Saturday, September 1, 2018
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ছবি ব্যবহার করে বার্মিজ সেনাদের মিথ্যাচার

এ বছরের জুলাইয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পাবলিক রিলেশন ও সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার ডিপার্টমেন্ট ১১৭ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট বইটি প্রকাশ করে। ‘মিয়ানমার পলিটিক্স অ্যান্ড দ্য তাতম্যাডো’ শীর্ষক এ বইয়ে গত বছরের আগস্টে রাখাইনের সেনা অভিযানের বর্ণনা দেয়া হয়। বইটিতে প্রকাশিত কয়েকটি ছবি গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চ ও টিনআইয়ের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে দেখে রয়টার্স। কোনো ছবি পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে কিনা তা এই পদ্ধতিতে যাচাই করা হয়। সাধারণত সংবাদমাধ্যমগুলো এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এতে দেখা যায়, বইটিতে প্রকাশিত মোট ৮০টি ছবির বেশিরভাগই বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সেনাপ্রধানের বৈঠক বা স্থানীয় কর্মকর্তাদের রাখাইন পরিদর্শনের ছবি। যা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরে। কয়েকটি ছবি আবার উগ্রপন্থি রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরসার প্রকাশ করা ভিডিও থেকে নেয়া হয়েছে।
রাখাইনে স্থানীয় সংখ্যালঘুদের ওপর রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের চিত্র হিসেবে বইটিতে একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। ছবিতে দুটি মৃতদেহের পাশে এক ব্যক্তি কৃষি উপকরণ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন। যেন তিনি জলাশয়ের তীরে ভেসে থাকা ওই মৃতদেহকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর প্রকাশ করা বইয়ে এ ছবির ক্যাপশন দেয়া হয়েছে, ‘বাঙালিরা নৃশংসভাবে স্থানীয় সংখ্যালঘুদের হত্যা করেছে।’ সেখানে এটিকে ১৯৪০ সালে রাখাইনে সংঘটিত জাতিগত দাঙ্গার ছবি হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। ওই অধ্যায়ে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। কিন্তু রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার ছবি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ই-আর্কাইভেও হুবহু একই ছবি সংযুক্ত রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসর আল বদরের হাতে গণহত্যার শিকার বাঙালিদের মৃতদেহ বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে। জাতিগত দাঙ্গার বিষয়ে বার্মিজ সেনাদের ‘ট্রু নিউজ’ বা সত্য বার্তাতে এ ছবিটিই প্রকাশ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক ছবি হিসেবে প্রকাশিত আটটি ছবির মধ্যে তিনটি ছবির উৎস রয়টার্সের বিশ্লেষণে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আর বাকি পাঁচটি ছবির মূল উৎস যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একটি ধূসর সাদা-কালো ছবিতে দেখা যায়, তল্পিতল্পা নিয়ে একদল মানুষ দীর্ঘপথে হেঁটে চলেছে। এই ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, মিয়ানমারের নিম্নাঞ্চলীয় অঞ্চল বৃটিশ উপনিবেশের দখলে যাওয়ার পর বাঙালিরা মিয়ানমারে অনুপ্রবেশ করছে। মূলত এই ছবিতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ছবিটি ১৯৯৬ সালের। এটি রুয়ান্ডার গণহত্যা থেকে প্রাণ বাঁচাতে তানজানিয়ায় পালাতে থাকা শরণার্থীদের ছবি। পিটার্সবার্গ-পোস্ট গেজেট নামের একটি পত্রিকার আলোকচিত্রী মার্থা রিয়াল ছবিটি তুলেছিলেন। পরে তিনি পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছিলেন। এই বিষয়ে পত্রিকাটির মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তারা সাড়া দেননি।
সেনাবাহিনীর ওই বইয়ে প্রকাশিত আরো একটি ছবিকে ভুয়া বলে শনাক্ত করেছে রয়টার্স। সাদাকালো ওই ছবিতে বিপুলসংখ্যক মানুষকে একটি ভঙ্গুর প্রায় নৌকায় আরোহণ করতে দেখা যায়। বইটিতে এ ছবির ক্যাপশন দেয়া হয়, পানিপথে বাঙালিরা মিয়ানমারে প্রবেশ করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের নৌপথে মালেশিয়া ও থাইল্যান্ড পাড়ি দেয়ার ছবি। ২০১৫ সালে অভিবাসন প্রত্যাশী এসব মানুষকে বহনকারী নৌকাটি আটক করে মিয়ানমারের নৌবাহিনী। মূল ছবিকে উল্টে দিয়ে ও ‘ব্লার’ (অসচ্ছ) করে বইয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। সোর্স হিসেবে মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ছবির সত্যতা নিয়ে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হতে ও সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের সঙ্গে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। আর মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউ মো মিন্ট এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এখনো বইটি পড়েননি বলে জানান তিনি।
বইটিতে বেশিরভাগ তথ্যের সূত্র হিসেবে সেনাবাহিনীর তথ্য ইউনিট ‘ট্রু নিউজ’ এর উল্লেখ করা হয়। রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকেই এই ইউনিটটি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পক্ষে, বিশেষ করে ফেসবুকে বিভিন্ন প্রচারণা চালিয়ে আসছে। ইয়াঙ্গুনের দোকানগুলোতে এই বইটি বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানকার একজন বই বিক্রেতা জানান, তাদের কাছে থাকা ৫০ কপি বই বিক্রি হয়ে গেছে। তবে নতুন করে বইটি বাজারে তোলার কোন পরিকল্পনা তাদের নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই বই বিক্রেতা বলেন, ‘বেশি মানুষ বইটির খোঁজে আসেন না।’
এদিকে, জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনা উস্কে দেয়ার অভিযোগ তুলে সোমবার মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ফেসবুক। একই দিনে, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে রাখাইনে গণহত্যার অভিপ্রায়ে সেনা অভিযান চালানোর দায়ে জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা মিন অং হ্লাইংসহ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে তারা। মানবতাবিরোধী অপরাধ করার দায়ে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন।
কিন্তু বইটিতে সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা রাখাইনের সহিংসতার জন্য বাঙালি সন্ত্রাসীদের ওপর দোষ চাপিয়েছে। বলেছে, বাঙালি সন্ত্রাসীরা রাখাইনে ‘আর্কিস্তান’ নামে একটি রোহিঙ্গা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। প্রথমে আরসা’র উগ্রপন্থি রোহিঙ্গারা সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালায়। এর প্রেক্ষিতেই গত বছরের আগস্টে রাখাইনের ওই সেনা অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেনাবাহিনী তাদের বইয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে অভিহিত করে তাদের অতীত ইতিহাস বর্ণনা করেছে। এতে লেখক হিসেবে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ক্যাও ক্যাও ও’র নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ভূমিকায় তিনি লিখেছেন, বইটি বাঙালিদের ইতিহাস উন্মোচনের লক্ষ্যে প্রামাণ্য আলোকচিত্রের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। দেখা গেছে, মিয়ানমারে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তন বা জাতিগত সংঘাতের ঘটনাগুলোকে বাঙালিরা সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে। মুসলিমরা মিয়ানমারের নতুন গণতান্ত্রিক পালাবদলের অনিশ্চয়তাকে ধর্মীয় সংঘাত উস্কে দেয়ার সুযোগ হিসেবে নিয়েছে। এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে ক্যাও ক্যাও ও’র সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমার ভাষা আমার দায়িত্ব by মুহম্মদ জাফর ইকবাল

অনুমান করা হয়, পৃথিবীতে এখন প্রায় সাত হাজার ভাষা রয়েছে। অনেকেই হয়তো চিন্তাও করতে পারবে না যে, এই সাত হাজার ভাষা থেকে প্রতি দুই সপ্তাহে একটি করে ভাষা ‘মৃত্যুবরণ’ করছে। ভাষা কোনও প্রাণী নয়, তাই তার জন্য মৃত্যুবরণ শব্দটা ব্যবহার করা যায় কিনা, সেটা নিয়ে তর্ক করা যেতে পারে, কিন্তু যখন একটি ভাষায় আর একজন মানুষও কথা বলে না, তখন ভাষাটির মৃত্যু হয়েছে বলা অযৌক্তিক কিছু নয়। অনুমান করা হয়, এই শতক শেষ হওয়ার আগেই পৃথিবীর অর্ধেক ভাষা মৃত্যুবরণ করবে। একটি ভাষা যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সঙ্গে বিশাল একটা ইতিহাসের মৃত্যু হয়, অনেক বড় একটা কালচারের মৃত্যু হয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে, একটি জাতি যখন আরেকটি জাতিকে পদানত করতে চায়, তখন প্রথমেই তারা তাদের ভাষাটির গলা টিপে ধরে।
একসময় পৃথিবীর ভয়ঙ্কর একটি দেশ ছিল সাউথ আফ্রিকা। সেই দেশের স্কুলের কৃষ্ণাঙ্গ বাচ্চাদের ওপর জোর করে আফ্রিকানা ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ১৯৭৬ সালের ১৬ জুন প্রায় ২০ হাজার কৃষ্ণাঙ্গ স্কুলের বাচ্চা প্রতিবাদ করে রাস্তায় নেমে এসেছিল। শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সেদিন গুলি করে একজন নয়, দুই জন নয় প্রায় সাতশত স্কুলের বাচ্চাকে মেরে ফেলেছিল। ভাষার জন্য পৃথিবীর ইতিহাসে এর চাইতে বেশি প্রাণ দেওয়ার উদাহরণ আছে বলে আমার জানা নেই।
আমাদের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা এখন শুধু আমরা নই, সারা পৃথিবী জানে। ২১ ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। শুধু তাই নয়, আমাদের এই দেশটির জন্মের ইতিহাসটি বাহান্নোর ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে একইসঙ্গে একই সূত্রে গাঁথা।
কিন্তু অনেকেই জানে না, বাংলা ভাষার জন্য আমাদের এই অঞ্চলে আরও একবার রক্ত ঝরেছিল। আসামের একটা বড় অংশ বাংলা ভাষায় কথা বলতো। তারপরও শুধু অহমিয়া ভাষাকে আসামের দাফতরিক ভাষা হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেখানকার বাঙালিরা তাদের ভাষার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিল। সেই আন্দোলন থামানোর জন্য পুলিশ গুলি করে ১৯৬১ সালের ১৯ মে এগারোজনকে হত্যা করে। তার মধ্যে একজন ছিল ১৬ বছরের কিশোরী কমলা, মাত্র একদিন আগে সে তার ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা শেষ করেছিল। আসামের বরাক উপত্যকার সেই রক্ত শেষ পর্যন্ত বৃথা যায়নি, সেখানকার তিনটি জেলায় বাংলাও এখন দাফতরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে, আমরা যত গৌরবের সঙ্গে আমাদের ভাষা শহীদদের স্মরণ করি, আসামের ভাষা শহীদের ততটুকু গৌরবের সঙ্গে স্মরণ করা হয় বলে মনে হয়নি। আমরা একবার শিলচরে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম, তখন সেখানকার বাঙালি শিক্ষকেরা দুঃখ করে বলেছিলেন, তাদের ভাষা আন্দোলনকারীদের স্মরণে তৈরি করা শহীদ মিনারটিও তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে করার অনুমতি পাননি। সেটি তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকার বাইরে। আমি মনে করি, প্রতি বছর ১৯ মে দিনটিতে বরাক উপত্যকার সেই ভাষা শহীদদের বাংলাদেশে গভীর ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করা উচিত।
ভাষা মৃত্যুবরণ করতে পারে, জানার পর আমার এক ধরনের কৌতূহল হয়েছিল, তাহলে কি ভাষা অসুস্থ হতে পারে? ভাষাবিজ্ঞানীরা এখনও অসুস্থ ভাষা হিসেবে ভাষাগুলোকে চিহ্নিত করতে শুরু করেননি কিন্তু তার উল্টোটা আছে, ‘প্রভাবশালী’ ভাষা। কাউকে নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না, কথা বলার সংখ্যায় তৃতীয় হয়েও পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ভাষা হচ্ছে ইংরেজি। পৃথিবীতে যে ভাষায় যতবেশি মানুষ কথা বলে, তাদের প্রভাবও সে রকম। তবে দুটো চোখে পড়ার মতো ব্যতিক্রম রয়েছে, একটি হচ্ছে ফরাসি ভাষা। কথা বলার সংখ্যায় তারা অনেক পেছনে, প্রায় আঠারো নম্বর কিন্তু প্রভাবের দিক দিয়ে তারা একেবারে দুই নম্বর। আবার বাংলাভাষা কথা বলার সংখ্যায় পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ হয়েও প্রভাবের দিকে অনেক পেছনে, একেবারে আঠারো নম্বর। বলাই বাহুল্য, তথ্যটি দেখে আমি যথেষ্ট বিচলিত হয়েছি। আমাদের বাংলা ভাষা এত পিছিয়ে আছে কেন? যত দিন যাবে, সারা পৃথিবীর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আমাদের ভাষাটি আরও পিছিয়ে যাবে? ভাষাটি কি আরও দুর্বল হয়ে যাবে?
এই মুহূর্তে বাংলাদেশসহ ভারতবর্ষে বিশ কোটিরও বেশি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। এটি বাংলাদেশের জাতীয় ভাষা, ভারতবর্ষ ও সিওরালিওনের দাফতরিক ভাষা। বাংলাদেশ ও ভারত এই দুটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাংলাভাষায়। শুধু তাই নয়, বাংলা ভাষায় কথা বলে এমন প্রায় এককোটি মানুষ পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, তারপরও বাংলাদেশ প্রতাপের দিক দিয়ে এত পিছিয়ে কেন?
তার কারণ বাঙালিরা কখনও অন্য দেশকে কলোনি করে জোর করে নিজ ভাষাকে অন্য ভাষার ওপর চাপিয়ে দেয়নি, কখনও অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী দেশ ছিল না যে, অন্য ভাষার মানুষ আগ্রহ নিয়ে এই ভাষা শিখবে। শুধু তাই নয় তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে যখন ভাষাকে কম্পিউটারে ব্যবহার করার সময় এসেছে, তখন আমরা দেখছি বাংলা ভাষাকে তথ্য-প্রযুক্তি দিয়ে সমৃদ্ধ করার ব্যাপারে অনেক পিছিয়ে আছি! আমরা নিজেরা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছি, বাংলা ভাষাকে তথ্য-প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে আমাদের সেরকম আগ্রহ নেই, অপেক্ষা করে আছি পৃথিবীর বড় বড় প্রতিষ্ঠান কোনও একসময়ে আমাদের সমাধান করে দেবে এবং তখন সেই সমাধান ব্যবহার করে আমরা কৃতার্থ হয়ে যাবো। কাজেই আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম, যখন বাংলাদেশ সরকার বাংলা ভাষার উন্নয়ন সংক্রান্ত গবেষণার জন্য প্রায় একশত ষাট কোটি টাকার বরাদ্দ করেছে। যখন এই প্রজেক্টটি শেষ হবে, তখন একধাক্কায় আমাদের হাতে বাংলা ভাষায় গবেষণা করার জন্য অনেক মাল-মশলা চলে আসার কথা।
কলকাতার কনফারেন্সে গিয়ে সেখানকার অনেক গবেষক অধ্যাপকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে আমি একটি বিস্ময়কর বিষয় জানতে পেরেছি। আমাদের দেশে প্রাইমারি-সেকান্ডারিতে যারা পড়াশোনা করে, তাদের মাত্র পাঁচ শতাংশ ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে। (৩০ শতাংশ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে, সেখানে আলিয়া মাদ্রাসার অংশটুকু বাংলা মাধ্যম)। অর্থাৎ বাংলাদেশের লেখাপড়ার মূল ধারাটি হচ্ছে মাতৃভাষায়, যেরকমটি হওয়া উচিত। কলকাতার ছবিটি একেবারে ভিন্ন। যেহেতু তাদের প্রতিযোগিতাটি করতে হয় পুরো ভারতবর্ষের সঙ্গে। তাই তারা আর নিজের মাতৃভাষায় পড়তে আগ্রহী নয়। সেখানে সবাই ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে। শুধু যাদের কোনও গতি নেই, কোনও উপায় নেই, তারা বাংলা মাধ্যমে লেখাপড়া করে। যার অর্থ, এভাবে চলতে থাকলে মূলধারার বাঙালি বাংলাভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং বাংলা ভাষার পুরো দায়িত্বটি এসে পড়বে আমাদের হাতে।
যেহেতু ধীরে ধীরে পুরো পৃথিবীটা ছোট হয়ে আসছে, আমাদের বাংলাদেশের মানুষকেও এখন আগে থেকে অনেক বেশি আন্তর্জাতিক হতে হয়। আমাদের লেখাপড়ার মাঝে তার ব্যবস্থা করে রাখা আছে, ছাত্রছাত্রীরা বাংলার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় বারো বছর ইংরেজি পড়ে। এই বারো বছর ইংরেজি পড়া হলে খুবই স্বাভাবিকভাবে একজন ছাত্র বা ছাত্রীর ইংরেজিতে যথেষ্ট দক্ষ হওয়ার কথা। কিন্তু যে কারণেই হোক আমাদের সব ছাত্রছাত্রী ইংরেজিতে যথেষ্ট দক্ষ হচ্ছে না। বাবা-মায়েরা দুর্ভাবনায় পড়ছেন এবং অনেকেই মনে করছেন ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করানোই হয়তো তার সমাধান! কিন্তু আমরা সবাই জানি মাতৃভাষায় লেখাপড়া করার কোনও বিকল্প নেই। তাই আমরা যদি মাতৃভাষার দায়িত্বটি নিতে চাই, স্কুল কলেজে ঠিক করে ইংরেজি পড়াতে হবে। যদি স্কুল কলেজে লেখাপড়া করে ছেলেমেয়েরা যথেষ্ট ইংরেজি শিখে যায়, তাহলে ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করার জন্য ছুটে যাবে না।
কলকাতার ভাষা সংক্রান্ত কনফারেন্সে উড়িষ্যার একজন ভাষাবিদের সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল। তার কাছে আমি জানতে পারলাম, ভারতবর্ষে প্রত্যেকটি শিশুর তিনটি ভাষা শেখার কথা, একটি হিন্দি, একটি ইংরেজি, অন্যটি নিজেদের মাতৃভাষা। আমাকে তথ্যটি দিয়েই ভদ্রলোক হতাশভাবে মাথা নেড়ে জানালেন, তাদের দেশে পদ্ধতিটি মোটেও ঠিকভাবে কাজ করছে না। কেন কাজ করছে না, আমরা মোটামুটিভাবে তার কারণটি অনুমান করতে পারি—প্রবল প্রতাপশালী ইংরেজি ও হিন্দি ভাষার চাপে নিশ্চয়ই তাদের নিজেদের মাতৃভাষাটি কোনঠাসা হয়ে পড়ছে। একজন শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে তিনটি ভাষা শিখে বড় হওয়া নিশ্চয়ই খুব সহজ নয়। ভারতের তুলনায় আমরা অনেক সুবিধাজনক জায়গায় আছি। মাতৃভাষার পাশাপাশি আমাদের বেশির ভাগ ছেলেমেয়েদের মাত্র একটি ভাষা শিখতে হয়। সেটি হচ্ছে ইংরেজি। সেই ইংরেজিটুকু যদি ভালো করে শেখানো হয়, আমার ধারণা আমাদের মাতৃভাষা অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে!
এখানে আরও একটি বিষয় বলা যায়। আমরা এখন সবাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কিংবা নিউরাল নেটওয়ার্ক—এই ধরনের কথাগুলো শুনেছি। পৃথিবীতে গবেষণার জগতে এই বিষয়গুলো একেবারে নতুন একটি মাত্রা যোগ করেছে। এই বিষয়গুলো এখন যে কাজগুলো করতে পারে, সোজা ভাষায় সেটি শুধু যে অবিশ্বাস্য, তা নয় এটি রহস্যময়ও। গবেষণার এই নতুন মাত্রায় অবশ্যই আমাদের এখনও আনন্দ পাওয়ার বেশি কিছু নেই। কারণ এর জন্য প্রয়োজন উপাত্ত, লক্ষ লক্ষ উপাত্ত, কোটি কোটি উপাত্ত! কার আছে সেই উপাত্ত? আমাদের নেই। সেই উপাত্ত আছে ফেসবুকের হাতে, গুগলের হাতে, আমাজনের হাতে। এই উপাত্ত এখন সোনার থেকেও দামি। সেই উপাত্ত ব্যবহার করে তথ্য-প্রযুক্তির এই মহাশক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এখন শুধু আমাদের জীবন নয়, সারা পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আমাদের বলার কিছু নেই, কারণ তাদের সেবা গ্রহণ করে কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত হয়ে আমরা তাদের হাতে আমাদের সব তথ্য, সব উপাত্ত উজার করে তুলে দিয়েছি!
কাজেই আগে হোক পরে হোক, আমাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। সেই নড়বড়ে পা নিয়ে আমাদের লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই, দেখতে দেখতে সেই পা শক্তিশালী হবে। অন্যের ঘাড়ে চড়ে বহুদূর দেখা যায়, কিন্তু তখন প্রতিমুহূর্তে আশঙ্কায় থাকতে হয়, কখন তারা ঘাড় থেকে ছুড়ে কাদা মাটিতে ফেলে দেবে!
জেনেশুনে কেন আমরা সেই ঝুঁকি নেবো?
লেখক: অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আহেদ তামিমি ও ফিলিস্তিনি নারীদের বীরত্ব by মিসবাহুল হক

আহেদ তামিমির কারাভোগের ঘটনা অভাবনীয়ভাবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। অথচ এসব গণমাধ্যমই বছরের পর বছর ইসরাইলি নির্যাতনের শিকার ফিলিস্তিনি নারীদের সীমাহীন দুর্ভোগ ও তাদের অসীম বীরত্বের কথা উপেক্ষা করে আসছে। আহেদের মাও এ বিষয়ে একমত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সত্যি কথা বলতে আহেদের ব্যক্তিত্বই বিশ্ববাসীর সহানুভূতি আদায় করেছে। এটা অবশ্যই বৈষম্যমূলক। কেননা ফিলিস্তিনের আরো অনেক শিশু আহেদের মতো অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়নি। আহেদের মায়ের মন্তব্যে ফিলিস্তিনের সত্যিকারের অবস্থা ফুটে উঠেছে। সাধারণত, পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোতে ফিলিস্তিনি নারীদের দুর্ভাগা ও করুণ পরিস্থিতির শিকার হিসেবে দেখানো হয়। যারা নিজ ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতি মুহূর্তে প্রাণনাশের শঙ্কা নিয়ে দিনাতিপাত করছে। এছাড়া ফিলিস্তিনের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পশ্চাৎপদতাকেও বিশেষভাবে উল্লেখ করে পশ্চিমা গণমাধ্যম। তারা ফিলিস্তিনের অবস্থা পরিবর্তন করতে সেখানকার নারীদের প্রচেষ্টাকে খুব কম সময়ই প্রচার করে। বড়জোর তাদেরকে সংঘাতে আটকে পড়া জনগোষ্ঠী আখ্যা দেয়, সংকট উত্তরণে যারা কোনো ভূমিকা রাখে না।
পশ্চিমা মিডিয়ায় আরব নারীদের কথা প্রচার না করা, তাদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দেয়া ও ভুলভাবে উপস্থাপন করার প্রবণতা ঔপনিবেশিক যুগ থেকে চলে আসছে। এই প্রবণতা ফিলিস্তিনি জনগণের, বিশেষ করে দুর্ভোগের শিকার নারীদের রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তার আবেদনকে দুর্বল করে দেয়। বাস্তবে, ইসরাইলি নির্যাতনের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের নারীরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে না বললেই চলে। ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি নারীদের নজিরবিহীন প্রতিবাদ প্রচারিত হওয়ার দাবি রাখে। কেননা এসব নারীরা পরিবারের দেখভাল করার পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সীমান্ত বেড়ার কাছে নিয়মিত বিক্ষোভ করেছে, হতাহত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের শরীরে আঘাত নিয়েও অন্য বিক্ষোভকারীদের সেবাযত্ন করেছে।
২৭শে জুলাই খান ইউনিস অঞ্চলে গাজী আবু মুস্তাফা নামের এক বিক্ষোভকারী নিহত হন। কৃষি খেতে কাজ করার সময় ইসরাইলি স্নাইপাররা তাকে গুলি করে হত্যা করে। তার ৩৭ বছর বয়সী স্ত্রী লামিয়া আহমেদও ভূমি দিবসের বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। লামিয়া আহত বিক্ষোভকারীদের সেবাযত্ন করে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে সহায়তা করছেন। ২৭শে জুলাই সকালে গাজী মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তিনি মারা যাওয়ার সময়েও স্ত্রী লামিয়া গুরুতর আহত আরেক বিক্ষোভকারী নাহিদ কাদেহ এর জীবন বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর খবরও তাকে মানসিকভাবে এতটুকু দুর্বল করতে পারেনি। লামিয়া বিধ্বস্ত ছিলেন, কিন্তু ভেঙে পড়েননি। এই বেদনা তাকে আরো শক্তি জুগিয়েছে। স্বামী হারানোর পরেও ভঙ্গুর শরীরে আবারো বিক্ষোভে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, গাজী আবু মুস্তাফা এর আগেও ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। প্রথম ইন্তিফাদা হিসেবে পরিচিত ওই বিক্ষোভে তার এক চোখ নষ্ট হয়ে যায়। সে অবস্থাতেই আবারো বিক্ষোভে যোগ দেন তিনি। ৩০শে মার্চ ফিলিস্তিনের ‘ভূমি দিবস’ উপলক্ষে বিক্ষোভে যোগ দেয়ার সময় তিনি স্ত্রী লামিয়াকে বলেন, ‘মানুষের সেবায় যে নৌকা উৎসর্গ করা হয়েছে, তা কখনো ডোবে না।’ ফিলিস্তিনিদের মুক্তির নৌকা ভাসিয়ে রেখে তিনি নিজেই ডুবে গেলেন।
ফিলিস্তিনি তরুণী রিম আনবার দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গীত দিয়ে ইসরাইলি হামলায় আতঙ্কিত জনগণকে ক্ষণিকের বিনোদন দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দখলদার ইহুদিরা যখন নির্বিচারে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা করে, তখন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে গান গেয়ে শিশুদের আতঙ্ক কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। ইউরোপে সঙ্গীতের ওপর উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেও দেশের জনগণের স্বার্থে স্থায়ীভাবে ফিলিস্তিনে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা তার। তিনি বলেন, তারা আমাদের গান গাওয়া বন্ধ করতে চায়। কিন্তু ঘটবে এর বিপরীত। ফিলিস্তিন সব সময়ই ইতিহাস ও শিল্পের চারণভূমি হয়ে থাকবে।’
ফিলিস্তিনি নারীদের আরেক অনুপ্রেরণা দাওলাত ফাউজি ইউনিস। পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র সদস্য হওয়ার পরেও তিনি বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। ১৪ই মে যুক্তরাষ্ট্র যখন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করে, তখন ইসরাইলের সীমান্ত বেড়ার কাছে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় ফিলিস্তিনিরা। এতে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে ৬০ ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী নিহত হন। আহত হন আরো প্রায় ৩ হাজার বিক্ষোভকারী। এ সময় দাওলাতও আহত হন। উরুতে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরিস্থিতির এতই অবনতি ঘটে যে তিনি চলাফেরা করতে অক্ষম হয়ে পড়েন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি জেরুজালেমের আল মাকসিদ হাসপাতালে ভর্তির অনুমতি চেয়ে ইসরাইলের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু ইসরাইল তার এ আবেদনে সাড়া দেয়নি। শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হওয়ার সত্ত্বেও মানসিকভাবে একটুও দুর্বল না দাওলাত। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেয়ার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। ফিলিস্তিনি জনগণের মুক্তির জন্য কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তিনি। এর আগেও ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আহত হয়েছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে বিক্ষোভ করার সময় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। কয়েক মাসের চিকিৎসা ছেড়ে আবারো বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও এবারের আঘাত বেশ গুরুতর।
অবরুদ্ধ পশ্চিমতীর ও এর আশপাশের অঞ্চলে আহেদ, লামিয়া ও দাওলাতের মতো হাজারো নারী রয়েছেন যারা লাখো ফিলিস্তিনির জন্য জীবন্ত অনুপ্রেরণা। জীবনের মায়া ত্যাগ করে তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ফিলিস্তিন রেখে যাওয়ার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের এ অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের কথা বিশ্ববাসী কমই জানতে পারে। পশ্চিমা আধিপত্যের কারণে মিডিয়াগুলোতেও তাদের এসব বীরত্ব উপেক্ষিত হয়।
আল জাজিরা ও বিবিসি অবলম্বনে
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেখব ঘুরে ইরান এবার: ইরানি তুর্কামানদের বিয়ের অনুষ্ঠান

তাদের বিশ্বাস হলো প্রত্যেকটি মানুষেরই বিয়ে করা উচিত। ধর্মীয় বিধি বিধানের অনেক আগে থেকেই তাঁবুবাসী তুর্কামানদের মাঝে এই বিয়ের প্রথা চালু ছিল বলে মনে করা হয়। বিয়ের এই প্রথার ক্ষেত্রে তুর্কামান উপজাতি কিংবা গ্রামবাসীদের মাঝে খুব কমই পরিবর্তন এসেছে। আজো তাদের বিয়ের উৎসব অনুষ্ঠানাদিতে সেই প্রাচীন উপজাতীয় রীতি রেওয়াজ বা ঐতিহ্য লক্ষ্য করা যায়।
বিশেষ করে বলা যায় তুর্কামানরা এখনো অল্প বয়সেই বিয়ে করে পরিবার গঠনে মনোনিবেশ করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুর্কামানদের সামাজিক এবং পারিবারিক জীবন ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন আসা সত্ত্বেও এখনো নিজেদের ঐতিহ্যবাহী রীতি রেওয়াজগুলো তাদের মাঝে রয়ে গেছে। নিজেদের গোত্রগত প্রীতিকে আরো দৃঢ়তরো করতে প্রাচীন বহু রীতিনীতি এখনো তারা পালন করে যাচ্ছে। তাদের মাঝে ‘দারুনে হামসারি’ নামে একটা বিধান আছে।
এর অর্থ হচ্ছে নিজেদের ভেতরেই বর কনে পছন্দ করা। এর ফলে একান্ত কাছের আত্মীয় স্বজনের মধ্য থেকেই পাত্র পাত্রী নির্বাচন করার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই নীতি অনুযায়ী অন্য কোনো গোত্র থেকে পাত্র কিংবা নির্বাচন করার চেয়ে নিজেদের গোত্র থেকে নির্বাচন করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তুর্কামানদের বাইরে বিয়ে করার উদাহরণ তেমন একটা মেলে না। কেউ যদি করেও বসে তাহলে তুর্কামানদের সামাজিক আইনে তা গ্রহণযোগ্য হয় না।
তুর্কামানদের মাঝে প্রচলিত বিয়ের সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলছিলাম আমরা। তুর্কামান উপজাতীয় অধিবাসীরা বিয়ে করার ক্ষেত্রে বা বলা ভালো পাত্র পাত্রী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নীতিমালা ও মূল্যবোধকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকে। পাত্রী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কণের মায়ের ব্যক্তিত্বের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাদের বিশ্বাস হলো এমন পাত্রী নির্বাচন করতে হবে যার মায়ের যোগ্যতা এবং উপযুক্ততা প্রশ্নাতীত হয়। এর বাইরে কাজে কর্মে গুণবতী হওয়া, শারীরিক মানসিকভাবে সুস্থ হওয়া, ধৈর্য শক্তি থাকা, বিপদ আপদে ভেঙে না পড়া, যে-কোনো বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলার মানসিকতা থাকা ইত্যাদি বিষয়কেও কণের যোগ্যতা হিসেবে দেখা হয়।
বিবাহ পরবর্তী দাম্পত্য জীবনের শুরুটা যেহেতু সবার জন্যেই আনন্দের সেজন্যে তুর্কামানদের মাঝে অভিন্ন জীবন শুরুর অনুষ্ঠানও বেশ জাঁকজমকের সাথে বিশেষ আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। এইসব অনুষ্ঠানের পরতে পরতে তুর্কামানদের সমাজে বিদ্যমান বিচিত্র বিশ্বাস ও মূল্যবোধের চিত্র ফুটে ওঠে। তুর্কামানদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার কয়েকটি পর্ব আছে। একেক পর্বে একেক ধরনের আয়োজন হয়। যেমন, বিয়ের প্রথম পর্বটি বর কনে নয় বরং তাদের বাবা মায়ের সাথে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে জামাই অর্থাৎ বরের বাবা মাকে নির্বাচিত পাত্রীর সাথে বিয়ের আয়োজনের জন্যে রাজি করানো হয় এই পর্বে। তাদের সম্মতি ছাড়া কিছুতেই বিয়ে হবার নয়।
একইভাবে পাত্রীর বাবাকেও রাজি করানোর বিষয়টি রয়েছে এই পর্বে। তার মানে দাঁড়ালো কেবল পাত্র আর পাত্রী নিজেরা নিজেদেরকে পছন্দ করে বিয়ে করা যাবে না। অবশ্যই উভয় পক্ষের মুরব্বিরা অর্থাৎ বাবা-মায়ের সম্মতি থাকতে হবে। বরের বাবা সম্মত হলে তিনি পরিবারের সবার সাথে পরামর্শ করে পরিবারের একজন বয়স্ক সদস্যকে কনের বাড়িতে পাঠান তাদের সম্মতি নেওয়ার জন্যে। মোটামুটি পরিবার, সংসার সম্পর্কে যার অভিজ্ঞতা আছে সেরকম একজন অভিজ্ঞ এবং দূরদর্শী ব্যক্তিকেই কনের বাড়িতে পাঠানো হয়। কনের বাবা বা মুরব্বি যদি বর পক্ষের প্রস্তাবে রাজি হন তাহলেই কেবল দ্বিতীয় পর্বের কাজ শুরু হয়।
দ্বিতীয় পর্ব হলো কনের জন্যে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নিয়ে যাওয়া। বর পক্ষের প্রস্তাবে কনে পক্ষ যদি সম্মতি দেয় তাহলে বর পক্ষের পরিবার একটা সুন্দর দিনক্ষণ ঠিক করে পরিবারের এক দল নারী সদস্যকে পাঠায় পাত্রী পক্ষের বাড়িতে। কনে পক্ষ তখন পাত্র পক্ষের অতিথিদেরকে মিষ্টি মুখ করিয়ে ভালোভাবে আদর আপ্যায়ন করে। এই অনুষ্ঠানটিতে শুধুমাত্র নারী সদস্যরাই অংশ গ্রহণ করে। বর পক্ষ থেকে বিচিত্র মিষ্টি এবং হাতে তৈরি রুটি পাঠানো হয় কনের বাড়িতে। তুর্কামান নারীদের তৈরি এই বিশেষ আয়োজনের বিশেষ মিষ্টির নাম হচ্ছে ‘সচক’। এই সচক কেবল অ্যাঙ্গেইজমেন্ট অনুষ্ঠানের জন্যেই তৈরি করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে বর এবং কনে পক্ষের আত্মীয়রাই এই সচক সরবরাহ করে থাকে। এই মিষ্টি আদান প্রদানও করা হয় বর এবং কনে পক্ষের মাঝে। তাতে দুপক্ষের মাঝে নিবীড় বন্ধন তৈরি হয়।
তুর্কামানদের মাঝে প্রচলিত বিয়ের পরবর্তী পর্ব হলো ‘শিরবাহ’। এই শিরবাহ অনুষ্ঠানটি মূলত উপহার আদান প্রদানের আয়োজন। এই উপহারের ক্ষেত্রে নগদ টাকা, কোনো মাল বা পণ্য এমনকি দুম্বা, গরু, উটও হতে পারে। এরপরের পর্বেই থাকে বিয়ের মূল অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষ্যে বর পক্ষ একটা দুম্বা জবাই করে এবং তার একটা অংশকে রূপার কয়েন দিয়ে সাজানো হয়। কয়েনে সাজানো মাংসের সাথে আরো অনেক উপহার সামগ্রী দিয়ে কনের বাড়িতে পাঠানো হয়। এদিন বিয়ের কনে একটি নির্দিষ্ট তাঁবুতে বসে থাকে। এই তাঁবুটি তুর্কামান উপজাতীদের বিয়ের বিশেষ তাঁবু। কিংবা নিকট কোনো আত্মীয়ের বাসাতেও বসতে পারে। তাকে ঘিরে থাকে পরিবারের নারী সদস্যরা। এখানে বর পক্ষের নারীরাও সমবেত হয়। কনে এদিন খুব একটা কথাবার্তা বলে না। দুপক্ষের মুরব্বিদের প্রতিই কনের অসম্ভব শ্রদ্ধা ভক্তি থাকে।
বিয়ের অনুষ্ঠানের দিন বিশেষ উৎসবের আয়োজন হয়। বরের ঘরে নেওয়ার সময় কনের মাথার পরে লাল রঙের ওড়না পরানো হয়। লাল রঙ তুর্কামানদের মাঝে আনন্দের প্রতীক। আনন্দ উৎসব হৈ হুল্লোড়ের মধ্য দিয়ে কনেকে বরের বাড়িতে নেওয়ার সাথে সাথে অতিথিদের আপ্যায়নের কাজ শুরু হয়ে যায়। সেইদিনই বিকেলে একজন আলেম ডেকে আকদ অনুষ্ঠান করা হয়। এই আকদই হলো মূলত বিয়ে। দুপক্ষের সম্মতিতে আকদ হয়ে যাবার পর আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। বিয়ের জন্যে বিশেষ একটি আনন্দ আয়োজনের নাম হলো ‘সেচমেক’।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রিন্সেস যেভাবে অন্ধকারে by রুদ্র মিজান

তাদের মধ্যে একজন তমা। পুরান ঢাকার মেয়ে। ঢাকার বুকে নিজেদের কয়েকটা বাড়ি। বাবা ব্যবসায়ী। ইসলামপুরে দোকান আছে তাদের। মা-বাবার একমাত্র সন্তান তমা। তমা জানান, এসএসসি পরীক্ষার আগেই রিমন নামে দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে তার। ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন বাবা। মা ব্যস্ত থাকতেন সংসারের কাজ নিয়ে। লেখাপড়ার কারণে তমার ছিলো স্বাধীনতা। যখন-তখন বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিলো তার। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হওয়ার পর এই সুযোগ আরো বেড়ে যায়। বাসা থেকে বের হতেই গাড়ি নিয়ে হাজির রিমন। প্রায়ই ক্লাস ফাঁকি দিয়ে চলে যেতেন বিভিন্নস্থানে। রেস্টুরেন্টে, শপিংমলে। কখনো কখনো ঢাকার আশপাশে কোথাও। রিমন আত্মীয় হওয়ার সুবাধে সন্ধ্যার পরপরই তার সঙ্গে বের হতে পারতেন। মা-বাবার কোনো বাধা ছিলো না। লং ড্রাইভে যেতেন তারা। গাড়ি ড্রাইভ করতেন রিমন নিজে। পাশে বসে থাকতেন তমা। তিনশ’ ফিট, কখনো মাওয়া, কখনো গাজীপুর, কখনো সাভার..। এভাবে নানাস্থানে ঘুরে বেড়াতেন। গাড়িতে বসে বিয়ার পান করতেন রিমন। তমাকেও পান করতে দিতেন। পানের কাহিনী এখানেই শেষ না। বিয়ার থেকে আরো বিপজ্জনক দিকে এগুতে থাকেন তারা। গাড়িতে বসেই ফেনসিডিল সেবন করতেন রিমন। প্রথম দিন রিমনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে বমি করেছিলেন তমা। তারপর দুজনেই ফেনসিডিল পান করেন সমান তালে। বাড়তে থাকে আসক্তি। ফেনসিডিল ছাড়া চলে না তাদের।
এরমধ্যেই তাদের প্রেমকাহিনী ছড়িয়ে যায় সর্বত্র। দুই পরিবারের আয়োজনে বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের পর আরো বেপরোয়া এই মাদকাসক্ত দম্পতি। বাসায় বসেই ফেনসিডিল পান করতেন। তারপর ইয়াবা। এরমধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা হন তমা। চিকিৎসকের কঠোর নির্দেশ মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। নতুবা সন্তান বিকলাঙ্গ হতে পারে। সন্তানের মায়ায় মাদক থেকে দূরে থাকতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু সহ্য করতে পারেন না। যৌথ পরিবারের এই বাসায় রিমনের ছোট ভাই ও তার স্ত্রীও মাদক সেবন করেন। শাশুড়ি সচেতনভাবে মাদক সেবনে বাধা দেন। মাদক সেবনের পরিমাণ কমালেও একদম ছাড়তে পারেননি। এভাবেই জন্ম হয় সন্তানের। তমা বলেন, ‘সন্তান জন্মদানের পর মনে হলো তাকে জন্ম দিয়ে ভুল করেছি। মা হিসেবে কোনো দায়িত্বই পালন করতে পারছিলাম না। ততদিনে মাদক আমাকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিয়েছে।’ অন্যদিকে স্বামী রিমনের ব্যবসা লাটে উঠে। দেখা দেয় পারিবারিক অশান্তি। অবহেলা-অযত্নের শিকার তমা। কথায় কথায় তমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে রিমন।
এ অবস্থায় ডিভোর্স হয় দু’জনের। তারপর আরো কঠিন সময়। বাবার বাড়িতে মাদক ছাড়া কিছুই বুঝেন না তমা। তমার সন্তান কখনো দাদীর কাছে, কখনো নানীর কাছে। মায়ের ভালোবাসা জুটে না শিশুটির। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়েই তমাকে ভর্তি করা হয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। ঢাকা আহছানিয়া মিশন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কথা হয় তমার সঙ্গে। তমা বলেন, কোনো কিছুর কমতি ছিলো না। যাই চাইতাম তাই পেতাম। বাবা-মায়ের আদরের মেয়ে ছিলাম। আজ আমার কিছুই নেই। সন্তান জন্ম দিয়েও মা হতে পারিনি বলেই কাঁদতে থাকেন তিনি।
একইভাবে মরণ নেশা ইয়াবায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন মিরপুরের তরুণী সানজিদা। মা-বাবার তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র মেয়ে। মা-বাবা দুজনেই ব্যস্ত। রাজধানীর মিরপুরের একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো মেয়েটি। আজ থেকে প্রায় সাত বছর আগের ঘটনা। ওই বয়সে একটি তুচ্ছ ঘটনায় সানজিদা হয়ে যায় মাদকসেবী। এক দুপুরে স্কুলে থাকাবস্থায় কৌতূহলী হয়ে সিগারেট কিনে তাতে টান দিয়েছিলো বন্ধুদের সঙ্গে। সেই দৃশ্যটি নজরে পড়ে শিক্ষকদের। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় এক প্যাকেট সিগারেট। শিক্ষকরা ধারণা করেন, মেয়েটি হয়তো মাদকাসক্ত। বিষয়টি জানানো হয় তার মা-বাবাকে। চাকরিজীবী মা ও ব্যবসায়ী বাবা তাদের মেয়েকে সুস্থ দেখতে চান। ব্যস কথা বলেন, একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। রাজধানীর তেজগাঁও থানা এলাকার ওই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয় তাকে। এখানে ভর্তির পরই মূলত মাদকসেবীতে পরিণত হন সানিজদা। এ বিষয়ে তিনি মানবজমিনকে জানান, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সিগারেট দেয়া হতো। মূলত মাদকে আসক্তি কমানোর জন্য এটা করা হতো। এমনকি যারা দিনে একাধিকবার ইয়াবা সেবন করেন তাদের কয়েকদিন পরপর ইয়াবাও দেয়া হতো। ক্রমান্বয়ে এটি কমানো হতো। অন্য মাদকসেবীদের কাছ থেকে এখানেই শিখে নেন ইয়াবা সেবন। ইয়াবা আসক্ত মনে করেই সানজিদাকেও কিছুদিন পরপর ইয়াবা দেয়া হতো। নিরাময় কেন্দ্র থেকেই আসক্ত হন সানজিদা। তারপর এখান থেকে বের হয়ে টিএসসিতে আড্ডা দিতে গিয়ে পরিচয় হয় বড় ভাইদের সঙ্গে। নাজিমউদ্দিন রোডের একটি বাসায় তাদের আড্ডায় যান সানজিদা। সেখানেও ইয়াবা। মিশে যান ইয়াবার আড্ডায়। সানজিদা এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন। মরণনেশা থেকে এখন মুক্তি চান তিনি।
রাজশাহীর মেয়ে রুপালী। থাকতেন ঢাকার শ্যামলীতে। নায়িকা হতে চেয়েছিলেন। মঞ্চে কাজও করেছেন। কিন্তু ক্যামেরার সামনে, বড় পর্দায় কাজ করা হয়নি। চেষ্টা তদবির করছিলেন। কিন্তু পরিচালকরা জানান, তিনি সুন্দরী তবে মোটা। তাকে স্লিম হতে হবে। স্লিম হওয়ার সহজ উপায় খুঁজেন। এক ফ্যাশন মডেলের কন্যার কাছ থেকে উপায় পেয়ে যান। ইয়াবা। ইয়াবা সেবন করলে দ্রুত স্লিম হওয়া সম্ভব বলে জানান ওই মডেল। তারপরই শুরু হয় ইয়াবা সেবন। ফোনে অর্ডার করলেই টাকার বিনিময়ে বাসায় পৌঁছে দিতো ইয়াবা। তিন বছর আগের ঘটনা। রুপালী স্লিম হয়েছেন ঠিকই। কিন্তু রুপালী আর রুপালী নেই। চাপা ভেঙে গেছে। চেহারায় লাবণ্যতা নেই। শক্তি নেই। শরীরে বাসা বেঁধেছে রোগ। খবর পেয়ে মা-বাবা ছুটে এসেছেন ঢাকায়। রুপালীর স্থান হয়েছে এখন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। এরকম অনেক তমা, সানজিদা, রুপালীরা আসক্ত হচ্ছে মরণ নেশায়। হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৫৬ লাখ। তাদের মধ্যে ১৩ লাখই নারী। তাদের একটা বড় অংশই শিক্ষার্থী। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। এ বিষয়ে ডা. মোহিত কামাল বলেন, নারী মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে তারা সিগারেট থেকে শুরু করে ইয়াবায় আসক্ত হচ্ছে। কেউ কেউ গাঁজা নিচ্ছে। তারা অনেকেই ভুল ধারণা থেকে, স্লিম হওয়ার জন্য আসক্ত হচ্ছে। কেউ কেউ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে, কৌতূহলে মাদকে আসক্ত হচ্ছে। তারা বুঝতে পারে না এই রাসায়নিক পদার্থ তাদের জীবনকে ধ্বংস করে দেবে। এখন যারা মাদক সেবন করছে, এক সময়ে মাদক তাদের সেবন করবে। এজন্য অভিভাবককে সচেতন হতে হবে। সন্তানদের সময় দিতে হবে। কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কি করছে এসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সবাই সচেতনভাবে এগিয়ে এলে মাদক প্রতিরোধ সম্ভব বলে জানান তিনি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হুদা কমিশনের গন্তব্য কোথায়? by সাজেদুল হক

অর্ধ শতাব্দী ধরে একই চিত্র। নির্বাচন মানেই এদেশে হানাহানি, রক্তপাত, কারচুপি, অবিশ্বাস। বিশ্বাসযোগ্য আর শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা খোঁজা এখনো শেষ হয়নি। এই অবস্থায় রেফারিদের শক্ত আর নিরপেক্ষ ভূমিকা সব সময়ই আলোচিত হয়। কিন্তু রেফারির ভূমিকায় থাকা নির্বাচন কমিশন এখন উল্টো তৈরি করছে সংশয়। কী তাদের উদ্দেশ্য সে নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক। তাদের গন্তব্যই বা কোথায় তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। বিতর্ক তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। ক’দিন আগেই তার একটি বক্তব্য বিপুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। সে সময় তিনি বলেছিলেন, বড় বড় নির্বাচনে অনিয়ম হবে না এমন নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। অন্য চার নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যেই তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছিলেন, সিইসির এই ধরনের বক্তব্য যারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম করতে চায় তাদের উস্কে দেবে।
সমালোচনার মুখেও কেএম নুরুল হুদা তার অবস্থানে অনড় থাকেন। আরেকটি বিষয়ে অবশ্য তিনি অনড় থাকতে পারেননি। শুরুর দিক থেকেই তিনি বলে আসছিলেন, সব রাজনৈতিক দল একমত হলেই কেবল জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। সব রাজনৈতিক দল যে একমত হয়নি সেটা সবারই জানা। বিএনপিসহ বেশিসংখ্যক রাজনৈতিক দল অত্যন্ত জোরালো ভাষায় ইভিএমের বিরোধিতা করে আসছে। তারা বলছেন, এ যন্ত্রে কারচুপি সম্ভব। ষড়যন্ত্রের কথাও বলছেন তারা। আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি দল এর আগে ইভিএমের পক্ষে মত দিয়েছিল। কিন্তু এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোরালো কোনো দাবি কোনো দিনই উপস্থাপিত হয়নি। চলতি সপ্তাহে আরেকটি সংবাদও পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভারতের বিরোধীদলগুলো এক সুরে ইভিএমের বিরোধিতা করেছে। বিরোধী দলগুলো বলছে, এতে কারচুপির সুযোগ রয়েছে। তারা ব্যালটে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন।
এই যখন অবস্থা তখন অনেকটা আকস্মিকভাবেই কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এ সিদ্ধান্তের জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের সভা থেকেও ওয়াক আউট করেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন। এর সমর্থনে সিইসি যা বলেছেন তার বেশিরভাগই গোঁজামিল। ইসি সচিব এর আগে একশ’ আসনে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন। সিইসি বলছেন, আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। অথচ ইভিএম কেনার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
ইভিএম নিয়ে ইসির সিদ্ধান্তকে সরকারি দল যথারীতি স্বাগতই জানিয়েছে। সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে হেরে গিয়ে অনিয়ম ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলতে পারবে না বলেই ইভিএম চাচ্ছে না বিএনপি। কেননা এতে অভিযোগ তোলার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি দলের আরেক নেতা আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে, মেশিনের ওপর ভর করে নয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর আগে বলেছিলেন, জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে আওয়ামী লীগ মেশিনের ওপর ভর করেছে। আর দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গতকাল বলেছেন, যে দেশে ব্যাংকের টাকা হ্যাকিং করা যায় সে দেশে নির্বাচনে ভোট গ্রহণে মেশিন ব্যবহার করা নিয়ে কোনোভাবেই আস্থা নেই জনগণের। এই মেশিন কারা নিয়ন্ত্রণ করবে। এই নির্বাচন কমিশন। যাদের উপর আমাদের আস্থা নেই। এ জন্য নির্বাচনে ইভিএম মেশিন ব্যবহারের এই সিদ্ধান্ত আমরা প্রত্যাখ্যান করি। ব্যালটে ভোট হলে তাতে সমস্যা দেখা দিলে পুনরায় গণনা করা যাবে। কিন্তু ইভিএম-এ সমস্যা দেখা দিলে পুনরায় গণনার কোনো সুযোগ নেই। হ্যাকিং হলেও বোঝার উপায় নেই।
রাজনীতির ভবিষ্যৎ এমনিতেই অনিশ্চিত। নানা জটিলতায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে এমন নিশ্চয়তাও নেই। এই পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন কেন নতুন সংকট তৈরি করলো তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক সংকটের মূল ইস্যু আড়াল করার জন্যই নির্বাচন কমিশন এই নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। জনগণের দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নিতে চায় তারা। এক্ষেত্রে অবশ্য হুদা কমিশন কিছুটা সফলতারও নজির রেখেছে। দেশে দেশে পরিত্যক্ত ইভিএম মেশিন নিয়ে দেশের রাজনীতিতে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে বিষাক্ত বাহাস। বর্তমান ইসি দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়- এমন কথাও বলছেন অনেকে। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এক টকশোতে বলেছেন, সিইসি নিজেই তো বলেছেন, তার দ্বারা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে বরাবরই প্রধান নির্বাচন কমিশনাররা আলোচিত চরিত্র। তাদের কেউ কেউ কলঙ্কজনক নির্বাচনের রেকর্ডও গড়েছেন। কেউ কেউ হয়েছেন প্রশংসিত। আবার এমএ আজিজ তো নির্বাচন আয়োজনেরই সুযোগ পাননি। আগেই চলে যেতে হয়েছে। সংবাদমাধ্যম অবশ্য সেক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রেখেছিল। বলা নিষ্প্রোয়জন- মিডিয়ার সেই যুগ আর নেই। তবে কেএম নুরুল হুদা কমিশনের গন্তব্য পরিষ্কার হয়ে যাবে সহসাই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভিযানেও শিকড় নড়েনি মাদকের গডফাদারদের by শুভ্র দেব

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযান চলাকালে চিহ্নিত অনেক মাদক গডফাদাররা গা-ঢাকা দিয়েছিল। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের অনেকেই চুনোপুঁটি। ইদানীং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কিছুটা কমে যাওয়ায় তারা আবার ব্যবসার হাল ধরছেন। নিয়ে আসছেন ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যের চালান। যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন তাদের ক্রেতা ও ছোটখাটো মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। নিয়মিত অভিযানে এখনও অনেক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকদ্রব্যে আটক হচ্ছে। তবে এখনও অনেক বড় বড় মাদক ব্যবসায়ী দেশের বাইরে পলাতক আছে। ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রায় ৮ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা দেয়া হয়েছিল। যেখানে দেশের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের নাম ছিল। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশের বিশেষ অভিযানে এই ৮ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর মধ্য থেকে ২২ জনকে ক্রসফায়ারে দেয়া হয়েছে। আরো অনেককে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে বড় মাপের কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার মানবজমিনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর বিশেষ অভিযানে মাদকের ছড়াছড়ি অনেক কমে গিয়েছিল। অভিযানে মাদকের গডফাদারা গা-ঢাকা দেয়াতে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এদের অনেকেই এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আর গডফাদারদের ধরতে না পারলে মাদক নির্মূল করা যাবে না। তিনি বলেন, ডিএনসি’র নিয়মিত অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনও ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য আটক হচ্ছে। তবে বছরের শুরুতে যেরকম মাদকের ছড়াছড়ি ছিল তা অনেকটা কমে গেছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশল পাল্টে নতুন লোক দিয়ে ব্যবসা করছে। এছাড়া মোবাইল বিক্রেতার মাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে কৌশলে পাঠিয়ে দিচ্ছে ইয়াবা।
খোঁজ নিয়ে ও সরজমিন রাজধানীর, কাওরানবাজার রেললাইন বস্তি, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, খিলগাঁও, গেণ্ডারিয়া, জুরাইন, চানখাঁরপুল, যাত্রবাড়ীসহ আরো কিছু এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এসব স্পটে এখনো প্রায় আগের মতোই ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। তবে আগের চেয়ে কৌশল কিছুটা পাল্টানো হয়েছে। পূর্ব পরিচিত ও পরিচিতদের সুপারিশে বিক্রি করা হয় মাদক। অপরিচিত ব্যক্তিদের কাছে মাদক বিক্রির ক্ষেত্রে বেশকিছু সতর্কতা মানা হয়। পরিচয় গোপন করে একাধিক মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযান চলাকালে ব্যবসা হয়নি। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে কোনো চালান আনা সম্ভব হয়নি। এমনকি যাদের কাছ থেকে নিয়মিত চালান আসতো তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কোরবানি ঈদের কিছুদিন আগে থেকে আবার যোগাযোগ বাড়ছে। ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে ইয়াবার চালান আসছে। তবে বিক্রির ক্ষেত্রে অনেক সাবধানতা মানা হচ্ছে। কখনও হোম ডেলিভারি, আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। তবে এসব ক্ষেত্রে নতুন ও অপরিচিতদের দিয়ে কাজ করানো হয়।
দেশের কোথাও না কোথাও প্রায় প্রতিদিনই ছোট বড় অনেক ইয়াবার চালান আটক করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ডিএনসি গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে সারা দেশে তাদের ইয়াবা চালান আসা-যাওয়ার ১১ শতাধিক রোড ও স্পট রয়েছে। আগে নিয়মিত এসব রোড ও স্পট দিয়ে ইয়াবার চালান আসতো। কিন্তু মাদক বিরোধী অভিযানের পরেও ওই একই স্থান দিয়ে চালান আসছে। তবে একটু কৌশল পাল্টে নির্দিষ্ট স্পটের আশপাশ দিয়ে এখন চালান আনা হয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব চালান পৌঁছে যাচ্ছে গন্তব্যে। পুলিশ ও র্যাব’র বিশেষ নজরদারি থাকাতে এসব অনেক চালান আটক হচ্ছে। সোমবার রাজধানীর মতিঝিল দিলকুশা এলাকায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসে ৪টি পার্র্শ্বেল থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাব-১০ সদস্যরা। চট্টগ্রামের লোহাগড়া থেকে আসা ফেস ক্রিমের ৪০ কৌটায় বিশেষ কায়দায় এসব ইয়াবা লুকানো ছিল। ১৬ই আগস্ট কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার খানকারডেইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর আগে একই উপজেলা থেকে ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার দর ১০ কোটি টাকা।
সূত্র বলছে, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা এখন ইয়াবা ব্যবসায় পুরোপুরি সক্রিয় হচ্ছেন। অনেক রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বড় বড় ইয়াবার চালান নিয়ে আসছেন। তবে তাদের ব্যবহার করছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। মাদকবিরোধী অভিযানে রোহিঙ্গাদের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। গত এক বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে প্রায় ৩ লাখের উপরে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ৭৯টি মাদক মামলায় ১১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় রয়েছে বড় মাপের ১৩ রোহিঙ্গার নাম। এছাড়া শতাধিক স্পটে মাদকের কেনাবেচা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রায়ই রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ইয়াবা আটক করা হয়েছে। গত ২০শে আগস্ট র্যাব-৭ লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দু’জনকে আটক করেছে।
র্যাব’র আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান মানবজমিনকে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান এখনও চলছে। তবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করায় আগের চেয়ে এখন অনেকটা মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীদের দৌড়-ঝাঁপ কমেছে। পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগে যেখানে হাত বাড়ালেই ইয়াবা পাওয়া যেত এখন সেটা হচ্ছে না। তিনি বলেন, তবে ২০/২৫ বছর ধরে মাদকের যে বিস্তার সেটা কয়েক মাসে বন্ধ করা সম্ভব না। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা তালিকাভুক্ত হাজার হাজার মাদক ব্যবসায়ী আটক করেছি। লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় এখন অনেকেই নতুন করে ব্যবসা করতে চাইবে। সে বিষয়ে আমাদের নজরদারি আছে। মাদক বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা অভিযান চালিয়ে যাব।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এটাই আজকের বাংলাদেশ -চ্যানেল ফোরের রিপোর্ট

ছাত্রদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলন বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলন করছিলেন। তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং রিমান্ডে নেয়া হয়। তাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বাংলাদেশে যা ঘটছে তা এখন গ্লোবাল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দুই জন বৃটিশ এমপি রুশনারা আলী ও রূপা হক সরকারের বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেন। দুই সপ্তাহ পর আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত বৃটিশ এমপি যার পরিবার বাংলাদেশে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী, টিউলিপ সিদ্দিকও শহিদুল আলমের গ্রেপ্তারের সমালোচনায় যোগ দেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একজন তরিকুল ইসলাম by কাফি কামাল

চলাফেরায় অক্ষমতার কারণে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। কথা বলতেও কষ্ট হয় তার। বর্তমানে তার সময় কাটে সোফায় অলস শুয়ে-বসে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে নীতিনির্ধারক ফোরামের বৈঠকেও অংশ নিতে পারেন না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার দুদিন আগে সর্বশেষ দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানে বাসা থেকে বের হন কেবল হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনে। যদিও সামপ্রতিক বছরগুলোতে বাসার চেয়ে হাসপাতালেই বেশি সময় কেটেছে বর্ষীয়ান এ নেতার। চিকিৎসকদের পরামর্শে গত মে-জুন মাসে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।
তরিকুল ইসলাম দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। প্রতিদিন ঘুমোতে যান রাত ১১টার পর। যেদিন কিডনি ডায়ালাইসিস থাকে সেদিন ঘুম থেকে উঠতে হয় ভোর ৬টায়। অন্যদিনগুলোতে কিছুটা দেরিতে বিছানা ছাড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা নাস্তা ও ওষুধ খাবার পর ড্রয়িং রুমের সোফায় গিয়ে বসেন। আগে নিয়মিত পত্রিকা পড়লেও এখন পারেন না। পরিবারের সদস্যরা সংবাদের শিরোনাম ও বিশেষ দুয়েকটি সংবাদ পড়ে শোনান। তারপর বাসায় আসা নেতাকর্মী বা শুভাকাঙক্ষীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান। কথা বলতে যেমন কষ্ট হয়, তেমনি টানা বসেও থাকতে পারেন না। দুপুরে খাবার ও ওষুধ সেবনের পর বিশ্রাম নেন কিছুক্ষণ। শরীর ভালো লাগলে বিকালে কিছুক্ষণ টেলিভিশন দেখেন। সন্ধ্যার পর সারা দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক গল্প করেন।
তার ছোট ছেলে অনিন্দ ইসলাম অমিত বলেন, ডায়ালাইসিসের কারণে শরীরে প্রোটিন কমে যায়। বর্জ্যের পাশাপাশি শারীরিক নানা উপাদান বেরিয়ে যায়। ফলে তার পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। কিন্তু তার খাবার রুচি থাকে না প্রায়। তিনি খাবার খান বেঁচে থাকার তাগিদে, ওষুধ সেবনের নিয়মরক্ষার প্রয়োজনে। খাবার খাওয়াতে হয় জোর করে। খাবারের সময় হলে এবং তাগিদ দেয়া হলে তিনি বিরক্ত হন। অমিত জানান, রেড মিটসহ দুধ ও দুগ্ধজাত সবধরনের খাবারে নিষেধ রয়েছে চিকিৎসকের। নিষেধ রয়েছে পটাশিয়াম ও ফসফেট প্রধান ফলমূল এবং শাক-সবজির ক্ষেত্রেও। খাবারে নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে ডায়াবেটিস ও সমপ্রতি ফুসফুস ক্যানসার ধরা পড়ার পর। সবচেয়ে জটিলতা হচ্ছে তার পানি পান নিয়ে। চিকিৎসকরা বলে দিয়েছেন, ওষুধ সেবন, চা-কফি ও তরকারির ঝোলসহ সবমিলিয়ে প্রতিদিন ৭৫০ মি.লি’র বেশি পানি পান করতে পারবেন না। দিনে ১০-১২ রকমের অন্তত ৩০টির মতো ওষুধ সেবন করতে হয়। ফলে কঠিন হয়ে পড়ে পানি পানের রেস্ট্রিকশনটি সবসময় মেনে চলা।
তরিকুল ইসলামের পারিবারিক সূত্র জানায়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। মাঝে মাঝেই তার বাসায় ছুটে আসেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে নিজ এলাকা যশোরসহ সারাদেশ থেকে প্রতিদিনই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন নানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বাসায় আগত রাজনৈতিক সহকর্মীসহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের কথা শোনেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলার মতো শারীরিক সামর্থ্য নেই তার। নেতাকর্মীরা পরামর্শ চাইলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে তাদের সাহস যোগান, ধৈর্য ধারণ ও কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দেন।
১৯৬২ সালের কথা। তরিকুল ইসলাম তখন যশোর এমএম কলেজের শিক্ষার্থী। যশোর শহরের শহীদ মিনারটি ছিল ভাঙাচোরা। তরিকুল ইসলাম ও তার বন্ধু ও সহপাঠীরা একটি শহীদ মিনার তৈরি করেছিলেন। তৎকালীন পাকিস্তান সামরিক সরকারের রোষানলে পড়ে গ্রেপ্তার হন তরিকুল। কারাগারে কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পরিচয় হলো তার। কারাগারেই দীক্ষা নেন বাম রাজনীতির। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন। বৃহত্তর যশোর জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তৎকালীন এমএনএ আহম্মদ আলী সর্দারের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় কিছুদিন কারাভোগ করেন। ১৯৬৮ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের জন্য রাজবন্দি হিসেবে যশোর ও রাজশাহীতে কারাভোগ করেন দীর্ঘ নয় মাস। ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ায় গ্রেপ্তার হন।
পরে কমিউনিস্ট পার্টির নীতি-আদর্শের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে না পেরে বেছে নেন নতুন পথ। ১৯৭০ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ভাসানী আহূত ফারাক্কা লং মার্চেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে কথা বলে যেমন কারাভোগ করেছেন, দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী হিসেবেও তাকে যেতে হয়েছে জেলে।
ভাসানী ন্যাপ থেকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) হয়ে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন বরেণ্য এ রাজনীতিক। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ৭৬ সদস্যবিশিষ্ট প্রথম আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য তরিকুল ইসলাম। সেই সঙ্গে বিএনপির যশোর জেলা আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ১৯৮০ সালে জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে পর্যায়ক্রমে তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, ভাইস চেয়ারম্যান ও ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে স্থায়ী কমিটির সদস্য পদে পদোন্নতি পান।
রাজনীতিতে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে তরিকুল ইসলামকে মাড়িয়ে আসতে হয়েছে কাঁটা বিছানো পথ। রাজনীতিতে দৃঢ়চেতা এ নেতা স্বৈরাচার এরশাদ আমলে গ্রেপ্তারের পর তিন মাস অজ্ঞাতস্থানে আটক ছিলেন। পরে তাকে এক ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শিকার হন নিষ্ঠুর নির্যাতনের। রাজনীতিতে বিএনপি নেতাদের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা বলতে গিয়ে অনেক সিনিয়র নেতাই তুলে ধরেন তরিকুল ইসলামের ওপর সে নির্যাতনের কথা। কারাভোগের মাধ্যমে রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে মিথ্যা মামলা ও কারাভোগের শিকার হয়েছেন বারবার। যশোরে উদীচী হত্যা মামলা, অধুনালুপ্ত রানার পত্রিকার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল হত্যাকাণ্ডসহ নানা মামলায় আসামির তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে তার নাম। ওয়ান ইলেভেনের সময় অন্য সিনিয়র রাজনীতিকদের মতো গ্রেপ্তার হন তরিকুল ইসলাম। কারাভোগ করেন দীর্ঘ দেড় বছর। মহাজোট সরকারের আমলেও নতুন নতুন মামলার আসামি হয়ে গ্রেপ্তার ও কারাভোগ করেছেন। বিএনপিতে তার প্রভাব ও গুরুত্বের কারণে মামলা ও গ্রেপ্তারে বারবার টার্গেট হয়েছেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের।
বিএনপি নেতারা জানান, বিএনপির রাজনীতিতে নেতাকর্মীদের কাছে অত্যন্ত আস্থা ও শ্রদ্ধাভাজন নেতা তরিকুল ইসলাম। ওয়ান ইলেভেনের পর থেকে নানা সময়ে দলের মহাসচিব হিসেবে আলোচিত হয়েছে তার নাম। খোদ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও তাকে কয়েকবার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে বারবার এড়িয়ে গেছেন তিনি।
১৯৭৩ সালে যশোর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তরিকুল ইসলাম নাম লেখান জনপ্রতিনিধির খাতায়। ১৯৭৮ সালে যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে যশোর সদর আসন থেকে এমপি নির্বাচিত ও ১৯৮১ সালে সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী চরিত্র হলেও ভোটের রাজনীতিতে তার রয়েছে মিশ্র অভিজ্ঞতা। ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। তবে বিএনপি সরকার গঠন করলে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান টেকনোক্র্যাট কোটায়। পরের বছর হন পূর্ণমন্ত্রী।
১৯৯৪ সালের উপ-নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর দায়িত্ব পান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এককালের দুই বন্ধুর মুখোমুখি হন তিনি। বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যাওয়া আলী রেজা রাজু ও জাতীয় পার্টির খালেদুর রহমান টিটোর সঙ্গে লড়ে পরাজিত হন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে আসা টিটো যশোর সদর আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা তরিকুলকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়ার চিন্তাও করেননি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। টিটো রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলী রেজা রাজুকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন তরিকুল। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে পর্যায়ক্রমে খাদ্য, তথ্য ও সর্বশেষ বন ও পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্বপালন করেন। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ঘুরে আওয়ামী লীগে ঠাঁই নেয়া এককালের বন্ধু খালেদুর রহমান টিটোর কাছে পরাজিত হন তিনি। বিএনপি ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জন করায় প্রার্থী হননি তিনি।
বিএনপি সরকারের আমলে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর মেডিকেল কলেজ, যশোর কারিগরি প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ও করোনারি কেয়ার ইউনিট, বিভাগীয় কাস্টমস অফিস, বেনাপোল স্থল বন্দর, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, যশোর মডেল পৌরসভা, আঞ্চলিক পাঠাগার, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান স্থাপনে। যশোরের শিক্ষা, সামাজিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সভাপতি ও উপদেষ্টা হিসেবে দশকের পর দশক দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক তিনি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরিকুল ইসলাম ও তার রাজনৈতিক দুই বন্ধুকে নিয়ে রয়েছে এক অম্ল-মধুর গল্প। তরিকুল ইসলাম, আলী রেজা রাজু ও খালেদুর রহমান টিটো। তিনজনই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনীতির ইতিহাসে উজ্জ্বল নক্ষত্র। প্রত্যেকেই নিজ নিজ মহিমায় সমুজ্জ্বল। স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন সকলে। চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলর হিসেবে তিনজনই দায়িত্ব পালন করেছেন বৃটিশ ভারতের প্রথম পৌরসভা যশোরে। যশোরের উন্নয়নে তিন বন্ধুর রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। পাকিস্তানবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তাদের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা।
দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও এই তিন বন্ধুর রয়েছে অসামান্য অবদান। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে তারা জাতির ক্রান্তিলগ্নে গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথমে তিন বন্ধু এক পতাকাতলে থাকলেও সময়ের ব্যবধানে তারা প্রত্যেকেই হয়েছেন পৃথক রাজনীতির অগ্রপথিক। ভাসানী ন্যাপ থেকে বিএনপিতে এসেছিলেন তরিকুল ও রাজু কিন্তু পরে রাজু চলে যান আওয়ামী লীগে। টিটো জাতীয় পার্টি ঘুরে বিএনপিতে এলেও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে থিতু হতে পারেননি। কেবল প্রথম থেকেই নিঃশঙ্ক ও অবিচল রয়ে গেছেন তরিকুল ইসলাম।
বরেণ্য রাজনীতিক তরিকুল ইসলাম ১৯৪৬ সালের ১৬ই নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন যশোর শহরে। তার পিতা আলহাজ আবদুল আজিজ ছিলেন যশোর শহরের একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। মা মোসাম্মৎ নূরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। পারিবারিক পরিবেশে বাল্যশিক্ষার মাধ্যমে পড়ালেখায় হাতেখড়ি হয় তার। ১৯৫৩ সালে তিনি তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন যশোর জিলা স্কুলে। ১৯৬১ সালে জিলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা, ১৯৬৩ সালে এমএম কলেজ থেকে আইএ, ১৯৬৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স) ও ১৯৬৯ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি দুই ছেলের পিতা। তার স্ত্রী প্রফেসর নার্গিস ইসলাম যশোর সরকারি সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে অবসরে যান ২০০৫-২০০৬ সালে। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নার্গিস ইসলাম চারদশক ধরে বিএনপির রাজনীতিতে নেপথ্যে ভূমিকা রেখে চলেছেন। কখনও পদপদবি না নিলেও জেলা বিএনপির নেতা তাকে দিয়েছেন জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব। তরিকুল ইসলামের বড় ছেলে শান্তনু ইসলাম সুমিত ব্যবসা ও ছোট ছেলে অনিন্দ ইসলাম অমিত রাজনীতি করেন। ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত অমিত বর্তমানে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাগারে নেয়ার পর সারা দেশে যে ধরপাকড় হয় তার অন্যতম শিকার ছিলেন তরিকুল ইসলামের দুই ছেলে।
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, তরিকুল ইসলাম রাজশাহীতে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। ছাত্র ইউনিয়নের দক্ষ সংগঠক ও ভালো নেতা ছিলেন। তিনি সম্ভবত হক সাহেবের (কমরেড আবদুল হক) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি ন্যাপের রাজনীতিতে যুক্ত হন। তবে, ন্যাপে খুব সক্রিয় কোনো ভূমিকায় তাকে দেখিনি। পরে বিএনপিতে যোগ দেন। তার স্ত্রী নার্গিস ইসলাম ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। এর বেশি কিছু জানি না, বলতে পারবো না।
তরিকুল ইসলাম সম্পর্কে ঐক্য ন্যাপ আহ্বায়ক ও প্রবীণ রাজনীতিক পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ছাত্রজীবনে তরিকুল ইসলাম ছাত্র ইউনিয়ন করতেন এবং যশোর এমএম কলেজের নির্বাচিত জিএস ছিলেন। সিনিয়র হিসেবে তিনি আমাকে মানতেন এবং আমরা পরস্পরকে সম্মান করতাম। ১৯৬৫ সালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে দশম সম্মেলনে ছাত্র ইউনিয়ন বিভক্ত হয়। মেনন গ্রুপের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন তিনি। পরে ভাসানী ন্যাপ হয়ে বিএনপির জন্মলগ্নেই দলটির রাজনীতিতে যুক্ত হন।
তরিকুল ইসলামকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, যশোর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে একাধিক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তরিকুল ইসলাম। কিন্তু সবসময় তার জীবনযাত্রা ছিল খুবই সাধারণ। আঙুল ফুলে কলাগাছ হননি, তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগও উঠেনি। যতদূর দেখেছি, তিনি আগাগোড়াই গণমানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত একজন নেতা। নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা যেমন, জাতীয় রাজনীতিতেও গ্রহণযোগ্য একজন। সার্বিকভাবে জনবান্ধব, সজ্জ্বন ও মার্জিত চরিত্রের একজন রাজনীতিক তিনি।
বাংলাদেশে বামরাজনীতির অন্যতম প্রাণপুরুষ ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য হায়দার আকবর খান রনো বলেন, প্রগতিশীল রাজনীতির ভেতর দিয়েই রাজনীতিক তরিকুল ইসলামের জন্ম ও উন্মেষ। তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের অত্যন্ত দক্ষ একজন সংগঠক ছিলেন। পরে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাপের রাজনীতি করেছেন। বিএনপির জন্মলগ্ন থেকেই এ দলটির রাজনীতিতে যুক্ত রয়েছেন। আপনি পছন্দ করেন আর না করেন, বিএনপির রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে ও প্রগতিশীল চিন্তার একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানসহ যে কয়েকজন প্রগতিশীল চিন্তার নেতা রয়েছেন তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য হচ্ছেন তরিকুল।
রনো বলেন, একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হচ্ছে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি। আমার বিবেচনায় তরিকুল ইসলাম গণমানুষের নেতা। জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক অনেক গভীর। আমি নিজে দেখেছি, তার যশোর অঞ্চলসহ সারা দেশের বহু নেতাকর্মী ও মানুষকে সে বাইনেম চেনেন। খুব কম নেতা এ যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন। রাজনৈতিক মানসিকতা, সামাজিকতা, জীবনাচারসহ সার্বিকভাবে আমি উনাকে একজন ইতিবাচক রাজনীতিক মনে করি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পরিবর্তনের আশায় বিএনপি

চারদশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রথমবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় বিএনপি। পরের তিনবার সরকার গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারই সহধর্মিণী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ নানা ইস্যুতে প্রশংসিত হয়েছে বিএনপি। দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র না থাকায় সমালোচনাও হয়েছে। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অসামান্য ভূমিকা রাখেন খালেদা জিয়া। নির্বাচনে জিতে দেখান চমক। কখনো সরকার, কখনো বিরোধী শিবিরে এভাবেই চলছিলো বিএনপির রাজনীতি। সবচেয়ে বড় আঘাত হয়ে আসে ২০০৭ সালের আলোচিত ওয়ান ইলেভেন। সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক গ্রেপ্তার হন খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা।
দুইবছর গুমোট সময় পেরিয়ে নবম জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেও জরুরি আমলের সে বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বিএনপি। উল্টো দীর্ঘায়িত হয়েছে সে দুঃসময়। ওয়ান-ইলেভেনের সে সূত্র ধরে এখন প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করছে বিএনপি। আন্দোলন-সংগ্রাম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছু ভুল ও বিলম্বিত পদক্ষেপ দলটিকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে খাদের কিনারে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অটল থেকে শেষ পর্যন্ত বর্জন করেছে দশম জাতীয় নির্বাচন। সে নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষণীয়ভাবে কম থাকলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগের সরকার গঠনে। উল্টো সংসদীয় রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ে বিএনপি।
রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০১৫ সালে। একতরফা দশম নির্বাচনের বর্ষপূর্তির কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে টানা প্রায় দুই মাস অবরুদ্ধ দিন কাটিয়েছেন তিনি। অবরুদ্ধ খালেদা জিয়ার ঘোষিত হরতালসহ অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে তৈরি হয়েছিল এক অরাজক পরিস্থিতি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নেতাদের ওপর চেপে বসে মামলার পাহাড়। গ্রেপ্তার হন হাজার হাজার নেতাকর্মী। পরে অনির্দিষ্টকালের সে কর্মসূচিটি অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয় রাজনৈতিক মহলে। বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পর কোনো ফলাফল ছাড়াই রাজপথের কর্মসূচি থেকে সরে আসে বিএনপি। এরপর প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতায় ঘরবন্দি হয়ে পড়ে দলটির রাজনীতি।
অন্যদিকে জনগণের সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ সময়েও সক্রিয় আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় দলটি। তবে সমূহ বিপর্যয়ের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে ধীরে চলো নীতি নেয় বিএনপি। তারই প্রেক্ষিতে বিগত তিন বছর ধরে রাজপথ উতপ্তকারী কর্মসূচি থেকে বিরত রয়েছে দলটি। এ ধীরে চলো নীতির ফলে সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয় দলটির সামনে।
এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চলতি ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি ৫ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠান আদালত। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন একদশক ধরে লন্ডনে অবস্থানকারী তারেক রহমান। তারই নির্দেশনায় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের যৌথনেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে বিএনপি’র কার্যক্রম। তবে খালেদা জিয়ার কারাবন্দি ও তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করায় নেতৃত্ব নিয়ে কিছুটা হলেও জটিলতায় রয়েছে বিএনপি।
অন্যদিকে এগিয়ে আসছে আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময়কাল। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের ফাঁকা মাঠ দেয়া হবে না- এমন ঘোষণা দিয়ে রেখেছে বিএনপি। বিগত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে এসেছেন খালেদা জিয়া। তখন তেমন সাড়া পাওয়া না গেলেও জাতীয় রাজনীতিতে একটি বৃহত্তর ঐক্যের তৎপরতা এখন জোরালোভাবে দৃশ্যমান। মধ্যপন্থি কয়েকটি দলের তৎপরতায় সে বৃহত্তর ঐক্যের অংশীদার হচ্ছে বিএনপি। আর এ বৃহত্তর ঐক্যপ্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে আন্দোলন ও নির্বাচনের মাধ্যমে বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চায় দলটি।
রাজনীতিতে বিএনপি’র সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বিবেচিত হয় সাংগঠনিক ক্ষেত্রে। বারবার বিপর্যয় ও বর্তমান ক্রান্তিকাল থেকে উত্তরণে ব্যর্থতার জন্যও নেতাদের আত্মোপলব্ধি হচ্ছে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব এবং সাংগঠনিক ব্যর্থতা। তবে ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলের গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি সংযুক্তি ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনেকটাই ফিরিয়ে এনেছে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা।
দলটির ৪০ বছরের পথচলার ইতিহাসে আড়াই দশকই আন্দোলন-সংগ্রামের। বারবার ভাঙা-গড়া ও উত্থান-পতনের শিকার হয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব বাংলাদেশ যখন স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল দ্রুত পদে তখনই একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে নিহত হন তিনি। বাংলাদেশ পড়ে এক দীর্ঘমেয়াদি স্বৈরশাসনের কবলে।
দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের পর স্বৈরাচার এরশাদ ক্ষমতায় এলে তার বিরুদ্ধে টানা নয় বছর আন্দোলন করে বিএনপি। কখনও একক, জোটের মাধ্যমে এগিয়ে নেয় সে আন্দোলন। যে আন্দোলনে অনড় মনোভাবের কারণে আপসহীন নেত্রীখ্যাত হন খালেদা জিয়া। পরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সপ্তম সংসদে আন্দোলন ছিলেন বিরোধী দলের ভূমিকায়। ওয়ান-ইলেভেনের সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে সদ্য ক্ষমতাত্যাগী হিসেবে নেতাকর্মীদের নির্যাতন সহ্য করার পাশাপাশি দলটি মেতে ছিল গণতন্ত্র পেরোনোর আন্দোলনে। মহাজোটের নেতৃত্বাধীন নবম ও দশম সংসদেও নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন আয়োজনের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।
আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপি’র একটি দর্শন হচ্ছে মৌলিক ইস্যুতে আপসহীন মনোভাব ধরে রাখা। অতীতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এ আপসহীন মনোভাবই সাংগঠনিকভাবে একটি ভঙ্গুর ও অগোছালো বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছিল জনগণ। যা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যময় ঘটনা। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আপসহীন মনোভাবটা নিয়ে প্রশ্ন উঠে দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জনের মধ্যদিয়ে। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি’র সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে বিভিন্ন পথ ও মতের ঐক্যের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা। দীর্ঘদিন থেকেই সাংগঠনিক ও জনসমর্থনের ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দু’টি রাজনৈতিক দলের একটি বিএনপি।
ভাঙা-গড়ার খেলাটি যে কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যর্থতা ও ষড়যন্ত্রের যৌথরসায়ন। রাজনৈতিক ইতিহাসে ষড়যন্ত্রের ভেতর দিয়েই শুরু হয় বিএনপি’র ভাঙা-গড়ার খেলা। জিয়াউর রহমানের জাগদল ও বিএনপিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছিলেন বহুদলীয় ও বহুমতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সেই সঙ্গে রাজনীতি সচেতন বিদগ্ধজনদের সমাবেশ। জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণের পর ’৮৩ সালে প্রথম ভাঙন ঘটান শামসুল হুদা চৌধুরী ও ডা. মতিন। তারই ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচার এরশাদ আমল, ওয়ান-ইলেভেনসহ নানা সময়ে ছোটখাট ভাঙনের শিকার হয়েছে বিএনপি। সবচেয়ে বড় ধরনের ভাঙনটি ঘটে অষ্টম সংসদ ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়। পরবর্তী সময়ে অনেকেই ফিরেছেন বিএনপি’র ছায়াতলে, অনেকে রাজনীতিতেই হয়ে পড়েছেন নিষ্ক্রিয়। এসবের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠাকালীন বহু প্রভাবশালী ও সম্ভাবনাময় নেতা বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ছেড়েছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার ভাঙা-গড়ার খেলায় জড়িত হলেও তৃণমূল নেতৃত্ব ছিল সবসময় ঐক্যবদ্ধ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি: ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ভোরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়সহ সারা দেশে দলের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ১১টায় দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ, পুষ্পমাল্য অর্পণ। বেলা ২টায় নয়াপল্টনে জনসভা। আগামীকাল রোববার বিকাল ৩টায় রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে রাখা হয়েছে আলোচনা সভা। দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরা আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, দলটির আবেদনের প্রেক্ষিতে নয়াপল্টনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভা করার মৌখিক অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হবে পোস্টার। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে দলের সকল মহানগর-জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন শাখাগুলোতে নিজস্ব কর্মসূচি পালন করা হবে।
বিএনপি’র ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বাণী দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার বাণীতে দেশনেত্রীর মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং বাক-ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ জনগণের মানবিক মর্যাদা সুরক্ষা করাকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার হিসেবে ব্যক্ত করেন। মহাসচিব তার বাণীতে বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টেনশনে আওয়ামী লীগের এমপিরা by কাজী সোহাগ

আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েক নেতা মানবজমিনকে বলেন, প্রায় শতাধিক এমপি আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন না-ও পেতে পারেন। আবার শেষ মুহূর্তে তারা দলের জন্য ভালো কাজ করলে অথবা জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে পারলে হয়তো দলের টিকিট পেয়েও যেতে পারেন। তারা বলেন, এমপিদের মধ্যে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলে জমি দখল, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, দখলবাজি, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, টিআর-কাবিখা প্রকল্প লুটপাট, টেন্ডারবাজি, কমিশন বাণিজ্য ছাড়াও সব মিলিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন, তাদের এক রকম কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দলীয় বিভিন্ন মাধ্যমে এলাকায় এমপিদের অবস্থান ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে দলের শীর্ষ পর্যায়। এসব প্রতিবেদনে বেশ কিছু সংসদ সদস্যের দুর্নীতি, তাদের পরিবারের সদস্যের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব, বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের আশ্রয়-প্রশয় দেয়া, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নানা তথ্য উঠে এসেছে। কোনো কোনো এমপির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছেন দলের সিনিয়র বেশ ক’জন এমপি। বিশেষ করে, রাজধানী ঢাকা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজার, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরিশাল, ভোলা, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, ফেনী, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাইবান্ধা, যশোর, খুলনা, রাজশাহী, লক্ষ্মীপুর জেলার সিনিয়র এমপিদের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন দলীয় সভাপতি।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এরই মধ্যে একাধিকবার বলেছেন, বিতর্কিত ও জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবে না। এদিকে নির্বাচনের আগে তিন মাস পর পর জরিপ চালানো হচ্ছে বলে জানান আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। তারা বলেন, এজন্য আসনভিত্তিক জরিপের কাজ প্রায় শেষ করেছে দলটি। কোন এলাকায় কার অবস্থান ভালো সে বিষয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। এটি এখন নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এ কারণেই আসনভিত্তিক শক্তিশালী প্রার্থী আগেভাগেই ঠিক করতে চায় দলটি। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে চলতি মাসেই। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য দলীয় কোন্দল, ভোটের আগে দলবদল ও বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ কারণে এমপিরা এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যদের সঙ্গে মিলেমিশে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচার ও নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন। যাকেই নৌকার মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন, তার হয়েই কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য নেতাদের কাছ থেকেও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি আদায় করছেন তারা। প্রার্থী নন, নৌকা মার্কা দেখে ভোট ও ভোটের প্রচার করতে দলীয় নেতাকর্মীদের এরই মধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৩ শে জুন গণভবনে এক বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের এ নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, কে প্রার্থী আর কে প্রার্থী না, সেটা না দেখে নৌকা মার্কায় ভোট চাওয়ার জন্য জনগণের কাছে যেতে হবে। যাকে আমরা নৌকা মার্কা দেবো, যাকে আমরা নির্বাচনে প্রার্থী করবো, তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এত উন্নয়ন করার ফলে মানুষ যে নৌকায় ভোট দেবে না, তা কিন্তু নয়। যদি না দেয় তার জন্য দায়ী থাকবেন আপনারা তৃণমূল। এটাই আমার কথা। আপনারা সঠিকভাবে মানুষের কাছে যেতে পারেননি, বলতে পারেননি, বোঝাতে পারেননি, সেবা করতে পারেননি, সেজন্যই। নইলে এখানে হারার তো কোনো কথা না। নির্বাচনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি পরিহার করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বদনাম নিতে চাই না, জনগণের মন জয় করেই ক্ষমতায় আসতে হবে। এদিকে সম্প্রতি এগারোতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকায় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন ১৪ জন স্বতন্ত্র এমপি।
এ এমপিদের আসনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের মনোনয়ন পাওয়া হবে কঠিন। বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র এমপির সঙ্গে কথা বললে তারা মানবজমিনকে জানান, রাজনীতি করে, নির্বাচন করে জনগণের ভোটে এমপি হয়েছি। দলের শীর্ষ নেতারা আমাদের ভূমিকা ও জনপ্রিয়তা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। নির্বাচনের আর খুব বেশি দেরি নেই। এখন থেকেই আমরা প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছি। অন্যদের মতো আমাদেরও প্রত্যাশা রয়েছে দলের মনোনয়ন পাওয়ার।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে লেখক, বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেপ্তারে নিন্দা সিজেপির

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক সমস্যা প্রযুক্তির চমকে সমাধান হয় না by আলী রিয়াজ

যন্ত্রপাতি আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা (প্রথম আলো ওয়েব সাইট, ৩০শে আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫৪)। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী তারা কেবল ‘প্রস্তুতি নিচ্ছেন’; কিন্তু যদি ব্যবহারই না হবে তবে এই অর্থনাশের দায়িত্ব কে নেবে? কিন্তু যে দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা নিমিষে লোপাট হচ্ছে নিয়মিতভাবে সেখানে হয়তো ২ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা ‘কিছুই না’। কিন্তু আসল প্রশ্ন হচ্ছে, এখন এই প্রশ্ন কেন? সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে যখন পাহাড়-সমান সব বাধা উপস্থিত, নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা যেখানে প্রায় নেই-ই সেখানে ইভিএমের আলোচনা হচ্ছে আসল বিষয় নিয়ে আলোচনা না করা। যারা মনে করছেন বা বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে প্রযুক্তি হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্যারান্টি, ফলে ইভিএমের ব্যবস্থা করলেই সবাই সোৎসাহে রাজি হবেন তারা নিশ্চয় জানেন যে সমস্যা রাজনৈতিক তা প্রযুক্তির চমকে সমাধান হয় না। ইভিএম-বিষয়ক আপত্তিকে যারা আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করা না করার বিষয় হিসেবে দেখেছেন, প্রগতির বিষয় বলে ভাবছেন তারা নিশ্চয় অন্য দেশের অভিজ্ঞতাগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান করবেন।
(লেখাটি ফেসবুক থেকে নেয়া। লেখক যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক)
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জেনারেল ওসমানী : মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান রণকৌশলবিদ by মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আস্হাব উদ্দীন, এনডিসি,পিএসসি

মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন। জেনারেল ওসমানী নামে তিনি অধিক পরিচিত থাকলেও মানুষ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় তাঁকে বঙ্গবীর উপাধিতে ভূষিত করে।
বঙ্গবীর ওসমানী মানে একটি যুগের নাম, একটি ইতিহাসের নাম এবং আমাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম। বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে ওসমানী এমন একটি নাম, যে নাম আমরা শ্রদ্ধায়,ভালোবাসায় বারবার গর্বের সঙ্গে স্মরণ করি। ওসমানী এমন এক মহান ব্যক্তি যিনি বাঙালির হৃদয়ে, বাংলাদেশীর মনে চির জাগরুক। তাঁর কর্মের গৌরবের প্রেরণায়, আমরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আদর্শবান হতে পারি। হতে পারি সাহসী ও দেশের জন্য নিবেদিত। তিনি হচ্ছেন দেশের জন্য সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক। তিনি বিজয়ের প্রতীক। সর্বোপরি আশা ও ন্যায়-বিচারের অনুপ্রেরণা।
১৯৭১ সালের ১২ এপ্রিল এম.এ.জি. ওসমানী মন্ত্রীর সমমর্যাদায় বাংলাদেশ ফোর্সেসের প্রধান সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তাঁর দূরদর্শি চিন্তা চেতনা ও তেজোদীপ্ত নির্দেশনায় মুক্তিবাহিনীর মধ্যে জেগে ওঠে দেশ মুক্ত করার অমিয় স্পৃহা। তিনি দেশের মুক্তির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। ইস্পাত কঠিন শপথ নিয়েছিলেন যুদ্ধ জয়ের। এরই ধারাবাহিকতায় এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন। মূলত সেখানেই পরিকল্পনা করেন, কোথায় কীভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করবেন। এজন্য ঘুরে ঘুরে যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি, তথ্য সংগ্রহ ও কৌশল আয়ত্ব করেন। এসময় তিনি ভারতীয় সেনানায়কদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় মতবিনিময় করেন। একই সময় আমাদের মুক্তিবাহিনীর রণকৌশল ও গঠন প্রক্রিয়া তৈরিতে মনোনিবেশ করেন। অবশ্য নিয়মিত ও গেরিলা বাহিনীকে দক্ষ করে তুলতে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহণ করে। গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ওসমানী অসামান্য প্রজ্ঞার পরিচয় দেন। যুদ্ধ চলাকালে প্রদর্শন করেন অভূতপূর্ব সমরকৌশল। তাঁর মেধা ও সামরিক যুদ্ধ কৌশলে শুরু হয় মুজিবনগর সরকারে যুদ্ধ পরিকল্পনা। আμমণ শাণিত করতে সমগ্র বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থা বিবেচনা করে তিনি ১১টি সেক্টরে ভাগ করেন। প্রতিটি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে এক একজন সেনাবাহিনীর অফিসারকে নিযুক্ত করেন। বিভিনড়ব সেক্টর ও বাহিনীর মাঝে সমন্বয় সাধন করা, রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, অস্ত্রের যোগান নিশ্চিত করা, গেরিলা বাহিনীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা - প্রভৃতি কাজ দক্ষতা ও সাফল্যের সঙ্গে পালন করেন ওসমানী। রণনীতির কৌশল হিসেবেই তিনি এ পরিকল্পনা আঁটেন। তাঁর অসীম সাহস আর বিচক্ষণতায় সুনিয়ন্ত্রিত হতে থাকে সেক্টরগুলো। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ছিল যুদ্ধ পারদর্শী ও সংখ্যায় অনেক বেশি। তাই বঙ্গবীর ওসমানী মাথায় রাখেন এক অভাবনীয় রণকৌশল। তাঁর কৌশল ছিল প্রথমে শত্রুকে নিজেদের ছাউনিতে আটকে রেখে যোগাযোগের সবগুলো মাধ্যম হতে বিচ্ছিনড়ব করে ফেলা। মে মাস পর্যন্ত এ পদ্ধতিতেই যুদ্ধ পরিচালনা করেন। মে মাসের পর বদলে ফেলেন রণকৌশল। কারণ প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের সৈন্য ছিল কম। এবারে প্রাক্তন ইপিআর এর বাঙালি সদস্য, আনসার, মোজাহেদ,
পুলিশ বাহিনী ও যুবকদের নিয়ে গঠন করেন গেরিলাবাহিনী। যুদ্ধকালীন মাঝামাঝি সময়ে তিনি বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনা সদস্যদের নিয়ে গঠন করেন নিয়মিত বাহিনী। তাদের কমান্ডারদের নামানুসারে নামকরণ করা হয় ‘এস’, ‘জেড’, এবং ‘কে’ ফোর্স। কিছুদিন পর তিনি কিছু সংখ্যক প্রাক্তন নৌ সদস্য ও গেরিলা যুবক নিয়ে একটি নৌ-কমান্ডো বাহিনী গঠন করেন। আগস্টের মাঝামাঝিতে তাঁরা নদীপথে শত্রুর চলাচল প্রায় রুদ্ধ করে দেন। নৌবাহিনী গঠনের পরও বিমানবাহিনী অভাব অনুভব করেন। শেষের দিকে দুটি হেলিকপ্টার, ও একটি অটার আর তাঁর নিজের চলাচলের জন্য একটি ডাকোটা নিয়ে ছোট্ট একটি বিমানবাহিনীও গঠন করেন।
জেনারেল ওসমানী ছিলেন এমন একজন দৃঢ়চেতা সামরিক রণকৌশলবিদ, তিনি মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে মুক্তিপাগল জনগনকে যুদ্ধ জয়ের স্বাদ এনে দিয়েছিলেন। যুদ্ধে তাঁর অন্যতম ফলপ্রসূ কৌশল ছিল, শত্রুকে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত রাখা। আঘাতে আঘাতে পর্যুদস্ত করে তোলা। এজন্য নিয়মিত বাহিনী দিয়ে তিনি শত্রুদের বিস্তৃত এলাকায় নিয়োজিত রেখে দুর্বল করে দিতেন। প্রথমদিকে ভারতীয় সমরবিদদের সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ কৌশলের কিছু দ্বিমত থাকলেও জেনারেল ওসমানী পরবর্তী সময়ে তা সমন্বিত করে নেন। এটাও তাঁর নেতৃত্বের কারিশমা। তাঁর সামরিক চিন্তা চেতনা ছিল, বাঙালি নিয়মিত বাহিনী ও গেরিলা বাহিনী দিয়ে বাংলাদেশের যেকোন একটি নির্দিষ্ট জায়গা দখল পূর্বক মুজিবনগর সরকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক পরিচিতি এনে দেওয়া। এ লক্ষে তিনি যত বেশি সম্ভব গেরিলা বাহিনীকে দেশের অভ্যন্তরে রাখেন। এখানে তিনি ‘হিট এন্ড রান ’ নীতে গ্রহণ করেন। এতে আমাদের বাহিনী কম হতাহত হত। অপরদিকে শত্রু পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণ যেত বেশি। শত্রুরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ত এ রকম আকস্মিক আঘাতে। এ ছাড়া দেশের ভেতরের বিভিনড়ব পাওয়ার স্টেশন, রেললাইন, স্টোরেজ ডিপো, ব্রিজ, কালভার্টসহ যোগাযোগের সকল মাধ্যম গেরিলা বাহিনী দিয়ে ধ্বংস করে দিতেন। আর এভাবেই তিনি শত্রুর অর্থনৈতিক ও মানসিক শক্তি দুর্বল করে দিতে পেরেছিলেন। মুক্তিবাহিনীর অনিয়মতি যুদ্ধ কৌশল ও নিয়মিত বাহিনীর কনভেনশনাল যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে দখলদার পাকিস্তানী বাহিনী অনেকাংশে দুর্বল ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। যা মিত্রবাহিনীর অভিযানকে ত্বরান্বিত ও সাফল্য এনে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
যুদ্ধকালীন সময়ে তাঁর মতো নীতিবোধ, মানবিক গুণাবলী আর সামরিক বিদ্যায় উচ্চ শিক্ষিত জাতীয় নেতা আর কেউ ছিলেন না। তিনি ছিলেন সামরিক বাহিনীতে উচ্চ শিক্ষায়, রণকৌশলে,ব্যক্তিত্বে ও সেবার মানসিকতায় সবার সেরা। তিনি ছিলেন প্রত্যুৎপন্নমতি। তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিতে পারঙ্গম। দেশের প্রতি অসীম মমতা তিনি সর্বদা হৃদয়ে লালন করতেন। স্বাধীন দেশে সব সময় তিনি তাঁর নীতিতে অটল থেকেছেন। সময়ের প্রয়োজনে দেশ মাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়েছেন। নিস্বার্থভাবে জনগনের মঙ্গলের জন্য যা ভালো মনে করেছেন তা করেছেন। তিনি দেশের জন্য সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে কভু পিছ পা হননি। শুধু মুক্তিযুদ্ধে নয়, বঙ্গবীর ওসমানী আজীবন নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে দেশকে ভালোবেসে গেছেন।
লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে

এতে বলা হয়েছে এ সরকারের মেয়াদে ২০০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ৩১ শে জুলাই সময়ের মধ্যে কমপক্ষে ৪৩২ জনকে গুম করেছে আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলো। লোকজনকে তুলে নেয়া ও গুম করার সঙ্গে অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলো ডিবি, পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমস ইউনিট (সিটিটিসিইউ), র্যাব ও একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এএলআরসি আরো বলেছে, নাগরিকদের তুলে নেয়া ও গুমের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অব্যাহতভাবে অস্বীকার করে যাচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ বা মাস পরে এক-চতুর্থাংশ মানুষকে পাওয়া যাচ্ছে বন্দি অবস্থায়। তাদের বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে নানা রকম বানোয়াট ফৌজদারি অভিযোগ। এ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে যারা ঘরে ফিরেছেন, তারা কখনো মুখ খোলার সাহস দেখান না। এএলআরসি আরো বলেছে, জোরপূর্বক গুমের ঘটনায় পর্যায়ক্রমিকভাবে অভিযোগ নিবন্ধিত করতে অস্বীকার করে বাংলাদেশ পুলিশ। তারা বলে অভিযোগ থেকে আইন প্রয়োগকারী এজেন্সির নাম বাদ রাখতে হবে। এ ছাড়া গুম শব্দটির পরিবর্তে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের দ্বারা অবহরণ অথবা নিখোঁজ শব্দ ব্যবহারে বাধ্য করে অভিযোগকারীকে। এর ফলে অভিযোগ মেকানিজমে পরিপূর্ণ সুবিধা অস্বীকার করায় প্রাথমিকভাবে ধাক্কা খান অভিযোগকারী। অভিযোগ করার মেকানিজমে এই যথাযথ সুবিধা না পাওয়াটা হচ্ছে ন্যায়বিচার না পাওয়ার বিষয়। উপরন্তু অভিযোগকারী ও গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবার অব্যাহতভাবে ভীতির সম্মুখীন হন। তাদেরকে শারীরিক ও ডিজিটাল নজরদারিতে রাখে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ ছাড়া অভিযোগকারী একই রকম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে। সেখানে অভিযোগের জন্য আইনজীবীর সহায়তা নেয়া বাধ্যতামুলক। কিন্তু নানা রকম প্রতিশোধ নেয়ার কারণে আইনজীবীরা এসব চ্যালেঞ্জ নিতে অনীহা দেখান। পুলিশ স্টেশন অথবা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যেসব অভিযোগ জমা পড়ে তার তদন্ত করে না পুলিশ। তবে ২০১৫ সালে সাতজন মানুষ গুমের একটি ঘটনায় তদন্ত করেছে তারা। ফলে গত ১০ বছরে এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মাত্র একটি ঘটনায় বিচার হয়েছে। তারা জোরপূর্বক গুম করেছিল। এবং পড়ে সেই গুমের শিকার ব্যক্তিদের মৃতদেহ ভেসে উঠেছিল।
এএলআরসি আরো বলেছে, ২০০৯ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশনে প্রায় ১০টি ‘হাবিয়াস করপাস’ রিট জমা পড়েছে। সুনির্দিষ্ট রিটে হাই কোর্ট রুল দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর ‘বুরোক্র্যাট ও অফিসিয়ালদের’ বিরুদ্ধে। তাদেরকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ওদিকে গুমের সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর লোকজন জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এটর্নি জেনারেলের অফিস। তবে ২০০৯ সাল থেকে যেসব মানুষ অপহৃত হয়েছেন, তারা কোথায় আছেন তা কেউ জানেন না, সেইসব মানুষকে হাজির করার জন্য রাষ্ট্রীয় কোনো এজেন্সিকে কোনো নির্দেশ কখনো দেন নি সুপ্রিম কোর্ট।
জাতীয় সংসদে এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা নতুন নয়। সারা বিশ্বেই এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। তার মতে, বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রেও গুম হয় মানুষ। তিনি দাবি করেন, প্রতি বছর যুক্তরাজ্যে গুম হন দুই লাখ ৭৫ হাজার বৃটিশ নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রে এ সংখ্যা আরো অনেক বেশি। এমন বক্তব্য গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়াকেই শুধু বাধাগ্রস্ত করে না। একই সঙ্গে যারা এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তারা দায়মুক্তি পেয়ে আরো উৎসাহিত হয়। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ক্ষমতাসীন সরকারের ইচ্ছামতো তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করে। এই বাস্তবতা ভিকটিমের অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ায় তার ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগকে অস্বীকার করে।
এএলআরসি বলেছে, তারা বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুমের জটিল বাস্তবতা সম্পর্কে অব্যাহতভাবে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ ও ওয়ার্কিং গ্রুপ অব এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিজঅ্যাপেয়ারেন্সে’কে জানিয়ে আসছে। এএলআরসি বলেছে, এর প্রেক্ষিতে মানবাধিকার পরিষদ ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের ব্যাপকভাবে বোঝা উচিত যে, সরকার গুমের অভিযোগ অস্বীকার করছে, অপরাধকে জাস্টিফাই করছে, এর সঙ্গে জড়িতদের দায়মুক্তির গ্যারান্টি দিচ্ছে, অভিযোগকারী ও ভিকটিমের আত্মীয়দের হয়রান বা ভীতি প্রদর্শন করছে, ন্যায়বিচারের মেকানিজমের সুবিধা পাওয়া প্রতিরোধ করছে। এবং এরাই জোরপূর্বক গুমের জন্য দায়ী। এএলআরসি আরো বলেছে, যখন এমন একটি সরকার থাকে তখন গণতান্ত্রিক ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে জোরপূর্বক গুমের ন্যায়বিচার পাওয়া অসম্ভব। উপরন্তু এখানে যে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বাস্তবে তা ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে রোহিঙ্গা সঙ্কট দিয়ে। এক্ষেত্রে মানবাধিকার পরিষদের উচিত বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাওয়া যে, অন্য দেশের একটি অপরাধ দিয়ে নিজের দেশের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকে ছাড় দেয়া বৈধ কিনা। এ অবস্থায় মানবাধিকার পরিষদের প্রতি এএলআরসি আহ্বান জানাচ্ছে স্পেশাল র্যাপোর্টিউর অন বাংলাদেশের জন্য একটি ম্যান্ডেট সৃষ্টির জন্য, তারা প্রায় ১৬ কোটি মানুষের মানবাধিকার পরিস্থিতি মনিটরিং করবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
-
▼
2018
(7025)
-
▼
September
(317)
-
▼
Sep 01
(15)
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ছবি ব্যবহার করে বার্মিজ স...
- আমার ভাষা আমার দায়িত্ব by মুহম্মদ জাফর ইকবাল
- আহেদ তামিমি ও ফিলিস্তিনি নারীদের বীরত্ব by মিসবাহু...
- দেখব ঘুরে ইরান এবার: ইরানি তুর্কামানদের বিয়ের অনুষ...
- প্রিন্সেস যেভাবে অন্ধকারে by রুদ্র মিজান
- হুদা কমিশনের গন্তব্য কোথায়? by সাজেদুল হক
- অভিযানেও শিকড় নড়েনি মাদকের গডফাদারদের by শুভ্র দেব
- এটাই আজকের বাংলাদেশ -চ্যানেল ফোরের রিপোর্ট
- একজন তরিকুল ইসলাম by কাফি কামাল
- পরিবর্তনের আশায় বিএনপি
- টেনশনে আওয়ামী লীগের এমপিরা by কাজী সোহাগ
- ভারতে লেখক, বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেপ্...
- রাজনৈতিক সমস্যা প্রযুক্তির চমকে সমাধান হয় না by আল...
- জেনারেল ওসমানী : মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান রণকৌশলব...
- বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে
-
▼
Sep 01
(15)
-
▼
September
(317)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...