Thursday, May 9, 2019

পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন হাওয়া by কাজী সোহাগ

পাল্টে গেছে পাহাড়ের রাজনীতির ধারা। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির রাজনীতির চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। জনপ্রিয়তা ও প্রভাব কমছে আঞ্চলিক দলগুলোর। বাড়ছে মুল ধারার রাজনীতির শক্তি। এতদিন পাহাড়ি সংগঠনগুলোর বাইরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্য কোনো দলের প্রাধান্য বলতে গেলে ছিলই না। আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্যে বলা চলে মূল ধারার রাজনীতি এখানে ছিল  প্রায় অনুপস্থিত। খুনোখুনি, দমন, পীড়ন, চাঁদাবাজি আর অন্তর্দ্বন্ধের কারণে সম্প্রতি আঞ্চলিক সংগঠনগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে সাধারণ পাহাড়িরা।
পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চল ঘিরে জুম্মল্যান্ড আন্দোলনকে বাংলাদেশ বিরোধী বলে মনে করছেন তারা।
সাধারণ মানুষ এসব সংগঠন থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে আঞ্চলিক দলগুলো। তাই দল ত্যাগ করলেই হত্যা করা হচ্ছে, অপহরণ করা হচ্ছে। অনেকে আবার গুমের শিকার হচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের ওপর নেমে আসছে নির্মম নির্যাতন। বর্তমানে চারটি আঞ্চলিক সংগঠন বেশ সক্রিয়। এগুলো হচ্ছে জ্যেতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লামার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্রগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), জেএসএস(সংস্কার), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রট (ইউপিডিএফ) ও ইউপিডিএফ (সংস্কার)। স্থানীয়রা জানান, অতীতে পার্বত্য অঞ্চলের যে কোন নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকতো এসব আঞ্চলিক দলগুলোর। তাদের সহায়তা ছাড়া সাধারন পাহাড়িদের সমর্থন পাওয়া যেতো না। এবার জাতীয় নির্বাচনে ঘটেছে উল্টো ঘটনা।
তিন পার্বত্য জেলায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ দলীয় এমপিরা। জাতীয় নির্বাচনে খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। তিনি ২ লাখ ৩৬ হাজার ১’শ ৫৬ ভোট পান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী পান ৫৯ হাজার ২’শ ৫৭। বান্দরবানে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং ১ লাখ ৪২ হাজার ২২৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। রাঙামাটিতে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী দীপংকর তালুকদার। জাতীয় নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনেও একই অবস্থা লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনে আঞ্চলিক দলগুলো জনসমর্থন পেতে ব্যর্থ হন। পার্বত্য ইতিহাসে এ ধরনের ফলাফল এবারই প্রথম বলে জানান স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলেন,আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে পার্বত্যবাসী তাদের নির্বাচনে প্রত্যাখান করেছে। এ অঞ্চলের ২৫টি উপজেলায় নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ১৭ জন জললাভ করেন। বিপরীতে জেএসএস (মুল) পায় ৩টি, জেএসএস (সংস্কার) পায় ৩টি, ইউপিডিএফ (মূল) পায় ১টি ও স্বতন্ত্র পদে একজন জয়লাভ করেন।
অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) এ আওয়ামী লীগের ১২ জন,জেএসএস(মূল) এর ৪ জন, ইউপিডিএফ (মূল) এর ২ জন, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের ১ জন ও স্বতন্ত্র পদে ৬ জন জয়লাভ করেন। একইভাবে ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে আওয়ামী লীগের ১৪ জন, জেএসএস(মুল) এর ৩ জন, জেএসএস (সংস্কার) এর ১ জন, ইউপিডিএফ (মূল) এর ১ জন ও স্বতন্ত্র পদে ৬ জন জয়লাভ করেন। সবমিলিয়ে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৪৩ জন, জেএসএস(মুল) এর ১০ জন,জেএসএস(সংস্কার) এর ৪ জন, ইউপিডিএফ (মূল) এর ৪ জন,পার্বত্য নাগরিক পরিষদের ১ জন ও স্বতন্ত্র পদে ১৩ জন জয়লাভ করেন। নির্বাচনে এ ধরণের ফলাফল প্রসঙ্গে পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রিয় সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান হাবিব মানবজমিনকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙ্গালীদের জিম্মি করে রেখেছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। তাদের অত্যাচারের মাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তারা আসলে এসব থেকে মুক্তি চায়। বিশেষ করে পাহাড়িরা এ নিয়ে সোচ্চার হয়ে উঠেছে।
কারন বাঙ্গালীদের ওপর অত্যাচার করা হলে তারা অন্তত কথা বলতে পারে। প্রতিবাদ জানাতে পারে। কিন্তু পাহাড়িদের ওপর নির্যাতন করা হলে তারা এসব করতে পারে না। আঞ্চলিক সংগঠনগুলো তাদের ওপর বেশি মাত্রায় নির্যাতন ও চাঁদাবাজি করে। তিনি বলেন, এসব কারণে বাঙ্গালী-উপজাতীরা ওইসব দল থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন, মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। যদিও এসবের কারণে তাদের অনেককে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, এরইমধ্যে অনেক উপজাতী নেতা মূল ধারার রাজনীতির মঞ্চে উঠে আঞ্চলিক দলগুলোর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। এমনকি সন্তু লারমার ফাঁসিও দাবি করেছেন। তিনি বলেন, মূল ধারার রাজনীতি এখানে পরিপুর্নভাবে প্রতিষ্ঠিত না হলে পাহাড় হয়ে উঠবে অশান্ত। ফলে শান্তিপুর্নভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়বে।

কাউন্সিলের কর্মচারী বললেন: আমি পতিতা নই

তিনি আর্জেন্টিনার লা প্লাটা মিউনিসিপ্যালিটির প্রশাসনিক বিভাগের একজন নারীকর্মী। নাম সোনিয়া পেল্লিজারি (২৮)। পাশাপাশি পড়াশোনা করেন। কিন্তু অনলাইনে তার রগরগে সব ছবি। আরও আছে। আছে যৌনলীলার ভিডিও। এসব পোস্ট করে তিনি বাড়তি অর্থ উপার্জন করেন। এ জন্য তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তাকে আখ্যায়িত করা হয়েছে পতিতা হিসেবে। কিন্তু তার সাফ দাবি, আমি পতিতা নই। বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ এ খবর দিয়েছে।
আর্জেন্টিনার এই যুবতী নিজের সত্যকে কখনো আড়াল করেন নি। স্বীকার করেছেন, যখনই অবসর সময় পান তখনই তিনি ভিডিও বানান। এক্ষেত্রে তিনি পেশাদার পুরুষদের ভাড়া করেন। তারপর বানান এক্স রেটেড ছবি। তার দাবি এর বিনিময়ে তিনি যে অর্থ পান তা দিয়ে পড়াশোনার ফি ও বাসা ভাড়া দেন।
২০১১ সালে তিনি বুয়েনস আয়ারস-এ স্থানীয় কাউন্সিলে কাজ করা শুরু করেন। পাশপাশি মডেলিং করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ২০১৭ সালে তার মাথায় অন্য চিন্তা ঢুকে যায়। তিনি সিদ্ধান্ত নেন প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য নীল ছবি বানাবেন। যেমনি সিদ্ধান্ত, তেমনি কাজ। তিনি শুরু করে দিলেন। আসতে থাকে অর্থ। খুব দ্রুততম সময়ে বহু মানুষ তাকে পতিতা আখ্যায়িত করতে লাগলো।
কিন্তু তাদের সঙ্গে একমত নন সোনিয়া পেল্লিজারি। তিনি বলেন, আমি কোনো পতিতা নই। এসব সেক্স ভিডিও তৈরি করার জন্য পেশাদার পুরুষদের ব্যবহার করেছি। তারা এগুলো রেকর্ড করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এর বিনিময়ে কি পরিমাণ অর্থ আমি উপার্জন করেছি তা বলবো না। তবে বলবো তা অনেক। এই অর্থ দিয়ে আমি বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য খরচ বহন করি।
তিনি এসব করছেন তা জানতেন তার প্রায় সব সহকর্মী। কিন্তু রগরগে কিছু ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জবাবে সোনিয়া পেল্লিজারি বলেছেন, তিনি জানেন না ওই ছবিগুলো কে পোস্ট করেছে। প্রথমত, একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। এতে আমি এক বন্ধুর সঙ্গে টপলেস ছিলাম। আমরা ছিলাম নগ্ন। এটা ছিল কয়েক সেকেন্ডের। এরপরই অন্য ভিডিওগুলো প্রকাশ হয়ে পড়ে। অন্য ভিডিওগুলোতে শারীরিক সম্পর্কের দৃশ্য থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। তবে এ জন্য তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা অন্যায় বলে মনে করেন সোনিয়া পেল্লিজারি।
তিনি বলেন, এসব ভিডিওর জন্য আমি বিব্রত নই। শুরু থেকে আমি কি করছি তা আমার পরিবার যেমন জানে, তেমনি জানে আমার সহকর্মীরা। আমি কখনো এসব গোপন করি নি। কিন্তু যখনই আমার ম্যানেজার বিষয়টি শুনেছেন এবং একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেলো, তখন তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন।
ওই ভিডিওর কারণে সোনিয়া পেল্লিজারিকে বরখাস্ত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই কাউন্সিলের প্রধান। তারা বলেছে, রাতে খুব বেশি সময় ব্যয় করে এসব তিনি করেন যে, সপ্তাহান্তে কাজে যোগ দেয়া তার জন্য খুব কষ্টের হয়ে উঠতো।

‘মর্টার শেলে ভর্তি’ ইয়েমেন

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের বাসিন্দা মোহাম্মদ আকবর ভেবেছিলেন, পবিত্র রমজান মাসের পুরোটা সময়ে নিজের বাড়িতেই থাকবেন। তিন সন্তানের এই জনকের ভাগ্যে ভিন্ন কিছু নির্ধারণ করা। দেশটিতে আজ সোমবার থেকে রমজান মাস শুরু হয়েছে। এবার রমজানে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে শরণার্থীশিবিরেই থাকতে হবে তাঁকে। যুদ্ধে গৃহহীন আকবর এই প্রথম রোজ শুরু করতে যাচ্ছেন ঘরের বাইরে। পুরোনো সেই সুখের দিনগুলোর কথা আজ খুব বেশি মনে পড়ছে তাঁর।
আকবরের মতো ইয়েমেনের আরও অনেক বাসিন্দাকে এবার রমজান কাটাতে হবে নিজ ঘরের বাইরে, শরণার্থীশিবিরে। পুরো ইয়েমেনই এখন যুদ্ধের সরঞ্জাম, গোলা-বারুদে ভর্তি। চারপাশে ধ্বংসস্তূপ আর ভুখা মানুষের হাহাকার।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছরের জুন মাসে আকবর ও তাঁর পরিবারকে আল-মুনথের গ্রাম থেকে পালিয়ে আসতে হয়েছে। লোহিত সাগরের শহর হোদেইদার কাছে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকার বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালালে আকবরদের পালিয়ে আসা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। বন্দর শহর ও এর আশপাশের হাজার হাজার পরিবার পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়।
হোদেইদা থেকে দক্ষিণে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরত্বের সরকারনিয়ন্ত্রিত খোখা এলাকার শরণার্থীশিবিরে এএফপির সঙ্গে কথা হয় আকবরের। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এক বছর ধরে আমরা এখানে আছি। পুরো এক বছর, এখনো আমরা বাড়িছাড়া। এরপরও আমরা ধৈর্য ধরে আছি। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’
হোদেইদায় অস্ত্রবিরতির বিষয়ে যুদ্ধে জড়িত পক্ষগুলো গত বছরের ডিসেম্বরে সুইডেনে সম্মত হলে লোকজনের মনে তা আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে সে আশা দ্রুত ফিকে হতে থাকে। বন্দুকযুদ্ধে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বেশির ভাগ লোক বাড়ি ফিরতে ভয় পান। আকবরেরও কোনো উপায় নেই। নিজের বাড়ি ছেড়ে আসার সময় তিনি শুধু জামাকাপড় আনতে পেরেছিলেন। আর সঙ্গে ক্রাচ। কারণ, শারীরিক প্রতিবন্ধী আকবর ক্রাচ ছাড়া চলতে পারেন না। আকবরের স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। তিন সন্তানই প্রতিবন্ধী। বালুর ওপর টাঙানো তাঁবুতে তাঁরা অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করেন। এ অবস্থায় তীব্র তাপমাত্রায় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোজা রাখাও সহজ নয়।
আকবর বলেন, ‘বাড়িতে পবিত্র রমজানের সময় সব ধরনের খাবার থাকত আমাদের, যেমন: স্যুপ, দই। কিন্তু এবার আমরা গৃহহীন। আমি প্রতিবন্ধী, আমার সন্তানেরা প্রতিবন্ধী। এ কারণে আমরা কোনো কাজ করতে পারি না।’
এরপরও মাসে খাবার সহায়তা পান বলে কৃতজ্ঞ আকবর। তিনি বলেন, বিশ্বের জন্য তাঁর একটি কথাই বলার আছে, ‘আমাদের দিকে তাকান। আমার এবং আমার পরিবারের দিকে তাকান।’
২০১৪ সাল থেকে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে হুতি বিদ্রোহীরা। তবে পরের বছর থেকে যুদ্ধ ভয়াবহ আকার ধারণ করে যখন সৌদি জোট এতে হস্তক্ষেপ করে। ত্রাণদাতা সংস্থাগুলোর মতে, যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে। ৩৩ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। দেশটির জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ২ কোটি ৪১ লাখ লোকের জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রয়োজন। ইয়েমেনের জনগণের জীবনযাত্রায় হোদেইদা বন্দর মূল ভূমিকা পালন করে। সেখানে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও থেমে থেমে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছেই। দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এই সংঘাত পবিত্র রমজান মাসেও বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সরকারি বাহিনীর একজন দাবি করেন, হুতি বিদ্রোহীরা হোদেইদা বন্দর ও বিমানবন্দরের নিচে অনেক টানেল খুঁড়েছে।
সেখানের হোদা ইব্রাহিম (৩৯) নামের একজনের প্রত্যাশা, পবিত্র রমজান মাসে অন্তত দুই পক্ষই যেন যুদ্ধবিরতি মেনে চলে। চার সন্তানের এই মা বলেন, ‘আমাদের এখন সব সময় গ্যাস ও জ্বালানির খোঁজে থাকতে হয়। এই মাসের আধ্যাত্মিকতার অভিজ্ঞতা লাভেরও সময় নেই আমাদের। এবারের রমজান মর্টার শেলে ভর্তি। আমাদের আশা, পরিস্থিতি এর চেয়ে বেশি খারাপ হবে না।’
যুদ্ধে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সানা থেকে সরকারের অস্থায়ী রাজধানী আদেনে স্থানান্তরিত হওয়ার পর ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে বেশির ভাগ সরকারি কর্মচারী বেতন পাচ্ছেন না।
মুহাম্মদ হোসেন নামের একজন আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে যেভাবে রমজান পালন করতাম, এখন আর তা পারব না। আমাদের কেনাকাটার সামর্থ্যও নেই। আমরা অবরুদ্ধ। বেতনও নেই।’
সৌদি আরবের সঙ্গে জোটের আরেক সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত গত মাসে, বিশেষ করে রমজান মাস উপলক্ষে ইয়েমেনকে ২০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আন্তর্জাতিক সহায়তাবিষয়ক মন্ত্রী রিম আল-হাশিমি গত সপ্তাহে অভিযোগ করেন, সানাসহ বিদ্রোহী–নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সাহায্য পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে হুতি বিদ্রোহীরা।

পোশাক শিল্পের ২২ শতাংশ নারী কর্মী হয়রানির শিকার- অ্যাকশনএইড

কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত নারীরা যৌন হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এই সহিংসতা প্রতিরোধে আইনি কাঠামোতে নেই সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা। ফলে কর্মক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নারীর অংশগ্রহণ এবং উপস্থিতি। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। বাংলাদেশে ২২ শতাংশ  নারী পোশাক কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে শারীরিক, মানসিক এবং যৌন হয়রানির শিকার হন। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের নতুন এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল ঢাকার গুলশান শুটিং ক্লাবে ‘নারীবান্ধব নিরাপদ কর্মস্থল’ নামে একটি আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদন তুলে ধরে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নারীদের প্রতি সহিংসতাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয়।
আর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এর কোনো প্রতিকার না থাকায় বর্তমান কাঠামো সহিংসতাকে আরো উসকে দেয়। যা নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। ‘কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা: প্রতিদিন প্রত্যেক কর্মক্ষেত্রে ঘটছে’ নামের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন। এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মানবাধিকারের সর্বাধিক লঙ্ঘনের মধ্যে একটি। এক শুমারী অনুযায়ী, ১৫ বছরের বেশি বয়সী ৩৫ শতাংশ নারী (বিশ্বব্যাপী ৮১৮ মিলিয়ন নারী) তাদের বাড়িতে, কমিউনিটিতে অথবা কর্মক্ষেত্রে যৌন বা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়েছে।
বাংলাদেশে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং মানব উন্নয়নে অবদান রাখলেও কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, কর্মক্ষেত্রের উৎপাদনশীলতা এবং মুনাফাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাছাড়া, কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা নারীর মর্যাদা এবং শারীরিক ও মানসিক কল্যাণে বাধা দেয়। ‘সজাগ নেটওয়ার্ক’ কর্তৃক পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২২ শতাংশ নারী পোশাক কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে অথবা কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে শারীরিক, মানসিক এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর বিশ্বাসের অভাবের কারণে তাদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ-ই নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ কমিটির কাছে প্রতিকার চায় না। এই পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে দেশের বিদ্যমান আইনেরও বিশ্লেষণ করেছে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ। বিশ্লেষণ বলছে, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাকে চিহ্নিত করার জন্য সামগ্রিক আইনি কাঠামোয় কার্যকরভাবে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিভিন্ন ধরণ অনুযায়ী উল্লেখ নেই, যার মধ্যে  অন্যতম-যৌন হয়রানি। বিদ্যমান আইনে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি যৌন হয়রানিকে। গবেষণা বলছে, কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সুপ্রিম কোর্ট ২০০৯ সালে একটি নির্দেশনা দেয়।
এই নির্দেশনা প্রণয়নের নয় বছর পরও প্রতিষ্ঠানগুলো যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নির্দেশনা অনুযায়ী কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৭ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী উক্ত দিক-নির্দেশনা সম্পর্কে একেবারেই অবগত নয়, কর্মক্ষেত্রে যার হার ৬৪.৫ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্‌ কবির বলেন, একদিকে আইনে যৌন হয়রানিকে সজ্ঞায়িত করা হয়নি। অন্যদিকে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগেও রয়েছে গুরুতর অভাব। মামলার বিলম্বিত নিষ্পত্তি এবং তদন্ত কর্মকর্তা এবং পাবলিক প্রসিকিউটরদের অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্থরা প্রায়ই বিচার পেতে ব্যর্থ হন। এর প্রভাব পড়ছে নারীর মনে, কাজে, সমাজে।
নারী নেত্রী খুশি কবির বলেন, দেশে নারীকে দমন করা ও নির্যাতন করাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। আবার তার শ্রমকে মর্যাদা দেয়া হয় না। আইনের পাশাপাশি দরকার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। মানুষকে শ্রদ্ধা করতে না শিখলে আইনের উন্নতি হবে না। বাস্তবায়ন হবে না। এজন্য আমাদের পাঠ্যপুস্তকেও পরিবর্তন আনা দরকার। আওয়াজ ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার বলেন, আমাদের নিরাপত্তার কোন জায়গা নেই। আছে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন। আছে বৈষম্য। সব মিলিয়ে নারীরা সব সময় ভয় নিয়ে কাজ করছেন। এর প্রতিকার দরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন-এর অধ্যাপক ও বিজিএমইএ-এর পরিচালক এ. মোমেন বলেন,  কোন ক্ষেত্রেই আমরা নারীর অবমাননা চাই না। পিতৃতান্ত্রিক চিন্তা বদলাতে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। পোশাক শিল্প মালিকদের প্রতিনিধি হিসেবে আমি বলতে পারি, শেষ পর্যন্ত দায়টা আমাদের উপর। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত কারার মধ্যমে একটি টেকসই ব্যবসা ব্যবস্থা পরিচালনা করতে চাই।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন বলেন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে সরকার আইন সংশোধন ও নতুন আইন প্রনয়ন করবে। তবে শুধু আইন দিয়ে সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব না। এজন্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার পেনি মর্টন বলেন, সহিসংতার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধান করতে হবে। আমরা চাই নারীর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সংযুক্তি বাড়ুক। এজন্য নারীর প্রতি সহিংসতা একটি প্রতিবন্ধকতা। এটার সমাধান করতে হবে। কারণ সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা না হলে সমাজের উন্নতি হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মতপার্থক্য কমছে : তালেবান

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের সময়সীমার উপর ওয়াশিংটনের বিশেষ শান্তি দূতের সাথে আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মতপার্থক্য কমে আসছে তালেবানের। কাতারে তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে উভয় পক্ষ।
দোহায় তালেবান মুখপাত্র সোহাইল শাহীন এপিকে দেয়া একটি ভয়েস মেসেজে বলেছেন, উভয় পক্ষই যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর সেনা প্রত্যাহার করার ব্যাপারে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। ভিন দেশে আমেরিকার দীর্ঘকালীন সামরিক অবস্থান ও প্রায় ১৮ বছর যুদ্ধ শেষ করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি ইংরেজি ভাষায় দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘উভয় পক্ষের মধ্যকার দূরত্ব কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এখনো আরো আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে’।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য তালেবান কর্মকর্তা আগে এপিকে বলেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে আনুমানিক ১৪ হাজার সেনা প্রত্যাহারের জন্য দেড় বছর সময় চেয়েছিল। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার চেয়েছিল তালেবান। কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বক্তব্য রাখেন। কারণ, প্রচার মাধ্যমের সাথে কথা বলার অনুমতি তাদের ছিল না।
এটা এখনো অজানা যে উভয় পক্ষ আলোচনার টেবিলে নতুন কী প্রস্তাব এনেছে। গত বছর ওয়াশিংটনের শান্তি দূত জালমে খালিলজাদকে নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যকার আলোচনা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহারের আশ্বাস দেয় আর আফগানিস্তানকে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলার ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করা হবে না বলে নিশ্চয়তা দেয় তালেবান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চয়তা চায় যে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেবে না তালেবান এবং তারা আইএসের সশস্ত্র যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করবে, যারা মূলত পূর্ব আফগানিস্তানে শিকড় গেড়েছে। খোরাসান প্রদেশে আইএস-এর শাখাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিল তালেবান। তীব্র যুদ্ধের সময়ও আইএস’র অনুসারীদের পাশে ছিল। প্রায়শই উত্তর আফগানিস্তান ও পূর্বের নঙ্গরহার প্রদেশের ইসলামিক মুভমেন্ট অব উজবেকিস্তান আইএস-এর শাখা হিসাবে পরিচিত ছিল, তারা আইএস’র অনেক আফগান অনুসারীকে নিয়োগ করেছে।