Thursday, January 12, 2012

অভিমতঃ একটি সম্পাদকীয়ঃ কিছু কথা by অধ্যাপক আবদুল জব্বার খান

ত ১৪ নভেম্বর ২০০৯ তারিখের দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় ‘আমার দেশ চালিয়ে যাচ্ছে, চালিয়ে যাবে’ শীর্ষক সম্পাদকীয়টি পাঠের পর একজন পাঠক হিসেবে আমার প্রতিক্রিয়া তুলে ধরার জন্যই আমার এই উপস্থাপনা। দৈনিক আমার দেশ-এ লেখা প্রকাশের এটাই আমার প্রথম প্রচেষ্টা। আমি অকপটে স্বীকার করছি, আমি ওই পত্রিকাটির নিয়মিত পাঠক বা গ্রাহক কোনোটাই নই।

ফিরে দেখাঃ উইলিয়াম কুপার by ইমরান রহমান

খ্যাতিমান ইংরেজ কবি উইলিয়াম কুপার ১৭৩১ সালের ২৬ নভেম্বর হার্ডফোর্ডশায়ারের বার্কহামস্টিডে জন্মগ্রহণ করেন। কবির পাশাপাশি তিনি ছিলেন স্তোত্র রচয়িতা। তিনি ছিলেন তার সময়ের অন্যতম সেরা কবি। বিভিন্ন কারণেই তিনি ছিলেন রোমান্টিক কবিতার অন্যতম অগ্রদূত। এসটি কলরিজের মতে, আধুনিক কবি হিসেবে কুপার ছিলেন শ্রেষ্ঠতম।

পরাশক্তি পরম শক্তি নয় by মাহমুদ শামসুল হক

সোভিয়েত ইউনিয়নকে বলা হলো আন্তর্জাতিক কমিউনিজমের মহাতীর্থ। সমাজতন্ত্রের প্রতিভূ তো বটেই। সেই ইউনিয়ন সশব্দে ভেঙে পড়ল ১৯৯০ সালে। কারণ শনাক্ত করে তাত্ত্বিকরা বললেন, সমাজতন্ত্রের গতিপথে মার্কসীয় নীতির প্রয়োগ পদ্ধতিতে গলদ জমেছিল। দেখা দিয়েছিল বিস্তর বিচ্যুতি, বিভ্রান্তি এবং বিকৃতি। সেসব পাপের অনিবার্য প্রায়শ্চিত্ত হচ্ছে ভেঙে পড়া। সিমেন্ট ও বালির অনুপাত ঠিক না থাকলে দালানের অবস্থা যা হয়। পুঁজিবাদ প্রস্তুত ছিল।

স্মরণঃ ইউসুফ আলী চৌধুরী (মোহন মিয়া) by নূর মোহাম্মদ মিয়া

৬ নভেম্বর ছিল মরহুম ইউসুফ আলী চৌধুরীর ৩৮তম ইন্তেকালবার্ষিকী। ১৯৩৪ সালে ইউসুফ আলী চৌধুরীর উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের শুরু আর ১৯৭১ সালে ২৬ নভেম্বর তার সেই কর্মবহুল জীবনের সমাপ্তি। তখন তার বয়স ২৭/২৮ বছর হবে। ফরিদপুর আঞ্জুমান ইসলামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মরহুম ইউসুফ আলী চৌধুরী।

ভাসানী ও শেখ মুজিবঃ একটি আলোচনা by মোহাম্মদ মতিন উদ্দিন

৭ নভেম্বর, ২০০৯ মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ১৯৭৬ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মওলানা ভাসানী ছিলেন এ দেশের কৃষক-শ্রমিক খেটেখাওয়া মেহনতি মানুষের পক্ষে তার নিজস্ব চেতনার গণ্ডিতে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মুক্তির বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর যেন অর্থবহ হয় by শাহ আহমদ রেজা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১৮ ডিসেম্বর ভারত সফরে যাবেন। এই সফরকে ঘিরে প্রস্তুতি বেশি নেয়া হচ্ছে ভারতের দিক থেকে। সেদেশের পররাষ্ট্র সচিব নিরূপমা রাও ইতিমধ্যে ঢাকায় ঘুরে গেছেন। অনেকাংশে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সফর ও সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রীঃ লাভালাভের বিবেচনা প্রত্যাশিত

প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বিভিন্ন দেশ সফর করলেও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রভাব বলয় বাড়ছে না। একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণও বয়ে আনছে না কোনো লাগসই ফলাফল। বিগত এপ্রিল মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বহু সদস্যের প্রতিনিধিদলসহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ ও ইতালি সফর করেছেন।

উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেমে গেছেঃ দেশ চলছে কোন পথে

হাজোট সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় উন্নয়নমূলক বা অর্থনীতি সংক্রান্ত বিষয় স্থান পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। দেশজুড়ে শিল্পোত্পাদন স্থবির হওয়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা বা সেবামূলক প্রতিষ্ঠানসহ অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠা দূরে থাক, পুরনোগুলোও টিকে থাকতে পারছে না। জ্বালানি সঙ্কট স্থায়ী হয়ে উঠেছে।

ফিরে দেখাঃ অগাস্টো পিনোশে by ইমরান রহমান

৯১৫ সালের ২৫ নভেম্বর চিলির ভালপারাইসোতে জন্মগ্রহণ করেন সে দেশের একনায়ক অগাস্টো পিনোশে। ১৯৭৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ ছিলেন। সামরিক অভ্যুত্থানের পর সামরিক জান্তার প্রধান হিসেবে তিনি ১৯৭৩ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৯০ সালের আগ পর্যন্ত অর্থাৎ গণতন্ত্রে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

প্রজাপতি নবান্ন-উৎসব by মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান

৬ নভেম্বর ২০০৯। প্রায় সব পত্রিকাতেই বেশ ঘটা করে ছাপা হয়েছে নবান্ন উত্সবের রং-বেরংয়ের শহুরে ছবি। কিছু কিছু পত্রিকার প্রথম পাতার একেবারে শীর্ষ সংবাদ ওটি। রঙিন ছবি- রঙিন শিরোনাম আর ফুর্তির রং তো ঝলক দিচ্ছে ছবিতে, শিরোনামে খবরের বিবরণে। আগের রাতে টিভিতে দেখলাম ‘পদক-পাদক’ও দেয়া হচ্ছে।

অভিমতঃ জাতীয় শিক্ষানীতি ২০০৯ (চূড়ান্ত খসড়া) নিয়ে কিছু কথা by এম আলম খান

জাতীয় শিক্ষানীতির প্রথম অধ্যায়ে ‘শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য’র প্রথম লাইনেই বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে বিবৃত সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো বিবেচনা করা হয়েছে এবং ১নং উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে উল্লেখ রয়েছে— শিক্ষার সর্বস্তরে সাংবিধানিক নিশ্চয়তার প্রতিফলন ঘটানো এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের সচেতন করা।

পাম তেল চাষের সঙ্কট, উত্তরণ এবং আর্থিক মূল্যায়ন by মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান খান

পাম তেল চাষে অগ্রগামী দেশের সংখ্যা খুব সীমিত। এ সীমিতসংখ্যক দেশের সবচেয়ে বড় সুবিধা ভূমির প্রাচুর্য। জনসংখ্যার তুলনায় ভূমির আধিক্য হওয়ায় এখনও মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া পাম চাষে ভূমি বরাদ্দ দিতে সক্ষম হচ্ছে। অপরদিকে যেসব দেশ পাম চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়নে জাতীয় প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যেমন—পাপুয়া নিউগিনি, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ অন্য দেশগুলোর হাজার হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

চট্টগ্রামে সংস্কৃতিচর্চা by এবনে গোলাম সামাদ

ভাষাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে একটি জাতির জাতীয় সংস্কৃতি। ষোড়শ শতাব্দী থেকে মুসলমান লেখকরা বাংলায় তাদের সাহিত্য রচনা শুরু করেন। এর আগেও তারা বাংলায় সাহিত্যচর্চা করতেন। তবে তার পরিচয় আমাদের কাছে এখনও সেইভাবে এসে পৌঁছেনি। তবে একটা কথা বিশেষভাবে বলতে হয়, তা হলো খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর আগে কোনো বাংলা সাহিত্যের পরিচয় পাওয়া যায় না।

লাভ হয়নি ঘড়ির কাঁটা এগিয়েঃ দুর্ভোগ বেড়েছে শিশু শিক্ষার্থীদের

বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছিল জরুরি অবস্থার সরকার। সমাজের সব মহলের বিরোধিতার মুখে তখন স্থগিত হলেও মহাজোট সরকার ডিজিটাল ব্যবস্থার কথা বলে গত ১৯ জুন থেকে সেটা বাস্তবায়ন করে। হিসাব কষে তখন বলা হয়েছিল, এতে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।

জরুরি সরকারের টাকা হাতানোর বিরুদ্ধে রুল জারিঃ সব অপকর্মের বিচার হতে হবে

র্মের কল যে বাতাসে নড়ে, তা আবার প্রমাণ হতে চলেছে সোমবার হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ কর্তৃক রুল জারির মধ্য দিয়ে। জরুরি অবস্থায় সেনা-সমর্থিত সরকারের আমলে ডিজিএফআই মেঘনা সিমেন্ট কোম্পানির কাছ থেকে ৫২ কোটি টাকা জোর করে হাতিয়ে নিয়েছিল। মেঘনা সিমেন্ট কোম্পানির মালিক বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সে টাকা সুদে-আসলে ফেরত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন।

ফিরে দেখাঃ ডেল কার্নেগি by ইমরান রহমান

মেরিকান লেখক ডেল ব্রাকেনরিজ কার্নেগি ১৮৮৮ সালের ২৪ নভেম্বর মিসৌরির মেরিভিলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন প্রভাষক। তবে মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক গবেষণামূলক বইপত্র লিখে তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন। তার লিখিত বিখ্যাত গ্রন্থ হাউ টু উইন ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্স পিপল প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে। তৎকালীন সবচেয়ে বেশি কাটতির এই বইটির জনপ্রিয়তা আজও এতটুকু কমেনি। এছাড়াও আত্মজৈবনিক গ্রন্থ লিঙ্কন দি আননোনের মতো বই লিখে বিশ্ব সাহিত্যকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন।

কে তুমি? by আল মাহমুদ

তুচক্রের আবর্তনে শীত এসে জানান দিচ্ছে সে এসেছে। কেবল আমারই কোনো প্রস্তুতি নেই। শীতের পোশাক কে কোথায় রেখে গেছে তাও খুঁজে পেতে বের করতে হবে। আমার অবশ্য তেমন তাড়াহুড়ো নেই, কারণ আমি তো কোথাও বের হই না। বের না হলেও মনটা তো আর ঘরে থাকে না। নানা খবর ও নানা সংবাদে মনটা বহির্মুখী হতে আকুলি-বিকুলি করে।

‘আজি এ প্রভাতে রবির কর’ by মাহবুব তালুকদার

গুরুদেব যোগাসনে বসিয়া চক্ষু মুদিত করিয়া রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করিতেছিলেন। শিষ্য নিবিষ্টচিত্তে উহা শ্রবণ করিতেছিল। গুরুদেবের জলদগম্ভীর স্বরে আবৃত্তি যেন আবৃত্তি নহে, উহাকে মন্ত্রপাঠ বলিয়া মনে হইতেছিল। এক সময়ে গুরুদেব চক্ষু উন্মীলিত করিয়া শিষ্যের প্রতি দৃকপাত করিলেন। স্মিতহাস্যে কবিতার প্রথমাংশ তিনি পুনরায় আবৃত্তি করিলেনঃ

রথ দেখা এবং কলাবেচা by সঞ্জীব চৌধুরী

প্তাহ দুয়ের কিছু বেশি হয় চিকিত্সার জন্য ভারতে কয়েকদিন কাটিয়ে দেশে ফিরেছি। শুধু কলকাতা গিয়েছি এবং চিকিত্সা নিয়েছি বললে পুরোটা বলা হবে না। এবারের ভারত সফরে আমি বুদ্ধগয়ায় গিয়েছিলাম। সেই সুযোগে একদিন গয়ায় গিয়ে বাবাসহ প্রয়াত আত্মীয়-স্বজনের আত্মার শান্তি প্রত্যাশায় পিণ্ড দিয়ে এসেছি।

ঈদে বাড়ি ফেরার বিড়ম্বনাঃ ভ্রমণ যেন বিপজ্জনক না হয়

দের ছুটিতে বিশেষত শহরের কর্মস্থল থেকে গ্রামের বাড়ি ফিরে যাওয়া আমাদের সংস্কৃতির এক অনিবার্য দিক। আর মাত্র তিন দিন পরই ঈদ। এখন থেকেই ঘরে ফেরার জন্য দৌড়-ঝাঁপ শুরু হয়েছে। বাস-ট্রেন-লঞ্চের টিকিট পেতে লম্বা লাইন হচ্ছে টার্মিনালের কাউন্টারে। তবে ফি বছরের মতো এবারও আগাম টিকিট কেনা নিয়ে বিস্তর বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন লোকজন।

সর্বগ্রাসী দলীয়করণঃ সশস্ত্র বাহিনী দিবসও বাদ গেল না

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী আমাদের অহঙ্কার। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর এই প্রতিষ্ঠান দলমত গোত্র-ধর্ম নির্বিশেষে গোটা জাতির সমর্থনকে ধারণ করে দেশ রক্ষায় অকুতোভয় ভূমিকা পালন করবে এটাই প্রত্যাশিত। সে প্রত্যাশা থেকেই সশস্ত্র বাহিনীকে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য রাখার চেষ্টা সবসময় লক্ষ্য করা যায়।

স্বপ্নদেখা দিনে

শিল্পের নানা মাধ্যমে বিচরণের যোগ্যতা অনেক শিল্পীর মধ্যেই থাকে। তারা আপন যোগ্যতায় জায়গা করে নেন। শিল্পীর অপূরণীয় শিল্পতৃষ্ণাই তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। বয়সের বিচারে মোনালিসা তরুণী; কিন্তু তার কাজের মান ও প্রতিভা স্বীকৃত। পর্দায় তার স্বল্প উপস্থিতিও অনুরাগীদের মধ্যে আলোড়ন তোলে। তাকে নিয়ে লিখেছেন মীর সা কেন যেন আজ ফেলে আসা দিনগুলোকেই শুধু মনে পড়ে মোনালিসার। তার ফিরে পেতে ইচ্ছে করে সেই সুখের সাত সমুদ্দুর।

ত থ্য বি চি ত্রা-শীতের শাকসবজি খাচ্ছেন তো?

শীতকালে বাজারে পাওয়া যায় নানা ধরনের শাকসবজি ও ফলমূল, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। যেমন_
ষ টমেটো :এটি একটি শীতকালীন সবজি। স্বাদে অতুলনীয় এ সবজিটি গুণেও অনন্য। টমেটো মানবদেহের ক্ষতিকর এলডিএলের অক্সিডেশন প্রতিরোধ করে হৃৎপিণ্ড সুস্থ ও সবল রাখে। টমেটো টিউমার ও ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। নিয়ন্ত্রণেও রাখে কার্যকর ভূমিকা।

র ঙ বে র ঙ-পতঙ্গভুক গাছ

প্রকৃতির সবকিছুই সুন্দর। বিশেষত উদ্ভিদ জগৎ। তবে এর কিছু উপাদান ভীষণ ভয়ঙ্কর। অবশ্য সেগুলোকে আমরা ভয়ঙ্কর সৌন্দর্য বলেই আখ্যায়িত করি। এমনই একটি উদ্ভিদ 'কোবরা লিলি', যা দেখতে খুব সুন্দর। তবে ভয়ঙ্কর। কিং কোবরার মতোই সারাক্ষণ ফণা তুলে থাকে। অবশ্য উদ্ভিদটির স্বভাবও আগ্রাসী অর্থাৎ মাংসাশী। কীটপতঙ্গ উদ্ভিদটির ওপর বসলে আর রক্ষা নেই।

পোস্টাল ক্রেডিট কার্ড-রপ্ত হোক আধুনিক প্রযুক্তি

যুগে কেউ যদি চিঠির স্বর্ণযুগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে চিঠি লেখার উপকারিতার কথা প্রচার করেন, তবে লোকে ক্ষণিকের জন্য তার কথায় মোহিত হবে। চিঠি স্থায়ী, মজবুত সম্পর্কের বাহন, চিঠির সঙ্গে আমাদের অতীত জীবনের বহু স্মৃতি, বহু সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে সে তো সত্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কতজন মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ছেড়ে কাগজ-কলম নিয়ে চিঠি লিখতে বসবে সেটিই ভাবা দরকার।

ভোজ্যতেলের দাম-স্বস্তির আশ্বাসে উদ্বেগের বীজ

বাংলাদেশে যে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্থির বাজারের কারণে ঘরে ঘরে ক্ষোভ তার মধ্যে বিশেষভাবে বলা যায় ভোজ্যতেলের কথা। এক সময় দেশীয় সরিষার তেলেই বাঙালির নিত্যদিনের সুস্বাদু নানা পদের রান্না হতো। এখন সরিষা ব্রাত্য, বাজার দখল করেছে আমদানিকৃত সয়াবিন ও পাম অয়েল। অপরিশোধিত এ তেল আমদানি করে কয়েকটি মিল শোধনের পর বাজারে ছাড়ে। এ প্রক্রিয়া ব্যবসার নিয়মের মধ্যে পড়ে।

সম্ভাবনার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় by মোঃ জিয়াউল হক শেখ

০০৫ সালে জাতীয় সংসদে পাসকৃত একটি আইনবলে ওই বছরের ২০ অক্টোবর থেকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। উপযুক্ত পরিকল্পনা ছাড়া, ত্রুটিযুক্ত একটি আইন দ্বারা শুধু পূর্বপ্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য বিগত সরকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একটি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করে। রাতারাতি কলেজের শিক্ষকরা যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে যান, তেমনি শিক্ষার্থীরা হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

তাহরির থেকে জুকোটি পার্ক-প্রতিবাদের বিশ্বায়ন by সুভাষ সাহা

রাজনৈতিক সমালোচনা ও মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও 'ওয়ালস্ট্রিট আন্দোলন' ইতিমধ্যে এক মাস অতিক্রম করেছে। এখন এই আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্রের সীমা ছাড়িয়ে ইউরোপ এমনকি এশিয়ায়ও বিস্তার লাভ করছে। আন্দোলনকারীদের নেতা নেই, সংগঠন নেই, করপোরেট লোভের বিরুদ্ধে শানিত স্লোগান ছাড়া সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা নিদেনপক্ষে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার দাবিও নেই।

তমোহরকে মনে পড়ে by কণিকা মাহফুজ

বীন্দ্রনাথ বড়মাপের মানুষ। স্ত্রী-পুত্রের মৃত্যু তার প্রতিভায় ছেদ টানতে পারেনি। তিনি উপলব্ধি করেছেন_ 'সত্য যে কঠিন', বলেছেন কঠিনেরে ভালোবাসিলাম। কিন্তু আমরা অতি সাধারণ মানুষ। আমাদের কাছে আমাদের সন্তানের চেয়ে বড় আর কিছু নেই। বাবা-মা আর আমরা সাত বোন এবং এক ভাই। অনেকে ঠাট্টা করে বলত, 'সাত বোন চম্পা'। আমরা একসঙ্গে হলে অকারণে হাসতাম অথবা অকারণে নয়; প্রাণে আনন্দের কোনো ঘাটতি ছিল না, তাই হাসতে পারতাম।

সরকার কোম্পানি না কৃষকের পক্ষে?-ঝলক বীজ by রুদ্র মাসুদ

খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর দায় কৃষকের। সারের দাবি করলে প্রাণও দিতে হবে কৃষককেই। আর্থিক সংকটের কথা বলে কাটছাঁট নামের কাঁচিটিও চলে কৃষকের ভর্তুকির ওপর। ক্ষমতার রাজনীতি আর ভোটের বাজারেও কৃষকের কদর কম নয়। একটু আগ বাড়িয়ে, বর্তমান সরকার আবার নিজেদের কৃষকবান্ধব সরকার বলে দাবি করে। কৃষকের জন্য কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত জিগির তোলার প্রবণতাও নতুন কিছু নয়।

ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রেমিট্যান্স-রিজার্ভ নিয়ে শঙ্কা কমছে

ডিসেম্বরের মতো চলতি মাসেও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে রেমিট্যান্স। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২৫ কোটি ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন। ডিসেম্বরে এসেছে ১১৪ কোটি ডলার। আগের যে কোনো মাসের তুলনায় যা বেশি। চলতি মাসে যেহেতু পাঁচটি সপ্তাহ আছে তাই রেমিট্যান্স ডিসেম্বরকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ মাসে ১২০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মেলায় নানা অব্যবস্থাপনা

টোকাই, হকার, ফকিরের উপদ্রব বেড়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায়। যত্রতত্র পরিত্যক্ত পলিথিন উড়ছে দেদার। মোবাইল, ল্যাপটপ চুরির ঘটনাও ঘটছে। স্টল থেকে ক্রেতা ডাকাডাকি চলছে গুলিস্তানি কায়দায়। উদ্বোধনের ১১তম দিনেও কোনো কোনো প্যাভিলিয়ন রয়েছে নির্মাণাধীন। এসব কারণে জৌলুস হারাচ্ছে মেলা। উচ্চ-মধ্যবিত্তরা এখনও মেলাবিমুখ। এখনও বিদেশি দর্শকের সমাগম তেমন হচ্ছে না।

বীমা কোম্পানির চাকরি বিধিমালা তৈরির নির্দেশ by ওবায়দুল্লাহ রনি

প্রতিটি বীমা কোম্পানির জন্য চাকরি বিধিমালা তৈরি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত 'মানবসম্পদ' নীতিমালা তৈরি করে তা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বরাবর পাঠাতে হবে। অন্যদিকে বীমা খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আইডিআরএ থেকে ২০১২ সালের জন্য কিছু কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।

শেষ আটে রিয়াল

কিংস কাপে এল ক্ল্যাসিকোর সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। গত মৌসুমে কিংস কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। এবার কোয়ার্টার ফাইনালেই মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এ দু'দলের। মঙ্গলবার রাতে রিয়াল মাদ্রিদের জয় এল ক্ল্যাসিকোর নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়েছে। মঙ্গলবার ফিরতি লেগে মালাগাকে ১-০ গোলে হারিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ কোয়ার্টার ফাইনালে পেঁৗছেছে।

দায় ইলিয়েভস্কিরই

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যর্থতার কারণ উদ্ঘাটন করে প্রতিবেদন তৈরি করছে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটি। ব্যর্থতার জন্য কোচকেই বেশি দায়ী করা হয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জাতীয় দল ব্যর্থ হওয়ার পর মেসেডোনিয়ান কোচ নিকোলা ইলিয়েভস্কিকে কৌশলে বিদায় করেছে বাফুফে। অন্তরে যাই থাকুক, যাওয়ার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে মেসেডোনিয়ান এ ভদ্রলোক বলেছেন, তিনি নিজ থেকেই চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছেন।

আবাহনী ও গাজীর জয়

য়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে লীগ চ্যাম্পিয়ন আবাহনী এবং গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স। মিরপুরে লো স্কোরিং ম্যাচে গাজী ট্যাংক ২ উইকেটে পরাজিত করে কলাবাগানকে। আর বিকেএসপিতে মার্শাল আইয়ুবের ব্যাটিংয়ে সূর্যতরুণের ২৪০ রান টপকে যায় আবাহনী। মার্শালময় আবাহনী ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আড়াইশ'র আশপাশে রান মানে ম্যাচ অর্ধেক পকেটে।

নিজের তৈরি ছবি নিয়ে বার্লিন উৎসবে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি by প্রীতি ওয়ারেছা

৬ বছর বয়সী অস্কার জয়ী হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তার পরিচালিত প্রথম ছবি ‘দ্য ল্যান্ড অব ব্লাড এন্ড হানি’ নিয়ে যাচ্ছেন ৬২তম বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে। ১০ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হবে ৯ ফেব্রুয়ারী জার্মানিতে। এই ছবিটি উৎসবে প্রদর্শিত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

নিলামে উঠছেন যারা by সঞ্জয় সাহা পিয়াল

ইকন ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল (ঢাকা), তামিম ইকবাল (চট্টগ্রাম), সাকিব আল হাসান (খুলনা), মুশফিকুর রহিম (রাজশাহী), অলক কাপালি (সিলেট), শাহরিয়ার নাফীস (বরিশাল) ক্যাটাগরি 'এ' - ভিত্তিমূল্য ৪৫ হাজার ডলার
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, আবদুর রাজ্জাক, নাসির হোসেন, জুনায়েদ সিদ্দিকী, ইমরুল কায়েস, মাশরাফি বিন মর্তুজাক্যাটাগরি 'বি' - ভিত্তিমূল্য ৩০ হাজার ডলার নাজিম উদ্দিন, রকিবুল হাসান, ইলিয়াস সানি, সোহরাওয়ার্দী শুভ, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, নাজমুল হোসেন, ফরহাদ রেজা, মোহাম্মদ মিঠুন, জহুরুল ইসলাম অমি, শাহাদাত হোসেন রাজীব, নাঈম ইসলাম।

পাকিস্তানে ফের ড্রোন হামলা :নিহত ৪

পাকিস্তানের মাটিতে আবারও ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে কমপক্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে। গতকাল বুধবার উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরানশাহ শহরের কাছে আদিবাসী এলাকায় মার্কিন চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হামলা চালানো হয়। এ এলাকা আল কায়দা ও তালেবানদের শক্ত ঘাঁটি। ১৭ নভেম্বরের পর এটি পাকিস্তানে প্রথম মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।

আন্দামানে নগ্ন নাচে বাধ্য করা হচ্ছে আদিবাসীদের

স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় ভারতের আন্দামান দ্বীপে বিলুপ্তপ্রায় আদিবাসীদের খাদ্যের বিনিময়ে নাচতে বাধ্য করছে বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা বা কোম্পানি। পর্যটকদের মনোরঞ্জনে তাদের নগ্ন, অর্ধনগ্ন অবস্থায় নাচতে বাধ্য করা হচ্ছে। মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে তাদের নাচতে বাধ্য করাচ্ছেন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারাই। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ রকম একটি নাচের দৃশ্য দেখা গেছে।

ইরানে বোমা হামলায় পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দায়ী :তেহরান

রানের রাজধানী তেহরানে বোমা হামলায় ইরানি এক পরমাণু বিজ্ঞানী মুস্তফা আহমাদি রোশান নিহত হয়েছেন। তিনি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। গতকাল বুধবার সকালে তাকে রিমোট কন্ট্রোল বোমার সহায়তায় হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় তেহরান। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইহুদিপন্থিদের দায়ী করেছে ইরান। তবে ইহুদিদের এ ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও ইরানে পরমাণু কার্যক্রম বন্ধ হবে না বলে জানান দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা রহিমি।

শরীয়তপুর-৩ উপনির্বাচন-প্রয়াত রাজ্জাকের আসনে লড়াইয়ে নামবেন কারা?

রীয়তপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে কারা লড়াইয়ে নামবেন তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বর্ষীয়ান রাজনীতিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সদ্য প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক এমপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটি কে জয় করবেন_ সে প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকার সর্বমহলে। এদিকে রাজ্জাকের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষিত এ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষিত না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন।

মিরপুরে অবৈধ মার্কেট উচ্ছেদ

রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত মার্কেটটি (স্থাপনা) গতকাল বুধবার উচ্ছেদ করা হয়েছে। বুলডোজার চালিয়ে, নির্মাণ শ্রমিক নিযুক্ত করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পুরো মার্কেটটি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আল আমীনের নির্দেশে উচ্ছেদের সময় পর্যাপ্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ত্রিপুরায় দু'দেশের ব্যবসায়ীদের বৈঠকে শেখ হাসিনা-সম্পর্ক সুদৃঢ় করার এ সুযোগ বিফলে যেতে দেওয়া যাবে না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্প্রতি নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। দু'দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করার এ সুযোগ বিফলে যেতে দেওয়া হবে না। এ সুযোগ যাতে বিফলে না যায় সেদিকে প্রত্যেককে সজাগ থাকতে হবে। গতকাল বিকেলে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে বাংলাদেশ ও ত্রিপুরার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের এক বৈঠকে বক্তৃতাকালে শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার বিশাল ক্ষেত্র বিদ্যমান। সত্যিকার সহযোগিতা তখনই সম্ভব যখন রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে।

আজ সব পরীক্ষা বন্ধ-ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র আহত ৩০

জামায়াতের সাবেক আমির, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত গোলাম আযমকে গ্রেফতারের জের ধরে গতকাল বুধবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল চেয়েছে বিএনপি-সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কথা জানালেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতির সংলাপে যোগ দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের আগে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। একই সঙ্গে তারা বলেছে, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সর্বাগ্রে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা প্রয়োজন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া শুরু করলে জাতির কাছে তা গ্রহণযোগ্য

শেখ হাসিনাকে আগরতলায় লাল গালিচা সংবর্ধনা

পরিতোষ পাল, কলকাতা থেকে: ত্রিপুরায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার  প্রথম সফরে গতকাল বিকালে আগরতলায় এসেছেন। দু’দিনের এই    পৃষ্ঠা ৫ কলাম ৫
সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এসেছেন তার ছোট বোন শেখ রেহেনাও। এছাড়া এসেছেন মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সরকারি কর্মকর্তা ও বুদ্ধজীবীসহ ১০৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এই প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ২৮ জন ব্যবসায়ীও। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগরতলার সিঙ্গেরবিল বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। তাকে স্বাগত জানান ভারত সরকারের পক্ষে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী কপিল সিবাল ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। বিমানবন্দর থেকে আগরতলার কুঞ্জবনে রাষ্ট্রীয় অতিথি আবাসে যাওয়ার পথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের মানুষ হাত নেড়ে, মৈত্রী স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান। রাস্তার দু’পাশে অসংখ্য মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে শেখ হাসিনার জন্য অপেক্ষা করেছেন। তাকে দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বাস জানিয়েছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। অনেকের হাতে ছিল দুই দেশের পতাকাও। রাষ্ট্রীয় অতিথি আবাসে শেখ হাসিনাকে ত্রিপুরা রাইফেলসের জওয়ানরা গার্ড অব অনার জানান। পরে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ আয়োজিত দুই দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে তার বক্তব্য দেন। এদিকে এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী কপিল সিবাল ও ত্রিপুরার গভর্নর ডি ওয়াই পাতিল। সন্ধ্যায় রাজভবনে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। পরে রাতে গভর্নরের দেয়া নৈশভোজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। এই নৈশভোজে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারিও উপস্থিত ছিলেন। আজ ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে প্রধানমন্ত্রীর হাতে সাম্মানিক ডি-লিট সম্মান তুলে দেবেন ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি। ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রথম কোন বিদেশী  অতিথিকে সাম্মানিক ডি-লিট প্রদান করছে। দুপুরে অসাম রাইফেলসের ময়দানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হবে। এর পরই শেখ হাসিনা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামপ্রতিককালে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে উল্লেখ করে দু’দেশের পারস্পরিক কল্যাণে এ সুযোগ যাতে বিফলে না যায় সেদিকে প্রত্যেককে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বিকালে আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে বাংলাদেশ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের এক বৈঠকে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার বিশাল ক্ষেত্র বিদ্যমান। সত্যিকার সহযোগিতা তখনই সম্ভব যখন রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে কাজে লাগাতে দু’দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এগিয়ে আসবেন, যাতে বাংলাদেশ এবং ভারতের বিশেষ করে ত্রিপুরার জনগণ লাভবান হয়। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং ভারতের বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জনগণের ভাগ্য একই সুতায় গাঁথা। বিভিন্ন কারণে আমাদের এ অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনও দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে। আমি মনে করি, দারিদ্র্যই আমাদের এ অঞ্চলের প্রধান শত্রু।’ তিনি বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। উভয় দেশ একযোগে কাজ করলে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা অনেকটা সহজ হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং ত্রিপুরার মধ্যে বন্ধুত্বের সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, জাতিসত্তা এবং মূল্যবোধও প্রায় একই। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিপুরাবাসী এই বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছেন।’ তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন যে, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ উদ্বাস্তুকে এ রাজ্যের মানুষ আশ্রয় দিয়েছেন। তারা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান দিয়ে অসহায় মানুষের সাহায্য করেছেন। আমাদের অনেক মুক্তিযোদ্ধা চিরদিনের জন্য শায়িত আছেন এ ত্রিপুরার মাটিতে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রিপুরা থেকে সরাসরি অথবা যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফর সঙ্গীরা বিকাল ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আগরতলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। বিমানবন্দরে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকার পল্ল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী মোহাম্মদ ফারুক খান প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। এছাড়াও কেবিনেট সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক মিশনের ডিন, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ ও দলের সিনিয়র নেতারা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের ছত্রছায়ায় জাবি ছাত্রলীগ! by ইমদাদ হক

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ছত্রছায়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নানা অপকর্ম করছে। অভিযোগ রয়েছে, উপাচার্যের পৃষ্ঠপোষকতায় এ ছাত্র সংগঠনটির একটি গ্রুপ বারবার নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করলেও তাদের নানা কৌশলে বাঁচিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, নিয়ন্ত্রণহীন জাবি ছাত্রলীগের দায় নেবে কে? কার্যক্রম স্থগিতের দোহাই দিয়ে দায়ভার এড়াতে চায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। অন্যদিকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রক্ষা পেলো রিয়াল, অসাধারণ মায়োর্কা



স্পোর্টস ডেস্ক: প্রতিপক্ষ কিপারের ভুলে পাওয়া গোলে রক্ষা পেলো রিয়াল মাদ্রিদ। মঙ্গলবার কিংস কাপের খেলায় মালাগাকে ওই একমাত্র গোলে পরাজিত করে পরের রাউন্ডে উন্নীত হয়েছে এল-গ্যালাকটিকোরা। মালাগার আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক উইলি কাবালেরো ম্যাচজুড়ে উজ্জ্বল থাকলেও শেষ ভুলে ম্লান হয় তার দারুণ নৈপুণ্য। খেলার ৭১ মিনিটে বদলি খেলতে নেমে গোলটি করেন তুখোড় ফর্মের ফরাসি ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা। হাঁটুগেড়ে দু’হাতে তুলতে গিয়ে দু’ পায়ের ফাঁক গলে বল কাবালেরোর গোললাইন অতিক্রম করে। এই গোল না পেলে কিংস কাপ থেকে ছিটকে যেতো রিয়াল মাদ্রিদ। কারণ নিজ মাঠের প্রথম লেগের খেলায় রিয়াল জয় পেলেও তা ছিল ৩-২ গোলে। আর ওই জয়টাও রিয়ালকে সহজে দেয়নি দ্বীপ শহরের দলটি। ওই ম্যাচের শুরুর আধা ঘণ্টায় দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে রিয়ালের গ্যালারি থমকে দিতে পেরেছিল মালাগা। তবে খেলার ৬৩ মিনিট থেকে শুরু করে দশ মিনিটে তিন গোল আদায় করে বিপদ কাটিয়েছিল রিয়াল তারকারা। মঙ্গলবার নিজ মাঠেও ৭১ মিনিট পর্যন্ত রিয়ালকে গোলবঞ্চিত রাখে মালাগা। রিয়ালের এই জয়ে আরেকটি এল ক্ল্যাসিকো উপভোগের প্রস্তুতি নিতে পারেন ফুটবলভক্তরা। আজ ওসাসুনার সঙ্গে ম্যাচে নিশ্চিত করতে পারলে বার্সেলোনা কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে মরিনহো শিষ্যদের। প্রথম লেগের খেলায় ওসাসুনাকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে মেসিরা।
৭ মিনিটে চার গোল
এদিন অবিশ্বাস্য ফুটবলে জয় পেয়ে পরের রাউন্ডে গেছে রিয়াল মায়োর্কা। মাত্র ৭ মিনিটে ৪ গোল তুলে নেয় তারা। মঙ্গলবারের এ ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ৬-১ গোলের জয়ে মায়োর্কার পক্ষে গোল ব্যবধান (এগ্রিগেট) দাঁড়ায় ৬-৩। প্রথম লেগের খেলায় ২-০ গোলের জয় সঙ্গে নিয়েই এ ম্যাচে খেলতে নেমেছিল সোসিয়েদাদ তারকারা। আর এদিনের ম্যাচের ১৬ মিনিটে গোল করে প্রথমে এগিয়ে যায় সোসিয়েদাদই। কিন্তু স্বাগতিক সমর্থকদের আনন্দে ভাসিয়ে পরের রাউন্ডে খেলা নিশ্চিত করে মায়োর্কা।

মর্যাদার লড়াইয়ে জয়ী মোহামেডান

স্পোর্টস রিপোর্টার: অবশেষে ভিক্টোরিয়ার জয়রথ থামালো সেই মোহামেডানই। গতকাল ফতুল্লায় ৭ উইকেটে হারে সাকিবের দল। ব্যাট করতে নেমে ১৯৪ রানেই অলআউট হয় ভিক্টোরিয়া। আর মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রানের টার্গেট টপকে জয় পায় নাঈম ইসলামের দল। মোহামেডান আর ভিক্টোরিয়ার খেলা মাঠে যতটা না উত্তেজনাপূর্ণ ছিল তার চেয়ে বেশি উত্তেজনা ছিল কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বাদলকে ঘিরে। অন্ধ সমর্থক হিসেবে পরিচিত মোহামেডানের এই সাবেক কর্মকর্তা তার নতুন দল ভিক্টোরিয়ার দল-বদলের দিনই বলেছিলেন, ‘মোহামেডানকে আমি আমৃত্যু ভালবেসে যাবো। কিন্তু আজ আমার এই অবস্থান পরিবর্তনের কারণ মোহামেডানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেই’। তাই মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মানসিক লড়াইটা ছিল এই ম্যাচের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে নিজের গড়া দলটি তুলনামূলক দুর্বল মোহামেডানের কাছে হারায় তার মাথা হয়তো নিচুই করতে হয়েছে!
মোহামেডানের পাকিস্তানি ক্রিকেটার হাম্মাদ আজমের ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের সামনে ভিক্টোরিয়ার বোলাররা ছিলেন অসহায়। ৫০ বলে ৮ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৩ রান করা হাম্মাদের ব্যাটিং নৈপুণ্যে মোহামেডান অনায়াস ৭ জয় পায়। যে দলটি এখন পর্যন্ত ছিল ‘অপরাজিত’, সবচেয়ে বেশি টানা তিনটি জয় পেয়েছিল সেই ভিস্টোরিয়া। মোহামেডানের কাছে এসে নিরুপায় হার বরণ করে নিল। মর্যাদা রক্ষার ম্যাচে মোহামেডানেরই জয় হলো।
সকালে মোহামেডান টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। দলের অধিনায়ক নাঈম ইসলামের এই সিদ্ধান্ত যে কতটা যৌক্তিক ছিল তা ভিক্টোরিয়ার টপাটপ উইকেট পড়াতেই বোঝা যায়। ইয়াসিম মর্তুজা একাই চার উইকেট নেন! হাম্মাদ বল হাতেও চমক দেখান, ২ উইকেট শিকার করে। তার সঙ্গে নূর হোসেনও ২ উইকেট তুলে নেন।
এই তিন বোলারের তোপে পড়ে ভিক্টোরিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ৪০ রানেই তামিম (৬) ও শেহজাদের (১৮) উইকেট হারিয়ে যখন দল ধুঁকতে থাকে তখন জহুরুল-কামরান মিলে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। ৭২ রানের এই জুটি জহুরুলের (৫৩) আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে দলীয় ১১২ রানে ভেঙে গেলে অবস্থান মজবুত করতে পারেনি ভিক্টোরিয়া। পরবর্তী ৮২ রানেই ৭ উইকেটের পতন ঘটে যায়! কামরান সাজিদ ও সাকিব ৩৬ রান করতে সক্ষম হন। ৪০তম ওভারে ইয়াসিম হ্যাটট্রিক করার আশা জাগিয়ে তোলেন। দলীয় ১৭৯ রানে সাকিবকে আউট করার পর আরও দুটি উইকেট নেন ইয়াসিম।
জবাব দিতে নেমে প্রথমেই ২৬ রানে মোহামেডানেরও দুটি উইকেট পড়ে যায়। ওপেনার ইমতিয়াজ (৭) ও রানের খাতা খোলার আগেই উমর আমিন প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। এরপর ইমরুল-নাঈম মিলে তৃতীয় উইকেটে ৬৬ রানের জুটি গড়েন। এর মধ্যে ইমরুলের ৭৪ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৫০ রানও পূরণ হয়ে যায়। দলীয় ৯২ রানে ইমরুল আউট হওয়ার পর ভিক্টোরিয়ার বোলাররা আর কোন উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হননি। চতুর্থ উইকেটে নাঈম-হাম্মাদ মিলে ১০৬ রানের জুটি গড়েই দলকে জেতান। একদিকে নাঈম উইকেট ধরে খেলেন। আরেকদিকে হাম্মাদ যেন টি-২০ খেলায় মেতে ওঠেন। ১১০ বলে ৩ চারে করা অপরাজিত ৫০ রানেই বোঝা যায় কতটা দৃঢ়তা নিয়ে খেলেন মোহামেডান অধিনায়ক নাঈম। ভিক্টোরিয়া ৮ বোলার ব্যবহার করেও হাম্মাদ নাঈমকে রুখতে পারেনি। আর তাই মোহামেডানের সামনে এসে ভিক্টোরিয়া কুলিয়ে উঠতে পারেনি। এখন পয়েন্ট তালিকায় চার ম্যাচে তিনটি করে জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সমান অবস্থানেই আছে দুই দলই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভিক্টোরিয়া: ১৯৪/১০; ৪২.৫ ওভার (জহুরুল ৫৩, সাকিব ৩৬, কামরান ৩৬, শেহজাদ ১৮, সৌমিয় ১৫, মোশাররফ ১০; ইয়াসিম ৪/২৮, হাম্মাদ ২/২০, নূর ২/৪৮)।
মোহামেডান: ১৯৮/৩; ৪২.২ ওভার (হাম্মাদ ৮৩*, নাঈম ৫০*, ইমরুল ৫০; আল আমিন ২/৪৯)।

গোলাম আযম কারাগারে-কারা হেফাজতে প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ১৫ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের শুনানি

স্বাধীনতা যুদ্ধে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগি্নসংযোগ, লুণ্ঠন, ধর্মান্তরকরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বুধবার দুপুর সোয়া ১২টায় তাকে ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রিজন ভ্যানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

পাকিস্তানে সংঘাত অনিবার্য!

মানবজমিন ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজনীতি এখন অস্থির। একদিকে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে পারভেজ মোশাররফ, ইমরান খান ও সুপ্রিম কোর্ট। কার্যত প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দু’জনের বিরুদ্ধেই চলে গিয়েছেন পারভেজ মোশাররফ, ইমরান খান ও সুপ্রিম কোর্ট। রাজনীতির লড়াইয়ে একে অন্যকে ঘায়েল করার লড়াইয়ে লিপ্ত। এরই  পৃষ্ঠা ৮ কলাম ১
মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে সুপ্রিম কোর্ট একজন অসৎ মানুষ বলে অভিহিত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট ও তাকে ৫ বছরের জন্য পার্লামেন্টে অযোগ্য ঘোষণা করার সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কিয়ানির সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ। এ মাসেই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। অন্যদিকে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার ও তেহরিকে ইনসাফ দলের প্রধান ইমরান খান। তিনি বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট ও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কোন আঘাত হানা হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। গতকাল এমন অনেক রিপোর্টে সয়লাব ছিল ওয়েবসাইটগুলো। এতে বলা হয়- গতকাল সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, প্রধানমন্ত্রী তার সাংবিধানিক নিয়ম উপেক্ষা করে রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছেন। মেমোগেট কেলেঙ্কারিতে তিনি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির পক্ষ নেয়ায় আদালত এমন মন্তব্য করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের ৫ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত এক বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। প্রেসিডেন্ট জারদারির বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা পুনরুজ্জীবনের জন্য পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকার সুইস কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে। বেঞ্চ সরকারকে এ ক্ষেত্রে ৬টি অপশন দিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেয়া, তাকে ৫ বছরের জন্য পার্লামেন্টে অযোগ্য ঘোষণা করা। এসব বিষয়ে শুনানির জন্য বৃহৎ বেঞ্চ গঠনের কথাও বলা হয়। ওই বেঞ্চে ১৬ই জানুয়ারি শুনানি হবে। অন্যদিকে, এ মাসেই স্বেচ্ছানির্বাসন থেকে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ। তবে তিনি দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কিয়ানির সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন। দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি এ মাসেই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তার আগে তিনি সাক্ষাৎ করবেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল, বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। তবে সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তার দল অল পাকিস্তান মুসলিম লীগ কোন মন্তব্য করেনি। এখানে উল্লেখ্য, বর্তমান সেনাপ্রধান আশফাক পারভেজ কিয়ানিকে তিনিই ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার আগে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ওদিকে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সাবেক ক্রিকেটার-কাম রাজনীতিক ইমরান খান। তেহরিকে ইনসাফ দলের প্রধান তিনি। তিনি সরকারকে বলেছেন, নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে সরকার গণতন্ত্র ও পার্লামেন্ট রক্ষার নামে যদি সুপ্রিম কোর্ট বা প্রধান বিচারপপতির বিরুদ্ধে আঘাত হানার চেষ্টা করে তাহলে তার দল প্রতিবাদে কঠোর আন্দোলনে যাবে। গতকাল তিনি মজলিশে ওযাহদাতুল মুসলিমিনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার একা হয়ে পড়ছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে তারা বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলছি- যদি তারা বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় তাহলে আমরা দল তার কঠোর প্রতিবাদ জানাবে। এখন বিভিন্ন দলের অনেক নেতা তাহরিকে ইনসাফে যোগ দেয়ার লাইনে রয়েছেন। তিনি বলেন, তার দল যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে তিনি স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর মতো করে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করবেন পাকিস্তানকে। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে জোট বাঁধার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।  ওদিকে মেমোগেট কেলেঙ্কারিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কিয়ানি ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল আহমেদ শুজা পাশা অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে সুপ্রিম কোর্টে তাদের বক্তব্য জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি। চীনের অনলাইন পিপলস ডেইলি পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেছেন। এর ফলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের যে দূরত্ব বাড়বে তাতে কোন সন্দেহ নেই। অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ বলেছেন, পাকিস্তানে তিনিই সফল নেতা। অন্যরা ব্যর্থ। তিনি বলেন, আমার ক্ষমতার সময়ে একটি কারণে আমি পরিচিত ছিলাম। তাহলো আমাকে মানুষ একজন সৎলোক এবং আমার সরকারকে সৎ সরকার হিসেবে জানতো। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের চোখে - ১/১১ কেন ব্যর্থ হলো

কাজল ঘোষ: দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযান চালানো আমাদের কাজ ছিল না। কারণ সেটা ছিল স্বল্পকালীন সরকার। আর রাজনৈতিক দলের সংস্কার তাদেরই করতে হবে। আমরা ইনস্টিটিউশনাল সংস্কারগুলো শুরু করেছিলাম। আমাদের সরকারের সমন্বয়হীনতা ছিল। দ্বৈতশাসন চলছিল। প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের সঙ্গে আমাদের পলিটিক্যাল গোল কি হবে, কিভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায় তা নিয়ে সেনা নেতৃত্বের সঙ্গে    পৃষ্ঠা ৮ কলাম ৪
বার বার কথা বলতে চাইলেও সম্ভব হয়নি। এক বছর চলে গেলেও কিছু একটা হয়ে গিয়েছিল ভেতরে এটা আঁচ করতে পেরেছিলাম। যে সংস্কার শুরু হয়েছিল তা অব্যাহত থাকলে ১/১১-এর উদ্দেশ্য ব্যর্থ হতো না। কিন্তু দেশ চলছে ডাবল ব্যুরোক্রেট ও বিজনেস পলিটিশিয়ান দিয়ে। ১/১১ চার বছরপূর্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সেদিনের ঘটনাক্রম নিয়ে নানা অজানা কথা বলেছেন মানবজমিনকে। কিভাবে উপদেষ্টা হলেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সবকিছু যখন অচলাবস্থায় তখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হঠাৎ সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন আমাকে ফোন করলেন। এরপর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সঙ্গে আমার বৈঠক হলো। সেখানে নৌ, বিমানসহ অন্যান্য বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে তারা আমাকে বললো, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে আমরা মার্শাল ল’ জারি করতে পারি। কিন্তু আমরা তা করতে চাই না। যদি আপনাদের মতো লোক আমরা না পাই তবে কিছু ঘটে যেতে পারে। কারণ সেনাবাহিনীতে অনেক ইয়ং অফিসার রয়ে গেছে। তাতে চেইন অব কমান্ড ভেঙে যেতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দেয়ার প্রস্তাব শুনে আমি দু’দিনের সময় চাইলাম। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, ক্যু হতে পারে জেনেও, জীবন বিপন্ন হতে পারে জেনেও সরকারে যোগ দিলাম।
তিনি বলেন, মাত্র ১১ জনের একটি সরকার ছিল। সকল রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা নিয়ে কাজ করা সত্যিই ছিল কষ্টকর। একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীসহ সকল মহল অসম্ভব পরিশ্রম করেছিল দেশ বাঁচাতে। প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদ প্রথম ভাষণেই কি করা হবে তা স্পষ্ট করেছিলেন। তিন মাসের অনির্বাচিত অস্থায়ী সরকারের নির্বাচনী ব্যবস্থা পুনর্গঠনসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে সময় লাগবে দু’বছর। সে সময় মিডিয়ার কাছে বলেছিলাম, আমরা গণতন্ত্রের জন্য এসেছি। সুতরাং রাজনীতিতে যারা দুর্নীতি করে রুই-কাতলা হয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ব্যবস্থা করা হোক। মিডিয়ায় লেখালেখি শুরু হলো শুধু কি রাজনীতিকরাই দুর্নীতি করেছে, ব্যবসায়ীরা দুর্নীতি করেনি, সরকারি কর্মচারীরা দুর্নীতি করেনি। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করলাম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযান চালালে ব্যবসায়ীরা আমাদের বিরুদ্ধে যাবে, সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতি নিয়ে কাজ করলে তারাও আমাদের বিরুদ্ধে যাবে। রাজনীতিবিদরা তো আমাদের বিরুদ্ধে আছেই। কিন্তু সরকারের এক বছর অতিক্রম হলে কি হয়েছিল এটাও আমার কাছে একটি বড় প্রশ্ন। এটা আঁচ করতে পেরেছি ভেতরে ভেতরে কিছু একটা হয়েছে। আমাদের নেতৃত্বের মধ্যে সঙ্কট ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার যৌথ নেতৃত্বে দ্বৈত ব্যবস্থার মধ্যে কাজ করেছিল। ফখরুদ্দীন সাহেব অত্যন্ত ভদ্র ও সজ্জন মানুষ ছিলেন এটা সত্য তবে তিনি সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে পারেন নি।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা সত্য যে, সেনাবাহিনীকে দেশের সর্বত্র যেতে হয়েছে। সব বিষয় তাদেরই মোকাবিলা করতে হয়েছে। আর আমাদের পক্ষে লোক ছিল না। আমরা ঝুলন্ত সরকার হিসেবেই দেশ চালাচ্ছিলাম। পুরো ঘটনাক্রম বিবেচনা করলে আমার উপলব্ধি এটা পুরোটাই রাজনৈতিক অপপ্রচার (পলিটিক্যাল প্রপাগান্ডা)। কারণ রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত মামলা আমরা করেছিলাম; যাদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে চুরির দায়ে; আদালতের মাধ্যমে যাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে, তারা আমাদের রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন না করতে পারলে, চোর না বলতে পারলে যেসব রাজনীতিকদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা রেহাই পাবে কি করে? প্রেক্ষাপট বদলালে মামলাও বাতিল হয়ে যায়। একজন আইনজীবী তো প্রকাশ্যেই বলেছেন, আমাদের দেশে হাওয়া বদলালে বিচারকও বদলে যায়। কার্যত তাই ঘটেছে। আর যে সব দুর্নীতির মামলা করেছি তার কাগজপত্র এখনও দুর্নীতি দমন কমিশনে আছে তা পরীক্ষা করে দেখলেই জানা যাবে কোথাও ভুল ছিল কিনা? কথা হচ্ছে বিচার যখন হচ্ছিল তখন কেউ এর আইনগত দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন নি। অথচ হাওয়া বদলের সঙ্গে বিচারও বদলে গেছে। কিন্তু কথা হলো, যারা দুর্নীতিপরায়ণ তারা সকলকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলবেই। না হলে তাদের সম্মান থাকে না। আমাদের দুঃখ, দেশে বিজ্ঞ বা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ নেই। তাহলে সে সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে বা সে সময় কি ঘটেছিল তারা আমাদের ডেকে জিজ্ঞাসা করতে পারতেন। কী কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে তাদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছি-এ জন্য তাদের কৃতজ্ঞতাবোধ থাকা উচিত। আজকে চোর বলুক, দুর্নীতির কথা বলুক, যে আগুনে রাজনীতিকরা তখন দেশ রেখে গিয়েছিলেন-তা থেকে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমরা দেশকে নিয়ে এসেছি।
দু’নেত্রীকে জেলে নেয়া ও ছেড়ে দেয়া এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, খালেদা-হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ফাইল আগে থেকেই তৈরি ছিল। আমরা তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোন মামলা দেইনি। এই মামলাগুলোকে অ্যাকটিভেট করা হয়েছে মাত্র। শেখ হাসিনাকে যখন গ্রেপ্তার করা হয় তখন কিছুই জানতাম না। গ্রেপ্তারের পরপরই প্রধান উপদেষ্টার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, হাসিনার মতো একজন বড় নেতাকে গ্রেপ্তারে একটি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে; অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে। খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের আগে আমাদের ক’জনের সঙ্গে কথা হয়েছিল। মামলার নথিপত্র নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল। খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সুতরাং শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না- এমন কথায় তো আর বলার কিছু ছিল না। তাকেও গ্রেপ্তার করা হলো। তিনি বলেন, এটা ঠিক। গ্রেপ্তারের আগে শেখ হাসিনা আমাকে তিনবার ফোন করেছিলেন। আমি তাকে প্রতিবারই বলেছি, দেখো আমি কিছুই জানি না। আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো। হয়তো কোন মামলা থাকতে পারে। এখন তোমার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করো না। বিষয়টি আমরা দেখবো। তিনি চেয়েছিলেন, গ্রেপ্তার বন্ধ করতে। কিন্তু তা করার কোন ক্ষমতা আমার ছিল না। দল ভাঙাগড়া নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে রাজনৈতিক দলের কেউ কেউ যুক্ত থাকতে পারে। বরং শোনা গেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা রাজনৈতিক দলের নেতারাই ক্যান্টনমেন্টে লাইন দিয়ে যোগাযোগ করেছে সে সময়।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলেই কেউ জেলে যাবেন তা কি করে হয়। কেউ যদি জেলে যাবার কাজ করেন তখন তাকে তো জেলে যেতেই হবে।

রাজধানীতে বাড়ছে হোল্ডিং ট্যাক্স

আহমেদ জামাল: প্রায় দুই যুগ পর রাজধানীর হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ছে। এতে নগরীর  বাড়ি মালিকদের প্রায় দ্বিগুণ টাকা ট্যাক্স দিতে হবে। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব    পৃষ্ঠা ৮ কলাম ১
পড়বে রাজধানীর ভাড়াটিয়াদের ওপর। ডিসিসি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকায় সর্বশেষ হোল্ডিং ট্যাক্স   বৃদ্ধি পায় ১৯৮৯ সালে। ২০০২ সালে  সাদেক হোসেন খোকা মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০৩ সালে ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ জন্য সেলফ অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন তিনি।  কিন্তু  তাৎক্ষণিক এই উদ্যোগের  বিরুদ্ধে বাড়িওয়ালাদের পক্ষ থেকে জোর আপত্তি আসতে থাকে। এক পর্যায়ে এ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট হয়। পরে আদালতের নির্দেশে রিঅ্যাসেসমেন্ট স্থগিত হয়ে যায়। এরপর মেয়র খোকা এনিয়ে আর এগোননি। প্রায়  দ্বিগুণ মেয়াদের সমান দায়িত্ব পালনকালে মেয়র হোল্ডিং ট্যাক্স এক টাকাও  বাড়ান নি। তবে সমপ্রতি দ্বিখণ্ডিত হওয়ার পর ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক পুনর্মূল্যায়নের (রিঅ্যাসেসমেন্ট) মাধ্যমে বাড়িওয়ালাদের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও প্রশাসকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নির্দেশনায় এই পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন তারা। এতে ডিসিসি’র হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ আয় তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ডিসিসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হোল্ডিং ট্যাক্সের হার বাড়ছে না, ট্যাক্সের পরিমাণ বাড়বে। বাড়ির বাড়তি আয়, বাড়ি ও ফ্লোর বৃদ্ধির কারণেই ট্যাক্স বাড়বে। যেটাই হোক রিঅ্যাসেসমেন্টের কারণে রাজধানীতে বাড়ি ভাড়া আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন  অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক দিয়ে এভাবে নগরবাসীর ওপর করের বোঝা চাপানো সঠিক কাজ হচ্ছে না। নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে গ্রহণযোগ্য হবে । স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বীকার করি  রিঅ্যাসেসমেন্ট করা দরকার। তবে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসকের মাধ্যমে করা কতটুকু ঠিক সে প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে। তিনি বলেন, নগরবাসীর সঙ্গে  আলোচনা করে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরই এই নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো নেয়া উচিত। এদিকে ডিসিসি দক্ষিণের প্রশাসক  মো. খলিলুর রহমান বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি অনেক আগেই রাজধানীতে হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে। চলতি মাসেই এই পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু হবে। তবে এই পুনর্মূল্যায়ন স্বপ্রণোদিত (সেলফ অ্যাসেসমেন্ট) হবে নাকি আরোপিত পুনর্মূল্যায়ন (ইম্পোজ অ্যাসেসমেন্ট) হবে তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে  বৈঠক করে ঠিক করা হবে। ডিসিসি’র আয় বৃদ্ধি, হোল্ডিং ট্যাক্সকে ডিজিটালাইজড করা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে সুবিধার দিক লক্ষ্য রেখেই ট্যাক্স রিঅ্যাসেসমেন্টের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এর ফলে নগরবাসীর বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় রিঅ্যাসেসমেন্টের আগে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে নাগরিক কমিটি গঠনসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে প্রশাসক জানান।
দ্বিখণ্ডিত  ডিসিসি’র  দুই অংশে হোল্ডিং সংখ্যা সোয়া ২ লাখের মতো। এর মধ্যে দক্ষিণে এক লাখ ২৫ হাজার। ২০১০-১১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে   হোল্ডিং ট্যাক্সবাবদ আয় ধরা হয়েছিল  ২৮০ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরে এ খাতে আয়ের টার্গেট রাখা হয়েছে ৪২০ কোটি টাকা। হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির ব্যাপারে সমপ্রতি ডিসিসি’র পক্ষ থেকে অনুসন্ধানী  একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে পুনর্র্মূল্যায়ন হলে হোল্ডিং ট্যাক্স বর্তমানের তিনগুণে দাঁড়াতে পারে বলে মতামত ব্যক্ত করা হয়। তবে এই পুনর্মূল্যায়ন কিভাবে হবে সেটি আলোচনা করে ঠিক করার  প্রস্তাব করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় দুই যুগ আগে সর্বশেষ রাজধানীতে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ হয়। তা হচ্ছে বাড়ির মোট আয়ের ওপর বাৎসরিক ১২% এর মধ্যে বাড়ির জন্য ৭%, স্ট্রিট লাইটের জন্য ২% এবং পরিচ্ছন্নতার জন্য ৩%। এরপর দীর্ঘ সময়ে কোন নির্বাচিত সরকার হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেননি। অবশ্য মেয়র সাদেক হোসেন খোকার আমলে  পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েও তা কার্যকর করা যায়নি। এদিকে ডিসিসি দক্ষিণের  প্রশাসক খলিলুর রহমান তার অংশে একটি অ্যাসেসমেন্টের ব্যাপারে বলেন, অ্যাসেসমেন্টে ২৫ কোটি টাকা আয় হয়। পরে তা নানা কৌশলে এক কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। তিনি বলেন, এবার অ্যাসেসমেন্টের ক্ষেত্রে আমরা ঝটিকা পরিদর্শনে গিয়ে যে কোন ধরনের অনিয়ম শনাক্ত করার চেষ্টা করবো। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নগরবাসীর ওপর কর বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ কেন নেয়া হচ্ছে-এমন প্রশ্নের জবাবে  প্রশাসক খলিলুর রহমান বলেন, এটি মন্ত্রণালয়  ও সংসদীয় কমিটির অনেক আগের সিদ্ধান্ত। এনিয়ে মেয়র খোকার সময়ে মামলার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমি যতদূর জানি এখন মামলা নেই। আর থেকে থাকলে দ্রুত তা মীমাংসা করা হবে। বাড়িওয়ালাদের পক্ষ থেকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়ার আশঙ্কার ব্যাপারে তিনি বলেন, এ জন্য আগের নাগরিক কমিটি ভেঙে নতুন নাগরিক কমিটি গঠন করা হবে। তাদের নিয়ে বৈঠক করে জনমত সৃষ্টি করা হবে।  রিঅ্যাসেসমেন্টের সুফলের ব্যাপারে তিনি বলেন, এতে আমরা মনে করছি ডিসিসি’র আয় অনেক বেড়ে যাবে। কারণ  হোল্ডিং ট্যাক্সকে আপডেট করে ডিজিটালাইজড করতে চাই।  বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে ঝামেলার ব্যাপারে তিনি বলেন, এতে ডিসিসি’র কিছু করার নেই। বাড়ি ভাড়া আইন তো আছে। কিন্তু তাতো মানা হচ্ছে না।

বৈকুণ্ঠের 'জননী-যন্ত্রণা' by কামরুজ্জামান মিলু

৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আবৃত্তি সংগঠন বৈকুণ্ঠের নতুন প্রযোজনা 'জননী-যন্ত্রণা'। বিস্তারিত লিখেছেন কামরুজ্জামান মিলু 'মা', 'মাগো'_যা-ই বলি না কেন, যেভাবেই বলি না কেন, হতে পারে তা প্রচণ্ড ভয়ে কোনো এক আর্তচিৎকার, হতে পারে ভীষণ বিপদে 'মা মা' বলে আশ্রয় খুঁজে ফেরা, হতে পারে তা ভীষণ নিঃসঙ্গতার হাহাকার, বুকফাটা আর্তনাদ।

নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবার সংসদে যাচ্ছে বিএনপি



স্টাফ রিপোর্টার: নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে যেতে পারে প্রধান   পৃষ্ঠা ৮ কলাম ৪
বিরোধী দল বিএনপি। এছাড়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে হরতালের মতো ধংসাত্মক কর্মসূচি না দেয়ার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করছে দলটির নীতিনির্ধারণী মহল। দলের প্রচার সেক্রেটারি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ
জয়নুল আবদিন ফারুক গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ প্রসঙ্গে এমন আভাস দেন। তিনি বলেন, ‘এবার বিএনপির সংসদে যাওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি। তবে এ ব্যাপারে ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক তার দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।’ আগামী ২৫শে জানুয়ারি সংসদের শীতকালীন অধিবেশন বসছে। প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান ওইদিন উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রোড মার্চ কর্মসূচির প্রতি জনসাধারণের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার বিষয়ে সাংবাদিকরা তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ প্রসঙ্গে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, আমি দলীয় ফোরমেও আলোচনা করেছি। বলেছি, এভাবে হরতাল দিয়ে লাভ নেই। পুলিশের বাধার মুখে একজন মহাসচিব অফিসের ফুটপাতে অবরুদ্ধ হয়ে বসে থাকবেন- এটা খুবই অশোভনীয়। এর চেয়ে সংসদে গিয়ে আমাদের প্রতিবাদ জানানো উচিত। তাতে দেশবাসী দেখবে-শুনবে বিবেক দিয়ে বিবেচনা করবে। রোড মার্চের সাফল্যের পর সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে দলের নেতাদের মনোভাব ক্রমশ জোরালো হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আগামী অধিবেশনেই বিএনপি সংসদে যাবে।’ হরতাল ঘোষণার পর কিছু নেতার মাঠে না থাকার সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, হরতাল দিলে অবশ্যই আমার জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় বের হতে হবে আমাকে।  পুলিশ যেখানে বাধা দেবে সেখানে প্রয়োজনে বসে থাকতে হবে।  কিন্তু হরতাল দিতে বলব, আর হরতালের সময় ঘরে বসে থাকব রাস্তায় বের হব না- এটা হতে পারে না। বিষয়টি দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার কথাও জানান তিনি। বলেন, শান্তি পূর্ণ কর্মসূচির প্রতি এখন মানুষের সমর্থন বেশি। রোড মার্চের রেকর্ড করা সাফল্য তার প্রমান। তাই আমাদের ভবিষ্যতেও এ ধরনের গণমুখী কর্মসূচির দিকে জোর দিতে হবে। চট্টগ্রামের মহাসমাবেশের আলোকসজ্জা ও ডিজিটাল ব্যানারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য খণ্ডন করে ফারুক বলেন, জেনারেটরের সরবরাহ করা বিদ্যুতের সাহায্যে ওইসব আলোকসজ্জা ও ব্যানার চালানো হয়েছে। সেখানে পিডিবির বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতার দাবি একেবারেই অমূলক। এদিকে গতকাল রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিরোধী  দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, পরিবেশ পেলে নতুন বছরের আসন্ন অধিবেশনের প্রথম দিনই সংসদে যাবে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে সংসদে প্রেসিডেন্টকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল আনার দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে ফারুক বলেন, আমরা সংসদ অধিবেশনেও যাই না। এর বিলও নেই না। অথচ বলা হচ্ছে- আমরা সংসদে না গেলেও অধিবেশনের বিল নিচ্ছি। এটা মিথ্যা কথা।
‘আমরা বাংলাদেশী’ নামে একটি সংগঠন গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘১/১১-র ষড়যন্ত্র : তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বাংলাদেশের বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি ইফরান আবদুল্লাহ বেলায়েতের সভাপতিত্বে বৈঠকে বক্তব্য দেন, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, বিএনপি নেত্রী হেলেন জেরিন খান, খালেদা ইয়াসমিন, রেদোয়ান আহমেদ প্রমুখ। বিরোধী দলীর চিফ হুইপ বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সরকারকে সহযোগিতা করতেই সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু সরকার তিন বছরে সংসদে শুধু জিয়া পরিবারকে গালাগালি ছাড়া আর কিছুই করেনি। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরাই সংসদকে মাছের বাজার বলে আখ্যা দিয়েছেন। তারপরও সরকারকে সহযোগিতা করতেই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংলাপে যাওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বেগম জিয়া। সরকারেরও উচিত, দেশের অধিকাংশ জনগণও বিরোধী দলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা। প্রেসিডেন্টকেকে অনুরোধ জানিয়ে ফারুক বলেন, ‘আশা করি ১২তম অধিবেশনের প্রথমদিনই সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল দেখতে পাবো।’

ডিসিসি উত্তর - ফাইল স্বাক্ষর করে সময় কাটছে প্রশাসকের

কাজী সোহাগ: ফাইল স্বাক্ষর করে সময় কাটছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রশাসকের। দিনে অন্তত ৬০টি ফাইলে তিনি স্বাক্ষর করেন   পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ১
। এসব ফাইলের বেশিরভাগই করপোরেশনের উন্নয়নমূলক কাজের। গত ডিসেম্বরে করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন খোরশেদ আলম চৌধুরী। এদিকে, ৮১ গুলশান এভিনিউর ঠিকানা এখনও জানেন না করপোরেশনের বেশিরভাগ সাধারণ নাগরিক। অনেকে এটাকে মেয়র ভবন হিসেবেই জানেন। বেশিরভাগ রিকশা কিংবা সিএনজি চালিত গাড়ির চালকরা জানেন না এটা নগর ভবন। তাই নতুন এ নগর ভবনে নেই চিরপরিচিত ভিড়। আবেদন নিয়ে ঘোরাঘুরির করতেও দেখা যায় না কাউকে। দিনে ২০ থেকে ২৫ জন আসছেন তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। প্রশাসককে জানাচ্ছেন তাদের দাবি-দাওয়া। কেউ কেউ দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে ছুটে আসছেন উত্তরে। পুরাতন নগর ভবনের কিছু কর্মকর্তা বদলি হয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনে আসায় তাদের স্বাক্ষরের জন্য আসতে হচ্ছে অনেককে। এদিকে ১ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও করপোরেশনের অফিস গোছানো সম্ভব হয়নি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার জায়গা তৈরি করতেই হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ। কে কোথায় বসবেন এ নিয়েই ব্যতিব্যস্ত তারা। গতকাল সরেজমিন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে এ চিত্র দেখা যায়। রাজধানীর মিরপুর থেকে এসেছিলেন ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাড়ির সামনে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ রাখা হয়েছে। দুর্গন্ধে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। স্তূপ সরানোর আবেদন নিয়ে করপোরেশনে ঘুরছি। তিনি বলেন, প্রথমে গুলিস্তান নগর ভবনে গিয়ে জানলাম দরখাস্ত এখানে দিতে হবে। কিন্তু প্রশাসক মন্ত্রণালয়ে মিটিংয়ে থাকায় আজ জমা দিতে পারলাম না। সময় বের করে আবার আসতে হবে। নতুন নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, অফিস গোছানোর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে আজ অথবা আগামীকালের মধ্যে আরও ৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী যোগ দেবেন। তবে তাদের বসার স্থান এখনও ঠিক হয়নি। তিনদিন আগে শুরু হয়েছে রাজস্ব বিভাগের কাজ। আপাতত বনানী কমিউনিটি সেন্টারে তাদের অফিস ঠিক করা হয়েছে। তারা জানান, এরই মধ্যে নগর ভবনের অফিসের জন্য কাওরান বাজারের জনতা টাওয়ার ও ইস্কাটনের বোরাক সেন্টারের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া কাওরান বাজারে স্থায়ী নগর ভবন নির্মাণের একটি প্রস্তাব স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসকের একান্ত সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরীর একান্ত সচিব শামীম আহমেদ বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে কাওরান বাজারের আন্ডারপাস রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এটিএন বাংলাকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটা পরীক্ষামূলক। সফল হলে রাজধানীর আরও অনেক ওভারব্রিজ, ফুটওভার ব্রিজের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেয়া হবে। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন শিগগিরই নিজস্ব ওয়েবসাইট উদ্বোধন করতে যাচ্ছে। ঠিাকানা-িি.িফহপপ.মড়া.নফ.পড়স. এতে করপোরেশনের সার্বিক কাজের বিবরণ থাকবে। কবে কোথায় কি কাজ করা হবে তার বিস্তারিত দেয়া হবে ওয়েবসাইটে। নতুন নগর ভবনের দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে প্রশাসক খোরশেদ আলম চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, একটা নতুন সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। তিনি বলেন, নতুন নগর ভবন হওয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তকে নগরবাসীর সেবায় তাতে কোন প্রভাব পড়বে না বলে আমার বিশ্বাস। প্রসঙ্গত ২৯শে নভেম্বর ঢাকা সিটি করপোরেশনকে (ডিসিসি) উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত করা হয়। এরপর বিভক্ত সিটি করপোরেশনে সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

ডিসিসি দক্ষিণ - গতি আসেনি কাজে

টাফ রিপোর্টার: আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিখণ্ডিত হওয়ার দেড় মাস পরও ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের কাজকর্মে তেমন কোন গতি আসেনি। অবিভক্ত ডিসিসি’র সম্পত্তি ও জনবল বিভাজনেই এই দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছে। এতে   পৃষ্ঠা ২০ কলাম ৩
নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, নাগরিক সেবা সবই থমকে আছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শলাপরামর্শ এবং খোঁজখবর নেয়ার মধ্যে সময় কাটছে সংস্থার প্রশাসক মো. খলিলুর রহমানের। গতকাল সকালে ডিসিসি দক্ষিণের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে। প্রশাসক সম্পত্তি ও জনবল বিভাজনে সময় লাগার কথা স্বীকার করেছেন। তবে সংস্থার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের রুটিন ওয়ার্কগুলো অব্যাহত আছে বলে দাবি করেন। অভিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রাণকেন্দ্র এই নগর ভবন এক সময় হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর দেখা যেত। দ্বিখণ্ডিত হওয়ার পর নগর ভবনের সেই প্রাণচাঞ্চল্য কমে গেছে অনেক। থেমে গেছে এখানে নানা কাজে আসা হাজারো নগরবাসীর কোলাহল। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও বিরাজ করছে ঢিলেঢালা ভাব। কারণ কেউ বদলি হয়েছেন, কেউ বা বদলির অপেক্ষায় আছেন। এমন অবস্থায় অফিসের কাজে মন বসছে না কারোরই। অবশ্য করার মতো তেমন কাজও নেই। এতে গোটা নগর ভবন জুড়ে চলছে স্থবিরতা। ৯টা-৫টা অফিসে হাজিরা দেয়ার মধ্যেই কাটছে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দৈনন্দিন কর্মসূচি। এদিকে নগর ভবনে কাজকর্মের এমন নাজুক অবস্থার বিপরীত নগরবাসীর হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর খবরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। নগরবাসীর মধ্যে দেখা দেয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। এ ব্যাপারে প্রশাসক খলিলুর রহমান বলেন, নগরীর হোল্ডিং ট্যাক্সের নিয়ম যা ছিল, তাই থাকবে। আমরা কেবল পুনর্মূল্যায়ন করবো। তিনি বলেন, ৫-১০ বছর আগে যেখানে টিনের চালা ছিল, সেখানে এখন বহুতল ভবন। তাহলে ওই ভবন মালিকের এখন টিনের চালার ট্যাক্স দেয়া কিভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। মূলত এ ধরনের হোল্ডিংগুলোর টেক্সটাই পুনর্মূল্যায়ন হবে। এ ক্ষেত্রে আতঙ্ক বা বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

সোনালি ছবির গল্প-সেন্সর বোর্ড আটকে দিয়েছিল!

ছেলে-বুড়ো সবার পছন্দের একটি ছবি 'ছুটির ঘণ্টা'। জনপ্রিয় এই ছবিটি নির্মাণের গল্প জানাচ্ছেন পরিচালক আজিজুর রহমান নিজেই। ১৯৭৮ সাল। আমার 'অশিক্ষিত' ছবিটি মাত্র তখন মুক্তি পেয়েছে। সারা দেশে ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনাও চলছে। এমন সময় হঠাৎ একদিন 'দৈনিক বাংলা'য় প্রকাশিত একটি সংবাদ চোখে পড়ল। নারায়ণগঞ্জের একটি স্কুলের বাথরুমে ১৫ দিন বন্দি থাকার পর এক ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু।

নেতারাই টের পাননি খালেদা কি বলবেন

কাফি কামাল, চট্টগ্রাম থেকে ফিরে: নানা কারণে বিএনপি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় রোড মার্চটি হয়ে উঠেছিল বিরোধী দলের আন্দোলনে একটি বাঁক নির্ধারক। রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের কৌতূহল ছিল সেখানেই। কোন দিকে বাঁক নেবে বিরোধী দলের আন্দোলন। চট্টগ্রাম থেকেই কি ‘ঢাকা ঘেরাও’, ‘ঢাকা অবরোধ’ কিংবা ‘ঢাকায় গণঅবস্থান’-এর  মতো কড়া কোন কর্মসূচি দিতে যাচ্ছে দলটি। নাকি অন্য রকম কিছু? দলীয় নেতাকর্মীরাও ছিলেন দারুণ উদগ্রীব। কারণ মাসখানেক ধরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছিল এমন কিছুই করতে যাচ্ছে বিএনপি। বিরোধীদলীয় নেতারাও নানা বক্তব্যে সে ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। ফলে সবার মধ্যে ছিল নানা ধারণা। চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডের মহাসমাবেশটি জনসমুদ্রে রূপ নেয়ায়  মুহূর্তে মুহূর্তে    পৃষ্ঠা ২০ কলাম ১
বাড়ছিল সে কৌতূহল। তখনও নেতারাই টের পাননি খালেদা জিয়া কি বলবেন। কিন্তু না, জনতার জোয়ার দেখেও বিভ্রান্ত হননি খালেদা জিয়া। ৪২ মিনিট বক্তব্যের পুরো সময় কড়া সুর ধরে রাখলেও ‘হঠাৎ কিছু’ করার দিকে যাননি। টানা ২ মাস সময় দিয়ে ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ স্লোগানে ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। অন্য গণমিছিলের কর্মসূচিটিও অনেকটাই গতানুগতিক। এমন শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, সামনে এসএসসি পরীক্ষা। জনগণের দল হিসাবে জনগণের কথা চিন্তা করেই এমন নরম কর্মসূচি দিচ্ছি।
চট্টগ্রামের জনসভায় খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল তীক্ষ্ণ এবং ধারালো। সরকারের সমালোচনায় তার কণ্ঠে ছিল শ্লেষ। করেছেন রসিকতাও। তবে তিনি আরেকটি জায়গায় পরিচয় দিয়েছেন বিচক্ষণতার। সরকারের তরফ থেকে ‘রোড মার্চ এবং সমাবেশকে’ যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার আন্দোলন বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। খালেদা জিয়া নিজেও বিভিন্ন রোড মার্চে এ প্রসঙ্গে খোলাখুলি বক্তব্য দিয়েছেন। তবে চট্টগ্রামের বিপুল জনসমুদ্রের মুখরিত স্লোগান, করতালির মধ্যেও তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন যুদ্ধাপরাধ বিচারের ইস্যুটি। চট্টগ্রামের মতো জায়গায় এত বিপুল সমর্থনের ভেতরেও তার এ এড়িয়ে যাওয়াকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। তবে কেউ কেউ তার এ এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে বিএনপি’র নীতিনির্ধারক ফোরামে চট্টগ্রামের একমাত্র প্রতিনিধি এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারাবন্দি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রসঙ্গে তার নীরবতা। হতাশার আরেকটি জায়গা হচ্ছে- অন্যান্য এলাকার মতো চট্টগ্রামের ভবিষ্যত উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট কোন অঙ্গীকার বা বক্তব্য না দেয়া। রাজনৈতিক সচেতনদের মতে, খালেদা জিয়ার বক্তব্য ও কর্মসূচি ঘোষণায় একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে। তিনি বর্তমান নির্বাচিত সরকারের অসময়ে পতন চান না। যার সূত্র ধরে দেশের ক্ষমতার কলকাঠি নাড়াতে পারেন অনির্বাচিত কেউ। তিনি চাইছেন, নির্ধারিত মেয়াদের শেষে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল হোক। এছাড়া তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে একটি সতর্ক বার্তাও দিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে মেয়র নির্বাচন যত সুষ্ঠু হোক এটা কোন ধর্তব্যের বিষয় নয়। জাতীয় নির্বাচনে দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন কমিশনই স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। ফলে রোড মার্চের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে- তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির ইস্যুটি গণমানুষের কাছে ছড়িয়ে দেয়া।
চট্টগ্রাম রোড মার্চ নিয়ে রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের কৌতূহল ছিল আরেকটি জায়গায়। বিএনপি কি আগের রোড মার্চের স্বতঃস্ফূর্ততা ধরে রাখতে পারবে? কারণ আগের দিন ৭ই জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের নানা অসহযোগিতার অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। প্রকাশ করেছেন নানা আশঙ্কার কথা। এছাড়া চট্টগ্রাম বিএনপি’র অন্তর্কোন্দলের সুদীর্ঘ ইতিহাসতো আছেই। দুই সপ্তাহ আগেই প্রকাশ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল দুই গ্রুপ। কিন্তু অন্যরকম এক বিএনপিকে দেখেছে চট্টগ্রাম। দায়িত্ব নিয়ে পাল্টাপাল্টি, সমাবেশে কর্মীদের জায়গা দখল, মঞ্চে নেতাদের অবস্থান নিয়ে দেখা যায়নি ন্যূনতম বিরোধ। সহনশীল মনোভাব এবং দায়িত্বের প্রতি সজাগ ছিলেন সকলেই। অন্যদিকে এ রোড মার্চকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীসহ সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল ব্যাপক। তৈরি হয়ে ছিল এক ধরনের চ্যালেঞ্জও। তবে ব্যাপক প্রচারণা, সার্বিক প্রস্তুতিসহ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রোড মার্চটি হয়ে ওঠে বর্ণাঢ্য। রোড মার্চে জনতার ঢল দেখে অনেক রাজনীতি সচেতন প্রবীণকেও বলতে শোনা গেছে, এমন গণজোয়ার কখনও দেখেনি চট্টগ্রাম। অশীতিপর বৃদ্ধরাও মন্তব্য করেছেন আয়োজন এবং উপস্থিতির দিক থেকে এটাই চট্টগ্রামের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সমাবেশ। যে সমাবেশে অংশ নিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার মানুষও। এমন বিপুল উপস্থিতিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে চট্টগ্রাম বিএনপি। রীতিমতো আশ্চর্য রকম ব্যতিক্রম ছিলেন সমাবেশের সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোড মার্চকে ঘিরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সব নেতার ব্যানার-বিলবোর্ডের ছড়াছড়ি থাকলেও প্রতিযোগিতায় নামেননি তিনি। চট্টগ্রাম নগরীর কোথাও দেখা যায়নি তার ছবি সংবলিত কোন পোস্টার এবং বিলবোর্ড। শহরের দু-তিনটি জায়গায় স্থানীয় নেতাদের উদ্যোগে তার ছবি দিয়ে বিলবোর্ড লাগানো হলেও তিনি জরুরি নির্দেশ দিয়ে তা দ্রুত নামিয়ে ফেলেন। নগর বিএনপির ব্যানার-পোস্টারেও ছিল না তার ছবি। এদিকে মহাসমাবেশ সফল করার জন্য চট্টগ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম বিএনপি’র দুই সিনিয়র নেতা কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান এবং নগর বিএনপি’র সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কৃতজ্ঞতা বার্তায় তারা বলেছেন, পলোগ্রাউন্ডের মহাসমাবেশ অত্যন্ত সুষ্ঠু, সার্থক ও সুন্দরভাবে সফল হওয়ার পিছনে মূল কারণ হচ্ছে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
ওয়ান ইলেভেনের পর প্রথম চট্টগ্রাম সফরে স্থানীয় চার শীর্ষ নেতার বাসায় গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। জনসভা থেকে একে একে তিনি নেতাদের বাসায় ঢুঁ মেরেছিলেন। এবার তিনি নেতাদের বাসায় না গেলেও দুপুরে খেয়েছেন মাঝারি দুই নেতার বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার। খালেদা জিয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য সার্কিট হাউজে ৩০ পদের তরকারি বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার এবং ২০ পদের তরকারি মেয়র মনজুর আলমের বাড়ি থেকে পাঠানো হয়। এছাড়া বিরোধী দলের সমর্থনে মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী মনজুর আলমও এবার চেষ্টা করেছেন ঋণ পরিশোধের। রোড মার্চের প্রচারে তিনিই ছিলেন এগিয়ে। একদা আওয়ামী লীগ নেতা মনজুর এ মহাসমাবেশে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি’র মঞ্চে। বিএনপি নেতারা স্বীকার করেছেন তার অকুণ্ঠ সহযোগিতার কথা।

আবদুর রহমানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড় গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মাউদুদুর রহমানের পিতা ও রংপুরের বিশিষ্ট শ্রম আইনজ্ঞ মরহুম দেওয়ান আবদুর রহমানের আগামী ১২ই জানুয়ারি দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। সদালাপী ও সদা হাস্য এই মানুষটি ছিলেন শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। তার স্ত্রী আলহাজ মোছা. লতিফা খাতুন মুলাটোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। সন্তানদের মধ্যে একজন সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে টেলিটকে কর্মরত। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুর শহরের পূর্ব কামাল কাছনাস্থ নিজ বাসভবনে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হচ্ছে।

যাত্রাশিল্পে আসুক এক ফুটন্ত সকাল by মিলন কান্তি দে

দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার আবর্তে ডুবে থাকা যাত্রাশিল্পে একটু একটু করে সুবাতাস বইছে। এর শুভসূচনা দেখা গিয়েছিল বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ দিকে। ২০০৭ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর যাত্রা অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়, যা নিকট অতীতে কখনোই দেখা যায়নি। এর পরের বছর ২০০৮ সালে সাবেক শিশু, মহিলা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে যাত্রার জন্য একটি নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়।

কুষ্টিয়ায় কলেজছাত্র অপহরণ ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া শহর থেকে এক কলেজছাত্রকে অপহরণের ৬ ঘণ্টা পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক অপহরণকারীকে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সাদেকুর রহমান নামের ওই কলেজছাত্রকে অপহরণ করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় তুহিন নামের এক যুবক কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ এলাকা থেকে কৌশলে সাদেকুর রহমানকে অপহরণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী গ্রামের মমিন শেখের পুকুর পাড় থেকে অপহৃত সাদেকুরকে উদ্ধার করে এবং অপহরণকারী তুহিনকে আটক করে। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করা হয়েছে বলে জানান, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী জালাল উদ্দিন আহমেদ। সাদেকুর রহমান কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। সে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এলাকার একটি মেসে থেকে লেখাপড়া করে। তার বাড়ি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার রঞ্জিতপুর গ্রামে।

নরসিংদীতে ইভিএমবিষয়ক প্রার্থীদের পরিচিতি সভা

নরসিংদী প্রতিনিধি: আতঙ্ক ও সন্দেহ দূর করে ভোটারদের ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গতকাল নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা নির্বাচন কমিশনের এক্সপার্ট, মেয়রপ্রার্থী, ভোটার ও সাংবাদিকবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় ইভিএম মেশিনের কার্যকারিতা সম্বন্ধে প্রার্থীদের ওয়াকিবহাল করা হয়। পাশাপাশি ইভিএম পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে ভোট কাস্টিং ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে ভোটগ্রহণ বন্ধের সুবিধা সহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে ডামি ভোট গ্রহণ করা হয়। এবং একজন ভোটারের দ্বিতীয়বার ভোট দেয়ার সুযোগ নেই সে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। রিটার্নিং অফিসার মু. আবদুল অদুদের সভাপতিত্বে ইভিএম মেশিন পরিচিতি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলী আহসান, অলি উল্লাহ, ভোটার তালিকা প্রণয়ন অনুবিভাগ নির্বাচন কমিশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমান, জেলা নির্বাচন অফিসার মো. সামসুল আলম, নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক সাব্বির আহাম্মেদ, নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহাম্মেদ ও নির্বাচনে অংশ নেয়া মেয়র প্রার্থীরা।

দুজনার একই স্বপ্ন by সৌরভ রাহমান

বীন নৃত্যশিল্পীদের মধ্যে আনিকা-তুষার এরই মধ্যে বেশ নাম করেছেন। লিখেছেন সৌরভ রাহমান
নৃত্যশিল্পী আনিকা ও তুষারের ফটোসেশন হচ্ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে। রোদের তীব্রতায় ছবি ওঠানো দায়। কিন্তু ফটোসেশনের মুহূর্তটা জমে উঠল তাঁদের স্বভাবসুলভ দুষ্টুমি আর খুনসুটিতে। আশপাশের লোকজনও মজা পেল।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে শিক্ষকদের কালোব্যাজ ধারণ

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম থেকে: কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি তোসাদ্দক হোসেন তাপস দর্শন বিভাগের প্রভাষক সাদাকাত হোসেনকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে গতকাল থেকে শিক্ষকদের প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিনে শিক্ষকরা কালব্যাজ ধারণ করে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির উদ্যোগে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার ও শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, প্রতীকী অনশন, মৌন মিছিল, ক্লাস বর্জন ও গণবদলির আবেদন পেশ করা হবে মর্মে লিখিতভাবে জানানো হয়।  শিক্ষকদের অভিযোগ, গত ২৩শে ডিসেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থী মোসাম্মৎ সেলিনা পারভীন তার মোবাইল ফোনে আসা এসএমএস দেখে দেখে পরীক্ষার উত্তরপত্র (ওএমআর) পূরণ করছিল। কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বরত দর্শন বিভাগের প্রভাষক সাদাকাত হোসেন পরীক্ষার হলে মোবাইল ব্যবহারে বাধা দেন।
এ খবর পেয়ে তার আত্মীয় ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সভাপতি তোসাদ্দক হোসেন তাপস ওই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে রুমে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে অধ্যক্ষসহ অন্যান্য শিক্ষক তাকে উদ্ধার করে অফিস রুমে নিয়ে আসার সময় তাপস ও তার সহযোগীরা ওই শিক্ষককে লাথি, ঘুষিসহ বেধড়ক পেটাতে থাকে।
এ ঘটনার পর সদর থানায় একটি মামলা করা হলেও তারা জিডি হিসেবে নেয়া হয় বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।
বিসিএস শিক্ষা সমিতি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আনছার উদ্দিন জানিয়েছেন, শিক্ষকের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। শুধু তাই নয় দাবি মানা না হলে ধর্মঘটের মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম জানান, শিক্ষকরা মামলা দেয়নি একটি অভিযোগ দিয়েছে মাত্র। সে অভিযোগ পত্রে কারও স্বাক্ষর নেই। কাজেই বিধিসম্মত না হওয়ায় তা জিডি হিসেবে রেখে দেয়া হয়েছে।

শৈলকুপায় বিএনপি নেতার পায়ের রগ কর্তন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : শৈলকুপায় শরিফুল ইসলাম (৪৮) নামে এক বিএনপি নেতার দুই পায়ের রগ কর্তন করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল সকালে শৈলকুপা উপজেলার উত্তর মির্জাপুর গ্রামের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। আহত শরিফুল কাঁচেরকোল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি মেম্বার।
এলাকাবাসী ও বিএনপি নেতার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শরিফুল ইসলাম বাড়ি থেকে শৈলকুপা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসছিলেন। পথিমধ্যে কচুয়া গ্রাম থেকে ৭-৮ জনের একদল সন্ত্রাসী তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। এরপর তারা মির্জাপুর গ্রামের মাঠে নিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে নেয় এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় এলাকাবাসী শরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এদিকে শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি আবদুল ওহাব ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান খান দিপু এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জবিতে ধর্মঘটের ডাক মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ

জবি রিপোর্টার: শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয়ার পরই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ এ ঘোষণা দেন। দাবি আদায়ে কোন প্রতিশ্রুতি না দেয়ায় শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি দিয়েছেন। উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে কয়েকদিন ধরেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছেন। গতকাল বেলা ১১টার দিকে উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে    পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ১
বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পৌনে ১টার দিকে তারা ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ভিসিকে বৈঠকে বসার দাবি জানাতে থাকে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা ধস্তাধস্তি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুপুর পৌনে ২টার দিকে প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমেদ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দলকে ভিসি’র সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আলোচনা হলেও কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। উন্নয়ন ফি বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বললেন, উচ্চশিক্ষা পেতে হলে কিনতে হবে। বৈঠকে ভিসি ক্যাম্পাসে সব ধরনের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ভিসি বলেন, উচ্চশিক্ষা টাকা দিয়ে কিনে নেয়ার জিনিস, ব্যয়বহুলের প্রশ্ন অবান্তর। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের কোন যুক্তি নেই। বৈঠক থেকে বেরিয়ে ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক শরীফুল চৌধুরী বলেন, ভিসি আমাদের কোন আশ্বাসই দেননি। উল্টো আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন। এদিকে ওই বৈঠকে কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আন্দোলকারীরা বুধবার থেকে পরীক্ষা এবং ক্লাস বর্জনের কর্মসূচি দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. হাসনা হেনা বেগমকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়েছিল। তখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে পাঁচ বছর পর নিজস্ব অর্থায়নে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চলানোর কথা বলা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের মাঝামাঝি সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফি বাড়িয়ে দেয়া হলে ব্যাপক আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি বরাদ্দ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। উন্নয়ন ফি ও বিশ্ববিদ্যালয় আইনের একটি ধারা বাতিলের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সকালে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও প্রায় এক হাজার সাধারণ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিলের পর বেলা ১১টা থেকে প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে রেখেছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, উন্নয়ন ফি ও ২৭/৪ ধারা বাতিলের ঘোষণা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ডেপুটি রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম জানান, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ২৭/৪ ধারা বাতিল কার্যকর করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের কাছে কিছুদিন আগে একটি চিঠি এসেছে। সেই চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের কোন কোন ধারা পরিবর্তন বা বাতিল করতে হবে, তা জানাতে চাওয়া হয়েছিল। প্রশাসন সেই অনুযায়ী কাজ করছে। তিন মাস আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭/৪ ধারা বাতিলের ঘোষণা দেন। কিন্তু এ ঘোষণা বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

উত্তাল জাবি - প্রক্টরিয়াল বডিকে পদত্যাগের আলটিমেটাম

জাকারিয়া পলাশ, জাবি থেকে: জাবি ছাত্র জুবায়ের হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪
। গতকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রতিবাদ জানাতে মিলিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে প্রতিবাদ দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক মহল। নিহত ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী জুবায়ের আহমেদের খুনিদের সহযোগী ও ইন্ধনদাতাদের আজীবন বহিষ্কার ও আইনের আওতায় এনে বিচারসহ প্রক্টর ও নিরাপত্তা কর্মকর্তার পদত্যাগের দাবি করেছে তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল ও পর্যাপ্ত এম্বুলেন্স দেয়ার দাবিও তুলে ধরে তারা।
আন্দোলনের জন্য গতকাল ক্লাস বর্জন করে মিছিলে নেমে আসে বিভিন্ন হল ও বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা। মিছিল করে তারা সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নেয়। এসময় সেখানে মোতায়েন করা দু’শতাধিক পুলিশ তাদের বাধা দিতে এসে গণজোয়ারের চাপে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শতাধিক শিক্ষক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন। এসময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক এএ মামুন, সাধারণ সম্পাদক গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরিফ উদ্দিন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মানস চৌধুরী, অধ্যাপক নাসিম আক্তার হোসাইন, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, অধ্যাপক ফাহমিদা আহমেদ, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান, পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক এনামুল্লাহ পারভেজ, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক এমএ মতিন বক্তব্য রাখেন। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দোষীদের শাস্তি দাবির পাশাপাশি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রক্টরিয়াল বডিকে পদত্যাগের আলটিমেটাম দেয়। এসময় অধ্যাপক নাসিম আক্তার হোসাইন বলেন, আগামী ১২ তারিখ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় দিবস কিন্তু আমাদের প্রিয় ছাত্রের এ হত্যার বিচার না হলে আমরা কোন মতেই ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ পালন করতে পারি না।
আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সব শিক্ষার্থী নোংরা রাজনীতির কারণে ক্যাম্পাস ছাড়া হয়েছে তাদের নিরাপত্তা দিয়ে ক্যাম্পাসে থাকার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান শিক্ষকরা। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করে শৃঙ্খলা বিধানের চেষ্টা না করে গণতান্ত্রিকভাবে সবার মতামত প্রকাশের ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নোটিশের মাধ্যমে আগের দিন এক বছরের জন্য বহিষ্কার হওয়া তিন ছাত্রকে আজীবন বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ বহিষ্কারাদেশকে প্রশাসনের ছলনাপত্র বলে ছিঁড়ে ফেলে দেয়। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ও ইন্ধনদাতা সকলের পরিচয় প্রকাশ করে বিচারের আওতায় আনতে তারা দাবি জানায়। তারা  দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রশাসন ভবনে অবস্থান করে। আজ আবারও মৌন মিছিল ও মানববন্ধনের কর্মসূচি নিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
ছাত্রলীগের অবস্থান
ক্যাম্পাসের এ ঘটনায় ছাত্রলীগের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গতকাল সকালে বিভিন্ন হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মিছিলে আসতে বাধ্য করে। তারা জুবায়ের হত্যার জন্য বিএনপি ও জামায়াত দায়ী বলে স্লোগান তোলে। এ ব্যাপারে ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ভূতের মুখে রাম নাম শুনে অবাক হই। অধ্যাপক নাসিম আক্তার হোসাইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি মুক্ত চিন্তা চর্চার কেন্দ্র। এখানে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সন্ত্রাসী রাজনীতিতে বাধ্য করা অগণতান্ত্রিক ও ন্যক্কারজনক। অন্যদিকে ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্ঝর আলম সাম্য বলেন, জুবায়ের ছাত্রলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিল। তাকে বর্তমান উপাচার্যের পালিত ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসী বাহিনীর ক্যাডাররা হত্যা করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রশাসনের ইন্ধন আছে বলে তিনি দাবি করেন।
‘আমার ছেলাটারে ফিরাইয়া দাও’
শরিফুল হক শাহীন, কলাপাড়া থেকে জানান, কলাপাড়ার কৃতী সন্তান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ফাইনাল ইয়ারের মেধাবী ছাত্র জুবায়ের আহমেদের (২১) নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, শোকে নীরব গোটা পরিবার। গতকাল দুপুর একটার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের মদিনাবাগ এলাকার বাড়িতে গেলে দেখা যায়- আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীসহ এলাকার বিভিন্ন স্তরের মানুষের উপস্থিতিতে পুরো বাড়িতে শোকের মাতম। ঘরের ভেতরে শোনা যাচ্ছিল কান্নার শব্দ। জুবায়েরের মা হাসিনা আহমেদ ছেলের কথা বলে বিলাপ করছিলেন। পাশে গিয়ে বসতেই বলল, ‘আমার ছেলাটারে আমার কোলে ফিরাইয়া দাও। আমি অরে দেখতে চাই। অরে ছাড়া ক্যামনে থাকমু।’
কথা প্রসঙ্গে জুবায়েরের মা আরও বললেন, ‘শনিবার দিন অর লগে ফোনে শেষ বারের মতো কথা কইছি। তহনও আমারে কইছে, মা আমার লাইগ্যা দোয়া কইরো। ও চইল্যা যাইবে বুইজ্যাইকি আমার কাছে দোয়া চাইছে।’ এভাবে একের পর এক কথা বলে মূর্ছা যাচ্ছিলেন।
জুবায়ের আহমেদের পিতা নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমি সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। সে সঙ্গে এ কথাও বলবো আর কতো হত্যাকাণ্ড হলে পরে দেশের শিক্ষাঙ্গনসহ সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, তারও জবাব চাই।
তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জুবায়ের আহমেদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র ছিলেন। রোববার তার লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে নিজ হলে ফেরার পথে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একটি গ্রুপের ক্যাডাররা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ওইসব সন্ত্রাসী তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে এক পর্যায়ে হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। সহপাঠী বন্ধুরা খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভারের এনাম হাসপাতালে এবং পরে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
কে এই জুবায়ের?
জুবায়ের আহমেদের বাড়ি কলাপাড়া পৌর শহরের মদিনাবাগ এলাকায়। তার পিতা নৌবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। মা হাসিনা আহমেদ গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল ছোট। একমাত্র বড় ভাই মামুন সিলেটের লিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক। খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সে ২০০৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে ৪.৮৮ পেয়ে এসএসসি পাস করেছেন। খেপুপাড়া মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ থেকে ২০০৭ সালে বাণিজ্য বিভাগে তিনি ৪.৯০ পেয়ে এইচএসসি পাস করেছেন। এরপর তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। এলাকায় তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর ছাত্রলীগ রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
জুবায়েরের শিক্ষকদের বক্তব্য
খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাহাদাত হোসেন বিশ্বাস বলেন, আমি এ বিদ্যালয়ে ২০০৪ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে জয়েন করি। ওই সময় দেখলাম অসম্ভব মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও জুবায়ের লেখাপাড়ার পরিবর্তে খেলাধুলার দিকে ঝোঁক বেশি। আমার পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তাকে লেখাপড়ার দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করতে থাকি। সে যে যাত্রা শুরু হয়েছে তারপর থেকে সে ক্রমান্বয়ে ভাল রেজাল্ট করতে থাকে।
খেপুপাড়া মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক নূর বাহাদুর তালুকদার বলেন, মেধাবী ছাত্র জুবায়েরকে কখনও ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থকতে দেখিনি। নম্র, ভদ্র ও সবার সঙ্গে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সে মিশতে পারতো। খুব ভাল ছেলে ছিল।
সহপাঠী ও বন্ধুদের বক্তব্য
জুবায়েরের সহপাঠী মো. আল আমীন বলেন, এলাকায় লেখাপড়া করা অবস্থায় সে ছিল অত্যন্ত ভদ্র জুবায়ের যে কোন প্রকার রাজনৈতিক বিরোধে জড়াতে পারে এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। আমরা তাকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। জুবায়েরের বন্ধু খায়রুল হাসান খালিদ বলেন, জুবায়ের ছিল খুব ভাল বন্ধু। আমরা তার হত্যাকারীদের বিচার চাই।
জুবায়েরের লাশের সঙ্গে আসা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যায়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসেন বলেন, জুবায়ের ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোকিত মুখ। আজ তাকে গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীক ছাত্রলীগের রাজনীতির কারণে হত্যার শিকার হতে হলো। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি।
প্রতিবেশীদের বক্তব্য
ঊম্মুলকুরা কিন্ডারগর্টেন স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল মো. আবু সালেহ বলেন, জুবায়েরের পিতা ও আমি এক সময় একই স্কুলে চাকরি করতাম। বর্তমানেও আমরা একই এলাকায় বসবাস করি। খুব ভাল ছেলে ছিল জুবায়ের। কারও সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করেছে এমনটা কখনও শোনা যায়নি।
জুবায়েরের নামাজে জানাযা
মঙ্গলবার সকালে কলাপাড়া পৌর শহরের মদিনাবাগ ও এতিমখানা জামে মসজিদ মাঠে  দু’দফা তার নামাজে জানাযা শেষে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জুবায়ের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে কর্মসূচি
জুবায়ের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সম্মুখে স্থানীয় বিদ্যালয়গুলোর ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, সুধীজন, রাজনৈতিক নেতা মিলে মানববন্ধন, কালোব্যাজ ধারণ ও প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত জুবায়েরের পিতা তোফায়েল আহমেদ, কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন বিশ্বাস প্রমুখ। হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জুবায়েরের বন্ধুমহল পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগিয়েছে।

পদত্যাগ করবেন হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ

মানবজমিন ডেস্ক: হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ উইলিয়াম ড্যালি পদত্যাগ করছেন বলে খবর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। গত বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে হোয়াইট হাউসের বাজেট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জ্যাকব লিউ এ মাসের শেষদিকে ড্যালির স্থলাভিষিক্ত হবেন। এর ফলে, এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ওবামা নতুন চিফ অব স্টাফকে নিয়োগ দিতে চলেছেন। সাবেক ব্যাংকার ও রাজনৈতিক আন্দোলনকারী ড্যালি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অধীনে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ও ২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আল গোরের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল-জাজিরা জানিয়েছে, উইলিয়াম ড্যালির পদত্যাগের আগাম খবর দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা।

রুশদিকে ভারতের ভিসা না দেয়ার আহ্বান

মানবজমিন ডেস্ক: বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদিকে ভারতের ভিসা না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভারতের শীর্ষ স্থানীয় ইসলামিক প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম-দেওবন্দ। ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ এর জন্য বহুল বিতর্কিত রুশদি এর আগে বেশ কয়েক বার ভারত সফরে এলেও উত্তর প্রদেশের নির্বাচনের প্রাক্কালে বিষয়টিকে দাবি আকারে উত্থাপনের পরিকল্পনা করেছে দারুল উলুম। এ মাসের শেষের দিকে জয়পুরের সাহিত্য উৎসবে রুশদির যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। এর প্রেক্ষিতেই দারুল উলুমের রেক্টর মাওলানা আবদুল কাশিম নোমানি বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র এবং ইউপিএ চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, যার আপত্তিকর লেখনি সারা বিশ্বের মুসলমানদের অনুভূতির ওপর আঘাত হেনেছে তাকে কোনভাবেই ভারতের মাটিতে পদার্পণের অনুমতি দেয়া উচিত নয়।

জলদাস-জেলেজীবনের ইতিবৃত্ত by মামুন মিজানুর রহমান

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালায় গত ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা পদাতিকের পরিবেশনায় 'জলদাস' নাটকের ৫০তম মঞ্চায়ন। বিস্তারিত লিখেছেন মামুন মিজানুর রহমান নাটকের মঞ্চে দর্শকের খরা নতুন নয়। আমাদের নাট্যমঞ্চ বেশির ভাগ সময়ই দর্শকের অভাবে খাঁখাঁ করে। কিন্তু গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

উত্তর কোরিয়ায় বন্দিদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা

মানবজমিন ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার প্রয়াত দু’নেতার জন্মবার্ষিকীকে সম্মান জানাতে বন্দিদের জন্য সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। তবে, এ ক্ষমার আওতায় কতজন বন্দিকে মুক্তি দেয়া হবে, সে ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়া হয়নি। তাদের কোন তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ বলেছে, দেশটির প্রয়াত নেতা কিম জং-ইল ও তার প্রয়াত পিতা কিম ইল-সুংয়ের সম্মানে আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে এ সাধারণ ক্ষমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। গত মাসে এ নেতার প্রয়াণে দেশটির সর্বসাধারণের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক বন্দিশিবির বা কারাগারগুলোতে প্রায় ২ লাখ বন্দি রয়েছে। এ বছর কিম জং ইলের ৭০তম জন্মবার্ষিকী ও তার পিতা ও দেশটির অপর সাবেক নেতা কিম ইল-সুংয়ের শততম জন্মবার্ষিকী পালিত হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

স্ত্রী’র পিটুনি খেয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

মানবজমিন ডেস্ক: স্ত্রী’র হাতে মার খাওয়ার অপমান সইতে না পেরে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক স্বামী। ভারতের ভিলে পারলির বামানবাদের বাসিন্দা চন্দ্রকান্ত (৩২) ঘরজামাই থাকতেন। গত শুক্রবার শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী সংগীতার সঙ্গে বাগ-বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে তার স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়রা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। সেই মারের অপমান সইতে না পেরে দুই সন্তানের জনক চন্দ্রকান্ত সোমবার শ্বশুর বাড়ির সামনে আত্মহত্যা করেন। ভিলে পারলি পুলিশ জানিয়েছে, এই দম্পতি ১১ বছর আগে শিরধি মন্দিরে প্রথম দেখায় একে অপরের প্রেমে পড়েছিলেন। প্রেমের এক পর্যায়ে বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নিলে সংগীতার বাবার বাড়িতে এসেও উঠেন চন্দ্রকান্ত। সেই থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন বেশ সুখেই কাটছিল। সংগীতার কোলজুড়ে দু’টি ফুটফুটে শিশুরও জন্ম হয়েছিল। কিন্তু তাদের এই সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। একপর্যায়ে তারা প্রায়ই ঝগড়াঝাটি শুরু করেন। তাদের এই ঝগড়া প্রায়ই মারামারিতে রূপ নিতো। ফলে গত ৪ বছর ধরে চন্দ্রকান্ত স্ত্রী ও সন্তান থেকে দূরে বসবাস করছিলেন। কিন্তু স্ত্রী’র হাতে মার খেয়ে শেষ পর্যন্ত দুনিয়া ছেড়েই চলে গেলেন।

উখিয়ার ৫১ ব্যক্তি ভারতের আন্দামান কারাগারে

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: উখিয়ার ৫১ জন ব্যক্তি ভারতের আন্দামান কারাগারে গত ২ বছর ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সংঘবদ্ধ পাচারকারী দলের সদস্যরা তাদেরকে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নেয়ার কথা বলে সমুদ্রপথ দিয়ে পাচার করার সময় ভারতের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়।
উখিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উখিয়া উপজেলার দরগাহ বিল, ডেইলপাড়া, থাইখালী, রহমতের বিল, বালুখালী, কুতুপালং, পাগলির বিল, হলদিয়া পালং ও  নাইক্ষ্যংছড়ি, উপজেলার তুমব্রু, ঘুমধুম, বেতবুনিয়া, আজু খাইয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় শতাধিক ব্যক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনের চাকরি দেয়ার প্রলোভনে ফেলে সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র গত ২ বছর আগে তাদের ভারত সীমান্তে তুলে দেয়।
এ সময় ভারতের ইমিগ্রেশন ৫১ ব্যক্তিকে আটক করে আন্দামান কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। ইতিমধ্যে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ৫১ বাংলাদেশী বন্দির তালিকা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ওই ব্যক্তিদের স্থায়ী ঠিকানার সঠিক সন্ধান চিহ্নিত করে রিপোর্ট প্রদানের জন্য উখিয়া উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, ৫১ ব্যক্তির মধ্যে বেশির ভাগ রোহিঙ্গা নাগরিক হওয়ায় তাদের সঠিক নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

নতুন যুগের ব্ল্যাক

ত ১১ অক্টোবর চট্টগ্রামে এবং ১৩ অক্টোবর ঢাকায় জার্মানির পপ ধারার ব্যান্ড 'ইয়ানস ফ্রিবে'র সঙ্গে দুটি কনসার্টে অংশ নেয় 'ব্ল্যাক'। একই সঙ্গে জার্মানির এই ব্যান্ডের সঙ্গে যৌথ একটি অ্যালবামও বের হয় তাদের। কনসার্ট দুটি যাঁরা দেখেছেন, টিকিটের সঙ্গে সেই অ্যালবামও হাতে পেয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও জার্মানি_দুই দেশেই পাওয়া যাচ্ছে অ্যালবামটি। ব্ল্যাকের সদস্য জাহান বলেন, 'ইয়ানস ফ্রিবের সদস্যরা আমাদের হাজারখানেক অ্যালবাম নিয়ে গেছেন।

সন্তানের পিতৃপরিচয় নয়তো আত্মহত্যা

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি: বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবে আসলেন পালেরচক গ্রামের সুবর্ণা। কাঁদলেন। স্বামী একই গ্রামের মৃত তৈইমুছ আলীর ছেলে শাহাজানের প্রতারণার কাহিনী বর্ণনা করলেন। শেষ পর্যায়ে বললেন- সন্তানের পিতৃপরিচয় এবং স্ত্রীর মর্যাদা না পেলে আত্মহত্যা করবো। যাতে করে আর কোন প্রতারক ও তার সহযোগীরা প্রতারণা করে পার না পায়। শাহাজান আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। তার কারণে পিতা আমার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে দিয়েছেন। আমাকে ত্যাজ্য করেছেন। ঈদের আগে শাহাজান বলে ভাইদের কারণে আমি প্রথমে তোমাকে ডির্ভোস দিয়েছিলাম তারপরও তারা আমাকে পৃথক করে দিয়েছেন। তোমাকে ঘরে তুলতে হলে বাড়িতে দেয়াল নির্মাণ করে ভাইদের সঙ্গে বাড়ির অংশ পৃথক করতে হবে। তাই টাকার প্রয়োজন। সন্তানের পিতৃপরিচয় এবং স্ত্রীর মর্যাদা পাওয়ার আশায় দেয়াল নির্মাণের জন্য আশি হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেই। এই টাকা নিয়ে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রেখে গত ঈদের আগে বাড়িতে চলে আসে। বাড়িতে আসার পর মোবাইলের সিমকার্ড পাল্টে ফেলে। খোঁজ নিতে নিতে কামাল বাজারের জনসভায় পেয়ে যাই এবং জাপটে ধরি। কি করবো বলেন, সব হারিয়ে ফেলেছি। সেখানে বেঁচে থাকার কি প্রয়োজন। আমাকে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে আপোষের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আপোষ মানে তারা টাকা দিতে চায়। আমি টাকা দিয়ে কি করবো। যার জীবনটা শেষ তার টাকা দিয়ে কি হবে? এদিকে শাহাজান সুবর্ণার সকল বক্তব্য মিথ্যা বলে দাবি করেছে। বলেন আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। টাকা নেয়ার জন্য একটি মহল আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। ডিভোর্সের পর থেকে  সুবর্ণার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। সূত্র জানিয়েছে, টাকা দিতে রাজি হয়েছে শাহাজানের পরিবার। কিন্তু কোন অবস্থাতে ঘরে তুলে নিতে রাজি নয়। যার ফলে শাহাজানকে দেশের বাইরে পাঠানোর চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে নির্যাতিতা সুবর্ণার একদিকে আতঙ্ক অন্যদিকে পিতৃপরিচয়ের জন্য চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই।
গত ৩রা জানুয়ারি কামাল বাজারে আওয়ামী লীগের সভায় সুবর্ণা বেগম একই গ্রামের তৈইমুছ আলীর ছেলে শাহাজানকে জাপটে ধরে।

কমলগঞ্জে ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: ‘শিল্পের জন্য শিল্প নয়, জনগণের জন্য শিল্প’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল দুপুরে কমলগঞ্জের শমসেরনগরের কার্যালয়ে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সম্মেলনের প্রথম পর্ব। কাউন্সিলর অধিবেশন শেষে বিকাল ৫টায় বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। ২য় পর্বে স্থানীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কবি শহীদ সাগ্নিক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপত্বি শ্যামল ভৌমিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ধ্রুবতারার সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি এডভোকেট কুমার চন্দ্র রায়, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি নূরুল হুদা সালেহ, জাতীয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা শাখার সভাপতি মো. নূরুল মোহাইমীন, জাতীয় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ছাত্রনেতা কৃষাণ রায়, জাতীয় ছাত্রদল শাবিপ্রবি শাখার সভাপতি প্রদীপ দত্ত। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মৃগেন চক্রবর্তী, বিপুল দাশ, রমজান আলী, নূরুজ্জামান চুন্নু, চা শ্রমিক নেতা কান্তি বাড়াইক, নূর মোহাম্মদ তারাকী, ছাত্রনেতা অঞ্জন সিনহা, রিয়াজ মোহাম্মদ খান, এস আর সজীব, রাশেদ খান, মাইকেল দান্দালী, শাহদাত হোসেন প্রমুখ। পরে কবি শহীদ সাগ্নিককে সভাপতি ও অমলেশ শর্মাকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটি গঠন করা হয়।

মিথিলার নতুন সিদ্ধান্ত



স্টাফ রিপোর্টার: আসছে ভালবাসা দিবসেই ক্যারিয়ারের প্রথম একক অ্যালবাম নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হওয়ার কথা ছিল মডেল-অভিনেত্রী-কণ্ঠশিল্পী মিথিলার। কিন্তু এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিথিলা। স্বামী ও জনপ্রিয় গায়ক-সংগীত পরিচালক তাহসানের সুর-সংগীতায়োজনে অ্যালবামটির অনেক কাজ গুছিয়ে আনলেও ভালবাসা দিবসে এটি প্রকাশ করছেন না তিনি। অডিও মন্দা এবং শিল্পী ও অডিও প্রযোজকদের দ্বন্দ্বের মধ্যে দোদুল্যমান অডিও ইন্ডাস্ট্রির কথা চিন্তা করেই ভালবাসা দিবসে অ্যালবামটি প্রকাশ থেকে বিরত থাকছেন মিথিলা। এদিকে মিথিলার এ অ্যালবামের ৯টি গানের ট্র্যাক তৈরি করেছেন তাহসান। বেশ কয়েকটি গানে কণ্ঠও দিয়েছেন। কিন্তু অডিও বাজারের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে হঠাৎই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন মিথিলা। অ্যালবামের কাজে বিরতি দিয়ে মডেলিং ও অভিনয়েই এখন থেকে আবার পূর্ণোদ্যমে মনোযোগী হচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে তাহসানও বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন তার অভিনীত প্রথম ছবি ‘টু বি কনটিনিউড’-এর কাজ নিয়ে। এ বিষয়ে মিথিলা বলেন, অনেক আশা নিয়ে একক অ্যালবামের কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আসলে অ্যালবামটি প্রকাশ করার মতো দুঃসাহস করতে চাই না। কারণ, গানগুলো অনেক সময় নিয়ে করা। এগুলো যাচ্ছেতাইভাবে প্রকাশ করতে চাই না। না হলে অ্যালবামের কাজ শেষ করে ভালবাসা দিবসে প্রকাশ করতে পারতাম। এ দুরবস্থার মধ্যে অ্যালবাম প্রকাশ করলে গানগুলো শুধু শুধুই জলে যাবে বলেই মনে হয় আমার। ঠিক এমনটাই মত তাহসানেরও। কারণ, অডিও ইন্ডাস্ট্রির খারাপ অবস্থার সঙ্গে বর্তমানে যোগ হয়েছে শিল্পী-অডিও প্রযোজকদের দ্বন্দ্বের বিষয়টি। এটি এখন চরম আকার ধারণ করেছে। সুতরাং অ্যালবাম ভালবাসা দিবসে প্রকাশ করছি না। টুকটুাক করে কাজ চলতে থাকুক, পহেলা বৈশাখ নতুবা অন্য কোন সময়ে অ্যালবাম প্রকাশ করবো।

চিত্রনায়ক সাত্তার হাসপাতালে

স্টাফ রিপোর্টার: ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিত্রনায়ক সাত্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১৫ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ৬ই জানুয়ারি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা সিটি স্ক্যান করার পর জানিয়েছেন, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ না হলেও ‘ভেইন’ শুকিয়ে গেছে। সুস্থ হতে সময় লাগবে। বর্তমানে তার একপাশ প্রায় অবশ হয়ে গেছে এবং কথা বলায় সমস্যা হচ্ছে। ১৯৮৪ সালের নতুন মুখের সন্ধানের অন্যতম সফল আবিষ্কার সাত্তার অসংখ্য হিট-সুপারহিট ছবির নায়ক। ফোক ছবির অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়কে পরিণত হন তিনি। সাত্তারের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তার পরিবার।

ঘাটাইল টাঙ্গাইল: বিএনপি-ঐক্যের পাল উড়ছে

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা বিএনপিতে ঐক্যের পাল উড়ছে। দ্বন্দ্ব-কোন্দল ভুলে নেতাকর্মীরা ক্রমেই চাঙা হচ্ছেন। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতা বিশেষ করে ঘাটাইলের সাবেক এমপি লুৎফর রহমান খান আজাদের নিয়মিত যোগাযোগ সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উজ্জীবিত করছে। শক্তিশালী হয়ে উঠছে সাংগঠনিক ভিত্তি। আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব-কোন্দল চরম রূপ নেওয়ার ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে বিএনপিতে।

যৌন আবেদনের কারিশমা দেখাবেন সোনাক্ষী

বিনোদন ডেস্ক: নিজের প্রথম অভিনীত ছবি ‘দাবাং’-এ সালমানের বিপরীতে একেবারেই সাধারণ ঘরের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেও দর্শক হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন সোনাক্ষী সিনহা। খোলামেলা না হয়েও যে আলোচনায় আসা সম্ভব সেটা শত্রুঘ্ন সিনহা কন্যা সোনাক্ষী ভালই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন এই ছবিতে। দ্বিতীয় ছবিতেও নয়ারূপে হাজির হচ্ছেন তিনি। ‘লুটেরা’ নামক এই ছবিতে আঁটসাঁট পোশাকে দেখা যাবে সোনাক্ষীকে। খোলামেলা হয়ে না আসলেও এই ছবির কয়েকটি গানে তিনি শাড়িতেই তার যৌন আবেদনের কারিশমা দেখাবেন দর্শকদের। মূলত  বিক্রমাদিত্য পরিচালিত রোমান্টিক এই ছবির কাহিনী ১৯৫০ সালের প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে। তাই সেই সময়ের রূপেই সোনাক্ষীকে ছবিতে দেখা যাবে। ‘লুটেরা’ ছবিতে বাঙালি একজন তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করছেন সোনাক্ষী। আর এই চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তাকে শাড়ি, জুয়েলারি ও বাঙালি সাজসজ্জায় সজ্জিত হতে হবে। এখানে সোনাক্ষী অভিনয় করছেন সময়ের হার্টথ্রব অভিনেতা রণবীর সিংয়ের সঙ্গে। ছবির একটি গান হওয়ার কথা রয়েছে বৃষ্টিতে। এই গানে রণবীরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে ক্যামেরাবন্দি হবেন তিনি। ছবিটি নিয়ে দারুণ আশাবাদী সোনাক্ষী বলেন, এই চরিত্রটি আমার জন্য অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ, আমি এই প্রজন্মের মেয়ে হয়েও ছবিটিতে আমাকে ১৯৫০ সালের প্রেক্ষাপটে অভিনয় করতে হবে। পাশাপাশি আঁটসাঁট পোশাকে থাকতে হবে। ছবিতে নাকি বেশ কয়েকটি ঘনিষ্ঠ রোমান্টিক দৃশ্যও রয়েছে। সে কারণেই আমি বেশ এক্সাইটেড ছবিটি নিয়ে।

নতুনরূপে ডিয়াজ

বিভিন্ন সময় নানা ঘটনার জন্ম দিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেছেন হলিউড অভিনেত্রী ক্যামেরুন ডিয়াজ। বিশেষ করে বিভিন্নজনের সঙ্গে বহুবারই সম্পর্কের গুঞ্জনে জড়িয়েছেন এ অভিনেত্রী। এর বাইরে খোলামেলা উপস্থাপনের জন্যও বেশ পারদর্শী ডিয়াজ। এবার তার আরও একটি স্বাক্ষর তিনি রাখলেন। সমপ্রতি একটি ফটোশুটে অংশ নিয়েছেন তিনি। এ ফটোশুটে বেশিরভাগই অর্ধনগ্নরূপে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন তিনি। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই ফটোশুটে অংশ নিয়েছেন তিনি। এর আগেও বহুবারই ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজের বিভিন্ন ধরনের ছবি তোলার জন্য ফটোশুট করেছেন তিনি। তবে এবারের ফটোশুটে একেবারেই নতুনরূপে দেখা যাবে তাকে। বিশেষ করে এই ফটোশুটে অংশ নিতে গিয়ে চোখে এক একবার একেক রকম লেন্স পরেছেন। আর সেই লেন্স তিনি পরেছেন পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। এ ফটোশুটে ছোট ছোট নাইটিতে বেশ নগ্নভাবেই নিজেকে ক্যামেরাবন্দি করেছেন তিনি। তার থেকে বেশ কয়েকটি ছবি ইতিমধ্যে নিজের টুইটার ওয়ালেও পোস্ট করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে বেশ আলোচনায় বর্তমানে চলে এসেছেন ডিয়াজ। বিভিন্ন ধরনের মন্তব্যই তার টুইটার ওয়ালের ছবিগুলোতে পড়ছে। আবার নিন্দুকেরা ডিয়াজের ছবিগুলোর সমালোচনাও করছেন বেশ। তবে এ সমালোচনায় একদমই কান দিতে রাজি নন ডিয়াজ। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, আমার নতুন ছবিগুলো অনেক গ্ল্যামারাস হয়েছে। এখানে অতিরিক্ত কোন কিছু করেছি বলে আমার মনে হয় না। আর সমালোচনা যারা করছে তাদের কখনও আমি পাত্তা দিতে ইচ্ছুক না। আর আমার এ ছবিগুলোর বিপরীতে কয়েকটি সমালোচনার বিপরীতে বাকি সব প্রশংসাই উঠে এসেছে। আর আমি তাতে অনেক খুশি। কারণ, আমার ভক্ত-দর্শকদের জন্যই আমি আজকের ক্যামেরুন ডিয়াজ। তাই তাদের জন্যই ছবিগুলো তুলেছিলাম। তারা ছবিগুলো দেখে উপভোগ করেছেন, খুশি হয়েছেন। তাই আমিও অনেক আনন্দিত।

ঘাটাইল টাঙ্গাইল: আওয়ামী লীগ-খাঁচায় বন্দি বাঘ শিয়াল পাহারাদার by অরণ্য ইমতিয়াজ

ঞ্চনা ও লাঞ্ছনার মধ্য দিয়ে চলছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ। দলের ভেতর গড়ে উঠেছে আরেক দল। মূল দলের উল্টো পথে চলছে এটি। ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতারা মূল দলের সঙ্গে থাকলেও কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে এগুতে পারছেন না। নতুন এবং 'আনাড়ি' নেতারাদের দাপটে তাঁরা কোনো কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। স্থবির হয়ে পড়েছে ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ।

নতুন বছরে রাখির নতুন দাবি

একটি স্টেজ শোতে পারফর্ম করার জন্য ৫০ লাখ টাকা দাবি করলেন রাখি সাওয়ান্ত। ব্যাপারটা অবাক করার মতো হলেও এটাই ঘটেছে। এ অর্থ প্রদান না করলে শোতে পারফর্ম করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, নতুন বছরে নিজের পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। গত বছরজুড়ে বিভিন্ন কারণেই আলোচনায় ছিলেন রাখি সাওয়ান্ত। এর বাইরে শীর্ষ আইটেম গার্লের তকমাও রয়েছে তার নামের পাশে। সে কারণেই নতুন বছরে আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক হাঁকছেন তিনি। আসছে ফেব্রুয়ারিতে একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে বলা হয়েছিল রাখিকে। সেখানে তিনটি গানে পারফর্মের জন্য তাকে বলা হয়েছিলো। কিন্তু ৫০ লাখের মতো বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক চাওয়ায় সেই শোতে তার বিকল্প হিসেবে অন্য কোন আইটেম গার্লকে নেয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এদিকে কোন শোতে পারফরমেন্সের জন্য পারিশ্রমিকের দিক দিয়ে এর নিচে নামবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাখি। অন্যদিকে এখন থেকে আইটেম গানে পারফরমেন্সের জন্যও ৫০ লাখের কম পারিশ্রমিক নেবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে তার ভাষ্য, একটি প্রোগ্রাম বা ছবির বাজেট যদি ২০ থেকে ২৫ কোটি হয়, সেখানে আমার মতো একজন শীর্ষ আইটেম গার্লের ৫০ লাখ টাকা পাওয়াই উচিত। আর যে কোন স্টেজ শো বা ছবি হোক, সময়ের পরিবর্তনে সবার দৃষ্টি থাকে আইটেম গান ও আইটেম গার্লের দিকে। সেদিক থেকে হিসাব করলে একটি ছবির প্রচারণা ও ব্যবসা সফলতার দিক দিয়ে আইটেম গান বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সব হিসাব নিকাশ করেই নতুন বছরে আমার নতুন পারিশ্রমিক ঠিক করেছি। এটাকে যে যেভাবে খুশি নিতে পারেন। আই ডোন্ট কেয়ার।

পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেন সুচি

মানবজমিন ডেস্ক: মিয়ানমারের আসন্ন উপনির্বাচনে পার্লামেন্টের একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী অং সান সুচি। বিরোধী দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমক্রেসির পক্ষ থেকে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়েছে। দলীয় মুখপাত্র নেয়ান ইউন গতকাল বলেছেন, সোমবার দলের এক মিটিংয়ে সুচি নিজ শহর ইয়াঙ্গুনের শহরতলি কাউহমু থেকে পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। সুচির এ সিদ্ধান্ত আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় উপ-নির্বাচনের বৈধতার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। সু চি গত বছর পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ঘোষণা করলেও তিনি এতদিন এ ব্যাপারে কোন উচ্চবাচ্য করেননি। এ নির্বাচনে নোবেল জয়ী সু চিকে পার্লামেন্টে প্রথমবারের মতো বিরোধীদলীয় নেত্রীর ভূমিকা পালনের সুযোগ করে দেবে। ২০১০ সালের নভেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের সময় সু চি গৃহবন্দি ছিলেন। তার গৃহবন্দি থাকার কারণেই মূলত ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমক্রেসি নির্বাচন বর্জন করে।॥

আরব লীগের কঠোর সমালোচনায় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ

মানবজমিন ডেস্ক: সিরিয়াতে আরব লীগের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর কারণে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন জনবিক্ষোভের শিকার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সমপ্রচারিত এক বিরল ভাষণে আসাদ বলেছেন, উপসাগরীয় এলাকাতে রাজতন্ত্রের শাসন প্রচলিত দেশ সহ অন্যান্য আরব সরকারের কি অধিকার আছে সিরিয়াকে গণতন্ত্র বা সংস্কারের ব্যাপারে উপদেশ দেয়ার। আসাদ আরব দেশগুলোর প্রতি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেছেন, ১৯১৭ সালে সিরিয়াতে প্রথম পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছিল। তখন এরা কোথায় ছিলেন? এদের অবস্থা অনেকটা ধূমপায়ী ডাক্তারের মতো যিনি নিজে ধূমপান করেন অথচ সিগারেট হাতে নিয়েই রোগীকে ধূমপান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। তিনি আরব লীগের সমালোচনা করলেও এর মধ্যস্থতায় দেশের সঙ্কট সমাধানের উদ্যোগের জন্য ‘দরজা বন্ধ’ করবেন না। তিনি বলেছেন, যতক্ষণ তারা সিরিয়ার সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে ততক্ষণ তাদের জন্য সিরিয়ার দ্বার উন্মুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, গত মার্চ মাস থেকে দেশে শুরু হওয়া অস্থিতিশীলতার কারণে সিরিয়াকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য আসাদ বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের দোষারোপ করেন। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বিরত থাকার ব্যাপারে গত মাসে আরব লীগের পরিকল্পনায় সম্মত হবার পর গতকালই আসাদ প্রথম বক্তব্য দিলেন। দামেস্ক ইউনিভার্সিটিতে দেয়া ওই ভাষণে তিনি দাবি করেছেন, সত্য অনুসন্ধানের লক্ষ্যে তার পরিকল্পনা মতোই আরব লীগ সিরিয়াতে পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েছে। আসাদ বলেছেন, কয়েক মাস ধরে দেশব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলেও যতদিন তার পক্ষে জনগণের সমর্থন থাকবে ততদিন তিনি পদত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন, যখন আমি ক্ষমতা ছাড়বো তখন সেটা জনতার ইচ্ছেতেই ছাড়বো। আসাদ বলেন, বিদেশী শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার ষড়যন্ত্র করছে। সিরিয়াতে বিদেশী মিডিয়ার কাজ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নে তিনি বলেছেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভের শুরুতে সব মিডিয়াকেই শক্তভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশের ভেতর থেকেই উস্কানিমূলক এবং বানানো সংবাদ পরিবেশনের কারণে আমরা এতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে বাধ্য হয়েছি। তিনি বলেছেন, সিরিয়ানরা যদি অবিচল থাকেন তাহলে বিজয় আমাদের খুবই কাছে। বহিঃশক্তি বিপ্লবের মাধ্যমে যে অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিল তাতে তারা সক্ষম হয়নি। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আসাদ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ৫০০০-এর বেশি মানুষকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকেও বেশ চাপের মধ্যে রয়েছেন। প্রেসিডেন্ট আসাদের এ বক্তব্য দেয়ার আগে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়েপ এরদোগান সিরিয়াতে সঙ্কট আরও ঘনীভূত হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এরদোগান সোমবার বলেছিলেন সিরিয়া পরিস্থিতি ধর্মীয় এবং জাতিগত সহিংসতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিহত করতে হবে। তিনি বলেন, তুরস্কের এক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ, সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি তুরস্কের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এরদোগান আসাদকে পদত্যাগের পাশাপাশি সিরিয়ার বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের আহ্বান জানালেও সিরিয়ার পরিস্থিতি অবনতি রোধ করতে আঙ্কারা কি ব্যবস্থা নেবে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।