Monday, January 26, 2026

ইউরোপের নতুন বাস্তবতা, প্রতিবেশীদের সম্পর্কে ফাটল

মাত্র ছয় দিনেই এক নতুন ‘বিশ্ব’ গড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সপ্তম দিনে এসে ইউরোপের সাবেক মিত্ররা হয়তো আশা করেছিল, তিনি একটু শান্ত হবেন; কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গত শনিবার গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর ট্রাম্পের প্রতিটি পদক্ষেপ পশ্চিমা বিশ্বের পুরোনো নিয়মকানুনকে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ভাষায়, এটি কেবল কোনো পরিবর্তন নয়; বরং এক ‘বিরাট বিচ্ছেদ’।

পুরোনো বিশ্বব্যবস্থার সেই মজবুত ‘ট্রান্স আটলান্টিক’ বা আটলান্টিকপারের দেশগুলোর পারস্পরিক বিশ্বাস এখন অতীত। এর পরিবর্তে তৈরি হয়েছে এক নিষ্ঠুর ও আইনহীন ক্ষেত্র, যেখানে কেবল যার গলা বড় এবং যে শক্তিমান, সে–ই জয়ী হয়।

২০১৯ সাল থেকেই ডেনমার্কের বরফঘেরা এলাকা গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আকাঙ্ক্ষা ছিল ট্রাম্পের। কিন্তু গত এক সপ্তাহে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো মিত্রের প্রতি তাঁর হুমকির ভাষা ইউরোপকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ট্রাম্প সরাসরি হুংকার দিয়ে বলেছেন, ‘যেকোনো উপায়ে আমরা গ্রিনল্যান্ড দখল করব, প্রয়োজনে কঠিন পথ বেছে নেব।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর মতে, সপ্তাহটি শুরুই হয়েছে আগ্রাসন ও শুল্ক আরোপের হুমকির মধ্য দিয়ে। পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে যে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের মতো মিত্রকেও তোষণের ভাষা ব্যবহার করতে হচ্ছে। দাভোসে মাখোঁ বলেন, ‘পেশিশক্তির চেয়ে আইনের শাসন এবং আধিপত্যের চেয়ে সম্মানই ফ্রান্সের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

গত বছর থেকে ট্রাম্প ক্রমাগত ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক বিষিয়ে তুলছেন। একদিকে ইউক্রেনের সহায়তা বন্ধ করা, অন্যদিকে রাশিয়ার সুরের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলা—সব মিলিয়ে এক অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইইউ নেতাদের এক বৈঠকের পর কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা জানান, সবাই একমত যে সম্পর্ক হওয়া উচিত ‘আন্তরিক ও সম্মানজনক’, যা বর্তমান হোয়াইট হাউসের আগ্রাসী আচরণের ঠিক বিপরীত।

শেষ ভরসা হারাল ইউরোপ

অবশেষে যেন ঘোর কেটেছে সবার। যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো সেই বিশ্বস্ত বন্ধু বা নির্ভরযোগ্য মিত্র নেই—এই রূঢ় বাস্তবতা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকেই যে সতর্কবার্তা পাওয়া যাচ্ছিল, অনেকের জন্য এই উপলব্ধি ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস গত বৃহস্পতিবার বলেন, গত এক সপ্তাহে আটলান্টিকপারের দেশগুলোর সম্পর্কে নিশ্চিতভাবেই বড় ধরনের আঘাত এসেছে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রধান চার্লস মিশেলের কণ্ঠে ঝরল আরও চরম হতাশা। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘দশক ধরে আমরা যে সম্পর্কের কথা জানতাম, তা এখন মৃত।’

মিত্রদের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বছরের অবজ্ঞা আর অসম্মানের পর অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল, পুরোনো সেই সম্পর্কের আর কতটুকুই–বা অবশিষ্ট আছে? গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে স্পষ্টভাবেই।

একজন ইইউ কূটনীতিক সিএনএনকে বলেন, ‘আপনি যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য এমন মরিয়া হয়ে ওঠেন, তবে কেউই আর বিশ্বাস করবে না যে যুক্তরাষ্ট্র এস্তোনিয়ার মতো মিত্রদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে।’

নতুন পথের সন্ধানে ইউরোপ

ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষার মুখে ইউরোপের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—হয় প্রতিরোধ, নয়তো দাসত্ব। এই কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এই সপ্তাহে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তোষণ নীতি কোনো ফল দেয় না, কেবল অপমানই বয়ে আনে।

অন্যদিকে দাভোস সম্মেলনে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার অনেকটা বিদ্রূপের সুরেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘দুস্থ দাসের’ চেয়ে ‘সুখী অনুগত’ থাকাও শ্রেয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, হোয়াইট হাউসের খেয়ালখুশির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এখন তারা স্বাবলম্বী হতে চায়—বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে। ২০২৫ সালজুড়ে ট্রাম্পকে তোষামোদ করার যে নীতি ইউরোপ নিয়েছিল, এখন তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে চাইছেন অনেক নেতা।

দোলাচলে ইউরোপ

ট্রাম্পের হুংকার সত্ত্বেও ইউরোপের সামনে থাকা পুরোনো হুমকিগুলো একবিন্দুও কমেনি। গত সোমবার কিয়েভে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ফিনিশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক করেছে, বাল্টিক সাগরের তলদেশের অবকাঠামো এখন রুশ নাশকতার প্রধান লক্ষ্য। মধ্যপ্রাচ্য ও চীনের দিক থেকে আসা ঝুঁকিগুলোও আগের মতোই বিদ্যমান।

ইইউ কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাপ করে বোঝা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড দখলের আকাঙ্ক্ষার কাছে নতি স্বীকার করতে কেউ রাজি নন। তবে প্রকাশ্যে সবার প্রতিবাদ সমানভাবে জোরালো ছিল না। এর কারণও স্পষ্ট—রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলায় ইউরোপ এখনো একা লড়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। তাই ট্রাম্পের মতো খামখেয়ালি নেতাকে পুরোপুরি শত্রুতে পরিণত করতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন।

এমনকি গ্রিনল্যান্ড ইস্যু থেকে ট্রাম্প কিছুটা পিছু হটলেও জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসকে দেখা গেছে নমনীয় সুরে কথা বলতে। ইউরোপের বাণিজ্যযুদ্ধের হুমকির মুখে ট্রাম্পের মত পরিবর্তনের জন্য তিনি ‘কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বাল্টিক দেশগুলো, যারা সাধারণত বেশ সোচ্চার থাকে, তারাও ট্রাম্পের এমন খিটখিটে মেজাজের সামনে আশ্চর্যজনকভাবে চুপ ছিল।

লিথুয়ানিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোভিল সাকালিন সিএনএনকে বলেন, ‘হোয়াইট হাউসের তৈরি করা এই সংকটের আবেগীয় দিকে নজর না দিয়ে আমাদের উচিত সামরিক ও প্রযুক্তিগত দিকগুলোতে মনোযোগ দেওয়া। একে অপরের বাস্তবসম্মত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধান করতে হবে।’

সাকালিন আরও মনে করিয়ে দেন, ইউরোপের মাটিতে মার্কিন সামরিক শক্তির সমকক্ষ হতে মহাদেশটির আরও ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে। তাই সংঘাত নয়; বরং ‘সহযোগিতা’ শব্দটির ওপরই এখন জোর দেওয়া উচিত।

ইমানুয়েল মাখোঁ ও ডোনাল্ড টাস্ক
ইমানুয়েল মাখোঁ ও ডোনাল্ড টাস্ক

চীনের হাতে যে ‘অস্ত্র’ তুলে দিয়ে এখন ভুগছে যুক্তরাষ্ট্র by রাভি কান্ত

১৯৯২ সালে চীনের নেতা দেং শিয়াওপিং একটি বড় খনিজ এলাকা দেখতে ইননার মঙ্গোলিয়ার বাওতু শহরে গিয়ে বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আছে তেল আর চীনের আছে রেয়ার আর্থ। তখন খুব কম মানুষই এই কথার গুরুত্ব বুঝেছিলেন।

কিন্তু চীনের শাসকগোষ্ঠী এবং কমিউনিস্ট পার্টি বিষয়টি গভীরভাবে নিয়েছিল। দেংয়ের এই ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত মিলেই আজ চীনকে একটি বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে।

রেয়ার আর্থ বলতে আসলে পর্যায় সারণির মাঝখানে থাকা ১৭টি বিশেষ ধাতুকে বোঝানো হয়। এগুলো চোখে দেখা যায় না, কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির ভেতরের শক্ত ভিত্তি এগুলোই। মুঠোফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, বাতাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের টারবাইন, সামরিক ড্রোন, উন্নত যুদ্ধবিমান ও রাডার ব্যবস্থা সবই এই ধাতুর ওপর নির্ভরশীল।

রেয়ার আর্থ শব্দের বাংলা দাঁড়ায় বিরল ধাতু। কিন্তু নাম রেয়ার হলেও রেয়ার আর্থ খুব বিরল নয়। তবু রেয়ার বলা হয়, কারণ, এগুলো সাধারণত আলাদা ও বিশুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় না। লাভজনকভাবে উত্তোলনের মতো ঘনত্বেও এগুলো প্রকৃতিতে খুব কম থাকে।

এই ধাতুগুলো অন্য খনিজের সঙ্গে মিশে ছড়িয়ে থাকে। ফলে এগুলো আলাদা করা কঠিন, ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এই জটিলতাই এগুলোকে এত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

চীন অবশ্য প্রথমেই সিদ্ধান্ত নেয়নি যে তারা এই খাতে আধিপত্য করবে। আসলে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো পরিবেশদূষণ ও ঝুঁকির কারণে এই কঠিন কাজগুলো এড়িয়ে যেতে চেয়েছে। সেই জায়গায় চীনই দায়িত্ব নিয়েছে। আশির দশক পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেয়ার আর্থ উৎপাদক। পরে পরিবেশ সংরক্ষণের নিয়ম কঠোর হওয়ায় এবং খরচ বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে উৎপাদন চীনে সরিয়ে নেয়।

যুক্তরাষ্ট্র যখন সরে দাঁড়ায়, তখন চীন সেই সুযোগ কাজে লাগায়। পরিবেশগত ক্ষতি মেনে নিয়ে তারা এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ায়। ধীরে ধীরে তারা এই ধাতু উত্তোলন ও পরিশোধনের পুরো প্রক্রিয়ায় দক্ষ হয়ে ওঠে। আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেয়ার আর্থ মজুত রয়েছে চীনের হাতে। একই সঙ্গে বিশ্বে যত রেয়ার আর্থ উত্তোলন হয়, তার বড় অংশ পরিশোধনের বেশির ভাগ এবং প্রায় পুরো প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা চীনের নিয়ন্ত্রণে।

শুরুতে লাভ না হলেও চীন সরকার দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পকে সহায়তা দিয়েছে। এর ফলে তারা একটি সম্পূর্ণ নিজস্ব ও শক্তিশালী শিল্পব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টির গুরুত্ব নতুন করে বুঝতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর খুব বেশি শুল্ক বসালে চীন পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কিছু রেয়ার আর্থ ও বিশেষ চুম্বকের রপ্তানি সীমিত করে।

এই ধাতুগুলো যুক্তরাষ্ট্রে চীনের মোট রপ্তানির খুব সামান্য অংশ হলেও এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে। তাই এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়। এখন রেয়ার আর্থ চীনের সবচেয়ে শক্তিশালী দর-কষাকষির অস্ত্র। যুক্তরাষ্ট্র যখন প্রযুক্তি বা চিপ নিয়ে চাপ দেয়, চীন তখন রেয়ার আর্থকে চাপ সৃষ্টির উপায় হিসেবে ব্যবহার করে।

এই নির্ভরতা শুধু অস্ত্র বা সেনাবাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কম্পিউটার, রোবট, চিকিৎসার যন্ত্র এবং উন্নত প্রযুক্তিতেও যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর নির্ভরশীল। প্রয়োজনে এটি সবকিছু থামিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতা রাখে।

আজ রেয়ার আর্থ আর সাধারণ পণ্য নয়। এগুলো এখন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন করে এর সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা মানে শুধু নতুন খনি খোঁজা নয়। এর জন্য পুরো একটি শিল্পব্যবস্থা দরকার। খনি, পরিশোধন, কারখানা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার সব মিলিয়ে। চীন এই জায়গায় পৌঁছাতে চার দশকের বেশি সময় নিয়েছে।

চীনের সাফল্যের পেছনে দেংয়ের বাস্তববাদী চিন্তাই মূল শক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তেল ছিল সবচেয়ে বড় সম্পদ। চীনের জন্য সেই জায়গাটি নিচ্ছে রেয়ার আর্থ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের এই যুগে তেলের জায়গা নিচ্ছে রেয়ার আর্থ। যে দেশ এই ধাতুর সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করবে, সেই দেশই ভবিষ্যতের উদ্ভাবনে সবচেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাবে।

* রাভি কান্ত, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং প্রযুক্তিবিষয়ক লেখক।
- এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

https://media.prothomalo.com/prothomalo%2Fimport%2Fmedia%2F2018%2F04%2F03%2Faa8e04357f4f885384fa09361c9ca66e-5ac34f0e4a95e.jpg?rect=125%2C0%2C1350%2C900&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিং। ফাইল ছবি

আইসিইর ‘অপ্রশিক্ষিত’ এজেন্টদের সরিয়ে নিতে ট্রাম্পের কাছে দাবি মিনেসোটার গভর্নরের

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য থেকে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর ‘অপ্রশিক্ষিত’ এজেন্টদের সরিয়ে নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গভর্নর টিম ওয়ালজ। মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস শহরে আইসিইর এজেন্টদের গুলিতে অ্যালেক্স প্রেটি নামের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় এই ডেমোক্র্যাট গভর্নর গতকাল রোববার এমন দাবি জানিয়েছেন।

মিনিয়াপোলিসে আইসিইর অভিবাসনবিরোধী অভিযান চলার মধ্যে এটি শহরটিতে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা।

গত শনিবার নিহত হওয়া ব্যক্তির নাম অ্যালেক্স প্রেটি। বয়স ৩৭ বছর। তিনি পেশায় নার্স ছিলেন। প্রেটির মৃত্যুর ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জোরালো হয়ে উঠছে। এর মধ্যেই গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ালজ সরাসরি ট্রাম্পের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন।

ওয়ালজ বলেন, ‘কী পরিকল্পনা করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প? পরিকল্পনাটা কী? আমাদের অঙ্গরাজ্য থেকে এই ফেডারেল এজেন্টদের বিদায় করতে আমাদের কী করতে হবে?’

ওয়ালজ আরও বলেন, ‘আমরা এই অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রতি বিশ্বাসী। আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী। আমরা মনে করি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচিত এই তিন হাজার অপ্রশিক্ষিত এজেন্টকে মিনেসোটা থেকে বের করে দেওয়া, যাতে তারা আর কারও প্রাণনাশ করতে না পারে।’

ওয়ালজ এমন সময়ে এসব কথা বললেন, যখন কিনা ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা প্রেটি নিহত হওয়ার ঘটনায় আইসিইর এজেন্টদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন। যদিও তাঁরা যেসব দাবি করছেন, তার সঙ্গে ভিডিওর প্রমাণগুলোর মিল নেই।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, প্রেটি আইসিই এজেন্টদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে একটি হ্যান্ডগান পাওয়া গেছে। গুডের মৃত্যুর পরও একই ধরনের যুক্তি দেখিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। অথচ ভিডিও বলছে ভিন্ন কথা।

প্রেটিকে গুলি করার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেটি কখনো অস্ত্র বের করেননি। বরং তাঁর ওপর রাসায়নিক স্প্রে ছোড়া হয়েছে, তাঁকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাঁকে প্রায় ১০ বার গুলি করা হয়েছে।

মিনিয়াপোলিসে আইসিইর এজেন্টদের উপস্থিতির বিরোধিতা করে আগে থেকেই বিক্ষোভ চলছিল। প্রেটির ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সেই বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। গতকাল রোববারও প্রায় এক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে।

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস প্রায় পুরোপুরিভাবে ডেমোক্রেটিক পার্টির নিয়ন্ত্রিত শহর। শহরটিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে আইসিইর কয়েক হাজার এজেন্ট মোতায়েন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল ধারার সংবাদমাধ্যমগুলোতে সোমালিয়ার অভিবাসীদের অর্থনৈতিক প্রতারণার খবর প্রকাশ হওয়ার পর সেখানে অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরু হয়।

ট্রাম্প বারবারই এ ধরনের জাতিগত বিদ্বেষমূলক অভিযোগগুলোকে সামনে টেনে আনছেন। রোববার তিনি তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘বিশাল আর্থিক প্রতারণামূলক অপরাধের ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে মিনেসোটা।’

যুক্তরাষ্ট্রে যতসংখ্যক সোমালিয়ার নাগরিক আছেন, তার একটা বড় অংশের বসবাস মিনিয়াপোলিসে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-01-26%2Fjl5dm830%2FWalz.webp?rect=108%2C0%2C674%2C449&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
টিম ওয়ালজ। রয়টার্স ফাইল ছবি

আফগানিস্তানে ৩ দিনের ভারী তুষারপাত ও বর্ষণে নিহত ৬১

আফগানিস্তানে ৩ দিনের ভারী তুষারপাত ও বর্ষণে অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। আহত হয়েছে আরও ১১০ জন। গত সপ্তাহের বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এই প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে। দেশটির সড়কগুলো অচল হয়ে পড়েছে। এছাড় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে বহু মানুষ। এ খবর দিয়েছে ডন।

আফগানিস্তানের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে হতাহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি ওই সংস্থাটি এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, চার শতাধিক ঘর বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৩৬০টি। ঘর-বাড়ির ছাদ ধ্বসে সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি এক মুখপাত্র।

দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশের জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে বাড়ির ছাদ ধসে অন্তত ছয় শিশু নিহত হয়েছে।

mzamin

ফিলিপাইনে ৩৫৯ আরোহী নিয়ে ফেরিডুবি, ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসিলান প্রদেশে ৩৫০ জনের বেশি আরোহী নিয়ে একটি ফেরি ডুবে গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানকার সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল রোববার দিবাগত মধ্যরাতে এমভি তৃষ্ণা ক্রেস্টিন ৩ নামের যাত্রীবাহী ফেরিটি ডুবে যায়। এ নৌযান বন্দরনগরী জাম্বোয়ানগা থেকে সুলুর দক্ষিণাঞ্চলের জোজো দ্বীপে যাচ্ছিল।

ডুবে যাওয়ার সময় ফেরিটিতে ৩৩২ জন যাত্রী ও ২৭ জন ক্রু ছিলেন। রোববার রাত ১টা ৫০ মিনিটে নৌযানটি থেকে বিপৎসংকেত পাওয়ার কথা জানায় ফিলিপাইনের কোস্টগার্ড। এর ঘণ্টা চারেক আগে সেটি জাম্বোয়ানগা ছেড়ে এসেছিল।

বাসিলান প্রদেশের বালুক-বালুক দ্বীপ থেকে প্রায় ১ নটিক্যাল মাইল (২ কিলোমিটার) দূরে থাকা অবস্থায় ফেরিটি ডুবে যায়। তখন আবহাওয়া বেশ ভালো ছিল বলেও জানা গেছে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার করা ব্যক্তিদের অনেককে ওই দ্বীপে নেওয়া হয়েছে।

ফিলিপাইনের সাউদার্ন মিন্দানাও ডিস্ট্রিক্টের কোস্টগার্ডের কমান্ডার রোমেল দুয়া বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, এ ঘটনায় অন্তত ৩১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ১৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ২৮ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

রোমেল আরও জানান, উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য কোস্টগার্ডের একটি উড়োজাহাজ যুক্ত করা হচ্ছে। নৌবাহিনী আর বিমানবাহিনীও উদ্ধারকাজে তাদের সম্পদ নিয়োজিত করছে।

বাসিলান প্রদেশের গভর্নর মুজিভ হাতামান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ফুটেজ পোস্ট করেছেন। মিন্দানাওয়ের ইসাবেলা বন্দরে ধারণ করা ভিডিওটিতে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজনকে নৌকা থেকে নামাতে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ স্ট্রেচারে ছিলেন।

গভর্নর স্থানীয় একটি রেডিওকে জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগ সুস্থ আছেন। তবে বয়স্ক কয়েকজন মানুষকে জরুরি চিকিৎসা দিতে হয়েছে।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-01-26%2Fiukxxacq%2FPhilippines-ferry.webp?rect=0%2C0%2C864%2C576&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif

‘জাল ভোট ও কারচুপি প্রতিরোধে কেন্দ্রের পাহারায় থাকবেন’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, হাঁস হলো সমৃদ্ধির প্রতীক। ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক। হাঁস নতুন শান্তির প্রতীক। তাই এইবারের ভোটটা হবে হাঁস মার্কায়। সরকারকে আমরা আয়কর দেই; যাতে সরকার আমাদের উন্নয়নমূলক কাজগুলো করেন। বিনামূল্যে আমরা যাতে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারি। তাই সরকারে যেই আসুক না কেন আমি একজন স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হিসেবে সেই সরকারকে বাধ্য করবো যাতে আমার এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পায়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের (ফতেহপুর, পরমানন্দপুর, হরিপুর, বড়ুইচাড়া, ষাটবাড়িয়া) বাসিন্দাদের আয়োজিত প্রথম নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, স্কুল কলেজ মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মসজিদ মন্দির ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়নে শুধু সরকারি বরাদ্দ নয়। আমার নিজস্ব উদ্যোগে এই অবেহেলিত জনপদকে বিশেষ সুবিধা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

আমার ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা সরাইল আশুগঞ্জের এই অবস্থা কেন। আমি যদি বলি আমাদের এই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিক্ষা-দীক্ষা সংস্কৃতি ইতিহাস ঐতিহ্য রাজনীতি সর্বদিকে বাংলাদেশের টপ জেলার মধ্যে একটি। তারপরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এমন দুর্দশা কেন? আমি তো অন্তত স্বতন্ত্র হই আর যা-ই হই এই দুর্দশা মেনে নেবো না। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছর পরও আমাদের এই এলাকা আদৌ আলোর মুখ দেখেনি। আমাকে একটিবার সুযোগ দেন। নতুন করে জাগরণের লক্ষ্যে এইবারের ভোটটা আমার হাঁস মার্কায়-ই হবে। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন এক বোন বলেছেন, হাঁস পালনে দ্রুত বংশ বৃদ্ধি পায়। ডিমও দেয়। ভালো আয়ও করা যায়। আমার মা-বোন যেন ঘরে বসেই সংসারের কিছু খরচ রোজগার করে দিতে পারেন। অবসর সময়ে সেই প্রশিক্ষণ আমরা দেয়ার ব্যবস্থা করবো, ইনশাআল্লাহ্‌। এলাকার উন্নয়ন ও রাস্তাঘাট সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচাইতে অবহেলিত দুই উপজেলা সরাইল ও আশুগঞ্জ। সরাইলের মধ্যে সবচেয়ে অবহেলিত হচ্ছে এই পাঁচ গ্রাম। আজকে দেড়/দুই ঘণ্টা গাড়িতে নৌকায় ২০ মিনিট তারপর আধা ঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিট আবার সিএনজিতে। তাহলে আমার প্রিয় ভাই বাবা চাচা মা চাচি ও বোনেরা এখান থেকে কীভাবে যাতায়াত করেন? আমি আজকে আমার প্রথম নির্বাচনী সভা থেকে ওয়াদা করছি- এমপি হতে পারলে ভূঁইশ্বর থেকে পরমানন্দপুর পর্যন্ত পাকা রাস্তা ও ব্রিজ করে দেবো। এখানকার ভাইয়েরা তাদের কোটি টাকা মূল্যের ভোট দিয়ে এমপি মন্ত্রী বানায়। তারা হয়তো তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। আমাকে স্থানীয় একজন মুরুব্বি বললেন, একটা স্কুল ও কলেজ হয়েছে। কিন্তু স্কুল কলেজে কাজ আটকে থাকলে তো হবে না। এটা যদি একটি দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন এলাকা হয়, তাহলে মানুষ কীভাবে উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে? কী করে আধুনিক জীবনযাত্রার ছোঁয়া পাবে। এর আগে রুমিন ফারহানা একই ইউনিয়নের কালিশিমুল গ্রামে এক সংক্ষিপ্ত নির্বাচনী সভায় হাঁস মার্কা বিষয়ে বলেন, ‘এই মার্কা উপর থেকে কোনো ওহি নাজিল হয়ে হঠাৎ কইরা একজন অজানা মানুষকে বসাইয়া দেয়ার মার্কা নয়। এই মার্কা এমন একজন মানুষের মার্কা, যাকে গত ১৫ বছর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপনারা লড়াই করতে দেখেছেন। যখন আপনাদের ভোট চুরি হয়ে গেছে। তখন হাঁস মার্কার প্রার্থী একা হয়েও দাঁড়িয়ে সংসদে প্রতিবাদ করেছে। ৫৫ বছর আপনারা ভোট দিয়েছেন ঠিকই।

কিন্তু এলাকার কোনো পরিবর্তন হয়নি। হাঁস মার্কা হলো সেই পরিবর্তন সূচনা করার মার্কা। হাঁস মার্কা সাধারণ মানুষের মার্কা। কোনো দলের নয়, জনগণের মার্কা। অন্যায়ের বিরুদ্ধের মার্কা। হাঁস মার্কা দুর্নীতির বিরুদ্ধের মার্কা।’ তিনি সভায় উপস্থিত গ্রামবাসীকে অনুরোধ করে বলেন, আপনাদের ৩৩০০ ভোটের মধ্যে যেন ৩ হাজার ভোট কাস্ট হয়। আর সেই ৩ হাজার ভোটই যেন হাঁস মার্কায় হয়। আমার এলাকার সাধারণ ভোটার দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষদের মার্কা হাঁস। আপনার নিজের অস্তিত্বের প্রশ্নে, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে, পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে এই মার্কায় ভোট দেবেন। এটি চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য, জায়গা দখল বাণিজ্য ও অবৈধভাবে বালু বাণিজ্য প্রতিরোধের মার্কা। মনে রাখবেন আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি একটা জাল ভোটও যেন কেউ দিতে না পারে। একটি কেন্দ্রেও যেন কোনো ধরনের কারচুপি না হয়। আপনারা সবাই ভোটের পাহারায় থাকবেন।

mzamin

মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু, বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পাশে দাঁড়ানো বৃটিশ গণমাধ্যম বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি মারা গেছেন। নয়া দিল্লির এক হাসপাতালে ৯০ বছর বয়সে শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন খ্যাতিমান এই সাংবাদিক। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে বিবিসি রেডিওতে তার কণ্ঠ শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকত দেশের মানুষ। সার্বিকভাবে তার দৃষ্টান্তমূলক সততা, মানবিক সংবাদ পরিবেশন ও গভীর প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণের জন্য সমগ্র অঞ্চলজুড়ে সমাদৃত ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন টালি।

দ্য কাশ্মির মনিটরের এক খবরে বলা হয়, টালির কর্মজীবন দীর্ঘ সময়ের। বিশেষত তিনি বিবিসির দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান প্রতিবেদক ও ভারতীয় ব্যুরো প্রধান হিসেবে সংবাদমাধ্যমটির সবচেয়ে বিশ্বস্ত কণ্ঠস্বর ছিলেন। তার সংবেদনশীল, নিরপেক্ষ এবং জটিল রাজনীতিকে সহজভাবে উপস্থাপনের ধরণ শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিল।

সাংবাদিকতার মান বুঝাতে পারদর্শী ছিলেন টালি। ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলো সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। সাংবাদিক সমাজ, গবেষক ও সরকারের বাইরে থেকে বহু ব্যক্তি তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বস্ত তথ্যের প্রতীক হিসেবে। তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশাজীবীরা শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন এবং তার কাজকে আগামী প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করছেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও মার্ক টালি

একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর হামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন খ্যাতনামা এই সাংবাদিক। বেশ কয়েক বছর আগে দিল্লি থেকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে টালি জানান, ২৫ মার্চ ঢাকার অবস্থা স্বাভাবিক বুঝাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী তাকে বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখায়।

মার্ক টালি বলেন, অনুমোদন পেয়ে ঢাকার শাঁখারীবাজারে যাই। সেখানে ব্যাপক গোলাগুলি ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী। আমি বেশ কিছু ছবি তুললাম। হঠাৎ এক পাঞ্জাবি পুলিশ এসে আমাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমার চলাচলসংক্রান্ত ফাইল দেখে আমাকে আটক করায় ওই পুলিশকে ধমক দেন। ওসি সম্ভবত বাঙালি ছিলেন। ওসির সাহস দেখে আমি মুগ্ধ হই। ওই সময় এটি ছিল অনন্যসাধারণ এক কাজ। আমি তার জন্য গর্ববোধ করি।

মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে মার্ক টালি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের আশার আলো। রেডিওতে কান পেতে সকাল-সন্ধ্যা বিবিসিতে মার্ক টালির কণ্ঠ শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকত পুরো দেশ। তার কণ্ঠের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ত তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের বুকেও। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনে তার ভূমিকা ছিল অনন্য।

১৯৬৪ সালে বিবিসিতে যোগ দেন টালি। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদাতা হিসেবে ১৯৬৫ সালে ভারতে চলে আসেন। কর্মজীবনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার স্বাক্ষ্য হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থেকে শুরু করে ভূপাল গ্যাস দুর্ঘটনা, অপারেশন ব্লু স্টার ও এর ফলশ্রুতিতে সংঘটিত ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ড, শিখবিরোধী দাঙ্গা, রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য।

বিবিসিতে এসব ঘটনার সংবাদ অত্যন্ত সহজ ও সাবলিলভাবে তুলে ধরেছেন।

১৯৯৪ সালের জুলাইয়ে মার্ক টালি বিবিসি থেকে পদত্যাগ করেন। জন বার্ট নামের এক সহকর্মীর সঙ্গে বাদানুবাদ হওয়ার ইস্তফা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বার্টকে ‘ভীত হয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো’ এবং ‘বিবিসির নিম্নমুখীতা ও সহকর্মীদের নৈতিকভাবে দুর্বল করার দায়ে অভিযুক্ত করেন। এরপর থেকেই তিনি স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা ও নয়া দিল্লিতে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন।

mzamin

জুলাই হত্যায় অনুতপ্ত হাসিনা বললেন, রুপান্তরের নামে চলছে ছদ্মবেশী স্বৈরাচার

ক্ষমতাচ্যুত  সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে গণতন্ত্রে রুপান্তরের নামে ছদ্মবেশী স্বৈরাচার বলে মন্তব্য করেছেন। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, একটি স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেন। বলেন,  বিএনপি বা জামায়াতের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ও সহিংসতার আশ্রয় নেয়া চলতে পারে না।

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের দিকে ফিরে তাকিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এই সহিংসতায়  যে প্রাণগুলো হারিয়েছে সে জন্য তিনি অনুতপ্ত। তবে তিনি একইসঙ্গে সহিংসতা নিয়ে গঠিত বিচারিক তদন্ত সীমিত করে দেয়ার জন্য বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রধানকে দায়ী করেন। কোটাবিরোধী আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়ে পরে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে রুপ নেয়া এই সহিংসতায় ১৪০০ জনের প্রাণহানী ঘটে। শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে তার দলের কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য ইউনূস প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দলটিকে নিষিদ্ধ করার কারণে কোটি কোটি বাংলাদেশি কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে স্বাধীন, সুষ্ঠু বা বৈধ বলা যায় না। ভোটারদের অবশ্যই তাদের পছন্দের দলকে ভোট দেয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে। তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

হাসিনা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জানে, যদি আমাদের এই নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয় তাহলে আমরা বিপুল জনসমর্থন পাবো। সে কারণেই আমাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না- ইউনূস নিজেই বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে একটি ভোটও কখনো পাননি। বরং নিজের অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিতে দেশের আইনকাঠামো নতুন করে সাজিয়েছেন।  শেখ হাসিনা এক পর্যায়ে বলেন, তার সরকারের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন চলছিল তখন তিনি বুঝতেই পারেননি চরমপন্থী উপাদানগুলো আন্দোলন দখল করে নিয়েছে। আমরা সে সময়কার ঘটনা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রফেসর ইউনূস ক্ষমতায় এসে তা বাতিল করে দেন। এই সিদ্ধান্তই হচ্ছে  মূলত আন্দোলনের পেছনের উদ্দেশ্য। এখানে তিনি বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে হাসিনা অবিলম্বে সাংবিধানিক শাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সব দলের অংশগ্রহণে স্বাধীন ও সুষ্ঠু  নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। যাতে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আর না ঘটে। তার মতে, আমরা যে সহিংসতার সাক্ষী হচ্ছি তা হলো নির্বাচিত নয়, এমন প্রশাসনের সরাসরি ফসল। যার কোনো জনপ্রিয় ম্যান্ডেট নেই। যা কিনা আমাদের রাজনীতিকে চরমপন্থী গোষ্ঠীর হাতে চলে যেতে দিয়েছে। সংস্কার আনার বদলে অন্তর্বর্তী প্রশাসন চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে ক্ষমতাসীন অবস্থানে উন্নীত করেছে। আজকের বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার কোনো ছায়াই নেই। সরকার নিয়মিতভাবে সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। হাসিনা বলেন, ধর্ম নিরপেক্ষতা, বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিকমূল্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ। জামায়াত ইসলামী ও অন্যান্য চরমপন্থী গোষ্ঠীর পুনর্বাসন আমাদের দেশের মূল কাঠামোর জন্য হুমকি। হাসিনা বলেন, এটি কোনো তাত্ত্বিক উদ্বেগ নয়- ইতিমধ্যেই তা দৃশ্যমান। তিনি আবারো উল্লেখ করেন, জামায়াতের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক সত্যের ইচ্ছাকৃত ক্ষয় হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলন দমনে তার সরকারের ভূমিকার কারণে এই সাজা।

mzamin

জেলেনস্কিকে ‘বিভ্রান্ত ক্লাউন’ বললেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। ইরানের ক্ষমতাসীন নেতৃত্ব জনগণকে হত্যা করে ক্ষমতায় টিকে আছে- জেলেনস্কির এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আরাগচি তাকে ‘বিভ্রান্ত ক্লাউন’ বলে অভিহিত করেছেন। এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে আরাগচি লেখেন, বিশ্ব এখন বিভ্রান্ত ক্লাউনদের দেখছে। তিনি আরও বলেন, ইরানিরা নিজেদের রক্ষা করতে জানে এবং বিদেশিদের কাছে সাহায্যের জন্য ভিক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই তাদের। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জেলেনস্কি মার্কিন ও ইউরোপীয় করদাতাদের অর্থ দিয়ে নিজের দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত জেনারেলদের পকেট ভরছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেয়া এক বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, ইরানের নেতৃত্ব যদি ক্ষমতায় টিকে যেতে পারে, তবে তা হবে প্রত্যেক দাদাগিরি করা শাসকের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা। তার ভাষায়, ইরানে এই রক্তপাতের পর দেশটি কোন পথে দাঁড়াবে? যদি এই শাসন টিকে যায়, তবে বার্তাটি পরিষ্কার- যথেষ্ট মানুষ হত্যা করেও ক্ষমতায় থাকা যায়।

প্রায় চার বছর ধরে পূর্ণমাত্রার রুশ আগ্রাসনের মুখে থাকা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পশ্চিমা বিশ্বের নিষ্ক্রিয়তারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো রক্তে ডুবে গেছে। বিশ্ব ইরানি জনগণকে যথেষ্ট সাহায্য করেনি, বরং নিরবে দাঁড়িয়ে থেকেছে।

ইংরেজিতে দেয়া ওই ভাষণে তিনি আরও বলেন, বড়দিন ও নববর্ষের ছুটি শেষে রাজনীতিকরা কাজে ফেরার আগেই আয়াতুল্লাহরা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে।

ইরানের দাবি, ইসলামি প্রজাতন্ত্রবিরোধী বিক্ষোভে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং এই সহিংসতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদদ ছিল। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

https://mzamin.com/uploads/news/main/200341_Kaium-3.webp

গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে ভারত, এটি অব্যাহত থাকবে

প্রজাতন্ত্র দিবস সেলিব্রেশনে হাইকমিশনারঃ ঢাকায় ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন- একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে ভারত। যুগযুগান্তরে এ সমর্থন অব্যাহত থাকবে। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ওই সেলিব্রেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্ধ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা (সাবেক ও বর্তমান), শিক্ষক, গবেষক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ  প্রতিনিধিরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ওই মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন। বর্ণাঢ্য তবে গাম্ভীর্যপূর্ণ ওই অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম চলাকালে যৌথ ত্যাগের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাসসহ আমরা একটি বিশেষ সম্পর্ক ভাগাভাগি করেছি। বছরের পর বছর ধরে, সংযুক্তি ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার দ্রুত রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে আমাদের পারস্পরিক আদান-প্রদান এবং যৌথ নির্ভরশীলতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে। যা আমাদের সমাজ, জনগণ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরস্পরের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, ভারতীয় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল পরিবহনের জন্য আন্তসীমান্ত পাইপলাইন, ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে আন্তসীমান্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন স্থাপন—এসবই পারস্পরিক নির্ভরশীলতার প্রমাণ। জ্বালানি সংযুক্তির ভিত্তি, যা প্রকৃত অর্থে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সরবরাহব্যবস্থা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ পোশাকশিল্প ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে শক্তিশালী করছে, যাকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও নির্ভরশীলতার আরেকটি প্রমাণ উল্লেখ করে ভারতীয় দূত বলেন, দুই দেশের অংশীদারত্ব কীভাবে উভয়ের জনগণ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুবিধা বয়ে এনেছে তার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। এই সাফল্যগুলো আরও দূরদর্শী ও ভবিষ্যতের সহযোগিতার উপায় অনুসন্ধানের প্রেরণা। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি। সেই সঙ্গে এ দেশের জনগণের ভবিষ্যৎ যাত্রায় শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করছি।

mzamin

মিনেসোটায় এবার দুই বছরের শিশুকে আটক করে নিয়ে গেলেন আইসিই সদস্যরা

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসে বৃহস্পতিবার ফেডারেল ইমিগ্রেশন (আইসিই, আইস নামে পরিচিত) এজেন্টরা দুই বছরের এক শিশুকন্যা এবং তার বাবাকে আটক করে টেক্সাসে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আদালতের নথিপত্র ও আইনজীবীদের কথায় এ ঘটনার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে এলভিস জোয়েল টিই ও তাঁর দুই বছরের মেয়ে দোকান থেকে ফিরছিলেন। তখন আইসিই সদস্যরা তাঁদের আটক করেন। পরিবারের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, আইসিই সদস্যদের কাছে কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না।

শিশুটি গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় একজন আইসিই সদস্য গাড়ির জানালার কাচ ভেঙে ফেলেন। এ সময় শিশুটির মা কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু বাবা যাতে মেয়েশিশুকে মায়ের কাছে দিয়ে আসতে না পারেন, সে জন্য এজেন্টরা বাধা দেন।

শিশুটিকে ইমিগ্রেশন গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে আদালতে আবেদন করেন। রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে একজন ফেডারেল বিচারক আদেশ দেন, বাবা ও মেয়েকে মিনেসোটার বাইরে পাঠানো যাবে না। তিনি রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেন। বিচারক মন্তব্য করেন, ‘বলাই বাহুল্য, এই শিশুর কোনো অপরাধের ইতিহাস নেই।’

কিন্তু সরকারি কর্মকর্তারা আদালতের আদেশের তোয়াক্কা না করে রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁদের উড়োজাহাজে করে টেক্সাসের একটি আটককেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন।

আইনজীবী ইরিনা ভায়নারম্যান বলেছেন, ব্যাপক আইনি লড়াইয়ের পর শুক্রবার বিকেলে শিশুটিকে মিনেসোটায় ফিরিয়ে এনে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে বাবা এলভিস জোয়েল এখনো মিনেসোটায় আটক রয়েছেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) দাবি করেছে, শিশুটির বাবা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তিনি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছেন। তারা আরও দাবি করেছে, শিশুটির মা তাকে নিতে অস্বীকার করেছিলেন।

তবে আইনজীবীরা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁরা বলেন, আইসিই সদস্যরাই শিশুটিকে তার মায়ের কাছে যেতে দেয়নি। গ্রেপ্তারের সময় সেখানে উপস্থিত উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এজেন্টরা রাসায়নিক গ্যাস ও ফ্ল্যাশ-ব্যাং ব্যবহার করেছেন।

পরিবারের আইনজীবী ভায়নারম্যান বলেন, ‘এই নৃশংসতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। কোনো মা-বাবাই তাঁর সন্তানের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার এই ভয়াবহতা সহ্য করতে পারবেন না। এই ছোট শিশুর ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা কেউ জানে না।’

আইনজীবী অভিযোগ করেন, আইসিই সদস্যরা লোকজনকে দ্রুত অন্য রাজ্যে সরিয়ে নিচ্ছেন, যাতে তাঁরা আইনি সহায়তা না পান এবং আদালতের নাগালের বাইরে চলে যান।

মিনেসোটার দুই বছর বয়সী এই শিশুকন্যাকে আটক করে নিয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের আইসিই সদস্যরা
মিনেসোটার দুই বছর বয়সী এই শিশুকন্যাকে আটক করে নিয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের আইসিই সদস্যরা। পরিবারটির আইনজীবী থেকে পাওয়া ছবি

চীন এক বছরের মধ্যেই কানাডাকে গিলে ফেলবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করায় কানাডার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত নিরাপত্তার বদলে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বেছে নিলে বেইজিং এক বছরের মধ্যেই কানাডাকে ‘গিলে ফেলবে’। ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, কানাডা গ্রিনল্যান্ডের ওপর ‘গোল্ডেন ডোম’ নির্মাণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অথচ এই গোল্ডেন ডোম কানাডাকেও সুরক্ষা দিত। এর বদলে তারা চীনের সঙ্গে ব্যবসা করার পক্ষে ভোট দিয়েছে- যে চীন এক বছরের মধ্যেই তাদের ‘গিলে ফেলবে’!

যুক্তরাষ্ট্র ও তার উত্তরে অবস্থিত প্রতিবেশী কানাডার মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন। সম্প্রতি দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউএফএ) কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির বক্তব্যের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও টানাপড়েনে পড়েছে। এ খবর দিয়েছে ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআই। বুধবার ডব্লিউইএফের ৫৬তম বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কারনির সমালোচনা করেন ট্রাম্প এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া নানা ফ্রি সুবিধা, বিশেষ করে নিরাপত্তা সুরক্ষার জন্য কানাডার আরও কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত।

ট্রাম্প বলেন, কানাডা আমাদের কাছ থেকে অনেক ফ্রি সুবিধা পায়। তাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কিন্তু তারা তা নয়। আমি তোমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছি, তিনি মোটেও কৃতজ্ঞ ছিলেন না। তাদের আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, তার প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কানাডাকেও সুরক্ষা দেবে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে। মার্ক, পরেরবার যখন তুমি এমন বক্তব্য দেবে, তখন এটা মনে রেখো।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য ছিল মূলত কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনিকে লক্ষ্য করে। ডব্লিউইএফএতে দেয়া কারনি বলেন, বিশ্ব এখন মহাশক্তির প্রতিযোগিতার যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তিনি শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিরোধিতা করেন, যা গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে ওয়াশিংটনের আর্থিক চাপ প্রয়োগের প্রতি এক ধরনের পরোক্ষ ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

১৭ জানুয়ারি চীনের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি। তিনি বলেন, এই চুক্তি কানাডার ব্যবসা ও শ্রমিকদের জন্য নতুন বাজার খুলে দেবে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে কারনি লিখেছেন, আমরা চীনের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করেছি। এর মাধ্যমে কানাডার শ্রমিক ও ব্যবসার জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি বাজার উন্মুক্ত হবে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একটি আরও বিভক্ত ও অনিশ্চিত বিশ্বে কানাডা একটি শক্তিশালী, আরও স্বাধীন ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ে তুলছে। সে লক্ষ্যে নতুন সরকার দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে বাণিজ্য অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করছে এবং ব্যাপক বিনিয়োগে গতি আনছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীন এই লক্ষ্য পূরণে কানাডার জন্য বিশাল সুযোগ এনে দেয়।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ শুল্ক কমানোর বিনিময়ে কানাডা কৃষিপণ্যের ওপর চীনের শুল্ক হ্রাসে সম্মত হয়েছে। কারনি জানান, প্রাথমিকভাবে বছরে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি কানাডায় আমদানির অনুমতি দেয়া হবে, যা পাঁচ বছরে বেড়ে প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে চীন কানাডার গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য ক্যানোলা বীজের ওপর শুল্ক ৮৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশে নামাবে। কারনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন এখন কানাডার জন্য বেশি পূর্বানুমানযোগ্য অংশীদার।

বর্তমানে কানাডার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এছাড়া আমদানি করা ধাতুর ওপর ৫০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে উৎপাদিত গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কের প্রভাবেও পড়ছে কানাডা। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরের বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর চীনা পণ্যের একটি অংশের ওপর শুল্ক ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।

mzamin

হাসিনা যা বলেননি

কদিন ধরেই জল্পনা ছিল বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনসম্মুখে হাজির হবেন। বিশেষ করে সাংবাদিকদের সামনে। ২৩ সেপ্টেম্বর সেটা হলো। কিন্তু ভিন্ন মাধ্যমে। সরাসরি নয়, এক অডিওবার্তা নিয়ে। দিল্লির ফরেন করেসপনডেন্ট ক্লাবে তার অডিওবার্তাটি নতুন কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিতিতে শেখ হাসিনা তার সরকারের কোনো ভুল, কোনো ভ্রান্তির প্রসঙ্গ টেনে আনেননি। ক্ষমা নয়, দুঃখও প্রকাশ করেননি। তবে নতুন কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। যা রাজনীতিতে আলোচনার খোরাক হতে পারে। তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। দেশটি ধংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগের নিশানা হচ্ছেন প্রফেসর ইউনূস । হাসিনা পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছেন এই অডিও বার্তায়।

এক, বাংলাদেশের সামনে অন্ধকার সময়। গণতন্ত্র ধংস হয়ে গেছে। অবিলম্বে গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার করতে হবে। আর এজন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তবে তার ভাষায়- ইউনূস সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হতে পারে না।

দুই, সহিংসতা ও নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে রক্তপাত। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে হবে।

তিনি, সংখ্যালঘুসহ নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

চার, সাংবাদিকসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

পাঁচ, জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে ’২৪-এর ঘটনাবলীর নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটলো তা জনগণকে জানাতে হবে।

অডিওবার্তায় শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশ ইতিহাসের এক দুঃসময় পার করছে।  পরিণত হয়েছে এক বিশাল কারাগারে। এছাড়া তিনি দেশি-বিদেশি চরমপন্থী গোষ্ঠীর হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করারও আহ্বান জানান।  

উল্লেখ্য যে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরইমধ্যে একটি মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।  

mzamin

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে আরেক মার্কিন নাগরিক নিহত, দেশজুড়ে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিস শহরে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে আরেক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। শনিবারের এই ঘটনায় স্থানীয় নেতাদের তীব্র নিন্দা ও দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো এমন ঘটনার খবর এল। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) দাবি করেছে, ঘটনাটি ছিল আত্মরক্ষামূলক। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক ব্যক্তি হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এগিয়ে এসে এজেন্টদের ওপর হামলা করলে এবং তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টায় সহিংস প্রতিরোধ গড়ে তুললে এক বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট গুলি চালান।

তবে রয়টার্সের যাচাইকৃত ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তি- ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেটি হাতে বন্দুক নয়, একটি মোবাইল ধরে ছিলেন। তিনি তখন এজেন্টদের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যাওয়া কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে সহায়তা করার চেষ্টা করছিলেন।

ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়, এক ফেডারেল এজেন্ট এক নারীকে সরিয়ে দেন এবং আরেক নারীকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। প্রেটি তখন ওই নারীদের ও এজেন্টের মাঝখানে দাঁড়ান। এ সময় তিনি আত্মরক্ষার জন্য বাম হাত তুললে এজেন্ট তাকে পেপার স্প্রে করেন। পরে একাধিক এজেন্ট প্রেটিকে ধরে ফেলেন এবং তাকে হাঁটু ও হাতের ওপর ভর দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেন।

প্রেটিকে চেপে ধরার সময় কেউ একজন বন্দুক থাকার বিষয়ে সতর্কবার্তা চিৎকার করে বলেন। ফুটেজে এরপর দেখা যায়, এক এজেন্ট প্রেটির কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র সরিয়ে নিয়ে সরে যান। কিছুক্ষণ পর, প্রেটির পিঠ লক্ষ্য করে এক এজেন্ট কাছ থেকে পরপর চার রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এরপর আরও কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়, সম্ভবত অন্য এক এজেন্টও গুলি চালান।

গুলির পর এজেন্টরা প্রথমে প্রেটির দেহ থেকে সরে দাঁড়ান। পরে কয়েকজন তাকে চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করেন, অন্যদিকে বাকি এজেন্টরা উপস্থিত জনতাকে দূরে সরিয়ে রাখেন।

নিহত প্রেটি পেশায় একজন আইসিইউ নার্স ছিলেন। তার মৃত্যুর প্রতিবাদে মিনিয়াপলিসের ওই এলাকায় শত শত মানুষ বিক্ষোভে নেমে পড়েন। সশস্ত্র ও মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্টরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ও ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি ও সান ফ্রান্সিসকোসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে, গত ৭ জানুয়ারি আরেক মার্কিন নাগরিক রেনি গুডের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের যে বিরোধ চলছিল, তা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

https://mzamin.com/uploads/news/main/200336_Kaium-2.webp