Saturday, December 13, 2025
গার্ডিয়ানে কাজ করা গাজার সাংবাদিক পেলেন ব্রিটিশ জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ডস
দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের ১৮ মাস গাজা উপত্যকায় গার্ডিয়ানের প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন তানতিশ। তাঁর অনেকগুলো প্রতিবেদন আলোচিত হয়েছে। এর মধ্যে গত জানুয়ারিতে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর নিজের বাড়িতে ফেরা নিয়ে করা প্রতিবেদনটি অন্যতম।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্রিটিশ জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫ দেওয়া হয়। এতে তানতিশ সম্ভাবনাময় নতুন সাংবাদিক বিভাগে মর্যাদাপূর্ণ ‘মেরি কলভিন’ পুরস্কার পান।
যুক্তরাজ্যের সুপরিচিত সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমসের সাংবাদিক মেরি কলভিনের নামে এ পুরস্কারের নাম রাখা হয়েছে। ২০১২ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের শুরুর দিকে অবরুদ্ধ বাব আমর এলাকা থেকে প্রতিবেদন করার সময় তিনি নিহত হয়েছিলেন।
তানতিশের প্রতিবেদনে গাজাবাসীর ওপর ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার প্রভাব ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে নিজের পরিবার নিয়ে তিনি যেসব প্রতিবেদন করেছেন, তা সবাইকে স্পর্শ করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তিনি স্বজন হারানোর দুঃখ এবং ইসরায়েলের বোমা হামলার পরবর্তী পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন।
এক প্রতিবেদনে তানতিশ নিজের জন্মস্থান বাইত লাহিয়ায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফেরার বর্ণনা দিয়েছেন। এতে দেখা যায়, তাঁর বাড়ি ও বাগান ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
অন্য এক প্রতিবেদনে তানতিশ গাজার একটি হাসপাতাল থেকে ‘হাড্ডিসার শিশুদের’ দুর্দশার কথা তুলে ধরেছিলেন।
পুরস্কারের বিচারকেরা বলেন, তানতিশের কাজ ‘মেরির মনোভাবের সব বৈশিষ্ট্য ধারণ করে: সাহস, ঘটনার সঙ্গে সহানুভূতি এবং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সঠিক খবর উপস্থাপনের সংগ্রাম।’
গার্ডিয়ানের আরও কয়েকজন সাংবাদিক ব্রিটিশ জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫ লাভ করেছেন। তাঁদের একজন হ্যারি ডেভিস। প্রযুক্তি সাংবাদিকতা বিভাগে তিনি পুরস্কার পেয়েছেন।
ডেভিস ইসরায়েলের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘+৯৭২ ম্যাগাজিন’-এর সঙ্গে একটি প্রকল্পে কাজ করেছেন। তাঁদের গবেষণা প্রতিবেদনে গাজা যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মাইক্রোসফটের সম্পর্ক খতিয়ে দেখা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সম্প্রচারমাধ্যম ‘চ্যানেল ৪ নিউজ’ বর্ষসেরা সংবাদ পরিবেশনকারী হিসেবে ব্রিটিশ জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫ লাভ করেছে।
![]() |
| মালাক এ. তানতিশ (ডানে) ও তাঁর বোন ইনাস তানতিশ। বিধ্বস্ত গাজায়। ছবি: ম্যাথিউক্যাসেল নামের এক ব্যক্তির ইনস্টাগ্রাম থেকে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণহারে পদত্যাগের ঘোষণা ইসরায়েলি সেনাদের
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম জানিয়েছে, পদত্যাগে আগ্রহীদের বেশিরভাগের বয়স ৪২ বছরের বেশি এবং তারা মাস শেষ হওয়ার আগেই বাহিনী ছাড়তে চান। কারণ ওই সময়ে সুবিধা স্থগিত কার্যকর হবে এবং কোনো আইনগত সুরক্ষা থাকবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জুনে এ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছালেও নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে বিষয়টি আটকে যায়। এমকে আমিত হালেভির আপত্তির কারণে অচলাবস্থা আরও গভীর হয়। আর্থিক সুবিধা দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনীতে কর্মরতদের ধরে রাখার প্রধান উপায় হওয়ায় এর স্থগিতাদেশে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে।
চাপ বাড়তে থাকায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণে একটি বিশেষ বৈঠক ডাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে কর্মী সংকটের সময় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেছিল। তবে আদালতের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় আইওএফ এখন দ্রুত আইন সংশোধনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েল হায়োমের বিশ্লেষণে বলা হয়, সৈন্যদের আর্থিক নিরাপত্তা ভেঙে পড়ায় অনেকেই সামরিক বাহিনীতে নিজ ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, ক্লান্তি ও অসন্তোষে ভুগতে থাকা আইওএফকে এখন তাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গভীর প্রতিষ্ঠানগত অস্থিরতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেক জরুরি পদক্ষেপ গ্রান্ট, বাসস্থান সহায়তা, পারিবারিক কর্মসূচি নিলেও পদত্যাগ ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে সেনা নেতৃত্ব। কর্মকর্তারা সতর্ক করছেন, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে মধ্যম ও সিনিয়র পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যাপক পদত্যাগ সেনাবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এদিকে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক মহলে ব্রিজ পেনশন কমানো বা পরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের জন্য এই পেনশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের বেতন বেসামরিক খাতের তুলনায় অনেক কম। সুবিধা বাতিল হলে ব্যাপক পদত্যাগের ঢেউ নেমে আসবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে আইওএফ।
ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনা কর্মকর্তারা সুবিধা কমানোর যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন এবং বলছেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে সিনিয়র সার্জেন্ট, লেফটেন্যান্ট ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বড় অংশ বাহিনী ছেড়ে চলে যেতে পারে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতকে দূরে ঠেলে আমেরিকাকে যে মূল্য দিতে হবে by ব্রহ্ম চেলানি
মোদির বার্তাটি পরিষ্কার। সেটি হলো—ভারত একটি সার্বভৌম শক্তি এবং ‘পশ্চিম বনাম বাকি বিশ্বের’ দ্বন্দ্বে কোনো পক্ষ বেছে নিতে ভারতকে বাধ্য করা যাবে না। মোদির বার্তা হলো, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারত তার নিজস্ব পথেই চলবে।
আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থে ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বড় শক্তি আর নেই। কারণ, ভারতের জনসংখ্যা বিশাল, ভৌগোলিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারত পারমাণবিক ক্ষমতাসহ সামরিক শক্তির দিক থেকে চীনকে মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখে।
চীন এশিয়ায় আধিপত্য করতে চায় এবং একটা সময়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে সরিয়ে দিতে চায়। চীনের এই উচ্চাভিলাষ ভারতই ঠেকিয়ে দিতে পারে।
জর্জ ডব্লিউ বুশের সময় থেকেই মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা বুঝে গিয়েছিলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য ধরে রাখতে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার অংশীদারি অত্যন্ত জরুরি।
এটা শুধু কথার কথা ছিল না। গত দশকে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত নিরাপত্তা সম্পর্ক দ্রুত গভীর হয়েছে। বিশেষত সামরিক সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই দুই দেশ ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
এই অগ্রগতির একটি অংশ হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময়। তখন তিনি চীনের ওপর চাপ বাড়ান এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা সহায়তা কমিয়ে দেন। এর ফলে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা আরও বাড়ে।
ভারত তখন তার ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এর ফল আজ স্পষ্ট—ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি যৌথ সামরিক মহড়া করে। যুক্তরাষ্ট্রই এখন ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।
কিন্তু এসব অগ্রগতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এমন অনেক কাজ করেছে, যা ভারতের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছে। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশৃঙ্খলভাবে বের হয়ে যাওয়া (যা বাইডেনের সময়ে ঘটলেও মূল চুক্তি ট্রাম্প করেছিলেন) মার্কিন নেতৃত্বের বিচক্ষণতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, এই পদক্ষেপে কার্যত আফগানিস্তান আবার তালেবানের দখলে ফিরে যায়।
২০২২ সালে উদ্বেগ আরও বাড়ে। কারণ, বাইডেন প্রশাসন পাকিস্তানকে আইএমএফ থেকে ঋণ পেতে সাহায্য করে। এরপর তারা পাকিস্তানের মার্কিন তৈরি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলো আধুনিকায়নের জন্য ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের এক চুক্তি অনুমোদন করে। এতে শীতল যুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে আমেরিকার অস্ত্র দেওয়ার তিক্ত স্মৃতি আবার ভারতের সামনে চলে আসে।
ট্রাম্পও পাকিস্তানের প্রতি এই সমর্থন আরও বাড়িয়েছেন। এর একটি বড় কারণ ছিল ব্যক্তিগত লাভ, যা কিনা ২০২৪ সালের এপ্রিলে করা লাভজনক ক্রিপ্টোকারেন্সি চুক্তিতে স্পষ্ট হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বহুবার ভারতের স্বার্থ উপেক্ষা করেছে। কিন্তু রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করলে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে তারা ভারতের কাছ থেকে পূর্ণ আনুগত্য আশা করেছিল। কিন্তু ভারত ইসরায়েল ও তুরস্কের মতো অন্যান্য মার্কিন মিত্রদের মতো এই চাপ মানেনি। বরং ভারত রাশিয়ার সস্তা তেলের আমদানি আরও বাড়ায়।
ভারত মনে করেছে ইউক্রেন যুদ্ধ অনেক দূরের সংঘাত। এই সংঘাতের কারণে ভারত নিজের স্বার্থ ঝুঁকিতে ফেলতে চায়নি। বিশেষ করে ভারত যখন দেখেছে, রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের চাপের সুযোগ নিয়ে চীন রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় জ্বালানি কিনছে, তখন ভারত রুশ জ্বালানি কেনা থেকে বিরত থাকতে পারেনি।
ভারত আগেও এমন পরিস্থিতি দেখেছে। ২০১৯ সালে ট্রাম্প যখন ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ফের আরোপ করেন, তখন ভারত তার সবচেয়ে সস্তা এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি উৎসগুলোর একটি হারায়। আর সেই সুযোগে চীন ইরানের তেল অত্যন্ত কম দামে কিনতে শুরু করে এবং সেখানে নিজেদের নিরাপত্তা উপস্থিতি বাড়ায়।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরও একই ধারা দেখা যায়। পশ্চিমা বাজার থেকে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার ফলে নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার ওপর চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বাড়ায়।
চীন রাশিয়া থেকে স্থলপথে জ্বালানি আমদানির পথ শক্তিশালী করেছে। ফলে চীন এখন জানে, তাইওয়ান নিয়ে তারা যাই করুক, রাশিয়ার জ্বালানি পেতে তার কোনো সমস্যা হবে না। এই প্রবণতা নিঃসন্দেহে ভারতের কৌশলগত স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। তবে এবার ভারতও সস্তা রাশিয়ান তেলের সুবিধা নিতে পেরেছে।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের এই সিদ্ধান্তকে সহজভাবে নেয়নি। তারা ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বসায়। ফলে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। পাশাপাশি তারা ভারতের বিরুদ্ধে গৌণ নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয়। তারা দাবি করে ভারত নাকি ‘রাশিয়ার ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড’ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় বাধা দিচ্ছে।
অথচ ট্রাম্প রাশিয়ার তেল আমদানিকারী অন্য বড় দেশগুলোকে ছাড় দিয়েছেন। তিনি হাঙ্গেরিকে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন, কারণ হাঙ্গেরির স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবান ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
এখন ভারতের ওপর মার্কিন শুল্কহার চীনের রপ্তানির ওপর আরোপিত শুল্ককেও ছাড়িয়ে গেছে। এটি কার্যত ভারতের বিরুদ্ধে আমেরিকার একধরনের অর্থনৈতিক যুদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্র মুখে বলে ভারত অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবে তারা ভারতের স্বার্থকে গৌণ মনে করে। তারা চায়, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ভারত এক প্রধান স্তম্ভ হোক। কিন্তু তাদের নীতিই ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি বেশি অস্থির হলেও আমেরিকার মূল প্রবণতা বহু প্রশাসন ধরে একই রয়েছে। এর ফলে ভারত এখন ক্রমে ক্ষুব্ধ ও অবিশ্বাসী হয়ে উঠছে। তাই ভারত নিজের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিকল্প অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর শুরুটা তারা রাশিয়া দিয়েই করেছে।
পুতিনের দিল্লি সফর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। কারণ, আমেরিকা চাপ সৃষ্টি করলে এবং নীতি বদলাতে থাকলে সম্পর্ক শুধু দুর্বলই হবে।
আমেরিকার মনে রাখা দরকার, চীনের আগ্রাসী উত্থান ঠেকানোর জন্য ভারতের সঙ্গে স্বার্থভিত্তিক নমনীয় ‘নরম জোট’ তৈরি করা আমেরিকার হাতে থাকা অল্প কিছু কার্যকর উপায়ের একটি। সেদিক থেকে দেখলে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ভারতকে যতটা দরকার, ভারতের যুক্তরাষ্ট্রকে তার চেয়ে কম দরকার।
তাই ভারতকে ‘লাইন মেনে চলতে’ বাধ্য করার চেষ্টা না করে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ভারতকে সমমর্যাদার অংশীদার হিসেবে দেখা। অর্থাৎ ভারত যেমন আছে তাকে তেমনভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণ করা উচিত। যেমনটা মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা চাইছেন তেমন করে ভারতকে গড়তে যাওয়া তাদের উচিত হবে না।
* ব্রহ্ম চেলানি, দিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস প্রফেসর।
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঝড়-বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত গাজা, ১০ জনের বেশি নিহত
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকায় ঝড় ও ভূমি ধসে অনেক তাঁবু হুমকির মুখে পড়েছে। এসব এলাকায় অন্তত ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ৭৬১টি সাইটে আশ্রিত আছে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় সবাই ঝুঁকিতে রয়েছে।
টানা যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যে থাকা অসহায় ফিলিস্তিনিদের দুর্যোগ মোকাবিলার মতো কোনো প্রস্তুতি বা সামর্থ্য নেই। টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকা পরিবারগুলো এখন মারাত্মক বিপদের মধ্যে রয়েছে। গাজা সিটির শাতি শরণার্থী শিবিরে শুক্রবার সকালেই তীব্র ঠান্ডায় এক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় কমপক্ষে ৭০ হাজার ৩৬৯ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৯ জন আহত হয়েছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বছরজুড়ে আলোচনায় ওসমান হাদি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন আজ শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা। এই এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে প্রচার চালাচ্ছিলেন এই যুবক।
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কাছ থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা এক মাস আগেই জানিয়েছিলেন হাদি। তাঁর ওপর হামলাকারীরা এখনো চিহ্নিত না হলেও এটা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ মনে করছে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
হাদি যেভাবে আলোচনায়
দক্ষিণের জেলা ঝালকাঠির নলছিটি থেকে উঠে আসা হাদিকে কোনো রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত থাকতে দেখা যায়নি। মাদ্রাসার শিক্ষকের ছেলে হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে পড়াশোনা করেন নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করার পর বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে আলোচনায় আসেন হাদি। সাংস্কৃতিক এই প্ল্যাটফর্ম তাদের লক্ষ্য ঠিক করে—‘সমস্ত আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণ’। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিয়েই একটি সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে তোলেন তিনি।
প্রতিষ্ঠার পরপরই জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদ–আহত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি এবং জুলাই ঘোষণাপত্র ঘোষণার দাবি তুলে শাহবাগে সমাবেশ আয়োজন শুরু করেন হাদি। বিভিন্ন টেলিভিশনের টক শোয় ডাক পেতে থাকেন। প্রথমে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিতেন তিনি। পরে নেন আহ্বায়কের দায়িত্ব।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভে যোগ দেন ওসমান হাদি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবিতেও সরব হয়ে ওঠেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি জাতীয় সরকার গঠনের পক্ষে তাঁকে কথা বলতে শোনা যায়।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন হাদি। গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ওপর হামলা হলে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। তখন তিনি কিছু অশোভন শব্দও ব্যবহার করেছিলেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
গত নভেম্বরে ওসমান হাদি নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, দেশি–বিদেশি অন্তত ৩০টি ফোন নম্বর থেকে তাঁকে ফোন ও মেসেজ পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে; তাঁর বাড়িতে আগুন দেওয়া, তাঁর মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের ‘খুনি’ সমর্থকেরা তাঁকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখছে। তবে ‘জীবননাশের আশঙ্কা’ সত্ত্বেও তিনি ‘ইনসাফের লড়াই’ থেকে পিছিয়ে যাবেন না।
নির্বাচনী লড়াইয়ে
জুলাই অভ্যুত্থানের পর জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যোগ দিয়েছিলেন ওসমান হাদি। প্ল্যাটফর্মটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ওই প্ল্যাটফর্মের বেশির ভাগ সদস্য পরে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিলেও হাদি দলটিতে যাননি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনে (মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর থানা) স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই মাঠে তৎপর হাদি। বিশেষ করে ভোররাতে মসজিদে ভোট চাওয়ার ছবি ও ভিডিও তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। বাতাসা–মুড়ি নিয়ে নির্বাচনী প্রচারও চালান।
ভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে নির্বাচনে অনুদান নেওয়ার ছবি–ভিডিও শেয়ার দিচ্ছেন হাদি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী কাজে ব্যয়ের জন্য কত টাকা অনুদান পেয়েছেন, তা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেনও তিনি।
ঢাকা–৮ আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ২০ নভেম্বর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন রিকশাচালক মো. সুজন। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের ‘আইকনিক স্যালুট’ দিয়ে আলোচিত হন। তাঁর সেই স্যালুটের ছবি জাতীয় পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়। ওসমান হাদি এই রিকশাচালকের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের ঘটনায় স্বাগত জানান। আলোচনা ওঠে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম ঢাকা–৮ আসন থেকে ভোট করতে পারেন। তাঁকেও স্বাগত জানান ওসমান হাদি।
সম্প্রতি বরিশালের বাবুগঞ্জে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে হেনস্তা করা হয়। একটি সেতুর নির্মাণকাজ পাওয়া ঠিকাদারের কাছে ‘স্থানীয়রা চাঁদা দাবি করেছে’—গণমাধ্যমে এমন বক্তব্য দেওয়ার পর তোপের মুখে পড়েন ফুয়াদ। এ ঘটনায় ফুয়াদের পক্ষে অবস্থান নেন ওসমান হাদি এবং বরিশালে গিয়ে ফুয়াদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।
গত ১৫ নভেম্বর মতিঝিল এজিবি কলোনি এলাকায় প্রচারে গেলে তাঁর ওপর ময়লা পানি ফেলার অভিযোগ করেন ওসমান হাদি। ওই ঘটনার ছবি–ভিডিও প্রচারিত হয়। এরপর ফেসবুকের একটি ভিডিওতে হাদিকে বলতে শোনা যায়, তাঁর গায়ে তিনবার ময়লা পানি ছোড়া হয়েছে। তিনি প্রতিপক্ষের উদ্দেশে বলেন, আরও ময়লা পানি মারেন। অসুবিধা নেই।
ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সবাই নিন্দা ও উদ্বেগ জানাচ্ছেন। তাঁর সমালোচকদের কেউ কেউ বলছেন, তাঁর সঙ্গে মতের অমিল থাকতে পারে। তাই বলে গুলি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
![]() |
| ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। ছবি: ওসমান হাদির ফেসবুক পেজ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যারাই ক্ষমতায় আসবে, জুলাইকে তাদের মনে রাখতে হবে: আসিফ মাহমুদ
৫ আগস্ট ২০২৫ সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘৩৬ জুলাই উদ্যাপন’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।
আজকের এই দিনে ছাত্র-জনতা গণভবন দখলে নিয়েছিলেন উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজকের এই দিনে বাংলাদেশের মানুষ পুরো পৃথিবীকে জানিয়ে দিয়েছিল, আর কখনো কোনো শাসক যেন শোষক হয়ে উঠতে না পারে। কোনো সরকার যেন ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে। কোনো সরকার যেন স্বৈরাচারী হয়ে না উঠতে পারে, সে মেসেজ গত বছরের এই দিনে দেওয়া হয়েছিল।’
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ পূর্ববর্তী ইতিহাসেও স্বৈরাচার পতন নিশ্চিত করেছিল এবং ভবিষ্যতে এটি বারবার নিশ্চিত করবে। আমাদের শহীদেরা, আহতরা বাংলাদেশকে সর্বদা স্বাধীন এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী রাখার যে পথ দেখিয়ে গেছে, তা আমরা সারা জীবন অনুসরণ করব।’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘জুলাই ২০২৪–এ শেষ হয়ে যায়নি, আপনাদের এ জনসমাগম প্রমাণ করছে, জুলাই চলমান আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে, ভবিষ্যতের সাথে জুলাই সর্বদা জীবিত থাকবে।’
বেলা ১১টায় ‘৩৬ জুলাই উদ্যাপন’ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে বিলম্বিত হয়। পরে দুপুর ১২টার পর অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে প্রথমে গান পরিবেশন করে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী। এরপর কলরব শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন ব্যান্ড ও শিল্পীরা গান পরিবেশন করেছেন।
![]() |
| রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘৩৬ জুলাই উদ্যাপন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ। ছবি: প্রথম আলো |
ছবি: তানভীর হাসান
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় তীব্র শীত–বৃষ্টি: ‘আমার ছোট্ট বাচ্চা নিথর হয়ে গেল’
দুর্বিষহ হবেই না কেন? এটা ফিলিস্তিনের গাজা। দুই বছর ধরে ইসরায়েলের জাতিগত নিধন আর ধ্বংসযজ্ঞের মুখে সেখানে বলতে গেলে আর কোনো ঘরবাড়িই অবশিষ্ট নেই। ছেঁড়া-ফাটা তাঁবু দিয়ে শীত আর কতটা আটকানো যায়। আর গতকাল বুধবার রাতে যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে, তা আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে—এমনটাই পূর্বাভাস।
আরাফাতের পরিবার বাস্তুচ্যুত। থাকেন মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে। ইসরায়েলি হামলার মুখে উত্তর গাজা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন তাঁরা। গত বুধবার রাতের বৃষ্টিতে দেইর আল-বালাহর আল-বাসা ও আল-বারাকা এলাকা ভেসে গেছে। পানি জমে দেখা দিয়েছে বন্যা। একই অবস্থা খান ইউনিসে আল-মাওয়াসিসহ নুসেইরাত ও উত্তর গাজার বিভিন্ন এলাকায়।
| তীব্র শীতে গরম কাপড়ের অভাবে মারা গেছে নয় মাসের শিশুটি। তার মরদেহ কোলে নিয়ে মায়ের কান্না। ছবি: রয়টার্স |
এসব এলাকায় দেখা গেছে, ফিলিস্তিনিদের বহু তাঁবু ভেঙে পড়েছে। ভেতরে পানি-কাদায় একাকার। তীব্র শীতে ভেজা পোশাকে জবুথবু হয়ে আছে শিশুরা। তারা এখন কোথায় থাকবে, কী খাবে নেই তার কোনো ঠিকঠিকানা। রাস্তাঘাটে জমে গেছে পানি। বৃষ্টিপাতের পর গাজাবাসীর কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০টির বেশি সাহায্যের আবেদন পেয়েছে স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স।
‘আমার ছোট্ট বাচ্চাটা নিথর হয়ে গেল’
দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলের অবরোধের ফলে তাঁবুর মতো শীতের কাপড়েরও সংকট রয়েছে গাজায়। সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশুরা। তীব্র শীতে বুধবার রাতেই ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবার থাকে খান ইউনিস এলাকায় একটি তাঁবুতে। শিশুটির মা আল-জাজিরাকে বললেন, সন্তানকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করেছেন, তারপর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
অসহায় ওই মায়ের কথায়, ‘বৃষ্টি হচ্ছিল। তীব্র শীত। ওকে (শিশু) গরম রাখার জন্য খুব কম জিনিসই ছিল আমার কাছে। খাওয়ানোর পর ওকে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম। ভালোমতো কাপড়ে জড়িয়ে দিলাম। তবে শীত ঠেকানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। বৃষ্টি বাড়ছিল, সঙ্গে শীতও। সারা রাত ভয় করছিল—কী হয় না হয়। একসময় দেখলাম আমার ছোট্ট বাচ্চাটা নিথর, প্রাণহীন।’
| তুমুল বর্ষণে তাঁবুর ভেতরে ঢুকে গেছে পানি। ভেতরে অসহায় ফিলিস্তিনি শিশুরা। ছবি: রয়টার্স |
গাজায় এখন ১৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও অনেক ক্ষেত্রে এই মানুষগুলোর জন্য তাঁবু উপত্যকাটিতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে সতর্ক করে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, মানবিক সহায়তা প্রবেশ না করতে দিলে শীত-বৃষ্টিতে গাজায় অসুস্থতা ও সংক্রমণে ঝুঁকি বাড়বে।
প্রয়োজন ৩ লাখ তাঁবু
গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ তাঁবু প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন উপত্যকাটির গণমাধ্যম কার্যালয়ের পরিচালক ইসমাইল আল-তাওয়াবতা। তিনি বলেন, ইসরায়েলের হামলা ও ঝড়বাদলের কারণে হাজার হাজার তাঁবুর ক্ষতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ৩ লাখ তাঁবুর দরকার হলেও এসেছে মাত্র ২০ হাজার। বৃষ্টিতে গাজার পানি সরবরাহ ব্যবস্থারও ক্ষতি হয়েছে।
নিজেদের দুর্দশার কথা আল-জাজিরাকে বলছিলেন ৬৬ বছর বয়সী বাসমা আল-শেখ খলিল। তাঁর সবচেয়ে দুশ্চিন্তা ছোট ছোট নাতি-নাতনিদের নিয়ে। তাদের কথা বলতে বলতে অশ্রু ধরে রাখতে পারলেন না তিনি। ভেজা চোখে বললেন, ‘গ্রীষ্ম কি শীত—সব ঋতুই এখন আমাদের জন্য দুর্বিষহ। আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই।’
| বৃষ্টিতে তাঁবুর সামনে জমে গেছে পানি। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
December
(274)
-
▼
Dec 13
(7)
- গার্ডিয়ানে কাজ করা গাজার সাংবাদিক পেলেন ব্রিটিশ জা...
- গণহারে পদত্যাগের ঘোষণা ইসরায়েলি সেনাদের
- ভারতকে দূরে ঠেলে আমেরিকাকে যে মূল্য দিতে হবে by ব্...
- ঝড়-বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত গাজা, ১০ জনের বেশি নিহত
- বছরজুড়ে আলোচনায় ওসমান হাদি
- যারাই ক্ষমতায় আসবে, জুলাইকে তাদের মনে রাখতে হবে: আ...
- গাজায় তীব্র শীত–বৃষ্টি: ‘আমার ছোট্ট বাচ্চা নিথর হয়...
-
▼
Dec 13
(7)
-
▼
December
(274)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



