Friday, May 13, 2011

উইলিয়ামের বিয়েতে থাকার ইচ্ছা ছিল

ব্রিটেনের ডাচেস অব ইয়র্ক সারাহ ফার্গুসন বলেছেন, প্রিন্স উইলিয়ামের বিয়েতে নিমন্ত্রণ না পাওয়া তাঁর জন্য ‘কঠিন’ ব্যাপার হলেও নিজেকে তিনি এই ভেবে সান্ত্বনা দিয়েছেন যে উইলিয়ামের মা প্রিন্সেস ডায়ানাও বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন না। টক শো তারকা অপরাহ্ উইনফ্রেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফার্গুসন এ কথা বলেন।
৬ মে তাঁর এই সাক্ষাৎকার রেকর্ড করা হয়। গতকাল বুধবার তা যুক্তরাষ্ট্রের একটি টিভি চ্যানেলে প্রচার করার কথা।
সারাহ ফার্গুসন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক বধূ। তিনি রানির ছোট ছেলে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর স্ত্রী ছিলেন। বিয়েতে তিনি আমন্ত্রণ না পেলেও তাঁর দুই মেয়ে প্রিন্সেস বিয়েত্রিস ও প্রিন্সেস ইউজিন প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
কী কারণে ফার্গুসনকে বিয়েতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তা জানা যায়নি। তবে এতে ফার্গুসন আশাহত হয়েছেন। তবে বিয়েতে তাঁকে নিমন্ত্রণ না করাটা ঠিক ছিল বলে তিনি মেনে নিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, অতীতে কিছু ভুল করার কারণে নিজেকে তিনি নিজেই সমাজচ্যুত করেছেন।

পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ডানপন্থী দলের শোক

আল-কায়েদার প্রধান নেতা ওসামা বিন লাদেন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানোর পর পাকিস্তানের প্রধান ডানপন্থী রাজনৈতিক দল জমিয়ত উলেমা ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) এবার পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করেছে। দলটির তিনজন আইনপ্রণেতা গত মঙ্গলবার পার্লামেন্টে লাদেনের জন্য শোক প্রকাশ এবং তাঁর জন্য প্রার্থনা করেন।
তবে এতে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) কোনো আইনপ্রণেতা অংশ নেননি।
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ অধিবেশন চলাকালে মৌলভি আসমাত উল্লাহ নামের একজন আইনপ্রণেতা তাঁর আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান এবং লাদেনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে প্রার্থনা শুরু করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে তাঁর দলের অন্য আইনপ্রণেতারাও যোগ দেন। তাঁরা সমস্বরে বলেন, ‘আল্লাহ ওসামা বিন লাদেনের আত্মার শান্তি দিন।’
জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার ফয়সাল করিম কুন্দি আইনপ্রণেতাদের এই কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। আইনপ্রণেতাদের এই আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটা পার্লামেন্টের শিষ্টাচার পরিপন্থী। কেননা, তাঁর অনুমতি ছাড়াই প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
স্পিকারের বক্তব্যের পর আইনপ্রণেতা আসমাত উল্লাহ বলেন, ‘ওসামা বিন লাদেন একজন মুসলিম ছিলেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এই সত্যটা মেনে নিয়েছে। তাঁর জন্য প্রার্থনা করাটা আমি ধর্মীয় দায়িত্ব বলে মনে করি।’
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তান থেকে নির্বাচিত এই আইনপ্রণেতা জানান, তাঁর সঙ্গে প্রার্থনায় তাঁর দলের আরও দুজন সদস্য লায়েক মুহাম্মদ খান ও আতাউর রেহমান যোগ দেন।

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভবন হবে বিয়ের ভেন্যু!

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কয়েকটি ভবন বিয়ে বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া এবং পার্লামেন্ট ভবনের রেস্তোরাঁগুলো জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পার্লামেন্টের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের খাদ্য সরবরাহে নিয়োজিত বিভাগকে বড় ধরনের লোকসানের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ব্রিটিশ আইনপ্রনেতারা এই পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার পরিকল্পনার খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, আইনপ্রণেতারা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এবং কর্মস্থলে কঠোর দায়িত্ব পালনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। এ কারণে পার্লামেন্টের ডাইনিং হলগুলোতে তাঁরা নিয়মিত আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজ করছেন না। এতে ডাইনিং বিল কমে গেছে। ফলে বছর শেষে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৫৭ লাখ পাউন্ড।
এই লোকসানের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনতে আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্ট ভবনের হলগুলো ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। খসড়া অনুযায়ী, ঐতিহাসিক ওয়েস্টমিনস্টার হল ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হবে। ২৫ হাজার পাউন্ড দিয়ে যে কেউ সেটি ভাড়া নিয়ে সেখানে বিয়ে বা অন্য কোনো অনুষ্ঠান সারতে পারবেন। এ ছাড়া টেমস নদীর পাড় ঘেঁষে বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত যেসব রেস্তোরাঁ রয়েছে, তা-ও সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে ও রানির অনুমোদন পেলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

বুথ-ফেরত সমীক্ষা প্রত্যাখ্যান বামফ্রন্টের

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন সংবাদ চ্যানেল বুথ-ফেরত সমীক্ষা প্রচার করে। এসব সমীক্ষায় বলা হয়, বিপুলসংখ্যক ভোটে জিততে চলেছে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট। কিন্তু এসব সমীক্ষা প্রত্যাখ্যান করেছে ক্ষমতাসীন বামফ্রন্ট।
গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, বুথ-ফেরত সমীক্ষার নামে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। অষ্টম বামফ্রন্ট সরকার হচ্ছেই। তিনি বলেন, কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের তথাকথিত বুথ-ফেরত সমীক্ষাকে অসার প্রমাণিত করে ১৩ মে শুক্রবার অষ্টম বামফ্রন্ট সরকার গড়ার রায় ঘোষণা করবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। বিমান বসু আরও বলেন, বুথ-ফেরত সমীক্ষার নামে রাজ্যের মানুষকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস চালানো হয়েছে। মানুষ এর জবাব দেবে। অতীতেও বুথ-ফেরত অনেক সমীক্ষা অসার প্রমাণিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে ভোট নেওয়া শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে এনডিটিভি, সিএনএন-আইবিএন-উইক-সিএসডিস, আজতক, স্টার নিউজ-নিয়েলসন, ইন্ডিয়া টিভি, সি-ভোটার, স্টার আনন্দ-এসি নিয়েলসন, মহুয়া টিভি, নিউজ টাইম, জিনিউজ এবং হেডলাইনস টুডে-ওআরজি তাদের বুথ-ফেরত সমীক্ষায় জানায়, এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনে বিপুল ভোটে হারতে চলেছে বামফ্রন্ট।
আনন্দবাজার পত্রিকা-এসি নিয়েলসন তাদের বুথ-ফেরত সমীক্ষায় আরও ইঙ্গিত দিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যসহ ১৫ মন্ত্রী এবার হারতে চলেছেন। তাঁরা হলেন: নিরুপম সেন, সূর্যকান্ত মিশ্র, অসীম দাসগুপ্ত, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, কিরণময় নন্দ, সুভাষ নস্কর, আনিসুর রহমান, রঞ্জিত কুণ্ডু, সুদর্শন রায় চৌধুরী, দেবেশ দাস, অনাদি সাহু, আবদুস সাত্তার, শ্রীকুমার মুখোপাধ্যায় ও বিশ্বনাথ চৌধুরী।
আর জিততে চলেছেন আটজন মন্ত্রী। তাঁরা হলেন: অশোক ভট্টাচার্য, গৌতম দেব, আবদুর রেজ্জাক মোল্লা, রেখা গোস্বামী, নরেন দে, প্রতীম চট্টোপাধ্যায়, সুশান্ত ঘোষ ও সৌমেন্দ্রনাথ বেরা।

সমীক্ষা সংস্থা কংগ্রেস-তৃণমূল বামফ্রন্ট
স্টার আনন্দ-এসি ২২৫ ৬০
নিয়েলসন
এনডিটিভি ২২৩ ৬০
সিএনএন-আইবিএন- ২২২-২৩৪ ৬০-৭২
উইক
আজতক ২১০-২২০ ৬৫-৭০
স্টার নিউজ-নিয়েলসন ২২১ ৬২
ইন্ডিয়া টিভি ২২৭ ৫৮
সি-ভোটার ২২৭-২৩৫ ৪৮-৫৬
মহুয়া টিভি ১৮৭ ১০০
নিউজ টাইম ১৬৮ ১২২
জি নিউজ ১৩৮ ১৫০

সিডনি পিস ফাউন্ডেশনের পুরস্কার পেলেন অ্যাসাঞ্জ

আলোড়ন তোলা ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ সিডনি পিস ফাউন্ডেশনের সর্বোচ্চ পুরস্কার পেয়েছেন। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অনন্য সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সিডনি পিস ফাউন্ডেশন তাঁকে এ পুরস্কার দেয়। গতকাল বুধবার লন্ডনের ফ্রন্টলাইন ক্লাবে অস্ট্রেলীয় নাগরিক অ্যাসাঞ্জের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
মার্কিন কূটনীতির গোপন তারবার্তার নানা তথ্য ফাঁস করে সারা বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছে উইকিলিকস।
সিডনি পিস ফাউন্ডেশন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এ শান্তি পুরস্কারটি অস্ট্রেলিয়ায় দেওয়া একমাত্র আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার। সংগঠনটি প্রতিবছরই শান্তি পুরস্কার হিসেবে একজন ব্যক্তিকে স্বর্ণপদক দিয়ে থাকে। তবে তাদের ১৪ বছরের ইতিহাসে অ্যাসাঞ্জসহ মাত্র চারজনকে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য সর্বোচ্চ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে এ পুরস্কার পাওয়া অন্য তিনজন হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা, তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা ও জাপানের বৌদ্ধ নেতা দাইসাকু ইকেদা।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি আরও স্পষ্ট ও জোরালো করার ব্যাপারে একাগ্রতা ও দৃঢ়তার জন্য অ্যাসাঞ্জকে ফাউন্ডেশন এ পুরস্কার দিয়েছে।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্টুয়ার্ট রিজ বলেন, মানুষের জানার অধিকারের সমর্থনে উইকিলিকস ও জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ সাংবাদিকতা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহে নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন। তথ্যের স্বাধীনতায় নিয়ে এসেছেন নতুন দিগন্ত।
ইতিপূর্বে এ পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আর্চবিশপ ইমেরিটাস ডেসমন্ড টুটু, পূর্ব তিমুরের কবি-শিল্পী ও প্রেসিডেন্ট জানানা গুসমাও।

অভিবাসীদের বৈধতার পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান ওবামার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দেড় কোটি অবৈধ অভিবাসীর বৈধতা দেওয়ার পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত মঙ্গলবার মেক্সিকো সীমান্তের কাছে এল পাসো নগরে অভিবাসীদের এক বিশাল সমাবেশে তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তবে বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টি তাঁর এই উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করেন ওবামা।
আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার কারণে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ এর আগেও ব্যর্থ হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশও বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিরোধিতায় পড়েছিলেন। ২ মে মার্কিন অভিযানে আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ওবামার জন্য অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে অভিবাসন আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিলেন ওবামা।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, অভিবাসন সমস্যা দূর করার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে। অবৈধদের বৈধতা দিলে মার্কিন মধ্যবিত্ত শ্রেণী আরও শক্তিশালী হবে। বৈধতার সনদ না পাওয়ায় অভিবাসী কর্মজীবীরা মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে শ্রমবাজার ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।
ইতিমধ্যে হোয়াইট হাউস থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার পক্ষে একটি খসড়া পরিকল্পনা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত হতে হবে। বৈধতার জন্য আবেদনকারীদের নৈতিকতা খতিয়ে দেখা হবে, যাতে কোনো অপরাধী বৈধতার সুযোগ না পায়। আবেদনকারীকে কর প্রদান করতে হবে এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। অভিবাসন আইনের ক্রমানুসারে আট বছরে আবেদনকারীরা বৈধতা পাবে। বৈধতা পাওয়ার পাঁচ বছর পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যাবে।
প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর বক্তব্যে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার জন্য সরাসরি কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেননি। অভিবাসন সমস্যা সমাধানে আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
অভিবাসীদের বিভিন্ন সংগঠন থেকে দাবি করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা যেন অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার জন্য নির্বাহী আদেশ জারি করেন। তবে বক্তৃতায় ওবামা এ ধরনের কোনো নির্বাহী আদেশ প্রদানের ইঙ্গিত দেননি। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া অভিবাসন সংস্কার আইন প্রণয়নের আর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু কংগ্রেসে এখন রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা। প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর বক্তব্যে অভিবাসী আইন সংস্কারে আইনপ্রণেতাদের প্রতি চাপ সৃষ্টি করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
ওবামার বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির প্রধান কংগ্রেসম্যান পিটারকিং বলেন, ওবামার পরিকল্পনা অ্যামনেস্টি বা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার সমান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য আরও বহু বিষয় বিবেচনার বাকি রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান দলের কংগ্রেসম্যান এলটন গেলেগলি বলেন, কংগ্রেসে অবৈধ অভিবাসীদের সাধারণ ক্ষমাসংক্রান্ত কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না। নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত প্রভাবশালী সিনেটর চার্লস শুমার জানান, সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হ্যারি রিডসহ তাঁরা একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রস্তাবের অনুরূপ আইন প্রণয়নের জন্য আইনপ্রণেতাদের সম্মতি গ্রহণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
থার্ড ওয়ে নামে মধ্যপন্থী নাগরিক সংগঠনের নেতা জিম কেসিয়ার বলেন, ২০১২ সালের নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ওবামা তৎপর হয়েছেন। হিসপানিকসহ অন্য অভিবাসীদের সমর্থন আদায়ের জন্য এ উদ্যোগ কাজে লাগলেও ২০১২ সালের নির্বাচনের আগে অভিবাসনসংক্রান্ত আইন প্রণীত হবে বলে মনে হয় না। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে ২০১৩ সালের দিকে অভিবাসন সংস্কার আইন প্রণীত হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইঁদুর মারলে পাঁচ বছরের জেল!

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪(১) ধারা অনুযায়ী কেউ যদি দুর্ঘটনাবশত কোনো মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়, তাহলে তার দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
কিন্তু একটি ইঁদুর মারলে কিংবা আহত করলে আপনাকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারা ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া এক লাখ রুপি পর্যন্ত জরিমানাও গুনতে হবে। এ খবর অদ্ভুত শোনালেও ভারতে এ রকম একটি আইন পাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাক্ট-২০১১-এর খসড়ায় এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে অ্যানিমেল বোর্ড অব ইন্ডিয়া (এডব্লিউবিআই)।
ইঁদুর, খরগোশ ও বানরসহ গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হয়—এমন প্রাণীর একটি তালিকা তৈরি করে ওই প্রাণীগুলোর যথাযথ যত্ন নেওয়া না হলে এ আইনের আওতায় এনে সাজা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোনো প্রাণীকে অবহেলা করার অপরাধে এক থেকে তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা ২৫ থেকে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান থাকবে।
একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে দুই থেকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড কিংবা ৭০ হাজার থেকে দুই লাখ রুপি জরিমানা করা হতে পারে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের (আইসিএমআর) অধীনে বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টার, ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশটির পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এ ধরনের প্রাণীর ব্যবহার করা হয়।
অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাক্ট-২০১১-এর প্রস্তাবিত আইন পাস হলে, তা দেশটিতে গবেষণার কাজে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।