Showing posts with label নারী ধর্ষণ. Show all posts
Showing posts with label নারী ধর্ষণ. Show all posts

Saturday, February 28, 2026

নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূরা গ্রেপ্তার

নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি শর্ষেখেত থেকে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ৯ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করেন ওই কিশোরীর মা।

মামলার এজাহারে নামোল্লেখ করা ৯ জন আসামি হলেন, নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), মো. গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), ইছহাক ওরফে ইছা (৪০), আবু তাহের (৫০) ও মো. আইয়ুব (৩০)। আহাম্মদ আলী দেওয়ান মহিষাশুড়া ইউপির সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি। তাকেসহ পাঁচ আসামিকে এই বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি চারজন হলেন ইমরান দেওয়ান, এবাদুল্লাহ, আইয়ুব ও গাফফার।

এদিকে অভিযোগ ওঠার পর আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলা বিএনপির এক নোটিশে এই তথ্য জানানো হয়। সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আহাম্মদ আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ কিশোরীকে তুলে নেয়। তখন তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনার বিচারের জন্য কিশোরীর পরিবার মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যায়। তবে পরিবারটি বিচার পায়নি। সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় নূরাসহ সংশ্লিষ্ট তরুণেরা ক্ষুব্ধ হন।

এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয় তরুণ বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যান। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েটির সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে মাধবদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ধর্ষণের বিচারের দায়িত্ব নিয়ে আহম্মদ আলী দেওয়ান অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি কিশোরীর পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেন। বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর জেরেই গত বুধবার রাতে বাবার সামনে থেকে কিশোরীকে অপহরণের পর শর্ষেখেতে নিয়ে হত্যা করা হয়।

গ্রেপ্তার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা
গ্রেপ্তার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা। ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

Wednesday, January 28, 2026

ডিএনএ পরীক্ষায় সামনে এল শৈশবে মা হওয়া কিশোরীর জীবনের নির্মম বাস্তবতা

যেখানে শৈশব নিরাপদ ও যত্নে কাটার কথা, সেখানে ভয় ও নীরবতায় দিন পার করেছে রাজশাহীর এক কিশোরী। ১২ বছর বয়সেই ধর্ষণের শিকার হয়ে তাকে মাতৃত্বের ভার বহন করতে হচ্ছে। দীর্ঘ তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, শিশুটি মামা ও সৎবাবার—দুজনের হাতেই নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

অভিযুক্ত সৎবাবার নাম মেহেদী হাসান ওরফে হৃদয় (২৫)। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার একটি গ্রামে হলেও রাজশাহী শহরের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। আর মেয়েটির মামার বাড়িও বাঘা উপজেলার একটি গ্রামে।

ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর জন্ম দেওয়া শিশুটির বয়স এখন ১ বছর ৯ মাস। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন আসার পর অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ২১ জানুয়ারি নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পিবিআই বলছে, সৎবাবার কাছে ধর্ষণের শিকার হয়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হলেও সে তার মামার হাতেও ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাই দুজনের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রোববার রাজশাহী পিবিআইয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২১-২২ সালে ওই কিশোরী রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় তার নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। সেখানে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে সে জানায়, ২০২১-২২ সাল পর্যন্ত নানার বাড়িতে থাকার সময় প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে তার মামা দিনের পর দিন ধর্ষণ করেন।

ঘটনা জানাজানি হলে ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর এলাকার লোকজন ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্র্যাম্পে সাত লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে মামার সঙ্গে মেয়েটির বিয়ে দেন। এ বিয়ে মানতে না পেরে তার মামা আত্মগোপন করেন। পরবর্তী সময় মেয়েটির মা তাকে রাজশাহী শহরের ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর ২০২৩ সালের ৩ মার্চ মেয়েটি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করে।

এরপর ভুক্তভোগী মেয়েটির মা বাদী হয়ে তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল আদালতে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। তারা আসামিকে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর আদালতের আদেশে ওই কিশোরী, তার সন্তান ও আসামির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু দেখা যায়, আসামির সঙ্গে নবজাতকের ডিএনএ মিলছে না।

পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আরও অধিকতর তদন্ত শুরু করে পিবিআই। এরপর তারা জানতে পারে, মেয়েটির মা ২০২০ সালে তার দ্বিতীয় স্বামী মেহেদী হাসানের সঙ্গে রাজশাহী শহরে ভাড়া থাকতেন। ২০২২ সালে মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে এসে প্রায় দুই মাস সেই বাসায় থাকে ওই কিশোরী। ওই সময় মেহেদী তাকে ধর্ষণ করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, মামার সঙ্গে ডিএনএ না মেলায় মেয়েটির সঙ্গে তিনি আবার কথা বলেন। সে কোথায় কোথায় ছিল, তা জানার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী জানায়, সে মায়ের বাড়ি এসে দুই মাস থেকেছে। তখন তিনি সৎবাবাকে সন্দেহ করেন। কিন্তু মেয়েটি জানায়, ঘুমের মধ্যে কিছু হয়েছে কি না, তা তার মনে নেই। পরবর্তী সময়ে ডিএনএ পরীক্ষা করে তাঁরা নিশ্চিত হন।

মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, ২১ জানুয়ারি অভিযুক্ত মেহেদীকে রাজশাহী নগরের মুক্তমঞ্চ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন। পরদিন তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি সব স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, মেয়েটি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে যে তার মামা তাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছেন। আবার মেহেদীও অপরাধ স্বীকার করেছেন। মেহেদীর ধর্ষণের কারণে মেয়েটি গর্ভবতী হলেও তার মামাও তার সঙ্গে একই কাজ করেছেন। বর্তমানে তার মামা জামিনে আছেন। আর মেহেদী কারাগারে। এখন বিষয়টির তদন্ত চলছে। মেয়েটিকে দুজন ধর্ষণ করে থাকলে দুজনকেই অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত করা হবে।

ধর্ষণ
ধর্ষণ। প্রতীকী ছবি: প্রথম আলো

Tuesday, December 30, 2025

ধর্ষিতার প্রতি বিজেপি কাউন্সিলরের স্বামীর হুমকি

ভারতের মধ্যপ্রদেশের সতনা জেলায় এক বিজেপি কাউন্সিলরের স্বামী ছুরি দেখিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, তিনি ধর্ষিতাকে হুমকি দিয়েছেন। দম্ভ করে বলেছেন, ‘আমার কিছুই হবে না’। শুধু ধর্ষণই নয় এর ভিডিও-ও ধারণ করেছেন তিনি। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তাকে বারবার যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করেন। পরে যখন ওই নারী তাকে ক্যামেরার সামনে মুখোমুখি করে বলেন যে, তিনি তাদের কথোপকথনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করবেন, তখন অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্লজ্জভাবে বলেন, তার কিছুই হবে না। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম অশোক সিং। তিনি রামপুর বাঘেলান নগর পরিষদের এক বিজেপি কাউন্সিলরের স্বামী। সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমানে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে অশোক সিংকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করতে ও ভুক্তভোগীকে হুমকি দিতে দেখা যাচ্ছে। এই ভিডিও জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ভাইরাল ভিডিওতে অভিযুক্তকে এমন বলতে শোনা যায়, ‘আমার কী হবে? কিছুই হবে না। যেখানে খুশি অভিযোগ কর- আমার কিছুই হবে না।’ এসময় পেছনে কাঁদতে থাকা নারীর কণ্ঠ শোনা যায়। তিনি অভিযোগ দায়েরের কথা বলছিলেন। ভুক্তভোগী সোমবার সতনার পুলিশ সুপার (এসপি) হাঁসরাজ সিং-এর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তিনি জানান, ঘটনাটি ঘটে প্রায় ছয় মাস আগে। কিন্তু নিজের ও পরিবারের প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি এতদিন চুপ ছিলেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর এসপি তদন্তভার সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসপি) মনোজ ত্রিবেদীর কাছে হস্তান্তর করেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, কারহি এলাকার বাসিন্দা অশোক সিং তার বাড়িতে ঢুকে ছুরি ঠেকিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। পুরো ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করেন এবং কাউকে জানালে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেন।

ওই নারীর অভিযোগ, ২০ ডিসেম্বর তিনি আবার তার কাছে গিয়ে তাকে যৌন হেনস্থা করেন ও পূর্বের ভিডিও প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে নিজের ইচ্ছামতো চলতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। তিনি আরও জানান, অশোক সিংয়ের অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এবং তাকে পূর্বে জেলাসীমানা থেকে নির্বাসিতও করা হয়েছিল। এই প্রভাবেই তিনি দাপটের সঙ্গে তাকে হুমকি দিচ্ছেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, অশোক সিং নিয়মিত তার দোকানে এসে তাকে গালিগালাজ করেন, ভয় দেখান এবং মানসিক আতঙ্ক তৈরি করেন। ওই নারীর অভিযোগ, তিনি পাঁচ দিন আগে পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি তার বা তার পরিবারের কোনো ক্ষতি হয় তাহলে তার দায় পুলিশেরই থাকবে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করছে এবং সব ধরনের প্রমাণ পরীক্ষা করছে। এ পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

mzamin

Friday, December 19, 2025

যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুদের পরীক্ষা করতেন, এবার নিজের মেয়ের সেই পরীক্ষা করতে হলো মাকে by মানসুরা হোসাইন

মেয়ের বয়স এখনো ছয় বছরে পা দেয়নি। তার প্যান্টে রক্ত দেখে বুক কেঁপে উঠেছিল মায়ের। তিনি মনে মনে চাচ্ছিলেন, যা ভাবছেন—তা যেন সত্যি না হয়।

এই মা নিজে একজন চিকিৎসক, সার্জন। বর্তমানে বগুড়ায় কর্মরত। আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে কাজ করার সময় ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) অধীনে ভর্তি শিশুদের পরীক্ষা করেছেন, ক্ষতবিক্ষত যোনিপথ অস্ত্রোপচার করে ঠিক করেছেন। এবার তাঁকে নিজের মেয়ের একই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হলো। এরপর থানায় বসে তাঁর মেয়ে নারী পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বলে, ‘দাদু আমাকে ব্যথা দিয়েছে।’

বগুড়া থেকে এই মা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলছিলেন নিজের এই অভিজ্ঞতার কথা; শুনিয়েছেন তার একাকী লড়াইয়ের গল্প।

আশঙ্কা সত্যি হলো

শিশুটির দাদার বয়স প্রায় ৮০ বছর। মেয়ের বক্তব্য শোনার পর এই মা প্রথমে কিছুটা নিশ্চিত হন, মেয়ের প্যান্টে রক্ত দেখে তিনি যে আশঙ্কা করেছিলেন, তা হয়তো সত্যি।

এ ঘটনার পর মেয়ের যোনিপথ খালি চোখে পরীক্ষা করে যা দেখেছেন, তা তিনি মামলার এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

তবে একদিকে নিজের মেয়ে, অন্যদিকে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি শ্বশুর। এ কারণে স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা কেউই মামলা করতে চাননি। কিন্তু মা তা মানতে পারেননি। তাই তিনি একাই থানায় গিয়ে মামলা করেন।

একার লড়াই

মেয়েকে সরকারি হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে চিকিৎসা করিয়েছেন। এখনো একাই সব পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন এই মা।

মেয়েটি অনেক ছোট হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়ার সময় পুলিশ মাকে কাছে থাকতে দেয়নি। ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। আর বয়সসহ অন্যান্য বিবেচনায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন অভিযুক্ত শ্বশুর।

মামলা সঠিক ধারায় হয়েছে কি না—এসব নিয়ে এই মা এখন চরম সংশয়ে ভুগছেন। এ ছাড়া পরিবার-পরিজনের বিরোধিতার পরও মেয়ের জন্য তাঁকেই ন্যায়বিচারের লড়াই একা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

‘আমি যত দিন বেঁচে আছি, তত দিন মেয়ের ন্যায়বিচারের জন্য লড়ে যাব’—এভাবেই বলেছেন ওই মা।

ঘটনার দিন

এই মা বলেন, তাঁর স্বামীও একজন চিকিৎসক। গত ২৮ নভেম্বর ব্যক্তিগত কাজে তিনি ঢাকায় ছিলেন। সেদিন মেয়ে তার বাবার সঙ্গে বগুড়া শহরের বাসা থেকে পাশের উপজেলায় দাদার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। রাতে বগুড়ায় ফিরে তিনি বাসার গৃহকর্মীর কাছ থেকে মেয়ের রক্তাক্ত প্যান্ট দেখতে পান।

পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে মেয়ের যোনিপথ পরীক্ষা করে তাঁর মনে হয়েছে, বয়স অনুযায়ী জায়গাটি অস্বাভাবিকভাবে প্রশস্ত। জায়গায় জায়গায় ছিঁড়ে যাওয়ার লক্ষণ, লালচে ভাব—সবই আঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

দ্বিতীয় চিকিৎসকের মতামত

এই মা যে হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত, সেখানকার আরেকজন সংশ্লিষ্ট নারী চিকিৎসককে বিষয়টি জানান তিনি। ওই চিকিৎসক বাসায় এসে মেয়েটিকে খালি চোখে পরীক্ষা করেন এবং প্রায় একই পর্যবেক্ষণের কথা বলেন। মেয়ের বাবার উপস্থিতিতেই এই পরীক্ষা করা হয়।

এর পরদিন মেয়েকে একটি হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসা চলে। দায়িত্বরত চিকিৎসকদের মৌখিক বক্তব্যও শিশুটির মায়ের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়।

মামলা ও সন্দেহ

শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে এই মা বলেন, ঘটনার পরপরই তিনি মামলা করেননি। মেয়ের বাবার কাছে বারবার জানতে চেয়েছেন কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে? কিন্তু তাকে একবার বলা হয়, বালুতে খেলতে গিয়ে জোঁক ঢুকেছে। আবার বলা হয়, লাঠি দিয়ে খেলতে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। এমনকি মাসিক হওয়ার কথাও বলা হয়।

এই মা বলেন, ‘মেয়ের এ অবস্থার জন্য তার বাবার কোনো উদ্বেগ কাজ করেনি। এ কারণে আমি একা প্রথমে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে মামলা করতে থানায় যাই। সে সময় মেয়ে নারী পুলিশ কর্মকর্তার কাছে বলেছে, ওর দাদু তাকে ব্যথা দিয়েছে। এরপর ৩ ডিসেম্বর শ্বশুরকে আসামি করে মামলা করি।’

শিশুটির বাবার সঙ্গে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তাঁকে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব আসেনি।

যে ধারায় মামলা হয়েছে

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ নম্বর ধারা এবং ১৮৬০ দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় উল্লেখ আছে, যদি কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে তাঁর যৌন কামনা চরিতার্থ করার জন্য তাঁর শরীরের যেকোনো অঙ্গ বা কোনো বস্তু দিয়ে কোনো নারী বা শিশুর যৌন অঙ্গ বা অন্য কোনো অঙ্গ স্পর্শ করেন বা কোনো নারীর শ্লীলতাহানি করেন, তাহলে তাঁর এই কাজ হবে যৌনপীড়ন। এ অপরাধের শাস্তি অনধিক ১০ বছর কিন্তু অন্যূন তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

অন্যদিকে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩২৪ ধারা বলছে, বিপজ্জনক অস্ত্র বা উপায় (যেমন ধারালো অস্ত্র) ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান আছে।

শিশুটির মা বলেন, ‘আমি মামলার এজাহারে সবকিছু স্পষ্ট করেই উল্লেখ করেছি। আমি একজন সার্জন। মেয়ের শারীরিক অবস্থা বুঝতে পারলেও মামলার ধারা তো বুঝি না।’

নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় দাদাকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে তিনি জামিন পেয়েছেন।

শিশুটির মা প্রথম আলোকে বলেন, এজাহারে ঘটনার বিস্তারিত উপাদান যথেষ্ট স্পষ্ট নয়—এই যুক্তিতে এবং আসামির বয়স বিবেচনায় জামিন আদালত আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।

হারিয়ে যাওয়া প্রমাণ

ঘটনার দিন মেয়ের রক্তমাখা প্যান্ট প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন মা। সকালে উঠে দেখেন, সেটি নেই। বাসার সিসি ক্যামেরাও কাজ করছিল না।

মা বলেন, ‘বাসায় আমার স্বামী, একজন অবিবাহিত ননদ ও চারজন কাজের মানুষ ছাড়া কেউ নেই। তাহলে প্যান্টটা কে নিল? বাসার সিসিটিভি কেন কাজ করছে না, তার উত্তরও স্বামীর কাছ থেকে পাইনি। সব মিলে আমার সন্দেহটা বাড়ছেই।’

স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন কারণে আগে থেকেই মনোমালিন্য চলছে বলে জানান এই মা। তিনি বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, সংসার করতে চাচ্ছি না বলেই মিথ্যা অভিযোগ করেছি।’

এই মা বলেন, ‘আমি যদি সংসার না চাইতাম, তালাক দিতে পারতাম। স্বামীর বিরুদ্ধেই মিথ্যা অভিযোগ করতে পারতাম। আমি কেন আমার শ্বশুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করব?’

শিশুটির বর্তমান অবস্থা ও তদন্ত

ঘটনার পর শিশুটি মানসিক ট্রমায় ছিল উল্লেখ করে তার মা বলেন, ‘মেয়ে এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। তবে এসব নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা হলে সে বিরক্ত হচ্ছে।

মামলাটির তদন্ত করছেন দুপচাঁচিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান সরকার। তিনি মুঠোফোন প্রথম আলোকে বলেন, ‘তদন্ত চলছে। এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

শিশু ধর্ষণ
শিশু ধর্ষণ। প্রতীকী ছবি: প্রথম আলো

Tuesday, November 25, 2025

৫ তারকা হোটেলে কেবিন ক্রু ধর্ষিত, পাইলটের বিরুদ্ধে মামলা

ব্যাঙ্গালোরে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এক যুবতী কেবিন ক্রুকে ধর্ষণ করেছেন ৬০ বছর বয়সী এক পাইলট। এই অভিযোগে ওই পাইলটের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ধর্ষিত কেবিন ক্রু। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, একটি বেসরকারি এভিয়েশন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই পাইলট। পুলিশ বলেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ১৮ই নভেম্বর। অভিযুক্ত পাইলটের নাম রোহিত সারান। তিনি ওই দিন হায়দরাবাদের বেগমপেট এবং অন্ধ্রপ্রদেশের পুট্টাপার্থি থেকে একটি চার্টার্ড প্লেনে তার সহকর্মী ও অভিযোগকারিণীর সঙ্গে হোটেলে যান। দুই পাইলট ও ওই কেবিন ক্রু সদস্য পরের দিন ১৯শে নভেম্বর পুট্টাপার্থি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তাই তারা বিশ্রামের জন্য হোটেলে চেক-ইন করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেন, রোহিত প্রথমে সিগারেট খাওয়ার অজুহাতে তাকে তার কক্ষের কাছে নিয়ে যান। এরপর জোর করে তাকে ঘরে ঢুকিয়ে ধর্ষণ করেন। ২০শে নভেম্বর বেগমপেটে ফিরে অভিযোগকারিণী সঙ্গে সঙ্গে এভিয়েশন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার কাছে বিষয়টি জানান এবং বেগমপেট থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৩ নম্বর ধারায় (ধর্ষণের অপরাধ) মামলা করা হয়েছে। মামলাটি আরও তদন্তের জন্য ব্যাঙ্গালোর সিটির হালাসুরু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

mzamin

Tuesday, October 28, 2025

তিন মাসে ২২৩ বার ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ ভারতে পাচার হওয়া বাংলাদেশি কিশোরীর by অমিতাভ ভট্টশালী

(এই প্রতিবেদনের কিছু বর্ণনা আপনার মানসিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে)

"কিশোরীটি যখন আমাকে বলছিল যে গত তিন মাসে ২২৩ জন পুরুষ তাকে ধর্ষণ করেছে, ওর চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম।"

কথাগুলো বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মহারাষ্ট্রের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'হারমোনি ফাউন্ডেশন'-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্রাহাম মাথাই।

তিনি জানান, বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে পাচার করে দেওয়া হয়েছিল ভারতে। পাচারকারীরা কিশোরী জানিয়েছে, তাকে জোর করে, অত্যাচার চালিয়ে যৌন সংসর্গ করতে বাধ্য করা হতো। গুজরাত ও মহারাষ্ট্রের মীরা-ভায়ান্দার এলাকায় তার ওপরে চলেছিল এই অমানুষিক অত্যাচার।

আরেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'এক্সোডাস রোড ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন' এবং পুলিশের মানবপাচার রোধ ইউনিট এক অভিযান চালিয়ে ২৩শে জুলাই ওই কিশোরীটিকে উদ্ধার করে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার নাইগাঁও থেকে।

কৃত্রিমভাবে শারীরিক গঠন বৃদ্ধির জন্য ওই কিশোরীটিকে হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।

মীরা-ভায়ান্দার-ভাসাই-ভিরার পুলিশের কমিশনার নিকেত কৌশিক সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন যে, এখন পর্যন্ত নয়জনকে তারা গ্রেফতার করতে পেরেছে। এদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও দুইজন নারী বাংলাদেশের নাগরিক। পুরো পাচার চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ।

গত সপ্তাহে তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদ শহরে আরেক বাংলাদেশি কিশোরী স্থানীয় থানায় এসে সাহায্য চায়। ঢাকার বাসিন্দা ১৫ বছরের ওই কিশোরীকে তারই এক প্রতিবেশী ভারতে নিয়ে এসে দেহ ব্যবসায় নামিয়েছিল বলে অভিযোগ করে।

ওই কিশোরীর কাছ থেকে খবর পেয়ে হায়দ্রাবাদ পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে একটি আন্তর্জাতিক যৌন ব্যবসার চক্র খুঁজে পেয়েছে।

বাড়ি থেকে পালিয়ে পাচারকারীর খপ্পরে

মহারাষ্ট্রের পালঘর থেকে যে বাংলাদেশি কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে, তার বাড়ি খুলনার আমিরপুরে। তার পরিবারের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করে উঠতে পারেনি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মকর্তারা।

'হারমোনি ফাউন্ডেশন'-এর সভাপতি আব্রাহাম মাথাই বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে আমি জানতে পারি যে সে স্কুলের পরীক্ষায় একটি বিষয়ে ফেল করেছিল। বাড়িতে বাবা-মা বকবেন, সেই ভয়ে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।"

"এক পরিচিত নারী কিশোরীটিকে কাজের লোভ দেখিয়ে সীমান্ত পার করিয়ে কলকাতায় নিয়ে আসে। সেখানেই তার জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র বানানো হয় এবং তারপরে বিমানে চাপিয়ে তাকে মুম্বাই নিয়ে আসা হয়।"

এক বাংলাদেশি কিশোরীকে পাচার করে আনা হয়েছে, এই খবর পেয়ে মীরা-ভায়ান্দার-ভাসাই-ভিরার পুলিশের মানব-পাচাররোধ ইউনিট যখন তল্লাশিতে যায়, তাদের সঙ্গেই ছিলেন 'এক্সোডাস রোড ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন'-এর শ্যাম কুম্বলে।

তিনি বলছিলেন, "মুম্বাই থেকে তাকে গুজরাতের নাদিয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে এক ব্যক্তি ওই কিশোরীকে কৃত্রিমভাবে শারীরিক গঠন বৃদ্ধির ইনজেকশন দেয়, তাকে ধর্ষণ করে ভিডিও করে রাখা হয়। ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে যৌন সংসর্গ করতে বাধ্য করা হয়।"

"যে পাচারকারীরা ধরা পড়েছে, আর ওই কিশোরী – সবার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি যে গত তিন মাসে ২২৩ জন পুরুষ তাকে ধর্ষণ করেছে। ওই কিশোরীটিকে গুজরাতের চারটি হোটেল এবং পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন খামারবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপরে তাকে মহারাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়," বলছিলেন মি. কুম্বলে।

উদ্ধার করার পরে ওই কিশোরী এখন একটি হোমে রয়েছে।

বাংলাদেশের কিশোরী সাহায্য চেয়ে হায়দ্রাবাদের থানায়

দক্ষিণ ভারতের হায়দ্রাবাদ শহরের পুলিশ গত শুক্রবার একটি ঘটনার কথা জানিয়েছে, যেখানে ১৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কিশোরী নিজেই সাহায্য চেয়ে থানায় এসে হাজির হয়েছিল।

সেদিন সকাল সোয়া আটটা নাগাদ বান্ডলাগুড়া থানায় হাজির হয় ওই কিশোরী। সে পুলিশকে জানায় যে তার বাড়ি ঢাকায় এবং তার এক প্রতিবেশী কলকাতায় বেড়াতে নিয়ে যাবে বলে তাকে পাচার করে দেয় এবছর ফেব্রুয়ারি মাসে।

চন্দ্রায়নগুট্টার সহকারী পুলিশ কমিশনার এ সুধাকর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে কলকাতায় বেড়াতে নিয়ে আসার নাম করে ওই কিশোরীকে হায়দ্রাবাদে নিয়ে এসে জোর করে যৌনকর্মে নামানো হয়।

তার দেওয়া তথ্যের ওপরে ভিত্তি করে বান্ডলাগুড়া ও মেহদিপটনমের দুটি পৃথক বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ।

ওই চক্রের সদস্য দুই নারীকে গ্রেফতার করার সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গের তিনজন নারীকেও উদ্ধার করা হয়, যাদের জোর করে যৌনকর্মে নামানো হয়েছিল।

এছাড়া একজন অটোরিকশা চালককেও গ্রেফতার করা হয়েছে, যে ওই বাংলাদেশি কিশোরী এবং অন্য নারীদের 'খদ্দের'দের কাছে নিয়ে যেত।

প্রতিটা 'খদ্দের'কে গ্রেফতারের দাবি

হারমোনি ফাউন্ডেশনের আব্রাহাম মাথাই বলছিলেন, "ওইটুকু বাচ্চা মেয়ে, ষষ্ঠ কি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। পরীক্ষায় ফেল করে বকা খাওয়ার ভয়ে সে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। অথচ তারই এক পরিচিত নারী এইভাবে তার কৈশোরটা ছিনিয়ে নিল!"

"আমি পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছি প্রতিটা পুরুষ খদ্দের, যাদের এই কিশোরীর কাছে পাঠিয়েছিল চক্রের মাথারা, সেই সব খদ্দেরকেও গ্রেফতার করতে হবে।"

"প্রতিটা খদ্দের যদি ধরা পড়ে কঠোর শাস্তি পায়, তবেই একটা কড়া বার্তা যাবে যে কিশোরীদের ধর্ষণ করলে কী শাস্তি পেতে হয়। তবে যদি কিছুটা রাশ টানা যায়," বলছিলেন আব্রাহাম মাথাই।

শ্যাম কুম্বলের কথায়, বাংলাদেশ থেকে বহু কিশোরী এবং নারীকে পাচার করে মহারাষ্ট্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে শুধু তার সংগঠনই ৫০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নারী ও কিশোরীকে উদ্ধার করেছে।

"শুধু আমাদের একটা সংগঠনই যদি মহারাষ্ট্রে এত জন পাচার হওয়া নারী ও কিশোরীকে উদ্ধার করে থাকতে পারি, তাহলে ভাবুন, অন্য অনেক সংস্থাও কাজ করে, তারাও উদ্ধার কাজ চালায়, সংখ্যাটা পুরো দেশে কত হতে পারে!"

"পুণের যৌনপল্লী বলে পরিচিত বুধওয়ারপেটে অন্তত হাজার দশেক বাঙালি নারী যৌনকর্মে জড়িত। এদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নারীরা যেমন আছেন, তেমনই বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে আসা নারীরাও আছেন," বলছিলেন মি. কুম্বলে।

বাড়ি থেকে পালিয়ে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে খুলনার ১২ বছরের কিশোরী - প্রতীকী চিত্র
ছবির ক্যাপশান, বাড়ি থেকে পালিয়ে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে খুলনার ১২ বছরের কিশোরী - প্রতীকী চিত্র

Wednesday, October 22, 2025

মেয়েকে ধর্ষণ, নরপিশাচ পিতার কারাদণ্ড

জাপানের এক আদালত নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পিতা নামের এক নরপিশাচকে আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সাধারণত এ ধরনের মামলায় ভুক্তভোগীরা নিজের পরিচয় গোপন রাখেন। কিন্তু এই মামলায় মেয়েটি সাহসিকতার সঙ্গে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি কোজি দাইমন। ২০১৬ সালে তার মেয়ে রিহো ফুকুয়ামা হাইস্কুলে পড়তেন। সে সময় তাকে ধর্ষণ করে সে। আদালতে সে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও দাবি করে, ‘আমার মেয়ে এমন অবস্থায় ছিল, যেখানে সে আমাকে বাধা দিতে পারতো।’

বিচারক তোশিআকি উমেজাওয়া রায় ঘোষণার সময় বলেন, ভুক্তভোগী আজও শারীরিক ও মানসিক কষ্টে ভুগছেন। তাই এই অপরাধের পরিণতি গুরুতর বলে বিবেচিত হবে। ফুকুয়ামা জানান, তার ওপর যৌন নির্যাতন শুরু হয় যখন তিনি জুনিয়র হাইস্কুলে পড়তেন এবং তার মা তখন বাড়িতে থাকতেন না। গত বছর মার্চ মাসে তার পিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। রায়ের পর আদালতের বাইরে ফুকুয়ামা সাংবাদিকদের বলে, রায় শোনার পর আমি স্বস্তি পেয়েছি। আমি সবাইকে বলতে চাই, পারিবারিক যৌন সহিংসতা সত্যিই ঘটে। দয়া করে ভুক্তভোগীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না। এর আগে সাংবাদিক শিওরি ইতো এক প্রভাবশালী টিভি প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে ঐতিহাসিক রায় জিতেছিলেন। ২০২১ সালে রিনা গোনোই তার সহকর্মী সেনাদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন, যার পর তিনজন সেনাকে স্থগিত সাজা দেয়া হয়। ঘটনার পর গোনোই সেনাবাহিনী ছেড়ে দেয়। ইতো ও গোনোই দু’জনই প্রকাশ্যে আসার জন্য ব্যাপক প্রশংসা পেলেও, তারা অনলাইনে প্রচুর ঘৃণার শিকার হন। এ কারণে ইতোকে লন্ডনে চলে যেতে হয়।

সম্প্রতি আলোচিত এক মামলায় ওসাকার এক নারী প্রসিকিউটর তার সাবেক বসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। তবে তিনি এখনো নাম প্রকাশ করেননি। কারণ তিনি আবার কাজে ফিরতে চান। যদিও জাপানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বড় কোনো মিটু আন্দোলন গড়ে ওঠেনি, তবুও ২০১৯ সালে কয়েকজন অভিযুক্ত ধর্ষক খালাস পাওয়ার পর দেশজুড়ে যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়। আইন পরিবর্তনের ফলে ভুক্তভোগীদের জন্য বিচার পাওয়া কিছুটা সহজ হয়েছে। ২০১৭ সালে ধর্ষণের সংজ্ঞা সম্প্রসারিত হয়, এবং ২০২৩ সালে আইন থেকে ভুক্তভোগীদের জন্য ‘সহিংসতা বা ভয় প্রদর্শনের প্রমাণ’ দেয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়। 

mzamin

আত্মজীবনীতে তথ্য: একজন সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী ধর্ষণ করেছেন ভার্জিনিয়া জিফ্রেকে

ভার্জিনিয়া জিফ্রে দাবি করেছেন, তাকে একজন সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেছিলেন। ‘নোবডিস গার্ল’ আত্মজীবনীতে তিনি এ দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌণ অপরাধের অভিযোগ এনেছেন যে কয়েকজন নারী, তার প্রধান ভার্জিনিয়া জিফ্রে। ওদিকে জেফ্রি এপস্টেইন কানেকশনের কারণে বৃটেনে রাজপরিবার থেকে সব পদ পদবী ত্যাগ করেছেন বহুল আলোচিত প্রিন্স অ্যানড্রু। তাকে নিয়ে বৃটেনে এখন তোলপাড় চলছে।

ওদিকে আত্মজীবনীতে ভার্জিনিয়া জানিয়েছেন, এপস্টেইন ও তার চক্র তাকে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিত। ভার্জিনিয়া জিফ্রে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী ‘যতটা নৃশংসভাবে আমাকে ধর্ষণ করেছিলেন, কেউ আগে তার চেয়ে বেশি নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেনি’। তিনি ভয় পেতেন যে, হয়তো তিনি ‘যৌনদাসী হয়ে মারা যেতে পারেন।’ তিনি বর্ণনা করেছেন, তাকে ঘাড়ে হাত দিয়ে চেপে ধরাও হয়েছে। মারধর করা হয়েছে। অবমাননা করা হয়েছে। ধর্ষক ওই প্রধানমন্ত্রী তার কষ্ট দেখে হাসতেন। মার্কিন সংস্করণে ওই ব্যক্তিকে ‘সুপরিচিত প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে আত্মজীবনীর বৃটিশ সংস্করণে তাকে কেবল ‘সাবেক মন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বইটিতে প্রিন্স অ্যানড্রু সম্পর্কে অভিযোগগুলোকেও পুনর্ব্যক্ত করেছেন ভার্জিনিয়া জিফ্রে।

https://mzamin.com/uploads/news/main/185965_Abul-10.webp

Monday, August 25, 2025

শত শত নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আটক ব্যক্তির ভয়ঙ্কর তথ্য

দক্ষিণ ভারতের একটি ছোট মন্দির শহরকে ঘিরে সম্প্রতি ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন এক ব্যক্তি। পুলিশের হাতে আটক ওই ব্যক্তির দাবি, শত শত নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার পর তাকে মৃতদেহগুলোকে গোপনে সমাধিস্থ করতে বাধ্য করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ধর্মস্থলে। এ নিয়ে নানা রহস্য জট পেকেছে। খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, কর্ণাটকের ধর্মস্থলে অবস্থিত শ্রী মঞ্জুনাথ স্বামী মন্দির। শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দিরটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। পবিত্র এই স্থানটির সঙ্গে বহু মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি এবং জীবনের গভীর সম্পর্ক জড়িত। সেই ধর্মস্থলের সাবেক এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী গত জুলাই মাসে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মন্দিরে কাজ করার সময় তাকে শত শত নারী ও তরুণীর মৃতদেহ গোপনে পুঁতে ফেলার জন্য বাধ্য করা হয়। তিনি জানান, সেসব নারীররা নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছিলেন।

আটক ব্যক্তির পরিচয় গোপন রেখেছে পুলিশ। জনসমক্ষে অনা-নেয়ার সময় সর্বদাই কালো পোশাক ও মাস্কে ঢেকে রাখা হয় তাকে। অভিযোগের স্বপক্ষে একটি মানুষের মাথার খুলি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে ওই ব্যক্তি দাবি করেন এটি তিনি সদ্য কবর থেকে তুলে এনেছেন। এই অভিযোগের পর রাজ্যের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার ঘটনাটি তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছেন।

শনিবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন এসআইটি কর্মকর্তা জানান, ওই ব্যক্তিকে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের শুরুতে তিনি ১৩টি স্থান চিহ্নিত করেন। যেখানে তিনি মৃতদেহ কবর দিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। এসব স্থান ছিল দুর্গম এবং ঘন ঝোপঝাড়ে আবৃত।

এসআইটি এই স্থানগুলোতে কয়েক সপ্তাহ ধরে খননকার্য চালায়। যদিও কিছু মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার আগ পর্যন্ত সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এসআইটি কর্মকর্তার মতে, ওই ব্যক্তি যে মাথার খুলিটি প্রমাণ হিসেবে দিয়েছেন, তা তার দেখানো কোনো স্থান থেকে আনা হয়নি।

এই অভিযোগ মন্দির প্রশাসন এবং এর বংশানুক্রমিক প্রধান হেগড়ে পরিবারের ওপরও সন্দেহ তৈরি করেছে। যদিও মন্দিরের প্রধান প্রশাসক বীরেন্দ্র হেগড়ে এই অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, মন্দির কর্তৃপক্ষ তদন্তে পূর্ণ সহায়তা করছে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা আছে।

এ ঘটনা নিয়ে রাজ্য বিধানসভাতেও তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। এটিকে একটি হিন্দুদের ধর্মীয় স্থানের বিরুদ্ধে ‘কলঙ্ক লেপনের অভিযান’ বলে আখ্যা দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর জানান, সরকারের উদ্দেশ্য কাউকে রক্ষা করা বা হেয় করা নয়, বরং সত্য উদঘাটন করা। তিনি বলেন, যদি কিছুই না পাওয়া যায় তবে ধর্মস্থলের মর্যাদা আরও বাড়বে। আর যদি কিছু বেরিয়ে আসে তাহলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। এই ঘটনাটি এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে। অভিযোগকারীর গ্রেপ্তারের পর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে।

mzamin

Thursday, May 22, 2025

আদালতে কাঁদলেন অভিনেত্রী জেসিকা, ধর্ষণের অভিযোগ

আদালতে দাঁড়িয়ে কাঁদলেন হলিউডের সাবেক অভিনেত্রী জেসিকা মান। কাঁদতে কাঁদতে তিনি নিউ ইয়র্কের এক জুরিকে বলছেন, হলিউডের প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেন কত খারাপ মানুষ ছিলেন। জেসিনা অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালে মিডটাউনে এক হোটেল কক্ষে তাকে ধর্ষণ করেছেন হার্ভে উইনস্টেন। হলিউডের এক সময়ের দাপুটে এই প্রযোজকের বিরুদ্ধে এখন থেকে ৫ বছর আগে একই রকম অভিযোগ করেন বেশ কিছু অভিনেত্রী। এখন এতদিন পরে আদালতে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কাহিনী প্রকাশ করলেন জেসিকা মান। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ১৮ই মার্চ মিডটাউনের ডাবল ট্রি হোটেলে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন হার্ভে উইনস্টেন। তার আগে জেসিকাকে ওই কক্ষে কৌশলে ফাঁদে আটকে ফেলেন হার্ভে। তারপর নিজেই একটি ইঞ্জেকশন নেন তিনি। জেসিকা পরে জেনেছেন ওই ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা হয় যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে। এরপর জোর করে জেসিকাকে ধর্ষণ করেন হার্ভে। কিভাবে দরজা বন্ধ করে জেসিকাকে আটকে ফেলে তাকে বিবস্ত্র হতে বাধ্য করেছিলেন তিনি সে বিষয়ে জেসিকা বলেছেন- এটা এমন একটি মুহূর্ত, যা আমি মুছে দিয়েছিলাম। জেসিকা মান বলেন, হার্ভে আমাকে ধর্ষণ করার পরে আমি দেখতে পাই বিনের ভিতর পড়ে আছে সূচের একটি লেবেল। তাতে ‘নেক্রো-এরকম’ কিছু একটা শব্দ লেখা ছিল।  পরে আমি গুগলে সার্স করে দেখতে পাই এটার অর্থ আসলে নিস্তেজ হয়ে যাওয়া পুরুষত্ব। কি কি ঘটেছিল তা কি আমি সব প্রকাশ করবো? আমার ভয় হয়।

মর্মান্তিক এই ঘটনা সত্ত্বেও জুরিদের কাছে মিস জেসিকা সাক্ষ্যে বলেন, এ ঘটনার পর হার্ভে উইনস্টেনের সঙ্গে জটিল এক সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। তিনি বলেন, আমি স্রেফ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি তার সঙ্গে রিলেশনশিপের। সেটা যদি খারাপ সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে তার জন্য আমি দুঃখিত। আমি এটা করেছিলাম। এ বিষয়টি কিভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে সেটা আসলে আমি জানতাম না। এ জন্য আমি শুধু সময় নিয়েছি। কখনো কখনো তিনি আমাকে বৈধভাবে ব্যবহার করেছেন। আমি না বললে সেটা তার কাছে ট্রিগারের মতো ছিল। এটাকে আমি ‘দৈত্যের আচরণ’ বলবো। এমন আচরণ বেরিয়ে আসতো।

২০১৩ সালে হোটেল কক্ষে ধর্ষণের আগেই জেসিকা মানের কাছে ‘ওরাল’ সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছিলেন হার্ভে উইনস্টেন। এটা ছিল লস অ্যানজেলেসে প্রথম প্রাইভেট মিটিংয়ের সময়। জেসিকা জুরিদের কাছে বলেছেন, হার্ভে তাকে ও একজন বন্ধুকে নিজের হোটেল কক্ষে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কথা ছিল ‘ভ্যাম্পায়ার একাডেমি’ ছবির সংলাপের কপি দেবেন।  কিন্তু যখন জেসিকাকে বেডরুমে একা পান, তখন হার্ভে তার বাধা উপেক্ষা করে জেসিকার ওপর চড়াও হন। এক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ করেন তিনি। তাদের মধ্যে এ সময় একরকম লড়াই হয়। এসব বলতে বলতে কাঁপতে থাকেন জেসিকা মান। তবু তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর হার্ভের সঙ্গে রিলেশনশিপে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আশা করেছিলেন, ভয়াবহ যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সে বিষয়ে একটি সেন্স জাগ্রত হবে। আমি শুধু বেদনাকে সরাতে চেয়েছি।
জেসিকা মান বলেছেন, ওই সময়ে তিনি এ নিয়ে কথা বলার সাহস পাননি। কারণ, হার্ভের প্রভাব ছিল বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কোনো কোনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার শক্তিশালী যোগাযোগ। জেসিকার ভাষায়- আমার মনে আছে, কল্পনা করেছি যদি আমি এসব নিয়ে কোনো কথা বলি তাহলে হার্ভে তার বন্ধু ও সিক্রেট সার্ভিসকে কল করবেন আমাকে ধরতে। হার্ভের কাছ থেকে কখনো কোনো অর্থ নেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন জেসিকা। তিনি বলেন, আমার মনে হয়েছে আমি যদি কোনো অর্থ নিই তাহলে তা হবে দেহব্যবসায়ীদের নোংরা উপার্জনের মতো। কখনোই তার নোংরা অর্থ আমি চাই নি। কারণ, আমি তো বিক্রি হতে যাইনি।

এর আগে অন্য অভিনেত্রীদের ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে হার্ভে উইনস্টেন অভিযুক্ত হন ২০২০ সালে। তবে জেসিকা মানকে থার্ড-ডিগ্রি ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও তা উল্টে দেয়া হয়। এখন আবার সেই অভিযোগের নতুন করে বিচার হচ্ছে। যদি এতে হার্ভে অভিযুক্ত হন তাহলে তার ২৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। হার্ভের বিরুদ্ধে পুনঃবিচারে জেসিকা মান হলেন তৃতীয় ও চূড়ান্ত অভিযোগকারী। এর আগে সাবেক মডেল কাজা সোকোলা, প্রযোজকের সাবেক সহকারী মরিয়ম মিমি হ্যালি একই অভিযোগ আনেন।

mzamin

Thursday, May 8, 2025

এমসি’র ছাত্রাবাসের ধর্ষণের বিচার সাড়ে ৪ বছর পর শুরু

মাঝখানে কেটে গেছে সাড়ে চার বছর। আসামি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ফলে আইনের ফাঁকফোকরে নানা প্রতিবন্ধকতা। অথচ মামলার তদন্তকালে পাঁচ আসামির স্বীকারোক্তি। ছয় আসামির ডিএনএ টেস্টে মিল পাওয়া যায়। এটি সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের আলোচিত ধর্ষণকাণ্ডের ঘটনা। আশার কথা হলো- দীর্ঘদিন পর সকল আইনি জটিলতা কাটিয়ে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে আলোচিত এ ধর্ষণকাণ্ডের বিচার। উচ্চ আদালতের সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় দায়ের করা দু’টি মামলার বিচার একসঙ্গে শুরু হলো। ২০২০ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর বিকালে দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরের ২৪ বছর বয়সী এক যুবক তার ১৯ বছর বয়সী নববিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে প্রাইভেটকারযোগে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরতে যান। এ সময় কয়েকজন যুবক ওই স্বামী ও তার স্ত্রীকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে প্রাইভেটকারসহ তাদেরকে জোরপূর্বক জিম্মি করে কলেজের ছাত্রাবাসের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এরপর স্বামীকে আটকে রেখে ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের পঞ্চম তলা বিল্ডিংয়ের সামনে প্রাইভেটকারের মধ্যেই গৃহবধূকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ করে। তারা দম্পতির সঙ্গে থাকা টাকা, স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আটকে রাখে তাদের প্রাইভেটকারও। ওই রাতেই নির্যাতিতার স্বামী মাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে শাহপরান থানায় মামলা করেন।

গণধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রলীগ কুর্শী বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার তাহিদ মিয়ার পুত্র সাইফুর রহমান, হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ জাহাঙ্গীর মিয়ার পুত্র শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি, সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার উমেদনগরের মৃত রফিকুল ইসলামের পুত্র তারেকুল ইসলাম তারেক, জকিগঞ্জের আটগ্রামের মৃত অমলেন্দু লস্কর ওরফে কানু লস্করের পুত্র অর্জুন লস্কর, দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুরের দেলোয়ার হোসেনের পুত্র রবিউল ইসলাম, কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দির সালিক আহমদের পুত্র মাহফুজুর রহমান মাসুম, সিলেট নগরীর গোলাপবাগ আবাসিক এলাকার মৃত সোনা মিয়ার পুত্র আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও বিয়ানীবাজার উপজেলার নটেশ্বর গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের পুত্র মিজবাউল ইসলাম রাজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে পুলিশ। এতে ৫২ জনকে সাক্ষী রাখা হয়। ঘটনার মাত্র ২ মাস ৮ দিন পর ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেয়া হয়। গণধর্ষণের পর পুলিশ ও র‌্যাব ৮ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে। তারা ছাত্রলীগের টিলাগড় গ্রুপের গডফাদার রনজিত সরকারের অনুসারী। গ্রেপ্তারের পর ৮ আসামির সকলেই অকপটে একেবারে সহজ-সরলভাবে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

আসামিদের মধ্যে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, মিজবাহুল ইসলাম রাজন ও আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ১৯ বছর বয়সী ওই নববধূকে সরাসরি গণধর্ষণ করে। রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম ধর্ষণে সহযোগিতা করে। ডিএনএ রিপোর্টে ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর ও মাহবুবুর রহমান রনির ডিএনএ মিল পাওয়া যায়। এদিকে, আইনুদ্দিন ও মিজবাউল ইসলাম রাজনের ডিএনএ মিল পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ঘটনার পর থেকে আসামিরা সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, গত ১৭ই মার্চ সোমবার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে করা লিভ টু আপিল বাতিলের আদেশ দিয়ে মামলা দুটোর নথিপত্র ৩০ দিনের মধ্যে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের আদেশ দেন।

এর আগে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে লিভ টু আপিল প্রত্যাহারের আবেদন করা হলে ওই দিন এ বিষয়ে শুনানি শেষে উচ্চ আদালত ওই আদেশ দেন। উচ্চ আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বহুল আলোচিত এই ধর্ষণ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী তারিখ হচ্ছে ১৩ই মে। এদিন আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। আদালতে বিচার শুরু হলেও এখনো সশরীরে বাদী আদালতে আসেননি। পরবর্তী তারিখে তার উপস্থিত থাকার কথা। তিনি বলেন, দুটো মামলার বিচার কার্যক্রম একসঙ্গে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করার জন্য প্রথম থেকেই বাদী পক্ষ বলে আসছে। কিন্তু ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করতে পদে পদে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। এমনকি উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে আপিল দায়ের ছিল নজিরবিহীন ঘটনা। শেষ পর্যন্ত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে একইসঙ্গে দুটো মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

mzamin

Sunday, May 4, 2025

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের পর গর্ভপাত: কৃষক দল নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় কৃষক দল নেতা ও তার ছেলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক বার নারীকে ধর্ষণের ফলে গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ধর্ষকের পিতা কৃষক দলের নেতাসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। শুধু ধর্ষণ আর গর্ভপাতই নয়, প্রেম ও বিয়ের অভিনয় করে ওই নারীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৭ লাখ টাকা। এদিকে নির্যাতিত ওই নারী শৈলকুপা থানায় পৃথক আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগ তদন্ত করে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পান। এ খবর নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সম্রাট মণ্ডল।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী নারী সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরে ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন নাজমুল খন্দকার নামের এক যুবক। নাজমুল খন্দকার শৈলকুপা উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব কামরুল ইসলামের ছেলে। ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাজমুল খন্দকার নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি নাজমুলের গোটা পরিবার জানার পরে তারা মেনে নেয় বলে জানান ওই নারী। এরপর ওই নারী নাজমুলের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে নাজমুল ও তার পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা কৌশলে ওই নারীকে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকার রয়েল ক্লিনিকে ভর্তি করে গর্ভপাত ঘটায়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই নাজমুল খন্দকার ও তার বাবা-মা ভুক্তভোগী নারীকে হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে নাজমুল খন্দকার ও তার বাবা-মায়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও ওই নারী কোনো সমাধান পাননি। নিরুপায় হয়ে পরে তিনি শৈলকুপা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা মামলা গ্রহণ করেনি। নাজমুল খন্দকারের বাবা কামরুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই নারীকে নানাভাবে প্রতিদিন হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, দুই বছর ধরে নাজমুলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। তার বাড়িতে আমি নিয়মিত যাতায়াত করায় পরিবারের সবাই তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু অবাধ মেলামেশার কারণে গর্ভবতী হয়ে পড়লে ছেলের পরিবার তাকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেয়। এ বিষয়ে কৃষক দল নেতার ছেলে নাজমুল খন্দকার বলেন, ওই নারীর অভিযোগ সত্য নয়। সে একজন প্রতারক। তার নামে থানায় কোনো মামলা হয়েছে কিনা তিনি এখনো জানেন না।

নাজমুলের পিতা শৈলকুপা কৃষক দলের সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারী মহিলা সম্পর্কে আমি খুব বেশি কিছু জানি না। তবে সে আমার বাড়িতে আসা যাওয়া করতো এটা জানি। গর্ভপাত ও হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
শৈলকুপা থানার এসআই সম্রাট মণ্ডল জানান, ওই নারীর অভিযোগ পেয়ে তিনি পারিপার্শ্বিক ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা কিছুটা মিলেছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে যদি আদালতের কোনো নির্দেশনা আসে তবে সে মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শৈলকুপা থানার ওসি মাসুম খান শুক্রবার রাতে জানান, এ বিষয়ে শৈলকুপা থানায় আদালতের নির্দেশে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, মামলা নং ০৪/২৫। তিনি জানান, ভুক্তভোগী নারী সম্ভবত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাকে প্রলোভনে ফেলে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ হাতে পেয়েছি। আদালত মামলা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সে মোতাবেক থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

mzamin

Wednesday, April 30, 2025

বন্ধুকে ছাত্রলীগ সাজিয়ে পুলিশে দিয়ে তার প্রেমিকাকে ধর্ষণ ছাত্রদল নেতার!

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় বন্ধুর হবু বউকে (১৭) ধর্ষণের সময় ফয়সাল আহমেদ দুর্জয় (২৬) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ফয়সাল আহমেদ দুর্জয় দূর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) রাতে দূর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বিরিশিরি এলাকার এক রিসোর্ট থেকে অনৈতিক কাজে (ধর্ষণ) লিপ্ত থাকা অবস্থায় দুর্জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় রিসোর্টে দায়িত্বরত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর হবু স্বামী ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী মো. মুন্না মিয়া ও ভুক্তভোগী সবাই থানা হেফাজতে আছেন।’

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে ফয়সাল আহমেদ দুর্জয়ের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে ভুক্তভোগীর হবু স্বামী মুন্না মিয়া দূর্গাপুর ঘুরতে নিয়ে যান। পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলে বিরিশিরি রিসোর্টে রুম ভাড়া নিয়ে রাত্রযাপন করেন। মঙ্গলবার দুপুরে মুন্না ব্যক্তিগত কাজে শহরে যান। কিছুক্ষণ পর দরজায় শব্দ পেয়ে ভুক্তভোগী তার স্বামী এসেছেন ভেবে দরজা খুলেন। তখন তিনি ফয়সাল আহমেদ দুর্জয়কে দেখতে পান। দুর্জয় তার হবু স্বামী মুন্নার বন্ধু হওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিচিত ছিল। পরে কথা বলার জন্য তখন দুর্জয় রুমের ভেতরে যান। কথা বলার এক পর্যায়ে দুর্জয় তাকে ঝাপটে ধরেন এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ধর্ষণ ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকালে দুর্জয়কে আদালতে সোপর্দ করা হবে। অন্য আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অনিক মাহবুব জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকায় দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন-আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ দুর্জয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাত্রদল কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। 

অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ দুর্জয়। ছবি : সংগৃহীত
অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ দুর্জয়। ছবি : সংগৃহীত

Monday, April 28, 2025

অভ্যুত্থানে শহীদের মেয়ে কেন আত্মহত্যা করে by মনজুরুল ইসলাম

আজকে পত্রিকা পড়তে গিয়ে দুটি খবরে চোখ আটকে গেছে। প্রথম খবরটি আসন্ন বাজেটে শহীদ পরিবার ও আহতদের সহযোগিতায় সরকারের বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে। এতে বলা হয়েছে, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তায় বরাদ্দ আগামী অর্থবছরে আড়াই গুণ বেড়ে ৫৯৩ কোটি টাকা হচ্ছে। অর্থবছরের শুরু থেকেই শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি এককালীন অর্থ এবং চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হবে।’ (শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য বরাদ্দ বাড়ছে, সমকাল, ২৭ এপ্রিল ২০২৫)

শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য সরকার বরাদ্দ বৃদ্ধি করবে—এটাকে ইতিবাচক পদক্ষেপই বলতে হবে। যাঁরা জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা, স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন, রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব আছে তাঁদের জন্য কিছু করার। রাষ্ট্রের তরফ থেকে আর্থিক সহযোগিতা, সম্মানী বা ভাতা দেওয়া সে রকমই একটা কিছু। এ কারণে খবরটা পড়ে একধরনের ইতিবাচক বা ভালো লাগার অনুভূতিই তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু ভালো লাগার ওই অনুভূতি খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। কয়েক মিনিটের মধ্যে আরেকটি খবরের দিকে চোখ যায়। সেটি হলো ধর্ষণের শিকার এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর। এই খবরের শিরোনাম হলো, ‘ধর্ষণের শিকার জুলাই আন্দোলনে শহীদের মেয়ের আত্মহত্যা’। (সমকাল, ২৭ এপ্রিল ২০২৫)

আন্দোলন চলাকালে মেয়েটির বাবা গত বছরের ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। ১০ দিন পর ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় বাবার কবর জিয়ারত করে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নে নানাবাড়িতে ফেরার পথে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন কলেজশিক্ষার্থী মেয়েটি।

ধর্ষণের সময় মেয়েটির নগ্ন ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বলেছিল ধর্ষণকারীরা। এরপরও সব হুমকি, ভয়ভীতি ও ‘লোকলজ্জা’ উপেক্ষা করে মেয়েটির পরিবার ২০ মার্চ থানায় গিয়ে অভিযোগ করে। এরপর পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তারও করেছিল।

মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিরা জামিন পেয়েছে। এ নিয়ে কিছুদিন ধরে হতাশ ছিলেন মেয়েটি। ধারণা করা হচ্ছে, আসামিরা জামিনে ছাড়া পাওয়ায় মর্মাহত হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। (সমকাল, ২৭ এপ্রিল ২০২৫)

বাংলাদেশে ধর্ষণ ‘বিরল’ কোনো ঘটনা নয়, আত্মহত্যাও নতুন কিছু নয়, এমনকি ধর্ষণের শিকার মেয়ে বা নারীর আত্মহত্যার খবরও ‘অভূতপূর্ব’ নয়। তাহলে এ ঘটনা নিয়ে এত বিচলিত হওয়ার বা মুষড়ে পড়ার কী আছে?

বিচলিত হতে হচ্ছে, কারণ আত্মহত্যা করা মেয়েটি একজন শহীদের মেয়ে। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে মেয়েটি প্রথমে তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন। এরপর মার্চ মাসে তিনি নিজে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ‘অপমান’ সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলেন। একজন শহীদের কন্যা হিসেবে মেয়েটির যখন সম্মান পাওয়ার কথা, তখন তাঁকে কেন ধর্ষণের শিকার হয়ে ‘অপমানিত’ হতে হলো? এটা কি শহীদ পরিবারটির প্রতি রাষ্ট্রের চরম অবহেলার ফলাফল?

এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেছেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্রের সর্বপ্রথম দায়িত্ব ছিল। কিন্তু এই নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। (শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে: স্নিগ্ধ, জাগোনিউজ২৪ডটকম, ২৭ এপ্রিল ২০২৫)

একজন শহীদের মেয়ে ধর্ষণের শিকার হওয়া এবং তার আত্মহত্যার ঘটনাটি শুধু রাষ্ট্রেরই ব্যর্থতা নয়; এটা একই সঙ্গে আমাদের রাজনীতিরও ব্যর্থতা। ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে বহুল আলোচিত একটি শব্দ হলো ‘জুলাই স্পিরিট’ বা জুলাইয়ের চেতনা। যে দল বা রাজনৈতিক শক্তি এই জুলাইয়ের চেতনার কথা বেশি বেশি বলেছে, আমরা ধারণা করেছি তারা গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে থাকবে; তাঁদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবে। বাস্তবে তেমনটা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে না, শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা বা ভাতা একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। কিন্তু তাঁদের সম্মান ও মর্যাদার বিষয়টি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে তাঁদের সেই সম্মান ও মর্যাদা দিতে পারিনি, শহীদের মেয়ের আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে সেটি প্রমাণ হয়ে গেল।

একজন শহীদের মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, সেই বিষয়ে কারও কোনো অজুহাত দেওয়ার সুযোগ নেই। শহীদের মেয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়াও এখন আর সম্ভব নয়। তার চেয়েও বড় কথা, মেয়েটির প্রতি যে চূড়ান্ত অবহেলা করা হয়েছে, তার কোনো ক্ষমা হতে পারে না।

মনজুরুল ইসলাম প্রথম আলো’র জেষ্ঠ্য সহসম্পাদক

পটুয়াখালীর দুমকিতে গ্রামের বাড়িতে বাবার কবরের পাশে কলেজছাত্রীকে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। কবর খুঁড়ছেন বৃদ্ধ দাদা
পটুয়াখালীর দুমকিতে গ্রামের বাড়িতে বাবার কবরের পাশে কলেজছাত্রীকে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। কবর খুঁড়ছেন বৃদ্ধ দাদা। ছবি : প্রথম আলো

বাবা জুলাই আন্দোলনে শহীদ: ধর্ষণের শিকার মেয়ের আত্মহত্যা

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ হন বাবা। বাবা হারানোর একরাশ কষ্ট বুকে নিয়ে জীবন চলছিল কলেজ পড়ুয়া মেয়ের। কিন্তু এরই মাঝে তার জীবনেও ঘটে যায় ভয়ংকর ঘটনা। সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন তিনি। এরপর আসামি গ্রেপ্তার হলেও ক’দিন বাদেই বেরিয়ে আসেন। এই ক্ষোভে, আতঙ্কে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গলায় ফাঁস দিয়ে ‘আত্মহত্যা’র চেষ্টা করেন তিনি। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

গত ১৮ই মার্চ পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নে এই কিশোরীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তার পরেরদিনই সাকিব মুন্সী নামে অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ঘটনার দিন মেয়েটি তার বাবার কবর জিয়ারত শেষে নানাবাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হয়। পথে নলদোয়ানী এলাকা থেকে সাকিব ও সিফাত তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা মুখ চেপে ধরে পাশের জলিল মুন্সির ভিটা বাগানে নিয়ে যান। সেখানে তারা ধর্ষণ করেন এবং ঘটনার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় দু’জনের নাম উল্লেখ করে দুমকি থানায় মামলা করেছিলেন ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী।

রাজধানীর আদাবর শেখেরটেক এলাকার একটি বাসায় জুলাই আন্দোলনের শহীদ জসীমউদ্দীনের মেয়ে লামিয়া ‘আত্মহত্যা’ করেন। এর আগে লামিয়াকে অচেতন অবস্থায় তার পরিবার রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে শারীরিক পরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম জাকারিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লামিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রাজধানীর শেখেরটেক এলাকায় মায়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পটুয়াখালীতে সেই কলেজছাত্রীর বাড়ি
"আমার নাতনিটা আজ বাড়ি আসবে বলছিলো। কিন্তু সে যে লাশ হয়ে আসবো তা তো বুঝি নাই। আমি এখন তার জন্য কবর খুঁড়ি," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন নিজ এলাকায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ঢাকায় এসে আত্মহননের পথ বেছে নেয়া পটুয়াখালীর কলেজছাত্রীর দাদা আব্দুস সোবহান। (ছবির ক্যাপশান, পটুয়াখালীতে সেই কলেজছাত্রীর বাড়ি) বিবিসি বাংলা



Tuesday, April 22, 2025

জুঁইকে ধর্ষণের পর হত্যা: লোমহর্ষক বর্ণনা চার কিশোর ও এক যুবকের

নাটোরের বড়াইগ্রামের আলোচিত মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আকলিমা আক্তার জুঁই (৭)কে ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ। পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনের জন্য যৌনকর্মী ও নর্তকী না পেয়ে ৪ কিশোর ও ১ যুবক জুঁইকে বেছে নেয়। বিকাল ৫টার দিকে বাড়ির পাশে আম বাগানে আম কুড়াতে গেলে বাগানের মধ্যেই নেশার আসরে থাকা ওই ৫ জন জুঁইকে দেখতে পায়। তারা জোরপূর্বক জুঁই’র মুখ চেপে ধরে কোলে উঠিয়ে পাশের কলা বাগানে নিয়ে যায়। মধ্য রাত পর্যন্ত তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে জুঁই অজ্ঞান হয়ে পড়লে পরনের প্যান্ট গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। লাশ যেনো কেউ চিনতে না পারে তার জন্য ট্রাক্টর থেকে আনা ব্যাটারির এসিড দিয়ে মুখমণ্ডল পোড়ানোর চেষ্টা করে। নির্মম ও পৈশাচিক এই ঘটনার ৫ দিনের মাথায় বড়াইগ্রাম থানা, চাটমোহর থানা ও নাটোর ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৫ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা পুলিশের কাছে উপরোক্ত বিবরণ তুলে ধরে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরুল আলম। 

অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরুল আলম আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও গ্রেপ্তারকৃত ৫ জন হলো- বড়াইগ্রাম উপজেলার দিয়াড়গাড়ফা গ্রামের শাহীন আলীর ছেলে সিয়াম হোসেন (১৩), গাড়ফা উত্তরপাড়া গ্রামের আয়নাল হোসেনের ছেলে শেখ সাদী (১৬), শফিকুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৬), সুলতান হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫) এবং গাড়ফা দক্ষিণপাড়া গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেন (১৬)। এদের মধ্যে সিয়াম স্থানীয় ডিকে উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র, শেখ সাদী ও আব্দুল্লাহ অপকর্মের দায়ে স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কৃত। সোহেল বিবাহিত ও দিনমজুর এবং সাকিব ট্রাক্টর চালকের সহকারী।

তিনি আরও বলেন, যুবক সোহেল ও ৩ কিশোর শেখ সাদী, আব্দুল্লাহ, সাকিব পহেলা বৈশাখের আনন্দ করার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে নিজেরা টাকা তুলে যৌনকর্মী ও নর্তকী ভাড়া করার চেষ্টা করে এবং নেশাদ্রব্য গাঁজা কিনে। তারা যৌন উত্তেজক ওষুধও সেবন করে। ঘটনার দিন বিকালে তারা জুঁইয়ের বাড়ির পাশের আমবাগানে বসে গাঁজা সেবন করছিল। হঠাৎ জুঁই দাদীর বাড়ি থেকে বেড়ানো শেষে সেখানে আম কুড়াতে যায়। এ সময় শেখ সাদী জুঁইকে জোরপূর্বক কোলে তুলে পাশেই দুলালের কলাবাগানে নিয়ে যায় এবং চারজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর তারা শিশুটিকে ধরাধরি করে পাশের ভুট্টার জমিতে নিয়ে যাওয়ার সময় জুঁই’র বাড়ির পাশে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসা সিয়াম বিষয়টি দেখে ফেলে। পরে তারা সিয়ামকেও প্রলুব্ধ করে শিশুটিকে পুনরায় ধর্ষণ করায়। তারা দীর্ঘসময় জুঁই’র শরীর নিয়ে আদিম অসভ্যতায় মেতে ওঠে। এরপর তারা জুঁইয়ের লাল রঙের প্যান্ট গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে এবং ঘাড় মটকে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর এসিড জাতীয় দাহ্য পদার্থ দিয়ে তার মুখ ঝলসে দেয়। পরে তারা ভুট্টার জমিতে বিবস্ত্র লাশটি উপুড় করে ফেলে রেখে চলে যায়।

উল্লেখ্য, গত ১৪ই এপ্রিল দাদীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়ে নিখোঁজ হয় বড়াইগ্রামের চান্দাই ইউনিয়নের গাড়ফা প্রবাসী জাহিরুল ইসলামের শিশুকন্যা জুঁই। পরদিন বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে চাটমোহরের রামপুর বিলের একটি ভুট্টা ক্ষেতে তার বিবস্ত্র ও মুখমণ্ডল ঝলসানো লাশ পাওয়া যায়। রাতে জুঁইয়ের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। জুঁই’র ওপর এই নির্মমতা ও পৈশাচিকতার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে নাটোরের সর্বস্তরের মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাতেও এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে ও অপরাধীদের চিহ্নিত করতে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ মাঠে নামে। ব্যাপক অনুসন্ধানের পর ঘটনার ৫ দিনের মাথায় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৫ জনকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাবনা জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।

mzamin

Friday, April 18, 2025

ধর্ষণের পর শিশু জুঁই’র মুখ এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় by অমর ডি কস্তা

নাটোরের বড়াইগ্রামে ৭ বছরের শিশুকন্যা জুঁইকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা ও মুখমণ্ডল এসিড দিয়ে পুড়িয়ে বীভৎস করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার নিখোঁজের পর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ গজ অদূরে ভুট্টা ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর পেছনের কারণ খুঁজতে পুলিশের পাশাপাশি সাংবাদিক মহল ও স্থানীয়রা বেশ তৎপর রয়েছে।

এদিকে, ঘটনার তিনদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। এতে ধর্ষণ বা হত্যার রহস্য এখন পর্যন্ত অধরাই রয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সরজমিন ওই এলাকায় খোঁজ নেয়া হয়। অনিচ্ছুক স্থানীয় অনেকে জানান, সোমবার বেলা ৩টার দিকে জুঁইর বৃদ্ধ দাদা সাইদুল ইসলাম ও দাদি জহুরা খাতুন তাদের মেয়ের (জুঁইর ফুফু) বাড়িতে বেড়াতে যায়। জুঁইয়েরা ৩ বোনের মধ্যে ১২ বছর বয়সী বড়বোন অন্যত্র আবাসিক মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে। ওইদিন সে মাদ্রাসাতেই ছিল। ছোট ভাইয়ের বয়স প্রায় ৪ বছর। জুঁইয়ের বাবা জাহিরুল ইসলাম মালয়েশিয়া প্রবাসী। বাড়িতে কেউ না থাকার পরও জুঁই কেন দাদির বাড়ির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলো, তা স্পষ্ট নয়। এমন তথ্যটি রহস্যজনক।

পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ গজ অদূরে ভুট্টা ক্ষেতে লাশ টান টান করে শোয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। পরনের প্যান্ট ছিল গলায় প্যাঁচানো। ভুট্টা ক্ষেতের চিত্র দেখে কোনোভাবেই বলা যাবে না সেখানে তাকে ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, তাকে বিকালে নয়, রাতেই অন্য কোথাও ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর লাশ যাতে চেনা না যায় এজন্য মুখমণ্ডলে এসিড ঢেলে দেয়া হয়েছে। পরে দুর্বৃত্তরা লাশটি ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে রেখে গেছে।

ইউপি সদস্য ফজিলা খাতুন বলেন, যারা জুঁইকে ধর্ষণ বা হত্যা করেছে তাদের তো কোনো প্রয়োজন ছিল না মুখমণ্ডল এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার। মূলত: জুুঁইকে যেন কেউ চিনতে না পারে তার জন্য ঘাতকরা চেষ্টা করেছে। কিন্তু তা পেরে ওঠেনি। মুখমণ্ডল এসিড দিয়ে ঝলসানোর কারণ সবার আগে খুঁজে বের করতে পারলে প্রকৃত দোষী ধরা পড়বে। কম্বাইন্ড হিউম্যান রাইটস নাটোর জেলার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ওসমান গণি সোহাগ বলেন, জুঁইর বাড়ি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায়। বাড়ির অদূরে লাশ পাওয়া গেলেও স্থানটি পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা সীমানায়। প্রথম থেকেই ২ থানার মধ্যে মামলা গ্রহণ নিয়ে বেশ রেষারেষি হয়। পরবর্তীতে চাটমোহর থানায় মামলা রেকর্ড হয়। থানা ভিন্ন হওয়ায় এ মামলার অগ্রগতি আদৌ কতটুকু এগুবে- তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এদিকে শিশুকন্যা জুঁইকে ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী জেলা জুড়ে প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা ক্লাস বাদ দিয়ে সড়ক ও মাঠে অবস্থান করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি করে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া লন্ডন থেকে এ ঘটনার খোঁজ নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জুঁইর পরিবারকে নগদ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। বুধবার বিকালে জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দসহ উপজেলার নেতাকর্মীরা জুঁইর নিজ গ্রামে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং স্থানীয়দের নিয়ে বিশাল মানববন্ধন করে এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।   

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে ভুট্টা ক্ষেত থেকে ৭ বছর বয়সী জুঁই এর মুখাবয়ব এসিডে ঝলসানো ও বিবস্ত্র মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আগের দিন সোমবার বিকাল থেকে সে নিখোঁজ হয়। জুঁই ওই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী জাহিরুল ইসলামের মেয়ে ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ১ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করতো।

বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান, চাটমোহর থানাতে খবর নিয়েছি। এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা যায়নি। তবে দুই থানা পুলিশ দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে। 

mzamin

Thursday, April 17, 2025

লম্পট পিতার ফাঁসি

চুয়াডাঙ্গায় মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত আলতাপ হোসেন (৪৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ গ্রামের মৃত সাদেক আলী মৃধার ছেলে। তিনি ঘরজামাই হিসেবে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা হুদাপাড়া গ্রামে বসবাস করছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি পার্শ্ববর্তী গাংনী ইউনিয়নে ওই কিশোরীকে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের কয়েকদিন পর স্বামীর বাড়িতে অবস্থানকালে পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাব হলে প্রেগন্যান্সি পরীক্ষার মাধ্যমে ২-৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি জানাজানি হয়। ভুক্তভোগী  জানায় যে, ২০২৩ সালের ৫ই ডিসেম্বর তার মা-বোনের বাড়িতে গেলে রাতে বাবা বসতঘরে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ২-৩ মাসে ৭-৮ বার ধর্ষণ করে। তদন্ত শেষে আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাবর আলী গত ২০২৪ সালের ১১ই ডিসেম্বর অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (স্পেশাল পিপি) এম এম শাহজাহান মুকুল বলেন, কিশোরী ধর্ষণ মামলায় পিতা আলতাপ হোসেনকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ হয়েছে। জরিমানার আদেশ তার জীবদ্দশায় অথবা মৃত্যুর পরবর্তী পর্যায়ে প্রথম দায়দেনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আদালত এটা রায়ে উল্লেখ করেছেন। সর্বোপরি সাক্ষী শুরু থেকে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি বিধান করতে সক্ষম হয়েছে। সমাজে এ ধরনের ঘৃণিত অপরাধ আর যেন সংঘটিত না হয় সেজন্য এ রায় যুগান্তকারী হয়ে থাকবে।

mzamin

Monday, March 24, 2025

‘বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক’ কি শুধু পুরুষেরই অপরাধ by ইশরাত হাসান

ধর্ষণ মামলার বিচার দ্রুত করার জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন হওয়া খসড়া অনুযায়ী ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অবৈধ যৌন সম্পর্ক’কে ধর্ষণের সংজ্ঞায় রাখা হয়নি। এটি আইনে আলাদা ধারায় চিহ্নিত করা হয়েছে। আর এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হবে সাত বছরের কারাদণ্ড। (প্রথম আলো অনলাইন, ২০ মার্চ ২০২৫)

বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিয়ে ছাড়া ১৬ বছরের বেশি বয়সী নারীর ক্ষেত্রে প্রতারণামূলকভাবে তাঁর সম্মতি আদায় করে যৌন সংগম করাকে ধর্ষণ হিসেবে বলা হয়েছে। এর ফলে বহু মামলায় বিয়ের ‘প্রতিশ্রুতি’ বা ‘প্রলোভনে’ ধর্ষণ, এ রকম অভিযোগের উল্লেখ দেখা যায়।

অনুমোদিত খসড়া অনুযায়ী ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে অবৈধ যৌন সম্পর্ক’কে ধর্ষণের সংজ্ঞায় না রাখার বিষয়টি এক অর্থে ‘ইতিবাচক’। কিন্তু এর পরও অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে।

আগে ‘প্রতারণামূলকভাবে সম্মতি আদায়ের’ কথা বলা হলেও  সংশোধিত খসড়া অধ্যাদেশে সুনির্দিষ্টভাবে ‘বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক’কে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান করা হয়েছে। কিন্তু ঠিক কী করলে প্রকৃত অর্থে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তার সুস্পস্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। কেউ বিয়ের কথা বলে যৌন সম্পর্ক করার সঙ্গে সঙ্গেই অপরাধ সংঘটিত হবে, নাকি পরবর্তী সময়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি পালন না করলে অপরাধ হবে? অর্থাৎ অপরাধকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখালেই তিনি শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বেন—এই ধরনের চিন্তা বা অনুমান খুবই পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। এ দৃষ্টিভঙ্গিতে একজন নারীকে  ‘লোভী’ বা ‘নির্বোধ’ হিসেবে দেখা হয়, যিনি কোনো পুরুষের প্রলোভনে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে পরেন। আর এ ক্ষেত্রে তাঁর পুরুষ সঙ্গীটির সাত বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

সম্মতির ভিত্তিতে প্রাপ্তবয়স্ক নারী–পুরষের শারীরিক সম্পর্কে ‘কন্ট্রিবিউটরি পার্টিসিপেশন’ থাকে। তাহলে শুধু এক পক্ষকে শাস্তি দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। অনেক ক্ষেত্রে  নারীরাও প্রেম বা সম্পর্ক ভেঙে দেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর প্রাক্তন কি একইভাবে সেই নারীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন? খসড়া অধ্যাদেশে এ রকম কোনো কিছুর সুযোগ নেই। তাহলে আইনের এ ধারাটা কি বৈষম্যমূলক হচ্ছে না?

‘বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক’কে- অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হলে ‘ব্লাকমেলিং’ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রতিশোধপরায়ণ কেউ এ আইনের অপব্যবহার করতে পারেন। কেউ কেউ এ রকম ধারায় মামলা করে নিজের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করতে পারেন। এর ফলে মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, মামলাবাণিজ্যও হতে পারে।

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া বা তা রক্ষা করা একটি নৈতিক এবং সামাজিক বিষয় হতে পারে, কিন্তু শুধু প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার কারণে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়। সম্পর্কের টানাপোড়েন, ব্যক্তিগত মতপার্থক্য বা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে অনেক সময়ই কারও পক্ষে বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব না–ও হতে পারে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় না রেখেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা সমাজ ও রাষ্ট্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

* ইশরাত হাসান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী

‘বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক’ কি শুধু পুরুষেরই অপরাধ

Friday, March 21, 2025

কাওরান বাজারের চিঠি: আছিয়া, আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি by সাজেদুল হক

২০ বছর পেশায় আছি। লিখেছি বিচিত্র সব বিষয়ে। আনন্দ-বেদনার এক মহাকাব্য। কখনো কখনো খুব ক্লান্তি লাগে। সব ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছা করে। রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে বের হওয়া লাশের পা এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়। এই তো সেদিন জুলাই-আগস্টে আমাদের সন্তানদের, ভাই-বোনদের খুন হতে দেখেছি। অনেক দিন ঠিকঠাক ঘুমাতে পারিনি। এখনো মাঝে মাঝে আঁতকে উঠি।

স্থিতিশীলতা বলতে যা বুঝায় দেশে আজও তা ফেরেনি। প্রতিবেশী দেশের মিডিয়া প্রতি মুহূর্তে গুজব উৎপাদন করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা। এরই মধ্যে আছিয়ার ভয়ঙ্কর খবর নজরে আসে। পুরো খবরটা পড়ি না। হৃদয় থেকে প্রার্থনা করি মেয়েটা অন্তত বেঁচে যাক। কিন্তু আঁচ করতে পারি, খুব একটা আশা নেই।

বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সে ভয়ঙ্কর খবর পাওয়া যায়। আছিয়া নেই। নেই মানে আর নেই। সেনা হেলিকপ্টারে শেষবারের মতো তার নিথর দেহ বাড়ি ফেরে। আমি পালিয়ে থাকি। এ নিয়ে কিছু লিখতে, বলতে ইচ্ছা করে না। মানুষ কী করে এত বর্বর হয়? প্রশ্নটা অনেকবারই মনে আসে। কল্পনাতেও উত্তর পাই না। কোনো সমাধানও পাই না। আট বছরের এক ছোট্ট শিশু। তার ওপর কী করে এমন বর্বর, অমানবিক নির্যাতন চালাতে পারলো। এরা কি সেই মানুষ যারা পশুর চেয়েও নিষ্ঠুর।

মানবজমিনের জন্য হেডলাইন ভাবতে থাকি। সাংবাদিকতায় নিষ্ঠুর কাজ। শেষ পর্যন্ত একটা স্থির করি, ‘দুঃখ ভারাক্রান্ত বাংলাদেশ।’ সন্ধ্যায় মতি ভাইর (মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রধান সম্পাদক, মানবজমিন) সঙ্গে আলাপ করি। মতি ভাই জানতে চান, ‘এটা নিয়ে কি আপনি লিখছেন?’ আমি তেমন কিছু বলি না। আসলে লিখতে ইচ্ছা করে না। কিছুক্ষণ পর কাজল দা (কাজল ঘোষ, নির্বাহী সম্পাদক জনতার চোখ, বার্তা সম্পাদক মানবজমিন) জনতার চোখ-এর জন্য আছিয়াকে নিয়ে লিখতে বলেন। আমি আবার আঁতকে উঠি। রাতের একটা বড় অংশ ভাবি কী লিখা যায়।
নজরে আসে কবি ফারুক ওয়াসিফের লেখা। তিনি লিখেছেন-   

আছিয়ার আজান শোনো
আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা  দেখি, পাখি দেখি, প্লেন দেখি।
আছিয়াকে দেখি না। কেবল ভালুকের  খোলস পরা রোমশ রাজনীতি দেখি। আমি আর আকাশের আশ্বাসে বিশ্বাস রাখি না।
আমি বিশ্বাস করি না, শিশুরা তারা বা পাখি হয়ে যায়। সামরিক হেলিকপ্টারের শব্দ কি তাদের ভালো লাগে? এভাবে কি কেউ বাড়ি ফেরে?
আমার বুকটা খুব ফাঁকা লাগছে। সর সর করে বালি সরে যাচ্ছে পায়ের তলে। আমি আমার মেয়েটাকে বুকে জড়াই, তবু ভয় কাটে না।
তোমার জরায়ুতে একটা শোকের পাথর বসে যাচ্ছে দেখে, আমি তাকাতে পারি না। যদি আমার দৃষ্টি পড়া মাত্রই সব নারীর চোখ পাথর হয়ে যায়!
আমিও পিতা, আমার বুকেও জমে  বেদনার নিকষিত দুধ। কালো দুধের অশ্রু উঠে আসে আমার চোখে। আমার  চোখ আজ তিস্তা নদীর মতো পাহাড়ি রাগ হয়ে বাজছে। আজ আর কথা হবে না। আজ আমরা আছিয়ার আজানে শামিল জানাজায়।

আজ মা আছিয়া একটু ঘুমাবে। কেবল মাটি, কেবল মাটি ছাড়া আমার  মেয়েটার কোনো মা নাই আজ।  
ফেসবুকেই ইসলামী বক্তা মাওলানা আবদুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ লিখেছেন, ‘আম্মু, আছিয়া, তুমি এমনভাবে ‘বেঁচে গেলে আজ’ যে আমরা হাজারবার মরেও তার দায়  শোধ করতে পারবো না। আমি তোমার জন্য অঝোরে কাঁদছি, মা’রে! জানি, পুরো দুনিয়ার সবার চোখের সব পানিও  তোমার এ দুঃখের ভারের কাছে এক  ফোঁটারও সমান হতে পারে না। ওহহ! ভুলে গেছি বলতে আমরা কিন্তু সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার করবো, হুঁ! কত্ত বিচার আগেও আমরা করেছি!’
এই সব লেখা পড়ি আর ভাবি কী লেখা যায়! আছিয়া আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। বাংলাদেশকে সে তাড়িয়ে বেড়ায়। এমনকি কেন যেন মনে হয় পুরো মানব সভ্যতাকে সে তাড়িয়ে বেড়ায়।
আবার বলি? আট বছরের একটি শিশু। তার সঙ্গে যখন এ বর্বরতা চলছিল কী ভাবছিল সে! অবিশ্বাস্য, অমানবিক। কোনো শব্দ দিয়েই তো এর ব্যাখ্যা করা যায় না। পৃথিবীতে সেই শব্দ আজও আবিষ্কার হয়নি।

কেন কিছু মানুষ নামধারী লোক এতটা অমানুষ হয়ে গেল? আইনের শাসন এখানে একটি বড় প্রশ্ন। সমাজে যখন দেখা যায় অপরাধীরা অর্থের জোরে, প্রতিপত্তির জোরে আইনকে অবজ্ঞা করতে পারে, অপরাধ আড়াল করতে পারে তখন এ ধরনের ঘটনা বেড়ে যায়। বাংলাদেশে আইনের শাসনের ক্ষেত্রে একটি বিরাট বিপর্যয় ঘটে গেছে। আমরা এখানে দেখছি বড় বড় অভিযুক্তরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। আছিয়ার মর্মান্তিক ধর্ষণ, হত্যার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম আইনের সঠিক এবং নিরপেক্ষ প্রয়োগ করতে হবে। অপরাধীকে সর্বোচ্চ সাজা দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দ্রুত এ মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে। বড় কোনো ঘটনা ঘটলে আমাদের রাষ্ট্র নানা রকম উদ্যোগ নেয়, বাৎচিত করে। আবার সোশ্যাল মিডিয়া যখন চুপ হয়ে যায়, রাষ্ট্রও চুপ হয়ে যায়। যে কারণে অপরাধীরা সবসময় বিচারের মুখোমুখি হয় না। সবক্ষেত্রেই অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

সমাজে নৈতিকতার স্খলন হয়েছে ভয়ঙ্কর। শুধু আইন দিয়ে এসব অপরাধ বন্ধ করা যাবে না। এক্ষেত্রে ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিদের আরও সোচ্চার হতে হবে।
আছিয়াকে নিয়ে লেখা সত্যি কঠিন। সান্ত্বনা জান্নাতে সে ভালো থাকবে। আর ধর্ষক আর খুনিদের জন্য নিশ্চয় অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি।
পবিত্র গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘আমার কথাই সত্যে পরিণত হবে যে, নিশ্চয় আমি জাহান্নাম পূর্ণ করবো মানুষ ও জীন উভয় দ্বারা।’ সূরা আস সাজদাহ।

সূত্র- জনতার চোখ

mzamin