Showing posts with label চুয়াডাঙ্গা. Show all posts
Showing posts with label চুয়াডাঙ্গা. Show all posts

Wednesday, September 9, 2026

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতিসৌধ চুয়াডাঙ্গার আট কবর

মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী–ভাষ্যঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বেশ কবছর ধরে বই আকারে প্রকাশ করছে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংগৃহীত ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী–ভাষ্য’। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতেই তাদের এই উদ্যোগ। জাদুঘরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীরা পরিচিতজনদের সঙ্গে আলাপ করে একাত্তরের স্মৃতিভাষ্য লিখিতভাবে পাঠায়। ফলে এই কর্মসূচি এক অর্থে বিনিময়। যেখানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বয়ে নিয়ে যাচ্ছে ইতিহাস এবং শিক্ষার্থীরা যোগান দিচ্ছে ইতিহাসের ভাষ্য। বলার অপেক্ষা রাখে না, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আমাদের বড় শক্তি। তাই শিক্ষার্থীদের পাঠানো এসব স্মৃতিভাষ্য থেকে বাছাই করা ৩১টি কাহিনি প্রকাশ করছে প্রথম আলো।

সংগ্রহকারী: রাবেয়া আক্তার, দশম শ্রেণি, খ শাখা, এম এ বারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা

বর্ণনাকারী: মো. আলী আজগর ফটিক, রেলপাড়া, চুয়াডাঙ্গা, বয়স: আনুমানিক ৫৯ বছর
সংগ্রহকারী ও বর্ণনাকারীর সম্পর্ক: নাতনি–নানা

১৯৭১ সালে ভারতের বিহার রাজ্যের চাকুলিয়ায় প্রথম ব্যাচে গেরিলা ট্রেনিং করি আমি। মাত্র ৪২ দিনের মাথায় গেরিলা ট্রেনিং শেষ করি আমরা। যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে পড়ি।

আমরা ছিলাম আলমডাঙ্গার ৮ নম্বর সেক্টরের অধীন। কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা ও ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল এই সেক্টর।

আমি এই যুদ্ধে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন গ্রাম, যেমন সাতগাড়ি, দিঘড়ি, মেছরদাড়ি, কুলচারা, ডোমবার চর ইত্যাদি গ্রামে হেঁটে রাতদিন পার করেছি।

একদিন শুনলাম, গ্রামে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণ হবে। তখন তাড়াতাড়ি বাড়ি যাই। গিয়ে দেখি, আমার মা ভাতের চুলায় লাকড়ি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় মাসহ আমরা তিন ভাইবোন অনেক কষ্টে মাঠঘাট পেরিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার দলটা নামক জায়গার একটা স্কুলে গিয়ে আশ্রয় নিই।

ওখানে আমার বড় বোন অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে। পাশের বাড়ির কুয়া থেকে পানি উঠিয়ে তার মাথায় ঢেলে সুস্থ করে তুলি। এর পরের দিনগুলো ছিল অনেক কষ্টের। আমাদের চোখের সামনে অনেক গ্রাম, মাঠ, ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে শেষ করেছিল পাকিস্তানি সেনারা।

অনেক মা-বোনের ওপর নির্যাতন করে পাকিস্তানি শোষকেরা। অনেক যুবক, বৃদ্ধের দুই হাত বেঁধে গুলি করে মেরেছিল পাকিস্তানি সেনারা।

পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা সহ্য করতে না পেরে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। সে সময় যোগ দিই বিভিন্ন অপারেশনে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা থানার অন্তর্গত নাটুকা রতনপুরে।

১৯৭১ সালের ৫ আগস্ট সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি। ওই যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৪ জনকে খতম করি আমরা। আমাদের মধ্যে শহীদ হন আটজন।

এই আটজন শহীদ হলেন—

* হাসান জামান (গোকুলখালী, চুয়াডাঙ্গা)

* খালেদ সাইফুদ্দিন তারেক (পোড়াদহ, কুষ্টিয়া)

* রওশন আলম (আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা)

* আলাউল ইসলাম খোকন (চুয়াডাঙ্গা শহর)

* আবুল কাশেম (চুয়াডাঙ্গা শহর)

* রবিউল ইসলাম (মোমিনপুর, চুয়াডাঙ্গা)

* কিয়ামুদ্দিন (আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা)

* আফাজ উদ্দিন (দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা)

পরে চুয়াডাঙ্গার জগন্নাথপুর গ্রামের মানুষ রাস্তার পাশে দুটি কবরে চারজন করে আটজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার লাশ দাফন করেন। কালক্রমে এই আট মুক্তিযোদ্ধার কবরকে ঘিরেই স্থানটির নামকরণ হয় ‘আট কবর’।

এখানে পরবর্তী সময়ে একটি মুক্তমঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। পাশেই তৈরি হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রহশালা। বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের রাজধানী মুজিবনগর এখান থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে।

১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলে দীর্ঘ ৯ মাস। ৯টি মাস ছিল আমাদের জন্য বড় কষ্টের। কত মানুষ স্বজন হারিয়েছেন, কত যে বিচিত্র মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে!

অনেক যুদ্ধ, অনেক জীবন, অনেক রক্ত, অনেক মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে পেয়েছি আমরা এক টুকরা লাল–সবুজের পতাকা আর স্বাধীন ভূখণ্ড, যার নাম বাংলাদেশ।

এখনো সেসব দিন চোখের সামনে ভেসে ওঠে, যা কোনো দিন ভোলার মতো নয়।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-01%2Ffxszggrf%2FIMG-20251130-WA0194.jpg?w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতিসৌধ চুয়াডাঙ্গার আট কবর। ছবি: প্রথম আলো

Thursday, April 17, 2025

লম্পট পিতার ফাঁসি

চুয়াডাঙ্গায় মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত আলতাপ হোসেন (৪৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ গ্রামের মৃত সাদেক আলী মৃধার ছেলে। তিনি ঘরজামাই হিসেবে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা হুদাপাড়া গ্রামে বসবাস করছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি পার্শ্ববর্তী গাংনী ইউনিয়নে ওই কিশোরীকে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের কয়েকদিন পর স্বামীর বাড়িতে অবস্থানকালে পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাব হলে প্রেগন্যান্সি পরীক্ষার মাধ্যমে ২-৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি জানাজানি হয়। ভুক্তভোগী  জানায় যে, ২০২৩ সালের ৫ই ডিসেম্বর তার মা-বোনের বাড়িতে গেলে রাতে বাবা বসতঘরে একা পেয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ২-৩ মাসে ৭-৮ বার ধর্ষণ করে। তদন্ত শেষে আলমডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাবর আলী গত ২০২৪ সালের ১১ই ডিসেম্বর অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (স্পেশাল পিপি) এম এম শাহজাহান মুকুল বলেন, কিশোরী ধর্ষণ মামলায় পিতা আলতাপ হোসেনকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ হয়েছে। জরিমানার আদেশ তার জীবদ্দশায় অথবা মৃত্যুর পরবর্তী পর্যায়ে প্রথম দায়দেনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আদালত এটা রায়ে উল্লেখ করেছেন। সর্বোপরি সাক্ষী শুরু থেকে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি বিধান করতে সক্ষম হয়েছে। সমাজে এ ধরনের ঘৃণিত অপরাধ আর যেন সংঘটিত না হয় সেজন্য এ রায় যুগান্তকারী হয়ে থাকবে।

mzamin

Saturday, October 5, 2024

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে ক্রসফায়ারে হত্যা: সাবেক এমপি ও পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মো. রোকনুজ্জামানকে অপহরণ ও ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে হত্যার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আলী আজগর টগর ও পুলিশ ইন্সপেক্টর সুকুমার বিশ্বাসসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা আমলি আদালতে মামলাটি করেন নিহতের বাবা মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক।

মামলাটি আমলে নিয়ে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তফা কামাল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঝিনাইদহ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, রোকনুজ্জামান ২০১৯ সালে চুয়াডাঙ্গা ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বেআইনি, অনৈতিক কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় এবং ভিন্নমতের অনুসারী হওয়ায় আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে রোকনুজ্জামানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। আসামি আলী আজগার ভোট চুরির মাধ্যমে নির্বাচিত ভুয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আলী আজগারের নির্দেশে ২০১৯ সালের ২৯শে আগস্ট দুপুরে আসামি সজল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রোকনুজ্জামানকে কৌশলে মুঠোফোনে ডেকে দক্ষিণ চাঁদপুর ছটাঙ্গার মাঠে যেতে বলেন। বাবা আবু বকর ছিদ্দিককে জানিয়ে রোকনুজ্জামান আসামি সজলের সঙ্গে  ছটাঙ্গার মাঠে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর আসামিরা অস্ত্রের মুখে তাকে অপহরণ করেন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজখবর করেও কোথাও পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে জানতে পারেন দামুড়হুদার জয়রামপুর কাঁঠালতলার বখতিয়ার মিয়ার বাঁশবাগানে রাত দুইটার দিকে একজনকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। সদর হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তার বাবা ছেলের লাশ শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে তার দাফন করা হয়।

মামলায় আরজিতে আরও বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রোকনুজ্জামানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কৌশলে অপহরণ করা হয়। এরপর প্রধান আসামি আলী আজগারের নির্দেশে ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা রোকনুজ্জামানকে গুলি করে হত্যা করে। সন্তানের দাফন শেষে বাদী মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক ৩১শে আগস্ট দামুড়হুদা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি। বাদী দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় বাড়িতে ফিরে মামলা করতে দেরি হয় বলে আরজিতে উল্লেখ করেছেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন, দামুড়হুদা মডেল থানার সাবেক ওসি সুকুমার বিশ্বাস, দামুড়হুদা মডেল থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) কে এম জাহাঙ্গীর, সহকারী পরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার নন্দী ও শেখ রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল দিপু গাঙ্গুলী, খালিদ মাসুদ, নজরুল ইসলাম, শফিউর রহমান ও ফিরোজ ইকবাল এবং আওয়ামী লীগ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী দর্শনা পৌর এলাকার দক্ষিণ চাঁদপুরের মাছুম, সুমন, রাজিব ও  সজল। এ বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঝিনাইদহ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) রেশমা শারমিন পিপিএম-সেবা বলেন, আমাদের কাছে এখনো কাগজ এসে পৌঁছাইনি। তবে মামলার কপি পেলে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হবে।

mzamin

Wednesday, September 11, 2024

ইউপি চেয়ারম্যান সুরুদ্দীনের এত সম্পদ

একসময় ভারত থেকে অবৈধ পথে লবণ বহন করে সংসার চালাতেন সোহরাব উদ্দীন খান ওরফে সুরুদ্দীন। পিতা ছিলেন ঘোড়ার গাড়িচালক। তাদের ভিটেজমি ছাড়া তেমন কিছুই ছিল না। কিন্তু মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর পেয়ে যান আলাদীনের চেরাগ। বদলে যায় তার ভাগ্য। নামে-বেনামে গড়েন অঢেল সম্পদ। রয়েছে শত বিঘা জমি, ইটভাটা, দামি গাড়ি। গ্রামে করেছেন আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি। স্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা বেবির নামে রয়েছে বিপুল অঙ্কের সঞ্চয়পত্র। ঢাকার মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানে রয়েছে ২২০০ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট।

মাত্র দশ বছর ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে এই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এই চেয়ারম্যান। মানবজমিনের অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, সোহরাব নব্বইয়ের দশকে শ্বশুরবাড়ি এলাকা মনোহরপুর গ্রামে দুই শতক জমির উপরে টিনের তৈরি দুই কক্ষবিশিষ্ট বাড়িতে বসবাস করতেন। একপর্যায়ে তিনি ভারত থেকে অবৈধভাবে লবণও আনতেন। পরবর্তীতে জীবননগর উপজেলার উথুলী ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য পদে নির্বাচিত হন। পাশাপাশি তিনি জীবননগর বাজারে একটি জুয়েলারি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ওয়ার্ড সদস্য হওয়াতে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর টগরের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। শুরু হয় সংসদ সদস্যের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি আর ভূমি দখল। পরবর্তীতে এমপি টগরের সহযোগিতায় নৌকা প্রতীক নিয়ে বিনা ভোটের নির্বাচনে মনোহরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হন তিনি। এরপর তার ক্ষমতার দাপট আরও বেড়ে যায়। তিনি শুরু করেন মাদক ব্যবসা। এ ছাড়াও উপজেলার শিয়ালমারীর বিশাল গরু-ছাগল কেনাবেচার হাটটি নিয়ন্ত্রণ করে প্রতি মাসে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। অবৈধভাবে ভৈরব নদীর বালিও বিক্রি করেছে এই ইউপি চেয়ারম্যান। এদিকে সংসদ সদস্য টগরের ভাই দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবুসহ তাদের রয়েছে স্বর্ণ চোরাচালানের সিন্ডিকেট। রয়েছে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বাণিজ্য। অবৈধভাবে এত সম্পদের মালিক হলেও সংসদ সদস্য টগরের কাছের মানুষ হওয়ায় কেউ ভয়ে কিছু বলতে সাহস করতেন না, এমনকি প্রশাসনও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কিছুদিন আগেও নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দিতে গিয়ে জনগণের রোষানলে পড়েন সুরুদ্দীন। এ ছাড়া এলাকায় রয়েছে তার একটি সালিশ বাহিনী, যাদের মাধ্যমে সালিশ পরিচালনা করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
এদিকে মনোহরপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের সময় টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ইউনিয়নে স্বজনপ্রীতি করে কয়েকজনকে চাকরিও দিয়েছেন তিনি। শ্যালক-শ্যালিকার নামেও কিনেছেন জমিজমা, আছে ছাদ খোলা প্রাইভেট কার। উপজেলার মহেশপুর একাশিপাড়ায় আসাদ ব্রিকস নামের প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি ইটভাটা রয়েছে তার। ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তার বাড়িতে হামলা হয়। এরপর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
এদিকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যানে রয়েছে একটি ২২০০ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট। ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত উক্ত বাড়ির ঠিকানা: রোড-৪, ব্লক-বি, হাউজ-৫, ঢাকা উদ্যান আবাসিক এলাকা, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। এই ফ্ল্যাটটি তার নিজ নামেই কেনা। মোহাম্মদপুরে ঢাকা উদ্যানের রোড-৩, ব্লক-ই, বাড়ি-৬ ঠিকানায়ও তার আলাদা একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়াও তার কাছে রয়েছে লাইসেন্স করা দুটো আগ্নেয়াস্ত্র। মনোহরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলেন, স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালান, জমি দখল ও চাঁদা তুলে বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন সুরুদ্দীন চেয়ারম্যান। একসময় তার কিছুই ছিল না। শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। ১০-১২ বছরের ব্যবধানে একজন ইউপি চেয়ারম্যান কীভাবে এত সম্পদের মালিক হন। অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার এবং তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নেয়া উচিত বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
অঢেল সম্পদের বিষয়ে জানতে সোহরাব উদ্দীন খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ঢাকাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। অঢেল সম্পদের তথ্য সঠিক নয় জানিয়ে তিনি ফোন রেখে দেন। এরপর আর ফোন ধরেননি তিনি।

mzamin

Wednesday, December 27, 2017

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কেতু (৪৮) নামে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, কেতু চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেন্ড তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী সংগঠন জনযুদ্ধের শীর্ষ নেতা। তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে।  এসময় পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কের ভালাইপুর কবরস্থানের কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কেতু চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকন্দবাড়িয়া গ্রামের শওকত আলীর ছেলে।
ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, দুই রাউন্ড গুলি, ৬টি ককটেল ও ৬টি রামদা উদ্ধার করেছে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) আমির আব্বাস জানান, মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে কেতুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সন্ধ্যায় তাকে চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে পুলিশের একটি দল কেতুকে নিয়ে ভালাইপুর কবরস্থানের কাছে অস্ত্র উদ্ধারে যায়। সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কেতুর সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় কেতু পালানোর চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে পালিয়ে যান কেতুর সহযোগীরা। নিহত কেতুর বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

Tuesday, December 26, 2017

প্রতিপক্ষ ভেবে এসআইকে কুপিয়ে জখম

প্রতিপক্ষ ভেবে চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের এক এসআইকে কুপিয়ে  জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় স্থানীয় এক দুর্বৃত্তকে গণপিটুনি দিয়েছে পুলিশ। সোমবার রাত ৯টার দিকে শহরের ফার্মপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল মোমেন জানান,  আহত পুলিশ সদস্য মো. ওহিদুজ্জামান চুয়াডাঙ্গা শহর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত। তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন আটক দুর্বৃত্ত। স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় একটি নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে দুদল দুর্বৃত্তের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতরাতে এসআই ওহিদুজ্জামান সাদা পোশাকে টহলে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে প্রতিপক্ষের লোক ভেবে কোপাতে থাকে। পরে পুলিশ সদস্যরা ওহিদুজ্জামানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। এ সময় এলাকাবাসী হামলাকারী মিন্টু হোসেনকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

চুয়াডাঙ্গায় ফাঁড়ি ইনচার্জকে কুপিয়ে জখম

চুয়াডাঙ্গা সদর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জকে কুপিয়ে জখম করেছে এক দুর্বৃত্ত। সোমবার রাতে জেলা শহরের ফার্মপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ফাঁড়ি ইনচার্জ ওহিদুল ইসলামকে গুরুতর আহত অবস্থায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারী পিন্টুকে পুলিশ আটক করেছে। পিটুনির পর তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ফার্মপাড়া ও পার্শ্ববর্তী হকপাড়ার বিবদমান দুটি পক্ষের মধ্যে দু'দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে শহর ফাঁড়ি ইনচার্জ ওহিদুল ইসলাম কনস্টেবল রিপনকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকায় মোটরসাইকেল যোগে টহলে যান। ফার্মপাড়ার কদমতলামোড় এলাকায় পৌঁছালে জেলা শহরের গোরস্তানপাড়ার বদর উদ্দিন বুদোর ছেলে মিন্টু ফাঁড়ি ইনচার্জ ওহিদুল ইসলামের ঘাড়ে কোপ দেয়। এসময় মোটরসাইকেলের পেছন থেকে নেমে কনস্টেবল রিপন পাকড়াও করেন হামলাকারী মিন্টুকে। তাকে আটকের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত ডা. রাহাত ইমাম জানিয়েছেন, ওহিদুল ইসলামের ঘাড়ের কোপটি বেশ গভীরে ঢুকে গেছে। অনেকগুলি সেলাই দেয়া হয়েছে ক্ষতস্থানে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

Monday, December 25, 2017

চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

চুয়াডাঙ্গায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাশিদুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল ৮টার দিকে সদর উপজেলার নয়মাইল এলাকায় চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাশিদুল ওই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের পাঁচকমলাপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছিলেন রাশিদুল। নিহত যুবেকর স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাশিদুল মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।
এ সময় নয়মাইল এলাকায় একটি ভটভটির সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সকাল সোয়া ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সোনিয়া আহমেদ সড়ক দুর্ঘটনায় রাশিদুলের মৃত্যুর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোজাম্মেল হক বলেন, লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে। ভটভটির চালক পলাতক।

Wednesday, April 19, 2017

চুয়াডাঙ্গায় ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা



চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় জিয়াউর রহমান (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত জিয়া কায়েতপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি একজন মাছচাষি। মঙ্গলবার দিনগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার কায়েতপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানায়, কায়েতপাড়া মৎসজীবী সমিতির সভাপতি জিয়াউর রহমান মঙ্গলবার দিনগত রাত তিনটার দিকে ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে রামদিয়া-কায়েতপাড়া বাওড় থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তরা তার মাথায় একাধিক গুলি করে।
এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। মৃত্যু নিশ্চিত করে হত্যাকারীরা নিষিদ্ধ সংগঠন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির শ্লোগান দিতে দিতে এলাকা ত্যাগ করে। আলমডাঙ্গা থানার ওসি আকরাম হোসেন জিয়াউর রহমানকে গুলি করে হত্যার ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার সকাল ৯টায় পুলিশ জিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সেলিম নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Sunday, April 2, 2017

জয়রামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জামায়াত

গত ২৬ মার্চ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুরে ট্রাক ও আলমসাধুর (শ্যালোচালিত গাড়ী) মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৩ ও আহত ১২ হতদরিদ্র দিনমজুর পরিবারের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগীতা ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে। শনিবার বিকালে দামুড়হুদা উপজেলার ভারত সীমান্ত সংলগ্ন বড়বলদিয়া গ্রামে নিহত ও আহত পরিবার সমুহের বাড়ী বাড়ী গিয়ে নিহত পরিবার প্রতি আমীরে জামায়াত মকবুল আহমেদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত সমবেদনা প্রকাশ করে দোয়া বানী, ও নিহত ১৩ জনের প্রত্যেকের অসহায় পরিবারকে নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং নিহত ও আহত ২৫ পরিবারের প্রত্যেককে ২০ কেজি চাউলসহ আলু,সয়াবিন তেল,ডাল,পেয়াজ ইত্যাদি সামগ্রী তুলে দেয়া হয়।
ত্রাণ বিতরন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর আনোয়ারুল হক মালিক,নায়েবে আমীর ও দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারী মোঃ রুহুল আমিন,সহকারী সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান,উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, সাবেক উপজেলা আমীর মোঃ নায়েবে আলী,দর্শনা পৌর আমীর মাহবুবুর রহমান টুকু,বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা হাবিবুর রহমান ও মাওলানা আবু জার গিফারী, জেলা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোঃ শরীফুল ইসলাম ,সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান,বায়তুল মাল সম্পাদক নাজমুস সাকিব,মদনা ইউনিয়ন আমীর ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু বকর সিদ্দীক, সবিউল ইসলাম সবুজ, আ: রহমান ,আবির , তানজিল এছাড়াও সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী,স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী উপস্থিত হন।

Monday, March 27, 2017

দামুড়হুদায় ১৩ জনের দাফন সম্পন্ন

দামুড়হুদায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৩ জনের লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। স্হানীয় স্কুল এ্যান্ড কলেজ মাঠে হাজার হাজার মানুষের উপস্হিতিতে জানাজা শেষে সারি সারি কবরে যখন লাশ গুলো শোয়ানো হয় ঠিক তখনিই যেন চাপা আর গোংড়ানো কান্নার আওয়াজে আকাশ বাতাশ ভারি হয়ে উঠে। ৭৬ বছর বয়সি গ্রামের বৃদ্ধ মানুষ নুরুল ইসলাম কাপা কাপা কন্ঠে বল্লেন এ দুর্ঘটনা যেন পাক বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে,কারন ঐ সময় ৭১ সালে এক সাথে ৪/৫ টি গন কবর দেয়া হয়েছিল,কিন্তু এতোদিন পর আমাকে এত গুলো লাশ নিজ চোখে দেখে কবর দিতে হলো,এর চাইতে বড় কস্ট আর কি হতে পারে-- যেন লাশের মিছিল,লাশ শুধু লাশ,সন্ধার পরপরই দাফন কাজ শেষ হয়।
এ দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক বেগম সায়মা ইউনুছ প্রতি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা অনুদানের ঘোষনা দিয়েছেন। স্হানীয় ইউ পি চেয়ারম্যান এ এস এম জাকারিয়া আলম আর্থিক সহায়তার ঘোষনা দিয়েছেন। উল্লেখ্য ২৬ মার্চ সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে দামুড়হুদার বড় বলদিয়া গ্রামের ২৩ জন দিন মজুর একটি আলম সাধু যোগে চুয়াডাঙ্গার মুন্সিগন্জে যাওয়ার পথে জয়রামপুর নামক স্হানে বালি ভর্তি ট্রাকের সাথে সামনা সামনি ধাক্কা লেগে ১৩ জন মারা যায়।বাকি ১০ জন মরার মত করে বেচেঁ আছেন।

Sunday, March 26, 2017

চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুরে ট্রাক-আলমসাধু সংঘর্ষে নিহত ১৩

চুয়াডাঙ্গার জয়রামপুরে ট্রাক-আলমসাধু সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে এই মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনাটি ঘটে। আহতদের মধ্যে ২ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বাকী ৯ জনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদশীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে বালি বোঝাই ট্রাক দর্শনার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ২৩ জন মাটি কাটা শ্রমিক একটি আলমসাধু যোগে দামুড়হুদার বড়বলদিয়া গ্রাম থেকে চুয়াডাঙ্গা মুন্সিগঞ্জে আসছিল। ট্রাক-আলমসাধু জয়রামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌছালে মুখোমুখি সংঘর্ষে র্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলেই ৮ জন ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তির পর ৩ জন এবং দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের আরো ১ জন মারা যায়। নিহতরা হলো দামড়–হুদা উপজেলার বড় বদলিয়া গ্রামের বিল্লাল(৪০), রফিকুল (৪৫), ইজ্জাত আলী(৪৫), আবুবক্কর(৪৩), বিল্লাল(৩৫), লাল মন্ডল(৩৫), আবদাল(৪৬),
শফিকুল (২৩), আকুব্বার(৫৫), নজীর(২৫), জজ(৩২) ও আলমসাধু চালক শান্ত(২৫)। প্রত্যক্ষদশী হোটেল ব্যবসায়ী বারিকুল জানান, আমি সকালে দোকান খুলে বসে ছিলাম। দেখছি একটি ট্রাক দামুড়হুদা থেকে জয়রামপুরের দিকে আসছিল। ট্রাকটি রাস্তার ডানদিক ও বামদিক করছিল। এ সময় শ্রমিক ভর্তি আলমসাধুটি জয়রামপুর আসছিল। হঠাত করে ট্রাকটি আলমসাধুর উপর তুলে দেয়। আর এতে আলমসাধুটি চূর্ণ বিচুন্ন হয়ে যায়। কয়েকজনের মরদেহ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। সে আরো জাানায় ট্রাকের ড্রাইভার চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ী চালাচ্ছিল। এ কারণে দূর্ঘটনাটি ঘটেছে। চুয়াডাঙ্গার সহকারি পুলিশ সুপার কলিমোল্ল্যা জানান, ঘটনাস্থলেই ৮ জন নিহত হয়েছে। তবে কি কারণে দূর্ঘটনাটি ঘটেছে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Monday, March 20, 2017

চুয়াডাঙ্গায় সড়কে গাছ ফেলে গণডাকাতি

চুয়াডাঙ্গায় সড়কে গাছ ফেলে বেশ কয়েকটি গাড়িতে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ ডাকাতদল বাসের যাত্রীদের মারধর করে ও কুপিয়ে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে লুটপাট চালায়। সশস্ত্র ডাকাতদের হাতে কম পক্ষে ৪ যাত্রী আহত হয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের বোয়ালমারী চন্দ্রাবতী ইঁদারার কাছে রোববার রাত পৌনে ১০টার দিকে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা সড়কের গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের একটি বাস প্রথমে ডাকাতির কবলে পড়ে। ওই বাসের যাত্রীদের মারধর করে লুটপাট শুরু করে ডাকাতরা। পরে পূর্বাশা ও চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের আরও দুটি বাসে ডাকাতি করে দুর্বৃত্তরা।
শেষে এসিআই কোম্পানির একটি কাভার্ড ভ্যান ডাকাতির কবলে পড়ে। ড্রাইভারকে মারধর করে লুটপাট করে তারা। ট্রাক ড্রাইভার জনি আহমেদ জানান, ডাকাতির ঘটনা আঁচ করতে পেরে ডাকাতদের অদূরে ট্রাক রেখে তিনি পালিয়ে যান। এ সময় হেলপার সোহাগকে কুপিয়ে টাকা পয়সা কেড়ে নেয় ডাকাতরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলেন- রয়েল এক্সপ্রেসের ড্রাইভার শামীম হোসেন, যাত্রী আবদুল হামিদ ও ট্রাক হেলপার সোহাগ। তবে কয়জনের কাছ থেকে কত টাকা ডাকাতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) তরিকুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, রয়েল এক্সপ্রেস ও এসিআই কোম্পানির একটি গাড়িতে দুর্বৃত্তরা হানা দিয়েছে। একজন সামান্য আহত হয়েছে। তবে, লুটপাটের ঘটনা তেমন ঘটেনি।

Tuesday, November 11, 2014

জীবননগরে মৌমাছিতে কুপোকাত ৩

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামে ক্ষেতে কাজ করার সময় মৌমাছির কামড়ে আহত হয়েছে তিন কৃষক।  আহতরা হচ্ছেন উপজেলার বাঁকা গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৫),মগরেব মন্ডলের ছেলে রাসেল (১৮) ও আবুল কালামের ছেলে আমির হোসেন (১৮)। আহতদেরকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়,জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামের আলমগীর, রাসেল ও আমিরসহ অন্যান্য কৃষকেরা সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ক্ষেতে কাজ করার সময় হঠাৎ এক ঝাঁক মৌমাছি ধাওয়া করে। মৌমাছির কামড়ের শিকার আলমগীর,আমির ও রাসেলকে আহত অবস্থায় অন্য কৃষকরা উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেণ।
বাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খলিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কৃষকরা মাঠে কৃষি কাজ করছিলেন। তারা এ সময় মৌমাছির কামড়ের শিকার হয়। আহতদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম জানান, মৌমাছির কামড়ের শিকার আহতদের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।