Showing posts with label খেলা. Show all posts
Showing posts with label খেলা. Show all posts

Tuesday, July 21, 2026

আগামীর কিংবদন্তি লামিনে ইয়ামাল by নজরুল ইসলাম

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর যখন ১৯ বছর বয়সি স্প্যানিশ তরুণ লামিনে ইয়ামাল অশ্রুসিক্ত লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরলেন, তখন ফুটবল বিশ্ব এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো। এটি কেবল সান্ত্বনার কোলাকুলি ছিল না, বরং ছিল বিশ্বফুটবলের রাজদণ্ড এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে হস্তান্তরের প্রতীক।

নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক যখন ৩৯ বছর বয়সি মেসির নাম ধরে চিৎকার করছিলেন, তখন হয়তো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়ক তার শেষ বিশ্বকাপ মঞ্চকে বিদায় জানাচ্ছিলেন। আর ঠিক সে মুহূর্তে বার্সেলোনার বর্তমান ১০ নম্বর জার্সিধারী ইয়ামাল জড়িয়ে ধরলেন ক্লাবটির ইতিহাসের সবচেয়ে কিংবদন্তি ১০ নম্বরকে। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের র‍্যাফেলের অংশ হিসেবে ২০ বছর বয়সি মেসির কোলে থাকা ছয় মাসের শিশু ইয়ামালের সেই ভাইরাল ছবিটির বৃত্ত যেন আজ সম্পূর্ণ হলো। সেই শিশুটিই আজ বিশ্বজয়ী পুরুষ।

দুবছর আগে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের ইউরো জয়ের নায়ক ইয়ামাল এবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে একপ্রকার ‘পূর্ণতা’ দিলেন। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে টুর্নামেন্টে খেলতে আসা এই তরুণ মাত্র ১৯ বছর ছয়দিন বয়সে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একইসঙ্গে বিশ্বকাপ ও ইউরো জয়ের অনন্য কীর্তি গড়লেন।

ফাইনালের মঞ্চে ইয়ামালের উপস্থিতি ছিল স্পেনের নিখুঁত ও নান্দনিক কৌশলের মূল ভিত্তি। বিপরীতে আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ও শারীরিক শক্তি প্রদর্শনের কৌশল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। স্পেনের হয়ে খেলা ২৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের একটিতেও হারেননি ইয়ামাল। তাছাড়া বড় টুর্নামেন্টে মূল একাদশে থেকে টানা ১৩ ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছেন, যা ইউরোপীয় ফুটবলে আর কোনো খেলোয়াড়ের নেই। পেলে (১৯৫৮), জিউসেপ্পে বার্গোমি (১৯৮২) এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের (২০১৮) পর ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম তরুণ হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালের মূল একাদশে খেলে শিরোপা জেতার গৌরব অর্জন করলেন ইয়ামাল ও তার সতীর্থ পাউ কুবার্সি।

আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোসহ প্রতিপক্ষের চরম শারীরিক ও মানসিক চাপ উড়িয়ে দিয়ে মাঠে শান্ত ছিলেন ইয়ামাল। তার এই পরিপক্বতা দেখে ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক ও বিবিসি স্পোর্টসের পণ্ডিত জো হার্ট বলেন, ‘লামিনে ইয়ামাল কেবল প্রতিক্রিয়াই দেখায়নি, সে বুক চিতিয়ে লড়েছে। পুরো দল তাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শান্ত ছিল সে। ১৯ বছর বয়সেই সে ফুটবলকে পূর্ণতা দিয়েদিল।’

অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলে স্পেনের নতুন এই সোনালি অধ্যায় লেখা হয়েছে। ম্যাচ শেষে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ইয়ামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ও দারুণ ফুটবল খেলেছে, যা তাকে আরো পরিপক্ব হতে সাহায্য করবে। দলের জন্য ও নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে।’

রদ্রিগোর মতো অভিজ্ঞ অধিনায়কের ছায়ায় এবং নিজের অবিশ্বাস্য প্রতিভায় ভর করে ১৯ বছর বয়সেই ইয়ামাল বিশ্বজয় করেছে। ক্যারিয়ারের একদম শুরুতে দাঁড়িয়ে থাকা এই তরুণের সামনে যে আরো কত সাফল্য অপেক্ষা করছে, তা সময়ই বলে দেবে।

আগামীর কিংবদন্তি লামিনে ইয়ামাল
বিশ্বকাপ শিরোপা হাতে লামিনে ইয়ামাল

Monday, July 20, 2026

স্পেনের জয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী মানুষকে আনন্দিত করেছে, বলল ইরান

বিশ্বকাপে স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ে দেশটিকে অভিনন্দন জানিয়েছে ইরান। সোমবার এক বিবৃতিতে তেহরান জানায়, স্পেনের এই জয় বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্বাধীনতাকামী মানুষকে আনন্দিত করেছে।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কঠোর নিন্দা ও ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতের সমালোচনা করায় সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল সমর্থন কুড়ায় স্পেন সরকার ও তাদের জাতীয় ফুটবল দল। কয়েক মাস ধরেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিরুদ্ধে ছিল দেশটি।

আরেক দিকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই প্রকাশ্যে ইসরায়েলের নীতিগুলোকে সমর্থন করেন। আর্জেন্টিনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন অনেক ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ ও সমর্থকও। রোববার নিউইয়র্ক–নিউ জার্সিতে আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন।

এরপর ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনিদের পক্ষে খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং ইরানের প্রতি স্পেনের সমর্থন প্রমাণ করে যে স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদা সেই (স্পেন) বুদ্ধিমান ও সম্মানীয় জাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।’

বাঘের গালিবাফ আরও বলেন, ‘এই জয় কেবল স্পেনের জনগণের হৃদয়কেই স্পর্শ করেনি, বরং বিশ্বের বহু স্বাধীন, সার্বভৌম ও ন্যায়বিচারকামী মানুষের হৃদয়কেও আনন্দিত করেছে।’

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও স্পেনকে সমর্থনের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আগ্রাসন, গণহত্যা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে স্পেনের সার্বিক অবস্থান এবং তাদের জাতীয় ফুটবল দলের আচরণ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও মূল্যবান ছিল।’

স্পেন তারকা লামিনে ইয়ামাল
স্পেন তারকা লামিনে ইয়ামাল। রয়টার্স

শতবর্ষের ২০৩০ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে ছয় দেশ

২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা নামতেই ফুটবল বিশ্বের নজর এখন ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে। কারণ, এবারের আসর শুধু নতুন চ্যাম্পিয়ন খোঁজার নয়, উদযাপন করবে বিশ্বকাপের শতবর্ষও। সেই বিশেষ উপলক্ষে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন মহাদেশের ছয়টি দেশে অনুষ্ঠিত হবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর।

ফিফার অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। এরপর টুর্নামেন্টের বাকি অংশ ইউরোপ ও আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে ছয়টি দেশই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার ছয়টি স্বাগতিক দল সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে খেলবে।

ফিফা জানিয়েছে, ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম বিশ্বকাপ। শতবর্ষ উপলক্ষে সেই ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই উদ্বোধনী ম্যাচ ও বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে রাজধানী মন্টেভিডিওতে।

অন্যদিকে, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের রানার্সআপ ছিল আর্জেন্টিনা। আর দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল)-এর সদর দপ্তর হওয়ায় প্যারাগুয়েকেও শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি করে ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই পরিকল্পনাকে ‘ফুটবলকে একত্রিত করার প্রতীক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন হবে অতীতের প্রতি শ্রদ্ধা, বর্তমানের উদযাপন এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা।

২০৩০ বিশ্বকাপে অংশ নেবে ৪৮টি দল। ২০২৬ সালের মতোই এই আসরেও ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রথমবারের মতো তিনটি মহাদেশ—ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাজুড়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের নজির গড়তে যাচ্ছে ফিফা।

ফলে ২০৩০ বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে ছয় দলের অংশগ্রহণ। তারা হলো—স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। বাকি ৪২টি দল বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।

বিশ্বকাপের শতবর্ষকে ঘিরে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ফিফার সবচেয়ে প্রতীকী আসরগুলোর একটি।

বিশ্বকাপ মাতালেন এমবাপ্পে, রদ্রি আর স্পেন; ব্যক্তিগত পুরস্কারে কার ঝুলিতে কী?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নেমেছে স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। তবে দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা পারফর্মাররাও। বিশ্বকাপ শেষে ফিফা ঘোষণা করেছে বিভিন্ন ব্যক্তিগত পুরস্কার, যেখানে সবচেয়ে বেশি আধিপত্য দেখিয়েছে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে স্পেন। সেই সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) স্বীকৃতি পান দলের মিডফিল্ডার রদ্রি। পুরো আসরজুড়ে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ, বলের দখল ধরে রাখা এবং ম্যাচের গতি নির্ধারণে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন তিনি। গোল করার লড়াইয়ে আবারও সবার ওপরে ছিলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেমিফাইনালে ফ্রান্স বিদায় নিলেও ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। এর সুবাদে নিজের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জেতেন ফরাসি অধিনায়ক। স্পেনের আরেক নায়ক উনাই সিমন জিতেছেন সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার (গোল্ডেন গ্লাভস)। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তিনি স্পেনের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন। অন্যদিকে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবারসি জিতেছেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের (বেস্ট ইয়াং প্লেয়ার) পুরস্কার। ফলে বিশ্বকাপের চারটি প্রধান ব্যক্তিগত পুরস্কারের মধ্যে তিনটিই জিতে নিয়েছে স্পেন। শুধু গোল্ডেন বুট গেছে ফ্রান্সের এমবাপ্পের হাতে।

Tuesday, July 14, 2026

বিশ্বকাপ ২০২৬: ইউরোপে মুসলিম ফুটবলারদের পরিচয়ই নতুন চ্যালেঞ্জ

ইউরোপে ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক বহুদিনের। তবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এক নতুন প্রজন্মের মুসলিম ফুটবলার নিজেদের পারফরম্যান্স ও বিশ্বাসের প্রকাশের মাধ্যমে সেই প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। স্পেনের লামিন ইয়ামাল, সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারি থেকে শুরু করে কেপ ভার্দের ইসলাম গ্রহণকারী ফুটবলাররা দেখিয়ে দিচ্ছেন, ইসলাম ইউরোপের সমাজ ও সংস্কৃতিরই একটি বাস্তব অংশ।

বিশ্বে প্রায় ২০০ কোটি মুসলিম বসবাস করেন, যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ফলে ১৩টি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ইসলামি বিশ্বাসের প্রকাশ অস্বাভাবিক নয়। তবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এমন অনেক ফুটবলার, যারা খ্রিস্টান-সংখ্যাগরিষ্ঠ ইউরোপীয় দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

স্পেন ও বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল সৌদি আরবের বিপক্ষে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোলের পর সিজদাহ দিয়ে উদযাপন করেন। এর আগেও মার্চে স্পেন-মিশর প্রীতি ম্যাচে তার ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে দর্শকদের একটি অংশ বিদ্বেষমূলক স্লোগান দেয়। জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামাল লিখেছিলেন, আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। ফুটবল মানুষের বিনোদন ও আনন্দের জন্য, কারও বিশ্বাসকে অসম্মান করার জন্য নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ইসলামকে ‘বহিরাগত’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা বেড়েছে। অথচ ইয়ামালের মতো ফুটবলারদের উপস্থিতি সেই ধারণার বিপরীত বাস্তবতাই তুলে ধরছে।

জার্মানির ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগারও ধর্মীয় বিশ্বাস প্রকাশের কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন। ২০২৪ সালে রমজান উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাওহিদের প্রতীক হিসেবে তর্জনী উঁচিয়ে ছবি পোস্ট করার পর সেটিকে উগ্রবাদী সংগঠনের প্রতীক বলে দাবি করা হয়। পরে তিনি মানহানি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেন।

একইভাবে, তিউনিসিয়ার বিপক্ষে গোল করে সিজদাহ দিয়ে উদযাপন করেন সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারি। তিউনিসিয়ান বংশোদ্ভূত হলেও সুইডেনের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দেশটিতে নতুন করে পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তবে আয়ারির বাবা আজুজ আয়ারি স্পষ্টভাবে জানান, তার সন্তানরা সুইডেনেই জন্মেছে ও বেড়ে উঠেছে, তাই সুইডেনের প্রতিনিধিত্ব করাই তাদের স্বাভাবিক অধিকার।

ইউরোপে শুধু অভিবাসী পরিবার থেকেই নয়, ইসলাম গ্রহণকারী ফুটবলারের সংখ্যাও বাড়ছে। নেদারল্যান্ডসের কিংবদন্তি ক্লারেন্স সিডর্ফ, ফরাসি বংশোদ্ভূত ফ্রেডেরিক কানুতে এবং ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী পল পগবার পর এবার ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জেড স্পেন্সও ইসলাম গ্রহণকারী ফুটবলার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অভিষেকের মাধ্যমে তিনি ইংল্যান্ডের প্রথম মুসলিম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েন। স্পেন্স বলেন, ইতিহাসের অংশ হতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি এটি বিশ্বের তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে।

অন্যদিকে, কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ দলে ইউরোপে বেড়ে ওঠা তিন ইসলাম গ্রহণকারী ফুটবলারও বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন। জ্যামিরো মন্টেইরো, লোগান কস্তা ও স্টিভেন মোরেইরা পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাদের ভাষ্য, মুসলিম সতীর্থদের জীবনযাপন ও ধর্মীয় অনুশীলন কাছ থেকে দেখেই তারা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন।

কেপ ভার্দে দলে ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে ইতিবাচকভাবেই দেখা হয়। মুসলিম খেলোয়াড়দের জন্য নিয়মিত হালাল খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং দলটির মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্য বজায় রাখা হয়। লোগান কস্তার ভাষায়, আমরা মুসলিম হই বা খ্রিস্টান, আমাদের শক্তি হলো আমরা সবাই কেপ ভার্দিয়ান।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে মুসলিম ফুটবলারদের এই উপস্থিতি ও আত্মবিশ্বাসী পরিচয় প্রকাশ শুধু ক্রীড়াঙ্গনের নয়, ইউরোপের বহুসাংস্কৃতিক সমাজ ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে চলমান বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

বিশ্বকাপ ২০২৬: ইউরোপে মুসলিম ফুটবলারদের পরিচয়ই নতুন চ্যালেঞ্জ

Monday, July 13, 2026

ফিফা নিরপেক্ষ নয়, এটি রাজনীতির হাতিয়ার হয়ে গেছে by জাভিয়ের আবু ঈদ

বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, ততই প্রশ্নের মুখে পড়ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং তার নেতৃত্ব। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর এক মার্কিন ফুটবলারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সঙ্গে মিসর ও কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার পক্ষে রেফারিদের পক্ষপাতের অভিযোগও উঠেছে।

ফিলিস্তিনের অভিজ্ঞতা আরও দীর্ঘ এবং তিক্ত। বহু বছর ধরেই সেখানে ফিফার আচরণকে পক্ষপাতদুষ্ট ও দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে করা হচ্ছে। অথচ ফিফার নিজস্ব সংবিধানেই স্পষ্টভাবে মানবাধিকার রক্ষার কথা বলা রয়েছে। কিন্তু ফিলিস্তিনি ফুটবলের ক্ষেত্রে সেই নীতির ধার ধারেনি সংস্থাটি।

ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বহুবার দাবি জানিয়েছে, ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে নিষিদ্ধ করা হোক। কারণ, তাদের লিগের ম্যাচগুলো এমন জমিতে খেলা হয়, যা দখল করা এবং ছিনিয়ে নেওয়া ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, যেখানে অবৈধ বসতিতে থাকা দলগুলো খেলায় অংশ নেয়। কিন্তু ফিফা বারবার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

শুধু তা–ই নয়, ফিলিস্তিনি ফুটবলারদের ওপর গণহত্যা চালানো, তাঁদের পঙ্গু করে দেওয়া, এমনকি তাঁদের আটক করার ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধেও কোনো অবস্থান নেয়নি ফিফা। সম্প্রতি ফিলিস্তিনি নারী ফুটবল দলের সদস্য র‌্যান্ড হালাওয়ানি এবং নাতালি আবু দায়্যেহকে আটক করা হলেও সে বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ জানায়নি সংস্থাটি।

সম্প্রতি ধ্বংস করা হয়েছে ফিলিস্তিনের ফুটবল স্টেডিয়াম। কিন্তু তাতেও ফিফার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ফিলিস্তিনি দলগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি না দেওয়াসহ নানা নীতির মাধ্যমে তাদের ফুটবলকে বাধাগ্রস্ত করা হলেও সে বিষয়ে কোনো চাপ সৃষ্টি করেনি ফিফা।

ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন শুধু বর্ণবাদ, দখলদারি ও বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করে তোলেনি, বরং গাজা ও লেবাননে যুদ্ধাপরাধে যুক্ত ইসরায়েলি ফুটবলারদের অংশগ্রহণকে অভিনন্দন জানানোর মতো কাজেও যুক্ত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের একাধিক রায় এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও ফিফা বারবার দাবি করে এসেছে, এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ‘অত্যন্ত জটিল’ এবং পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি।

বাস্তবে এটি ইসরায়েলের বক্তব্যকেই সমর্থন করা, যা ট্রাম্প প্রশাসনও তাদের মিত্র ইসরায়েলকে রক্ষা করতে এবং ফিলিস্তিনি জমি দখলকে বৈধতা দিতে ব্যবহার করেছে।

ইসরায়েল যেমন পর্যটন, প্রত্নতত্ত্ব, ধর্ম বা কৃষিকে ব্যবহার করে তাদের অবৈধ দখলদারি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছে, তেমনই ফিফার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন নিয়ে ফুটবলকেও সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।

জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে ফিফার এই ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, তিনি জেনেশুনে এমন কাজ করেছেন, যা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বর্ণবৈষম্য এবং যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তাদের দাবি, এ বিষয়ে একাধিক রিপোর্ট ও চিঠি তিনি উপেক্ষা করেছেন।

ফিফার নেতৃত্ব শুধু নীরব বা নিষ্ক্রিয় থাকেনি, বরং সক্রিয়ভাবে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে আড়াল করার কাজেও অংশ নিয়েছে।

গত মাসে ফিফা প্রস্তাব দেয়, অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করা হোক। তার কয়েক সপ্তাহ আগে ইনফান্তিনো নিজে ফিলিস্তিনি ফুটবল সংস্থার প্রধানকে ইসরায়েলি ফুটবল সংস্থার প্রধানের সঙ্গে করমর্দন করতে বাধ্য করতে চেয়েছিলেন।

ফিফা যে আর নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা নেই, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী রাজনীতি থেকে দূরে থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের পররাষ্ট্রনীতির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ডই তার প্রমাণ। ২০১৮ সালে তিনি কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ওয়াশিংটনে আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল আরব বিশ্বের সম্মিলিত আলোচনায় ফিলিস্তিন প্রসঙ্গকে সরিয়ে দেওয়া। ২০২১ সালে তিনি ডানপন্থী ইসরায়েলি সংবাদপত্র জেরুজালেম পোস্ট আয়োজিত এক সম্মেলনে অংশ নেন। আর ওই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল জেরুজালেমের মামিল্লাহ অঞ্চলের এক মুসলিম কবরস্থানের ওপর নির্মিত স্থানে।

এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফিফা প্রধান তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এই সংস্থার লক্ষ্য জাতিসংঘকে ফিলিস্তিন প্রশ্ন থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং ইসরায়েলি দখলদারি ও গণহত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি প্রয়াস বন্ধ করা। সেখানে তিনি ফুটবলের মাধ্যমে শান্তি ও পুনর্গঠনের নামে একটি কৌশলগত অংশীদারত্বের ঘোষণাও করেন।

বিশ্বকাপ ঘিরে চলা বিতর্কগুলোকেও এই প্রেক্ষাপটে দেখা দরকার। ফিফা তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে এবং ফুটবলকে রাজনীতির বাইরে রাখার দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছে।

আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলার, রেফারি এবং দর্শকদের বিরুদ্ধে যে নানা নিয়মভঙ্গ করেছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইনফান্তিনোর প্রতিক্রিয়া ছিল—সবাইকে ‘শান্ত থাকতে’ হবে।

এই সব ঘটনা আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে ফিফার ওপর মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে নষ্ট করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল এবং তার সর্বজনীনতার ভাবমূর্তি। ইনফান্তিনো যদি তাঁর পথ আমূল পরিবর্তন না করেন, তবে তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার ধ্বংসের এক ইতিহাস হিসেবেই বিবেচিত হবে।

তবে ফিলিস্তিনি ফুটবল হার মানবে না। ১৯০৪ সালে জেরুজালেমে সেন্ট জর্জ স্কুল দলের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজও চলছে। ফিলিস্তিনের জীবনের প্রতিটি স্তরে ফুটবল জড়িয়ে রয়েছে। আর ফিলিস্তিনের মতোই এই খেলাও দখলদারি, গণহত্যা এবং একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ফিফার বিরুদ্ধেও টিকে থাকার শক্তি রাখে।

* জাভিয়ের আবু ঈদ, ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের পিএইচডি গবেষক ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা।
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া। অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফিফা প্রেসিডেন্ট
ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফিফা প্রেসিডেন্ট। ছবি: রয়টার্স

Saturday, July 11, 2026

বিশ্বকাপের একটি মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচ যেভাবে ফিলিস্তিন ইস্যুর প্রতীক হয়ে উঠল

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশর ও আর্জেন্টিনার লড়াই শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিতর্কিত রেফারিং, ভিএআর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন এবং গ্যালারিতে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় ম্যাচটি দ্রুতই ফিলিস্তিন ইস্যুকে ঘিরে বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিতর্কের প্রতীক হয়ে ওঠে।

ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময় মিশরের দ্বিতীয় গোল বাতিল করা হয়। এছাড়া আর্জেন্টিনার একটি গোলের আগে ভিএআর পর্যালোচনার আবেদনও গ্রহণ করা হয়নি। এতে অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক অভিযোগ করেন, ভিএআর সমানভাবে ব্যবহার করা হয়নি এবং মিসরের ৩-২ গোলের হার ন্যায়সংগত ছিল না।

মিশরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে বলেন, খেলাটি ‘ন্যায্য হয়নি’। তিনি ইঙ্গিত দেন, ফিফা হয়তো আর্জেন্টিনা ও তাদের তারকা লিওনেল মেসিকে জেতাতে চেয়েছিল। পরে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়।

এই বিতর্কের আড়ালে আরও বড় একটি বিষয় সামনে এসেছে। ফিলিস্তিন ইস্যু এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডে পরিণত হচ্ছে।

ম্যাচের আগে থেকেই কোচ হোসাম হাসান প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আসছিলেন। ৩ জুলাই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিসরের জয় পাওয়ার পর তিনি মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান এবং সেই জয় ফিলিস্তিনের জনগণকে উৎসর্গ করেন।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনেও তিনি ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘যার ফিলিস্তিনিদের জন্য সহানুভূতি নেই, সে মানুষই নয়।’

ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতেও এই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের প্রকাশ দেখা যায়। গাজার ফিলিস্তিনিরা মিসরের পতাকা উড়িয়ে দলটিকে সমর্থন জানান। অন্যদিকে স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থক ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করলে মিসরের সমর্থকেরা ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে ধরেন।

আর্জেন্টিনার জনগণের একটি বড় অংশ ইসরায়েলের সমালোচক হলেও দেশটির বর্তমান সরকার ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে জায়নবাদপন্থী প্রেসিডেন্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক।

ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও কারো অজানা নয়। তাদের এ সম্পর্ক ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফিফা ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর দ্রুত রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করলেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। এ নিয়েও ক্রীড়াঙ্গনে সমালোচনা রয়েছে।

এসব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণেই মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্ককে অনেকেই কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবে দেখেননি। বরং অনেক সমর্থকের কাছে এটি এমন একটি বিশ্বব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে, যেখানে শক্তিশালী পক্ষ তুলনামূলক বেশি সুবিধা পায় । এতে করে আস্থার সংকট তৈরি হয় নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর।

এর মানে এই নয় যে ফিফা গোপনে আর্জেন্টিনাকে জেতানোর ষড়যন্ত্র করেছে। ক্ষমতার প্রভাব সব সময় পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কাজ করে না, কখনও তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার সংকটের মধ্য দিয়েও প্রকাশ পায়।

মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের বিতর্ক হয়তো দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে। তবে একইসঙ্গে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে কোচ হোসাম হাসানের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরার ঘটনাও অনেকের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

বিশ্বকাপে আর্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় মিশর। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে আর্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয় মিশর। ছবি: সংগৃহীত

Thursday, July 9, 2026

মিসর ম্যাচের ‘ডাকাতি’ নিয়ে মুখ খুললেন নিউইয়র্কের মেয়র

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোয় মিসরের হারের ম্যাচে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি মিসরের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, এ ম্যাচে আফ্রিকান দলটির সঙ্গে ‘ডাকাতি’ করা হয়েছে।

আটলান্টায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে এগিয়ে ছিল মিসর। এরপর আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩ গোল করে ম্যাচ ৩–২ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। বিদায় নেয় মিসর। ম্যাচে ৫৮ মিনিটে মিসরের একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল হয়। সেই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েই বিতর্ক হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

গত বুধবার ভোটারদের সঙ্গে আলাপকালে মামদানি বাসের সেবা উন্নত করার একটি নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সেখানে মিসর ম্যাচের প্রসঙ্গ টানেন তিনি।
মামদানি বলেন, ‘আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাসে আপনাদের যাতায়াতের সময় ২৪ ঘণ্টা কমে আসবে। আর এক বছর পূর্ণ হতে হতে যাতায়তের সময় থেকে আপনারা বাঁচিয়ে ফেলতে পারবেন দুটির বেশি দিন। এর অর্থ হলো, আপনারা পরিবারের সঙ্গে সকালের নাশতা খাওয়ার সময় পাবেন। সন্তানের লিটল লিগ (বেসবল) ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তর্ক করার মতো বাড়তি সময় পাবেন। এর মানে হলো, রাতে ঘুমানোর আগে সময়মতো বাড়িতে ফিরতে পারবেন।’

উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি এরপর বলেন, ‘এর মানে হলো, বন্ধুদের আড্ডায় বসে এ বিষয়ে একমত হওয়ার সময় পাওয়া যে, গতকালের ম্যাচে মিসরকে সত্যিই “ডাকাতি” করে হারানো হয়েছে। আর সবকিছুর ঊর্ধ্বে, আসল অর্থ হলো—নিউইয়র্কবাসীদের সেই মহামূল্যবান সময় ফিরিয়ে দেওয়া, যার ভীষণ অভাব রয়েছে তাঁদের জীবনে।’

দ্রুতগতির বাসের কল্যাণে প্রতিদিন যে ছয় মিনিট সময় বাঁচবে, তা দিয়ে তিনি কী করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বিতর্কিত রেফারিংকে আরও একবার খোঁচা দেন মামদানি, ‘বেঁচে যাওয়া ওই ছয় মিনিটে আমি সম্ভবত মিসরকে কীভাবে ডাকাতি করে হারানো হলো, সেই রিপ্লেগুলোই দেখব। বারবার দেখব।’

ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি তথা ভিএআরের দিকে ইঙ্গিত করে মামদানি রসিকতা করে বলেন, ‘আপনারা তো জানেন, এখন কেবল ভিএআর স্ক্রিনের মতো চারকোনা ইশারাটাই করার বাকি আছে।’

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের পর মিসরের কোচ হোসাম হাসান রেফারিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেন। মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে হোসাম হাসান বলেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। হয়তো তারা চেয়েছিল, মেসি প্রতিযোগিতায় থাকুক।’

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। এএফপি

Wednesday, June 17, 2026

‘সেক্স আইকন’ জেমস রদ্রিগেজের বর্ণিল প্রেম, পর্নো তারকার সঙ্গে সম্পর্ক এবং...

জেমস রদ্রিগেজ হয়তো কখনো সেই কিংবদন্তি ফুটবলার হয়ে উঠতে পারেননি, যেভাবে তাকে নিয়ে একসময় ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল। তবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচিত প্রেম, বিচ্ছেদ এবং মডেলিং জগতের ঝলমলে উপস্থিতির কারণে কলম্বিয়ার অবিসংবাদিত ‘সেক্স আইকন’ হিসেবে তার পরিচিতি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী জেমস বৃহস্পতিবার উজবেকিস্তানের বিপক্ষে কলম্বিয়ার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামবেন। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার হয়ে গোল্ডেন বুট জিতে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। সে সময় মোনাকোর হয়ে খেলা এই প্লেমেকার রাতারাতি তারকাখ্যাতি অর্জন করেন।

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ তাকে ৬ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ডের চুক্তিতে দলে ভেড়ায়। এই দলবদলই তার জীবনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। এরপর শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও নজর কাড়তে শুরু করেন জেমস রড্রিগেজ। নতুন খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার ফ্যাশন ব্র্যান্ড এক্সিতোর সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করেন তিনি। একই বছরে স্প্যানিশ সংস্করণের পিপল ম্যাগাজিন তাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময় পুরুষ’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর এক বছর পর নিজের জে১০ জেমস অন্তর্বাস ব্র্যান্ড বাজারে আনার সময় একটি ফটোশুটেও অংশ নেন তিনি। এরপর একের পর এক বাণিজ্যিক চুক্তি আসতে থাকে তার ঝুলিতে।

সে সময় জেমসের স্ত্রী ছিলেন দানিয়েলা ওসপিনা। ২০১৬ সালে তিনি অন্তর্বাস ব্র্যান্ড কেলভিন ক্লেইনের বৈশ্বিক শুভেচ্ছাদূত হন। বিভিন্ন বিলবোর্ডে তাকে শুধু ওই ব্র্যান্ডের অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। কৈশোরেই দানিয়েলার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দানিয়েলা ছিলেন আর্সেনালের সাবেক তারকা এবং জেমসের কলম্বিয়ান সতীর্থ দাভিদ ওসপিনার বোন। পেশাদার ভলিবল খেলোয়াড় দানিয়েলাকে ২০১০ সালে বিয়ে করেন জেমস। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। তাদের সংসারে জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান। তার নাম রাখেন সালোমে। একসময় কলম্বিয়ার ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় দম্পতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন তারা।

কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেয়ার পর জেমসের ক্রমবর্ধমান খ্যাতি তাদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। জীবনের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার বদলে যেতে থাকায় দু’জনের দূরত্ব বাড়ে। অবশেষে ২০১৭ সালে ছয় বছরের বেশি সময়ের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তারা। এর আগেই মডেল হেলগা লাভেকাতির সঙ্গে জেমসের সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যায়। পরে বায়ার্ন মিউনিখে ধারে খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তও সম্পর্কে ভাঙনের একটি কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। দানিয়েলা জার্মানিতে যেতে আগ্রহী ছিলেন না।

একাকী জীবনে ফেরার পর জেমসের নাম বিভিন্ন নারীর সঙ্গে জড়িয়ে আলোচনায় আসে। ইনস্টাগ্রামে পরস্পরকে অনুসরণ করায় মার্কিন পর্নো তারকা কেন্দ্রা লাস্টের সঙ্গেও তার সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৮ সালে মায়ামি সফরে মডেল শ্যানন দে লিমার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা মিউনিখে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। এক বছর পর গর্ভ ভাড়ার মাধ্যমে তাদের ছেলে স্যামুয়েলের জন্ম হয়। কিন্তু পরে জেমসের এভারটনে ধারে খেলা এবং পরবর্তীতে কাতারের আল-রাইয়ানে যোগ দেয়ার ফলে দূরত্ব তৈরি হয় তাদের সম্পর্কে। দীর্ঘ দূরত্বে সম্পর্কের চাপের কারণে ২০২১ সালে বিচ্ছেদ ঘটে তাদের।

পরবর্তীতে কলম্বিয়ান গায়িকা কারোল জি-এর সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশের পর তাদের সম্পর্ক নিয়েও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া ব্রাজিলিয়ান মডেল এরিকা শ্নাইডারের সঙ্গেও তার সম্পর্কের খবর প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানানো এবং প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে একসঙ্গে উপস্থিত হওয়ার কারণে এই জল্পনা তৈরি হয়। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে কলম্বিয়ার একটি ম্যাচেও গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন শ্নাইডার। তবে গত বছরের শুরুতে কলম্বিয়ান মডেল লুইসা দুকের সঙ্গে জেমসের নতুন সম্পর্কের খবর প্রকাশিত হয়। মেজর লিগ সকারে যোগ দেয়ার পর মিনেসোটা টিম্বারউলভসের একটি এনবিএ ম্যাচে তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। কলম্বিয়ার গণমাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে যে, জেমস তার পরিবারের সঙ্গে লুইসার পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এমনকি সাম্প্রতিক কলম্বিয়া ম্যাচগুলোর ভিআইপি গ্যালারিতে জেমসের মেয়ে সালোমের সঙ্গেও লুইসাকে সময় কাটাতে দেখা গেছে।

এই গ্রীষ্মে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগে জেমস হয়তো ফিরে তাকাবেন এক বর্ণিল কিন্তু অপূর্ণতার ছাপ থাকা ক্যারিয়ারের দিকে। তিনি কখনো ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম হৃদয়জয়ী তারকা হিসেবে নিজের আলাদা পরিচয় ঠিকই গড়ে তুলেছেন।
(সূত্র দ্য সান)

Monday, June 15, 2026

ইরান দলের সংবাদ সম্মেলনে ফুটবল নিয়ে প্রশ্নই হলো না

২০২৬ বিশ্বকাপে সম্ভবত সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সংবাদ সম্মেলন ছিল এটি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ, ভিসা পাওয়া নিয়ে জটিলতা, বেস ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে ইরানের ফুটবল দল এবারের বিশ্বকাপের আলোচিত দলগুলোর একটি। নিউজিল্যান্ড ম্যাচ সামনে রেখে এক দিন আগে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে পা রেখেছে ইরানের ফুটবল দল।

সেই দলের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে রাজনীতির প্রসঙ্গ আসারই কথা। আর তা এতটাই বেশি যে ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি বলতে বাধ্য হয়েছেন—কেউ তো ফুটবল নিয়ে প্রশ্ন করলেন না!

ইরান বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এই ম্যাচ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকেরা একের পর এক প্রশ্ন করেছেন দলটির বিশ্বকাপ প্রস্তুতি রাজনৈতিক প্রভাব ও তাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের ভূমিকা নিয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে ইরান কোচ আমির গালেনোই এ সব প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমরা এখানে ফুটবল খেলতে এসেছি। ইরানের ভেতরের এবং বাইরে থাকা সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা আমাদের কাজ। আমরা রাজনীতির মানুষ নই।’

লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের ম্যাচের ভেন্যু সোফি স্টেডিয়ামের বাইরে প্রবাসী ইরানিরা বর্তমান শাসক গোষ্ঠীর বিরোধিতায় বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছেন খবর প্রকাশ হয়েছে। এ নিয়ে ইরানের কোচ বলেন, ‘ইরানি জাতি হিসেবে আমরা প্রতিটি ইরানিকে সম্মান করি।’

ট্রেনিং ক্যাম্প স্থানান্তরসহ প্রস্তুতির সময় দল যেসব প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করার জন্য গালেনোই সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান। ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি কোচের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, ‘আমরা এখানে ফুটবল খেলতে এসেছি, আর ফুটবল সব সময় সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।’

ইরানের হয়ে ১০০টির বেশি ম্যাচ খেলা এবং বর্তমানে গ্রিক ক্লাব অলিম্পিয়াকোসে খেলা এই ফুটবলার আরও বলেন, ‘বহু বছর ধরে ইরান একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি, যারা একটি সভ্যতার অংশ। আমরা সেই ঐক্যটাই দেখাতে চাই। আমরা বিশ্বকাপে এসেছি বিশ্বের যেখানেই ইরানিরা থাকুক, তাদের মনে আনন্দ দিতে। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব মতামত থাকতে পারে এবং আমরা তাকে সম্মান করি। তবে আমরা এখানে ফুটবলার হিসেবে এসেছি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে। আমরা রাজনীতিতে জড়াতে চাই না।’

তারেমি সাংবাদিকদের খোঁচা মারেন সংবাদ সম্মেলনে একেবারে শেষদিকে। তিনি বলেন, ‘কেউই ফুটবল নিয়ে কোনো প্রশ্ন করলেন না। আমরা নিউজিল্যান্ডের মতো দারুণ একটি দলের বিপক্ষে খেলছি। আমি আশা করি এটি একটি ভালো ম্যাচ হবে। রাজনীতির খবরের জন্য আপনাদের অন্য শহরের রাজনৈতিক সংবাদ সম্মেলনে যাওয়া উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনে ইরান কোচ আমির গালেনোই ও ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি
সংবাদ সম্মেলনে ইরান কোচ আমির গালেনোই ও ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি। এএফপি

Wednesday, February 11, 2026

আইসিসিতে নিরপেক্ষতার সংকট by সাদ শাফকাত

আপনি যদি ১৯৪৭ সাল থেকে টানা ঘুমিয়ে না থাকেন, তাহলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানের অস্বীকৃতি আপনাকে অবাক করবে না। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটকে বহুদিন ধরেই এক ধরনের ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা হয়। একসময় এই ‘যুদ্ধ’ মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিল। ব্যাট আর বলের লড়াইয়েই জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতো। সেটা ছিল তখন। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ম্যাচের ভেন্যু নির্বাচন, সফরসূচি- সবই রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে। এটাই এখনকার বাস্তবতা।

যুক্তি দিয়ে বলা যায়, এই খেলাটা শুরু করেছিল ভারতই, আর পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েছে পাল্টা জবাব দিতে- চোখের বদলে চোখ। ২০০৮ সালে করাচিতে এশিয়া কাপ হওয়ার পর থেকে ভারতের ক্রিকেটাররা পাকিস্তানে আর খেলেনি। অথচ এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তান ভারতের মাঠে অন্তত ১৯ বার খেলেছে। সবশেষ ২০২৩ সালের নভেম্বরে ওয়ানডে বিশ্বকাপে। শুরুতে ভারতের অস্বীকৃতিকে নিরাপত্তার যুক্তিতে ব্যাখ্যা করা যেত। ২০০৯ সালের লাহোরে সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানকেও তো বছরের পর বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘ঘরের মাঠ’ বানিয়ে খেলতে হয়েছিল।

কিন্তু পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর এবং অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের মতো শীর্ষ দলগুলো যখন আবার পাকিস্তানে এসে খেলতে শুরু করল, তখন ভারতের ক্রিকেট বোর্ডকে নতুন অজুহাত খুঁজতে হলো। তারা সামনে আনল ‘সরকারি অনুমতির’ কথা। অর্থাৎ সিদ্ধান্তের ভার তুলে দিল কট্টরপন্থী বিজেপি সরকারের হাতে। তখনই মুখোশ খুলে গেল।

এই ভারতীয় অনড় অবস্থানের ফলেই গত বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজন কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়। আট দলের টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো যখন লাহোর, করাচি ও রাওয়ালপিন্ডিতে নির্বিঘ্নে চলছিল, তখন ভারতকে তার পাঁচটি ম্যাচই খেলতে দেয়া হয় দুবাইয়ে। এর মধ্যে ছিল ২৩ ফেব্রুয়ারির পাকিস্তানের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ গ্রুপ ম্যাচ এবং ৯ মার্চের ফাইনালও। এই চরম বৈষম্যের ব্যাখ্যা একটাই- ক্রিকেটে ভারতের অপ্রতিরোধ্য প্রভাব।

একশ কোটির বেশি দর্শকের বাজার নিয়ে ভারত রাজস্ব, স্পনসরশিপ, লবিং এবং শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)- সবকিছুর ওপরই কর্তৃত্ব কায়েম করেছে। পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে মনে হচ্ছিল, আমাদের হাতে আর কোনো তাস নেই।
তবে সাম্প্রতিক দুটি নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনা এই হিসাব বদলে দিয়েছে। প্রথমটি হলো বাংলাদেশে ভারতসমর্থিত শেখ হাসিনা ওয়াজেদের ক্ষমতাচ্যুতি, যা দিল্লির হস্তক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশে তীব্র ক্ষোভ উসকে দিয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ব্যর্থ দুঃসাহসিকতা, যা পাকিস্তানি নীতিনির্ধারকদের ভারতের প্রতি অবস্থানে নতুন আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। এই দুই ভূকম্পনের ঢেউ এসে মিলেছে ক্রিকেট দুনিয়ায়।

প্রথমে বাংলাদেশ আইসিসির কাছে অনুরোধ জানায়- তাদের আসন্ন বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যেন ভারতের বাইরে, শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়া হয়। পাকিস্তান আগেই এমন ছাড় আদায় করেছিল। বাহ্যিকভাবে এই অনুরোধের কারণ ছিল আইপিএল থেকে এক বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের রহস্যজনক বহিষ্কার। কিন্তু আসলে এর পেছনে রয়েছে ক্রমাবনত রাজনৈতিক সম্পর্ক। বাংলাদেশের এই অবস্থানে সাহস পেয়ে পাকিস্তানও কঠোর অবস্থান নেয় এবং জানায়- বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ১লা ফেব্রুয়ারি সরকার নেবে। সেই সিদ্ধান্ত টুইটারে জানানো হয়: পাকিস্তান বিশ্বকাপ খেলবে, কিন্তু ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ বয়কট করবে। নকআউট পর্বে ভারতকে পেলে কী হবে- সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

খাঁটি ক্রিকেটের বিচারে গ্রুপ ম্যাচ ছেড়ে দেয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলেই মনে হতে পারে। দুটি মূল্যবান পয়েন্ট হাতছাড়া করা মানে পরের পর্বে ওঠা ঝুঁকির মুখে ফেলা। কিন্তু এখানে একটি বার্তা দেয়া জরুরি ছিল এবং পিসিবি সেটা কৌশলে দিয়েছে। আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের রেকর্ড ভয়াবহ; এই ম্যাচে হারার সম্ভাবনাই ছিল বেশি। অন্যদিকে গ্রুপের বাকি তিন প্রতিপক্ষ সহযোগী স্তরের দল- যারা অঘটন ঘটাতে পারে ঠিকই, তবে অতিক্রম অযোগ্য নয়।

সবচেয়ে বড় কথা, ভারতীয় দর্শকদের তাদের প্রিয় বিনোদন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সেটা হলো পাকিস্তানকে হারানোর দৃশ্য। এই ম্যাচগুলো ভারতের টিভি বাজারে সোনার খনি। ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সম্মিলিত (টিভি ও ডিজিটাল) দর্শকসংখ্যা ছিল ৪০ কোটির বেশি। গত বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেই সংখ্যা ছাড়িয়েছিল ৮০ কোটি। ১৫ই ফেব্রুয়ারির বাতিল হওয়া ম্যাচটিও নিশ্চয়ই একই রেকর্ড গড়ত। নকআউটে যদি দুই দল মুখোমুখি হয়, তাহলে সব দর্শকসংখ্যার রেকর্ড ভেঙে যাবে- এ নিয়ে সন্দেহ নেই।

এই বেছে নেয়া বয়কট পাকিস্তানে শান্ত আলোচনার জন্ম দিলেও ভারতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সেটাই প্রমাণ করে, এটা কতটা কার্যকর হয়েছে। ভারতীয় কট্টরপন্থীরা ক্ষুব্ধ, সাধারণ দর্শক হতাশ। একই সঙ্গে কিছু যুক্তিবাদী ভারতীয় কণ্ঠও শোনা যাচ্ছে। শশী থারুর আইসিসির ছাতার নিচে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে আলোচনায় বসে ‘এই অর্থহীনতা বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন। প্রখ্যাত ক্রিকেট সাংবাদিক শারদা উগ্রা সরাসরি দায় চাপিয়েছেন ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর- তাদের ক্ষুদ্র অহং ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার কথা বলেছেন।

এই পুরো বিশৃঙ্খলায়, ক্রিকেটের বাইরেও সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো বাংলাদেশ। তাদের সঙ্গে অন্যায় হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। পাকিস্তানের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে তারা শ্রীলঙ্কায় খেলতে পারত। কিন্তু আইসিসি তাদের হুমকি দেয়- না মানলে দল বদলে দেয়া হবে। শেষ পর্যন্ত সেই হুমকিই কার্যকর করা হয়।
এতে আইসিসির জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে। বৈশ্বিক ক্রিকেটের কল্যাণের দায়িত্ব যাদের, সেই সংস্থাই যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে সমস্যা আরও গভীর। এখন আইসিসি ভারতের মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে। সব ক্রিকেট জাতির উচিত একত্রিত হয়ে নীতিগত অবস্থান নেয়া এবং আইসিসিকে জবাবদিহির আওতায় আনা। কিছু না করার মূল্য অত্যন্ত চড়া।

(লেখক আগা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজির অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক প্রকাশনায় ক্রিকেট নিয়ে লিখেছেন। তার এ লেখাটি অনলাইন দ্য ডন থেকে অনুবাদ)

mzamin

Thursday, January 29, 2026

‘রাজনীতি নির্মূল হওয়া উচিত, কারণ এটি মানবতার জন্য ক্ষতিকর’ -সাকলায়েন মুশতাক

খেলাধুলায় রাজনীতি মেশানো ঠিক নয়—পুরোনো কথাটিই নতুন করে বললেন সাকলায়েন মুশতাক। বাংলাদেশের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে যখন ক্রিকেট বিশ্ব তোলপাড়, সেই সময়ে প্রসঙ্গটা তুললেন পাকিস্তানের সাবেক অফ স্পিনার। তবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে নয়, ভারত–পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়েই রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করলেন বাংলাদেশের সাবেক স্পিন বোলিং কোচ।

সাকলায়েনের মতে, রাজনীতি শুধু ক্রিকেটের জন্যই নয়, মানবতার জন্যও ক্ষতিকর। তিনি বলেছেন ক্রিকেটের কাজ দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়া, বিভাজন তৈরি করা নয়।

ভারত ও পাকিস্তান সর্বশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে ২০১২–১৩ মৌসুমে। সে সময় ভারত সফরে গিয়েছিল পাকিস্তান। তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল দুই দল। টি-টুয়েন্টি সিরিজটি ১–১ সমতায় শেষ হলেও ওয়ানডে সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছিল পাকিস্তান। এর পর থেকে মহাদেশীয় ও বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ছাড়া আর ক্রিকেট মাঠে দেখা হয়নি দুই দলের।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাকলায়েন বলেন, ‘আমি মনে করি রাজনীতি নির্মূল হওয়া উচিত, কারণ এটি মানবতার জন্য ক্ষতিকর। রাজনীতি আমাদের শত্রু। এটি শুধু ক্রিকেট নয়, পুরো মানবসমাজকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ক্রিকেটের উদ্দেশ্য দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য তৈরি করা, দূরত্ব বাড়ানো নয়।’

সাকলায়েনের মতে, রাজনীতি কিংবা সংঘাত নয়, ক্রিকেট শুধু বিনোদনের মাধ্যমই হওয়া উচিত। বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না থাকা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি সাকলায়েন, ‘ক্রিকেট মানে বিনোদন। এটি কোনো যুদ্ধ বা যুদ্ধক্ষেত্র নয়। বাংলাদেশের ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। আমি তো আগেই স্পষ্ট করে বলেছি আমি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।’

 সাকলায়েন মুশতাক
সাকলায়েন মুশতাক। ছবি: শামসুল হক

Tuesday, January 27, 2026

৮ ঘণ্টার বৈঠকে হঠাৎ কীভাবে এলেন সাকিব by মাহমুদুল হাসান

গত শনিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালকদের সভা হয়েছে প্রায় আট ঘণ্টা। দীর্ঘ এ আলোচনার এক ফাঁকে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে আবার খেলানোর কথা তোলেন প্রভাবশালী এক পরিচালক, তাঁকে সমর্থন দেন আরও দুজন। হঠাৎ তাঁদের ওই আলোচনা তুলতে দেখে বিস্মিত হন বৈঠকে উপস্থিত কেউ কেউ।

সাধারণত বোর্ড পরিচালকদের সভায় কী কী আলোচনা হবে, তা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেদিন সবাইকে সাকিবের বিষয়টি জানানো হয়নি। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন দাবি করেন, পরিচালকদের ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সাকিব এখন থেকে জাতীয় দলে খেলার জন্য বিবেচিত হবেন।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলা, পরিচালক ইশতিয়াক সাদেকের পদত্যাগের আলোচনার ভিড়ে হঠাৎ তাঁর এমন ঘোষণায় বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে সবার মধ্যে। সংবাদ সম্মেলনেই জানানো হয়, সাকিবের ‘ফর্ম-ফিটনেস’ ঠিকঠাক থাকলে, নির্বাচকেরা চাইলে দলে নিতে পারবেন তাঁকে। সঙ্গে বলা হয় আরও একটি শর্তের কথাও, ‘যে ভেন্যুতে খেলা হবে, সেখানে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা থাকতে হবে।’

সাকিবের জাতীয় দলে খেলা নিয়ে জটিলতা এখানেই। বাংলাদেশের মাঠে খেলার ‘সক্ষমতা’  তাঁর তো প্রায় দেড় বছর নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময়টায় সাকিব ছিলেন দেশের বাইরে। এরপর আর দেশে ফিরতে পারেননি নৌকা প্রতীকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়া সাকিব। বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আরও অনেকের মতো সাকিবের নামেও হত্যা মামলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে শেয়ার কেলেঙ্কারির অভিযোগ আছে, আছে দুদকের মামলাও। এমনকি জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। দেশে এলে এসব মামলায় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাকিব। তাই জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি ‘প্রবাসী’।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। ওই বছরের অক্টোবরে দেশের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কথা ছিল তাঁর। সেই ম্যাচ খেলার জন্য দেশের পথে থাকলেও পরে নিরাপত্তাশঙ্কায় তাঁকে থমকে যেতে হয় মাঝপথেই। এরপর আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাকিবের দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক পোস্ট নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

সেসবের পরিপ্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্পষ্ট করেই জানিয়েছিলেন, সাকিবকে দেশে ফিরতে না দিয়ে তিনি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। এটাও বলেছিলেন, সাকিবকে আর বাংলাদেশের পতাকা বহন করতে দেওয়া যাবে না। সাকিব যাতে আর বাংলাদেশের হয়ে খেলতে না পারেন, সেই স্পষ্ট নির্দেশনাও তিনি বোর্ডকে দিয়েছেন বলে জানান।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার পদত্যাগের পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক আসিফ নজরুল। এখন কি সাকিবের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান বদলেছে? সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির পক্ষ থেকে এ প্রশ্নের কোনো সরাসরি উত্তর দেওয়া হয়নি। বিসিবির পক্ষ থেকে শুধু জানানো হয়, দেশের হয়ে আবার খেলার জন্য সাকিবের বাধাগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সভাপতি আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে বিসিবির একটি সূত্রের দাবি, এ আলোচনা শুরু হয়েছে আরও ১০-১২ দিন আগে। নিরাপত্তা–সংকটে ভারতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলতে চাওয়ার সিদ্ধান্তের সময় সরকারের সঙ্গে সাকিবকে খেলানোর বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় বিসিবির পক্ষ থেকে। সাকিবের ব্যাপারে সরকারের কয়েক মাস আগের অবস্থান এখন বদলে গেছে বলে মনে করে বিসিবি সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পরিচালকের দাবি, সরকারের কাছ থেকে সবুজ সংকত পেয়েই বিসিবি সাকিবকে খেলানোর বিষয়টি সামনে এনেছে।
সাকিবও কয়েকটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দেশের মাটিতে খেলেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যেতে চান। তাঁর সেই চাওয়া এখন বিসিবিও পূরণ করতে চায়। নতুন করে বিসিবর এ অবস্থানের বিষয়ে মন্তব্য জানতে সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়টি আড়াল করতেই সাকিবকে হঠাৎ খেলানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর বিদায় নেবে, এই সময়ের মধ্যে সাকিবের মামলাগুলো কীভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তরও নেই বিসিবির কারও কাছে।

সাকিব কি তাঁর মামলাগুলো প্রত্যাহার না হলে দেশে এসে খেলতে রাজি হবেন? গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকি নেবেন? যদি এসব বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা তিনি না পান, তাহলে তাঁকে দলে বিবেচনার ক্ষেত্রে যে শর্তগুলোর কথা বলা হয়েছে, সেসবের সঙ্গে তার আগের বাস্তবতার কোনো পার্থক্য নেই।

এসব ব্যাপারে বিসিবির কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁদের দাবি, সাকিবকে খেলানোর বিষয়ে সরকারের বর্তমান দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এখন ইতিবাচক। তাঁর আইনি জটিলতাগুলো সমাধানের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাকিব এলে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হবে, ঝিমিয়ে পড়া ক্রিকেটের জন্য তা জরুরি। তাতে বিশ্বকাপ না খেলতে পারার যে আক্ষেপ, সেটাও কিছুটা আড়ালে যাবে হয়তো। তবে এর সঙ্গে ক্রিকেটীয় ব্যাপারও আছে—সাকিব সাদা বলের ক্রিকেটে আরও কিছুদিন ভালোভাবেই খেলতে পারবেন বলে মনে করে বোর্ড।

বর্তমানে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে বেড়ানো সাকিবের ফর্ম ও ফিটনেস নিয়েও তাদের তেমন সংশয় নেই। সর্বশেষ আইএল টি-টুয়েন্টি পর্যন্ত সব কটি টুর্নামেন্টই সাকিব খেলেছেন বিসিবির কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে।

সাকিব যদি শেষ পর্যন্ত দেশে আসেন এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলেন, সে ক্ষেত্রে ওয়ানডেকে তিনি যেন গুরুত্ব দেন, বোর্ডের চাওয়া থাকবে সেটি। এ বছর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের, পরের বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ।

কিন্তু এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সরাসরি খেলা নিয়েও ঝুঁকি আছে। ওই বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে বাংলাদেশকে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে থাকতে হবে। সাকিব এ ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন বলে মনে করে বোর্ড। তবে এর আগে অনেক যদি-কিন্তু পাড়ি দিতে হবে সাকিব ও বিসিবিকে।

সাকিব আল হাসান
সাকিব আল হাসান। প্রথম আলো

Friday, January 23, 2026

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে না বাংলাদেশ

নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আইসিসিও যেহেতু বাংলাদেশের ভেন্যু বদলানোর অনুরোধ রাখেনি, এর অর্থ এবারের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের।

আজ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেন আসিফ নজরুল। আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু স্থানান্তরের অনুরোধ না রেখে সুবিচার করেনি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তারা সুবিচার করবে বলে আশা করছেন তিনি। ক্রিকেটারদের সঙ্গে কী আলাপ হয়েছে, তা অবশ্য খুলে বলেননি তিনি।

আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে, সেই নিরাপত্তা ঝুঁকি পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটে নাই। আমাদের যেই নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয় নাই। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনা থেকে হয়েছে। যেখানে আমাদের দেশের একজন সেরা খেলোয়াড়কে, উগ্রবাদীদের কাছে মাথা নত করে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাকে ভারত থেকে বের করে দিয়েছে—সোজা কথা, বের করে দিতে বলেছে।’

ক্রীড়া উপদেষ্টার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করে যাবো। আমরা এখনও হাল ছেড়ে দিচ্ছি না। আমরা আবার আজকে যোগাযোগ করব আরো কিছু জিনিস নিয়ে এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপ খেলতে পারে। আমাদের একটাই চাহিদা, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এই মুহূর্তে আমরা ভারতে যেতে চাই না, আমরা শ্রীলঙ্কার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে চাই। আমরা এখনও তৈরি, আমাদের দল তৈরি আছে।’

গতকাল আইসিসির সভায় বিসিবি সভাপতিকে ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য এক দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজ চূড়ান্তভাবে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানালেন ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বিসিবি সভাপতি।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-01-22%2F51q1cdiu%2FWhatsApp-Image-2026-01-22-at-5.08.15-PM.jpeg?rect=1%2C0%2C1280%2C853&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
কথা বলছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। প্রথম আলো

Friday, December 19, 2025

ফিলিস্তিনের ফুটবল যেভাবে মুছে ফেলছে রাজনীতির বিভাজন by খালেদ হরুব

সীমাহীন যন্ত্রণার ভেতরেই কাতারে আরব ফুটবল কাপে জাতীয় দলের টানা জয় ফিলিস্তিনিদের ভেতর জাগিয়ে তুলেছে এক বিরল ঐক্যের অনুভূতি। ফিলিস্তিনের জয়ের উচ্ছ্বাস গাজায় বৃষ্টিভেজা বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু থেকে শুরু করে পৌঁছে যায় লেবানন, জর্ডান ও সিরিয়ার শরণার্থীশিবিরে। একই সঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বের ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ে।

ফিলিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের কোচ ইহাব আবু জাজার নিবাস রাফায়। কোচের পরিবারের বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে, তাঁর মা আশ্রয় নিয়েছেন মাওয়াসি এলাকার একটি তাঁবুতে। তিনিই হয়ে উঠেছেন ফিলিস্তিনের আশা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। সব বাস্তবতার বিপরীতে তাঁর দল মাঠে এনে দিয়েছে বিজয়ের স্বাদ, উত্তীর্ণ হয়েছে পরের রাউন্ডে। এই জয় তাঁরা প্রথমেই উৎসর্গ করেছেন গাজাকে। এরপর পৃথিবীর পুরো ফিলিস্তিনকে।

‘ফিদায়ি’ নামে পরিচিত এ দলের পেছনে তৈরি হয়েছে এক যৌথ মনোভাব। এ নামের অর্থ যোদ্ধা। এটি শুধু খেলা নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের গভীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, যেখানে তারা বিভক্তি ও হতাশার দমবন্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে আবারও এক অখণ্ড পরিচয় ফিরে পেতে চায়।

ক্যামেরার ফ্রেমে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলোয় দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন বয়সের নারী, গৃহিণী, প্রবীণ—সবাই সীমাহীন উচ্ছ্বাসে উল্লাস করছেন। কেউ স্টেডিয়ামে, কেউ ক্যাফেতে, কেউবা নিজের ঘরে।

ফুটবল বিশ্বজোড়া এক নেশা, কিন্তু আজ ফিলিস্তিনিদের জন্য এর অর্থ সাধারণ খেলার চেয়ে অনেক বেশি। এ দলের প্রতিটি জয় প্রতিরোধের মতো, গাজায় চলমান গণবিধ্বংসী যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক প্রতীকী ওঠে দাঁড়ানো। প্রতিটি গোল যেন ঘোষণা দেয়, ‘আমরা এখনো আছি।’ অনেক ফিলিস্তিনের কাছেই এটা ঠিক ছাই থেকে উঠে দাঁড়ানো ফিনিক্স পাখির মতো বিষয়।

ইসরায়েল যখন মানচিত্র থেকে ফিলিস্তিনকে মুছে দিতে চায়, তখন এই খেলোয়াড়দের পায়ের জবাব যেন বলে দেয়, ফিলিস্তিনিরা বিরাজমান এবং অটল। এটি তাদের জন্য একধরনের প্রতীকী চপেটাঘাত। প্রতীকের এই শক্তি গভীর। বহুদিন পর ফিলিস্তিনের নাম ও পতাকা ভেসে উঠছে এমন এক রূপে, যেখানে কোনো দলীয় রং বা রাজনৈতিক বোঝা নেই।

আরব বিশ্বজুড়ে সমর্থক ও খেলোয়াড়েরা ফিদায়ি দলের পাশে দাঁড়িয়েছে। রাজনীতিতে যে সংহতি বহুদিন চাপা রাখা হয়েছিল, তা এখন উন্মোচিত হয়েছে খেলার ময়দানে।

এটি একভাবে আরব ঐক্যের পুনরুত্থানও বটে, যা রাজনৈতিক সীমানা পেরিয়ে আরবদের একত্র করে। কাতারের সাম্প্রতিক বিশ্বকাপেও আমরা এমন অনুভূতির প্রকাশ দেখেছি।

তিউনিসিয়ার এক খেলোয়াড় ফিলিস্তিনের বিপক্ষে গোল করার পর দৌড়ে গিয়ে ফিলিস্তিনি কোচকে জড়িয়ে ধরেন, যেন ক্ষমা চান। আরব দর্শকেরা নিজেদের পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনি পতাকাও উড়িয়ে সমর্থন জানান।

এক ফিলিস্তিনি খেলোয়াড় মাঠ ঘুরে বেড়ান হাতে জড়ানো সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো দৃশ্যটিকে একসূত্রে বেঁধে রাখে কেফিয়াহ।

অনেকের কাছে স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে সেই একমাত্র জায়গা, যেখানে তারা স্বাধীনভাবে এমন কিছু প্রকাশ করতে পারে, যা কিছু আরব দেশে কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ করে রেখেছে। স্টেডিয়ামে পতাকা আর ফিলিস্তিনের ধ্বনি অবাধে প্রবাহিত হয়। আর সেখানেই অগণিত প্রতিকূলতার পরও ফিলিস্তিনি দল উপহার দেয় দুর্দান্ত মানের ফুটবল।

অথচ ফিলিস্তিনের দল গঠন করা ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। অনুশীলনের সুযোগ ছিল খুবই কম, আর সম্পদ প্রায় ছিল না বললেই চলে। দেশের ঘরোয়া লিগ বহু বছর ধরে বন্ধ। ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়েছে স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া–সুবিধা। এই বাস্তবতা তাদের সাফল্যকে আরও বিস্ময়কর করে তুলেছে। মনে হয় শুধু ইচ্ছাশক্তি, দৃঢ় মনোভাব এবং ফিদার আত্মা প্রতিটি প্রযুক্তিগত ঘাটতিকে পুষিয়ে দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলোর সহায়তায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনিকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে দুই বছরের নির্মম গণহত্যার ভয়াবহতার পরও কীভাবে এই দল আবার একত্র হয়ে এমন পারফরম্যান্স দেখাল! এই প্রশ্নটাই নিজেই অনেক কিছু বলে দেয়।

ফিলিস্তিনি সমাজতাত্ত্বিক জামিল হিলাল দীর্ঘদিন ধরে লিখে আসছেন যে সংস্কৃতি একটি ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনি পরিচয় রক্ষায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পরিচয় রাজনীতি, দল এবং গোষ্ঠীর সীমা ছাড়িয়ে যায়। সাহিত্য, কবিতা, শিল্প, সংগীত, নৃত্য, লোকগীতি, রান্না, সূচিশিল্প, প্রতীক, ঐতিহ্য, পুরোনো এবং আধুনিক সব মিলেই গড়ে ওঠে একটি সম্মিলিত চেতনার ভিত্তি। এই সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রকে রক্ষা করাই ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা।

আমরা জানি কীভাবে বারবার ফিলিস্তিনির সংস্কৃতি, প্রতীক, সূচিশিল্প এমনকি কুনাফা এবং খাবার পর্যন্ত ইসরায়েলের বলে দাবি করা হয়েছে। একটি জাতির সাংস্কৃতিক ভিত্তি ভেঙে গেলে তারা দিগ্‌বিদিক ছড়িয়ে যায়, তাদের জাতীয় পরিচয় এবং সামাজিক সংহতি বিপদের মুখে পড়ে।

ফিলিস্তিনের জাতীয় ক্রীড়াক্ষেত্র এখন সম্মিলিত সচেতনতা এবং পরিচয়ের একটি স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। এটি এমন এক দিকনির্দেশনা দেয়, যা মাতৃভূমির একত্বর দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে সবাই রাজনৈতিক পরিচয় ঝেড়ে ফেলে এক জায়গায় মিলিত হতে পারে। দলটির খেলাগুলোয় সারা বিশ্বের কোটি ফিলিস্তিনি শুধু কয়েকজন খেলোয়াড়কে দেখছিল না। তারা দেখছিল ফিদাইয়িনদের, যোদ্ধাদের। তারা দেখছিল ইতিহাসের বাহকদের, যারা শুধু একটি খেলা জেতার ইচ্ছার চেয়ে অনেক বড় বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে।

* খালেদ হরুব, শিক্ষক ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ
- মিডিল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

ফিলিস্তিনের জয়ের উচ্ছ্বাস গাজায় বৃষ্টিভেজা বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু থেকে শুরু করে পৌঁছে যায় লেবানন, জর্ডান ও সিরিয়ার শরণার্থীশিবিরে।
ফিলিস্তিনের জয়ের উচ্ছ্বাস গাজায় বৃষ্টিভেজা বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু থেকে শুরু করে পৌঁছে যায় লেবানন, জর্ডান ও সিরিয়ার শরণার্থীশিবিরে। ছবি: এএফপি

Sunday, September 7, 2025

ইউরোভিশন ২০২৬ : ইভেন্টে ইসরাইল অংশ নিলে প্রতিযোগিতা করবে না স্লোভেনিয়া

ইউরোভিশন গানের প্রতিযোগিতায় ইসরাইলের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। কারণ ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী দেশ স্লোভেনিয়া জানিয়ে দিয়েছে যে,  আগামী বছর ইসরাইলি প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ  জানানো হলে তারা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ইউরোভিশনে ইসরাইলের অংশগ্রহণ দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুই বছরে, এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে, দেশটির উপস্থিতির কারণে অনেক দর্শক প্রতিযোগিতাটি বয়কট করেছেন। বেশ কয়েকজন অংশগ্রহণকারী তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই বছরের শুরুর দিকে, ইউরোভিশনের অংশগ্রহণকারী সম্প্রচারকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল যে গাজায় চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও ইসরাইলের প্রতিযোগিতার অংশ নেয়া উচিত হবে কিনা। বিষয়টি নিয়ে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

স্লোভেনীয় সম্প্রচারক আরটিভিএসএলও এখন বলেছে যে, ইসরাইলকে নিষিদ্ধ করা হলে তবেই  তারা আগামী বছর ইউরোভিশনে ফিরে আসবে।  ঠিক যেমন ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে রাশিয়াকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আরটিভিএসএলও-এর যোগাযোগ বিভাগ একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে যে, ‘ইউরোভিশনে অংশ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত  নেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে, এটা স্পষ্ট হওয়া উচিত যে ইবিইউ  ( European Broadcasting Union)  ইসরাইলের অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে কিনা এবং ভোটদানের স্বচ্ছতা সম্পর্কে বেশ কয়েকটি ইবিইউ সদস্য রাষ্ট্রের মন্তব্য বিবেচনা করবে কিনা। সেইসাথে  এটাও স্পষ্ট হবে যে আমরাও এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবো কিনা।’

জুলাইয়ের শুরুতে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইবিইউ সাধারণ পরিষদে, আরটিভি স্লোভেনিয়া তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছিল -গাজায় গণহত্যার পরও  যদি ইসরাইল ইউরোভিশন গানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে, তাহলে তারা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে না। ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় ইসরাইলের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সম্পর্কে ইবিইউ বর্তমানে তার সদস্যদের সাথে আলোচনা করছে। ইউরোভিশন গানের প্রতিযোগিতার পরিচালক মার্টিন গ্রিন হাফপোস্ট ইউকে -তে বলেছেন, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিষয়ে উদ্বেগ  বুঝতে পারছি । গানের প্রতিযোগিতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কীভাবে পরিচালনা করা যায় সে সম্পর্কে মতামত সংগ্রহ করার জন্য আমরা এখনও সমস্ত ইবিইউ  সদস্যদের সাথে পরামর্শ করছি। সম্প্রচারকরা ডিসেম্বরের মাঝামাঝি  নিশ্চিত করতে পারবেন যে তারা আগামী বছর ভিয়েনায় অনুষ্ঠেয় ইভেন্টে অংশ নিতে চান কিনা। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাওয়া  প্রতিটি সদস্যের  সিদ্ধান্তকে সম্মান করা হবে।’  অস্ট্রিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জেজে এবং গত বছরের বিজয়ী সুইজারল্যান্ডের নেমো হাফপোস্ট ইউকে-এর সাথে সাম্প্রতিক একান্ত সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে তাদের মতামত ভাগ করে নিয়েছিলেন - তারাও ইউরোভিশন থেকে ইসরাইলের বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র : হাফ পোস্ট

ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির মরদেহের পাশে স্বজনদের আহাজারি
ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির মরদেহের পাশে স্বজনদের আহাজারি। ছবি: রয়টার্স
প্রথম আলোঃ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ২৩ মাস ধরে চলা হামলায় উপত্যকাটিতে নিহত হয়েছেন ৬৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬২ হাজারের বেশি। হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ৬২ জনের মধ্যে ৪১ জনই গাজা নগরীর বাসিন্দা। সকাল থেকে ইসরায়েলি সেনাদের অবিরাম হামলায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল যদি গাজা নগরী দখলের অভিযান এগিয়ে নেয়, তাহলে ‘বিপর্যয়কর’ পরিস্থিতি দেখা দেবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের সতর্কতা উপেক্ষা করেই গাজা নগরী ছেড়ে বাসিন্দাদের চলে যেতে বলেছে ইসরায়েল। তাঁদের উপত্যকার দক্ষিণ দিকে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার পরপরই হামলা চালিয়ে গাজা নগরীর আরেকটি বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ওই ভবনে বেশ কয়েকটি বেসামরিক ফিলিস্তিনি পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। গত শুক্রবার গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের ৭০০তম দিন পূর্ণ হয়েছে। এদিন গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর উপত্যকাটিতে ইসরায়েলের নৃশংস হামলা শুরুর পর থেকে অন্তত ১৯ হাজার ৪২৪টি শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ৫২ মিনিটে একটি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। নিহত শিশুদের মধ্যে নবজাতক ও এক বছরের কম বয়সীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার।

Thursday, August 7, 2025

ইসরায়েলের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি ফুটবলের ‘পেলে’

ফিলিস্তিন জাতীয় দলের সাবেক ফরোয়ার্ড সুলেইমান আল–ওবেইদ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন। গাজার দক্ষিণাঞ্চলে মানবিক সাহায্য পেতে অপেক্ষমাণ ফিলিস্তিনি জনতার ওপর ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালালে প্রাণ হারান ৪১ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএএফ) গতকাল তাদের ওয়েবসাইটে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সুলেইমানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

পিএএফের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে মানবিক সাহায্যের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় শহীদ হয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় ও বিচ সার্ভিসেস দলের তারকা সুলেইমান আল–ওবেইদ। ফিলিস্তিন ফুটবলে সুলেইমান “দ্য গ্যাজেল (হরিণ)”, “দ্য ব্লাক পার্ল (কালো মুক্তা)”, “হেনরি অব প্যালেস্টাইন” এবং “পেলে অব প্যালেস্টাইন ফুটবল” নামে পরিচিত ছিলেন। পাঁচ সন্তান রেখে মারা গেছেন ফিলিস্তিন ফুটবলের এই পেলে।’

গাজায় জন্ম নেওয়া সুলেইমান সার্ভিসেস বিচ ক্লাবের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর পশ্চিম তীরে গিয়ে সেখানকার ক্লাব আল আমারি ইয়ুথ সেন্টারে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত খেলেন। ২০১০–১১ মৌসুমে ফিলিস্তিনের প্রথম পেশাদার ফুটবল লিগ জেতেন সুলেইমান। আল আমারি ছেড়ে আল শাতিয়া ক্লাবে এক মৌসুম খেলেন সুলেইমান। এরপর গাজা স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে সাউদার্ন গভর্নরেটস প্রিমিয়ার লিগে ২০২৬–১৭ মৌসুমে ১৭ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। পরের মৌসুমে আল খাদামা ক্লাবের হয়েও লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

পিএএফের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, দুর্দান্ত গতি ও দক্ষতার জন্য ২০০৭ সালে ফিলিস্তিন জাতীয় দলে জায়গা করে নেন সুলেইমান। ২০১৩ সালে জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলার আগে ২৪ ম্যাচে করেন ২ গোল। এর মধ্যে সুলেইমানের বিখ্যাত গোলটি ২০১০ সালে পশ্চিম এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন চ্যাম্পিয়নশিপে। ইয়েমেনের বিপক্ষে ‘সিজর্স কিকে’ চোখধাঁধানো গোলটি করেছিলেন।

সুলেইমানের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি এরিক ক্যান্টোনা নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে লিখেছেন, ”‘সাহায্য পাওয়ার আশায় রাফায় অবস্থান করার সময় ফিলিস্তিন জাতীয় দলের তারকা সুলেইমান আল–ওবেইদকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। তাকে “ফিলিস্তিনের পেলে” ডাকা হতো। আমরা তাদের আর কত গণহত্যা করতে দেব? ফিলিস্তিন মুক্ত হোক।’”

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘লম্বা ক্যারিয়ারে সুলেইমান আল–ওবেইদ ১০০–এর বেশি গোল করে ফিলিস্তিন ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল তারকায় পরিণত হয়েছিলেন।’ তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে খেলাধুলা ও স্কাউটিং–সংশ্লিষ্ট পরিবারে শহীদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬৬২, যেটা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্মূলীকরণ যুদ্ধের মাধ্যমে শুরু হয়। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন–সংশ্লিষ্ট মৃত মানুষের সংখ্যা ৩২১। এর মধ্যে রয়েছেন খেলোয়াড়, কোচ, প্রশাসক, সংগঠক, রেফারি ও ক্লাবের বোর্ড সদস্য।’

তবে গত ২৩ জুলাই পিএএফের এক্সে করা পোস্টের বরাত দিয়ে ফুটবলপ্যালেস্টাইন ওয়েবসাইট জানিয়েছে, গত ৬৬৯ দিনে ইসরায়েলের হামলায় ৪০০–এর বেশি ফুটবলার নিহত হয়েছেন। সেই পোস্টে তখন জানানো হয়েছিল, সর্বশেষ ৬৫৬ দিনে খেলাধুলা ও স্কাউটিং–সংশ্লিষ্ট ৮০০–এর বেশি নিহত হয়েছেন ইসরায়েলের হামলায়।

গত ২৯ জুলাই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফিলিস্তিন অলিম্পিক কমিটি জানিয়েছে, শুধু জুলাই মাসেই গাজা ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের হামলায় ৪০ জন ফিলিস্তিনি অ্যাথলেট নিহত হয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘একেকটি দিন যায় আর ফিলিস্তিনের ক্রীড়াঙ্গনে বিয়োগান্ত ঘটনার নতুন অধ্যায় যোগ হয়।’

গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ৬১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক মারা গেছেন। আহত হয়েছেন দেড় লাখের বেশি; তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভি।

সুলেইমান আল–ওবেইদ
সুলেইমান আল–ওবেইদ। এক্স

Tuesday, June 24, 2025

ইনফান্তিনো-ট্রাম্প ‘ব্রোমান্স’–এর ভেতরে কী আছে

প্রায় সাত বছর আগের কথা। ডোনাল্ড ট্রাম্প তখন প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। জিয়ান্নি ইনফান্তিনো হোয়াইট হাউসে তাঁর ওভাল অফিসে গিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ফুটবলের লাল ও হলুদ কার্ডের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

ইনফান্তিনো তত দিনে ফিফা সভাপতি হলেও বৈশ্বিকভাবে তেমন পরিচিতি পাননি। কয়েক সপ্তাহ আগে ২০১৮ বিশ্বকাপের আয়োজন শেষ করেছেন। ২০১৫ সালে ফিফায় সংকটের পরের বছর ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দায়িত্ব পান।

২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ার পেছনে ইনফান্তিনোর প্রচেষ্টার জন্য তখন এই সুইস-ইতালিয়ানের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে এই বলে অনুযোগও করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ যখন আয়োজিত হবে, তখন তিনি প্রেসিডেন্ট অফিসে থাকবেন না। আর না থাকলে তাঁর ভাষায়, ‘সংবাদমাধ্যম হবে খুব বিরক্তিকর।’ তিনি না থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের লগ্নে হোয়াইট হাউসকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম কেমন হবে, তা নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘খুব বিরক্তিকর হবে। ওদের হয়তো কোনো কাজই থাকবে না।’

ট্রাম্পের এ কথাগুলোর ফাঁকেই ইনফান্তিনো তাঁর কাজ সেরে নেওয়ার চেষ্টা করেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের জন্য উপহার হিসেবে নিয়ে আসা লাল ও হলুদ কার্ড দেখিয়ে ফিফা সভাপতি বলেন, ‘হলুদ কার্ড হলো সতর্ক করে দেওয়ার জন্য। আর যখন আপনি কাউকে বের করে দিতে চাইবেন...এভাবে’—বলে লাল কার্ড উঁচিয়ে ধরেন ইনফান্তিনো। ট্রাম্পকে দেখে বেশ উৎফুল্ল মনে হয়েছিল। ইনফান্তিনোর কাছ থেকে লাল কার্ডটি নিয়ে তিনি সেটা উপস্থিত সংবাদকর্মীদের দেখান।

সুইস আইনজীবী ইনফান্তিনোর বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বেসর্বা হিসেবে উত্থান অসাধারণ এক গল্প। ফিফা সভাপতির ভিত তৈরি হয়েছে ট্রাম্পের পৃষ্ঠপোষকতায় যুক্তরাষ্ট্রে দুটি বিশ্বকাপ আয়োজন এবং সৌদি আরবকে ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব দেওয়ার মাধ্যমে। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার পথটা ট্রাম্পই সুগম করে দিয়েছেন বলে গুঞ্জন আছে।

২০১৮ সালে ট্রাম্পের সঙ্গে সেই বৈঠক থেকে একটি বিষয় শিখে নিয়েছিলেন ইনফান্তিনো—ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে এবং জনসমক্ষে কীভাবে সামলাতে হবে। সে বিদ্যাটা এখনো কাজে লাগাচ্ছেন ফিফা সভাপতি। চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি বসেছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার জুভেন্টাসের খেলোয়াড় ও ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। ট্রাম্প জুভেন্টাসের দুই যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড় ওয়েস্টন ম্যাকেনি ও টিমোথি উইয়াহর সঙ্গে হাত মেলান। এরপর ট্রাম্পের চারপাশে দাঁড়ান জুভেন্টাসের খেলোয়াড়, ম্যানেজমেন্ট ও ইনফান্তিনো। ট্রাম্প তখন ক্লাব বিশ্বকাপের প্রসঙ্গে আর যাননি, এর চেয়ে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে কথা বলতেই তাঁর আগ্রহ ছিল বেশি।

তবে কিছুক্ষণ পরপরই বিভিন্ন বিষয় জানতে মুখ ফিরিয়েছেন তাঁর বন্ধু ইনফান্তিনোর প্রতি। জুভেন্টাসের ম্যাচে টিকিট অপ্রতুলতা নিয়ে কথা বলেছেন। মজাও করেছেন। ট্রাম্প যতবার মজা করেছেন, ইনফান্তিনো ততবারই জানতেন কী করতে হবে। ফিফার দুটি টুর্নামেন্ট সেখানে আয়োজনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার ওপর বারবার গুরুত্ব আরোপ করেছেন ইনফান্তিনো।

২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনে ট্রাম্পের কাছ থেকে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সাহায্য পেয়েছেন ইনফান্তিনো। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত প্রজেক্টেও—৩২ দলের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ—যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন তিনি পেয়েছেন। এই ক্লাব বিশ্বকাপ আসলে উয়েফা ও ইউরোপিয়ান লিগগুলোর সূচির বিরুদ্ধাচরণ করে আয়োজিত টুর্নামেন্ট। এটা বলাই যায়, ফিফা সভাপতির আদেশে এটা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী টুর্নামেন্ট।

এই টুর্নামেন্ট কতজন দেখছেন, কতজন স্ট্রিম করছেন, সেসব অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইনফান্তিনো বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর দুজন মানুষের সঙ্গে নিজের ক্ষমতা একীভূত করতে পেরেছেন, তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বকাপ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে বসেছেন। টিফানি অ্যান্ড কোম্পানির ডিজাইন করা ক্লাব বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে পোজ দিয়েছেন। ইনফান্তিনোর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আর ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমান করেছেন আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তিনি পুরো আয়োজনের খরচ মিটিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইনফান্তিনো এ পর্যন্ত আসতে পারলেন কীভাবে? মানে ট্রাম্পের কাছাকাছি।

ফিফায় দুর্নীতির পর ইনফান্তিনোর উত্থান

১০ বছর আগে ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারের দুর্নীতির জঞ্জাল থেকে উত্থান ইনফান্তিনোর। উয়েফার সাবেক সভাপতি মিশেল প্লাতিনিও তাঁর সাবেক ‘বস’। তিনি ফিফার সর্বময় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হন বিখ্যাত ‘ফিফা ২.০’ টিকিট দিয়ে—ফিফাকে অতীতের সব দুর্নীতিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব নিশ্চিত হয়েছিল ২০১০ সালের ভোটাভুটিতে। তখন যুক্তরাষ্ট্র ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রার্থী হলেও তাদের স্বপ্নপূরণ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এ নিয়ে আগ্রহী ছিলেন এবং জুরিখের সেই ভোটাভুটিতে তিনিও ছিলেন, যেখানে প্রথম রাউন্ডে ফিফার নির্বাহী কমিটির মাত্র তিনটি ভোট পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পাঁচ বছর পর কি দেখা গেল?

২০১৫ সালের ২৭ মে জুরিখের এক হোটেল থেকে ফিফার নির্বাহীদের গ্রেপ্তার করে সুইস পুলিশ। এফবিআইয়ের ফিফা বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযানের অংশ ছিল সে গ্রেপ্তার কার্যক্রম। এর মাধ্যমে ফিফায় ব্লাটারের প্রশাসনিক কার্যক্রমও ভেঙে পড়ে।
২০১৫ সালের মে মাসের সেই ঘটনার পর ফিফা ক্লিনটনের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এবং ‘ফিফা ২.০’ কার্যক্রম শুরু করে। এর অংশ ছিলেন ক্লিনটনের কয়েকজন সাবেক উপদেষ্টা যাঁরা তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২২ বিশ্বকাপের প্রার্থিতায় কাজ করেছেন।

সে বছরই পরবর্তী সময়ে ভোটের মাধ্যমে ফিফার সংস্কার কমিটিতে জায়গা পান ইনফান্তিনো এবং পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে ফিফার সভাপতি হন। আট মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে ক্ষমতাসীন হন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ইচ্ছাপূরণ করেন ইনফান্তিনো

২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশকে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল ইনফান্তিনোর। তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম যে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব দেওয়া হয়, সেটাও ২০২৬ বিশ্বকাপ। বড় বড় বাণিজ্যিক চুক্তি ও আন্তর্জাতিক বড় বড় ব্র্যান্ডগুলোকে ফিফায় ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন ছিল ইনফান্তিনোর। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেরও প্রয়োজন ছিল ফিফার। ট্রাম্প নিজেও এটা পছন্দ করেছেন, যেমনটা তিনি পছন্দ করেন ইনফান্তিনোকে। এর পেছনে আরেকটি কারণ হতে পারে ট্রাম্পের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ১৯ বছর বয়সী ব্যারন ফুটবলভক্ত। সে হয়তো বাবাকে বলেছে ইনফান্তিনো ফুটবলে কত বড় মানুষ!

২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার ব্যাপারটি ট্রাম্প খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলেন। এ কারণে পারিবারিক সদস্যকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেন। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সকার ফেডারেশন এর যোগাযোগের মাঝে সেতুবন্ধ ছিলেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এই বিশ্বকাপ আয়োজনে ট্রাম্প বাকি দুটি সহ–আয়োজক দেশের নাম সংবাদমাধ্যমের সামনে খুব কমই উল্লেখ করেছেন। কিন্তু গত মাসে হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ইনফান্তিনো সুযোগটি নিয়ে দুটি সহ–আয়োজক দেশের নামও উল্লেখ করেন, পরে যার প্রশংসাও করেন ট্রাম্প।

২০১৯ সালে দাভোস সম্মেলনে ট্রাম্পকে অতিথি করেছিলেন ইনফান্তিনো। সে বছর যুক্তরাষ্ট্র নারী ফুটবল দলের একাংশ হোয়াইট হাউসে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর সেটাও সামাল দেয় ইনফান্তিনো প্রশাসন। ফিফা কংগ্রেসে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে মরক্কোর দ্বিগুণ ভোট পায় যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ ট্রাম্পের ইচ্ছাপূরণ করেন ইনফান্তিনো।

ইনফান্তিনোর ঝুঁকিও আছে

২০১৮ সালে ট্রাম্প অনুযোগ করেছিলেন, ফিফা বিশ্বকাপ আসতে আসতে তিনি হয়তো হোয়াইট হাউসে থাকবেন না। কিন্তু গত বছর ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জিতে তিনি ক্ষমতায় আসার পর ফের চাঙা হয় দুজনের সম্পর্ক। ট্রাম্পের আরও কাছে যাওয়া এবং তাঁর ব্যক্তিগত বলয়ে ঢোকার কোনো সুযোগ নষ্ট করেননি ইনফান্তিনো। এমনকি ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সফরে বেশি সময় কাটানোর কারণে গত মে মাসে প্যারাগুয়েতে তিনি নিজের অনুষ্ঠান ফিফা কংগ্রেসেও সময়মতো উপস্থিত হতে পারেননি।

ইনফান্তিনো হয়তো বলতে পারেন, তাঁকে ট্রাম্পের নিয়মনীতি মেনে চলতে হয়েছে। আগামী ১৩ মাসের জন্য ফিফা আসলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ‘বিবাহবন্ধনে’ আবদ্ধ। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সাফল্য ইনফান্তিনোর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফিফা সভাপতির ক্ষমতা ধরে রাখতে ২১১টি সদস্যদেশকে রাজস্ব এনে দেওয়া ইনফান্তিনোর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প তাঁর শক্তিশালী মিত্র। তবে প্রয়োজনে ট্রাম্প যে ইনফান্তিনোর পাশ থেকে সরে যেতে কার্পণ্য করবেন না, সেটাও সত্যি। ইনফান্তিনোর তাই ঝুঁকিও আছে।

তবে ইনফান্তিনোও ট্রাম্পকে খুব ভালোভাবে জানেন। পর্দার আড়ালে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নীতি শিথিল ও কর মওকুফ করতে হবে ফিফাকে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ার বিকল্প নেই ইনফান্তিনোর। এই ব্যবসায়িক সম্পর্ক তাঁর বিন সালমানের সঙ্গেও আছে।

২০২৬ বিশ্বকাপে কোনো স্থানীয় আয়োজক কমিটি নেই, যেটা ’৯৪ বিশ্বকাপে ছিল যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বকাপ আয়োজনে ফিফা মায়ামিতে অফিস নিয়ে নিজেরাই পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সকার ফেডারেশনও এই পরিকল্পনায় খুব একটা নেই। গত মাসে ট্রাম্পের ঘোষিত টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানির—তিনি আবার ট্রাম্পের বন্ধুর ছেলে—সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে ফিফার। সব মিলিয়ে আগামী ১৩ মাসে ফিফা কোন পথে এগোবে যুক্তরাষ্ট্রে, সেটা আসলে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে—যেটা এরই মধ্যে অনেকের কাছে ‘ব্রোমান্স’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাঁদের সম্পর্কের শুরু অবশ্য আরও আগে
ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাঁদের সম্পর্কের শুরু অবশ্য আরও আগে। রয়টার্স

Monday, May 5, 2025

ওয়াসিম আকরামের কোকেন আসক্তি ও প্রথম স্ত্রী’র হারিয়ে যাওয়ার গল্প

ক্রীড়াঙ্গনে তারকাখ্যাতি অনেক বড় জিনিস। খেলোয়াড়রা বিশ্ব জুড়ে সমাদৃত হন নানা ধরনের মানুষের কাছে। এমনকি তাদের জীবনধারাও প্রভাব ফেলে ভক্তদের ওপর। তবে আলোকসজ্জার এই দুনিয়ার বাইরেও তাদের অনেকের একটি অন্ধকার জগৎ থাকে, যার ব্যাপারে অবগত থাকে না বাইরের কেউই। পাকিস্তানের কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামকে বলা হয় ‘সুলতান অব সুই’। ১৯৯২তে বিশ্বকাপ জেতা এই পেসার ওয়ানডে আর টেস্ট মিলিয়ে নিয়েছেন ৯০০টিরও বেশি উইকেট। ২০২২-এ সাংবাদিক গিডিওন হেইগের সঙ্গে যৌথভাবে নিজের আত্মজীবনী ‘সুলতান: আ মেমোয়ার’ প্রকাশ করেন আকরাম। বইয়ের ‘ব্যাটলিং মাই ডিমনস’ অংশে নিজের সেই অন্ধকার জীবনের কথা তুলে ধরেন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফাস্ট বোলার।

খেলোয়াড়ি জীবনের পর ভয়াবহ মাদকদ্রব্য কোকেনের নেশায় জড়িয়ে যান ওয়াসিম আকরাম। এসবের শুরুটা হয়েছিল ইংল্যান্ডের এক পার্টিতে। সেবারই প্রথম, তবে অল্প অল্প করে আসক্তি বাড়তে থাকে।  এক সময় ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায় যে তার স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার জন্যও এটির দরকার পড়তো বলে মনে করতেন তিনি। আকরাম যখন পুরোপুরিভাবে কোকেনের ওপর নির্ভরশীল, তখন হুমা মুফতি (প্রয়াত স্ত্রী) ম্যানচেস্টার ও লাহোরে প্রায়শই একা থাকতেন। হুমার ক্রিকেট নিয়ে বা মাঠের বাইরের খ্যাতি নিয়ে কখনোই আগ্রহ ছিল না। আকরামের সন্দেহ হতো, স্বামীর ওপর ক্রিকেটের প্রভাব দেখেই হয়তো তাদের দুই সন্তান তাহমুর ও আকবরকে সবসময় খেলা থেকে দূরে রাখতেন হুমা।

একপর্যায়ে আকরামকে ধরে ফেলেন হুমা, স্বামীর ওয়ালেটে থাকা কোকেনের একটি প্যাকেট খুঁজে পান তিনি। সে সময় হুমা বলেন, ‘আমি জানি তুমি মাদক নিচ্ছো, তোমার সাহায্যের দরকার।’ খোদ আকরামও রাজি ছিলেন, কেননা কোকেনের পরিমাণ বাড়তে বাড়তে ততদিনে দুই গ্রামে পৌঁছে গিয়েছিল। তখন একটি পুনর্বাসন প্রোগ্রামে ভর্তি হতে রাজি হন আকরাম। তবে লাহোরের সেই রিহ্যাবটি খুব একটা জাতের ছিল না। ডাক্তারাও খুব সুবিধার ছিল না। প্রতি সপ্তাহে চার্জ করা হতো প্রায় ২ লাখ রুপি। সেখানে এক মাস থাকাকালীন স্ত্রী-সন্তানদের একবারের জন্যও দেখতে পাননি আকরাম। একপর্যায়ে তারা দেখা করতে এলে রাগের সুরেই সেখান থেকে বের হওয়ার কথা জানান তিনি। তবে ডাক্তার নিজের খেলাটা খেলেন, হুমাকে বলেন, ‘আমি তো আগেই বলেছিলাম যে, সে এমনই করবে।’ এর আরও সাত সপ্তাহ পর যখন হুমা বুঝতে পারলেন যে, আকরামই ঠিক ছিলেন- তখন বের করে নিয়ে আসেন তার স্বামীকে। একপর্যায়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষ থেকে আকর্ষণীয় এক চাকরির প্রস্তাব পান আকরাম। তবে তখনো কোকেনের মোহ থেকে সম্পূর্ণভাবে বের হতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে বিবাহবিচ্ছেদের কথাও ভাবেন। শেষমেশ ২০০৯-এ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে গিয়ে হুমার নজরদারির বাইরে গিয়ে ফের কোকেন নেয়া শুরু করেন আকরাম। অন্যদিকে তাকে ভালো করে তুলতে গিয়ে একপর্যায়ে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন হুমা। সংক্রামক এন্ডোকার্ডাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন তিনি। এর কয়েক বছর পর দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন ওয়াসিম আকরাম। অস্ট্রেলিয়ার শানিয়ারা থম্পসনের সেই ঘরে একটি কন্যাসন্তানও আছে।

mzamin

Wednesday, April 30, 2025

‘বাবা-মায়ের জন্য এতদূর আসতে পেরেছি’

প্রথম ম্যাচে হাত খুললেও ইনিংসটা বড় হয়নি বৈভব সূর্যবংশীর। কাঁদতে কাঁদতে ছেড়েছেন মাঠ। পরের ম্যাচেও জ্বলে উঠতে পারেননি। তবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) তৃতীয় ম্যাচে রেকর্ড বুক তোলপাড় করে ফিরলেন এই ১৪ বছর বয়সী বিস্ময়বালক। সোমবার গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে ৩৮ বলে ১১ ছক্কায় খেলেছেন ১০১ রানের ইনিংস। ৩৫ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে চোখ কপালে তুলেছেন গোটা ক্রিকেট বিশ্বের। ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে যেসব ত্যাগ করেছেন তার বাবা-মা, রেকর্ড গড়া ম্যাচের পর সেই গল্পই শোনালেন বৈভব।

লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান বৈভব, খেলেন ২০ বলে ৩৪ রানের ইনিংস। সেদিন আউট হয়ে যাওয়ায় পর চোখে পানি নিয়ে ছাড়েন মাঠ। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছুটা আলোচনাও হয়। গুজরাটের বিপক্ষে বৈভব দেখালেন কেনো সেদিন তার চোখে পানি ছিল। যোগ্যতা যখন আকাঙ্ক্ষা পর্যন্ত ডানা না মেলতে পারে, তবে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হওয়াটা স্বাভাবিক। বৈভব হয়তো জানতেন তিনি কী করতে পারেন। এবার তো করেই দেখালেন। ৩৫ বলে বৈভবের হাঁকানো সেঞ্চুরিটি আইপিএলে দ্বিতীয় ও ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম। ইন্ডিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটির তো বটেই, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসেই সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরির মালিক এখন এই বাঁহাতি ব্যাটার। সোমবার আইপিএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করার দিন তার বয়স ছিল ১৪ বছর ৩২ দিন। ধারাভাষ্যকাররা তো তার নামই রেখে দিয়েছেন ‘বস বেবি’। স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনেও ভেসে ওঠে সে নাম। সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরিয়ানদের তালিকার তিনে আছে বাংলাদেশের পারভেজ হোসেন ইমন (১৮ বছর ১৭৯ দিন)। আইপিএলে সবচেয়ে কম বয়সে এবং সবচেয়ে কম ১৭ বলে ফিফটির রেকর্ডও এখন বৈভবের খাতায়। দু’টি রেকর্ডের আগের মালিক ছিলেন যথাক্রমে রিয়ান পরাগ (১৭ বছর ১৭৫ দিন) ও যশস্বী জয়সওয়াল (১৯ বল)। এক ইনিংসে ১১টি ছক্কা হাঁকানোর কীর্তি মুরালি বিজয় ছাড়া নেই আর কোনো ভারতীয়র। এদিন আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে নির্ধারিত ওভারে গুজরাট পুঁজি গড়ে ২০৯ রানের। জবাবে ২ উইকেটে ২৬ বল হাতে রেখে জিতে যায় রাজস্থান রয়্যালস। ব্যাট হাতে বৈভব যতটা না বিধ্বংসী, মাইক্রোফোনের সামনে ততটাই নম্র। ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানাতেও গিয়েও খুব একটা উচ্ছ্বাস নেই। বললেন, ‘খুব ভালো লাগছে, আইপিএলে তৃতীয় ইনিংসেই আমার প্রথম সেঞ্চুরি। খুব ভালো লাগছে। এতদিন ধরে, গত তিন-চার মাস ধরে আইপিএলের জন্য যে অনুশীলন করে আসছি, সেটিরই ফল মাঠে দেখা যাচ্ছে। আইপিএলে সেঞ্চুরি করা স্বপ্নের মতোই।’ বৈভবকে নিয়ে আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে তার বাবার নাম। ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন বাবা সঞ্জীব। সে প্রসঙ্গে ছেলে বৈভব বললেন, ‘আমি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি বাবা-মায়ের জন্য। ভোরে আমার অনুশীলন করতে হবে, সে জন্য মা রাত দুটোয় ঘুম থেকে উঠে যেতেন। ঘুমাতেন স্রেফ ঘণ্টা তিনেক। উঠে আমাদের জন্য খাবার বানাতেন। বাবা আমার জন্য কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেটা বড় ভাই সামলাতেন। সংসার অনেক কষ্টে চলছিল। তবে বাবা আমার পেছনে লেগেই ছিল।’

mzamin

Thursday, April 17, 2025

‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়’ মন্তব্য করে ফের আলোচনায় সাকিব

বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। মাঠে কিংবা বাইরে তাকে নিয়ে আলোচনা লেগেই থাকে। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বড় এক অংশ জুড়ে তিনি  নিজ যোগ্যতায় ছিলেন বিশ্বের শীর্ষ অলরাউন্ডারদের একজন। আবার তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শৃঙ্খলা ভঙ্গ, ফিক্সিং ইস্যু। ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধও হয়েছেন তিনি। মাঠের বাইরে সবশেষ তিনি যোগ দেন রাজনীতিতে। খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার সচল থাকা অবস্থায়ই বনে যান সংসদ সদস্য। আর এই ঘটনাই তার জীবনে এসেছে অভিশাপ হয়ে। তার দল আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের সরকার পতন হয়েছে আন্দোলনে। এরপর সাকিব আর দেশে ফিরতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে হয়েছে হত্যা মামলা। এরপর শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতেও তার নাম যুক্ত হয়েছে। গত আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সবশেষ তিনি দেশের হয়ে খেলেছেন কানপুর টেস্টে। দেশ থেকেই টেস্টে বিদায় নেয়ার কথা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পুরণ হয়নি তার। দুবাই এসেও দেশের জন্য বিমানে উঠতে পারেননি। জনরোষ তার বিপক্ষে, কারণ জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি বৈষ্যম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ নেননি। একের পর এক লাশ পড়লেও ছিলেন নির্বিকার। এখনো তিনি অনুতপ্ত নন। তিনি বলেছেন, তার রাজনীতিতে আসা ভুল ছিল না। এখনো নির্বাচন করলে জিতবেন। শুধু তাই নয়, স্পষ্ট করেই বলেছেন ক্ষমতা চীরস্থায়ী নয়। দেশের একটি ইংরেজি দৈনিককে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, তারা চিরকাল থাকবে না। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তাই, সিস্টেমটা ঠিক করতে হলে সবাইকে একসাথে আসতে হবে। আমি রাজনীতিতে এসেছিলাম শুধুমাত্র মাগুরার মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে। অন্য কোনো লাভের জন্য নয়। উদ্দেশ্য ছিল একদম পরিষ্কার। গত ১৮ বছর নাকি শেষের ৬ মাস, কোনটা দেখে আমাকে বিচার করবেন, তা আপনাদের ইচ্ছা।’

সাকিব আল হাসানের দাবি ১৮ বছর তিনি বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন। সেটিই বিবেচনায় নেয়া উচিত ছিল জনগণের। কারণ তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন ৬ মাস মাত্র। সাকিব বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগটা আমার প্রাপ্য এবং বেশির ভাগ মানুষই চায় আমি দেশের হয়ে খেলে অবসর নিই এবং আরও কিছুদিন খেলা চালিয়ে যাই। আমার বিশ্বাস, আরও এক-দুই বছর খেলতে পারব। হ্যাঁ, আমি সংসদ সদস্য ছিলাম, কিন্তু এখন তো আর নেই এবং কোনও দলের কোনও রাজনৈতিক পদেও নেই।  আমি এখনও বাংলাদেশের হয়ে খেলে ভালো ভাবে ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই। যদি সুযোগ থাকে আমি এক সিরিজ, দুই সিরিজ নাকি আরও এক বছর খেলব, সেই পরিকল্পনা করতে চাই।’

রাজনীতিতে এসে ভুল করেছেন এমনটাও মানতে নারাজ সাকিব। শুধু তাই নয় এখনো নির্বাচন করলে নিজ আসনে জিতবেন বলেও বিশ্বাস তার। সাকিব বলেছেন, ‘রাজনীতিতে আসা ভুল কিনা, এটা নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তারা বেশিরভাগই মাগুরার ভোটার নন। মাগুরার মানুষের ভাবনা আলাদা। তারা বিশ্বাস করে আমি কিছু করতে পারব। সুতরাং, কে কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না।’  সাকিব জানিয়েছেন, শুধুমাত্র জনপ্রিয়তার জন্য নয়, মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছাই তাকে টেনে এনেছিল রাজনীতির মঞ্চে। কিন্তু সময়, পরিস্থিতি এবং সুযোগের অভাবে সেটা আর সম্ভব হয়নি। তবে সাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, মাগুরার মানুষ তাকে এখনও বিশ্বাস করে, আর সেই বিশ্বাসই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

mzamin