Saturday, June 16, 2018

মসজিদ নির্মাণে বরাদ্দ বাড়লেও বদলাচ্ছে না ইমামদের ভাগ্য by সালমান তারেক শাকিল

ধর্ম খাতে গত অর্থবছরের চেয়ে দ্বিগুণ বরাদ্দ বাড়লেও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাগ্যে কোনও পরিবর্তন আসছে না। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১১৬৮ কোটি টাকা হলেও তার বেশিরভাগই ব্যয় হবে অবকাঠামো নির্মাণে। গত বছর একনেকে অনুমোদিত ৫৬০টি মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণেই বাজেটের বেশিরভাগ টাকা বরাদ্দ ছিল। সারাদেশের এসব মসজিদ ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণে খরচ হবে ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা। এরমধ্যে ৮ হাজার ১৭০ কোটি টাকাই দেবে সৌদি সরকার। এত এত মসজিদ নির্মাণ হলেও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতার জন্য তেমন কোনও বরাদ্দ নেই।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, ৫৬০টি মসজিদ নির্মাণে অনুদান এখনও ছাড় দেয়নি সৌদি আরব সরকার। আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ দেশটির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এলে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একেকটি মসজিদের জন্য কমবেশি ১৫ কোটি খরচ হবে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ধর্ম খাতে ১১৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরে ছিল ৯৭৫ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বাজেট বক্তব্যে বলেছেন, ‘ধর্ম ও ধর্মীয় মূল্যবোধের যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে ও প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ট্রাস্টের অধীনে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। যে পরিমাণ বাড়ানো দরকার, সে পরিমাণ বাড়ানো হয়নি। মূলত প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ বরাদ্দ বেশি হওয়ার কারণ— গত অর্থবছরের (২০১৭-১৮) বাজেটের তুলনায় এবার বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং তা মূলত বিভিন্ন প্রজেক্টের কারণে। এটা ইসলামিক ফাউন্ডেশন ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রেও বাড়বে।’
আনিছুর রহমান আরও বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ বেশি হওয়ার আরেকটি কারণ মডেল মসজিদ নির্মাণ। এই মসজিদগুলো নির্মাণে প্রথমে সৌদি সরকারের টাকা দেওয়ার কথা ছিল। তারা নিজেরাই এটা বলেছিল। কিন্তু এখনও তাদের অনুদান এসে পৌঁছেনি। এ কারণে আমরা নিজেদের বাজেট থেকেই শুরু করেছি। গত দুই মাস হলো প্রধানমন্ত্রী এটা উদ্বোধন করেছেন। পরে এটা অ্যাডজাস্ট করে নেওয়া হবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘এ বছরের মধ্যে ১০০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ শেষ হবে। বাকিগুলো পরবর্তী বছরে শুরু হবে। এটাই টার্গেট। এ কারণেই এবারের বাজেটে বরাদ্দ বেড়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের।’
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, বাজেটে উত্তরোত্তর বরাদ্দ বাড়লেও এতে করে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জীবনে গুণগত কোনও পরিবর্তন আসছে না। বরং প্রস্তাবিত বাজেটে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কল্যাণ ট্রাস্টে বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করা হলেও অর্থ মন্ত্রণালয় তা করেনি।
সরকারিভাবে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন না দেওয়া হলেও তাদের জন্য ট্রাস্ট রয়েছে। এছাড়া, তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে ২০০১ সালের ১ জুলাই সংসদে আইন পাস করা হয়। এরপর হঠন করা হয় ‘ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট’। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কল্যাণে সরকার একটি ট্রাস্ট ফান্ডও গঠন করেছে। ফান্ডের লভ্যাংশ থেকে গত বছর পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে ২১৭০ জনকে ৩৫,১৭,৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে।
সোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইমামরা হচ্ছেন জাতির শিক্ষক। তাদের জীবন-মান উন্নয়নে অবশ্যই সরকারের অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র জানিয়েছে, সারাদেশে চারটি মসজিদ সরকারি বেতন-ভাতা ও সুবিধা ভোগ করে। এগুলো হচ্ছে, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ, আন্দরকিল্লা মসজিদ ও রাজশাহীর হেতেম খাঁ মসজিদ। এছাড়া বঙ্গভবন জামে মসজিদ, গণভবন জামে মসজিদ ও সচিবালয়ের মসজিদটিও কিছু সরকারি সুবিধা পায়। সরকারি মসজিদগুলোয় সুবিধা নিশ্চিত হলেও সারাদেশের মসজিদগুলোয় সরকারি নীতিমালাটি উপেক্ষিত। পালনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় কোনও মসজিদেই এ নিয়ম মানা হয় না।
জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইমাম-মুয়াজ্জিন ট্রাস্টের অধীনে কয়েক কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। তাদের জন্য আসলে যেভাবে করা দরকার, সেভাবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সাড়া পাচ্ছি না। আমি নিজেও বলেছি, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা অত্যন্ত নিগৃহীত। তাদের তো এখনও বেতন দেওয়া হয় না। কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে তাদের অনুদান হিসেবে তাদের সহায়তা করা হয়।’
গত ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টে ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে মুঞ্জুরি দিয়েছে সরকার। ইমাম-মুয়াজ্জিনরা বার্ধক্যজনিত কারণে অক্ষম, আর্থিক অনটনে পড়লে অফেরতযোগ্যভাবে তাদের সহায়তা দেওয়া হয়।

‘জ্বলন্ত ঘুড়ি’র ভয়ে গাজায় হিলিয়াম সরবরাহ সীমিত করছে ইসরায়েল

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হিলিয়াম গ্যাসের সরবরাহ সীমিত করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। তেল আবিবের দাবি, ফিলিস্তিনিদের ‘ঘুড়ি সন্ত্রাস’ বন্ধের স্বার্থেই এই উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে তারা। হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করে নিজেদের আওতাধীন ভূখণ্ড থেকে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলে জ্বলন্ত ঘুড়ি পাঠিয়ে দেয়। একে ঘুড়ি সন্ত্রাস আখ্যা দিয়ে ইসরায়েল দাবি করে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দাবানল সৃষ্টি ও বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতির জন্য দায়ী। হিলিয়াম গ্যাস সরবরাহ সীমিত করার পেছনে ইসরায়েল ঘুড়ি সন্ত্রাস বন্ধের যুক্তি দিলেও এর কারণে গাজা উপত্যকার চিকিৎসা ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
টাইমস অব ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ ওয়েবসাইট মিডলইস্ট মনিটরের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার (১২ জুন) ইসরায়েলের সরকারি কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত সমন্বয়কারী (সিওজিএটি) মেজর জেনারেল কামিল আবু রোকন গাজায় হিলিয়াম গ্যাস সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেছেন।
ইসরায়েলি সেনাদের ভারী মারণাস্ত্রের বিপরীতে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা ঘুড়িকে তাদের লড়াইয়ের অস্ত্র বানিয়েছে। ইসরায়েল অভিযোগ করে আসছে, সাম্প্রতিক গ্রেট রিটার্ন মার্চের সময় গাজা থেকে উড়ে আসা জ্বলন্ত ঘুড়ি থেকে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে দাবানল দেখা দিয়েছে। ঘুড়ির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৪ লাখ মার্কিন ডলার দাবি করেছে দেশটি। মঙ্গলবার ইসরায়েলের সরকারি কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত সমন্বয়কারী (সিওজিএটি) মেজর জেনারেল কামিল আবু রোকন দাবি করেন, গাজার বিক্ষোভকারীরা বেলুনে হিলিয়াম গ্যাস ভরে সেগুলো সীমান্তের ওপারে পাঠাচ্ছে এবং এর ফলে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরে যাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকলে গাজায় কোনও হিলিয়াম গ্যাস প্রবেশ করবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
নতুন কড়াকড়ির আওতায় গাজায় ঠিক কী পরিমাণ হিলিয়াম গ্যাস সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হবে তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি রোকন। তবে এই গ্যাসের ওপর গাজাবাসীর চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকাংশে নির্ভরশীল। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে প্রাত্যহিক বিদ্যুৎ সরবরাহে সীমাবদ্ধতা থাকায় এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অভাবে আগে থেকে বিপর্যয়পূর্ণ অবস্থায় আছে গাজার হাসপাতালগুলো। জ্বালানি না থাকায় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে গাজা উপত্যকার সাতটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জেনারেটরগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া গত ৩০ মার্চ থেকে ফিলিস্তিনিদের গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন আন্দোলন শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়। এসব আহতকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। আর এর মধ্যে যদি হিলিয়াম গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় তবে গাজার হাসপাতালগুলো প্রচণ্ড রকমের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে পারে। কারণ, এমআরআই মেশিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামাদি চালাতে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩০ মার্চ ভূমি দিবসের বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১২০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ১৪ মে। ফিলিস্তিনিদের ‘গ্রেট রিটার্স মার্চ’র বিক্ষোভ কমর্সূচি চলমান থাকা অবস্থায় এদিন ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা তাদের বিক্ষোভ জোরালো করলে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালায়। এই কর্মসূচি শুরুর পর থেকে ঘুড়ি পাঠানো বাড়িয়েছে ফিলিস্তিনিরা।
ফিলিস্তিন থেকে যাওয়া জ্বলন্ত ঘুড়ির কারণে যাদের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সন্ত্রাসের ভুক্তভোগী হিসেবে অভিহিত করেছে ইসরায়েল। সম্প্রতি ইসরায়েলের জননিরাপত্তা মন্ত্রী গিলাদ এরদান বলেন, ‘ঘুড়ি সন্ত্রাস’ খুবই মারাত্মক। যারা এসব পাঠায় তাদের জীবন নিয়ে ভয়ে থাকা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিরোধমূলক গুপ্তহত্যা চালানো উচিত। এসব ঘুড়ির প্রেরক ও হামাস নেতাদের অবশ্যই এই প্রতিরোধমূলক হত্যার লক্ষ্য করতে হবে।’
অন্যান্য ইসরায়েলি রাজনীতিকরাও এই বিতর্কে হাওয়া দিয়ে যাচ্ছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদোর লিবারম্যানও এরদানের কথার পুরনাবৃত্তি করেন। আই টোয়েন্টিফোর নিউজের খবরে লিবারম্যানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘এটা অবশ্যই পরিষ্কার হওয়া উচিত যে আমরা ঘুড়ি হামলা, সীমান্ত বেষ্টনীর কাছে দাঙ্গা, বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা বা ইসরায়েলি এলাকার সার্বভৌমত্বের কোনও ক্ষতি মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নই’।

‘কাপড়-চোপড় তো দূরের কথা, খাওয়ার মতো সেমাইও নেই’ by আবদুল আজিজ

ঈদে হতাশায় রোহিঙ্গারা
‘আমার স্বামী নেই। রাখাইনে আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে সেনাবাহিনী। আমি চার সন্তান নিয়ে ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ঈদে কোনও সন্তানদের কাপড়-চোপড় তো দূরের কথা, খাওয়ার মতো সেমাইও দিতে পারিনি।’ কথাগুলো বলছিলেন উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মরিয়ম বেগম।
কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ঈদ উদযাপনের তেমন কোনও আমেজ নেই বললেই চলে। বেশিরভাগ রোহিঙ্গাদের কাছে ঈদ নিয়ে রয়েছে নানা হতাশা। ঈদের নতুন কাপড়, সেমাইসহ অন্যান্য উপকরণ কিনতে না পেরে তারা এ হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তবে প্রশাসনিকভাবে রোহিঙ্গাদের ঈদের নানা উপরকরণ ও ঈদের নামাজ আদায়ের সার্বিক প্রস্তুতি কথা জানিয়েছেন।
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গাদের মধ্যে অবস্থা সম্পন্ন অনেকেই ক্যাম্প নিকটবর্তী বাজার থেকে ঈদের কেনাকাটা করেছেন। তবে বেশিরভাগ রোহিঙ্গারাই রয়েছে হতাশায়।
উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আয়ুব মাঝি বলেন, ‘এবারের ঈদে কোনও এনজিও এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা কোনও ধরনের সাহায্য করেনি। এতে করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনেকেই হতাশায় রয়েছে। আমার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লকে ২ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা রয়েছে। এদের অধিকাংশ তাদের সন্তানদের জন্য কোনও কাপড় ও সেমাই কিনে দিতে পারেনি।’
একই ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মৌলভী আব্দুর রহমান বলেন, ‘রাখাইনে ঈদ তো দূরের কথা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ারও সময় দেয়নি সেনাবাহিনী। সবসময় মনের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক কাজ করতো। কিন্তু বাংলাদেশের শিবিরে একটু কষ্ট হলেও সেই ভীতি নেই। এ কারণে আমরা অনেক সুখি আছি।’
উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ছবুরা খাতুন বলেন, ‘রাখাইনে থাকতে আমার স্বামী অন্যের বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করে আয় রোযগাড় করতো। কিন্তু এখানে ক্যাম্প থেকে কোথাও যেতে না পারায় কোনও কাজকর্ম করতে পারছে না। এ কারণে এবারের ঈদ অন্যান্যবারের চেয়ে অনেক আলাদা।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘জেলা প্রশাসন সবসময় রোহিঙ্গাদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে। উখিয়া ও টেকনাফে যে সমস্ত ক্যাম্প রয়েছে সব ক্যাম্পে ‘ডব্লিউএফপি’ ‘ইউএনসিআর’ ‘আরআরসি’ সহ বিভিন্ন সংস্থা ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছে। একই সঙ্গেসপ্তাহিক ও মাসিক রেশমও বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও রোহিঙ্গারা যাতে অন্যদের মতো ঈদের নামাজ আদায় করতে পারে সেজন্য মসজিদে মসজিদে নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

পাহাড়ের স্বাভাবিক গড়ন নষ্ট করার কারণেই ঘটছে প্রাণহানি by হুমায়ুন মাসুদ

পাহাড় ধসের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন পরিবেশবাদীরা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য,মানুষ তার কৃতকর্মের কারণেই আজ পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে। পাহাড়ের স্বাভাবিক গড়ন নষ্ট করার কারণেই মূলত মানুষ এখন মাটিচাপা পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে।
গত বছর রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১১২ জন। সেই ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আজ (১২ জুন) একই জেলায় আবারও পাহাড় ধসে প্রাণ গেল ১১ জনের। শুধু রাঙামাটি নয়,এভাবে প্রতিবছর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। দিন দিন মৃত্যুর এই মিছিল বাড়ছেই।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাহাড়ের বেশিরভাগ মাটি বালু নির্ভর। ওই মাটি যখন অতিরিক্ত পানি শোষণ করে নেয়, তখন তার গড়ন নড়বড়ে হয়ে যায়। শক্ত গড়ন নষ্ট হয়ে মাটি সরে যায়। তখন মাটি ধসে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বালু নির্ভর হলেও পাহাড়গুলো যদি তাদের নিজস্ব গড়নে থাকে, তখন সেগুলো ধসে পড়ার আশংকা কম থাকে। পাহাড় তার নিজস্ব গড়নে থাকলে বৃষ্টির পানি দ্রুত গড়িয়ে নিচে চলে যায়। কিন্তু যখন মানুষ পাহাড় কেটে বা অন্য কোনোভাবে পাহাড়ের গড়ন নষ্ট করে, তখন পাহাড়ের মাটি অধিকমাত্রায় পানি শোষণ করার সুযোগ পায়। এ কারণেই কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হলে পাহাড় ধসে পড়ে।’
ড. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘শুধু বসবাস করার জন্য পাহাড় কাটা হচ্ছে অথবা মাটির গড়ন নষ্ট করা হচ্ছে তা নয়। পাহাড়ে চাষাবাদ করতে গিয়েও এর মাটির গড়ন নষ্ট করা হচ্ছে। যে কারণে এখন অনেক জনবসতিহীন পাহাড়ও ধসে পড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘থাকার জন্য হোক আর চাষাবাদের জন্য হোক কোনোভাবেই পাহাড়ের মাটির গড়ন নষ্ট করা উচিত নয়। পাহাড়ের গড়ন নষ্ট করলে পাহাড় ধসে পড়বেই।’
গোলাম কিবরিয়ার মতো একই মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মতো পাহাড়কেও সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে যদি আইন প্রণয়ন করা যায় এবং আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়, তবে পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধ করা যাবে; অন্যাথায় এটি রোধ করা সম্ভব নয়।’
ড. মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘মাইকিং করে, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে পাহাড়ে বসতিরোধ করা সম্ভব নয়। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কিছু লোক একটি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে পাহাড়গুলো দখল করে। পরে সেখানে ঘর তুলে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে তা ভাড়া দিয়ে দেয়। পাহাড়ে বসতিরোধ করতে হলে ওইসব লোককে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ভূমিদুস্যরা প্রথমে গ্রামীণ জনপদ থেকে আসা ভাসমান মানুষকে পাহাড়ের পাদদেশে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়। এরপর পাহাড় কেটে জায়গাটা সম্প্রসারিত করে। তারপর সেখানে ঘর তুলে ভাড়া দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে নিজেকে ওই জায়গার মালিক দাবি করে।’
মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ পাহাড় এই প্রক্রিয়ায় দখল হয়ে গেছে। পাহাড় বিলীন হয়ে সেসব এলাকায় এখন বড় বড় অট্টালিকা গড়ে উঠেছে।’
ড. মাকসুদুর রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের মিল পাওয়া গেছে। নগরীর মতিঝরনা, টাংকির পাহাড়, খুলশী পাহাড়, মিয়ার পাহাড়, একেখান পাহাড়, বাটালী হিল, আকবরশাহ –এসব পাহাড়ে দিন দিন জনবসতি বাড়ছে। পাঁচ বছর আগে যে পাহাড়ে একশ’ পরিবার থাকতো, এখন সেসব পাহাড়ে কয়েক শত পরিবার বসবাস করছে। পাহাড় ধসে প্রাণহানির পরও সেখানে নতুন নতুন বসতি গড়ে উঠছে।
অন্যদিকে, পাহাড়ে বসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাহাড় ধসে মৃত্যুর মিছিলও বাড়ছে। গত ১০ বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে চার শতাধিক মানুষ পাহাড় ধসে মারা গেছেন। যদিও এ বিষয়ে বিভাগীয় কার্যালয়ে সুর্নিদিষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পত্র-পত্রিকার খবর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১০ বছর চট্টগ্রাম বিভাগে ৪১৩ জন পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন।
২০০৭ সালের ১১ জুন মধ্যরাত থেকে প্রবল বর্ষণের পর একযোগে নগরীর কুসমবাগ, কাইচ্যাঘোনা, সেনানিবাসের লেডিস ক্লাব সংলগ্ন লেবুবাগান, বায়েজিদ বোস্তামী, লালখান বাজারের মতিঝরনা পাহাড়সহ সাতটি পৃথক স্থানে পাহাড় ধসে নিহত হন ১২৭ জন।
২০০৮ সালের ১৮ আগস্ট নগরীল লালখান বাজার মতিঝরনা এলাকায় পাহাড় ধসে মারা যায় চার পরিবারের ১২ জন। এরপর ২০১১ সালের ১ জুলাই টাইগার পাস এলাকার বাটালি হিলের ঢালে পাহাড় ও প্রতিরক্ষা দেওয়াল ধসে মারা যায় একই পরিবারের পাঁচ জনসহ মোট ১৭ জন।
২০১২ সালের ২৬ জুন নগরীর আকবর শাহ, উত্তর পাহাড়তলীর বিশ্বকলোনি, মক্কীঘোণা ও বাঁশখালীতে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে মারা যায় ২৩ জন। একই বছরের ২৬ এবং ২৭ জুন কক্সবাজার, বান্দরবান ও সিলেটে পাহাড় ধসে মারা যান আরও ৬১ জন।
২০১৫ সালের ২৬ এবং ২৭ জুন ধস আর পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে মারা যান ১৯ জন। ২০১৭ সালের ২০ মে আনোয়ারায় পাহাড় কাটার সময় মাটি চাপায় নিহত হন এক শ্রমিক। একই বছরের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ১১০ জন, চট্টগ্রামে ২৩ জন, বান্দরবানে ছয় জন, কক্সবাজারে দুই জন ও খাগড়াছড়িতে একজনের প্রাণহানি ঘটে। সর্বশেষ আজ (১২ জুন) রাঙামাটির নানিয়ারচরে পাহাড় ধসে মারা যান ১১ জন।
পরিবেশবাদী সংগঠন পিপলস ভয়েসের সভাপতি শরিফ চৌহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে পাহাড় ধসে মৃত্যুরোধ করা যাচ্ছে না। বর্ষা এলে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। কিন্তু বর্ষা চলে গেলে আর তাদের কোনও খোঁজ খবর থাকে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ে কতজন লোক বসবাস করছে,  সেই তালিকা পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে নেই। বর্ষা এলে জরিপ শুরু হয় প্রশাসনের। জরিপ শেষ হওয়ার আগেই আবার পেরিয়ে যায় বর্ষা। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বছরে দুয়েকটি বৈঠক করে। বৈঠকে পাহাড়ে বসতিরোধে তারা বিভিন্ন সুপারিশ দেয়। কিন্তু এসব সুপারিশ কার্যকর হয় না।
এ সম্পর্কে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতঘরগুলো উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু তারপরও পাহাড়ে বসতিরোধ করা যাচ্ছে না। আর যতদিন পাহাড়ে বসতিরোধ করা যাবে না ততদিন পাহাড় ধসে প্রাণহানি রোধ করা যাবে না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্পেশাল কোনও আইন না থাকায় যারা পাহাড় বসতি স্থাপন করে তাদের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত মামলা দায়ের করি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অধীনে এনে এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে পাহাড়ে বসতি অনেক কমে যেতো।’
এসময় পাহাড় ধসে হতাহতের তালিকার বিষয়ে সন্তোষজনক কোনও উত্তর দিতে পারেননি অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার। তবে তিনি বলেন,‘এ ধরনের সুনির্দিষ্ট কোনও তালিকা আমাদের কাছে নেই। যখন পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে, তখন আমরা নিহতদের তালিকা প্রস্তুত করি, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই তালিকা আমাদের কাছেও থাকে। তবে সেটি রিপোর্ট আকারে সংরক্ষণ করে রাখা হয় না।’
এসময় তিনি পাহাড় ধসে নিহতদের তালিকার জন্য অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুরুল আলম নোমানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ১০ বছরে পাহাড় ধসে নিহতদের কোনও পরিসংখ্যান তালিকাবদ্ধভাবে নেই। বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তথ্য ঘেঁটে নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।’

বিএনপি জোটকে হটাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চেয়েছিলেন জেনারেল নূরউদ্দীন

এক-এগারো ঘটনাটিকে একটি সামরিক অভ্যুত্থান হিসেবেও দেখেন কেউ কেউ। এখানে সশস্র বাহিনী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব সরাসরি না নিয়ে সামনে একটা অসামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে রেখে পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছে। কয়েক বছর ধরেই এই হস্তক্ষেপের জমি তৈরি হচ্ছিল। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার স্থূল প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিবিশেষের একগুয়েমি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ধর্মীয় চরমপন্থার উত্থান এ পরিবর্তনের পটভূমি তৈরি করে দিয়েছিল। এ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া যায় ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হ্যারি কে টমাসের কাছ থেকে। তিনি ২০০৩ সালের ২৭শে মে থেকে ২০০৫ সালের ২রা জুলাই পর্যন্ত ঢাকায় রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
লেখক, গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ ‘১/১১’ শীর্ষক এক লেখায় এসব কথা লিখেছেন। প্রথম আলো’র ঈদ সংখ্যায় লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে আরো লেখা হয়েছে, ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০০৪ হ্যারি কে টমাস ঢাকা থেকে ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরে একটি তারবার্তার মাধ্যমে জানান যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সেনাপ্রধান ও আওয়াম লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী নূরউদ্দীন খান ক্ষমতাসীন চারদলীয় জোট সরকারের অবসান ঘটিয়ে দুই প্রধান দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যমতের সরকারকে ক্ষমতায় বসাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে সাহায্য চেয়েছেন।
সম্প্রতি এক নৈশভোজের সময় তিনি (নূরউদ্দীন) রাষ্ট্রদূতকে বলেন, তিনি ‘উপর্যুপরি গণবিক্ষোভের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার হাত থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে’ চান। নূরউদ্দীনকে রাষ্ট্রদূত জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা চায়, সরকার বদলের জন্য যেকোনো অসাংবিধানিক পদ্ধতি বা সামরিক অভ্যুত্থান সমর্থন করে না। নূরউদ্দীনের অভিযোগ ছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভাই মেজর (অব.) সাঈদ এস্কান্দারের সতীর্থদের মধ্যে থেকে সাতজন জেনারেলকে অনুগত মনে করে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে। খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের
আমলে (১৯৯১-৯৬) সামরিক বাহিনীতে দলীয়করণ শুরু হয়। শেখ হাসিনার সরকার (১৯৯৬-২০০১) এই ধারা অব্যাহত রাখে। নূরউদ্দীন প্রস্তাব করেন যে, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট আবু তৈয়ব মোহাম্মদ জহিরুল আলম (জেনারেল জহির নামে ডাকা হয়) দেশের দায়িত্ব নিক। জহির উভয় দল থেকে যোগ্য মন্ত্রী নিয়ে দুই-তিন বছরের জন্য একটি সরকার গঠন করবেন; দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত করা, একটি নতুন সংবিধান তৈরি করা, দুর্নীতি দূর করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করা হবে তার লক্ষ্য; এরপর তিনি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আয়োজন করবেন।
বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার জন্য নিজেকেও কিছুটা দায়ী করে নূরউদ্দীন রাষ্ট্রদূতকে বলেন, জেনারেল এরশাদের পতনের সময় তার বন্ধু ও সাবেক সহকর্মী পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসলাম বেগ গোপনে দূত পাঠিয়ে তাকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন। নূরউদ্দীন তাতে রাজি না হয়ে আসলামকে অনুরোধ করেছিলেন বিএনপিকে সমর্থন করতে। তখন পাকিস্তান তাদের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইকে ব্যবহার করে বিএনপিকে অর্থের যোগান দিয়েছিল আর ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ টাকা দিয়েছিল আওয়ামী লীগকে। এ ধরনের অর্থায়ন এখনো চলছে। নূরউদ্দীন বলেন, শেখ হাসিনার কাজকর্মে নয়াদিল্লি অসন্তুষ্ট ছিল এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় উভয় দলকেই তারা টাকা দিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত এই তারবার্তায় আরও বলেন, গত ১৩ই সেপ্টেম্বর বিএনপির সংসদ সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান তাকে বলেছিলেন যে, সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থান ঘটানোর আগে সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি সংকেতের অপেক্ষায় থাকবে; ১৯৯৬ সালে সম্ভবত দুটি অভ্যুত্থান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল ইতিবাচক। তবে মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরী রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, সামরিক বাহিনী এমন কিছু করবে না যার ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
বইয়ের এ তথ্যের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, হ্যারি কে টমাস তারবার্তায় এসব কথা বলেছেন। ১/১১ নিয়ে আমার বই যখন প্রকাশিত হবে তখন সূত্রের ব্যাপারে বিস্তারিত লেখা হবে।
১/১১ শীর্ষক নিবন্ধে মহিউদ্দিন আহমদ আরো লিখেছেন, নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যখন মুখোমুখি অবস্থানে এবং চারদিকে কেবলই অনিশ্চয়তার অন্ধকার আর সহিংসতার আশঙ্কা, তখন রাজনীতিতে লেখা হচ্ছিল ভিন্ন এক চিত্রনাট্য। মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটিনেস এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী ৬ই জানুয়ারি ২০০৭ শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বলেন যে, এ ধরনের প্রস্তাবে তাদের সায় নেই এবং অচলাবস্থা কাটাতে দুই নেত্রী সাহসী পদক্ষেপ নিলে এ ধরনের জল্পনাকল্পনার অবসান হবে।

পল্লী দই: বাণিজ্য নয়, লক্ষ্য নতুন উদ্যোক্তা তৈরি by প্রতীক ওমর

বাণিজ্য নয় নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে বগুড়ার পল্লী দই। দুটির উদ্ভাবক পল্লী উন্নয়ন একাডেমি-আরডিএ। শুরুটা নিজেদের ব্যবসায়িক চিন্তা থেকে না হলেও, বর্তমানে চাহিদা বাড়ায় মোটা অঙ্কের ব্যবসাও হচ্ছে এখন। সেই সঙ্গে দিন দিন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিও হচ্ছে। পল্লী দই বগুড়ার স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এখন রাজধানী ঢাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির গবেষণায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে উৎপাদিত পল্লী দই ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পরিমিত মিষ্টি, সুস্বাদু ও দামেও বাজারের অন্যান্য দইয়ের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় পল্লী দইয়ের প্রতি অনেকেই আকৃষ্ট হচ্ছেন।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের জন্য ইতোমধ্যেই একটি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। লালমনিরহাট থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত বিভিন্ন চরে ১ লাখ ৩৩ হাজার পরিবারকে ১ লাখ ৩৩ হাজার গরু বিনামূল্যে দেয় আরডিএ। যা এখন ১০ লাখ গরুর বেশি হয়েছে। এসব গরু প্রতিদিন এখন দুধ দিচ্ছে। চরের এসব মানুষ তাদের গরুর দুধ বিক্রির সঠিক বাজার ও মূল্য বেশিরভাগ সময় পান না। ফলে তারা অনেক সময় দুধ কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। খামারিদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে দুধ প্রক্রিয়াজাত করে দই উৎপাদনে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। যাতে তারা নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে দুধ থেকে দই উৎপাদন করতে পারেন। এতে তারা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
এ ছাড়া গবেষণা করে ইনকিউবিটরে দই জমানোর পদ্ধতি আবিস্কার করা হয়েছে। ফলে দই প্রস্তুত করতে হাতের কোন প্রকার স্পর্শ লাগে না এবং বাইরের কোন প্রকার ময়লা আবর্জনা দইকে স্পর্শ করতে পারে না। ফলে এ পদ্ধতিতে আমরা স্বাস্থ্যসম্মত দই পেতে পারি। ইতোমধ্যে বেশকিছু উদ্যোক্তা একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে স্বাস্থ্য সম্মত দই উৎপন্ন করতে ইনকিউবিটর তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বগুড়া শহরের লাবানন দইঘর ইনকিউবিটর তৈরি করছেন। আর খুব শীঘ্রই তিনি ইনকিউবিটরে জমানো স্বাস্থ্যসম্মত দই তারা বাজারজাত করবেন। এ ছাড়া ঢাকায় দই এর চাহিদা বেশি থাকায় সেখানে কয়েকজন উদ্যোক্তা দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। খুব শীঘ্র ঢাকায় দ্বিতীয় পল্লী দই এর ইউনিট স্থাপনের কাজ শুরু হবে।
রাজধানীর বনশ্রীর বিডি গার্ডেনার্স লিমিটেড ও ইস্কাটনের ফ্যান্টাসিয়া নামের দু’টি প্রতিষ্ঠান ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পল্লী দই ইতোমধ্যেই সরবরাহ শুরু করেছে। বর্তমানে তার মাধ্যমে প্রায় ৭ থেকে ৮টি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পল্লী দই সরবরাহ নিয়ে থাকে। বাজারের অন্যান্য দই থেকে পল্লী দই এর একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো স্বাভাবিক মিষ্টি ও দামে সস্তা। বাজারে ৮০০ গ্রাম ওজনের সড়ার দইয়ের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা হলেও পল্লী দইয়ের দাম ১৩০ টাকা। তাছাড়া ইনকিউবিটরে জমানো এবং গ্যাসের চুলায় তৈরি করার কারণে এ দই ছাই বা ময়লা এবং মাছি বসার সুযোগ না থাকায় এটি স্বাস্থ্যসম্মত।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বগুড়ার কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ইউনিটের (ফার্ম টেকনোলজি) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরডিএ’র সহকারী পরিচালক আব্দুল আলিম বলেন, কৃষকদের খামারে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সময়োপযোগী প্রক্রিয়াজাতকরণ, সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকল্পে পরচালিত একটি ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি। দই ছাড়াও এ ইউনিট থেকে প্রায় ৪০ প্রকার কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়ে থাকে। যাতে কৃষক ও উদ্যোক্তাগণ নিজেরাই এসব প্রক্রিয়াজাত করে উদ্যোক্তা হতে পারেন। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য ও বাজার এর নিশ্চয়তা পেতে পারেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন উদ্যোক্তা নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে পরামর্শ নিয়ে থাকে। ফুড প্রসেসিংয়ের উপর ৩০ জন করে ইতোমধ্যেই ১৫টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক এম এ মতিন বলেন, বাণিজ্য নয় নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে বগুড়ার পল্লী দই। এছাড়া কৃষকদের পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতেই আরডিএ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ইউনিট স্থাপন করেছে। ফলে এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছে। এ ছাড়া কৃষকদের থেকে সংগৃহীত দুধ থেকে পল্লী ঘোল, বরফি, মিষ্টি তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যা খুব শিগগিরই বাস্তবায়ন করে বাজারজাত করা হবে।

ফেসবুকে প্রতারণা by পিয়াস সরকার

যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এখন ফেসবুক। মনের কথা, অভিব্যক্তি নিমিষেই পৌঁছে যায় শত শত বন্ধুর কাছে। এ ফেসবুকই একদিকে যেমন বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট করছে, তেমনি একে ব্যবহার করে কেউ কেউ স্বার্থ হাসিল করছে। প্রতারণার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করছে ফেসবুককে। প্রায়ই শোনা যায় ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম। এক সময় বন্ধুরূপী প্রতারকের খপ্পরে পড়ে অনেককে হারাতে হয়েছে ইজ্জত। শুধু তাই নয়, ইজ্জত খুইয়েই শেষ হয়নি, প্রাণ পর্যন্ত দিতে হয়েছে অনেককে। আবার ফেসবুককে ব্যবহার করে বহু পরিবারকে করা হয়েছে ছন্নছাড়া। বিজ্ঞানের আবিষ্কারকে ব্যবহার করে প্রেমিকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকির কথা শোনা যায় হরহামেশায়। আবার ফেক আইডি খুলে সম্মানি লোকের সম্মানহানি করা হচ্ছে অবলীলায়। ইদানীং অনলাইন কেনা-কাটার নামেও হচ্ছে প্রতারণা। প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা জানাজানিও হচ্ছে। তারপরও মানুষ প্রতারকের খপ্পড়ে পড়ছেন। আটকে যাচ্ছেন প্রতারণার জালে।
ফেসবুকের সহায়তায় গড়ে উঠেছে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। গত পহেলা বৈশাখে পোশাক মেলা ডট কম থেকে জামার অর্ডার করেছিলেন গৃহিণী হ্যাপি জাহান। তিনি বলেন, অনলাইনে যে থ্রি-পিসের অর্ডার করেছিলাম আর যে পণ্য হাতে পেয়েছি তার সঙ্গে রং ছাড়া আর কোনো কিছুরই মিল নেই। অর্ডার করেছিলাম ২ হাজার ৫০০ টাকার জামা। হাতে পেয়েছি যে জামা তার মূল্য ৫ থেকে ৮০০ টাকা।
একই ধরনের অভিযোগ করেন আদিত্য সাহা। তিনি বলেন, অনলাইনে অর্ডার করেছিলাম স্পোর্টস সু। জুতার মূল্য দোকানে ছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকা। তাদের অনলাইনে ছাড় চলছিল। ছাড়ে তার মূল্য দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮০০ টাকা। প্রথমত যে জুতা অর্ডার করেছিলাম সে জুতা পাইনি। দ্বিতীয়ত সু দেবার পাঁচদিনের মাথায় সোল খুলে যায়। কথা ছিল সমস্যা হলে বদলে দেবে। বদলে দেয়া তো দূরের কথা, পরে আর ঠিক মতো কথা পর্যন্ত বলেনি। তথ্যানুযায়ী মাসিক সক্রিয়তার হিসেবে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিশ্বজুড়ে ১৮৬ কোটি ছাড়িয়েছে। ২০১৭ সালের ফেসবুকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লাখ। এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী বলেন, আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে ১০টি। যার মধ্যে ৬টিতে আমি সক্রিয়, ২টি ছেলে ৪টি মেয়ের নামে। এসব অ্যাকাউন্ট দিয়ে বন্ধু বানিয়ে মজা করি। এমনি এক অ্যাকাউন্ট দিয়ে স্যারের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক চালিয়েছি চার মাস।
কারমাইকেল কলেজ রংপুরের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফুল হক মাহির বলেন, ফেসবুকে পরিচয় হয় পাবনা অ্যাওয়ার্ড কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে। দীর্ঘ দিন কথা হয়। জড়িয়ে যাই প্রেমের সম্পর্কে। ভিডিও কলে কথা পর্যন্ত হয়েছে আমাদের। এভাবে চলতে থাকে। মাঝে মধ্যে আমার কাছে টাকা ধার নিতো সে। টাকার পরিমাণটা ছিল অনেক কম ২ শত থেকে ৫ শত টাকা। আবার অনেক সময় টাকা ফেরতও দিত। এভাবে বছরখানিক যাবার পর, সিদ্ধান্ত নেই আমরা বিয়ে করে ফেলবো। সে আমাকে মাস খানেক বাহিরে থাকার মতো টাকা আনতে বলে। আমি ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাই তাদের কলেজে। কিন্তু না বিয়ে তো দূরের কথা আমাকে জিম্মি করে সব টাকা এবং নিজের পরিশ্রমে কেনা মোবাইল ফোনটাও খোয়াই। আর কোনো দিন খোলা পাইনি তার নম্বর কিংবা ফেসবুক আইডি।
আবার আইডি হ্যাক করে বিকাশে টাকা চাওয়া, তথ্য চুরি করা, অন্যের লেখা কপি করে নিজের নামে চালিয়ে দেবার ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।
সম্প্রতি ‘সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন’র এক গবেষণায় উঠে আসে, দেশে সাইবার অপরাধের শিকার ৫১.১৩ শতাংশ নারী এবং ৪৮.৮৭ শতাংশ পুরুষ। গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাঝে ফেক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হন ১৪.২৯ শতাংশ নারী, ১২.৭৮ শতাংশ পুরুষ। ছবি বিকৃতের শিকার হন ১২.০৩ শতাংশ নারী, ৩.৭৬ শতাংশ পুরুষ। অনলাইনে হুমকির শিকার ৯.৭৭ শতাংশ নারী এবং এত পুরুষের সংখ্যা ৩.৭৬ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারী ১৩৩ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে ২১ শতাংশের মধ্যে ৭ শতাংশ ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে শরণাপন্ন হয়ে সুফল পেয়েছেন। ২৩ শতাংশ ব্যক্তি আইনি ব্যবস্থা নিয়ে হয়রানির মুখে পড়েছেন। আত্মমর্যাদা ধরে রাখতে চেপে যান ১৭ শতাংশ ব্যক্তি। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী জানান ছবি বিকৃতির কথা। তার আইডি হ্যাক করে তার ছবির মুখের অবয়ব রেখে নিচে অশ্লীল অংশ জুড়ে দেয়া হয়। ক্যাপশনে তার নম্বর দিয়ে আপত্তিকর  আহ্বান জানানো হয়। পরে তিনি বড় বোনের ফোন থেকে ঢুকে দেখেন এবং পরিচিতজনদের মাধ্যমে রিপোর্ট করিয়ে ব্লক করে দেন। তিনি বলেন, এমনি অবস্থা হয়েছিল না পারতাম কাউকে বুঝাতে না পারতাম ফোন রিসিভ করতে। পরে নম্বর পরিবর্তন করে ফেলি। কিন্তু তাতেও কাজ হয় না। নতুন নম্বরেও ফোন আসা শুরু হয়। পরে বুঝতে পারি এটা পরিচিত কারো কাজ। এভাবে অনেক দিন মেবাইল বিহীন থাকার পর এই সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাহায্য না নেয়ার কারণ হিসেবে বলেন, বিষয়টি থেকে আমি মুক্তি চাইছিলাম আর কোনো ঝামেলার মধ্যে পড়তে চাচ্ছিলাম না।  এশিয়া প্যাসেফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিগমা রেজা জ্যোতি। তার নামে এত পরিমাণ ফেইক আইডি ছিল যে রিপোর্ট করে ব্লক করতে করতে বিরক্ত। আইডি ব্লক করা গেলেও একটা পেইজ কিছুতেই ব্লক করতে পারছেন না। তিনি বলেন, পেইজে আজেবাজে কিছু পোস্ট দেয়া হয় না। কিন্তু কখন কি পোস্ট দিয়ে ফেলে এই নিয়ে সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তায় থাকি। তিনি বলেন, ধানমন্ডি থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাকে ফিরিয়ে দেয় জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকার কারণে।   সিলেট আম্বরখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র অতনু, ফেসবুকে সে তার এক শিক্ষিকার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে শিক্ষিকার বানানো পর্ণো ছবি আপলোড করে দেয়। অশ্লীল স্ট্যাটাস দিয়ে অতনু তার শিক্ষিকার মোবাইল ফোন নম্বরও দিয়ে দেয়। সেখানে লিখা হয়, ‘প্লিজ কল মি’। এ নিয়ে তোলপাড় হয় সর্বত্র। ৩৫তম বিসিএস উত্তীর্ণ প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন সহকারী সচিবের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে পর্নো ছবি ফেসবুক আপলোড করে মোবাইল ফোন নম্বর দেয়া হয়। নানান প্রতারণা মূলক মিথ্যা স্ট্যাটাস দেয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও এবং ছবি ছড়ানো এবং ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করায় মুন্সীগঞ্জে মেহেদি হাসান অপি (২৮) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও আইসিটি আইনে ৫৭ ধারায় মামলা হয়। বিয়ের আগে পাঁচ বছর ওই তরুণীর সঙ্গে মেহেদির সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক থাকাকালে মেহেদি ওই তরুণীর অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ধারণ করে রাখে। ৬ বছর আগে ওই তরুণীর  সৌদি প্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায়। তাদের পাঁচ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। মেয়েটির বিয়ের পর থেকে মেহেদি ওই অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওই তরুণীকে প্রায়ই ধর্ষণ করতো। কিছুদিন পর মেহেদি সেইসব ভিডিও ফেসবুকে বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশের রয়েছে সাইবার ক্রাইম ইউনিট। তারা অভিযোগ গ্রহণের পর সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আবার ফেসবুকে রয়েছে ‘সাইবার ক্রাইম ডিভিশন’ ফেসবুক পেজ। এই পেজের মাধ্যমেও অভিযোগ করা যাবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার কিবরিয়া রহমান বলেন, অন্যায়ের শিকার হলে আমাদের কাছে আসুন। আমাদের ইউনিট তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে সক্ষম। ‘সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন’র গবেষণায় উঠে আসে, দেশে সংঘটিত সাইবার অপরাধের শিকার মেয়েদের ৭৩.৭১ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর। ১৮ বছরের কম ১০.৫২ শতাংশ মেয়ে এবং ৩০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে ১২.৭৭ শতাংশ, ৪৫ বছরের বেশি ৩ শতাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশেদা রওনক খান বলেন, সাইবার ক্রাইম বন্ধে আমাদের সকলের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে হবে।

রাশিয়া ২১তম ফুটবল বিশ্বকাপের ভেন্যু

রাশিয়া ২১তম ফুটবল বিশ্বকাপের ভেন্যু সমুহ...


লুঝনিকি স্টেডিয়াম

অবস্থান : মস্কো
নির্মাণ: ১৯৫৫
বিশ্বকাপের জন্য সংস্কার : ২০১৩-২০১৭
সংস্কার ব্যায় : ৩৫০ মিলিয়ন ইউরো
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৮০ হাজার
মাঠের আয়তন : ১১৪.৮ x ৭৪.৪ গজ

স্পার্টাক স্টেডিয়াম

অবস্থান : তুশিনো, মস্কো
নির্মাণ: ২০১০
উদ্বোধন : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
নির্মাণ ব্যায় : ৪৩০ মিলিয়ন ডলার
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৪৫৩৬০
মাঠের আয়তন : ১০৫ x ৬৮ মিটার

কালিনিনগ্রাদ স্টেডিয়াম

অবস্থান : কালিনিনগ্রাদ, রাশিয়া
নির্মাণ: ২০১৬
উদ্বোধন : ২১ মে, ২০১৮
সংস্কার ব্যায় : ৭২০ মিলিয়ন ডলার
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৩৫২১২

সামারা এরেনা

অবস্থান : সামারা
নির্মাণ: ২০১৪ বিশ্বকাপ উপলক্ষে
নির্মাণ: ২০১৮
সংস্কার ব্যায় : ৩২০ মিলিয়ন ডলার
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৪৪৯১৮

সেন্ট পিটার্সবার্গ

অবস্থান : ক্রিস্তোভস্কি দ্বীপ, সেন্ট পিটার্সবার্গ
ধারণক্ষমতা : ৬৭ হাজার
নির্মাণকাল : ২০০৫ সাল থেকে শুরু
উদ্বোধন : ২০১৭ সালে
নির্মাণ ব্যায় : ১ বিলিয়ন ডলার
ম্যাঠের আয়তন : ১০৫×৬৮ মিটার

রোস্তভ এরেনা

অবস্থান : ক্রিস্তোভস্কি দ্বীপ, সেন্ট পিটার্সবার্গ
ধারণক্ষমতা : ৬৭ হাজার
নির্মাণকাল : ২০০৫ সাল থেকে শুরু
উদ্বোধন : ২০১৭ সালে
নির্মাণ ব্যায় : ১ বিলিয়ন ডলার
ম্যাঠের আয়তন : ১০৫×৬৮ মিটার

মোর্দোভিয়া এরেনা

অবস্থান : সারানস্ক, মোর্দোভিয়া
ধারণক্ষমতা : ৪৪৪২
নির্মাণ : ২০১০ সালে
উদ্বোধন : ২০১৮ সালে
নির্মাণ ব্যায় : ৩০০ মিলিয়ন ডলার

কাজান এরেনা

অবস্থান : কাজান, তাতারস্তান
ধারণক্ষমতা : ৪৫৩৭৯
নির্মাণ : ২০১০ সালে
উদ্বোধন : ২০১৩ সালে
নির্মাণ ব্যায় : ৪৫০ মিলিয়ন ডলার
মাঠের আয়তন : ১০৫/৬৮ মিটার

একাতেরিনবার্গ এরেনা

অবস্থান : একাতেরিনবার্গ
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৩৫৬৯৬
নির্মাণ : ১৯৫৭
সংস্কার : ২০১৪-২০১৭
মাঠের আয়তন : ১০৫/৬৮ মিটার

ভোলগোগ্রাদ এরেনা

অবস্থান : ভোলগোগ্রাদ
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৪৫৫৬৮ জন
নির্মাণ : ২০১৫
সালে উদ্বোধন : ২০১৮ সালে
নির্মাণ ব্যায় : ৪৩০ মিলিয়ন ডলার

ফিশ্ট স্টেডিয়াম

অবস্থান : সোচি, ক্রান্সোদার,
দর্শক ধারণ ক্ষমতা : ৪১ হাজার
নির্মাণ: ২০১৩
সংস্কার : ২০১৮
নির্মাণ ব্যায় : ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার
আয়তন : ১০৫×৬৮ মিটার

নিঝনি নভগোরদ

অবস্থান : নিঝনি নভগোরদ
দর্শক ধারণক্ষমতা : ৪৫ হাজার
নির্মাণ : ২০১৫
উদ্বোধন : ২০১৮
নির্মাণ ব্যায় : ১৭.৯ মিলিয়ন রুবল

খাগড়াছড়িতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে আম্রপালি by জসিম মজুমদার

খাগড়াছড়িতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে আম্রপালি
আর কয়েকদিন পরেই বাজারে আসবে পাহাড়ের সুস্বাদু আম আম্রপালি। গত বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে আম্রপালি ফলন বিপর্যয় হয়েছিল। এবছর আবহাওয়া অনকূলে থাকায় খাগড়াছড়িতে আম্রপালি চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশিরভাগ কৃষকের আম্রপালি আম গুটিতেই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ২ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করে কৃষকেরা মাত্র ১৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন আম পায়। যেখানে ২০১৬ সালে ২ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে আমের ফলন ছিল ২৭ হাজার ৩৪২ মেট্রিক টন, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৬০৯ হেক্টর জমিতে আমের ফলন ছিল ২০ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন।
চলতি বছর আমের ফলন আরও বেড়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, চলতি বছর আবাদি জমির পরিমাণ ৩০০০ হেক্টর। তারা আশা করছে এই পরিমাণ জমিতে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম্রপালি উৎপাদন হবে শুধু খাগড়াছড়ি জেলাতে। কেজি প্রতি গড়ে ১০০ টাকা করে ধরলেও যার আর্থিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা হবে।
জেলা শহরের তেতুলতলা এলাকার আম্রপালি চাষি অনিমেষ চাকমা রিংকু জানান, তিনি প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে আম্রপালি চাষ করেছেন। এবছর আবহাওয়া ভাল থাকায় ও রোগ-বালাইয়ের বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরামর্শে তারা সব সময় নির্দেশনা মেনে কাজ করায় আমের বাম্পার ফলন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সব মিলিয়ে ৭০ থেকে ৮০ মেট্রিক টন আম পাবেন তিনি। যা গত বছরের চেয়ে তিনগুণ বেশি। তিনি আগামী ১০ জুন থেকে আম্রপালি বিক্রি শুরু করবেন বলে জানান।
গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া এলাকার কৃষক মো. শাহাজ উদ্দিন জানান, সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হেক্টরের আম্রপালি বাগান আছে তার। তিনি চলতি বছর ৭ থেকে ১০ মেট্রিক টন আম পাবার আশা করছেন, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
তিনি আরও জানান, আম্রপালি আম সুস্বাদু হওয়ায় ঢাকাসহ সারাদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু খাগড়াছড়ি থেকে আম জেলার বাইরে যেতে তাদেরকে বিভিন্ন গ্রুপকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়।
দিঘীনালা উপজেলার মধ্য আশ্রম এলাকার কৃষক তুষার বসু জানান, তার ১০-১২ হেক্টর জমিতে বাগান আছে। এখানে বিভিন্ন ফলদ গাছের পাশাপাশি আম্রপালিও আছে। আম্রপালি এবার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তার বাগানের আম্রপালি কিনতে ইতোমধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন পার্টি এসেছে।
পুরো বাগানের আম ঠিক কত টাকায় বিক্রি করতে পারবেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, আম সাধারণত তিন ক্যাটাগরিতে বিক্রি হয়। ভালো মানের আমগুলো কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, এর থেকে একটু নিম্নমানের আম ৭০ থেকে ৮০ টাকায় এবং তৃতীয় ধাপের আমগুলো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করা যায়। সারা বছরের খরচ বাদ দিলে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা থাকবে।
খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সফর উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ থেকে আম্রপালি বিক্রি শুরু হবে। এবার প্রথম থেকেই ধারণা ছিল ফলন ভালো হবে। পাহাড়ের মাটি এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করেই এই প্রজাতির আম প্রচলন করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। চলতি বছর আগাম বৃষ্টি পাওয়ায় ষোলোকলা পূর্ণ হয়েছে কৃষকদের।

কাশ্মিরে ঈদ আছে, নেই উৎসব

সারাবিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় যখন ঈদের আনন্দ করছে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ঈদের রং যেন ততটা রঙিন নয়। শনিবার ভারতজুড়ে পালন করা হচ্ছে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ‍উৎসব ঈদুল ফিতর। অথচ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মিরেই নেই ঈদের চিরাচরিত আমেজ। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে ঈদের দিনেও। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাংবাদিক সুজাত বুখারির মৃত্যুজনিত শোক। সবমিলে কাশ্মিরবাসীর ঈদ যেন তাদের জাতিগত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবির লড়াই।
কাশ্মিরের স্বাধীনতার দাবিতে লড়াইরত সমস্ত মানুষকেই বিচ্ছিন্নতাবাদী কিংবা সন্ত্রাসী হিসেবেই দেখে ভারত রাষ্ট্র। যদিও কাশ্মিরে পাকিস্তানপন্থীদের তৎপরতা থাকলেও সেখানে সরাসরি কাশ্মিরের স্বাধীনতার দাবিতে লড়াইকারীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে ভারতের দাবি, কাশ্মিরে যারা লড়াই করছেন তারা আসলে জঙ্গি। বিচ্ছিন্নতাবাদী। কাশ্মির প্রশ্নে সমগ্র ভারতীয় স্টাবলিশমেন্টের দৃষ্টিভঙ্গিতেই সেখানকার সমস্যাকে ‘বিচ্ছিন্নতা আর জঙ্গিবাদের’ সমস্যা আকারে দেখা হয়ে থাকে। বিপরীতে কাশ্মিরিদের কাছে সেখানকার লড়াই আদতে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণের লড়াই। কাশ্মিরের স্বাধীনতার প্রশ্নে সরব খোদ ভারতীয় বুদ্ধিজীবীরাও। ভূবনখ্যাত বুদ্ধিজীবী অরুন্ধতি রায় স্পষ্ট করে বলেন, সেখানে আসলে ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসন চলছে। অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে কাশ্মিরবাসীকে। কাশ্মির সমস্যার একমাত্র সমাধান স্বাধীনতা।
বৃহস্পতিবার ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের শ্রীনগরে বুখারীকে তার কার্যালয়ের বাইরে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এখনও কেউ এই হত্যার দায় স্বীকার না করলেও পুলিশের ধারণা, জঙ্গিরাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় শ্রীনগরে নিজের অফিসের বাইরেই গুলিবিদ্ধ হন ‘রাইজিং কাশ্মির’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক সুজাত আর তার দেহরক্ষী। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা সুজাত ও তার এক দেহরক্ষীকে  মৃত ঘোষণা করেন। খবরে বলা হয়, লাল চকের প্রেসক্লাবের বাইরে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুজাত। আচমকা বন্দুকধারীরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সুজাত বুখারির মৃত্যুর পর থেকেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এর পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজের পরই কাশ্মিরে সংহিসতার ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিক্ষুব্ধ জনতা। পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে পাথড় ছুঁড়তে থাকে। পুলিশও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। শনিবার ঈদের নামাজের পর আবারও একই ঘটনা ঘটে।পাথর ও টিয়ারশেল ছোঁড়া হয় ‍দুই পক্ষ থেকে। কাশ্মিরের দক্ষিণাঞ্চলের শোপিয়ান শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৭ তরুণ। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের দমনে ছররা গুলি ব্যবহার করেছেন তারা।
বুখারি খুন হওয়ার পর সেখানকার সংবাদমাধ্যমগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শোক ও একাত্মতা প্রকাশ করছেন কাশ্মিরবাসী। এই হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মন্ত্রীরা। নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী দলসহ অন্যান্য নেতারাও। টুইটারেও চলছে সমালোচনার ঝড়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায় একদল কাশ্মিরবাসীর। তারা পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে থাকে। পুলিশও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তবে সেদিন হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষ বড় আকার ধারণ করে ঈদের দিন সকালে। ঈদের নামাজের পর পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে বিক্ষুব্ধ জনতা। টিয়ারশেল ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। শোপিয়ান শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৭ তরুণ। তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের দমনে ছররা গুলি ব্যবহার করেছেন তারা। ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট কমপ্লেক্সে মোতায়েন করা হয়েছে সিআরপিএফ পুলিশ।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে অবশ্য ১১৫ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি বলেন, বড় অপরাধ না করা বন্দিদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে করে তারা পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারবে।

ঈদে মেহেদী দেয়ার প্রচলন কিভাবে এসেছে?

বাংলাদেশে উৎসবে মেহেদীর রঙে হাত সাজানো খুব জনপ্রিয় একটি রীতি। ধর্মীয় যেকোন উৎসব থেকে শুরু করে বিয়ে-জন্মদিন সহ নানা অনুষ্ঠানে মেহেদীর রঙে হাত না রাঙ্গালে অনেকের কাছেই উৎসবের পরিপূর্ণতা পায় না। মেহেদি গাছের গাঢ় সবুজ রঙের পাতা থেকে যে মিষ্টি গন্ধের টকটকে লাল নির্যাস বের হয়, সেটা সবার মন কেড়ে নেয়। মেহেদি পাতা বেটে, শুকিয়ে, গুড়া করে বা পেস্ট করে শরীরের বিভিন্ন স্থান রাঙানোর ইতিহাস বহু পুরনো। আর উৎসবে বিশেষ করে ঈদ হলে তো কথাই নেই। বিয়েতে বর কনের হাতে মেহেদি থাকা চাই ই চাই। মেহেদির দেয়ার কারণে কখনো কোন অ্যালার্জি বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার নজির না থাকায় যুগে যুগে এর জনপ্রিয়তা একবিন্দু কমেনি, বরং বেড়েছে।
নিশাত ইয়াসমিন তার একমাত্র ছোট মেয়েকে নিয়ে মেহেদির রঙে হাত সাজাতে এসেছেন রাজধানীর এক বিউটি পার্লারে। তিনি জানান মেহেদি না দিলে তার ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণতা পায় না। "ঈদের সময় আমরা সবাই চাই সুন্দর হয়ে সাজতে। আর মেহেদি আমাদের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই মেহেদিটা পরি। এতে ঈদের আনন্দটাও বেড়ে যায়।"
শরীরে এই মেহেদি দেয়ার ইতিহাস অনেক আগের। তবে ঠিক কবে কোথায় মেহেদির আবিষ্কার হয়েছিলো তার সঠিক কোন দিনক্ষণের ব্যাপারে কোন তথ্য মেলেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক তৌহিদুল হক জানিয়েছেন, "লিখিত কোন দলিল না থাকলেও ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) এর মেহেদি ব্যবহারের তথ্য মুসলমানদের এই মেহেদি ব্যবহারের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে।"
পরে ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল সাম্রাজ্য এই মেহেদি দেয়ার প্রথাকে আরও প্রসারিত করে। তৌহিদুল হক বলেন, "মেহেদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে হযরত মোহাম্মদ (স.) এর একটি উক্তি রয়েছে। এই বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে এই ভারতীয় উপমহাদেশে এক সময় মেহেদির ব্যবহার শুধুমাত্র মুসলিম জনগোষ্ঠী বা মুসলিম সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে মুঘল সাম্রাজ্যের জনগণ এটাকে প্রসারিত করে।"
রাজধানীর বিভিন্ন বিউটি পার্লারগুলোতে রয়েছে মেহেদি দেয়ার জন্য বিশেষায়িত বিউটিশিয়ান। যারা শুধুমাত্র মেহেদি দেয়ার কাজ করেন। বিবিসি প্রতিবেদন কথা বলেছেন তাদের একজনের সঙ্গে। তিনি জানান, শুধু ঈদ না, সারা বছর জুড়ে নানা ধর্মের মানুষ আসে মেহেদি দিয়ে হাত রাঙাতে। এজন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হয় তাদের।
"গ্রাহকরা সুন্দর সূক্ষ্ম ডিজাইন চায়। অনেকে মোবাইলে ডিজাইন ডাউনলোড করে আনে। হাত ছাড়াও পায়েও অনেকে ডিজাইন করেন। কেউ কেউ মেহেদি দিয়ে ট্যাটুও করেন। কারো পছন্দ এক লাইনের ডিজাইন। আবার অনেকে পুরো হাত ভরে মেহেদি দেন। একেকজনের পছন্দ একেক রকম। আমরা ৫ ঘণ্টা ৬ ঘণ্টা বসে টানা মেহেদি দিতেই থাকি। ঈদে তো মেহেদি দেয়া হয়ই। তবে বিয়েতে এটা থাকতেই হয়। বউয়ের হাত মেহেদী রাঙ্গানো না হলে বিয়েটা পূর্ণ হয়না। বউ বউ লাগেনা।"
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মেহেদির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এবং আফ্রিকায় যেসব দেশের ভাষা অ্যারাবিক সেসব দেশেও ব্যবহৃত হয় এই মেহেদি।
অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলছিলেন। বিশ্বের নানা দেশের মেহেদি ব্যবহার হচ্ছে কিন্তু এর কারণ বা উদ্দেশ্য স্থানভেদে ভিন্ন। তিনি জানান,
"শুরুতে মেহেদির প্রচলন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের জায়গা থেকে শুরু হলেও পরে এই প্রথাটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় পেয়েছে। তবে এখন মানুষ এখন এটাকে সার্বজনীন রূপে গ্রহণ করেছে। তবে একেক দেশে একের ধরণের কারণ আর উদ্দেশ্যে মেহেদি ব্যবহার হয়।"
ইতিহাসের বইগুলোয়, মিসরের ফারাও সাম্রাজ্যে মমির হাতে ও পায়ের নখে মেহেদির মতো রঙ দেখা যায়। তবে সেটা মেহেদি দিয়ে রাঙানো কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আবার বর্তমান যুগে বিভিন্ন ধর্মের বিয়ের উৎসবে মেহেদি সন্ধ্যা নামে আলাদা একটি দিনের আয়োজন করা হয় যেখানে বর কনে থেকে শুরু করে পুরো পরিবার আনন্দে মেতে ওঠে শুধুমাত্র মেহেদির রঙে নিজেকে রাঙিয়ে তুলতে। আবার অনেকে চামড়ার বিভিন্ন রোগের জন্য হার্বাল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করছে এই মেহেদি।

রোনালদোর হ্যাটট্রিক

আগের তিন বিশ্বকাপে মাত্র ৩ গোল। বিশ্বকাপে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এমন পারফরম্যান্স ভক্তদের মন ভরাতে পারেনি যেন! কিন্তু চতুর্থ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই যেন ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকে। সেই সঙ্গে ঢুকে পড়লেন ‘গ্রেট শো অন আর্থের’ হ্যাটট্রিকের রেকর্ডে। শুধুকি তাই ৩ গোলে এগিয়ে থাকা স্পেনকে ম্যাচের শেষ মুহুর্তে হতাশ করেন যাদুকরি এক ফ্রি কিকে। এর আগে বিশ্বকাপের পাঁচ বারের দেখাতে শুধু একবারই ড্র করেছিল পর্তুগাল। বাকি চার বার দেখেছিল হারের মুখ। এবার অবশ্য জয়ের সুযোগ এসেছিল কিন্তু একা রোনালদো কিভাবে জেতাবেন নিজ দলকে! তবে, বিশ্বকাপসুলভ টান টান উত্তেজনাকর খেলার জন্য মুখিয়ে থাকা ফুটবল ভক্তদের দারুণ এক ৯০ মিনিট উপহার দিল ২০১০ বিশ্বকাপ জয়ী স্পেন ও রোনালদোর পূর্তগাল। হ্যা, স্পেনের বিপক্ষে মাঠে খেলেছে রোনালদোর পর্তুগালই। কারন, তিনি ছাড়া পূর্তগালকে জেতানোর যে কেউ ছিলনা। মাঠের অপর প্রান্তে দিয়েগো কস্তা স্প্যানিশ শিবিরকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছিলেন প্রায়। কিন্তু শেষমেষ রোনালদো কারিশমায় ‘বি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে স্পেনের ভাগ্যে জুটেছে ড্র’র হতাশা।
শুরুতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দুই গোলের জবাবে দুই গোল করলেন দিয়েগো কস্তাও। এরপর স্পেনকে ম্যাচে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন ফার্নান্দো নাচো। কিন্তু শেষে আবার রোনালদো জাদু। দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে সমতা ফেরান পর্তুগিজ অধিনায়ক। রাশিয়া বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপে আইবেরিয়ান উপদ্বীপের দুই দেশের রোমাঞ্চকর লড়াইটি শেষ হয়েছে ৩-৩ গোলের সমতায়। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে স্পট কিকে বল জালে পাঠান রোনালদো। ডি-বক্সের ঠিক ভেতরে রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ নাচো ফার্নান্দেস রোনালদোকে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ডান দিক দিয়ে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। দেশের পক্ষে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চার বিশ্বকাপে গোল করলেন পর্তুগাল অধিনায়ক। ২০১৬ থেকে ২০১৮ নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে এ গোল ছিল নিজেকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রথম বার্তা। অন্যদিকে স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচের আগে ৩৪০ মিনিটে খেলে একটি গোলও করতে পারেননি রোনালদো।
এরপর শুরু হয় স্পেনের নায়ক দিয়াগো কস্তার পাল্লাপাল্টি লড়াই। ২৪ তম মিনিটে ফিরতি আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান দিয়েগো কস্তা। বল পেয়ে এগিয়ে যান ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া স্পেনের এই ফরোয়ার্ড। পায়ের কারিকুরিতে দুই ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে ঠান্ডা মাথায় দারুণ শটে বল জালে পাঠান কস্তা। ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছিলেন রেফারি। বল রিসিভ করার আগে পেপেকে ফেলে দিয়েছিলেন কস্তা। তবে সেটি ফাউল না হওয়ায় গোল বাতিল হয়নি। ২৭তম মিনিটে দলকে প্রায় এগিয়েই নিচ্ছিলেন ইসকো। তার শট ফেরানোর কোনো সুযোগই ছিল না গোলরক্ষক পাত্রিসিওর। কিন্তু বল ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে গোললাইনে পড়ে মাঠে ফিরে। ৪৪তম মিনিটে পর্তুগালকে আবার এগিয়ে নিলেন রোনালদো। পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের এই গোল যেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক দাভিদ দে হেয়ার উপহার। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিচু শট তার গ্লাভস ফস্কে জালে জড়ায়। পিছিয়ে পড়া স্পেনকে ৫৪তম মিনিটে আবার সমতায় ফেরান কস্তা। তার এই গোলে অবশ্য বড় অবদান আছে বুসকেতসের। দাভিদ সিলভার ক্রসে বাইলাইন থেকে হেডে বার্সেলোনা মিডফিল্ডার খুঁজে নেন কস্তাকে। গোলের অমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেননি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ মিডফিল্ডার। ম্যাচের শুরুতেই রোনালদোকে ডি-বক্সে ফাউল করে যেন খলনায়ক হয়ে গেছিলেন নাচো। সেই ভুল ৫৮তম মিনিটে শোধ করে দলকে এগিয়ে নেন এই ডিফেন্ডার। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার কোনাকুনি শট পোস্টের ভেতর দিকে লেগে জড়ায় জালে।
কিন্তু বাকি ছিল রোনালদোর জাদু। ৮৭তম মিনিটে চমৎকার এক ফ্রি-কিক গোলে দলকে সমতায় ফেরান রোনালদো। ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল ক্রসবার ঘেঁষে পৌঁছায় জালে। ফেরানোর চেষ্টাই করতে পারেননি ডি গিয়া। বিশ্বকাপে রোনালদোর এটাই প্রথম হ্যাটট্রিক। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে স্পেনের বিপেক্ষে কোনো খেলোয়াড়েরও এটা প্রথম হ্যাটট্রিক। তবে বিশ্বকাপের হ্যাটট্রিকের ইতিহাসে এটি ৫১ তম।

বিতর্কিত সীমান্ত নীতি বাস্তবায়নে বাইবেলকে হাতিয়ার করছে হোয়াইট হাউস!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত সীমান্ত নীতি বাস্তবায়নে বাইবেলকে হাতিয়ার করছে হোয়াইট হাউস। এই সীমান্ত নীতি অনুযায়ী, অবৈধভাবে প্রবেশকারী বাবা-মায়ের কাছ থেকে তাদের সন্তানদের আলাদা করে হেফাজতে রাখবে কর্তৃপক্ষ। আর এর স্বপক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে বাইবেলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স। অথচ খোদ যিশুই শরণার্থী ছিলেন। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সারাহ স্যান্ডার্সের ওই সাফাইয়ের সমালোচনা করছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিএনএন-এর এক প্রশ্নের উত্তরে সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, আমি এটা বলতে পারি যে, এই আইন বা নীতির প্রয়োগ বাইবেলের সঙ্গে খুবই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্স ও দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টমাস হোম্যান জানান, অবৈধভাবে প্রবেশকারী বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তানদের আলাদা করার নীতিটি নতুন নয়। যেসব প্রক্রিয়া এরই মধ্যে চালু রয়েছে সরকার সেগুলোকে আরেকটু বিস্তৃত করছে।
হোম্যান বলেন, দুটি পরিস্থিতিতে আমরা সব সময় পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করেছি। প্রথমত যখন আমরা সন্তানের বাবা-মা হিসেবে তাদের চিহ্নিত করতে পারি না এবং মনে করা হয় শিশুটিকে পাচার করা হচ্ছে।
অনেক সময় পাচারকারীরা শিশুদের ভুয়া বাবা-মা সাজিয়ে পাচারের চেষ্টা করে জানিয়ে হোম্যান বলেন, দ্বিতীয় যে ক্ষেত্রে আমরা পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করি সেটা হচ্ছে বিচারের সময়। এই দেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। এদেশে প্রবেশে সঠিক উপায় রয়েছে। একই ভাবে ভুল পন্থাও রয়েছে।
গত এপ্রিলে অ্যাটর্নি জেনারেলও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বিচার করা যদি আমাদের দায়িত্ব হয় তাহলে কিছু সময়ের জন্য সন্তানদের আলাদা রাখতেই হবে।

মুখ খুললেন জেনারেল মইন ও ব্রিগেডিয়ার বারী

বহুল আলোচিত ২০০৭ সালের ‘এক/এগারো’র আবির্ভাব সংঘটনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে মুখ খুলেছেন তদানীন্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ ও ডিজিএফআইর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলুল বারী। দীর্ঘ নীরবতা অবলম্বনের পর ঘটনা সম্পর্কে তারা যা বলেছেন, তাতে জানা যায়, জেনারেল মইন উ আহমেদ কোনো অবস্থাতেই দেশে সামরিক শাসন জারির পক্ষে ছিলেন না। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী বলেছেন, দেশের প্রতি প্রবল মমত্ববোধ থেকেই তিনি জরুরি অবস্থা জারির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রথম আলোর ঈদ সংখ্যায় তাদের দুজনের সাক্ষাৎকার থেকে এসব তথ্য জানা যায়। ইমারজেন্সি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মইন উ আহমেদ বলেন, ‘আমরা না। প্রেসিডেন্ট এটা করলেন। উই আর নো অথরিটি। প্রেসিডেন্টকে বলেছি দিস ইজ দ্য সিচুয়েশন, দিস আর দ্য ওয়েস। ফর ফেয়ার অ্যান্ড ক্রেডিবল ইলেকশন, হ্যাভ আ ফ্রেশ কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট, আপনি ইমারজেন্সি দেন। ট্রুপস তো অলরেডি ডেপ্লয়েড আছেই।’ মইন বলেন, ‘যেদিন প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হ্যান্ডওভার করা হয়, সেদিনই ট্রাবল শুরু হয়ে গিয়েছিল। এমনকি এর আগে থেকেই। নিশ্চয়ই স্মরণ আছে, বায়তুল মোকাররমের ওখানে মানুষকে কীভাবে পাড়িয়ে মেরেছিল? আমার কাছে এত খারাপ লেগেছে? ইট ওয়াজ সো ব্যাড। সন্ধ্যার সময় গিয়ে, আই হ্যাভ সিন দ্যাট সিন। পশু পশুকে যেভাবে মারে, মানুষ মানুষকে সেভাবে পাড়িয়ে মারছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, হোল ওয়ার্ল্ড এই সিন দেখেছে। দেশ একটা বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। ২২ জানুয়ারি যে ইলেকশনটা হওয়ার কথা ছিল, ওটা হলে তো সর্বনাশ হয়ে যেত। ওরা (আওয়ামী লীগ) তো বলেছিল পুরো দেশ বন্ধ করে দেবে। বাট লেট মি টেল ইউ, আই হ্যাভ নো ইনটেনশন টু ইন্টারভিন। বিলিভ মি। এটা আস্তে আস্তে গ্রো করা শুরু করল। ওয়ান অব মাই সিনিয়র অফিসার্স কেইম টু মি। বলল, এসব ঘটেছে, উই কান্ট সিট আইডল। আমি তাকে বললাম, ইউ হ্যাড নো রাইট টু স্পিক লাইক দ্যাট। তুমি এটা বলেছ এবং দ্যাটস দ্য অ্যান্ড অব ইট। ডোন্ট এভার ট্রাই অ্যাগেইন। বলেছি এ কথা। সে চলে গেছে। বেশ কিছুদিন পর আবার আসছে। বলে, স্যার অল অফিসার্স আর...। আমি অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছি, সিনিয়র অফিসার যারা ছিল। থার্ড টাইম হি টোল্ড...। তারপর তো সব দেখেশুনে...। তারপর, এরা ইলেকশন করবে না, প্রেসিডেন্টও বলল, আমি কী করব। এসব দেখে শুনে আস্তে আস্তে ইট স্টার্টেড বিল্ডিং আপ ইন মাই মাইন্ড।’
তিনি বলেন, ‘দুই পার্টি, দে ওয়ার নট কামিং টু অ্যানি শর্ট অব আন্ডারস্টান্ডিং। ইলেকশন হবেই। ইলেকশন হলেই তো বোঝেন, ওয়ানসাইডেড ইলেকশন হতো। অন গ্রাউন্ড আওয়ামী লীগ ওয়াজ ভেরি পাওয়ারফুল। অর্গানাইজেশন-ওয়াইজ গ্রাসরুট লেভেল থেকে স্ট্রং। ইউএন থেকে কিন্তু আরেকটা সাইড ছিল। ওরা বলল, তোমরা দেশের অবস্থা ঠিক কর। তোমাদের দেশে পিপল আর ইন ইন ট্রাবল। তোমরা কি পিসকিপিং করবা? সো উই উইল হ্যাভ টু টেক সাম অ্যাকশন অ্যাবাউট দ্য পিসকিপার্স হু আর নাউ ওয়ার্কিং অ্যাব্রড। দেখলাম, যদি এটা হয়, ট্রুপস উইল টেক ইট ভেরি নেগেটিভলি। একজন সৈনিক রিটায়ার্ড করলে যে টাকা পায়, তার চেয়ে বেশি টাকা পায় পিসকিপিংয়ে গেলে এক বছরে। এটা একটা লাইফটাইম সুযোগ। এসব দেখে ভাবলাম... লেটস হ্যাভ আ ফেয়ার অ্যান্ড ক্রেডিবল ইলেকশন অ্যান্ড গেট আউট।’ তিনি বলেন, ‘২২ জানুয়ারি যে ইলেকশনটা হওয়ার কথা ছিল, ওটা হলে তো সর্বনাশ হয়ে যেত। ওটা হলে আফটার এফেক্টটা দেখেন কী হতো? ওরা (আওয়ামী লীগ) তো বলেছিল পুরো দেশ বন্ধ করে দেবে। বঙ্গভবনে গেলাম। সেখানে প্রেসিডেন্ট নিজেই বলেছেন, হু উইল বি দ্য চিফ অ্যাডভাইজার? সে সময় ডিসকাশনে ড. ইউনূসের নাম আসে। কিন্তু তিনি স্বল্পমেয়াদি সময়ের জন্য রাজি হলেন না। যদিও উনাকে বলা হয়েছিল দুই বছরের। এর পরও না। দ্বিতীয় নাম এলো ড. ফখরুদ্দীনের। পেসিডেন্ট বলেছেন, উনি ভালো। নামটি উনিই দিয়েছেন। আমি তো কাউকে চিনি না। আই ওয়াজ নেভার ইন্টারেস্টেড ইন দি আউটসাইড ওয়ার্ল্ড। রাত সাড়ে ১২টায় তাকে ফোন করা হলো। তিনি শুনে সময় নিলেন। বললেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে নেবেন। বললাম, আচ্ছা স্যার, উই আর অল ওয়েটিং হিয়ার। বললেন, আধা ঘণ্টা। ওকে, বললাম। আধা ঘণ্টা পর উনি ফোন করলেন, অ্যাকসেপ্ট করলেন।’ মইন উ আহমেদ বলেন, ‘১২ তারিখ ১০টায় উনি এসে আমাদের সঙ্গে মিটিং করলেন, ইন চিফ অ্যাডভাইজার্স অফিস। ওখানে এলাম, কথাবার্তা হলো। আই ক্লিয়ারলি সেইড, ইউ আর এভরিথিং। উই উইল নট বদার ইউ। এবং আমাদের ফার্স্ট কথা হলো, কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট উইল হ্যান্ডওভার পাওয়ার টু দি ইলেকটেড গভর্নমেন্ট, উইল টেক কেয়ার অব দ্য করাপশন ইন দ্য শর্টটাইম। পাঁচটা পয়েন্ট বলেছিলাম, নোবডি ইন ইয়োর ক্যাবিনেট উইল ইনডালজ ইন অ্যানি শর্ট অব করাপশন। ইফ হি ডাজ, হি উইল বি টেকেন টু টাস্ক ইমিডিয়েটলি। পাঁচটা পয়েন্ট আমার এখন স্মরণ নাই। হি মোর অর লেস অ্যাগ্রিড। বললাম, ভালো এবং এফিশিয়েন্ট এ রকম লোক আমাদের চাই, ১০ জন। তো খোঁজা শুরু হলো। এর মধ্যে শুরু হলো মানুষের টেলিফোন। এভরিবডি ওয়াজ সেয়িং, হি হ্যাজ কোয়ালিটি টু বিকাম অ্যাডভাইজার। যা হোক, অ্যাডভাইজাররা তো হ্যান্ডপিকড। যাদের সিলেক্ট করা হয়েছে, দে আর গুড পিপল। দোজ হু কুড নট শো দেয়ার এফিশয়েন্সি, আফটার ওয়ান ইয়ার উই ড্রপড দেম। যেমন একজন অ্যাগ্রিকালচার অ্যাডভাইজার ছিলেন। এ রকম ভালো লোক আমাদের দেশে আছে? বেশ বয়স হয়েছে। পায়ে একটা প্রবলেম ছিল। উনি ভোররাতে ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্টে চলে যেতেন। গিয়ে ওই পয়েন্টে দাঁড়াইয়া থাকতেন। ইন ফ্রন্ট অব হিম, চুরিটুরি বন্ধ। হি ওয়াজ হার্ডওয়ার্কিং। মাই হ্যাটস অব টু হিম।’ এক/এগারোর সময় ক্ষমতার পালাবদলে ডিজিএফআইর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলুল বারীর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেদিন বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে। দীর্ঘদিন পর সেদিনের প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনিও বলেছেন অজানা অনেক কথা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী বলেছেন, তিনি নিজেই বিভিন্নভাবে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদকে ইমারজেন্সি দেওয়ার ব্যাপারে প্ররোচিত করেছেন। তবে এ ব্যাপারে সেনাপ্রধানেরও লুকানো ইচ্ছা ছিল। তিনিও সময়-সুযোগ খুঁজছিলেন। শুরুর দিকে তৎকালীন নাইন ডিভের জিওসি মেজর জেনারেল মাসুদ উদ্দীন আহমেদকে দিয়ে ইমারজেন্সির ব্যাপারে ইঙ্গিত দেওয়ানো হলেও তিনি ভালোভাবে সায় দেননি। মেজর জেনারেল মাসুদ বেগম খালেদা জিয়ার আত্মীয় হওয়ার কারণেই হয়তো সেনাপ্রধান শুরুতে তাকে ভরসা করতে পারেননি। যদিও পরে জেনারেল মাসুদকেই ভরসা করেছেন তিনি। ব্রিগেডিয়ার বারী বলেছেন, ততদিনে সিটুয়েশন ভোলাটাইল হয়ে গেছে। ইমারজেন্সি দেওয়ার জন্য আমি জেনারেল মাসুদকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনিও সায় দিলেন। বললেন, কিছু একটা করা দরকার। কয়েকদিন পরপরই আমি উনাকে বলি স্যার, চিফের কাছে যান। আলাপ-টালাপ করেন। এভাবে দেশ চলতে পারে না। কয়েকদিন পর তিনি বলেন, হ্যাঁ, চিফের কাছে গেছিলাম, ‘হালকা উঠাইছি, উনি তো এদিকে যায় না। মানে ডরায়, কথা বলতে চায় না।’ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী বলেন, ‘কিছুদিন পর আমার ডিজি গেলেন ইউকে (ব্রিটেন)। সিচুয়েশন একদম পিকে। আমি অ্যাকটিং ডিজি। আমি গিয়ে উনাকে সিচুয়েশন ন্যারেট করলাম। তারপর উনি নিজে থেকেই বললেন যে, দেশের কী অবস্থা? বললাম স্যার দেশের অবস্থা এখন তো আর লুকানো নাই। মিডিয়া তো সবকিছু পাবলিশ করে। কোনো কিছু গোপন থাকে না। দেখছেন তো আপনি প্রতিদিন কী হচ্ছে না হচ্ছে। তোমার কী অভিমত— সেনাপ্রধানের এমন প্রশ্নের উত্তরে আমি বলছিলাম, এটা থেকে নরমালসি আনতে হলে প্রেসিডেন্টকে ইমারজেন্সির জন্য বলতে হবে। সেনাপ্রধান জানতে চাইলেন, অন্যরা কী বলে? আর্মির অ্যাটিচুড কী? আমি বললাম, সেনাপ্রধান যা করবে, তারা তো আর বাইরে থাকবে না। সেনাপ্রধানের চিন্তাটা তো আসবে সেখান থেকেই, দেশের সাধারণ মানুষের অবস্থা থেকে। তুমি আর্মির কাছে গিয়ে খোঁজ নাও। আই টকড টু অল কমান্ডারস, জিওসিস। দু-এক জন ছাড়া, যাদের সঙ্গে আমার ভালো ইয়ে নাই। সবাই ওপিনিয়ন দিয়েছিলেন, কিছু একটা করা দরকার। বাট নো মার্শাল ল। কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টের চিফ হওয়ার জন্য আমরা ড. ইউনূসকে বললাম। তিনি সায় দেননি। ইমারজেন্সি প্রক্লেমেশনের জন্য বঙ্গবন্ধু আমলের এবং এরশাদ সাহেবের আমলের গেজেট একসঙ্গে করে মডারেট ভার্সন তৈরি করেছিলাম।’
ইমারজেন্সির আগের রাতে আর্মি চিফের ফোনের প্রসঙ্গ টেনে ব্রিগেডিয়ার বারী বলেছেন, ‘১০ তারিখ রাতে চিফের সঙ্গে আমার কথা হয়, অ্যাজ ইউজুয়াল, ডিজিএফআইর অ্যাকটিং চিফ হিসেবে। তিনি বললেন, বারী একটা জিনিস তো পাওয়া গেছে। ইমারজেন্সি ডিক্লেয়ার করার পক্ষে শক্ত একটা ডকুমেন্ট— ইউএন মিশনে বাংলাদেশ থেকে সৈনিকদের আর নেবে না। এটা তো একটা বড় প্লি আমাদের জন্য। এইমটা তো ইমারজেন্সি না, এইম হলো পিস রি-এস্টাবলিশ করা।
এর পরই আমি জেনারেল মাসুদকে চিফের ফোনের বিষয়টি অবগত করলাম। বললাম স্যার আপনি তাড়াতাড়ি আসেন। রাতেই তিনি আমার অফিসে এলেন। বললেন আমিনকে ডাকো (ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ টি এম আমিন)।’ বারী বলেন, ‘আমিন-মইন— সাধারণ মানুষের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। এরা পড়াশোনা করেছে আইসোলেটেড স্কুলে। আমিনের ফাদার সম্ভবত ফরেন মিনিস্ট্রিতে ছিল, বিদেশে ঘুইরা বেড়াইছে। সাধারণ ছেলেদের সঙ্গে বসে যে ক্লাস করা, পালস বোঝা, গ্রামে কাদার মধ্যে লুঙ্গি উঠাইয়া আসা এ রকম তো দেখে নাই। যার ফলে তারা ফুটপাথে বাড়ি দিয়া উঠায়া দাও, মার্শাল ল কইরা ফেলো, ভাইঙ্গা ফেলো এই টাইপের অ্যাটিচুড। টকশো বন্ধ করে দাও। আমি সেনাপ্রধানকে বললাম, স্যার এগুলো বন্ধ করবেন না। মানুষকে কথা বলতে দিতে হবে। ভালো করলে বলবে, খারাপ করলেও বলবে। আমাদের বক্তব্য আমরা দেব। মানুষ তো খারাপ বলে নাই প্রথম দিকে।’ এক/এগারোর দিন বঙ্গভবনের বিষয়টির অবতারণা করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বারী বলেন, ‘ওইদিন বঙ্গভবনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ের পর সেনাপ্রধানসহ বাহিনীর প্রধানরা এলেন। সেনাপ্রধানের বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপতি বললেন, কী করা? উনি বললেন, ইমারজেন্সি দেওয়া। আমাকে পদত্যাগ করতে হবে নাকি? রাষ্ট্রপতির এমন প্রশ্নে সেনাপ্রধান বললেন, না আপনাকে প্রেসিডেন্টশিপ থেকে পদত্যাগ করতে হবে না। বাট অ্যাজ কেয়ারটেকার চিফ ইউ হ্যাভ টু রিজাইন।’ ড. ইউনূসের প্রসঙ্গে বারী বলেছেন, ‘কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টের চিফের প্রস্তাব দিয়ে মেজর জেনারেল মাসুদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিনকে নিয়ে ড. ইউনূসের কাছে গিয়েছিলেন। উনার প্রথম কথা ছিল টাইমফ্রেম কতদিনের জন্য? উনি বললেন, কম সময় যদি হয় তাহলে কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না। এরপর এলো ফখরুদ্দীনের নাম। আমি নিজেই উনাকে ফোন করেছিলাম।’