Monday, March 10, 2014

সংস্কৃতি- সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার দায় by সাইফুদ্দীন চৌধুরী

সোনারগাঁয়ের লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে মাসব্যাপী লোক উৎসব শুরু হয়েছে। সেখানকার অনুষ্ঠানে দাবি উঠেছে ‘ফোকলোর ইনস্টিটিউট’ ও ‘ফোকলোর জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার। বক্তারা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, একালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের জোয়ারে দেশে এযাবৎ গড়ে ওঠা সব ঐতিহ্যই হারিয়ে যাবে। তাঁরা জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রিত সংস্থা ‘আঙ্কটাড’-এর বাণিজ্য ও বিনিয়োগের আন্তর্জাতিক উদ্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এতে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর শঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কল্যাণ হবে তো কেবল উন্নত দেশগুলোর। পক্ষান্তরে হাজার হাজার বছর ধরে এ দেশে যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তৈরি হয়ে এসেছে, তা হুমকির সম্মুখীন হবে।

নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় ভূমিকা কই?- উপজেলা নির্বাচন ও অস্ত্রবাজি

১৫ মার্চ তৃতীয় দফা উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে যেমন আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে, তেমনি অস্ত্র হাতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকের ওপর হামলা ও ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে এমন বলা যাবে না।

খোলা হাওয়া- ‘আঁধার ভাঙার শপথ’ by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

শনিবার পুরো দিনটি তোলা ছিল নারীদের জন্য, যেমন বছরের একটি দিন তোলা থাকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য, যদিও এ দুই দিন নারী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অবস্থার কোনো হেরফের হয় না। শনিবারজুড়ে নারীরা অত্যাচার সয়েছেন ঘরে, অপমান সয়েছেন বাইরে, অধিকারবঞ্চিত হয়েছেন ঘরে ও বাইরে। অবশ্য এদিন তাঁদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠান হয়েছে, গোলটেবিল-টক শো হয়েছে।

পাকিস্তান- তালেবানের আরেকটি ফাঁদ? by নাজাম শেঠি

তালেবানের ঘাঁটি ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তানি সৈন্যের সতর্ক অবস্থানখুনে তালেবানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো ভালো হবে, না খারাপ হবে—এ নিয়ে মাসের পর মাস পাকিস্তানের সরকার, রাজনৈতিক দলগুলো ও সংবাদমাধ্যম যখন দোদুল্যমানতায় ভুগেছে, তখন তালেবান গোষ্ঠীগুলোর মোর্চা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (সংক্ষেপে পাকিস্তানি তালেবান) সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে অস্ত্রবিরতির ধারণাটি সোজাসাপটা নাকচ করে দিয়েছিল।

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আশুলিয়ার চার গ্রামের মানুষ- দূষণে বিপর্যস্ত জনপদ by পার্থ শঙ্কর সাহা

ঘরের চাল ও বেড়ার টিন, কোমরবন্ধনীর (বেল্ট) স্টিলের অংশ, মুঠোফোনের চার্জারের পিন, বাইসাইকেল—সবকিছুতেই মরচে ধরছে। বছর না ঘুরতেই ঝাঁজরা হয়ে যাচ্ছে ঘরের টিন। মানুষের তাহলে কী হাল? খোসপাঁচড়ায় শারীরিক স্বস্তি উধাও। মানুষের চামড়াও ঝাঁজরা হওয়ার জোগাড়!

‘ইরাকে অস্থিরতার জন্য দায়ী সৌদি ও কাতার’

নুরি আল-মালিকি
ইরাকে সুন্নি জঙ্গিদের প্রকাশ্যে অর্থায়ন করছে সৌদি আরব ও কাতার। এর মাধ্যমে তারা কার্যত ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি ফ্রান্স ২৪ টেলিভিশনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগ করেন। গত শনিবার তাঁর সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে আনবার প্রদেশে জঙ্গি-সেনাবাহিনী লড়াই শুরুর পর এটি মালিকির সবচেয়ে কড়া মন্তব্য। ইরাকে মালিকির সরকার শিয়াপন্থী। ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে আনবার প্রদেশের দুটি প্রধান শহর ফালুজা ও রামাদিতে আল-কায়দাপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দি লেভান্টের (আইএসআইএল) বিরুদ্ধে লড়াই করছে। গত জানুয়ারিতে একজন সুন্নি আইনপ্রণেতাকে গ্রেপ্তারের পর এ লড়াই শুরু হয়।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দমন করতে তাঁকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় স্থানীয় বিভিন্ন উপজাতি গ্রুপ। ইরাকে চলমান সহিংসতার সঙ্গে সৌদি আরব ও কাতারের সম্পৃক্ততা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মালিকি টেলিভিশনকে গত শনিবার বলেন, ‘আমি ইরাকি সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধের জন্য তাদের অভিযুক্ত করছি। আমি আল-কায়েদা নেতা ও চরমপন্থীদের প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য তাদের অভিযুক্ত করছি।’ মালিকি অভিযোগ করেন, ইরাকে যুদ্ধের জন্য জিহাদিদের উদ্বুদ্ধ করতে সৌদি আরব ‘কমিশন’ দিচ্ছে। পাশাপাশি সিরিয়ায় তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধেও আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের সৌদি আরব ও কাতার ইন্ধন দিচ্ছে। রয়টার্স ও এএফপি।

দেশে মানবাধিকার বলে কিছু নেইঃ খালেদা জিয়া

দেশে মানবাধিকার নেই বলে অভিযোগ করেছেন ১৯ দলীয় জোট নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, সারাদেশে প্রতিনিয়ত মানুষ খুন-গুম হচ্ছে। জোর করে ক্ষমতায় বসে সরকার সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দিচ্ছে আর বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জেলে পুরছে। আমাদের প্রত্যেক নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে ৫০-৬০টি মামলা। অথচ এ সরকার ৩০ জন ফাঁসির আসামিকে ছেড়ে দিয়েছে।

১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন মন্ত্রী

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার একটি মামলার শুনানিকালে মন্তব্য করেছিলেন, রাজনীতিতে চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই। গত শনিবার যেন সেই আবেদনে সাড়া দিলেন পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী ও কট্টর সিপিএমবিরোধী নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। পুরোনো বক্তব্য থেকে তিনি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন। গত শনিবার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাতে তৃণমূলের এক কর্মিসভায় জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ভোটের জন্য সিপিএমসহ সবার বাড়িতে যান।
একজন সিপিএম করতেই পারেন। কিন্তু তাঁর বাড়িতে পাঁচবার গেলে তাঁর ভোট তৃণমূলের বাক্সে আসবে। অথচ ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের খাদ্যমন্ত্রী হওয়ার পর জ্যোতিপ্রিয় বিভিন্ন সভায় বলেছিলেন, ‘সিপিএমের সঙ্গে কোনো সংশ্রব নয়। ওদের সঙ্গে কোনো আত্মীয়তা নয়। এক সঙ্গে চা খাওয়া নয়, সিপিএমকে একঘরে করে রাখুন।’ তাই শনিবার তাঁর বক্তব্য শুনে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সিপিএম নেতা নেপালদেব ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, ‘আগে উনি যেটা বলেছিলেন, সেটা ছিল ওনার মনের কথা, এবার যা বললেন তা হলো ওনার ভোটের কথা।’

রোহিঙ্গাদের জন্য ঝুঁকি না পুরস্কার?

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের জরাজীর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোর বাসিন্দা উদ্বাস্তু মুসলমানেরা নিজেদের রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচয় দিতে চান। তাঁদের এই অধিকার পাওয়ার দাবি বহু বছরের পুরোনো। দেশটিতে এবারের আদমশুমারির মধ্য দিয়ে সেই দাবি পূরণ হতেও পারে। তবে এতে নতুন করে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কাও রয়েছে। জাতিসংঘের সহায়তায় মিয়ানমারে ৩০ বছর পর চলতি মাসের শেষ নাগাদ আদমশুমারি হচ্ছে। এতে দেশটির ব্যাপারে বিভিন্ন নতুন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে। জনসংখ্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো সেই ১৯৮৩ সালের ত্রুটিপূর্ণ হিসাবের ওপর নির্ভর করছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিভক্তির মূলে রয়েছে জাতিগত পরিচয়ের প্রশ্ন। সেখানকার মুসলমান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্বেষ দুই বছর আগে রক্তাক্ত রূপ নিয়েছিল। এতে বহু মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাড়ি এমনকি দেশ ছাড়া হয়। আর তাঁদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা মুসলিম, কোথাও যাঁদের আশ্রয় নেই। রাখাইনের রাজধানী সিত্তে শহরের উপকণ্ঠে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তাই নতুন করে আদমশুমারির পর সেখানে আবার অস্থিরতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তাই ভীতসন্ত্রস্ত অনেকেই সেখান থেকেও পালানোর চিন্তাভাবনা করছেন। কিন্তু তাতে বাধা দিচ্ছে স্থানীয় লোকজন। মিয়ানমারের আট লাখ রোহিঙ্গাকে নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয় না। জাতিসংঘের বিবেচনায়, তাঁরা বিশ্বের সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। ভ্রমণ, কর্ম, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং বিয়ের ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন বাধার মুখে পড়ে। সরকারের দাবি, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের কেউ নন; তারা মূলত প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে অনুপ্রবেশ করেছে। রোহিঙ্গাদের একটি অংশ আশঙ্কা করছে, এবারের আদমশুমারির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার আশার প্রদীপ হয়তো একেবারেই নিভিয়ে দেওয়া হবে। আদমশুমারির ফরমে রোহিঙ্গাদের পরিচয় চিহ্নিতকরণে কোনো জায়গা (বক্স) রাখা হয়নি। অথচ তারা দেশটিতে সরকারিভাবে স্বীকৃত ১৩৫টি সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। সর্বশেষ আদমশুমারিতে রাখাইনের মুসলমানদের অনেককে বাঙালি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, এবারের আদমশুমারির কারণে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়েছে। এএফপি।

ক্রিমিয়াকে যুক্ত করলে কূটনীতির দরজা বন্ধ

ইউক্রেনের স্বায়ত্তশাসিত ক্রিমিয়ায় পর্যবেক্ষকদের ঢুকতে দেয়নি ‘রুশপন্থী’ সশস্ত্র ব্যক্তিরা। পর্যবেক্ষকদের বাধা দিতে সতর্কতামূলক সংকেত হিসেবে গুলি ছুড়েছে তারা। ক্রিমিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ইউক্রেনের একটি সীমান্তচৌকির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রাশিয়ার সেনারা। এদিকে রাশিয়াকে পাল্টা হুঁশিয়ার করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে চাইলে সংকট সমাধানের ‘কূটনীতির দরজা’ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ‘আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি।’ তিন দিন ধরে চেষ্টার পরও ক্রিমিয়ায় ঢুকতে না পেরে ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতাবিষয়ক সংগঠন ওএসসিইর ওই পর্যবেক্ষক দল গত শনিবার ফিরে গেছে। ওএসসিইর পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদল ক্রিমিয়ার পরিস্থিতি দেখতে তিন দিন ধরে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ‘রুশপন্থী সশস্ত্র ব্যক্তিরা’ সতর্কতামূলক গুলি ছুড়ে তাদের ক্রিমিয়ায় ঢুকতে বাধা দেয়। তবে এতে পর্যবেক্ষক দলের কেউ হতাহত হননি। পরে ওই পর্যবেক্ষক দল ফিরে যায়। ওএসসিইর একজন মুখপাত্র তাঁদের পর্যবেক্ষকদের ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইউক্রেনের বর্তমান সরকারের আমন্ত্রণে ওই পর্যবেক্ষক দল ক্রিমিয়ায় ঢুকতে চেয়েছিল।
ক্রিমিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ইউক্রেনের একটি সীমান্তচৌকির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চৌকির অন্তত ৩০ জন সীমান্তরক্ষীকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় রক্তপাতের খবর পাওয়া যায়নি। ইউক্রেন বা রুশ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গত শুক্রবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে বলেন, ক্রিমিয়া ইউক্রেনের অংশ। তাই ক্রিমিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সামরিক উত্তেজনা এড়াতে মস্কোর কাজ করা উচিত। ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে চাইলে ‘কূটনীতির দরজা’ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন গতকাল রোববার মস্কোয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত। তবে আলোচনা হতে হবে সৎ ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে। কারণ, আমরা কোনো সংকট সৃষ্টি করতে চাই না।’ ইউক্রেনের জাতীয় বীর কবি তারাশ শেভচেঙ্কোর ২০০তম জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল সমাবেশের আয়োজন করে রুশবিরোধীরা। সমাবেশ থেকে ক্রিমিয়া নিয়ে রুশ কর্মকাণ্ডের প্রতি নিন্দা জানানো হয়। বিবিসি ও এএফপি।

২৩৯ আরোহীসহ বিমান নিখোঁজ

নিখোঁজ মালয়েশীয় উড়োজাহাজে ছিলেন এই নারীর স্বজন।
খবর পেয়ে গতকাল তিনি ছুটে আসেন চীনের বেইজিং
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এ সময় ফোনে কথা বলতে
গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ছবি: রয়টার্স
মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে ২৩৯ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটি দক্ষিণ চীন সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উড়োজাহাজটি ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু নিয়ে শুক্রবার মধ্যরাতের পর মালয়েশিয়ার কুয়লালামপুর থেকে চীনের বেইজিংয়ে যাচ্ছিল। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর মিলে উড়োজাহাজের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। কিন্তু নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পরও উড়োজাহাজটির কোনো খোঁজ মেলেনি। বিমানে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানা যায়নি।
ভিয়েতনাম নৌবাহিনীর একজন পদস্থ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বেইজিংয়ের উদ্দেশে উড়ে যাওয়া উড়োজাহাজটি দক্ষিণ ভিয়েতনামে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে মালয়েশিয়া ওই এলাকায় উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নাকচ করেছে। ভিয়েতনাম সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানটি সর্বশেষ দক্ষিণ ভিয়েতনামের কা মাও প্রদেশের আকাশসীমা থেকে হো চি মিন সিটির বিমান নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর আর কোনো সাড়া মেলেনি। মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় গত শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা ৪০ মিনিট থেকে ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ নিখোঁজ রয়েছে। বোয়িং বি৭৭৭-২০০ বিমানটিতে ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু ছিলেন। উড়োজাহাজটি স্থানীয় সময় গতকাল সকাল সাড়ে ছয়টায় বেইজিংয়ে অবতরণের কথা ছিল।
মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানায়, উড়োজাহাজে ১৪টি দেশের নাগরিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে চীনের ১৫২ জন, মালয়েশিয়ার ৩৮ জন, ইন্দোনেশিয়ার ১২ জন, অস্ট্রেলিয়ার সাতজন, ভারতের পাঁচজন, যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন, ফ্রান্সের তিনজন, নিউজিল্যান্ডের দুজন, ইউক্রেনের দুজন, কানাডার দুজন এবং ইতালি, তাইওয়ান, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রিয়ার একজন করে নাগরিক ছিলেন। সাগরে নিখোঁজ বিমানের চিহ্ন? এদিকে থাইল্যান্ড উপসাগরের প্রবেশপথে দক্ষিণ চীন সাগরের কাছে গতকাল বিকেলে মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের জলসীমার মাঝামাঝি স্থানে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ তেলের রেখা চিহ্নিত করেছে ভিয়েতনামের সিভিল এভিয়েশন বিভাগ। ধারণা করা হচ্ছে, মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের বিধ্বস্ত উড়োজাহাজ থেকে তেল নিঃসরিত হয়ে এ রেখার সৃষ্টি হয়েছে। এএফপি ও বিবিসি।

বিহারে লালুকে ছেড়ে যাচ্ছেন বিশ্বস্ত সঙ্গী

লালুপ্রসাদ যাদব
পরিবারতন্ত্র ধরে রাখতে গিয়ে দলে ভাঙনের পথ খুলে দিলেন বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা লালুপ্রসাদ যাদব। গতকাল শনিবার সকালে দলের সব পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লালুর ২০ বছরের বিশ্বস্ত সঙ্গী রামকৃপাল যাদব। ফলে লোকসভা নির্বাচনের আগে নতুন সংকটের মুখে পড়ল তাঁর দল। লোকসভা নির্বাচনে রামকৃপাল বিহারের পাটলিপুত্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। লালু ওই আসনে তাঁর মেয়ে মিশা ভারতীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ক্ষুব্ধ রামকৃপালকে শান্ত করতে মিশা শুক্রবারই দিল্লি আসেন। রাজ্যসভার সদস্য রামকৃপালের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর সরকারি বাসভবনে যান। তাঁর আসার খবর পেয়ে আগেই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান রামকৃপাল। মিশা আর তাঁর দেখা পেলেন না। গতকাল সকালে রামকৃপাল দলের সব পদে ইস্তফা দেন। অবশ্য রাজ্যসভার সদস্য ও আরজেডি থেকে পদত্যাগ করেননি তিনি।
ফলে মনে হচ্ছে, তিনি দলীয় সভাপতি লালুকে একটি সুযোগ দিতে চান। লালু অবশ্য তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়। রামকৃপালকে তিনি মোতিহারি অথবা মাধেপুরা আসন দিতে রাজি। রামকৃপাল গতকাল বলেন, লালু পরিবারতন্ত্র কায়েম রাখতে গিয়ে দলের নীতি জলাঞ্জলি দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রামকৃপাল আরজেডি ছাড়লে বিজেপি অথবা রামবিলাস পাসোয়ানের লোক জনশক্তি পার্টির (এলজেপি) মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পাটলিপুত্র থেকে দাঁড়িয়ে তিনিই চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন মিশাকে। পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর কারাভোগের কারণে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার হারিয়েছেন লালু। দলকে পরিবারের কবজায় রাখতে তিনি শুরু থেকেই আগ্রহী। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারে গেলে তিনি রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ স্ত্রী রাবড়ি দেবীকে মুখ্যমন্ত্রী করেন। লালুর নয় সন্তানের মধ্যে ৩৭ বছরের মিশাই সবার বড়। তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলীকে বিয়ে করে এখন তিনি বিহারের দানাপুর নিবাসী। এই দানাপুর পাটলিপুত্র আসনের মধ্যে। মিশার পরের দুই ভাই তেজপ্রতাপ ও তেজস্বীর বয়স এখনো ২৫ হয়নি। স্ত্রী রাবড়ি দেবীকে মনোনয়ন দিয়েছেন সরন আসন থেকে।

আম আদমির মুখে কালি!

আম আদমি পার্টির নেতা যোগেন্দ্র যাদবের মুখে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি হঠাৎ করেই কালি ছুড়েছেন। শুক্রবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর যন্তর মন্তরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল এএপি। সেখানেই এই ঘটনাটি ঘটে। হামলার পর যাদব বলেন, ‘আমি জানি না উনি কে, কেনইবা উনি এটা করলেন!’
যোগেন্দ্রর দাবি ওই ব্যক্তি শুধু ‘ভারতমাতা কী জয়’ বলেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘যখন বড় কোনো কাজ করছি, তখন এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবেই।’” কয়েকদিন আগে দিল্লিতে বিজেপির সদর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর সময় বিজেপির কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে এএপি সমর্থকরা। সেই থেকেই দুই দলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছেই। জিনিউজ।

পুতিনের শরীরের ভাষা পড়তে পেন্টাগনে গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের একদল গবেষক রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের শারীরিক অঙ্গভঙ্গি (বডি ল্যাংগুয়েজ) নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছে। এএফপির শনিবারের প্রতিবেদনে এ কথা জানা যায়। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই গবেষণা পুতিনের কর্মকাণ্ড বুঝতে ও কোনো সিদ্ধান্তে তার মতামত সম্পর্কে আগে থেকেই যথাযথ অনুমান করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করবে। বিশেষ করে ইউক্রেনের আধা স্বায়ত্তশাসিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে সেনা পাঠানোর পর ভ­াদিমির পুতিন পরবর্তী কি পদক্ষেপ নেবে তা জানতে এই গবেষণার ফলাফল প্রয়োগ করলে যথেষ্ট সুবিধা পাওয়া যাবে। সাধারণত কোনো ভিডিও ফুটেজ থেকে সেকেন্ডেরও ভগ্নাংশ সময়ের স্থির ছবি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা করা হয়। অঙ্গভঙ্গি গবেষণায় মানুষের মনস্তত্বের অনেক দিকসহ তার রুচি, অভ্যাস, পছন্দ ইত্যাদিও প্রকাশিত হয় বলে গবেষকরা দাবি করেছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গভঙ্গি বিশ্লেষকরা বিভিন্ন দেশের পনের জন নেতার শারীরিক ভাব ভঙ্গি বিশ্লেষণ করেছেন। এদের মধ্যে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ, উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন এবং আল কায়দার নেতা ওসামা বিন লাদেন উল্লেখযোগ্য। উল্লেখ্য অঙ্গভঙ্গি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দফতরের অধীনে পরিচালিত হলেও এবারই প্রথম প্রতিরক্ষা দফতরের অধীনে পরিচালিত হতে যাচ্ছে।

বৃহত্তম নারী প্রতীকের বিশ্ব রেকর্ড

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারীর জন্য বৃহত্তম প্রতীকের রেকর্ড গড়তে শনিবার ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় ১০ হাজারেরও বেশি লোক সমবেত হয়েছে। আয়োজকরা জানান, ম্যানিলার প্রধান সরকারি পার্কে নারীর জন্যে এ প্রতীক গড়তে ১০ হাজার ১৬৮ নারী-পুরুষ সমবেত হয়। ফিলিপাইনের সরকারি নারীবিষয়ক কমিশন ও স্থানীয় কোকাকোলা কোম্পানির সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতীকের স্থান পেতে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

‘বাংলাদেশ আর ওডিশার ভেতরে বহুত মিল’

অচ্যুত সামন্ত
অচ্যুত সামন্তর জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ জানুয়ারি, ওডিশায়। ট্রেন দুর্ঘটনায় বাবার অকালমৃত্যুর পর চরম অর্থাভাবে পড়ে তাঁদের পরিবার। তিনি টিউশনি করে পড়ালেখার খরচ চালিয়ে ওডিশার উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি নেন রসায়নে। ১৯৯২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি (কেআইআইটি বা কিট)। সেটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯৩ সালে অচ্যুত সামন্ত প্রতিষ্ঠা করেন কলিঙ্গ ইনস্টিটিউড অব সোশ্যাল সায়েন্স (কেআইআইএস বা কিস)। ওডিশার আদিবাসী দরিদ্র শিশুরা ‘কেজি টু পিজি’ বিনা মূল্যে থাকা-খাওয়া আর পড়ালেখার সুযোগ পায় এই প্রতিষ্ঠানে। ২০১২ সালে পেয়েছেন জওহরলাল নেহরু অ্যাওয়ার্ড। সমাজসেবায় অবদানের জন্য তিনি ভারত ছাড়াও স্বীকৃতি পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, চেক রিপাবলিকসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। গত ৬ মার্চ চতুর্থ সমাবর্তনে তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি দিয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
 সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইকবাল হোসাইন চৌধুরী
প্রথম আলো  বাংলাদেশ কেমন লাগছে?
অচ্যুত সামন্ত  বহুত ভালো লেগেছে। বাংলাদেশ আমাকে এতই বিমোহিত করেছে যে সেটা বলবার নয়। যে আতিথেয়তা আমি এখানে পেয়েছি, সেটাও বহুদিন মনে থাকবে। আমার ভাষা নেই বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবার। আমি বাংলা বুঝতে পারি। বলতেও পারি অনেকটা। এ জন্য আমার বাংলাদেশ আরও বেশি ভালো লাগছে। এর আগে দুবার বাংলাদেশে আসা হয়েছে। সেটা ছিল একরকম ট্রানজিট। সত্যিকারভাবে বলতে গেলে এটাই বাংলাদেশে আমার প্রথম সফর।
প্রথম আলো  বাংলাদেশ আর ওডিশার মধ্যে কী মিল আপনি দেখতে পান?
অচ্যুত সামন্ত  বাংলাদেশ আর ওডিশার ভেতরে বহুত মিল আছে। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা একসময় একটা রাজ্য বা অঞ্চল ছিল। দুই জায়গার মানুষের চলন-বলতে খুব বেশি তফাত তো দেখছি না। সাংস্কৃতিক দিক দিয়েও মিল অনেক। ওডিশাতে অনেক বড়লোক আছে। গরিব আছে। বাংলাদেশেও অনেক গরিব লোক আছে। বড়লোকও আছে। বাংলাদেশে এখানে রাস্তাঘাট অনেক ভালো দেখছি। এখানে অনেক গ্রিনারি (সবুজ) আছে, যেমনটি ওডিশাতে আছে। এ রকম বহুত মিল।
প্রথম আলো  আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বাংলাদেশি ছেলেমেয়ে পড়ালেখা করে। তাদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
অচ্যুত সামন্ত  কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজিতে বাংলাদেশের বহুত ছেলেমেয়ে আছে। তারা অনেক বেশি ডিসিপ্লিনড। কাল আমি ঢাকায় কিটের প্রাক্তন বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের একটা নৈশভোজে গিয়েছিলাম। কিটের ছাত্রদের আমি আদর করে ‘কিটিয়ানস’ বলে ডাকি। আপনিও ওখানে ছিলেন। আপনি দেখেছেন ছেলেমেয়েরা কত খুশি। বাংলাদেশে যেসব ছেলেমেয়ে কিট থেকে পাস করেছে, তারা অনেক ভালো জায়গায় চাকরি করছে। এটা আমার জন্য অনেক আনন্দের ব্যাপার। আমি মনে করি, বাংলাদেশি ছেলেমেয়েরা বহুতই ভালো।
প্রথম আলো  আপনার শুরুর সময়টা খুব কঠিন ছিল। একটা সময় আপনি এমনকি আত্মহত্যাও করতে চেয়েছিলেন। অচ্যুত সামন্ত  হ্যাঁ, অসুবিধা তো অনেকই ছিল। শুরুতে অনেক কঠিন সময় গেছে। পাঁচ হাজার টাকায় একটা ভাড়াবাড়িতে কিট শুরু করেছিলাম। লোকে আমাকে বলেছিল, এ পাগল। এসব করে কিছু হবে না। সে সময় পাঁচ হাজার টাকাই আমার জন্য জোগাড় করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। হ্যাঁ, আত্মহত্যার কথাও ভাবতে হয়েছে আমার। লোন হয়ে গিয়েছিল অনেক। হয়েছিল কি, কিটের জন্য সবার কাছ থেকে ১০ হাজার ২০ হাজার, এমনি করে ‘হাত উধারি’ করেছিলাম। এভাবে উধার করতে করতে ১৯৯৬ সালে আমার ধার হয়ে গিয়েছিল ১৫ কি ১৬ লাখ। সে সময় ওই অর্থে আমার ইনস্টিটিউটের কোনো আয় ছিল না। যারা লোন দিয়েছিল, তারা বারবার তাদের পয়সা ফেরত চাইছিল। আমি ওদের বোঝাতে পারছিলাম না। তখন দেখলাম, এই উধার শোধ করবার কোনো রাস্তা খোলা নেই। মনে হলো যে আমাকে সুইসাইড করতে হবে। পরে, একটা ন্যাশনাল ব্যাংক আমাকে সহায়তায় করল। ওরা আমাদের ৩০ লাখ রুপি লোন দেয়। এভাবে আমি সংকটটা কাটিয়ে উঠি।
প্রথম আলো  ‘মূলি আর মূল কখনো পুড়বে না’ কথাটি আপনি সব সময় বলেন। কথাটি একটু ব্যাখ্যা করবেন।
অচ্যুত সামন্ত  এই কথাটা আমার মা বলেন। এর মানে হচ্ছে যে লোকটি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে থাকবে, তার মূল কখনো ডুবে যাবে না। একদিন না একদিন সে তার ভালো কাজের ফল পাবেই।
প্রথম আলো  কিটের পাশাপাশি দরিদ্র আদিবাসী শিশুদের জন্য কিস (কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্স) গঠনের চিন্তা কীভাবে মাথায় এল?
অচ্যুত সামন্ত  দেখুন, আমি নিজে খুব দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছি। দরিদ্র ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করতে না পারলে তাদের ভবিষ্যৎ কী রকম অন্ধকার হয়, সেটা খুব ভালোভাবে জানতাম। কারণ, দারিদ্র্য আমি নিজে সহ্য করেছি। সব সময় ভেবেছি, যদি জীবনে কিছু করতে পারি, তো দরিদ্রদের সবার আগে পড়ালেখার সুযোগ করে দেব। আমি নিজে যদি আজ কিছু করতে পারি, সেটা পেরেছি শিক্ষার কারণে। শিক্ষা হচ্ছে একটা স্থায়ী সমাধান। আর সবটা সাময়িক। এটা আমি হূদয়ঙ্গম করেছিলাম। ওডিশাতে ২৫ শতাংশ আদিবাসী। আর তারা এত কষ্টের মধ্যে থাকে, সেটা বলবার নয়। তাদের কষ্ট কেউ না দেখলে অনুভব করতে পারবে না। যারা সবচেয়ে বেশি গরিব, তাদেরই আমি তুলে আনার চেষ্টা করলাম। কিস এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আবাসিক আদিবাসী শিশুদের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যারাই এটা দেখে, মুগ্ধ হয়ে যায়।
প্রথম আলো  ভারতে ওডিশার বাইরেও কিসের বেশ কিছু শাখা আছে। বাংলাদেশেও এ রকম একটি প্রতিষ্ঠান চালু হতে যাচ্ছে...
অচ্যুত সামন্ত  ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা সবুর খানজি আমাদের কিট ও কিস দেখতে গিয়েছিলেন গত ডিসেম্বর মাসে। দেখার পরে আমার মন হলো, ওনারও অনেক বড় হূদয়। পৃথিবীর বহু জায়গা তিনি দেখেছেন। তো কিট দেখে তিনি অবাক হলেন। কিস তাঁকে আরও বেশি মুগ্ধ করল। আমাদের বন্ধুত্ব হলো। দেখলাম, আমাদের বন্ধুত্বকে দৃঢ় করতে হলে একসঙ্গে কিছু কাজ করা দরকার। তাঁকে বললাম, আপনি এত বড় একটা বিশ্ববিদ্যালয় চালান, আপনিও দরিদ্র শিশুদের জন্য একটা কিছু করলে খুব ভালো হয়। তিনি রাজি হয়েছেন। সবুর খানজি দুই একর জায়গা দিতে রাজি হয়েছেন আশুলিয়ায়। আমরা একসঙ্গে এটাকে এগিয়ে নেব। আমার কিটের ১০০ জন অ্যালামনাই চেষ্টা করবে দুজন-তিনজন করে ছেলেমেয়েকে স্পনসর করার। এভাবে আমাদের ইচ্ছে এক হাজার ২০০ ছেলেমেয়েকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটা শুরু করার। এটি হবে পুরোপুরি ফ্রি এবং আবাসিক। ওয়ান থেকে টুয়েলভ পড়ার সুযোগ থাকবে এখানে। প্রতিটা ক্লাসে ১০০ জনের মতো দরিদ্র ছেলেমেয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশে কিটের সাবেক ছাত্ররা এর সঙ্গে থাকবে বলে কথা দিয়েছে। আমি আশা করছি, ঢাকার এই ‘কিস’ অনেক বেশি সফল হবে।
প্রথম আলো  আপনি কাকে আপনার আইডল মনে করেন?
অচ্যুত সামন্ত  আমি কাউকে সেভাবে আইডল মনে করি না। আমার মা আমার আইডল। তাঁর ৮৬ বছর বয়স। আমি দেখেছি, আমার বেশির ভাগ জিনিস নিজের চেষ্টায় হয়। আমি যেটা বলি, মন থেকে বলি। আজকালকার কলিযুগে যেটা হচ্ছে, মানুষ বলছে একটা, করছে আরেকটা। এভাবে চললে কেউ আপনার কথা মানবে না। সবাই জানে, আমি যা বলি সেটাই করার চেষ্টা করি।
প্রথম আলো  ওডিশায় আপনি সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু জাতপাতের ভেদাভেদ ভারতে এখনো একটা বড় সমস্যা।
অচ্যুত সামন্ত  ভারতের অন্য জায়গায় থাকতে পারে। কিন্তু ওডিশাতে কোনো জাতপাতের ভেদাভেদ নেই। জাত এখানে মাত্র দুটো। একদল ধনী, আরেক দল গরিব। ধনীদের জন্য অনেক কিছু সহজ। গরিবদের জন্য সেটা নয়। ওডিশার সম্পদ আছে। কিন্তু সেটা খুব অল্প কিছু মানুষের হাতে।
প্রথম আলো  আপনি প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণে বিশ্বাসী। টাইম ম্যাগাজিন আপনার সম্পর্কে লিখেছে ‘সিমিং টু একম্পলিশ এভরিথিং, বাই ডুয়িং নাথিং’। এটা কীভাবে সম্ভব?
অচ্যুত সামন্ত  আমি আজ পর্যন্ত কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারি না। এই কিছুদিন হলো ই-মেইল চেক করা শিখেছি।
এই দুটো মোবাইলে (হাতের আর পকেটের দুটো মোবাইল ফোন দেখিয়ে) আমি পুরো বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এই মোবাইলের বয়সও ১৫ বছর প্রায় হয়ে গেল। পুরোনোটার নতুন মডেল খুঁজছি, মিলছে না। আমার তিনজন ব্যক্তিগত সহকারী আছে। তারা যাবতীয় কাজ করে। আমি পুরো প্রতিষ্ঠানকে বিকেন্দ্রীকরণ করে দিয়েছি। সবার হাতে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই ভালোভাবে নিজেদের কাজ করছে। আমি শুধু প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আছি। এমনকি আমি নিজে চেকও সই করি না।
প্রথম আলো  ৫০ পূর্ণ করার আগেই আপনি দেশ-বিদেশ থেকে অজস্র সম্মাননা পেয়েছেন। সামনের দিনগুলোতে আপনার লক্ষ্য কী?
অচ্যুত সামন্ত  যে পড়ালেখা করবে না, সে দেশের জন্য বোঝা হবে। বিচ্ছিন্নতাবাদী হবে। সমাজে বিশৃঙ্খলা করবে। আর যে পড়ালেখা করবে, সে সমাজকে অনেক কিছু দেবে। সে কোনো না কোনোভাবে সমাজের উন্নতিতে লাগবে। এটা আমি বুঝি। দেখবেন, যারা গরিব আছে, তাদের গরিব থাকার কারণ শিক্ষার অভাব। তবে শিক্ষা অবশ্যই কাজে লাগে এমন শিক্ষা হতে হবে। শুধু নাম সই করতে পারাটাকে আমি শিক্ষা বলতে চাই না। শিক্ষার মাধ্যমে আমি সমাজের গরিব লোকদের উন্নতির জন্য কাজ করছি। সেটাই করে যেতে চাই।
প্রথম আলো  ‘আর্ট অব গিভিং’ নামে নিজস্ব একটি দর্শনের কথা আপনি বলেছেন। একটু খোলাসা করে বলবেন।
অচ্যুত সামন্ত: এটি আমার নিজের একটি চিন্তা। সবাই মনে করে, শুধু ধনীরাই অন্যদের জন্য কাজ করতে পারে। আমি মনে করি, অন্যের জন্য কিছু করা বা দেওয়া মানে সব সময় অর্থসহায়তা নয়। যে গরিব, সেও অন্যদের জন্য অনেক কিছু করতে পারে।
প্রথম আলো  আপনাকে ধন্যবাদ।
অচ্যুত সামন্ত  ধন্যবাদ।

যেসব চিকিৎসকের পদোন্নতি হয় না

মফস্বলে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির খবর প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে আসে। এই অনুপস্থিতির অন্তর্নিহিত বিভিন্ন কারণের মধ্যে পদোন্নতিহীনতা অন্যতম। আপনি যদি কখনো কোনো উপজেলা হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ পান, তাহলে হাসপাতালের বারান্দায় ঢুকে ডান দিকে কিছুটা অগ্রসর হলেই চিকিৎসকদের বসার কক্ষ দেখতে পাবেন। অনেক রোগীর ভিড়। একজন চিকিৎসক টেবিলের চারপাশে দাঁড়ানো রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন, তাঁর কোনো সহকারী নেই। এই চিকিৎসকই একজন মেডিকেল অফিসার। তাঁর বয়স যদি পঞ্চাশোর্ধ্ব হয়, তাহলে অবাক হবেন না। কেননা, এই ভদ্রলোকের চাকরিজীবনে কোনো পদোন্নতি হয়নি। সেই সুযোগও তাঁর নেই। তিনি আপনাকে তাঁর অতীত জীবনের বিভিন্ন কর্মস্থলের কথা শোনাতে পারবেন। সে তালিকায় দেখা যাবে তিনি কখনো ছিলেন জেলা সদরে, কখনো ইউনিয়ন ডিসপেনসারিতে, কখনো বা থানায়। ইউনিয়ন থেকে থানা হয়ে জেলা সদরে বদলির কোনো ধারাবাহিকতা নেই। নিজের সন্তান-সংসার নিয়ে এভাবেই তাঁর জীবন কেটেছে। জেলা সদর থেকে তাঁকে ইউনিয়ন ডিসপেনসারিতে বদলি করা হয়েছে—এ রকম বদলির ব্যাখ্যাহীন পরিস্থিতিতে আপনজনদের সামনে নিজের অসহায়ত্বই কেবল প্রকাশ করতে পারেন। কেন উল্টো দিকে তাঁকে বদলি করা হয়েছে, তার জবাব দিতে পারেন না।
সারা দেশে সরকারি স্বাস্থ্য সার্ভিসে কর্মরত প্রায় সব মেডিকেল অফিসার এ অবস্থার শিকার। এমবিবিএস ডিগ্রিসম্পন্ন এসব কর্মকর্তার কোনো পদোন্নতি নেই। তাঁর চাকরিকালীন অভিজ্ঞতা তাঁকে পদোন্নতির পর্যায়ে উন্নীত করে না। অথচ অন্য প্রায় সব সার্ভিসে পদোন্নতির ব্যবস্থা আছে। একজন প্রকৌশলী তাঁর অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একপর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হতে পারেন, একজন সহকারী সচিব পদোন্নতি পেয়ে উচ্চতর পদে, এমনকি শীর্ষ পদে উন্নীত হতে পারেন। কিন্তু একজন এমবিবিএস চিকিৎসক তা পারেন না। এ কথা সত্য যে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিশেষজ্ঞ সার্ভিসের জন্য অবশ্যই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা বিশেষজ্ঞ সার্ভিসে বিশেষজ্ঞ হিসেবে এমবিবিএস চিকিৎসকদের পদায়ন দাবি করেন না। তবে বিশেষজ্ঞ সার্ভিসের বাইরেও যে মেডিকেল অফিসারদের পদোন্নতির ধারা সৃষ্টি করা যায়, তাঁরা সেই অংশটুকুতেই পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেন। এটি করা হলে মেডিকেল অফিসারদের কর্মসম্পাদনে আরও মনোযোগী ও আন্তরিক হওয়ার আগ্রহ বেড়ে যাবে। এতে স্বাস্থ্য সার্ভিসের বর্তমান পর্যায়ে গুণগত পরিবর্তন আসবে। পর্যায়গুলো হতে পারে এ রকম:
১. চাকরিতে মেডিকেল অফিসার হিসেবে প্রথম নিয়োগস্থল হবে ইউনিয়ন ডিসপেনসারি। তিনি দুই বছরের জন্য এখানে সরকারের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কর্মসূচির আওতায় কাজ করবেন। উল্লেখ্য, চাকরিতে সদ্য যোগদানকারী একজন চিকিৎসকের যে কর্মস্পৃহা থাকে, তা ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসম্পাদনের অনুকূল। তাঁর সম্পাদিত কর্মমূল্যায়নের নিরিখে তিনি উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা মেডিকেল অফিসার (ইউএমও) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। [যাঁরা স্বাস্থ্য প্রশাসনে যাবেন, তাঁদের দুই বছরের প্রাথমিক পর্যায়ের দায়িত্ব সমাপনের পরই স্বাস্থ্য প্রশাসনে পদায়ন করা যেতে পারে। এ নিবন্ধে ওই আলোচনা করতে চাইছি না।]
২. উপজেলা মেডিকেল অফিসার হিসেবে তিনি উপজেলা হাসপাতালে তিন বছর কাজ করবেন। এ সময় তিনি সকল প্রকার রোগীর প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাসেবা দেবেন। তিন বছর সার্ভিস সমাপনান্তে তিনি বিষয়ভিত্তিক (যেমন—মেডিসিন, সার্জারি ইত্যাদি) উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ লাভ করবেন। এই প্রশিক্ষণ অবকাঠামোগত সুযোগের ভিত্তিতে জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইউএমওরা আট বছর সার্ভিস সমাপনান্তে সিনিয়র মেডিকেল অফিসার বা এসএমও হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। এই নিয়োগ উপজেলা, জেলা বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হতে পারে।
৩. এসএমওরা বিশেষজ্ঞ সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। এসএমও হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিষয়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জনের নিমিত্তে ব্যবস্থাপনার স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞ সার্ভিসে ব্যবস্থাপনার চিত্রটি আমাদের দেশে খুবই অসংগঠিত। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ঘাটতি এর অন্তর্নিহিত কারণ। এসএমও হিসেবে দায়িত্ব পালনের মূল্যায়নের নিরিখে তাঁরা উচ্চতর পর্যায়ে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হবেন। পদোন্নতিপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের ‘সিএমও’ বা ‘চিফ মেডিকেল অফিসার’ হিসেবে পদায়ন করতে হবে। উল্লেখ্য, প্রতিটি জেলায় বা মেডিকেল কলেজে প্রতিটি ডিসিপ্লিনের জন্য কেবল একজন করে সিএমও থাকবেন। সিএমওরা তাঁদের নিজ নিজ ডিসিপ্লিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করবেন। সিএমওরা তাঁদের নিজ নিজ জেলার বিশেষজ্ঞ সার্ভিসের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। নির্দিষ্ট সময় অন্তর উপজেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ সেবাদানের ব্যবস্থা করা তাঁদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এটি সম্ভব হলে গরিব মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষজ্ঞ সার্ভিসের সুযোগ নিশ্চিত করা যাবে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, আমাদের দেশে বিশেষজ্ঞ সার্ভিসের কোনো পরিসংখ্যানগত চিত্র নেই।
বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে যেসব পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়, সেসবের বস্তুনিষ্ঠতা প্রশ্নাতীত নয়। আমাদের বিশেষজ্ঞ সার্ভিস সাধারণ মানুষের সত্যিকার কল্যাণার্থে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সুসমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন। প্রতিটি ডিসিপ্লিনে পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অংশগ্রহণ এ ক্ষেত্রে ঈপ্সিত ভূমিকা পালন করতে পারে। ওপরের আলোচনা থেকে মনে হতে পারে, এখানে নতুন পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। আসলে তা নয়। কেবল বর্তমান প্রচলিত কাঠামোর সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। চাকরিতে পদোন্নতির প্রত্যাশা খুবই স্বাভাবিক। পদোন্নতির দাবি একধরনের অধিকারও বটে। সেই প্রত্যাশা ও অধিকারের দাবি মেডিকেল অফিসারদেরও রয়েছে। সময়ের পরিধিতে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে এ ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে এই বিরাটসংখ্যক চিকিৎসকের জীবন একঘেয়েমিপূর্ণ, প্রণোদনা-শূন্য ও হতাশায় ভরপুর। তাঁদের মধ্যে সৃষ্টিধর্মী প্রেরণা স্বাভাবিক কারণেই অনুপস্থিত। দেশের হাসপাতাল সেবা ব্যবস্থায় নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার পেছনে এসব উপাদান বহুলাংশে দায়ী। অথচ এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা আমাদের সীমিত সম্পদের ভেতরেও সাধ্যাতীত নয়। এখানে প্রয়োজন আন্তরিক উদ্যোগ।
ডা. মো. শফিকুল ইসলাম: অধ্যাপক, চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।