Wednesday, February 19, 2025
কুয়েটে হামলা: বহিষ্কার যুবদল নেতা
মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দৌলতপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতৃবৃন্দের কোন অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নিবেনা।
এতে যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
ঢাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ
শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল হামলা করেনি, ছাত্রদলের ওপরই হামলা করা হয়েছে এমন অভিযোগ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে টিএসসি থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় ঢাবি ছাত্রদলের সাথে ঢাকা কলেজসহ ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা যোগ দেন। মিছিলে নেতাকর্মীরা ‘শিক্ষা-মৌলবাদ—একসাথে চলে না’, ‘ছাত্রদলের ওপর হামলা কেন—প্রশাসন জবাব চাই’ এমন স্লোগান দেন বিক্ষোভ মিছিলটি টিএসসি থেকে ভিসি চত্বর ঘুরে ডাস চত্বর সংলগ্ন যাত্রী ছাউনির সামনে সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সহ সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আলম ভুঁইয়া ইমন প্রমুখ সভাপতি গনেষ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ই আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে যে ঐক্য হয়েছে আমরা চাই তা যেন অক্ষুণ্ন থাকে। গেটরুম গণরুমের মাধ্যমে জোর করে ছাত্রলীগের কায়দায় কোনো শিক্ষার্থীদের উপর আমরা জাতীয়তাবাদী আদর্শ চাপিয়ে দিতে চাই না। অথচ খুলনায় অতর্কিত ভাবে আমাদের উপরই হামলা হয়েছে
সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন শাওন বলেন পতিত ফ্যাসিবাদের দোসর আমাদের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।

কুয়েটে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দফায় দফায় সংঘর্ষ
কুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৫ই আগস্টের পর থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। অতীতে এই ক্যাম্পাসে রাজনীতির নামে ছাত্রলীগের সীমাহীন অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এমনকি তাদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনে একজন শিক্ষক পর্যন্ত মারা যান। বিপ্লব উত্তর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল এখানে আর ছাত্র রাজনীতি ফিরবে না। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সোমবার ছাত্রদল কুয়েটে সদস্য সংগ্রহ ফরম বিতরণ শুরু করে।
মঙ্গলবার দুপুরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে ভিসির কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে। পথিমধ্যে ছাত্রদলের কর্মীদের সাথে মুখোমুখি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এ সময় কুয়েটের পকেট গেট দিয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র, রামদা, চাপাতি, লোহার রড নিয়ে প্রবেশ করে। তারা ছাত্রদলের কর্মীদের সাথে একত্রিত হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামালা চালায়। মুহূর্তে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোটা ক্যাম্পাস। সাধারণ ছাত্রদের প্রতিরোধের মুখে ছাত্রদল কর্মীরা পালিয়ে গেলেও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সাথে কুয়েটের আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে পাল্টা হামলা করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপে একের পর শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাদেরকে কুয়েট মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।
এদিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছেন প্রীতম বিশ্বাস, শাফি, নাফিস ফুয়াদ, সৌরভ, তাওহিদুল, ইউসুফ খান সিয়াম, দেবজ্যোতি, মাহাদি হাসান, নিলয় ও মমতাহিন।
কুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাহাতুল ইসলাম বলেন, ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবিতে দুপুর ১টায় আমরা সমাবেশ ডেকেছিলাম। সেখানে বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদল হামলা চালিয়েছে। জানা গেছে, কুয়েটের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী জনৈক ইফাজ ছাত্রদলের হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষের শুরুতে ছাত্রদল কর্মীরা বলেছিল, বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোন পুলিশ প্রশাসন ক্যাম্পাসে আসবে না। তোদেরকে রক্ষা করবে কে? এই বলে তারা হামলা শুরু করে। এদিকে সংঘর্ষ শুরুর দীর্ঘ সময় পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, সেনা বাহিনীর সদস্য ও এপিবিএন, বিজিবি ও নৌ কন্টিনজেন্ট সদস্যরা কুয়েটে আসেন। এ সময় ছাত্ররা কুয়েটের মেইন গেট আটকে দিয়ে নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। দুপুর ১টায় সংঘর্ষ শুরুর দীর্ঘ চার ঘণ্টা পর বিকেল ৫টায় কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে এলো এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান রাজিব বলেন, পরিস্থিতি অতি শিগগিরই নিয়ন্ত্রণে আসবে। আমার কুয়েটের ভিসি সহ সব পক্ষের সাথে কথা বলেছি। স্থানীয়দের সাথেও কথা হয়েছে। এঁটা আর বড় রূপ নিতে না পারে সেই চেষ্টা করছি।
এদিকে কুয়েটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর বহিরাগতদের সাথে নিয়ে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ৮টায় বিক্ষোভ সমাবেশ ডাক দিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

Wednesday, April 28, 2010
দুর্বিনীত ছাত্রলীগ
এত দিন ছাত্রলীগ প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করে দিয়ে নিজেদের বাহাদুরি দেখিয়ে আসছিল। ইদানীং মারধরের জন্য বাইরের কাউকে দরকার হচ্ছে না, নিজেরাই আত্মঘাতী সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। রোববার বগুড়ার আযিযুল হক কলেজে পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে যে সংঘর্ষ হয়, তাতে ছয়জন শিক্ষার্থী আহত হন। সব কাগজেই তাদের সশস্ত্র মহড়ার ছবি ছাপা হয়েছে। ক্যাম্পাসে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে পারে না। যারা প্রতিপক্ষের ছাত্রাবাস ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রলীগের এক পক্ষ অন্য পক্ষের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা শুধু উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, শিক্ষকদের বাসেও কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। অবরোধের নামে এসব ছাত্র নামধারী বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল করে রেখেছে। তাদের সন্ত্রাসী হামলায় দুজন শিক্ষকও আহত হয়েছেন। যে ছাত্ররা শিক্ষকদের বহনকারী বাসে হামলা চালানোর মতো কাজ করতে পারে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার নেই। অবিলম্বে হামলাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও আযিযুল হক কলেজে যারা মারধর করেছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারে সোপর্দ করা হোক। অপরাধ করে শাস্তি না হওয়ার কারণেই ছাত্রলীগের কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
তাঁদের কারণে যে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, ক্ষমতাসীনদেরও তা অনুধাবন করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সহযোগী ছাত্রসংগঠনের ব্যাপারে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। ছাত্র নামধারী সন্ত্রাসীদের হাতে শিক্ষাঙ্গনকে জিম্মি রাখা কিংবা শিক্ষার সর্বনাশ ঘটতে দেওয়া যায় না। শিক্ষাঙ্গন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থানুকূল না হলে ছাত্ররাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিও কাম্য নয়। দেশের পাঁচ শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবীর বিবৃতিতেও অনুরূপ বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের বোধোদয় ঘটলে দেশ ও জাতি রক্ষা পাবে।
Friday, April 23, 2010
চবিতে ছাত্রলীগের মাস্তানি
হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের যে দাবি ছাত্রলীগ জানিয়েছে, তার সঙ্গেও কেউ দ্বিমত করছে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু সংগঠনের একজন কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়া কিংবা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করার কী যুক্তি থাকতে পারে? অবরোধ কর্মসূচির কারণে সব পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত হয়ে গেছে। ভয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এর দায়দায়িত্ব কে নেবে?
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে ছাত্রলীগের কর্মীরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চলেছেন। কথায় কথায় ধর্মঘট-অবরোধ ডেকেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না, ছাত্রছাত্রীদেরও সেসব কর্মসূচি পালনে বাধ্য করছেন। মঙ্গলবার তাঁরা শিক্ষকদের পরিবহনে ব্যবহূত একটি বাস প্রথমে ভাঙচুর করেন এবং পরে পুড়িয়ে দেন। এভাবে কোনো উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। ছাত্রলীগের এক নেতা সাফাই গাইতে গিয়ে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রলীগ কর্মী এ কাজ করেননি, শহরের কোনো কর্মী করেছেন কি না, তা তাঁর জানা নেই।
এভাবে নিজেদের দুষ্কর্মকে আড়াল করা যাবে না। তাঁদের মাস্তানি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে এর আগেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-ক্লাস বন্ধ থেকেছে। তাঁরা নিত্যনতুন আবদার তুলছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বাস পোড়ানোর ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা-ক্লাস যাতে চালু থাকে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই। প্রয়োজনে ক্যাম্পাসে আরও পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। কতিপয় ছাত্র নামধারী মাস্তানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কাছে হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংস হতে দেওয়া যাবে না।
Thursday, April 22, 2010
যশোরে যুবলীগের কর্মী খুন
বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছে আওয়ামী লীগ। দিনবদলের অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এলেও দলের নেতা-কর্মী আর যুবলীগ ও ছাত্রলীগের লাগামহীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে, পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির আবর্তেই রয়ে গেছে আওয়ামী লীগ। পুরোনো সেই রাজনীতির ছায়া বারবার দেখা যাচ্ছে দল এবং এর সহযোগীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেও। এসব দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে আদর্শের লেশমাত্র নেই, আছে কেবল ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি নিশ্চিত করার আকাঙ্ক্ষা।
ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেশে কায়েম আছে, তা বদলানোর তাগিদ আজ সর্বজনস্বীকৃত। দলীয় সংস্কৃতি ও নেতা-কর্মীদের আচরণ বদলানোর প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে খোদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও সম্প্রতি বলেছেন, ‘দেশ বদলাতে হবে, তবে তার আগে আওয়ামী লীগকে বদলাতে হবে। আওয়ামী লীগ বদলালেই দেশ বদলে যাবে।’ তিনি আরও বলেছেন, নেতৃত্ব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে চায়। কিন্তু সেই বদলের লক্ষণ কই? আমাদের হতাশ না হয়ে উপায় থাকে না, যখন দলীয় কোন্দলে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটে। এই সংস্কৃতি বদলাতে সরকারের বিশেষ তৎপরতা দেখা যায় না, আর প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও সন্ত্রাস, খুন চলতেই থাকে।
কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে কেবল যশোরেই নয়, সারা দেশেই আওয়ামী লীগের ভেতর এ রকম দ্বন্দ্ব আছে। এসবের পেছনে নিজের বা নিজেদের আখের গোছানোর প্রশ্নটিই প্রধান। রাজনীতির এসব বিবাদ যখন যশোরের এই ঘটনার মতো সহিংস হয়ে ওঠে, তখন তা নাগরিক জীবনে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ দিকটিই জনগণের জন্য বিশেষ উদ্বেগের। তাই পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
Tuesday, April 6, 2010
লেজুড়বৃত্তির এই ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে হবে -ছাত্ররাজনীতি by বদিউল আলম মজুমদার
ছাত্ররাজনীতির গলিত শব থেকে নিঃসরিত পূতিগন্ধ আজ সারা দেশে এক অসহনীয় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বস্তুত চরম পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত ছাত্ররাজনীতি বর্তমানে বেসামাল পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু ছাত্ররাজনীতির তো এমন দুরবস্থা অতীতে ছিল না, মতিয়া আপাদের সময়ে তো নয়ই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেই, বিশেষত গত দুই দশকের গণতান্ত্রিক শাসনামলে ছাত্ররাজনীতির চরম অবক্ষয় ঘটেছে। এর বিরূপ প্রভাব মূল দলের ওপরও পড়ছে, কারণ ছাত্রসংগঠনের ক্যাডাররা দলে আধিপত্য বিস্তারে নেতাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।
আমাদের দেশে ছাত্ররাজনীতির সূচনা হয়েছে অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের অনুকরণে। বিশ্বখ্যাত ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত ছাত্র সংসদে (যেমন অক্সফোর্ড ইউনিয়ন) নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ছাত্রছাত্রীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাঁদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে সংসদের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন ধরনের ‘এক্সট্রা কারিকুলার’ বা পাঠ্যসূচিবহির্ভূত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে। তারা কোনোভাবেই দলীয় রাজনীতির লেজুড় হিসেবে ব্যবহূত হয় না।
রাজনৈতিক দলের লেজুড় হিসেবে কাজ করেনি বলেই আমাদের ছাত্রছাত্রীরা অতীতে জাতির ক্রান্তিলগ্নে ঐতিহাসিক অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছিল। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলনে তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পেরেছিল। কিন্তু বর্তমানে ছাত্ররাজনীতির নামে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্নভাবে চরম বিশৃঙ্খলা ও দ্বন্দ্ব-কলহে লিপ্ত। আরও লিপ্ত চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, খুনখারাবির মতো অপরাধী কর্মকাণ্ডে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইডেন ও বদরুন্নেছা কলেজের ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যকার মারামারির পেছনে রয়েছে ভর্তি ও সিট-বাণিজ্য থেকে অর্জিত টাকার ভাগাভাগি এবং নেতাদের কাছ থেকে ফায়দা আদায়ের লক্ষ্যে ছাত্রীদের অনৈতিক কাজে জোর করে ব্যবহার নিয়ে কলহ। আমরা যারা এককালে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলাম, তাদের কাছে এ ধরনের পঙ্কিলতা অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয় ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কিন্তু কেন ছাত্ররাজনীতির এ চরম অবক্ষয়? কীভাবে তা ঘটল? এর জন্য দায়ীই বা কারা?
আমাদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদকেন্দ্রিক কার্যক্রম এখন সম্পূর্ণই অনুপস্থিত। এমনকি বহুদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় না। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে অতীতের ছাত্ররাজনীতির পরিবর্তে বর্তমানে ‘ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের রাজনীতি’ বিরাজ করছে। এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গঠিত তাদের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনগুলোকে ‘বি-টিম’ হিসেবে ব্যবহার করছে। আর ছাত্রদের নেতা-নেত্রীরা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহার করছে মিছিল-মিটিংসহ অন্যান্য অনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করার মাধ্যমে। প্রতিদানে তারা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, এমনকি ছিনতাই ও সন্ত্রাসের মতো বিভিন্ন ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হওয়ার লক্ষ্যে। তাই অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনগুলোর নামে বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যে অপকর্মের ‘দুষ্টচক্র’ বিরাজ করছে, তাকে কোনোভাবেই ছাত্ররাজনীতি বলা যায় না। বরং তা অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ছাত্ররাজনীতির জন্য চরম কলঙ্ক।
বিরাজমান ছাত্ররাজনীতি যে অতীতের ধারা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এগুলো যে ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে পরিচালিত হয় না, তা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় এগুলোর নেতৃত্বের দিকে তাকালেই। আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃত্বে রয়েছেন মূলত অছাত্ররাই। উদাহরণস্বরূপ, ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতির বয়স ৪৭ বছর, যিনি গত সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন। তিনি বিবাহিত, এক সন্তানের জনক এবং পেশায় ব্যবসায়ী। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকও বিবাহিত এবং পেশায় ব্যবসায়ী। একইভাবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ১৭১ জনের মধ্যে ১০৩ জনই বিবাহিত, ১০২ জনের বয়স পঁয়ত্রিশের ওপরে এবং ১৫০ জনের ছাত্রত্ব নেই, যদিও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অছাত্ররা সংগঠনের সদস্য থাকতে পারে না (প্রথম আলো, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১০)।
প্রথম আলোর উপরিউক্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। সংগঠনের গঠনতন্ত্রে ২৯ বছরের বেশি বয়স্কদের নেতৃত্বে থাকার ওপর বিধিনিষেধ থাকলেও ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বয়স পঁয়ত্রিশের কোঠায়। এ ছাড়া ৮৭টি জেলা কমিটির মধ্যে ৮২টির নেতৃত্বে রয়েছে অছাত্ররা। উপরন্তু বিবাহিতদের সংগঠনের সদস্য হওয়ার অযোগ্য হলেও ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের কমিটির একটি বিরাট অংশই বিবাহিত। ছাত্রদলের মতো ছাত্রলীগের কমিটিগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ এবং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বও অছাত্রদের কাঁধে। ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সম্প্রতি ইস্তফা দেয়া সাধারণ সম্পাদক উভয়ই অছাত্র, যদিও গঠনতন্ত্রে অছাত্রদের সংগঠনের সদস্য থাকার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এমনকি বাম ছাত্রসংগঠনগুলোও বর্তমানে অছাত্রদের দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমান ছাত্ররাজনীতিতে অল্পসংখ্যক ছাত্রছাত্রী প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং তারা কোনোভাবেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব করে না। অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষত বড় দলগুলোর ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের জোর করে মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করানো হয়। ভর্তি ও সিটের বিনিময়ে অনেক নিরীহ ছাত্রছাত্রী এই সংগঠনগুলোর সঙ্গে জড়িত হতে বাধ্য হয়। নিরাপত্তার খাতিরেও অনেক ছাত্রছাত্রীকে ছাত্রসংগঠনে নাম লেখাতে হয়।
ছাত্ররাজনীতির বর্তমান অবক্ষয়ের জন্য মূলত দায়ী আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর দেউলিয়াপনা। দেউলিয়াপনার কারণেই আমাদের রাজনীতি ক্রমাগতভাবে নিয়মতান্ত্রিকতার ধারা ছেড়ে রাজপথে স্থান নিয়েছে। মিছিল, ধর্মঘট, হরতাল, অবরোধ ইত্যাদির মূল হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আর এ কাজে ছাত্রছাত্রীরা মূলত ‘লাঠিয়াল’ হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। নেতা-নেত্রীদের নিজেদের পুত্র-কন্যাদের পরিবর্তে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েদেরই এ লাঠিয়ালির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতির কারণে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ সেখানে বহুলাংশে অনুপস্থিত। নিয়মিত ক্লাস হয় না, যথাসময়ে পরীক্ষা হয় না, পরীক্ষার ফলও যথারীতি প্রকাশিত হয় না। সেশনজট এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অসংখ্যক ছাত্রছাত্রীর জীবনের শ্রেষ্ঠ বছরগুলোর একটি অংশ অপচয় হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী ছাত্রছাত্রী ও পরিবারগুলোই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, পুরো জাতির মেধার বিকাশ এবং উৎপাদনশীলতাও ব্যাহত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ছাত্ররাজনীতিই নয়, শিক্ষক-রাজনীতিও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানের অবনতির অন্যতম কারণ। অনেক শিক্ষকই, বিশেষত দলবাজির সঙ্গে যুক্ত অনেকে এখন আর নিয়মিত ক্লাস নেন না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগ হয় না, হয় ভোটার নিয়োগ। এ ছাড়া কোনো শিক্ষক দায়িত্ব পালন না করলে কিংবা গর্হিত কাজে লিপ্ত হলেও দলীয় বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। উপরন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মুক্তচিন্তার পাদপীঠ না হয়ে এখন দলীয় রাজনীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
বিরাজমান ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের রাজনীতি ইতিমধ্যে আমাদের অনেক ক্ষতি সাধন করেছ। শিক্ষার মানে ধস নামানো এবং সেশনজট সৃষ্টি ছাড়াও এর কারণে অনেক প্রাণ অকালে ঝরে পড়েছে। একটি হিসাবমতে, ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই শ নীতি-আদর্শবিবর্জিত তথাকথিত ছাত্ররাজনীতির বলিতে পরিণত হয়েছে। ছাত্রলীগের অন্তঃকলহের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরীহ ও মেধাবী ছাত্র আবু বকর, যশোরের রিপন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের নৃশংস হামলায় নিহত ছাত্রলীগের কর্মী ফারুক এ মৃত্যুর মিছিলে সর্বশেষ সংযোজন।
আমাদের আশঙ্কা, সহিংসতা ও মৃত্যুর মিছিলের এখানেই শেষ নয়, এটি এগিয়ে চলবে এবং আরও বিস্তৃত পরিসরে। নেতা-নেত্রীদের ক্ষুদ্র স্বার্থে পরিচালিত ছাত্ররাজনীতি-কেন্দ্রিক সহিংসতার আগুন দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে, বিশেষত ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে অবস্থিত ছাত্রলীগের অন্তঃকলহের মাধ্যমে, যার আলামত ইতিমধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে। কারণ এ আগুনে, ফায়দা বিতরণের মাধ্যমে, ক্রমাগতভাবে ঘি ঢালা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের, বিশেষত ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে ফায়দা পাওয়া কিংবা দলের ছত্রচ্ছায়ায় অনেকটা নিরাপদে ভর্তিবাণিজ্য-সিটবাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, দখলদারি ইত্যাদি গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়াই বর্তমানের ছাত্ররাজনীতির মূল আকর্ষণ। এসবের আকর্ষণেই ছাত্র নামধারী অনেক অবাঞ্ছিত ব্যক্তি এখন ছাত্রলীগের দিকে ছুটছে। মাননীয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের আশঙ্কা অনুযায়ী, শিবিরের ক্যাডাররা সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগে যোগ দিলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই, কারণ ভাত ছিটালে কাক আসবেই ।
কিন্তু নীতি-আদর্শের পরিবর্তে ভাত ছিটিয়ে কাক জড়ো করার পরিণতি অনিবার্যভাবে অশুভ। কারণ ভাত বা বিতরণ করার মতো ফায়দার পরিমাণ সীমাহীন নয়। আর যতক্ষণ ফায়দা পাওয়ার সম্ভাবনা বিরাজ করবে কিংবা অন্যায় ও অনৈতিক কাজ করে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে পার পেয়ে যাওয়া যাবে, তত দিন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের মতো সহযোগী সংগঠনে যোগ দেওয়ার আকর্ষণ অব্যাহত থাকবে। ফলে সীমিত পরিমাণের ফায়দা লাভের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে, যা সহিংসতায় রূপ নিতে বাধ্য। এভাবে সহিংসতার ব্যাপ্তি এবং অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটবে।
এটি আজ সুস্পষ্ট যে বিরাজমান স্বার্থপরতার ছাত্ররাজনীতি জাতি হিসেবে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। আমাদের রাজনীতিবিদেরা এ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। এ কারণেই, যতটুকু মনে পড়ে, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আগের মেয়াদে বিরোধী দলের সম্মতি সাপেক্ষে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এবার তা করার অপূর্ব সুযোগও সৃষ্টি হয়েছিল। সব রাজনৈতিক দলের পরামর্শক্রমে জারি করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অধ্যাদেশ, ২০০৮-এর বিধান অনুযায়ী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠন থাকা বেআইনি। নবম জাতীয় সংসদ প্রথম অধিবেশনেই এ বিধান বলবত্ রেখে অধ্যাদেশটি অনুমোদন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোনো রাজনৈতিক দলই আইনের এ বিধানটি মানেনি এবং নির্বাচন কমিশনও এ ব্যাপারে কোনোরূপ উচ্চবাচ্য করেনি, যদিও কমিশন সমপ্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি লিখেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই প্রথম ছাত্রলীগকে অঙ্গসংগঠনের পরিবর্তে সহযোগী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে একটি অনৈতিক খেলা খেলেছে, যদিও আইন অনুযায়ী অঙ্গ ও সহযোগী উভয় ধরনের সংগঠনই থাকাটা বেআইনি। বিএনপি অবশ্য আনন্দচিত্তেই সর্বক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগকে অনুসরণ করেছে। অর্থাৎ জনস্বার্থের বিপক্ষে অনৈতিকতার আবারও বিজয় হলো! শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদেরা সজ্ঞানেই তা করলেন!
পরিশেষে, মাননীয় কৃষিমন্ত্রীর বিরাজমান ছাত্ররাজনীতিকে গলিত শবের সঙ্গে তুলনায় দেশের অধিকাংশ জনগণ একমত। গলিত শবের কোনো চিকিৎসা হয় না, এর পুনর্জীবনও ঘটানো যায় না। জরুরি ভিত্তিতে এর কবর দিতে হয়। তেমনিভাবে বর্তমানে চরম পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত ছাত্রদের ব্যবহারের রাজনীতির সংস্কারও সম্ভব নয়। সম্ভব নয় এর লাগাম টেনে ধরে বা অপরাধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত কিছু ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে আনা। যত দিন ফায়দাবাজির রাজনীতি বজায় থাকবে, রাজনীতিবিদেরা ছাত্রছাত্রীদের লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করবে এবং ছাত্রছাত্রীরা রাজনৈতিক দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে, অর্থাৎ লেজুড়বৃত্তির ছাত্রসংগঠন বিরাজমান থাকবে, তত দিন ছাত্র সংসদ-কেন্দ্রিক সুস্থ ও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্ররাজনীতি গড়ে উঠবে না। শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ফিরে আসবে না, শিক্ষার মানে উন্নতি ঘটবে না, এমনকি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজও ত্বরান্বিত হবে না। তাই জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইনের ৯০(গ) ধারা প্রয়োগ করে অবিলম্বে বর্তমানের লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য আমরা সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ জানাই, যাতে ভবিষ্যতে দেশে সত্যিকারের কল্যাণমুখী ছাত্ররাজনীতির বিকাশ ঘটতে পারে। উল্লেখ্য, দণ্ডবিধির ১৫৩(খ) ধারার অধীনেও বিরাজমান ছাত্রদের ব্যবহারের রাজনীতি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’।
Saturday, February 27, 2010
লেজুড়বৃত্তির অবসান কি একদম অসম্ভব by মশিউল আলম
এসব প্রশ্ন আর এ নিয়ে নানা রকমের জল্পনাকল্পনা এখন রাজনীতির অঙ্গনে চলছে। তা চলুক; এই লেখায় আলোচনা করতে চাই এমন একটি প্রসঙ্গ, যা শুধু ইসলামী ছাত্রশিবির নয়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগকেও স্পর্শ করবে।
প্রথমে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদকসহ ২৬ জন নেতার গণপদত্যাগের বিষয়টি লক্ষ করা যাক। এই ছাত্রসংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের মোট সদস্যসংখ্যা ৪১। এর মধ্যে ২৬ জন পদত্যাগ করলেন। অর্থাত্ পদত্যাগ করলেন অর্ধেকেরও বেশি; তাঁদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক, অর্থাত্ দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় নেতাও আছেন। শিবিরের সভাপতি রেজাউল করিমের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে তাঁরা পদত্যাগ করেছেন বলে পদত্যাগকারী একাধিক নেতার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতাই যদি মূল আপত্তির বিষয়, তাহলে তাঁকে ইমপিচ (অভিশংসন) করাই তো ছিল যুক্তিসংগত পদক্ষেপ; এবং সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে সেটা অবশ্যই হতে পারত। কারণ ছাত্রশিবিরের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কার্যকরী পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য মিলিতভাবে এটা করার অধিকার রাখেন। কিন্তু সভাপতিকে অভিশংসন না করে নিজেরাই কেন পদত্যাগ করলেন অধিকাংশ সদস্য? এই প্রশ্নের উত্তরে পদত্যাগকারী তিন নেতা প্রথম আলোর প্রতিবেদককে বলেছেন, তাঁরা শিবিরের সভাপতি রেজাউল করিমের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের জানিয়েছিলেন, কিন্তু নেতারা তাতে কর্ণপাত করেননি। তাই তাঁরা নিজেরাই সরে এসেছেন। অর্থাত্ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পরিপূর্ণ আনুগত্য ও নির্ভরশীলতা জামায়াতে ইসলামীর ওপর। ছাত্রসংগঠনটির অধিকাংশ সদস্য একজোট হয়েও জামায়াতের নেতাদের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারেন না। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ কয়েকজন নেতা শিবির-সভাপতি রেজাউল করিমকে দিয়ে ছাত্রসংগঠনটিকে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করছেন—এমন অভিযোগ তাঁরা তুলেছেন; কিন্তু কার্যকর প্রতিকারে সচেষ্ট না হয়ে নিজেরাই সরে গেছেন; খোদ সংগঠন থেকেই বিদায় নিয়েছেন। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এই: ইসলামী ছাত্রশিবির স্বতন্ত্র কোনো ছাত্রসংগঠন নয়, প্রকৃতপক্ষে জামায়াতে ইসলামী নামের একটি নিবন্ধিত জাতীয় রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তে পরিচালিত একটি অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন। জামায়াতের ওপরই নির্ভর করে শিবিরের অস্তিত্ব, জামায়াত নেতাদের অঙ্গুলিহেলনেই কাজ করেন শিবিরের নেতা, কর্মী ও সমর্থকেরা।
এটা বেআইনি। সরকার এ বিষয়ে আইনি প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। তেমন আইন এখন বলবত্ আছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধিত) আইন ২০০৯-এর ৯০ (১) (খ) ধারা অনুযায়ী যদি কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিবন্ধিত হতে চায়, তাহলে তার গঠনতন্ত্রে এই সুস্পষ্ট বিধান থাকতে হবে যে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা ছাত্র বা আর্থিক, বাণিজ্যিক বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী-কর্মকর্তা বা শ্রমিক বা অন্য কোনো পেশার সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন হিসেবে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ...। জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দল। ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর কোনো ধরনের কর্তৃত্ব করার এখতিয়ার তাদের নেই। যদিও তাদের গঠনতন্ত্রে অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের উল্লেখ নেই, কিন্তু শিবিরের একাধিক পদত্যাগী নেতা অভিযোগ করেছেন, মুজাহিদসহ জামায়াতের কয়েকজন নেতা ছাত্রশিবিরকে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করছেন। তাঁরা এ অভিযোগটি লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে পারতেন।
কয়েক দিন আগে বিএনপির চেয়ারপারসন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাদের তিন সপ্তাহের মধ্যে ছাত্রসংগঠনটির স্থায়ী গঠনতন্ত্র তৈরি করার নির্দেশ দিয়ে বললেন, এখন থেকে শুধু ছাত্ররাই ছাত্রদলের নেতৃত্বে থাকবে, যাঁদের ছাত্রত্বের মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে, তাঁরা যাবেন বিএনপি ও যুবদলে। প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বিএনপির চেয়ারপারসন ছাত্রদলের নেতাদের এমন নির্দেশ দেওয়ার অধিকার রাখেন কি না। কোনোভাবেই না। বিএনপিও একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। আইনত তার কোনো সহযোগী বা অঙ্গসংগঠন থাকতে পারে না।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিয়েও আওয়ামী লীগ সরকার যারপরনাই বিব্রত। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকবার ছাত্রলীগের ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একবার আক্ষেপ করে বলেছেন, ছাত্রলীগের ছেলেরা চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করলে তাঁর দুঃখ হয়। তিনি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্রধানের পদটিও ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু ছাত্রলীগ এখনো সরকারি দল আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণেই চলছে, যদিও এই নিয়ন্ত্রণ কতটা কঠোর তা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ ছাত্রলীগের নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে সরকারের জন্য বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্বি আদেশ আইন ২০০৯-এর রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনসংক্রান্ত ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটছে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের ওপর আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রত্যক্ষ কর্তৃত্বের মধ্য দিয়ে। অন্যান্য ছোট ছোট রাজনৈতিক দল ও তাদের অনুসারী ছাত্রসংগঠনগুলোর তত্পরতা ততটা দৃশ্যমান নয় যদিও, কিন্তু তাদেরও বাদ দেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির গঠনতন্ত্রে অঙ্গ/সহযোগী সংগঠনসংক্রান্ত ধারায় আইনের নিবন্ধনসংক্রান্ত শর্ত সুস্পষ্টভাবে লংঘন করা হয়েছে। বিএনপির গঠনতন্ত্রে পরিষ্কার বলা হয়েছে: ‘দলের এক বা একাধিক অঙ্গসংগঠন থাকতে পারে। এই সকল অঙ্গসংগঠনের নিজস্ব ঘোষণাপত্র, গঠনতন্ত্র, পতাকা ও কার্যালয় থাকবে এবং এইসকল অঙ্গসংগঠন মূল দলের শৃঙ্খলার আওতাধীন থাকবে।’ বিএনপির চেয়ারপারসনকে কার্যত সব অঙ্গসংগঠনের সর্বময় নিয়ন্ত্রকের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে অঙ্গসংগঠনের বদলে আছে সহযোগী সংগঠনের কথা: ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নীতিনির্ধারণ করিবে।...সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সম্পাদক সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম তদারক ও সমন্বয় সাধন করিবেন।’
আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটছে সবার চোখের সামনেই। ছাত্রসংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর ইচ্ছামতো ব্যবহার করা এমনই চিরাচরিত প্রকাশ্য ব্যাপার হয়েছে যে এর বিরুদ্ধে আইন আছে—এ কথাই কারোর স্মরণে আছে বলে মনে হয় না। নির্বাচন কমিশনও কখনো এ বিষয়ে কোনো কথা বলেছে বলে শুনিনি। তবে জানতে পেরেছি, কমিশন এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন, আইনি ব্যাপারগুলো খতিয়ে দেখছে।
আইন আছে, কিন্তু তার প্রয়োগ নেই—তাহলে আইন করার কী মানে দাঁড়ায়? রাজনৈতিক দলগুলো অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে অনুগ্রহ বিতরণ ও তার বিনিময়ে দলের শক্তিবৃদ্ধির যে চর্চা করে আসছে, তার অবসান ঘটানোর জন্য অঙ্গ/সহযোগী সংগঠন রাখাকে নিষিদ্ধ করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইনে সংশোধনী আনার সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আলোচনা করেছিল, একতরফাভাবে তাদের ওপর এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো তাতে রাজিও হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কার সংশোধিত অধ্যাদেশটি তাই নবম সংসদে অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস করা হয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি ইতিবাচকভাবে বদলে দেওয়ার জন্য খুব শক্তিশালী এ আইনি হাতিয়ার জাতিকে উপহার দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার প্রশংসা পেয়েছে। কিন্তু এখন আইনটির অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে প্রায় অকার্যকর করে দেওয়া সত্যিই দুঃখজনক। আইন প্রয়োগ করার দায়িত্ব সরকারের, কিন্তু সরকারি দল নিজে ছাত্রসংগঠনকে সহযোগী সংগঠন হিসেবে রেখে তো অন্যদের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ করতে পারে না।
রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হয়েছিল তার কিছুমাত্র অংশ পূরণের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এটা খুবই হতাশার কথা। কিন্তু আওয়ামী লীগ এমন একটি ঐতিহ্যবাহী ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন, যার কাছ থেকে পরিবর্তন প্রত্যাশা করা উচিত। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যে অভূতপূর্ব বিজয় ঘটেছে, তা কি দলটির প্রতি বিপুল জনসমর্থনের প্রত্যক্ষ প্রমাণ নয়? এই সমর্থনের জোরে আওয়ামী লীগ লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির অবসান ঘটাতে প্রথম পদক্ষেপটা অবশ্যই নিতে পারে। সহযোগী সংগঠনের নামে যেসব আপদ আওয়ামী লীগ ও তার সরকারের জন্য বারে বারেই বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, তাদের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে আওয়ামী লীগ পথ দেখাতে পারে। চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, জবরদখলকারী, সন্ত্রাসীদের ওপর থেকে সব ছত্রচ্ছায়া তুলে নিলে সরকারি দল ও সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন অনেক বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে বাড়বে সরকারের নৈতিক বল, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তখন কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকবে না। নিজেদের যেসব দুর্বলতা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হিসেবে কাজ করে, সহযোগী সংগঠনগুলোকে বিলুপ্ত করার মধ্য দিয়ে সরকার সেগুলোর অনেকটাই সরিয়ে ফেলতে পারে। এটা করা আওয়ামী লীগের পক্ষে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি সহজ। কারণ এ দলের জনভিত্তি খুব গভীর ও বিস্তৃত।
মশিউল আলম: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
mashiul.alam@gmail.com
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2009)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...