Saturday, April 6, 2019

মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও আমরা শর্তসাপেক্ষে ভারতকে বেছে নিয়েছিলাম: মেহবুবা

জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি বলেছেন, ‘শর্তসাপেক্ষে কাশ্মির ভারতের অংশ হয়েছিল। জম্মু-কাশ্মিরে ৬০/৭০ শতাংশ মুসলিম। মুসলিম অধ্যুষিত রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে না গিয়ে শর্তের ভিত্তিতে ভারতকে বেছে নিয়েছিলাম। ৩৭০ ধারা ও ৩৫-এ ধারা একটি সেতুর মতো। যদি আপনারা একে শেষ করে দেন তাহলে ভারত ও কাশ্মিরের মধ্যে সম্পর্কও শেষ হয়ে যাবে।’
গতকাল (শুক্রবার) শ্রীনগরে ইন্ডিয়া টুডে’র কন্সাল্টিং এডিটর রাজদীপ সারদেশাইকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করেছেন।
মেহবুবা বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মির মুসলিম অধ্যুষিত রাজ্য। বিশেষ পরিস্থিতিতে কাশ্মির ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল এতে কিছু শর্ত ছিল। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী ৩৭০ ধারা, বিশেষ মর্যাদা ও আলাদা পতাকার গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে। আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি এটাই। যদি আপনারা ওই শর্তকে শেষ করে দেন তাহলে ভারত থেকে কাশ্মিরের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে।’
বিজেপি’র সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে মেহবুবা বলেন, ‘যখন আমরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলাম তখন বলা হয়েছিল ৩৭০ ধারায় কোনও গরমিল করা হবে না। বিজেপি এতে রাজিও হয়েছিল। এসবের জন্যই আমরা বিজেপির সঙ্গে গিয়েছিলাম।’
কাশ্মিরে আলাদা প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে মেহবুবা ন্যাশনাল কনফারেন্সের সমালোচনা করে বলেন, ‘যখন নির্বাচন আসে ন্যাশনাল কনফারেন্সের তখন আলাদা প্রধানমন্ত্রীর কথা মনে পড়ে। ওরা সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার গড়েছিল। সেসময় ওরা আলাদা প্রধানমন্ত্রীর কথা বলেননি। শেখ আব্দুল্লাহও এ ধরণের কথা বলেননি। এক্ষেত্রে পিডিপি’র অবস্থান হল আমরা মনে করি কাশ্মির কিছু শর্তের ভিত্তিতে ভারতের অংশ হয়েছিল এবং শর্ত যদি ভেঙে যায় তাহলে আমাদের সম্পর্কও শেষ হয়ে যাবে।’
সম্প্রতি বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ২০২০ সালের মধ্যে ৩৭০ ধারা, ৩৫-এ ধারা বাতিল করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন। বিজেপি বরাবরই জম্মু-কাশ্মিরের জন্য বিশেষ মর্যাদা সম্পন্ন সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করার পক্ষে সাফাই দিয়ে আসছে।
মেহবুবা অবশ্য গত (মঙ্গলবার) অমিত শাহ’র উদ্দেশ্যে বলেছেন, যেদিন আপনারা ৩৭০ ধারা বাতিল করবেন আপনারা কাশ্মিরে তখন কেবল দখলদারি শক্তি হিসেবে থাকবেন। যেভাবে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্ব রয়েছে সেভাবে জম্মু-কাশ্মিরেও ভারতের দখল হবে।
সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের সহ-সভাপতি ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মির অন্য রাজ্যের মতো নয়, তারা বিনাশর্তে দেশের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা বলেছিলাম আমাদের আলাদা পরিচিতি হবে, নিজেদের ভিন্ন আইন হবে, পতাকা আলাদা হবে। আমরা সেসময় নিজেদের সদর-ই-রিয়াসাত (রাষ্ট্রপতি) এবং উজির-এ-আজমও (প্রধানমন্ত্রী) ছিলেন। ইনশাআল্লাহ্‌ সেসবও আমরা ফিরিয়ে আনব।’
ওমর আব্দুল্লাহ এভাবে রাজ্যটিতে আলাদা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সাফাই দেয়ায় জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে দেশবিরোধী দাবি বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, কোনোদিনই জম্মু-কাশ্মিরের মধ্যে আলাদা প্রধানমন্ত্রী দেখার স্বপ্ন পূর্ণ হবে না।

পায়রা বন্দর হতে পারে চীনা ঋণের ফাঁদ -ভারতীয় মিডিয়ার খবর

পায়রা বন্দরের দখল নিতে পারে চীন। এমন শঙ্কাই প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। দেশটির সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর বিশেষ প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয় । এতে বলা হয়েছে, নিজের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশকে ঋণের ফাঁদে ফেলতে চাইছে চীন। পাকিস্তানের গোয়াদার, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরের পর এবার বাংলাদেশের পায়রা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় বেইজিং। 
এএনআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ও বাংলাদেশ নিজেদের মধ্যে থাকা সম্পর্ককে আরো বিস্তৃত করতে বেশ কিছু চুক্তিতে উপনীত হয়েছে। চীনের আড়ম্বরপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক অর্থনৈতিক করিডোর ওবর (ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড) কর্মসূচি, যাকে বিআরআই’ও (বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ) বলা হয়ে থাকে, তার অধীনে এ চুক্তি করা হয়। এর উদ্দেশ্য অবকাঠামো বিষয়ক প্রকল্পগুলোতে চীনের অর্থায়নে এশিয়ার দেশগুলোকে সম্পর্কযুক্ত করা।
একে পর্যবেক্ষকরা দেখেন একবিংশ শতাব্দীর ‘সিল্ক রোড’ হিসেবে।
বাংলাদেশে যে প্রকল্পগুলোতে হাত দিয়েছে চীন তার মধ্যে বিশেষ করে একটিতে তাদের বিশেষ স্বার্থ রয়েছে। সেটি হলো পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের বিস্তার ও উন্নয়ন। এই বন্দরের মূল অবকাঠামো নির্মাণে ৬০ কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে চীনের দু’টি প্রতিষ্ঠান চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। নদী তীরবর্তী অবকাঠামো নির্মাণের কথাও রয়েছে এর মধ্যে। তার মধ্যে আছে গৃহায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা।
ঢাকার কর্মকর্তারা এ নিয়ে কথা বলেছেন ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের সঙ্গে। তারা বলেছেন,  মূল উদ্দেশ্যকে চীন তার বিনিয়োগ কৌশলের মধ্যে  ধোঁয়াসাচ্ছন্ন করে রেখেছে। তারা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। চীন একই রকম কৌশল প্রয়োগ করেছিল শ্রীলঙ্কায় হাম্বানটোটা বন্দরের উন্নয়নকালে।
ওবিওআর কর্মসূচির অধীনে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসের সরকারকে কয়েক শ’ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছিল চীন। এর উদ্দেশ্য ছিল উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেয়া। তার মধ্যে কৌশলগত হাম্বানটোটা বন্দরের উন্নয়ন ছিল তাদের শীর্ষ অগ্রাধিকারে। কিন্তু ঋণের ভারে জর্জরিত শ্রীলঙ্কার ঋণ ফুলেফেঁপে বেলুনের মতো রূপ ধারণ করতে থাকে। এই তথাকথিত ‘সফ্‌ট লোন’ শ্রীলঙ্কাকে শোধ করতে গিয়ে ওই বন্দরের নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে ৯৯ বছরের জন্য তুলে দেয়  ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে।
ঢাকায় চীনের এই কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার কথা কেউ ভুলে যায়নি। কর্মকর্তারা এটা ভেবে উদ্বিগ্ন যে, চীন সরকারের রাষ্ট্রায়ত্ত মদতপুষ্ট দু’টি কোম্পানি সিএইচইসি এবং সিএসসিইসি দরজায় পা ফেলেছে। ফলে পায়রা বন্দরে অধিক হারে নিয়ন্ত্রণ চাইবে চীন এটা অনেক দূরের কথা নয়। পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আগে হাম্বানটোটা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে চীন।
পোর্ট-পার্ক সিটি নামে পরিচিত হয়ে ওঠা গোয়াদার বন্দরকে ধরা হয় সিপিইসি প্রজেক্টের অন্যতম সফলতা হিসেবে। তবে সেখানেও চীন তার সফ্‌ট লোনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। পাকিস্তানকে ঋণের ফাঁদে ফেলে চীন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে গোয়াদারে। সেখানে কার্যত নিজের নিয়ন্ত্রিত এলাকা প্রতিষ্ঠা করেছে চীন। এটি এখন স্পষ্ট যে, ইসলামাবাদ নয়, গোয়াদারের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক এখন বেইজিং।
বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত বরিশাল বিভাগের পায়রা সমুদ্র বন্দর কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন এই বন্দরের বিনিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় তার কারণ দেশটির ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ। গোয়াদার বন্দর থেকে শুরু হয়ে সামুদ্রিক আধিপত্যের যে মুক্তার মালা তৈরি করতে চাইছে চীন তার একটি অংশ হতে যাচ্ছে পায়রা সমুদ্রবন্দর। ২৭শে এপ্রিল ওবর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো বেইজিং-এ বৈঠকে বসছে।
এএনআই’র দাবি, চীন ওবরভুক্ত দেশগুলোর নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বা চেষ্টা করেছে। এরমধ্যে মালদ্বীপ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কার নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেছে তারা। এছাড়াও রয়েছে মিয়ানমারের কপার মাইনে ব্যাপক মাত্রার চীনা বিনিয়োগ, যা অঞ্চলে তীব্র মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে তার কথাও। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে সাবধান করেছে যে, চীনা বিনিয়োগে সবসময়ই গোপন চুক্তি থাকে। এটি শুধুমাত্র তখনই প্রকাশিত হয়, যখন ঋণ নেয়া দেশটি ঋণ ফেরতে ব্যর্থ হয়। পায়রা বন্দরও এই ভয়াবহ পথে যেতে পারে।

সব ঘটনা জানতো না ‘রুপা’র পরিবার by ওয়েছ খছরু

সিলেটে কলেজছাত্রী রুপার ঘটনা জানতো না পরিবার। একটু-আধটু জানলেও তারা বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নেয়নি। আর রুপাও সব ঘটনা পরিবারকে খুলে বলেনি। গ্রেপ্তারের পর রুপার স্বীকারোক্তিতে সব তথ্য জেনেছেন পরিবারের সদস্যরা। এরপরও ঘটনায় অনুতপ্ত তারা। রুপার এইসব ঘটনাবলী আগে জানতে পারলে হয়তো বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করা হতো বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান- ঘটনার পরও রূপা ছিল স্বাভাবিক।
সাইফুরকে খুনের ঘটনা সে কারো সঙ্গে শেয়ার করেনি। এ কারণে পরিবারের সদস্যরাও জানতো না সাইফুর খুন হয়েছেন।
সিলেটের এমসি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নিশাত তাসনিম রূপা গত শনিবার নগরীর সুবহানীঘাটের হোটেল মেহেরপুরে নিয়ে তারই এক সময়ের গৃহ শিক্ষক ও প্রেমিক সাইফুর রহমানকে খুন করে। আর খুনের ঘটনার পর প্রেমিক মোজাম্মিলকে সঙ্গে করে নিয়ে লাশ ফেলে দেয় সুনামগঞ্জ বাইপাসের সড়কের পাশে। এরপর শনিবার দুপুরের পর থেকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত রূপা বাসাতেই ছিলো। গ্রেপ্তারের পর রূপা প্রথমে পুলিশ ও পরে আদালতের কাছে খুনের ঘটনা স্বীকার করে। জানায় খুনের লোমহর্ষক ঘটনাও। রূপার বড় ভাই রুহেল আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ‘রূপার জীবনে এতো কিছু ঘটছে তা আমরা কেউ-ই টের পাই নি। একবার রূপা তার খালার কাছে বলেছিল সাইফুর রহমান তাকে ডিস্টার্ব করে। তখন খালা সাইফুরকে ফোনে জানান রূপাকে বিয়ে করতে চাইলে অপেক্ষায় থাকো।
তার পড়ালেখা শেষ হলে পরে দেখা যাবে’। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে অতোটা গুরুত্ব দেননি। রূপা এখন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সে এমসি কলেজের রোভার স্কাউটের সদস্য। পরিবারের সদস্যরা জানান- রূপার মা মারা গেছেন অনেক আগে। রূপার পিতা শফিকুর রহমান ছিলেন কারারক্ষী। রূপা যখন ক্লাস সেভেনের ছাত্রী তখন তাদের পরিবারে লজিং নিয়েছিলেন সাইফুর রহমান। খুব অল্প দিনেই তিনি রূপার পরিবারের সদস্য হয়ে যান। ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে রূপার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের চিন্তাও পরিবারের কেউ করেননি। দুই বছর আগে থেকে রূপার ভাই রুহেল আহমদের বিয়ের কথা-বার্তা শুরু হয়। তখন বসবাসের ঘরের সংকট। এই সংকটের কারণেই তারা সাইফুরকে অন্যত্র চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তাদের কথামতো সাইফুরও চলে আসেন নগরীর টিলাগড়ের একটি মেসে। সেখানে এলেও সাইফুর প্রতি সপ্তাহেই রূপাদের বাড়ি যেতেন। আবার কলেজ ক্যাম্পাসে রূপার সঙ্গে যোগাযোগ হতো। ৫ মাস আগে একদিন রূপা তার পরিবারের কাছে জানায়- সাইফুর তাকে ডিস্টার্ব করছে। তার ভাবিকে বিষয়টি জানায়। পরে ভাবি রূপার খালাকে বিষয়টি জানান।
পরে খালা সাইফুরকে ফোন করে অপেক্ষায় থাকার কথা বলেন। তারা জানান- গত ডিসেম্বরে সাইফুর তার পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে হুমকিতে রেখেছেন। রূপার ভাই রুহেল ছাত্রদলের রাজনীতি করেন। এ কারণে তিনি ওই সময় গায়েবি ঘটনা মামলার আসামি হওয়ার আশঙ্কায় বাড়িছাড়া ছিলেন। চলে গিয়েছিলেন সিলেটের বাইরে। এই সুযোগে সাইফুর রূপাকে নানা ভাবে হুমকি দেয়। তার ভাইকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ারও হুমকি দেয়। এই হুমকি দিয়ে রূপাকে হোটেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়। ওই সময় রূপা খুব বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ছোট বোনকে নিয়েও দুশ্চিন্তায় ছিল।
রূপার ছোট বোন সিলেটের একটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। সে অনেকটা সহজ সরল। তার দিকেও নজর পড়েছিল সাইফুর রহমানের। রূপার মতো তার সঙ্গে ব্যবহার শুরু করতে চেয়েছিল সাইফুর। এতে রূপা বাধা দেয়। তার বোনকে রক্ষা করতে নানা সময় সাইফুরের প্রলোভনে পড়তে পারে বলে ধারণা করেন পরিবার। রূপার ভাই রুহেল জানান- মাতৃহীন রূপা পরিবারের সব কিছু দেখভাল করতো। পরিবারের সবার সুখ, দুঃখে সে এগিয়ে আসতো। কিন্তু কখনোই তার দুঃখটি প্রকাশ করেনি। এ নিয়ে এখন আফসোস তাদের। ভেতরে ভেতরে এতো কিছু হচ্ছে সব জানলে তারা আগে থেকেই সতর্ক হয়ে যেতেন।

শ্লীলতাহানির অভিযোগ করায় ছাত্রীর গায়ে আগুন, শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ২

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ্যের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করায় নুসরাত জাহান রাফি (১৮) নামে এক আলিম পরীক্ষার্থীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আজ সকালে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।  নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ্যের লোকজন অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। এতে নুসরাত অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। আগুনে নুসরাতে শারীরের ৮০ শতাংশ ঝলসে যাওয়ায় দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। দগ্ধ নুসরাত সোনাগাজী পৌরসভার চরচান্দিয়া গ্রামের একে এম মুসার মেয়ে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক শিক্ষকসহ ২ জনকে আটক করেছে।
দগ্ধ নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান জানান, গত ২৭শে মার্চ উপজেলার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা তার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানি করেন। পরে নুসরাত বিষয়টি পরিবারকে জানায়।
এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে পরদিন ২৮শে মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলাকে গ্রেপ্তারকে করে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে নুসরাত জাহানের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলো অধ্যক্ষের লোকজন।
আজ সকালে আলিম পরীক্ষার আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে নুসরাতকে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় নিয়ে যান তার বড় ভাই। তাকে কেন্দ্রে প্রবেশ করিয়ে ভাই বাড়ি ফিরলে পরীক্ষা শুরুর পূর্বে মাদ্রাসায় কয়েক শিক্ষার্থী তাকে ফুঁসলিয়ে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে যায়। এ সময় ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দেয়া শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি দেয়। এতে রাজি না হলে একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন তেল ঠেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে নুররাত দগ্ধ হয়ে চিৎকার করলে অন্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও অন্যরা নুসরাতকে উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ফেনী জেলা সদর হাসাপাতালে স্থানান্তর করে।
ফেনী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু তাহের ভূইয়া জানান, দগ্ধ নুসরাতের শরীরের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে প্রেরণ করা হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে। এর আগে শ্লীলতাহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। নুসরাতকে শ্লীলতাহানীর ঘটনায় গত কয়েকদিন নির্যাতিত শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষের পক্ষে বিপক্ষে একাধিক মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

‘ভবনটি অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ’, ঢাকার ৩৯ ভবনে ব্যানার টাঙিয়েছে ফায়ার সার্ভিস

ঢাকার অগ্নি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা সকল ভবন, মার্কেটগুলোকে চিহ্নিত অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। গত ১লা এপ্রিল থেকে এই ঘোষণা দৃশ্যমান করার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ভবন মালিক ও সাধারণ জনগণকে সতর্ক করতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ব্যানার টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘ভবনটি অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ’। ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগরী ও আশেপাশ এলাকার ৩৯টি ভবনে এ ধরনের ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এসব ব্যানার দেখে মানুষের সচেতনা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা ফায়ার সার্ভিসের।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ জানিয়েছেন আমাদের পরিচালিত জরিপে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত এবং এখনো ঝুঁকি নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি এমন সকল মার্কেট, আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক ভবন, হাসপাতাল, শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ সকল স্থাপনায় এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হবে। তিনি জানান, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এ কারণে ঝুঁকি রয়েছে এমন সকল স্থাপনায় এই কার্যক্রম চালু থাকবে।
ইতিমধ্যে ফায়ার সার্ভিস যেসব ভবনে অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্ণিত করে ব্যানার টাঙিয়েছে সেগুলো হলো, মিরপুরের ২০ তলা আবাসিক ভবন ‘সুকন্যা টাওয়ার’, এলিফ্যান্ট রোডের ‘গোল্ডেন টাওয়ার’, ‘নূর ম্যানশন গাউছিয়া মার্কেট’, সিদ্দিকবাজারের ‘হাজী মিলন টাওয়ার’, গুলিস্তানের ‘বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স’, ওয়ারীর ‘সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতাল’, মগবাজারের ‘রাজ্জাক শপিং কমপ্লেক্স,’ ‘গুল ফিশান ও আড়ং কমপ্লেক্স,’  সাতরাস্তার ‘ছায়ানীড় আবাসিক ভবন’, ‘নয়ামাটি মার্কেট’, পাটুয়াটুলী রোডের ‘ রহমতউল্লাহ ম্যানশন’, ইসলামপুর রোডের ‘ খাঁন প্লাজা’, ‘লায়ন টাওয়ার’, চিত্তরঞ্জন রোডের ‘ইস্ট বেঙ্গল মার্কেট’, এবং ‘মায়াকাটারা মার্কেট।’
সাভারের  ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত ভবনগুলো হলো, বাসস্ট্যান্ড এলাকার জাতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সংস্থা শপিং কমপ্লেক্স, চৌরাঙ্গী সুপার মার্কেট, হেমায়েতপুর সুপার মার্কেট, তালবাগ এলাকার সাভার সিটি টাওয়ার, থানা রোডের বিসমিল্লাহ টাওয়ার।
গাজীপুরের অগ্নি ঝুঁকিতে থাকার ভবনগুলো হলো, ভোগড়া এলাকার ওয়াসিফ নীট কম্পোজিট লি:, চান্দনা চৌরাস্তার সাসটেক্স বিডি লি:, মে ফ্যাশন লি:, শাপলা ম্যানশন, রহমান শপিংমল, টঙ্গী বাজারের সোনালী অর্কিট ও হাজী মার্কেট।
নারায়ণগঞ্জের যেসব ভবনে অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে ফায়ার সার্ভিস ব্যানার টাঙিয়েছে সেগুলো হলো, ডিআইটি বঙ্গবন্ধু রোডের নয়ামাটি মার্কেট, রুপগঞ্জের গাউছিয়া মার্কেট,
দেওভোগ মার্কেট, উকিল পাড়ার হোশীয়ারি মার্কেট, টান বাজারের আল জয়নাল প্লাজা,
রিভারভিউ কমপ্লেক্স, নয়ামাটি এলাকার টর্কিড প্লাজা, সিরাজউদ্দা এলাকার দেলোয়ার টাওয়ার, জাকির টাওয়ার, পুলিশ লাইনের হাজী নূরউদ্দিন টাওয়ার, চাষাড়ার আল হাকিম টাওয়ার ও মার্ক টাওয়ার।
এসব মার্কেট ও স্থাপনাসমূহে বারবার তাগিদ প্রদান করা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেনি বিধায় অধিদপ্তর এ ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করারও পরিকল্পনা রয়েছে অধিদপ্তরের। খবর বিজ্ঞপ্তির।

কোন পথে যাবেন মাসায়োশি সন? by শাকিলা হক

দুই বছর আগে টেকনোলজি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন ফান্ড গঠন করে সাড়া ফেলে দেন জাপানি প্রতিষ্ঠান সফট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী পরিচালক (সিইও) মাসায়োশি সন। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে অনন্য এক নাম হয়ে যান তিনি। ১০০ বিলিয়ন ডলারের ওই ‘ভিশন তহবিল’ থেকে বিনিয়োগ করা হয় অসংখ্য প্রযুক্তি কোম্পানিতে।
প্রযুক্তি খাতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ তহবিল হয় ভিশন ফান্ড। নিত্যনতুন প্রযুক্তি ও স্টার্টআপে মূলধন সরবরাহের লক্ষ্যে এ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেন মাসায়োশি সন। ওই তহবিল গঠনের মাধ্যমে বিনিয়োগের সব নিয়ম ভাঙেন তিনি। তবে বিভিন্ন দিক দিয়ে ১০০ বিলিয়ন ডলারের ওই ‘ভিশন তহবিল’ বিতর্কিত হয়। এর ৪৫ বিলিয়ন ডলার আসে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছ থেকে। ২০৩০ সাল নাগাদ সৌদিকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দেশটির সার্বভৌম সম্পদ তহবিল ‘দ্য পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ (পিআইএফ) থেকে ওই অর্থ দেন যুবরাজ। তবে ওই তহবিলের পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকে সনের হাতেই।
অনেক সমালোচকই ওই সময় বলেন, এই ভিশন তহবিল হলো কালোটাকার একটা বড় পাত্র। গত অক্টোবরে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডের পর সমালোচকেরা কথা বলার আরও বেশি সুযোগ পান। খাসোগি হত্যায় সন্দেহের তির গিয়ে পড়ে সৌদি যুবরাজের গায়ে। একদিকে এই তহবিলের অর্থপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ হতে থাকে, অন্যদিকে সমালোচনাও চলতে থাকে। তবে অনেক জল ঘোলা হলেও আবারও স্টিয়ারিং ধরেছেন মাসায়োশি। খাসোগি–কাণ্ড পুরোনো হয়, আবার ভিশন তহবিলের বিনিয়োগে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দর তরতর করে ওপরে উঠতে থাকে। আর তাই নতুন ভিশন নিয়ে লেগে পড়েছেন মাসায়োশি। দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর ১০০ বিলিয়ন ডলারের ভিশন ফান্ডের ঘোষণা দেয় সফট ব্যাংক। ভিশন ফান্ডে যুক্ত হয় পিআইএফ। পরবর্তী সময়ে কয়েক ধাপে এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ করা হয়। বিনিয়োগ করে ভিশন ফান্ডের অংশীদার তালিকায় নাম লিখিয়েছে আবুধাবির মুবাদালা ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি, অ্যাপল, কোয়ালকম, ফক্সকন ও শার্প করপোরেশনের মতো খ্যাতনামা কোম্পানিগুলো।
গত আড়াই বছরে ভিশন তহবিলের ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৭০ বিলিয়ন ডলার বিতরণ করেন সন। এ সময়ে ৭০টি নতুন প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ার কিনে নেন তিনি। যেসব প্রযুক্তি স্টার্টআপে বিনিয়োগ করা হয়েছে, সে তালিকায় আছে অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি সেবাদাতা উবার টেকনোলজিস, অনডিমান্ড খাদ্য সরবরাহকারী কোম্পানি ডোরড্যাশ, অফিস স্পেস শেয়ারিংয়ের সেবাদাতা উইওয়ার্ক এবং মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম স্ল্যাকের মতো একাধিক প্রতিষ্ঠান। ভিশন ফান্ডের বিনিয়োগ পাওয়া স্টার্টআপগুলোর অনেকেই এরই মধ্যে আইপিও ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া গত নভেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন কোম্পানি কোপাংয়ে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়, ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন মার্কেটপ্লেস টোকোপেডিয়া পায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রীয় ভিত্তিক লজিস্টিক ফার্ম ফ্লেক্সপোর্টকে ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয় সনের তহবিল থেকে। এসবের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রযুক্তি বিশ্বের রাজায় পরিণত হয়েছেন সন। নিয়েছেন ১০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন লক্ষ ‘ভিশন তহবিল-২’
তবে এবার পথ খুব সরল হচ্ছে না সনের জন্য। নতুন ভিশনে সৌদি সমর্থন নেওয়া খুব বেশি সহজ হবে না। খাসোগি হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক সমালোচিত হওয়ায় পিআইএফ থেকে এবার অর্থ নিলে এবার সুনাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সনের। এ ছাড়া সৌদি প্রিন্সের এই ৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বিষয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না পিআইফের কর্মকর্তারা।
অর্থ সংগ্রহের জন্য নিজের একক প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করলেও চলবে না সনের। জাপানিজ মোবাইলের যে অংশ সফট ব্যাংকের ছিল তা বিক্রি করে এবং অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করে ২৪ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে পেরেছেন তিনি। বাকি অর্থের জন্য অবশ্যই তাঁকে নির্ভর করতে হচ্ছে সার্বভৌম কোনো তহবিলের ওপর।
তবে এবার পিআইএফসহ অন্য বিনিয়োগকারীরাও ভিশন তহবিলের বেশ কিছু বিষয়ে বেশ চিন্তিত। প্রথমত, ভিশন তহবিলের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এককভাবে রয়েছে সনের ওপর। তিনি এবং তাঁর সহযোগী রাজিভ মিশরা যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। সাধারণত এই ধরনের তহবিলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও অনেক মাথা থাকে। ২০১৭ সালে তহবিল অর্থের জোগান নিশ্চিত করলেও সে সময় পর্যন্ত এটি পরিচালনায় তেমন কোনো কর্মী বাহিনী ছিল না। এখন নতুন করে কর্মী বাহিনী গঠন হলেও মূল সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি রয়ে গেছে সনের হাতেই।
দ্বিতীয়ত, ভিশন ফান্ড ও সফট ব্যাংকের মধ্যে আগ্রহের দ্বন্দ্বের আশঙ্কা। সন এর আগে ছোট ছোট কোম্পানিগুলোর শেয়ার সফট ব্যাংকের ব্যালান্সশিটের মাধ্যমে কিনে নেন, এখন এগুলোকে ভিশন তহবিলের বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিতে অনেক সময় নেওয়া হচ্ছে। এবং চড়ামূল্যেই এই স্থানান্তর হচ্ছে। অন্যদিকে সফট ব্যাংক মুনাফা করার বিষয়ে আগ্রহী।
তৃতীয়ত, প্রযুক্তির বিষয়ে অতিনির্ভরশীল সন, যা সফট ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারকে উদ্বিগ্ন করছে। কারণ, বাজারে অনেকটা একক আধিপত্য নিয়ে এসেছে ভিশন তহবিল। বাজারমূল্য নির্ধারণ করছে তারা।
অর্থাৎ সব বিনিয়োগকারীই মনে করছেন ভিশন তহবিল ১ এবং ২ এর জন্য আরও ভালো পরিচালনা পরিষদ দরকার। দুটির জন্য পৃথক স্বাধীন পরিচালনা বোর্ড প্রয়োজন। সফট ব্যাংক থেকে ভিশন ফান্ডে প্রযুক্তি কোম্পানির স্টেক স্থানান্তর বন্ধ করলে এটি আরও স্বচ্ছ হবে। আর এসব পদক্ষেপের মাধ্যমেই বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবেন সন। এখন দেখার বিষয় নিজেকে কীভাবে গুছিয়ে নেন মাসায়োশি সন।

রোহিঙ্গাদের কারণে খাদ্য নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের কারণে খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশের তালিকায় নাম উঠলো বাংলাদেশের। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার প্রভাবে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পতিত হয়েছেন এদেশীয়রা। গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিসের সামপ্রতিক প্রতিবেদনে ফুটে উঠে এই চিত্র। এতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা খাদ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের স্রোতের কারণে বাংলাদেশে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জেলার সংখ্যা বেড়েছে। তবে রোহিঙ্গারা নিজেরা নয় এর ভুক্তভোগী হচ্ছেন স্থানীয় বাংলাদেশিরা। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে এমন রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের নাম।
বাংলাদেশসহ এই ৪ দেশে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ মানুষ।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিস-এর সদস্য। কক্সবাজারের ১৫ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এফএও বলেছে, জেলাটিতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা ১৩ লাখ। এদের মধ্যে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা উভয় সমপ্রদায়ের সদস্যরাই  রয়েছেন। ফলে উভয় সমপ্রদায়ের জন্যই খাদ্য সহযোগিতা প্রয়োজন। মূলত রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের এমন পরিস্থিতিই বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশের তালিকায় যুক্ত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারে অনেকেই আবাদি জমি ও মৎস্য ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। তাদের অনেকেই দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু তাতেও সমস্যা সৃষ্টি করছে রোহিঙ্গারা। সস্তায় শরণার্থী শ্রমিক পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা সব হারিয়ে দিন মজুরের কাজও করতে পারছে না। সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের জনবিন্যাসে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরণার্থীদের ফলে বাড়তি জনসংখ্যার জন্য বাড়তি খাবারের চাহিদা তৈরি হয়েছে। ফলে বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। স্থানীয়দের মৌলিক অধিকার পূরণের ক্ষেত্রগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

পাকিস্তানের এফ-১৬ ভূপাতিত করার ভারতীয় দাবি ভুয়া?

কয়েকদিন আগে কাশ্মীরে ভারতীয় সৈন্যদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ এক আত্মঘাতি হামলার পর পাকিস্তানের বালাকোটে হামলা চালায় ভারতীয় বিমান। এর একদিন বাদে ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান আকাশে ‘ডগফাইটে’ লিপ্ত হয়। সেই ঘটনায় পাকিস্তানের বিমানসেনারা একটি ভারতীয় মিগ-২১ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ও পাইলটকে আটক করেছে, এ নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। কিন্তু তখন ভারতও পালটা দাবি করেছিল যে, পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভারত ভূপাতিত করেছে এবং পাইলটকে ভারতীয় ভেবে পাকিস্তানি স্থানীয় জনগণ মেরে ফেলেছে। কিন্তু পাকিস্তান এই দাবি অস্বীকার করে জানায়, তারা ওই হামলায় কোনো এফ-১৬ বিমানই ব্যবহার করেনি। এই বাকযুদ্ধে কে যে সত্যি বলছে আর কে মিথ্যা, সেটা বোঝার উপায় ছিল না। কিন্তু এবার মার্কিন প্রখ্যাত ম্যাগাজিন ফরেইন পলিসিতে প্রকাশিত এক রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলছে যে, ভারতের দাবির সত্যতা না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ম্যাগাজিনটি জানিয়েছে যে, মার্কিন কর্মকর্তারা সম্প্রতি গণনা করে দেখেছেন যে পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের সংখ্যায় কোনো হেরফের হয়নি। এফ-১৬ যুদ্ধবিমান যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন কোম্পানি প্রস্তুত করে।
বাইরের কোনো দেশ এই যুদ্ধবিমান কিনতে হলে এই শর্ত মেনে নিতে হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত এই বিমান পরিদর্শন করতে পারবে।
এই প্রতিবেদনের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এক টুইটে লিখেছেন, ‘সত্য সবসময় বিজয়ী হয়। নিজেদের মিথ্যা দাবি ও প্রকৃত ক্ষতি সম্পর্কে সত্য তথ্য দেওয়ার সময় এসেছে ভারতের।’ এদিকে ভারত ওই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে ফের বলেছে, একটি এফ-১৬ ভূপাতিত হয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, ভারতীয় বাহিনী ওই দিন দুইটি ভিন্ন স্থান থেকে নিশ্চিতভাবে ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি দেখেছে।
এদিকে এর আগে পাকিস্তানের বালাকোটে জঙ্গিগোষ্ঠী জৈইশ-ই-মোহাম্মদ-এর কথিত আস্তানা ধ্বংস করার যে দাবি ভারত করেছিল, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে রয়টার্স সহ কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে। রয়টার্সের প্রতিবেদক দল গিয়ে সেখানে ধ্বংসস্তুপের কোনো নিদর্শন পায়নি। এছাড়া হাই রেজুলেশন স্যাটেলাইট ইমেজ থেকেও বালাকোটের ওই স্থানে তেমন পরিবর্তন পাওয়া যায়নি।
ফরেইন পলিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিজেদের এফ-১৬ বিমানের সংখ্যা গুনতে পাকিস্তান মার্কিন কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ভারতও আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছিল, ভারতের বিরুদ্ধে এফ-১৬-এর ব্যবহার ওই যুদ্ধবিমান ক্রয়চুক্তির লঙ্ঘণ কিনা তা যেন যাচাই করা হয়।

বাংলাদেশে বিষাক্ত বাতাস কেড়ে নিচ্ছে শিশুদের ৩০ মাসের আয়ু

একটি শিশু জন্ম নিয়ে এই পৃথিবীতে নিঃশ্বাস নিলে তার আয়ু অন্তত ২০ মাস কমে যাবে। আর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় শিশুরা এই বিষাক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিয়ে হারাবে ৩০ মাসের আয়ু। স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার ২০১৯ এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দূষিত এই বাতাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে গিয়েছে, যে শিশুর জীবনধারণে বাতাসের প্রয়োজন, সেখানে সেই বাতাসই আয়ু কমিয়ে দিবে। দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের জন্য আরও ভয়াবহ সংবাদ হচ্ছে, এদের জীবন থেকে এই দূষিত বায়ু কেড়ে নিতে যাচ্ছে ৩০টি মাস।
২০১৭ সালে প্রতি ১০ জন মানুষের মৃত্যুর মধ্যে একজনের প্রাণ গিয়েছে বায়ুদূষণের ফলে। গবেষণায় বলা হচ্ছে, মৃত্যুর জন্য সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা ম্যালেরিয়া মহামারিকে ছাপিয়ে বায়ুদূষণ ভয়াবহ কারণ হয়ে সহাবস্থানে রয়েছে ধূমপানের সঙ্গে। বিশ্ব জুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে প্রাপ্তবয়স্করাও। বায়ু দূষণের কারণে প্রায় ৯০ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে পঞ্চাশোর্ধ মানুষের ক্ষেত্রে। গবেষকরা বলেছিলেন যে, আগামী বছরগুলোতে বিশ্বের অনেক অংশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
হেলথ এফেক্টস ইনস্টিটিউটের প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনটিতে রবার্ট ও কিফে বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে একটা বড় ধাক্কা হিসেবে শিশুদের জীবন সংক্ষিপ্ত হবার এই তথ্য পাওয়া যায়।’ বিশ্বে রোজ জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রমাণ মিলছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে, তবুও বিশ্বনেতাদের কোনো ন্যূনতম পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না এই সংকট মোকাবিলায়। রবার্ট বলছেন, ‘এখানে কোন ম্যাজিক বুলেট নেই তবুও সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’ তিনি চীনের বায়ু দূষণের মাত্রা নির্দেশ করেছেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমতে শুরু করেছে। চীনে কর্তৃপক্ষ বায়ু মানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং কয়লা নির্ভরতা কমাতে এবং শিল্প ক্লিনার তৈরির ব্যবস্থা চালু করেছে। তারা কিছু কিছু শহরে যানবাহনের সংখ্যা সীমাবদ্ধ করেছে এবং ক্লিন এনার্জির জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে ফুসফুসজনিত রোগের ৪১ শতাংশ, টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ২০ শতাংশ, ফুসফুস ক্যান্সারের ১৯ শতাংশ, ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজের ১৬ শতাংশ এবং স্ট্রোকের ১১ শতাংশ রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে ঘটেছে যা বায়ু দূষণের ফলেই সৃষ্টি। বিশ্বব্যাপী বায়ু দূষণের ফলে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবগুলোর সবচেয়ে নিয়মিত কারণ।

রাজনীতির হ্যাকার by রোমান কুরজানিয়ারিক

বিবিসি একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যার শিরোনাম হোয়াই উই নিড টু রিইনভেন্ট ডেমোক্রেসি? কেন দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের পুনঃউদ্ভাবন প্রয়োজন? গত ১৯শে মার্চ ২০১৯ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি লিখেছেন অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত রোমান কুরজানিয়ারিক। তিনি স্বনামধন্য পাবলিক ফিলোসফার। বৃটিশ দৈনিক অবজারভারের মতে, মি. রোমান  ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় জনপ্রিয় দার্শনিকদের অন্যতম। রাজনৈতিক সমাজবিদ্যায় অক্সফোর্ড থেকে পিএইচডি করেছেন। ওই নিবন্ধের শেষ কিস্তি প্রকাশিত হলো আজ।
লেখক রাজনীতির হ্যাকার বিষয়টিকে ‘ব্লাইন্ড স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।  তবে তার কথায় এই “অন্ধ কলঙ্কচিহ্নগুলো” সংখ্যায় এতটাই বেশি যে, আমাদের তা আসলে নজরে পড়ে না। এরপর তিনি নিজকে নিয়েই বলেন, এক দশক ধরে একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে, যার গণতান্ত্রিক শাসন বিষয়ে  আগ্রহ রয়েছে, অথচ আমার কখনো এটা মনে হয়নি যে, যে প্রক্রিয়ায় অতীতের ক্রীতদাস কিংবা নারীদের ভোটাধিকার খর্ব করা হয়েছিল, সেভাবে ভবিষ্যৎ  প্রজন্মের ভোটাধিকার হরণ করা হবে। আর এটাই বাস্তবতা। আর সে কারণেই বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার স্কুল শিশু যাদের অনেকেই এক সুইডিশ টিনএজার গ্রেট থানবার্গের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।
তারা ধনী দেশগুলোর কর্ণকুহরে একটি বার্তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেছে। আর সেটা হলো, কার্বন গ্যাস নিঃসরণ কমাতে হবে অথচ তাদের সবারই কিন্তু যথেষ্ট রকম গণতান্ত্রিক পদ্ধতি রয়েছে। আর সেটাই তাদের ভয়েসলেস মানুষের জমে পরিণত করেছে। তারা তাদেরই সৃষ্ট রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ মুছে দিয়েছে।
এই দার্শনিকের মতে, সময় এসেছে এই অসুবিধাজনক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে। আর তা হলো আধুনিক গণতন্ত্র বিশেষ করে ধনী দেশগুলোতে যা ঘটছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎকে উপনিবেশে পরিণত করার সামর্থ্য দিয়েছে। ধনীরা বর্তমানকেই নয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকেও গিলছে। এটা ভবিষ্যৎ ঔপনিবেশিকীকরণ বটে! আমরা ভবিষ্যতের দিকে এমনভাবে তাকাবো, এটা যেন কোনো দূরবর্তী কলোনিয়াল আউটপোস্ট, যেখানে আমরা খুব সহজেই ইকোলজিক্যাল ডিগ্রেডেশন, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, পারমাণবিক বর্জ্য এবং জনগণের ওপরে চাপানো ঋণ ডাম্প করতে পারি। আমাদের এমনই স্বাধীনতা রয়েছে, এসব কিছু দিয়ে  ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়া। ব্রিটেন যখন অষ্টাদশ এবং উনবিংশ শতাব্দীতে অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশকে উপনিবেশে পরিণত করেছিল, তখন তারা একটা ডক্ট্রিন চালু করেছিল, সেটির নাম ছিল তেরা নুলিয়াস অর্থাৎ এই ভূখণ্ড কারো নয়। তারা তাদের সাম্রাজ্য বিজয় ডঙ্কা বাজাতে এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে এমনভাবে আচরণ করেছে, যেন তারা সেখানে ছিলই না। সেখানে ছিল না তাদের জীবন। ছিল না তাদের ভূখণ্ডের ওপরে তাদের কোন দাবি।
আন্তঃপ্রজন্ম চোর: আর আজ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, টেম্পাস নুলিয়াস। এর অর্থ হচ্ছে ভবিষ্যৎ একটি “শূন্য সময়”। এটি এমন একটি টেরিটরি বা ভূখণ্ড যার উপর কারো কোনো দাবি নেই এবং সেখানে কোনো অধিবাসী বসবাস করবে না। ভবিষ্যতের সেই সাম্রাজ্য হবে মনুষ্যহীন, যা আমরা দখলে নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। লেখক বলেছেন গণতন্ত্রকে পুনঃউদ্ভাবন করা তাই আজ একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। তাকে বর্তমানের সংক্ষিপ্তবাদ বা স্বল্পমেয়াদিবাদের রাহু থেকে বের করে আনা দরকার। আমরা যে আন্তঃপ্রজন্ম চুরি করছি, সেই বিষয়টির দিকে নজর দেয়া দরকার। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎকে যেভাবে আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের উপনিবেশ বানিয়ে চলছি, সেদিকে নজর দেয়া। আমার বিশ্বাস এটা করাই সব থেকে জরুরি। এই সমকালীন বিশ্বে এটাই সব থেকে জরুরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এমনকি কেউ কেউ পরামর্শ দিচ্ছেন যে, গণতন্ত্র মৌলিকভাবে এতটাই অদূরদর্শী যে, আমরা সদাশয় স্বৈরশাসনে ভালো থাকবো। আমরা স্বৈরশাসক বন্দনায় মুখর হয়ে উঠছি।  মানবতা যে বহুমুখী সংকটের সম্মুখীন হয়েছে, তা মোকাবিলায় নজর দেয়ার প্রতি আমাদের সবার পক্ষে তাগিদদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট ব্রিটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী মার্টিন  রিজ। যিনি ‘ক্রিটিকাল লং টার্ম চ্যালেঞ্জেস’ লিখেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন এবং বায়োলজিক্যাল অস্ত্রের ছড়িয়ে পড়া রোধ, তার কথায় কেবলমাত্র ‘একজন এনলাইটেনড স্বৈরশাসকই নিশ্চিত করতে পারেন। তিনিই পারেন একবিংশ শতাব্দীর নিরাপদ পরিভ্রমণ নেতৃত্ব  দিতে।
আমি যখন তাকে সমপ্রতি একটি পাবলিক ফোরামে প্রশ্ন করলাম যে আপনি যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটা নীতিগত প্রেসক্রিপশন হিসেবে ডিক্টেটরশিপকে স্বাগত জানাচ্ছেন, সেটা সম্ভবত আপনি কৌতুক করে বলছেন। তার উত্তরে মার্টিন রিজ বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে আমি আসলে আধা সিরিয়াস।”
তিনি তখন চীনের উদাহরণ দিলেন। বললেন যে, কর্তৃত্ববাদী একটি রাষ্ট্র এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে তারা অবিশ্বাস্যভাবে সফল হয়েছে এবং তারাই ব্যাপকভাবে সৌরশক্তি খাতে বিনিয়োগ করতে পারছে। আমি বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম অডিয়েন্সের মানে দর্শকসারিতে অনেকেই মাথা নেড়ে তার সঙ্গে একমত পোষণ করলেন। অবশ্য আমি তাদের একজন ছিলাম না।
ইতিহাসে উদাহরণ কম: আসলে ইতিহাসে এমন উদাহরণ কমই রয়েছে, যেখানে স্বৈরশাসকরা দীর্ঘ সময় ধরে উদারনৈতিক মেজাজে থেকেছেন কিংবা এনলাইটেনড থেকেছেন। উদাহরণ হিসেবে চীনের মানবাধিকারের রেকর্ডের কথা উল্লেখ করা যায়। সবচেয়ে বড় কথা কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থার অনুকূলে  সাক্ষ্য-প্রমাণ খুবই সামান্য যে, তারা দীর্ঘমেয়াদে ভালো চিন্তা করতে পেরেছে।  গণতান্ত্রিক সরকারের চেয়ে সুষ্ঠু পরিকল্পনা দেয়ার রেকর্ড তাদেরই খুব রয়েছে। তবে স্বৈরশাসক চীন ভালো করেছে আর গণতান্ত্রিক সুইডেন খারাপ করেছে বিষয়টি কিন্তু এমন নয়।
উদাহরণ দিয়ে বলা যায় সুইডেন নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে তার বৈদ্যুতিক চাহিদার শতকরা ৬০ ভাগ পূরণ করছে। সেজন্য তাদের কোনো স্বৈরশাসকের দরকার পড়েনি। বরং যার স্বৈরশাসক রয়েছে, সেই চীন এভাবে বিদ্যুতের যোগান দিয়েছে মাত্র ২৬ শতাংশ। 
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মন্ত্রণালয়: আমি মনে করি আসলে অনেক পথ খোলা। বর্তমান পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে অনেকগুলো মৌলিক দিক রয়েছে। বহু দেশ ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে নাগরিকদের ভবিষ্যতের প্রতি সতর্ক থাকতে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফিনল্যান্ড তার একটি উদাহরণ।  দেশটির সংসদীয় কমিটি রয়েছে, তার নাম পার্লামেন্টারি কমিটি ফর দ্য ফিউচার। তার কাজ হচ্ছে আগামী প্রজন্মের ওপরে বর্তমানে প্রণীত আইন গুলোর কি প্রভাব পড়ে তা খতিয়ে দেখা। ২০০১ এবং ২০০৬  সালের মধ্যে ইসরাইলের ন্যায়পাল ছিল। তার নাম “অম্বুডসম্যান ফর ফিউচার জেনারেশন”।
এটি সমপ্রতি বিলুপ্ত করা হয়েছে এটা ভেবে যে তারা বর্তমান আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে সামপ্রতিককালের সবচেয়ে ভালো উদাহরণ সৃষ্টি করেছে ওয়েলস। ওয়েলসে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘ফিউচার জেনারেশন কমিশনার’, কমিশনারের নাম সোফি হাউ এবং এই দপ্তর সৃষ্টি করা হয়েছে ২০১৫ সালে। ওয়েল বিয়িং ফর ফিউচার জেনারেশনস অ্যাক্টের আওতায় এই কমিশনের ভূমিকা হচ্ছে, তারা বিভিন্ন সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেবে। বিশেষ করে পরিবেশগত সুরক্ষা এবং চাকরিগত স্কিমের বিষয়ে তারা এমনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, যা অন্ততপক্ষে আগামী ৩০ বছর পরে কি প্রভাব পড়ে সেটা বিবেচনায় নিয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। এখন এ ধরনের একটি সংস্থা সমগ্র ব্রিটেনের জন্য গড়ে  তোলার দাবি উঠেছে।
২০১৮ সালে মার্টিন রিজের সমর্থনে একটি নতুন সংস্থা গড়ে উঠেছে। তার নাম অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ ফর ফিউচার জেনারেশনস’। এর সুবিধা হচ্ছে মার্টিন বসে আছেন লর্ডস সভায়। এখনো পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর তার কিছুটা হলেও আস্থা আছে বলেই প্রতীয়মান হয়।  যদিও এসব উদ্যোগ বেশ সমালোচিত হচ্ছে কারণ একে খুব বেশি সংস্কারবাদী মনে করা হয়। আর তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব খুবই সামান্য। বিশিষ্ট কানাডীয় পরিবেশবাদী ডেভিড সুজুকি একটি বিকল্প প্রস্তাব হাজির করেছেন। তিনি বলেছেন, কানাডায় বর্তমানে যে নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের দ্বারা যে পার্লামেন্ট চলছে, সেটা আর চলবে না। সারা দেশ থেকে বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে গঠন করা হবে একটা বিকল্প নাগরিক সংসদ। এই সংসদ সদস্যদের কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না। বিকল্প সংসদ ৬ বছর ক্ষমতায় থাকবে। এবং সুজুকির দৃষ্টিতে এ ধরনের একটি সংসদ গঠন করা সম্ভব হলে তারা আসলে একটা ‘পলিটিক্যাল জুরি সার্ভিসের’ ভূমিকা পালন করবে এবং তারা অধিকতর কার্যকরভাবে জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ো ডাইভারসিটির ক্ষতির বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তারা আর যাই হোক আগামী নির্বাচনে জিততে হবে এরকম মানসিকতা নিয়ে থাকবে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের একটা নাগরিক পার্লামেন্ট কি ভবিষ্যত প্রজন্মের জুতো পায়ে দিয়ে এবং কার্যকরভাবে তাদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবে?
জাপানে একটি নতুন আন্দোলন শুরু হয়েছে তার নাম ফিউচার ডিজাইন। তারা যে প্রশ্নগুলো তুলছে তার উত্তর দেয়ার চেষ্টা করছে অর্থনীতিবিদরা। মি. তাতশিজো সাইজও ‘রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর হিউম্যানিটি এন্ড নেচার’ এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সারা দেশ জুড়ে বিভিন্ন পৌরসভাগুলোতে নাগরিক সংসদ গঠন করছেন। এক গ্রুপ অংশগ্রহণকারী বর্তমানের বাসিন্দা হিসেবে এবং আরেক গ্রুপ তারা ২০৬০ সালের পরবর্তী ‘ফিউচার রেসিডেন্টস’ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন। আর যখন এই সংসদ বসছে, তখন ভবিষ্যতের বাসিন্দা সাংসদরা বিশেষ ধরনের পোশাক পরিধান করছেন, যাতে তাদের এই কল্পনাশক্তি কিছুটা জীবন্ত হয়ে ওঠে। এবং এই বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের সমীক্ষা দেখাচ্ছে যে, ভবিষ্যতের নাগরিকরা নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে অনেক বেশি এবং প্রগতিশীল নগর পরিকল্পনা করতে সক্ষম।  এরা  রেডিক্যাল থাকবে। জাপানি এই উদ্যোগের মূল কথা হলো, কেন্দ্রীয় সরকারের পর্যায়ে মিনিস্ট্রি অফ দ্য ফিউচার বা ভবিষ্যৎ মন্ত্রণালয় গঠন করা। এবং স্থানীয় সরকারগুলোর মধ্যে ডিপার্টমেন্ট অফ দ্য ফিউচার তৈরি করা। যাদের কাজ হবে নাগরিকদের জন্য নীতিনির্ধারণী মডেল তৈরি করা।
ফিউচার ডিজাইনের এই ধারণা সৃষ্টিতে আংশিকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে “সেভেন্থ জেনারেশন প্রিন্সিপল”। কতিপয় নেটিভ আমেরিকান  এটা উদযাপন করছে। সেখানে তারা সপ্তম প্রজন্ম পরে অর্থাৎ এখন থেকে দেড় শ বছর পরের প্রজন্মের ওপর কি প্রভাব পড়বে, সেটা বিবেচনায় নিয়ে তারা নীতি নির্ধারণ করছে।
এ ধরনের চিন্তা-ভাবনার আলোকে আমেরিকায় “আওয়ার চিল্ড্রেনস ট্রাস্ট” এর আইনি লড়াই এর কথা উল্লেখ করা যায়। ২০ বছর বা তার কাছাকাছি বয়সী কিশোররা একটা আইনি লড়াইয়ে  নেমেছে। এই ট্রাস্টের মূল স্লোগান হচ্ছে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং স্থিতিশীল জলবায়ু নিশ্চিত করা। এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে তারা সবাই কিশোর।  তারা মার্কিন সরকারের ওইসব নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যেখানে জলবায়ু নীতি সংশ্লিষ্ট। তারা বলছে যে এখন যেভাবে জলবায়ুর ক্ষতি করা হচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে তাদের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে ।
লস অ্যাঞ্জেলসের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবেশ আইন বিষয়ক অধ্যাপক অ্যান কার্লসন ভক্স সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, এটা চৌকস মেধাবী বাচ্চাদের একটি কাজ। তারা ভবিষ্যতের প্লানেট কি হবে, সে নিয়ে তারা যুক্তিতর্ক দিচ্ছে। এতে যদি তারা সফল হয়, তাহলে আগামীদিনের প্রজন্মের যে সাংবিধানিক অধিকার, তা চূড়ান্তভাবে স্বীকৃত হবে।
এরপর লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, এই সব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে তা শেষ পর্যন্ত আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে? আমরা একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে আছি। এটা খুবই স্পষ্ট যে, আগামী প্রজন্মের অধিকার এবং তাদের স্বার্থ সুরক্ষার যে আন্দোলন তা বৈশ্বিক মাত্রা পেতে চলেছে এবং সামনের দিনগুলোতে এসব বিষয় গতি পাবে। তার কারণ হলো পরিবেশগত বিপর্যয় এবং প্রযুক্তিগত ঝুঁকি এতটাই বড় হয়ে উঠছে এবং এতটাই ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে যা আগে কখনো দেখা যায়নি । এতে কোনো সন্দেহ নেই যে একজন স্বৈরশাসককে মহান করে দেখানোর কোনো দরকার নেই। এসব সমস্যা থেকে বেরোনোর উপায় স্বৈরশাসনে নিহিত নয়। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনের একমাত্র বিকল্প এটা নয়। গণতন্ত্র বহুরূপী পথ খুঁজে নিয়েছে এবং বহুবার পুন উদ্ভাবিত হয়েছে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রাচীন গ্রিকের প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র থেকে আমরা দেখেছি, প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছে। পরবর্তী গণতান্ত্রিক বিপ্লব আসন্ন।  যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষমতায়ন এবং ভবিষ্যতের অউপনিবেশেকিকরণের প্রক্রিয়া জোরদার হচ্ছে। এটাও বলা চলে সেটা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দিগন্তে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে।

এরশাদ একটুও বদলাননি! by সাজেদুল হক

বয়স হয়েছে। শরীরটাও ভালো নেই। অসুখে-বিসুখে কাবু। কিন্তু রাজনীতির মাঠের হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একটুও বদলাননি। সকাল-বিকাল সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের যে খ্যাতি তা তিনি ধরে রেখেছেন। সর্বশেষ নাটকীয়তা তৈরি করলেন ভাই জিএম কাদেরকে নিয়ে। কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে বহিষ্কারের পর ফের আবিষ্কার হয়েছেন কাদের। তাকে পুরনো পদ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
এখন দেখার বিষয় বাকি পদগুলোও তিনি ফিরে পান কি-না?
বছরের শুরুর দিকে এরশাদ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উইলের প্রচলন ঘটান। লিখিত বিবৃতি দিয়ে জানান, তার অবর্তমানে জিএম কাদেরই হবেন জাপার প্রধান। সেসময় দলে এ নিয়ে চাপান-উতোর তৈরি হয়। কিন্তু প্রকাশ্যে কেউ কোনো মন্তব্য করেননি। ৯০ পেরুনো এরশাদের শারীরিক অবস্থারও বেশ কয়েকবার অবনতি ঘটে। দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নেন তিনি। কো-চেয়ারম্যান পদের পাশাপাশি জিএম কাদেরকে সংসদে বিরোধী দলের উপনেতাও বানানো হয়। দলে সরকার ও রওশনপন্থি অংশ এতে ক্ষুব্ধ হয়। তারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। একাধিক সূত্র বলছে, একটি পার্টিতে জিএম কাদেরের অংশ গ্রহণ তাদের জন্য সে সুযোগ নিয়ে আসে। ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং বৃটিশ হাইকমিশনারের সম্মানে এ পার্টির আয়োজন করেছিলেন বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা। এতে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাশাপাশি জিএম কাদেরও অংশ নেন। কাদের অবশ্য বলেছেন, এরশাদের অনুমোদন নিয়েই তিনি ওই পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে জাপার সরকারপন্থি অংশ এ ইস্যুতে চাপ তৈরি করে এরশাদের ওপর। তিনিও রাতারাতি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।
জিএম কাদেরকে ব্যর্থ উল্লেখ করে প্রথমে তাকে সরিয়ে দেন কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে। পরে সরান সংসদের উপনেতার পদ থেকে। রওশন এরশাদ ফিরেন উপনেতার পদে। যদিও আগের সংসদে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। সব সম্ভবের এদেশে অবশ্য কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। নতুন এই বাস্তবতায় জিএম কাদেরের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন দলের উত্তরাঞ্চলের নেতারা। তারা কাদেরকে পদে ফেরাতে আলটিমেটাম দেন। এরই মধ্যে তাদের দাবি আংশিক মেনে নেয়া হয়েছে। ১২ দিনের মাথায় এরশাদ তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করেন।
জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, মূলত ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টিতে দুটি বলয় তৈরি হয়। এরশাদ সে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু রওশনসহ জাপার একটি বড় অংশ এরশাদের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচনে থেকে যায়। মূলত সরকারি দলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেই তারা ওই সিদ্ধান্ত নেন। হাসপাতাল নামক আধুনিক কারাগারে জায়গা হয় এরশাদের। সেসময় এরশাদের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন ভাই জিএম কাদের। এতে তার ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে। সেই বিরোধের জেরই মূলত এখন পর্যন্ত টেনে চলছেন কাদের।
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী খুরশীদা বেগম বিবিসি বাংলাকে বলেন, জাতীয় পার্টিতে এখনও এরশাদকে চ্যালেঞ্জ করার মতো কেউ নেই। এ সত্ত্বেও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের কারণেই দলটিতে এক ধরনের সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির মধ্যে যে বিরোধ চলছে সেটা সব দলেই থাকে। দলে যদি তেমন কেউ থাকতো অন্যদের প্রভাবিত করার মতো তাহলে এরশাদ হয়তো এভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। এখানে বিষয়টিতো পূর্ব নির্ধারিত। তারপরেও বিরোধী পক্ষ আছে। তাদের মধ্যে হয়তো নেতা হওয়ারও ইচ্ছা আছে। জিএম কাদের এ প্রসঙ্গে বলেন, নেতৃত্ব মোটামুটি ঠিকই ছিল। আমাকে নিয়ে অনেক চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি। নেতাকর্মীদের আস্থা আছে আমার প্রতি। চেয়ারম্যানও জানেন। তাই টানাপড়েনটা সমস্যা মনে করছি না। তবে ভালো হয়েছে যে এটা এখনই প্রকাশ হয়ে গেছে।
শেষ কথা: পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এমনিতেই এক জায়গায় দাঁড়িয়ে। সবাই জানেন কী হবে। ভোটে লোকের কোনো আগ্রহ নেই। সেখানে জাতীয় পার্টিও মৃতপ্রায়। উপজেলা নির্বাচনে কোথাও এ দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি। অনেকেই বলেন, এ দলে এখন কর্মীর চেয়ে নেতা বেশি। আর নেতারা লিপ্ত পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়া জাতীয় পার্টিকে আলোচনায় রাখার চেষ্টা করছেন এরশাদ।

সড়ক নিরাপত্তা সেই একই চিত্র by মারুফ কিবরিয়া

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা। রাজধানীর উত্তর বাড্ডা বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছুদূর এসেই নতুন বাজারগামী অগ্রদূত নামের একটি বাস থেকে সব যাত্রী নামিয়ে দেয়া হচ্ছে। বাস আর যাবে না। যাত্রীদের নামানোর পরপর বাসটি ঘুরিয়ে নেয়া হলো। যাত্রীরা জানতে চাইলেন চালক ও তার সহকারী কোনো উত্তর না দিয়ে নামিয়ে দিচ্ছেন। পেছন থেকে আরেক বাসের এক সহকারী এসে বললেন ‘তাড়াতাড়ি ঘুরা। সামনে সার্জেন্ট সব বাস ধরতেছে’। এভাবে একই স্থানে কমপক্ষে সাতটি বাস ঘুরিয়ে নেয়া হয়।
এর মধ্যে ছিল, অগ্রদূত  নূর-এ মক্কা, ৬নং বাস। আর এসব বাসে থাকা যাত্রীরাও পড়েন চরম দুর্ভোগে। ঘুরিয়ে নেয়ার কারণ ছিল এদের কারো বাসের লাইসেন্স ছিল না। কোনটিতে চালকের লাইসেন্স কিংবা বাসের ফিটনেস ছিল না।
এ চিত্র সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ঢাকা সিটি উত্তর করপোরেশনের মেয়র ও অন্যান্যদের সঙ্গে নিরাপদ সড়ক চাই’র আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বৈঠকের আধা ঘন্টা আগের। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেয়র আতিকুল ইসলাম ও প্রশাসনের টানা দুই দফা বৈঠক হলেও  দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি এখনো রাজধানীজুড়ে দেখা মেলেনি। উত্তর বাড্ডার ওই চিত্র ছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে সড়কে অনিয়ম চলছেই।
যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, বেপরোয়া গতিতে বাস চালিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়াসহ নানা অনিয়মের মধ্যেই রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা চলে যাচ্ছে।  সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ ও ডিএমপি নানা পদক্ষেপ নিলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা লক্ষ্য করা যায়নি।
গত বছর জুলাই মাসে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি পূরণের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ও ডিএমপির উদ্যোগে একাধিক কমিটি গঠন ও পদক্ষেপ নেয়া হলেও শুধুমাত্র সড়কে ট্রাফিক সার্জেন্টের মামলা কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষ গত ১৯শে মার্চ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রবেশ ফটকের সামনে আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এখানে সুপ্রভাত বাসের ধাক্কায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হন। এ ঘটনায় ফের শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নেন।
এবারো আট দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন তারা। এসব দাবির মুখে আন্দোলন থামাতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। মৌখিক আশ্বাসে আস্থা না পেয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলতে থাকে সে সময়। এর মাঝে শিক্ষার্থীদের  একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর সাতদিনের আল্টিমেটামের ভিত্তিতে আন্দোলন স্থগিত হয়। পরে গত ২৮শে মার্চ সাত দিনের সড়কের শৃঙ্খলার অগ্রগতি নিয়ে আবারো বৈঠকে বসেন মেয়র, বিআরটিএর চেয়ারম্যানসহ সড়ক পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা। ওইদিন সভা চলাকালীন অবস্থায় বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের খবরে বৈঠক শেষ হয়ে যায় কোন সমাধান ছাড়াই। ৪ঠা এপ্রিল ফের বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়া নিয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ অন্যান্যরা বৈঠকে বসেন। এসময় শিক্ষার্থীরা সড়কে যানবাহনের ফিটনেস টেস্টে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নে বিআরটিএকে নিয়মনীতি মেনে চলা, ঢাকা মহানগরের পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে নিয়ে আসা, চালকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া, নগরে ওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং নির্মাণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন নিয়ে আলোচনা করেন ।
টানা দুই দফা আলোচনার পরও ঢাকার কোনো সড়কে শৃঙ্খলা দেখা যায়নি। গত কয়েকদিনে সরজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর সড়কগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা থাকলেও বাস চালকরা তাদের পুরনো নিয়মেই চলছেন। শুধু অভিযানের খবর শুনলেই যখন তখন বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে ঘুরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ফলে যাত্রীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। মিরপুর থেকে গুলিস্তান-সদরঘাট রুটের বাসগুলো বেশিরভাগই সড়কে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে। বুধবার মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্ত্বরে দেখা যায় নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ থাকার পরও কোনো বাস সেখানে থামছে না। যাত্রী যেখানেই পাচ্ছে সেখানেই বাসগুলো দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠাচ্ছে। আবার কার আগে কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠাবে সেই প্রতিযোগিতাও দেখা যায়। ইউনাইটেড সার্ভিস বাসে বসে কয়েকজন যাত্রী এসব নিয়ে প্রতিবাদ করলেও চালকের সহকারী তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। অন্যদিকে বুধবারই সন্ধ্যার দিকে মালিবাগ রেলগেটে দেখা যায় খিলগাঁও থেকে আসা কয়েকটি বাস একটির সঙ্গে আরেকটি প্রতিযোগিতা করছে। একপর্যায়ে তুরাগ বাসের সঙ্গে রাইদা কোম্পানির একটি বাসের সংঘর্ষও হয়।
সড়কে এসব অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে সময় শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য সময় চেয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওই সভায় তিনি বলেন, তোমাদের দাবি-দাওয়ার সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করছি না। তবে এসব দাবি পূরণ সময়ের ব্যাপার। আমাদের আরো সময় দিতে হবে। আমরা সব দাবি দাওয়াই ধীরে ধীরে পূরণ করব। আমাদের দেখতে হবে কোথায় দ্রুত কাজ করতে হবে। আর কিছু ক্ষেত্রে তো লংটার্ম চিকিৎসা দিতে হবে। পারসেপশন বুঝতে হবে আমাদের। শিক্ষার্থীদের মতো সাধারণ জনগণকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে আতিকুল বলেন, আমাদের অনেক জঞ্জাল সরাতে হবে। নিরাপদ সড়ক পেতে গেলে- লেটস মুভ টুগেদার। সভায় মালিবাগ রেলগেইট থেকে প্রগতি সরণির কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়ককে ‘মডেল রোড’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন মেয়র। তিনি বলেন, বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এই সড়ক নিরাপদ করতে তাদের পরামর্শ দেবে। তারপর এই সড়কে কোথায় কোন স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে, তা ঠিক করা হবে।
ঢাকার সড়কে যত্রতত্র বাস থামালে দণ্ডের বিধান করা হচ্ছে জানিয়ে মেয়র বলেন, যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। বাসগুলো যদি এই যাত্রী ছাউনিতে গিয়ে না দাঁড়ায় তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিআরটিএ’র উদ্দেশে আতিকুল ইসলাম বলেন, জবাবদিহি নিশ্চিৎ করতে হবে। পুরো সিস্টেমটাকে ইমিডিয়েটলি একটা অটোমেশনের মধ্যে আনতে হবে। হালকা যানবাহনের লাইসেন্স নিয়ে কেউ যেন ভারী যানবাহন চালানোর অনুমতি না পায়। সেই সাথে ভারী যানবাহনের লাইসেন্স পেতে যে জটিলতা আছে, তাও নিরসন করতে হবে। সভায় বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। মালিকপক্ষকে চুক্তিভিত্তিক চালক নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান ঢাকা উত্তরের মেয়র।
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান বলেন, আমরা বিআরটিএকে দালালমুক্ত করতে এরইমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছি। তারা সার্বক্ষণিকভাবে বিআরটিএতে কাজ করছেন এবং অনেক দালালকে শাস্তি দিয়েছেন। ওই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই প্রধান, প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল যুবায়ের সালেহীন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক বিভাগ) মীর রেজাউল আলম, বিআরটিএ পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী প্রমুখ।

সড়কে মৃত্যুর মিছিলে আরো তিন শিক্ষার্থী

সড়কে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে আরো তিন শিক্ষার্থী। গতকাল ডেমরা ও খিলগাঁওয়ে পৃথক দু’টি দুর্ঘটনায় তারা প্রাণ হারান। নিহতরা হচ্ছে- ইবনে তাহছিম ইরাম (১৮), আব্দুল্লাহ আল নোমান (১৭) ও তার বন্ধু তাজউদ্দিন হোসেন তুহিন (২০)। দুর্ঘটনায় আবার উত্তাল হয়ে উঠে ডেমরা, রামপুরা, স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা। শিক্ষার্থীরা এ সময় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।  দিনভর এই বিক্ষোভে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।
ডেমরায় রমজান পরিবহনের বাসের চাপায় ইবনে তাহছিম ইরাম (১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ডেমরা-রামপুরা সড়কের মোস্তমাঝির মোড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে তার সহপাঠীরা ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। অবরোধের কারণে এই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত ইরাম দুপুরের দিকে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। মোস্তমাঝি মোড়ে পৌঁছানোর পর স্টাফ  কোয়ার্টার থেকে ছেড়ে আসা রমজান পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৩৬৮৭) বাস তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এসময় বাসের চাপায় ইরামের মাথা থেঁতলে যায়। ইরামকে চাপা দিয়ে বাসের চালক ও তার সহকারী পালানোর চেষ্টা করে। পরে রামপুরা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা ওই বাসসহ তার চালক শামীম ও চালকের সহকারী মুন্নাকে আটক করে।
এদিকে, বাস চাপায় ইরাম নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও তার সহপাঠিরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করে। তারা ডেমরার আমুলিয়া, স্টাফ কোয়ার্টার ও সুলতানা কামাল সেতু এলাকায় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে ও সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে ডেমরা, রামপুরা, যাত্রাবাড়িসহ আশে পাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সরজমিন দেখা গেছে, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা রামপুরা সড়কের আমুলিয়ায় গাছ, বাঁশ ও ইট দিয়ে সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে তাদের। এছাড়া এলাকার মীরাপাড়ার একটি গ্যারেজে রাখা অন্তত ৩৫টি গাড়ি ভাংচুর করে শিক্ষার্থীরা।
ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ইরাম নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রথম দিকে তারা উত্তেজিত হয়ে যানবাহন ভাংচুর করে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে তারা শান্তিপূর্ণ অবরোধ করে।
নিহত ইরাম ডেমরার আমুলিয়া পূর্ব পাড়ার মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। স্থানীয় গোলাম মোস্তফা স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি।
এদিকে,খিলগাঁও ফ্লাইওভারের বাসাবো ঢালে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রন হারিয়ে নোমান ও তুহিন নামে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। বেলা ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা দুজনেই মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। সবুজবাগ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) হেদায়েত হোসেন জানান,  বেলা ৩টার দিকে খিলগাঁও ফ্লাইওভারের বাসাবো ঢালে দ্রুত গতিতে মোটর সাইকেল চালিয়ে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়ে তারা। আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত হয় তারা দু’জন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার সময় মোটর সাইকেলটি চালাচ্ছিলো নোমান। পেছনে বসা ছিলো তুহিন। নিহত নোমান ঢাকা স্টার্ন স্কুল এন্ড কলেজ এর নবম শ্রেণীর ছাত্র। সে সবুজবাগের ৩৮০ ওহাব কলোনীর বাসিন্দা মোহাম্মদ শেখ আহমেদ মজিদের পুত্র। তার সঙ্গে নিহত তুহিন পূর্ব বাসাবো স্কুল এন্ড কলেজ এর দশম শ্রেণীর ছাত্র। সে একই এলাকার ৪০১ ওহাব কলোনীর বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেনের পুত্র। ওদিকে সারাদেশে পৃথক আরও সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল নিহত হয়েছে ৭ জন।
আশুলিয়ায় লরিচাপায় নিহত ১
সাভারের আশুলিয়ায় কনটেইনারবাহী লরিচাপায় মো. মামুন খান (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক লরিটি আটক করা গেলেও চালক পালিয়ে গেছে। গতকাল দুপুরে আশুলিয়ার জিরাবো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মামুন খানের বাড়ি বরিশাল জেলায়। সে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি দর্জির দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানায়, দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে দর্জি দোকানের কর্মচারী মামুন খান জিরাবো বাসস্ট্যান্ড এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি কনটেইনারবাহী লরি তাকে চাপা দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রূপগঞ্জে বাসচাপায় লেগুনা চালক নিহত
রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে হেলাল উদ্দিন (৪০) নামের এক লেগুনা চালক নিহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া কাঁচাবাজারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ গাড়িটি জব্দ ও ঘাতক চালককে আটক করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে লেগুনা চালক ও আড়াইহাজার উপজেলার পুরিন্দা এলাকার সাদেক আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গাউছিয়া কাঁচাবাজারের সামনে দাঁড়িয়ে লেগুনায় যাত্রী উঠার জন্য ডাকাডাকি করছিলেন। এ সময় যাত্রীবাহী প্রভাতি পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় গাড়ি জব্দ ও ঘাতক চালককে পুলিশ আটক করেছে বলে জানান হাইওয়ে পুলিশের এসআই আনিছ আহমেদ।
মিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২
কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার ভাঙ্গাবটতলা নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত হয়েছেন। গতকাল বিকেলে পাখি ভ্যান ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন, পৌরসভার নওপাড়া মহল্লার ওবাইদুল্লাহ মল্লিক ছেলে কারিবুল ইসলাম (৪২) ও খন্দকবাড়ীয়া মহল্লার মৃত লাল মহাম্মদের ছেলে মুন্নাফ (৪৮)। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কে ভাঙ্গাবটতলা নামক স্থানে বিকালে সাড়ে টার দিকে মেহেরপুর গামী ট্রাকের সাথে পাখি ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। পাখি ভ্যানের চালক মুন্নাফ ও ভ্যানে বসা থাকা কারিবুল ইসলাম ট্রাকের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন।
মানিকগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকচালক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন যাত্রী। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের শিবালয় উপজেলার মুশুরিয়া নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বরঙ্গাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়ামিন-উদ-দৌলা জানান, শুক্রবার বিকালে পাটুরিয়াগামী রাবেয়া পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা পিয়াজ বোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় এবং ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালক মারা যান।
এই দংর্ঘটনায় ১৫ জন বাসযাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকাল ৬টায় বাসের ভিতরে আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছিল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
চান্দিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১
কুমিল্লার চান্দিনায় মিনি কাভার্ড-ভ্যানের ধাক্কায় আব্দুল আলিম (২৮) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুই পথচারীসহ তিন জন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল ৯টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাধাইয়া বাজার সংলগ্ন ব্রিজের উপরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল আলিম কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ভানী গ্রামের আবুল হাসেম মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন- চান্দিনা উপজেলার সোনাপুর গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার ও দেবীদ্বার উপজেলার আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. আবু হানিফ। বরিশাল জেলার নাজিরপুর থানার ইন্দ্রেরহাট গ্রামের মৃত জামাল খানের ছেলে মিনি কাভার্ড-ভ্যানের ড্রাইভার মো. শাহিন।

ছাদে যাওয়া সম্ভব নয়, দোয়া করেন: -মৃত্যুর আগে ভাইকে হাফেজ মনির by মরিয়ম চম্পা

হাফেজ মনির হোসেন সরদার। ছোটবেলা থেকেই মার্জিত ও শান্ত স্বভাবের। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে ধীরস্থির রাখতেন। মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত নিজেকে শান্ত রেখেছেন তিনি। অবশেষে আগুনের উত্তাপ সইতে না পেরে তারের সাহায্যে নামতে গিয়ে ১০ তলা থেকে নিচে পড়ে মারা যান দুজন সহকর্মীসহ মনির। ঘটনার দিন নিহত মনিরের বড়ভাই মোয়াজ্জেম তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেন, বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ২৮শে মার্চ আনুমানিক দুপুর ১২:৩০ মিনিট। আমি ছোটভাই মনিরকে ফোন করে জানতে পারলাম আগুন ৮ম তলা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ছোটভাই মনির ১০ম তলায় আটকে আছে।
আমি বললাম ভাই তুমি সর্বশক্তি প্রয়োগ করে হলেও ছাদে উঠে যাও। ভাই বললো সম্ভব নয়। দোয়া করেন। তারপর সময় টিভির লাইভে দেখছিলাম দমকল বাহিনীর অসহায়ত্ব। আর দেখতে পেলাম আগুন ৯, ১০, ১১ তলায় পৌঁছে গেছে। তখন ভাইয়ের মৃত্যু অনুভব করে যন্ত্রণায় আমি নিজেই প্রতি মুহূর্তে একবার করে মৃত্যুবরণ করছিলাম।
মনিরের বড়ভাই মোয়াজ্জেম হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ঘটনার দিন আনুমানিক দুপুর ১টা ১০ মিনিটে ভাগ্নি ফোন করে জানায় ছোট মামা মনির আগুনে আটকা পড়েছে। তুমি মামার জন্য দোয়া করো এবং সবাইকে বলো। এর পরপরই ছোটভাই মনিরকে ফোন দেই। জানতে চাই, কি অবস্থা? মনির বলেন, আগুন তো ৮ তলা পর্যন্ত চলে আসছে। আমি ১০ তলায় আটকা পড়েছি। তখন আমি বলি, বিল্ডিংয়ে আগুন লেগেছে তুমি এখনো ১০ তলায় কেন? নিচে যেহেতু আগুন তাই তুমি তাড়াতাড়ি ছাদে চলে যাও। তখন মনির জানায়, ছাদে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। কালো ধোঁয়া এবং গভীর অন্ধকার ভেদ করে ২২ তলা উপরে উঠা সম্ভব না। একটা পর্যায়ে মনির আর কোনো কথা বলতে পারছিল না। তখন আমি শেষবারের মতো বলি, তুমি এখনো সর্বশক্তি দিয়ে উপরে উঠার চেষ্টা করো। মনির বললো, একেবারেই সম্ভব না। দোয়া করেন। এর কিছুক্ষণ পর মনিরকে আবারো ফোন দেই। কিন্তু সে ফোন রিসিভ করছিল না। এ সময় মেজোভাইকে জানালাম মনিরকে ফোনে পাচ্ছি না। তখন মেজোভাই জানায় একটু আগে মনিরের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। মনির বলেছেন, আগুন ১০ তলা পর্যন্ত চলে আসছে। জানালা খুলেছি। সামনের দিক থেকে ভেন্টিলেশনের জন্য চেষ্টা করছি। ঠিক ওই মুহূর্তে আমার পুরোনো কলিগ আতাউরকে ফোন দেই। সে মনিরের সঙ্গে একত্রে চাকরি করতো। আতাউরকে ফোন দিলে সে ফোন রিসিভ করে খুব জোড়ে চিৎকার দিয়ে বলে, হ্যালো! এরপর আর কোনো কথা বলেনি। পুরোনো আরেক কলিগ কামরুল আতাউরকে ফোন দিলে আতাউর তার সঙ্গে খুব এলোমেলোভাবে কথা বলেছে। তার কথা সঠিকভাবে বোঝা যাচ্ছিল না। দুপুর আড়াইটায় আমার মেজোভাই জানায় মনিরের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের ফ্লোর অত্যন্ত গরম হয়ে গেছে। গরমে সে দম নিতে পারছে না। এরপর আর তাকে কোনোভাবেই ফোনে পাওয়া যায়নি। তখন আমি টেলিভিশন লাইভে দেখছি আগুন ৯ তলা টপকে ১০ তলা পর্যন্ত উঠে গেছে। এর কিছুক্ষণ পর ১১ তলায় আগুন চলে আসে। তখন আমি ধরে নেই যে, আমার ছোটভাই মনির আর জীবিত নেই। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয় কিন্তু ভাইকে আর ফোনে পাচ্ছি না। এ সময় ছোট বোন বাসসের সাংবাদিক সাজেদা বেগম সাজু কুর্মিটোলা হাসপাতালে চলে যায়। তখন সাজুকে বলি তুমি কুর্মিটোলা নয় ইউনাইটেড হাসপাতালে যাও। ওখানে তিনটি ডেডবডি রয়েছে। তুমি গিয়ে চেক করে দেখো ওখানে মনিরের ডেডবডি আছে কি না। এ সময় সাজু আমার ওপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে বলে, কেন ওই ডেডবডির ভেতরে আমার ভাইকে খুঁজতে বলেন। বোনকে কোনোভাবেই বোঝানো যাচ্ছিল না যে মনির আর বেঁচে নেই। আমার এক সহকর্মী ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়ে নিশ্চিত করেন ওখানে মনিরসহ হেরিটেজের মোট তিন জনের মৃত্যুদেহ রয়েছে। নিহত তিন জনই শেষ মুহূর্তে আগুনের তাপ সইতে না পেরে বিদ্যুতের তার বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। নামার একপর্যায়ে তারা হাত ফসকে নিচে পড়ে যায় এবং তারা তিন জনই ঘটনাস্থলে মারা যায়। তাদের শরীরে পোড়া কোনো চিহ্ন ছিল না। শুধুমাত্র পা, মাথা মুখ ঠোঁটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।  ৫২ বছর বয়সি মনির হেরিটেজ এয়ার এক্সপ্রেস কোম্পানির সিনিয়র সেলস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। গ্রামের বাড়ি বরিশাল সদর। ৯ ভাই বোনের মধ্যে মনির ভাইদের সবার ছোট। মনির কোরআনের হাফেজ ছিলেন। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ১৯৮৬ সালে সৌদি আরব চলে যায়। সেখানে প্রথমে সৌদি এয়ারলাইন্সে তার চাকরি হয়। পরবর্তীতে সৌদি আরবে সেনাবাহিনীদের একটি ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত ফিলিপাইনের এক নার্সের সঙ্গে পরিচয়ের পর তারা বিয়ে করেন। সেই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর মনির আর বিয়ে করেন নি। ২০০৮ সালে মনির ঢাকায় চলে আসেন। দেশে এসে বড় ভাইয়ের একটি ট্রাভেল এজেন্সি দেখাশোনা করতেন। এরপর হেরিটেজ এয়ার কোম্পানিতে চাকরি হয়। টঙ্গিতে তার নিজের বাড়ি ও ঢাকায় থাকা অন্য ভাই বোনদের বাসা থেকে নিয়মিত অফিস করতেন।

আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থা আর বিশ্বাস অর্জন করেছে -প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। মানুষ যেহেতু বিশ্বাস রেখেছে, সেই বিশ্বাস রাখার জন্য আমরা কাজ করছি। ২০৭১ সালে আমরা হয়তো থাকব না, যারা থাকবে, উন্নত দেশের নাগরিক হিসেবে তারা স্বাধীনতার শতবর্ষ পালন করবে। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশে শান্তি ফিরিয়েছি। উন্নয়নের জোয়ার লেগেছে। পরিকল্পিত কাজ করে জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জন করেছি। সেই আস্থা আর বিশ্বাস থেকেই আওয়ামী লীগ এবারও সরকার গঠন করেছে। তিনি বলেন, জনগণ উন্নয়ন চায়।
শান্তি চায়। সুন্দরভাবে বাঁচতে চায়। আমরা দেশে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছি। যাতে আওয়ামী লীগ জনগণের আস্থা আর বিশ্বাস অর্জন করেছে। এজন্যই আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার আগে দেশে ছিল অর্থনৈতিক মন্দা। দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল বিএনপি। এদের অপকর্মে দেশ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছিল। শান্তিতে চলাফেরা করতে পারত না মানুষ। চুরি-ডাকাতি বা সন্ত্রাসবাদ এমনকি মাদকের বিস্তার ছিল দেশে। আয়ের তুলনায় ব্যয় ছিল বেশি। যে কারণে দেশের মানুষ তাদের ক্ষমতাচ্যূত করেছে।
তাদের হাতে ক্ষমতা দেয়া হলে, দেশ লুট করে খাবে- এটা বুঝতে পেরেছে জনগণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমাদের পরিচালনায় দেশে শান্তি ফিরেছে। মানুষ নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারেন। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। ক্রমবর্ধমান উন্নয়নশীল দেশের শীর্ষ পাঁচে থেকে আমরা কথা বলছি। আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। প্রবৃদ্ধিতে অনেক দেশ ছাড়িয়ে গেছি। আগামীতে ৮ এর বেশি প্রবৃদ্ধি হবে আমাদের। সেভাবেই আমরা পরিচালনা করছি। আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন,বিএনপির আমলে আমাদের নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। নির্যাতনে বাড়িঘরে থাকতে পারেননি নেতাকর্মীরা। এমনকি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। আমাদের নগদ টাকাসহ অনেক সম্পদ লুট করে নিয়ে গিয়েছিল বিএনপি। মিথ্যা মামলায় আমাদের জর্জরিত করতে চেয়েছিল। আমাদের দলীয় কার্যক্রমের কোনো সুযোগই ছিল না। কিন্তু আমরা বিএনপির নামে কোনো মিথ্যা মামলা দিচ্ছি না। খালেদা জিয়ার মামলা আমরা করিনি। এতিমের টাকা খেয়ে পার পেয়ে যেতে পারেননি, তাদেরই লোকের দেয়া মামলায় তিনি জেলে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচন করতে আসেনি। তারা বাণিজ্য ক্ষেত্র বানিয়েছিল। টাকা খেয়ে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় আগ্রহ ছিল না তাদের। নির্বাচন উপলক্ষে বাণিজ্য করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপির। যা জনগণ মেনে নিতে পারেনি। শেখ হাসিনা আরও বলেন,নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন জরিপ বলেছিল, আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসছে। আমাদেরও বিশ্বাস ছিল জনগণ আমাদের বারবার চায়। সে বিশ্বাস আমরা বাস্তবে দেখেছি। নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। ২০০৮-এর নির্বাচনেও কোনো প্রশ্ন ছিল না। এছাড়া জনগণের সেবা করতেই আমরা নির্বাচন করি। বাণিজ্যের কারণেই বিএনপি জিততে পারেনি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, লন্ডন থেকে ওহি আসে, আর সে হিসেবে বিএনপি নেতারা প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন বিপুল টাকার বিনিময়ে। এভাবে ক্ষমতায় আসা যায় না। চোর হওয়া যায়।
এসময় অগ্নিকাণ্ডের স্থানে মানুষের সেলফি তোলার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন,কোথাও আগুন লাগলে কিছু মানুষ অযথাই ভিড় করে। ফায়ার সার্ভিস যখন অগ্নিনির্বাপণে যায়, তখনও কিছু লোক সেখানে ভিড় করে,তাদের মারতে যায়,এমনকি বনানীর আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পর্যন্ত ভেঙে দিয়েছে। একেকটা গাড়ির দাম আট থেকে দশ কোটি টাকা। তারা উদ্ধারকারীদের ওপর হামলা না চালিয়ে যদি এক বালতি করে পানিও নিয়ে যেতো, তাহলেও কাজ হতো। তবে সমপ্রতি কয়েকটি আগুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও কিছু লোক দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ারের পাশাপাশি অনেক সাধারণ মানুষও নিজের দায়িত্বের জায়গা থেকে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। তবে কিছু মানুষ অযথা ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকে, তারা দাঁড়িয়ে না থেকে জায়গাটা খালি রাখলেও উদ্ধারকারীদের জন্য কাজ সহজ হয়। তিনি বলেন,অনেকে সেখানে যায়, সেলফি তোলে।
আগুন নেভানোর কাজ না করে সেলফি তুলতে যে কী আনন্দ তা আমি বুঝি না! দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আয়বৈষম্য কমিয়ে এনে উন্নয়নের ছোঁয়া যেন প্রতিটি আনাচে-কানাচে পৌঁছে যায়, আমরা সেই কাজগুলো করে যাচ্ছি। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি, এগুলো শেষ হলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। হতদরিদ্র বলে কেউ থাকবে না,তৃণমূলের মানুষদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। এখন কেউ চাইলে কিন্তু অর্থ উপার্জন করতে পারে, চাইলে কাজ করতে পারছে লোকজন।

একদিনে ৫০ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার: কড়াকড়ির মধ্যেও থামছে না কেনা-বেচা by শুভ্র দেব

জিরো টলারেন্স। মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান। ক্রসফায়ার। ইয়াবার কারখানা ধ্বংস। ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ। আইন সংশোধন। সীমান্তে কড়া নজরদারি। কোন কিছুতেই থামছে না ইয়াবার কেনা-বেচা।
একের পর এক ইয়াবার চালান দেশে ঢুকছে। পুরাতন রুট পরিবর্তন করে নতুন রুট। আকাশপথ, সড়ক পথ, রেল পথ পরিবর্তন করে এখন নৌ-পথে আনা হচ্ছে চালান। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব চালান পাঠানো হচ্ছে সারাদেশে। গ্রাম থেকে শহরের অলিগলি। সব জায়গায়ই পাওয়া যাচ্ছে মরণনেঁশা ইয়াবা। অতি লাভজনক হওয়াতে এ ব্যবসায় যোগ দিচ্ছেন নতুন নতুন মুখ।
মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা বেড়েছিল। গত বছরের  ৪ঠা মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করে র‌্যাব। ১৮ই মে থেকে পুলিশও এই অভিযান শুরু করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী ২০১৮ সালে সারা দেশে সবচেয়ে বেশি মামলা, মাদক উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্যমতে বিগত বছর মাদক আইনে সারাদেশে মোট মামলা হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার  ৮৭৮টি। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৩২৩টি। উদ্ধার করা হয়েছে ৫ কোটি ৩০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৮ পিস ইয়াবা। র‌্যাব, পুলিশের পাশপাশি এসব অভিযানে অংশ নিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্ট গার্ড। মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছেন অন্তত তিন শতাধিক মাদক কারবারী। মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরও বন্ধ করা যায়নি ব্যবসা। অভিযান চলাকালে সাময়িক কিছুদিন গাঁ ঢাকা দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।
অনেক ব্যবসায়ী দেশের বাইরে পালিয়ে ছিলেন। অভিযান কিছুটা শিথিল হওয়ার পর ফের তারা ঘরে ফেরেন। নতুন করে ব্যবসা শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে তারা নিত্য নতুন কৌঁশল বেছে নেন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেয়ার জন্য পুরাতন ব্যবসায়ীরা আড়ালে থেকে নতুন নতুন ব্যবসায়ীদের যুক্ত করা হয়। পরিচিত ক্রেতা ছাড়া মাদক কেনা-বেচা বন্ধ করে দেয়া হয়। অনলাইনে, মোবাইল ফোনে অর্ডার নিয়ে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে ইয়াবা। শুধু তাই নয় ইয়াবার চালান আনার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়। ছোট ছোট শিশুদের পেট ভাড়া করে ইয়াবার চালান আনা হত। এক ধরনের বিশেষ ফলের ভেতরের অংশ ফেলে দিয়ে তার মধ্যে ইয়াবা। ট্রাকের মুল পাটাতনের উপরে নকল পাটাতন দিয়ে তার মধ্যে ইয়াবা, তরমুজ, বিভিন্ন ধরনের সবজি, মাছের চালানে করে ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে।
বেসরকারি সংস্থা মানসের প্রতিষ্ঠাতা ডা. অরূপ রতন চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, সারাদেশে মাদক অক্টোপাসের মত ছড়িয়ে গেছে। বিগত ১০ বছরে যে পরিমান মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তা এত কম সময়ে নির্মূল করা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর থেকে প্রচুর মামলা ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্রসফায়ারে মারা গেছে অনেকে। কিন্তু এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রাঘব বোয়ালরা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। এখনও গডফাদারদের মধ্যে থেকে কাউকে আটক করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কারণ গডফাদাররা মুখোশধারী। তাদের পেছনে বৃহৎ শক্তি কাজ করছে। তাই তাদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে না পারলে মাদকের ছড়াছড়ি থামবে না। তিনি বলেন, এছাড়া দেশে বর্তমানে ৭৫ লাখ মাদকসেবী রয়েছে। এদের ফিরিয়ে আনার মত ভালো নিরাময় কেন্দ্র দেশে নেই। সে ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে ওই মাদকাসক্তরাই আরো নতুন নতুন মাদকসেবী তৈরি করবে
অপরদিকে, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১) মঙ্গলবার আট লাখ পিস ইয়াবার একটি চালান আটক করেছে। যার আনুমানিক বাজার দর ৫০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে র‌্যাব একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিনজনকে আটক করেছে। চক্রের সদস্যরা সাগর পথে ট্রলার দিয়ে ইয়াবার চালানটি পটুয়াখালী উপকূলীয় এলাকায় নিয়ে আসে। সেখান থেকে নদী পথে এবং স্থল পথে রুট পরিবর্তন করে চালানটি ঢাকায় নিয়ে আসে। তবে তারা চালানটি দুই ভাগে ভাগ করে ঢাকায় আনে। র‌্যাব সদস্যরা প্রথমে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালের সপ্তবর্ণা-১ থেকে ৫ লাখ ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুজনকে আটক করে। তারা হলেন, তুহিন হোসেন (২৫) ও মো. সবুজ (২৬)। পরে ওই দুজনের দেয়া তথ্যমতে পরে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ চক্রের আরেক সদস্য মো. শাহজাহান (৩৫) কে আটক করে।
র‌্যাবের মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেছেন, আমরা গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছি স্থলপথে কড়া নজরদারির কারনে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও বহনকারীরা এখন রুট পরিবর্তন করেছে। তিনি বলেন, আমরা আরও তথ্য পেয়েছি যে ইয়াবার এই বড় চালানে বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আসছে। দেশের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিদেশী বিনিয়োগ করানো হচ্ছে। তবে এসব বিনিয়োগের সঙ্গে কারা জড়িত সে বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার মানবজমিনকে বলেন, মাদক নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর থেকে সারা দেশে সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমরাও কাজ করে যাচ্ছি। গত বছর আমরা তালিকাভুক্ত অনেক ছোট বড় মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। এবছর নতুন সরকার গঠনের পর থেকে মাদক নির্মুলের জন্য অধিদপ্তরের ওপর চাপ বেড়েছে। ঘন ঘন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অতীতের সব সময়ের চেয়ে বর্তমানে মাদকের মামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। সারা দেশের সকল গোয়েন্দারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাদকের বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নতুন আইন নিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, আগে আইনের সীমাবদ্ধতা থাকায় মাদক মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা যেত না। আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে তারা জামিন নিয়ে বের হয়ে যেত। কিন্তু নতুন আইনে শাস্তি বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আশা করছি এই আইনের মাধ্যমে মাদকের ছড়াছড়ি কমানো সম্ভব হবে।