Showing posts with label সাভার. Show all posts
Showing posts with label সাভার. Show all posts

Sunday, November 24, 2024

তাজরীন ট্র্যাজেডি’র এক যুগ: হতাহতদের পুনর্বাসনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দিকে তাকিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা

আজ তাজরীন ট্র্যাজেডি’র একযুগ পূর্তি হলো। ২০১২ সালের ২৪শে নভেম্বর এই দিনে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় তোবা গ্রুপের তাজরীন ফ্যাশন কারখানায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে কারখানাটির ১১৭ জন শ্রমিক নিহত হন। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে কারখানা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছে অন্তত ২০০ জন শ্রমিক। এক যুগ পার হলেও এখনো সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি হৃদয় থেকে মুছতে পারেনি অগ্নিকাণ্ডে হতাহত শ্রমিক ও তাদের পরিবার। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পুনর্বাসনসহ আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘ একযুগে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হতাহতের পুনর্বাসনসহ প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ এবং আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন বলে আশাবাদী ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা।
তাজরীন ট্র্যাজেডির ১২ বছর উপলক্ষে নিহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা কারখানার ফটকের সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানার নিয়ে হতাহত শ্রমিক পরিবারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। প্রতি বছর এ দিনটিতে এমন কার্যক্রম চললেও এসব অসহায় ক্ষতিগ্রস্তদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি এখনো। ট্র্যাজেডিতে নিহত ও আহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৪শে নভেম্বর মনে করিয়ে দেয় স্বজন হারানোর বেদনা। এইদিনে কেউ হারিয়েছে মাকে, বোনকে, বাবাকে কেউ বা আবার হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। এইদিন ডুকরে কেঁদে ওঠে স্বজন হারানো মানুষগুলো। উপার্জনক্ষম মানুষগুলোই এখন তাদের পরিবারের বোঝা, কেউবা কোনোমতে দোকান দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের জীবনযুদ্ধ। কেউবা চিকিৎসা করাতেই নামমাত্র ক্ষতিপূরণসহ শেষ করেছেন তাদের সর্বস্ব। আবার অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন ক্ষতিপূরণ থেকেও। তারা আজ ১২ বছর ধরে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আশায় আছেন।

আহত নারী শ্রমিক শিল্পী বেগম জানান, ঘটনার দিন আগুনের লেলিহান শিখা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সিঁড়ি দিয়ে তড়িঘড়ি করে নামার সময় হঠাৎ নিচে পড়ে যান তিনি। এতে তার দুই হাত-পা ও মাজায় প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে দীর্ঘদিন সাভারের পক্ষাঘাততগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপিতে চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে ফিরলেও এখনো জীবনযুদ্ধে থেমে নেই। জীবিকার তাগিদে বর্তমানে চায়ের দোকানে চলছে তার সংসার। সরকারসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে সাময়িক কিছু সহায়তা পেলেও পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাননি তিনি। বহু পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন পার করছেন। আহত সবিতা রাণী জানান, কারখানাটির ৩য় তলায় তিনি সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যে সামান্য সহায়তা পেয়েছেন তা চিকিৎসা করাতেই শেষ হয়ে গেছে। বারবার আশ্বাস দিলেও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করা হয়নি। ক্ষতিপূরণ পেলে তিনি গ্রামে গিয়ে কিছু একটা করে সংসার চালাবেন বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুনর্বাসনসহ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

আহত শ্রমিক নাজমা ও রেহেনা আক্তার বলেন, আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। আগে কাজ করে আয় করে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করতে পারলেও এখন অন্যের ওপর ভরসা করতে হয়। এটা কোনো জীবন হলো? এদিকে, বিভিন্ন শ্রমিক নেতারা বলেন, তাজরীনে আগুন লাগার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ গেটে তালা লাগিয়ে শতাধিক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনার ১২ বছর পার হলেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে মালিকপক্ষের অবহেলায় পোশাক শিল্পে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। অবিলম্বে তাজরীনের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতসহ হাসপাতাল বানিয়ে তাদেরকে পুনর্বাসন করে কর্মসংস্থানের দাবি জানান। শ্রমিক নেতা মো. ইব্রাহিম জানান, তাজরীনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি সুপরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় শতাধিক শ্রমিক মারা যায় এবং আহত হয় আরও অনেকে। বিগত সরকারের আমলে আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু পূরণ করতে পারেনি। তাই বর্তমান নিরপেক্ষ সরকারের কাছে আহত ও নিহত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র সাভার-আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচাতে যখন শ্রমিকরা চিৎকার করছিলেন। তখনও মালিক দেলোয়ার হোসেন কারখানা থেকে বের হওয়ার সব গেটে তালা লাগিয়ে রাখেন। প্রাণে বাঁচতে অনেক শ্রমিক ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা জানান, সেদিন সন্ধ্যার দিকে তাজরীন ফ্যাশনস পোশাক কারখানাটির নিচতলার তুলার গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো আটতলা কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। ১২ বছর পরও আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনটি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। শারীরিক যন্ত্রণা, সংসারের অভাব অনটনের পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে দিন পার করছেন। আজও সে রাতের কথা মনে পড়লে আঁতকে ওঠেন তারা। এলাকাবাসী জানায়, একসময় সকাল হলেই যে কারখানাটি শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় মুখরিত থাকতো সেখানে আজ সুনসান নীরবতা বিরাজ করে। এত বড় ভবনটি এখন ভূতের বাড়ির মতো হয়ে গেছে। সম্প্রতি ভবনটির বেশ কিছু অংশ মেরামত করা হয়েছে। ভেতরে মালিকের লোকজনও থাকে। মাঝে মধ্যে দুই-একটি বড় কাভার্ডভ্যানও ভেতরে দেখা যায়। সাংবাদিকরা যেন ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে তাই প্রধান ফটক আটকে রাখা হয়। প্রসঙ্গত, তাজরীন ফ্যাশন কারখানাটিতে এক হাজার ১৬৩ জন শ্রমিক কাজ করতেন। দুর্ঘটনার সময় ৯৮৪ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। মরদেহ শনাক্ত হওয়ায় ৫৮ জনকে পরিবার ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যদের মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় তাদের জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
mzamin

Monday, September 16, 2024

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় চাঞ্চল্য ফিরেছে: অসন্তোষ নিরসনে শ্রম সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ কমিটি আশুলিয়ায়

সাভারের আশুলিয়ায় বিভিন্ন দাবি আদায়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে অব্যাহত শ্রমিক বিক্ষোভের পর বিজিএমইএ’র আহ্বানে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে। গতকাল সকাল থেকেই তৈরি পোশাক শ্রমিকরা নিজ নিজ কারখানায় প্রবেশ করে কাজে যোগ দিয়েছেন। দিনভর শিল্পাঞ্চলের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে আশুলিয়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন দাবি আদায়ে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি কারখানা পরিদর্শন করেছেন শ্রম সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ কমিটি। এ সময় কমিটির সদস্যরা কারখানার মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের অভিযোগ শুনে প্রাথমিক দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

সকাল ১০টায় শ্রম সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যরা প্রথমে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার অনন্ত গ্রুপ পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে তারা পার্শ¦বর্তী হা-মীম গ্রুপ পরিদর্শনে যান। সেখানে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা শ্রমিক মালিকসহ পোশাক খাতে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং শ্রম সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়ক সবুর হোসেন বলেন, গত বুধবার ১১ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। পরদিন কমিটির কার্যপরিধি ও কার্য পরিচালনার বিষয় নিয়ে সভা করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে শিল্পাঞ্চলের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে সকল অভিযোগ শুনতেই সরজমিন এসেছি। আশা করছি এখন থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সব কারখানা ধীরে ধীরে খুলে দেয়া হবে। কোনো দাবিতে সড়ক ও কাজ বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই। সবুর হোসেন আরও বলেন, কারখানার মালিক, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, আপত্তি, অভিযোগ তারা জানতে চান। এসব জানানোর জন্য হটলাইন ১৬৩৫৭ নম্বর চালু করা হয়েছে। সেইসঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ই-মেইল আইডি ও ডাকযোগেও অভিযোগ জানানো যাবে। শ্রম সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যরা মালিক শ্রমিক উভয় পক্ষেরই অভিযোগ শুনে সরকারকে অবহিত করবেন। যে সকল দাবি পূরণ করা যায় তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল সকালে আশুলিয়ার অধিকাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। এর ফলে বেশির ভাগ কারখানা উৎপাদনে ফিরলেও  বন্ধ রয়েছে প্রায় ২০টি কারখানা। এর মধ্যে শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে ১৮টি, বাকি দু’টি কারখানায় সাধারণ ছুটি চলছে। সকালে শিল্পাঞ্চলের পোশাক কারখানায় দেখা যায়, সকাল ৮টা থেকে খোলা কারখানার শ্রমিকরা কর্মস্থলে যোগ দিয়ে উৎপাদন শুরু করে। নাশকতা ও সহিংসতা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। সকালে আশুলিয়ার কাঠগড়া, জিরাবো, নরসিংহপুর, জামগড়া এলাকায় দেখা যায়, বিভিন্ন কারখানার সামনে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সড়কে টহল দিচ্ছেন সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা। কারখানার মালিকপক্ষ জানায়, সকালে ৪ থেকে ৫টি কারখানায় শ্রমিক প্রবেশ করলেও বিভিন্ন দাবিতে উৎপাদন বন্ধ রাখেন তারা। পরে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তারাও কাজে যোগ দিয়ে উৎপাদন শুরু করেন। শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম  বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩(১) ধারায় ১৮টি বন্ধ এবং দু’টি কারখানায় সাধারণ ছুটি রয়েছে। এর বাহিরে শিল্পাঞ্চলের সকল কারখানায় স্বাভাবিক  রয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম। শিল্পাঞ্চলে যেকোনো ধরনের অপ্রতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোর সামনে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে যৌথবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।

mzamin


Sunday, September 15, 2024

আশুলিয়ায় উৎপাদনে ফিরেছে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা

আশুলিয়ায়  বিভিন্ন দাবিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে গত বৃহস্পতিবার আশুলিয়ায় বন্ধ হওয়া ২১৯ কারখানার মধ্যে অধিকাংশই খুলে দেয়ার পর সেগুলোতে শুরু হয়েছে উৎপাদন। তবে এখনো বন্ধ রয়েছে ৫২টি কারখানা। এর মধ্যে ৩৯টি কারখানা শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা মোতারেক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ১৩টি কারখানা সাধারণ ছুটির কারণে বন্ধ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার আলম।

সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলে কোথাও কোনো শ্রমিক বিক্ষোভ নেই ও শ্রমিকরা রাস্তায় নামেননি। কারখানাগুলোর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও শিল্প পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি। শুক্রবার বিকালে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বিনোদন পার্ক ফ্যান্টাসি কিংডম মাঠে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে কারখানায় কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম। জানা গেছে, বিভিন্ন দাবিতে টানা কয়েক দিন ধরেই শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। কিন্তু মালিকপক্ষ দাবি মেনে না নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসেনি। যেসব কারখানাগুলোতে শ্রমিক এবং মালিকপক্ষ বসে আলোচনা হয়েছে, সেই কারখানাগুলোতে কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু কিছু কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে বন্ধ দেখে ফিরে যায়। এ ছাড়া সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়ার পরেও কিছু কারখানায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে ছুটি ঘোষণা করেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, শনিবার সকালে বেশির ভাগ পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেছে শ্রমিকরা। তবে কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ১৩(১) ধারা মোতাবেক ৮৬টি কারখানা বন্ধ ছিল। এ ছাড়া ১৩৩টি কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। এসব কারখানার বেশির ভাগই খুলে দিয়েছে। এদিকে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কারখানা ভাঙচুর ও কারখানা কর্মকর্তাদের মারধরের অভিযোগ এনে ২০ শ্রমিককের নামে মামলার প্রতিবাদে জামগড়া এলাকায় মদিনাপেল ফ্যাশন ক্রাফট লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। আয়োজিত মানববন্ধন থেকে শ্রমিকরা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মোট কারখানা রয়েছে ১ হাজার ৮৬৩টি। এরমধ্য অধিকাংশই পোশাক কারখানা। গত কয়েকদিনের চেয়ে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। তবে দাবি-দাওয়া নিয়ে সুরাহা না হওয়ায় এখন পর্যন্ত ১৩ (১) মোতাবেক ৩৯টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ১৩টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কারখানার মধ্যে অধিকাংশই পোশাক কারখানা। দুই একটি রয়েছে ওষুধ ও জুতা তৈরির কারখানা। তিনি আরও বলেন, শনিবার শিল্পাঞ্চলের কোথাও কোনো কারখানায় অস্থিরতা দেখা যায়নি। এমনকি সড়ক অবরোধসহ কারখানায় হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেনি। শিল্পাঞ্চলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে যৌথবাহিনীর টহলও অব্যাহত রয়েছে।

mzamin

Wednesday, September 11, 2024

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার বেশির ভাগ স্বাভাবিক, ৪০টিতে ছুটি

সাভারের আশুলিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, টিফিন বিল বৃদ্ধিসহ হাজিরা বোনাস বৃদ্ধি, নানা দাবিতে বিভিন্ন কারখানায় চলমান শ্রমিক আন্দোলন নিরসনে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া  সত্ত্বেও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গতকাল সকালে নির্দিষ্ট সময়ে শ্রমিকেরা কারখানায় প্রবেশ করলেও কাজ না করায় আশুলিয়ার জামগড়া, নরসিংপুর, ঘোষবাগ এলাকার ৪০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়াও আরও ১০টি কারখানায় শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করেছে। অন্যসব কারখানাগুলো চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে যেসব এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে, সেসব এলাকায় মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল থেকে বেশ কয়েকটি কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কারখানার সামনে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, র‍্যাব, পুলিশের রায়টকার। এ সময় কারখানাগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে দেখা গেছে। দুপুর পর্যন্ত কারখানা-সংলগ্ন কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়কে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যরা টহল দিচ্ছে। শিল্প পুলিশ জানায়, সকালে শ্রমিকরা নির্ধারিত সময়ে কারখানায় উপস্থিত হয়।

কিন্তু পরে কিছু কারখানায় কাজ বন্ধ করে বসে থাকায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। আশপাশের কারখানায় ছুটি দেয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে আরও কিছু কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জনরন সোয়েটার কারখানার এইচআর এডমিন অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিজিএমইএ’র নির্দেশনা মেনে আমরা কারখানা পরিচালনা করছি। এরমধ্যে হঠাৎ করে বহিরাগত কিছু লোকজন কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের লিঙ্কিং এবং ট্রিমিং শাখা ছুটি ঘোষণা করা হলেও অন্যান্য শাখায় কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে কারখানায় হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেয়া হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। শিল্প রক্ষায় শ্রমিকরা সচেতন হলে কারখানা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব। অন্যথায় এই শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে। সময়মতো পোশাক উৎপাদন এবং রপ্তানি করতে না পারলে বায়াররা আমাদের দেশ থেকে অন্যত্র চলে গেলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা কষ্টকর হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ গামের্ন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, সোমবার তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সন্ধ্যায় বিজিএমইএ কারখানামালিক, শ্রমিকনেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে কিছু দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার অধিকাংশ কারখানা সচল রয়েছে। তবে কিছু কারখানা আগে থেকে বন্ধ এবং কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা অভ্যন্তরীণ কিছু দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছে। তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ থেকে হাজিরা বোনাস ও টিফিন বিল বৃদ্ধি, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত না করা, নারী-পুরুষের বৈষম্য করা হবে না এমন সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়া হয়েছে, যা খুবই ইতিবাচক। পাশাপাশি শ্রমিকদের অন্য যেসব দাবি রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কারখানার মালিকপক্ষ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। এখন এ বিষয়টির সমাধান হলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আশুলিয়ার ফাউন্টেইন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড কারখানার এমব্রয়ডারি অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মিজানুর রহমান সুমন বলেন, এতদিন অস্থিরতা বিরাজ করছিল, আমরাও উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলাম। বিজিএমইএ ইতিমধ্যেই শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়েছে, শ্রমিকরাও ভালো সাড়া দিয়েছেন। আমাদের কারখানাসহ বেশির ভাগ কারখানা চালু রয়েছে। পোশাক শিল্প নিয়ে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল, আমার মনে হয় সেটা কেটে গিয়েছে। এখন আমরা পূর্ণোদ্যমে কাজ করতে পারবো। শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, বেশকিছু দিন ধরেই বিভিন্ন দাবি আদায়ে আন্দোলন করে আসছে শ্রমিকরা। আমরা তাদের সঙ্গে মালিকপক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করছি। কিছু কারখানায় আবার নতুন করে দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু করায় মঙ্গলবারও ৪০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অন্যান্য কারখানায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের রায়টকার প্রস্তুত রয়েছে।

mzamin

Wednesday, August 14, 2024

‘পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে একজন জীবন্ত মানুষকে এভাবে কোনো মানুষ ফেলে দিতে পারে না’ by মানসুরা হোসাইন

পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের ওপর থেকে একজনকে টেনে নিচে ফেলা হলো। তিনি সাঁজোয়া যানের চাকার কাছে সড়কে পড়ে থাকেন। এরপর পুলিশের এক সদস্য সাঁজোয়া যান থেকে নিচে নামেন। এক হাত ধরে তাঁকে টেনে আরেকটু দূরে সড়কে ফেলে রাখেন। এখানেই শেষ নয়, পরে কয়েকজন পুলিশ মিলে তাঁকে টেনে সড়ক বিভাজকের ওপর দিয়ে ঠেলে অপর পাশে ফেলে দেন।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাভারের পাকিজা মডেল মসজিদের কাছে গত ১৮ জুলাই ঘটনাটি ঘটে।

যাঁকে ফেলে দেওয়া হয়, তাঁর নাম শাইখ আশহাবুল ইয়ামিন। তিনি রাজধানীর মিরপুরের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন, থাকতেন এমআইএসটির ওসমানী হলে। বাসা সাভারের ব্যাংক টাউন আবাসিক এলাকায়। তাঁকে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা ইয়ামিন নামেই ডাকতেন।

গতকাল মঙ্গলবার সাভারের ব্যাংক টাউন আবাসিক এলাকার বাসায় বসে কথা হয় ইয়ামিনের বাবা মো. মহিউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘একজন জীবন্ত মানুষকে এভাবে কোনো মানুষ নিচে ফেলে দিতে পারে না। আমি কারও কাছে বিচার চাই না। জিডি করিনি। ছেলের লাশের পোস্টমর্টেম করাইনি। শুধু আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি। সবাই দোয়া করবেন, আমরা যেন ধৈর্য ধরতে পারি।’

ইয়ামিনকে এভাবে ফেলে দেওয়ার ভিডিও তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। মহিউদ্দিন ভিডিওটি দেখেন ঘটনার দুই দিন পরে। অবশ্য বর্তমানে ফেসবুকে ভিডিওটি দেখা যাচ্ছে না। তবে অনেকেই ভিডিওটি ডাউনলোড করে রেখেছেন।

মহিউদ্দিন বলেন, তাঁর ছেলে ইয়ামিন মারা যাওয়ার পর তাঁকে নিয়ে ফেসবুকে একেকজন একেকভাবে মনগড়া কথা বলেছেন। তিনি চান, তাঁর ছেলে সম্পর্কে সবাই সঠিক তথ্য জানুক।

ইয়ামিনের জন্ম ২০০১ সালের ১২ ডিসেম্বর। তিনি সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। এই দুই পরীক্ষাসহ বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড–গণিত অলিম্পিয়াডে পাওয়া সনদ ও বিভিন্ন কাগজপত্র গুছিয়ে রেখেছিলেন ইয়ামিন। বাবা মহিউদ্দিন ছেলের একেকটা সনদ দেখাচ্ছিলেন আর স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছিলেন।

ইয়ামিনের মা নাসরিন সুলতানা, তিনি গৃহিণী। বোন শাইখ আশহাবুল জান্নাত, তিনি পড়ছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মা ও বোন ইয়ামিনকে নিয়ে কোনো কথা বলতে চাইলেন না।

সাভারের ব্যাংক টাউন আবাসিক এলাকায় ইয়ামিনকে কবর দেওয়া হয়েছে। তাঁর কবরে একটি তুলসীগাছ ও একটি ফুলের চারা লাগিয়েছেন মা নাসরিন সুলতানা।

আবাসিক এলাকার ভেতরে থাকা শহীদ মিনারে ইয়ামিনের ছবি দিয়ে একটি ব্যানার টানানো হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ অন্যরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল দিচ্ছেন।

মহিউদ্দিন একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্তান মারা যাওয়ার মানে হলো আমৃত্যু কষ্ট। ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করার ভিডিও দেখাটা আরও কষ্টের।

ইয়ামিনের বাবার অভিযোগ, তাঁর ছেলে পুলিশের হাতে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর তাঁদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খোঁজার চেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে কেউ রাজনৈতিক দলের দাবার ঘুঁটি বানাক, তা আমরা চাই না। আমার ছেলে রাজনীতিসচেতন ছিল। আমিও রাজনীতিসচেতন। তবে কোনো দল করি না। ছেলে বুয়েট ও রংপুর মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েও পড়েনি। ছোটবেলায় পড়েছে সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পরে ভর্তি হয় এমআইএসটিতে। এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই রাজনীতি করার সুযোগ নেই।’

মহিউদ্দিন বলেন, ‘তবে আমরা ধার্মিক পরিবার। ছেলে নামাজ পড়ত। তার মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি ছিল। এটা দেখে কেউ যদি আমার ছেলেকে সন্ত্রাসী, জঙ্গি, জামায়াত-শিবির বা জামায়াত বানানোর চেষ্টা করে, তা তো আমরা হতে দেব না।’
সেদিন কী ঘটেছিল

মহিউদ্দিন বলেন, ফেসবুকে ভিডিওটি অনেকেই দেখেছেন। পরিবারের সদস্যরাও ভিডিওটি দেখেছেন। এর বাইরে সেদিন আসলে কী ঘটেছিল, তা এখন পর্যন্ত তাঁরা সুনির্দিষ্ঠভাবে জানেন না। ইয়ামিনের বন্ধুসহ অন্যদের মুখ থেকে ঘটনার টুকরো টুকরো খবর জানতে পারছেন।

১৭ জুলাই সকালে ইয়ামিন এমআইএসটির হল থেকে বাসায় ফেরেন। হল ছাড়ার নির্দেশনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইয়ামিনদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। ইয়ামিন মারা যাওয়ার পর তাঁর একটি লেখা থেকে এ কথা জানতে পারেন বাবা মহিউদ্দিন।

মহিউদ্দিন জানান, ইয়ামিন তাঁর মা ও বোনকে সব কথা বলতেন। তবে তাঁর সঙ্গে ছেলের সম্পর্কটা বন্ধুর মতো ছিল না। হল থেকে ছেলে বাসায় ফেরার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।

মহিউদ্দিন বলেন, ছেলে মারা যাওয়ার পর ফেসবুকে কেউ কেউ বলেছেন, মারা যাওয়ার দিন ইয়ামিন রোজা রেখেছিলেন। এ কথাটা সত্য নয়।

ছেলের কবরের পাশে একটি বিড়াল বসে আছে, এমন একটি ছবি মহিউদ্দিন ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। এই ছবি দেখে অনেকে প্রচার করছেন, বিড়ালটি ইয়ামিনের ছিল। ইয়ামিন মারা যাওয়ায় তাঁর কবরের পাশে গিয়ে বসে আছে বিড়ালটি, এটিও সত্য নয়। বিড়ালটি আশপাশের কারও হতে পারে। সেদিন ইয়ামিনের কবরের পাশে বিড়ালটি বসে ছিল। এই দৃশ্য দেখে তাঁর এক ভাগনে ছবিটি তুলেছিলেন।

১৮ জুলাই মহিউদ্দিন বাইরে যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইয়ামিন দৌড়ে তাঁর কাছে এসেছিলেন। বলেছিলেন, তাঁর কয়েকজন বন্ধু আন্দোলনে আহত হয়েছেন। মিরপুরের দিকে তাঁর পরিচিত কোনো হাসপাতাল আছে কি না, যেখানে বন্ধুদের ভর্তি করা যাবে।

মহিউদ্দিন ছেলেকে বলেছিলেন, মিরপুরে কোনো হাসপাতালে তাঁর পরিচিত কেউ নেই। তবে টেকনিক্যাল মোড়ের একটি হাসপাতালে আহত বন্ধুদের নিয়ে যাওয়া যেতে পারে, এ কথা বলার পর ছেলে রাগ দেখান। সেটাই ছিল ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা।

১৮ জুলাই আন্দোলনে উত্তাল ছিল সাভার এলাকা। মহিউদ্দিন বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘরে ফিরে ছেলেকে বলি, শুধু ঢাকা নয়, সাভারেও তো গন্ডগোল শুরু হয়ে গেছে। ছেলে এ কথা শোনার পর কোনো কথা বলেনি। বুঝতে পারি, পরিচিত হাসপাতালের ঠিকানা দিতে পারিনি বলে ছেলে রাগ করেছে। তবে ছেলেকে দেখে বুঝতে পারি, সে তার বন্ধুদের নিয়ে চিন্তা করছিল।’

এদিন মহিউদ্দিন জোহরের নামাজ পড়তে মসজিদে যান। ইয়ামিনও নামাজে যান। রোজা রাখায় মহিউদ্দিন মসজিদ থেকে কিছুটা দেরিতে বেলা ২টার দিকে বের হন। বের হয়ে দেখেন, মোবাইলে তাঁর স্ত্রীর দুটো মিসড কল। স্ত্রীকে ফোন দিলে তিনি জানান, ইয়ামিন বন্ধুদের দেখতে যাবে বলে ঘর থেকে বের হয়ে গেছে। তারপর ছেলেকে বাসার সবাই ফোন দিতে থাকেন। কিন্তু ফোন ধরেননি ইয়ামিন।

ইয়ামিনের বন্ধুরা সাভার ও মিরপুর এলাকায় থাকেন। সেদিন রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। তাই মহিউদ্দিন বুঝতে পারছিলেন না, ছেলেকে খুঁজতে কোথায় যাবেন।

মহিউদ্দিন বলেন, ‘বাসায় টেলিভিশন নেই। তাই বাইরের কোনো খবর দেখতে পাচ্ছিলাম না। ইন্টারনেট কাজ করছিল না। তাই ফেসবুকেও কোনো খবর জানতে পারছিলাম না। অথচ ততক্ষণে অনেক কিছুই ঘটে গেছে।’

বেলা ৩টার দিকে ইয়ামিনের মাকে একজন ফোন করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে যেতে বলেন। মহিউদ্দিন বলেন, ‘তখন মনে করেছি, ছেলে হয়তো আহত হয়েছে। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন পথ ঘুরে হাসপাতালে যাই। ছেলের নাম শুনে একজন বলেন, ওটিতে (অস্ত্রপচারকক্ষ) যান। সেখানে যাওয়ার পর আরেকজন নিচতলায় যেতে বলেন। এক নারী চিকিৎসক এসে ইয়ামিনের মাকে জড়িয়ে ধরেন। তখনো ছেলের মৃত্যুর কথা চিন্তা করিনি।’

মহিউদ্দিন জানান, ওই নারী চিকিৎসক তাঁদের একটি তালা দেওয়া রুমের সামনে নিয়ে যান। সেখানে শিক্ষার্থীদের অনেক জটলা ছিল। তালা খুললে দেখা গেল, একটি স্ট্রেচারে ইয়ামিন শুয়ে আছেন। তখন জানা গেল, এই হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর ছেলে মারা গেছেন। এখানে কোনো চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগই পাননি চিকিৎসকেরা। ছেলের বন্ধুরা জানান, ইয়ামিনকে প্রথমে বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ক্লিনিক ভর্তি করতে রাজি হয়নি।

এই বাবা বলেন, ছেলের বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া আরেক ভিডিওতে দেখা যায়, ইয়ামিনকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় কেউ কেউ তাঁকে চোখ খোলা রাখতে বলছিলেন। ছেলে তখনো জীবিত ছিলেন।
‘ইয়ামিন সাহসী ছিল’

পারিবারিক সিদ্ধান্তে ইয়ামিনের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়নি বলে জানান মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, তাঁরা ছেলের লাশ দ্রুত হাসপাতাল থেকে বের করতে চাইছিলেন। তখন বাইরে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন। পুলিশের গুলিতে মারা গেছে বলে হাসপাতালের কেউ কেউ লাশ দিতে ভয় পাচ্ছিলেন। কেউ কেউ লাশ বের করতে বাধাও দেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা ইয়ামিনের লাশ নিয়ে মিছিল করতে চাচ্ছিলেন। তখন ছেলের এক বন্ধুর সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্স এনে দ্রুত লাশ বাসায় আনা হয়।

মহিউদ্দিন বলেন, ছেলেকে কুষ্টিয়ায় গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কুষ্টিয়া থেকে এক আত্মীয় ফোন করে জানান, স্থানীয় থানা থেকে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া লাশ দাফন করা যাবে না। দেশের পরিস্থিতিও এমন ছিল যে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া বা কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় যাওয়া-আসার মতো অবস্থা ছিল না। সাভারে লাশ দাফনের ক্ষেত্রেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন লাগবে বলে থানা থেকে জানানো হয়। পরে এক পুলিশ বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করলে তিনি জানান, পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করলে কোনো সমস্যা হবে না। তাই সাভারের এই আবাসিক কলোনির কবরস্থানেই ছেলেকে দাফন করা হয়।

মহিউদ্দিনের ভাষ্য, ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগপর্যন্ত তাঁর কাছে আওয়ামী লীগের নেতাসহ বিভিন্নজন ফোন করে ছেলের সম্পর্কে নানা তথ্য জানতে চান। কুষ্টিয়ায় গ্রামের বাড়িতে পুলিশ যায়। খোঁজখবর নেয়।

মহিউদ্দিন গর্ব করে বলেন, তাঁর ছেলে সাহসী ছিলেন। অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ করতেন। ক্লাসে এক শিক্ষককে ইয়ামিন সরাসরি বলেছিলেন, তাঁর পড়ানো হচ্ছে না। দুই দিন পরে সেই শিক্ষক স্বীকার করেছিলেন, তিনি যেভাবে পড়াচ্ছিলেন, তা ঠিক ছিল না।

ইয়ামিন মেধাবী ছিলেন বলে জানান তাঁর বাবা। তিনি বলেন, বন্ধুরা কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে ইয়ামিন বুঝিয়ে দিতেন। ইয়ামিন বিতর্ক করতেন। এমআইএসটিতে বিতর্ক ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইয়ামিন। ছেলে বড় হলেও অবসরে ছোট বাচ্চাদের মতো ‘টম অ্যান্ড জেরি’ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কার্টুন দেখতেন বলে জানান বাবা।

মহিউদ্দিন জানান, অনেক আগে থেকেই তিনি তাঁর বাবার নামে একটি ফাউন্ডেশন করার কথা চিন্তা করছিলেন। ইয়ামিন মারা যাওয়ার পর ঠিক করেছেন, ছেলের নামে একটি ফাউন্ডেশন করবেন। এই ফাউন্ডেশনে কেউ সহায়তা করলে তা ছাত্র আন্দোলনে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবার বা আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে।

কথা শেষে ফিরে আসার সময় মুঠোফোনে ছেলের লাশের ছবি দেখিয়ে এই প্রতিবেদককে মহিউদ্দিন বলেন, ‘একদম কাছ থেকে টার্গেট করে ইয়ামিনকে রাবার বুলেট মারা হয়েছে। এই যে দেখেন, বুকের বাঁ পাশে এক জায়গায় অনেকগুলো বুলেটের আঘাত। তারপর তাকে সাজোয়া যান থেকে ফেলে দেওয়া হয়।’

{প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন সাভারে কর্মরত প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান}

Friday, March 16, 2018

যৌন উত্তেজক হালুয়া খেয়ে দুই যুবকের মৃত্যু

সাভারের আশুলিয়ায় যৌন উত্তেজক হালুয়া খেয়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়েছে আরো দুইজন। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে কবিরাজের যৌন উত্তেজক হালুয়া খেয়ে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকার হাশেম প্লাজার পেছনে অবস্থিত মণ্ডল কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- আশুলিয়া থানার ভাদাইল এলাকার আব্দুল জয়নালের ছেলে  মো. জিল্লুর রহমান (২৪) ও একই এলাকার সুজাদ আলীর ছেলে মো. মোতালেব মিয়া (২৫)। এ ঘটনায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন বাকিরা হলো- আশুলিয়া থানার ভাদাইল এলাকার মো. আবুল শেখের ছেলে মো. শামীম (২৭) ও পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানা এলাকার মৃত গনি হাওলাদারের ছেলে মো. ফরিদ উদ্দিন (৪৯)। এদের মধ্যে ফরিদ উদ্দিন আশুলিয়ার নতুন ইপিজেড এলাকার সাইরেক্স ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার সিকিউরিটি সুপারভাইজার এবং বাকিরা সবাই বিভিন্ন কারখানার পোশাক শ্রমিক। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার বাবুল হোসেন জানান, বুধবার রাতে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকা থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জিল্লুর রহমান, মোতালেব মিয়া, শামীম ও ফরিদ উদ্দিন নামের চার জনকে নিয়ে আসেন তাদের স্বজনরা। এসময় হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জিল্লুর রহমানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এবং বাকিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আইসিইউতে প্রেরণ করেন। পরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই মোতালেব মিয়া নামে আরো এক যুবক মারা যান। এছাড়া বর্তমানে শামীম ও ফরিদ উদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ফরিদ হোসেনের সহকর্মী জানান, ফরিদ হোসেন রাত ১০টায় কারখানায় প্রবেশ করেন। এরপর রাত ১২টার দিকে আকস্মিকভাবে বমি করার পাশাপাশি ঘামতে থাকেন। পরে তাকে স্থানীয় হাবিব ক্লিনিকে নেয়া হলে তিনি বাসায় হালুয়া খাওয়ার কথা জানান। ঠিক একই সময় আব্দুল মোতালেব, জিল্লুর রহমান এবং শামীমকে হাসপাতালে নিয়ে আসে তাদের স্বজনরা। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসকরা চারজনকেই এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মণ্ডল কলোনির ম্যানেজার নুরু মিয়া ও লুৎফর রহমান নাসির নামে একজন ভণ্ড কবিরাজকে বাসায় রেখে ব্যবসা করেন। রাতে ওই কবিরাজ চার জনকে যৌন উত্তেজক হালুয়া তৈরি করে খাওয়ান। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তারা অসুস্থ হতে শুরু করেন। সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গৌতম ঘোষ জানান, বমি, শ্বাসকষ্ট ও অস্থিরতা নিয়ে বুধবার রাতে চার ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন। এ ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিকভাবে খাদ্য বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহিনুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

Tuesday, November 21, 2017

নয় বছর নীরব থাকার পর মারা গেছেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি

দীর্ঘ নয় বছর নীরব থাকার পর গতকাল বেলা সোয়া বারোটায় মারা গিয়েছেন ভারতের সাবেক মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। নয়াদিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালে তার মৃত্যুর সময়ে স্ত্রী দীপা দাশমুন্সি এবং পুত্র মিছিল তার পাশে ছিলেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। বয়স ছিল ৭২ বছর। ১৯৪৫ সালে বর্তমানে বাংলাদেশে তার জন্ম। ২০০৮ সালে মহানবমীর রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ভারতের তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংসদবিষয়ক মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। তাকে দ্রুত পশ্চিমবঙ্গের কালিয়াগঞ্জ থেকে নয়াদিল্লির এইমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রিয়রঞ্জন সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। পরে তাকে এইমস থেকে স্থানান্তর করা হয়েছিল ইন্দ্রপ্রস্থ অ্যাপোলো হাসপাতালে। মাঝে অবশ্য উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জার্মানিতেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অসুস্থ হওয়ার থেকে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। প্রথম কিছু দিন কোমায় ছিলেন তিনি। পরে চিকিৎসকরা তাকে কোমা থেকে বার করে আনতে পেরেছিলেন। কিন্তু প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির চেতনা আর পুরোপুরি ফেরানো যায়নি। তার জ্ঞান ফিরেছিল ঠিকই। কিন্তু বাকশক্তি বা স্মৃতি আর ফেরেনি। কোনও বিষয়েই কোনও  প্রতিক্রিয়া বা অভিব্যক্তি প্রকাশের শক্তি তার ছিল না। প্রিয়রঞ্চনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী এক বার্তায় বলেছেন, দীর্ঘ অসুস্থতার জেরে রাজনীতির ময়দানে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও প্রিয়রঞ্জন নিজের অনুগামীদের মধ্যে সমান জনপ্রিয় ছিলেন। প্রিয়রঞ্জনের মৃত্যুতে কংগ্রেসের তরফে গভীর শোক  প্রকাশ করে বলা হয়েছে, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এবং  প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার বিভিন্ন অবদানের জন্য, বিশেষত ভারতীয় ফুটবলে তার অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ১৯৭২ সাল থেকে তিনি বাংলার খুবই জনপ্রিয় নেতা ছিলেন।  প্রায় ৯ বছর ধরে তিনি ছিলেন কোমায়। ২০০৮ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার রাজনৈতিক জীবন কার্যত থেমে গিয়েছিল। না হলে তিনি তার রাজনৈতিক জীবনে আরও অনেক কিছু করতে পারতেন। তিনি বেঁচেছিলেন। কিন্তু, আজ আর নেই। এটা একটা বড় ক্ষতি। সোমবার রাতেই তার মরদেহ কলকাতায় আনা হযেছে। আজ দুপুরেই তার মরদেহ নিয়ে হেলিকপ্টার উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জে উড়ে যাওয়ার কথা। সেখানেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

Thursday, June 15, 2017

সাভারে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

সাভারে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে সাভার পৌর এলাকার দক্ষিণ রাজাশন মহল্লার সুফিয়া বেকারির মোড় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম রূপালী আক্তার (১৪)। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার কৈল গ্রামের নজরুল ইসলাম মেম্বরের মেয়ে। তার স্বামী একই এলাকার শাখাওয়াত মীর্জার ছেলে রুবেল মিয়া (২৮)। রুবেল পেশায় একজন রড মিস্ত্রি। নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম জানান, মাস তিনেক আগে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটিকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় রুবেল। তখন ওদের কোথায়ও খুঁজে না পেয়ে তিনি স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরবর্তীতে জানতে পারেন রুবেল ও রূপালী বিয়ে করে সাভারে বসবাস করছে। এরপর বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য রূপালীকে মারধর করতো রুবেল। বাবা অভিযোগ করে বলেন, অসহ্য নির্যাতনে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় রুবেলের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপূর্ব দাস জানান, এলাকাবাসীর খবরের ভিত্তিতে ভোর রাতে দক্ষিণ রাজাশন মহল্লার আসলামের মালিকানাধীন বাড়ির একটি কক্ষ থেকে দরজা ভেঙ্গে ভাড়াটিয়া রূপালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান পুলিশের এই উপপরিদর্শক।

Saturday, May 27, 2017

বোম ডিজপোজাল ইউনিটের অপেক্ষা

সাভারে 'জঙ্গি আস্তানা' সন্দেহে ঘিরে রাখা ছয়তলা বাড়িতে অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার সকালে ঢাকা থেকে বোম ডিজপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সাভারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। তারা এলে শুক্রবার উদ্ধার বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। এছাড়া ওই বাড়িতে আর কোনো বোমা ও বিস্ফোরক আছে কিনা তার সন্ধানে অভিযান চালানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ জানায়, মধ্য গেন্ডা মহল্লার সাকিব মিয়ার ছয়তলা বাড়ির দোতলায় দুটি ফ্ল্যাটে শুক্রবার জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় ঢাকা জেলা পুলিশ।
পরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমানের সহয়তায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দোতলার ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা, বোমা তৈরির ব্যাটারি, জিহাদি বই ও ল্যাপটপ উদ্ধার করে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাভার পৌর এলাকার গেন্ডার দুটি বাড়িতে জঙ্গি ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক স্থানীয় আনোয়ার মোল্ল্যার বাড়িতে পুলিশি অভিযানের আগেই বাড়ির নিচ তলার একটি ফ্লাটে অবস্থানরত বাবুল নামে এক জঙ্গি পরিবারসহ পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ওই ফ্লাট থেকে কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া যায়নি। বাবুলকে আশ্রয় দেয়া ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া মুনির ও তার পরিবারকে স্থানীয় কাউন্সিলারের জিম্মায় রাখা হয়েছে। এই অভিযানের মধ্যেই মধ্য গেন্ডা মহল্লার সাকিব মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বোমা, বিস্ফোরক উদ্ধার করে। তবে শুক্রবার রাতে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়নি। শনিবার বোম ডিজপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে এগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে।

Wednesday, May 17, 2017

সাভারে পোশাকর্মীকে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণ

সাভারে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক নারী পোশাক শ্রমিককে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। ধর্ষণের শিকার এই নারী পোশাক কর্মী (২২) সাভারের রাজাশন এলাকার এমটার নেট গার্মেন্টের হেলপার। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে। ধর্ষণের শিকার এই নারী পোশাক কর্মী সাভার বাজার রোড এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। মঙ্গলবার রাতে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার একটি বাড়িতে এ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বুধবার ভোরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। সাভার মডেল থানার সার্কেল এএসপি মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই নারী পোশাক কর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী জানায়, মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে রাকিব নামের এক যুবকের পরিচয় হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাকিব কৌশলে হেমায়েতপুর এলাকার একটি বাড়িতে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সে ও তার চার বন্ধু মিলে এই নারী পোশাক কর্মীকে একটি কক্ষে আটক করে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তার চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন বুধবার ভোরে তাকে উদ্ধার করে। এরপর স্থানীয়দের সহাতায় সে সাভার মডেল থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। সাভার মডেল থানার সার্কেল এএসপি মাহবুবুর রহমান বলেন, ওই নারী পোশাক কর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রিপোর্ট আসলে মামলা গ্রহণ করা হবে। তবে এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন

সাভারে হোসনে আরা (১১) নামে এক শিশু গৃহপরিচারিকার ওপর  নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে গৃহকর্ত্রী শিমু আখতার। গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে শিশুটির দু'টি স্তন পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশ এই বর্বর নির্যাতনের খবর পেয়ে ওই গৃহকর্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। সাভার পৌর এলাকার রাজাশন মহল্লার কাপড় ব্যবসায়ী সাইফ মিয়ার বাসায় এ ঘটনা ঘটে। সাভার সার্কেল এএসপি মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নির্যাতনের শিকার ওই শিশু গৃহপরিচারিকাকে ফরেনসিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, সময় মতো কাজ করতে না পারায় গৃহকর্ত্রী শিমু আখতার গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে শিশুটির বুকের দু'টি স্তন পুড়িয়ে দিয়েছে। নির্যাতনের শিকার শিশুটির মা জাহানারা জানান, তার মেয়ে গত নয় মাস ধরে সাভারের রাজাশন এলাকায় কাপড় ব্যবসায়ী সাইফ মিয়ার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছিল।
মঙ্গলবার রাতে কাজে দেরি হওয়ায় ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী গৃহকর্ত্রী শিমু আখতার গরম খুন্তি দিয়ে তার বুকে ছ্যাঁকা দেয়। শিশুটি  যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায় ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় সাভার থানায় গিয়ে বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে গৃহকর্ত্রী শিমু আখতারকে আটক করে। এদিকে খবর পেয়ে ময়মনসিংহ থেকে সাভারে আসেন শিশুটির মা। সাভার মডেল থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান বলেন, চিকিৎসার জন্য এস আই জামালের তত্ত্বাবধানে একজন মহিলা কনস্টেবলের সঙ্গে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো  হয়েছে। সঙ্গে তার মা জাহানারাও আছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্য়াতন আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় গৃহকর্ত্রী ও তার মেয়েকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

Tuesday, May 16, 2017

সাভারে চালক হত্যায় স্ত্রী আটক

সাভারে একরাম আলী নামের (৩৫) এক ট্রাকচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে সাভারের নামা গেন্ডরা ঘাসমহল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত একরাম সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের নিকরাইল এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। এদিকে, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আলেয়াকে আটক করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেছে।
নিহতের চাচাতো ভাই বাবুল মিয়ার অভিযোগ, পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে সকালে ঘাস মহল এলাকায় ভাড়া বাড়িতে একরাম আলীকে পিটিয়ে হত্যা করে তার শ্বশুর আলী হোসেন ও স্ত্রী আলেয়া। পরে লাশ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। সাভার মডেল থানার এসআই জহিরুল ইসলাম জানান, একরামের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নেশাদ্রব্য খাইয়ে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ

সাভার থেকে অপহরণ করে ধামরাইয়ে নিয়ে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে প্রথম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার ধামরাই উপজেলার কাওয়ালীপাড়া এলাকার একটি লেবু বাগানে এ ঘটনা ঘটে। পরে ধর্ষক বৌদ্দকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। আর আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার সকালে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ধর্ষণের শিকার শিশুটির বড় বোন জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা সাভারের রেডিওকলোনী এলাকায় একটি টিনসেড বাড়িতে থাকেন।
তার ছোট বোন এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। সোমবার বিকালে স্কুল থেকে ফেরার পথে তাকে প্রতিবেশী যুবক বৌদ্দ কৌশলে একটি গাড়িতে করে ধামরাই নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে স্থানীয় লেবু বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে বৌদ্দ। এ সময় শিশুটির গোঙানির শব্দ শুনে স্থানীয়রা লেবু ক্ষেতে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। আর ধর্ষককে গণধোলাই দিয়ে ধামরাই থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করে। এ বিষয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ইসরাত জাহান উম্মান বলেন, শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ  বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

Wednesday, May 10, 2017

সাভারে ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম

সাভারে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আতিক খান নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের নিকরাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আতিক সাভার থানা ছাত্রলীগ ও চাকুলিয়া স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। তিনি একই এলাকার মো. দুলাল খানের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের অর্থোপেডিক ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, রাতে স্থানীয় নিকরাইল বাজারের নিজ দোকান থেকে বাসায় ফিরছিলেন আতিক। এসময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় জয়নাল ও সজিব দল বল নিয়ে অতর্কিতভাবে পেছন থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আতিকের ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর জখম হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে তাকে দ্রুত সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বুধবার সকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। পরে তাকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে আশংকামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এদিকে এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। সাভার মডেল থানার ওসি  কামরুজ্জামান যুগান্তরকে জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে মতবিরোধ থাকায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হলেও অল্প বয়সের হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সাভার মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

Thursday, April 20, 2017

সাভারের প্লাস্টিক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

সাভারের বিরুলিয়ার এক প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কারখানাটির ৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিরুলিয়া ইউনিয়নের খাগান এলাকায় জিকিউ প্লাস্টিক ফেয়ার ফ্যাক্টরিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টার মতো চেষ্টা চালিয়ে রাত ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, জিকিউ প্লাস্টিক কারখানার হঠাৎ আগুন মুহূর্তের মধ্যে দোতলা কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে সাভার ফায়ার সার্ভিস ও আশুলিয়ার ডিইউপিজেডের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে অানে। কারখানাটিতে প্রায় ১০০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। এ সময় ওই কারখানাায় রাতের শিফট এর কাজ চলছিল। আগুন লাগার সময় তাড়াহুড়ো করে কারখানা থেকে বের হতে গিয়ে পাঁচ শ্রমিক আহত হন। পরে তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় কারখানাটির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Wednesday, April 12, 2017

সাভারে শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

সাভারের বিরুলিয়ার খাগান এলাকায় সিটি ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আশুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ন-আহবায়ক শাওন খাঁনকে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে আশুলিয়ার কাঠগড়া দুর্গাপুর এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে শাওনকে আটক করা হয়। তার স্থায়ী ঠিকানা গোপালগঞ্জের সদর থানায় বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ জানায়, গত সোমবার প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সাভারের খাগান এলাকায় সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীর গুলিতে সিফাত নিহত হয়। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহেদের সঙ্গে আরেক শিক্ষার্থী বাপ্পির প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে ঝগড়া হয়।
এর জের ধরে ছাত্র বাপ্পির ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে আশুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ন-আহবায়ক শাওন খাঁন শাহেদের সহপাঠিদের ওপর হামলা চালায় ও এলোপাথারি গুলি বর্ষণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সিফাত হোসেন নিহত হন। এ সময় একই বিভাগের বিভাগের আরেক  শিক্ষার্থী বাসুদেব গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। জানা যায়, বাপ্পি পঞ্চাশ হাজার টাকায় আশুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক শাওন খাঁনকে ভাড়া করে এই হত্যাকাণ্ড চালায়। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় বাপ্পি ও শাওনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে সন্ত্রাসী শাওন খাঁনকে আটক করায় কাঠগড়া এলাকায় সাধারণ মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছেন। এ ঘটনায় এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয় জনকে আটক করেছে পুলিশ। সাভার মডেল থানার বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তারিকুল ইসলাম বলেন, আটক সন্ত্রাসীকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Tuesday, April 11, 2017

সাভারে ট্যানারি কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু

 সাভারে এপেক্স ট্যানারি কারখানার মেশিন মেকানিক শামিম হোসেনের (২৫) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরার চামড়া শিল্প নগরীর এপেক্স ট্যানারিতে এ ঘটনা ঘটে। শামিম হোসেন কারখানার ভেতরের একটি রুমে থাকতেন। সে রাজধানীর গুলশানের বড় বেরাইদ এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে।
এ বিষয়ে এপেক্স ট্যানারির জিএম মোহাম্মদ আলী বলেন কিভাবে ওই মেকানিকের মৃত্যু হয়েছে তা তার জানা নেই। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান বলেন বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী নিহতের পর সাভারে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

বহিরাগতদের গুলিতে শিক্ষাথী সিফাত হোসেন (২৩) নিহতের ঘটনায় সাভারের বিরুলিয়ায় সিটি ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে আগামী ১৭ এপ্রিল সোমবার পর্যন্ত  সিটি ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কতৃপক্ষ। সকালে ক্যাম্পাসের মূল ফটকে এ বন্ধের নোটিস টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়। এদিকে সকাল ১০ টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নিদের্শ দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল ছাড়তেও শুরু করেছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র শাহেদের সঙ্গে অপর ছাত্র বাপ্পির বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে তুমুল ঝগড়া হয়।
সোমবার দুপুরে শাহেদ তার কয়েকজন সহপাঠীসহ ইউনিভার্সিটির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় বাপ্পির ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা খাগান বাজারে শিক্ষার্থীদের ওপর এলোপাথারিভাবে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই টেক্সটাইল বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত নিহত হয়। এসময় বাসুদেব নামের এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় অন্তত ৭ জন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বাপ্পিকে প্রধান আসামি করে বেশ কয়েক জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত শিক্ষার্থী সিফাতের পরিবার। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জড়িত সন্দেহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। সাভার মডেল থানার বিরুলিয়া পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এসআই তারিকুল ইসলাম জানান, আসামিদের ধরতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। নিহত সিফাতের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বলে জানান তিনি।

Monday, April 10, 2017

সাভারে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অবস্থান

সাভারে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে এক তরুণী। রোববার সন্ধ্যায় বিরুলিয়া ইউনিয়নের বাগ্নিবাড়ি এলাকায় প্রেমিক ইউনুছ মিয়ার (২২) বাড়িতে ওই তরুণী অবস্থান নেয়। এঘটনায় ওই এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী জানায়, কয়েক মাস আগে বিরুলিয়ার বাগ্নিবাড়ি এলাকার সিদ্দিক মিয়ার বখাটে ছেলে ইউনুছ মিয়ার সঙ্গে জামালপুর জেলার ঐশি নামের এক তরুণীর ফেসবুকে প্রেমের সর্ম্পক হয়। পরে তাদের মধ্যে একাধিক বার দেখা- সাক্ষাৎ হয়। গত শনিবার ওই তরুণী প্রেমিক ইউনুছ মিয়ার বাড়িতে এসে বিয়ের জন্য ওই যুবককে চাপ দেয়। এসময় ওই যুবক বিয়ের প্রস্তাব নাচক করে দিলে ওই তরুণী রোববার সকাল থেকে না খেয়ে থাকে প্রেমিকের বাড়ির উঠানে অবস্থান নেয়।
ওই এলাকার শত শত নারী-পুরুষ ওই তরুণীকে এক নজর দেখার জন্য ওই বাড়িতে জড়ো হয়। বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত ওই তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে থাকবেন বলে  সাফ জানিয়েছেন। এদিকে ওই তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয়ায় বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নারী ইউপি সদস্য সেলিনা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি ওই যুবকের পক্ষ নিয়ে বলেন,প্রেম করলে কি কাউকে বিয়ে করার নিয়ম আছে? এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেছেন, ওই যুবক এর আগেও কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে সাথে প্রতারণা করেছে। এবিষয়ে বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই তারিকুল ইসলাম জানান,ওই তরুণীর বাবা-মাকে আমরা ছেলের বাসায় আসতে বলেছি। দেখি শেষ পযন্ত কি হয়।

Sunday, April 2, 2017

কয়েল বানানোর মেশিনে পেঁচিয়ে শিশু শ্রমিকের মৃত্যু

সাভারে একটি কয়েল কারখানার মেশিনে পেঁচিয়ে রায়হান নামের (১২) এক শিশু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সাভারের রাজফুলবাড়িয়ার শোভাপুর এলাকার কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রায়হান গাইবান্ধার সদরের বলমপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
সে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাভারের তরফ রাজাঘাট এলাকায় মিরাজ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতো। কারখানার শ্রমিকরা জানান, সকালে কারখানার মেশিনে কয়েল বানাচ্ছিলেন শিশু শ্রমিক রায়হানসহ অন্যরা। এসময় একটি কয়েল বানানোর মেশিনে হাত ঢুকে যায় রায়হানের। এসময় মেশিনটি তাকে টেনে নিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।