Monday, October 19, 2026
সৌদি আরবে নজরকাড়া ‘ব্লু হোলস’
এই ব্লু হোলসের অবস্থান সৌদি আরবে। দেশটির দক্ষিণ–পশ্চিমে পবিত্র মক্কা থেকে জাজান শহর পর্যন্ত সাগরের উপকূলজুড়ে রয়েছে খাদগুলো। অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে একে সৌদি আরবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বলা হচ্ছে। তবে এই সৌন্দর্য এক–দুই দিনে নয়, গড়ে উঠেছে লাখ লাখ বছর ধরে।
ছোটখাটো কোনো ঘটনার জেরেও এই খাদগুলো সৃষ্টি হয়নি। সাগরের গভীরে পাথরে ধরা ফাটল, পানির সঙ্গে মিশে যাওয়া চুনাপাথর, ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের স্থানবদল এবং সাগরের নিচের গুহাগুলো ধসে পড়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই খাদগুলো তৈরি হয়েছে। তাই তো এই খাদগুলোকে বলা হচ্ছে ভূতাত্ত্বিকদের জন্য অমূল্য তথ্যের ভান্ডার।
খাদগুলোর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা ফিরে যেতে পারবেন সুদূর অতীতে। খাদের দেয়াল ও নিচে স্তরে স্তরে জমে থাকা পলিমাটি থেকে জানতে পারবেন প্রাচীনকালের জলবায়ুর ধরন সম্পর্কে। বুঝতে পারবেন, কীভাবে বদল এসেছে সমুদ্রপৃষ্ঠে। গবেষণার সুযোগ রয়েছে, লোহিত সাগরের অববাহিকা কীভাবে ধীরে ধীরে বিকশিত হয়েছে, তা নিয়েও।
মধ্য আমেরিকার দেশ বেলিজ ও চীনেও সাগরের অগভীর তলদেশে এমন খাদ দেখা যায়। সৌদি আরবের প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতেও তুলনামূলক ছোট আকারের এই খাদ রয়েছে। এমন খাদগুলোয় ভিন্ন একধরনের বাস্তুসংস্থান সৃষ্টি হয়। এখানে ঠিকানা তৈরি করে নেয় কচ্ছপ, প্রবাল প্রাচীর ঘিরে বসবাস করে মাছ, বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী—এমনকি অমেরুদণ্ডী প্রাণীও।
পরিবেশগত এসব কারণ এবং বৈজ্ঞানিক গুরুত্বের কথা চিন্তা করে লোহিত সাগরের খাদগুলোকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। ১৬ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা এবং ২০টির বেশি দ্বীপ নিয়ে এই অঞ্চল এখন সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় সংরক্ষিত এলাকা। সংরক্ষণের এই উদ্যোগের সঙ্গে মিল রয়েছে দেশটির ‘ভিশন–২০৩০’–এর লক্ষ্যেও।
ভিশন–২০৩০–এর একটি লক্ষ্য হলো, সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকার আকার বাড়ানো আর এর মাধ্যমে দেশি–বিদেশি মানুষকে পর্যটনে আগ্রহী করে তোলা। লোহিত সাগরের নজরকাড়া খাদগুলোর মাধ্যমে সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরব। আর এই খাদগুলো সম্পর্কে যত নিত্যনতুন রহস্য সামনে আসবে, তখন পর্যটকদের আগ্রহ আরও বাড়বে, তা বলাই চলে।
![]() |
| লোহিত সাগরে নজরকাড়া ‘ব্লু হোলস’। ছবি: সৌদি প্রেস এজেন্সির সৌজন্যে |
Friday, October 2, 2026
কবে ফুরাবে পৃথিবীর অক্সিজেন, জানাল নাসা
এই ভয়াবহ পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে সূর্য। এই নক্ষত্র ক্রমাগত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গবেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন, সূর্যের তাপ বৃদ্ধির কারণে একসময় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড অণুগুলো ভেঙে যাবে। অথচ এই কার্বন ডাইঅক্সাইডই উদ্ভিদের জন্য অপরিহার্য, কারণ এ গ্যাস দিয়েই তারা সালোকসংশ্লেষণ করে অক্সিজেন তৈরি করে। কার্বন ডাইঅক্সাইড না থাকলে গাছ বাঁচবে না, অক্সিজেন উৎপাদন বন্ধ হবে এবং ধাপে ধাপে বিলীন হবে প্রাণিকুল।
তোহো ইউনিভার্সিটির কাজুমি ওজাকি এবং জর্জিয়া টেকের ক্রিস্টোফার রেইনহার্ডের যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, অক্সিজেন বিলীন হওয়ার পর পৃথিবীতে শুধু কিছু অণুজীব টিকে থাকতে পারবে, যারা অক্সিজেন ছাড়াই বেঁচে থাকে। আর তখন ভেঙে পড়বে ওজোনস্তরও। ফলে সূর্যের প্রাণঘাতী অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে এসে প্রাণ বিকাশকে পুরোপুরি অসম্ভব করে তুলবে।
অক্সিজেন হারানোর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলে বাড়বে মিথেন গ্যাসের পরিমাণ। এই গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীর পরিবেশকে আরও বিষাক্ত করে তুলবে, যা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে। যদিও এ ঘটনা ঘটতে এক হাজার কোটি বছর বাকি, তবুও বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন—এর প্রভাবের ইঙ্গিত হয়তো হাজার হাজার বছর আগেই দৃশ্যমান হতে শুরু করবে।
গবেষকদের মতে, এই তথ্যের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—পৃথিবী কোনোভাবেই চিরকাল বসবাসযোগ্য নয়। সূক্ষ্ম এক ভারসাম্যের ওপর টিকে আছে আমাদের অস্তিত্ব, আর সেটি ভঙ্গুর ও ক্ষণস্থায়ী।
তাই বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এ ভবিষ্যদ্বাণী শুধু দূর ভবিষ্যতের কল্পনা নয়, বরং আজকের জন্যও একটি বার্তা। প্রকৃতিকে রক্ষা, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্বশীলতা ছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী উপহার দেওয়া সম্ভব নয়।
সূত্র: বিবিসি স্কাই এট নাইট ম্যাগাজিন

Sunday, July 12, 2026
প্লাস্টিক দূষণের শিকার হচ্ছে সামুদ্রিক পাখি থেকে কচ্ছপ by জাহিদ হোসাইন খান
প্লাস্টিকের সামান্য পরিমাণ বিপজ্জনক হতে পারে। আয়তনের দিক থেকে একটি ফুটবলের চেয়ে কম পরিমাণ নরম প্লাস্টিক একটি ডলফিনের জন্য মারাত্মক হতে পারে। অন্যদিকে একটি সামুদ্রিক পাখি মটরশুঁটির আকারের চেয়ে ছোট কয়েকটি রাবারের টুকরা গিলে ফেলেই মারা যেতে পারে। গবেষকেরা বলছেন, নতুন এই তথ্য বন্য প্রাণী রক্ষায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে নতুন রূপ দিতে সহায়তা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশবাদী গোষ্ঠী ওশেন কনজারভেন্সির প্রধান গবেষক এরিন মারফি বলেন, প্লাস্টিক দূষণ সমুদ্রে প্রাণীর জন্য অস্তিত্বের হুমকি সৃষ্টি করে। সিল, সি লায়ন ও ডলফিনের মতো সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী, সামুদ্রিক কচ্ছপ ও সামুদ্রিক পাখিদের বিশ্বব্যাপী সংগৃহীত ময়নাতদন্তের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অধ্যয়ন করা সামুদ্রিক কচ্ছপদের প্রায় অর্ধেক, সামুদ্রিক পাখিদের এক–তৃতীয়াংশ ও সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীদের প্রতি ১০টির মধ্যে একটি প্লাস্টিক খেয়েছে বলে দেখা গেছে।
গবেষকেরা সামুদ্রিক প্রাণীর প্রতিটি গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক গিলে ফেলার ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি কতটুকু, তা অনুমান করেছেন। প্লাস্টিকের ধরন বিপদের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাবার সামুদ্রিক পাখিদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। নরম প্লাস্টিক ও মাছ ধরার সরঞ্জাম থেকে তৈরি আবর্জনা সামুদ্রিক স্তন্যপায়ীদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি করে। শক্ত ও নরম উভয় প্রকার প্লাস্টিকই কচ্ছপদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
এ গবেষণায় শুধু প্রাণীদের পাকস্থলীর মধ্যে পাওয়া প্লাস্টিক পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে রাসায়নিক প্রভাব বা প্লাস্টিকে জড়িয়ে যাওয়ার মতো বিষয় মূল্যায়ন করা হয়নি। যে কারণে ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা আরও বেশি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। দেখা যায়, শত শত সামুদ্রিক প্রজাতির দেহে প্লাস্টিক আছে। পাখিরা প্রায়ই প্লাস্টিকের টুকরা গিলে ফেলে। কচ্ছপেরা প্লাস্টিকের ব্যাগকে জেলিফিশ ভেবে ভুল করে। দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের প্রাণীর জন্য ঠিক কতটুকু প্লাস্টিক প্রাণঘাতী, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাব ছিল।
বিজ্ঞানী মারফি বলেন, ‘প্লাস্টিক দূষণের মোকাবিলা করতে হলে আমাদের অবশ্যই প্লাস্টিক উৎপাদন কমাতে হবে। সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের উন্নতি করতে হবে। এরই মধ্যে ছড়িয়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে।’ নতুন গবেষণা প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
![]() |
| সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য প্লাস্টিক ভয়ংকর হতে পারে। ছবি: রয়টার্স। |
Friday, July 10, 2026
তেলাপোকা বিলুপ্ত হয়ে গেলে কী ঘটবে by জাহিদ হোসাইন খান
অনেকেই তেলাপোকাবিহীন বিশ্বকে আরও পরিচ্ছন্ন ও শান্ত জায়গা হিসেবে কল্পনা করেন। রান্নাঘরে হঠাৎ দৌড়াদৌড়ি থাকবে না। কিচেন সিঙ্কের নিচে তাদের দেখা যাবে না। খাদ্য সংরক্ষণে কোনো উপদ্রব হবে না। এমন ধারণা আকর্ষণীয় মনে হলেও তখন কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল হয়ে যাবে। তেলাপোকা লাখ লাখ বছর ধরে টিকে আছে। তারা এমন পরিবেশগত ভূমিকা পালন করে, যা অন্য প্রজাতি সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারে না। আর তাই তেলাপোকা বিলুপ্ত হলে নীরবে আমাদের নির্ভরশীল প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসের এক গবেষণায় দেখা যায়, তেলাপোকা অন্যান্য সহজীবী ব্যাকটেরিয়ার ওপর নির্ভর করে, যা বর্জ্য থেকে নাইট্রোজেনকে অত্যাবশ্যক পুষ্টিতে পুনর্ব্যবহার করে। তেলাপোকার অনেক প্রজাতি মানুষের বাড়ি থেকে দূরে বনের গভীরে বাস করে, যেখানে তারা পচনশীল কাঠ, পাতা ও উদ্ভিজ্জ পদার্থ খেয়ে বেঁচে থাকে। বিভিন্ন উপাদান ভেঙে ফেলার মাধ্যমে তেলাপোকা পচনের প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে।
নাইট্রোজেন ও অন্যান্য অত্যাবশ্যক পুষ্টি উপাদানকে মাটিতে ফিরিয়ে দেয়। যদি তেলাপোকা অদৃশ্য হয়ে যায়, তবে বনের মেঝেতে আরও বেশি জৈব ধ্বংসাবশেষ জমা হবে। পুষ্টির চক্র ধীরগতিতে সম্পন্ন হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তখন বনের গাছের বৃদ্ধি কমে যাবে।
তেলাপোকা টিকটিকি, ব্যাঙ, ছোট পাখি, ইঁদুরসহ অনেক প্রাণীর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য খাদ্য উৎস। তেলাপোকা হারিয়ে গেলে খাদ্যশৃঙ্খলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি শূন্যতা তৈরি করবে। যেসব শিকারি প্রাণী তেলাপোকার ওপর নির্ভর করে, তারা কম খাবারের জন্য প্রতিযোগিতা করতে বাধ্য হবে বা বিকল্প শিকারের দিকে ঝুঁকবে। এতে স্থানীয় বন্য প্রাণীর জনসংখ্যা অস্থিতিশীল হয়ে যাবে। পোকামাকড়কে তুচ্ছ মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তুতন্ত্রে তাদের স্থিতিশীল শক্তি স্থানান্তরের ওপর নির্ভর করে ভারসাম্য বজায় থাকে।
তেলাপোকার মধ্যে ব্লাট্টাব্যাকটেরিয়াম নামে একধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা বর্জ্য পণ্যকে অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনে রূপান্তরিত করে। এটি কঠোর, পুষ্টিহীন পরিবেশে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে তেলাপোকাকে। আর তাই তেলাপোকা এমন পরিবেশে থাকে, যেখানে খুব কম পোকামাকড় বেঁচে থাকতে পারে। এ ছাড়া উদ্ভিজ্জ বর্জ্য ও পশুর মল পচনে সহায়তা করে তেলাপোকা।
বিজ্ঞানীদের মতে, তেলাপোকাবিহীন পৃথিবী মানবসভ্যতার অবসান ঘটাবে না, তবে তেলাপোকারা হারিয়ে গেলে প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় নীরবে শূন্যতা তৈরি হবে। বনাঞ্চলে পচন ধীর হবে, মাটি পুষ্টি হারাবে ও খাদ্যশৃঙ্খল কম স্থিতিশীল হবে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
![]() |
| তেলাপোকা। ফাইল ছবি: ফ্রিপিক |
দুই দিনের ব্যবধানে পৃথিবীর পাশ দিয়ে চলে গেল তিনটি গ্রহাণু
নাসার তথ্যমতে, ১৮ নভেম্বর ‘২০২৫ ভিপি১’ ও ‘২০২৫ ভিসি-৪’ নামের দুটি গ্রহাণু পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেছে। ২০২৫ ভিপি১ গ্রহাণুটি আকারে প্রায় ৩৭ ফুট, যা একটি বাসের সমান। ৩ লাখ ৬১ হাজার মাইল দূর থেকে পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় গ্রহাণুটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৩০০ মাইলের বেশি। অপর দিকে ‘২০২৫ ভিসি-৪’ নামের গ্রহাণুটি ১২ লাখ ৪০ হাজার মাইল দূর থেকে পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেছে। এই গ্রহাণুর আকারও ছিল একটি বাসের সমান।
১৯ নভেম্বর পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেছে ‘৩৩৬১ ওরফিয়াস’ গ্রহাণু। এটির আকার ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফুট। বড় আকারের একটি সেতুর সমান গ্রহাণুটি ঘণ্টায় প্রায় ২০ হাজার মাইল গতিতে পৃথিবীর পাশ দিয়ে গেছে।
গ্রহাণু মূলত প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে সৌরজগৎ গঠনের সময় তৈরি হওয়া পাথুরে বস্তু। এদের অধিকাংশকেই মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী প্রধান গ্রহাণু বলয়ে পাওয়া যায়। কিছু গ্রহাণু সূর্যের কাছাকাছি আসার সময় পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করে। এ ধরনের বস্তুকে নিয়ার-আর্থ অবজেক্টস বা পৃথিবীর কাছাকাছি বস্তু বলা হয়। এগুলো সূর্য থেকে প্রায় ১২ কোটি মাইল পর্যন্ত দূরত্বে ভ্রমণ করে। নাসা জানিয়েছে, এমন বেশির ভাগ বস্তু পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না। যদিও কিছু বড় গ্রহাণুকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক গ্রহাণু বলা হয়।
সূত্র: এনডিটিভি
![]() |
| গ্রহাণুর প্রতীকী ছবি। নাসা |
Thursday, July 9, 2026
পোকামাকড় ও পশুপাখি কি সত্যিই ভূমিকম্পের আগাম তথ্য জানতে পারে by জাহিদ হোসাইন খান
জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিমেল বিহেভিয়ার ও ইউনিভার্সিটি অব কনস্টানজের গবেষকেরা ভূমিকম্পের আগে খামারে থাকা বিভিন্ন প্রাণীর কার্যকলাপ সঠিকভাবে শনাক্তের দাবি করেছেন। যদিও তাঁদের দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিজ্ঞানী মার্টিন উইকেলস্কি বলেন, ‘অ্যারিস্টটল ও আলেক্সান্ডার ফন হামবোল্টের সময় থেকেই এমন আচরণের পুরোনো গল্প রয়েছে। এখন আমরা প্রাণীদের কার্যকলাপ ও স্নায়বিক অবস্থার ধারাবাহিক জৈব তথ্য সংগ্রহ করতে পারছি।’
গবেষকদের তথ্যমতে, তথ্য সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এই যন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে ৪৮ বার পর্যন্ত ত্বরিত নড়াচড়া রেকর্ড করে। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মোট প্রায় চার মাস ধরে তাঁরা ইতালির উত্তর দিকের ভূমিকম্পপ্রবণ একটি এলাকার একটি খামারে থাকা ছয়টি গরু, পাঁচটি ভেড়া ও দুটি কুকুরের সঙ্গে এই বায়োলগার ও জিপিএস সেন্সর সংযুক্ত করেন। গবেষণার সময় ১৮ হাজারের বেশি কম্পন ঘটেছিল, যার মধ্যে একটি ৬ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটেছিল। এই গবেষণার ফলাফল ইথোলজি নামের সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, যখন সব প্রাণীকে একটি স্থিতিশীল স্থানে একসঙ্গে রাখা হয়, তখন ৩ দশমিক ৮ বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের আগে তাদের কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। যখন এসব প্রাণী চারণভূমিতে থাকে, তখন আবার তা দেখা যায় না। বিজ্ঞানী উইকেলস্কি বলেন, আবদ্ধ স্থানে কিছু প্রাণী অতিরিক্ত চাপ অনুভব করে বলে ভিন্ন আচরণ করতে পারে। তথ্য বলছে, ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা আগে পশুর আচরণে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে গরু কিছুটা স্থির থাকলেও কুকুরের ডাক বেড়ে যায়। পরে গরুরও অস্থিরতা বেড়ে যায়। সবশেষে ভেড়া অস্বাভাবিক আচরণ করে।
বিজ্ঞানী উইকেলস্কি বলেন, এই পর্যবেক্ষণ সম্মিলিত আচরণ তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোনো এলাকায় যখন স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, পোকামাকড় ও মাছ একসঙ্গে থাকে, তখন তাদের মধ্যে তথ্য আদান–প্রদান ঘটে। সম্মিলিতভাবে বেঁচে থাকার দক্ষতা উন্নত করে প্রাণীরা। এমন আচরণ একই প্রজাতি বা বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে দেখা যায়। খামারে থাকা প্রাণীদের কম্পনের ১ থেকে ২০ ঘণ্টা আগেই অনুমান করতে দেখা যায়। উৎসের যত কাছাকাছি ছিল, তারা তত তাড়াতাড়ি প্রতিক্রিয়া দেখায়। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, প্রাণীরা কোনোভাবে একটি সংকেত অনুভব করে, যা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১০ সালের এক গবেষণার তথ্যমতে, ভূকম্পনের সময় শিলা থেকে খনিজ পদার্থ মুক্ত হয়ে বাতাসে আয়ন নির্গত করে। প্রাণীরা তখন এই নতুন সংবেদনের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানায়।
বিভিন্ন গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভূমিকম্প বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রাণীর আচরণের ভিন্নতার সম্পর্ক পাওয়া যায়। এসব বিষয় এখনো পুরোপুরি প্রমাণিত নয়, তবুও অনেক বিজ্ঞানী এমন আচরণকে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সূত্র: সায়েন্টিফিক আমেরিকান
![]() |
| ভূমিকম্পের আগে গরুর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্ত করা হয়েছিল সেন্সর। ছবি: ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিমেল বিহেভিয়ার |
Monday, May 18, 2026
সন্ধান পাওয়া গেল ‘শিংযুক্ত’ মৌমাছির
অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডফিল্ডস অঞ্চলের ব্রেমার রেঞ্জেস এলাকায় একটি বিরল বুনো ফুল পর্যবেক্ষণ করার সময় গবেষকেরা এই মৌমাছির সন্ধান পান। এই ফুল শুধু ওই এলাকাতেই জন্মে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই মৌমাছির স্ত্রী প্রজাতির মাথায় রয়েছে ক্ষুদ্র কিন্তু স্পষ্ট ‘শিং’। এ শিং সম্ভবত আত্মরক্ষার কাজে, মধু বা পরাগ সংগ্রহে, কিংবা বাসা বানাতে রেজিন–জাতীয় উপাদান জোগাড়ে সহায়তা করে।
গবেষণার নেতৃত্ব দেন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী কিট প্রেন্ডারগাস্ট। তিনি বলেন, স্ত্রী মৌমাছিটির মুখে ছোট ছোট শিং রয়েছে। নেটফ্লিক্সে লুসিফার নামের ধারাবাহিকটি দেখার সময় এটি আবিষ্কার করা হয়। তাই নামটি একেবারেই উপযুক্ত মনে হয়েছে।
‘লুসিফার’ শব্দটি লাতিন ভাষায় ‘আলো-বাহক’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। গবেষক প্রেন্ডারগাস্ট জানান, এই নামের মাধ্যমে তিনি দেশীয় মৌমাছি সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং বিপন্ন উদ্ভিদের পরাগায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চেয়েছেন।
এই আবিষ্কার–সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি জার্নাল অব হাইমেনোপটেরা রিসার্চ–এ প্রকাশিত হয়েছে। যে এলাকায় নতুন মৌমাছি ও বিরল বুনো ফুলটি পাওয়া গেছে, সেটিকে সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা এবং সুরক্ষিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।
![]() |
| এই মৌমাছির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেগাকাইল লুসিফার’ ছবি: বিবিসি থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট |
Saturday, March 15, 2025
নাসার সতর্কবার্তা: ২০২৪ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা
এতে বলা হয়, ন্যাশনাল আরোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা) তাদের ওয়েবসাইটে ব্যাখ্যা করেছে যে, মহাসাগরগুলোতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ গলার পরিমাণ বেড়ে গেছে। ফলে সমুদ্রের উষ্ণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া চিত্র ব্যবহার করে পৃথিবীর জলস্তরের ওপর বিশ্লেষণ করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। তারা দেখতে পেয়েছেন ২০২৪ সালে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ২ ইঞ্চি। বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাসের তুলনায় গত বছর পানির স্তর অনেকটাই উপরে উঠে এসেছে।
নাসার জেট প্রপালশন ল্যবরেটরির গবেষক জশ উইলিস বলেছেন, প্রতিবছরই অল্প অল্প করে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়, কিন্তু সমুদ্রের পানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিষয়টি ঘটছে অনেক দ্রুত, যা অস্বাভাবিক।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মানব-সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতিগুলোর মধ্যে একটি। কেননা পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখেই সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিবর্তনের পেছেনে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকেই দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা।
নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট তিন দশকে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বৃদ্ধির পরিমাণ চার ইঞ্চি। এর দুটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন তারা। এক- হিমবাহ এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া। যখন হিমবাহ এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যায় তখন সমুদ্রে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি পানি (ফ্রেশওয়াটার) প্রবাহিত হতে থাকে, যারফলে সমুদ্রের স্তর বৃদ্ধি পায়। দুই- তাপের কারণে সমুদ্রের পানি প্রসারণ হয়। অর্থাৎ, সমুদ্রের পানি তাপ পেলে তার আয়তন বাড়ে। এই প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানীরা তাপীয় প্রসারণ বলেন। এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকে।
নাসার মতে, আগের বছরগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল হিমবাহ বা বরফ গলে যাওয়া। তবে ২০২৪ সালের ক্ষেত্রে সে চিত্র পুরোপুরি উল্টে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বছরটিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির দুই-তৃতীয়াংশই হচ্ছে তাপীয় সম্প্রসারণের ফলে।
১৮৫০ সালে এ ধরনের রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৪ সাল ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। পৃথিবী জুড়ে মানুষ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অব্যাহত রাখলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও বৃদ্ধি পাবে। যা উপকূলীয় অঞ্চল এবং বিভিন্ন দ্বীপে বসবাসকারী বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য হুমকির কারণ হবে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।

Thursday, September 26, 2024
চীনের থ্রি গর্জেস বাঁধ কমিয়ে দিলো পৃথিবীর গতি
আইএফএল সায়েন্সের মতে, পৃথিবীর ভর বিতরণ প্রভাবিত হয়েছে এই বাঁধের পানির কারণে। আর তাই কমে গিয়েছে পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি। থ্রি গর্জেস বাঁধের বিপুল জলরাশির চাপে পৃথিবী আগের চেয়ে কিছুটা ন্যুব্জ হয়ে গিয়েছে। নাসার বিজ্ঞানীদের দাবি, এই বাঁধের ফলে পৃথিবীর মাঝের অংশ সামান্য স্ফীত এবং দুই মেরু অঞ্চল চেপে গিয়েছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে পৃথিবীর দুই মেরু অবস্থান অন্তত দুই সেন্টিমিটার বা ০.৮ ইঞ্চি করে সরে গিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্ত ‘পরিবর্তন’ আমাদের ‘দিন’ এবং ‘বছর’-এর হিসেব গোলমাল করে দিতে পারে। এই সমস্যা মোকাবিলাতেই বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র একটি মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে গুনতে। থ্রি গর্জেস বাঁধের জন্য দিনের দৈর্ঘ্য ০.০৬ মাইক্রোসেকেন্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এই সামান্য পরিবর্তন সাধারণ মানুষর নজরে পড়ে না। থ্রি গর্জেস বাঁধের উচ্চতা প্রায় ৫৯৪ ফুট বা ১৮১ মিটার। দৈর্ঘ্যে এটি ৭,৭৭০ ফুট বা ২,৩৩৫ মিটার। মার্কিন জিওলজিক্যাল সায়েন্স জানিয়েছে, এই বিশাল বাঁধটির যে জলাধার, তার পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল প্রায় ৪০০ বর্গ মাইল বা ১,০৪৫ বর্গ কিলোমিটার।
২০১২ সালে এটি পূর্ণ ক্ষমতায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। তার আগ পর্যন্ত ব্রাজিল এবং প্যারাগুয়ের ইতাইপু জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ছিল বিশ্বর সবথেকে বড় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র। কিন্তু, ২০১২-র পর সেই তাজ ছিনিয়ে নেয় চীনের থ্রি গর্জেস বাঁধ। ইটাইপু বাঁধের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১৪,০০০ মেগাওয়াট। সেখানে থ্রি গর্জেস বাঁধের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২,৫০০ মেগাওয়াট। ১৭ বছর ধরে ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে থ্রি গর্জেস বাঁধটি তৈরি করতে। তবে এই বাঁধটি তৈরির আগেই মার্কিন মহাকাশ চর্চা কেন্দ্র, নাসা জানিয়েছিল পৃথিবীতে ভরের বন্টনে এইভাবে পরিবর্তন করলে তা গ্রহের জড়তার ভ্রামককে প্রভাবিত করতে পারে। কোন বস্তুর ঘূর্ণনশীল গতিবিধির পরিবর্তনের জন্য যে বলের প্রয়োজন হয়, তাকেই তার জড়তার ভ্রমাক বলে। নাসার বিজ্ঞানী ডা. বেঞ্জামিন ফং চাও জানিয়েছিলেন, বাঁধটির জলাধারটি মোট ৪০ কিউবিক কিলোমিটার জল ধারণ করতে পারে। এর ফলে পৃথিবীর ভরের যে স্থানান্তর হবে, তা পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্যকে ০.০৬ মাইক্রোসেকেন্ড বাড়িয়ে দেবে। চাও জানিয়েছিলেন, “মৌসুমী আবহাওয়া থেকে গাড়ি চালানো পর্যন্ত, যে কোনও পার্থিব ঘটনা যা ভর স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িয়ে, তা পৃথিবীর ঘূর্ণনকে প্রভাবিত করে।”
তাই, বাঁধ তৈরির ফলে এই বিপুল ভরের পরিবর্তন আমাদের গ্রহের সিসমিক কাঠামোকে নাড়িয়ে দেবে। যা শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি কমিয়ে দেবে। থ্রি গর্জেস বাঁধের ফলে বর্তমান পৃথিবীতে আরও কিছু পরিবর্তন এসেছে। তবে, বিজ্ঞানীরা সেগুলি নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নন। কিন্তু তাদের মতে, ভবিষ্যতে এর যে প্রভাবগুলো পড়বে, সেগুলিকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
সূত্র : frontpagedetectives

Sunday, July 29, 2018
বৃষ্টির ঘ্রাণ কেন ভালো লাগে আমাদের?

এই ভালো লাগার পেছনে রাসায়নিক বিক্রিয়াঘটিত বেশকিছু কারণ রয়েছে।
ব্যাকটেরিয়া, গাছপালা বা বিদ্যুত চমকানো - সবকিছুই বৃষ্টির সময়কার ভেজা মাটি ও নির্মল বাতাসের মনোরম সৌরভের অনুভূতি তৈরী করার পেছনে ভূমিকা রাখে।
ইংরেজিতে 'পেট্রিকোর' নামের এই সুঘ্রাণের উৎসের সন্ধানে বহুদিন ধরেই গবেষণা চালাচ্ছেন বৈজ্ঞানিকরা। ভেজা মাটি
১৯৬০ সালে দু'জন অস্ট্রেলিয় গবেষক প্রথম এই নামকরণ করেন। বৃষ্টি যখন প্রথম শুষ্ক মাটি স্পর্শ করে তখন আমরা যে উষ্ণ, সোঁদা গন্ধ পাই তা ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয় বলে জানান তারা।
যুক্তরাজ্যের জন ইনস সেন্টারের আণবিক জীবাণুবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক মার্ক বাটনার বলেন, "মাটিতে এই ব্যাকটেরিয়া প্রচুর পরিমাণে আছে।"
বিবিসিকে তিনি বলেন, "আপনি যখন মাটির সোঁদা গন্ধ পান তখন আসলে বিশেষ একধরণের ব্যাকটেরিয়ার তৈরী করা অণু গন্ধ পান আপন।"
জিওসমিন নামের ঐ অণু স্ট্রেপটোমাইস দিয়ে তৈরী হয়, যা সাধারণত উর্বর মাটিতে উপস্থিত থাকে। বৃষ্টির পানির ফোঁটা মাটি স্পর্শ করলে মাটিতে উপস্থিত জিওসমিন বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃষ্টির পর আরো অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।
অধ্যাপক বাটনার বলেন, "অনেক প্রাণীই এই গন্ধের বিষয়ে সংবেদনশীল হলেও মানুষ এ সম্পর্কে অতিরিক্ত অনুভূতিশীল।"
এই গন্ধকে 'পেট্রিকোর' নাম দেয়া দু'জন গবেষক ইসাবেল বেয়ার আর আর.জি. থমাস ১৯৬০ সালে জানতে পারেন যে সেসময় ভারতের উত্তর প্রদেশে এই ঘ্রাণ আহরণ করে সুগন্ধি হিসেবে বিক্রি করা হতো 'মাটি কা আত্তর' নামে।
বর্তমানে সুগন্ধি তৈরীর কাঁচামাল হিসেবে জিওসমিনের ব্যবহার বাড়ছে।
তবে জিওসমিনের গন্ধ ভালবাসলেও, অনেকেই কিন্তু এর স্বাদ অপছন্দ করেন।
মানুষের জন্য এটি ক্ষতিকর না হলেও পানিতে বা ওয়াইনে সামান্য পরিমাণ জিওসমিনের উপস্থিতিও সহ্য করতে পারেন না অনেকেই। ডেনমার্কের আলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেপ্পে নিয়েলসেন বলেন, "স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতিতে যে মাত্রায় পাওয়া যায়, সেই পরিমাণ জিওসমিন মানুষের জন্য ক্ষতিকর না হলেও মানুষ কেন এর স্বাদ পছন্দ করে না সেসম্পর্কে এখনো কিছু জানি না আমরা।"
পেট্রিকোর:পরিভাষা
নেচার জার্নালে প্রকাশিত হওয়া বৈজ্ঞানিক ইসাবেল জয় বেয়ার ও রিচার্ড থমাসের ১৯৬৪ সালের প্রবন্ধ "ন্যাচার অব আর্গিলেশাস ওডর"এ প্রথমবার এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
গ্রীক শব্দ 'পেত্রোস' ও 'ইকোর' থেকে উদ্ভূত হয়েছে এই শব্দ। পেত্রোস অর্থ 'পাথর' আর ইকোর অর্থ 'ঈশ্বরের শিরায় প্রবাহিত তরল।'
গাছ
বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে অধ্যাপক নিয়েলসেন বলেন জিওসমিন তারপিনের সাথেও সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক গাছে উদ্ধৃত সুঘ্রাণের উৎস তারপিন।
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বোটানি গার্ডেনসের গবেষণা প্রধান ফিলিপ স্টিভেনসনের মতে বৃষ্টির কারণে এসব সুবাস প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে। গাছে উপস্থিত যেসব রাসায়নিক সুগন্ধ তৈরী করে সেগুলো অনেকসময় পাতার মধ্যে তৈরী হয় এবং বৃষ্টির কারণে এগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ফলে বায়ুতে নির্গত হয়।"
মি. নিয়েলসেন বিবিসিকে বলেন, "শুকনা ভেষজ গুড়া করলে যেমন তার ঘ্রাণ বৃদ্ধি পায়, তেমনি দীর্ঘ শুষ্ক মৌসুমের পর বৃষ্টি হলে গাছের শুকিয়ে যাওয়া অংশগুলো থেকে নতুনভাবে সুবাস তৈরী হয়।"
অতিরিক্ত শুষ্কতার ফলে গাছের অভ্যন্তরীন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার গতি ধীর হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় গাছ নতুন সজীবতা পায় এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে সুঘ্রাণ ছড়ায়। বজ্রপাত
বৃষ্টির সময় সুঘ্রাণ তৈরীর পেছনে বজ্রপাতেরও ভূমিকা রয়েছে।
বিদ্যুত চমকানোর কারণে বায়ুমন্ডলে বৈদ্যুতিক আবেশ তৈরী হওয়ায় প্রকৃতিতে ওজোন গ্যাসের একধরণের গন্ধ প্রতীয়মান হয়।
মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যারিবেথ স্টোলযেনবার্গ বলেন, "বিদ্যুৎ চমকানোর পাশাপাশি ঝড় এবং বিশেষত বৃষ্টির কারণে বাতাস পরিষ্কার হয়। যার ফলে বৃষ্টি পরবর্তী সুঘ্রাণও সহজে ছড়িয়ে পড়ে।"
সূত্রঃ বিবিসি
Saturday, November 7, 2015
শূকর-ডাকা ব্যাঙ by আ ন ম আমিনুর রহমান
নীলকান মাছরাঙার খোঁজে শাকিল একটা ছোট্ট পুকুর ও সরু নালার কাছে নিয়ে গেল। আমি আক্ষেপ করে বললাম, পাখি না হয় পেলাম না, কিন্তু একটা ব্যাঙও কি নেই এখানে? শাকিল নালায় নীলকান মাছরাঙার চলাচলের রুট দেখাচ্ছিল। আমি কিছুটা আনমনা হয়ে নালার পাশের ছোট্ট পুকুরপাড়ের লেবুগাছটির দিকে তাকালাম। আর হঠাৎই ওকে দেখলাম। খুশিতে মনটা নেচে উঠল। শাকিলকে বললাম, ও বিশ্বাসই করতে চাচ্ছিল না। শেষমেশ মোবাইলে সেভ করা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে নিতেই ওর চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। দুর্লভ এই প্রাণীটিকে এর আগে টেকনাফ, খাগড়াছড়ি, রাতারগুল, চুনারুঘাট, কমলগঞ্জ, পঞ্চগড় ও রংপুর ছাড়া বাংলাদেশের আর কোথাও দেখা যায়নি। ওর একটা ছবি আমার খুব দরকার পরবর্তী বইয়ের জন্য। দ্রুত কয়েকটি ক্লিক করলাম।
এতক্ষণ যার কথা বললাম, সে এ দেশের এক দুর্লভ উভচর প্রাণী শূকর-ডাকা ব্যাঙ (Bhamo or Groaning Frog)। এত ভদ্র প্রাণী সচরাচর দেখা যায় না। মিয়ানমারে ভামো শহরে প্রথম পাওয়া যায় বলে ভামো ব্যাঙ বা মিয়ানমারের ভামো ব্যাঙ নামেও পরিচিত। Ranidae গোত্রভুক্ত প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম Humerana humeralis।
শূকর-ডাকা ব্যাঙের আকার মাঝারি। দৈর্ঘ্যে পুরুষ ৫ দশমিক শূন্য থেকে ৭ দশমিক ২ এবং স্ত্রী ৫ দশমিক ২ থেকে ৮ দশমিক শূন্য সেন্টিমিটার। মাথা বড় ও অবতল; নাক চোখা। দেহের ওপরটা জলপাই-বাদামি, নিচটা সাদা। নাক থেকে দেহের দুই পাশ দিয়ে দুটি করে চিকন হলদে দাগ। চামড়া মসৃণ, তবে দেহের পেছনের অংশ কিছুটা দানাদার। রানের পেছনটায় সাদাটে ও গাঢ় বাদামি মার্বেলের মতো কারুকাজ। পেছনের পায়ের আঙুলগুলো পায়ের পাতার সঙ্গে যুক্ত ও সামনেরগুলো মুক্ত। আঙুলের আগায় চাকতির মতো রয়েছে।
এরা মূলত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনের আর্দ্র এলাকার বাসিন্দা। জলাভূমির কিনারা, পুকুর, জলপ্রবাহ এবং ঝোপঝাড় ও জলজ তৃণলতাসমৃদ্ধ স্বল্প পানির জলাধারে দেখা মেলে। শীতকালে ছায়াযুক্ত স্থানে, পচা পাতার ১০-৩০ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করতে পারে। এরা নিশাচর ও মূলত দলে থাকে, একাকীও দেখা যায়। কীটপতঙ্গ, প্রজাপতি ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী খায়।
এদের প্রজনন-সংক্রান্ত তথ্য কম। মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রজনন করে। জুন-জুলাই মাসে জলাধারের কিনারায় পুরুষ ব্যাঙ শূকরের মতো করে ডাকে। আধা থেকে কয়েক মিনিট পরপর ডাকের পুনরাবৃত্তি ঘটে। স্ত্রী জলাশয়ের তীরের কাছে অল্প পানিতে ডিম ছাড়ে।
![]() |
| শূকর-ডাকা ব্যাঙ। ছবিটি লেখক বরিশাল শহর-সংলগ্ন রুইয়া গ্রাম থেকে এ বছরের ৮ সেপ্টেম্বর তুলেছেন |
Wednesday, September 16, 2015
পৃথিবীটাই জলের তলায় চলে যাবে?
তলিয়ে যাবে জমিজিরেত? আমাদের পরিবার-পরিজনও?
আর বড়জোর হাজার কি দেড় হাজার বছর।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, গোটা পৃথিবীর ‘নিয়তি’ এটাই! যদি এই গ্রহে কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো যত জ্বালানি এখনও মজুত রয়েছে, তার সবটুকুই পুড়ে যায়। আর সেটা হলে আন্টার্কটিকায় যত বরফ রয়েছে, তার সবটুকুই গলে যাবে। সমুদ্রতল উঠে যাবে আরও পঞ্চাশ মিটার উঁচুতে। অনিবার্য হয়ে উঠবে আমাদের সলিলসমাধি!
জার্মানির পোস্টড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক একটি গবেষণার ফলাফল জানিয়েছে, এভাবেই মানবসভ্যতার বিনাশ হবে। আর তা হয়তো হবে আগামী সহস্রাব্দেই। ওদিকে, ব্রিটেনের হাওয়া-অফিস বলছে, সামনের দু‘বছর চরম গরম পডতে চলেছে গোটা বিশ্বে। তবে শুধু ব্রিটেনেই গ্রীষ্মকালটা হবে এবার অনেকটাই কম গরমের।
এই গ্রহে সবচেয়ে বেশি বরফ রয়েছে আন্টার্কটিকায়। তবে আগের চেয়ে তার পরিমাণ কমেছে। আরও কমবে, অদূর ভবিষ্যতে। আমরাই এতদিন কয়লা, খনিজ তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাস যথেচ্ছ পুড়িয়ে ওই বরফ গলিয়েছি। তাতে ইতিমধ্যেই সমুদ্রতলের উচ্চতা দশ শতাংশ বেড়েছে।
গবেষণা জানাচ্ছে, ‘গ্রিনহাউস গ্যাস’-এর ফলে পৃথিবীর ‘জ্বর’ বাড়লেও আন্টার্কটিকা কিন্তু এখনও ঠান্ডাই রয়েছে। তার তাপমাত্রা এখনও হিমাঙ্কের অনেক নীচে। তবে গত বছরের মে মাসে দেখা গিয়েছে, সেই হাড় হিম-করা আন্টার্কটিকা আর নেই। ‘গ্রিনহাউস গ্যাস’ বরফ অনেকটাই গলিয়ে দিয়েছে পশ্চিম আন্টার্কটিকার। তাতে যথেষ্টই ক্ষতি হয়েছে আমাদের। ওই গলে যাওয়া বরফই আগামী দু’-এক শতাব্দীর মধ্যে সমুদ্রতলের উচ্চতা কমকরে চার মিটার বাড়িয়ে দেবে।
পূর্ব আন্টার্কটিকার বরফে অবশ্য এখনও চিড় ধরেনি। কিন্তু পৃথিবীতে মজুত কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সবটুকু পুড়ে গেলে, সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে সেই বরফও পুরোপুরি গলে যাবে। আমাদের ভয়টা তখনই।
ওই গবেষণা জানিয়েছে, ‘গ্রিনহাউস গ্যাস’-এর জন্য পৃথিবীর গায়ের তাপ যদি দুই ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের চেয়ে বেশি না-বাড়ে, তাহলে সমুদ্রতলের উচ্চতা সামান্য কয়েক মিটার বাড়বে।
কিন্তু পরিস্থিতি যদি হাতের বাইরে চলে যায়? যদি পৃথিবীতে মজুত কয়লা, খনিজ তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাসের পুরোটাই পুড়িয়ে ফেলি আমরা, তাহলে কী হবে? যদি পৃথিবীর ‘জ্বর’ বেড়ে যায় দশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডেরও বেশি?
গবেষণা বলছে, তাহলেই মহা-সর্বনাশ। আমাদের ‘শেষের দিন’ গোনা শুরু করে দিতে হবে। প্রতি ১০ বছরে তখন সমুদ্রতলের উচ্চতা ৩০ সেন্টিমিটার করে বাড়বে। তার ফলে, এই সহস্রাব্দের শেষে সমুদ্রতলের উচ্চতা বাড়বে ৩০ মিটার। আর আগামী সহস্রাব্দের মাঝ-পর্বে সেই উচ্চতা ৬০ মিটার বাড়বে।
আমাদের তলিয়ে যাওয়ার দিন তবে খুব দূরে নয়?
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা
Friday, May 22, 2015
মাকড়সা বৃষ্টি!
![]() |
| অস্ট্রেলিয়ার গুলবার্নের আকাশ থেকে ঝরছে কোটি কোটি মাকড়সার বাচ্চা। ছবি: অস্ট্রেলিয়ার ডেইলি স্টারের সৌজন্যে |
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাকড়সা বৃষ্টির কারণে গুলবার্নের বাসিন্দারা বিস্মিত হলেও বিজ্ঞানীরা অতটা বিস্মিত নন। কারণ, তাঁরা বলছেন, এই মাকড়সা বৃষ্টি আগেও দেখা গেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়ার ওয়াগা ওয়াগা শহরেও এই মাকড়সা বৃষ্টি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
![]() |
| ২০১২ সালের মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়ার ওয়াগা ওয়াগা শহরে মাকড়সা বৃষ্টি হয়। সে সময় চারদিক ছেয়ে যায় মাকড়সার জালে। ছবি: ন্যাশনাল জিওগ্রাফির সৌজন্যে |
অস্ট্রেলিয়ার জাদুঘরের প্রকৃতিবিজ্ঞানী মার্টিন রবিনসন বলেন, এটাকে বেলুনিং বলে। ডিম পাড়ার আগে মাকড়সা সূক্ষ্ম রেশমের মতো কিছু একটা তৈরি করে। আর এর ভেতরেই থাকে ডিম। এই রেশমের মতো বস্তুটি দিয়ে তারা উড়ে উড়ে বহুদূর যেতে পারে। এ জন্য তাদের আট পায়ে হাঁটার দরকার হয় না। আর উড়ে যাওয়ার সময় ডিম ফুটে কোটি কোটি বাচ্চা বের হয়। শূন্য থেকে সেই বাচ্চাগুলো নামতে থাকে বলে তা মাকড়সা বৃষ্টির মতো মনে হয়। এটা সব সময় হয় না। আর এই মাকড়সা বৃষ্টি মানুষের জন্য ক্ষতিকরও নয়।
Saturday, March 28, 2015
‘প্রাচীন হিন্দুশাস্ত্রে মহাকর্ষ বল ও চাঁদে পানির অস্তিত্বের উল্লেখ ছিল’
Friday, February 6, 2015
ব্যাঙের নতুন প্রজাতি আবিষ্কার বাংলাদেশী গবেষক দলের

Monday, February 2, 2015
সুন্দরবনের সুন্দরী ডায়াবেটিসের ওষুধ!


Tuesday, December 9, 2014
অ্যানাকোন্ডার পেটে ১ ঘণ্টা

Monday, December 8, 2014
স্বেচ্ছায় অ্যানাকন্ডার পেটে ১ ঘণ্টা

Saturday, November 1, 2014
জিনবিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী by মামুন আল করিম
তিনি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে, যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন স্টেট ইনস্টিটিউট অব মলিকুলার বায়োলজি এবং ওয়াশিংটন স্টেটের ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। শিকতা ও গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট হেলথ, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ফ্রান্সের ইকোল নরমাল সুপিরিয়রের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে।
‘খাছালত’ নামে বাংলাদেশী হারিয়ে যাওয়া একটি ধান নিয়ে বিশ্বে হইচই পড়ে গেছে। নেচার নামে এক সাময়িকীতে এ ধানকে ভারতীয় বুনো ধান হিসেবে দাবি করা হলে তিনি তার প্রতিবাদ করে প্রমাণ করে দিলেন আসলে এটি বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া একটি উন্নত জাতের ধান। ম্যানিলায় আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (ইরি) রীতিমতো তথ্য-উপাত্ত দিয়ে ড. আবেদ চৌধুরী প্রমাণ করলেন কাসালথ আমাদের হারিয়ে যাওয়া একটি ধান, এটি ভারতের নয়। কাসালথ ধান বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের কৃষকের প্রিয় একটি ধান। আঞ্চলিকভাবে এ ধানের নাম ‘খাছালত’।

তিনি তার গ্রামের বাড়ি হাজীপুর এলাকায় গড়ে তুলেছেন ধান পরীা মাঠ। আড়াই বছর ধরে এখানে চলছে ধানবীজের পরীা-নিরীা। তিনি দেশের হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন জাতের ধান নিয়ে গবেষণা করছেন। এখানে ধানের একটি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলারও চেষ্টা করছেন বলে জানান। এ ছাড়া তার গবেষণায় কৃষকদের জন্য একই চাষাবাদে দুইবার ফসল উৎপাদন একটি ব্যতিক্রমী মাত্রা যুক্ত হয়েছে। কেটে ফেলা ধানের মোথা থেকে দ্বিতীয়বার ধান উদ্ভাবন করেছেন বিশিষ্ট জিনবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী।
২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে জিনবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের নিজগ্রাম কানিহাটি এলাকার ২৫ বর্গমিটারের একটি প্রদর্শনী েেত বোরো ধানের চারা রোপণ করেন।
সঠিকভাবে সেচ ও পরিচর্যা করে ১৩০ দিনের মধ্যে ৮৫ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার উচ্চতার গাছে প্রথমবারের মতো ফসল বেরিয়ে আসে। আর এই সময়ের মধ্যেই মাটি থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় পরিকল্পিতভাবে ধান কেটে নিতে হয়েছে। কোনো প্রকার চাষাবাদ ছাড়াই প্রথম দফা ধান কেটে নেয়ার পর ধানের মোথায় পরিমাণমতো ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে মাত্র ৫২ দিনের মাথায় দ্বিতীয়বারের মতো ফসল উৎপাদন করা হয়। প্রথমবারের নতুন ধান কেটে নেয়ার পর দেখা গেছে, হেক্টরপ্রতি এ ধান উৎপাদন হয়েছে ৬.৪ মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয়বার চাষাবাদবিহীন ধানের মোথায় বিঘাপ্রতি মাত্র ৩০০ টাকার ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে হেক্টরপ্রতি ধান উৎপাদন হয়েছে ৩ মেট্রিক টন। যেখানে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, হেক্টরপ্রতি ধান উৎপাদন হয়ে থাকে ৩ থেকে ৪ মেট্রিক টন।
ঐকান্তিক পরিশ্রম ও নিষ্ঠা থাকলে যেকোনো কাজে সফলতা পাওয়া যায়, তার অন্যতম উদাহরণ আবেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, নেচার সাময়িকীতে কাসালথের উৎপত্তিস্থল নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের পর ম্যানিলায় ইরিতে তিনি প্রতিবাদ পাঠান। ইতোমধ্যে তিনি পরীামূলক কাসালথ ধান চাষাবাদও শুরু করেছেন বলে জানান। তার গ্রামের বাড়ি হাজীপুর এলাকায় তিনি ধান পরীার মাঠ গড়ে তুলেছেন। আড়াই বছর ধরে এখানে চলছে ধানবীজের পরীা-নিরীা। তিনি দেশের হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন জাতের ধান নিয়ে গবেষণা করছেন। এখানে ধানের একটি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলারও চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।
Saturday, October 18, 2014
১৭৮ কেজি ওজনের মিষ্টি কুমড়া
না, না হাতে বানানো কোনো খেলনা মিষ্টি কুমড়া ভেবে ভুল করবেন না। সার, পানি দিয়ে রীতিমত যত্ন-আত্তি করে ফলানো হয়েছে একে।
>> দৈত্যাকৃতির মিষ্টি কুমড়ায় পানি ঢালছে শার্লোট
এখানেই তো মজা, কোনো বড়সর বিজ্ঞানী নয়, পুঁচকে এক মেয়ে বাড়ির আঙিনায় চাষ করেছে এই মিষ্টি কুমড়ার। তার বয়স আট বছর। নাম শার্লোট কাট। মা-বাবার সাথে ইংল্যান্ডের ইয়োর্কশায়ারে থাকে।
শার্লোটের দৈত্যাকৃতির মিষ্টি কুমড়াটি এলাকার এক রেস্তোঁরা এক শ’ ইউরোয় (বাংলাদেশী মুদ্রায় নয় হাজার ৮৬৩ টাকা) কিনে নিয়েছে।
কিন্তু কিভাবে জন্মালো এই বিশাল আকারের মিষ্টি কুমড়াটি?
শার্লোট যাদু মন্তর জানে না তো?
না, না শার্লোট ওইসব বিদ্যায় পারদর্শী নয়।
সে শুধু মিষ্টি কুমড়ার গাছে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম ও গাছের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান সমৃদ্ধ সার দিয়েছিল। এর কামালেই মিষ্টি কুমড়া তরতর করে বেড়ে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ওজন এসে ঠেকেছিল ১৭৮ কেজিতে।
বলে রাখা ভালো, গাছের বৃদ্ধির জন্য পটাশিয়াম খুব উপকারি। তবে নিদিষ্ট মাত্রায় নিয়ম করে।
শার্লোট গত জুলাইতে মিষ্টি কুমড়ার চারাটি বুনে। তারপর বাবার সাথে প্রতি ১০ দিন অন্তর অন্তর গাছে এই সারটি দেয়। যার ফল এই বিশাল আকারের মিষ্টি কুমড়া।
তার বাবা ম্যাথিউ বলেন, দিনের পর দিন মিষ্টি কুমড়াটি আকারে বাড়ছিল। এটি এতো বড় যে, দেখলে আসল মনে হয় না। আর মিষ্টি কুমড়ার রঙটা চমৎকার।
সূত্র : ডেইলি মেইল
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2388)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...









