Sunday, September 21, 2014

আশার বাণী শোনাতে পারেনি ভারত

দিল্লি বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন ও সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে কোন অগ্রগতি হয়নি। আশার কথা শোনাতে পারেনি ভারত। কিন্তু ভারতীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা যেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন সেই লক্ষ্যে তাদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এতে আরও বলা হয়, আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। আর ভারতের পক্ষে তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। জেসিসি কাঠামোর মধ্যে দু’দেশের এটাই প্রথম বৈঠক। বৈঠক শেষে ভারত জানিয়েছে, তিস্তা বা স্থলসীমান্ত চুক্তি দু’টোর ব্যাপারেই ভারতের ভেতরে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির কাজ চলছে। সে কাজ এখনও শেষ হয়নি। তারা আশাবাদী এ কাজ শেষ হবে দ্রুত। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা বাংলাদেশকে কোন আশার কথা শোনাতে পারেননি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকের শেষে জানিয়েছেন, তারা হতাশ নন। তারা বোঝেন যে এ ব্যাপারে ভারতেরও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা আছে। তারা এ ব্যাপারে একটি ইতিবাচক ফলের জন্য অপেক্ষা করবেন। ভারত অনেক দিন ধরেই চাইছিল যাতে ভারতীয় শিল্পপতিরা সহজে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন এমন সুবিধা। বাংলাদেশ তাতে রাজি হয়েছে এবং বলেছে যে, প্রস্তাবিত ১৬টি জায়গা তারা ভারতকে দেখাতে চায়, যেখানে ভারতীয় শিল্পপতিরা বিনিয়োগ করতে পারেন। এ ১৬ জায়গা থেকে একটিকে বেছে নিয়ে ভারতীয় শিল্পপতিরা সেখানে বিনিয়োগ করবেন। সেখানে উৎপাদিত পণ্য বাংলাদেশে বা ভারত কিংবা তৃতীয় কোন দেশে রপ্তানি করা যেতে পারে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে,  মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য এ উদ্যোগটাকে ব্যবহার করা হতে পারে। এটা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ভেতরে ভারতীয় শিল্পপতিরা বিশেষ ইকোনমিক জোন, ভারত যেটাকে এসইজেড বলে, সেটাতে এ বিনিয়োগ সম্ভব হবে।

কলকাতা থেকে পরিতোষ পাল জানান, গতকালের বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র সৈয়দ আকবর উদ্দিনও পানি সমস্যা সমাধানে ভারতের ইতিবাচক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, পানি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। আমরা এ বিষয়টি সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিষয়কে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধানে ভারত সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জেসিসি  বৈঠকে ভারতের পক্ষে জানানো হয়েছে যে, প্রস্তাবিত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের হিমালয় অববাহিকার অংশের ব্যাপারে ভারত সরকার এককভাবে এমন কোন সিদ্ধান্ত তবে না যাতে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উভয় দেশ ঢাকায় সুবিধামতো সময়ে ৩৮তম  যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক আয়োজনের ব্যাপারে একমত  হয়েছে। চার বছর ধরেই এই বৈঠক হয়নি। তাই এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বৈঠকে বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছিল বলে জানা গেছে। এছাড়া টিপাইমুখ পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প সংক্রান্ত সাব-গ্রুপের তৃতীয় বৈঠক দ্রুত বসানো এবং তথ্য বিনিময়ের ব্যাপারেও একমত হয়েছে উভয় দেশ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এদিন দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা আলোচনা করেন। আন্তরিক পরিবেশে আলোচনা হযেছে বলে জানানো হয়েছে। বৈঠকে নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশ যে ভাবে সহায়তা করেছে সে জন্য ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে। সীমান্তে হত্যার ঘটনা কমানোর ব্যাপারে বিএসএফ যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে বৈঠকে দুই দেশই সীমান্তে হত্যার মতো অনভিপ্রেত ঘটনা শূন্যে নিয়ে আসার ব্যাপারে একমত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে জেসিসি বৈঠকে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে যে সব অশুল্ক বাধা রয়েছে তার তালিকা তুলে দেয়া হয়েছে। ভারত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করবে বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে ভারতের জন্য আলাদা ইকোনমিক জোন করার ঘোষণাকে ভারত স্বাগত জানিয়েছে। দুই দেশের জণগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য দুই দেশের মন্ত্রী উভয় দেশে আরও কূটনৈতিক প্রতিনিধি বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এছাড়া বিদ্যুৎ, পরিকাঠামো, রেল সংযোগের মতো সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যূৎ দেয়ার কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া বেঢ়ামারা-বহরমপুর বিদ্যুৎ গ্রিডে ১০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ দেয়ার ব্যাপারে কারিগরি দিক খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যোগাযোগ বৃদ্ধির স্বার্থে ঢাকা-শিলং বাস চালানোর প্রস্তাবকে স্বাগত জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার চারদিনের ভারত সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ভারতে এসেছিলেন। তিনি বৃহস্পতিবার সারা দিনই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদি, প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখোপাধ্যায় সহ ভারতের বিভিন্ন মন্ত্রকের মন্ত্রীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। শনিবার তিনি বিরোধী নেতা কংগ্রেসের গুলাম নবী আজাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এদিন মধ্যরাতেই জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী রওনা হয়ে যাওয়ার কথা।

রবিন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সময়...











এশিয়ান গেমসের অন্যতম আকর্ষণ কনডম!

দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনে চলছে এশিয়ান গেমস৷ ৪৫ দেশের প্রায় দশ হাজার ক্রীড়াবিদ এবার এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন৷ তবে এবারের গেমসে নাকি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে কনডম!

হ্যাঁ, বার্তা সংস্থা এএফপি এমনই একটি খবর পরিবেশন করেছে৷ গেমসের আয়োজকদের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, অ্যাথলিট ও কর্মকর্তাদের মাঝে প্রতিদিন পাঁচ হাজার করে কনডম দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে৷ এই কর্মসূচির প্রথম তিনদিন সম্পর্কে আয়োজক চই হাইউং-দায়ে এএফপিকে বলেন, প্রতিদিন যে পাঁচ হাজার কনডম দেয়ার কথা সেগুলো বিতরণ শুরু করার পর খুব তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে যাচ্ছে

তাই বলে যে সবাই একের অধিক যৌনকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন তা মনে করেন না হাইউং-দায়ে৷ তাঁর ধারণা, অনেক অ্যাথলিট হয়ত স্যুভেনির মনে করে কনডমগুলো নিচ্ছেন, কারণ কনডমের প্যাকেটের গায়ে গেমসের লোগো রয়েছে৷

উল্লেখ্য, এশিয়ান গেমসের মতো বড় ক্রীড়া আসরে কনডম বিতরণের বিষয়টি অনেকদিন থেকেই প্রচলিত৷ এবার ইনচন গেমসে প্রায় এক লক্ষ কনডম বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে৷

এর আগে ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে প্রায় দেড় লক্ষ, ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিকে প্রায় ৫০ হাজার এবং ১৯৮৮-র সৌল অলিম্পিকে সাড়ে আট হাজার কনডম দেয়া হয়েছিল৷ কনডমের প্রতি অ্যাথলেটদের এই আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ইনচন গেমসের আয়োজকরা৷ তাঁরা বলছেন, কনডম যেমন এইডস সহ অন্যান্য যৌন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করতে পারে, তেমনি দক্ষিণ কোরিয়ায় উৎপাদিত এই কনডমের মান সম্পর্কেও জানতে পারছে বিশ্ববাসী৷
সুত্র- DW

রেকর্ড সংখ্যক সফরসঙ্গী নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আজ নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন

জাতিসংঘের ৬৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রাতে নিউ ইয়র্কের পথে রওনা হচ্ছেন। ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি এই প্রথম সর্বোচ্চ সংখ্যক বিশ্বনেতার উপস্থিতিতে কোন ফোরামে অংশ নিচ্ছেন। অবশ্য অতীতের সব বেকর্ড ভঙ্গ করে এবার প্রায় পৌনে ২০০ সফরসঙ্গী প্রধানমন্ত্রীর বহরে যুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সরকারি কর্মকর্তারা যাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় খরচে। সফর প্রস্তুতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তালিকায় সংযোজন-বিয়োজন অব্যাহত থাকায় গত রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা চূড়ান্ত হয়নি। খসড়া তালিকা অনুযায়ী ৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ওই বহরে। তাদের অনেকের সহধর্মিণীর নাম তালিকায় না থাকলেও তাদের জন্য নিউ ইয়র্কে  হোটেলের রুম বুকিং দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দু’একজন আগেই চলে গেছেন বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লিতে রয়েছেন, সেখান থেকে নিউ ইয়র্ক পৌঁছবেন। ওই তালিকায় যারা রয়েছেন তারা হলেন- অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী  মো. নাসিম (সস্ত্রীক), প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (ব্যক্তিগত খরচে, ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছেন),  খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয়  স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান দীপু মনি যাচ্ছেন।  ওই কমিটির আরও দু’ জন সদস্য মেহজাবিন খালেদ এমপি ও রাজি মো. ফখরুলও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকায় না থাকলেও রেওয়াজ অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সব সদস্যই তিন মাস ধরে চলা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের কোন  না কোন পর্বে অংশ নেন।  অবশ্য এবারই রেকর্ড সংখ্যক মন্ত্রী ও সচিব একই সঙ্গে নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন।  মুক্তিযুদ্ধের সনদ জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত স্বাস্থ্য সচিব নিয়াজ মিয়া সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন। সচিবদের ওই তালিকায় পরিবেশ ও বন সচিব, শ্রম সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নৌ সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের একজন সদস্য রয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারাও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন।  সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া মন্ত্রী হিসেবে গত অধিবেশনে  গিয়েছিলেন। এবারও তিনি যাচ্ছেন। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। অবশ্য  আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দসহ মহাজোটের শরিক বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় খরচে তাদের সফর হলেও নিউ ইয়র্কে সরকারি কোন কর্মসূচিতে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।  একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ১৬ কর্মকর্তা পররাষ্ট্র দপ্তরের ২৫ (নিউ ইয়র্কস্থ স্থায়ী মিশনের  প্রতিনিধি ও ওয়াশিংটন দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ), অন্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থা ১৩, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় ২০, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ও সংযুক্ত মিডিয়ার প্রতিনিধি মিলে ২২ জন  সফরসঙ্গী হচ্ছেন।

বিশিষ্ট ব্যক্তির তালিকায় রয়েছেন- পঞ্চগড়-১ এর সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া এডভাইজর ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জনকণ্ঠ সম্পাদক আতিকুল্লা খান মাসুদ, সুপ্রিম কোর্টের সহকারী এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এম এম কামরুল হাসান খান, আওয়ামী লীগের সাব-কমিটির সহকারী সম্পাদক মো. মশিউর রহমান, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম রাজু, ফেনী আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান, ফেনী আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খায়রুল বাসার মজুমদার, কক্সবাজার জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান কাজী ফাতেমা আহমেদ, দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র সাব-এডিটর বেগম ফরিদা ইয়াসমিন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার প্রেসিডেন্ট এ কে এম আবদুল হামিদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে এম আবদুল মোতালেব, অনিল দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার প্রফেসর ড. এম শহিদুল্লাহ, গণআজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস কে সিকদার প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- মুখ্যসচিব আবদুস সোবহান সিকদার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. আবদুস সোবহান মিয়া প্রমুখ। বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ট্রাস্টের কন্ট্রোলার অব একাউন্টস সিদ্দিক হোসেন চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বেগম সেলিমা খাতুন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি এ কে এম শামিম চৌধুরীও রয়েছেন। ওই বহরে পররাষ্ট্রদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক, মহাপরিচালক জাতিসংঘ সাঈদা মুনা তাসনিম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ, চিফ অব প্রটোকল আসাদ আলম সিয়াম, পরিচালক বহিঃপ্রচার নৃপেন চন্দ্র দেব নাথ, ওয়াশিংটন দূতাবাসের কাউন্সিলর নিরুপম দেবনাথ, ডেপুটি চিফ অব প্রটোকল (সফর) মো. মনিরুল ইসলাম, পরিচালক (পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর) শাহ আসিফ রহমান, পরিচালক (পররাষ্ট্র সচিবের দপ্তর) ইকবাল আহমেদ, পরিচালক (এমআরপি) বি এম জামাল হোসাইন, পরিচালক (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর) দেওয়ান আলী আশরাফ, পরিচালক (অর্থনৈতিক সম্পর্ক) সঞ্চিতা হক, সহকারী সচিব (মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিট) নওরিদ শারমিন, সিনিয়র সহকারী সচিব (সফর) হুমায়ুন কবির, সহকারী সচিব (জাতিসংঘ) আবদুল ওয়াদুদ আখন্দ, সহকারী সচিব (সফর) মো. সফিউল আজম, সহকারী সচিব (এসএসএ) মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, সহকারী সচিব (সফর) মো. মাহমুদুল ইসলাম, সহকারী সচিব (মিশন-১) তানভির আহমেদ তফরদার প্রমুখ।
অন্য মন্ত্রণালয়ের ও সংস্থার প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন-বন ও পরিবেশ সচিব নজিবুর রহমান, শ্রম সচিব মিকাঈল সিপার, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সদস্য শামসুল আলম, নৌসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাইসুল আলম মণ্ডল, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ-এর ফারহা কবির, রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহমেদ আল কবির, পিকেএসফ-এর চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন সামস। গণমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের মধ্যে রয়েছেন- ইত্তেফাকের সিটি এডিটর আবুল খায়ের, চ্যানেল আই-এর নিউজ এডিটর প্রণব কুমার শাহ, ডিএফপির অফিসিয়াল ফিল্ম ক্যামেরাম্যান লুৎফর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসাইন, দৈনিক জনকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি দেবাশিস্‌ চক্রবর্তী, বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি গাজী আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঞা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ ও দৈনিক বর্তমানের যুগ্ম সম্পাদক দুলাল আহমেদ চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত প্রেস ও মিডিয়া টিমের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মো. নজরুল ইসলাম, সময় টেলিভিশনের সিইও আহমেদ যোবায়ের, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি সেক্রেটারি মো. আশরাফুল আলম, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বিশেষ প্রতিনিধি এ জেড এম সাজ্জাদ হোসাইন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, বাংলাদেশ বেতারের কন্টোলার অব নিউজ মো. আবদুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিনিয়র ক্যামরাম্যান মো. রোবায়েত হাসান খান, বিটিভির নির্বাহী পরিচালক (নিউজ) মো. আসিফুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আসিফ কবির, বাংলা নিউজের চিফ করসপন্ডেন্ট মাহমুদ মেনন খান, বিডি নিউজের সিনিয়র করসপন্ডেন্ট সুমন মাহবুব শেখ, ইউএনবির সিনিয়র করসপন্ডেন্ট ফাহাদ ফেরদৌস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফটোগ্রাফার হাবিবুর রহমান হাবিব, পিআইডির অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার সুমন দাস। এছাড়াও এফবিসিসিআই-র প্রেসিডেন্ট কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যবসায়িক নেতার সমন্বয় গঠিত একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নিজেরাই নিজেদের ব্যয় নির্বাহ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর যত কর্মসূচি: আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতা করবেন। এবারও তিনি বক্তৃতা দেবেন বাংলায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই অধিবেশনে বক্তৃতা দেয়া ছাড়াও  বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ  দেবেন। আগামী ২৩শে  সেপ্টেম্বর নিউ  ইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনের উদ্যোগে আয়োজিত জলবায়ু সম্মেলনে এবং ২৪শে  সেপ্টেম্বর বৈশ্বিক শিক্ষাবিষয়ক  বৈঠকে বক্তৃতা করবেন। ২৬শে  সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে আয়োজিত শান্তিরক্ষা বিষয়ক সম্মেলনে তিনি যৌথ সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই দিনে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের ৪০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও বক্তৃতা করবেন। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নিউ ইয়র্ক অবস্থানের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত, নেপাল, চিলি, কাতার ও বেলারুশসহ বিভিন্ন  দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া, অন্যবারের মতো এবারও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আয়োজিত দু’টি আলাদা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পাশাপাশি তিনি ইউএস চেম্বারস ও ইউএস বিজনেস কাউন্সিলের  যৌথ আয়োজিত একটি বৈঠকে  যোগ দেবেন।

রইসউদ্দিনকে নিয়ে বই, ছবি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশী রইসউদ্দিন ভূঁইয়ার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় নিয়ে লিখেছেন নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর সাংবাদিক আনন্দ গিরিধরদাস। বইয়ের শিরোনাম ‘দ্য ট্রু আমেরিকান: মার্ডার অ্যান্ড মার্সি ইন টেক্সাস’। এতে উঠে এসেছে এক প্রবাসীর অনন্য কীর্তি। তাকে যে বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ হত্যার চেষ্টা করেছিল, তারই প্রাণরক্ষায় প্রচারণা চালান রইসউদ্দিন। আনন্দের লেখায় ফুটে উঠেছে ঘটনার ইতিবৃত্ত। আইরিশ টাইমসে বইটি নিয়ে একটি রিভিউ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, রইসউদ্দিন ‘রইস’ ভূঁইয়া ২০০১ সালে যখন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে পৌঁছান তখন তার বয়স ছিল ২৭ বছর। বাংলাদেশী বিমানবাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত বিমানচালক ছিলেন তিনি। একাধারে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে তিনি পারদর্শী। রইস এমন একজন প্রবাসী যাকে ভালবাসে যুক্তরাষ্ট্র। উচ্চাকাঙ্ক্ষী, শিক্ষিত, নিজ দেশে তাদের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে আর আমেরিকান স্বপ্ন বাস্তবায়নের একনিষ্ঠ লক্ষ্যে এন্ট্রি লেভেল চাকরিতে দীর্ঘ ঘণ্টা ধরে পরিশ্রম করতে আগ্রহী। রইসের মতো অভিবাসীদের নিয়ে কখনও কখনও ধাঁধায় পড়ে যান মার্ক স্ট্রোম্যানের মতো মার্কিনিরা। এমনকি খোদ যুক্তরাষ্ট্রই বিভ্রান্ত হয়ে যায় তারা কোথা থেকে গেছেন সেটা বিবেচনায়, যেখানে মার্কিনিদের বড় গর্বের স্বাধীনতা সীমিত। বিশৃঙ্খলা ও সামাজিক দ্বন্দ্বে এ স্বাধীনতা জটিল রূপ ধারণ করেছে। সেখানে স্বাধীনতা আর নিজস্বতা ঊর্ধ্বমুখী গতিময়তার দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে মানুষকে ব্যর্থ করে তুলতে পারে। বাংলাদেশের মতো সমালোচনামূলক একটি কঠোর সমাজে যেমনটা হওয়া অসম্ভব নয়। ভিন্ন দুই পথের যাত্রী এ দু’টি মানুষের দেখা হয়েছিল যেদিন স্ট্রোম্যান হিংস্রতা নিয়ে ডালাসের রাস্তায় ‘আরবদের’ শিকার করতে বেরিয়েছিল। সেটা ছিল ১১ই সেপ্টেম্বর হামলা-পরবর্তী সময়ের ঘটনা। আনন্দ গিরিধরদাস তার দ্য ট্রু আমেরিকান বইতে সে কাহিনীই তুলে ধরেছেন। ২০০১ সালে স্ট্রোম্যানের বয়স ছিল ৩১ বছর। তার জীবন এমনিতেই ছিল বিশৃঙ্খল। বেড়ে ওঠছিল ভারসাম্যহীনতা আর নির্যাতনের মধ্য দিয়ে। সম্ভবত অ্যালকোহলে টান ছিল জন্মগতভাবেই। নানা ধরনের মাদক নিতো সে। ছিল সাম্প্রদায়িক বৈষম্যমূলক বর্ণবাদী। বিদেশীদের প্রতি অহেতুক ঘৃণা বা ভয় কাজ করতো তার মধ্যে। আর তার কাছে ছিল উল্লেখযোগ্য আগ্নেয়াস্ত্র। জেলে যাওয়া-আসা হয়েছে কয়েকবার। ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলা স্ট্রোম্যানের ক্রোধ উসকে দেয়। সে নিজেকে আমেরিকান সন্ত্রাসী ঘোষণা দেয়। আর ৯/১১-এর কয়েক দিন বাদে তিনজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে টার্গেট করে। বাসুদেব পাটেল নামক এক ভারতীয়, ওয়াকার হাসান নামক এক পাকিস্তানিকে হত্যা করে। আর বাংলাদেশী রইসউদ্দিন ভূঁইয়াকে হত্যার চেষ্টা করে। নিজের এহেন অপরাধকে দেশপ্রেম বলে আখ্যা দেয়। পরে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। দোষী সাব্যস্ত হয়ে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়। হামলায় রইস গুরুতর আহত হন। এক চোখের দৃষ্টি হারান। ইনস্যুরেন্স না থাকায় দ্রুতই হাজার হাজার ডলার মেডিকেল বিল জমতে থাকে। ঢাকায় তার বাগদত্তা তাকে ছেড়ে চলে যায়। প্রতি রাতে দুঃস্বপ্ন দেখতে থাকেন রইস। অতীতের ফ্ল্যাশব্যাক নাড়া দেয় অহরহ। হতাশায় ডুবে যান তিনি। তবে রইস হাল ছেড়ে দেয়ার পাত্র ছিলেন না। ওয়েটার হিসেবে চাকরি পান। আবারও শুরু করেন পড়াশোনা। শেষ পর্যন্ত ভাল একটি আইটি চাকরি পান। ২০০৯ সালে রইস তার মাকে মক্কায় নিয়ে যান। পুণ্যভূমিতে গিয়ে রইসের মনে পড়ে মিনিমার্টে গোলাগুলির দিন অঙ্গীকার করেছিলেন, সৃষ্টিকর্তা যদি তাকে প্রাণে বাঁচিয়ে দেন তাহলে অন্যদের জন্য ভাল কিছু করতে নিজের জীবন উৎসর্গ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে রইস পরিকল্পনা করলেন, তিনি জনসমক্ষে স্ট্রোম্যানকে ক্ষমা করে দেবেন। শুধু তাই নয়, তার ওপর হামলাকারীর প্রাণরক্ষা করতে প্রচারণা চালাবেন। রইসউদ্দিন ভূঁইয়া একজন মুসলিম আর তিনি ক্ষমা প্রদর্শনের বার্তা খুঁজে নিলেন পবিত্র কোরান থেকে। এদিকে স্ট্রোম্যান এক রকম মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সেলিব্রিটি হয়ে পড়লো। ইসরাইলি ডকুমেন্টারি নির্মাতা ইলান জিভের সহযোগিতায় একটি ব্লগ লেখা শুরু করে সে। তৃণমূল শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি কর্মকাণ্ড নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে স্ট্রোম্যানকে খুঁজে পান ইলান। তিনিসহ অনেকেরই বিশ্বাস ছিল স্ট্রোম্যানের মধ্যে পরিবর্তন আসছিল। কিন্তু স্ট্রোম্যানের পরিবারের দু’জন সদস্যের ধারণা ছিল, সে এসব ভাল মানুষকে ঠকাচ্ছে আর নিজেকে বাঁচানোর জন্য সব কিছুই বলবে সে। এদিকে স্ট্রোম্যানের দণ্ড লঘু করতে টেক্সাসের আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে রইসের প্রচারণার অগ্রগতি হচ্ছিল সামান্যই। ২০১১ সালে দণ্ড কার্যকরের যখন আর বেশি দিন বাকি নেই, তখন রইস একটি মামলা করেন। তিনি যুক্তি উপস্থাপন করেন, স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড হলে টেক্সাস আইনের অধীনে হামলার শিকার ও হামলাকারীর মধ্যে মধ্যস্থতায় স্ট্রোম্যানের অধিকার প্রত্যাখ্যান করা হবে। শেষ পর্যন্ত মামলায় হেরে যান রইস আর স্ট্রোম্যানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। রইসউদ্দিন ভূঁইয়া তার এ প্রচারণা শুরুর সময় ‘ওয়ার্ল্ড উইদাউট হেট’ নামে যে ফাউন্ডেশন স্থাপন করেছিলেন তা এখনও ঘৃণাপ্রসূত অপরাধকর্ম প্রতিহত করতে কাজ করে যাচ্ছে। গিরিধরদাস তার বইয়ে সত্যিকারের আমেরিকান স্বপ্নের বাস্তবতা আসলে কি তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। এক পর্যায়ে তিনি লিখেছেন, বিড়ম্বনা হলো, উদাহরণস্বরূপ আজকের সত্যিকারের আমেরিকান হয়তো হতে পারে একজন মুসলিম, যিনি ভাঙা ভাঙা ইংলিশ বলেন। কিন্তু স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান, যারা কিনা তাকে ভয় করে বা অবজ্ঞা করে তাদের থেকে অনেক বেশি বিনয় আর আবেগ দিয়ে ওই স্বপ্নে বিশ্বাস করেন। ইতিমধ্যে গিরিধরদাসের ট্রু আমেরিকান বইয়ের ফিল্ম রাইটস বিক্রি হয়ে গেছে। হলিউডের পর্দায় আসার অপেক্ষায় থাকা চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন প্রখ্যাত পরিচালক ক্যাথরিন বাইগেলো।

ক্ষমতার জন্যই সরকারের অবস্থান পরিবর্তন by সিরাজুস সালেকিন ও ফররুখ মাহমুদ

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই সরকার নির্বাচনের আগে মঞ্চের সঙ্গে ছিল। এখন ক্ষমতায় থাকার জন্য অবস্থান পরিবর্তন করে মঞ্চের কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেছেন, সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে গণজাগরণ মঞ্চকে বন্দি করতে চাইছে। পরিকল্পিতভাবে কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছে না। নেতৃত্বের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় মঞ্চের আন্দোলনে অনেক ভুল ছিল স্বীকার করে ইমরান বলেন, সঠিক সময়ে এ ভুলগুলো উপলব্ধি করতে না পারার কারণে নেতৃত্ব দেয়ার মতো সঠিক লোকও খুঁজে পাওয়া যায়নি। মানবজমিন-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ইমরান এসব কথা বলেন। মঞ্চের বর্তমান বিভক্তি সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, সরকারই চাইছে গণজাগরণ মঞ্চের এ বিভক্তির বিষয়টি মানুষের সামনে তুলে ধরতে। কারণ এখন তাদের আর মঞ্চের প্রয়োজন নেই।
সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তারা গণজাগরণ মঞ্চের ৬ দফা বাস্তবায়নে কাজ করেছে। অনেকটা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মতো। এখন সরকার তাদের নৈতিক জায়গা থেকে সরে এসেছে। তারা জামায়াতের সঙ্গে আঁতাতের পথে গণজাগরণ মঞ্চকে প্রতিবন্ধকতা মনে করছে। জামায়াতকে কাছে টানার জন্যই সরকারের এ পরিবর্তন।
নির্বাচনের পরে মঞ্চের ওপর থেকে সরকারের সমর্থন প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে ইমরান বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার মনোভাবের পরিবর্তন করেছে। নির্বাচনের আগে হেফাজতে ইসলামকে তারা জঙ্গিবাদের উত্থানের কারণ বলেছে। নির্বাচনের পরে তারা হেফাজতে ইসলামকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে। নির্বাচনের আগে তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে চেয়েছে। আর এখন বলছে তাদের এ ধরনের কোন পরিকল্পনা নেই। মূলত সরকার তাদের নৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন করেছে। তারা ইসলামী ব্যাংকের টাকা নেয়ার ক্ষেত্রে গণজাগরণ মঞ্চকেই বাধা মনে করছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও সরকার নৈতিক অবস্থান বদল করেছে। ২০১৩ সালে সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার খুব দ্রুত এগিয়ে নিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর তারা আর কোন রায় দিতে চাইছে না। তারা জামায়াতের সঙ্গে এক ধরনের আঁতাতের চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রেও সরকার গণজাগরণ মঞ্চকে বাধা হিসেবে দেখছে।
৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের সমালোচনা করে ডা. ইমরান বলেন, এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচন ছিল। তবে গ্রহণযোগ্য কোন নির্বাচন হয়নি। কারণ বেশির ভাগ ভোটার এখানে ভোট দিতে পারেননি। আমি নিজেও ভোট দিতে পারিনি। আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তখন ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করেছি।
মঞ্চে বিভক্তির প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, যারা নিজেদের গণজাগরণ মঞ্চের অংশ দাবি করছে তারা সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তারা সবাই সরকারদলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে মঞ্চের নেতৃত্বে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের অনুপ্রবেশের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ সরকারের একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাদের এজেন্ডার সঙ্গে না মিললেই তাকে আলাদা করে দেখে। আমার যে সব সহযোদ্ধার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এসেছে তারা যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল। এখন যখন সরকারের স্বার্থে আঘাত এসেছে, তখন তাদের ওপর এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে। মূলত রাজনৈতিক অপচেষ্টা থেকে এ সব করা হচ্ছে।
সরকার দলের মন্ত্রীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পুরো জাতিকে হতাশ করার জন্য বার্তা দেয়া হচ্ছে, গণজাগরণ মঞ্চ বিভক্ত হয়েছে।
গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃত্বের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তারা যে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করছেন সেগুলো নিশ্চয়ই একদিনের না। তারা শুধু বলেননি যে ২৬শে মার্চ আমি স্বেচ্ছাচারিতা করেছি, ২০১৩ সালে আমি স্বেচ্ছাচারী ছিলাম না। বিষয়টা তো এমন না। তখন তারা এ অভিযোগগুলো করেননি কেন?
গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা কমে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সরকার আমাদের সমাবেশে নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করেছে। আমরা কোন কর্মসূিচ দিলে সরকার জোটের সংগঠনগুলো আমাদের সভাস্থলে সভা আহ্বান করে। আমাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয় না। এমনকি মাইক ভাড়া না দেয়ার জন্য মালিকদের নিষেধ করা হয়। আমাদের সমাবেশ স্থলে সরকার পুলিশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। ফলে জনগণ সমাবেশে আসার ইচ্ছা পোষণ করলেও সরকারের বাধার কারণে অংশ নিতে পারছে না। আমি মনে করি অনেকটা পরিকল্পিতভাবে নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্যই মঞ্চকে বন্দি করতে চাইছে সরকার।
মঞ্চ নতুন করে জোরালো কেন কর্মসূচি দিতে পারছে না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পুলিশ জামায়াতের কর্মসূচি ঠেকানোর চেয়ে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মসূচি ঠেকাতে ব্যস্ত। পুলিশের আগ্রহের জায়গা এখন গণজাগরণ মঞ্চ। কারণ সরকারের সমঝোতার বিষয়টি জনগণ বুঝতে পেরেছে। সাঈদীর রায় ঘোষণার পর সরকারের টার্গেট ছিল রায়ের বিরুদ্ধে জনরোষ মোকাবিলা করা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের রূপরেখা কি হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ৫ই ফেব্রুয়ারিতে সিদ্ধান্ত নিয়েই এসেছি আমাদের কি কি মোকাবিলা করতে হবে। আমরা নিশ্চয়ই প্রত্যাশা করে আসিনি যে সরকারের বিরোধিতার মুখে পড়বো। সরকার একটা রায় দিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করে আবার বিচার চাইতে হবে। জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলবো। আমরা মনে করি সরকার জনগণকে দেখানোর জন্য গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। এখন এসে পরিষ্কার হয়েছে আদতে তারা কোন সময় ৬ দফার সঙ্গে ছিল না। নেতৃত্বের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে উল্লেখ করে ইমরান বলেন, সাধারণ মানুষ সম্পর্কে কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। সবচেয়ে বড় ভুল ছিল রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্কে সতর্ক না থাকা। স্বতঃস্ফূর্ত গণমানুষের আন্দোলনে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রভাব বলয় ছিল। আর ছাত্র সংগঠনগুলোর মূল কাজই হচ্ছে তাদের রাজনৈতিক আদর্শের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্তের বাইরে তারা কিছু করে না। সঠিক সময়ে এ বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে পারিনি। ২০১৩ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারির আগে জানতে পারিনি কাকে দিয়ে কি কাজ হবে। কার ওপর নির্ভর করতে হবে। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষকে চিনেছি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ। আন্দোলনের মুখে আইন সংশোধন করে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে আবদুল কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তির পর গত বছরের ডিসেম্বরে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হয়। মঞ্চের আন্দোলন ঘিরে উত্থান ঘটে আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলামের। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে গণজাগরণ মঞ্চে বিভক্তি দেখা দেয়। এখন মঞ্চের কর্মীরা তিনটি অংশে বিভক্ত।

আইএসের হাতে জিম্মি তুর্কি কূটনীতিকেরা মুক্ত

বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তবু পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ বিপৎসংকুল পথ।
শেষ পথটুকুতে পা যেন আর চলছিলই না। শেষমেশ এই বয়োবৃদ্ধ
নারীকে সহায়তায় এগিয়ে আসেন তাঁরই মতো উদ্বাস্তু আরেক
সিরীয় কুর্দি। এভাবে সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্কে পৌঁছেছেন তিনি।
সিরিয়ার কুর্দি-অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকা দখল করে নিয়েছে
ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিরা। তাদের হামলা থেকে
প্রাণে বাঁচতে হাজার হাজার কুর্দি তুরস্কে পালিয়ে
যাচ্ছেন। গতকাল তোলা ছবি। এএফপি
ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের হাতে অপহৃত তুরস্কের কূটনীতিকসহ ৪৯ জন গতকাল শনিবার মুক্তি পেয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থার প্রচেষ্টায় তাঁরা মুক্তি পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি আইএস ও ইরাক বিষয়ে আলোচনা করতে গত শুক্রবার জাতিসংঘে ইরানসহ ৩৫টি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। খবর এএফপি ও বিবিসির। আইএস জঙ্গিরা ইরাকে গত জুন মাসে উত্তরাঞ্চলীয় শহর মসুল দখল করে নেয়। তারা সেখানে অবস্থিত তুর্কি কনস্যুলেট থেকে কূটনীতিক, শিশু এবং বিশেষ পুলিশ বাহিনীর সদস্যসহ ৪৯ জনকে অপহরণ করে। এর মধ্যে ৪৬ জনই তুরস্কের নাগরিক। 
বাকি তিনজন ইরাকি। মুক্তি পাওয়ার পর গতকাল স্থানীয় সময় সকালে তাঁরা দক্ষিণ তুরস্কে পৌঁছান। সেখান থেকে রাজধানী আঙ্কারায় পৌঁছালে বিপুলসংখ্যক মানুষ পতাকা নেড়ে তাঁদের স্বাগত জানায়। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু বলেছেন, তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রচেষ্টায় ওই জিম্মিদের মুক্ত করে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, উদ্ধার অভিযানটি সারা রাত ধরে চলে এবং তা সকালের দিকে সফলভাবে শেষ হয়। তুরস্কের সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির খবরে দাবি করা হয়েছে, জিম্মিদের মুক্ত করার জন্য কোনো মুক্তিপণ দেওয়া হয়নি। দেশটির বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক হুরিয়াত সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, মূলত, আলোচনার মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্ত করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, তুরস্কের সীমান্তবর্তী সিরীয় শহর তেল আবিয়াদে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় ওই জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে তাঁদের আইএসের শক্ত ঘাঁটি রাকা শহর থেকে সেখানে নিয়ে আসা হয়। কেরির বৈঠক: এদিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি শুক্রবার যে বৈঠকের আয়োজন করেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ইরানের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। বৈঠকে কেরি বলেন, ইরাকের নতুন সরকারকে সমর্থন দিতে এবং আইএসের জঙ্গিদের বর্বরতার অবসান ঘটাতে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেরই এগিয়ে আসার দরকার রয়েছে। এর মধ্যে ইরানও অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র আইএসবিরোধী জোটে তেহরানকে রাখবে না বলেই বলে আসছিল। গত সপ্তাহে কেরি বলেন, ‘সিরিয়ায় ও অন্যান্য জায়গায় তেহরানের সম্পৃক্ততা’ থাকায় ইরানকে আইএসবিরোধী জোটে আমন্ত্রণ জানানো ঠিক হবে না।

কুমিরের মুখ থেকে ফিরে এলেন শিকারি

কুমিরের মুখ থেকে ফিরে এলেন শিকারি
ছয় ফুট লম্বা এক কুমিরের মুখ থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার এক মদ্যপ রাজহাঁস শিকারি। কুমিরের চোখে গুঁতো দিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। খবর এএফপির। ঘটনাটি গত শুক্রবার সন্ধ্যার। উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম পেপিমেনারটি এলাকায় হাঁস শিকারে গিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী স্টিফেন মোরেন। নর্দার্ন টেরিটরির রাজধানী ডারউইন থেকে এলাকাটি ৩২০ কিলোমিটার দূরে।  অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের সাংবাদিককে মোরেন বলছিলেন, ‘আমরা গুলি করে বুনো রাজহাঁস মারছিলাম। আমার চাচাতো ভাই পড়ে যাওয়া হাঁসগুলো নিয়ে আসতে বলল। একটা, দুটো করে তিনটা হাঁস ধরার পর কুমিরটা আমার হাত কামড়ে ধরে টান দেয়।
সে আমাকে ধরে পাক খাওয়ার চেষ্টা করে। তবে আমার বরাত ভালো ছিল। পানির নিচে তার চোখে জোরে গুঁতো দিই।’ মোরেন বলেন, কুমিরটি গুঁতো খেয়ে তাঁকে ছেড়ে দিয়ে চলে যাওয়ার সময় তাঁর ভাই গুলি করে। মোরেন স্বীকার করেন, ঘটনার সময় তিনি কিছুটা মাতাল ছিলেন। আর সে কারণেই হয়তো কুমিরের কামড়ের ব্যথা টের পাননি। তিনি বলেন, ‘শরীরের ক্ষত দেখার আগে আমি তেমন ভয় পাইনি। কিন্তু দেখার পর চিৎকার দিই।’ ১৯৭১ সালে কুমির সুরক্ষা আইন করার পর উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় কুমিরের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। সরকারি হিসাবে এর সংখ্যা ৭৫ হাজার থেকে এক লাখ।

হতে হবে আশাবাদী: বিল গেটস

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের অন্যতম। তাঁর জন্ম ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন এবং মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে জনকল্যাণমূলক নানা কাজে যুক্ত আছেন। অভিনন্দন, ২০১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা৷ মেলিন্ডা ও আমি আজ এখানে উপস্থিত হতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত৷ তোমাদের এই ক্যাম্পাস অনেক দিক থেকেই অসাধারণ৷ তবে আমাদের যদি একটি শব্দে বলতে হয় স্ট্যানফোর্ডের কোন বিষয়কে আমরা সবচেয়ে ভালোবাসি, তা হবে আশাবাদী মনোভাব৷

১৯৭৫ সালে এই আশা নিয়েই আমি বোস্টনের এক কলেজ ছেড়ে এসে কাজে নেমে পড়েছিলাম৷ আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, কম্পিউটার ও সফটওয়্যার পৃথিবীজুড়ে মানুষের জীবনকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারবে, পৃথিবীকে আরও অনেক উন্নত করে তুলবে৷ কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে৷ আমরা যা শিখেছি, আজ সেসব তোমাদের বলতে চাই৷ আর জানাতে চাই, কীভাবে আমরা সবাই আরও অনেক মানুষের জন্য অনেক কিছু করতে পারি৷
যখন পল অ্যালেন আর আমি মাইক্রোসফট শুরু করেছিলাম, তখন আমদের লক্ষ্য ছিল কম্পিউটার ও সফটওয়্যারের ক্ষমতাকে সাধারণ মানুষের কাজে লাগানো৷ ১৯৯৭ সালে আমি ব্যবসার কাজে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় যাই৷ একদিন আমি কৌতূহলবশত শহরের একটু দূরে সোয়েটো নামে একটা জায়গায় যাই; এমন জায়গা আমি জীবনে কখনো দেখিনি৷ মাইক্রোসফট সেখানে একটি কমিউনিটি সেন্টারে কম্পিউটার ও সফটয়্যার বিতরণ করেছিল, যেভাবে আমেরিকায় আমরা কাজ করতাম৷ কিন্তু আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমি বুঝে গেলাম, এটা আমেরিকা নয়৷ এর আগে আমি দারিদ্র্যকে দেখেছিলাম পরিসংখ্যানে, নিজের চোখে নয়৷ সেখানে গিয়ে আমি দেখলাম, কীভাবে মানুষ বিদ্যুৎ, পানি, টয়লেট ছাড়াই বস্তিতে থাকছে৷ বেশির ভাগের পায়েই কোনো জুতা ছিল না, জুতা পায়ে হাঁটার মতো রাস্তাও ছিল না৷ যে কমিউনিটি সেন্টারে আমরা কম্পিউটার দান করেছিলাম, সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা ছিল না৷ তাই তারা ২০০ ফুট লম্বা তার দিয়ে ডিজেলচালিত একটি জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ-সংযোগ নিয়ে কম্পিউটার চালিয়ে রেখেছিল৷ অবস্থা দেখে আমি ভালোভাবেই বুঝলাম, যে মুহূর্তে আমি আর আমার সঙ্গের লোকজন চলে যাব, তৎক্ষণাৎ এই জেনারেটরও অন্য কোথাও চলে যাবে৷ আর কমিউনিটি সেন্টারের লোকেরাও তাদের জীবনের অন্য হাজার সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত হয়ে পড়বে; সেসব সমস্যা কখনো কম্পিউটার দিয়ে সমাধান করা যায় না৷
গণমাধ্যমের সামনে এসে আমি আগে থেকে তৈরি করে রাখা বক্তৃতা পড়ছিলাম৷ বলছিলাম, ‘সোয়েটো প্রযুক্তির বিভাজনকে ঘুচিয়ে দেওয়ার যাত্রায় একটি মাইলফলকের নাম৷’ কিন্তু মুখে যা-ই বলি, আমি বুঝতে পারছিলাম, এসব কথার কোনো অর্থ নেই৷
সোয়েটোতে যাওয়ার আগে আমি ভাবতাম, আমি পৃথিবীর সমস্যা বুঝি, কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো নিয়েই আমার কোনো ধারণা ছিল না৷ আমার এত অসহায় লেগেছিল যে আমি নিজের বিশ্বাসকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলাম, আদৌ কি উদ্ভাবনের মাধ্যমে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব? আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, দ্বিতীয়বার আফ্রিকায় পা দেওয়ার আগে আমাকে বুঝতে হবে দারিদ্র্য আসলে কী৷
অনেক পরে দক্ষিণ আফ্রিকায় আমি একটি যক্ষা হাসপাতাল দেখতে গিয়েছিলাম৷ সেটি একটি বিশেষ ধরনের যক্ষা রোগীদের জন্য, যাদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৫০ ভাগেরও কম৷ গোটা হাসপাতাল রোগীদের ভিড়ে উপচে পড়ছে৷ রোগীদের মধ্যে আমি এক নারীর সঙ্গে কথা বললাম, তার বয়স মাত্র ত্রিশের কোঠায়৷ সে আগে এক যক্ষা হাসপাতালে কাজ করত, একদিন তার নিজেরও যক্ষা ধরা পড়ে, সঙ্গে এইডস৷ সে জানত, তার দিন ফুরিয়ে এসেছে৷ আর তার মৃত্যুর পর যখন সেই বিছানা খালি হয়ে যাবে, সেখানে জায়গা করে নিতেও রোগীদের এক বিশাল লাইন অপেক্ষা করে আছে৷ তারা অপেক্ষা করছে সেই দিনের৷
আমি গাড়িতে উঠে সেখানকার এক ডাক্তারকে বললাম, ‘হ্যাঁ, আমি জানি এ ধরনের যক্ষা সারিয়ে তোলা মুশকিল৷ কিন্তু কোনো না কোনো উপায় নিশ্চয়ই আছে৷ এসব মানুষের জন্য আমাদের কিছু করতেই হবে৷’
আমি আজ আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি এ বছর আমরা যক্ষার এক নতুন ধরনের ওষুধের পরীক্ষা করতে যাচ্ছি৷ আগে যেখানে ১৮ মাস ধরে প্রায় দুই হাজার ডলার খরচের পরও শতকরা ৫০ জনের বেশি রোগীকে সুস্থ করা যেত না, এখন সেখানে ছয় মাসের চিকিৎসায় ১০০ ডলারের কম খরচেই শতকরা ৮০ থেকে ৯০ জন রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে৷ এখানেই আশাবাদের শক্তি নিহিত৷ কে বলেছে আমরা দারিদ্র্য কিংবা রোগব্যাধিকে মির্মূল করতে পারব না? আমরা অবশ্যই পারব৷ সমস্যা যত বড়ই হোক না কেন, আশা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে অনুপ্রেরণা জোগায়৷ কিন্তু সমস্যাকে নিজের চোখে না দেখলে শুধু আশা দিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায় না৷
আমি হতাশাবাদীদের দলে নই৷ কিন্তু আমাদের স্বীকার করতে হবে যে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে যদি আমরা বৈষম্য দূরীকরণের কাজে না লাগাই, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা এমন সব উদ্ভাবন নিয়ে বসে থাকব, যা পৃথিবীকে আরও বিভক্ত করে ফেলবে৷ উদ্ভাবন দিয়ে কী হবে, যদি তা স্কুলে শিক্ষার মান না বাড়ায়? যদি ম্যালেরিয়া নির্মূল করা না যায়, দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব না হয়, দরিদ্র কৃষকের অন্নের নিশ্চয়তা না থাকে?
তোমরা স্নাতকেরা অসংখ্য উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেবে, পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাবে৷ তোমাদের বয়সে আমি পৃথিবীকে যতটা চিনতাম, আমি বিশ্বাস করি, আজ তোমরা তার চেয়ে অনেক বেশি জানো৷ আমি যা করেছি, তোমরা তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু করতে পারবে, যদি তোমরা এতে তোমাদের মনপ্রাণ ঢেলে দাও৷ আমি সেই প্রত্যাশায় রইলাম৷

সূত্র: স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট।
১৫ জুন, ২০১৪ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে দেওয়া বিল গেটসের বক্তব্যের নির্বাচিত অংশের অনুবাদ: অঞ্জলি সরকার

কাশ্মীরের পুরোটাই ফিরিয়ে আনব

বিলওয়াল ভুট্টো
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, তিনি কাশ্মীরের সম্পূর্ণ অংশকে ‘ভারতের দখলমুক্ত’ করবেন। শুক্রবার দলের এক কর্মসূচিতে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন তিনি। খবর এনডিটিভির। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলওয়াল পাঞ্জাবের মুলতানে দেওয়া ওই ভাষণে বলেন, ‘আমি কাশ্মীর ফিরিয়ে আনব, সম্পূর্ণ অংশ।
সেখানকার এক ইঞ্চিও ছাড়ব না। কারণ, অন্যান্য প্রদেশের মতো কাশ্মীরও পাকিস্তানের অংশ।’ ২০ বছর বয়সী বিলওয়ালের ওই বক্তব্যের সময় তাঁর পাশে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি ও রাজা পারভেজ আশরাফ। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিতব্য আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে পিপিপির পক্ষ থেকে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিলওয়াল।

সুইট শো—একটি খসড়া by আসিফ নজরুল

সুপ্রিয় দর্শকমণ্ডলী, শুরু হচ্ছে ইয়েস টিভির নিয়মিত আলোচনা অনুষ্ঠান সুইট শো। অনুষ্ঠানে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি মশিউর রহমান চৌধুরী। আমাদের আজকের অনুষ্ঠানে এমন দুজন অতিথি রয়েছেন, যাঁদের আসলে পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এঁদের একজন সিনিয়র সাংবাদিক নূরুল করিম। আরেকজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. হাসিব নজরুল।

দর্শকমণ্ডলী, আমরা আজ আলোচনা শুরু করছি গণতন্ত্রের এক হীরকোজ্জ্বল মুহূর্তে। আপনারা জানেন, মাত্র কয়েক দিন আগে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসন বিল পাস হয়েছে। এটি ছিল আমাদের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী, যাকে বলা যায় সুইট সিক্সটিন্থ। এই সংশোধনীর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বহু বছরের স্বপ্ন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে দেশের সাংবাদিকদের বহু বছরের প্রাণের দাবি সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষকে জঙ্গি, সন্ত্রাসী এবং একাত্তরের রাজাকারদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি আইন করা হয়েছে। যা-ই হোক, এবার মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আজ আমরা আলোচনা করব মূলত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে। এ প্রসঙ্গে আমি প্রথমে কিছু বলার জন্য ড. হাসিব নজরুলকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

হাসিব নজরুল: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, জাতির জীবনের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন নিয়ে আমাকে কিছু বলতে দেওয়ার জন্য। সত্যি বলতে কি এই সংশোধনী নিয়ে আমারও কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদে প্রদত্ত ভাষণ শুনে আমার সব দ্বিধা কেটে গেছে। তিনি সংসদে বলেছেন, আগে উচ্চ আদালতের বিচারকদের চাকরি যেত মাত্র তিনজন বিচারকের মতামতে আর এখন তাঁদের চাকরি খেতে হলে সংসদের সাড়ে তিন শ সদস্যের মতামত লাগবে। তার মানে তিনি এই ইঙ্গিত প্রদান করেছেন যে বিচারকদের চাকরির নিরাপত্তা এখন শতাধিক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অসাধারণ পাণ্ডিত্যের জন্য আমি তাঁকে প্রাণঢালা ধন্যবাদ জানাই। আমি মনে করি, এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়কসহ সবার চাকরিচ্যুতির ক্ষমতা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে অর্পণ করে গণতন্ত্রের ভিতকে আরও মজবুত করা উচিত।

মশিউর রহমান চৌধুরী: কিন্তু কিছু মহলের পক্ষ থেকে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সংসদ জনপ্রতিনিধিত্বশীল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জনাব করিম?
নূরুল করিম: আমি জানি এই প্রশ্ন আপনি করবেন। এই প্রশ্ন যারা তোলে, তারা মূর্খ; তাদের জ্ঞান, পড়াশোনা ও ইতিহাসবোধ নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। আমরা জানি, গ্রিক নগর রাষ্ট্রে যে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে বৃহৎ রাষ্ট্রকাঠামোতে অচল হয়ে পড়ে। এরপর রোমান রিপাবলিকের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র ধারণাটির বাস্তবায়ন শুরু হয়, যদিও রোমান রিপাবলিক আসলেই প্রতিনিধিত্বশীল ছিল কি না, তা নিয়ে রাষ্ট্রচিন্তকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রের প্রকৃত বিকাশ আসলে ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর জাতিভিত্তিক রাষ্ট্রসমূহে। এসব কোনো গণতন্ত্র যা করতে পারেনি, তাই হয়েছে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে গণতান্ত্রিক, সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচন!

মশিউর রহমান চৌধুরী: কীভাবে?
নূরুল করিম: আমি সেই আলোচনাতেই আসছি। আপনি জানেন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মানে আমাদের বুঝতে হবে। এর মানে হচ্ছে এঁদের যোগ্যতা, সততা এবং দেশপ্রেমে মুগ্ধ হয়ে অন্য কেউ প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেননি। এই সংসদের সিংহভাগ প্রতিনিধি তাই তাঁদের এলাকার শতভাগ জনগণের প্রতিনিধি। এই সংসদের মতো প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ তাই পৃথিবীর ইতিহাসে একটিও নেই। এই সংসদের হাতে বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়ে জনগণ ও গণতন্ত্রকে বরং সম্মানিত করা হয়েছে।
মশিউর রহমান চৌধুরী: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এই চমৎকার ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য। তা ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে এও বলা হচ্ছে যে আমেরিকা, ব্রিটেন, ভারতের মতো রাষ্ট্রেও একই বিধান রয়েছে।

হাসিব নজরুল আপনি কিছু বলবেন?
হাসিব নজরুল: আমি মনে করি না অন্য রাষ্ট্রের তুলনা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন এখন আমাদের রয়েছে। ব্রিটেন বা ভারতে বিরোধী দল যখন ইচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, সরকার কোনো পরিকল্পনা করলে নিজেরা আরেকটি পরিকল্পনা হাজির করে, তারা নাকি শ্যাডো গভর্নমেন্ট—ছায়া সরকার। এ ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কোনো কাজ আমাদের বিরোধী দল বর্তমানে করে না। বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি বরং সরকারের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করছে। তারা সরকারে যোগদান করেছে, সরকারের সঙ্গে একযোগে যোড়শ সংশোধনী পাস করেছে, এমনকি নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তা মীমাংসা করেছে। কাজেই আমরা আশা করতে পারি, সংসদ যদি কোনো বিচারককে চাকরিচ্যুত করে, তাহলে তা হবে সংসদের প্রতিটি সদস্যের মতৈক্যের ভিত্তিতে। দেশের ১৬ কোটি লোকের মতামত তাতে প্রতিফলিত হবে বলে আমি মনে করি।

নূরুল করিম: ড. নজরুলের সঙ্গে আমি একটু যোগ করতে চাই। সরকার আর বিরোধী দলের এই একত্রে কাজ করার নজির এখন বিদেশেও অনুসৃত হচ্ছে। স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার বিপক্ষে ব্রিটেনে সরকারি দল আর বিরোধী দলগুলো একসঙ্গে কাজ করেছে। ব্রিটেনের স্বাধীনতা আর অখণ্ডতা তারা এভাবেই বাংলাদেশের মডেল অনুসরণ করে রক্ষা করতে পেরেছে।
মশিউর রহমান চৌধুরী: কিন্তু ভবিষ্যতে কোনো সংসদে সরকার আর বিরোধী দলের এমন সদ্ভাব তো নাও থাকতে পারে।
নূরুল করিম: আপনার এই আশঙ্কা একেবারেই অমূলক। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বলেছেন যে ভবিষ্যৎ নির্বাচন ৫ জানুয়ারির মতোই হবে। কাজেই ভবিষ্যতেও আমরা বিরোধী দলকে বর্তমানের মতো গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে দেখব। ভবিষ্যৎ নিয়ে ২০৪১ সাল পর্যন্ত আমাদের আসলে চিন্তার কিছু নেই।
মশিউর রহমান চৌধুরী: কিন্তু ভবিষ্যতে যদি বিএনপি আর ভুল না করে! তারা যদি নির্বাচনে অংশ নেয়! রওশান এরশাদের চেয়ে বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তা যদি বৃদ্ধি পায়, যদি তিনি আবারও বিরোধী দলের নেত্রী হতে চান?
হাসিব নজরুল: নিরপেক্ষতার স্বার্থে আমরা তাঁর চাওয়ার বিরোধিতা করতে পারি না। তবে আমার ধারণা, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তিনি বা তাঁর ছেলে অংশ নিতে পারবেন না। সংসদের হাতে বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা ফিরে এসেছে। কোনো আদালতই এখন দুর্নীতিবাজ বা জঙ্গি নেতাদের কোনো ছাড় দেওয়ার সাহস পাবে না। ছাড় দিলে শুধু চাকরি যেতে পারে তা নয়। আমরা দেখেছি, তারেক রহমানকে দুর্নীতির মামলায় খালাস দেওয়া বিচারকের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন তৎপর হয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে আমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
নূরুল করিম: আমার ধারণা, যুদ্ধাপরাধী আদালতের ইনভেস্টিগেশন টিম একটু তৎপর হলে ওই বিচারকদের বিরুদ্ধে একাত্তরের গণহত্যার অভিযোগও আনা যেত। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁকে মালয়েশিয়া থেকে ধরে এনে এখনো তা করা সম্ভব।
মশিউর রহমান চৌধুরী: যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রসঙ্গ যখন এল, তখন আমরা মাননীয় তথ্যমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি বলেছেন, সাঈদীর বিচারের রায় নিয়ে নীরব থেকে বিএনপির নেত্রী যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ অবলম্বন করেছেন।
নূরুল করিম: তিনি ঠিকই বলেছেন। জনাব ইনু ইদানীং সব কথাই ঠিক বলছেন, সব কাজই ঠিক করছেন। একজন মানুষ তাঁর আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে কতটা নিখাদ সোনায় পরিণত হতে পারে, তিনি তার উজ্জ্বল উদাহরণ। বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি। আজ তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পেরে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় প্রেমিক হয়েছেন। জাসদ গণ-আন্দোলন থেকে হঠকারিতা ও সহিংসতার রাজনীতির পথে গিয়েছিল যাঁদের পরামর্শে, তিনিও তাঁদের একজন ছিলেন। তিনি আজ সহিংসতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার কণ্ঠ হয়েছেন। জাসদের ভেতর ঢুকে পড়ে স্বাধীনতাবিরোধী চক্ররা এ দেশে রাজনৈতিকভাবে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। অথচ তিনি এখন স্বাধীনতাবিরোধী ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর সাহসিকতা, বাকচাতুর্য ও দেশপ্রেমের পুরস্কার তিনি পেয়েছেন। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকটি নির্বাচনে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। এবার তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, বাংলাদেশের একটি মানুষও তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তাঁকে অসম্মানিত করতে চায়নি।

হাসিব নজরুল: আর এখানেই আমি মনে করি জনাব ইনুর কাছ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার অনেক কিছু শেখার আছে। তিনিও তাঁর ভুল বুঝতে পারলে ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন। এমনকি ভবিষ্যতে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিত্ব লাভ করে তাঁর লাল পাসপোর্ট ফেরত পেতে পারেন। আমি মনে করি, আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করার কাফফরা দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার অধিকার তাঁরও রয়েছে।
মশিউর রহমান চৌধুরী: আপনি ঠিকই বলেছেন। আমাদের মনে আছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, নির্বাচনে এলে বিএনপিও সংসদে কিছু আসন পেত, কয়েকজনকে মন্ত্রীও বানানো হতো।
নূরুল করিম: আমি মনে করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতির পথ ধরেই আমাদের ভবিষ্যতে এগোতে হবে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির মতো বড় দলগুলো একসঙ্গে মিলেমিশে অংশ নিলে ১৫৪টি কেন, হয়তো কোনো আসনেই ভোটাভুটি করার প্রয়োজন আমাদের পড়বে না। এতে আমাদের কোটি কোটি টাকার সাশ্রয় হবে, অহেতুক প্রাণহানি ও হানাহানি থেকে দেশ রক্ষা পাবে, ব্যালট পেপারের কাগজ এবং ভোটকেন্দ্র বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মাধ্যমে দেশে পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ুর পরিবর্তন থেকে রক্ষা করা যাবে।
মশিউর রহমান চৌধুরী: কিন্তু এটি বৈধ নির্বাচন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এর সমাধান কী?

হাসিব নজরুল: সমাধান তো হাইকোর্ট দিয়েছেন। হাইকোর্ট বলেছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ আসনে নির্বাচন বৈধ। কাজেই ভবিষ্যতে ৩০০ আসনেও তা বৈধ হবে।
নূরুল করিম: আমি আমার বক্তব্য শেষ করতে পারিনি। ২০১৯ সালে এমন একটি নির্বাচন করেই আমাদের থেমে থাকলে হবে না। নির্বাচনের পর বিরোধী দল আর সরকার মিলে দেশ গঠন করতে হবে। বেগম জিয়া যদি বিরোধী দলের নেত্রী হয়েও যান তাতে অসুবিধা নেই। ওনার সঙ্গে তারেক রহমানের কোনো কোন্দল হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ উনারা নিতে পারবেন। আমি বিশ্বাস করি, এই ঔদার্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে। উনার পরামর্শ নিয়ে সবাই দেশের জন্য কাজ করে আমরা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে শুধু মধ্যম আয় নয়, উচ্চ আয়ের একটি সোনার বাংলায় পরিণত করতে পারব।
মশিউর রহমান চৌধুরী: ধন্যবাদ জনাব নূরুল করিম ও হাসিব নজরুল। জনাব নূরুল করিমের আশাবাদের মধ্য দিয়েই আজকের অনুষ্ঠানের শেষ করছি। আমরা আশা করব সবার মধ্যে সমন্বয়ের রাজনীতির মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের অসমাপ্ত স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু-কন্যার হাতে পূরণ হবে। দর্শকমণ্ডলী, আপনারা সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, উন্নয়নের স্বপ্ন দেখুন এবং আমাদের আলোচকদের মতো গঠনমূলক চিন্তা করতে থাকুন। জয় বাংলা।

আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিরাজনীতিকরণ ও জাতীয় পার্টির হালচাল by গোলাম মোহাম্মদ কাদের

বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে কোনো দিনই গণতন্ত্র ছিল না। প্রায় সব সময়ই স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ চলেছে। সার্বিকভাবে গণতন্ত্রের চর্চাও হয়নি। আমাদের দুর্ভাগ্য, কোনো সরকারই স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি। গণতন্ত্রের কথা মুখে বললেও কার্যত কোনো সরকারই তা চর্চা করেনি। পাশাপাশি গণতন্ত্রের চর্চার জন্য আবশ্যক সহযোগী যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, তা প্রতিটি সরকার নিজেদের দলীয় স্বার্থে দুর্বল করে বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। গণতন্ত্র মুখে আছে, কাজে নেই। দেশে স্বৈরতন্ত্র বিরাজমান এবং প্রতিদিন তা কলেবরে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হচ্ছে বলা যায়। তবু কিছুটা হলেও দেশে রাজনীতি ছিল। বাক্স্বাধীনতা ছিল, সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর বিচারিক পদ্ধতি ছিল, সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল। ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ ছিল। বর্তমানে রাজনীতি নেই, চলছে ক্রমান্বয়ে বিরাজনীতিকরণ।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। এখন দেশে যে অবস্থা চলছে, তাতে রাজনৈতিক দলগুলো বিলীন হওয়ার পথে। অর্থাৎ বিরাজনীতির পথে অগ্রসর হচ্ছে দেশ। তাঁবেদার বিরোধী দল ছাড়া দেশে সরকারবিরোধী কোনো রাজনীতি থাকবে না, দৃশ্যত এ পথে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। যেমন সরকার সম্প্রচার নীতিমালা করেছে। সেখানে বর্ণিত নীতিসমূহ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। কিছু গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পাশাপাশি কিছু মানবাধিকার সংগঠনের আশঙ্কা, এ নীতিমালা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করবে। দেশের উন্নয়নসহ সার্বিকভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে এ নীতিমালা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তা ছাড়া সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ÿক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়া হচ্ছে। এ বিধান অনেক দেশে আছে। তবে আমাদের দেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে এ পরিবর্তনটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। কারণ, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সাংসদেরা এ বিষয়ে নিজস্ব মতামত দিতে পারবেন না। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মত দিতে হবে। দলের সিদ্ধান্ত দেওয়ার একক ক্ষমতা দলীয় নেতার ওপর। আর দলীয় নেতা ও সরকারপ্রধান এক ব্যক্তি হলে পুরো ক্ষমতা এক ব্যক্তির ওপর বর্তায়। বর্তমান সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য আওয়ামী লীগের দলভুক্ত। সেই দলেরই প্রধান, সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী, একই সঙ্গে তিনি সংসদীয় দলের নেতাও। একক সিদ্ধান্তে যেকোনো সময় সরকারপ্রধান হাইকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণ করতে পারবেন। এ ঝুঁকির মধ্যে বিচারকেরা সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে বিচার করতে পারবেন না, এটাই স্বাভাবিক।

সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে সরকারকে বা সার্বিকভাবে নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিচার বিভাগ। সে প্রতিষ্ঠানকে যদি নির্বাহী বিভাগের প্রধান নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন, তাহলে এ প্রতিষ্ঠানের মুখ্য উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। উপরিউক্ত ওই সংশোধনীর কারণে নির্বাচন কমিশনাররাসহ সব সাংবিধানিক পদে কর্মরত ব্যক্তিদের ভাগ্য একইভাবে সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত হবে। ফলে নির্বাচনব্যবস্থায় নিরপেক্ষ পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে। মানবাধিকার, তথ্য জানার অধিকার ইত্যাদির ওপর বাড়তি সরকারি নিয়ন্ত্রণের চাপ আসবে। এক কথায় বলা যায়, ক্রমান্বয়ে সংবাদমাধ্যম, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন–প্রক্রিয়া ইত্যাদি গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ সরকারপ্রধানের ও সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহের ওপর প্রশাসনের নিষ্পেষণ চলমান রাখা হয়েছে। তাদের মতামত প্রকাশ কঠিন করা হচ্ছে এবং মতামতসমূহকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে না। ফলে সরকারবিরোধী দলসমূহ অকার্যকর হয়ে বিলীন হবে, এটাই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।

তবে অতীতেও বাংলাদেশে একই ধরনের প্রচেষ্টা দেখা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো জনবহুল সীমিত সম্পদের সমস্যাসংকুল দেশে জোর করে সরকারবিরোধী মনোভাব বন্ধ করা যায় না। ফলে সরকারবিরোধী কোনো রাজনৈতিক সংগঠন থাকবে না, এটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। সরকারবিরোধী প্ল্যাটফর্ম যাতে কার্যকর হয়, তা জনগণও উপলব্ধি করছে। মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, সরকারের জবাবদিহিকরণ ও সরকার পরিবর্তনের সুযোগ জনগণের কাম্য। এ ইচ্ছার সফল বাস্তবায়ন ঘটাতে সক্ষম হবে এ ধরনের রাজনৈতিক শক্তি জনগণের আকাঙ্ক্ষা। সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা যেকোনোভাবেই পূরণ হবে। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দলগুলো যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দাঁড়াতে পারে, তবে তা দেশের জন্য মঙ্গল। আর তা না হলে এ শূন্যতা পূরণ হবে চরমপন্থী ও জঙ্গিগোষ্ঠীর মাধ্যমে; এ দেশে আল-কায়েদার শাখা খোলার কথায় যার কিছুটা আভাস পাওয়া যায়। এ ধরনের গোষ্ঠীর সফলতা অনেকাংশেই জনসমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। জনগণের কাছে অন্য কোনো নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ পন্থা দৃশ্যমান না হলে এ ধরনের জঙ্গিগোষ্ঠীকে জনগণ সমর্থন দেবে না, তা বলা যায় না।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ইতিমধ্যে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে গেছে। দেশের অনেক বিনিয়োগকারী তাঁদের অর্থ বিদেশে পাচার করছেন এমন খবরও শোনা যাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতি বেশি দিন থাকলে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেবে দেশে। আর বিনিয়োগ না বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে না। কর্মসংস্থান না থাকলে বেকার সমস্যা ও আনুষঙ্গিক নানা সামাজিক সমস্যা দেখা দেবে, যা রাজনৈতিক সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করবে। তা ছাড়া সুশাসনের অভাব প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। গুম, খুন, অপহরণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে ক্রমান্বয়ে। কারণ হিসেবে বলা যায়, ১৯৯১ সালের পর থেকে দেশে রাজনীতিতে দলীয়করণের সংস্কৃতি চালু হয়েছে, যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণকে সরকারের তরফ থেকে দুভাবে ভাগ করা হয়েছে। যারা যখন ক্ষমতায় থাকে, অর্থাৎ সরকারি দল (বর্তমানে আওয়ামী লীগ) ও তাদের সঙ্গে যারা জড়িত দলীয় লোকজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য হন। আর তাঁদের বাইরে সাধারণ জনগণ দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সুযোগ-সুবিধা বণ্টন ছাড়াও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে শ্রেণিভেদ অনুযায়ী আলাদা করে দেখা হচ্ছে। আইন প্রয়োগে প্রথম শ্রেণির নাগরিকের জন্য করা হয় নমনীয় আচরণ। আরা যাঁরা ক্ষমতাসীনদের বাইরে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক, তাঁদের সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা হয়, হয়রানির অভিযোগও পাওয়া যায়। পার্টির লোকজন আইনের ঊর্ধ্বে ওঠায় অপরাধীরা যেকোনো প্রক্রিয়ায় সরকারি দলের খাতায় নাম লেখায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির এটি অন্যতম প্রধান কারণ। আইনের চোখে সবাই সমান, সরকারের তরফ থেকে সবার জন্য আইন সমানভাবে প্রয়োগ করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে আশা করি। বাস্তবে তা হতে দেখা যাচ্ছে না।
সে ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সরকারের পরিবর্তনের সুযোগ না থাকলে কোনো না কোনোভাবে আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে এবং তার মাধ্যমে অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অবাঞ্ছিত সংগঠনের নেতৃত্বে সরকারের পতন হতে পারে। সারা দেশে রাজনৈতিক গুমোট ভাব চলছে। এটা ঝড়ের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে জনমনে আশঙ্কা আছে। কেননা, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেবল সরকারই বিপাকে পড়বে তা নয়, চরম বিশৃঙ্খলা ও হানাহানির সৃষ্টি হয়ে সাধারণ জনগণের জানমালেরও ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে, যা কারও কাম্য হতে পারে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় পার্টির বর্তমান রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় কী হতে পারে? জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট-ঘোষিত বিরোধী দল। জনগণের পক্ষে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব বিরোধী দলের। সরকারের অংশ হিসেবে মন্ত্রিপরিষদে জাতীয় পার্টির সাংসদ থাকলে ওই পার্টির পক্ষে সরকারের জবাবদিহি কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য হয় না।

তা ছাড়া আইনগত জটিলতার আশঙ্কা থাকে। মন্ত্রিপরিষদের অংশ হিসেবে সাংবিধানিক কারণে সংসদে সরকারি প্রস্তাবে জাতীয় পার্টি ‘না’ ভোট দিতে পারবে না। দিলে জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদেরও সরকারি প্রস্তাবে ‘না’ ভোট দিতে হবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিধানের কারণে। সে ক্ষেত্রে তাঁদের মন্ত্রিত্ব থাকে না। সংবিধানের ৫৫(৩) ধারায় বর্ণিত, ‘মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন’ লঙ্ঘিত হবে। ফলে তাঁরা মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে বহাল থাকার আইনগত অধিকার হারাবেন। আর সবর্দা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল হিসেবে গণ্য করা যায় না। জাতীয় পার্টির বর্তমান অবস্থা জনগণের চোখে নাজুক দৃশ্যমান হচ্ছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্ব নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা আজও বিদ্যমান। দেখা যাচ্ছে, যাঁরা দশম সংসদের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে পার্টির চেয়ারম্যানের নেতৃত্ব মানার কথা মুখে বললেও বাস্তবে তাঁর আদেশ-নির্দেশ অবহেলা করছেন। নিজেদের অনুকূলে হলে মানছেন, না হলে বর্জন করছেন। অবশ্য এ বিষয়ে সম্প্রতি পার্টির চেয়ারম্যান শৃঙ্খলা রক্ষায় কিছু কিছু পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন। এতে করে পার্টির কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে আশা করা যায়। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টির জন্য নিয়মতান্ত্রিক বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি তাঁবেদার বিরোধী দল নয়, প্রকৃত সরকারবিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন, যা সরকারবিরোধী জনক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে, সরকারকে জনগণের পক্ষ থেকে জবাবদিহির সম্মুখীন করবে ও ভবিষ্যতে একটি বিকল্প সরকারের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষম হবে।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের: জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী।

স্কটল্যান্ডের গণভোট বদলে দিয়েছে ব্রিটিশ রাজনীতি by আলী রীয়াজ

স্কটল্যান্ডের গণভোট যে সারা পৃথিবীর মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল, তার কারণ কেবল এটাই নয় যে গত ৩০০ বছরে ব্রিটেনের ইতিহাসে এমন ঘটনার কোনো উদাহরণ নেই; এ কারণেও যে এর ফলাফল, বিশেষত যদি স্কটল্যান্ডের ভোটাররা স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেন, তবে তার প্রতিক্রিয়া কেবল স্কটল্যান্ডে বা ব্রিটেনেই থাকবে না। স্পেনের কাটালোনিয়া প্রদেশের এবং কানাডার কুইবেক প্রদেশের স্বাধীনতাকামীদের জন্য তা হয়ে উঠবে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ইউরোপে গত কয়েক দশকে যেখানে চেষ্টা হচ্ছে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যত ধরনের সীমান্ত আছে তার অবসান ঘটাতে, আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ গঠনে, সেখানে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার সিদ্ধান্ত হবে বিপরীতমুখী। বিশ্ববাজারেও তার প্রভাব পড়বে বলেই অনুমান করা হচ্ছিল। স্বাধীনতার পক্ষে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির শক্তিশালী অবস্থান ও প্রচারণা সত্ত্বেও গোড়াতে মনে হচ্ছিল যে এই গণভোট আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু শেষ সপ্তাহগুলোতে অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস মেলে জনমত জরিপগুলোতে—বলা হয় যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি; অনেকেই আভাস দেন যে ‘হ্যাঁ’ ভোটই জিতবে। সেটাই আরও বেশি করে সারা পৃথিবীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

এখন গণভোট শেষ হয়েছে। আমরা সবাই জানি যে, স্কটল্যান্ডের ভোটারদের অধিকাংশ গণভোটে স্বাধীনতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভোটের ব্যবধান জনমত জরিপে যা অনুমান করা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। পক্ষে ভোট পড়েছে ৪৫ শতাংশ, বিপক্ষে ৫৫ শতাংশ। ভৌগোলিকভাবে দেখলে স্কটল্যান্ডের ৩২টি কাউন্সিলের মধ্যে মাত্র চারটি ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছে। শহরগুলোর মধ্যে বড় চারটি শহরের দুটি স্বাধীনতার প্রস্তাবের পক্ষে গেছে, দুটি গেছে বিরুদ্ধে। দেশের সবচেয়ে বড় শহর গ্লাসগো এবং চতুর্থ বৃহত্তম শহর ড্যান্ডি স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছে। এডিনবরাতে ‘না’ ভোট পড়েছে বেশি। গ্লাসগোতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ভোট ‘না’-এর চেয়ে খুব বেশি নয়।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমে ফলাফলের যেসব তালিকা আমরা দেখতে পাই, তাতে স্পষ্ট যে ১৬ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষেই বেশি ভোট পড়েছে; একমাত্র ব্যতিক্রম হচ্ছে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা। স্বাধীনতার পক্ষে সবচেয়ে বেশি ভোট দিয়েছেন ১৬ থেকে ১৭ বছরের বয়সীরা; তাঁদের ৭১ শতাংশ স্বাধীনতার পক্ষে। কিন্তু ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে মাত্র ৪৮ শতাংশ ছিলেন স্বাধীনতার পক্ষে। ব্রিটেনের সঙ্গে একত্রে থাকার পক্ষে সমর্থন পাওয়া গেছে ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে যাঁদের বয়স। ৬৫ বছরের বেশি যাঁদের বয়স, তাঁদের মধ্যে মাত্র ২৭ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, যেখানে বেকারত্বের হার বেশি, সেসব এলাকার মানুষ বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। উদাহরণ: গ্লাসগো ও ড্যান্ডি (বেকারত্বের হার যথাক্রমে ১৯ দশমিক ১ এবং ১৭ শতাংশ; সারা স্কটল্যান্ডের হার ১২ দশমিক ৮ শতাংশ)। একইভাবে দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় বেশি ভোট পড়েছে হ্যাঁ-এর পক্ষে। দৈনিক টেলিগ্রাফ-এর ভাষায়, যাঁরা ভোট দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে তরুণ, দরিদ্র ও বেকারদের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার প্রবণতা ছিল বেশি।
গণভোটের প্রচারণার শেষ দিকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সম্ভাবনা বেশি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ফলাফল তা হলো না কেন, সেটা অনেকভাবেই বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে খুব জোরদার তথ্য নেই; যাঁরা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গবেষণা করেন, তাঁরা নিশ্চয় খুব শিগগির তা খুঁজবেন। কিন্তু আপাতদৃষ্টে কয়েকটা বিষয়কে কারণ বলে মনে হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে স্কটল্যান্ডের বাইরের প্রতিক্রিয়া। স্কটল্যান্ড স্বাধীন হলে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের চেষ্টা করবে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্বাধীনতার পক্ষের নেতারা। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের প্রতিক্রিয়া সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে আশাবাদী করতে পারেনি যে তারা সেই সদস্যপদ পাবে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে তাঁর দেশ স্কটল্যান্ডকে ইউনিয়নে ঢোকার পথে বাধা দেবে। অনেকে এ–ও বলেছে যে লন্ডনের হাত থেকে মুক্ত হয়ে ব্রাসেলসের হাতে বন্দী হওয়ার জন্যই কি স্কটল্যান্ড স্বাধীনতা চাইছে? অর্থনীতির প্রশ্নটিও সম্ভবত ভোটারদের প্রভাবিত করেছে। ব্রিটেনের সরকার ও রাজনীতিবিদেরা বলেছেন, স্বাধীনতার পর স্কটল্যান্ড অর্থনীতি-সংকটে পড়বে। কেননা, এখন অনেক কিছুই ব্রিটেনের সঙ্গে ভাগ করা হয়, যার ভার স্কটল্যান্ডকেই বইতে হবে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিরা বলেছে, উত্তর সাগর বা নর্থ সির স্কটল্যান্ডের ভাগে যে এলাকা, তা থেকে উত্তোলিত তেল থেকেই দেশের অর্থনীতি চালানো যাবে। কিন্তু সেটা যে ভোটারদের মনে খুব ধরেনি, তা বোঝা যায় অ্যাবারডিন শহরের ভোটারদের শেষ পর্যন্ত বিরুদ্ধেই ভোট দেওয়া দেখে। তা ছাড়া যে ধরনের কল্যাণ-রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, তার জন্য অর্থের সংস্থান হবে কীভাবে, সেটা ভোটারদের কাছে স্পষ্ট হয়নি বলে অনুমান করা যায়।
এখনকার প্রশ্ন সামনে কী ঘটবে? যেকোনো নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত শেষ পর্যন্ত নির্ধারকের ভূমিকা পালন করে; কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সংখ্যালঘুদের মতামত মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের অর্থ ‘সংখ্যাগরিষ্ঠের অত্যাচার’ নয়, বরং সংখ্যালঘুর অধিকার ও কণ্ঠস্বরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের বক্তব্যকে শাসনের মধ্যে প্রতিফলিত করাই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় গুণ। সেই বিচারে স্কটল্যান্ডের সংখ্যালঘুদের কণ্ঠস্বর কীভাবে এখন বিরাজমান কাঠামোর মধ্যে প্রতিফলিত করা হবে, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ।
এই গণভোটের আগে ব্রিটেনের প্রধান তিন দলই এ বিষয়ে নতুন ভাবনার এবং ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। লেবার নেতা এড মিলিব্যান্ড, কনজারভেটিভ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা নিক ক্লেগ গণভোটের ঠিক আগে ১৬ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডের ডেইলি রেকর্ড পত্রিকায় যৌথভাবে এক বিবৃতিতে স্কটল্যান্ডের আধা স্বায়ত্তশাসিত পার্লামেন্টের হাতে কর আরোপ এবং ব্যয়ের ব্যাপারে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁরা বলেন, স্কটল্যান্ডের মানুষ যদি ব্রিটেনের সঙ্গে থাকতে চায়, তবে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই।
এখন তাঁদের দায়িত্ব হলো এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আইনি এবং কাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দ্রুত এগিয়ে আসা। কাজটা মোটেই সহজ হবে না। কেননা, অনেক পার্লামেন্ট সদস্যই আশঙ্কা করছেন, তাড়াহুড়া করে সাংবিধানিক সংস্কার করা হবে। কনজারভেটিভ দলের সদস্যদের মনে এটাও প্রশ্ন যে লেবার দলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের এজেন্ডা তাঁরা কেন বাস্তবায়ন করবেন। অন্যদিকে, লেবার পার্টির জন্য যেকোনোভাবে হোক স্কটল্যান্ডের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা, আগামী বছরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে জিততে হলে তাঁদের স্কটল্যান্ডের সমর্থন লাগবেই। অতীতে টনি ব্লেয়ারের জেতার পেছনে স্কটল্যান্ডের ভোট ছিল নির্ণায়ক।
ইতিমধ্যে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা অ্যালেক্স স্যামন্ড তাঁর দল এবং স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন; এটাই স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক আচরণ। তাঁর জায়গায় যিনি আসবেন, তাঁকে নিশ্চিত করতে হবে, তাঁর দল যে দাবিতে ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৯ জন ভোটারের সমর্থন পেয়েছে, তাঁদের আকাঙ্ক্ষাকে বিরাজমান কাঠামোর মধ্যে কী করে বাস্তবায়িত করা যেতে পারে। অন্যদিকে, নেতা হিসেবে এলিস্টার ডারলিংয়ের কাজ হচ্ছে ‘হ্যাঁ’ ভোট যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদের এবং ‘না’ ভোট দেওয়া তাঁর পক্ষের প্রায় ২০ লাখ মানুষের আস্থাকে সঙ্গে নিয়ে কী করে তিনি ইংল্যান্ডের ক্ষমতাসীন এবং ক্ষমতার বাইরের দলগুলোর কাছ থেকে স্কটল্যান্ডের অনুকূলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে পারেন এবং কত তাড়াতাড়ি তা সম্ভব হয়।
এটা বলা মোটেই অতিরঞ্জন নয় যে স্কটল্যান্ডের গণভোটে স্বাধীনতার প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, কিন্তু এই ভোট স্থায়ীভাবে ব্রিটেনকে, ব্রিটেনের শাসন ও রাজনীতিকে বদলে দিয়েছে। ব্রিটেন, বিশেষত ইংল্যান্ড আর কখনোই ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪-এর রাজনীতিতে ফিরে যাবে না।

আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।

গাজায় ৫১ দিনের যুদ্ধে হামাস কি জিতেছে? by মখাইমার আবুসাদা

এই গ্রীষ্মে গাজায় ৫১ দিনব্যাপী যে যুদ্ধ হয়েছে, তাতে দুই হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ১১ হাজার। আর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেও কয়েক বছর লেগে যাবে। গত ছয় বছরের মধ্যে গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এটা তৃতীয় যুদ্ধ, ফলে অনেক ফিলিস্তিনিই এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা এখন এমন একটি সমাধানের পথ খুঁজছেন, যাতে তাঁদের দুর্ভোগ কমবে। ফিলিস্তিনের রাজনীতিতে হামাস এখন নতুন করে সামনে চলে এসেছে, কিন্তু তারা কি এ সমাধান দিতে পারবে?

এই যুদ্ধের আগে হামাস রাজনৈতিকভাবে একলা হয়ে পড়েছিল। সিরিয়া, ইরান ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র ছিল, তারাও এখন হামাসের পাশে নেই। তবে হামাসের জন্য সবচেয়ে ক্ষতির কারণ হয়েছে মিসরীয় প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির উৎখাত। মুসলিম ব্রাদারহুড সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় হামাসের এখন অস্ত্র ও অন্যান্য সরবরাহ প্রাপ্তি বন্ধ হয়ে গেছে।
মিসরে জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির নেতৃত্বে গঠিত সামরিক সরকার হামাসের ঘোর শত্রু, তারা সিনাইয়ে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী দলের মধ্যকার যুদ্ধের জন্য হামাসের ওপর দায় চাপিয়েছে। এমনকি মিসর সিনাই ও গাজার মধ্যকার সুড়ঙ্গগুলো ধ্বংস করার জন্য অভিযানও চালিয়েছে, ফলে গাজা একদম একা হয়ে পড়েছে।
এদিকে হামাস নানা রকম সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গাজায় ৪০ হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা দিতে না পারায় হামাস এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়েছে, তার ওপর আবার ইসরায়েল ও মিসরের চাপাচাপিতে তাদের অবস্থা এখন তথৈবচ। আর জুনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা ঐকমত্যের সরকার গঠন করলেও সেটা তাদের জন্য কোনো স্বস্তি বয়ে আনতে পারেনি।
হামাসের হারানোর কিছু ছিল না, ফলে ইসরায়েলের সঙ্গে আরেক দফা যুদ্ধ বাধিয়ে দিলে একটি ঝাঁকুনি দেওয়া যাবে, এই যুদ্ধের পেছনে হয়তো এ চিন্তাই কাজ করেছে। হামাস ৫১ দিন নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারায় তারা এখন ফিলিস্তিনি ও আঞ্চলিক রাজনীতির কেন্দবিন্দু হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল তার কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। এর মধ্যে প্রথম ছিল তাদের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার। হ্যাঁ, ইসরায়েলের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও হামাস গাজার উত্তরাঞ্চল হাইফা থেকে আশকেলন ও দক্ষিণের ডিমোনা থেকে ইসরায়েলের জনবহুল এলাকায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের মাধ্যমে যখন-তখন ইসরায়েলের স্থলসীমানায় ঢুকে পড়েছে।
এসব কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অদম্য ভাবমূর্তি একদম ধসিয়ে দিয়েছে, তাদের যে দুর্বলতা দেখা গেছে, তার সুযোগ ইসলামপন্থী ও অন্যরা নেওয়ার চেষ্টা করবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে এটা কোনো আশ্চর্যের ব্যাপার নয় যে হামাস গাজার সীমান্তে বসবাসরত ইসরায়েলি নাগরিকদের পালাতে বাধ্য করতে পেরেছিল। ফলে বহু ইসরায়েলি নাগরিকই সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
সংক্ষেপে বললে, এই গাজা যুদ্ধ বিদ্যমান অবস্থা ধসিয়ে দিয়েছে। এতে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটবে না বা যে কারণে এই দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে, সেই কারণও দূর হবে না। ২০১২ সালেও ইসরায়েল গাজার হামলা বন্ধে কিছু শর্ত মেনে নিয়েছিল, কিন্তু সেই ঐকমত্য কখনোই তারা বাস্তবায়ন করেনি।
ইসরায়েল এখন গাজার ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে মানবিক ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সুযোগ করে দেবে, সেটা সবাই আশা করছে। আরও কিছু জটিল ইস্যু রয়েছে, যেমন: ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি, গাজায় একটি সমুদ্র ও বিমানবন্দর নির্মাণ প্রভৃতি বিষয় পরবর্তী বৈঠকে আলোচনার জন্য তুলে রাখা হবে। আর গাজায় কোনো নিরস্ত্রীকরণ না হলে ইসরায়েল হামাসের দাবি মেনে নেবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
হামাস এর চেয়ে বেশি কিছু পেত না। গাজার রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ভঙ্গ করে এই যুদ্ধবিরতিতে গাজা অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে, এমনটা আশা করা হচ্ছে। হামাসই এখন সবকিছুর কেন্দ্রে, ফলে গাজার পুনর্গঠনকাজের সফলতার জন্যও তারা যেমন দায়ী থাকবে, তেমনি ফিলিস্তিনের সবকিছু মিটমাটের দায়ভারও তাদের ওপর বর্তেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও হামাসের ওপর নানা রকম চাপ দিচ্ছে। তারা যেমন ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কথা বলছে, তেমনি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়েও তারা কথা তুলেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘এই সমস্যার মূলে না গেলে কোনো শান্তি আলোচনাই কাজে আসবে না, আবারও রক্তপাত শুরু হবে।’
আসলে এখানে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে দুই পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে, কিন্তু হামাস এই ছাড় দিতে রাজি নয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে, তাদের তরফে পরিষ্কার থাকার জন্য এই দ্বন্দ্বের শান্তিপূর্ণ সমাধানে হামাসকে সঙ্গে রাখা।
ইসরায়েলের সাবেক প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেস একবার বলেছিলেন, ‘আসল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কোনো সংকটকে কাজের সুযোগে পরিণত করা, তা সে সংকট যত বড়ই হোক না কেন।’ সব কুশীলবকেই এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে, সুনির্দিষ্ট, উৎপাদনমুখী ও সৃজনশীল পদক্ষেপ নিয়ে গাজায় শান্তি আনতে হবে।
হামাস তার ভূমি আঁকড়ে থাকার ক্ষমতা প্রমাণ করেছে। দশকের পর দশক ধরে অচলাবস্থা ও মুখ দেখাদেখি না থাকার পর হামাসের এখন নিজের অস্তিত্ব নিয়ে তেমন শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তাদের উচিত দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন; স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
মখাইমার আবুসাদা: গাজার আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক।

মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তারে রেড কর্নার নোটিশ জারির সুপারিশ

বাংলাদেশের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে একটি প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ কার্যকর করা নিয়ে সরকার প্রবল বিড়ম্বনায় পড়েছে।  পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে মমতাজের বিরুদ্ধে আদালতে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিশ জারি করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। মমতাজকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পাশাপাশি ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকেও সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনকেও মমতাজকে গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সারা ভারতে মমতাজের বিরুদ্ধে জারি করা লুক আউট নোটিশ এখনও বলবৎ রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের একটি আদালতে ২০০৯ সালে বাংলাদেশী শিল্পী মমতাজের বিরুদ্ধে বেশ কয়েক দফায় কয়েক লাখ রুপি অগ্রিম অর্থ নিয়ে চুক্তি অনুযায়ী অনুষ্ঠান না করার অভিযোগ এনে ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের ৪০২, ৪০৬ ও ৫০৬ ধারায় একটি প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়ের করেন জনৈক শক্তিশঙ্কর বাগচী। সেই মামলায় শিল্পী হাজির হয়ে জামিন নিলেও জামিনের শর্ত না মানায় কলকাতা হাইকোটের নির্দেশে তার জামিন বাতিল করে নি¤œ আদালতকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেয়া হয়। সেই মতো বহরমপুর আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও তা কার্যকর করা নিয়ে তৈরি হয়েছে সমস্যা। ফলে আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে রিপোর্ট দিয়ে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে সরকারের অসহায়তার কথা জানানো হয়েছে। আদালতে দাখিল করা সর্বশেষ রিপোর্টে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশ সরকারকে মমতাজের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে নিয়মিত তাগাদা দিলেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। ভারতীয় হাইকমিশনের কনস্যুলার ও ভিসা সেক্রেটারি সুমিত চতুর্বেদী কলকাতায় পররাষ্ট্র মন্ত্রকের ব্রাঞ্চ অফিসের ডিরেক্টর রঞ্জন ম-লকে পাঠানো চিঠিতে পরিষ্কার জানিয়েছেন, মিশনের পক্ষ থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে মমতাজকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে নিয়মিত তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র (বিদেশী বিভাগ) দপ্তরের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের বিদেশী সংক্রান্ত বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ভারতের সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিবাসন কর্মকর্তাদের  বাংলাদেশী নাগরিক মমতাজ বেগমের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি সে ব্যাপারে মামলার আবেদনকারী শক্তিশঙ্কর বাগচী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, মমতাজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও ২০১২ সালে কলকাতায় এসে মমতাজ রাজ্যের শাসক দলের এক বিধায়কের আশ্রয়ে সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তিনি ফিরে যাওয়ার সময়েও বিমানবন্দরের অভিবাসন বিভাগ তাকে আটক না করার ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন তিনি। তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, মমতাজের ভারতে আসার মাল্টিপল ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তাকে ভারতে আসতে হলে নতুন করে ভিসার জন্য আবেদন জানাতে হবে।

সরকারি জমি দখল করে ‘জমিদার’ ক্ষমতাসীনেরা by প্রণব বল

ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরের কর্ণফুলী নদীর মোহনায় জেগে ওঠা চর দখল করে বস্তি-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বকশিরহাট ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি মো. আকতার হোসেন। পাশাপাশি বিরোধী দল বিএনপি, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালীরা এই দখলপ্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত।

দখল সুসংহত রাখতে গঠন করা হয়েছে ‘ভেড়ামার্কেট শ্রমজীবী সমবায় কল্যাণ সমিতি’ নামে একটি সংগঠন। সমিতির সভাপতি আকতার হোসেন। সমিতির নেতাদের প্রত্যেকের পাঁচ থেকে ৫০টি পর্যন্ত কক্ষ রয়েছে। এঁরা ‘জমিদার’ নামে পরিচিত।
আকতার হোসেনের নামে সবচেয়ে বেশি ৬০টি কক্ষ রয়েছে। তিনি কসাই আকতার নামে পরিচিত। সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কর্মী। বকশিরহাট ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উত্তম নাগেরও বেশ কিছু ঘর রয়েছে।
সমিতির সভাপতি এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি আকতার হোসেন দাবি করেন, ‘এখানে গরিব লোকজন থাকেন। যাঁরা জমি দখল করেছেন, তাঁদের কেউ ব্যবসায়ী, কেউ রাজনীতিক কেউবা বড় চাকুরে। এগুলো ব্রিটিশ আমলে ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পদ ছিল। একসময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরে চর জেগে উঠলে এগুলো সরকারি খাস হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। আমরা চর ভরাট করে ১৫-২০ বছর ধরে বসবাস করছি। এগুলো নিয়ে মামলাও চলছে।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আকতার, সাত্তার, উত্তম নাগ ছাড়াও দখলদারদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা আকতার কামাল, ড্রেজার মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর মেম্বার, ফরিদ চেয়ারম্যান, আজিম সওদাগর, ইছহাক সওদাগর, ইয়াহিয়া খান, শুক্কুর আলী, এরশাদ আলী, আলী আব্বাস তালুকদার, জোস মোহাম্মদ, ইয়াছিন প্রমুখ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চাক্তাই এবং রাজাখালী খালের পাশে জেগে ওঠা চরের কর্ণফুলী নদীর কিনারের অংশে সীমানাদেয়াল। দেয়াল থেকে নদীর কিনারার অংশের মালিক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাকি ১০০ একরের বেশি জায়গা সরকারি খাস জমি। এই জমির তদারকিতে রয়েছে জেলা প্রশাসন। ওই জমিতে গড়ে উঠেছে বস্তি। বস্তির মাঝামাঝি ভেড়ামার্কেট শ্রমজীবী সমবায় কল্যাণ সমিতির একটি সাইনবোর্ড এবং কার্যালয়। বস্তিতে কাঁচা, সেমিপাকা এবং পাকা ঘর মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার কক্ষ রয়েছে। প্রতিটি কক্ষে রয়েছে বিদ্যুৎ-সংযোগ। সবার জন্য রয়েছে সাধারণ শৌচাগার। প্রতিটি কক্ষ থেকে মাসে এক থেকে দেড় হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। বস্তির বাসিন্দা জাহানারা বেগম বলেন, তিনি সাত-আট বছর ধরে এই বস্তিতে আছেন। তাঁর কক্ষের ভাড়া নেওয়া হয় দেড় হাজার টাকা।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘শত শত একর জমিতে বস্তি গড়ে উঠেছে। এর পেছনে রাজনীতিক, ব্যবসায়ী অনেকে থাকতে পারেন। যাঁরাই জড়িত থাকুন, আমরা বস্তি উচ্ছেদ করব। বস্তি উচ্ছেদ করে জায়গা খালি রাখা যাবে না। খালি রাখলে আবার দখল হবে। সেখানে কী করা যায়, সেই পরিকল্পনা করেই দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।’
মেরিনার্স ড্রাইভ সড়কের কাজ ব্যাহত: বস্তির মাঝখান দিয়ে চলে গেছে মেরিনার্স ড্রাইভ সড়ক। সড়কটি কর্ণফুলী তৃতীয় সেতুর সঙ্গে মিলিত হওয়ার কথা। বস্তির কারণে সড়কের নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে সম্প্রতি বস্তির কয়েকটি ঘর উচ্ছেদ করে সড়ক সম্প্রসারণ কাজ করা হয়।
এরই মধ্যে সড়কের দুই পাশে ভাসমান দোকান বসানোর হিড়িক পড়েছে। বস্তির লোকজন এসব দোকান বসাচ্ছে। সড়কটি চালু হলে এসব দোকানের কদর বাড়বে। ইলিয়াছ নামে বস্তির একজন বাসিন্দা একটি দোকান দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সড়কটি চালু হলে এসব দোকানে ব্যবসা ভালো হবে। এই আশায় একটি ভাসমান দোকান করেছি। কাউকে টাকা দিতে হয়নি।’
সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘করপোরেশনের আওতাধীন মেরিনার্স সড়ক নির্মাণের জন্য কিছু ঘর আমরা ভেঙে দিয়েছি। আমরা সড়কের জন্য ৬০ ফুট জায়গা নিয়েছি। কিন্তু এর দুই পাশে এখনো অবৈধ বস্তি রয়েছে। সড়কের দুই পাশের জায়গাও দখল হচ্ছে।’

‘সাধারণ মানুষের মতো আবার আসবো’

প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ তার এক সময়ের নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম, মিঠামইন ও ইটনা সফর শেষে গতকাল করিমগঞ্জের চামড়াঘাটে এসে সমবেত জনতার উদ্দেশে বক্তৃতা করেছেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন, যদি বেঁচে থাকি, আবার আমি সাধারণ মানুষের মতো আপনাদের মাঝে ফিরে আসবো। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব শেষে আবার আপনাদের সঙ্গে আগের মতো ঘুরতে-ফিরতে পারবো। আপনাদের কাছে থাকতে পারব। আপনাদের একজন হয়ে থাকব। তখন আর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকব না। এ সময় সমবেত জনতা হাততালি দিয়ে প্রেসিডেন্টকে উৎসাহ দেন।

তার ৫০ বছরের রাজনৈতিক অতীতের কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, সুদীর্ঘ এ সময়ে আপনাদের সঙ্গেই আমি ওঠাবসা করেছি। কত আন্দোলন, কত সংগ্রাম করেছি। স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছি। বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান, দেন-দরবার ও সামাজিক কর্মকাণ্ড করেছি। সব কিছু আমি একা নই, আপনাদের সঙ্গে নিয়ে করেছি। স্বাভাবিকভাবেই আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কাজ করতে গিয়ে অনেকের মনে আঘাত দিয়ে থাকতে পারি। আমার কথা, আচার-আচরণ, চলাফেরায় কেউ যদি মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন, অথবা আমার কোনো সিদ্ধান্তে কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন-আজকের দিনে আমি সবার কাছে ক্ষমা চাই। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।
তখন তিনি তার হজব্রতের কথা উল্লেখ করে সবার কাছ থেকে বিদায় ও দোয়া চান। এ সময় তিনি মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মৃত্যু এমন একটি বিষয়। সবার জীবনে যে কোন সময় এটি ঘটতে পারে। আমারও হজের সময় বা আগে মৃত্যু হতে পারে। তাই আমার লোকজন ও এলাকাবাসীর কাছে যতটুকু সম্ভব সশরীরের হাজির হয়ে বিদায় ও দোয়া চাইতে এসেছি। আমি পবিত্র কাবা শরীফে গিয়ে দেশ ও আপনাদের শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করব।
প্রেসিডেন্ট বলেন, আমার গ্রাম কামালপুর, কিন্তু আমি মনে করি শুধু কামালপুর নয় আমার গ্রাম পুরো কিশোরগঞ্জ জেলা। তবে আমি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট। ১৬ কোটি মানুষের প্রেসিডেন্ট। দলমত নির্বিশেষে সবার প্রেসিডেন্ট। তাই যাওয়ার আগে পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে সবার কাছ থেকেই বিদায় নেব, দোয়া চাইবো।
এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপস্থিত শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং কয়েকজন সংসদ সদস্যের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট বলেন- মিলেমিশে কাজ করলে, নিজেদের মধ্যে দলাদলি না করে কাজ করলে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে। এলাকার উন্নয়ন হবে। আশা করি এ ধারা অব্যাহত রেখে আপনারা এলাকার উন্নয়ন-অগ্রগতিকে এগিয়ে নেবেন।
কিশোরগঞ্জ সফরের চতুর্থ দিনে গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জাহাজযোগে কিশোরগঞ্জের প্রবেশদ্বার চামড়াঘাটে পৌঁছান। আগের দিন তিনি ইটনায় রাত কাটান। চামড়াঘাটে বক্তৃতা শেষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুুল হামিদ সড়ক পথে কিশোরগঞ্জ জেলা সদর যাওয়ার সময় করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদে আবদুুল হামিদ মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি কলেজের ছাত্র-শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং কলেজ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপন করেন। এরপর বিকালে তিনি কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউজে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রেসিডেন্টের গতকালের কর্মসূচিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট জিল্লুর রহমান, জেলা প্রশাসক এস এম আলম, পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম এ আফজাল প্রমুখ অংশ নেন।
প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জে পাঁচ দিনের সফরের প্রথম তিন দিনে অষ্টগ্রাম, মিঠামইন ও ইটনা সফর করেন। গতকাল শনিবার কর্মসূচি শেষে রাতে তিনি জেলা সদরের নিজ বাসভবনে রাতযাপন করবেন। আজ বিকালে হেলিকপ্টার যোগে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জ ত্যাগ করবেন।

চট্টগ্রামে বিচারক খুন- কাবিননামা নিয়ে লুকোচুরি by মহিউদ্দীন জুয়েল

মুখ খুলছেন না মিশু। রহস্যজনকভাবে চুপচাপ রয়েছেন তার মা লাকী আক্তার। আদালতে বড় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা চলছিল। এ সময় একদিন মায়ের সঙ্গে সেখানে যান মিশু। তারপর নজরে পড়ে যান বিচারক সাঈদের। আদালতপাড়ায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাদের ডাক দেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সুসম্পর্ক তৈরি হয় দু’জনের মধ্যে। সেখান থেকেই সাঈদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক তৈরি হয় কথিত স্ত্রী বলে পরিচয় দেয়া মিশুর।

তবে বিচারক সাঈদকে বিয়ে করেছে বলে দাবি করলেও কোন ধরনের কাগজপত্র কিংবা কাবিননামার কপি উপস্থাপন করতে পারেন নি। এ ঘটনায় একজন কাজীর কথা বললেও তার কোন হদিস মিলছে না। খুনের ব্যাপারেও কোন ধরনের তথ্য দিতে চাইছে না মা-মেয়ে। গত দু’দিন ধরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বিচারকের মারা যাওয়ার ব্যাপারে নীরব রয়েছে তারা। গতকাল সকালে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিশুর আচরণ সন্দেহজনক বলে জানান নগর পুলিশের কর্মকর্তারা।
রিমান্ডে মিশু ও তার মায়ের কাছে একাধিকবার খুনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু বারবারই তারা প্রসঙ্গ এড়িয়ে কিভাবে পরিচয় হলো সে বিষয়ে কথা বলে। তবে দু’জনই একই ধরনের তথ্য দিয়েছে রিমান্ডে। বলেছে খুন হওয়ার কথা তারা কিছুই জানেন না। বিচারক সাঈদ নিজেই রুমের দরজা বন্ধ করে ধারালো কাঁচি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এ ক্ষেত্রে মাথার পেছনে আঘাত পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোন জবাব দেয়নি।
রিমান্ডে মিশুকে জিজ্ঞাসা করা হয় বিচারক সাঈদের প্রথম স্ত্রী রয়েছে। তার পরও কেন তাকে বিয়ে করা? তা ছাড়া বিয়ে যদি হয়েই থাকে তাহলে তা গোপন করা হলো কেন? বিয়ের কাবিননামার কথা বলা হলেও তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জবাবে মিশু প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকেন। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেন, ঘটনার আগে আমার সঙ্গে তার (বিচারক) অনেক ঝগড়াঝাঁটি হয়। পারিবারিক মান-অভিমান। সেই অভিমান থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয় সাঈদ। অনেক ডাকাডাকি করার পর দরজা না খোলায় সন্দেহ হয় আমার। পরে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি জানালার গ্রিলের সঙ্গে সে ঝুলে আছে। বিয়ের প্রসঙ্গে বলে, আদালতে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। সে দেখতে হ্যান্ডসাম। আমারও ভাল লাগে। সেখান থেকে একদিন বাসার ঠিকানা চায়। আমিও না করিনি। এরপর একদিন-দু’দিন থেকে ঘন ঘন আসা-যাওয়া করতো। গত জুন মাসে আমরা বিয়ে করি। তবে কাউকেই কিছু জানাইনি। ভেবেছি সময় হলে জানতে পারবে সবাই। তার প্রথম স্ত্রীর বিষয়ে কিছুটা জানতাম।
তাহলে মাথায় আঘাত করলো কে? রক্ত এলো কোথা থেকে- প্রশ্ন করায় শিশু বলেন, আমরা তাকে কোন ধরনের আঘাত করিনি। সে ধারালো কাঁচি দিয়ে নিজেকে আঘাত করতে পারে। এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। কেননা ঘটনার সময় সে বেশ রাগান্বিত ছিল।
মিশুর মা লাকী আক্তারও পুলিশের রিমান্ডে খুনের বিষয়টি অনেকখানি চেপে গেছেন। তার কাছে এক কর্মকর্তা জানতে চান, মাথায় কাঁচি দিয়ে আঘাত করার পর তার শরীর থেকে যে পরিমাণ রক্ত গেছে তাতে আত্মহত্যা করার মতো কোন ঘটনা ঘটানো তার পক্ষে সে সময় সম্ভব নয়। তা ছাড়া আগে যদি আত্মহত্যা করেন তাহলে মাথায় আঘাত করলো কে? কেননা ময়না তদন্ত রিপোর্টে লোহা বা রডজাতীয় কিছু দিয়ে পেছন থেকে আঘাত করার আলামত পাওয়া গেছে।
জবাবে মিশুর মা লাকী আক্তার বলেন, কে মেরেছে তা আমরা দেখিনি। দরজা ভেঙে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে মেডিকেল পুলিশ আমাদের আটকে রাখে। আবু সাঈদের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। এটি মিথ্যা নয়। এ ব্যাপারে আর কিছু জানি না।
নগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মিশু, তার মা লাকী আক্তার, মিশুর ভাই ইমরান আহমেদ ও বাসার কাজের পরিচারিকা রীমা আক্তারকে আরও দু’দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, খুব সহজে এ বিষয়ে তারা কোন ধরনের তথ্য দেবে না। এ ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসাবাদে আরও কৌশল অবলম্বন করার ছক কষছেন কর্মকর্তারা। সবাই খুনের প্রসঙ্গটি এড়িয়ে পূর্বপরিচয়ের বিষয়ে কথা বলছে।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের প্রসঙ্গে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) এস এম তানভির আরাফাত মানবজমিনকে বলেন, খুনিরা কৌশলী। তবে সব কিছুই উন্মোচিত হয়ে যাবে।
গত ১৭ই সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর হালিশহরের মোল্লাপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে কাজী আবদুল হাসিব আবু সাঈদ (৪৭) নামের এক বিচারককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান গ্রেপ্তার হওয়া ওই দুই নারী। ওই সময় তারা দাবি করেন, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরে তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হয় মেডিকেল পুলিশের। এরপর দু’জনকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে চারজনকে আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বিচারক সাঈদের নওগাঁয় এক স্ত্রী রয়েছে। সেখানে আছে দুই সন্তান। পরিবারের লোকজন জানতেন সেটিই সুখের সংসার। কিন্তু মৃত্যুর পর বেরিয়ে এসেছে আরেক নতুন তথ্য। মিশু নামের এক মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল তার। গত জুন মাসে গোপনে বিয়ে হয় তাদের। এরপর থেকে আলাদা বাসা নিয়ে প্রথম স্ত্রীর অগোচরে থাকতেন তিনি। আর এ নিয়ে অশান্তি শুরু। সেখান থেকেই হত্যা বলে ধারণা স্থানীয় লোকজনের।

কালকাতার পল্লীর সুর সম্মাননা পুরস্কার পেলেন শিক্ষা গবেষক ড. অধ্যক্ষ মো. সানাউল্লাহ

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ইং বিকেলে কলকাতার বাড়ইপুর কমলা ক্লাব মিলনায়তনে মননশীল সাহিত্য সংস্কৃতি পত্রিকা ‘পল্লীর সুর’ ও ‘সুপ্রভাত সাহিত্য’ সংস্থার বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে সংবর্ধনা সভায় বাংলাদেশের বিশিষ্ট পরিবেশ ও শিক্ষা গবেষক ড. অধ্যক্ষ মো. সানাউল্লাহ ‘পল্লীর সুর এ্যাওয়ার্ড ২০১৪’ লাভ করেছেন। বাড়ইপুর পৌরসভার পৌরপিতা এ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান ও অনুষ্ঠানের সভাপতি সাহিত্যিক গবেষক হরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এই সম্মাননা ক্রেস্ট ড. সানাউল্লাহ এর হাতে তুলে দেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন পল্লীর সুর এর সম্পাদক সুব্রত হালদার, মিনতি রাণী ঘোষ, সাহিত্যগুণরত্ন অমরেশ মুখোপাধ্যায়, কবি সমরেন্দ্র দাশ গুপ্ত, বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সোহেল মো. ফখরুদ-দীন, আসিফ ইকবাল, বরুণ কুমার আচার্য্য, দেশরতœ পরিষদের মো. শাহজাহান, আবৃত্তি শিল্পী মসরুর হোসেন, ভারতের আলোর দিশার সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক খান, সু-স্বাগতম দেওয়ালা পত্রিকার সম্পাদক এ্যাডভোকেট রাজু মিস্ত্রী, সাহিত্য পত্রিকার তরঙ্গ এর সম্পাদক লিটন রাকিব, লেখক গবেষক সঞ্জীব কুমার রাহা প্রমুখ। এদিকে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ ড. মো. সানাউল্লাহ কলকাতার পল্লীর সুর সম্মাননা পুরস্কার লাভ করায় শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকবৃন্দ সহ কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য বৃন্দ এক যুক্ত বিবৃতিতে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

কলকাতার ডেপুটি মেয়র ফরজানার কার্যালয়ে অধ্যক্ষ ড. মো. সানাউল্লাহ

ভারতের কলকাতা পৌরসংস্থার উপ মহানাগরিক (ডেপুটি মেয়র) মিসেস ফরজানা আলম বলেছেন, প্রাচীন কাল ও আজকের সময়েও বিপ্লবী চট্টগ্রামের কালজয়ী মনীষীদের ইতিহাস গর্ব করার মতো। সর্ব ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কালজয়ী বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেন এর জীবন দান পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য মাস্টারদা সূর্যসেনকে ভারতবাসী ও বাঙালিরা আজীবন শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে। চট্টগ্রাম এমনিতে প্রাচীন ও বিপ্লব তীর্থভূমি। মাস্টারদা সূর্যসেন, বীরকন্যা প্রীতিলতা, হাবিলদার রজব আলী, মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, কাজেম আলী মাস্টার সহ অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর জন্মভূমি এই চট্টগ্রাম। সাহিত্য সংস্কৃতি, রাজনীতিক ইতিহাসে অনেক বিখ্যাত মানুষ চট্টগ্রাম হয়ে সমগ্র ভারতবর্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কলকাতা পৌরসংস্থার দ্বিতীয় মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত। যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্তের অনুকরণীয় দৃষ্টান্তগুলো এখনো কলকাতা পৌরসংস্থা সম্মানের সাথে সংরক্ষণ করে। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ইং চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের একটি প্রতিনিধি দল ৫নং সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি রোডস্থ কলকাতা পৌরসংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপ মহানাগরিক ফরজানা আলম এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পৌরসংস্থার কাউন্সিলর সুশীল কুমার শর্মা, চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের সভাপতি সোহেল মো. ফখরুদ-দীন, শিক্ষা গবেষক অধ্যক্ষ ড. মো. সানাউল্লাহ, মাস্টারদা সূর্যসেন ও মহাকবি নবীন চন্দ্র সেন স্মৃতি সংঘের মহাসচিব ডা. বরুণ কুমার আচার্য্য বলাই, কলকাতা আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি কবি সুরজিৎ ঘোষ, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও গল্পকার রূপ কুমার পাল, প্রবীণ কবি সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত, নারীজনার সম্পাদক উৎপল দত্ত, কবি ও কথা সাহিত্যিক ড. নিখিল রঞ্জন পড়–য়া, সাহিত্যগুণরতœ অমরেশ মুখোপাধ্যায়, সব্যসাচী লেখক সুব্রত হালদার প্রমুখ। এ সময় চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ডেপুটি মেয়র ফরজানা আলমকে চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চা কেন্দ্র স্মারক সম্মাননা ও কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র শোভন চ্যাটার্জীকে পৃথক পৃথক সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়।