Wednesday, April 10, 2019

বিশ্বে বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধি ধীর গতির হতে পারে -ডিএইচএলের বিশ্লেষণ

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হওয়া সত্ত্বেও চীনের বাণিজ্য সার্বিক সূচকে ৫৬ অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় লজিস্টিক কোম্পানি ডিএইচএল প্রকাশিত ডিএইচএল গ্লোবাল ট্রেড ব্যারোমিটারে প্রকাশিত এক ডাটায় এ কথা বলা হয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ‘বিগ ডাটা’ ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক অগ্রগতি নির্ণয় করে যে সূচক নির্ধারণ করা হয়Ñ তাই হলো ডিএইচএল গ্লোবাল ট্রেড ব্যারোমিটার।
এতে বলা হয়েছে, চীনের  আকাশ বিষয়ক মেশিনারি যন্ত্রাংশ, কেমিকেল অ্যান্ড প্রোডাক্ট, তাপমাত্রা অথবা জলবায়ূু নিয়ন্ত্রণকারী পণ্য আমদানি বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে আকাশ বিষয়ক পণ্য রপ্তানি তাদের স্থির থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সমুদ্র বিষয়ক রপ্তানি বৃদ্ধি পেতে পারে মেশিনারি যন্ত্রাংশ, শিল্পের কাঁচামাল, ব্যক্তিগত ও বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মতো খাতে। আকাশ ও সমুদ্র বিষয়ক চালান কমে গেছে যথাক্রমে ৩ ও ১ ভাগ। তারপরও আগামী তিন মাসে কোন ঘাতটি ছাড়াই সার্বিক বাণিজ্য স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিছু কিছু শিল্পে নমনীয়তা দেখানো সত্ত্বেও চীনের অর্থনীতি অব্যাহতভাবে একই রকম প্রবৃদ্ধি করবে। কারণ, তারা বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করার বিষয় হলো ইতালির সঙ্গে তারা বড় ২৯টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত করেছে। ডিএইচএল গ্লোবাল ফরোয়ার্ডিং গ্রেটার চায়না’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ হুয়াং বলেছেন, ওই চুক্তির অর্থমূল্য ২৮০ কোটি ডলার।
সর্বশেষ এই অগ্রগতি এটাই জোর দিয়ে বলে যে, হতাশাজনক অর্থনীতি ও চীনের অর্থনীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরড়া থাকা সত্ত্বেও দেশটির বাণিজ্য তার গতি অব্যাহতভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হবে। কারণ, তারা কানেকটিভিটির উন্নতি করেছে। লজিস্টিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করেছে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বাজার সুবিধাকে সহজ করেছে।
ব্যারোমিটারের এই ফল আরো বলে যে, আগামী তিন মাসে বিশ্বে বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধি ধীর গতির হতে পারে। এতে খুব সামান্যই প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে পূর্বাভাষ দেয়া হয়েছে। এশিয়ায় সর্বোচ্চ সূচক আছে এমন তিনটি দেশ হলো ভারত, জাপান ও চীন। গ্লোবাল ট্রেড ব্যারোমিটারের সূচকে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও জার্মানি সহ ৭টি দেশ আছে, যেখানে শুধু দক্ষিণ কোরিয়া বাদে সবার সূচক ৫০ পয়েন্টের ওপরের। গ্লোবাল ট্রেড ব্যারোমিটারে যে পদ্ধতিতে সূচক নির্ধারণ করা হয় তাতে ৫০ এর ওপরে কোনো দেশ থাকলে সেখানে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরা হয়। আর ৫০-এর নিচে থাকলে তাকে সংকোচন হিসেবে ধরা হয়।
২০১৮ সালের জানুয়ারি চালু হয় ডিএইচএল গ্লোবাল ট্রেড ব্যারোমিটার। এতে বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী সূচক নির্ধারণ করা হয়। লজিস্টিক বিপুল পরিমাণ ডাটার ওপর ভিত্তি করে এই সূচক নির্ধারণ করা হয়। ওই ডাটা মূল্যায়ন করা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে। এসব ডাটা শিক্ষায় গবেষণা সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য ডিএইচএল সম্প্রতি ইশ্বর এস প্রসাদ, প্রফেসর অব ট্রেড পলিটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে কর্নেল ইউনিভার্সিটি ইন ইথাকার ইকোনমিক্স- এর গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই সূচক বছরে চারবার প্রকাশ করা হয়। পরবর্তী সূচক বা ডাটা প্রকাশ হওয়ার কথা ২০১৯ সালের জুনে।

যে কারণে সম্পত্তি ট্রাস্টভুক্ত করলেন এরশাদ

আলোচনায় থাকতেই পছন্দ করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সকালে এক কথা বিকালে আরেক কথার জন্য দেশজুড়েই তাকে নিয়ে রয়েছে বিরূপ মন্তব্য। গত কদিন ধরে ফের তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এরশাদ পার্টির উত্তরসূরি করেছিলেন সহোদর জিএম কাদেরকে। পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয় তাকে। সংসদের উপনেতাও করা হয় তাকে। ক’দিন আগে হঠাৎ করে এসব পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ঘোর কাটতে না কাটতেই ফের স্বপদে ফিরিয়ে আনা হয়।
তবে সংসদ উপনেতার পদ তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। এ পদে স্ত্রী রওশনকেই স্থলাভিষিক্ত করেন তিনি। এরইমধ্যে এরশাদ তার সম্পত্তি ট্রাস্টভুক্ত করেন। সূত্র মতে, বর্তমানে এরশাদ যে সম্পত্তির মালিক তার সবই এখানে দিয়েছেন। রোববার বিকেলে রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে দলিল করে দেন। বলা হয়েছে ছোট ছেলে এরিক এরশাদই এই সম্পত্তির মালিক।
ছেলেটি অটিস্টিক এবং বয়সে ছোট। তাই এরশাদের মৃত্যুর পরেও যাতে কেউ এ সম্পত্তি ভোগ দখল করতে না পারে সে কারণে ট্রাস্ট করা। এই সম্পত্তি থেকেই এরিককে ভরণ-পোষণ করা হবে। ট্রাস্টে এরশাদ নিজে থাকলেও স্ত্রী রওশন এরশাদ ও জিএম কাদেরকে রাখা হয়নি। এছাড়া বড় ছেলে রাহগির আল মাহি এরশাদ সাদকেও ট্রাস্টে রাখা হয়নি। সাদকে তার মায়ের সঙ্গে আগেই সম্পত্তি দেয়া হয়েছে। এ কারণে তার ট্রাস্টে থাকার প্রশ্ন আসে না বলে জানান একজন সদস্য। ছেলে এরিক এরশাদও ট্রাস্টি বোর্ডে রয়েছেন।
এর বাইরে অন্যরা হলেন এরশাদের একান্ত সচিব ও ভাতিজা মেজর (অব.) খালেদ আখতার, চাচাতো ভাই মুকুল ও এরশাদের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। হঠাৎ এরশাদ তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ট্রাস্টভুক্ত করার কারণ হিসেবে নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। আর  পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ দু’জন সদস্যকে না রাখার কারণ হিসেবে জানা যায় পার্টিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় এদিকে সময় দেয়া সম্ভব নয়। এরশাদ তার যে সম্পত্তি ট্রাস্টভুক্ত করেছেন তার বর্তমান বাজার মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা। এরমধ্যে নগদ অর্থ ছাড়াও ফ্ল্যাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের শেয়ার পার্টনার রয়েছেন। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে এরশাদ তার নির্বাচনী হলফনামায় যেসব সম্পদ নিজের নামে উল্লেখ করেছেন তার বাজার মূল্য শতকোটি টাকার ওপরে। যদিও খালেদ আখতার বলেছেন হলফনামার সম্পত্তিই ট্রাস্টভুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৮ টাকা। ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে সম্মানী পান ৭৪ লাখ ৭১ হাজার ১০ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ২ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৭১ টাকা। বিভিন্ন কোম্পানিতে এরশাদের শেয়ারের পরিমাণ ৪৪ কোটি ১০ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ, এফডিআর ও ডিপিএসে ৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এছাড়া ব্যক্তিগত তিনটি গাড়ি রয়েছে। যার বাজার মূল্য ল্যান্ড ক্রুজার জিপ ৫৫ লাখ টাকা, নিশান ১৮ লাখ, ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের আরো একটি ল্যান্ড ক্রুজার জিপ। এছাড়া বনানীতে একটি শপিং কমপ্লেক্স দোকান রয়েছে যার মূল্য ৭৭ লাখ টাকা। আর বারিধারা, বনানী ও গুলশানে তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর বাজার মূল্য ১ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া ব্যবসায় মূলধন ১২ লাখ ৫১ হাজার ১৫৪ টাকা, জমি বিক্রয় মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
ট্রাস্টের সদস্য ও এরশাদের একান্ত সচিব মেজর (অব.) খালেদ আখতার বলেন, স্যারের সকল সম্পত্তির মালিক এরিক। সে অটিস্টিক ও বয়সে ছোট। স্যারের অনুপস্থিতে এ সম্পত্তি যাতে কেউ দখল না করতে পারে সে কারণেই ট্রাস্টভুক্ত করা হয়েছে। এ ট্রাস্টের মাধ্যমেই পরবর্তীতে এরিকের দেখভাল করা হবে। এছাড়া ওর মাথার ওপরে বিদিশা রয়েছে। কোনোভাবে সম্পত্তি হাতছাড়া যাতে না হয় সে কারণেই স্যার এটা করেছেন। ট্রাস্টি বোর্ডে জিএম কাদেরকে না রাখার ব্যাপারে খালেদ আখতার বলেন, কাদের ভাই অনেক ব্যস্ত পার্টির কাজ নিয়ে। তাছাড়া তিনি পার্টির চেয়ারম্যান হলে ওকে দেখভাল করাটা কঠিন হবে। মূলত কাদের ভাইর থাকার কথা ছিল সেখানে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর এখানে পার্টির বাইরে একজন শুধু জাহাঙ্গীরকে রাখা হয়েছে। জাহাঙ্গীরকে রাখার কারণ স্যারের সকল সম্পদ সম্পর্কে ও জানে। ও ছাড়া আর কেউ এতটা জানে না। সম্পদ দান করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে খালেদ আখতার বলেন, এটা কোনোভাবেই দান নয়। এটা শুধু মাত্র ট্রাস্টভূক্ত করা। পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফয়সল চিশতী জানান, স্যারের বয়স হয়েছে। ওনি অনেকদিন ধরে খুব অসুস্থ। তার সম্পত্তিতে কাকে রাখবেন, রাখবেন না এটা তার একান্তই ইচ্ছা। এটায় আমাদের কারো মতামত নেই। এছাড়া থাকার কথাও নয়। এ কারণেই তার সম্পত্তি ট্রাস্টভুক্ত করেছেন। এরিকের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এমনটা করেছেন বলে পার্টি থেকে আমরা মনে করি।

বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জটিল -পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে এনে আদালতের দেয়া দণ্ড কার্যকর করতে চায় সরকার। এ নিয়ে সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের। আইনের শাসনে বিশ্বাসী যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একজন আত্মস্বীকৃত খুনির বিরুদ্ধে আদালতের রায় কার্যকরে আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি পম্পেও বিষয়টি নিয়ে ঢাকাকে আইনি লড়াইয়ের পরামর্শ দিয়েছেন।
ওয়াশিংটনের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এই প্রথম মার্কিন প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে আইনিভাবে লড়তে বাংলাদেশকে বললো। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর স্থানীয় গণমাধ্যমে দেয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনা জটিল প্রক্রিয়া। এত দিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছেই দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখন দেশটির বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি মার্কিন বিচার বিভাগের কাজ।
সেখানে যথাযথ প্রক্রিয়ায় যোগাযোগ করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমাদের কাছে নতুন। আমরা এতদিন মার্কিন প্রশাসনে এ নিয়ে যোগাযোগ করছিলাম।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি জটিল প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। বৈঠকে বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতা নিয়ে কোনো কথা হয়নি বলে দাবি করেন মন্ত্রী। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য মোমেন-পম্পেও বৈঠক বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে। গণমাধ্যমে দেয়া পৃথক প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।
তিনি বলেন, পম্পেও’র সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করা। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ব্যাপারে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। মন্ত্রী জানান, আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল দুই দেশের মধ্যকার  অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলে কেবল বাংলাদেশ নয়, যুক্তরাষ্ট্রও লাভবান হবে। জ্বালানি খাতে অধিকতর মার্কিন বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, আমাদের ৩৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে। এর সদ্ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চাই আমরা।
ক্যারিবিয়ান বেসিন ইনিশিয়েটিভ নামে পরিচিত মার্কিন বাণিজ্য উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই বাণিজ্যব্যবস্থার অধীনে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কমুক্ত দ্রব্য রপ্তানির সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশও একই সুবিধা আশা করে। পম্পেও-মোমেন আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল রোহিঙ্গা সংকট। রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আশ্রয় এবং তাদের প্রতি অব্যাহতভাবে উদারতা দেখানোর জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন মন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সমস্যার মূলে যাওয়া এবং রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বাড়াতে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সঙ্গে কীভাবে দুই দেশ একযোগে কাজ করতে পারে তা নিয়ে কথা বলেছেন। পম্পেও রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে রাখাইনে প্রয়োজনীয় পরিবেশ  সৃষ্টিতে বার্মার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী মোমেন গণমাধ্যমকে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তায় পম্পেও আশ্বাস দিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সাহায্যের পরিমাণ কমে যাওয়া প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার দেশটির সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। মোমেন জানান, মাইক পম্পেও বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য শিক্ষার তাগিদ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রধান সংকট রোহিঙ্গাদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষাদানে সক্ষম শিক্ষকের। মন্ত্রী বলেন, আমি পম্পেওকে বলেছি, আপনারা সে রকম শিক্ষকের ব্যবস্থা করে এ ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করতে পারেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি মাইক পম্পেওকে বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যাতে একটা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় পরিণত না হয়, সে ব্যাপারে সচেতন থাকা প্রয়োজন। সমস্যাটি যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, জঙ্গিবাদের প্রসারের আশঙ্কা তত বাড়বে।
নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দায়িত্ব মিয়ানমারকেই নিতে হবে: ওদিকে মোমেন-পম্পেও বৈঠকের বিষয়ে ওয়াশিংটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের জারি করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ১০ লাখ রোহিঙ্গার ভয়ভীতিহীন ও নিপীড়ন ছাড়া নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দায়িত্ব মিয়ানমারকেই নিতে হবে। উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়া মিয়ানমার সরকার ও সেনা বাহিনীর দায়িত্ব। বৈঠককালে পম্পেও রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় পম্পেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মোমেন জানান, বাংলাদেশ নিজ ব্যয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও এইড গ্রুপগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের পরিকল্পনায় ভাষানচর দ্বীপ বাসযোগ্য করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কামনা করেন।
এছাড়া বঙ্গবন্ধুর খুনী রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আনা, অবাধ ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশ এবং বহুমুখী খাতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের অংশিদারিত্ব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত আনার ব্যাপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি একজন দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী। তিনি বলেন, এটা সন্ত্রাস ও চরমপন্থা প্রতিরোধ এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে দুুদেশের মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উভয় নেতা একমত পোষণ করেন যে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অধিকতর উন্নয়নে আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে জ্বালানি ও অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে এ অঞ্চলের নেতৃবৃন্দকে সুশাসন, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ব্যাপারে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ তার অসাধারণ উন্নয়নের জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত উল্লেখ করে ড. মোমেন তেল ও গ্যাস খাতে এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহবান জানান। তিনি ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) আসন্ন নির্বাচনে ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল পদে বাংলাদেশের প্রর্থিতার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কামনা করেন। পরে বাংলাদেশের সফররত মন্ত্রী পররাষ্ট্র দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি এ্যাডভাইজার চার্লস কুপারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বৈঠকগুলোতে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, পরবর্তীতে মঙ্গলবার ইউএনএআইডি প্রশাসক ও একজন জ্যেষ্ঠ সিনেটরের সঙ্গে মন্ত্রী মোমেনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পম্পেও’র আমন্ত্রণে ওয়াশিংটন সফরে যাওয়া মন্ত্রী মোমেন কাল তিনি দেশের পথে রওনা করবেন।

রাত পোহালেই ভারতে ভোট by পরিতোষ পাল

প্রবল উত্তেজনার মধ্য দিয়ে ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার নির্বাচন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে প্রথম দফার ১১ই এপ্রিল ২০টি রাজ্যের ৯১টি লোকসভা আসনের জন্য ভোট নেয়া হবে। এসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১২৮৫ জন প্রার্থী। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ২টি আসনও রয়েছে। একই সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে বিধানসভার জন্যও ভোট নেয়া হবে। ওড়িশা বিধানসভার ক্ষেত্রে ভোট নেয়া হবে চার দফায়। গত ১০ই মার্চ দেশটির নির্বাচন কমিশন লোকসভা নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেছেন। মোট সাত দফায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচন শেষ হবে ১৯শে মে। আর ফল প্রকাশ হবে ২৩শে মে। গত এক মাস ধরে শাসক ও বিরোধীদের প্রবল তরজা চলছে। এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতীয় জনতা পার্টি এবং কংগ্রেস। এই দু’পক্ষই শরিকদের নিয়ে জোট তৈরি করে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) বনাম বিজেপির নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চার (এনডিএ) প্রচারে আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণে কোনো পক্ষই পিছিয়ে থাকতে রাজি হয়নি।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছিল প্রথম দফার প্রচার পর্ব। তবে এবারের লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, লোকদল, তৃণমূল কংগ্রেস, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি, তেলেগু দেশম, আম আদমি পার্টির মতো আঞ্চলিক দলগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। আঞ্চলিক দলগুলো প্রথম থেকে চেষ্টা চালিয়েছে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে একজোট হওয়ার। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় দেশের ২১টি বিরোধী দলকে একসঙ্গে ইউনাইটেড ইন্ডিয়ার ছাতার তলায় সমবেত করেছিলেন। সেই জোটের প্রতি কংগ্রেসও সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু বিরোধীদের সেই জোট ভোটের ময়দানে অনেকটাই ক্ষতবিক্ষত। আর তাই উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টি মহাজোট তৈরি করে লড়াইয়ে নেমেছে। তবে কংগ্রেসকে তারা সঙ্গী করতে রাজি হয়নি। ফলে উত্তর প্রদেশের মতো বৃহৎ রাজ্যে কংগ্রেস একাই লড়াই করছে ভোট ময়দানে। বিরোধী শিবিরের এই ছত্রভঙ্গ অবস্থা আরো অনেক রাজ্যেও।
মঙ্গলবারই প্রথম দফার নির্বাচনের প্রচারাভিযান শেষ হয়েছে। শেষ বেলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবার যারা প্রথম ভোট দিচ্ছেন তাদের পাকিস্তানের বালাকোটে জঙ্গি শিবিরে ভারতের হানা এবং পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় নিহত সেনাদের প্রতি ভোটটি উৎসর্গ করতে বলেছেন। এবারের নির্বাচনে বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জ হলো পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসা। এজন্য বিজেপি জাতীয়তাবাদের তাস খেলেছে ভোট প্রচারে।
দেশপ্রেমের জোয়ারে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে জোর প্রচার করেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলো সেনার জীবন নিয়ে রাজনীতি করার প্রবল প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিরোধীরা মোদি সরকারের আমলের নোটবন্দি, রাফায়েল কেনা নিয়ে দুর্নীতি, কৃষকের আত্মহত্যা নিয়ে সরব হয়েছে। এছাড়াও দেশের সম্প্রীতির পরিবেশ যেভাবে মোদি সরকারের আমলে নষ্ট হয়েছে, ঘৃণার রাজনীতিকে মদত দেয়া হয়েছে এবং বাক স্বাধীনতার ওপর রাশ টানা হয়েছে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের সুরক্ষাকেই তুলে ধরেছেন। দেশকে মহাশক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরার দাবি করেছেন। এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে সবরকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বহু ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের কর্তাদের নিরপেক্ষতার স্বার্থে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের পুলিশ সুপাকে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার ভোট নেয়া হচ্ছে ইভিএমের মাধ্যমে। প্রতি ইভিএমে প্রার্থীদের ছবি দেয়া থাকছে। থাকছে ‘না’ ভোট দেয়ার ব্যবস্থাও। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই থাকছে ভিভি প্যাডের ব্যবস্থা। ভোট যাতে নির্বিঘ্নে হতে পারে সেজন্য সশস্ত্র বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীকে নিয়োগ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে সাত দফায় মোট ৯০ কোটি ভোটার অংশ নেবেন। এর মধ্যে দেড় কোটি নতুন ভোটার রয়েছেন, যাদের বয়স ১৮-১৯ বছর।
প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গে ভোট হচ্ছে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে। দুই কেন্দ্রেই চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। লড়াইয়ে রয়েছেন বিজেপি, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট। এদিকে বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে ভোটের দু’দিন আগেই অপসারণ করা হয়েছে কোচবিহারের পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তাকে। নতুন পুলিশ সুপারও নিয়োগ করা হয়েছে। অভিষেক গুপ্তার নামে কিছুদিন আগেই কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছিল বিজেপি। কোচবিহার রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী মোদির সভা থেকে অভিষেক গুপ্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ভুটান-ভারত সীমান্ত সিল করে দিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের সব নেতা-মন্ত্রীর ওপর নজরদারি চালাতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

গোয়েন্দা জালে ধরা পড়লো সিলেটের লাবনি ও রুমি by ওয়েছ খছরু

সিলেটের লাবনি ও রুমির ইয়াবার কারবার ধরা পড়লো গোয়েন্দা জালে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সিলেটে ইয়াবা বিক্রি করছিল তারা। এর মধ্যে লাবনি আক্তার নদী ফেরি করে ইয়াবা বিক্রি করতো। আর রুমি আক্তার শহরতলির বালুচরে নিজ বাসাতেই ব্যবসা করতো। তাদের কাস্টমার ছিল যুবকরা। ফোন দিলেই তারা পৌঁছে দিতো ইয়াবা। এমনকি বেশ কয়েকটি অপরাধ আস্তানায়ও তারা ইয়াবা পৌঁছে দিতো। গতকাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারা ইয়াবা বিক্রির কথা স্বীকার করেছে।
লাবনী আক্তার নদী। বয়স ২২ কিংবা ২৩ বছর। এরই মধ্যে ইয়াবা ব্যবসায় সিলেটে পটু সে। বসবাস করে শাহপরাণ এলাকার উত্তর বালুচরের ব্লক-এ এর ৪৬ নম্বর বাসায়। তার মূল বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার বাদলা গ্রামে। তার পিতা আব্দুল জব্বার।
লাবনী আক্তার নদী সিলেটের ইয়াবার হাটে পরিচিত নাম। বোরকা পরা ওই তরুণী ফেরি করে ইয়াবা বিক্রি করে। যাতায়াত রয়েছে অপরাধ আস্তানাগুলোতে। সেসব এলাকায় সে ইয়াবার চালান পৌঁছে দেয়। গতকাল মহানগর  গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তথ্য আসে লাবনীর অবস্থানের। এ সময় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি সুদীপ দাশের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়। স্পট ছিল নগরীর উপ-শহরের স্প্রিন টাওয়ারের পাশের খেলার মাঠের রাস্তায়। পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে লাবনী আক্তার নদীকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় নদীর কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। গ্রেপ্তারের পর সে নিজেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে স্বীকার করে। দীর্ঘদিন নগরীতে ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে জানায়।
জিজ্ঞাসাবাদে লাবনী আরেক সহযোগীর নাম বলে। তার সহযোগী হচ্ছে আরেক নারী। নাম রুমি বেগম। সে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের জিয়া উদ্দিনের স্ত্রী। রুমি বেগম দীর্ঘদিন উত্তর বালুচর এলাকার মছব্বির চেয়ারম্যানের বাসায় ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছে। তার সন্ধান পাওয়ার পর পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাসা থেকে রুমি বেগমকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তারা রুমির কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা জব্দ করে। গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, রুমি আক্তারের নির্দেশনায় চলতো লাবনী। রুমি তার সহযোগী লাবনীকে ইয়াবা দিয়ে ফেরি করে বেড়াতো। অর্ডার পেয়ে বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার কাছে তারা ইয়াবা পাঠাতো।
এদিকে, ইয়াবা বিক্রেতা লাবনী ও রুমি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের ইয়াবা বিক্রির সহযোগীরা গা ঢাকা দিয়েছে। তবে, পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার দুই জন আরো কয়েকজনের নাম বলেছে। পুলিশ ওই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করছে। সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) জেদান আল মুছা জানিয়েছেন, তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর বালুচরস্থ মছব্বির চেয়াম্যানের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করে সিলেট শহরের বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবীদের কাছে বিশেষ কৌশলে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিল। আটক মাদক ব্যবসায়ীদের আসামি করে এসআই সারোয়ার হোসেন ভূইয়া শাহপরাণ (রহ.) থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

তরমুজ চাষে লাভবান কৃষক

মাঠের পর মাঠ তরমুজখেত। চারদিকে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে তরমুজ। তরমুজ তুলে জড়ো করছেন কৃষক। স্তূপ করে রাখছে বিক্রির জন্য। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মহাজনেরা তরমুজ কিনতে খেতে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে দামদর করে কিনে নিচ্ছেন তরমুজ। এই তরমুজ ট্রাক-ট্রলি বোঝাই করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে তরমুজচাষিরা খেত থেকে তরমুজ তুলে বিক্রি করার চেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছেন।
এই চিত্র পটুয়াখালীর উপকূলীয় রাঙ্গাবালী উপজেলায় ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের চিত্র। স্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, গোটা রাঙ্গাবালীতে  প্রচুর তরমুজ চাষ হয়। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি
চাষ হয় ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নে। কৃষকেরা বলছেন, রবি মৌসুমে তরমুজ চাষ লাভজনক হওয়ায় তাঁদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। প্রতিবছরই বাড়ছে  তরমুজের চাষ।
পটুয়াখালীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয় জানায়, ২০১৮ সালে জেলায় ১৩ হাজার ৭১৮ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৬ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬৪ মেট্রিক টন। বিক্রি হয়েছিল ৬৫৮ কোটি টাকা। এ বছর আবাদ হয়েছে ২১ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ লাখ ৪০ দশমিক ৭৩৬ মেট্রিক টন, যার মূল্য দাঁড়াবে ১ হাজার ৪০ কোটি ৭৩৬ লাখ টাকা।
এদিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার কাউখালীতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের সবচেয়ে বড় তরমুজচাষি মজিবর রহমান (৪৫) এ বছর নিজের ও অন্যের জমি মিলিয়ে মোট ৪৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, মৌসুমের আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকার মহাজনেরা অগ্রিম দাদন দিতে এলাকায় চলে আসেন এবং ফলনের পর তরমুজ সংগ্রহ করতে এলাকায় অবস্থান করেন। ইতিমধ্যে মজিবর খেত থেকে তরমুজ তুলে মহাজনদের কাছে বিক্রি শুরু করেছেন।
গ্রামের কৃষক মো. প্রিন্স মীর (৪০) ৩০ হেক্টর, কাওসার মৃধা (৪৫) ১৫ হেক্টর, অসীম সাহা (৪০) ১০ হেক্টর, জীবন হাওলাদার (৫০) ৬ হেক্টর জমিতে  তরমুজ চাষ করেছেন। তাঁরা বলেন, এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর  আবাদ বেশি ও আকারে অনেক বড় হওয়ায় তরমুজচাষিরা খুব খুশি।
কৃষি কার্যালয়ের হিসাবমতে, রবি মৌসুমে বোরো আবাদ করলে এক হেক্টর জমিতে চাষাবাদ খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ধান উৎপাদন হবে ৭ মেট্রিক টন। ২৬ টাকা কেজি দরে মূল্য দাঁড়াবে ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা। তরমুজ চাষে এক হেক্টর জমিতে খরচ হচ্ছে এক লাখ টাকার একটু বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তরমুজ উৎপাদন হবে কমপক্ষে ৪৮ মেট্রিক টন। সর্বনিম্ন দর ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হবে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তরমুজে লাভবান বেশি হওয়ায় কৃষকেরা তরমুজ চাষের প্রতি ঝুঁকছেন।
কৃষকেরা বলেন, মৌসুম শুরু আগেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আড়তদারেরা এখানকার চাষিদের লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে রেখেছেন। এখন আড়তদারেরা এলাকায় এসে চাষিদের কাছ থেকে তরমুজ সংগ্রহ করছেন। খেত থেকে তরমুজ কিনে ট্রলার কিংবা ট্রলি বোঝাই করে এনে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান বোঝাই করে তরমুজ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছেন। খেতে বসেই ছোট-বড় প্রতিটি তরমুজ গড়ে ৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
ঢাকার কদমতলী এলাকার ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন জানান, এখান থেকে তরমুজ কিনে নিয়ে লঞ্চে ঢাকা পাঠাতে তিনি এখন গলাচিপায় অবস্থান করছেন। এর আগে তাঁর মতো অনেক ব্যবসায়ী এখানে তরমুজের জন্য দাদন দিয়ে রেখেছেন।
রাঙ্গাবালী উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জুয়েল সিকদার বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে। মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় চাষিদের সেচ খরচ কম হয়েছে। তবে নিচু জমিতে পানি জমে একটু ক্ষতি হলেও ফলন ভালো ও বড় আকারের তরমুজ ফলনে চাষিরা লাভবান হবেন বলে মনে করছেন।
পটুয়াখালীর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হৃদয়েশ্বর দত্ত বলেন, মৌসুমের শুরুতেই নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি হয়। তবে সব মিলিয়ে আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। এ অঞ্চলে দোআঁশ মাটিতে তরমুজের ফলন ভালো হয়।

সিমলার হাতে ৭০ লাখ টাকা তুলে দেন পলাশ! by ইব্রাহিম খলিল

চাঞ্চল্যকর বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার নেপথ্যে সিমলার সঙ্গে পলাশের বিচ্ছেদের ঘটনাই শুধু ছিল না, পলাশের কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ও ছিল। ধার-দেনা করে এ অর্থ সিমলার হাতে তুলে দেন পলাশ। পলাশের বাবা-মাসহ অন্তত ১৬ জনের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া। তিনি বলেন, চিত্র নায়িকা শামসুন নাহার সিমলা বর্তমানে একটি চলচ্চিত্রে শুটিং করার নামে ভারতে অবস্থান করছেন। দেশে ফিরতে বিলম্ব করছেন তিনি।
যা রহস্যজনক। তার সঙ্গে কথা বলার পর পলাশ আহমেদের বিমান ছিনতাই চেষ্টার রহস্যের জট খুলতে পারে।
রাজেশ বড়ুয়া বলেন, গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানে পলাশ আহমেদ নিহত হওয়ার সময় তার নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। তখন তাকে বলা হচ্ছিল নায়িকা সিমলার প্রেমিক। তিনি বিমানের ক্রুদের জিম্মি করে পারিবারিক সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন। পরে ধীরে ধীরে উদঘাটিত হয়, নিহত যুবক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী চিত্রনায়িকা শামসুন নাহার সিমলার স্বামী।
পলাশের মা-বাবার বরাত দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা রাজেশ বড়ুয়া বলেন, বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনার সাড়ে ৩ মাস আগে বয়সে ছোট পলাশকে তালাক দেন সিমলা। বিয়ে বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে সিমলা নোটিশে উল্লেখ করেন, দামপত্য জীবনে সুখী হতে না পারা, মনের অমিল, বনিবনা না হওয়া, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক নির্যাতন। আর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নাঈম হাসান সেদিন কমান্ডো অভিযানের পর বলেছিলেন, স্ত্রীর কোনো ইস্যু নিয়ে বিমান ছিনতাইকারী পলাশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলেন বলে পাইলট তাকে জানিয়েছেন। মামলার এজাহারেও বলা হয়, উক্ত দুষ্কৃতকারী তার কিছু দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে শুনতে হবে বলে চিৎকার করে। অন্যথায় সে বিমানটি তার কাছে থাকা বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করে দেবে মর্মে হুমকি দেয়। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পলাশের কাছে প্রচুর টাকা-পয়সা ছিল। লন্ডন পাঠানোর নাম করে বিভিন্নজনের কাছ থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। যা তদন্তে উঠে এসেছে। এ টাকা সিমলার হাতে পলাশ তুলে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। সিমলার সাথে প্রভাবশালী কিছু মানুষের সুসমপর্ক ছিল, যার কারণে একটা সময় পর সিমলার কাছে যেতে পারছিলেন না পলাশ।
একদিকে সিমলার সঙ্গে বিচ্ছেদ অন্যদিকে ৭০ লাখ টাকার দেনা। এই দুইয়ের মাঝে পড়ে পলাশের জীবন বিষিয়ে উঠেছিল। কাউকে কিছু বলতেও পারছিলেন না সইতেও পারছিলেন না। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন বল ধারণা তদন্তকারীদের। এজন্য উড়োজাহাজে উঠে পাইলট-ক্রুদের জিম্মি করার চেষ্টা করেন। পরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানে মারা যান তিনি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানিয়েছেন, সিমলাকে বিয়ে করার আগে আরেকটি মেয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন পলাশ। প্রথম স্ত্রীর সংসারে পলাশের একটি সন্তানও রয়েছে। সিমলাকে বিয়ের পর পলাশের নিজের কোন বাসা ছিল না। তিনি সিমলার বাসা অথবা আবাসিক হোটেলে থাকতেন। তবে তদন্তের বিষয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না সিমলা।
এসব বিষয়ে এখনই স্পষ্ট কিছু বলতে চাননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া। তিনি বলেন, সেদিন বিমানের ওই ফ্লাইটে মোট সাতজন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে পাইলট ও ফার্স্ট অফিসারসহ ছয়জনকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেগুলো রেকর্ড করা হয়েছে। বাকি একজন বক্তব্য দিতে চলতি সপ্তাহে চট্টগ্রামে আসবেন। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেছি আমরা।
রাজেশ বড়ুয়া বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে সিমলাসহ আরও বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে শিমলা ভারত থেকে না ফেরায় মামলা তদন্তে বিলম্বিত হচ্ছে। সিমলার না ফেরাটাও রহস্যজনক বলে মনে করছেন তিনি। এদিকে সিমলা ভারতে অবস্থান করায় অভিযোগের বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঝিনাইদহে ভোটের জেরে তাণ্ডব, ঘরছাড়া শ’ শ’ পরিবার by আমিনুল ইসলাম লিটন

এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি চলছে ঝিনাইদহের শৈলকুপায়। চলছে মধ্যযুগীয় কারবার। কথায় কথায় লুটপাট, বড়িঘর ভাঙচুর এখানে কোনো বিষয়ই নয়। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা ঝিনাইদহ। এক সময় শৈলকুপা ঝগড়াপ্রবণ এলাকা হিসাবে ছিল পরিচিত। গত ক’বছরে এ তকমা থেকে তারা বেরিয়ে আসে। কিন্তু শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর বদলে যায় দৃশ্যপট।
পুরোনো সেই চেহারায় যেন ফিরেছে মানুষ। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না। তীব্র হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি। আওয়ামী লীগের শুত্রু হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগ। যখন তখন চলছে আদিম যুগের মতো সহিংসতা। হচ্ছে বাড়িঘর ভাঙচুর। জিনিসপত্র লুটপাট ও গরু-ছাগল ছিনতাই। শুধু তাই নয়, ওই ছাগল গৃহস্থের বাড়ির সামনে জবাই করে আয়োজন করা হয় ভূরিভোজেরও। এমন নির্মম অত্যাচারে শত শত পরিবার নিজ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। নিয়েছে অন্যত্র আশ্রয়।
সূত্র মতে, নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নায়েব আলী জোয়াদ্দার দলের মনোনয়ন পান। তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিকদার মোশাররফ হোসেন সোনা। এই দুই নেতাকে ঘিরে দলের নেতা-কর্মীরা দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। শুরু হয়ে যায় উপজেলা থেকে গ্রাম পর্যায়ে নেতা-র্মীদের মধ্যে রেষারেষি ও শত্রুতা। দলের উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আরিফ মন্নু নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে সমর্থন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন শৈলকুপা পৌর কমিটির সভাপতি ও পৌর মেয়র কাজী আশরাফুল আজম। দলের ইউপি চেয়ারম্যানরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও মহিলা লীগের নেতা-কর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রচারণা শুরু করেন। নির্বাচনের আগে ছোটখাটো দু-একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। কিন্তু প্রশাসন তা কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণে আনে।
নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শিকদার মোশাররফ হোসেন সোনা বিজয়ী হন। এরপর উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। চলতে থাকে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, মারপিট, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট।
ভোট শেষে ফলাফল ঘোষণার রাতে দোহা নাগিরাট গ্রামে নৌকা সমর্থক তিন জনের বাড়িতে হামলা চালায় স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের সমর্থকের লোকজন। তারা ব্যাপক ভাঙচুর করে। বগুড়া গ্রামে নৌকা সমর্থক আবু মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরের দিন পাঁচপাখিয়া গ্রামের ৫ বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। ২৫শে মার্চ গবিন্দপুর গ্রামে নৌকা সমর্থক কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে এক শিশুসহ পাঁচজনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। ওই দিনই উপজেলার ধর্মপাড়া গ্রামে নৌকা সমর্থকদের ১০টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়, তুলে নেয়া হয় মাঠের ফসল। ২৬শে মার্চ রুপদা গ্রামে নৌকা সমর্থক ৫ জনকে কুপিয়ে আহত কর হয়। ২৭শে মার্চ ভুলুন্দিয়া গ্রামে নিয়ামত আলীকে পিটিয়ে আহত করে আনারস প্রতীকের সমর্থকরা। শুক্রবার রাতে তার বাড়ি থেকে একটি ছাগল লুট করা হয়। পরে তার বাড়ির সমনে ওই ছাগল জবাই করে ভূরিভোজ করে। উপজেলার পুটিমারি গ্রামে কয়েক জনের বাড়িঘরে হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর লুটপাট করা হয়। ধর্মপাড়া গ্রামের টেন্টু, লিটন, কোবাদ আলী জানান, ভোটের দিন রাত থেকেই তাদের ওপর চরম অত্যাচার শুরু হয়। কেউ কেউ প্রাণ ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তাদের জমিতে পাকা পিয়াজ রসুন উঠাতে দিচ্ছে না সন্ত্রাসীরা। জমির ফসল জমিতেই পচে নষ্ট হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুপদা গ্রামে কাজী তোয়াজ উদ্দীন অভিযোগ করেন, তারা আওয়ামী লীগ করে এবং নৌকায় ভোট দিয়েছে এজন্য আনারস সমর্থকরা বাড়িতে ঢুকে তাকে ও তার ছেলে সাইদুর কাজী, নাতনি শিলাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগ করি, আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায়, তবুও নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের লোক জনের হাতেই মার খেতে হচ্ছে আবর ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রাণ বাঁচানোর জন্য পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) নেতা আবু তাহের বলেন, নির্বাচনের আগে ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে শৈলকুপায় দুই প্রতিন্দ্বী প্রাথী-সমর্থকদের মাঝে যে মারামারি ভাঙচুর চলছে তা কোনো সভ্য মানুষের কাম্য নয়। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী একত্রে বসে এ সমস্যা মিটিয়ে ফেলা উচিত। প্রয়োজনে প্রশাসনকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই সহিংসতায় সাধারণ মানুষের জানমালের চরম ক্ষতি হচ্ছে।
একই চিত্র  ঝিনাইদহ সদর, হরিণাকুণ্ডু উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শত শত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ প্রাণ ভয়ে বাড়িঘর ফেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, সহিংসতা বন্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। যারা অশান্তির সঙ্গে জড়িত তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েক দিন আগে হাটফাজিল বাজারে ও হাটগোপালপুর বাজারে সহিংসতা রোধে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ এ সভার আয়োজন করেন। যেসব নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তারা নির্দিষ্ট অভিযোগ না দেয়ার কারণে আমরা সন্ত্রাসীদের ধরতে পারছি না। যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, যারা শান্তি বিঘ্নিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হেয়েছে এবং বলা হয়েছে সন্ত্রাসী যত ক্ষমতা ধর হোক, আর যে দলেরই হোক না কেন তাদের আটক করে আইনের আওতায় এনে অবশ্যই বিচার করা হবে।

সন্ত্রাস করে পার পাওয়া যাবে না -পাবনায় ৫৯৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ভুল বুঝে যারা উগ্রবাদ চরমপন্থি সংগঠনে যোগ দিয়েছিল, তারা নিজেদের ভুল উপলব্ধি করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণ করছেন। জলদস্যু, মাদক কারবারি ও চরমপন্থিরা সবাই একে একে আত্মসমর্পণ করছে। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ, গোয়েন্দা বাহিনীর সঙ্গে ১০ বছর আগের বাহিনীর তুলনা করা চলবে না। কারণ বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষ। তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে পার পাওয়া যাবে না। যে সকল চরমপন্থি সদস্যরা আত্মসমর্পণ করলেন তারা যেন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। আত্মসমর্পণকারীদের আইনি সহায়তার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাপনের ব্যবস্থা করবে সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পাবনার শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে চরমপন্থিদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় দেশের ১৪টি জেলার পূর্ববাংলার সর্বহারা, পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা), নিউ পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ও কাদামাটির নামের ৪টি চরমপন্থি সংগঠনের ৫৯৫ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
এর মধ্যে পাবনা জেলার ১৩২ জন, ফরিদপুরের ২৭ জন, রাজবাড়ীর ৩৪, সিরাজগঞ্জের ৬৯, নাটোরের ২৭, নওগাঁর ৭০, বগুড়ার ১৫, টাঙ্গাইলের ৩১, রাজশাহীর ৬০, খুলনার ৩৫, নড়াইলের ২, যশোরের ২, সাতক্ষিরার ৬ ও জয়পুরহাট জেলার ৮২ জন চরমপন্থী দলের নেতা-কর্মী রয়েছেন।
এসময় তারা ৬৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৭৫টি দেশীয় অস্ত্র জমা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বিগত ১৯৯৯ সালেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২ হাজার চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। তিনি বলেন, যারা এখনও আত্মসমর্পণ করেননি তারা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করলে তাদেরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, পাবনার এই অনুষ্ঠানে যে সকল চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষিত। তাদের যোগ্যতা ভিত্তিত্বে প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার নির্দেশনা দিয়েছেন। 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আত্মসমর্পণকারী  চরমপন্থিদের  স্বাভাবিক জীবন যাপনে সরকার আইনের আওতায় সার্বিক সহায়তা প্রদান করবেন। যারা সন্ত্রাস, হানাহানি ছেড়ে দিয়ে অন্ধকার জগত থেকে আলোর জগতে ফিরতে চান তাদেরকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাস করে বেঁচে থাকার দিন শেষ। কারণ দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন অনেক উন্নত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়তেই হবে। এখনও সময় আছে, সরকারের দেয়া সুযোগ গ্রহণ করে আলোর পথে ফিরে আসুন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে পুলিশের আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, পুলিশের অনেক সদস্য উগ্র জঙ্গিদের হাতে প্রাণ দিলেও তারা জঙ্গিবাদ দমন করতে সক্ষম হয়েছেন।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে নওগাঁ জেলার পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা) প্রধান আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আর্ট বাবু তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অবস্থায় চারুমজুমদারের আদর্শে সমাজ বিপ্লবের মাধ্যমে সুন্দর সমাজ গড়া সম্ভব ভেবেই চরমপন্থি সংগঠনে যোগ দেই। কিন্তু দলের আদর্শ, কথা ও কাজের মিল না থাকায় অন্ধকার জগতে পড়ে যাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সারা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাচ্ছি। ভাবতে ভালো লাগছে। যারা এখনো আসেনি তাদেরকে বলি ফিরে আসুন।
পাবনা জেলার পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা) প্রধান ইকবাল শেখের স্ত্রী রত্না খাতুন প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, তার স্বামী এ সংগঠন করায় পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ছেলে মেয়েদের ভালো স্কুলে পড়াতে পারিনি। অন্ধকার জীবনের চেয়ে শান্তির পথ অনেক ভালো। তিনি তাদের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।  
পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাভোকেট শামসুল হক টুকু, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মকবুল হোসেন, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবীর, রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জি: এনামুল হক, পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াছমিন জলি, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন বিপিএম (বার), পিপিএম ও পাবনার জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন।

ভারতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগের পাহাড়

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি স্যাটেলাইট বিধ্বংসী পরীক্ষা নিয়ে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে কি নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করেছেন? একজন নেতার প্রতি অনুগত একটি টিভি চ্যানেল থাকার অধিকার আছে কিনা? দেশের সেনাবাহিনীকে কি ‘মোদির সেনা’ বলা যাবে?  ভারতে লোকসভা নির্বাচন নিয়ে এমন সব অভিযোগে নাকাল সেখানকার নির্বাচন কমিশন। আগামী সপ্তাহে সেখানে হতে যাচ্ছে লোকসভা নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন বলেছেন, এরই মধ্যে ওই রকম কয়েক লাখ প্রশ্ন নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে তাদের কাছে। তাতে বলা হয়েছে, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। অনেক অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে আসছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছে বিরোধী দলগুলো। এতে বলা হচ্ছে, নির্বাচনে অন্যায্য সুবিধা ভোগ করছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
বলা হয়েছে, মোদি যদি ক্ষমতাচ্যুত হন তাহলে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জেলে পাঠানোর হুমকি দেয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন থেকে বিশেষ কোনা সুবিধাজনক আচরণ পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
ভারতের নির্বাচন কমিশন একটি শায়ত্তশাসিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাদেরকে মসৃণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ফলে তারা বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক চর্চা করতে যাচ্ছে ১১ই এপ্রিল থেকে। এ নির্বাচনে ৯০ কোটিরও বেশি বৈধ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। আনীত অভিযোগের জবাবে নির্বাচন কমিশন বলেছে তারা পক্ষপাতী নয়। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এতে কে কোন দলের তা আমলে নেয়া হচ্ছে না।
কিন্তু প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তরুণ কুমার বলেছেন, আচরণবিধি আসলে কৌতুকে পরিণত হয়েছে। কারণ সম্প্রতি চালু হয়েছে ‘নমো টিভি’। এতে শুধু মোদির নির্বাচনী প্রচারণা সরাসরি দেখানো হচ্ছে। এ ছাড়া তারা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে শুধু বিভিন্ন বিষয় প্রচার করছে। বেশ কিছু অভিযোগ দেয়া সত্ত্বেও এই টেলিভিশন চ্যানেলটি অব্যাহতভাবে তাদের এসব কাজ করে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক কর্মী ও সাবেক একজন পোলস্টার যোগেন্দ্র যাদব বলেছেন, প্রতিদিনই আমার মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন একেবারে ডুবন্ত অবস্থায় এসেছে। ভাবি, পরের দিনই হয়তো তা কেটে যাবে।
নির্বাচন কমিশন যেসব অভিযোগকে বড় করে দেখছে তার মধ্যে রয়েছে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথের বক্তব্য। তিনি বিজেপি থেকে নির্বাচিত। ওই বক্তব্যে তিনি ভারতের সেনাবাহিনীকে ‘মোদির সেনাবাহিনী’ বলে আখ্যায়িত করেন। নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাই করে দেখছে।  ভবিষ্যতে আদিত্যনাথ যেন এমন বক্তব্য না দেন সে বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। এ মাসে ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি’ শীর্ষক একটি জীবনীভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়টিও নির্বাচন কমিশন যাচাই করে দেখছে।
গত মাসে নির্বাচন কমিশন বলেছে, মোদি একটি ভারতীয় স্যাটেলাইট ধ্বংস করার বিষয়ে যে ভাষণ দিয়েছেন জাতির উদ্দেশে, তাতে তিনি কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন নি। তবে তিনি টেলিভিশনের মাধ্যমে এমন বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ বিরোধী দলগুলোর।
অভিযোগ আছে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও। মোদি সরকারের স্বাক্ষর করা একটি যুদ্ধবিমান বিষয়ক চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন তিনি। এই অভিযোগকেও বড় করে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের উপ কমিশনার সন্দীপ সাক্সেনা বলেছেন, আমরা যা জানি এবং সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিই তা বর্তমান দুনিয়ায় সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ফোনের কারণে যেকোনো কিছু মানুষ তাৎক্ষণিখভাবে জানতে পারে। যখনই পর্যাপ্ত ম্যাটেরিয়াল থাকবে তখনই কমিশন পদক্ষেপ নেবে। আমরা সাধারণত আমাদের মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করছেন তাদের কাছ থেকে বক্তব্য নিই। এতে অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত করতে ১২ ঘন্টা বা তারও বেশি সময় লাগে। এরপরেই আমরা অ্যাকশনে যেতে পারি।
তিনি আরো বলেন, গত ১০ই মার্চ আচরণবিধি সামনে এসেছে। এর পর থেকে নির্বাচন কমিশনে ৪০ হাজারের বেশি অভিযোগ এসেছে। মোবাইল ফোনের অ্যাপের মাধ্যমেও এসেছে অভিযোগ। তিনি বলেছেন, শতকরা ৬৮ ভাগ অভিযোগ সঠিক দেখা গেছে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
আরেকজন কমিশন কর্মকর্তা বলেছেন, গত তিন সপ্তাহে তারা আঞ্চলিক দল, জাতীয় পর্যায়ের দলগুলোর কাছ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অ্যাপের মাধ্যমে কমপক্ষে ১০ লাখ অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, এত্ত অভিযোগ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে বিশ্ব রাতারাতি বদলে গেছে। এত অভিযোগ নিয়ে কাজ করার মতো লোকবল নেই। সদর দফতরে ও রাজ্যের অন্য অফিসগুলোতে এ নিয়ে কাজ করার জন্য আছেন মাত্র ৩০০ মানুষ। তিনি বলেন, সমালোচনার অধিকার আছে মানুষের। আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কোনো কোনো কর্মকর্তা দিনে ১৬ থেকে ১৭ ঘন্টা কাজ করছেন।