Thursday, July 18, 2019

‘জ্ঞান সৃষ্টি ও বাতিল দুটোই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব’ -ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণকালে প্রফেসর ইউনূস

জ্ঞান সৃষ্টি ও বাতিল দুটোই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব। স্পেনের ক্যান্টাব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণকালে এ কথা বলেছেন বাংলাদেশি নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাকে এই ডিগ্রি প্রদান করা হয়। প্রফেসর ইউনূসকে এই ডিগ্রি প্রদানের জন্য আয়োজিত আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ছাত্রসহ শহরটির বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর ইউনূস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে নতুন প্রজন্ম ও পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলোর পুঞ্জীভূত জ্ঞানের সংযোগস্থল। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি স্থান যেখানে ভ্রান্ত তত্ত্ব ও ধারণাগুলোকে চুরমার করে নতুন নতুন তত্ত্ব ও ধারণা গড়ে তোলা হয়। তিনি বলেন, প্রচলিত অর্থনৈতিক তত্ত্বের ত্রুটিই দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সম্পদ কেন্দ্রীয়করণ ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মতো সমস্যাগুলো তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব হচ্ছে এই অর্থনৈতিক তত্ত্বের পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে সমাজের এসব সমস্যা দূর করতে সাহায্য করা।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর ইউনূসের দর্শন ও কর্মকাণ্ড সম্বন্ধে যোগদানকারীরা যাতে আরো ভালো ধারণা পেতে পারেন সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার সর্বশেষ গ্রন্থ ‘অ্যা ওয়ার্ল্ড অব থ্রি জিরোস’-এর স্প্যানিস অনুবাদের কপি সকল অংশগ্রহণকারীর মধ্যে বিতরণ করেন। এসময় আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত সৌন্দর্য্যমণ্ডিত স্যান্টান্ডার নগরীতে প্রফেসর ইউনূসের অবস্থানকালে সেখানকার দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ক্যাম্পাসে ‘ইউনূস সোস্যাল বিজনেস সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় ও এ লক্ষ্যে ইউনূস সেন্টারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে।
পৃথিবীর ৩১টি দেশে বিস্তৃত ইউনূস সোস্যাল বিজনেস সেন্টার নেটওয়ার্কে ক্যান্টাব্রিয়া ও মুরসিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নামের এই দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় যথাক্রমে ৭৭তম ও ৭৮তম সংযোজন।
স্যান্টান্ডার থেকে সরাসরি সেপনের রাজধানী মাদ্রিদে যান প্রফেসর ইউনূস। সেখানে নগরীর মেয়র হোসে লুইস মার্টিনেজ আলমেইদাসহ স্থানীয় নেতৃস্থানীয় পেশাজীবী, শিল্পপতি ও সমাজকর্মীগণ তার সম্মানে একটি উচ্চ পর্যায়ের সংবর্ধনার আয়োজন করে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশিষ্ট প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিলেন ইউরোক্যাপিটাল অ্যাডভাইজার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট পাবলো আলোনসো, কাইকজা-ব্যাংকের হেড অব ফিলানথ্রপি আরমানদো ফান্দোজ সুয়ারেজ, কনসাসনেস ফর হ্যাপিনেসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফেলিসিদাদ ক্রিস্টোবাল, কোবাস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী ফ্রান্সিসকো গার্সিয়া পারামেস, ভি-থ্রি-লিডার্স এর প্রতিষ্ঠাতা ম্যানুয়েল মারকুয়েজ ও ওপেন ভ্যালু ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মারিয়া অ্যাঞ্জেলেস লিয়ন।

ঢাকার মঞ্চে নতুন নাটক ‘রাত ভরে বৃষ্টি’

নতুন থিয়েটার দল ‘আপস্টেজ’ এবার ঢাকার মঞ্চে তাদের প্রথম প্রযোজনা হিসেবে আনতে যাচ্ছে নতুন নাটক ‘রাত ভরে বৃষ্টি’। সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম আবহে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য বুদ্ধদেব বসুর নিষিদ্ধ ‍উপন্যাস ‘রাত ভরে বৃষ্টি’ অবলম্বনে নাটকটি লিখেছেন তারুণ্যদীপ্ত নাট্যনির্দেশক সাইফ সুমন।

কাল ১৯ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় রাজধানীর বেইলি রোডের বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘রাত ভরে বৃষ্টি’ নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনী। নাটকে মণিমালা চরিত্রে অভিনয় করছেন কাজী রোকসানা রুমা, অংশু চরিত্রে প্রশান্ত হালদার এবং জয় চরিত্রে দেখা যাবে সাথী রঞ্জন দে-কে।

নাটকটি প্রসঙ্গে নির্দেশক সাইফ সুমন বলেন, প্রথমত, উপন্যাসের ‘ভালোবাসা জরুরি, স্বামী-স্ত্রী জরুরি, বেঁচে থাকাটা জরুরি’- এই কথাগুলো আমাকে ভীষণ আলোড়িত করেছে। দ্বিতীয়ত, এই উপন্যাসে শরীর–মনের ব্যাখ্যা আমি সমর্থন করি। এসব কারণে নাটকটি মঞ্চে আনতে আগ্রহী হয়েছি।’

বিয়ে ও সংসার নামের যৌথ প্রতিষ্ঠানের জটিল পাকচক্রে আবদ্ধ তিন নর-নারীর মনোদৈহিক টানাপোড়েনের গল্পে আবৃত হয়েছে ‘রাত ভরে বৃষ্টি’। মধ্যবিত্ত সমাজজীবনে স্বামী-স্ত্রী বা বিবাহিত নারী-পুরুষের দাম্পত্য সম্পর্কের নানা জটিলতার সঙ্গে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সংশয় নিয়ে এগিয়ে চলে নাটকের কাহিনি।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত বুদ্ধদেব বসুর লেখা ‘রাত ভরে বৃষ্টি’ উপন্যাস ঘিরে মামলা করেন আমহার্স্ট স্ট্রিটের বাসিন্দা ল কলেজের জনৈক ছাত্র নীলাদ্রি গুহ। নিম্ন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট অশ্লীলতার অভিযোগে তখন নিষিদ্ধ করে উপন্যাসটি, পাণ্ডুলিপি পর্যন্ত ধ্বংস করার আদেশ দিয়েছিলেন।

মামলা এমন একপর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে, বুদ্ধদেব বসু তাঁর ছোট মেয়ে দময়ন্তীকে চিঠিতে লিখেছিলেন, বইটা আপাতত ‘নিহত’ হবে বলেই ধরে নে। ১৯৬৯ সালে শুরু হওয়া মামলা শেষ হয় ১৯৭৩ সালে। শেষ পর্যন্ত উপন্যাসটি সম্পর্কে অশ্লীলতার অভিযোগ খারিজ হয়।

ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক সম্মেলন: ওয়াশিংটনে দুই রোহিঙ্গা প্রতিনিধি by মিজানুর রহমান

ওয়াশিংটনে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট আয়োজিত দু’দিনের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের দু’জন প্রতিনিধি। বর্মী বর্বরতায় বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়া ওই সম্প্রদায়ের ১১ লাখ নারী-পুরুষ এবং শিশু বাংলাদেশে অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছেন। বাস্তুুচ্যত ওই রোহিঙ্গাদের অধিকার তথা রাখাইনে শান্তি পূনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নিজ নিজ বসতভিটায় তাদের প্রত্যাবাসনের দাবিতে সোচ্চার সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস-এর চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ এবং তার সহকর্মী মোহাম্মাদ নওকীম সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের আমন্ত্রণে এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুমতিক্রমে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত মুহিবুল্লাহ ও নওকীম যুক্তরাষ্ট্র গেছেন বলে দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সুত্র মতে, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ছাড়াও ধর্ম-বিশ্বাসের কারণে নির্যাতনের শিকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। ১৬ ও ১৭ জুলাই’র ওই সম্মেলনে ১৩০ দেশের প্রায় এক হাজারের বেশী প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ সংস্থা ভয়েস অব আমেরিকা ওয়ার্ল্ড সার্ভিস। তাদের রিপোর্ট মতে, সেখানে যেমন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা আছেন, তেমনি রয়েছেন নাগরিক সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিনিধিরা। বেশ ক’জন পররাষ্ট্র মন্ত্রীও এতে অংশ নিয়েছেন।
তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্ম ও বিশ্বাসের চর্চায় কতটা স্বাধীনতা বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করবেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের সূত্রে ওই রিপোর্ট বলছে, সেখানে ধর্মীয় কারণে নির্যাতন এবং বঞ্চনার শিকার ব্যক্তিরা তাদের ওপর দিয়ে বয়ে চলা ঘটনাগুলো শেয়ার করার সূযোগ পাবেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের এমন আয়োজনের এটি দ্বিতীয় উদ্যোগ। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, গত বছর প্রথম ধর্মীয় সম্মেলনের আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন যে নদীর তীরে অবস্থিত সেই পটোম্যাক নদীকে স্মরণ করে তার একটি ডিক্লারেশনও হয়েছিল, যার নাম দেয়া হয়েছিল পটোম্যাক ডিক্লারেশন। এবারে ওই ডিক্লারেশন বাস্তবায়ন এবং আগামীর কর্ম-পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন ওই উদ্যোগে বাংলাদেশ বারাবরই সহযোগী। গত বছরের প্রথম সম্মেলনে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন ধর্ম-বিশ্বাসের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছিল। সম্মেলনে বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আশ্রিত রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিষয়ে কথা বলেছিলেন তারা। সেখানে গৃহীত পটোম্যাক ডিক্লারেশনের প্রতিও পূর্ণ সমর্থন ছিল ঢাকার। এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশ সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রধান ৪টি ধর্মের প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছেন। প্রতিনিধি দলে হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি হিসাবে আছেন অ্যাডভোকেট নির্মল চ্যাটার্জি। তিনি হিন্দু-বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা। ওই দলে খৃষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসাবে রয়েছেন খৃষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রের সচিব নির্মল রোজারিও। বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি হিসাবে গেছেন হিন্দু বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা অশোক বড়ুয়া এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদ-জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ তনয় মাওলানা জুনুদ উদ্দিন মাকতুম। তিনি জমিয়তুল উলামা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের ওই প্রতিনিধি দলে তরিকত ফেডারেশনের নেতা তৈয়বুল বশর মাইজভন্ডারিও অন্তর্ভূক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারির ছেলে। ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্র বলছে, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ধর্মীয় স্বাধীনতায় নিজ দেশের প্রেক্ষিত এবং বাস্তবতা নিয়ে কথা বলবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন এ নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন।

শিশুটি কার?

এক নারী চার কী পাঁচ মাস বয়সের একটি বাচ্চা নিয়ে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছেন। সাথে কয়েকজন পোশাকধারী পুলিশ। বাচ্চাটি যার কোলে তাকে দেখে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হচ্ছে। পিছু পিছু ছুটছেন সাধারণ পোশাকের এক নারী। ঘটনাটি বুধবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেলের।

পরে কথা হলে জানা যায়, বাংলাদেশ পুলিশের সিনিয়র এ এসপি সুলতানা ইসরাত জাহান ডিউটি শেষে বাসায় ফিরছিলেন। হাইকোর্ট মাজার পার হয়ে শিক্ষা ভবনের সামনে আসতেই দেখতে পেলেন একজন পুরুষ ছোট্ট বাচ্চাটি নিয়ে রাস্তায় ভিক্ষা করছেন। দেখে মনে হলো শিশুটি ভীষণ অসুস্থ, কাতরাচ্ছে। ইসরাত জাহান তার গাড়ি থেকে নেমেই লোকটির কাছ থেকে শিশুটিকে কোলে তুলে নিলেন। জানতে চাইলেন শিশুটি কার। মা কোথায়, এভাবে অসুস্থ শিশু নিয়ে কেন সে ভিক্ষা করছে।

প্রথমে লোকটি জানায় বাচ্চাটি তার। মাও আছে কাছাকাছি। কথিত মা জোসনাকে ডেকে আনা হলো। তার কাছে জানতে চাওয়া হলো শিশুটি অসুস্থ তাকে নিয়ে কেন ভিক্ষা করা হচ্ছে। শিশুটি আসলেই তার কিনা। না কী চুরি করেছে। প্রথমে শিশুটি তার নিজের বলে দাবি করলেও ডাক্তারি পরীক্ষা ও ডিএনএ করার কথা বললে জানায়, বাচ্চাটি তাকে একজন দিয়েছে।

ততক্ষণে শিশুটির কথিত বাবা জহুরুলকে আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। কথিত মা জোসনাকে নিয়ে সোজা হাজির হলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দেখা যায়, শিশুটির হাতের পিছনে ক্ষত। তাকে প্রথমে নেয়া হয় শিশু বিভাগে। শিশু বিভাগে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ভর্তি নিতে কেন যেন অসম্মতি জানাচ্ছিলেন। তার দায়িত্ব নিবে কে? বারবার অনুনয় করছিলেন ইসরাত জাহান। সব কিছু বাদ দিয়ে শিশুটিকে তো বাঁচাতে হবে। পরে নিয়ে যাওয়া হয়, বার্ন ইউনিটে। সেখান থেকে আবার শিশু বিভাগে।

বাচ্চাটিকে অক্সিজেন দিতে হবে জরুরি। শ্বাস নিতে পারছে না। এরই মধ্যে সুলতানা ইসরাত জাহান বাচ্চাটির জন্য ডায়পার, দুধ খাওয়ানোর টিউব, লেকট্রোজেন আনিয়েছেন। কিন্তু নিমোনিয়া থাকায় শিশুটিকে খাওয়ানো যাচ্ছে না।
আসন সংকটের কারণে সিটও পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে অন্যজনের অক্সিজেন রিপ্লেস করে বাচ্চাটি দেয়ায় কোনো রকমে রক্ষা।

এখনও মিয়ানমারে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের by জন জাও

মুসলিম রোহিঙ্গাদের হত্যা ও তাদের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে, সেটি তদন্তের জন্য থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সফর করছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ। কিন্তু যে দেশ থেকে রোহিঙ্গারা এসেছে, সেই মিয়ানমারে এখনও তাকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেখে ইয়াঙ্গি লি’র উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মিয়ানমার। তিনি দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত।
দূতের উপর মিয়ানমার যখন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তখন সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোতে আগে থেকে অবস্থানরত হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের সাথে যুক্ত হয়েছে। এদের কেউ কেউ এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে চলে গেছে এবং কিছু পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।
গত ৫ জুলাই এক বিবৃতিতে লি বলেন যে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাকে সে দেশে প্রবেশের অনুমতি না দিলেও তিনি সেখানকার সরকারের সাথে যোগাযোগ করার এবং মানবাধিকার বিষয়ে সহায়তা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
৮-১৮ জুলাই তিনি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সফর করবেন এবং সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলবেন, যারা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং উগ্র বৌদ্ধদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
ফর্টিফাই রাইটসের নির্বাহী পরিচালক ম্যাথিউ স্মিথ বলেছেন, জাতিসংঘ ও অন্যান্য অধিকার সংগঠনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় মিয়ানমার অন্যান্য একনায়ক সরকার ও যুদ্ধাপরাধীদের পর্যায়ে নেমে গেছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রসিকিউটর – যারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে কাজ করেন, তাদের কাছে একটা একটা বার্তা দিচ্ছে যে, মিয়ানমার সরকার ‘সত্যকে চাপা দেয়ার জন্য অশুভ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে’।
স্মিথ বলেন, “দেশের ভেতরে সরকার জনগণকে বোঝাতে চায় যে, বিশেষ দূত পক্ষপাতদুষ্ট এবং অবিশ্বাসযোগ্য। এবং জনগণের আস্থায় রাখা ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশলের এটা একটা অংশ তাদের”।
তিনি বলেন, এককালের গণতন্ত্রের প্রতীক বর্তমান সরকারের নেতা অং সান সু কি এ ব্যাপারে আগের সামরিক শাসকদের মতোই আচরণ করছেন।
মিয়ানমারের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ইয়াঙ্গুন-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক গ্রুপ তামপাদিপা’র সাথে কাজ করেন খিন জাউ উইন। তিনি বলেন, সু কির সরকার জাতিসংঘের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সাবেক সেনা সরকারের কৌশল আর নীতিকেই অনুসরণ করছে।
অক্টোবর মাসে লি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তার রিপোর্ট উপস্থাপন করবেন। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সফর থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার বিষয়টিও সেখানে থাকবে। সেই সাথে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ থাকবে ওই প্রতিবেদনে।

এইচএসসি’র ফল: পাসে মেয়েরা জিপিএ-৫ এ ছেলেরা এগিয়ে

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে গতকাল। এবার ১০টি বোর্ডের (৮টি সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড) পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ২৮৬ শিক্ষার্থী। এবার সাধারণ আট বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৩ শিক্ষার্থী। কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৩৬ জন।
পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে ছেলেরা। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এই ফলাফল তুলে ধরেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে সব বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন।

ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ফলাফলের প্রশংসা করে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, শিক্ষার্থীরা আরো মনোযোগী হলে ভবিষ্যতে তারা আরো ভালো ফল করতে পারবে। তিনি বলেন, ৭৩ দশমিক ৯৩ ভাগ পাস করেছে। এটা যথেষ্ট ভাল এবং গ্রহণযোগ্য ফল। আমি মনে করি শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীরা আরো মনোযোগী হলে তারা আরো ভালো ফল করতে পারবে, সেটা আমার বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী এ সময় মাত্র ৫৫ দিনে ফল প্রকাশ করায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। ছাত্রীদের পাসের হার বেশি হওয়ায় জেন্ডার সমতার কথাটি স্মরণ করিয়ে ছাত্রদেরও পাসের হার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ছাত্রদের পাসের হারটা বাড়তে হবে, যাতে জেন্ডার সমতাটা এসে যায়।

গত বছর এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯ হাজার ২৬২ শিক্ষার্থী। সে হিসেবে এবার পাসের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৮ হাজার ২৪ জন। গত ১লা এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়।  প্রকাশিত ফলাফলের তথ্যমতে, এবার ১০টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন। ১০ বোর্ডের গড় পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। গত বছর ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এবার মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ২৮৬ জন। গতবার এই সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন। গত বছরের চেয়ে জিপিএ-৫ বেড়েছে ১৮ হাজার ২৪ জন। ৯০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৪০০টি। ৪১টি প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থী পাস করেনি। গেলো বছর এই সংখ্যা ছিল ৫৫টি। ৮টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে এবার ১১ লাখ ২৬ হাজার ১২৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। এরমধ্যে ৮ লাখ ৯ হাজার ১৪৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গত বছর ছিল ৬৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী  বেশি পাস করেছে।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, আট সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসে হারে শীর্ষে রয়েছে  কুমিল্লা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। সবচেয়ে কম পাস করেছে চট্টগ্রাম বোর্ডে। এ বোর্ডে পাসের হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ।  ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৭৬ দশমিক ৩৮  শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৭০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৬৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ও দিনাজপুর বোর্ডে ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।  মাদ্রাসা বোর্ডে এবার ৮৬ হাজার ১৩৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭৬ হাজার ২৮১ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ।  এ বছর মাদ্রাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৪৩ জন। গত বছর ছিল ১ হাজার ২৪৪ জন। জিপিএ-৫ বেড়েছে ৯৯৯ জন। কারিগরি বোর্ডে এক লাখ ২৪ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে এক লাখ ২ হাজার ৭১৫ জন। পাসের হার ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।  জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৩৬ জন। গত বছর ছিল ২ হাজার ৪৫৬ জন। গত বছরের চেয়ে জিপিএ-৫ বেড়েছে ৭৮০ জন। ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিদেশের আটটি কেন্দ্রে ২৭০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৫৪ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক শূন্য ৭ ভাগ। ২৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে বিভাগ ভিত্তিক পাসের শীর্ষ রয়েছে বিজ্ঞান ও গার্হস্থ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ১৯২ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৫১ ভাগ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৯০ জন। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৬৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৬২৫ জন। পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে। এ বছর ৭ লাখ ৩ হাজার ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫ লাখ ৩ হাজার ৮২৮ জন। পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪ হাজার ৫৭৬ জন।  অন্যদিকে ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৬২৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪ লাখ ৮৪ হাজার ৩৪৪ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৭৬ শতাংশ ৪৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৭১০ জন। ছাত্রদের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ ছাত্রী বেশি পাস করেছে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান,  শিক্ষার্থীদের ভালো প্রস্তুতি ও নকলমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় পাশের হার ও জিপিএ-৫ বেড়েছে। আবার যারা খারাপ পরীক্ষা দিয়েছে তারা এ দুটিতে পিছিয়ে গেছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র সহজ বা কঠিন করায় পাশের হারে প্রভাব পড়েনি। যারা ভালো প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে তারা ভালো করেছে, আর যাদের প্রস্তুতি দুর্বল ছিল তারা ভালো ফল পায়নি। তবে যে সকল বোর্ড ভালো করছে তারা আরও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে তাদের ভালো ফলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে আমরা কাজ শুরু করেছি। এটি গুচ্ছ পদ্ধতিতে অথবা মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার আদলে করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা চান তাদের নিজেদের মতো করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করে ভর্তি করাতে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত হতে সম্মতি রয়েছে। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে এ ভোগান্তি আরও চরম পর্যায়ে। একজন শিক্ষার্থী প্রায় ৪ থেকে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছে। এ জন্য অনেকে রাস্তায় বা মসজিদেও গিয়ে রাতে ঘুমাতে হয়। কিন্তু মেয়েদের কোথাও গিয়ে থাকার স্থান থাকে না। এসব সহজিকরণে আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা বাস্তবায়ন করছি। আগামী বছর থেকে এ কার্যক্রম অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জিপিএ-৫ এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ৪ স্কেলে যাওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। আগামী জেএসসি এই পদ্ধতি হওয়ার ইঙ্গিত দেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমানে ১৭ ভাগ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় পড়ালেখা করলেও সরকার এটিকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৩০ ভাগে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যে স্কুল ও মাদ্রাসায় দুটি করে ট্রেড কোর্স চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ফল পুনঃনিরীক্ষা: রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে আজ থেকে ২৪শে জুলাই পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে। ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনালে আইডেন্টিফিকেশন নম্বর-চওঘ) দেয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে ণঊঝ লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতি পত্রের জন্য দেড়শ’ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যে সব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যে সকল বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ৩০০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।

সাক্ষী থেকে আসামি: ৫ দিনের রিমান্ডে মিন্নি by মো. মিজানুর রহমান

রিফাত হত্যা মামলার বাদী ও নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফের অভিযোগ আমলে নিয়ে মিন্নিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে ও অন্যান্য সোর্স থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। তাই রাত ৯টার সময় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মিন্নিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও প্রত্যক্ষদর্শী মিন্নি। তার বক্তব্য রেকর্ড ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিন্নিকে বরগুনা পুলিশ লাইনে আনা হয়। রাত ৯টায় তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে তার কথাবার্তায় সন্দেহ হয় পুলিশের। রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মাদকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কারণ ও আক্রোশের জন্য এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নি সরাসরি সম্পৃক্ত। এ জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাত ৮টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। তিনি রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এ সময় তিনি বলেন, মিন্নি আগে নয়ন বন্ডকে বিয়ে করেছিল। ওই বিয়ে গোপন করে রিফাত শরীফকে বিয়ে করে। বিষয়টি আমাদের জানায়নি মিন্নি এবং তার পরিবার। কাজেই রিফাত শরীফ হত্যার পেছনে মিন্নির মদত রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনলে সব বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে।

মিন্নির ৫ দিনের রিমান্ড: রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার দুপুরে বরগুনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির। পরে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মিন্নি প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি: হত্যাকাণ্ডের পরদিন দুপুরে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫-৬ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা করেন নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ। স্বাভাবিক কারণেই এ মামলার প্রধান সাক্ষী হন নিহত রিফাতের স্ত্রী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরসহ মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনার পুলিশ লাইনে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও পুলিশের কৌশলী এবং বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আটকে যান মিন্নি। বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ। এরপরই মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর তখনই প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি হয়ে যান মিন্নি।

কারও যোগসাজশে আমার মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে-মিন্নির বাবা: ওদিকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন তার মেয়েকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমার মেয়ের ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক। ধারণা করা হচ্ছে, কারও সঙ্গে যোগসাজশে আমার মেয়েকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ দেখেছে আমার মেয়ে স্বামীকে বাঁচানোর জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। আমার মেয়েকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করেছে।

মিন্নিকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে তার চাচা আবু সালেহ জানিয়েছেন, মিন্নির বাবার বাড়িতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১০ সদস্যের পুলিশ টিম এখনো অবস্থান করছে। সকাল পৌনে দশটার সময় মিন্নিকে আনার জন্য নারী পুলিশের একটি দল মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের বাড়িতে যায়। তারা পরিবারকে জানিয়েছিল, রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের শনাক্ত ও মামলার বিষয়ে কথা বলার জন্য তাকে পুলিশ লাইনে যেতে হবে।

এর আগে মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার সকালে নিজ বাসা থেকে বরগুনার পুলিশ লাইন্সে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল রিফাত শরীফ ও নয়ন বন্ড: প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড ইতিমধ্যেই পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। এই রিফাত ও নয়ন বন্ড এক সময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

নয়ন বন্ডের মা শাহিদা বেগম বলেন, রিফাত শরীফ আমার ছেলে নয়নের বন্ধু ছিল। বন্ধুত্বের সুবাদে আমাদের বাসায় রিফাতের আসা-যাওয়া ছিল। আমি রিফাতকে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছি। আমি মিন্নির সঙ্গে নয়নকে বার বার সকল সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলেছি। কিন্তু নয়ন শোনেনি। নয়নের মনে যা চাইতো ও তাই করতো। নয়ন যদি আমার কথা শুনতো তাহলে এমন নির্মম ঘটনা ঘটতো না। একটি মেয়ের প্ররোচনায় পড়ে মায়ের কথা উপেক্ষা করার কারণে আজ দুই বন্ধু অকালে প্রাণ হারিয়ে এখন কবরবাসী।

এ ছাড়া নয়ন ও রিফাত শরীফের এক সময়ের বন্ধুত্বের কথা স্বীকার করে রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, অনেক আগে নয়ন ও রিফাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল। তবে নয়ন মাদক ব্যবসা ও সেবনে জড়িয়ে পড়ার পর নয়ন ও রিফাতকে আমি একসঙ্গে দেখিনি। নয়নের মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে বন্ধুত্বের মধ্যে দূরত্ব বাড়লেও তাদের মধ্যে শত্রুতা হয়েছে- এমনটাও আমি কখনো শুনিনি।

পাবনায় শুটকি চাতালে নারী শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার by কাজী বাবলা

পাবনার চলনবিল অঞ্চলে শুরু হয়েছে শুটকি মাছের মৌসুম। বিলপাড়ে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক শুটকি চাতাল বসেছে। এ সকল শুটকি চাতালে সব সময় মাছ বাছাই আর শুকানোর কাজ করছে নারী শ্রমিকরা। তবে শুটকি চাতালের নারী শ্রমিকরা চরমভাবে মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার চলনবিল পাড়ের মহিষলুটি এলাকায় শুটকি চাতালে কাজ করেন পাতনী নেছা। সাঁকোয়া দিঘী গ্রামের এই নারী শ্রমিক জানান, প্রতিদিনই কাজ করেন মোফাজ্জলের শুটকি চাতালে। স্বামী পরান প্রাং। মারা গেছেন অনেক বছর আগে। তিন ছেলে, তিন মেয়ে তার।
মেয়েদের অনেক কষ্টে বিয়ে দিয়েছেন এ বিধবা নারী শ্রমিক। তিন ছেলেকেও বিয়ে দিয়েছেন। সবাই পৃথক। ছেলেমেয়েরা নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। এখন তারা মায়ের দায়িত্ব নিতে নারাজ। পেটের খাবার, ওষুধ পত্র, কাপড় চোপড়ের যোগান দেয়ার জন্যই কাজ করতে হয়। প্রায় ২৫ বছর যাবত বছরের ৬ মাস তিনি কাজ করেন শুটকি চাতালে।
অন্য সময় মাটি কাটা, ধানের চারা তোলাসহ যখন যে কাজ পান তাই করেন। শুটকির চাতালে কাজ শুরু হয় খুব ভোরে। সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। বিনিময়ে প্রতিদিনের পারিশ্রমিক বাবদ মালিক তাকে একশ টাকা দেন। পাশাপাশি পুরুষ শ্রমিকরা একই কাজ করে প্রতি দিন মজুরি পান তিনশত টাকা।
পাতনী নেছার মতো তারা খাতুন, রমেছা বেগম, সাদিয়া খাতুন, কামরুন্নাহারসহ  বেশ কয়েকজন নারী শ্রমিক একই কথা জানান। প্রতিদিন চলনবিলের চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, তাড়াশ, সিংড়া, গুরুদাসপুর উপজেলার অর্ধ শতাধিক চাতালে কাজ করেন প্রায় ২ শতাধিক নারী শ্রমিক।
নারী শ্রমিকরা আরো জানান, প্রতিদিন রান্না থেকে শুরু করে মাছ বাছাই আর শুকানোর কাজ করেন। অথচ মজুরি পান একবারেই কম। একজন পুরুষ শ্রমিককে প্রতিদিনের মজুরি ৩শ’ টাকা দেয়া হলেও নারী শ্রমিককে দেয়া হয় মাত্র একশ’ টাকা। এ নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই নারী শ্রমিকদের। কিন্তু কে শোনে কার কথা। অন্য কাজ না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা এসময় শুটকির চাতালে কাজ করেন।
শুটকি চাতাল মালিক দেলবার, পরাণ সাধু ও মোফাজ্জল হোসেন জানান, 'এলাকায় মাছের দাম বেশী। অপরদিকে, শুটকির আড়তে দাম কম হওয়ায় আমরা লাভ করতে পারছি না। আর তাছাড়া কাজ না থাকলেও শ্রমিকদের বেতন ও খাবার দেয়া হয়। নারী শ্রমিক কম মজুরিতে পাওয়া যায় বলে নারী শ্রমিকের সংখ্যাই বেশী।

এবার হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাংকার নিখোঁজ, আঙুল ইরানের দিকে

এবার পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী থেকে উধাও হয়ে গেছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার। আর এ জন্য ইরানকেই দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির দাবি, ইরানই হরমুজ প্রণালী থেকে ওই জাহাজ আটক করেছে কিংবা হামলা চালিয়ে ডুবিয়ে দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে আরব নিউজ।
জাহাজ ট্রাকিং তথ্যানুযায়ী, পানামার পতাকাবাহী রিয়াহ নামের ওই ট্যাংকারটি শনিবার রাডার থেকে হারিয়ে যায়। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পারস্য উপসাগর হয়ে যাচ্ছিল। এর আগে এই একই এলাকায় আরো ৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। সামপ্রতিক সময়ে ঘটা এসব হামলার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের দামামা লেগে রয়েছে। এরইমধ্যে নতুন করে জাহাজ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটলো।
এপিকে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিয়াহ এখন ইরানি জলসীমায় রয়েছে। ইরানি রেভ্যুলুশনারি গার্ডের সামরিক ঘাঁটি কেশম দ্বীপে এটি আটক রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রিয়াহ ট্যাংকারটির নিখোঁজের জন্য ইরানকেই দায়ী করছে। এটিকে হয়তো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে হয়তো এটির সাহায্য প্রয়োজন ছিল। কিন্তু যতক্ষণ না কোনো যোগাযোগ হচ্ছে কিছুই নিশ্চিত নয়।
শনিবার আরব আমিরাতের দুবাই বন্দর থেকে তেলবাহী ট্যাংকারটি যাত্রা শুরু করে। ৫৮ মিটার লম্বা ওই ট্যাংকারটি হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার সময় এতে কিছু একটি হয়। ট্রাকিং ডাটা থেকে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রেফিনিটিভ ডাটা ফার্ম জানিয়েছে, গত ৩ মাসে এই জাহাজটি তাদের লোকেশন ট্র্যাকিং বন্ধ করেনি। সর্বশেষ ডাটা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় এটি হঠাৎ করে ইউ-টার্ন নিয়ে ইরানের দিকে যেতে শুরু করে। তবে এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তারা এখনো প্রকাশ্যে কিছু জানায় নি।

দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে নিউ ইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরটি ধীরে ধীরে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। এ শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঋণের চাপে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। কারণ বিখ্যাত এ শহরটি ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়ে উঠছে। নিউইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ঋণের চাপে জর্জরিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ নাগরিকরা দলে দলে শহর ছেড়ে পালাচ্ছেন। শহরটির সরকারি ব্যয় হয়ে উঠছে আকাশচুম্বী।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, সর্বাত্মক আর্থিক বিপর্যয়ের খুব কাছেই রয়েছে নিউ ইয়র্ক। শহরটির প্রতিটি বাড়ির দীর্ঘমেয়াদি গড় ঋণ ৮১ হাজার ডলারেরও বেশি। এ অবস্থায় মেয়র ডি ব্লাসিও নতুন বাজেটে বর্তমান বাজেটের (৮৯.২ বিলিয়ন) চেয়ে তিন বিলিয়ন ডলার বেশি খরচ করতে চাইছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রায় ৪০ বছর আগে আরেকবার নিউইয়র্ক এ অবস্থায় পড়েছিল। সে সময় শহরটির মেয়র ছিলেন আব্রাহাম বিম। অর্থনৈতিক যোগাযোগ সংস্থা ভেস্টেড’র প্রধান অর্থনীতিবিদ মিল্টন এজরাটি বলেন, শহরটি বাজেট ঘাটতিতে আছে এবং অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে এটা খুবই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। কর সমন্বয় করার কারণে আরো বেশি মানুষ শহর ছেড়ে চলে গেলেও একই অবস্থা হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নিউ ইয়র্ক ইতোমধ্যেই খুব কঠিন অর্থ সঙ্কটে আছে। কিন্তু কোনো ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি দেখা দিলে একেবারে কঠিন অবস্থা তৈরি হবে।
নিউইয়র্ক পোস্ট বলছে, ডি ব্লাসিও ২০২০ সালের প্রাথমিক বাজেটে অর্থ বাঁচানোর বিভিন্ন পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, অর্থব্যবস্থায় মন্দার মতো কোনো ধাক্কা লাগলে তা কেউ ঠেকাতে পারবে না। তারা অর্থনৈতিক মন্দাও আসন্ন বলে মনে করছেন।
অ্যামেরিকান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক রিসার্চের অর্থনীতিবিদ পিটার সি. আরলে বলেন, নিউইয়র্ক নিশ্চিতভাবে দেউলিয়াত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় এই শহর রক্ষায় হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে কিছু ব্যবস্থা নেয়া যাবে, কিন্তু নতুন ঋণ নিয়ে এ শহর রক্ষার কাজটি সত্যিই খুব কঠিন হবে।
সূত্র : ডেইলি মেইল

এরশাদ ছাড়া জাপা: উদ্বিগ্ন রংপুরের নেতাকর্মীরা যা ভাবছেন by পিয়াস সরকার ও জাভেদ ইকবাল

জাতীয় পার্টির ঘাঁটি রংপুর। রংপুরবাসীর বিপুল সমর্থন নিয়ে পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনীতির অঙ্গনে দলটির টিকে থাকার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রেখেছে রংপুরের মানুষ। সাবেক সেনা শাসক এরশাদের শেষ বিদায়েও সীমাহীন শ্রদ্ধা আর ভালবাসা দেখিয়েছে তার জন্মস্থানের মানুষ। তাদের চাপে দল সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রংপুরে সমাহিত করা হয়েছে এরশাদকে। এরশাদের মৃত্যুতে দলে যে শুন্যতা তৈরি হয়েছে তা কিভাবে কাটবে। দলের ভবিষ্যৎইবা কী? সারা দেশের মতো এমন প্রশ্ন রংপুরের মানুষের মুখে মুখে। নানা শ্রেণি পেশার মানুষ ও জাতীয় পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে উদ্বেগের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে।
তারা জানিয়েছেন এতো দিন রংপুরে জাতীয় পার্টি যে দাপট দেখিয়ে এসেছে শিগগিরই এর অবসান হতে যাচ্ছে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে জাপার সম্রাজ্য ক্ষয়ের লক্ষণ ফুটে উঠেছিল। এবার তা আরও ম্রিয়মান হতে যাচ্ছে। এছাড়া পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীরা শঙ্কিত।

মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, জাপা অধ্যুষিত রংপুরের সিটি মেয়র। তিনি এখন এই এলাকার অভিভাবক। নেতাকর্মীদের মাঝে বিভক্তির রেখা স্পষ্ট হয়নি। তৃণমূল নেতাদের একাট্টা করে রেখেছেন মেয়র মোস্তফা।

তবে জাতীয় পর্যায়ে বিভক্তিতে তারা চিন্তিত। দুই গ্রুপে বিভক্ত জাতীয় পার্টি এক গ্রুপের নেতা রওশন এরশাদ আরেক গ্রুপের জিএম কাদের। যদিও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দাবি দলে কোন বিভক্তি নেই। তবে রংপুরবাসী আছেন এরশাদের দিক নির্দেশনার মধ্যে। এরশাদ ছোটভাইকে উত্তরসুরি করে গেছেন। রংপুরের নেতাকর্মীরা তাকে সামনে রেখেই রাজনীতি করতে চান। মোস্তফা বলেন, এরশাদের মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। চলে যেতে হয় সবাইকে। কেউ চিরকাল বেঁচে থাকেন না। তবে আমরা তার মূলনীতিতে বিশ্বাসী। তিনি জি এম কাদেরকে নেতা করে গেছেন আমরা তার দেখানো নীতিতেই চলবো।

একই সুরে কথা বলেন নগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী রাজ্জাক। বলেন, আমাদের রংপুরে আমরা এরশাদের নীতিতেই আছি। আর রংপুরের মানুষ এরশাদের কতটুকু আপন তা দেশবাসী প্রমাণ পেয়েছেন।
এরশাদের মৃত্যুতে কে লড়তে যাচ্ছেন রংপুর ৩ (সদর) আসনে? নেতা-কর্মীদের কথা- এখনো সেই ভাবনাটার সময় আসেনি।

মেয়রের একান্ত সচিব ও মহানগর জাপার দপ্তর সম্পাদক কাজী জাহিদ হোসেন বলেন, এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির সমর্থন আরো দ্বিগুণ হয়েছে। যার প্রমাণ আপনারা পেয়েছেন। তরুণ সমাজের ভালোবাসাটা একটু কম ছিলো এরশাদের প্রতি। তারাও এখন জাতীয় পার্টিতে ভিড়ছে। কারণ তারা জানতে পেরেছে এরশাদের শাসন আমলের চিত্র। এরশাদের নেয়া নীতির সুফল। তিনি আরো বলেন, জাতীয় পার্টির বিভক্তির কোন চিহ্ন রংপুরে নেই। ইনশাআল্লাহ হবেও না। সাধারণ জনগণের ভালোবাসা এরশাদ ও জাতীয় পার্টির মাঝে অক্ষুন্ন থাকবে।

নেতারা এসব বললেও সাধারণ জনগণের আলোচনায় জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত। নগরীর কেরাণীপাড়ার বাসিন্দা শিক্ষার্থী শাকিল চৌধুরী বলেন, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষের মাঝে এরশাদের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তারা শুধু লাঙল মার্কাটাকে চেনে। আর চেনে এরশাদকে। তারা লাঙলকে সর্মথন করেই যাবেন।

জাপা মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙা বলেন, আমাদের জাতীয় পার্টির মাঝে কোনো বিভক্তি নেই। আমরা সকলে একত্রে আছি আমরা দলকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন তা আমরা সর্ব সম্মতক্রমে সিদ্ধান্ত নেব।

রংপুরের স্কুল শিক্ষক এনামুল রহমান বলেন, রংপুরে এরশাদের কারণে জিএম কাদেরের জনপ্রিয়তা আছে। রংপুরের মানুষ রওশন বিরোধী এটা মানতেই হবে।

রংপুর সরকারী কলজের ছাত্র সমাজের নেতা জুবাইদুল ইসলাম বলেন, রংপুরে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান বরাবরই ভালো। তবে সাংগঠনিক ভাবে আরো মজবুত হওয়া দরকার। আমরা আমাদের দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের দলে কোনো বিভক্তি চাই না। জেলা ছাত্র সমাজের আহবায়ক আশরাফুল হক জবা বলেন, আমরা একত্রে আছি। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয়ভাবে যে সিদ্ধান্ত হবে আমরা মানতে রাজি। ইয়াসির আহমেদ বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মানতে প্রস্তুত। তবে কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবে না।

১০ হাজার কোটির ক্লাবে বেজোসের সাথে বিল গেটস : যেভাবে বাড়ছে তাদের সম্পদ

বিশ্বের প্রায় ২ হাজার ৮০০ জন বিলিয়নিয়ারের সম্পদের হিসেব নজর রাখে ব্লুমবার্গ। তাদের মধ্যে ১৪৫ জনের সম্পদ ন্যূনতম ১ হাজার কোটি ডলার। এবার ১০ হাজার কোটি ডলারের ক্লাবে জেফ বেজোসের সঙ্গী হলেন বিল গেটস। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার সূচকে দেখা গেছে, একসময় বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা গেটস ১০ হাজার কোটি ডলারের সীমা অতিক্রম করেছেন। ১০ হাজারি ক্লাবে শীর্ষে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা বেজোস।
গেটসের সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলার। ডটকম বুমের পর এই রকম উচ্চতায় পৌঁছায়নি গেটসের সম্পদ। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা বেজোসের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৬০ কোটি ডলারে। চলতি বছরেই বেজোসের সম্পদে যোগ হয়েছে আরো ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার, যেখানে গেটসের যোগ হয়েছে ৯৫০ কোটি ডলার।
দুই শীর্ষ ধনীর সম্পদের এই পরিমাণ আমেরিকায় স্পষ্ট করে তুলছে ধনী-গরিবের সম্পদের আকাশচুম্বী ব্যবধান। অবশ্য বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ফ্রান্সের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বার্নার্ড আর্নোর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬২০ কোটি ডলারে, যা দেশটির মোট অর্থনীতির প্রায় ৩ শতাংশ। স্পেনের শীর্ষ ধনী আমানসিও ওর্তেগার সম্পদ দেশটির জিডিপির ৫ শতাংশ। জর্জিয়ার বিদজিনা ইভানিশভিলির সম্পদের পরিমাণ দেশটির মোট জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ।
গেটস ও বেজোসের বিশাল সম্পদ বেশি দিন স্থায়ী হবে না। গেটস তার সম্পদের মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনকে দান করে দিয়েছেন। তিনি তাঁর মোট সম্পদের অর্ধেকই দান করে দিয়ে যেতে চান। বেজোস হয়তো এই পথে যাচ্ছেন না। কিন্তু অন্য কারণে তাঁকেও প্রচুর অর্থ হারাতে হচ্ছে। স্ত্রী ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে বিচ্ছেদ মামলা নিষ্পত্তিতে বড় অঙ্কের সম্পদ হারাতে চলেছেন বেজোস।
সম্পদের উপর ভিত্তি করে বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ ধনীর র‌্যাঙ্কিং করেছে ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স। চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি সম্পদ হারিয়েছেন টেসলার প্রধান কর্তা ইলোন মাস্ক। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার সূচকে শীর্ষ ১০ জনের ছয়জনই প্রযুক্তি দুনিয়ার। বেজোস ও গেটসের সঙ্গে শীর্ষ দশের অন্য চারজন হলেন ফেসবুকের প্রধান কর্তা মার্ক জুকেরবার্গ (ষষ্ঠ), গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ (সপ্তম), ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি অ্যালিসন (অষ্টম) ও গুগলের অন্য সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন (দশম)।

বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে পুরো নগ্ন ছবি পোস্ট করলেন আমান্ডা সারনি

আমান্ডা সারনি। বিখ্যাত প্লেবয় ম্যাগাজিনের মডেল তিনি। অভিনেত্রীও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজের রগরগে ছবি দিয়ে আনন্দ পান। মাতিয়ে রাখেন চারদিক। এ জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম সহ অন্যান্য মিডিয়া। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছেন বয়ফ্রেন্ড জোহানেস বার্টলের সঙ্গে একেবারে নগ্ন হয়ে ছবি পোস্ট করে। ওই ছবিতে তাদেরকে দেখা যাচ্ছে একটি বাথরুমে।
দু’জনের শরীরে কাপড় তো দূরের কথা, সুতা বলতে কিছু নেই। বয়ফ্রেন্ড জোহানেস বার্টলের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তার বুকে মুখ লুকিয়েছেন আমান্ডা। পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরো শরীর তাতে স্পষ্ট। এই ছবি পোস্ট করেছেন তিনি নিজে।
২০১১ সালে প্লেবয় প্লেমেটস তালিকায় তাকে ফিচারে তুলে ধরা হয়। সেই থেকে তিনি বিখ্যাত হয়ে যান। এ ছাড়া নিজের স্পর্শকাতর এমন সব ছবি ও অবিশ্বাস্য সব মজাদার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে আরো বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। এক্ষেত্রে তার সঙ্গী হলেন ওই বয়ফ্রেন্ড। এরই মধ্যে ভারত সফর করেছেন আমান্ডা। অভিনয় করেছেন নোরা ফতেহি’র ‘দিলবর’ ও লাভযাত্রীর ‘আঁখ লাড জাভি’তে। আর তাতেই তিনি দর্শকদের মধ্যে একরকম ক্রেজ তৈরি করে নিয়েছেন। ভারতে তিনি যে উষ্ণ অভিনন্দন পেয়েছেন তাও তিনি উপভোগ করেছেন। এ জন্য তিনি ভারতকে পছন্দ করেন। আবার শিগগিরই তার ভারত আসার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারত সফর নিয়ে তিনি লিখেছেন, ভারত আমি তোমাকে ভালবাসি। যারা আমাকে দেখতে এসেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
আমান্ডা সারনি জানেন কিভাবে সংবাদ শিরোনাম নিজের দখলে রাখতে হয়। তাই তিনি খোলামেলা পোশাকে ছবি পোস্ট করেন। এমন সব ফটোশুটে অংশ নেন যা অনেকেই এড়িয়ে চলেন। বানান ভিডিও। ইন্সটাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা কমপক্ষে ২ কোটি ১০ লাখ। ফলে ইন্টারনেটে তিনি যেন হটকেক। তিনি নিজেকে প্রকাশ করতে প্লেবয় ম্যাগাজিনে নিজের বিকিনি পরা ছবি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন। ইউটিউবে তার ‘ভাইন’ একাউন্ট খোলা ছিল তার ক্যারিয়ারের বড় একটি পরিবর্তন। তিনি অংশ নিয়েছেন টিভি সিরিজ ‘আদম ডিভাইস হাউজ পার্টি’তে। ২০১৬ সালের ছবি ‘দ্য বেট’-এ মিসেস ম্যাকডুগলের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এ ছাড়া তিনি অনেক দাতব্য সেবা সংস্থার সঙ্গে জড়িত।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা by যুবরাজ ঘিমাইর

‘চলতি সপ্তাহে তিনি সত্য-পরবর্তী যুগের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক সাফল্য পেয়ে আমাদেরকে ভবিষ্যত নিয়ে ভীত হতে আরো কারণ ধরিয়ে দিলেন।’ ভারতে নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি উপর্যুপরি দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর ২৩ মে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে এই মন্তব্য করেছিলেন পঙ্কজ মিশ্র। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্য ১৩০ কোটি মানুষ ও ৯০ কোটি ভোটারের দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটি ছিল আগ্রহ এবং সেইসাথে উদ্বেগের বিষয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস যথার্থভাবেই উদ্বেগটি প্রকাশ করেছে। তবে ভারত ও এর বাইরে নির্বাচনী ফলাফলের অর্থ ও প্রভাব পত্রিকাটি অনুধাবন করতে পারেনি।
মোদির বিজেপির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) ৫৪৩ আসনবিশিষ্ট লোকসভায় ৩৫০টির বেশি আসন পেয়েছে। বিজেপি একাই পেয়েছে ৩০৩টি। তারা ৩৭.৫ ভাগ ভোট নিয়ে কেবল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাই নিশ্চিত করেনি, সেইসাথে তার নির্বাচনী ইতিহাসে রেকর্ডও গড়েছে। প্রাক-নির্বাচনী যেসব সংশয় ছিল, সেগুলো দূর হয়ে গেছে। মোদি গত আমলের চেয়েও শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি কেবল বেশি আসন বা ভোটই পাননি, সেইসাথে ব্যক্তিগত মহাবিজয়ও পেয়েছেন। কারণ বিরোধী দল ও জনমত নেতারা নির্বাচনকে মোদির প্রশ্নে গণভোট হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজেপি অব্যাহতভাবে জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুগুলোতে শান দিচ্ছিল, পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলে বলছিল যে বাইরে থেকেই আসছে দেশের প্রতি সবচেয়ে বড় হুমকি, প্রতিবেশী দেশটি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করছিল। যুদ্ধের আশঙ্কা সত্ত্বেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব ঈদ উল ফিতরের উৎসবের সময় ব্যক্তিগত সফরে ৫ জুন ভারতে যান, আর ইসলামাবাদে ভারতীয় হাই কমিশনার অজয় বিশ্বাস পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির সাথে সাক্ষাত করেন।
এগুলো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ। দুই দেশ কিভাবে সামনে এগুবে তার ওপর নির্ভর করবে ৩৩ বছরের পুরনো দক্ষিণ এশিয়ান সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) ভবিষ্যত।
দক্ষিণ এশিয়ার এজেন্ডা
যাই হোক না কেন, পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ভারতের কূটনীতি আগামী বছরগুলোতে সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান, শান্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টিও তাদের মাথায় আছে।
পাকিস্তান ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও নেপাল বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অংশে পরিণত হয়ে বিপুল বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। আর চীনের কাছে নিজের স্টক এক্সচেঞ্জ খুলে দিয়েছে বাংলাদেশ। ভুটান ও চীন আবাসিক মিশন দিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু করা নিয়ে আলোচনা করছে। নেপাল ও চীন পার্বত্য রুটে রেলওয়ে কানেকটিভিটি নিয়ে সমীক্ষা শুরু করেছে।
অন্য দিকে চীনা ঋণ ফাঁদে না পড়ার জন্য নেপালকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। হাম্বানতোতা বন্দর নিয়ে শ্রীলঙ্কার সাথে চীনের ৯৯ বছরের ইজারা চুক্তি নিয়ে ভারত অস্বস্তিতে রয়েছে। এসব দেশের কাছে চীনা প্রত্যাহারের পর ভারতের আগমন ভালো বিষয় নয়।
চীনের সাথে ভারতের সূক্ষ্ম ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ছাড়াও ভারত তার হারানো জমি কিছুটা ফেরত পেতে পারে যদি দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি ও প্রকল্পগুলোতে তাল মেলাতে পারে। ভারতের জন্য আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে অন্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও হস্তক্ষেপ না করার চীনা নীতি অনুসরণ করা। বৈশ্বিক খেলোয়াড় ও আঞ্চলিক উন্নয়ন ও রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত চীন ও ভারতের এই অঞ্চলে গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি হবে শান্তি ও উন্নয়নে তাদের অবদানের ওপর নির্ভর করে।
ভারতের নির্বাচনের মাঝপথেই গত মে মাসে জৈশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারকে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের কালো তালিকাভুক্তির প্রতি সমর্থন দেয়।
অথচ আজহারকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করতে আগের প্রস্তাবগুলোতে চীন ভেটো দিয়েছিল। চীনের এই উদ্যোগ ছিল মোদির ‘জাতীয়তাবাদী কার্ডের’ প্রতি সমর্থন প্রকাশ। তাছাড়া মোদি ও প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ২০১৮ সালের এপ্রিলের ওহান শীর্ষ বৈঠকের আদলে আবারো বসতে যাচ্ছেন। তারা এর মাধ্যমে নিজেদের সম্পর্ক ঝালিয়ে নিতে চান।
দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবর্তিত ভূরাজনীতি: নেপালের উদাহরণ
ওই দুই খেলোয়াড় তাদের মধ্যকার বিরোধগুলো মীমাংসা করবে এবং তাদের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও শিল্প স্বার্থ রক্ষা করবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে তা কিন্তু এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতিটির সাথে দ্বিপক্ষীয়ভাবে ভারতের সম্পর্ক কূটনৈতিকভাবে সামাল দেয়ার গুরুত্ব হ্রাস করবে না।
পাকিস্তান-ভারত সম্পর্ক বিশেষ ধরনের। কিন্তু এই অঞ্চলের অন্য সব দেশের সাথেই ভারতের কোনো না কোনো অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে। এগুলোর জন্য আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ প্রয়োজন। তবে অন্যরা ভারতকে যে ‘বড় ভাইসুলভ’ আচরণের জন্য ভয় পায়, তা থেকে তাকে সরে আসতে হবে। নেপালের সাথে সম্পর্ক মেরামত করার ভারতীয় উদ্যোগ এ ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সভ্যতা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্ম একই হওয়া সত্ত্বেও ভারত ও নেপালের মধ্যে অবিশ্বাস রয়েছে। বিশেষ করে গত ১৩ বছর ধরে সম্পর্কে ভাটা চলছে। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কায় যেমন করা হয়েছিল, একইভাবে নেপালের মাওবাদী গেরিলাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিল ভারত। এসব গেরিলা ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত নেপালে বিদ্রোহ চালিয়েছিল। ভারতের মধ্যস্ততায় এই বিদ্রোহের অবসান ঘটে। পরে বিশ্বের একমাত্র হিন্দু দেশ নেপাল হয় সেক্যুলার প্রজাতন্ত্র।
আবার এই ভারতই ২০১৫ সালে নেপালি সংবিধানের ব্যাপারে তাদের আপত্তির জের ধরে ১৩৪ দিনের অবরোধ আরোপ করে। এতে নেপালে ভারত আরো অজনপ্রিয় হয়ে পড়ে।
অর্থাৎ চরমপন্থী বামদের প্রতি ভারতের প্রাথমিক সমর্থন ও পরে অর্থনৈতিক অবরোধের ফলে নেপালে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। এখন পরবর্তী পদক্ষেপগুলোই নির্ধারণ করবে নেপালে মোদি কিভাবে মূল্যায়িত হবেন, কিভাবে নেপালে তিনি ভারতের ভূমিকা ও প্রভাব বিস্তার করবেন। মোদি পরিচিত কাজের লোক হিসেবে। তিনি এই অঞ্চলে আশাবাদ সৃষ্টি করতে পারেন এগিয়ে যাওয়ার জন্য।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২২ জুলাই বৈঠকে বসছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট by নভেদ সিদ্দিকী

আগামী ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মেহাম্মাদ ফয়সাল সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছে। গতবছর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটি হবে ইমরান খানের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর।
সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ড. ফয়সাল বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে এ মাসেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করবেন দুই রাষ্ট্রনেতা।
বেশ কিছুদিন ধরেই পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। এশিয়ায় দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন ভারতের দিকে ঝুঁকছে। তবে ইমরান খান ক্ষমতায় আসার পর চেষ্টা করে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দূরত্ব ঘোঁচাতে। সেই লক্ষণও দেখা যাচ্ছে কিছুটা। এ সপ্তাহেই পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন – বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যেটি পাকিস্তানের অনেক দিনের প্রত্যাশা ছিল। সংগঠনটির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
পাশাপাশি একই দিন পকিস্তান নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাতুদ দাওয়া (জেইউডি) প্রধান হাফিস সাইদ ও নাবি আমির আব্দুল রহমান মাক্কিসহ সংগঠনটির শীর্ষ ১৩ জন নেতাকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংসহ দুই ডজনের মতো মামলা দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করে।
ইমরান খান ক্ষমতায় আসার পর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সঙ্কট কাটাতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। চীন, তুরস্ক, সৌদি আরবসহ অনেকগুলো মিত্র দেশ সফর করেছেন তিনি। আবার সৌদি যুবরাজ, কাতারের আমিরসহ অনেক দেশের শীর্ষ ব্যক্তিরা পাকিস্তান সফর করেছেন এ সময়। এ মাসেই তালেবান নেতাদের সাথেও বৈঠক করার কথা রয়েছে ইমরানের। এরই মধ্যে ইমরানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ও ট্রাম্পের সাথে বৈঠক দেশটির কূটনীতিকে নতুন আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প-খান বৈঠক
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইমরান খানকে জুন মাসেই দাওয়াত করেছিলেন; কিন্তু পাকিস্তান পার্লামেন্টের বাজেট অধিবেশনের কারণে সেই সফর পিছিয়ে দেয়া হয়। দুই নেতার বৈঠকে আঞ্চলিক ইস্যু গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে ৩ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি ‘পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান। কিন্তু তারা শত্রুদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।’
পরে মার্চে ট্রাম্প জানান যে তিনি শিগগিরই পাকিস্তানী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের আশা করছেন কারণ দুই দেশের মধ্যে এখন সম্পর্ক বেশ ভালো।
আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় ইসলামাবাদের ভূমিকা
২০১৭ সালে ট্রাম্প তার দক্ষিণ এশিয়া কৌশল ঘোষণার পর থেকেই পাকিস্তানের তীব্র সমালোচক হয়ে উঠেন। পাকিস্তানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দেয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের কোন উপকার হয়নি বলে ট্রাম্প অভিযোগ করলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও পাল্টা জবাব দেন। এ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে টুইট-যুদ্ধ হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প তার অবস্থান নমনীয় করে স্বীকার করেন যে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান দুই দেশেরই ক্ষতি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখন চাচ্ছে পাকিস্তান যেন তার প্রভাব খাটিয়ে আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তালেবানদের রাজি করায়।
কাবুল সরকারকে পশ্চিমাদের পুতুল বলে মনে করে তালেবান। তাই কাবুলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তারা অস্বীকার করে আসছে।
গত সপ্তাহে আফগান রাজনীতিকদের নিয়ে আন্ত:আফগান সংলাপের আয়োজন করে পাকিস্তান। এতে কাবুল প্রতিনিধি পাঠায়। তবে তালেবানরা যোগ দেয়নি।
২৭ জুন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ইসলামাবাদ সফর করে তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা কামনা করেন।
ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এসব কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্বাস জন্মেছে যে আলোচনার মাধ্যমে আফগানিস্তানে একটি নিস্পত্তির জন্য পাকিস্তান আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে।
এক পর্যবেক্ষক বলেন, ওয়াশিংটন মনে করে এই পর্যায়ে হোয়াইট হাউজে সফরের আয়োজন করা হলে তা আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় সমর্থন অব্যাহত রাখতে পাকিস্তানকে আরো উৎসহ যোগাবে।

ট্রেনে-স্টেশনে কিশোর অপরাধীরা বেপরোয়া: ঘটছে ছিনতাই, ধর্ষণ ও নৃশংস খুন by রেজোয়ান বিশ্বাস

কালের কণ্ঠ অনলাইন, ১৪ জুলাই, ২০১৯:
কমলাপুরসহ সারা দেশে রেলস্টেশনকেন্দ্রিক কয়েক শ ভাসমান কিশোর অপরাধীর তালিকা করেও তাদের ধরতে পারছে না পুলিশ। ট্রেনে এক এলাকায় অপরাধ করে আরেক এলাকায় গাঢাকা দেওয়ার কারণেই তাদের ধরতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে পুলিশ দাবি করছে। এর ফলে চলন্ত ট্রেনে ছিনতাই, ছুরিকাঘাত ও ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে খুন-জখম, এমনকি ট্রেনে ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িয়ে গেছে কিশোর অপরাধীরা। তাদের দিয়ে অস্ত্র ও মাদক এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে বহন করানো হচ্ছে বলে পুলিশের একাধিক প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে। তবে কিশোর অপরাধ দমনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষেরও দায় আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ অবস্থায় পুলিশের পক্ষ থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এতে টিকিটে ট্রেনযাত্রীদের নাম থাকা এবং স্টেশনকেন্দ্রিক ভাসমান লোকজনের ওপর নজরদারি ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রেনযাত্রীদের অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জিআরপি পুলিশের দায়িত্বহীনতার কারণেও অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অন্যদিকে পুলিশ ট্রেনকেন্দ্রিক কিশোর অপরাধীদের তালিকা করলেও তাদের সংখ্যা  জানাতে পারেনি রেলওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রেলওয়ে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. সামসুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ট্রেনকেন্দ্রিক অপরাধীদের বেশির ভাগই কিশোর। সামাজিক নানা কারণে এরা অপরাধ জগতে পা বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যারাই ট্রেনে যাত্রীদের ছিনতাইয়ের পর হত্যা ও ধর্ষণ করেছে তাদের বেশির ভাগকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ভাসমান কিশোররাই ট্রেনের ভেতরে ও স্টেশনকেন্দ্রিক সব অপরাধের কেন্দ্রে রয়েছে। এসব অপরাধীর তালিকার পাশাপাশি তাদের কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার চিন্তাভাবনা চলছে। এ ক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা একটি পরামর্শমূলক প্রস্তাব বা সুপারিশ করেছি। সেটা যাচাই-বাছাই চলছে। এটা বাস্তবায়িত হলে তার সুফল প্রতিটি যাত্রীই পাবে। তিনি জানান, এই সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—স্টেশনকেন্দ্রিক ভাসমান লোকজনের ওপর নাজরদারি রাখা ও ট্রেনের টিকিটে যাত্রীদের নাম লেখা থাকতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জিআরপি বা রেলওয়ে পুলিশের কারণেও অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পুলিশ থাকতেও অপরাধীরা কিভাবে ছাদে উঠে ছিনতাই করছে জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, অনেক সময় লুকিয়ে এসব অপরাধী ট্রেনে ওঠে।
আরমান শেখ নামে এক ট্রেনযাত্রী কালের কণ্ঠকে বলেন, ব্যবসার কাজে তিনি নিয়মিত রাতে ও দিনে ট্রেনে যাওয়া-আসা করেন। এতে ট্রেনকেন্দ্রিক জিআরপি পুলিশের অনেক দায়িত্বহীনতা তার চোখে পড়ে। ট্রেনে মাদক কারবারি, কালোবাজারিদের পাশাপাশি কিশোর অপরাধীদের দেখেও না দেখার ভান করে অর্থের বিনিময়ে পুলিশ তাদের সুযোগ করে দেয়। মূলত জিআরপি পুলিশের ব্যর্থতার কারণেই ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে।
ট্রেন ও স্টেশনকেন্দ্রিক অপরাধের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে ঘৃণ্য ঘটনা ঘটেছে গত বুধবার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ট্রেনে। সম্রাট নামে এক বখাটে এক শিশুকে ট্রেনে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনার কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের টয়লেটে মুখ চেপে ধরে এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এরও আগে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় কিছু মালপত্র কিনতে আসা চার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ, আবুল কালাম, হোসেন ও আলামিনের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাদের মধ্যে তিনজনকে চলন্ত ট্রেন থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। এতে মোস্তফা নামে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকিরা এখন পঙ্গু হয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। রেলওয়ে পুলিশ বলছে, তারা গত এক বছরে অর্ধশতাধিক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে।
রেলওয়ে পুলিশের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব কিশোর অপরাধীর বেশির ভাগ ছিন্নমূল শিশু। তাদের বেশির ভাগ বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে না। বেশির ভাগই মাদকাসক্ত। অবহেলা আর ঠিকমতো পারিবারিক বন্ধনে না থাকার কারণে এরা অপরাধ জগতে পা বাড়াচ্ছে। এরা ট্রেনেই থাকে, ট্রেনেই ঘুমায় আবার স্ট্রেশনেই ঘর তৈরি করে। তাদের অনেকেই মা-বাবার নামও জানে না। এরা এক এলাকায় অপরাধ করে অন্য এলাকায় চলে যায়। ঢাকায় অপরাধ করে ওরা যায় রংপুরে। আবার রংপুরে যে অপরাধ করে চলে আসে ঢাকায়। অথবা চট্টগ্রামে চলে যায়। সেখান থেকে আবার সিলেট না হয় রাজশাহী না হয় অন্য এলাকায় চলে যায়।
ঢাকা জেলা রেলওয়ে পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম বলেন, গত প্রায় এক বছরে ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যা, দুটি ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের বেশির ভাগ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কিশোর সংশোধনাগার কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

রেকর্ড গড়তে টানা পাঁচদিন কমোডে বসে থাকলেন তিনি

কালের কণ্ঠ অনলাইন- ১৪ জুলাই, ২০১৯:
বিশ্বরেকর্ড গড়ার জন্য অনেকেই অনেক রকম কাজ করেন। বেলজিয়ামের জিম্মি ডে ফ্রেন্নে নামের এক ব্যক্তির কথা শুনলে অবাক হবেন, ৪৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি হাসিমুখে বাথরুমের কমোডে বসে কাটিয়ে দিলেন টানা পাঁচদিন।
জানা গেছে, বাস চালক জিম্মি নিজেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন, টানা একশ ৬৫ ঘণ্টা কমোডে বসে থাকবেন। তবে পাঁচদিন পর নিজেই ক্ষান্ত হন।
স্থানীয় এক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জিম্মি জানান, নিজেকে নিয়ে মজা করার সবচেয়ে ভালো উপায় এটা। সবাই জানার পর মজা করছে আমাকে নিয়ে। আগামিতে ঠিক এভাবেই আমিও সবাইকে নিয়ে মজা করব।
অবশ্য বসে থাকার সময় তার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে কথা বলেছেন। এছাড়া, ফ্রেন্নেকে প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ মিনিটের জন্য ঘুমানোর অনুমতিও দেয়া হয়।
তাছাড়া টয়লেটে বসে সেখানে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে পারতেন না। সেখানে নিকাশি নালার ব্যবস্থা ছিল না। সে কারণে টয়লেট পেলে উঠতে পারতেন তিনি।
জিম্মি বলেন, একটা সময়ের পর খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। ব্যাথা করত পা। তার পরেও রেকর্ড গড়ব বলে সব চ্যালেঞ্জ মেনে নিয়েছি।
টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে এর আগে কেউ রেকর্ড গড়েননি। সেদিক থেকে জিম্মি অন্যতম। তবে এর আগে নাকি এক ব্যক্তি একশ ঘণ্টা টয়লেটে বসে থাকার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি চ্যালেঞ্জ শেষ করতে পারেননি। জিম্মি সব নিয়ম ঠিক মতো মানছেন কিনা সেটা দেখতে বারেবারে এসেছেন গিনেস বুকের কর্মকর্তা এবং সদস্যরা।
দে ফ্রেনেন বলেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বুকে নাম লেখানোর প্রচেষ্টার বিষয়ে সচেতন ছিলাম এবং স্থানীয় কর্মকর্তা ও সাক্ষীরা এটি যাচাইয়ের জন্য চেক তৈরি করছিলেন।

ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য হতে পারে আশীর্বাদ by অরুন দেবনাথ

গত ৩০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম বাংলাদেশভিত্তিক তৈরী পোশাক প্রস্তুতকারী নিউএইজ গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির সুযোগ পেতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এ জন্য ধন্যবাদ দিতে হয় চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধকে।
হেনেস অ্যান্ড মরিজ এপির অন্যতম সরবরাহকারী নিউএইজ তিন দশক ধরে ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলোর সাথে কাজ করছে। এখন তারা ম্যাসিস ইন্ক, গ্যাপ ইনকর্পোরেটের সাথে কাজ করার সম্ভাবনা দেখছেন বলে এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন নিউএইজ গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম। প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েলিটেক্স গ্রুপের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১ জুলাই শুরু হওয়া বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক রফতানি দ্বিগুণের বেশি হয়ে বছরে ২৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে।  গ্রুপের চেয়ারম্যান ডেভিড হাসানাত এ তথ্য দিয়েছেন।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ বাংলাদেশ ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে রেকর্ড ৪০.৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করে। ট্রাম্প ২০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ ভাগ করায় বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফলে ১,৯৮১টি শুল্ক-সংশ্লিষ্ট পণ্যের অর্ধেকের বেশি ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার মতো দেশ থেকে রফতানি হয়েছে।
নিউএইজের ইব্রাহিম বলেন, খুচরা বিক্রেতারা তাদের ব্যবসায়িক ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য বাংলাদেশ থেকে আমদানির চিন্তা করছে।
ম্যাসিস মে মাসে জানিয়েছে, তারা চীন থেকে উৎপাদন সরিয়ে নিতে কিছু দিন ধরেই কাজ করছে।
বাংলাদেশের লক্ষ্য ২০২৪ সাল নাগাদ মোট রফতানি ৭২ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে চীনের ৪১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক বাজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আর এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের মতে, আগামী দুই বছরে পোশাক খাতে ব্যবসা রেকর্ড ৮ ভাগ বাড়বে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতে ৪০ লাখ লোক কাজ করে, এই খাত থেকে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ১৩ ভাগ আসে।
চীনের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফসল তুলতে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম তৈরী বলে মনে করা হচ্ছে। এ দুটি দেশই হতে পারে মার্কিন আমদানিকারকদের প্রধান টার্গেট।
চাহিদা বাড়ার কারণে নিউএইজ কালিয়াকৈরে ২০ মিলিয়ন ডলারের একটি পোশাক কারখানা খুলতে এক চীনা বিনিয়োগকারীর সাথে চুক্তি করেছে। চার মাসের মধ্যে এই কারখানা উৎপাদনে যাবে।
তবে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক কারখানাগুলোর জন্য কিছু সমস্যাও আছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল কমপেটিটিভনেস ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবকাঠামোর র‌্যাংক ১০৩ নম্বরে। অথচ চীনের স্থান ২৯-এ। ফলে বাংলাদেশকে সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নত করতে হবে, পোশাক কারখানাগুলোকে আধুনিকায়ন করতে হবে, নতুন নতুন মহাসড়ক নির্মাণ করতে হবে, আরো ক্রেতা আনতে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মে মাসে চট্টগ্রামের পথে চার লেনের দুটি সেতু উদ্বোধন করেছেন, মার্চে করেছিলেন আরেকটি। ফলে চট্টগ্রাম যেতে সময় অর্ধেক কমে গেছে। মহাসড়কগুলোর গতিও বাড়াচ্ছে সরকার। তারপরও ঢাকা থেকে মালামাল জাহাজে পাঠাতে রফতানিকারকদের লাগে ১৬৮ ঘণ্টা। অথচ সাংহাইতে লাগে মাত্র ২৩ ঘণ্টা।
রফতানিকারকদের উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে হবে বলে মনে করেন ঢাকাভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য আমাদের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও অটোমেশন করতে হবে। কয়েকটি কোম্পানি অটোমেশন করলেও এই সেক্টরে আরো অনেক কিছু করা বাকি রয়ে গেছে।
তবে বাংলাদেশে কিছু মূল্য সুবিধাও আছে। চীনা রফতানি করা পোশাকের দাম পড়ে প্রায় ২.৩ ডলার, আর বাংলাদেশে পড়ে ২.৭৯ ডলার, কম্বোডিয়ায় ২.৫২ ডলার। এই হিসাব বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হকের। চীনের মূল্য সুবিধা ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই তাদেরকে এই শিল্পে এগিয়ে দিচ্ছে।
তবে এখন বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো আছে সবচেয়ে ভালো অবস্থায়। আমেরিকান ফ্যাশন লেবেলস টমি হিলফিগার ও ক্যালভিন ক্লেইনের মালিক পিভিএইচ করপোরেশনসহ ভিয়েলাটেক্স ক্লায়েন্টদের প্রায় ৩০ ভাগ এখন আমেরিকান, অথচ এক বছর আগে ছিল ২০ ভাগ।
ভিয়েলাটেক্সের চেয়ারম্যান হাসানাত বলেন, আমরা আমেরিকান কোম্পানিগুলো থেকে বেশি বেশি ব্যবসায়িক অর্ডার লাভ করার জন্য প্রস্তুত।
বাংলাদেশের একটি পোশাক কারখানায় কর্মকরত শ্রমিকরা, ছবি: ব্লুমবার্গ

চাবাহার বন্দরের নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের পথে হাঁটছে ভারত by সঞ্জয় কাপুর

মার্কিন চাপের মুখে ভারত সরকার যেভাবে নতি স্বীকার করেছে, এবং ইরানের কাছ থেকে তেল আমদানি শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে, সেই একই নীতি এবার চাবাহার বন্দরের ক্ষেত্রেও নেয়া হচ্ছে। চাবাহারের শহীদ বেহেস্তি বন্দরের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব রয়েছে ভারতের কাছে। এই বন্দরের ব্যাপারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেয়েছে তারা। কিন্তু ইরানের সাথে ব্যবসা করাটাই যখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তখন বন্দর নিয়ে দোটানায় পড়ে গেছে ভারত। ভারতের বাজেটে চাবাহার বন্দরের ব্যাপারে বরাদ্দ কাটছাটসহ সব ইঙ্গিতেই বোঝা যাচ্ছে যে, ভারত সরকার এই প্রকল্পের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও দিল্লী সফরকালে ইরানের তেল আমদানি বন্ধের ব্যাপারে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়ায় ভারতকে অভিনন্দন জানান। একই সাথে তিনি এই প্রশ্নও করেন যে, যে দেশটি মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী-অর্থায়নের দায়ে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশান টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত হতে চলেছে, তাদের সাথে ভারত কিভাবে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে? ২০১৯ সালের অক্টোবরের মধ্যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে ইরান যদি পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছে এফএটিএফ। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও বলেছেন যে, তার সরকার এফএটিএফের নির্দেশনা পূরণ করবে যাতে তার দেশ আবার কালোতালিকাভুক্ত না হয়।
অবগত সূত্র দাবি করেছে যে, চাবাহার বন্দর দিয়ে ভারত যে পণ্য পরিবহন করে, এর মধ্যে আফগানিস্তানে মোতায়েন করা মার্কিন সেনাবাহিনীরও কিছু জিনিসপত্র থাকে। সে কারণে ভারত সরকার নিশ্চিন্ত রয়েছে যে, চাবাহার বন্দরের ব্যাপারে তারা মার্কিন সমর্থন পাবে।
চাবাহার বন্দরে বিনিয়োগের ব্যাপারে ভারতের আগাগোড়ায় অনীহা ছিল। ২০১৬ সালে ভারত যখন ইরান ও আফগানিস্তানের সাথে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করে, তখন তাদের আশা ছিল যে পি৫+১ পারমাণবিক চুক্তির পর তেহরান নিষেধাজ্ঞা থেকে যে মুক্তি পেয়েছে, সেটা স্থায়ী হবে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন যে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, সেটা তাদের ধারণায় ছিল না। সে কারণে পাকিস্তানকে এড়িয়ে ব্যবসা করার জন্য ভারত যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, সেটা এখন উদ্বেগের মধ্যে পড়ে গেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি, যেটার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব ও ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে, সেটা ইরানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, এমন সব দেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং তাদের তেল কেনা নিষিদ্ধ করার পর অধিকাংশ দেশের জন্য এটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যতিক্রম হলো চীন ও রাশিয়া। ভারত ও ইউরোপিয় দেশগুলোর সবাই আমেরিকান চাপের সামনে মাথা নত করেছে। চাবাহার বন্দর আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে সহায়তা করছে বলে এটাকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে। মনে করা হয় এই বন্দরের ব্যাপারে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
চাবাহার বন্দর যাতে অকার্যকর হয়ে পড়ে, সে জন্য যে সব দেশ এর বিরোধিতা করে, তারা নিরবে পাকিস্তানের সাথে কাজ করছে, যাতে পাকিস্তান ভারতকে স্থলপথে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় প্রবেশের সুযোগ দেয়। এফএটিএফ পাকিস্তানের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং দাবি জানিয়েছে যাতে আইএমএফকে দিয়েও তাদের উপর চাপ দেয়া যায়। পাকিস্তানকে এটা বলা হচ্ছে যে, তারা যদি ভারতকে স্থল ট্রানজিট সুবিধা দেয়, তাহলে তারা শুধু ট্রানজিট ফি-ই পাবে না, বরং চীনা-অর্থায়নে নির্মিত গোয়াদর বন্দরের প্রতি চাবাহার বন্দর যে হুমকি তৈরি করেছে, সেটারও অবসান হবে। ইমরান খানের আসন্ন হোয়াইট হাউজ সফরকালে চাবাহার বন্দরের পরিণতি সম্পর্কে কোন ইঙ্গিত মিলতে পারে।

বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেলো রাজস্থানের জয়পুর

ভারতের রাজস্থানের পর্যটন নগরী জয়পুর শহরকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। গত ৬ জুলাই  শনিবার ইউনেস্কো টুইটারে এই স্বীকৃতির কথা জানিয়েছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
‘পিংক সিটি’ হিসেবে পরিচত জয়পুর শহর পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। শহরটির কয়েকটি পর্যটক প্রিয় স্থান হলো আম্বার প্যালেস, জন্তর মন্তর, সিটি প্যালেস ও হাওয়া মহল। শহরটি সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মার্বেলের স্থাপত্যের কারণে বেশ বিখ্যাত।
ইউনেস্কোর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইটারে তিনি লিখেছেন, জয়পুর সংস্কৃতি ও বীরত্বের শহর। মার্জিত ও নিরলস আতিথেয়তার কারণে সারাবিশ্বের মানুষ এখানে আসে। ইউনেস্কো এটাকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় গর্বিত।
ইরাকের প্রাচীন শহর ব্যাবিলনকেও বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান দিয়েছে ইউনেস্কো।

ভারতে গরুর গোশত থাকার সন্দেহে মাদ্রাসায় আগুন

ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি মাদ্রাসায় গরুর গোশত থাকার সন্দেহে পাথর নিক্ষেপ ও ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে উগ্রপন্থিরা। ভাঙচুরের পর মাদ্রাসাটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা।

মঙ্গলবার বিজেপি শাসিত ফতেপুর জেলায় এমন ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, সোমবার ওই মাদ্রাসার পেছনের একটি জায়গায় গবাদি পশুর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। এতে কিছু মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কিন্তু মঙ্গলবার ফের একই জায়গায় গবাদিপশুর দেহাবশেষ পাওয়ায় উগ্রপন্থিরা মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পৌঁছে তাদেরকে সরিয়ে দেয়।ওই ঘটনার পরে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার রমেশ বলেন, সকালে বেহতা গ্রামে গরুর গোশত উদ্ধার হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরে কিছু অরাজকতা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে পাথর নিক্ষেপসহ আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। ওই ঘটনায় কোনও হতাহতের তথ্য নেই।

তবে ওই ঘটনায় পুলিশের নিস্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিসেবা দফতরের মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী রেডিও তেহরানকে বলেন, ওই ঘটনা অত্যন্ত অন্যায়, গণতন্ত্র বিরোধী ও ভারতবিরোধী। এসব তারা (হিন্দুত্ববাদীরা) করবে। কিন্তু এসব করেও তারা টিকতে পারছে না। ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির জয় আছে। এটা অধর্মের কাজ। ধর্মনিরপেক্ষতার কাজ নয়।

এসব কাজকর্ম করে তারা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে চাচ্ছে। হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দাঙ্গা বাধাতে চাচ্ছে।

পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না সুইডেন

সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গট ওয়ালস্ট্রম
জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ বিষয়ক একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছে সুইডেন। গত শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী চুক্তিটি প্রস্তুত নয়।
সুইডেনের মন্ত্রী মার্গট ওয়ালস্ট্রম বলেছেন, চুক্তিতে এখনও পারমাণবিক অস্ত্রের পরিষ্কার কোনও সংজ্ঞা নেই। এছাড়া আরও কয়েকটি ইস্যু রয়েছে যেগুলোর উত্তর অবশ্যই পেতে হবে।

এক সংবাদ সম্মেলনে মার্গট বলেন, এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জন্য নিজে দেশের পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাও তাদের নেই। এতে স্বাক্ষর করতে হলে আরও দুটি দলের সমর্থন পেতে হবে।

সুইডেনের ক্ষমতায় রয়েছে সামাজিক-গণতান্ত্রিক নেতৃত্বাধীন সরকার। জাতিসংঘের পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর ইস্যুতে অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে দেশটির সরকার। কেউ কেউ বলছেন জাতিসংঘের চুক্তি অনুমোদন করলে সরকারি জোটের  সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে।  যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছে। তবে এই জোটের বিশ্বাস জাতিসংঘের চুক্তির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যাবে না।

গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গট ওয়ালস্ট্রম জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষক হিসেবে তাদের সরকার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ পদক্ষেপ এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করার কাজ অব্যাহত রাখবে।  তিনি বলেন, সরকারের কাজের লক্ষ্য পরিষ্কার: পরমাণু-মুক্ত বিশ্বের জন্য বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হবে সুইডেন।

সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ বিষয়ক জাতিসংঘের চুক্তি পর্যালোচনা করতে ২০২০ সালে একটি সম্মেলনের প্রয়োজন যেখানে পরমাণু অস্ত্রধারী দেশগুলো নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে পরিষ্কার প্রতিশ্রুতি দেবে। আর তা যদি না হয় তাহলে নিরাপত্তানীতি বিষয়ক পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে সুইডেন। আর বিগত কয়েক দশকের মধ্যে বর্তমানে পরমাণু অস্ত্রের তৈরি করা হুমকি সবচেয়ে মারাত্মক। বেশ কয়েকটি দেশ তাদের অস্ত্রের আধুনিকায়ন ঘটিয়েছে আর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া বিশ্বাসের ঘাটতি জরুরি সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ধারণা করা হয়, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১৫ হাজার পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ জানিয়েছে, স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের পর পরমাণু হামলার আশঙ্কা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মূল পরমাণবিক শক্তিধর পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও চীন ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দেবে। অন্য দেশগুলোও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাবে না। তবে জ্বালানি তৈরির কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের নিশ্চয়তা পাবে দেশগুলো।

‘জয় শ্রীরাম’ নিয়ে অমর্ত্য সেনের বক্তব্য লেখা হোর্ডিং কাদের? উঠছে প্রশ্ন

বিজেপির ‘জয় শ্রীরাম’-র পালটা হিসেবে ‘জয় বাংলা’,  ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান তৈরি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এবার ইস্যুতে ছবি দিয়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের বক্তব্য লেখা হোর্ডিং লাগানো হল শহরে। কিন্তু, কারা এমন হোর্ডিং লাগাল? তা অবশ্য জানা যায়নি। তৃণমূল নেতা ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, ‘আমরা অমর্ত্য সেনকে সমর্থন করি। এই হোর্ডিং সাধারণ মানুষই লাগিয়েছেন।’

লোকসভা ভোটে এ রাজ্যে অভাবনীয় ফল করেছে বিজেপি। ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শোনা যাচ্ছে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। এমনকী, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ের সামনেও ওই স্লোগান দিয়েছিলেন বিজেপি সমর্থকরা। এই ঘটনায় বিতর্কও কম হয়নি।
গত শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেন। নিজের শহরে পা রেখে তিনি বলেন, ‘‘’জয় শ্রীরাম’ যে  প্রাচীনকাল থেকে স্লোগান বাঙালি সমাজের, এমনটা তো শুনিনি। বরং আমার মনে হয় এই শব্দ ইদানিংকালের আমদানি।’’ প্রেসিডেন্সি কলেজের স্বর্ণযুগের অর্থনীতির ছাত্রের আরও বক্তব্য, ‘জয় শ্রীরাম’  স্লোগান তুলে মারধর করাটাও বাংলার সংস্কৃতি নয়। বরং এখানে মা দুর্গার প্রভাব-প্রতিপত্তি অনেক বেশি। অমর্ত্য সেন বলেন, ‘এখন শুনছি বাংলায় রামনবমী খুব হচ্ছে। আগে এত হত বলে শুনিনি। সেদিন আমার চার বছরের নাতনিকে জিজ্ঞেস করলাম, টিভিতে যা দেখো, তোমরা সবচেয়ে কাকে ভাল লাগে? ও বলল, মা দুর্গা। ঠিকই বলেছে, এই বাংলায় মা দুর্গার যা প্রতিপত্তি, তার সঙ্গে রামনবমীর তুলনা চলে না।’
এদিকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের বিরোধিতার করায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকেও রেয়াত করেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, ‘অমর্ত্য সেনদের কথা শোনার মতো লোক নেই। শুনলে নির্বাচনে এই ফল হত না। মানুষ দু’হাত তুলে ‘জয় শ্রীরাম’ বলছেন। সারা ভারতেই মানুষ যা বলছে, বাংলাও তার বাইরে নয়।’ তবে  বিজেপি নেতারা যাই বলুন না কেন, শহরের বিভিন্ন জায়গায় কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান নিয়ে অর্মত্য সেনের বক্তব্য লেখা হোর্ডিং পড়েছে। হোর্ডিংয়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের ছবিও দেওয়া হয়েছে।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কই প্রিন্সেস হায়ার পালিয়ে যাওয়ার কারণ?

দুবাইয়ের শাসক শেখ মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাখতুমের স্ত্রী প্রিন্সেস হায়ার পালিয়ে যাওয়া এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। হাই প্রোফাইল এই ঘটনা এখন পশ্চিমা মিডিয়ায় আলোড়ন ফেলেছে। এমনতেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজপরিবারে অন্দরমহল হামেশাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে পশ্চিমা মিডিয়ায়।
হঠাৎ ছেলে-মেয়ে নিয়ে দুবাই রাজপরিবারের প্রিন্সেসের হুট করে চলে যাওয়া সেই আগুণেই ঘি ঢেলেছে। আগে বলা হচ্ছিল, বিন রাশিদের কন্যা তথা তার সৎ মেয়ে প্রিন্সেস লতিফা সম্পর্কে গোপন তথ্য জেনে গিয়ে ছিলেন প্রিন্সেস হায়া। তাই তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।
কিন্তু এখন আবার দুবাইয়ের রাজপরিবারের একটি সূত্র বলছে, হায়ার সঙ্গে তারই এক দেহরক্ষীর ঘনিষ্ঠতা বেড়ে গিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠে ছিল। এই বিষয়ে বিন রাশিদ টের পেয়ে যাওয়ায়, জীবন সংশয়ে ভুগতে শুরু করে ছিলেন হায়া। কয়েক মাস ধরেই তাই তিনি পালাবার প্রস্তুতি শুরু কর ছিলেন। সূত্রের দাবি, হায়ার ওই দেহরক্ষী একসময় ব্রিটেনের সেনাবাহিনীতে ছিলেন। তার সঙ্গে নতুনভাবে জীবন শুরু করার জন্য ৩১ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন।
প্রথমে জার্মানিতে আশ্রয় নিলেও বর্তমানে ব্রিটেনের কেনসিংটন প্রাসাদের কাছে নিজের বাড়িতে রয়েছেন হায়া। তিনি ব্রিটেনের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। যে বাড়িতে তিনি রয়েছেন, সেটির মূল্য ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড। বাংলাদেশী মুদ্রায় তা হলো প্রায় ৮৯৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। জানা গেছে, তিনি ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। জর্ডানের বর্তমান বাদশাহ আবদুল্লাহ সৎ বোন তিনি। ব্রিটিশ রাজপরিবারে সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে।
এদিকে প্রিন্সেস হায়ার বিরুদ্ধে লন্ডনের আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন সুলতান বিন রাশিদ। চলতি মাসের শেষ দিকে মামলাটির শুনানি হবে। ব্রিটেনের রয়েল কোর্ট বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আগামী ৩০ ও ৩১ জুলাই মামলার শুনানি হবে। এদিন বিন রাশিদ উপস্থিত থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে। লন্ডনের প্রখ্যাত আইনি পরামর্শ প্রতিষ্ঠান লেডি হেলেন ওয়ার্ড অব স্টুয়ার্টস তার পক্ষে আদালতে লড়বে। ইতিমধ্যে প্রিন্সেস হায়াও, বিন রাশিদের কাছে বিবাহ বিচ্ছেদের নোটিশ পাঠিয়েছেন।২০০৪ সালে বিন রাশিদের সঙ্গে প্রিন্সেস হায়ার বিয়ে হয়। তিনি ৬৯ বছর বয়সী ধনকুবেরের ষষ্ঠতম স্ত্রী।
দেহরক্ষীর সাথে ঘনিষ্ঠতা! কেন পালালেন প্রিন্সেস হায়া!
সূত্র : কলাম

ভিন দেশে ঢুকে কাজ করতে পারবে এনআইএ, ক্ষমতা দিচ্ছে বিজেপি

বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতের লোকসভায় পাশ হয়ে গেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) সংশোধনী বিল। সে সময় লোকসভায় বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।

অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে ওয়েইসি বলেন, এ ভাবে ভয় দেখাতে পারবেন না। জবাবে অমিত শাহ বলেন, আপনার মনে ভয় ঢুকে গেলে আমরা কী করতে পারি!

২০০৯ সালে এনআইএ গঠন করার পর তাদের ভূমিকা ছিল সন্ত্রাস দমন তথা তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এবার তাতে মানব পাচার, দেশবিরোধী গতিবিধি, জাল নোট, বেআইনি অস্ত্রের নির্মাণ ও কারবার, সাইবার সন্ত্রাস এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের আওতায় থাকা অপরাধগুলোও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ফলে বিশেষ আদালত গঠন করে কোনো মামলার শুনানিও করতে পারবে এনআইএ।

বিল সংশোধনের ফলে কেবল দেশের ভেতরেই নয়, অন্য দেশে ভারতীয়দের ওপর হামলা হলে, সেখানে গিয়েও তদন্ত করতে পারবে ভারতীয় গোয়েন্দারা। তবে লোকসভায় বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে বিলটি পাশ হয়ে গেলেও, রাজ্যসভাতে সেটি পাশ করাতে হবে বিজেপিকে। তাতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ স্বাক্ষর করলে তবেই নতুন আইন চালু হবে।

তা নিয়ে আলোচনার সময় বিলটির বিরুদ্ধে আপত্তি তোলেন বিরোধীরা। বিলটি সংশোধন করে কেন্দ্রীয় সরকার আসলে এনআইএ-র অপব্যবহার করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের থামাতে অমিত শাহ জানান, ধর্মের নিরিখে এই বিলের অপব্যবহার কোনো ভাবেই হতে দেবে না সরকার। বরং ধর্ম যাই হোক না কেন, সব ধরনের সন্ত্রাস নির্মূল করাই তাদের লক্ষ্য। কিন্তু তা নিয়ে হট্টগোলের মধ্যেই মারাত্মক অভিযোগ তোলেন বিজেপি নেতা সত্যপাল সিংহ। নাম না করে বলেন, একসময় এনআইএ-কে তদন্তে বাধা দিয়েছিলেন হায়দরাবাদের এক নেতা।

সত্যপালের এই অভিযোগে মেজাজ হারান ওয়েইসি। তা নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হলে ওয়েইসিকে শান্ত হতে বলেন অমিত শাহ। চুপ করে শুনতে বলেন। কিন্তু বিজেপি সভাপতি তার দিকে আঙুল তোলায় চটে যান ওয়েইসি।

তিনি বলেন, এভাবে ভয় দেখাতে পারবেন না আমাদের। আর সেটার জবাবে অমিত শাহ বলেন, কথার মাঝে এভাবে কথা বলা যায় না। এখানে কাউকে ভয় দেখাচ্ছি না আমি। কিন্তু আপনার মনে ভয় ঢুকে গিয়ে থাকলে কী-ইবা করতে পারি!

এতে দমে যাননি ওয়েইসি। এনআইএ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, বিদেশে তদন্ত করতে পাঠিয়ে এনআইএ-কে কী ক্ষমতা দিচ্ছেন আপনারা? অন্য সার্বভৌম দেশগুলো আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাকে তদন্তের অনুমতি দেবে কীভাবে? আফগানিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসে যদি হামলা হয়, সে ক্ষেত্রে সেই দেশের আইন মেনেই তদন্ত হবে। সেখানে এনআইএ-কে কী বিশেষ অধিকার দেয়া হয়েছে?

ওয়েইসি আরো বলেন, হামলাকারী যদি অমুসলিম হয় আর ভুক্তভোগী যদি হয় মুসলিম, সে  ক্ষেত্রে সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকবে।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করা হয়। তাদের দাবি, এনআইএ-র হাতে ব্যাপক ক্ষমতা তুলে দিয়ে দেশে পুলিশতন্ত্র কায়েম করার প্রচেষ্টা চলছে।

পাকিস্তানের সাথে সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান মার্কিন জেনারেলের by আনোয়ার ইকবাল

মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রধান বৃহস্পতিবার বলেছেন যে দুই দেশের মধ্যকার অভিন্ন স্বার্থকে ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সাথে তাদের সামরিক বাহিনীর জোরালো সম্পর্ক বজায় রাখা।
জেনারেল মার্ক মিলিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তী জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের প্রধান হিসেবে মনোনীত করেছেন। তিনি তার মনোনয়ন শুনানির সময় হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন যে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্যের আগাম প্রত্যাহার হবে একটি কৌশলগত ভুল।
ওয়াশিংটনে শুনানিকালে সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে জেনারেল মিলি বলেন, চেয়ানম্যান হিসেবে নিয়োগ নিশ্চিত হলে আমার উদ্দেশ্য হবে মার্কিন অনুরোধগুলোর প্রশ্নে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানের ওপর আমাদের চাপ প্রয়োগের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখা।
তিনি বলেন, আমরা নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত করা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সংলাপের জন্য চাপ দিলেও আমাদের প্রয়োজন অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সামরিক বাহিনী পর্যায়ে জোরালো সম্পর্ক বজায় রাখা।
প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ওয়াশিংটন সফরের ১০ দিন আগে এই বিবৃতি প্রকাশিত হলো। এতে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রধান উপাদানটির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এটি দীর্ঘ দিন ধরে ছিল ছিল দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের ভিত্তি।
এক সিনেটরের আফগানিস্তানবিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল বলেন, আগেভাবেই প্রত্যাহার হবে একটি কৌশলগত ভুল।
বর্তমানে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে কর্মরত জেনারেল মিলি আফগানিস্তান, ইরাক, সোমালিয়া, কলম্বিয়ায় কাজ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা কারো কোনো আপত্তি ছাড়াই তিনি নিয়োগ পেয়ে যাবেন।
আফগানিস্তানে তিনি ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ফোর্স জয়েন্ট কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল ও মার্কিন বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডিং জেনারেল।
সিনেট প্যানেল আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইরাকের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে তার কাছে লিখিত প্রশ্নপত্র পাঠায়। তিনি একটি প্রধান কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পাকিস্তানের গুরুত্ব থাকা, আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনার জন্য ইসলামাবাদের ভূমিকা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তানের সহাযোগিতার প্রয়োজনের আলোকে পাকিস্তানের সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কমিটি জানতে চায়, নিয়োগ নিশ্চিত হলে সামরিক বাহিনী পর্যায়ে সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পরিভাষায় পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কে কী পরিবর্তনের সুপারিশ করবেন আপনি।
জেনারেল মিলি আফগানিস্তানে রাজনৈতিক নিষ্পত্তি, আল কায়েদা ও আইএসআইএস-খোরাসানকে পরাজিত করা, মার্কিন বাহিনীকে লজিস্টিক্যাল প্রবেশ দেয়া ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোসহ মার্কিন স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়া কৌশলে পাকিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।