Tuesday, January 10, 2012

অচল-সচল পূর্বাচল by কে জি মোস্তফা

মানুষ কী যে করবে, সবসময় সে সত্যিই বুঝতে পারে না। মাঝেমাঝে জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, সবকিছু গণ্ডগোল হয়ে যায়। তখন মাথা কাজ করে না। আমি তখন ডিএফপি থেকে প্রকাশিত নবারুণ সম্পাদনায় বেশ মশগুল ছিলাম। হঠাত্ বদলির অর্ডার—নবারুণ থেকে মাসিক ‘পূর্বাচল’ সম্পাদনার দায়িত্বে। দীর্ঘদিন যাবত এ দায়িত্বে রয়েছেন বিশিষ্ট গবেষক-লেখক-অনুবাদক কবি আবদুস সাত্তার।

ইউনিয়ন পরিষদের খসড়া আইন by মোহাম্মদ আশিকুর রহমান

তিহাসিকদের মতে, ব্রিটিশ শাসনামলে বঙ্গীয় অঞ্চলে পঞ্চায়েত প্রথা প্রচলিত ছিল। যার সদস্য সংখ্যা ছিল ৫ জন। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এই পঞ্চায়েত কমিটি গঠিত হতো। তবে তাদের কোনো আইনগত ভিত্তি ছিল না। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা অতি প্রাচীনকাল থেকে না হলেও একেবারেই নতুন নয়। ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ ব্যবস্থা অনেক পুরনো। যদিও কালের বিবর্তনে এর পরিবর্তন হতে হতে বর্তমান এই অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ প্রায় ১৫০ বছর আগে তার যাত্রা শুরু করে ।

এই নগরীর দিনরাত্রিঃ ঘড়ির কাঁটার চমক by রেজোয়ান সিদ্দিকী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই যে কবে দিনের আলো দিয়ে বিদ্যুত্ বাঁচানোর অলীক কল্পনায় রাত এগারোটায়ই দেশের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর থেকে বারোটা বেজেই আছে। বেজেই যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে নাগরিকরা তার কাছ থেকে অনেক মধুর কথা শুনেছিলেন।

উপেক্ষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কঃ অগ্রাধিকারের কথা কি শুধু মুখেই সীমাবদ্ধ?

দেশের আমদানি-রফতানির সিংহভাগ যে সড়ক পথে আনা-নেয়া হয় সেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বর্তমান বেহালদশা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বলা বাড়াবাড়ি হবে না। দীর্ঘ ২০ বছরের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এমন বিপন্ন অবস্থা আর কখনও দেখা যায়নি।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেলঃ বেতন বৈষম্য কমেনি

প্রায় দু’বছর ধরে হচ্ছে-হবে করতে করতে অবশেষে গত বুধবার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে ওইদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে পে-স্কেল চূড়ান্ত করা হয়। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় by মনা ইসলাম

সারাদেশে আরেকটি সুখ্যাত হাসপাতালের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। নবজাতকের চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মুখলেছুজ্জামান হিরো জানান, এ হাসপাতালে নবজাতকের বেডসংখ্যা ১৭টি। অতিরিক্ত একটি ফ্রি বেড আছে। এ ছাড়া বেড ভাড়া ৫০০ টাকা। তিনি জানান, প্রতিদিন ইনডোরে ৮-৯ জন নবজাতক ভর্তি হয়। গাইনি ওয়ার্ড থেকে নবজাতক প্রসব হওয়ার পর সমস্যা দেখা দিলে এ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। আর আউটডোর

ঢাকা শিশু হাসপাতাল by আহমেদ শুভ

৫ জানুয়ারি দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকা শিশু হাসপাতালের ৩নং ওয়ার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন বরিশাল থেকে আসা সুমন মিয়া। সুমন মিয়া কাঁদছিলেন আর এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছিলেন। তার ৪ দিন বয়সী নবজাতকের খাদ্যনালিতে ইনফেকশন হয়েছে। একটু আগে হাসপাতালের এক ডাক্তার বলে গেছেন, শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিতে হবে। নার্সদের কাছে কয়েকবার ধমক খেয়েও থামেননি সুমন মিয়া। কারণ কোনো বাবাই চান না চোখের সামনে

সেবার পরিধি কম by তাসলিমা তামান্না

মাত্র কয়েক বছর আগে নবজাতকের মৃত্যু সারাবিশ্বে অন্যতম বড় সমস্যা ছিল। কিন্তু গত দুই দশকে এ মৃত্যুর হার ২৮ শতাংশ কমেছে। তবে এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের ১০টি দেশে এখনও নবজাতকের মৃত্যু আশাব্যঞ্জক হারে কমেনি। এই ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তমে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১০-এর তথ্য অনুযায়ী, সারাবিশ্বে ৩০ লাখের বেশি নবজাতক মারা যায়। এর মধ্যে বাংলাদেশে ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি নবজাতকের মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে,

মিরপুরের অবৈধ মার্কেট উচ্ছেদ কাল

গামীকাল বুধবার উচ্ছেদ করা হবে মিরপুরের পাইকপাড়ায় প্রায় ১৪ একর জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত মার্কেটটি (স্থাপনা)। ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল আমীনের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান চলবে। গতকাল সোমবার সমকালে 'মিরপুরে ১৪ একর জমিতে নির্মিত মার্কেট উচ্ছেদ বুধবার' শীর্ষক খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এ নিয়ে ওই মার্কেটের লোকজনের মধ্যে বিভিন্ন কথা হয়। মার্কেটের একটি সূত্র জানায়, সরকারি

আত্মস্বীকৃত স্বার্থপর ও লোভী বিদ্যা বালান! by ইশানা ইশরাত

লিউডের সর্বত্র এখন আলোচনায় উঠে এসেছেন বিদ্যা বালান। বিশেষ করে ‌ ‘ডার্টি পিকচার’ ছবিটি ব্যবসা সফল হওয়ায় বেড়ে গেছে তার দাপট। অবশ্য এটাও ঠিক যে, পুরো ছবিটি তিনি একাই টেনে নিয়ে গেছেন। বিদ্যার পাশে অন্যরা ছিলেন এ ছবিতে ম্লান।

জবিতে উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে ভিসি অফিস ঘেরাও

গন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ধার্যকৃত উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে গতকাল সোমবার উপাচার্যের (ভিসি) কার্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। দুপুর পৌনে ১টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত তাদের এ কর্মসূচি চলে। ধার্যকৃত উন্নয়ন ফি বাতিল করা না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয় ঘোরাও ও ছাত্র ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

আলসেমি ঝেড়ে ফেলে by তরিক

র কিছুদিন পরই শুরু হবে অমর একুশে বইমেলা। তোমরা যারা বইপ্রেমী, তাদের অপেক্ষার তর সইছে না, জানি। অনেকেই অপেক্ষা করছ নতুন বইয়ের জন্য। আবার কেউ কেউ ভাবছ, পুরনো একটা প্রিয় বই নতুন করে কিনবে। কারণ, বহুপাঠে কিংবা অন্যকোনো কারণে ছিড়ে গেছে বইটি। আলসেমি করে বাইন্ডিংয়ে দিয়ে আসতেও ইচ্ছে করছে না।
বলি, এত আলসেমির মানে কী? আর একই বই বারবার কেনার চেয়ে বইমেলায় না হয় সে টাকায় নতুন একটা বই

ঐশ্বরিয়ার অনুকরণে শিল্পা by অনন্যা আশরাফ

শ্বরিয়াকে পুরোপুরিই অনুকরণ করছেন শিল্পা শেঠি। গর্ভকালীন সময়ে ঐশ্বরিয়া যেমন মিডিয়ার কাছে নিজেকে লুকিয়ে রাখতেন, ঠিক তেমনি শিল্পাও মিডিয়ার সামনে আসতে আসা থেকে বিরত আছেন। ফিগার সচেতন শিল্পাকে ভক্তরা খুব ভালো করেই চেনেন। তিনি এখনো ধরে রেখেছেন আকর্ষণীয় দেহবল্লরী।

ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে সরগরম অডিও বাজার

মাদের দেশীয় অডিও বাজার এখন হয়ে উঠেছে অনেকটাই উৎসব কেন্দ্রিক। ঈদ আর বিশেষ বিশেষ দিনকে সামনে রেখে বাজারে আসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন অ্যালবাম। ঈদের পরই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নতুন অ্যালবাম বের হয় ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে।

ক্ষমা করো বাংলাদেশঃ নো মোর ডেথ অন বর্ডার by সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল

বাংলানিউজে ‘বন্ধু নয়, শত্রুরাষ্ট্র ভারত’ পড়ে দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর পাঠক তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ভারতে লেখাটি কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিকদের নাড়া দিয়েছে। তার কিছু নমুনা তুলে ধরা হল। ফেলানী ফালতু নয়। ফেলানী এখন বিসিএফের হত্যার প্রতীক ।

নিভৃতচারী যুবরাজের নীরব বিপ্লব by তামীম রায়হান

চীন-রাশিয়ার পাশের দেশ মঙ্গোলিয়া। মরুময় দেশ। স্বল্প জনসংখ্যা। দেশটিতে মুসলমানদের সংখ্যা কয়েক লাখ মাত্র। এই মাত্র কয়েক লাখ হারিয়ে যাচ্ছে ইসলামের মাত্রা থেকে। ভাষা দুর্বোধ্য, জীবনযাত্রাও কষ্টসাধ্য, যোগাযোগ বিপর্যস্ত, কে রাখে এদের খবর। ঐ অঞ্চলে রাশিয়ার আধিপত্য আর প্রভাব আজও প্রকট হয়ে আছে।

অনুভূতির খেরোখাতা

টিনএজ এক আজব বয়স। মন কেমন উড়ূ উড়ূ এই বয়সে! তাই অনুভূতিও উড়ূ উড়ূ খুব, সে কথা জানি আমরা। জানি বলেই তোমাদের সেই একান্ত অনুভূতির কথা জানতে চাই প্রতিনিয়ত। তোমাদের পাঠানো এমন অনুভূতি থেকে তিনটি ছাপা হলো আজকের সংখ্যায় সুরের নাটাইয়ে বাঁধা সোহেল নওরোজ কনকনে শীতের নিশুতি রাতে আন্তঃনগর ট্রেনের কেবিনে আমরা তিনজন মাত্র যাত্রী। ট্রেন চলছে ঢিমেতালে। গন্তব্যে পেঁৗছানোর কোনোরূপ তাড়া অন্তত লক্ষ্য করা যাচ্ছে

নেচে ওঠো গেয়ে ওঠো তুমি by সানভী

দিনগুলো কেমন উড়ে উড়ে যাচ্ছে। উড়ে উড়ে না হোক, হেঁটে হেঁটে কাছের বন্ধুরাও কেমন দূরে সরে যাচ্ছে। দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন ওদের সঙ্গে। ফলে, মন খারাপ করে মুষড়ে পড়ছ তুমি। বলি, এই দূরত্বের কারণ কী, ভেবে দেখেছ? নিশ্চয়ই উদ্যম ও আত্মবিশ্বাসের অভাব? এমন যারা আছ, তাদের একটা গল্প শোনানো যাক। রূপকথার মতো গল্প। এক দেশে ছিলেন এক রাজা। একদিন সেই রাজার পতন হলো তার শত্রুর হাতে। ফলে সিংহাসন হারালেন তিনি।

বিপন্ন হওয়ার পর সুরক্ষার আয়োজন! by আশরাফুল ইসলাম

‘দাঁত থাকতে আমরা দাঁতের মর্যাদা বুঝি না’ প্রচলিত এ প্রবাদ অনেক ক্ষেত্রেই অর্থবহ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এ কথা প্রযোজ্য হতে পারে। বনাঞ্চল অধ্যুষিত বাংলাদেশের প্রকৃতির অবধারিত অনুষঙ্গ বনপ্রাণীর সুরক্ষায় এর আগে নেওয়া একাধিক সরকারি উদ্যোগ রাখতে পারেনি তেমন কার্যকর ভূমিকা।

আল্লাহ’র ওয়াস্তে ছাত্রলীগের একটা গতি করুন by ফজলুল বারী

ওয়ামী লীগের আগের আমলে ছাত্রলীগের এক নেতার ধর্ষণের সেঞ্চুরির বিচারের দাবিতে তখনকার চলমান আন্দোলনের নিউজ কভার করতে বেশ কিছুদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করেছি। কী সবুজ ক্যাম্পাস অথচ তখনও কী সন্ত্রস্ত!

ভূমিমাতার বরপুত্র সেলিম আল দীন by আলমগীর মাসুদ

চারদিক মাতামাতি চলছে চাকার কাহিনী, ১৪ জানুয়ারি হঠাৎ নিভে গেছে প্রদীপ। ভূমিমাতার বরপুত্র আচার্য সেলিম আল দীন আমাদের সবাইকে এতিম করে চলে গেছেন, ওপারে... হ্যাঁ, সত্যি সত্যি ওপারে চলে গেছেন। ১৪ জানুয়ারি তারপর ৯, ১০, ১১ আজ আবার ফিরে এসেছে ২০১২, ১৪ জানুয়ারি সেই দিনক্ষণ। আমরা হারিয়েছি এই দিনটিতে আমাদের পিতামহী গুরুজনকে। আমরা তো কিছুই শিখিনি, পাইনি গুরুজির সংস্পর্শ। তারপর যাত্রাপথেই কেমন জানি ভাগ্য,

শীতবস্ত্র বিতরণ by বৃত্ত হাসান

য়াবহ শৈত্যপ্রবাহের সময় মোহাম্মদপুর সুহৃদ সমাবেশ ও আদর্শ ক্লাব মিলে চেষ্টা করেছি কিছু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। সে সুবাদে আমরা শীতবস্ত্র সংগ্রহ করি ২১ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আমরা সর্বমোট প্রায় তিন হাজার মানুষের জন্য পোশাক সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলে এ শীতবস্ত্রগুলো পেঁৗছে দিতে আমরা গিয়েছিলাম লালমনিরহাটের সেবকদাস নিথক গ্রামে। আমরা মোহাম্মদপুর সুহৃদ ও শ্যামলী আদর্শ ক্লাবের মোট ১১

স্বপ্ন দেখতে চাই by শামীম আহমদ

বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড প্রথম অনুষ্ঠিত হয় সম্ভবত ১৯৭৪ সালে আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনা স্টেটে। উদ্দেশ্য ছিল, ছাত্রছাত্রীদের বিজ্ঞান বিষয়ের প্রতি উৎসাহী করে তোলা, চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটানোর পরিবেশ তৈরি করা ও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করা। এরপর ধীরে ধীরে এই গঠনমূলক উদ্যোগটি পুরো আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্যোক্তারা ব্যাপক সফলতা লাভ করেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মিশিগান স্টেটে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে শুরুতে প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল

কুয়াশার চাদর ছুঁয়ে-এসে গেছে শীতের হাওয়ায় কাঁপন তোলা দিন। উন্নত বিশ্বের কাছে এ শীত উপভোগ্য হলেও, আমাদের মতো দেশে শীত মানেই দুস্থ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ। যদিও পিঠা-পুলির আয়োজন চলে সমান্তরাল by সরোজ মেহেদী

শেষ হয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের দিনগুলোর কথা। এক দুপুরে হঠাৎ বুঝি উঁকি দিয়েছিল সূর্য। হারিয়ে যাওয়া রবির পিছু নিয়ে কিংবা মন :ভুলে সেই বিকেলে বাইরে বেরিয়ে পড়ি। চাদর জড়ানো গায়ে গলাটা খালি। বাসা থেকে পুরান ঢাকার কাঠের পুলে আসতে শীতের তীব্রতাটা টের পাই। মৃদু বাতাসের আগ্রাসী শীত দুর্বল শরীরটাকে থেকে থেকে যেন কাঁপিয়ে দিয়ে যায়। ইস, মাফলারটা নিয়ে বের হওয়া দরকার ছিল ! পল্টনের মোড়ে পুরান বই কেনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছি

আজ বিচিত্র মানুষের দিন

কটু ভিন্ন, অসাধারণ বা ব্যতিক্রম কিছুর প্রতি মানুষের দুর্নিবার আকর্ষণ সহজাত। আর সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষ একটু আলাদা বা নতুন এমন কিছু করতে চায়, যা অন্যদের আকৃষ্ট করে। তবে সমাজের এমন জ্ঞানী, সৃষ্টিশীল এবং দেশপ্রেমিক মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তাদের কৃতকর্ম আমাদের আকর্ষণ করে। ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ জোগায়। যে মানুষটি অনেকের চেয়ে ভিন্ন, অসাধারণ; জীবনের স্বাভাবিক গতিধারার চেয়ে একটু আলাদা, কিছু অদ্ভুত বা বিশেষ

ওয়্যারহাউস সুবিধা নেই পেট্রাপোল বন্দরে

বেনাপোল বন্দরে ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্য রাখার গুদাম থাকলেও পেট্রাপোল বন্দরে বাংলাদেশ থেকে রফতানিকৃত পণ্য রাখার কোনো গুদাম নেই। সারাবছর রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে চলছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। ট্রাকচালকদের জন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই।  জানা যায়, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পণ্য ভারতে রফতানি হচ্ছে। এসব রফতানিজাত পণ্যের মধ্যে রয়েছে কাঁচাপাট, পাটজাত দ্রব্য, সুপারি, ধানের কুঁড়া,

বিশ্ববাজারে ভারতের চালের সরবরাহ বাড়ছে-তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশে দাম কম :ড. মাহবুব হোসেন by জাকির হোসেন

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশ ভারতে বাম্পার ফলন হওয়ায় এ বছর তাদের চাল রফতানি দ্বিগুণ হতে পারে। প্রধান চাল সরবরাহকারী দেশ থাইল্যান্ডে বন্যা হওয়ায় বিশ্ববাজারে সম্ভাব্য সরবরাহ ঘাটতি ভারত পুষিয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। সর্বভারতীয় চাল রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ভারত থেকে তুলনামূলক বেশি রফতানি বিশ্ববাজারে চালের দাম কম রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গ গতকাল এ খবর প্রকাশ করেছে। ওই খবরের

টয়োটায় ছাড় দিচ্ছে নাভানা

তকাল দিনভর ঢাকার আকাশ ছিল ভারী। সারাদিনই পড়েছে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি। আকাশ মুখ গোমরা করে থাকায় বাণিজ্যমেলায় সাধারণ দর্শকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু বাণিজ্যমেলার নানা রকম মূল্যছাড়ের সুযোগ নিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ভিড় এড়িয়ে বাণিজ্যমেলা থেকে পছন্দের পণ্য কিনে নিতে গতকাল ছিল একটি আদর্শ দিন। এ সুযোগ গ্রহণ করতে অনেক ক্রেতাই গতকাল মেলা থেকে

ডলারের দর বাড়ছেই-অতি প্রয়োজন ছাড়া বাজারে ডলার বিক্রি করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক by ওবায়দুল্লাহ রনি

তি প্রয়োজন ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে আপাতত কোনো ডলার বিক্রি করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। দিন দিন রিজার্ভ কমতে থাকায় এ ধরনের অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল কয়েকটি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলার চেয়েও পায়নি। এদিকে ২ বছরেরও বেশি সময় পর সোমবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৯ বিলিয়নের নিচে নেমেছে। গতকাল দিন শেষে রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। অন্যদিকে টাকার বিপরীতে ডলারের দরবৃদ্ধি

বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর-বিসিবির সতর্ক পদক্ষেপ

যেহেতু আমরা বিসিবির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার, সেহেতু বিসিবির সব সিদ্ধান্ত মেনে নিতেই হবে। তারপরও যদি এই সফর নিয়ে আমাদের মতটা শোনে বিসিবি তাহলে বলব এটা আরব আমিরাতের কোনো শহরে আয়োজন করলে ভালো হয়। তাছাড়া যে দেশে অন্য কোনো দেশ যাচ্ছে না সেখানে আমাদের কেন যেতে হবে? প্রতিদিনই পাকিস্তানের মিডিয়ায় নতুন নতুন খবর আসছে বাংলাদেশকে ঘিরে। এপ্রিলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পাকিস্তান সফরে যাবে_ এটা ধরে নিয়েই

আরও পিছিয়ে বার্সা

রিয়াল মাদ্রিদ খানিকটা সাবলীল। উল্টো চিত্র চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার। স্প্যানিশ লীগে আরও একবার পা হড়কালো লিওনেল মেসির দল। ক্যাটালান ডার্বিতে এস্পানিওলের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে রিয়ালের চেয়ে পাঁচ পয়েন্টে পিছিয়ে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। উত্থান-পতনের যাত্রায় শেষ পর্যন্ত শিরোপা হারাতে হবে_ সমর্থকদের মাঝে হয়তো এমন শঙ্কা! কোচ পেপ গার্দিওলা কিন্তু প্রত্যয়ী। 'শিরোপা জয়ের পথে এখনও অনেক পথ বাকি। যা অর্জন এবং হারানো দুটিই সম্ভব'

কষ্ট হচ্ছে শেখ জামালের

যে দলটি নিয়ে গত মৌসুমে ফেডারেশন কাপ রানার্সআপ আর বাংলাদেশ লীগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব সে দলটি এবার ভেঙে চুরমার। তারকারা মুক্তিযোদ্ধা আর আবাহনীতে পাড়ি জমানোয় গতবারের আলোচিত দলটি এবার নিতান্তই সাদামাটা। কেবল কাগজ-কলমে নয়, মাঠের পারফরম্যান্সও তাদের আহামরি কিছু নয়। তবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তারা পেঁৗছে গেছে গ্রামীণফোন ফেডারেশন কাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে। গতকাল কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ

ব্যালন ডি'অর

ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ব্যালন ডি'অরের মঞ্চ। এবার যেন একটু ফাঁকাই লাগছিল। তিন নমিনির একজন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যে উপস্থিত নেই সেখানে! স্প্যানিশ কোপা ডেল রে'তে (কিংস কাপ) আজই তার দল রিয়াল মাদ্রিদ মুখোমুখি হবে মালাগার। এ ম্যাচটির জন্য রোনালদোর সঙ্গে জুরিখের আলো ঝলমলে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না রিয়াল কোচ হোসে মরিনহোও। তবু কাঙ্ক্ষিত সেই ক্ষণটির অপেক্ষা। একে একে মঞ্চে এসে পেঁৗছলেন ব্রাজিলিয়ান মহিলা

নির্দোষ প্রমাণিত হলেন আনোয়ার ইব্রাহিম

মকামিতার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন মালয়েশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম। দেশটির একটি আদালত তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেন। দু'বছর ধরে বিচার কাজ চলার পর গতকাল সোমবার কুয়ালালামপুরের একটি আদালত ওই রায় দেন। আদালতের বাইরে এ সময় আনোয়ার ইব্রাহিমের শত শত সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের উদ্দেশে ৬৪ বছর বয়স্ক ইব্রাহিম বলেন, 'সত্যি বলতে কী, আমি কিছুটা

ইরানে মার্কিন সেনার মৃত্যুদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর সংস্থা সিআইএর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ইরানের একটি আদালত। তেহরানের স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসি, এএফপির। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়, সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা আমির মিরাজি হেকমতিকে বৈরী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হয়ে কাজ করার জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি ইরানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন।

আফগানদের আমেরিকা বিদ্বেষ বাড়ছে

শ বছর আগে হাজি শাহজাদাকে আফগানিস্তানে তার নিজবাড়ি থেকে ভোরে আটক করেছিল মার্কিন সেনারা। এরপরই তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কিউবার গুয়ানতানামো বের কারাগারে। ১০ বছর পর তিনি ফিরে আসেন নিজ দেশে। সঙ্গে নিয়ে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক রাশ ঘৃণা। প্রতিজ্ঞা করলেন, এর প্রতিশোধ তিনি নেবেন। আমেরিকানদের মনেপ্রাণে ঘৃণা করেন শাহজাদা। সুযোগ পেলেই কোনো না কোনো আমেরিকানকে হত্যা করবেন তিনি। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে

তদন্ত কমিশনে সাক্ষ্য দিলেন নওয়াজ-হাক্কানি-মেমোগেট বিতর্ক

মেমোগেট কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করলেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সাবেক পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত হুসাইন হাক্কানি। গত সোমবার মেমোগেট কেলেঙ্কারি তদন্তে গঠিত বিচার বিভাগীয় কমিশনে হাজিরা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের হাতে ওই মেমোগেট হস্তান্তর কিংবা লেখা কোনোটার সঙ্গেই তিনি জড়িত ছিলেন না। তদন্ত কমিশনে হাজির হয়েছিলেন পাকিস্তান মুসলিম লীগের (এন) নেতা নওয়াজ শরিফও।

কলাপাড়া-তারিকাটা সড়ক ৪ শতাধিক গাছ কেটে নিচ্ছে প্রভাবশালীরা

লাপাড়ার নিশানবাড়িয়া-তারিকাটা সড়কের দু'পাশে গাছ নিধনের মহোৎসব শুরু হয়েছে। গত তিন দিনে সড়কের গামুরবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তারিকাটা বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকশ' গাছ কেটে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া-তারিকাটা সড়কের গামুরবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তারিকাটা বাজার পর্যন্ত ৩ দশমিক ৮৫

সাফল্য-সাদা ফুলে রঙিন জীবন

ফুল ভালোবাসে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। ফুলপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় গ্গ্নাডিওলাস এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ঢাকার ধামরাই উপজেলার ফুটনগর বংশী নদীর তীরে। এ ফুল চাষ বদলে দিয়েছে ফুলচাষি মোঃ আফসার উদ্দিনের জীবন। সাদা ফুলে এখন রঙিন জীবন তার। এলাকায় তার নাম ফুলরাজ। নিজেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফুলচাষি হিসেবে দাবি করেন এলাকায় ফুলরাজখ্যাত আফসার উদ্দিন (৪৬)। তিনি জানান, অসুস্থ হয়ে পড়ায়

বছরে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি by আবু কাওসার ও আলতাব হোসেন

সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে দেশের জেলা পর্যায়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন কৌশলে বছরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ভ্যাট বা মূসক (মূল্য সংযোজন কর) ফাঁকি দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনৈতিক এ সুযোগ করে দিয়ে ভ্যাট পরিদর্শকসহ রাজস্ব বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা নিচ্ছেন। ক্রেতা বা গ্রাহক পর্যায়ে ভ্যাট ফাঁকিরোধে এনবিআরের পক্ষ থেকে নির্ধারিত বড় ও মাঝারি আকারের

সখীপুরে বনের জমি দখল করে প্লট বিক্রি-সাইনবোর্ড সেঁটে দেওয়া হয়েছে 'বঙ্গবন্ধু পরিষদে'র by এনামুল হক

টাঙ্গাইল বন বিভাগের সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল রেঞ্জের আওতাধীন ডিবি গজারিয়া বিটের কৈয়ামধু মৌজায় বনের ৮০ শতাংশ জমি দখল করে সাইনবোর্ড সেঁটে দিয়েছে 'বঙ্গুবন্ধু পরিষদ' নামে একটি সংগঠন। বিট কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ জায়গাটি মাত্র ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত। সংগঠনটি বনের জমি দখল করে নতুন বাজার বসিয়ে পল্গট বরাদ্দ দিচ্ছে। এ ছাড়া বাজারের অন্য অংশের বনের জমিতে স্থানীয় লোকজন দখল করে নতুন বাড়ি নির্মাণ করছে বলে

কাল গোলাম আযমকে হাজির করার নির্দেশ-অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমকে কাল বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাজির করতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে ওইদিন গ্রেফতারি পরোয়ানা বা সমন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল সোমবার

খালেদা জিয়ার উদ্দেশে শেখ হাসিনা-বিদ্যুৎ উৎপাদন না বাড়ালে রোডমার্চে আলোকসজ্জা চলল কীভাবে

বিদ্যুৎ উৎপাদন না বাড়ালে রোডমার্চে আলোকসজ্জা চলল কীভাবেপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। আওয়ামী লীগ টানা ক্ষমতায় থাকলে এ লক্ষ্য অর্জন হতো অনেক আগেই। বিরোধী দলের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে তারা ক্ষমতায় এসে শুধু শিক্ষা ক্ষেত্রে নয়, সব ক্ষেত্রেই দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যুতের

চট্টগ্রামে বিশাল জনসভায় খালেদা জিয়ার ঘোষণা-১২ মার্চ চলো চলো ঢাকা চলো-কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ বাধা দিলে দায়িত্ব সরকারের by তৌফিকুল ইসলাম বাবর ও হাসান শিপলু

ট্টগ্রামের বিশাল জনসভা থেকে 'চলো চলো ঢাকা চলো' স্লোগানে রাজধানীতে ১২ মার্চ মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, এটি হবে শান্তিপূর্ণ। এতে বাধা দিলে দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। বর্তমান সরকারকে 'ব্যর্থ' দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, 'আপনাদের জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায়। তাই অবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচন দিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন।'

নতুন পদ সৃষ্টি জ্যেষ্ঠ সচিব হলেন আটজন

র্তমান সচিবদের এক ধাপ ওপরে ‘সিনিয়র সচিব’ (জ্যেষ্ঠ সচিব) নামে জনপ্রশাসনে আটটি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব পদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আটজন সচিবকে পদায়নও করা হয়েছে। কর্মকর্তারা সবাই বর্তমানে জনপ্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। নতুন পদে পদায়ন হওয়া সচিবেরা হলেন: অর্থ

হাইকোর্টের রুল-স্কুলে ভর্তিতে বাড়তি টাকা নিলে কেন শাস্তি নয়

রকারি নীতি লঙ্ঘন করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থ আদায়ের ঘটনা তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন ওই নির্দেশনা দেন। তিন সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নীতিমালার বাইরে

গোলাম আযমকে কাল হাজির করতে হবে-গোলাম আযম ও নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম ও বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কাল ১১ জানুয়ারি গোলাম আযমকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে তাঁর আইনজীবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিন হাজির না হলে ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন। এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অপর মামলায়

চট্টগ্রামের জনসভায় খালেদা জিয়া-১২ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশ by টিপু সুলতান, তানভীর সোহেল ও প্রণব বল

ত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে ১২ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। গতকাল সোমবার চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠের জনসভা থেকে খালেদা জিয়া এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ‘চলো চলো ঢাকায় চলো’ বলে তিনি ১২ মার্চের কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। বিশাল এই সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অতীতের ভুলত্রুটি শোধরানোরও অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে

ইউরোপিয়ান ফুটবল-জমেছে গোলের লড়াই

ত মৌসুমে লা লিগায় ৪০ গোল করেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ভেঙেছিলেন ফেরেঙ্ক পুসকাসের এক মৌসুমের সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড। এবার এখনো অর্ধেক পথ পেরোয়নি লা লিগা। এরই মধ্যে ১৭ ম্যাচে ২১ গোল করে নিজের রেকর্ডটিকেই হুমকির মুখে ফেলেছেন রিয়াল স্ট্রাইকার রোনালদো। ১৭ গোল করে ফেলেছেন লিওনেল মেসিও। বার্সা-রিয়ালের চিরায়ত দ্বৈরথের সঙ্গে চলছে সেরা গোলদাতা হওয়ার রোনালদো-মেসি জমজমাট লড়াইটাও। অবশ্য তিন

ইভিএম নিয়ে নয়া আলোচনা

আহমেদ জামাল: সদ্য সমাপ্ত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর আবার আলোচনায় উঠে এসেছে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শতভাগ ব্যবহার করা হয় বহুল আলোচিত এই পদ্ধতি। যদিও  ইভিএমের প্রতিবাদে এই নির্বাচন বর্জন করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর ভরাডুবি এবং বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীর বিশাল জয়ে এই পদ্ধতিকে    পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
নতুন করে আলোচনায় তুলে আনে। শুরু হয় এই ভোটিং পদ্ধতির ভোট দানের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে নানা রকম ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। সরব হয়ে ওঠে সংবাদ মাধ্যম সমাজের বিশিষ্টজনরাও। যদিও এর আগে চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বচানে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম চালু করা  হয়েছিল। তবে ওই দুটি নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএম চালু ছিল। কিন্তু কুমিল্লার নির্বাচনে সবক’টি কেন্দ্রেই ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হয়। সংবাদ মাধ্যমসহ সবক্ষেত্রে অধিক আলোচনার কারণ এখানেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লার নির্বাচনের পর এই মুহূর্তে ইভিএমের সাফল্য এবং সুবিধার বিষয়টি বড় করে দেখা হলেও এর পিছনের অনেকগুলো অসুবিধার কথা বলা হচ্ছে না। যেমন নির্বাচন কমিশনের শতচেষ্টার পরও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে জটিলতা কাটেনি। যান্ত্রিক ত্রুটি, ভোটগ্রহণে ধীরগতি, নিরক্ষর ও বয়স্ক ভোটারদের বিভ্রান্তিসহ নানা জটিলতায় শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশকে খানিকটা ম্লান করে দিয়েছে। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৬৫টি কেন্দ্রেই  ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচান কমিশন এ বিষয়ে ভোটারদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রশিক্ষণ ও সভা-সেমিনার করেছে বটে। কিন্তু তাতে তেমন ফলোদয় হয়নি। তাই ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন মহিলা ভোটাররা। ৫ই জানুয়ারি  সরজমিন কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। ওই দিন সকাল ১০টায় শহরের ঠাকুরপাড়া থেকে অশীতিপর মহিলা রহিমা খাতুনকে মডার্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়ে যান তার বোনের মেয়ে শাহীন আখতার। কিন্তু ভোট দেয়ার জন্য কেন্দ্রে ৩ নম্বর বুথে ঢুকে বেকায়দায় পড়েন এই বৃদ্ধ মহিলা। কিছুতেই ভোট দিতে পারছিলেন না তিনি। শেষে শাহীন আখতার নিজে হাত ধরে ইভিএম মেশিনের বাটন টিপে রহিমা খাতুনের ভোট দান সম্পন্ন করেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া রহিমা খাতুন বলেন, ভোট দিতে এসে আগে কখনও এ ধরনের মেশিনপত্র দেখিনি। এজন্য সমস্যা হচ্ছিল। তবে নিজের হাতে ভোট দিতে না পারলেও কেন্দ্রে আসতে পেরে খুশি এই বৃদ্ধ। এখানে ভোট দিতে গিয়ে একই রকম পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন লিলি হায়দার। প্রায় কেন্দ্রেই রহিমা ও লিলি হায়দারদের মতো বয়স্ক মহিলাদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে এ ধরেনের বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়েছে। এছাড়া বুথের মধ্যে আলোর স্বল্পতা, ইভিএম মেশিনে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকের আকার ছোট হওয়ায় অনেক ভোটার বিভ্রান্তিতে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে অক্ষরজ্ঞানহীন ভোটারদের বেলায়। ৪-৫ বার চেষ্টা করেও অনেক ভোটার ঠিকমতো বাটন টিপতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেছেন। নগরীর ছোটরা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ফারুক হোসাইন এই ধরনের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইভিএমর মাধ্যমে ভোটদানের পদ্ধতি এই অঞ্চলে এটাই প্রথম। এজন্য কিছু সমস্যা হওয়াটা স্বাভাবিক। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ কেন্দ্রে ভাগ্নে আবুল খায়েরের সঙ্গে ভোট দিতে যান পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুজ্জামান। কিন্তু নিজ হাতে ভোট দিতে পারেননি। তার হয়ে আবুল খায়ের ইভিএম বাটন টিপে ভোটটি দিয়েছেন। বৃদ্ধ নুরুজ্জামান বলেন, অনেক কষ্ট করে কেন্দ্রে এসেছি। কিন্তু মেশিনের মাধ্যমে আসলে আমার ভোটটা দেয়া হলো কিনা বুঝতে পারিনি। এ কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট তাসলিমা চৌধুরী বলেন, আসলে এবারের ভোটের ফলাফল প্রার্থীর ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। ইভিএম মেশিনের লাল নীল বাতির ঘোরে পড়ে অনেক ভোটার যেনতেনভাবে বাটন টিপে চলে গেছে। কুমিল্লা কমার্স কলেজ কেন্দ্রে কথা হয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ক্যালকুলেটরের হিসাব আমি বুঝি না। তাই আমার কাছে এটা কঠিন কাজ। আমি কাগজে কলমের হিসাব বুঝি সেটাই আমার জন্য ভাল। ভোটের ক্ষেত্রেও এমনটি হওয়া উচিত। ইভিএম জটিলতায় একটি ভোট নিতে ৮-১০ মিনিট সময় লেগেছে বলে জানান কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে  সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আবুল হাসেম। তিনি জানান, এই কেন্দ্রের ১ নম্বর বুথে ভোট ছিল ৩৭৬টি। সকাল সাড়ে নয়টায় এখানে ভোট পড়ে ৪৯টি। প্রতিটি ভোটারকে বিষয়টি বোঝাতে গিয়েই সময় নষ্ট হচ্ছে বলে তার অভিমত। এখানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য জাবেদ বলেন, অনেকেই সিস্টেমটি বুঝতে না পেরে আমাদেরকেও বিরক্ত করছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার মনিরা বেগম বলেন, মহিলা ভোটাররা কিছুই বুঝে না। বুঝিয়ে বলার পরও উল্টাপাল্টা বাটন টিপে। চৌয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট শাহআলম, কাউসার হাসান জানান, মেশিনে ভোট দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে অনেক ভোটার ফিরে গেছেন। শাকতলা কেন্দ্রে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সকাল ৮টা থেতে বলতে শুরু করেছি ৩টি বাটন টিপার জন্য। কিন্তু অনেক ভোটার বিষয়টি কোনভাবে যেন বুঝতে পারছে না। কুমিল্লা হাইস্কুলের ৫ নম্বর মহিলা বুথে সকাল ১১টার দিকে ১৩৫ ভোট পড়ার পর ইভিএম নষ্ট হয়ে যায়। এ সময় ওই বুথে ২০ মিনিট ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।
তবে ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক ভীতির সবচেয়ে বড় কারণ এটাই নয়- বলে জানান অনেকেই। তাদের মত এই মেশিনের অপারেটিং কাজে নিয়োজিত কর্মী ছাড়া অন্য কেউ এর কার্যক্রম সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না। নির্বাচনী কর্মকর্তা কর্মচারীদের শেখানো মতে ভোটাররা নির্দিষ্ট বাটন টিপে ভোট দিলো ঠিকই, কিন্তু সেই ভোটটি দাতার কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীর পক্ষে পড়লো কিনা- তা দেখার বা প্রমাণ পাওয়ার সুযোগ নেই। ভোটের ফলাফল গণনার ক্ষেত্রেও স্বচ্ছ ধারণা নেই কারও। দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান যেই হিসাব দিবেন সেটাই চূড়ান্ত বলে ধরে নিতে হবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের। এক কথায় একজন টেকনিশিয়ানের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করতে পারে ভোট গণনায় যে কোন ধরনের হেরফের। যা বিরোধী রাজনৈতিকদের প্রার্থীর ক্ষেত্রে অধিকতর ঝুঁকি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক নক্ষত্রের মহাপ্রয়াণ

সিরাজুল ইসলাম কাদির: ১৯৯৮ সালের শুরুর দিকের কথা। মানবজমিন প্রকাশিত হওয়ার জন্য প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। আমাদের প্রিয় প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী আমাকে কাজ এগিয়ে রাখতে বললেন  পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ১
। নিয়মিত প্রতিবেদন ছাড়াও অর্থনীতির পাতার দায়িত্ব আমার ওপরে। দেশের বিশিষ্ট এবং সফল শিল্পোদ্যোক্তাদের একটি তালিকা করে তাদের সাক্ষাৎকার নিতে বললেন। যাতে পত্রিকা প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতি সপ্তাহে একটি করে সাক্ষাৎকার পত্রস্থ করা যায়। আমি প্রথমে স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান স্যামসন এইচ চৌধুরীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু সমস্যা হলো- এত উঁচু দরের শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তাঁকে কবে নাগাদ হাতের কাছে পাবো। বলতে হবে সৌভাগ্য। টেলিফোন করতেই পেয়ে গেলাম এবং তিনিও স্বাচ্ছন্দ্যে সম্মতি দিলেন। আমাদের আলোকচিত্রী এ হাই স্বপনকে নিয়ে মহাখালীতে স্কয়ারের প্রধান কার্যালয়ে পূর্ব থেকে বেঁধে দেয়া সময়ে আমরা পৌঁছে গেলাম। তিনি আমাদের এক ঘণ্টা সময় দিলেন। একটি চারাগাছ আজ কি করে এই মহীরুহে উন্নীত হয়েছে সেই গল্প শোনালেন আমাদের অবলীলায়- কোন রাখ-ঢাক না করে। তাঁর স্বপ্ন আর মেধা কিভাবে পরিশ্রমের সঙ্গে নিবিড়ভাবে আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে সাফল্যের সোনালী আকাশকে স্পর্শ করেছে সেই কাহিনী। বাণিজ্যের বহুমাত্রিকতা কিভাবে একজন মানুষের স্বপ্নকে ব্যক্তি থেকে নৈর্ব্যক্তিক স্তরে উন্নীত করতে পারে সেই কাহিনী আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনলাম আর তা যান্ত্রিক ফিতায় বন্দি করলাম- পাছে আমাদের স্মৃতির দুর্বলতার সুযোগে তথ্যের বিভ্রাট ঘটে। তাঁর স্বপ্ন কখনও আকাশকুসুম ছিল না। ছিল এই দেশের মাটি, মানুষ আর প্রকৃতির সঙ্গে সেতুবন্ধনে রচিত। তিনি যেখানে হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলিয়েছেন। ওষুধ শিল্প, বস্ত্র শিল্প, প্রসাধনী শিল্প এমন কি রান্নার উপকরণ শিল্পেও তাঁর সাফল্যের সোনার কাঠি দেশ-বিদেশের ভোক্তাদের করেছে মন জয়। স্কয়ার ওষুধ শিল্প এক সময় হাঁটি হাঁটি করে এগিয়ে এখন দেশের শীর্ষস্থান দখল করে আছে। ইসলাম ধর্ম হালাল ব্যবসাকে উৎসাহিত করেছে। তিনি অন্য ধর্মপন্থি হওয়া সত্ত্বেও ইসলামের এই মর্মকথা তাঁর ব্যবসায়িক জীবনে অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত করে গেছেন। সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং নৈতিকতার মতো মূল্যবোধগুলোকে তিনি ব্যবসায়িক জীবনে উজ্জ্বল করে রেখেছেন।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর অন্যতম সাহাবী আবু সায়ীদ নবীকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘সত্যপরায়ণ, ন্যায়নিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী শেষ বিচারের দিনে নবীদের, সাধক পুরুষদের এবং শহীদদের সঙ্গী হবেন’। (তিরমিযী)
আমাদের সাক্ষাৎকার পর্বটি এক সময় শেষ হয়ে যায়। আমাদের তিনি লিফট পর্যন্ত এগিয়ে দেন। আমাদের দু’জনের হাতে কিছু উপহার সামগ্রী তুলে দেন স্নেহের নিদর্শন হিসেবে- যার সবই ছিল তাঁর প্রতিষ্ঠানে তৈরি ব্যবহার্য সামগ্রী।
এই সাক্ষাৎকারের পর তাঁর সঙ্গে আমার পেশাগত জীবনে বহুবার বহু অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎ হয়েছে। আর তিনি সব সময় আমাদের কুশল জানতে ছিলেন আগ্রহী। জানতে চাইতেন- কাগজ কেমন চলছে। প্রতি বছর বাজেট প্রণয়নের আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে সংলাপে বসে থাকে। অর্থমন্ত্রী এই সংলাপ থেকে বাজেটের উপকরণ সংগ্রহ করেন। বিগত সরকারের সময়ে এ ধরনের প্রতিটি সংলাপে অংশগ্রহণের সুযোগ হতো। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান যেসব প্রবীণ এবং সফল শিল্পোদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে সম্মান করতেন এবং গুরুত্ব দিতেন স্যামসন এইচ চৌধুরী ছিলেন তাদের পুরোধা। ঋণখেলাপি সংস্কৃতি এবং কর ফাঁকির চর্চার বাইরে নিজের শ্রমলব্ধ পুঁজি এবং মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে সততা নির্ভর সফল শিল্পোদ্যোক্তা স্যামসন চৌধুরী ছিলেন প্রবীণ মূল্যবোধের ধারক এক আধুনিক মনস্ক ব্যক্তিত্ব।
মানুষ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর ক্ষেত্র থেকে বিচ্যুত হয়। কিন্তু বেঁচে থাকে তার মানব কল্যাণধর্মী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। যেভাবে বেঁচে থাকবেন বহুকাল স্যামসন চৌধুরী। তাঁর অনুপস্থিতিতে এ দেশের শিল্পজগতে তারই মুখচ্ছবি মর্মব্যথায় প্রকাশিত হতে থাকবে। জীবনের নানা বিচ্ছেদ, মৃত্যু- নব প্রজন্মের জন্য নতুন বারতা নিয়ে আসে। তাঁর পথচলা সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের সেই রানার কবিতার মতো-
‘এমনি করেই জীবনের বহু বছরকে পিছু ফেলে,
... ঘরে তার প্রিয়া একা শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে।
... রাত নির্জন, পথে কত ভয়, তবুও রানার ছোটে
দস্যুর ভয়, তারো চেয়ে ভয় কখন সূর্য ওঠে।
... তবু তো পথের পাশে পাশে
প্রতি ঘাসে ঘাসে
লেগেছে বিস্ময়।
সেই মোর জয়॥
লেখক বর্তমানে রয়টার্সের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

জুয়েল ও পলাশের যতসব অপকর্ম

ইয়ারব হোসেন, সাতক্ষীরা থেকে: ধর্ষণ মামলার আসামি সদ্যবিলুপ্ত সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নাজমূল হুদা পলাশের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার প্রশ্রয়ে জুয়েল ও পলাশ এক বছরের অধিক সময়ের ব্যবধানে এহেন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। সাতক্ষীরা জেলা শহরের সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে খোদ পুলিশের কর্মকর্তাও ওই দুই ছাত্রলীগ নেতার কারণে আতঙ্কে থাকতেন। পুলিশ কনস্টেবল পদে নিজদের পছন্দের প্রার্থীর চাকরি না হওয়ায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাও এবং শহরের পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে। জেলার সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি দিতে না পেরে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে জুয়েল ও পলাশকে শান্ত করেন। এর পর থেকে জেলার ৮ থানার ওসি ছাত্রলীগের দুই নেতার কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নারী গঠিত ব্যাপার ছিল তাদের কাছে মামুলি ঘটনা। জুয়েল হাসান ও নাজমূল হুদা পলাশের অপকর্ম খুঁজতে বেরিয়ে আসে বিচিত্র সব অজানা কাহিনী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুয়েল ও পলাশ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের ম্যানেজ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতাদের খুশি করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিয়ে ২০১০ সালের ১৯শে অক্টোবর তিন সদস্যের একটি জেলা কমিটি করাতে সমর্থ হয়। কেন্দ্র থেকে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের কমিটির দায়িত্ব পান সভাপতি জুয়েল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নাজমূল হুদা পলাশ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় সাইফুল আযম জিমিকে। সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের এ কমিটি বাতিলের দাবিতে সাতক্ষীরায় নেতৃত্ব প্রত্যাশী ও সাধারণ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে কয়েক দিন ধরে। এমনকি তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামে সাতক্ষীরায় আদালতে মামলা করে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতারা। বর্তমানে মামলাটির কার্যক্রম চলছে। এদিকে তিন সদস্যের জেলা ছাত্রলীগের কমিটি কার্যক্রম চালাতে স্বৈরাচারী পন্থা অবলম্বন করে জুয়েল ও পলাশ। তারা একে একে জেলার ৭টি উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের কমিটিগুলো সম্মেলন ছাড়াই বাতিল করে। তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দেয় নতুন নতুন কমিটি। ফলে অছাত্র ও মাদকাসক্ত এবং একাধিক বিতর্কিত ব্যক্তিরাই ছাত্রলীগের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে চলে আসে। জুয়েল ও পলাশের এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতারা বিব্রতবোধ করেন। অনেক স্থানে জেলা ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে বিরুদ্ধে মিছিল, মানববন্ধন, কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে প্রতিকার চান তৃণমূল ছাত্রলীগ নেতারা। আর এই ছাত্রলীগের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের শেল্টার দেয়া না দেয়া নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের গ্রুপিং শুরু হয়।

শেখ জামাল ১: ০ ভিক্টোরিয়া; শেখ রাসেল ৩: ০ অগ্রণী ব্যাংক-শেষ আটে জামাল-রাসেল

মলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে গত বিজয় দিবসে হয়েছিল কনসার্ট। মাঠের বারোটা বাজানোর জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল। এমনিতেই জায়গায় জায়গায় ঘাস নেই, মাঠও অসমতল। এরপর কাল সকালের বৃষ্টিতে মাঠে জমল পানি। এমন কাদামাঠেই হলো ফেডারেশন কাপের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচ। আর দুর্বল ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে জিততে ঘাম ঝরল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের। পেশাদার লিগের চ্যাম্পিয়ন দলটিকে গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত।

জুয়েল ও পলাশের যতসব অপকর্ম

ইয়ারব হোসেন, সাতক্ষীরা থেকে: ধর্ষণ মামলার আসামি সদ্যবিলুপ্ত সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নাজমূল হুদা পলাশের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার প্রশ্রয়ে জুয়েল ও পলাশ এক বছরের অধিক সময়ের ব্যবধানে এহেন কোন অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। সাতক্ষীরা জেলা শহরের সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে খোদ পুলিশের কর্মকর্তাও ওই দুই ছাত্রলীগ নেতার কারণে আতঙ্কে থাকতেন। পুলিশ কনস্টেবল পদে নিজদের পছন্দের প্রার্থীর চাকরি না হওয়ায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাও এবং শহরের পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে। জেলার সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি দিতে না পেরে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে জুয়েল ও পলাশকে শান্ত করেন। এর পর থেকে জেলার ৮ থানার ওসি ছাত্রলীগের দুই নেতার কাছে অসহায় হয়ে পড়েন। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নারী গঠিত ব্যাপার ছিল তাদের কাছে মামুলি ঘটনা। জুয়েল হাসান ও নাজমূল হুদা পলাশের অপকর্ম খুঁজতে বেরিয়ে আসে বিচিত্র সব অজানা কাহিনী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুয়েল ও পলাশ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের ম্যানেজ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতাদের খুশি করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিয়ে ২০১০ সালের ১৯শে অক্টোবর তিন সদস্যের একটি জেলা কমিটি করাতে সমর্থ হয়। কেন্দ্র থেকে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের কমিটির দায়িত্ব পান সভাপতি জুয়েল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক নাজমূল হুদা পলাশ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয় সাইফুল আযম জিমিকে। সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের এ কমিটি বাতিলের দাবিতে সাতক্ষীরায় নেতৃত্ব প্রত্যাশী ও সাধারণ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে কয়েক দিন ধরে। এমনকি তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামে সাতক্ষীরায় আদালতে মামলা করে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতারা। বর্তমানে মামলাটির কার্যক্রম চলছে। এদিকে তিন সদস্যের জেলা ছাত্রলীগের কমিটি কার্যক্রম চালাতে স্বৈরাচারী পন্থা অবলম্বন করে জুয়েল ও পলাশ। তারা একে একে জেলার ৭টি উপজেলা ও কলেজ ছাত্রলীগের কমিটিগুলো সম্মেলন ছাড়াই বাতিল করে। তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দেয় নতুন নতুন কমিটি। ফলে অছাত্র ও মাদকাসক্ত এবং একাধিক বিতর্কিত ব্যক্তিরাই ছাত্রলীগের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে চলে আসে। জুয়েল ও পলাশের এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতারা বিব্রতবোধ করেন। অনেক স্থানে জেলা ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে বিরুদ্ধে মিছিল, মানববন্ধন, কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে প্রতিকার চান তৃণমূল ছাত্রলীগ নেতারা। আর এই ছাত্রলীগের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের শেল্টার দেয়া না দেয়া নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের গ্রুপিং শুরু হয়।

প্রাইভেট কারসহ দুই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার: চুরি যাওয়া দু’টি প্রাইভেট কারসহ দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নূরে আলম ওরফে হাবু (২২) ও আবু সিদ্দিক (২৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি বিদেশী রিভলবার, ২০ রাউন্ড গুলি, ৩টি চাপাতি ও ২টি ওয়াকিটকি সেটও উদ্ধার করা হয়। সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করা হয়। গতকাল  সকালে ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডিবি দক্ষিণের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাবু ও আবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পল্লবীর ১০ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের একটি গ্যারেজ থেকে দু’টি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ-২৩-৪২৫৬ প্রকৃত নম্বর-ঢাকা মেট্রোঃ গ-১৯-৮০৬০ ও ঢাকা মেট্রো গ-২৭-৭২৫১) উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, গত সোমবার রমনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাড়ি ছিনতাইকারী চক্রের ওই দুই সদস্য আজাহার ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাবু ও আবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন থেকে পুলিশের পরিচয় দিয়ে ওয়াকিটকি ব্যবহার করে গাড়ি ছিনতাই করে আসছে। জি করোলা ও এফ প্রিমিও মডেলের দু’টি চুরি করা গাড়ি নিয়ে তারা পল্লবী এলাকায় ছিনতাই চালিয়ে আসছিল।

বাংলাদেশ সফরে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক

স্টাফ রিপোর্টার: ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক, এন্থনি লেক শিশু ও মহিলাদের মোকাবিলা করা চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরতে তিন দিনের এক সফরে আজ ঢাকা আসছেন। বাংলাদেশে অবস্থানকালে মি. লেক সুবিধাবঞ্চিত এবং কর্মজীবী শিশুরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয় তা স্বচক্ষে দেখতে ইউনিসেফের প্রকল্প পরিদর্শন করবেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। সাক্ষাৎকালে তিনি তাদের সঙ্গে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বঞ্চনা কমিয়ে আনার ব্যাপারে ইউনিসেফের নতুন কান্ট্রি প্রোগ্রামের (২০১২-২০১৬) আওতার প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে আলোচনা করবেন। জনসেবামূলক কাজে ৪৫ বছরের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে মি. লেক ২০১০ সালের ১লা মে ষষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ইউনিসেফে যোগদান করেন। যোগদানের প্রাক্কালে তিনি জর্জ টাউন ইউনিভার্সিটির এডমন্ড এ ওয়ালস স্কুল অব ফরেন সার্ভিসের প্র্যাকটিস অব ডিপ্লোম্যাসি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ১৯৭৪ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উইড্রো উইলসন স্কুল অব পাবলিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্স থেকে পিএইচডি লাভ করেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি চাইছে ভারত

স্টাফ রিপোর্টার: দিল্লি অবশেষে ঢাকার সঙ্গে ওয়াটার ডিপ্লোমেসি (পানি কূটনীতি) পরিত্যক্ত করে ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি (অর্থনৈতিক কূটনীতি) ঘোষণা করতে চলেছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তিনি বাংলা-ভারত নতুন সম্পর্কের একজন মুখ্য রূপকারও বটে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে তিনি নানা বিষয়ে দরকষাকষির কাজেও অভ্যস্ত। এর আগে তিনি পৃষ্ঠা ৫ কলাম ৫ কলকাতায় ভারতীয় বাণিজ্য নেতাদের বৈঠকে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের কাছ থেকে কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হবে। গিভ অ্যান্ড টেক ডেপ্লোমেসি করতে হবে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে তিনি আর তিস্তা চুক্তির কথা অন্তত প্রকাশ্যে মুখেই আনছেন না। গত ৫ই জানুয়ারি নয়া দিল্লিতে তিনি শিল্পপতিদের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন। এ সময় তিনি তার কথায়, বাংলা-ভারত নতুন সম্পর্কের উচ্চতা অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে একটি সিঙ্গেল মার্কেট গঠনের রূপরেখা তুলে ধরেন। গতকাল দি টেলিগ্রাফে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, পি চিদাম্বরম বলেছেন, হাতে হাত মিলিয়ে সীমান্তের দু’ধারে বাণিজ্য সম্প্রসারিত করার বিরাট সুযোগ আছে। আমি মনে করি, ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ ও ভারতকে একটি একক বাজার হিসেবে গণ্য করতে পারেন। এটা হবে এমন একটি বাজার, যেখানে গুডস এবং সার্ভিসেস উৎপন্ন, ব্যবসায় ও বিনিময় করা সম্ভব হবে। সে কারণে বাংলাদেশকে ভারত একটি গিফট দিতে খুবই উৎসাহী। সেই গিফট হলো, বাংলাদেশকে মোস্ট প্রেফার্ড নেশন স্ট্যাটাস দেয়া। যাতে দুই দেশ সীমান্ত বাণিজ্য গড়ে তুলতে পারে। এর ফলে দু’দেশের বাণিজ্য হবে প্রায় শুল্কমুক্ত। পি চিদাম্বরম বলেন, দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের বিরাট উন্নতি সাধিত হয়েছে। আমি সে জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার দূরদর্শিতা ও স্টেটসম্যানশিপ বা রাষ্ট্রনায়কত্ব প্রদর্শনের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন করি। অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ ভারতের এখন এতটাই ঘনিষ্ঠ। আমরা হয়তো এতটাই কাছাকাছি এসেছি যে, যার সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার দিনটির সঙ্গে তুলনা করা চলে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ গ্যাস সম্পদ দ্বারা আশীর্বাদপ্রাপ্ত। আর ভারতের রয়েছে উদ্যোক্তা ও পুঁজি। পি চিদাম্বরম বলেন, ‘ভারতের অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়ে বহুগুণ বেশি। সুতরাং এটা নয়া দিল্লির দায়িত্ব বাংলাদেশকে তার বাজারে প্রবেশাধিকার দেয়া।’ টাটা’র ন্যানো আসছে: ভারতের বহুল আলোচিত কম দামের মিনিকার ন্যানো বাংলাদেশে রপ্তানির খবর দিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। গত ৬ই জানুয়ারি পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, টাটা মোটরসের এমডি পি.এম. তেলাঙ গত শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, টাটা তার ন্যানো গাড়ি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রপ্তানি করার পরিকল্পনা করেছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে টাটা বিদেশে ন্যানো তৈরির দ্বিতীয় বৈদেশিক কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে। তবে সেটা কোন দেশে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। বর্তমানে তাদের দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি কারখানা রয়েছে।

চোরাই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন যেভাবে

আশরাফ খান: বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকে চোরাই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন পৃষ্ঠা ৫ কলাম ৫ দেয়া হচ্ছে। সরজমিন পরীক্ষা ছাড়াই দেয়া হচ্ছে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট। গত দু’বছরে বিআরটিএ’র খুলনা অফিস থেকে এ ধরনের সহস্রাধিক চোরাই ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে। এই অবৈধ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বিআরটিএ’র খুলনা অফিস। উৎকোচ ছাড়া এখানে কোন কাজ হয় না। রুট পারমিট রেজিস্ট্রেশন, নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিক্ষানবিশ লাইসেন্স, অবৈধভাবে লাইসেন্স দেয়ার কাজ এখানে চলছে উৎকোচের বিনিময়ে। এমনকি চোরাই মোটরসাইকেল ও গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের জন্য কাস্টমস-এর কাগজপত্র জাল করে অবৈধ রেজিস্ট্রেশন নম্বরও দেয়া হয়। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বিআরটিএ’র খুলনা অফিসের এই অবৈধ তৎপরতার চিত্র তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি সূত্রে জানা যায়, বিআরটিএ’র খুলনা অফিসে জনবল রয়েছে মাত্র আটজন। জনবলের ঘাটতির জন্য দৈনিক বেতন ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এখানে কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এরা দুর্নীতির বিশাল চক্র গড়ে তুলেছে। এদের সঙ্গে পুলিশের এক শ্রেণীর লোকও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ পথে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এরা দৈনিক কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার মতে অফিসটি এখন অর্ধশত লোকের বেআইনি আয়ের উৎস হয়েছে। যানবাহন মালিক ও লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীরা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্নীতির কারণে প্রতিনিয়ত প্রতারণা ও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ খুলনা অফিস থেকে শুরু করে ঢাকায় হেড অফিস পর্যন্ত ভাগাভাগি হয় বলে অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহতভাবে চালিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে না। জানা যায়, গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও নতুন রুট পারমিট নিতে নির্দিষ্ট হারে ফি’র অতিরিক্ত দুই থেকে তিন হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা উৎকোচ দিতে হয়। এই অর্থ না দিলে রুট পারমিট ও লাইসেন্স নবায়নে নানা সমস্যা ও পুলিশি হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়। নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষায় অংশ নেয়া বাধ্যতামূলক হলেও পরীক্ষা ছাড়াই এখান থেকে লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। এ জন্য দিতে হয় কমপক্ষে দেড় হাজার টাকা। নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে আবেদনের সঙ্গে অতিরিক্ত দু’শ টাকা, শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের জন্য অতিরিক্ত পাঁচশ’ টাকা দিতে হয়। ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে যে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই গোপন সমঝোতার ভিত্তিতে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেটও এখান থেকে দেয়া হয়। ট্রাক প্রতি বার’শ টাকা, পিকআপ প্রতি বার’শ থেকে পনের’শ টাকা নিয়ে অবৈধভাবে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়া হয়। মারাত্মক উদ্বেগজনক হলো পনের থেকে বিশ হাজার টাকা নিয়ে এবং গাড়ি প্রতি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে চোরাই মোটরসাইকেল ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়। কাগজপত্র জাল করে অনায়াসেই এই অবৈধ কার্যক্রম চলে আসছে বিআরটিএ’র খুলনা অফিসে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে জানান হয়েছে যে, শাহ আলম নামক একজন মোটরযান পরিদর্শক প্রায় দু’শ চোরাই গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দিয়ে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন। বিআরটিএ অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী দালাল চক্রের মাধ্যমে সিলমোহর তৈরি করে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন ও অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বহুগুণে বেড়েছে, সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়গুলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অবগতিতে থাকলেও কোন সময়ই তারা প্রতিকারে কোন ব্যবস্থা নিতে আগ্রহ দেখান না। ফিটনেসবিহীন গাড়িকে অবৈধভাবে রুট পারমিট দেয়ায় এবং অশিক্ষিত, অদক্ষ ব্যক্তিদের অবৈধভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ায় সড়কে দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েই চলেছে। চোরাই গাড়ির ভুয়া নতুন কাগজপত্র তৈরি হওয়ায় গাড়ির প্রকৃত মালিকরা হারিয়ে যাওয়া গাড়ি উদ্ধার করতে পারছেন না। জানা যায়, গোয়েন্দা সংস্থা থেকে খুলনা বিআরটিএ অফিসের উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক, পরিদর্শক, সিল মেকানিক, অফিস সহকারী, কম্পিউটার সহকারী নামোল্লেখ করে এই অবৈধ কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততার কথা জানান হয়েছে। এগারজন অস্থায়ী কর্মচারী, দালাল চক্রের বারজনের নামও দেয়া হয়েছে। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ এদের বিরুদ্ধে এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

‘বন্দিদের অধিকার নেই তাই ফিরছি না’

স্টাফ রিপোর্টার: ফেসবুক ‘অপরাধে’ দণ্ডিত অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ছাত্র মুহাম্মদ খন্দকার অস্ট্রেলীয় সরকারের কাছে নিরাপত্তার আবেদন
পৃষ্ঠা ৮ কলাম ৫
করেছেন। তিনি তার আবেদনে বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ গত সোমবার তাকে আদালত অবমাননার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়ার ঘটনার পরে তিনি তার জীবনের নিরাপত্তার ব্যাপারে ভীত।
৫ই জানুয়ারি দি অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকার সাংবাদিক আমান্দা হডজ খন্দকারের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। গতকাল দি অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট মতে এতে তিনি দাবি করেন, তিনি যে বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডিত হয়েছেন তা গতকাল সংবাদপত্রের খবর পাঠ করে প্রথম জানতে পারেন।
‘আমি জানতাম না যে, ওইদিন আদালতে আমার শুনানির তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু আজ (৫ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশী সংবাদপত্রে আমার দণ্ডের খবর দেখে আমি জানতে পারলাম যে, এটা এই সপ্তাহে ধার্য ছিল। এবং আমাকে ইতিমধ্যেই দণ্ডিত করা হয়েছে। আর এখন বাংলাদেশ সরকার অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে বলছেন যে, আমাকে এখান থেকে ফেরত পাঠানো হোক।’
খন্দকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি পার্থে অবস্থিত কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পিএইচডি ডিগ্রির জন্য বৃত্তিপ্রাপ্ত। তিনি দি অস্ট্রেলিয়ানকে বলেন, ‘যা ঘটেছে তা নিয়ে আমি মর্মাহত। এমন একটি ছোট্ট ভুলের জন্য আমি আমার জীবন হারাতে চাই না।  আমরা আমাদের ব্যক্তিগত অনুভূতি ও ভাব আমাদের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আদান-প্রদান করতে সক্ষম থাকতে চাই। এ ধরনের ব্যক্তিগত অনুভূতি গণমাধ্যমে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহূত হতে পারে না।
আমান্ডা লিখেছেন, মি. খন্দকারের ঝামেলা শুরু হয় গত আগস্টে, যখন তার ফেসবুকে একটি সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে অনুভূতির কথা মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে যায়। বাংলাদেশের নন্দিত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ দুর্ঘটনায় মারা গেলে খন্দকার তার ফেসবুকে শোক প্রকাশ করেছিলেন। এসময় তিনি হাজার হাজার চালকদের ভুয়া লাইসেন্স প্রদানের কথা বলে সরকারের নিন্দা করেন।
বাংলাদেশ আদালতের কর্মকর্তারা এ সপ্তাহে অভিযোগ করেন যে, তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অযোগ্য চালকদের লাইসেন্স দেয়ার কারণে তারেক মাসুদ নিহত হয়েছেন। অনেকেই মারা যাচ্ছেন, শেখ হাসিনার কেন মৃত্যু ঘটছে না?’
খন্দকার বলেন, ওই মন্তব্য তিনি তার হতাশা থেকে করেছেন তবে তা সীমিত লোকজনের উদ্দেশে। কিন্তু আদালত সেটিকে তার যথাপরিপ্রেক্ষিত ছাড়া আমলে নিয়েছেন। এবং সেটা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পরে তিনি তার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগীর কাছ থেকে জেনেছেন, হাইকোর্ট শেখ হাসিনাকে উপহাস করার জন্য তাকে কেন শাস্তি দেয়া হবে না সে জন্য তার এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর রুল জারি করেছেন।
‘আমি অনুভব করলাম যে, বাংলাদেশে আমার ফিরে যাওয়া উচিত। কিন্তু আমি আমার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লাম। আমার বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা আমাকে দেশে না ফিরতে পরামর্শ দিলেন।’
খন্দকার আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বন্দিদের কোন অধিকার নেই। যথাসময়ে তাদের খাবার দেয়া হয় না। কখনও সরকারি বাহিনী জেলে তাদের নির্যাতন করে। এবং কারাগারেই তাদের মৃত্যু ঘটে। আমি মনে করি না যে, আমি সেখানে বাঁচতে পারবো। আমি অস্ট্রেলিয়ার সরকারের কাছে সাহায্য চাই। যাতে আমার মানবাধিকার ও আমার জীবন নিরাপদ থাকে। অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ৫ই জানুয়ারি বলেন, তিনি মিডিয়ায় যেটুকু এসেছে সেটুকু ছাড়া এই মামলা সম্পর্কে সামান্যই জানতেন। এবং প্রত্যর্পণ প্রশ্নে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে অনুরোধ জানাতে তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোন নির্দেশনা পাননি। বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ভারতে কাঁচা পাট রপ্তানি ৫০০ গুণ বেড়েছে, ৫ বছরে দু’দেশের বাণিজ্য বৈষম্য বৃদ্ধি দ্বিগুণ

স্টাফ রিপোর্টার: হু হু করে কাঁচা পাট যাচ্ছে ভারতে। বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাট রপ্তানি ৫০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৪ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে  পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
। অন্যদিকে তৈরী পোশাক রপ্তানি ছিল ৮ মিলিয়ন ডলার। সেটা আগের চেয়ে মাত্র তিন গুণ বেড়ে গত বছরের এপ্রিল-সেপ্টেম্বরে ২২ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে কাপড় রপ্তানি হয়েছে আরও ২৭ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু অন্য কোন রপ্তানিই কাঁচা পাটকে টেক্কা দিতে পারেনি।
গত ৪ঠা জানুয়ারি টাইমস অব ইন্ডিয়া ‘বাংলাদেশে ভারতের ৩ হাজার কোটি রুপি বিনিয়োগ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে ওই তথ্য দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক রাজনৈতিকভাবে উন্নত হওয়ার কারণে বাণিজ্যিক সম্পর্কে তার বিরাট প্রভাব পড়ছে।’
বাংলাদেশে যারা পাট নিয়ে কাজ করেন তাদের অনেকেই ভারতে কাঁচাপাটমুখী রপ্তানি প্রবণতা বৃদ্ধিতে শঙ্কিত। বাণিজ্য বৈচিত্র্যকরণ বলতে কোন কিছুই ঘটছে না। আগের মতো সুপরিচিত কয়েকটি পণ্যকে ঘিরেই রপ্তানি চলছে। ভারতে কাঁচা পাট রপ্তানি নিয়ে সরকারি ও বিশেষজ্ঞ মহলেও দ্বিমত রয়েছে। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে রপ্তানিকারকরা হৈ চৈ করায় তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এমন নিষেধাজ্ঞা সম্প্রতিও জারি করা হয়েছিল। তবে ১৫ থেকে ২০ দিনের বেশি তা টেকেনি। রপ্তানি লবিস্টদের চাপে সরকার তা তুলে নেয়।
তবে পাট বিশেষজ্ঞরা ইদানীং জোর দিয়ে বলছেন, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে বিএনপি আমলে আদমজী বন্ধের সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল না। কারণ ওই সিদ্ধান্তের পরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ভারত ও চীনে নতুন বৃহৎ পাটকল চালু হয়েছে। বিশ্ববাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের কদর কমে গেছে বলে যারা যুক্তি দিয়েছিলেন তারাও এখন দেখছেন, ওই দুটি দেশ বিশ্ব পাট বাজারের বড় খেলুড়ে হয়ে উঠেছে। ভারত এখন ‘বাংলাদেশী স্বর্ণ সূত্র’ আমদানি ও পাটজাত পণ্য তৈরি করে  তা বিদেশে রপ্তানি করছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার গত ৪ঠা জানুয়ারির ওই প্রতিবেদন বলছে, ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি আগের চেয়ে ৮৫ ভাগ বাড়লেও বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি সেভাবে বাড়েনি। অবশ্য ওয়াকিবহাল মহল বলেছেন, ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির ঝুড়িটা বরাবরই তলানিতে ছিল। যখন শনৈঃ শনৈঃ উন্নতি হচ্ছে তখনও অবস্থাটা এই যে, বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি প্রায় দেড় কোটি ডলার। আর ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০০৬-০৭ সালে ছিল ২৮৯ মিলিয়ন ডলার। ৩৫৮ মিলিয়ন ডলার ছিল ২০০৭-০৮ সালে। ২০১০-২০১১ সালে বেড়ে এটা ৫০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের তিন বছরসহ গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য বৈষম্য বাংলাদেশের প্রতিকূলে দ্বিগুণ হয়। ২০০৬-২০০৭ সালে দু’দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ১৯৯৮.৫৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০১০-২০১১ সালে ৪,০৫৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ ২০১০-২০১১ সালে ভারত  থেকে ৪৫৭০ মিলিয়ন ডলার আমদানি করেছে। রপ্তানি করেছে ৫১২ মিলিয়ন ডলার। ২০০৯-২০১০ সালে ভারতীয় পণ্য আমদানি ও সেদেশে বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানির হার ছিল যথাক্রমে ৩২০২ মিলিয়ন ডলার এবং ৩০৪ মিলিয়ন ডলার। ২০০৬-২০০৭ সালে বাংলাদেশের ভারতীয় পণ্য আমদানি ছিল ২২৬৮ মিলিয়ন ডলার।

পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

পিরোজপুর প্রতিনিধি: নানা অভিযোগে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। গতকাল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক আদেশে পিরোজপুরের জেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দীকি নাজমুল আলম জানান, পিরোজপুরে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা চলছিল। এছাড়া নানা অভিযোগও রয়েছে। তাই সংগঠনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য পিরোজপুর জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ৮ই জুলাই সম্মেলনের মাধ্যমে ফয়সাল মাহাবুব শুভকে সভাপতি ও তানভির মুজিব অভিকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭ জনের কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহামুদ হাসান রিপন এবং ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু দেড় বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি জেলা কমিটি। কমিটি বিলুপ্ত করা প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হাসান আম্মান লিটন জানান, ৭ জনের কমিটি ঘোষণার পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়নি, হয়নি কোন বর্ধিত সভা ও থানা সফর। তাই কেন্দ্র বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ছাত্রলীগকে বাঁচাতে আর কোন পথ খোলা ছিল না। সহ-সভাপতি মাসুদ আহম্মেদ রানা জানান, পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগ দুজনের কমিটিতে পরিণত হয়েছিল। জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শুভ্রজিৎ হালদার বাবু জানান, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক স্থবিরতা দূর করতে এটা কেন্দ্রের যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল মাহাবুব শুভর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি ভাসা ভাসা শুনেছি। কোন কাগজ পাইনি।

রামুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানির মাধ্যমে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি কমাতে  বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প সুদে ঋণ দিতে দুই শ’ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে।
তিনি গতকাল রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মেরংলোয়া গ্রামে গোল্ডেন পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিস ফার্মে স্থাপিত বায়ো গ্যাস প্ল্যান্ট ব্যবস্থাপনার উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।
উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার, ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফআইসি) আঞ্চলিক প্রতিনিধি জিবা এ পেরোমালপিল্লাই, প্রোগ্রাম ম্যানেজার মৃণাল কে সরকার, ইস্টার্ন ব্যাংকের এসএমই কর্মসূচির প্রধান খোরশেদ আলম, কারিগরি সহায়তা দানকারী প্রতিষ্ঠান রহমান রিনিউয়েবল এনার্জি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিদোয়ানুর রহমান, পোল্ট্রি খামারি মুজিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের জন্য পার্থে ‘সবুজ সম্ভাষণ’!

পার্থে ভারতীয়দের টিম হোটেলটা ওয়াকার ঠিক পাশ ঘেঁষে। হোটেলে পৌঁছে কাল সবাই বিশ্রামে কাটিয়েছেন, বিকেলে খানিকটা জিম। যদি মিনিট পাঁচেক হেঁটে মাঠে যেতেন, নিশ্চিত শিউরে উঠতেন মহেন্দ্র সিং ধোনিরা। সবুজ উইকেট বোঝাতে অনেক সময়ই বলা হয়, ‘মাঠ থেকে উইকেট আলাদা করা মুশকিল।’ ওয়াকার উইকেটকে আলাদা করা যাচ্ছে, ধোনিদের শিউরে ওঠার কারণও এটাই। মাঠের চেয়ে উইকেট যে আরও বেশি সবুজ! চাইলে ইন্টারনেটে একটা ছবিও

নবীগঞ্জে জাতীয় টিকা দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার, নবীগঞ্জ থেকে : নবীগঞ্জে ২০তম জাতীয় টিকা দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সকালে টিকা দিবসের উদ্বোধন করেন, শেখ সুজাত মিয়া এমপি এবং পৌর মেয়র অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অর্ধেন্দু দেব, আবাসিক মেডিকেল অফিসার রথীন্দ্র চন্দ্র দেব, জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট মুশারফ হোসেন, নবীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ইপিআই অজিত কুমার দাশ, স্বাস্থ্য পরিদর্শক মানিক লাল রায় প্রমুখ। উপজেলার ৩২৯টি কেন্দ্রে ০-৫ বছরের ৫৭ হাজার ১৮৮ জন শিশুকে পোলিও টিকা, ১-৫ বছরের ৪৯ হাজার ১৫৯ জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ২ লাখ আই,ইউ এবং ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ৪ হাজার ৯৭৯ শিশুকে ১লাখ আই,ইউ ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুরাদনগরে এক প্রকৌশলীর সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে: মুরাদনগর উপজেলার নগর পাড়ে এক অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলের মিথ্যা ও নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে প্রকৌশলী হাজী মো. মুকবুল হোসেন তার বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই অভিযোগ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এলাকার একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে বেলা রানী দাস জমি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে। তিনি এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সব মহলের প্রতি আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কামাল, জামাল, নয়ন, মিঠু, মনিহার, বাবু, জামাল পাশা প্রমুখ।

নরসিংদীর উপ-নির্বাচনেও ইভিএম-এর ব্যবহার হবে

স্টাফ রিপোর্টার: নরসিংদী পৌরসভার মেয়র পদের উপ-নির্বাচনে সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করবে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে কাল থেকেই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় শুরু হচ্ছে ইভিএম বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। প্রচারণার মূল লক্ষ্য- ভোটারদের মধ্য থেকে ইভিএমভীতি দূর করা। এসব তথ্য জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, নরসিংদী পৌরসভার মেয়র পদের উপ-নির্বাচনে শতভাগ কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। ১২ই জানুয়ারি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। ছহুল হোসাইন বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এরই মধ্যে ৯টি ওয়ার্ডে ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। এছাড়াও নির্বাচনের দুদিন আগে দু’জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামানো হবে। এসব ম্যাজিস্ট্রেট নরসিংদী জেলার বাইরে থেকে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো নরসিংদী পৌরসভার মেয়র পদের উপ-নির্বাচনেও প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ওয়েবক্যাম বসানো হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যও মোতায়েন থাকবে। ইভিএম সম্পর্কে এখনও যারা বিরোধিতা করছে তাদের উদ্দেশ্য করে ছহুল হোসাইন বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে যারা এখনও বিরোধিতা করছে তারা হয়তো ইভিএম-এ করা নির্বাচনগুলো দেখে নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন। উল্লেখ্য, নরসিংদীর উপ-নির্বাচনে ৩১টি ভোটকেন্দ্রে ভোটকক্ষ থাকছে ১৯৮টি। এর সবগুলোতেই ইভিএম-এ ভোটগ্রহণ করা হবে। এ পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছেন ৭৭ হাজার ৫৮১ জন। এর মধ্যে ৩৮ হাজার ২৬৫ জন পুরুষ এবং ৩৯ হাজার ৩১৬ জন নারী ভোটার। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে ব্যাপক সাফল্য পাওয়ায় সামনে সব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে কমিশন। এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি ওয়ার্ডে এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে সফলভাবে ইভিএম ব্যবহার করে কমিশন। আগামী ১৯শে জানুয়ারি হবে নরসিংদী পৌরসভার উপ-নির্বাচন। এ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. আবদুল অদুদ। গত ১লা নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র লোকমান হোসেনকে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। এরপর গত ১৭ই নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নরসিংদী পৌরসভার মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।

বিতর্ক ছড়ালেন ইশান্ত

স্ট্রেলিয়ায় বর্তমান সফর কেবল ক্রিকেটীয় পারফরম্যান্সের দিক দিয়ে ভারতের জন্য দুর্যোগের নয়। খেলোয়াড়ি আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সফরকে ভুলে যেতে চাইবে ভারতীয়রা। পেসার ইশান্ত শর্মা ঘটিয়েছেন কাণ্ডটা। ভারতের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে জানা গেছে, পার্থের একটি কার্টিং ক্লাবে সময় কাটানোর সময় সমর্থকদের উদ্দেশে মধ্যমা প্রদর্শন করে এখন তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি তিনি। গত সন্ধ্যায় কিছুটা হালকা সময় কাটানোর জন্য

প্রতিবন্ধী মাহমুদের সমাজ পরিবর্তনের লড়াই

সোলায়মান তুষার: কলেজছাত্র মাহমুদুল আলম। ট্রেন দুর্ঘটনায় দু’টি পা হারিয়েছেন। চলাফেরা করেন হুইল চেয়ারে করে। জীবনের এ প্রতিবন্ধকতা নিয়েই মাহমুদ সমাজ পরিবর্তনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। বিনাবেতনে গ্রামের শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন গ্রন্থাগার। কোমলমতি ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার জন্যও প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘সুতিয়া ক্রীড়া কানন’। মাহমুদ গফরগাঁও জেলার ছয়ানী রসুলপুর গ্রামের সন্তান। পুরো গ্রামটি তিনি শিক্ষিত করে তুলতে চান। নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি চালু করেছেন বিনাবেতনের টিউশনি। আর বয়স্কদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন লাইব্রেরি। মাহমুদের স্বপ্ন পিছিয়ে পড়া গ্রামটি একদিন শিক্ষিত হয়ে উঠবে। নিজের প্রতিবন্ধকতা নিয়েই এসএসসি পাস করেছেন। কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্স শেষ করেছেন। পেয়েছেন এ প্লাস। একাদশ শ্রেণীতে পড়ালেখা করছেন ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে। মাহমুদ ২০১২ সালে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ভাই-বোন সবাই বিবাহিত। আর্থিকভাবে সাহায্য করেন তার বোন হাফছা খাতুন। হাফছা ব্র্যাককর্মী। ৮ বছর বয়সেই মা মারজিয়া খাতুন ইহলোক ত্যাগ করেন। দুর্ঘটনার পর ১৯৯৭ সালে পিতা আবদুল মোমেন মোল্লা মারা যান। মাহমুদ পড়লেখা শেষ করে সরকারি চাকরি করার স্বপ্ন দেখেন। পা হারানোর ফলে সঠিক সময়ে পরীক্ষা দিতে পারেননি। সে সময় অবশ্য কাটিয়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সাহায্য করে। তিনি সাভারের সিআরপি মাধব স্মৃতি ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্স শেষ করেন। কম্পিউটার কোর্সের সার্টিফিকেট নেয়ার জন্য এসেছিলেন ঢাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ৩৬৫ নম্বর কক্ষের ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান ও নাজমুল হকের কাছে অবস্থান করেন। সেখানেই কথা হয় মাহমুদের সঙ্গে। ১৯৯৬ সালের ৬ই এপ্রিল বিকালে মাহমুদ ‘বলাকা’ ট্রেনযোগে ঢাকায় বড়ভাইয়ের কাছে আসছিলেন। ট্রেনে জায়গা না থাকায় দরজার হাতল ধরে দাঁড়ান। নাখালপড়া আসতেই ট্রেনের ঝাঁকুনি খেয়ে পড়ে যান রেললাইনে। পরের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন মাহমুদ। বলেন, ট্রেন আমার দুই পায়ের ওপর দিয়ে গেল। ২টি পা শরীর থেকে বিচ্ছন্ন হতে দেখলাম। আমি ভাগ্যক্রমে রেললাইনের ফাঁকা জায়গায় পড়েছিলাম। আল্লাহ আমার জীবনটা অন্তত রক্ষা করেছেন। এরপর দু’জন লোক এগিয়ে এলেন আমার সাহায্যে। তারাই নিয়ে গেলেন ঢাকা মেডিকেলে। তাদের নাম আজ আর মনে নেই। ১৯৯৬ সালের ৬ই এপ্রিল থেকে ১২ই জুন পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল ও পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। আমি ডা. এজাজ আহমেদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলাম। তখন আমি নবম শ্রেণীর ছাত্র। ১৯৯৮ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও পঙ্গুত্বের কারণে দিতে পারিনি। ২০০১ সালে রায়ের গ্রাম শহীদ স্মৃতি দাখিল মাদরাসা থেকে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৩.১৭ পান। পঙ্গুত্ববরণের কারণে বারবারই লেখাপড়ায় গ্যাপ পড়ে। তারপরও স্বপ্ন হারাননি মাহমুদ। মাহমুদ বলেন, বেঁচে যাওয়ার পর ‘সংগ্রামী জীবন’ বেছে নিই। আজ আমার দু’টি পা নেই। সংগ্রাম করেই আমাকে টিকে থাকতে হবে। আমি সমাজের মধ্যে পরিবর্তন করতে চাই। ছয়ানী রসুলপুর গ্রামটিকে শিক্ষিত করে তুলতে চাই। পুরো গ্রামের মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চাই। মাহমুদ বলেন, ‘আজ ইচ্ছে হলেই আমি বাড়ির সামনের পুকুরে একটু সাঁতার কাটতে পারি না। ইচ্ছে হলেই থোকায় থোকায় ফোটা মাধবী লতার বোঁটায় স্পর্শ করতে পারিনা। তবুও এ না পারার ক্ষোভের মধ্যে আমি নতুন পথে, নতুন মতে আমি নির্মল আনন্দের সন্ধ্যান করি। আমি এখন আমার গ্রামের বাড়িতে ছোট্ট একটা মুদির দোকান পরিচালনা করি। হুইল চেয়ারে চলাফেরা করি। মাহমুদ ছয়ানী রসুলপুরের ৬নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা এ স্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়ান। ২০০৮ সালে তিনি এ স্কুলের কমপক্ষে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন। এরপর ২০১০ সালের ১৫ই অক্টোবর তার সঙ্গে যোগ দেন  শাহনাজ পারভীন, এনামুল হক, মুসলেমা ইসলাম, লিজা, আফিয়া খাতুন শিমু, নিলুফা, খোরশেদ আলম, নাজমুল হক। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী বেড়ে দাঁড়ায় একশ’র উপরে। তাদের কার্যক্রমে সাহায্য করেন ওয়াহিদুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, নাজির আহমেদ শরীফ, খলিলুর রহমান, ফরিদ আহমেদ, সাইদুল ইসলাম, খালেকুজ্জামান, আবু রায়হান। এরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। স্বাবলম্বী পরিবারের ছেলেমেয়েরা মাসিক ১০০ টাকা করে দেন। তা দিয়ে চলে দৈনন্দিন ব্যয়। বিভিন্ন পরামর্শ ও নানাভাবে তাদের সাহায্য করেন ৬নং ছয়ানী রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এডভোকেট আনিছুর রহমান, রসুলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এম আর খায়রুল, মাদরাসা শিক্ষক ইউসুফ। মাহমুদ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার কথা মাথায় রেখে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সুতিয়া ক্রীড়া কানন’। ২০১০ সালের ১লা জানুয়ারি ৬নং ছয়ানী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার আয়োজন করে। ২১শে ফেব্রুয়ারিতে একুশে বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান, একুশে বিষয়ক নাটিকা, একুশে বিষয়ক কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়। সর্বশেষ ৩১শে ডিসেম্বর ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ‘সুতিয়া ক্রীড়া কানন’-এর ব্যবস্থাপনায়। ওই অনুষ্ঠানে ৬নং ছয়ানী রসুলপুর সরকারি বিদ্যালয়, ছয়ানী আনিছুর রহমান বালিকা দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। মাহমুদ তার বন্ধুদের নিয়ে ‘গণগ্রন্থাগার’ নামে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে প্রায় ৩০০ বই রয়েছে।  মাহমুদ বলেন, একদিন হয়তো আমার নেয়া ছোট পদক্ষেপের কারণে পুরোগ্রামটি শিক্ষিত হবে। ‘গণগ্রন্থাগার’ বিশাল লাইব্রেরিতে পরিণত হবে। ‘সুতিয়া ক্রীড়া কানন’ প্রতিবছর খেলাধুলার আয়োজন করবে। কেউ হয়তো একদিন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। মাহমুদ বলেন, পড়ালেখা শেষ করে আমি চাকরি করার স্বপ্ন দেখি। সেটা আমার জেলার মধ্যে হলে ভাল। তখন হয়তো অর্থনৈতিকভাবে অন্য কারও ওপর নির্ভর করতে হবে না।

ভারতে তরুণীদের ড্রেস কোড বিতর্কে তসলিমা নাসরিন

মানবজমিন ডেস্ক: ভারতে তরুণীদের ড্রেস কোড কি হবে তা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সমপ্রতি সেখানে নারীদের পোশাকের কারণে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে বলে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন- নারীদের পোশাক পুরুষকে ধর্ষণে প্রলুব্ধ করে। টুইটারে এরই জবাব দিয়েছে তসলিমা নাসরিন। তিনি লিখেছেন- নারীদের ধর্ষণ প্রতিহত করতে বিশেষ ধরনের পোশাক পরতে বলা হচ্ছে। কিন্তু পুরুষদের ধর্ষণ না করার কথা বলছে না। নারীরা বোরকা বা বিকিনি যাই পরুক না কেন, তারা ধর্ষণের শিকার হবেন। ধর্ষণটা দর্শনের সঙ্গে জড়িত নয়। এটি এক ধরনের অপরাধ। তরুণীদের ড্রেস কোড সম্পর্কে সমপ্রতি এক মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন ব্যাঙ্গালোরের উইমেন স্টাডিজের এক বিশেষজ্ঞ। ওই ইউনিভার্সিটির উইমেন স্টাডিজ বিভাগের সাবেক প্রধান ড. কে কে সীথামা একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নারীদের নিজের নিরাপত্তার জন্যই তিনি ড্রেস কোডের পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটির অনেক প্রভাষকই জিন্স এবং সালোয়ার পরেন। এ ধরনের পোশাক পরে তারা ছেলেদের কাছ থেকে কি ধরনের সম্মান আশা করতে পারেন? তার এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন রাজধানী নয়া দিল্লির অনেক শিক্ষিকাই। তারা এ ধরনের পরামর্শকে অবাস্তব এবং পশ্চাৎপদ হিসেবে বিবেচনা করছেন। ভারতের বসবাসকারী বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিনও তার টুইটারের এ ব্যাপারে মন্তব্য দিতে গিয়ে ওই কথা লিখেছেন।

‘১০০০ বছরের মধ্যে ধ্বংস হবে পৃথিবী’

মানবজমিন ডেস্ক: বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং বলেছেন, মানুষ মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন করবে। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে। তবে সেটা হবে আরও ১০০ বছর পর। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, এক সময় পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। ফলে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে মানুষ মঙ্গল ও অন্যান্য গ্রহে বসতি স্থাপন করবে। পর্যায়ক্রমে মহাবিশ্বের সব গ্রহ-নক্ষত্র জয় করে নেবে মানুষ। তিনি বলেন, পারমাণবিক যুদ্ধ বা বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে এক হাজার বছরের মধ্যে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। ফলে মানুষের জন্য বিভিন্ন গ্রহে ছড়িয়ে পড়া অপরিহার্য হয়ে যাবে। গতকাল হকিংয়ের ৭০তম জন্মবার্ষিকীর সন্ধ্যায় বিবিসি রেডিও-৪ এর শ্রোতাদের প্রশ্নোত্তরে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, মহাবিশ্বের যে কোনও গ্রহে বুদ্ধিদীপ্ত প্রাণের আবিষ্কার করা হবে বিজ্ঞানের সর্বকালের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এলিয়েনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা ভয়ানক ব্যাপার হবে। তবে যদি এলিয়েন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায়, ব্যাপারটা ইউরোপিয়ানদের আমেরিকা আবিষ্কারের মতো ঘটনা হবে। পৃথিবীর সঙ্গে তার বিকল্প সৌরজগতের মিল বেশি হওয়ায় তাকে মানুষের জন্য জয় করা সম্ভব বলে ধরে নেয়া হয়। হকিং বলেন, আমি আশাবাদী। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষকে সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহে ছড়িয়ে পড়তে সমর্থ করে তুলবে। বিবিসিকে তিনি সাক্ষাৎকারটি দেন, তার ৭০তম জন্মদিনে আয়োজিত এক কনফারেন্সে। তার সম্মানে ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি তিনদিনের এ সম্মেলন আয়োজন করে। সেখানে তিনি গণিতের লুকেসিয়ান প্রফেসর। কোন্‌ জিনিস তাকে বেশি হতবিহ্বল করে এবং কোন্‌ জিনিসটি সবচেয়ে বেশি রহস্যময়- এমন প্রশ্নে বলেন, তার কাছে সবচেয়ে রহস্যের জিনিস হলো নারী। এটা হলো সম্পূর্ণ রহস্যময় একটি বস্তু। তিনি তার সামপ্রতিক চিন্তায় বলেন, আলোর গতির চেয়েও নিউট্রিনোর গতি অনেক বেশি। সম্মেলনটি আজ হকিংয়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের পদার্থবিদদের আলোচনার মধ্যদিয়ে শেষ হবে।

‘সেনাবাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব নেই’

মানবজমিন ডেস্ক: বিচার বিভাগের সঙ্গে আমাদের কোন দ্বন্দ্ব নেই। দ্বন্দ্ব নেই সেনাবাহিনীর সঙ্গেও। জিও টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তিনি এমন এক সময়ে এ কথা বললেন যখন মেমোগেট কেলেঙ্কারি নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার অনেকটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে বলে মিডিয়ায় খবর এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর মাধ্যমে তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিজের দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছেন। ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর এই মেমোগেট কেলেঙ্কারিতে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মুখে রয়েছে। চারদিকে আলোচনা তার সরকার টিকে থাকবে তো। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা হুসাইন হাক্কানির বিষয়ে নজরদারি করছে। মেমোগেট কেলেঙ্কারি নিয়ে তদন্ত চলছে। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট এই তদন্ত করছে। তিন মাস আগে মেমোগেট কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস হয়। ওই সময় পাকিস্তানি ব্যবসায়ী মানসুর ইজাজ ফিনান্সিয়াল টাইমসে একটি কলামে লিখেছিলেন- পাকিস্তানের একজন সিনিয়র কূটনীতিক তাকে অনুরোধ করেছেন পেন্টাগনে একটি মেমো পাঠিয়ে দিতে। এতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যাতে ক্ষমতা দখল না করে সে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অনুরোধ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। ওদিকে দেশে ফিরলেই আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফকে। কিন্তু তাতে তিনি পরোয়া করেন না। পাল্টা বলে দিয়েছেন, আগামী ২৫ অথবা ২৭শে জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরবেন। ওদিকে প্রসিকিউটররা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পারভেজ মোশাররফ দেশে পৌঁছামাত্র গ্রেপ্তার করা হবে। এর কারণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত বলে অভিযুক্ত হয়েছেন তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের পলাতক ঘোষণা করেছে আদালত। এ হিসেবে মোশাররফ ফেরারি অথবা পলাতক। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার প্রসিকিউটর চৌধুরী জুলফিকার আলী বলেছেন, এ জন্যই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। পারভেজ মোশাররফ পাকিস্তান ছেড়ে গিয়ে দুবাই এবং লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন। সেখান থেকে তিনি সারা বিশ্বের ৫০০ থেকে ৬০০ ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানে ফিরবেন। অন্যদিকে তার দল অল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এপিএমএল) নেতারা আজ শাহরে কাইডিনে র‌্যালি করার অনুমতি চেয়ে সিন্ধু হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। আদালত সে আবেদনে কি সাড়া দিয়েছে তা জানা যায়নি। ওদিকে ভারত বিরোধী কার্ড হিসেবে পারভেজ মোশাররফ এখন ইসরাইলি কার্ড চালতে চান। তিনি ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি লবিতে তিনি ইসলামাবাদকে খুব কাছে নিয়ে যেতে পারবে। ইসরাইলি দৈনিক পত্রিকা হারেটজ’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন। পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এর  নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বেলুচিস্তানে সেনা অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বেলুচিস্তানের সমস্যা সমাধানে তিনি ইসলামাবাদে সর্বদলীয় সম্মেলনের আহ্বান জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি বেলুচিস্তানের সমস্যার পেছনে পারভেজ মোশাররফের শাসনযন্ত্রের কোন বীজ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন।

জলদস্যুদের হাতে জিম্মি ইরানের ১৩ জেলেকে উদ্ধার করলো মার্কিন নৌবাহিনী

মানবজমিন ডেস্ক: মার্কিন নৌবাহিনী আরব সাগরে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি ইরানের ১৩ জেলেকে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ১৫ সন্দেহভাজন জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। ১ মাসেরও বেশি সময় আগে মাছ ধরার নৌকাটি দখল করেছিল জলদস্যুরা। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর-দপ্তর পেন্টাগনের উদ্ধৃতি দিয়ে অনলাইন বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইরানের জেলেদের মাছ ধরার নৌকা থেকে পাওয়া একটি সংকেতের সূত্র ধরে তাদের উদ্ধার করতে সমর্থ হয় নৌবাহিনী। এদিকে ১৫ জন সন্দেহভাজন জলদস্যুকে গ্রেপ্তারের পর তাদের নিরাপত্তা হেফাজতে বন্দি রাখা হয়েছে। জলদস্যুদের হাতে আটক ওই জেলেদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে ও তাদের মানবেতর অবস্থায় রাখা হয়েছিল। পেন্টাগনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের জলদস্যুদের অনৈতিক কাজে সহায়তা করতেও বাধ্য করা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৫০ হাজার মেট্রিক টন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা-রপ্তানিযোগ্য আলু উৎপাদনে বগুড়ায়কৃষকদের প্রশিক্ষণ

লতি মৌসুমে বগুড়া থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু রপ্তানি করা হবে। একই সঙ্গে বগুড়ায় উৎপাদিত আলু রপ্তানিযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে চার হাজার চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ‘প্রাইস’ ও ‘ইউএসএইড’ নামের দুটি বেসরকারি সংস্থা এ উদ্যোগ নিয়েছে। জানা গেছে, বগুড়ায় দিন দিন আলুর চাষ ও ফলন বাড়লেও চাষিরা স্থানীয় বাজারে আলু বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এবং তাঁদের পক্ষে রপ্তানি করাও সম্ভব নয় বলে সংস্থা দুটি এগিয়ে এসেছে।

বালতিতে ডুবিয়ে শিশু হত্যা

মানবজমিন ডেস্ক: প্রেমিকের সঙ্গে ইন্টারনেটে ভিডিও কথোপকথনের সময় বিরক্ত করায় নিজের ১ বছর বয়সী ছোট্ট শিশুটিকে শৃঙ্খলা শেখাতে বালতির পানিতে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে নরওয়ের অধিবাসী ইয়াসমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ঘড়িতে তখন রাত ৩টা। মধ্য রাতে অনলাইনে ভিডিও কথোপকথনে ইয়াসমিন ব্যস্ত ছিল প্রেমিকের সঙ্গে। ইয়াসমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে অসম্মান করায় শিশু সন্তানটিকে নিয়মানুবর্তিতা শেখাতে শাস্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। তবে দুর্ঘটনাক্রমে পানি ভর্তি বালতিতে শিশুটি পড়ে যায় বলে দাবি করে ঘাতক মা। পরদিনই মৃত ঘোষণা করা হয় ফুটফুটে অবুঝ শিশুটিকে। এদিকে নিজের সন্তানের হত্যাকারী সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইয়াসমিন দাবি করে, তার প্রেমিকই তাকে এ পরামর্শ দিয়েছিল। তবে তারা দু’জনই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে দু’জনের বক্তব্যেই অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। কারণ প্রেমিকের বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটিকে শৃঙ্খলা শেখাতে তারা দু’জন মিলেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে শিশুটিকে হত্যা করা কখনই তাদের উদ্দেশ্য ছিল না বলেও জানায় তারা। প্রেমিকের সঙ্গে ইন্টারনেটেই পরিচয় ইয়াসমিনের। ১ বছরের প্রেমের সম্পর্কে একবার দেখা হয়েছে পরস্পরের মধ্যে। এদিকে এ ঘটনার পরপরই ইয়াসমিনের ৫ বছর বয়সী অপর পুত্র সন্তানটির দায়িত্ব নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ৪ঠা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিমান্ডে রাখা হবে ইয়াসমিনকে। হতভাগ্য শিশুটির পিতা বর্তমানে পাকিস্তানে রয়েছেন। ইয়াসমিনের সঙ্গে আগেই ছাড়াছাড়ি হয়েছে তার। এ খবর শুনে ভীষণ মর্মাহত শিশুটির পিতা এখন প্রায় বাকরুদ্ধ।

‘আমার মেয়েকে কোরবানি দিয়েছি’



কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: ‘আমি আমার মেয়েকে কোরবানি দিয়েছি’। মেয়েকে কেন খুন করেছেন- জানতে চাইলে এভাবেই উত্তর দেন তিনি। পুরো নাম আহাকমিউল আলম রিমু। যিনি তার ছয় বছরের শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে পুলিশের হাতে বন্দি। মেয়েকে কেন কোরবানি  দিলেন পাল্টা প্রশ্ন করলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে তার আত্মীয়-স্বজনদের উদ্দেশে বলেন, ‘মেয়েকে দাফন করার ব্যবস্থা করো।’ এরপরই নিশ্চুপ কুষ্টিয়া মডেল থানায় আটক ঘাতক পিতা আহাকমিউল আলম। মানসিক বিকারগ্রস্ত পিতার হাতে খুন হওয়া হতভাগী শিশুটির নাম তানজিদা আলম (৬)। গতকাল সকাল ৮টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার একটি বাসায় এই নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটে। এরপরই আহাকমিউল আলম রিমুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার রাম গোপাল মজুমদার লেনের বাসিন্দা আহাকমিউল আলম রিমু  গতকাল সকালে পুতুল খেলারত শিশুকন্যা তানজিদা আলমকে গলা টিপে হত্যা করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। নিহত তানজিদার মা রাকিমা জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের মেঝেতে বসে পুতুল নিয়ে খেলছিল সে। তার বাবা আহাকমিউল আলম তখন ঘুমাচ্ছিল। রান্নাঘরে সকালের খাবার  তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। হঠাৎ করে মেয়ের চিৎকারে তড়িঘড়ি করে রান্নাঘর থেকে এসে দেখেন তানজিদার গলা টিপে ধরে আছে তার বাবা। বাবার হাত থেকে  মেয়েকে ছাড়িয়ে নেয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেও সফল হননি তিনি। নিষ্ঠুর বাবা যখন গলা ছেড়ে দিলেন, তানজিদার দেহে তখন কোন স্পন্দন নেই। পরে তানজিদাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও জানান, ‘তার স্বামীর মাথায় সমস্যার কারণে কিছুদিন আগে পাবনার মানসিক হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা করিয়ে আনা হয়েছে। ঘাতক আহাকমিউলের ভাই আহসানুল আলম বলেন, তার ভাই স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থা ‘পালক’-এর প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে চাকরি করতো। এর আগে সে ব্যবসা করতো। ব্যবসায় লোকসান দিয়ে সে পাগল হয়ে যায়। এ কারণে তার চিকিৎসাও করানো হচ্ছে। মাঝে মধ্যে ভালো থাকে, আবার মাঝেমধ্যে খারাপ হয়ে যায়। তানজিদার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সোনারতরী কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ জানান, তানজিদা আমার স্কুলের কেজি শ্রেণীর ছাত্রী। সে লেখাপড়ায় মোটামুটি এবং খুবই শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল। তানজিদা এবার কেজি-টুতে উঠেছে। আমি ভাবতেও পারছি না তারমতো লক্ষ্মী মেয়েকে কেউ খুন করতে পারে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী জালাল উদ্দিন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তানজিদার বাবাকে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। সে নিজ হাতে মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘাতক আহাকমিউল আলম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছত্রগাছা গ্রামের মৃত জহুরুল আলমের ছেলে।

আন্দোলন-সংগ্রামে সিলেটের সর্বস্তরের মানুষকে রাজপথে থাকার আহ্বান প্রবাসী নেতাদের

সিলেট অফিস: প্রবাসী বিএনপি ও কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন সিলেট বিএনপি’র নেতারা। শনিবার রাতে সিলেট নগরীতে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এম এ হকের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির শাহীনের পরিচালনায় বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সহ-সভাপতি, সাসেক্স বিএনপি’র সভাপতি এবং বিশিষ্ট চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক  অভিনেতা নুরুল আমীন, সাসেক্স বিএনপি’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ডেপুটি মেয়র, কাউন্সিলর বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী হারুন মিয়া, সী-কোর্ড টাউনের কাউন্সিলর, সাসেক্স বিএনপি’র সভাপতি মো. আলী হায়দার, সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. আবদুল গফফার, মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম জলালী পংকী, সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসিম হোসাইন, বদরুজ্জামান সেলিম, তারেক আহমদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী, অর্থ সম্পাদক ফরহাদ চৌধুরী শামীম, সহ-দপ্তর সম্পাদক মাহবুব কাদির শাহী। আওয়ামী সরকারের অধীনে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে যাবে না, সরকারের প্রতি মানুষের সমর্থন না থাকায় দলীয় সরকারের মাধ্যমে কারচুপি করে আবারও ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। বক্তারা বলেন, এ দেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না, তাই শেখ হাসিনার মন্ত্রীরা পাগলের প্রলাপ শুরু করেছেন সংবিধানে বিসমিল্লাহ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল ও ঢাকা সিটি করপোরেশনকে বিভক্ত করে এবং টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণে তাদের বক্তব্য পরিষ্কার না করে সরকার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই সব অন্যায় সিদ্ধান্ত, অগণতান্ত্রিক আচরণ, সীমান্তবর্তী এলাকায় অরাজকতা, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, শেয়ারবাজারে ডাকাতি, সর্বোপরি জনবিচ্ছিন্ন সরকারের বিরুদ্ধে বেগম জিয়া যে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তা সফল করতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, জাসাস, মহিলা দলসহ সব সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে  রাজপথে থাকাতে হবে। বক্তরা আরও বলেন, বিএনপির সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের ওপর থেকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন। বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে আন্দোলন থামিয়ে রাখা যাবে না। প্রবাসী নেতারা বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সব রকম সহযোগিতার চেষ্টা করব। ওই মতবিনিময়  সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন লুৎফুর রহমান চৌধুরী, লল্লিক আহমদ চৌধুরী, সুলেমান হোসেন, নজিবুর রহমান নজিব, আক্তার বক্স জাহাঙ্গীর, হাজী মিলাদ আহমদ, মীর্জা বেলায়েত হোসেন লিটন, হুমায়ন আহমদ মাসুক, অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী, আবদুল হাকিম, এড. হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, মকবুল হোসেন, আশরাফ উদ্দিন, উসমান মিয়া, এমদাদ হোসেন, আমীর আলী, শফিকুর রহমান, তফজ্জুল আলী, সেলিম রানা, খসরুজ্জামান খসরু, জাফর ইকবাল তারেক, দুলাল আহমদ, জিয়া উদ্দিন লিটন, আবু কয়ছর, মকুল মুর্শেদ, আলমগীর আহমদ সোহেল, রুস্তম আলী, আমিনুর রশিদ খোকন, কাউন্সিলর রাহেলা খানম মুক্তা, সাবেক কাউন্সিলর কোহিনুর ইয়াসমিন ঝর্ণা, রুবি রহমান, সাথী বেগম, ফাতেমা জামান রুজি, রাহিলা জেরিন কানন, ছাত্রনেতা এমদাদুল হক স্বপন, মীর্জা সম্রাট, মাসুক আহমদ, আসাদুল হক আসাদ, মিনাজ আহমদ পাঠান, সাদেক আহমদ জিতু, জাবেদ আহমদ জামান আহমদ খান, পারভেজ খান জুয়েল, বশিরুজ্জামান নুভেল, কপিল হোসেন, এম এ হাসান, আবদুুল আজিজ গিলমান, টিপু আহমদ, কাছির আহমদ সায়ন, আলী আকবর রাজন, শাহিন আহমদ আবু সাকের প্রমুখ।

করিমগঞ্জে ১৪৪ ধারা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: করিমগঞ্জের বিবদমান আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। গতকাল করিমগঞ্জ পৌর এলাকার আনন্দবাজার পৌরসভার ৬, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ। সম্মেলনে করিমগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও যুবলীগ নেতা আবদুল কাইয়ুম ও জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি এবিএম সিরাজুল ইসলামের উপস্থিত থাকার কথা। অন্যদিকে করিমগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী মামুন আনন্দবাজারের নয়াকান্দি মোড়ে একই সময়ে সমাবেশের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি স্থানে আওয়ামী লীগের দুটি বিবদমান গ্রুপ সমাবেশ ডাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সমাবেশস্থলে আসা দেহুন্দা ইউনিয়নের ছাত্রলীগ নেতা মো. আলমকে কাইয়ুম গ্রুপের লোকজন গণধোলাই দেয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম কবীর জানান, দু’গ্রুপ পাশাপাশি স্থানে সমাবেশের ডাক দেয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং যে কোন সময় বড় ধরনের আশঙ্কা থাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এ মাসেই সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত হচ্ছে by জাহাঙ্গীর শাহ

টাকা খরচ করতে না পারায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ছোট করার সেই পুরোনো পথেই হাঁটছে সরকার। এবার নতুন অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ হয়েছে বিদেশি প্রতিশ্রুতির অর্থপ্রবাহ কমে যাওয়া। ফলে একটু আগেভাগেই শুরু হয়েছে সংশোধিত এডিপি প্রণয়নের কাজ। অর্থবছর অর্ধেক পেরিয়ে চলতি জানুয়ারি মাসেই এডিপির আকার ছোট করে ফেলা হচ্ছে। সংশোধিত এডিপির আকার ৪০ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। সাধারণত ফেব্রুয়ারি

দেবজ্যোতির সুরে বাংলাদেশী পরিচালক নির্ঝরের ছবিতে শাকিরার গান

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে: দুই বাঙালির মেলবন্ধনে সম্ভব হতে চলেছে একালের সাড়া জাগানো সংগীতশিল্পী শাকিরাকে দিয়ে ছবিতে গান গাওয়ানো। এমনকি ছবিটিতে গান গাইবার পাশাপাশি অভিনয়ও করতে পারেন তিনি। বাংলাদেশী পরিচালক এনামুল করিম নির্ঝর বৃটিশ প্রযোজনায় তৈরি করছেন ইংরেজি ছবি ‘ডিজায়ার-দ্য ফ্লায়িং বাটার’। সংগীত বহুল এই ছবিতে ডিজায়ারের সবক’টি গানই গাইবেন শাকিরা। আর এসব গানে সুর সৃষ্টি করছেন কলকাতার দেবজ্যোতি মিশ্র। ময়মনসিংহের লোকসংগীতের সুরেও গান তৈরি হচ্ছে। ময়মনসিংহ গীতিকার উচ্চারণে গান গাইতে আগ্রহী শাকিরাও। শাকিরা ছাড়াও  এই ছবিতে গান গাইবেন মরক্কোর বিখ্যাত গায়ক আবদেল হাকিম। দেবজ্যোতির সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর ধরেই ছবিটি করার কথা ভাবছিলেন নির্ঝর। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ছবি করার ভাবনা ছিল তার। তবে এখন ঠিক হয়েছে ছবিটির শুটিং হবে স্কটল্যান্ড, ডোভার ও লন্ডনে। দেবজ্যোতি এনামুলের তৈরি আগের দুটি ছবিতেও সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছেন। এবারের ছবিতে ডিজায়ার চরিত্রটির জন্য যে ৫টি গান থাকছে তার সবক’টিই গাইবে শাকিরা। এছাড়াও আরও ২৫টি গানে সুর সৃষ্টি করছেন দেবজ্যোতি। সেগুলো ছবির প্রয়োজন মতো ব্যবহার করা হবে। দেবজ্যোতিই জানিয়েছেন, ডিজায়ার চরিত্রে  শাকিরা যাতে অভিনয় করে সেজন্য কথাবার্তা চলছে। শাকিরার গাওয়া প্রতিটি গানের দৈর্ঘ হবে সাড়ে চার থেকে পাঁচ মিনিট। শাকিরা গান কতটা বড় সে ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, শাকিরা দেবজ্যোতির সুরে গান করার সম্মতি দেয়ার আগে ‘রেইনকোট’ ও  এনামুলের ছবি ‘আহা’র দেবজ্যোতির সুর দেয়া গানগুলো ভাল করে শুনেছেন। দূর ইশারায় বলে গানটি শাকিরার এত ভাল লেগেছে যে তিনি ফোন করে দেবজ্যোতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এনামুলের এই ছবিতেই মেলবন্ধন ঘটবে প্রখ্যাত চেলোবাদক ও সুরকার ইয়ো-ইয়ো মার। বেশ কয়েকটি গ্র্যামি জয়ী এই সুরকার দেবজ্যোতির সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করবেন বলে জানা গেছে।

সাত কন্যা’য় শশী

স্টাফ রিপোর্টার: আহমদ জামান চৌধুরী রচিত ‘সাত কন্যা’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন শশী। ধারাবাহিকটি পরিচালনা করছেন সৈয়দ জামিম। বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় নাটকটির শুটিং চলছে। নাটকে আরও অভিনয়ে আছেন নিসা, স্নিগ্ধা, বিপাশাসহ আরও অনেকে। ‘সাত কন্যা’ ধারাবাহিক নাটকে শশীর চরিত্রের নাম জেসমিন। শশী বলেন, ভাল লাগছে ধারাবাহিকটিতে অভিনয় করতে। আমরা সাত বোন। সাত বোনের মধ্যে আমি সেজো। খুবই মজার গল্প। সব চরিত্রই একটি অপরটি থেকে বেশ সুন্দর। আশা করছি ধারাবাহিকটি দর্শকের কাছে ভাল লাগবে। এদিকে, এ ধারাবাহিক ছাড়াও শশী জুয়েল মাহমুদের রচনা ও পরিচালনায় ‘বৈরী বাতাস’ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন। এতে শশী প্রথমত পেমিকা আর পরে বউ চরিত্রে অভিনয় করছেন।

জন্মদিনে বিজ্ঞাপনের মডেল হলেন

স্টাফ রিপোর্টার: অভিনয়, গান এবং উপস্থাপনায় দ্যুতি ছড়ানোর পর এবার বিজ্ঞাপনের মডেল হলেন গ্ল্যামারাস আঁখি আলমগীর। তিব্বত টুথপেস্টের নতুন বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে অচিরেই পর্দায় আসছেন তিনি। গতকাল আঁখি শুটিং করলেন এ বিজ্ঞাপনের। গতকাল ছিল তার শুভ জন্মদিন। দিনটিকে এতোদিন পারিবারিকভাবে উদযাপন করলেও এবার সেটা জমকালো আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালনের প্রস্তুতি ছিল আঁখির। সেই পরিকল্পনা নিয়ে স্টেজকেন্দ্রিক অফুরন্ত ব্যস্ততার মাঝেও জন্মদিনের উপহার হিসেবে ডিসেম্বরেই তৈরি করেছেন নিজের একটি অপ্রকাশিত গানের মিউজিক ভিডিও। গানটিতে আঁখির সঙ্গে প্রথমবারের মতো মিউজিক ভিডিওর মডেল হয়ে কাজ করেছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। শওকত আলী ইমনের কথা-সুর-সংগীতে ‘ডুবা ডুবা নাচের তালে মন ডুবা’ শীর্ষক এ গানটি নির্মাণ করেছেন সুমন। সমপ্রতি এর শুটিং হয়েছে এফডিসিতে নির্মিত ব্যয়বহুল সেটে। আঁখি বলেন, আমার জীবনেও এতো ব্যয়বহুল মিউজিক ভিডিও করিনি। করার আগ্রহও পাইনি। যা হয়েছে সেটা অ্যালবাম প্রকাশের পর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কিংবা টিভি চ্যানেলের উদ্যোগে হয়েছে। তবে এবার আমি ওসব দিক থেকে আশা করিনি। নতুন অ্যালবাম প্রকাশের আগেই নিজ উদ্যোগে গানটির ব্যয়বহুল ভিডিও করেছি। আঁখি আরও বলেন, এখন সময় বদলেছে। অ্যালবাম প্রচারের ধরনও পাল্টেছে। তাই আমি নতুন অ্যালবাম প্রকাশের আগেই এ গানটির ভিডিও দিয়ে সবার নজর কাড়তে চাই। আর সেটি উপহার দিতে চেয়েছিলাম গতকাল জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে। না, আঁখির সে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটেনি। জমকালো আয়োজনে পালিত হয়নি জন্মদিনের পার্টি। এ নিয়ে অবশ্য খুব একটা আফসোস নেই আঁখির কণ্ঠে। তিনি বলেন, গতকাল পারিনি তো কি হয়েছে! এ সপ্তাহের মধ্যেই জন্মদিনের পার্টি এরেঞ্জ করবো। আনন্দ করবো, খাবো আর সবাইকে মিউজিক ভিডিওটি দেখাবো। একই সঙ্গে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এবং এফএম রেডিওতেও গানটি একযোগে সমপ্রচারের উদ্যোগ নেবো। চিত্রনায়ক ফেরদৌসকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি মিউজিক ভিডিওর চমক আপাতত অপ্রকাশিত থাকলেও জন্মদিনে আঁখির গ্ল্যামারাস ক্যারিয়ারে যোগ হয়েছে বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়ার সুখের পালকটি। প্রথমবারের মতো বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন তিনি। মূলত এ কারণেই জন্মদিনের উৎসব এবং ভিডিও প্রকাশনা পিছিয়ে গেল। গতকাল দিনভর আঁখি শুটিং করেছেন তিব্বত পেস্ট-এর একটি নতুন বিজ্ঞাপনচিত্রের। আদনান আল রাজীবের নির্দেশনায় বিজ্ঞাপনচিত্রটির শুটিং হয়েছে ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে। প্রথম বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়া প্রসঙ্গে আঁখি বলেন, এক জীবনে নাটক-সিনেমা-বিজ্ঞাপনের কম অফার পাইনি। প্রতিনিয়ত পাচ্ছি এখনও। তবে সেসব দিকে নজর রাখিনি, গানটাকে শতভাগ ভালবাসতে গিয়ে। তাছাড়া পছন্দসই কাজ না হলে খামোখা করবো কেন? তাই এতদিন করা হয়নি। তবে এবারের অফারটি মনে ধরেছে। তার ওপরে শুটিং হচ্ছে জন্মদিনে। সব মিলিয়ে এ বিজ্ঞাপনটিকে আমি জন্মদিনের উপহার হিসেবেই গ্রহণ করলাম। আশা করছি ভাল কিছু হবে। জানা যায়, বিজ্ঞাপনচিত্রে সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর হিসেবেই হাজির হচ্ছেন তিনি। তবে চমক ফাঁস হয়ে যাবে ভেবে এর বেশি কিছু এখনই জানাতে রাজি নন আঁখি। বলেছেন, এটা জন্মদিনের আরেকটি চমক হিসেবেই জমা থাকলো। সব জানাবো খুব শিগগিরই। এদিকে গতকাল আঁখি ঠিক কত বছরে পা রেখেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে রাখঢাক না করে ঝটপট জবাব দেন এভাবে, ‘আমাকে একদিন এক ভদ্রলোক খুব সিরিয়াসলি জিজ্ঞাসা করলেন, আপা আপনার বয়স আসলে কতো? তখন আমি বললাম, আমাকে দেখে কি অনুমান হয়? তিনি বললেন, মনে তো হয় ২১-২২। কিন্তু আপনার বয়স তো আরও বেশি হওয়ার কথা। তখন আমিও হেসে বলি, অতোশত হিসাব কষে লাভ নেই। দেখে যা মনে হয় সেটাই আমার আসল বয়স! কারণ, কাগজে কলমে বয়স আমার হাজার বারো হতে পারে। কিন্তু মনের বয়স তো মাত্র ১৮-২০!’

৭০ বছর পর যোদ্ধার হাতে মায়ের চিঠি

মানবজমিন ডেস্ক: দীর্ঘ ৭০ বছর পর মায়ের লেখা চিঠি পেয়েছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক প্রবীণ যোদ্ধা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন জার্মানদের হাতে ধরা পড়ার পর সৎ মা তাকে এ চিঠি লিখেছিলেন। ১৯৪১ সালে বন্দিশিবিরে বন্দি থাকা অবস্থায় ডেভ হাটনকে চিঠিটি লিখেছিলেন তার মা। কিন্তু সে সময় চিঠিটি তার হাতে পৌঁছেনি। তাকে না পেয়ে নিখোঁজ উল্লেখ করে চিঠিটি ফেরত আসার পর তার সৎ মা ডেইজি সেটিকে না খুলেই একটি বাক্সে রেখে দিয়েছিলেন। আগামী সপ্তাহে ৯৫তম জন্মবার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছেন ডেভ হাটন। এমন সময়েই তিনি অবশেষে মায়ের লেখা চিঠিটি পেয়েছেন। তা অবশ্য আবিষ্কার করেছে তারই ভাই। ব্ল্যাক ওয়াচ কর্পোরাল হাটন ১৯৪১ সালে যুদ্ধ করার সময় আহত হয়ে জার্মান সেনাদের হাতে বন্দি ছিলেন। প্রথমে তাকে চার বছর পোল্যান্ড ও চেকোশ্লোভাকিয়ার বন্দিশিবিরে কাটাতে হয়েছিল। কিন্তু তার অবস্থান না জেনেই মিশরের ঠিকানাতে চিঠি দেয়ায় সেটা আর তার হাতে পৌঁছেনি। ১৯৪৫ সালে রাশিয়ান সেনাদের সহায়তায় তিনি মুক্তি পান। কিন্তু তিনি এ চিঠির কথা কিছুই জানতেন না। হাটন বলেছেন, তার ভাই ডেন পুরনো জিনিসপত্র পরিষ্কার করতে গিয়ে চিঠিটি আবিষ্কার করে তাকে দিয়েছেন। তখন তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, হাতের লেখা দেখেই আমি চিনতে পেরেছি এটা ডেইজিই লিখেছিলেন। তিনি প্রায়ই চিঠি লিখে আমাকে নানা খবর দিতেন। আমি চিঠিটি খুলে ৭০ বছর আগের পারিবারিক বিষয় নিয়ে লেখা চিঠিটি পড়লাম। চিঠিটি পড়তে আমার খুবই ভালো লেগেছে।

টুজি কেলেঙ্কারি মামলা -চিদাম্বরমের বিরুদ্ধে নথি পেশ

মানবজমিন ডেস্ক: ভারতে বহুল আলোচিত টুজি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারিতে অবশেষে জড়িয়ে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। এর সঙ্গে তার জড়িত থাকার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নথি জনতা পার্টি প্রেসিডেন্ট সুব্রামনিয়াম স্বামী গতকাল আদালতে জমা দিয়েছেন। স্পেশাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) বিচারক ও. পি সাইনি টুজি স্পেকট্রামের সঙ্গে চিদাম্বরমের জড়িত থাকার ব্যাপারে সুব্রামনিয়ামের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি ২১শে জানুয়ারি চূড়ান্ত শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন। সুব্রামনিয়াম বলেছেন, তৎকালীন টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর টুজি স্পেকট্রামের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের যে সম্মতি ছিল সেটাই এসব নথিপত্রে প্রমাণিত হবে। স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারির যে সময় শুরু হয়েছিল তখন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের (ইউপিএ) অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন পি চিদাম্বরম। সুব্রামনিয়াম এবার চিদাম্বরমকে এ মামলার একটি পক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। তিনি বলছেন, ২০০৮ সালে যখন স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল তখন চিদাম্বরম এবং এ. রাজা দু’জনে মিলেই নিয়েছিলেন। তৎকালীন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এ. রাজা এর সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে গত ২রা ফেব্রুয়ারি থেকে দিল্লির তিহার কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সুব্রামনিয়াম স্বামী বলেছেন, ২০০১ সালের দর অনুযায়ী স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করার অপরাধে রাজা এবং চিদাম্বরম দুজনেই সমান অপরাধী। সুব্রামনিয়াম স্বামী এর আগেও টুজি কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন দফা নথিপত্র জমা দিয়ে চিদাম্বরমের বিচার দাবি করেছিলেন।

২০১১’র ‘বিশ্বসেরা’ গার্দিওলা

স্পোর্টস ডেস্ক: মাঠে নান্দনিক ফুটবলের রূপকার পেপ গার্দিওলা তার কারিগরির স্বীকৃতি পেলেন। ‘বিশ্বসেরা’ কোচ নির্বাচিত হয়েছেন বার্সেলোনার এ কোচ। ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল ফেডারেশন অব হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস (আইএফএফএইচএস) ২০১১ সালের সেরা কোচ নির্বাচিত করেছে গার্দিওলাকে। বিশ্বসেরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী কোচ রিয়াল মাদ্রিদের হোসে মরিনহোকে পেছনে ফেলতে গার্দিওলার অর্জিত পয়েন্ট ২০১। মরিনহোর পেছনে থেকে সেরা কোচ নির্বাচনে তৃতীয় স্থানটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের। গত সপ্তাহে আইএফএফএইচএস’র খেতাবে ‘সেরা প্লেমেকার’ নির্বাচিত হন গার্দিওলার শিষ্য জাভি হার্নান্দেজ, আর সেরা গোলরক্ষক রিয়াল মাদ্রিদের ইকার ক্যাসিয়াস। গার্দিওলার অধীনে ২০১১ সালে বার্সেলোনার শো-কেসে ওঠে পাঁচটি শিরোপা। স্প্যানিশ লা-লিগা, সুপার কোপা, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ।

উপমহাদেশে আসছে বিশ্বসেরা ফুটবলাররা

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে: চার মাস আগে মেসিদের রোমাঞ্চকর ফুটবল দেখার পর এবার কলকাতার দর্শকরা সুযোগ পাচ্ছেন রবার্তো কার্লোস, ডেনিলসন, জোলা, রেজি ব্লিনকার, কাফুদের মতো বিশ্বকাপ তারকাদের খেলা দেখার। সঙ্গে বাড়তি পাওয়া যাবে ফুটবলের রাজা পেলেকেও। মেসিদের মতোই এ বছরেই বিশ্বকাপ তারকাদের খেলা দেখার সুযোগ পাবেন  বাংলাদেশের মানুষও। জানা গেছে, বিশ্বের সুপারস্টারদের দলটি এই বছরে ২০টি দেশ সফর করবে। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায়ও তারা খেলবেন। এরপর বছরের শেষদিকে যাবেন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মরিশাস, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও জাপান। জানা গেছে, এই পর্যায়ে কার্লোস-কাফুরা পাহাড়ি দেশ নেপালে খেলে কলকাতায় আসবেন। আগামী ২৩শে জানুয়ারি কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দেখা যাবে বিশ্বকাপ তারকাদের পায়ের জাদু। বিশ্বকাপ তারকাদের সঙ্গে ফের কলকাতা মাতাতে আসছেন ফুটবলের রাজা পেলে। রোনালদো, রবার্তো ব্যাজ্জিও এবং রোনালদিনহোও আসতে পারেন বলে গত শুক্রবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন আয়োজক সংস্থা জেপিআর ইভেন্টসের সিইও সুনীল হামাল। বিশ্বের সুপারস্টার দলের নেতৃত্ব দেবেন কাফু। আর দলের কোচ হিসেবে আসছেন রুড গুলিত। আর এদের বিরুদ্ধে খেলবেন বাইচুং ভুটিয়ার নেতৃত্বাধীন স্বপ্নের ভারতীয় একাদশ। এই একাদশে আইএম বিজয়ন, জো পল আনচেরি, সুনীল ছেত্রীদের পাশাপাশি দেখা যাবে বলিউডের সেলিব্রেটিদেরও। জানা গেছে, বাইচুং ভুটিয়ার নেতৃত্বাধীন সেই একাদশে দেখা যেতে পারে জন আব্রাহাম, দিনো মারিয়ার মতো অভিনেতাদের। ভারতীয় দলের অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়া এদিন সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ তারকাদের হারানোর এটাই ভারতের কাছে একটা সুযোগ। তাছাড়া পেলের উপস্থিতিতে বিশ্বকাপ তারকাদের পাশাপাশি খেলা যে কোন খেলোয়াড়ের কাছে একটা স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন সার্র্থক হতে চলেছে বলে তিনি জানান।

প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ: বলের কারণে ইনজুরি আতঙ্কে ক্রিকেটাররা

স্পোর্টস রিপোর্টার: বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে বিড়ম্বনা শব্দটি এখন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিদিনই কোন না কোন বিষয়েই থাকছে বিড়ম্বনা। আর এই বিড়ম্বনার নাম কখনও ক্রিকেটার, কখনও কর্মকর্তা, মাঠ, স্পন্সর আবার কখনও বলও। এই মওসুমে চলতে থাকা ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে অনেক বিড়ম্বনার সঙ্গে আরেকটি নাম যুক্ত হয়েছে বল। এবার প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ খেলা হচ্ছে ‘এসজি’ বল দিয়ে। আর এই বল নিয়ে আপত্তি উঠেছে ক্রিকেটারদের মধ্যেই। ৪ঠা জানুয়ারি প্রাইম ধলেশ্বরের বিপক্ষে নিজের বলে ক্যাচ ধরতে গিয়ে আবাহনীর ইলিয়াস সানির হাত ফেটে রক্ত ঝরেছে। তিনি এই ইনজুরির কারণে খেলতে পারবেন না অন্তত ১০ দিন। তিনিই অভিযোগ করে বলেছেন, ‘এসজি বলটি আগের কুকাবুরা বলের চেয়ে অনেক শক্ত আর ভারিও বেশি। যে কারণেই বল ধরতে গিয়ে ঘটছে অঘটন।’ এই বল দিয়ে শুধু ইলিয়াস সানিই নয় আহত হয়েছেন আরও অনেক ক্রিকেটারই। গত ২৯শে জানুয়ারি লীগের উদ্বোধনী ম্যাচে ফিরতি ক্যাচ ধরতে গিয়ে আঙুল  ফেটে যায়  ব্রাদার্স  ইউনিয়নের তাপস ঘোষের। সেই সঙ্গে ব্যথা পেয়েছেন জাতীয় দলের বাঁহাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। অন্যদিকে, শুধু  বোলাররা নন, ফিল্ডিং করতে গিয়ে নিয়মিত সমস্যায় পড়ছেন ক্রিকেটাররা। আর বাদ পড়ছেন না ব্যাটসম্যানরাও। ৫ই জানুয়ারি  ব্রাদার্সের পাকিস্তানি পেসার সোহেল তানভিরের বলে আঘাত পেয়েছেন শেখ জামালের মুশফিকুর রহিম এবং দীপক জুনও। কিন্তু এমন ঘটনার পরও কেন এই বল ব্যবহার হচ্ছে? তা জানতে চাইলে সিসিডিএমের সদস্য সচিব ইকবাল ইউসুফ চৌধুরী নিকু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আগে যে বলটি ব্যবহার করতাম তার নাম কুকাবুরা, যা মানের কারণে অনেক দামী একটি বল। এর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় নয় হাজার টাকা। তখন আমরা একটি বল ব্যবহার করতাম পুরো ৫০ ওভারের জন্য। আর কুকাবুরা বলটি মানের কারণে ৫০ ওভার খেলা যেতো। এখন আমাদের বল ব্যবহার করতে হয় ২টি। তাই খরচ কমাতে এখন আমরা এই বল ব্যবহার করছি। কারণ এসজি বলের বাজার মূল্য মাত্র ২৬শ’ টাকা। এবার লীগের কোন স্পন্সর না থাকার কারণে খরচ আমাদের কমাতে হবেই’। কিন্তু খরচ কমাতে গিয়ে ক্রিকেটাররা পড়ছেন ইনজুরির শঙ্কায়। আর এই অভিযোগ ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকেই। তাহলে এই বিষয়টি কি বিবেচনায়  নেবে না সিসিডিএম? এমন প্রশ্নের জবাবে নিকু জানিয়েছেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছি। আশা করি, অচিরেই এই বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।’

আবারও রগরগে ইমরান-তনুশ্রী

বিনোদন ডেস্ক: ‘আশিক বানায়া আপনে’ ছবিতে বিছানার রগরগে দৃশ্যে অভিনয় করে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলেন ইমরান হাশমি ও তনুশ্রী দত্ত জুটি। ছবির টাইটেল গানে ব্যাপক খোলামেলা দৃশ্যে পারফর্ম এবং ইমরানের সঙ্গে চুমোদৃশ্যে ক্যামেরবান্দি হয়ে নিজের এই প্রথম ছবিতেই দর্শক দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন তনুশ্রী। এরপর বেশ ক’টি ছবিতেই ইমরান ও তনুশ্রী জুটিকে পাওয়া গেছে, যার প্রতিটিই ছিল আলোচিত। কিন্তু তারপর পরিচালকদের তনুশ্রীকে বাদ দিয়ে নিজের বিপরীতে অন্য নতুন নায়িকা নেয়ার অনুরোধ করতে থাকেন হাশমি। যার ফলে তনুুশ্রী ও হাশমির মধ্যে বেশ দূরত্ব তৈরি হয়। এ কারণেই বেশ ক’বছর ধরে একে অপরের বিপরীতে অভিনয় করেননি তারা। দীর্ঘ বিরতির পর তারা আবারও একটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এর মাধ্যমে সমপ্রতি ইমরান-তনুশ্রী সম্পর্কেরও উন্নতি হয়েছে। মহেশ ভাটের এ ছবিতে একাধিক ঘনিষ্ঠ ও চুমোদৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হতে যাচ্ছেন তারা। এ ছবিতে আগের চেয়ে আরও খোলামেলা তনুশ্রীকে উপস্থাপনের পরিকল্পনা করেছেন মহেশ ভাট। ‘আশিক বানায়া আপনে’র সিক্যুয়ালের কথা চিন্তা করেই এর স্ক্রিপ্ট করা হয়েছে। তবে পাকাপাকি হয়নি আসলেই আশিক বানায়া আপনের সিক্যুয়াল হবে কিনা। তবে সিক্যুয়াল হোক আর না হোক, অনেক দিন পর দর্শকরা আবারও রগরগে দৃশ্যে দেখতে পাবেন ইমরান ও তনুশ্রীকে।

চট্টগ্রামে লোকসংস্কৃতি উৎসবে মাটির টান

মহিউদ্দীন জুয়েল চট্টগ্রাম থেকে: ‘বসন্ত বাতাসে সই গো, বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ, আমার বাড়ি আসে সই গো’- জনপ্রিয় এ গানটি যখন গাওয়া হচ্ছিল তখন সবার চোখে মুখে ভেসে উঠছিল একজনের ছবি। তিনি শাহ আবদুল করিম। তবে কেবল তিনি নন, তার মতো এমন দেশবরেণ্য আর গুণী শিল্পীদের রেখে যাওয়া অসংখ্য গানে জমজমাটভাবে গতকাল শেষ হলো চট্টগ্রামের ২ দিনব্যাপী লোকসংস্কৃতি উৎসব। অনুষ্ঠানে এসেছিলেন দেশের প্রথিতযশা কবি, সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পী আর লোকগানপ্রেমী হাজার হাজার ভক্ত। সবার পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল বন্দর নগরীর ডিসি হিল পার্ক। ‘সমাজ সমীক্ষা সংঘ’ নামের একটি গবেষণামূলক সংগঠন ছিলো উৎসবের আয়োজক। ‘প্রাণে বাজুক প্রাণের সুর’- এমন স্লোগানকে সামনে রেখে গত শুক্রবার বিকালে শুরু হয় উৎসবের প্রথম দিনের জমজমাট আসর। চলে গতকাল রাত পর্যন্ত। উৎসব উপলক্ষে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এতে ঢোলবাদক বাবুল জলদাস তার দল নিয়ে ঢোল বাজিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল বাঙালির কৃষ্টি, কালচারের ছাপ। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা বরেণ্য কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সঙ্গে কথা হলো। তিনি বলেন, এ ধরনের উৎসব বাঙালির শেকড়ে জন্ম নেয়া সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়। এখানকার গানে, নৃত্যে মিশে আছে আমাদের দেশের কথা, গ্রাম্য সরলতা, প্রকৃতির অপার প্রেম আর ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, কালের আবহে অনেক লোকজ ঐতিহ্য সবাই ভুলতে বসেছে। এসব ঐতিহ্য অবশ্যই আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। উৎসবে গান শুনতে আসা লোকজন যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন সেই বাঙালিয়ানায়। শিল্পীরা যখন এক এক করে গাইছিলেন হারিয়ে যেতে বসা আমাদের রবীন্দ্রনাথের বাউল, প্রয়াত শাহ আবদুল করিম, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক, রাধারমন, কুষ্টিয়ার পাগলা বাবুল, কবি বিশ্বাসের লালন ও বাউল, শচীন দেব বর্মনের গানগুলো তখন উপস্থিত শ্রোতারা খুঁজে ফিরছিলেন সংগীতের মাদকতা। একই সঙ্গে তাদের মনে জাগ্রত হচ্ছিল বাংলার প্রকৃতির প্রেম, নারী আর দেশমাতৃকার প্রতি ভালবাসা। রংপুরের বিশ্বনাথ মোহন্ত ও রাধারানী সরকার পরিবেশন করেন ভাওয়াইয়া গান। জহির আলম গেয়ে শোনান পল্লীগীতি। কিরণ চন্দ্র রায়ের ছিল একক পরিবেশনা। তবে কেবল গান নয়, গানের পাশাপাশি আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দিতে ছিল মনভোলানো, উপভোগ্য নাচ। মণিপুরী, মৃদঙ্গ, খাগড়াছড়ির গিরি আর প্রমা অবন্তীর পরিচালনায় লোকনৃত্য সবার নজর কাড়ে। উৎসব আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজ সমীক্ষা সংঘের পরিচালক মিন্টু চৌধুরী বলেন, বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তৃতীয়বারের মতো আমরা এ উৎসব করছি। আগামীতেও এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে।