Tuesday, July 16, 2019

‘হাথুরুসিংহের জন্য দরজা খোলা, তবে... by ইশতিয়াক পারভেজ

এমপিদের বিশ্বকাপে খেলছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালেও ওঠে নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের দল। তবে একই দিনে পাকিস্তানের কাছে হেরে রানার্সআপের সান্ত্বনাই পেয়েছেন তারা। যদিও এই টুর্নামেন্টের হার জিতের কোনো প্রভাব পড়েনি মাঠে উপস্থিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের ওপর। তার যত ভাবনা এখন জাতীয় দল নিয়ে। শেষ চারের আশা নিয়ে ইংল্যান্ডে এলেও শেষ পর্যন্ত ৮ম স্থানে থেকে বিদায় নিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। যার প্রভাব দারুণভাবে পড়েছে টাইগারদের ক্রিকেটের ওপর। কোচিং স্টাফে এসেছে বড় ধরনের রদবদল।  বিশেষ করে ২০২০ অস্ট্রেলিয়াতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন প্রধান কোচ ছাড়াও নানা ভাবনায় এখন মগ্ন বিসিবি প্রধান।
কেন্ট কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে জুলাই দৈনিক মানবজমিনের সঙ্গে অকপটে জানান তার পরিকল্পনার কথা। সেই কথোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো-
প্রশ্ন:  ঘন ঘন কোচ বদলের প্রভাব?
নাজমুল হাসান: আসলে আমরা ঘন ঘন কোচ বদলাইনি। আগে হাথুরুসিংহে (চন্ডিকা) ছিল ওর সঙ্গে আমাদের চুক্তি শেষ হতেই চলে গেছে। এরপর আরেক জনকে এনেছি (স্টিভ  রোডস) তার সঙ্গে আমাদের চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে ও চলে গেছে। আসলে এখানে কোচ খারাপ তা কেউ বলছে না। তিনি বেশ ভালো কোচ। আমরা আসলে মনেপ্রাণে চেয়েছি যে আমাদের কালচারের সঙ্গে মিল আছে এমন কাউকে। তা না হওয়াতে কিছু কিছু জায়গাতে সাংঘর্ষিক হচ্ছিল। সে কারণেই আলোচনার মাধ্যমে তার সঙ্গে আমরা সমঝোতায় এসেছি  যে আমরা আলাদা হয়ে যাচ্ছি।
প্রশ্ন: আবারো কি কোচের জন্য লম্বা সময় অপেক্ষা?
নাজমুল হাসান: হ্যাঁ, এটি সত্যি যে এখনো প্রধান কোচ আমাদের হাতে নেই। এর আগে আমরা কোচ খুঁজছিলাম তখন ভালো ভালো সব কোচই কোনো না কোনো দেশের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বিশ্বকাপের জন্য। এখন যেহেতু বিশ্বকাপ শেষ হচ্ছে তাই হয়তো অনেকেই নতুন করে অন্য কারো সঙ্গে চুক্তির কথা চিন্তা করবেন। যে কারণে মনে হয়েছে এখনই সঠিক সময় আমাদের মনের মতো কোচ খুঁজে নেয়ার।
প্রশ্ন: মনের মতো কোচ বলতে কী বোঝাতে চাইলেন?
নাজমুল হাসান: আমি মনে করি ভালো কোচ সবাই। কিন্তু আমি মনে করি আমাদের দেশের কালচারের সঙ্গে পরিচিত থাকতে হবে, বুঝতে হবে। আপনি ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের দিকে তাকান তাদের খুব একটা কোচের প্রয়োজন হয় না। তারা নিজেরা নিজেরাই পরিশ্রম করে নিজেদের উন্নতি করে থাকে। এখানকার কথা বাদ দেই, যদি আপনি ভারতের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন বিরাট কোহলিরা নিজেরাই যে পরিমাণ সময়  দেয় তাদের উন্নতির জন্য খেলার জন্য। আমাদের কিন্তু তেমন কোনো সুযোগ সুবিধাও নেই, আমরা নিতেও পারি না। যে কারণে এখন আমাদেরকে আগের চেয়ে আরো বেশি পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে। যে কিছু করলাম না, খেলার দিন এসে খেলে যাবে তেমন হবে না।
প্রশ্ন: ফিজিও নিয়ে ভুগতে হচ্ছে, যে কারণে ফিটনেস সমস্যা, ইনজুরি সমস্যায় দলকে বড়  খেসারত দিতে হচ্ছে..
নাজমুল হাসান: অবশ্যই এবার আমরা ফিজিও নিয়ে সিরিয়াস হচ্ছি। আমাদের শুধু ফিজিও না কোচ নিয়েই কথা ছিল। আসলে তারা ভালো মানুষ বলেই তাদের বাদ দেইনি। দেখেন বোলিং কোচ ওয়ালশের চুক্তি শেষ চলে গেছে। এখন ফিজিও ও প্রধান কোচই হচ্ছে আমাদের প্রধান ভাবনা।
প্রশ্ন: তাহলে কি উপমহাদেশের কেউ কোচ হচ্ছেন?
নাজমুল হাসান: উপমহাদেশ থেকে কোচ চিন্তা করছি না। আমরা এমন একজন কোচ চিন্তা করছি যার অন্তত এই উপমহাদেশের টিম দেখার ধারণা আছে অথবা অভিজ্ঞতা আছে। হয় আগে করেছিল না হয় তার ধারণা আছে।
প্রশ্ন: কোচের সন্ধানে সবার আগে কোন বিভাগকে রাখছেন...
নাজমুল হাসান: বোলিং কোচ, ফিজিও, হেড কোচ, ফাস্ট বোলিং কোচ আমাদের টার্গেট, আশা করি পেয়ে যাবো। যতদূর সামনে এগিয়েছি স্পিন এবং ফাস্ট বোলিং  কোচ দুইটাই। তকে হেড কোচ অতটা অগ্রসর হয়নি এখনও। হেড কোচের ব্যাপারে আরেকটু সাবধান হতে চাচ্ছি। আরেকটু বেশি জানতে চাচ্ছি। ওই সময় যাকে নিয়েছিলাম গতবার সে হঠাৎ করেই যেদিন এগ্রিমেন্ট সই করব তার আগের দিন রিগ্রেট করলো। আমি নাম বলছি না। তখন সেকেন্ড অপশন এটাই (রোডস) ছিল আমরা নিয়ে নিয়েছি।
প্রশ্ন: শোনা যাচ্ছে হাথুরুসিংহের সঙ্গে কথা হচ্ছে! তার সঙ্গে যে তিক্ততায় সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে তারপরও তাকে নিয়ে ভাবনা কেন?
নাজমুল হাসান: হাথুরুসিংহের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই হয়নি। ওর চুক্তি কতদিন আছে ওখানে (শ্রীলঙ্কায়) তাও জানি না। আমরা ওপেন রাখব সেখানে যদি সে অংশ নেয় তবে ভালো। আমরা তাকেও অন্যদের মতো সমমর্যদা দিয়ে দেখব। অপশন সবার জন্য আছে।  তাকে নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো টার্গেট নেই।
প্রশ্ন: শ্রীলঙ্কা সফরে মাশরাফির যাওয়া ও সাকিব আর লিটনের ছুটির বিষয়ে কি বলবেন?
নাজমুল হাসান:  আমার জানা মতে মাশরাফি ইজ নট ফিট। মুশফিক, রিয়াদ ছাড়াও  রুবেলও ফিট না। তারা হয়তবা যে সময় আছে এরমধ্যে দেখতে হবে ফিট হয় কি না। মাশরাফি ফিট না আমি সেটা জানি। এমআরই করেনি এখনও। না করা পর্যন্ত বলতে পারছি না। সাকিব হজে যাবে সেজন্য সে ছুটি চেয়েছে। এই সিরিজ খেলবে না। লিটন দাস ওর বিয়ের জন্য ছুটি চেয়েছে এবং এগুলো আগেরই বলা। সাকিবেরটা বিশ্বকাপে এসে শুনলাম। মাশরাফিরটা তো জানি চলাকালীন সময়ে। এই তিনটা আছে (শ্রীলঙ্কা সিরিজে যাদের না খেলার সম্ভাবনা বেশি)।
প্রশ্ন: আপনাদের বর্তমান লক্ষ্য কি?
নাজমুল হাসান: ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিকে যদি তাকাই। সেদিকে চিন্তা করলে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ পাওয়ার সেরা সময়। কারণ মেজর প্ল্যানটাই হচ্ছে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ টার্গেট করে আগাতে চাচ্ছি।

ওবামা বিদ্বেষ থেকেই পরমাণু সমঝোতা বাতিল করেন ট্রাম্প: কিম ড্যারোচ

ডোনাল্ড ট্রাম্প (বামে) ও বারাক ওবামা
মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি বিদ্বেষ থেকেই ইরানের সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকাকে বের করে নেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকায় নিযুক্ত সদ্য-সাবেক বৃটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার কিম ড্যারোচ এক মেমোতে একথা জানিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, ওবামাকে খেপিয়ে তুলতেই ট্রাম্প সমঝোতা থেকে বের হয়ে যান। গত রোববার মেমোটি ফাঁস করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল। পরমাণু সমঝোতা সই হওয়ার ঘটনাকে ওবামা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সফলতা বলে গণ্য করা হয়। কিন্তু চুক্তিটিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
স্যার কিম ড্যারোচকে উদ্ধৃত করে দ্যা মেইল জানায়, এটি ইচ্ছাকৃত কূটনৈতিকভাবে ক্ষতিকর একটি পদক্ষেপ ছিল। চুক্তিটি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে সে বিষয়ে কোনো কৌশল নির্ধারিত ছিল না ট্রাম্প প্রশাসনের। মেমোটি লেখা হয় তৎকালীন বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন আমেরিকে চুক্তিতে থাকার অনুরোধ করতে ওয়াশিংটন সফর করে আসার পরপরই। নথি অনুসারে, জনসন ওয়াশিংটনে সফর থেকে ব্রিটেনে ফিরে যাওয়ার পর ড্যারোচ লেখেন, ব্যক্তিগত কারণে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছেন ট্রাম্প।
নথিতে বলা হয়, সমঝোতা থেকে সরে আসার ব্যাপারে বিভক্ত ছিলেন ট্রাম্পের উপদেষ্টারা। এছাড়া এ থেকে বের হয়ে আসার পরবর্তী দিনগুলোয় করণীয় পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে কোনো সুষ্ঠু কৌশল ছিল না ট্রাম্প প্রশাসনের। মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপের মিত্রদের সঙ্গে কীভাবে এ বিষয় নিয়ে কাজ করবে তা নিয়েও কোনো পরিকল্পনা ছিল না তাদের।
গত সপ্তাহেও স্যার কিম ড্যারোচের একটি গোপন কূটনৈতিক নথি প্রকাশ করে দ্যা মেইল। তাতে ট্রাম্পকে ‘অযোগ্য ও অকর্মা’ বলেছিলেন তিনি। ওই নথি প্রকাশের পরপর ট্রাম্প জানান, তিনি ড্যারোচের সঙ্গে কাজ করবেন না।
স্যার কিম ড্যারোচ

শহীদ দিবস বনাম হরি সিংয়ের জন্মদিন: জম্মু ও কাশ্মিরের মধ্যে নতুন যুদ্ধ

জম্মু-কাশ্মিরের গভর্নর সত্যপাল মালিক শনিবার শ্রীনগরে সরকারি ‘শহীদ দিবসে’র একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। সেখানে মহারাজা হরি সিংয়ের জন্মদিন ২৩ সেপ্টেম্বরকে রাজ্যে ছুটির দিন ঘোষণার দাবি ওঠার কারণে তিনি এমনটা করেন বলে ধারণা করা হয়।
হরি সিং ছিলেন জম্মু-কাশ্মিরের শেষ হিন্দু ডোগরা শাসক এবং তিনিই ভারতের সঙ্গে মিশে যাওয়ার জন্য চুক্তি সই করেছিলেন।
অন্যদিকে, প্রতিবছর ১৩ জুলাই দিনটি পালিত হয় ১৯৩১ সালে হরি সিংয়ের শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে নিহত ২৪ কাশ্মিরির স্মরণে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে।
এটা রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন এবং দিনটি স্মরণে শ্রীনগরে ‘শহীদ গোরস্তানে’ ওই ২৪ জনের কবর জিয়ারতসহ সরকারিভাবে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে যোগ দেন সরকারের কর্মকর্তারা।
কিন্তু জম্মুর হিন্দু গ্রুপগুলো অনেক দিন ধরেই এই ছুটির দিন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে।
শনিবার ছিলো ওই হত্যাকাণ্ডের ৮৮তম বার্ষিকী। মালিক নিজে না গিয়ে একজন প্রতিনিধি পাঠান। সেখানে সরকারি ছুটির দিনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভকারীরা হরি সিংয়ের জন্মদিনকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণার দাবি জানায়।
ফলে ভারতের একমাত্র মুসলিম প্রধান রাজ্যে সহিংসতার আরেকটি ইস্যু তৈরি হচ্ছে।

এরশাদের দল-সম্পত্তির কী হবে?

জীবদ্দশায় আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। মৃত্যুর পরও তাকে নিয়ে আলোচনা চারদিকে। দলে-দলের বাইরে নানা প্রশ্ন। সেনাপ্রধান থেকে রাষ্ট্র প্রধান হয়ে উঠা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে গড়া জাতীয় পার্টির এখন কি হবে? তার রেখে যাওয়া সম্পদেরই বা কি হবে? শনিবার সকালে ৮৯ বছরের দীর্ঘ জীবনের ইতি টেনে জীবনাবসান হয় এরশাদের। আজ তার দাফনের কথা রয়েছে। এরশাদের দাফন নিয়ে ব্যস্ত নেতাকর্মীরা। কোথায় দাফন হবে এ নিয়ে ধোঁয়াশায় নেতাকর্মীরা। তাকে রংপুরে দাফন করতে নেতাকর্মীরা অনড়।
এরশাদের মৃত্যুর পর তার হাতে গড়া দলের ভবিষ্যৎ কী হবে এ প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাপ্রধান থেকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসা এরশাদের হাতে গড়া জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারাচ্ছন্ন। এর কারণ, রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টি গড়ে উঠতে পারেনি। এরশাদের অবর্তমানে দলটি নেতৃত্ব সংকটে পড়বে। এছাড়া ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নেতাকর্মীদের দলে ধরে রাখা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার  হোসেন এ বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, প্রথমতো জাতীয় পার্টি দুইভাগে বিভক্ত এটি   অনেকটা দৃশ্যমান। একটি অংশ রওশন এরশাদের সঙ্গে আছেন। আরেকটি এরশাদের ভাই জিএম কাদেরের পক্ষে। পার্টি চেয়ারম্যানের অবর্তমানে এখন নেতাকর্মীদের কেউ কেউ ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবেন। এছাড়া সামনের জাতীয় নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি বুঝে অনেকে পক্ষ বদল করবে। তিনি বলেন, সামনে জাতীয় পার্টি অস্থিত্ব সংকটে পড়বে। কারণ জাতীয় পার্টির কোনো আদর্শও নেই, দলটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিছু লোকজন নিয়ে হয়েছিল। এদের কর্মীদের মধ্যে আর্দশিক কোনো অস্তিত্ব নেই। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে সেনা ছাউনি থেকে রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করা যায় না। সেটা বাংলাদেশেই সম্ভব হয়েছে। জাতীয় পার্টি রাজনৈতিক কোনো দল নয়, সেটা রাজনৈতিক মঞ্চ হতে পারে ।
এদিকে, এরশাদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর থেকেই জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানামুখি আলোচনা চলছে। সর্বশেষ তার মৃত্যুর পর দাফন নিয়েই গত দুই দিনে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি নেতারা। শনিবার জানানো হয়েছে ঢাকা এবং রংপুরে জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মঙ্গলবার বনানীর সামরিক কবরস্থানে এরশাদকে দাফন করা হবে। এ সিদ্ধান্ত জানানোর পর পার্টির নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন, এরশাদকে রংপুরে সমাহিত করতে হবে। রংপুর জাপার নেতাকর্মীরা গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, গত দুই দিনেও এ বিষয়ে পার্টির পক্ষ থেকে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। এতে নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এরশাদের দাফনের পরই দলের নেতৃত্বের বিষয়টি সামনে আসবে। মৃত্যুর আগে ভাই জিএম কাদেরকে নিজের রাজনৈতিক উত্তরসুরী ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে যান এরশাদ। এ নিয়ে এরশাদ পত্নী রওশান এরশাদ শিবিরে অসন্তোষ ছিল শুরু থেকে। এখন জিএম কাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দলকে কতোদূর এগিয়ে নিতে পারেন সেটাই দেখার বিষয়। এদিকে, সংসদে বিরোধী দলের নেতার পদেও ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার মৃত্যুতে এ পদটি শুন্য হয়েছে। এ পদে কে আসবেন এটি নিয়েও পার্টিতে টানাপড়েনের আভাস মিলেছে। বিরোধী দলের উপ নেতা রওশন এরশাদকে বিরোধী দলের নেতার পদে  দেখতে চাইবেন তার পক্ষের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, দলের চেয়ারম্যান হিসেবে এ পদে জিএম কাদেররে রাখার পক্ষে অনেক নেতাকর্মী। এ অবস্থায় বিষয়টি কিভাবে সুরাহা হবে এটি একটি বড় প্রশ্ন।
এদিকে, উত্তরাধীকারীদের জন্য এরশাদ কী পরিমান সম্পদ রেখে গেছেন এবং এসব সম্পত্তির কি হবে এ নিয়েও নানা প্রশ্ন দলের ভেতরে-বাইরে। এরশাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারদের মধ্যে রয়েছেন প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদ,  ছেলে রাহগির আল মাহি (শাদ এরশাদ), দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশার ছেলে শাহতা জারাব (এরিক এরশাদ)। এছাড়া দুই পোষ্য সন্তানের জন্যও এরশাদ নিজের সম্পদের ভাগ দিয়ে গেছেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর জন্য এরশাদ কিছু সম্পত্তি নির্ধারিত করে দিয়ে গেছে। এর মধ্যে স্ত্রী রওশন এরশাদ ও শাদ এরশাদের জন্য গুলশানে আলাদা ফ্ল্যাট, পালিত পূত্র আলমকে দিয়েছেন একটি ফ্ল্যাট। এছাড়া প্রেসিডেন্ট পার্কের ফ্ল্যাট, গুলশানের বাড়ি, দোকানসহ নগদ অর্থ ও ব্যাংক হিসাবে থাকা টাকা ট্রাস্ট করে রেখে গেছেন। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে এরিকের ভরণ পোষণ হবে। রংপুরের কিছু সম্পত্তিও এই ট্রাস্টের অধীনে রেখে গেছেন এরশাদ। এছাড়া কাকরাইলের পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভবনটি তিনি পার্টির নামে লিখে দিয়ে গেছেন। 
এরশাদের সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্ব পাওয়া ট্রাস্টের সদস্য হিসেবে রয়েছেন, ছোট পুত্র এরিক এরশদ, এরশাদের একান্ত সচিব অবসরপ্রাপ্ত মেজর খালেদ আক্তার, চাচাতো ভাই মুকুল ও তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

পরিকল্পিত উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত করা প্রয়োজন। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জলাধার, ফসলি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। গতকাল রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোড এলাকায় সাতটি আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পের  উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব একথা বলেন। তিনি বলেন, একটি মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুতের পর আমাদের জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে সুপরিকল্পিতভাবে উন্নতি ঘটাতে হবে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ ৭টি প্রকল্পের মধ্যে গণপূর্ত বিভাগ ৪টি এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ৩টি প্রকল্প শেষ করে। শেখ হাসিনা বলেন, মানুষকে একটি মানসম্মত জীবনযাত্রা উপহার দেয়ার জন্য আমরা স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, আবাসন, কলকারখানা যা-ই নির্মাণ করি না কেন, তা সুপরিকল্পিত উপায়ে সম্পন্ন করতে চাই। আমরা এলোমেলোভাবে কোন নির্মাণ কাজের অনুমতি দিতে চাই না। দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে কোন পরিকল্পনা করার সময় আপনাদের জলাশয়গুলোর কথা মাথায় রাখতে হবে।
কারণ, এগুলো পানির আধার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এগুলো পানি ধরে রাখে, যা জলাবদ্ধতা হ্রাসে সহায়তা করে। প্রয়োজনে সড়কগুলো যেন বাড়ানো যায় তা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করার জন্য শেখ হাসিনা স্থপতিদের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা ভবন নির্মাণে পুকুর, খাল ও জলাশয়গুলো ভরাট করার মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের মনমানসিকতার জন্যই এখন আর ঢাকা শহরের খাল ও পুকুর দেখা যায় না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই জলাশয়গুলো রক্ষায় পরিকল্পনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি। বিগত ১০ বছরে সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজের কথা তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশকে ২০২১ সাল নাগাদ একটি উন্নয়নশীল ও ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে তার সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পূর্নব্যক্ত করেন। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছি এবং এখন আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের আগেই এই দেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় নগরীগুলোকেই উন্নত করতে চাই না, বরং গ্রামগুলোতেও সব ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই। পরে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের গ্রেড-ওয়ান সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত তিনটি ভবনের মধ্যে আবাসন প্রকল্প ঘুরে দেখেন। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লাহ্‌ খন্দকার অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সাতটি প্রকল্পের একটি প্রামাণ্য ভিডিও চিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

যে কারণে ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট উইলিয়ামসন

বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার, অর্থাৎ ম্যান অফ দা টুর্নামেন্টের পুরস্কার পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। লর্ডসে শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে টাই করে ইংল্যান্ড। এরপর সুপার ওভারেও দুই দলের রান সমান ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, মূল ম্যাচে মোট বাউন্ডারিতে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড, তাই ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতে নেয়।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে আলোচিত চরিত্র হয়ে থাকবেন কেন উইলিয়ামসন। কিন্তু কেন তিনি ম্যান অফ দা টুর্নামেন্টের পুরস্কার পেলেন?
কেন উইলিয়ামসনের ব্যাটিং
টুর্নামেন্টের সেরা রান সংগ্রাহকদের তালিকার দিকে তাকালে উইলিয়ামসনের রান খুব বেশি মনে নাও হতে পারে। তবে তিনি যে রান করেছেন তাতে নিউজিল্যান্ড দল বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছে বেশ কয়েকবার। নিউজিল্যান্ড এই টুর্নামেন্ট শুরু করে দুর্দান্তভাবে টানা তিন ম্যাচ জিতে।
প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০ উইকেটে জয় ছাড়া নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি তেমন উল্লেখ করার মতো রান করতে পারেনি। ব্যাট হাতে নিউজিল্যান্ডের ত্রাতার ভূমিকায় ছিলেন কেন উইলিয়ামসন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৭৯, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০৬ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৪৮ রান তোলেন নিউজিল্যান্ডের এই অধিনায়ক।
মূলত প্রথম পাঁচ ম্যাচের জয় নিউজিল্যান্ডকে সেমিফাইনালে উঠতে সাহায্য করে। সেমিফাইনালেও ভারতের বিপক্ষে ৬৭ রানের একটি ইনিংস খেলেন যা পরবর্তীতে ম্যাচ জেতাতে সাহায্য করে। ফাইনাল ম্যাচে ৩০ রানে আউট হন কেন উইলিয়ামসন।
অধিনায়কত্ব
কেন উইলিয়ামসনের অধিনায়কত্বের বেশ প্রশংসা শোনা গিয়েছে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে। বিশেষত প্রথম তিন ম্যাচ জয়ের পর যখন কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে নিউজিল্যান্ড।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮০ রানে ৪ উইকেট যাওয়ার পর হাল ধরেন উইলিয়ামসন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও ৭ রানে ২ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড, এদিনও কেন উইলিয়ামসন এসে ইনিংস মেরামতের কাজ করেন।
ব্যাট হাতে নেতৃত্বের পাশাপাশি দল যাতে পরবর্তী ধাপগুলোতে ঠিকঠাক পৌঁছায় সে জন্য কম পুঁজি নিয়েও দারুণ অধিনায়কত্ব করেন উইলিয়ামসন। বিশ্বকাপে একমাত্র দল নিউজিল্যান্ড, যারা একবারও ৩০০ রান ছুঁতে পারেনি।
কিন্তু তিনটি লিগ পর্বের ম্যাচে মাথা ঠান্ডা রেখে দল পরিচালনা করেন উইলিয়ামসন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ উইকেটের জয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয় ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ রানের জয়ে উইলিয়ামসন শেষ পর্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ফিল্ডিং সাজানো ও বোলিং পরিবর্তনের কাজ করেন যা কাজে দেয়।
ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও ফিফটিসহ ২৪০ রানের পুঁজি ডিফেন্ড করতে দারুণভাবে দলকে উজ্জীবিত করেন অধিনায়ক কেন। রবীন্দ্র জাদেজা ও মাহেন্দ্র সিং ধোনির জুটি জয়ের দিকে এগুচ্ছিল যখন মিচেল স্যান্টনারকে দারুণভাবে ব্যবহার করেন তিনি।
সাকিব যে কারণে ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্টের পুরস্কার পাননি
সাকিব আল হাসান এই বিশ্বকাপ তো বটেই, অলরাউন্ডার বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানের দল বাংলাদেশ আট নম্বরে জায়গা পায়। সেটাই নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যান অফ দা টুর্নামেন্টের একটা অন্যতম বিশেষ দিক হলো ব্যক্তির সাফল্য, দলের সাফল্যে কতটা প্রভাব পড়েছে সেটা, যেমনটা এর আগে দেখা গিয়েছে। ১৯৯২ সাল থেকে ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট দেয়া হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে।
১৯৯২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যত বিশ্বকাপ হয়েছে সেখানে অন্তত সেমিফাইনাল যারা খেলেছে তাদের মধ্য থেকেই বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন।
আগের ইতিহাস কী বলছে?
বিশ্বকাপে ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট দেয়া হচ্ছে ১৯৯২ সাল থেকে। সে বার টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন মার্টিন ক্রো, ৪৫৬ রান করেছিলেন তিনি। তার দল খেলেছিল সেমিফাইনাল।
১৯৯৬ সালে টুর্নামেন্ট সেরা হন সনৎ জয়সুরিয়া, সেবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল শ্রীলঙ্কা, ২২১ রানের সাথে ৭টি উইকেট নেন শ্রীলঙ্কান এই ক্রিকেটার। ১৯৯৯ সালে ম্যান অফ দা টুর্নামেন্ট হন ল্যান্স ক্লুজনার, তার দল দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনালে নাটকীয়ভাবে হেরে যায়, ২৮১ রানের পাশাপাশি বল হাতে ক্লুজনার নিয়েছিলেন ১৭টি উইকেট।
২০০৩ সালে ব্যাটিং ইতিহাসে বিশ্বকাপের সেরা একটি পারফরম্যান্স দেখান শচীন টেন্ডুলকার, ৬৭৩ রান নিয়েছিলেন তিনি, ফাইনালে খেলে হেরে গিয়েছিল তার দল ভারত।
২০০৭ সালে চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার গ্লেন ম্যাকগ্রা ২৬টি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার পান। ২০১১ সালে যুবরাজ সিং, ৩৬২ রান ও ১৫ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন, সে বার বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। সাকিব আল হাসানের এবারের পারফরম্যান্সের আগে যুবরাজ সিংয়ের এই পরিসংখ্যান ছিল বিশ্বকাপের সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্স।
২০১৫ সালে আবারো অস্ট্রেলিয়া চ্যাম্পিয়ন হয়, আবারো এক অস্ট্রেলিয়ান পেস বোলার পান বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার। ২২টি উইকেট নিয়েছিলেন মিচেল স্টার্ক।
এই বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের পরিসংখ্যান
সাকিব মোট আটটি ম্যাচে ব্যাট হাতে মাঠে নামেন, ৬০৬ রান তুলেছেন, ৮৬.৫৭ গড়ে। সাকিবের গড় টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বল হাতে সাকিব ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ১১টি উইকেট।
অর্থ্যাৎ বল ও ব্যাট উভয় মাধ্যমেই সাকিব দলের তিনটি জয়ে ভূমিকা রেখেছেন। প্রথম দুটি জয়ের একটিতে সেঞ্চুরি করেছেন, একটিতে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সেঞ্চুরি করেছেন।
মোট আট ম্যাচ খেলা সাকিব ৭টি ইনিংসেই ন্যূনতম ৫০ রান অতিক্রম করেছেন। বিশ্বকাপে তার সর্বনিম্ন সংগ্রহ ৪১ রান। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ৬০০ এর ওপর রান ও ১০টিরও বেশি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। >>>সূত্র : বিবিসি।

আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকার স্বীকৃতি দিলো যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন by আনোয়ার ইকবাল

যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে পাকিস্তানকে চার দেশীয় আলোচনার প্রক্রিয়ায় স্বাগত জানিয়েছে, যেখানে আফগানিস্তানের ১৮ বছরের যুদ্ধের ইতি টানার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র দফতরের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, “চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে আলোচনায় স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে যে, পাকিস্তান আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে”।

এতে আরও বলা হয়েছে, “পাকিস্তান আফগান শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য চীন-রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিপক্ষীয় আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে”।

বিবৃতিতে আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। আফগানিস্তানের যে কোন ঘটনা পাকিস্তানের উপরেও প্রভাব ফেলে বলে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে যে কথা বলে আসছে, সেটাকেও সমর্থন করা হয়েছে এখানে। ইসলামাবাদ এটাও বিশ্বাস করে যে, পাকিস্তানে যেহেতু পশতুভাষী একটি বিশাল জনগোষ্ঠি রয়েছে, তাই আফগানিস্তান শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে এবং শান্তি আলোচনার সময় বিশ্বশক্তি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের স্বার্থের বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করলে চলবে না।

২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ওয়াশিংটন সফরে যাওয়ার আগ দিয়ে এই কূটনৈতিক স্বীকৃতি আসলো পাকিস্তানের। সেই সাথে মিডিয়ার বক্তব্যেরও সত্যতা পাওয়া গেলো যে ট্রাম্প-ইমরান আলোচনায় এবং দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনায় আফগানিস্তানের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে জায়গা পাবে।

ওয়াশিংটনের কুটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর সফরকে আফগান শান্তি প্রক্রিয়ার ব্যাপারে পাকিস্তানের সমর্থন হিসেবেও দেখছেন। তারা বলেছেন যে, তালেবানদের যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসানো এবং আলোচনা অব্যাহত রাখার পেছনে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র কূটনীতিক ও জেনারেলরা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তান মার্কিন-তালেবান আলোচনায় সহায়তা দিয়েছে এবং এই শান্তি প্রক্রিয়া যাতে এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিয়ে আসতে পারে, সে জন্য পাকিস্তানকে তাদের ভূমিকা আরও জোরালো করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

প্রধানমন্ত্রী ইমরানের আসন্ন ওয়াশিংটন সফরকে স্বাগত জানিয়ে হোয়াইট হাউজ এর আগে বলেছে যে, ট্রাম্প-খানের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার উপর জোর দেয়া হবে, যেটা এই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে, যেখানে বহুদিন ধরে সঙ্ঘাত চলে আসছে।

বেইজিংয়ের বিবৃতি যৌথভাবে দিযেছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, পাকিস্তান ও চীন সরকার। আফগান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে চার দেশীয় বৈঠকের পর ওই বিবৃতি দেয়া হয়। ১০-১১ জুলাই চীনের রাজধানীতে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ত্রিদেশীয় ফোরামের এটা ছিল তৃতীয় বৈঠক, যে দেশগুলো হলো চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান প্রথমবারের মতো এই ফোরামে যুক্ত হলো।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে যে, চার দেশ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মত বিনিময় করেছে এবং আফগানিস্তান ও এ অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য একটা রাজনৈতিক সমাধানের ব্যাপারে আলোচনা করেছে। ২৫ এপ্রিল মস্কোতে আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় যে ত্রিপক্ষীয় ঐক্যমত অর্জিত হয়েছে, সেটির গুরুত্বের উপরও জোর দেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সব পক্ষ সাম্প্রতিক ইতিবাচক অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সাথে তারা মস্কো ও দোহাতে অনুষ্ঠিত আফগান-অভ্যন্তরীণ সংলাপকেও স্বাগত জানিয়েছে”।

মুসলিম অটো চালককে পেটালেন বিজেপি নেতা, গণপিটুনিতে মুসলিম কনস্টেবল নিহত

ভারতের মধ্য প্রদেশে এক মুসলিম অটোরিকশা চালককে মারধর ও তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগে কমল শুক্লা নামে বিজেপির এক নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। যদিও তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
সেলিম খান নামে আক্রান্ত ওই অটো রিকশা চালক বলেন, গত শনিবার মরিমাতা চৌমাথায় চারচাকা গাড়ি থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে তার নাম জিজ্ঞেস করেন। এসময় তার নাম সেলিম খান বলতেই তাকে মারধর করা শুরু করে। তার গাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে রিভলবার থেকে শূন্যে গুলি নিক্ষেপ করেন। একটি গুলি তার পা স্পর্শ করে বেরিয়ে গেলে তিনি কোনোক্রমে রক্ষা পেয়েছেন। পরে জানা যায় উনি বিজেপি নেতা কমল শুক্লা। আক্রান্ত অটো রিকশা চালকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়েরসহ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। যদিও এদিন সন্ধায় তিনি জামিন পেয়ে যান। 
রাজ্য বিজেপি মুখপাত্র উমেশ শর্মার দাবি, অটোরিকশা চালক সেলিম খান চাকু বের করায় আত্মরক্ষার জন্য সঞ্জয় শুক্লাকে গুলি চালাতে হয়েছে। আক্রান্ত সেলিম খান অবশ্য বলেন তাকে মারধর করার পরেই গুলি চালানো হয় যা তার পা স্পর্শ করে বেরিয়ে গেছে। তার অটো রিকশাও ভাঙচুর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত শনিবার রাজস্থানে জমি বিবাদের তদন্ত করতে গিয়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গণপিটুনিতে আব্দুল গণি (৪৫) নামে এক পুলিশের হেড কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। 
গণমাধ্যমের একটি সূত্রে প্রকাশ, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ জমি বিবাদের তদন্ত শেষে মোটর বাইকে ফেরার সময় মুখোশধারী চার/পাঁচ জন অজ্ঞাত হামলাকারী লাঠি নিয়ে ওই পুলিশ সদস্যের উপরে হামলা চালায়। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি মারা যান।
এদিকে, নিহত পুলিশ কনস্টেবলের গ্রামের মুসলিম পঞ্চায়েতের সভাপতি নাজির মুহাম্মাদ নিহতের পরিবারকে পঞ্চাশ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও তার পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে তার লাশ দাফন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
পুলিশের হেড কনস্টেবল আব্দুল গণি

কংগ্রেসের ভিন্ন বর্ণের নারীদের ‘দেশে ফিরতে’বললেন ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেসের সদস্য কয়েকজন নারী সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক টুইট করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
তিনি দাবি করেন, ওই নারীরা নিজেরা ‘এমন দেশ থেকে এসেছেন যেখানকার সরকার সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।’ এরপরেই ট্রাম্প ওই নারীদের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘ফিরে যাও।’
কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সাথে চারজন ভিন্ন বর্ণের কংগ্রেস সদস্যদের কিছুটা বচসা হওয়ার ঘটনার পরের সপ্তাহে এমন টুইট করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট কী বলেছেন?
এক সাথে করা তিনটি টুইটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের তিন নারীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে 'ভয়ঙ্করভাবে' সমালোচনা করার অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘খুবই অবাক লাগে দেখতে যখন ‘প্রগতিশীল’ ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসের নারী সদস্যরা, যারা এমন দেশ থেকে এসেছেন যেখানে তাদের সরকার বিপর্যস্ত, বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সবচেয়ে অদক্ষ, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এসে এখানকার মানুষদের বলছে কীভাবে আমাদের সরকার পরিচালনা করতে হবে।’
‘তারা কেন তাদের নিজেদের অপরাধপ্রবণ দেশে ফিরে গিয়ে তাদের পরিস্থিতির উন্নয়ন করে না! তারপর ফিরে এসে আমাদের জানালেই পারে যে কীভাবে সে কাজ করলো তারা।’
এরপর ট্রাম্প স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি'র উল্লেখ করেন, যার ফলে কংগ্রেসের কোন কোন নারী সদস্যদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন তাদের নাম উল্লেখ না করলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে কাদের বিষয়ে এসব মন্তব্য করেছেন তিনি।
ধারণা করা হচ্ছে ট্রাম্প ভিন্ন বর্ণের চারজন ডেমোক্র্যাট নারী কংগ্রেস সদস্যকে ইঙ্গিত করেছিলেন যাদের তিনজনই অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন।
গত এক সপ্তাহব্যপী ন্যান্সি পেলোসির সাথে ওসারিও-কর্টেজের কিছুটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।
ওসারিও-কর্টেজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন যে, সীমান্ত নিরাপত্তা বিল নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সাথে দ্বন্দ্বের সময় ভিন্ন বর্ণের নারী কংগ্রেস সদস্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন তিনি।
এর কী প্রতিক্রিয়া হয়েছে?
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের অবশ্য নেতিবাচক সমালোচনাই বেশি হয়েছে।
স্পিকার পেলোসি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইট সম্পর্কে লিখেছেন যে মন্তব্যটি ‘জেনোফোবিক’(বিদেশীদের সম্পর্কে অহেতুক আতঙ্ক তৈরি করার প্রবণতা)। নিজের টুইটে পেলোসি লেখেন, ‘আমাদের বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি এবং একতাই আমাদের ক্ষমতা।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ডেমোক্র্যাটরা তো বটেই, রিপাবলিকান রাজনীতিবিদদেরও অনেককেই সমালোচনা করতে দেখা গেছে। সাবেক রিপাবলিকান শীর্ষ নেতা জন ম্যাককেইনের মেয়ে মেগ্যান ম্যাককেইন, যিনি নিজেও রিপাবলিকান সমর্থক কলামিস্ট, বলেন: ‘এই মন্তব্য বর্ণবাদী।’
তিনি বলেন, ‘এই দেশে আমরা যাদের একবার স্বাগত জানিয়েছি, তাদের আবার ফিরে যেতে বলি না।’ সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে অধিকাংশ মানুষ। সূত্র : বিবিসি
কংগ্রেসের ভিন্ন বর্ণের নারীদের ‘দেশে ফিরতে’বললেন ট্রাম্প

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে: ১৪ দিনে আক্রান্ত ২১৬৪ by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

রাজধানীতে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। দিন দিন ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরো জটিল রূপ ধারণ করছে। রাজধানীর বাইর থেকেও ডেঙ্গু রোগীর খবর আসছে। ঘণ্টায় ছয়জনের বেশি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ২৪ ঘণ্টায় ১৫২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত  হয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। তবে ডেঙ্গু রোগী নিয়ে সরকার যে হিসাব দিচ্ছে, বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। চলতি মাসে গড়ে প্রতিদিন ১৫৪ জনের উপরে ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। ১৪ই জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৬৪ জন।
জুন মাসে ১৭৫৯ জন ডেঙ্গু জ্বরের রোগী চিহ্নিত হয়েছেন। এবছর চিকিৎসকসহ এই পর্যন্ত তিন জন মারা গেছেন। তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে বিভিন্ন সূত্র বলছে। গতকাল পর্যন্ত এই বছর ৪ হাজার ২৪৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৯৩৮ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৩০৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতদিন শুধুমাত্র রাজধানীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলেও এখন ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলা ও চট্টগ্রাম জেলাতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ডেঙ্গুর এই মৌসুমে জ্বর হলে অবহেলা না করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, রোগীদের জন্য বলব, আমরা জ্বর হলে অনেক সময় সাধারণ জ্বর মনে করি। ডেঙ্গু জ্বরও রোগীর কাছে সাধারণ জ্বর বলেই মনে হয়। যে কোন জ্বরকে তারা যেন সাধারণ জ্বর মনে না করেন, অবহেলা না করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নেন, ডেঙ্গু পরীক্ষা করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার আগেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী আসছেন হাসপাতালে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, চলতি বছর হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় ডেঙ্গু বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুন, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর মশার উপদ্রব বাড়ে। কিন্তু এবার যেহেতু আগেই বৃষ্টি হয়েছে তাই মশা উপদ্রব আগ থেকেই দেখা গেছে। থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। জমে থাকা বৃষ্টির পানি থাকলে মশার প্রজনন বাড়ে। তাই বাড়ি বা বাড়ির আঙিনার কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে সে ব্যাপারে সচেতনও সতর্ক দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকতে হবে। এ ছাড়া যথেষ্ট পরিমাণে পানি, শরবত ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে হবে। জ্বর কমানোর জন্য শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ব্যথার ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তবে অ্যাসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ব্যথার ওষুধ খাওয়া যাবে না। এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ৪ থেকে ৫ দিন জ্বর থাকলে ঘরে বসে না থেকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
রাজধানীর ধানমন্ডি সেন্টাল হাসপাতালে ৭৪ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ২০ জন, বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে ৪৭ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ৫১ জন, ইসলামী হাসপাতাল কাকরাইলে ৫৪ জন, আজগর আলী হাসপাতালে ২৪ জন, সালাউদ্দিনে ৩০ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ২৭ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯৮ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৯৬ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ২০ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৮১ জন, বারডেম হাসপাতালে ৬ জন, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ৫০ জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৫১ জন, বিজিবি হাসপাতালে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া ঢাকা শহর ব্যতীত ১৫জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে। কন্ট্রোল রুম সূত্র জানা গেছে, জানুয়ারিতে ৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফের্রুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ১৮ জন, মার্চে ১৭ জন, এপ্রিলে ৫৮ জন, মে মাসে ১৯৩ জন, জুন  মাসে ১৭৫৯ জন এবং জুলাই মাসে এ পর্যন্ত ২১৬৪ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে ৯৩৮ জন ছাড়া অন্য রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছেন।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুলাহ বলেন, মে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। শীতের সময়ে কমে আসবে। তিনি বলেন, এই সময়ে জ্বর বা গায়ে ব্যথা হলে ডেঙ্গুর কথা মাথায় রাখতে হবে। সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর তেমন মারাত্মক রোগ নয়। ডেঙ্গু জ্বরের রোগীর যখন বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের প্রমাণ মেলে (যেমন মাড়ি বা নাক থেকে রক্তক্ষরণ, মলের সঙ্গে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি) তখন একে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলা হয়। অধিক রক্তক্ষরণের ফলে শরীরের জলীয় উপাদান কমে যায়। ডেঙ্গু জ্বর হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। জ্বর বাড়লে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ অথবা আরো বেশি জ্বর হলে তা কমিয়ে রাখার জন্য সাপোজিটরি ব্যবহার করতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও করণীয়: জ্বর ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফা., মাথা ব্যথা,  চোখের পিছনে ও হাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা, চামড়ায় লালচে ছোয়া (র‌্যাশ) থাকে। রোগীকে প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার খাওয়াতে হবে এবং মশারীর ভিতরে বিশ্রাম নিতে হবে। জ্বরে শুধু শুধুমাত্র প্যারাসিটামল  ব্যবহার করা যেতে পারে। কোনো অবস্থাই এসপিরিন, এনএসএআইডি জাতীয় ওষুধ সেবন করা যাবে না। হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর ও  ডেঙ্গু শক্‌সিনড্রোম হলে দাঁতের মাড়ি, নাক, মুখ ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্তপাত হতে পারে। সেক্ষেত্রে রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে।

করতারপুর নিয়ে বৈঠকে ভারত-পাকিস্তান, নজরে যোগাযোগ ও পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা

আগের বৈঠকে সমাধানসূত্র মেলেনি। রবিবার, করতারপুর করিডর নিয়ে ফের আলোচনার টেবিলে ভারত ও পাকিস্তান। আজ আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে বসতে চলেছে দু’পক্ষের বৈঠক।
ইসলামাবাদের সঙ্গে এই বৈঠকে মূলত দু’টি বিষয়কে তুলে ধরতে চাইছে নয়াদিল্লি। পূণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য পঞ্জাবের গুরুদাসপুরের ডেরা বাবা নানক তীর্থক্ষেত্র থেকে পাকিস্তানের করতারপুরের দরবার সাহিব পর্যন্ত সেতু নির্মাণ করছে ভারত। কিন্তু, ওই একই জায়গায় কজওয়ে তৈরিতে জোর দিচ্ছে পাকিস্তান। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, কজওয়ে তৈরি হলে ভারতের পক্ষে তা বিপজ্জনক হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক কর্তার কথায়, ‘‘পাকিস্তান তার নিজের দিকে কজওয়ে তৈরি করলে ভারতের গুরুদাসপুর এলাকায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। বর্ষার সময় ভয়াবহ চেহারা নিতে পারে ইরাবতী নদী। তাতে পুণ্যার্থী তো বটেই, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন স্থানীয় ভারতীয় নাগরিকরাও।”
এ দিনের বৈঠকে পাক প্রতিনিধির সামনে ফের একবার এই আশঙ্কার কথাই তুলে ধরতে চলেছে নয়াদিল্লি। বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব অনিল মালিক। থাকবেন পাক বিদেশমন্ত্রকের দক্ষিণ এশিয়ার ডিরেক্টর জেনারেল মহম্মদ ফয়সল।
করতারপুরে প্রতি দিন হাজির থাকেন প্রায় ৫ হাজার পূণ্যার্থী। বিশেষ বিশেষ দিনে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়। এই বিপুল সংখ্যক পূণ্যার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি। অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারির জন্য ৫০০ কোটি টাকা খরচ করতে চলেছে ভারত।
এর আগেও করতারপুর করিডর নিয়ে বৈঠকে বসে ভারত ও পাকিস্তান। গত ১৪ মার্চ চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে দু’পক্ষের আলোচনাও হয়। কিম্তু, দুই প্রতিবেশীর মধ্যে নানা টানাপড়েনের জেরে থমকে যায় সেই প্রক্রিয়া। এমনকি গত ২ এপ্রিলের বৈঠক বাতিলও হয়। মোদী সরকার দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় ফেরার পর ফের বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু হয়। করতারপুর করিডর চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান যে আগ্রহী, সেই বার্তাও দিয়েছে ইমরান খান সরকার। ইতিমধ্যেই শিখ গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে খালিস্তানপন্থী নেতা গোপাল সিংহ চাওলাকে।

মার্কিন অস্ত্র বিক্রির ঘোষণা: তাইওয়ানের কাছে মহড়া চালালো চীন

চীনের সামরিক মহড়া (ফাইল ফটো)
তাইওয়ানের কাছে আমেরিকা নতুন করে ২২০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করার ঘোষণা দেয়ার পর চীন দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এ এলাকা চীনের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হয় কারণ দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলেই তাইওয়ান প্রণালীর অবস্থান।
চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, সম্প্রতি এ মহড়া চালানো হয়েছে তবে ঠিক কোথায় এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা হয় নি। একে নিয়মিত বার্ষিক মহড়া হিসেবে উল্লেখ করেছে চীনা মন্ত্রণালয়। যখন তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা নিয়ে চীন ও আমেরিকার মধ্যে টানাপড়েন দেখা দিয়েছে তখন এ মহড়া অনুষ্ঠিত হলো।
তাইওয়ানকে চীন নিজের অংশ মনে করে। বেইজিং সবসময় বলে আসছে প্রয়োজন হলে তারা শক্তি প্রয়োগ করে তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে।
আমেরিকা সরকারিভাবে এক চীন নীতিকে স্বীকার করে যার অর্থ চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের একীভূত হওয়া উচিত বলে ওয়াশিংটন স্বীকার করে। কিন্তু চীনের মোকাবেলায় মার্কিন সরকার তাইপেকে অস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী করছে।
চীনা সামরিক বাহিনীর মহড়া (ফাইল ফটো)

সামরিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলছে: শ্রীলংকা প্রধানমন্ত্রী

রানিল বিক্রমাসিঙ্গে ও আলাইনা টেপলিজ
শ্রীলংকা সফররত মার্কিন সেনা সদস্যদের বিষয়ে স্টেটাস অব ফোর্সেস এগ্রিমেন্ট (সোফা) নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কলম্বোর আলোচনা এখানো চলছে। এই চুক্তি শ্রীলংকার সার্বভৌমত্বকে খাটো করবে বলে প্রেসিডেন্টের হুশিয়ারীকে পাত্তা দেননি তিনি।
গত বছর থেকে প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা ও প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিঙ্গের মধ্যে যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছে তা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
বিক্রমাসিঙ্গে গত বুধবার পার্লামেন্টকে বলেন যে সোফা কোন সামরিক চুক্তি নয়। এটা হলো মার্কিন সেনারা যদি এ দেশে আসে তাহলে তারা কি অধিকার ও সুবিধা ভোগ করবে সে ব্যাপারে চুক্তি।
তিনি বলেন, সোফা হলো শান্তিকালীন চুক্তি, এতে যুদ্ধের নিয়মকানুন, সশস্ত্র সংঘাতের আইন বা সমুদ্রের আইন সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। এতে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম, তৎপরতা ও মিশনেরও অনুমতি দেয়া হয়নি।
এতে শুধু মার্কিন সেনা সদ্যদের কার্যক্রমের কাঠামো দেয়া হয়েছে। যদিও আলোচনা চলছে তবে শ্রীলংকার সার্বভৌমত্বকে হুমকিগ্রস্ত করে এমন চুক্তিকে তিনি সমর্থন করবেন না বলে বিক্রমাসিঙ্গে উল্লেখ করেন।
ভারত মহাসাগরে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত শিপিং লাইনের পাশে শ্রীলংকার অবস্থান। চীন গত কয়েক বছর ধরে এই দেশটিতে বড় বিনিয়োগকারী, বন্দর ও মহাসড়ক নির্মাতা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে।
চীনের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব প্রতিরোধ করতে চাচ্ছে পাশেই অবস্থিত দেশ ভারত। তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান যোগ দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন।
তবে সিরিসেনা জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি এমন কোন সামরিক সহযোগিতা চুক্তি করবেন না যা দেশের জন্য অনুপযুক্ত।
শ্রীলংকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আলাইনা টেপলিজ এই দ্বীপ দেশটিতে মার্কিন অন্তর্ভুক্তি নিয়ে উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহে তিনি বলেন যে শ্রীলংকায় সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে কোন পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল রূপবাহিনীকে টেপলিজ বলেন, আমি মনে করি এখানে আমাদের সম্পর্কে যে বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে সেগুলো হচ্ছে দুই দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ।
তিনি বলেন, আমরা একটি খুবই শক্তিশালী, সক্ষম ও সার্বভৌম শ্রীলংকা দেখতে চাই, যে দেশটি তার উপকূল রক্ষা করতে পারবে এবং তার পানিসীমা নিয়ন্ত্রণ করবে, তার আকাশ সীমা উন্মুক্ত রাখবে যেন সব দেশ চলাচল করতে পারে এবং সবাই যেন আন্তর্জাতিক আইনের বিধান ও রীতিগুলো মেনে চলে।

‘আমি কেন্দ্রীয় কারাগারের লোক’ by শাহনেওয়াজ বাবলু

‘একদিন আমার মোবাইলফোনে অচেনা নম্বর থেকে কল আসে। রিসিভ করার পর ওই প্রান্ত থেকে বলা হয়, আমি কেন্দ্রীয় কারাগারের লোক। জানতে চান অভি আমার কি হয়? আমি বললাম আমার বোনের ছেলে। ও প্রান্ত থেকে বলেন, আপনার ভাগিনা জেলে মারামারি করেছে। তার অবস্থা বেশি ভালো না। আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবো। এখন আমার এই নম্বরে ৫০ হাজার টাকা পাঠান। আমি বললাম একটু পরে জানাচ্ছি।
পরে তাকে আর ফোন দেয়া হয়নি, রাতের বেলায় ওই নাম্বার থেকে আবার কল আসে। আমি ওনাকে টাকা না দিয়ে, কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলি।
কিন্তু পরে ভাগিনার সঙ্গে দেখা করে জানতে পারি কারাগারে তার সঙ্গে এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। কারাগারে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও টাকা দিতে হয়। ফ্রি টিকিটের মাধ্যমে দেখার করার খুব কম সুযোগই মেলে। এর আগে আমি দুই বার ফ্রি টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়েও ভাগিনার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। এরপর থেকে আমি টাকা দিয়েই ভাগিনার সঙ্গে দেখা করতে যাই।’ রাজধানীর খিলগাঁও থেকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ভাগিনা অভির সঙ্গে দেখা করতে এসে এমনই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন কলেজ শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন।
টাঙ্গাইল থেকে স্বামীকে দেখতে কেরানীগঞ্জ কারাগারে এসেছেন রাশেদা বেগম। তিনি বলেন, আমার স্বামী এক বছর ধরে কারাগারে রয়েছে। একদিন কারাগারের একলোক আমাকে ফোন দিয়ে বলেন প্রতিমাসে ১৫ হাজার টাকা করে দিলে আমার স্বামীকে ভালোভাবে থাকতে দেয়া হবে। যখন আমি রাজি হই, তখন ওইলোক অ্যাডভান্স টাকা চান। আমি তার হাতে প্রতি মাসের ২৭ তারিখে টাকা দিতাম। পরে আমার স্বামী বলল, এই টাকা থেকে দালাল পাঁচ হাজার টাকা খেয়ে ফেলে, এ জন্য তারে ভালো বিছানা দেয় না। এখন আমিই কাঠি (তার) দিয়া টাকা দিই। এইখানে হাজার টাকার ওষুধ পাঠাইলে কমিশন দিতে হয়। খাবার পাঠাইলেও টাকা দিতে হয়, আবার কিনতেও হয় দ্বিগুণ দামে। টাকা ছাড়া কোনো কথা নেই।
কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে সরজমিনে গিয়ে, অন্তত ২০ জন বন্দিকে দেখতে আসা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রায় সবার কাছ থেকে কমবেশি এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। কারাগারের মূল ফটক থেকে শুরু করে ভেতরে, মাঠে, আড়ালে লোকজনের সঙ্গে কারারক্ষীদের কথা বলতে দেখা গেছে। মাঠে একটি বেঞ্চে বসে সাক্ষাৎপ্রার্থীদের নাম-ঠিকানা লিখতে হয়। মূলত সেখান থেকেই বাণিজ্য শুরু। ধীর গতিতে নাম লেখানো চলে, পাশাপাশি চলতে থাকে দালালদের দেনদরবার।
টাকা দিয়ে কেন এ সুযোগ নেন? এ প্রশ্নে হাজতি ও কয়েদিদের স্বজনরা বলেন, স্বজনকে একটু দেখলে মনে শান্তি পাওয়া যায়। টিকিট কেটে দূর থেকে ছায়াও দেখা যায় না, কথাও বলা যায় না।
এক কারারক্ষী জানান, কারাগারের মূল ফটক থেকে ভেতরে সব মিলিয়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার বাণিজ্য হয়। বেশি হয় সকাল আটটার আগে এবং বিকেল পাঁচটার পরে। বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ, হাসপাতালে থাকা, আসামির জামিন, বন্দি রোগী বাইরের হাসপাতালে পাঠানো, পুনরায় গ্রেপ্তার, খাবার বা টাকা পাঠানো, মালামাল তল্লাশি করাসহ সবক্ষেত্রেই বাণিজ্য হয় কারাগারে। তিনি বলেন, সাক্ষাৎকার কক্ষটি পাঁচজন কারারক্ষীর কাছে এক মাসের জন্য ৬০-৭০ হাজার টাকায় ‘বিক্রি’ করা হয়। এরপর যা বাণিজ্য হয় তা ভাগ করে নেন কারারক্ষীরা।
এসব বিষয়ে কারাকর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কেউই কথা বলতে রাজি হননি। আর প্রধান জেল সপুার দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানান তারা। কারা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই থেকে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ১০ হাজারের মতো বন্দি রয়েছে। সপ্তাহের প্রতি কর্মদিবসে এক হাজারের বেশি সাক্ষাৎপ্রার্থী যান কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে।

গাছে পেরেক পুঁতলেই জরিমানা

পশ্চিমবঙ্গে গাছে পেরেক লাগানোর বিরুদ্ধে চালু হতে যাচ্ছে নতুন আইন। বিধি অনুসারে গাছের গায়ে পেরেক পোঁতা হলে জরিমানা করা হবে। বিধানসভার চলতি বর্ধিত বাজেট অধিবেশনে পুর দপ্তর রাস্তা, হাসপাতাল-সহ প্রকাশ্য জায়গায় থুতু ফেলা বন্ধে আইনে সংশোধনী এনেছে। এই আইনের আওতাতেই বিধি তৈরি করে পুর-এলাকায় গাছের গায়ে পেরেক পোঁতা বন্ধ করার ব্যবস্থা হচ্ছে।
বিধি নিয়ে বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, গাছের গায়ে পেরেক পুঁতে বিজ্ঞাপন দেয়ার প্রবণতা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অথচ আমরা বলে থাকি, একটি গাছ একটি প্রাণ। পথে পথে ছোট-বড় গাছে পেরেক পুঁতে বিজ্ঞাপন ঝুলিয়ে দেওয়া আমাদের সকলেরই নজরে পড়লেও কিছু পরিবেশবাদী সংগঠন ছাড়া কেউই প্রতিবাদ জানান না। গাছকে পেরেক পুঁতে ক্ষত-বিক্ষত করা যে অন্যায় সেই সচেতনতাই নাগরিকদের মধ্যে তৈরি হয়নি।
তাই যারা এগুলি লাগান তাদের কেউ বাধাও দেন না। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতারা এ নিয়ে ভাবিত নন। সরকারি স্তরে কোনো ব্যবস্থা নেবার নজির নেই। এক পরিবেশকর্মী জানান, গাছ কাটা ঠেকাতে আইন থাকলেও গাছের গায়ে পেরেক দিয়ে বিজ্ঞাপন সাঁটা মোকাবিলায় কোনো বিধি নেই রাজ্যে। গাছে পেরেক লাগানোর  প্রবণতা রোধে প্রশাসনিক স্তরে সার্বিক পদক্ষেপও কখনো হয়নি। তবে এই প্রথম গাছে পেরেক পোঁতা বন্ধে পুর-আইনের আওতায় বিধি তৈরি করতে চলেছে রাজ্য।

মামলার কারণে মিয়ানমার সরকারের শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পারছেন না আরাকান আর্মির নেতারা by মো মিয়ন্ত

আরাকান আর্মির (এএ) মুখপাত্র উ খাইন থুখা বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এএ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যে মামলা চালাচ্ছে, সেগুলোর কারণে সরকারের পিস কমিশনের সাথে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পারছেন না তারা।
মামলার বিষয়টি মাত্র গত জুলাই ৫ বৃহস্পতিবার জানা গেছে। আরাকানের বিশিষ্ট নারী রাজনীতিবিদ দাউ আয়ে নু সিন – যিনি আরাকান নেশান পার্টির (এএনপি) বর্তমান ভাইস চেয়ার এবং পেশায় একজন আইনজীবী, তিনি একটি মামলার শুনানির সময় জানতে পারেন যে, ওই মামলায় আরাকান আর্মির নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সিত্তুই জেলা আদালতে ওই মামলার শুনানি হয়।
দাউ আয়ে নু সিন বলেন, “রেকর্ডে আরাকান আর্মির নেতাদের পদবি ব্যবহার করা হয়নি। তাই নাম দেখে প্রথমে আমি বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলাম”।
মে মাসে তাতমাদাও ট্রু নিউজ ইনফরমেশান টিমের (সামরিক বাহিনীর গণসংযোগ বিভাগ) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাউ মিন তুন আরাকান আর্মির নেতাদের জন্য সেনা নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, তারা যদি অন্যান্য জাতিগত গ্রুপগুলোর সাথে নেপিদোতে সরকারের পিস কমিশনের সাথে অস্ত্রবিরতি চুক্তির আলোচনায় অংশ নেয়, তাহলে তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়া হবে। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী অন্য গ্রুপগুলো হলো কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ), তাং ন্যাশনাল লিবারেশান আর্মি (টিএনএলএ), এবং মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ)।
উ খাইন থুখা বলেন, সরকারের পিস কমিশন পরে এপ্রিলে এএ এবং তাদের মিত্রদেরকে বেশ কয়েকবার নেপিদোতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, কিন্তু আরাকান আর্মি মনে করে যে এই আমন্ত্রণ একটা ফাঁদ এবং সে কারণে তারা আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে, যদি তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সামরিক প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
সামরিক ঘোষণার উপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্টের অফিসের মুখপাত্র উ জাউ তে মে মাসে দ্য ইরাবতী বার্মিজকে বলেছিলেন যে, “তাদের একটা চুলেরও কেউ ক্ষতি করবে না”।
আরাকান আর্মির কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন যে, তাদের পাঁচ শীর্ষ পর্যায়ের সদস্যের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি তারা আগেই জানতেন। তবে বিষয়টি তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেননি বা গণমাধ্যমকে জানাননি।
উ খাইন থুখা মঙ্গলবার ইরাবতীকে বলেন, “এপ্রিল থেকেই আমরা জানি যে, আমাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী মামলা করেছে। সে কারণেই আমরা নেপিদোতে সরকারের পিস কমিশনের সাথে বসতে রাজি হইনি”।
এএ প্রধান মেজর জেনারেল তুন মিয়াত নাইং, ডেপুটি প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিও তুন অং, কর্নেল কিয়াউ হান, এএ মুখপাত্র উ খাই থুখা এবং উ সান শোয়ে মাউং – এই সবার বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে ২০১৪ সালের কাউন্টার-টেররিজম ল’য়ের ৩(বি) ধারা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
এএ নেতারা প্রস্তাব দিয়েছেন যাতে সরকারের নেতা দাউ অং সান সু কির নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনা তৃতীয় কোন পক্ষের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। যেমন এটা চীনের কুমিংয়ে, বা ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় হতে পারে। কিন্তু এ সপ্তাহ নাগাদ আলোচনা মূলত থেমে আছে।
এএ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার আগ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীও এ বিষয়ে কোন কথা বলেনি আগে।

আসামের ‘বিদেশীদের’ তথ্য ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে

চলতি মাসের শেষের দিকে আসামে যে চূড়ান্ত ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স (এনআরসি) প্রকাশিত হবে, সেখানে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল (এফটি) যাদেরকে বিদেশী ঘোষণা করেছে, তাদের তথ্যের একটা ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি করবে ভারত সরকার।
ই-ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে (ই-এফটি) এই সব ব্যক্তিদের আঙুলের ছাপ ও চোখের স্ক্যানসহ বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকবে এবং এর ফলে দেশ থেকে কাউকে বের করে দেয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কোন পেপার ওয়ার্কের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।
১৯৮৫ সালের রেকর্ডও যুক্ত করা হবে
এক সিনিয়র সরকারী কর্মকর্তা বলেছেন, এই প্ল্যাটফর্মে শুধু নতুন তথ্যগুলোই যুক্ত করা হবে না, বরং ১৯৮৫ সালের পুরনো তথ্যও এতে যুক্ত করা হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “এফটি প্রথম কাজ শুরু করে ১৯৮৫ সালে। এ যাবত যতজনকে বিদেশী ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের সকলের তথ্যই ই-এফটিতে থাকবে। কোন বিদেশী অবৈধভাবে এখানে থাকলে তাকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ই-এফটি সাহায্য করবে, এবং এ জন্য তাদেরকে কোন কাগজ পত্রের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না”।
২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আসামে ৬৩,৯৫৯ জনকে বিদেশী ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আসামে স্থাপিত ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালগুলো এদের বিদেশী ঘোষণা দিয়েছে বলে মঙ্গলবার লোকসভাকে জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিশান রেড্ডি।
আসামের হোম কমিশনার ও সেক্রেটারি আশুতোষ অগ্নহোত্রি দ্য হিন্দুকে জানান, “কেন্দ্র ই-এফটি গঠনের বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছে এবং এর কাজ চলছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো, এফটি, এনআরসি ও সীমান্ত পুলিশ সকলের মিলিত সিস্টেমের মধ্যে সবাইকে নিয়ে আসা”।
বিচার বিভাগের সহায়তা করা
কর্মকর্তারা বলছেন, ই-এফটি থেকে যে সব সুবিধা পাওয়া যাবে, তার মধ্যে রয়েছে এটা বিচার বিভাগে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সাহায্য করবে এবং আরও নির্ভুলভাবে ও দ্রুত কাউকে চিহ্নিত করা, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের ও আটক করার ক্ষেত্রে পুলিশও এখান থেকে সুবিধা পাবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছরের ৩০ জুলাইন এনআরসির চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রকাশ করে রেজিস্টার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (আরজিআই)। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর বাংলাদেশ থেকে যারা আসামে প্রবেশ করেছিল, তাদের থেকে ভারতীয় নাগরিকদের আলাদা করার জন্যই এই তালিকা তৈরি করা হয়। চূড়ান্ত খসড়া থেকে প্রায় ৪১ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ে। এদের মধ্যে ৩৬ লাখ তাদের নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
এমনকি চূড়ান্ত এনআরসি প্রকাশের পরও বাদ পড়ারা প্রথমে এফটিতে এবং এমনকি হাই কোর্টেও পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।
বিজায়তা সিং, রাহুল কর্মকার

চীনা ও পাকিস্তানী দূতের সাথে নেপালের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে ভারতের অসন্তোষ by অনিল গিরি

এক মাসের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করেও ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে দেখা করতে পারেননি ভারতে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত নিলাম্বর আচার্য।
এই ব্যর্থতার পেছনে অবশ্য আচার্যের চেষ্টার কোন ঘাটতি ছিল না।
গত ৩০ মে ভারতের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়ার পরপরই, নয়াদিল্লীর নেপালি দূতাবাস থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয় যে, রাষ্ট্রদূত জয়শঙ্করের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে চান। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দূতাবাস ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা করছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কিন্তু সবশেষ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে কোন ফোন কল আসেনি।
নয়াদিল্লীর নেপালী দূতাবাসের কর্মকর্তারা দ্য পোস্টকে বলেছেন যে, অন্যান্য মন্ত্রীদের সাথে সাক্ষাতের জন্যও আলাদাভাবে বেশ কিছু অনুরোধপত্র পাঠিয়েছেন তারা, কিন্তু এখন পর্যন্ত কারো সাথে সাক্ষাতের অনুমতি পাননি আচার্য।
নেপালী দূতাবাসের মুখপাত্র হারি ওদারি পোস্টকে বলেন, “স্বরাষ্ট্র, জ্বালানি, বাণিজ্য, অবকাঠামো ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি, যেগুলো সবই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ”।
তবে জয়শঙ্করের সাথে আচার্যের সাক্ষাত করাটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া যায়। কারণ আগামী মাসগুলোতে নেপাল ও ভারতের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদিপ গিয়াওয়ালি নেপাল-ইন্ডিয়া জয়েন্ট কমিশনের পঞ্চম বৈঠকের জন্য জয়শঙ্করের সাথে তিনবার কথা বলেছেন। এই বৈঠকে অংশ নিতে জয়শঙ্করকে কাঠমাণ্ডু যেতে হবে। এ বছরেই ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোভিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও নেপাল সফরের কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র নীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, এ কারণে জয়শঙ্করের সাথে আচার্যের সাক্ষাত করাটা গুরুত্বপূর্ণ যাতে উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকগুলো কোন বাধা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে পারে।
সাবেক কূটনীতিকরা বলেছে, এটাই সম্ভবত প্রথম ঘটনা যেখানে নেপালের কোন রাষ্ট্রদূতকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের জন্য এতটা সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
যদিও জয়শঙ্করের সাথে আচার্যের আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি, তবে আচার্য পোস্টকে বলেন যে, দিল্লীতে অনানুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্করের সাথে তার দেখা হচ্ছে।
আচার্য বলেন, “অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই, কারণ তার সাথে অনানুষ্ঠানিকভাবে বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। যেহেতু সরকার মাত্রই গঠিত হযেছে এবং ভারতের পার্লামেন্টের অধিবেশন চলছে, সে কারণে নিশ্চয়ই তিনি ব্যস্ত আছেন”।
তবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নয়াদিল্লীস্থ মিশনের সিনিয়র কর্মকর্তারা পোস্টকে বলেছেন যে, বিশেষ করে চীন ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতদের সাথে আচার্যের বৈঠকের কারণে হয়তো ভারতীয় নীতি নির্ধারকরা অখুশি হয়েছেন। যদিও ১৪ এপ্রিল বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূত লু ঝাং হুইয়ের সাথে আচার্য দেখা করেছেন, তবে নয়াদিল্লীর পাকিস্তানী রাষ্ট্রদূতের সাথে তার সাক্ষাতের বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
নয়াদিল্লীর নেপালী দূতাবাসের ডেপুটি ডিফ অব মিশন ভারত কুমার রেগমি বলেন, “ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোচরেই এই সব সাক্ষাত হয়েছে। সার্ক অঞ্চলের অন্যান্য দেশের দূত এবং ইউএন সিকিউরিটি কাউন্সিলের পাঁচ দূতের সাথে বৈঠকের বিষয়টি একটা নিয়মিত চর্চার অংশ”।
কাঠমাণ্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের এক কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, জয়শঙ্কর এখন জি২০তে ভারতের অন্তর্ভুক্তি এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামের বিষয়গুলো নিয়ে ব্যস্ত।
তবে কিছু বিশ্লেষকের মতে, আচার্যের সাম্প্রতিক কিছু প্রকাশ্য উক্তি, বিশেষ করে সার্ক এবং নেপাল বিষয়ে এমিনেন্ট পার্সন্স গ্রুপের রিপোর্টের ব্যাপারে তার উক্তি ভারতকে অখুশি করে থাকতে পারে।
ভারতে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত নিলাম্বর আচার্য ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর

দুধে ক্ষতিকর উপাদানের দায় কোম্পানিগুলোকেই নিতে হবে: সিসিএস

দেশের বাজারে প্রচলিত পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস)। তারা বলছে, দুধে ডিটারজেন্ট, সীসা, এন্টিবায়োটিক বা ফরমালিনের মতো উপাদান জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও হুমকির বিষয়। দুধে ক্ষতিকর উপাদানের কারণে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হওয়া, জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়া, দুগ্ধশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ও এসডিজি বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে। আজ সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)পাস্তুরিত দুধে কোনো ক্ষতিকর উপাদান পায়নি। কিন্তু বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএসএফএ)পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯৩টিতে ক্ষতির উপাদান পেয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এমন বিষয়ে সরকারের দুই সংস্থার বিপরীতমুখী বক্তব্যে ভোক্তা সাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পণ্যের মান নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই শুধুমাত্র স্ট্যান্ডার্ড প্যারামিটার পরীক্ষা করে। বিএসটিআইয়ের দুধের স্ট্যান্ডার্ড (বিডিএস) প্যারামিটার প্রায় ১৭ বছর আগের এবং তা আর হালনাগাদ করা হয়নি।
এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের নির্ধারিত ৯টি প্যারামিটার পরীক্ষা করে এবং ওই প্যারামিটারে এন্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্ট অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এমনকি এন্টিবায়োটিক পরীক্ষার প্রয়োজনীয় যন্ত্র সামগ্রীও বিএসটিআইয়ের নেই। ফলে দুধে ক্ষতিকর কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি বলে বিএসটিআই যে রিপোর্ট দিয়েছে তা ভোক্তা সাধারণের কাছে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করে সিসিএস। এ অবস্থায় বিএসটিআইকে তাদের প্যারামিটার হালনাগান করা এবং নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে  আন্তর্জাতিক মানের প্রয়োজনীয় যন্ত্র সামগ্রী সংযোজন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিএসএফএ মূলত সেফটি প্যারামিটার পরীক্ষা করে থাকে। তাদের ফেসটি প্যারামিটার পরীক্ষায় ক্ষতিকর এসব উপাদান পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্স সেন্টার দু’দফায় প্রকাশিত রিপোর্টেও দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে। এ অবস্থায় বিএসএফএ ও বায়োমেডিক্যাল রিসার্স সেন্টার কর্তৃক প্রকাশিত রিপোর্ট উচ্চতর কোনো গবেষণা বা পরীক্ষায় ভুল প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তা সাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য বলেই বিবেচিত হয়।
সিসিএস মনে করে দুধ উৎপাদন, সরবরাহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বহীনতা, দুর্বলতা, উদাসীনতা ও জবাবদিহিতার অভাবে এ ধরণের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুগ্ধদানকারী পশু লালন-পালন, তাদের খাদ্য ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত উপাদান, দুগ্ধ গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, সরবরাহ ও বাজারজাত করণের প্রতিটি ধাপে যথাযথভাবে নিয়মনীতি অনুসরণ এবং খামারিদের মাঝে যথেষ্ট সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। ভোক্তার জন্য নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করা উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানেরই দায়িত্ব। এজন্য দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির সকল দায়ভার কোম্পানিগুলোকেই নিতে হবে।
দুধ নিয়ে গবেষণাকারী ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক এবং বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক ও ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) প্রধান প্রফেসর ড. শাহনীলা ফেরদৌসির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো বা বিদ্বেষ সৃষ্টি বন্ধ করা এবং কোনো ধরণের হয়রানি না করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিসিএস।

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, বন্দর রক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে কুয়েত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে। শনিবার কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজ দেশের বন্দরগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতের প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে নৌবাহিনী ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর।
এমন সময়ে এ খবর এলো উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও ইয়েমেন সংলগ্ন পানিসীমার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মেরিন জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড বলেছেন, তিনি ওই অঞ্চলে ‘নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত’ করতে চান।
২০১৯ সালের মে মাসে ওমান উপসাগরে চারটি ট্যাংকারে হামলার পর গত মাসে ওই এলাকায় আরও দুটি ট্যাংকারে হামলা হয়। সবকটি হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জুন মাসে ট্যাংকারে হামলার কয়েক দিনের মাথায় একটি চালকবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করে ইরানি বাহিনী। ইরানের দাবি, ড্রোনটি তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। আর যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমাতেই ছিল।
জোসেফ ডানফোর্ড জানান, ওই এলাকায় পানিসীমার সুরক্ষা দিতে একটি সামরিক জোট গঠনের পরিকল্পনা চলছে। এ পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন আদায়ে বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের জোট গঠন করা সম্ভব হলে হরমুজ ও বাবুল মান্দেব প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাধীন ও নিরাপদ হবে। আমি মনে করি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিষ্কার হবে কোন কোন দেশ এ জোটে যোগ দিতে ইচ্ছুক। এরপর আমরা সরাসরি সামরিক বাহিনীকে নিয়ে কাজ করবো, যাতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে সক্ষমতা যাচাই করা সম্ভব হয়।’ এমন পরিস্থিতিতেই বন্দর রক্ষায় সমর প্রস্তুতির কথা জানালো কুয়েত।
এদিকে জিব্রাল্টার প্রণালীতে আটক ইরানের একটি তেলবাহী ট্যাংকার নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান। লন্ডনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হামিদ বায়েদিনেজাদ বলেছেন, আটককৃত তেলবাহী সুপার ট্যাংকার গ্রেস-ওয়ানকে মুক্তি না দিলে যুক্তরাজ্যকে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।
টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বেআইনিভাবে ট্যাংকার আটক করে ব্রিটেন যে ভুল করেছে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত হবে না। ইরানি জাহাজ কোনও আইন বা প্রথা ভঙ্গ করেনি। কিন্তু ব্রিটেন দস্যুতার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে বেআইনি কাজ করেছে। ইরানি তেল ট্যাংকার ও কার্গোকে মুক্তি দিতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাজ্যও বিনা জবাবে পার পাবে না। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স।