Wednesday, October 15, 2014
ইসির অনুদান কমিয়েছে দাতারা -বোধোদয় নেই সরকার ও কমিশনের
ইউএনডিপি নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ২০১৬ সালে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত টাকা ছাড়ের পরিমাণ আরো কমে যাবে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণসংক্রান্ত প্রকল্পটি নেয়া হয় ২০১১ সালে। প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয় ১৪১ কোটি টাকা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে নির্বাচনবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এ প্রকল্পের টাকায় গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ক্যামেরা, স্ক্যানার, ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য যন্ত্রপাতি এ প্রকল্পের অর্থ থেকে কেনা হয়। দশম জাতীয় সংসদে অর্ধেকের বেশি আসনে কোনো ভোট অনুষ্ঠান হয়নি। বাকি আসনে ভোটার উপস্থিতি ৫ শতাংশের কম ছিল। কার্যত এ প্রকল্পের তাই কোনো বাস্তবায়ন ছিল না। নির্বাচনবিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং কেনা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি কাজে আসেনি। পশ্চিমাদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত উদ্যোগ তাই অর্থহীন হয়ে পড়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনুদানদাতাদের পিছুটান দেয়াই স্বাভাবিক। ইউএনডিপি যেভাবে তাদের বার্তাটি প্রকাশ করেছে তা তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পরামর্শ দিতে একজন প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে অনুদান কমিয়ে আনার বিষয়টি উল্লিখিত হয়।
সহযোগী একটি দৈনিক এক প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের সচিবের মন্তব্য হতাশাব্যঞ্জক। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনে কমিশনের দুর্বলতা সবার কাছে স্পষ্ট। অবাধ নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এখন ইউএনডিপি যখন এ ধরনের বাস্তবচিত্রের ভিত্তিতে সাহায্য কমিয়ে দেয়া বা বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেবে, তখন তার সমালোচনা করার অধিকার নির্বাচন কমিশনের থাকে না। বরং নির্বাচন কমিশন দাতা সংস্থার সমালোচনা আমলে নিয়ে নিজেদের শুধরে নেয়ার উদ্যোগ নিতে পারে। কমিশনের সচিব মন্তব্য করেছেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থার সমালোচনা তারা করতে পারে না।’ ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনকে তিনি সমালোচনার অযোগ্য বলতে চাচ্ছেন। এ ধরনের মন্তব্য দুঃখজনক। দশম জাতীয় সংসদের মতো নির্বাচন যদি সামনে অব্যাহত থাকে তাহলে অন্যান্য খাত থেকেও দাতাদের সরে যাওয়া স্বাভাবিক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, দেশবাসীর পাশাপাশি দাতা সংস্থার সমালোচনাকে আমলে নেয়াই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য উত্তম হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাকা মেডিক্যালে শিশু চুরি ও ছিনতাই -সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি
গতকাল নয়া দিগন্তে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এ প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে, মেডিক্যাল হাসপাতালের ভেতরেই বহু পুলিশ-আনসারের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই করার ঘটনা ঘটেছে রোববার বিকেলে। সেখানে এ ধরনের দুর্বৃত্তপনার নজির আর নেই। ওই দিন এক যুবক হাসপাতাল বহির্বিভাগের কাছে পিস্তল বের করে এক রোগীর ছেলেকে হুমকি দেয় এবং যা আছে সব দিয়ে দিতে বলে। এভাবে সে এক হাজার টাকা ছিনতাই করে চলে যায়। অস্ত্র নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ ও ছিনতাইয়ের এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জানা গেছে, রোগীদের খাবার বা ওষুধ নিয়ে ঢুকতে গেলেও বাধা পেতে হয়। অথচ প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্ত পিস্তল নিয়ে ঢুকে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেল। আনসার-পুলিশ এর দায় এড়াতে পারে না। সন্দেহ হচ্ছে, এ ছিনতাইকারীর সাথে হাসপাতালের কোনো অশুভ চক্রের যোগসাজশ রয়েছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ কেউ এই চক্রে জড়িত থাকাও অসম্ভব নয়। এমনিতেই হাসপাতালে টাকা, মোবাইল ও রোগীদের মালামাল চুরি হয়ে থাকে। নবজাতক চুরির ঘটনাও কম নয়। এখন সশস্ত্র দুর্বৃত্তের তৎপরতা শুরু হওয়ায় সবাই ভীষণ শঙ্কা ও উদ্বেগ বোধ করছেন। উল্লেখ্য, নবজাত শিশু চুরির সর্বশেষ ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল শনিবার মধ্যরাতে। সৌভাগ্যবশত তা ব্যর্থ হয়ে যায়। শিশুটির খালা তাকে লুকিয়ে পাচার করার সময় ধরা পড়েছে। এ দিকে, এ শিশুর মা সোমবার রাতে হাসপাতালে মারা গেছেন। শিশু চুরির সাথে যে বিরাট চক্র জড়িত, তা অনুমান করা কঠিন নয়। বারবার দুষ্কৃতকারীরা এমন ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পায় কী করে, সেটাই মূল প্রশ্ন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ব্রিটিশ আমলের শেষ দিকে স্থাপিত এবং এটাকে বাংলাদেশে এ-জাতীয় হাসপাতালগুলোর মধ্যে প্রধান বলা যায়। খোদ রাজধানীর এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে শিশু পাচারকারী, সশস্ত্র ছিনতাইকারী, চোর, প্রতারকসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধী তৎপর থাকা প্রশাসনের নিদারুণ ব্যর্থতাই তুলে ধরা হয়েছে। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সারাক্ষণ নিয়োজিত রয়েছে। তা সত্ত্বেও রোগী, তাদের স্বজন ও নবজাতকের নিরাপত্তা না থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আমরা মনে করি, ছিনতাইকারী ও শিশুচোরসহ সব ধরনের অপরাধীর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সারাক্ষণ সতর্ক থাকা উচিত। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে নিষ্ঠার সাথে। দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চক্রগুলোর মূলোচ্ছেদ করা প্রয়োজন। পুলিশ বা আনসার কিংবা দায়িত্বশীল কর্মচারীদের গাফিলতি থাকলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া দরকার।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক মাস ধরে নাকের ভেতর জোঁক!

লিভারনি বলেন, সপ্তাহ খানেক ধরে তাঁর নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল। তিনি ভেবেছিলেন, সম্প্রতি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। গত বৃহস্পতিবার তিনি গোসল করার সময় খেয়াল করেন, নাসারন্ধ্র থেকে কালো মতোন কিছু একটা বেরিয়ে আসছে। তিনি ভেবেছিলেন, রক্তের দলা হয়ে থাকতে পারে। পরে দেখেন জ্যান্ত একটা জোঁক। তিনি দ্রুত ডাক্তারের কাছে ছুটে যান। চিকিৎসক ছোট চিমটার সাহায্যে জোঁকটি টেনে বের করে আনেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পিয়াস করিম: বুদ্ধিবৃত্তির ক্ষণকালীন নক্ষত্র by ড. মাহফুজ পারভেজ
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশে ফিরছেন না লতিফ সিদ্দিকী by আশরাফ আলী

এ দিকে লতিফ সিদ্দিকীর পরিবারের ঘণিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তিনি কলকাতায় অবস্থান করছেন। স্ত্রী-কন্যাসহ তিনি নিউ ইয়র্ক গেলেও কলকাতায় স্ত্রী-কন্যাসহ এসেছেন কি না তা অবশ্য জানা যায়নি। দেশে অবস্থানকারী একমাত্র ছেলে অনিক সিদ্দিকী বাপ্পীও তার কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত পরশু কলকাতায় গেছেন। লতিফ সিদ্দিকীর দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে বড় মেয়ে কানাডায় বসবাস করছেন। ছেলে বাপ্পী তিনি দেশেই ছিলেন। যদিও অনিক সিদ্দিকী বাপ্পী বাবা-মার সাথে মন্ত্রীপাড়ার বাসায় থাকতেন না। ইংরেজি মিডিয়ামে পড়–য়া এই ছেলে একাই গুলশানের বাসায় বসবাস করতেন। তিনিও চলে যাওয়ায় বর্তমানে দেশে লতিফ সিদ্দিকীর পরিবারের কোনো সদস্য আর নেই। অর্থাৎ সপরিবারে তিনি এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি বিবিসির সাথে ইন্টারভিউ দেয়ার পর থেকে দেশে তার ঘণিষ্ঠ বলে পরিচিত কারো টেলিফোন তিনি আর ধরছেন না বলে তারা গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিযেছেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, লতিফ সিদ্দিকী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডন হয়ে দিল্লি আসেন। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সাথে দেখা করার চেষ্টা করেন। উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ম্যানেজ করা। কিন্তু সেখানে প্রণব মুখার্জির সাথে সাাতের কোনো সময় তিনি পাননি। কারণ গত রোববারই প্রণব মুখার্জি নরওয়ের উদ্দেশে দিল্লি ছেড়েছেন বলে ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে তিনি চলে আসেন কলকাতায়। সেখান থেকেও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। এ পর্যায়ে তিনি দেশে ফেরা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন। বাংলাদেশে ফিরবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। ফিরলে তাকে কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবেÑ তা জানার জন্য পশ্চিমবঙ্গে তার ঘনিষ্ঠজনের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করেন। দেশের মানুষের সেন্টিমেন্ট ও দলের সর্বশেষ অবস্থান জানার চেষ্টা করেন। সর্বোপরি দল ও দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোভাব জানার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো দিক থেকেই তিনি অনুকূল ইঙ্গিত না পেয়ে আপাতত দেশে না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সেখানে তিনি এখন গোপন অবস্থানে রয়েছেন। পরিস্থিতি বুঝে তিনি কলকাতা থেকে দিল্লি ফিরে যেতে পারেন এবং সেখানেই আপাতত অবস্থান করতে পারেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
যদিও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লতিফ সিদ্দিকী ‘রেগুলার ভিসা’য় বর্তমানে কলকাতায় রয়েছেন। চিকিৎসাও করাতে পারেন তিনি। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচিত এই রাজনীতিকের আবাসস্থল প্রকাশ করতে চান না কর্মকর্তারা। এ দিকে নিউ ইয়র্কে যে মন্তব্যের জন্য লতিফ সিদ্দিকীকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তার জন্য কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। যাকে এখন দল থেকেও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে। তবে দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো খেদ নেই তার। দলকে বিব্রতকর অবস্থার মুখে ঠেলে দেয়ার জন্য অনুতাপ রয়েছে তার। মন্ত্রিসভা ও দলীয় পদ থেকে বাদ পড়ার পর দিন সোমবার বিবিসি বাংলাকেও দীর্ঘ এক সাাৎকারে তিনি এসব বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। ওই সাাৎকারে স্বভাবসুলভ ভঙিতে ছোট ভাই আবদুল কাদের সিদ্দিকী তার হয়ে মা চাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই ব্যাটাকে আমার প থেকে মা চাওয়ার অধিকার কে দিলো? আমি তো তাকে এই দায়িত্ব দেই নাই যে আমার পে মা চাও।’
চূড়ান্ত বহিষ্কারের আগে আ’লীগের শোকজ নোটিশ টাঙ্গাইলের ঠিকানায়
লতিফ সিদ্দিকীকে কেন আওয়ামী লীগ থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে নাÑ তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জিগাতলা পোস্ট অফিস থেকে রেজিস্ট্রি ডাকে লতিফ সিদ্দিকীর টাঙ্গাইলের কালিহাতির স্থায়ী ঠিকানায় ওই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে হজবিরোধী বক্তব্য দেয়ায় কেন চূড়ান্তভাবে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে নাÑ তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তাকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। যদিও এর প্রতিক্রিয়ায় কলকাতায় অবস্থানরত লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, নোটিশ হাতে পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমি আমার জবাব দেবো। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতা বলেন, গত রোববার আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্তের আলোকেই লতিফ সিদ্দিকীকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যাতে সই করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে লতিফকে কারণ দর্শানোর এই নোটিশ দেয়া হয়েছে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর পদ থেকে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও ওই নোটিশে জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিউ ইয়র্কে প্রবাসীদের অনুষ্ঠানে হজ নিয়ে যে বক্তব্য লতিফ সিদ্দিকী দিয়েছিলেন তা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে, ‘আপনার এ বক্তব্য কেবল গর্হিত ও অনভিপ্রেতই নয়, বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি আঘাতস্বরূপ। তা আওয়ামী লীগের নীতিবিরোধী এবং আদর্শ ও গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট লংঘন।’
লতিফকে সভাপতিমণ্ডলীর পদ থেকে বাদ দেয়ার েেত্র আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৪৬ ‘ক’ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো সদস্য আওয়ামী লীগের আদর্শ, ল্য, উদ্দেশ্য, গঠনতন্ত্র ও নিয়মাবলি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করলে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল, কার্যনির্বাহী সংসদ, সংসদীয় বোর্ড বা সংসদীয় পার্টির বিরুদ্ধে কোনো কাজ করলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ তার বিরুদ্ধে যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।’
গঠনতন্ত্রের ৪৬ ‘ঞ’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংগঠনের যেকোনো শাখা তার যেকোনো কর্মকর্তা বা সদস্যকে দলের স্বার্থ, আদর্শ, শৃঙ্খলা তথা গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য স্ব-স্ব পদ বা দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রদান করতে পারবে। তবে এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন শাখার অনুমোদন প্রয়োজন হবে এবং এ েেত্র সংশ্লিষ্ট শাখার সাধারণ সভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। ঊর্ধ্বতন শাখা পরবর্তী এক মাসের মধ্যে তার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট শাখাকে জানাবে, অন্যথায় সিদ্ধান্তের সাথে একমত বলে গণ্য হবে।’ এই অনুচ্ছেদ অনুসারেই দলে লতিফ সিদ্দিকীর প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করে তাকে কারণ দর্শাও নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের ওই নেতা জানান। লতিফকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, যেহেতু তিনি ‘স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে স্বপ্রণোদিতভাবে সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র লংঘন করেছেন’ সেহেতু আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প থেকে গভীর নিন্দা জানানো হয়েছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে প্রবাসী টাঙ্গাইল সমিতির এক অনুষ্ঠানে হজ নিয়ে মন্তব্য করার পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘স্পষ্টভাষী ও আত্মম্ভরী’ হিসেবে পরিচিত লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে বাংলাদেশে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। এরপর বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা হয়। তার বিচার চেয়ে আন্দোলনের হুমকি দেয় বিভিন্ন ইসলামি দল ও বিএনপি। এমনকি নিজের দলেও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে নির্বাচিত চারবারের এই সংসদ সদস্য। তারই ধারাবাহিকতায় গত রোববার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি এবং দলের সভাপতিমণ্ডলির পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা লতিফ সিদ্দিকী ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকারে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে পাঁচ বছর দাপটের সাথে পালন করেন। এবার ভোটারবিহীন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারে পেয়েছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। কিন্তু বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এক বছর না পেরোতেই তাকে বিদায় নিতে হলো।
স্পিকার দেশে ফিরলেই লতিফের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত : চিফ হুইপ
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী দেশে ফেরার পর আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। গতকাল জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় হুইপ আতিউর রহমান আতিক, ইকবালুর রহিম, মাহাবুব আরা গিনি, জাহিদ আহসান রাসেল উপস্থিত ছিলেন। আ স ম ফিরোজ বলেন, তার (লতিফের) এমপি পদ থাকবে কি থাকবে না, এ বিষয়ে যেহেতু সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই, তাই স্পিকার দেশে ফিরে আইন বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) নির্বাচনে প্রথম বাঙালি চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন। সিপিএ চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ায় তাকে সংবর্ধনা দেবে জাতীয় সংসদ। এ নিয়ে এক প্রস্তুতি সভা শেষে দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, আগামী ২১ অক্টোবর দেশে ফিরবেন স্পিকার। আর ২২ অক্টোবর সংসদের দণি প্লাজায় সংবর্ধনা দেয়া হবে স্পিকারকে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া। স্পিকারকে সিপিএর চেয়ারপারসন পদে সমর্থন দেয়ায় শ্রীলঙ্কা ও ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, এর মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদের মর্যাদা বিশ্বে আরো উজ্জ্বল হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইবোলা- মানবজাতির জন্য এক নয়া হুঁশিয়ারি by আলমগীর মহিউদ্দিন
বিশ্বের মধ্যে শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই স্বাস্থ্য বিষয়ে সবচেয়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেখা যায়। ইবোলাকে নিয়ে তাদের শঙ্কার কারণে ডানকান পশ্চিম আফ্রিকায় গিয়েছিলেন ইবোলা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে। সেখানে গিয়ে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। পরে মারা যান। যারা তাকে দেখতে গিয়ে একটু মাথায়-গায়ে হাত বুলিয়েছিল, সবাই পরে ইবোলায় আক্রান্ত হন। এমনিভাবে স্পেনের নার্স তেরেসা রোমেরো আক্রান্ত হন। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিমান বন্দরে চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনসন (সিডিসি) ঘোষণা করেছে, যে হারে ইবোলা প্রসারিত হচ্ছে তাতে অতি শিগগিরই ১৫ লাখ লোক আক্রান্ত হবে। উল্লেখ্য লাইবেরিয়ার চিফ মেডিক্যাল অফিসার বার্নিস ডান এবং সিওরোলিয়নের প্রধান ইবোলা চিকিৎসক শেখ উমর খান ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন।
ইবোলায় আক্রান্ত হয় কেমন করে? এক কথায় স্পর্শে। আক্রান্ত ব্যক্তির ঘাম বা রক্ত কোনোক্রমে অন্যকে স্পর্শ করলে এ রোগ হবে এবং মৃত্যু অবধারিত। সে জন্য এ পর্যন্ত দেখা গেছে স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবারের সদস্য, সমবেদনা জানানো ব্যক্তিরা বা কবর দেয়ার কর্মীরা ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে বিশেষভাবে আবৃত থেকে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সব বস্তু থেকে দূরে থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ভয় নেই। কারণ ইবোলা সংস্পর্শদ্বারাই সঞ্চালিত হয়।
ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন কি না বোঝার উপায় কি? হঠাৎ জ্বর শুরু হবে, ভীষণ দুর্বলতা অনুভব করবেন, সারা শরীর ব্যথা করবে, মাথা ধরে, গলা খুশখুশ করবে। এরপর শুরু হবে বমি, প্রস্রাবে অসুবিধা হবে। লিভারের কার্যক্রম বন্ধ হবে। শেষ প্রান্তে এসে চোখ-মুখ-কান দিয়ে রক্তপাত হতে থাকবে। আক্রান্ত হওয়ার ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে এসব উপসর্গ দেখা দেয়। তবে একজন সুস্থ লোক যদি আক্রান্ত ব্যক্তিকে এ উপসর্গ প্রকাশ হওয়ার আগে স্পর্শ বা একত্রিত হয় তবে কোনো আক্রান্ত হওয়ার ভয় নেই। তবে ইবোলায় মৃত ব্যক্তিকে স্পর্শ করার সাথে সাথে সংক্রমিত হতে পারে।
দেখা গেছে সংক্রমিত ব্যক্তি প্রচলিত কিছু সেবাতেই ভালো হয়ে গেছে। চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা এখনো স্থির করতে পারেননি কোন চিকিৎসায় এর নিরাময় সম্ভব। তাই এখন একটিমাত্র পন্থা ব্যবহৃত হচ্ছে। সংক্রমিত ব্যক্তিকে পূর্ণভাবে পৃথক (কোয়ারান্টাইন) রাখা হচ্ছে। সেখানে প্রচলিত চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হয়ে গেলে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে তিন মাস পর্যবেক্ষণে থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তির বীর্যে ইবোলা ভাইরাস ৮১ দিন পর্যন্ত মৃত্যুর পরও দেখা গেছে। এ পর্যন্ত ৫০ থেকে ৯০ ভাগ আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন।
অনেকেই প্রশ্ন করছেন এ ইবোলার বিরুদ্ধে কেন কোনো ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা গত ৩৮ বছরে তৈরি হয়নি? যারা একটু সিনিক তারা বলছেন যেহেতু রোগটি আফ্রিকায় উৎপত্তি তাই অবহেলা। তবে চারবার মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর চারটি বিখ্যাত কোম্পানি ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। সম্প্রতি এগুলো পরীক্ষাপর্যায়ে একটি ভ্যাকসিন চারজনের ওপর প্রয়োগ করা হলে দুইজন নিরাময় হন। সমালোচকেরা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাকে নিন্দা করছেন এ বিষয়ে মনোযোগ না দেয়ার জন্য। বিখ্যাত ব্রিটিশ স্বাস্থ্য ম্যাগাজিন ল্যানসেট ইউরোপকে এগিয়ে আসতে বলছে। “তারা যদি না এগিয়ে আসে তাহলে এবার ভূ-রাজনৈতিকবিপর্যয় হবে (ফেস জিওপলিটিক্যাল ক্রাইসিস)”। এর কারণ ইবোলা এখন আর আফ্রিকায় সীমিত নেই। ফ্রান্স, ব্রিটেনসহ ইউরোপে এর প্রকাশ লক্ষ করা গেছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ংকিম বলেছেন, ইবোলা যদি সর্বাত্মক চেষ্টা করে তিনটি দেশেই সীমাবদ্ধ করা যায় তাহলে খরচ হবে ৯ বিলিয়ন ডলার। নতুবা যেভাবে প্রসারিত হচ্ছে তাতে খরচ ৩২ বিলিয়ন ডলারে ঠেকবে।
ইকোলজিক্যাল ইন্টারনেটের প্রতিষ্ঠাতা ড. গ্লেন ব্যারি উল্লেখ করছেন, ইবোলার আবির্ভাবের কারণ সামাজিক অবক্ষয় এবং পরিবেশের ওপর অত্যাচার। মানুষ ক্রমান্বয়ে পরিবেশ ধ্বংস করছে। যেমন পশ্চিম আফ্রিকার ৯০ শতাংশ বন এখন আর নেই।
উন্নয়নের জন্য বাইরের শক্তি বন ধ্বংস করছে আর বাঁচার জন্য স্থানীয় দরিদ্র মানুষেরা তাতে সাহায্য করছে। নিউ সায়েন্স পত্রিকায় এ সপ্তাহেই এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গত ৪০ বছরে বিশ্বের ৫০ শতাংশ বন্যপ্রাণী নিধন করা হয়েছে। আবার যুদ্ধ-বিগ্রহ মহামারীর জন্য দায়ী। ড. ব্যারি দেখিয়েছেন প্রথম মহাযুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী যে ফু মহামারী হয় তাতে দশ কোটি মানুষ মারা যায়। তিনি বলেছেন এখন বিশ্বব্যাপী চলছে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা এবং অস্ত্র প্রস্তুতকারীরা বিভিন্ন দেশে সঙ্ঘাত যুদ্ধ উসকে দিয়ে স্থানীয় যুদ্ধের আয়োজন করছে। এসব দেশের জরা ব্যাধির প্রকোপ অনেক। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তার প্রকাশ নেই।
২০০৪ সালে ব্যাংককে এইডস সামিটেও এ সতর্কবাণী দেয়া হয়েছিল যে যুদ্ধ-সঙ্ঘাত নানা রোগেরও উৎপত্তি ঘটায়। এক গবেষক খানিকটা আধ্যাত্মিক মন্তব্য করেছেন। সঙ্ঘাত, যুদ্ধের পরেই রোগের বিস্তৃতির কারণ এটা সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে একটি হুঁশিয়ারি। তবে ক্ষমতার মোহ এবং দ্বন্দ্বে মানুষ এ হুঁশিয়ারিকে গ্রহণ করে না।
ইবোলাকে নিয়ে কি বাংলাদেশের শঙ্কার কারণ আছে? এর উত্তর হ্যাঁ এবং না।
হ্যাঁ, এই অর্থে যে গত সপ্তাহে এক জাপানি মহিলা ভারতের নাগার ইম্ফলে গিয়ে জ্বরে আক্রান্ত হন। তাকে পরীক্ষা করে দেখা গেছে তিনি ইবোলায় আক্রান্ত। কাওয়াকুবো ইউকো (২৭) গাড়িতে মিয়ানমার থেকে ইম্ফলে গিয়েছিলেন। তার সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন সবাইকে এখন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ মাত্র একজন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ রোগটি ছড়ায়। ভারতে চিকিৎসাব্যবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয়। তাহলে অবস্থা কী হবে জানা যায়নি। এ দিকে ওই মহিলা মিয়ানমার থেকে ইম্ফলে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ কি খুব দূরে?
বাংলাদেশের বহুমানুষ এখন পশ্চিম আফ্রিকায় এবং তারা আসা-যাওয়া করছেন। এ দেশের কোনো বিমান বন্দরে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের কোনো স্থাপনা নেই। তাই অবশ্যই বলা চলে বাংলাদেশ নিশ্চিত হতে পারে না। তবে একটিই আশা। পশ্চিম আফ্রিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনী প্রেরণ করেছে আর ইউরোপ চিকিৎসক বাহিনী পাঠিয়েছে। সেখানে যদি ইবোলায় ট্রান্সমিশন রোধ করা যায় তাহলে হয়তো বিশ্বব্যাপী কিছু ক্ষতির পর এই ফু, ক্যানসার ও এইডসের মতো খানিকটা সহনীয় হবে। এপির খবরে বলা হয়েছে এর মধ্যে মার্কিন ১০১ এয়ারবর্ন ডিভিশন লাইবেরিয়া পৌঁছেছে। শুধু আশা মানবজাতির জন্য এ হুঁশিয়ারি ক্ষমতাবান ও ক্ষমতাহীন দুই দলেই গ্রহণ করবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোদির নিউ ইয়র্ক সফর by শশী থারুর

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিউ ইয়র্ক যাবেন, সে জন্য আমি ছিলাম সেখানে। তিনি ওয়াশিংটন যাওয়ার আগেই দেশে ফিরে এসেছি। মোদি বাবু নিঃসন্দেহে এখন বিশ্বমঞ্চে উপস্থিত একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। আপাত দ্বিধায় পর এখন চট করে বলা হচ্ছে, মোদি হলেন কূটনীতির ‘রকস্টার’। এ টাইটেল দেয়ার স্বাদ লবণ মাখিয়ে আমাদের উপভোগ করা উচিত। তবে এটা অনস্বীকার্য, নিজের স্টাইল, প্রাধান্য বিস্তারকারী উপস্থিতি, আর উপচে পড়া আত্মবিশ্বাসের জোরে আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেখানেই যান, সেখানেই ছাপ ফেলেন। আগের সপ্তাহে নেপালে ছিলাম। সেখানে তার কথা আর আচরণের প্রতি মানুষের আগ্রহের কথা শুনেছি।
যা হোক, এ সবকিছু যে ভারতের কাজে আসবেই, তা নিশ্চিত নয়। তবে এর মাধ্যমে যা হচ্ছে, তা হলোÑ এ ভারতীয় নেতার উপস্থিতি তার পূর্বসূরির চেয়ে ভিন্ন। ড. মনমোহন সিংকে যথেষ্ট তুলে ধরা হয়নি। তিনি বুদ্ধিবৃত্তির জন্য এবং বিশ্বের অর্থনৈতিক ইস্যুতে অতুলনীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার জন্য খুবই শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন। এখন কেউ অর্থবাজারের ব্যাপারেই মিস্টার মোদির অভিমত জানতে চাইবে না।
অবশ্য হাজারখানেক হর্ষধ্বনিমুখর সমর্থক নিয়ে মোদি যখন জাতিসঙ্ঘে যান কিংবা উৎফুল্ল ও কৌতূহলী দর্শকদের সামনে গাড়ি থেকে নামেন, তখন এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ভারতের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক কূটনীতির কনফারেন্স চেম্বার আর মিটিং রুম থেকে বেরিয়ে এসেছে। যে জনগণ ওসব রুদ্ধদ্বার কক্ষের চৌকাঠ মাড়াতে পারে না, তাদের কল্পনার জগতে ছাপ ফেলার জন্যই এটা করা হলো।
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষণ ছিল জোরালো। এ সময়ে তার কণ্ঠে তুঙ্গে উঠেছিল আন্তর্জাতিকতাবাদ, যা ছিল পণ্ডিত নেহরুর বৈশিষ্ট্য। মোদি পরিবেশ ইস্যু ও সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে ফলপ্রসূ বার্তা দিয়েছেন। কাশ্মির নিয়ে পাকিস্তানের খোঁচা মারার মোক্ষম জবাবও দিয়েছেন। এনডিটিভি’র বার্খা দত্ত জানতে চাইলেন, ‘জাতিসঙ্ঘে মোদির বক্তৃতা কেমন হলো?’ আমি দ্বিধা না করেই জাতিসঙ্ঘ মঞ্চে তার পারফরম্যান্সকে ‘এ’ দিয়ে দিলাম। বিশ্বসংস্থার প্রধানমন্ত্রীদের ভাষণের দীর্ঘ ও গৎবাঁধা ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটা আসলেই একটা হাই রেটিং।
সেখানে হিন্দিতে বক্তৃতা দিয়ে নরেন্দ্র মোদি আবার জোর দিলেন তার স্বাদেশিকতার নয়া ব্রান্ডের ওপর। এর মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের কাছে পৌঁছতে পেরেছেন, যারা ছিলেন সে ভাষণের মূল শ্রোতা। হিন্দিতে বলে মোদি ভুল করেননি। হিন্দি জাতিসঙ্ঘের ছয়টি সরকারি ভাষার মধ্যে পড়ে না। তবে বিভিন্ন দেশের নেতারা এর বাইরে অন্য কোনো ভাষাও ব্যবহার করতে পারেন। শর্ত হলো, তখন অনুবাদের খরচটা সে দেশের সরকারকে বহন করতে হবে।
মোদি ইংরেজির চেয়ে হিন্দিতে অনেক ভালো বলতে পারেন। তার ইংরেজি কাঠখোট্টা ও নড়বড়ে। তাই ভাষার ক্ষেত্রে নিজের শক্তি বা দুর্বলতার হিসেবে তিনি ভালোই খেলেছেন। তবে এর মাশুল দিতে হয়েছে। তা হলোÑ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে উপস্থিত সবাই তার সে বক্তৃতাই শুনেছেন অনুবাদের মাধ্যমে, যার ‘ময়লা পরিষ্কার করা হয়েছে’। এতে তার উপস্থিত মন্তব্যগুলো ছিল না। তদুপরি, যেমনটা আশা ছিল, শ্রোতারা মোদির ভাষণের প্রতি অতটা মনোযোগ দেননি।
আন্তর্জাতিক বিষয়ে উপস্থিত বক্তৃতা বিপজ্জনক। এর একটি নজির হচ্ছে, ‘পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মির’কে স্রেফ ‘পাকিস্তান’ বলে বসলেন মোদি। এমন খামখেয়ালিপনা ভারতের একজন প্রধানমন্ত্রীর জন্য বোকামি। কারণ, নয়া দিল্লি সরকার এখনো দাবি করে, ‘কাশ্মিরের পাকিস্তান-অধিকৃত অঞ্চলও আমাদের।’ এ অবস্থায় সেদিন মোদির জাতিসঙ্ঘ ভাষণের লিখিত কপি তাড়াহুড়ো করে শুদ্ধ করতে হয়েছে; কিন্তু কাশ্মির নিয়ে ভারতের চিরন্তন দাবি এভাবে ‘আপাতত ত্যাগে’র ঘটনায় অবশ্যই ইসলামাবাদ সশব্দে হেসে উঠেছিল।
‘৯/১১’-এর সন্ত্রাসবাদী হামলার স্মৃতিবিজড়িত ‘গ্রাউন্ড জিরো’ পরিদর্শন মোদির একটি চমৎকার আইডিয়া। এতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে সঠিক পথে ভারতীয় অবস্থান হয়েছে আরো সুদৃঢ়। মোদি জাতিসঙ্ঘের ভাষণে সন্ত্রাসবাদের ওপর সর্বাঙ্গীণ কনভেনশনের পক্ষে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বেশ সমর্থন পেয়েছে। তবে, এমন একটি আইডিয়ার ব্যাপারে অনেক মুসলিম রাষ্ট্রের বিরূপ মনোভাব দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট কনভেনশনের খসড়ার বিশদ নিয়ে আমাদের বহু কাজ বাকি।
নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে রক কনসার্টে হাজির হয়ে কিছু কথা বলা মোদির চমৎকার একটি কৌশল। আর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এ কাজ করবেন বলে কল্পনাও করা যায় না। বিশেষভাবে স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ প্রধানমন্ত্রিত্বের দৃষ্টান্ত মোদি স্থাপন করতে চান, যা এককভাবে তারই। এই লক্ষ্যে তিনি সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন। অবশ্য, এটা শুধু প্রধানমন্ত্রীর জনসংযোগে সহায়ক না হয়ে দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে কি না, তা দেখার বিষয়।
ম্যাডিসন স্কোয়ারে মোদির কর্মসূচি ঠিকঠাক মতোই সম্পন্ন হয়েছে। মোদি চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে তার সমর্থকদের অভিনন্দন জানাতে। তারা তাকে সমর্থন দিয়েছিলেন সেই অন্ধকার সময়েও, যখন তার ভিসা দেয়নি আমেরিকা। এই প্রবাসীরা তার নির্বাচনী প্রচারণায় বিরাট অবদান রেখেছেন। ম্যাডিসন স্কোয়ারে মোদির বক্তৃতার টার্গেট তারা তো ছিলেনই, সেই সাথে ছিলেন অবশ্যই ভারতে তার সমর্থকেরাও। আসলে এটা ছিল বিদেশের মাটিতে তার রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা। সেখানে সমাগতদের বেশির ভাগ ছিলেন বিজেপির লোকজন, যারা মোদির ভাষণে প্রেরণা পেয়েছেন। একজন ভারতীয় নেতা আমেরিকায় কত লোক জড়ো করতে পারেন, সেটাই দেখানো হলো। তবে মূলধারার মার্কিন মিডিয়া অনুষ্ঠানটিকে নামেমাত্র গুরুত্ব দিয়েছে।
ম্যাডিসন চত্বরের সমাবেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্ভবত, এটাই যুক্তরাষ্ট্র সরকারে মোদির সমালোচকদের দেখানো লক্ষ্য ছিল যে, ‘তিনি খুব জনপ্রিয় এবং তাকে হেয় করা উচিত হবে না।’ মার্কিন প্রশাসন সেটা আগেই বুঝে নিয়েছে। ম্যাডিসনের মঞ্চে ৪১ জন মার্কিন কংগ্রেসম্যান মোদির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি সঙ্কেত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী ভারতীয়দের বর্ধিত রাজনৈতিক শক্তি তার মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে এবং তারা যেন স্বদেশের জন্য এটা কাজে লাগান। তবে গোড়ার কথা হলো, এটা ছিল এক নেতার নিজেকে প্রশ্রয় দেয়া ভালোবাসার উৎসব, যিনি নিজেকে অতিরঞ্জিত করে বীর হিসেবে মানুষের সামনে বারবার তুলে ধরতে কান্তিবোধ করেন না।
মিস্টার মোদির নিউ ইয়র্ক সফরের সারকথা অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি তা আমাদের সবাইকে জানাতে চান। এই সারকথা হলো : ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি এসেছেন এবং সারা দুনিয়া তার দিকে মনোযোগ দেয়াই উত্তম।’
লেখক : দু’বার এমপি হয়েছেন; ভারতের পররাষ্ট্র ও মানবসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এ ছাড়া ছিলেন জাতিসঙ্ঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল। ১৪টি বইয়ের লেখক
ভাষান্তর : মীযানুল করীম
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংবিধান ও রাজনীতি- বিদায় লতিফ, স্বাগতম মহররম by মে. জে. (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক
আজ থেকে সাত-আট বছর আগে ইসলামিক টিভির তৎকালীন চেয়ারম্যান (বর্তমানে মরহুম) অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাইদ এস্কান্দর আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন একটি বিশেষ ইসলামি অনুষ্ঠান তাদের টিভিতে করার জন্য। অনুষ্ঠানটি ছিল এরূপ। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধগুলোকে বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা। তবে উপস্থাপন করতে গিয়ে দু’টি আঙ্গিক খেয়াল রাখতেই হবে। একটি হলো এই যে, কয়েকটি যুদ্ধ প্রসঙ্গে, পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে। মহানবী সা:-এর আমলের সব যুদ্ধ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদিসে উল্লেখ আছে। অতএব পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে উল্লিখিত ইশারা বা ব্যাখ্যা খেয়াল রাখতেই হবে। তার সাথে যুক্ত হবে সামরিক ব্যাখ্যা বা যুদ্ধ-বিদ্যার যে বিজ্ঞান, সেই বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা। সাইদ এস্কান্দরের মতে, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম যেহেতু একজন গ্রহণযোগ্য সামরিক বিশ্লেষক এবং তিনি কষ্ট করে চেষ্টা করলে ইসলামি আঙ্গিক যুক্ত করতে পারবেন, তাই সাইদ এস্কান্দর ইবরাহিমকেই অনুরোধ করেছিলেন ওই অনুষ্ঠানমালা করতে। অতএব ১৩টি ধারাবাহিক সপ্তাহে, ১৩টি ভিন্ন পর্বে, ইসলামের ১৩টি যুদ্ধের বর্ণনা বাংলাভাষী টেলিভিশন দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করার দুর্লভ সুযোগ আমার হয়েছিল। আমি মনে করি এটি মহান আল্লাহতায়ালার প থেকে একটি বিশেষ দয়া ছিল। কারণ, মহানবী সা:-এর আমলের যুদ্ধগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে, আমাকে সবিশেষভাবে জানতে হয়েছে এবং আমার সেই ুদ্র অর্জিত জ্ঞান দেশবাসীর সাথে শেয়ার করতে পেরেছি। ক’জনের সৌভাগ্য হয় মহানবী সা:-এর যুদ্ধের নেতৃত্ব অন্যের সামনে উপস্থাপন করার। শতভাগ আদবের সাথে, শতভাগ রাসূল-প্রেমের সাথে না-ও হয়ে থাকতে পারে; কিন্তু অনিচ্ছাকৃত ভুলত্র“টি নিশ্চিতভাবেই মহান আল্লাহ তায়ালা মা করতে পারেন। সেই ১৩টি টেলিভিশনের মৌখিক উপস্থাপনা, পরে লিখিতভাবে বইয়ে প্রকাশ করার মতো করে সাজানো হয়েছিল। ঢাকা মহানগরের বিখ্যাত প্রকাশক ‘অনন্যা’ ওই বইটি প্রকাশ করেছিল। বইটির নাম ‘দি ব্যাটেলস অফ ইসলাম’ (বা ইসলামের যুদ্ধগুলো)। সেই বইয়ে ১২তম অধ্যায় হচ্ছে কারবালার ময়দানের যুদ্ধ। আমি বিশদভাবে প্রোপটসহ বইটির পরিচয় দিলাম একটি উদ্দেশ্য নিয়ে। উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্মানিত পাঠককুল, বিশেষ করে তরুণ সম্প্রদায়, ইসলামের অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস যেন জানতে চেষ্টা করেন। যেসব ছাত্রছাত্রী স্কুলের পাঠ্যসূচিতে ইসলামের ইতিহাস পড়েন বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের স্টাডিজ পড়েন বা মাদরাসায় পড়েন, শুধু তারা জানলে হবে না। ইতিহাসের উত্তরাধিকারী আমরা সবাই। কারবালার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল ১০ মহররম। আজ থেকে ১৯ বা ২০ দিন পর বাংলাদেশে ১০ মহররম পালিত হবে। পৃথিবীর অন্যত্র দিবসটিকে কীরূপ গুরুত্ব দেয়া হবে বা হবে না, আমি সে সম্পর্কে মন্তব্য করছি না; কিন্তু আমি কামনা করি যে, বাংলাদেশের তরুণেরা যেন কারবালার যুদ্ধকে গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করেন। কারবালার যুদ্ধের তাৎপর্য অনুধাবন করেন।
১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে ব্রিটিশরা বাংলা-উড়িষ্যা নামক প্রদেশ বা ভূখণ্ডের ওপর ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তী ১০০ বছরে তৎকালীন ভারতের বৃহদংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ১৮৫৭ সালে স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধ তথা সিপাহি বিদ্রোহ ঘটে যাওয়ার পর লন্ডন থেকে ভারত শাসনের জন্য প্রত্য পদপে নেয়া হয়। এই সময়ে ভারতের মুসলমানেরা শিা-দীা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে পিছিয়ে পড়েছিল। রাজ-ভাষা বা সরকারি ভাষা হিসেবে মোঘল আমল থেকে পরিচিত ফার্সি ভাষার বদলে ইংরেজি ভাষা চালু হয়েছিল। এরূপ বিপজ্জনক অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতায় নেতৃস্থানীয় মুসলমানদের আগ্রহে তৎকালীন কলকাতা মহানগরীতে সরকারি মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং সাধারণভাবে এগুলোকে আলিয়া মাদরাসা বলা হতো এবং এখনো ওই ধরনের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত মাদরাসাগুলোকে আলিয়া মাদরাসা বলা হয় যেমন, ঢাকা মহানগরের বকশিবাজারে অবস্থিত ঢাকা আলিয়া মাদরাসা বা চট্টগ্রাম মহানগরে অবস্থিত আলিয়া মাদরাসা। ওই আলিয়া মাদরাসাগুলোতে ধর্মীয় শিার পাশাপাশি সাধারণ শিার কিছু অংশ সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত থাকত এবং আছে। এরূপ প্রোপটে অন্য কিছু ধর্মীয় নেতা, শুধু ধর্মীয় শিা অনুসরণ ও আহরণের ল্েয ভিন্নমাত্রার মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এখন থেকে দেড়শো-পৌনে দুই শ’ বছর আগে। এই ভিন্নমাত্রার মাদরাসার মধ্যে প্রথম এবং প্রধানতম মাদরাসাটির নাম দারুল উলুম দেওবন্দ। দেওবন্দ নামক জায়গাটি বর্তমান ভারতের উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত। এই দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসার ধারায় বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো পরিচালিত। আলিয়া মাদরাসা ও কওমি মাদরাসা থেকে শিতি আলেমদের মধ্যে তো বটেই, আলেমদের অনুসারীদের চিন্তা-চেতনার মধ্যে বিস্তর দূরত্ব আছে কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ আঙ্গিকে। কওমি মাদরাসার ধারাকে সাধারণত কওমি ধারা বা খারেজি ধারা বলা হয় বা ওহাবি ধারা বলা হয়। এই বিভাজনটি মুসলমানদের মধ্যে একমাত্র বিভাজন নয়। মাজহাব মোতাবেক পৃথিবীতে মুসলমানেরা মোটামুটি চারটি মাজহাবে বিভক্ত। যথাÑ হানাফি, মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি; যদিও বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমান হানাফি মাজহাবের অনুসারী। অর্থাৎ তারা ইমাম আবু হানিফা রহ: কর্তৃক প্রদত্ত ব্যাখ্যাগুলোকে অনুসরণ করেন। যাই হোক না কেন এবং যত ধরনের বিভাজনই থাকুক না কেন, ঈমান ও দ্বীন ইসলামের স্তম্ভগুলো অনুসরণে কোনো বড় রকমের পার্থক্য নেই। যথাÑ পাঁচটি স্তম্ভের চতুর্থটি হলো হজ। যেসব মুসলমানের আর্থিক সঙ্গতিতে কুলাবে এবং শারীরিক সমতায় কুলাবে, তাদের জীবনে একবার অবশ্যই পবিত্র হজ সম্পাদন করতে হবে। এই হজ এবং হজের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে কোনো দ্বিমত কোনো মাজহাব বা গোষ্ঠী বা মতবাদীদের মধ্যে নেই। দ্বীন ইসলামে হজ নামে ফরজ কাজটি, সব ধর্মের তুলনামূলক প্রসঙ্গে, একটি ব্যতিক্রমধর্মী মানবতাবাদী কর্ম। মহান আল্লাহ তায়ালা কেন এটি ফরজ করেছিলেন, তার হুবহু কারণ আমাদের ব্যাখ্যার জন্য অপোয় নেই। আমরা এই মহান কাজের উপকারিতা পাচ্ছি।
আঠারো-বিশ মাস আগে হঠাৎ বিখ্যাত হয়ে ওঠা শাহবাগ বা গণজাগরণ মঞ্চ এবং এর মাধ্যমে মুসলমানদের ঈমান-আকিদার ওপর আক্রমণ প্রসঙ্গে আমি বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখেছি। ১৮ মার্চ ২০১৩ দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় লেখা কলামের শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সভ্যতার সঙ্কট’! বাংলাদেশের বিদ্যমান তরুণসমাজের একটি অংশ কী নিয়মে ধীরে ধীরে ধর্মবিরোধিতায় নেমেছে বা নাস্তিকতার পথে পা দিয়েছে ইত্যাদি বিষয় আমি আলোচনা করেছিলাম। অতি সম্প্রতি আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মতো একজন দায়িত্বশীল (অথবা আপাতদৃষ্টিতে দায়িত্বশীল) আওয়ামী রাজনীতিবিদ যে বক্তব্য দিয়েছেন, এটাকে যদি আমরা নমুনা মনে করি, তাহলে আমাদের অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে আর কারা কারা লুক্কায়িত অবস্থায় আছে। অতএব আজকে সময় এসেছে বাংলাদেশের সচেতন জনগণের (যাদের মনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চেতনা কাজ করে), তাদের সবার একটি সমন্বিত চিন্তার মঞ্চে একত্র হওয়ার।
বাকস্বাধীনতার নামে দ্বীন ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে এবং পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষদের প্রধানতম ব্যক্তিত্ব হজরত মোহাম্মদ সা:কে নিয়ে কটুবাক্য করার রেওয়াজ বন্ধ করতে হবে। এই আন্দোলনের বা এই প্রচেষ্টায় আলেমসমাজ অগ্রণী ভূমিকা নেবেন, এটাই আমাদের কামনা। আমি আশা করি, আলেমসমাজের মধ্যে বিভিন্ন কারণে যে মতপার্থক্য আছে সেটাকে স্বাভাবিক মনে করে মেনে নিয়েই, এই একটি ইস্যুতে নিজ নিজ মঞ্চ থেকেই আন্দোলনে শরিক হওয়া যায় বা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায় বা জনগণের কাছে আবেদন রাখা যায়। বিভিন্ন সম্মানিত পীর-মাশায়েখের সম্মানিত মুরিদরা মহানবী সা:কে ভালোবাসেন। বারো আউলিয়ার দেশ খ্যাত চট্টগ্রামে বা ৩৬০ আউলিয়ার দেশ খ্যাত সিলেটে লাখ লাখ লোক মাজারভক্ত। খুলনা, রাজশাহী, রংপুর এবং ঢাকা মহানগরেও অতীতের আল্লাহর আউলিয়াদের মাজার আছে। মাজারভক্ত লাখ লাখ জনগণের মনে যে রাসূল-প্রেমের শিখা জ্বলন্ত, তা বলার অপো রাখে না। অতএব আমি (একজন সাধারণ শিার মাধ্যমে শিতি ব্যক্তি হলেও) মনে করি, ধর্মীয় মূল্যবোধের চেতনাকে বে ধারণ করতেই হবে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও ধারণ করি; কিন্তু ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি যে, মুক্তিযুদ্ধ ও দ্বীন ইসলাম পরস্পরবিরোধী। অতএব, চিন্তার জগতে পথভ্রষ্ট তরুণসমাজকে সঠিক ও সৎপথে ফেরত আনার জন্য চেষ্টা করতেই হবে এবং পথভ্রষ্টদের মধ্যে যারা আগ্রাসী তাদের প্রতিরোধ করতে হবে, এটাই স্বাভাবিক। এই কাজ করতে গিয়ে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের চেতনা এবং দ্বীন ইসলামের মূল্যবোধের চেতনাকে এবং নেতৃস্থানীয় আলেম-ওলামাদের মধ্যে মতের পার্থক্যকে এলোমেলোভাবে মিশিয়ে ফেলা সমীচীন হবে না।
দ্বীন ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ধর্ম এবং জীবন পরিচালনার পদ্ধতি। দ্বীন ইসলামের মূল নীতির অলঙ্ঘনীয়, প্রশ্নের অতীত রেকর্ড হচ্ছে মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী, পবিত্র কুরআন। এই পবিত্র কুরআনে বিধৃত কোনো নির্দেশকে মানুষ পরিবর্তন করার অধিকার রাখে না। এ প্রসঙ্গে, এই কলামের সব সম্মানিত পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি পবিত্র কুরআনের পঞ্চম সূরার (সূরা মাইদাহ) ৪৪ নম্বর আয়াতে।
হজরত ইমাম মুহাম্মদ আহমদ রেযা খান বেরলভী রহ: কর্তৃক পেশকৃত পবিত্র কুরআনের অনুবাদ যার নাম কান্যুল ঈমান এবং হাকীমুল উম্মত আল্লামা মুফ্তি আহমদ ইয়ার খান নঈমী রহ: কর্তৃক পেশকৃত তাফসির দুই খণ্ডে বাঁধাইকৃত মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান কর্তৃক পেশ করা বঙ্গানুবাদের প্রথম খণ্ড প্রকাশকাল ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৪ দ্রষ্টব্য। আরেকটি বিখ্যাত কুরআনের অনুবাদ ও তাফসির গ্রন্থের নাম ‘তাফসীর মাআরেফুল কুরআন’। এটি পেশ করেছেন হজরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ শাফী রহ:। বাংলাদেশের মাওলানা মুহিউদ্দীন খান এই তফসিরের সংপ্তি বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন এবং ১৪৯০ পৃষ্ঠার একটি খণ্ডে বাঁধাই করে প্রথম প্রকাশ করা হয়েছে সৌদি আরবের মাহামান্য শাসক খাদেমুল-হারামাইনিশ্ শরিফাইন বাদশাহ ফাহদ ইবনে আবদুল আজীজের নির্দেশে ও পৃষ্ঠপোষকতায়। এই অনুবাদকৃত প্রকাশনার নাম পবিত্র কুরআনুল করীম (বাংলা অনুবাদ ও সংপ্তি তফসির)। এখানে সূরা মাইদাহর ৪৪ নম্বর আয়াতের বঙ্গানুবাদ এরূপ করা হয়েছে : ‘আমি তওরাত অবতীর্ণ করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। আল্লাহর আজ্ঞাবহ পয়গম্বর, দরবেশ ও আলেমরা এর মাধ্যমে ইহুদিদের ফয়সালা দিতেন। কেননা, তাদের এ খোদায়ী গ্রন্থের দেখাশোনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং তারা এর রণাবেণে নিযুক্ত ছিলেন। অতএব, তোমরা মানুষকে ভয় করো না এবং আমাকে ভয় করো এবং আমার আয়াতগুলোর বিনিময়ে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না। যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই কাফের।’
উপরে উল্লিখিত দু’টি অনুবাদ ও সংপ্তি তাফসির গ্রন্থ ছাড়াও আমি পবিত্র কুরআনের আরো দু-একটি অনুবাদ গ্রন্থ বা তাফসির গ্রন্থ ঘেঁটেছি আলোচ্য সূরা মাইদাহর ৪৪ নম্বর আয়াতের তাৎপর্য প্রসঙ্গে। শুধু একটি অনুবাদ থেকে অর্থ উপরে উদ্ধৃত করেছি। এই একটি আয়াতেই অন্তত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব (থিউরি) আছে। উদাহরণস্বরূপ আমি চারটি উল্লেখ করছি। প্রথমত, খোদায়ী গ্রন্থের দেখাশোনা করার ও রণাবেণের দায়িত্বের প্রসঙ্গ আছে; এই প্রসঙ্গটি আজ ২০১৪ সালেও প্রযোজ্য। দ্বিতীয়ত, মানুষকে ভয় না করার জন্য বলা হয়েছে বরং আল্লাহকে ভয় করার জন্য বলা হয়েছে। তৃতীয়ত, আল্লাহ তায়ালার প থেকে নাজিল করা নির্দেশ মোতাবেক যারা দুনিয়ায় বিভিন্ন বিষয়ে ফয়সালা করে না, তারাই কাফের। চতুর্থ, আল্লাহর আজ্ঞাবহ পয়গম্বর এখন আর নেই কিন্তু আল্লাহর আজ্ঞাবহ দরবেশ ও আলেমগণ (জ্ঞানী ব্যক্তিগণ) এখনো পৃথিবীতে আছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবেন; তাদের দায়িত্ব বিদ্যমান খোদায়ী গ্রন্থের আলোকে ফয়সালা দেয়া।
আমি নিজে হাটহাজারীর সন্তান। আমি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি জন্মদিন থেকেই যেই স্লোগান প্রচার করছে সেটি হলোÑ (ইংরেজি ভাষায়) পলিটিক্স ফর চেইঞ্জ অথবা (বাংলা ভাষায়) পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি। আমার কণ্ঠ ছোট, আমার দলের কণ্ঠ ছোট। আমাদের দলের কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতি সর্বসাকল্যে ২২টি জেলায় এবং ১০০টি উপজেলায়। আমরা জোটনেত্রীর আহ্বানে আন্দোলনে এবং সব পদেেপ জড়িত। আমরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুণগত পরিবর্তন চাই। সেই পরিবর্তনের মানদণ্ড কী? আমার উত্তর হচ্ছে, মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টি করা মানবজাতির জন্য যেসব বিধান মঙ্গলজনক মনে করেছেন, সেই বিধানগুলোকে আমরা অনুসরণ করতে হবে। যুগের হাওয়ায় গা ভাসিয়ে, করতালির আওয়াজে গা ভাসিয়ে, তথাকথিতভাবে উন্নত বিশ্বের আহ্বানে গা ভাসিয়ে এমন কোনো পরিবর্তন আমরা সমর্থন করি না, যা সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের লালনকর্তা ও পালনকর্তার নির্দেশের পরিপন্থী এবং এইরূপ নির্দেশের মধ্যে একটি নির্দেশ হচ্ছে মানুষের জান ও মালকে সম্মান করা এবং হেফাজত করা। আরেকটি নির্দেশ হচ্ছে প্রত্যেককে তার নিজের ধর্ম অনুসরণ ও পালন করার জন্য পরিবেশ ও সহায়তা প্রদান করা; কেউ কাউকে আক্রমণ না করে। আলেম-ওলামারা এবং সাধারণ দ্বীনদার মুসলমানরা, খেটে খাওয়া সর্বস্তরের মানুষ সবার ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ২০১৪ সালের শেষাংশে, রাজনৈতিক আন্দোলনের ব্যস্ততায়, এই কথাগুলো ভুলে গেলে চলবে না। যদি ভুলে যাই তাহলে মানুষের কল্যাণ সম্ভব হবে না এবং রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে না।
সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে সৃষ্ট ঘটনাবলি এবং আপাতদৃষ্টিতে তার সমাধানের প্রসঙ্গে পাঠককুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কারণ বাংলাদেশে এমন আইন আছে যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অশোভনভাবে সমালোচনা করলে তার সাত বছর জেল হবে, বাস্তবে একজন ব্যক্তির হয়েছেও। অপর পে বাংলাদেশের এই মুহূর্তে বিদ্যমান আইন মোতাবেক মহানবী সা: এবং পবিত্র হজের অশোভন সমালোচনার মাধ্যমে জনগোষ্ঠীর মনে আঘাত দেয়ার কারণে, অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছর জেল। তাই বলছিলাম, আইনটিকে যুগোপযোগীভাবে সংশোধন করে, অতঃপর দ্রুতগতিতে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিচার হওয়া প্রয়োজন। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী একা নন, তার মতো হাজারো লতিফ সিদ্দিকী সমাজে ঘাপটি মেরে আছেন। পত্রিকার পৃষ্ঠা উল্টালেই, অনৈতিক কাজের অশোভন কাজের সংবাদে মাথা ঘুরে যায়, হৃদয় ফেটে যায়। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া ছেলেমেয়েরা ঢাকা মহানগরে শত শত ঘরে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকছে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে। অথচ তারা স্বামী-স্ত্রী নয়। পাশ্চাত্যের ভাষায় এটার নাম ‘লিভিং টুগেদার’ বা লিভ টুগেদার অর্থাৎ একসাথে বাস করা। চার-পাঁচ দিন আগে উত্তরায় যুবায়ের নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে একজন বিকৃত রুচির বিদেশীর যৌন লালসার শিকার হয়ে। ইসলাম ধর্মের মূলনীতিগুলো এবং মূল শিাগুলোকে উদারভাবে সহজভাবে জনগণের কাছে উপস্থাপন করা প্রয়োজন এবং যারা বিকৃতভাবে করবে তাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। আমি মনে করি, মন্ত্রিত্ব থেকে বিদায় দেয়া কোনো শাস্তি নয়। এটি একটি প্রশাসনিক পদপে। আমি মনে করি, প্রচলিত আইনে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিচার হওয়া অতি আবশ্যক। আমি আরো মনে করি যে, সেই প্রচলিত আইনটি জরুরি ভিত্তিতে সংশোধন করে যুগের উপযোগী করতে হবে। যারা মহান আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক প্রদত্ত মূলনীতির বিরোধিতা করে, তাদের কর্মকে বলা যায় সৃষ্টিকর্তার প্রতি চ্যালেঞ্জ। যারা মহান সৃষ্টিকর্তাকে চ্যালেঞ্জ করেন তাদের বিদায় কোনো দিনই সম্মানজনক হয়নি। চ্যালেঞ্জকারীরা যদি রাজা হন বা রাজার পারিষদ হন, তাহলে তাদের বিদায় রাজকীয় হয়; চ্যালেঞ্জকারীরা যদি মুখে মুখে ঈমান রাখেন এবং অন্তরে চ্যালেঞ্জকারী হন তাদের বিদায় অধিকতর মর্মান্তিক হয়। আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিদায় এখনো হয়নি, প্রক্রিয়া মাত্র শুরু হয়েছে।
লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
www.generalibrahim.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কানাডায় হিজাবের নবসমাদর by মঈনুল আলম
আমি জানি না, জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশের কোনো প্রধান সংবাদপত্রে হিজাবের সমাদরে এমন জোরালো বক্তব্যসংবলিত একাধিক চিত্র দিয়ে এমন প্রায় পূর্ণপৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে কি না। ‘টরন্টো স্টার’ প্রতিবেদনের উপশিরোনামে লিখেছে, ‘দিনা জায়েদ হ্যাজ ফাউন্ড ক্রিয়েটিভ ওয়েজ টু অনার হার রিলিজিয়াস বিলিফ্স’ (দিনা জায়েদ তার ধর্মবিশ্বাসকে সম্মান করার সৃষ্টিধর্মী প্রক্রিয়া দেখতে পেয়েছেন)।
‘টরন্টো স্টার’ প্রায় পূর্ণপৃষ্ঠাব্যাপী প্রতিবেদনে দিনা জায়েদের হিজাব পরা দাঁড়ানো ও বসা বিভিন্ন পোজে চিত্রের পাশাপাশি প্রকাশ করেছে তার দীর্ঘ বিবৃতি। আরেক উপশিরোনামে পত্রিকাটি লিখেছে, ‘মুসলিম মহিলা তার ধর্মের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সৃষ্টিধর্মী পোশাক সম্পর্কে সাহসী বক্তব্য রেখেছেন’ (মুসলিম উইম্যান মেইক্স বোল্ড, ক্রিয়েটিভ ফ্যাশন স্টেটমেন্টস হোয়াইল অনারিং হার রিলিজিয়ন)।
দিনা জায়েদ তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘প্রায়শ মানুষ মনে করে যে নির্যাতনের ভয়ে বাধ্য হয়ে মুসলিম মেয়েরা হিজাব পরেন এবং হিজাব পরলে নারীকে অসুন্দর দেখায়; কিন্তু এটা সত্য নয়। হিজাব পরা একটি ধর্মীয় আচার যেটা পালন করা বা না করা নারীর ওপর বর্তায়, যেমন খ্রিষ্টানদের গির্জায় যাওয়া তাদের একটি ধর্মীয় বিধি। মুসলিম দেশগুলোতে যেহেতু বেশির ভাগ অধিবাসীই মুসলিম এবং ধর্ম পালনে আগ্রহী, সেহেতু হিজাব পরা কালক্রমে সংস্কুতির একটি অঙ্গ হয়ে গেছে।’
দিনা জায়েদ আরো বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস আমি হিজাব পরাতে যে একটা সামঞ্জস্য এনেছি, তা-ই আমাকে আমি কে, সে পরিচয় দিয়েছে। আমি অপরিহার্যভাবে কালো রঙের হিজাব পরি না। আমি শরীরের নিচের অংশে যে রঙের পোশাক পরি তার সাথে সুন্দরভাবে মানায় এমন রঙের হিজাব পরি। দর্শকেরা আমার হিজাব পরাকে কেবল একটি ধর্মীয় আচার পালন রূপে না দেখে আমার হিজাব পরার মধ্যে আমার একটা নিজস্ব পরিচয় ফুটে ওঠে বলে উপলব্ধি করে।’
‘আমার হিজাব পরার জন্য আমি বেশ প্রশংসা পাই। আমি বুঝেছি মানুষ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের তাদের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে উজ্জ্বল রঙের মাধ্যমে প্রকাশ করছে দেখলে খুশিই হয়। অমুসলিম ব্যক্তিদের কাছ থেকে আমি প্রায়শ ‘ওহ্, আপনার স্কার্ফটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে’, ‘আপনি মাথায় যেটা (হিজাব) দিয়েছেন তাতে আপনাকে বেশ জমকালো দেখাচ্ছে’, ‘আপনার সমগ্র পোশাকে রঙের যে সুন্দর সমন্বয় ঘটিয়েছেন তা আমার খুব ভালো লাগছে’Ñ এসব ধরনের মন্তব্য শুনতে পাই। এসব প্রশংসাসূচক মন্তব্য আমাকে বোঝাচ্ছে যে, পরিধানের সাথে হিজাবের সামঞ্জস্য করে আমি যে প্রকারের পোশাক পরিকল্পনা করি এবং পরিধান করি, তা করতে আমি যে চিন্তা ও সময় বিনিয়োগ করি মানুষ তা উপলব্ধি করে।
দিনা আরো বলেছেন, ‘আমার পোশাকে অপরিহার্যরূপে হিজাব পরার মাধ্যমে আমি বলতে চাই, কেবল ধর্মীয় আচার পালনের বাধ্যবাধকতা পালনরূপে আমি হিজাব পরি না, হিজাব পরার মাধ্যমে আমি একটা বার্তা পৌঁছাতে চাই। তা হলো, আমি একজন মুসলিম নারী এবং হিজাব পরি বলে আমাকে অসুন্দর দেখায় না। হিজাব পরেই আমি একই সময়ে আমাকে শ্রীমণ্ডিত এবং বিনয়ী করে তুলতে পারি।’
টরন্টোতে বসবাসকারী গুজরাটি মুসলিম নারীরা শিশুকাল থেকে হিজাব পরেন এবং শরীর পুরাপুরি পোশাকাবৃত রাখেন। এই নারীশিশু ও বালিকারা হিজাব পরা এবং সারা শরীর আবৃত পোশাকেই রাস্তায় সাইকেল চালায়, স্কুলের মাঠে সব ধরনের খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ করে নির্দ্বিধায়। টরন্টোর কোনো কোনো এলাকায় যেখানে গুজরাটি মুসলমানেরা বেশ সংখ্যায় বাস করে, সেখানে কোনো কোনো আগন্তুকের চোখে এলাকাটিকে গুজরাট অথবা পাকিস্তানের কোনো শহরের এলাকা বলে মনে হতে পারে। কানাডার জাতীয় মহিলা বাস্কেট বলের টিমে যেসব মুসলিম মহিলা খেলোয়াড় আছেন, তাদের খেলার মধ্যেও মাথায় হিজাব রাখার অনুমোদন দেয়া হয়েছে বছর দুয়েক আগে।
লেখক : প্রবীণ সাংবাদিক, প্রবাসী
moyeenulalam@hotmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক দাপটে অসহায় মাঠ প্রশাসন by আলী ইমাম মজুমদার

সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় আইনপ্রণেতা শিবলী সাদিকের ভাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দলটি ইউএনওকে নির্দয়ভাবে প্রহার এবং অফিস ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। গভীর রাতে মুখোশ পরে আসামিরা আসেননি। তাঁরা এসেছেন স্বীয় পরিচয়ের ‘গৌরব ও ক্ষমতার’ প্রতিভূ হিসেবে। এসেছেন প্রকাশ্য দিবালোকে বেলা সাড়ে ১১টায়। হামলাকারীদের ক্ষোভ সেই উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় ৩৯ জন নৈশপ্রহরী নিয়োগ নিয়ে। নৈশপ্রহরীরা নিয়োগ পেয়েছিলেন গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। তবে কোনো অদৃশ্য প্রভাবে বেতন পাচ্ছিলেন না। ঈদ সামনে রেখে ইউএনও তাঁদের নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র ঘটনার আগের দিন সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসে পাঠিয়ে দেন বেতন দেওয়ার সুবিধার্থে। ঢাকার একটি ইংরেজি দৈনিকের খবর অনুসারে, এ পদগুলোয় নিয়োগ দিতে হামলাকারীদের কেউ কেউ তিন থেকে ছয় লাখ টাকা করে নিয়ে রেখেছেন কারও কারও কাছ থেকে। এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আক্রোশের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটান ১ অক্টোবর।
এ নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাবলয়ে অবস্থানকারী কেউ হয়তো বা একমত ছিলেন না। তবে প্রক্রিয়াটি আইনসিদ্ধ নয়, এমন কোনো অভিযোগও জানা যায় না। হয়নি কোনো প্রশাসনিক অভিযোগ কিংবা আদালতে মামলা। শুধু বেতন দেওয়া হচ্ছিল না নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের। তাঁদের কাগজপত্র ইউএনও অফিসে পড়ে ছিল। আহত ইউএনও সৈয়দ ফরহাত হোসেন নিয়োগ-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অনেক পরে যোগদান করেন এ উপজেলায়। নিয়োগপ্রাপ্ত লোকগুলো মাসের পর মাস বেতন পাবেন না কোনো অদৃশ্য প্রভাবে, এটা তিনি মেনে নেননি। তাই কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দেন। পরিণতিতে মোকাবিলা করলেন এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। মামলা হয়েছে। সময়ান্তরে হয়তো কিছু লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন হাজতবাসও করবেন। আদালতে বিচারের জন্য যখন উঠবেন, তখন আহত ইউএনওসহ অনেক সাক্ষীই বদলি হয়ে যাওয়ার কথা। এ-জাতীয় ঘটনার অতীত ঐতিহ্য তা-ই বলে। যাঁরা থাকবেন, তাঁরা বোঝেন কত ধানে কত চাল হয়। তাই সাক্ষ্য দিতে আদালতে গেলেও সে হিসাব মনে রাখবেন। আর বদলীকৃত স্থান থেকে বৈরী পরিবেশে মূল সাক্ষীরা এসে সাক্ষ্য দিতে উৎসাহ হারাবেন। আদালত মামলার বিচার করবেন প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে। এ-জাতীয় অনেক ঘটনায় অতীতে যা ঘটেছে, তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটবে, এমন দুরাশা কেউ করে না।
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় যা ঘটেছে, তা মাত্রার হেরফের হলেও প্রায়ই ঘটে চলছে দেশের সর্বত্র। পুলিশের ওপরও হামলা হচ্ছে। হামলা হয় থানায়। বিরোধী দলের আন্দোলনকালে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোও যথাযথভাবে আইনের আওতায় আনা যায়নি। সেখানে বেশ কিছু ক্ষেত্রে আসামিদের দৃশ্যমানভাবে সহায়তা করছেন সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা। আর সরকারি দল কিংবা এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এ-জাতীয় ঘটনা নিজেরাই ঘটিয়ে চলছেন বিভিন্ন অঞ্চলে। শুধু ইউএনও অফিস বা থানা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা অজুহাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটান। আর কার্যত দায়মুক্তি পাচ্ছেন প্রায় সব ক্ষেত্রে। স্থানীয় যে নেতৃত্ব তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাঁরা তো থাকছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই। অথচ সবাই সবকিছু জানেন ও বোঝেন। কিন্তু মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে। এ কারণে প্রশাসনের অনেকেই ন্যায্য কথা বলার সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলছেন।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যাঁরা আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের একটি অংশ মনে করে, তাঁদের আওতার বাইরে সেখানকার কোনো কিছুই থাকবে না। ২০০১ সাল থেকে এ প্রবণতা জোরদার হতে শুরু করে। এখন ষোলোকলায় পূর্ণ হয়েছে। ফলে তাঁরা আইনপ্রণেতার কার্যক্রম প্রায় বিস্মৃত হয়ে উপজেলা পরিষদ, স্থানীয় প্রশাসন আর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ক্ষমতা নিজেরা প্রয়োগে তৎপর। কাগজ-কলমে যা-ই থাকুক, সিদ্ধান্ত আসে সেই ক্ষমতার বলয় থেকে। এমনটা না হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী নিয়োগ নিয়ে আইনপ্রণেতা কিংবা তাঁর সহযোগী-সমর্থকদের এ তৎপরতা কেন? আর সরকারই বা এসব কেন প্রশ্রয় দিচ্ছে দিনের পর দিন?
দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সরকারি কর্মকর্তাদের আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে বলেন। নির্দেশনা দেন ভীতি ও অনুরাগের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালনের। কিন্তু বাস্তবে তাঁরা তা করতে পারছেন না, এটা অনেকেরই জানা। আর এতে শাসনযন্ত্রের যত ক্ষতিই হোক, দলীয় লোকদের কর্তৃত্বকে খাটো করতে চাইছেন না শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই। এ কারণে শাসনব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার, দেশ ও জাতি। সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের ভীতি ও শঙ্কা উত্তরোত্তর জোরদার হচ্ছে। অনেক ‘বুদ্ধিমান’ কর্মকর্তা তাই এ পরিস্থিতি এড়িয়ে চলেন। নেন না কোনো ঝুঁকি। আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের পথ থেকে তাঁরা দূরে থাকেন। এমনকি তাঁদের সহকর্মীদের কেউ অন্যায়ভাবে বৈরী পরিবেশের সম্মুখীন হলে তাঁদের পেছনে দাঁড়ান না। ঊর্ধ্বতন কেউ কেউ তাঁদের ‘ট্যাক্টলেস’ বলে আখ্যায়িত করেন। অথচ দু-একটি ক্ষেত্রে যদি দ্রুত দৃশ্যমান ন্যায়ানুগ প্রতিকার হতো, তাহলে অবস্থার উন্নতি ঘটত।
প্রতিকার হয়নি পাবনায়। সেখানে আইনের পথে চলতে গিয়ে জেলা প্রশাসক ও তাঁর সহকর্মীরা হেনস্তা হয়েছিলেন। ত্বরিত বদলি করে দেওয়া হয় জেলা প্রশাসকসহ ঘটনার সম্ভাব্য সাক্ষী সব কর্মকর্তাকে। মামলায় আসামিরা কিছুদিন হাজতবাস করেন। কিন্তু সাক্ষ্য-প্রমাণ না থাকায় খালাস পান সবাই। আর সে ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা স্থানীয় নেতা রইলেন সম্পূর্ণ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। উখিয়া ও টেকনাফে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অনেক কর্মকর্তা। সেখানে লাঞ্ছনার দায়িত্ব নিয়েছেন নেতা স্বয়ং। আগের নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী আইনে মামলা করতে পদক্ষেপ নিলেও জেলা প্রশাসন এড়িয়ে যায়। সম্ভবত তারা কৌশলী বা ‘ট্যাক্টফুল’ থাকতে চেয়েছে। কয়েক মাস আগে নারায়ণগঞ্জে একটি সংসদীয় উপনির্বাচনে জনৈক নেতা পুলিশের একজন এএসপিকে টেলিফোনে হুমকি দেন। সেখানেও নির্বাচনী আইন সরলরেখায় চলছে, এমন খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে আসীন হয়েও কেউ কেউ এ ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের অভ্যাস ছাড়েন না, বরং জোরদার হন। যেমন সদ্য অব্যাহতি পাওয়া একজন মন্ত্রী প্রায়ই বাসায় ডেকে কিংবা কোনো অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। ক্ষেত্রবিশেষে করতেন মারধর। তাঁর ছয় বছরের মন্ত্রিজীবনের সমাপ্তি ঘটাতে এসব কিছুই কাজ করেনি; পদ গেছে অন্য বিষয়ে কয়েকটি স্পর্শকাতর মন্তব্যের জন্য।
সরকারি কর্মকর্তারা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আইন, বিধি কিংবা সরকারি নির্দেশ অনুসারে কাজ করেন। তাঁরা সেগুলো সঠিকভাবে করছেন কি না, এটা জনপ্রতিনিধিরা দেখতে পারেন। সেখানে ব্যত্যয় ঘটলে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরেও আনতে পারেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ কিংবা মতামত সব স্তরেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। কিন্তু যেটা জনপ্রতিনিধিদের কাজ নয়, সেখানে হস্তক্ষেপ প্রশাসনব্যবস্থার মূলে আঘাত হানছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য বিষয়টি আপাতমধুর হলেও পরিণতিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। আর এর মধ্যেই তা ফেলতে শুরু করেছে। মেধাবী উদ্যমী কর্মকর্তারা কি সবাই অন্যায্য দাবির সঙ্গে আপস করে চলবেন? আশা করব, তাঁরা মনোবল না হারিয়ে সীমিত সামর্থ্য নিয়ে ন্যায়ের পক্ষে সক্রিয় থাকবেন। উনিশ শতকের ইংরেজি ভাষার রোমান্টিক কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিভা শেলি। জীবনের সব অন্ধকার আর কলুষতা থেকে তিনি মুক্তির স্বপ্ন দেখেছেন। কবি তাঁর বিখ্যাত ‘ওউড টু দ্য ওয়েস্ট উইন্ড’ কবিতায় লিখেছেন, ‘শীত যদি আসে, বসন্ত কি দূরে থাকতে পারে?’ দিনাজপুরে সম্প্রতি লাঞ্ছিত ইউএনওসহ বাংলাদেশের জনপ্রশাসনে যাঁরা আছেন, তাঁরা কবি শেলির এ বিশ্বাসের সঙ্গে একাত্ম হয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারেন।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এ এক অসহায়ত্বের যুগ by জোসেফ ই স্টিগলিৎজ
দ্বিতীয়ত, জাতিসংঘের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট প্রতিবেদন ২০১৪ উল্লিখিত তথ্য-উপাত্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। প্রতিবছর ইউএনডিপি হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সের ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। এতে উপার্জনের বাইরেও মানুষের ভালো থাকার আরও কিছু মাত্রা আমলে নেয়, যেমন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা। এই হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সের মাপকাঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পঞ্চম, তার আগে আছে যথাক্রমে নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস। কিন্তু অসমতার মাপকাঠিতে যখন তার অবস্থান নির্ণয় করা হয়, তখন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও ২৩ ধাপ পেছনে চলে যায়। দেখা গেল, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান গ্রিস ও স্লোভাকিয়ার পেছনে। এসব দেশকে মানুষ সাধারণ অনুকরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচনা করে না বা তারা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের কাতারে পড়ে না।
ইউএনডিপির উল্লিখিত প্রতিবেদনে সামাজিক পারফরম্যান্সের আরও একটি সূচকে জোরারোপ করা হয়েছে। সেটা হচ্ছে অসহায়ত্ব। এ প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, অনেক দেশ সফলভাবে দারিদ্র্য থেকে বের হলেও বহু মানুষের জীবন এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। অসুস্থতার মতো ছোট একটি ঘটনায় তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যেতে পারে। জীবনের নিম্নমুখী গমনই সেখানে প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর ঊর্ধ্বমুখী গমনের সম্ভাবনাও খুবই সীমিত। যুক্তরাষ্ট্রে উল্লিখিত ঊর্ধ্বমুখী গমন কোনো বাস্তবসম্মত ব্যাপার নয়, বরং সেটা একধরনের রূপকথার মতোই। বহু মানুষের জীবনে অসহায়ত্ব এখন নিত্যসঙ্গী। এর আংশিক কারণ হচ্ছে দেশটির স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ খাতে সংস্কার করলেও এর কারণে বহু দরিদ্র মার্কিনের জীবন অনিশ্চয়তার পঙ্কে নিমজ্জিত হয়েছে। সমাজের নিচু কোটির মানুষেরা সেখানে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে, অর্থাৎ দেউলিয়া হওয়ার আগের ধাপে অবস্থান করছে। অসুস্থতা, বিবাহবিচ্ছেদ ও চাকরি হারানোর মতো ঘটনা তাদের ঠেলে খাদ পার করে দিতে পারে।
২০১০ সালে পেশেন্ট কেয়ার অ্যান্ড অ্যাফর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট করা হয়, এর লক্ষ্য ছিল এসব হুমকির মাত্রা কমানো। আর প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমাহীন মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কিন্তু অংশত সর্বোচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্ত ও রিপাবলিকান গভর্নর ও আইনপ্রণেতাদের গোঁয়ার্তুমির কারণে ২৪টি রাজ্যে মেডিকেইড-সেবা (দরিদ্র্যদের বিমাসেবা) ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি; যদিও এর পুরো প্রিমিয়ামই ফেডারেল সরকারের দেওয়ার কথা—যুক্তরাষ্ট্রের ৪১ মিলিয়ন মানুষের বিমা নেই। আর অর্থনৈতিক অসমতা রাজনৈতিক অসমতায় পরিণত হলে সরকার নিচু কোটির মানুষের দিকে কোনো নজরই দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ রাজেই ব্যাপারটা এমন।
জিডিপি বা হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্সে পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটে না। আবার অসহায়ত্বে নিপতিত দেশগুলোর মধ্যকার পার্থক্যও এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায় না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশেই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যাপক অবনমন ঘটেছে। যাদের চাকরি আছে, তারা সব সময় চাকরি হারানোর ভয়ে থাকে, আর যাদের চাকরি নেই, তারা চাকরি পাবে কি না, সেই শঙ্কায় দিনাতিপাত করে।
সাম্প্রতিক সময়ের এই অর্থনৈতিক মন্দায় বহু মানুষের সম্পদ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্টক মার্কেট ঘুরে দাঁড়ালেও মধ্যবিত্তের সম্পদ ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কমেছে। তার মানে, মধ্যবয়স্ক ও বয়স্ক লোকজন তাদের জীবনযাত্রার মান নিয়ে শঙ্কিত হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর হারিয়েছে, আরও লাখ লাখ মানুষ বাড়িঘর হারানোর আশঙ্কায় দিন গুনছে।
এই অনিরাপত্তার বিষয়টি মূল ধারার মার্কিনদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এ কথা বলার কারণ হচ্ছে, উল্লিখিত অনিরাপত্তার ব্যাপারটি ছাড়াও দেশটির বিভিন্ন শহরে বসবাসরত হিস্পানি ও আফ্রিকান-আমেরিকান মানুষ একটি অকার্যকর বিচারিক ও পুলিশি ব্যবস্থার সম্মুখীন হচ্ছে। রাতে একটু পান করে সকালে কেউ পুলিশের হাতে পড়লে অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির শিকার হতে হয়, সেটা কারাবাস পর্যন্ত গড়াতে পারে।
ইউরোপ এ ব্যাপারটি বোঝে। তাই তারা আগে থেকেই সামাজিক সুরক্ষা প্রবর্তন করেছে। ইউরোপীয়রা এটা বোঝে যে সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকলে তা পরিণামে অর্থনীতিতেও সুফল বয়ে আনতে পারে। কারণ, মানুষ বেশি ঝুঁকি নিলে তা উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে ধাবিত হয়।
কিন্তু আজ ইউরোপের নানা প্রান্তে উচ্চ হারের বেকারত্ব (গড়ে ১২%, সর্বোচ্চ ২৫%) ও এর সঙ্গে কট্টরপন্থাজনিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাজেট হ্রাসের কারণে অভূতপূর্বভাবে অসহায়ত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সামাজিক সমৃদ্ধির অবস্থা প্রথাগতভাবে মোট দেশজ উৎপাদনে যা দেখানো হয়, তার চেয়ে অনেক নিম্নগামী। এই পরিসংখ্যান আবেদন হারিয়ে ফেলেছে। কারণ, অধিকাংশ দেশের প্রকৃত মাথাপিছু (মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয়ের পর) আয় সংকটের আগের সময়ের চেয়েও কম।
একটি অর্থনীতির ভালো-মন্দ মোট দেশজ উৎপাদনে প্রকৃতরূপে প্রতিফলিত হয় না। ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন দ্য মেজারমেন্ট অব ইকোনমিক পারফরম্যান্সের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। আমি বর্তমানে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের শুমারি ও ইউএনডিপির প্রতিবেদন আমাদের এই অন্তর্দৃষ্টির গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। এই মোট দেশজ উৎপাদন একটি বদ্ধ সংস্কারে পরিণত হয়েছে, আমরা এর বেদিতে বহু কিছুই উৎসর্গ করেছি। একটি অর্থনীতিতে মোট দেশজ উৎপাদন যতই বাড়ুক না কেন, তার সুফল যদি অধিকাংশ মানুষ ভোগ না করে, বিপুলসংখ্যক মানুষ যদি ক্রমবর্ধমান হারে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তাহলে সেটি একটি ব্যর্থ অর্থনীতি—একদম মৌলিক বিবেচনায়। আর যে নীতির কারণে সমাজে নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে যায় বা অধিকাংশ মানুষের জীবনমানের অবনমন ঘটে, সেটাও মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ নীতি।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন; স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
জোসেফ ই স্টিগলিৎজ: নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পরমাণু বিদ্যুৎ ছাড়া জাপানের পথ নেই by মুশফিকুর রহমান
ফুকুশিমা দুর্ঘটনার আগে জাপানের উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সে দেশের ৫৪টি পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুল্লি (রিঅ্যাকটর) থেকে জোগান পেত। ফুকুশিমায় অভাবনীয় তীব্রতার ভূমিকম্প ও সুনামির ধাক্কায় সেখানকার প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ছড়িয়ে পড়ে তেজস্ক্রিয় বস্তু। সুনামির প্রভাবে ফুকুশিমা ও সন্নিহিত এলাকায় ২০১১ সালে প্রায় ১৯ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে, কিন্তু সেখানকার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। অবশ্য প্রায় এক লাখ ২০ হাজার মানুষকে আশপাশের এলাকা থেকে সম্ভাব্য বিপদাশঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয়তা বিকিরিত হয়ে তা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেন না ঘটায়, সে জন্য কেন্দ্রসন্নিহিত বসবাসকারী মানুষ সরিয়ে তাদের অস্থায়ী আবাসস্থলে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। স্বভাবতই বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং তাদের আপনজন পরমাণুকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন।
দুর্ঘটনা-পরবর্তী বৈরী জনমতের চাপে জাপানের পরমাণু শক্তিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রসমূহ বন্ধ করা হয়। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাঝুঁকি যাচাই করে জাপানে দুটি রিঅ্যাকটর কিছুদিন আগে পুনরায় চালু হয়েছে। জাপানের স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেশের সব পরমাণুকেন্দ্রের ‘পরমাণু থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন’ বা স্ট্রেস টেস্ট সম্পন্ন করছে। এর মধ্য দিয়ে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে তীব্র ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানলেও তার টিকে থাকার পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এ বছরই জাপানের সেনদাই প্রদেশে স্বাভাবিক বিবেচনায় আরও দুটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হচ্ছে।
জাপানে ২০১২ সালে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের পরিমাণ ছিল ১,০৩৩ বিলিয়ন কিলোওয়াট (টেরাওয়াট)। এর মধ্যে ২৯২ টেরাওয়াট কয়লা থেকে, ৪২৬ টেরাওয়াট গ্যাস থেকে, ১১ টেরাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ থেকে, ১৭১ টেরাওয়াট তেল ও ৮৫.৭ টেরাওয়াট জলবিদ্যুৎ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য উৎস থেকে একই সময়ে জোগান এসেছে নগণ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ (সৌরবিদ্যুৎ ৪.৫ টেরাওয়াট, বাতাসের শক্তি থেকে ৪.৩, জিওথারমাল-২.৫ এবং বায়োমাস ও বর্জ্য পুড়িয়ে ৩৭ টেরাওয়াট)। মনে রাখা ভালো, এ সময়ে অধিকাংশ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ছিল বা বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিল। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না পেয়ে জাপানের জন্য বিকল্প অনুসন্ধান অপরিহার্য হয়ে ওঠে। জাপান উদ্যোগ নেয় প্রযুক্তির দক্ষতা, কৃচ্ছ্র এবং বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের। কিন্তু তাতে খুব বেশি এগোনো যায়নি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাড়তি জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির চাপ অর্থনীতির জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। ২০১৩ সালেই জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে জাপানকে ব্যয় করতে হয় অতিরিক্ত প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। ফলে একই বছরে বরাবরের রপ্তানি উদ্বৃত্ত জাপানি অর্থনীতিকে ১৩.৭৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ১৩৪ বিলিয়ন ডলার) বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়তে হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জাপানের ইউনিটপ্রতি ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে থাকে (গড়ে প্রতি ইউনিটে উৎপাদন ব্যয় ৮.৬ ইয়েন থেকে বেড়ে ১৩.৬ ইয়েনে উত্তীর্ণ হয়)। জাপানের বিজনেস ফেডারেশনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ‘পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করায় জাপান থেকে বছরে ৩৪.৯ বিলিয়ন ডলার পরিমাণ জাতীয় সম্পদ বিদেশে চলে যাচ্ছে।’ এই পটভূমিতে ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো লিখিতভাবে সরকারের কাছে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত চালু করার আবেদন পেশ করে।
এদিকে কিয়োটো প্রটোকলের ঘোষণায়, ২০৫০ সাল নাগাদ জাপান বায়ুমণ্ডলে (২০০০ সালের পর্যায় থেকে) ৫৪ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের উদগিরণ হ্রাস করতে চেয়েছিল। ৬০ শতাংশ পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর ভর করে ২১০০ সাল নাগাদ জাপান কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ ৯০ শতাংশ হ্রাস করার ঘোষণা দিয়েছিল (২০০২ সালে)। ফুকুশিমা দাইচি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্ঘটনা সব এলোমেলো করে দেয়। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জাপান পর্যায়ক্রমে আবারও তার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করতে শুরু করেছে। অবাক হওয়ার ব্যাপার হবে না, যদি অদূর ভবিষ্যতে ফুকুশিমা দুর্ঘটনা-পরবর্তী হুজুগে বিভিন্ন দেশে যারা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল, তারাও জাপানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে।
ড. মুশফিকুর রহমান: খনি প্রকৌশলী, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিধানসভা নির্বাচন- মহারাষ্ট্র-হরিয়ানা মোদি-শাহ জুটির ললাটলিখন by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
বিধানসভা ভোটে ছবিটা বদলে গেল। মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় বিজেপি তার এত দিনের সঙ্গীদের হেলায় ছেড়ে দিয়ে মোদির কাঁধে চেপে একার ক্ষমতায় রাজ্য দখলের বাজিটা খেলে ফেলেছে। মহারাষ্ট্রে তারা ত্যাগ করল সিকি শতকের বিশ্বস্ত ‘স্বাভাবিক মিত্র’ শিবসেনাকে। হরিয়ানায় তারা টোকা-মেরে-পোকা-সরানোর ঢঙে ছেঁটে দিল তিন বছরের জোটসঙ্গী হরিয়ানা জনহিত কংগ্রেসকে। ফলে হলো কী, দুটি রাজ্যেই ভোট হচ্ছে পঞ্চমুখী। শিকে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে ছিঁড়বে, জল্পনা আপাতত তা নিয়েই।
লোকসভা ভোটের সময় যেসব সংস্থা নির্বাচনী সমীক্ষা বা জরিপ চালিয়েছিল, তাদেরই কেউ কেউ এবার এই দুই রাজ্যের সম্ভাব্য ফলের একটা আভাস দিয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, দুই রাজ্যেই একক গরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে আসবে বিজেপি। কিন্তু তা সত্ত্বেও একার ক্ষমতায় বিজেপি হয়তো কোনো রাজ্যেই (মহারাষ্ট্রে কানের পাশ দিয়ে তির বেরোলেও বেরোতে পারে) সরকার গড়তে পারবে না। অন্যভাবে বলতে গেলে, বিজেপিই হবে সরকার গড়ার প্রধান দাবিদার; তবে সে জন্য তাকে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্য থেকে কাউকে না কাউকে বেছে নিতে হবে। তেমন হলে বিজেপির পক্ষে সেটাই কিন্তু প্রবল জয় বলে গণ্য হবে এবং প্রমাণিত হবে, উপনির্বাচনগুলোয় বিশেষ ভালো না করলেও শেষ বিচারে মোদির ভাবমূর্তি এখনো অম্লান। বোঝা যাবে, অমিত শাহর সাংগঠনিক শক্তির ওপর আস্থা রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে বিরাট ঝুঁকিটা নিয়েছিলেন, সেই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না।
এটা ঠিক যে এই দুই রাজ্যেই গত লোকসভা ভোটে জোটবদ্ধ বিজেপি সব প্রতিরোধ ভাসিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু পাশাপাশি এটাও ঠিক যে এই দুই রাজ্যে বিজেপি কখনো সেই অর্থে জোটের নেতৃত্ব দেয়নি। মহারাষ্ট্রে নিতিন গড়কড়ি ও গোপীনাথ মুন্ডের মতো নেতা থাকা সত্ত্বেও জোটের রাশ ছিল শিবসেনার হাতে। শিবসেনার তুলনায় বিজেপি বেশি আসন জিতেছিল ঠিকই, কিন্তু সাংগঠনিক শক্তি বেশি ছিল শিবসেনারই। তা ছাড়া শিবসেনার নেতৃত্ব ছিল বালাসাহেব ঠাকরের মতো এক অবিসংবাদিত নেতার হাতে। হরিয়ানাতেও জনহিত কংগ্রেস নেতা কুলদীপ বিষ্ণোইয়ের আবেদন ছিল বেশি। অথচ মোদির নামে ভোট হওয়ায় মোদির নাম-মাহাত্ম্যই বিজেপি ও তার জোটসঙ্গীদের শেষ পর্যন্ত তরিয়ে দেয়। এই সাফল্যই মোদি-শাহ জুটিকে সাহসী করে তোলে। তাঁদের ধারণায়, দলের ডানা মেলার এটাই সেরা সময়। এখনো মোদি-হাওয়ার রেশ মেলায়নি। ঝুঁকি এখন না নিলে আর কোনো দিনই নেওয়া যাবে না, বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে। শিবসেনাকে চাপে না রাখলে শিবসৈনিকেরাই ছড়ি ঘোরাবে। বড় তরফ হয়েও ছোট তরফকে জি হুজুর, জি আজ্ঞে করে চলতে হবে। সেখান থেকে ঝটকা মেরে বেরিয়ে আসা দরকার ছিল বিজেপির। মোদি-শাহ জুটি দলের প্রবীণদের (আদভানি ও যোশি) আরজিতে কান না দিয়ে জোট ভেঙে নিজেরাই নিজেদের চ্যালেঞ্জ জানালেন।
চ্যালেঞ্জটা অবশ্যই বিরাট। কারণ, গোপীনাথ মুন্ডের আকস্মিক মৃত্যুর কারণে মহারাষ্ট্রে বিজেপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো আর কেউ থাকলেন না। হরিয়ানাতে আগেও কেউ ছিলেন না, এখনো নেই। তুলনায় বিজেপির বিরুদ্ধ দলগুলোর প্রতিটিতেই মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিদারেরা চিহ্নিত। যেমন কংগ্রেস। ঘোষিত না হলেও গোটা রাজ্য জানে, কংগ্রেস জিতলে তার মুখ্যমন্ত্রী হবেন পৃথ্বীরাজ চৌহানই। শিবসেনার প্রধান উদ্ধব ঠাকরে নিজেই নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। বিজেপির সঙ্গে তাঁদের মনোমালিন্যের অন্যতম কারণও এই। এনসিপি দলে শারদ পাওয়ার ছাড়াও রয়েছেন তাঁর ভাইপো অজিত পাওয়ার। মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা ক্ষমতা পেলে রাজ ঠাকরেই যে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তাও সবারই জানা। হরিয়ানাতেও একই ছবি। কংগ্রেসের প্রচারে সোনিয়া-রাহুল এলেও রাজ্যবাসী জানে, জিতলে ভূপিন্দর সিং হুডাই আবার হবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ভারতীয় জাতীয় লোক দলের নেতা ওমপ্রকাশ চৌটালা অনেক দিন হলো সপুত্র তিহারে বন্দী। রাজ্যে ক্ষমতাসীন থাকাকালে একটি দুর্নীতির মামলায় অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন তাঁরা দুজনেই। অসুস্থতার কারণে প্যারোলে মুক্ত হয়ে ওমপ্রকাশ চৌটালা চুটিয়ে প্রচার করলেন। এ নিয়ে হইহই হতে শেষ পর্যন্ত ফের তাঁকে তিহার জেলে যেতে হয়েছে। যদিও বারবার তিনি বলেছেন, ভোটে জিতে তিহারে বসেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন। কুলদীপ বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে বিজেপির খটাখটিও যে লেগেছিল, তা ওই মুখ্যমন্ত্রীর পদকে ঘিরেই। অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রিত্বের প্রশ্নে একমাত্র অনিশ্চিত বিজেপি। বিজেপির এই কমজোরিতাই অন্য সব দলের আক্রমণের লক্ষ্য। কিন্তু বিজেপিও জানে, তাদের তুরুপের তাস নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যস্তরের নেতা না থাকার অভাব মোদিকে খাড়া করেই তারা পুষিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। মোদি তাই এই দুই রাজ্য চষে ফেললেন। ৩০টির বেশি জনসভা করে ভোট চেয়েছেন নিজের নামে।
এই বিরাট ঝুঁকি নিয়ে মোদি-শাহ জুটি কি ঠিক করেছেন? প্রশ্নটা এখনো বিজেপিকে দুলিয়ে রেখেছে। ঝুঁকি নেওয়ার পক্ষে যে যুক্তিটা মোদি-শাহ জুটি দিয়েছেন, তা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। মোদি-হাওয়ায় মহারাষ্ট্রে ৪৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছিল ২৩টি, শিবসেনা ১৮টি। তবে কেন শিবসেনার নেতৃত্বে বিজেপি ময়দানে নামবে? কেন নিজের শক্তি কতখানি, তা পরখ করবে না? হরিয়ানাতেও ৯০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে লোকসভা ভোটে বিজেপি এগিয়ে ছিল ৫২টিতে। তবে কেন কুলদীপ বিষ্ণোইয়ের পেছন পেছন ঘুরবে তারা? নিজের পায়ে দাঁড়ানোর মোক্ষম মুহূর্ত এটাই। কারণ, মোদি-শাহ জুটি মনে করে, এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারে না। মোদি-ম্যাজিক এখনো অটুট। লোহা এখনো গনগনে গরম। ঘা দেওয়ার প্রকৃত সময় এটাই। নানান সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে মোদি এখনো সাধারণ মানুষের কাছে স্বপ্নের ফেরিওয়ালা রয়ে গেছেন। বিদেশিরা তাঁকে মাথায় তুলে নাচছে। অতএব, শক্তি যাচাইয়ের এটাই মাহেন্দ্রক্ষণ।
তবু শেষ বিচারে বলতেই হবে, ভারতীয় ভোটারদের চরিত্র নির্ভুল বোঝা কারও কর্ম নয়। লোকসভা ও বিধানসভার ভোটের চরিত্রও সম্পূর্ণ আলাদা। লোকসভা ভোটের পরপরই তিন দফার উপনির্বাচনে মোদি-শাহ জুটির প্রায় ভরাডুবি আমরা লক্ষ করেছি। দেখেছি, কীভাবে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠেছে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি। দেখেছি, যে জনতা জাতপাত ভুলে লোকসভায় মোদিকে কোল পেতে দিয়েছে, সেই জনতাই উপনির্বাচনে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। হরিয়ানার ভোট বরাবরই জাট বনাম অন্য জাতের লড়াই হয়ে এসেছে। এই রাজ্যে বিজেপি কখনো জাটদের দল ছিল না। চৌটালার জাট ভোট কতটা ভাঙাতে তারা পারবে, তার ওপরেই ঝুলে থাকছে বিজেপির ভোটভাগ্য। মহারাষ্ট্রেও বহু বিভক্ত ভোটের কতটা মোদির নামে বিজেপিতে আসে, তার ওপর নির্ভর করছে সেই রাজ্যে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রিত্ব আদায় করতে পারে কি না।
জরিপ ঠিক আভাস দিলে জোট-ভাঙা বিজেপিকে এই দুই রাজ্যে আবার প্রকৃত জোটসঙ্গীর খোঁজে নামতে হতে পারে। একদিকে সেটা যদি হয় মোদি-শাহ জুটির কাছে কিল খেয়ে কিল হজম করার মতো, অন্যদিকে একক গরিষ্ঠ দল হিসেবে মুখ্যমন্ত্রিত্ব লাভ হবে এই জুটির পাগড়ির নতুন পালক। দলীয় প্রাধান্য বিস্তারে ঝুঁকি না নিয়ে উপায় নেই। ঝুঁকি তো সাহসীরাই নেয়। কিন্তু ওলট-পালট হয়ে গেলে বিজেপি সভাপতি হিসেবে অমিত শাহকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদির একচ্ছত্র শাসন চাপে পড়ে যাবে।
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিস্তিনে প্রতিরোধে জলপাই আন্দোলন by শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ
আন্দোলনটা প্রথম শুরু হয়েছে রামাল্লাহ থেকে। ওখানকার একটি গ্রাম বেইট রিমা। সেখানেই কৃষকদের সংঘবন্ধ করেছে ‘ইউনিয়ন অব এগ্রিকালচার ওয়ার্কার্স কমিটি’। এদের উদ্দেশ্য, এবার জলপাই সংগ্রহের মৌসুমকে রাজনৈতিকভাবে উৎসবমুখর করে তোলা। এর জন্য স্বেচ্ছাসেবকরা গ্রামে গ্রামে ঘুরা শুরু করেছে। ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে চালাচ্ছে প্রচারণা। এই স্বেচ্ছাসেবকরা জলপাই সংগ্রহে কৃষকদের সহায়তা করবে। ইসরাইলি আক্রমণে আর যেন কোনো জলপাই বাগান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্যও কাজ করবে। জলপাই দিয়ে গড়ে তুলবে প্রতিরোধ।
জলপাই আন্দোলনের সাথে প্রতিরোধের কী সম্পর্ক?
জলপাইকে বলা যায় ফিলিস্তিনের প্রতীকের মতোই। ইতিহাসের আদি থেকেই এখানে জলপাই চাষ হয়ে আসছে। দেশটিতে রয়েছে হাজার হাজার বছর পুরনো জলপাই গাছ। ইউরোপীয়ান এবং জাপানী গবেষকদের হিসাবে বেথেলহামের আল বাদাউ গাছটির বয়স চার কি পাঁচ হাজার বছর হবে।
এসব পুরনো গাছগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অনেক কৃষকের অবলম্বন। তাছাড়া গোটা দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ নির্ভর করে জলপাইয়ের ওপর। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলে।
ফিলিস্তিনের কৃষক সমিতির পরিচালক খালেদ হিদমি বলেন, জলপাই মৌসুমে আমাদের কৃষক পরিবারের শিশু থেকে বুড়োরা পর্যন্ত কাজে লেগে যায়। কারণ এর ওপরই তাদের বেঁচে থাকতে হয়। এটা আমাদের পুরনো সংস্কৃতি, পুরনো আয়ের উৎস। কিন্তু ইসরাইলিরা আমাদের ভ’মিতে কলোনি স্থাপন করতে চায়। এরা ফিলিস্তিনীদের যেমন হত্যা করে, তেমনি আমাদের জলপাই গাছগুলোকেও ধ্বংশ করছে। ইসরাইলিরা প্রাচীন গাছ ও প্রাচীন পেশাকে ধ্বংশ করে আমাদের ইতিহাসকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে চায়। তাই রাজনৈতিকভাবেই জলপাই কৃষকদের সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
খালেদ হিদমির সমিতির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর ফিলিস্তিনের কৃষি আয়ের ১৪ শতাংশ আসে জলপাই তেল থেকে। এর ওপর নির্ভর করে ৮০ হাজার পরিবারের জীবিকা।
জেরুসালেমের এপ্লাইড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাবে ১৯৬৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১.২ মিলিয়ন জলপাই গাছ ধ্বংশ করেছে ইসরাইলিরা।
এবারের যুদ্ধেও দখলদাররা হামলে পড়েছিলো গাজার জলপাই বাগানগুলোর ওপর। এছাড়া পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকার পুরনো গাছে আগুন দিয়েছে। নতুন গাছগুলো গোড়া থেকে তুলে ফেলেছে।
৫১ দিনের যুদ্ধ শেষ হয়েছে। তবে শান্তি ফিরে আসেনি। এখনো ইসরাইলি রক্তচুর দৃষ্টি ফিলিস্তিন ভ’মিতে। আর দেয়ালে পিঠ ঠেকলেও রক্তচুকে পরোয়া করে না ফিলিস্তিনীরা। এবার জলপাই নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। তাদের এ ঘুরে দাঁড়ানোর নাম জলপাই আন্দোলন।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সমাজের সেবক, অতঃপর প্রচারক
এই যেমন, দেশটিতে ২০১২ সালে এক বিক্ষোভ চলাকালে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় থাকা গাড়িগুলো ভেঙে চুরমার করেছিল। গুয়াংবিয়াও ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে একটি করে গাড়ি দান করেছেন। এর জন্য সে যে কাণ্ড করেছেন, তার জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। তবুও কাজ করা বন্ধ করেননি তিনি। ওই দিন চেন গুয়াংবিয়াও টিয়া রঙের কোট-প্যান্ট পড়েছিলেন। তারপর দান করা ওই গাড়িগুলোর ওপর দিয়ে দাম্ভিকতার সাথে হেঁটে গেছেন।

শুধু কি তাই, এতো কিছুদিন অগেই বিশ্ব মেতেছিল আইস ব্যাকেট চ্যালেঞ্জে। হলিউড অভিনেতা থেকে তারকা খেলোয়ার পর্যন্ত প্রায় সবাই এই চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। সবার চেয়ে এগিয়ে থাকার জন্য গুয়াংবিয়াও যা করেছেন, তা হয়ত আর কেউ করেননি আর কস্মিনকালে কেউ করবে কিনা সন্দেহ আছে। তিনি কিন্তু অন্য সবার মতো বরফ পানি মাথায় ঢালেননি। করেছেন উল্টোটা, মাথা ছাড়া পা থেকে গলা পর্যন্ত বরফ পানিতে পুরো আধা ঘণ্টা...।
তার কীর্তি এখানেই শেষ নয়, তার অফিসের দেয়ালের এক ইঞ্চিও খালি নেই। চারদিকেই শুধু সার্টিফিকেট আর সার্টিফিকেট। জায়গা না হওয়ায় কয়েকটা মেঝেতেও রাখতে হয়েছে। না, না পড়াশোনা করে এগুলো অজর্ন করেননি। বছরের পর বছর তিনি স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও আশ্রমগুলোতে যে অর্থ দান করেছেন তার সার্টিফিকেট। তবে সবাই যতই সমালোচনা করুক না কেন, চেন গুয়াংবিয়াও এর এসব দানের পেছনে রয়েছে দুঃখের কাহিনী। কেন এতো দান করেন আপনি? বিবিসির এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে তার সরল উত্তর, মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে আমার খুব আনন্দ হয়। বলেন, ‘আমার বয়স যখন আট তখন প্রায় সময়ই আমাকে না খেয়ে থাকতে হতো। চোখের সামনে ভাই-বোনকে না খেয়ে খেয়ে মরতে দেখেছি।’
‘এরপর এক গ্রীষ্মের ছুটিতে আমি পানি বিক্রি করতে শহরে গেলাম। পানি বিক্রি করে আমি যে টাকা পেতাম তার কিছুটা দিয়ে প্রতিবেশীদের সাহায্য করতাম। প্রথম যে দিন সাহায্য করলাম সেদিন তাদের খুশি দেখে আমিও খুব খুশি হয়েছিলাম। মন আনন্দে ভরে উঠেছিল। এই আনন্দের লোভেই দান করে যাচ্ছি এখনও।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মঙ্গল গ্রহে কদিন বাঁচবে মানুষ?

এমআইটির পাঁচজন গবেষক নেদারল্যান্ডসের মহাকাশ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান মার্স ওয়ান গৃহীত একটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে দেখেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, মঙ্গল গ্রহে যে আবাসস্থল গড়ে তোলার কথা ভাবা হচ্ছে তাতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে একপর্যায়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠবে এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করতে আরও নতুন নতুন প্রযুক্তির দরকার হবে।
২০২৪ সাল থেকে মঙ্গল গ্রহে স্থায়ী বসবাসের জন্য কলোনি বা অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে নেদারল্যান্ডসের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা মার্স ওয়ান। সেখানে একমুখী অভিযানের মাধ্যমে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা তাদের। অর্থাৎ, মঙ্গল গ্রহে অবকাঠামো তৈরির পর সেখানে মানুষ পৌঁছে দেবে তারা। এরপর সেখানে যাঁরা যাবেন, তাঁদেরই সেখানে টিকে থাকার জন্য লড়াই করতে হবে। কিছুদিনের জন্য তাঁদের প্রয়োজনীয় রসদ দেওয়া হবে। সেখানে প্রতিবার দুজন করে মানুষ পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করা হবে।
মঙ্গল অভিযানের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে লোক বাছাইও শুরু হয়ে গেছে। এই অভিযানে যাওয়ার জন্য দুই লাখেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল মার্স ওয়ানের কাছে। এর মধ্যে এক হাজার জনকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রেখেছে মার্স ওয়ান কর্তৃপক্ষ। মার্স ওয়ান জানিয়েছে, বাছাইকৃত এক হাজার জনের মধ্যে ২৪ জনকে মঙ্গলে বসবাসের জন্য চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মঙ্গল গ্রহের এই মিশনটি টেলিভিশনে রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে দেখিয়ে এই অভিযানের খরচ জোগানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে মার্স ওয়ান।
এদিকে, মার্স ওয়ানের এই পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত কিনা তা নিয়ে গবেষণা করেছেন এমআইটির গবেষকেরা। তাঁদের দাবি, মঙ্গল গ্রহে মানুষের জন্য বসবাসের প্রতিকূল পরিবেশ এবং বর্তমানে প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এই মিশনকে অসম্ভব করে তুলবে। এমআইটির গবেষকেরা আশঙ্কা করছেন, ‘মঙ্গলগ্রহে প্রথম যে মানুষটি বাস করতে যাবেন সর্বোচ্চ ৬৮ দিনের মধ্যেই তাঁর ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যাবে।’
প্রথম মঙ্গলযাত্রী হবে অ্যালিসা!৩৫ পাতার একটি প্রতিবেদনে গবেষকেরা এই প্রকল্পে তৈরি অক্সিজেন, খাবার ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁরা বলছেন, মঙ্গলগ্রহে কলোনিতে অক্সিজেন ও খাবার উৎপাদনের জন্য যে উদ্ভিদ জন্মানো হবে তা যে পরিমাণ অক্সিজেন তৈরি করবে তা নিরাপদ নয় এবং এর ফলে বিস্ফোরণও ঘটাতে পারে। এক্ষেত্রে অক্সিজেন নির্গমণ পদ্ধতি তৈরি করার দরকার হবে কিন্তু নভোযানে এ ধরনের কোনো পদ্ধতি এখনও তৈরি করা যায়নি বা ভিনগ্রহের পরিবেশে তা পরীক্ষা করে দেখাও হয়নি।

এই অভিযানের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দেবে প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ। মঙ্গলগ্রহে টিকে থাকার জন্য যেসব খুচরা যন্ত্রাংশ দরকার হবে তা সরবরাহ করা সবচেয়ে কঠিন হয়ে পড়বে। মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে সাত মাসেরও বেশি সময় লাগবে। প্রয়োজনীয় রসদ ও যন্ত্রাংশ সরবরাহে সাড়ে চারশো কোটিরও বেশি অর্থ খরচ হয়ে যাবে।
অবশ্য, এমআইটির গবেষকেদের এই আশঙ্কা অমূলক বলেই মনে করছেন মার্স ওয়ান প্রকল্পের উদ্যোক্তা ব্যাস ল্যান্সড্রপ। তাঁর দাবি, এই গবেষণার কোথাও ত্রুটি আছে। তিনি এ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সব ধরনের পরামর্শ করেই তবে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। যদিও খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করাটাকে সমস্যা বলেই মনে করছেন তিনি। ব্যস ল্যান্সড্রপ পপুলার সায়েন্স ম্যাগাজিনকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘মার্স ওয়ানের মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সবকিছু ঠিকঠাক চালিয়ে রাখা।’
ল্যান্সড্রপ এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘এমআইটির গবেষকেরা অসম্পূর্ণ তথ্য ব্যবহার করেছেন। মার্স ওয়ান সভ্যতা গড়ে তোলার এ প্রকল্প নিয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’তিনি বলেন অক্সিজেন নির্গমণ পরীক্ষা করা না হলেও মঙ্গলে বাস করার প্রযুক্তি এখন প্রস্ত্তত।’
ল্যান্সড্রপ বলেন, ‘মঙ্গলে বাস করার জন্য প্রয়োজনীয় মূল অবকাঠামোর নকশা আরও ভালোভাবে করা এবং তা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা দরকার। কিন্তু সেই প্রযুক্তি আমাদের কাছে আছে।’
মার্স ওয়ানের মঙ্গল মিশন নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করলেও এর পক্ষে দাঁড়ানোর লোকও এখন অনেক। ১৯৯৯ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল জয়ী জেরার্ড’টি হুফট সমর্থনই দিচ্ছেন ব্যাস ল্যান্ডসড্রপকে। পৃথিবী থেকে তিন কোটি ৪০ লাখ মাইল দূরে লাল রঙের এই গ্রহটিতে সর্বোচ্চ গতির নভোযানে করে পৌঁছাতে কমপক্ষে সাত মাস সময় লাগে।
প্রসঙ্গত, এ বছরের জুন মাসে টেলিভিশনের রিয়েলিটি শো প্রযোজক প্রতিষ্ঠান এন্ডেমোল মঙ্গল গ্রহের অভিযাত্রীদের নিয়ে রিয়েলিটি শো করতে রাজিও হয়েছে। ব্যাস ল্যান্সড্রপের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার জন্য সবকিছুই প্রস্ত্তত। এখন শুধু মঙ্গল গ্রহে কবে মানুষের পা পড়ে সেটাই দেখার পালা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাফল্য নিয়ে তরুণদের যা বললেন গুগলপ্রধান এরিক স্মিড

‘ব্যবসাক্ষেত্রে, বিশেষ করে প্রযুক্তি জগতের নিয়মটাই এমন যে, আপনি যে কাজ করেন, সেই কাজে দক্ষতাই যথেষ্ট নয়, বরং ওই অথৈ সাগরের একটা না একটা ঢেউয়ে আপনাকে চড়ে বসতে হবে এবং ওই ঢেউয়ে চেপেই পৌঁছাতে হবে তীরে।’ এভাবেই পেশাজীবনে সাফল্য পাওয়া যায় বলে মনে করেন গুগলের চেয়ারম্যান এরিক স্মিড এবং গুগলের পণ্য বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাথন রোজেনবার্গ। ‘গুগল কীভাবে কাজ করে’ শিরোনামে তাদের নতুন বইয়ে তাঁরা এমনটাই জানিয়েছেন। ওই বইয়ে তরুণ পেশজীবীদের উদ্দেশে তাদের পরামর্শের সারসংক্ষেপ—
চাকরি একটা ঢেউয়ে চড়ার মতো
‘ভাবুন যে আপনি সাগরে সার্ফিং করছেন। আপনার পেশাগত ক্ষেত্রটা হলো ওই সাগর, যেখানে আপনি সার্ফিং করছেন। আর আপনি যে কোম্পানিতে চাকরি করছেন, সেটা হলো ওই ঢেউ যাতে আপনি চড়ে বসেছেন। আপনি সব সময়ই সবচেয়ে বড় ঢেউটাতে চড়েই তো তীরে যেতে চান।’ চাকরির বিষয়টাকে এভাবে ব্যাখ্যা করে তাঁরা বলছেন, সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগ হতে পারে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং রূপান্তরিত হচ্ছে এমন একটা ইন্ডাস্ট্রিতে বিশেষ কোনো ক্ষেত্রের দক্ষতা অর্জন করা।
এমন কোম্পানিতে যান যেগুলো প্রযুক্তি বোঝে
আপনি হয়তো সিলিকন ভ্যালিতে কাজ করতে যাবেন না! তাতে কি। এমন একটা কোম্পানির সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করুন, যেগুলো প্রযুক্তি বোঝে এবং প্রযুক্তির গতিপ্রকৃতিতে তাদের ব্যবসাক্ষেত্রের সম্ভাব্য প্রভাবগুলো আঁচ করতে পারে। কেননা এ ধরনের কোম্পানিই দ্রুত বিকাশমান এবং বাকিগুলো হয় পিছিয়ে পড়ছে নয় হারিয়ে যাচ্ছে।
একটা পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করুন
আপনি কি জানেন আগামী ১০ বছর পর আপনি পেশাক্ষেত্রে নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চান। উত্তরটা খোঁজার চেষ্টা করুন। আর সেই অনুযায়ী পাঁচ বছরের একটা প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা করে ফেলুন। ওই পরিকল্পনায় অবশ্যই যেসব প্রশ্নের উত্তর থাকতে হবে, সেগুলো হলো—আপনি কী হতে চান? আপনি কী করতে চান? আপনি কতটা সাফল্য চান? পছন্দের চাকরিতে আপনার পদটা আসলে কী হবে? আপনার রিজিউমে বা জীবনবৃত্তান্তটা আসলে দেখতে কেমন? এসব প্রশ্নের উত্তর মেলাতে মেলাতে আপনার সক্ষমতা ও দুর্বলতার দিকগুলো খুঁজে বের করুন। আর সেই অনুযায়ী পাঁচ বছরের প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা ধরে এগিয়ে যান।
তথ্য-উপাত্ত আর সংখ্যা নিয়ে স্বচ্ছন্দ হোন
‘আমরা এখন বিপুল তথ্য আর সংখ্যার যুগে বাস করছি। কিন্তু এই তথ্য-উপাত্তকে কাজে লাগাতে হলে পরিসংখ্যানবিদের প্রয়োজন হয়। তথ্যের গণতন্ত্রয়াণের এই যুগে যাঁরা এই তথ্য-উপাত্তকে যত বেশি বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা রাখেন, তাঁরাই তত বেশি সফল হবেন। তথ্যই একুশ শতকের তলোয়ার। যাঁরা এটা ঘরে তুলতে পারবেন, তাঁরাই এখানে সামুরাই।’ এরিক স্মিড আর জনাথন রোজেনবার্গ এভাবেই এই যুগকে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু তার মানে এই না যে, আগে পড়া না থাকলেও আপনাকে এখনই পরিসংখ্যানের বই কিনতে বাজারে যেতে হবে। কিন্তু তথ্য-উপাত্ত-সংখ্যা বিশ্লেষণের সঙ্গে পরিচিত হোন। একটা স্তরের পর পেশাগত ক্ষেত্রে এটা খুবই জরুরি।
নিজের পেশাক্ষেত্র, নিজের কোম্পানি সম্পর্কে জানুন
আপনি প্রযুক্তি, জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, ফার্মাসিউটিক্যালস, বিজ্ঞাপন, গণমাধ্যম, বিনোদন, ব্যাংকিং কিংবা কনজিউমার ইলেকট্রনিকস—যে ক্ষেত্রের পেশাজীবীই হন না কেন, নিজের ক্ষেত্র সম্পর্কে বিশদভাবে জানার চেষ্টা করুন। নিজের পেশার গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখুন। আপনার পেশার অন্যদের সঙ্গে এসব খবর আদান-প্রদান করুন এবং এভাবে নিজেদের একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন। টুইটার, লিঙ্কডইন বা এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহার করেও তা করতে পারেন।
নিজের কাজ আর অবস্থানটা স্পষ্ট করে বুঝুন
ভাবুন অফিসে হঠাৎ করেই আপনার সিইওর সামনে পড়ে গেলেন এবং তিনি জানতে চাইলেন আপনি এখন কী করছেন। মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে আপনি তাকে কীভাবে বলবেন যে, আপনি এখন ঠিক কোন কাজটা করছেন এবং এটা কোম্পানির কোন প্রকল্প বা কোন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে করা হচ্ছে। ফলে আপনাকে কোম্পানিতে নিজের কাজ এবং অবস্থানটা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে ও বুঝতে হবে। ঠিক যেমন একটা নতুন চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গেলে মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই ওই চাকরির জন্য আপনার যোগ্যতার সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক অংশটুকু বলে ফেলতে পারতে হবে।
নতুন কোথাও যান
স্মিড ও রোজেনবার্গ বলেন, আপনার যদি নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের ক্ষেত্রের বাইরে কোথাও কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে আপনার সেখানে যাওয়া উচিত। তাঁরা বলেন, ‘ব্যবসা, তা তার আকার বা সুযোগ যত বড় বা ছোটই হোক, সব সময়ই বৈশ্বিক। কিন্তু মানুষ সহজাতভাবেই আঞ্চলিক।’ এমন ভাবার কোনো কারণ নেই যে, আপনার সব ক্রেতা এবং আপনার ব্যবসাক্ষেত্রের বাকিরাও আপনি জগতের যেখানে বাস করেন, সেখানেই সীমাবদ্ধ। তাঁদের পরামর্শ, তরুণ বয়সে সুযোগ পেলে চাকরি নিয়ে বিদেশে কাজ করে আসুন। বিদেশ সফরের সময় ভাবুন আপনার কোম্পানির যে কাজ তা ওই দেশে কীভাবে হয়। ধরুন, আপনি একটা সংবাদপত্রে কাজ করেন। মনোযোগ দিয়ে ওই দেশের সংবাদপত্রের খবরগুলো বিশ্লেষণ করুন, আপনার পত্রিকা কীভাবে লেখে আর ওরা কীভাবে লেখে তা বিশ্লেষণ করুন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অবশেষে জনসমক্ষে কিম জং–উন
![]() |
| রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে নতুন একটি আবাসিক ভবন ঘুরে দেখছেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উন (ডানে)। ক্ষমতাসীন দলের রোদং সিনমুন পত্রিকা থেকে নেওয়া ছবি। এএফপি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিজেপির ‘একলা চলো’ নীতির পরীক্ষা হবে
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইবোলা রোধে সহযোগিতার তাগিদ বিশ্বনেতাদের
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ধর্মনিরপেক্ষতা আওয়ামী লীগের মুখোশ -খালেদা জিয়া

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শুভ বিজয়া উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ঢাকেশ্বরী মন্দির, রামকৃষ্ণ মঠসহ বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপের অর্ধ শতাধিক পুরোহিত অংশ নেন।
বিএনপির অঙ্গসংগঠন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে গাজীপুর, নেত্রকোনা, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, শরীয়তপুর, নড়াইল, বরগুনা, বাগেরহাট, রংপুর, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল, নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলার সহস্রাধিক নেতাকর্মী এই মতবিনিময় সভায় আসেন।
অনুষ্ঠান শুরু হয় চণ্ডিপাঠের মধ্য দিয়ে। বিকেল ৫টার কিছু পরে খালেদা জিয়া মঞ্চে আসার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীদের সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। খালেদা জিয়া তাদের মিষ্টি দিয়ে আতিথেয়তা করেন। এ সময় দলের সিনিয়র নেতারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
পরে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সবাইকে শুভ বিজয়ার অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। এখন সর্বত্র গুম-খুন-লুটপাট চলছে। এই জবরদখলকারী সরকারের হাতে কোনো ধর্মের মানুষই নিরাপদ নয়।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আসুন এই সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করি।
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। নিজের ধর্মকে আমরা যেভাবে দেখি, অন্য ধর্মকেও একইভাবে ভালোবাসি। অথচ অন্য অনেক দল আছে, যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে অন্য ধর্মের ওপর হামলা করে অন্য দলের ওপর দোষ চাপায়। তাদের ঘরবাড়ি, মন্দির-উপাসনালয় দখল করে। অর্থাৎ তাদের ওই ধর্মনিরপেক্ষতা একটি লোক দেখানো বিষয় ছাড়া কিছুই নয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি পুরান ঢাকায় ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীদের হাতে বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড এবং নারায়ণগঞ্জের অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ সাত খুনের ঘটনার কথা তুলে ধরেন।
খালেদা জিয়া বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। সব ধর্মের লোকজনকে নিয়ে আমরা এ দেশ গড়ে তুলবো। বিএনপির লক্ষ্য হচ্ছেÑ সব ধর্ম ও সব দেশের সাথে বন্ধুত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা। এই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। আমরা ঐক্য ও সম্প্রীতির রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। সম্প্রীতির এই বন্ধন সব সময় আমরা অটুট রাখতে চাই।
রাজধানীর রমনা কালীমন্দির পুনঃস্থাপনে বিএনপি সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর রমনা কালীমন্দির গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। আমাদের শাসনামলে ওই মন্দির পুনঃস্থাপন করেছি।
এ ছাড়া মন্দিরভিত্তিক পাঠাগার, মন্দির সংস্কারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তার শাসনামলে নারীশিক্ষা উন্নয়নে সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের সুবিধাদি দেয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়কে বলবো, বিএনপির সাথে থাকলে অন্য দলের পার্থক্য বুঝবেন। বিএনপি সব ধর্মের দল। আমাদের সময় জনগণের সরকার ছিল, দলীয় কিংবা ব্যক্তিবিশেষের সরকার ছিল না। ভবিষ্যতে আমরা সবাইকে নিয়ে জনগণের সরকার গঠন করতে চাই।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সারা দেশের সব ধর্মের মানুষের ওপর এই সরকার আঘাত করছে। হিন্দুদের জমি-জমা-মন্দির তারাই দখল করছে। তারা (ক্ষমতাসীন) এমনো বলে, তোরা হিন্দু হয়ে বিএনপি করবি কেনো?
এ সময় মঞ্চের সামনে কয়েকজন চিৎকার করে বলেন, ম্যাডাম আমরা বিএনপি সমর্থন করি বলে আমাদের আওয়ামী লীগ হিন্দু রাজাকার বলে। ওই সময় খালেদা জিয়া বলেন, এ হচ্ছে আওয়ামী লীগ।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি কাজল দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক জয়ন্তকুমার দেব, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জে এল ভৌমিক, রামকৃষ্ণ মঠের স্বামী গুরু সেবানন্দ (মৃদুল মহারাজ), স্বামী দিব্যযোগানন্দ (অরুন মহারাজ), জগন্নাথ দেবের মামীর বাড়ির মন্দিরের শ্যামসুন্দর দাস বাবাজী, ইনকনের মাধব মুরারী দাস, সুমুখ গৌরাঙ্গ দাস, নিত্যানন্দা কিশোর দাস, দয়ানিধী দাস ব্রহ্মচারী, সাধুমন্য কুমার দাস, বাসুদেব সুনন্দী, ধানমন্ডি পূজা কমিটির সভাপতি তপনকান্তি সরকার, কুমুদিনী ট্রাস্টের অনিক ব্রাহ্মণ, সুব্রত সাহা, জাতীয় হিন্দু মহাজোটের গৌবিন্দ পারামাণিক, শেফালী দাস, বিু নন্দলাল ব্রহ্মচারী, সাবেক সংসদ সদস্য গণেশ হাওলাদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব বিজনকান্তি সরকার, সাংবাদিক সন্দ্বীপ চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর সারিকা সরকার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, রফিকুল ইসলাম মিয়া, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তী, উপদেষ্টা নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুমার কুণ্ড, নিতাইচন্দ্র ঘোষ, অমলেন্দ্র রায় চৌধুরী, দেবাশীষ রায় মধু, নুকুল সাহা, রমেষ দত্ত এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, হাবিব উন নবী খান সোহেল, নুরী আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, মীর সরফত আলী সপু, সুলতানা আহমেদ প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
October
(1240)
-
▼
Oct 15
(29)
- ইসির অনুদান কমিয়েছে দাতারা -বোধোদয় নেই সরকার ও কমি...
- ঢাকা মেডিক্যালে শিশু চুরি ও ছিনতাই -সবার নিরাপত্তা...
- এক মাস ধরে নাকের ভেতর জোঁক!
- পিয়াস করিম: বুদ্ধিবৃত্তির ক্ষণকালীন নক্ষত্র by ড. ...
- দেশে ফিরছেন না লতিফ সিদ্দিকী by আশরাফ আলী
- ইবোলা- মানবজাতির জন্য এক নয়া হুঁশিয়ারি by আলমগীর ম...
- মোদির নিউ ইয়র্ক সফর by শশী থারুর
- সংবিধান ও রাজনীতি- বিদায় লতিফ, স্বাগতম মহররম by মে...
- কানাডায় হিজাবের নবসমাদর by মঈনুল আলম
- রাজনৈতিক দাপটে অসহায় মাঠ প্রশাসন by আলী ইমাম মজুমদার
- এ এক অসহায়ত্বের যুগ by জোসেফ ই স্টিগলিৎজ
- পরমাণু বিদ্যুৎ ছাড়া জাপানের পথ নেই by মুশফিকুর রহমান
- বিধানসভা নির্বাচন- মহারাষ্ট্র-হরিয়ানা মোদি-শাহ জু...
- ফিলিস্তিনে প্রতিরোধে জলপাই আন্দোলন by শাহ মুহাম্মদ...
- সমাজের সেবক, অতঃপর প্রচারক
- মঙ্গল গ্রহে কদিন বাঁচবে মানুষ?
- সাফল্য নিয়ে তরুণদের যা বললেন গুগলপ্রধান এরিক স্মিড
- অবশেষে জনসমক্ষে কিম জং–উন
- বিজেপির ‘একলা চলো’ নীতির পরীক্ষা হবে
- ইবোলা রোধে সহযোগিতার তাগিদ বিশ্বনেতাদের
- ধর্মনিরপেক্ষতা আওয়ামী লীগের মুখোশ -খালেদা জিয়া
- অন্যের দখলে শ্যামাসুন্দরী -জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হু...
- ১৭০০ গার্মেন্টে ৮০,০০০ সমস্যা
- টাইমের প্রভাবশালী টিনেজ তালিকায় মালালা, ওবামা কন্যারা
- সীমান্তে ধরপাকড় অব্যাহত -‘বাংলাদেশী’ প্রশ্নে ভারত ...
- পুরস্কার মানব ইউনূসের ১২৬
- প্রতিবেশীদের তুলনায় বেশি উন্নতি করেছে বাংলাদেশ
- ব্যাপক হারে শামুক সংগ্রহ- রাজবাড়ীতে প্রাকৃতিক ভারস...
- বোনদের বিক্রি করছে ভাইয়েরা
-
▼
Oct 15
(29)
-
▼
October
(1240)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
