Tuesday, September 29, 2015

বাতিল হতে পারে অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশ সফর -ব্রিটিশ দৈনিকের প্রতিবেদন

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বৈঠকরত
অস্ট্রেলিয়া দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা
ঢাকায় এক ইতালীয় নাগরিককে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার সতর্কতা জারি করায় অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর বাতিল করা হতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যেই এ ঘোষণা আসতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ব্রিটিশ ও মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতার মাত্রা বৃদ্ধির পর এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে।
সোমবার অস্ট্রেলীয় দলের ঢাকা আসার কথা থাকলে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় যে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থে জঙ্গি হামলা হতে পারে বলে ‘নির্ভরযোগ্য তথ্য’ রয়েছে তাদের কাছে।
এরপরই ওই সফর স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশে আসেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারোলসহ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পর যখন দেশ বাংলাদেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখনই সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার কূটনৈতিক পাড়া গুলশানে ইতারীয় নাগরিক তাভেলা সিজার।
মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাবেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারোল, টিম ম্যানেজার গ্রাভিন ডোভি এবং টিম নিরাপত্তা ম্যানেজার ফ্র্যাঙ্ক ডিমাসি।
বুধবার তারা অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন। এরপর বুধবারই অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড, ম্যানেজমেন্ট এবং খেলোয়াড়দের সাথে বৈঠকে বসবেন তারা।
গার্ডিয়ান জানায়, বাংলাদেশে মার্কিন ও ব্রিটিশ নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতা জারির বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার সফরকে প্রভাবিত করতে পারে।

খুব কাছ থেকে ৩টি গুলি করা হয় তাভেলাকে

ইতালির নাগরিক চেসারে তাভেলাকে খুব কাছ থেকে তিনটি গুলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান ডা. কাজী মোহাম্মদ আবু সামা।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চেসারে তাভেলার শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন আছে। দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বের হয়ে যায়। একটি গুলি শরীরে পাওয়া গেছে। গুলিগুলো রিভলবার দিয়ে এবং খুব কাছ থেকে করা হয়।
এর আগে, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষ করেন গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাব্বির রহমান।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, চেসারে তাভেলার ডান হাঁটুর উপর এবং ডান হাতের কনুইতে থেঁতলানো জখমের চিহ্ন আছে। এ ছাড়া বাম হাতের পেছনে ও ভেতরের দিকে একটি; বাম বগলের নিচে, পিঠের বামপাশে ঘাড় বরাবর একটি এবং ঘাড়ের দুই ইঞ্চি নিচে গুলির ছিদ্রের চিহ্ন আছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় গুলশান-২ এর ৯০ নম্বর সড়কে হাঁটার সময় তিন মোটরসাইকেল আরোহী ইতালীর নাগরিক চেসারে তাভেলাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নাম ও ছবি মুছে ফেলার অপরাজনীতি by সোহরাব হাসান

আগে ছবি ওঠানো-নামানো ও নাম মুছে ফেলার রাজনীতি বাংলাদেশের রাজনীতিকদের একচেটিয়া সম্পত্তি থাকলেও ইদানীং এর সংক্রমণ প্রতিবেশী ভারতেও মহামারি রূপে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি ওরফে এনডিএ জোট ক্ষমতায় আসার পর ভারতের মনোরাজনৈতিক জগতে যে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে, তাকে স্বাভাবিক ঘটনা বলা যায় না। এর পেছনে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও তাদের সহযোগী আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দর্শনই কাজ করেছে। কংগ্রেস যেহেতু সেক্যুলার রাজনীতির কথা বলে, সেহেতু তারা ভারতের রাজনৈতিক দর্শন ধারণ করে না—এটাই বিজেপি জোটের দাবি।
ক্ষমতায় আসার দেড় বছরের মাথায় নরেন্দ্র মোদি সরকার সরকারি ডাকটিকিট থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর ছবি ও নাম ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কংগ্রেস সরকারের আমলে আধুনিক ভারতের নির্মাতা হিসেবে আরও কয়েকজনের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর ছবিসংবলিত ডাকটিকিট ছাপে, যা এত দিন ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। নরেন্দ্র মোদি সরকার বলছে, এখন থেকে ডাকটিকিটে ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর নাম থাকবে না। নামের সঙ্গে পরিচয়ের পরিবর্তনও লক্ষণীয়। কংগ্রেস বলেছিল, এঁরা আধুনিক ভারতের নির্মাতা। বিজেপি বলছে, ভারত-নির্মাতা। আধুনিকতার ব্যাপারে তাদের আপত্তিটা অবোধগম্য নয়।
কংগ্রেস সরকার ২০০৮ সালে আধুনিক ভারতের নির্মাতা নামে যেসব নেতার নামে ডাকটিকিট ছেপেছিল, তাঁদের মধ্যে ইন্দিরা ও রাজীব ছাড়াও ছিলেন মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, বি আর আম্বেদকার, হোমি ভাবা, জে আর ডি টাটা, সত্যজিৎ রায় ও মাদার তেরেসা। নরেন্দ্র মোদি সরকার সেই তালিকায় অদলবদল এনে ইন্দিরা ও রাজীবের সঙ্গে সি ভি রমণ, হোমি ভাবা, জে আর ডি টাটা ও সত্যজিৎ রায়কেও বাদ দিয়েছে।
সত্যজিৎ রায়কে বাদ দেওয়া! যিনি ভারতের চলচ্চিত্রকে বিশ্বসভায় পরিচিত করিয়েছেন, অস্কারের লাইফটাইম অ্যাসিভমেন্ট পুরস্কার পেয়েছেন, বিজেপি সরকারের কাছে তাঁর কোনো গুরুত্বই নেই। অথচ এই সত্যজিৎ রায় অসুস্থ থাকাকালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিতেরা কলকাতায় এসে তাঁর হাতে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দিয়ে গিয়েছিলেন। মিতেরা সত্যজিৎ রায়কে চিনতেন, কিন্তু নরেন্দ্র মোদি চেনেন না। মোদির কাছে ভারতের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার হওয়াই যথেষ্ট নয়; তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে হিন্দুত্ববাদের মিশেল থাকতে হবে। সত্যজিৎ রায় বা সি ভি রমণের স্থলে তিনি বেছে নিয়েছেন ছত্রপতি শিবাজি, মহারানা প্রতাপ, বাল গঙ্গাধরকে। এটাই বিজেপির রাজনীতির সঙ্গে খাপ খায়। বিজেপি সরকারের নতুন তালিকায় আরও আছেন হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়; ১৯৪৭ সালে যিনি ভারত ভাগ না হলেও বাংলা ভাগ করতে হবে বলে গোঁ ধরেছিলেন।
দুই.
বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কংগ্রেস। দলের কেন্দ্রীয় নেতা আনন্দ শর্মা বলেছেন, ‘আমরা ইন্দিরা ও রাজীবের প্রতি সরকারের এই উদ্যোগ ও মনোভাবের তীব্র নিন্দা জানাই।’ দিল্লিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে কংগ্রেস নেতা শোভা ওঝা সস্তা রাজনীতি না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সূর্যওয়ালার দাবি, নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, দুই ধরনের ডাকটিকিট ছাপানো হয়। একটি কোনো স্থানের বা ব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখিয়ে স্মারক, আরেকটি হলো নির্দিষ্ট বা দৈনন্দিন ব্যবহারের ডাকটিকিট। ইন্দিরা গান্ধীর ওপর চারবার ও রাজীব গান্ধীর ওপর দুবার স্মারক ডাকটিকিট ছাপানো হয়েছে। তাই আর ছাপানো যাবে না। কিন্তু সাম্প্রদায়িক নেতা বাল গঙ্গাধর ও শ্যামা প্রসাদের নামে ডাকটিকিট ছাপতে কোনো বাধা নেই। এরপর হয়তো বিজেপি সরকার বাল ঠাকরের নামেও ডাকটিকিট ছাপবে এবং সেটি ভারতের জনগণকে ব্যবহার করতে বাধ্য করবে।
ডাকটিকিটের সঙ্গে চিঠির খামের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সরকার ইন্দিরা গান্ধীর ছবিসংবলিত খামের পরিবর্তে যোগব্যায়ামের ছবিযুক্ত খাম ছাড়ার চিন্তাভাবনা করছে মোদি সরকার। প্রাচীনকাল থেকেই ভারতে যোগব্যায়াম চলে আসছে। কিন্তু বিজেপি নেতারা এটিকে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা হিসেবে ব্যবহার করছেন। এমনকি আন্তর্জাতিক যোগব্যায়াম বা ইয়োগা দিবস পালনেরও ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
বিজেপি নেতারা বলছেন, জাতীয় নেতা শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীন দয়াল উপাধ্যায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার বল্লভ ভাই, ছত্রপতি শিবাজি, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, ভগবৎ সিং, বাল গঙ্গাধর, জয়প্রকাশ নারায়ণ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাম মনোহর লোহিয়া, বিবেকানন্দ, মাদার তেরেসা ও মহারানা প্রতাপের স্মরণে নির্দিষ্ট ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে। বিজেপির দাবি, স্বাধীনতাসংগ্রাম ও ভারত নির্মাণে যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের সবাইকে সম্মান জানানো উচিত। একটি পরিবারে এটি সীমিত রাখা যায় না। নির্বাচনের আগে মোদি ভারতকে কংগ্রেসমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পর সরকার ভারতকে সেকু৵লারমুক্ত করার কাজটি জোরেশোরে শুরু করেছে।
স্বাধীনতার বহু বছর পর বিজেপি গঠিত হলেও দলের নেতারা এখন স্বাধীনতাসংগ্রামে ভাগ বসাতে চাইছেন। বিজেপি নেতারা বলছেন, স্বাধীনতাসংগ্রামের সময় বিজেপি না থাকুক, আরএসএস ও হিন্দু মহাসভা ছিল। তাহলে কংগ্রেস স্বাধীনতার একমাত্র হকদার হবে কেন? এই যুক্তিতেই মোদি সরকার ইতিহাসের পরিত্যক্ত পাতা থেকে হিন্দু মহাসভা ও আরএসএস নেতাদের খুঁজে বের করছে।
তিন.
বিজেপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর কেন্দ্রীয়ভাবে এবং বিভিন্ন রাজ্যে ছবি ওঠা-নামা এবং নাম পরিবর্তনের মহড়া চলছে। নাম বদলের এই পাঠ তারা বাংলাদেশ থেকে নিলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। উপমহাদেশের সব দেশেই এখন রাজনৈতিক অবক্ষয় চলছে। ক্ষমতাসীনেরা সামনে তাকানোর কথা বলে দেশকে পেছনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। হিন্দুত্ববাদ, তথা ধর্মীয় জাগরণের বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসাকে বিজেপি সরকার নৈতিক দায়িত্ব মনে করছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয় পাঠ্যবই পরিবর্তনসহ সবকিছু গৈরিকীকরণ চলছে। অটল বিহারি বাজপেয়ি ক্ষমতায় থাকতেও হিন্দুত্ববাদের প্রসার ঘটানো হয়েছিল। তবে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু বিপুল ভোটে বিজয়ী নরেন্দ্র মোদি নব ভারত নির্মাণের যে হিন্দুত্ববাদী পথ নিয়েছেন, তা কেবল ভারত নয়, উপমহাদেশের জন্যই বিপজ্জনক।
কেবল ডাকটিকিট বা চিঠির খাম নয়, বিজেপি সরকার জাদুঘরসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনায় হাত দিয়েছে বিজেপি সরকার। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী মহেশ শর্মা বলেছেন, এসব জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য যাতে আরও বেশি কার্যকরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশাপাশি সমসাময়িক উপাদানগুলো সন্নিবেশিত করা হবে। বিজেপি সরকার নেহরু স্মৃতি জাদুঘর ও লাইব্রেরি, ত্রিমূর্তি ভাবনসহ ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে সাজাতে চাইছে। নেহরু স্মৃতি জাদুঘরে নাকি কেবল একটি পরিবারের কীর্তি তুলে ধরা হয়েছে।
কংগ্রেস বলেছে, সরকারের এই পরিকল্পনা একরকম ‘শয়তানি’। সরকার মানুষের মৌলিক চেতনা ও চরিত্র ‘দুর্বল ও নিষ্প্রভ’ করে দিচ্ছে। দলের মুখপাত্র রণদীপ সিং বলেছেন, ‘আমাদের জাতি গঠনে আরএসএস ও বিজেপির কোনো ভূমিকা নেই। এখন তারা আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের গৌরবময় ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য বিকৃত করার শয়তানি শুরু করেছে।’ নেহরু স্মৃতি জাদুঘর ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের সংগ্রামের স্মারক; এটি ঔপনিবেশিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের প্রতীকও বটে। আর স্বাধীনতার পর সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের গড়ে ওঠার প্রতীক হিসেবেও দাঁড়িয়ে আছে এই নেহরু স্মৃতি জাদুঘর। আরএসএস, বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও দেশের অন্যতম সেরা সন্তান পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুকে খাটো করার চেষ্টা করলেও সফল হবেন না, মানুষ সেটা গ্রহণ করবে না।
চার.
দেড় বছর আগে নরেন্দ্র মোদি নতুন ভারত নির্মাণের যে স্বপ্ন দেশবাসীকে দেখিয়েছিলেন, সেটি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে? প্রথম বছরটিতে তিনি জনপ্রিয়তা মোটামুটি ধরে রাখতে পারলেও দ্বিতীয় বছরে এসেই তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। তাঁর ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগানও খুব সাড়া জাগাতে পারেনি। কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ ছিল দুর্নীতি, অনুন্নয়ন ও বেকারত্ব নিয়ে। কিন্তু গত এক বছরে খুব কম ক্ষেত্রেই বিজেপি সাফল্য দেখাতে পেরেছে। মন্ত্রীরাও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। গত দেড় বছরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকেরা। একমাত্র মহারাষ্ট্রেই গত এক বছরের ১ হাজর ৩০৬ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন, যা আগের এক বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি এক সমাবেশে বলেছেন, ‘কৃষকেরা এখন নরেন্দ্র মোদিকে গালাগাল দিতে শুরু করেছেন।’ অন্যদিকে উচ্চ বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিকেরা আন্দোলন করেছেন। মোদি সরকারের আমলে শিক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে বরাদ্দ কমেছে। শিক্ষা খাতে আগের সরকারের আমলে বরাদ্দ ছিল ৮২ হাজার ৭৭১ কোটি রুপি, মোদি সরকার নামিয়ে এনেছে ৬৯ হাজার ৭৪ কোটিতে। নৈতিক শিক্ষা, ইতিহাস সংশোধনের নামে হিন্দুত্ববাদের পুনর্জাগরণ ঘটানোর চেষ্টা করেছেন বলে সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন জওহরলাল ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক জয়া হাসান।
পাঁচ.
বহু বছর আগে কবি আবদুল হাসান লিখেছিলেন—
দালান উঠছে তাও রাজনীতি, দালান ভাঙছে তাও রাজনীতি,
দেবদারু কেটে নিচ্ছে নরম কুঠার তাও রাজনীতি,
গোলাপ ফুটছে তাও রাজনীতি, গোলাপ ঝরছে তাও রাজনীতি!
মানুষ জন্মাচ্ছে তাও রাজনীতি, মানুষ মরছে তাও রাজনীতি!
এখন দালান ওঠা আর দালান ভাঙা রাজনীতি নয়। রাজনীতি হলো ছবি ওঠানো। ছবি নামানো। ছবি সরানো। বাংলাদেশে ছবি নামানোর রাজনীতি শুরু হয়েছিল ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার করার পর। ছবিই–বা বলি কেন, একসময় তাঁর নাম নেওয়াও ছিল অপরাধ। কিন্তু ইতিহাসের শিক্ষা হলো, যারা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল, তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
তাই বাংলাদেশ ও ভারতের যাঁরাই ছবি-ডাকটিকিট-খাম-জাদুঘর নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাঁদের আয়নায় একবার নিজেদের মুখ দেখতে বলব। ‘অন্যের চক্ষে ধূলি নিক্ষেপ করিয়া’ নিজের মহিমা বাড়ানো যায় না। ইতিহাসে যাঁর যেটুকু অবদান আছে, স্বীকার করুন। ইতিহাস যাঁরা গড়েন, ইতিহাস নিয়ে তাঁদের টানাটানি করতে হয় না। এই সরল সত্য ভারত ও বাংলাদেশের রাজনীতিকেরা মনে রাখবেন আশা করি।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab০3@dhaka.net

মিনা ট্রাজেডিতে সৌদি-ইরান বাকযুদ্ধ

পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মিনায় পদদলিত হয়ে ৭৬৯ জন হাজী নিহতের ঘটনায় মুখোমুখি বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরব ও ইরান। মিনা ট্রাজেডিতে ১৩৬ জন ইরানি নাগরিক নিহত ও তিন শতাধিক নিখোঁজ রয়েছে। এতে রিয়াদের অব্যবস্থপনা ও অবহেলাকে দায়ী করছে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সৌদি আরব বলেছে, ইরান হজ নিয়ে রাজনীতি করছে। সিরীয় ও ইয়েমেন সংকটকে কেন্দ্র করে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে চলা উত্তেজনার মধ্যে দু’দেশের মধ্যে নতুন করে এ বিতর্ক দেখা দিল
সৌদির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব : ইরান
সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হয়ে কয়েকশ’ হাজী নিহতের ঘটনায় দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। রিয়াদের অব্যবস্থাপনায় ১৩৬ জন ইরানিসহ ৭৬৯ জন হাজী নিহত হয়েছে দাবি করে এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে। ইরানি বার্তা সংস্থা ইসনা নিউজ এজেন্সির বরাতে লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস জানায়, দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেল ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, ‘হাজীদের সঙ্গে যে অন্যায় করা হয়েছে, তার জন্য সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা আন্তর্জাতিক আদালত ও সমমনাদের প্রতি আহ্বান জানাব।’ ইব্রাহিম রাইসি দাবি করেন ‘এটা অপরাধ’। তিনি সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিনা থেকে জামারার দিকে পাথর নিক্ষেপ করতে যাওয়া মুসল্লিদের রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সৌদি যুবরাজের বহরকে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন। তবে সৌদি আরব এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সৌদিকে ক্ষমা চাইতে হবে-সর্বোচ্চ নেতা : ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনি বলেছেন, পবিত্র হজের সময় সংঘটিত দুর্ঘটনার জন্য সৌদি শাসকদের অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, সৌদি সরকারের দায় এড়ানোর প্রচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। খামেনি বলেন, ‘এ ঘটনা পবিত্র ঈদুল আজহাকে মুসলিম উম্মার কাছে শোকের অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে।’ হজের সময়কার দুর্ঘটনার কথা মুসলিম বিশ্বের কেউ ভুলে যাবে না বলেও উল্লেখ করেন সর্বোচ্চ নেতা।
তদন্তের দাবি রুহানির : মিনায় পদদলিত হয়ে কয়েকশ’ হাজীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত দাবি করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। মিনার ঘটনাকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। শনিবার জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে রুহানি এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। নিহত হাজীদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
ইরান হজ নিয়ে রাজনীতি করছে : সৌদি
পবিত্র হজ নিয়ে ইরান রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের উদ্দেশে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল-জুবেরি বলেন, ‘বেদনাদায়ক এ ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করার চেয়ে ইরানিদের জানা উচিত হজপ্রত্যাশীদের পবিত্র হজ সম্পাদন সফল করতে সৌদি আরব কি পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করে। এ বিষয়ে সৌদি আরবের রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যময় ইতিহাস।’ সৌদি পররোষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এটি নিয়ে রাজনীতি চলে না। আমি আশা করি ইরানি নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও চিন্তাশীল হবেন। তদন্তের ফলাফল না জানা পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে।
ইরানিদের নিয়ম লংঘনেই মিনায় পদদলন : প্রায় ৩০০ ইরানি হাজীদের একটি দল নিয়ম লংঘন করে উল্টো পথে হাঁটা শুরু করায় মিনায় পদদলনের ঘটনা ঘটেছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে মিনায় অন্তত ৭৬৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত চলার মধ্যেই ইরানি হজ মিশনের এক কর্মকর্তা এ কথা জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘৩০০ ইরানির একটি দল নিয়ম লংঘন করে মুজদালিফা থেকে জামারাতের দিকে হাঁটা শুরু করলে দুর্ঘটনাটির সূত্রপাত হয়। তারা নিয়মানুযায়ী নিজেদের ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে ২০৩নং স্ট্রিটে উল্টো দিকে হাঁটতে থাকে।’
এ দুর্ঘটনা ‘মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে’-গ্র্যান্ড মুফতি : সৌদি আরবের প্রধান ধর্মীয় নেতা বলেছেন যে মক্কার মিনায় পদদলিত হয়ে ৭৬৯ হজযাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ‘মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ ছিল। হজের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে সৌদির আরবের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। শুক্রবার মিনায় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফের সঙ্গে এক বৈঠকে গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ আল-শেখ বলেন, ‘যা ঘটেছে তাতে আপনারা (সৌদি সরকার) দায়ী নয়। যেসব ঘটনা মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তার জন্য আপনাদের দোষারোপ করা যায় না।’

পোপ আমার প্রেমে পড়েছে : ম্যাডোনা

ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান নেতা পোপ ফ্রান্সিস মার্কিন পপ কুইন ম্যাডোনার প্রেমে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন এ বিশ্বখ্যাত তারকা। ফিলাডেলফিয়ায় এক কনসার্টে ম্যাডোনা এ মন্তব্য করেন। পোপ ফ্রান্সিস প্রথম সফরে এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ম্যাডোনা তার কনসার্টের একটি অংশ ব্যয় করেন পোপকে উৎসর্গ করে। কনসার্টে অনেক নারী পারফর্মার সন্ন্যাসিনীর পোশাক পরে নৃত্যে অংশ নেয়। ম্যাডোন বলেন, ‘রুলস আর ফর ফুলস (বিধিবিধান বোকাদের জন্য)। এ কারণে আমি নতুন পোপকে পছন্দ করি। তাকে বেশ মুক্তমনা মনে হয়।’
পোপ ফ্রান্সিস চলতি সপ্তাহান্তে ফিলাডেলফিয়া সফরের মাধ্যমে তার যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করবেন। এর আগে ম্যাডোনা নিউইয়র্কে কনসার্ট করেন যেখানে এখনও অবস্থান করছেন ফ্রান্সিস। একথা উল্লেখ করে ম্যাডোন বলেন, ‘পোপ আমাকে চুপিসারে অনুসরণ করছেন। হয় তিনি আমাকে অনুসরণ করেছেন না হয় তিনি গোপনে আমার প্রেমে পড়েছেন।’ এরপর ৫৭ বছর বয়সী ম্যাডোনা উত্তেজক পোশাকে একটি টেবিলের ওপর ওঠেন এবং বলেন, ‘আমি এটা করেছি। পোপ কি এটা করতে পারবেন?’ রোমান ক্যাথলিক পরিবারে জন্ম নেয়া ম্যাডোনা বিভিন্ন সময় ভ্যাটিকানকে ক্ষুব্ধ করেছেন। ১৯৮৯ সালে তার ‘লাইক এ প্রেয়ার’ গানটিতে ক্রস পোড়ানোসহ নানা দৃশ্যের মাধ্যমে ধর্ম অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ধর্মীয় নেতারা। এপি।

শিক্ষকদের অসন্তুষ্টি কারও কাম্য নয় -শিক্ষামন্ত্রী by শরিফুজ্জামান

বেতনবৈষম্য ও মর্যাদার প্রশ্নে শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে শিক্ষাঙ্গনে চলছে একধরনের অস্থিরতা। এই অবস্থায় সরকারের করণীয় সম্পর্কে বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলো'র বিশেষ প্রতিনিধি শরিফুজ্জামান
প্রথম আলো: এখন বছরের শেষ ভাগ। এক-দেড় মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমাপনী পরীক্ষা ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা। এরপর বার্ষিক পরীক্ষা। শিক্ষক আন্দোলনে শিক্ষার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কি?
নুরুল ইসলাম: শিক্ষকেরা শিক্ষার নিয়ামক শক্তি। তাঁরা অসন্তুষ্ট থাকুক, এটা কারও কাম্য নয়। ক্লাস বা পরীক্ষা না হলে শিক্ষার ক্ষতি তো হবেই। সেই ক্ষতির যুক্তি বা প্রয়োজন আছে কি না, তা বিবেচনা করার অনুরোধ করব। তাঁদের দাবি কীভাবে পূরণ করা যায়, সরকার সেই পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।
প্রথম আলো: সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বলছেন, আন্দোলন ও আলোচনা একসঙ্গে চলবে। এ প্রসঙ্গে সরকারের মনোভাব কী? তাঁদের মধ্যে কি আস্থার অভাব রয়েছে বলে আপনার মনে হয়?
নুরুল ইসলাম: আন্দোলন, আবেগ ও উত্তেজনার আর প্রয়োজন নেই। তবে আলোচনার আরও প্রয়োজন আছে। সরকার শিক্ষকদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই মন্ত্রিসভার যে বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন হয়েছে, সেই বৈঠকে বেতনবৈষম্য নিরসনসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। আর তাঁদের মধ্যে আস্থার অভাব আছে কি না, এটা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। আমরা তাঁদের বলেছি যুক্তিসংগত প্রস্তাব দিতে। সেটি দিয়ে তাঁরা সরকারকে সহায়তা করবেন, না আন্দোলন করবেন—এটাও তাঁদের বিবেচ্য বিষয়।
প্রথম আলো: ২১ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে শিক্ষকদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন?
নুরুল ইসলাম: শিক্ষকদের দাবিদাওয়ার বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করা যায় এবং কীভাবে এগোনো যায়, প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে কথা বলেছেন। তা ছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বেতনবৈষম্য নিরসনসংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে আন্তরিক না হলে তো এই কমিটি হতো না।
প্রথম আলো: শিক্ষকেরা তাঁদের দাবি পূরণে বিলম্বের আশঙ্কা করছেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের। কত দিনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান মিলতে পারে?
নুরুল ইসলাম: শিক্ষকেরা কেন এমন আশঙ্কা করছেন, সেটি তাঁরা বলতে পারবেন। তবে কিছুটা সময় তো দিতেই হবে। জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন হওয়ার পর বেতন বুক তৈরির কাজ চলছে। এটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে এ কাজের জন্য আমরা বসে থাকছি না। ওই কাজও চলবে, অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি বেতনবৈষম্য নিরসনের কাজটিও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রথম আলো: আপনি বলছেন, সরকার শিক্ষকদের দাবির প্রতি আন্তরিক। কিন্তু সেই আন্তরিকতার প্রকাশ ঘটাতে একটু বেশি সময় লাগছে কি না।
নুরুল ইসলাম: শিক্ষকদের দাবির প্রতি আন্তরিকতা না থাকলে তো আর নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হতো না। বলা হতো, মন্ত্রিসভা যেটা অনুমোদন করেছে সেটাই চূড়ান্ত। তা কিন্তু বলা হয়নি। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, শিক্ষকেরা কিন্তু এখনো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না। সবার মতো তাঁদেরও বেতন বা অন্য সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। গ্রেড পরিবর্তন বন্ধ হওয়া বা মর্যাদা অবনমন হওয়ার কারণে তাঁরা আর্থিকভাবে এখনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, এমনটি নয়। আর পৃথক বেতন স্কেল না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান সব সুবিধাই তাঁরা পেতে থাকবেন। কিন্তু এসব বিষয় চট করে সমাধান করা যায় না। এ জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে।
প্রথম আলো: বিসিএস (শিক্ষা) শিক্ষকেরা এরই মধ্যে কয়েক দিন ধর্মঘট করেছেন, আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁদের বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভাবনা কী?
নুরুল ইসলাম: বিসিএস শিক্ষকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে দাবিদাওয়া পেশ করার আগেই ধর্মঘট করলেন। ট্রেড ইউনিয়নও কিন্তু ধর্মঘটের আগে সরকারকে সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু সরকারি শিক্ষকেরা ধর্মঘট করার আগে আমরা ভালোভাবে তাঁদের দাবিদাওয়া জানতে পারলাম না। পরে অবশ্য খোঁজখবর নিয়ে জানলাম, সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল না থাকায় তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমরা এ বিষয়টি নিয়েও মন্ত্রিসভা কমিটিতে আলোচনা করব।
প্রথম আলো: শিক্ষার অন্য স্তরের দাবিদাওয়াগুলোর কী হবে?
নুরুল ইসলাম: বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরাও গত জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো জাতীয় বেতন স্কেলে বেতন পাবেন। তাঁদের মধ্যে এখন আর অসন্তুষ্টি নেই। প্রাথমিক শিক্ষকদের বিষয়গুলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখবে। টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না থাকায় সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের যে সমস্যা হবে, তা নিয়েও পর্যালোচনা হচ্ছে।
প্রথম আলো: শিক্ষকদের প্রতি আপনার শেষ কথা কী?
নুরুল ইসলাম: শিক্ষা পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে শিক্ষকদের বলব, আমাদের কাজ করার সুযোগ দিন। আপনাদের দাবি পূরণে আমাদের সহযোগিতা করুন, পরামর্শ দিন। আমরাও চেষ্টা করছি, করে যাব। কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যান।

মেয়ররা কতটুকু সফল হবেন? by হারুন-আর-রশিদ

গত ২৮ এপ্রিল তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে প্রতিদিন কোনো-না-কোনো টিভি চ্যানেলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দেড় শতাধিক ওয়ার্ডের ওপর নানা সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছিল। কেমন আছেন দেশের বড় দু’টি শহরের প্রায় তিন কোটি মানুষ? মেয়র ও কমিশনার প্রার্থীরা মানুষের কাছে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন- নির্বাচিত হলে এলাকার চেহারা পাল্টে দেবেন। নির্বাচন এলেই ভোটের প্রয়োজনে দেয়া এসব প্রতিশ্রুতির কথা প্রার্থীরা কেউ আর মনে রাখেন না। এলাকায় কোনো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসনে বসে দু-একটি কথা বলে দায় সারেন বছরে দু-একবার এসে। নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক ব্যালান্স, আপনজনের ফরমায়েশি কাজে তাদের সময় কেটে যায়। নির্বাচন ও লোক দেখানো অনুষ্ঠানে যোগদান করা ছাড়া জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা বলতে গেলে নগণ্য।
ঢাকা মহানগরীর প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ যে কত কষ্টে আছে, সেসব লিখতে গেলে তা একটি বড় গ্রন্থে রূপ নেবে। ১৯৪টি রাষ্ট্রের রাজধানী শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রায় সর্বনিম্নে। জাতিসঙ্ঘ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়নচিত্রে এসব কথা উঠে এসেছে। তার পরও দেশের নীতিনির্ধারকদের টনক নড়ছে না। একসময়ে বিশ্বে পঞ্চম স্থান অধিকারী ঢাকার অবস্থান স্বাধীনতার ৪৫ বছরের দ্বারপ্রান্তে এসে এত দুর্বল অবকাঠামো ও বর্জ্যরে শহর হিসেবে আন্তর্জাতিক লজ্জা অর্জন করার কথা ছিল না। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নিয়ে টকশো, নানা বিবৃতি ও আলোচনা সভা ছাড়া চেতনার আসল বিষয়গুলো নিয়ে কেউ ভাবছেন বলে মনে হয় না। প্রকৃত চেতনার সুফল হলো- উৎকর্ষ।
আমরা এক অসুস্থ সমাজে বাস করছি। ঢাকার বাতাসে বিষ, খাদ্যে বিষ, এমনকি পানিও বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। স্কয়ার হাসপাতালের একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলতে গিয়ে এসব কথা শুনতে হয়েছে। জিজ্ঞেস করেছিলাম- হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে কেন? তখন তিনি ওই উত্তরটি দিলেন। আরো বললেন, ‘ঢাকাকে যদি ডিসেন্ট্রালাইজড করা না হয়, তাহলে রোগব্যাধি আরো বহুমুখী রূপ নেবে। বসবাসের অযোগ্য হবে ঢাকা।’ তাই বলছিলাম- নির্বাচনের সময় এলেই জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছে একটি ভোটের জন্য যেভাবে বিনম্রচিত্তে আসেন, সেই ধার সারা বছর চালু রাখতে পারলে স্থানীয় সরকারের দায়িত্বটি পালনের যোগ্য বলে বিবেচিত হতেন। মানুষ চায় তাদের দুঃখদুর্দশার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে। জনপ্রতিনিধিরা উপলব্ধি করুক তারা কিভাবে নগরীতে দিন অতিবাহিত করছে। আজ লোকাল গভর্নমেন্টকেও দলীয় খাঁচায় বন্দী করা হয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার গত বছর ৫ জানুয়ারি যেভাবে হরণ করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই এখন জনগণের নাগরিক অধিকারগুলোও খর্ব করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের সময় যে মনোভাব নিয়ে মানুষের কাছে ধরনা দেন, সেটা পরবর্তী সময়ে আর দেখা যায় না। নির্বাচনকালে প্রতিটি ওয়ার্ডে টিভি চ্যানেলের ক্যামেরার ছড়াছড়ি, প্রার্থীদের আনাগোনা এবং এলাকাবাসীর সাথে ডায়ালগ- এসব দেখলে মনে হয়, এরা কত দেশদরদি। মনে হয়েছিল, ঢাকাকে যত শিগগির সম্ভব তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করে ফেলবেন। কিন্তু ঢাকা শ্বাসরুদ্ধকর একটি নগরীতে পরিণত হয়েছে। কোথাও বিশুদ্ধ বাতাস নেই। ঢাকা মহানগরী ঘিরে চারটি নদী এখন ‘মৃত্যুকূপে’ রূপ নিয়েছে। পানি যেমন দূষিত, তেমনি দখলি রাজত্বে নদী এখন মৃতপ্রায়। নদীর যদি বাকশক্তি থাকত, তাহলে জোরগলায় এর প্রতিবাদ করত। সেচ, মৎস্য ও যাতায়াতে নদী দিচ্ছে সেবা, আর আমরা করছি দূষণ ও দখল। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীকে শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, বিশ্বের পর্যটকেরাও জানেন ও চেনেন সিটিদ্বয় বর্তমানে যান, জন ও জলজটের শহর। অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা বিশ্বের কোনো শহরে হয় না- যেটা ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবলোকন করা যায়। ঢাকা শহরে শুধু নতুন এয়ারপোর্ট থেকে গণভবন ও বঙ্গভবন সংলগ্ন সড়ক দু’টি মোটামুটি চলনসই। বহির্বিশ্ব থেকে আগত মেহমানদের যাতে দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সে জন্য ভিআইপি খ্যাত সড়ক দু’টি টেকসই করে তৈরি করা হয়েছে। বাকি সড়কগুলোর কোনোটির অবস্থা মানুষের নিরাপদ চলাচলের উপযোগী নয়। রাস্তায় ময়লাবাহী কনটেইনার পড়ে থাকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। প্রায় সব ওয়ার্ডে এই দৃশ্য দেখা যাবে। বায়ুদূষণের মূল কারণ যথাসময়ে, অর্থাৎ কাকডাকা ভোরে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ না করা। প্রতিটি ওয়ার্ডে থাকছে বছরে কয়েকবার খোঁড়াখুঁড়ির চরম অব্যবস্থা। স্থায়ী সড়ক নির্মাণের যে নিয়ম উন্নত বিশ্বে চালু রয়েছে, সেটি ২১ শতকেও বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারেনি। অবৈধ অর্থ আয়ের পথটি যাতে সারা বছর চালু থাকে, সে কারণেই সরকারি ইচ্ছায় কাজটি দলীয় লোকজনদের অবৈধ ভরণপোষণের জন্য চালু রাখা হয়েছে। এর ফলে যে নাগরিক সুবিধা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, সেটা সরকারের সুনজরে আসেনি। ভোগান্তি বাড়ছে এসব কারণে। প্রায় ওয়ার্ডেই রাস্তা ভাঙা নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে। আবর্জনা সড়কপথের দুই পাশে পড়ে থাকে। পানি যা পাওয়া যায়, তাও ময়লামিশ্রিত থাকার কারণে পানযোগ্য নয়। বিদ্যুতের যন্ত্রণা ছাড়াও যানজটে স্বাস্থ্যহানি ও বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। নিয়মিত ছিনতাই, ডাকাতি, রাহাজানি, ধর্ষণ, ইভটিজিং ও সন্ত্রাসী দানবদের খুনখারাবি নগরীকে গ্রাস করেছে। অপরিকল্পিত নির্মাণ, অবৈধ স্থাপনা, নিম্নমানের স্যুয়ারেজ পাইপের দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি উপচে পড়া। মহানগরীর প্রায় এলাকাবাসীর অভিমত, নগরীর প্রধান সমস্যা এই পয়ঃব্যবস্থা। বর্তমানে বুড়িগঙ্গা নদীর দূষিত পানির সাথে যোগ হয়েছে স্তূপীকৃত আবর্জনা ও ট্যানারি বর্জ্য। সদরঘাট বা ওয়াইজঘাটে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের মুখে রুমাল দিয়ে লঞ্চে উঠতে হয়। বিশ্বের কোনো রাজধানী শহরে এ রকম দূষিত নদী আছে বলে আমাদের জানা নেই। আমরা বসবাস করছি বর্তমান ডিজিটাল সরকারের পশ্চাৎপদ চরম অ্যানালগ মহানগরীতে।
কিভাবে বলি ডিজিটাল সরকার? এখনো ডিজিটাল শব্দটির অর্থ আমরা জানি না। এশিয়ায় ডিজিটাল দেশ বলতে গেলে চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়াকে বোঝায়। বাকিগুলো এখনো ডিজিটাল পূর্ণমাত্রায় অর্জন করতে পারেনি। ঢাকাকে দ্বিখণ্ডিত করা হলো- উত্তর ও দক্ষিণের নামে। মানুষ খণ্ডিত ঢাকা দেখতে চায়নি। এ দিকে দুর্নীতির রাস্তা আরো প্রসারিত হলো। ঢাকায় যে গণপরিবহনগুলো চলে, এমন যান বিশ্বের কোনো রাজধানী শহরে আছে বলে জানা নেই। ৪৫ বছর সময় একটি দেশের জন্য কম নয়। ঢাকা শহরটিকেই এখনো আধুনিক ছিমছাম শহরে আমরা পরিণত করতে পারিনি। এই ব্যর্থতার দায় সরকারকে নিতে হবে। স্থানীয় সরকারকে যারা দলীয় সরকারে রূপ দিয়েছেন, তারা চরম ভুল করেছেন। কারণ, স্থানীয় সরকার বলতে আমরা বুঝি- এলাকার মানুষদের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার সরকার। সেটা এখন আর নেই দলীয় খাঁচায় বন্দী হওয়ার কারণে। দলীয় লোকদের ‘সেবাদান’ করেই তাদের সময় কেটে যাবে। জনগণের দুঃখ-দুর্দশার কথা শোনারও সময় পাবেন না দলীয় খাঁচায় বন্দী হওয়া মেয়র ও ওয়ার্ড কমিশনাররা। অনেকেই তাই ভাবছেন ভোট দিয়ে লাভ কী?
দলীয় মোড়কে আবদ্ধ নগরীর জনপ্রতিনিধিদের পরিচয় একটিÑ তারা বিশেষ দলের লোক। তাই দলীয় চরিত্রের বাইরে ভূমিকা পালন করা অসম্ভব। স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সরকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকছে না বিধায় জনগণের কল্যাণসাধন অনেকটাই কঠিন করে তোলা হয়েছে।
‘পরিবর্তন সম্ভব, পরিবর্তন চাই’- এটা বাস্তবে রূপ নেবে না বর্তমান পরিস্থিতিতে। দলীয় নেতাদের মনোনীত প্রার্থীরা অনেকটাই ধার করা প্রার্থীর মতো। জনগণের পছন্দের প্রার্থী এবং দলের পছন্দের প্রার্থী এক না-ও হতে পারে। তিন সিটি করপোরেশনের প্রার্থীদের জবাবদিহিতার বিষয়টিও প্রকারান্তরে ছিনতাই করা হলো। মূল কথা হলো- তিন সিটি করপোরেশনের প্রার্থীরা যেসব চমক লাগানো ব্যানারে নগরবাসীর কাছে ভোটের জন্য হাজির হয়েছিলেন এবং ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন- তা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে, সেটা বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে থাকছে। আগামী পাঁচ বছরে এসব প্রশ্নের জবাব জনগণ খুঁজে নেবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী আনিসুল হক (ব্যবসায়ী নেতা) ১১ এপ্রিল ইশতেহার ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করেছিলেন পরিচ্ছন্ন সবুজ, আলোকিত ও মানবিক ঢাকা গড়ে তোলার কথা। সে কথা তার মনে আছে কি?
১১ এপ্রিল নিজের মালিকানাধীন জাদুটিভির কার্যালয়ে আনিসুল হক নির্বাচিত হলে পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকা উত্তর ‘নির্দিষ্ট একটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে নাগরিকদের সামনে দৃশ্যমান’ হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করেন। এ রকম চমক লাগানো ইশতেহার মেয়র হানিফ, মেয়র সাদেক হোসেন খোকাও ঘোষণা করেছিলেন ঢাকাকে সত্যিকার তিলোত্তমা নগরী হিসেবে জনগণকে উপহার দেবেন বলে। কার্যত আমরা উপহার পেলাম ইট-পাথরের বস্তির নগরী। খেলার মাঠও দখল হয়ে গেছে। দখল হয়ে গেছে ঢাকার ঐতিহ্য, শতাধিক খাল। যানজট ও জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়ে গেছে গোটা শহর। দখল হয়েছে ফুটপাথও। মাদক ব্যবসায়ীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে পুরো মহানগরী। দলীয় সরকারের মেয়ররা জনগণের খেদমত বেশি করতে পারেন না, তার প্রমাণ বিগত আমলের দুই দলের প্রভাবশালী মেয়রদ্বয়। মেয়ররা জনগণের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করলে ঢাকা বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবে পরিচিতি পেত না। কবে এ দেশের নেতৃত্বদাতারা মানবিক মূল্যবোধে পূর্ণ মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনে সক্ষম হবেন? তা হলেই নগর-বন্দর-শহর, গ্রামগঞ্জ, জেলা, উপজেলা তথা গোটা বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে বিশ্বের দরবারে সুশৃঙ্খল জাতি আর উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদায় সমাসীন হবে।
লেখক : গ্রন্থকার ও গবেষক
Em.harunrashid@g.mail.com

প্রাণ বাঁচাতে ৩ তলা থেকে লাফ দিই by কাজী সুমন

হঠাৎ দেখি মানুষ ছুটছে। এদিক ওদিক দৌড়াচ্ছে। চারদিক থেকে কান্নার রোল ভেসে আসছে। আমি তখন মিনার জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করতে তিন তলায় অবস্থান করছিলাম। মানুষের চাপ থেকে বাঁচতে পাশের কনফেকশনারি দোকানে প্রবেশ করি। কিন্তু মানুষের চাপে দোকানটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। এক পর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে তিন তলা থেকে লাফ দেই। একেবারে নিচের তাঁবুর ওপর পড়ি। সঙ্গে সঙ্গে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলি। এরপর নিজেকে আবিষ্কার করি হাসপাতালের বিছানায়। এভাবেই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে মিনা ট্র্যাজেডির বর্ণনা দিচ্ছিলেন রাজধানী যাত্রাবাড়ীর হাজী মো. বাবলু। গতকাল বিকাল সোয়া ৪টায় সৌদি এয়ারলাইনসের একটি বিমানে তিন শতাধিক হাজী নিয়ে ফিরতি ফ্লাইট (এইচবি-৮০২) ঢাকায় পৌঁছে। প্রাণে বেঁচে আসায় বিমানবন্দরে অনেকে স্বজনকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। হাজী মো. বাবলু জানান, ওই ঘটনায় তিনি শরীরে চাপা আঘাত পান, কিন্তু কোথাও রক্তপাত হয়নি। একদিন পরেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি। একই ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন হাজী মো. আতিয়ার রহমান। মিনা ট্র্যাজেডির বর্ণনা করে তিনি বলেন, ওই ঘটনার দেড় ঘণ্টা আগে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করি। যখন ঘটনাটি ঘটে তখন আমি প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে। বেঁচে যাওয়া অনেকে আমাকে বলেছেন, পাথর নিক্ষেপ নিয়ে আফ্রিকান নাগরিকের সঙ্গে এক পাকিস্তানির মারামারি হয়। এ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। মারামারি ঘটনা শুনে পেছন দিক থেকে সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। গরমে মানুষ তখন হাঁসফাঁস করছিল। প্রাণ বাঁচাতে মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। মানুষের প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে অনেকেই নিচে পড়ে যান। পায়ের নিচে চাপা পড়ে এসব মানুষ মারা যান। অনেকে আহত হন। ফেনীর সোনাগাজীর হাজী আবু বকর সিদ্দিক জানান, মিনার জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করে বের হওয়ার দুটি বহির্গমনের পথ বন্ধ ছিল। পাথর নিক্ষেপ করে বের হওয়ার সময় মানুষের জট লেগে যায়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে অনেকে হুড়োহুড়ি শুরু করেন। তখন পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে অনেকে মারা যান। রাজধানীর বাসাবোর বৌদ্ধমন্দির এলাকার বাসিন্দা হাজী সুলতান আলী বলেন, আমি তখন মিনার পাশেই অবস্থান করছিলাম। একজন ভিআইপির পাথর নিক্ষেপের কথা ছিল। তার সম্মানে দুটি রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। একটি রাস্তা দিয়ে সবাই বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এতে প্রচণ্ড ভিড় লেগে যায়। মানুষের চাপাচাপিতে অনেকে নিচে পড়ে যান। পদদলিত হয়ে এসব হাজী মারা যান। তবে রাস্তা খোলা থাকলে এসব প্রাণহানিরা ঘটনা ঘটতো না। এখনও ৯৪ বাংলাদেশী হাজী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানান তিনি। বগুড়ার হাজী মতিয়ার রহমান জানান, আমি তখন মিনার ১নং গেটে অবস্থান করছিলাম। দুটি রাস্তা বন্ধ থাকায় প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে মানুষ ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। একপর্যায়ে ৬-৭ জন নিচে পড়ে যান। এরপর প্রাণ বাঁচাতে অনেকে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। এতে পদদলিত হয়ে এসব হাজী মারা যান। বগুড়ার আরেক হাজী বিজেডএম ফারুক বলেন, আমি দুই ঘণ্টা আগে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করে আসি। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছি। এদিকে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত রোববার থেকে দেশে ফিরতে শুরু করেন হাজীরা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব যাওয়া হাজীদের নিয়ে গতকাল সকাল সোয়া নয়টায় ফিরতি ফ্লাইট ঢাকায় ফেরার কথা থাকলেও রাত সাড়ে ৮টায় সেটি পৌঁছে। হজযাত্রীদের নিয়ে শেষ ফিরতি ফ্লাইট দেশে পৌঁছবে আগামী ২৮শে অক্টোবর। উল্লেখ্য, গত ২৪শে সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় মিনার জামারাতে পাথর নিক্ষেপের সময় হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে এ পর্যন্ত ৭৬৯ হাজীর মৃত্যু হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বাংলাদেশী হাজী রয়েছেন বলে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) জানিয়েছে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট এক লাখ ৭ হাজার ২৯০ জন পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান।

যেমন দেখা গেল সুপারমুন

জার্মানির আকাশে সুপারমুন।  ছবি: এএফপি
জার্মানির আকাশে সুপারমুন। ছবি: এএফপি
প্রতিদিনের চেয়ে আকারে চোখে পড়ার মতোই বড়। আর গায়ে লালচে আভা। আকাশে দেখা যাচ্ছে ‘সুপারমুন’ নামে পরিচিত এ রকম হৃষ্টপুষ্ট চাঁদ। একই সময়ে চন্দ্রগ্রহণ এবং সারা বছরের মধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা পূর্ণিমার চাঁদ—এ দুটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনার সমন্বয়েই উপগ্রহটির রং ও আকারে এই পরিবর্তন। আর তা দেখার জন্য সাড়া পড়েছে বিশ্বজুড়ে শখের আকাশ পর্যবেক্ষণকারীদের মধ্যে। খবর রয়টার্সের।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ভালপ্রাইজো শহর থেকে দেখা সুপারমুন। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ভালপ্রাইজো শহর থেকে দেখা সুপারমুন। ছবি: রয়টার্স
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গতকাল রোববার রাত থেকে শুরু হয় সুপারমুনের উপস্থিতি। কোথাও কোথাও আজ সোমবারও এর দেখা মিলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টন হারবোর বন্দর থেকে তোলা। ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টন হারবোর বন্দর থেকে তোলা। ছবি: এএফপি
 স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উজ্জ্বলও এই চাঁদ। আকাশপ্রেমীরা উচ্ছ্বসিত ‘সুপারমুন’ দেখতে পেয়ে। চন্দ্রগ্রহণের কারণে চাঁদের এ ধরনের অবস্থার নাম ‘ব্লাড মুন’। তবে এবারের চন্দ্রগ্রহণ বাংলাদেশ থেকে দেখা যাচ্ছে না। ‘ব্লাড মুন’ দেখেছেন কেবল পশ্চিম গোলার্ধের অধিবাসীরাই।
প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের পাশে সুপারমুন। ছবি: রয়টার্স
প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের পাশে সুপারমুন। ছবি: রয়টার্স
আকাশ পরিষ্কার থাকা সাপেক্ষে ‘সুপারমুন’ ও ‘ব্লাড মুন’ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি অংশ এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় দৃশ্যমান হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের রিগলি ফিল্ড থেকে ছবিটি তোলা। ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের রিগলি ফিল্ড থেকে ছবিটি তোলা। ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় রোববার রাত ৮টা ১১ মিনিটে (পূর্বাঞ্চলীয় সময়) চন্দ্রগ্রহণ শুরু হয়। পূর্ণগ্রাস হয় দুই ঘণ্টা পর এবং তা চলে ১ ঘণ্টা ১২ মিনিট।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্য থেকে ছবিটি তোলা। ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্য থেকে ছবিটি তোলা। ছবি: এএফপি
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানায়, একই সঙ্গে ‘সুপারমুন’ ও পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের ঘটনা এবার ৩০ বছরেরও বেশি সময় পর ঘটছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত আর কোনো পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে না। আর একই সঙ্গে সুপারমুন-চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে ২০৩৩ সালে।
ফ্রান্সের স্টার্সবার্গ থেকে দেখা সুপারমুন। ছবি; এএফপি
ফ্রান্সের স্টার্সবার্গ থেকে দেখা সুপারমুন। ছবি; এএফপি
গতকাল রাতে চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের অনন্য সাদা আভা ধীরে ধীরে লালচে রং নেয়। এই রং বদলের কারণ, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সূর্যালোকের বিক্ষেপণ।
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের আকাশে সুপারমুন। ছবি: এএফপি
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের আকাশে সুপারমুন। ছবি: এএফপি
সুপারমুনের টেকনিক্যাল নাম হচ্ছে ‘পেরিজি মুন’। পেরিগি অর্থ হচ্ছে ‘পৃথিবীর নিকটতম’।
ইসরায়েলে ভূমধ্যসাগরের উপকূলীয় শহর নেতানিয়ার আকাশে সুপারমুন। ছবি: এএফপি
ইসরায়েলে ভূমধ্যসাগরের উপকূলীয় শহর নেতানিয়ার আকাশে সুপারমুন। ছবি: এএফপি
চাঁদ সম্পূর্ণ গোলাকার নয় বলে পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৯ হাজার ৯০০ কিলোমিটার কম-বেশি হয়। আর একমাত্র এ উপগ্রহটি প্রতি ২৭ দিন অন্তর পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের যে বিন্দুতে (পেরিজি) চাঁদ আসে, তার দূরত্ব ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১০৪ কিলোমিটার।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলস থেকে তোলা। ছবি: এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলস থেকে তোলা। ছবি: এএফপি
আর সবচেয়ে দূরে (অ্যাপোজি) যে বিন্দুতে চাঁদ অবস্থান করতে পারে, তার দূরত্ব ৪ লাখ ৬ হাজার ৬৯৬ কিলোমিটার। পেরিজির সময় চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব যখন সবচেয়ে কম হয়, তখনই ঘটনাচক্রে পূর্ণিমা হলে চাঁদকে স্বাভাবিকের থেকে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। এটিই ‘সুপারমুন’।
ছবি: এএফপি
প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিয়ন থেকে দেখা সুপারমুন।
ছবি: এএফপি
কলম্বিয়ার লস আন্দিজ পর্বত মালার পেছনে থেকে উঁকি দিচ্ছে সুপারমুন।

‘প্রশ্ন যদি হবে ফাঁস পড়ব কেন বারো মাস’

মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে
গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান
কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরাl ছবি: প্রথম আলো
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার দুপুরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘প্রশ্ন যদি হবে ফাঁস, পড়ব কেন বারো মাস’, ‘শিক্ষার্থীদের শ্রম, মেধা, স্বপ্ন ও যোগ্যতা নিয়ে আর কত ছিনিমিনি’, ‘প্রশ্ন ফাঁস বার মাস, এই আমাদের বাংলাদেশ’ স্লোগান-সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
‘সম্মিলিত শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় অভিভাবকেরাও উপস্থিত ছিলেন।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। পরে বেলা আড়াইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অভিভাবক উম্মে সালমা, রায়হানা হোসেন, নাজনীন আক্তার, নাসরিন আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথম আলোকে বলেন, ভর্তি পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় প্রকৃত মেধার মূল্যয়ন হয়নি। এতে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মেধাবীরা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়নি। এ জন্য এই পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নিতে হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ বড়ুয়া জানান, ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

মঙ্গলের রহস্য উন্মোচন হবে আজ?

মঙ্গল গ্রহে তরল পানি থাকার ঘোষণা দিতে পারেন
বিজ্ঞানীরা। ছবি: নাসার ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
মঙ্গল গ্রহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা একটি বড় ধরনের আবিষ্কারের ঘোষণা দিতে পারে আজ। ধারণা করা হচ্ছে, লাল গ্রহের পৃষ্ঠে তরল পানির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার ঘোষণা আসতে পারে। এ বিষয়ে নাসা একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিটির শিরোনাম ‘মার্স মিসট্রি সলভড্’ বা ‘মঙ্গলের রহস্য উন্মোচিত’।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গল গ্রহে বর্তমানে যে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে তা থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে নাসা সংবাদ সম্মেলন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় আজ সোমবার সকাল সাড়ে এগারোটায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে নয়টায়) নাসার ওয়েবসাইটে সংবাদ সম্মেলনটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন নাসার জ্যেষ্ঠ গবেষকেদের অনেকেই। এর মধ্যে রয়েছেন প্ল্যানেটরি সায়েন্সের পরিচালক জিম গ্রিন ও মার্স এক্সপ্লোরেশন প্রোগ্রামের প্রধান গবেষক মাইকেল মেয়ার।
জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক লুজেন্দ্রা ওঝা বলেন, নাসার প্রস্তুতি দেখে মনে হচ্ছে মঙ্গলে পানির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া সংক্রান্ত কোনো কিছুর ঘোষণা আসতে পারে।
মঙ্গলে পানির খোঁজ পাওয়ার গুরুত্ব কী?
এ বছরের শুরুর দিকে নাসার পাঠানো কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলের পৃষ্ঠের কাছাকাছি তরল পানি খুঁজে পেয়েছিল। এই আবিষ্কারের পর মঙ্গল গ্রহ যে একেবারেই ঠান্ডা ও শুষ্ক সে ধারণা থেকে সরে আসেন গবেষকেরা। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মঙ্গলের পৃষ্ঠে এক ধরনের লবণের অস্তিত্ব আছে যা তরল পানিকে ফ্রিজিং পয়েন্টের নিচে একটি অবস্থায় যেতে সাহায্য করে।
গবেষকেরা মঙ্গলগ্রহের মেরু ও বেল্ট গ্লেসার অঞ্চলে হিমায়িত পানি থাকতে পারে বলে মনে করেন। তবে এবারের আবিষ্কারটি তরল পানির বড় আকারের ঝরনা হতে পারে যাতে জীবন ধারণ সম্ভবপর হতে পারে।
এক্সপ্লোর মার্স নামের একটি অলাভজনক মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ক্রিস কারবেরি বোস্টন হেরাল্ডকে জানিয়েছেন, পানির সন্ধান পাওয়া গেলে ভবিষ্যৎ নভোচারীদের পানি ও অক্সিজেনের উৎস হিসেবে তা কাজে লাগবে। এখানে পানি থাকার অর্থ সেখানে তাপের কোনো উৎস রয়েছে যা পানিকে তরল করে রাখে। পৃথিবীতে যেমন পানি ও তাপ থাকলে সেখানে প্রাণ থাকার শতভাগ সম্ভাবনা থাকে। মঙ্গলেও সে সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। তবে মঙ্গলের ক্ষেত্রে এ ধারণা ঠিক হবে কি না সে বিষয়ে আমাদের সামান্য ধারণাটুকুও নেই।

ডিজিটাল ভিক্ষুক!

ছবিটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত
বয়স হয়তো ৭০ হবে। মাথায় টুপি। পরনে হালকা জলপাই রংয়ের ফতুয়া। ব্যাগ ঝুলোনো কাঁধে। তাতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। নাম আজম মিয়া। ঢাকায় ভিক্ষা করেন। তাতে কি! তিনি তো রীতিমতো ডিজিটাল ফকির!
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হাতে চায়ের কাপ। কানে মোবাইল ফোন। কথা বলছেন স্বজনদের সঙ্গে। আর ফেসবুকের এই ছবি নিয়ে একজন লিখেছেন, ...আ...হা...কী ডিজিটাল বাংলাদেশ!
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজমের বাড়ি শেরপুরে। ভাড়া থাকেন ঢাকার আমিন বাজারে। সেখান থেকে ঢাকায় আসেন। মিরপুরেরে শেওড়াপারায় বসে তিনি ভিক্ষা করেন। বাসে করে প্রতিদিন ঢাকায় আসেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গে বিষাক্ত মদ খেয়ে ৯ জনের মৃত্যু

পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দুটি গ্রামে বিষাক্ত মদ খেয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে ৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। যদিও একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল বলছে, অসুস্থের সংখ্যা শতাধিক। আচমকা এই মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পৌঁছেছেন।
পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেছেন, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না থানা এলাকার নারিকেলদা এবং কিয়ারানা গ্রামে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। মৃতদের ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
শনিবার সন্ধ্যায় ময়না থানা এলাকার নারিকেলদা এলাকায় এক মাঠে খেলা চলার সময় মাঠের বাইরে প্রকাশ্যেই চলে চোলাই মদ খাওয়ার আসর। নিম্নমানের ওই মদ খেয়ে বাড়ি পৌঁছে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রের বরাতে এক সংবাদে প্রকাশ, এলাকার কয়েকজন যুবক শুয়োরের মাংসের সঙ্গে চোলাই মদ খেয়ে শনিবার বিকেল থেকে কিয়ারানা এবং আড়ংকিয়ারানা গ্রামের মানুষজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ছয় জনের মৃত্যু হয়। রোববার রাত পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ এ দাঁড়িয়েছে। অসুস্থদের ময়না এবং তমলুক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ এবং আবগারি বিভাগের তৎপরতায় এক চোলাই মদ বিক্রেতা গ্রেফতার হয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার জন্য চোলাই মদ বিক্রি বেড়ে গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে এসইউসিআই দলের পক্ষ থেকে আজ (সোমবার) আবগারি দফতরের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে।

‘নিজ মা সম্পর্কে মোদির বক্তব্য সত্য নয়’ by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

মায়ের কথা বলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেসবুক অফিসে নরেন্দ্র মোদির কেঁদে ফেলার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই কংগ্রেস বলল, মোদি-পরিবার সচ্ছল ছিল না হয়তো, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে মোদির মাকে অন্যের বাড়ির বাসন মাজতে হতো।
কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা আজ সোমবার রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে বলেন, ‘আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি, নিজের মা সম্পর্কে মোদি যা বলেছেন তা সত্য নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ফেসবুক অফিসে গতকাল রোববার নিজের শৈশব-কৈশোরের আর্থিক দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর মায়ের কঠোর পরিশ্রমের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, সংসার চালাতে মাকে অন্যের বাড়ির বাসন মাজতে হতো। বলতে বলতে মোদি কেঁদে ফেলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে আনন্দ শর্মা বলেন, ‘মোদির বাবা একটা ক্যানটিন চালাতেন। কিন্তু মোদি কবে চা বিক্রি করলেন? মা অন্যের বাড়ি বাসন মাজতেন বলে মোদি যা বলেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ কথা বলে তিনি নিজের মাকেই অসম্মান করেছেন।’
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে আনন্দ শর্মা বলেন, মোদি আদ্যন্ত নিজেকে নিয়ে আচ্ছন্ন। অন্যদের কথা তিনি ভাবতেই পারেন না। সারাক্ষণ তিনি শুধু ‘আমি-আমি’ করে চলেছেন। পৃথিবীর আর কোনো নেতা এভাবে নিজেকে তুলে ধরেন না। নিজের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি মাকে নিয়ে আসেননি। অথচ এখন ‘মা মা’ করে কাঁদছেন। কান্নাকাটি না করে ওঁর উচিত আরও দায়িত্বশীল হওয়া।
কংগ্রেসের এই ধরনের প্রতিক্রিয়ার কারণও অবশ্য মোদি। সফরকালে কংগ্রেসের শীর্ষ পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির প্রসঙ্গে কারও নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে টেনে এনেছেন, এতেই ক্ষিপ্ত কংগ্রেস। মোদি বলেন, ‘আমাদের দেশে রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে মোটেই সময় লাগে না। কেউ নাকি ৫০ কোটি কামিয়েছেন, কারও ছেলে ২৫০ কোটি, কারও মেয়ে ৫০০ কোটি, কারও জামাই হাজার কোটি! এই দেশের মানুষ কম দুর্নীতিতে জেরবার নয়? ক্ষুব্ধ নয়?’ শ্রোতাদের উদ্দেশে মোদির প্রশ্ন, ‘এই যে আমি দাঁড়িয়ে আছি, বলুন আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে? ১৬ মাস কেটে গেছে। আজ আমি আপনাদের সার্টিফিকেট চাই। বলুন আমি প্রতিশ্রুতি রাখতে পেরেছি কি না, দিবারাত্র পরিশ্রম করছি কি না?’
রাহুল গান্ধীকে নিয়ে তোলা বিজেপির প্রশ্নের জবাবও কংগ্রেস সোমবার দিয়েছে। দিনকয়েক আগে কংগ্রেস সহসভাপতি হঠাৎ লন্ডন পাড়ি দেন। সে নিয়ে বিজেপি ফের তাঁর অজ্ঞাতবাসের প্রসঙ্গ তুলেছিল। দু দিন পর কংগ্রেস জানায়, রাহুল এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছেন। সোমবার রাহুলের অফিস থেকে তাঁর কয়েকটি ছবি টুইট করা হয়। ছবি গুলির একটিতে দেখা যাচ্ছে রাহুল সম্মেলনে ভাষণ শুনছেন, অন্যটিতে আইসল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। রাহুলের অফিস থেকে জানানো হয়, শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন এবং বিহারে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন।

গুলশানে গুলিতে ইতালীয় নাগরিকের মৃত্যু

গুলশানে মিসরীয় দূতাবাসের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে
ইতালীয় নাগরিক মৃত্যুতে আলামত সংগ্রহ
করছেন পুলিশের সদস্যরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম
রাজধানীর গুলশানে মিসরীয় দূতাবাসের কাছে সোমবার গুলিবিদ্ধ হয়ে ইতালির এক নাগরিক মারা গেছেন। ওই ব্যক্তির নাম তাভেলা সিসারো। তিনি নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানের ৯০ নম্বর সড়ক দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাভেলা সিসারোকে মোটরসাইকেলে চড়ে আসা কয়েকজন লোক গুলি করে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগ নিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক মোকলেসুর রহমান। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের কাছে সিসারোর পরিচয় নিশ্চিত করেন।