Sunday, November 24, 2024
তাজরীন ট্র্যাজেডি’র এক যুগ: হতাহতদের পুনর্বাসনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দিকে তাকিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা
আহত নারী শ্রমিক শিল্পী বেগম জানান, ঘটনার দিন আগুনের লেলিহান শিখা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সিঁড়ি দিয়ে তড়িঘড়ি করে নামার সময় হঠাৎ নিচে পড়ে যান তিনি। এতে তার দুই হাত-পা ও মাজায় প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে দীর্ঘদিন সাভারের পক্ষাঘাততগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র সিআরপিতে চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে ফিরলেও এখনো জীবনযুদ্ধে থেমে নেই। জীবিকার তাগিদে বর্তমানে চায়ের দোকানে চলছে তার সংসার। সরকারসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে সাময়িক কিছু সহায়তা পেলেও পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন পাননি তিনি। বহু পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন পার করছেন। আহত সবিতা রাণী জানান, কারখানাটির ৩য় তলায় তিনি সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যে সামান্য সহায়তা পেয়েছেন তা চিকিৎসা করাতেই শেষ হয়ে গেছে। বারবার আশ্বাস দিলেও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করা হয়নি। ক্ষতিপূরণ পেলে তিনি গ্রামে গিয়ে কিছু একটা করে সংসার চালাবেন বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুনর্বাসনসহ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
আহত শ্রমিক নাজমা ও রেহেনা আক্তার বলেন, আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। আগে কাজ করে আয় করে প্রয়োজনীয় সবকিছুই করতে পারলেও এখন অন্যের ওপর ভরসা করতে হয়। এটা কোনো জীবন হলো? এদিকে, বিভিন্ন শ্রমিক নেতারা বলেন, তাজরীনে আগুন লাগার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ গেটে তালা লাগিয়ে শতাধিক শ্রমিককে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনার ১২ বছর পার হলেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে মালিকপক্ষের অবহেলায় পোশাক শিল্পে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। অবিলম্বে তাজরীনের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতসহ হাসপাতাল বানিয়ে তাদেরকে পুনর্বাসন করে কর্মসংস্থানের দাবি জানান। শ্রমিক নেতা মো. ইব্রাহিম জানান, তাজরীনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি সুপরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় শতাধিক শ্রমিক মারা যায় এবং আহত হয় আরও অনেকে। বিগত সরকারের আমলে আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু পূরণ করতে পারেনি। তাই বর্তমান নিরপেক্ষ সরকারের কাছে আহত ও নিহত শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র সাভার-আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় জীবন বাঁচাতে যখন শ্রমিকরা চিৎকার করছিলেন। তখনও মালিক দেলোয়ার হোসেন কারখানা থেকে বের হওয়ার সব গেটে তালা লাগিয়ে রাখেন। প্রাণে বাঁচতে অনেক শ্রমিক ভবনের বিভিন্ন তলা থেকে লাফিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা জানান, সেদিন সন্ধ্যার দিকে তাজরীন ফ্যাশনস পোশাক কারখানাটির নিচতলার তুলার গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো আটতলা কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। ১২ বছর পরও আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনটি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। শারীরিক যন্ত্রণা, সংসারের অভাব অনটনের পাশাপাশি দোষীদের শাস্তি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে দিন পার করছেন। আজও সে রাতের কথা মনে পড়লে আঁতকে ওঠেন তারা। এলাকাবাসী জানায়, একসময় সকাল হলেই যে কারখানাটি শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় মুখরিত থাকতো সেখানে আজ সুনসান নীরবতা বিরাজ করে। এত বড় ভবনটি এখন ভূতের বাড়ির মতো হয়ে গেছে। সম্প্রতি ভবনটির বেশ কিছু অংশ মেরামত করা হয়েছে। ভেতরে মালিকের লোকজনও থাকে। মাঝে মধ্যে দুই-একটি বড় কাভার্ডভ্যানও ভেতরে দেখা যায়। সাংবাদিকরা যেন ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে তাই প্রধান ফটক আটকে রাখা হয়। প্রসঙ্গত, তাজরীন ফ্যাশন কারখানাটিতে এক হাজার ১৬৩ জন শ্রমিক কাজ করতেন। দুর্ঘটনার সময় ৯৮৪ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। মরদেহ শনাক্ত হওয়ায় ৫৮ জনকে পরিবার ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যদের মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় তাদের জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

Monday, September 16, 2024
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় চাঞ্চল্য ফিরেছে: অসন্তোষ নিরসনে শ্রম সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ কমিটি আশুলিয়ায়
সকাল ১০টায় শ্রম সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যরা প্রথমে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকার অনন্ত গ্রুপ পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে তারা পার্শ¦বর্তী হা-মীম গ্রুপ পরিদর্শনে যান। সেখানে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা শ্রমিক মালিকসহ পোশাক খাতে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং শ্রম সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়ক সবুর হোসেন বলেন, গত বুধবার ১১ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। পরদিন কমিটির কার্যপরিধি ও কার্য পরিচালনার বিষয় নিয়ে সভা করা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে শিল্পাঞ্চলের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে সকল অভিযোগ শুনতেই সরজমিন এসেছি। আশা করছি এখন থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সব কারখানা ধীরে ধীরে খুলে দেয়া হবে। কোনো দাবিতে সড়ক ও কাজ বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই। সবুর হোসেন আরও বলেন, কারখানার মালিক, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, আপত্তি, অভিযোগ তারা জানতে চান। এসব জানানোর জন্য হটলাইন ১৬৩৫৭ নম্বর চালু করা হয়েছে। সেইসঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, ই-মেইল আইডি ও ডাকযোগেও অভিযোগ জানানো যাবে। শ্রম সংক্রান্ত অভিযোগ পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যরা মালিক শ্রমিক উভয় পক্ষেরই অভিযোগ শুনে সরকারকে অবহিত করবেন। যে সকল দাবি পূরণ করা যায় তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল সকালে আশুলিয়ার অধিকাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। এর ফলে বেশির ভাগ কারখানা উৎপাদনে ফিরলেও বন্ধ রয়েছে প্রায় ২০টি কারখানা। এর মধ্যে শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে ১৮টি, বাকি দু’টি কারখানায় সাধারণ ছুটি চলছে। সকালে শিল্পাঞ্চলের পোশাক কারখানায় দেখা যায়, সকাল ৮টা থেকে খোলা কারখানার শ্রমিকরা কর্মস্থলে যোগ দিয়ে উৎপাদন শুরু করে। নাশকতা ও সহিংসতা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। সকালে আশুলিয়ার কাঠগড়া, জিরাবো, নরসিংহপুর, জামগড়া এলাকায় দেখা যায়, বিভিন্ন কারখানার সামনে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সড়কে টহল দিচ্ছেন সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা। কারখানার মালিকপক্ষ জানায়, সকালে ৪ থেকে ৫টি কারখানায় শ্রমিক প্রবেশ করলেও বিভিন্ন দাবিতে উৎপাদন বন্ধ রাখেন তারা। পরে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তারাও কাজে যোগ দিয়ে উৎপাদন শুরু করেন। শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩(১) ধারায় ১৮টি বন্ধ এবং দু’টি কারখানায় সাধারণ ছুটি রয়েছে। এর বাহিরে শিল্পাঞ্চলের সকল কারখানায় স্বাভাবিক রয়েছে উৎপাদন কার্যক্রম। শিল্পাঞ্চলে যেকোনো ধরনের অপ্রতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোর সামনে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে যৌথবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।

Sunday, September 15, 2024
আশুলিয়ায় উৎপাদনে ফিরেছে তৈরি পোশাক শ্রমিকরা
সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলে কোথাও কোনো শ্রমিক বিক্ষোভ নেই ও শ্রমিকরা রাস্তায় নামেননি। কারখানাগুলোর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও শিল্প পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি। শুক্রবার বিকালে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বিনোদন পার্ক ফ্যান্টাসি কিংডম মাঠে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে কারখানায় কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম। জানা গেছে, বিভিন্ন দাবিতে টানা কয়েক দিন ধরেই শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। কিন্তু মালিকপক্ষ দাবি মেনে না নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসেনি। যেসব কারখানাগুলোতে শ্রমিক এবং মালিকপক্ষ বসে আলোচনা হয়েছে, সেই কারখানাগুলোতে কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু কিছু কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে বন্ধ দেখে ফিরে যায়। এ ছাড়া সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়ার পরেও কিছু কারখানায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে ছুটি ঘোষণা করেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, শনিবার সকালে বেশির ভাগ পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেছে শ্রমিকরা। তবে কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ১৩(১) ধারা মোতাবেক ৮৬টি কারখানা বন্ধ ছিল। এ ছাড়া ১৩৩টি কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল। এসব কারখানার বেশির ভাগই খুলে দিয়েছে। এদিকে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কারখানা ভাঙচুর ও কারখানা কর্মকর্তাদের মারধরের অভিযোগ এনে ২০ শ্রমিককের নামে মামলার প্রতিবাদে জামগড়া এলাকায় মদিনাপেল ফ্যাশন ক্রাফট লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানার সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। আয়োজিত মানববন্ধন থেকে শ্রমিকরা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে। আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় মোট কারখানা রয়েছে ১ হাজার ৮৬৩টি। এরমধ্য অধিকাংশই পোশাক কারখানা। গত কয়েকদিনের চেয়ে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। তবে দাবি-দাওয়া নিয়ে সুরাহা না হওয়ায় এখন পর্যন্ত ১৩ (১) মোতাবেক ৩৯টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ১৩টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কারখানার মধ্যে অধিকাংশই পোশাক কারখানা। দুই একটি রয়েছে ওষুধ ও জুতা তৈরির কারখানা। তিনি আরও বলেন, শনিবার শিল্পাঞ্চলের কোথাও কোনো কারখানায় অস্থিরতা দেখা যায়নি। এমনকি সড়ক অবরোধসহ কারখানায় হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেনি। শিল্পাঞ্চলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে যৌথবাহিনীর টহলও অব্যাহত রয়েছে।

Wednesday, September 11, 2024
আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার বেশির ভাগ স্বাভাবিক, ৪০টিতে ছুটি
সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে যেসব এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে, সেসব এলাকায় মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল থেকে বেশ কয়েকটি কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কারখানার সামনে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, র্যাব, পুলিশের রায়টকার। এ সময় কারখানাগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে দেখা গেছে। দুপুর পর্যন্ত কারখানা-সংলগ্ন কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আশুলিয়ার বিভিন্ন সড়কে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা টহল দিচ্ছে। শিল্প পুলিশ জানায়, সকালে শ্রমিকরা নির্ধারিত সময়ে কারখানায় উপস্থিত হয়।
কিন্তু পরে কিছু কারখানায় কাজ বন্ধ করে বসে থাকায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। আশপাশের কারখানায় ছুটি দেয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে আরও কিছু কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জনরন সোয়েটার কারখানার এইচআর এডমিন অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিজিএমইএ’র নির্দেশনা মেনে আমরা কারখানা পরিচালনা করছি। এরমধ্যে হঠাৎ করে বহিরাগত কিছু লোকজন কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের লিঙ্কিং এবং ট্রিমিং শাখা ছুটি ঘোষণা করা হলেও অন্যান্য শাখায় কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে কারখানায় হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেয়া হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। শিল্প রক্ষায় শ্রমিকরা সচেতন হলে কারখানা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব। অন্যথায় এই শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে। সময়মতো পোশাক উৎপাদন এবং রপ্তানি করতে না পারলে বায়াররা আমাদের দেশ থেকে অন্যত্র চলে গেলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা কষ্টকর হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ গামের্ন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, সোমবার তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সন্ধ্যায় বিজিএমইএ কারখানামালিক, শ্রমিকনেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে কিছু দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার অধিকাংশ কারখানা সচল রয়েছে। তবে কিছু কারখানা আগে থেকে বন্ধ এবং কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা অভ্যন্তরীণ কিছু দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছে। তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ থেকে হাজিরা বোনাস ও টিফিন বিল বৃদ্ধি, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত না করা, নারী-পুরুষের বৈষম্য করা হবে না এমন সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়া হয়েছে, যা খুবই ইতিবাচক। পাশাপাশি শ্রমিকদের অন্য যেসব দাবি রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কারখানার মালিকপক্ষ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। এখন এ বিষয়টির সমাধান হলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আশুলিয়ার ফাউন্টেইন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড কারখানার এমব্রয়ডারি অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মিজানুর রহমান সুমন বলেন, এতদিন অস্থিরতা বিরাজ করছিল, আমরাও উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলাম। বিজিএমইএ ইতিমধ্যেই শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়েছে, শ্রমিকরাও ভালো সাড়া দিয়েছেন। আমাদের কারখানাসহ বেশির ভাগ কারখানা চালু রয়েছে। পোশাক শিল্প নিয়ে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল, আমার মনে হয় সেটা কেটে গিয়েছে। এখন আমরা পূর্ণোদ্যমে কাজ করতে পারবো। শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, বেশকিছু দিন ধরেই বিভিন্ন দাবি আদায়ে আন্দোলন করে আসছে শ্রমিকরা। আমরা তাদের সঙ্গে মালিকপক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করছি। কিছু কারখানায় আবার নতুন করে দাবি আদায়ে আন্দোলন শুরু করায় মঙ্গলবারও ৪০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অন্যান্য কারখানায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের রায়টকার প্রস্তুত রয়েছে।

Wednesday, August 14, 2024
‘পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে একজন জীবন্ত মানুষকে এভাবে কোনো মানুষ ফেলে দিতে পারে না’ by মানসুরা হোসাইন
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাভারের পাকিজা মডেল মসজিদের কাছে গত ১৮ জুলাই ঘটনাটি ঘটে।
যাঁকে ফেলে দেওয়া হয়, তাঁর নাম শাইখ আশহাবুল ইয়ামিন। তিনি রাজধানীর মিরপুরের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন, থাকতেন এমআইএসটির ওসমানী হলে। বাসা সাভারের ব্যাংক টাউন আবাসিক এলাকায়। তাঁকে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা ইয়ামিন নামেই ডাকতেন।
গতকাল মঙ্গলবার সাভারের ব্যাংক টাউন আবাসিক এলাকার বাসায় বসে কথা হয় ইয়ামিনের বাবা মো. মহিউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘একজন জীবন্ত মানুষকে এভাবে কোনো মানুষ নিচে ফেলে দিতে পারে না। আমি কারও কাছে বিচার চাই না। জিডি করিনি। ছেলের লাশের পোস্টমর্টেম করাইনি। শুধু আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি। সবাই দোয়া করবেন, আমরা যেন ধৈর্য ধরতে পারি।’
ইয়ামিনকে এভাবে ফেলে দেওয়ার ভিডিও তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। মহিউদ্দিন ভিডিওটি দেখেন ঘটনার দুই দিন পরে। অবশ্য বর্তমানে ফেসবুকে ভিডিওটি দেখা যাচ্ছে না। তবে অনেকেই ভিডিওটি ডাউনলোড করে রেখেছেন।
মহিউদ্দিন বলেন, তাঁর ছেলে ইয়ামিন মারা যাওয়ার পর তাঁকে নিয়ে ফেসবুকে একেকজন একেকভাবে মনগড়া কথা বলেছেন। তিনি চান, তাঁর ছেলে সম্পর্কে সবাই সঠিক তথ্য জানুক।
ইয়ামিনের জন্ম ২০০১ সালের ১২ ডিসেম্বর। তিনি সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। এই দুই পরীক্ষাসহ বাংলাদেশ কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াড–গণিত অলিম্পিয়াডে পাওয়া সনদ ও বিভিন্ন কাগজপত্র গুছিয়ে রেখেছিলেন ইয়ামিন। বাবা মহিউদ্দিন ছেলের একেকটা সনদ দেখাচ্ছিলেন আর স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছিলেন।
ইয়ামিনের মা নাসরিন সুলতানা, তিনি গৃহিণী। বোন শাইখ আশহাবুল জান্নাত, তিনি পড়ছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মা ও বোন ইয়ামিনকে নিয়ে কোনো কথা বলতে চাইলেন না।
সাভারের ব্যাংক টাউন আবাসিক এলাকায় ইয়ামিনকে কবর দেওয়া হয়েছে। তাঁর কবরে একটি তুলসীগাছ ও একটি ফুলের চারা লাগিয়েছেন মা নাসরিন সুলতানা।
আবাসিক এলাকার ভেতরে থাকা শহীদ মিনারে ইয়ামিনের ছবি দিয়ে একটি ব্যানার টানানো হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ অন্যরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল দিচ্ছেন।
মহিউদ্দিন একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন। তিনি বলেন, সন্তান মারা যাওয়ার মানে হলো আমৃত্যু কষ্ট। ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করার ভিডিও দেখাটা আরও কষ্টের।
ইয়ামিনের বাবার অভিযোগ, তাঁর ছেলে পুলিশের হাতে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর তাঁদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খোঁজার চেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে কেউ রাজনৈতিক দলের দাবার ঘুঁটি বানাক, তা আমরা চাই না। আমার ছেলে রাজনীতিসচেতন ছিল। আমিও রাজনীতিসচেতন। তবে কোনো দল করি না। ছেলে বুয়েট ও রংপুর মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েও পড়েনি। ছোটবেলায় পড়েছে সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পরে ভর্তি হয় এমআইএসটিতে। এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই রাজনীতি করার সুযোগ নেই।’
মহিউদ্দিন বলেন, ‘তবে আমরা ধার্মিক পরিবার। ছেলে নামাজ পড়ত। তার মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি ছিল। এটা দেখে কেউ যদি আমার ছেলেকে সন্ত্রাসী, জঙ্গি, জামায়াত-শিবির বা জামায়াত বানানোর চেষ্টা করে, তা তো আমরা হতে দেব না।’
সেদিন কী ঘটেছিল
মহিউদ্দিন বলেন, ফেসবুকে ভিডিওটি অনেকেই দেখেছেন। পরিবারের সদস্যরাও ভিডিওটি দেখেছেন। এর বাইরে সেদিন আসলে কী ঘটেছিল, তা এখন পর্যন্ত তাঁরা সুনির্দিষ্ঠভাবে জানেন না। ইয়ামিনের বন্ধুসহ অন্যদের মুখ থেকে ঘটনার টুকরো টুকরো খবর জানতে পারছেন।
১৭ জুলাই সকালে ইয়ামিন এমআইএসটির হল থেকে বাসায় ফেরেন। হল ছাড়ার নির্দেশনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইয়ামিনদের বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। ইয়ামিন মারা যাওয়ার পর তাঁর একটি লেখা থেকে এ কথা জানতে পারেন বাবা মহিউদ্দিন।
মহিউদ্দিন জানান, ইয়ামিন তাঁর মা ও বোনকে সব কথা বলতেন। তবে তাঁর সঙ্গে ছেলের সম্পর্কটা বন্ধুর মতো ছিল না। হল থেকে ছেলে বাসায় ফেরার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।
মহিউদ্দিন বলেন, ছেলে মারা যাওয়ার পর ফেসবুকে কেউ কেউ বলেছেন, মারা যাওয়ার দিন ইয়ামিন রোজা রেখেছিলেন। এ কথাটা সত্য নয়।
ছেলের কবরের পাশে একটি বিড়াল বসে আছে, এমন একটি ছবি মহিউদ্দিন ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। এই ছবি দেখে অনেকে প্রচার করছেন, বিড়ালটি ইয়ামিনের ছিল। ইয়ামিন মারা যাওয়ায় তাঁর কবরের পাশে গিয়ে বসে আছে বিড়ালটি, এটিও সত্য নয়। বিড়ালটি আশপাশের কারও হতে পারে। সেদিন ইয়ামিনের কবরের পাশে বিড়ালটি বসে ছিল। এই দৃশ্য দেখে তাঁর এক ভাগনে ছবিটি তুলেছিলেন।
১৮ জুলাই মহিউদ্দিন বাইরে যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইয়ামিন দৌড়ে তাঁর কাছে এসেছিলেন। বলেছিলেন, তাঁর কয়েকজন বন্ধু আন্দোলনে আহত হয়েছেন। মিরপুরের দিকে তাঁর পরিচিত কোনো হাসপাতাল আছে কি না, যেখানে বন্ধুদের ভর্তি করা যাবে।
মহিউদ্দিন ছেলেকে বলেছিলেন, মিরপুরে কোনো হাসপাতালে তাঁর পরিচিত কেউ নেই। তবে টেকনিক্যাল মোড়ের একটি হাসপাতালে আহত বন্ধুদের নিয়ে যাওয়া যেতে পারে, এ কথা বলার পর ছেলে রাগ দেখান। সেটাই ছিল ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা।
১৮ জুলাই আন্দোলনে উত্তাল ছিল সাভার এলাকা। মহিউদ্দিন বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘরে ফিরে ছেলেকে বলি, শুধু ঢাকা নয়, সাভারেও তো গন্ডগোল শুরু হয়ে গেছে। ছেলে এ কথা শোনার পর কোনো কথা বলেনি। বুঝতে পারি, পরিচিত হাসপাতালের ঠিকানা দিতে পারিনি বলে ছেলে রাগ করেছে। তবে ছেলেকে দেখে বুঝতে পারি, সে তার বন্ধুদের নিয়ে চিন্তা করছিল।’
এদিন মহিউদ্দিন জোহরের নামাজ পড়তে মসজিদে যান। ইয়ামিনও নামাজে যান। রোজা রাখায় মহিউদ্দিন মসজিদ থেকে কিছুটা দেরিতে বেলা ২টার দিকে বের হন। বের হয়ে দেখেন, মোবাইলে তাঁর স্ত্রীর দুটো মিসড কল। স্ত্রীকে ফোন দিলে তিনি জানান, ইয়ামিন বন্ধুদের দেখতে যাবে বলে ঘর থেকে বের হয়ে গেছে। তারপর ছেলেকে বাসার সবাই ফোন দিতে থাকেন। কিন্তু ফোন ধরেননি ইয়ামিন।
ইয়ামিনের বন্ধুরা সাভার ও মিরপুর এলাকায় থাকেন। সেদিন রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। তাই মহিউদ্দিন বুঝতে পারছিলেন না, ছেলেকে খুঁজতে কোথায় যাবেন।
মহিউদ্দিন বলেন, ‘বাসায় টেলিভিশন নেই। তাই বাইরের কোনো খবর দেখতে পাচ্ছিলাম না। ইন্টারনেট কাজ করছিল না। তাই ফেসবুকেও কোনো খবর জানতে পারছিলাম না। অথচ ততক্ষণে অনেক কিছুই ঘটে গেছে।’
বেলা ৩টার দিকে ইয়ামিনের মাকে একজন ফোন করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে যেতে বলেন। মহিউদ্দিন বলেন, ‘তখন মনে করেছি, ছেলে হয়তো আহত হয়েছে। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন পথ ঘুরে হাসপাতালে যাই। ছেলের নাম শুনে একজন বলেন, ওটিতে (অস্ত্রপচারকক্ষ) যান। সেখানে যাওয়ার পর আরেকজন নিচতলায় যেতে বলেন। এক নারী চিকিৎসক এসে ইয়ামিনের মাকে জড়িয়ে ধরেন। তখনো ছেলের মৃত্যুর কথা চিন্তা করিনি।’
মহিউদ্দিন জানান, ওই নারী চিকিৎসক তাঁদের একটি তালা দেওয়া রুমের সামনে নিয়ে যান। সেখানে শিক্ষার্থীদের অনেক জটলা ছিল। তালা খুললে দেখা গেল, একটি স্ট্রেচারে ইয়ামিন শুয়ে আছেন। তখন জানা গেল, এই হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর ছেলে মারা গেছেন। এখানে কোনো চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগই পাননি চিকিৎসকেরা। ছেলের বন্ধুরা জানান, ইয়ামিনকে প্রথমে বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো ক্লিনিক ভর্তি করতে রাজি হয়নি।
এই বাবা বলেন, ছেলের বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া আরেক ভিডিওতে দেখা যায়, ইয়ামিনকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় কেউ কেউ তাঁকে চোখ খোলা রাখতে বলছিলেন। ছেলে তখনো জীবিত ছিলেন।
‘ইয়ামিন সাহসী ছিল’
পারিবারিক সিদ্ধান্তে ইয়ামিনের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়নি বলে জানান মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, তাঁরা ছেলের লাশ দ্রুত হাসপাতাল থেকে বের করতে চাইছিলেন। তখন বাইরে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিচ্ছিলেন। পুলিশের গুলিতে মারা গেছে বলে হাসপাতালের কেউ কেউ লাশ দিতে ভয় পাচ্ছিলেন। কেউ কেউ লাশ বের করতে বাধাও দেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা ইয়ামিনের লাশ নিয়ে মিছিল করতে চাচ্ছিলেন। তখন ছেলের এক বন্ধুর সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্স এনে দ্রুত লাশ বাসায় আনা হয়।
মহিউদ্দিন বলেন, ছেলেকে কুষ্টিয়ায় গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কুষ্টিয়া থেকে এক আত্মীয় ফোন করে জানান, স্থানীয় থানা থেকে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া লাশ দাফন করা যাবে না। দেশের পরিস্থিতিও এমন ছিল যে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া বা কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় যাওয়া-আসার মতো অবস্থা ছিল না। সাভারে লাশ দাফনের ক্ষেত্রেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন লাগবে বলে থানা থেকে জানানো হয়। পরে এক পুলিশ বন্ধুর সঙ্গে পরামর্শ করলে তিনি জানান, পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করলে কোনো সমস্যা হবে না। তাই সাভারের এই আবাসিক কলোনির কবরস্থানেই ছেলেকে দাফন করা হয়।
মহিউদ্দিনের ভাষ্য, ৫ আগস্ট সরকার পতনের আগপর্যন্ত তাঁর কাছে আওয়ামী লীগের নেতাসহ বিভিন্নজন ফোন করে ছেলের সম্পর্কে নানা তথ্য জানতে চান। কুষ্টিয়ায় গ্রামের বাড়িতে পুলিশ যায়। খোঁজখবর নেয়।
মহিউদ্দিন গর্ব করে বলেন, তাঁর ছেলে সাহসী ছিলেন। অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ করতেন। ক্লাসে এক শিক্ষককে ইয়ামিন সরাসরি বলেছিলেন, তাঁর পড়ানো হচ্ছে না। দুই দিন পরে সেই শিক্ষক স্বীকার করেছিলেন, তিনি যেভাবে পড়াচ্ছিলেন, তা ঠিক ছিল না।
ইয়ামিন মেধাবী ছিলেন বলে জানান তাঁর বাবা। তিনি বলেন, বন্ধুরা কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে ইয়ামিন বুঝিয়ে দিতেন। ইয়ামিন বিতর্ক করতেন। এমআইএসটিতে বিতর্ক ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইয়ামিন। ছেলে বড় হলেও অবসরে ছোট বাচ্চাদের মতো ‘টম অ্যান্ড জেরি’ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কার্টুন দেখতেন বলে জানান বাবা।
মহিউদ্দিন জানান, অনেক আগে থেকেই তিনি তাঁর বাবার নামে একটি ফাউন্ডেশন করার কথা চিন্তা করছিলেন। ইয়ামিন মারা যাওয়ার পর ঠিক করেছেন, ছেলের নামে একটি ফাউন্ডেশন করবেন। এই ফাউন্ডেশনে কেউ সহায়তা করলে তা ছাত্র আন্দোলনে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবার বা আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে।
কথা শেষে ফিরে আসার সময় মুঠোফোনে ছেলের লাশের ছবি দেখিয়ে এই প্রতিবেদককে মহিউদ্দিন বলেন, ‘একদম কাছ থেকে টার্গেট করে ইয়ামিনকে রাবার বুলেট মারা হয়েছে। এই যে দেখেন, বুকের বাঁ পাশে এক জায়গায় অনেকগুলো বুলেটের আঘাত। তারপর তাকে সাজোয়া যান থেকে ফেলে দেওয়া হয়।’
{প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন সাভারে কর্মরত প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান}
Friday, March 16, 2018
যৌন উত্তেজক হালুয়া খেয়ে দুই যুবকের মৃত্যু

Tuesday, November 21, 2017
নয় বছর নীরব থাকার পর মারা গেছেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি

Thursday, June 15, 2017
সাভারে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

Saturday, May 27, 2017
বোম ডিজপোজাল ইউনিটের অপেক্ষা

Wednesday, May 17, 2017
সাভারে পোশাকর্মীকে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণ
খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন
Tuesday, May 16, 2017
সাভারে চালক হত্যায় স্ত্রী আটক

নেশাদ্রব্য খাইয়ে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ

Wednesday, May 10, 2017
সাভারে ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম

Thursday, April 20, 2017
সাভারের প্লাস্টিক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

Wednesday, April 12, 2017
সাভারে শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

Tuesday, April 11, 2017
সাভারে ট্যানারি কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু

শিক্ষার্থী নিহতের পর সাভারে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

Monday, April 10, 2017
সাভারে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অবস্থান

Sunday, April 2, 2017
কয়েল বানানোর মেশিনে পেঁচিয়ে শিশু শ্রমিকের মৃত্যু

BNM Special
BNM Archive
- ▼ 2026 (1536)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...