Monday, November 3, 2025
মণিপুরে আশ্রয়শিবির বন্ধে সরকারের পরিকল্পনায় দুশ্চিন্তায় গৃহহীন মানুষ
২০২৩ সালের মে মাসে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতেই ও আদিবাদী খ্রিষ্টান কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সংঘাত শুরু হয়। এটি ছিল গত কয়েক দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা।
মেইতেই সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি লাভের দাবি নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। এতে তারা কুকিদের মতো কোটাসহ বেশ কিছু বাড়তি সুবিধা লাভ করবে। অন্যদিকে মেইতেই সম্প্রদায়ের এ দাবির জোরালো বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করে কুকি সম্প্রদায়। ওই বিক্ষোভ থেকেই সহিংসতা দানা বাঁধে। এতে দুই বছরে প্রায় ২৬০ জন নিহত এবং প্রায় ৬০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করতে বাধ্য হন।
গত দুই বছরে সরকার বারবার গৃহহীনদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বললেই চলে। ঘর এবং স্থায়ী আয় না থাকায় বেশির ভাগ মানুষের জীবন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
জুলাই মাসে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে, যখন রাজ্যের তখনকার চিফ সেক্রেটারি প্রশান্ত সিং ঘোষণা করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সব আশ্রয়শিবির বন্ধ করা হবে এবং বাসিন্দাদের পুনর্বাসন করা হবে। যারা নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবে না, তাদের জন্য ঘর নির্মাণ করা হবে।
সংঘাত শুরুর পর সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মণিপুর সফরে যান। তিনি ঘোষণা করেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত স্থানে সাত হাজার নতুন ঘর নির্মাণ করা হবে। তবে তিনি এর বেশি বিস্তারিত তথ্য দেননি।
তবে মণিপুরে জাতিগত বিভাজন এখনো তীব্র। মেইতেই সম্প্রদায়ের লোকেরা ইম্ফল ভ্যালিতে বসবাস করছে, আর কুকিরা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায়। নিরাপত্তা বাহিনী দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বাফার জোনে টহল চালাচ্ছে। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বললেন, তাঁর কাজ হলো মেইতেই ও কুকিদের আলাদা রাখা এবং মিশতে না দেওয়া।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গৃহহীন মানুষকে তাদের নিজেদের এলাকায় পুনর্বাসন করা অপরিহার্য, যাতে হিংসার কারণে মণিপুরের সামাজিক মানচিত্র বদলে না যায়।
মণিপুর গভর্নরের সচিব আর কে নিমাই সিং বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ভারতের জন্য এটি ভালো নয়। মানুষকে তাদের নিজ বাড়িতে পুনর্বাসন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিমাই সিং আরও বলেন, অনেক গৃহহীন মানুষের আশঙ্কা, একবার আশ্রয়শিবির ছেড়ে অস্থায়ী বাড়িতে গেলে তারা হয়তো আর কখনোই নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবে না।
হাটনু হাওকিপের জন্য এটি একটি ভয়ানক চিন্তার বিষয়। ২২ বছর বয়সী এই কুকি তরুণী চুড়া চাঁদপুর অঞ্চলের আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, তাঁর কাছে বাড়ি মানে ইম্ফল, আর কিছু না। তবে তাঁর গ্রাম এখনো মেইতেই সম্প্রদায়ের লোকেদের দখলে। কুকি সম্প্রদায়ের নেতাদের একটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত এলাকা প্রতিষ্ঠার স্বাধীনতা দিলে তিনি হয়তো আরও নিরাপদ বোধ করতেন।
অনেক কুকি বাসিন্দা একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাঁরা তাঁদের এলাকায় ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। অন্যদিকে বিবিসির সঙ্গে কথা বলার সময় বেশির ভাগ মেইতেই জানিয়েছেন, তাঁরাও বাড়ি ফিরতে চান।
নতুন বাড়িগুলো কোথায় তৈরি হবে—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সাধারণ মানুষের অস্বস্তি ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, সরকার আদৌ ডিসেম্বরের মধ্যে সব আশ্রয়শিবির বন্ধ করতে পারবে কি না।
গত বছর মণিপুরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর বহু পরিবার নিজেদের গ্রাম ও শহর ছেড়ে আশ্রয়শিবিরে ঠাঁই নেয়। এসব শিবিরে এখনো হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। আবাসন প্রকল্পে বিলম্ব, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া মন্থর হয়ে পড়েছে।
তবু সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ‘পুনর্বাসন পরিকল্পনা এখনো সঠিক পথে আছে এবং ধীরে ধীরে তা এগোচ্ছে।’ মণিপুরের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে প্রায় ২৯০টি আশ্রয়শিবির ছিল। এখন আমরা সংখ্যাটা কমিয়ে প্রায় ২৬০টিতে আনতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য ধীরে ধীরে এই সংখ্যাকে শূন্যে নামিয়ে আনা।’
দীর্ঘদিন ধরে গৃহহীন থাকা এবং তীব্র অনিশ্চয়তা আশ্রয়শিবিরে বসবাসরত বহু মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলছে। শিবিরে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাচ্ছে না।
২৫ বছর বয়সী সালাম মনিকা বলেন, ‘আমার চাচা গত বছর আত্মহত্যা করেছেন। কারণ, উপার্জন না থাকায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর পরিবার যথাযথ চিকিৎসার সুযোগও পাননি।’
![]() |
| ভারতের মণিপুরে সহিংসতায় গৃহহীনদের আশ্রয়শিবির। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অন্য দেশের ‘সরকার বদলের’ মার্কিন নীতির সমাপ্তি হয়েছে: তুলসী গ্যাবার্ড
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বাহরাইনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক নিরাপত্তা সম্মেলন ‘মানামা সংলাপে’ তুলসী গ্যাবার্ড এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইআইএসএস) এ সংলাপের আয়োজন করে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুলসী গ্যাবার্ডের এ মন্তব্য ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সফরকালের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র সম্প্রসারণ। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তা পরিবর্তিত হয়ে ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা’কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের বিগত সময়ের চিন্তাপদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে আটকে রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সরকার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) বা জাতি গঠনের একধরনের ব্যর্থ চক্রে আটকে ছিল। এটি ছিল “সবার জন্য প্রযোজ্য”এমন একটি নীতি, যেখানে সরকার উৎখাত করা, অন্য দেশে আমাদের শাসনব্যবস্থা চাপানোর চেষ্টা করা এবং তেমন জানাশোনা ছাড়াই নানা সংঘাতে হস্তক্ষেপ করা এবং মিত্রের চেয়ে বেশি শত্রু তৈরি করে চলে আসা।’
হাওয়াইয়ের সাবেক কংগ্রেস সদস্য এবং ইউএস আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের সাবেক সদস্য তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, এমন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়, অগণিত মানুষের প্রাণহানি এবং অনেক ক্ষেত্রে বৃহত্তর নিরাপত্তা হুমকি তৈরি হয়েছে, আইএসআইএসের (ইসলামিক স্টেট) মতো ইসলামপন্থী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর উত্থান হয়েছে।
তুলসী গ্যাবার্ডের এই মূল্যায়ন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, সে যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের নিজস্ব ভাবনার সঙ্গে মিলে যায়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের চুক্তি হয়েছিল, যা বাইডেন প্রশাসনের সময়ে ২০২১ সালে বিশৃঙ্খলভাবে শেষ হয়। এ ছাড়া তিনি সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারাকে গ্রহণ করেছেন। আল-কায়েদার সাবেক সদস্য আল-শারা একসময় ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দী ছিলেন।
তবে তুলসী গ্যাবার্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ আমেরিকায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন, মাদক বহনের অভিযোগ তুলে জাহাজে হামলা এবং ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান চালানোর বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের নীতি এখনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। গ্যাবার্ড বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি এখনো ‘ভঙ্গুর’। এদিকে ইরান সম্প্রতি পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন কার্যক্রম শুরু করেছে।
তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, সামনের পথ সহজ বা সরল হবে না, তবে ট্রাম্প এই পথে চলতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
![]() |
| জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। ছবি: আইআইএসএস মানামা সংলাপের ভিডিও থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমার স্ত্রী খ্রিস্টান নন, ধর্ম পরিবর্তনেরও কোনো পরিকল্পনা নেই: জেডি ভ্যান্স
এতে বলা হয়, এর আগে তিনি বলেছিলে তার স্ত্রী ভারতীয় বংশোদ্ভূত। হিন্দু পরিবারে বেড়ে ওঠা। তিনি যদি একদিন খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হন, তা তিনি পছন্দ করবেন। তিনি আরও বলেন, তার স্ত্রী তার সঙ্গে এবং তাদের সন্তানদের নিয়ে গির্জায় যান। কারণ তাদের সন্তানদের খ্রিস্টান হিসেবে বড় করা হচ্ছে। এক্সে এক পোস্টে একজন লিখেছেন, মাত্র কিছু মানুষের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য প্রকাশ্যে নিজের স্ত্রীর ধর্মকে ছোট করা অদ্ভুত। এই মন্তব্যের জবাবে ভ্যান্স তার পোস্টে তিনটি পয়েন্টে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি লিখেছেন, কী ঘৃণ্য মন্তব্য! এবং এটিই এমন একমাত্র নয়। প্রথমত, প্রশ্নটি এসেছে আমার ‘বামদিকের’ কারো কাছ থেকে, আমার আন্তঃধর্মীয় বিবাহ নিয়ে। আমি একজন জনসাধারণের প্রতিনিধি, তাই মানুষ কৌতূহলী হবে, এবং আমি প্রশ্নটি এড়িয়ে যেতে চাইনি।
দ্বিতীয় অংশে ভ্যান্স বলেন, খ্রিস্টধর্মের মাধ্যমেই তিনি বুঝেছেন যে ‘গসপেল’ মানুষের জন্য কল্যাণকর। তিনি উল্লেখ করেন, বহু বছর আগে তার স্ত্রীই তাকে আবার নিজের বিশ্বাসের পথে ফিরে যেতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছেন, সে খ্রিস্টান নয়, এবং ধর্ম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনাও নেই। কিন্তু আন্তঃধর্মীয় বিবাহে থাকা অনেক মানুষের মতো, আমি আশা করি একদিন সে বিষয়গুলো আমার মতো করেই দেখবে। ভ্যান্স আরও লেখেন, এই ধরনের পোস্টগুলো ‘খ্রিস্টান-বিরোধী পক্ষপাতিত্বে ভরা’। হ্যাঁ, খ্রিস্টানদের বিশ্বাস আছে। এবং হ্যাঁ, সেই বিশ্বাসের কিছু ফল আছে, যার একটি হলো আমরা অন্যদের সঙ্গে সেই বিশ্বাস শেয়ার করতে চাই। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বিষয়। যারা বিপরীত বলছে, তাদের নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।
উল্লেখ্য, বুধবার মিসিসিপির একটি টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ ইভেন্টে ভ্যান্স বলেন, প্রায় প্রতি রবিবারই উষা আমার সঙ্গে গির্জায় আসে। আমি যেমন তাকে বলেছি, যেমন প্রকাশ্যেও বলেছি, তেমনই এখন এখানে আমার দশ হাজার ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের’ সামনে বলছি- আমি কি আশা করি একদিন সে গির্জায় আমার মতো একইভাবে অনুপ্রাণিত হবে? হ্যাঁ, সত্যিই আমি তা চাই, কারণ আমি খ্রিস্টান গসপেলে বিশ্বাস করি এবং আশা করি একদিন আমার স্ত্রীও সেটি একইভাবে দেখবে। তিনি আরও যোগ করেন, কিন্তু যদি সে তা না-ও করে, তবে তাতেও কোনো সমস্যা নেই। ঈশ্বর বলেছেন, প্রত্যেকেরই স্বাধীন ইচ্ছা আছে। তাই এটা কোনো বিরোধের কারণ নয়- বরং এটা বন্ধু, পরিবার ও প্রিয়জনের সঙ্গে মেলবন্ধনের একটি বিষয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আন্তর্জাতিক সংকট যেভাবে স্বৈরশাসকদের শক্তিশালী করে by সেনেম আয়দিন-দ্যুজগিট
স্বৈরশাসকেরা ভোট জালিয়াতি, ডিজিটাল নজরদারি, আইন ও প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের মতো করে বদলে নেওয়াসহ নানা কায়দাকানুন করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে আরও শাণিয়ে নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু বড় গণতান্ত্রিক দেশের নৈতিক ব্যর্থতা গণতন্ত্রকে একটি আকর্ষণীয় মডেল হিসেবে দুর্বল করে দিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় ঘটে চলা এ বড় পরিবর্তনগুলো কীভাবে স্বৈরাচারী সরকারগুলোকে আরও শক্তিধর করে তুলছে, তা প্রায়ই নজরের আড়ালে থেকে যাচ্ছে। আজকের বহু মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে যে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সংঘাতগুলো বেড়ে চলেছে, তা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাময় স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এর বড় উদাহরণ রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক যুদ্ধ। এ যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর ওরবান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ঘরোয়া গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
হাঙ্গেরির জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ৩ এপ্রিল, অর্থাৎ রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের এক মাসের কিছু বেশি সময় আগে। ওই সময় ভোট চাইতে গিয়ে ওরবান বারবার বলেছিলেন, কেবল তিনিই হাঙ্গেরিকে নিরাপদ রাখতে পারবেন। তিনি তাঁর প্রতিপক্ষ দলকে যুদ্ধবাজ বলে প্রচার করেছিলেন। কারণ, প্রতিপক্ষ ইউক্রেনকে অস্ত্রসহায়তা দিতে চেয়েছিল। আর ওরবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, হাঙ্গেরিকে তিনি যুদ্ধ থেকে দূরে রাখবেন।
সরকারি প্রচারে ভরপুর মিডিয়ার প্রভাবে অনেক হাঙ্গেরিয়ান ওরবানকে ‘শান্তির রক্ষক’ হিসেবে ভাবতে শুরু করেছিলেন। এমনকি বিরোধী দলের কিছু সমর্থকও ভয় পেয়েছিলেন, সরকার বদলালে হাঙ্গেরি হয়তো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।
ওরবান ব্রাসেলসেও যুদ্ধকে ব্যবহার করেছেন। সেখানে গিয়ে তিনি হুমকি দেন, ইউরোপীয় কমিশন যদি হাঙ্গেরির জন্য আটকে রাখা অর্থ ছাড় না দেয়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে সাহায্য করার যে পরিকল্পনা করেছে, তা তিনি আটকে দেবেন।
দেশে ফিরে ওরবান জনগণকে এটাকে দেখান, ‘ইউরোপের অভিজাতরা হাঙ্গেরির টাকায় ইউক্রেনকে সাহায্য করতে চাইছিলেন, কিন্তু আমি সেটা ঠেকিয়ে দিয়েছি।’ অর্থাৎ তিনি এটিকে তাঁর বিজয় হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন।
সরকারপন্থী মিডিয়া রাশিয়ার মতো একই বয়ান প্রচার করতে থাকে। তারা বলে, হাঙ্গেরির অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য রাশিয়ার আগ্রাসন দায়ী নয়; বরং এর জন্য দায়ী রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা। এ মিডিয়া আরও দেখায়, পুতিনের সঙ্গে ওরবানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকার কারণে হাঙ্গেরি সস্তায় জ্বালানি পেতে পারে, কিন্তু বিরোধীরা জিতলে সেই জ্বালানি সরবরাহ আটকে যাবে। শেষ পর্যন্ত ওরবানের নেতৃত্বাধীন জোট দুই-তৃতীয়াংশ আসন জেতে, সংসদে তাদের সুপারমেজরিটি বজায় থাকে এবং ওরবানের ক্ষমতা আরও পোক্ত হয়।
তুরস্কেও একই রকম ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এরদোয়ান ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত কূটনীতিকে জোর দিয়ে প্রচার করেন। তিনি বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরের শস্য রপ্তানি চুক্তি দেখিয়ে জোর প্রচারণা চালান।
এরদোয়ান নিজেকে একমাত্র নেতা হিসেবে দেখান, যিনি তুরস্ককে যুদ্ধের বাইরে রেখে একই সময়ে তার বৈশ্বিক প্রভাব বাড়াতে পারেন।
সরকারপন্থী গণমাধ্যম সতর্ক করে বলতে থাকে, বিরোধীরা জিতলে তুরস্ক পুরোপুরি পশ্চিমাদের যুদ্ধচেষ্টার সঙ্গে একাত্ম হবে। ওই নির্বাচন ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সিদ্ধান্তে আসতে দ্বিতীয় দফা ভোটের দরকার হয়। তবে শেষ পর্যন্ত এরদোয়ানই জয়ী হন।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আক্রমণের পর হাঙ্গেরি ও তুরস্কে যে রাজনৈতিক ঘটনা ঘটেছে, সেখান থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায়, তা হলো আন্তর্জাতিক সংকট সব সময় স্বৈরশাসনের দুর্বলতা প্রকাশ করে না; বরং তা তাঁদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
* সেনেম আয়দিন-দ্যুজগিট, সাবাঞ্জি ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক এবং ইস্তাম্বুল পলিসি সেন্টারের পরিচালক
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনূদিত
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মানবতার সবচেয়ে অন্ধকারে ডুবে আছে সুদান
দেশজুড়ে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পুরুষ ও শিশুদের বাধ্য করা হয়েছে তাদের স্ত্রী, মা ও কন্যাদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ ধর্ষণ প্রত্যক্ষ করতে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। উত্তর দারফুরের রাজধানী এল ফাশের সোমবার ১৮ মাসের অবরোধের পর র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) নামে এক আধাসামরিক বাহিনীর হাতে পড়ে। এই বাহিনী নিজস্ব সমান্তরাল সরকার গঠনের চেষ্টা করছে। সুদানি সেনাবাহিনীর শেষ অবস্থানগুলো ধসে পড়েছে। সাহায্য সংস্থা ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গণহত্যা, ঘরে ঘরে হত্যা ও রক্তে ভেসে থাকা রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা মৃতদেহের দৃশ্য সর্বত্র। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে গণকবর ও গণহত্যার চিহ্ন। বিশ্লেষকদের মতে- রক্তের দাগে ঢাকা মাটি। বেঁচে যাওয়া লোকজন জানিয়েছেন, শিশুদের বিছানায় গুলি করা হয়েছে, আর হাসপাতালের ওয়ার্ডে রোগীদের হত্যা করা হয়েছে। বুধবার জানা যায়, একটি প্রসূতি হাসপাতালে ৪৬০ জনের বেশি মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সুদান নেটওয়ার্ক ডক্টরস এক বিবৃতিতে জানায়, র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস ঠাণ্ডা মাথায় সৌদি হাসপাতালের ভেতরে যাদের পেয়েছে সবাইকে হত্যা করেছে। নার্স নাওয়াল খলিল বলেন, ছয়জন আহত মানুষকে বিছানায় হত্যা করেছে আরএসএফ। তাদের মধ্যে নারীও ছিলেন। আমি পালিয়ে বাঁচি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, নিরস্ত্র মানুষদের এক সারিতে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। কিছু ভিডিওতে আল-ফাতেহ আবদুল্লাহ ইদরিস নামে এক ব্যক্তি নিজেই মানুষ হত্যার ভিডিও করেছে। পরে দাবি করে, সে নিজেই হয়তো দুই হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী। দেশটির এই গৃহযুদ্ধে যৌন সহিংসতা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণ, যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার এবং জাতিগত পরিচয় বা আনুগত্যের কারণে ধর্ষণ- এসব এখন নিয়মিত ঘটনা।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশ করে ‘দে রেপড অল অব আস’ শিরোনামে এক তদন্ত প্রতিবেদন। সেখানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আরএসএফ সদস্যদের হাতে নারীদের দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। ৩০ বছর বয়সী হামিদা বলেন, তারা আমার হাত বেঁধে তিনজন মিলে ধর্ষণ করে। এ সময় সে দৃশ্য দেখতে বাধ্য করা হয় আমার মেয়েকে। আমি হাসপাতালে যাইনি, কারণ কেউ যেন বিষয়টি না জানে। আমি ভেঙে পড়েছি। ছয় সন্তানের মা আমিনা বলেন, আমার ১১ বছর বয়সী ছেলে চিৎকার করছিল। বলছিল- আমার মাকে ছেড়ে দাও। ওরা আমার ছেলেকে বন্দুকের বাঁট দিয়ে মারে। এতে তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। ১৭ দিন পর সে মারা যায়। অবশেষে তিনি ধর্ষকের সন্তান জন্ম দেন। কোনো চিকিৎসা পাননি। হুসেইন নামের ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জানান, ওরা আমার স্ত্রীকে আমার সামনে ধর্ষণ করে হত্যা করে। তারপর আমাকে প্রহার করে অচেতন করে ফেলে। ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা যায়, এক বছর বয়সী শিশুদেরও ধর্ষণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের শুরুতে কমপক্ষে ২০০ শিশুর ধর্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৪ জন এক বছরের শিশু এবং ১৬ জন পাঁচ বছরের নিচে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্ষণ ছাড়াও আরএসএফ সদস্যরা নারীদের গরম তরল ঢেলে, ব্লেড দিয়ে কেটে নির্যাতন করেছে। এসব ঘটনার অপরাধী কখনও শাস্তি পায়নি।
বিশ্লেষকরা নিশ্চিত করেছেন এ সপ্তাহে আরএসএফ দারফুরের এল-শাফির শহর দখল করেছে। এটি ছিল সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি। তা দখল করে নেয়া যুদ্ধের নতুন এক ভয়াবহ মোড়। জাতিসংঘ মাসের পর মাস হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল। কিন্তু বিশ্ব উদাসীন। পাঁচ সন্তানের এক মা বললেন, ওরা আমার বাড়িতে ঢুকে আমার ১৬ বছরের ছেলেকে হত্যা করে। অন্যরা জানিয়েছেন, আরএসএফ সদস্যরা বন্দিদের শিরচ্ছেদ করার হুমকি দিচ্ছিল। বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের মাইলের পর মাইল হেঁটে টুয়িলার দিকে পালাতে হয়েছে। পথে মৃতদেহের সারি দেখা গেছে। হাজারের মধ্যে মাত্র কিছুজনই জীবিত পৌঁছেছেন।
এক মানবাধিকার কর্মী বলেন, পুরুষরা পৌঁছাতে পারছেন না। হয় তারা নিহত, নিখোঁজ বা বন্দি।
উল্লেখ্য, সুদানের অস্থিরতার ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৫৬ সালে স্বাধীনতার পর থেকে দেশটিতে ২০টি অভ্যুত্থান, তিনটি গৃহযুদ্ধ, প্রায় চার মিলিয়ন মৃত্যু হয়েছে। বর্তমান যুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে, যখন দুই সামরিক নেতা পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়। তাদের একজন আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। অপরজন মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেদতি)। আরএসএফ আসলে ২০০০ সালের গোড়ার জানজাউইদ মিলিশিয়া থেকে গড়ে উঠেছে। তারা দারফুরে জাতিগত নিধনের অভিযোগে অভিযুক্ত। ২০২৪ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২১৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম দারফুরে জাতিগত নির্মূল, ধর্ষণ, গণহত্যা ও বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের জুনে এল জেনিনায় ১৫,০০০ মানুষের মৃত্যু হয় বলে জাতিসংঘ জানায়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্ত্রীর পদবি ব্যবহার করতে পারবেন দক্ষিণ আফ্রিকার পুরুষেরা
এবার দক্ষিণ আফ্রিকার পুরুষেরা স্ত্রীর পদবি গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। দেশটির উচ্চ আদালত বলেছেন, পুরুষদের জন্যও স্ত্রীর পদবি গ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত।
এ ক্ষেত্রে দেশটিতে আইনি যে বাধা ছিল, সেটিকে ‘ঔপনিবেশিক আমলে আমদানি’ এবং ‘লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য’ বলে বর্ণনা করেছেন আদালত।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত গত বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, এই আইনি নিষেধাজ্ঞা যেহেতু সরকারি কোনো স্বার্থ বা উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারছে না, তাই এই আইন স্থগিত করা হলো।
নারীদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে আদালতের রায়ে আরও বলা হয়, আইন করে পুরুষদের স্ত্রীর পদবি গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এটা নারীদের প্রতি শুধু বৈষম্যমূলক আচরণই ছিল না; বরং তার চেয়ে আরও অনেক বেশি ‘গভীর ও সূক্ষ্ম বিষয় ছিল’।
সাংবিধানিক আদালতের এ রায়ের ফলে এখন পার্লামেন্টে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন আইন এবং তার বিধিমালা সংশোধনের পথ প্রশস্ত হবে, যেন এ রায় কার্যকর হতে পারে।
আদালত বলেছেন, ওই আইনে পিতৃতান্ত্রিক লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক মানদণ্ডকে শক্তিশালী করে দেখানো হয়েছে। একজন নারী তাঁর স্বামীর পরিচয়ে পরিচিত হবেন, সরকারিভাবে ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে এটাকেই স্বাভাবিক বলে দেওয়া হয়েছিল।
পিতৃতান্ত্রিক এ আইন নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দুই জুটি।
তাঁদের মধ্যে এক জুটির পুরুষ তাঁর স্ত্রীর মৃত মা–বাবাকে সম্মান জানাতে তাঁদের পদবি ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রী কম বয়সে নিজের মা–বাবাকে হারিয়েছেন।
অন্য মামলায় একজন নারী নিজের নামের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক পদবি রেখে দেওয়ার আবেদন করেন। তিনি তাঁর পরিবারের একমাত্র সন্তান।
বিবিসির খবরে বলা হয়, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা ন্যায়বিচার ও সংবিধানিক উন্নয়নমন্ত্রী—কেউই আদালতে ওই দুই জুটির আবেদনের বিপক্ষে অবস্থান নেননি; বরং তাঁরাও বলেছেন, আইনটি অনেক পুরোনো। এখন এটির পরিবর্তন দরকার।
দক্ষিণ আফ্রিকায় এর আগে একজন পুরুষকে নিজের পদবি পরিবর্তন করতে হলে স্বরাষ্ট্র অধিদপ্তরে আবেদন করতে হতো। সেই আবেদন যাচাই–বাছাই করা হতো, স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন গ্রহণ করা হতো না।
![]() |
| দক্ষিণ আফ্রিকায় এত দিন একজন পুরুষকে নিজের পদবি পরিবর্তন করতে স্বরাষ্ট্র অধিদপ্তরে আবেদন করতে হতো। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
November
(209)
-
▼
Nov 03
(6)
- মণিপুরে আশ্রয়শিবির বন্ধে সরকারের পরিকল্পনায় দুশ্চি...
- অন্য দেশের ‘সরকার বদলের’ মার্কিন নীতির সমাপ্তি হয়ে...
- আমার স্ত্রী খ্রিস্টান নন, ধর্ম পরিবর্তনেরও কোনো পর...
- আন্তর্জাতিক সংকট যেভাবে স্বৈরশাসকদের শক্তিশালী করে...
- মানবতার সবচেয়ে অন্ধকারে ডুবে আছে সুদান
- স্ত্রীর পদবি ব্যবহার করতে পারবেন দক্ষিণ আফ্রিকার প...
-
▼
Nov 03
(6)
-
▼
November
(209)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



