Wednesday, March 30, 2011

সংসদীয় তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হচ্ছেন রতন টাটা ও অনিল আম্বানি

ভারতের দুই বিশিষ্ট শিল্পপতি রতন টাটা ও অনিল আম্বানি টেলিকম দুর্নীতি তদন্তে গঠিত সংসদীয় কমিটির মুখোমুখি হচ্ছেন। গতকাল সোমবার পৃথক দুটি বিবৃতিতে উভয় শিল্পপতির প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ খবর জানানো হয়েছে বলে ভারতের দ্য ইকনোমিক টাইমস এর খবরে বলা হয়েছে।
লোকসভার সদস্যেদের সমন্বয়ে গঠিত পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটি (পিএসি) ওই আলোচিত মোবাইল লাইসেন্স দুর্নীতির তদন্ত করছে। এক সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে, দুর্নীতির ফলে সরকার তিন হাজার ৯০০ কোটি ডলার রাজস্ব হারিয়েছে।
সংসদীয় কমিটি আগামী ৪ ও ৫ এপ্রিল রতন টাটা ও অনিল আম্বানিকে ওই দুর্নীতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
ভারতে দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল লাইসেন্স প্রদান-সংক্রান্ত দুর্নীতির সঙ্গে দেশটির অনেক বড় টেলিকম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
টাটা টেলি সার্ভিসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত কমিটিকে সহায়তা করবে। আগামী ৪ এপ্রিল রতন টাটা তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এদিকে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানিকে গত মাসে তদন্ত কমিটি জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি আবারও কমিটির সমানে হাজির হবেন বলে তাঁর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আজ জয়াবর্ধনের দিন?

৭ ইনিংসে ২১ রান, গড় ৩! দুঃস্বপ্ন বললেও কম বলা হয়। প্রথম বিশ্বকাপটা (২০০৩) মাহেলা জয়াবর্ধনের জন্য ছিল এমনই। তাঁর মানের একজন ব্যাটসম্যান কীভাবে টানা এত ম্যাচ বাজে খেলতে পারেন, তা নিয়ে তখন অনেক আলোচনা-গবেষণাও হয়েছিল। সেই দুঃস্বপ্ন অনেকটাই ভুলিয়ে দিলেন গত বিশ্বকাপে। স্বপ্নের মতো হয়নি অবশ্য, তবে ১১ ম্যাচে ৬০.৮৮ গড়ে ৫৪৮ রান, বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক, দারুণ কিছু তো বটেই। আর এবার?
১০০, ২, ২৩, ৯, ৬৬—৪০ গড়ে ২০০ রান। দুই ম্যাচে সফল, তিন ম্যাচে ব্যর্থ। জয়াবর্ধনের তৃতীয় বিশ্বকাপকে বলা যায় প্রথম দুই বিশ্বকাপের একটা মিশ্রণ। ভালো-খারাপের মাঝামাঝি। তবে আজ যখন মাঠে নামবেন, নিশ্চয়ই ভালো করার একটা বাড়তি তাগিদ থাকবে তাঁর। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, নিজেতে অনুপ্রাণিত করার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। কিন্তু বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড...জয়াবর্ধনের নিশ্চয়ই মনে পড়বে ৪ বছর আগে স্যাবাইনা পার্কের সেই দিনটির কথা, যেদিন তাঁর ব্যাটে খুন হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের ফাইনাল-স্বপ্ন!
২০০৭ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে জ্যামাইকায় মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। জয়াবর্ধনে যখন ব্যাটিংয়ে নামলেন, লড়াই চলছিল সমানে সমান। শ্রীলঙ্কার রান ১৩.১ ওভারে ২ উইকেটে ৬৭। শুরুতে জয়াবর্ধনেকে দেখে মোটেও বোঝার উপায় ছিল না ‘খুন’ করার ইচ্ছা নিয়ে নেমেছেন। এক দিকে উপুল থারাঙ্গা মারছেন, আরেক দিকে তিনি উইকেট আঁকড়ে আছেন। দলীয় ১১১ রানের মাথায় যখন দারুণ খেলতে থাকা থারাঙ্গা আউট (৭৪ বলে ৭৩), ম্যাচ খানিকটা হেলে পড়ল কিউইদের দিকে। জয়াবর্ধনের ব্যাটে তখনো তাড়া নেই। একপর্যায়ে ৪৭ বলে ১৭ রান, চার নেই একটিও!
৩০ ওভারের পর হঠাৎ যেন বুঝতে পারলেন সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে, ৪৮তম বল পেলেন প্রথম চার। স্ট্রোকের ফোয়ারা ছুটতে থাকল। ৭৬ বলে ফিফটি, পরের ফিফটি মাত্র ২৮ বলে। শেষ পর্যন্ত ১০৯ বলে অপরাজিত ১১৫, ১০ চার, ৩ ছয়। শেষ ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কার ১০২ রানের ৬৯-ই জয়াবর্ধনের ব্যাট থেকে। প্রথম ইনিংস শেষেই মোটামুটি ম্যাচ শেষ। ২৮৯ রান এই যুগে মোটেও ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়। কিন্তু ভাস-মালিঙ্গা-ফার্নান্ডো-মুরালিসমৃদ্ধ বোলিং আক্রমণের সামনে কিউই ব্যাটিং লাইনআপের জন্য ওই স্কোর একটু বেশি-ই ছিল, যেটা প্রমাণিতও হয়েছে পরে।
এবার শুরু করেছিলেন কানাডার বিপক্ষে ৮০ বলে সেঞ্চুরি করে। পরের ম্যাচে শোয়েব আখতারের দুর্দান্ত এক ইনকাটারে বোল্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে থিতু হওয়ার পর আচমকা রানআউট, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নেমেছিলেন একেবারে শেষ দিকে। মুম্বাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আবার রানে ফিরলেন, কোয়ার্টার ফাইনালে ব্যাটিংয়ে নামার দরকারই হয়নি।
জয়াবর্ধনের মিশ্র টুর্নামেন্টের প্রসঙ্গ উঠলেই কুমার সাঙ্গাকারা হাসেন, পাত্তাই দিতে চান না। তাঁর কাছে এই টুর্নামেন্টে জয়াবর্ধনেও খেলছেন ‘গ্রেট’ ব্যাটসম্যানের মতো। লঙ্কান অধিনায়ক আশা করছেন, আজই সংশয়বাদীদের জবাব দিয়ে দেবেন জয়াবর্ধনে, ‘ও হলো বড় ম্যাচের খেলোয়াড়, আমাদের দলের সেরা ব্যাটসম্যান। অরবিন্দ ডি সিলভার পরেই জয়াবর্ধনে, এই দুজন শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের সেরা দুই ব্যাটসম্যান। মাহেলা কখনোই চ্যালেঞ্জ নিতে পিছপা হয় না, ও জানে কোন মুহূর্তে জ্বলে উঠতে হয়।’
প্রায় এক যুগ ধরে জাতীয় দলে সতীর্থ, ব্যক্তিগত জীবনেও দুজন খুব কাছের বন্ধু। জয়াবর্ধনেকে সাঙ্গাকারার চেয়ে ভালো আর কে চেনেন? তিনি যখন বলেছেন, চার বছর আগের স্যাবাইনা পার্কই আজ না ফিরে আসে প্রেমাদাসায়!

তিন ব্যাংক সাত মাসে এক টাকাও কৃষিঋণ দেয়নি

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) তিনটি ব্যাংক এক টাকাও কৃষিঋণ বিতরণ করেনি। আর নয়টি ব্যাংক এ সময়কালে খুব সামান্য কৃষিঋণ বিতরণ করেছে।
এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গতকাল সোমবার ব্যাংকগুলোকে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণে উৎসাহিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মুরশিদ কুলি খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
সূত্র জানায়, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলোন, ইস্টার্ন ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে কোনো কৃষিঋণ দেয়নি।
অথচ এই ব্যাংকগুলোর এ বছর কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে ২৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা, ৩০ কোটি টাকা ও ১০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে নয়টি ব্যাংক এই সময়ে সামান্য কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে দি সিটি ব্যাংকের ঋণ বিতরণের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যাংকটি সাত মাসে মাত্র এক কোটি দুই লাখ টাকা বিতরণ করে। পূবালী ব্যাংক বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ২২৭ কোটি টাকার বিপরীতে বিতরণ করেছে মাত্র আট কোটি ৭২ লাখ টাকা।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর ট্রাস্ট ব্যাংক ১৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সাত মাসে আট কোটি ৬৬ লাখ টাকা; মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার বিপরীতে ১৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা; মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৪৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ছয় কোটি চার লাখ টাকা; শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৬৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ছয় কোটি ৮৬ লাখ টাকা; সাউথইস্ট ব্যাংক ৪০ কোটি টাকা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চার কোটি দুই লাখ টাকা; বেসিক ব্যাংক ৬৩ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৪ কোটি আট লাখ টাকা এবং বিদেশি উরি ব্যাংকের এক কোটি টাকা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সাত মাসে ব্যাংকটি ২৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।
চলতি অর্থবছরে দেশের ব্যাংকগুলোর কৃষি খাতে মোট ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২ হাজার ৬১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এই ১২ ব্যাংক বাদে বাকি ব্যাংকগুলোতে কৃষিঋণ বিতরণের হার অত্যন্ত সাফল্যজনক। জানা গেছে, অর্থবছরের আট মাসে এখাতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিতরণ করা ঋণের হার ৬৩ শতাংশের বেশি।
কৃষি ও পল্লি এলাকায় ঋণ বিতরণে সব ব্যাংকের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সম্পৃক্ততা নেই। যে কারণে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারের ভিত্তিতে এই ঋণ বিতরণের সুযোগ তৈরি করা হয়। কিন্তু সাত মাসে ঋণ বিতরণে উল্লিখিত ব্যাংকগুলোর অনগ্রসরতায় বাংলাদেশ ব্যাংক অসন্তুষ্ট। এ ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পর্যালোচনায় দুই মাস অন্তর বৈঠকও করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতেও তেমন অগ্রগতি হয়নি এই ১২ ব্যাংকের।
সূত্র জানায়, গতকালের বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে বাকি সময়ে সাফল্যজনক পর্যায়ে ঋণ বিতরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, অগ্রাধিকার ও উৎপাদন খাত হিসেবে এখাতে ঋণ বিতরণ করতে হবে সব ব্যাংককে।
বৈঠকে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সুধীর চন্দ্র দাস, কৃষিঋণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এস এম মনিরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আগামী বাজেট হতে পারে এক লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা

আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে এক লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আয়তন হবে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। আর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৮ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে ধার্য করা হবে।
গত রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সম্পদ কমিটি ও রাজস্ব সমন্বয় কাউন্সিলের আলাদা বৈঠকে প্রাথমিকভাবে বাজেটের এসব দিক ঠিক করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এতে সভাপতিত্ব করেন।
সূত্র জানায়, উভয় বৈঠকেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি খাতে ব্যয়, ভর্তুকি বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি, বাড়তি আয়ের সংস্থান প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার চলতি বছরের মূল বাজেটে ২০ শতাংশেরও বেশি হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকে বলা হয়েছে, খাদ্যপণ্য, কৃষিপণ্য ও সারে আগামী দিনেও ভর্তুকি দেবে সরকার। এতে বিপুল পরিমাণ বাড়তি অঙ্ক গুণতে হবে।
এই ব্যয় মেটাতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রাও সমানতালে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজস্ব আহরণের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা।
চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটের আকার এক লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এডিপির আকার ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সংশোধিত হয়ে এডিপির আকার অবশ্য ৩৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
প্রতিবছরের রেওয়াজ অনুযায়ী, আগামী জুনে অর্থমন্ত্রী দেশের ৪০তম এ বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন। আরেক হিসেবে এটিকে ৪১তম বাজেটও বলা যায়। কারণ, দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ৩০ জুন একসঙ্গে ১৯৭১-৭২ এবং ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট দিয়েছিলেন।
বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেই বিবেচনায় আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সহনশীল পর্যায়ে আসবে না বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির প্রাথমিক প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৬ থেকে ৮ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী মূল্যস্ফীতির বার্ষিক হার সাড়ে ৬ শতাংশ হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু অর্থবছরের সাত মাসের মাথায় এসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
অব্যাহত মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনোভাবেই অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতির হার এই সীমার মধ্যে থাকবে না।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, অর্থসচিব মোহাম্মদ তারেক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আবার চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী, সরকার মোট ঘাটতি প্রাক্কলন করেছে ৩৪ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকার ২৩ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। অভ্যন্তরীণ উৎসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১৫ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। আর ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে আট হাজার কোটি টাকা।
২০০৯-১০ অর্থবছরে সামগ্রিকভাবে ঘাটতি অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১৮ হাজার ৯৯ কোটি টাকা, যা ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের ২ দশমিক ৬২ শতাংশ।

প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর কমানোর সুপারিশ

করপোরেট ট্যাক্স বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আয়কর কমানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। তাঁরা শেয়ারবাজারের মুনাফার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক মূলধনী কর হার কমানোর প্রস্তাব করেছেন।
গতকাল সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত চলমান প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিমা খাতের নেতারা এসব দাবি জানান। এতে এনবিআর চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন।
সমিতির নির্বাহী কমিটির সদস্য পি কে রায় বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর করপোরেট ট্যাক্স হিসেবে সাড়ে ৪২ শতাংশ কর আরোপ রয়েছে। বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে যৌক্তিক হারে কমিয়ে তা সাড়ে ৩৭ শতাংশ করা উচিত। জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে তা ১৫ শতাংশ করা উচিত। এ ছাড়া শেয়ারবাজারের আয় থেকে মূলধনী করও কমানো উচিত।’ কোম্পানির ক্ষেত্রে তা ১০ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ এবং পরিচালকদের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে তিন শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেন তিনি।
আলোচনা সভায় ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাস দেব প্রসাদ, বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গতকালের অপর প্রাক-বাজেট আলোচনায় হালকা প্রকৌশল শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা ‘বেস মেটাল’-এর ওপর শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। বর্তমানে এই শিল্পের কাঁচামালের ওপর সাত থেকে ১২ শতাংশ হারে আমদানি-শুল্ক আরোপ আছে।
আলোচনা সভায় ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, ফার্নিচার মালিক সমিতির সভাপতি আখতারুজ্জামান, হস্তশিল্প উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি গোলাম আহসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দেশের অভ্যন্তরে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার উৎপাদন পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি প্রদান এবং এলপি গ্যাস সিলিন্ডার আমদানি-পর্যায়ে সর্বোচ্চ শুল্ক নির্ধারণেরও সুপারিশ করা হয়।
হস্তশিল্প খাতকে আগামী পাঁচ বছর ৩০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করেছেন হস্তশিল্প উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি গোলাম আহসান। তিনি দেশীয় তৈরি পোশাক (বুটিক শপ) বিক্রির ওপর দেড় শতাংশ মূসক আরোপের প্রস্তাব করেন তিনি।

দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক কমেছে

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুটা ভালো হলেও শেষটা ভালো হয়নি। দিনের লেনদেন শেষে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণ সূচকের পতন হয়েছে। তবে লেনদেন গতকালের চেয়ে বেড়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, চাঙাভাবের মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে আজ লেনদেন শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১৩৭ পয়েন্টের মতো বেড়ে যায়। এর পর থেকে সূচক ধীরে ধীরে নিম্নগামী হতে থাকে। দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২১.৮৫ পয়েন্ট কমে ৬২২১.৬৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৬০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৭৫টির, কমেছে ১৫৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের দাম। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৯৪৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা গতকালের চেয়ে ১৫৭ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো গোল্ডেন সন, বেক্সিমকো, আরএন স্পিনিং, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, তিতাস গ্যাস, পদ্মা অয়েল, বেক্সটেক্স, ম্যাকসন স্পিনিং, কনফিডেন্স সিমেন্ট ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া বিডি অটোকারস, তাল্লু স্পিনিং, রেকিট বেনকিজার, অ্যাপেক্স ফুডস, জুট স্পিনার্স, উসমানিয়া গ্লাস, মিথুন নিটিং, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও বঙ্গজ দাম বৃদ্ধির শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া মেঘনা পেট্রোলিয়াম, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইমাম বাটন, কন্টিনেন্টাল ইনস্যুরেন্স, ওশান কন্টেইনার, ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্স, ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স, অগ্নি সিস্টেম ও ফু-ওয়াং সিরামিকস দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০-এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৮৬.৬৮ পয়েন্ট কমে ১৭৪৫০.৪৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ৭৫টির, কমেছে ১২৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইতে আজ মোট ৯৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা গতকালের চেয়ে নয় কোটি টাকা বেশি।

গাছের পুষ্টি জোগাচ্ছে স্যামন মাছ!

গাছের পুষ্টি জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্যামন মাছ। এমন দাবি কানাডার একদল গবেষকের। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রকাশিত নিবন্ধে তাঁরা এ তথ্য পাওয়ার কথা দাবি করেন।
গবেষকদের ভাষ্য, কানাডায় অবস্থিত বৃষ্টিবহুল ক্রান্তীয় অঞ্চলের বনভূমি (রেইন ফরেস্ট) গ্রেট বিয়ারের একটি বিশাল এলাকার উর্বরতা রক্ষায় ভূমিকা রাখছে শিকারি প্রাণীর হামলায় মারা পড়া এসব স্যামন। কানাডার সাইমন ফ্রেসার বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপক এই গবেষণা চালান।
গবেষকেরা বলেন, কানাডার উপকূলীয় ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ওই বিশাল বনভূমির মধ্য দিয়ে ছোটবড় বেশ কিছু নদী বয়ে গেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে এসব নদীর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
গবেষক জন রেনল্ডস বলেন, ডিম ছাড়ার সময় হলে সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে স্যামন এসব নদীতে আসে। নদীর অগভীর স্বচ্ছ জলে সাঁতার কেটে যাওয়ার সময় আশপাশের জঙ্গল থেকে আসা নেকড়ে ও ভালুকের শিকারে পরিণত হয় অনেক মাছ। আরও কিছু বন্যপ্রাণী এসব মাছ শিকার করে। খাওয়া শেষে প্রাণীগুলো স্যামনের যেসব উচ্ছিষ্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে, তা মাটিতে মিশে নাইট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এতে মাটির উর্বরতা বাড়ে। আরও বেশি পুষ্টি পায় ওই মাটিতে জন্মানো গাছগুলো।
রেনল্ডস বলেন, তাঁরা ওই এলাকার প্রায় ৫০টি নদীর গতিধারা ও সেখানকার জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁরা দেখেন, নদীগুলোর তীর ঘেঁষে যে গাছপালা রয়েছে, তা অন্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি সতেজ।

‘বাংলাদেশ ফান্ড’ অনুমোদনের জন্য এসইসিতে জমা

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে একটি ওপেন অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ড অনুমোদনের জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) পাঠানো হয়েছে। ফান্ডটির মূল উদ্যোক্তা রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি)। আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফায়েকুজ্জামান আজ মঙ্গলবার এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারের সঙ্গে দেখা করে তাঁর কাছে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেন।
ফায়েকুজ্জামান জানান, এই ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা এবং এক হাজার ইউনিটে একটি মার্কেট লট হবে। তিনি জানান, এরই মধ্যে ফান্ডটির উদ্যোক্তা অংশের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত হয়েছে। মূল উদ্যোক্তা হিসেবে আইসিবি ফান্ডের ১০ শতাংশ অর্থাত্ ৫০০ কোটি টাকা দেবে। সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে সোনালী ব্যাংক ২০০ কোটি, জনতা ব্যাংক ২০০ কোটি, রূপালী ব্যাংক ১০০ কোটি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) ১০০ কোটি, সাধারণ বীমা করপোরেশন ১০০ কোটি টাকা দেবে। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংক ও জীবন বীমা করপোরেশন মিলে বাকি ৩০০ কোটি টাকা দেবে বলে মৌখিকভাবে জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে এসইসির অনুমোদন পাওয়ার পর ফান্ডটিতে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি উদ্যোক্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে এসইসির সদস্য মো. ইয়াসিন আলী সাংবাদিকদের বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফান্ডটির অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রয়োজনে জরুরি বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো একটি যৌথ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়। কয়েক দফা আলোচনার পর ৬ মার্চ ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। এই ফান্ডের ৫০ শতাংশ মুদ্রাবাজারে এবং বাকি ৫০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে। তবে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। এ ছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তহবিলের আকার বাড়ানো হবে বলেও বিধান রাখা হয়েছে।

জাপানে আবারও ভূমিকম্প

জাপানের উত্তরাঞ্চলে গতকাল সোমবার আবারও তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির পুরো উত্তরাঞ্চল কেঁপে ওঠে। ভূকম্পনের তীব্রতা ছিল ৬ দশমিক ৫। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ভূকম্পনের পরপরই কর্তৃপক্ষ সুনামি-সতর্কতা জারি করে। পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে জানায়, ভূমিকম্পের কারণে মিয়াগি এলাকায় ৫০ সেন্টিমিটার ঢেউয়ের সুনামির আশঙ্কা করা হয়েছিল। এ এলাকা ভূমিকম্প ও সুনামিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জাপানে ভূমিকম্পে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ২৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে। গতকাল ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার বেলা তিনটা পর্যন্ত ১০ হাজার ৯০১ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনো ১৭ হাজার ৬৪৯ জন নিখোঁজ রয়েছে। আহতের সংখ্যা দুই হাজার ৭৭৬ জন।
১১ মার্চের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত জাপানের ফুকুশিমা পরমাণু প্রকল্পের ৫ ও ৬ নম্বর চুল্লি থেকে ৩০ মিটার দূরের পানিতে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে এক হাজার ১৫০ গুণ তেজস্ক্রিয় আয়োডিনের অস্তিত্ব চিহ্নিত করা হয়েছে। পরমাণু নিরাপত্তা সংস্থা গতকাল এ কথা জানায়।এ ছাড়া ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর চুল্লির ভেতরের পানিতে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় এক কোটি গুণ বেড়েছে। গত রোববার ওই চুল্লিতে কর্মরত সব কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই কেন্দ্রের পাশের সাগরের পানিতেও অস্বাভাবিক মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক ইয়োকিয়া আমানো সতর্ক করে দিয়েছেন, জাপানের পারমাণবিক সংকট আরও কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাস প্রলম্বিত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘সব দিকে বিবেচনায় এটি একটি মারাত্মক দুর্ঘটনা এবং শিগগির এর সুরাহা হচ্ছে না।’

ভারত-পাকিস্তান সচিব পর্যায়ের বৈঠক শুরু

নয়াদিল্লিতে গতকাল সোমবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ বৈঠক আজ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা। বৈঠকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রসচিব চৌধুরী কামার জামান ও ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাই সন্ত্রাস দমন, মুম্বাই হামলা ও মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে প্রায়নয় মাস সচিব পর্যায়ে বৈঠক বন্ধ থাকার পর আনুষ্ঠানিক শান্তি-প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ আলোচনা শুরু হলো।

মিসরে সেপ্টেম্বরে নির্বাচন, মোবারক গৃহবন্দী

মিসরে আগামী সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতাসীন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ পরিষদ (সুপ্রিম কাউন্সিল) গতকাল সোমবার এ কথা ঘোষণা করে। প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পতনের পর এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মিসরবাসীর গণতান্ত্রিক যাত্রা।
এদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোবারক ও তাঁর পরিবার নিজ দেশেই গৃহবন্দী রয়েছে। ওয়েবসাইটে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিল এ কথা জানিয়েছে।
কাউন্সিলের সদস্য মামদু শাহিন গতকাল কায়রোয় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান,সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের আগে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হবে বলেও তিনি জানান। ১৯৮১ সাল থেকে মিসরে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে।
তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে গত ১১ ফেব্রুয়ারি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ পরিষদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন দেশটির ৩১ বছরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক।
কাউন্সিল জানায়, মোবারক ও তাঁর পরিবার নিজ দেশেই গৃহবন্দী রয়েছে। তাঁর সৌদি আরব পালিয়ে যাওয়ার খবরটি ভিত্তিহীন। অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক সরকার ফেসবুকে এক বিবৃতিতে জানায়, মোবারককে মিসরেই সপরিবারে গৃহবন্দী রাখা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডের হার হ্রাস পেয়েছে: অ্যামনেস্টি

বিশ্বে অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ও কার্যকরের হার হ্রাস পেয়েছে। গত রোববার মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালে বিশ্বের ২৩টি দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০০৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৯টি। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার সংখ্যা ২০০৯ সালের তুলনায় গত বছর অনেক হ্রাস পেয়েছে। ২০০৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭১৪। আর গত বছর ছিল ৫২৭।
তবে এ পরিসংখ্যানে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ধারণা করা হয়, চীনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার হার বিশ্বের সব কটি দেশের সমষ্টিগত হারের চেয়েও বেশি।
গত বছর বিশ্বের ১৩৯তম দেশ হিসেবে মধ্য আফ্রিকার দেশ গ্যাবন মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করে।
২০১০ সালে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যেসব উপায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সেগুলো হলো শিরশ্ছেদ, ফাঁসি, বিদ্যুতায়ন, প্রাণঘাতী ইনজেকশন এবং গুলি করে হত্যা। তবে গত বছর কোনো দেশে পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। পাকিস্তান, ইরান ও নাইজেরিয়ায় পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দেওয়া হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব সলিল শেঠি জানান, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ডের প্রবণতা হ্রাস পেলেও এখনো কিছু দেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধান অব্যাহত রয়েছে।

ধনী দেশগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে

বিশ্বের ধনী দেশগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা গত বছর হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে আফ্রিকা কিংবা এশিয়া থেকে যাওয়া মানুষের প্রবাহ এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউএনএইচসিআরের নতুন তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তিন লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ জন প্রার্থী আশ্রয়ের জন্য ৪৪টি শিল্পোন্নত দেশে আবেদন করেছে। এ সংখ্যাটা ২০০৮ কিংবা ২০০৯ সালের তুলনায় পাঁচ শতাংশ কম। আর এক দশক আগের তুলনায় সংখ্যাটা ৪০ শতাংশেরও বেশি কম। গত দশকে এ সংখ্যাটা চতুর্থ সর্বনিম্ন।
ইউএন হাইকমিশনার ফর রিফুজিস অ্যান্টোনিও কিউটারেস বলেন, আশ্রয় চাওয়ার বৈশ্বিক গতি পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে মুষ্টিমেয় কয়েকটি শিল্পোন্নত দেশে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ‘আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ কারণ কিংবা গমনেচ্ছু দেশের কঠোর নিয়মকানুনের জন্য এটা হচ্ছে কি না তা আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে।’
ইউএনএইচসিআর জানায়, ইউরোপের ভূ-মধ্যসাগরের উপকূলবর্তী আলবেনিয়া, সাইপ্রাস, গ্রিস, ইতালি, মাল্টা, পর্তুগাল, স্পেন ও তুরস্কে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থী কমে যাওয়ার তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। তবে জার্মানি, সুইডেন, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।

গাদ্দাফি সরকারে ভাঙন ধরেছে

জাপানের উত্তরাঞ্চলে গতকাল সোমবার আবারও তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির পুরো উত্তরাঞ্চল কেঁপে ওঠে। ভূকম্পনের তীব্রতা ছিল ৬ দশমিক ৫। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ভূকম্পনের পরপরই কর্তৃপক্ষ সুনামি-সতর্কতা জারি করে। পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
শীর্ষস্থানীয় এই দুই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তাঁদের মনে হচ্ছে ত্রিপোলিতে জোট বাহিনীর হামলা, বিদ্রোহীদের তুমুল প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত চাপে পড়ে গাদ্দাফি প্রশাসনে চিড় ধরেছে।
এনবিসি টেলিভিশনের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে হিলারি বলেন, ‘তাঁকে (গাদ্দাফিকে) ছেড়ে তাঁর নিজের লোকজন চলে যাচ্ছে বলে অজস্র তথ্য আমাদের হাতে আসছে। আমরাও তাঁদের (গাদ্দাফি অনুগতদের) বলতে চাই, আপনারা কি শেষ পর্যন্ত সমাজচ্যুত হতে চান? আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেই কি আপনারা আপনাদের শেষ পরিণতি দেখতে চান? আমরা মনে করি সে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার এবং পরিবর্তনের পক্ষে আসার এখনো সময় আছে।’
অন্যদিকে সিবিএস টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফ্রি দ্য নেশন অনুষ্ঠানে রবার্ট গেটস বলেন, ‘গাদ্দাফি হয়তো দেখতে পাচ্ছেন তাঁর অনুগত বাহিনীর অনেকেই এ সিদ্ধান্তে এসেছেন যে যুদ্ধে জেতার কোনো পথই তাঁদের সামনে খোলা নেই। তাঁর ঘরে ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। যেকোনো সংখ্যক লোকজন ইতিমধেই তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়ে থাকতে পারে।’
এদিকে লিবিয়া সরকার বলেছে, ঈমান আল ওবায়দি নামের যে নারী গত রোববার সেনাবাহিনীর দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তাঁকে সরকারি হেফাজত থেকে গতকাল সোমবার পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ওই নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক শীর্ষ কর্মকর্তার ছেলেসহ মোট চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মুসা ইব্রাহিম নামের ওই মুখপাত্র বলেন, ঈমান আল ওবায়দি নিজেকে যেভাবে সম্ভ্রান্ত ও সচ্চরিত্রা হিসেবে উপস্থাপন করে অভিযোগ জানিয়েছেন ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সে রকম কেউ নন।
মুসা ইব্রাহিমের দাবি, ওই নারী একজন পতিতা। গণধর্ষণের অভিযোগ তোলার পর তাঁকে মেডিকেল পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি তা করাতে অস্বীকার করেন।

যুক্তরাজ্যে বিক্ষোভে সহিংস ঘটনায় ট্রেড ইউনিয়নের নিন্দা

যুক্তরাজ্যে সরকারি ব্যয় হ্রাস পরিকল্পনার প্রতিবাদে গত রোববার অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের নিন্দা জাানিয়েছে ওই বিক্ষোভের আয়োজক সংস্থা ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (টিইউসি)।
গত রোববার ভোরে সংঘটিত ওই সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে ৮৪ জন আহত হয়। আটক করা হয় প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে। বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। শুধু লন্ডনেই আড়াই লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। ইরাক যুদ্ধের পর এটিকেই যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও এইচএসবিসি ব্যাংকের শাখা কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ ছাড়া এললয়েডস টিএসবি ও ম্যাকডোনাল্ডসের মতো বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানেও হামলার ঘটনা ঘটে।
ওই বিক্ষোভে বেশ কিছু সংগঠনসহ প্রায় ৬০ লাখ শ্রমিক অংশ নেয়। ফলে ওই কর্মসূচিকে আয়োজক সংস্থা টিইউসির সফলতা হিসেবে মনে করা হলেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় সংস্থাটির নেতারা হতাশ হয়েছেন।
টিইউসির প্রধান ব্রেন্দান বারবার জানান, সহিংসতার ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত। তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের মধ্যে স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তি যাঁরা সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আমরা অবশ্যই তাঁদের নিন্দা জানাই। তাঁদের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই আমরা সমর্থন করি না।’
বাজেট ঘাটতি কমাতে কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার বছরে ৬২০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায় সরকারি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এর প্রতিবাদে গত শনিবার স্বাস্থ্যকর্মী, অগ্নিনির্বাপণকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে।

২০১৪ সাল পর্যন্ত রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র রপ্তানি করবে রাশিয়া

রাশিয়া প্রতিবছর গড়ে এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করে ২০১৪ সাল নাগাদ তার রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র রপ্তানির ধারা অব্যাহত রাখবে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে হালকা ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। তাদের এসব সরঞ্জাম রপ্তানির প্রধান বাজার হচ্ছে ভারত। গতকাল সোমবার বিশ্ববিখ্যাত সামরিক ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক থিংকট্যাংক কাস্ট এ কথা জানিয়েছে।
কাস্ট বলেছে, সাম্প্রতিককালে চীনের সামরিক শক্তির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে তৎপর হয়েছে। এ ছাড়া আফ্রিকায় সম্প্রতি আঞ্চলিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ায় ওই এলাকার দেশগুলো নিজ নিজ শক্তি বৃদ্ধির জন্য অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করছে। এশিয়া ও আফ্রিকার এসব দেশ অস্ত্র কিনতে রাশিয়ার দ্বারস্থ হচ্ছে। কাস্ট বলেছে, বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে রাশিয়া গত বছর সাড়ে চার হাজার কোটি মার্কিন ডলারের অস্ত্র সরবরাহের ফরমায়েশ পেয়েছে। এ বছর দেড় হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে কয়েকটি চুক্তিতে সই করেছে। কাস্ট বলেছে, এখন পর্যন্ত রাশিয়ার হাতে যতগুলো ফরমায়েশ রয়েছে তা দিয়েই আগামী চার বছর বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানির ধারা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী সরকারি সংস্থা রোসোবোরোনেক্সপোর্ট গত বছর ৮৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করেছে। প্রায় ২০টি স্বায়ত্তশাসিত রুশ অস্ত্র কোম্পানির অস্ত্র তাদের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাশিয়া থেকে প্রতিবছর যত অস্ত্র রপ্তানি হয় সাধারণত তার ৮০ শতাংশই রোসোবোরোনেক্সপোর্টের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়ে থাকে।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরই চীন প্রতিরক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে। চীনের আর্থিক ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাত্রা দেখে প্রতিবেশী দেশ ভারত সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে ভারত তার সামরিক ব্যয় ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে। এর ফলে ভারতকে এ খাতে অতিরিক্ত তিন হাজার ৬০০ কোটি ডলার খরচ করতে হবে। অস্ত্র আমদানিতে এর বেশির ভাগ অর্থ ব্যয় হবে।
রাশিয়া ভারতের কাছে ১৬০ কোটি ডলারের চুক্তির আওতায় গত বছর ১০টি সু-৩০এমকেআই জঙ্গি বিমান এবং ১২৪ কোটি ডলারের আরেকটি চুক্তির আওতায় ২০টি টি-৯০ ট্যাংক সরবরাহ করেছে।
কাস্ট বলেছে, গত বছর ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার একটি চুক্তি হয়েছে যার আওতায় আগামী ১০ বছরে মস্কো নয়াদিল্লির কাছে আড়াই শ থেকে তিন শ সুপারসনিক জঙ্গি বিমান সরবরাহ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে উগান্ডা, উত্তর এবং দক্ষিণ সুদান রাশিয়ার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমদানি করে। এ ছাড়া ইসরায়েলের বাধা সত্ত্বেও রাশিয়া সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিছু দেশে অস্ত্র সরবরাহ করেছে।
চীন দীর্ঘদিন থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র আমদানি করে এলেও বর্তমানে তাতে ভাটা পড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়া থেকে চীন ইতিপূর্বে যেসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম আমদানি করেছে, সেই প্রযুক্তি নকল করে এখন তারা নিজেরাই ওই সব সরঞ্জাম তৈরি করছে।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতি আজ থেকে

বিশ্বকাপ এখনো শেষ না হলেও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শেষ। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর ১০ দিন ছুটি কাটিয়ে আজ আবার মাঠে ফিরছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। তবে খেলায় নয়, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ শুরু হবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতি।
আগামী ৯, ১১ ও ১৩ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। তিনটি ম্যাচই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, শেষ ম্যাচটি দিবারাত্রির। সিরিজ শুরুর আগে ৭ এপ্রিল ফতুল্লায় একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ৩ এপ্রিল। সিরিজের জন্য এর মধ্যেই ঘোষণা হয়েছে ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ দল।

‘সমস্যা রেহমান মালিক, পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা নয়’

সম্ভবত এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ‘হাই ভোল্টেজ’ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৩০ মার্চ মোহালিতে। উপমহাদেশে দীর্ঘদিন পর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। সেটাও আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। টিকিট, নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সম্পর্কসহ উপমহাদেশের বিশাল ভূখণ্ডের এ দুই দেশের সবকিছুই এখন আবর্তিত হচ্ছে এই ম্যাচকে ঘিরে। আর গতকাল এ উত্তাপ-উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক। ক্রিকেটাররা কোনোভাবেই যেন এই ম্যাচটা পাতানোর চেষ্টা না করে, সে সম্পর্কে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। তবে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইমরান খান এ ধরনের মন্তব্যের কোনো যৌক্তিক জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না। বরং আচমকা এ ধরনের একটা মন্তব্য অনেক বিতর্কের সৃষ্টি করবে বলেই মত দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘সমস্যাটা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের না, সমস্যাটা রেহমান মালিকেরই।’
গত বছর ইংল্যান্ড সফরে সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিই হয়তো পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য করার প্রধান কারণ। তবে দীর্ঘদিন পাকিস্তানি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে ইমরান খান বলেছেন, ‘আমি ক্রিকেটারদের ওপর না, বরং রেহমান মালিকের ওপরই নজর রাখতে চাই। আমি এটা খুবই গুরুত্ব দিয়েই বলছি। আমার চিন্তা তাকে নিয়েই। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নিয়ে না।’ রেহমান মালিক ইংরেজিও ঠিকমতো বলতে পারেন না বলে ঠাট্টাও করেছেন ইমরান খান। এবং সেই ভুলভাল ইংরেজি অনেকের কাছে অনেক রকম অর্থ তৈরি করবে বলেও কিছুটা চিন্তিত পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী এ অধিনায়ক। তিনি বলেছেন, ‘আমি মন্ত্রী মহোদয়কে বেশ ভালো মতোই চিনি। তাঁর ইংরেজির ওপরে ভালো দখলও নেই। কাজেই সে হয়তো একরকম বলতে চেয়েছে, কিন্তু সেটার অর্থ দাঁড়াবে ভিন্ন রকম। ক্রিকেটারদের এখন এ ধরনের মন্তব্য নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছু নেই। আর আমার মনেও হয় না, তারা এটা নিয়ে খুব বেশি ভাবছে।’

ওয়ানডেকেও বিদায় বললেন টেইট

টেস্ট এবং প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বছর দুই আগে। এবার অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে না নিতেই শন টেইট দিয়ে দিলেন ওয়ানডে থেকে তাঁর বিদারে ঘোষণা। জাতীয় দল এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রেডব্যাকস—কারও হয়েই আর একদিনের ম্যাচ খেলবেন না এই পেসার। তবে টি-টোয়েন্টি চালিয়ে যাবেন। ‘অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রেডব্যাকস—আমি আর কারও পক্ষেই ওয়ানডে খেলব না। আমার বিশ্বাস, এই সিদ্ধান্ত আমাকে অনেক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিবে, যাতে আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত হয়’—বলেছেন টেইট।

মুরালিধরনকে নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিশ্বকাপটা শেষ পর্যন্ত কার ঘরে যাবে, সেটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র তিনটা ম্যাচ। তবে আজ নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার প্রথম সেমিফাইনালের পর একটা ব্যাপার নিশ্চিত হয়ে যাবে। যদি শ্রীলঙ্কা জিতে যায়, তাহলে আরও একবার উপমহাদেশে আয়োজিত বিশ্বকাপটা থেকে যাবে এ উপমহাদেশেই। আর দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে নিশ্চিতভাবেই এগিয়ে রাখা যায় শ্রীলঙ্কাকে। কোয়ার্টার ফাইনালে দিলশান-থারাঙ্গা যেভাবে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছেন, তাতে এ ভাবনাটাই পাকাপোক্ত হয়েছে ক্রিকেটানুরাগীদের মনে। তবে একটা বিষয় কিছুটা চিন্তায় ফেলে দিয়েছে লঙ্কান শিবিরকে। বোলিং আক্রমণের প্রধান ভরসা মুত্তিয়া মুরালিধরন আজ মাঠে নামতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বেশ কয়েক দিন ধরেই হাঁটুর ইনজুরিতে ভুগছেন শ্রীলঙ্কার এই স্পিন কিংবদন্তি। চোট সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে মাঠে নেমেছেন। কিন্তু আজ মূল একাদশে তিনি থাকবেন কি না, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানাননি শ্রীলঙ্কান নির্বাচকেরা। মুরালি পুরোপুরি সুস্থ থাকলে ফাইনালের কথা মাথায় রেখে তাঁকে না খেলানোর কথা চিন্তা করা হবে না বলে জানিয়েছেন লঙ্কান অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা। তবে মুরালিকে ছাড়াও শ্রীলঙ্কা স্পিন আক্রমণটা বেশ ভালো মতোই সাজাতে পারবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
কলম্বোর পুরোনো পিচে আজ হয়তো তিনজন স্পিনার নিয়েই মাঠে নামতে দেখা যাবে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটাতে ফাস্ট বোলার নুয়ান কুলাসেকারার পারফরমেন্সের কথা মাথায় রেখে এ০ রণকৌশল হয়তো পরিবর্তনও করতে পারে লঙ্কানরা। অধিনায়ক সাঙ্গাকারা বলেছেন, ‘তিনজন স্পিনার নিয়েই মাঠে নামব কি না, সেটা নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। কুলাসেকারা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খুব ভালো বোলিং করেছিল। কাজেই তারও আজ খেলার সম্ভাবনা আছে। তবে এই পিচটা অনেক পুরোনো হওয়ায় এখানে হয়তো পেসারদের চেয়ে স্পিনাররাই অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারবে।’

মোহালিতে বিশ্বকাপের ‘ফাইনাল’

শেষ হয়ে গেল কোয়ার্টার ফাইনাল। আমরা এখন বিশ্বকাপের শেষ সপ্তাহে পা রাখলাম। মানুষ ফের কোয়ার্টার ফাইনালের কোনো ম্যাচ দেখতে চাইলে সেটি অবশ্যই হবে অস্ট্রেলিয়া-ভারত ম্যাচ। ভারতের পক্ষে গেছে যে ম্যাচ।
আমাদের সামনে এখন বড় দুটি ম্যাচ। ঘরের মাঠে আজ শ্রীলঙ্কা লড়বে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। দারুণ ম্যাচই হবে এটি। এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কাই হট ফেবারিট।কাল মোহালিতে ভারত ও পাকিস্তানের কোটি কোটি জনতার জন্য বিশ্বকাপের ‘ফাইনাল’ই হতে যাচ্ছে। শুধু প্রতিযোগিতার (সেমিফাইনাল) ধরন বলেই নয়, ইতিহাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটও বলছে এটিই ফাইনাল। বিশ্বকাপ এবং টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এর চেয়ে বড় লড়াই আর হতে পারে না।দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীই মাঠে খেলা দেখবেন। তবে আমার দৃষ্টি থাকবে মাঠে কী ঘটে তার ওপর। জমজমাট পরিবেশ ও দর্শকদের বিবেচনায় এটি মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। স্বপ্নের লড়াই। ম্যাচটির উত্তাপ এরই মধ্যে ছড়িয়েও পড়েছে।ভারত-পাকিস্তানের ওপর মনোযোগ থাকায় শ্রীলঙ্কা কিংবা নিউজিল্যান্ড অনেকটা নীরবেই মুম্বাইয়ে যাবে। যে-ই যাক না কেন, পরের দিনই পাকিস্তান-ভারত দ্বৈরথ বলে খুব কম মানুষের নজরই থাকবে এটিতে। মোহালির বিদ্যুতায়িত পরিবেশের তুলনায় শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচটি হবে যেন শান্ত কোনো উদ্যানে।যা-ই হোক, একদিনের ক্রিকেটে প্রাপ্য অনেক শিক্ষা নিয়েই ইংল্যান্ড দেশে ফিরেছে। টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হলেও ওয়ানডেতে তাদের ঘাটতি আছে। এই ফরম্যাটে এখনো তারা প্রভাব বিস্তারকারী দল হয়ে উঠতে পারেনি। দলে পরিবর্তন খুব বেশি না হওয়াতেই এমনটি হচ্ছে। আমি মনে করি, তাদের সময় এসেছে ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন প্রজন্মকে সুযোগ দেওয়ার। আমার বিশ্বাস, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার নিজ দায়িত্বে এই পারফরম্যান্স থেকে একটা শিক্ষা নেবে। এবং ইতিবাচক দিকগুলো গ্রহণ করে আগামী ১২ মাস এর ওপর কাজ করবে। ২০১৫ বিশ্বকাপের জন্য দল গঠন নিয়ে তাকে এখনই ভাবতে হবে।ইংল্যান্ডের এই মুহূর্তে কোনো ব্যস্ততা নেই। এরপর তাদের প্রথম ওয়ানডে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, যারা পরবর্তী বিশ্ব চ্যাম্পিয়নও হতে পারে। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ভালো দল। কিন্তু শুধু ঘরের মাঠে নয়, ওয়ানডেতে দেশের বাইরেও ভালো করতে হবে।শ্রীলঙ্কার ওপেনার দিলশান ও থারাঙ্গা ভালো করছে। তারা খুবই ভালো ক্রিকেটার। ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্য পুরোপুরি মানানসই। তারা জানে এই ফরম্যাটের দাবিটা কী। ইংল্যান্ডের সাদামাটা বোলিংয়ের জবাব দিয়েছে দুর্দান্ত। শ্রীলঙ্কার প্রথম সারির চারজন ব্যাটসম্যান অনেকটা ভারতের মতোই ভয়ানক। ভারতের প্রথম পাঁচজনের পারফরম্যান্স তো চমৎকার।ব্যাটিং শক্তিমত্তার ওপর সবাই মনোযোগ দিলেও আমি এখনো বিশ্বাস করি, সেরা বোলিং লাইনআপ যাদের, তারাই বিশ্বকাপ জিতবে। আপনাকে সব সময় একটা ভারসাম্যপূর্ণ দল খেলাতে হবে। ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ভুলটা ছিল একজন স্পিনার কম খেলিয়ে পেস-নির্ভর বোলিং আক্রমণ সাজানোয়। ইংল্যান্ডের আক্রমণে বৈচিত্র্য ছিল না। প্রত্যাশা অনুযায়ীই স্ট্রাউসদের আক্রমণ ছিল।পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণ সব সময়ই রহস্যময়। ভারতের চেয়ে শ্রীলঙ্কার বোলিং অনেক শক্তিশালী। ভারত সম্ভবত তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং দিয়ে উতরাতে চাইবে। কিন্তু আমি সত্যিই জানি না, মোহালিতে কী ঘটতে যাচ্ছে। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতারই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

শুদ্ধ জাতীয় সংগীত নিয়ে কর্মশালা by গাজীউল হক

আজকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভুলভাবে, ভুল উচ্চারণে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। এ নিয়ে সব মহলেই হতাশার কথা শোনা যায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কুমিল্লায় আয়োজন করা হয় এক কর্মশালার। কুমিল্লার সামাজিক সংগঠন অধিকার ফাউন্ডেশন ওই কর্মশালার আয়োজন করে। শুদ্ধ জাতীয় সংগীত পরিবেশন শিরোনামের কর্মশালাটি ২৪ মার্চ কুমিল্লা টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত ওই কর্মশালায় কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা অংশ নেন। তাঁরা প্রত্যেকেই মহিলা শিক্ষক। বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর আগে অ্যাসেম্বলিতে তাঁদের নেতৃত্বেই শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। শিক্ষার্থীরা ও শিক্ষকেরা যেন শুদ্ধ জাতীয় সংগীত পরিবেশন করতে পারেন, সে জন্যই ওই কর্মশালা—জানালেন আয়োজকেরা।
কর্মশালার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অধিকার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলী আকবর মাসুম জানান, মার্চ মাস স্বাধীনতার মাস। এ মাসকে কেন্দ্র করে তথা স্বাধীনতার ৪০ বছর উপলক্ষে ওই কর্মশালা করা হয়। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেছে নেওয়া হয়। শিক্ষাজীবনের প্রথম ধাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানেই শিক্ষার্থীদের অ, আ, ক, খ-সহ বর্ণমালা শেখানো হয়। জাতীয় সংগীতও প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের রপ্ত করতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা এ সম্পর্কে অজ্ঞ। তাঁদের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত নিয়ে ধারণাও স্পষ্ট নয়। আর যাঁরা শেখাচ্ছেন, তাঁদেরও রয়েছে কিছু দুর্বলতা। আর যাঁরা পারেন, তাঁদের ওই পারাটাকে আরও বিকশিত করার জন্য ওই কর্মশালার আয়োজন। দিনব্যাপী ওই কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন কুমিল্লার সংগীতাঙ্গনের প্রিয় মুখ অমল কুমার সিনহা, অভিজিৎ সিনহা মিঠু ও শিপ্রা সরকার। তাঁরা একে একে সব ভুল ধরিয়ে দেন। বাতলে দেন লাল-সবুজের পতাকার প্রিয় সংগীতের ভাবার্থ। সুর, তাল ও লয় নিয়ে কথা বলেন।
সকাল নয়টায় ওই কর্মশালা শুরু হয়। এতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা একে একে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। পরিবেশনের পর প্রত্যেক শিক্ষকের ভুলত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। এরপর জাতীয় সংগীতের শুদ্ধ উচ্চারণ, জাতীয় পতাকার তথ্য পরিচিতি সম্পর্কে শিক্ষকদের ধারণা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কথা বলেন সাপ্তাহিক অভিবাদন পত্রিকার সম্পাদক আবুল হাসানাত বাবুল। তিনি শিক্ষাঙ্গনে সঠিক মাপের পতাকা টানানো, শুদ্ধ জাতীয় সংগীত চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পতাকা ও সংগীতে তারুণ্যের উদ্দীপনা এবং চিরায়ত বাংলার রূপ রয়েছে। আমরা যেন কখনো একে অবমাননা না করি।’
কর্মশালায় গুলবাগিচা, বিষ্ণুপুর, মনোহরপুর, লতিফা নিরোদা সুন্দরী, গোবিন্দপুর, আড়াইওড়া, আড়াইওড়া পূর্ব, শাসনগাছা, চাঁদপুর, সৈয়দপুর, কমলাপুর, কালীরবাজার, ধনুয়াইশ, হাতীগাড়া, কৃষ্ণনগর, হারুন, রেয়াজউদ্দিন, কাঁটাবিল, বজ্রপুর, রত্নাবতী, উত্তর রসুলপুর, কোটেশ্বর, মুন্সীবাজার, চাঁদপুর, বালুতুপা, ঝাঁকুনিপাড়া, রঘুপুর, অরণ্যপুর ও কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষক অংশ নেন।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া কালীরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্নিগ্ধা রানী রায় বলেন, ‘কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞান আমাদের প্রতিদিনকার কাজে লাগবে। এ ধরনের কর্মশালা একেবারেই ব্যতিক্রম। আমাদের মধ্যে যেসব ত্রুটি ছিল, তা কর্মশালার মাধ্যমে মুছে গেছে।’
বজ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফেরদৌসী আক্তার ও মনোহরপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেবেকা পারভীন বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কর্মশালায় প্রথম এসেছি। এখন শিক্ষার্থীদের আরও ভালো করে জাতীয় সংগীত শেখানো যাবে।’
বিকেলে কর্মশালার সমাপনী পর্ব। এ পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রউফ। তিনি একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি)। কুমিল্লা অজিত গুহ কলেজের দীর্ঘদিনের অধ্যক্ষ ছিলেন। ছিলেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি, কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বললেন, ‘জাতীয় সংগীত নিয়ে এমন আয়োজন বিরল ঘটনা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে আমরা জাতীয় সংগীত শুনে বিস্মিত হই। হতবাক হই। তখন দুঃখ পাই, এ জন্যই কি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি? আশা করি, আমাদের সম্মানিত শিক্ষকেরা কোমলমতি শিশুদের শুদ্ধ জাতীয় সংগীত শেখাবেন। তবেই আমাদের স্বপ্ন সার্থক হবে।’
পরে কর্মশালার সনদ বিতরণ করা হয়। কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষকেরা দলীয়ভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। সবশেষে একটি অঙ্গীকার হয়। ওই অঙ্গীকার পতাকার মান রাখার। ওই অঙ্গীকার একসঙ্গে শব্দ করে জাতীয় সংগীত গাওয়ার। এরপর বেলা পড়ে যায়। যেতে যেতে সবার কণ্ঠে আবারও বেজে ওঠে, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি...’।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে তৃণমূল পর্যায় ইউনিয়ন পরিষদ। বছর তিনেক ধরে আটকে ছিল এর নির্বাচন। স্থানীয় পর্যায়ের এই ভোট উৎসবের সূচনা হচ্ছে আজ। দেশের ১২টি উপকূলীয় জেলার ৫৬৮টি ইউনিয়ন পরিষদে আজ প্রথম দফায় ভোট গ্রহণ শুরু হচ্ছে; শেষ হবে আগামী ৩ এপ্রিল। বিলম্বে হলেও এই নির্বাচন আমাদের আশাবাদী করে তুলছে। কারণ এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ পাবে তাদের পছন্দের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
স্থানীয় পর্যায়ের এই নির্বাচন সফল করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভোটারদের ভয়ভীতিহীন পরিবেশে ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক পরিচয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলেও রাজনীতি এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতি। স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনীতির সম্পর্ক অনেক সময় ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে। আশার কথা যে নির্বাচন কমিশন বিষয়টির দিকে নজর রাখছে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ও হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বদলি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ‘কিছু এলাকার পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। আশা করছি পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’ তিনি আশ্বস্ত করে বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা হলে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমরা মনে করি, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো নির্বাচনী এলাকায় অনিয়ম বা সহিংসতা হলে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়া হবে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। আশা করব, নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা সরকারের দায়িত্ব। স্থানীয় প্রশাসন যেন কোনো চাপের মুখে না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারের। আর রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হবে নিজ নিজ দলের স্থানীয় নেতাদের যথাযথ নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে কাজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
আমরা আশা করব, আজ থেকে প্রথম পর্যায়ের যে নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে, তা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এর ধারাবাহিকতায় পুরো ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনই স্থানীয় পর্যায়ের একটি ভোট উৎসবে পরিণত হবে এবং ইউনিয়ন পরিষদের নতুন নির্বাচিত সদস্যরা স্থানীয় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে এগিয়ে আসবেন।

প্রিয় পাঠক, একটু হাসুন by আনিসুল হক



একজন অন্ধ বালক। নিউইয়র্কের একটা রাস্তার ধারে একটা সুন্দর ভবনের বাইরের সিঁড়িতে রোদের মধ্যে বসে আছে। তার হাতে তার হ্যাটটা উল্টো করে ধরা। তার আরেক হাতে একটা শক্ত কাগজের টুকরায় লেখা, ‘আমি অন্ধ, আমাকে সাহায্য করুন, প্লিজ।’ তার টুপিতে অল্প কয়টা পয়সা পড়েছে। লোকজন আসছে, যাচ্ছে। বেশির ভাগই তাকে সাহায্য না করেই পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। একজন লোক কিন্তু ছেলেটার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি পকেট থেকে খুচরা পয়সা বের করে ছেলেটার টুপিতে রাখলেন। দেখলেন, ছেলেটা খুব কম পয়সাই এ পর্যন্ত অর্জন করতে পেরেছে। তিনি ছেলেটার হাতের কার্ডটার দিকে তাকালেন। দেখলেন লেখা, ‘আমি অন্ধ, আমাকে সাহায্য করুন, প্লিজ।’ তিনি তখন ওই কাগজটা ছেলেটার হাত থেকে নিলেন। কাগজের উল্টো পিঠে তিনি নতুন দুটো বাক্য লিখলেন। তারপর ছেলেটার হাতে সেই কাগজটা ধরিয়ে দিয়ে তিনি চলে গেলেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলেটা লক্ষ করল, এরপর দ্রুত তার টুপিতে টাকা-পয়সা পড়ছে। খুব শিগগির ছেলেটার টুপি ভরে গেল। বিকেলবেলা। অন্ধ ছেলেটা টের পেল, সেই লোকটার পায়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, যে কিনা তার সাইনবোর্ডটার কথা বদলে দিয়েছিল। সেই ভদ্রলোকও তার ওই কীর্তির ফলটা কী দাঁড়াল, তা দেখতে এসেছেন। এসে দেখলেন, হ্যাঁ, তার নতুন বাণীতে কাজ হয়েছে। ছেলেটার টুপি টাকায় গেছে ভরে। অন্ধ ছেলেটা বলল, ‘আপনি কি সেই ভদ্রলোক, যিনি আমার হাতের কার্ডের লেখা বদলে দিয়েছিলেন?’
‘হ্যাঁ। আমি সেই লোক।’
‘আচ্ছা, আপনি কী করলেন যে আমার টুপি ভরে উঠল?’
‘আমি কিছুই করিনি। শুধু সত্যটা প্রকাশ করেছি।’
‘মানে কী?’
‘মানে কিছুই না। তোমার কার্ডে যা লেখা ছিল, সেটাই আমি একটু অন্যভাবে প্রকাশ করেছিলাম। আমি লিখেছিলাম, ‘আজকের দিনটা খুব সুন্দর। কিন্তু আমি তা দেখতে পাচ্ছি না।’
‘তাতেই এত পয়সা এল?’ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলেটা বিস্মিত!
‘হ্যাঁ। তোমার কথাটা ছিল, তুমি অন্ধ। আমিও তা-ই লিখেছি। কিন্তু অন্য রকম করে। আমি লিখেছি যে আজকের দিনটা সুন্দর, কিন্তু তুমি তা দেখতে পাচ্ছ না। এতে নতুন কী যুক্ত হলো? এক. আমরা ব্যাপারটা শুরু করলাম ইতিবাচকভাবে। আজকের দিনটা সুন্দর, এই সুন্দর কথাটা অন্যের সঙ্গে শেয়ার করছি, যাঁরা জানছেন, তাঁদেরও মন ভালো হয়ে যাচ্ছে। তারপরের কথাটা তোমারই কথা যে তুমি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তুমি এটা দেখতে পাচ্ছ না। তাতে যাঁরা এটা পড়ছেন, তাঁরা বুঝতে পারলেন, তাঁরা কত সৌভাগ্যবান। আমাদের প্রত্যেকেরই নিশ্চয়ই এক শ কারণ আছে মন ভার করে থাকার। কিন্তু ভেবে দেখো, এক হাজারটা কারণ আমাদের প্রত্যেকের আছে, মনটা ভালো রাখার। আমরা প্রত্যেকেই কত সৌভাগ্যবান। শোনো, অতীতের দিকে তাকাবে, কোনো দুঃখবোধ ছাড়াই। বর্তমানকে গ্রহণ করবে সাহসিকতার সঙ্গে। ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে।’
ইন্টারনেটের এই গল্পটার শেষে বলা হচ্ছে, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য হলো, কাউকে হাসতে দেখা। তার চেয়েও ভালো লাগবে, যদি আমি জানতে পারি, আমার কারণেই একজনের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।
আসলেই তো, অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে পারার চেয়ে সুখকর কাজ আর কী আছে! আমাদের চারপাশের বাস্তবতাকে আমরা নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে পারি, আবার ইতিবাচক দৃষ্টিতেও দেখতে পারি। ইতিবাচকভাবে দেখাই ভালো।
তবে, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ও রাজনীতিতে যা ঘটছে, তার মধ্যে থেকে ইতিবাচক উপাদান বের করে মুখটাকে হাসি হাসি করে রাখা সত্যি কঠিন। জাতীয় সংসদে মাননীয় সংসদ সদস্যরা যে ভাষায় পরস্পরকে আক্রমণ করছেন, তা নিয়ে স্বয়ং স্পিকার চিন্তিত। সংসদের বাইরেও পরস্পরবিরোধী নেতারা যে ভাষায় পরস্পরকে আক্রমণ করে চলেছেন, তাতে নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।
‘অতিরিক্ত কথা এবং কাজ বিপদ ডাকিয়া আনে’—রংপুর জিলা স্কুলে আজহার স্যার কোনো ছাত্রকে দুষ্টুমি বা বকাবাজি করতে দেখলে দুই হাত দিয়ে একই সঙ্গে তার দুই গালে দুটো চড় বসিয়ে দিয়ে এই উপদেশ দান করতেন। তাঁর এই উপদেশ ভোলা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। আজহার স্যার বলতেন, নীরবতা হীরণ্ময়। আমাদের মুখ একটা, কান দুটো, আমাদের কথা বলা উচিত কম, শোনা উচিত বেশি বেশি। অন্যকে ছোট করে নিজেকে বড় করা যায় না। অন্যকে বড় করতে পারলে, বড়কে সম্মান করতে পারলে, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মানশীল হতে পারলে নিজেরই সম্মান বাড়ে। কাকের কর্কশ স্বর বিষ লাগে কানে, কোকিল অখিল প্রিয় সুমধুর গানে।
বলছিলাম, মানুষের মুখে হাসি ফোটানো হলো মহত্তম কর্ম। আমার উচিত এখন একটা কৌতুক বলে আপনার মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করা। চড় নিয়েই বলি। দুজন লোক রাস্তা খুঁড়ছে আর তাদের সর্দার গাছের নিচে বসে আছে। একজন পথিক শ্রমিক দুজনকে বলল, ‘তোমরা কষ্ট করে কাজ করছ, আর ও গাছের নিচে আরাম করছে, কারণ কী।’
একজন শ্রমিক বলল, ‘জানি না। আচ্ছা, সরদারকে জিজ্ঞেস করে আসি।’ সে সরদারের কাছে গিয়ে বলল, ‘সরদার, আমরা কাজ করছি আর আপনি বসে আছেন। কারণ কী।’ সরদার বলল, ‘কারণ বুদ্ধি। আমার বুদ্ধি আছে, তোমাদের নাই।’
‘কী রকম?’
‘আচ্ছা, আমি এই গাছে হাত রাখছি। তুমি গায়ের জোরে আমার হাতে চড় মারো।’ শ্রমিকটি চড় মারার আগেই সরদার হাত সরিয়ে নিল। ব্যথাক্লিষ্ট শ্রমিক ফিরে গিয়ে পথিককে বলল, ‘সরদার আরাম করছেন, কারণটা হলো বুদ্ধি।’
পথিক বিস্মিত। ‘কী রকম?’
শ্রমিকটি বলল, ‘আমি আমার মুখে হাত রাখছি। আপনি এখন গায়ের জোরে আমার হাতে একটা চড় বসান।’
আমরা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য পাথরের ওপরে হাত রেখে বলতে পারি, গায়ের জোরে চড় মারো। কিন্তু মাথায় যথেষ্ট বুদ্ধি না থাকলে কিন্তু আমরা নিজেদের নাকে হাত রেখে বলে ফেলতে পারি, গায়ের জোরে ঘুষি মারেন।
শাসকদের বুদ্ধিমান হতে হয়। প্রেসিডেন্ট বুশ যখন ব্রিটেনে যান, তখন রানিকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনারা দেশ চালান কীভাবে?’ রানি উত্তর দেন, ‘বুদ্ধি দিয়ে।’ ‘কী রকম?’ রানি টনি ব্লেয়ারকে ডেকে বলেন, ‘আচ্ছা টনি, বলো তো, একটা লোক, সে তোমার মায়ের ছেলে, সে তোমার বাবার ছেলে, তোমার আর কোনো ভাইবোন নাই, লোকটা কে?’ টনি উত্তর দেন, ‘আমি।’ রানি বলেন, ‘দেখলা বুশ, টনির কী রকম বুদ্ধি। ও বুদ্ধি দিয়েই দেশ চালায়।’
বুশ দেশে ফিরে গিয়ে মন্ত্রীদের ডেকে বলেন, ‘বলো, একটা লোক, সে তোমার মায়ের ছেলে, সে তোমার বাবার ছেলে, তোমার আর কোনো ভাইবোন নাই, লোকটা কে?’ কেউ উত্তর দিতে পারেন না। তখন কলিন পাওয়েল সেখানে আসেন। বুশ তাঁকে একই প্রশ্ন করেন। ‘একটা লোক, সে তোমার মায়ের ছেলে, সে তোমার বাবার ছেলে, তোমার আর কোনো ভাইবোন নাই, লোকটা কে?’ কলিন পাওয়েল বলেন, ‘আমি’।
বুশ বলেন, ‘হয় নাই। সঠিক উত্তর হবে, টনি ব্লেয়ার।’
শাসকদের মাথায় বুদ্ধি থাকতে হয়! আর, বুদ্ধিমানেরা কথা বলেন কম!
প্রিয় পাঠক, একটু হাসুন। আজ একটা সুন্দর দিন। আর আমাদের দেশেও বহু কিছু আছে ইতিবাচক, যেসবের কথা ভেবে আমরা একটা দিন সুন্দরভাবে শুরু করতে পারি। যেমন ধরুন, আমরা বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আটটা খেলা আর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পেরেছি। এই আয়োজন দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সেটাই বা কম কী!
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

পানির দাম বাড়ানো কেন জরুরি by গোলাম মোস্তফা

ঢাকা ওয়াসা বোর্ড ঢাকাবাসীর জন্য সরবরাহকৃত পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবিত এই বৃদ্ধির হার যেহেতু বোর্ডের ক্ষমতাসীমার চেয়ে একটু বেশি, তাই তা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১১ সালের ৫ মার্চের দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদকীয় কলামে প্রস্তাবিত এই মূল্যবৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির আগে ওয়াসাকে তার সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সরবরাহকৃত পানির চাহিদা অনুপাতে সরবরাহের পরিমাণ ও গুণগত মান নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা ওয়াসা বোর্ড বাস্তবভিত্তিক সমালোচনা ও পরামর্শকে সব সময় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। এ ধরনের সম্পাদকীয় গুরুত্ব বহন করে। এটা সবার জানা, মহানগরে পানি সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত একমাত্র প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসা। সেবাটি যেহেতু প্রাত্যহিক নাগরিক জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঢাকা মহানগরের প্রত্যেক মানুষ এর মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাবিত হন, তাই সেটাকে মাথায় রেখেই ঢাকা ওয়াসা এবারের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবটি তৈরি করেছে এবং সে সম্পর্কে জনসাধারণের মতামত সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
গোলটেবিল বৈঠকে যে বিষয়টির প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা হলো, ঢাকা মহানগরের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সংগতি রেখে বর্তমান ও ভবিষ্যতের চাহিদানুযায়ী বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসার করণীয় নির্ধারণ।
বর্তমানে বিদ্যুতের লোডশেডিং না থাকলে (যেমন শীতকালে) ঢাকা ওয়াসা ২২০ কোটি লিটার দৈনিক চাহিদার প্রায় পুরোটাই উৎপাদন করতে পারে। সরকারের নেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০১২ সালের মধ্যেই লোডশেডিং থেকে ঢাকাবাসী মুক্ত হবে। কিন্তু তখন সমস্যা দেখা দেবে ভূগর্ভস্থ পানির প্রাপ্যতা নিয়ে। আর তা থেকে উত্তরণের জন্য ঢাকা ওয়াসার প্রয়োজন ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনের মাধ্যমে সরবরাহ করা। বর্তমানে পানির গুণগত মান সম্পর্কে যেসব অভিযোগ আছে, তা থেকেও ২০১২ সালের মধ্যে বহুলাংশে মুক্ত হওয়া যাবে সায়েদাবাদ দ্বিতীয় ফেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বর্তমানে চালু থাকা এডিবির সাহায্যপুষ্ট ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের অধীনে দুই হাজার ৫০০ কিলোমিটার পুরোনো পাইপলাইন পরিবর্তনের কাজ শেষ হলে। সে ক্ষেত্রে পানির সরবরাহ-ব্যবস্থায় ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে ঢাকা ওয়াসার প্রধান বিবেচ্য বিষয় থাকে পরিকল্পিত পাগলা ও খিলক্ষেতে যথাক্রমে ৪৫ কোটি ও ৫০ কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার নির্মাণ।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী পাগলায় শোধনের জন্য পানি আসবে পদ্মা নদী থেকে আর খিলক্ষেতে আসবে মেঘনা নদী থেকে। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে বর্তমান বাজারমূল্যেই খরচ পড়বে কমপক্ষে সাত হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা ওয়াসার বিবেচনায় রয়েছে সায়েদাবাদ ফেজ-৩ প্রকল্প, যার উৎপাদনক্ষমতা ধরা হয়েছে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার। এই প্রকল্প বাস্তবায়নেও খরচ পড়বে আরও প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে ঢাকাবাসীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণে প্রয়োজন হবে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ। প্রশ্ন হলো, এই বিশাল বিনিয়োগের অর্থ আসবে কোথা থেকে?
এ অবস্থায় ঢাকা ওয়াসাকে অবশ্যই বিকল্প পথের সন্ধান করতে হবে। তা হলো, নিজস্ব সম্পদ আহরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিদেশি দাতা সংস্থার ওপর নির্ভরতা কমানো। আর তা করতে গেলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন বাণিজ্যিকভাবে লাভবান সংস্থা হিসেবে ঢাকা ওয়াসাকে দাঁড় করানো। এই কাজটি করতে গেলে একদিকে যেমন প্রয়োজন দুর্নীতি, অপচয়, অব্যবস্থাপনা রোধ করে সিস্টেম লস সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসা; অন্যদিকে পানির উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা।
হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি হাজার লিটার পানির মূল্য একবারে নয় টাকা ৭৫ পয়সা করলেও ছয় সদস্যের একটি পরিবারে মাসের খরচ বাড়ে ১১৩ টাকা (ভ্যাটসহ)। অর্ধেক অর্ধেক করে দুবারে দাম বাড়ালে প্রতিবার মাসের খরচ বাড়বে মাত্র ৫৬ টাকা ৫০ পয়সা। একটি পরিবারের জন্য এই বৃদ্ধি বড় কিছু নয়। অথচ বাসায় এক দিন পানি না থাকাটা অনেক বেশি কষ্টদায়ক। একটি পরিবার যদি প্রতি মাসে পানি বাবদ ১১৩ টাকা বেশি খরচ করে, তাহলে যা ঘটবে তা হলো:
সরকার বা দাতা সংস্থার দিকে ওয়াসাকে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে না। অর্থাৎ, ঢাকাবাসীর চাহিদা পূরণে ওয়াসা নিজেই নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে।
ঢাকা ওয়াসা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
ঢাকাবাসীর সারা বছরের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা ঢাকা ওয়াসা পূরণ করতে পারবে।
অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে যে ময়লা বা দুর্গন্ধযুক্ত পানির অভিযোগ পাওয়া যায়, তা থেকে ঢাকাবাসী নিষ্কৃতি পাবে।
সবশেষে বলতে চাই, ঢাকা ওয়াসা যে পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তা বাস্তবায়নে জনসাধারণের বিশেষ সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার এ ক্ষেত্রে অনেক কিছু করার আছে। শুধু সমালোচনা করলে চলবে না; সমস্যার কারণ ও গভীরতা বুঝতে হবে এবং তা সমাধানে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। এ কাজে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে বিশুদ্ধ পানির অভাবে ঢাকা মহানগর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা: চেয়ারম্যান, ঢাকা ওয়াসা বোর্ড।

ভারত-পাকিস্তান সচিব পর্যায়ের বৈঠক শুরু

নয়াদিল্লিতে গতকাল সোমবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ বৈঠক আজ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা। বৈঠকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রসচিব চৌধুরী কামার জামান ও ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব জি কে পিল্লাই সন্ত্রাস দমন, মুম্বাই হামলা ও মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে প্রায়নয় মাস সচিব পর্যায়ে বৈঠক বন্ধ থাকার পর আনুষ্ঠানিক শান্তি-প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ আলোচনা শুরু হলো।

মিসরে সেপ্টেম্বরে নির্বাচন, মোবারক গৃহবন্দী

মিসরে আগামী সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ক্ষমতাসীন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ পরিষদ (সুপ্রিম কাউন্সিল) গতকাল সোমবার এ কথা ঘোষণা করে। প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের পতনের পর এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মিসরবাসীর গণতান্ত্রিক যাত্রা।
এদিকে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোবারক ও তাঁর পরিবার নিজ দেশেই গৃহবন্দী রয়েছে। ওয়েবসাইটে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিল এ কথা জানিয়েছে।
কাউন্সিলের সদস্য মামদু শাহিন গতকাল কায়রোয় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান,সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনের আগে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হবে বলেও তিনি জানান। ১৯৮১ সাল থেকে মিসরে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে।
তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে গত ১১ ফেব্রুয়ারি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ পরিষদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন দেশটির ৩১ বছরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক।
কাউন্সিল জানায়, মোবারক ও তাঁর পরিবার নিজ দেশেই গৃহবন্দী রয়েছে। তাঁর সৌদি আরব পালিয়ে যাওয়ার খবরটি ভিত্তিহীন। অন্তর্বর্তীকালীন সামরিক সরকার ফেসবুকে এক বিবৃতিতে জানায়, মোবারককে মিসরেই সপরিবারে গৃহবন্দী রাখা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডের হার হ্রাস পেয়েছে: অ্যামনেস্টি

বিশ্বে অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ও কার্যকরের হার হ্রাস পেয়েছে। গত রোববার মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালে বিশ্বের ২৩টি দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ২০০৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৯টি। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার সংখ্যা ২০০৯ সালের তুলনায় গত বছর অনেক হ্রাস পেয়েছে। ২০০৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭১৪। আর গত বছর ছিল ৫২৭।
তবে এ পরিসংখ্যানে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ধারণা করা হয়, চীনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার হার বিশ্বের সব কটি দেশের সমষ্টিগত হারের চেয়েও বেশি।
গত বছর বিশ্বের ১৩৯তম দেশ হিসেবে মধ্য আফ্রিকার দেশ গ্যাবন মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করে।
২০১০ সালে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যেসব উপায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সেগুলো হলো শিরশ্ছেদ, ফাঁসি, বিদ্যুতায়ন, প্রাণঘাতী ইনজেকশন এবং গুলি করে হত্যা। তবে গত বছর কোনো দেশে পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। পাকিস্তান, ইরান ও নাইজেরিয়ায় পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দেওয়া হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব সলিল শেঠি জানান, বিশ্বব্যাপী মৃত্যুদণ্ডের প্রবণতা হ্রাস পেলেও এখনো কিছু দেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধান অব্যাহত রয়েছে।

দেশ থেকে জরুরি আইন তুলে নিচ্ছে সিরিয়া

সিরিয়া চলমান সংকট নিরসনে শিগগিরই দেশটি থেকে জরুরি আইন তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ১৯৬৩ সাল থেকে দেশটিতে জরুরি আইন জারি রয়েছে। গতকাল সোমবার দেশটির পার্লামেন্ট দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং গণদাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে তাঁর প্রতিশ্রুত সংস্কার পরিকল্পনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে বলেছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, এ মুহূর্তে সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের কোনো ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর নগর লাতাকিয়ায় গত শনিবার সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভে সহিংস ঘটনার পর সেখানে রাস্তায় সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। সেনাসদস্যদের গতকাল শহরের রাস্তায় রাস্তায় টহল দিতে দেখা যায়। বিক্ষোভে এখানে গুলিতে কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং ১৫০ জন আহত হয়। তবে সরকার বলছে, লাতাকিয়ার হত্যাকাণ্ডের জন্য সশস্ত্র অপরাধীরাই দায়ী, সরকার নয়।
সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও জরুরি আইন তুলে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। দেশটির মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞ রাদওয়ান জিয়াদেহ বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতির পর এ পর্যন্ত কোনো পরিবর্তনই আসেনি। বর্তমানে জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন এই মানবাধিকারকর্মী। ১৯৬৩ সালে বাথ পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটিতে জরুরি আইন জারি রয়েছে। এ আইনের বলে কোনো অভিযোগ ব্যতিরেকেই যে কাউকে আটক করা যায়। এ ছাড়া আইনটি আরও কয়েকটি আইনের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ এবং গোপন পুলিশ বাহিনীকে সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা বুথাইনা শাবান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, জরুরি আইন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কখন তা কার্যকর হবে, তা তিনি জানেন না। এই উপদেষ্টা আরও বলেন, যখনই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে, তখনই ওই আইনের আওতায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হবে।
বুথাইনা শাবান আরও বলেন, যেসব মৌলবাদী দেশে ধর্মীয় সহাবস্থান ধ্বংস করতে চায়, তারাই সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতার পেছনে রয়েছে। তিনি বলেন, তবে তারা আবারও ব্যর্থ হবে।
দেশটিতে অস্থিতিশীলতার বিস্তারিত বিবরণ এবং নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কারণ, সরকার বিদেশি সাংবাদিকদের সিরিয়ায় প্রবেশ নিষেধ করেছে এবং কাজ করতে দিচ্ছে না।
তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, শনিবারের হত্যাকাণ্ডের আগেই দেশজুড়ে মৃতের সংখ্যা ৬১-তে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, এই মুহূর্তে সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের কোনো ইচ্ছা নেই যুক্তরাষ্ট্রের। সিবিএস টেলিভিশনের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি গত রোববার এ কথা বলেন।

ধনী দেশগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে

বিশ্বের ধনী দেশগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা গত বছর হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে আফ্রিকা কিংবা এশিয়া থেকে যাওয়া মানুষের প্রবাহ এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউএনএইচসিআরের নতুন তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তিন লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ জন প্রার্থী আশ্রয়ের জন্য ৪৪টি শিল্পোন্নত দেশে আবেদন করেছে। এ সংখ্যাটা ২০০৮ কিংবা ২০০৯ সালের তুলনায় পাঁচ শতাংশ কম। আর এক দশক আগের তুলনায় সংখ্যাটা ৪০ শতাংশেরও বেশি কম। গত দশকে এ সংখ্যাটা চতুর্থ সর্বনিম্ন।
ইউএন হাইকমিশনার ফর রিফুজিস অ্যান্টোনিও কিউটারেস বলেন, আশ্রয় চাওয়ার বৈশ্বিক গতি পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে মুষ্টিমেয় কয়েকটি শিল্পোন্নত দেশে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ‘আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ কারণ কিংবা গমনেচ্ছু দেশের কঠোর নিয়মকানুনের জন্য এটা হচ্ছে কি না তা আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে।’
ইউএনএইচসিআর জানায়, ইউরোপের ভূ-মধ্যসাগরের উপকূলবর্তী আলবেনিয়া, সাইপ্রাস, গ্রিস, ইতালি, মাল্টা, পর্তুগাল, স্পেন ও তুরস্কে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থী কমে যাওয়ার তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। তবে জার্মানি, সুইডেন, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যে বিক্ষোভে সহিংস ঘটনায় ট্রেড ইউনিয়নের নিন্দা

যুক্তরাজ্যে সরকারি ব্যয় হ্রাস পরিকল্পনার প্রতিবাদে গত রোববার অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নেওয়া উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের নিন্দা জাানিয়েছে ওই বিক্ষোভের আয়োজক সংস্থা ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (টিইউসি)।
গত রোববার ভোরে সংঘটিত ওই সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে ৮৪ জন আহত হয়। আটক করা হয় প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে। বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। শুধু লন্ডনেই আড়াই লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। ইরাক যুদ্ধের পর এটিকেই যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও এইচএসবিসি ব্যাংকের শাখা কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ ছাড়া এললয়েডস টিএসবি ও ম্যাকডোনাল্ডসের মতো বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানেও হামলার ঘটনা ঘটে।
ওই বিক্ষোভে বেশ কিছু সংগঠনসহ প্রায় ৬০ লাখ শ্রমিক অংশ নেয়। ফলে ওই কর্মসূচিকে আয়োজক সংস্থা টিইউসির সফলতা হিসেবে মনে করা হলেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় সংস্থাটির নেতারা হতাশ হয়েছেন।
টিইউসির প্রধান ব্রেন্দান বারবার জানান, সহিংসতার ঘটনায় তিনি অনুতপ্ত। তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের মধ্যে স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তি যাঁরা সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আমরা অবশ্যই তাঁদের নিন্দা জানাই। তাঁদের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই আমরা সমর্থন করি না।’
বাজেট ঘাটতি কমাতে কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার বছরে ৬২০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনা করেছে। এর আওতায় সরকারি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এর প্রতিবাদে গত শনিবার স্বাস্থ্যকর্মী, অগ্নিনির্বাপণকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে।

গাদ্দাফি সরকারে ভাঙন ধরেছে

জাপানের উত্তরাঞ্চলে গতকাল সোমবার আবারও তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির পুরো উত্তরাঞ্চল কেঁপে ওঠে। ভূকম্পনের তীব্রতা ছিল ৬ দশমিক ৫। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ভূকম্পনের পরপরই কর্তৃপক্ষ সুনামি-সতর্কতা জারি করে। পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
শীর্ষস্থানীয় এই দুই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তাঁদের মনে হচ্ছে ত্রিপোলিতে জোট বাহিনীর হামলা, বিদ্রোহীদের তুমুল প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত চাপে পড়ে গাদ্দাফি প্রশাসনে চিড় ধরেছে।
এনবিসি টেলিভিশনের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে হিলারি বলেন, ‘তাঁকে (গাদ্দাফিকে) ছেড়ে তাঁর নিজের লোকজন চলে যাচ্ছে বলে অজস্র তথ্য আমাদের হাতে আসছে। আমরাও তাঁদের (গাদ্দাফি অনুগতদের) বলতে চাই, আপনারা কি শেষ পর্যন্ত সমাজচ্যুত হতে চান? আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেই কি আপনারা আপনাদের শেষ পরিণতি দেখতে চান? আমরা মনে করি সে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার এবং পরিবর্তনের পক্ষে আসার এখনো সময় আছে।’
অন্যদিকে সিবিএস টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফ্রি দ্য নেশন অনুষ্ঠানে রবার্ট গেটস বলেন, ‘গাদ্দাফি হয়তো দেখতে পাচ্ছেন তাঁর অনুগত বাহিনীর অনেকেই এ সিদ্ধান্তে এসেছেন যে যুদ্ধে জেতার কোনো পথই তাঁদের সামনে খোলা নেই। তাঁর ঘরে ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। যেকোনো সংখ্যক লোকজন ইতিমধেই তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়ে থাকতে পারে।’
এদিকে লিবিয়া সরকার বলেছে, ঈমান আল ওবায়দি নামের যে নারী গত রোববার সেনাবাহিনীর দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তাঁকে সরকারি হেফাজত থেকে গতকাল সোমবার পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ওই নারীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক শীর্ষ কর্মকর্তার ছেলেসহ মোট চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মুসা ইব্রাহিম নামের ওই মুখপাত্র বলেন, ঈমান আল ওবায়দি নিজেকে যেভাবে সম্ভ্রান্ত ও সচ্চরিত্রা হিসেবে উপস্থাপন করে অভিযোগ জানিয়েছেন ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সে রকম কেউ নন।
মুসা ইব্রাহিমের দাবি, ওই নারী একজন পতিতা। গণধর্ষণের অভিযোগ তোলার পর তাঁকে মেডিকেল পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি তা করাতে অস্বীকার করেন।

২০১৪ সাল পর্যন্ত রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র রপ্তানি করবে রাশিয়া

রাশিয়া প্রতিবছর গড়ে এক হাজার কোটি মার্কিন ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করে ২০১৪ সাল নাগাদ তার রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র রপ্তানির ধারা অব্যাহত রাখবে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে হালকা ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক যন্ত্রপাতি রয়েছে। তাদের এসব সরঞ্জাম রপ্তানির প্রধান বাজার হচ্ছে ভারত। গতকাল সোমবার বিশ্ববিখ্যাত সামরিক ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক থিংকট্যাংক কাস্ট এ কথা জানিয়েছে।
কাস্ট বলেছে, সাম্প্রতিককালে চীনের সামরিক শক্তির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে তৎপর হয়েছে। এ ছাড়া আফ্রিকায় সম্প্রতি আঞ্চলিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ায় ওই এলাকার দেশগুলো নিজ নিজ শক্তি বৃদ্ধির জন্য অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করছে। এশিয়া ও আফ্রিকার এসব দেশ অস্ত্র কিনতে রাশিয়ার দ্বারস্থ হচ্ছে। কাস্ট বলেছে, বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে রাশিয়া গত বছর সাড়ে চার হাজার কোটি মার্কিন ডলারের অস্ত্র সরবরাহের ফরমায়েশ পেয়েছে। এ বছর দেড় হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে কয়েকটি চুক্তিতে সই করেছে। কাস্ট বলেছে, এখন পর্যন্ত রাশিয়ার হাতে যতগুলো ফরমায়েশ রয়েছে তা দিয়েই আগামী চার বছর বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত রেকর্ড পরিমাণ রপ্তানির ধারা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী সরকারি সংস্থা রোসোবোরোনেক্সপোর্ট গত বছর ৮৬০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করেছে। প্রায় ২০টি স্বায়ত্তশাসিত রুশ অস্ত্র কোম্পানির অস্ত্র তাদের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাশিয়া থেকে প্রতিবছর যত অস্ত্র রপ্তানি হয় সাধারণত তার ৮০ শতাংশই রোসোবোরোনেক্সপোর্টের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়ে থাকে।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরই চীন প্রতিরক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে। চীনের আর্থিক ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাত্রা দেখে প্রতিবেশী দেশ ভারত সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে ভারত তার সামরিক ব্যয় ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে। এর ফলে ভারতকে এ খাতে অতিরিক্ত তিন হাজার ৬০০ কোটি ডলার খরচ করতে হবে। অস্ত্র আমদানিতে এর বেশির ভাগ অর্থ ব্যয় হবে।
রাশিয়া ভারতের কাছে ১৬০ কোটি ডলারের চুক্তির আওতায় গত বছর ১০টি সু-৩০এমকেআই জঙ্গি বিমান এবং ১২৪ কোটি ডলারের আরেকটি চুক্তির আওতায় ২০টি টি-৯০ ট্যাংক সরবরাহ করেছে।
কাস্ট বলেছে, গত বছর ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার একটি চুক্তি হয়েছে যার আওতায় আগামী ১০ বছরে মস্কো নয়াদিল্লির কাছে আড়াই শ থেকে তিন শ সুপারসনিক জঙ্গি বিমান সরবরাহ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে উগান্ডা, উত্তর এবং দক্ষিণ সুদান রাশিয়ার কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমদানি করে। এ ছাড়া ইসরায়েলের বাধা সত্ত্বেও রাশিয়া সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিছু দেশে অস্ত্র সরবরাহ করেছে।
চীন দীর্ঘদিন থেকে রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র আমদানি করে এলেও বর্তমানে তাতে ভাটা পড়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়া থেকে চীন ইতিপূর্বে যেসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম আমদানি করেছে, সেই প্রযুক্তি নকল করে এখন তারা নিজেরাই ওই সব সরঞ্জাম তৈরি করছে।

গাছের পুষ্টি জোগাচ্ছে স্যামন মাছ

গাছের পুষ্টি জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্যামন মাছ। এমন দাবি কানাডার একদল গবেষকের। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রকাশিত নিবন্ধে তাঁরা এ তথ্য পাওয়ার কথা দাবি করেন।
গবেষকদের ভাষ্য, কানাডায় অবস্থিত বৃষ্টিবহুল ক্রান্তীয় অঞ্চলের বনভূমি (রেইন ফরেস্ট) গ্রেট বিয়ারের একটি বিশাল এলাকার উর্বরতা রক্ষায় ভূমিকা রাখছে শিকারি প্রাণীর হামলায় মারা পড়া এসব স্যামন। কানাডার সাইমন ফ্রেসার বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন অধ্যাপক এই গবেষণা চালান।
গবেষকেরা বলেন, কানাডার উপকূলীয় ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ওই বিশাল বনভূমির মধ্য দিয়ে ছোটবড় বেশ কিছু নদী বয়ে গেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে এসব নদীর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
গবেষক জন রেনল্ডস বলেন, ডিম ছাড়ার সময় হলে সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে স্যামন এসব নদীতে আসে। নদীর অগভীর স্বচ্ছ জলে সাঁতার কেটে যাওয়ার সময় আশপাশের জঙ্গল থেকে আসা নেকড়ে ও ভালুকের শিকারে পরিণত হয় অনেক মাছ। আরও কিছু বন্যপ্রাণী এসব মাছ শিকার করে। খাওয়া শেষে প্রাণীগুলো স্যামনের যেসব উচ্ছিষ্ট ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে, তা মাটিতে মিশে নাইট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এতে মাটির উর্বরতা বাড়ে। আরও বেশি পুষ্টি পায় ওই মাটিতে জন্মানো গাছগুলো।
রেনল্ডস বলেন, তাঁরা ওই এলাকার প্রায় ৫০টি নদীর গতিধারা ও সেখানকার জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁরা দেখেন, নদীগুলোর তীর ঘেঁষে যে গাছপালা রয়েছে, তা অন্য এলাকার চেয়ে অনেক বেশি সতেজ।

রাহুলের জায়গায় প্রিয়াংকার কথা ভেবেছিলেন নেতারা

২০০৭ সালে ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভা সদস্য রাহুল গান্ধীর বিকল্প হিসেবে প্রিয়াংকা গান্ধীর কথা ভেবেছিলেন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। ওই সময় রাজনীতিতে রাহুলের কিছু আচরণ ও ভূমিকা দলের নেতাদের কাছে যথোচিত বলে মনে হয়নি। এ জন্য দলীয় নেতৃত্বে গান্ধী পরিবারের ঐতিহ্য বজায় রাখতে রাহুলের বদলে প্রিয়াংকার কথা ভাবেন তাঁরা। ফাঁস হওয়া মার্কিন কূটনৈতিক তথ্য থেকে এ কথা জানা যায়।
গান্ধী পরিবারের নেতৃত্ব নিয়ে কংগ্রেসে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ব্যাপারে নয়াদিল্লির তৎকালীন মার্কিন দূতাবাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যে তারবার্তা পাঠায়, সম্প্রতি তাদ্য হিন্দু পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাসের তৎকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জিওফরি পিয়াট ২০০৭ সালের ২৩ এপ্রিল পাঠানো এক বার্তায় উল্লেখ করেন, ‘কংগ্রেসের নেতাদের অভিযোগ, রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো গুণাবলী নেই। কাজেই তাঁদের আশা এখন নেহেরু পরিবারের আরেক সদস্য নিয়ে। তিনি রাহুলের বোন প্রিয়াংকা। রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছেন দলের নেতারা।’
তারবার্তা অনুযায়ী, ওই সময় উত্তর প্রদেশে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় রাহুল এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা রাজনীতিক হিসেবে তাঁর দুর্বলতা প্রকাশ করে বলে কংগ্রেসের নেতাদের অভিমত।
১৫ এপ্রিল এক নির্বাচনী সমাবেশে রাহুল বলেন, ‘আমি এমন এক পরিবারের সন্তান, যাঁরা কখনো পিছু হটেননি। পিছপা হননি অঙ্গীকার থেকে। আপনারা জানেন, আমার পরিবারের কোনো সদস্য একটা কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলে, তা করে ছাড়েন।’
এর আগে বাবরি মসজিদ প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, ‘গান্ধী পরিবারের কোনো সদস্য ক্ষমতায় থাকলে বাবরি মসজিদ রক্ষা করা হতো।’ আরেকটি সমাবেশে রাহুল বলেন, ‘১৯৯৬ সালে মায়াবতী ও তাঁর বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গে হাত মিলিয়ে রাজনৈতিক জটাজালে জড়িয়ে যায়।’
কংগ্রেসের নেতা ও গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ জন বলে পরিচিত নচিকেতা কাপুরের কাছ থেকে মার্কিন দূতাবাস এসব তথ্য পাওয়ার দাবি করে মার্কিন দূতাবাস। রাহুলবিষয়ক ওই তারবার্তায় উল্লেখ করা হয়, নচিকেতা জোরালোভাবে দাবি করেছেন, সমাবেশে দেওয়া ভাষণে রাহুল যেসব কথা বলেন, তা ছিল তাঁর উপস্থিত স্বতঃস্ফূর্ত উক্তি। রাহুলের ভাষণ যিনি লেখেন, তিনি নিশ্চিত করেছেন এসব কথা ভাষণে ছিল না।

প্রাতিষ্ঠানিক আয়কর কমানোর সুপারিশ



করপোরেট ট্যাক্স বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আয়কর কমানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। তাঁরা শেয়ারবাজারের মুনাফার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক মূলধনী কর হার কমানোর প্রস্তাব করেছেন।
গতকাল সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত চলমান প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিমা খাতের নেতারা এসব দাবি জানান। এতে এনবিআর চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন।
সমিতির নির্বাহী কমিটির সদস্য পি কে রায় বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর করপোরেট ট্যাক্স হিসেবে সাড়ে ৪২ শতাংশ কর আরোপ রয়েছে। বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে যৌক্তিক হারে কমিয়ে তা সাড়ে ৩৭ শতাংশ করা উচিত। জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে তা ১৫ শতাংশ করা উচিত। এ ছাড়া শেয়ারবাজারের আয় থেকে মূলধনী করও কমানো উচিত।’ কোম্পানির ক্ষেত্রে তা ১০ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ এবং পরিচালকদের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে তিন শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেন তিনি।
আলোচনা সভায় ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাস দেব প্রসাদ, বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিসহ এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গতকালের অপর প্রাক-বাজেট আলোচনায় হালকা প্রকৌশল শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা ‘বেস মেটাল’-এর ওপর শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। বর্তমানে এই শিল্পের কাঁচামালের ওপর সাত থেকে ১২ শতাংশ হারে আমদানি-শুল্ক আরোপ আছে।
আলোচনা সভায় ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক, ফার্নিচার মালিক সমিতির সভাপতি আখতারুজ্জামান, হস্তশিল্প উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি গোলাম আহসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দেশের অভ্যন্তরে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার উৎপাদন পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি প্রদান এবং এলপি গ্যাস সিলিন্ডার আমদানি-পর্যায়ে সর্বোচ্চ শুল্ক নির্ধারণেরও সুপারিশ করা হয়।
হস্তশিল্প খাতকে আগামী পাঁচ বছর ৩০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করেছেন হস্তশিল্প উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি গোলাম আহসান। তিনি দেশীয় তৈরি পোশাক (বুটিক শপ) বিক্রির ওপর দেড় শতাংশ মূসক আরোপের প্রস্তাব করেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদনের পর পদক্ষেপের সুপারিশ

পুঁজিবাজারে কারসাজি তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বুক বিল্ডিং পদ্ধতির কার্যক্রম স্থগিত রাখাসহ পদ্ধতিটি সংশোধনের উদ্যোগ থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) বিরত থাকার দাবি জানিয়েছেন বাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতারা।
এসইসির উদ্যোগে আয়োজিত বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংশোধন নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় গতকাল সোমবার তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিমত ও দাবি জানান।
এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি ফখরউদ্দিন আলী আহমদ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম, বাংলাদেশ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সালমান এফ রহমান এবং মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ফখরউদ্দিন আলী আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ ব্যাপারে কমিটির কোনো সুপারিশ থাকলে সে অনুযায়ী বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সংশোধন করার কথা এসইসিকে বলেছি।’
আহসানুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি যে বন্ধ রয়েছে তা আপাতত অব্যাহত থাকুক, এটাই আমাদের সম্মিলিত অভিমত।’
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতি কীভাবে বাজারে সমস্যা সৃষ্টি করেছে বা আদৌ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। সুতরাং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যথাযথ সুপারিশ এলে সেটা পর্যালোচনা করে পদ্ধতি সংশোধনের চিন্তাভাবনা করা যাবে।
আহসানুল ইসলাম অবশ্য বলেন, ‘বাজার স্থিতিশীল করতে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রয়োজন রয়েছে। তবে বুক বিল্ডিংয়ে শেয়ারের মূল্য স্থির করে দেওয়ার কোনো নিয়ম থাকুক সেটাও আমরা চাই না। এ পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য কী হবে, সেটা বাজার শক্তির ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। বর্তমান আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানি স্থির মূল্য পদ্ধতিতে আসতে চাইলে আসতে পারবে।’
এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড ও এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তির ব্যাপারে আহসানুল ইসলাম বলেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি আইনত বৈধ নয়। বরং সঠিক পুনঃক্রয় নীতি অনুযায়ী আসতে চাইলে তারা আসতে পারবে।
এদিকে গতকাল এসইসি এমআই সিমেন্টের তালিকাভুক্তির মেয়াদ ১৪ দিন বাড়িয়েছে। নিয়মানুযায়ী প্রাথমিক শেয়ারের বিপরীতে চাঁদা গ্রহণের (সাবস্ক্রিপশন) শেষ হওয়ার ৭৫ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে হয়। এ নিয়মানুযায়ী গতকাল কোম্পানিটির তালিকাভুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে এসইসি জানিয়েছে।

তিন ব্যাংক সাত মাসে এক টাকাও কৃষিঋণ দেয়নি

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) তিনটি ব্যাংক এক টাকাও কৃষিঋণ বিতরণ করেনি। আর নয়টি ব্যাংক এ সময়কালে খুব সামান্য কৃষিঋণ বিতরণ করেছে।
এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গতকাল সোমবার ব্যাংকগুলোকে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণে উৎসাহিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মুরশিদ কুলি খান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
সূত্র জানায়, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলোন, ইস্টার্ন ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে কোনো কৃষিঋণ দেয়নি।
অথচ এই ব্যাংকগুলোর এ বছর কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে ২৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা, ৩০ কোটি টাকা ও ১০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে নয়টি ব্যাংক এই সময়ে সামান্য কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে দি সিটি ব্যাংকের ঋণ বিতরণের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যাংকটি সাত মাসে মাত্র এক কোটি দুই লাখ টাকা বিতরণ করে। পূবালী ব্যাংক বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ২২৭ কোটি টাকার বিপরীতে বিতরণ করেছে মাত্র আট কোটি ৭২ লাখ টাকা।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর ট্রাস্ট ব্যাংক ১৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সাত মাসে আট কোটি ৬৬ লাখ টাকা; মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার বিপরীতে ১৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা; মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৪৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ছয় কোটি চার লাখ টাকা; শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৬৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ছয় কোটি ৮৬ লাখ টাকা; সাউথইস্ট ব্যাংক ৪০ কোটি টাকা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চার কোটি দুই লাখ টাকা; বেসিক ব্যাংক ৬৩ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৪ কোটি আট লাখ টাকা এবং বিদেশি উরি ব্যাংকের এক কোটি টাকা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সাত মাসে ব্যাংকটি ২৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে।
চলতি অর্থবছরে দেশের ব্যাংকগুলোর কৃষি খাতে মোট ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২ হাজার ৬১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এই ১২ ব্যাংক বাদে বাকি ব্যাংকগুলোতে কৃষিঋণ বিতরণের হার অত্যন্ত সাফল্যজনক। জানা গেছে, অর্থবছরের আট মাসে এখাতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিতরণ করা ঋণের হার ৬৩ শতাংশের বেশি।
কৃষি ও পল্লি এলাকায় ঋণ বিতরণে সব ব্যাংকের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সম্পৃক্ততা নেই। যে কারণে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারের ভিত্তিতে এই ঋণ বিতরণের সুযোগ তৈরি করা হয়। কিন্তু সাত মাসে ঋণ বিতরণে উল্লিখিত ব্যাংকগুলোর অনগ্রসরতায় বাংলাদেশ ব্যাংক অসন্তুষ্ট। এ ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পর্যালোচনায় দুই মাস অন্তর বৈঠকও করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতেও তেমন অগ্রগতি হয়নি এই ১২ ব্যাংকের।
সূত্র জানায়, গতকালের বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে বাকি সময়ে সাফল্যজনক পর্যায়ে ঋণ বিতরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, অগ্রাধিকার ও উৎপাদন খাত হিসেবে এখাতে ঋণ বিতরণ করতে হবে সব ব্যাংককে।
বৈঠকে ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সুধীর চন্দ্র দাস, কৃষিঋণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এস এম মনিরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আগামী বাজেট হতে পারে এক লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা

আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে এক লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আয়তন হবে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। আর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৮ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে ধার্য করা হবে।
গত রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সম্পদ কমিটি ও রাজস্ব সমন্বয় কাউন্সিলের আলাদা বৈঠকে প্রাথমিকভাবে বাজেটের এসব দিক ঠিক করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এতে সভাপতিত্ব করেন।
সূত্র জানায়, উভয় বৈঠকেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি খাতে ব্যয়, ভর্তুকি বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি, বাড়তি আয়ের সংস্থান প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার চলতি বছরের মূল বাজেটে ২০ শতাংশেরও বেশি হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকে বলা হয়েছে, খাদ্যপণ্য, কৃষিপণ্য ও সারে আগামী দিনেও ভর্তুকি দেবে সরকার। এতে বিপুল পরিমাণ বাড়তি অঙ্ক গুণতে হবে।
এই ব্যয় মেটাতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রাও সমানতালে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজস্ব আহরণের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা।
চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটের আকার এক লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এডিপির আকার ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সংশোধিত হয়ে এডিপির আকার অবশ্য ৩৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
প্রতিবছরের রেওয়াজ অনুযায়ী, আগামী জুনে অর্থমন্ত্রী দেশের ৪০তম এ বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন। আরেক হিসেবে এটিকে ৪১তম বাজেটও বলা যায়। কারণ, দেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালের ৩০ জুন একসঙ্গে ১৯৭১-৭২ এবং ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট দিয়েছিলেন।
বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেই বিবেচনায় আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সহনশীল পর্যায়ে আসবে না বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির প্রাথমিক প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৬ থেকে ৮ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী মূল্যস্ফীতির বার্ষিক হার সাড়ে ৬ শতাংশ হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু অর্থবছরের সাত মাসের মাথায় এসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
অব্যাহত মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনোভাবেই অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতির হার এই সীমার মধ্যে থাকবে না।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, অর্থসচিব মোহাম্মদ তারেক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আবার চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী, সরকার মোট ঘাটতি প্রাক্কলন করেছে ৩৪ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকার ২৩ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। অভ্যন্তরীণ উৎসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ১৫ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। আর ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে আট হাজার কোটি টাকা।
২০০৯-১০ অর্থবছরে সামগ্রিকভাবে ঘাটতি অর্থায়নের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১৮ হাজার ৯৯ কোটি টাকা, যা ছিল মোট দেশজ উৎপাদনের ২ দশমিক ৬২ শতাংশ।

‘বাংলাদেশ ফান্ড’ অনুমোদনের জন্য এসইসিতে জমা



পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে একটি ওপেন অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ড অনুমোদনের জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) পাঠানো হয়েছে। ফান্ডটির মূল উদ্যোক্তা রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি)। আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফায়েকুজ্জামান আজ মঙ্গলবার এসইসির চেয়ারম্যান জিয়াউল হক খোন্দকারের সঙ্গে দেখা করে তাঁর কাছে এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেন।
ফায়েকুজ্জামান জানান, এই ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা এবং এক হাজার ইউনিটে একটি মার্কেট লট হবে। তিনি জানান, এরই মধ্যে ফান্ডটির উদ্যোক্তা অংশের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত হয়েছে। মূল উদ্যোক্তা হিসেবে আইসিবি ফান্ডের ১০ শতাংশ অর্থাত্ ৫০০ কোটি টাকা দেবে। সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে সোনালী ব্যাংক ২০০ কোটি, জনতা ব্যাংক ২০০ কোটি, রূপালী ব্যাংক ১০০ কোটি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) ১০০ কোটি, সাধারণ বীমা করপোরেশন ১০০ কোটি টাকা দেবে। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংক ও জীবন বীমা করপোরেশন মিলে বাকি ৩০০ কোটি টাকা দেবে বলে মৌখিকভাবে জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে এসইসির অনুমোদন পাওয়ার পর ফান্ডটিতে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি উদ্যোক্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
এ ব্যাপারে এসইসির সদস্য মো. ইয়াসিন আলী সাংবাদিকদের বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফান্ডটির অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রয়োজনে জরুরি বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো একটি যৌথ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়। কয়েক দফা আলোচনার পর ৬ মার্চ ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ নামে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। এই ফান্ডের ৫০ শতাংশ মুদ্রাবাজারে এবং বাকি ৫০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে। তবে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। এ ছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তহবিলের আকার বাড়ানো হবে বলেও বিধান রাখা হয়েছে।

সংসদীয় তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হচ্ছেন রতন টাটা ও অনিল আম্বানি

ভারতের দুই বিশিষ্ট শিল্পপতি রতন টাটা ও অনিল আম্বানি টেলিকম দুর্নীতি তদন্তে গঠিত সংসদীয় কমিটির মুখোমুখি হচ্ছেন। গতকাল সোমবার পৃথক দুটি বিবৃতিতে উভয় শিল্পপতির প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ খবর জানানো হয়েছে বলে ভারতের দ্য ইকনোমিক টাইমস এর খবরে বলা হয়েছে।
লোকসভার সদস্যেদের সমন্বয়ে গঠিত পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটি (পিএসি) ওই আলোচিত মোবাইল লাইসেন্স দুর্নীতির তদন্ত করছে। এক সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে, দুর্নীতির ফলে সরকার তিন হাজার ৯০০ কোটি ডলার রাজস্ব হারিয়েছে।
সংসদীয় কমিটি আগামী ৪ ও ৫ এপ্রিল রতন টাটা ও অনিল আম্বানিকে ওই দুর্নীতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
ভারতে দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল লাইসেন্স প্রদান-সংক্রান্ত দুর্নীতির সঙ্গে দেশটির অনেক বড় টেলিকম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
টাটা টেলি সার্ভিসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত কমিটিকে সহায়তা করবে। আগামী ৪ এপ্রিল রতন টাটা তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এদিকে রিলায়েন্স কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান অনিল আম্বানিকে গত মাসে তদন্ত কমিটি জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি আবারও কমিটির সমানে হাজির হবেন বলে তাঁর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রানেই আছেন রাজিন

গত ম্যাচেই বরিশালের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন। কালও রান পেলেন রাজিন সালেহ। রানআউট হওয়ার আগে সিলেটের এই ব্যাটসম্যান করে গেছেন দলীয় সর্বোচ্চ ৫৫। তাঁর হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে বিকেএসপিতে চট্টগ্রামের বিপক্ষে জাতীয় লিগের চতুর্থ রাউন্ডের প্রথম দিনে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ২০১ রান তুলেছে সিলেট।
ফতুল্লায় তৈয়বুরের হাফ সেঞ্চুরিতে (৫৫) রাজশাহীর বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ঢাকার রান ৮ উইকেটে ২৪৫। রাজশাহীর সানজামুল নিয়েছেন ৩টি উইকেট। চট্টগ্রামে দুই শ রানও পেরোতে পারেনি খুলনা। বরিশালের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৯৭ রানে অলআউট খুলনা। সর্বোচ্চ ৭৮ রান এসেছে ছয় নম্বরে নামা নিজামউদ্দিনের ব্যাট থেকে।

বাংলাদেশ দলের ‘ব্যর্থতা’ তদন্ত করবেন মন্ত্রী!

গ্রুপ পর্বেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাসে ঢিল পড়া এক পাশে রাখলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে আর বড় কোনো হইচই হয়নি। তার পরও কথা থেকে যায়। সার্বিকভাবে আয়োজনটা কেমন হলো? শুরু হয়েছে এর মূল্যায়ন।
কাল নিজের অফিসে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার। উদ্দেশ্য, বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে কথা বলা। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে উঠে এসেছে অনেক বিষয়। আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের সফলতা দাবি করে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বিশ্বকাপ আয়োজনে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা স্বীকার করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ত্রুটি হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন আহাদ আলী সরকার। টিকিট নিয়ে ঘটে যাওয়া নানা ব্যাপারেও কথা বলেছেন, ‘টিকিট বিপণনে ক্রিকেট বোর্ডের আরও সোচ্চার হওয়া উচিত ছিল।’ তাঁর মনে একটা ক্ষোভও দেখা গেল। ফাইনালের দাওয়াত না পাওয়ায় মন্ত্রী বললেন, ‘আমার জন্য একটি টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমন্ত্রণ পেলেও এখন আর যাওয়ার জন্য তৈরি নই আমি।’
প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স কেমন হলো সেটি। লিখিত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘তিন ম্যাচে জয়ী হওয়ায় দেশবাসী আনন্দিত ও গর্বিত।’ পাশাপাশি অবশ্য একটু হতাশার কথাও বলেছেন, ‘...তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলার স্কোর দেখে মনে হয়েছে, খেলার মান উত্তরণের জন্য নিরলস পরিশ্রম করতে হবে। খেলোয়াড়দের উন্নতমানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।’
এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’ এবারের বিশ্বকাপ আয়োজনে বাংলাদেশ সরকারের ৪৭৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে কত টাকা আয় হয়েছে সেই হিসাব নেওয়া হবে ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতি আজ থেকে

বিশ্বকাপ এখনো শেষ না হলেও বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শেষ। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর ১০ দিন ছুটি কাটিয়ে আজ আবার মাঠে ফিরছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। তবে খেলায় নয়, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ শুরু হবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রস্তুতি।
আগামী ৯, ১১ ও ১৩ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। তিনটি ম্যাচই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, শেষ ম্যাচটি দিবারাত্রির। সিরিজ শুরুর আগে ৭ এপ্রিল ফতুল্লায় একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ৩ এপ্রিল। সিরিজের জন্য এর মধ্যেই ঘোষণা হয়েছে ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ দল।

ওয়ানডেকেও বিদায় বললেন টেইট

টেস্ট এবং প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বছর দুই আগে। এবার অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে না নিতেই শন টেইট দিয়ে দিলেন ওয়ানডে থেকে তাঁর বিদারে ঘোষণা। জাতীয় দল এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রেডব্যাকস—কারও হয়েই আর একদিনের ম্যাচ খেলবেন না এই পেসার। তবে টি-টোয়েন্টি চালিয়ে যাবেন। ‘অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রেডব্যাকস—আমি আর কারও পক্ষেই ওয়ানডে খেলব না। আমার বিশ্বাস, এই সিদ্ধান্ত আমাকে অনেক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিবে, যাতে আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত হয়’—বলেছেন টেইট।

যুদ্ধের বারুদ নেই, রোমাঞ্চের হাতছানি

দুই দলেরই পরিচিত মঞ্চ। একদল এ নিয়ে ছয়বার উঠল এই মঞ্চে, আরেক দল সর্বশেষ পাঁচবারে চারবার। একদল এই মঞ্চে উঠেই খেই হারিয়ে ফেলে, উপলক্ষের চাপে হারিয়ে ফেলে নিজেদের। আরেক দল এই মঞ্চের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে জানে। আগের তিনবারের দুবারই উতরে গেছে দারুণ সাফল্যে। একদলের জন্য চ্যালেঞ্জ নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়া, হাতছানি ইতিহাসের। আরেক দলের লক্ষ্য স্রেফ চার বছর আগের উপাখ্যানটিরই পুনরাবৃত্তি। এই হলো আজকের নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা সেমিফাইনাল—নতুন ইতিহাস আর পুনরাবৃত্তির লড়াই!
লড়াই? বিশ্বকাপের আগে হলে এই ‘লড়াই’ শব্দটাই হাসির খোরাক তোলার জন্য যথেষ্ট ছিল। ভারতের কথা না হয় বাদ দেওয়া গেল, বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ আর সমস্যা-জর্জর পাকিস্তানের কাছে নিজ দেশের মাটিতে হার, সেই দল কীভাবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই লড়াই করবে! কিন্তু হাসির খোরাক হচ্ছে না, আজ নিউজিল্যান্ড জিতে গেলেও খুব বেশি লোক অবাক হবে না। বিশ্বকাপ এতটাই বদলে দিয়েছে নিউজিল্যান্ডকে!
মাত্রই এই অক্টোবর-নভেম্বরের কথা। কিন্তু এই বিশ্বকাপের দলটার সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সফরের দলটার এতটাই পার্থক্য যে, মনে হচ্ছে ওই নিউজিল্যান্ড যেন সেই কবেকার কথা! গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছে, কোয়ার্টার ফাইনালে স্তম্ভিত করে দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। গোটা ক্রিকেট-বিশ্বকেও কি নয়?
তবে এই বিশ্বকাপের নিউজিল্যান্ডকেই তো আবার উড়িয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা, সেটাও মাত্র এক ম্যাচ আগে এবং অন্য দেশের মাটিতে (মুম্বাই)। নিজেদের কন্ডিশনে তো তাহলে আরও সহজে জিতে যাবে শ্রীলঙ্কা! কুমার সাঙ্গাকারা শুনে আকাশ থেকে পড়লেন, ‘এমন কথা আমরা মাথাতেই আনছি না। এটা বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ম্যাচ, আত্মতুষ্টি বা হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পরিস্থিতি বুঝতে হবে, যেকোনো চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আগের ম্যাচের জয় আমাদের এখানে জেতাবে না। সম্পূর্ণ নতুন ম্যাচ। আমাদের ভালো খেলেই জিততে হবে।’
‘সম্পূর্ণ নতুন ম্যাচ’—সাঙ্গাকারার এই কথাটাই ড্যানিয়েল ভেট্টোরির সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটার কথা তাঁরা মাথাতেই রাখতে চান না। ওই ম্যাচের পরই যেখানে আছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর সুখস্মৃতি, তাকাবেনই বা কেন! ভেট্টোরি অবশ্য একেবারেই ভুলে যেতে চান না, সতীর্থদের মনে করিয়ে দিয়েছেন ওই ম্যাচের ভুলগুলো যেন না হয়।
আজ অবশ্য মুম্বাই ম্যাচের চেয়েও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে ভেট্টোরিদের জন্য। সামনে তিন স্পিনার! এর চেয়েও বড় খবর, ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা খেলা যে উইকেটে হয়েছে, আজকের ম্যাচও হচ্ছে সেখানেই। ভেট্টোরির মতো ভদ্রলোকও যেটা নিয়ে সামান্য ‘আওয়াজ’ তুললেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছে ইংল্যান্ড ম্যাচের উইকেটেই সেমিফাইনাল হবে। কাজেই দলেও নিশ্চয়ই ওরা পরিবর্তন আনবে না, তিন স্পিনারই হয়তো থাকবে। টানা দুটো ম্যাচ একই উইকেটে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচ ব্যবহূত উইকেটে হওয়া বিস্ময়কর তো বটেই। আমরা ভেবেছিলাম, নতুন উইকেটে খেলা হওয়াই নিয়ম, কিন্তু সেটা হচ্ছে না।’
তবে ক্রিকেট-বিধাতা হাত বাড়াতে পারেন নিউজিল্যান্ডের দিকে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যা খবর, তাতে আজ মুত্তিয়া মুরালিধরনের খেলার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। মুম্বাইয়ে ৪ উইকেট নিয়ে কিউইদের মূল হন্তারক ছিলেন ৩৯ বছরের ‘তরুণই’। কিন্তু ওই ম্যাচ থেকেই আবার বয়ে এনেছেন হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট। নতুন যোগ হয়েছে হাঁটুর চোট। নিশ্চিত করা যায়নি, তবে কাল কয়েকজন নাকি তাঁকে খুঁড়িয়ে হাঁটতেও দেখেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালের আগেও তাঁকে নিয়ে শঙ্কা ছিল। তখন সাঙ্গাকারা জোর দিয়ে বলেছিলেন মুরালি খেলবে এবং খেলেছেনও। কাল সেই সাঙ্গাকারার কণ্ঠেই সংশয়, ‘সংশ্লিষ্ট সবাই ওকে ফিট করে তোলার প্রাণান্ত চেষ্টা চালাচ্ছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে ম্যাচের দিন সকালে। ও না খেললেও সমস্যা নেই, আমাদের যথেষ্ট বিকল্প আছে।’ যে ধরনের চোট, অন্য কোনো সময় হলে হয়তো এখনই আনফিট বলে দেওয়া হতো তাঁকে। কিন্তু বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, হয়ে যেতে পারে মুরালির ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচও। মুরালি যেকোনো মূল্যেই খেলতে চাইবেন। দুই পায়ে ভর দেওয়ার শক্তি থাকলেও মুরালিকে মাঠে নামা থেকে বিরত রাখা কঠিন হবে। আর এই বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সেই পরিষ্কার, হাফ-ফিট মুরালিও এখনো অন্য অনেকের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে। ‘ব্যবহূত’ উইকেটে তিন স্পিনার খেলার মানসিক প্রস্তুতি তাই নিয়ে রাখছেন ভেট্টোরিরা।
একই উইকেট নিয়ে ভেট্টোরির বিস্ময় প্রকাশের ঘণ্টা দেড়েক আগেই সাঙ্গাকারার সংবাদ সম্মেলন হয়ে গেছে বলে শ্রীলঙ্কা অধিনায়কের প্রতিক্রিয়াটা জানা গেল না। মোহালিতে ভারত-পাকিস্তানের সেমিফাইনালের মতো যুদ্ধ-যুদ্ধ রবটা এখানে নেই। সাঙ্গাকারাও ভেট্টোরির জবাবে কিছু বললে হয়তো মাঠের বাইরে কিছুটা উত্তাপ ছড়াত।
তবে উত্তাপ না থাকলেও রোমাঞ্চ ঠিকই আছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসা দলটি কি পারবে রূপকথার জন্ম দিতে? দীর্ঘদিন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রতীক হয়ে থাকা ভেট্টোরি কি পারবেন অধিনায়কত্বের শেষ টুর্নামেন্টে নতুন ইতিহাস গড়তে? উপচে পড়া গ্যালারি, গোটা জাতির প্রত্যাশা—সাঙ্গাকারারা নিজ দেশের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল জিতলে জাতির জন্য এর চেয়ে বড় উপহার আর কী হতে পারে! ইতিহাস গড়া, না প্রত্যাশা পূরণ—কোনটির জয় হবে আজ?

পাকিস্তান নয়, ধোনিদের প্রতিপক্ষ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও!

দৃশ্য এক: পিসিএ স্টেডিয়ামের বাইরে টিকিট কাউন্টারের সামনে শ পাঁচেক লোকের ভিড়। দুই সপ্তাহ আগেই দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ‘সোল্ড আউট’ ঘোষণা দিয়ে দেওয়ার পরও কিসের আশায় কে জানে!
দৃশ্য দুই: ধোনিরা ভেতরে প্র্যাকটিস করছেন। রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় স্টেডিয়ামের মূল গেট থেকে প্রায় এক মাইল লম্বা গাড়ির লাইন। রাস্তার দুই পাশের গাড়িগুলো সকাল থেকেই ছিল। ডিশ-টিশ লাগানো টিভি চ্যানেলের গাড়ি। সংখ্যায় বিশ ছাড়িয়ে।
দৃশ্য তিন: পাঞ্জাবের উপমুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চণ্ডীগড় ও মোহালিবাসীকে অনুরোধ করছেন, কেউ যদি এক দিনের জন্য একটা ঘর ছেড়ে দিতে রাজি হন, তা হলে যেন বিশেষ পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করেন। হোটেলে জায়গা নেই। পাঞ্জাব সরকারের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে তাঁদের কোয়ার্টারের একটি করে অতিথিদের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন।
চাইলে এমন আরও দৃশ্যের পর দৃশ্য সাজানো যায়। ভারত-পাকিস্তান মহারণ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উন্মাদনা। সুখবীর সিং যথার্থই বললেন, ভারতে এমন কেউ নেই যে বুধবার এখানে থাকতে চায় না। সেই চাওয়া পূরণ হওয়ার জন্য টিকিট চাই। সেটির চেয়ে মহার্ঘ কিছু এই মুহূর্তে শুধু ভারত কেন, ভূ-ভারতেই নেই।
কপিল দেব শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, লোকাল হিরো যুবরাজ সিং না টিকিটের জন্য পরিচিতজনদের অনুরোধের হ্যাপা সামলাতে গিয়ে ম্যাচে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন! ভারতীয় এক ক্রিকেটার ‘আমি একটা টিকিটই দিতে পারি, সেটি দিল্লি থেকে মোহালির বাস টিকিট’ টুইট করেছেন বলে যে শোনা যাচ্ছে, সেটি যুবরাজই হবেন বলে ভারতীয় সাংবাদিকদের অনুমান। পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাব্যক্তিরা টিকিটের জন্য তদবিরের ঠ্যালায় একরকম গা ঢাকা দিয়েছেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শ খানেক লোকের বহর আসছে। তাদের জায়গা করে দিতেই গলদঘর্ম অবস্থা। আইসিসির মিডিয়া কর্মকর্তাও যেমন চোখে সরষে ফুল দেখছেন। মোহালির প্রেসবক্সে ঠেসেঠুসে ৭০ জন বসানো যায়। এই ম্যাচ কাভার করতে আগ্রহী সাংবাদিকের সংখ্যা যে তিন-চার গুণ বেশি!
ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে লেখার প্রথম ২৬৩ শব্দে ক্রিকেটের কোনো নামগন্ধ নেই দেখে বিরক্ত হতে পারেন। কিন্তু কিছু করার নেই। সাংবাদিকের তো আসল পরিস্থিতিটা তুলে ধরারও দায় থাকে। গত দুই দিন সকাল-সন্ধ্যা মোহালির পিসিএ স্টেডিয়ামে কাটানোর অভিজ্ঞতার কতটুকুই বা ক্রিকেট! টিকিট-নিরাপত্তা-ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামে পুলিশের সংখ্যা তিন না চার হাজার-দুই প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী-রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আসছেন কি না...এসব আলোচনাই তো বেশি শোনা গেল।
হ্যাঁ, সকাল-বিকেল দুই দলের প্র্যাকটিসের সময় ক্রিকেট কিছুটা থাকল। গত পরশুর মতো কালও সকালে পাকিস্তান, বিকেলে ভারত। তবে ভারতীয় দলের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা শুধু সাংবাদিকদের চাক্ষুষ দেখাতেই সীমাবদ্ধ থাকল। টেন্ডুলকারের নতুন ব্যাট হাতুড়ি পিটিয়ে ঠিকঠাক করায় ব্যস্ত সবাই—এটা সবাই দেখছে। কিন্তু মোহালিতে কেন হঠাৎ নতুন ব্যাট, এটা জানার কোনো উপায় নেই। কেউ কথা বললে তো!
এই বিশ্বকাপে প্রতিটি দলই অনুশীলন শেষে কাউকে না-কাউকে সংবাদ সম্মেলনে পাঠাচ্ছে। পাকিস্তান যেমন শনিবার মোহাম্মদ হাফিজকে পাঠিয়েছিল। পরশু এলেন মিসবাহ-উল-হক। কাল উমর গুল। ধোনির দল শুরু থেকেই এই প্রথাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আসছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আলাদা তাৎপর্যের কথা বাদই দিন, বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল বলে কথা। সেটির এক দিন আগেও ভারতীয় দলের ভাবনা জানার কোনো উপায় নেই। বিশ্বকাপের শুরুতে ভারতীয় সাংবাদিকেরা ‘সব দলই কাউকে না-কাউকে পাঠাচ্ছে, আপনারাও কাউকে দিন’ বলে টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন। মহেন্দ্র সিং ধোনি সটান ‘না’ বলে দেন। এর পর থেকে এই চলছে এবং ভারতের ‘বিশাল প্রভাবশালী’ সংবাদমাধ্যম সেটি মুখ বুজে মেনে নিচ্ছে!
মাঠে প্রতিপক্ষ বদল হচ্ছে, কিন্তু এই বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের জন্য এই একটা প্রতিপক্ষ ধ্রুব হয়ে আছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। ভাবা যায়, ভারতে বিশ্বকাপ নিয়ে এমন মারমার কাটকাট উত্তেজনা, অথচ এখন পর্যন্ত এক দিনও শচীন টেন্ডুলকার বা জহির খান সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেননি। আইসিসিও ঠুঁটো জগন্নাথ, ভারতীয় অধিনায়ক যে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আসার নিয়মও মানছেন না, সেটি বলার সাহসও নেই। যে চারটি ম্যাচে যুবরাজ সিং ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন, শুধু যুবরাজই এসেছেন সংবাদ সম্মেলনে।
ভারতীয় সাংবাদিকদের মনে হচ্ছে, ব্যাপারটা গা সওয়া গেছে। কিন্তু অন্য দেশের সাংবাদিকদের কাছে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের চেয়ে ভারতীয় দল বনাম ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এই লড়াই কম চমকপ্রদ লাগছে না। প্র্যাকটিসে মুখোমুখি হয়ে গেলেও সৌজন্যমূলক ‘হাই-হ্যালো’ পর্যন্ত হচ্ছে না। পরিস্থিতি এমনই বিদ্বেষময় যে, ভারতীয় দলের সঙ্গে নতুন ওটা কাকে দেখা যাচ্ছে, তা জানার জন্য ম্যাসিউরকে ঘিরে ধরছেন সাংবাদিকেরা। এটাকেও অভূতপূর্বই বলতে হবে, একটা দেশের সংবাদমাধ্যম মনেপ্রাণে চাইছে তাদের দল যেন বিশ্বকাপ না জেতে! তা হলে যে আর ধোনিদের ছায়াও মাড়ানো যাবে না। ধোনি নাকি এরই মধ্যে তাঁর ঘনিষ্ঠ কাকে বলেছেন, বিশ্বকাপ জিতলে টিভি চ্যানেলে ক্রিকেটারদের ইন্টারভিউ গুডবাই!
হঠাৎ কী এমন হলো যে, একটা দেশের ক্রিকেট দল আর সংবাদমাধ্যম এমন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল! ধোনির সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে এমন এক সাংবাদিক জানালেন, সাংবাদিকদের একটা মহল ধোনির অধিনায়কত্ব খেতে চান, এমন একটা ধারণা থেকেই নাকি ধোনির এমন চরম সিদ্ধান্ত। অনেকে আইপিএলের ভূমিকাও দেখছেন এতে। রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে ক্রিকেটাররা নাকি ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। সিনিয়র এক ভারতীয় সাংবাদিক ‘এমন করলে আরও বেশি গুজবনির্ভর নিউজ হবে’ জানিয়ে ধোনির কাছে সন্ধি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। ধোনি জানিয়ে দিয়েছেন, ওটা কথা বললেও হবে, না বললেও হবে। তিনি এতে থোড়াই কেয়ার করেন।
ভারতীয় সাংবাদিকদের বেশির ভাগই এর সূচনা হিসেবে দেখছেন ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে। অধিনায়কত্ব নিয়ে ধোনির সঙ্গে শেবাগের ঝামেলা চলছে—ভারতের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় এই খবর বেরোনোর পর নটিংহামে ধোনি পুরো দল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন। লিখিত বিবৃতি পড়ার পর বাধ্যতামূলক সংবাদ সম্মেলন ছাড়া ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বয়কট করার সিদ্ধান্তও জানিয়ে দেন আনুষ্ঠানিকভাবে।
মাঝের দুই বছরে সম্পর্কটা ভালো না হলেও কখনো কখনো ‘একটু কম খারাপ’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু এই বিশ্বকাপে এসে সেটি একেবারেই ভেঙে পড়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে, পাঠক বা দর্শকদের কথা ভেবে ভারতীয় পত্রপত্রিকা বা টিভি চ্যানেলগুলো যতই ‘ইন্ডিয়া-ইন্ডিয়া’ বলে চিৎকার করুক, মনে মনে বোধহয় মুম্বাইয়ের ফাইনালে ভারতকে না দেখলেই তারা খুশি হয়!
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। নতুন বলতে এটাই!

দল নির্বাচনে হ-য-ব-র-ল

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রথম ‘এ’ দলটা ১ এপ্রিল দিলেই ভালো করত নির্বাচক কমিটি। পরিবর্তন-টরিবর্তন যা-ই হোক, পরে অন্তত সেটাকে ‘এপ্রিল ফুল’ বলে চালিয়ে দিতে পারত। এখন তো সে উপায়ও নেই!
রফিকুল আলম, আকরাম খান আর জাহিদ রাজ্জাককে নিয়ে বর্তমান নির্বাচক কমিটি তাদের সময়ের সবচেয়ে হাস্যকর কাজটা করল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ‘এ’ দল আর অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জাতীয় দল ঘোষণা করতে গিয়ে। গত ২২ মার্চ মোহাম্মদ আশরাফুলকে অধিনায়ক করে ‘এ’ দল ঘোষণা হয়েছিল। কথা ছিল দু-এক দিনের মধ্যে ঘোষিত হবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জাতীয় দলও। গত পরশু নির্বাচকদের কাছ থেকে সেই দলটি পেয়ে টেকনিক্যাল কমিটি দীর্ঘ সভায় বসে। সভার পর বদলে যায় চার দিন আগে ঘোষিত ‘এ’ দল। যত দূর জানা গেছে, নির্বাচকদের দেওয়া জাতীয় দলেও হয়েছে ঘষামাজা। জুনায়েদকে বাদ দিয়ে শুভাগতকে নেওয়ার সিদ্ধান্তটা টেকনিক্যাল কমিটিরই।
তবে প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলমের দাবি, সব দলই নির্বাচক কমিটির করা। বোর্ড বা টেকনিক্যাল কমিটির কোনো হাত নেই। প্রশ্নটা তবু থাকে। কেউ ইনজুরিতে পড়েনি, কেউ খেলতে অপারগতাও প্রকাশ করেনি, কেউ কোথাও ডাবল সেঞ্চুরিও করেনি, তার পরও আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এ’ দল ঘোষণার চার দিনের মধ্যে কোনো কারণ, কোনো চাপ ছাড়াই কেন তাতে সংশোধনের প্রয়োজন পড়ল? চাপ-টাপ যদি না-ই থাকে, এটা নির্বাচক কমিটির অদূরদর্শিতাকেই তুলে ধরে।
পূর্বঘোষিত ‘এ’ দলে ছিলেন শুভাগত হোম ও নাদিফ চৌধুরী। নির্বাচকেরা তখনই জানতেন দু-এক দিনের মধ্যে ঘোষণা করতে হবে জাতীয় দলও। শুভাগতকে জাতীয় দলে বিবেচনা করা হলে তাঁকে নিশ্চয়ই তখন ‘এ’ দলে নেওয়া হতো না। একইভাবে জুনায়েদ সিদ্দিককে প্রথমে ‘এ’ দলে না নেওয়াও তাঁকে জাতীয় দলে রাখার চিন্তা থেকেই। অথচ পরশু টেকনিক্যাল কমিটির সভার পর নতুন করে দেওয়া ‘এ’ দলের সহ-অধিনায়ক জুনায়েদ, শুভাগত ‘প্রমোশন’ পেয়ে জাতীয় দলে! নাদিফ চৌধুরী বাদ। তাঁর জায়গায় ‘এ’ দলে নাঈম ইসলাম।
‘এ’ দল-জাতীয় দল নিয়ে টানাহেঁচড়া করে নির্বাচকেরা বোঝালেন, নিজেদের কাজের ওপর নিজেদেরই আস্থা নেই। অথবা তাঁরা পুতুল মাত্র। দল-টল আসলে করে টেকনিক্যাল কমিটি। বর্তমান নির্বাচক কমিটির ব্যাপারে দ্বিতীয় ধারণাটা শুরু থেকেই থাকলেও বিশ্বকাপের দল নিয়ে অনড় অবস্থানের কারণে মনে হচ্ছিল, অবশেষে হয়তো পিঠে মেরুদণ্ডটা খুঁজে পেতে শুরু করেছেন। সর্বশেষ ঘটনার পর সেটি আর মনে হচ্ছে না।
শুভাগত হোম কেন ‘এ’ দল থেকে হঠাৎ জাতীয় দলে কিংবা জুনায়েদ কেন ‘এ’ দলে—এসবের চেয়েও বড় প্রশ্ন, এই অদলবদল আসলে কারা করছে? রফিকুল আলমের মতো বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা এবং টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেনেরও দাবি, দল নির্বাচক কমিটিই করে। তবে তিনি বলেছেন, ‘শুভাগত হোমকে নিয়ে আমাদেরও প্রশ্ন ছিল। কিন্তু প্রধান নির্বাচক তাঁকে দলে রাখলে আমরা তো বাদ দিতে পারি না। আর “এ” দলে পরিবর্তন হয়েছে জাতীয় দলের কারণে। জাতীয় দলের খেলোয়াড় আগে ঠিক হয়। তারপর “এ” দলের খেলোয়াড়।’
তাহলে নির্বাচক কমিটি কেন আগে ‘এ’ দল করল? বোর্ড থেকেই বা কেন আগে ‘এ’ দলটিই ঘোষণা করা হলো? আর ঘোষণাই যদি হবে তবে কেন তা রদবদলের প্রয়োজন পড়ল, তা-ও আবার টেকনিক্যাল কমিটির ম্যারাথন সভার পর! এসব ব্যাপারে ক্রিকেট পরিচালনা প্রধানের ব্যাখ্যা সত্যি হলে মানতেই হয়, বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডে আসলে কোনো শৃঙ্খলা নেই। ‘আগে যে “এ” দলটা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে ওটা চূড়ান্ত কিছু ছিল না, খসড়া দল ছিল। আমি জানি না ওটা কীভাবে পত্রিকায় গেল। আমরা তো কোনো দল দিইনি’—বলেছেন এনায়েত হোসেন। বিসিবির মিডিয়া বিভাগ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দল ঘোষণার পর সেটার দায়দায়িত্ব খোদ ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধানই নিচ্ছেন না!
বিসিবিতে কি তবে ভূত ঢুকল?

বিবর্ণ ভবিষ্যৎই দেখছেন স্মিথ

নেতৃত্ব ছেড়ে দেবেন, এই ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন গ্রায়েম স্মিথ। ছেড়েও যাচ্ছেন। নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার আগে স্মিথ দক্ষিণ আফ্রিকানদের শোনালেন হতাশার কথা—দক্ষিণ আফ্রিকার নিকট ভবিষ্যৎও বিবর্ণ!
দুর্দান্ত খেলে গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। স্মিথের দল ইঙ্গিত দিয়েছিল, ‘চোকার্স’ অপবাদ এবার সত্যিই খসে পড়বে তাদের পিঠ থেকে। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে ধরা দিল সেই দক্ষিণ আফ্রিকাই। নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬৪ রানের পরাজয় নিয়ে মিরপুর থেকেই ফিরে যেতে হয়েছে দেশে।
জোহানেসবার্গে পৌঁছে স্মিথ বলেছেন, ‘দারুণ কিছু ম্যাচ খেলেছি আমরা। এগুলোর দিকে ফিরে তাকাতে পারি। তবে দলের জন্য এই হতাশা কাটিয়ে ওঠা কঠিন এবং নিকট ভবিষ্যৎটা আমার কাছে মলিনই মনে হচ্ছে।’
নিকট ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্মিথ যেন আতঙ্কিত। তবে অন্ধকার পথের শেষে আলোও দেখছেন, ‘আমার বিশ্বাস, এই পিছিয়ে পড়াটা আমাদের পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করবে।’ স্মিথ বলছেন, ‘এখন দ্রুত নতুন অধিনায়ক ও কোচ নিয়োগ দিতে হবে। অনেক কাজ করতে হবে তাদের।’
স্মিথের অবস্থা যেন ছেলে হারানো মায়ের মতো! হতাশার পিঠে আশার আলো দেখেন ঠিকই, কিন্তু হঠাৎ যখন ‘এই বিশ্বকাপে তাঁর দল আর নেই’ মনে পড়ে তাঁর, মনটা হাহাকারে ভরে যায়, ‘বিশ্বকাপ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ ছিল আমাদের। পরাজয়ের জন্য আমরা কেবল নিজেদেরই দুষতে পারি।’
ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান নির্বাহী জেরাল্ড মাজোলা এখন কলম্বোতে। সেখানে শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনাল দেখবেন। তাঁর কণ্ঠেও হতাশা, ‘আমার বিশ্বাস ছিল, আমরা বিশ্বকাপ জিতব।’ দক্ষিণ আফ্রিকা সেই চিরায়ত ‘চোকার্স’ রূপেই ধরা দিয়েছে মানছেন মাজোলা, ‘এই চোকার অপবাদটা আমাদের সব সময়ই ছিল। দুঃখজনক হলো, এটা আমাদের সয়ে গেছে। আমরা নিজেরাই এটা কাটিয়ে উঠতে পারিনি। সমস্যাটা মেনে নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে।’
মাজোলার খারাপ লাগছে স্মিথের জন্য, ‘বয়স যখন ১৮, সেই ১৯৯৮ থেকে ওকে চিনি। তখন আমি ছিলাম একজন নির্বাচক। ওকে আমি কখনো এভাবে ক্ষুব্ধ হতে দেখিনি।’
বিদায়ী কোচ কোরি ফন জিল স্বীকার করেছেন চোকার্স অপবাদ দলের ওপর চাপ তৈরি করেছে, ‘আমাদের সমর্থকেরাও যখন অতীতের কথা তুলে আনে সামনে, তখন তা আর আমাদের প্রেরণা দেয় না। বরং এটা বাড়তি চাপই তৈরি করে। জাতি হিসেবে বিষয়টি আমাদের এখন অন্যভাবে সমাধান করতে হবে। এই মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ থাকাটাই জরুরি।’

আজ জয়াবর্ধনের দিন

৭ ইনিংসে ২১ রান, গড় ৩! দুঃস্বপ্ন বললেও কম বলা হয়। প্রথম বিশ্বকাপটা (২০০৩) মাহেলা জয়াবর্ধনের জন্য ছিল এমনই। তাঁর মানের একজন ব্যাটসম্যান কীভাবে টানা এত ম্যাচ বাজে খেলতে পারেন, তা নিয়ে তখন অনেক আলোচনা-গবেষণাও হয়েছিল। সেই দুঃস্বপ্ন অনেকটাই ভুলিয়ে দিলেন গত বিশ্বকাপে। স্বপ্নের মতো হয়নি অবশ্য, তবে ১১ ম্যাচে ৬০.৮৮ গড়ে ৫৪৮ রান, বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক, দারুণ কিছু তো বটেই। আর এবার?
১০০, ২, ২৩, ৯, ৬৬—৪০ গড়ে ২০০ রান। দুই ম্যাচে সফল, তিন ম্যাচে ব্যর্থ। জয়াবর্ধনের তৃতীয় বিশ্বকাপকে বলা যায় প্রথম দুই বিশ্বকাপের একটা মিশ্রণ। ভালো-খারাপের মাঝামাঝি। তবে আজ যখন মাঠে নামবেন, নিশ্চয়ই ভালো করার একটা বাড়তি তাগিদ থাকবে তাঁর। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, নিজেতে অনুপ্রাণিত করার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। কিন্তু বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড...জয়াবর্ধনের নিশ্চয়ই মনে পড়বে ৪ বছর আগে স্যাবাইনা পার্কের সেই দিনটির কথা, যেদিন তাঁর ব্যাটে খুন হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের ফাইনাল-স্বপ্ন!
২০০৭ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে জ্যামাইকায় মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। জয়াবর্ধনে যখন ব্যাটিংয়ে নামলেন, লড়াই চলছিল সমানে সমান। শ্রীলঙ্কার রান ১৩.১ ওভারে ২ উইকেটে ৬৭। শুরুতে জয়াবর্ধনেকে দেখে মোটেও বোঝার উপায় ছিল না ‘খুন’ করার ইচ্ছা নিয়ে নেমেছেন। এক দিকে উপুল থারাঙ্গা মারছেন, আরেক দিকে তিনি উইকেট আঁকড়ে আছেন। দলীয় ১১১ রানের মাথায় যখন দারুণ খেলতে থাকা থারাঙ্গা আউট (৭৪ বলে ৭৩), ম্যাচ খানিকটা হেলে পড়ল কিউইদের দিকে। জয়াবর্ধনের ব্যাটে তখনো তাড়া নেই। একপর্যায়ে ৪৭ বলে ১৭ রান, চার নেই একটিও!
৩০ ওভারের পর হঠাৎ যেন বুঝতে পারলেন সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে, ৪৮তম বল পেলেন প্রথম চার। স্ট্রোকের ফোয়ারা ছুটতে থাকল। ৭৬ বলে ফিফটি, পরের ফিফটি মাত্র ২৮ বলে। শেষ পর্যন্ত ১০৯ বলে অপরাজিত ১১৫, ১০ চার, ৩ ছয়। শেষ ১০ ওভারে শ্রীলঙ্কার ১০২ রানের ৬৯-ই জয়াবর্ধনের ব্যাট থেকে। প্রথম ইনিংস শেষেই মোটামুটি ম্যাচ শেষ। ২৮৯ রান এই যুগে মোটেও ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়। কিন্তু ভাস-মালিঙ্গা-ফার্নান্ডো-মুরালিসমৃদ্ধ বোলিং আক্রমণের সামনে কিউই ব্যাটিং লাইনআপের জন্য ওই স্কোর একটু বেশি-ই ছিল, যেটা প্রমাণিতও হয়েছে পরে।
এবার শুরু করেছিলেন কানাডার বিপক্ষে ৮০ বলে সেঞ্চুরি করে। পরের ম্যাচে শোয়েব আখতারের দুর্দান্ত এক ইনকাটারে বোল্ড। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে থিতু হওয়ার পর আচমকা রানআউট, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নেমেছিলেন একেবারে শেষ দিকে। মুম্বাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আবার রানে ফিরলেন, কোয়ার্টার ফাইনালে ব্যাটিংয়ে নামার দরকারই হয়নি।
জয়াবর্ধনের মিশ্র টুর্নামেন্টের প্রসঙ্গ উঠলেই কুমার সাঙ্গাকারা হাসেন, পাত্তাই দিতে চান না। তাঁর কাছে এই টুর্নামেন্টে জয়াবর্ধনেও খেলছেন ‘গ্রেট’ ব্যাটসম্যানের মতো। লঙ্কান অধিনায়ক আশা করছেন, আজই সংশয়বাদীদের জবাব দিয়ে দেবেন জয়াবর্ধনে, ‘ও হলো বড় ম্যাচের খেলোয়াড়, আমাদের দলের সেরা ব্যাটসম্যান। অরবিন্দ ডি সিলভার পরেই জয়াবর্ধনে, এই দুজন শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের সেরা দুই ব্যাটসম্যান। মাহেলা কখনোই চ্যালেঞ্জ নিতে পিছপা হয় না, ও জানে কোন মুহূর্তে জ্বলে উঠতে হয়।’
প্রায় এক যুগ ধরে জাতীয় দলে সতীর্থ, ব্যক্তিগত জীবনেও দুজন খুব কাছের বন্ধু। জয়াবর্ধনেকে সাঙ্গাকারার চেয়ে ভালো আর কে চেনেন? তিনি যখন বলেছেন, চার বছর আগের স্যাবাইনা পার্কই আজ না ফিরে আসে প্রেমাদাসায়!