Tuesday, June 28, 2011

আলোর পথযাত্রী জাহানারা ইমাম

সকাল আটটা-সাড়ে আটটায় এলিফ্যান্ট রোডের বাড়ি কণিকায় গিয়ে দেখতাম, ইংরেজি-বাংলা প্রায় সব দৈনিক পত্রিকায় ছাপার অক্ষরে বেরোনো একাত্তরের ঘাতক-দালালবিরোধী আন্দোলনের বিশেষ সংবাদ, নিবন্ধ, প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয়তে তিনি ভোরেই টিক দিয়ে রেখেছেন। খাওয়ার টেবিল দখল করেছে কাগজের স্তূপ। তাঁর বাড়ি পাহারা দেওয়ার সময় আমাদের অনেক কাজের একটি ছিল, কাঁচি দিয়ে পত্রিকার সেই চিহ্নিত অংশগুলো কেটে তাতে আঠা লাগিয়ে সাদা কাগজে লাগানো এবং পরে পরিষ্কার করে দৈনিক পত্রিকার নাম ও তারিখ লিখে ফাইলবদ্ধ করা। আমরা কাজ করি আর তিনি পাশে বসে, কখনো বা পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ জোগান আমাদের। বলেন, ‘এই তো ওদের দিন ঘনিয়ে এল। দেখো, সারা দেশে কী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই আন্দোলন। দেশ জেগে উঠছে, আমাদের তরুণ প্রজন্ম সোচ্চার। আর কত দিন আমাদের সন্তানদের চোখে ঠুলি পরিয়ে রাখবে? ওই পাষণ্ডেরা একাত্তরে যে রক্তগঙ্গা বইয়েছে এ দেশে—তা আড়াল করার যত চেষ্টাই করুক না কেন সরকার, তা বৃথা যেতে বাধ্য।’
ফাইলিংয়ের এই কাজ করার সময় এক দিন আপ্লুত কণ্ঠে বললেন, ‘শোনো, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের সাথে কথা বলেছি। তিনি এসব ডকুমেন্ট মাইক্রোফিল্ম করতে যাবতীয় সহায়তা দেবেন। তখন সহজেই সারা বিশ্বে আমাদের এ আন্দোলনের খবর ছড়িয়ে দিতে পারব। দেশে-বিদেশে আমাদের আন্দোলনের তীব্রতায় সরকার বাধ্য হবে নতজানু হতে।’ আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে ই-মেইল, মোবাইল ফোন, ফেসবুক, টুইটারবিহীন বাংলাদেশে একাত্তরের ঘাতক-দালালদের প্রতিরোধ করার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করার আন্দোলন সর্বব্যাপী করতে এভাবেই সক্রিয় ছিলেন জাহানারা ইমাম।
সে এক অন্য রকম সময়। একানব্বইয়ের ডিসেম্বরে পাকিস্তানি নাগরিক, যুদ্ধাপরাধীদের শিরোমণি গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ঘোষণা করা মাত্রই প্রতিবাদ করে এ দেশের বুদ্ধিজীবী-পেশাজীবী সম্প্রদায়। মুক্তিযুদ্ধপক্ষের সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠন, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠন, শহীদ সন্তানদের সংগঠনসহ (প্রজন্ম ’৭১) আপামর ছাত্র-জনতা তখন শামিল হয়েছিল এক মঞ্চে—সে মঞ্চের নেতা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীকৃত নারকীয় হত্যাযজ্ঞের হোতাদের জন্য বার্ট্রান্ড রাসেলের নেতৃত্বে করা হয়েছিল ‘পাবলিক ট্রায়াল’। এর আদলে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচারের জন্য জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ আয়োজন করা হলো ‘গণ-আদালত’-এর। দেশবাসী যেন এমনই এক ডাকের প্রতীক্ষায় ছিল দীর্ঘকাল। বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো সর্বব্যাপী হলো এ আন্দোলন, জাহানারা ইমামের মতো এক যোগ্য কান্ডারির কারণে। তাঁর তেজোদীপ্ত কণ্ঠের চাবুকে উন্মাতাল দেশবাসী তখন এককাট্টা নিজ বাসভূমে নির্বাসিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষায়। মঞ্চ থেকে প্রেরণাদায়ী, সাহস-সঞ্চারী, স্বপ্ন-জাগানিয়া ভাষণই তিনি শুধু দিতেন না, আন্দোলন বেগবান করতে ও সঠিক পথে জারি রাখতে তিনি ছিলেন ‘ক্লান্তিহীন, শ্রান্তিহীন, সংকটে অটল’। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে কিংবা গুলিস্তানের মোড়ে যে সভা হবে বিকেলে, তার মঞ্চ ঠিকভাবে হলো কি না, মাইক ঠিকমতো আসছে কি না বা অন্য কোনো বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে কি না তা জানতে তিনি সরেজমিনে সকালেই হাজির হতেন সভাস্থলে। কমলা রঙের ভক্সওয়াগন গাড়িতে চড়ে তাঁর সঙ্গে অনেকের মতো আমারও এসব জায়গায় যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে।
আরেকবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত জাতীয় কনভেনশনে প্রজন্ম ’৭১-এর সদস্যরা দায়িত্ব পেলাম প্রতিনিধিদের নিবন্ধন করার। আমরা কড়া রোদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা অতিথিদের নিবন্ধনে যখন ব্যস্ত, তখন মিলনায়তনের মঞ্চে বসা জাহানারা ইমাম মূল অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগে আমাকে একটা চিরকুট পাঠালেন। সেখানে লেখা—‘আর আধঘণ্টা কাজ করে তুমি সবাইকে নিয়ে ভেতরে চলে এসো।’ তীব্র দাবদাহ থেকে আমাদের শুধু রক্ষা করার জন্য নয়, জাতীয় এই কনভেনশনে আমাদের শহীদ পরিবারের সন্তানদের উপস্থিতিকে গুরুত্ব দিতে এই চিরকুটখানা শত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি আমাকে দিতে ভোলেননি। এ রকম অভিজ্ঞতা শুধু আমার নয়, যাঁরাই তাঁর সান্নিধ্যে এসেছেন, তাঁদেরই হয়েছে।
নানা ঘাত-প্রতিঘাত সামাল দিয়ে জাহানারা ইমাম যখন এগিয়ে নিয়ে গেছেন এই আন্দোলন, তখন অন্যদিকে তদানীন্তন খালেদা জিয়ার সরকার নির্লজ্জভাবে সমর্থন দিয়ে চলেছিল যুদ্ধাপরাধীদের। জাতীয় সংসদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় সাংসদেরা যখন বিচারের দাবিতে সোচ্চার, তখন কঠোর হাতে এ আন্দোলন দমন করতে সরকার সচেষ্ট ছিল শুরু থেকেই। পুলিশ বাহিনী দিয়ে প্রকাশ্যে জাহানারা ইমামের ওপর লাঠিচার্জ করেই ক্ষান্ত হয়নি সরকার, একাত্তরের হত্যাকারীদের বিচার চাওয়ার অপরাধে তাঁকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেছে। সত্যিই সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ!
১৯৯৪ সালের এই দিনে আমরা হারালাম শহীদ জননীকে। সুদূর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঠের বারকোশে ‘নিষ্প্রাণ রাষ্ট্রদ্রোহী’র স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘটল যেদিন, সেদিন শিকড়হীন অনেকেই স্বস্তির ঢেঁকুর তুলেছে। আর আমরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে আরও অনেকের সঙ্গে কাতরচিত্তে অপেক্ষা করেছি আমাদের শহীদ জননীর জন্য। ক্যানসারের কাছে তিনি পরাজিত হলেন সত্য, কিন্তু তাঁর আরাধ্য দাবি, যা কিনা আমাদের সবার মনের কথা, তা ‘ছড়িয়ে গেল সবখানে’। শেখ হাসিনার সরকার আমাদের সে দাবি পূরণ করার অঙ্গীকার করেছে। কাজও শুরু হয়েছে। আজকের তারুণ্যও সে কাজের অংশভাক। নবপ্রজন্মের হাতে এখন জাহানারা ইমামের সূচিত আন্দোলনের মশাল। সে মশাল যেন নিভে না যায়।
তৌহীদ রেজা নূর

বন্দীদের জন্য টেলিফোন

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্তৃপক্ষ সব বন্দীকে টেলিফোন-সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে এ কারাগারে আটক প্রায় ১৩ হাজার বন্দী তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও আইনজীবীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ পাবে। এ জন্য বন্দীদের মাসে ৩০ রুপি করে পরিশোধ করতে হবে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। কারাগারে বন্দীরা অবৈধভাবে মুঠোফোন ব্যবহার করে—এ ধরনের টানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আট লাখ কানাডীয় ডলারে বিক্রি হলো ডায়ানার পোশাক

ব্রিটেনের প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার একটি পোশাক গত বৃহস্পতিবার নিলামে আট লাখ কানাডীয় ডলারে (পাঁচ লাখ ১০ হাজার পাউন্ড) বিক্রি হয়েছে। কানাডার টরন্টোয় এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াডিংটনস এই নিলামের আয়োজন করে।
১৯৮৫ সালে গাঢ় নীল রঙের এই মখমলের পোশাক পরে হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় ভোজে হলিউড তারকা জন ট্রাভোল্টার সঙ্গে নেচেছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানা। পোশাকটি নকশা করেন বিশিষ্ট নকশাকার ভিক্টর এডেলস্টেইন।

সেরেঙ্গেটিতে রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল

বন্য প্রাণী ধ্বংস হতে পারে বলে সতর্কতার পর বিখ্যাত সেরেঙ্গেটি ন্যাশনাল পার্কের ভেতর দিয়ে পাকা রাস্তা নির্মাণের বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল করেছে তানজানিয়া সরকার। পার্কের ভেতরের রাস্তাটি নুড়ি-বিছানো অবস্থায়ই রেখে দেওয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবেশ আন্দোলনকারীরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দূরপাল্লার যাতায়াতের জন্য ব্যবহূত বিশ্বের সবচেয়ে বড় বনাঞ্চল সেরেঙ্গেটি। এ ছাড়া এটি পৃথিবীর সবচেয়ে আশ্চর্য ১০ প্রাকৃতিক পর্যটনক্ষেত্রের মধ্যে একটি।
তানজানিয়ার সরকার ভিক্টোরিয়া হ্রদকে উপকূলীয় বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করতে ওই পার্কের মধ্য দিয়ে দুই লেনের একটি মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছিল। কিন্তু পরিবেশ গবেষণায় দেখা গেছে, এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে জেব্রা, উইল্ডিবিস্ট প্রভৃতি বন্য প্রাণী। ওই প্রাণীরা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে দল বেঁধে গভীর জঙ্গলের ভেতর দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে।
গত বছর একদল বিজ্ঞানী সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, সেরেঙ্গেটি পার্কের ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মিত হলে ওই জঙ্গলে উইল্ডিবিস্টের সংখ্যা তিন লাখে নেমে আসতে পারে।

পাকিস্তানের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন হিনা?

পাকিস্তানের বর্তমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিনা রাব্বানী খানকে (৩৪) পূর্ণ মন্ত্রী করা হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে হিনা রাব্বানীই এগিয়ে আছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদটি গত ফেব্রুয়ারি থেকে ফাঁকা।
পাকিস্তান ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, আগামী জুলাইয়ে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর করবেন। এ প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন খবর সত্যি হলে তিনিই হবেন পাকিস্তানের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিউইয়র্কে সমকামীদের মধ্যে বিয়ের আইন পাস

দীর্ঘ রাজনৈতিক বিতর্কের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে সমকামীদের মধ্যে বিয়ের আইন পাস হয়েছে। গত শুক্রবার অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে ৩৩-২৯ ভোটে সমকামীদের মধ্যে বিয়ের আইনটি অনুমোদিত হয়। পরে এতে স্বাক্ষর করেন নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো।
গভর্নরের স্বাক্ষরের ৩০ দিন পর আইনটি কার্যকর হবে। সমকামীদের মধ্যে বিয়ের আইন প্রণীত হওয়ায় নিউইয়র্কে পুরুষ পুরুষকে এবং নারী নারীকে বিয়ে করে ঘরসংসার করতে পারবে। এ ধরনের দম্পতিরা দাম্পত্য আইন, উত্তরাধিকার আইনের সব অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে ভোগ করতে পারবে।
সমকামীদের মধ্যে বিয়ের স্বীকৃতির জন্য পশ্চিমা বিশ্বে অর্ধশতাব্দী ধরে আন্দোলন চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক ষষ্ঠ অঙ্গরাজ্য, যেখানে সমকামীদের মধ্যে বিয়েকে আইনগতভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। এর আগে কানেটিকাট, আইওয়া, ম্যাসাচুসেটস, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ভারমন্ট ও ওয়াশিংটন ডিসিতে সমকামীদের মধ্যে বিয়ের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে উদারনৈতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে সমকামীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার। ওই অঙ্গরাজ্যের গত রাজ্য গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো সমকামীদের মধ্যে বিয়েকে আইনসিদ্ধ করার অঙ্গীকার করেন। এখানকার সিনেটে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় আইনটি তুমুল বিতর্কের মধ্যে পড়ে। সম্প্রতি নিউইয়র্কের হাজার হাজার সমকামী নারী-পুরুষ ও নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো আইন প্রণয়নের পক্ষে সোচ্চার হয়। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের এক সভায় সমকামীদের অধিকার ও দাবির প্রতি তাঁর সমর্থন ঘোষণা করেন।
জোরালো দাবির মুখে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটের চারজন রিপাবলিকান সিনেটর দলের বিপক্ষে অবস্থান নেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ২৯ জন আইনপ্রণেতার সঙ্গে চারজন বিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও যোগ দেন। শুক্রবার রাতে সমকামীদের মধ্যে বিয়ের আইনের বিষয়ে ভোটাভুটিতে অধিকার লাভের বিষয়টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনি থেকে সমকামীদের বিয়ের আইন পাস হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমকামীরা আনন্দে মেতে ওঠে। নাগরিক অধিকার সংগঠন এবং উদারনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ আইন প্রণয়ন মানবাধিকার, সাম্যতা ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
রক্ষণশীল ও খ্রিষ্টান ধর্মযাজকেরা এ আইনের তীব্র বিরোধিতা করছেন। নিউইয়র্কের আর্চবিশপ টিমোথি ওলান বলেন, সমকামীদের প্রতি সব ধরনের সহানুভূতি থাকা সত্ত্বেও আমরা মনে করি, বিয়ে হবে নারী ও পুরুষের মধ্যে। এর কোনো ভিন্নতার স্থান ধর্মে নেই। প্রকৃতিও সমলিঙ্গের মধ্যে বিয়ে বা দাম্পত্যকে সমর্থন করে না বলে বিভিন্ন ধর্মগোষ্ঠী ও রক্ষণশালীরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে।

উত্তর কোরিয়ায় সরকারবিরোধী লাখো প্রচারপত্র

উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে সে দেশের পক্ষ ত্যাগকারীরা গতকাল শনিবার দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় অন্তত এক লাখ প্রচারপত্র ছড়িয়ে দিয়েছে। কোরীয় যুদ্ধ শুরুর বার্ষিকী উপলক্ষে গ্যাস-বেলুনের সাহায্যে এসব প্রচারপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ফাইটারস ফর ফ্রি নর্থ কোরিয়ার অন্তত ১০ জন সদস্য পাঁচটি বড় গ্যাস-বেলুনে ওই প্রচারপত্র আকাশে উড়িয়ে দেয়। পরে দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের সাহায্যে বেলুনগুলো ফাটানো হয়।
এসব প্রচারপত্রে পিয়ংইয়ংবিরোধী নানা স্লোগান লেখা ছিল। দেশটির নেতা কিম জং-ইলকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানানো হয়।
১৯৫০ সালের ২৫ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর উত্তরের হামলা শুরু হয়। এ যুদ্ধ তিন বছর ধরে চলে। এ কথা উল্লেখ করে কোনো কোনো প্রচারপত্রে লেখা হয় ‘কোরীয় যুদ্ধের কথা স্মরণ করুন।’ কোনো কোনো প্রচারপত্রে লেখা হয়, ‘ভাইয়েরা জেগে ওঠো, সাহসিকতার সঙ্গে লড়ো, তিন প্রজন্ম ধরে চলা স্বৈরতন্ত্রের বিনাশ করো।’
বেলুনগুলোতে প্রচারপত্র ছাড়াও শত শত ডিভিডি ও প্রণোদনা হিসেবে এক ডলার রাখা হয়। যাতে সরকারের নিপীড়নের ভয় জয় করে জনগণ ওই প্রচারপত্রগুলো সংগ্রহ করে।

নানা আয়োজনে জ্যাকসনকে স্মরণ

বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনে পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনকে স্মরণ করল ভক্ত-অনুরাগীরা। গতকাল শনিবার ছিল জ্যাকসনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। কিন্তু এই দুই বছরেও তাঁর মৃত্যুরহস্যের জট খোলেনি।
২০০৯ সালের ২৫ জুন ৫০ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলসের বাড়িতে মারা যান মাইকেল জ্যাকসন। এরপর তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, মাত্রাতিরিক্ত বেদনানাশক সেবনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ জন্য দায়ী করা হয় তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক কনরাড মারেকে। গত মে মাসে মারের বিচার শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার শুরু পিছিয়ে যায়। আগামী সেপ্টেম্বরে বিচার শুরুর কথা রয়েছে।
জ্যাকসনের তিন সন্তান প্রিন্স, প্যারিস ও ব্লাঙ্কেটের গতকাল লস অ্যাঞ্জেলসের ফরেস্ট লন সিমেট্রিতে তাদের বাবার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। বাবার মৃত্যুর পর থেকে তারা তিনজন দাদি ক্যাথেরিন জ্যাকসনের কাছে রয়েছে।
জ্যাকসনের নিজের শহর ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারিতেও গতকাল জড়ো হয়েছিল ভক্তরা। সেখানে তারা জ্যাকসনের একটি ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় এবং জ্যাকসনের শৈশবকালীন বাসভবনে মিলিত হয়ে মোমবাতি প্রজ্বালন করে। এ ছাড়া পপসম্রাটের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছোট-বড় নানা অনুষ্ঠান হয়েছে। গানে গানে তাঁকে স্মরণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর কয়েক দিন আগে জ্যাকসনের বোন লা টয়া একটি নতুন বই প্রকাশ করেছেন। এতে তিনি আবারও দাবি করেছেন, তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর্থিক কোনো বিষয় জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

সন্ত্রাসবাদ দমনে যৌথভাবে লড়বে আফগানিস্তান, ইরান ও পাকিস্তান

আফগানিস্তান, ইরান ও পাকিস্তান যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। গতকাল শনিবার এই তিন দেশের প্রেসিডেন্ট এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছেন।
ইরানের রাজধানী তেহরানে সন্ত্রাসবাদবিরোধী দুই দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন গতকাল শুরু হয়েছে। এই সম্মেলন সামনে রেখে শুক্রবার আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি নিজেদের মধ্যে আলাদা বৈঠক করেন। এই বৈঠকের পর গতকাল তাঁরা যৌথ বিবৃতি দেন।
ইরানের বার্তা সংস্থা ইরনা এই যৌথ বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ইসলামের চেতনা এবং এ অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও এখানকার লোকজনের স্বার্থবিরোধী জঙ্গিবাদ, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ দমন এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ এড়াতে সব পক্ষ অঙ্গীকার করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের শেষ নাগাদ ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী সম্মেলনের রূপরেখা তৈরি করতে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, নিরাপত্তা ও অর্থমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক চালিয়ে নিতে সব পক্ষ সম্মত হয়েছে।
এদিকে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে আফগান প্রেসিডেন্ট কারজাই গতকাল বলেছেন, তাঁর সরকারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আফগানিস্তানসহ এ অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ বেড়ে চলেছে। তিনি বলেন, শিক্ষা, অবকাঠামো ও পুনর্গঠন খাতে সার্বিক অর্জন সত্ত্বেও দুর্ভাগ্যবশত আফগানিস্তানে এখনো শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। উপরন্তু আফগানিস্তানসহ এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সত্যিই হুমকির মুখে। আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ দমনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কেননা, সন্ত্রাসবাদ এমন এক শক্তি, যা থেকে কোনো দেশই মুক্ত নয়।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় কারজাই বলেন, নিরাপত্তা বজায় রাখতে তাঁর সরকার জোরালো পদক্ষেপ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণাকে তিনি ‘যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের জন্য ভালো দিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আফগানিস্তানকে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমরা ধন্যবাদ জানাই।’ তিনি আরও বলেন, এই ভূখণ্ড তাঁর নিজের সন্তানেরাই পুনর্গঠন করতে পারবে এবং সেটাই হওয়া উচিত।
সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন, ‘মানুষ হত্যা ও তাঁদের মালামাল ধ্বংস করে সন্ত্রাসীরা মানবিক ও পবিত্র মূল্যবোধের অমর্যাদা করেছে। তাদের কোনো ধর্ম নেই।’ তিনি বলেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় এ পর্যন্ত ৩৫ হাজার লোক মারা গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচ হাজার হলো নিরাপত্তাকর্মী। তা ছাড়া সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে পাকিস্তানের ছয় হাজার ৭০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ তাঁর ভাষণে এ অঞ্চলে সেনা পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাকে ‘অজুহাত’ হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, যেভাবে এ ঘটনাকে ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে ১১ সেপ্টেম্বর হলো বড় ধরনের একটি ধ্বংসযজ্ঞের নাম। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ হামলাকে ছুতা হিসেবে ব্যবহার করে দুটি দেশ দখল করেছে এবং এ অঞ্চলের মানুষকে হত্যা, আহত ও ঘরছাড়া করছে।
সম্মেলনে আফগানিস্তান, ইরান ও পাকিস্তান ছাড়াও এই অঞ্চলের আরও তিনটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা যোগ দিয়েছেন।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট আইন যুগোপযোগী করার তাগিদ

পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন যুগোপযোগী করার তাগিদ দিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা বাজারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আলাদা আদালত বা ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও তাগিদ দেন।
গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ তাগিদ দেন। সিইসি মিলনায়তনে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান মো. খায়রুল হোসেন পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন এসইসির তিন সদস্য মো. আরিফ খান, মো. আমজাদ হোসেন ও মো. হেলাল উদ্দিন নিজামী। এতে সভাপতিত্ব করেন সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ।
সেমিনারে শেয়ারবাজার বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন সিএসইর সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ খান, বর্তমান সহসভাপতি কামরুল ইসলাম চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সদস্য আনোয়ার হোসেন, আসাদুল ইসলাম, আবুল হাশেম খান, মো, সাইফুদ্দিন প্রমুখ।
এসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন বলেন, ‘আমরা এসইসিকে শক্তিশালী করতে চাই। একে একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, ‘ব্রোকারেজ হাউসের কমিশনের ওপর যাতে বাড়তি কর আরোপ করা না হয়, সেটি বিবেচনায় রয়েছে।

দুই স্টক এক্সচেঞ্জে এমজেএলের লেনদেন শুরু

অবশেষে তালিকাভুক্ত হলো এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড। আজ রোববার দুই স্টক এক্সচেঞ্জে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন শুরু হয়েছে। গত বুধবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় এমজেএল। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এমজেএলের লেনদেন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। ডিএসইর পক্ষে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মুহাম্মাদ উল্লাহ ও এমজেএলের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সানাউল হক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজম জে চৌধুরী, ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সতিপতী মৈত্রসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এদিকে আজ ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড ‘এন’ ক্যাটাগরির অধীন লেনদেন হবে। ডিএসই ট্রেড কোড ‘এমজেএলবিডি’ ও কোম্পানি কোড ১৫৩১৪। অন্যদিকে সিএসইতেও ‘এন’ ক্যাটাগরির অধীন লেনদেন হবে। এ ক্ষেত্রে স্ক্রিপ আইডি ২০০১২ ও স্ক্রিপ কোড ‘এমজেএলবিডি’।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেডকে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় তালিকাভুক্তির এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ক্ষেত্রে এমজেএলের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের প্রস্তাবিত মূল্য ১৫২ টাকা ৪০ পয়সার স্থলে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি ৩৭ টাকা ৪০ পয়সা প্রাথমিক শেয়ারধারীদের রিফান্ড ওয়ারেন্ট হিসেবে প্রদান করতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিষ্ঠানটি তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বিনিয়োগকারীদের ৩৭ টাকা ৪০ পয়সা রিফান্ড প্রদান সম্পন্ন হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার তালিকাভুক্তি সম্পন্ন হয়।
প্রসঙ্গত, বাজারের সাম্প্রতিক ধসের পর কোম্পানিটির শেয়ার অতি মূল্যায়িত হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ জানুয়ারি কোম্পানিটির তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়। তালিকাভুক্তির বিষয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়াতে প্রতিষ্ঠানটি তালিকাভুক্তির সময় কয়েক দফা বৃদ্ধি করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।

লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের লেনদেন স্থগিত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের লেনদেন স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ রোববার দুপুর ১২টা দুই মিনিটে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়। দিনের বাকি সময়ের জন্য সময়ের জন্য এই আদেশ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কেনাবেচায় আরও সতর্ক হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অন্যদিকে শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই ও সিএসইর গত ২৩ জুন প্রদান করা নোটিশের জবাব দিয়েছে চার প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, লিগাসি ফুটওয়্যার, অ্যাপেক্স ফুডস, এএমসিএল (প্রাণ) ও কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্স।
প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, সম্প্রতি এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য তাদের কাছে নেই।

ডিএসইতে সূচক কমলেও সিএসইতে বেড়েছে

সপ্তাহের প্রথম দিনে আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হলেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। তবে ডিএসইতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়েই লেনদেন শুরু হয়েছিল। আজ দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনও কমেছে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১১-১২ বাজেটকে সামনে রেখে বিনিয়োগকারীরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন। অনেক বিনিয়োগকারী বাজেটে কী হয়, তা পর্যবেক্ষণের জন্য বাজার থেকে দূরে রয়েছেন। বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ডিএসইতে সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের আধা ঘণ্টায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৫৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে এর পর থেকে সূচক কমতে থাকে। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৬ পয়েন্ট কমে ৫৮৪১.২৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
ডিএসইতে আজ ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ৯১টির, কমেছে ১৪৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৫০৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১১০ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড, গ্রামীণফোন, ওয়ান ব্যাংক, ইউসিবিএল, বেক্সিমকো, লঙ্কা-বাংলা ফাইন্যান্স, সিটি ব্যাংক, এমআই সিমেন্ট, এবি ব্যাংক ও ইউনাইটেড এয়ার।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৩৭.৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৬২৪৬.৪৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ৪৫টির, কমেছে ১২৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে মোট ৬৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে তিন কোটি টাকা কম।

ভিয়া বার্সারই

দলবদলের বাজারের বাজেট বাড়াতে ডেভিড ভিয়াকে বেচে দিতে চায় বার্সেলোনা। এমন গুঞ্জনের মাঝে মুখ খুললেন এই স্ট্রাইকার। জানিয়ে দিলেন, ‘এখন পর্যন্ত যেসব বলা হয়েছে সেসবে আমি একটু মাথা ঘামাইনি। কারণ এটা কোনো গুঞ্জন বা অনুমান নয়; এটা স্রেফ মিথ্যা। আমার তো ইচ্ছা বার্সেলোনায় খেলেই অবসর নেওয়া। এখান থেকেই বোঝা যায়, এখানে সবকিছুই আমার জন্য ভালোমতো চলছে।

কৃপণ বোলিংয়ে সাকিবের ২ উইকেট

লিস্টারশায়ারের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে যখন ঝড়, বোলিংয়ে এসে সাকিব আল হাসান প্রথম ওভারে দিলেন ১ রান। পরের ওভারে ২ রান দিয়ে নিলেন জেমস টেলর ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের উইকেট। এর আগে রানআউট করেন জ্যাকস ডু টোইটকে। ৪ ওভারে ১১ রান দিয়ে ২ উইকেট। কিন্তু ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থ, কাল আউট ৯ রানে। আর তাঁর দল উস্টারশায়ারও ম্যাচে হেরে গেছে ১৯ রানে। গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে থাকা স্বাগতিক লিস্টার ২০ ওভারে তোলে ৯ উইকেটে ১৫১। উস্টার ৭ উইকেটে ১৩২ রানের বেশি যেতে পারেনি। ম্যাকডোনাল্ডকে আউট করেছিলেন সাকিব। পরে তাঁকে আউট করে অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার তার প্রতিশোধ নিয়েছেন।

রক্তচাপ ১৭০/১১০

কথা ছিল ফুটবলারদের সঙ্গে পরিচিতি পর্বটা সেরে ফেলবেন বিকেএসপি পৌঁঁছেই। কিন্তু হলো না। কাল বিকেলে বিকেএসপি পৌঁছেই নতুন কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কি টের পেলেন শরীরের অবস্থা ঠিক সুবিধার নয়। বিচলিত হয়ে পড়লেন ফুটবল দলের ম্যানেজার ছাইদ হাসান কানন। সঙ্গে সঙ্গেই ডাক পড়ল বাফুফের চিকিৎসক পারভেজের। রক্তচাপ মেপে দেখা গেল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি—১৭০/১১০! সবকিছু বাদ দিয়ে আন্তর্জাতিক হোস্টেলে নিজের রুমে গিয়ে সটান শুয়ে পড়লেন কোচ। ঘণ্টা তিনেক বিশ্রাম নিলেন সেখানেই। রাত আটটার পর কিছুটা সুস্থ বোধ করায় নিজেই খেলোয়াড়দের ডেকে পরিচিত হলেন। বাংলাদেশের ফুটবল কোচের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেবে না তো?

বোল্টের স্বপ্নে টেন্ডুলকার

একের পর এক রেকর্ড পায়ে লুটিয়ে পড়েছে। মানুষের সামর্থ্যের সীমা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করিয়েছেন বারবার। কিন্তু একটা স্বপ্ন এখনো পূরণ হলো না উসাইন বোল্টের। মাঠে বসে দেখা হলো না শচীন টেন্ডুলকারের ব্যাটিং!
বিশ্বজুড়ে যাঁর কোটি কোটি ভক্ত, সেই বোল্ট নিজেই ভক্ত টেন্ডুলকারের। কিন্তু সরাসরি কখনো প্রিয় তারকার খেলা দেখা হয়নি। এবার তো ওয়েস্ট ইন্ডিজে গেলেনই না টেন্ডুলকার। বোল্টের কণ্ঠে তাই আক্ষেপ, তবে স্বপ্ন পূরণের আশা ছাড়ছেন না ‘টেন্ডুলকার আমার দেখা সেরা ক্রিকেটারদের একজন। অসাধারণ পারফরম্যান্স তাঁর, দারুণ আগ্রাসী ক্রিকেটার। তাঁর ব্যাটিং সরাসরি দেখার জন্য আমি উদ্গ্রীব। জ্যামাইকা টেস্টে টেন্ডুলকার খেললে দারুণ হতো। আমি সরাসরি তাঁর ব্যাটিং দেখতে চাই, এটা আমার স্বপ্ন।’
বোল্টের ক্রিকেট-প্রীতির কথা প্রায় সবারই জানা। শৈশবে ক্রিকেটই খেলতেন, হতে চেয়েছিলেন ফাস্ট বোলার। পথ বদলে গেছেন অ্যাথলেটিকসে। তবে ক্রিকেটের খোঁজখবর এখনো রাখেন। আগ্রাসী বলেই আরও দুজন ক্রিকেটার বোল্টের প্রিয়, ‘ধোনির খেলা দেখতেও আমার ভালো লাগে। টেন্ডুলকার-ধোনি দুজনই আগ্রাসী। আমি ক্রিস গেইলকে খেলতে দেখতে চাই। ওর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, ও আমার আরেক প্রিয় ক্রিকেটার।’
তবে বোল্টের কণ্ঠে শুধু ক্রিকেটের কথা শুনলে তো খানিকটা অপূর্ণতা থেকেই যায়। আগস্টেই দেগু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ। স্প্রিন্টের রাজা দক্ষিণ কোরিয়ায় নিজের লক্ষ্যের কথাও জানাতে ভোলেননি, ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে আমি সেরাটা দিতে চাই। এ জন্য কঠোর পরিশ্রমও করছি। আমার সব মনোযোগ এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে।’