Saturday, July 31, 2010

জননেতা নূরুল ইসলাম by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

গণতন্ত্রী পার্টির একসময়ের সভাপতি, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রাণপুরুষ এবং চৌদ্দ দলের প্রথম সারির সংগঠক জননেতা নূরুল ইসলামের আজ ৬৮তম জন্মবার্ষিকী। বেঁচে থাকলে তাঁকে আজ জাতীয় সংসদেও সক্রিয় দেখা যেত, যেমন দেখা যেত সংসদের বাইরে। জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোয়, দরিদ্র এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের সংগ্রামে, তাদের পাশে। তাঁর সক্রিয়তার পরিসমাপ্তি ঘটল তাঁর লালমাটিয়ার ফ্ল্যাটে ২০০৮ সালে ডিসেম্বরের ৩ তারিখের এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে এবং একমাত্র ছেলে তমোহর ইসলামসহ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই মৃত্যুর ভয়াবহতা অকল্পনীয়, এই মৃত্যুর শোক অবহনযোগ্য। তার পরও যদি আগুনের ঘটনাটি হতো বৈদ্যুতিক কোনো দুর্ঘটনা অথবা অসাবধানতা থেকে, তাহলে হয়তো একটা দূরবর্তী সান্ত্বনা থাকত, সেই মৃত্যুকে জীবনচক্রের একটি অপ্রত্যাশিত পরিণতি হিসেবে মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তসহ যতগুলো তদন্ত হয়েছে, দেখা গেছে, আগুনের ঘটনাটি পরিকল্পিত। অর্থাৎ কেউ নূরুল ইসলামের মৃত্যু চেয়েছে, মৃত্যু ঘটানোর জন্য পরিকল্পনা করেছে এবং এই পরিকল্পনা সফল হয়েছে। নূরুল ইসলামকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তমোহরকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর নূরুল ইসলামের ফ্ল্যাটে যে আগুন লাগে, তার দুটি কারণ তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের দু-এক কর্তাব্যক্তিকে উল্লেখ করতে দেখেছি (দেখেছি, অর্থাৎ টিভি চ্যানেলে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে)। এর একটি হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট এবং অন্যটি একটি ফ্রিজের কম্প্রেসর বিস্ফোরণ। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কয়েকজন পরিদর্শক একসময় শর্টসার্কিটের পক্ষে অবস্থান নেন। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁরা জানান, ফ্রিজ ও টেবিল ল্যাম্পের জন্য ব্যবহূত মাল্টিপ্লাগ এক্সটেনশন কর্ডটি তাঁরা ভস্মীভূত অবস্থায় দেখেন, কাজেই তাঁদের ধারণা এই মাল্টিপ্লাগ থেকে শর্টসার্কিটের মাধ্যমে আগুন লাগতে পারে। অবশ্য অগ্নিকাণ্ডের দুই সপ্তাহ পর এই পরিদর্শক দলটিই জানাচ্ছে, ফ্ল্যাটের মেইন সার্কিট ব্রেকারটি ও দুটি সিঙ্গেল সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ অর্থাৎ বন্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফ্রিজের সকেট পয়েন্টের ভেতর তার জ্বলা অবস্থায় পাওয়া গেলেও ভেতরের অংশের ইনসু্যুলেশন ও তার অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। পরিদর্শক দলের মতামত ছিল, যেহেতু বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছে, সেহেতু বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে আগুন লাগার আশঙ্কা নেই। টিভি চ্যানেলগুলোর খবর যাঁরা শুনেছেন ও দেখেছেন, অথবা ওই ফ্ল্যাটে যাঁরা গেছেন তাঁরা জানেন, ফ্রিজের কম্প্রেসর বিস্ফোরণের প্রশ্নই আসে না, যেহেতু ফ্রিজটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল এবং কম্প্রেসরটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আগুনের তীব্রতা এমনই স্থানিক ছিল যে, সিলিংয়ের পাখার ব্লেড বেঁকে গেছে, অথচ সোফার ফোমের গদিতে সেই আগুনের আঁচ লাগেনি, এই আগুনের ঘটনা নিয়ে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ তাঁদের মতামত দিয়েছেন এবং তাতে নাশকতামূলক কোনো বিস্ফোরণ ঘটানোর ব্যাপারে তাঁরা জোর দিয়েছেন। বিস্ফোরণটি ছিল তীব্র এবং তা থেকে প্রচুর ধোঁয়া নির্গত হয়েছিল। বিস্ফোরণের ঝাপটা যেদিকে গেছে, সেদিকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অন্যদিকে কোনো প্রভাব পড়েনি। নূরুল ইসলাম ও তমোহর মারা গেছেন বিষাক্ত ধোঁয়া এবং আগুনের তাপে।
এই মৃত্যু নিয়ে একটি মামলা হয়েছিল। মামলা হলে তদন্ত হয়, এ ক্ষেত্রেও তদন্ত হয়েছে। এবং তদন্ত সচরাচর যে রকম হয়, সে রকম ঢিমেতালেই হয়েছে। একসময় মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে সেটিকে চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু তাতে চঞ্চলতা বাড়েনি, সেই একই তালে এটি চলছে। কবে নাগাদ এই মামলার নিষ্পত্তি হবে, প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং যে সন্দেহ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে আগুন লাগার ঘটনাটি পরিকল্পিত, তা প্রমাণিত অথবা অপ্রমাণিত হবে, আর প্রমাণিত হলে যারা এটি ঘটিয়েছে, তারা শাস্তি পাবে, আমরা তা জানি না। তবে সকল দেশবাসীর সঙ্গে আমরা আশা করব, সরকার এ ব্যাপারে আরও আন্তরিক হবে। এর আগে শাহ মোহাম্মদ কিবরিয়ার হত্যা ঘটনাটিরও কোনো নিষ্পত্তি হয়নি অথচ কত বৃহস্পতিবার নীল পোশাক পরে ‘শান্তির সপক্ষে নীলিমা’ এই চেতনায় মানববন্ধন করল তাঁর পরিবার ও গুণগ্রাহীরা। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার বাংলাদেশে হয় না—এটি খুবই বেদনাদায়ক।
এই লেখার শুরুতে নূরুল ইসলামের রাজনৈতিক পরিচয়টিই তুলে ধরেছি, কিন্তু তিনি তো শুধু একজন রাজনীতিবিদই ছিলেন না, ছিলেন সন্তান, স্বামী, পিতা, ভাই, বন্ধু। এই প্রতিটি পরিচয়ে তাঁর ছিল অসামান্য সফলতা। আমরা যারা তাঁর সান্নিধ্যে এসেছি, কাছ থেকে তাঁকে দেখেছি, তারা জানি, কী অসাধারণ সারল্য আর বিনয় ছিল মানুষটির, কী অসীম ধৈর্য এবং ভালোবাসা। একজন অগ্রজের স্নেহে অনেক দাবি তিনি অনেকের মেটাতেন, বিপদে-আপদে সঙ্গী হতেন। অথচ যখন তাঁর প্রয়োজন ছিল এক বা দুজন সঙ্গীর, ফ্ল্যাটের দরজাটা যারা ভাঙবে, বাইরে সজীব বাতাসে নিয়ে যাবে তাঁকে ও তমোহরকে, তখন কেউ ছিল না। হয়তো একটি জীবনেরই বড় একটি আয়রনি। কিন্তু নূরুল ইসলাম আজীবন মানুষের বিপদে সে রকম সঙ্গী হওয়ারই সাধনা করেছেন।
তিনি বেঁচে থাকলে রাজনীতিতে কতখানি অবদান রাখতে পারতেন, সে অনুমানে যাব না—কেননা রাজনীতি আমাদের সুস্থ নয়। নূরুল ইসলাম নিজেও অসুস্থ রাজনীতির বলি। কিন্তু তিনি যে বিবেকের ও ন্যায়বোধের পক্ষে একজন শক্তি হয়েই থাকতেন, এ কথাটা নিশ্চিন্তভাবে বলা যায়।
নূরুল ইসলামের স্মৃতি জেগে থাকবে যত দিন তাঁর বিশ্বাসের মানুষজন এই বাংলাদেশে থাকবে। তাঁকে আমার শ্রদ্ধা।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখুন -ধর্ম by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অপার মহিমা নিয়ে বছর ঘুরে মাহে রমজান সমাগত। এ মাসে পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রোজাদার মুমিন বান্দাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন। অথচ এ পবিত্র মাসকে পুঁজি করে একশ্রেণীর কালোবাজারি অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও দ্রব্যসামগ্রীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেন। ফলে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঘটে। এতে রোজাদার সাধারণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষকে নিদারুণ ভোগান্তি পোহাতে হয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খাদ্যপণ্য মজুদ ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নিয়মিত লাভের পরিবর্তে ক্রেতাসাধারণকে ঠকিয়ে এবং সংকটের আবহ সৃষ্টি করে অধিক মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অমানবিক। ইসলাম এ ধরনের জঘন্য কাজকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না। এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে ধর্মপ্রাণ ব্যবসায়ীদের সব সময় বিরত থাকা উচিত।
ইসলামের দৃষ্টিতে দ্রব্যমূল্য বাজারে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চাহিদা ও জোগানের আলোকে নির্ধারিত হবে। তবে বাজার প্রক্রিয়াকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ব্যাহত করতে না পারে, সে জন্য সরকার তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পারবে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ক্রয়-বিক্রয়ে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মজুদদারি সম্পর্কে ইসলামি দৃষ্টিকোণ রয়েছে। খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীরা অস্বাভাবিকভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি করতে পারেন না। যদি এমনটি কেউ করে বসেন, তবে ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মসাৎকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবেন। এভাবে মাহে রমজান বা বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে যখন অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্যের স্ফীতি ঘটাতে চান, তখন সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারণে হস্তক্ষেপ করতে পারবে বলে ইসলামি আইনবিদ বা ফকিহগণ অভিমত প্রকাশ করেছেন। সরকার কর্তৃক ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে আরবিতে ‘তাসয়ির’ বলা হয়। এ ক্ষেত্রে ভোক্তা ও উৎপাদক কোনো শ্রেণীরই ক্ষতিসাধন করা যাবে না, উভয় শ্রেণীর স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে। ইসলামের এ ব্যবস্থা থেকে ধারণা নিয়ে সরকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে দ্রব্যমূল্যের তালিকা টাঙানো বাধ্যতামূলক করতে পারে। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘ব্যবসায়ী যদি সীমাতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ করে এ সুযোগে যে, ক্রেতা পণ্যের প্রকৃত মূল্য জানে না, তাহলে এই অতিরিক্ত পরিমাণের মূল্য সুদ পর্যায়ে গণ্য হবে।’
ব্যবসায়ীদের বিবেকহীন ও অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডের কারণে কখনো কখনো দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়ে। মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে বাজার প্রক্রিয়াকে রক্ষার জন্য ইসলাম মজুদদারি, মুনাফাখোরি, ধোঁকাবাজি, প্রতারণা ও দালালির মতো কার্যক্রমকে অবৈধ ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘মজুদদার খুবই নিকৃষ্টতম ব্যক্তি। যদি জিনিসপত্রের দাম হ্রাস পায় তবে তারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। আর যদি দর পরে বেড়ে যায় তবে আনন্দিত হয়।’ (মিশকাত)
আমরা দেখে আসছি যে যখন মাহে রমজান শুরু হয়, তখনই মুনাফাখোরদের কিছু চক্র তৎপর হয়ে ওঠে। ফলে জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। তাই রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় রাখার জন্য কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত আবশ্যক। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যদি মুসলমানদের থেকে নিজেদের খাদ্যশস্য আটকিয়ে রাখে, তবে আল্লাহ তাআলা তার ওপর মহামারি ও দরিদ্র্যতা চাপিয়ে দেন।’ (ইবনে মাজা ও বায়হাকি)
মানুষের অসহায় দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে যারা মজুদদারি, কালোবাজারি করে, তারা মানুষ নামের অমানুষ। সেসব ভণ্ড প্রতারকেরা রমজান মাস এলে লোক দেখানো সিয়াম সাধনায় রত থেকে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুদামজাত করে বাজারে কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করে এবং পরে অধিক হারে মুনাফা লুটে নেয়। তাদের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসা। অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তারা সাধারণ মানুষকে অবর্ণনীয় কষ্ট দেয়। এ দেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি খেটে খাওয়া মানুষ প্রতিনিয়ত তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে প্রবঞ্চিত, শোষিত ও বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে রমজান মাসেও সাধারণ মানুষ একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে। অথচ পণ্যসামগ্রী মজুদ করে মূল্যবৃদ্ধি বা অধিক মুনাফা করা ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পণ্য আমদানি করে বাজার দামে বিক্রয় করে, তার উপার্জনে আল্লাহর রহমত রয়েছে। আর যে ব্যক্তি আমদানি করে চড়া দামে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পণ্য মজুদ করে রাখে, তাদের প্রতি আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।’
রোজাদার মানুষের কথা ভেবে যাঁরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন, তাঁরা জনসাধারণের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করার মানসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধকল্পে ব্যবস্থ্থা নিতে পারেন। রমজান মাসে রোজাদার মানুষকে যেন কষ্ট বরণ করতে না হয় এবং একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট থেকে বর্তমানে ‘আল-হিসবা’ ব্যবস্থ্থা চালু করে বাজারকে কলুষমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত করা যেতে পারে। এ লক্ষ্যে ‘মূল্য নিয়ন্ত্রণ সেল’ গঠন করে শহর, নগর, বন্দর, গ্রাম—সর্বত্রই সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের নজরদারির আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার। ব্যবসায় মূল্যপ্রবাহকে কেউ যেন ঊর্ধ্বমুখী করে না তোলে, সে ক্ষেত্রে ইসলামে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি মুসলমানদের লেনদেনে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ ঘটালে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আগুনের হাড়ের ওপর তাকে বসিয়ে শাস্তি দেবেন।’
রমজান মাস একটি ধর্মীয় আচার ও পবিত্র বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ। মাহে রমজান পরিশুদ্ধির মাস হলেও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নৈতিক অধঃপতন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সামাজিক সমস্যা, সচেতনতার অভাব প্রভৃতি সেই আত্মনিয়ন্ত্রণকে বাধাগ্রস্ত করে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হলে সমাজের প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মানুষকে সৎ মনোভাবাপন্ন, নির্লোভ, মহৎপ্রাণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা উচিত। মজুদদারি, ধোঁকাবাজি, সুদি লেনদেনসহ সব ধরনের ইসলামি আদর্শ বিবর্জিত কার্যাবলি রোধ করা প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা, ইসলামসম্মত সেবামূলক ভূমিকা মাহে রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে রাখতে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সুতরাং আসুন, মাহে রমজানে ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলি। মুনাফাখোরি, মজুদদারি, ফাটকাবাজারি, কালোবাজারি ও সুদসহ অবৈধ পন্থায় লেনদেনে অর্থ উপার্জন থেকে বিরত থাকি।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমী, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@prothom-alo.info

একটি বড় শূন্য by মুস্তাফা জামান আব্বাসী

অভিনেতা থেকে নেতা আসাদুজ্জামান নূর। পাশে বসে জিজ্ঞেস করলাম, কোনটা মজার? বললেন, দুটোই। দুটো দুই রকমের। নীলফামারীর হাটুরে বাহেরা যখন ছুটে এসে ভালোবাসা জানায় তখন এক রকম, নাটকে অভিনয়ের পর দর্শকের ভালোবাসার আপ্লুত দৃষ্টি যখন, তখন আরেক রকম। বাবা আব্বাসউদ্দীনের ইচ্ছে ছিল আমি অভিনেতা হই, তাঁর জীবনের দুটি ইচ্ছার একটি। প্রথম জীবনে ব্যারিস্টার অভিমুখী ও পরের জীবনে অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছা। তাঁর প্রথম ছেলে ব্যারিস্টার ও দ্বিতীয় ছেলে বিভিন্ন মঞ্চে অভিনয় করার শেষেও অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন থেকে দূরে।
পরিচালক এহেতশাম ১৯৫৯-এ চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয়ের অফার দিয়ে বসেন আমাকে দুম্ করে। নায়ক নাদিম তখনো নাজির বেগ, ঘোরাফেরা করছেন জীবিকার সন্ধানে। তখনো অফার পাননি, আমি পেয়েছিলাম। বাবা মৃত্যুশয্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ হয়নি। জীবন থেকে অভিনয় সরে গেল। দূর থেকে বহু দূরে।
আবু হেনা মোস্তফা কামাল আমার সমসাময়িক। কবি-সুগায়ক, পরে অধ্যাপক। বললেন, সুজিতকে গানের লাইনে দিলাম। এ দেশে গানকে পেশা করা বেশ সাহসের ব্যাপার। বললাম, চিন্তা করবেন না। সময় বদলেছে। সুজিত পারবে। আসফুদ্দৌলা, আনোয়ারউদ্দিন খান ও আমি গানের লাইনে থেকেও পেশা হিসেবে নিতে পারিনি। আজও শিল্পী হইনি, অভিনেতা হইনি। কী হলাম? কিছুই না, একটি বড় শূন্য, এ বিগ জিরো।
শূন্যের কথা বলতে বসেছি। ’৬২ সালে সিএসএস পরীক্ষায় জিজ্ঞেস করলেন অনুসন্ধানী চোখ, জীবনের লক্ষ্য কী তোমার? বললাম, মানুষ হব, ভালো মানুষ। বললেন, বুঝলাম, কী ধরনের মানুষ? বললাম, শিল্পী হব, সাহিত্যিক হব। আটজোড়া চোখ একে অন্যের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন। আমার উত্তর খাপছাড়া, লক্ষ্যশূন্য। বুঝতে পারছি, ফলাফল এগোচ্ছে শূন্যের দিকে। লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলেও মৌখিকে পেলাম জিরোর কাছাকাছি। অর্থাৎ টায়ে টায়ে পাস, তাতে চাকরি হয় না।
বড় চাকরি পেলাম হাইসন্স কোম্পানিতে। জেনারেল ম্যানেজার, ঈর্ষণীয় সুবিধা। বাদ সাধল কপাল। ৭০ জন কর্মচারী এসে বললেন, দেশ এখন স্বাধীন। এই বিশাল সম্পত্তি সরকারের কাছে নয়, লিখে দিন আমাদের নামে। দিইনি। নালিশ ঠুকে দিলেন সর্বোচ্চ ঠিকানায়। হলাম জিরো।
নিজের কোম্পানি খুললাম। দিন কতক ভালোই গেল। স্বাধীন হওয়ার প্রথম দিন থেকে যারা ঘর বেঁধেছে অসৎ চিন্তায়, তারা এগোতে পারবে কেমন করে। সামনে মিষ্টি হাসি, পেছনে ছুরি। বড় অফিসার আপ্লুত কণ্ঠে বললেন, আব্বাসী সাহেব, আমি আপনার বাবার ঘনিষ্ঠ, তাঁর গান বাজিয়েই আমার সকাল। আরেকজন বললেন, আপনার ভগ্নি জাতির সম্পদ। আরেকজন বললেন, আপনার ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালি আমি খুবই শ্রদ্ধার চোখে দেখি। যাঁরা যত ভালো ব্যবহার করেছেন, ব্যবসায়ী জীবনে (তিরিশ বছর) তাঁদের কাছ থেকে পেয়েছি ততটাই শূন্য। তাঁরা সবাই অসৎ তা বলছি না, সাহায্য পেয়েছি সামান্যই। কোটির ব্যবসায় ঘুষের প্রত্যক্ষ অংশীদারদের নামধাম বলে না দিয়েও ঘটনা জেনেছি ‘জীবন নদীর উজানে’-তে। সৎ থেকে অসৎকে পৃথক করা না পর্যন্ত পেছনে পড়ে থাকব আমরা। চুপ করে থেকে হজম না করার জন্য উপদেশ দিয়েছিলাম বন্ধুদের, যখন ছিলাম ঢাকা চেম্বারে পরিচালক, চার বছর। কেউ আমল দেয়নি সেদিন, দায়ে পড়ে আজ কিছুটা সোচ্চার।
আবু হেনা মোস্তফা কামালের কথায় আবার আসি। তিনি ছিলেন আমাদের কালের একজন জিনিয়াস, যেমন অধ্যাপনা, তেমনি কাব্য সাধনা, তেমনি মিষ্টি তাঁর গীত রচনা। একদিন বললেন, সকালে তোমার জন্য গান লিখেছি। দেখ, পছন্দ হয় কি না:
‘স্বপ্নঝরা নদীর বাঁকে আকাশ যখন কপোল রাখে সেইক্ষণে
তোমায় আমি দেখেছিলাম আমার চোখের অঞ্জনে’
এরপর:
‘মহুয়ার বনে বনে মৌমাছি ওড়ে মনবিলাসে
ঝিকিমিকি রোদ লাগে পলাশে’
আনোয়ারউদ্দিন খানের সুরে গানগুলো ফিরে আসে নতুন ব্যঞ্জনা নিয়ে যখন গাইতে বসি।
সবচেয়ে মজার হতো হেনা ভাইয়ের তীর্যক মন্তব্য। বেঁচে থাকলে আজ হয়তো আমার মতো কলাম লিখতেন। যা লিখতেন না পড়ে নিতে হতো তাঁর চোখের ভাষায়। একদিন একজন শিল্পীকে উপস্থাপনা করছেন টেলিভিশনে। প্রশংসাবাক্য ছুড়ে দিতে কার্পণ্য নেই তাঁর। সামনে পড়তেই তাকালেন আমার দিকে। আমার প্রশ্ন তাঁর চোখে চোখে, এই শিল্পীর জন্য এত প্রশংসা? আর ওঁর উত্তর ছিল চোখে চোখে, এ তো গানই শেখেনি। একটু বাড়িয়ে বললাম আর কী।
একদিন বললেন: জীবনে সবই পেলাম, পেলাম না জীবনকে।
ভাবছিলাম, আজ কেন তাঁর এই উদাসীন দার্শনিকতা। শূন্যতাবোধ মাঝেমধ্যে জীবন ছুঁয়ে যায় বৈকি। এ বিগ জিরো বা একটি বড় শূন্য আমি নিজেই। অপরিসীম শূন্যতার মাঝে জীবনের অন্বেষায় ব্যাপৃত।
মুস্তাফা জামান আব্বাসী: লেখক ও সংগীতব্যক্তিত্ব
mabbasi@dhaka.net

ভবিষ্যতের বিপর্যয় এড়ানোর শিক্ষা -আপিল বিভাগের রায় by আকবর আলি খান

সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগের রায়ে ১৯৭৫ সালের পরে আইনগত দিক থেকে যে অনাচার রয়েছে তার একটা সুদীর্ঘ বয়ান রয়েছে। এটা সবার পড়া উচিত এবং আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের অতীত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত। আমরা দেখেছি এবং এই রায় থেকেও বোঝা যাচ্ছে, অতীতে শুধু সরকারের নির্বাহী বিভাগ বা রাজনীতিকেরাই ভুল করেননি, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বাড়াবাড়ি করেছেন, আইন ভঙ্গ করেছেন। রাজনৈতিক দলগুলোও সংবিধান সমুন্নত রাখার চেষ্টা করেনি। গোটা জাতিই সেই ভুল করেছে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতিও এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং তৎকালীন সামরিক শাসনের অধীনে প্রধান সামরিক প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিচার বিভাগের কোনো কোনো সদস্যের এভাবে জড়িয়ে পড়া দুর্ভাগ্যজনক এবং এর থেকে সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত। এই রায়ের বিশদ বিবরণ থেকে কীভাবে ভবিষ্যতে আমরা এ ধরনের বিপর্যয় এড়িয়ে যেতে পারি, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করার যথেষ্ট উপাদান রয়েছে।
তবে উচ্চ আদালত এর আগে এ বিষয়ে যে রায় দিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে তার কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন করা হয়েছে। এই সংশোধনকর্মের ফলে সেনা শাসন কর্তৃক গৃহীত অনেকগুলো আইনগত ব্যবস্থা বহাল রাখার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের রায় পূর্ণাঙ্গরূপে টিকে থাকলে সেই সময়ের সমস্ত অসাংবিধানিক নির্দেশ ও ফরমানই বাতিল হয়ে যেত। আপিল বিভাগ এই অংশটি সংশোধন করে দিয়েছে। এর ফলে সংবিধানের নিরিখে আগের অবস্থা থেকে খুব বড় আকারের পরিবর্তন ঘটবে না। হাইকোর্টের রায় সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হলে আগের সব অন্যায়ই বাতিল হতো। তবে ’৭৫-’৭৯ পর্যন্ত যেসব ফরমান জারি হয়েছে তার কতকগুলো সুপ্রিম কোর্ট বৈধতা দিয়ে বিজ্ঞোচিত কাজ করেছেন। নইলে পুরো দেশের জন্য সমস্যা হতো। সবকিছু রাতারাতি ওলটপালট করার ফল ইতিবাচক নাও হতে পারত।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ উচ্চ আদালতের রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করেছেন। হাইকোর্টের রায়ে চতুর্থ তফসিলের যেসব পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের যে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল, তার তাৎপর্য হলো, যেসব ঘোষণা সংবিধানের পরিপন্থী ছিল, সেগুলো আপিল বিভাগ রেখে দিয়েছেন। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট উভয়ই চতুর্থ সংশোধনীতে যেসব বিধান রাখা হয়েছিল, সেগুলোর বিষয়ে কিছু বলেননি। ফলে সামরিক আইনের যেসব আদেশ বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা তার কিছু কিছু রয়ে গেল। এর অর্থ তাঁরা স্বীকার করে নিয়েছেন, ওই সব সংশোধনী সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী ছিল না।
তবে এই রায়ের ফলে সাংবিধানিক চেতনার একটা বড় পরিবর্তন ঘটেছে। আগে সংবিধান সমর্থন করে না এমন কর্মকাণ্ডের সমর্থনে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন বা ডকট্রিন অব নেসেসিটির কথা বলা হতো। আগে নির্বাহী বিভাগ প্রয়োজনের ভিত্তিতে কিছু ব্যবস্থা নিতে পারত, পরে যা আদালত কর্তৃক বৈধতা দেওয়া হতো বা সে রকমটাই ব্যাখ্যা করা হতো। এ রকম সিদ্ধান্ত গ্রহণের বেলায় নীতি হিসেবে তাঁরা জনস্বার্থের বিবেচনার কথা বলতেন। এবং জনস্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনের ভিত্তিতে এগুলোকে স্বীকার করে নেওয়া হতো। তবে এখন সে রকম কিছু করা হলে আদালত সেটা মাফ করতে পারেন কিন্তু বৈধতা দিতে পারবেন না। এককথায় বললে, অতীতে ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’কে মেনে নেওয়া হয়েছিল; এখন হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট বলছেন, কোনো জরুরি প্রয়োজনেও সেটা মেনে নেওয়া যাবে না। ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’ বা প্রয়োজনের বিধানের জায়গায় এল ‘ডকট্রিন অব কনডোনেশন’ বা ক্ষমার বিধান।
আমি মনে করি, অতীতের সামরিক শাসকদের বিচার করা উচিত। সঙ্গে সঙ্গে আইনের শাসন সম্পর্কেও সবার সজাগ থাকা উচিত। আইন মানার সংস্কৃতি যদি আমরা গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে এ ধরনের রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনো লাভ হবে না। সেই সংস্কৃতি বিকশিত না হলে সামরিক শাসনের মতো অনাচার বারবার ফিরে আসার আশঙ্কা থাকবে। তবে এ কথাও বলা দরকার যে আইন দিয়ে সামরিক শাসন দূর করা যায় না। সমগ্র দেশবাসীর মধ্যে সামরিক শাসন তথা বেআইনি শাসনবিরোধী চেতনা প্রবল হলে সামরিক শাসন কখনো কায়েম থাকতে পারে না। যেমন রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা বিভিন্ন পদাধিকারী ব্যক্তি যদি রাজি না হন, তাহলে সামরিক শাসকদের পক্ষে তাঁদের ব্যবহার করা সম্ভব হতো না। এ দিকটি আগে নিশ্চিত করতে হবে।
এই রায়ে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতা তো বিধান করে কায়েম করা যাবে না। বাংলাদেশে তো কেউ-ই ধর্মনিরপেক্ষ না। সবাই মুখে মুখে এটা বলে। আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বললেও তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তো বলা রয়েছে, কোরআন ও সুন্নাবিরোধী কোনো আইন তারা করবে না। এটাও তো ধর্ম নিয়ে এক ধরনের রাজনীতি। কাজেই ধর্মনিরপেক্ষতা কায়েম করতে হলে আগে এর সংজ্ঞা যথাযথভাবে ঠিক করতে হবে। এবং এটা কার্যকর করতে হলে সংসদে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করতে হবে।
সংবিধানে শুধু নীতিমালা দেওয়া রয়েছে। আসলে ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়ে সংবিধানে এক জায়গায় বলা হয়েছে যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনতা পাবে, তারা আইনসম্মতভাবেই কাজ করতে পারবে। সংবিধানের বর্তমান নীতি অনুযায়ী ব্যক্তির ধর্মাচরণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তথা মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা প্যাগোডাগুলোর ধর্মপালনের স্বাধীনতা থাকবে। যেটা কেউ পারবে না, তা হলো ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার। এখন এর সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ঠিক করতে হবে। আমাদের সংবিধানে ইসলামকে যে রাষ্ট্রীয় ধর্ম বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে এই নীতিমালার সংগতিবিধান করতে হবে। এই রায়ে ১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নির্দেশ রয়েছে, কিন্তু পরের সামরিক শাসনের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন করতে হবে, তা নিয়ে এখন আমাদের নতুন করে বিচারবিশ্লেষণ করতে হবে। আর এ কাজ সংসদীয় কমিটিই করতে পারে।
তবে আশঙ্কা রয়েছে যে সবাই এই রায়কে নিজ নিজ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর এর গভীর প্রভাব পড়বে না। ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করে আইন না করা পর্যন্ত জামায়াত বা ধর্মীয় দলগুলোর তেমন কোনো সমস্যা হবে বলে মনে হয় না।
এই রায় এবং সংবিধান সংশোধন এখন নানাভাবেই জড়িত বিষয় হয়ে গেছে। সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদীয় কমিটিও গঠন করে দিয়েছে। সংসদীয় কমিটির কাজ হবে সবাইকে ডেকে ডেকে বক্তব্য শোনা। এ জন্য গণশুনানির ব্যবস্থা করতে হবে এবং বিশেষজ্ঞদের ডেকে প্রশ্ন করে তাঁদের অভিমত জানার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে কমিটিতে বিশেষজ্ঞ না থাকার কুফল এড়ানো যাবে। যেহেতু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদকেই নিতে হবে, সেহেতু আমি সংসদীয় কমিটির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করতে চাই না।
আকবর আলি খান: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সেশনজটের ব্যাধি -শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা থেকে কি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শিক্ষা নেবেন

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার সিঁড়ি হওয়ার কথা ছিল জীবনে সাফল্যের সোপান, সেই সিঁড়ি পিছলে তিনি হারিয়ে গেলেন। সেশনজটের কারণে শিক্ষাজীবন শেষ না হওয়ার হতাশায় আত্মহত্যাই করতে হলো তাঁকে। তাই তিনি লিখে গেছেন অন্তিম অভিযোগ, ‘আমার সুইসাইডের জন্য ইউনিভার্সিটি দায়ী, সেশনজট দায়ী।’ অভিযোগকারী ছাত্র সোহান আত্মহত্যা করে এই জট থেকে পরিত্রাণ খুঁজেছেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তারা কীভাবে সেই দায় থেকে পরিত্রাণ নেবেন?
গত বৃহস্পতিবারের প্রথম আলোয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোহানের (২৫) এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরটি আমাদের বিচলিত করেছে। সোহান তাঁর অন্য বন্ধুদের মতো পড়ালেখা শেষ করে উপার্জনের জগতে ঢুকতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন একমাত্র উপার্জনকারী মায়ের চাপ কমাতে। সুস্থ, স্বাভাবিক তরুণ ছিলেন সোহান। নিজের সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, ‘নাম: স্বাপ্নিক সোহান, পেশা: স্বপ্ন দেখা, শখ: গান শোনা।’ অথচ ঠিকানার ঘরে লিখেছেন, বঙ্গোপসাগরের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছাকাছি সমুদ্রের জলরাশির কথা। হতাশার সাগর থেকে বাঁচতে সোহান সত্যিকার সাগরে ঝাঁপ দিয়েছেন। জীবন দিয়ে তিনি কি তাহলে আমাদের কোনো বার্তা দিয়ে গেলেন? বলে গেলেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ শিক্ষার অভিভাবকদের দায়ের কথা?
সেশনজট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুরারোগ্য ব্যাধি। সময়ের মধ্যে পাঠক্রম শেষ করায় অবহেলা, পরীক্ষার খাতা দেখে সময়মতো তার ফল প্রকাশে গাফিলতি ইত্যাকার নানা কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা শেষ করতে পারেন না। এক বছর, দুই বছর, কোনো কোনো বিভাগে তিন-চার বছরেরও জট লেগে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসনের এতে ক্ষতি হয় না। বরং কোর্স শেষ না করার ওই সময়টা অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যয় করে লাভবানও হন। ওই সময়টায় তাঁরা ঠিকই বেতন পান, কিন্তু শিক্ষার্থীর জীবন থেকে এই সময়টা চিরতরে হারিয়ে যায়। এই সময়টাই কিন্তু যৌবনের সোনালি সময়। এই অতিরিক্ত সময়ের জন্য পরিবারকেও ব্যয় করতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। কেবল সেশনজটই নয়, প্রশাসনের অবহেলা, সন্ত্রাসীদের দাপটসহ এ ধরনের আরও কিছু কারণে শিক্ষার্থীদের একটা অংশ যথাযথভাবে শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারে না।
এ ধরনের যাবতীয় দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনারই ফসল হলো সোহানের আত্মহত্যা। এ ধরনের আরও ভুক্তভোগী রয়েছে। সোহানের মৃত্যু থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুষ্ঠু শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই কেবল এর প্রায়শ্চিত্ত সম্ভব।

পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায় -সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ, সংসদের সামনে অনেক দায়িত্ব

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগকে ধন্যবাদ। ৩৫ বছর পর বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি অবিকল পুনরুজ্জীবিত হলো। এতে জনগণের চোখে সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা অনেক উঁচুতে উঠল।
সর্বসম্মতিতে আপিল বিভাগ শুধু সামরিক শাসনকে বেআইনি নয়, সব ধরনের সংবিধানবহির্ভূত রোমাঞ্চপনাকেও তাঁরা ‘গুডবাই’ জানিয়েছেন। আপিল বিভাগের ১৮৪ পৃষ্ঠার মাইলফলক রায়ের এটাই শেষ বাক্য। সংবিধানের চেয়ে সামরিক ফরমান বড়, আদালত তার এই কলঙ্কিত অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন। এমনকি তাঁরা বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট এতকাল ভুল করে সামরিক ফরমানকে বৈধতা দিয়ে চলেছিলেন। এখন চ্যালেঞ্জ হলো এই অর্জন ধরে রাখা। আর এটা মূলগতভাবে নির্ভর করছে রাজনীতিকদের অঙ্গীকারের ওপর। আমরা আশা করব, জাতীয় সংসদ আপিল বিভাগের রায় থেকে পাওয়া অর্জনকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় নিতে সচেষ্ট হবে।
বিভিন্ন রায়ে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত যেসব নির্দেশনা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে বিশেষ সংসদীয় কমিটিকে। কমিটিকে গভীরভাবে বুঝতে হবে, সুপ্রিম কোর্ট কেন রায় দিতে গিয়ে নীতিগত কারণে পঞ্চম সংশোধনীকে বেআইনি বলে আখ্যা দিয়েছেন, আবার সেই অবৈধ সামরিক ফরমান দিয়ে আনা কতিপয় সংশোধনীকে মার্জনা করেছেন। কতিপয় সামরিক ফরমানকে ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য উপকারী’ হিসেবে তাঁদের গণ্য করতে হয়েছে। সেই অর্থে পঞ্চম সংশোধনীর কিছু অংশ যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় ভূমিকা রেখেছে, তা একটি অপ্রিয় সত্য। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে কোনো বাগিবতণ্ডা কাম্য নয়। যেটা এখন দরকার, সেটা হলো আত্মজিজ্ঞাসা।
ধর্মভিত্তিক দল ও সেনাছাউনিতে ভর করে বেড়ে ওঠা সেই বিএনপি আর আজকের বিএনপি এক নয়। অসাম্প্রদায়িক পরিবর্তনগুলো মেনে নিলে বিএনপির ক্ষতি হবে না। আর আওয়ামী লীগকে বুঝতে হবে, আদালতের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংসদীয় কমিটির হওয়ার নয়। ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে আমরা বলব, ইতিমধ্যেই সংশোধিত অনুচ্ছেদগুলো যথাস্থানে রেখে আইন মন্ত্রণালয় যেন অবিলম্বে প্রজ্ঞাপন জারি করে। আপিল বিভাগের রায়ে আমরা যা পেলাম, তা সংসদীয় অর্জন নয়। সংসদ কী দেবে, সেটার জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি। প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া নজিরবিহীন নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, উচ্চ আদালতের বিচারকসহ সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগদানের উপযুক্ত পদ্ধতি প্রবর্তন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের কোনো লাভজনক পদে বহাল না রাখা-সংক্রান্ত বাহাত্তরের মূল বিধান পুনরুজ্জীবন, সংসদ কার্যকর করতে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-ব্যবস্থার মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যা গণতন্ত্রের জন্য দরকারি।
সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে বুঝতে হবে, সাংবিধানিক পথচলা থেকে ছিটকে পড়ার ক্ষেত্রে রাজনীতিকদের ব্যর্থতা কতটা ভূমিকা পালন করে। আপিল বিভাগের রায়ের সুফল অবশ্যই আমাদের পেতে হবে। সংসদ যাতে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে, সে জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে। সংসদীয় কমিটি এ পর্যন্ত আশাবাদ জাগিয়ে রাখছে। একটি অধিকতর গণতান্ত্রিক সংবিধান গড়ার সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়।

থাইল্যান্ডের ৬টি প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হবে

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, ছয়টি প্রদেশ থেকে খুব শিগগিরই জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হবে। তবে রাজধানী ব্যাংককে জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে। গত রোববার এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সেখানে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
থাইল্যান্ডে জরুরি অবস্থা জারির ফলে একসঙ্গে পাঁচজন জড়ো হতে পারেন না এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অভিযোগ ছাড়াই সন্দেহভাজন যেকোনো ব্যক্তিকে আটক করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী আপিসিত বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর পরামর্শে তিনি থাইল্যান্ডের মধ্য ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চোনবুরি, আয়ুত্থাইয়া, নং বুয়া লাম ফু, মহা সরখাম, মুকদাহান ও ছাইয়াফুম প্রদেশে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হবে।
ধীরে ধীরে সব প্রদেশ থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার কথা স্বীকার করে আপিসিত বলেন, গত রোববার ব্যাংককের বাসস্ট্যান্ডে বোমা হামলায় একজনের মৃত্যু ও ১০ জন আহত হওয়ার পর সেখানে এখনো জরুরি অবস্থা বহালরাখা দরকার।
জরুরি অবস্থা জারির পর থেকে তা তুলে নিতে থাইল্যান্ড সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও মানবাধিকার দলগুলোর চাপের মুখে রয়েছে।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত: কারজাই

আফগান যুদ্ধে তালেবানকে সহায়তার জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রেসিডেন্ট কারজাই অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের তালেবানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো ইচ্ছা পশ্চিমা দেশগুলোর নেই। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আফগানিস্তানের বাইরে থেকে যারা সন্ত্রাসীদের অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হামিদ কারজাই বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো কেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এখন সেই প্রশ্ন উঠেছে। পশ্চিমাদের অবশ্যই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুধু আফগানিস্তানে নয়, আফগানিস্তানের বাইরে সন্ত্রাসের মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করতে হবে।
উইকিলিকসে আফগান যুদ্ধ বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য প্রকাশকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও দুঃখনজনক কাজ বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট কারজাই। তিনি বলেন, এতে তথ্যদাতাদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে তাঁদের জীবন হুমকির সম্মুখীন হবে।
উইকিলিকস নামের একটি সংগঠনের ওয়েবসাইটে গত রোববার আফগান যুদ্ধ বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৯২ হাজারেরও বেশি নথি ফাঁস করা হয়। এসব নথিতে বলা হয়, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই আফগান যুদ্ধে তালেবানকে সহযোগিতা করছে।

ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু ইস্তাম্বুলে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিশ্বের পরাশক্তিগুলো প্রস্তাবিত পরমাণু জ্বালানি বিনিময়ে রাজি হলে ইরান ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে দেবে বলে ইরানের পক্ষ থেকে গত রোববার তাঁর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে তেহরানের আলোচনা আবার শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
দাভুতোগলুর মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান মাঝেমধ্যেই এ ধরনের ‘মিশ্র ইঙ্গিত’ পাঠায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় জাতি তেহরানের সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে জেনেভায় পরমাণু ইস্যু নিয়ে ইরান শেষবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও জার্মানির সঙ্গে আলোচনায় বসে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি বলেছেন, গত অক্টোবরের মতো কয়েক সপ্তাহ পরে একই ধরনের আলোচনা হতে পারে বলে তাঁরা আশা করছেন। তবে আলোচনার চেয়ে একটি প্রক্রিয়ার ভেতরে পৌঁছনোর ব্যপারে তাঁরা বেশি আগ্রহী বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ৩.৫ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেছে। এ ঘোষণায় ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির উপকরণ উৎপাদন করছে বলে পশ্চিমা দেশগুলোর সন্দেহ বেড়ে যায়।
এ আশঙ্কা থেকেই গত মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করে।
অস্ট্রেলিয়ার অবরোধ: পরমাণু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়া ইরানের বিরুদ্ধে তাদের আরোপিত অবরোধ আরও কড়া করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন স্মিথ বলেছেন, নতুন এই পদক্ষেপে ইরানের শতাধিক শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের ওপর অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ওপর ইরানের তেল ও গ্যাস খাতে বিনিয়োগ করার ব্যপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি সই

মিয়ানমারের সামরিক জান্তাপ্রধান জেনারেল থান শোয়ের পাঁচ দিনব্যাপী ভারত সফর গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। তাঁর এ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাবিষয়ক বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
অপরাধ দমনে প্রতিবেশী দেশ দুটি আইনি সহযোগিতাবিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির আওতায় ভারত সরকার সীমান্তবর্তী উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বিদ্রোহীদের অপসারণে অভিযান চালাতে পারবে। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ ও মাদক পাচাররোধেও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মিয়ানমারের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে রাস্তা তৈরির জন্য ছয় কোটি মার্কিন ডলার দিতে রাজি হয়েছে ভারত। এ ছাড়া আরও এক কোটি ডলার দিতে রাজি হয়েছে নয়াদিল্লি। মিয়ানমার এই অর্থ দিয়ে ভারত থেকে কৃষি যন্ত্রপাতি কিনবে।
এদিকে সামরিক জান্তাপ্রধানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সারা বিশ্বের মানবাধিকার কর্মী ও মিয়ানমারের প্রবাসী নাগরিকেরা। দিল্লিতে বসবাসকারী গণতন্ত্রপন্থী মিয়ানমারের প্রবাসী নাগরিকেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। তাঁদের সঙ্গে বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে সামরিক অভিযানের পর এসব ভিক্ষু মিয়ানমার থেকে ভারতে পালিয়ে যান।
দিল্লিভিত্তিক একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বলেছে, থান শোয়ের এ সফরকালে ভারত সরকার মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ নির্বাচন যাতে বহির্বিশ্বে বিশ্বাসযোগ্য হয়, সে ব্যাপারে থান শোয়েকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

স্থায়ীভাবে তেল নিঃসরণ বন্ধ হয়নি এখনো

মেক্সিকো উপসাগরে মার্কিন তেলক্ষেত্রে দুর্ঘটনার ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে গত বুধবার। দুর্ঘটনার ফলে এই তেলক্ষেত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) তেল নিঃসরণ বন্ধ, পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলা, ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। লন্ডনভিত্তিক কোম্পানিটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদেও পরিবর্তন এনেছে। বিপি জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে তারা এক হাজার ৭০০ কোটি ডলার লোকসান দিয়েছে। এই ক্ষতি ব্রিটেনের করপোরেট ইতিহাসে বড় বড় ক্ষতিগুলোর একটি। কিন্তু তেলনিঃসরণ এখনো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যায়নি।
দুর্ঘটনার ১০০ দিনে বিপি খুব দ্রুতই স্থায়ীভাবে তেল নিঃসরণ বন্ধ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছে। তেল নিঃসরণের ফলে উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ, প্রাণী ও জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দুর্ঘটনার পর টনি হেওয়ার্ডকে সরিয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রবার্ট ডাডলিকে সিইওর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর প্রথম মার্কিন নাগরিক হিসেবে ব্রিটেনের কোম্পানি বিপির দায়িত্ব নেবেন ডাডলি। বিপিকে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত তিন হাজার কোটি ডলারের সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বিপি তিন হাজার ২২২ কোটি ডলার ব্যয় করছে। এর মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া দুই হাজার কোটি ডলারও রয়েছে। এক হিসাবে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সাগরে মিশেছে।
বিপির পক্ষ থেকে গত মঙ্গলবার জানানো হয়, চলতি বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে তারা এক হাজার ৭০০ কোটি ডলার লোকসান দিয়েছে। তবে কোম্পানিটি তাদের খরচের বিস্তারিত বিবরণ দেয়নি।
এদিকে অনেক বিশ্লেষকের মতে, সাগরের পানি পরিষ্কার, ওই এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজনের ক্ষতিপূরণে বিপির এই অর্থ পর্যাপ্ত নয়।
সমন্বয়কারী রিয়ার অ্যাডমিরাল জন জুকুনফট বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর প্রথম ১০০ দিনকে আমি আলাদা করছি। তবে আমাদের সামনে এখনো অনেক কাজ পড়ে আছে। আমরা এখনো স্থায়ীভাবে তেল নিঃসরণ বন্ধ করতে পারিনি। সবার আগে এই কাজটিই করতে হবে।’
বিপি কর্তৃপক্ষ জানায়, তেল নিঃসরণ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে আগামী সোমবার থেকে চূড়ান্ত কাজ শুরু হবে। গত এপ্রিলে দুর্ঘটনার পর দুই সপ্তাহ আগে অস্থায়ীভাবে তেল নিঃসরণ বন্ধ করতে সক্ষম হয় বিপি।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের কাছে মেক্সিকো উপসাগরের তেলক্ষেত্রে ২০ এপ্রিল ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক মাইল দীর্ঘ পাইপ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পানিতে মিশেছে। ফলে সাগরের জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

মাওবাদীদের জন্য আর্থিক প্যাকেজ

মাওবাদীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ফের আহ্বান জানাল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারীদের জন্য ঘোষণা করেছে আর্থিক প্যাকেজ। বুধবার এই লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষে ঘোষণা জারি করা হয়েছে। বুধবার থেকেই ওই আর্থিক প্যাকেজ কার্যকর হয়েছে।
আর্থিক প্যাকেজে বলা হয়েছে, মাওবাদীরা অস্ত্রসমর্পণ করে রাজ্য সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করলে তাঁদের প্রত্যেককে আগামী তিন বছরের জন্য প্রতি মাসে দুই হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এবং একই সঙ্গে প্রত্যেককে দেওয়া হবে এককালীন দেড় লাখ রুপি। এ ছাড়া স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়াও আত্মসমর্পণের সময় মেশিনগান জমা দিলে ২৫ হাজার, রাইফেল ও একে-৪৭ জমা দিলে ১৫ হাজার, রিভলবার ও পিস্তল জমা দিলে তিন হাজার, স্যাটেলাইট ফোন ১০ হাজার, ল্যান্ড মাইন তিন হাজার এবং বিস্ফোরক প্রতি কেজির জন্য দেওয়া হবে এক হাজার রুপি করে আর্থিক অনুদান।
এদিকে গত মঙ্গলবার ভারতের লোকসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মাকেন জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ভারতের মাওবাদী প্রভাবিত নয়টি রাজ্যে মাওবাদীরা সর্বমোট এক হাজার ২৩৪টি হামলা করেছে। এই হামলার মধ্যে ২০৩টি হামলাই হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এসব হামলায় নিহত হয়েছে ৩৬২ জন সাধারণ মানুষ এবং ২১১ জন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ৫৭৩। আর পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে মাওবাদী নিহত হয়েছে ১০২ জন। আর গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক হাজার ৪৮৩ জন মাওবাদীকে।

কাস্ত্রোর আত্মজীবনী ‘স্ট্র্যাটেজিক ভিক্ট্রি’ প্রকাশিত হবে আগস্টে

কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো তাঁর আত্মজীবনী প্রকাশের পরিকল্পনা করছেন। বিপ্লবী এই নেতার আত্মজীবনীর নাম হবে দ্য স্ট্র্যাটেজিক ভিক্ট্রি। আগস্ট মাসে এর প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হবে। কিউবাডিবেট ডট সিইউ নামের সরকারি ওয়েবসাইটে কাস্ত্রো নিজেই এ কথা জানান।
১৯৫৮ সালে কাস্ত্রোর নেতৃত্বে কয়েক শ বিপ্লবীর কাছে কিউবার একনায়ক ফুলগেনসিও বাতিস্তার সেনাবাহিনী পরাজিত হয়। দ্য স্ট্র্যাটেজিক ভিক্ট্রির প্রথম খণ্ডে মূলত এই বিষয়টিই তুলে ধরা হবে। ৮৩ বছর বয়সী কাস্ত্রো বলেন, ২০০৬ সালে অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি বইটির ব্যাপারে কয়েক মাস কাজ করেন। তিনি জানান, বইটির জন্য প্রস্তাবিত বেশ কয়েকটি নামের মধ্যে হাউ থ্রি হান্ড্রেড ডিফিটেড টেন থাউজ্যান্ড নামটি বিবেচনা করেছিলেন তিনি। পরে এর নাম দেন দ্য স্ট্র্যাটেজিক ভিক্ট্রি।
কাস্ত্রো ২৫ অধ্যায়ের বইটিতে বেশ কিছু ছবি, মানচিত্র ও একনায়ক বাতিস্তার বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধের বর্ণনা তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া তাঁর শৈশব ও একজন বিপ্লবী হিসেবে গড়ে ওঠার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
কাস্ত্রো তাঁর আত্মজীবনী লিখতে কিউবার সাংবাদিক কাতিউসকা ব্লাংকোর সহযোগিতা নেন।

রাষ্ট্রীয় শোক পালন ১১৫টি লাশ উদ্ধার

বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৫২ জন যাত্রীর প্রাণহানির ঘটনায় পাকিস্তান গতকাল বৃহস্পতিবার এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে এ পর্যন্ত ১১৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিধ্বস্ত বিমানটির ব্ল্যাক বক্স এখনো পাওয়া যায়নি। এ কারণে কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি।
এয়ার ব্লু নামের একটি বেসরকারি কোম্পানির এয়ারবাস এ৩২১ বিমানটি গত বুধবার রাজধানী ইসলামাবাদের উত্তরে মারগালা পার্বত্য এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে তখন ১৪৬ জন যাত্রী এবং ছয়জন ক্রু ছিল। এটি বন্দরনগর করাচি থেকে রাজধানী ইসলামাবাদে যাচ্ছিল। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল।
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এ বিমান দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী গতকাল দেশব্যাপী শোক পালন করা হয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকে সব জায়গায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী কামার জামান কায়রা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১১৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রাকাবের নতুন এমডি প্রদীপ কুমার দত্ত

প্রদীপ কুমার দত্ত সম্প্রতি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে (রাকাব) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এর আগে তিনি সোনালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রদীপ কুমার দত্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৭৭ সালে সিনিয়র অফিসার হিসেবে সোনালী ব্যাংকে যোগ দেন।
২০০৩ সালে প্রদীপ কুমার দত্ত মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি লাভ করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে যোগ দেন। ২০০৫ সালে তিনি আবার সোনালী ব্যাংকে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে বদলি হন। ২০০৮ সালে তিনি পদোন্নতি পেয়ে সোনালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে উন্নীত হন।
কর্মজীবনে তিনি জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, নেপাল, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশ নেন।

রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির ক্ষমতা বাড়ল

ক্ষমতা বেড়েছে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি)। এ-সংক্রান্ত বিলটি এর মধ্যে রুশ পার্লামেন্টের নিম্ন ও উচ্চকক্ষের অনুমোদন পেয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এই বিলে স্বাক্ষর করায় তা আইনে পরিণত হয়। গতকাল ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
এই আইনের বলে অপরাধ ঘটাতে পারে—এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের হুঁশিয়ার করতে পারবে এফএসবি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই বিল অনুমোদনের সমালোচনা করে বলেছে, এ আইনের মাধ্যমে এফএসবি নিজেই আইনের উর্ধ্বে থেকে যাবে। এতে গোয়েন্দা সংস্থাটি সোভিয়েত যুগের পূর্বসূরি কেজিবির মতো ক্ষমতা অর্জন করবে।
সমালোচকেরা বলছেন, এই আইন স্বাধীন সাংবাদিকদের কাজের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। সরকারবিরোধী সংগঠনের বিরুদ্ধেও আইনটি প্রয়োগ হতে পারে।
আইনটির সমালোচনা করে বিরোধী দল বলেছে, এফএসবির ক্ষমতা এর মধ্যে চরমে পৌঁছেছে। এখন এই সংস্থাকে আরও ক্ষমতা দেওয়ায় মেদভেদেভের উদারনীতিকরণ অঙ্গীকারে তা বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
এর আগে এই বিলে একটি সংশোধনী আনা হয়। তা ছিল এফএসবি সন্দেহভাজনদের নিজ কার্যালয়ে ডেকে এনে হুঁশিয়ার করতে পারবে। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রবল প্রতিবাদের মুখে আইনপ্রণেতারা এ সংশোধনী প্রত্যাহার করেন।
চলতি মাসের শুরুতে এ আইন অনুমোদনে কট্টর অবস্থান নেন মেদভেদেভ। তিনি বলেন, আইনটি চালু করার লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়ার আইন ব্যবস্থাকে উন্নত করা।

সিএমও-এশিয়ার সেরা বিজনেস স্কুল পুরস্কার পেল বিআইবিএম

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টকে (বিআইবিএম) ‘বেস্ট বি-স্কুল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেছে ভারতভিত্তিক সংগঠন সিএমও-এশিয়া।
বিআইবিএমের মহাপরিচালক বন্দনা সাহা সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।
সিএমও-এশিয়া শিল্প-বাণিজ্য ও ব্যবসার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও নেতৃত্বের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের বিপণন ও ব্র্যান্ড কর্মকর্তাদের মধ্যে আধুনিক জ্ঞানের আদান-প্রদানে ব্যাপৃত। সিএমও-এশিয়া ও ওয়ার্ল্ড ব্র্যান্ড কংগ্রেসের উপদেষ্টামণ্ডলী এশিয়ার সর্বোত্তম বিজনেস স্কুল নির্বাচিত করার দায়িত্বে নিয়োজিত।
উল্লেখ্য, বিআইবিএম একটি শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও গবেষণাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান। এটি ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং এতে মাস্টার্স ইন ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (এমবিএম) নামে একটি বিজনেস প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এই কোর্সটির জন্যই মূলত বিআইবিএম এশিয়ার সর্বোত্তম বিজনেস স্কুল পুরস্কার পাওয়ার জন্য জুরি বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ঢাকায় একসঙ্গে বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের চারটি প্রদর্শনী চলছে

বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের ওপর ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চার দিনের চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এখন চলছে। প্রদর্শনীগুলো হচ্ছে: ‘১১তম টেক্সটেক বাংলাদেশ ২০১০ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো’, ‘৫ম ডাই+কেম বাংলাদেশ ২০১০ এক্সপো’, ‘৪র্থ ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ার্ন অ্যান্ড ফেব্রিক শো ২০১০’ এবং ‘৮ম মেশিন এক্সপো বাংলাদেশ ২০১০’।
কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস (সেমস) বাংলাদেশের সহযোগিতায় ‘সেমস’ ইউএসএ এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। গত বুধবার শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত চলবে। এতে প্রদর্শনীগুলোতে বিশ্বের ২৬টি দেশের চার শতাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
সাধারণ ও বাণিজ্যিক দর্শনার্থীদের জন্য নাম নিবন্ধনের মাধ্যমে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এই প্রদর্শনী পরিদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি হাবিবুর রহমান, বিজিএমইএর সহসভাপতি ফারুক হাসান, বিজিএফএফএমইএর সভাপতি হারুন-উর-রশিদ, সেমস-গ্লোবাল ও এশিয়া-প্যাসেফিকের প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন ইসলাম।
বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের আধুনিক প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল, ডাইস, কেমিক্যালস, আন্তর্জাতিক ইয়ার্ন এবং ফেব্রিকস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সেবা ও পণ্য প্রদর্শন করছে।
সেমস ১১ বছর ধরে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে।

ফাটকা বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকতে গভর্নরের আহ্বান

ব্যাংক-ব্যবস্থায় ঝুঁকি কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিকনির্দেশনা অনুসরণে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।
গভর্নর বলেন, ‘সংক্ষিপ্ত পথে উচ্চহারে মুনাফার জন্য ছুটতে গিয়ে ব্যাংকগুলোকে কোনোভাবেই বাড়তি ঝুঁকির মুখে ফেলা ঠিক হবে না।’ তিনি ফাটকামূলক স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগে জড়িয়ে না পড়ার জন্যও ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরাটন হোটেলে তিন দিনব্যাপী ব্যাংক ও আর্থিকপ্রতিষ্ঠানের এক মেলা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এই আহ্বান জানান। দেশের ২৬টি ব্যাংক ও আর্থিকপ্রতিষ্ঠান তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত এই মেলায় অংশগ্রহণ করছে। খবর ইউএনবির।
গভর্নর বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে যখন বড় বড় ব্যাংকে লালবাতি জ্বলেছে ও বিশ্ব আর্থিক সংকটে বহু আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তখন বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা সবাইকে বিস্মিত করেছে।’
কিন্তু এতে আত্মতুষ্টির অবকাশ নেই উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংক খাতকে আরও শক্তিশালী হতে হবে।
তিনি ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনার দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো দেশের অর্থনীতির জন্য সে দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক খাতের অবদানের কথা উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ব্যাংক-ব্যবস্থা সমাজেরই একটি অংশ। এ ধরনের মেলার মাধ্যমে মানুষজন ব্যাংক ও আর্থিকপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সম্যক অবহিত হতে পারবে। ব্যাংক ও আর্থিকপ্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের সম্পর্কে প্রচলিত বিভিন্ন ভুল ধারণা ভেঙে গ্রাহকদের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পারবে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরাটন হোটেলের মহাব্যবস্থাপক আহমদ বুখারী হামজা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম মজুমদার, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি কে মাহমুদ সাত্তার এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন ঘোষণার পর গভর্নর মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। মেলা আগামী শনিবার পর্যন্ত চলবে।

ফ্যাব্রিগাসের ভয়

‘কী করা উচিত’ সেটি জানতে সেস ফ্যাব্রিগাসের উচিত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে পরামর্শ করা। ২০০৮ সালে রোনালদোকে ঘিরেও এমন অনেক শোরগোল হয়েছে। ফ্যাব্রিগাসের বার্সেলোনায় ফেরা নিয়ে এবার যেটা হলো। তখন আশঙ্কা করা হয়েছিল, রোনালদো ম্যানইউর অনুশীলনে ফিরলে সমর্থকেরা দুয়ো দেবে। একই আশঙ্কা আর্সেনাল অধিনায়কেরও।
বার্সায় অন্তত এই মৌসুমে ফেরা হচ্ছে না। শিগগিরই বিশ্বকাপ-পরবর্তী ছুটি শেষ করে আর্সেনালের অনুশীলনে যোগ দেবেন ফ্যাব্রিগাস। এই মিডফিল্ডারকে কীভাবে আর্সেনাল সমর্থকেরা বরণ করে নেয়, সেটাই এখন দেখার।
দিদিয়ের দ্রগবাও চেলসিতেই থেকে যাচ্ছেন। ম্যানচেস্টার সিটি হাত বাড়িয়েছে। দ্রগবাও মুখের ওপর ‘না’ বলেননি। তবে চেলসি জানিয়েছে, এই মৌসুমে কোনো তারকা ফুটবলার বিক্রি তারা করবে না।
এসি মিলান এই মৌসুমে আর খেলোয়াড় কিনবে না। তাই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার লুইস ফ্যাবিয়ানোর সেভিয়া থেকে মিলানে যাওয়ার খবরটিকে স্রেফ গুঞ্জন বলেই ধরে নিতে হচ্ছে। আর স্টুটগার্ট থেকে স্যামি খেদিরাকে প্রায় কিনেই ফেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

দূরপাল্লার সাঁতারে ৬ পর্যবেক্ষক

প্রতিযোগিতা দূরপাল্লার সাঁতারের। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদে ভাগীরথী নদীতে অনুষ্ঠেয় এই সাঁতারের জন্য ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দলের সঙ্গে পর্যবেক্ষক হিসেবে যাচ্ছেন আরও ৬ জন।
গত ২৪ জুলাই মিরপুর সাঁতার কমপ্লেক্সে হওয়া বাছাইয়ে প্রতিযোগী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয় নৌবাহিনীর রুবেল রানা, মনিরুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর নিয়ামুল হক, বিকেএসপির পলাশ চৌধুরী, আনসারের সবুরা খাতুন ও বিকেএসপির সীমা সুলতানাকে। এঁদের সঙ্গী ৬ জন লাইফ-সেভার, ২ জন কোচ ও ১ জন ম্যানেজার। এর সঙ্গে পর্যবেক্ষক হিসেবে যাচ্ছেন কাজী মনিরুল ইসলাম, নিয়াজ আলী, শেখ সেলিম আহমেদ, কারার ছামেদুল, দীন আমিন ও নূর-এ-আফরোজ দিলু।
ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, ‘এভাবে পর্যবেক্ষক হিসেবে যাওয়ার কোনো নিয়ম নেই। তবে বারবার করে আমাদের অনুরোধ করলে তো আমরা না করতে পারি না। সেখানে গিয়ে আসলে ওদের কিছুই করার থাকে না। প্রমোদ ভ্রমণ আর কেনাকাটা করতেই দিন যায় এসব পর্যবেক্ষকদের।’ পর্যবেক্ষক দলের সদস্য নিয়াজ আলী অবশ্য বিষয়টি অন্যভাবে দেখছেন, ‘সাবেক সাঁতারু হিসেবে আমরা যেতেই পারি পর্যবেক্ষক হিসেবে। এর আগেও অনেকে গিয়েছেন। তবে আমরা ফেডারেশনের খরচে সেখানে যাচ্ছি না। নৌবাহিনীর খরচে যাচ্ছি। শুধু ফেডারেশনের কাছ থেকে অনুমতি নিচ্ছি।’

রিকেলমে ফিরবেন

অলিম্পিক ফুটবলে সোনা জিতেছেন। কিন্তু তার চেয়েও শতগুণ কঠিন একটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি সার্জিও বাতিস্তা। ম্যারাডোনা-বলয় থেকে আবারও বেরিয়ে এসে আর্জেন্টিনা যে নতুন যুগে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেই অন্তর্বর্তী সময়টার ভার তাঁর ওপরই। দলের ভারপ্রাপ্ত কোচের গুরুদায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধেই।
আপাতত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কোনো টুর্নামেন্ট নেই আর্জেন্টিনার। নতুন স্থায়ী কোচ নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত প্রীতি ম্যাচগুলোয় কাজ করতে হবে তাঁকে। ১১ আগস্ট ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ আছে। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর বুয়েনস এইরেসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সঙ্গে খেলবে আর্জেন্টিনা। এরই মধ্যে হয়তো নতুন কোচ ঠিক করে ফেলবে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। যেই দায়িত্বে আসুন না কেন, তাঁর জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে হুয়ান রোমান রিকেলমেকে আবারও ফিরিয়ে আনা। লিওনেল মেসির ‘মেসি’ হয়ে উঠতে রিকেলমেকে খুবই দরকার। এ কারণে রিকেলমেকে ফেরানোর দাবি আবারও উঠেছে আর্জেন্টিনায়।
আয়ারল্যান্ড ম্যাচের দল ঘোষণা হয়ে গেছে এরই মধ্যে। স্বাভাবিকভাবেই ‘অবসর’ নিয়ে ফেলা রিকেলমে ওই দলে নেই। তবে বোকা জুনিয়র্সের এই প্লে-মেকার যদি ফিরতে চান, তাঁর জন্য দলের দরজা খোলা আছে বলেই জানালেন বাতিস্তা, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলো, ওর সঙ্গে ডিয়েগোর একটা সমস্যা ছিল। তবে রোমান আমার খুবই ভালো বন্ধু। যদি ভালো অবস্থায় থাকে অবশ্যই ওকে দলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।’
ম্যারাডোনার সঙ্গে অভিমান এবং সেখান থেকে বাদানুবাদে জড়িয়ে আরও একবার অবসরের ঘোষণা দিয়ে দেন রিকেলমে। আগামী বছর নিজ দেশে কোপা আমেরিকা। কোপার সবচেয়ে সফল দল আর্জেন্টিনা ১৯৯৩ সালের পর আবারও শিরোপা পুনরুদ্ধারে উন্মুখ। এই দলে রিকেলমেকে চাইছে অনেকেই। ৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার নিজে অবশ্য জাতীয় দলে ফেরা না-ফেরা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল

সিনিয়র ডিভিশন ফুটবলের সুপার লিগে কাল ফকিরাপুল ক্লাব ৩-১ গোলে হারিয়েছে উত্তর বারিধারা ক্লাবকে। জয়ী দলের ওয়াহেদ দুটি ও সাগর ১টি গোল করেছেন। উত্তর বারিধারার গোলটি শাহাদাতের। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সানরাইজ ও অগ্রণী ব্যাংকের ম্যাচটি গোলশূন্য হয়েছে।

জাতীয় যুব কাবাডি

অ্যাটমাই প্রোডাক্টস জাতীয় যুব কাবাডির সেমিফাইনালে উঠেছে টাঙ্গাইল, রাজশাহী, ঢাকা ও যশোর। ঢাকা কাবাডি স্টেডিয়ামে কাল চূড়ান্ত পর্বের খেলায় টাঙ্গাইল ১টি লোনাসহ ২৮-১৫ পয়েন্টে কুমিল্লাকে, রাজশাহী ২টি লোনাসহ ৪৮-৩৬ পয়েন্টে পিরোজপুরকে, ঢাকা ৩টি লোনাসহ ৪৭-২৫ পয়েন্টে ফরিদপুরকে ও যশোর ১টি লোনাসহ ২৫-১৭ পয়েন্টে দিনাজপুরকে হারিয়েছে। টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে সারা দেশের ৮টি আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন ঢাকা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, দিনাজপুর, ফরিদপুর, পিরোজপুর ও যশোর।

ম্যানইউ-চেলসির দুই নীতি

লিভারপুল অতীত ঐতিহ্যের কঙ্কাল বয়ে বেড়াচ্ছে দীর্ঘদিন ধরেই। এ মৌসুমেও গঠনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে ক্লাবটিকে। আর্সেনালেরও অত ধার কোথায়! ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ‘সোহরাব-রুস্তম’ আসলে এখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসিই। গত কয়েকটি মৌসুমেই শিরোপা লড়াই এই দুই দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
কদিন পরই শুরু হচ্ছে আরেকটা শিরোপা লড়াই। ইউরোপের ফুটবল এখন তারই অপেক্ষার প্রহর গুনছে। এর আগে তৈরি হয়ে নিচ্ছে দলগুলো। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি তো আছেই, দলবদলের বাজার থেকে প্রয়োজনীয় খেলোয়াড় নিয়ে নিচ্ছে তারা। তবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সোহরাব আর রুস্তম এই গুছিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে হাঁটছে দুই পথে।
ম্যানইউ বলছে, দলবদলের বাজারে অহেতুক টাকা-পয়সা খরচ তারা করবে না, নিজেদের যে তরুণ প্রতিভা আছে কাজে লাগাবে তাঁদেরই। চেলসির দর্শন ভিন্ন। শিরোপা জয়ের জন্য কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করতে রাজি রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের দল। ক্লাব কর্তৃপক্ষ কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে টাকা খরচের ‘লাইসেন্স’ দিয়ে দিয়েছে।
নিকট অতীতে তরুণ দল নিয়েই সাফল্য পেয়েছে ম্যানইউ। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও ওয়েইন রুনির তারুণ্যে ভর করে হ্যাটট্রিক প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছে ম্যানইউ। ২০০৮ সালে জিতেছে তারা চ্যাম্পিয়নস লিগ। রোনালদো-রুনিদের আগে ডেভিড বেকহাম, রায়ান গিগস, পল স্কোলসদের মতো একঝাঁক তরুণ ম্যানইউকে নিয়ে গিয়েছিলেন সাফল্যের চূড়ায়। ১৯৯৯ সালে ম্যানইউ চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল তাঁদেরই কৃতিত্বে।
বেকহাম গেছেন, শেষ হয়েছে রোনালদো-যুগও। তবে এখন ম্যানইউতে আছেন জনি ইভানস, টম ক্লিভার্লি, ড্যারেন গিবসন, রাফায়েল, মাচেদাদের মতো তরুণ খেলোয়াড়। এঁদের সঙ্গে ম্যানইউতে যোগ দিয়েছেন মেক্সিকোর ২২ বছর বয়সী তারকা হাভিয়ের হার্নান্দেজ। সবাই মিলে ম্যানইউকে দারুণ আরেকটা মৌসুম এনে দিতে পারবেন বলে বিশ্বাস ম্যানেজার অ্যালেক্স ফার্গুসনের, ‘আমি ওদের নিয়ে খুশি। আমার মনে হয়, ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। তরুণ খেলোয়াড়দের বেড়ে উঠতে দেওয়ায় আমাদের সুনাম আছে। আর এটা আমাদের ক্লাবের শক্তিশালী একটা দিক।’
এই শক্তিটা নেই বলেই প্রায় প্রতি মৌসুমেই খেলোয়াড় কেনায় প্রচুর টাকা খরচ করতে হয় চেলসিকে। এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত অবশ্য একজনকেই চুক্তিবদ্ধ করেছেন আনচেলত্তি—লিভারপুলের ইসরায়েলি তারকা ইয়সি বেনায়ুন।
এখন অবশ্য বেশ কয়েকজন তারকার পেছনে ছুটছে চেলসি। এর মধ্যে তাদের দৃষ্টিটা বেশি পড়েছে লিভারপুলের স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ফার্নান্দো তোরেসের দিকে। ক্লাবের প্রধান নির্বাহী রন গুরলে বলেছেন কোচ আনচেলত্তিকে টাকা খরচের ‘লাইসেন্স’ দিয়ে দেওয়ার কথা, ‘কার্লো যদি এক বা দুজন খেলোয়াড় আনতে চায়, তাহলে তিনি সেটা করতে পারেন।’