Thursday, March 3, 2011

ওমানে বিক্ষোভকারীদের সড়ক অবরোধ

ওমানে চাকরি ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা গতকাল সোমবার সড়ক অবরোধ করেছে। রাজধানী মাসকাটের ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে প্রধান শিল্প এলাকা সোহারে গতকালের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই ছিল বেকার।
এর আগে গত রোববার ওই এলাকায় পুলিশের গুলিতে ছয়জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। অবশ্য এরই মধ্যে বেকারদের জন্য নতুন সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি নির্বাচিত উপদেষ্টা পরিষদকে আরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, রোববার বিক্ষোভকারীরা একটি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে ছয়জন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়।
তিউনেসিয়া, মিসর, ইয়েমেন, আলজেরিয়া ও লিবিয়ার পর এবার আরব বিশ্বের এই শান্ত দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
ওমানের বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাঁরা ১৯৭০ সাল থেকে ক্ষমতাসীন সুলতান কাবুসের শাসনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করছেন না। তাঁরা শুধুই চাকরি ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন।
তাঁদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে কাবুস ৫০ হাজার নাগরিকের জন্য চাকরি ও বেকারভাতার ঘোষণা দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওএনএ গত রোববার সুলতানের এই ঘোষণা প্রকাশ করেছে।

তিউনিসিয়ায় ঘানুচির পদত্যাগ নতুন প্রধানমন্ত্রী এসেবসি

তিউনিসিয়ায় নতুন করে শুরু হওয়া বিক্ষোভের মুখে গত রোববার সে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ ঘানুচি পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ফুয়েদ মেবাজা সাবেক মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান নেতা বেজি কাইদ এসেবসিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেছেন।
সম্প্রতি গণ-অভ্যুত্থানে তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলী ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ফুয়েদ মেবাজা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রী ঘানুচি ছাড়াও বেন আলীর সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থেকে যাওয়ায় নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা ঘানুচি ও বেন আলীর অনুগত অন্য মন্ত্রীদের অপসারণ চেয়ে রাস্তায় নামেন। গত শনিবার রাজধানী তিউনিসের বুরগিবা এভিনিউয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় কমপক্ষে পাঁচ বিক্ষোভকারী নিহত, বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীসহ বহু বিক্ষোভকারী আহত হয়।
পদত্যাগের আগে ঘানুচি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও জাতির প্রতি তাঁর যে দায়িত্ব রয়েছে, তা থেকে তিনি সরে যাবেন না। তিনি বলেন, তাঁর পদত্যাগ ‘তিউনিসিয়াবাসীর বিপ্লব ও সে দেশের ভবিষ্যতের জন্য’ সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি মনে করেন।
ঘানুচি সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ফুয়েদ মেবাজা স্থানীয় গণমাধ্যমের কাছে এক বিবৃতি পাঠান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেজি কাইদ এসেবসির নাম প্রস্তাব করেছি এবং তিনি সে দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন।’ তিনি বেন আলীর পদত্যাগের পর প্রশাসনে সৃষ্ট অস্থিরতা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মোহাম্মাদ ঘানুচিকে ধন্যবাদ জানান।
৮৪ বছর বয়সী নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী কাইদ এসেবসি একজন উদারপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত। বেন আলীর আগে প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিউনিসিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা হাবীব বুরগিবা। কাইদ এসেবসি তৎকালীন বুরগিবা সরকারের প্রথমে প্রতিরক্ষা ও পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে তিনি তিউনিসিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

চীনের জনসংখ্যা ১৩৪ কোটি

চীনের জনসংখ্যা ১৩৪ কোটিতে পৌঁছেছে। গতকাল সোমবার দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো এ তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে এটি তাদের প্রাথমিক হিসাব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায়, তারা ২০১০ সালের তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০১০ সালের শেষ নাগাদ জনসংখ্যা ১৩৪ কোটিতে পৌঁছেছে। আগামী এপ্রিলে চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হবে। এই হিসাব হবে গত বছর অনুষ্ঠিত আদমশুমারি অনুযায়ী। এক দশক পর এই আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হলো।
২০০০ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী চীনের জনসংখ্যা ছিল ১২৯ কোটির কিছু বেশি। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ১৯৮০ সালে দেশটি ‘এক শিশু’ নীতি গ্রহণ করে। এই নীতি গ্রহণের মাধ্যমে ৪০ কোটি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে বলে দেশটি দাবি করছে। ১৯৫৩ সালে প্রথম আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ কোটি।

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু

উত্তর কোরিয়ার সর্বাত্মক যুদ্ধের হুমকি সত্ত্বেও দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র গতকাল সোমবার কোরীয় উপদ্বীপে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপ জানায়, ‘প্রকৃতিগতভাবে এই মহড়া প্রতিরক্ষামূলক। কিন্তু পিয়ংইয়ং এ মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট শাসনের পরিবর্তনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন পরিচালনার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।’
এর আগে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছে, মহড়ার জবাবে পিয়ংইয়ং সর্বাত্মক হামলা চালাবে এবং এতে সিউল হবে ‘অগ্নিসাগর’। এ ছাড়া পিয়ংইয়ং অবিলম্বে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘মনস্তাত্ত্বিক অপপ্রচার’ বন্ধ করার দাবিও জানায়।
পিয়ংইয়ংয়ের অভিযোগ, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী উত্তর কোরিয়ায় প্রচারপত্র ও ডিভিডি বিতরণ করছে। বেলুনে ভরে উত্তর কোরিয়াবিরোধী এসব প্রচারপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য উত্তর কোরিয়ার মানুষকে তারা এ উসকানি দিচ্ছে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) সমুদ্রে সামরিক সতর্কতা জারি করেছেন। এ ছাড়া সীমান্তে পিয়ংইয়ংয়ের যেকোনো সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলা করারও নির্দেশ দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় দুই লাখ ও যুক্তরাষ্ট্রের ১২ হাজার ৮০০ সেনা বার্ষিক ওই মহড়ায় অংশ নিয়েছেন।

১৬টি দেশকে সরাসরি সহায়তা বন্ধ করে দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

রাশিয়া, চীন ও ইরাকসহ ১৬টি দেশকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। তবে সার্বিকভাবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের চলতি অধিবেশনে দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাজেট এক-তৃতীয়াংশ বাড়ানো হবে। সরকারি নথিপত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি এ খবর দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী অ্যান্ড্রু মিচেল বলেছেন, ব্রিটিশ সহায়তা এখন থেকে ‘অনেক বেশি সংহত’ হবে। যুক্তরাজ্যের ৭৮০ কোটি পাউন্ড বৈদেশিক সহায়তা বাজেট পর্যালোচনা করে পার্লামেন্টে উত্থাপনের জন্য একটি খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বৈদেশিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ব্রিটেনের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য ভালো।
খসড়া প্রতিবেদনে বিশেষত কিশোরী ও নারীদের জন্য সুফল দিতে পারে, এমন কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তা দান এবং এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি নিবদ্ধ থাকবে ২৭টি দেশে, যেখানে বিশ্বের তিন-চতুর্থাংশ মাতৃমৃত্যু ও ম্যালেরিয়া সংক্রমণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রয়েছে ঘানা ও আফগানিস্তান। ২০১৪ সালের মধ্যে দেশটির ৩০ শতাংশ অর্থসহায়তা যাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অস্থিতিশীল দেশগুলোতে।
যুক্তরাজ্য একটি বড় দাতা দেশ বলে সে দেশের সহায়তা নীতিতে রদবদলের তাৎপর্য অনেক।
এদিকে ভারতের প্রতি সহায়তা স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমে একটি প্রচারণা চলছে যে ভারতের অর্থনীতি প্রতিবছর অন্তত ১০ শতাংশ হারে সমৃদ্ধ হচ্ছে। তাই এ দেশটির আর ব্রিটিশ সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবে ভারতকে সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষের যুক্তি হচ্ছে, বিশাল জনসংখ্যার দেশটির প্রায় ৫০ কোটি মানুষ এখনো ভয়াবহ দরিদ্র।
যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী অ্যান্ড্রু মিচেল বিবিসির ‘পলিটিক্যাল শো’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘ঘটনা হচ্ছে, ২০১৫ সালের মধ্যে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে হলে সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোতে আমাদের আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।’
এর আগে গত শনিবারই জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) থেকে সহায়তা প্রত্যাহারে যুক্তরাজ্যের হুমকির কথা প্রকাশিত হয়। এফএও কৃষকদের বীজ ও উপকরণ সহায়তা জোগানোর মতো দীর্ঘমেয়াদি কাজ করে থাকে। যুক্তরাজ্য বলেছে, এফএও নিজেদের দক্ষতার উন্নতি করতে না পারলে তাদের বদলে ওই সাহায্য বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) মতো কর্মসূচিতে দেওয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে।
পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুডুচেরি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কোরেশি।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৮, ২৩, ২৭ এপ্রিল এবং ৩, ৭ ও ১০ মে। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ১৩ মে। পশ্চিমবঙ্গে ভোট দেবে পাঁচ কোটি ৬০ লাখ ভোটার। ভোট হবে ৫১ হাজার ৯৯০টি ভোটকেন্দ্রে। ভোটার পরিচয়পত্রে ভোট দেবে ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার।
আসামের নির্বাচন হবে আগামী ৪ ও ১১ এপ্রিল। কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুডুচেরিতে নির্বাচন হবে মাত্র এক পর্বে ১৩ এপ্রিল।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় রয়েছে ২৯৪টি আসন। ২০০৬ সালের নির্বাচনে বামফ্রন্ট জিতেছিল ২৩৫টি আসন আর কংগ্রেস জিতেছিল ২১টি আসন। অন্যদিকে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছিল ৩০টি আসন।

চোট এবার প্রোটিয়াদের

যেকোনো বিশ্বকাপের সর্বাধিক আলোচিত শব্দগুলোর একটি চোট। শুরুর আগ থেকেই চোট নিয়ে বিপাকে পড়েছে প্রায় দলই, বিশ্বকাপ শুরু হতেই চোটে আরও জেরবার অনেক দল। গ্রায়েম স্মিথদের এত দিন এ নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। তবে এবার দক্ষিণ আফ্রিকা দলেও হানা দিয়েছে চোট। নেই নেই বলে একসঙ্গে তিন-তিনটি চোটের খবর শুনতে হয়েছে তাদের।
ইমরান তাহির, জেপি ডুমিনি, ডেল স্টেইন—এই তিনজনকে নিয়েই চোট-শঙ্কা দক্ষিণ আফ্রিকার। এঁদের মধ্যে ডুমিনি হালকা চোট পেয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে। সেটাই বয়ে বেড়াচ্ছেন। আর এ জন্য পরশু অনুশীলনও করতে পারেননি। বাকি দুজন—স্টেইন ও ইমরান চোটে পড়েছেন পরশুর অনুশীলনেই। লেগ স্পিনার ইমরান তাহিরের শ্বাসনালিতে সংক্রমণ। আর স্টেইন অনুশীলনে সতীর্থের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছেন। শরীরের ডান অংশে পেয়েছেন ব্যথা।
প্রোটিয়াদের পরবর্তী ম্যাচ আগামী পরশু হল্যান্ডের বিপক্ষে। দলের ম্যানেজার মোহামেদ মুসাজি অবশ্য জানিয়েছেন, হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই সবাই সেরে উঠবেন, ‘জেপি পিঠের নিচের অংশে যে ব্যথা পেয়েছে, তা সেরে উঠছে। ইমরানের চোট বড় কিছু নয়। সাবধান থাকতেই আজ (পরশু) তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ধাক্কা খেয়ে ডান পাশে ব্যথা পাওয়ার পর ডেল স্টেইনকেও অনুশীলন থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।’
এই তিনজনের চোট নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন দক্ষিণ আফ্রিকার সহকারী কোচ ভিনসেন্ট বার্নেস। কারণ একটাই, শুনুন বার্নেসের কণ্ঠেই, ‘আমি বাসে যেতে যেতে ডেলের সঙ্গে কথা বলেছি। ও বলেছে, ব্যথাটা একটু কমেছে। অন্য দুজনেরও অবস্থা ভালো। আর হাতে তো তিন দিন সময় আছেই।’
তাহলে যে সূচি নিয়ে এত হট্টগোল, সেই সূচি কিনা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এসেছে শাপে বর হয়ে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই সূচির খুঁত ধরে আসছে অনেকেই। দুই ম্যাচের মধ্যে ফাঁকা সময় একটু বেশিই হয়ে গেছে—এই সমালোচনায় দক্ষিণ আফ্রিকাও কমবেশি অংশ নিয়েছে। এই ফাঁকা সময়টাই এখন তাদের খেলোয়াড়দের চোট থেকে সেরে ওঠার সময় করে দিয়েছে।

কানাডাকে পেয়েই জিম্বাবুয়ে পরাশক্তি

ক্রিকেট বড় নিষ্ঠুর। পরশু বেঙ্গালুরুর ‘টাই’ ম্যাচ শেষে বলেছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ভারত অধিনায়কের সুরে সুর মিলিয়ে কানাডার অধিনায়ক আশিস বাগাইও বলতে পারেন—নিষ্ঠুর ক্রিকেটে আশা-আকাঙ্ক্ষার হিসাব মেলানো বড় কঠিন।
২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হারানো কানাডা স্বপ্ন দেখেছিল নকআউট পর্বে ওঠার। সেই আশায় তাদের সেতু হওয়ার কথা জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়া। শ্রীলঙ্কার কাছে প্রথম ম্যাচে ২১০ রানের হারের পরও তাই কানাডার স্বপ্ন জীবন্তই ছিল! কিন্তু জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হতেই আশিস বাগাই উপলব্ধি করলেন, ক্রিকেট সত্যিই নিষ্ঠুর।
টেস্ট পরিবারের নবম সদস্য জিম্বাবুয়ের গায়েও এখন ‘পুঁচকে’ দলের তকমা। কিন্তু কাল নাগপুরে কানাডাকে পেয়েই যেন এলটন চিগুম্বুরার জিম্বাবুয়ে হয়ে গেল পরাশক্তি! ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ উইকেটে ২৯৮ রান, পরে কানাডাকে মাত্র ১২৩ রানে গুটিয়ে দিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নে জ্বালানি ঢালা, ১৭৫ রানের জয়—জিম্বাবুয়ে পরাশক্তিই তো!
দুই ‘ছোট’ দলের লড়াইহীন লড়াইয়ের শুরুটাই একটা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে। খুররম চোহানের করা ম্যাচের প্রথম বলেই ব্রেন্ডন টেলর এলবিডব্লু, রেফারেল নিয়েও লাভ হয়নি। টেলরকে দ্রুতই অনুসরণ করেন চার্লস কভেন্ট্রি। তিনিও এলবিডব্লু। ৭ রানেই জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার প্যাভিলিয়নে। কানাডার অধিনায়ক যেন তখন দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষ!
কিন্তু এই আনন্দ কেড়ে নিয়ে দ্রুতই তাঁকে হতাশার রাজ্যে ডুবিয়ে দিলেন টাটেন্ডা টাইবু ও ক্রেগ আরভিন। তৃতীয় উইকেটে তাঁরা যোগ করেন ১৮১ রান, ওয়ানডেতে ক্রিকেটে তৃতীয় উইকেটে এটাই জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ জুটি।
হাফ সেঞ্চুরি পেরিয়ে দুজনেই হাঁটছিলেন সেঞ্চুরির পথে। কিন্তু সেঞ্চুরি পাননি কেউই। আরভিন ফিরে যান ৮৫ রানে। টাইবুর আফসোসটা আরও বেশি, আউট হয়েছেন ৯৮ রানে। বিশ্বকাপে নড়বড়ে নব্বইয়ে আউট হওয়ার এটি ৩২তম ঘটনা, জিম্বাবুয়ের পক্ষে প্রথম। ৬৬ রানে বালাজি রাওয়ের বলে আম্পায়ার এলবিডব্লু দিলেও টাইবু জীবন পান রেফারেল নিয়ে। পরে টেলএন্ডারদের ছোট ছোট অবদানে জিম্বাবুয়ে পায় বড় পুঁজি। কানাডার লেগস্পিনার বালাজি রাও ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে ৫৭ রানে তুলেছেন ৪ উইকেট।
নিজের প্রথম (ইনিংসের দ্বিতীয়) ওভারেই সফল জিম্বাবুয়ে বাঁ হাতি স্পিনার রেমন্ড প্রাইস। ডেভিসনকে ফিরিয়ে দেন শূন্য হাতে। নিজের তৃতীয় ওভারে দুই উইকেট, পরপর দুই বলে। ৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা কানাডা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সুরকারি সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন। প্রাইসের মতো ক্রেমার নিয়েছেন ৩ উইকেট। উতসেয়া, ল্যাম্ব ২টি করে।
দলের জয়, সঙ্গে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার—টাইবুর সেঞ্চুরি মিসের যন্ত্রণার ক্ষতে একটু প্রলেপ তো পড়েছেই।

শ্রীলঙ্কার হাত মকশোর ম্যাচ?

আউটডোর নেটে ব্যাটিং-বোলিং করে ফিল্ডিং অনুশীলনের জন্য সবে মাঠে ঢুকেছে কেনিয়া দল। হঠাৎ পিচ কাভার-ফিল্ড কাভার নিয়ে গ্রাউন্ডসম্যানদের ছুটোছুটি। অনেকেই বিস্মিত, আকাশে ঝলমলে রোদ! কিন্তু কলম্বোর আকাশকে এই গ্রাউন্ডসম্যানদের চেয়ে ভালো আর কে চেনে? দেখতে না-দেখতেই কালো মেঘে ঢেকে গেল আকাশ, বিকেল চারটাতেই জ্বলে উঠল প্রেমাদাসার ফ্লাডলাইট। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি আসি আসি করছিল। ঝাঁপিয়ে বৃষ্টি নামলে আর রক্ষে নেই। ম্যাচে কী হবে, এর চেয়েও বড় প্রশ্ন তাই ম্যাচ হবে তো?
সারা বছর বৃষ্টি লেগে থাকে বলে প্রেমাদাসার নিষ্কাশনব্যবস্থাটা সুন্দর করে তৈরি। উইকেট থেকে এতটা ঢালু আউটফিল্ড আর কোথাও আছে কিনা সন্দেহ। গত ডিসেম্বরের শ্রীলঙ্কা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের মতো নাছোড়বান্দা বৃষ্টি না হলে ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু হলেই বা কী? যে ম্যাচের ফল নিয়ে সংশয় প্রায় নেই, সেই ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ থাকার কথা তো শূন্যের কোটায়!
শ্রীলঙ্কা-কেনিয়া ম্যাচ তবু বেশ মনোযোগ কাড়ছে। মূলত তিনটি কারণে—পাকিস্তানের কাছে শ্রীলঙ্কার ‘অপ্রত্যাশিত’ হার, কেনিয়া দলে গৃহবিবাদ আর ২০০৩ বিশ্বকাপে এই দুই দলের ম্যাচ। দুটি কাছাকাছি মানের দলের লড়াইয়ে কোনো দলের হারকে অপ্রত্যাশিত বলা মূর্খামি। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস আর নিজেদের মাঠ শ্রীলঙ্কাকে বিজয়ী চেহারায় দাঁড় করিয়েছিল। সেই হিসাবে বড়সড় এক ধাক্কা খেয়েছে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিটরা। আজ শুধু জিতলেই হবে না, চাই মনোবল চাঙা করা এক ভূমিধস জয়। কোচ ট্রেভর বেলিস বলেই দিয়েছেন, আগের ম্যাচে হারার পর আজ কেনিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
প্রথম দুই ম্যাচে যাচ্ছেতাই হার, কোথায় দলের পাশে দাঁড়াবেন, ক্রিকেট কেনিয়ার প্রধান উল্টো ফাটালেন একটা বোমা। কোচ এলডিন ব্যাপ্টিস্টের সঙ্গে নাকি মতের মিল হচ্ছে না দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের। তবে এই গৃহবিবাদের প্রসঙ্গ উঠতেই যেন আকাশ থেকে পড়লেন জিমি কামান্ডে, ‘বিবাদের খবর আমিও ক্রিকইনফো পড়েই জানলাম। চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কথা হয়নি, কিন্তু আমি যত দূর জানি ও বুঝি, দল দারুণ ঐক্যবদ্ধ।’ কেনিয়া অধিনায়ক বললেন বটে, তবে বলেই যেমন হাসলেন তাতে পরিষ্কার, তার কথা যে কেউ বিশ্বাস করছে না!
এমন দুঃসময়ে অবশ্য ২০০৩ বিশ্বকাপ হতে পারে তাদের প্রেরণার উৎস। কেনিয়া সুপার সিক্সে ওঠার সিঁড়ি পেয়েছিল গ্রুপ পর্বে এই শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েই। সেই সিঁড়ি বেয়ে পরে পৌঁছে যায় শেষ চারে। এই ম্যাচ ছাড়া দুই দলের বাকি চার ম্যাচে পাত্তাই পায়নি কেনিয়া। ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপের ওই ম্যাচের পরই যেমন সেপ্টেম্বরে কেনিয়াকে ১৩০ রানে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ লড়াইয়ে জয়ী দলের নাম তো কেনিয়া! প্রতিশোধ জাতীয় কিছু শ্রীলঙ্কার মাঝে কাজ না করে পারেই না।
কেনিয়ার প্রতিশোধের জাতাকলে পিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উইকেট যাওয়ার পর থেকেই প্যাভিলিয়নে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে পড়েন ব্যাটসম্যানরা; বোলিংয়ে ধার বা বৈচিত্র্য কিছুই নেই। দুই অভিজ্ঞ স্টিভ টিকোলো ও টমাস ওডোয়ো যেন অতীত স্মৃতিচারী। কামান্ডে অবশ্য দাবি করলেন, শুধু অংশ নিতেই বিশ্বকাপে আসেননি তাঁরা। ছাড়েননি পরের পর্বে ওঠার আশা। কিন্তু কামান্ডে নিজেই তা কতটুকু বিশ্বাস করেন, কে জানে। এই ম্যাচটা তাই হতে পারে শ্রীলঙ্কার হাত মকশোর ম্যাচ, তিন দিন পরই যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নামতে হবে।

বাংলাদেশকে গেইল-রোচদের বার্তা

মিরপুরে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ মুখোমুখি ৪ মার্চ। পুরো বাংলাদেশ তাকিয়ে ওই ম্যাচটার দিকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার পথে আরেক ধাপ এগোতে চায় লাল-সবুজের দল। পারবে বাংলাদেশ?
উত্তরের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। তবে হল্যান্ডকে কাল যেভাবে ২১৫ রানে উড়িয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশের কাছে তা একটা সতর্কবার্তাও। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭ উইকেটে হারের পর হল্যান্ডের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে নিজেরা তুলল ৩৩০ রান, যাতে অবদান রেখেছেন প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানই। এরপর পেসার কেমার রোচ ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়ে হল্যান্ডকে শেষ করে দিয়েছেন মাত্র ১১৫ রানে। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন শুধু রোচই।
এর চেয়ে বড় খবর—হ্যাটট্রিক করেছেন কেমার রোচ। ৩১তম ওভারের প্রথম তিন বলেই তুলে নিয়েছেন হল্যান্ডের শেষ তিনটি উইকেট। প্রথম দুটি এলবিডব্লু, শেষটি বোল্ড। বিশ্বকাপে এটি ৬ষ্ঠ হ্যাটট্রিক। আগের পাঁচ হ্যাটট্রিকম্যান—চেতন শর্মা, সাকলায়েন মুশতাক, চামিন্ডা ভাস, ব্রেট লি, লাসিথ মালিঙ্গা।
ব্যাটে বড় স্কোর, রোচের দারুণ বোলিং—‘ছোট’ ম্যাচটা সহজেই জিতল স্যামির দল।
প্রতিপক্ষ হিসেবে হল্যান্ড দুর্বল, তবে আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে চেপে ধরা দলটির আত্মবিশ্বাস ছিল অনেক উঁচুতে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইংল্যান্ড হয়নি। টস হেরে দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছে, শুরুর দিকে খুব ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং ছিল না। গেইল তো এদিন রীতিমতো বদলে যাওয়া এক চরিত্র। গেইল মানেই ‘হয় মারো, নয় মরো’ ধারণাটা একদমই অনুপস্থিত। ইনিংস সর্বোচ্চ ৮০ রান করতে বল খেলেছেন ১১০টি!
ওপেনিংয়ে গেইলের সঙ্গে স্মিথ ৫১ বলে ৫৩। ব্রাভো ৩৮ বলে ৩০। সারোয়ানের ব্যাটেও রান। ৪২ বলে ৪৯। আসল ঝড়টা তুলে গেছেন পোলার্ড। ৫ চার আর ৪ ছয়ে ৬০। বল মাত্র ২৭টি! নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ফিফটিটি শুধু তাঁর জন্যই নয়, দলকেও নিয়ে গেল পাহাড়ের চূড়ায়।
৩৬ রানেই ৫ উইকেট হারিয়েছে হল্যান্ড। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি পাওয়া ডেসকাট এদিন ৬ বলে ৭ রান করে আউট। ৫৫ রানে অপরাজিত কুপার প্রাণপণ লড়েছেন। কিন্তু দিনটা রোচের। ম্যাচ-সেরার পুরস্কার হাতে নেওয়া রোচকে নিয়ে হোমওয়ার্ক এখনই শুরু করতে পারে বাংলাদেশ!

আজই ফিরছেন মালিঙ্গা!

২০০৩ সালের বিশ্বকাপে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। চার বলে চার উইকেট তুলে নিয়ে গড়েছিলেন বিশ্ব রেকর্ড। এবারের আসরে অবশ্য লাসিথ মালিঙ্গার ‘বিধ্বংসী’ বোলিং দেখা হয়নি ক্রিকেট-বিশ্বের। ইনজুরির কারণে মিস করেছেন প্রথম দুটি ম্যাচ। তবে আজ কেনিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় দিবা-রাত্রির ম্যাচেই হয়তো ফিরছেন মালিঙ্গা।
‘মালিঙ্গা ফিট। নির্বাচকেরা চাইলে কালই তাঁকে দলে আনতে পারেন’—দলের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলারের ইনজুরি থেকে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়ে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন ট্রেভর বেইলিস। কোচ খোলাখুলি না বললেও মালিঙ্গার ফিরে আসার ব্যাপারটি স্পষ্ট হয়েছে শ্রীলঙ্কা দলের ম্যানেজারের কথায়, ‘শনিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় ম্যাচ। ওই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করতেই কেনিয়ার বিপক্ষে নামানো হবে মালিঙ্গাকে।

চেনা মাঠে অচেনা উইকেট

চার-ছক্কার উৎসব না হলে আবার ক্রিকেট হয় নাকি!্রক্রিকেট বিক্রির সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনই তো রান। রান যত বেশি হবে দর্শক তত মজা পাবে। আর মানুষ মজা পেলেই না হু হু করে বিক্রি হবে ক্রিকেট।
ক্রিকেটটা পণ্য হয়ে যাওয়ার পর থেকে এটা ব্যাটসম্যানদেরই খেলা। স্পিনারদের টার্ন বা গুগলি কিংবা পেসারের ইনসুইং-আইটসুইং নিষিদ্ধ করা যায়নি। নইলে আধুনিক ক্রিকেটের সবকিছুই ব্যাটসম্যানদের পক্ষে। এমনকি এই বিশ্বকাপের উইকেটও। আইসিসি থেকেই নির্দেশনা আছে, বিশ্বকাপের উইকেট হতে হবে ব্যাটিং-স্বর্গ। পয়সা খরচ করে দর্শক তো আসে রান দেখতে!
আইসিসির নিদের্শনার কারণেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে ‘হোম কন্ডিশন’ খুঁজে পাচ্ছেন না বাংলাদেশের স্পিনাররা। অধিনায়ক হওয়াতেই হয়তো বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আল হাসান ‘মিরপুরের উইকেট এ রকমই...যেটা আছে তাতেই তো খেলতে হবে...নিজেরা ভালো না খেললে উইকেট দিয়ে কী হবে...’ ইত্যাদি বলে প্রসঙ্গটা এড়িয়ে গেলেন। তবে কোচ জেমি সিডন্সের মতো শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে স্পিন ধরছে না বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন দলের অন্য স্পিনাররা।
সবচেয়ে অভিজ্ঞ স্পিনার আবদুর রাজ্জাক বিশ্বকাপের উইকেটকে মেলাতে চাইলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গত হোম সিরিজের উইকেটের সঙ্গে এবং ব্যর্থ হলেন, ‘আমাদের জন্য গত নিউজিল্যান্ড সিরিজের উইকেট ছিল সবচেয়ে ভালো। এবারের উইকেটের সঙ্গে সেটার একদমই মিল নেই। উইকেট একেবারে ফ্লাট—ব্যাটসম্যানদের উইকেট বলতে পারেন।’ আরেক স্পিনার নাঈম ইসলামেরও একই হতাশা, ‘আয়ারল্যান্ড ম্যাচের উইকেট খুব শুকনো ছিল। এ রকম উইকেটে বল ঘোরে না। উইকেটটা একটু নরম থাকলে স্পিনারদের টার্ন করাতে সুবিধা হয়।’
এত দিনের পরিচিত উইকেট যখন আসল সময়ে এসে রাজ্জাক-নাঈমদের চিনছে না, এই উইকেটে সাফল্য পাওয়ার বিকল্প উপায় খোঁজার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশ দলের স্পিনাররা। রাজ্জাক যেমন বললেন, ‘এ রকম উইকেটে ব্যাটসম্যানরা বড় একটা স্কোর করে দিলে সুবিধা হয়। আর বোলারদের মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক রেখে বল করার চেষ্টা করতে হবে। আমরা যেমন চেষ্টা করছি লাইন-লেংথ ঠিক রাখতে। সঙ্গে বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনাটাও জরুরি।’ সিনিয়র স্পিনার হিসেবে দলের অন্যদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, ‘যে রকম উইকেট আছে সেটা মেনে নিয়েই খেলতে হবে। এ রকম উইকেটে বল করার সময় খুব মনোযোগী থাকতে হবে। ভুল করা যাবে না।’
বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড সিরিজের উইকেটের মতো উইকেট না হওয়ায় আফসোস আছে নাঈম ইসলামেরও। সঙ্গে এই উইকেটে ভালো করার একটা উপায়ও দেখালেন তিনি, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজের উইকেটের মতো উইকেট হলেই ভালো হতো। সে রকম টার্নিং উইকেট যখন হয়নি, আমাদের ফ্লাইট, পেস এসব দিকেই বেশি নজর দিতে হবে।’
ভারত-আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচে বাংলাদেশের বোলারদের নেওয়া ১৪ উইকেটের মধ্যে স্পিনারদেরই ৮ উইকেট। পেসাররা নিয়েছে ৫টি এবং ১টি রানআউট। শুধু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গত ম্যাচেই স্পিনাররা উইকেট পেয়েছেন ৬টি। দুই ম্যাচে এমন দাপট দেখানোর পরও মিরপুরের উইকেট নিয়ে স্পিনারদের দীর্ঘশ্বাসে বিস্মিত হতে পারেন। যদিও কোচ সিডন্স আগেই দিয়েছেন এই বিস্ময়ের জবাব—বাংলাদেশের বোলাররা উইকেট পেলেও সেটা প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা বাজে শট খেলেছে বলেই।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের আগে বাংলাদেশের মূল বোলিং অস্ত্র স্পিনারদের সামনে তাই একটাই চ্যালেঞ্জ—‘হোম কন্ডিশনের’ অপরিচিত উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে বিশু

ইনজুরিতে পড়া অলরাউন্ডার ডোয়াইন ব্রাভোর বদলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে এনেছে গায়ানার লেগ স্পিনার দেবেন্দ্র বিশুকে। আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটিও এই ক্রিকেটারের বদলিতে অনুমোদন দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখনো অভিষেক হয়নি বিশুর। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে নাম-ডাক রয়েছে তাঁর। ২০১০ সালের ক্যারিবীয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় তিনি। গত অক্টোবরে এক ম্যাচে ১০টি উইকেটে শিকারের কৃতিত্বও আছে ২৫ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনারের। আগামী শুক্রবার বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ওই ম্যাচে লড়তে কাল বুধবার ঢাকায় আসার কথা রয়েছে বিশুর।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাঁ হাঁটুতে চোট পান ডোয়াইন ব্রাভো। অন্তত চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে কাটাতে হবে এই অলরাউন্ডারকে। ব্রাভোর আগে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ শেষ হয় আড্রিয়ান বারাথ ও কার্লটন বাফের।

ব্রাভো আমার অনুপ্রেরণা: রোচ

কালই বিশ্বকাপ ইতিহাসের ষষ্ঠ হ্যাটট্রিকটি তুলে নিয়েছেন ক্যারিবীয় পেস সেনসেশন কেমার রোচ। দিল্লিতে কাল পরপর তিন বলে তিন ডাচ ব্যাটসম্যানকে আউট করে রোচ ঢুকে গেলেন বিশ্বকাপের এক অমর তালিকায়। এখন থেকে ক্রিকেট যত দিন বেঁচে থাকবে তত দিন রোচের নাম জ্বলজ্বল করবে চেতন শর্মা, সাকলাইন মুশতাক, চামিন্ডা ভাস, লাসিথ মালিঙ্গা ও ব্রেট লিদের মতো তারকাদের পাশে।
২০০৯ সালের জুলাইয়ে ক্রিকেটারদের এক অভাবনীয় বিদ্রোহে কেঁপে ওঠে গোটা ক্যারিবীয় ক্রিকেট। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ শুরু হওয়ার ঠিক আগ দিয়ে গেইল, সারোয়ান, ব্রাভো, চন্দরপলের মতো তারকারা নাম প্রত্যাহার করে নেন সিরিজ থেকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সম্পূর্ণ নতুন একটি দল নিয়ে ৮০ বছর পর নিজেদের মাটিতে টেস্ট ও ওয়ানডে দুটোতেই হোয়াইটওয়াশ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই সিরিজে অজস্র মন্দের মধ্যেও নিজেকে পাদ-প্রদীপের আলোয় নিয়ে আসেন কেমার রোচ। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত বল করে নিজেকে একটু আলাদাভাবেই চেনান এই পেসার। এরপর থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে নিয়মিত গতি ও সুইং দিয়ে ফাস্ট বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্বর্ণযুগ মনে করিয়ে দেওয়া এই তরুণ পেসার।
কাল হল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই ইতিহাসের বইয়ে ঢুকে গেলেন কেমার রোচ। এই অভাবনীয় কৃতিত্বে দারুণ উচ্ছ্বসিত এ তরুণ কিন্তু হল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের হ্যাটট্রিকের জন্য সব কৃতিত্ব দিয়ে দিয়েছেন ডোয়াইন ব্রাভোকে। তাঁর ভাষায়, ম্যাচের দিন সকালে ব্রাভোর কয়েকটি উদ্দীপনামূলক কথাই তাঁকে তাতিয়ে দিয়েছিল।
‘ব্রাভো আমার বড় ভাইয়ের মতোই। ম্যাচের দিন সকালে তাঁর কয়েকটি কথা আমাকে দারুণ অনুপ্রাণিত করেছিল। সে বলেছিল, মাঠে গিয়ে কেবল নিজের ক্ষমতার প্রতি আস্থা রেখে পুরো ব্যাপারটিকে উপভোগের চেষ্টা করো, দেখবে, অনেক বড় কিছু করতে পারবে তুমি।’ বলছিলেন রোচ।
বিশ্বকাপে একটি হ্যাটট্রিকের মালিক হতে পেরে যারপরনাই আনন্দিত রোচ বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের মতো আসরে আমি হ্যাটট্রিক করেছি, এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আমি সত্যিই ব্যাপারটিতে গর্ব অনুভব করছি।’
৪ মার্চ নিজেদের পরের ম্যাচে ঢাকায় বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০০৯-এর জুলাইয়ে এ বাংলাদেশের বিপক্ষেই টেস্ট ও ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে এই ম্যাচটি একটি বিশ্বকাপ ম্যাচের চেয়েও বেশি কিছু। ঢাকায় অবশ্যই ক্যারিবীয়রা প্রমাণ করতে চাইবে, বাংলাদেশের চেয়ে তারা অনেক ভালো দল। এ মনোভাবটিই যেন ঝরে পড়েছে রোচের কণ্ঠে। তিনি বলেছেন, ‘হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রা অনেক ওপরে তুলে ধরেছে। বাংলাদেশে আমরা খেলতে যাব, ফুরফুরে মেজাজ নিয়েই। জানি, বাংলাদেশ নিজেদের মাঠে ভালো দল, ওদের হারানো কঠিন, তার পরও আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের চেয়ে আমরা অনেক এগিয়ে রয়েছি।’

আগুন নেভাতে গিয়ে বাঘ উদ্ধার!

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার একটি বাড়িতে গতকাল মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের আগুন নেভাতে গিয়ে দেখেন দোতলা ওই বাড়িতে খাঁচাবন্দী পাঁচটি বাঘসহ বেশ কয়েকটি বন্যপ্রাণী। পরে তাঁরা প্রাণীগুলো উদ্ধার করেন।
পাঁচটি বাঘ ছাড়াও দুটি অজগর, তিনটি কচ্ছপ, বেশ কয়েকটি বিরল জাতের কুকুর ও বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, এক ব্যক্তি প্রাণীগুলোকে পোষার অনুমতি নিয়েছিলেন। তবে ওই বাড়িতে এগুলো রাখার অনুমতি ছিল না।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য এবার ২৪১ প্রার্থী মনোনীত

এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য রেকর্ড-সংখ্যক ২৪১ জন প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার নোবেল ইনস্টিটিউট সূত্রে এ কথা জানা গেছে। এবারের তালিকায় উইকিলিকস এবং আরব বিশ্বে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত অনেক ব্যক্তির নাম ঠাঁই পেয়েছে।
নোবেল ইনস্টিটিউটের পরিচালক গেইর লানডেস্ট্যাড বলেন, প্রতিবছরই শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত প্রার্থীদের নামের তালিকা দীর্ঘতর হচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৩৭। এ বছর ৫৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১৮৮ জনের নাম শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। প্রার্থীদের কারও নাম প্রকাশ না করে লানডেস্ট্যাড আরও জানান, এ বছরের তালিকায় আরব বিশ্বে গণতন্ত্রের দাবিতে চলমান আন্দোলন প্রভাব বিস্তার করেছে। বিশেষ করে তিউনিসিয়া, মিসর ও লিবিয়ার আন্দোলনে জড়িত বেশ কয়েকজন ব্যক্তির নাম মনোনীত ব্যক্তিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের গোপন নথি প্রকাশ করে হইচই ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকসও এ তালিকায় আছে।
শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা এখন তৈরি হলেও বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে আগামী অক্টোবরের প্রথমদিকে। আর পুরস্কার দেওয়া হবে সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ১০ ডিসেম্বর। বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যু দিবসে এই পুরস্কারটি বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সামরিক হামলার হুমকি উত্তর কোরিয়ার

দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যৌথ সামরিক মহড়ার জবাবে উত্তর কোরিয়া গতকাল মঙ্গলবারও সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছে। পিয়ংইয়ং বলেছে, এ মহড়া উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে পারমাণবিক যুদ্ধের প্রস্তুতির ষড়যন্ত্র। অন্যদিকে সিউল ও ওয়াশিংটন বলছে, এ মহড়া প্রকৃতিগতভাবে প্রতিরক্ষামূলক।
পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, ‘দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। আর সামরিক হামলার কারণে সব পরিণামের জন্য যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি দায়ী থাকবে। তবে সংলাপ কিংবা যুদ্ধ—এ দুয়ের জন্যই উত্তর কোরিয়া প্রস্তুত আছে।’

তিউনিসিয়ায় দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ

তিউনিসিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের দুই মন্ত্রী গত সোমবার পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ঘানুচির পদত্যাগের এক দিন পর তাঁরা দায়িত্ব ছাড়লেন।
পদত্যাগ করা মন্ত্রীরা হলেন শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মোহাম্মদ আফিফ চেলবি এবং পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ নুরি জুইনি। তাঁরা দুজনই বেন আলী সরকারের সময় মন্ত্রী ছিলেন। তাঁদের পদত্যাগের ফলে বর্তমান সরকার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বেন আলীর প্রভাবমুক্ত হলো।
সরকারবিরোধীরা গত শুক্র ও শনিবার প্রধানমন্ত্রী ঘানুচির পদত্যাগ ও নতুন সংবিধানের দাবিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। শনিবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত তিন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। পরের দিনই ঘানুচি পদত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর পদত্যাগের পরও বিক্ষোভকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। তারা অন্তর্বর্তী সরকারে বেন আলীর আমলের সব মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে।

নিউজিল্যান্ডে ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে শোক পালন

নিউজিল্যান্ডবাসী ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শোক পালন করেছে। ক্রাইস্টচার্চে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঠিক এক সপ্তাহ পর গতকাল দুই মিনিট নীরবতা পালনের মধ্যদিয়ে এ শোক পালন করা হয়।
দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে নিউজিল্যান্ডবাসী যার যার কাজ ফেলে দুই মিনিট নীরব থেকে এ শোক প্রকাশ করে। তারা মাথা নিচু করে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। এ সময় ক্রাইস্টচার্চেও থমকে যায় ধ্বংসস্তূপ সরানোর ব্যস্ততা।
ক্রাইস্টচার্চে বড় হওয়া দেশটির প্রধানমন্ত্রী জন কি শহরটির ধসে পড়া প্রাচীনতম চার্চটির সামনে অনুষ্ঠিত শোক সমাবেশে অংশ নেন।

আইভরি কোস্টে জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তাদের ওপর গুলিবর্ষণ

আইভরি কোস্টে জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তাদের ওপর লরা বাগবোর অনুগত বাহিনী গুলি চালিয়েছে। দেশটির অস্ত্র আমদানির ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করার জন্য ওই বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হয়। জাতিসংঘের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বেলারুশ বাগবোর বাহিনীর জন্য তিনটি যুদ্ধ-হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে—এমন একটি অভিযোগ তদন্ত করার জন্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা ও কয়েকজন তদন্ত বিশেষজ্ঞ আইভরি কোস্টের ইয়ামুসুকরো বিমানবন্দরে যান। তবে এ তদন্ত দলটিকে প্রত্যাহারে বাধ্য করতে বাগবোর অনুগত বাহিনী তাদের ওপর গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় কারও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে জরুরিভিত্তিতে বৈঠকে বসার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে বেলারুশ জাতিসংঘের ওই অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘বেলারুশ কখনোই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ওই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেনি এবং অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা অনুসরণ করে যাচ্ছে।’ জাতিসংঘ ২০০৪ সালে আইভরি কোস্টের ওপর ওই অস্ত্র-নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও আইভরি কোস্টের সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত সুসান রাইস হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী আলাসেন ওয়াতারা ও বাগবোর সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা বেড়েই চলছে। সহিংসতা থেকে বাঁচতে গত সোমবার কয়েক শ লোক আবিদজান থেকে পালিয়ে একটি ক্যাথলিক মিশনে আশ্রয় নিয়েছে বলে একজন যাজক জানান। এ ছাড়া দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর আবোবোর একটি মিশনে প্রায় এক হাজার ৮০০ লোক আশ্রয় নেয়। অপর একটি মিশনে আরও এক হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

১১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২০ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ভারতের গুজরাট রাজ্যের গোধরায় ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলার রায়ে ১১ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অপর ২০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার গুজরাটের সবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক পি আর প্যাটেল এই রায় দেন। বিচারক এই মামলাটিকে ‘বিরল মামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিরল’ বলে অভিহিত করেন।
এর আগে একই আদালত দণ্ডাদেশ পাওয়া ৩১ জন আসামিকে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেন। সরকারি কৌঁসুলি জে এম পাঞ্চল বলেন, গোধরার কাছে ওই সবরমতি এক্সপ্রেস ট্রেনের বগিতে আগুন লাগানোর ষড়যন্ত্রে আসামিদের সক্রিয় ভূমিকার কথা বিবেচনা করেছেন আদালত। ওই বগিতে আগুন লাগানোর ঘটনায় ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ভিন্ন ধারায় অন্য ২০ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
আসামি পক্ষের আইনজীবী আই এম মুনশি বলেন, দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা সবাই উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তিনি বলেন, ‘এই রায় মেনে নেওয়া যায় না। তবে রায়ের কপি না পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে চাই না।’ তিনি বলেন, বিশেষ আদালত যে রায়ই দিন না কেন, এর ফয়সালা হবে উচ্চ আদালতে। উচ্চ আদালত যদি এই রায় বহাল রাখেন, তবেই তা কার্যকর হবে।
২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অযোধ্যা থেকে ফেরার পথে গোধরার কাছে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের বহনকারী সবরমতি এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫৯ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই আগুন লাগানোর অভিযোগ আনা হয়। এই দোষারোপকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এতে গুজরাটের আহমেদাবাদসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় দুই হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের বেশির ভাগই মুসলিম। দাঙ্গা চলাকালে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা ও গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে। মুসলিমদের ওপর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হামলায় নীরবে উসকানি দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
২০০৯ সালের জুনে সবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে ৯৪ জন আসামির বিরুদ্ধে বিশেষ আদালতে বিচার শুরু হয়। আসামিরা সবাই মুসলিম। আদালত প্রধান আসামি মৌলভী উমরজিসহ ৬৩ জনকে বেকসুর খালাস দেন। বাকি ৩১ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

লিবিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করতে দেশটির উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে জঙ্গি বিমানবাহী মার্কিন রণতরী। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও লিবিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু এত সব হুমকি-ধমকি ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও অনড় গাদ্দাফি। তিনি সীমান্ত এলাকায় সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন গত সোমবার রাতে হাউস অব কমন্সে জানান, লিবিয়ার আকাশকে নো ফ্লাই জোন ঘোষণার লক্ষ্যে মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাজ্য। তিনি বলেন, ব্রিটিশ বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল স্যার ডেভিড রিচার্ডকে লিবিয়ায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সামরিক দপ্তর পেন্টাগন গত সোমবার জানায়, লিবিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ জন্য লোহিতসাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস এন্টারপ্রাইজকে ভূমধ্যসাগরে নিয়ে লিবিয়ায় অভিযানের জন্য সুবিধাজনক স্থানে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ইউএসএস কিয়ারসেজকেও ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হতে পারে।
জাতিসংঘে মার্কিন দূত সুসান রাইস জানিয়েছেন, লিবিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ন্যাটো ও অন্য মিত্রদের সঙ্গে কথা বলছে ওয়াশিংটন। এ ছাড়া সোমবার জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এদিকে ফ্রান্স জানিয়েছে, লিবিয়ায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে তারা ন্যাটো বাহিনীকে সমর্থন দেবে।
অনড় গাদ্দাফি: এত চাপের মুখেও অনড় গাদ্দাফি গতকাল সীমান্ত এলাকায় সেনা সমাবেশ বাড়িয়েছেন। ওই সব সীমান্তে কয়েক দিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ করা না গেলেও গতকাল সেখানে ভারী অস্ত্র ও সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে সেনাবাহিনী টহল দিতে দেখা যায়।
বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার: গাদ্দাফি সোমবার রাতে ত্রিপোলিতে বিবিসিসহ কয়েকটি বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের সব মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আমাকে রক্ষায় তারা জীবন দিতে পারে।’ ওই সাক্ষাৎকারের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সুসান রাইচ বলেন, গাদ্দাফি তাঁর দেশের মানুষকে হত্যা করে হাসেন, এতে এটাই প্রমাণ হয় যে তিনি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন।
শিগগিরই কাজ শুরু করবে অন্তর্বর্তী সরকার: ত্রিপোলিতে গাদ্দাফির নিয়ন্ত্রণ থাকলেও শিগগিরই বেনগাজিতে অন্তর্বর্তী সরকার কাজ শুরু করবে। জাতিসংঘে নিয়োজিত লিবিয়ার উপরাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম দেবাসি গতকাল এ কথা বলেন।
বিদ্রোহীদের সামরিক পরিষদ গঠন: লিবিয়ার বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, গতকাল বেনগাজিতে তারা একটি সামরিক পরিষদ গঠন করেছে। গাদ্দাফির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী একটি ঐক্যবদ্ধ সামরিক শক্তি গঠনের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ।
সতর্ক করলেন শাভেজ: মার্কিন বাহিনী লিবিয়ায় আক্রমণ চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গাদ্দাফির অন্যতম মিত্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ। তিনি বলেছেন, লিবিয়ার তেলসম্পদ দখলে নিতে যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ায় হামলা চালাতে চাইছে।

ভারতের পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

ভারতের পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল গতকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ুু ও পুডুচেরি রাজ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে আগামী ১৮, ২৩, ২৭ এপ্রিল এবং ৩, ৭ ও ১০ মে ভোট গ্রহণ করা হবে। আসামের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে ৪ ও ১১ এপ্রিল। এ ছাড়া কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুডুচেরিতে নির্বাচনে ১৩ এপ্রিল ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
পশ্চিমবঙ্গে ৫১ হাজার ৯৯০টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। এতে পাঁচ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দেবে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ২৯৪টি আসন রয়েছে। ২০০৬ সালের নির্বাচনে বাম ফ্রন্ট পায় ২৩৫টি আসন এবং কংগ্রেস পায় ২১টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পায় ৩০টি আসন।

সাকিব-ভক্ত ডকরেল

ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলার স্বপ্ন আপাতত শিকেয় তুলেছেন। এখন তাঁর সব মনোযোগ আয়ারল্যান্ডকে ঘিরে। ঘূর্ণিজাদু দিয়ে আজকের ইংল্যান্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে, নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্নই যে স্তিমিত হয়ে যাবে।
আইরিশ বাঁহাতি স্পিনার জর্জ ডকরেলের মস্তিষ্কজুড়ে এখন শুধুই অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, কেভিন পিটারসেনদের বধ করার পরিকল্পনা। ছক কষছেন, ঘূর্ণির মায়ায় ইংলিশদের কীভাবে নাস্তানাবুদ করে গ্যালারিতে আইরিশদের মুরগি-নাচনের উপলক্ষ এনে দেওয়া যায়!
টেস্ট খেলার গভীর স্বপ্নে বিভোর ডকরেল বলেন, ‘কে না টেস্ট খেলতে চায়? এটা বেশির ভাগ ক্রিকেটারেরই আকাঙ্ক্ষা। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ পেলে এই স্বপ্নপূরণ সম্ভব।’
পাঁচ দিনের ক্রিকেট নিয়ে অজস্র স্বপ্নের জাল বুনলেও ডকরেলের চিন্তা এখন একটাই, আয়ারল্যান্ডকে শেষ আটে তোলা, ‘আয়ারল্যান্ডের হয়ে কঠোর পরিশ্রম করছি। আমাদের লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনাল।’ অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে সেরাদের আট দলে যেতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়েই পথ খোলা থাকবে, সেটা মানছেন ডকরেল নিজেও, ‘বুধবারের (আজ) ম্যাচে যে করেই হোক আমরা জয় চাই।’
নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের দগদগে ক্ষত এখনো যন্ত্রণা দিচ্ছে, সেই যন্ত্রণা উপশম করতেই বললেন আয়ারল্যান্ডের ১৮ বছর বয়সী স্পিনার, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে পারফরম্যান্সে আমরা হতাশ। আমাদের এখন সব মনোযোগ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে। এই ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপে আমরা প্রথম জয় পেতে চাই।’
বাংলাদেশের অধিনায়ক ও স্পিনার সাকিব আল হাসানের সঙ্গে বন্ধুত্ব আছে ডকরেলের। গত বছর বাংলাদেশ যখন আয়ারল্যান্ড সফরে যায়, তখন সাকিবের কাছ থেকে তিনি টিপস নিয়েছেন এবং এটা তাঁর কাজে লেগেছে, ‘সাকিব একজন দুর্দান্ত ক্রিকেটার। গত বছর বেলফাস্টে ওর সঙ্গে কথা হয়। ও এমনই একজন স্পিনার যার কাছ থেকে অনেক শেখা যায়। ও আমাকে খুবই সাহায্য করেছে। আমার উন্নতির জায়গাগুলো ও ধরিয়ে দিয়েছে, এটা অসাধারণ।’
ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট খেলার স্বপ্ন এখনো শেষ হয়ে যায়নি সমারসেটের এই খেলোয়াড়ের। আছেন ইংলিশ নির্বাচকদের ডাকের অপেক্ষায়। আইরিশ হয়েও ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে চাপানোর উদাহরণ তাঁর সামনে গড়েছেন এড জয়েস ও এউইন মরগান। জয়েস অবশ্য টেস্ট দলে ডাক না পেয়ে আবার ফিরে এসেছেন আয়ারল্যান্ডে, কিন্তু মরগান কলিংউডের ছেড়ে যাওয়া জায়গায় টেস্ট ক্যাপ পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

হাসির পক্ষে আরও ব্যাটিং

অস্ট্রেলীয় নির্বাচকদের সময় নেওয়া কি মাইক হাসিকে আশাবাদী করে তুলছে? তা আশাবাদী তিনি হতেই পারেন। চোট পাওয়া বলিঞ্জার দেশে ফিরে গেলেও এখনো বদলি খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করেনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। নির্বাচক কমিটির প্রধান অ্যান্ড্রু হিলডিচ জানিয়ে দিলেন, খুব শিগগির করছেনও না।
কেন এই বিলম্ব? হিলডিচের ব্যাখ্যা, দলের পেস বোলার ব্রেট লি, শন টেইট, মিচেল জনসন সবাই ফিট, ফর্মেও আছেন। এ ছাড়াও আছেন বোলিং অলরাউন্ডার জন হেস্টিংস। ব্যাটিংয়েও বিকল্প আছে। কাজেই তাড়াহুড়োর কারণ নেই।
পেসারের বদলে অধিনায়ক রিকি পন্টিং পেসারই চান। পিটার সিডল, ডির্ক ন্যানেস ও জেমস প্যাটিনসন—বলিঞ্জারের বিকল্প হিসেবে বাতাসে ভাসছে এই তিনটি নাম। আর অলক্ষে আছে মাইক হাসির নাম।
স্টিভ ওয়াহসহ অনেক সাবেকই মাইক হাসিকে বাদ দেওয়াটা মানতে পারেননি। বলিঞ্জারের পরিবর্তে হাসিকে নেওয়ার কথাও বলেছেন অনেকে। মিকি আর্থার বললেন আবারও। আর্থার এখন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার কোচ। মাইক হাসিও এই দলেই খেলেন।
আগামীকাল থেকে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ। চার দিনের এই ম্যাচে খেলবেন হাসি। আর্থারের দাবি, হাসি ফিট এবং দেশের হয়ে খেলতে তৈরি, ‘আমি মনে করি, মিডল অর্ডারে একজন বাঁহাতিকে আপনি পেতে চাইবেন, এতে কোনো সন্দেহই নেই। হাসি তৈরি। যদি সুযোগ সে পায় কাউকে ডোবাবে না।

সব উড়িয়ে দিলেন হাডিন

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের ২৭৭ রান তাড়া করতে যখন ব্যাটিংয়ে নামছেন থারাঙ্গা-দিলশান, তখন শহরে পা রাখছেন রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্করা। পরের দুই দিন আর কোনো খোঁজ নেই, টিম হোটেলে স্বেচ্ছাগৃহবন্দী। কড়া নিরাপত্তার ফাঁক গলে অতি সৌভাগ্যবান কোনো কোনো ফটোগ্রাফার দু-একজনকে ক্যামেরাবন্দী করতে পেরেছেন। কলম্বোতে আসার পর কালই প্রথম ‘ঘর’ ছেড়ে বের হলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
নেটে ব্যাটিং-বোলিং আর মাঠের উইকেটে স্লগ হিটিং—সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ঘণ্টা তিনেক চলল অস্ট্রেলিয়ার অনুশীলন। মাঠের উইকেটে তিনজন নেট স্পিনার টানা ঘণ্টা দুয়েক বোলিং করে গেলেন আর বল মাঠের চারপাশে আছড়ে ফেললেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা। এই তিন স্পিনারের একজন বাঁহাতি, একজন অফ স্পিনার, একজন লেগ স্পিনার। হয়তো মুরালি-মেন্ডিস-হেরাথদের জন্য প্রস্তুতি!
অনুশীলন শেষে কথা বলতে এলেন সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত জন। না রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্ক বা ব্রেট লি নন। কাল সকাল থেকে যেসব খবর ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে ব্র্যাড হাডিনের চেয়ে কাঙ্ক্ষিত আর কে হতে পারেন! ‘প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া’র (পিটিআই) খবর, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচটাকে ঘিরে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নাকি খতিয়ে দেখছে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট। সন্দেহ প্রথম ২ আর ১০ ওভারকে ঘিরে। প্রথম দুই ওভারে ৫ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া, ওয়াটসন-হাডিনের মতো আক্রমণাত্মক দুই ব্যাটসম্যান থাকার পরও ১০ ওভারে ২৮! ওই সময় ৩১ বলে ১৫ রান ছিল হাডিনের, ওয়াটসনের ২৯ বলে ১২। ওয়াটসন পরে পুষিয়ে দিলেও (৯২ বলে ৭৯) হাডিন আউট হন ৬৬ বলে ২৯ রান করে!
কোচ টিম নিলসেন, ম্যানেজার স্টিভ বার্নার্ড অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন আগেই। ব্যাপারটা যে ফালতু এটা বুঝিয়ে দিতেই যেন কাল কথা বলতে পাঠানো হলো হাডিনকে। বাতাসে কী সব ভেসে বেড়াচ্ছে শুনে যেন আকাশ থেকে পড়লেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান, ‘কোন খবর যেন?’ প্রসঙ্গ ধরিয়ে দিতেই তাচ্ছিল্যভরা হাসিতে উত্তর, ‘কী সব হাস্যকর কথা! আমি ওসব রিপোর্ট-টিপোর্ট পড়িওনি। পুরো ব্যাপারটাকে আমার কাছে মনে হচ্ছে স্রেফ একটা কৌতুক।’
এমন উত্তরের পর কি আর এই প্রসঙ্গে কথা বলা যায়? হলোও না। ফিরতে হলো ক্রিকেটীয় সমীকরণে। স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ না হয় উড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু আরেকটা অভিযোগ তো মেনে নিতেই হবে। বারবার উইকেটে থিতু হয়েও যে বড় ইনিংস খেলতে পারছেন না! গত বছরের মার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিল্টনের সেঞ্চুরিটির পর ১৪ ইনিংসে ১১ বারই ২০ বা তার বেশি করেছেন। কিন্তু ফিফটি পর্যন্ত নিতে পেরেছেন মাত্র দুবার, সেঞ্চুরি তো নেই-ই।
অনুশীলনে বোলারদের উড়িয়েছেন বলেই কি না, কাল হাডিন যেন ছিলেন সব উড়িয়ে দেওয়ার মুডে। স্পট ফিক্সিং অভিযোগের মতো পাত্তা দিলেন না এই অভিযোগকেও, ‘ওসব অস্ট্রেলিয়ায় হচ্ছিল। এই টুর্নামেন্টে নিজের খেলায় আমি খুশি। নিজের সেরা ফর্মে আছি। বড় ইনিংস নিয়ে তাই চিন্তা নেই।’ দুই ম্যাচে ২৯ ও ৫৫ করে আউট হয়েছেন একজন ওপেনার, অথচ দাবি করছেন নিজের খেলায় সন্তুষ্ট। স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগটাই কি তাহলে এলোমেলো করে দিল হাডিনকে?
হয়তো, হয়তো নয়। হয়তো এটাই তাতিয়ে তুলবে তাঁকে। কাল নেট বোলারদের যেভাবে ওড়ালেন, ৫ মার্চ প্রেমাদাসায় লঙ্কান বোলারদের এভাবেই কি ওড়াবেন?

মালিঙ্গার ম্যাচে বিধ্বস্ত কেনিয়া

যেন এই মাত্র কোনো ভয়াল অভিজ্ঞতার স্বাদ পেয়েছেন। পেরিয়ে এসেছেন অন্ধকার কোনো গুহা বা পড়েছিলেন ঝড়ের মুখে। সংবাদ সম্মেলনের টেবিলে সাধারণত স্পনসর কোম্পানির পানীয় থাকে। মূলত প্রচারের জন্য। প্রেমাদাসার সম্মেলনকক্ষে ঢুকেই একটা পানীয় তুলে গলায় ঢালতে শুরু করলেন জিমি কামান্ডে। মুহূর্তে সাবাড় প্রায় পুরো বোতল!
‘ভয়াল অভিজ্ঞতা’র পর ঘণ্টা তিনেক পেরিয়ে গেছে। কিন্তু লাসিথ মালিঙ্গার বলে যেভাবে চোখে অন্ধকার দেখলেন কেনিয়ার ব্যাটসম্যানরা, তাতে ওই স্মৃতি কত দিন তাদের তাড়িয়ে বেড়ায় কে বলতে পারে?
২০০৩ বিশ্বকাপে কেনিয়ার সেই স্মরণীয় জয়ের পর বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম দেখা। বাতাসে প্রতিশোধের গন্ধ তবু ছিল না। প্রতিশোধ তো বহুদূর, দলের যা অবস্থা তাতে মোটামুটি নিশ্চিত ছিল এই ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হবে না। তৃতীয় উইকেটে ওবুইয়া ভাইদের জুটিতে তবু মনে হচ্ছিল আগের দুই ম্যাচের দুঃস্বপ্ন বোধ হয় এবার আর ফিরে আসছে না। দুই শ বিশ-টিশ খুবই সম্ভব মনে হচ্ছিল, আর সেটা হয়ে গেলে বল হাতে লড়াই করার রসদও কিছু পাওয়া যেত। কিন্তু দুঃস্বপ্নের আবর্তেই থাকল ২০০৩-এর সেমিফাইনালিস্টরা। কালকের দুঃস্বপ্নের নাম মালিঙ্গা। হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট নিয়ে এই পেসারই কেনিয়াকে বুঝিয়ে দিয়েছেন ক্রিকেট কত নির্মম।
প্রথম স্পেলে একটি উইকেট পেয়েছিলেন, দ্বিতীয় স্পেলেও একটি। কিন্তু কেনিয়ানদের আসল সর্বনাশ করলেন তৃতীয় স্পেলে। ‘স্পেল’ না বলে বলা যায় ১০ বলের এক ঝড়। ঝড়ের শুরুতে এক ইয়র্কার, পড়িমড়ি করে ঠেকিয়েছিলেন কামান্ডে, বলটা পায়ের কাছে পড়ে থাকায় একটা রানও নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মিড উইকেট থেকে চিতার গতিতে ছুটে এলেন চামারা সিলভা, এরপর শকুনের মতো ছোঁ দিয়ে বলটা ধরে যেন হয়ে গেলেন ১৯৯২ বিশ্বকাপের জন্টি রোডস। উড়ে গিয়ে ভেঙে দিলেন স্টাম্প, রানআউট কামান্ডে।
তখনো বোঝা যায়নি কী আসছে সামনে! পরের বলে রান নেই, ইয়র্কার করার প্রচেষ্টায় পরের দুটি বল হলো ফুলটস, লেগ স্টাম্পে। দুটোই চার। ওভারের শেষ বলে জায়গামতো থাকল ইয়র্কার, এলবিডব্লু তন্ময় মিশ্র। নিজের পরের ওভারের প্রথম দুই বলে আবারও দুটি ইয়র্কার। ব্যাটসম্যান জানতেন ইয়র্কারই আসছে, কিন্তু মালিঙ্গার ইয়র্কার নিখুঁত হলে অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানই যখন উত্তর খুঁজে পান না, ওনগোন্ডো-এনগোচে আর কী করবেন! ঢুকে গেলেন ইতিহাসে। ওয়ানডেতে দুটি হ্যাটট্রিক করা চতুর্থ বোলার, বিশ্বকাপে একমাত্র!
অথচ ৮ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর দারুণ প্রতিরোধ গড়েছিলেন ওবুইয়া ভাইরা। ১৭৭ বলে ৯৪ রানের জুটিটা হয়তো বড় রান গড়ার মতো হুমকি হতে পারেনি। কিন্তু অন্তত ৫০ ওভার খেলার আশা ঠিকই জেগেছিল। ২০০৩ বিশ্বকাপে বল হাতে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর নায়ক লেগ স্পিনার কলিন্স ওবুইয়ার ভূত হয়ে শ্রীলঙ্কাকে হয়তো তাড়া করতে পারেননি ব্যাটসম্যান কলিন্স, তবে বিশ্বকাপে প্রথম ফিফটির জন্য বেছে নিয়েছেন সেই শ্রীলঙ্কাকেই। ফিফটি পেয়েছে দুই বছরের বড় ভাই ডেভিডও। কিন্তু ২ উইকেটে ১০২ থেকে শেষ ৮ উইকেট হারাল ৪০ রানে। ১৪২ রান তাড়া করতে থারাঙ্গা-দিলশান-সাঙ্গাকারাদের লেগেছে মাত্র ১৮.৪ ওভার।

বিশ্বকাপের অপেক্ষায় মাইক হাসি

ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি মাইক হাসির। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচে জয় পেলেও মিডল অর্ডারে এই ‘রান মেশিনে’র অভাবটা ভালোই অনুভব করেছে পন্টিং বাহিনী। সেই মাইক হাসি এখন বিশ্বকাপ খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানা গেছে। অপেক্ষায় রয়েছেন, দল থেকে ডাক আসার।
ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে পড়ার ব্যাপারে হাসি দুষেছিলেন অসি ক্রিকেট নির্বাচকদের। বলেছিলেন, নির্বাচকেরা তাঁকে দলে না নিয়ে রীতিমতো অন্যায় করেছেন, কারণ বিশ্বকাপের দল ঘোষণার সময় তিনি পুরোপুরি ফিট না থাকলেও নাকি দল থেকে বাদ পড়ার পর্যায়ে ছিলেন না।
বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরু হয়েছে বেশকিছুদিন। প্রতিটি দলই গ্রুপ পর্যায়ে দুটো করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে ইতিমধ্যেই। এমন একটি সময়ে সেই হাসি নিজেকে বিশ্বকাপ খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ‘আমি বিশ্বকাপ খেলার জন্য ইনজুরির সঙ্গে কঠিন এক লড়াই চালিয়েছি। আনন্দের সঙ্গেই জানাচ্ছি, সেই লড়াইয়ে আমি পুরোপুরি সফল। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি পুরোপুরিই কাটিয়ে উঠেছি আমি।’ বলেছেন হাসি।
কাগজে-কলমে ফিট হলেও ম্যাচ ফিটনেসের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যানকে। ঘরোয়া শেফিল্ড শিল্ডে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচই হবে তাঁর ম্যাচ ফিটনেস প্রমাণের পরীক্ষা। সেটাতে উত্তীর্ণ হলে হাসির বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ারও নাকি সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এই মুহূর্তে ইনজুরিতে পড়া বলিঞ্জারের বদলি খুঁজছেন অস্ট্রেলীয় নির্বাচকেরা। তাঁরাও নাকি অপেক্ষা করছেন হাসির ইনজুরি মুক্তির জন্যই।
বলিঞ্জারের বদলি হিসেবে হাসি বোধ হয় এবারের বিশ্বকাপটা খেলেই ফেলবেন।

‘ওয়াসিম-ওয়াকারকে দেখে ইয়র্কার শিখেছি’

গ্লেন ম্যাকগ্রা, অ্যালান ডোনাল্ড, ওয়াসিম আকরাম, শোয়েব আখতারদের মতো কখনোই খুব বেশি আলোচনায় আসেন নি শ্রীলঙ্কান পেসার লাথিস মালিঙ্গা। মাঝেমধ্যে যাও আলোচনায় এসেছেন তাও তাঁর অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশনের কারণেই। কিন্তু গতকাল তিনি এমনই এক কীর্তি গড়ে ফেললেন, যেটা যে কোন বোলারের জন্যই ঈর্ষণীয়। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে মালিঙ্গা এখন বিশ্বকাপে দুটো হ্যাটট্রিকের গর্বিত মালিক। গত বিশ্বকাপেও কেবল হ্যাটট্রিক নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাঁর ছিল পরপর চার বলে চারটি উইকেট নেওয়ার অনন্য কৃতিত্ব। গতকালও কেনিয়ার বিপক্ষে হ্যাট্রিকসহ মাত্র ৩৮ রানের বিনিময়ে শিকার করেছেন ছয়টি উইকেট। এর পাঁচটিই নিয়েছেন শেষ দুই ওভারে। কেনিয়ার বিপক্ষে তাঁর এই ছয় উইকেটের সবগুলোই এসেছে দুর্দান্ত ইয়র্কারে।
মালিঙ্গার এই দুর্ধর্ষ ইয়র্কারগুলো দেখে ক্রিকেটামোদীদের নিশ্চয়ই মনে পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেস জুটি ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুসের কথা! সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই মালিঙ্গা কিন্তু তাঁর এই দুরন্ত ইয়র্কারগুলো কিন্তু শিখেছেন ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুসের ইয়র্কার দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই। মাঝে মধ্যে তাঁদের কাছ থেকে টিপসও নাকি নিয়েছেন। তবে নিজের এই পর্যায়ে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব নাকি শ্রীলঙ্কা দলের দুই বোলিং কোচ চম্পাকা রামানায়েকে ও রমেশ রাত্নায়েকের। এই দুই সাবেক শ্রীলঙ্কান বোলার নাকি মালিঙ্গাকে রীতিমতো হাতে ধরেই শিখিয়েছেন বোলিংয়ের ভংঙ্করতম অস্ত্রটি।
বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক হয়েছে সাতটি। আর মালিঙ্গা একাই মালিক এর দুটি। কলম্বোর শেষ বিকেলটি তাই বড় মধুর মনে হচ্ছিল সোনালি রঙের অদ্ভুত দর্শন চুলের অধিকারী এই পেসারের। কেবল মালিঙ্গারই নয়, ক্রিকেটকেই কি আরো একটু উজ্জ্বল করেনি তাঁর এই কীর্তি। ব্যক্তিগত নৈপূণের খেলা ক্রিকেট যখন চরম পেশাদারিত্বের জাঁতাকলে পিষ্ট, অ্যামব্রোস, ওয়ালশ, লিলি, আকরাম, ওয়াকারের মতো ক্যারিশমাটিক চরিত্রগুলো যখন ক্রিকেটে বিলুপ্তপ্রায়, ঠিক তখনই মালিঙ্গাদের মতো খেলোয়াড়েরা ক্রিকেটকে করছেন মহিমান্বিত।
নিজের এই অসাধারণ কীর্তির নেপথ্যে ছিল তাঁর চিন্তাশীল পারফরম্যান্স, আর কিছুই নয়। তিনি নিজেও বলেছেন, কলম্বোর উইকেটে বল তেমন বাউন্স করে না, তাই ঠিক করেছিলাম বল ওপরে তোলার চেষ্টা না করে ইয়র্কার দিয়ে যাবো। সেমতোই কেনিয়ার বিপক্ষে বল করে আমি সফল হয়েছি।’ নিজের সেরা বোলিং হিসেবে তিনি ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চার বলে চার উইকেট নেওয়াটিকেই রাখতে চান মালিঙ্গা। তবে, কেনিয়ার বিপক্ষে মালিঙ্গার এই পারফরম্যান্স অন্যদলগুলোকে মালিঙ্গাকে নিয়ে যথেষ্ট ভাবতে বাধ্য করবে-একথা বলে দেওয়াই যায়।

‘পাকিস্তানকে ধারাবাহিক হতে হবে’

পাকিস্তানি দলের ক্রিকেট প্রতিভা নিয়ে কারোরই কোনো সন্দেহ নেই। নিজেদের দিনে এঁরা যে বিশ্ব জয় করে ফেলতে পারে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রমাণতো ৯২’র বিশ্বকাপ কিংবা ২০০৯’র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বড় ক্যানভাসের প্রতিযোগিতায় দলটি সবসময় ভালো খেলে বলে পাকিস্তান দলকে বড় ম্যাচের ক্রিকেট দল হিসেবেও কেউ কেউ অভিহিত করে থাকেন।
প্রতিভাবান হলেও ধারাবাহিকতার অভাব দলটির সবচেয়ে বড় চিহ্নিত সমস্যা। এর পাশাপাশি নানা ধরনের রাজনৈতিক ও দলীয় অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো তো রয়েছেই। এবারের বিশ্বকাপে খেলতে আসার আগের ছয় মাস পাকিস্তানি ক্রিকেটের ওপর দিয়ে রীতিমতো ঝড় বয়ে গেছে। স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ক্রিকেট থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন পাকিস্তান দলে তিন সেরা ক্রিকেটার সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমির। বিশ্বকাপে দলটি খেলতে এসেছিল ফেবারিটের তকমা ছাড়াই। অনেকেতো আফ্রিদির দলের কোনো সম্ভাবনাই দেখতে চাননি। তারপরেও বিশ্বকাপ শুরুর পর সেই দলটিকেই অন্যরকম মনে হচ্ছে অনেক ক্রিকেটবোদ্ধাদের। নিজেদের প্রথম দুটো ম্যাচে জিতে ক্রিকেটবোদ্ধাদের সেই পর্যবেক্ষণও মনে হচ্ছে একেবারে নির্ভুল।
প্রথম দুটো ম্যাচে পাকিস্তান দল দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের একটা সম্ভাবনা তৈরি করায় খুশি অধিনায়ক আফ্রিদিও। তবে তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, বিশ্বকাপের মতো আসরে ধারাবাহিকতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি সাফল্যের জন্য নিজ দলের খেলোয়াড়দের আরো ধারাবাহিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কানাডার বিপক্ষে পরের ম্যাচ নিয়েও সিরিয়াস আফ্রিদি। বলেছেন, প্রথম দুটো ম্যাচের পারফরম্যান্স এই ম্যাচেও ধরে রাখতে হবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ে দারুণ খুশি অধিনায়ক আফ্রিদি। এই জয়কে তিনি ‘দুর্দান্ত জয়’ হিসেবেই আখ্যা দিয়েছেন তিনি। এই দুর্দান্ত জয়ের পর তাঁর মূল চিন্তা জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। আফ্রিদির মতে, সবাইকে পারফর্ম করতে হবে। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে নিজেরা পারফর্ম করার কোনো বিকল্প নেই।
আগামী ম্যাচেই দলে একটি পরিবর্তন আসতে পারে। বাঁ-হাতি স্পিনার আবদুর রেহমানের জায়গায় দলে ঢুকতে পারেন অফ স্পিনার সাঈদ আজমল। পরিবর্তন যাই হোক, আগামী ম্যাচগুলোতে দল যেন ভালো খেলে-এই মুহূর্তে আফ্রিদির কামনা সেটাই।

জয়বর্ধনে, সামারাবিরা ম্যাচ পাতিয়েছেন!

গতকালই অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ব্র্যাড হাডিন ও শেন ওয়াটসনের জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করা ধীরগতির ব্যাটিংয়ের ‘তদন্ত’ হবে বলে জানা গেছে। বাট-আমির-আসিফের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারি ক্রিকেটকে এমনই সন্দেহের চাদরে ঢেকে দিয়েছে যে, যেকোনো ক্রিকেটারের ব্যর্থতাই, কোনো না কোনো দুর্নীতি হিসেবে আতশি কাচের নিচে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ক্রিকেট নিয়ে এই ভয়ংকর ‘সন্দেহ-সন্দেহ খেলা’র তালিকায় এবার পড়ে গেছেন দুই শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান মহেলা জয়বর্ধনে ও থিলান সামারাবিরা।
তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁরা দুজনে নাকি ইচ্ছা করেই ব্যর্থ হয়ে ম্যাচের গতি-প্রকৃতি পাল্টে দিয়েছেন। অভিযোগটি এসেছে, শ্রীলঙ্কারই একটি টেলিভিশন চ্যানেলের উপস্থাপকের কাছ থেকে। ম্যাচটি চলাকালে সেই টেলিভিশন চ্যানেলে বিশ্লেষণধর্মী একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে সেই উপস্থাপক এ অভিযোগটি করেন। এর জন্য একজন শ্রীলঙ্কান ব্যবসায়ীর মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার ডলার এ দুই ক্রিকেটারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে গেছে বলেও সেই উপস্থাপক অভিযোগ করেন।
‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট’ অবশ্য এ অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগ ও দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি, শ্রীলঙ্কার একটি শীর্ষ টেলিভিশন চ্যানেলে আমাদের দলের দুই শীর্ষ ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে আজে-বাজে মন্তব্য করে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে।’
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড এ অভিযোগের প্রতিবাদ করলেও যাঁদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ, সেই জয়বর্ধনে ও সামারাবিরার এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
অভিযোগটি যেহেতু গুরুতর, তাই ব্যাপারটি অনেক দূর গড়াবে বলেই মনে হচ্ছে।