Saturday, August 31, 2013

হৃদয়ে রক্তক্ষরণ by জসীম চৌধুরী সবুজ

দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়। এভাবে বয়ে চলে সময়। প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি মুহূর্ত ভরা গভীর শূন্যতায়। হৃদয়ে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ নিয়ে যাপিত এ জীবনের করুণগাথা লিখে কী শেষ করা যায়? নাকি প্রকাশ করা যায়! জীবন স্রোতের কঠিন ভেলায় তবু ভেসে চলেছি। ভেসেই চলেছি। বুকের ভেতর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ নিয়ে। দেখতে দেখতে দুটি বছর পার হয়ে গেল। এসে গেল ৩১ আগস্ট। আমার ও আমার পরিবারের জন্য চরম দুঃস্বপ্নের একটি দিন। আমার বুকের ধন সোনা মানিককে হারানোর সেই কালো দিন। চৌধুরী তাহমিদ জসীম আপন। আমার সোনামণি, আমার আদরের ধন। আমার সব স্বপ্ন, সব আশা-আকাক্সক্ষাকে ভেঙেচুরে দিয়ে এই দিনে সে চলে গেছে না ফেরার দেশে। তার শারীরিক উপস্থিতি নেই। কিন্তু রাত বা দিন প্রতিটি সেকেন্ড সে আছে আমার হৃদয়জুড়ে, আমার মনের মণিকোঠায়। সময় কাটাই সেই মধুর দিনগুলোর স্মৃতি নিয়ে। আমৃত্যু এই স্মৃতি বয়ে বেড়ানো ছাড়া আমার আর কিই বা করার আছে! সমবেদনা, সহমর্মিতা নিয়ে যারা আমাদের পাশে ছিলেন এবং আছেন তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলতে চাই, সব দুঃখ সব কষ্ট কী ভোলা যায়। এ কষ্ট ও দুঃখ থাকল আমার একান্ত হয়ে।
দুই.
স্ত্রী রুমার জ্বর ক’দিন ধরেই কমে না। টেস্টে ধরা পড়ল টাইফয়েড। হাই ডোজের ওষুধ খেয়েই সারল রোগ। ঠিক সে মাসেই কনসিভ করল সে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা পেয়ে বসল আমাদের। হাই ডোজের ওষুধ নতুন আগন্তুকের কোনো ক্ষতি করবে না তো! গাইনির এক মহিলা ডাক্তারকে দেখালাম। ভদ্রমহিলা সিটি কর্পোরেশনের মেমন হাসপাতালে কর্মরত। তিনি আমাদের ভয় পাইয়ে দিলেন। বললেন, বয়স তো এখনও অনেক। ঝুঁকি নেয়ার দরকারটা কী। এমআর করে ফেলুন। এ কাজ তিনি নিজে করেন। বললেন তার প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে। দেখি বলে বিদায় নিলাম। গেলাম চমেক হাসপাতালে। পরিচিত চিকিৎসক ডাকলেন আরও অনেককে। মত দিলেন টেনশনের কোনো কারণই নেই। অনাগত শিশুর কোনো ক্ষতিই হবে না। মায়ের জঠরে দিনে দিনে বাড়ছে ভ্রƒণ। টেনশনও আমাদের বাড়ছে। অবশেষে এলো সেই দিন। আমি থাকতাম অগ্রজপ্রতিম সাংবাদিক সুখেন্দু ভট্টাচার্যের পাশের বাসায়। ভাবী চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যাপক আলো মল্লিক। ৩ জুলাই, ১৯৯৬ সাল। রাতে ভাবীসহ রুমাকে নিয়ে ভর্তি করালাম রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদনে। ঘড়ির কাঁটা ১২টা পেরিয়ে রাত দেড়টা। তারিখ ৪ জুলাই। রুমাকে লেবার রুমে ঢুকিয়ে বাইরে অপেক্ষায় সুখেন্দু ভাবী। আমি গেটের বাইরে। সিঁড়ি বেয়ে একদম ওপরে উঠে সেজদায় পড়ে আছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, হে প্রভু আমাকে সুস্থ সবল সন্তান দাও। রাত আড়াইটায় ডাক দিলেন ভাবী। দৌড়ে গেলাম। বললেন পুত্র সন্তান হয়েছে। নার্সরা এনে প্রথমে তার কোলে দিলেন। তিনি দিলেন আমাকে। কী সুন্দর ফুটফুটে ছেলে, চোখ দুটো তার কত আকর্ষণীয় মায়াময়। হাজারও শুকরিয়া জানালাম সৃষ্টিকর্তার কাছে।
তিন.
এক মেয়ে এক ছেলে নিয়ে আমার সুখী সংসার। অর্থবিত্তের বৈভব না থাকলেও পৃথিবীতে আমার চেয়ে সুখী মানুষ যেন আর দ্বিতীয়টি ছিল না। সন্তানদের মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে বলতাম, হে আল্লাহ তোমার কাছে আমার অর্থবিত্ত কিছুই চাওয়ার নেই। যা আমায় দিয়েছ তাতেই আমি সন্তুষ্ট। একটা জিনিস শুধু চেয়েছি আমার ছেলেমেয়ে দুটোর সুস্থ সুন্দর জীবন ও তাদের বিদ্যাবুদ্ধিতে একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার তৌফিক যেন দান করেন তিনি।
জানি না আমার সেই ফরিয়াদ সৃষ্টিকর্তার কাছে পৌঁছেছে কিনা। পৌঁছলেও তা যে কবুল হয়নি তা আমার চেয়ে কে আর বেশি বোঝে। এই পৃথিবীতে আমার চেয়ে দুঃখী মানুষ এখন আর কেউ নেই। ২০১১ সালের ৩১ আগস্ট ছিল পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। এই খুশির দিনেই আমার জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। আপন সোনা আমার চিরদিনের মতো আমাদের ছেড়ে চলে গেছে সবকিছুকে পেছনে ফেলে। বাড়ির সামনে মসজিদের মিম্বরের পাশে শুয়ে আছে আমার আদরের ধন। মাঝে মধ্যেই ছুটে গিয়ে দাঁড়াই তার কবরের পাশে। বুক ফেটে আসা অশ্র“ধারা শত চেষ্টায়ও পারি না সংবরণ করতে। আমি কথা বলি আমার সোনাবাবুর সঙ্গে। আমি শুনতে পাই সে যেন আমায় বলছে, ‘এমন করিও না তো আব্বু’। মনে হয় এই বুঝি আমার ছেলে উঠে এসে বলবে, ‘সরি আব্বু, তোমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছি, চলো এবার বাড়ি যাই।’ দুটি বছর পার হয়ে গেছে। ছেলে আমার আর আসে না। বাসায় কারও পায়ের শব্দ শুনলেই মনে হয় এই বুঝি এলো আপন সোনা। পথ চলতে গিয়ে স্কুলব্যাগ কাঁধে ছেলেদের দেখলে মনে হয় আমার আপন সোনা বুঝি চলে গেল সামনে দিয়ে। থমকে দাঁড়াই। খুঁজতে থাকি ছেলেকে। বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। সামলে নিই নিজেকে। বাসা থেকে বের হলেই পাড়ার ছেলেদের খেলতে দেখি। আমার আপন ছিল যাদের খেলার সঙ্গী। এখন সে আর তাদের খেলার সঙ্গে নেই। বুকের কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে নীরবে সরে যাই। এই কষ্টের বোঝা আমি বয়ে চলেছি। বয়ে চলব আমৃত্যু। চলতে চলতেই পৌঁছে যাব আমার ছেলের পাশে। এখন শুধু এটুকুই প্রার্থনা। দীর্ঘ জীবন নয়, সৃষ্টিকর্তা আমায় যেন তাড়াতাড়ি নিয়ে যান আমার আপন সোনার কাছে।
জসীম চৌধুরী সবুজ : সাংবাদিক

সিরিয়ায় সীমিত আক্রমণ ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি by তারেক শামসুর রেহমান

সিরিয়ায় ‘সীমিত’ আক্রমণের বিষয়টি এখন বোধকরি একরকম নিশ্চিত। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের পর মার্কিন মিডিয়ায় এখন দিনক্ষণ গোনা শুরু হয়ে গেছে কখন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে ক্রুস মিসাইল নিক্ষেপ করে এ আক্রমণ চালানো হবে। এরই মধ্যে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে চারটি মার্কিন ডেসট্রয়ার এবং সাইপ্রাসের এক্রোটিরি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে বেশ কিছু ব্রিটিশ বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিমান আক্রমণ পরিচালনার জন্য। বলা ভালো, সাইপ্রাসের এ বিমানঘাঁটি থেকে সিরিয়ার দূরত্ব মাত্র ১৫০ মাইল। সিরিয়ার বিরুদ্ধে সর্বশেষ যে অভিযোগটি উঠেছে তা হচ্ছে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার। অভিযোগ উঠেছে, সিরিয়ার সৈন্যরা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে প্রায় এক হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। এ অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৃত্যুর ঘটনাটি সত্য এবং জাতিসংঘের তদন্তকারী দল এর সত্যতা খুঁজে পেলেও তদন্তকারী দল বলেনি এ ঘটনাটি সিরিয়ার সৈন্যরাই করেছে। যদিও সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনায় সিরিয়ার সেনাবাহিনীর জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে স্পষ্টতই এ হত্যাকাণ্ড বহির্বিশ্বে সিরিয়ার ভাবমূর্তি যথেষ্ট নষ্ট করেছে। শুধু পশ্চিমা বিশ্বই নয়, বরং সৌদি আরব, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো এবং তুরস্কও আজ সিরিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়া এখন অনেকটা একা। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, ২৯ মাস ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ এখন এক নতুন দিকে টার্ন নিয়েছে। সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির অবনতি হল এমন একটা সময়, যখন মিসরে সেনাবাহিনী নির্বাচিত ইসলামপন্থী একটি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। এমনকি তিউনিসিয়া, লিবিয়া ও ইরাকের পরিস্থিতিও টলটলায়মান। ‘আরব বসন্ত’ যে ব্যাপক প্রত্যাশার সৃষ্টি করেছিল, সেই প্রত্যাশা এখন ফিকে হয়ে আসছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ এ অঞ্চলে বৃহৎ শক্তির সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। এর আগে তিন-তিনবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এ অঞ্চলে সামরিক হস্তক্ষেপ হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে। ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক বাহিনী কুয়েতকে ইরাকি বাহিনীর দখল থেকে মুক্ত করেছিল। ২০০৩ সালে ইরাকের কাছে মানববিধ্বংসী মারণাস্ত্র রয়েছে এ অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন বাগদাদে মিসাইল হামলা চালিয়ে সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করেছিল। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল ২০১১ সালে লিবিয়ায়। তখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ‘মানবতা রক্ষায়’ হস্তক্ষেপ করেছিল এবং গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। এ ক্ষেত্রে ১৯৯১ সালে কুয়েতকে ইরাকি দখলমুক্ত করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত একটি সিদ্ধান্তের সাহায্য নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০০৩ ও ২০১১ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরাক ও লিবিয়ায় সামরিক আগ্রাসন চালাতে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এবারও তেমনটি হতে যাচ্ছে।
লিবিয়ায় গাদ্দাফিকে উৎখাতের ব্যাপারে ব্যবহৃত হয়েছিল ‘হিউম্যানিটারিয়ান ইন্টারভেনশনে’র তত্ত্বটি। আর এবার ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে ‘রেসপনসিবিলিটি টু প্রোটেক্ট’ তত্ত্ব। এর মূল কথা হচ্ছে, মানবতা রক্ষায় বিশ্বশক্তির দায়িত্ব। যেহেতু সিরিয়ায় সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে(?), সেহেতু সাধারণ মানুষকে রক্ষায় পশ্চিমা শক্তি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই এ সামরিক হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে! এখানে বলা ভালো, সিরিয়ার ঘটনাবলী সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। জাতিসংঘ সনদে উল্লেখ আছে, একটি দেশ অপর একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। যদি এমন কোনো ঘটনার জন্ম হয় যে, সেখানে স্থিতিশীলতা ও গণহত্যা রোধে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে, তাহলে কাজটি করতে হবে নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত একটি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। ইরাকের (২০০৩) ক্ষেত্রে কিংবা লিবিয়ার ক্ষেত্রে (২০১১) এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়নি নিরাপত্তা পরিষদ। সিরিয়ার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা পরিষদ এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে এটা সত্য, আন্তর্জাতিক একটি সম্মেলনে ‘রেসপনসিবিলিটি টু প্রোটেক্টে’র একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। তবে এ ব্যাপারে কোনো চুক্তি হয়নি এবং এটা কোনো আন্তর্জাতিক আইনও নয়। এর অর্থ হচ্ছে, সিরিয়ায় সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন অনুমোদন করে না। যুদ্ধ, সামরিক হস্তক্ষেপ ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে অধ্যাপক গ্লেননের একটি বই রয়েছে- ‘লিমিটস অব ল’, প্রিরোগেটিভ্স অব পাওয়ার’। এ গ্রন্থে গ্লেনন উল্লেখ করেছেন, এ ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ।
বিশ্বশক্তি বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেখানে তার স্বার্থ রয়েছে, সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। ‘মানবিক কারণে হস্তক্ষেপ’ কিংবা ‘মানবতা রক্ষায় দায়িত্বশীলতা’র যে যুক্তি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপট তৈরি করে, আফ্রিকার বরুন্ডি-রুয়ান্ডায় গণহত্যা বন্ধে কিংবা কসোভোতে গণহত্যা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডা-বরুন্ডিতে হুতু-তুতসি দ্বন্দ্ব ও গণহত্যায় কয়েক লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। কসোভোতে ১৯৯৯ সালে সার্বিয়ার জাতিগত উচ্ছেদ অভিযানের একপর্যায়ে, শেষের দিকে, ন্যাটোর বিমানবহর সার্বিয়ার সেনা ঘাঁটির ওপর বিমান হামলা চালালেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এ সংকটে হস্তক্ষেপ করেনি। আজ সিরিয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তা করতে যাচ্ছে। কারণ এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রয়েছে। যারা আন্তর্জাতিক রাজনীতির কিছুটা খোঁজখবর রাখেন, তারা ওয়াশিংটনে অবস্থিত একটি গবেষণা সংস্থা দ্য প্রোজেক্ট ফর দ্য নিউ অ্যামেরিকান সেঞ্চুরি কর্তৃক (১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত) প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ ‘গ্লোবাল ইউএস এম্পায়ার : রিবিল্ডিং অ্যামেরিকা’স ডিফেন্সেস- স্ট্রাটেজি, ফোর্সেস অ্যান্ড রিসোর্সেস ফর এ নিউ সেঞ্চুরি’ পড়ে দেখতে পারেন।
সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিমান হামলা ‘সীমিত’ সময়ের জন্য পরিচালিত হবে বলে বলা হচ্ছে। এ বিমান হামলা পরিচালিত হবে সিরিয়ার সেনাঘাঁটিকে কেন্দ্র করে এবং তা সীমাবদ্ধ থাকবে কয়েক দিন মাত্র। এ হামলার উদ্দেশ্য হচ্ছে সিরিয়ার সরকারকে বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ‘শাস্তি’ দেয়া। এতে করে বাশার কতটুকু ‘শাস্তি’ পাবেন, তা এক ভিন্ন প্রশ্ন। এ হামলা নিঃসন্দেহে বিদ্রোহী সেনাবাহিনীকে উৎসাহ জোগাবে। এমনকি এ বিমান হামলা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট বাশারের ক্ষমতাচ্যুতিও বিচিত্র কিছু নয়। তবে এ হামলা সিরিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে নানা জটিলতা ও সংকট তৈরি করতে পারে। প্রথমত, এ যুদ্ধ শুধু যে সিরিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তা নয়। বরং এ যুদ্ধে লেবানন ও তুরস্ক জড়িয়ে পড়তে পারে। এতে করে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নেয়া হাজার হাজার শরণার্থীদের মাঝে। বর্তমানে শরণার্থীর যে সংখ্যা পাওয়া গেছে, তা অনেকটা এ রকম : তুরস্কে ৪ লাখ, লেবাননে ৭ লাখ, বেক্কা উপত্যকায় ২ লাখ ৪০ হাজার, বৈরুতে ১ লাখ ৬০ হাজার, ইরাকে ১ লাখ ৫০ হাজার, জর্দানে ৫ লাখ, মিসরে ১ লাখ ১০ হাজার। এ শরণার্থীরা একটা বড় সমস্যা তৈরি করবে আগামীতে। দ্বিতীয়ত, সিরিয়া জাতিগতভাবে ভাগ হয়ে যেতে পারে। সাবেক যুগোস্লাভিয়ার মতো পরিস্থিতি বরণ করতে পারে সিরিয়া। তৃতীয়ত, সিরিয়ায় আক্রমণ আগামীতে ইরানে সম্ভাব্য হামলায় মার্কিন নীতিনির্ধারকদের উৎসাহ জোগাতে পারে। চতুর্থত, এ ধরনের একটি হামলায় ইসরাইল খুশি হবে সবচেয়ে বেশি। ইসরাইলের স্বার্থ এতে করে রক্ষিত হবে। বলা ভালো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে ইসরাইল আতংকিত। একই সঙ্গে সিরিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো নয় ইসরাইলের। পঞ্চমত, এ হামলার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল দেশগুলো। ষষ্ঠত, বাশারের অবর্তমানে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়বে বিদ্রোহীরা। আর তাতে করে সুবিধা নেবে আল-কায়দার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আল নুসরা ফ্রন্ট ও ইসলামিক স্টেট অব ইরাক সংগঠন দুটি। এরা এরই মধ্যে সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। এই হামলা এ দুটি সংগঠনের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। গাদ্দাফি-পরবর্তী লিবিয়া ও সাদ্দাম-পরবর্তী ইরাকে এ রকমটি আমরা লক্ষ্য করেছি।
সিরিয়ায় সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসন সিরিয়া সমস্যার আদৌ কোনো সমাধান বয়ে আনবে না। প্রেসিডেন্ট ওবামা শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের একটি সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবেন। এ সিদ্ধান্তটি তিনি হয়তো পাবেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি ‘যুদ্ধ’ বিশ্বে বিশেষ করে আরব বিশ্বে তার অবস্থানকে দুর্বল করবে। এক ধরনের ‘আমেরিকা বিদ্বেষে’র জš§ হবে এ অঞ্চলে। এর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে। ‘আরব বসন্ত’ যে সম্ভাবনার জš§ দিয়েছিল, তার মৃত্যু ঘটবে। ‘যুদ্ধ’ সিরিয়া সমস্যার কোনো সমাধান নয়।
অস্টিন, টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র থেকে
তারেক শামসুর রেহমান : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

সত্যিকারের নায়ক by শাহনেওয়াজ বিপ্লব

জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম দেশ। ভাষার দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীতে পঞ্চম স্থানের অধিকারী। কিন্তু আধুনিক অগ্রযাত্রায় শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি অথবা মৌলিক গবেষণায় বাংলাদেশীদের অবদান বিবেচনা করলে পৃথিবীর ক্রম-আধুনিকতার পথে আমাদের উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান নেই বললেই চলে। একমাত্র যে নোবেল পুরস্কারটি বাংলাদেশ অর্জন করেছে তা-ও মৌলিক কোনো গবেষণায় নয়, বরং শান্তিতে। পৃথিবীর অগ্রযাত্রায় আমাদের অবদান শেষ পর্যন্ত তাই কেবল শ্রমিকের ওপরই বর্তায়। ১৬ কোটি মানুষের দেশ হয়েও, সব সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা কেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি অথবা গবেষণায় নায়ক হয়ে উঠতে পারে না, সেটি এক প্রশ্ন বটে। আর এ প্রশ্নের উত্তরও নিহিত আছে আমাদের রাজনৈতিক সমস্যা ও সংস্কৃতির মধ্যে। বিএনপির আমলে যে ছেলে উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ গিয়েছে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে; উচ্চশিক্ষা অর্জন শেষে দেশে ফিরে এসে দেখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে সে বিমানবন্দরের নাম পাল্টে রেখেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আওয়ামী লীগ পাঠ্যপুস্তকে এমএ হান্নানকে স্বাধীনতার ঘোষক লিখেছে, আর বিএনপি ক্ষমতায় এসে সে পাঠ্যপুস্তক রদবদল করে দিয়ে লিখেছে মেজর জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষক। এরকম পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক বিদ্বেষ আর ঘৃণার ভেতর বড় হয়ে ওঠে আমাদের শিশু-কিশোররা। রাজনীতির স্বার্থে পাঠ্যপুস্তক আর ইতিহাস পাল্টে দেয়ার ফলে আমাদের ইতিহাসের প্রকৃত নায়কদের খুঁজে পাওয়া হয়ে ওঠে না ছাত্রছাত্রীদের। তারা পাঠ্যপুস্তকে যা পড়ে, সেসব আর বিশ্বাসও করে উঠতে পারে না। সেজন্য দেখা যায়, সদা সত্য কথা বলবে, মিথ্যা বলা মহাপাপ- এসব সদুপদেশ কোনো আলোড়ন জাগায় না আমাদের ছাত্রছাত্রীদের মনে, কেননা তারা দেখে দেশের অনেক মন্ত্রী থেকে শুরু করে উপদেষ্টা, ব্যবসায়ী, পুলিশ- এরা নিজেরাও সেসব আপ্তবাক্য মানেন না।
অন্যদিকে উচ্চশিক্ষা অর্জন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক হওয়ার জন্য চাকরিপ্রার্থীর উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার চেয়ে মুখ্য হয়ে ওঠে সে আওয়ামী লীগ না বিএনপির সমর্থক সেই পরিচয়। আর এর ফলে হতোদ্যম হয়ে পড়ে আমাদের গবেষক, আমাদের বিজ্ঞানীরা। তারপর কেউ আবার শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেলেও সাদা দল, নীল দল, গোলাপি দল অথবা ডাক্তার হলে ড্যাব অথবা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ। রাজনীতির এসব টালবাহানা সামলাতে সামলাতে নতুন চিন্তা অথবা গবেষণার কাজে আর মনোযোগ দেয়া হয়ে ওঠে না অনেকের পক্ষেই। এ সংস্কৃতির পৃথিবীর অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার জন্য কারণেই আমাদের দেশে কোনো নায়কের প্জন্ম হয় না, বরং খলনায়কেরাই আমাদের দিনযাপনের অংশ হয়ে থাকে। দেশের প্রধান দৈনিকগুলো খুললে তাই দেখা যায় প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো খলনায়কের ছবি। মন্ত্রীর বাসায় ৭০ লাখ টাকা পৌঁছে দিতে গিয়ে কেউ ধরা পড়ছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই হলমার্ক কেলেংকারি, ডেসটিনি কেলেংকারি। এসব চলতে চলতে মন্ত্রী হয়তো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে টেলিভিশনের টকশোতে ডাকছেন ‘বেয়াদবের হাড্ডি’ ইত্যাদি ইত্যাদি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, দেশে যে যত ইতর সে তত বড় নায়ক! আর এসব নায়কের ইন্টারভিউ ও ছবি নেয়ার জন্য সাংবাদিকদের ক্যামেরা আর কলম নিয়ে নিত্য চলছে দৌড়ঝাঁপ। আমার আপত্তিটা এখানেই। পত্রিকার প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দিতে হবে এসব খলনায়কের চেহারা ও খবর। আর এসব জায়গায় নিয়ে আসতে হবে মাকসুদুল আলমের মতো আমাদের সত্যিকারের নায়কদের ছবি। আমাদের জাতির সত্যিকারের নায়ক মাকসুদুল আলম পাট গাছের ক্ষতিকর ছত্রাকের প্রাণভোমরা চিহ্নিত করেছেন। তার এ গবেষণা, আমাদের কৃষকদের জন্য এক নতুন শুভবার্তা। তার গবেষণা ও যুগান্তকারী এ আবিষ্কার বদলে দেবে আমাদের ফসল উৎপাদনের আগামী ইতিহাসও।
তাই মাকসুদুল আলমের মতো বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ আর গবেষকদের আমাদের পাঠ্যপুস্তকে আরও বেশি করে নিয়ে আসতে হবে। পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় ও পাঠ্যপুস্তকে শিশুদের আগ্রহের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে বিজ্ঞানী, গবেষক আর সৎ মানুষদের ছবি। উপদেষ্টা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ, আমলা- যারা দুর্নীতি অথবা অসভ্য আচরণের সঙ্গে জড়িত, তাদের ছবি আর খবরগুলো স্থানান্তরিত করে দিতে হবে তৃতীয়, চতুর্থ অথবা পত্রিকার ভেতরের পৃষ্ঠাগুলোয়, যাতে করে প্রতিদিন সকালে আমাদের শিশুরা নাস্তার টেবিলে বসে এসব কুৎসিত মুখ দেখতে না পায়। যদি এটা করা হয়, গত ৪০ বছরে আমাদের বাংলাদেশ তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন করতে পারেনি তো কী হয়েছে- আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ঠিকই একদিন বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে তুলে নিয়ে আসবে পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর তালিকায়। আর এ স্বপ্নের বীজ তাদের বুকে এখনই বুনে দিয়ে যেতে হবে আমাদের।
শাহনেওয়াজ বিপ্লব : গল্পকার, ভিয়েনা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত

সিরিয়ার জটিল অংক by ফরহাদ মজহার

বারাক ওবামা যা আশা করেছিলেন সেটা হয়নি। বিলাতের পার্লামেন্ট সিরিয়ায় সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেনি। ৩০ আগস্ট বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে তর্ক হয়েছে পার্লামেন্টে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ব্রিটেন যুদ্ধে জড়াবে না। ওবামার প্ল্যান এতে কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ কারণে একা হয়ে যাবে সেটা ভাবার অবশ্য কোনো কারণ নাই। এরপরও সিরিয়ার হামলায় অনেক দেশের সমর্থন পাওয়া যাবে। তবুও, মানতে হবে, ওবামার সামরিক বাসনা এতে কিছুটা দমিত হতে পারে। সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর যুক্তি খাড়া করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে। বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তার কোনো সুস্পষ্ট বা অকাট্য প্রমাণ দিতে পারছে না কেউই। বরং উল্টা অভিযোগ উঠেছে, সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ভয়াবহ ও বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করেছে বিদ্রোহীরাই। প্রশ্ন উঠেছে, ওবামা কি যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন চাইবেন? তার সম্ভাবনা খুবই কম। কংগ্রেস এখন অধিবেশনে নাই। সেটা একটা কারণ। তবে গৌণ। মূল কারণ হচ্ছে, চাইতে গেলে বিলাতের পার্লামেন্টের মতো সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত যুদ্ধের বিপক্ষেই যাবে। ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো হয়েছিল সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে। আন্তর্জাতিক বিধিবিধান ও নীতি-নৈতিকতা লংঘন করে। সে যুদ্ধ পাশ্চাত্য সভ্যতার(?) ‘ঘোর কেলেংকারি’ হিসেবে এতই প্রতিষ্ঠিত যে সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে মত তৈরি করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। ওবামাকে একটু থ মারতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার-শুক্রবারের দিকে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার আগাম হুঁশিয়ারি শোনা যাচ্ছিল। সেখানে খানিক দম পড়েছে। রাশিয়া ও চীনের পাল্টা হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন শক্তির যে সমীকরণ বর্তমান, সেসব বিচার করে অনেকে দাবি করছেন, সিরিয়ার নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য হামলার অর্থ কার্যত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়া। বিশ্ব পরিস্থিতি এতটাই গরম হয়ে আছে।
আসলে সিরিয়ার পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল। সবকিছু সাদাকালো নয়। বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে যারা মাঠে লড়ছে, তাদের মধ্যে আল কায়দা আছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে তারা লাভবান ও শক্তিশালী হয়েছে। প্রখ্যাত সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক বেশ শ্লেষের সঙ্গেই বলেছেন, মার্কিনিরা যদি সিরিয়ায় হামলা চালায়, তাহলে সেটা হল আল কায়দার পক্ষে সহায়তা। অর্থাৎ আল কায়দার হয়ে সিরিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের যুদ্ধ হবে সেটা। যে মানুষগুলো ৯/১১-র সময় অগুনতি নিরীহ মার্কিন মেরে নিউইয়র্ক সাফা করে দিয়েছিল, তারা বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সেই দেশের সহায়তা পেতে যাচ্ছে। এ এক পরাবাস্তব পরিস্থিতি। ওবামা, ক্যামেরন আর ওলাঁদের জন্য এ এক জব্বর কাজ হল বটে। রবার্ট ফিস্ক অভিজ্ঞ সাংবাদিক, তিনি সরলীকরণের জন্য কথাটা বলেননি, মার্কিন যুদ্ধবাজ নীতির বিরোধিতা করার জন্যই বোঝাতে চেয়েছেন, মার্কিনিরা একদিকে আল কায়দার বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের কথা বলে, আর অন্যদিকে তাদের অপছন্দের বাশার আল আসাদকে শায়েস্তা করার জন্য আল কায়দাকেই সহায়তা করতে আপত্তি করে না।
তবে নিশ্চয়ই পরিস্থিতি এত সোজাসাপ্টা নয়। সিরিয়ায় যে গৃহযুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা শুরু করেছে, তার কারণে লাখ খানেকের বেশি মানুষ প্রাণ দিয়েছে। সে যে পক্ষেরই হোক না কেন। দেশটি ছত্রখান হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের দিক থেকে দেখলে এটা বনে বাঘ জলে কুমিরের দশা। একদিকে একনায়কতান্ত্রিক শাসক বাশার আল আসাদের অত্যাচার ও দমনপীড়ন, আর অন্যদিকে পরদেশী হস্তক্ষেপ। বিদ্রোহীদের শক্তি পুরোটা তাদের নিজেদের নয়, বাইরের। জনগণের সমর্থন তাদের পেছনে আসলে ঠিক কতটা সেটাও অস্পষ্ট। কিন্তু দেশটি ইতিমধ্যেই যেখানে গিয়ে পৌঁছেছে সেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। এমনকি এমন কোনো জায়গায় দাঁড়ানোর হদিস পাওয়া যাচ্ছে না যেখানে সিরিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সব পক্ষের একটা সাধারণ স্বার্থ অন্বেষণ করা সম্ভব হয় এবং সেই স্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে আত্মঘাতী যুদ্ধ থামানোর কিছু সূত্র পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষকে আরও অনেক রক্ত দিতে হবে। অথচ যে পক্ষই টিকে থাকুক বা জিতুক, তার ফল কী দাঁড়াবে সেটা খুবই অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে।
ইরান ও হিজবুল্লাহ প্রাণপণ বাশার আল আসাদের সরকার ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিস্তর হুমকি এর আগে আমরা শুনেছি। ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির টানাপোড়েনের কারণে যে অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতা আমরা দেখেছি সেটা এখন নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে স্তিমিত হয়ে এসেছে, মনে হচ্ছে। ইরানিরা পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে জবাবি প্রচারের চেয়ে নিঃশব্দ কূটনীতির পথই বেছে নিয়েছে। আহমেদিনেজাদ যেভাবে কথা বলে আর জোরে জবাব দিয়ে ক্ষেপিয়ে তুলতেন, নতুন প্রেসিডেন্ট ‘মধ্যপন্থী’ বলে সেই গরম কূটনীতির পথ ধরবেন না। সেটা নিশ্চিত। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ায় ইরানের শক্তি কেন্দ্রীভূত করতে ইরান তার সমস্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এতে সন্দেহ নাই। আর সেদিক থেকে আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা ইরানের জন্য জরুরি। ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর সে অঞ্চলে ক্ষমতার সমীকরণ শিয়াদের পক্ষে চলে গিয়েছে, এ বাস্তবতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের পাশ্চাত্য মিত্রেরা যেমন তাদের স্বার্থের অনুকূল হিসেবে দেখছে না, ঠিক তেমনি সুন্নি মুসলমানদের জন্যও এ একটা অসহনীয় পরিস্থিতি। বাশার আল আসাদ যদি টিকে যান, তার মানে সিরিয়ায় ইরানেরই বিজয় হল। বিদ্রোহীদের কবল থেকে বাশারের সৈন্যরা যখন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর আবার দখল করে নিল, তাতে দূর থেকে মনে হচ্ছে বাশার এই যুদ্ধে টিকে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার পাশ্চাত্য মিত্রদের পক্ষে এটা মেনে নেয়া কঠিন। ঠিক যেমন কঠিন সৌদি আরব, ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজা-রাজড়াদের জন্য। মাঠে আল কায়দার জন্যও সেটা মেনে নেয়া কঠিন। ফলে মার্কিনিরা আল কায়দার পক্ষেই বুঝি লড়তে যাচ্ছে- কথাটা সরল অর্থে বললেও পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি জটিল ও ঘোলাটে।
সিরিয়ার যুদ্ধ বোঝার প্রাথমিক দিক হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান। একে একটা সুদূরপ্রসারী সামরিক পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত গণ্য করাই সঠিক। এই অর্থে যে, এই যুদ্ধ ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো ও ইসরাইলি সামরিক শক্তির অভিযান শুধু নয়। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে অভিযান। রাশিয়া ও চীন সেভাবেই ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে একে দেখছে এবং সেই বিবেচনাতেই তাদের অবস্থান নিয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সম্পদের পরিস্থিতির দিক থেকে দেখলে মধ্যপ্রাচ্য-মধ্য এশিয়ার তেলের মজুদের ওপর আধিপত্য ও দখলদারি বজায় রাখা এই যুদ্ধের আশু উদ্দেশ্য। এর সঙ্গে যুক্ত তেলের পাইপলাইনগুলো রক্ষা করা এবং নিজেদের অধীনস্থ রাখার প্রতিযোগিতা ও লড়াই। এই দিকগুলো কমবেশি স্পষ্ট।
বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ শুধু দৃশ্যমান সামরিক রূপ নিয়ে জারি নেই, তার রাজনৈতিক প্রকাশও আছে। সেটা আমরা দেখি নতুনভাবে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চল ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের পক্ষে সাজানোর লড়াই হিসেবে। সিরিয়ার যুদ্ধ এই সামগ্রিক সামরিক-রাজনৈতিক যুদ্ধ পরিকল্পনা থেকে আলাদা কিছু নয়। যারা সিরিয়ার যুদ্ধের খবর অনেক ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখেন, তারা দাবি করছেন সিরিয়ার ‘শাসক বদল’ (ৎবমরসব পযধহমব) করার কাজে ২০১১ সাল থেকে আল কায়দার সক্রিয়তার পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রণোদনা বা সমর্থন রয়েছে। কিন্তু সে চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। যার কারণে এখন সরাসরি সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হচ্ছে। আল কায়দা ছাড়াও বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে সিরিয়ায় জনগণের ন্যায়সঙ্গত বিক্ষোভকে উসকে দিয়ে ভাড়াটে সৈন্য পাঠিয়ে উৎখাতের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে বলা যায়। বাশার আল আসাদকে এখনও উৎখাত করা যায়নি। উপায়ন্তর না দেখে এখন বোমারু বিমানের হামলা এবং দরকার হলে সিরিয়ার মাটিতে বিদেশী সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা করতে হচ্ছে। বিদ্রোহীদের দিয়ে সরকার উৎখাতের কাজ হচ্ছে না এবং বিদ্রোহীরা পরাজিত হওয়ার অর্থ হচ্ছে ইরানের বিজয়। এটা হতে দেয়া যায় না। যে কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতেই হচ্ছে।
গত ১৫ বছরের হিসাব নিলে আরব বা মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের সামরিক অভিযান ঘটেছে নয়বার। সুদান, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, মালি এবং ঘাতক ড্রোনের হামলা চলছে ইয়ামেন, সোমালিয়া ও পাকিস্তানে। এই বাস্তবতা সব সময়ই চোখের সামনে হাজির রাখা দরকার।
মুশকিল হচ্ছে, এই যুদ্ধকে কিভাবে ‘ন্যায়সঙ্গত’ যুদ্ধ বলে হাজির করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র? যেহেতু সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কোনো যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, ঠিক সেই সময়ই গ্যাসে প্রায় ৩৫৫ জন নিরীহ বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এখন সিরিয়ার ওপর মিসাইল আক্রমণের যে প্রস্তুতি চলছে সেখানেও সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রের মজুদ থাকার কথা বলা হচ্ছে। আসলে সিরিয়ার আদৌ রাসায়নিক অস্ত্র আছে কি-না এবং ২১ আগস্ট যে গ্যাসের হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে সেই গ্যাস আসলে কী, তা তদন্তের জন্য জাতিসংঘের রাসায়নিক অস্ত্র পরিদর্শক দল কাজ করছে। তাদের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা ঘোষণা দিয়েছে যে সিরিয়া রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে- সে তথ্যের পক্ষে তাদের কাছে অকাট্য প্রমাণ আছে। জাতিসংঘের তদন্ত কিন্তু শেষ হয়নি, জাতিসংঘের সেক্রেটারির কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়া অনেক পরের কথা। কিন্তু যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি নেয়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা জরুরি মনে করছে না।
ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, ইরাকে হামলার সময় বলা হয়েছিল ইরাক গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র মজুদ করে রেখেছে। গোয়েন্দাদের এই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তা ছাড়া মনে আছে নিশ্চয়ই যে, গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিল ক্লিনটন এক ওষুধের কারখানায় হামলা চালাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আল কায়দার বোমা হামলার প্রত্যুত্তর দিয়ে বীরত্ব দেখানো কর্তব্য মনে করেছিলেন। ওটা নাকি রাসায়নিক অস্ত্র বানানোর কারখানা ছিল। কিন্তু পরে পাহাড় কাঁপিয়ে পাহাড়ের গোড়ার গর্ত থেকে একটি ইঁদুর বের হয়ে এসেছিল : পর্বতের মূষিক প্রসব! আসলে ওটা রাসায়নিক অস্ত্র বানানোর কারখানা ছিল না, ছিল ওষুধের কারখানা। তবে দামেস্কের শহরতলীতে যে হামলায় বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়েছে সেটা ভয়ঙ্কর। এটা ভয়াবহ অপরাধ। এভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা ও আহত করার বিহিত অবশ্যই হওয়া উচিত।
এই পরিস্থিতিতে সিরিয়ার যুদ্ধে নীতিগত জায়গা থেকে বিবদমান দুই পক্ষের কোনো একটির পক্ষে দাঁড়ানো কঠিন। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরোধিতা করা একটি সাধারণ নীতি, কিন্তু সিরিয়ায় গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাটিকে এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শনাক্ত করা কঠিন। সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সিরিয়াকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল অংক সরল সমীকরণ নয়। কিন্তু কিছু দিক পরিষ্কার।
রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য বাশার আল আসাদ দায়ী থাকুন বা না থাকুন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলা সাধারণ মানুষের জীবন আরও বিপন্ন করে তুলবে। একে ছুতা হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা গ্রহণ করতে চাইছে। এটা প্রহসন যে মধ্যপ্রাচ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মার্কিন মিত্র হচ্ছে সৌদি আরব। সিরিয়ার জনগণের দুর্দশা ও দুর্ভোগকে আশ্রয় করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই ধোঁয়াশা পরিস্থিতিতে আমাদের কাজ হচ্ছে সিরিয়ার জনগণের পক্ষে দাঁড়ানো। আশা করা যায় যে, প্রায় অসাধ্য হলেও তারা তাদের সংকট নিজেরাই সমাধান করতে সক্ষম হবে। যুদ্ধ কী ভয়ানক প্রাণঘাতী হতে পারে সে অভিজ্ঞতা সবারই আছে।
সিরিয়াকে কেন্দ্র করে যখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা বলা হয়, তখন তার সম্ভাব্য ভয়াবহতা সম্পর্কে সারা দুনিয়ার মানুষকেই সচেতন হয়ে ওঠা দরকার। রাশিয়া ও চীনের অবস্থানের কারণে হামলার পরিণতি সেদিকে গড়াবে বলে অনেকে আন্দাজ করেন। আর, তার সঙ্গে যুক্ত মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতি। বারাক ওবামা পরিষ্কারই বলেছেন, সিরিয়ার হামলার উদ্দেশ্য বাশার আল আসাদকে অপসারণ নয়। তাহলে সেটা কী? সেটা হচ্ছে বিদ্রোহীদের সহায়তা করা। এর ফলে সিরিয়ায় যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা চলতে থাকবে, এর নিরসন হবে না। মধ্যপ্রাচ্যে দাঙ্গা ও হত্যার রাজনীতির বিস্তার ঘটিয়ে ঘোলা পরিস্থিতিতে সুবিধা আদায় করাই মার্কিন নীতি। বড় কোনো যুদ্ধে জড়ানো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এখন অসম্ভব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দুর্বল জায়গাটা তার পতনকেও ত্বরান্বিত করতে পারে। আমাদের জীবদ্দশায় সেটা দেখে গেলে অবাক হবো না।

মাদকের উত্তেজনায় নষ্ট হচ্ছে তারুন্য - বাড়ছে মাদকাসক্ত শিশু-কিশোর ও নারীর সংখ্যা

সারাদেশে মাদকের ভয়াবহ উত্তেজনায় নষ্ট হচ্ছে তারুন্য। অনেকে কিশোর-কিশোরী ও নারী-পুরুষ হারিয়ে ফেলছেন যৌনতা। প্রতিনিয়ত বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। মাদক সেবন ও ক্রয়-বিক্রয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শৈশব ও কৈশোর। ফলে দেশে মাদকাসক্ত শিশু-কিশোরদের ও নারীর সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, প্রতিনিয়তই বাড়ছে শিশু-কিশোর মাদকাসক্তদের সংখ্যা। এছাড়া চরম অশান্ত পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক শৈশব ও কৈশোর হারিয়ে ফেলেছে প্রায় ১৪ লাখ শিশু-কিশোর। যারা পথশিশু হিসেবে পরিচিত। বন্ধ হয়ে গেছে তাদের লেখাপড়া-স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলো। এমনকি মাদকদ্রব্য কেনা-বেচায় শিশু-কিশোর ও নারীদের যোগদান করার সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে।

মহাপরিদর্শক (আইজিপি) খন্দকার হাসান মাহমুদ বলেন, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী কিংবা নারীরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন এটা দেশের জন্য ভয়াবহ ক্ষতি। অল্প বয়সী কিংবা তরুণ-তরুণীদের এমন ভয়াবহ মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য। মানুষের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল তার পরিবার, তাই মাদকমুক্ত হতে হলে পরিবারকে সচেতন হতে হবে।

ডিএমপি সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, নারী-শিশু তথা শিশু-কিশোরদের একটি অংশ মাদক কেনা-বেচায় জড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোররা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। খাবারের অভাব, চরম অপুষ্টি এবং ক্রমাগত অসুখে ভোগার কারণেই বাড়ছে শিশু-কিশোর মৃত্যু। শুধু তাই নয়, যৌন আকাক্সক্ষা চরিতার্থ করতে জোর করে উত্তেজনা নেশাদ্রব্য খাওয়ানো হচ্ছে অল্প বয়েসীদের।

অপরাজেয় বাংলাদেশ সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে ১৪ লাখ পথশিশু রয়েছে, তাদের প্রায় সবাই কোনো না কোনো মাদক সেবনে জড়িত। এসব শিশু-কিশোর টানা মাদকাসক্তের কারণে ঘর ছেড়ে পার্কে, খামারে, রাস্তাঘাটে, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বাবুর কথায়, মাদকের ভয়াবহতায় নিষ্পাপ শৈশব-কৈশোর হিংস্র বাস্তবতার সম্মুখীন হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে হাজার হাজার ঐশীর। মাদকাসক্তদের হাতে আপনজন খুন হলেই দেশে হইচই পড়ে যায়। প্রতিবারই এ ঘটনা ঘটে। ব্যতিক্রম নয় এবারও। এবার মাদকাসক্ত মেয়ে ‘ঐশী’র হাতে মা-বাবা খুন হওয়ার পরই শিশু-কিশোর, নারীসহ সব মাদকাসক্ত এবং মাদক কেনা-বেচা এবং সেবনের বিরুদ্ধে সোচ্চার দেশবাসী। কিন্তু আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনার পর কিছুদিন যেতেই সব কিছু আগের মতো হয়ে পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম জানান, ফুটপাত থেকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পর্যন্ত মাদকের থাবা বিস্তৃত। শিশু-কিশোর ও নারী মাদকাসক্তরা নিষ্ঠুর আর নিয়ন্ত্রণহীন হয় বেশি। ভালোবাসা থেকে বিচ্ছিন্ন করায় সন্তানরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। ফলে তারা স্বাভাবিক জীবনের বাইরে গিয়ে মাদকাসক্ত এমনকি যৌন আসক্ত হয়ে উঠে।

ইউএনডিপির দেয়া এক তথ্যে জানা যায়, পৃথিবীতে মাদকাসক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শতকরা ২ ভাগ। এ হিসাবে বাংলাদেশে মাদকাসক্তদের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি। বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা এ সংখ্যা কমবেশি ৬০ লাখ ধরেই তৎসংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকার মাদকসেবীদের প্রায় সবাই বেকার, টোকাই, রিকশা-ভ্যানচালক, ছোটখাট চোর-বাটপারসহ সমাজের নিু আয়ের মানুষ। অভিজাত এলাকায় প্রকাশ্যে নেশাদ্রব্য বেচাকেনা বা গ্রহণ খুব কম নয়। অভিজাত পোশাক-আশাক পরে মাদক সেবন করায় তাদের চোখে পড়ে খুব কম। তবে দীর্ঘদিন ধরে সিসা বা হুক্কা নামের এক ধরনের নেশা অভিজাত এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সঙ্গে বিদেশী মদ, ইয়াবা হোরাইন তো রয়েছেই। এ সব আসরে বসে মূলত অভিজাতপাড়ার শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারীরা। যাদের পিতা-মাতার সমাজে নাম-ডাক রয়েছে। রয়েছে ক্ষমতাও। এ নেশাসক্তদের বেশির ভাগই নগরীর বিভিন্ন নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী এবং অভিজাতপাড়ার ধনী পরিবারের ছেলেমেয়ে।

ঢাবির ক্যাম্পাসে অবাধে মাদক বিক্রি- গভীর রাত পর্যন্ত মেয়েদের মাদক সেবন- মেয়ে মাদকসেবীদের মধ্যে বেশিরভাগ চারুকলার ছাত্রী

প্রশাসনের সীমাহীন অবহেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলছে অবাধে মাদকদ্রব্য বিক্রি। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে মাদক সরবরাহকারী একটি চক্র। রাজনৈতিক নেতাদের চাঁদা দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি এ স্থানটিকে করে নিয়েছেন মাদক বিক্রির নিরাপদ জোন। ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন, প্যাথেডিনসহ রকমারি মাদকে ছেয়ে গেছে ক্যাম্পাসের অলিগলি। রিকশাচালক, ফেরিওয়ালা ও চা বিক্রেতা ছদ্মবেশে চালানো হচ্ছে এ কার্যক্রম। আর এসব মাদক দ্রব্যের বেশিরভাগ ক্রেতাই হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশ পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ভাসমান বিক্রেতাদের দফায় দফায় ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ ধরা হলেও একটুও কমছে না মাদক বিক্রি। অভিযোগ রয়েছে, মাদক বিক্রির সঙ্গে সরকারদলীয় ছাত্র নেতাদের প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কারণেই মাদক ব্যবসায়ী চক্রটি শক্ত করে এ এলাকায় খুঁটি গেড়ে বসেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের নির্লিপ্ত আচরণের কারণেও এর মূলোৎপাটন সম্ভব হয়ে উঠছে না। ফলে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এ প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে সামাজিক মূল্যবোধ অবক্ষয়ের পাশাপাশি নানা অপরাধ বেড়েই চলছে। জানা জানায়, মাদক বিক্রি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিত্যকার ঘটনা হলেও প্রশাসনের উদাসীনতায় এ অপরাধ চাপা পড়ে যাচ্ছে। কদাচিৎ ঘটছে মাদক বিক্রেতাদের ধর পাকড়ের ঘটনা। এ বছর দুই দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের মাঠ থেকে ইয়াবাসহ ধরা হয় ভাসমান মাদক বিক্রেতাদের। প্রথমবার ১০০ টি ও দ্বিতীয়বার ২৫টি ইয়াবা উদ্ধার করেন গোয়েন্দারা। এছাড়া কিছুদিন আগে ফজলুল মুসলিম হলের পাশ থেকে ফেন্সিডিল ভর্তি একটি গাড়ি উদ্ধার করে পুলিশ। গত বছর সাভার থেকে মুহসীন হল ছাত্রলীগের গত কমিটির এক সহ-সম্পাদককে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বঙ্গবন্ধু হলে ছাত্রলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা রুমে নিয়মিত মাদক সেবনের আসর বসান। তার বিরুদ্ধে এর আগে হলের রুমে মেয়ে এনে রাখার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সবগুলো হলেই চলে কম বেশি মাদক সেবন। তবে ছাত্রনেতাদের নেতৃত্বে বহিরাগতদের সমন্বয়ে জগন্নাথ হলের ভবনগুলোতে হরহামেশাই মাদক সেবন। আর এসবের নেতৃত্বে থাকেন হলের ছাত্রনেতারা।
সূত্র জানায়, ঢাকার বাইরে টেনকনাফসহ অন্যান্য এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য আসে পুরান ঢাকার লালবাগ, চানখাঁরপুল এবং নীলক্ষেত এলাকায়। সেখান থেকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বকশীবাজার মোড়, মুহসীন হল মাঠ, পলাশী, আজিমপুর মেটার্নিটি হাসপাতাল, মল চত্বর, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ গেট, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং টিএসসিতে বিশেষ সংকেতের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে মাদক। রিকশাচালক, চা বিক্রেতা এবং বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে বিক্রি হচ্ছে এগুলো। রিকশার সিটের ভেতরে রেখে বিক্রি হয় গাঁজা। সহজেই পাওয়া যায় হেরোইনের পুরিয়া আর ইয়াবা ট্যাবলেট। বুয়েটের পেছনের গেট বলে পরিচিত কাবুল শাহ মাজার বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অঘোষিত মাদক স্পট। এখানে সবসময় দাঁড়ানো থাকে ২০/২৫টি রিকশা। প্রত্যেকটি রিকশার সিটের নিচে থাকে মাদকদ্রব্য। এরা মূলত গাঁজার পুরিয়া ও ফেনসিডিল বিক্রি করে। ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ ও ১০০ টাকার পোটলা পাওয়া যায় তাদের কাছে। তাদের বেশিরভাগ ক্রেতাই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মাদক বিক্রি ও সেবনের তীর্থস্থান বলে পরিচিত চারুকলার বিপরীত দিকের ছবির হাট। ছবির হাট থেকে শিখা চিরন্তন এলাকা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক সেবন ও বিক্রি হয়। চারুকলার কয়েকজন সরকারদলীয় ছাত্রনেতা এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্কুল-কলেজের পোশাক পরা শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বৃদ্ধরা পর্যন্ত এখানে প্রকাশ্যই মাদক সেবন করেন। অথচ এর মাত্র কয়েকশ গজের মধ্যেই শাহবাগ থানা।

অভিযোগ রয়েছে, থানা-পুলিশকে ম্যানেজ করেই চলছে এ রমরমা মাদক ব্যবসা। উদ্যানের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় সুমী নামের এক মহিলার কথা উঠে এলেও তাকে অদৃশ্য কারণে কখনও আটক করা হয়নি। সোমবার রাত ১১টায় মাদকসেবী পরিচয়ে এক মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, আগে কাওরানবাজার রেললাইনের পাশে ও যাত্রবাড়ির ধলপুরে মাদক ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র থাকলেও সেখানে পুলিশি ঝামেলায় এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলে এসেছে। এখানে দৈনিক ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মাদক কেনাবেচা হয়। ক্যাম্পাসে মেয়ে মাদকসেবীদের মধ্যে বেশিরভাগ চারুকলার ছাত্রী। তারা প্রকাশ্যে চারুকলার সামনে মাদক সেবন করে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদে মাদক সেবনের জন্য ক্যাম্পাসকে বেছে নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলো রাত সাড়ে ৯টায় বন্ধ হলেও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে গভীর রাত পর্যন্ত মেয়েদের মাদক সেবন করতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনও ব্যবস্থা নেয়নি। চারুকলার গেটের ভেতরে এবং বাইরে বসে সিগারেট, গাঁজা ও ফেনসিডিল সেবন করতে দেখা যায় অনেক মেয়েকে। এছাড়া সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট আইডি কার্ডধারীরা চারুকলার ভেতরে প্রবেশ করে, মাদক সেবন ছাড়াও নিভৃতে চলে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ। বিভিন্ন হলে ছাত্রীদের মাদক সেবন থেকে বিরত রাখতে হলের ছাদে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। টিএসসির বিভিন্ন রুম ও বাথরুমে ফেনসিডিলের বোতল এবং গাঁজার পোটলা পাওয়া যায় অহরহ। বিশ্ববিদ্যালয় ও পুরান ঢাকার একটি সিন্ডিকেট পার্শ্ববর্তী ইডেন মহিলা কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ও বদরুন্নেছা কলেজে মাদকদ্রব্য বিক্রি করে। তাদের সহযোগিতা করে হলগুলোর একাধিক মহিলা কর্মচারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউমার্কেট এলাকার দুটি ছাত্রী হল কুয়েত-মৈত্রী ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে মাদকদ্রব্য বিক্রির সঙ্গে কুয়েত মৈত্রী হলের দুই কর্মচারী জড়িত বলে জানা গেছে। এছাড়া ছেলেদের হলে প্রকাশ্যই রাতে ছাদের ওপর বসে মাদক সেবনের আখড়া। অনেক উঠতি ছাত্রনেতা তাদের রুমে বসেই মাদক ব্যবসা ও সেবনের কাজ করে থাকেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকেন্দ্রিক মাদকের উৎপাত খুব বেশি। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বারবার এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। ক্যাম্পাসেও টহল বাড়ানো হয়েছে। শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়মিতভাবে উদ্যানে অভিযান পরিচালনা করি। আজও একজনকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে।

সিরিয়া- কার পক্ষে লড়ছেন ওবামা! by রবার্ট ফিস্ক

বারাক ওবামা যদি সিরিয়ার আসাদ সরকারের ওপর আক্রমণ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, তাহলে আমেরিকার অবস্থান চলে যাবে আল-কায়েদার পক্ষে।

খোলা চোখে- খারাপ, তবে এতটা খারাপ? by হাসান ফেরদৌস

ছবিটা আপনাদের খুবই চেনা, তবু আলোচনার সুবিধার্থে তা আরেকবার ঝালিয়ে নেওয়া যাক। বলছি দুটি রাজনৈতিক দলের কথা,

সাদাসিধে কথা- এই লজ্জা কোথায় রাখি by মুহম্মদ জাফর ইকবাল

কাক কাকের গোশত খায় না- কিন্তু এবারে মনে হয় একটু খেতেই হবে। আমি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

সিরিয়া ইস্যুতে পিছু হটেছে বৃটেন

মিত্রদের সমর্থন ছাড়া এখন যুক্তরাষ্ট্র একাই সিরিয়ায় হামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। বৃটিশ পার্লামেন্টে সিরিয়া ইস্যুতে ভোটাভুটিতে ওবামা মিত্র প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পরাজিত হওয়ার পর এ ধরনের চিন্তা করা হচ্ছে বলে হোয়াইট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।

ইসলামপন্থিদের হুমকির মুখে সুন্দরী প্রতিযোগিতা

ইন্দোনেশিয়ার বালিতে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ বা বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতা৷

একজন প্রকাশ চন্দ্র পাল

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত মাটির তৈজসপত্র তৈরীর ব্যবসার ৫০ বছর পার করছেন প্রকাশ চন্দ্র পাল। শত মন্দার মধ্যেও হাসি-খুশি প্রকাশ জানালেন তার পারিবারিক সমৃদ্ধির কথা।

আহ! মুক্তাগাছার মণ্ডা by তানিম কবির

সে প্রায় ২শ বছর আগের কথা--- ব্রিটিশ শাসিত পূর্ববঙ্গের মুক্তাগাছায় স্বর্গীয় গোপাল পাল মহাশয় স্বপ্নে দেখলেন দস্তুরমতো এক সন্ন্যাসী তাকে মানবজাতির মুখ মিষ্টি করবার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করছেন! প্রথমে পাত্তা দেননি।

চলচ্চিত্রে অনুদান- নেই মানসম্মত ছবি বাড়ছে অপচয় by গোলাম রাব্বানী

প্রতিবছরই চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুদান দিচ্ছে সরকার। কিন্তু অনুদানের অর্থে তৈরি হচ্ছে না মানসম্মত চলচ্চিত্র।

জোটবদ্ধ হচ্ছে ইসলামী দলগুলো

নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে ইসলামিক দলগুলো ধীরে ধীরে কাতারবদ্ধ হচ্ছে।

সিরিয়ার খবরের প্রধান উৎস সোশ্যাল মিডিয়া

যুদ্ধ সাংবাদিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতার যে টার্মটি বেশি পরিচিত তা হচ্ছে ‘এমবেডেড জার্নালিজম’। বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে থাকেন সংবাদকর্মীরা।