Tuesday, August 18, 2015

'কথাটাই মতলববাজি কথা' -হাসানুল হক ইনু

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু
‘নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণ’ কথাটাই ‘মতলববাজির’ কথা বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনের দাবি, মধ্যবর্তী বা আগাম নির্বাচন, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন প্রস্তাব, রাজনৈতিক-সামাজিক চুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে গণমাধ্যমের খবরের বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট অবস্থান তুলে ধরার জন্যই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণ’—কথাটাই ‘মতলববাজি’ কথা। সংবিধান ও আইনে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারিত আছে। যারা অপরাধী, যুদ্ধাপরাধী, গণতন্ত্রের পিঠে ছোবল হানে, সেই জঙ্গিবাদী-সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী গণতন্ত্র ও নির্বাচনে হালাল না। তাই সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়ার আগে, অপরাধী-যুদ্ধাপরাধী-জঙ্গিবাদী-সন্ত্রাসবাদী-গণবিরোধী শক্তিকে গণতন্ত্র ও নির্বাচনের বাইরে রাখার ফর্মুলার বিষয়ে সবাইকে একমত হতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, এটা নির্বাচন বা সংবিধান নিয়ে আলোচনার মৌসুম নয়। দেশকে জঙ্গি-সাম্প্রদায়িকতা থেকে মুক্ত করার সময়। তিনি বলেন, স্বস্তি-শান্তি-উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাই যখন জাতীয় জীবনে এই মুহূর্তে সব চেয়ে জরুরি কাজ তখন সংবিধান সংশোধনের দাবি কিছুটা বেমানান।
হাসানুল হক ইনু তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন এবং এর আগে-পরে দেশে অসংখ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সকলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন’-এর কথা বলছে যে বিএনপি-জামায়াত, তারাও ৫ জানুয়ারির আগে-পরে নির্বাচনে তাদের ইচ্ছেমতো অংশগ্রহণ বা বর্জন করেছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও বিএনপিকে বলপ্রয়োগ করে নির্বাচনের বাইরে রাখেনি কেউ। বরং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানোর জন্য নিজেই উদ্যোগী হয়েছিলেন। দেশ-বিদেশের সকল মহল বিএনপিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য আবেদন-নিবেদন-অনুরোধ করেছিল। কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে নির্বাচন ভন্ডুল করার জন্য সীমাহীন সন্ত্রাস ও রক্তারক্তি-খুনোখুনি-জ্বালাও-পোড়াও-অন্তর্ঘাত-নাশকতার পথে চলে যায়।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচনের দাবির পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। লাগাতার অন্তর্ঘাত-নাশকতা-আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর, জনগণের ঘৃণা ও প্রত্যাখ্যানের মুখে বিএনপি নতুন করে নির্বাচনের দাবি তুলে জলঘোলা করার নতুন ফন্দি খুঁজছে। দেশে আজ যে স্বস্তি-শান্তি-উন্নয়নের ধারা চলছে, খালেদা জিয়ার তা সহ্য হচ্ছে না। খালেদা জিয়া নিজেই গণতন্ত্র ও নির্বাচনের পথে কাঁটা বিছাচ্ছেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে নতুন করে আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবির পেছনে কোনো যৌক্তিক ও বাস্তব কারণ বা প্রয়োজনীয়তাও নেই। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটার অন্যথা হওয়ার বা করার কোনো সুযোগও নেই।’
মন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের আলোকে পঞ্চদশ সংশোধনীর পর বিচার বিভাগকে সম্পৃক্ত করে পুরোনো ধাঁচের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা সম্ভব না। এটা জানার পরও পুরাতন ধাঁচের নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুন: বহালের দাবি, মুর্খতা ছাড়া আর কিছুই না। এ দাবি করার মধ্যেই ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিষয়টি স্পষ্ট।
সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তাঁদের পর্যবেক্ষণে নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে যে দুইটি ফর্মুলার কথা বলেছেন, তার প্রথমটির কাছাকাছি প্রস্তাব ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

শিশুশ্রমিক থেকে আগামীর আফ্রিদি

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ম্যাচ জেতানো ইনিংস
খে​লার পথে। আনোয়ারের জীবনটাই যেন নাটক -এএফপি
ড্রেসিংরুমে পোশাক পরে মাঠে নামার সময় আনোয়ার আলীর নিশ্চয়ই মনে পড়ে যায় ফেলে আসা অতীতের কথা। জার্সি আর ট্রাউজার পরার পর পায়ে যেই মোজা গলান, সেই মুহূর্তে ছোট্ট পলকা শরীরের এক হতদরিদ্র শিশুর কথা তাঁর মনে না পড়ে যায়ই না। যে শিশু দুটো শুকনো রুটির জন্য স্কুল ফেলে ছুটে যেত মোজার কারখানায়। কাজ করতেন মোজা ইস্ত্রির। সেই আনোয়ারের জীবন এখন পাল্টে গেছে। এখন পাঁচ তারকা হোটেলে রাত্রিযাপন। হাওয়াই জাহাজে উড়াল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৭ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে এনে দিয়েছেন নাটকীয় জয়। রাতারাতি মন জিতে নিয়েছেন পাকিস্তানের সমর্থকদের। বলা হচ্ছে, আগামীর আফ্রিদিকে এবার পেয়ে গেল পাকিস্তান। হুট করে পেয়ে যাওয়া তারকাখ্যাতি। আগের তুলনায় অনেক আয়েশি জীবন। কিন্তু নিজের অতীত একটুও ভুলে যাননি। আনোয়ারের কাছে তাঁর অতীতই সব সময়ের প্রেরণা, ‘আজ যে এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি, এ জন্য সর্বশক্তিমানের কাছে কৃতজ্ঞ। একটা সময় আমার জীবন ছিল অনেক কঠিন। আমি একটা মোজা তৈরির কারখানায় কাজ করতাম। কিন্তু সেই কঠিন সময়ের মধ্যেও পাকিস্তানের হয়ে খেলার স্বপ্নটা হারিয়ে ফেলিনি।’
পাকিস্তানের দুর্গম এলাকা সোয়াত উপত্যকা থেকে উঠে এসেছেন। এক সময় এই জায়গাটি মাঝেমধ্যেই খবরের শিরোনাম হতো জঙ্গিবাদের কারণে। মালালা ইউসুফজাইয়ের কারণে এখন ইতিবাচক কারণে শিরোনামে আসে। আনোয়ারের স্বপ্ন, তাঁর কারণেও গর্ব করবে সোয়াতের মানুষ।
অবশ্য সেই ভিটেমাটি অনেক আগেই ছেড়ে আসতে হয়েছে তাঁর পরিবারকে। শৈশবেই বাবাকে হারানো আনোয়ার সপরিবারে জীবিকার খোঁজে চলে আসেন করাচিতে। সেখানেই কারখানায় কাজ নেন দিনে ১৫০ রুপি মজুরিতে। সেই দিনগুলোর কথা আজও মনে পড়ে তাঁর, ‘খুবই কঠিন দিন ছিল। শান্তি আর নিরাপত্তার খোঁজে আমরা করাচিতে এসেছিলেন। পরিবারের ছেলেদের একজন ছিলাম জন্য খেলা বাদ দিয়ে রোজগারের জন্য নেমে পড়তে হয়েছিল।’
কারখানায় আসার পথেই মাঠে দেখতেই ক্রিকেটারদের খেলতে। তাঁরও ভীষণ ইচ্ছে করত। ক্রিকেট খেলাটা যে তাঁর কাছে ছিল নেশার মতো, ‘আমি আমার মালিককে গিয়ে বললাম, আমাকে রাতের শিফটে কাজ দিন, যেন আমি দিনে ক্রিকেট খেলতে পারি। উনি দয়াপরবশ হয়ে রাজিও হলেন।’
আর এই ক্রিকেট খেলতে গিয়েই এলো জীবনের বাঁক পরিবর্তন। চোখে পড়ে গেলেন স্থানীয় কোচ আজম খানের। আজম তাঁকে ট্রায়ালে ডাকলেন। কিন্তু আনোয়ার আসবেন না। কারণ তাতে যে চাকরি যাবে। চাকরি গেলে দৈনিক ১৫০ রুপি মজুরি কোথায় পাবেন? আজমই সমস্যার সমাধান করে দিলেন। বললেন, ‘তুমি খেলতে এসো, আমিই তোমাকে প্রতি দিন ১৫০ রুপি করে দেব।’
২০০৬ যুব বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলে জায়গা মিলল এক সময়। ছোটদের সেই বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের নায়ক হয়ে ​গেলেন আনোয়ার। প্রথমে ব্যাট করে পাকিস্তান করেছিল মাত্র ১০৯। আনোয়ারের দুর্দান্ত সুইং বোলিংয়ে খাবি খেতে খেতে ভারত অলআউট হয়ে গেল ৭১-এই। ৯ রান তুলতেই প্রথম ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ভারত। ৫ উইকেট নিয়েছিলেন আনোয়ার, ব্যাট হাতেও ১৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন।
জাতীয় দলে ডাক পেলেন দ্রুতই। কিন্তু হারিয়েও গেলেন তার চেয়েও দ্রুত। জাতীয় দলের আশা বাদ দিয়ে পরিবারের সুখের কথা ভেবে ইংল্যান্ডে চলে গেলেন ল্যাঙ্কাশায়ারের স্থানীয় লিগ খেলতে। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম আবার জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনল তাঁকে। শ্রীলঙ্কা সফরে এতটাই দুর্দান্ত খেলেছেন, খোদ কোচ ওয়াকার ইউনুসও তাঁকে আগামীর আফ্রিদি হিসেবে দেখছেন, ‘শ্রীলঙ্কা স​ফরেই ও নিজের সেরাটা খুঁজে পেয়েছে। ওর ফিল্ডিং দুর্দান্ত, ব্যাটসম্যান আর বোলার হিসেবেও দারুণ উন্নতি করেছে। এভাবে কঠোর পরিশ্রম করতে থাকলে সে-ই একদিন আমাদের এক নম্বর অলরাউন্ডার হবে।’ এএফপি অবলম্বনে।

অভিজিৎ-অনন্ত হত্যার হোতাসহ গ্রেপ্তার ৩

ব্লগার অভিজিৎ রায় ও সিলেটের অনন্ত বিজয় দাশের হত্যার
মূল পরিকল্পনাকারী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য
তৌহিদুর রহমান (বাঁয়ে), সাদেক আলী (মাঝে) ও আমিনুল
মল্লিককে (ডানে) গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের
সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। ছবি: আবদুস সালাম
বিজ্ঞানমনস্ক লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায় ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন জ​ঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৩। গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর দুটি স্থান থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন তৌহিদুর রহমান, সাদেক আলী ও আমিনুল মল্লিক। র‍্যাবের দাবি, তাঁরা নিষিদ্ধ সংগঠন আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। এর মধ্যে তৌহিদ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান আজ মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর নীলক্ষেত থেকে প্রথমে সাদেককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে, তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে থেকে তৌহিদুর ও আমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র‍্যাবের ওই কর্মকর্তার দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তৌহিদ ও সাদেক অভিজিৎ ও অনন্ত হত্যায় পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিমউদ্দিন রহমানীর কাছ থেকে হত্যার নির্দেশনা পেতেন সাদিক ও তাঁর ছোট ভাই আবুল বাশার। সেই অনুযায়ী তৌহিদুর হত্যার পরিকল্পনা করতেন। আর সাদিকসহ আরও চারজন হত্যাকাণ্ডে অংশ নিতেন।
মুফতি মাহমুদ খানের ভাষ্য, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে রমজান, নাঈম, জুলহাস, জাফরান ও সাদিক অংশ নেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের তিন ঘণ্টা আগে মুহসীন হলের মাঠে ওই পাঁচজন জড়ো হন। সেখানে দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে রমজান ও নাঈম বইমেলায় গিয়ে অভিজিৎকে অনুসরণ করেন। পরে অভিজিৎকে তাঁরা কুপিয়ে হত্যা করেন।

সাংবাদিক শওকত মাহমুদ গ্রেপ্তার

শওকত মাহমুদ। ছবি: ফোকাস বাংলা
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদকে আজ মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সকালে রাজধানীর পান্থপথ থেকে আটকের পর তাঁকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় গাড়ি পোড়ানোর তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল মোমিন প্রথম আলোকে বলেন, আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সামারাই কনভেনশনে ঢোকার সময় পুলিশ তাঁকে বাধা দেয়। পরে সাদা পোশাকের পুলিশ ছাই রঙের একটি গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো-চ-৫৩৪২০৬) তুলে তাঁকে নিয়ে যায়। শওকত মাহমুদকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর ধারণা। ওই গাড়ির পেছনে শওকত মাহমুদের ঘনিষ্ঠজনদের একটি গাড়িও ছিল।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোসহ নাশকতার আটটি মামলা আছে বলে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র প্রথম আলোকে বলেন, যাত্রাবাড়ী থানায় করা গাড়ি পোড়ানোর তিন মামলায় আজ শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
শওকত মাহমুদ রাজধানীর পান্থপথে সামারাই কনভেনশনে আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের যে সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন, পুলিশের বাধায় তা পণ্ড হয়ে গেছে।
সভার আয়োজক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির তথ্য উপস্থাপনের জন্য আজ বেলা ১১টায় এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়। তবে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ ফটকটি আটকে দেয়।
কনভেনশনের ফটকে অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘এই ঘটনা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা যে গণতন্ত্রের কথা বলেন তার বিপরীত। তাই নিন্দাও জানাতে চাই না। শুধু বলতে চাই, তারা (সরকার) যেন নাগরিক অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হয়।’
আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের নেতা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেন, ঘরোয়া অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তার পরও কলাবাগান থানাকে এই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সেটির কপিও তিনি দেখান। তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দারাও অনুষ্ঠানের ব্যাপারে খবর নিয়েছিল। কিন্তু কোনো আপত্তি জানায়নি।
ফটকের সামনে দায়িত্ব পালন করা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইয়াকুব আলী বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে সকাল থেকে তিনি সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন।

সন্ত্রাসের প্রতিবাদে সবাইকে রাস্তায় নামার আহ্বান এরশাদের

বসে না থেকে সন্ত্রাসের প্রতিবাদে সবাইকে রাস্তায় নামার আহবান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হোসাইন মুহাম্মাদ এরশাদ। সারা দেশে শিশু ও নারী হত্যার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় পার্টি আয়োজিত মানববন্ধনে এরশাদ এ আহবান জানান।
সন্ত্রাসীদের সমাজ চাই না মন্তব্য করে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। আপনারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের ঝড় তুলুন। আমরা আর বসে থাকবো না।
এরশাদ বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণতন্ত্র বলতে আমরা কি বুঝি? মানুষের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, বাঁচার অধিকার। কিন্তু আজ কোথায় বাঁচার অধিকার? আমাদের বাঁচার অধিকার কে দেবে?
এরপর এরশাদ খোলা গাড়িতে করে প্রেসক্লাব থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রাস্তায় নিজেই স্লোগান দেন।
ক্ষমতায় গেলে সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করে মতিঝিলে সমবেত কর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, বিবেকের তাড়নায় আমি রাস্তায় নেমেছি। বাংলাদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে। এভাবে চলতে পারে না মানুষ পরিবর্তন চায়।
মানববন্ধনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, উত্তরের সভাপতি এস এম ফয়সল চিশতী, মহিলা পার্টির সাধারণ সম্পাদক মৌসুমী হোসাইন অনন্যা, ছাত্র সমাজের সভাপতি ইফতেকার আহসান হাসান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিলবোর্ডে বঙ্গবন্ধু উপলক্ষ মাত্র, সবার লক্ষ্য আত্মপ্রচার : ওবায়দুল কাদের

সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিলবোর্ড বাংলাদেশের নতুন উপদ্রব। সবাই এখন নেতা, কেউ কর্মী নয়। বাংলাদেশ নেতা উৎপাদনের নতুন ক্ষেত্র। লিফলেটের ব্যবহার আর নেই। এখন সবাই বিলবোর্ড দিয়েই শুরু করে।’
মঙ্গলবার দুপুরে বেগম বদরুন্নেচ্ছা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রলীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিলবোর্ডে বঙ্গবন্ধু উপলক্ষ মাত্র, সবার লক্ষ্য আত্মপ্রচার করা। বঙ্গবন্ধু আর প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছোট করে দিয়ে নিজের নিজের ছবি বড় বড় করে প্রচার করা হচ্ছে। একটি বিলবোর্ডে ৪৩ জনের ছবিও দেখেছি। যাদের অনেকেরই চিনিও না। পৃথিবীর কোনো দেশে এ রকম নজির নেই। বঙ্গবন্ধুর নাম এবং ছবি ব্যবহার করে এ রকম অপকর্ম থেকে সরে আসলে বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে।’
ছাত্রলীগ নেতাদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচার করে এবং নতুন নতুন আইডিয়া দিয়ে ছাত্রসমাজকে আকৃষ্ট করার পরামর্শ দেন তিনি।
মন্ত্রী ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোমরা নেতার উৎপাদন বন্ধ কর, কর্মী উৎপাদন বাড়াও। তোমরা শিক্ষা নিয়ে কথা বলবে। ক্যাম্পাস নিয়ে কথা বলবে। শিক্ষার সমস্যাগুলো তুলে ধরবে। ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলবে। তা নয়, ছাত্রনেতারা এখন শুরুতেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে কথা বলে। যে বিষয় নিয়ে আমি কথা বলব, তা এখন ছাত্ররাজনীতিবিদরাই বলে।’
বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাবিনা আক্তার শিউলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মাহবুবা রহমান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ।

মাতৃগর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধ : আসামি যুবলীগ কর্মী ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

মাগুরার বহুল আলোচিত যুবলীগের দু-গ্রুপের সংঘর্ষে মাতৃগর্ভে শিশু গুলিবিদ্ধের মামলার আসামি মেহেদী হাসান আজিবর (৩৮) পুলিশের সাথে 'বন্ধুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ৯ এমএম বিদেশী পিস্তল, দেশী তৈরী এলজি ও দুই রাউন্ড গুলি এবং তিনটি ফেন্সিডিলের বোতল উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরা শহরতলীর দোয়ারপাড় এলাকার মোহাম্মদ আলীর মেহেগুনি বাগান থেকে পুলিশ আজিবরের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মাগুরা পুলিশ সুপার এ কে এম এহসানউল্লাহ বলেন, সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়েছে গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ও সদর থানার দুটি টিম সোমবার রাত ১২টার দিকে দোয়ারপাড় এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। পরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে মেহেগুনি বাগানে গুলিবিদ্ধ আজিবরের লাশ পাওয়া যায়। এ সময় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন।
গুলির আওয়াজ শুনে আশপাশের সাধারণ নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে এসে গুলিবিদ্ধ লাশ দেখে ওই এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে আজিবর বলে সনাক্ত করে।
তবে নিহতের স্ত্রী হোসনেয়ারা খাতুন মোবাইল ফোনে দাবি করেন, সোমবার বিকেলে মাগুরা সিমাখালী থেকে পুলিশ তার স্বামী আজিবরকে আটক করে। গভীর রাতে জানতে পারেন তার স্বামীর গুলিবিদ্ধ লাশ মাগুরা হাসপাতালে। তবে পুলিশ আটকের বিষয় অস্বীকার করে আসছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই মাগুরার শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় যুবলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ মোমিন ভূইয়া নিহত ও অন্তুঃসত্ত্বা নাজমা খাতুন ও তার নবজাতক শিশু কন্যা গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ নাজমা বেগম ও তার নবজাতক শিশু কন্যা বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভূরাজনীতি- বিশ্বব্যবস্থায় ব্রিকসকে জায়গা দিতে হবে by শশী থারুর

শশী থারুর
এ মাসের শুরুর দিকে এক শীতল সন্ধ্যায় মস্কো নদীতে বিহার করার সময় আমি চায়নিজ ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে গভীর আলোচনায় মেতে উঠি। ওদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের এমপিরা রুশ সংগীতের তালে তালে নাচছিলেন, আর একজন গাইড তাঁদের বিভিন্ন স্থান সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছিলেন। এভাবে ব্রিকস দেশগুলোর প্রথম সংসদীয় ফোরাম বেশ আনন্দ-উচ্ছলতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এই দেশগুলোর মধ্যে আছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
বৈঠক শুরু হওয়ার আগে অনেকেই কৌতূহলী ছিলেন, এই পাঁচটি সংসদ কোনো অভিন্ন জায়গায় আসতে পারবে কি না। কথা হচ্ছে, ভারতের লোকসভা খুব হইচইপূর্ণ, সেখানে বিদ্বেষও কম দেখা যায় না। সেখানে খুবই আবেগপ্রবণ তর্ক-বিতর্ক হয়, তার কার্যক্রমও প্রায়ই ব্যাহত হয়। এই লোকসভার সঙ্গে চীনের আলংকারিক এনপিসির কী মিল রয়েছে? এনপিসি তো বাস্তবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত সংস্থা, তার কাজ হচ্ছে কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটানো। অনেকেই মনে করেন, ব্রিকসের নতুন দলে সদস্যপদ পাওয়া মানেই সহযোগিতার যথেষ্ট শক্তিশালী ভিত্তি পাওয়া নয়।
সেই শুরুতে ব্রিকসের দল গঠনের সময়ই এমন আশঙ্কা দূরীভূত হয়েছিল। কারণ, অনেকেই এটা খারিজ করেছিলেন এ কথা বলে যে এটি একমাত্র আন্তর্জাতিক সংগঠন, যা সৃষ্টি করেছে একটি বিনিয়োগ ব্যাংক। বিশেষ করে, ব্রিক শব্দটি এক দশকের বেশি আগে প্রথম ব্যবহার করেছিলেন গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক জিম ও’নিল। প্রথম দিকে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রধান উদীয়মান দেশগুলোর কাতারে গণ্য করেননি।
তবে এই চিন্তা শুরু থেকেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পছন্দ হয়, এবং তিনি ২০০৬ সালে পরামর্শ দেন, চারটি দেশকে নিয়মিত বৈঠক করতে হবে। শিগগিরই এই গোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়, তারপর বার্ষিক সম্মেলনের পরিকল্পনাও করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১১ সালে এতে যোগ দেয়, এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণে ব্রিকসের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হয়, উত্তরের দেশগুলোর মধ্যে ছিল শুধু রাশিয়া। বস্তুত, এ কারণেই এই উদ্যোগে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ভূমিকার ব্যাপারটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। কিছুদিন আগ পর্যন্ত রাশিয়া পৃথিবীর উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক গোষ্ঠী জি-৮-এর সদস্য ছিল। ফলে ধারণা ছিল, রাশিয়া ব্রিকসের অন্য চারটি দেশের সঙ্গে তেমন নৈকট্য বোধ করবে না। বৈশ্বিক ফোরামে এই চার দেশকে ঐতিহ্যগতভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু ব্রিকসের চিন্তা আঁকড়ে ধরে পুতিন একটি বিকল্প বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন, একই সঙ্গে তিনি বিকল্প বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গির প্রবর্তন করেন।
ব্রিকসের উদ্যোগ বিস্তৃত হতে শুরু করলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা বিস্মিত হন। বার্ষিক সম্মেলন ছাড়াও ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হয়, নতুন চিন্তা সৃষ্টিতেও তারা কাজ করেছে। ব্রিকসের বার্ষিক সফরে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেখানে শান্তি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও জাতিসংঘের সংস্কার পর্যন্ত নানা বিষয়ই উঠে এসেছে। তারপরও ব্রিকস নতুন উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে, যার প্রধান কার্যালয় সাংহাইয়ে অবস্থিত। এর নেতৃত্বে রয়েছেন একজন প্রথিতযশা ভারতীয় ব্যাংকার।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই সংসদীয় ফোরাম ব্রিকসের অধীনে গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বশেষ। কর্মসম্পাদন-পদ্ধতি হিসেবেও এটি সবচেয়ে নতুন। এর মধ্য দিয়ে ব্রিকস এমন একটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীতে পরিণত হচ্ছে, যাকে আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। ব্রিকস এমন একটা সময়ে উঠে আসছে, যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ক্রমাগত প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। বিশ্বযুদ্ধ, বিভিন্ন দেশের গৃহযুদ্ধ, ঔপনিবেশিক নিপীড়ন, বিপুল প্রাণহানি ও হিরোশিমার ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সে সময়ের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, জাতিসংঘের সনদের ভিত্তিতে প্রণীত উদার আন্তর্জাতিকতাবাদ ও মৈত্রীর প্রতিষ্ঠানই হচ্ছে আরও হত্যাযজ্ঞ এড়ানোর একমাত্র পথ। পরবর্তী সাত দশকে সেই ব্যবস্থা তার লক্ষ্য অনেকাংশে অর্জন করেছে। বৃহৎ পরিসরে এটি বৈশ্বিক শান্তি নিশ্চিত করেছে। যদিও এর বিনিময়ে অনেক যুদ্ধই প্রান্তিক দেশগুলোতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এতে শুধু উন্নত বিশ্বই লাভবান হয়নি, এতে উপনিবেশ-মোচন সম্ভব হয়েছে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। আর নতুন ও উদীয়মান দেশগুলোর দাবি আমলে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, বিদ্যমান ব্যবস্থা আর কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। নিজেদের অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে চীন ও ভারত বিশ্ব পরিসরে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। ওদিকে ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা মহাদেশীয় পরাশক্তি হয়ে উঠছে। আর হাইড্রোকার্বন-চালিত রাশিয়া পশ্চিমা ব্যবস্থার প্রান্তে বসে বসে বিরক্ত হয়ে পড়েছে। এটা কোনো বিস্ময়ের ব্যাপার নয় যে অনেকেই মনে করেন, বিদ্যমান ব্যবস্থা রূপান্তরের অপেক্ষায় আছে।
অন্য পরাশক্তিগুলো এত সহজে নিজেদের আধিপত্য ছেড়ে দেবে না। এটা ভাবা অযৌক্তিক যে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে চীনের ভোট দেওয়ার ক্ষমতা আর বেলজিয়ামের ভোট দেওয়ার ক্ষমতার বিষয়টি একই ব্যাপার। কিন্তু জি-২০ যে এসব প্রতিষ্ঠানে উন্নত, উদীয়মান ও ক্রান্তিকালীন দেশগুলোর মধ্যে সমতা আনার চেষ্টা করছিল, সেটা থেমে গেছে। বটেই, মার্কিন নেতারা কৌশলগতভাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ভোট প্রদানের সংস্কারে একমত হয়েছেন। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেস এখন পর্যন্ত তা অনুসমর্থনে রাজি হয়নি।
এটা বলা গুরুত্বপূর্ণ, ভারত ও ব্রাজিল বিশ্বব্যবস্থাকে উল্টে দেওয়ার কথা ভাবছে না, এক শতক আগে জার্মানি ও জাপান যেটা ভেবেছিল। তারা সবাই চায়, উঁচু মহলে তাদের স্থান দেওয়া হোক। এটা ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই। যদিও চীনা নেতৃত্বে নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠলে তা বিদ্যমান ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত হবে কি না তা নিয়ে ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার কৌতূহলী হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।
ব্রিকসের অবস্থান একই সঙ্গে বোধগম্য ও চিন্তা উদ্রেককারী। কোনো দেশ অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা অর্জন করলে সে ভূরাজনৈতিকভাবেও ক্ষমতা বিস্তারের চেষ্টা করে। বিশ্বব্যবস্থার প্রবক্তাদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, একটি সর্বজনীন ও বোধগম্য বিধিবিধান ও বৈশ্বিক কাঠামোর মধ্যে উদীয়মান শক্তিগুলোকে ধারণ করা। যেখানে প্রতিটি দেশ আকৃতি, সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় তার অবদানের নিরিখে ন্যায্য পাওনা পাবে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে বিশ্বনেতারা যে রাষ্ট্রনায়কোচিত বৈশিষ্ট্য, দূরদৃষ্টি ও মননের উদারতা দেখিয়েছিলেন, আজকের নেতাদের মধ্যে তার ঘাটতি আছে। তাঁরা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় একগুঁয়ের মতো আঁকড়ে থাকেন এবং নতুনদের আসার দরজা রুদ্ধ করে রাখেন বলে যাঁরা বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য তেমন বিকল্প থাকে না।
ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ ব্যাপার আছে। তারা সবাই মনে করে, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় যে স্থান তাদের প্রাপ্য সেটা তাদের দেওয়া হয়নি। নতুন একটা গ্রহণযোগ্য বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি হিসেবে তাদের এই বিশ্বাস হয়তো যথেষ্ট নয়। কিন্তু যেহেতু ২০৫০ সালের মধ্যে তাদের অর্থনীতির জি-৭-ভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, সে ক্ষেত্রে ব্যাপারটি প্রতারণামূলক হতে পারে।
আসল ব্যাপার হলো, ব্রিকসকে যদি বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থার নেতৃত্ব প্রদানে সহায়কের ভূমিকায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া না হয়, তাহলে তারা অনিবার্যভাবে নিজেদের মতো করে ব্যবস্থা তৈরি করে নেবে। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বব্যবস্থার জন্য তার মানে কী হতে পারে, তা কেউ জানে না।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন; স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
শশী থারুর: কংগ্রেসের সাংসদ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী।

নিঃশর্ত আনুগত্যের পরিণাম by সৈয়দ আবুল মকসুদ

আধ্যাত্মিক নেতা হোন, ধর্মীয় নেতা হোন বা রাজনৈতিক নেতা হোন, নেতা নেতাই। ভয়বশত হোক বা ভক্তিবশত হোক, অন্ধভক্তি ও প্রশ্নহীন আনুগত্য না থাকলে নেতার অনুসারীর তালিকা থেকে খারিজ হতে হয়। নেতার নির্দেশে অনুসারী ও ভক্তেরা অকাতরে জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেন। আনুগত্য এমনই জিনিস। প্রশ্নহীন আনুগত্যের বহু দৃষ্টান্ত অতীতে দেখা গেছে। এখন আর একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। নেতার নির্দেশে পুরুষ থেকে নপুংসকে পরিণত হয়েছে ভরাযৌবনে একদল বলিষ্ঠ যুবক। এখন তারা নিঃস্ব—খোজা। কোনো যুবতীর কাছে এখন তাদের এক পয়সা দাম নেই।
উপমহাদেশে আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় গুরুর অভাব নেই। তেমনই এক মহাগুরু কয়েক বছর ধরে জুটিয়েছেন তাঁর বহু অনুসারী ও শিষ্য। দ্য ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদনে জানা গেল বিস্ময়কর ঘটনার কথা। যেকোনো আধ্যাত্মিক গুরুর ক্ষেত্রে যা, এই গুরুজিও তার ব্যতিক্রম নন। তাঁর অনুসারী ও শিষ্যদের মধ্যে যুবক-যুবতীই বেশি।
তারা আধ্যাত্মিক মুক্তি চায়। স্রষ্টার করুণা তাদের কাম্য। রাজনৈতিক নেতার যেমন কাম্য যেকোনো উপায়ে ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া অর্থাৎ ক্ষমতায় যাওয়া। আধ্যাত্মিক সাধনা যারা করে, তাদের একমাত্র লক্ষ্য ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ। আলোচ্য গুরুজি তাঁর যুবক ভক্তদের নির্দেশ দিতেন, ঈশ্বরের সর্বোচ্চ করুণা যদি চাও তো আমার নিয়োজিত ডাক্তারের কাছে যাও, গিয়ে তোমার এক জোড়া অণ্ডকোষের দুটোই ফেলে দাও।
বান্ধবীদের সঙ্গে কিছুমাত্র পরামর্শ না করে যুবকেরা ডাক্তারখানায় গিয়ে বিচি দুটোই ফেলে দিয়ে আসে। আহাম্মক যাকে বলে! কয়েক দিন পরেই তারা বুঝতে পারে, কী জিনিস তারা খুইয়েছে। বিচি ফেলে দেওয়ার পর গুরুজির প্রতিশ্রুত ঈশ্বরের সান্নিধ্য তো দূরের কথা, বান্ধবীদের সান্নিধ্য থেকেও তারা বঞ্চিত হতে থাকে।
মানুষের মধ্যে যেমন অন্ধ ও প্রশ্নহীন আনুগত্যের প্রবণতা রয়েছে, তেমনি প্রতিবাদী চেতনাও রয়েছে। অণ্ডকোষ ফেলে দেওয়ার পর ষাঁড় হয় বলদ, পাঁঠা হয় খাসি, মানুষ হয় পুরুষত্বহীন। তাতে তার প্রতিবাদী চেতনা যে শেষ হয়ে যায়, তা নয়। যখন ওই যুবকেরা দেখেছে যে তারা সর্বস্ব খুইয়েছে, আর হারানোর কিছু নেই, তখন তারা সোজা চলে গেছে থানায় ও আদালতে। গুরুজির কোমরে পড়েছে দড়ি। এখন তিনি শ্রীঘরের অতিথি। প্রতিবেদনে যা জানা গেল, তাতে অবশিষ্ট জীবন গুরু বাবাজিকে জেলখানার ভাত-রুটিই খেতে হবে।
আধ্যাত্মিক জগতের বাইরে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও প্রশ্নহীন আনুগত্যের দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে দেশে দেশে। দেশগুলোর নাম উল্লেখ না করাই ভালো। রাজনৈতিক পরিভাষায় এখন নতুন সংযোজন ‘অনির্দিষ্টকাল’। অনন্ত অসীম মহাকালের কথা আমরা জানতাম, এখন তার সঙ্গে যোগ হলো ‘অনির্দিষ্টকাল’ পদটি। জানুয়ারির প্রথম হপ্তায় যদি কোনো নেতা তাঁর স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নির্দেশ দিতেন যে গুলশান ২ নম্বর থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত অনির্দিষ্টকাল দৌড়াতে হবে, তার বিরোধিতা করতেন না কেউ।
অতি চালাক যাঁরা, তাঁরা বুকের ব্যথা নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনো ক্লিনিকে ভর্তি হতেন। তারপর পাড়ি দিতেন সিঙ্গাপুর। কিন্তু অনির্দিষ্টকাল দৌড়ের নির্দেশের বিরোধিতা করার দুঃসাহস দেখাতেন না। প্রেসক্লাবের সভাকক্ষে বসে অথবা তার সামনের সড়কে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে অনির্দিষ্টকাল ধরে প্রতিদিন প্রতিপক্ষ নেতাকে অসুন্দর ভাষায় গালাগালের নির্দেশ আছে বলেই জনগণ মনে করে। প্রশ্নহীনভাবে যেকোনো নির্দেশ পালন করা নপুংসকতার পরিচয়।
দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা করে স্বাধীন মত প্রকাশের মধ্যেই পৌরুষের পরিচয়। এই জিনিসটির অভাব দেখা যায় কোনো কোনো সময় কোনো কোনো রাষ্ট্রে পর্যন্ত। স্বাধীন মতামত প্রকাশের জন্য প্রয়োজন মোটামুটি শক্ত মেরুদণ্ড। অনেক সমাজে দেখা যায়, আলোচ্য গুরুর শিষ্যদের মতো প্রশ্নহীনভাবে নেতার নির্দেশ মেনে চলেন নেতার অনুসারীরা। প্রশ্নহীন আনুগত্য একধরনের পুরুষত্বহীনতা। সে ক্ষেত্রে অমূল্য দেহযন্ত্র না ফেলে দিয়েও অনেকে পরিণত হন নপুংসকে।
পরিবার হোক, আধ্যাত্মিক গুরুর আশ্রম হোক, কোনো রাষ্ট্র হোক বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন হোক—এক ব্যক্তির সিদ্ধান্ত বিপজ্জনক। কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পরিণতি শুভ হয় না।
বিশেষ করে যাঁদের মতামত দেওয়ার অধিকার আছে, তাঁরা যদি নির্বীর্যতাবশত প্রশ্নহীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেন, তা আরও বিপদের কারণ। তাতে ক্ষতি এতটাই হতে পারে, যা সংশোধনের অযোগ্য বা অপূরণীয় অর্থাৎ পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো পথই থাকে না। যেমন আলোচ্য গুরুর হতভাগ্য শিষ্যরা আর জোড়া লাগাতে পারবে না তাদের অণ্ডকোষ। গুরু যদি আমৃত্যু জেলেও থাকেন, তাতে তাদের কী লাভ? তারা তাদের প্রত্যঙ্গ আর ফিরে পাবে না। অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে জনগণ একবার যা হারায়, তা আর ফিরে পায় না।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক৷

বেসিক ব্যাংকে ৭৩১ কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়ম by শরিফুল হাসান

ব্যাংক বা সরকারের কোনো নিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ না করেই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকে ৭৩১ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা না নিয়েই এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে ২৪২ জনেরই বাড়ি বাগেরহাটে। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চুর বাড়ি বাগেরহাটে।
বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ব্যাংকটির নিয়োগ-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও নিয়োগপ্রাপ্তদের ব্যক্তিগত তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ২০১২ ও ২০১৩ সালে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গড়ে ৩০ হাজার টাকা করে বেতন ধরলেও এই কর্মকর্তাদের বেতন দিতে প্রতি মাসে বেসিক ব্যাংককে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
এর বাইরে বেসিক ব্যাংক নিজেও নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তার কাজ ও দায়িত্ব যাচাই করেছে। ব্যাংকটি বলছে, তাদের মোট জনবল এখন ২ হাজার ২৪৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৭০০ জনই অযোগ্য এবং তাঁদের আসলে কোনো কাজ নেই; অথচ বেতন-ভাতা দিতে হচ্ছে।
সিএজি কার্যালয়ের করা নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের অনেকের যেমন প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, তেমনি আবার অনেকের চাকরির বয়সও ছিল না। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মনজুর মোরশেদ, ডিএমডি ফজলুস সোবহান, মোনায়েম খান, রুহুল আলম, মহাব্যবস্থাপক এস এম রওশানুল হক ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক আনিসুজ্জামান এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন।
তবে অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা এবং ব্যাংকের বর্তমান একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জনবল নিয়োগের পুরো বিষয়টি ঠিক করেছে মূলত পরিচালনা পর্ষদ। নিয়ম অনুযায়ী, মহাব্যবস্থাপক পর্যন্ত পদগুলোয় নিয়োগ দেবে ব্যাংক নিজে এবং এ-সংক্রান্ত নীতিমালা পর্ষদই ঠিক করে দেবে। বেসিক ব্যাংকেও তাই হয়েছে। আর ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়ে আপত্তি তোলা হলেও বোর্ড সেগুলো আমলে নেয়নি।
জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এভাবে নিয়োগ দেওয়া তো নীতিবিবর্জিত কাজ। টাকা লুটপাটের মতোই এটা দুর্নীতি। আর অযোগ্য কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিলে তারা তো ব্যাংকে সেবা দিতে পারবে না। যারা এ নিয়োগের সঙ্গে জড়িত, তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকের এমডি ও ডিএমডি পদ বাদে বাকি সব নিয়োগ করার কাজ ব্যাংকের। কিন্তু পিয়ন থেকে শুরু করে কর্মকর্তাসহ সবই নিয়োগ দিত পরিচালনা পর্ষদ। শুরুতে নিয়ম ছিল সব কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। কিন্তু পরে পরিচালনা পর্ষদই নীতি পরিবর্তন করে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে একজনকে নেওয়া হলে এর বিপরীতে আরেকজনকে সরাসরি সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার নিয়ম করা হয়। পরবর্তী সময়ে এভাবেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সবচেয়ে বেশি।
বেসিক ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, একসময় অবস্থা এমন হলো যে নতুন শাখা খোলার আগেই কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে দিত পরিচালনা পর্ষদ। আত্মীয় ও পরিচিতরা ছাড়াও সরকারের মন্ত্রী, সাংসদ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের তদবির অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। এ ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ছাড়াও আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগেই বেসিক ব্যাংকের নানা ধরনের অনিয়ম নিয়ে পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এখন তৈরি করল সিএজি কার্যালয়। অথচ বেসিক ব্যাংকের পর্ষদ ও এর চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চুর কোনো ধরনের অনিয়ম খুঁজে পায়নি দুদক। বেসিক ব্যাংকের ওই পরিচালনা পর্ষদের প্রধান ছিলেন শেখ আবদুল হাই ওরফে বাচ্চু। তাঁর এলাকা বাগেরহাট থেকেই নিয়োগ পেয়েছেন ২৪২ জন।
১৯৮৮ সালে বাগেরহাট-১ আসনের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন আবদুল হাই। বর্তমানে ওই আসনের সাংসদ শেখ হেলাল। বাগেরহাটের ২৪২ জন কার সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছেন, জানতে শেখ হেলালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। শেখ আবদুল হাইকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নিয়োগের এই বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুস সোবহান ও মহাব্যবস্থাপক এস এম রওশানুল হক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক আনিসুজ্জামান বলেন, তিনি তখন মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান হলেও নিয়োগ কমিটিতে ছিলেন না।
নিয়োগের এই বিষয়টি জানতে চাইলে ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘অতীতের বিষয় নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
তবে বেসিক ব্যাংক সূত্রগুলো বলছে, নিয়োগের অনিয়ম ধরে এখন যাচাই-বাছাই চলছে। ইতিমধ্যে ১৮ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আর পর্ষদ এর জন্য দায়ী হলেও ব্যাংকের কিছু করার নেই। সরকারকেই এ জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রথম আলোর হাতে রয়েছে। ওই তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠানে চাকরির বয়সসীমা ৩০ বছর থাকলেও এ ক্ষেত্রে সেটি মানা হয়নি। দেড় শতাধিক কর্মকর্তা আছেন, যাঁদের বয়স ৩০ পেরিয়ে গেছে। তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রামের জুবিলি রোড শাখায় ২০১২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এমন একজন যোগদান করেছেন, যাঁর বয়স ৫১ বছর ১১ মাস। এ ছাড়া ৪৯ বছরের দুজন, ৪৮ বছরের দুজন, ৪৭ বছর বয়সী তিনজন, ৪৬ বছর বয়সী একজন, ৪৫ বছর বয়সী দুজন, ৪২ বছর বয়সী পাঁচজন, ৪১ বছর বয়সী তিনজন এবং ৪০ বছর বয়সী নিয়োগ পেয়েছেন চারজন।
বেসিক ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বয়স না থাকার পরেও যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই পরিচালনা পর্ষদ বা প্রভাবশালী মহলের কারও না কারও আত্মীয়।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ পেলে কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি আবেদনের যোগ্য নন। কিন্তু এই একাধিক তৃতীয় শ্রেণি পাওয়া লোককেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অনেকে কোন পদে চাকরি করবেন, আবেদনে সেটিও লেখেননি। অনেকে আবার কোনো ধরনের আবেদন বা জীবনবৃত্তান্ত না দিয়েই চাকরি পেয়েছেন। জীবনবৃত্তান্ত জমার আগেই নিয়োগ দেওয়ায় প্রমাণিত হয় যে ব্যাংকের নিয়োগ কমিটির লোকজনের যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে তা করা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা, উপজাতি, প্রতিবন্ধী, জেলা কোটা—কোনো কিছুই মানা হয়নি।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২৮ জন কর্মকর্তাকে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলাম নিয়োগের সুপারিশ করেন। কোনো ধরনের পরীক্ষা না নিয়েই মহাব্যবস্থাপক এস এম রওশানুল হক তাঁদের নিয়োগপত্র দেন। ক্ষমতাবহির্ভূতভাবে এই নিয়োগ প্রদান করায় তাঁর বিরুদ্ধে এখনো কোনো ফৌজদারি মামলা হয়নি। অথচ এই নিয়োগের কারণে গত ছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ কোটি ৫৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৯ টাকা অপচয় হয়েছে।
এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উপব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আলমের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘জনসংযোগ শাখার অনুমতি ছাড়া আমি কথা বলতে পারব না।’
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে ন্যূনতম মানদণ্ড না মেনে ৭৩১ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার। এর আরেক নাম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি। আইন পরিপন্থী যা যা হতে পারে, সবই এখানে হয়েছে। যাঁরা এ ঘটনায় দায়ী, তাঁরা যেই হোক, সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে তাঁদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

ইন্দোনেশিয়ায় ৫৪ যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত

ইন্দোনেশিয়ার দুর্গম পাহাড়ি-বনাঞ্চলীয় প্রদেশ পাপুয়ায় ৫৪ জন যাত্রী নিয়ে গতকাল রোববার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসী জানিয়েছেন, সেখানকার একটি পাহাড়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটির ধ্বংসাবশেষ তাঁরা খুঁজে পেয়েছেন। ৫৪ যাত্রীর সবাই নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সের।  এর আগে দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থা টুইটার বার্তায় জানায়, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পাপুয়ার রাজধানী জায়াপুরার সেনতানি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর স্থানীয় সময় বেলা তিনটার দিকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে ট্রিগানা এয়ারলাইনসের এটিআর ৪২ উড়োজাহাজটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। উড়োজাহাজটি একই প্রদেশের ওকসিবিলে যাচ্ছিল।  টুইটার বার্তায় আরও বলা হয়, ৪৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক, পাঁচটি শিশু ও পাঁচজন ক্রু সদস্য নিয়ে উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের আধঘণ্টা পরই নিখোঁজ হয়।
পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জে এ বারাতা বলেন, এটির ৪৫ মিনিটের মধ্যেই ওকসিবিল বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। জে এ বারাতা এএফপিকে বলেন, ‘উড়োজাহাজটির কী হয়েছে, তা আমরা নিশ্চিত নই। আমরা এ বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা করছি। সেখানে বর্তমানে আবহাওয়া খুবই খারাপ। আকাশ অত্যন্ত মেঘাচ্ছন্ন ও অন্ধকার, যা পাহাড়ি ওই এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য সহায়ক নয়।’ এর আগে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান বামবাং সোয়েলিস্টিও টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেন, ‘উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারি যে, উড়োজাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।’  দুর্গম পাহাড় ও বনে পরিপূর্ণ পাপুয়ায় পরিবহন ও যোগাযোগের জন্য সাধারণত আকাশপথ ব্যবহৃত হয়। এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা মান ভালো না থাকায় ২০০৭ সাল থেকে ট্রিগানা এয়ারলাইনস ইউরোপীয় ইউনিয়নের কালো তালিকায় রয়েছে। ১৯৯১ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এ বিমান সংস্থাটি ১৪টি বড় সমস্যায় পড়ে, যাতে এর ১০টি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে এয়ারএশিয়ার একটি বিমান ঝোড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে জাভা সাগরে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানের ১৬২ যাত্রীর সবাই নিহত হয়। বিমানটি ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া শহর থেকে সিঙ্গাপুর যাচ্ছিল।

জানা-অজানা বিষয়গুলো

হিলারি ক্লিনটন
দিন যতই যাচ্ছে, আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল বিতর্ক নিয়ে ততই নতুন নতুন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সর্বশেষ খবর হচ্ছে, সাবেক এই ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত সার্ভারটি মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোকে (এফবিআই) দিতে রাজি হয়েছেন। এই ই-মেইল বিতর্কের অনেক কিছুই জানা, অনেকগুলো এখনো অজানা। এএফপি জানাচ্ছে তার নাড়িনক্ষত্র।
মৌলিক বিষয়গুলো:

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কূটনীতিকের পদে আসীন থাকাকালে (২০০৯-২০১৩) হিলারি দাপ্তরিক ই-মেইল ঠিকানার পরিবর্তে একটি ব্যক্তিগত ঠিকানা ব্যবহার করে মোট ৬২ হাজার ৩২০ ই-মেইল আদান-প্রদান করেছেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুরোধে তিনি ৩০ হাজার ৪৯০টি দাপ্তরিক ই-মেইল বার্তা হস্তান্তর করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, বাকি ৩১ হাজার ৮৩০টি ইমেইল একান্তই ব্যক্তিগত। পররাষ্ট্র দপ্তর দাপ্তরিক ই-মেইলগুলো নিয়ে কাজ করছে। এরই মধ্যে তারা সাড়ে তিন হাজার ই-মেইল বার্তা প্রকাশ করেছে।
গোপনীয় কি না: হিলারি গত ২৫ জুলাই সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে তখন অতি গোপনীয় বিবেচিত ছিল, এমন কোনো তথ্য আমি আদান-প্রদান করিনি।’ কিন্তু তদন্তকারীরা সম্প্রতি জানিয়েছেন, তাঁর চারটি ই-মেইল বার্তায় গোপনীয় উপাদানের অস্তিত্ব রয়েছে। অবশ্য পররাষ্ট্র দপ্তর ইঙ্গিত দিয়েছে, ঘটনার সময় এর কোনোটিই গোপনীয় ছিল না।
তদন্ত: নিউইয়র্ক টাইমস জুলাই মাসে জানায়, তদন্তকারীরা এ ঘটনায় একটি ‘ফৌজদারি তদন্ত’ শুরু করতে মার্কিন বিচার বিভাগকে অনুরোধ করেছেন। তবে বিচার বিভাগ সংশোধন করে একে ‘নিরাপত্তা তদন্ত’ আখ্যা দিয়েছে। মূলত এফবিআই হিলারির বিরুদ্ধে তদন্ত করছে না। তদন্ত চলছে ই-মেইল বার্তাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে।
ই-মেইল প্রকাশ: প্রকাশিত ৩ হাজার ৫৭৭টি ই-মেইল বার্তা হিলারির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রকাশিত সবচেয়ে বড় খবরটি হলো, বন্ধু সিডনি ব্লুমেন্থালের সঙ্গে হিলারির নিয়মিত যোগাযোগ। সরকারি কোনো পদে না থাকলেও ব্লুমেন্থাল লিবিয়া সংকটের মতো বিষয়গুলোতে হিলারিকে নিয়মিতই পরামর্শ দিয়েছেন। ই-মেইলগুলোর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশেই লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন কনস্যুলেটে সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ আছে।
হ্যাক হয়েছে?: উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর স্কট ওয়াকার রিপাবলিকান মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিতর্কের সময় বলেছেন, হিলারির ই-মেইলগুলো সম্পর্কে মার্কিন কংগ্রেসের চেয়ে চীনা ও রুশ হ্যাকাররাই হয়তো বা বেশি জানে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে এ বিষয়টিই। তবে হিলারির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁর ই-মেইল ঠিকানা বা সার্ভার কখনো আক্রান্ত হয়েছে, এমন নজির নেই।

প্রতিকূলতায় স্বকীয়তা by ওয়ালিউর রহমান

লেখকের ছেলেমেয়ে। বাঁ থেকে মুরসালিন, মানার ও মহিদ
বহুদিন ধরে, বহু ক্রোশ দূরে/বহু ব্যয় করি, বহু দেশ ঘুরে/দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা, দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু।/দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/একটি ধানের শীষের উপরে, একটি শিশির বিন্দু...।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রানাথের অমর কীর্তির বিশাল সাম্রাজ্য বাদ দিয়েও শুধুমাত্র এই একটি কবিতার জন্য তিনি সকল প্রবাসীর হৃদয়ে আবেগী আসনে আসীন হয়ে থাকবেন চিরজীবন। কিংবা তারও আগে মধু কবি আক্ষেপ করে বলেছিলেন: সতত হে নদ তুমি পড় মোর মনে/সতত তোমারি কথা ভাবি এ বিরলে..। কিংবা তারও অনেক পরে রূপসী বাংলার কবি দরদি প্রাণের আকুলতায় বলেছিলেন: আবার আসিব ফিরে, ধানসিঁড়িটির তীরে, এই বাংলায়...।
যদিও প্রেক্ষাপট সবার ভিন্ন ভিন্ন ছিল কিন্তু মনের আকুতি তো ছিল একই। এই কবিতাগুলো কিন্তু শুধুমাত্র কবিতার জন্য কিংবা ছন্দমিলের জন্য লেখা হয়নি! কবিতাগুলোর প্রতিটি শব্দে শব্দে গেঁথে আছে আপন সত্তার অকৃত্রিম টানের প্রতি সরল স্বীকারোক্তি। আমরা যারা প্রবাসে স্থায়ীভাবে ঠিকানা করে ফেলেছি, তারা তো আর সবাই কবি কিংবা তুখোড় সাহিত্যিক নই। তাই মনের ভাবাবেগের এই ব্যাকুলতাকে অবদমিত রেখে পারিপার্শ্বিকতার জটিল নিষ্পেষণে চাচা আপন প্রাণ বাঁচা বলে নিজেদের ডুবিয়ে রাখার প্রাণান্তকর চেষ্টায় ব্যস্ত রাখি। তবে তীব্র মনের টানে সকল সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও কিছু কিছু সুহৃদ আছেন, পিপাসার্ত চাতক পাখির মুখে দুফোঁটা পানি দেবার মতো করে হলেও দেশের আমেজ ফুটিয়ে তোলার অসাধ্যসাধন করে চলেছেন। তাদের প্রতি হৃদয় নিংড়ানো উষ্ণ ভালোবাসা থাকবে অহর্নিশ। প্রথম প্রজন্মের অভিবাসীদের শত প্রতিকূলতা ঠেলেও এতে কেউ কেউ কিছুটা হলেও প্রশান্তির শীতল ছায়া খুঁজে পান। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশের বড় বড় শহরগুলোতে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মতো আমাদের বাঙালিদেরও নিজস্ব কমিউনিটিভিত্তিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন (রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর কথা বলতে ইচ্ছা করছে না) গড়ে উঠেছে। তেমনি কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোতে ড্যানফোর্থ-ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা হচ্ছে একটি খুদে বাংলাদেশ। আমার অবস্থান যদিও পাশের একটি শহরে—আসা যাওয়ার দূরত্বের থেকেও আনুসাঙ্গিকতার ঘেরাটোপে আটকে পড়ে সেখানে যাওয়া হয়ে উঠে কদাচিৎ। কিন্তু দেশের কিছুটা পরশ পাওয়ার লোভেই খুদে বাঙালি পাড়ায় যাওয়ার জন্য তাই প্রাণ উচাটন হয়ে থাকে নিরন্তর। উপভোগ করতে ইচ্ছা করে দেশ থেকে আসা নামকরা শিল্পীদের গানের মূর্ছনা অথবা আমাদের শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানগুলো। সর্বোপরি সেখানকার দেশি দোকান পাটগুলোতে ভিড় করা দেশি মানুষগুলোর মুখরিত পদচারণা, দেশীয় জিনিসপত্র পরিপূর্ণ গ্রোসারি দোকানগুলো ঘুরে ঘুরে ঢাকার কাঁচাবাজারের ঘ্রাণ বুক ভরে উপভোগ করা, প্রাণ ভরে তাদের বাংলা ভাষায় কথা বলতে শোনা। যখনই ওদিকটায় যাওয়া হয়, তখনই প্রায় সময়ই আমি দোকানগুলোতে কিনতে আসা লোকজন, যাদের সঙ্গে চেনা নেই জানা নেই সম্পূর্ণ অপরিচিত, তাদের সঙ্গে কথা জুড়ে দিই, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার তৃপ্তিতে। এটা একটু বাড়াবাড়ি কি না জানি না, তবে এ ক্ষেত্রে আমার মনকে আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।
এই যে দেশের প্রতি এত আকুলতা, এত হৃদয়ক্ষরণ এটা কিন্তু দেশে থাকতে কোনো দিন অনুভব তো দূরের কথা ভুল করেও মনের কোণে উঁকি পর্যন্ত দিত না। দেশছাড়ার পর বুঝতে পারছি আসলেই ঘরের আঙিনায় শিশিরসিক্ত স্বর্ণালি আলোকছটার দূর্বা ঘাস কিংবা ধানের শিষ কত নয়নাভিরাম হতে পারে। সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশ, সমাজ ব্যবস্থা, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণ, সর্বোপরি অচিন্তনীয় প্রতিকূল আবহাওয়ায় এসে নিজস্ব চিন্তা চেতনা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এসব সামাজিক ইস্যুগুলোকে সমুন্নত রেখে এ দেশীয় মূল প্রবাহের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়। আমাদের ছোটবেলায় আমাদের বাবা-মা ও বয়োজ্যেষ্ঠরা আমাদের জীবন গঠনে কঠিন শাসনের মধ্য দিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেও নির্বিঘ্নে পার পেয়ে গেছেন। আমরা যখন বাবা-মার আসনে আসীন হলাম তখন কিন্তু তাঁদের মতো করে আমাদের সন্তানদের শাসন করার ক্ষমতা আর খুঁজে পাচ্ছি না। বিশেষত পশ্চিমা দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে তাদের লালন পালন করতে হবে। বাচ্চা ছেলেমেয়ে যতই দুষ্টামি করুক কিংবা কথাবার্তা না শুনুক গায়ে হাত তোলা যাবে না কোনো অবস্থাতেই। যদিও এ দেশীয় যুব বাবা-মার মধ্যে সন্তানকে নারকীয় অত্যাচারের প্রচুর নজির আছে তথাপি আমাদের উপমহাদেশ ও আফ্রিকার মানুষদের পশ্চিমারা এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে, এরা বাসায় বাচ্চাদের শারীরিক শাস্তি দিচ্ছে না। ফলে, এখানকার অভিবাসী অধ্যুষিত প্রতিটি এলিমেন্টারি ও জুনিয়র স্কুলে শিক্ষকেরা ছাত্রছাত্রীদের একান্তে ডেকে নিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জিজ্ঞেস করেন, বাসায় তাদের সঙ্গে বাবা-মা কেমন আচরণ করে। গায়ে হাত তোলে কি না, ইত্যাদি ইত্যাদি।
যদি কোনো কারণে কোনো বাচ্চার কাছ থেকে হ্যাঁ সূচক উত্তর বের করতে পারে তা হলেই সেরেছে। সেই বাবা-মার জীবনটা হেল হয়ে গেল। স্কুল থেকে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও চাইল্ড কেয়ার সেন্টারকে জানানো হবে। পরের চিত্রটি হচ্ছে বাচ্চার বাসায় পুলিশ আর চাইল্ড কেয়ার কর্মীর যুগপৎ প্রবেশ। পুলিশ রিপোর্ট হবে এবং তিন বছর পর্যন্ত এই রিপোর্ট অ্যাকটিভ থাকবে। তারপর শুরু হবে আসল খেলা। ঘরে যদি আরও ছেলেমেয়ে থাকে তা হলে চাইল্ড কেয়ার কর্মী দফায় দফায় এক একজনকে আলাদা আলাদা করে দীর্ঘ ইন্টারভিউ নিতে থাকবে এবং ভাব ভঙ্গিতে বাবা-মার চেয়েও বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে পেয়েছি একটা কেস, চাকরি বাঁচাই আগে এই ধরনের মানসিকতা নিয়ে প্রতি মাসে এর পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকবে—তিন বছর যাবৎ নিরলসভাবে। যদি পরবর্তীতে কোনো অঘটন না ঘটে তা হলে তিন বছর পর এরা ফাইল ক্লোজ করে ফেলবে। কিন্তু এই তিন বছরে বাবা-মার জীবনটা তেজপাতা করে ছেড়ে দেবে। আর চাইল্ড কেয়ার কর্মীরা যদি বাচ্চার কথার বিন্দুমাত্র সত্যতা খুঁজে পায় তা হলে সেই বাচ্চাকে বাবা-মার থেকে তাৎক্ষণিক আল বিদা জানিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে আসবে। কে জানে! তীব্র শোকের মাঝে কারও মনে তখন নজরুলের সেই বিখ্যাত গানের সুরটি বেজে ওঠে কি না? আমারই বধুয়া আনবাড়ি যায় আমারই আঙিনা দিয়া।
এত যে ঘটনা, এত যে কাহিনি, অথচ বাস্তবে হয়তো দেখা যাবে বাচ্চার প্রচণ্ড দুষ্টামিতে অসহ্য হয়ে বাবা মা তাকে ধমক অথবা আস্তে একটি কানমলা কিংবা মৃদুভাবে একটি থাপড় মেরে থাকতে পারে। বাচ্চাটি তার শিশুসুলভ সরল স্বীকারোক্তিতে হয়তো এটিই বলেছিল আমার বাবা অথবা মা আমাকে মেরেছে। ব্যস ওতেই সমস্ত কিছু প্রমাণ হয়ে গেল বাচ্চার বাবা-মা কত খারাপ। বাচ্চা পালনে একেবারেই অনুপযুক্ত ও বিপদজনক! এটা কোনো কথা হতে পারে? চিন্তা করুন, এই পরিস্থিতিতে বাচ্চাদের জোরে একটি ধমক দিতেও তো ভয় করে। বাচ্চারা তো আর রোবট না কিংবা তাদের কাছ থেকে রোবটের আচরণ আশা করাটাও ঠিক না। সে ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত দুষ্টামিতে সব বাবা-মারই একসময় ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যেতে পারে।
এই যখন হলো অবস্থা তখন এর সঙ্গে আবার মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো যুক্ত হয়েছে প্রাদেশিক শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক সদ্য আরোপিত এক্সট্রা কারিকুলার হিসেবে ক্লাস থ্রি থেকে আবশ্যিক ভাবে ছেলেমেয়েদের যৌন শিক্ষার প্রবর্তন। টরন্টোতে বসবাসরত সমগ্র জাতি-গোষ্ঠী ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেও প্রাদেশিক সরকার এর থেকে একচুলও নড়েনি। কয়েক হাজার অভিভাবক টরন্টোর কুইন্স পার্ক (প্রাদেশিক সংসদ ভবন) ঘেরাও করে সন্তানদের স্কুল থেকে প্রত্যাহারের হুমকিতেও সরকার আপাত ভাবলেশহীন। একমাত্র যুক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে নিরাপদ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সকল অভিভাবকদের কথা হচ্ছে সন্তান আমার সুতরাং আমি সিদ্ধান্ত নেব আমার সন্তান ক্লাসে এই শিক্ষা গ্রহণ করবে কি করবে না। জোর করে চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। নতুন এই ব্যবস্থাটি যে রক্ষণশীল পরিবারের পিতামাতার জন্য কত বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে তা শুধুমাত্র ভুক্তভোগীরাই অনুধাবন করতে পারবেন। অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে সেই দেশীয় প্রবাদটির মতো, ভিক্ষার কাজ নেই, কুত্তা সামলা। তাই দেখা যাচ্ছে, যাদেরই সামর্থ্য আছে এবং নিজস্ব মূল্যবোধের সঙ্গে আপসহীন মনোভাব পোষণ করেন তারাই ব্যয়বহুল হলেও বাধ্য হয়ে সন্তানের বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছেন।
এ তো গেল একটি দিকের কথা। এখানেই যদি উজান গাঙে গুণ টানার কাজটি শেষ হতো তা হলেতো সব বাবা-মাই নিদারুণ প্রশান্তিতে দিন গুজরান করতে পারতেন। কিন্তু অপর দিকটিতে যে রয়েছে আরও ভয়াবহ জটিল সমীকরণের সরল অঙ্ক! সে দিকটি আর কিছুই নয়, সেটি হচ্ছে ছেলেমেয়েরা যখন হাইস্কুলে ওঠে তখন থেকে যত দিন তাদের শিক্ষাজীবন থাকে তত দিন। এই সময়টা হচ্ছে সন্তান ও বাবা-মার জন্য সবচেয়ে ক্রুশিয়াল সময়। আমরা যারা প্রথম জেনারেশনের অভিবাসী, তাদের সমস্ত মনপ্রাণ জুড়ে থাকে বাঙালি মন মানসিকতা ও আচার আচরণ। অন্যদিকে আমাদের সন্তানরা স্কুল ​ও সহপাঠী বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে চলাফেরার কারণে এ দেশীয় মানসিকতা ধারণ করে বেড়ে উঠতে থাকে, যা খুবই স্বাভাবিক। এ অবস্থায় অনেক পরিবারেই একটা চাপা অন্তর্দ্বন্দ্ব ছাইচাপা আগুনের মতো ধিকিধিকি করে জ্বলতে থাকে। অনেকটা না ঘরকা না ঘাটকার মতো অবস্থা। আমরা আমাদের বয়ঃসন্ধিকালে বাবা-মার কঠিন শাসনকে অনেক সময় বাড়াবাড়ি মনে করলেও মুখের ওপর কোনো কথা বলতে সাহস পাইনি। কিন্তু এই তরীকা আমাদের ছেলেমেয়েদের ওপর এপ্লাই করতে গেলে মুখের ওপর হয়তো বলে বসবে, আমাকে আমার মতো করে চলতে দাও। আমার জীবন আমি নিয়ন্ত্রণ করব, তোমরা আমাকে বিরক্ত করবে না দয়া করে। অসহায় বাবা-মা তখন সন্তানের মূল্যবোধ পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ কল্পনায় চিন্তিত হলেও সঙ্গে সঙ্গে চাইল্ড কেয়ারের দুঃসহ পেরেশানির কথা চিন্তা করে চুপসে যেতে বাধ্য হন।
বেশ কয়েক বছর আগে আমাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি আমাদের সেই আত্মীয়ের আরেক আত্মীয় আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন। তারা বাংলাদেশ থেকে বছর দুয়েক হলো ইমিগ্র্যান্ট হয়ে এখানে এসেছেন তরুণ বয়সের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে। দুই ছেলে, এক মেয়ে। ছেলেদের বয়স হবে ১৭ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে আর মেয়েটির বয়স হবে ১৪ থেকে ১৫। ছেলে দুটিকে দেখি হাতে লোহার বালা আর চোখ–ঠোঁট–নাক–কান‍–ভ্রু, সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ফুঁড়িয়ে রিং পরে মাথায় মি. টি কাট দিয়ে চুল কেটে হাফপ্যান্ট পরে পুরাই ইয়ো ইয়ো অবস্থা হয়ে আছে। যারাই সেদিন সেই দাওয়াতে গিয়েছিল, প্রথম দর্শনে থতমত খেয়ে সবারই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছিল।
এর পাশাপাশি আরেকটি পরিবার এসেছিল যাদেরও একই বয়সী দুটি ছেলেমেয়ে ছিল এবং বাচ্চাগুলো কানাডাতেই জন্মগ্রহণ করে। ছেলেমেয়ে দুটিই খুবই সপ্রতিভ ও মিশুক। সবার সঙ্গে খুব সাবলীল ভাবে কথা বলছে, বাচ্চাদের সঙ্গে খেলাধুলা করছে। অর্থাৎ এরা কানাডায় জন্মগ্রহণ করেও দুই সংস্কৃতিই সার্থক ভাবে ব্যালেন্স করে চলছে। তাদের পোশাক আশাকেও ছিল যথেষ্ট মার্জিতের ছাপ। সর্বোপরি মাগরিবের নামাজের সময় ছেলেটি অন্যান্য বয়স্কদের সঙ্গে এসে নামাজ পড়ল। আলাপের একপর্যায়ে জানতে পারলাম ছেলেটি ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে ডাক্তারি পড়ছে আর তার বোন আগামী বছর ইউনিভার্সিটিতে যাবে। শুধু তাই নয়, পড়াশোনার পাশাপাশি সে কমিউনিটি ভলান্টারি কাজের সঙ্গেও সক্রিয় ভাবে জড়িত। স্থানীয় আইস হকি ক্লাবের সদস্য ও নিয়মিত হকি খেলে থাকে।
অন্যদিকে অঙ্গবিদ্ধ ছেলেগুলোর সঙ্গে তো কথা বলারই ফুসরত পেলাম না। সারাক্ষণ দুই কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে সেল ফোনে টেক্সটিং না কি নিয়ে এত ব্যস্ত ছিল যে মাথা তোলার সময় কোথায়? এই দুই পরিবারের দুই মেরুর অবস্থান দেখে আমার মনে এমন দাগ কাটল যে কেউ যেন আমাকে এসে বলতে লাগল চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম। তোমাকেই নির্ধারণ করতে হবে তুমি কীভাবে তোমার পরবর্তী প্রজন্মকে আলোকিত করবে? এটাকে কি স্বর্গীয় নূরের আলোকে আলোকিত করে মহিমান্বিত করে তুলবে নাকি নরকের লেলিহান শিখার আগুন জ্বালিয়ে অন্তর দহনের অঙ্গারে আলোকিত করবে? আমার কাদামাটির ঢেলাগুলোকে তাই আমি সুন্দর, মঙ্গল ও প্রশান্তির সমন্বয়ে যুগোপযোগী চিত্তাকর্ষক আদলে গড়ার প্রচেষ্টায় আছি। আমরা আমাদের বাচ্চাদের কচিমনে ঘরে যে ভিত্তিটা তৈরি করে দেব। বড় হলে শত প্রতিকূলতার মাঝেও সেই ভিত্তিটা আলোক বর্তিকা হয়ে নিজেকে সামনে চালিত করবে। অন্তত ওই দুই পরিবার আমার কাছে আমার করণীয় সম্পর্কে একটা মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আছে।
(লেখকের ইমেইল: Waliur97@yahoo.ca)

নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত বেগুনটিলা বস্তিবাসী by সামছুর রহমান

মিরপুর বেগুনটিলা বস্তিতে যাওয়া–আসার
একমাত্র রাস্তা এটি। ছবি -আশরাফুল আলম
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় কালশী নতুন রাস্তার এক পাশে বেগুনটিলা বস্তি। বস্তিতে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটি কাঁচা। মূল সড়ক থেকে অনেকটা নিচে। কোনো সময়ই পিচ ঢালাই না হওয়া সড়কটির অবস্থা বেহাল। বস্তিবাসী কেমন নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন তা যেন তুলে ধরছে রাস্তাটি।
বেগুনটিলা বস্তিতে নেই গ্যাস-সংযোগ, তীব্র পানির সংকট ও পানিতে দুর্গন্ধ, সামান্য বৃষ্টিতেই বস্তির মূল সড়ক ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আর সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত বেগুনটিলা বস্তি। গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ডিএনসিসি নির্বাচনের আগে এসব সমস্যা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রার্থীরা।
এই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলর মো. সাজ্জাদ হোসেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন। বর্তমানে জামিনে থাকলেও খুব একটা প্রকাশ্যে আসেন না। ফলে নির্বাচনের পর সাড়ে তিন মাস অতিবাহিত হলেও কাউন্সিলরের দেখা পাননি বস্তিবাসী।
গত বুধবার সরেজমিন ঘুরে ও বস্তিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেগুনটিলা বস্তিতে প্রবেশের রাস্তাটিতে জায়গায় জায়গায় গর্ত। রোদ উঠলে প্রচণ্ড ধুলা আর বৃষ্টি হলে জমে কাদাপানি। বস্তিটি অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় লাগে পানি নামতে।
বেগুনটিলা বস্তি থেকে ওয়াসার পানির সংযোগ ১১০০ ফুট দূরে। সেখান থেকে কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় এক ইঞ্চি ব্যাসের পাইপে বস্তিতে পানির সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে পানিও সব সময় পাওয়া যায় না।
বেগুনটিলা বাস্তুহারা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বাদশা মিয়া জানান, বস্তিটি আছে ১৯৯৯ সাল থেকে। এখানে প্রায় ১০ হাজার লোকের বাস। কিন্তু ভালো রাস্তা নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ঢুকে। গ্যাস নেই, মশার কামড়ে এক জায়গায় পাঁচ মিনিট বসা যায় না।
বেগুনটিলায় গ্যাস-সংযোগ নেই। নেই কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই।
কাউন্সিলর মো. সাজ্জাদ হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘বস্তির জায়গাটি সরকারি। সরকারিভাবে এখানে বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট বানানোর কথা। আমি তাঁদের বিষয়গুলো মানবিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করব।’

লেখাপড়ায়ও সফল কুলসুম by আলতাফ হোসেন ও রহিদুল মিয়া

বাবা ও মায়ের সঙ্গে কুলসুম আখতার
২০০৯ সালে সপ্তম শ্রেণিতে ওঠার পর অভাবের কারণে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেলে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন কুলসুম আখতার। পরে শিক্ষকের পরামর্শে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার অধীনে বিষমুক্ত সবজি চাষ ও কেঁচো সার তৈরির কৌশল শিখে নেন তিনি। বাড়িতে কেঁচো সার তৈরি করে চলতে থাকে জীবনসংগ্রাম। থেমে থাকেনি পড়াশোনাও। সেই কুলসুম জীবনসংগ্রাম ও পড়াশোনা—দুটোতেই সফল হয়েছেন। এবার তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় চতরা বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এসএসসিতেও তিনি চতরা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৪ পেয়েছিলেন। আত্মপ্রত্যয়ী সংগ্রামী এই কুলসুম আখতারকে নিয়ে ২০১৩ সালের ২ মার্চ প্রথম আলোতে ‘কুলসুমের কেঁচোর সংসার’ শিরোনামে শনিবারের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কুলসুম রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের সখীপুর গ্রামের রবি আলমের মেয়ে। মঙ্গলবার সকালে কুলসুমদের বাড়িতে যাওয়ার পথে কথা হয় ওই গ্রামের ইদ্রিস আলীর সঙ্গে। কুলসুমের নাম বলতেই তিনি বলেন, ‘ও, কুলসুম! ওকে চিনব না কেন। তাকে সবাই চেনে। তার কারণেই গ্রামের অনেক গরিব মানুষ কেঁচো সার তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছে।’
কুলসুমদের বাড়িতে যাওয়ার পথে নানা ধরনের সবজিখেত চোখে পড়ে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে দেখা গেছে হাঁস-মুরগি, কবুতর, ছাগল ও গাভি। বসতবাড়ির পতিত অংশে রয়েছে শাকসবজির বাগান। তৈরি করতে দেখা গেছে কেঁচো সার। কৃষকেরাসহ শিক্ষার্থীরাও ব্যস্ত এই সার তৈরির কাজে। গ্রামটি এভাবে বদলে যাওয়ার পেছনে সবাই বললেন কুলসুমের নাম।
কুলসুম বলেন, ‘ছোট দুই বোন সখিনা আখতার ও রোকেয়া আখতারও পড়াশোনা করছে। পড়াশোনা শেষে চাকরি নয়, নিজ উদ্যোগে সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখি আমি।’

দুর্লভ মর্মর বিড়াল by আকমল হোসেন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ বন্য প্রাণী
সেবা ফাউন্ডেশনে মর্মর বিড়াল l প্রথম আলো
দেশের গভীর প্রাকৃতিক বনে প্রাণীটির বিচরণ আছে, তা জানতেন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু স্বাধীনতার পর জীবিত অবস্থায় দেশের কোথাও প্রাণীটির দেখা মেলেনি। তাই প্রাণীটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে—এমন আশঙ্কাও ছিল অনেকের। অবশেষে প্রাণীটির হদিস মিলল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে।
প্রাণীটির নাম মর্মর বিড়াল বা Marbled Cat (বৈজ্ঞানিক নাম Pardofelis Marmorata)। ছোট পাখি খায় বলে সিলেট অঞ্চলে প্রাণীটিকে ‘ছোট পাখি খাওড়া’ নামেও ডাকা হয়।
শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে যত্ন-আত্তিতেই বেড়ে উঠছে প্রাণীটি। বছরাধিক কাল ধরেই এটি সেখানে রয়েছে। অথচ এত দিন কেউ জানতই না, এটি মর্মর বিড়াল। তার পরিচিতি ছিল সাধারণ বনবিড়াল হিসেবেই। বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ শরীফ খান শনাক্ত করলেন দুর্লভ মর্মর বিড়ালটি।
বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে আসার আগে প্রাণীটি ছিল ভারত সীমান্তঘেঁষা আদিবাসী খাসিয়াদের দুর্গম গ্রাম নিরালাপুঞ্জিতে। বছর খানেক আগে খোঁজ পেয়ে সেটিকে নিয়ে আসেন ফাউন্ডেশনেরই চেয়ারম্যান সীতেশ রঞ্জন দেব।
গত ৬ জুলাই কথা হয় সীতেশ রঞ্জনের সঙ্গে। তিনি জানান, নিরালাপুঞ্জিতে আদিবাসী খাসিয়াদের কাছ থেকে তিনি বিড়ালছানাটি পেয়েছিলেন। তখন এর বয়স চার কি পাঁচ দিন। চোখও ফোটেনি। ছানাটিকে বাঁচিয়ে রাখাই ছিল এক কঠিন বাস্তবতা। প্রথমে ড্রপার দিয়ে গরুর দুধ খাওয়ানো হয়। কিছুটা শক্তপোক্ত হলে দুধ খাওয়ানো হয় ফিডার দিয়ে। মানবশিশুর মতো তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে ঘুম পাড়ানো হয়। সেই ছানাটির বয়স এখন ১৪ মাস। এখন সে নিজেই নিজের খাবার খেতে পারে। পছন্দের খাবার কবুতর বা কোয়েল। ছোট পাখি খেতেই সে বেশি পছন্দ করে। দু-একবার মোরগও দেওয়া হয়েছে।
প্রাণিবিশেষজ্ঞ শরীফ খান এবং প্রাণিবিদ মনিরুল এইচ খান জানান, সিলেট, ময়মনসিংহ ও পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর বনে মর্মর বিড়ালের বিচরণ রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর ৪৪ বছরে কোথাও এই প্রাণীটির জীবিত দেখা মিলেছে বলে জানা নেই। নিশাচর প্রাণীটি গাছে থাকতেই ভালোবাসে। খাবারের সন্ধানে মাটিতে নেমে আসে। বুনো ছোট পাখি, পাখির ডিম ও বাচ্চা, বুনো খরগোশ, বড় ইঁদুর, ব্যাঙ ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে। একটি মা মর্মর বিড়াল একসঙ্গে এক থেকে চারটি বাচ্চা দিয়ে থাকে। ২১ মাসে পরিণত হয়ে ওঠে। পরিণত মর্মর বিড়াল নাকের ডগা থেকে লেজ পর্যন্ত তিন থেকে সাড়ে তিন ফুট হয়ে থাকে। তবে লেজটাই প্রায় অর্ধেক। এদের গড় আয়ু প্রায় ১২ বছর। বাংলাদেশের বাইরে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়সহ পাহাড়ি অঞ্চলে এবং মিয়ানমার, নেপাল, ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশে মর্মর বিড়ালের বাস রয়েছে।
প্রাণী বিশেষজ্ঞ শরীফ খান বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে মর্মর বিড়ালকে জীবিত পাওয়া যায়নি। কোথাও আছে, তা–ও জানা যায়নি। শুধু চামড়া পাওয়া গেছে। ফলে অনেকে মনে করতেন, এটি দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। গত ৪৪ বছরে দুর্লভ প্রাণীটিকে দেশে জীবিত পাওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।

যন্ত্রণার শেষ চান নাগাসাকির সুমিতেরো

জাপানের নাগাসাকিতে আণবিক বোমা ফেলার ভয়াবহতা
কতটা ভয়ংকর ছিল, তার সাক্ষী যেন সুমিতেরোর শরীরটা।
বুক-পিঠ ঝলসে যাওয়া কুঁচকানো চামড়ায় মোড়ানো, দেখলেই
আঁতকে উঠবে যে কেউ। -দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের সৌ​জন্যে
জাপানের নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্র যখন আণবিক
বোমা ফেলে তখন সুমিতেরো তানিগুচি ১৬
বছরের কিশোর। ৭০ বছর ধরে শরীরে সেই
ভয়াবহতার চিহ্ন বহন করছেন বর্তমানে ৮৬
বছর বয়সী এই বৃদ্ধ।
-দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের সৌ​জন্যে
সত্তর বছর ধরে যে যন্ত্রণাময় জীবনযাপন করছেন জাপানের নাগাসাকির সুমিতেরো তানিগুচি, এবার তার শেষ চান তিনি। ৮৬ বছর বয়সে এসে এতটা যন্ত্রণা বয়ে বেড়ানো তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই এই আকুতি। জাপানের নাগাসাকিতে আণবিক বোমা ফেলার ভয়াবহতা কতটা ভয়ংকর ছিল, তার সাক্ষী যেন সুমিতেরোর শরীরটা। বুক-পিঠ ঝলসে যাওয়া কুঁচকানো চামড়ায় মোড়ানো, দেখলেই আঁতকে উঠবে যে কেউ। আজ থেকে ৭০ বছর আগে এই দিনে জাপানের নাগাসাকিতে আণবিক বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। পঙ্গুত্ব বা ক্ষত শরীর নিয়ে বেঁচে থাকেন অনেকে; তবে যন্ত্রণা তাঁদের চিরসঙ্গী হয়। ভয়াবহ সেই দিনের স্মৃতিচারণা করে সুমিতেরো বলেন, নাগাসাকিতে যখন আণবিক বোমা ফেলা হয়, তখন সুমিতেরো ১৬ বছরের কিশোর। বাড়ি বাড়ি পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ ছিল তাঁর। ওই দিনও সুমিতেরো পণ্য পৌঁছে দিতে সাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন। বোমার আঘাতে তিনি সেই সাইকেল থেকে দূরে ছিটকে পড়েন। অজ্ঞান হয়ে যান। আর কিছু বলতে পারেন না তিনি। তিন দিন পর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরল, নিজেকে আবিষ্কার করলেন হাসপাতালে। সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত, ক্ষত স্থান ঢেকে দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সুমিতেরোর শরীরের পেছনের দিক মারাত্মক জখম হয়, পাকস্থলীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাকস্থলীর চিকিৎসার জন্য সুমিতেরোকে ২১ মাস হাসপাতালে কাটাতে হয়। পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে নাগাসাকিতে হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে সুমিতেরো একটি সংগঠন চালান। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাজ করার ক্ষেত্রে বেশ সমস্যাতেই পড়তে হয় তাঁকে। যন্ত্রণা ভোগ করতে করতে ক্লান্ত সুমিতেরো বলেন, ‘আমি এর শেষ চাই।’

ক্যানসার আক্রান্ত শিশুর ইচ্ছা পূরণ!

থানায় পুলিশ অফিসার কুনাল সিং! ছবি: পিটিআই
কুনার সিং পাতিলের বয়স পাঁচ বছর। এই ছোট্ট শিশুটি ঘাতক ক্যানসারে আক্রান্ত। কুনারের ইচ্ছা সে বড় হয়ে পুলিশ অফিসার হবে। কিন্তু যে রোগে সে আক্রান্ত তাতে ভবিষ্যতে কি হয়, কে জানে। তার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। সে মুম্বাইয়ের একটি থানায় পুলিশ অফিসার হিসেবে প্রতীকী দায়িত্ব পালন করেছেন।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, কুনার সিং পাতিল ক্যানসারে আক্রান্ত। কিন্তু এই রোগের কারণে ভবিষ্যতে হয়তো তার পুলিশ হওয়া হবে না। তবে তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের ইচ্ছা পূরণে কাজ করা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান কুনারের ইচ্ছা পূরণে সহায়তা করেছে। ওই সংস্থাটি মুম্বাই পুলিশকে কুনারের মনের ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। এরপরই একদিন পুলিশের পোশাক পরিয়ে কুনারকে মুম্বাইয়ের ভোয়াদা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় অফিসারের চেয়ারে কুনারকে বসানো হয়। এক ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করে পাঁচ বছর বয়সী এই ছোট্ট শিশুটি।
খবরে বলা হয়েছে, থানায় যাওয়ার পর পুলিশ কুনারকে একটি খেলনা পিস্তল উপহার দেয়। ওই পিস্তল পেয়ে মহাখুশি কুনার সিং। এরপর থানায় পুলিশের পোশাক চেয়ারে বসে এক ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করে সে। কুনারের ওই হাসিমুখ দেখার ব্যবস্থা করায় মুম্বাই পুলিশ এবং ওই বেসরকারি সংস্থা ধন্যবাদ পেতেই পারে।