Thursday, December 17, 2015
একজন বীরপ্রতীকের উপহার by ডক্টর তুহিন মালিক
দুই. আসলে শুধুমাত্র জেনারেল ইবরাহিম একাই নন, কী মুক্তিযোদ্ধা, কী বীরপ্রতীক, আওয়ামী লীগ না করলে বাকি সবাই যেন আজ রাজাকার আর স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। তাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যারা বাণিজ্য চালায়, তাদের কাছে বীরপ্রতীকের সম্মানহানি তো ফ্যাসিবাদী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশমাত্র। ঠিক আছে, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কাউকে বঙ্গভবনে নিষিদ্ধ করলেন, কিন্তু দাওয়াত দিয়ে এভাবে অপমানটা করলেন কেন? ইবরাহিম সাহেব দাবি করলেন, তার দলটি নিবন্ধিত ছিল। কিন্তু তিনি হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন যে, শুধু দল নিবন্ধিত হলেই চলবে না, দাওয়াতটিও নিবন্ধিত হতে হবে। একটা ভুল তিনি করেছেন বটে, আওয়ামী লীগের ভজন ও গুণকীর্তনে পারদর্শিতা অর্জন না করেই উনি বঙ্গভবনে গেলেনই বা কেন? অথচ বঙ্গভবনের সেই সংবর্ধনায় মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকারের সুবিধা ভোগ করা লোকজনের কোন কমতি ছিল না। বঙ্গভবনের বিজয় দিবসের সংবর্ধনায় ছিলেন অনেক মুখচেনা স্বাধীনতাবিরোধীরাও। তাই একজন বীরপ্রতীককে ঢুকতে না দিয়ে বিজয়ের উৎসবটি কী গৌরবগাঁথার জন্ম দিলো তা বোধগম্য নয়। আমরা চাইলেও তো এখন আর নতুন করে কোন বীরপ্রতীকের জন্ম দিতে পারবো না। যে দু’একজন ক্ষণজন্মা এখনও বেঁচে আছেন তাদেরকে এভাবে অসম্মান করাটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করার নামান্তর নয় কী? বঙ্গভবনের বিজয় দিবসের সংবর্ধনায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রস্তুত করে নিমন্ত্রণ দেয়ার রেওয়াজ দীর্ঘদিনের। কিন্তু এই তালিকায় কখনই থাকে না কৃষকের কোন ক্যাটাগরি। নিমন্ত্রণপত্র পৌঁছায় না কোন কৃষকের ঘরে। অথচ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ বিসর্জনকারী, যুদ্ধাহত এবং যুদ্ধজয়ী মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় সবাই ছিলেন কৃষক পরিবারের। কৃষকের আত্মত্যাগে যে স্বাধীনতা তার বিজয় উৎসবে কৃষকের কোন জায়গা হয় না কেন?
তিন. গত পরশু বিজয় দিবসের একই সময়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসার সামনে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে অনশন পালন করেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদার। প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে গত ১৬ই আগস্ট ফরিদপুরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়। এর আগে পুলিশ কোন অভিযোগ ছাড়াই তাকে অফিস থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। যুদ্ধাহত এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার নিয়ে তাই বিজয় দিবসে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনশন পালন করেন। সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা পালন করেছেন বলে বহু অভিযোগ রয়েছে। স্বয়ং বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী পর্যন্ত এইসব মন্ত্রী-নেতাদের তালিকা পর্যন্ত তুলে ধরেছেন বহুবার। কিন্তু শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করার সুবাদে তারাই আজ কিনা বড় বড় মুক্তিযোদ্ধা সেজে রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ- সুবিধা ভোগ করছে। উল্টা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হতে হচ্ছে তাদেরই হাতে চরমভাবে নিগৃহীত। সচিবের হাতে অপমানিত হয়ে আত্মহত্যার পথকে পর্যন্ত বেছে নিতে হচ্ছে এদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। অথচ দলীয় আশীর্বাদের কারণে মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান ও হত্যার কোন বিচারই হয় না।
চার. এখন অবস্থা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যে কেহ আওয়ামী লীগের স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে মুখ খুলবে তাকেই রাজাকারের খেতাব দিয়ে দেয়া হবে। সঙ্গে মামলা-হামলা, জেল-জুলুম তো আছেই। অথচ তাদেরই বিগত শাসনামলের পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান সেনাপতি একে খন্দকারকে পর্যন্ত রাজাকার উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে স্বয়ং আওয়ামী লীগ থেকেই। এমনকি সত্য ইতিহাস তুলে ধরার অপরাধে তাকে কুলাঙ্গার ও আইএসআই’র এজেন্ট বলেও গালাগাল করেছে নিজ দলের নেতারা। আওয়ামী দেউলিয়া রাজনীতির হিংস্র শিকারে নিষ্কৃতি পাননি বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের মহানায়করা পর্যন্ত। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু যাকে বীরউত্তম খেতাব দিলেন সেই জিয়াউর রহমানকে পর্যন্ত তারা কি করে আইএসআই’র এজেন্ট বলতে পারে? অথচ নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও নিজের জীবনকে বাজি রেখে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া জিয়াউর রহমানকে যারা আজকে পাকিস্তানের চর বলে তিরস্কার করছে তাদের কেউ সেদিন মুক্তিযুদ্ধে অংশই নেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সেই রক্তঝরা দিনগুলোতে তারা পাকিস্তান সরকারের আতিথেয়তায় সুরক্ষিত ছিল। কেউ আবার কলকাতায় বসে নিশ্চিন্তে বিলাসী জীবনে মগ্ন ছিল। তবে আমাদের জাতীয় নেতারাসহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেদিন ঠিকই চরম আত্মত্যাগের মহিমায় স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দেন। আমাদের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামে আওয়ামী লীগের অবদান কোন অংশেই কম নয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ও জয়বাংলা সেøাগানেই আমরা হানাদারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কিন্তু তাই বলে মুক্তিযুদ্ধ কোন একক দলের অর্জন হতে পারে না। আওয়ামী লীগ ছাড়াও দেশের আপামর সাধারণ মানুষ সেদিন অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও নেতা মেনেই আমরা সবাই দলমত নির্বিশেষে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার, মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি-উপসেনাপতি, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আর স্বাধীনতার ঘোষকের কি কোনোই অবদান নাই?
পাঁচ. প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান যেদিন মারা যান, সেদিন তার মৃত্যুতে বঙ্গভবনে ছুটে যান সরকারি দল, বিরোধী দলসহ সমাজের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। চলমান সংঘাতময় রাজনীতির ভিড় ঠেলে রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর একাত্মতা সেদিন আমাদেরকে মুগ্ধ করেছিল। বিশেষ করে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল ও তার নেত্রী যে অভূতপূর্ব সহমর্র্মিতা প্রদর্শন করেছিলেন তা সমসাময়িক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরল ঘটনাই ছিল। প্রয়াত রাষ্ট্রপতির সম্মানে সেদিন তিনি শুধু হরতাল প্রত্যাহারই করেননি, বরং বগুড়া ও জয়পুরহাটের সফরও স্থগিত করেছিলেন। বিএনপি অফিসে সেদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী কোন প্রটোকল, অভ্যর্থনা বা সৌজন্যতাকে বাহানা না করেই বঙ্গভবনে ছুটে গিয়েছিলেন। নিত্যদিনের সরকারি দলন-পীড়নে আক্রান্ত মীর্জা ফখরুলসহ দলের নেতারা এক কাতারবন্দি হয়েছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতির জানাজার নামাজে। কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সাহেব একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে জনপ্রিয় হয়েও তার বঙ্গভবনের দুয়ার একজন বীরপ্রতীকের জন্য বন্ধ করে দেয়া হলো কার ইঙ্গিতে? এটা নিশ্চয়ই পূর্বপরিকল্পিত কিছু ছিল না। কারণ পূর্বপরিকল্পিত হলে ইবরাহিম সাহেবকে দাওয়াতই দেয়া হতো না। সরকারের মধ্যে অতি উৎসাহী কোন অপশক্তির ইশারায় এহেন লজ্জাজনক ঘটনা কোনোভাবেই সরকারের পক্ষে লাভজনক হয়েছে বলে কেউ বিশ্বাস করতে পারে না। আসলে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়তে না পারলেও জাতির জন্য অনেক বড় প্রত্যাশার জন্ম দিতে পারে নিঃসন্দেহে। কী সরকারি দল, কী বিরোধী দল, দলমত নির্বিশেষে সকল দলের রংধনুতেই গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য লুকায়িত। আমাদের দেশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিরা কেন রাজনৈতিক শত্রুতে পরিণত হবেন? আমাদের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে সকল দলের পারস্পরিক সহাবস্থান কবে নিশ্চিত করা যাবে? এই তো ক’দিন আগে ভারতে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাড়িতে চায়ের আমন্ত্রণে গেলেন। আর আমরা একদল আরেক দলকে চিরতরে নির্মূল করার শপথ নিয়েই যেন রাজনীতি করছি।
লেখক: সুপ্রিম কোর্টের আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ
e-mail: drtuhinmalik@hotmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বৃটেনের সেক্স ক্যাপিটাল নটিংহ্যাম

About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ইসলামের সমালোচনা অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা হুমকি হতে পারে’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসলামিক সামরিক জোট নিয়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বিস্ময়
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওয়াজ-নসিহতও নজরদারিতে! by মাসুদ মজুমদার
![]() |
| মাসুদ মজুমদার |
আলেম-ওলামারা অভিযোগ তুলছেন, এখন যেভাবে তৃণমূল পর্যন্ত ডিইসলামাইজেশনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, সন্দেহ হয়- একসময় সন্তান জন্মের পর কানে আজান দেয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব তোলা হবে। মুসলমান নাম রাখার ওপর কর আরোপ করা হবে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তথা ইংরেজ ও হিন্দু জমিদারেরা একসময় দাড়ি রাখার ওপর কর বসিয়েছিল। বাংলায় প্রজা আন্দোলনের নেতা তিতুমীর সেই অপকর্ম রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। হাজী শরীয়তুল্লাহ, মুন্সী মেহেরুল্লাহ্, ইসলমাইল হোসেন শিরাজী, মাওলানা ইসলামাবাদী, হজরত শামসুল হক ফরিদপুরী, হাফেজ্জী হুজুর, শায়খুল হাদিসসহ অসংখ্য আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ বাংলার জমিনকে নৈতিক শিক্ষা ও দ্বীনের জন্য আবাদ করেছেন।
স্বাধীনতার পর অতিবাম ও ধর্মবিদ্বেষী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী কিছু মানুষ মাদরাসা-মক্তব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। মুক্তচিন্তার মানুষ আবুল ফজল, সৈয়দ আলী আহসান, মাওলানা তর্কবাগীশসহ অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে এর ভয়াবহ পরিণাম স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেননি। বরং ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। ওআইসির সদস্য হয়ে নিজেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশের স্থপতির মর্যাদায় উন্নীত করার এক কালজয়ী ঘোষণা দিয়েছিলেন।
সবার জেনে রাখা ভালো, ওয়াজ মাহফিলে কী বলা হয়, সাধারণত বিবি তালাকের মাসয়ালা থেকে শুরু করে অজু-গোসল, পাঞ্জেগানা নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, দান, সদকা, বেহেশত-দোজখ, হালাল-হারাম, সওয়াব-গুনাহ, বেহেশতের বর্ণনা, দোজখের আজাবের ভীতিকর মাসয়ালা-মাসায়েল বর্ণনা করা হয়। নবী-রাসূলের জীবন আর সাহাবা চরিত দিয়ে শ্রোতাদের উজ্জীবিত করা হয়। এতে না থাকে সরকার প্রসঙ্গ, না থাকে রাজনীতির সংশ্রব। দুনিয়ার চেয়ে আখেরাতের বর্ণনা দিয়ে বয়ান হয় বেশি। এতে নজরদারি বাড়াবাড়ি কি না, ভেবে দেখা দরকার। কারণ, তারা সরকার পাল্টানোর কথা ভাবেন না। এ ধরনের কোনো কর্মসূচিও তাদের কখনো ছিল না। এখনো নজরে পড়ে না। উত্ত্যক্ত না করলে, উসকানি না দিলে তারা নীরবে জুলুমও সহ্য করেন। বাধ্য হলে প্রতিবাদ জানান। সেটাও নিয়ম ভেঙে নয়।
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট সৃষ্টির সময় বঙ্গবন্ধুর ভাষণে ধর্মের ব্যাপারে অসংখ্য প্রতিশ্রুতি আছে; বাড়াবাড়িমূলক কোনো উক্তি নেই। বরং ইসলামের নামে পাকিস্তানি শাসকদের ভণ্ডামিকে তিনিও চিহ্নিত করেছেন। ৭ মার্চের কালোত্তীর্ণ ভাষণটি শেষ হয়েছে ইনশাআল্লাহ দিয়ে। ছয় দফায় কার্যত ধর্মনিরপেক্ষতার কোনো স্পর্শ নেই। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণায় ধর্মবিদ্বেষের কোনো ঠাঁই নেই। আজ ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ ঠেকানোর নামে এই দেশের মানুষের চিরায়ত ধর্মবিশ্বাস ও চর্চাকে কটাক্ষ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামের মুখোমুখি ও সাংঘর্ষিকভাবে উপস্থাপনের ধৃষ্টতা দেখতে পাই। অথচ আওয়ামী লীগের কাগজপত্রে অনূদিত হলেও বিসমিল্লাহ ও আল্লাহর নাম রয়েছে। রাষ্ট্রধর্মের ধারণা উপড়ে ফেলা হয়নি। তাহলে কারা আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ধর্মচর্চায় আদি ও অকৃত্রিম প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা উপড়ে ফেলতে উদ্যত? কারা আমাদের জাতিসত্তার মৌলিক পরিচয় মুছে ফেলতে মরিয়া? আওয়ামী লীগ সরকার ও এর নেতৃত্ব এ দিকটায় অবহেলা করলে জাতির কী ক্ষতি হবে ভবিষ্যৎই বলবে, তবে নগদ ক্ষতির মধ্যে পড়বে আওয়ামী লীগই। কারণ আওয়ামী লীগ ধর্মভীরু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদে বিশ্বাসী। ধর্মবিদ্বেষী নয়, ধর্মহীনও নয়।
আওয়ামী লীগ মুসলিম লীগের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা একটি প্রতিবাদী দল। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে এই দলের চিন্তক ভাবা হয়। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। টাঙ্গাইলের বনেদি নেতা শামসুল হক প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক। বঙ্গবন্ধু দলটিকে জনপ্রিয় করে তোলেন এবং এটিকে কার্যকর রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করে স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল সংগঠনের স্তরে উন্নীত করেন। শেখ হাসিনা এখন দলটির কাণ্ডারি। কথিত আছে, শেখ পরিবার ইসলামের দাওয়াত দিতে এই দেশে এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধু নিজে ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক, প্রথমে মুসলিম জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী নেতা। পরে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা হন। এতে তিনি কোনো সাংঘর্ষিকতা পাননি। তা ছাড়া তিনি ছিলেন ধর্মভীরু মানুষ। টুপি-তসবিহ জায়নামাজ তার শোয়ার ঘরেই থাকত। শেখ হাসিনা নিজেও ধার্মিক মানুষ। জানি না আজ ধর্মপন্থী কোনো বিশেষ দল ঠেকানোর নামে এ দেশের মানুষের ধর্মচর্চা, ওয়াজ মাহফিল ও মসজিদ-মক্তব-মাদরাসাগুলোকে কেন এতটা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। মাদরাসাগুলো এ দেশের মানুষের দান, সদকা, জাকাত-ফিতরা ও মুষ্টিচালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। মাদরাসাগুলো গণশিক্ষার হার বাড়াচ্ছে। নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাচ্ছে। অনৈতিকতার সয়লাব ও অনাচার ঠেকাচ্ছে। ধর্মীয় নেতৃত্বের অভাব ঘুচাচ্ছে। এই দেশে যতবার ধর্মের নামে চরমপন্থা উত্থানের আলামত দেখা দিয়েছে, ততবারই সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, ইমাম-মুয়াজ্জিনরাই রুখে দিয়েছেন। জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা ওবায়দুল হকের চরমপন্থাবিরোধী জুমার খুৎবা কি কারো মনে পড়ে না!
দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবশ্যই উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটাচ্ছে। সাথে রাজনৈতিক টাউট, শিক্ষিত ডাকাত, ঘুষখোর ও অসংখ্য পদলেহী চাকরেরও জন্ম দিচ্ছে। তাই বলে কি আমরা সেগুলো বন্ধ করার কথা ভাবছি? মাদরাসায় পড়ে দু-চারজন চরমপন্থী বিভিন্ন নামে বাড়াবাড়ি করলে তাদের জন্য ব্যবস্থা নেয়া এক কথা; ইসলামি শিক্ষা ও আলেম-ওলামার নির্বিরোধ জীবন ভিন্ন কথা! কাদের কাছে এরা এতটা অসহ্য? কেন? তারা কি আমাদের চিরায়ত ধর্মবিশ্বাস ও জীবনাচার থেকে ইসলামকে নির্বাসনে দিতে চান? এ দেশের মানুষ কোনো বিশেষ ধর্মভিত্তিক দলকে ইসলামের সোল এজেন্সি দেয়নি। তেমনি কোনো দলকে মানুষের ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মচর্চাকে উপড়ে ফেলার ম্যান্ডেটও দেয়নি। সরকারকেই ভেবে দেখতে হবে- কারা, কেন সরকারের আনুকূল্য নিয়ে দেশ ও জাতির শেকড় কাটছে। স্বাধীনতার অন্যতম রূপকার আবুল মনসুর আহমদ জীবিত থাকলে একাই এই শেকড় কাটা ভুঁইফোড়দের মুখোশ উন্মোচন করে দিতেন। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের রূপময়তা তুলে ধরতে কার্পণ্য করতেন না। আহমদ ছফা বেঁচে থাকলে বাঙালি মুসলমানের মন নিয়ে দ্বিতীয় কিস্তি লিখে সবাইকে অবাক করে দিতেন। আর আমরা শুধু অবাক হয়ে দেখছি। বোকার মতো ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে অজানা ভবিষ্যতের দাসখতের পাতা উল্টাচ্ছি।
masud2151@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্ত্রী হারিয়ে পরের জন্য সেবা ‘ক্যানসার দাদু’র
যেমন কোনও দিন হয়তো আরজিকর বা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের রেডিওথেরাপিতে ডাক্তারের ঘরে ঢুকলেন এক হতদরিদ্রের হাত ধরে। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা মানুষটি হয়তো মহানগরের হাল-হকিকত বোঝেন না। তাঁকে ডাক্তার দেখিয়ে ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করলেন। কখনও দেখা যায়, বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালের ফার্মাসিতে দাঁড়িয়ে কোনও মুমূর্ষুর জন্য ওষুধ কিনছেন। কখনও আবার জমায়েতে বিলি করছেন লিফলেট। যাতে লেখা, কী কী উপসর্গ দেখলে গোড়াতেই ক্যানসারের আঁচ পাওয়া যায়।
মানে, অনাত্মীয় অসহায়দের জন্য টাকা, সময়, সবই খরচ করছেন অকাতরে, নির্দ্বিধায়। ঘরের খেয়ে বাইরের লোকের পাশে দাঁড়ানো মানুষটি কে?
উনি সুবল বসু। উত্তর কলকাতার বাসিন্দা, পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। নিজের কনসালট্যান্সি ফার্ম রয়েছে। অশীতিপর সুবলবাবু এই মুহূর্তে নিজেও মূত্রথলির ক্যানসারে আক্রান্ত। যদিও এগুলোর কোনওটাই তাঁর পরিচয় বোঝাতে যথেষ্ট নয়। উনি আদতে বহু ক্যানসার-রোগীর কাছে মস্ত ভরসা। তাঁরা ওঁকে চেনেন ‘ক্যানসার দাদু’ নামে। যিনি কি না গত সতেরো বছর ক্যানসারের সঙ্গে ‘ঘর’ করছেন।
কী রকম?
উত্তর পেতে গেলে বেশ কিছু বছর পিছিয়ে যেতে হবে। অকৃতদার সুবলবাবুর কনসালট্যান্সি ফার্মে ১৯৯৮-এ যোগ দিয়েছিলেন সাঁইত্রিশ বছরের সুভদ্রা। ভাল কর্মী। কিন্তু আচমকা ঘন ঘন অফিস কামাই। কারণ জানতে চাইলে মহিলা শুধু বলতেন, শরীরটা ভাল যাচ্ছে না। শেষে অফিস আসা পুরোপুরি বন্ধ। খোঁজ নিতে সুভদ্রার বাগবাজারের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন সুবলবাবু। একচিলতে ঘরে মা-বাবা আর মেয়ের সংসার। জানা গেল, বাড়ির একমাত্র রোজগেরে মেয়ের স্তন ক্যানসার ধরা পড়েছে। মা-বাবা বললেন, চোখের সামনে সন্তানের মৃত্যু দেখাটাই তাঁদের ভবিতব্য, কেননা, চিকিৎসার সামর্থ নেই। সুবলবাবু সাহায্যের হাত বাড়াতে চাইলে দৃঢ়চেতা সুভদ্রা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অনাত্মীয় কারও টাকা নিতে পারবেন না।
তার মানে, আত্মীয়তাই একমাত্র শর্ত?
কালক্ষেপ না-করে সরাসরি সুভদ্রাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন তিরিশ বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ সুবল। ক’দিনের মধ্যে বিয়ে। আর তার পর দিনই মুম্বইয়ের টাটা ক্যানসার হাসপাতালে রওনা। সুবলবাবুর কথায়, ‘‘ওটাই ছিল আমাদের মধুচন্দ্রিমা!’’
মুম্বইয়ে বড় বড় ডাক্তার দেখিয়ে কলকাতা ফিরে অস্ত্রোপচার। সুভদ্রার স্তন বাদ দেওয়া হল। তত দিনে রোগ ফুসফুসে ছড়িয়েছে। টানা ক’বছর চলল কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি। ২০০৫-এ সুভদ্রা মারা গেলেন। সুবলবাবুর জীবনও অন্য দিকে বাঁক নিল। জমানো টাকা ঢালতে থাকলেন দুঃস্থ ক্যানসার-রোগীদের চিকিৎসায় ও সচেতনতার প্রচারে। যে জন্য ২০০৮-এ গড়ে ওঠে সুভদ্রা মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। ‘‘রোগটা গোড়ায় ধরা পড়লে সুভদ্রাকে অকালে চলে যেতে হতো না। উপসর্গগুলো সম্পর্কে আমজনতাকে হুঁশিয়ার করতে নানা জায়গায় নানা অনুষ্ঠান করেছি। লিফলেট, আলোচনা, পদযাত্রা— কিছু বাদ নেই।’’— বলছেন সুবলবাবু। এ-ও জানাচ্ছেন, সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারবাবুরা যথেষ্ট সাহায্য করেছেন।
তবে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যাপারে এ শহরের কয়েক জন ক্যানসার-চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও ওঁর কাছে মজুত। এমনকী শ্রাদ্ধের কার্ডে তাঁদের নাম দিয়ে সেই অভিযোগের উল্লেখ করতেও ছাড়েননি, যার জেরে বিস্তর সমস্যা পোহাতে হয়েছে। তবু দমেননি। প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘যার মৃত্যু নিশ্চিত, তারও তো চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আগেই তাকে খরচের খাতায় ফেলে দেওয়া হবে কেন ?’’সুভদ্রার ক্ষেত্রে তেমনই হয়েছিল বলে সুবলবাবুর আক্ষেপ। মূলত সেই যন্ত্রণা থেকে ক্যানসার-রোগীদের ‘মানবিক’ চিকিৎসা দিতে একটি হাসপাতাল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। অনুমতি চেয়ে রাজ্য সরকারকে আবেদনপত্র জমা দেন। অনুদানের বিষয়ে খোঁজ-খবর শুরু হয়। প্রথম প্রস্তাব স্বাস্থ্যভবন নাকচ করে দেওয়ায় সুবলবাবু ফের আবেদন করেছেন। স্বাস্থ্য-সূত্রের খবর, এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কর্তাদের কাছে প্রস্তাবটা বিশেষ গ্রহণযোগ্য ঠেকছে না। ‘‘আমরা বুঝতে পারছি না, উনি কী ভাবে এত বড় একটা জিনিস সামলাবেন।’’— পর্যবেক্ষণ এক কর্তার।
সুবলবাবু অবশ্য দমছেন না। তাড়া-তাড়া কাগজ নিয়ে এক বার ছুটছেন স্বাস্থ্যভবনে, এক বার ব্যাঙ্কে, এক বার উকিলের চেম্বারে। ছ’মাস আগে নিজের ইউরিনারি ব্লাডারে ক্যানসার ধরা পড়েছে। অপারেশন হয়েছে, এখন পরবর্তী চিকিৎসার পর্ব। তাতেও লড়াইয়ের অদম্য ইচ্ছেটা মরেনি। যে রোগ স্ত্রীকে কেড়েছে, নিজের শরীরে থাবা বসিয়েছে, তার বিরুদ্ধে শেষ শক্তি দিয়ে লড়তে তিনি মরিয়া। বলছেন, ‘‘নিজেকে একা ভাবলে এটা পারব না। বিশ্বাস করি, মানসিক ভাবে অনেকেই আমার সঙ্গে আছেন। তাই খানিকটা এগোতে পেরেছি। সরকার কিছুটা সাহায্য করলে হয়তো স্বপ্নটা অধরা থাকবে না।’’ ক্যানসার-আক্রান্ত বৃদ্ধের এ হেন উদ্যম দেখে পোড়-খাওয়া ডাক্তারেরাও অবাক। আরজিকরের রেডিওথেরাপি’র প্রধান চিকিৎসক সুবীর গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘‘ওঁর জীবনীশক্তি অতুলনীয়। এমন মানুষ চারপাশে আরও কিছু থাকলে দুনিয়াটা অন্য রকম হতো।’’ সুবলবাবুরও প্রত্যয়ী ঘোষণা, ‘‘চলে যাওয়ার আগে সুভদ্রার স্মৃতিতে হাসপাতালটা গড়ে তুলতেই হবে।’’
যেন আর এক তাজমহলের কাহিনি!
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিজয় দিবস নিয়ে বিজেপির স্ট্যাটাসে তীব্র প্রতিক্রিয়া
ওই স্ট্যাটাসে অনেক বাংলাদেশিই মন্তব্য করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাজিয়া আফরিন নামে একজন লিখেছেন, এটা বাংলাদেশের বিজয় দিবস। ভারতের বিজয় দিবস নয়। তোমরা ইতিহাস পরিবর্তন করতে পারো না। মুবতাসিম ফুয়াদ লিখেছেন, রক্ত দিয়ে এনেছি এই স্বাধীনতা, কারও দানে নয়। সাগর লিখেছেন, শেম অন ইন্ডিয়া। জাহাঙ্গীর হোসেন লিখেছেন, ১৬ই ডিসেম্বরের পেছনে সব কৃতিত্ব বাংলাদেশের জনগনের। ভারতের নয়। ওয়ালিদ হোসাইন লিখেছেন, তোমরা আমাদের সহযোগিতা করেছো। কিন্তু আমরাই আমাদের বিজয় অর্জন করেছি। হাসান আলী সরকার লিখেছেন, বিজয় আমাদের অর্জন। তোমরা শুধু আমাদের সহযোগিতা করেছো। সৈয়দ ফারহানুল হক লিখেছেন, এটা তাদের দ্বারাই সম্ভব, যাদের মস্তিষ্ক বিকৃত হয়েছে। সারা পৃথিবীর মানুষ জানে, ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর একটাই দেশ স্বাধীন হয়েছে আর সেটা হল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এর মোকাবেলা চলবেই।
আরিফ মাহমুদ লিখেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলা ভাষায় ট্যুইট করে সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। উনার এই স্মারক স্মরণ করে উনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরাও প্রতিট্যুইট করেছিলাম দুদেশের মাঝে সম্প্রীতি, সোহার্দ্য আর সুসম্পর্ক কামনা করে। সুসম্পর্কের প্রতিদানে উনি আমাদের বিজয়ে দিবসটিকে আজ নিজেদের বলেই উদযাপন করলেন। নয়মাস গর্ভে ধারণ করে সন্তান জন্মদিলো মা। পৃথিবীর নতুন সূর্য দেখার ঠিক আগমনী মুহুর্তে দাই এসে মাকে একটু পরিচর্যা করেই বললো- না, না এই সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানটি তোমার না। আমি পাশে না থাকলে সূর্যকিরণে উদ্ভাসিত এ সন্তানের কোনোভাবেই জন্ম হতোনা। সুতরাং সন্তান আমার। দাই সুদীর্ঘ কাল মাতৃত্বের প্রসব বেদনার যন্ত্রণা বুঝলোনা। একটু হাতের স্পর্শ দিয়েই মা হয়ে গেলো। এতোই সহজ।
এ যেন সেই কাজলরেখা গল্পের চতুর দাসীর মতো। রক্ত দিয়ে কেনা বাংলা জলের দামে লুঠ হয়ে যাবে- এতো সহজ না। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদান অস্বীকার করা যেমন ঠিক না, ঠিক তেমনি এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পুরো কৃতিত্ব ভারতের , এই বিজয়টা ওদের-এটা দেখে চুপ করে থাকাটাও মূর্খতা। আপনাদের এই উদযাপনকে তীব্র ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করলাম। যে যেখান থেকে পারুন জোরালো কন্ঠে প্রতিবাদ করুন।রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু দেশপ্রেমে সবাইকে একই সাথে যুথবদ্ধ হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন by এমাজউদ্দীন আহমদ
এসব যুক্তির ভিত্তিতেই রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংগঠিত হয়েছে আইন প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করার প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃত্বের সমন্বয়ে এবং প্রাচীনকাল থেকেই এই ব্যবস্থা চলে আসছে। সরকারের শ্রেণিবিভাগে ‘আইনভিত্তিক সরকার’ (The Government of Laws) এবং ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক সরকার’ (The Government of Men)-এর মধ্যে যে পার্থক্য অ্যারিস্টটল তার Politics গ্রন্থের তৃতীয় বিভাগে উল্লেখ করেছেন, তা-ও এই প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। তাই বিচার বিভাগ হচ্ছে সরকারের এক অপরিহার্য অঙ্গ।
কিন্তু বিচার বিভাগকে তার ব্যক্তিত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হলে সরকারের জন্য দু’টি বিভাগ- আইন পরিষদ ও নির্বাহী কর্তৃত্ব থেকে শুধু স্বতন্ত্র হলেই চলবে না, স্বাধীনও হতে হবে; যেন তা আইন প্রণেতা এবং নির্বাহী কর্তৃত্বের প্রভাবমুক্ত হয়ে শুধু আইনের নিরিখে বিচারকেরা বিচার্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং আইন হলো অ্যারিস্টটলের কথায় ‘এক আবেগমুক্ত যুক্তি’। এই আবেগহীন যুক্তিকে পুরোপুরি ধারণ করতে হলে বিচারকদের শুধু নির্মোহ হলেই চলবে না, রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তারা যেন কারো ওপর নির্ভরশীল না হন, কারো অনুরাগ অথবা বিরাগের পাত্র হিসেবে পিচ্ছিল পথে চলতে বাধ্য না হন তা নিশ্চিত হতে হবে এবং তা হতে হবে রাষ্ট্রের মাধ্যমে। তাই যুগে যুগে সরকারের তিনটি বিভাগ পৃথক করা এবং তাদের স্বতন্ত্র কার্যক্রমের ওপর জোর দেয়া হয়েছে, বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা ঘোষণা করা হয়েছে হাজার হাজার মঞ্চ থেকে।
ফেডারালিস্ট পেপার ৫১ (Federalist 51)-তে জেমস ম্যাডিসেন যা লিখেছিলেন তা উল্লেখযোগ্য। তার মতে, জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য সরকারের ক্ষমতার সীমারেখা নির্ধারিত হতে হবে এবং সরকার যেন তার ক্ষমতার অপব্যবহার না করতে পারে তারও রক্ষাকবচ থাকতে হবে। মানুষ যে স্বার্থপর এবং ক্ষমতালোভী, সুযোগ পেলেই যে একজন অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করবে এবং এ কারণেই যে সরকারের উৎপত্তি হয়েছে তা যেমন সত্য, তেমনি সত্য যে সরকারও সুযোগ পেলে নাগরিকদের অধিকারে অবলীলাক্রমে হস্তক্ষেপ করবে। তার নিজের কথায়, ‘মানুষ যদি দেবদূত হতো তাহলে কোনো সরকারের প্রয়োজন হতো না। যদি দেবদূতরা শাসনকাজে নিয়োজিত থাকতেন, তাহলে সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক কোনো নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতো না। মানুষের ওপর মানুষের শাসন পরিচালনার জন্য গঠিত সরকারব্যবস্থার এই হলো সবচেয়ে বড় অসুবিধা। শাসিতদের ওপর শাসকদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সবার আগে করতে হবে এবং এর পরপরই সরকারকে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তথা ফাউন্ডিং ফাদার আলেকজান্ডার হ্যামিলটন জেমস ম্যাডিসন থেকে আরো জোরেশোরে ফেডারালিস্ট পেপার-৭৮-এ (Federalist 78) লিখেছেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের দুষ্কর্ম অথবা বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী প্রভাবশালীদের বক্তব্য-বিবৃতি প্রচারের মুখে সংবিধান এবং জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য বিচারকদের স্বাধীনতাই হলো প্রকৃষ্ট রক্ষাকবচ।’
শুধু তখন কেন, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা সংবিধান বিশেষজ্ঞরা এ সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করে চলেছেন। ১৯৫৫ সালে American Political Science Review-APSR(49)-এ প্রকাশিত ‘Judicial Self Restraint’ শিরোনামে এক প্রবন্ধে জন রচে (John P. Roche) লিখেছেন- ‘জনগণকে জনগণের কাছ থেকে রক্ষা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বিচারব্যবস্থার অভিভাবকত্ব ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান উপযোগী নয়, কেননা এটি দেশে আইনের শাসনের অঙ্গীকারে নিবেদিতপ্রাণ’। তিনি এখানেই থামেননি। তার কথায় ‘রাষ্ট্রদেহে সত্যের রস সঞ্চারের প্রশ্নাতীতভাবে সবচেয়ে বড় ভরসা হলো যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত, বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের ওপর আস্থা।’
উনিশ শতকের শেষপ্রান্তে ব্রিটেনের খ্যাতনামা সংবিধান বিশেষজ্ঞ এভি ডাইসি (AV Dicey) তার খধি Law of the Constitution (1885) গ্রন্থে যেভাবে তিনি ব্রিটেনে আইনের শাসনের ব্যাখ্যা দিলেন তাতে বিচার বিভাগের শ্র্রেষ্ঠত্বকে প্রায় আকাশচুম্বী করে তোলেন। তার মতে, জনগণের অধিকার কোনো সাংবিধানিক আইন থেকে উদ্ভূত নয়; বরং গণ-অধিকারের ভিত্তিতেই সাংবিধানিক আইন রচিত হয়েছে। অন্য কথায়, ডাইসির কথায়, অন্যান্য দেশে জনগণের অধিকারের রক্ষাকবচ যেমন সংবিধানে বিধিবদ্ধ আইন, ব্রিটেনে কিন্তু বিভিন্ন আদালতের রায়ে সুনির্দিষ্ট, সুনির্ধারিত ও প্রতিষ্ঠিত অধিকারগুলোই সাংবিধানিক আইনে রূপান্তরিত হয়েছে। ব্রিটেনের সাধারণ আদালতের সিদ্ধান্তে নাগরিকদের অধিকারের সনদ রচিত হয়েছে। সুতরাং ব্রিটেনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ভিত্তিতেই নাগরিকদের অধিকারমালা সুপ্রতিষ্ঠিত। তাই এখানে অধিকার রক্ষার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কোনো দাবি নেই। দাবি করার আগেই তা প্রতিষ্ঠিত, অনেকটা স্বতঃসিদ্ধের মতোই। অনেকটা সুসভ্য জীবনব্যবস্থার মৌল উপাদান রূপেই, উন্নততর রাজনৈতিক সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠ ফল হিসেবে।
সংবিধান গণ-অধিকারের মূল নয়, বরং গণ-অধিকারই সংবিধানের মূল এবং তা সাধারণ আদালতেরই সৃষ্টি। কিন্তু বাংলাদেশে বিচার বিভাগের এই দুরবস্থা কেন? স্বাধীনতার প্রায় তিন দশক পরও কেন বাংলাদেশের জনগণকে আজো বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য মিটিং-মিছিল করতে হয়? কেন এখনো বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দাবিতে প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখতে হয়? এ দেশে বুদ্ধিজীবীরা জানেন, পাকিস্তান আমল থেকে এখন পর্যন্ত সার্থক যেকোনো গণ-আন্দোলনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দাবি সব সময় উত্থাপিত হয়েছে। প্রত্যেকের মনে রয়েছে, ১৯৫৪ সালের ২১ দফা দাবিনামার ১৫তম দাবিটি ছিল প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্রদের পক্ষ থেকে যে ১১ দফা দাবি উত্থাপিত হয়, এর নবম ও ১১তম দফায় ছিল স্বাধীন বিচার বিভাগের দাবি। এরও আগে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দাবির প্রেক্ষাপটে ১৯৫৬ সাল ও ১৯৬২ সালের পাকিস্তানের সংবিধানে বিচার বিভাগ আলাদা করার প্রস্তাব স্থান পায়।
এক রক্তের নদী সাঁতরে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা চিনিয়ে আনলে নতুন সংবিধানে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নিশ্চিত করে বাংলাদেশে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল সংবিধানের ১১৫ ও ১১৬ অনুচ্ছেদসহ অন্যান্য অনুচ্ছেদে। নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের সময়ও তিনদলীয় জোটের যে ক’টি ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশে স্বতন্ত্র এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ সম্পর্কিত বক্তব্য। সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধন আইনেও এই প্রস্তাবটি স্থান পেয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জনপদে যে ক’টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে নির্ভুলভাবে এ দাবিটি স্থান পেয়ে এসেছে যে, বাংলাদেশে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বতন্ত্র ও স্বাধীন হবে। এর পরও এই এলাকা আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠল না এখনো। এর পরও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সম্পর্কে বিভ্রান্তির কোনো অবসান হলো না। বিচার বিভাগ প্রশাসন থেকে পৃথক করা হলো না।
শুধু বাংলাদেশে নয়, বিদেশেও বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে প্রকাশিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে প্রচুর হতাশা। বার্লিন-ভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘বাংলাদেশের বিচার প্রার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যক ব্যক্তিকে বিচার কিনতে হয়। অর্থ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা না থাকলে কর্মকর্তাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহের প্রকাশ ঘটে না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের এই বক্তব্য অবশ্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগের নি¤œ পর্যায় সম্পর্কে। এত ঘন অন্ধকারের মধ্যেও কিন্তু বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায়, বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট জ্বালিয়ে রেখেছে গণমনে আস্থা ও বিশ্বাসের উজ্জ্বল এক দীপশিখা। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রকাশিত ‘কান্ট্রি রিপোর্ট’গুলোতে রয়েছে এর উজ্জ্বল স্বাক্ষর। ১৯৯৯ সালের কান্ট্রি রিপোর্টে লিখিত হয়েছে, ‘বিচার বিভাগের উচ্চতর পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বাধীনতা পরিলক্ষিত হলেও এবং এই পর্যায় থেকে ফৌজদারি, সিভিল, এমনকি বিতর্কিত রাজনৈতিক মামলায় বিচার বিভাগ সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিলেও নি¤œপর্যায়ের আদালতগুলো এখনো রয়েছে নির্বাহী বিভাগের চাপের মুখে। আইনগত প্রক্রিয়া দুর্নীতিপূর্ণ, বিশেষ করে নি¤œপর্যায়ে।’
এ দেশের বড় দুর্ভাগ্য, বাংলাদেশের বিচার বিভাগের যে শীর্ষ পর্যায় হাজারো প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মাথা উঁচু করে রয়েছে তার বিরুদ্ধেও রচিত হচ্ছে ষড়যন্ত্রের কালো কুণ্ডলি। বিষধর সর্প যেন নতুনভাবে ফণা উদ্যত করেছে বিচার বিভাগের শীর্ষের বিরুদ্ধে। নি¤œস্তর তো এরই মধ্যে দুর্নীতি ও নির্বাহী কর্তৃত্বের করালগ্রাসের মধ্যে এসে গেছে, যা এখনো দেশের বিচার প্রার্থীদের শেষ ভরসাস্থল তাও বুঝি নিঃশেষ হয়। ক’বছর আগে, সাধারণ উত্তেজিত জনতা কর্তৃক নয়, বরং ক্ষমতাসীন দলের বেশ ক’জন মন্ত্রী ও দলীয় নেতার নেতৃত্বে পল্টন ময়দান থেকে লাঠি উঁচিয়ে, মাথায় ও গলায় কাফনের কাপড় জড়িয়ে হাইকোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে যে মিছিলের আয়োজন হয়, তা কি কোনো সাময়িক উত্তেজনার ফল? প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে ফিরে এসে ওই মিছিলের পক্ষ সমর্থন করে যে বক্তব্য দেন, তা কি কোনো অশনিসঙ্কেত? এই নিবন্ধে তার বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে।
দুই.
বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ইতিহাস মোটেই উজ্জ্বল নয়। অনল কুণ্ড থেকে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতার রক্তরঞ্জিত পতাকা ছিনিয়ে আনে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। দেশে প্রবর্তিত হবে আইনের শাসন। স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানে কারণে-অকারণে সরকার যেভাবে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, বাংলাদেশে তার অবসান ঘটবে। তাই ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের যে সংবিধান রচিত হয়, ১৬ ডিসেম্বর থেকে যা কার্যকর হয়, সেই সংবিধান জনগণের ২২টি মৌলিক অধিকার স্বীকার করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগকে মৌলিক অধিকারগুলো বলবৎ করার ক্ষমতা দিয়ে এবং সংবিধানে জরুরি অবস্থা ঘোষণার কোনো ব্যবস্থা না রেখে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। মনে হয়েছিল, জনগণের প্রত্যাশা এত দিন পরে বুঝি পূর্ণ হলো। কিন্তু না, সে অবস্থা বেশি দিন টেকেনি। বাংলাদেশ সংবিধান কার্যকর হওয়ার মাত্র ৯ মাস সাত দিন পরে, ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, জাতীয় সংসদ সংবিধান (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন প্রণয়ন করে নির্বাহী বিভাগের হাতে মৌলিক অধিকারপরিপন্থী ক্ষমতা অর্পণ করে। সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সর্বপ্রথম জাতীয় সংসদকে বিনা বিচারে আটক রাখা সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করার ক্ষমতা দেয়া হয় এই সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে এই সংশোধনী আইন সংযোজিত হওয়ার মাত্র চার মাস ১০ দিনের মধ্যেই ১৯৭৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রণীত হয়, যা এখনো বাংলাদেশে বিদ্যমান রয়েছে কুখ্যাত কালাকানুন রূপে। সংবিধানের (দ্বিতীয় সংশোধনী) আইনের মাধ্যমে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপন্ন হলে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে প্রেসিডেন্টকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা দেয়া হয়। জরুরি অবস্থা জারি করা হলে নাগরিকদের ছয়টি মৌলিক অধিকার স্থগিত করার বিধান সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই ছয়টি মৌলিক অধিকার হলো চলাফেলার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠনের অধিকার, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা, পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা এবং সম্পত্তির অধিকার। যেকোনো গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি হলো এসব অধিকার। জরুরি অবস্থায় যেকোনো মৌলিক অধিকার বলবৎ করার লক্ষ্যে আদালতে মামলা করার অধিকার স্থগিত করার ক্ষমতাও দেয়া হয় রাষ্ট্রপতিকে। জরুরি অবস্থা ঘোষণা সংক্রান্ত বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার এক বছর তিন মাস পরে ১৯৭৪ সালের ২৮ ডিসেম্বরে অভ্যন্তরীণ গোলযোগের ফলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক জীবন বিপদের মুখোমুখি হয়েছে, এই অজুহাতে বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকাকালেই ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনী) আইন প্রণয়ন করে বাংলাদেশ থেকে সংসদীয় ব্যবস্থাকে নির্বাসন দিয়ে কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রপতি সরকার প্রবর্তন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়। রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলোর যেকোনো একটিকে কার্যকর করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতিকে একটি মাত্র ‘জাতীয় দল’ গঠনের ক্ষমতা দেয়া হয় এবং বিধান থাকে যে, জাতীয় দল গঠিত হলে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল আপনাআপনি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এই অবস্থা অব্যাহত তাকে ১৯৭৬ সালের ২৮ মে পর্যন্ত। ২৮ মে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের দ্বিতীয় ঘোষণাপত্র (সপ্তম সংশোধনী) আদেশের ফলে সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনী) আইনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের যে স্বাধীনতা খর্ব করা হয় এবং সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মৌলিক অধিকার বলবৎ করার যে এখতিয়ার কেড়ে নেয়া হয়, তা সংবিধানে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তৃতীয় ঘোষণাপত্র অনুযায়ী মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং এর পাঁচ মাস পরে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিলে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনী) আইনের কুপ্রভাব সম্পর্কে অষ্টম সংশোধনীর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ যে রায় ঘোষণা করেছিলেন সেই রায়ে তখনকার অন্যতম বিচারপতি, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, ‘১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারির সংবিধান (চতুর্থ সংশোধনী) বাংলাদেশ সংবিধানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন সব পরিবর্তন আনে, যা তার মৌল কাঠামো পর্যন্ত পাল্টে দেয়। বহুদল-ভিত্তিক সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার রাতারাতি পাল্টে সৃষ্টি করা হয় একদল-ভিত্তিক কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। সংগঠনের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। সরকারি দল ছাড়া অন্যান্য সব দলকে নিষিদ্ধ করা হয়। জনগণের নির্বাচিত সত্ত্বেও জাতীয় সংসদের যেসব সদস্য এই সরকারি দলে যোগ দেননি তাদের আসন শূন্য হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে হ্রাস করা হয়।’
এই সংশোধনী আইনে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কিভাবে ক্ষুণ করা হয় তার বিবরণ দিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘প্রধান নির্বাহীর ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর বিচারপতিদের অপসারণ নির্ভরশীল করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কমানো হয়।’ অধস্তন আদালতগুলোর ওপর সুপ্রিম কোর্টের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার বিলোপ ঘটিয়ে, তা সুপ্রিম কোর্টের পরিবর্তে ন্যস্ত করা হয় সরকারের ওপর। এসব পরিবর্তন এত মারাত্মক এবং তাৎক্ষণিক ছিল যে, স্বাধীনতার বন্ধুরা হন বিভক্ত। স্বাধীনতার শত্রুরা প্রতিশোধ নিলেন। সমালোচকেরা উচ্ছ্বাস ভরে বললেন, ‘গণতন্ত্রের এই বিনাশ সাধনের প্রক্রিয়া একই, তা সে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের দিয়েই হোক আর সামরিক অভ্যুত্থানের মতো পদ্ধতিতেই হোক।’
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কিন্তু বিচার বিভাগের স্বাধীনতা তার পূর্বতন অবস্থানে ফিরিয়ে নেয়ার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে ছোটখাটো দু-চারটি পদক্ষেপ নেয়া হয় মাত্র। ১৯৭৬ সালের ২৮ মে রাষ্ট্রপতি সায়েম তার দ্বিতীয় ঘোষণাপত্র (সপ্তম সংশোধনী) আদেশে চতুর্থ সংশোধনী আইনে সুপ্রিম কোর্টের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার যে ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয়েছিল, তা পুনঃস্থাপিত হয়। তা ছাড়া চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে সংশোধনী এনে যেখানে বলা হয়েছিলÑ ‘বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনে রত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান ও ছুটি মঞ্জুরীকরণসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ব্যস্ত থাকিবে’, সে ক্ষেত্রে ১৯৭৯ সালে গৃহীত সংবিধান (পঞ্চম সংশোধনী) আইনের মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদে ‘ন্যস্ত থাকিবে’ শব্দ দু’টির পরে সংযোজিত হয় ‘এবং সুপ্রিম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে কিন্তু ব্যবস্থা ছিল সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের বিচার বিভাগীয় পদে অথবা বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশ ও পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে তারা নিযুক্ত হবেন। চতুর্থ সংশোধনী আইনের বিষক্রিয়া বিচার বিভাগের ওপর এতই মারাত্মক ছিল যে, আজো এতগুলো সংশোধনীর পরও বিচার বিভাগ তার স্বাভাবিক স্বাস্থ্য ফিরে পায়নি।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দাবি সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে জোরেশোরে বিঘোষিত হয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৫ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদ ছিল তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। ২২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।’ চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে হাজার হাজার যোজন দূরে ঠেলে ফেলে বরং নির্বাহী বিভাগের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এই অবস্থার আংশিক পরিবর্তন এসেছিল বটে, কিন্তু স্বাধীনতার কাছাকাছি তা আসেনি।
লেখক : রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সাবেক ভিসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফেনী: আধিপত্যের নতুন যুগ by জসিম উদ্দিন
আশি ও নব্বইয়ের দশকে ফেনীর চেয়ে জয়নাল হাজারীর ‘হাজারী’ নামটি দেশব্যাপী অনেক বেশি প্রচারণা পায়। পুরো জেলায় তার নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তার সৃষ্ট ক্লাস কমিটি ও স্টিয়ারিং কমিটির নামে জেলার মানুষেরা তটস্থ ছিল। উল্লেখ্য, সিসিলি থেকে মাফিয়া নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ে আমেরিকা, জাপান ও ব্রিটেনে। বিপ্লবী চে গুয়েভারার আজেন্টিনা, চিলি ও ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকার দেশে দেশে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে মাফিয়া চক্র। এদের কর্মকাণ্ডকে উপজীব্য করে আমেরিকান লেখক মারিও পুজো ১৯৬৯ সালে লেখেন ‘গডফাদার’। ১৯৭২ সালে পুজোর বই অবলম্বনে হলিউডে নির্মিত হয় একই নামের বিখ্যাত ছবি। ছবিটি তিনটি ক্যাটাগরিতে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড পায়। এরপর ফিল্ম জগতে ‘গডফাদার’ নামের অসংখ্য ছবি নির্মিত হয়েছে। মুম্বাই ফিল্ম জগতও নাড়িয়ে দেয় মাফিয়াচেতনা। মাস্তান, গুণ্ডা শব্দগুলো তখন বোম্বের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রধান উপজীব্য হতে শুরু করে। দাউদ ইবরাহিম নামের নেতিবাচক হিরোদের চক্র হয়ে ওঠে। এতে সরাসরি বলিউডের কারো কারো সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। ডন, মাফিয়া কিংবা গডফাদার- এ শব্দগুলো বাংলাদেশে অনেক তরুণের মধ্যে হিরোইজমের চেতনা উসকে দেয়।
এর একটা ভালো দিক ছিল- জোর খাটিয়ে খারাপ ও অনিষ্টকে পরাজিত করার প্রবণতা। পশ্চিমের চরিত্র রবিনহুড বা বাংলাদেশের দস্যু বনহুরও একই ধারার চেতনাকে জাগ্রত করে। এগুলোতে দেখানো হয়েছে, ভালো কাজকে অন্যায় পন্থায় হলেও মোকাবেলা করার সাহসিকতা শৌর্য বীর্য। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এসবের শেষ পরিণতি এসে ঠেকে মাস্তানি আর গুণ্ডামিতে। বস্তি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, চোরাচালান এ ধরনের অপকর্মের দিকে মোড় নেয় তরুণদের একটি অংশের উত্তেজনা। এই ধরনের নেতিবাচক হিরোইজমের একটা সময়ে হাজারীর উত্থান ঘটতে থাকে ফেনীতে। সিসিলির ওই সব মাফিয়া বুদ্ধি খাটিয়ে সরকারি বাহিনীকে মোকাবেলা করে চোরাচালান ও মাদকের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। তারা দাঁড়িয়ে যায় রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে। প্রথাগত অস্ত্রের পাশাপাশি কূটবুদ্ধি ধূর্ততা হিংস্রতা তার প্রধান অস্ত্র। অপর দিকে, একটা সময় ফেনীর পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হাজারীর কাছে। তার জন্য এটা অনেকটা সহজ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে তার প্রতি প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং প্রশাসনের কোনো কোনো অংশের সাথে তাদের উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাকি অংশকে ভয় দেখিয়ে বশে রাখা হয়। গডফাদার বলতে বাংলাদেশে যে ‘মাফিয়া’ তৈরি হয় এরা অনেকটাই থাকে ছত্রছায়ায়। প্রশাসনের আনুকূল্য যখন স¤পূর্ণ প্রতাহার করা হয়, মাস্তানি করার কোনো ক্যারিশমা এরা আর দেখাতে পারে না।
এ ধরনের আনুকূল্য তুলে নেয়ার পরপর মধ্যমস্তরের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার সামান্য দৃঢ়তার সামনে নতি স্বীকার করে জয়নাল হাজারী সহজ গন্তব্য হিসেবে ভারতে পালিয়ে গেলেন। অবশ্য গণতন্ত্রের একটা দুর্বল দিক তার পালিয়ে যাওয়ার মধ্যে উন্মোচিত হলো। সবাই যখন একচেটিয়া তার সমালোচনায় মুখর, তখন এই বাংলাদেশী খুদে ‘মাফিয়া’ ও তার ক্লাস কমিটির অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত, ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে পঞ্চাশ হাজারের বেশি ভোট পান হাজারী। গডফাদার তকমা পাওয়ায় হাজারীকে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আর গ্রহণ করেনি। সম্ভবত তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক সোলায়মান চৗধুরীর কাছে এমনভাবে পরাজিত না হলে এখনো দলটি তাকে ফেনীতে গ্রহণ করত। কারণ আবার ফেনী একই জিম্মি অবস্থায় রয়েছে বলে মিডিয়ায় বহু খবর ছাপা হয়েছে। দলটি তাকে একেবারে পরিত্যক্ত করে ফেলেও দেয়নি। ফেনীতে প্রবেশ করতে না পারলেও তিনি পালিয়ে ভারতে থাকেননি। জেলের বাইরে এখন তিনি নির্ঝঞ্ঝাট দিন যাপন করছেন। নিজেদের নেতাকর্মীদের প্রতি দলটির এমন নমনীয় আচরণ লক্ষণীয়।
এরপর ফেনী কেমন চলছে, এটা বাইরে থেকে বোঝা মুশকিল। ফুলগাজী উপজেলার চেয়ারম্যান একরামুল হকের নৃশংস হত্যার ঘটনার বেশ কিছু দিন পর ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ‘দি সেইম ওল্ড ফেনী’ শিরোনামে এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে যে পরিস্থিতি তুলে ধরেছে তাতে এটা বোঝা গিয়েছেÑ এই ছোট জেলাটি এখন নতুন সন্ত্রাসের যুগে প্রবেশ করেছে। ওই প্রতিবেদক লিখেছেন, ফেনীর মানুষ আবারো নব্বইয়ের দশকের অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনলেন। লালপুরে তিনটি গাড়ি থেকে র্যাব ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। এটি হিমশৈলীর সামান্য এক নমুনা; স্থানীয়রা জানান, নিজাম হাজারীর নির্দেশ ছাড়া কিছুই ঘটে না।’
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ডেইলি স্টার ফেনীতে একটি জরিপ চালায়। ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিক মিলে ৫০ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারা। জেলার পরিস্থিতি নিয়ে এদের কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। সবাই একবাক্যে বলেছেন, ২০১০ সালের পর ফেনীতে হাজারী যুগ ফিরে এসেছে। ৫ জানুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর এমপি এই জেলাকে ‘নিজের সম্পত্তি’ বানিয়ে নিয়েছেন। ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর রহমানকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদক বলেন, ‘নিজাম ফেনীতে সর্বেসর্বা; সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।’ আগের সাথে কোনো পার্থক্য আছে কি না? জবাবে তিনি বলেন- ‘জয়নালের সময় অন্তত কিছু ভিন্নমত গ্রহণযোগ্য হতো; বর্তমানে কারো সাহস এমন নেই যে নিজামকে চ্যালেঞ্জ করে।’ কেন এতটা ভয়- এই প্রশ্নের উত্তরে স্থানীয় এক সাংবাদিক প্রতিবেদককে জানান, ‘ আক্রান্ত হওয়ার সময় একরামুল হকের সাথীরা সশস্ত্র ছিল; কিন্তু তারা তাকে রক্ষা করতে পারেনি। এখন কিভাবে আশা করা যায় মানুষ নিজামের সমালোচনা করবে।’
স্টার প্রতিবেদক যখন জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফেনী সফর করছিলেন বিলবোর্ড, বৈদ্যুতিক খাম্বাসহ দৃশ্যমান এমন কম স্থাপনাই তিনি পেয়েছেন যেখানে নিজামের ছবি ও পোট্রেট সংবলিত ব্যানার-পোস্টার সাঁটানো ছিল না। পৌরসভার কর্মকর্তারা তার কাছে অভিযোগ করেন, সম্মেলনকে সামনে রেখে ছাত্রলীগ, বেশির ভাগ বিলবোর্ড দখল করে নিয়েছে। অনুমোদন নেয়ার কোনো প্রয়োজন তারা মনে করেনি।’ জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রত্যেকটি বিলবোর্ডে নিজাম হাজারিকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছেন। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে পুলিশ রেকর্ড থেকে জানানো হয় যে, বছরের প্রথম ছয় মসে জেলায় ১৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর বেশির ভাগই রাজনৈতিক। জয়নাল হাজারির সময় ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ১২০টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। তারা সবাই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতিক।
জেদ্দা আওয়ামী লীগের সভাপতি, ফেনী-৩-এর সংসদ সদস্য রহিমুল্লাহ সম্ভবত ফেনীর এমন একচেটিয়া আধিপত্যকে মেনে নিতে চান না। ক্ষমতাচর্চার একটা অংশ তিনি নিতে চেয়েও ছিটেকে পড়েছেন। তাকে দেখা গেল সবচেয়ে স্পষ্ট ভাষায় কিছু বলতে। তার মতে, টেন্ডারবাণিজ্য ও ছিনতাইয়ের কারণে ফেনীর মানুষ তটস্থ। সবজি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে জুয়েলারি- সবাইকে চাঁদা দিতে হয়। প্রতিদিন এক কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয় ফেনীতে।
ফেনী কতটা নিয়ন্ত্রিত, একেবারে স্পষ্ট হয়ে গেল এবার পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে। একই পত্রিকা সম্প্রতি রিপোর্ট করেছে, জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে থেকেও আবুল কায়েস রিপন নগরীর মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেননি। দলের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন, এমন সুযোগও রাখা হয়নি। নগরীর ১৮ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৬ জনই ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ নির্বাচিত হচ্ছেন। যে দু’জন ‘দুঃসাহস দেখিয়ে’ নমিনেশন পেপার সাবমিট করেছেন তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের ফেনীর ওপর দিয়ে পার্বত্য জেলা সফর। সেই সময় ফেনী আওয়ামী লীগ তোরণ নির্মাণের এক বিরল রেকর্ড স্থাপন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বরণ করতে ২৭ কিলোমিটার রাস্তায় ২৩৭টি তোরণ স্থাপন করেছেন তারা। প্রত্যেকটি তোরণের জন্য ব্যয় হয় প্রায় ৯ হাজার টাকা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা চলাচল করলেও ফেনী আওয়ামী লীগ সম্ভবত এর আগে কাউকে বরণ করতে এত বেশি তোরণ স্থাপন করেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত আগ্রহের সাথে ফেনী আওয়ামী লীগের এমন উষ্ণ অভিবাদন গ্রহণ করেছেন।
ডেইলি স্টার ফেনী দুই আসনের সংসদ সদস্যের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছে, নিজাম ছিলেন জয়নালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এর আগে তিনি চট্টগ্রামের বর্তমান মেয়র আজম নাসিরের ক্যাডার ছিলেন। ১৯৯১-৯২ সালে তিনি নাসিরের পক্ষে আগ্রাবাদ নিয়ন্ত্রণ করতেন। ১৯৯৭ সালের পর তিনি জয়নাল হাজারীর গ্রুপে যোগ দেন। একটি মামলায় তিনি পুরোপুরি সাজা না খেটে বেরিয়ে আসেন। আইন অনুযায়ী তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। এমন একটি মামলার বিচারে উচ্চ আদালতের বিচারকেরা বিব্রতবোধ করেছেন।
ফেনীর অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ে ডেইলি স্টার চলতি বছরে কয়েকটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদন স্থানীয় প্রতিনিধির বরাতে প্রকাশিত হয়েছে- এমন দেখা যায়নি। নিজস্ব প্রতিবেদক পার্থ প্রতিম আচার্য ও রাশেদুল হাসান দু’জনই ফেনী ঘুরে ঢাকা থেকে ওই সব প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। জয়নাল হাজারির যুগে ইউএনবির প্রতিবেদক টিপু সুলতানের দশা সবার মনে আছে। তাকে হাত-পা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। হাজারী বাহিনীর নিষ্ঠুর অত্যাচার টিপুর পেশাগত জীবনে নতুন সুযোগ তৈরি করে দেয়। তার ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছিল। তিনি ঢাকার সাংবাদিকতায় নিজেকে প্রথম সারিতে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। ডেইলি স্টার সম্ভবত এমন ঝুঁকি নিতে চায় না। স্বাভাবিকভাবেই, নিজেদের সাংবাদিকদের নিরাপদ রেখেই ফেনীর অপরাধের খবরাখবর দিতে চায়। এসব প্রতিবেদনে এই বিষয় স্পষ্ট যে, ফেনীতে জয়নাল যুগের অবসান হয়েছে। তবে রয়ে গেছে ‘হাজারী যুগ’।
নির্বাচন কমিশনের নারীবৈষম্য
চুড়ি, চকোলেট, পুতুল, ফ্রক, কাঁচি, ভ্যানিটি ব্যাগ, মৌমাছি, আঙ্গুর, গ্যাসের চুলা ও হারমোনিয়াম পৌরসভা নির্বাচনী প্রতীক। তবে পুরুষ নয়, সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য এসব প্রতীক বরাদ্দ করেছে নির্বাচন কমিশন। একটি পত্রিকাকে নারী কাউন্সিলরদের কেউ কেউ এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন নির্বাচনের প্রতীক দেখলে মনে হবে, নারীরা কেবল রান্নাঘরে কাজ করেন আর সন্তান লালন-পালন করেন। কেউ কেউ এসব প্রতীক পরিবর্তনের দাবিতে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এমন প্রতিবাদ যথাবিহিত। কিন্তু নির্বাচন যেখানে সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শুন্যের কোটায়। ফেনীর অবস্থা বিবেচনা করলে তো সেটা ভালোভাবে বোঝা যায়। প্রথমে তো সেটা একটা গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা হতে হবে। তারপরেই না লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে প্রতিবাদের প্রশ্ন আসে। তবে এটা ঠিক যে, এই নির্বাচন কমিশনের চেতনা শতভাগ পুরুষতান্ত্রিক।
jjshim146@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মির্জা ফখরুলের সদিচ্ছা
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যতবেশি বিভেদ থাকে ততবেশি সন্ত্রাসবাদের জন্য সুযোগ তৈরি হয়
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাইবেলের পরিবর্তে কুরআন ছুঁয়ে শপথ নেয়ায়...
ব্রুকলিন বরো হলে ৭ম মিউনিসিপাল ডিস্ট্রিক্টে তিনি এই শপথ নেন। এর ভিডিও কেউ একজন ফেসবুকে পোস্ট করে দেন। তার পর থেকেই তাকে সমালোচনা শুনতে হচ্ছে। সমালোচনকরা বলছেন, তিনি বাইবেলের পরিবতর্তে পবিত্র কুরআনে হাত রেখে শপথ নেয়ার মাধ্যমে সব মার্কিনির মুখে চপেটাঘাত করেছেন। একজন তো সামাজিক মিডিয়ায় লিখেই দিয়েছেন হোপ সি গেটস হিট বাই এ ট্রেন অর সামথিং। অর্থাৎ তাকে যেন ট্রেন বা অন্য কোন কিছু আঘাত করে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খুলনায় ৭৫ বছরের স্কুল: সেন্ট জোসেফস by কামাল আহমেদ
একাত্তরে দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের পর সদ্য স্বাধীন দেশটির প্রথম কয়েক বছরে শিক্ষাব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে কয়েক বছর সময় লেগেছিল। প্রথম বছর—১৯৭২ সালে হলো অটো পাস, অর্থাৎ পরীক্ষা না দিয়েই সেবার ছাত্রছাত্রীরা পরের ধাপে উঠতে পেরেছিল। ’৭৩-৭৪-এ নকলের ছড়াছড়ি। কিন্তু তারপরই হঠাৎ করে পাবলিক পরীক্ষা বা জাতীয় পরিসরে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলোতে কড়াকড়ি। ’৭৬-এ আমরা সেই কড়াকড়ির মধ্যে পড়ে যাই। কিন্তু পুরো শিক্ষা বোর্ডে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ ছাড়া আর হাতে গোনা যে কয়েকটি স্কুল লেখাপড়ার মানে উন্নতি ঘটাতে পেরেছিল, তার মধ্যে সেন্ট জোসেফস বা কথ্যভাষায় যোসেফ স্কুল বলা চলে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল। তখন আমাদের প্রধান শিক্ষক ছিলেন প্রয়াত অমিয় গ্যাব্রিয়েল মল্লিক। কিন্তু স্কুলে তাঁর আগের কয়েক বছরে মাঝেমধ্যেই পদচারণ ঘটত স্কুলের আরেক পৃষ্ঠপোষক ও সাবেক প্রধান শিক্ষক ফাদার এজি ব্রুনোর।
বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে আমাকে কম করে হলেও পাঁচবার স্কুল বদলাতে হয়েছে। এগুলোর মধ্যে তখনকার অজপাড়াগাঁয়ের স্কুলও ছিল। প্রায় তিন মাইল মেঠো পথ হেঁটে, কখনো ধানখেতের আইল ধরে স্কুলে যেতাম। তবে, অষ্টম শ্রেণি থেকে আমার জায়গা হয় জোসেফস স্কুলে। আমার স্কুলজীবনের শ্রেষ্ঠ স্মৃতিও ওই স্কুলকে ঘিরে। আমার ইংরেজির ভিত্তিটা ধরিয়ে দিয়েছেন আজহার স্যার, অঙ্ক ও পদার্থবিজ্ঞান নিত্যলাল গোলদার, বাংলা ব্যাকরণ হাবিব স্যার। কবিতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন হিমাংশু স্যার। স্কাউটিংয়ে অনুপ্রাণিত করেছিলেন মরহুম সাখাওয়াত স্যার। খুলনায় যতগুলো স্কুল আছে, তার মধ্যে আমাদের সময়ে একমাত্র বাস্কেটবল খেলার ব্যবস্থা ছিল আমাদের সেন্ট জোসেফসেই। তবে, আমার বন্ধুরা যারা ভালো খেলত, তাদের অনেককে দেখে আমার ঈর্ষাই হতো। কেননা, খেলাধুলাটা আমার ঠিক হয়ে ওঠেনি। সেসব বন্ধুর অনেকেই এখন প্রবাসে। সংস্কৃতিচর্চা কিংবা লেখালেখি যতটুকু করেছি বা করি, তার সবটার জন্যই আমি ঋণী আমার এই স্কুলের কাছে।
যশোর বোর্ডে সেবার প্রথম শ্রেণি পেল মাত্র পাঁচ শর কিছু বেশি। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে একটি স্কুলের পরীক্ষার্থীর ৯৫ শতাংশই পেল প্রথম শ্রেণি। সালটা ১৯৭৬। স্কুলটির বয়স তখন ৩৬ বছর। আজ তার ৭৫। খুলনার সেন্ট জোসেফস হাই স্কুলের অনেক অর্জনের মধ্যে ১৯৭৬ মাত্র একটি ইংল্যান্ডে দীর্ঘ দেড় যুগ জীবনযাপনের কারণে সেখানকার স্কুলগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের ওপর শিক্ষকদের একটা সর্বব্যাপী প্রভাব দেখা যায়। ভালোকে ভালো বলতে পারা, নৈতিকতার মূল্য বুঝতে শেখা, মানুষকে তার অর্থ-বিত্ত বা পেশার মানদণ্ডে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখা, এমনকি জীবজন্তুর প্রাণের মূল্য বুঝতে পারা—এসব কিছুর মৌলিক শিক্ষাটা ছাত্রছাত্রীরা সেখানে পরিবারের কাছ থেকে যতটা না পায়, তার চেয়ে অনেক গুণে বেশি পায় শিক্ষকদের কাছ থেকে। মা-বাবার পর সেখানকার বাচ্চারা যদি তৃতীয় কোনো ব্যক্তির ওপর আস্থা রাখতে পারে, সেই ব্যক্তিটি হন তার শিক্ষক। আমাদের সময়েও আমরা শিক্ষকদের ওপর অনেক আস্থাবান ছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের দেশে এখন শিক্ষকদের প্রতি ছাত্রদের এই আস্থায় অনেকটাই চিড় ধরেছে। তার কারণ হয়তো অনেক—কিছু আর্থসামাজিক বাস্তবতা আর কিছুটা রাজনৈতিক পরিবেশ। এখন আমাদের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে শিক্ষকদের সম্পর্কটা অনেকটা ভোক্তা ও বিক্রেতার সম্পর্ক—শিক্ষক নোট দেবেন, তা মুখস্থ করে পরীক্ষায় ভালো ফল পাওয়া যাবে। যত ভালো নোট, তা তত দামি। এর পাশাপাশি আছে শিক্ষক রাজনীতি বা রাজনীতিতে শিক্ষকদের সরাসরি জড়িত হওয়ার প্রভাব।
সৌভাগ্যক্রমে, আমাদের সময়ে এ দুটির কোনোটিই আমাদের নজরে পড়েনি। আমার পরের প্রজন্মের যারা সেন্ট জোসেফসে পড়াশোনা করেছে, তাদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের কোনো সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছিল বলে শুনিনি। তবে, যেহেতু কোনো স্কুলই সমাজবিচ্ছিন্ন নয়, সেহেতু এসব সংকীর্ণ দলাদলি ও রাজনীতির প্রভাব থেকে দীর্ঘ সময় মুক্ত থাকতে পারার চ্যালেঞ্জটা জোসেফস স্কুলের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমার বিশ্বাস, এত দিনের ঐতিহ্য নিশ্চয়ই কেউ হারাতে চাইবেন না এবং শতবর্ষপূর্তিতেও তা সগৌরবে সমুন্নত থাকবে।
আমার স্কুলের বার্ষিক প্রকাশনা ‘জ্যোতি’র গোড়ার দিকের একটি সংস্করণের কপি বছর কয়েক আগে ইন্টারনেটে আমার নজরে আসে। সেটি পড়ে চল্লিশের দশকের গোড়ায় খুলনার যে বিবরণ পাই, তার সঙ্গে আজকের খুলনার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ভৌগোলিক অনুষঙ্গগুলোর কিছু মিল হয়তো এখনো আছে, যেমন ভৈরব আর রূপসা নদী। কিন্তু জনপদ বদলে গেছে। গত সাড়ে সাত দশকে প্রতিষ্ঠা হয়েছে নানা ধরনের শিল্প এবং তার অনেকগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। সে সময়ে যোগাযোগের ঘনিষ্ঠতা ছিল কলকাতার সঙ্গে। আর এখন ঢাকা এবং তারপর যদি বিদেশের কোথাও ভাবি, সেটা হতে পারে নিউইয়র্ক অথবা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো শহর। আবার এদের অনেকেই জোসেফস স্কুলের ছাত্র। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা জোসেফিয়ানরা (প্রাক্তন ছাত্ররা যে নামে পরিচিত) নিজ নিজ পেশায় সমুজ্জ্বল। সেন্ট জোসেফসের প্লাটিনাম জয়ন্তীতে তাঁরা নিশ্চয়ই নিজেদের এই গৌরবের অংশীদার ভাবছেন।
সারা বিশ্বেই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের (অ্যালামনাস) নিয়ে অ্যালামনি সংগঠিত করে থাকে। সেটির কোনো সাংগঠনিক রূপ থাকুক আর না থাকুক। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ওই প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান অন্বেষণের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ। এ জন্য প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা দিতে উৎসাহিতও করা হয়। নতুন নতুন শিক্ষা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সেন্ট জোসেফসও তার অ্যালামনিদের নানা ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে শামিল করতে পারে। ৭৫ বছর পূর্ণ করা জোসেফস স্কুলের এখনো অনেক কাজ বাকি। তার জন্য তাই শুভকামনা।
কামাল আহমেদ: সাংবাদিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বঙ্গভবনে দাওয়াত দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করার কোনো প্রয়োজন ছিল কি?
এ বিষয়ে মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম নয়া দিগন্তকে জানান, আমি ২টা ৪০ মিনিটে বঙ্গভবনের উত্তর গেটে যাই। তখন একজন ক্যাপ্টেন আমাকে জানায়, স্যার আপনার প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করার কথা। আমি তাকে বললাম, না আমাকে উত্তর গেট থেকে ঢোকার জন্যই গাড়ির স্টিকার দেয়া হয়েছে। তখন ক্যাপ্টেন আমাকে বলল, হয়তো আমাদের ভুলের কারণে আপনাকে প্রধান গেটের পরিবর্তে উত্তর গেটের স্টিকার দেয়া হয়েছে। আপনি স্যার দয়া করে প্রধান গেটে যান।
আমি তখন প্রধান গেটে গেলে সেখানে দায়িত্বরত সার্জেন্ট আমাকে জানাল, সরি স্যার। আপনার বঙ্গভবনে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আপনাকে স্যার দয়া করে ফেরত যেতে হবে। আমার কাছে এসএসএফের একটি স্লিপ আছে। বঙ্গভবনে প্রবেশের বিষয়ে যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সেই তালিকায় আপনার নাম রয়েছে।
সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে আমাকে বঙ্গভবনে বছরে চারটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয়া হয়। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস এবং দুই ঈদের দিন। শারীরিক অসুস্থতা ছাড়া আমি কখনো কোনো অনুষ্ঠানে আজ পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকিনি। ৯৫ ভাগ দাওয়াত আমি কবুল করেছি। আর প্রতিবার আমাকে প্রধান গেট দিয়েই প্রবেশেরই স্টিকার দেয়া হয়। তবে এবার উত্তর গেটের স্টিকার দেয়া হয়েছে।
সৈয়দ ইব্রাহীম বলেন, আমার তিনটি প্রধান পরিচয় আছে। আমি একজন বীরপ্রতীক মুক্তিযোদ্ধা। আমি একজন সাবেক মেজর জেনারেল এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্মলগ্ন থেকে এর সাথে আমি যুক্ত ছিলাম। আমার আরেকটি পরিচয় হল আমি একটি রাজনৈতিক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান। আমাকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করতে না দিয়ে আমার কোন পরিচয় বা বৈশিষ্ট্যকে অপমান করা হল তার বিচারের ভার দেশবাসীর ওপর ছেড়ে দিলাম।
সৈয়দ ইব্রাহীম দুঃখের সাথে বলেন, কাউকে দাওয়াত দেয়া বা না দেয়ার পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে কর্তৃপক্ষের। আমাকে দাওয়াত না দিলে আমি কিছুই মনে করতাম না। আমি ধরে নিতাম হয়তো রাজনীতিবিদ সৈয়দ মুহম্মদ ইব্রাহীমের বিষয়ে এসএসএফের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে। কিন্তু দাওয়াত দেয়ার পর অপমান কেন?
সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম তার ফেসবুকে বঙ্গভবনের দাওয়াতপত্র, স্টিকারের ছবি দিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি এ ঘটনা বিষয়ে লিখেছেন, একজন মানুষের রাজনৈতিক পরিচয় একটি চলমান অথবা সাময়িক বিষয় হতে পারে। কিন্তু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে একজন মুক্তিযোদ্ধার অবদান অপরির্তনীয়, অনস্বীকার্য এবং অনাপসযোগ্য। ১৯৭১ সালের বীরেরা আজো বীরই। কেউ যদি তাকে বীর হিসেবে সম্মান জানাতে না পারে তাতে কোনো সমস্যা নেই। তার হয়তো কোনো সমস্যা থাকতে পারে। এটা মেনে নেয়া যায়। কিন্তু বিজয় দিবসে একজন বীরপ্রতীক মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করার কোনো প্রয়োজন ছিল কি?
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দাড়ি রাখার অনুমতি পেলেন মার্কিন সেনা
এক বিবৃতিতে তার আইনজীবী আমান্দিপ সিধু বলেন, দেয়ালের লেখাটা পরিষ্কার। ক্যাপ্টেন সিম্রাটপাল সিং-কে দেয়া সুবিধা স্থায়ী করা উচিত। এ সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তনের সময় এখনই। গত মাসে অবসরপ্রাপ্ত ২৭ জন মার্কিন জেনারেল দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টারের প্রতি এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। কার্টার বেশ কয়েকবার মার্কিন সমাজের সব দিক থেকে সেনাসদস্য নিয়োগের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। এ মাসে কমব্যাট ইউনিটে নারীদের যোগদানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন তিনি। তবে বৃটেন, কানাডা ও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের সেনাবাহিনীতে শিখ ধর্মাবলম্বীদের দাড়ি ও চুল রাখার অনুমতি দেয়া হয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বীকৃতির অপেক্ষায় হুমায়রা আমিন by মিজানুর রহমান খান
![]() |
| নুরুল আমিন খান |
এভাবেই একাত্তরের ২৩ এপ্রিলের বিভীষিকা স্মরণ করেন মিসেস হুমায়রা আমিন। তাঁর বাবা বিচারপতি আবদুস সোবহান চৌধুরী। বিচারপতি চৌধুরীর ধানমন্ডির ১৯ নম্বর রোডের ৮৪৯ নম্বর বাড়িতেই অবস্থান করছিল নুরুল আমিন খানের পরিবার। সে যাত্রায় মোহাম্মদপুরের ফিজিক্যাল কলেজের ড্রয়িং-ডাইনিং রুমে লাঞ্ছনা-গঞ্জনায় ১৫ দিন আটকে রেখে নুরুল আমিন খানকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আসতে দেওয়া হয়। হুমায়রা বাসায় ফিরে দেখেন তাঁর রেখে যাওয়া গয়না, টাকা, আসবাব এমনকি ঘরের ফ্যান পর্যন্ত লুট হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে তাঁদের নতুন গাড়িটিও। তাঁদের লাইসেন্স করা পিস্তল ও বন্দুক জব্দ করা হয়েছিল আগেই।
উল্লেখ্য, ওই তিন বোনসহ বাদবাকিদের আটকে রাখা হয়েছিল পরের ৪ মাস ১০ দিন।
অবশেষে সেই দিনটি এল, ২০ মে ১৯৭১। নুরুল আমিন খান সকাল আটটায় অফিসে গেলেন কিন্তু আর ফিরলেন না। পিস্তল ফেরত নেওয়ার কথা বলে তাঁকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল সেনানিবাসে। ২৩ মে তাঁকে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল। সেনানিবাসের একটি সেলের দেয়ালে তাঁর শেষ স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে আরও অনেক বিশিষ্ট নামের সঙ্গে তাঁর নামটিও উৎকীর্ণ ছিল। ওই সময়ে তিনি পূর্ব পাকিস্তান সরকারের কৃষি বিভাগে একজন উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নুরুল আমিন খান সিএসপি অফিসার ছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি বরিশালের ডিসি থাকাকালে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান শাসকগোষ্ঠীর কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। সামরিক শাসনে তাঁর সমর্থন নেই। এক পিকনিক পার্টিতে তাঁর মত প্রকাশ পেয়েছিল। বরিশালে অশ্বিনীকুমার হলের নাম পাল্টে আইয়ুবের নামে করার উদ্যোগকে তিনি সুনজরে দেখেননি। সত্তরের নির্বাচনের ঠিক আগে তাঁকে ঢাকায় বদলি করা হয়েছিল এই বিবেচনায় যে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে তিনি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতি আনুকূল্য দেখাতে পারেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি তাঁর পক্ষপাতও লুকোছাপা ছিল না। ভাষা আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করতে গিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। মুচলেকা দিয়ে মুক্তি প্রত্যাখ্যান করায় তাঁকে আরও কয়েক মাস কারাবাসে থাকতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে পাঠ শেষে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেছিলেন তিনি। ১৯৬১ সালে সিএসএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লাহোরে প্রশিক্ষণ শেষে সাতক্ষীরায় এসডিও নিযুক্ত হন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার শিকারপুর গ্রামে তার পৈতৃক নিবাস হলেও ১৯৩৫ সালে তিনি ভারতের আসামের তিনসুকিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর ছেলে সাহেজ আমিন খান আমাকে লিখেছেন, ‘আমি আমার শহীদ পিতার যথাযোগ্য সম্মান ও স্বীকৃতির অপেক্ষায় আছি।’ নুরুল আমিন খানের ভাই সাবেক রাষ্ট্রদূত সাইফুল আমিন খান ২৩ নভেম্বর লন্ডন থেকে আমাকে লিখেছেন, ‘আমরা জানি না, আমাদের ভাবি, নুরুল আমিন খানের বিধবা পত্নী আর কত দিন বেঁচে থাকবেন?’ ১৬ ডিসেম্বরের পরে এক বুক আশা নিয়ে সাইফুল আমিন খানরা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছুটে গিয়েছিলেন। হুমায়রা স্বাধীনতার পর অনেকগুলো বছর পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেছেন। তাঁর লেখার পৌনঃপুনিক চিঠির উত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল আবদুল হামিদ খান লিখেছিলেন, একাত্তরের অক্টোবরে আপনি যে আপনার স্বামীর খোঁজ জানতে চেয়েছিলেন, তাঁর বিষয়ে সেনা কর্তৃপক্ষের কিছু জানা নেই।
নুরুল আমিন খান তাঁর শিশুসন্তান ও পরিবারের আরও অনেক সদস্যকে ফেলে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যেতে পারেননি। কিন্তু স্ত্রীর ভাইয়ের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র শাস্তি পেয়েছিলেন তিনি। স্ত্রীর ভাই ছিলেন মেজর জেনারেল হারুন আহমদ। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সময় তিনি ক্যাপ্টেন ছিলেন।
শুধু বিয়ামের নিচতলায় তাঁর নামে একটি হল ও বুদ্ধিজীবী স্মারক ডাকটিকিটে নুরুল আমিন খানের স্মৃতি ধরে রাখা আছে। শহীদপত্নী হুমায়রা ও তাঁর ছেলেমেয়েরা একটি উপযুক্ত ‘স্বীকৃতি’ আশা করেন এবং সেটা তাঁদের প্রাপ্য। নুরুল আমিন খান জুনিয়র লিখেছেন, ‘স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি এখন ক্ষমতাসীন, এখন আমার মেয়ের প্রশ্ন আমাকে কেবলই ক্ষতবিক্ষত ও বিদ্রোহী করে তোলে।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিজে ডেকে হুমায়রাকে সমাজকল্যাণ দপ্তরের একটি প্রকল্পে চাকরি দেন। কিন্তু পরে সেখানে বেতন অনিয়মিত হয়ে পড়লে তিনি চাকরিটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। শুনেছি, ইস্কাটন ও মোহাম্মদপুরে অন্তত দুবার সরকারিভাবে তাঁর নামে বাড়ি বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু দুবারই তিনি উঠতে গিয়ে দেখেন সেখানে আগে থেকেই অন্য শহীদ পরিবার বসবাস করছে!
বুদ্ধিজীবী নুরুল আমিন খানের মতো চিরতরে হারিয়ে যাওয়া শহীদদের জন্য কি আমাদের আর কিছুই করণীয় নেই? পরিবারগুলো হয়তো আর অপেক্ষায় নেই। কিন্তু তাঁরা কে কীভাবে মারা গেছেন, তার একটা অনুসন্ধান চলমান রাখতে কি রাষ্ট্রের দায় নেই? আরও অনেক শহীদের মতো নুরুল আমিন খানকে ঠিক কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সরকারি নথি নেই। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের কোনো ভাষ্য নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ শুনেছেন যে তাঁকে নির্যাতন করে পরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। হুমায়রা বিউটি সিনেমা হলের মালিকের কাছে একটি বিবরণ শুনেছিলেন, সেটাই সত্য বলে মানছেন। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নেই।
ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষ হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর। ১ হাজার ৬০০ নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজতে আমেরিকার প্রশাসন আজও ফাইল ও খোঁজাখুঁজি চলমান রেখেছে। ১৯৬৮ সালের ২১ জানুয়ারি ভিয়েতনামে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল। নিখোঁজ হয়েছিলেন মার্কিন সার্জেন্ট বিল ডি হিল। তাঁর ভগ্ন দেহাবশেষ আমেরিকায় আনা হয়েছে। আজ ১৭ ডিসেম্বর টেক্সাসে তাঁকে সমাহিত করা হবে। একাত্তরের এমনতর শহীদরা সংখ্যায় কত? তাঁদের কি একটি তালিকা হতে পারে না। হুমায়রা স্বামীর জন্য আর অপেক্ষায় থাকেন না; স্বীকৃতির অপেক্ষায় আছেন।
সত্যিই কি তাঁর কোনো দিন অপেক্ষা শেষ হবে?
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমেরিকায় ভয়াবহ সাইবার সন্ত্রাসের ছক সিরীয় ইলেকট্রনিক আর্মির
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
December
(688)
-
▼
Dec 17
(25)
- একজন বীরপ্রতীকের উপহার by ডক্টর তুহিন মালিক
- বৃটেনের সেক্স ক্যাপিটাল নটিংহ্যাম
- ‘ইসলামের সমালোচনা অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা হুমকি হতে...
- ইসলামিক সামরিক জোট নিয়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার ব...
- ওয়াজ-নসিহতও নজরদারিতে! by মাসুদ মজুমদার
- স্ত্রী হারিয়ে পরের জন্য সেবা ‘ক্যানসার দাদু’র
- বিজয় দিবস নিয়ে বিজেপির স্ট্যাটাসে তীব্র প্রতিক্রিয়া
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন by এমাজউদ্দ...
- ফেনী: আধিপত্যের নতুন যুগ by জসিম উদ্দিন
- নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন
- নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন
- মির্জা ফখরুলের সদিচ্ছা
- যতবেশি বিভেদ থাকে ততবেশি সন্ত্রাসবাদের জন্য সুযোগ ...
- বাইবেলের পরিবর্তে কুরআন ছুঁয়ে শপথ নেয়ায়...
- খুলনায় ৭৫ বছরের স্কুল: সেন্ট জোসেফস by কামাল আহমেদ
- বঙ্গভবনে দাওয়াত দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করার কোন...
- দাড়ি রাখার অনুমতি পেলেন মার্কিন সেনা
- স্বীকৃতির অপেক্ষায় হুমায়রা আমিন by মিজানুর রহমান...
- আমেরিকায় ভয়াবহ সাইবার সন্ত্রাসের ছক সিরীয় ইলেকট্রন...
- সর্বত্র রাজস্ববান্ধব সংস্কৃতি চেয়ে এনবিআর চেয়ারম্য...
- ফেরার আশায় বুক বেঁধে আছে বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্...
- পাকিস্তানি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লায় এখন ভারত!
- সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্...
- গরু-মোষ গোশত ব্যবসায়ীরা বিজেপিকে দিয়েছে ২.৫ কোটি!
- দেশে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে : জিএম কাদের
-
▼
Dec 17
(25)
-
▼
December
(688)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...











