা মাত্র ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। মোট কর্মসংস্থানের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের আনুষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই। প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ কর্মজীবী মানুষের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত। ১ কোটি ৮৭ লাখ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরুনো মানুষ। বাকিটা উচ্চ শিক্ষিত। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্যে যাচ্ছে। এর প্রতিফলন শ্রমশক্তি জরিপে দেখা যাচ্ছে। কৃষি খাত থেকে মানুষ আস্তে আস্তে শিল্প ও সেবা খাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ফলে এই দুই খাতে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে।’ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, জরিপে নারীর সত্যিকার ক্ষমতায়নের চিত্র উঠে এসেছে। শ্রমশক্তিতে পুরুষের তুলনায় নারীর অংশগ্রহণের হার বাড়ছে। এটা গর্ব করার মতো বিষয়।

Thursday, December 28, 2017

রোহিঙ্গাদের ধর্ষণের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান সু চি

জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে রাখাইনে রোহিঙ্গা নারীদের সেনাবাহিনীর ধর্ষণের অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। এ কারণে ৪৫ মিনিটের ওই বৈঠকে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা করা যায়নি বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের ওই বিশেষ দূত। গত সপ্তাহে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে লেখা এক গোপন চিঠিতে এমন হতাশা প্রকাশ করেন প্রমীলা প্যাটেন নামের ওই কর্মকর্তা। সেই চিঠিটি দেখতে পেয়েছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান। প্রমীলা হলেন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে যৌন নিপীড়নের ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী জাতিসংঘের বিশেষ দূত। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে চার দিনের জন্য মিয়ানমার সফরে যান। সেসময় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তিনি। গত সপ্তাহে এ নিয়ে গুতেরেসকে একটি চিঠি লিখেছেন তিনি।
প্রমীলা জানান, সু চির সঙ্গে তার ৪৫ মিনিট আলোচনা হলেও বৈঠকটি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। কারণ রাখাইনে সেনা সদস্যদের দ্বারা রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগগুলো নিয়ে কথা বলতে চাইলে তা এড়িয়ে গেছেন সু চি। প্রমীলা বলেন, ফলে এটি কেবলই একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। প্রমীলা জানান, তার সঙ্গে বৈঠকে রাখাইনে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ নিয়ে বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সু চি। জাতিসংঘ মহাসচিবকে পাঠানো চিঠিতে প্রমীলা লিখেছেন, ‘মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার সঙ্গে যে বৈঠকটি হয়েছে, তা ছিল ৪৫ মিনিটের সৌজন্য সাক্ষাৎ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি ফলপ্রসূ আলোচনা ছিল না।’ জাতিসংঘের এ দূত জানান, রোহিঙ্গা নারীদের নিপীড়ন প্রসঙ্গে সরাসরি উত্তর না দিয়ে সু চি তাকে বলেছেন, ‘আপনার সঙ্গে মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের আরও কয়েকটি ভালো বৈঠক আছে এবং আপনি তা উপভোগ করবেন।’ প্রমীলা লিখেছেন, ওইসব বৈঠকেও মিয়ানমারের কর্মকর্তারা নিপীড়নের অভিযোগগুলো উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একে অতিরঞ্জিত করেছে। যারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সংযোগ রয়েছে বলে পাল্টা দাবি করেছে তারা। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রমীলা। তিনি লিখেছেন, মিয়ানমারে দায়মুক্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। রাখাইনে কারফিউর মেয়াদ বাড়ল: রাখাইন রাজ্যে কারফিউর মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। বুধবার এ খবর দিয়েছে টাউমসনাউনিউজস। নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য এটা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ২৫ আগস্ট রাখাইনে কথিত রোহিঙ্গা জঙ্গিদের (আরসা) হামলার পরপরই কারফিউ জারি করা হয়।

স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন কমিশনপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সজাগ ও সদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মনে রাখবে, অনেক রক্ত আর ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই স্বাধীনতা। কাজেই এ দায়িত্ব পালনে তোমাদের সজাগ ও সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। যাতে এ স্বাধীনতা নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে।’
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৭৫তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি প্যারেডে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের দিনটি তোমাদের জীবনে অত্যন্ত আনন্দের এবং গুরুত্বপূর্ণ। আজ থেকে তোমাদের ওপর ন্যস্ত হচ্ছে দেশমাতৃকার মহান স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময় হলেও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই হবে তোমাদের জীবনের প্রথম ও প্রধান ব্রত।’ নতুন কমিশনপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের জনগণের পাশে থাকার এবং দেশসেবার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা নিঃস্বার্থভাবে জনগণের পাশে থাকবে এবং দেশের সেবা করবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি অনুগত এবং অধীনস্থদের প্রতি সহমর্মী হতে হবে তোমাদের। তোমাদের জন্য রইল আমার শুভকামনা। এর আগে প্রধানমন্ত্রী একটি খোলা জিপে করে সুসজ্জিত প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। তিনি বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পাসিং আউট ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক এবং বিএমএ কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল সাইফুল আলম এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের সদস্য, নৌবাহিনীপ্রধান, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনৈতিক, আমন্ত্রিত অতিথি ও কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মিলিটারি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক, ২৪ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জিওসি এবং চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং অব আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড লে. জেনারেল আবদুল আজিজ এবং বিএমএ কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল সাইফুল আলম। দেশ-বিদেশে দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, দেশ-বিদেশে দায়িত্ব পালনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখিয়ে আমাদের সেনাবাহিনী সব মহলের প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তোমাদের এ সুনাম আরও এগিয়ে নিতে হবে। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মানুষ শান্তি আর সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জানবে- এটিই আমার প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমাদের মনে রাখতে হবে, তোমরা এদেশের সন্তান। জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই তোমাদের সবাইকেই সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্নার সমান অংশীদার হতে হবে। দাঁড়াতে হবে যে কোনো দুর্যোগ ও দুঃসময়ে বিপন্ন মানুষের পাশে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন, সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ বিতরণ এবং তাদের পরিচয়পত্র তৈরিতে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দুর্গম পার্বত্য এলাকায় সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক, সেতু ও ফ্লাইওভার নির্মাণ, ভোটার তালিকা ও মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রেও দক্ষতা দেখিয়েছে। নতুন ক্যাডেটদের কমিশন লাভের প্রাক্কালে সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ দিনের কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে ৩৫০ জন ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। যার মধ্যে ৩৪৩ জন বাংলাদেশি, ৫ জন ফিলিস্তিনি এবং ২ জন শ্রীংলকার নাগরিক রয়েছেন। ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার সাদমানুর রহমান ৭৫তম বিএমএ লং কোর্সে বেস্ট অলরাউন্ড নৈপুণ্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। তিনি একই মিলিটারি বিষয়ে সর্ব্বোচ্চ মান অর্জন করায় ‘আর্মি চিফ গোল্ড মেডেল’ও লাভ করেন।

Wednesday, December 27, 2017

এসএসসির দুই পরীক্ষা পেছাচ্ছে

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং ঢাকার দুই সিটির ৩৬ ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণের জন্য আগামী ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারির এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার ঢাকার নির্বাচন ভবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। এদিকে ইসির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ভোট গ্রহণের জন্য আগামী ২৪ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যে কোনোদিন ইসির বিবেচনায় রয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটির (ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ) ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণে মঙ্গলবার তিন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ভোটের তারিখ নির্ধারণের জন্য ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি এসএসসিতে নির্ধারিত পরীক্ষা পেছাতে অনুরোধ করা হয়েছিল। ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা তাতে সম্মতি দিয়েছেন। বোর্ডের চেয়ারমানরা বলেছেন, পরীক্ষা পেছাতে কোনো সমস্যা নেই। তফসিল ঘোষণার পর মার্চে পরীক্ষার নতুন তারিখ দেয়া হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন ফেব্রুয়ারির শেষদিকে করতে চায় ইসি। ওই সময়ে নির্ধারিত এসএসসি পরীক্ষা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পেছানো যায় কিনা- এমন মতামত আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পরীক্ষা পেছানোর নজির আছে। এক্ষেত্রেও পরীক্ষা পেছানো যাবে। তবে নির্বাচনটি কোন তারিখে হবে তা আমাদের পরে জানানো হবে। এদিকে নির্বাচন নিয়ে জটিলতার কোনো সম্ভাবনা ইসি দেখছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো আইনি জটিলতা নেই। জটিলতা থাকলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্বাচন করার জন্য অনুরোধ করা হতো না। তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা তফসিল ঘোষণা করার এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণার ব্যানার, ফেস্টুন সরিয়ে ফেলার জন্য চিঠি দেব। ইসির কর্মকর্তারা জানান, আনিসুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে ভোট করতে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। সম্প্রসারিত সীমানায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নবগঠিত ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদেও একইদিনে ভোট করতে চায় ইসি। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা থাকায় তা বিবেচনায় রেখে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করছে ইসি। এ কারণে ২৪ ফেব্রুয়ারি ভূগোল ও পরিবেশ এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি সংগীত বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, যা এখন পিছিয়ে যাবে। এছাড়া নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে হয়, শিক্ষকরা থাকেন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার দায়িত্বে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।

Sunday, December 24, 2017

পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই ডিএনসিসিতে মনোনয়ন

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। শনিবার রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের প্রেসিডিয়াম বৈঠকে একথা বলেন। তিনি রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বড় ব্যবধানে পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে বলেন। এছাড়া আগামী মাস থেকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম বৈঠকে এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররাফ হোসেন, কাজী জাফরউল্লাহ, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম,  ড. আবদুর রাজ্জাক, ফারুক খান, আবদুল মতিন খসরু, রমেশচন্দ্র সেন ও আবদুল মান্নান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, ডিএনসিসির উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে কথা উঠলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, অনেক ব্যক্তির নামই আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে শিল্পী, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ ও সাবেক সেনা কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে বলে দলের নেতাদের জানান প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে এরপর মনোনয়ন বোর্ডের সভা ডেকে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। উপস্থিত নেতাদের আগ্রহী প্রার্থীদের এবং তাদের প্রত্যেকের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে বলেন দলের সভাপতি।  বৈঠক সূত্র জানায়, রসিক নির্বাচনে কারা দলীয় প্রার্থীকে অসহযোগিতা করেছেন তার একটি প্রতিবেদন চেয়েছেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া জ্বালাও-পোড়াও করার পরেও বিএনপি প্রার্থী কিভাবে এত ভোট পেল, এমন মন্তব্য করে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। দলের এত বড় পরাজয়কে ‘খুব’ একটা বড় পরাজয় না হলেও ফলাফল অপ্রত্যাশিত ছিল বলে মন্তব্য করেন দলীয় প্রধান। তবে রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে সুষ্ঠু  নির্বাচন সম্ভব বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে পেরেছি এটাই বড় কথা। আর বিএনপিও হয়তো এখানে সুষ্ঠু ভোট চেয়েছিল। তাই তারা সহিংসতার পথ বেছে নেয়নি। তবে নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতারা রসিক নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, প্রার্থী মনোনয়নও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের সঙ্গে প্রার্থীর সম্পর্কের বিষয়টি মনোনয়ন দেয়ার সময় বিবেচনায় রাখতে হবে।
বৈঠক সূত্র আরও জানায়, আগামী মাস থেকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে দেশের ৮ বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। আগামী মাস থেকে প্রত্যেক শুক্র ও শনিবার সাংগঠনিক সফর করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডিয়াম সদস্যরা। আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সাংগঠনিক কাজে তৎপর হতে বলেন। তিনি তৃণমূলে সরকারের পক্ষে প্রচারণা ও সাংগঠনিক নানা সমস্যা সমাধানে প্রেসিডিয়াম সদস্যদের দায়িত্ব নিতে বলেন। পরে আগামী মাস থেকে জেলা সফর শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। এ সময়ে প্রেসিডিয়ামের কোন সদস্য কোন বিভাগের জেলাগুলোর দায়িত্ব পালন করবেন তার একটি খসড়া তৈরি করা হয়। দু-এক দিনের মধ্যেই এ খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তৃণমূলে ব্যাপক প্রচারের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, তৃণমূলে যেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণা চালানো হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা জানান, প্রার্থীদের নিয়ে যে জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে সেগুলোর ফলাফল ও কার কেমন জনপ্রিয়তা আছে সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ জানান শেখ হাসিনা। বৈঠকে সদ্যপ্রয়াত কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার স্মরণে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

রংপুরের প্রভাব পড়বে জাতীয় নির্বাচনেও : এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, গুম, খুন, ধর্ষণ ও দুর্নীতি থেকে রক্ষা পেতে মানুষ রংপুর সিটি নির্বাচনের মতোই ভবিষ্যতের সব নির্বাচনে লাঙ্গলে আস্থা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। তিনি আরও বলেন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রভাব আগামী জাতীয় নির্বাচনেও পড়বে। কারণ মানুষ এ সরকারের পরিবর্তন চায়। রংপুরে তা প্রমাণিত হয়েছে।
শনিবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে পিরোজপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর জাতীয় পার্টিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, এসএম ফয়সল চিশতী, সুনীল শুভরায়, মেজর (অব.) খালেদ আখতার ও নাসরিন জাহান রতœা। এরশাদ আরও বলেন, খুন, গুম, ধর্ষণের চিত্র দেখলে মনে হয় দেশে সরকার নেই। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকার চিন্তায় সরকার তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে জনগণের জানমালের দায়িত্ব নেবে। অন্য রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই সরকারই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তাই তারা কেউই চায় না আমার নামে করা মামলার নিষ্পত্তি হোক। কোনো দলই আমার বন্ধু না। জনগণ আমার বন্ধু। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি নিন্দিত নয় নন্দিত দল। ১৯৯০ সালে ক্ষমতা ছাড়লাম, কথা ছিল আমাকে নির্বাচন করতে দেয়া হবে। জানতাম নির্বাচন করলে জয়ী হব। কিন্তু নির্বাচন করতে দেয়া হয়নি। আমাকে জেলে পাঠানো হল। ছয় বছর জেলে কাটিয়েছি। পৃথিবীর কোনো নেতা টানা এতদিন জেলে ছিল না। আওয়ামী লীগকে বারবার সমর্থন দিলাম। বিনিময়ে কী পেলাম?
আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দিয়ে দল ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে। অঙ্গীকার ভঙ্গ করল। তিনি বলেন, কেউ আমাদের বন্ধু না, আমাদের বন্ধু আমরাই আর জনগণ। ডা. মিলন হত্যার বিচার দাবি করে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, মিলন চত্বর আমি করলাম। আমার হাতে রক্তের দাগ নেই। জাতীয় পার্টি দেশের অবস্থার পরিবর্তন করেছে। যমুনা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর করলাম। অথচ উদ্বোধনের সময় আমাকে মঞ্চে রাখা হল না। আগামীতে আমরা ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করব। পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার যোগদানকারী সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীসহ সবাইকে অভিবাদন জানিয়ে বলেন, এরশাদের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। এরশাদ জমানার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এরশাদের উন্নয়নের কথা নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। সারা দেশে দলকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে। এর পূর্বাভাস রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, আগামী প্রতিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টি রংপুরের মতো বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হবে। এ সময় তিনি নাজিউর রহমান মঞ্জু ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর কথা উল্লেখ করে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সব মানুষ বেইমান না। আমি এরশাদের সঙ্গে আছি, সব সময় থাকব। এদিকে জাতীয় পার্টি থেকে সবশেষ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার দুই দশক পর পুরনো দলে ফিরেছেন ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে দলে যোগ দেন তিনি। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও পরে যোগ দেন বিএনপিতে। ২০০১ সালে বিএনপির টিকিট নিয়ে সংসদ সদস্য হন। ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। এরপর থেকে আর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হননি। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে ফের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে জিতে আসেন। ওই নির্বাচনের পর আরও ১৩ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের সঙ্গে ফরাজী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্রই থেকে যান তিনি। ফরাজীকে স্বাগত জানিয়ে যোগদান অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেন, ‘আজ বড় আনন্দের দিন,
আমাদের রুস্তম আলী ফরাজী জাতীয় পার্টিতে ফিরে এসেছেন, হারানো বন্ধুকে ফিরে পেলাম, তাকে অভিনন্দন জানাই।’ এদিকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়া সম্পর্কে ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ব্যবহার তাকে মুগ্ধ করেছে। সে জন্য ফের আগের দলে ফিরে এসেছেন তিনি। ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘এ মুহূর্তে দেশে এরশাদ সাহেব পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করেন। উনি (এরশাদ) একজন ভদ্র মানুষ, তাই জাতীয় পার্টিতে যোগ দিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আগে আমি জাতীয় পার্টির রাজনীতি করতাম। ১৯৯৬ সালে পিরোজপুর-৩ আসন থেকে পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করি। তখন হেরে গেলে পরে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে জয়ী হই। আসলে আমি একজন খাঁটি স্বতন্ত্র এমপি। যেহেতু নির্বাচন আসন্ন তাই দেখলাম বাইরে থেকে কী লাভ? দলে যোগ দিই। এ জন্য এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন সময় আমার ভোটার-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলি। তারাও আমায় উৎসাহ দিয়েছেন।’ এলাকার মানুষের মতামত নিয়েই জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছেন জানিয়ে ডা. ফরাজী বলেন, ‘কর্মী-সমর্থকরা সবাই বলেছেন- এরশাদ সাহেবের পার্টিতে যোগ দিতে। তাই কোনো হইহুল্লোড় নয়, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব।’ আগামী নির্বাচনের টিকিট নিশ্চিত করতেই যোগদান কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. ফরাজী বলেন, ‘তা তো অবশ্যই। তাছাড়া আমি এলাকায় জনপ্রিয়। নির্বাচনে টাকা-পয়সারও দরকার আছে। তাই বাইরে না থেকে দলে ফিরলাম।’

Saturday, December 23, 2017

বাগমারায় আলু এখন গোখাদ্য কেজি ৭ টাকা

আলুর দাম কমছেই। বর্তমানে এক বস্তা আলু (৮৫ কেজি) তিন থেকে চারশ’ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন কোল্ডস্টোরেজ থেকে এ দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। আর বাজারে খুচরা বিক্রি হচ্ছে সাত টাকা কেজি। গরুর খাদ্যের দাম বাজারে বেশি। এর বিপরীতে আলুর দাম অনেক কম। এ কারণে আলু এখন গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্যচাষীরাও পুকুরে মাছের খাবার হিসেবে আলু ব্যবহার করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও আলুচাষী ও ব্যবসায়ীরা বেশি দামের আশায় আলু স্টোরে মজুদ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে অন্য সবজির দাম বেশি হলেও আলুর দাম নিতান্তই কম। বাজারে কেজিপ্রতি পটোল ৩০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা ও ঝিঙ্গা ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ আলু বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি মাত্র পাঁচ থেকে সাত টাকায়। বাজারে নতুন আলু বিক্রি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর কোল্ডস্টোরেজ থেকে আলু কিনছেন না। ফলে কোল্ডস্টোরেজগুলোতে পাইকারি ব্যবসায়ী না যাওয়ায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বাধ্য হয়ে স্টোরজাত আলু ফাঁকা করতে কম দমে আলু ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন কোল্ডস্টোরেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে এ সুযোগ নিচ্ছেন গরুর খামারের মালিক ও মৎস্যচাষীরা। বাগমারা উপজেলার দ্বিপপুর গ্রামের গরুর খামারি শফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে গরুর খাবার খইল ও ভূসির দাম বেশি। এ কারণে গরুর খাবার হিসেবে আলু ব্যবহার করা হচ্ছে। দু’দিন আগে মাত্র চারশ’ টাকা করে ছয় বস্তা আলু কিনেছি। আমার মতো গরুর খামারি ছাড়াও মৎস্যচাষীরা মাছের খাবার হিসেবে আলু ব্যবহার করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম জানান, উপজেলায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভার চারটি কোল্ডস্টোরেজে আট লাখ বস্তা আলু মজুদ করা হয়। কিন্তু আলুর দাম কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভা সদরের ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম কোল্ডস্টোরেজে আলু রেখেছিলেন এক হাজার ২শ’ বস্তা। তিনি বলেন, বেশি লাভের আশায় আলু বিক্রি করিনি। কিন্তু বর্তমানে বাজারে আলুর যে দাম তাতে আমার মতো অন্য ব্যবসায়ীদেরও মাথায় হাত। চলতি মৌসুমে আমার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতি হবে। উপজেলার বসার কোল্ডস্টোরের স্টোরকিপার আইনুল হক বলেন, নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। বাজারে বর্তমানে তা ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে পুরাতন আলুর ক্রেতা মিলছে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্টোর ফাঁকা করতে হবে। এ কারণে তারা অলস সময় কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি আলুর দাম কমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের মতো আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

গুরুদাসপুরে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার : আটক ২

নাটোরের গুরুদাসপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের দীঘি থেকে শিশু খাদিজার (৭) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নজরুল ও নাজমা বেগম ওরফে নাজুকে আটক করেছে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ। উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের বিলসা গ্রামের ওই শিশু বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় নিখোঁজ হয়। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে তাদের বাড়ির পেছনের দীঘিতে একটি বস্তা ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লাশটি উদ্ধারের পর এলাকার সহস্রাধিক নারী-পুরুষ সেখানে ভিড় জমায়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিবেশী রশিদ ভক্তির ছেলে বাদলা ভক্তি ও শহিদুল ভক্তির বাড়ি ভাংচুর করে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহত শিশুর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিলশা দাখিল মাদ্রাসার ২য় শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজা প্রতিদিনের মতো বুধবার বাড়ির পাশে খেলাধুলা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার শিশুটির চাচা মোর্শেদ আলী গুরুদাসপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। অভিযোগের পনিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তল্লাশি করে কোনো সন্ধান পায়নি। শিশুর বাবা মনিরুল ইসলাম ওরফে মধু জানান, তার শিশুকে হত্যা পর বস্তাবন্দি করে দীঘির পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছে নাজু ও তার স্বামী বাদলা। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। মা রাখী বেগমের বিলাপে গ্রামজুড়ে শোকের মাতম উঠেছে। বাদলা ও শহিদুল ২০১২ সালে শাহ আলম হত্যার অন্যতম আসামি বলে জানা গেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস নিহত শিশুর পরিবারকে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, নিখোঁজের তিন দিন পর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। হত্যার কারণ জানা যায়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Saturday, December 16, 2017

একই রকম আরেকটি সৌরজগৎ!

আরেকটি সৌরজগতের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ সৌরজগৎটি আমাদের সৌরজগতের মতোই বিভিন্ন গ্রহ ও উপগ্রহ নিয়ে গঠিত। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধানী দূরবীক্ষণ যন্ত্র কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবটের সাহায্যে এ নতুন সৌরজগতের সন্ধান পেয়েছেন। এএফপি। এক বিবৃতিতে নাসা জানিয়েছে, ‘আমাদের সৌরজগতে একটি নক্ষত্র বলয়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রহ সংযুক্ত রয়েছে। আর নতুন সৌরজগৎ দেখতে আমাদের সৌরজগতের মতোই। একে আমাদের সৌরজগতের ছোট সংস্করণ বলা যেতে পারে।’ জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও অস্টিনে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের অধ্যাপক অ্যান্ড্রিউ ভানদারবার্গ বলেন, ‘নতুন এ সৌরজগতের নক্ষত্র হল কেপলার-৯০। এর বলয়ে সাতটি গ্রহের সন্ধান আগেই পাওয়া গিয়েছিল। গ্রহগুলো নক্ষত্রের বেশ কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এবার একটি নতুন গ্রহের সন্ধানও পাওয়া গেছে। কেপলার-৯০ আই নামের ওই গ্রহটি পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহ। গ্রহটি ১৪.৪ দিনে তার নক্ষত্র প্রদক্ষিণ করে। এখানে তাপমাত্রা অনেক বেশি।’ নাসা বলছে, নতুন গ্রহটির সন্ধান পাওয়ায় বলা যায়, এই সৌরজগতের কক্ষপথ ঠিক আমাদের মতো। এই সৌরজগতেও ৮ গ্রহ সাজানো রয়েছে আমাদের সৌরজগতের মতো। নাসা জানিয়েছে, নতুন সন্ধান পাওয়া গ্রহ কেপলার-৯০ আইয়ের তাপমাত্রা প্রায় ৮০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। গ্রহটি সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকা বুধ গ্রহের মতোই উত্তপ্ত। উল্লেখ্য, ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধান পেতে ২০০৯ সালে কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠিয়েছিল নাসা। এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার নক্ষত্র অভিবীক্ষণ করেছে কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ। পৃথিবীর মতো ‘বাসযোগ্য’ প্রায় আড়াই হাজার ভিনগ্রহ আবিষ্কার করেছে কেপলার।

Thursday, December 7, 2017

নিরাপত্তা চাওয়ায় ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

রাজশাহী ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) ছাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ ঘটনায় পাঁচজন ছাত্রী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ছাড়তেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হামলায় আহত ছাত্রীরা হলেন- ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের রূপা খাতুন, একই বর্ষের নাজনিন আক্তার, তৃতীয় বর্ষের মিম আক্তার এবং ল্যাব বিভাগের প্রথম বর্ষের মোহনা খাতুন ও আফরিন শারমিন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ছাত্রীদের ওপর হামলার এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগ ও বহিরাগতসহ অর্ধশতাধিক তরুণ এ হামলা চালায় বলে ছাত্রীদের অভিযোগ। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া আহত ছাত্রীদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইএইচটির ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসের ভেতরেই তাদের হোস্টেল। এ হোস্টেলে যখন তখন ঢোকার চেষ্টা করেন ছাত্রলীগ নেতারা। হোস্টেলের বাইরে থেকে তাদের উদ্দেশ্য করে অশ্লীল কথাবার্তা এবং গালিগালাজও করা হয়। এসবের প্রতিবাদে তারা বুধবার সকালে অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান। স্মারকলিপি দিয়ে তারা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে অধ্যক্ষের কার্যালয়েই অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দিলে তারা হোস্টেলে ফিরছিলেন। এ সময় তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। হামলায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বহিরাগতরাও ছিলেন বলে অভিযোগ ছাত্রীদের। ছাত্রীরা বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন এবং অনেকের চুল ধরে টানাটানি করেন। চড়-থাপ্পড় এমনকি কিল-ঘুষিও মারা হয় ছাত্রীদের। এর ফলে বেশ কয়েকজন ছাত্রী আহত হন। এদের মধ্যে পাঁচজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা হাসপাতাল ছাড়েন। তবে ছাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইএইচটি ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, ছাত্রীদের ওপর হামলার অভিযোগ বানোয়াট। তাদের ওপর হামলার প্রশ্নই ওঠে না। ছাত্রীদের সঙ্গে পাঁচজন ছাত্রদল নেতা ছিলেন।
তারা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিচ্ছিলেন। নেতাকর্মীরা তাদেরকেই ধাওয়া দিয়েছেন। এ সময় দৌড়ে পালাতে গিয়ে পড়ে দু’জন ছাত্রী আহত হন। ছাত্রীদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলে জাহিদ বলেন, ছাত্রী হোস্টেলে সন্ধ্যা ৬টার আগে সবার ঢুকে যাওয়ার কথা। কিন্তু রাত ১০টা পর্যন্ত তারা বাইরে থাকেন। এর ফলে ক্যাম্পাসের বদনাম হয়। তাই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে কয়েক দিন আগে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেই অধ্যক্ষর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই ছাত্রীরা তাদের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে পাল্টা অভিযোগ করতে যান। আর তাদের ইন্ধন দেন ছাত্রদলের নেতারা। রাজশাহী আইএইচটির অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামও ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, হামলার ঘটনা ঘটেনি। ছোট দরজা দিয়ে সবাই একসঙ্গে দৌড়ে বের হতে গিয়ে কয়েকজন পড়ে আহত হয়েছে। অধ্যক্ষ জানান, ঘটনার পর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য আইএইচটি বন্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত হয়। তাই হোস্টেলের আবাসিক ছাত্রদের বেলা ১টা এবং ছাত্রীদের বেলা ৩টার মধ্যে হোস্টেল ছাড়ার জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকবে বলেও জানান অধ্যক্ষ। নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, হামলার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় আইএইচটির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

Monday, August 7, 2017

পরিকল্পিত উন্নয়ন চাই : প্রধানমন্ত্রী

‘পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের’ নাম পরিবর্তন করে ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন’ মন্ত্রণালয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় পরিবেশ কমিটির (ন্যাশনাল কমিটি অন এনভায়রনমেন্ট) চতুর্থ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বৈঠকে মংলা বন্দর এলাকায় পরিবেশবান্ধব নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার অনুমোদন দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কৃষিজমি রক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘উন্নয়ন হতে হবে পরিকল্পিত।’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে জাতীয় পরিবেশনীতি ২০১৭’র খসড়া এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ‘জাতীয় বিনিয়োগ পরিকল্পনার (কান্ট্রি ইনভেস্টমেন্ট প্লান-সিআইপি)’  খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে।’ প্রেস সচিব জানান, সরকারপ্রধান চাষের জমি রক্ষার পাশাপাশি অহেতুক গাছ না কাটা এবং নতুন আবাসন এলাকা ও শিল্পাঞ্চলে জলাধার রাখার কথাও বলেছেন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন। সুন্দরবনকে সৃষ্টিকর্তার উপহার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নতুন বনায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জীবিকা নির্বাহের জন্য কেউ যাতে সুন্দরবনের গাছ না কাটে, সেজন্য ওই এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রেস সচিব জানান, অতিবৃষ্টিতে জনভোগান্তির প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠলে প্রধানমন্ত্রী এর ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘অতিবৃষ্টি নদীর দূষণ রোধ করার পাশাপাশি লবণাক্ততা কমায়।’ নদী রক্ষায় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দূষণ এড়ানো না গেলে নদী নষ্ট হয়ে যাবে। ঢাকাকে ঘিরে থাকা বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদ দূষণমুক্ত রাখতে হবে। বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ২২ শ্রাবণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে তাকে স্মরণ করেন। কৃষকের উন্নয়নে কবিগুরুর বিভিন্ন অবদানের কথাও তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইশতিয়াক আহমেদ বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর ইইউ প্রস্তাবকে স্বাগত : এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে বিদায়ী ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়েদুন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থার প্রশংসা করে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে তাদের উদ্যোগে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের প্রশংসা করেন। সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়াতে বাংলাদেশ এ লক্ষ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে পারে। প্রেস সচিব জানান, পিয়েরে মায়েদুন বাংলাদেশের শ্রম আইন ও ইপিজেডের খসড়া আইন আরও পর্যালোচনা করতে প্রধানমন্ত্রীর কমিটমেন্টের প্রশংসা করেন। শ্রম অধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশকে সফলতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন বিদায়ী রাষ্ট্রদূত। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রসঙ্গে পিয়েরে মায়েদুন বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনে সহযোগিতার জন্য ইইউ’র নেয়া ‘ইউরো হরাইজন-২০২০’ বাংলাদেশের আরও বেশি অংশগ্রহণে উৎসাহ দেন তিনি। পিয়েরে মায়েদুন ডিজিটাল বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের উন্নতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নিজেকে এই পরিবর্তনের সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেন। ব্ল– ইকোনমিতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।

পাঁচ ফ্রিজের ৪টিই বিকল

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের ৫টি ফ্রিজের চারটিই বিকল। এ কারণে সচল ফ্রিজে পাঁচটি মৃতদেহ রেখে বাকিগুলো রাখা হয়েছে মর্গের মেঝেতে। ফলে পচেগলে মরদেহের আলামত নষ্ট হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গসহ অন্যান্য মর্গের ফ্রিজ ও এসি মেরামত বা বদলে ফেলতে ২৪ জুলাই হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও এ ব্যাপারে উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়। রোববার ঢামেক মর্গে গিয়ে দেখা যায়, একটি রুমের মেঝেতে রাখা আছে ১০টি লাশ। এর মধ্যে ট্রুলিতে রাখা আছে ৩টি, সচল ফ্রিজটির পাশে রাখা আছে একটি। মর্গের আরেকটি রুমের মেঝেতে রাখা আছে ৪ জঙ্গির লাশ। মর্গ সূত্র জানায়, উত্তরার আশকোনায় এবং বিমানবন্দর গোলচত্বরে নিহত আত্মঘাতী দুই জঙ্গি, রূপনগরে নিহত এক এবং খিলগাঁওয়ে নিহত ১ জঙ্গির লাশ এগুলো। তারা জানান, ফ্রিজ বিকল হওয়ায় লাশ মেঝেতে না রাখা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের ইনচার্জ সেকান্দর যুগান্তরকে বলেন, একটি ফ্রিজ সচল রয়েছে। এতে দু’জন ভারতীয় নাগরিক, একজন নাইজেরিয়ান নাগরিক, একজন সাউথ আফ্রিকান নাগরিকের লাশ এবং হিন্দু-মুসলিম দুই স্ত্রীর দ্বন্দ্বে আদালতের নির্দেশে রাখা খোকন নন্দী ওরফে খোকা বাবুর লাশ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি ফ্রিজে ৪টি লাশ রাখার নিয়ম থাকলেও আমরা ৫টি লাশ রেখেছি বাধ্য হয়ে। জানা গেছে, মর্গের চারটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি নষ্ট প্রায় এক বছর ধরে। আর তিনটি ফ্রিজ তিন-চার মাস ধরে বিকল। আর দুটি ফ্রিজের মধ্যে একটি ফ্রিজ রোববার বিকল হয়ে পড়ে।
ঢামেকের এই মর্গে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। রাজধানীর অধিকাংশ থানা ছাড়াও গাজীপুর, সাভার ও অন্যান্য এলাকা থেকে হত্যা, আত্মহত্যা, বিষপান, ধর্ষণ, সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ ও বহুতল ভবন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়। এ মর্গে প্রতিদিন গড়ে দুটি আবার কোনো সময় চার থেকে পাঁচটি অজ্ঞাত লাশ আসে। এসব লাশ সংরক্ষণ করতে হয় ফ্রিজে। ফ্রিজ বিকল থাকায় বেওয়ারিশ লাশগুলো কোনোভাবেই সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে জানতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। অবশ্য এর আগে ডাক্তার সোহেল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেছিলেন, লাশ নিয়মমতো সংরক্ষণ না করা হলে পচেগলে আলামত নষ্ট হয়। বেওয়ারিশ লাশসহ মর্গের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আমরা রীতিমতো বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, তিনটি ফ্রিজ বিকল ছিল। তা মেরামত করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছিলাম। তারা ফ্রিজগুলো দেখে মেরামতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এরপর আমরা ফ্রিজ মেরামতের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছি। এখন দরপত্রে সাড়া দিয়ে কেউ এগিয়ে এলে আমরা তাদের দিয়ে ফ্রিজগুলো মেরামত করিয়ে নেব।

Monday, July 17, 2017

যুগান্তর শাহজাদপুর প্রতিনিধিকে হত্যার চেষ্টা

বাঘাবাড়ী তেল ডিপো থেকে তেল চুরির ঘটনা ওপেন-সিক্রেট। বিষয়টি ওই অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে। আর তেল চুরির সংবাদ পরিবেশন করায় হামলার শিকার হয়েছেন যুগান্তর ও বিজয় টিভির শাহজাদপুর প্রতিনিধি মো. মুমীদুজ্জামান জাহান। শ্রমিক নামধারী একটি চক্র এই তেল চুরির সঙ্গে জড়িত। তারাই রোববার দুপুরে খোদ বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপো অফিসে মুমীদুজ্জামানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে, হত্যার অপচেষ্টা চালায়। গুরুতর আহত জাহান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মুমীদ পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাঘাবাড়ী তেল ডিপোতে যান। ওতপেতে থাকা তেলচোরের দল তাকে দেখে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রাণ রক্ষার্থে তিনি দৌড়ে যমুনা অয়েল ডিপো অফিস কক্ষে ঢুকে পড়েন। সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকেই তাকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত মুমীদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। শনিবার ‘বাঘাবাড়ী নৌবন্দর, ছয় লাখ লিটার অবৈধ ডিজেল কালোবাজারে বিক্রি’ শিরোনামে যুগান্তরের শেষ পৃষ্ঠায় খবর প্রকাশিত হয়। এর ‘ফলো আপ’ করতে রোববার দুপুর ১২টার দিকে মুমীদুজ্জামানসহ ৩ সাংবাদিক বাংলাদেশ পেট্রোরিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোতে যান। অপর সাংবাদিকরা হলেন, কালের কণ্ঠের আতাউর রহমান পিন্টু ও সকালের খবরের আবদুল কুদ্দুস। নিরাপত্তা কর্মীদের সামনেই ডিপোর ভেতরে ট্যাংকলরি থেকে তেল চুরির ঘটনা তাদের দৃষ্টিগোচর হয়। শ্রমিক নামধারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র এটা করছিল। মুমীদুজ্জামান এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করেন। এতে দুর্বৃত্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর চড়াও হয়। তিনি দ্রুত যমুনা অয়েল ডিপো অফিসে ঢুকে আত্মরক্ষা করেন। এ সময় যমুনা অয়েল ডিপোর ম্যানেজার অফিসে না থাকায় মোবাইলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার অফিসে সাংবাদিকদের অপেক্ষা করতে বলেন। সাংবাদিকরা তখন সেখানে অপেক্ষা না করে বাঘাবাড়ী পোর্ট অফিসারের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে চলে যান। দুপুর ২টার দিকে সেখান থেকে ফিরে আবারও তারা যমুনা অয়েল ডিপোতে যান। সেখানে ডিপোর নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। বাধা পেরিয়ে ভেতরে যাওয়ার সময় ওই তেল দুর্বৃত্তরা মুমীদুজ্জামানের ওপর হামলা চালায়। তিনি প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে যমুনা অয়েল ডিপোর অফিস সহকারীর কক্ষে ঢুকে পড়েন। সন্ত্রাসীরা সেখানেই তার ওপর হামলা চালায়। তার মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। প্যান্টের পকেট থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় অফিস ও আশপাশের লোকজন এবং তার সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে যমুনা অয়েল ডিপোর ম্যানেজার আবদুল মজিদের কক্ষে নিয়ে যান। শাহজাদপুর থানার ওসি খাজা গোলাম কিবরিয়াকে ফোনে ঘটনাটি জানিয়ে সাহায্য চাওয়া হলে বেশ কিছুক্ষণ পর এসআই কমল দেবনাথ একদল পুলিশ নিয়ে সেখান থেকে জাহানকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেন। পরে গুরুতর আহত জাহানকে শাহজাদপুরের পোতাজিয়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক বাঘাবাড়ীর উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরির সভাপতি শাহজাহান সিরাজকে জানানো হয়। সিরাজ এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি নিয়ে নিউজ ও মামলা না করার অনুরোধ জানান। এ ছাড়া দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এ ঘটনায় শাহজাদপুরে কর্মরত সাংবাদিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ ছাড়া তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। জানা যায়, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী নৌবন্দরের একটি ঘাট দিয়ে অবৈধভাবে ৬ লাখ লিটার ডিজেল উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। প্রতি লিটার ডিজেল ৬২ টাকা ৮১ পয়সা হিসেবে এর বাজারমূল্য ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা বলে জানা যায়।

প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুদ আছে : প্রধানমন্ত্রী

দেশে আরেকটি বন্যার ‘পদধ্বনি’ শোনা যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুদ রয়েছে। রোববার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ১৪২১ ও ১৪২২ বঙ্গাব্দের ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আরেকটা বন্যার পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আমাদের ভৌগোলিক অবস্থানটা এমন জায়গায়, প্রতিনিয়তই এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে বাঁচতে হয়।’ টানা দুই সপ্তাহের ভারিবর্ষণ ও উজানের ঢলে ইতিমধ্যে দেশের ১৩ জেলার অন্তত ৫২ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৭ লাখ মানুষ। সারা দেশে সরকারি, বেসরকারি, মিল মালিক, কৃষক পর্যায় মিলিয়ে ছয় লাখ টন খাদ্য মজুদ রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরও সংকট এড়াতে খাদ্য আমদানি করা হচ্ছে। আমরা অতিরিক্ত খাদ্য আমদানি করে মজুদ ঠিক রাখছি যাতে আমাদের দেশের মানুষ কোনোভাবেই কষ্ট না পায়। বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা নগদ টাকায় খাদ্য নিয়ে আসছি। পাশাপাশি খাদ্য আমদানির পর যে কর ছিল সেটাও কমিয়ে এনেছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করে যাচ্ছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শাসনামলে খাদ্য উদ্বৃত্ত ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে যখন তার দল আবার ক্ষমতায় আসে তখন দেশে খাদ্যের ঘাটতি ছিল। ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে খাদ্য উৎপাদন না বাড়াকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যেখানে খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ২ কোটি ৮০ লাখ টন ছিল, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ কোটি ৮৮ লাখ টন হয়।
আর এ বছর খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ ৪ কোটি টনের কাছাকাছি। শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার সার, বীজ, কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে নতুন নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবন এবং দুই ফসলি জমিকে চার ফসলিতে উন্নীত করাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশে দুধ, মাছ, মাংস ও ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মাটি এত উর্বর যে, কোনো একটা কিছুর উদ্যোগ নিলেই কিন্তু সেটা উৎপাদন করতে পারি। স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফল, আঙুর, মাশরুম থেকে শুরু করে বিভিন্ন কিছু আমরা উৎপাদন করছি।’ মাঠপর্যায়ের কৃষিকাজ নিয়ে ছেলেমেয়েদের সম্যক ধারণা দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘ধান কাটা বা ধান লাগানোর মৌসুমে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের গ্রামে সেই ধানক্ষেতের পাশে নিয়ে যাওয়া উচিত...। ছোটবেলা থেকেই তাদের বোঝানো উচিত, এই বাংলাদেশটা কীভাবে চলছে, খাদ্য কীভাবে আসছে।’ কৃষি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ১০ শ্রেণীতে পাঁচটি স্বর্ণ, নয়টি রৌপ্য এবং ১৮টি ব্রোঞ্জপদক দেয়া হয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মইনুদ্দিন আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

ভালোবেসে প্রাণ গেল কিশোরের

স্বপ্ন ছিল ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে ঘর বাঁধার। তাই প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়েছিল কিশোর মহব্বত শিকদার (১৫)। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রাতে স্থানীয় যুবকদের হাতে ধরা পড়ে যায়। তাদের উদ্ধারের খরচ মেটানোর জন্য বসানো হয় সালিশ বৈঠক। সেখানে দু’ পরিবারকে অর্থদণ্ড করা হয়। জরিমানার টাকা দিয়ে রাতেই বাড়ি ফেরে প্রেমিকা। কিন্তু টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মহব্বতকে ধরে নিয়ে যায় কয়েক যুবক। পরে ভোররাতে বাড়ির পাশের গাছে ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানায়, নিহত মহব্বত শিকদার পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার উত্তর কাজীকান্দা গ্রামের বাদশা শিকদারের ছেলে। সে মৌডুবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। তার সঙ্গে সম্পর্ক হয় স্কুলের ৭ম শ্রেণীতে পড়–য়া এক ছাত্রীর। তাকে নিয়ে ঘর বাঁধার আশায় শুক্রবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে পালায় মহব্বত। শনিবার রাত ৯টার দিকে পার্শ্ববর্তী তক্তাবুনিয়া গ্রাম থেকে তাদেরকে উদ্ধার হয়। রাতেই দু’জনকে নিয়ে সালিশ বৈঠক বসে দক্ষিণ কাজিকান্দা গ্রামের রাসেল হাওলাদারের বাড়িতে। সালিশে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা জোবায়ের হাওলাদার, জুয়েল হাওলাদার, সানাউল কারিসহ ৮-১০ জন। সালিশে বলা হয়, দু’জনকে উদ্ধারে স্থানীয় যুবকরা বাইক (মোটরসাইকেল) নিয়ে ঘুরেছেন। তারা বাইকের তেল পুড়েছেন, নিজের টাকা খরচ করে তাদের খুঁজেছেন। তাদেরকে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে খরচ দিতে হবে। সে অনুযায়ী ছেলের পরিবারকে ৫০ হাজার এবং মেয়ের পরিবার পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
টাকা দিয়ে কিশোরী রাতেই তার পরিবারের সঙ্গে ঘরে ফেরে। মহব্বতের দাদি আঞ্জুমানারা বেগম বলেন, জরিমানা না দিয়ে তিনি বহু অনুনয়বিনয় করে নাতিকে রাত ১২টার দিকে সালিশ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। পরে রাত ৩টার দিকে ১০-১২ যুবক তার ঘরে ঢোকে। একপর্যায়ে তার মুখ চেপে নাতিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর তিনি চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ছুটে আসে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ভোরে মহব্বতের লাশ পাওয়া যায় বাড়ির পাশের গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায়। আঞ্জুমানার দাবি, তার নাতিকে হত্যা করা হয়েছে। মহব্বতের বাবা জানান, তিনি এ ঘটনায় মামলা করবেন। এদিকে সালিশদাররা জানান, ভালোবেসে কিশোর-কিশোরী ঘর ছেড়ে পালিয়েছিল। দুই পরিবার তাদের উদ্ধারে স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়েছিল। সে অনুযায়ী স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছে। গাইয়াপাড়ার ব্যবসায়ী হাসান বাইক ভাড়া বাবদ ৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল। মেয়ের পরিবার সে টাকা সালিশ বৈঠক শেষে দিয়েছে। তবে ছেলের পরিবারকে কোনো জরিমানা করা হয়নি। ওসি সামছুল আরেফীন বলেন, এক স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে।

Thursday, July 13, 2017

মাদারীপুরে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ১৫

মাদারীপুর সদর থানার ওসির অপসারণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচিকে ঘিরে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বুধবার এ সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম সমর্থক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন অনিক এবং নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের অনুসারী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর মাহমুদ আবির গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাহাউদ্দিন নাছিম গ্রুপের জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সদর থানার ওসি জিয়াউল মোর্শেদের অপসারণ ও মেহেদী হাসানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শহরের ইটেরপুল এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায়। সেখানে মানববন্ধন শেষে সমাবেশ করে তারা। এসময় নৌমন্ত্রীর ভাতিজা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান এবং মন্ত্রীর অনুসারী তানভীর মাহমুদ আবির গ্রুপের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষ। তাতে বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়। এ সময় অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২ ঘণ্টাব্যাপী থেমে থেমে সংঘর্ষে ইটেরপুল, জজকোর্ট চত্বর, নতুন শহর এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় বাহাউদ্দিন নাছিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শাজাহান খানের চাচাতো ভাই সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খানের কুকরাইল এলাকার বাড়ি ভাংচুর করা হয় বলে দু’পক্ষ অভিযোগ করেছে। পৌর মেয়র ও আফম বাহাউদ্দিন নাছিমের ভাই খালিদ হোসেন ইয়াদ জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন জানান, দুই হেভিওয়েট নেতার অনুসারীদের দ্বন্দ্ব হওয়ায় আমরা কঠোর অবস্থানে যেতে পারছি না। তথাপি সংঘর্ষ থামানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে হত্যা

ঠাকুরগাঁওয়ে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুল মান্নান মঙ্গলবার রাত ১২টায় উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজিব দত্তের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ কর্মী জুম্মন খান। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আবদুল মান্নান পৌরসভার ইসলাম নগর (খানকা শরিফ) মহল্লার মৃত তসির উদ্দিনের ছেলে। তার স্ত্রী জেসমিন এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। তিনি কেঁদে বলেন, তার অসহায় দুই শিশুমেয়ের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। আহত জুম্মন খানের বাড়ি শহরের সরকারপাড়ায়। তিনি এর আগে ছাত্রলীগ কর্মী ছিলেন। হত্যার ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন দু’জনকে আটক করেছে। তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মঙ্গবার ভোররাতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেছেন বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেওয়ান মোহাম্মদ লালন জানান। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- যুবলীগ নেতা সজিব দত্তের ভাই জেলা শহরের গোবিন্দ নগর মন্দিরপাড়ার গৌরাঙ্গ দত্তের ছেলে পিন্টু দত্ত ও পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শান্তর বড় ভাই রতন। স্থানীয়রা জানান, শান্ত ঠাকুরগাঁও পৌরসভার কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার বাড়ি পৌর শহরের গোবিন্দনগর আমবাগান বাড়ি মহল্লায়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সজিব দত্তের সঙ্গে আবদুল মান্নানের টেন্ডার ও টোল আদায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কয়েকদিন আগে সিগারেট খাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের হাতাহাতি হয়। এ সময় যুবলীগ নেতা সজিব দত্ত আবদুল মান্নানকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুল মান্নান সজিব দত্তের বড় ভাই জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দত্তকে বিষয়টি অবহিত করন। দেবাশীষ তার ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে কথা বলে আবদুল মান্নানকে শাসিয়ে সাবধান করে দেন বলে ওই সময় উপস্থিত অনেকে বলেছেন। ওই ঘটনার জের ধরে যুবলীগ নেতা সজিব দত্ত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টায় আবদুল মান্নানকে জেলা শহরের মুন্সিরহাটে পেয়ে পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আবদুল মান্নান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে এলে বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ কর্মী জুম্মনকে সজিব দত্ত ছুরিকাঘাত করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান। লোকজন আবদুল মান্নান ও জুম্মন খানকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে আনার পথে আবদুল মান্নান অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পথে মারা যান। আর জুম্মনকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাত ২টার দিকে জুম্মনের অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসক সুব্রত রায় রংপুর মেডিকেল কলেজে পাঠান। সূত্র জানিয়েছে, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও ব্যক্তি প্রভাবকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। ঠাকুরগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল ও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ হতাহতের ব্যাপারে হাসপাতালে খোঁজ নিতে যান। সেখানে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দেন তারা। পরে পুলিশ সন্দেহজনকভাবে পিন্টু ও শান্ত নামে দু’জনকে আটক করে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শাকিল চৌধুরী খুনের সঙ্গে জড়িত যুবলীগ নেতা ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। এ খুনের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা সজিব দত্তের বড় ভাই জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত সমীর পলাতক রয়েছেন। যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ জানান, খুনের সঙ্গে জড়িতদের পুলিশ চিহ্নিত করেছে। দোষীদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান চলছে। আসামিরা যেন বর্ডার অতিক্রম না করতে পারে সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

Sunday, July 2, 2017

বগুড়ায় রাস্তা নিয়ে বিরোধে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

বগুড়ার গাবতলীর ছোট ইটালী গ্রামে রাস্তা নিয়ে বিরোধে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আল-আমিন (১৪) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। শনিবার সকালে শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শুক্রবার বিকালে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত স্কুলছাত্র আল-আমিনের বাবা শনিবার সকালে গাবতলী থানায় ২২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে এজাহার নামীয় ৬ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- ছোট ইটালী গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে বাবলু প্রামাণিক, মৃত মনসুর আলীর ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক, বাদল মিয়ার ছেলে শামীম হোসেন, আবদুল খালেকের ছেলে ফারুক হোসেন, মাদারী মোল্লার ছেলে ইয়াকুব আলী ও হবিবর রহমানের ছেলে আবদুল মান্নান। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের ছোট ইটালী মধ্যপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান জায়গা না ছেড়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন।
এতে রাস্তা ছোট হয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর চলাচলে সমস্যা হয়। শুক্রবার বিকালে এতে বাধা দিলে খলিলুর রহমান, হবিবর রহমান ও আবদুল কুদ্দুস মাস্টারসহ কয়েকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে খলিলুর রহমান ও হবিবুর রহমানের লোকজন কুদ্দুস মাস্টারকে আটকে রাখেন। তাকে উদ্ধারে স্বজনরা ছুটে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। লাঠিসোটার আঘাতে আমজাদ হোসেনের ছেলে বাগবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র আল-আমিন, আমিনুল ইসলাম ও অপর পক্ষের বাবলু এবং ফটিকসহ ৬ জন আহত হন। এদের বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তির পর শনিবার সকালে স্কুলছাত্র আল-আমিন মারা যায়। দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গাবতলী থানার ওসি খায়রুল বাশার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত এজাহার নামীয় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বখাটেদের ক্ষুরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত কলেজছাত্রী

প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বখাটেদের ক্ষুরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয় এক কলেজছাত্রী। ঈদের পরদিন রাতে কক্সবাজারের বড় মহেশখালী উপজেলার ফকিরাঘোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম নগরীর কাপাসগোলা ওমেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী সাবেরা হোসনা শেলীর মুখ ও বাহুতে ক্ষুর দিয়ে আঘাত করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাইরুলের নেতৃত্বে ৬-৭ জন লোক শেলীর বাড়িতে ঢুকে তার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। উত্ত্যক্তকারী খাইরুল আমিন মহেশখালী কলেজের এইচএসসির অনিয়মিত ছাত্র। সে একজন শিবিরকর্মী বলেও সূত্রে প্রকাশ। এ ঘটনায় পুলিশ খাইরুলের অন্যতম সহযোগী এবাদ উল্লাহকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার দুপুরে মহেশখালী কলেজে এক সমাবেশে কোনো শিক্ষার্থী সন্ত্রাস বা ছাত্রীদের হয়রানি করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলে ঘোষণা দেন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ।
এ সময় কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আশেক উল্লাহ রফিকও উপস্থিত ছিলেন। শেলীর বাবা হোছন আলীর অভিযোগ, কক্সবাজার হাসপাতালে তার মেয়েকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তার মুর্মূষু মেয়েকে ভর্তির পরদিন হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়। বাড়িতে নেয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অজ্ঞান হয়ে পড়ে শেলী। পরে ৩০ জুলাই বিকালে আবারও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার বিষয়ে বেশ অসহযোগিতা করেন বলে বাবার অভিযোগ। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী পরিবারের সন্তান খাইরুল আমিন তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে এক বছর আগে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দেয়ার পর ভবিষ্যতে আর এমন হবে না বলে অঙ্গীকার করে আসে খাইরুল আমিন ও তার পরিবারের লোকজন। এরপর তার পরিবারের ওপর নানাভাবে হুমকি আসায় এলাকা থেকে দূরে নিয়ে শেলীকে চট্টগ্রাম নগরীর কাপাসগোলা ওমেন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি করা হয়। ঈদ উপলক্ষে শেলী মহেশখালীর গ্রামের বাড়িতে এলে ঈদের পরদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাইরুলের নেতৃত্বে ৬-৭ জন লোক ছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে তার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এ সময় ব্যাপক মারধরের পাশাপাশি ছাত্রীর গালে ও হাতের বাহুতে ধারালো ক্ষুরের আঘাত করা হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মহেশখালী ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক ইউনিট বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এ সময় খাইরুলের অন্যতম সহযোগী এবাদ উল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনায় শেলীর বাবা হোছন আলী বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে।

Monday, June 19, 2017

পাহাড় ধসে খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজারে নিহত ৫

রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে নিহতদের স্বজন ও আহতদের কান্না এখনও থামেনি। খাদ্য, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্দশায় এসব এলাকায় নেমে এসেছে বিপর্যয়। এর মধ্যেই শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিতে আবারও ধসে পড়ে বেশ কয়েকটি পাহাড় ও টিলা। এতে ঝরে গেছে ৫ প্রাণ। এর মধ্যে খাগড়াছড়ির রামগড় ও লক্ষ্মীছড়িতে মারা গেছে তিন শিশু। মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এক শিশু ও তার মা মারা গেছেন। অনেক স্থানেই টিলা ধসে বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক। বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে বহু গ্রাম। এসব এলাকায় অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যুগান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
খাগড়াছড়ি : শনিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হলে অপরিকল্পিতভাবে কাটা পাহাড়গুলোতে ধস শুরু হয়। রোববার ভোরে রামগড় উপজেলার বুদংছড়া এলাকায় মো. মোস্তাফার বাড়িতে ধসে পড়ে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের একটি বড় অংশ। চাপা পড়ে ঘর। এতে নিহত হয় তার দুই ছেলে মো. নুরনবী (১৪) ও মো. হোসেন (১০)। সকাল ৮টার দিকে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার যতীন্দ্র কার্বারিপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে পড়ে দেবব্রত চাকমার বাড়ির ওপর। এতে তার ৫ বছরের শিশু নিপুণ চাকমার মৃত্যু হয়। রোববার সকালে বৃষ্টি কমে আসে। এরপরও রাতে বৃষ্টির কারণে রামগড় উপজেলার পাতাছাড়া বাজারে পাহাড় ধসে কয়েকটি দোকানপাট ও বাড়িঘর চাপা পড়ে। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। চট্টগ্রামের সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক পথের অনেক স্থানেই রাস্তায় ছোট ছোট পাহাড় ধসে পড়েছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানি নিষ্কাশনের পথে মাটি জমে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে গুইমারা উপজেলার নিন্মাঞ্চল। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে জেলা সদর, মহালছড়ি, মানিকছড়ি ও রামগড়ে ৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮০টির মতো পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। রাশেদুল ইসলাম আরও বলেন, নিহতদের পরিবারকে দ্রুত আর্থিক অনুদান পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বড়লেখা : সদর ইউনিয়নের মধ্য ডিমাই গ্রামে শনিবার রাত সাড়ে ৩টায় মৃত আবদুস সাত্তারের বসতঘরের ওপরের টিলা ধসে পড়ে। এতে তার স্ত্রী আফিয়া বেগম (৩০) ও মেয়ে ফাহমিদা বেগম (১৩) মাটিচাপা পড়েন। পাহাড় ধসে রাস্তা বন্ধ হওয়ায় ও অবিরাম বর্ষণের কারণে দমকল বাহিনী এবং পুলিশ সেখানে আসতে না পারায় উদ্ধার কাজ বিলম্বিত হয়। রোববার সকাল সাড়ে ৬টায় এলাকাবাসী মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করেন। বড়ছেলে ফাহিম হোসেন (১৪) নানা বাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়। পরে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আবদুল্লাহ আল মামুনসহ পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। শনিবার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত টানা ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে ডিমাই, বোবারথল, তেরাদরম, কাশেমনগর, বিওসি কেছরিগুলসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় টিলা ধসে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যায়। এসব এলাকায় এখনও সহস্রাধিক বাড়িঘর চাপা পড়ার শঙ্কা রয়েছে। প্রভাবশালীরা অবাধে পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি এবং খাল-নালা ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা তৈরির মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করায় এখানে এ বিপর্যয় ঘটছে বলে স্থানীয়রা বলছেন। এ অবস্থার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের দায়ী করছেন তারা। ওয়ার্ড মেম্বার সিরাজ উদ্দিন জানান, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। ডিমাই এলাকায় অসংখ্য ঘর ধসে পড়েছে। তবে মানুষ সতর্ক থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। টানা বর্ষণ আর ঢলে এলাকার অন্তত ১০০ ঘরবাড়ি ধসে পড়ার হুমকিতে রয়েছ। আরেক মেম্বার সৈয়দ লুৎফুর রহমান যুগান্তরকে জানান, শনিবার রাতের ভারি বর্ষণে উত্তর ডিমাই এলাকার ৪০ বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। রাস্তার ওপর টিলা ধসে পড়ে জনসাধারণের যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ৩০০-৪০০ মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বড়লেখা পৌরশহরের রাস্তাঘাট, দোকানপাটসহ অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে। দোকানপাটে পানি ঢুকে কয়েক কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। পৌরসভা কার্যালয়, সদর ইউনিয়ন কার্যালয়, নারীশিক্ষা একাডেমি ডিগ্রি কলেজ, শহরের উত্তর চৌমুহনা, পাখিয়ালা, হাটবন্দ, বারইগ্রামে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের বাছিরপুর, হাতলিয়া, দক্ষিণভাগ, রতুলী, কাঁঠালতলী, পানিধারসহ ১০টি স্পটের সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। অবিরাম বর্ষণ আর যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ায় মারাত্মক দুর্ভোগে পড়ে চলমান ডিগ্রি পরীক্ষার্থী ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি গ্রামের অসংখ্য রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা আজাদের রহমান জানান, দুর্গম এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মোহাম্মদ আবু ইউসুফ যুগান্তরকে জানান, নিহতের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে পোস্ট মোর্টেম ছাড়াই লাশ দাফনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।