Tuesday, March 5, 2019

ঊনিশে নব দম্পতিদের হানিমুনের সেরা ঠিকানা

২০১৯-এ বিয়ে করতে যাচ্ছেন? তবে তো অবশ্যই হানিমুন নিয়ে বেশ চিন্তিত আপনি। কোথায় যাবেন, কী করবেন, কীভাবে সেরা ঠিকানাটি বেছে নেবেন, খুব ভাবছেন তা নিয়ে। সর্বোপরি এটি আপনার হানিমুন, জীবনের অন্যতম স্বরণীয় ইভেন্ট, বিবাহ পরবর্তী প্রিয়তমাকে নিয়ে অপরিহার্য বিনোদন মূহুর্ত! আপনি দেশি রিসোর্ট বা বিদেশি রিসোর্ট যেখানেই যান, সেটা অবশ্যই হতে হবে আপনার স্বপ্নের ঠিকানা। অনেকের পছন্দ ইতালির রোমের বাগবাগিচা আর অলিগলি, অনেকের আগ্রহ থাইল্যান্ডের আড়ম্বরপূর্ণ দ্বীপ। হানিমুনের জন্য পৃথিবীজুড়ে অসংখ্য গন্তব্য রয়েছে। তবে আপনার জন্য তুলে ধরা হচ্ছে চিত্তাকর্ষক, মনভুলানো কিছু বিচিত্র স্থানের পরিচয় যা আমৃত্যু আপনার জীবনের রোমান্টিক স্মৃত হয়ে থাকবে।


তাসকানি, ইতালি
হানিমুনের জন্য তাসকানি যেন স্বপ্নের ভুবন! হালিউড-বলিউডের বড় বড় তারকারাও তাদের হানিমুনের জন্য তাসকানি বেছে নেয়। বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক ভূচিত্র, সুউচ্চ দুর্গে সুসজ্জিত তাসকানি নিঃসন্দেহে আপনার হৃদয় জয় করে নিবে। এখানে দেখার মতো জায়াগাগুলোর মধ্যে আছে লিনিং টাওয়ার অব পিজা, উফিজি গ্যালারি, লুকা, কার্টনা, ফ্লরেন্স ইত্যাদি।
ভ্রমণের জন্য সেরা সময় এপ্রিল থেকে জুন ও সেপ্টম্বর থেকে অক্টবর। গত ডিসেম্বরে এখানেই বিয়ের কাজ সেড়েছিলেন বিরাট কোহলি ও আনুষ্কা শর্মা।

সান্তরিনি, গ্রিস
নীল-শুভ্র ঘরবাড়ি, কাচের ন্যায় স্বচ্ছ পানি আর চির সবুজে ঘেরা হানিমুনের জন্য মনোরম ঠিকানা সান্তরিনি। পুরো শহরটিই যেন দুধে ধোয়া। আপনাকে বিনোদিত কারার জন্য প্রতি পলকে যেন হাতছানি দিচ্ছে সেই শহর। যারা যুগযুগ ধরে গ্রিক হলিডে’র মতো রোমান্টিক মূহুর্ত স্বপ্ন দেখে আসছেন, তাদের জন্য এই স্থানের বিকল্প হয় না। গ্রিসের সান্তরিনিতে ভ্রমণের সেরা সময় এপ্রিল থেকে নভেম্বর।

দ্যা বাহামাস
একটি চমৎকার অবকাশ যাপনের অর্থ যদি হয় উষ্ণ আবহাওয়া, রৌদ্রজ্জ্বল সমুদ্র সৈকত আর নীল সাগরে সময় কাটানো, তাহলে বাহামাকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নব যুগলদের হানিমুনের জন্য এটিই হবে হট ফেভারিট স্পট। নিরবতা আর রোমান্স একত্রে খুবই বিরল। তবে সেই বিরল মূহুর্তগুলো নিয়ে নব দম্পতিদের অপেক্ষায় বাহামাস। এখানে আছে হারবার দ্বীপ, পিগ সৈকত, পেরাডাইস দ্বীপ ইত্যাদি। সারা বছরই ভ্রমণের উপযোগী স্থান এটি।

ফিজি
স্বর্গের কথা ভাবলেই যদি আপনার চোখে দ্বীপ ভেসে আসে, তাহলে আপনার হানিমুনের জন্য উপযুক্ত ভূমি ফিজি। দিন দিন ফিজি সাশ্রয়ী হয়ে উঠছে। ফলে এই দ্বীপে পর্যটকদের ভিড় বেড়েই চলেছে। এছাড়া, পর্যটন কেন্দ্রটি বিচিত্র গ্রাম, চতৎকার রিসোর্টস এবং স্থানীয়দের আতিথেয়তার জন্য বেশ সুপরিচিত। ফিজি ভ্রমণের সেরা সময় এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর।

হওয়াই
হওয়াইয়ের অরণ্য ভ্রমণে নিমিশেই হারিয়ে যাবেন আপনি। হারিয়ে যাবে আপনার সমস্ত ক্লেশ। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, সবুজে ঘেরা উপত্যকা থেকে সোনালি বালুকাময় সৈকত আর নিরব বন্যভূমি সবটাই এখানে। রোমান্টিক হৃদয়ের জন্য হাওয়াই যেন এক মহাকাব্য। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ের মধ্যে নব দম্পতিরা কিছু দিনের জন্য হারিয়ে যেতে পারেন এই ঠিকানায়।

জায়গা প্রস্তুত না করে রাসায়নিক উচ্ছেদ

  • • উচ্ছেদ করা কারখানা–গুদামগুলোর যাওয়ার জায়গা নেই।
  • • অন্য এলাকায় ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
  • • পুরান ঢাকা থেকে এই কারখানা ও গুদাম সরিয়ে নিতে হবে।
  • • যাতে নতুন ঝুঁকি তৈরি না হয়, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে।
  • • চকবাজারে ২০ ফেব্রুয়ারির আগুনে অন্তত ৭১ জনের মৃত্যু।
সরিয়ে নেওয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা না করেই পুরান ঢাকার রাসায়নিক ও প্লাস্টিকের কারখানা বা গুদামের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে গঠিত টাস্কফোর্স। রাসায়নিকের গুদামগুলো সাময়িকভাবে সরিয়ে নিতে শিল্প মন্ত্রণালয় যে দুটি স্থান ঠিক করেছে, সে দুটির একটিতে এখন অবৈধভাবে প্রায় ৪০০ দরিদ্র পরিবারের বাস, অন্যটিতে ট্রাকস্ট্যান্ড। আর প্লাস্টিকের জন্য কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।
ফলে এখন উচ্ছেদ করা কারখানা বা গুদামগুলোর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে যত্রতত্র কারখানা বা গুদাম গড়ে তুললে নতুন করে অন্য সব এলাকায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, পুরান ঢাকা থেকে এসব কারখানা ও গুদাম সরিয়ে নিতে হবে। তবে সেগুলো যাতে নতুন ঝুঁকি তৈরি না করে, তা–ও নিশ্চিত করতে হবে।
পুরান ঢাকার চকবাজারে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় অন্তত ৭১ জনের মৃত্যু হয়। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকায় অভিযান শুরু করে সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স। চার দিনের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৩টি স্থাপনার সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অভিযানে গিয়ে দুই দিন এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়েন টাস্কফোর্সের সদস্যরা।
এর আগে ২০১০ সালের জুনে পুরান ঢাকার নিমতলীতে আরেক ভয়াবহ আগুনে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরিয়ে নিতে রাসায়নিক পল্লি এবং প্লাস্টিক কারখানা সরিয়ে নিতে প্লাস্টিকশিল্প নগর গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। আট বছরে রাসায়নিক পল্লির ক্ষেত্রে শুধু প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। প্লাস্টিকশিল্প নগরের শুধু জমি অধিগ্রহণ–প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে।
এই অবস্থায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শিল্প মন্ত্রণালয় জানায়, পুরান ঢাকার রাসায়নিকের গুদামগুলো ঢাকার শ্যামপুর ও টঙ্গীতে সরকারি কারখানার অব্যবহৃত জমিতে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে। সেখানে প্রায় ১২ একর জমিতে ছাউনি নির্মাণ করে দেবে শিল্প মন্ত্রণালয়। আর ছয় মাসের মধ্য তৈরি হবে রাসায়নিক শিল্পনগর।
শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ছাউনি নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি তৈরির জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনকে (বিএসইসি)। সংস্থা দুটি জানিয়েছে, তারা ডিপিপি তৈরি করছে, যা দু-এক দিনের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। শিল্প মন্ত্রণালয় এরপর তা পাঠাবে পরিকল্পনা কমিশনে। কমিশন প্রকল্প অনুমোদন দিলে দরপত্র আহ্বান অথবা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ছাউনি নির্মাণের কাজ দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে বেশ কিছু সময় লাগতে পারে।
এরই মধ্যে গতকাল সোমবারও পুরান ঢাকায় অভিযান চালায় টাস্কফোর্স। সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্নের পর মালিকদের বলা হচ্ছে, রাসায়নিকের গুদাম সরিয়ে নিলে আবার সংযোগ দেওয়া হবে। ভবনগুলোর বেশির ভাগই যেহেতু আবাসিক, সেহেতু সেবা সংযোগ চালুর জন্য হলেও গুদাম সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
গুদামগুলো কোথায় যাচ্ছে, জানতে চাইলে বাংলাদেশ কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউমারি মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এনায়েত হোসেন বলেন, যে যেখানে পারছে, সেখানে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেরানীগঞ্জ, কেউ গাজীপুর, কেউ টঙ্গী, কেউ মোহাম্মদপুর, কেউ মুগদা, কেউ ধানমন্ডি নিজের বাড়িতে নিয়ে রাখছে। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিত জায়গায় না যাওয়ায় ঝুঁকি কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। পুরান ঢাকা নিরাপদ করতে সরকারের কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে যাক, সেটা আমরা চাই না। কিন্তু যৌক্তিক কাজ করা হোক।’ রাসায়নিক সরিয়ে যেখানে নেওয়া হচ্ছে, সেখানেই স্থানীয় মাস্তানেরা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে এবং পুলিশও বাধা দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. সামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুরান ঢাকায় এখন যেসব গুদাম উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তা আমাদের আওতার বাইরে। সেখানে আমাদের লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না। রাসায়নিকগুলো সরকার নির্ধারিত জায়গায় চলে যাবে।’ অপরিকল্পিতভাবে সরে গেলে নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই হবে। গত ১০-১৫ বছরে কিছু ব্যবসায়ী নিজেরা জমি কিনে কেরানীগঞ্জে গেছে। সেখানেও দোকানপাট, বাড়িঘর হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় যদি এসব কারখানা ও গুদাম কোনো পরিকল্পিত জায়গায় নিয়ে যায়, তাহলে সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, পুরান ঢাকায় এখন রাসায়নিক ব্যবসা করেন ১ হাজার ২০০ ব্যবসায়ী। রাসায়নিকের ধরন আছে প্রায় ৫ হাজার রকমের। এ ছাড়া প্লাস্টিকের কারখানা ও গুদাম রয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। অবশ্য ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাসায়নিক গুদাম সরিয়ে সিটি করপোরেশনের ভেতরে কোথাও নেওয়া হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়ীরা এখন কেরানীগঞ্জের খালি জায়গায় নিজস্ব উদ্যোগে বা দলগত উদ্যোগে তাঁদের পণ্য রাখবেন। তাঁদের সাময়িকভাবে ও স্থায়ীভাবে জায়গা দিতে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
টঙ্গীতে বসতি, উজালায় ট্রাকস্ট্যান্ড
টাস্কফোর্সের উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয় পুরান ঢাকার রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম অস্থায়ীভাবে শ্যামপুর ও টঙ্গীতে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানায়। কত দিনে জায়গা দুটিতে ছাউনি তৈরি হবে, তা জানতে ভারপ্রাপ্ত শিল্পসচিব মোহাম্মদ আবদুল হালিমকে কয়েক দফা ফোন করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ীরা জানান, শিল্পসচিব তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে দ্রুত সময়ের কথা বলেছিলেন। দিনক্ষণ বলেননি।
শিল্প মন্ত্রণালয় যে দুটি জায়গার কথা বলেছিল, তার একটি গাজীপুরের টঙ্গীর কাঁঠালদিয়া মৌজায় বিএসইসির ছয় একর জমি। গতকাল গিয়ে প্রথম আলোর গাজীপুর সংবাদদাতা সেখানে বসতবাড়ি, দোকানপাট, পুকুর, গ্যারেজ, গুদামসহ ছোট ছোট কারখানা দেখতে পান। স্থানীয় ব্যক্তিদের হিসাবে, বিএসইসির ওই জমিতে প্রায় ৪০০ পরিবার বসবাস করে। তারা সবাই দরিদ্র। বস্তিঘরগুলোর ভাড়া দেড়–দুই হাজার টাকা। কেউ নিজে ঘর করে থাকছেন। কেউ একাধিক ঘর করে অন্যদের ভাড়া দিচ্ছেন।
চারটি ঘর ও একটি রিকশা গ্যারেজের মালিক মো. শাহিন বলেন, প্রথমে তাঁর একটা ঘর ছিল। পরে ঋণ নিয়ে বাকিগুলো করেছেন। ঘর করতে কারও অনুমতি নিতে হয় কি না জানতে চাইলে তিনি কথা এড়িয়ে যান।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযানের জন্য আমরা চিঠি পেয়েছি। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে এখানকার সকল অবৈধ দখলদারকে নোটিশ দেওয়াসহ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আমরা উচ্ছেদ অভিযান করব।’
শিল্প মন্ত্রণালয় কদমতলী থানার শ্যামপুর মৌজায় বিসিআইসির মালিকানাধীন উজালা ম্যাচ ফ্যাক্টরির ৬ দশমিক ১৭ একর জায়গায় রাসায়নিকের গুদাম সরিয়ে নেওয়ার কথাও বলেছে। ম্যাচ কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। সেখানে গিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদক দেখতে পান, কারখানা প্রাঙ্গণের একটি অংশে ট্রাকস্ট্যান্ড ও গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। একটি দোতলা ভবন আছে, যেটিতে আনসার সদস্যরা বাস করেন।
জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কারখানাটি ঘুরে গেছেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সদস্যসচিব (নগরায়ণ ও সুশাসন) ইকবাল হাবিব বলেন, ‘২৯টি দাহ্য রাসায়নিকের বিষয়ে কোনো ধরনের টলারেন্স (সহিষ্ণুতা) দেখানোর সুযোগ নেই। আমরা দেখছি, ২৯ টির বাইরেও বিভিন্ন রাসায়নিক এবং অন্যান্য পণ্যেও একই ধরনের শাস্তির মুখোমুখি করা হচ্ছে। এটা বোধ হয় ঠিক না। এগুলো সরাতে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে। পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা দরকার।’ তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি রাসায়নিকগুলো যত্রতত্র সরিয়ে নেন, সেটার মানে হলো, আপনি আগুন সব জায়গায় ছড়িয়ে দিলেন।

হার্ট অ্যাটাকে যে বিষয়গুলো উপেক্ষা করবেন না

বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হার্ট অ্যাটাক। বলা হয় বিশ্বে এক তৃতীয়াংশ মৃত্যূর জন্য দায়ী হার্ট অ্যাটাক।  বাংলাদেশেও হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ আজকাল খুব সাধারণ ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। প্রায়:শই হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক উপসর্গগুলো আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। অথচ চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রাথমিক উপসর্গগুলো দেখে সাবধানতা অবলম্বন করতে পারলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের এক গবেষণা বলছে, হৃদরোগের প্রাথমিক উপসর্গ খেয়াল না করলে তার ফলে কেবল মৃত্যু থেকে বেচে যাওয়া সম্ভম হলেও, অনেক জটিলতা নিয়ে বাঁচতে হয়।
প্রাথমিক উপসর্গ:
* বুকে ব্যথা - চাপ চাপ ব্যথা, বুকের এক পাশে বা পুরো বুক জুড়ে ভারী ব্যথা।
* শরীরের অন্য অংশে ব্যথা---মনে হতে পারে ব্যথা শরীরে এক অংশ থেকে অংশে চলে যাচ্ছে, যেমন হতে পারে বুক থেকে হাতে ব্যথা হতে পারে। সাধারণত বাম হাতে ব্যথা হয়, কিন্তু দুই হাতেই ব্যথা হতে পারে।
* মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম করা।
* ঘাম হওয়া।
* নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা।
* বমি ভাব হওয়া।
* বুক ধড়ফড় করা বা বিনা কারণে অস্থির লাগা।
* সর্দি বা কাশি হওয়া। 
বেশিরভাগ সময় বুকে ব্যথা খুবই তীব্র হয়, ফলে শরীরের অন্য অংশে ব্যথা অনেকে টের পান না। বসের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক বাড়াতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি। আবার কারো ক্ষেত্রে হয়ত বুকে ব্যথা অনুভব করেননি, বিশেষ করে নারী, বয়স্ক মানুষ এবং যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা, বুকে ব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে যাবার মত ঘটনা সাধারণ হার্ট অ্যাটাকের এক মাস আগে হয়।
কেন হয় হার্ট অ্যাটাক?
আমাদের হৃদপিণ্ডে যে রক্ত প্রবাহিত হয়, তা হৃদযন্ত্রে রক্ত আসে ধমনী দিয়ে। সেটি যখন সরু হয়ে  যায়, তখন নালীর ভেতরে রক্ত জমাট বেধে যেতে পারে। ফলে নালীর ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রের পেশীগুলো দুর্বল হয়ে যায়, ফলে আর সে অক্সিজেন প্রবাহিত করতে পারে না। হৃদপিণ্ডের ভেতর দিয়ে অক্সিজেন প্রবাহিত না হতে পারলেই হার্ট অ্যাটাক হয়।
হার্ট অ্যাটাক হলে কী করণীয়?
হার্ট অ্যাটাক হবার পর দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, চিকিৎসা পেতে এক ঘণ্টা দেরির জন্য মৃত্যুর হার বেড়ে যায় ১০ শতাংশ।
* তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
* হার্ট অ্যাটাকের পরপরই রোগীকে শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন এবং গায়ের জামা -কাপড় ঢিলেঢালা করে দিন।
* হার্ট অ্যাটাকের পর যদি আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তাকে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর চেষ্টা করুন।
* হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীর যদি বমি আসে তাহলে তাকে একদিকে কাত করে দিন। যাতে সে সহজেই বমি করতে পারে। এতে ফুসফুসের মতো অঙ্গে বমি ঢুকে পড়া থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তি রক্ষা পাবেন।
কিভাবে ঠেকানো যাবে হার্ট অ্যাটাক?
* খাবার ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে, নিয়মিত হাঁটা-চলা ও ব্যায়াম করতে হবে, সক্রিয় থাকতে হবে
* ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে
* নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখতে হবে
* ধূমপান বন্ধ করতে হবে
* মাঝে মাঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে


সূত্র-বিবিসি

পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা বরগুনায় by এম জসীম উদ্দীন ও মোহাম্মদ রফিক

একদিকে শ্যামল ছায়ার কোমল পরশ, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের শোঁ শোঁ গর্জন। পৃথিবীখ্যাত মায়াবী চিত্রল হরিণের দুরন্তপনা, রাখাইন নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনচিত্র, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযুদ্ধ যে কাউকে মুগ্ধ করে। একই স্থানে প্রকৃতির এমন বাহারি সৌন্দর্যের সমাহার খুব কম জায়গায়ই মেলে। বরগুনায় এমন কিছু স্থান রয়েছে, যেখানে এলে প্রকৃতির এমন নিবিড় সান্নিধ্য পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের তীরের জেলা বরগুনার এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঘিরে দেশের পর্যটনশিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। বিপুল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করতে শুধু প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ।
বরগুনার তালতলী উপজেলার আশারচর, সোনাকাটা, টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল; পাথরঘাটা উপজেলার লালদিয়ারচর, হরিণঘাটা সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পদ্মার চর; বরগুনা সদরের সোনাতলা বনাঞ্চল ঘিরে গড়ে উঠতে পারে দেশের পর্যটনশিল্পের বিরাট সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।
টেংরাগিরি বনাঞ্চল
বঙ্গোপসাগরের কোলে গড়ে ওঠা এই বনে এসে কান পাতলে শোনা যায় সাগরের গর্জন। সাগর থেকে উঠে আসা বাতাসে ছন্দময় অনুরণন তোলে বনের পত্রগুচ্ছ। তালতলী উপজেলার ফকিরহাটে অবস্থিত টেংরাগিরি একসময় সুন্দরবনের অংশ ছিল। প্রাকৃতিক এই বনকে স্থানীয় লোকজন ‘ফাতরা বন’ হিসেবে চেনে। সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় টেংরাগিরি বনাঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পায় ১৯৬৭ সালে।
তালতলী থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত এই বনের আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৪ একর। ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর ৪ হাজার ৪৮ দশমিক ৫৮ হেক্টর জমি নিয়ে গঠিত হয় টেংরাগিরি বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য। এই বনাঞ্চলের তিন দিকে বঙ্গোপসাগর, বান্দ্রা খাল, মেরজে আলীর খাল, সিলভারতলীর খাল, ফেচুয়ার খাল, গৌয়মতলার খাল, কেন্দুয়ার খাল, সুদিরের খাল, বগীরদোন খাল। বনাঞ্চলের সখিনা বিটে ২০১১ সালে ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়। টেংরাগিরি বনাঞ্চলের অভয়ারণ্যে ১০টি হরিণ, ২৫টি শূকর, ৩টি চিতাবাঘ, ২৫টি অজগর, ২টি কুমির, শতাধিক বানর, ২টি শজারুসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী রয়েছে। সারি সারি গেওয়া, জাম, ধুন্দল, কেওড়া, সুন্দরী, বাইন, করমচা, বলই কেওয়া, তাল, কাঁকড়া, হেতাল, তাম্বুলকাটা গাছের মধ্যে এখানে ঘুরে বেড়ায় কাঠবিড়ালী, বানর, সাপ, শজারু, শূকর, উদ, কচ্ছপ, শৃগাল, ডোরাকাটা বাঘসহ হাজার প্রজাতির জীবজন্তু। তালতলীর ২৩টি পল্লিতে বসবাস করছে কয়েক শ বছরের পুরোনো রাখাইন সম্প্রদায়। তাদের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন, প্রাচীন উপাসনালয়, বুদ্ধমূর্তিগুলো পর্যটকদের ভিন্ন মাত্রার আনন্দ দেয়।
সোনাকাটা ও আশারচর
টেংরাগিরি বনের খুব কাছেই আরেক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাকেন্দ্র সোনাকাটা চরাঞ্চল। তালতলী সদর থেকে খুব কাছেই বঙ্গোপসাগরের কোলে সোনাকাটা। এর একদিকে টেংরাগিরি বনের সবুজ নৈসর্গ আর অন্যদিকে বিশাল সৈকতের বুকে কান পাতলে শোনা যাবে বঙ্গোপসাগরের কুল কুল ধ্বনি। সোনাকাটায় দেখা যাবে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের অবর্ণনীয় সৌন্দর্য।
বালিহাঁস, গাঙচিল, পানকৌড়িসহ হরেক পাখির কুজনে সব সময় মুখর থাকে আশারচর। তালতলী সদর থেকে আট কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত আশারচরে আছে শুঁটকির সাম্রাজ্য। রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যে দূর সাগরের বুকে মাছ ধরতে নামা ছোট ছোট ডিঙিনৌকার টিপটিপ আলোর মিছিল দূর থেকে দেখলে মনে হবে ভাসমান কোনো শহর।
হরিণঘাটা বনাঞ্চল
মায়াবী হরিণের দল বেঁধে ছুটে চলা, চঞ্চল বানর আর বুনো শূকরের অবাধ বিচরণ, পাখির কলরবে সারাক্ষণ মুখর থাকে হরিণঘাটা বনাঞ্চল। পাথরঘাটা উপজেলায় বঙ্গোপসাগরের মোহনায় পায়রা-বিষখালী-বলেশ্বর তিন নদ-নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত হরিণঘাটা। সৃজিত এই বনে হরিণ, বানর, শূকর, কাঠবিড়ালী, মেছো বাঘ, ডোরা বাঘ, শজারু, উদ, শৃগালসহ অসংখ্য বুনো প্রাণীর বিচরণ। সুন্দরবনের চেয়ে আকৃতিতে বড় প্রজাতির মায়াবী চিত্রল হরিণের বিচরণস্থল হওয়ায় এই বনের নামকরণ হয়েছে হরিণঘাটা। দৃষ্টিনন্দন ঘন বন আর সবুজে ছাওয়া হরিণঘাটা বনের সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করেছে পাশাপাশি সুবিশাল তিনটি সৈকত—লালদিয়া, পদ্মা, লাঠিমারা। চর লাঠিমারা থেকে শুরু করে মুতাইন্যা পর্যন্ত ৫ হাজার ৬০০ একর আয়তন নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই বনাঞ্চল। ‘লালদিয়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকো ট্যুরিজম সুযোগ বৃদ্ধি প্রকল্পের’ আওতায় ৯৫০ মিটার ফুটট্রেল (পায়ে হাঁটার কাঠের ব্রিজ) স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার বেঞ্চ, ঘাটলা ও ইটের রাস্তা। মিঠাপানির জন্য খনন করা হয়েছে পুকুর।
সোনাতলা বনাঞ্চল
বিষখালী-পায়রা-বলেশ্বর বঙ্গোপসাগরে মিলেছে সোনাতলা এলাকায়। তিন নদ–নদীর সঙ্গমস্থলে গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক নৈসর্গের আরেক লীলাভূমি সোনাতলা বনাঞ্চল। সোনাতলা, বাবুগঞ্জ, ছোনবুনিয়া, পদ্মা, কুমিরমারা এই এলাকার বিস্তীর্ণ চর ঘিরে গড়ে ওঠা সৃজিত এই বনভূমির আয়তন ৪ হাজার ৬০০ একর। সারি সারি কেওড়া, গেওয়া গাছে ছাওয়া এই বনে শূকর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, মেছো বাঘসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী রয়েছে। রয়েছে একটি পিকনিক স্পট, কয়েকটি গোলঘর, একটি ডাকবাংলো, পুকুর।
পর্যটনের বিকাশে উদ্যোগ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া, গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী এবং বরগুনা সদর, আমতলী, তালতলী ও পাথরঘাটা উপজেলাকে ঘিরে বিশেষ পর্যটনশিল্প গড়ে তুলতে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সরকার। ‘পায়রা বন্দরনগরী ও কুয়াকাটা উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ-পর্যটনভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ নামে এই প্রকল্পটি ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে পরিকল্পনা কমিশন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ পরিকল্পনাবিদ শরীফ মোহাম্মদ তারিকুজ্জামানকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়ের পরিকল্পনাবিদ মো. বায়েজীদ বলেন, প্রকল্পের আওতায় বরগুনার পাথরঘাটা, আমতলী, তালতলী উপজেলা এবং পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরতুফানী, জাহাজমারা প্রভৃতি পর্যটন আকর্ষণ এলাকাকে সমন্বিত সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া হবে।
বরগুনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, সুযোগ-সুবিধা ও যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় বরগুনার পর্যটনকেন্দ্রগুলো জনপ্রিয় হচ্ছে না। এরই মধ্যে কেন্দ্রগুলোর তালিকা পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব এলাকার অবকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য নানা মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চলছে।

কাশ্মির সংঘাতের বলি সীমান্তবাসী: আতঙ্কে কেবল মানুষ নয়, কেঁপে ওঠে ঘরের দরজা-জানালাও

যে সীমান্তরেখায় বিভক্ত হয়ে কাশ্মির চিরবৈরী দুই দেশের অংশ হয়েছে; সেখানে ভারতীয় অংশের শেষ গ্রাম সিলিকোট। চলমান সংঘাতের ধারাবাহিকতায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) উরিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ শুরু হলে এর কবলে পড়ে সেখানকার সবথেকে উত্তর অংশে অবস্থিত গ্রামটি। পাশের গ্রাম বালাকোটের বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী ইয়াকুব ফিরে যান সেই ২০০১ সালে। সে বছর সীমান্তের ওপার থেকে ধেয়ে আসা এরকম একটি গোলা আঘাত হেনেছিল তার নিজের শরীরে। ঘটনাস্থলেই পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। হারিয়েছিলেন চেতনা। রক্তে ভরে গিয়েছিল মুখ। জ্ঞান ফেরার সঙ্গে সঙ্গে উপলব্ধি করেছিলেন, পঙ্গুত্ব তার জীবনসঙ্গী হয়েছে। সঙ্গে হারিয়েছেন কানে  শোনার সক্ষমতা।
মাঝখানে ১৮ বছরের ব্যবধান রেখে ২০০১ সালের সেই যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন যেন ২০১৯ সালে এসে জেগে উঠেছে নতুন করে। আবারও পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে চলমান ‘যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা’য় বলি নিয়ন্ত্রণরেখার দু’পারের সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রনায়কেরা যখন পরস্পরের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়ছে, ছড়াচ্ছে পারমাণবিক অস্ত্রের ভীতি, মানুষ তখন ক্রমাগত সংশয়ী হয়ে উঠছে তাদের নিজেদের অস্তিত্বের সুরক্ষা নিয়ে। সীমান্তবাসীর ভাষ্য, আতঙ্কে কেবল মানুষ নয়, কেঁপে ওঠে ঘরের দরজা-জানালাও। জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে সামান্য ব্যবধান নিয়ে তারা খুঁজে ফেরেন নিরাপদ আশ্রয়। নিজ ভূমিতেই বাস করেন পরবাসীর জীবন।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনায় সীমান্তঘেঁষা ভারতীয় গ্রাম সিলাকোট ও বালকোটজুড়ে বিরাজ করছে নীরব আতঙ্ক। মৃত্যুভয় তাড়া করছে গ্রামবাসীকে। ইয়াকুব আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এখানকার বাসিন্দা হওয়ার মানে আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাই। দুই পক্ষের অস্ত্রের ছায়ার মধ্যে আমাদের বসবাস। মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যেতে পারি। এখন গোলাবর্ষণ হলেও আমি কোনও শব্দ পাই না। কেবলই তাকিয়ে দেখতে থাকি।’
২০১৭ সালে সেনাঘাঁটিতে জইশ-ই-মোহাম্মদের আত্মঘাতী হামলায় ১৭ ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পর উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো উরি। পুলওয়ামায় জঙ্গি গোষ্ঠীটির একই ধরনের হামলার পর গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বেড়েছে। ইয়াকুবের আবাস বালাকোট গ্রামটি সিলিকোটের সঙ্গে লাগোয়া। গ্রাম থেকে যেমন পাহাড়ের ওপরের তুষারপাত দেখা যায়, তেমনি দেখা যায় ভারত-পাকিস্তানের সামরিক উপস্থিতি। পাঁচ সন্তানের বাবা ইয়াকুব বলেন, ‘ গত রাতে রান্না হলেও আতঙ্কে তা মুখে তুলতে পারিনি আমরা। বাড়ির সবাই ভয়ে রয়েছে। মনে হচ্ছে গোলাগুলি হয়তো আরও বাড়বে। বিষয়টা আমাদের দৈনন্দিন যাপনের সঙ্গে মিশে গেছে। ধারাবাহিক গোলাগুলি আমাদের জন্য নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু এবার যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে কী হবে?’
সিলিকোটে মোটামুটি ২০টি পরিবারের বসবাস। বালকোটে রয়েছে সাতশ’ পরিবার। বিরোধপূর্ণ অঞ্চলকে দুইভাগ করা নাল্লাহ হাজী পীর নদীর পারে গ্রাম দুটির অবস্থান। অন্যদের উদ্বেগও ইয়াকুবের থেকে আলাদা না। ‘অসুস্থরাই বিপদে পড়ে। আমরা সারাটা জীবনই যুদ্ধের মধ্যে কাটালাম’- বলেন আবদুল কাইয়ুম নামের এক ব্যক্তি।
২৬ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে ভারতীয় বিমান হামলার ধারাবাহিকতায় পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি  (বুধবার) সকালে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয় আকাশে। সেই আকাশের নিচে থাকেন যারা, সেসব সীমান্তবাসী আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে জীবন শঙ্কার আতঙ্কে। সিলাকোট আর বালাকোটের মানুষেরা এক জায়গায় জড়ো হয় পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে। উঠে আসে বিভিন্ন মতামত। কারও কারও প্রশ্ন ছিল, বসতভিটা ছেড়ে যাওয়াটা ঠিক হবে কিনা।
মোহাম্মদ সিদ্দিক নামে এক শ্রমিক জানান, গ্রামের সবাই জামাকাপড়সহ প্রয়োজনীয় নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী গুছিয়ে রেখেছে। তবে যাওয়ার মতো কোনও নিরাপদ আশ্রয়ের কথাও জানা নেই তাদের। ‘সবাই বলছে গোলাগুলি বাড়বে... ১৯৯০-এর দশকেরও  আগে থেকে আমরা একই পরিস্থিতিতে আছি। প্রত্যেকবার আমাদের কাছে সবথেকে জরুরি প্রশ্ন হয়ে ওঠে, জীবন বাঁচাতে আমরা যাবো কোথায়?’
আন্তঃসীমান্ত সংঘাত বন্ধে  ২০০৩ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে দিল্লি-ইসলামাবাদ। দুই দেশের মানুষের হতাহতের পরিসংখ্যানই বলে দেয় চুক্তি কতোটা মানা হয়েছে। সিদ্দিক বলেন,  তিন দশক ধরে  ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের বলি হচ্ছে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলো।
গৃহবধূ মেহমুদার ঘরে দুই শিশু সন্তান। একজনের বয়স চার, অন্যজন দশ বছর বয়সী। মেহমুদা জানান, মঙ্গলবার থেকেই আকাশে চক্কর দিচ্ছিলো সামরিক বিমান। তখনই ভয় পেতে শুরু করেন তারা। রাতে ঘরের আলো নিভিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সেনাবাহিনী। ‘আমরা সীমান্তে থাকি, ছোট একটা গোলা ছোড়া হলেও তা আমাদের লাগতে পারে। এই উত্তেজনায় আমাদের বাড়ির দেয়াল,  জানালা,  দরজা সবই ভয় পেতে শুরু করে। ধেয়ে আসা গোলা থেকে কিছুই রক্ষা পাবে না’।
নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গোলাবর্ষণের সময়ে জরুরি আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনও বাঙ্কার নেই তাদের। কাইয়ুম নামের এক বাসিন্দা জানান, তার মেয়ে নিরাপদ কোথাও যেতে চায়। মেয়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,  কাপড়চোপড় পরে নিরাপদ গন্তব্যের আশায় বসে আছে সে।
কারগিল যুদ্ধের স্মৃতি এখনও জাগ্রত গ্রামবাসীর মনে। সেই সময়ের আন্তঃসীমান্ত গোলাবর্ষণে ভয়াবহ ক্ষতির কবলে পড়ে তাদের বাড়িঘর। উরিতে বহু মানুষের প্রাণ আর সম্পদের হানি ঘটে। গ্রামের আরেক বাসিন্দা আপেক্ষ করেন, ‘অনেকেই প্রাণ হারিয়েছে।  অনেকেই হয়ে গেছে বিকলাঙ্গ। আমাদের কেউ মনে রাখেনি। আল্লাহর দয়ায় আমরা বেঁচে আছি।’
বালাকোটে ছোট একটি মুদি দোকানের মালিক ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, বাংকার নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি। ফলে জীবন শঙ্কা নিত্যসঙ্গী হয়েছে তাদের। ‘গোলাবর্ষণের কারণে আমাদের বাড়িতে ফাটল তৈরি হচ্ছে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল নিরাপত্তার জন্য আমাদের বাংকার নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এমনকি যদি অন্য পরিবারের সঙ্গে বাংকার ভাগাভাগি করতে হয়, আমরা তাতেও রাজি,  কিন্তু আমরা মরতে চাই না।’
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের ভয়ঙ্কর গোলাগুলির মুখে পড়েছিল উরির বাসিন্দারা। ফারুক স্মৃতি থেকে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে আনেন। জানান, গোলায় তার ঘরের সামনে থাকা দুই চাকার যানটিতে আগুন ধরে যায়। একটি স্কুল ছিল গ্রামবাসীর চারদিনের আশ্রয়স্থল।
স্থানীয়রা বলছেন, ১৯৯৮ সালেই  সীমান্তবর্তী গ্রাম সিলিকোট, বালাকোট, চুরান্দা, ঘারকোট, কালগাই, হাতলাঙ্গা, ওরুসা, গাওয়ালতলা ও বাতগারা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা। আল-জাজিরার সঙ্গে কথা বলার সময়ে ভয়ে কাঁপছিলেন ৭০ বছরের মিরা বেগম। তিনি জানান, তার সন্তানরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য। তার পরিবারেরও কোনও নিরাপত্তা নেই। ‘আমরা কি এই দেশের নাগরিক নই?  কেউ কেন আমাদের দিকে তাকায় না?  বাড়িতে গুলি আর বোমা পড়তে শুরু করলে ছেলেমেয়েদের নিয়ে আমরা পালাতে থাকি। ভাগ্যকে দোষ দিয়ে আমরা কাঁদতে থাকি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে একবারে তুলে নিলেই পারে।’ কান্নামিশ্রিত হতাশা প্রকাশ করতে গিয়ে মিরা বলেন, তার ছেলেমেয়েরা চায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বারামুল্লায় তাদের আত্মীয়দের বাড়িতে চলে যেতে। মিরা বলেন, বারবার বাড়ি ছেড়ে যাওয়া কষ্টকর।
এবারের সংঘাত শুরুর পর বাড়িঘরে তালা দিয়ে সিলাকোট ও বালাকোটের বহু বাসিন্দা চলে গেছেন নিরাপত্তার উদ্দেশে। থেকে যাওয়া অল্প কিছু মানুষের একজন আফরোজা (৩৫)। উরি শহরের একটি স্কুলভবনে আশ্রয় নিয়েছেন আফরোজার মতো অনেকে। তিনি বলেন,  ‘আমাদের ঘুম  আসে না। এটা কোনও জীবন না। আমরা বাড়িতে থাকতে চাই। আমার দুই ছেলেমেয়ে। তারা কোনও দিন শান্তি দেখতে পারবে কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ হয়। দুই দেশ পরস্পরের দিকে গুলি ছোড়ে আর মাঝখানে আমরা মরি।’
নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি ভারতের সবচেয়ে বড় শহর উরি। ভারতের সবচেয়ে বড় সেনাঘাঁটিটি এই শহরেই। পাকিস্তানের সঙ্গে আস্থা তৈরিতে দুই দেশের কাশ্মিরের মধ্যে চলাচলকারী বাস সার্ভিস ও আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য পরিচালিত হয় এই শহর থেকেই। তবে এসব পদক্ষেপ সেখানে শান্তি ফেরাতে পারেনি। গত ৩০ বছরে বদলায়নি কিছুই। ‘আমাদের শহরেই আমরা ঘরহীন বোধ করি’-বলেন শতবর্ষী জুনি বেগম।

জিতে গেছেন মোদি ও ইমরান

একটি উদ্বেগজনক সংঘর্ষের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরাজমান অবস্থা শান্ত হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর ফলে দুই দেশের নেতা শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর জাতীয়তাবাদী তকমার ভিত মজবুত করেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শান্তির বাহক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার জন্য প্রায় চার লাখ মানুষ অনলাইন আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন। এদিকে ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানভিত্তিক একটি জঙ্গিগোষ্ঠী কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) বহরে আত্মঘাতী হামলা চালায়। ওই হামলায় সিআরপিএফের ৪০ জওয়ান নিহত হন। ওই আত্মঘাতী হামলার পর ভারতের যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন কাশ্মীরে হামলা চালায়। নয়াদিল্লির ভাষ্য, সেখানে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ শিবির ছিল। এই বিচ্ছিন্ন লড়াইয়ের দ্বিতীয় দিনে ভারতীয় বাহিনীর অন্তত একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী। এ ছাড়া ওই বিমানের পাইলটকেও আটক করে পাকিস্তান। ভারত বলেছিল, তারাও পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। যদিও ভারতের এই দাবি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে ওই বৈমানিককে ছেড়ে দেওয়ার এক চমকপ্রদ ঘোষণা দেন ইমরান খান। ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ’ নেওয়ার জন্য এ ঘোষণা দেন তিনি। পরে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ এবং গোলাবর্ষণের মধ্যেই গত শুক্রবার ওই বৈমানিককে ভারতের হাতে তুলে দেয় পাকিস্তান। ইমরান খানের এ উদ্যোগ দেশটির পার্লামেন্টের বিরোধীদের এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে নিরস্ত্র করে ফেলে। দ্য নিউজ ডেইলিতে লেখা হয়, ‘অনন্য অমায়িকতা...সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে।’
বিশ্লেষক মোশারফ জাইদি বলেন, এর মধ্য দিয়ে নরেন্দ্র মোদি একজন যুদ্ধবাজ ক্ষুদ্র নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ইমরান হয়ে উঠেছেন রাষ্ট্রনায়ক। পাকিস্তানের পত্রিকা এক্সপ্রেস ট্রিবিউন–এর নির্বাহী পরিচালক ফাহদ হুসাইন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমারনের এ উদ্যোগ ছিল ‘খুব সুখকর চমকপ্রদ’ ঘোষণা। তিনি বলেন, নৃশংস পথে হাঁটা তাঁর জন্য খুব সহজ ছিল। মানুষ তাঁর প্রশংসাও করত।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের হুমা ইউসুফ বলেন, ওই ঘটনা ইমরান খান সুকৌশলে সামলেছেন। তবে তিনি এ ঘটনা যেভাবেই সামলে থাকেন না কেন, এ সংঘর্ষের কারণে ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কে আরও অবনমন হয়েছে।
এদিকে কেউ হয়তো মোদির জন্য নোবেল পুরস্কার দাবি করেননি। কিন্তু রাজনীতির মাঠে তিনি বেশ কিছু পয়েন্ট অর্জন করেছেন। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই পয়েন্ট তাঁর জন্য বেশ দরকার ছিল।
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখমন্ত্রী মোদির সমালোচক ওমর আবদুল্লাহও নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেছেন। ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক তাভলিন মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর কলামে তিনি লিখেছেন, ‘পুলওয়ামার ঘটনা পর ভারত যদি কোনো পদক্ষেপ না নিত, তবে আমি হয়তো খেপে যেতাম এবং লজ্জিত হতাম।’
অনেক নির্বাচন বিশ্লেষক বলেছেন, নির্বাচনের আগে মোদির যা দরকার ছিল, এই বিমান হামলার মাধ্যমে তিনি তাই পেয়েছেন।

অধিকাংশ সড়কবাতি জ্বলে না

গাজীপুর নগরের বেশির ভাগ রাস্তায় সড়কবাতি জ্বলে না। নগরবাসীকে চলাচল করতে হয় সড়কের পাশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আলোতে।
গত বুধ থেকে শুক্রবার তিন দিন গাজীপুর নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সড়কেই বাতি নেই। কিছু এলাকায় সড়কবাতি আছে, তবে অপর্যাপ্ত। আবার কিছু সড়কে অনেক দূর পরপর দু-একটি খুঁটিতে বাতি জ্বলে, তারপর আবার অন্ধকার। এর মধ্যেও কিছু সড়কবাতির ঢাকনা নেই, কোনোটির খুঁটি বাঁকা, আবার কোনো খুঁটিতে বাতি নেই। মূল শহর, বাণিজ্যিক এলাকা ও আবাসিক এলাকাতেও খুব একটা বাতি জ্বলতে দেখা যায়নি।
টঙ্গী বিসিক এলাকায় প্রায় দেড় শ প্রতিষ্ঠান আছে। কারখানার শ্রমিক আর পথচারীদের চলাচলে রাতদিন সরগরম থাকে এলাকাটি। সেখানকার অধিকাংশ সড়কেই বাতি জ্বলে না। চলাচল করতে হয় মুঠোফোনের আলো জ্বালিয়ে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর গিয়ে দেখা যায়, টঙ্গী লেভেল ক্রসিং থেকে বিসিক এলাকায় ঢুকতেই অন্ধকার। কয়েক মিটার সামনে লিলি ফুডের মোড় থেকে পাগাড়, ফকির মার্কেট ও নদীবন্দর যেতে প্রতিটি সড়কই অন্ধকারাচ্ছন্ন। সড়কের দুই পাশের কারখানার ফিকে আলোতেই পথ চলতে হয়।
শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য সড়কের লিলি ফুডের মোড় ও পানির ট্যাংক মোড়ে রাখা হয়েছে নিরাপত্তাকর্মী। জানতে চাইলে লিলি ফুডের মোড়ে দায়িত্বরত মো. দিলবার বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে সারাক্ষণ হাতে টর্চ রাখতে হয়। অন্ধকারে কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে, তার ঠিক নেই। সড়কবাতি থাকলে এ সমস্যা হতো না। আর পানির ট্যাংক মোড়ের নিরাপত্তাকর্মী মো. সুলতান বলেন, ‘ইজতেমার সময় কয়েক জায়গায় বাতি লাগাইছিল। এখন সেগুলোও নষ্ট হইয়া গেছে।’
টঙ্গী বাজার ব্যস্ত এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষের সমাগম হয়। দেখা যায়, টঙ্গীর আনারকলি রোডের বাটা মার্কেটের সামনে থেকে টঙ্গী বাজার মসজিদ পর্যন্ত সড়কের ডান পাশে সড়কবাতির ১৮টি খুঁটি আছে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি খুঁটিতে বাতি জ্বলে। বাকিগুলোর কোনোটিতে বাতি নেই, কোথাও বাতি জ্বলে না, আবার কোনোটি থেকে বৈদ্যুতিক তার খুলে ফেলা হয়েছে। কথা হয় এই সড়কের ডিমপিঠা বিক্রেতা মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেলে পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। কিছু কিছু দোকানদার নিরাপত্তার জন্য দোকানের সামনে বাতি জ্বালিয়ে রেখে যান।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. ইবরাহিম খলিল জানান, কিছু সড়কে বাতি লাগানোর কাজ চলছে। এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। আর বিভিন্ন সড়কে সৌরবাতির ব্যাটারি চুরি হয়ে যাওয়ায় তা অকেজো হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, পর্যাপ্ত গাড়ি, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
গাজীপুর মূল শহরের অবস্থাও অনেকটা একই রকম। শুক্রবার রাতে গিয়ে দেখা যায়, জয়দেবপুর শিববাড়ি মোড় থেকে পুলিশ সুপার কার্যালয় পর্যন্ত সড়ক বিভাজকের ওপর মোট ৩২টি বাতি। এর মধ্যে জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিং পর্যন্ত ১৫টি বাতিই জ্বলে না। এরপর পুলিশ সুপারের কার্যালয় পর্যন্ত নষ্ট হয়ে আছে ছয়টি বাতি। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সড়কবাতি জ্বলতে দেখা যায়নি।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত কোনো সড়কবাতি নেই। এ ছাড়া জাঝর বাসস্ট্যান্ড যাওয়ার সড়ক, কাজিবাড়ি সড়ক, হকের মোড় সড়ক, জয়দেবপুর-পুবাইল সড়ক, জয়দেবপুর-চৌরাস্তা সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে খুব একটা সড়কবাতি জ্বলতে দেখা যায়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সড়কবাতির জন্য আমাদের প্রায় দেড় লাখ বৈদ্যুতিক খুঁটি দরকার। সেখানে আমাদের আছে মাত্র আড়াই হাজার। তারপরও আমরা মাস্টার প্ল্যান হাতে নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে সমস্যা সমাধান করা হবে।’

সংঘাতের ভয়ে চালু হচ্ছে না ৭ হল by সুজন ঘোষ ও তাসনীম হাসান

  • • চট্টগ্রামের তিন সরকারি কলেজ।
  • • ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর বন্ধ হয়েছিল হলগুলো।
  • • কমার্স কলেজের ছাত্রাবাস বন্ধ হয় ৩০ বছর আগে।
চালু হলে সংঘাত হবে—এই ভয়ে চট্টগ্রাম নগরের তিন সরকারি কলেজের সাতটি হল খুলে দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর হলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এতে আবাসন-সুবিধাথেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা। তাঁদের বাড়তি অর্থ দিয়ে বাইরের মেস ও হোস্টেলে থাকতে হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি চায়, তাহলে হল চালু করতে সমস্যা নেই বলে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি।
সরকারি কমার্স কলেজে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে তিন ছাত্রের মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালের মে মাসে একমাত্র ছাত্রাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
এরপর ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম কলেজে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির। ওই দিনই চট্টগ্রাম কলেজের তিনটি ছাত্রাবাস ও একটি ছাত্রীনিবাস এবং পাশের হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের দুটি ছাত্রাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ এই তিন সরকারি কলেজে শিক্ষার্থী আছেন ৩৮ হাজার ৩৯৩ জন। আর বন্ধ হয়ে যাওয়া হলগুলোতে আসন আছে ১ হাজার ৩৪টি। তিন কলেজেই উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। হলগুলোতে কেউ না থাকায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
এখন সরকারি কমার্স কলেজের একমাত্র ছাত্রীনিবাস চালু আছে।
সরকারি কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আইয়ুব ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রাবাস কী কারণে বন্ধ হয়েছে, তা সবাই জানেন। তাই চালু করলে আবার হয়তো হানাহানি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ছাত্রাবাসটি জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই চাইলেও এই মুহূর্তে হল চালু করা সম্ভব নয়। ভবনটি ভেঙে নতুন করে করতে হবে।
চট্টগ্রাম কলেজের তিন ছাত্রাবাসে ৫১৬ এবং একমাত্র ছাত্রীনিবাসে ১০৮টি আসন রয়েছে। এই হলগুলো খুলে দিতে কোনো আপত্তি নেই বলে জানান কলেজ অধ্যক্ষ মো. আবুল হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি আর নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পেলে হলগুলো খুলে দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম কলেজের পাশে অবস্থিত হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের দুটি ছাত্রাবাসে আসন রয়েছে ১৬০টি।
মূলত সংঘাতের আশঙ্কার কারণেই ছাত্রাবাসগুলো চালু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের উপাধ্যক্ষ জোবেদা মাহমুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হল বন্ধ থাকায় গরিব ছেলেমেয়েদের কষ্ট হচ্ছে। তাই খুলে দিতে পারলে ভালো লাগত।
যোগাযোগ করা হলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রাবাস চালুর ব্যাপারে কলেজগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রণালয়কে কিছু জানায়নি। কর্তৃপক্ষ যদি জানায়, তাহলে সার্বিক পরিস্থিতি চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কেননা, একসময় সেখানে জামায়াত-ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রম হতো। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী বেলাল উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি কমার্স কলেজের ছাত্রাবাসটি ব্যবহার–অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে চট্টগ্রাম কলেজ ও হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের হলগুলো সংস্কারের পর ব্যবহার করা যাবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ যদি হলগুলো চালু করার উদ্যোগ নেয়, তাহলে সংস্কারকাজ অধিদপ্তর করে দেবে।
সরেজমিন
সম্প্রতি চট্টগ্রাম কলেজের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরেবাংলা ছাত্রাবাসে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলাবিশিষ্ট এই দুটি হলের চারটি ফটকেই তালা ঝুলছে। হলের বাইরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। প্রায় সব জানালাই ভাঙাচোরা। খসে পড়ছে পলেস্তারাও।
কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে আসা চট্টগ্রাম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান নাজির কলেজের পাশের এলাকায় একটি মেসে থাকেন। থাকা ও খাওয়া মিলিয়ে মাসে চার হাজার টাকা খরচ হয়। হলে থাকলে অন্তত থাকার খরচটা বেঁচে যেত। পরিবারের ওপরও চাপ কমত।
কলেজের একমাত্র ছাত্রীনিবাস বন্ধ থাকায় বেসরকারি হোস্টেলে থাকতে হয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী নওমা আফরিনকে। তিনি বলেন, হোস্টেলে নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় শঙ্কায় থাকতে হয়। পানির সমস্যাও লেগে থাকে। খাবারের মানও ভালো নয়। কলেজের ছাত্রীনিবাসে থাকলে সবকিছু নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকা যেত।
অন্যদিকে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসটিতে দেখা যায়, হলের সামনের জানালার লোহার গ্রিল দেবে গেছে। কার্নিশ আর কক্ষের দরজাগুলোও ভেঙে পড়েছে। কক্ষের ভেতরে খাট, চেয়ার, টেবিল থাকলেও তা সংস্কারের অভাবে ভেঙে যেতে বসেছে। তবে নতুন ছাত্রাবাসটির অবস্থা ভালো।
সরকারি কমার্স কলেজের বন্ধ থাকা ছাত্রাবাসের অবস্থা আরও খারাপ। সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা যায়, হলের ছাদ লাগোয়া বিমগুলোর পলেস্তারা খসে পড়ে লোহা বেরিয়ে এসেছে। ভেঙে পড়েছে দোতলার নিরাপত্তাদেয়ালের একাংশ। হলের পাঁচটি কক্ষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থাকছে হলের কয়েকজন কর্মচারীর পরিবার।
সরকারি কমার্স কলেজের ছাত্র সালাউদ্দিন বলেন, ছাত্রাবাসে পড়াশোনার যে পরিবেশ থাকে, তা মেসে নেই।
চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা হল চালুর পক্ষে। তবে তা সুষ্ঠু ও সুন্দর ব্যবস্থাপনায় হতে হবে। আর হল পরিচালনায় কোনো প্রতিক্রিয়াশীল ও স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী থাকতে পারবে না।

খরস্রোতা করতোয়া এখন মরা খাল by আনোয়ার পারভেজ

  • • নদী দখল করে স্থাপনা গড়ায় সংকুচিত হচ্ছে করতোয়া।
  • • ময়লা-আবর্জনা, বর্জ্যের দূষণে কালো হয়ে গেছে পানি।
  • • দুর্গন্ধে দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা নদীপারের মানুষের।
  • • জলজ প্রাণী বেঁচে থাকার মতো অক্সজিন নেই নদীতে।
একসময় খরস্রোতা এই নদীতে নৌকা চলত, জেলেরা মাছ ধরতেন, নৌকাবাইচে মেতে উঠত নদীপারের মানুষ। নদী ঘিরেই ছিল এখানকার কৃষি, অর্থনীতি, যোগাযোগ ও সংস্কৃতি।
বগুড়ার ‘হৃৎপিণ্ড’ বলে পরিচিতি সেই করতোয়া এখন দখল-দূষণে শ্রীহীন ও গতিহারা মরা খাল। নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা তৈরি করায় প্রতিনিয়ত সংকুচিত হচ্ছে করতোয়া। ময়লা-আবর্জনা, কারখানার তরল বর্জ্য ফেলার করণে দূষণে কুচকুচে কালো হয়ে গেছে পানি। দুর্গন্ধে দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা নদীপারের মানুষের। জলজ প্রাণী বেঁচে থাকার মতো অক্সজিনেও নেই নদীতে।
বগুড়া শহরের বুক চিরে উত্তর-দক্ষিণ আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত ১১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ করতোয়া। পরিবেশবাদী ও নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করতোয়ার অবস্থা খুবই নাজুক। উৎসমুখে জলকপাটের (স্লুইসগেট) কারণে অনেক আগেই নাব্যতা হারিয়েছে। এখন পাল্লা দিয়ে চলছে দখল ও দূষণ।
বগুড়ার ডেমাজানি মৎস্যজীবী সমিতির সহসভাপতি নিত্যনন্দ দাস বলেন, দুই যুগ আগেও করতোয়ায় স্রোতোধারা ছিল। নদীতে জাল ফেললেই হরেক প্রজাতির মাছ মিলত। ৩০ বছরে এই নদী থেকে কমপক্ষে ২০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত।
কবি ও প্রাবন্ধিক বজলুল করিম বাহার বলেন, গঙ্গার চেয়েও তিন গুণ বড় ছিল করতোয়া। দখল–দূষণে করতোয়া এখন মরা খাল। করতোয়ার উজান-ভাটি—সবখানেই শত্রু।
দূষণে বিপর্যস্ত করতোয়া
শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়ায় করতোয়ার পানিদূষণও সবচেয়ে বেশি বগুড়াতেই। দূষণের শুরু শহরতলির ঠেঙ্গামারায়। এখানে বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএস নদীতে নানা ধরনের বর্জ্য ফেলে। পিছিয়ে নেই বগুড়া পৌরসভাও। পৌরসভার নালা দিয়ে সারা বছর করতোয়া তরল বর্জ্য পড়ছে, কয়েকটি স্থানের ময়লা-আবর্জনাও নদীতে ফেলছে পৌরসভা। শহরের অদূরে শাজাহানপুর উপজেলায় ভাদাই খাল মিশেছে করতোয়ায়। এই ভাদাই খাল দিয়ে সারা বছর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য করতোয়ায় পড়ছে। সুবিল খালের তরল বর্জ্যও পড়ছে এই নদীতে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বগুড়া জেলা কমিটির সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, করতোয়ার মৃত্যুঘণ্টা বাজানোর অন্যতম কারণ শহরের নালা-নর্দমার পানি নদীতে ফেলা।
দখলদারের কবলে করতোয়া
করতোয়া নদীর অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে জেলা প্রশাসন দীর্ঘদিন আগে উদ্যোগ নিলেও কোনো ফল আসেনি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয় শহর ও শহরতলির বিভিন্ন অংশে করতোয়া নদী দখলকারীর তালিকা তৈরি করে। ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর ৩৮ জন দখলদারের তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। এর আগে জেলা প্রশাসন ২৭ দখলদার চিহ্নিত করে আরও একটি তালিকা করেছিল। ওই তালিকা ধরে হাতে গোনা দু–একটি স্থাপনা উচ্ছেদ হয়েছিল। তবে সেই অভিযানের পর নদীর জায়গা ফের দখল হয়।
সর্বশেষ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে ৩০ দখলদারের একটি আংশিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও নদী কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তা নোটিশ বোর্ড কিংবা শহরের জনবহুল স্থানে টানানো হয়নি। আর পরিবেশবাদীরা এই তালিকাকে অসম্পূর্ণ বলে অভিযোগ তুলেছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আলীমুন রাজীব বলেন, অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় জন্য বড় অঙ্কের তহবিল প্রয়োজন। নতুন তালিকায় পুরোনো অনেক দখলদারের নাম নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই নতুন করে চলছে দখল।
হাইকোর্টের নির্দেশও উপেক্ষিত
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) করতোয়ার দখলদার উচ্ছেদ ও পানির প্রবাহ অক্ষুণ্ন রাখতে ২০১৫ সালের ২২ জুন জেলা প্রশাসকসহ ২১ জনকে বিবাদী করে হাইকোর্টে রিট করে। হাইকোর্ট অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নদীতে সব ধরনের বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং দূষণ রোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেন বগুড়া পৌরসভাকে। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালির খুলশীতে করতোয়া নদীর উৎসমুখে নির্মিত জলকপাটের পরিবেশগত প্রভাব নির্ণয় করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পাউবোকে নির্দেশ দেন আদালত। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করে সমন্বিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানতে চেয়ে জেলা প্রশাসন, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী, বগুড়া পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে কয়েক দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে।
পাউবোর বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন নদীতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সিএস নকশা অনুযায়ী নদী খনন করা ছাড়াও পানি ধরে রাখার জন্য ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে। এর মাধ্যমে নদীর উৎসমুখে নতুন করে জলকপাট নির্মাণ ছাড়াও বগুড়া শহরে নদীর দুই তীরে ২৭ কিলোমিটার নালাসহ সড়ক নির্মাণ, তরল বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা হবে।

প্রশ্নের সম্মুখীন ভারতের ‘ভিন্টেজ’ সেনাবাহিনী

চীনকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র যে সেনাবাহিনীটিকে সাহায্য, সমর্থন করে যাচ্ছে সেটির জন্য এ ঘটনাটি হতাশাজনক। পাকিস্তানি এক বিমানের সঙ্গে ডগফাইটে হেরে যায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিমান। ঘটনার শেষ হয় পাকিস্তানি সেনাদের হাতে ওই ভারতীয় পাইলট আটক ও পরে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মহানুভবতায় তার মুক্তির মাধ্যমে। বলতেই হয়, সোভিয়েত আমলে তৈরি বিমান মিগ-২১ আসলেই একটু কম ভাগ্যবান ছিল।
প্রায় ৫ দশক পরে ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে এত গভীরে গিয়ে হামলা চালানোর ঘটনাটি নিঃসন্দেহে মানুষ অনেক দিন মনে রাখবে। প্রথমেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতীয় হামলা বিশ্লেষকদের হতবাক করে দিয়েছিল। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় যা হয়েছে তা কখনই আশা করেনি ভারত। তারা এমন একটা বাহিনীর কাছে ২টি বিমান হারিয়েছে যারা আকারে তাদের অর্ধেক ও যাদের পেছনে ভারতের তুলনায় অতি সামান্য সামরিক বাজেট খরচ করা হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন একটি সংকটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
যদি আগামীকাল যুদ্ধ শুরু হয় তাহলে ভারত তার সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ১০ দিনের অস্ত্র সরবরাহ করতে পারবে। এটি তাদের সরকারেরই ধারণা। দেশটির সেনাবাহিনীর ৬৮ ভাগেরও বেশি অস্ত্র পুরোনো আমলের। যাকে ভিন্টেজ অস্ত্র বলা হয়ে থাকে। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক বছর ধরেই ভারতকে তার মিত্রে পরিণত করতে চেষ্টা চালিয়েছে। এর একমাত্র কারণ হতে পারে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ানো চীনের জন্য একটা হুমকি সৃষ্টি করা।
একদিকে যেমন ভারতের সঙ্গে মিত্রতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র অপর দিকে পাকিস্তানের সঙ্গে থাকা দেশটির দীর্ঘ মিত্রতারও ইতি টানার আভাস দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কোনো ধরনের সাহায্যই করছে না পাকিস্তান। গত এক দশকে ভারতের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি শূন্য থেকে ১৫ বিলিয়নে গিয়ে ঠেকেছে। তবে পাকিস্তান এখনো যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রচুর অস্ত্র কিনে।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছে যে, গত কয়েকদিনের সংঘর্ষে তারা পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান ধ্বংস করেছে। কিন্তু ইসলামাবাদ এ দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ এফ-১৬ বিমান পাকিস্তানের কাছে বিক্রি করেছে যুক্তরাষ্ট্রই। বিক্রয়ের সময় চুক্তি হয়েছিল যে, এ বিমান শুধুমাত্র জঙ্গি দমনে ব্যবহার করা যাবে। তাই ভারতের বিরুদ্ধে এ বিমান ব্যবহার হবে চুক্তিভঙ্গ। তবে পাকিস্তান বারবার অস্বীকার করে আসছে যে তারা সেদিনের অভিযানে এফ-১৬ পাঠিয়েছিল।
২০২৪ সালের মধ্যেই পৃথিবীর সবথেকে বেশি মানুষের দেশে পরিণত হবে ভারত। দেশটির চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বিশাল সীমান্ত রয়েছে। তাই চীন যখন ক্রমাগত আগাচ্ছে তখন তাকে থামাতে ভারতের মতো একটি রাষ্ট্র দরকার যুক্তরাষ্ট্রের। তবে এখনো ভারতের এই বিশাল সেনাবাহিনীর জন্য অর্থায়ন একটা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। গত বছর ভারত তার সামরিক বাজেট ঘোষণা করে ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেখানে চীনের সামরিক বাজেট প্রায় ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে ভারত তার সেনাবাহিনীর জন্য কত ব্যয় করে সেটি এখনো প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হচ্ছে এই অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়?
এই অর্থের বেশিরভাগই ব্যয় হয় প্রায় ১২ লাখ সেনার বেতন দিতেই। এ ছাড়া রয়েছে তাদের পেনশনের খরচও। তাই সেনাবাহিনীর উন্নয়নে এই অর্থ খুব কমই ব্যয় করা হয়। ভারত সরকার দাবি করছে যে তারা তাদের নাগরিকদের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করছে। কিন্তু এদিকে চীন ভারতের চারদিকে সমুদ্র ও স্থলে তার প্রভাব বাড়িয়ে তুলছে। এভাবে চীনের কাছে পিছিয়ে পড়ছে ভারত। সামরিক সরঞ্জাম কেনা বেশিরভাগ দেশের জন্যই অনেক সময়ের বিষয়। কিন্তু ভারত তার থেকেও বেশি ধীরে এগুচ্ছে। তাছাড়া দেশটিতে দুর্নীতির একটি প্রভাব তো রয়েছেই।

সমকামিতার ছবি পেল সেরার পুরস্কার

আফ্রিকার সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসবে সমকামী ভালবাসার কাহিনীকে কেন্দ্র করে ছবি ‘রাফিকি’ পুরস্কার জিতেছে। ওই ছবিতে মূল সমকামী নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন কেনিয়ার অভিনেত্রী সামান্থা মুগাতসিয়া। তার দেশে সমকামিতা নিষিদ্ধ। তারপরও এমন সাহসী চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাকে দেয়া হয়েছে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
এতে বলা হয়, ওই ছবিটি কেনিয়ায় নিষিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু আফ্রিকার সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসব ফেসপাকো অনুষ্ঠিত হয়েছে বুরকিনা ফাসোদে। সেখানেই সামান্থাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
সমকামিতা উসকে দেয়ার অভিযোগে গত বছর এ ছবিটি নিষিদ্ধ করে কেনিয়া ফিল্ম ক্লাসিফিকেশন বোর্ড  (কেএফসিবি)। কিন্তু ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা যাবে কিনা এ বিষয়ে মে মাসে রায় দেয়ার কথা দেশটির হাই কোর্টের। এই দেশটিতে পুরুষ সমকামীদের শাস্তি ১৪ বছরের জেল।
কেএফসিবি এর আগে সতর্ক করেছিল যে, যদি কারো কাছে ওই ছবিটি পাওয়া যায় তাহলে তা হবে আইনের লঙ্ঘন। ফলে তাকে শাস্তি দেয়া হবে। ছবিটির নাম ‘রাফিকি’ রাখা হয়েছে স্বাহিলি’তে। এর অর্থ হলো ‘বন্ধু’। এতে দু’জন যুবতীর মধ্যে গড়ে ওঠা ভালবাসা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তারপর তারা একে অন্যের প্রেমে হাবুডুবু খান। তাদের পরিবার রাজনৈতিক বিভেদের বিরুদ্ধে থাকায় এবং দেশে সমকামিতার বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও তারা দু’জন প্রেমে মেতে ওঠেন। উগান্ডার লেখক মনিকা আরাক ডি নিকো’র লেখা একটি পুরস্কার বিজয়ী ছোটগল্প ‘জামবুলা ট্রি’ অবলম্বনে তৈরি হয়েছে এ ছবিটি।
এ ছটিটি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিচালক ওয়ানুরি কাহিউ। ওই অনুষ্ঠানে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান মার্ক জিঙ্গা। তিনি ‘দ্য মার্সি অব দ্য জাঙ্গল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য এ পুরস্কার পান।

আলাদা থাকছে না আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা by শাহেদ শফিক

দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং বাণিজ্যিকে আবাসিক ব্যবহারের অনুমোদনে কঠোর হওয়ার কথা বলা হলেও এ অবস্থান থেকে সরে আসছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নাগরিকদের প্রয়োজনে এবার কোনও এলাকাকে আবাসিক বা বাণিজ্যিকভাবে চিহ্নিত করে দেওয়া হবে না। সব এলাকা একই সঙ্গে হবে আবাসিক ও বাণিজ্যিক। তবে শিল্পকারখানা বা শপিংমলের জন্য শর্তসাপেক্ষে এলাকা চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। রাজউকের ডিটেইল এরিয়া প্লানে (ড্যাপ) এসব সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ ও ড্যাপ প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে রাজউকের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা মনে করেন, নিমতলী ও চকবাজার ট্র্যাজেডির পর আবাসিক ও বাণিজ্যিকের মিশ্র ব্যবহারকে উৎসাহিত করার নামে বিপর্যয়ের কারণ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে কিনা, সেটা গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করে দেখা দরকার।
রাজউক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুরু থেকেই আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ভাগ করে দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। অনেক চেষ্টা করেও ভবন মালিকদের বাণিজ্যিক ব্যবহার থেকে দূরে রাখা যাচ্ছে না। আবাসিকের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য বাণিজ্যিক ভবন বা দোকানের প্রয়োজন থাকায় এটি গুরুত্বও বহন করছে। মানুষের প্রয়োজনেই বিভিন্ন আবাসিক ভবনে দোকানপাট গড়ে উঠেছে।
তারা বলেন, নাগরিকদের প্রয়োজন মেটানোর দায়িত্ব রাজউকেরও রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য কঠোরতার সঙ্গে কিছু শর্ত দেওয়া হবে। আবাসিক ভবনের নিচে যেসব ফ্লোর বাণিজ্যিক হিসেবে ব্যবহার হবে সেগুলোতে শুধু নাগরিকদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেচাবিক্রি করতে হবে।
রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এক গবেষণায় দেখা গেছে, জনচাহিদার কারণে আবাসিকের প্রায় ৯০ শতাংশ ভবনে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় দোকানপাট গড়ে উঠেছে। ফলে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা অনেকটা একাকার হয়ে পড়েছে।
তারা জানান, রাজউকের নিয়ম উপেক্ষা করে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ব্যবস্থাও নেওয়া যাচ্ছে না। এসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগও করেছে বিপুল অর্থ। এসব দোকানপাট উচ্ছেদ করতে গেলে আন্দোলন শুরু হয়। দোকানিদের পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দারাও রাস্তায় নামেন।
রাজউকের কর্মকর্তারা বলেন, যদি এসব দোকান না থাকে তাহলে একটা সাবান বা এক কেজি পেঁয়াজের জন্য রিকশা ভাড়া করে বা ব্যক্তিগত গাড়িটি নিয়ে এক-দুই কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। এতে দুর্ভোগ যেমন বাড়ে তেমনই সড়কেও বাড়ে যানবাহনের চাপ।
জানতে চাইলে ড্যাপ পরিচালক আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা করা। আমাদের তো মানুষেরই জন্য চিন্তা করতে হবে। তাই এবার ড্যাপে কোনও কমিউনিটিকে আবাসিক হিসেবেও দেবো না, আবার বাণিজ্যিক হিসেবেও দেবো না। মিশ্র এলাকা হিসেবে ড্যাপে সুপারিশ করছি। কারণ, প্রতিটি এলাকায় দেখা গেছে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট গড়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ঢাকা শহরে দুই কোটি মানুষের বসবাস করছে। এর মধ্যে কম সংখ্যক মানুষই চাকরি করে। বাকিরা এ জাতীয় সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছে। আমাদের এই মানুষগুলোর কথাও চিন্তা করতে হবে। যুগের প্রয়োজন এবং বাস্তবতার নিরিখে এসব বিষয় এখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। তাদের বিষয়টিও আমাদের দেখতে হচ্ছে। তারা হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছে। এই মানুষগুলো সমাজে কন্ট্রিবিউট করে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে অবদান রাখছে। কিন্তু রাজউক বর্তমান প্রক্রিয়ায় তাদের অস্বীকার করে যাচ্ছে।’
আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার কারণে রাষ্ট্র এই মানুষগুলোকে চাকরি দিতে পারছে না। যদি নাই দিতে পারে তাহলে তো তাদের ফরমালাইজড করতে হবে। সে জন্যই আমরা এবার এই বিষয়টি ড্যাপে অন্তর্ভুক্ত করছি।’
ড্যাপ পরিচালক বলেন, ‘আমরা পিওর রেসিডেন্সিয়াল কোথাও রাখবো না। তবে বড় বড় শপিংমলের জন্য গাইডলাইন করে দিচ্ছি। এগুলো কত ফিট রাস্তার পাশে হবে, কোন জায়গায় হবে, তার আয়তন কতটুকু হবে— সেই নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করে দেব। শুধু ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা আলাদা করে দেবো।’
রাজউকের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রাজউক তাদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজউক যদি আবাসিককে আবাসিক আর বাণিজ্যিককে বাণিজ্যিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারতো তাহলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মিশ্র ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু সেখানে দোকানপাটের ধরন ও তালিকা তৈরি করা আছে। এখন আমাদের দেখতে হবে এই মিশ্র ব্যবহারের নামে আমরা আত্মঘাতী কোনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছি কিনা।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে সরকারি ব্যবস্থাপনা অনেক দুর্বল, আইন মানা হচ্ছে না, সেখানে মিশ্র ব্যবহারকে উৎসাহিত করার নামে অনেক ধরনের বিপর্যয়ের কারণ তৈরি করে দিচ্ছি কিনা, সেটাই দেখার বিষয়। অস্ত্রটা কত সুন্দর, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সেটা কার হাতে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটা যুক্তিসংগত নয়।’ পুরান ঢাকার নিমতলী ও চকবাজারের ঘটনা এমন মিশ্রব্যবহারের কারণেই ঘটেছে বলেই মনে করেন এই নগর পরিকল্পনাবিদ।

খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপিতে উদ্বেগ বাড়ছে

দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ও তার সুচিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিএনপিতে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতে সাজা হওয়ার পর একবছরের বেশি সময় ধরে কারাভোগ করছেন খালেদা জিয়া। ৭৪ বছর বয়সি তিনবারের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে কারান্তরীণ রাখা হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডে কেয়ার সেন্টারে। পরিত্যক্ত ঘোষিত দুইশ বছরের পুরোনো এ কারাগারের পরিবেশ নিয়ে প্রথম থেকেই অভিযোগ ছিল বিএনপির।
কারাগারে নেয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে তিনি যেসব শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন কারাগারের বদ্ধপরিবেশ, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা ও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে সে জটিলতাগুলোর তীব্রতা বেড়ে যায়। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পছন্দসই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে মুখর হয় বিএনপি নেতারা। কিন্তু বারবার সে দাবিকে অগ্রাহ্য করেছে সরকার। তবে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে কারা কর্তৃপক্ষ এপ্রিলের ৮ তারিখে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে এনেছিল।
২০১৮ সালের জুন মাসে একবার ‘মাইল্ড স্ট্রোকের শিকার হয়েছেন খালেদা জিয়া।
পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে অক্টোবরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কেবিন ব্লকে ভর্তি করে একমাস চিকিৎসাও দিয়েছিল। প্রথমবার তিনি হুইল চেয়ার ব্যবহার না করলেও দ্বিতীয়বার তাকে তা ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে তাকে কারাগারে ফেরত নেয়া হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একমাত্র বন্দি খালেদা জিয়া শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি ভুগছেন নিঃসঙ্গতায়। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে খালেদা জিয়াকে বকশীবাজার প্যারেড গ্রাউন্ডের আদালতে আনা-নেয়ায় জটিলতা দেখা দেয়ায় কারাগারের অভ্যন্তরে বিশেষ আদালত স্থাপন করে সরকার।
সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতার কারণে কারাকর্তৃপক্ষ তাকে কারা অভ্যন্তরে স্থাপিত বিশেষ আদালতেও হাজির করেনি। রোববার বিশেষ আদালতে আনা হলে খালেদা জিয়া নিজেই বলেছেন- ‘আমার শরীর ভালো যাচ্ছে না। শরীর খুব খারাপ। চিকিৎসকরা দরকারি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন না।’ এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের পর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায়েও সাজা হয়েছে তার। গ্যাটকো মামলার শুনানি চলছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের। অন্য কয়েকটি মামলায়ও তাকে দেখানো হয়েছে শ্যোন অ্যারেস্ট। তার ওপর গুঞ্জন রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনকে স্থানান্তর করা হতে পারে কেরানীগঞ্জ কারাগারে। তার আইনি লড়াই এগোচ্ছে জামিন, জামিন বাতিল এবং শ্যোন অ্যারেস্টের মধ্যদিয়ে।
আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সহসা তার মুক্তির সম্ভাবনা দেখছে না বিএনপি। দলটির দায়িত্বশীল নেতা ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এমন মন্তব্য করছেন বেশ কিছুদিন ধরে।
এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ও তার চিকিৎসাহীনতায় উদ্বেগ বাড়ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি নেতারা। আজ দুপুরে সচিবালয়ে গিয়ে তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সেই সঙ্গে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ৬ই মার্চ বুধবার মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। 
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া হাঁটতে পারছেন না। তার পা ফুলে গেছে। হাত অবশ। পুরনো রোগগুলো বেড়ে গেছে। চোখেও প্রচণ্ড ব্যথা। নির্যাতন সহ্য করতে গিয়ে তার আগের অসুস্থতা এখন আরো গুরুতর রূপ ধারণ করেছে। সার্ভাইক্যাল স্পন্ডিলোসিসের জন্য কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা, হিপ-জয়েন্টেও ব্যথার মাত্রা প্রচণ্ড। ঝুঁকিপূর্ণ শরীর। খালেদা জিয়াকে নিয়ে তারা প্রতি মুহূর্তে শঙ্কায় থাকেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রিউম্যাটিকআর্থ্রাইটিসের কারণে খালেদা জিয়ার হাত-পা ফুলে যায়। ফ্রোজেন শোল্ডার, পিঠে ব্যথা, চোখের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। খালেদা জিয়ার দুই হাঁটুই প্রতিস্থাপনকৃত- যার একটি আমেরিকায় ও একটি সৌদি আরবের হাসপাতালে প্রতিস্থাপন করা হয়। দুই বছর আগে লন্ডনে তার চোখের অপারেশন হয়। হাঁটতে অক্ষম হয়ে পড়ায় কয়েকবার তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া পরিবারের স্বজনদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারেন নি।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, চেয়ারপারসনের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সত্যিই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। একদিকে তাকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি রাখা হয়েছে, অন্যদিকে তাকে রাখা হয়েছে একটি পুরোনো ও পরিত্যক্ত ভবনে। তার চিকিৎসা নিয়ে সরকার চরমভাবে অবহেলা করেছে। মোশাররফ বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং একজন ৭৪ বছর বয়স্ক নারী হিসেবে তিনি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়ার কথা। কিন্তু সরকার সেটা দিচ্ছে না। আমরা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য বারবার আবেদন-নিবেদন করলেও অগ্রাহ্য করেছে সরকার। এমনকি তার চিকিৎসার ব্যয়ভার দল বহন করবে জানানো হলেও সরকার রাজি হয়নি। এখন কারাগারে দিনদিন তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় কেবল আমরাই নই, দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থক ও দেশের সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, চেয়ারপারসনের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
কারণ বেগম খালেদা জিয়া তার জীবনে এই প্রথমবারের মতো তার কষ্টের কথা স্বীকার করেছেন। যা মিডিয়ায় এসেছে। তিনি স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত কষ্টসহিঞ্চু। তিনি যখন তার শারীরিক কষ্টের কথা স্বীকার করেছেন তখন তিনি যে শারীরিকভাবে প্রচণ্ড অসুস্থ তা আমরা ধারণা করতে পারি। আলাল বলেন, আমরা কর্মসূচি দিয়েছি। এই কর্মসূচির মধ্যদিয়ে আবার বলতে চাই- সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবতা। সরকার যেন মানবাধিকার ও একজন সিনিয়র সিটিজেনের অধিকারগুলোর প্রতি সম্মান দেখান। আর সুচিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে সরকারকে কোনোদিন ক্ষমা করবে না দেশের জনগণ। এর আগে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রিফিং করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, দেশবাসীর প্রাণপ্রিয় নেত্রী নিজের মুখে এই প্রথম এমন ভয়াবহ অসুস্থতার কথা বললেন। তার স্বাস্থ্যের চরম ক্রমঅবনতিতে দেশবাসীর মতো আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।
আমরা প্রতিদিন নানাভাবে আহ্বান এবং দাবি করে আসছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে তার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। তাকে জামিনে মুক্তি দিন। রিজভী বলেন, আমরা আগেই বলেছি- বিএসএমএমইউ উন্নত চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে চাননি। দলের পক্ষ থেকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলবো- ৩ বার সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শুধু প্রতিহিংসাবশত: এমন নিষ্ঠুর বর্বরতম আচরণের অবসান ঘটান। তার জামিনে আর বাধা দেবেন না। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, সুচিকিৎসার সুযোগ দিন। বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে চাননি, বাংলাদেশে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা নিতে চেয়েছেন। সে সুযোগটুকুও তাকে দেয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করে প্রচণ্ড অসুস্থ খালেদা জিয়াকে সুস্থ বলে ফেরত পাঠিয়েছে অন্ধকার কারাগারে।

ডাকসু নির্বাচন: প্রচার যুদ্ধে প্রার্থীরা- আচরণবিধির তোয়াক্কা করছে না ছাত্রলীগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হয়েছে। রোববার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই জোরালোভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা। ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী, বামজোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী, স্বতন্ত্র জোট, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, জাসদ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র মুক্তিজোট নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়। তবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শুরুতে আবারো আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন ছাত্রলীগ। আচরণবিধিতে রঙিন ব্যানারের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও রঙিন ব্যানার টানিয়ে নির্বাচনী সভা করেছে ছাত্র সংগঠনটি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, রঙিন ব্যানার ব্যবহার আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে গতকাল সকালে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে প্রার্থী, ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
এসময় তিনি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানান। একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ডাকসু নির্বাচন আনার ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভিসি আখতারুজ্জামান। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চান।
প্রচারযুদ্ধে প্রার্থীরা: আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছে প্রার্থীরা। গতকাল ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে ভোটারদের কাছে ছুটে গেছেন প্রার্থী ও সমর্থকেরা। লিফলেট হাতে তুলে দিয়ে ভোট দিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নির্বাচিত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার। সকাল থেকেই এ প্রচারণা শুরু হয়। সকাল সকাল প্রচারণা শুরু করেন বামজোট থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা লিটন নন্দীর নেতৃত্বে বামজোটের প্রার্থীরা। টিএসসি, কলা ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, এফবিএসসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রচারণা চালান তিনি। এসময় তিনি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একই সময়ে প্রচারণা চালিয়েছেন স্বতন্ত্র জোট ও কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীরা। এসময় তারা ভোটারদের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। নির্বাচনী ইশতেহার শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থীরা। সকাল ১১টায় ভিসির ভাষণের পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রচারণা চালিয়েছে অন্য প্রার্থীরাও। কার্জন হল, টিএসসি ও বিভিন্ন বাসে প্রচারণা চালিয়েছেন জিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ আর এম আসিফুর রহমান। তিনি বলেন, সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রচারণা চালিয়েছি। ভালোই সাড়া পাচ্ছি। তবে হলের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডাকসু নিয়ে এখনো আগ্রহ তৈরি হয়নি।
আমরা তাদের সে বিষয়েও সচেতন করার চেষ্টা করেছি। সবাইকে হল আইডি কার্ড নবায়ন করে ভোট প্রদানে উদ্বুদ্ধ করছি। অনেকের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করছে। আমরা সাহস দিয়েছি, যেন তারা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্র আসে। তবে ভিসির আজকের বক্তব্যে আমরা হতাশ হয়েছি। আমরা আশা করছিলাম তিনি ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন। কিন্তু তিনি সে সম্পর্কে কোনো বক্তব্য রাখেননি। আসিফুর রহমান বলেন, তিনি সবদিক থেকেই ভালোই সাড়া পাচ্ছেন এবং নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। গতকালও তাকে কবি সুফিয়া কামাল হলের স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীরা মধুতে সংবাদ সম্মেলন করে সমর্থন দিয়েছেন বলে জানান স্বতন্ত্র এ জিএস প্রার্থী। এদিকে গতকাল দুপুরে কলা ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, এফবিএস, টিএসসি এলাকায় প্রচারণা চালিয়েছে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল। ছাত্রলীগের প্যানেলে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাদ বিন কাদের চৌধুরী (সাদী) বলেন, ‘আমি সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালিয়েছি।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। তারা বলছেন, আমার ক্লিন ইমেজের কারণে ডাকসু নির্বাচনে তারা আমার পাশে থাকবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমি কোনো ইশতেহার নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছি না। আমি প্রচরণার সময় বলেছি- আপনাদের সমস্যাই আমার ইশতেহার। অতিরঞ্জিত কোনো বক্তব্য আমি দেবো না। বিষয়টি ভোটাররা ভালোভাবেই নিয়েছে।’ ছাত্রলীগের প্যানেল হলে হলেও নির্বাচনী সভা শুরু করেছে। গত রোববার রাতে বঙ্গবন্ধু ও বিজয় একাত্তর হলে তারা প্রচারণা চালিয়েছে। গতকালও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল ও কবি জসীম উদ্‌্‌দীন হলে প্রচারণা চালিয়েছে ছাত্রলীগ।
রঙিন ব্যানারে ফের আচরণবিধি লঙ্ঘন ছাত্রলীগের: ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই যাচ্ছে ছাত্রলীগ। রঙিন পোস্টার দেয়ালে টানিয়ে বিতর্কিত হওয়ার পর এবার এবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে হলগুলোতে করা নির্বাচনী সভায় ব্যবহার করা হচ্ছে রঙিন ব্যানার। এছাড়াও দেয়ালে বা খুঁটিতে পোস্টার সাঁটানো নিষিদ্ধ হলেও তা মানছে না ছাত্রলীগ। রঙিন ব্যানারের ব্যবহার ও দেয়ালে বা খুঁটিতে পোস্টার সাঁটানো ডাকসু আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন নির্বাচনে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক ড. এসএম মাহফুজুর রহমান।
তিনি বলেন, নির্বাচনে রঙিন কোনো কিছুই ব্যবহার করা যাবে না। এটি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, এটি প্রক্টরের দায়িত্ব তিনি বিষয়টি দেখবেন। গত রোববার রাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে নির্বাচনী সভা করে ছাত্রলীগ। এসময় ছাত্রলীগ তাদের প্যানেলের সব প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেয়। সভায় ছাত্রলীগ যে ব্যানার ব্যবহার করে তা ছিল রঙিন ডিজিটাল ব্যানার। বিষয়টি নিয়ে তখনো অন্য অনেক প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোমবার বিকালে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে নির্বাচনী সভা করে ছাত্রলীগ। সেখানেও ব্যবহার করা হয়েছে রঙিন ডিজিটাল ব্যানার। ডাকসু নির্বাচনের আচরণবিধির ৬ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো প্রার্থী নিজের সাদাকালো ছবি ছাড়া লিফলেট বা হ্যান্ডবিলে অন্য কারও ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না।
লিফলেট ছাপানো ও বিলি করা যাবে। ৬(খ) ধারায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও হল এলাকায় অবস্থিত কোনো প্রকার স্থাপনা, দেয়াল, যানবাহন, বেড়া, গাছপালা, বিদ্যুুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি বা অন্য কোনো দণ্ডায়মান বস্তুতে লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগানো যাবে না। শাস্তি হিসেবে আচরণবিধির ১৫(ক) ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা অভিযোগ ও তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রয়োজনবোধে স্বপ্রণোদিতভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ডাকসুতে ভিপি পদে লড়া রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাকসুতে জিএস পদে লড়া গোলাম রাব্বানীকে ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।
ডাকসুতে বামজোটের হয়ে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উম্মে হাবিবা বেনজীর বলেন, শুরু থেকেই ছাত্রলীগ আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। মনোনয়ন কেনা থেকে শুরু করে রঙিন পোস্টার দেয়ালে টানানো এখন আবার নির্বাচনী সভায়ও রঙিন ব্যানারের ব্যবহার। কিন্তু প্রশাসন আমরা বলার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এর থেকে প্রমাণ হয় কাদের জন্য এ নির্বাচন। কাদের জিতাতে এ নির্বাচন। আমরা ছাত্রলীগের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেব। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ- ভিসি: গতকাল সকালে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ছাত্রছাত্রী, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে ডাকসু সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন-২০১৯ সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এসময় দুই প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ, প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রার্থী হিসেবে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। সকলে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করছেন। প্রার্থীরা অবাধে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনী সব কাজ সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন  করার ব্যাপারে নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ভিসি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধি ও গণতন্ত্র চর্চার কেন্দ্রভূমি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্ম-সংস্কৃতির মতাদর্শের এক বিরাট পরিবার। পরস্পরের মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, পরমতসহিষ্ণুতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই গণতন্ত্রের মূল দর্শন। গঠিত কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত ও সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি ২০১৯ কার্যকর রয়েছে।
এ আচরণবিধি যথাযথভাবে পালন করা সংশ্লিষ্ট সবার নৈতিক দায়িত্ব। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্তরের শিক্ষার্থীসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রী ও সংগঠনসমূহ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থেকে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাশীলতায় গণতান্ত্রিক আচরণের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে আমি সেজন্য আমাদের প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে, প্রত্যাশা করব, তাদের এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা যেন সব সময়ে অব্যাহত থাকে। তিনি বলেন, ভিন্ন মতাদর্শ একটি সমাজের সৌন্দর্য। আর ভিন্ন মতাদর্শ টিকে থাকতে পারে  একমাত্র  উদারনৈতিক,  মানবিক ও  অসাম্প্র্রদায়িক  সমাজে।
এরূপ সমাজে উগ্রতা,  কট্টরবাদিতা পরাজিত হয়; আর মানবিক ও উদার মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সুমহান ঐতিহ্য সমুন্নত থাকবে-এই আমাদের আহ্বান। তিনি আরো বলেন, ক্যাম্পাসে বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল পরিবেশ যাতে কোনোক্রমেই বিঘ্নিত না হয় সে-বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশেষ করে প্রক্টরিয়াল টিম সতর্ক থাকবে। নির্বাচনের দিন এবং এর আগে ও পরে প্রক্টরিয়াল টিমকে বিশেষ সহয়তা প্রদানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

বালাকোটই বিজেপির তুরুপের তাস by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বালাকোটে সত্যি সত্যিই কি জইশ-ই-মুহাম্মদের শিবির ধ্বংস হয়েছে? নিহত হয়েছে তিন থেকে সাড়ে তিন শ জঙ্গি? ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পরেও তর্কাতীতভাবে সেই রহস্যের সমাধান হলো না। তবে তাতে কি! ওই দাবি ও তাকে ঘিরে বিরোধীদের সমালোচনাই তপ্ত করে রেখেছে ভারতীয় রাজনীতিকে।
বিহার রাজ্যের রাজধানী পাটনায় গতকাল রোববার প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আরও একবার এই প্রসঙ্গের অবতারণা করে একহাত নিলেন কংগ্রেসকে। বললেন, ‘আগেরবার উরি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়েও কংগ্রেস সন্দিহান ছিল। প্রমাণ চেয়েছিল। এবারেও বালাকোট অভিযানের সাফল্যের প্রমাণ চাইছে। আমার অবাক লাগে, বাহিনীর মনোবল ভাঙতে কংগ্রেসের এত আগ্রহ কেন? ওদের কথা তো শত্রুদেরই সাহায্য করছে?’ এরই পাশাপাশি বিরোধীদের কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গালমন্দ করার একটা প্রতিযোগিতা ওরা শুরু করেছে। কিন্তু তা হলেও চৌকিদার নিজের দায়িত্ব পালনে সজাগ।’
স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, ভারতের আসন্ন নির্বাচনে বালাকোট অভিযানই হয়ে গেছে শাসক দলের তুরুপের তাস। ঢেকে যাচ্ছে কৃষি ও কৃষক সমস্যা, রাফাল ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ, বছরে দুই কোটি চাকরি না দিতে পারার ‘ব্যর্থতা’, নোট বাতিলের ধাক্কা অথবা অভিন্ন পণ্য ও পরিষেবা কর রূপায়ণের সমস্যা। ভোটের দিন যত এগোবে, ততই মাথা তুলে ঋজু হয়ে দাঁড়াবে বালাকোটের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক-২’।
বালাকোটের ‘ধ্বংস’সংক্রান্ত ভারতীয় দাবি নিয়ে প্রথম প্রশ্ন তোলে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো। রয়টার্স, এপি, ওয়াশিংটন পোস্ট, হাফিংটন পোস্ট, বিবিসির সাংবাদিকেরা জানিয়েছিলেন, জাব্বা টপের আশপাশে ধ্বংসের কোনো ছবিই দেখা যায়নি। বোমায় ভূপাতিত কিছু পাইনগাছ, ফাঁকা মাঠে গর্তের চিহ্ন ও একজন গ্রামবাসীর আহত হওয়া ছাড়া পশ্চিমা সাংবাদিকদের নজরে ও গোচরে আর কিছু আসেনি। এই প্রথম ক্ষয়ক্ষতির অন্য একটা উপাখ্যান গতকাল প্রকাশিত হলো। ফার্স্ট পোস্ট–এ প্রকাশিত ইতালির সাংবাদিক ফ্রান্সেসা মারিনোর সেই প্রতিবেদন ভারতীয় দাবির অনেকটাই সমর্থন করছে।
পাকিস্তানি প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লেখা সেই কাহিনি অনুযায়ী, মিরাজ-২০০০ থেকে বোমা বিস্ফোরণের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তান বাহিনী বালাকোট থেকে অন্তত ৩৫ জনের লাশ সরিয়ে ফেলে। প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী মারিনো লিখেছেন, ‘বিমান হানার পরেই পাকিস্তানি প্রশাসন কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনী গোটা অঞ্চল ঘিরে ফেলে। পুলিশদেরও সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদেরও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়।’ নিহত ব্যক্তিদের কয়েকজনের পরিচয়ও মারিনো দিয়েছেন। যেমন গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা কর্নেল সেলিম, জঙ্গি প্রশিক্ষক মুফতি মইন, জইশ–ই–মুহম্মদের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ উসমান গনি।
অবশ্য চর্চায় প্রবলভাবে রয়েছে মিগ-২১ ও এফ-১৬–এর ‘ডগফাইট’ ও উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানের পাঠানো শেষ বার্তা। সেনা সূত্র অনুযায়ী, অভিনন্দনের মিগ-২১ ও পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের মধ্যে আকাশে ৮৬ সেকেন্ড ধরে লুকোচুরি খেলা চলে। এই খেলা শেষ হয় ‘ভিম্পেল আর ৭৩ এয়ার টু এয়ার মিসাইল’–এর আঘাতে। সেই আঘাতেই ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের এফ-১৬। অভিনন্দনও ঢুকে যান ইতিহাসে। এফ-১৬কে নামিয়ে দেওয়ার সময় অভিনন্দনের মিগ-২১–এও পাকিস্তানি গোলা লাগে। দুটি বিমানই ভেঙে পড়ে পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে। এফ-১৬ বিমানের পাইলট শাহজাজ ছিলেন অভিনন্দনের মতোই উইং কমান্ডার। কিন্তু তাঁকে ভারতীয় ভেবে স্থানীয় মানুষজন মারধর করতে থাকে।  হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মৃত্যু হয়।
গত শনিবার ভারতের কাশ্মীরনীতি নিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করে ৫৭টি দেশ নিয়ে গঠিত ওআইসি। প্রস্তাবে বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকে কাশ্মীরে আরও বেশি বর্বর আচরণ করছে ভারত। তবে ওআইসির ওই দাবি নাকচ করে গতকাল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, এটা ভারতের সম্পূর্ণ নিজস্ব বিষয়। এখানে কারও হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।
কাশ্মীরে ৬০ ঘণ্টায় গোলাগুলিতে নিহত ৬
ভারত–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কুপওয়ারায় ৬০ ঘণ্টা ধরে চলা গোলাগুলিতে নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ সদস্যসহ নিহত হয়েছেন ছয়জন। এই গোলাগুলিতে দুই সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত। শুক্রবার রাতে কুপওয়ারার একটি বাড়িতে অভিযান গোলাগুলিতে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের আহত এক সদস্য গতকাল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে নিহত হন সিআরপিএফের দুই সদস্য ও রাজ্য পুলিশের দুজন। গোলাগুলিতে একজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
মানসিক যন্ত্রণা সইতে হয়েছে: অভিনন্দন
ভারতের বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান বলেছেন, পাকিস্তানে আটক অবস্থায় তাঁকে কোনো শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি। তবে তাঁকে ব্যাপক ‘মানসিক যন্ত্রণা’ সইতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে

ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেছেন, মার্কিন ব্যবসায়ীরা সেই সব দেশেই বিনিয়োগ করতে চান যারা স্বচ্ছতা মেনে চলে, আইনের শাসন সমুন্নত রাখে ও ব্যক্তিগত অধিকারের সুরক্ষা দেয়। অবশ্যই ওই সব দেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে ‘না’ বলার সংস্কৃতি থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন নীতি ও পরিবেশ থাকতে হবে যেখানে আইনের শাসন, সম্পত্তির অধিকার, শ্রম অধিকার, স্বচ্ছতা, দুর্নীতি-বিরোধী যুদ্ধ ও টেকসই বিনিয়োগ অগ্রাধিকার পাবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিপস) এবং ডেইলি স্টারের যৌথ আয়োজনে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক এক সেমিনারে মার্কিন দূত এসব কথা বলেন। সেমিনারের মূল ফোকাস ছিল এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন ওই রূপকল্পের প্রভাব কী হবে? ডেইলি স্টার ভবনে আয়োজিত ওই সেমিনারে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, স্কলার, গবেষক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন। বিপস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে দেয়া বক্তৃতায় রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও অভ্যন্তরীণভাবে সংযুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গঠনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য প্রায় অভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র আশা করে  কৌশলগত অবস্থান ও দ্রুত-বর্ধনশীল অর্থনীতির কারণে বাংলাদেশ এই অঞ্চলে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সহায়তা কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্র মূল্যায়ন করে জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছে।
গত এক দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের আলোচনায় বাংলাদেশের গর্ব করার মতো অনেক কিছুই আছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, অর্থনৈতিক উন্নতি, গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও মানবাধিকার একে অন্যের পরিপূরক। এগুলো পরস্পরকে শক্তিশালী করে, তা প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিষয় নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার প্রকল্প ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্যাট্রেজি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই রূপকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো সুষ্ঠু, ন্যায্য ও ক্রিয়াশীল শাসনকে উৎসাহিত করা।
এই অঞ্চলের অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশে শুধু অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহারের ক্ষমতাই বৃদ্ধি পাবে না, একই সঙ্গে দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতাও সুরক্ষিত হবে। রাষ্ট্রদূত তার দীর্ঘ বক্তৃতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রকল্পের বিভিন্ন প্রেক্ষিত তুলে ধরেন। বলেন, অভিন্ন ইন্দো-প্যাসিফিক রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্বচ্ছতা অপরিহার্য। গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি ‘ইন্দো-প্যাসিফিক ট্রান্সপারেন্সি ইনিশিয়েটিভ’ ঘোষণা করেছে।
প্রকল্পটিতে এই অঞ্চলের নাগরিকদের ক্ষমতায়ন, দুর্নীতিবিরোধী যুদ্ধ ও দেশগুলোর স্বায়ত্তশাসন জোরদার করতে সুষ্ঠু, ন্যায্য ও ক্রিয়াশীল শাসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। মিত্র দেশ, অংশীদার ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত এই প্রকল্পে দুই বছরে ৪০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ সহায়তা রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রায়ই আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ইন্দো-প্যাসিফিকের ওপর এই গুরুত্ব আরোপ কি চীনকে দমনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রচেষ্টা।
আমরা বলি, যুক্তরাষ্ট্রের অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক রূপকল্পে কোনো দেশকে (কাউকেই) বাদ দেয়া হয়নি। আমরা কোনো দেশকেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি দেশকে বেছে নিতে বলিনি। চীনের ‘ডলার ফর ডলার’ নীতির সঙ্গে মানিয়ে চলা বা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মতো আরেকটি প্রকল্প তৈরি আমাদের উদ্দেশ্য না। রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, স্পষ্ট ও স্বচ্ছ নীতিমালা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের মতো আমরাও চীনের গঠনমূলক অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাই। আমরা সব দেশের অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক আইনসম্মত বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই।
বিশ্বব্যাংক বা আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) যেমনটি করেছে। তিনি বলেন, ধারণা করা হয়, এই অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার দরকার হবে। কোনো একক দেশের পক্ষে এই বিনিয়োগ করা সম্ভব না। এর বেশির ভাগই আসবে বেসরকারি খাত থেকে। যুক্তরাষ্ট্র মুক্তবাজার নীতি ও উদ্ভাবনে বিশ্বাস করে। তারা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে বেসরকারি খাতকে সর্বোত্তম উপায় বলে মনে করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো অনেক দেশে নজিরবিহীন সমৃদ্ধি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বয়ে এনেছে। মার্কিন সরকারের টার্গেটকৃত ব্যয়ের উদ্দেশ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে  বেসরকারি ব্যবসাকে আরো গতিশীল করা। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। রাষ্ট্রদূত বলেন, সব দেশের উচিত বেসরকারি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানোর পরিবেশ তৈরি করা। যা নিজস্ব অর্থনীতিতে তাদের উৎপাদনশীল তৎপরতা চালানোর সুযোগ নিশ্চিত করবে।

হুমকির মুখে খাগড়াছড়ির মহামুনি বিহার

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে শতবর্ষী বিশ্বশান্তি রাজ মহামুনি বৌদ্ধ চৈত্য মন্দির ধ্বংসের পথে। সংরক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই মন্দিরটি কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে। একই সঙ্গে মং সার্কেলের রাজপরিবারের স্মৃতি হিসেবে গড়ে তোলা মিনারগুলো ক্ষয়ে যাচ্ছে। কালের সাক্ষী এই বিহার ও মিনারের রক্ষার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় লোকজন ও মং রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৮৮৩ সালে তৎকালীন মংরাজা নিপ্রু সাইন বাহাদুর (পঞ্চম) বিশ্বশান্তি রাজ মহামুনি বৌদ্ধ চৈত্য নামে রাজবাড়ির অদূরে মানিকছড়ি ছড়ার পাড়ে এই বিহারটি নির্মাণ করেন। বিহারের নাম অনুসারে ওই এলাকাটির নাম হয় মহামুনি। বিহারটি নির্মাণের পর থেকে প্রতিবছর পয়লা বৈশাখে বিহারে ধর্মীয় অনুষ্ঠান বৌদ্ধমেলা বসে। সন্ধ্যায় জ্বালানো হয় হাজার প্রদীপ। মেলায় জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সমাগম হয়। তা ছাড়া এই বিহারের চারপাশে রয়েছে মংরাজা নিপ্রু সাইন বাহাদুর, রানি নিহার দেবীসহ রাজপরিবারের মৃতদের উদ্দেশে তৈরি মিনার।
সম্প্রতি মানিকছড়ি উপজেলা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পাশে মহামুনি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শত বছর বয়সের বট, পাকুড়গাছ, কাঠগোলাপ, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন গাছ-গাছালির ঘেরা শতবর্ষী এই বিহার। বিহারের চারপাশে বাগানের ভেতরেই রয়েছে রাজপরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের তৈরি মিনার। মিনারগুলোর বেশির ভাগেই দেখা দিয়েছে ভাঙন। কয়েকটি ভাঙা মিনারে মাঝে বটের চারাও গজিয়েছে। দেয়ালঘেরা একতলা তিন কক্ষবিশিষ্ট বিহারের প্রবেশদ্বারে রয়েছে দুটি সিংহের মূর্তি। বিহারের ভেতরে প্রথম কক্ষে রয়েছে শত বছরের ছোট–বড় বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মূর্তি। আর বাকি দুটি কক্ষে বসবাস করেন কয়েকজন শ্রমণ।
বসবাসরত শ্রমণেরা বলেন, সংস্কার না করায় বৃষ্টি হলে বিহারে দেয়াল বেয়ে পানি পড়ে। দেয়ালে ফাটলও দেখা দিয়েছে। কয়েক বছর পর হয়তো দেয়াল ধসে পড়বে।
মনিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ম্রাগ্য মারমা বলেন, কালের সাক্ষী ঐতিহ্যবাহী এই বিহারটি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু রাজপরিবারের সদস্যদের মাঝে কোনো ঐক্য না থাকায় এটি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় সাংবাদিক মিন্টু মারমা বলেন, পুরাকীর্তি ও স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে বিহার ও মিনার রক্ষা জরুরি। রাজপরিবারের মিনারগুলো আজ ধ্বংসের পথে। এটি মংরাজার ইতিহাস বহন করেছে।
মংরাজা নিপ্রু সাইন বাহাদুরের বংশধর পার্সিয়েল সাইন বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী বিহারটি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জেলা পরিষদ কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড যদি এগিয়ে আসে তাহলে বিহারটি রক্ষা পাবে।’
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, কেউ যদি এই ব্যাপারে জেলা পরিষদে আবেদন করে তাহলে জেলা পরিষদ থেকে বিহার ও মিনারগুলো রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুভূমিক অট্টালিকা

হাল আমলে অট্টালিকা কত উঁচু হতে পারে, সে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ভবননির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সঙ্গে চলছে ভবনের নকশার প্রতিযোগিতাও। অট্টালিকার সঙ্গে তাই ‘আকাশচুম্বী’ কথাটাও এখন হরহামেশা ব্যবহৃত হয়। কিন্তু অনুভূমিক অট্টালিকার কথা কি কেউ ভেবেছে আগে—যে অট্টালিকা ওপরের দিকে উঠে যায় না, ছড়িয়ে যায় বামে ও ডানে, ভূমির সমান্তরালে? তেমন কিছুই এবার বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে চীনের আবাসন কোম্পানি ক্যাপিটালল্যান্ড। র‍্যাফলস সিটি চংকিং নামের এই ভবন নির্মাণ প্রকল্প প্রায় সম্পন্নের পথে।
পৃথিবীর স্থাপত্য নকশায় নতুন সংযোজন এই অনুভূমিক অট্টালিকা। এই ভবনকে ‘প্রকৌশল বিস্ময়’ বলা হচ্ছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চংকিং শহরের প্রাণকেন্দ্রে ভবনটি অবস্থিত। কাছেই ইয়াংসি ও চিয়ালিং নদীর সংযোগস্থল এর নৈসর্গিক আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে। এটি নির্মাণ করতে খরচ করতে হয়েছে ৩৮০ কোটি ডলার। চলতি বছরের এপ্রিল-জুনে এর উদ্বোধন করা হবে। বিশ্বখ্যাত ইসরায়েলি-কানাডীয় স্থপতি মোশে সাফদি এর নকশাকার।
মোট ২২ দশমিক ৭ একর জায়গার ওপরে নির্মাণ করা হচ্ছে পুরো প্রকল্প। মোট আটটি ভবন রয়েছে এতে। আটটি ভবনের মাথায় একটি বিশাল সংযোগকারী ‘আকাশসেতু’ (স্কাইব্রিজ) রয়েছে। এই আকাশসেতুটি তৈরি করা হয়েছে একটি ভবনের আদলে। এটিকেই ‘অনুভূমিক অট্টালিকা’ বলা হচ্ছে। ২৫০ মিটার দীর্ঘ এই অট্টালিকার নাম রাখা হয়েছে ক্রিস্টাল। পৃথিবীর অন্যতম উঁচু আকাশসেতু হতে যাচ্ছে এটি।  পুরো প্রকল্পটি চীনের ঐতিহ্যবাহী পালতোলা নৌকার আদলে করা হয়েছে। প্রাচীন চীনের বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল চংকিং। সে ঐতিহ্য মনে করিয়ে দেবে এই স্থাপনা।
আকাশসেতুর চমক এতেই শেষ হচ্ছে না। রাতে এর রূপ বদলে যাবে বলে জানিয়েছে নির্মাতা কর্তৃপক্ষ। পুরো আকাশসেতুটি একটি প্রকাণ্ড আলোকরশ্মিতে পরিণত হবে রাতে। আকাশে আলোর বন্যা বইয়ে দেবে এই রশ্মি।

এক ছবির জন্য এত ঝুঁকি?

শুধুমাত্র ইনস্টাগ্রামে ছবি দিয়ে লোক দেখানোর যে ধারা শুরু হয়েছে, একের পর এক বিপদের সম্মুখীন হয়েও তা পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না নেটিজেনদের মধ্যে। কয়েকদিন আগেই আমেরিকার এক যুবক ১৩ তলা উঁচু ক্রুজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে ভিডিও করেছিলেন শুধু ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করবার জন্য। এবার ভ্রমণ সংক্রান্ত একটি ব্লগিং ওয়েবসাইট চালানো এক দম্পতি তাদের ওয়েবসাইটের জন্য পাহাড়ের খাদের ধার দিয়ে যাওয়া চলন্ত ট্রেন থেকে ঝুঁকে পড়ে ছবি তুলে চরম সমালোচনার মুখে পড়লেন।
সম্প্রতি রাউল ও মিগুয়েল নামের ওই দম্পতি শ্রীলঙ্কায় ঘুরতে গিয়েছিলেন । সেখানে একটি ট্রেনে ভ্রমণ করবার সময় তাদের পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে একটি ব্রিজের উপর দিয়ে যাচ্ছে ট্রেনটি। তার এক পাশে পাহাড়, আর ব্রিজটির নীচে গভীর খাদ। ট্রেনের দরজায় দাড়িয়ে মিগুয়েল চুম্বন করছেন প্রেমিকা রাউলের কপালে। কিন্তু রাউল সেই সময় ট্রেনের দরজার বাইরে ঝূলছেন।
ছবি তোলার জন্য পর্তুগালের এই দম্পতির এমন বিপজ্জনক ভঙ্গী নিয়েই সমালোচনার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ওই দম্পতির ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার ২ লক্ষেরও বেশি। ছবিটি ইনস্টাগ্রামে দেবার পরে কেউ কেউ ওই দম্পতিকে মানসিক ভাবে অসুস্থ বলে অভিহিত করেন। মানসিক ভাবে অসুস্থ বলা হয় ওই দম্পতিকে যারা অনুসরণ করেন তাদেরও। কেউ আবার এমনও বলেছেন, ইনস্টাগ্রামে লাইক কুড়নোর জন্য আর কত ঝুঁকি নেবেন তারা? এগুলি বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়, এমনও বলেন কেউ কেউ।
যদিও প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে নিজেদের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন ওই দম্পতি। তারা জানিয়েছেন, ওই সময় ট্রেনটি খুবই ধীরে চলছিল। তাই বিপদ ঘটবার কোনও সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু তাদের সেই সাফাইতে যে ভুলছে না নেট দুনিয়া, তা বোঝা যাচ্ছে তাদের ছবিতে দর্শকদের মন্তব্যের বহর দেখেই।
সূত্র: আনন্দবাজার