Wednesday, July 18, 2018
খতনা জটিলতায় রোহিঙ্গা ছেলেশিশুরা by কাফি কামাল

১২-১৪ বছর বয়স হলেও খতনা সম্পন্ন হয়নি বহু রোহিঙ্গা শিশুর। ক্যাম্পগুলোতে অন্ন-বস্ত্র-স্বাস্থ্য ও বাসস্থান নিয়ে কাজ করছেন সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক নানা সংস্থা। কিন্তু ছেলেশিশুদের খতনার কোনো উদ্যোগ নেই তাদের। স্থায়ী প্রশাসনের একটি অস্থায়ী নির্দেশনায় আটকে আছে খতনার ব্যাপারে বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার উদ্যোগ। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে কাজ করেন এমন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, যথাযথ বয়সে ছেলেশিশুদের খতনা সম্পন্ন না হলে একদিকে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে অন্যদিকে দেখা দেয় সামাজিক সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পুরুষের খতনা এইচআইভি বা এইডস প্রতিরোধে একটি কার্যকর ভূমিকা রাখে, এটি আংশিক সুরক্ষা দেয়। যেসব দেশে খতনার হার বেশি, সেসব দেশে এইডসের হার তুলনামূলক কম।
সরজমিন উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং (নতুন ক্যাম্প), ময়নারঘোনা ও নাইক্ষ্যংছড়ির তমব্রু জিরোপয়েন্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী শতাধিক ছেলেশিশুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের বেশিরভাগেরই খতনা হয়নি। ময়নারঘোনা ক্যাম্পের বাসিন্দা আবদুস শুক্কুর বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার পর থেকে আমরা পরিবারের সদস্যদের দুবেলা খাবার ও মাথাগোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতেই ব্যস্ত ছিলাম।
এখন চাল-ডাল মিলছে কিন্তু সেগুলোর রান্নার জ্বালানি মিলছে না। খাবার পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। টয়লেট ও গোসলের সমস্যা তীব্র। পরিবারের কোনো না কোনো সদস্যের রোগবালাই লেগেই আছে। ক্যাম্পের জীবনে এর বাইরে ভাবার সুযোগ কোথায়? আমাদের ছেলেশিশুদের খতনা প্রয়োজন।
কিন্তু হাজামের (স্থানীয় কবিরাজ) মাধ্যমে ছাড়া সেটা সম্পন্ন করা ছাড়া এখানে তো সরকারি বা বেসরকারিভাবে তার কোনো উদ্যোগ নেই। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, এদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অস্ত্র-বস্ত্র ও বাসস্থান নিশ্চিতকরণেই মনোযোগ নিবদ্ধ রয়েছে বাংলাদেশ সরকারসহ বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর। খতনার মতো বিষয়গুলো খুব বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারিভাবে দেয়া হচ্ছে না খতনা সেবা। নানা সময়ে ২০-৫০ জন করে শিশুর খতনা সম্পন্ন করেছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। তারই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ান ফিল্ড হাসপাতাল খৎনার একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু একটি শিশুর খৎনায় অতিরিক্ত রক্তপাত ত্রুটির অভিযোগ তুলে শিশুটির পরিবার।
এতে পুরো উদ্যোগটি বন্ধ রাখার একটি অস্থায়ী নির্দেশ দেয় স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু পরে এ ব্যাপারে নতুন কোন নির্দেশনা আসেনি। রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর প্রধানরা কোনো রকমভাবে নিজেদের সন্তানদেরকে খতনা করিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগ অভিভাবক অর্থের অভাবে তাদের সন্তানদের খতনা করাতে পারছেন না।
বালুখালী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প, মেটারনাল, চাইল্ড হেলথ অ্যান্ড প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক ও ড্যাব মহাসচিব প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে শিশু রয়েছে অন্তত ৪ লাখ। যার বেশিরভাগই ছেলে শিশু। মুসলিম ধর্মাবলম্বী এসব ছেলে শিশুর খতনা করানো প্রয়োজন। খতনা করালে শিশুদের মূত্রপথের সংক্রমণ প্রতিরোধ হয়। যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে। বেশিদিন খতনা না করালে নানাধরনের রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি যেমন রয়েছে তেমনি সৃষ্টি হবে একধরনের সামাজিক সমস্যা।
তিনি বলেন, আমরা একবার শিশুদের খতনা করানোর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। প্রতিদিন একশ করে ছেলেশিশুকে খতনা করানোর লক্ষ্য নিয়ে সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কয়েক মাস আগে স্থানীয় প্রশাসনের অস্থায়ী একটি নির্দেশনার কারণে সেটার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে যখন স্থানীয় প্রশাসন ওই নির্দেশনাটি দিয়েছিল তখন তা সঠিকই ছিল।
কারণ ব্লিডিং ডিজঅর্ডার থাকে অনেক শিশুর। আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবনের পর খৎনা করালে অতিরিক্ত রক্তপাত বা অন্যান্য সমস্যা তেমন হয় না। তখনও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করার করার ক্ষেত্রে ফিল্ড লেভেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার তেমন সুযোগ-সুবিধা ছিল না। এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন নির্দেশনা না পাওয়া ও অন্যকোন সংস্থা এ ব্যাপারে উদ্যোগ না নেয়ায় আমরাও সেটা বন্ধ রেখেছি। কিন্তু রোহিঙ্গা ছেলে শিশুদের খৎনার ব্যাপারে সবারই এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করি।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রে আরেক রাশিয়ান গুপ্তচর মারিয়া

মারিয়ার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ:
সোমবার এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট কেভিন হেলসনের একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, তাকে এসাইনমেন্ট দেয়া হয়েছিল রাশিয়ান ফেডারেশনের স্বার্থে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রভাব ব্যবহার করা হচ্ছে এমন মার্কিনির সঙ্গে কারো সম্পর্ক আছে কিনা তা খুঁজে বের করা। তিনি সরকারের কাছে তার কর্মকান্ডের বিস্তারিত নিবন্ধিত না করেই কাজ শুরু করেন। যেমনটা করা হয় ফরেন এজেন্ট রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে। যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ অধিকারকে অনুমোদন দেয় এমন একটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেন মারিয়া বুতিনা। আইন মন্ত্রণালয় এ কথা বললেও তারা ওই গ্রুপ অথবা ওই গ্রুপের কোনো রাজনীতিকের নাম প্রকাশ করে নি। এফিডেভিট অনুযায়ী, মারিয়া চেষ্টা করছিলেন রাশিয়ংা সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একটি ব্লাক চ্যানেল প্রতিষ্ঠার জন্য। ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, মারিয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনীতিকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিয়েছিলেন, যাতে তিনি রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষা করতে পারেন। এমন মিশন নিয়ে তিনি একটি ইভেন্ট আয়োজন করেছিলেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের প্রভাবকে রাশিয়ান ফেডারেশনের দিকে ব্যবহার করা যায়। আর এসব বিষয় তিনি রাশিয়ায় কর্মকর্তাদের জানাতেন টুইটার ব্যবহার করে সরাসরি। অথবা অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে তিনি এটা করতেন।
কে এই গুপ্তচর:
মারিয়া বুতিনার আসল বাড়ি হলো সার্বিয়ায়। তিনি আমেরিকান ইউনিভার্সিটিতে পড়তে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছেন স্টুডেন্ট ভিসায়। কিন্তু সেখানে তিনি গোপনে রাশিয়ান সরকারের পক্ষে কাজ করতে থাকেন। তিনি একটি গ্রুপ গড়ে তোলেন। এর নাম দেন ‘রাইট টু বিয়ার আর্মস’। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছার আগেই তিনি এ গ্রুপটি প্রতিষ্ঠা করেন। আগেই যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র বিষয়ক তদবিরকারী সংস্থা হলো ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশন। এর সঙ্গে সম্পর্ক আছে মারিয়ার। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টকে মারিয়া বলেছেন, রাশিয়া সরকারের পক্ষে তিনি কাজ করেন না। তিনি রাশিয়ায় একটি ব্যাংকার ও সাবেক সিনেটর আলেক্সান্দার তোরশিনের এসিসট্যান্ট ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এপ্রিলে অবরোধ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়। তোরশিন ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশনের আজীবন সদস্য এবং ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া এ সংস্থার বিভিন্ন ইভেন্টে যোগ দিয়েছেন মারিয়া। এমনকি তিনি ট্রাম্পের প্রচারণা বিষয়ক ইভেন্টেও যোগ দিয়েছেন। ট্রাম্পের কাছে তার রাশিয়া বিষয়ক পররাষ্ট্র নীতি কেমন তাও নাকি জানতে চেয়েছিলেন।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমিও একজন ফিলিস্তিনি: ম্যারাডোনা

এবারের বিশ্বকাপে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পরেন ম্যারাডোনা। গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়ার ম্যাচে গ্যালারিতে বসে অশোভন অঙ্গভঙ্গি করেন তিনি। শেষ ষোলতে কলম্বিয়া-ইংল্যান্ডের ম্যাচের রেফারিংকে ডাকাতি বলায় তাকে সতর্ক করে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা)। পরে অবশ্য এ বিষয়ে ক্ষমা চান ম্যারাডোনা।
এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে সম্ভাব্য আর্জেন্টিনা-ইসরাইলের ম্যাচ নিয়ে উত্তাল হয় ফিলিস্তিন। আর ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির প্রবল আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদলায় আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন। গত ৯ই জুন জেরুজালেমে আর্জেন্টিনা-ইসরাইলের প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল। তবে এ ম্যাচ আয়োজনের প্রতিবাদে ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, মেসি (লিওনেল) তোমরা জেরুজালেমে খেলতে এসোনা। তারা (ইসরাইল) আমাদের মাতৃভূমি দখল করে রেখেছে। মেসি শান্তি ও ভালোবাসার প্রতীক। ফিলিস্তিনে তার লাখো ভক্ত-সমর্থক রয়েছে। ওই ম্যাচের নির্ধারিত সূচির দু’দিন আগে মেসিদের জেরুজালেম সফর বাতিল করে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন। আর্জেন্টিনা ফুটবল প্রধান বলেন, বিশ্বশান্তির জন্যই তাদের এই সিদ্ধান্ত।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ম্যাক্রোন ও ফুটবল

এবার ১৫ই জুলাই। রাশিয়াতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে। তার মাঝে বিশ্বকাপ বিজয়ী ফ্রান্সের হাতে তুলে দেয়া হবে কাপ। এখানেই তিনি সেই ডেশ্যাম্পসকে শক্ত করে আলিঙ্গন করেছিলেন। এই সেই ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি দলের ক্যাপ্টেন। এখন তিনি চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স দলের ম্যানেজার।
মস্কোতে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারানোর পর ফ্রান্সে অভূতপূর্ব সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে জাতীয় দলকে। সূর্য ডোবা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্যারিসে ঢল নামে লাখ লাখ মানুষের। মেট্রোতে উপচে পড়ছিল মানুষ। এখানে ওখানে, বাসস্টপেজে- সর্বত্র শুধু মানুষ আর মানুষ। আতশবাজি, আলোকসজ্জা তো চলতেই থাকে। রাজধানী প্যারিস যেন গাড়িশূন্য হয়ে গিয়েছিল। চারদিকে শুধু তিন রঙা ফরাসি পতাকা উড়ছিল। মানুষের মুখে মুখে বিজয়ের গান। সোমবার বিকালে ফরাসি টিম চ্যাম্পস এলিসি প্রদক্ষিণ করে ছাদখোলা একটি বাসে। এরপরই তাদেরকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোন। তাদের হৃদয় প্রশস্ত হয়ে গেছে। তারা ইতিহাস নির্মাণ করেছেন। একই সঙ্গে খেলোয়াড় এবং ম্যানেজার হিসেবে তৃতীয় ব্যক্তি হলেন ডেশ্যাম্পস।
প্যারিসের পাশে বন্ডির বানলিউতে বেড়ে উঠেছে তরুণ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলায় টিনেজার হিসেবে পেলের পর গোল করা তিনিই দ্বিতীয় খেলোয়াড়। ফুটবল পাগল প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোন, খেলা চলাকালে প্রেসিডেন্সিয়াল বক্সে তার আনন্দকে ধরে রাখতে পারেন নি। তার কাছে ফুটবল শুধু একটি স্পোর্টসের চেয়ে বেশি কিছু। তিনি ছাত্র থাকা অবস্থায় লেফট-ব্যাক হিসেবে খেলতেন। তাই তিনি খেলাকে উপভোগ করেছেন। তিনি প্যারিসের সারসিলি থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুরু করেছিলেন। সেখানে কিশোর ফুটবলারদের সঙ্গে তিনি বলে লাথি দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছিলেন। হ্যাঁ, ফুটবল তার কাছে অন্য অর্থও বহন করে। নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক বিজয়ের জন্য তিনি ফুটবলকে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠতে পারে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স যখন বিশ্বকাপ জেতে তখন প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাক। ওই সময়ে আগস্ট মাসে তার জনপ্রিয়তা শতকরা ৪৫ থেকে বেড়ে ৫৯ ভাগে উঠে যায়। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পরবর্তী দেড় বছর পর্যন্ত এই জনপ্রিয়তা শতকরা ৫০ ভাগের উপরে ছিল।
ইমানুয়েল ম্যাক্রোনের জন্য এই বিজয় একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এরই মধ্যে। বলা হচ্ছে, তার চেয়ে যারা কম সৌভাগ্যবান তাদেরকে তিনি তেমন গণ্য করছেন না। এ ছাড়া রাজনৈতিক কারণ তো আছেই। ফ্রান্সে ফুটবল সামাজিক গতি নির্ধারণ করে। এবং তা তিনি প্রমাণ করেছেন। গত বছর নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি মার্সেইলিতে বলেছিলেন, যারা বানউরিয়াস থেকে সরে যেতে চাইছেন সেখানে ‘স্পোর্টস কিলস হাউজ অ্যারেস্ট’। গ্রেটার প্যারিসকে ঘিরে রেখেছে হাউজিং এস্টেটগুলো। বেশির ভাগ অভিবাসী বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস এখানে। স্কুল পরবর্তী বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের মধ্যে এখানে রয়েছে চমৎকার নেটওয়ার্ক। এসব ক্লাবই হয়ে উঠেছে জাতীয় টিমের বিশাল একটি স্থান। প্রশিক্ষণ এবং মেধা হলো ম্যাক্রোনের দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রে। কীভাবে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় সেই দৃষ্টিভঙ্গি। এক্ষেত্রে ফুটবল একটি উল্লেখ করার মতো প্রতীক।
দ্বিতীয় কারণ হলো, টিমটি নিজেরাই ফ্রান্সের জন্য একটি প্রচারক হয়ে উঠেছে। ১৯৯৮ সালেও এ দেশটি বহু সংস্কৃতির মানুষের হয়ে উঠবে সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত ছিল না। তখন টিমকে বলা হতো ‘ব্লাক, ব্লাংক, বিউর’ হিসেবে।
আট বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ ফুটবলে ফরাসি পক্ষ বড় এক ইগো নিয়ে বসলো। প্রশিক্ষণ সেশনের সময় তারা ধর্মঘটে গেল। তারপর তারা বিশ্বকাপে গেল এবং টুর্নামেন্ট থেকে আউট হয়ে যায়। এ বছর ডেশ্যাম্পস পছন্দের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে নিলেন। খেলার পরে ড্রেসিংরুমে তারা ছিলেন সুশৃঙ্খল। ফ্রান্সকে তো সবটুকু দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কথা বলেছিলেন এমবাপ্পে। আরেকজন গোলদাতা অ্যান্তোনি গ্রিজম্যান টুইট করে বলেছেন, চ্যাম্পিয়ন ডু মন্ডে। ভিভা লা ফ্রান্স।
রাশিয়াতে এই বিজয় উদযাপন করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটাকে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করতে পারেন। টিমকে এভাবে আলিঙ্গন করার চূড়ান্ত কারণ হয়তো এটাই। তিনি এ জন্য খেলোয়াড়দেরকে ডেমোক্রেটিক হিরো বা গণতান্ত্রিক বীর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
(দ্য ইকোনমিস্ট অবলম্বনে)
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেসব কারণে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ by শফিকুল ইসলাম

গ্রাম বাংলায় পৌষ-মাঘ মাসে পুকুর, খাল, ডোবা, ঘেরের পানি কমতে থাকলে দেশি মাছ ধরার ধুম পড়ে যেত। এখন সেসব দেখা যায় না। বর্ষাকালে ধানের জমিতে কইয়া জাল, বড়শি ও চাই পেতে মাছ ধরার রীতিও হারিয়ে গেছে অনেক এলাকা থেকে। যারা একসময় পুকুর, খাল-বিল, ডোবা, নালায় মাছ ধরে পরিবারের চাহিদা পূরণ করতেন, তাদের অনেকেই এখন বাজার থেকে চাষের মাছ কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,দেশীয় মাছ ক্রমশ হারিয়ে যাওয়ার জন্য মূলত অনেকগুলো কারণই দায়ী। এরমধ্যে মধ্যে জলবায়ুর প্রভাব, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কারেন্ট জালের অবৈধ ব্যবহার, ফসলি জমিতে অপরিকল্পিত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় দূষণ, নদ-নদীর নব্যতা হ্রাস, উজানে বাঁধ নির্মাণ, নদী সংশ্লিষ্ট খাল-বিলের গভীরতা কমে যাওয়া, ডোবা ও জলাশয় ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থলের অভাব, ডিম ছাড়ার আগেই মা মাছ ধরে ফেলা, ডোবা-নালা- পুকুর ছেঁকে মাছ ধরা, বিদেশি রাক্ষুসে মাছের চাষ ও মাছের প্রজননে ব্যাঘাত ঘটানো। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই ১৪টি কারণে ৫০ টির বেশি দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে।
মৎস্য অধিদফতরের সূত্র বলছে, হারিয়ে যাওয়া দেশি প্রজাতির মাছের সংখ্যা আড়াইশ’র বেশি। হাটবাজার, পুকুর, খাল, বিল কোথায়ও এখন আর মিঠাপানির সুস্বাদু সেসব মাছ মিলছে না। দেশি মাছের বদলে এখন বাজারে জায়গা দখল করে নিয়েছে চাষের পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, ক্রস ও কার্প জাতীয় মাছ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি ও চাষাবাদ ব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। একই সঙ্গে পোনা আহরণ, নেটজাল ও মশারি জাল ব্যবহার করে খালে-বিলে -সাগরে মাছ ধরার কারণেও দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মৎস্য অধিদফতর সূত্রও বলছে, দুই দশক আগে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে প্রায় আড়াইশ’ প্রজাতির মিঠা পানির মাছ পাওয়া যেত।
রাজধানীর শান্তিনগর বাজারের মাছ ব্যবসায়ী বরগুনা জেলার আমতলীর বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৫-১৬ বছর আগেও আমাদের এলাকায় মাছ কিনে খাওয়ার তেমন রেওয়াজ ছিল না। কেনার মধ্যে শুধু ইলিশ মাছ কেনার কথাই মনে পড়ে। মাছের প্রয়োজন হলে সবাই বাড়ির সামনে খালে বা নদীতে চলে যেত। খালে, পুকুরে তখন এত মাছ ছিল যে, পানিতে নেমে খালি হাতেও মাছ ধরতে পারতো।’
এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৎস্য খামারি সালাউদ্দিন মুফতির সঙ্গে কথা হয় মোবাইল ফোনে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বাড়িতে দু’টি পুকুর আছে। জন্মের পর থেকেই এই পুকুর দু’টি দেখছি। ২০ বছর আগেও সারাবছর ধরে বাড়ির সবাই পুকুর থেকে মাছ ধরত। শীতের মৌসুমে পুকুর ‘আউড়ান’ (অনেক মানুষ একসঙ্গে পুকুরে নেমে পানি ঘোলা করা, যেন ঘোলা পানি খেয়ে মাছ দুর্বল হয়ে ওপরে ভেসে উঠে এবং সহজে সেগুলো ধরা যায়) হতো। এরপর জাল, ডালা, খুচন নিয়ে মাছ ধরতে নেমে যেত ছোট-বড় সবাই। কেউ কেউ খালি হাতেও মাছ ধরত। শোল, গজার, টাকি, চিংড়ি, শিং, কই, টেংরা, পাবদা, ফলিসহ বিভিন্ন জাতের মাছ ধরা পড়ত। তবে এখন ওই দুই পুকুরে চেলা, পুঁটি, বেলে ছাড়া কোনও মাছ নেই।’’
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের কলার দোয়ানিয়া গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আসলাম মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘স্থানীয় কলার দোয়ানিয়া বাজারেও হাটের দিন দেশি প্রজাতির অনেক মাছ উঠত। এখন আর সেসব মাছ ওঠে না। বাজার ভরা থাকে চাষের পাঙ্গাস আর তেলাপিয়ায়। মাঝে-মধ্যে সিজনে জাটকাও ওঠে।’
দেশি মাছ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি ইরি ধান ও অন্যান্য সবজিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারকে দায়ী করেন।
গতবছর মার্চ মাসে নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হাওর এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠেছিল। সংশ্লিষ্ট জেলার মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ধান পঁচে হাওরের পানিতে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়ে অক্সিজেন কমে যাওয়ার কারণেই মাছ মরে গেছে। তবে হাওর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উদ্ভিদ পঁচে অ্যামোনিয়া তৈরি হয় না। অন্য কোনও কারণ আছে। সেগুলোকে খুঁজে বের করতে খুব দ্রুত বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতে হবে বলা হলেও তা এখনও করা হয়নি। জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কোনও গবেষণার পরিকল্পনাও নেই।
এ প্রসঙ্গে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহম্মদ গোলজার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা বিষয়টি গভীরভাবে মনিটর করছি। বিভিন্ন কারণেই দেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যে মাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে অনেক প্রজাতির মাছ রক্ষায় গবেষণা চলছে। পাবদা, টেংরা, বোয়াল, আইড় মাছ এখন চাষ হচ্ছে। পাঙ্গাসের চাষ হচ্ছে আগে থেকেই। কৈ মাছেরও চাষ হচ্ছে। আরও গবেষণা হবে। দেশি প্রজাতির মাছ রক্ষায় মৎস্য অধিদফতর প্রতিবছরই মৎস্য মেলার আয়োজন করে। একই কর্মসূচি জেলা, উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
পিরোজপুরের কয়েকজন প্রবীণ জানান, একসময় এলাকার বলেশ্বর, সন্ধ্যা ও পায়রা নদীতে দুই কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া যেত। পাওয়া যেত পাঁচ থেকে ছয় কেজি ওজনের বোয়াল ও আইড় মাছ। এমন কোনও মাছ ছিল না যা এ অঞ্চলের বিলে পাওয়া যেত না। এলাকার নলামারা বিলে তারা জাল দিয়ে ১২ কেজি ওজনের কালবাউশ মাছ ধরেছেন। এক সময় ছিল বেলে, ডগরি, কাজলি, ভাঙ্গান, ভোলা প্রভৃতি মাছ খাওয়ার অযোগ্য মনে করে ধরার পর ফেলে দিতেন। এখন আর সেদিন নেই বলে জানান তারা।
দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণেই দেশি প্রজাতির মাছ হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে মানুষের সচেতনতার অভাবও রয়েছে। হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ রক্ষায় ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এখন পাবদা, টেংরা, বোয়াল, আইড়, পাঙ্গাস ও কৈ মাছের চাষ হচ্ছে।’
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর প্রথম পিতৃভূমিতে ওবামা

About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রেনে কাটা পড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে ২ জনের বেশি by শুভ্র দেব

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রেনে ভ্রমণ করা যতটা নিরাপদ তার চেয়ে অনেক বেশি ঝুঁকি রেললাইন দিয়ে চলাচল। বিষয়টি নিয়ে রেল সংশ্লিষ্টদের আরো তৎপর হওয়া দরকার।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী ট্রেনে কাটা পড়ে দেশে গত সাড়ে ৫ বছরে ৪ হাজার ৮২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিটা ঘটনায় রেলওয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। এর বাইরে কিছু হত্যা মামলাও রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৩ সালে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০২ জনের। ২০১৪ সালে ৮৯৮ জন। ২০১৫ সালে ৮২১ জন। ২০১৬ সালে ৯৭১ জন। ২০১৭ সালে ১ হাজার ২২ জন এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ৭৪ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৪ জন, মার্চ মাসে ৮৫ জন, এপ্রিল মাসে ৬৬ জন, মে মাসে ৯০ জন ও জুন মাসে ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে শুধু ঢাকা অঞ্চলে মৃত্যু বরণ করেছেন ১ হাজার ৭৩৪ জন। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ৩১৮, ২০১৪ সালে ৩০৫, ২০১৫ সালে ২৮৫, ২০১৬ সালে ৩০৫, ২০১৭ সালে ৩৪৬ ও ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১৭৫ জন। যারা মারা গিয়েছেন তাদের মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, কানে হেডফোন লাগিয়ে রেললাইন ধরে হাঁটার কারণে ৩৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রেললাইনের ওপর বসা বা চলাচলের জন্য ৪৩৮ জন, রেলওয়ে ক্রসিং ও পারাপারের চেষ্টায় ৮৮৬ জন, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ৯৬ জন ও অন্যান্যভাবে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রাজধানীর চকবাজারের হুসেনি দালান এলাকার বাসিন্দা ফরিদ মিয়া (৬০)। পরিবারপরিজন নিয়ে তিনি সেখানেই থাকতেন। ভাঙাড়ির এই ব্যবসায়ী গত ২৮শে জুন মালামাল কিনতে এসেছিলেন মালিবাগ এলাকায়। রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় কমলাপুরগামী একটি ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। গত ১০ই জুন জারিয়া-ময়মনসিংহ রেলপথের ১৮ নম্বর সেতুর পাশে বালুঘাটা এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান আব্দুর রহিম (৫৫)। তার বাড়ি বালুঘাটা এলাকায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আব্দুর রহিম রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। এসময় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ২৭২ নম্বর ডাউন ট্রেনটি তাকে কেটে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। চলতি মাসের ২ তারিখে গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন এক স্কুল শিক্ষার্থী। তার নাম মনিরা আক্তার। ওই দিন সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের হাজী গেট সংলগ্ন রেললাইনে এই ঘটনা ঘটে। মনিরা একই ইউনিয়নের উজির গ্রামের মোফাজ্জর মিয়ার মেয়ে। শুধু তাই নয় ১৩ই মে গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত আরো এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওইদিন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় ঘটনাটি ঘটে। সান্তাহার থেকে দিনাজপুরগামী দোলনচাপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মহিমাগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে বোনারপাড়া যাওয়ার পর দেওয়ানতলা ব্রিজ এলাকায় ওই যুবকে ট্রেনটি কেটে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
রেলওয়ে পুলিশ ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছে। তার মধ্যে কানে ইয়ার ফোন দিয়ে রেললাইনে চলা, রেল লাইনের ওপর বসা বা হাঁটা-চলা করা, রেলওয়ে ক্রসিং ও পারাপারের চেষ্টা, ট্রেনের ছাদে উঠে ভ্রমণ ছাড়াও আরো কিছু কারণ। আর যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রী, কর্মজীবী, চাকরজীবী, ছোটখাটো ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য পেশার মানুষ রয়েছেন। তবে রেলওয়ে ক্রসিং পারাপারের চেষ্টা ও রেললাইনের ওপর বসা বা চলাচলরত অবস্থায় বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রেললাইনে কাটা মৃত্যুতে পুরুষের সংখ্যা বেশি। এর বাইরে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে রেললাইনে ফেলে রাখার কিছু ঘটনা ও রেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে কিছু যানবাহনের সংঘর্ষে আরো কিছু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াসিন ফারুক মানবজমিনকে বলেন, আমাদের অন্যান্য কাজের মতো ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু রোধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। রেললাইনের আশপাশের এলাকায় মাইকিং, রেল বস্তি ও রেললাইন দিয়ে চলাচলরত মানুষকে নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করি। লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং করা হয় নিয়মিত। তিনি বলেন, এত কিছুর পরও মানুষকে সচেতন করা যাচ্ছে না। অনেকেই শখ করে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করে। আবার কানে হেডফোন দিয়ে গানশুনে কথা বলে রেললাইন ধরে হাটে। এসব কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাই আমাদের সচেতনতার সৃষ্টির পাশাপাশি রেললাইনে চলাচলকারীদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। না হলে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু বন্ধ করা যাবে না। ইয়াসিন ফারুক বলেন, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে অনেক সময় হত্যার অভিযোগ করেন। এসব বিষয় আমরা খতিয়ে দেখি। ফরেনসিক রিপোর্ট দেখে যদি হত্যার আলামত পাওয়া যায় তবে এক্ষেত্রে আমরা হত্যার তদন্ত করে থাকি।
রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়েই মৃত্যু হচ্ছে হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে দুর্বৃত্তরা মানুষ হত্যা করেও অপরাধ ঢাকতে রেললাইনে মরদেহ ফেলে রেখে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা। ১৪ই জুন রাজধানীর খিলগাঁও বাগিচা মসজিদ সংলগ্ন রেললাইন থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী সেলিনা পারভিনের ছেলে সুমন জাহিদের মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ। বাসা থেকে ডেকে নেয়ার দুই ঘণ্টার মাথায় তার মরদেহ রেললাইনের পাশে পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে ট্রেনে কাটা পড়েই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে রেললাইনে ফেলে রেখে গেছে। পরে ট্রেন এসে কেটে চলে গেছে। কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন সুমন জাহিদ। এরপর থেকে অজ্ঞাতনামা লোকেরা তাকে নানাভাবে হুমকি দামকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগও করেন তার পরিবার। গত বছরের ২৯শে নভেম্বর কোটচাঁদপুরে রেললাইনের ওপর থেকে শফিউদ্দিন শফি (২৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে জিআরপি পুলিশ। উদ্ধার করা লাশের দুই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন এবং দেহের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তিনি উপজেলা শহরের গাবতলাপাড়ার মৃত মনিরুদ্দিনের ছেলে। নিখোঁজ থাকার পর তার মরদেহ রেললাইনে পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, হত্যার পর লাশটি পরিকল্পিতভাবে রেললাইনের ওপর ফেলে রাখা হয়েছিল।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, শখের বশে, সিট সংকট অথবা প্রচণ্ড গরমে বাতাসের জন্য অনেকেই ট্রেনের ছাদে উঠেন। এর বাইরে অপকর্ম করতে অনেকেই ছাদে উঠে। বিশেষ করে মাদকসেবীরা নির্বিঘ্নে সেখানে বসে মাদক সেবন করে। ছিনতাইকারীরা ছিনতাই করে। আবার পূর্বশত্রুতার জের ধরে অনেকেই ধাক্কা মেরে ফেলে দিচ্ছে। আবার অন্যত্র হত্যা করে ট্রেনের ওপর থেকে ফেলে দেয়া। অপরাধ ঢাকতে এমন পথ অবলম্বন করে অপরাধীরা। কারণ ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুতে সাধারণত আসামিকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে অনেক সময় থানায় মামলা হয়। তবে মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি থাকে না।
দিন পার হলে ঘটনাটিকে শুধুই অসাবধানতা বশত মৃত্যু হিসাবে ধরে নেয়া হয়। সূত্র বলছে, এসব অভিযোগে প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষী খোঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চলতি বছরের ২৪শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় নরসিংদির ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সাকিব খান। সে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। পরে ওই দিনই রেলওয়ে পুলিশ ঢাকার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। সাকিব নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের হোমিও চিকিৎসক মো শরফুউদ্দিনের ছেলে। মা পারুল বেগম ফুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। সাকিবের বাবার অভিযোগ ছিল, স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। ফেসবুকে নরসিংদীর স্থানীয় এমপির ছবির নিচে খারাপ কমেন্টস করার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শামসুউদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, অসচেতনতার জন্যই রেললাইনে ট্রেনে কাটা পড়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এ নিয়ে রেলওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। জনসচেতনতার জন্য লিফলেট, মাইকিং, পোস্টারিং, সভা করা হয়। আর হত্যার অভিযোগ এলে তদন্তও রেলওয়ে পুলিশ করে।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশে বাড়ছে ক্যানসার রোগী, আট বিভাগে হবে একশ’ শয্যার হাসপাতাল

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে ক্যানসার রোগী বাড়ছে। কিন্তু চিকিৎসা অপ্রতুল। ক্যানসার রোগের চিকিৎসা সুবিধা খুবই কম, এজন্য সুবিধা বাড়াতে হবে। বর্তমানে এনআইসিআরএইচ এ ৩০০ বেড রয়েছে, যা ১৬ কোটি মানুষের চাহিদা মেটাতে অপ্রতুল। বাংলাদেশে প্রতি তিন হাজার ক্যানাসার রোগীর বিপরীতে মাত্র ১টি করে শয্যা বরাদ্দ আছে। তবে বিকেন্দ্রিকরণের মাধ্যমে ৮টি বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যা উপযোগী ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ফলে যতটুকু ঘাটতি আছে সেটা হয়ে যাবে। তিনি বলেন, যে দেশে ৬০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে অসংক্রামক রোগে এর মধ্যে ক্যানসার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এর জন্য পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত সচেতনতা জরুরি। কারণ ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর পানি দূষণ, ইটভাটার পরিবেশ দূষণ এবং মানুষের লাইফস্টাইলের পরিবর্তন ক্যানসার চিকিৎসার জন্য অনেকাংশে দায়ী। তাছাড়া ক্যানসার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় খরচও বেশি হয়ে থাকে।
এমনকি এই রোগের চিকিৎসায় ৪ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায়। তবে প্রাথমিক স্তরে রোগ শনাক্তের মাধ্যমে চিকিৎসা নিলে সুস্থ থাকা সম্ভব। এজন্য সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য চেক-আপ করা করাতে হবে। ধনীরা নিয়মিত চেক-আপ করান। কিন্তু গরিবরা করান না। এটা শুরু করতে হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, দেশে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ বাড়লেও প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত পাকিস্তানের তুলনায় দেশের স্বাস্থ্যখাত অনেকদূর এগিয়ে গেছে। মূলত সরকারের হেলথ সেক্টর কাজ করছে বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। এমনকি এমডিজি অর্জনেও এগিয়ে আছে। ইতিমধ্যে আমরা পোলিও, টিটেনাস, রাতকানা নির্মূলে সক্ষম হয়েছি। ডায়রিয়ার প্রকোপ কমিয়েছি। কিনু্ত অসংক্রামক রোগ ক্যানসারের চিকিৎসায় অবকাঠামো ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি ও জনবলসহ অনেক কিছুই ঘাটতি আছে। এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
বাংলাদেশ হেল্থ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোয়াররফ হোসেন, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির মহাসচিব ডা. এসএম আবদুর রহমান, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএ হাই, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক, রশ বাংলাদেশের হেড অব মেডিকেল ডা. ফারজানা হক প্রমুখ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট হাসপাতালের এপিডেমোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জোট রাজনীতি: পর্দার আড়ালে নানা তৎপরতা

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টায় বিএনপির পক্ষ থেকে গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাসদ (রব), কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ, বিকল্প ধারা, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এখনও দলগুলোর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বেশিরভাগ দলই অভিন্ন স্বার্থে এ জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে একমত হয়েছে। শুরুর দিকে ভিন্ন মঞ্চ থেকে অভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হতে পারে। তবে, বেশ কিছু জটিলতাও এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে। ২০ দলীয় জোটের ভেতরও কিছু টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব বাড়ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনে জোটের বাইরে গিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে মেয়র পদে প্রার্থী দেয়া হয়েছে। অন্য সিটিগুলোতে জামায়াতের প্রার্থী না থাকলেও বিএনপির পক্ষে সেভাবে সরব নেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের অবস্থান কোন দিকে যায় সেদিকে দৃষ্টি থাকবে পর্যবেক্ষক মহলের। জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদ সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তবে, বিএনপির বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব, প্রলোভন আর চাপ এ তিনটি বিষয়ই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেন, একটি সিটি নির্বাচনে একজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই প্রার্থী হতে হয়েছে। এরআগে নানা চাপ এবং প্রলোভনে ২০ দলের শরিক বেশ কয়েকটি দলের মধ্যে ভাঙন দেখা দেয়। সামনের দিনগুলোতে এমন পরিস্থিতি আরো প্রবল হতে পারে। তবে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় সম্ভাব্য জোটের নেতৃত্ব কে দেবেন তা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। যদিও পরিস্থিতির পরিবর্তনে এ নিয়ে ছাড় দিতেও বেশিরভাগ দল প্রস্তুত রয়েছে বলে একটি সূত্র জানাচ্ছে। এক্ষেত্রে জোটের নেতৃত্বে বড় ধরনের চমকও থাকতে পারে। সরকারের অংশীদার জাতীয় পার্টির আগামী দিনে কী ভূমিকা হতে পারে তা নিয়েও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে আলোচনা রয়েছে।
অতীতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নানা নাটকীয়তা তৈরি করেছিলেন। যদিও বিএনপির সঙ্গে কখনও তার নির্বাচনী ঐক্য হয়নি। চার দলীয় জোট গঠনের সময় এরশাদ ঐক্যের কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেও পরে জোট ত্যাগ করেন। এখন জাতীয় পার্টিতে রওশন এরশাদও একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে, আগামীদিনে মহাজোটে জাতীয় পার্টির স্থান অন্য একটি দল নিতে পারে এমন গুঞ্জনও রয়েছে। যে দলটি এখন বিএনপির ঐক্য প্রচেষ্টার আলোচনাতেও আছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। এর আগে পরে রাজনীতিতে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও সর্বত্রই ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। এবং এ নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এমন কোনো ঘটনাও ঘটেনি। কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতেও কঠোর অবস্থান নিয়ে ক্ষমতাসীনরা সর্বত্র একটি বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। সামনের দিনগুলোতেও যে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে তা বলাই বাহুল্য।
নানা ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলো কিছু নড়াচড়ার চেষ্টা করলেও সরকারের যে তা পছন্দ হয়নি তা তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশকে নিয়ে চীন-ভারতের এক ধরনের ঠান্ডা লড়াইয়ের খবর মাঝে মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বেরোয়। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লিকে এটা বুঝানোর চেষ্টা হয়েছে যে, চীনের অবস্থান শুধুই বাণিজ্যিক। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিলের শুনানি এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তার জামিনে মুক্তির ব্যাপারে এখন বিএনপির হেভিওয়েট আইনজীবীরাও কোনো আশার কথা বলছেন না। দলটি শেষ পর্যন্ত এ ইস্যুতে কী কৌশল অবলম্বন করে, আদৌ কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারে কি-না সেদিকেও খেয়াল রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রকাশ্যে রাজনীতি এখন স্থির। সর্বত্র নিয়ন্ত্রণ। পর্দার আড়ালে জোট রাজনীতিতে নড়াচড়া চলছে। সামনের দিনগুলোতে তা আরো তীব্র হবে। যদিও তীব্র প্রতিযোগিতার কোনো আভাস নেই।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে মান্নার ক্যাম্পেইন শুরু

যেগুলো আর কখনো ফিরে আসে না। গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির তথ্য মতে ২০০৫ থেকে ২০১৪ এই দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে কমপক্ষে ৬ লাখ কোটি টাকা। যার মধ্যে ২০১৪ সালে হয়েছিল ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের নিরিখে ২০১৪ সালকে ভিত্তি ধরে এটা যৌক্তিকভাবে অনুমান করাই যায় পাচারের অঙ্ক এখন বছরে কমপক্ষে ১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, মানুষকে দুর্নীতির বিষয়ে সচেতন করতে তাদের যথেষ্ট তথ্য দিতে হবে।
এর মাধ্যমে মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে। মানুষের এই জানাশোনা, সচেতনতা তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রণোদনা যোগাবে। মান্না বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই। তাই ক্যাম্পেইন এর জন্য যতগুলো মাধ্যমে সম্ভব আমরা প্রচারণা চালিয়ে যেতে চাই। আমাদের এই লড়াইয়ে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানাব। কারণ, এই সমস্যা আমাদের সকলের। আমরা একটি ফেসবুক পেজ খুলেছি।
সেখানে রাষ্ট্রীয় ও অন্যান্য দুর্নীতির তথ্য দেব। আশা করি সকলে নিজের জায়গা থেকে দুর্নীতির তথ্য আমাদের পেজে দিয়ে সহযোগিতা করবেন। তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে খুব সহজেই দুর্নীতির তথ্যগুলো পৌঁছে যাবে। মান্না বলেন, বাংলাদেশের দুর্নীতি এতটাই সর্বগ্রাসী যে শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেই না, ছড়িয়ে পড়েছে বেসরকারি সেক্টরেও।
এখন ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার নিচে সরকারি একটি পিওনের চাকরিও পাওয়া যায় না। বেসরকারি বিভিন্ন ধরনের সেবা পেতেও ঘুষ দেয়া লাগে। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে দুর্নীতি হয় না। দেশের বেশির ভাগ মানুষ প্রান্তিক দুর্নীতির সরাসরি ভুক্তভোগী বলে তারা শুধু সেটা সম্পর্কেই কম-বেশি ধারণা রাখে। দুর্নীতি এ দেশে কতটা বীভৎস পর্যায়ে চলে গেছে সেটা তারা অনেকেই জানে না।
তারা এটা বোঝেও না। এই রাষ্ট্রের কাছ থেকে শিক্ষা-স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তাখাতসহ অন্যান্যখাতে তাদের যা যা প্রাপ্য সেসব তারা সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কারণেই পায় না বলে আমরা বিশ্বাস করি। মান্না বলেন, জিডিপি এবং মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি দেখিয়ে ক্ষমতাসীন সরকার দাবি করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশে অনেক অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান আমাদের ভিন্ন গল্প বলে। মেগা প্রকল্প ছাড়াই দেশে এখন প্রতি বছর দুর্নীতি হয় কমপক্ষে ৭৫ হাজার কোটি টাকা।
১০ হাজার কোটি টাকা বাজেটের পদ্মা সেতুর বাজেট এখন ৪০ হাজার কোটি টাকা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার ভূপেন হাজারিকা সেতুর নির্মাণ ব্যয় যেখানে ১১৫০ কোটি টাকা সেখানে ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় এখনই ৪০ হাজার কোটি টাকা। শেষ হতে হতে কত হাজার কোটি টাকায় পৌঁছবে সেটা দেখার বিষয়। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে প্রতি কিলোমিটার রেললাইনের খরচ ১২ থেকে ৩০ কোটি টাকা। সেখানে ঢাকা-পায়রা বন্দর রেললাইনের খরচ হচ্ছে কিলোমিটার প্রতি ২৫০ কোটি টাকা।
সেতু, রেললাইন, সড়ক, ফ্লাইওভার সব কিছুতে ব্যয় বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় ৪/৫ গুণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ, জনতা ব্যাংক (এননটেক্স গ্রুপ), সোনালী ব্যাংক (হলমার্ক), বেসিক ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সোয়া এক লাখ কোটি টাকা। তিনি বলেন, আজকের পত্রপত্রিকা খুললে দেখবেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ৯৬৩ কেজি স্বর্ণের চাকতি রাখা হয়েছিল সেগুলো ভুতুড়েভাবে মিশ্র ধাতু হয়ে গেছে।
তার মানে রাখা হলো সোনা তা হয়ে গেল তামা- বিষয়টা অনেকটা এমন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এ ভয়ংকর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে দুর্নীতি হচ্ছে না। এমনকি পৃথিবীর কোনো দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরি ও ভল্টে রাখা সোনা গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা পাওয়া যায় না। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার, কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার ও মমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দুই সপ্তাহ ধরে খালেদার সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না স্বজনরা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা ঘোষণার পর আদালত ৮ই ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠান। তারপর থেকেই তিনি কারাবন্দি রয়েছেন পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডে কেয়ার সেন্টারে। কারাগারে নেয়ার পর তিনি স্নায়ুবিক ব্যথায় ভুগছেন। সার্ভাইকাল স্পনডাইলোসিস রোগের ভয়াবহতার কারণে তার বাম হাত ও বাম পা ফুলে যায়। ইতিপূর্বে তাঁর দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করায় তিনি একজন বিশেষ পরিচর্যা সাপেক্ষ রোগী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ জটিল নানা রোগে আক্রান্ত। কারাগারে নেয়ার পর প্রতিরাতে তার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। লাল হয়ে যায় ডান চোখ। তিনি ঠিকমতো হাঁটা-চলাও করতে পারছেন না। কিন্তু এত কিছুর পরও বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়নি সরকার। বিএনপি’র তরফে বারবার দাবির ও শান্তিপূর্ণ নানা কর্মসূচি পালনের পর সরকারি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল টিম গঠন করে কারা কর্তৃপক্ষ। খালেদা জিয়ার প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ৭ই এপ্রিল তাকে নেয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। সেখানে তার কয়েকটি এক্স-রে করা হলেও বিশেষায়িত কোনো চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়নি। এরপর বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তির মাধ্যমে তার বিশেষায়িত চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। তারই অংশ হিসেবে তারা বারবার আবেদন করেছেন কারা কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডিআইজি প্রিজনের সঙ্গে সাক্ষাতও করেছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে পালন করেছেন নানা কর্মসূচি। এমন পরিস্থিতিতে ৫ই জুন কারাগারে মাথা ঘুরে পড়ে যান খালেদা জিয়া। চিকিৎসা বিদ্যায় যেটিকে টিআইএ (ট্রানজিয়েন্ট স্কিমিক অ্যাটাক) বলে জানান চিকিৎসকরা। এরপর তাকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়ার দাবিটি জোরালো হয়। একই দাবিতে সর্বশেষ ৯ই জুলাই ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।
১২ই জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছিলেন, কারাবিধি লঙ্ঘন করে ১১দিন ধরে পরিবারের লোকজনসহ কাউকেই দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। কারাবন্দি হিসেবে খালেদা জিয়ার যে সাংবিধানিক অধিকার পাওয়ার কথা সেটি থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কারাবিধি অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সঙ্গে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের দেখা না করতে দেয়া তার এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘন। কারাবিধি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেছিলেন, খালেদা জিয়া কারাবিধির ৬১৭ বিধি অনুসারে ডিভিশন-১ প্রাপ্ত হন। আর ডিভিশন-১ প্রাপ্ত বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য কারাবিধির সপ্তদশ অধ্যায়ে (বিধি-৬৬৩-৬৮১) বর্ণিত অধিকারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার রাজনৈতিক সহকর্মী-বন্ধুবান্ধবের সাক্ষাৎকারের বিষয়টিও বিশদভাবে বলা আছে। এছাড়া খালেদা জিয়া তার সাজার মামলায় জামিনে আছেন তাই তাকে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি নয়, বিচারাধীন মামলায় বন্দি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। সে হিসেবেও কারাবিধির সপ্তবিংশ অধ্যায়ে (বিধি-৯০৯-৯১০) অনুসারে তিনি প্রথম শ্রেণির ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি। সেখানেও তার রাজনৈতিক সহকর্মী-বন্ধুদের সাক্ষাতের অধিকার বিধি-৬৮২তে দেয়া আছে। সেদিন বিএনপি মহাসচিব আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, আমরা আশঙ্কা করছি- খালেদা জিয়াকে পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে কিনা।
বিএনপি মহাসচিবের সে ব্রিফিংয়ের পর কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ১৪ই জুলাই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান তার বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা। বিকাল ৫টার দিকে তারা কারাগারে প্রবেশ করে প্রায় একঘণ্টা অপেক্ষা পর বেরিয়ে আসেন। পুরো সময়টা তারা অপেক্ষায় ছিলেন কারাগারের ভেতরে ভিজিটিং রুমে। কারাগার থেকে বেরিয়ে সেলিনা ইসলাম গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, সাক্ষাতের অনুমতি মিললেও খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে নিচে নামতে না পারায় দেখা হয়নি। যতটুকু জেনেছি, খালেদা জিয়া জ্বরে ভুগছেন, তার শরীরের ব্যথা রয়েছে। যার কারণে তিনি দোতলা থেকে নেমে নিচতলায় আসতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আগে উপরে গিয়ে তার (খালেদা জিয়ার) রুমের পাশে করিডোরে দেখা করতাম। কিন্তু আজকে সে অসুস্থ জানানো হলেও আমাদের উপরে যেতে দেয়নি। আমরা তার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার খবর জানতে না দেয়ার জন্যই তার সঙ্গে সাক্ষাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত গতকাল এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে কতটুকু অসুস্থ সে খবরও জানতে দিচ্ছে না কারা কর্তৃপক্ষ। তার পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে গেলে তাদের দোতলায় যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। আসলে কারা কর্তৃৃপক্ষ দেশনেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে শুধু উদাসীনই নয়, সরকারের নির্দেশে কোনো ভয়ঙ্কর মাস্টারপ্ল্যানের দিকে এগুচ্ছে কী না তা নিয়ে জনমনে এক বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী বন্দির সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় জেলার সাক্ষাতের দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের সবচেয়ে বড় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
তিনি একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী। সর্বোপরি একজন সত্তরোর্ধ্ব বয়স্ক অসুস্থ নারী। সে অনুযায়ী তার স্বজন, পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও চিকিৎসকরা প্রতি সপ্তাহে দেখা পাওয়ার কথা। কিন্তু সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ তার কিছুই গ্রাহ্য করছে না। স্বজনদের যেমন সাক্ষাতের সুযোগ দিচ্ছে না, তেমনি আমরা আইনজীবী এবং তার চিকিৎসকরাও সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছি না।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের মহাপরিকল্পনা by সিরাজুস সালেকিন

তারপর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও মতবিনিময় করার সিদ্ধান্ত আছে। এ ছাড়া আরপিও সংশোধনীর বিষয় তো আছেই। সব কিছু মাথায় রেখেই নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ইভিএমে ওপর পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করছে। গত শনিবার উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রথম ব্যাচের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। গতকাল দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইভিএম সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশিক্ষণ দেবে ইসি। এমনকি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ রোধে সাংবাদিকদেরও ইভিএমের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হতে পারে। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ইভিএমের ওপর পর্যায়ক্রমে সবাইকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। যেন এর সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক বলেন, ইভিএমের ওপর প্রশিক্ষণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। শুধু সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে নয়, সব নির্বাচনের জন্য কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ থাকা উচিত। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ইভিএমকে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত করার জন্য দশটি অঞ্চলে মেলা করার চিন্তা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বরিশাল অঞ্চলে একটি মেলা করা হয়েছে সেখানে বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবেও একটি মেলার করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে এসব মেলা আয়োজন করবে ইসি। এজন্য প্রতিটি জেলাতে দুটি করে ইভিএম মেশিন পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গত ১৫ই মে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশনের পর আসন্ন গাজীপুর নির্বাচনেও চারটি কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করে ইসি।
বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি নির্বাচনের পর আগামীতে স্থানীয় নির্বাচনের যেকোনো সিটি, উপজেলা কিংবা পৌরসভায় এককভাবে ইভিএম ব্যবহার হতে পারে। ইসি সূত্র জানায় আগামীতে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের পরিধি বাড়াতে ২৫৩৫টি নতুন মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে ইভিএম ক্রয় করছে ইসি। প্রাথমিকভাবে ২৫৩৫টি ইভিএম ক্রয়ের পরে আরো ১৫০০ সেট কেনার জন্য প্রস্তুতি চলছে। সংসদ নির্বাচনের আগে ১০ হাজারের উপর ইভিএম কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের ৪২ হাজার কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইভিএমগুলোর প্রতিটির দাম পড়ছে গড়ে প্রায় ২ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএমে ব্যবহারে সফলতা পেলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করবে ইসি। এজন্য ইতিমধ্যে সংসদ নির্বাচনে ব্যালটের পাশাপাশি ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করতে যাচ্ছে কমিশন। এর আগে সিইসি কেএম নূরুল হুদা জানিয়েছিলেন, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি নেই ইসির। রাজনৈতিক দল ও ভোটাররা সর্বসম্মতি দিলেই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হতে পারে। ইসির সঙ্গে সংলাপে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০শে জুলাই অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটিতে ভোট। কমিশন সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে এসব নির্বাচনে ইভিএমের পরিধি বৃদ্ধি করেছে। এর মধ্যে বরিশাল সিটিতে ১০টি এবং রাজশাহী ও সিলেটে দুটি করে কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট নেয়া হবে। এর আগে সিটি নির্বাচনে বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটিতে একটি করে ওয়ার্ডে ইভিএমে নির্বাচন করে।
গত সিটি নির্বাচনে বুয়েটের তৈরি ইভিএমে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাজশাহী সিটির পিটিআই কেন্দ্রে রণক্ষেত্র তৈরি হয়। ইভিএমের কারণে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া বিতর্কিত হয়ে পড়ে। সর্বপ্রথম এক এগারোর সময়কার এটিএম শামসুল হুদা কমিশন স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএমের প্রচলন ঘটায়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর সহায়তায় প্রথমে ২০১০ সালে এ প্রযুক্তির ৫৩০টি মেশিন কেনা হয়। ব্যবহার করতে গিয়ে ইভিএমে নানা যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। পরে ২০১১ সালে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) প্রস্তুত করা ৭০০ ইভিএম কেনা হয়। এগুলোও পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ছিল না। শামসুল হুদা কমিশন ২০১১ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ২১নং ওর্য়াডে বুয়েটের ইভিএম ব্যবহার করে। পরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি, টাঙ্গাইল পৌরসভা ও নরসিংদী পৌরসভায় এ প্রযুক্তি ব্যবহার হয়। পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় হুদা কমিশনের স্থলে বিধির নিয়মে নতুন কমিশন হিসেবে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদায়ী রকিব উদ্দিন কমিশন দায়িত্ব নেয়। তাদের মেয়াদে রাজশাহী সিটিতে ২০১৩ সালে ইভিএম ব্যবহার করে পুরো বিতর্কের মধ্যে পড়ে যায় ইসি। পরে কমিশনার হিসেবে মেয়াদ পূর্ণের আগে ইভিএম ব্যবহার করেনি। তবে, নতুন ইভিএমের প্রচলন চালু রেখে যায়। আর গত ফেব্রুয়ারিতে কেএম নূরুল হুদার কমিশন দায়িত্বে এসে কমিটি করে পুরনো ইভিএমকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। নতুন প্রবর্তিত ইভিএমে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ১৪১নং কেন্দ্রের ৬টি কক্ষে ব্যবহার করে। কিন্তু পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত হয়নি। পুরনো ইভিএমের মতো ত্রুটি নিয়ে নির্বাচন শেষ করে। এরপর গাজীপুর নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ ও ভোটারদের ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগ আসে। ওই নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের অভিযোগ পাওয়া যায়।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তারা এ ধরনের ভুল কী করে করেন? -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে কক্সবাজার জেলার সুবিধাভোগী, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মুক্তিযোদ্ধাদের অ্যাকাউন্টে এই সম্মানিভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরী এই প্রকল্প এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করেন। মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে সরকার গঠনের পর সরকারি চাকরির জন্য কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে পাওয়া যেত না। ফলে, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং নাতি-নাতনিদের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যাতে রাষ্ট্রপরিচালনায় মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণ থাকে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বেসরকারি টেলিভিশনের ‘টক শো’ কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করে বলেন, কিছু বুদ্ধিজীবী যাদের আদালতের রায় সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই তারা ‘টক শো’তে যখন মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরুদ্ধে কথা বলেন তখন আমার দুঃখ হয়। আন্দোলনের নামে কতিপয় ছাত্র ভিসির বাড়িতে আক্রমণ করে লুটপাট করেছে। এর চেয়ে গর্হিত কাজ শিক্ষার্থীর জন্য আর কী হতে পারে। সেটা নিয়ে তারা কোনো উচ্চবাচ্য করেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে ভিসির (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি) বাড়িতে আক্রমণ, তাকে হত্যার প্রচেষ্টা এবং ভাঙচুর ও লুটপাট, একেবারে বেডরুমে ঢুকে লুটপাট চলেছে। অরাজক পরিস্থিতি দেখে আমি বলেছিলাম, ‘ঠিক আছে কোটা থাকবে না।’ কোটা থাকবে না কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এটাও দেখতে হবে স্বাধীনতাবিরোধী যারা যুদ্ধাপরাধী তারা যেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে বা রাষ্ট্রীয় কোনো পজিশন না পায়, সেটাও দেখতে হবে। আপনারা জানেন যে, হাইকোর্টে একটা রিট হয়েছিল। সে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট হুকুম দিল, এই ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে, না হলে পদ শূন্য থাকবে।
এটি যখন আপিল বিভাগে যায় তখন আপিল বিভাগ একটা রায় দেয়- ‘কোটা পূরণ করে যদি কোনো শূন্য পদ থাকে তাহলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণ করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে তার সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য ভাতা বৃদ্ধি, বিজয় দিবস এবং নববর্ষে ভাতার ব্যবস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের বিনা পয়সায় যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি, বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং প্রয়োজনে বিদেশে গিয়েও চিকিৎসা গ্রহণের সুবিধা, সারাদেশের জেলা-উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স গড়ে তোলা প্রভৃতির উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে কারো কাছে হাত পেতে আমাদের চলতে হয় না। আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির শতকরা ৯০ ভাগ আমাদের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বাস্তবায়নের সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি। আজকের বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।’ তিনি বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছি, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হচ্ছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ৭ দশমিক ৭৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, দারিদ্র্যের হার কমেছে। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য নিয়ে তার সরকার যাত্রা শুরু করেছিল, আজকে দেশ ক্ষুধামুক্ত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, যাদের মহান আত্মত্যাগে এই স্বাধীনতা, তাদের জন্য আমরা যে ভাতার ব্যবস্থা করেছি, আমি জানি কাউকে ভাতা দিয়ে সম্মান দেয়া যায় না। কিন্তু, আমি চাইনা তারা কেউ কষ্ট পাক। এ কারণেই, এই উদ্যোগটা আমরা নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে সারা বাংলাদেশে যেখানেই মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে, এই ভাতার টাকা সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিসিসি নির্বাচন: প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নেতারা

বরিশালে আগামী ৩০শে জুলাই অনুষ্ঠেয় সিটি নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কা থাকলেও প্রার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রচার প্রচারণা নিয়ে। এটাই স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছে সাধারণ ভোটারদের মাঝে। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ মেলেনি। বড় দল দু’টি একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনলেও তা খুব একটা আমলে নেয়নি নির্বাচন কমিশন।
বরিশালে এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মীর্জা আব্বাস সরোয়ারের পক্ষে এলাকায় এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একসঙ্গে ১৫/২০টি অটো নিয়ে হচ্ছে ধানের শীষের মিছিল। মাইকে মাইকে চলছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেবার প্রচারণা। সম্ভবত এবারই প্রথম সরোয়ারের পক্ষে চান শিরিনসহ জেলা ও মহানগরের সব নেতা মাঠে নেমেছেন। এভাবে প্রচারণা চলতে থাকলে বিএনপির শঙ্কিত ভোটাররাও মাঠে নেমে আসবে বলে মনে করছেন জেলা যুবদল সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লব।
অপরদিকে প্রথম থেকেই আওয়ামী লীগের ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চলছে নগরীতে। একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বরিশাল এসেছেন। কেউ কেউ প্রচারণা করে ঢাকাও চলে গেছেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম মুরাদ, ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, অ্যাডভোকেট আফজাল হেসেন, সুুদিপ রায়, বলরাম পোদ্দার অন্যতম। এর মধ্যে অ্যাডভোকেট ফজলে নুর তাপস এবং অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রচারণায় অংশ নেননি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস গণসংযোগ করেছেন। তবে এখনও কেন্দ্রীয় কোনো নেতা বরিশালে এসে তার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেননি। এ সময় ইকবাল বলেন, ‘নগরবাসী আমাকে তাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করলে নগর ভবন নয় এটা হবে সেবক ভবন।’
এদিকে দিনরাত প্রচার প্রচারণা চললেও বরিশালের ভোটাররা এখনও সতর্ক। প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। সবাইকেই আশ্বস্ত করছেন। হোটেল বা রেস্তরাঁয় চায়ের কাপে ঝড় নেই। কেউ কাউকে তার মনের কথাটিও বলতে সাহস পাচ্ছেন না। নির্বাচন কমিশনের এবং প্রশাসনের আশ্বাসে নির্বাচনী পরিবেশ ফিরে এলেও নির্বাচনের ২/৩দিন আগে বোঝা যাবে নির্বাচন কেমন হবে- এ বক্তব্য প্রায় সব ভোটারের।
এদিকে এক প্রার্থী অপর প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে একের পর এক অভিযোগ করে চলেছেন। এখন পর্যন্ত বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ৭ এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির ৫টি অভিযোগ জমা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার হেলাল উদ্দিন খান বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকি করতে বরিশাল জেলা প্রশাসনের ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে আইনি সহায়তা দিতে ৩০শে জুলাই নির্বাচন কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে থাকবেন।’
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নতুন করে ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করছে সরকার by দীন ইসলাম

About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের অগ্রগতি দেখতে চায় বৃটেন

বড় ধরনের কোনো সন্ত্রাসী হামলা না হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বৃটেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্বারোপের লক্ষ্যে পোপ ফ্রান্সিসের গত বছরের বাংলাদেশ সফর সফল হয়েছে। গত বছরের আগস্ট থেকে ছয় লাখ ৮৮ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও সহায়তা দেয়ায় যুক্তরাজ্য সরকার বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রশংসা করছে। প্রতিবেদনে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের বরাত দিয়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়। নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতন কমানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি উল্লেখ করে বলা হয়Ñ গত বছর ২৫৩টি মৃত্যুদ-াদেশ এবং ছয়টি কার্যকর করা হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে মামলা দেয়ার অভিযোগ করে আসছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সাংবিধানিক একটি মামলা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত নভেম্বর মাসে চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। বিচারব্যবস্থা থেকে দুর্নীতি দূর করার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।’ লন্ডনের প্রতিবেদনে ২০১৭ সালে বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতায় বাংলাদেশের দুই ধাপ অবনতির তথ্য তুলে ধরা হয়। সরকার ৫৭ ধারা বিলোপ করে যে আইনের প্রস্তাব করেছে তা নিয়েও মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগের কথা স্থান পায়। এ দেশে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতার উচ্চহারের কথা উল্লেখ করে বৃটিশ সরকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮০ ভাগেরও বেশি বাংলাদেশি নারী ও কন্যাশিশু স্বামী বা সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক, মানসিক, যৌন বা আর্থিকভাবে নিপীড়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছে। রোহিঙ্গা শিবিরে নারীরা বড় ধরনের ঝুঁকিতে আছে। তাদের অনেকেই মিয়ানমারে বর্বর নিপীড়নের শিকার হয়েছে। যুক্তরাজ্য তাদের সহায়তার জন্য জাতিসংঘ ও অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। সেখানে জাতিগত নিধনযজ্ঞ, ধর্মীয় ও অন্যান্য স্বাধীনতায় বিধি নিষেধে বৃটেন অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বানিয়াচংয়ের জলাবদ্ধতা দেখার কেউ নেই by মখলিছ মিয়া

About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পড়ার খরচের বিনিময়ে ইয়াবা ব্যবসা!

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র উপ- পরিদর্শক (এসআই) মো. জুয়েল মিয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথা উল্লেখ করে বলেন, ইয়াছিনের বাড়ির কাছেই নাফ নদ। নাফ নদ পার হলেই মিয়ানমার। সেখান থেকে ইয়াবা নিয়ে তা কয়েকগুণ লাভে শিক্ষার্থী ও স্বল্প শিক্ষিত বেকার যুবকদের দিয়ে বাস ও বিমানে ঢাকায় পাঠাতো। মামুন ধরা পড়ার পনের দিন আগেও ইয়াছিন ঢাকায় ১০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান পাঠায়। সে এভাবে কোটি কোটি টাকার বহু চালান পাচার ও বিক্রি করেছে। গত সোমবার দুপুরের দিকে আদালতে নেয়া হলে সে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তার অপরাধ স্বীকার করে। তার আরো দু’সহযোগী শরীফ ও মাসুমকে ধরার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
পিবিআই ও ইয়াছিনের জবানবন্দি সূত্রে জানা যায়, ইয়াবা সম্রাট হিসেবে পরিচিত ইয়াছিন আরাফাতের গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফে। নাফ নদের কাছে হ্নীলা গ্রামে। তার পিতার নাম জালাল আহম্মেদ। হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। এরপর ২০০৬ সালে ঢাকায় আসে। শাহজাহানপুরে থাকতো। জড়িয়ে পড়ে হুন্ডির ব্যবসায়।
তিন বছর পর ২০০৯ সালে আবার গ্রামে চলে যায়। জড়িয়ে পড়ে ইয়াবা ব্যবসায়। প্রায় এক দশকের ইয়াবা ব্যবসায় মাদক সাম্রাজ্যে জায়গা করে নেয়। কোটি কোটি টাকার নিষিদ্ধ ইয়াবা ঢাকায় পাচার করে। এক পর্যায়ে ইয়াবা পাচার ও বিক্রিতে বেছে নেয় ঢাকায় পড়াশোনার জন্য আসা গ্রামের মেধাবী ছাত্রদের। তাদের কাছে দানবীর সেজে প্রথমে তাদের মেস ভাড়া ও পড়াশোনার খরচ দিতো। পরে তাদের দিয়ে টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান ঢাকায় পাঠাতো। মেসে রাখা হতো। তাদের দিয়ে বিক্রি করা হতো।
টেকনাফ থেকে ইয়াছিনের পাঠানো ইয়াবার চালানসহ গত ১৬ই মে সাতরাস্তা এলাকায় র্যাবের কাছে ধরা পড়ে বিএফ শাহীন কলেজের ছাত্র মামুন। তার কাছে ৪৩ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। যার অবৈধ বাজার মূল্য ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। চালানটি পরবর্তী ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য মামুনকে দেয়ার কথা ছিল ১ লাখ টাকা। ওই চালানে আসে ১ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট। মামুনের আগে ওই চালানে ইয়াছিনের পাঠানো আরো ৫৭ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট নাবিস্কোতে অপর একজনের হাতে ডেলিভারি দেয়া হয়। মামুন ধরা পড়ার পর ওই ঘটনায় মামলা হয় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায়। সেই মামলার তদন্তভার পড়ে পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক মো. জুয়েল মিয়ার হাতে।
তদন্ত ও মামুনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিবিআই ঢাকা মেট্রোর একটি দল গত রোববার রাতে রাজধানী থেকে টেকনাফের হ্নীলায় গিয়ে ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে ঢাকায় আনা হয়। গতকাল দুপুরে নেয়া হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে স্বীকার করে। সে আরো বেশ কয়েকটি মামলার আসামি।
নিজ এলাকা থেকে পড়াশোনার জন্য গিয়ে ঢাকায় অবস্থান করা গরিব, অসহায় ও মেধাবী ছাত্রীদের টার্গেট করে সে তার ইয়াবা পাচার ও বিক্রির ব্যবসা গড়ে তোলে। এছাড়া তার দলে নিয়েছে স্বল্প শিক্ষিত বেকার যুবকদেরকেও। এসব কথা সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্বীকার করে।
জবানবন্দিতে ইয়াছিন আরাফাত বলে, ‘মামুন আমাদের গ্রামের ছোট ভাই ও পরিচিত। সে বিএফ শাহীন কলেজে পড়াশোনা করে। তার কলেজের বেতন বাকি পড়ায় মাঝে মাঝে সহযোগিতা করতাম।’ এভাবেই তাকে সহযোগিতার করার নামে ধীরে ধীরে ইয়াবা ব্যবসায় জড়ানোর কথা স্বীকার করে। একইভাবে মামুন ছাড়া আরো বেশকিছু ছাত্র ও স্বল্পশিক্ষিত বেকার যুবকদের দলে নিয়ে তাদের দিয়ে এই নিষিদ্ধ ব্যবসা চালিয়ে নিচ্ছে বলে জানায়।
পিবিআই ঢাকা মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ মানবজমিনকে বলেন, গ্রামের গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঢাকায় পড়াশোনার খরচ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খান। তাদের সে অসহায়ত্বকে পুঁজি করে উপকারের নামে ইয়াবা ব্যবসায় জড়াতো ইয়াছিন। বহু শিক্ষার্থী দিয়ে কোটি কোটি টাকার বড় বড় চালান বহন ও বিক্রি করেছে। এই ইয়াবা সম্রাটের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরকেও গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।
About: Kutubi Web
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
July
(220)
-
▼
Jul 18
(18)
- খতনা জটিলতায় রোহিঙ্গা ছেলেশিশুরা by কাফি কামাল
- যুক্তরাষ্ট্রে আরেক রাশিয়ান গুপ্তচর মারিয়া
- আমিও একজন ফিলিস্তিনি: ম্যারাডোনা
- ম্যাক্রোন ও ফুটবল
- যেসব কারণে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ by শফিকুল ইসলাম
- হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর প্রথম পিতৃভূমিতে ওবামা
- ট্রেনে কাটা পড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে ২ জনের বেশি b...
- দেশে বাড়ছে ক্যানসার রোগী, আট বিভাগে হবে একশ’ শয্যা...
- জোট রাজনীতি: পর্দার আড়ালে নানা তৎপরতা
- রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে মান্নার ক্যাম্পেইন শুরু
- দুই সপ্তাহ ধরে খালেদার সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না স্বজনরা
- ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের মহাপরিকল্পনা by সিরাজু...
- তারা এ ধরনের ভুল কী করে করেন? -প্রধানমন্ত্রী
- বিসিসি নির্বাচন: প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নেতারা
- নতুন করে ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করছে সরকার ...
- অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিতের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদ...
- বানিয়াচংয়ের জলাবদ্ধতা দেখার কেউ নেই by মখলিছ মিয়া
- পড়ার খরচের বিনিময়ে ইয়াবা ব্যবসা!
-
▼
Jul 18
(18)
-
▼
July
(220)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...