Wednesday, March 6, 2019
জাহালমের কারাভোগের দায় দুদককে নিতে হবে- ‘যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারেনা সেই বিড়াল থাকার দরকার নেই’

বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
শুনানির শুরুতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির মামলায় জাহালমকে কীভাবে ২৬ মামলার আসামি করা হয়, আবার দুদকের অধিকতর তদন্তে জাহালম কীভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হলেন এ বিষয়গুলো হলফনামা থেকে আদালতকে পড়ে শোনান।
তিনি বলেন, ‘চ্যানেল ২৪ এ জাহালমের বিষয়ে প্রতিবেদনের পর দুদক তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। তদন্তে জাহালম যে নির্দোষ তা উঠে আসে। আমরা তো সঠিক পথেই আছি।’
তখন আদালত বলেন, চ্যানেল ২৪ এ রিপোর্ট হওয়ার আগে তিনি (তদন্ত কর্মকর্তা) কি করেছেন? দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আপনাদের অনেক স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারেনা সেই বিড়াল থাকার দরকার নেই।’ জবাবে দুদক আইনজীবী বলেন, ‘সবকিছু দুদকের তফসিলের আওতায় নেই।
আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে।’
আদালত বলেন, ‘আগে অনেকেই দুর্নীতিকে ঘৃণা করতো। কিন্তু এখন অবক্ষয় ঘটেছে।’
খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আমরা যা করেছি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যংকের সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা করেছি। ব্যাংক থেকে তাকে সনাক্ত করা হয়েছে’
আদালত তখন বলেন, ‘ব্যাংক প্রতিবেদন দিয়েছে কিন্তু আপনারা সেসব তথ্য যাচাই বাছাই করবেন না?
খুরশীদ আলম খান বলেন, সম্পুর্ন প্রতিবেদন পড়লে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
আদালত বলেন, আপনারা প্রতিবেদনে বলছেন জাহালম ১৮ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। পাঁচটি ব্যাংককে পক্ষভূক্ত করার আবেদন জানিয়ে এখন মৌখিকভাবে ২টি ব্যাংককে পক্ষভুক্ত করতে চাচ্ছেন? ইসলামী ব্যাংককে পক্ষভূক্ত করার আবেদন করা হয়নি। এ মামলার অভিযোগপত্র কোথায়?’
খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আমাদের কাছে মামলার সব নথি আছে। একটু সময় দিন, সব আপনাদের দিব।’
গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাহালমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশে নিরপরাধ জাহালমের মামলার বিশদ ব্যাখ্য চান আদালত। দুদকের আইনজীবী ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য চার সপ্তাহের সময় চেয়েছিলেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতের দাবির সঙ্গে মিলছে না স্যাটেলাইট ইমেজ

উচ্চ রেজ্যুলুশনের স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পাকিস্তানের বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, ভারত যেখানে হামলার কথা বলেছে সেখানে কোনো সন্ত্রাসী আস্তানা ছিল না, এখনও নেই। ওই এলাকায় কেবল মাদ্রাসা রয়েছে।জইশ-ই-মোহাম্মদের ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তাদের যুদ্ধবিমানগুলো ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ করে বহু জঙ্গিকে হত্যা করেছে বলে দাবি করে আসছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক বেসরকারি স্যাটেলাইট অপারেটর প্ল্যানেট ল্যাব ইনকর্পোরেটেডের সরবরাহ করা ছবিগুলোতে ভারতের বোমা হামলার ছয় দিন পর ৪ মার্চ ওই মাদ্রাসার স্থানটিতে অন্তত ছয়টি ভবন দেখা গেছে।
প্ল্যানেট ল্যাবের ওই ছবিগুলোতে ৭২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ছোট জিনিসও বিস্তারিতভাবে এসেছে। ভারত সরকার যেখানে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করছে সেই স্থানটির বিভিন্ন কাঠামোগুলো পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান হয়েছে।
এই ছবিগুলোর সঙ্গে ২০১৮ সালের এপ্রিলে গ্রহণ করা স্যাটেলাইট ছবিগুলোর তেমন কোনো পার্থক্য নেই। ভবনগুলোর ছাদে দৃষ্টিগোচর হওয়ার মতো কোনো ছিদ্র নেই, দাহ্য পদার্থের আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই, বিস্ফোরণের ধাক্কায় উড়ে যাওয়া কোনো দেয়াল নেই, মাদ্রাসার আশপাশে উপড়ে পড়া কোনো গাছ নেই এমনকি বিমান হামলার অন্য কোনো চিহ্নই নেই।
এই ছবিগুলো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের দাবির বিষয়ে আরও সন্দেহ তৈরি করেছে। গত আট দিন ধরে তারা দাবি করে আসছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বালাকোট শহর ও জাবা গ্রামের কাছে জইশ-ই-মোহাম্মাাদের আস্তানায় হামলা চালানো হয়েছে। এতে তিনশ' জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান প্রথম থেকেই বলে আসছে, বলেছে, পাকিস্তানি বিমানের তাড়ায় ভারতীয় বিমানগুলো ফাঁকা পাহাড়ি এলাকায় বোমা ফেলে পালিয়েছে এবং এতে কেউ হতাহত হয় নি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঘুষ দিয়ে ভোট কিনছেন মে!

লেবার দলের পক্ষ থেকে এটিকে ‘ঘুষ দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর একাধিক আইনপ্রণেতা সরকারের সঙ্গে এমন সমঝোতার কথা অস্বীকার করেছেন।
কয়েক সপ্তাহ ধরেই লেবার আইনপ্রণেতাদের একটি অংশের সঙ্গে সরকারের দর-কষাকষির খবর শোনা যাচ্ছিল। এসব আইনপ্রণেতা উন্নয়ন বরাদ্দের পাশাপাশি আরও কিছু দাবি তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। ওই সব দাবির অন্যতম হলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিচ্ছেদের পর কর্মজীবী মানুষের অধিকার সুরক্ষার নিশ্চয়তা এবং ইইউ’র সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণে সংসদকে অধিকতর মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, ‘স্ট্রংগার টাউন ফান্ড’ এ বরাদ্দকৃত অর্থের বেশির ভাগই পাবে উত্তর ইংল্যান্ড এবং মিডল্যান্ডসের শহরগুলো, যেখানে প্রবৃদ্ধির সুবিধা সমানভাবে পৌঁছায়নি।
উত্তর ইংল্যান্ড এবং মিডল্যান্ডসের মধ্যে আছে উইকফিল্ড, ডনকাস্টার ও উইগানের মত এলাকা, যেখানে বাসিন্দারা অধিক মাত্রায় ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
উইগানের সাংসদ লিসা ন্যান্ডি প্রধানমন্ত্রীর ব্রেক্সিট চুক্তিকে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে আগামী ১২ মার্চ ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ভোটাভুটির আগে সরকার যেভাবে বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে সেটির সমালোচনা করেছেন তিনি। লিসা বলেন, কনজারভেটিভ সরকার গত ৯ বছর ধরে বাজেট কর্তন করার কারণে তাঁর নির্বাচনী এলাকার মতো এলাকাগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার যে বরাদ্দ ঘোষণা করেছে তা ওই ক্ষতির তুলনায় খুবই সামান্য।
কমিউনিটিজ সেক্রেটারি জেমস ব্রোকেনশায়ার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ব্রেক্সিট ভোটের বিনিময়ে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। চুক্তি পাস হোক বা না হোক-এই বরাদ্দ বলবৎ থাকবে।
ইইউ’র সঙ্গে বিচ্ছেদ কার্যকরে প্রধানমন্ত্রী মে দীর্ঘ ১৮ মাসের চেষ্টার পর একটি চুক্তিতে পৌঁছান। গত ১৫ জানুয়ারি সংসদে চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করে দেন আইনপ্রণেতারা। আইনপ্রণেতাদের দাবি অনুযায়ী চুক্তিটি সংশোধনে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন মে। আগামী ১২ মার্চ চুক্তি অনুমোদন প্রশ্নে আবার ভোটাভুটি হওয়ার কথা।
গতকাল মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল জিওফরি কক্স চুক্তি সংশোধনে ইইউ’র সঙ্গে চূড়ান্ত পর্বের আলোচনার জন্য গেছেন। তবে চুক্তি সংশোধনে নারাজ ইইউ। তাই কাঙ্ক্ষিত সংশোধন নাও হতে পারে বলে ধারণা।
১৫ জানুয়ারি ভোটাভুটিতে ২৩০ ভোটের ব্যবধানে প্রত্যাখ্যাত হয় মে’র চুক্তি। চুক্তির পক্ষে ছিল ২০২ ভোট। গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবার চুক্তিটি পাস করিয়ে নিতে হলে চুক্তির পক্ষে অতিরিক্ত ১১০ ভোট টানতে হবে। কনজারভেটিভ দলের বিদ্রোহী ১০৫ ভোট, সরকারের অংশীদার ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) ১০ ভোট এবং লেবার দলের ৪০ জন আইনপ্রণেতা রয়েছেন, যাদের আসনে ব্রেক্সিটের পক্ষে অতিমাত্রায় ভোট পড়েছিল-এদের মধ্য থেকেই প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন মে।
অবশ্য অর্থের বিনিময়ে সমর্থন আদায়ের বিষয়টি থেরেসা মে’র জন্য নতুন নয়। ২০১৭ সালে মধ্যবর্তী নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর নর্দান আয়ারল্যান্ডের জন্য এক বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়ার বিনিময়ে ডিইউপি’র সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেন থেরেসা মে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গার্মেন্ট শ্রমিক ছাঁটাই ও মিথ্যা মামলা অবিলম্বে তদন্তের আহ্বান -হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট

এতে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন নেতারা বলেছেন, এ বছর মধ্য জানুয়ারিতে বিক্ষোভের পর কাজ থেকে খেয়ালখুশিমতো কমপক্ষে ৭৫০০ শ্রমিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। যাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে তাদের অনেকের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও লুটপাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগ দৃশ্যত ব্যাপক ও অস্পষ্ট। ৫৫১ জনের বিরুদ্ধে এবং ৩০০০ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কমপক্ষে ২৯টি ফৌজদারি মামলা হয়েছে।
এতে শ্রমিকরা খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তারের মুখে পড়েন। কমপক্ষে ৫০ জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনের জামিন অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপপরিরচালক ফিল রবার্টসন বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ফ্যাক্টরিগুলোর উচিত মিথ্যা ফৌজদারি মামলা না করা এবং শ্রমিকদের সম্মিলিত আন্দোলনকে দমন করতে গণগ্রেফতার বন্ধ করা উচিত।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো লিখেছে, মধ্য ডিসেম্বরে এবং আবার মধ্য জানুয়ারিতে ঢাকা, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও গাজীপুরে ২০১৮ সালের ১লা ডিসেম্বরে কার্যকর হওয়া বেতন কাঠামোর পরিবর্তনের দাবিতে ৫০ হাজারের বেশি গার্মেন্ট শ্রমিক বিক্ষোভ করেন। ডিসেম্বরে শ্রমিক নেতারা বলেছেন, প্রকাশ্যে এবং গোপনীয়ভাবে তাদেরকে হুমকি দিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।
তাদেরকে বলা হয়েছে, যদি ৩০ ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে তাহলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে অথবা গুম হয়ে যেতে পারেন। যখন জানুয়ারিতে আবার বিক্ষোভ আয়োজন করা হয়, তখন বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ সময়ে একজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন। পুলিশের এমন অ্যাকশনের প্রত্যক্ষদর্শী আটজন, বরখাস্ত হওয়া ১৪ শ্রমিক ও তিনজন ইউনিয়ন নেতার সাক্ষাতকার নিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। পর্যালোচনা করা হয়েছে বরখাস্ত করা শ্রমিক ও কারখানায় পোস্ট করা বরখাস্ত নোটিশ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো লিখেছে, একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলিতে ৮ই জানুয়ারি নিহত হয়েছেন সুমন মিয়া (২২)। অন্য যাদের সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে তাদের মতো এই প্রত্যক্ষদর্শীও নিজের নিরাপত্তার জন্য নাম প্রকাশ করতে চান না। সুমন মিয়ার একজন সহকর্মী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেছেন, লাঞ্চ ব্রেক থেকে ফিরছিলেন সুমন। এ সময় তারা বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তার ভাষায়, এ সময় পুলিশ গুলি করা শুরু করে। শ্রমিকরা দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। তাই সুমন ও আমি দৌড় শুরু করি। অকস্মাৎ সুমনের বুকে গুলি লাগে। সে পড়ে যায়। আমি দৌড়ে পালাই। পরে রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখি সুমনের দেহ। এমনকি তার দেহটি পর্যন্ত নেয় নি পুলিশ।
৮ই জানুয়ারি পুলিশ সাভারে ঘেরাও অভিযান চালায়। এই এলাকায় অনেক শ্রমিক বসবাস করেন। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন এমন শ্রমিকদের খুঁজতে থাকে পুলিশ। একজন বলেছেন, তিনি তার বাসার দ্বিতীয় তলার অন্ধকার জানালায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় তাকে গুলি করা হয়েছে। তিনি হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেছেন, পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাচ্ছিল। যখন তারা আমার বাসার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে, শুনতে পাই তারা গুলি করছে। ছয় রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পাই। এর মধ্যে দুটি আমার জানালার কাচে লাগে। একটি গুলি কাচ ভেদ করে আমার পেটের নিচে লাগে। পুলিশ এ সময় এলোপাতাড়ি গুলি করছিল।
এইচঅ্যান্ডএম ৭ই ফেব্রুয়ারি একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে এ উত্তেজনার সম্মানজনক সমঝোতা ও শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সর্বনি¤œ বেতন কাঠামো নিয়মিত পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়। কারখানা ব্যবস্থাপনা, ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর করেছে এইচঅ্যান্ডএম। এর অধীনে স্বাক্ষরিত চুক্তি যেন মেনে চলা হয় এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ তা অনুমোদন দেয় তা নিশ্চিত করতে বলা হয়। বৈধ তথ্যের ওপর জোর দেয়া হয়। শ্রমিকদের বরখাস্ত করতে যথোপযুক্ত কারণ দেখাতে বলা হয়। যেসব শ্রমিককে বরখাস্ত করা হয়েছে তার মধ্যে তিনটি কারখানা পোশাক প্রস্তুত করে এইচঅ্যান্ডএমের জন্য।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরো লিখেছে, বিপুল সংখ্যক অজ্ঞাত মানুষের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার ব্যবহার বাংলাদেশে একটি সাধারণ ও রীতির অপব্যবহার। এর ফলে পুলিশ যেকাউকে ভয় দেখাতে পারে, গ্রেপ্তারের হুমকি দিতে পারে। এমন মানুষকে আবার গ্রেপ্তার করা হতে পারে, যার নাম মামলায় নেই এবং তার জামিন অগ্রাহ্য করা হতে পারে। শ্রমিক নেতারা বলেছেন, অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন মামলার কারণে খেয়ালখুশিমতো গ্রেপ্তারের ভয়ে বহু শ্রমিক আত্মগোপন করে আছেন। এই কৌশল এর আগে ব্যবহারের প্রামাণ্য তথ্য আছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে। ইউনিয়ন নেতা ও শ্রমিকদের এমন আত্মগোপন করে থাকার মধ্য দিয়ে একটি হিম আতঙ্কের প্রকাশ বেরিয়ে আসে।
এমন অবস্থার প্রেক্ষিতে এইচঅ্যান্ডএম, কিক, টচিবো, লিডল, ম্যাঙ্গো, নেক্সট, মাতালান, ভিএফ, তাক্কো, এএলডিআই, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, এসপ্রিট, ওয়ালমার্ট, জেসিপেনি এবং টেককোর মতো ব্রান্ড, যারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনে থাকে, শ্রমিকদের সম্মান ও সুরক্ষার জন্য তাদের দায়বদ্ধতা আছে বলে মনে করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। মৌলিক অধিকার ও অন্যান্য রকম ভীতি প্রদর্শনের চর্চার মাধ্যমে শ্রমিকদের বরখাস্ত করা বন্ধ করতে আহ্বান জানানো উচিত তাদের।
এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও দেশটির ৩৬০০ কোটি ডলারের গার্মেন্ট শিল্পের ক্রেতাদের প্রতি বাংলাদেশের প্রদর্শন করা উচিত যে, তারা শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পালওয়ামা হামলা একটি দুর্ঘটনা, মোদিকে কংগ্রেস নেতার চ্যালেঞ্জ

এখানেই মোদি ও তার সরকারের সমালোচনা করে ক্ষান্ত হন নি দ্বিগবিজয় সিং। তিনি অব্যাহতভাবে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার তিনি পালওয়ামা হামলাকে ‘দুর্ঘটনা’ বা এক্সিডেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে বিতর্কের ঝড় তুলে দিয়েছেন রাজনীতিতে। দ্বিগবিজয় সিং বলেছেন, পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বিমান বাহিনী গত ২৬ শে ফেব্রুয়ারি যে হামলা চালিয়েছে তার সত্যনিষ্ঠতা নিয়ে বিদেশী মিডিয়াগুলো সংশয় প্রকাশ করেছে।
প্রশ্ন তুলেছে পালওয়ামা দুর্ঘটনার পর ভারত সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। এ সময় ওই বিমান হামলায় কতজন জঙ্গি মারা গেছে তার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ভারতের ভিতরে সন্ত্রাসীদের একের পর এক হামলা হলেও গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপেরও সমালোচনা করেন তিনি। দ্বিগবিজয় সিং বলেন, পালওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার পরে কি এনএসএ, আইবি প্রধান এবং র’ প্রধানের কাছ থেকে ক্লারিফিকেশন নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।
দ্বিগবিজয় সিং বলেন, তার এমন বক্তব্যের পর বিজেপির তিনজন মন্ত্রী তাকে ভারত বিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু ওই সব মন্ত্রী ও মোদির নিজের শোনা উচিত যে, পালওয়ামা হামলা নিয়ে উত্তর প্রদেশের উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মাউরিয়া কি বলেছেন।
মঙ্গলবার দ্বিগবিজয় সিং একটি ভিডিওতে রিটুইট করেন। তাতে দেখা যায় পালওয়ামা হামলাকে একটি ‘বিগ এক্সিডেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করছেন কেশব প্রসাদ। এমন ঘটনার পর মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ অভিযোগ করেছেন, সেনাবাহিনীর অপারেশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বাহিনীর নৈতিকতাকে খর্ব করার চেষ্টা করছেন কংগ্রেস নেতা দ্বিগবিজয় সিং। এ ছাড়া একই দিনে তার সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফুটপাতে দোকান, হাঁটার জো নেই by সাবরিনা ইয়াসমীন

গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর ১০ নম্বর সেকশন থেকে মিরপুর-১-এর দিকে যাওয়ার সড়কের ফুটপাতে দেখা যায় এই দৃশ্য। এই ফুটপাতের দুই পাশে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন হকাররা। হাঁটার জায়গা থাকে সামান্যই। এতে ওই নারীর মতো পথচারীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
গতকাল দেখা যায়, ফুটপাতের দুই পাশে তৈরি পোশাক, ঘড়ি, মুঠোফোনের চার্জার, হেডফোন, পেনড্রাইভ, ইলেকট্রনিক পণ্য, চশমা, টুপিসহ নানা ধরনের পণ্য নিয়ে বসেছেন ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ক্রেতারা পণ্য দেখছেন, বাছাই করছেন, চলছে দর-কষাকষি। এতে পথচারীদের হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে।
গতকাল কথা হয় শহীদ আনোয়ারা গার্লস কলেজের ছাত্রী জান্নাতুল নাইমার সঙ্গে। সে পড়ে উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষে। তার বাসা মিরপুর আনসার ক্যাম্পে। প্রতিদিনই কলেজে যাওয়া-আসা করতে সড়কটি ব্যবহার করে সে। জান্নাতুল নাইমা বলল, পদচারী-সেতুতে উঠতে-নামতে এই ফুটপাত ব্যবহার করতে হয়। এ সময় সে রীতিমতো আতঙ্ক বোধ করে সে। পদচারী-সেতু লাগোয়া চায়ের দোকানে প্রায়ই ভিড় লেগে থাকে। আসা-যাওয়ার পথে অনেক সময় দোকান থেকে বাজে কথা ভেসে আসে।
সেনপাড়া পর্বতার বাসিন্দা ও ঢাকা কলেজের ছাত্র আলীম ইয়াসির বলেন, এই ফুটপাত দিয়ে প্রতিদিন যাওয়া-আসা করতে হয়। দোকানিরা তাঁদের পণ্য বিক্রির জন্য হাঁকডাক দেন। খুবই বিরক্তিকর হলেও কিছু করার থাকে না।
নাসরিন জাহান নামের এক নারী বলেন, অনেক বখাটে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ‘সুযোগ’ বুঝে ধাক্কা দেয়। আবার অনেক সময় সরে দাঁড়াতে বললে বাজে দৃষ্টিতে তাকায়। কখনো একটু-আধটু প্রতিবাদ করলে দোকানিরা এক জোট হয়ে শুরু করে দেয় বাজে মন্তব্য।
শামসুন্নাহার নামের এক বৃদ্ধা বলেন, এই ফুটপাত দিয়ে বয়স্কদের চলাচলে খুবই অসুবিধা হয়। অনেক সময় দোকানের ক্রেতারা এমনভাবে দোকানে দাঁড়িয়ে জিনিস দেখেন যে হাঁটার পথটুকু থাকে না।
ফুটপাত দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-২) এ এস এম সফিউল আজম বলেন, দুই সপ্তাহ আগে তাঁরা ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছেন। ফুটপাত থেকে সব দোকানপাট তখন তুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাসমান দোকানগুলো আবার বসলে সেগুলো আবার উচ্ছেদ করা হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘খ্যাপা সংখ্যালঘু’ ঠেকাবেন মাদুরো

ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলের নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আগামী শনিবার ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সমাবেশের’ ডাক দিয়েছেন নিকোলা মাদুরো। মার্কিন সাহায্য নিয়ে বিরোধীরা একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। আজ বুধবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মাদুরো বলেন, ‘যদি খ্যাপাটে সংখ্যালঘুরা তাদের ঘৃণা, তিক্ততা নিয়ে চলতে থাকে, তা তাদের সমস্যা। আমরা তাদের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছি না।’ সামরিক বাহিনীর সামনে দেওয়া ওই ভাষণে মাদুরো বলেন, ‘আমরা তাদের কর্মক্ষেত্র, জাতীয় ঐক্য থেকে সরিয়ে দেব। খ্যাপাটে সংখ্যালঘুদের তাদের তিক্ততা দিয়ে থাকতে দিন, আমরা তাদের পরাজিত করব। শাভেজের জন্য আমরা তা করব। দেশের মহান ইতিহাস রক্ষায় আমরা তা করব।’
গত সোমবার গ্রেপ্তারের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বঘোষিত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদো। কারাকাসে ফেরার পর শত শত দলীয় সমর্থক তাঁকে স্বাগত জানান। গুয়াইদোর দেশে ফেরার পর এই প্রথম মন্তব্য করলেন মাদুরো।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য মাদুরো সরকারকে চাপ দিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে ভেনেজুয়েলার ওপর। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি এলিয়ট আবরামস বলেন, ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক নির্বাচনে মাদুরোর ভূমিকা দেখতে পাওয়া কঠিন হবে। যদি তিনি গণতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলা প্রতিষ্ঠা করতে চাইতেন, তা করার সুযোগ ছিল। তবে তিনি তা করেননি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন হুয়ান গুয়াইদো। এরপর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিদেশ সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তবে তিনি সে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশে সফরে যান।
ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। খাবার ও ওষুধের মতো মৌলিক পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সেখানকার জনগণ। অনেকে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। ২০১৫ সাল থেকে কমপক্ষে ২৭ লাখ মানুষ ভেনেজুয়েলা ছেড়ে পালিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকার দেশসহ ৫০টির বেশি দেশ অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে হুয়ান গুয়াইদোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে মাদুরো সরকার পদত্যাগ সব সম্ভাবনা বাতিল করেছে। চীন ও রাশিয়ার সহায়তায় মাদুরো জানান, তিনিই ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আবারও বিশ্বের শীর্ষ ধনী জেফ বেজোস

এতে ৫৫ বছর বয়সী জেফ বেজোসের এক বছরে সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯০০ কোটি ডলার।
এর ফলে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩১০০ কোটি ডলার। তিনি অ্যামাজনের শতকরা ১৬ ভাগের মালিক।
অন্যদিকে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মাইক্রোসফটের বিল গেটসের সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬৫০ কোটি ডলার। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ৯০০০ কোটি ডলার।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন বিনিয়োগ গুরু বলে পরিচিত ৮৮ বছর বয়সী ওয়ারেন বাফেট। গত বছরে তার সম্পদ ১৫০ কোটি ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৮২৫০ কোটি ডলার। তালিকার চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন ফরাসি বিলাসবহুল পণ্যের কোম্পানি এলভিএমএইটের বার্নার্ড আর্নল্ট। এতে বলা হয়েছে, মোট সম্পদ থেকে ৯০০ কোটি ডলার লোকসান দিয়ে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ পঞ্চম থেকে অষ্টম অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছেন। তার সামনে আছেন মেক্সিকোর ধনকুবের কার্লোস স্লিম, জারা ও ইন্ডিটেক্সের প্রতিষ্ঠাতা স্পেনের আমানসিও ওর্তেগা এবং ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন।
অন্যদিকে নিউ ইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ দুই ধাপ উপরে উঠেছেন। তিনি আগের বছর ছিলেন ১১ নম্বর অবস্থানে। এবার তিনি উঠে এসেছেন ৯ নম্বরে। তার সম্পদ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৫০ কোটি ডলার। এ তালিকার শীর্ষ ২০ জন বিলিয়নিয়ারের মধ্যে রয়েছেন ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের মুকেশ আম্বানি। তার অবস্থান ১৩ নম্বরে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চলে গেলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুমাতা by অমর সাহা

বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় কয়েক দিন ধরে কলকাতার এসএসকেএম (পিজি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বীণাপাণি দেবী। গত সোমবার তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। আজ বুধবার কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট দেওয়ার কথা ছিল।
মতুয়া সম্প্রদায়ের এই গুরুমাতার জন্ম অবিভক্ত ভারতবর্ষের বরিশাল জেলার জব্দকাঠিতে। অল্প বয়সেই গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দির মতুয়া আশ্রমের প্রমথ রঞ্জন ঠাকুরকে বিয়ে করেন। দেশ বিভাগের পর তিনি স্বামীকে নিয়ে চলে আসেন কলকাতায়। পরবর্তী সময়ে উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে মতুয়া সম্প্রদায়ের আশ্রম গড়েন। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর দুই ছেলেকে নিয়ে আশ্রমের দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুমাতা হিসেবে পূজিত হতে থাকেন।
বড়মায়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মতুয়া মহলে। তাঁর মৃত্যুসংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক টুইটে তিনি বলেন,‘বড়মা বীণাপাণি দেবী আমাদের সময়ের একজন আইকন। বহু মানুষের অনুপ্রেরণা ও শক্তির উৎসস্থল। আগামী প্রজন্মকে উৎসাহিত করবে বড়মায়ের আদর্শ । সামাজিক ন্যায় ও ঐক্যের জন্য তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও লেখেন, ‘গত মাসে বড়মায়ের আশীর্বাদ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল আমার। তাঁর সাক্ষাৎ চিরকাল আমার মনে থেকে যাবে। দুঃখের সময়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছি আমরা।’ গত ২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ঠাকুরনগরে এসে বড়মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নরেন্দ্র মোদি।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড়মায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুসংবাদ শোনার পর তিনি ছুটে যান কলকাতার পিজি হাসপাতালে। বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য হবে।
মমতা বলেন, ‘বড়মা একজন অভিভাবকের মতো আমার পাশে থেকেছেন। আমাকে বহুবার সমর্থন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমার বিরাট ব্যক্তিগত ক্ষতি হয়ে গেল। বড়মাকে আমরা রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান বঙ্গবিভূষণে ভূষিত করেছিলাম। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
মতুয়া সম্প্রদায় এখনো উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া , মালদহ, মুর্শিদাবাদসহ এই রাজ্যে আরও কিছু এলাকার ভোটের নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে রয়েছে। তবে মতুয়া সম্প্রদায় কিছুটা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেউ তৃণমূলের পক্ষ, কেউ আবার বিজেপির পক্ষ নিয়েছে। মতুয়া মহাসংঘও দুভাগ হয়ে পড়েছে। এক ভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর এবং অন্য অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শান্তনু ঠাকুর। মমতাবালা গুরুমাতার বড় ছেলে প্রয়াত কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরের স্ত্রী। আর শান্তনু ঠাকুর গুরুমাতার ছোট ছেলে মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের ছেলে।
মতুয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা সুসম্পর্ক রয়েছে। মমতারও একটা বিরাট ভোটব্যাংক রয়েছে এই মতুয়াভক্তদের মধ্যে।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি রাজ্য বিধানসভার আসনের ৫৭টি আসনের এখনো নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে রয়েছে মতুয়ারা। পাশাপাশি লোকসভার ৪২টি আসনের মধ্যে ১০টি আসনেরও নির্ণায়ক শক্তি তারা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পিস্তল নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের তল্লাশি গেট পার: তদন্ত কমিটি গঠন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৫ কর্মী বরখাস্ত

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ আল ফারুক।
তিনি বলেন, পিস্তল সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দরের স্ক্যানিং মেশিন পার হওয়ার ঘটনার তদন্তে নেমেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে কমিটির সদস্যদের নাম এখনই প্রকাশ করতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠে বিভিন্ন মহলে। ওই ঘটনার তদন্ত শেষ না হতেই আবারও প্রশ্নের মুখে পড়লো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এবার খেলনা নয়, আসল পিস্তল নিয়েই বিনা বাধায় স্ক্যানিং মেশিন পার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
মঙ্গলবার বিকেলে নভোএয়ারের একটি আভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্রটি নিয়ে যান নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।
এ সময় অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের প্রথম গেটের স্ক্যানার মেশিনের নজর এড়িয়ে ৯এমএম পিস্তল আর ১০ রাউন্ড গুলিসহ ব্যাগ নিয়ে বিনা বাধায় স্ক্যানিং মেশিন পার হন তিনি।
এরপর নভোএয়ারের বুকিং কাউন্টারে যান ইলিয়াস কাঞ্চন । জানান, মনের অজান্তে ব্যাগে থাকা লাইসেন্স করা পিস্তলটি বাসায় রেখে আসতে ভুলে যান তিনি। কিন্তু তার সঙ্গে নিয়ে আসা পিস্তল ও গুলি ভর্তি ব্যাগ স্ক্যানারে ধরা পড়েনি। এটি সঙ্গে নিয়েই চট্টগ্রামে যেতে চান বলে কর্মকর্তাদের জানান ইলিয়াস কাঞ্চন।
বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে শাহজালাল বিমানবন্দরের মেম্বার সিকিউরিটি শাহ এমদাদুল হক, বিমানবন্দরের পরিচালকসহ (নিরাপত্তা) বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা উপস্থিত হন ।
প্রথম স্ক্যানিংয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের ব্যাগে থাকা পিস্তল ধরা না পড়ার বিষয়টি দুঃখজনক বলে জানিয়েছেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিচালক নূরে আলম সিদ্দিকী।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারির বিমান ছিনতাই চেষ্টা ঘটনার পর শাহজালালসহ দেশের সব কটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে সিভিল এভিয়েশন থেকে জানানো হয়েছিল।
ওই দিনে বিকেলে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দুবাইগামী বিজি-১৪৭ ফ্লাইটে খেলনা পিস্তল নিয়ে উঠে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন পলাশ আহমেদ ওরফে মাহিবি নামে এক যুবক।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সে সময় তার সঙ্গে থাকা খেলনা পিস্তলটি শাহজালাল বিমানবন্দরের স্ক্যানিং মেশিনে ধরা পড়েনি।
বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের তদন্তনাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৫ মার্চ) আবার এ ঘটনাটি ঘটল।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দিনভর নাটকীয়তা: গণতন্ত্রের বিকল্প নেই

ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে ভেন্যু ঠিক করে চলে বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন। ছবিমেলার পক্ষ থেকে আমন্ত্রিতদের সেখানে যাওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
বিকালে ওই ভেন্যুর সামনে আমন্ত্রিতরা গেলেও অনুষ্ঠানের অনুমতি নিয়ে নাটকীয়তার কারণে ভেন্যুতে প্রবেশ করতে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। অবশেষে অরুন্ধতী বক্তৃতা মঞ্চে আসেন পৌনে এক ঘণ্টা দেরিতে। আলোকচিত্রী শহিদুল হকের সঞ্চালনায় ২ ঘণ্টার অনুষ্ঠানে উপস্থাপকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বুকার জয়ী এ লেখক।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বিকল্প নেই। গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচনকে বোঝানো হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। আজ গণতন্ত্র যাদের প্রতিনিধিত্ব করে তা খুবই স্বল্প মানুষের জন্য। অরুন্ধতী রায় বলেন, রাজনীতি এখন মানুষের জন্য মনে হয় করা হয় না। এখন রাজনীতি হয়- নদী, বাঁধ, বিভিন্ন প্রকল্পকে ঘিরে। এসব কিছুকে রূপ দেয়ার জন্য মানুষের চিরন্তন জীবন বিপন্ন করা হয়। তিনি বলেন, রাজনীতিকদের খুবই ক্ষমতাবান মনে হলেও অনেক সময়ই তারা ক্ষমতাহীন। কাশ্মীর ইস্যুতে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, তাদেরও শুনতে হবে, তাদেরও বলার আছে। তাদেরকে আমরা কতোটা মূল স্রোতে আনতে পারছি।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, ড. শাহদীন মালিক, সাংবাদিক মাহফুজ আনাম, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সাংবাদিক নূরুল কবীর, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান, আনিসুল হক, নারী অধিকার নেত্রী খুশী কবীর, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জোনায়েদ সাকী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অরুন্ধতী তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’-এর কিছু লাইন শ্রোতাদের উদ্দেশে পড়ে শোনান। বলেন, আমি একজন মোবাইল রিপাবলিক। মানুষের মধ্যে ধর্মীয় উন্মাদনা পারমাণবিক বোমার মতো চেপে বসে আছে। বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তান এভাবে আমি এদেশগুলোকে ভাগ করতে চাই না। আসলে এগুলো একই দেশ। গ্লোবাল ভিলেজ মানলে এই ধারণা মানতে হবে। যখন আমরা গ্লোবাল ভিলেজ ভাববো তখন জাতীয়তাবাদের প্রশ্ন আসবে কেন?
‘অ্যাটমোস্ট এভরিথিং’ শিরোনামে সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের শুরুতে শহিদুল আলম অরুন্ধতীকে প্রশ্ন করেন, আপনি এখানে কেন এসেছেন? তখন তিনি বলেন, আমি আপনার জন্য এসেছি। আপনাদের জন্য এসেছি। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ আলোকচিত্র উৎসব ছবিমেলায় অংশ নিতে গত ৩রা মার্চ ঢাকায় আসেন বুকার পুরস্কারবিজয়ী ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায়। ভারতীয় এ লেখক বুদ্ধিজীবী এবং অ্যাকটিভিস্ট হিসেবেও পরিচিত। ‘দ্য গড অব স্মল থিংসের জন্য খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছান অরুন্ধতী। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এ উপন্যাসটি ১৯৯৮ সালের ম্যান বুকার পুরস্কার লাভ করে। এ ছাড়াও তিনি মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে জড়িত।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিলেট উৎপাদনে স্বনির্ভর বাংলাদেশ! by মাসুদ মিলাদ

- ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিলেট আমদানি হয়েছিল প্রায় ১৭ লাখ টন।
- চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে তা নেমে এসেছে ২০ হাজার টনে।
এখন রড ও রডজাতীয় পণ্য তৈরির কারখানাগুলো নিজেরাই পুরোনো লোহা গলিয়ে বিলেট উৎপাদন করছে। নতুন নতুন বিনিয়োগে কারখানা স্থাপন করেছে। এতে বিলেট আমদানি কমে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক কাঁচামাল থেকে রড তৈরি হওয়ায় মূল্য সংযোজনও বেশি হচ্ছে।
বিলেট আমদানি হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। এই বন্দরের তথ্যে দেখা যায়, চার অর্থবছর ধরে বিলেট আমদানি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিলেট আমদানি হয়েছিল ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টন। চাহিদা বাড়লেও পরের বছর তা কমে দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৭২ হাজার টন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি হয় ৩ লাখ ৮২ হাজার টন। গত অর্থবছরে আমদানি নেমে আসে ১ লাখ ৬৫ হাজার টনে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) আমদানি হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টন। এ হিসেবে চলতি অর্থবছর শেষে বিলেট আমদানির পরিমাণ অর্ধলাখে নেমে আসবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সেলিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বিলেট উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার অর্থ হলো ইস্পাত পণ্য তৈরিতে একটি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে বাংলাদেশ এখন স্বনির্ভর। এতে যে মূল্য সংযোজন হচ্ছে, তাতে নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে। আবার এই মূল্য সংযোজনের অর্থ শ্রমিকদের মজুরি, মালিকের মুনাফা এবং সরকারের রাজস্ব খাতেও যাচ্ছে। এভাবেই একদিন বাংলাদেশ মৌলিক ইস্পাতশিল্পের দিকে ধাবিত হবে। আকরিক ও কয়লা থেকে ইস্পাতের হাজারো পণ্য তৈরির যে সম্ভাবনা রয়েছে এ দেশে, তা দেশীয় উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশে সূচনা হবে বলে তাঁর আশা।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ইস্পাত পণ্য উৎপাদনের মৌলিক কারখানা নেই। মৌলিক কারখানায় আকরিক লৌহ, কয়লা, চুনাপাথর ও সামান্য পরিমাণ পুরোনো লোহার টুকরো কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এসব কাঁচামাল ব্যবহার করে লং স্টিল হিসেবে পরিচিত রড, চ্যানেল, অ্যাঙ্গেল এবং ফ্ল্যাট স্টিল হিসেবে পরিচিত ঢেউটিন, ইস্পাত পাত, পাইপসহ বহু ধরনের পণ্য তৈরি করা যায়।
বিলেট আমদানি ৪৪ থেকে ১ শতাংশে
আমদানি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিলেটের চাহিদা ছিল ৩৮ লাখ টন। এই চাহিদার প্রায় ৪৪ শতাংশই ওই অর্থবছর আমদানি করতে হয়েছে। বাকি ৫৬ শতাংশ বা ২১ লাখ টনের মধ্যে ছিল দেশে তৈরি বিলেট ও জাহাজভাঙা শিল্পের লোহার প্লেট। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিলেটের চাহিদা ছিল ৪৬ লাখ টন। এর মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ বা ১ লাখ ৬৫ হাজার টন আমদানি করতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে বিলেটের চাহিদা ছিল ৩০ লাখ ৬৪ হাজার টন। এই চাহিদার ১ শতাংশের কম বা মাত্র দশমিক ৭ শতাংশ আমদানি করতে হয়েছে। তবে বিলেটের পরিবর্তে বিলেট তৈরির কাঁচামাল পুরোনো লোহার টুকরো ও পুরোনো জাহাজ আমদানি বেড়েছে। প্রতিবছর পুরোনো লোহার টুকরো আমদানি বেড়ে চলেছে।
কাস্টমসের তথ্য পর্যালোচনায় বাংলাদেশে বিলেট আমদানির সর্বশেষ তালিকায় পাওয়া গেছে দুটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নাম। এ দুটি হলো বিএসআরএম এবং কেএসআরএম গ্রুপ। গত অর্থবছর বিএসআরএম গ্রুপ প্রায় ৭৮ হাজার টন এবং কেএসআরএম গ্রুপ ৮৭ হাজার টন বিলেট আমদানি করে। এখন এই প্রতিষ্ঠান দুটি নিজেদের চাহিদা অনুযায়ী বিলেট তৈরিতে প্রায় সক্ষমতা অর্জন করেছে।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) মহাসচিব ও মেট্রোসেম ইস্পাত লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচ বছর আগেও চাহিদার ৬০ শতাংশ বিলেট আমদানি করতে হতো। দেশে উৎপাদিত হতো ৪০ শতাংশ। এখন আমদানির পরিমাণ খুবই কম। তিন বছর আগে বিলেট আমদানিতে শুল্কহার বাড়ানোর সরকারি নীতি বাস্তবায়নের কারণে এ খাতে নতুন নতুন কারখানা গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তারা। এতে বিলেট উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এতে দেশীয় এ শিল্পে মূল্য সংযোজনের হার বেড়েছে। বেসরকারি খাতের এই বিনিয়োগে সুরক্ষা দিতে হলে সরকারি নীতি পরিবর্তন করা উচিত হবে না।
বিলেট কারখানায় প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়। বিদ্যুৎ-সংকট থাকলে এ ধরনের কারখানায় উৎপাদনে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায় না। এ জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার দাবি এ খাতের উদ্যোক্তাদের।
দেশীয় কারখানার সক্ষমতা শতভাগ
বাংলাদেশে একসময় বিলেট তৈরি হতো চিটাগাং স্টিল মিলসে। সরকারি এই কারখানায় বিলেট, ইনগট ও ঢেউটিন তৈরির পাত উৎপাদিত হতো। সরকারি এই কারখানা বন্ধ হওয়ার দুই বছর আগে ১৯৯৬ সালে দেশের বিলেট তৈরির সবচেয়ে বড় কারখানা গড়ে তোলে বিএসআরএম গ্রুপ। ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত বিএসআরএম গ্রুপটির বিলেট উৎপাদনক্ষমতা ছিল দেড় লাখ টন। ২০১০ ও ২০১৬ সালে গ্রুপটির উৎপাদনক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ লাখ টনে। গত সপ্তাহে গ্রুপটির নতুন আরেকটি কারখানায় পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে। ফলে এই গ্রুপের বার্ষিক বিলেট উৎপাদনক্ষমতা উন্নীত হচ্ছে ১৮ লাখ টনে। ফলে তাদের আর বিলেট আমদানি করতে হবে না।
বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলীহোসেইন আকবরআলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিলেট আমদানিতে শুল্ক-কর বাড়ানোর যে নীতি সরকার নিয়েছে, সে কারণেই দেশে বিলেট কারখানা গড়ে তুলেছি। চাহিদ অনুযায়ী বিলেট উৎপাদনে সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। বিলেট উৎপাদন খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগও হয়েছে।’
বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আবুল খায়ের গ্রুপও বিলেট তৈরিতে স্বয়ংসম্পন্ন। বেসরকারি ওয়ান ব্যাংকের এক সমীক্ষায় বলা হয়, আবুল খায়ের গ্রুপের বার্ষিক রড উৎপাদনক্ষমতা ১২ লাখ টন। কোম্পানিটির বিলেট উৎপাদনক্ষমতাও একই পরিমাণ। ফলে তাদেরও বিলেট আমদানি করতে হচ্ছে না।
বাজারে তৃতীয় অবস্থানে থাকা কেএসআরএম গ্রুপের রড উৎপাদনক্ষমতা ৮ লাখ টন। ২০১৪ সালে তারা বিলেট উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়ে ৬ লাখ টনে উন্নীত করে। এখন তা ৮ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে তাদের।
জিপিএইচ গ্রুপ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সীতাকুণ্ডে যে কারখানা গড়ে তুলছে, তাতে বিলেট ব্যবহারের দরকারই হবে না। বার্ষিক ৮ লাখ ১৫ হাজার টন উৎপাদনক্ষমতার কারখানাটিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরোনো লোহা থেকে বিলেট তৈরি হয়ে সরাসরি রড ও রডজাতীয় পণ্য তৈরি হবে। এ বছরের মাঝামাঝি উৎপাদন শুরু হবে কারখানাটির।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে বর্তমানে দেশে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির রড তৈরির ৪৪টি কারখানা রয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির ছোট আকারের কারখানা রয়েছে ১০০টির মতো। সব কারখানা মিলিয়ে বার্ষিক রড, চ্যানেল, অ্যাঙ্গেলসহ লং স্টিল পণ্য উৎপাদন সক্ষমতা ৮০ লাখ টন। আর উৎপাদিত হচ্ছে ৫৫ লাখ টন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরাইলের সহায়তায় বিপজ্জনক হামলা পরিকল্পনা করেছিল ভারত -ডনের রিপোর্ট by মেহের বোখারি

তবে ভারতকে সময়মতো গোয়েন্দারা ও অন্যরা ম্যাসেজ দিয়ে পরিষ্কার করে যে, যদি পরিকল্পনামতো হামলা করা হয় তাহলে তার উপযুক্ত জবাব আসবে। আর এমন হলে দেশ দুটির সামনে পিছনে ফেরার কোনো পথ থাকবে না।
এমন এক অবস্থায় উত্তুঙ্গু সময় পাড় করেছে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী দুটি দেশ। কয়েক দশকে তাদের মধ্যে এত বেশি যুদ্ধের কাছাকাছি চলে যাওয়ার মতো অবস্থা সম্ভবত সৃষ্টি হয় নি। আর এ যুদ্ধ লেগে গেলে কি হতো পরবর্তীতে তা নিশ্চিত করে কেউ জানেন না।
বেসামরিক ওই সূত্র আরো পর্যাবেক্ষণে বলেছেন, ভারত পরবর্তীতে যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতো তা শুধু স্থল, আকাশপথ অথবা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো না। সেটা ধারণ করতো একটি হাইব্রিড সংঘাতে। তাতে অর্থনৈতিক বিষয়ের ওপর আঘাত আসতো।
গত মঙ্গলবার বেসামরিক স্থানে হামলার কথা বলে ভারত তাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে। ১৯৭১ সালের পর এবারই প্রথম ভারতীয় বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। লঙ্ঘন করেছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত। দুই পক্ষের মধ্যে লড়াইয়ে ভারতের দুটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে পাকিস্তান। এতে একজন ভারতীয় পাইলট মারা যান। অন্যজনকে আটক করা হয়। এরপর আটক পাইলটকে শুভেচ্ছার নির্দশন হিসেবে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ভারতের যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করার পর মঙ্গলবার ওই হামলা চালায় ভারত।
ওদিকে ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেয়ার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গুলি বিনিময় অব্যাহত ছিল। তবে তা দৃশ্যত গত ২৪ ঘন্টায় কমে এসেছে। এতে উত্তেজনা কমে আসছে কিনা তা জানতে চেষ্টা করেন এই প্রতিবেদক। এ সময় সেনাবাহিনীর প্রধান মুখপাত্র বলেছেন, সপ্তাহজুড়ে যে ভারি গুলি বিনিময় হচ্ছিল তার তুলনায় এখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত। তবে গত ২৪ ঘন্টার এই কৌশলগত বিরত থাকার ওপর ভিত্তি করে আমরা আমাদের নজরদারি ও প্রস্তুতি কমিয়ে আনতে পারি না। যেকোনো অঘটনের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। এমনটা বলেছেন পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্সের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গফুর।
সরকারি শীর্ষ স্থানীয় একটি সূত্রের সঙ্গে বৈঠকে জানা গেছে, পাকিস্তান অনেক বেশি পরিপক্বতা দেখিয়েছে। প্রকৃত শান্তির পথে গেছে। ভারতের গৃহীত উদ্যোগে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল তাতে প্রাধান্য বিস্তার করেছে পাকিস্তান। এ জন্য পাকিস্তানে বিবেচন্য গর্ব অনুভব করা হচ্ছে।
পাকিস্তান সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র স্বীকার করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উভয় সঙ্কটে ছিলেন। একদিকে তিনি এই মে মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছেন। অন্য দিকে তিনি নিজেকে এমন অবস্থায় নিয়েছেন যেÑ এখনও আমরা যুদ্ধে আছি। সূত্রটি বেশ কিছু সাংবাদিককে ভারতের বিপজ্জনক হামলা পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পাকিস্তান সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে রাজস্থানের বিমান ঘাঁটি থেকে ওই হামলা পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সূত্রটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কৃতীত্ব দিয়ে বলেন, এই সংস্থাটি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অন্যতম। এর আগে এই প্রতিনিধিকে একই রকম কথা বলেছিলেন সেনাবাহিনীর সূত্রগুলো।
(অনলাইন ডনে প্রকাশিত রিপোর্টের সংক্ষেপিত অনুবাদ)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের চাই লাভ by ইফতেখার মাহমুদ ও রাজীব আহমেদ

- • কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
- • একই সঙ্গে সুলভ দামে নিরাপদ খাদ্য দিতে হবে ভোক্তাকে।
উৎপাদন বাড়লে দাম কমে। ভোক্তা সস্তায় খাবার পান, কিন্তু কৃষক ফসলের ভালো দাম পান না। উৎসাহ হারিয়ে পরের মৌসুমে কৃষক আবাদ কমিয়ে দেন, খাবারের দাম যায় বেড়ে।
কিন্তু এই হিসাবটা এত সহজ না। চ্যালেঞ্জটিও তাই জটিল। দেশে ধারাবাহিকভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে, উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। গবেষক ও পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, সরকারকে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। পাশাপাশি কৃষক যেন ফসলের ন্যূনতম লাভজনক দাম বা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি থেকে কৃষককে রক্ষা, ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশ থেকে অবাধ আমদানি না করা, কৃষক ও ভোক্তাবান্ধব আমদানি শুল্ক বসানো এবং ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানো জরুরি। সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে রাখাও দরকার।
কৃষিকাজ করে সিংহভাগ কৃষক পরিবার সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারে না। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলছেন, শুধু কৃষিকাজ করে জীবিকা চালানো কঠিন। কৃষক পরিবারের সন্তানেরা বেশির ভাগই কৃষিকাজে থাকতে চায় না।
সেলিম রায়হান আরও বলেন, ‘ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডেও বাংলাদেশের মতো ছোট ছোট জমিতে কৃষিকাজ হতো। পরে সেটা বাণিজ্যিক রূপ পায়। কৃষকেরা একত্র হয়ে চাষ করেন। এ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ বাড়ে, প্রযুক্তি আসে ও উৎপাদন খরচ কমে। পাশাপাশি সুরক্ষার জন্য বিমাও চালু হয়। বাংলাদেশকেও সেই পথেই যেতে হবে।’
দেশের সাধারণ কৃষকের জন্য সবচেয়ে বড় ফসল ধান। এখন বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টন চাল উৎপাদিত হয়। এতে চাহিদা প্রায় মিটে যায়। তবে দুর্যোগে ফসলহানি হলে আমদানি করতে হয়।
আলু হয় চাহিদার অনেক বেশি। সবজি, মাছ, মাংস, ডিমও আমদানি করতে হয় না। দেশি পেঁয়াজেই চাহিদার বেশির ভাগ মেটে। তবে গম, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি আর আদা-রসুনের বড় অংশই আমদানিনির্ভর।
কৃষকেরা সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন ধানের দাম নিয়ে। গত আমন মৌসুমে তাঁরা ধানের দাম কম পেয়েছেন। কয়েক বছর ধরে পানির দরে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। দুই মৌসুম হলো পেঁয়াজের উৎপাদন খরচই উঠছে না।
সবজি আবাদ মোটের ওপর লাভজনক। তবে দাম না পেয়ে প্রায়ই সবজি গরুকে খাওয়াতে অথবা ফেলে দিতে বাধ্য হন চাষিরা। পাটের দাম নিয়ে হতাশা ফিরে ফিরে আসে।
মাছ চাষে লাভ আছে, বিনিয়োগও লাগে। পাঙাশ, তেলাপিয়ার মতো সাধারণ মাছে মুনাফা খুবই কম থাকে। দামের ওঠানামায় টিকতে না পেরে মুরগি ও ডিমের হাজার হাজার ছোট খামার বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু আর দুধের চাহিদা আর দামও ওঠানামা করে, প্রায়ই খামারিরা দুধ ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানান।
ধান নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা
দেশের খুচরা বাজারে এখন প্রতিকেজি চাল ৩৪ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত আমন মৌসুমে চালের উৎপাদন খরচই পড়েছে কেজিতে ৩৪ টাকা।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে প্রতি কেজি ধানের উৎপাদন খরচ ছিল সাড়ে ২৪ টাকা। কৃষকেরা ধান বিক্রি করে ২৫ টাকা বা তার কিছুটা কম দাম পেয়েছিলেন।
কৃষক যেন ধানের ন্যায্যমূল্য পান, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব খাদ্য মন্ত্রণালয়ের। ফসল ওঠার মৌসুমে মন্ত্রণালয় উৎপাদন খরচ বের করে কৃষকের জন্য লাভজনক একটা দাম ঠিক করে দেয়। তারপর মন্ত্রণালয় সেই দামে সরকারি গুদামের জন্য ধান-চাল সংগ্রহ করে। আমদানি শুল্ক ধার্য করার সময় কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ দেখে পরামর্শ দেওয়ার কাজটিও তাদের।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কাজী সাহাবউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের দাম, মজুত ও আমদানির ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে পারেনি। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। নেতৃত্বে দক্ষতারও ঘাটতি ছিল। কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন সরকারের মন্ত্রীর সে পরিকল্পনা থাকা দরকার।
২০১৩ সাল থেকে দেশের বাজারে চালের দাম মোটামুটি একই ছিল। ২০১৭ সালে হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানি হয়। উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কার মুখে ব্যবসায়ীরা চালের দাম অনেক বাড়িয়ে দেন।
সে সময় দরিদ্র মানুষের জন্য ১০ টাকা দরে চাল দিয়ে আসছিল সরকার। সরকারি গুদামে মজুত ছিল কম। সরকার তখন নিজেরা চাল আমদানি করে। আর বেসরকারি খাতে আমদানি বাড়াতে শুল্ক একেবারেই কমিয়ে দেয়।
আমদানি বাড়ে, তবে চালের দাম তেমন কমে না। ২০১৮ সালে বোরো মৌসুমে ব্যাপক আবাদ ও ফলন হলে ধানের দাম পড়ে যায়। সরকার তখন চালের আমদানি শুল্ক আবার বাড়িয়ে দেয়। তখন আমদানি কমে গেলে দাম আবার বাড়ে। তবে লাভ করেন ব্যবসায়ীরা, কৃষকের জন্য ধানের দাম এখনো লাভজনক হয়নি।
২০১৯ সালের গোড়ায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ বলেছে, বিশ্বে এ বছর ধানের উৎপাদন সবচেয়ে বেড়েছে বাংলাদেশে।
সবজিতে লাভ বেশি, তবে...
সবজিসহ দেশের অন্যান্য প্রধান কৃষিপণ্যগুলোর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কাজটি বাজারের নিয়মে ঘটে। সেসব ক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ভোক্তার ক্রয়মূল্যের মধ্যে ফারাক কমানোর কোনো চেষ্টা সরকারকে করতে দেখা যায় না।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০১৭-১৮) তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও দাম বাড়ার তথ্য দেওয়া আছে। এতে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। কৃষক সেটা স্থানীয় ব্যবসায়ীকে বিক্রি করেছেন গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে। আরও দুই হাত ঘুরে সেই আলু ভোক্তার কাছে যাচ্ছে। ভোক্তা কিনছেন ২২ টাকা কেজি দরে। প্রতি ধাপেই বিক্রেতার লাভের পরিমাণ কৃষকের চেয়ে বেশি। একই দশা বেগুন ও টমেটোতেও।
দেশে বছরে আলু উৎপাদিত হয় ৯৫ লাখ টনের বেশি। ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশে আলুর চাহিদা ৬০-৬৫ লাখ টন। বাড়তি উৎপাদনের কারণে বাজারে এখন আলুর দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকায় নেমেছে। কৃষক পর্যায়ে এ দর চার থেকে ছয় টাকা। অথচ এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ সাড়ে ৭ টাকার মতো।
পেঁয়াজেও একই চিত্র। ভরা মৌসুমে ভারত থেকে প্রচুর পেঁয়াজ আসছে। ফলে খুচরা বাজারে দাম নেমেছে কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকায়। কৃষক পাচ্ছেন ১০-১২ টাকা।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক বছর আগের তুলনায় এখন বাজারে আলুর দর ৪০ শতাংশ ও পেঁয়াজের দর ৫২ শতাংশ কম। আলু-পেঁয়াজের দর এখন উৎপাদন খরচের চেয়ে কম। কৃষক লোকসান গুনে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নিরাপদ খাদ্য
দেশে এখন খাদ্যের অভাব নেই, তবে নিরাপদ খাদ্যের অভাব আছে। কৃষিতে অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহার বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। খামারের মাছ-মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক আর ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যচক্রে আরও দূষণের ঝুঁকি আছে।
সরকারের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দরকার গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (ভালো কৃষির চর্চা—গ্যাপ) নিশ্চিত করা, যেখানে পরিমিত মাত্রায় সঠিক কীটনাশক ও সার ব্যবহার করা হবে। কৃষি দপ্তর ‘বাংলা গ্যাপ’ পরিকল্পনা করেছে। এখন তার বাস্তবায়ন করতে হবে।’
পরিবেশদূষণের কারণে অনেক সময় মাটি ও পানি থেকে ভারী ধাতু ফসলে ঢুকছে। সেটা খাবারের মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরেও ঢুকছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুধসহ বিভিন্ন খাদ্যে ধাতু বা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য বিস্তারিত গবেষণা দরকার।
বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়ে যাওয়া নিয়ে সরকারের আত্মতৃপ্তি আছে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ এম এম শওকত আলী। তিনি বলছেন, উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই সচিব আরও বলেন, কৃষক নিজের উদ্যোগে সবজি ও মাছ চাষে যে বিশাল বিপ্লবটি করে ফেললেন, তা যাতে টেকসই হয় সে জন্য তাঁদের সহায়তা দিতে হবে। তাঁদের উৎপাদিত খাদ্যকে নিরাপদ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এটা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞ অভিমত
কৃষির নতুন প্রযুক্তিতে নজর দিতে হবে
কে এ এস মুরশিদ
মহাপরিচালক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)
গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি এখনো বড় ভূমিকা রাখে। কৃষির যে উন্নতি আমরা ১০-১২ বছর ধরে দেখছি, তার গতি এখন ধীরে ধীরে শ্লথ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে হলে কৃষির নতুন প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
চালের দাম নিয়ে নীতি নির্ধারকসহ দেশের বিভিন্ন মহলে প্রথাগত মানসিকতা রয়েছে। সবাই মনে করে, চালের দাম কম থাকলে ভালো। চালের দাম নিয়ে এত সংবেদনশীল হওয়ার কিছু নেই। যারা হতদরিদ্র, তাদের বিষয় আলাদা। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাওয়া দরকার। সাধারণভাবে বাজারে চালের দাম দু-এক টাকা বেড়ে গেলেই উদ্বেগ–উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। এটি ঠিক নয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যে উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করাটা জরুরি।
গ্রামে কৃষির উন্নয়নে ক্ষুদ্রঋণ, মোবাইলের মাধ্যমে অর্থের লেনদেন থেকে শুরু করে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ বড় ভূমিকা রাখছে। এসব প্রযুক্তি কৃষকের জন্য সংযোগ ও নানা সুবিধা এনে দিচ্ছে। এমন কোনো নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া ঠিক হবে না, যাতে কৃষকের সুযোগগুলো সংকুচিত হয়। সরকারি পর্যায়ে কৃষি পণ্যের বিতরণব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করতে হবে।
আমাদের জাতীয় ও গৃহস্থ পর্যায়ে খাদ্যসংকট একসময় নিয়মিত ব্যাপার ছিল। এখন আমরা সেই স্তর অতিক্রম করেছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের প্রধান খাদ্য চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এটি স্বস্তির পরিস্থিতি দিয়েছে, যার ওপর ভর করে আমরা এখন আরও সামনের দিকে এগোচ্ছি। এখন আমাদের নিরাপদ খাদ্যের কথা চিন্তা করতে হবে। খাদ্যে যাতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক কিছু না থাকে। অনিরাপদ খাদ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দুর্বল করে দেবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকেও এখন সময় উপযোগী করতে হবে। আগের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যে কাজ করছে না তার বড় প্রমাণ হচ্ছে খোলা বাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) কার্যক্রমে তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কৃষকের ধান চাষে ভর্তুকি দেব, না অন্য কোথাও দেব।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিবাদ তো করে যেতেই হবে: সাক্ষাৎকারে অরুন্ধতী রায় by আনিসুল হক

‘আমি বরিশালে যেতে চাই। আমার বাবার বাড়ি বরিশাল। কতক্ষণ লাগে যেতে?’
অরুন্ধতী রায় খুবই আগ্রহভরে জানতে চাইলেন।
অরুন্ধতী রায়। বুকার পুরস্কারজয়ী ভারতীয় লেখক। দ্য গড অব স্মল থিংস–এর পাণ্ডুলিপি পড়ে তাঁর প্রকাশক তাঁকে অগ্রিম দিয়েছিলেন পাঁচ লাখ পাউন্ড। তারপর সবই ইতিহাস।
অরুন্ধতী রায় ৩ মার্চ ২০১৯ এসেছেন ঢাকায়। ৪ মার্চ সকাল সকাল আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে হাজির ধানমন্ডির এক বাড়িতে। দিনটা ছিল মেঘে ঢাকা। অরুন্ধতীকে মনে করিয়ে দিলাম, আপনার দ্য গড অব স্মল থিংস–এর শুরুর বর্ণনার মতো সোমবার ঢাকার দিনটা ভেজা আর শেওলাময়।
যে অরুন্ধতী রায় স্বাধীনভাবে কথা বলে এক দিনের জন্য জেল খেটেছেন, কিন্তু মাথা নত করেননি; যিনি আমেরিকার যুদ্ধনীতি, ভারতের কাশ্মীর-দলিত-গোরক্ষা-আদিবাসী সব জ্বলন্ত ইস্যুতে সবচেয়ে প্রজ্বলন্ত কণ্ঠস্বর, তাঁর সঙ্গে আলাপটা কেমন জমবে, একটা দুর্ভাবনা ছিল। কিন্তু মুখে মিষ্টি হাসি, চোখে বুদ্ধির ঝিলিক, কণ্ঠস্বরে আন্তরিকতার মাধুর্য, এক নিমেষেই অরুন্ধতী আমাকে আর সহকর্মী তৌহিদা শিরোপাকে আপন করে নিলেন।
অরুন্ধতী ঢাকায় এসেছেন ছবিমেলার আমন্ত্রণে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে তিনি কথাও বলবেন নিবন্ধিত দর্শকদের সামনে। আলোকচিত্রী শহিদুল আলম অরুন্ধতীর দিল্লির বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ঢাকা আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছিলেন। তারপর অল্প দিনের মধ্যেই শহিদুল আলমকে কারাগারে নেওয়া হয়। অরুন্ধতী তাঁর মুক্তি চেয়ে তাঁকেই একটা খোলা চিঠি লেখেন। তাতে তিনি বলেন, ‘আসলে এই চিঠি আমি শুধু তোমাকে লিখছি না, লিখছি আরও প্রিয়জনকে, সুধা, সুরেন্দ্র, রাজু এমনি অনেককে, কারণ শয়ে শয়ে এমন নামের মানুষ কারান্তরালে।’ ওই চিঠির শেষে অরুন্ধতী লিখেছিলেন শহিদুল আলমকে, ‘শিগগিরই ঢাকায় তোমার সঙ্গে দেখা হবে।’
অরুন্ধতী যেতে চান বরিশালে। তাঁর বাবার গ্রামের নাম তিনি মনে করতে পারেন লাকোতিয়া। গুগল করে বুঝলাম, লাকুটিয়া। বরিশাল থেকে আট কিলোমিটার দূরে। তাঁর বাবা রাজীব রায়, মেঘালয়ের শিলংয়ে চা-বাগানের ম্যানেজার ছিলেন। আর মা ছিলেন সিরিয়ান বংশোদ্ভূত মালয়ালি খ্রিষ্টান। অরুন্ধতীর বয়স যখন দুই, তখন থেকেই বাবা–মা আলাদা হয়ে যান। শিশু অরুন্ধতী আর তার বড় ভাইকে নিয়ে মা ফিরে যান কেরালায়। নিজে একটা স্কুল চালাতেন মা। বাবার সঙ্গে এরপর বহু বছর অরুন্ধতীর দেখা হয়নি। যে বাবার সঙ্গে বহু বছর দেখাও হয় না, সেই বাবার আদিবাড়ির খোঁজে বরিশাল যেতে খুব সাধ হয় অরুন্ধতীর।
অরুন্ধতী ১৬ বছর বয়সে দিল্লি আসেন। স্থাপত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। রুমমেট ছিল উড়িষ্যার। তার সঙ্গে কথা হতো ছবি এঁকে এঁকে। কারণ কেউ কারো ভাষা বোঝেন না। তারপর তিনি সিনেমা করেছেন, সিনেমার পরিচালককে বিয়ে করেছিলেন। স্থপতির জীবন নিয়ে যে সিনেমা তারা করেছিলেন, তা জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছিল। বহু বছর পর ভারতে বুদ্ধিজীবীদের ওপরে আক্রমণ হতে শুরু করলে প্রতিবাদে সেই জাতীয় পুরস্কার বর্জনও করেছিলেন সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার জেতা অরুন্ধতী।
অরুন্ধতীকে বলি, ‘আপনি দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস শেষ করেছেন, একটা গুবরে পোকার গল্প দিয়ে, ওই পোকাটা গোবরে চিত হয়ে শুয়ে আকাশের দিকে পা তুলে ধরে থাকে। যদি আকাশ ভেঙে পড়ে, সে তার পা দিয়ে ঠেকাবে। এখন পাকিস্তানে ইমরান, ভারতে গুজরাত কি লালা, আমেরিকায় ট্রাম্প। নিজেকে তো গুবরে পোকার চেয়েও অসহায় লাগে। আমরা তো কিছুই ঠেকাতে পারব না।’
অরুন্ধতী হার মানতে চান না। তিনি বলেন, ‘না, তবু পোকা পা তুলে ধরেই থাকবে। ওদের কাজ ওরা করে যাচ্ছে। আমাদের কাজ আমরা করে যাব। আমাদের প্রতিবাদ করে যেতে হবে। পৃথিবী বদলাবে। তাকে বদলাতেই হবে।’
তাঁকে বলি, ‘মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস–এর মতো তীব্র আগুনে তাতানো বই লেখার পরেও আপনি দেশে থাকতে পারছেন। এটা তো ভালো ব্যাপার।’
তিনি বলেন, ‘আপনাকে জানতে হবে কখন আপনি এগোবেন, কখন পেছাবেন। কখন সরে যাবেন। আগুন নিয়ে কাজ করলে আগুনের আঁচ তো লাগবেই। তবে আমাদের রক্ষা করে ক্ষমতাবানদের উদারতা নয়। আমাদের রক্ষা করে আমাদের কাজ। আমাদের শিল্প। শহিদুলের কাজ। শহিদুলের আলোকচিত্র। এসবই আমাদের রক্ষাকবচ দেয়।’
তিনি পুঁজিবাদ, প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন, করপোরেটের নামে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ঘোর বিরোধী। ৯ জন ভারতীয়র কাছে যা সম্পদ আছে, তার পরিমাণ ৫০ কোটি ভারতীয়র সম্পদের সমান। এটা তিনি মানতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের ন্যূনতম চাওয়া হলো মানসম্পন্ন জীবনযাপনের উপযুক্ত মজুরি, সবার শিক্ষার অধিকার, সবার খাদ্যের অধিকার আছে—এই রকম একটা কল্যাণ রাষ্ট্র।’
‘ভারত-পাকিস্তান রণডঙ্কা নিয়ে কিছু কি বলবেন?’ তিনি বলেন, ‘আমি হাফিংটন পোস্ট–এ লিখেছি। আর কিছু বলতে চাই না।’
ওই রচনায় তিনি বলেছেন, ‘যখন পুলওয়ামাতে হামলা হলো, এটা মোদির জন্য সুবর্ণ সুযোগ এনে দিল; কারণ সামনে নির্বাচন। এই সুযোগটা মোদি কাজে লাগাবেন। নির্বাচনে তিনি হারছিলেন। আমরা এই ধরনের একটা ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছিলাম। সেটাই সত্য হচ্ছে।’
অরুন্ধতীকে বলি, ‘অরুন্ধতী, আমরা প্রতিবাদ করতে পারি, কিন্তু প্রতিরোধ করতে পারব না। এই লড়াইয়ে আমাদের বিজয় আসবে না।’
অরুন্ধতী তা মানতে নারাজ। যদিও তিনি অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে চান না। তিনি মনে করেন, তিনি লেখক, লেখাই তাঁর কাজ। এবং আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের নিজের কাজের ভেতর দিয়ে যদি প্রতিবাদ করতে থাকি, মানুষের জয় হবেই। অরুন্ধতী তা মনে করেন।
আর মনে করেন, সব সময় একটা প্রতিবাদী ভাবমূর্তি ধরে রাখার চেষ্টা করারও দরকার নেই। সংগীত, শরীরচর্চা, শিল্প, খাদ্য—সবকিছুই তো একটা মানুষের জীবনে থাকবে। সেসব নিয়ে তিনি যা বলেছেন, তৌহিদা শিরোপার কলমে তা প্রকাশিত হবে আগামীকালের অধুনায়। আর তাঁর দুই উপন্যাসের গঠনশৈলী ইত্যাদি নিয়ে যা কথা হয়েছে, তার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হবে ভবিষ্যতে অন্য আলোর পাতায়।
অরুন্ধতী যেতে চান বরিশালের লাকুটিয়া গ্রামে। বরিশাল থেকে আট কিলোমিটার দূরে। গ্রামটা সুন্দর, পুরোনো জমিদার বাড়ি আছে। আমারও যেতে ইচ্ছা করে। অরুন্ধতী যদি যান, আমাকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন, সেই কথা পাকা করে আমরা বিদায় নিই। তাঁর মধুর সাহচর্যের আবেশ আমাদের আচ্ছন্ন করে রাখে বহুক্ষণ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আলুর পাঁপড়ে জীবিকা by সোয়েল রানা






About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কংস ভরাট করে বসতবাড়ি

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী এবং কৃষি কার্যালয় থেকে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নে খলাভাঙা এলাকায় ভোগাই নদ থেকে কংস শাখা নদটি দক্ষিণ দিকে চলে গেছে। এই শাখা নদটি ভোগাই নদ থেকে খলাভাঙা গ্রাম হয়ে হালুয়াঘাট উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের গোরকপুর, চর গোরকপুর, মাইছপাড়া, রামনগর, জয়তক, ডুয়ারপাড়, ঝাইগড়া, আমতৈল এবং বাহিরশিমুল হয়ে ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার ঘুরে ফুলপুর উপজেলার সরচাপুর গিয়ে পুনরায় ভোগাই নদে গিয়ে মিশেছে।
এই শাখা নদের পানি দিয়ে সংলগ্ন গ্রামের হাজার হাজার কৃষক খেতে সেচ দিতেন। এ ছাড়া নদের পানিতে গৃহস্থালির কাজ, গবাদিপশুর গোসল করানোসহ নানান কাজে এই নদের পানি ব্যবহার করতেন গ্রামবাসী। ২০১৬ সালে নদে শুষ্ক মৌসুমে পানি মজুত রাখতে খলাভাঙা এলাকায় এই নদে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালে পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে জলকপাটের দুই পাশের মাটির বাঁধ ভেঙে যায়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নদের উৎসমুখ থেকে ২০০ মিটার ভাটিতে মরিচপুরান ইউনিয়নের খলাভাঙা এলাকায় আয়নাল হক, নাজমুল হক এবং আঞ্জুয়ারা বেগম নদ ভরাট করে বাড়িঘর তোলেন। ওই বছরের মার্চে এলাকাবাসী নদে দেওয়া বাঁধ সরানোর দাবি জানিয়ে নালিতাবাড়ীর ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তখন ইউএনও মরিচপুরান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার শফিক আহমেদকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেন। প্রথম দিকে বাঁধ সরাতে জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগ নেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গত বছরের এপ্রিলে নদের ৪০ শতাংশ জমি ভরাট করে সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়। নদ ভরাট করায় ভাটিতে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।
গত রোববার সরেজমিনে কংস নদের ১০ কিলোমিটার ঘুরে দেখা গেছে, খলাভাঙা গ্রামের মধ্যখান দিয়ে কংস শাখা নদ দক্ষিণ দিকে চলে গেছে। স্লুইসগেটের ২০০ মিটার ভাটিতে নদের ওপর আড়াআড়ি করে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। সেই বাঁধের ৪০ শতাংশ জমিতে মাটি ফেলে ভরাট করে তিনটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদের ভাটির দুই পাড়ের মানুষ এ প্রতিনিধির কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
খলাভাঙা এলাকার বাসিন্দা মকবুল হোসেন (৯০) প্রথম আলোকে বলেন, উজানে বাঁধ দেওয়ায় নদের ভাটি অঞ্চলের মানুষের বিরাট ক্ষতি হয়েছে।
মরিচপুরান ইউপির সাবেক সদস্য ওয়াজেদ আলী বলেন, গত বছর নদের উজানে কয়েক জন বাঁধ দিয়ে নদের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। বাঁধ সরাতে এলাকাবাসী ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যান সরেজমিনে গিয়ে বাঁধ দেখেছেন। কিন্তু এরপরও কোনো কাজ হয়নি।
নদে বাঁধ দেওয়া আয়নাল হক ও নাজমুল হক দাবি করেন, ‘এই জমি আমরা এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনে নিয়ে মাটি ফেলে ভরাট করে বাড়িঘর করেছি। এখন আমাদের বাড়িঘর ভেঙে দিতে চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’
হালুয়াঘাটের ধুরাইল ইউপির চেয়ারম্যান মো. ওয়ারিছ উদ্দিন বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নালিতাবাড়ী ও হালুয়াঘাট উপজেলার নদে দুই পাড়ের হাজার হাজার কৃষক তাঁদের জমিতে সেচ দিতে পারতেন। নদের উজানে বাঁধ দেওয়ায় সেই পানি বন্ধ হয়ে গেছে। বাঁধ সরিয়ে খননের মাধ্যমে আবারও নদের নাব্যতা ফিরে আনার দাবি জানান তিনি।
মরিচপুরান ইউপির চেয়ারম্যান খন্দকার শফিক আহম্মেদ বলেন, ‘অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর আমি খলাভাঙা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আকবর স্যারকে নিয়ে ঘটনাস্থল দেখতে গিয়েছিলাম। পরে আলী আকবর স্যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে বাঁধটি সরিয়ে দেওয়া হবে। শুনেছি এখনো বাঁধটি সরানো হয়নি। বিষয়টি আমি দ্রুত ইউএনওকে জানাব।’ আলী আকবর বলেন, যাঁরা নদ ভরাট করে ঘরবাড়ি বানিয়েছেন তাঁরা সবাই গরিব। বাঁধ সরাতে তাঁদের কাছে কোনো টাকাপয়সা নেই বলে জানিয়েছিলেন। এখন তাঁরা বাড়িঘর ফেলে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। যদি প্রশাসনিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে বাঁধ সরাতে কোনো বাধা থাকবে না।
ইউএনও মো. আরিফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আপনার মাধ্যমেই প্রথম শুনলাম। বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। দ্রুত সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে নিয়ে নদ থেকে বাঁধ সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1429)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
March
(458)
-
▼
Mar 06
(17)
- জাহালমের কারাভোগের দায় দুদককে নিতে হবে- ‘যে বিড়াল ...
- ভারতের দাবির সঙ্গে মিলছে না স্যাটেলাইট ইমেজ
- ঘুষ দিয়ে ভোট কিনছেন মে!
- গার্মেন্ট শ্রমিক ছাঁটাই ও মিথ্যা মামলা অবিলম্বে তদ...
- পালওয়ামা হামলা একটি দুর্ঘটনা, মোদিকে কংগ্রেস নেতার...
- ফুটপাতে দোকান, হাঁটার জো নেই by সাবরিনা ইয়াসমীন
- ‘খ্যাপা সংখ্যালঘু’ ঠেকাবেন মাদুরো
- আবারও বিশ্বের শীর্ষ ধনী জেফ বেজোস
- চলে গেলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুমাতা by অমর সাহা
- পিস্তল নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের তল্লাশি গেট পার: তদন্ত...
- দিনভর নাটকীয়তা: গণতন্ত্রের বিকল্প নেই
- বিলেট উৎপাদনে স্বনির্ভর বাংলাদেশ! by মাসুদ মিলাদ
- ইসরাইলের সহায়তায় বিপজ্জনক হামলা পরিকল্পনা করেছিল ভ...
- ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের চাই লাভ by ইফতেখ...
- প্রতিবাদ তো করে যেতেই হবে: সাক্ষাৎকারে অরুন্ধতী রা...
- আলুর পাঁপড়ে জীবিকা by সোয়েল রানা
- কংস ভরাট করে বসতবাড়ি
-
▼
Mar 06
(17)
-
▼
March
(458)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...